(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الكوكب المنير = شرح مختصر التحرير القسم: أصول الفقه
الكتاب: شرح الكوكب المنير = المختبر المبتكر شرح المختصر
المؤلف: تقي الدين أبو البقاء محمد بن أحمد بن عبد العزيز بن علي الفتوحي المعروف بابن النجار الحنبلي (ت 972 هـ)
المحقق: محمد الزحيلي - نزيه حماد
الناشر: مكتبة العبيكان
الطبعة: الطبعة الثانية 1418 هـ - 1997 مـ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর বিভাগ: উসূলে ফিকহ
গ্রন্থ: শারহুল কাওকাবিল মুনীর = আল-মুখতাবার আল-মুবতাকার শারহুল মুখতাসার
লেখক: তাকীউদ্দীন আবুল বাকা মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল আযীয বিন আলী আল-ফুতুহী, যিনি ইবনুন নাজ্জার আল-হাম্বালী নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৭২ হিজরি)
সম্পাদক: মুহাম্মাদ আয-যুহাইলী - নাযীহ হাম্মাদ
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উবাইকান
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
الحمد الله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد: فهده مقدمة موجزة، وعاجلة مختصرة، تنظم تعريفاً بالشيخ العلامة تقي الدين ابن النجار الحنبلي وكتابه "شرح الكوكب المنير المسمى بمختصر التحرير" في أصول الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل، كما تناول بياناً لعملنا ومنهجنا في تحقيقه.
المؤلف: أما المؤلف فهو الفقيه الحنبلي الثبت، والأصولي اللغوي المتقن، العلامة، قاضي القضاة تقي الدين، أبو البقاء، محمد بن شهاب الدين أحمد بن عبد العزيز بن على الفتوحي المصري الحنبلي، الشهير بابن النجار.
ولد بمصر سنة 898هـ ونشأ بها وأخذ العلم عن والده شيخ الإسلام وقاضي القضاة، وعن كبار علماء عصره.. وقد تبحر في العلوم الشرعية وما يتعلق بها، وبرع في فَنّي الفقه والأصول، وانتهت إليه الرياسة في مذهب الإمام المبجل أحمد بن حنبل، حتى قال عنه ابن بدران: "كان منفرداً في علم المذهب".
وقد كان صالحاً تقياً عفيفاً زاهداً معرضاً عن الدنيا وزينتها. مهتماً بالآخرة وصالح الأعمال، لا يشغل شيئاً من وقته في غير طاعة.. ومن هنا كانت حياته كلها تعَلُّمٌ وتعليم وإفتاء وتصنيف، مع جلوسه في إيوان الحنابلة للقضاء وفصل الخصومات.. ويحكى عنه أنه لم يقبل ولاية القضاء إلا بعد أن أشارَ عليه كثير من علماء عصره بوجوب قبولها وتعَيُّنِهِ عليه، وبعدما سأله الناس إياها وألحّوا عليها في قبولها، وقد كان خلفاً لوالده في الإفتاء والقضاء بالديار المصرية. وحج قبل بلوغه عندما كان بصحبة والده في الحج، ثم حج حجة الفريضة في عام 955هـ على غاية من التقشف والتقليل من زينة الدنيا، وعاد مكبَاً على ما هو بصدده من الفتيا والتدريس لانفراده بذلك.
প্রথম খণ্ডভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর।
অতঃপর: এটি একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ ভূমিকা, যা আল্লামা শায়খ তাকিউদ্দিন ইবনে নাজ্জার আল-হাম্বালী এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী উসূলে ফিকহের ওপর রচিত তাঁর গ্রন্থ ‘শারহুল কাওকাবিল মুনির’ যা ‘মুখতাসারুত তাহরির’ নামে পরিচিত, তার একটি পরিচিতি প্রদান করে। পাশাপাশি এতে আমাদের কাজ এবং এর তাহকিকের (সম্পাদনা) পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে।
লেখক: লেখক হলেন নির্ভরযোগ্য হাম্বলী ফকিহ, পারদর্শী উসূলবিদ ও ভাষাবিদ, আল্লামা, প্রধান বিচারক তাকিউদ্দিন আবু আল-বাকা মুহাম্মদ বিন শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আবদুল আজিজ বিন আলী আল-ফুতুহী আল-মিসরী আল-হাম্বালী, যিনি ইবনে নাজ্জার নামে সুপরিচিত।
তিনি ৮৯৮ হিজরিতে মিশরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। তিনি তাঁর পিতা শায়খুল ইসলাম ও প্রধান বিচারক এবং তাঁর যুগের বড় বড় আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি শরয়ী জ্ঞান ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন এবং ফিকহ ও উসূলে ফিকহ উভয় শাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেছিলেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়, এমনকি ইবনে বাদ্রান তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মাযহাবের ইলমে অনন্য ছিলেন।"
তিনি ছিলেন নেককার, মুত্তাকী, চরিত্রবান ও দুনিয়াবিমুখ সাধক, যিনি দুনিয়া ও এর চাকচিক্য থেকে বিমুখ ছিলেন। তিনি পরকাল এবং নেক আমলের বিষয়ে সচেষ্ট ছিলেন, ইবাদত ছাড়া তাঁর সময়ের কোনো অংশই অন্য কাজে ব্যয় করতেন না। আর এ কারণেই তাঁর গোটা জীবন ছিল শিক্ষা গ্রহণ, শিক্ষা দান, ফতোয়া প্রদান ও গ্রন্থ রচনায় নিবেদিত; এর পাশাপাশি তিনি হাম্বলী বিচারালয়ে বিচারকার্য ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বসতেন। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি বিচারকের পদ গ্রহণ করতে রাজি হননি যতক্ষণ না তাঁর যুগের অনেক আলেম এটি গ্রহণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক ও অবধারিত বলে অভিমত দেন এবং মানুষ তাঁর কাছে এ বিষয়ে বারবার আবেদন ও পীড়াপীড়ি করে। তিনি মিশরে ফতোয়া ও বিচারকার্যে তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত ছিলেন। তিনি সাবালক হওয়ার পূর্বেই পিতার সাথে হজ্জ আদায় করেছিলেন। অতঃপর ৯৫৫ হিজরিতে তিনি অত্যন্ত কৃচ্ছ্রসাধন ও পার্থিব ভোগবিলাস পরিহার করে ফরজ হজ্জ পালন করেন এবং ফিরে এসে পুনরায় ফতোয়া ও শিক্ষকতার কাজে নিমগ্ন হন, যেহেতু এ কাজে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال الشعراني: "صحبته أربعين سنة، فما رأيت عليه ما يشينه في دينه، بل نشأ في عفة وصيانة وعلم وأدب وديانة، وما رأيت أحداً أحلى منطقاً منه، ولا أكثر أدباً مع جليسه منه، حتى يودّ أنه لا يفارقه ليلاً ولا نهاراً".
وبالجملة، فلم يكن هناك من يضاهيه في زمانه في مذهبه، ولا من يماثله في منصبه، وهو الإمام البارع في الفقه الحنبلي وأصوله، وصاحب اليد الطولى والباع الكبير في تحرير الفتاوى وتهذيب الأحكام، وقد ظل مكبّاً على العلم، ينهل من معينه، ويدرس ويصنف ويفتي مذهب الإمام أحمد ويحرره إلى أن أتاه المرض الأخير الذي وافته المنية فيه، وذلك عصْر يوم الجمعة الثامن عشر من صفر سنة 972هـ، فصلى عليه ولده موفق الدين بالجامع الأزهر، ودفنه بقرافة المجاورين.
أما مصنفاته، فأشهرها كتاب "منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح والزيادات" في فروع الفقه الحنبلي، وهو عمدة المتأخرين في المذهب، وعليه الفتوى فيما بينهم، إذ حرر مسائله على الراجح والمعتمد من المذهب، وفد اشتغل به عامة طلبة الحنابلة في عصره، واقتصروا عليه.. ثم شرحه شرحا مفيداً يقع في ثلاثة مجلدات، أحسن فيه وأجاد، وكان غالب استمداده فيه من كتاب "الفروع" لابن مفلح، وقد طبع هذا الكتاب طبعة علمية مدققة بتحقيق الأستاذ الشيخ عبد الغني محمد بن عبد الخالق جزاه الله خير، ومن أبرز شروح المنتهى وأجودها شرح العلامة منصور بن يونس البهوتي المتوفى سنة 1051هـ، شيخ الحنابلة في عصره، وذلك في ثلاث مجلدات كبار، وهو مطبوع مشهور متداول.
وأما في أصول الفقه، فله كتاب "الكوكب المنير المسمى بمختصر التحرير" ذكر أنه اختصره من كتاب "تحرير المنقول وتهذيب علم الأصول" للقاضي علاء الدين على بن سليمان بن أحمد المرداوي المقدسي المتوفى سنة 885هـ، محرر أصول المذهب وفروعه، قال الفتوحي: "وإنما وقع اختياري على اختصار هذا الكتاب دون بقية كتب هذا الفن، لأنه جامع لأكثر أحكامه، حاو لقواعده وضوابطه وأقسامه، قد اجتهد مؤلفه في تحرير نقوله وتهذيب أصوله".
وقد ضمَّ هذا المختصر مسائل أصله، مما قدَّمه المرداوي من الأقوال، أو كان
আশ-শা'রানি বলেন: "আমি চল্লিশ বছর তার সাহচর্যে ছিলাম, কিন্তু আমি তার মাঝে দ্বীনের ক্ষেত্রে হানিকারক কিছু দেখিনি। বরং তিনি পবিত্রতা, হেফাযত, জ্ঞান, আদব ও ধর্মপরায়ণতার মধ্যে বড় হয়েছেন। আমি তার চেয়ে মধুর ভাষী আর কেউ দেখিনি, এবং তার মজলিসের সঙ্গীর প্রতি তার চেয়ে বেশি শিষ্টাচার প্রদর্শন করতে আর কাউকে দেখিনি, এমনকি তার সাথে যে বসত সে কামনা করত যেন দিন-রাত তার থেকে পৃথক না হয়।"
সারসংক্ষেপে, সেই সময় তার মাযহাবে তার সমকক্ষ কেউ ছিল না, আর তার পদমর্যাদায় তার তুলনীয় কেউ ছিল না। তিনি হাম্বলি ফিকহ ও উসূলে একজন দক্ষ ইমাম ছিলেন এবং ফতোয়া বিশ্লেষণ ও আহকাম পরিমার্জনে তার বিশেষ পারদর্শিতা ও ব্যাপক জ্ঞান ছিল। তিনি ইলমের সাধনায় একনিষ্ঠ ছিলেন, এর ঝর্ণাধারা থেকে জ্ঞান আহরণ করতেন এবং ইমাম আহমদের মাযহাবের পাঠদান, গ্রন্থ রচনা, ফতোয়া প্রদান ও পরিমার্জনের কাজ অব্যাহত রাখেন যতক্ষণ না তার সেই রোগ প্রকাশ পায় যাতে তার মৃত্যু হয়। সেটি ছিল ৯৭২ হিজরি সালের ১৮ই সফর জুমুআর দিন আসরের সময়। তার জানাজা আল-আযহার মসজিদে তার পুত্র মুওয়াফ্ফাকুদ্দিন পড়ান এবং তাকে কারাফাতুল মুজাওইরিনে দাফন করা হয়।
তার রচনাবলির মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো "মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনি মাআত তানকিহ ওয়াজ জিয়াদাত", যা হাম্বলি ফিকহের শাখা-প্রশাখা বিষয়ক একটি গ্রন্থ। এটি মাযহাবের পরবর্তী আলিমদের নিকট মূল নির্ভরযোগ্য কিতাব এবং তাদের মাঝে এর ভিত্তিতেই ফতোয়া প্রচলিত। কেননা তিনি এর মাসআলাসমূহ মাযহাবের অগ্রগণ্য ও নির্ভরযোগ্য মতের ভিত্তিতে বিন্যস্ত করেছেন। তার যুগের হাম্বলি ছাত্ররা সাধারণত এটি নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন এবং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। এরপর তিনি নিজেই এর একটি অত্যন্ত উপকারী ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন যা তিন খণ্ডে সমাপ্ত। এতে তিনি অত্যন্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন। এক্ষেত্রে তার প্রধান উৎস ছিল ইবনে মুফলিহ-এর "আল-ফুরু" কিতাবটি। এই কিতাবটি উস্তাদ শাইখ আব্দুল গনি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল খালিক-এর তাহকিকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছে, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। মুনতাহার ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ও চমৎকার হলো আল্লামা মানসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতি (মৃত্যু ১০৫১ হি)-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যিনি তার যুগের হাম্বলিদের প্রধান শাইখ ছিলেন। এটি তিনটি বড় খণ্ডে রচিত এবং এটি মুদ্রিত, সুপ্রসিদ্ধ ও প্রচলিত।
আর উসূলে ফিকহের ক্ষেত্রে তার গ্রন্থ হলো "আল-কাওকাবুল মুনির আল-মুসাম্মা বি মুখতাসারিত তাহরির"। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এটি তিনি কাজী আলাউদ্দীন আলি বিন সুলাইমান বিন আহমদ আল-মারদাউয়ি আল-মাকদিসি (মৃত্যু ৮৮৫ হি)-এর "তাহরিরুল মানকুল ওয়া তাহযিবু ইলমিল উসুল" নামক কিতাব থেকে সংক্ষেপিত করেছেন, যিনি মাযহাবের উসূলে ও ফুরু পরিমার্জনকারী ছিলেন। আল-ফুতুহি বলেন: "আমি এই শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবের পরিবর্তে এই কিতাবটি সংক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ এটি এর অধিকাংশ আহকামের সংকলক এবং এর নিয়মাবলী, মূলনীতি ও বিভাগসমূহ ধারণকারী। এর লেখক এর উদ্ধৃতিসমূহ বিশুদ্ধকরণে এবং এর উসূলে পরিমার্জনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।"
এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি এর মূল কিতাবের মাসআলাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আল-মারদাউয়ি বিভিন্ন মতের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন, অথবা যা ছিল...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৭)
عليه الأكثر من الأصحاب، دون ذكر لبقية الأقوال إلا لفائدة تقتضي ذلك وتدعو إليه، وكان اصطلاحه فيه أنه متى قال "في وجه" فإنما يعني ان القول المقدم والمعتمد هو غيره، ومتى قال "في قول" أو "على قول" فمعناه أن الخلاف قد قوي في المسألة، أو اختلف الترجيح دون مصرح بالتصحيح لأحد القولين أو الأقوال.
ثم شرح ابن النجار مختصره شرحا قيماً نفيساً مساه بـ "المختبر المبتكر شرح المختصر" وهو الكتاب الذي بين يديكم.
أما الكتب التي ترجمت لهذا الإمام الجليل، فهي قليلة جداً، إذ لم يترجم له العيدروس في "النور السافر في أعيان القرن العاشر" ولا الغزي في "الكواكب السائرة في أعيان المائة العاشرة" ولا الشوكاني في "البدر الطالع بمحاسن من بعد القرن السابع" ولا ابن العماد في "شذرات الذهب في أخبار من ذهب".. وإننا لم نعثر على ترجمة له إلا في كتاب "السحب الوابلة على ضرائح الحنابلة" لابن حميد وكتاب "مختصر طبقات الحنابلة" للشيخ جميل الشطي، وقد وجدنا نتفاً من ترجمته في "المدخل إلى مذهب الإمام أحمد بن حنبل" لعبد القادر بدران وفي "الأعلام" لخير الدين الزركلي، وفي "معجم المؤلفين" لعمر رضا كحالة، ولكنها في غاية الاختصار.
الكتاب: وكتاب "شرح الكوكب المنير" الذي نقدمه اليوم كتاب علمي قيم نفيس، حوى قواعد علم الأصول ومسائله ومعاقد فصوله بأسلوب سلس رصين، لا تعقيد فيه ولا غموض في الجملة.. وقد جمع المصنف مادته ونقوله من مئات المجلدات والأسفار، كما يتبين لمطالِعِهِ ودارسه..
وعلى العموم، فالكتاب زاخر بالقواعد والفوائد الأصولية، والمسائل والفروع الفقهية واللغوية والبلاغية والمنطقية، ومادته العلمية غزيرة جداً، إذ اطّلع مصنفه قبل تأليفه على أكثر كتب هذا الفن وما يتعلق به، وأفاد منها، ونقل عن كثير منها.
