(খণ্ড: ১)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الفصول المهمة في مواريث الأمة القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: شرح الفصول المهمة في مواريث الأمة
المؤلف: محمد بن محمد بن أحمد الغزال الدمشقيّ، بدر الدين، الشهير بسبط المارديني (ت 912هـ)
المحقق: أحمد بن سليمان بن يوسف العريني
الناشر: دار العاصمة
الطبعة: 1425هـ - 2004م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উম্মতের উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সমূহের ব্যাখ্যা বিভাগ: উত্তরাধিকার ও অসিয়ত
কিতাব: উম্মতের উত্তরাধিকার বিধানে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়সমূহের ব্যাখ্যা
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-গাযাল আদ-দিমাশকি, বদরুদ্দিন, সিবত আল-মারদিনি নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৯১২ হি.)
সম্পাদক: আহমদ ইবনে সুলাইমান ইবনে ইউসুফ আল-উরাইনি
প্রকাশক: দারুল আসিমাহ
সংস্করণ: ১৪২৫ হি. - ২০০৪ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
إن الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مُضل له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد4:
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।
ভূমিকা
নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩।
অতঃপর ৪:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
فإن علم الفرائض من أجلّ العلوم الشرعية وأشرفها؛ إذ هو من الفقه في الدين، ومن هدي سيِّد المرسلين. يدل على ذلك أن الله سبحانه وتعالى قسم المواريث بنفسه وفصلها أيّما تفصيل، ففي ثلاث آيات من سورة النساء1 بَيَّن الله قسمة التركات، وحصر الورثة وأنصباءهم، بياناً ترضى به النفوس، وتطمئن به القلوب.
ثم تولت السنة بيان ما أجملته الآيات القرآنية، وورَّثت بعض الأصناف كالجدّ، والجدة، وأوضحت شروط الإرث، وموانعه، حتى رست قواعد الميراث بشكل تعجز عنه عقول البشر، وقوانين الكفر.
وقد جاء الحث على تعلم الفرائض، وأنه أول علم يُنسى، فاهتم الصحابة- رضوان الله عليهم- بتحصيل علم الفرائض كسائر العلوم، ونبغ منهم فيه، واشتهر به أربعة: هم زيد بن ثابت، وعلي بن أبي طالب، وعبد الله بن عباس، وعبد الله بن مسعود.
واهتم التابعون أيضاً بهذا العلم، حتى إن الخلفاء كانوا يختبرون العلماء بمسائل الفرائض، فعُرفت بعضُ المسائل بأسماء أصحابها كالمأمونية، والشُريحية، وغيرهما- مما سيأتي في فصل الملقبات-.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই ফরায়েয শাস্ত্র (উত্তরাধিকার আইন) শরয়ী জ্ঞানসমূহের মধ্যে অত্যন্ত মহান এবং মর্যাদাপূর্ণ; কেননা এটি দ্বীনের ফিকহ এবং রাসূলগণের সর্দারের প্রদর্শিত হিদায়াতের অন্তর্ভুক্ত। এর প্রমাণ হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্বয়ং মিরাস বণ্টন করেছেন এবং তা অত্যন্ত বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। সূরা নিসার তিনটি আয়াতে (১) আল্লাহ তায়ালা পরিত্যক্ত সম্পত্তি বণ্টন স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং ওয়ারিসগণ ও তাঁদের অংশসমূহ সুনির্দিষ্ট করেছেন—এমন এক বর্ণনার মাধ্যমে যা আত্মাকে তুষ্ট করে এবং অন্তরসমূহকে প্রশান্ত করে।
অতঃপর সুন্নাহ কুরআনের আয়াতসমূহে সংক্ষেপে বর্ণিত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছে এবং দাদা ও দাদীর মতো কিছু শ্রেণির উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করেছে। সুন্নাহ উত্তরাধিকারের শর্তাবলি ও এর প্রতিবন্ধকতাগুলো স্পষ্ট করেছে, যার ফলে মিরাসের মূলনীতিসমূহ এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যা মানবীয় বুদ্ধি এবং কুফরি আইনসমূহের পক্ষে অসম্ভব।
ফরায়েয শিক্ষা করার ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, এটিই প্রথম জ্ঞান যা বিস্মৃত হবে। ফলে সাহাবায়ে কেরাম—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—অন্যান্য জ্ঞানের ন্যায় ফরায়েয শাস্ত্র অর্জনেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন এই শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শিতা ও প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন: তাঁরা হলেন যায়েদ বিন সাবিত, আলী বিন আবী তালিব, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস এবং আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ।
তাবেয়ীগণও এই জ্ঞানের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেছিলেন, এমনকি খলিফাগণ আলেমদেরকে ফরায়েযের মাসআলাসমূহ দ্বারা পরীক্ষা করতেন। ফলে কিছু মাসআলা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পরিচিতি লাভ করেছে, যেমন আল-মামুনিয়া, আশ-শুরাইহিয়া এবং আরও অন্যান্য—যা অচিরেই উপনাম সংক্রান্ত অধ্যায়ে আলোচিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
لذلك اهتم علماء الإسلام بالفرائض تعلماً وتعليماً، ودوَّنوا فيه المؤلفات، مختصرين ومطولين، مقتصرين على مذهب معين، ومقارنين، خدمة للعلم والإسلام.
