(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: -)
العقد المفرد في الفقه على مذهب الإمام أحمد القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: العقد المفرد في الفقه على مذهب الإمام أحمد
المؤلف: محمد بن محمد بن أبي عياشة الدمنهوري
تحقيق ودراسة: فؤاد بن محمود بن عبد القادر سيت
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراه، قسم الفقه المقارن - كلية الشريعة والقانون بجامعة أم درمان الإسلامية بالسودان، 2009
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م
عدد الصفحات: 716
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1444
ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের অনন্য গ্রন্থ ‘আল-উকদুল মুফরাদ’ বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
বই: ইমাম আহমাদের মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্রের অনন্য গ্রন্থ ‘আল-উকদুল মুফরাদ’
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আইয়াশাহ আদ-দামানহুরি
সম্পাদনা ও গবেষণা: ফুয়াদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আব্দুল কাদির সিত
সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস, তুলনামূলক ফিকহ বিভাগ - শরীয়াহ ও আইন অনুষদ, উমদুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, সুদান, ২০০৯
প্রকাশক: দার ইবনে হাযম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১৬
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
قال تعالى:
{وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيمًا} [النساء: 113].
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
{আর তিনি আপনাকে এমন বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না এবং আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান।} [আন-নিসা: ১১৩]
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
إهداء إلى والدي الكريمين، متع الله بهما، أهدي ثمرة جهد متواصل، استمر نحوًا من عشرين عامًا، فلولا الله ثم هما ما كان ما كان، فاللَّهم عطفك ورفقك ورحمتك وعفوك ورزقك وهداك بمن رقَّت عظامهم، وانحنت ظهورهم، وشابت شعورهم، في طاعتك، اللَّهم آمين آمين، وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا.
উৎসর্গ আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি—আল্লাহ তাঁদের দীর্ঘ কল্যাণময় হায়াত দান করুন—আমি প্রায় বিশ বছর ধরে চলমান এই নিরবচ্ছিন্ন শ্রমের ফসল উৎসর্গ করছি। কেননা আল্লাহর তৌফিক এবং অতঃপর তাঁদের অবদান না থাকলে যা সম্পন্ন হয়েছে তা সম্ভব হতো না। হে আল্লাহ! আপনার আনুগত্য করতে গিয়ে যাদের হাড় দুর্বল হয়েছে, পিঠ নুয়ে পড়েছে এবং চুল সাদা হয়েছে, আপনি তাঁদের প্রতি দয়া, কোমলতা, রহমত, ক্ষমা, রিযিক ও হেদায়েত দান করুন। হে আল্লাহ! কবুল করুন, কবুল করুন। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবীদের প্রতি আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
شكر وتقدير في هذه المرحلة، وفي هذا اليوم العظيم، يطيب لي أن أنظر إلى سنوات عمري كلها، فأشكر بحق من كان له أثر جميل في حياتي، يحفزني ويدعوني للنجاح وتحقيق الأمنيات والأهداف، والتمتع بها، والنظر لما بعدها.
কৃতজ্ঞতা প্রকাশএই পর্যায়ে এবং এই মহিমান্বিত দিনে, আমার জীবনের বিগত বছরগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি যথাযথভাবে তাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, যাঁর আমার জীবনে একটি সুন্দর প্রভাব ছিল; যিনি আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন এবং সাফল্য অর্জন, স্বপ্ন পূরণ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করেছেন, এবং সেই সাফল্য উপভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার প্রেরণা দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المقدمة الحمد لله ذي القدرة القاهرة، والآيات الباهرة، والآلاء الظاهرة، والدلائل الآسرة، والنعم المتواترة، والمنن المتكاثرة، والمنح الفاخرة.
اللَّهم لك الحمد على ما تميت وتحيي، ولك الحمد على ما تأخذ وتعطي، لك الحمد على حلمك بعد علمك، وعلى عفوك بعد قدرتك، لك الحمد كله، وبيدك الخير كله، وإليك يرجع الأمر كله، لك الحمد أوله وآخره، وظاهره وباطنه، وسره وعلانيته، والصلاة والسلام على سيد الأنبياء، وخير الأتقياء، وغرة العلماء، وإمام الفقهاء، فصيح الخطباء، نبينا محمد وآله وصحبه وسلم، تسليمًا كثيرًا.
مولاي لا آوي لغيرك إنه
… حُرم الهدى من لم تكن مأواه
مولاي جودك لم يدع لي مطلبًا
… إلا وتممه إلى أقصاه
مولاي أنسك لم يدع لي وحشة
… إلا محا ظلماءها بسناه
من كان يعرف أنك الحق الذي
… بهر العقول فحسبه وكفاه
(1)ثم أما بعد: فإنها والله لمن أعظم المنن، وأجزل النعم، أن يستعمل الله العبد في طاعته ومرضاته وخدمة دينه.
ولا ريب أن طلب العلم والبحمث عنه في مظانه وعند أهله، وثني الركب عند باذليه، من أكبر أبواب الأجر وسبل الثواب، كيف لا! ومنتهى
--------------------------------------------
ভূমিকা সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরাক্রমশালী ক্ষমতা, উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী, প্রকাশ্য নেয়ামতসমূহ, চিত্তাকর্ষক প্রমাণাদি, নিরবচ্ছিন্ন অনুগ্রহসমূহ, অগণিত দান এবং গৌরবময় উপঢৌকনের অধিকারী।
হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনার জন্য আপনি যা মৃত্যু দেন ও যা জীবন দান করেন তার ওপর। সকল প্রশংসা আপনার জন্য আপনি যা গ্রহণ করেন ও যা প্রদান করেন তার ওপর। আপনার ইলমের পর আপনার ধৈর্যশীলতার জন্য আপনার প্রশংসা, এবং আপনার সক্ষমতার পর আপনার ক্ষমার জন্য আপনার প্রশংসা। সকল প্রশংসা আপনারই জন্য, সকল কল্যাণ আপনার হাতেই এবং সকল বিষয় আপনার দিকেই ফিরে যায়। সকল প্রশংসা আপনারই—শুরুতে ও শেষে, প্রকাশ্যে ও গোপনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীদের সর্দার, পরহেজগারদের সেরা, আলেমদের শিরোমণি, ফকীহদের ইমাম, বাগ্মীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বাগ্মী আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর, অনেক অনেক সালাম।
হে আমার মাবুদ! আপনি ছাড়া আমি অন্য কারও কাছে আশ্রয় নিই না, কারণ
… যে আপনার আশ্রয় পেল না সে হেদায়েত থেকে বঞ্চিত হলো।
হে আমার মাবুদ! আপনার দানশীলতা আমার জন্য এমন কোনো প্রার্থনা বাকি রাখেনি
… যা আপনি তার পূর্ণতা পর্যন্ত পৌঁছে দেননি।
হে আমার মাবুদ! আপনার সান্নিধ্য আমার জন্য এমন কোনো একাকিত্ব বাকি রাখেনি
… যার অন্ধকারকে আপনি আপনার নূরের ছটায় মিটিয়ে দেননি।
যে ব্যক্তি চিনেছে যে আপনিই সেই ধ্রুব সত্য যিনি
… বুদ্ধি ও বিবেককে বিমোহিত করেছেন, তবে তাই তার জন্য যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত।
(১)অতঃপর: আল্লাহর কসম, এটি নিশ্চয়ই মহান অনুগ্রহ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত যে, আল্লাহ কোনো বান্দাকে তাঁর আনুগত্যে, তাঁর সন্তুষ্টিতে এবং তাঁর দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত করেন।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলম অন্বেষণ করা এবং এর উৎসস্থলে ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট তা অনুসন্ধান করা এবং জ্ঞানদানকারীদের সামনে হাঁটু গেড়ে বসা সওয়াবের অন্যতম বড় দরজা এবং প্রতিদানের অন্যতম পথ। কেনই বা হবে না! যখন এর শেষ সীমা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذا الطريق الجنة ورضوان الله تعالى، قال صلى الله عليه وسلم: "ومن سلك طريقًا يلتمس فيه علمًا سهل الله به طريقًا إلى الجنة"
(1).
ووالله كفى بالعلم شرفًا، ومكانة عالية، ومنزلة سامية، أن الله تعالى جعل أهل العلم هم أخشى الخلق له، وأكثرهم طاعة وخضوعًا وامتثالًا لأوامره، واجتنابًا لزواجره، قال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ}
(2)، وهذا إمام العلماء، وسيدهم صلى الله عليه وسلم يقول مخبرًا عن نفسه: "والله إني لأرجو أن أكون أخشاكم لله، وأعلمكم بما أتقي"
(3).
والخير كله فيما أمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم بالازدياد منه، والإكثار من أخذه، ألا وهو العلم، قال تعالى: {وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا}
(4)، ولو كان ثم شيء خيرًا من هذا لأمر الله تعالى نبيه صلى الله عليه وسلم به، ولا يأمر الله تعالى نبيه إلا بالأتم والأكمل والأفضل.
العلم أشرف مطلوب وطالبه
… لله أشرف من يمشي على قدم
العلم نور مبين يستضيء به
… أهل السعادة والجهال في الظلم
ولما كنت طالبًا في جامعة أم درمان الإسلامية، تلميذًا في معهد بحوث ودراسات العالم الإسلامي، وكان من متطلبات التخرج تقديم بحث في الدراسات الإسلامية.
اخترت أن يكون البحث تحقيقًا لمخطوط "العقد المفرد في فقه الإمام المبجل أحمد بن حنبل" للإمام محمد البيومي بن محمد بن أبي عياشة بن
--------------------------------------------
এটিই জান্নাত এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির পথ; নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের কোনো পথে চলে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন"
(১)।
আল্লাহর কসম, ইলমের মর্যাদা, সুউচ্চ অবস্থান এবং মহান মর্তবার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা ইলমের অধিকারীদেরই তাঁর সৃষ্টির মাঝে তাঁকে সর্বাধিক ভয়কারী বানিয়েছেন; এবং তাঁরাই তাঁর আদেশের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুগত, বিনয়ী ও অনুসারী এবং তাঁর নিষেধাবলী থেকে সর্বাধিক দূরে অবস্থানকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমরাই তাঁকে ভয় করে}
(২)। আর এই যে আলেমদের ইমাম এবং তাঁদের সরদার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের সম্পর্কে সংবাদ দিয়ে বলছেন: "আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই আশা রাখি যে, আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করি এবং আমি যা থেকে বেঁচে চলি সে সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত"
(৩)।
সকল কল্যাণ নিহিত আছে সেই বিষয়ে যা আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বৃদ্ধি করার এবং অধিক মাত্রায় গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন; আর তা হলো ইলম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং বলো, হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন}
(৪)। যদি এর চেয়ে উত্তম কোনো বস্তু থাকতো, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে অবশ্যই তা অর্জনের নির্দেশ দিতেন; আর আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ, নিখুঁত এবং সর্বোত্তম বিষয় ছাড়া অন্য কিছুর নির্দেশ দেন না।
জ্ঞানই হলো সর্বাধিক সম্মানিত কাম্য বস্তু এবং তার অন্বেষণকারী
… আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তির চেয়ে অধিক সম্মানিত যে নিজের পায়ে বিচরণ করে।
জ্ঞান এক সুস্পষ্ট আলো, যার মাধ্যমে আলো গ্রহণ করে
… সৌভাগ্যবানরা; আর জ্ঞানহীনরা নিমজ্জিত থাকে অন্ধকারে।
যখন আমি উমদুরমান ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজ অফ দ্য ইসলামিক ওয়ার্ল্ড-এর শিক্ষার্থী ছিলাম, তখন স্নাতক সম্পন্ন করার অন্যতম শর্ত ছিল ইসলামি শিক্ষা বিষয়ে একটি গবেষণাপত্র জমা দেওয়া।
আমি আমার গবেষণার বিষয় হিসেবে ইমাম মুহাম্মদ আল-বাইয়ুমি বিন মুহাম্মদ বিন আবি আয়্যাশাহ বিন... এর পাণ্ডুলিপি "আল-ইকদুল মুফরাদ ফি ফিকহিল ইমামিল মুবাজ্জাল আহমাদ বিন হাম্বল"-এর সম্পাদনা (তাহকিক) করার সিদ্ধান্ত নিই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
علي بن حسن الهاشمي، المولود عام 1263 هـ والمتوفى عام 1335 هـ بدمنهور، بمصر.
وكانت أسباب اختياري لهذا الموضوع القيم عديدة، وجديرة بالذكر، منها:
1 - الرغبة في التفقه في دين الله تعالى، ومعرفة حكم وأسرار الشريعة، ولا يكون هذا إلا بدراسة كتاب فقهي معتمد، احتوى جميع الأبواب الفقهية، التي تنظم حياة الفرد والمجتمع، بدءًا بالعبادات والمعاملات، مرورًا بالنكاح والأحوال الشخصية، ثم الجنايات والحدود والقضاء.
2 - الرغبة في الحصول على الخيرية، ورفعة الدرجة، وعلو المنزلة لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "من يرد الله به خيرًا يفقهه في الدين"
(1).
3 - الرغبة في خدمة التراث الفقهي الحنبلي، خاصة وأن المتون الحنبلية، المختصرة والميسرة قليلة نسبيًا، مقارنة بالمتون المتوافرة في المذاهب الأخرى.
4 - الرغبة في خدمة تراث المؤلف، وإبرازه وإظهاره بصورة تجعله متداولًا، سهلًا قريبًا ميسورًا متوافرًا بين يدي الراغبين والباحثين، وذلك أن كثيرًا من تراث المؤلف رحمه الله لم ينشر أو يطبع، وهو من المكثرين، فلا شك أن دراسة كتابه يعتبر بحق إضافة جيدة وجديدة للمكتبة الإسلامية وإثراءً لها.
5 - خدمة مذهب من أقوم المذاهب وأعدلها، ومن أشدها تمسكًا بالأثر في الجملة، وقد قيل: "أحمد مذهب، مذهب أحمد"، وقيل: "مذهب أحمد، مذهب أحمد".