أما سلاسة الكتاب وحلاوة أسلوبه وجلاء عرضه. فإن كل بحث من بحوثه لينطق بها، حتى أن المتن قد اندمج بالشرح، فلا تكاد تحس بينهما فرقاً، وإنك لا تجد بينهما إلا التواصل التآلف.. ولعل السبب في ذلك يرجع إلى أن صاحب المتن
অধিকাংশ মাযহাবের ইমামগণ এর ওপরই রয়েছেন, কোনো বিশেষ প্রয়োজন বা উপকারিতা ছাড়া অন্য মতামতগুলোর উল্লেখ ছাড়াই। এতে তাঁর পরিভাষা ছিল এই যে, যখনই তিনি "একটি মতে" (ফি ওয়াজহিন) বলতেন, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হতো যে, অগ্রগণ্য ও নির্ভরযোগ্য মতটি অন্যটি। আর যখন তিনি "একটি বর্ণনায়" (ফি কাওলিন) বা "একটি বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে" (আলা কাওলিন) বলতেন, তখন এর অর্থ হতো যে, মাসআলাটিতে মতভেদ অত্যন্ত প্রবল, অথবা কোনো একটি বর্ণনাকে স্পষ্টভাবে বিশুদ্ধ না বলে এর প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে।
অতঃপর ইবনুন নাজ্জার তাঁর সংক্ষেপিত গ্রন্থটির (মুখতাসার) একটি মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নাম দেন "আল-মুখতাবার আল-মুবতাকির শারহুল মুখতাসার", যা বর্তমানে আপনাদের হাতে রয়েছে।
এই মহান ইমামের জীবনী গ্রন্থিত হয়েছে এমন কিতাব খুবই কম। আল-আইদারুস তাঁর "আন-নুর আস-সাফির ফি আয়ানিল কারনিল আসির" গ্রন্থে, আল-গাজ্জি তাঁর "আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ ফি আয়ানিল মিআতিল আশিরাহ" গ্রন্থে, আশ-শাওকানি তাঁর "আল-বাদরুত তালি বি-মাহাসিনি মান বাদাল কারনিল সাবি" গ্রন্থে এবং ইবনুল ইমাদ তাঁর "শাযারাতুয যাহাব ফি আখবারি মান যাহাব" গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেননি। আমরা ইবনু হুমাইদের "আস-সুহুবুল ওয়াবিলাহ আলা দরাইহিল হানাবিলাহ" এবং শাইখ জামিল আশ-শাত্তির "মুখতাসার তবাকাতিল হানাবিলাহ" গ্রন্থ ছাড়া তাঁর কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি। তবে আমরা তাঁর জীবনীর কিছু অংশ আব্দুল কাদির বদরানের "আল-মাদখাল ইলা মাযহাবিল ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল", খাইরুদ্দিন আয-যিরিকলির "আল-আলাম" এবং উমর রেজা কাহহালার "মুজামুল মুয়াল্লিফিন" গ্রন্থে পেয়েছি, কিন্তু সেগুলো অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।
গ্রন্থ পরিচিতি: "শারহুল কাওকাবিল মুনীর" নামক যে গ্রন্থটি আমরা আজ পেশ করছি, তা একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও শ্রেষ্ঠ ইলমি কিতাব। এতে মূলনীতিবিদ্যার (উসুল) নিয়মাবলি, এর মাসআলাসমূহ এবং পরিচ্ছেদসমূহের সারকথা অত্যন্ত সাবলীল ও সুদৃঢ় শৈলীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সাধারণত কোনো জটিলতা বা অস্পষ্টতা নেই। গ্রন্থকার এর বিষয়বস্তু ও উদ্ধৃতিসমূহ শত শত খণ্ড ও কিতাব থেকে সংগ্রহ করেছেন, যা এর পাঠক ও শিক্ষার্থীর কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, কিতাবটি উসুলের নীতি ও উপকারিতা এবং ফিকহ, ভাষা, অলঙ্কারশাস্ত্র ও যুক্তিবিদ্যার মাসআলা ও শাখা-প্রশাখায় ভরপুর। এর ইলমি উপাদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ, কারণ এর গ্রন্থকার এটি রচনার আগে এই শাস্ত্রের অধিকাংশ কিতাব এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় অধ্যয়ন করেছেন, সেগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেগুলোর অনেকগুলো থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
কিতাবটির সাবলীলতা, শৈলীর মাধুর্য এবং উপস্থাপনার স্বচ্ছতার কথা বলতে গেলে—এর প্রতিটি গবেষণাই তার সাক্ষ্য দেয়। এমনকি মূল পাঠ (মাতন) ব্যাখ্যার (শারহ) সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যে, আপনি দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য অনুভব করতে পারবেন না। আপনি সেগুলোর মধ্যে কেবল নিরবচ্ছিন্ন যোগসূত্র ও সামঞ্জস্যই খুঁজে পাবেন। সম্ভবত এর কারণ এই যে, মূল পাঠের লেখক...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৮)
هو نفس الشارح لا غيره.. ومن هنا انضم الشرح إلى المتن وانسجما وسارا في طريق واحد وعلى نسق واحدة وبروح واحدة، حتى إننا حذفنا الأقواس التي تميز الشرح عن متنه، لما شعرنا أنَّ هناك شرحاً ومتناً. كما هي عادة الشروح مع المتون
… ولجزمنا أنَّ الكتاب كله قطعة واحدة، نُسجت نسجاً دقيقاً، وأحْكمت إحكاما فائقاً، ولا يخفى ما في ذلك من دلالة على تمكن مؤلفه في العلم، وعلو شأنه فيه، وبراعته في التصنيف، وإطلاعه الواسع على أكثر الكتابات السابقة له في هذا الفن، واستفادته منها استفادة الناقد البصير الواعي.. وربما ساعده على بلوغ هذا المقام تأخر زمانه، حيث كانت العلوم ناضجة في عصره وقبل عصره، بالإضافة إلى ما وفقه الله إليه من العلم، وما منحه إياه من الفهم والتحقيق.
وهذا الكتاب الذي نذكره قد سبق إلى نشره الأول مرة الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله تعالى حيث قام بطبعه بمطبعة السنة المحمدية بالقاهرة سنة 1372هـ/ 1953م عن نسخة الشيخ محمد بن إبراهيم آل الشيخ مفتي المملكة العربية السعودية الأسبق رحمه الله تعالى، ولكن هذه النسخة كانت مخرومة خرماً كبيراً يبلغ ثلث الكتاب، فطبعت على حالها، ثم قُدِّرَ الشيخ الفقي أن يطلع على نسخة مخطوطة أخرى للكتاب في المكتبة الأزهرية بالقاهرة، فطبع القدر الناقص عنها، أكمل الكتاب، فجزاه الله كل خير.
وبعد الاطلاع على الطبعة المذكورة ودراستها تبين لنا أنها مشحونة بالأخطاء والتصحيفات والخروم في أكثر من خمسة آلاف موضع، مما يجعل الاستفادة منها وهي بهذه الحالة غير ممكنة.. لهذا كان لابد من تحقيق الكتاب تحقيقاً علمياً على أصوله المخطوطة، حيث إن تلك الطبعة لا تغني عن ذلك شيئاً.. وقد يظن بعض الناس أنَّ في كلامنا هذا شيئاً من المبالغة، ولكنهم لو قارنوا بين تلك الطبعة وبين طبعتنا، أو نظروا في هوامش كتابنا –حيث أشرنا فيها إلى فروق وخروم الطبعة الأولى- لعلموا مبلغ الدقة في هذا الكلام.
ومن طريف ما يذكر أن الشيخ عبد الرحمن بن محمد الدوسري قد اطلع على طبعة الشيخ الفقي كما اطلع على نسخة مخطوطة للكتاب وقعت تحت يده في مكتبة خاصة بخط عبد الحي بن عبد الرحيم الحنبلي الكرمي نسخت سنة 1137هـ، وكتب
তিনি নিজেই ব্যাখ্যাকার, অন্য কেউ নন। এখান থেকেই ব্যাখ্যাটি মূল পাঠের (মতন) সাথে এমনভাবে যুক্ত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং একই পথে, একই বিন্যাসে ও একই মেজাজে অগ্রসর হয়েছে যে, এমনকি আমরা যখন অনুভব করেছি যে এখানে একটি ব্যাখ্যা ও একটি মূল পাঠ রয়েছে, তখন আমরা সেই বন্ধনীগুলো মুছে ফেলেছি যা ব্যাখ্যাকে তার মূল পাঠ থেকে পৃথক করে—যেমনটি সাধারণত মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে
… এবং আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে পুরো বইটি একটি অখণ্ড অংশ, যা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে বুনন করা হয়েছে এবং অত্যন্ত নিপুণভাবে সুসংহত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে লেখকের ইলমের গভীরতা, এতে তার উচ্চ মর্যাদা, গ্রন্থ রচনায় তার পারদর্শিতা এবং এই বিষয়ে তার পূর্ববর্তী অধিকাংশ রচনার ওপর তার ব্যাপক অধ্যয়ন এবং একজন প্রজ্ঞাবান ও সচেতন সমালোচকের ন্যায় সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। সম্ভবত তার এই স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তার পরবর্তী সময়কাল তাকে সহায়তা করেছে, কারণ তার সময়ে এবং তার পূর্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানসমূহ পরিপক্কতা লাভ করেছিল। এর পাশাপাশি আল্লাহ তাকে যে ইলম দান করেছেন এবং তাকে যে সমঝ ও তাহকীক (গভীর উপলব্ধি ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষমতা) প্রদান করেছেন তাও সহায়ক হয়েছে।
আমরা যে বইটির কথা উল্লেখ করছি, সেটি প্রথম প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন শায়খ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)। তিনি ১৩৭২ হিজরি/১৯৫৩ সালে কায়রোর আস-সুন্নাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ প্রেস থেকে সৌদি আরবের সাবেক মুফতি শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম আল-শেখ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর একটি পাণ্ডুলিপি থেকে এটি মুদ্রণ করেন। কিন্তু এই পাণ্ডুলিপিটি বড় ধরনের ত্রুটিযুক্ত ছিল যা বইটির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল, ফলে তা ওই অবস্থাতেই মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে শায়খ আল-ফিকী কায়রোর আল-আজহার লাইব্রেরিতে বইটির অন্য একটি পাণ্ডুলিপি দেখার সুযোগ পান এবং এর অপূর্ণ অংশটি সেখান থেকে মুদ্রণ করে বইটি সম্পন্ন করেন। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
উল্লিখিত সংস্করণটি পর্যালোচনা ও অধ্যয়নের পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি পাঁচ হাজারেরও বেশি স্থানে ভুল, লিখনগত বিকৃতি এবং পাঠবিচ্যুতিতে পরিপূর্ণ। ফলে এই অবস্থায় তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। এই কারণেই বইটিকে এর মূল পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে একটি ইলমী তাহকীক (গবেষণামূলক সম্পাদনা) করা অপরিহার্য ছিল, কারণ ওই সংস্করণটি এই প্রয়োজন বিন্দুমাত্র পূরণ করে না। কেউ কেউ হয়তো মনে করতে পারেন যে আমাদের এই কথায় কিছুটা অতিরঞ্জন রয়েছে, কিন্তু তারা যদি ওই সংস্করণের সাথে আমাদের সংস্করণের তুলনা করেন অথবা আমাদের বইয়ের টীকাগুলো দেখেন—যেখানে আমরা প্রথম সংস্করণের পার্থক্য ও বিচ্যুতিগুলো নির্দেশ করেছি—তবে তারা এই বক্তব্যের যথার্থতা ও সূক্ষ্মতা বুঝতে পারবেন।
একটি চমৎকার বিষয় উল্লেখ্য যে, শায়খ আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দাওসারী শায়খ আল-ফিকীর সংস্করণটি দেখেছিলেন, পাশাপাশি তিনি একটি ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে তার হাতে আসা বইটির একটি পাণ্ডুলিপিও দেখেছিলেন, যা ১১৩৭ হিজরিতে আবদুল হাই ইবনে আবদুর রহিম আল-হাম্বলী আল-কারমি নিজ হাতে অনুলিপি করেছিলেন এবং তিনি লিখেছিলেন
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৯)
عليها أنها مقابلة على نسخة مصححة على خط المؤلف، فقابل المطبوعة عليها، فعثر على 2758 غلط في المطبوعة، فطبع بياناً بهذه الأغلاط وتصويبها على الآلة الطابعة، وقد راجعنا ذلك البيان وصورناه من مكتبة الشيخ عبد الله بن حميد رئيس مجلس القضاء الأعلى جزاه الله خيراً، ثم أشرنا في هوامش طبعتنا إلى تلك التصويبات..
من أجل ذلك كانت الحاجة ملحّة إلى تحقيق الكتاب ونشره بصورة علمية أمينة، فضلاً عن احتياج طلبة كلية الشريعة بجامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة إليه باعتباره أحد الكتب الدراسية المقررة.
وهذا ما دعا العالمين الغيورين، الدكتور محمد بن سعد الرشيد عميد كلية الشريعة والدراسات الإسلامية والدكتور ناصر بن سعد الرشيد رئيس مركز البحث العلمي بجامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة أن يهتما بتحقيق الكتاب ونشره، فنهضا –جزاهما الله خيراً- لجلب أصوله المخطوطة بكل جدّ وإخلاص، ثم كلفانا بتحقيقه ظناً منه أننا من فرسان هذا الميدان، وأصّر علينا بلزوم القيام بهذا العمل، خدمة للعلم وأهله، وحرصاً على الفقه الحنبلي الثمين وأصوله، مع اعتذارنا بضيق الوقت وخطورة العمل وقلة البضاعة..
فشرعنا بتحقيقه مستعينين بالله، معتمدين عليه وحده أن يعيننا على هذه المهمة الكبيرة والأمر الجلل، وسرنا في هذا الطريق حتى أذن الله بكرمه وفضله أن ينتهي إلى صورة قريبة من القبول، بعيدة عن لوم العذول.
أما النسخ التي اعتمد عليها في التحقيق فهي:
1- نسخة مكتبة الأوقاف العامة ببغداد، وتقع في مجلد كبير، كتب بخط معتاد مقروء، ومجموع أوراقها [262] ورقة، ومسطرتها 27 سطراً، وقد تمَّ نسخها يوم الأحد في 6 شوال سنة 1137هـ. على يد إبراهيم بن يحي النابلسي الحنبلي، وهي نسخة جيدة عليها تصحيحات وتصويبات تدل على أنها مقروءة مقابلة مصححة. وهي موجودة في مكتبة أوقاف بغداد برقم 1422/ 4087، وقد رمزنا لها بـ"ب".
2- نسخة المكتبة الأزهرية بالقاهرة، وهي تقع في مجلد كبير، كتب بخط
এতে উল্লিখিত ছিল যে, এটি লেখকের স্বহস্তলিখিত একটি সংশোধিত পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ফলে তিনি মুদ্রিত সংস্করণে ২,৭৫৮টি ভুল খুঁজে পান। এরপর তিনি একটি টাইপরাইটারে এই ভুলসমূহের বিবরণ ও সেগুলোর সংশোধনী মুদ্রণ করেন। আমরা সেই বিবরণটি পর্যালোচনা করেছি এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শায়খ আবদুল্লাহ বিন হুমাইদের লাইব্রেরি থেকে তার অনুলিপি সংগ্রহ করেছি—আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অতঃপর আমরা আমাদের এই সংস্করণের টীকায় সেই সংশোধনীগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেছি।
এ কারণে বইটিকে একটি নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তাহকীক ও প্রকাশ করার জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয়। অধিকন্তু, মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ অনুষদের ছাত্রদের জন্য এটি একটি নির্ধারিত পাঠ্যবই হিসেবেও প্রয়োজনীয় ছিল।
এ বিষয়টিই মক্কা মুকাররমায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন ডক্টর মুহাম্মদ বিন সাদ আল-রশিদ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ডক্টর নাসের বিন সাদ আল-রশিদকে বইটির তাহকীক ও প্রকাশনার ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলে। তারা—আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন—অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এর পাণ্ডুলিপির মূল কপিগুলো সংগ্রহের জন্য সচেষ্ট হন। অতঃপর তারা বইটির তাহকীকের দায়িত্ব আমাদের ওপর অর্পণ করেন, এই বিশ্বাস থেকে যে আমরা এই ময়দানের পারদর্শী ব্যক্তি। আমাদের সময়ের স্বল্পতা, কাজের গুরুত্ব এবং যোগ্যতার সীমাবদ্ধতার অজুহাত সত্ত্বেও তারা ইলম ও আহলে ইলমের খিদমতের খাতিরে এবং মূল্যবান হাম্বলি ফিকহ ও এর উসুলের প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে আমাদের এই কাজটি সম্পন্ন করার জন্য পীড়াপীড়ি করেন।
অতঃপর আমরা আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং একমাত্র তাঁরই ওপর ভরসা করে এর তাহকীক শুরু করি, যেন তিনি আমাদের এই গুরুদায়িত্ব ও মহৎ কাজে সহায়তা করেন। আমরা এই পথে অগ্রসর হই এবং অবশেষে আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণায় এটি একটি গ্রহণযোগ্য রূপ লাভ করে এবং নিন্দুকের নিন্দা থেকে মুক্ত হয়।
তাহকীকের ক্ষেত্রে যে সকল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা হয়েছে তা হলো:
১- বাগদাদের আওকাফ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি: এটি একটি বড় খণ্ডে সংগৃহীত, যা সাধারণ পাঠযোগ্য লিপিতে লিখিত। এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা [২৬২]টি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি করে লাইন রয়েছে। এটি ১১৩৭ হিজরি সালের ৬ই শাওয়াল রবিবার ইব্রাহিম বিন ইয়াহইয়া আন-নাবুলসি আল-হাম্বলির হাতে অনুলিখিত হয়েছে। এটি একটি উত্তম পাণ্ডুলিপি, যাতে সংশোধনী ও পরিমার্জন রয়েছে যা প্রমাণ করে যে এটি পাঠ করা হয়েছে এবং মূল কপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। এটি বাগদাদ আওকাফ লাইব্রেরিতে ১৪২২/৪০৮৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। আমরা এর সংকেত হিসেবে "বা" ব্যবহার করেছি।
২- কায়রোর আল-আযহার লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি: এটি একটি বড় খণ্ডে সংগৃহীত, যা হস্তাক্ষরে লিখিত...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ১০)
معتاد، وعدد أوراقها [147] ورقة، ومسطرتها 40 سطراً تقريباً، ويوجد على هوامشها ما يدل على أنها مقروءة مقابلة مصححة، وقد كتب على صفحة العنوان وعلى آخر صفحات النسخة أنها بخط القاضي برهان مفلح، وليس هذا بصواب لأن القاضي برهان الدين إبراهيم بن محمد بن مفلح توفى سنة 884هـ، أي قبل ولادة ابن النجار الفتوحي بأربعة عشر عاماً، حيث إنه ولد سنة 898هـ، كما سبق أن أشرنا في ترجمتة، وهذه النسخة محفوظة في المكتبة الأزهرية تحت رقم 387/ 10634، وقد رمزنا لها بـ"ز".