وممن اشتهر بهذا العلم: شهاب الدين ابن الهائم، الشافعي- رحمه الله فقد انتهت إليه رياسة علم الفرائض في زمانه.
واشتهر بعده بقرن فن الزمان: العلامة بدر الدين سبط المارديني، الذي تصدَّر، وأشير إليه، وصار رأساً في هذا العلم، وكثرت مؤلفاته فيه، والتي من أشهرها شرحه لفصول ابن الهائم في الفرائض، الذي لا يزال مخطوطاً، رغم قيمة الكتاب، وشهرته، وقد يسر الله لي تحقيقه لنيل درجة الدكتوراه من المعهد العالي للقضاء، فشمَّرت عن ساعد الجد، وبذلت فيه الوسع والجهد حسب الطاقة.
فقسمت البحث في هذا الكتاب إلى قسمين:
القسم الأول: القسم الدراسي، ومادته مفصلة في فهرس الموضوعات آخر الكتاب.
القسم الثاني: قسم التحقيق، وقد سرت فيه على المنهج التالي:
أولاً: حققت الكتاب على خمس نسخ خطية – سيأتي وصفها- اخترت واحدة منها أصلاً، أثبتها في الأعلى ورمزت لها بـ الأصل، وقابلت باقي النسخ منها وأثبت الفروق بينها وبين سائر النسخ في الهامش.
এজন্যই ইসলামের আলিমগণ ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা ও শিক্ষাদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং জ্ঞান ও ইসলামের সেবায় এই বিষয়ে নির্দিষ্ট মাযহাব ভিত্তিক কিংবা তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন।
যাঁরা এই বিদ্যায় প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন শিহাবউদ্দিন ইবনুল হাইম আশ-শাফিয়ী -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন-; তাঁর যুগে ফারায়েজ বিদ্যার শীর্ষস্থান তাঁর মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়েছিল।
তাঁর এক শতাব্দী পরে সমকালীন অনন্য প্রতিভা আল্লামা বদরুদ্দিন সিবত আল-মারদিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যিনি এই বিদ্যায় অগ্রগণ্য ছিলেন এবং যাঁর দিকে সকলে দিকনির্দেশনার জন্য তাকিয়ে থাকতেন। তিনি এই শাস্ত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং এতে তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলো ফারায়েজ শাস্ত্রের ওপর ইবনুল হাইমের 'ফুসুল' গ্রন্থের ব্যাখ্যা, যা কিতাবটির গুরুত্ব ও প্রসিদ্ধি থাকা সত্ত্বেও এখনো পাণ্ডুলিপি আকারেই রয়ে গেছে। আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে এর সম্পাদনা করা সহজ করে দিয়েছেন। তাই আমি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কোমর বেঁধে লেগেছি এবং সামর্থ্য অনুযায়ী এতে পূর্ণ শ্রম ও প্রচেষ্টা ব্যয় করেছি।
আমি এই গ্রন্থের গবেষণাটি দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:
প্রথম অংশ: গবেষণামূলক অধ্যায়, যার বিষয়বস্তু গ্রন্থের শেষে বিষয়সূচিতে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা অধ্যায়, এতে আমি নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
প্রথমত: আমি পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে গ্রন্থটির সম্পাদনা করেছি -যাদের বর্ণনা সামনে আসবে- আমি সেগুলোর মধ্য থেকে একটিকে মূল হিসেবে গ্রহণ করেছি, যা আমি উপরে স্থাপন করেছি এবং তাকে 'মূল' হিসেবে চিহ্নিত করেছি। এরপর অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তার তুলনা করেছি এবং মূল পাণ্ডুলিপির সাথে অন্যান্যগুলোর পার্থক্যসমূহ টীকায় উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
ومع أن الكتاب الأصل محقَّق- كما سأنبه عليه- إلا أنني قابلت على نسختيه المخطوطتين تحرياً للدقة، وتأكداً من نص المتن.