وأحب هنا أن أرقم وأدوِّن بعض المصاعب التي واجهتني خلال بحثي، وهي عديدة، أذكر منها:
--------------------------------------------
আলী বিন হাসান আল-হাশেমী, যিনি ১২৬৩ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৩৩৫ হিজরিতে মিশরের দামানহুরে মৃত্যুবরণ করেন।
এই মূল্যবান বিষয়টি নির্বাচনের অনেকগুলো কারণ ছিল যা উল্লেখ করার যোগ্য, তার মধ্যে রয়েছে:
১ - আল্লাহ তাআলার দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান (তফাককুহ) অর্জন এবং শরীয়তের হুকুম ও রহস্যসমূহ জানার আকাঙ্ক্ষা; আর এটি কেবল একটি নির্ভরযোগ্য ফিকহী গ্রন্থ অধ্যয়নের মাধ্যমেই সম্ভব, যা ফিকহের এমন সমস্ত অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা ব্যক্তি ও সমাজের জীবনকে সুশৃঙ্খল করে—ইবাদত ও মুয়ামালাত (লেনদেন) থেকে শুরু করে বিবাহ ও ব্যক্তিগত আইন, অতঃপর অপরাধতত্ত্ব (জিনায়াত), দণ্ডবিধি (হুদুদ) ও বিচারব্যবস্থা পর্যন্ত।
২ - কল্যাণ লাভ, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং উচ্চ স্থান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন"
(১)।
৩ - হাম্বলী ফিকহী ঐতিহ্যের খিদমত করার আকাঙ্ক্ষা, বিশেষ করে এই কারণে যে, অন্যান্য মাযহাবের সহজলভ্য মূল পাঠের (মুতুন) তুলনায় হাম্বলী মাযহাবের সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য মূল পাঠগুলো তুলনামূলকভাবে কম।
৪ - লেখকের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের খিদমত করার আকাঙ্ক্ষা এবং একে এমনভাবে উপস্থাপন ও প্রকাশ করা যাতে তা গবেষক ও জ্ঞানান্বেষীদের নিকট সহজবোধ্য ও সহজলভ্য হয়। এর কারণ হলো, লেখকের (রহিমাহুল্লাহ) অনেক রচনাই এখনো প্রকাশিত বা মুদ্রিত হয়নি, অথচ তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন। তাই নিঃসন্দেহে তাঁর এই গ্রন্থটির অধ্যয়ন ইসলামী লাইব্রেরির জন্য একটি উত্তম ও নতুন সংযোজন এবং এর সমৃদ্ধির কারণ হিসেবে গণ্য হবে।
৫ - এমন একটি মাযহাবের খিদমত করা যা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ভারসাম্যপূর্ণ এবং যা সামগ্রিকভাবে আছর (বর্ণনা) বা সুন্নাহ অনুসরণে সবচেয়ে কঠোর। বলা হয়ে থাকে: "সবচেয়ে প্রশংসিত মাযহাব হলো আহমদের মাযহাব," আরও বলা হয়: "আহমদের মাযহাবই হলো (আসল) মাযহাব।"
আমি এখানে আমার গবেষণার সময় সম্মুখীন হওয়া কিছু সমস্যার তালিকা ও বিবরণ দিতে চাই, যা অনেক; তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أولًا: ضعف الحصيلة العلمية والبضاعة المزجاة، التي ينوء بها ظهر راقم هذه السطور، حيث إن بحثًا في الدراسات العليا ينبغي لصاحبه أن يكون على درجة عالية من معرفة أمهات كتب كل فن، مطلعا عليها ومتمرسًا في قراءتها، مما يسهل عليه الوصول للمعلومة واستخراجها من مظانها، وفهم كلام العلماء على وجهه، وغير هذا مما لا أدركه.
ثانيًا: كثرة التنقل والترحال الذي أمرت به بعد الموافقة على موضوع الأطروحة، فأجزاء كثيرة من البحث كتبت في أماكن متعددة، منها ما كتب في جدة بلد المنشأ، ومنها ما كتب في مكة المكرمة، ومنها في المدينة المنورة، ومنها في الطائف، ومنها في الرياض، ومنها في القاهرة، ومنها في الدار البيضاء، ومنها كثير في أكرا، فكان هذا البحث أنيسي وجليسي في أوقات الحضر والسفر، في ردهات المطارات، وعلى كرسي الطائرة. ثالثًا: ظهر أثر التنقل الدائم في صعوبة العثور على المراجع كل حين، مما اضطرني إلى الاستعانة بالشبكة العالمية الإلكترونية مرات عدة.
رابعًا: صعوبة قراءة بعض المفردات التي كتبها المؤلف، حيث أظنه كتب كتابه بالريشة الخشبية والحبر الصيني، وذلك يظهر في عرض الخط وتداخل الأحرف.
خامسًا: صعوبة العثور على ترجمة أكثر اتساعًا ووفاء لحق الشيخ البيومي، أبو عياشة، فلطالما راجعت المكتبة المركزية كرات ومرات، ورجعت بخفي حنين، لقلة من تحدث أو ترجم له.
سادسًا: إغلاق بعض العبارات التي ساقها المؤلف؛ لأنه يجمع بين عباراتي كتابين، مما يجعل عبارته غير مفهومة لأول وهلة.
প্রথমত: ইলমি অর্জনের দুর্বলতা এবং তুচ্ছ জ্ঞানভাণ্ডার, যা এই পঙক্তিগুলোর লেখকের পিঠকে নুইয়ে দিচ্ছে; কেননা উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রে গবেষকের প্রতিটি শাস্ত্রের মূল গ্রন্থগুলো সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের জ্ঞান থাকা এবং সেগুলো পাঠে অভ্যস্ত ও পারদর্শী হওয়া আবশ্যক। এটি তথ্যের কাছে পৌঁছানো, তার উৎসস্থল থেকে তা আহরণ করা এবং উলামায়ে কেরামের কথাকে তার প্রকৃত অর্থে অনুধাবন করা সহজ করে দেয়। আমি এগুলো অর্জন করতে পারিনি।
দ্বিতীয়ত: অভিসন্দর্ভের বিষয়টি অনুমোদনের পর ক্রমাগত স্থানান্তর ও ভ্রমণের আধিক্য; ফলে গবেষণার অনেক অংশ বিভিন্ন স্থানে লেখা হয়েছে। যার কিছু অংশ জন্মশহর জেদ্দায়, কিছু মক্কাতুল মুকাররামায়, কিছু মদিনাতুল মুনাওয়ারায়, কিছু তায়েফে, কিছু রিয়াদে, কিছু কায়রোতে, কিছু কাসাব্লাঙ্কায় এবং এর অনেক অংশ আক্রায় লেখা হয়েছে। এই গবেষণা ছিল অবস্থান ও ভ্রমণের সময়ে, বিমানবন্দরের লাউঞ্জে এবং বিমানের আসনে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সঙ্গী। তৃতীয়ত: সর্বদা স্থানান্তরের প্রভাব প্রতিক্ষণে তথ্যসূত্র খুঁজে পাওয়ার অসুবিধার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, যা আমাকে বহুবার বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক নেটওয়ার্কের সাহায্য নিতে বাধ্য করেছে।
চতুর্থত: লেখকের লেখা কিছু শব্দ পড়ার ক্ষেত্রে জটিলতা; আমার মনে হয় তিনি তার বইটি কাঠের নিব এবং চাইনিজ কালি দিয়ে লিখেছিলেন, যা হস্তাক্ষরের প্রশস্ততা এবং অক্ষরগুলোর একে অপরের ভেতর ঢুকে যাওয়া থেকে স্পষ্ট হয়।
পঞ্চমত: শেখ আল-বায়ুমি আবু আইয়াশার এমন একটি বিস্তারিত জীবনী খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা যা তার যথার্থ হক আদায় করে। আমি বারংবার কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে গিয়েছি এবং প্রতিবারই বিফল হয়ে ফিরে এসেছি; কারণ তার সম্পর্কে আলোচনা বা তার জীবনী লিখেছেন এমন লোক খুব কম।
ষষ্ঠত: লেখকের বর্ণিত কিছু বক্তব্যের অস্পষ্টতা; কারণ তিনি দুটি বইয়ের বক্তব্যের সমন্বয় ঘটিয়েছেন, যা প্রথম দেখায় তার বক্তব্যকে অবোধগম্য করে তোলে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
خطة البحث وتشتمل الرسالة على فصلين:
• الفصل الأول: قسم الدراسة، ويتفرع منه أربعة مباحث:
• المبحث الأول: التعريف بالإمام أحمد رحمه الله وبمذهبه الفقهي، ويشتمل على مطلبين:
المطلب الأول: التعريف بالإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، ويشتمل على سبعة فروع:
الفرع الأول: اسم الإمام ونسبه رحمه الله.
الفرع الثاني: ولادة الإمام ونشأته رحمه الله.
الفرع الثالث: رحلات الإمام وطلبه للعلم رحمه الله.
الفرع الرابع: مؤلفات الإمام رحمه الله.
الفرع الخامس: شيوخ الإمام وتلامذته رحمه الله.
الفرع السادس: محنة الإمام رحمه الله.
الفرع السابع: وفاة الإمام رحمه الله.
المطلب الثاني: التعريف بمذهب الإمام أحمد رحمه الله، ويشتمل على ستة فروع:
الفرع الأول: المراد بالمذهب.
গবেষণার রূপরেখাএই অভিসন্দর্ভটি দুটি পরিচ্ছেদের ওপর مشتمل (সমন্বিত):
• প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণা বিভাগ, যা চারটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত:
• প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) এবং তাঁর ফিকহী মাযহাবের পরিচিতি, যা দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম বিষয়: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর পরিচিতি, যা সাতটি উপ-বিভাগে বিন্যস্ত:
প্রথম উপ-বিভাগ: ইমামের নাম ও তাঁর বংশপরিচয় (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
দ্বিতীয় উপ-বিভাগ: ইমামের জন্ম ও তাঁর লালন-পালন (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
তৃতীয় উপ-বিভাগ: ইমামের সফরসমূহ এবং তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
চতুর্থ উপ-বিভাগ: ইমামের রচনাবলি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
পঞ্চম উপ-বিভাগ: ইমামের শিক্ষকগণ ও তাঁর ছাত্রগণ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
ষষ্ঠ উপ-বিভাগ: ইমামের পরীক্ষা বা অগ্নিপরীক্ষা (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
সপ্তম উপ-বিভাগ: ইমামের মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)।
দ্বিতীয় বিষয়: ইমাম আহমাদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর মাযহাবের পরিচিতি, যা ছয়টি উপ-বিভাগে বিন্যস্ত:
প্রথম উপ-বিভাগ: মাযহাব দ্বারা যা উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الفرع الثاني: أطوار المذهب.
الفرع الثالث: أصول المذهب.
الفرع الرابع: مميزات المذهب.
الفرع الخامس: مصطلحات الفقه الحنبلي.
الفرع السادس: كتب المذهب المعتمدة.
• المبحث الثاني: التعريف بالمؤلف رحمه الله، ويشتمل على ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: ذكر نبذة عن حياته الشخصية، ويشتمل على ثلاثة فروع:
الفرع الأول: اسمه ونسبه رحمه الله.
الفرع الثاني: مولده رحمه الله زمانًا ومكانًا.
الفرع الثالث: مناقب أسرته رحمه الله.
المطلب الثاني: مكانته العلمية، وثناء العلماء عليه رحمه الله.
المطلب الثالث: حياته العملية وأعماله ومؤلفاته.
المبحث الثالث: دراسة عصر المؤلف، ويشتمل على أربعة مطالب:
المطلب الأول: الحالة السياسية لعصر المؤلف.
المطلب الثاني: الحالة الثقافية والتعليمية لعصر المؤلف.
المطلب الثالث: الحالة الاقتصادية لعصر المؤلف.
المطلب الرابع: الحالة الحضارية والفنية في عصر المؤلف.
المبحث الرابع: التعريف بالكتاب، وفيه ستة مطالب:
المطلب الأول: توثيق الكتاب.
المطلب الثاني: أهمية الكتاب.
দ্বিতীয় শাখা: মাযহাবের পর্যায়সমূহ।
তৃতীয় শাখা: মাযহাবের মূলনীতিসমূহ।
চতুর্থ শাখা: মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
পঞ্চম শাখা: হাম্বলি ফিকহের পারিভাষিক শব্দাবলি।
ষষ্ঠ শাখা: মাযহাবের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর পরিচয়, এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা, এটি তিনটি শাখা সংবলিত:
প্রথম শাখা: তাঁর নাম ও বংশপরিচয় (রহিমাহুল্লাহ)।
দ্বিতীয় শাখা: তাঁর জন্মসময় ও জন্মস্থান (রহিমাহুল্লাহ)।
তৃতীয় শাখা: তাঁর পরিবারের গুণাবলি (রহিমাহুল্লাহ)।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ইলমি মাকাম এবং তাঁর সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা (রহিমাহুল্লাহ)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর কর্মজীবন, কার্যাবলি ও রচনাবলি।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগ নিয়ে পর্যালোচনা, এটি চারটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগের রাজনৈতিক অবস্থা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত অবস্থা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগের অর্থনৈতিক অবস্থা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: লেখকের সমকালীন যুগের সভ্যতা ও শিল্পকলা বিষয়ক অবস্থা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থ পরিচিতি, এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের প্রামাণ্যতা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের গুরুত্ব।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثالث: مصطلحات الكتاب.
المطلب الرابع: منهج الكتاب.
المطلب الخامس: مصادر الكتاب.
المطلب السادس: تقييم الكتاب.
• الفصل الثاني: قسم التحقيق، ويتفرع منه أربعة مباحث:
المبحث الأول: وصف نسخ المخطوط.
المبحث الثاني: منهج التحقيق وبيان مفرداته.
المبحث الثالث: تحقيق المخطوط.
المبحث الرابع: الفهارس.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের পরিভাষাসমূহ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের পদ্ধতি।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের উৎসসমূহ।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের মূল্যায়ন।
• দ্বিতীয় অধ্যায়: তাহকিক (সম্পাদনা) বিভাগ, যা থেকে চারটি পরিচ্ছেদ নির্গত হয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির অনুলিপিগুলোর বিবরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাহকিকের পদ্ধতি ও তার অনুষঙ্গসমূহের বিবরণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপির তাহকিক।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নির্ঘণ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الفصل الأول قسم الدراسةويشتمل على أربعة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالإمام أحمد رحمه الله وبمذهبه الفقهي.
المبحث الثاني: التعريف بالمؤلف رحمه الله.