3- نسخة في مكتبة الرياض العامة، ختم عليها "وقف الشيخ محمد بن عبد اللطيف سنة 1381هـ" وتقع في 337 ورقة مسطرتها 26 سطراً، وهي مقابلة مصححة، وقد كتب في آخر صفحاتها أنها نسخت بخط عبد الله الرشيد الفرج سنة 1346هـ، وهي محفوظة في مكتبة الرياض العامة بدخنة تحت رقم 529/ 86، وقد رمزنا لها بـ"ع".
4- نسخة في مكتبة الرياض العامة أيضاً، وتقع في 225 ورقة، مسطرتها 27 سطراً، وقد تم نسخها في يوم الأربعاء 16 من ربيع الثاني سنة 1271هـ، على يد عبد الرحمن بن عبد العزيز بن محمد بن فوزان، وكتب في آخرها: نقل الأصل من خط عبد الحي بن عبد الرحيم الحنبلي وذكر أنه كتبها سنة 1137هـ، وهي نسخة جيدة مصححة أيضاً، ورقمها في مكتبة الرياض العامة 87/ 86، وقد رمزنا لها "ص".
ومما يؤسف له أن كل واحدة من هذه النسخ الأربعة لم تخل من سقط في الكلام وتصحيفات وتحريفات وأخطاء كثيرة، ومن أجل ذلك لم نتمكن من الاعتماد على واحدة منها بعينها واعتبارها أصلاً، ثم مقابلة باقي النسخ عليها كما هو متبع لدى كثير من المحققين، وآثرنا أن نقوم بتحقيق الكتاب على نسخه الأربع معاً على طريقة النص المختار، كما هو منهج فريق من المحققين، بحيث نثبت الصواب من الكلمات والعبارات عن أي نسخة أو نُسَخِ وجد فيها الصواب، ثم نشير في الهامش إلى ما جاء في بقية النسخ..
وقد أفدنا من تصحيحات الشيخ عبد الرحمن الدوسري الآنفة الذكر عن النسخة
সাধারণ মানের, এর পৃষ্ঠা সংখ্যা [১৪৭] টি এবং প্রতি পৃষ্ঠায় লাইনের সংখ্যা প্রায় ৪০টি। এর পার্শ্বটীকায় এমন কিছু নিদর্শন রয়েছে যা থেকে বোঝা যায় এটি পঠিত, মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলানো এবং সংশোধিত। শিরোনামের পৃষ্ঠায় এবং পাণ্ডুলিপিটির শেষ পৃষ্ঠায় লেখা আছে যে এটি কাজী বুরহান মুফলিহ-এর হস্তাক্ষর; কিন্তু এটি সঠিক নয়, কারণ কাজী বুরহান উদ্দিন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মুফলিহ ৮৮৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যা ইবনে নাজ্জার আল-ফুতুহির জন্মের চৌদ্দ বছর আগের ঘটনা, যেহেতু তিনি ৮৯৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে তার জীবনীর আলোচনায় উল্লেখ করেছি। এই পাণ্ডুলিপিটি আল-আজহার লাইব্রেরিতে ৩৮৭/ ১০৬৩৪ নম্বরে সংরক্ষিত আছে এবং আমরা এর সংকেত নির্ধারণ করেছি "যা"।
৩- রিয়াদ পাবলিক লাইব্রেরিতে রক্ষিত একটি কপি, এতে "১৩৮১ হিজরিতে শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ কর্তৃক ওয়াকফকৃত" সিলমোহর রয়েছে। এটি ৩৩৭ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৬টি করে লাইন রয়েছে। এটি মূলের সাথে মিলানো ও সংশোধিত। এর শেষ পৃষ্ঠাগুলোতে লেখা আছে যে এটি ১৩৪৬ হিজরিতে আব্দুল্লাহ আল-রাশিদ আল-ফারাজ-এর হস্তাক্ষরে অনুলিপি করা হয়েছে। এটি রিয়াদের দাখনা-স্থ পাবলিক লাইব্রেরিতে ৫২৯/ ৮৬ নম্বরে সংরক্ষিত এবং আমরা এর সংকেত নির্ধারণ করেছি "আইন"।
৪- রিয়াদ পাবলিক লাইব্রেরিতে থাকা অন্য আরেকটি কপি, যা ২২৫ পৃষ্ঠা সম্বলিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি করে লাইন রয়েছে। এটি ১২৭১ হিজরির ১৬ই রবিউস সানি, বুধবার আব্দুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ফাওজানের হাতে অনুলিপি করা হয়েছে। এর শেষে লেখা আছে: মূল কপিটি আব্দুল হাই বিন আব্দুর রহিম আল-হাম্বলির হস্তাক্ষর থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি ১১৩৭ হিজরিতে লিখেছিলেন। এটি একটি উন্নতমানের সংশোধিত কপি এবং রিয়াদ পাবলিক লাইব্রেরিতে এর নম্বর হলো ৮৭/ ৮৬। আমরা এর সংকেত নির্ধারণ করেছি "সদ"।
দুঃখের বিষয় এই যে, এই চারটি পাণ্ডুলিপির প্রতিটিই শব্দ বাদ পড়া, শব্দ বিকৃতি, পাঠ্য বিকৃতি এবং অসংখ্য ভুল থেকে মুক্ত ছিল না। একারণে আমাদের পক্ষে কোনো একটি নির্দিষ্ট পাণ্ডুলিপিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করে সেটির উপর ভিত্তি করে অন্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তুলনা করা সম্ভব হয়নি, যেমনটি অনেক গবেষক করে থাকেন। এর পরিবর্তে আমরা বইটিকে এর চারটি পাণ্ডুলিপির সমন্বয়ে "নির্বাচিত পাঠ" পদ্ধতিতে সম্পাদনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা একদল গবেষকের অনুসৃত পদ্ধতি। এতে আমরা যে কপি বা কপিগুলোতে সঠিক শব্দ বা বাক্য পেয়েছি তা মূল পাঠে স্থাপন করেছি এবং অবশিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোতে কী পাঠান্তর রয়েছে তা টীকায় উল্লেখ করেছি।
পাণ্ডুলিপিটির ক্ষেত্রে আমরা শেখ আব্দুর রহমান আদ-দাওসারির ইতিপূর্বে উল্লিখিত সংশোধনীগুলো থেকেও উপকৃত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ১১)
المخطوطة التي وقعت تحت يده من الكتاب، وهي تعتبر الأصل الذي نقلت عنه النسخة "ص"، ولمزيد الفائدة أثبتنا كل ما جاء فيها في هوامش كتابنا عند مخالفتها للنص الموثَّق، ورمزنا لها بـ"د".
ونظراً لعدم عثورنا –مع بذل الوسع والجهد- على النسخة المخطوطة التي طبع عنها الشيخ محمد حامد الفقي، فقد اعتبرنا طبعته نسخة عنها، فقابلناها على نصنا، وذكرنا فروقها وتصحيفاتها وما وقع فيها من الخروم في الهوامش إتماماً للفائدة، ورمزنا لها بـ"ش".
منهاج التحقيق: يتلخص عملنا في تحقيق هذا الكتاب في الأمور التالية:
1- عرض نص الكتاب مصححا مقوماً مقابلاً على النسخ الأربع المخطوطة وعلى تصحيحات الشيخ الدوسري وعلى طبعة الشيخ الفقي. والإشارة في الهوامش إلى فروق النسخ.
2- تخريج الآيات القرآنية.
3- تخريج الأحاديث النبوية.
4- تخريج الشواهد الشعرية.
5- الترجمة للأعلام الوارد ذكرها في الكتاب، بحيث يُترجم للعَلَم عند ذكره أول مرة.
6- تخريج النصوص التي نقلها المؤلف عن غيره من أصولها المطبوعة، والإشارة إلى مكان وجودها فيها مع إثبات الفروق بين ما جاء في كتابنا وبين ما ورد في أصولها إن وجد.
7- الإشارة عند كل مسألة أو قضية أو بحث من بحوث الكتاب إلى المراجع التي استفاد منها المصنف أو استقى، والمراجع التي فيها تفصيل تلك المسائل، ولو لم يطّلع عليها المؤلف، مع بيان أجزائها وأرقام صفحاتها، ليسهل على القارئ أو الباحث التوسع والتعمق فيها إن رغب.
8- التعليق على كل كلمةٍ أو عبارةٍ أو قضية تقتضي شرحاً أو تحتاج إلى إيضاح وبيان، بما يُزيل غموضها، ويُوضح المراد بها، ويكشف عمّا فيها من لَبْس، وقد
বইটির যে পাণ্ডুলিপিটি তাঁর হস্তগত হয়েছে, সেটিকে 'সোয়াদ' পাণ্ডুলিপির মূল উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অধিক উপকারের জন্য, প্রামাণিক পাঠের সাথে যেখানেই এর বৈপরীত্য পাওয়া গেছে, তা আমরা আমাদের বইয়ের টীকায় উল্লেখ করেছি এবং একে 'দাল' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
আপ্রাণ চেষ্টা ও পরিশ্রম সত্ত্বেও শায়খ মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিকি যে পাণ্ডুলিপি থেকে মুদ্রণ করেছিলেন তা আমরা খুঁজে না পাওয়ায়, তাঁর মুদ্রিত সংস্করণটিকেই একটি পাণ্ডুলিপি হিসেবে গণ্য করেছি। ফলে আমরা সেটিকে আমাদের পাঠের সাথে মিলিয়েছি এবং এর পার্থক্যসমূহ, লিপিক্রমের ভুলসমূহ এবং এতে বিদ্যমান বিচ্যুতিসমূহ উপকারের পূর্ণতার লক্ষ্যে টীকায় উল্লেখ করেছি এবং একে 'শিন' প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।
সম্পাদনা পদ্ধতি: এই বইটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমাদের কাজ নিম্নলিখিত বিষয়সমূহে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে:
1- বইটির পাঠকে চারটি পাণ্ডুলিপি, শায়খ আদ-দাওসারীর সংশোধনসমূহ এবং শায়খ আল-ফিকির মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিলিয়ে সংশোধিত ও সুবিন্যস্ত আকারে উপস্থাপন করা। এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর পার্থক্যসমূহ টীকায় নির্দেশ করা।
2- কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করা।
3- নববী হাদীসসমূহের উৎস নির্দেশ করা।
4- কাব্যিক উদাহরণসমূহের উৎস নির্দেশ করা।
5- বইটিতে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী প্রদান করা, যাতে কোনো ব্যক্তির নাম প্রথমবার আসার সময়ই তাঁর জীবনী উল্লেখ করা হয়।
6- লেখক অন্যদের থেকে যেসব উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, সেগুলোর মূল মুদ্রিত উৎস থেকে তথ্যসূত্র প্রদান করা এবং সেই মূল উৎসগুলোতে সেগুলোর অবস্থান নির্দেশ করার পাশাপাশি আমাদের বইয়ে যা এসেছে এবং মূল উৎসে যা রয়েছে তার মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকলে তা উল্লেখ করা।
7- বইয়ের প্রতিটি মাসআলা, বিষয় বা গবেষণার ক্ষেত্রে লেখক যেসব তথ্যসূত্র থেকে উপকৃত হয়েছেন বা গ্রহণ করেছেন সেগুলো নির্দেশ করা; এছাড়া সেই মাসআলাগুলোর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে এমন তথ্যসূত্রগুলোও উল্লেখ করা, এমনকি লেখক যদি সেগুলো নাও দেখে থাকেন। সাথে সাথে খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর বর্ণনা করা, যাতে পাঠক বা গবেষকের পক্ষে ইচ্ছা করলে এ বিষয়ে বিস্তৃত ও গভীর জ্ঞান অর্জন করা সহজ হয়।
8- এমন প্রতিটি শব্দ, বাক্য বা বিষয়ের ওপর টীকা প্রদান করা যা ব্যাখ্যা দাবি করে বা যার স্পষ্টীকরণ ও বিবরণের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে তার অস্পষ্টতা দূর হয়, উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় এবং তাতে বিদ্যমান সংশয় উন্মোচিত হয়। এবং...
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ১২)
تضمنت بعض هذه التعليقات مناقشة للمصنف فيما اعتمده من آراء أو ساقه من أفكار أو حكاه من أقوال العلماء.. وكان منهجنا في تعليقاتنا على النص –عند النقل عن أي مرجع أو الاستفادة منه- أن تشير إليه مع بيان جزئه ورقم صفحته، ابتغاء الأمانة في النقل، والدقة في العزو، وليتمكن المطالع من مراجعته دون عناء كلما أراد..
9- وقد اقتضى سياق الكلام في بعض المواطن من الكتاب إضافة كلمة أو عبارة لا يتمّ المعنى إلا بها، فأضفناها ووضعناها بين قوسين مربعين [] تمييزاً لها عن نصّ الكتاب، وإشارة إلى أنها قد أضيفت لاقتضاء المقام وداعي الحاجة.
وعلى الرغم مما بذلنا في هذا التحقيق من جهد، وما أفرغنا من وسع، ومحاولين بذلك أن يصل هذا العمل إلى الكمال أو يقرب منه، فلسنا نعرض لما صنعنا بتزكية أو ثناء، اقتداء بسنة السلف الصالح، وتأسياً بقول أبي سليمان الخطابي في ختام مقدمته لـ"تفسير غريب الحديث" حيث يقول:
"فأما سائر ما تكلمنا عليه، فإنّا أحقّاء بألاّ نزكيه وألاّ نؤكد الثقة به، وكل عن عثر منه على حرف أو معنى يجب تغييره، فنحن نناشده الله في إصلاحه وأداء حق النصيحة فيه، فإنَّ الإنسان ضعيف لا يسلم من الخطأ إلا أن يعصمه الله بتوفيقه، ونحن نسأل الله ذلك، ونرغب إليه في دركه، إنه جواد وهوب".
ختاماً نقدم شكرنا إلى كل من أسدى إلينا عوناً خلال عملنا في تحقيق هذا الكتاب، وعلى الخصوص سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز، لتكرمه بإعارتنا النسختين المخطوطتين المحفوظتين في المكتبة العامة بالرياض، وفضيلة الدكتور عبد الله التركي، وفضيلة الشيخ عبد الفتاح أبو غدة، لتفضلهما بتقديم النسخة المصورة عن المكتبة الأزهرية بالقاهرة، وفضيلة الشيخ عبد الرحمن الدوسري لإفادتنا من تصحيحاته وتصويباته.
والله نسأل أن يتقبل عملنا هذا بحسن الجزاء، إنه نعم المولى ونعم الوكيل.
مكة المكرمة في غرة رجب سنة 1398هـ المحققان
এই মন্তব্যসমূহের কিছু অংশে লেখক কর্তৃক গৃহীত মতামত, উপস্থাপিত চিন্তা-ভাবনা কিংবা তাঁর বর্ণিত আলেমদের উক্তি নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মূল পাঠ্যের ওপর আমাদের টীকাদানের পদ্ধতি ছিল এই যে—যখনই কোনো সূত্র থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে বা উপকৃত হওয়া হয়েছে—সততা রক্ষা এবং নির্ভুল তথ্য প্রদানের লক্ষে আমরা খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ সেই সূত্রের উল্লেখ করেছি, যাতে পাঠক যখনই চান অনায়াসেই তা যাচাই করে নিতে পারেন।
৯- কিছু কিছু স্থানে প্রসঙ্গের খাতিরে এমন শব্দ বা বাক্যাংশ যোগ করার প্রয়োজন হয়েছে যা ছাড়া অর্থ পূর্ণ হয় না; তাই আমরা সেগুলো যোগ করেছি এবং মূল পাঠ্য থেকে পৃথক করার জন্য সেগুলোকে থার্ড ব্র্যাকেট বা বর্গাকার বন্ধনী []-এর মধ্যে রেখেছি। এটি নির্দেশ করে যে, প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনে এবং বাস্তব চাহিদার কারণে এগুলো অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।
এই সম্পাদনার (তাহকীক) কাজে আমরা যথেষ্ট শ্রম ও সাধ্যমতো চেষ্টা ব্যয় করেছি এবং এই কাজটিকে পূর্ণাঙ্গ বা পূর্ণাঙ্গের কাছাকাছি করার প্রয়াস চালিয়েছি; তবুও সালাফে সালেহীনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং আবু সুলাইমান আল-খাত্তাবী তাঁর 'তাফসীরু গারীবিল হাদীস'-এর ভূমিকার শেষে যা বলেছেন তার অনুকরণে, আমরা আমাদের এই কাজটির কোনো আত্মশ্লাঘা বা প্রশংসা করছি না। তিনি সেখানে বলেছিলেন:
“আর আমরা যা কিছু নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলোর কোনো প্রশংসা না করা এবং সেগুলোর ওপর অতিরিক্ত আস্থা স্থাপন না করাই আমাদের জন্য সমীচীন। যদি কেউ এতে এমন কোনো বর্ণ বা অর্থ খুঁজে পান যা পরিবর্তন করা আবশ্যক, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে তা সংশোধন করার এবং উপদেশের হক আদায় করার জন্য আমরা তাঁকে অনুরোধ জানাচ্ছি। নিশ্চয়ই মানুষ দুর্বল; আল্লাহর তাওফীক ও তাঁর প্রদত্ত সুরক্ষা ব্যতিরেকে কেউ ভুল থেকে বাঁচতে পারে না। আমরা আল্লাহর কাছে সেই সুরক্ষাই প্রার্থনা করি এবং তা পাওয়ার জন্য তাঁরই মুখাপেক্ষী হই। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় দাতা ও মহান দাতা।”
পরিশেষে, এই কিতাবটির সম্পাদনার কাজে যারা আমাদের সহায়তা করেছেন আমরা তাঁদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষভাবে পরম শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ-এর প্রতি, রিয়াদের পাবলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত দুটি পাণ্ডুলিপি আমাদের ধার দিয়ে অনুগ্রহ করার জন্য। আরও ধন্যবাদ জানাই শ্রদ্ধেয় ড. আব্দুল্লাহ আত-তুর্কি এবং শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহকে, কায়রোর আল-আজহার লাইব্রেরি থেকে সংগৃহীত ফটোকপি সংস্করণটি প্রদান করে আমাদের ধন্য করার জন্য। সেই সাথে শ্রদ্ধেয় শাইখ আব্দুর রহমান আদ-দাওসারীর প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ, তাঁর কৃত সংশোধন ও পরিমার্জন দ্বারা আমাদের উপকৃত করার জন্য।
আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের এই আমলকে উত্তম প্রতিদানে কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম কার্যনির্বাহী।
মক্কাতুল মুকাররমা, পহেলা রজব, ১৩৯৮ হিজরি। সম্পাদকদ্বয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২১)
خطبة الكتاب…بسم الله الرحمن الرحيم وَبِهِ نَسْتَعِينُ
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا، وَأَعْطَى مَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ عَطَاءً جَمًّا، الْقَدِيمِ الْحَكِيمِ، الَّذِي شَرَعَ الأَحْكَامَ، وَجَعَلَ لَهَا قَوَاعِدَ، وَهَدَى مَنْ شَاءَ لِحِفْظِهَا، وَفَتَحَ لِمَنْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ مَا أَغْلَقَ مِنْ الأَدِلَّةِ، وَوَفَّقَهُ لِفَهْمِهَا. وَالصَّلاةُ وَالسَّلامُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ، الْمُبَيِّنِ لأُمَّتِهِ طُرُقَ الاسْتِدْلالِ، الْمُقْتَدَى بِهِ فِيمَا كَانَ عَلَيْهِ وَفِيمَا أَمَرَ بِهِ أَوْ نَهَى عَنْهُ مِنْ أَفْعَالٍ وَأَقْوَالٍ، وَعَلَى آلِهِ وَأَصْحَابِهِ نَقَلَةِ الشَّرْعِ، وَتَفْصِيلِ أَحْكَامِهِ مِنْ حَرَامٍ وَحَلالٍ.