ونظراً لأن المؤلف مزج المتن بالشرح حتى صارا كالكتاب الواحد دون تمييز بينهما، وذكر في المقدمة أنه جعل المتن بالأحمر والشرح بالأسود، وهذا لا يتضح في التصوير الفوتوغرافي، إذ النُسَخ التي حققت عليها صوراً، فقد تطلب الأمر مني مقابلة المتن بالشرح، والتمييز بينهما، مما استغرق جهداً ليس بالقليل وقد جعلت متن كتاب الفصول بالأحمر والشرح بالأسود كما صنع المؤلف.
ثانياً: رقَّمت فصول الكتاب في الهامش، وصدّرت كلّ فصل بمراجعه من كتب الشافعية.
ثالثاً: ترجمت للأعلام الوارد ذكرهم في الكتاب بدون استثناء ترجمة موجزة مع ذكر مصادرها.
رابعاً: خرجت الآيات، والأحاديث والآثار الواردة من كتب الحديث، ونقلت كلام المحدثين حول درجتها.
خامساً: شرحت الألفاظ الغريبة، والمصطلحات الفقهية، وعرَّفت البلدان الوارد ذكرها، وضبطت ما يحتاج إلى ضبط من الألفاظ.
سادساً: وثَّقت النقول والمسائل الفقهية، خصوصاً المصادر التي يذكرها المؤلف فاجتهدت في التوثيق منها حتى ولو كانت مخطوطة.
মূল বইটি সম্পাদিত হলেও—যেমনটি আমি পরে উল্লেখ করব—আমি সূক্ষ্মতা রক্ষা এবং মূল পাঠের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করতে এর দুটি পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখেছি।
যেহেতু লেখক মূল পাঠ ও ব্যাখ্যাকে এমনভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন যে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছাড়াই সেগুলো একটি অভিন্ন বইয়ের মতো হয়ে গিয়েছে, এবং তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে তিনি মূল পাঠকে লাল রঙে এবং ব্যাখ্যাকে কালো রঙে রেখেছেন—কিন্তু ফটোকপিতে এটি স্পষ্ট হয় না (কারণ আমি যে অনুলিপিগুলো থেকে সম্পাদনা করেছি সেগুলো আলোকচিত্র ছিল)—তাই আমার জন্য মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার মধ্যে তুলনা করা এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। এতে যথেষ্ট শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। আমি লেখক যেভাবে করেছিলেন ঠিক সেভাবেই 'কিতাবুল ফুসুল'-এর মূল পাঠকে লাল রঙে এবং ব্যাখ্যাকে কালো রঙে বিন্যস্ত করেছি।
দ্বিতীয়ত: আমি বইটির পরিচ্ছেদসমূহ পার্শ্বটীকায় নম্বরযুক্ত করেছি এবং প্রতিটি পরিচ্ছেদের শুরুতে শাফিয়ি মাযহাবের গ্রন্থসমূহ হতে সেগুলোর তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছি।
তৃতীয়ত: বইটিতে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের কোনো ব্যতিক্রম ছাড়াই সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছি এবং সাথে সেগুলোর উৎস উল্লেখ করেছি।
চতুর্থত: আমি গ্রন্থে উল্লিখিত আয়াত, হাদিস এবং আসারসমূহ হাদিসের মূল গ্রন্থাবলি থেকে উদ্ধৃত করেছি এবং সেগুলোর মান সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য নকল করেছি।
পঞ্চমত: আমি দুর্বোধ্য শব্দাবলি এবং ফিকহি পরিভাষাগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, উল্লিখিত স্থানসমূহের পরিচয় তুলে ধরেছি এবং যে শব্দগুলোর উচ্চারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল তা নির্ধারণ করে দিয়েছি।
ষষ্ঠত: আমি ফিকহি উদ্ধৃতি ও মাসআলাগুলোর প্রামাণিকতা যাচাই করেছি; বিশেষ করে লেখক যে উৎসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো থেকে প্রমাণ জোগাড় করার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, এমনকি সেগুলো পাণ্ডুলিপি আকারে থাকলেও।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
سابعاً: علَّقت على بعض المسائل الفقهية عند الحاجة.
ثامناً: قد يأتي المؤلف أحياناً ببعض الأقوال في المسألة، أو بعض من قالوا بقول فأذكر بقية الأقوال، وبقية القائلين ما وجدت إلى ذلك سبيلاً، وأرجح إذا ظهر لي القول الراجح، وأحيل القارئ إلى المراجع التي أخذت منها، وأرتب المراجع ما استطعت حسب تقدم الوفاة في كل مذهب.