المبحث الثالث: دراسة عصر المؤلف.
المبحث الرابع: التعريف بالكتاب.
প্রথম পরিচ্ছেদ: গবেষণা বিভাগএটি চারটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ -রাহিমাহুল্লাহ- এবং তাঁর ফিকহি মাযহাবের পরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থকারের -রাহিমাহুল্লাহ- পরিচয়।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থকারের সমকালীন যুগের পর্যালোচনা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: গ্রন্থের পরিচয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الأول التعريف بالإمام أحمد رحمه الله وبمذهبه الفقهيويشتمل على مطلبين:
المطلب الأول: التعريف بالإمام أحمد رحمه الله.
المطلب الثاني: التعريف بمذهب الإمام أحمد رحمه الله.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) এবং তাঁর ফিকহী মাযহাবের পরিচিতিএটি দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পরিচিতি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المطلب الأول: التعريف بالإمام أحمد رحمه الله (1)ويشتمل على سبعة فروع:
الفرع الأول: في ذكر اسم الإمام ونسبه رحمه الله:هو: أبو عبد الله، أحمد بن محمد بن حنبل بن هلال بن أسد، ويتصل نسبه إلى مازن بن شيبان بن ذهل بن ثعلبة، وينتهي إلى: ربيعة بن نزار بن معد بن عدنان.
الفرع الثاني: في ذكر ولادة الأمام ونشأته رحمه الله:توفي والد الإمام أحمد في الثلاثين من عمره، فانتقلت أمه من خراسان إلى بغداد، وكان الانتقال خيرًا على أمه وأمته؛ فولد ونشأ بها، يقول الإمام أحمد كما روى ابنه عبد الله: "قدمت بي أمي حمْلًا من خراسان، وولدتُ سنة 164 هـ".
وأفادت الروايات أن ميلاده كان في العشرين من شهر ربيع الأول عام (164) للهجرة، وأن مولده كان في بغداد.
--------------------------------------------
প্রথম অন্বেষণ: ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর পরিচয় (১)এবং এটি সাতটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমামের নাম ও বংশ পরিচয়ের বর্ণনায় (রাহিমাহুল্লাহ):তিনি হলেন: আবু আব্দুল্লাহ, আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল ইবনে হিলাল ইবনে আসাদ। তাঁর বংশধারা মাজিন ইবনে শাইবান ইবনে যুহল ইবনে ছা'লাবাহ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং সমাপ্ত হয়েছে রাবিআ ইবনে নিযার ইবনে মা'আদ ইবনে আদনান-এ গিয়ে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমামের জন্ম ও শৈশব-কৈশোরের বর্ণনায় (রাহিমাহুল্লাহ):ইমাম আহমাদের পিতা তিরিশ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন, ফলে তাঁর মাতা খোরাসান থেকে বাগদাদে স্থানান্তরিত হন। এই হিজরত তাঁর মাতা এবং উম্মাহর জন্য কল্যাণকর ছিল; ফলে তিনি সেখানেই জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন। ইমাম আহমাদ বলেন—যেমনটি তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন—: "আমার মা আমাকে গর্ভে ধারণ করে খোরাসান থেকে নিয়ে এসেছিলেন এবং আমি ১৬৪ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেছি।"
বিভিন্ন বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৬৪ হিজরী সালের ২০শে রবিউল আউয়াল মাসে এবং তাঁর জন্মস্থান ছিল বাগদাদে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفرع الثالث: رحلات الإمام، وطلبه للعلم رحمه الله:تربى الإمام أحمد على يد امرأة صالحة، ألا وهي أمه الكريمة التي آثرت البقاء عليه والتفرغ له، فأعقبها الله جل جلاله بأن جعل ابنها ووحيدها فريد عصره، وأخلد ذكره إلى يوم النشور!
قدمت به أمه دار السلام بغداد، وكانت آنذاك بلد العلم والعلماء، وكان أول شأنه أن بدأ بطلب علم الحديث، وكان أول سماعه من هُشيم بن بشير الواسطي، ولازمه حتى توفي سنة 183 هـ، وكان أول من كتب أحمدُ عنه الحديثَ: هو أبو يوسف!
يعد الإمام أحمد أول من اشتهر بالرحلات في طلب الحديث، فقد رحل من بغداد إلى الكوفة والبصرة، وإلى عبادان، وإلى الجزيرة، وإلى واسط، وإلى الحرمين الشريفين: مكة والمدينة، ورحل ماشيًا إلى صنعاء اليمن، وإلى طرسوس مرابطًا وغازيًا، وإلى الشام وربما منعه من السفر خوف والدته وقلة ذات يده، وأول سفره كان إلى الكوفة بعد وفاة شيخه هُشيم، وأخذ العلم عن وكيع، ثم عاد إلى أمه بسبب حمى أصابته!
وأخذ في طريقه إلى مكة لأداء فريضة الحج عن يزيد بن هارون، وفي الحجاز أخذ عن ابن عيينة والشافعي، وأخذ عن عبد الرزاق بن همام محدث اليمن، وعن إبراهيم بن عقيل.
كان لأحمد بن حنبل شيوخ كثر، منهم في المسند ما يزيد عن 285 شيخًا كما ذكر الذهبي رحمه الله.
الفرع الرابع: مؤلفات الإمام رحمه الله:للإمام رحمه مؤلفات في فنون متنوعة، وينقسم الفرع إلى ثلاث مسائل:
المسألة الأولى: ما صنفه الإمام في غير علمي الفقه والأصول:مثل:
তৃতীয় শাখা: ইমামের সফরসমূহ এবং তাঁর ইলম অন্বেষণ (রহিমাহুল্লাহ):ইমাম আহমাদ একজন পুণ্যবতী নারীর হাতে লালিত-পালিত হয়েছিলেন; আর তিনি হলেন তাঁর মহীয়সী মা, যিনি নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে তাঁর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। ফলে মহান আল্লাহ এর প্রতিদান স্বরূপ তাঁর পুত্র ও একমাত্র সন্তানকে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিতে পরিণত করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর নামকে অমর করে রাখেন!
তাঁর মা তাঁকে নিয়ে শান্তির নিকেতন বাগদাদে আসেন, যা তৎকালীন সময়ে ইলম ও উলামায়ে কেরামের শহর ছিল। তাঁর শুরুর অবস্থা ছিল এমন যে, তিনি হাদিসের ইলম অন্বেষণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর প্রথম হাদিস শ্রবণ ছিল হুশাইম ইবনে বাশির আল-ওয়াসিতি থেকে এবং তিনি ১৮৩ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। আর আহমাদ সর্বপ্রথম যাঁর থেকে হাদিস লিখেছিলেন তিনি হলেন আবু ইউসুফ!
ইমাম আহমাদকে হাদিস অন্বেষণের লক্ষ্যে দেশ-বিদেশ সফরের জন্য প্রখ্যাত প্রথম ব্যক্তিদের একজন হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বাগদাদ থেকে কুফা, বসরা, আবাদান, জাজিরা, ওয়াসিত এবং দুই পবিত্র হারাম: মক্কা ও মদিনায় সফর করেন। তিনি পায়ে হেঁটে ইয়েমেনের সানআয় এবং সীমান্ত প্রহরা ও জিহাদের উদ্দেশ্যে তারসুসে সফর করেন। এছাড়া তিনি শামেও সফর করেন। কখনো কখনো তাঁর মায়ের শঙ্কা এবং আর্থিক অসচ্ছলতা তাঁকে সফরে বাধা দিত। তাঁর প্রথম সফর ছিল তাঁর শায়খ হুশাইমের ইন্তেকালের পর কুফায়; সেখানে তিনি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ থেকে ইলম হাসিল করেন, অতঃপর অসুস্থতার (জ্বর) কারণে পুনরায় তাঁর মায়ের নিকট ফিরে আসেন!
হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় যাওয়ার পথে তিনি ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে হাদিস গ্রহণ করেন। হিজাজে থাকাকালীন তিনি ইবনে উইয়াইনাহ ও শাফিয়ি থেকে ইলম অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ইয়েমেনের মুহাদ্দিস আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম এবং ইবরাহিম ইবনে আকিল থেকেও ইলম হাসিল করেন।
আহমাদ ইবনে হাম্বলের অসংখ্য শায়খ ছিলেন; ইমাম যাহাবি (রহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী মুসনাদ আহমাদে তাঁদের সংখ্যা ২৮৫ জনেরও বেশি।
চতুর্থ শাখা: ইমামের রচনাবলি (রহিমাহুল্লাহ):বিভিন্ন বিষয়ে ইমামের অসংখ্য রচনাবলি রয়েছে। এই শাখাটি তিনটি বিষয়ে বিভক্ত:
প্রথম বিষয়: ফিকহ ও উসুল শাস্ত্র ব্যতীত ইমাম যেসব গ্রন্থ রচনা করেছেন:যেমন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
1 - كتاب المسند: وجمع فيه 30 ألف حديث.
2 - كتاب الزهد.
3 - كتاب فضائل الصحابة.
4 - كتاب التاريخ.
5 - كتاب الرد على الجهمية والزنادقة.
المسألة الثانية: ما ألفه الإمام في علمي الفقه والأصول:1 - رسالة في المسيء صلاته.
2 - كتاب الأشربة.
3 - كتاب المناسك الكبير.
4 - كتاب المناسك الصغير.
5 - كتاب الناسخ والمنسوخ.
6 - كتاب الفرائض.
7 - رسالة في الرد على من يزعم الاستغناء بظاهر القرآن عن تفسير سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم.
8 - كتاب في طاعة الرسول صلى الله عليه وعلى آله وسلم.
المسألة الثالثة أوسع هذه الفنون وهي المسائل التي رويت عنه: "مسائل الإمام أحمد":وهي عبارة عن أكثر من ستين ألف مسألة سئل عنها الإمام وجمعت في 20 مجلدًا ومن أشهر الذين رووا عنه هذه المسائل:
1 - أبو بكر المروزي (ت 275 هـ): كان من ملازميه، وخاصة تلاميذه.
2، 3 - أبناؤه: عبد الله وصالح.
১ - কিতাবুল মুসনাদ: এতে ৩০ হাজার হাদিস সংকলন করা হয়েছে।
২ - কিতাবুজ জুহদ।
৩ - কিতাব ফাযায়িলুস সাহাবা।
৪ - কিতাবুত তারিখ।
৫ - কিতাবুর রাদ্দ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াজ জানাদিকাহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রে ইমাম যা রচনা করেছেন:১ - সালাতে ত্রুটি সংশোধন বিষয়ে লিখিত রিসালাহ।
২ - কিতাবুল আশরিবা।
৩ - কিতাবুল মানাসিক আল-কাবীর।
৪ - কিতাবুল মানাসিক আস-সাগীর।
৫ - কিতাবুন নাসিখ ওয়াল মানসুখ।
৬ - কিতাবুল ফারায়িদ।
৭ - যারা কুরআনের বাহ্যিক অর্থের দোহাই দিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করে, তাদের খণ্ডনে লিখিত রিসালাহ।
৮ - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের আনুগত্য বিষয়ক কিতাব।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই সকল বিষয়ের মধ্যে সর্বাধিক বিস্তৃত হলো যা তাঁর থেকে বর্ণিত মাসআলাসমূহ: "মাসায়িলুল ইমাম আহমাদ":এটি ইমামকে জিজ্ঞাসা করা ষাট হাজারেরও বেশি মাসআলার সমষ্টি যা ২০টি খণ্ডে সংকলিত হয়েছে। যারা তাঁর থেকে এই মাসআলাগুলো বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - আবু বকর আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৭৫ হি.): তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং বিশেষ ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন।
২, ৩ - তাঁর দুই পুত্র: আব্দুল্লাহ ও সালেহ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - أبو داود السجستاني، سليمان بن الأشعث (252 - 275)، صاحب السنن.
وغيرهم ممن سيأتي ذكرهم إن شاء الله تعالى.
الفرع الخامس: شيوخ الإمام وتلامذته رحمه الله:للإمام أحمد رحمه الله شيوخ كثر، منهم: هُشيم، ووكيع بن الجراح، ويزيد بن هارون، وسفيان بن عيينة، والإمام الشافعي، عبد الرزاق بن همام محدث اليمن، وإبراهيم بن عقيل.
وقد بلغ شيوخه في المسند إلى ما يزيد عن 285 شيخًا كما ذكر الذهبي رحمه الله في السير.
وللإمام رحمه الله تلاميذ كثيرون، وفيما يلي ذكر أخص الأصحاب ونقلة فقهه، منهم:
1 - صالح ابن الإمام أحمد، وهو أكبر أولاد الإمام، تلقى العلم عن أبيه وغيره، توفي في 266 هـ.
2 - عبد الله ابن الإمام أحمد، اشتغل برواية الحديث عن أبيه، توفي سنة 290 هـ.
3 - أبو بكر أحمد بن محمد بن هانئ الخراساني البغدادي، الشهير بالأثرم، كان من الفقهاء الأعلام، توفي سنة 273 هـ.
4 - حرب بن إسماعيل الحنظلي الكرماني، أخذ عن الإمام فقهًا كثيرًا، توفي سنة 280 هـ.
5 - أبو بكر أحمد بن محمد بن الحجاج المروزي، هو الذي تولى تغسيل الإمام، وكان أخص أصحاب الإمام، وإمامًا في الفقه والحديث، توفي سنة 274 هـ.
6 - أيوب بن إسحاق بن إبراهيم نقل روايات عن الإمام لا توجد إلا من طريقه.