أَمَّا بَعْدُ: فَهَذِهِ تَعْلِيقَةٌ عَلَى مَا اخْتَصَرْتُهُ مِنْ كِتَابِ "التَّحْرِيرِ" فِي أُصُولِ الْفِقْهِ عَلَى مَذْهَبِ الإِمَامِ الرَّبَّانِيِّ، وَالصِّدِّيقِ الثَّانِي: أَبِي عَبْدِ اللَّهِ أَحْمَدَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ الشَّيْبَانِيِّ1 رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ، تَصْنِيفِ الإِمَامِ الْعَلَاّمَةِ عَلاءِ الدِّينِ عَلِيِّ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمِرْدَاوِيِّ الْحَنْبَلِيِّ2، عَفَا اللَّهُ تَعَالَى
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় জ্ঞান দিয়ে প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা প্রচুর দান করেছেন। তিনি অনাদি, প্রজ্ঞাবান; যিনি বিধানাবলি প্রবর্তন করেছেন এবং সেগুলোর জন্য মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা এগুলো সংরক্ষণের জন্য হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা দলিলের বদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং তা বোঝার তাওফিক দান করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি তাঁর উম্মতের নিকট দলিল পেশ করার পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর কাজ ও কথা—যার ওপর তিনি অটল ছিলেন এবং যার আদেশ বা নিষেধ করেছেন—তাতে তিনি অনুসৃত। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যারা শরয়ি বিধান এবং হালাল-হারামসহ তার বিস্তারিত মাসআলা বর্ণনাকারী।
অতঃপর: এটি আমার সংক্ষিপ্ত করা "আত-তাহরীর" কিতাবের ওপর একটি টীকা, যা রব্বানি ইমাম এবং দ্বিতীয় সিদ্দীক: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল আশ-শায়বানি (আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব অনুযায়ী উসুলুল ফিকহের ওপর রচিত। এটি ইমাম আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে সুলাইমান আল-মিরদাউয়ি আল-হাম্বলি-এর সংকলন, আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করুন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২২)
عَنِّي وَعَنْهُ آمِينَ. أَرْجُو أَنْ يَكُونَ حَجْمُهَا بَيْنَ الْقَصِيرِ وَالطَّوِيلِ، وَأَسْتَعِينُ اللَّهَ عَلَى إتْمَامِهَا. وَهُوَ حَسْبُنَا وَنِعْمَ الْوَكِيلُ. [وَسَمَّيْتهَا "بِالْمُخْتَبَرِ1 الْمُبْتَكَرِ، شَرْحِ الْمُخْتَصَرِ" وَعَلَى اللَّهِ أَعْتَمِدُ، وَمِنْهُ الْمَعُونَةَ أَسْتَمِدُّ"2.
"بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ" ابْتَدَأَ الْمُصَنِّفُونَ كُتُبَهُمْ بِالْبَسْمَلَةِ تَبَرُّكًا بِهَا، وَتَأَسِّيًا بِكِتَابِ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم، حَيْثُ ابْتَدَأَ بِهَا فِي كُتُبِهِ إلَى الْمُلُوكِ وَغَيْرِهِمْ، وَعَمَلاً بِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ "كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لا يُبْدَأُ فِيهِ بِبِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، فَهُوَ أَبْتَرُ" 3.
"الْحَمْدُ" الْمُسْتَغْرِقُ لِجَمِيعِ أَفْرَادِ الْمَحَامِدِ مُسْتَحَقٌّ "لِلَّهِ" جَلَّ ثَنَاؤُهُ. وَثَنَّوْا بِالْحَمْدِ: لِحَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ فِيمَا رَوَاهُ ابْنُ حِبَّانَ4 فِي صَحِيحِهِ وَغَيْرُهُ "كُلُّ أَمْرٍ ذِي بَالٍ لا يُبْدَأُ فِيهِ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ، فَهُوَ
--------------------------------------------
আমার পক্ষ থেকে এবং তাঁর পক্ষ থেকে, আমীন। আমি আশা করি এর কলেবর সংক্ষিপ্ত এবং দীর্ঘের মাঝামাঝি হবে, এবং এটি সম্পন্ন করার জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। [এবং আমি এর নামকরণ করেছি "আল-মুখতাবার১ আল-মুবতাকার, শারহুল মুখতাসার" এবং আমি আল্লাহর উপরই ভরসা করি এবং তাঁর নিকট থেকেই সাহায্য প্রার্থনা করি]২।
"পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে" লেখকগণ বরকত লাভের উদ্দেশ্যে, আল্লাহর কিতাবের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নতের অনুসরণে তাঁদের গ্রন্থসমূহ বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছেন; কেননা তিনি সম্রাট ও অন্যদের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রাবলীতে এর মাধ্যমেই শুরু করতেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর ওপর আমল করার জন্যও যা কিছু বর্ণনায় এসেছে: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা লেজকাটা (বরকতহীন)" ৩।
"সমস্ত প্রশংসা" যা যাবতীয় প্রশংসার প্রকারকে শামিল করে, তা মহান আল্লাহরই প্রাপ্য। আর লেখকগণ প্রশংসার (আলহামদুলিল্লাহ) মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপ শুরু করেছেন আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসের কারণে যা ইবনে হিব্বান৪ তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা 'আলহামদুলিল্লাহ' দ্বারা শুরু করা হয় না, তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أَقْطَعُ" 1، وَمَعْنَى "أَقْطَعُ" نَاقِصُ الْبَرَكَةِ، أَوْ قَلِيلُهَا.
وَفِي ذِكْرِ الْحَمْدِ عَقِبَ الْبَسْمَلَةِ اقْتِدَاءٌ بِكِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى أَيْضًا.
وَلَهُمْ فِي حَدِّ الْحَمْدِ لُغَةً عِبَارَتَانِ:
إحْدَاهُمَا: أَنَّهُ الثَّنَاءُ عَلَى اللَّهِ تَعَالَى بِجَمِيلِ صِفَاتِهِ، عَلَى قَصْدِ التَّعْظِيمِ. وَالأُخْرَى: أَنَّهُ الْوَصْفُ بِالْجَمِيلِ الاخْتِيَارِيِّ2، عَلَى وَجْهِ التَّعْظِيمِ3. سَوَاءٌ تَعَلَّقَ بِالْفَضَائِلِ4 أَوْ بِالْفَوَاضِلِ5.
وَ"الشُّكْرُ" لُغَةً: فِعْلٌ يُنْبِئُ عَنْ تَعْظِيمِ الْمُنْعِمِ لِكَوْنِهِ مُنْعِمًا عَلَى الشَّاكِرِ6، يَعْنِي7 بِسَبَبِ إنْعَامِهِ. وَيَتَعَلَّقُ بِالْقَلْبِ وَاللِّسَانِ وَالْجَوَارِحِ.
--------------------------------------------
"কর্তিত" ১, এবং "কর্তিত" এর অর্থ হলো বরকতশূন্য হওয়া, অথবা এর স্বল্পতা।
বিসমিল্লাহর পর হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) উল্লেখ করার মাধ্যমে আল্লাহর কিতাবের অনুসরণও করা হয়েছে।
শাব্দিক অর্থে হামদ-এর সংজ্ঞায় তাঁদের (বিদ্বানদের) দুটি পরিভাষা রয়েছে:
একটি হলো: সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহর সুন্দর গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা। অন্যটি হলো: সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাকৃত সুন্দরের মাধ্যমে গুণকীর্তন করা ২। এটি গুণাবলি ৪ অথবা অনুগ্রহ ৫—উভয়ের সাথেই সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
এবং শাব্দিক অর্থে "শুকর" (কৃতজ্ঞতা) হলো: এমন একটি কাজ যা দাতার প্রতি তাঁর অনুগ্রহের কারণে সম্মান প্রদর্শনকে নির্দেশ করে—যেহেতু তিনি কৃতজ্ঞ ব্যক্তির ওপর অনুগ্রহকারী ৬, অর্থাৎ ৭ তাঁর অনুগ্রহের কারণে। আর এটি অন্তর, জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فَالْقَلْبُ لِلْمَعْرِفَةِ وَالْمَحَبَّةِ، وَاللِّسَانُ لِلثَّنَاءِ؛ لأَنَّهُ مَحَلُّهُ، وَالْجَوَارِحُ لاسْتِعْمَالِهَا فِي طَاعَةِ الْمَشْكُورِ، وَكَفِّهَا عَنْ مَعَاصِيهِ1.
وَقِيلَ: إنَّ الْحَمْدَ وَالشُّكْرَ فِي اللُّغَةِ بِمَعْنًى وَاحِدٍ2.
ثُمَّ إنَّ مَعْنَى الْحَمْدِ فِي الاصْطِلاحِ هُوَ مَعْنَى الشُّكْرِ فِي اللُّغَةِ3.
وَمَعْنَى الشُّكْرِ فِي الاصْطِلاحِ: هُوَ صَرْفُ الْعَبْدِ جَمِيعَ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ بِهِ إلَى مَا خُلِقَ لأَجْلِهِ، مِنْ جَمِيعِ الْحَوَاسِّ وَالآلاتِ وَالْقُوَى4.
وَعُلِمَ مِمَّا تَقَدَّمَ أَنَّ بَيْنَ الْحَمْدِ وَالشُّكْرِ اللُّغَوِيَّيْنِ عُمُومًا وَخُصُوصًا مِنْ وَجْهٍ5، فَالْحَمْدُ أَعَمُّ مِنْ جِهَةِ الْمُتَعَلَّقِ؛ "لأَنَّهُ لا يُعْتَبَرُ فِي مُقَابَلَةِ نِعْمَةٍ"6، وَأَخَصُّ مِنْ جِهَةٍ الْمَوْرِد، الَّذِي هُوَ اللِّسَانُ، وَالشُّكْرُ أَعَمُّ مِنْ جِهَةِ الْمَوْرِدِ، وَأَخَصُّ مِنْ جِهَةِ الْمُتَعَلَّقِ، وَهُوَ النِّعْمَةُ عَلَى الشَّاكِرِ7.
َفِي قَرْنِ الْحَمْدِ بِالْجَلالَةِ الْكَرِيمَةِ - دُونَ سَائِرِ أَسْمَائِهِ تَعَالَى- فَائِدَتَانِ:
--------------------------------------------
অন্তর হলো মারিফাত (পরিচয়) ও ভালোবাসার জন্য, আর জিহ্বা হলো প্রশংসার জন্য; কেননা এটিই তার স্থান। আর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ হলো কৃতজ্ঞতাভাজন সত্তার আনুগত্যে ব্যবহার করার জন্য এবং তাঁর নাফরমানি থেকে সেগুলোকে বিরত রাখার জন্য।১
বলা হয়েছে যে, শাব্দিক অর্থে 'হামদ' (প্রশংসা) এবং 'শুকর' (কৃতজ্ঞতা) একই অর্থবোধক।২
অতঃপর পারিভাষিক অর্থে 'হামদ'-এর অর্থ হলো শাব্দিক অর্থে 'শুকর'-এর যা অর্থ তাই।৩
আর পারিভাষিক অর্থে 'শুকর'-এর অর্থ হলো: বান্দা আল্লাহ তাকে যা কিছু নেয়ামত দান করেছেন—তার সকল ইন্দ্রিয়, উপকরণ ও শক্তি—সেগুলোকে সেই কাজে ব্যয় করা যে কাজের জন্য সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে।৪
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, শাব্দিক অর্থে 'হামদ' ও 'শুকর'-এর মধ্যে এক দিক থেকে সাধারণ ও অন্য দিক থেকে বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান।৫ 'হামদ' সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকে অধিক ব্যাপক; কারণ "নেয়ামতের বিনিময়ে হওয়া এতে বিবেচিত হয় না",৬ এবং এটি উৎসের দিক থেকে অধিক বিশেষ, যা হলো জিহ্বা। আর 'শুকর' উৎসের দিক থেকে অধিক ব্যাপক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের দিক থেকে অধিক বিশেষ, আর তা হলো কৃতজ্ঞতাকারীর উপর প্রাপ্ত নেয়ামত।৭
আল্লাহর অন্যান্য নামের পরিবর্তে শুধুমাত্র মহান 'আল্লাহ' শব্দের সাথে 'হামদ'-কে যুক্ত করার মাঝে দুটি উপকারিতা রয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأُولَى: أَنَّ اسْمَ "اللَّهِ" عَلَمٌ1 لِلذَّاتِ2، وَمُخْتَصٌّ بِهِ، فَيَعُمُّ جَمِيعَ أَسْمَائِهِ الْحُسْنَى.
الثَّانِيَةُ: أَنَّهُ اسْمُ اللَّهِ الأَعْظَمِ عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ الَّذِي هُوَ "مُتَّصِفٌ بِجَمِيعِ الْمَحَامِدِ"3
"كَمَا أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ" تَبَارَكَ اسْمُهُ وَتَعَالَى جَدُّهُ.
وَلَمَّا كَانَتْ صِحَّةُ الْوَصْفِ مُتَوَقِّفَةً عَلَى إحَاطَةِ الْعِلْمِ بِالْمَوْصُوفِ، وَقَدْ قَالَ جَلَّ ذِكْرُهُ {يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلا يُحِيطُونَ بِهِ عِلْمًا} 4 صَحَّ قَوْلُنَا "فَالْعَبْدُ لا يُحْصِي ثَنَاءً عَلَى رَبِّهِ" لأَنَّ وَصْفَ الْوَاصِفِ بِحَسَبِ مَا يُمْكِنُهُ إدْرَاكُهُ مِنْ الْمَوْصُوفِ. وَاَللَّهُ سُبْحَانَهُ أَكْبَرُ مِنْ أَنْ تُدْرَكَ حَقَائِقُ صِفَاتِهِ كَمَا هِيَ، جَلَّ رَبُّنَا وَعَزَّ {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 5.
وَ"الصَّلاةُ" الَّتِي هِيَ مِنْ اللَّهِ الرَّحْمَةُ وَالْمَغْفِرَةُ، وَالثَّنَاءُ عَلَى نَبِيِّهِ عِنْدَ الْمَلائِكَةِ وَمِنْ الْمَلائِكَةِ الاسْتِغْفَارُ وَالدُّعَاءُ، وَمِنْ الآدَمِيِّ وَالْجِنِّيِّ التَّضَرُّعُ وَالدُّعَاءُ،
"وَالسَّلامُ" الَّذِي هُوَ تَسْلِيمُ اللَّهِ سُبْحَانَهُ، "وَأَمَرَنَا بِهِ فِي قَوْله تَعَالَى:6
--------------------------------------------
প্রথমত: "আল্লাহ" নামটি সত্তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নাম১, যা কেবল তাঁর জন্যই বিশেষায়িত২, ফলে এটি তাঁর সকল সুন্দর নামকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয়ত: অধিকাংশ জ্ঞানীর মতে এটিই আল্লাহর মহানতম নাম, যা নির্দেশ করে যে তিনি "সমস্ত প্রশংসার গুণে গুণান্বিত"৩
"যেভাবে তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন", তাঁর নাম বরকতময় এবং তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ।
যেহেতু কোনো বর্ণনার সঠিকতা নির্ভর করে বর্ণিত সত্তা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জনের ওপর, আর মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, {তিনি জানেন যা তাদের সামনে আছে এবং যা তাদের পেছনে আছে, কিন্তু তারা জ্ঞান দিয়ে তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না} ৪ তাই আমাদের এই কথাটি যথার্থ যে, "বান্দা তার রবের প্রশংসার ইয়ত্তা করতে পারে না"। কেননা বর্ণনাকারীর বর্ণনা নির্ভর করে বর্ণিত বিষয় সম্পর্কে তার উপলব্ধির সক্ষমতার ওপর। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এর চেয়েও মহান যে তাঁর গুণাবলির প্রকৃত স্বরূপ হুবহু অনুধাবন করা যাবে। আমাদের প্রতিপালক সুমহান ও পরাক্রমশালী, {তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা} ৫।
আর "সালাত"—যা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত ও ক্ষমা এবং ফেরেশতাদের নিকট তাঁর নবীর প্রশংসা; ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া; এবং মানুষ ও জিনের পক্ষ থেকে রোনাজারি ও প্রার্থনা।
আর "সালাম"—যা হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রদান, যে বিষয়ে তিনি তাঁর এই বাণীতে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন: ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
{صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} 1 "عَلَى أَفْضَلِ خَلْقِهِ" بِلا تَرَدُّدٍ؛ لأَحَادِيثَ دَالَّةٍ عَلَى ذَلِكَ.
"فَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى أَفْضَلِيَّتِهِ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم "أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ وَلا فَخْرَ" 2 وَمَا خَصَّهُ اللَّهُ تَعَالَى بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، فَفِي الدُّنْيَا: كَوْنُهُ بُعِثَ إلَى النَّاسِ كَافَّةً، بِخِلافِ غَيْرِهِ مِنْ الأَنْبِيَاءِ، وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم "فُضِّلْت عَلَى مَنْ قَبْلِي بِسِتٍّ وَلا فَخْرَ" 3 وَفِي الآخِرَةِ: اخْتِصَاصُهُ بِالشَّفَاعَةِ، وَالأَنْبِيَاءُ تَحْتَ لِوَائِهِ، سَيِّدُنَا وَمَوْلانَا"4 وَخَاتَمُ رُسُلِهِ "مُحَمَّدٌ" صلى الله عليه وسلم.
أَلْهَمَ اللَّهُ تَعَالَى أَهْلَهُ أَنْ يُسَمُّوهُ بِذَلِكَ، لَمَّا عَلِمَ سُبْحَانَهُ بِمَا فِيهِ مِنْ كَثْرَةِ الْخِصَالِ الْمَحْمُودَةِ، وَهُوَ عَلَمٌ مُشْتَقٌّ مِنْ الْحَمْدُ5، مَنْقُولٌ مِنْ التَّحْمِيدِ، الَّذِي هُوَ فَوْقَ الْحَمْدِ.
--------------------------------------------
{তোমরা তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো} ১ "আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠতমের ওপর" কোনো দ্বিধা ব্যতিরেকেই; কারণ এ বিষয়ের ওপর অনেক হাদিস প্রমাণ বহন করে।
"তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ওপর যা প্রমাণ বহন করে তার মধ্যে রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি আদম-সন্তানদের নেতা এবং এতে কোনো অহংকার নেই" ২ এবং আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁকে যা দ্বারা বিশিষ্ট করেছেন। দুনিয়াতে তা হলো: তাঁকে সকল মানুষের প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে, যা অন্য নবীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন ছিল এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমার পূর্ববর্তীদের ওপর আমাকে ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো অহংকার নেই" ৩ আর আখিরাতে: তাঁর জন্য সুপারিশকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং নবীরা তাঁর পতাকাতলে থাকবেন, আমাদের নেতা ও অভিভাবক" ৪ এবং তাঁর রাসূলগণের মোহর "মুহাম্মাদ" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আল্লাহ তাআলা তাঁর পরিবারবর্গকে তাঁকে এই নামে ডাকার জন্য অনুপ্রাণিত করেছেন, যখন তিনি সুবহানাহু ওয়াতায়ালা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান অধিক পরিমাণে প্রশংসনীয় গুণাবলি সম্পর্কে অবগত ছিলেন। আর এটি একটি বিশেষ্য যা 'আল-হামদু' ৫ (প্রশংসা) হতে ব্যুৎপন্ন, যা 'আত-তাহমিদ' শব্দ থেকে গৃহীত, যা সাধারণ 'আল-হামদ' অপেক্ষা উচ্চতর স্তর প্রকাশ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"وَ" عَلَى "آلِهِ" وَالصَّحِيحُ: أَنَّهُمْ أَتْبَاعُهُ عَلَى دَيْنِهِ1، وَأَنَّهُ تَجُوزُ إضَافَتُهُ لِلضَّمِيرِ. وَالآلُ: اسْمُ2 جَمْعٍ، لا وَاحِدَ لَهُ مِنْ لَفْظِهِ.
"وَ" عَلَى "صَحْبِهِ" وَهُمْ الَّذِينَ لَقَوْا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مُؤْمِنِينَ، وَمَاتُوا مُؤْمِنِينَ3.
وَعَطْفُ الصَّحْبِ عَلَى الآلِ مِنْ بَابِ عَطْفِ الْخَاصِّ عَلَى الْعَامِّ. وَفِي الْجَمْعِ بَيْنَ الآلِ وَالصَّحْبِ مُخَالَفَةٌ لِلْمُبْتَدِعَةِ، لأَنَّهُمْ يُوَالُونَ الآلُ دُونَ الصَّحْبِ.
"أَمَّا" أَيْ مَهْمَا يَكُنْ مِنْ شَيْءٍ "بَعْدُ" هُوَ مِنْ الظُّرُوفِ الْمَبْنِيَّةِ الْمُنْقَطِعَةِ عَنْ الإِضَافَةِ. أَيْ: بَعْدَ الْحَمْدِ وَالصَّلاةِ وَالسَّلامِ4. وَالْعَامِلُ فِي "بَعْدُ"
--------------------------------------------
"এবং" তাঁর "পরিবার-পরিজনের" উপর; আর বিশুদ্ধ মত হলো: তারা হলো তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীবৃন্দ, এবং একে সর্বনামের সাথে যুক্ত করা বৈধ। আর 'আল' (পরিবার/অনুসারী) শব্দটি একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার নিজস্ব শব্দমূল থেকে কোনো একবচন নেই।
"এবং" তাঁর "সঙ্গীদের" উপর; তাঁরা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ঈমান আনয়ন অবস্থায় সাক্ষাৎ করেছেন এবং ঈমান অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
'পরিবার-পরিজন' (আল)-এর ওপর 'সঙ্গী' (সাহব)-কে অন্বয় করা হলো সাধারণের ওপর বিশেষের অন্বয়ের অন্তর্ভুক্ত। আর পরিবার ও সঙ্গীগণকে একত্রে উল্লেখ করার মধ্যে বিদআতপন্থীদের বিরোধিতা করা হয়েছে, কারণ তারা সাহাবীদের বাদ দিয়ে কেবল নবীর পরিবার-পরিজনকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে।
"অতঃপর" অর্থাৎ যা কিছুই হোক না কেন "তার পরে"। এটি ঐ সকল ক্রিয়াবিশেষণের অন্তর্ভুক্ত যা সম্বন্ধ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে অপরিবর্তনীয়। অর্থাৎ: আল্লাহর প্রশংসা, দরুদ ও সালামের পর। আর "তার পরে" শব্দের আমলকারী হলো—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
"أَمَّا" لِنِيَابَتِهَا عَنْ الْفِعْلِ. وَالْمَشْهُورُ ضَمُّ دَالِ بَعْدُ. وَأَجَازَ الْفَرَّاءُ1 نَصْبَهَا وَرَفْعَهَا بِالتَّنْوِينِ فِيهِمَا.
وَحِينَ تَضَمَّنَتْ "أَمَّا" مَعْنَى الابْتِدَاءِ2 "لَزِمَهَا لُصُوقُ الاسْمِ وَلِتَضَمُّنِهَا مَعْنَى"3 الشَّرْطِ، لَزِمَتْهَا الْفَاءُ، فَلأَجْلِ4 ذَلِكَ قُلْت:
"فَهَذَا" الْمَشْرُوحُ "مُخْتَصَرٌ" أَيْ كِتَابٌ مُخْتَصَرُ اللَّفْظِ، تَامُّ الْمَعْنَى "مُحْتَوٍ" أَيْ مُشْتَمِلٌ وَمُحِيطٌ "عَلَى مَسَائِلِ" الْكِتَابِ الْمُسَمَّى "تَحْرِيرَ الْمَنْقُولِ، وَتَهْذِيبَ عِلْمِ الأُصُولِ5 فِي أُصُولِ الْفِقْهِ. جَمْعُ الشَّيْخِ الْعَلَاّمَةِ عَلاءِ الدِّينِ الْمِرْدَاوِيِّ6 الْحَنْبَلِيِّ تَغَمَّدَهُ اللَّهُ تَعَالَى بِرَحْمَتِهِ، وَأَسْكَنَهُ فَسِيحَ جَنَّتِهِ" مُنْتَقَى "مِمَّا قَدَّمَهُ" مِنْ الأَقْوَالِ الَّتِي فِي الْمَسْأَلَةِ "أَوْ كَانَ" الْقَوْلُ "عَلَيْهِ الأَكْثَرُ مِنْ
--------------------------------------------
"আম্মা" শব্দটি ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে এমন হয়েছে। আর "বাদু" শব্দের 'দাল' বর্ণে পেশ (যম্মাহ) হওয়াটিই প্রসিদ্ধ। আল-ফাররা উভয় ক্ষেত্রে তানভীনসহ নসব (যবর) ও রাফা (পেশ) পড়াকে বৈধ বলেছেন।
যখন "আম্মা" সূচনার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, তখন এর সাথে বিশেষ্য (ইসম) যুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়; আর এটি শর্তের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার কারণে এর সাথে "ফা" যুক্ত হওয়া আবশ্যক হয়। আর সেই কারণেই আমি বলেছি:
"অতএব এই" ব্যাখ্যাত বিষয়টি হলো একটি "সংক্ষিপ্তসার" (মুখতাসার), অর্থাৎ এমন একটি কিতাব যার শব্দচয়ন সংক্ষিপ্ত কিন্তু অর্থ পূর্ণাঙ্গ; যা "ধারণকারী" অর্থাৎ অন্তর্ভুক্তকারী ও পরিবেষ্টনকারী "মাসআলাসমূহের" ওপর, যা "তাহরীরুল মানকুল ওয়া তাহযীবু ইলমিল উসুল" নামক উসুলুল ফিকহ বিষয়ক কিতাব থেকে সংগৃহীত। এটি সংকলন করেছেন শায়খ আল্লামা আলাউদ্দীন আল-মিরদাওয়ী আল-হাম্বলী—আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁকে তাঁর প্রশস্ত জান্নাতে দাখিল করুন—যা "তিনি অগ্রগণ্য করেছেন" এমন সব মতামতের মধ্য থেকে যা সংশ্লিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে "অথবা যে মতটির" ওপর অধিকাংশের মত রয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أَصْحَابِنَا، دُونَ" ذِكْرِ بَقِيَّةِ "الأَقْوَالِ، خَالٍ" هَذَا الْمُخْتَصَرُ "مِنْ قَوْلٍ ثَانٍ" أَذْكُرُهُ فِيهِ "إلَاّ" مِنْ قَوْلٍ أَذْكُرُهُ1 "لِفَائِدَةٍ تَزِيدُ" أَيْ زَائِدَةٍ "عَلَى مَعْرِفَةِ الْخِلافِ" لا لِيُعْلَمَ أَنَّ فِي الْمَسْأَلَةِ خِلافًا فَقَطْ.
"وَ" خَالٍ هَذَا الْمُخْتَصَرُ أَيْضًا "مِنْ عَزْوِ مَقَالٍ" أَيْ قَوْلٍ مَنْسُوبٍ "إلَى مَنْ" أَيْ شَخْصٍ "إيَّاهُ" أَيْ إيَّا الْمَقَالِ "قَالَ" أَيْ قَالَهُ.
"وَمَتَى قُلْت" فِي هَذَا الْمُخْتَصَرِ بَعْدَ ذِكْرِ2 حُكْمِ مَسْأَلَةٍ أَوْ قَبْلَهُ هُوَ كَذَا3 "فِي وَجْهٍ، فَالْمُقَدَّمُ" أَيْ فَالْمُعْتَمَدُ "غَيْرُهُ" أَيْ غَيْرُ مَا قُلْت إنَّهُ كَذَا فِي وَجْهٍ "وَ" مَتَى قُلْت: هُوَ كَذَا، أوَلَيْسَ بِكَذَا "فِي"4 قَوْلٍ "أَوْ عَلَى قَوْلٍ، فَإِذَا قَوِيَ الْخِلافُ" فِي الْمَسْأَلَةِ "أَوْ اخْتَلَفَ التَّرْجِيحُ، أَوْ" يَكُونُ ذَلِكَ "مَعَ5 إطْلاقِ الْقَوْلَيْنِ، أَوْ الأَقْوَالِ، إذْ لَمْ أَطَّلِعْ عَلَى مُصَرِّحٍ بِالتَّصْحِيحِ" لأَحَدِ الْقَوْلَيْنِ، أَوْ الأَقْوَالِ.
وَإِنَّمَا وَقَعَ اخْتِيَارِي عَلَى اخْتِصَارِ هَذَا الْكِتَابِ، دُونَ بَقِيَّةِ كُتُبِ هَذَا الْفَنِّ، لأَنَّهُ جَامِعٌ لأَكْثَرِ أَحْكَامِهِ، حَاوٍ لِقَوَاعِدِهِ وَضَوَابِطِهِ وَأَقْسَامِهِ، قَدْ اجْتَهَدَ مُؤَلِّفُهُ فِي تَحْرِيرِ نُقُولِهِ، وَتَهْذِيبِ أُصُولِهِ.
--------------------------------------------
আমাদের সাথীগণ, অন্যান্য "মতামত উল্লেখ" করা ব্যতিরেকে; এই "সংক্ষেপিত গ্রন্থটি" দ্বিতীয় কোনো "মত" উল্লেখ করা থেকে "মুক্ত", যা আমি এতে উল্লেখ করি "কেবল" সেই মত ছাড়া যা আমি উল্লেখ করি১ "এমন উপকারের জন্য যা কেবল" অর্থাৎ অতিরিক্ত "মতভেদ জানার ঊর্ধ্বে"; কেবল মাসআলাটিতে যে মতভেদ রয়েছে তা জানানোর জন্য নয়।
"এবং" এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি "বক্তব্য সম্বন্ধ করা" থেকেও মুক্ত, অর্থাৎ কোনো বক্তব্যকে সেই "ব্যক্তির দিকে" সম্বন্ধ করা যিনি "তা" অর্থাৎ সেই বক্তব্যটি "বলেছেন"।
"আর যখন আমি" এই সংক্ষেপিত গ্রন্থে কোনো মাসআলার বিধান বর্ণনার পর বা পূর্বে "বলি" যে, এটি "অমুক ওয়াজহ (অভিমত) অনুযায়ী, তখন মুকাদ্দাম" অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য মত হলো "তা ব্যতীত অন্যটি", অর্থাৎ আমি যা একটি ওয়াজহ হিসেবে বলেছি সেটি ছাড়া অন্যটি। "আর" যখন আমি বলি: এটি এমন, অথবা এটি এমন নয়, কোনো একটি "বক্তব্য অনুযায়ী বা বক্তব্যের ভিত্তিতে, তখন যদি (সেই মাসআলায়) মতভেদ প্রবল হয়", অথবা "প্রাধান্য নিরুপণে ভিন্নতা থাকে, অথবা" তা হয় "দুটি বা ততোধিক বক্তব্যকে শর্তহীনভাবে রাখার কারণে, যেহেতু আমি এমন কোনো স্পষ্টকারীকে পাইনি যিনি" কোনো একটি বক্তব্যকে "বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করেছেন"।
আর এই শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাব বাদ দিয়ে কেবল এই কিতাবটিকেই সংক্ষেপ করার পেছনে আমার পছন্দের কারণ হলো, এটি এর অধিকাংশ বিধানের সংকলনকারী, এর মূলনীতি, নিয়মাবলি ও প্রকারভেদসমূহকে ধারণকারী। এর লেখক এর উদ্ধৃতিসমূহ লিপিবদ্ধকরণে এবং এর উসুল বা মূলনীতিসমূহ সংস্কারে অত্যন্ত পরিশ্রম করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثُمَّ الْقَوَاعِدُ: جَمْعُ قَاعِدَةٍ، وَهِيَ "أَمْرٌ كُلِّيٌّ يَنْطَبِقُ عَلَى جُزْئِيَّاتٍ كَثِيرَةٍ تُفْهَمُ أَحْكَامُهَا مِنْهَا". فَمِنْهَا: مَا لا يَخْتَصُّ بِبَابٍ. كَقَوْلِنَا "الْيَقِينُ لا يُرْفَعُ بِالشَّكِّ"1، وَمِنْهَا: مَا يَخْتَصُّ، كَقَوْلِنَا "كُلُّ كَفَّارَةٍ سَبَبُهَا مَعْصِيَةٌ، فَهِيَ عَلَى الْفَوْرِ".
وَالْغَالِبُ فِيمَا يَخْتَصُّ بِبَابٍ، وَقُصِدَ بِهِ نَظْمُ صُوَرٍ مُتَشَابِهَةٍ يُسَمَّى "ضَابِطًا"، وَإِنْ شِئْت قُلْت: مَا عَمَّ صُوَرًا. فَإِنْ كَانَ2 الْمَقْصُودُ مِنْ ذِكْرِهِ الْقَدْرَ الْمُشْتَرَكَ الَّذِي بِهِ اشْتَرَكَتْ الصُّوَرُ فِي الْحُكْمِ، فَهُوَ "الْمُدْرَكُ"، وَإِلَاّ فَإِنْ كَانَ الْقَصْدُ ضَبْطَ تِلْكَ الصُّوَرِ بِنَوْعٍ مِنْ أَنْوَاعِ الضَّبْطِ، مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ فِي مَأْخَذِهَا، فَهُوَ "الضَّابِطُ"، وَإِلَاّ فَهُوَ "الْقَاعِدَةُ"3.
وَمِنْ الْقَوَاعِدِ الأُصُولِيَّةِ قَوْلُهُمْ "الأَمْرُ لِلْوُجُوبِ وَالْفَوْرِ". وَ"دَلِيلُ الْخِطَابِ حُجَّةٌ"، "وَقِيَاسُ الشَّبَهِ دَلِيلٌ صَحِيحٌ". "وَالْحَدِيثُ الْمُرْسَلُ يُحْتَجُّ بِهِ" وَنَحْوُ ذَلِكَ
"وَ" أَنَا "أَرْجُو" مِنْ فَضْلِ اللَّهِ سبحانه وتعالى "أَنْ يَكُونَ" هَذَا الْمُخْتَصَرُ "مُغْنِيًا لِحُفَّاظِهِ" عَنْ غَيْرِهِ مِنْ كُتُبِ هَذَا4 الْفَنِّ "عَلَى" مَا اتَّصَفَ بِهِ مِنْ "وَجَازَةِ أَلْفَاظِهِ" أَيْ تَقْلِيلِهَا.
--------------------------------------------
অতঃপর 'কাওয়াইদ' (নীতিমালা): এটি 'কায়িদাহ' (নীতি)-এর বহুবচন। আর এটি হলো "একটি সামগ্রিক বিষয় যা বহু আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়, যার মাধ্যমে সেই বিষয়গুলোর বিধান বুঝা যায়।" এগুলোর মধ্যে কিছু এমন আছে যা নির্দিষ্ট কোনো অধ্যায়ের সাথে খাস বা সীমাবদ্ধ নয়। যেমন আমাদের কথা: "নিশ্চয়তা সংশয়ের দ্বারা দূরীভূত হয় না।" আর কিছু এমন আছে যা (নির্দিষ্ট অধ্যায়ে) সীমাবদ্ধ, যেমন আমাদের কথা: "প্রত্যেক কাফফারা যার কারণ হলো গুনাহ, তা অবিলম্বে (আদায় করা) ওয়াজিব।"
যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সীমাবদ্ধ এবং যার দ্বারা সদৃশ বিষয়গুলোকে সুবিন্যস্ত করার সংকল্প করা হয়, তাকে সাধারণত "দ্বাবিত" (নিয়ন্ত্রক) বলা হয়। আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: যা বিভিন্ন রূপ বা অবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে। যদি তা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হয় সেই সাধারণ মানদণ্ড যার ভিত্তিতে বিষয়গুলো একই বিধানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তবে সেটি হলো "মুদরিক" (উৎস বা ভিত্তি)। অন্যথায়, যদি উদ্দেশ্য হয় সেই বিষয়গুলোকে কোনো এক প্রকার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করা, তাদের উৎসের দিকে দৃষ্টিপাত না করে, তবে তা হলো "দ্বাবিত" (নিয়ন্ত্রক); অন্যথায় তা হলো "কায়িদাহ" (নীতি)।
উসূলী নীতিমালার মধ্যে রয়েছে তাদের এই উক্তি: "আদেশ (আমর) ওয়াজিব হওয়া এবং অবিলম্বে পালনের দাবি রাখে।" এবং "দলিলুল খিতাব (বিপরীত অর্থবোধক প্রমাণ) একটি দলিল", "কিয়াসুশ শাবহা (সাদৃশ্যমূলক কিয়াস) একটি সঠিক দলিল", "মুরসাল হাদিস দলিল হিসেবে গ্রহণীয়" এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
"এবং" আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহের কাছে "আশা করি" "যেন" এই সংক্ষেপিত গ্রন্থটি "এর মুখস্থকারীদের জন্য" এই শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থ থেকে "অমুখাপেক্ষী করে দেয়", এর "শব্দগত সংক্ষিপ্ততা" অর্থাৎ এর শব্দের স্বল্পতা সত্ত্বেও।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وَإِيجَازُ اللَّفْظِ: اخْتِصَارُهُ مَعَ اسْتِيفَاءِ الْمَعْنَى. وَمِنْهُ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم "أُوتِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ. وَاخْتُصِرَ لِي الْكَلامُ1 اخْتِصَارًا" 2.
وَإِنَّمَا اخْتَصَرْته3 لِمَعَانٍ. مِنْهَا: أَنْ لا يَحْصُلَ الْمَلَلُ بِإِطَالَتِهِ. وَمِنْهَا: أَنْ يَسْهُلَ عَلَى مَنْ أَرَادَ حِفْظَهُ. وَمِنْهَا: أَنْ يَكْثُرَ عِلْمُهُ مِنْ قِلَّةِ حَجْمِهِ.
"وَأَسْأَلُ اللَّهَ سبحانه وتعالى أَنْ يَعْصِمَنِي" وَيَعْصِمَ "مَنْ قَرَأَهُ مِنْ الزَّلَلِ" أَيْ مِنْ السَّقْطَةِ4 فِي الْمَنْطِقِ وَالْخَطِيئَةِ5 "وَأَنْ يُوَفِّقَنَا" أَيْ يُوَفِّقَنِي وَمَنْ قَرَأَهُ "وَالْمُسْلِمِينَ لِمَا يُرْضِيهِ" أَيْ يُرْضِي اللَّهَ عَنَّا6 "مِنْ الْقَوْلِ وَالْعَمَلِ" إنَّهُ قَرِيبٌ مُجِيبٌ، وَبِالإِجَابَةِ جَدِيرٌ.
وَرَتَّبْته - كَأَصْلِهِ- عَلَى مُقَدِّمَةٍ، وَثَمَانِيَةَ عَشَرَ بَابًا، لا فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنْ عَدَدِ الْفُصُولِ، وَنَحْوِ ذَلِكَ. كَالتَّنَابِيهِ وَالتَّذَانِيبِ.
--------------------------------------------
শব্দের সংক্ষিপ্তকরণ (ইজাযুল লাফজ): অর্থ পরিপূর্ণ রেখে শব্দকে সংক্ষেপ করা। এর অন্তর্ভুক্ত হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমাকে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্য (জাওয়ামিউল কালিম) প্রদান করা হয়েছে এবং আমার জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে১" ২।
আর আমি এটি৩ কয়েকটি কারণে সংক্ষিপ্ত করেছি। তার মধ্যে রয়েছে: যেন এর দীর্ঘতার কারণে বিরক্তি সৃষ্টি না হয়। আরও রয়েছে: যেন যে ব্যক্তি এটি মুখস্থ করার ইচ্ছা পোষণ করে তার জন্য তা সহজ হয়। আরও রয়েছে: যেন এর আয়তন ক্ষুদ্র হওয়া সত্ত্বেও এর জ্ঞান (ইলম) বৃদ্ধি পায়।
"আর আমি মহিমান্বিত ও সুউচ্চ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাকে রক্ষা করেন" এবং "যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে তাকেও রক্ষা করেন পদস্খলন থেকে" অর্থাৎ কথাবার্তায় ভুল৪ এবং ত্রুটি৫ থেকে। "এবং তিনি যেন আমাদের তৌফিক দান করেন" অর্থাৎ আমাকে এবং যে এটি পাঠ করবে তাকে "এবং সকল মুসলিমকে এমন কাজের যা তাঁকে সন্তুষ্ট করে" অর্থাৎ যার ফলে আল্লাহ আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন৬ "কথায় ও কর্মে"। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে, দুআ কবুলকারী এবং সাড়াদানের জন্য অত্যন্ত যোগ্য।
আমি একে বিন্যস্ত করেছি—তার মূল গ্রন্থের ন্যায়—একটি ভূমিকা এবং আঠারোটি অধ্যায়ে; এছাড়া অন্যান্য পরিচ্ছেদ সংখ্যা বা অনুরূপ বিষয় যেমন—সতর্কতা ও পরিশিষ্টের ক্ষেত্রে মূলের বিন্যাস অনুসরণ করা হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أَمَّا الْمُقَدِّمَةُ، فَتَشْتَمِلُ عَلَى تَعْرِيفِ هَذَا الْعِلْمِ وَفَائِدَتِهِ، وَاسْتِمْدَادِهِ وَمَا يَتَّصِلُ بِذَلِكَ مِنْ مُقَدِّمَاتٍ وَلَوَاحِقَ، كَالدَّلِيلِ، وَالنَّظَرِ، وَالإِدْرَاكِ. وَالْعِلْمِ، وَالْعَقْلِ، وَالْحَدِّ، وَاللُّغَةِ وَمَسَائِلِهَا وَأَحْكَامِهَا، وَأَحْكَامِ خِطَابِ الشَّرْعِ، وَخِطَابِ الْوَضْعِ، وَمَا يَتَعَلَّقُ بِهِمَا، وَغَيْرِ ذَلِكَ.
فَأَقُولُ وَمِنْ اللَّهِ أَسْتَمِدُّ الْمَعُونَةَ:
"مُقَدِّمَةٌ"
الْمُقَدِّمَةُ فِي الأَصْلِ صِفَةٌ، ثُمَّ اسْتَعْمَلُوهَا اسْمًا لِكُلِّ مَا وُجِدَ فِيهِ التَّقْدِيمُ، كَمُقَدِّمَةِ الْجَيْشِ وَالْكِتَابِ، وَمُقَدِّمَةِ الدَّلِيلِ وَالْقِيَاسِ؛ وَهِيَ الْقَضِيَّةُ الَّتِي1 تُنْتِجُ ذَلِكَ مَعَ قَضِيَّةٍ أُخْرَى، نَحْوُ "كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ"، وَ "كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ" وَنَحْوُ ذَلِكَ، وَ "الْعَالِمُ مُؤَلِّفٌ" وَ "كُلُّ مُؤَلِّفٍ مُحَدِّثٌ"، وَنَحْوُ ذَلِكَ.
ثُمَّ إنَّ مُقَدِّمَةَ الْعِلْمِ هِيَ2 اسْمٌ3 لِمَا4 تَقَدَّمَ أَمَامَهُ، وَلِمَا تَتَوَقَّفُ عَلَيْهِ مَسَائِلُهُ كَمَعْرِفَةِ حُدُودِهِ وَغَايَتِهِ وَمَوْضُوعِهِ. وَمُقَدِّمَةُ الْكِتَابِ لِطَائِفَةٍ مِنْ كَلامِهِ تُقَدَّمُ أَمَامَ الْمَقْصُودِ، لارْتِبَاطٍ لَهُ بِهَا، وَانْتِفَاعٍ بِهَا فِيهِ. سَوَاءٌ تَوَقَّفَ عَلَيْهَا الْعِلْمُ أَوْ لا5.
وَهِيَ - بِكَسْرِ الدَّالِ-: مِنْ قَدَّمَ بِمَعْنَى6 تَقَدَّمَ. قَالَ اللَّهُ سبحانه وتعالى:
--------------------------------------------
ভূমিকা সম্পর্কে বলা যায় যে, এটি এই শাস্ত্রের সংজ্ঞা, এর উপকারিতা, এর উৎস এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ও পরিশিষ্টসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন—দলিল, বিচার-বুদ্ধি, উপলব্ধি, জ্ঞান, আকল, সংজ্ঞা, ভাষা এবং এর মাসআলা ও বিধানসমূহ, শরয়ি সম্বোধন (খিতাব) ও মানদণ্ডমূলক সম্বোধনের (খিতাবুল ওয়াদ'ই) বিধানাবলী এবং এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ও অন্যান্য বিষয়।
আমি বলছি এবং আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি:
"ভূমিকা"
'মুকাদ্দিমা' (ভূমিকা) মূলত একটি বিশেষণ পদ, পরবর্তীতে তাঁরা একে এমন প্রত্যেক বিষয়ের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন যাতে অগ্রবর্তী হওয়ার বিষয়টি পাওয়া যায়, যেমন—সৈন্যবাহিনীর অগ্রভাগ, গ্রন্থের ভূমিকা, দলিলের ভূমিকা এবং কিয়াসের (যৌক্তিক অনুমান) ভূমিকা। আর এটি এমন একটি প্রতিজ্ঞা যা অন্য একটি প্রতিজ্ঞার সাথে মিলে ফলাফল প্রদান করে, যেমন: "প্রত্যেক নেশা সৃষ্টিকারী বস্তু মদ" এবং "প্রত্যেক মদ হারাম" এবং এই জাতীয় উদাহরণ। আর যেমন: "জগত সুবিন্যস্ত" এবং "প্রত্যেক সুবিন্যস্ত বিষয়ই নব্যসৃষ্ট", এবং এই জাতীয় উদাহরণ।
অতঃপর, শাস্ত্রের ভূমিকা হলো এমন বিষয়ের নাম যা তার সামনে পেশ করা হয় এবং যার ওপর তার মাসআলাগুলো নির্ভর করে, যেমন—তার সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর গ্রন্থের ভূমিকা হলো তার বক্তব্যের এমন একটি অংশ যা মূল উদ্দেশ্যের আগে উপস্থাপন করা হয়, তার সাথে এর সংযোগ থাকার কারণে এবং এর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার জন্য। চাই শাস্ত্রটি এর ওপর নির্ভর করুক বা না করুক।
আর এটি—'দাল' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে—'ক্বাদ্দামা' থেকে এসেছে যা 'তাক্বাদ্দামা' (অগ্রবর্তী হওয়া) অর্থে ব্যবহৃত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
{لا تُقَدِّمُوا بَيْنَ يَدَيْ اللَّهِ وَرَسُولِهِ} 1 أَيْ: لا تَتَقَدَّمُوا. وَبِفَتْحِهَا، لأَنَّ صَاحِبَ الْكِتَابِ أَوْ أَمِيرَ الْجَيْشِ قَدَّمَهَا، وَمَنَعَ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ الْكَسْرَ. وَبَعْضُهُمْ اقْتَصَرَ عَلَيْهِ.
وَلَمَّا كَانَ كُلُّ عِلْمٍ لا يَتَمَيَّزُ فِي نَفْسِهِ عَنْ بَقِيَّةِ الْعُلُومِ إلَاّ بِتَمييزِ2 مَوْضُوعِهِ. وَكَانَ مَوْضُوعُ أُصُولِ الْفِقْهِ: أَخَصَّ مِنْ مُطْلَقِ الْمَوْضُوعِ. وَكَانَ الْعِلْمُ بِالْخَاصِّ مَسْبُوقًا بِالْعِلْمِ بالْعَامِّ3، بَدَأَ بِتَعْرِيفِ مُطْلَقِ الْمَوْضُوعِ بِقَوْلِهِ:
"مَوْضُوعُ كُلِّ عِلْمٍ" شَرْعِيًّا كَانَ أَوْ عَقْلِيًّا "مَا" أَيْ الشَّيْءُ الَّذِي "يُبْحَثُ فِيهِ" أَيْ فِي ذَلِكَ الْعِلْمِ "عَنْ عَوَارِضِهِ" أَيْ عَوَارِضِ مَوْضُوعِهِ "الذَّاتِيَّةِ" أَيْ الأَحْوَالِ4 الْعَارِضَةِ لِلذَّاتِ، دُونَ الْعَوَارِضِ اللَاّحِقَةِ لأَمْرٍ خَارِجٍ عَنْ الذَّاتِ5.
وَمَسَائِلُ كُلِّ عِلْمٍ مَعْرِفَةُ الأَحْوَالِ4 الْعَارِضَةِ لِذَاتِ مَوْضُوعِ ذَلِكَ الْعِلْمِ6.
فَمَوْضُوعُ عِلْمِ الطِّبِّ مَثَلاً: هُوَ بَدَنُ الإِنْسَانِ، لأَنَّهُ يُبْحَثُ فِيهِ عَنْ الأَمْرَاضِ اللَاّحِقَةِ لَهُ، وَمَسَائِلُهُ: هِيَ مَعْرِفَةُ تِلْكَ الأَمْرَاضِ.
--------------------------------------------
{আল্লাহর হাতদ্বয়ের এবং তাঁর রাসূলের সম্মুখে তোমরা অগ্রণী হয়ো না} ১ অর্থাৎ: তোমরা অগ্রবর্তী হয়ো না। এটি দাল বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে পড়া হয়েছে, কারণ কিতাবের লেখক বা সেনাবাহিনীর আমীর একে অগ্রবর্তী করেছেন, এবং কোনো কোনো আলেম কাসরাহ (যের) দিয়ে পড়াকে নিষিদ্ধ করেছেন। আবার তাদের কেউ কেউ কেবল কাসরাহ দিয়ে পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
যেহেতু প্রতিটি জ্ঞান তার নিজস্ব সত্তায় অন্যান্য জ্ঞান থেকে পৃথক হয় না তার বিষয়বস্তুর স্বাতন্ত্র্য ব্যতীত; এবং যেহেতু উসূলে ফিকহের বিষয়বস্তু সাধারণ বিষয়বস্তুর চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট; আর সুনির্দিষ্ট বিষয়ের জ্ঞান যেহেতু সাধারণ বিষয়ের জ্ঞানের অনুগামী, তাই তিনি সাধারণ বিষয়বস্তুর সংজ্ঞা প্রদানের মাধ্যমে শুরু করেছেন এই বলে:
"প্রতিটি বিদ্যার বিষয়বস্তু" চাই তা শরয়ি হোক বা বুদ্ধিভিত্তিক, হলো "যা" অর্থাৎ এমন বিষয় যা "তাতে অর্থাৎ সেই বিদ্যায় আলোচিত হয়" তার "স্বকীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ (আওয়ারিয) নিয়ে" অর্থাৎ তার বিষয়বস্তুর "স্বকীয়" বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে; যা সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আপতিত অবস্থা, সত্তার বহির্ভূত কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যতীত।
আর প্রতিটি বিদ্যার মাসআলা বা আলোচ্য বিষয়সমূহ হলো সেই বিদ্যার বিষয়বস্তুর সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট আপতিত অবস্থাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
উদাহরণস্বরূপ চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু হলো: মানুষের শরীর, কারণ এতে শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট রোগব্যাধি নিয়ে আলোচনা করা হয়, আর এর মাসআলাসমূহ হলো: সেই রোগব্যাধিগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَمَوْضُوعُ عِلْمِ النَّحْوِ: الْكَلِمَاتُ، فَإِنَّهُ يُبْحَثُ فِيهِ عَنْ أَحْوَالِهَا مِنْ حَيْثُ الإِعْرَابُ وَالْبِنَاءُ. وَمَسَائِلُهُ: هِيَ مَعْرِفَةُ الإِعْرَابِ وَالْبِنَاءِ1.