4 - আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, সুলায়মান ইবনুল আশ'আস (২৫২ - ২৭৫), সুনান গ্রন্থের রচয়িতা।
এবং অন্যান্যরা যাদের আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।
পঞ্চম শাখা: ইমামের উস্তাদ এবং ছাত্রগণ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন):ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অনেক উস্তাদ রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: হুশাইম, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, ইয়াযীদ ইবনে হারুন, সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা, ইমাম শাফেয়ী, ইয়ামেনের মুহাদ্দিস আবদুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম এবং ইব্রাহিম ইবনে আকিল।
মুসনাদ গ্রন্থে তাঁর উস্তাদদের সংখ্যা ২৮৫ জনেরও অধিক হয়েছে, যেমনটি ইমাম যাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
ইমামের (রাহিমাহুল্লাহ) অনেক ছাত্র রয়েছেন। নিম্নে তাঁর বিশেষ সঙ্গী এবং তাঁর ফিকহ বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করা হলো:
1 - সালিহ ইবনে ইমাম আহমাদ, তিনি ইমামের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তিনি তাঁর পিতা এবং অন্যান্যদের থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ২৬৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
2 - আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমাদ, তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ২৯০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
3 - আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হানি আল-খোরাসানি আল-বাগদাদি, যিনি আল-আছরাম নামে প্রসিদ্ধ। তিনি প্রসিদ্ধ ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ২৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
4 - হারব ইবনে ইসমাইল আল-হানজালি আল-কিরমানি, তিনি ইমামের নিকট থেকে অনেক ফিকহ গ্রহণ করেছেন। তিনি ২৮০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
5 - আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাজ্জাজ আল-মারওয়াযি, তিনি ইমামের গোসল সম্পন্ন করার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ইমামের বিশেষ ঘনিষ্ঠ সঙ্গীদের একজন এবং ফিকহ ও হাদীসের ইমাম ছিলেন। তিনি ২৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
6 - আইয়ুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম, তিনি ইমামের পক্ষ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা কেবল তাঁর মাধ্যমেই পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
7 - وسليمان بن الأشعث السجستاني أبو داود، صاحب السنن، المتوفى سنة 275 هـ.
الفرع السادس: محنة الإمام رحمه الله:القول بخلق القرآن فتنة عمياء جرّت على الأمة الوبال، حيث كانت ضريبة لإخضاع النص للعقل، لا العقل للنص، والعقل يحركه الهوى، والهوى لا عاصم له! ولما توفي هارون الرشيد سنة 193 للهجرة، وتولى المأمون الخلافة خرجت هذه الفتنة إلى حيز التطبيق، حتى عظمت واشتد عودها في زمن المعتصم، إلى أن بلغت الواثق بن المعتصم.
لم تكن هذه الفتنة في عهد هارون إلا في مجال الدراسة والمناظرة مع خوف شديد من هارون الرشيد، لذا لم يجرؤ رؤوس الضلال على نشر أفكارهم، فكبتوا مقالاتهم، وكفوا ألسنتهم.
فلما تولى المأمون سابع خلفاء بني العباس وهو تلميذ لأبي الهذيل العلاف المعتزلي، وسعى في نشر الفلسفة، وتوغل الفرس في خلافته، وكانوا له بطانة! فتشبعت نفسه بالاعتزال، وقرب رؤوس الضلال ومنهم: ثمامة بن الأشرس، والجاهل أحمد بن أبي دؤاد، ولم يجرؤ المأمون إذ ذاك على مراغمة الناس لوجود شيخ أهل السنة في زمانه، والذي كان له هيبة ومكانة عند العامة والخاصة: يزيد بن هارون، فلما مات يزيد بن هارون وخرج المأمون إلى طرسوس، وتردت حالته دعاه المشؤوم أحمد بن أبي دؤاد على حمل الناس عليها، وإرغامهم على ذلك! فقبل المأمون وكانت آخر أعماله نعوذ بالله من سوء الختام؛ فكان على هذا الفتنة ثلاثة نفر: أحمد بن أبي دؤاد، النافخ في غير هذه الفتنة، والخادم في بغداد صاحب الشرط إسحاق بن إبراهيم الخزاعي. وتلميذ ثمامة بن الأشرس: عمرو بن بحر بن محبوب البصري الكناني المعتزلي المشهور بالجاحظ.
وكان المأمون يبعث بالرسائل التي يأمر فيها بإحياء هذا المذهب، وهو في طرسوس حتى بلغت خمس رسائل، الأولى فيها دعوة العلماء إلى مراكز
৭ - এবং সুলাইমান বিন আল-আশ’আস আস-সিজিস্তানি আবু দাউদ, সুনান গ্রন্থের রচয়িতা, মৃত্যু ২৭৫ হিজরি।
ষষ্ঠ শাখা: ইমামের (রহিমাহুল্লাহ) পরীক্ষা:কুরআন সৃষ্টির মতবাদ ছিল একটি অন্ধ ফিতনা যা উম্মাহর ওপর বিপর্যয় ডেকে এনেছিল, কারণ এটি ছিল নস (ধর্মীয় পাঠ)-কে আকল (যুক্তি)-এর অনুগত করার একটি মাসুল, আকলকে নসের অনুগত করার পরিবর্তে; আর আকল পরিচালিত হয় প্রবৃত্তি দ্বারা, আর প্রবৃত্তি থেকে রক্ষা করার কেউ নেই! যখন ১৯৩ হিজরিতে হারুনুর রশিদ ইন্তেকাল করেন এবং মামুন খিলাফত গ্রহণ করেন, তখন এই ফিতনা প্রয়োগের স্তরে চলে আসে, এমনকি তা মুতাসিমের যুগে আরও প্রকট ও শক্তিশালী হয় এবং শেষ পর্যন্ত মুতাসিম-পুত্র ওয়াসিকের সময় পর্যন্ত পৌঁছায়।
হারুনের যুগে এই ফিতনা কেবল গবেষণা এবং বিতর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কারণ হারুনুর রশিদের প্রতি তাদের তীব্র ভয় ছিল। তাই পথভ্রষ্টতার মূল হোতারা তাদের চিন্তাধারা প্রচারের সাহস করেনি; ফলে তারা তাদের বক্তব্যগুলো চেপে রেখেছিল এবং তাদের জিহ্বাকে সংযত রেখেছিল।
যখন বনু আব্বাসের সপ্তম খলিফা মামুন ক্ষমতা গ্রহণ করলেন—যিনি ছিলেন মুতাজিলা আবু আল-হুজাইল আল-আল্লাফের ছাত্র—এবং তিনি দর্শন প্রচারে সচেষ্ট হলেন এবং তার খিলাফতে পারসিকদের ব্যাপক প্রভাব তৈরি হলো এবং তারা তার অন্তরঙ্গ সহচর হয়ে উঠল! ফলে তার সত্তা মুতাজিলা মতবাদে আচ্ছন্ন হয়ে গেল এবং তিনি পথভ্রষ্টতার হোতাদের নিকটবর্তী করলেন, যাদের মধ্যে ছিল: সুমামাহ বিন আল-আশরাস এবং মূর্খ আহমদ বিন আবি দুআদ। সেই সময় মামুন মানুষের ওপর জবরদস্তি করার সাহস করেননি কারণ তখন আহলুস সুন্নাহর শায়খ ইয়াজিদ বিন হারুন জীবিত ছিলেন, যার সাধারণ ও বিশিষ্ট সবার নিকট বিশেষ মর্যাদা ও প্রভাব ছিল। যখন ইয়াজিদ বিন হারুন মারা গেলেন এবং মামুন তারসুসের দিকে বের হলেন এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলো, তখন অশুভ আহমদ বিন আবি দুআদ তাকে মানুষের ওপর এই মতবাদ চাপিয়ে দিতে এবং তাদের বাধ্য করতে প্ররোচিত করল! মামুন তা গ্রহণ করলেন এবং এটিই ছিল তার জীবনের শেষ কাজ; আমরা মন্দ পরিণাম থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। এই ফিতনার মূলে ছিল তিন ব্যক্তি: আহমদ বিন আবি দুআদ—যে এই ফিতনার আগুন উস্কে দিয়েছিল, বাগদাদে খলিফার খাদেম তথা পুলিশ প্রধান ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খুজায়ি এবং সুমামাহ বিন আল-আশরাসের ছাত্র: আমর বিন বাহর বিন মাহবুব আল-বাসরি আল-কিনানি আল-মুতাজিলা, যিনি আল-জাহিজ নামে পরিচিত।
মামুন তারসুসে থাকা অবস্থায় এই মতবাদ পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠাতে শুরু করেন, যার সংখ্যা ছিল পাঁচটি; প্রথম চিঠিতে ছিল আলেমদের কেন্দ্রগুলোতে ডেকে আনার নির্দেশ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الشرط ببغداد وأخذ أقوالهم، ثم بعث الجواب إليه! خاصة من كان من أصحاب المناصب، والذي لم يقل بالخلق يعزل من فوره! والثانية فيها طلب إرسال سبعة من المحدثين إليه، وتحت التهديد أجابوا مكرهين! وغضب عليهم الإمام أحمد وقال: هم أول من ثلم هذه الثلمة! لأنهم أجابوا، وهم عيون البلد، فاجتُرِء على غيرهم.
وبعد الإجابة تغيرت الطريقة، وبدأت شدة اللهجة تظهر في الرسائل، وأن من لم يجب فعقوبته الحبس، وأمر بإحضار علماء بغداد، وامتحانهم على ذلك، فلم يجب أربعة منهم، وهم: أحمد بن حنبل، ومحمد بن نوح، وعبيد الله بن عمر القواريري، والحسن بن حماد، ثم أجاب الأخيران بعد تقية، وأصر أحمد ومحمد على الحق وأن كلام الله غير مخلوق! فحبسا وقيدا وحملا على جملين، وبعث بهما إلى المأمون في طرسوس، وكان الإمام أحمد يسأل الله تعالى أن لا يرى المأمون، وقد بلغه أن المأمون يحد سيفه! فمات المأمون وهما في الطريق إليه سنة 218 للهجرة، فأعيدا إلى بغداد، وفي الطريق توفي محمد بن نوح في مكان اسمه: عانات. فحل قيده وغسله أحمد وصلى عليه، وذهب بأحمد إلى السجن!
ولما أحس المأمون بدنو أجله كانت وصيته لأخيه المعتصم الخليفة بعده، أن يواصل أمر المحنة وحمل الناس عليها!
ولما تولى المعتصم الخلافة كان على النقيض، فلم يكن من أهل العلم والمعرفة إنما كان رجلًا عسكريًا، مرّت به كلمة الكلأ فلم يعرف معناها لا هو ولا وزراؤه فقال:
لا حول ولا قوة إلا بالله: خليفة أميّ، ووزير عاميّ.
وفي عهد المعتصم ضرب الإمام أحمد بالسياط حتى سقط، فإذا أفاق لُعن وسُب وشُتم، وسُحب على وجهه، وخلعت يداه حيث شدتا في خشبتين حتى انخلعتا! وهو مقيد في كل هذه الأحوال بل إنه كان في صيام.
বাগদাদের পুলিশ কর্মকর্তাদের তলব করা হলো এবং তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হলো, অতঃপর সেই জবাব তার (খলিফার) কাছে পাঠানো হলো! বিশেষ করে যারা পদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন; আর যারা কুরআন সৃষ্টির পক্ষে মত দেননি, তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হলো! দ্বিতীয় পত্রে সাতজন মুহাদ্দিসকে তার নিকট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো এবং হুমকির মুখে তারা অনিচ্ছাসত্ত্বেও উত্তর দিলেন! এতে ইমাম আহমাদ তাদের ওপর রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "তারাই প্রথম এই ফাটল তৈরি করেছে!" কারণ তারা উত্তর দিয়েছিলেন এবং তারা ছিলেন শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ফলে তাদের দেখাদেখি অন্যদের ওপর চাপ প্রয়োগের সাহস বেড়ে গেল।
উত্তর দেওয়ার পর কর্মপদ্ধতি পরিবর্তিত হলো এবং পত্রাবলিতে কঠোর ভাষা প্রকাশ পেতে লাগল। বলা হলো যে, যে ব্যক্তি উত্তর দেবে না তার শাস্তি হবে কারাদণ্ড। তিনি বাগদাদের আলেমদের উপস্থিত করার এবং তাদের এই বিষয়ে পরীক্ষা করার নির্দেশ দিলেন। তাদের মধ্যে চারজন উত্তর দেননি, তারা হলেন: আহমাদ বিন হাম্বল, মুহাম্মাদ বিন নুহ, উবায়দুল্লাহ বিন উমর আল-কাওয়ারিরি এবং হাসান বিন হাম্মাদ। অতঃপর শেষের দুজন তাকিয়া করে (জীবন রক্ষার্থে) উত্তর দিলেন, কিন্তু আহমাদ ও মুহাম্মাদ সত্যের ওপর অবিচল থাকলেন এবং ঘোষণা করলেন যে, আল্লাহর কালাম সৃষ্ট নয়! ফলে তাদের দুজনকে বন্দি করা হলো, শিকল পরানো হলো এবং দুটি উটের পিঠে চড়িয়ে তারসুসে আল-মামুনের কাছে পাঠানো হলো। ইমাম আহমাদ মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছিলেন যেন তাকে আল-মামুনের মুখোমুখি হতে না হয়, কারণ তিনি জানতে পেরেছিলেন যে মামুন তার তলোয়ার শাণ দিচ্ছেন! হিজরি ২১৮ সনে তারা যখন পথে ছিলেন, তখন আল-মামুন মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তাদের বাগদাদে ফিরিয়ে আনা হলো। পথিমধ্যে 'আনাত' নামক স্থানে মুহাম্মাদ বিন নুহ ইন্তেকাল করেন। আহমাদ তার শিকল খুলে দিলেন, তাকে গোসল করালেন এবং তার জানাজা পড়ালেন। এরপর আহমাদকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হলো!
যখন আল-মামুন তার অন্তিম সময় অনুভব করলেন, তখন তার পরবর্তী খলিফা ও ভাই আল-মুতাসিমের প্রতি তার অসিয়ত ছিল যেন তিনি এই পরীক্ষার (মিহনা) ধারা অব্যাহত রাখেন এবং মানুষকে এটি মেনে নিতে বাধ্য করেন!
যখন মুতাসিম খেলাফত গ্রহণ করলেন, তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ বিপরীত প্রকৃতির। তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন সামরিক ব্যক্তি। একবার তার সামনে 'আল-কালা' (তৃণভূমি) শব্দটি আসলো, কিন্তু তিনি বা তার মন্ত্রীরা—কেউই এর অর্থ জানতেন না। তখন বলা হলো:
লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ: খলিফা নিরক্ষর আর মন্ত্রী মূর্খ।
মুতাসিমের শাসনামলে ইমাম আহমাদকে চাবুক দিয়ে প্রহার করা হলো যতক্ষণ না তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গেলেন। যখন তিনি সজ্ঞান হতেন, তখন তাকে লানত দেওয়া হতো, গালিগালাজ করা হতো এবং অপমান করা হতো। তাকে মুখের ওপর টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হতো। তার হাত দুটি দুটি কাঠের সাথে এমনভাবে বেঁধে টানা হয়েছিল যে সেগুলো সন্ধিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল! এই সব অবস্থাতেই তিনি শিকলবন্দি ছিলেন, এমনকি তিনি তখন রোজা অবস্থায় ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وكانت أقوى حجة دامغة عليهم في نقطتين:
هل علم النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه أن كلام الله مخلوق.