وَمَوْضُوعُ عِلْمِ الْفَرَائِضِ: التَّرِكَاتُ، فَإِنَّهُ يُبْحَثُ فِيهِ2 مِنْ حَيْثُ قِسْمَتُهَا، وَمَسَائِلُهُ: هِيَ مَعْرِفَةُ حُكْمِ قِسْمَتِهَا.
وَالْعِلْمُ بِمَوْضُوعِ عِلْمٍ لَيْسَ بِدَاخِلٍ فِي حَقِيقَةِ ذَلِكَ الْعِلْمِ كَمَا قُلْنَا فِي بَدَنِ الإِنْسَانِ وَالْكَلِمَاتِ وَالتَّرِكَاتِ.
إذَا عَلِمْتَ ذَلِكَ: فَالْعَوَارِضُ الذَّاتِيَّةُ هِيَ الَّتِي تُلْحِقُ الشَّيْءَ لِمَا هُوَ هُوَ - أَيْ لِذَاتِهِ- كَالتَّعَجُّبِ اللَاّحِقِ لِذَاتِ الإِنْسَانِ، أَوْ تَلْحَقُ الشَّيْءَ لِجُزْئِهِ، كَالْحَرَكَةِ بِالإِرَادَةِ اللَاّحِقَةِ لِلإِنْسَانِ "بِوَاسِطَةِ أَنَّهُ حَيَوَانٌ، أَوْ تَلْحَقُهُ بِوَاسِطَةِ أَمْرٍ خَارِجٍ عَنْ الْمَعْرُوضِ مُسَاوٍ لِلْمَعْرُوضِ، كَالضَّحِكِ الْعَارِضِ لِلإِنْسَانِ"3 بِوَاسِطَةِ التَّعَجُّبِ4.
وَتَفْصِيلُ ذَلِكَ: أَنَّ الْعَارِضَ إمَّا أَنْ يَكُونَ لِذَاتِ الشَّيْءِ، أَوْ لِجُزْئِهِ، أَوْ لأَمْرٍ خَارِجٍ عَنْهُ5. وَالأَمْرُ الْخَارِجُ: إمَّا مُسَاوٍ لِلْمَعْرُوضِ، أَوْ أَعَمُّ مِنْهُ، أَوْ أَخَصُّ، أَوْ مُبَايِنٌ.
أَمَّا الثَّلاثَةُ الأُوَلُ - وَهِيَ الْعَارِضُ لِذَاتِ الْمَعْرُوضِ، وَالْعَارِضُ لِجُزْئِهِ،
--------------------------------------------
নাহু শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: শব্দসমূহ; কেননা এতে শব্দের অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয় ইরাব (বিভক্তি) ও বিনা (অপরিবর্তনীয়তা) এর দিক থেকে। আর এর মাসআলাসমূহ হলো: ইরাব ও বিনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা১।
ফারায়েজ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো: পরিত্যক্ত সম্পদসমূহ; কেননা এতে তা বণ্টনের দিক থেকে আলোচনা করা হয়২, আর এর মাসআলাসমূহ হলো: তা বণ্টনের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
কোনো শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা সেই শাস্ত্রের প্রকৃত সত্তার (হাকিকত) অন্তর্ভুক্ত নয়, যেমনটি আমরা মানুষের শরীর, শব্দসমূহ এবং পরিত্যক্ত সম্পদের ক্ষেত্রে বলেছি।
আপনি যখন বিষয়টি জানলেন (তখন বুঝুন যে): স্বকীয় আপতনসমূহ (আল-আওয়ারিদুল জাতিয়্যাহ) হলো তা-ই যা কোনো বস্তুর সাথে যুক্ত হয় তার সত্তাগত কারণে—অর্থাৎ তার নিজের জন্য—যেমন মানুষের সত্তার সাথে যুক্ত হওয়া আশ্চর্যবোধ (বিস্ময়), অথবা যা বস্তুর সাথে যুক্ত হয় তার কোনো অংশের কারণে, যেমন মানুষের সাথে যুক্ত হওয়া স্বেচ্ছাধীন নড়াচড়া 'সে একজন প্রাণী' হওয়ার মাধ্যমে, অথবা যা তার সাথে যুক্ত হয় প্রদর্শিত বিষয়ের বাইরের এমন কোনো বিষয়ের মাধ্যমে যা প্রদর্শিত বিষয়ের সমান বা সমপর্যায়ের, যেমন মানুষের ওপর আপতিত হওয়া হাসি৩ আশ্চর্যবোধের মাধ্যমে৪।
এর বিস্তারিত বিবরণ হলো: আপতন (আরেজ) হয় বস্তুর সত্তার জন্য হবে, অথবা তার অংশের জন্য হবে, অথবা তার বহির্ভূত কোনো বিষয়ের জন্য হবে৫। আর বহির্ভূত বিষয়টি: হয় প্রদর্শিত বিষয়ের সমান হবে, অথবা তার চেয়ে সাধারণ বা ব্যাপক হবে, অথবা তার চেয়ে বিশিষ্ট হবে, নতুবা সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
প্রথম তিনটির ক্ষেত্রে—আর সেগুলো হলো যা প্রদর্শিত বিষয়ের সত্তার কারণে আপতিত হয়, এবং যা তার অংশের কারণে আপতিত হয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَالْعَارِضُ الْمُسَاوِي1- فَتُسَمَّى2 "أَعْرَاضًا ذَاتِيَّةً"، لاسْتِنَادِهَا إلَى ذَاتِ3 الْمَعْرُوضِ.
أَمَّا الْعَارِضُ لِلذَّاتِ: فَظَاهِرٌ.
وَأَمَّا الْعَارِضُ لِلْجُزْءِ: فَلأَنَّ الْجُزْءَ دَاخِلٌ فِي الذَّاتِ، وَالْمُسْتَنِدُ إلَى مَا فِي الذَّاتِ مُسْتَنِدٌ إلَى الذَّاتِ فِي الْجُمْلَةِ4.
وَأَمَّا الْعَارِضُ لِلأَمْرِ5 الْمُسَاوِي: "فَلأَنَّ الْمُسَاوِيَ"6 يَكُونُ مُسْتَنِدًا إلَى ذَاتِ الْمَعْرُوضِ، وَالْعَارِضُ مُسْتَنِدٌ7 إلَى الْمُسَاوِي، وَالْمُسْتَنِدُ إلَى الْمُسْتَنِدِ إلَى الشَّيْءِ مُسْتَنِدٌ إلَى ذَلِكَ الشَّيْءِ، فَيَكُونُ الْعَارِضُ أَيْضًا مُسْتَنِدًا إلَى الذَّاتِ.
وَالثَّلاثَةُ الأَخِيرَةُ الْعَارِضَةُ لأَمْرٍ خَارِجٍ غَيْرِ مُسَاوٍ لِلْمَعْرُوضِ تُسَمَّى "أَعْرَاضًا غَرِيبَةً" لِمَا فِيهَا مِنْ الْغَرَابَةِ بِالْقِيَاسِ إلَى ذَاتِ الْمَعْرُوضِ.
ثُمَّ تَارَةً يَكُونُ الأَمْرُ الْخَارِجُ8 أَعَمَّ مِنْ الْمَعْرُوضِ، كَالْحَرَكَةِ اللَاّحِقَةِ لِلأَبْيَضِ بِوَاسِطَةِ أَنَّهُ جِسْمٌ، وَهُوَ أَعَمُّ مِنْ الأَبْيَضِ وَغَيْرِهِ. وَتَارَةً يَكُونُ أَخَصَّ، كَالضَّحِكِ الْعَارِضِ لِلْحَيَوَانِ بِوَاسِطَةِ أَنَّهُ إنْسَانٌ، وَهُوَ أَخَصُّ مِنْ
--------------------------------------------
এবং সমপর্যায়ের আগন্তুক১- এগুলোকে২ "সত্তাগত আগন্তুক গুণ" বলা হয়, কারণ এগুলো প্রদর্শিত বিষয়ের৩ সত্তার ওপর নির্ভরশীল।
আর সত্তার ওপর যা আগন্তুক, তা তো স্পষ্ট।
আর যা অংশের জন্য আগন্তুক, তার কারণ হলো অংশ সত্তার অন্তর্ভুক্ত; আর যা সত্তার অন্তর্ভুক্ত কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, তা সামগ্রিকভাবে৪ সত্তার ওপরই নির্ভরশীল।
আর যা সমপর্যায়ের৫ বিষয়ের জন্য আগন্তুক: "তার কারণ হলো সমপর্যায়ের বিষয়টি"৬ প্রদর্শিত বিষয়ের সত্তার ওপর নির্ভরশীল হয়, আর আগন্তুক বিষয়টি সেই সমপর্যায়ের বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল৭, আর যা এমন কিছুর ওপর নির্ভরশীল যা অন্য একটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, তা মূলত সেই বিষয়ের ওপরই নির্ভরশীল; সুতরাং এই আগন্তুকটিও সত্তার ওপরই নির্ভরশীল হবে।
আর পরবর্তী তিনটি অবস্থা যা প্রদর্শিত বিষয়ের সমপর্যায়ভুক্ত নয় এমন বহির্গত বিষয়ের জন্য আগন্তুক হয়, সেগুলোকে "অপ্রাসঙ্গিক আগন্তুক গুণ" বলা হয়; কারণ প্রদর্শিত বিষয়ের সত্তার তুলনায় এগুলোর মধ্যে এক প্রকার অপ্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান।
অতঃপর কখনো বহির্গত বিষয়টি৮ প্রদর্শিত বিষয়ের চেয়ে অধিকতর ব্যাপক হয়, যেমন সাদা বস্তুর ক্ষেত্রে গতির সংযুক্তি; কারণ সাদা বস্তুটি একটি দেহ, আর 'দেহ' হওয়া বিষয়টি সাদা ও অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় অধিকতর ব্যাপক। আবার কখনো তা অধিকতর সুনির্দিষ্ট হয়, যেমন প্রাণীর ক্ষেত্রে হাসির উদ্ভব; কারণ প্রাণীটি একজন মানুষ, আর 'মানুষ' হওয়া বিষয়টি প্রাণীর তুলনায় অধিকতর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الْحَيَوَانِ. وَتَارَةً يَكُونُ مُبَايِنًا لِلْمَعْرُوضِ كَالْحَرَارَةِ الْعَارِضَةِ لِلْمَاءِ بِوَاسِطَةِ النَّارِ1.
إذَا عَلِمْت ذَلِكَ:
"فَمَوْضُوعُ ذَا" أَيْ هَذَا الْعِلْمِ الَّذِي هُوَ أُصُول الْفِقْهُ "الأَدِلَّةُ2 الْمُوَصِّلَةُ إلَى الْفِقْهِ" مِنْ الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ وَالإِجْمَاعِ وَالْقِيَاسِ، وَنَحْوِهَا؛ لأَنَّهُ يُبْحَثُ فِيهِ3 عَنْ الْعَوَارِضِ اللَاّحِقَةِ لَهَا، مِنْ كَوْنِهَا عَامَّةً أَوْ خَاصَّةً، أَوْ مُطْلَقَةً أَوْ مُقَيَّدَةً، أَوْ مُجْمَلَةً، أَوْ مُبَيِّنَةً، أَوْ ظَاهِرَةً أَوْ نَصًّا، أَوْ مَنْطُوقَةً، أَوْ مَفْهُومَةً، وَكَوْنُ اللَّفْظِ أَمْرًا أَوْ نَهْيًا، وَنَحْوَ ذَلِكَ مِنْ اخْتِلافِ مَرَاتِبِهَا، وَكَيْفِيَّةِ الاسْتِدْلالِ بِهَا4، وَمَعْرِفَةُ هَذِهِ الأَشْيَاءِ هِيَ5 مَسَائِلُ أُصُولِ الْفِقْهِ.
وَمَوْضُوعُ عِلْمِ الْفِقْهِ: أَفْعَالُ الْعِبَادِ مِنْ حَيْثُ تَعَلُّقُ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ بِهَا. وَمَسَائِلُهُ مَعْرِفَةُ أَحْكَامِهَا مِنْ وَاجِبٍ وَحَرَامٍ، وَمُسْتَحَبٍّ وَمَكْرُوهٍ وَمُبَاحٍ.
"وَلا بُدَّ" أَيْ لا فِرَاقَ "لِمَنْ طَلَبَ عِلْمًا" أَيْ6 حَاوَلَ أَنْ يَعْرِفَهُ مِنْ ثَلاثَةِ أُمُورٍ:
--------------------------------------------
প্রাণীর ক্ষেত্রে। আর কখনও কখনও এটি প্রদর্শিত বস্তুর থেকে পৃথক হয়, যেমন আগুনের মাধ্যমে পানিতে আগত উত্তাপ ১।
যখন আপনি এটি জানলেন:
"সুতরাং এর বিষয়বস্তু" অর্থাৎ এই ইলম যা হলো উসূলুল ফিকহ, তার বিষয়বস্তু হলো "সেই সকল দলিল ২ যা ফিকহ পর্যন্ত পৌঁছে দেয়", যেমন: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ; কারণ এতে ৩ সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট আপতিত গুণাবলি (আওয়ারিদ) নিয়ে আলোচনা করা হয়; যেমন সেগুলো আম (সাধারণ) বা খাস (বিশেষ), অথবা মুতলাক (নিরপেক্ষ) বা মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), অথবা মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) বা মুবাইয়্যান (সুস্পষ্ট), অথবা জাহির (প্রকাশ্য) বা নাস (সুনিশ্চিত), অথবা মানতুক (উচ্চারিত) বা মাফহুম (উপলব্ধিগত) হওয়া। আরও রয়েছে শব্দের আমর (আদেশ) বা নাহি (নিষেধ) হওয়া এবং এ জাতীয় সেগুলোর স্তরের ভিন্নতা ও দলিল হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতি ৪। আর এই বিষয়গুলোর পরিচয়ই হলো ৫ উসূলুল ফিকহের মাসয়ালাসমূহ।
আর ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো: শরয়ি বিধানাবলি সংশ্লিষ্ট হওয়ার দিক থেকে বান্দার কার্যাবলি। আর এর মাসয়ালাসমূহ হলো সেগুলোর বিধান জানা, যেমন: ওয়াজিব, হারাম, মুস্তাহাব, মাকরুহ ও মুবাহ।
"আর অবশ্যই" অর্থাৎ কোনো বিচ্ছিন্নতা নেই "সে ব্যক্তির জন্য যে জ্ঞান অন্বেষণ করে" অর্থাৎ ৬ তা জানার চেষ্টা করে, তার জন্য তিনটি বিষয় অপরিহার্য:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أَحَدُهَا: "أَنْ يَتَصَوَّرَهُ بِوَجْهٍ مَا" أَيْ بِوَجْهٍ مِنْ الإِجْمَالِ؛ لأَنَّ طَلَبَ الإِنْسَانِ مَا لا يَتَصَوَّرُهُ مُحَالٌ بِبَدِيهَةِ1 الْعَقْلِ، وَطَلَبُ مَا يَعْرِفُهُ مِنْ جِهَةِ تَفْصِيلِهِ مُحَالٌ أَيْضًا؛ لأَنَّهُ تَحْصِيلُ الْحَاصِلِ.
"وَ" الأَمْرُ الثَّانِي: أَنْ "يَعْرِفَ غَايَتَهُ" لِئَلَاّ يَكُونَ "سَعْيُهُ فِي طَلَبِهِ عَابِثًا"2.
"وَ" الأَمْرُ الثَّالِثُ: أَنْ يَعْرِفَ "مَادَّتَهُ" أَيْ مَا يَسْتَمِدُّ ذَلِكَ الْعِلْمُ مِنْهُ؛ لِيَرْجِعَ فِي جُزْئِيَّاتِهِ إلَى مَحَلِّهَا.
وَأَصْلُ هَذِهِ الْقَاعِدَةِ: أَنَّ كُلَّ مَعْدُومٍ يَتَوَقَّفُ وُجُودُهُ عَلَى أَرْبَعِ عِلَلٍ3:
- صُورِيَّةٍ: وَهِيَ الَّتِي تَقُومُ بِهَا صُورَتُهُ. فَتَصَوُّرُ الْمُرَكَّبِ مُتَوَقِّفٌ عَلَى تَصَوُّرِ أَرْكَانِهِ. وَانْتِظَامِهَا عَلَى الْوَجْهِ الْمَقْصُودِ.
- وَغَائِيَّةٍ: وَهِيَ الْبَاعِثَةُ عَلَى4 إيجَادِهِ. وَهِيَ الأُولَى فِي الْفِكْرِ، وَإِنْ كَانَتْ آخِرًا فِي الْوُجُودِ الْخَارِجِيِّ. وَلِهَذَا يُقَالُ: "مَبْدَأُ الْعِلْمِ مُنْتَهَى الْعَمَلِ".