فإن كان الجواب بنعم، ألم يسعك ما يسعهم؟!
وإن كان الجواب بلا، فمن أنت حتى تؤتى من العلم ما لم يؤت نبينا صلى الله عليه وسلم ولا أصحابه؟!
واستمرت هذه الحال ثمانية وعشرين شهرًا، والمعتصم يقول لأحمد: لولا أني وجدتك في يد من كان قبلي ما عرضت لك، ويريد أن يخلي سبيله، وابن أبي دؤاد يصرفه عما يريد، ويهول عليه سوء العاقبة إن أطلقه وخلّى سبيله.
ومن عجيب خلق الإمام وسمو نفسه إعلانه العفو عن كل من آذاه، وأنه في حل إلا صاحب بدعة، وجعل المعتصم في حل يوم فتح بابل وعمورية!
ثم توفي المعتصم سنة 227 للهجرة وتولى بعده ابنه الواثق فلم يستطع أن يعاود الكرة مرة أخرى لكنه أرسل إلى عامله إسحاق ينهى فيه الإمام أحمد عن مساكنته وليذهب حيث شاء!، وابتلى غير أحمد من الأئمة العلماء، وذبح أحمد بن نصر الخزاعي، وقيل: إنه تاب من هذا القول قبل موته، فلما ولي المتوكل الخلافة رفع الله به المحنة وأظهر السنة، وأفل نجم التجهم والاعتزال، وكتب بذلك إلى الآفاق سنة 234 للهجرة وكانت له مع أحمد الأخبار الحسان والتي يظهر فيها إكرام العالم وورع الإمام، وتقدير العالم، وإجلال أهل الديانة والمعروف، حكى ابن الجوزي رحمه الله أن الإمام أحمد بن حنبل قيل له أيام المحنة: يا أبا عبد الله! ألا ترى الحق كيف ظهر عليه الباطل؟! فقال: كلا. إن ظهور الباطل على الحق أن تنتقل القلوب من الهدى إلى الضلالة، وقلوبنا بعد لازمة للحق.
الفرع السابع: وفاة الإمام رحمه الله:بعد أفول هذه الفتنة، والتي ذاق الإمام أحمد مرارتها سنوات طوال،
তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী ও অকাট্য যুক্তি ছিল দুটি বিষয়ে:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ কি জানতেন যে আল্লাহর কালাম সৃষ্টি?
যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে তাদের জন্য যা যথেষ্ট ছিল তা কি আপনার জন্য যথেষ্ট নয়?!
আর যদি উত্তর ‘না’ হয়, তবে আপনি কে যে আপনাকে এমন জ্ঞান দেওয়া হলো যা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণকেও দেওয়া হয়নি?!
এই অবস্থা আটাশ মাস পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। আল-মুতাসিম আহমাদকে বলতেন: “আমার পূর্বসূরির হাতে যদি আপনাকে না পেতাম, তবে আমি আপনার কোনো ক্ষতি করতাম না।” তিনি তাকে মুক্তি দিতে চাইতেন, কিন্তু ইবনে আবি দুয়াদ তাকে তার সংকল্প থেকে ফিরিয়ে রাখতেন এবং তাকে মুক্তি দিলে এর অশুভ পরিণতির ভয় দেখাতেন।
ইমামের বিস্ময়কর চরিত্র ও মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ছিল এই যে, যারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে তাদের সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বিদআতী ব্যতীত সবাইকে দায়মুক্ত করে দেন এবং ব্যাবিলন ও আমুরিয়া বিজয়ের দিন আল-মুতাসিমকেও ক্ষমা করে দেন!
অতঃপর ২২৭ হিজরীতে আল-মুতাসিম মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পুত্র আল-ওয়াসিক ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি পুনরায় সেই অত্যাচারের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি, তবে তিনি তাঁর গভর্নর ইসহাকের কাছে বার্তা পাঠান যেখানে তিনি ইমাম আহমাদকে তাঁর সাথে বসবাস করতে নিষেধ করেন এবং তিনি যেখানে ইচ্ছা চলে যেতে পারেন (এমন নির্দেশ দেন)! তিনি আহমাদ ছাড়াও অন্যান্য আলেমদেরও পরীক্ষায় ফেলেন এবং আহমাদ ইবনে নাসর আল-খুজাঈকে হত্যা করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি মৃত্যুর আগে তাঁর এই মতবাদ থেকে তওবা করেছিলেন। অতঃপর যখন আল-মুতাওয়াক্কিল খিলাফত গ্রহণ করেন, তখন আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এই পরীক্ষার অবসান ঘটান এবং সুন্নাহকে বিজয়ী করেন। জাহমিয়া ও মুতাজিলা মতবাদের প্রভাব স্তিমিত হয়ে যায়। তিনি ২৩৪ হিজরীতে সাম্রাজ্যের চতুর্দিকে এ বিষয়ে ফরমান জারি করেন। ইমাম আহমাদের সাথে তাঁর অত্যন্ত চমৎকার সব ঘটনা রয়েছে, যাতে আলেমদের প্রতি সম্মান, ইমামের তাকওয়া, জ্ঞানীর মর্যাদা এবং দ্বীনদার ও সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ফুটে ওঠে। ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেন যে, সেই পরীক্ষার দিনগুলোতে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বলা হয়েছিল: “হে আবু আব্দুল্লাহ! আপনি কি দেখছেন না যে কীভাবে সত্যের ওপর বাতিল জয়ী হয়েছে?!” তিনি বললেন: “কখনোই না। সত্যের ওপর বাতিলের জয়ী হওয়া মানে হলো অন্তরসমূহ হেদায়েত থেকে গোমরাহির দিকে ধাবিত হওয়া, অথচ আমাদের অন্তর এখনো সত্যের ওপর অটল রয়েছে।”
সপ্তম পরিচ্ছেদ: ইমামের (রহিমাহুল্লাহ) ইন্তেকাল:দীর্ঘ বছর ধরে যে ফিতনার তিক্ততা ইমাম আহমাদ আস্বাদন করেছিলেন, তার অবসানের পর,
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
على كبر سنه، تفرغ لعبادة ربه فكان يختم القرآن في كل أسبوع مرتين، مرة في الليل وأخرى في النهار! وازداد زهده في الدنيا حتى قال: إنما هو طعام دون طعام، ولباس دون لباس، وأيام قلائل!
ولما مرض الإمام بعث إليه المتوكل بابن ماسويه المتطبب، ليصف له الأدوية فلا يتعالج، فلما طالت المدة قال المتوكل لابن ماسويه: ويحك، ابن حنبل ما نجح فيه الدواء؟! فقال له: يا أمير المؤمنين، إن أحمد بن حنبل ليس به علة في بدنه، إنما هذا من قلة الطعام وكثرة الصيام والعبادة، فسكت المتوكل.
توفي الإمام محمومًا في بغداد ضحوة يوم الجمعة الثاني عشر من ربيع الأول من سنة إحدى وأربعين ومائتين للهجرة، وغسل وصلي عليه ودفن يوم وفاته، وكان عمره يوم مات: سبعة وسبعين عامًا وأحد عشر شهرًا واثنتين وعشرين ليلة.
বার্ধক্যে উপনীত হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাঁর রবের ইবাদতে মগ্ন হয়ে পড়েন এবং প্রতি সপ্তাহে দুবার কুরআন খতম করতেন—একবার রাতে এবং একবার দিনে! দুনিয়ার প্রতি তাঁর অনাসক্তি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে তিনি বলতেন: "এটি তো সামান্য আহার, সাধারণ পোশাক এবং গুটিকয়েক দিনের জীবন মাত্র!"
যখন ইমাম অসুস্থ হলেন, তখন মুতাওয়াক্কিল চিকিৎসক ইবনে মাসাওয়াইহকে তাঁর নিকট পাঠালেন যাতে তিনি তাঁর জন্য ঔষধের ব্যবস্থা করেন, কিন্তু তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর মুতাওয়াক্কিল ইবনে মাসাওয়াইহকে বললেন: "তোমার দুর্ভোগ হোক! ইবনে হাম্বলের ওপর কি ঔষধ কোনো কাজ করছে না?" তখন তিনি তাকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন, আহমদ ইবনে হাম্বলের শরীরে কোনো রোগ নেই; বরং এটি স্বল্প আহার এবং অত্যধিক সিয়াম ও ইবাদতের ফল।" এতে মুতাওয়াক্কিল নিরুত্তর হয়ে গেলেন।
ইমাম বাগদাদে ২৪১ হিজরি সালের ১২ই রবিউল আউয়াল শুক্রবার চাশতের সময় জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর ইন্তেকালের দিনই তাঁকে গোসল দেওয়া হয়, জানাজার সালাত আদায় করা হয় এবং দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল সাতাত্তর বছর, এগারো মাস ও বাইশ দিন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المطلب الثاني التعريف بمذهب الإمام أحمد رحمه الله (1)ويشتمل على ستة فروع:
الفرع الأول: المراد بالمذهب:المراد بالمذهب الفقهي، معرفة إمام المذهب وسيرته، وعلماء المذهب الذين كان لهم دور في انتشار المذهب وتحقيقه وتنقيحه، والأصول التي بنوا عليها مذهبهم، والمصطلحات فيه، وكتب المذهب المعتمدة، وكيفية نقله، وشروط معرفة المذهب وكيفية طلبه وتلقيه، ونحو ذلك.
الفرع الثاني: أطوار المذهب:مر المذهب الحنبلي كغيره من المذاهب الإسلامية بعدة مراحل وأطوار، ساهمت في تأصيله وبقائه وتطوره، وهي إجمالًا خمسة أطوار سيأتي ذكرها تباعًا:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইমাম আহমাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মাযহাবের পরিচয়(১)এটি ছয়টি শাখার অন্তর্ভুক্ত:
প্রথম শাখা: মাযহাব বলতে যা উদ্দেশ্য:ফিকহি মাযহাব বলতে উদ্দেশ্য হলো—মাযহাবের ইমাম ও তাঁর জীবনী সম্পর্কে জানা এবং মাযহাবের সেই সকল আলেম সম্পর্কে জানা যাদের মাযহাবের প্রসার, তাহকিক ও পরিমার্জনে ভূমিকা ছিল; সেই সাথে যে সকল মূলনীতির উপর ভিত্তি করে তাঁরা তাঁদের মাযহাব গড়ে তুলেছেন, এর পরিভাষাসমূহ, মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ, এর বর্ণনা ও স্থানান্তরের পদ্ধতি, মাযহাব জানার শর্তাবলি এবং এটি শিক্ষা ও গ্রহণের পদ্ধতি ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করা।
দ্বিতীয় শাখা: মাযহাবের পর্যায়সমূহ:অন্যান্য ইসলামী মাযহাবের মতো হাম্বলী মাযহাবও বেশ কিছু স্তর ও পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে, যা এর ভিত্তিস্থাপন, স্থায়িত্ব এবং বিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। সংক্ষিপ্তভাবে এগুলো পাঁচটি পর্যায়, যা পর্যায়ক্রমে বর্ণিত হবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أولًا: طور النشأة والتكوين:لم يعرف الأئمة الأربعة التمذهب المستفتي ولا التعصب لرأي إمام بعينه، بل كان يدل بعضهم على بعض ويرشد إلى الآخرين حين طلب الفتوى؛ لكن الله كتب القبول للأئمة الأربعة في العالمين، وكان لهم تلاميذ حفظوا علمهم، ودونوه، واستنبطوا مآخذه، وتتبعوا أصوله وقواعده، فالتفت الناس إلى هؤلاء التلاميذ كالعنق الواحد، وكان من هؤلاء الأئمة ناصر السنة الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله آخر الأئمة زمنًا وأوسعهم رواية وأثرًا، صاحب ديوان الإسلام في الرواية: المسند، الذي جعل الدليل مستنده فأفنى عمره في طلبه، فتلقى عن الأئمة والعلماء ومنهم الشافعي رحمه الله.
وبما أن للإمام تلاميذ فقد دونوا عنه المسائل، وتتبعوا علمه، واعتنوا بأقواله وأفعاله غاية العناية حتى فاق أقرانه، ولم يدرك مَنْ بعده مكانه في تدوين المسائل عنه سواء أكانت في الأمور العلمية أم العملية، وهذا ما تميز به الإمام عن غيره من الأئمة الذين سبقوه.
ثانيًا: طور النمو والنقل والانتشار:ويمتد من منتصف القرن الثالث، حتى أوائل القرن الخامس الهجري، والتي تنتهي بوفاة شيخ المذهب في زمانه الحسن بن حامد سنة 403 للهجرة، وعرفت هذه الطبقة فيما بعد بطبقة المتقدمين.
وظهر في الجيلين الثاني والثالث من علماء الحنابلة من جمع مسائل الدين في كتب جامعة، ثم نسج أبواب الفقه معتمدًا عليهما.
وفي هذا الدور برز واشتهر علماء أجلاء، منهم عالم فذ جليل، له الفضل على كل منتسب للمذهب، ألا وهو:
1 - أحمد بن محمد، المعروف بالخلال، والذي توفي سنة 311 ببغداد؛ الذي ألف كتابه الشهير: الجامع لعلوم الإمام أحمد، فلفت بمصنفه الأنظار، وصار مطلبًا لكثير من الأئمة والأعلام، وبان المذهب واتضحت معالمه، وشغل الناس به، ومن هنا بدأ ظهور الانتساب إلى الإمام أحمد،
প্রথমত: উদ্ভব ও গঠনকাল:চার ইমাম কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের অনুসরণ কিংবা কোনো বিশেষ ইমামের মতামতের প্রতি গোঁড়ামি চিনতেন না, বরং ফতোয়া চাওয়ার সময় তাঁরা একে অপরের দিকে পথপ্রদর্শন করতেন এবং অন্যদের কাছে পাঠাতেন; কিন্তু আল্লাহ বিশ্বজুড়ে এই চার ইমামের গ্রহণযোগ্যতা লিখে দিয়েছিলেন। তাঁদের এমন সব ছাত্র ছিলেন যাঁরা তাঁদের ইলম (জ্ঞান) সংরক্ষণ করেছেন, তা লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁর উৎসসমূহ উদ্ঘাটন করেছেন এবং এর মূলনীতি ও নিয়মাবলি অনুসরণ করেছেন। ফলে মানুষ এই ছাত্রদের প্রতি একযোগে মনোযোগী হলো। এই ইমামগণের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সুন্নাহর সাহায্যকারী ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ), যিনি সময়ের দিক থেকে সর্বশেষ ইমাম এবং রেওয়ায়েত ও আছারের দিক থেকে সর্বাধিক প্রশস্ত। তিনি রেওয়ায়েতের ক্ষেত্রে ইসলামের সংকলন 'আল-মুসনাদ'-এর রচয়িতা; যিনি দলিলকে নিজের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং এর সন্ধানে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি বিভিন্ন ইমাম ও আলেমদের থেকে জ্ঞান লাভ করেছেন, যাঁদের মধ্যে ইমাম শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যতম।
যেহেতু ইমামের অনেক ছাত্র ছিল, তাঁরা তাঁর থেকে মাসআলাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁর জ্ঞান অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর কথা ও কাজের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন, যা তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তাঁর পরবর্তী কেউ তাঁর থেকে তাত্ত্বিক কিংবা ব্যবহারিক বিষয়ে মাসআলা লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তাঁর পর্যায়ের নাগাল পায়নি। আর এটিই ছিল সেই বৈশিষ্ট্য যা ইমামকে তাঁর পূর্ববর্তী অন্যান্য ইমামদের থেকে স্বতন্ত্র করে তুলেছিল।
দ্বিতীয়ত: বিকাশ, স্থানান্তর ও বিস্তারের কাল:এটি হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে পঞ্চম শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত বিস্তৃত, যা সে সময়ের মাযহাবের শায়খ আল-হাসান বিন হামিদ-এর মৃত্যুর (৪০৩ হিজরি) মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। এই স্তরটি পরবর্তীতে 'মুতাগাদ্দিমীন' (পূর্বসূরি) স্তর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
হাম্বলি আলেমদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মে এমন সব ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব ঘটে যাঁরা দ্বীনের মাসআলাসমূহকে সুসংহত কিতাবসমূহে সংকলন করেন, অতঃপর সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফিকহের অধ্যায়সমূহ সাজান।
এই যুগে অনেক মহান আলেম আত্মপ্রকাশ করেন ও প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যাঁদের মধ্যে একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও মহান আলেম ছিলেন, মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের ওপর যাঁর অনুগ্রহ রয়েছে; তিনি হলেন:
১ - আহমাদ বিন মুহাম্মদ, যিনি 'আল-খাল্লাল' নামে পরিচিত, যিনি ৩১১ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন; তিনি তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'আল-জামি লি উলুমিল ইমাম আহমাদ' রচনা করেন। তাঁর এই রচনার মাধ্যমে তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং এটি অনেক ইমাম ও বরেণ্য ব্যক্তিদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে মাযহাব প্রকাশিত ও এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং মানুষ এটি নিয়ে নিমগ্ন হয়। এখান থেকেই ইমাম আহমাদের দিকে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ পেতে শুরু করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وأخذت أصول المذهب وخطوطه العريضة ومصطلحاته الدقيقة وآثاره النفيسة محل درس وتدريس واستقراء، وتأليف وتقريب وتلقين، كل ذلك كان بالإسناد والتلقي.
وممن اشتهر من علماء هذه الطبقة أيضًا:
2 - الإمام أبو القاسم عمر بن الحسين بن عبد الله، المشهور بالخِرقي المتوفى سنة 324، وقد تتلمذ على يد أصحاب أبي بكر المروزي، وجمع مسائل الإمام وبرع في المذهب، وكان من أوائل من وضع المتون في مذهب الحنابلة.
3 - أبو بكر عبد العزيز بن جعفر بن أحمد، وقد صحب الخلال وخدمه حتى اشتهر بلقب: غلام الخلال.
ثالثًا: طور تحرير المذهب وضبطه وتنقيحه:ويمتد هذا الطور من أوائل القرن الخامس حتى منتصف القرن التاسع الهجري، وينقسم هذا الطور إلى طبقتين:
أولًا: طبقة المتوسطين: وتبدأ من أوائل القرن الخامس وحتى نهاية القرن السادس.
من أبرز علماء هذا الطور:1 - القاضي أبو يعلى محمد بن الحسين الفراء، المتوفى عام 380 هـ، وانتهت إليه رئاسة المذهب، وله كتب كثيرة في الفقه والأصول، والتنقيحات والتخريجات والترجيحات، والتي اعتمد عليها محققو المذهب فيما بعد.
2 - أبو الخطاب الكلوذاني، محفوظ بن أحمد بن الحسن، وهو من تلاميذ القاضي أبي يعلى، برع في الفقه والأصول، وصنف كتبًا كثيرة أيضًا في المذهب.
3 - ابن عقيل، أبو الوفاء علي بن عقيل بن محمد البغدادي، المتوفى عام 513 هـ، تتلمذ على القاضي أبي يعلى، خدم المذهب خدمات جليلة، وكان من علماء الحنابلة المحققين.
মাযহাবের মূলনীতি, এর রূপরেখা, সূক্ষ্ম পরিভাষা এবং মূল্যবান নিদর্শনসমূহ গবেষণা, পাঠদান, পর্যালোচনামূলক বিশ্লেষণ, গ্রন্থনা, সহজীকরণ এবং শিক্ষাদানের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছিল; এ সব কিছুই ছিল সনদ এবং সরাসরি গ্রহণের মাধ্যমে।
এই স্তরের আলেমদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত আরও হলেন:
২ - ইমাম আবুল কাসিম উমর ইবনুল হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি আল-খিরাকি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৩২৪ হিজরি। তিনি আবু বকর আল-মারওয়াযীর শাগরিদদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি ইমামের মাসআলাগুলো সংকলন করেন এবং মাযহাবে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি হাম্বলি মাযহাবের প্রথম দিকের মূলপাঠ (মতন) রচয়িতাদের অন্যতম ছিলেন।
৩ - আবু বকর আব্দুল আজিজ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ। তিনি আল-খাল্লালের সাহচর্যে ছিলেন এবং তাঁর সেবা করেছেন, এমনকি তিনি 'গুলাম আল-খাল্লাল' উপাধিতে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
তৃতীয়: মাযহাবের পরিমার্জন, সংহতি ও বিশোধনের পর্যায়:এই পর্যায়টি পঞ্চম হিজরি শতাব্দীর শুরু থেকে নবম হিজরি শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পর্যায়টি দুই স্তরে বিভক্ত:
প্রথমত: মধ্যবর্তী পর্যায়ের আলেমদের স্তর: এটি পঞ্চম শতাব্দীর শুরু থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই পর্যায়ের প্রধান আলেমদের মধ্যে রয়েছেন:১ - আল-কাযী আবু ইয়া'লা মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-ফাররা, মৃত্যু ৩৮০ হিজরি। মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়েছিল। ফিকহ, উসুল, পরিমার্জন, মাসআলা উদ্ভাবন এবং অগ্রাধিকার প্রদানের বিষয়ে তাঁর অনেক কিতাব রয়েছে, যার ওপর পরবর্তী সময়ে মাযহাবের মুহাক্কিকগণ নির্ভর করেছেন।
২ - আবুল খাত্তাব আল-কালওয়াযানি, মাহফূজ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান। তিনি আল-কাযী আবু ইয়া'লার শিষ্যদের একজন। তিনি ফিকহ ও উসুলে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং মাযহাবে অনেক কিতাব রচনা করেন।
৩ - ইবন আকিল, আবুল ওয়াফা আলী ইবনে আকিল ইবনে মুহাম্মদ আল-বাগদাদী, মৃত্যু ৫১৩ হিজরি। তিনি আল-কাযী আবু ইয়া'লার নিকট শিক্ষা লাভ করেন। তিনি মাযহাবের অসামান্য খিদমত করেছেন এবং হাম্বলি মাযহাবের একজন মুহাক্কিক আলেম ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
4 - ابن الجوزي، عبد الرحمن بن علي، المتوفى عام 597 هـ، برع في علوم كثيرة، وكتب في علوم الإسلام عامة، وله مؤلفات كثيرة في خدمة المذهب.
ثانيًا: طبقة المتأخرين: وتبدأ من بداية القرن السابع وحتى منتصف القرن التاسع.
ومن أبرز علماء هذه الطبقة والذين كان لهم أثر في إثراء المذهب بالتأليف والتصحيح وبيان محاسنه:
1 - ابن قدامة، أبو محمد موفق الدين عبد الله بن أحمد المقدسي، المتوفى عام 621 هـ انتهت إليه رئاسة المذهب في عصره، وخدم المذهب خدمة عظيمة بالتصنيف في الفقه والأصول، وبشرحه متن الخرقي، الشرح المعروف باسم المغني، كانت له متون فقهية لاقت اهتمام الحنابلة من بعده، فقاموا بشرحها في شروح كثيرة، وكانت له اليد الطولى في استقرار المذهب وشموخه ودوامه.
2 - المجد أبو البركات، مجد الدين، عبد السلام بن عبد الله بن تيمية، المولود بحران سنة 590 هـ، له في فقه الحنابلة مصنفات متعددة، من أشهرها كتابه المحرر، وله ترجيحات مقدمة عند الحنابلة المتأخرين.
3 - شيخ الإسلام أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام، الملقب بابن تيمية الحراني، رحمهُ الله تعالى، المتوفى عام 728 هـ، تعلم العلم ودرس الفقه الحنبلي، وبلغ الإمامة في فروع الدين وأصوله، صنف كتبًا متعددة في الفقه وأصوله، منها شرح العمدة لابن قدامة، وله اجتهادات عظيمة بلغت الآفاق، ونفع الله تعالى بها البلاد والعباد، وأثنى عليه الموافق والمخالف.
4 - أبو عبد الله محمد بن بكر بن أيوب، المشهور بابن قيم الجوزية، المتوفى عام 751 هـ، وتتلمذ على ابن تيمية، وتابعه على اجتهاداته في الجملة، ونصر المذهب الحنبلي وصححه.
5 - برهان الدين بن مفلح الدمشقي، له كتاب الفروع وهو من الكتب
৪ - ইবনুল জাওযী, আবদুর রহমান বিন আলী, ওফাত ৫৯৭ হিজরি; তিনি বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং সাধারণভাবে ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে লেখালেখি করেন। মাযহাবের খিদমতে তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত: পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরীন) স্তর: এটি সপ্তম শতাব্দীর শুরু থেকে নবম শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই স্তরের বিশিষ্ট আলেমদের মধ্যে যারা গ্রন্থ রচনা, সংশোধন এবং মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে একে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রেখেছেন তারা হলেন:
১ - ইবনে কুদামাহ, আবু মুহাম্মদ মুওয়াফফাকুদ্দীন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ আল-মাকদিসী, ওফাত ৬২১ হিজরি; তাঁর যুগে মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর ওপর এসে সমাপ্ত হয়। তিনি ফিকহ ও উসূলে রচনার মাধ্যমে এবং ইমাম খিরাকীর মূলপাঠের ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যা 'আল-মুগনী' নামে পরিচিত—এর মাধ্যমে মাযহাবের এক মহান খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। তাঁর রচিত ফিকহী মূলপাঠগুলো (মতন) পরবর্তী হাম্বলীগণের নিকট অত্যন্ত গুরুত্ব লাভ করেছিল, ফলে তাঁরা সেগুলোর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন। মাযহাবের স্থিতিশীলতা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং স্থায়িত্বে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল।
২ - আল-মাজদ আবুল বারাকাত, মাজদুদ্দীন, আবদুস সালাম বিন আবদুল্লাহ বিন তাইমিয়্যাহ, ৫৯০ হিজরিতে হাররানে জন্মগ্রহণ করেন। হাম্বলী ফিকহে তাঁর একাধিক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো তাঁর রচিত 'আল-মুহাররার' গ্রন্থটি। পরবর্তী যুগের হাম্বলী ফকীহগণের নিকট তাঁর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মতসমূহ (তারজীহাত) বিশেষভাবে উপস্থাপিত।
৩ - শায়খুল ইসলাম আহমাদ বিন আবদুল হালীম বিন আবদুস সালাম, যাঁর উপাধি ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন), ওফাত ৭২৮ হিজরি। তিনি ইলম অর্জন করেন এবং হাম্বলী ফিকহ অধ্যয়ন করেন। তিনি দ্বীনের শাখা ও মূলনীতিতে ইমামতের স্তরে উপনীত হন। তিনি ফিকহ ও উসূলে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে ইবনে কুদামাহর 'আল-উমদাহ'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ অন্যতম। তাঁর মহান ইজতিহাদসমূহ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দেশ ও বান্দাদের উপকৃত করেছেন। তাঁর অনুসারী ও বিরোধী নির্বিশেষে সকলে তাঁর প্রশংসা করেছেন।
৪ - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বকর বিন আইয়ুব, যিনি ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ নামে পরিচিত, ওফাত ৭৫১ হিজরি। তিনি ইবনে তাইমিয়্যাহর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং সামগ্রিকভাবে তাঁর ইজতিহাদসমূহে তাঁর অনুসারী ছিলেন। তিনি হাম্বলী মাযহাবকে শক্তিশালী ও সংশোধন করেছেন।
৫ - বুরহানুদ্দীন বিন মুফলিহ আদ-দিমাশকী, তাঁর 'আল-ফুরু' নামক গ্রন্থটি রয়েছে যা অন্যতম একটি...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المعتمدة في المذهب، وحكاية الخلاف بين المذاهب، وهو من أنجب تلاميذ شيخ الإسلام ابن تيمية.
6 - زين الدين أبي الفرج، عبد الرحمن بن شهاب الدين بن أحمد بن رجب البغدادي.