- وَمَادِّيَّةٍ5: وَهِيَ الَّتِي تُسْتَمَدُّ مِنْهَا الْمُرَكَّبَاتُ، أَوْ مَا فِي حُكْمِهَا.
--------------------------------------------
প্রথমটি: “সেটি কোনো একভাবে কল্পনা করা” অর্থাৎ সংক্ষিপ্তভাবে কল্পনা করা; কারণ মানুষের পক্ষে এমন কিছু অন্বেষণ করা যা সে কল্পনা করতে পারে না তা বিচারবুদ্ধির স্বতঃসিদ্ধতায় অসম্ভব, আর যা সে বিস্তারিতভাবে জানে তা অন্বেষণ করাও অসম্ভব; কারণ এটি অর্জিত বস্তুকে পুনরায় অর্জন করার নামান্তর।
“এবং” দ্বিতীয় বিষয়টি: “তার উদ্দেশ্য জানা” যাতে “তা অন্বেষণে তার প্রচেষ্টা নিরর্থক” না হয়।
“এবং” তৃতীয় বিষয়টি: তার “উপাদান” জানা অর্থাৎ সেই জ্ঞান যা থেকে সংগৃহীত হয়; যাতে এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে স্ব-স্থানে ফিরিয়ে নেয়া যায়।
আর এই মূলনীতির ভিত্তি হলো: প্রতিটি অনস্তিত্বশীল বস্তুর অস্তিত্ব লাভ চারটি কারণের (ইল্লাত) ওপর নির্ভর করে:
- রূপগত কারণ (সুরিইয়্যাহ): এটি এমন যা দ্বারা তার রূপ বা অবয়ব প্রতিষ্ঠিত হয়। কোনো যৌগিক বিষয় কল্পনা করা তার স্তম্ভসমূহ (উপাদানসমূহ) কল্পনা করার ওপর এবং উদ্দিষ্ট পদ্ধতিতে সেগুলোর বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল।
- উদ্দেশ্যগত কারণ (গাইইয়্যাহ): এটি সেই বিষয় যা এটি সৃষ্টি করতে উদ্বুদ্ধ করে। এটি চিন্তার ক্ষেত্রে প্রথম, যদিও বাহ্যিক অস্তিত্বের ক্ষেত্রে এটি শেষে আসে। একারণেই বলা হয়: “জ্ঞানের শুরু হলো কর্মের সমাপ্তি।”
- উপাদানগত কারণ (মাদ্দিইয়্যাহ): এটি এমন যা থেকে যৌগিক বিষয়গুলো অথবা তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংগৃহীত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
- وَفَاعِلِيَّةٍ: وَهِيَ الْمُؤَثِّرَةُ فِي إيجَادِ ذَلِكَ.
ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ لَفْظَ "أُصُولِ الْفِقْهِ" مُرَكَّبٌ مِنْ مُضَافٍ وَمُضَافٍ إلَيْهِ، ثُمَّ صَارَ لِكَثْرَةِ1 الاسْتِعْمَالِ فِي عُرْفِ الأُصُولِيِّينَ وَالْفُقَهَاءِ لَهُ مَعْنًى آخَرُ، وَهُوَ الْعِلْمِيَّةُ. فَيَنْبَغِي تَعْرِيفُهُ مِنْ حَيْثُ مَعْنَاهُ الإِضَافِيُّ، وَتَعْرِيفُهُ مِنْ حَيْثُ كَوْنُهُ عِلْمًا. فَبَعْضُ الْمُصَنِّفِينَ بَدَأَ "بِتَعْرِيفِ كَوْنِهِ"2 مُرَكَّبًا، وَبَعْضُهُمْ بَدَأَ "بِتَعْرِيفِ كَوْنِهِ"2 مُضَافًا، كَمَا فِي الْمَتْنِ.
إذَا عَلِمْت ذَلِكَ:
"فَأُصُولٌ: جَمْعُ أَصْلٍ، وَهُوَ" أَيْ الأَصْلُ "لُغَةً" أَيْ فِي اللُّغَةِ "مَا يُبْنَى عَلَيْهِ" أَيْ عَلَى الأَصْلِ "غَيْرُهُ" قَالَهُ الأَكْثَرُ3.
وَقِيلَ: أَصْلُ الشَّيْءِ مَا مِنْهُ الشَّيْءُ4. وَقِيلَ: مَا يَتَفَرَّعُ عَلَيْهِ غَيْرُهُ5. وَقِيلَ: مَنْشَأُ الشَّيْءِ. وَقِيلَ: مَا يَسْتَنِدُ تَحَقُّقُ الشَّيْءِ إلَيْهِ6.
"وَ" الأَصْلُ "اصْطِلاحًا" أَيْ فِي اصْطِلاحِ الْعُلَمَاءِ "مَا لَهُ فَرْعٌ" لأَنَّ الْفَرْعَ لا يَنْشَأُ إلَاّ عَنْ أَصْلٍ.
--------------------------------------------
এবং ক্রিয়াশীলতা: আর তা হলো সেই বস্তু যা তা অস্তিত্বে আনার ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী।
অতঃপর জেনে রাখুন যে, "উসুলুল ফিকহ" শব্দটি মুদাফ ও মুদাফ ইলাইহি এর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক শব্দ, অতঃপর উসুলিগণ ও ফকিহগণের পরিভাষায় অতি ব্যবহারের কারণে এর অন্য একটি অর্থ দাঁড়িয়েছে, আর তা হলো একটি শাস্ত্রীয় নাম। সুতরাং একে এর সম্বন্ধযুক্ত অর্থের দিক থেকে সংজ্ঞায়িত করা উচিত এবং একটি শাস্ত্র বা বিজ্ঞান হওয়ার দিক থেকেও সংজ্ঞায়িত করা উচিত। তাই কিছু লেখক এটি "যৌগিক হওয়া"র দিক থেকে সংজ্ঞায়ন শুরু করেছেন, আবার কেউ কেউ এটি "মুদাফ হওয়া"র দিক থেকে সংজ্ঞায়ন শুরু করেছেন, যেমনটি মূল পাঠে রয়েছে।
আপনি যখন তা জানলেন:
"উসুল: এটি আসল শব্দের বহুবচন, আর তা" অর্থাৎ আসল "আভিধানিকভাবে" অর্থাৎ অভিধানের ভাষায় হলো "এমন বস্তু যার ওপর ভিত্তি স্থাপিত হয়" অর্থাৎ আসলের ওপর "অন্য কিছু"র ভিত্তি স্থাপিত হয়। অধিকাংশ আলেম এটিই বলেছেন।
আবার বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর আসল হলো তা যেখান থেকে বস্তুটি উদ্ভূত হয়। আরও বলা হয়েছে: যার ওপর অন্য কিছু শাখায়িত হয়। আরও বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর উৎপত্তিস্থল। আরও বলা হয়েছে: কোনো বস্তুর বাস্তবতা যার ওপর নির্ভর করে।
"এবং" আসল "পরিভাষায়" অর্থাৎ আলেমদের পরিভাষায় হলো "যার শাখা রয়েছে"; কারণ শাখা কেবল আসল থেকেই উদ্ভূত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
"وَيُطْلَقُ" الأَصْلُ عَلَى أَرْبَعَةِ أَشْيَاءَ 1.
الأَوَّلِ2: "عَلَى الدَّلِيلِ غَالِبًا" أَيْ فِي الْغَالِبِ، كَقَوْلِهِمْ "أَصْلُ هَذِهِ الْمَسْأَلَةِ الْكِتَابُ وَالسُّنَّةُ". أَيْ دَلِيلُهَا، "وَ" هَذَا الإِطْلاقُ "هُوَ الْمُرَادُ هُنَا" أَيْ فِي عِلْمِ3 الأُصُولِ.
"وَ" الإِطْلاقُ الثَّانِي: "عَلَى الرُّجْحَانِ" أَيْ عَلَى الرَّاجِحِ مِنْ الأَمْرَيْنِ. كَقَوْلِهِمْ: "الأَصْلُ فِي الْكَلامِ الْحَقِيقَةُ دُونَ الْمَجَازِ"4 وَ "الأَصْلُ بَرَاءَةُ الذِّمَّةِ"5 وَ "الأَصْلُ بَقَاءُ مَا كَانَ عَلَى مَا كَانَ"6.
"وَ" الإِطْلاقُ الثَّالِثُ: عَلَى "الْقَاعِدَةِ الْمُسْتَمِرَّةِ" كَقَوْلِهِمْ "أَكْلُ الْمَيْتَةِ عَلَى7 خِلافِ الأَصْلِ" أَيْ عَلَى خِلافِ الْحَالَةِ الْمُسْتَمِرَّةِ.
--------------------------------------------
"আসল" শব্দটি চারটি অর্থে ব্যবহৃত হয় ১।
প্রথমত২: "অধিকাংশ ক্ষেত্রে দলিলের (প্রমাণের) অর্থে", অর্থাৎ সাধারণভাবে; যেমন পণ্ডিতদের বক্তব্য: "এই মাসআলার আসল (ভিত্তি বা দলিল) হলো কিতাব ও সুন্নাহ।" অর্থাৎ এর দলিল। "এবং" এই প্রয়োগটিই "এখানে উদ্দেশ্য", অর্থাৎ উসুল৩ শাস্ত্রে।
"এবং" দ্বিতীয় প্রয়োগ: "প্রাধান্য (রুজিহান) অর্থে", অর্থাৎ দুটি বিষয়ের মধ্যে যেটি অগ্রগণ্য। যেমন পণ্ডিতদের কথা: "কথার ক্ষেত্রে হাকীকত (প্রকৃত অর্থ) গ্রহণ করাই আসল, মাজায (রূপক অর্থ) নয়"৪ এবং "আসল হলো দায়মুক্ত থাকা"৫ এবং "আসল হলো কোনো বিষয় পূর্বে যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় থাকা"৬।
"এবং" তৃতীয় প্রয়োগ: "অবিরাম বা নিয়মিত নিয়মের (আল-কায়েদা আল-মুস্তামিররাহ) অর্থে", যেমন পণ্ডিতদের কথা: "মৃত প্রাণী ভক্ষণ করা আসলের বিপরীত"৭ অর্থাৎ তা নিয়মিত অবস্থার বিপরীত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৪০)
"وَ" الإِطْلاقُ الرَّابِعُ: عَلَى "الْمَقِيسِ عَلَيْهِ" وَهُوَ1 مَا يُقَابِلُ الْفَرْعَ فِي بَابِ الْقِيَاسِ2.
"وَالْفِقْهُ لُغَةً" أَيْ فِي اللُّغَةِ: "الْفَهْمُ" عِنْدَ الأَكْثَرِ3، لأَنَّ الْعِلْمَ يَكُونُ عَنْهُ. قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَمَالِ هَؤُلاءِ الْقَوْمِ لا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثًا} 4.
"وَهُوَ" أَيْ الْفَهْمُ: "إدْرَاكُ مَعْنَى الْكَلامِ" لِجَوْدَةِ5 الذِّهْنِ مِنْ جِهَةِ تَهَيُّئِهِ لاقْتِبَاسِ6 مَا يَرِدُ عَلَيْهِ مِنْ الْمَطَالِبِ.
وَالذِّهْنُ: قُوَّةُ النَّفْسِ الْمُسْتَعِدَّةِ لاكْتِسَابِ الْعُلُومِ7 وَالآرَاءِ8.
--------------------------------------------
"এবং" চতুর্থ ব্যবহার হলো: "মাক্বীস আলাইহি" (যার ওপর কিয়াস করা হয়), আর এটি কিয়াসের অধ্যায়ে "ফার" বা শাখার বিপরীত বিষয়।
"এবং ফিকহ আভিধানিক অর্থে" অর্থাৎ আভিধানিক ভাষায়: অধিকাংশ আলিমের মতে তা হলো "অনুধাবন", কারণ জ্ঞান তা থেকেই অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে এই কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা প্রায় বুঝতেই পারে না?}।
"আর তা" অর্থাৎ অনুধাবন হলো: "কথার অর্থ উপলব্ধি করা"; মেধার উৎকর্ষতার কারণে, যা তার কাছে উপস্থাপিত উদ্দিষ্ট বিষয়সমূহ আহরণ করার প্রস্তুতির দিক থেকে হয়ে থাকে।
আর মেধা (যিহন) হলো: আত্মার এমন এক শক্তি যা জ্ঞান এবং মতবাদসমূহ অর্জনের জন্য প্রস্তুত থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল কাওকাবিল মুনীর = শারহু মুখতাসারিত তাহরীর
(পৃষ্ঠা: ৪১)
وَقِيلَ: إنَّ الْفِقْهَ هُوَ الْعِلْمُ1. وَقِيلَ: مَعْرِفَةُ قَصْدِ الْمُتَكَلِّمِ2. وَقِيلَ: فَهْمُ مَا يَدِقُّ. وَقِيلَ: اسْتِخْرَاجُ الْغَوَامِضِ وَالاطِّلاعُ عَلَيْهَا.
"وَ" الْفِقْهُ "شَرْعًا" أَيْ فِي اصْطِلاحِ فُقَهَاءِ الشَّرْعِ "مَعْرِفَةُ3 الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ" دُونَ الْعَقْلِيَّةِ "الْفَرْعِيَّةِ" لا الأُصُولِيَّةِ4، وَمَعْرِفَتُهَا إمَّا "بِالْفِعْلِ" أَيْ بِالاسْتِدْلالِ "أَوْ" بِ"الْقُوَّةِ الْقَرِيبَةِ" مِنْ الْفِعْلِ، أَيْ بِالتَّهَيُّؤِ لِمَعْرِفَتِهَا بِالاسْتِدْلالِ. وَهَذَا الْحَدُّ لأَكْثَرِ أَصْحَابِنَا الْمُتَقَدِّمِينَ.
وَقِيلَ: هُوَ الْعِلْمُ بِأَفْعَالِ الْمُكَلَّفِينَ الشَّرْعِيَّةِ - دُونَ الْعَقْلِيَّةِ- مِنْ تَحْلِيلٍ وَتَحْرِيمٍ وَحَظْرٍ وَإِبَاحَةٍ. وَقِيلَ: هُوَ الْعِلْمُ بِالأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ. وَقِيلَ: مَعْرِفَةُ الأَحْكَامِ الشَّرْعِيَّةِ5. وَقِيلَ: مَعْرِفَةُ كَثِيرٍ مِنْ الأَحْكَامِ عُرْفًا.
وَقِيلَ: مَعْرِفَةُ أَحْكَامِ6 جُمَلٍ كَثِيرَةٍ عُرْفًا مِنْ مَسَائِلِ الْفُرُوعِ الْعِلْمِيَّةِ مِنْ أَدِلَّتِهَا الْحَاصِلَةِ بِهَا. وَقِيلَ: الْعِلْمُ بِهَا عَنْ أَدِلَّتِهَا التَّفْصِيلِيَّةِ بِالاسْتِدْلالِ.
وَكُلُّ هَذِهِ الْحُدُودِ لا تَخْلُو عَنْ مُؤَاخَذَاتٍ وَأَجْوِبَةٍ، يَطُولُ الْكِتَابُ بِذِكْرِهَا مِنْ غَيْرِ طَائِلٍ7.
--------------------------------------------
বলা হয়েছে: নিশ্চয় ফিকহ হলো জ্ঞান১। আরও বলা হয়েছে: বক্তার উদ্দেশ্য অবগত হওয়া২। বলা হয়েছে: সূক্ষ্ম বিষয় অনুধাবন করা। আরও বলা হয়েছে: জটিল বিষয়সমূহ উদ্ধার করা এবং সেগুলোর ওপর অবগত হওয়া।
"আর" শরয়ি পরিভাষায় অর্থাৎ শরয়ি ফকীহগণের পরিভাষায় ফিকহ হলো— "শরয়ি বিধানাবলি জানা"৩, আকলি (বিবেচনাপ্রসূত) বিধানাবলি নয়; যা "শাখা সম্পর্কিত"৪, মূলনীতি সম্পর্কিত নয়। আর এই জানা হয় "বাস্তবে" অর্থাৎ দলিল প্রমাণের মাধ্যমে, "অথবা" বাস্তবের "নিকটবর্তী সক্ষমতার" মাধ্যমে, অর্থাৎ দলিল প্রমাণের মাধ্যমে তা জানার জন্য প্রস্তুত থাকা। আর এই সংজ্ঞাটি আমাদের অধিকাংশ পূর্ববর্তী মনীষীদের।
বলা হয়েছে: এটি হলো মুকাল্লাফদের (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) শরয়ি কার্যাবলি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা—আকলি কার্যাবলি নয়—যেমন হালাল করা, হারাম করা, নিষেধ করা এবং বৈধ করা। আরও বলা হয়েছে: এটি শরয়ি বিধানাবলি সম্পর্কে জানা। আরও বলা হয়েছে: শরয়ি বিধানাবলি অবগত হওয়া৫। আরও বলা হয়েছে: প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অনেক বিধান জানা।
বলা হয়েছে: ইলমি শাখা-প্রশাখার মাসআলাগুলোর মধ্য থেকে প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী অনেকগুলো বিধানের সমষ্টি জানা৬, যা এগুলোর জন্য নির্ধারিত দলিল থেকে অর্জিত হয়। আরও বলা হয়েছে: দলিল প্রমাণের মাধ্যমে বিস্তারিত দলিল থেকে সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।
আর এই সকল সংজ্ঞাই সমালোচনা ও উত্তর থেকে মুক্ত নয়, যা উল্লেখ করলে কোনো বিশেষ ফায়দা ছাড়াই কিতাব দীর্ঘ হয়ে যাবে৭।
--------------------------------------------