ثالثا: امتداد طبقة المتأخرين إلى عصرنا الحاضر:وأبرز ما في هذا الدور الاستفادة من كتب المذهب، وتمتد من منتصف القرن التاسع حتى نهاية القرن الرابع عشر الهجري، واستقر في هذه المرحلة المذهب تمامًا، وتميزت ببيان ما استقر عليه المذهب من روايات وأوجه، في مقابل الروايات والأوجه التي خالفها جمهور الحنابلة.
ومن أبرز علماء هذا الطور:1 - الإمام المرداوي، علاء الدين أبو الحسن على بن سليمان بن أحمد، المتوفى عام 885 هـ، وله كتاب الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف، وهو من أجلِّ المصنفات التي حررت روايات المذهب وأوجهه وترجيحاته، بل هو عمدة المتأخرين ممن كتب وصنف وأفتى، وألف في مذهب الحنابلة.
2 - الإمام يوسف بن عبد الهادي المتوفى عام 959 هـ، وأشهر كتبه كتاب: مغني ذوي الأفهام عن الكتب الكثيرة في الأحكام.
3 - الإمام شرف الدين موسى بن أحمد الحجاوي صاحب زاد المستقنع والإقناع وغيرها.
4 - الإمام محمد بن أحمد بن عبد العزيز الفتوحي، الشهير بابن النجار الحنبلي، المتوفى عام 972 هـ الذي جاء بكتاب: منتهى الإرادات في الجمع بين المقنع والتنقيح وزيادات، وشرحه بنفسه، فكان نورًا على نور.
5 - الإمام منصور بن يونس البهوتي ت 1051 هـ، له جهد كبير في خدمة المذهب ولمؤلفاته قبول عند متأخري الحنابلة، من خلال شروحه الروض المربع وكشاف القناع وغيرها.
মাযহাবের নির্ভরযোগ্য (মতগুলো), এবং মাযহাবসমূহের মধ্যকার মতপার্থক্য বর্ণনা করা; আর তিনি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর অন্যতম মেধাবী ছাত্র।
6 - যাইনুদ্দীন আবুল ফারাজ, আবদুর রহমান বিন শিহাবুদ্দীন বিন আহমদ বিন রাজাব আল-বাগদাদী।
তৃতীয়: পরবর্তী প্রজন্মের (মুতাআখখিরীন) স্তরের ব্যাপ্তি বর্তমান যুগ পর্যন্ত:এই যুগের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো মাযহাবের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া। এটি নবম হিজরি শতকের মাঝামাঝি থেকে চতুর্দশ হিজরি শতকের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই পর্যায়ে মাযহাব সম্পূর্ণরূপে স্থিতিশীল হয়েছে এবং এটি মাযহাবে প্রতিষ্ঠিত বর্ণনা (রিওয়ায়াত) ও অভিমতসমূহ (আওজুহ) স্পষ্ট করার মাধ্যমে বিশিষ্টতা লাভ করেছে, ঐসব বর্ণনা ও অভিমতের বিপরীতে যা জুমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) হাম্বলিগণ বিরোধিতা করেছেন।
এই স্তরের অন্যতম বিশিষ্ট আলেমগণ হলেন:1 - ইমাম আল-মারদাভী, আলাউদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন সুলাইমান বিন আহমদ, মৃত্যু ৮৮৫ হিজরি। তাঁর কিতাব হলো 'আল-ইনসাফ ফী মা'রিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ'। এটি মাযহাবের বর্ণনা, অভিমত এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতগুলোকে সংকলিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। বরং এটি হাম্বলি মাযহাবে যারা কিতাব লিখেছেন, সংকলন করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন, সেই পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরীন) আলেমদের প্রধান ভিত্তি।
2 - ইমাম ইউসুফ বিন আব্দুল হাদী, মৃত্যু ৯৫৯ হিজরি। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কিতাব হলো: 'মুগনি যাউয়িল আফহাম আনিল কুতুবিল কাসিরা ফিল আহকাম'।
3 - ইমাম শারাফুদ্দীন মুসা বিন আহমদ আল-হিজজাবি, 'যাদুল মুসতাকনি' এবং 'আল-ইকনা' ও অন্যান্য গ্রন্থের রচয়িতা।
4 - ইমাম মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-ফুতুহি, যিনি ইবনে নাজ্জার আল-হাম্বলি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৯৭২ হিজরি। তিনি 'মুনতাহাল ইরাদাত ফী জাময়ি বাইনাল মুকনি ওয়াত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত' নামক কিতাবটি রচনা করেন এবং নিজেই এর ব্যাখ্যা লিখেন, যা ছিল নূরের উপর নূর।
5 - ইমাম মানসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতি, মৃত্যু ১০৫১ হিজরি। মাযহাবের খিদমতে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে এবং তাঁর রচিত কিতাবসমূহ পরবর্তী যুগের হাম্বলিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, বিশেষ করে তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আর-রওদুল মুরবি' এবং 'কাশশাফুল কিনা' ও অন্যান্যগুলোর মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
6 - الإمام عبد القادر بن مصطفى الدمشقي، المعروف بابن بدران، المتوفى عام 1346 هـ، له كتاب: المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل، وله حواش على الروض المربع وعلى شرح المنتهى للبهوتي، وله في أصول الفقه نزهة الخاطر العاطر شرح روضة الناظر لابن قدامة.
رابعًا: الدور الأخير وهو دور تنقيح وإحياء التراث الفقهي ودراسته دراسة موسعة:وهذه من خصائص هذا العصر الحديث وذلك بإخراج التراث الفقهي المخطوط على شكل رسائل علمية محكمة، أو التأليف في مسائل فقهية معاصرة أو نوازل من خلال قواعد وأصول المذهب التي سيأتي ذكرها إن شاء الله.
الفرع الثالث: أصول المذهب (1):
لمذهب الإمام أحمد رحمه الله كما لغيره من المذاهب الإسلامية أصول تعين الفقيه على الفتوى، ويستمد منها اجتهاده وتوجهه ونظره الفقهي، وإجمالًا يوجزها من يكتب في أصول الإمام أحمد في خمسة أصول سنعرض لذكرها بإيجاز وبالله التوفيق.
الأصل الأول: النص، وأعني بالنص: الكتاب وصحيح السنة:قال ابن بدران في كتابه القيم "المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل": كان إذا وجد النَّصَ أفتى بِمُوْجِبه، ولم يلتفت إلى ما خالفه ولا إلى من خالفه، كائنًا من كان، ولهذا لم يَلتفت إلى خلاف عُمر في المبتوتة، لحديث فاطمة بنت قيس؛ ولا إلى خلافه في التَّيمم للجُنُب، لحديث عمار بن ياسر المصرح بصحة تيمم الجنب؛ وكذلك لم يلتفت إلى قول علي وعثمان وطلحة وأبي أيوب وأبي بن كعب في ترك الغسل من الإكسال،
--------------------------------------------
৬ - ইমাম আব্দুল কাদির বিন মুস্তফা আদ-দিমাশকি, যিনি ইবনে বাদরান নামে পরিচিত, ১৩৪৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ হলো: ‘আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি আল-ইমাম আহমদ বিন হাম্বল’। এ ছাড়া আর-রাওদ আল-মুরবি এবং বুহুতির শারহুল মুনতাহা-র ওপর তাঁর টীকা (হাশিয়া) রয়েছে। উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর ‘নুযহাতুল খাতির আল-আতির শারহু রওদাতিন নাজির লি-ইবনে কুদামা’ নামক গ্রন্থ রয়েছে।
চতুর্থ: শেষ যুগ, যা ফিকহী ঐতিহ্যের পরিমার্জন, পুনর্জাগরণ এবং এর বিস্তৃত পর্যালোচনার যুগ:এটি এই আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা পাণ্ডুলিপি আকারে থাকা ফিকহী ঐতিহ্যকে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক থিসিস হিসেবে প্রকাশ করার মাধ্যমে বা সমসাময়িক ফিকহী মাসআলা ও উদ্ভূত নতুন সমস্যাসমূহ (নাওয়াযিল) নিয়ে মাযহাবের মূলনীতি ও উসুলের আলোকে গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে সাধিত হয়, যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাযহাবের মূলনীতি (১):
অন্যান্য ইসলামী মাযহাবের মতো ইমাম আহমদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবেরও কিছু মূলনীতি রয়েছে যা ফকিহকে ফতোয়া প্রদানে সহায়তা করে এবং যেখান থেকে তিনি তাঁর ইজতিহাদ, দৃষ্টিভঙ্গি ও ফিকহী মতাদর্শ গ্রহণ করেন। সংক্ষেপে, ইমাম আহমদের উসুল নিয়ে যারা লিখেছেন তারা এগুলোকে পাঁচটি মূলনীতিতে সারসংক্ষেপ করেছেন, যা আমরা সংক্ষেপে তুলে ধরব; আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।
প্রথম মূলনীতি: নাস (অকাট্য প্রমাণ), আর নাস বলতে আমি বুঝাচ্ছি: কুরআন এবং সহিহ সুন্নাহ:ইবনে বাদরান তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ ‘আল-মাদখাল ইলা মাজহাবি আল-ইমাম আহমদ বিন হাম্বল’-এ বলেন: তিনি (ইমাম আহমদ) যখনই কোনো নাস পেতেন, সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। এর বিপরীতে যা কিছু বা যারাই থাকুক না কেন, তিনি তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না, তিনি যেই হোন না কেন। এই কারণেই তিনি ফাতেমা বিনতে কায়েসের হাদিসের কারণে তালাকপ্রাপ্তা নারীর ক্ষেত্রে উমরের মতভেদের দিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি; জেনাব অবস্থায় তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে আম্মার বিন ইয়াসিরের হাদিসের কারণে উমরের মতভেদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেননি, যে হাদিসে জেনাব অবস্থায় তায়াম্মুমের বৈধতার সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। একইভাবে তিনি বীর্যপাতহীন সহবাসের ক্ষেত্রে গোসল ত্যাগ করা সম্পর্কে আলী, উসমান, তালহা, আবু আইয়ুব এবং উবাই বিন কাবের উক্তির প্রতিও ভ্রুক্ষেপ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
لصحة حديث عائشة "أنها فعلته هي ورسول الله صلى الله عليه وسلم فاغتسلا" إلى غير ذلك مما هو كثير جدًّا.
ولم يكن يُقَدِّم على الحديث الصحيح عملًا ولا رأيًا ولا قياسًا، ولا قول صاحب، ولا عدم علمه بالمخالف، الذي يسميه كثير من الناس بالإجماع، ويقدمونه على الحديث الصحيح.
وقال الإمام ابن القيم وغيره من علماء الأصول: قَد كَذَّب أحمدُ مَن ادّعى هذا الإجماع، ولم يُسِغ تقديمه على الحديث الثابت، وكذلك الشافعي أيضًا، نَصَّ في الرسالة على أنّ ما لم يُعلم فيه خلاف لا يُقال له: إجماع. وقال عبد الله ابن الإمام أحمد: سمعت أبي يقول: "ما يَدّعي فيه الرجلُ الإجماعَ فهو كَذِبٌ، وَمَن ادّعى الإجماع فهو كاذب، لعل الناس اختلفوا، ما يُدريه ولم يَنته إليه، فليقل لا نعلمُ النَّاسَ اختلفوا، هذه دعوى بِشْر المرّيسي والأصم، ولكنه يقول: لا نعلم الناس اختلفوا أو لم يبلغني ذلك".
ونصوص رسول الله أجلّ عند الإمام أحمد وسائر أئمة الحديث من أن يُقَدِّموا عليها تَوَهُّم إجماع مضمونه عدم العلم بالمخالف، ولو سَاغَ لَتَعَطّلت النصوصُ وسَاغَ لكل مَن لم يَعلمُ مخالفًا في حكم مسألة أن يُقدِّم جهله بالمخالف على النصوص، فهذا هو الذي أنكره الإمَام أحمد والشافعي من دعوى الإجماع، لا ما يظنه بعض الناس أنه استبعاد لوجوده.
الأصل الثاني: الأخذ بأقوال الصحابة رضي الله عنهم ما لم يكن لهم مخالف منهم:كان الإمام أحمد رحمه الله إذا وجد للصحابي فتوى في مسألة، ولا يُعرف له مُخالف منهم فيها لم يَتجاوزها إلى غيرها، ولم يَقُل: إن ذلك إجماع، بل مِن وَرَعِه في العبارة يقول: لا أعلم شيئًا يدفعه، أو نحو هذا، وكان إذا وجد هذا النوع عن الصحابة لم يُقدم عليه عملًا ولا رأيًا ولا قياسًا، فكانت فتاواه لذلك، مَن تَأمّلها وتَأمّل فتاوى الصحابة رأى مطابقة كل منهما للأخرى، ورأى الجميع كأنها تخرج من مشكاة واحدة.
আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদীসটি সহীহ হওয়ার কারণে—যেখানে তিনি বলেন যে, তিনি এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি করেছিলেন এবং এরপর গোসল করেছিলেন—এরূপ আরও অসংখ্য দলিল বিদ্যমান।
তিনি সহীহ হাদীসের ওপর কোনো আমল, রায় (মতামত), কিয়াস (অনুমান), সাহাবীর উক্তি, কিংবা কোনো বিরোধিতাকারীর বিষয়ে তার অজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিতেন না—যাকে অনেক মানুষ ইজমা বলে অভিহিত করে এবং সহীহ হাদীসের ওপর অগ্রাধিকার দেয়।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম এবং উসুল শাস্ত্রের অন্যান্য উলামায়ে কেরাম বলেছেন: ইমাম আহমাদ সেই ব্যক্তির দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন যে এই প্রকার ইজমার দাবি করে, এবং প্রমাণিত হাদীসের ওপর একে অগ্রাধিকার দেওয়াকে তিনি বৈধ মনে করেননি। অনুরূপভাবে ইমাম শাফেয়ীও তার 'রিসালা' গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে বিষয়ে কোনো মতভেদ জানা নেই তাকে 'ইজমা' বলা যাবে না। ইমাম আহমাদের পুত্র আবদুল্লাহ বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: "মানুষ যে বিষয়ে ইজমার দাবি করে তা মিথ্যা। যে ব্যক্তি ইজমার দাবি করে সে মিথ্যাবাদী। সম্ভবত মানুষের মাঝে মতভেদ রয়েছে যা সে জানে না কিংবা তার নিকট পৌঁছেনি। বরং তার বলা উচিত: 'আমরা জানি না যে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে'। এটি ছিল বিশর আল-মাররিসি এবং আল-আসম্ম-এর দাবি। বরং তার বলা উচিত: 'আমরা জানি না যে মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে' অথবা 'এ বিষয়ে কোনো কিছু আমার নিকট পৌঁছেনি'।"
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নসসমূহ ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য হাদীস বিশারদদের নিকট এতই মহান ছিল যে, তারা এর ওপর এমন কোনো কাল্পনিক ইজমাকে প্রাধান্য দিতেন না যার সারকথা হলো বিরোধিতাকারীর ব্যাপারে অজ্ঞতা। যদি এটি বৈধ হতো, তবে নসসমূহ অকেজো হয়ে যেত এবং যে কোনো ব্যক্তি কোনো মাসআলার হুকুমে বিরোধিতাকারীর কথা না জানলে তার সেই অজ্ঞতাকে নসের ওপর প্রাধান্য দেওয়া বৈধ হয়ে যেত। সুতরাং এটিই হলো ইজমার সেই দাবি যা ইমাম আহমাদ এবং ইমাম শাফেয়ী প্রত্যাখ্যান করেছেন; এটি এমন নয় যা কিছু মানুষ মনে করে যে, তারা ইজমার অস্তিত্বকেই অসম্ভব মনে করতেন।
দ্বিতীয় মূলনীতি: সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর বক্তব্য গ্রহণ করা, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে কেউ এর বিরোধিতা করেন:ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) যখন কোনো মাসআলায় কোনো সাহাবীর ফাতাওয়া পেতেন এবং তাদের মধ্যে তার কোনো বিরোধিতাকারীর কথা জানা থাকতো না, তখন তিনি তা অতিক্রম করে অন্য কোনো মত গ্রহণ করতেন না। তিনি একে 'ইজমা' বলতেন না, বরং শব্দ চয়নে সতর্কতার কারণে বলতেন: "আমি এমন কিছু জানি না যা একে খণ্ডন করে" বা এই জাতীয় কিছু। যখন তিনি সাহাবীদের থেকে এই ধরনের বর্ণনা পেতেন, তখন তার ওপর কোনো আমল, রায় বা কিয়াসকে প্রাধান্য দিতেন না। এই কারণে তার ফাতাওয়াগুলো এমন ছিল যে, যে ব্যক্তি তার ফাতাওয়া এবং সাহাবীদের ফাতাওয়াগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে উভয়ের মধ্যে পূর্ণ মিল দেখতে পাবে এবং মনে হবে যেন সব একই আলোর উৎস থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
حتى إن الصحابة إذا اختلفوا على قولين جاء عنه في المسألة روايتان، وكان تَحَرِّيه لفتاوى الصحابة كتحرّي أصحابه لفتاواه ونصوصه، بل أعظم، حتى إنّه لَيُقَدِّم فتاواهم على الحديث المرسل.
قال إسحاق بن إبراهيم بن هانيء في "مسائله": قلت لأبي عبد الله حديث عن رسول الله مرسل برجالٍ ثبت أحبّ إليك، أو حديث عن الصحابة والتابعين متصل برجال ثبت؟
قال أبو عبد الله رحمه الله: "عن الصحابة أعجب إليّ" وَمِن ثمّ صارت فتاواه إمامًا وقدوة لأهل السنة على اختلاف طبقاتهم، حتى إنّ المخالفين لمذهبه في الاجتهاد والمقلدين لغيره، ليعظمون نصوصه وفتاواه، ويعرفون لها حقها، وقربها من النصوص، وفتاوى الصحابة.
الأصل الثالث: إذا اختلف الصحابةُ تَخَيّر من أقوالهم، ما كان أقربها إلى الكتاب والسنة، ولم يخرج عن أقوالهم، فإن لم يتبين له موافقة أحد الأقوال، حكى الخلاف فيها، ولم يَجزِم بقولٍ:قال إسحاق بن إبراهيم بن هانئ في "مسائله": قيل لأبي عبد الله: يَكُونُ الرجل في قومه فَيُسألُ عن الشيء فيه اختلاف؟ قال: يُفتي بما وَافَقَ الكتاب والسنة، وما لم يوافق الكتاب والسنة أَمسك عنه. قيل له: أَفَيُجاب عليه؟ قال: لا.
الأصل الرابع: الأخذ بالمرسل والحديث الضعيف إذا لم يكن في الباب شيء يدفعه:وهو الذي رجحه على القياس، وليس المراد بالضعيف عنده الباطل، ولا المنكر، ولا ما في روايته متهم بحيث لا يَسُوغُ الذهاب إليه والعمل به، بل الحديث الضعيف عنده: قسيم الصحيح، وقسم من أقسام الحسن، وَلم يَكُن يُقَسِّم الحديث إلى صحيح وحسن وضعيف بل إلى صحيح وضعيف. وللضعيف عنده مراتب: فإذا لم يَجِد في الباب أثرًا يدفعه، ولا قول صحابي، ولا إجماعًا على خلافه، كان العملُ به عنده أولى من القياس.
এমনকি সাহাবীগণ যখন কোনো বিষয়ে দুইটি মতে বিভক্ত হতেন, তখন ইমাম আহমাদ থেকেও সেই মাসআলায় দুইটি বর্ণনা পাওয়া যেত। সাহাবীগণের ফতোয়া অনুসন্ধানে তাঁর একাগ্রতা ছিল ঠিক তেমনই, যেমনটি ছিল তাঁর ছাত্রদের একাগ্রতা তাঁর ফতোয়া ও উক্তিগুলো অনুসরণের ক্ষেত্রে—বরং তার চেয়েও বেশি। এমনকি তিনি সাহাবীগণের ফতোয়াকে মুরসাল হাদিসের ওপর প্রধান্য দিতেন।
ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হানি তাঁর ‘মাসাইল’-এ বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আসা কোনো মুরসাল হাদিস আপনার কাছে বেশি পছন্দনীয়, নাকি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণিত সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে আসা কোনো মুত্তাসিল (সূত্র-সংযুক্ত) বর্ণনা?
আবু আব্দুল্লাহ রাহিমাহুল্লাহ বললেন: "সাহাবীগণের বর্ণনা আমার কাছে বেশি পছন্দনীয়।" এ কারণেই তাঁর ফতোয়াসমূহ সর্বস্তরের আহলে সুন্নতের কাছে আদর্শ ও অনুসরণযোগ্য হয়েছে। এমনকি যারা ইজতিহাদের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাবের বিরোধী এবং অন্য কারো মুকাল্লিদ, তারাও তাঁর বক্তব্য ও ফতোয়াকে সম্মান করে এবং তার যথার্থ মর্যাদা ও দলিলের এবং সাহাবীগণের ফতোয়ার সাথে এর নৈকট্য সম্পর্কে অবগত।
তৃতীয় মূলনীতি: যখন সাহাবীগণ মতভেদ করতেন, তখন তিনি তাঁদের বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে যেটি কুরআন ও সুন্নাহর অধিক নিকটবর্তী হতো সেটি গ্রহণ করতেন এবং তাঁদের মতের বাইরে যেতেন না। আর যদি কোনো একটি মতের সাথে কুরআন ও সুন্নাহর সামঞ্জস্যতা তাঁর কাছে স্পষ্ট না হতো, তবে তিনি সে বিষয়ে তাঁদের মতপার্থক্যগুলো বর্ণনা করতেন এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট মতের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতেন না:ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে হানি তাঁর ‘মাসাইল’-এ বলেন: আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো—যদি কোনো ব্যক্তি এমন এক সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকে যেখানে তাকে এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় যাতে মতভেদ রয়েছে? তিনি বললেন: সে যেন কুরআন ও সুন্নাহর সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ সে অনুযায়ী ফতোয়া দেয়, আর যা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় তা থেকে বিরত থাকে। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তবে কি তাকে উত্তর দিতেই হবে? তিনি বললেন: না।
চতুর্থ মূলনীতি: মুরসাল ও যঈফ হাদিস গ্রহণ করা, যদি সেই অধ্যায়ে এর বিপরীতে জোরালো কোনো দলিল না থাকে:আর একেই তিনি কিয়াসের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে তাঁর নিকট ‘যঈফ’ বলতে ‘বাতিল’, ‘মুনকার’ বা এমন বর্ণনাকারী সম্বলিত হাদিস নয় যেটিকে গ্রহণ করা বা যার ওপর আমল করা বৈধ নয়। বরং তাঁর নিকট যঈফ হাদিস হলো সহীহের সমান্তরাল এবং এটি হাসানের অন্তর্ভুক্ত। তিনি হাদিসকে সহীহ, হাসান ও যঈফ—এই তিন ভাগে বিভক্ত করতেন না, বরং সহীহ ও যঈফ—এই দুই ভাগে ভাগ করতেন। তাঁর নিকট যঈফ হাদিসেরও স্তরভেদ ছিল। সুতরাং যখন তিনি উক্ত বিষয়ে এর পরিপন্থী কোনো আসার, সাহাবীর বক্তব্য অথবা এর বিরুদ্ধে কোনো ইজমা খুঁজে পেতেন না, তখন তাঁর নিকট এর ওপর আমল করা কিয়াসের চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য ছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকদুল মুফরাদ ফিল ফিকহি আলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الأصل الخامس: القياس:كان الإمام أحمد يستعمله للضرورة، ففي كتاب الخلال عن أحمد قال: "سألت الشافعي عن القياس؟ فقال: إنما يُصار إليه عند الضرورة".
فهذه الأصول الخمسة، أصول فتاوى الإمام أحمد رحمه الله، وعليها مدارها.
وكان رضي الله عنه يتوقف أحيانًا في الفتوى لتعارض الأدلة عنده، أو لاختلاف الصحابة فيها، أو لعدم اطلاعه فيها على أثر، أو قول أحد من الصحابة والتابعين، وكان شديد الكراهة والمنع للإفتاء بمسألة ليس فيها أثر عن السلف. فقد قال لبعض أصحابه: إياك أن تتكلم في مسألة ليس لك فيها إمام.
الفرع الرابع: مميزات المذهب:ليس المقصود من ذكر هذه المميزات أن المذاهب الفقهية الأخرى تعرى عن مثل هذه المزايا، لا، لكن المقصود أن المتتبع لأبواب الفقه الحنبلي وفروعه ينطبع في ذهنه، ويرسخ في عقله، هذه الأطر والخطوط العريضة بشكل جلي واضح بين، فمن هذه المميزات ما يلي:
أولًا: العناية بذكر الدليل من الكتاب والسنة وأقوال الصحابة في جل المسائل:فلذلك يعتبر هذا المذهب قبلة لمدرسة النص لأن الناظر فيه يجد حشدًا ضخمًا من الأدلة، مع جودة الاستنباط منها والتفريع عليها وهو ما يعرف بفقه الدليل، أو فقه الأثر، فلا تكاد تجد مسألة إلا وجواب الإمام فيها: فيه حديثان، فيه أربعة أحاديث، فيه أحاديث جياد حسان، روى هذه السنة عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا من الصحابة رضي الله عنهم.
ثانيًا: البعد عن الفقه الافتراضي:وهو الذي يشتمل على مسائل يفترض أن تقع، ثم يفترض الحكم
পঞ্চম মূলনীতি: কিয়াস (সাদৃশ্যবিধান):ইমাম আহমাদ এটি কেবল প্রয়োজনের খাতিরে ব্যবহার করতেন। খাল্লালের কিতাবে আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি শাফিঈকে কিয়াস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি? তিনি বললেন: এটি কেবলমাত্র প্রয়োজনের সময়ই অবলম্বন করা হয়।"
এই পাঁচটি মূলনীতিই হলো ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফতোয়ার মূল ভিত্তি এবং এগুলোর ওপরই তা আবর্তিত হয়।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দলীলের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিলে, কিংবা সাহাবীগণের মধ্যে মতভেদ থাকলে অথবা সে বিষয়ে কোনো বর্ণনা (আসার) বা সাহাবী ও তাবিঈগণের কোনো বক্তব্য না জানলে অনেক সময় ফতোয়া প্রদানে বিরত থাকতেন। তিনি এমন বিষয়ে ফতোয়া প্রদানকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন এবং নিষেধ করতেন যাতে সালাফদের (পূর্বসূরিদের) কোনো বর্ণনা নেই। তিনি তাঁর কোনো এক সঙ্গীকে বলেছিলেন: সাবধান! তুমি এমন কোনো বিষয়ে কথা বলো না যাতে তোমার কোনো ইমাম (পূর্বসূরি অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব) নেই।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মাযহাবের বৈশিষ্ট্যসমূহ:এই বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখ করার উদ্দেশ্য এই নয় যে, অন্যান্য ফিকহী মাযহাবগুলো এই ধরণের বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত; না, বরং উদ্দেশ্য হলো এই যে, হাম্বলী ফিকহের অধ্যায়সমূহ এবং এর শাখা-প্রশাখাসমূহ অনুসন্ধানকারীর মনে ও মস্তিকে এই কাঠামো এবং রূপরেখাগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে গেঁথে যায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো:
প্রথমত: অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবীগণের বক্তব্য থেকে দলীল উল্লেখ করার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া:এই কারণে এই মাযহাবটিকে নসের (মূল পাঠের) অনুসারী ঘরানার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গণ্য করা হয়। কেননা এতে অনুসন্ধানকারী দলীলের এক বিশাল সমাহার খুঁজে পান, যার সাথে রয়েছে দলীল থেকে বিধান আহরণের চমৎকার দক্ষতা এবং তার ওপর ভিত্তি করে শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করার পদ্ধতি; যা ‘দলীলের ফিকহ’ বা ‘আসার (বর্ণনা) ভিত্তিক ফিকহ’ হিসেবে পরিচিত। আপনি প্রায় কোনো মাসআলাই পাবেন না যেখানে ইমামের উত্তর এমন নয় যে: এতে দুটি হাদীস রয়েছে, এতে চারটি হাদীস রয়েছে, এতে চমৎকার ও উত্তম হাদীসসমূহ রয়েছে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এত এত সংখ্যক সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এই সুন্নাহটি বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: কাল্পনিক ফিকহ থেকে দূরে থাকা:এটি এমন বিষয় যা সেই সব মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা ঘটার সম্ভাবনা কল্পনা করা হয়, অতঃপর তার বিধান অনুমান করা হয়...