تاسعاً: عملت الشبابيك للمسائل التي أوردها المؤلف، وذكرت خطوات الحلّ عند أول مسألة من كل فصل فيما يتعلق بقسمة التركات، ومثَّلْتُ لبعض المسائل التي لم يمثل لها المؤلف.
عاشراً: عملت فهارس للآيات القرآنية، والأحاديث، والآثار، وغريب اللغة، والمصطلحات العلمية، والقوافي، والأماكن، والبلدان، والكتب الواردة في الكتاب، والأعلام، والمراجع، والمسائل الملقبة، والموضوعات بما يسهل الوصول إليها.
وبعد هذا فإني بذلت غاية ما أملك من جهد، واجتهدت في سبيل إخراج هذا الكتاب بصورة صحيحة، كما وضعه مؤلفه، أو قريب من ذلك، معتمداً على الله تعالى، ثم على القواعد العلمية المتبعة في التحقيق.
وهذا لا يعني أنني قمت بكل ما يجب، بل أعلم أنني قصرت في بعض الأمور التي كان يجب الوقوف عندها طويلاً، لكن كما قيل: "ما لا يدرك كله لا يترك جله" فحسبي أنني قمت بإيصال هذا الكتاب القيّم إلى القارئ
সপ্তম: আমি প্রয়োজন সাপেক্ষে কিছু ফিকহি মাসআলার উপর টীকা প্রদান করেছি।
অষ্টম: লেখক কখনও কখনও কোনো মাসআলায় কিছু মতামত বা কিছু প্রবক্তার কথা উল্লেখ করেন; সেক্ষেত্রে আমি সুযোগ পেলে অবশিষ্ট অন্যান্য মতামত ও প্রবক্তাদের কথা উল্লেখ করেছি। আমার কাছে যে মতটি বিশুদ্ধ মনে হয়েছে আমি সেটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি এবং পাঠককে সেই রেফারেন্সগুলোর দিকে নির্দেশ করেছি যেখান থেকে আমি তথ্য গ্রহণ করেছি। আর প্রতিটি মাজহাবের ক্ষেত্রে লেখকদের মৃত্যুর তারিখের অগ্রবর্তিতা অনুযায়ী আমি সাধ্যমতো রেফারেন্সসমূহ সাজিয়েছি।
নবম: লেখক যেসব মাসআলা উল্লেখ করেছেন সেগুলোর জন্য আমি ছক তৈরি করেছি এবং উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রতিটি অধ্যায়ের প্রথম মাসআলার সমাধানের ধাপগুলো উল্লেখ করেছি। এছাড়া লেখক যেসব মাসআলায় উদাহরণ দেননি, আমি সেগুলোর উদাহরণ প্রদান করেছি।
দশম: আমি কুরআনের আয়াত, হাদিস, আছার (সাহাবিদের উক্তি), দুর্লভ শব্দাবলি, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা, অন্ত্যমিল, স্থান, জনপদ, কিতাবে উল্লিখিত কিতাবসমূহ, বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ, তথ্যসূত্র, বিশেষ উপাধিতে পরিচিত মাসআলাসমূহ এবং বিষয়াবলির নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি যাতে সহজে এগুলোতে পৌঁছানো যায়।
এরপর আমি আমার সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং বইটিকে এর লেখকের মূল পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী বা এর কাছাকাছি পর্যায়ে নির্ভুলভাবে উপস্থাপনের জন্য পরিশ্রম করেছি। এক্ষেত্রে আমি মহান আল্লাহর ওপর এবং পরবর্তীতে তাহকিকের (গবেষণার) ক্ষেত্রে অনুসৃত বৈজ্ঞানিক নিয়মনীতির ওপর নির্ভর করেছি।
এর অর্থ এই নয় যে আমি যা করা উচিত ছিল তার সবটুকুই সম্পন্ন করেছি, বরং আমি জানি যে কিছু বিষয়ে আমার ত্রুটি রয়েছে যেখানে দীর্ঘক্ষণ মনোনিবেশ করা আবশ্যক ছিল। তবে যেমনটি বলা হয়: "যা সম্পূর্ণ অর্জন করা সম্ভব নয়, তার অধিকাংশ বর্জন করা উচিত নয়।" সুতরাং আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি এই মূল্যবান কিতাবটি পাঠকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
في هذه الحلة المناسبة، ليستفاد منه، ويطلع عليه بيسر وسهولة، ولو لم يكن من عملي إلا إخراج الكتاب كما أراده المؤلف وما سوى ذلك نافلة.
وفي الختام أتوجه إلى الله تبارك وتعالى بالحمد والشكر على نعمه التي لا تعد ولا تحصى، ولا تحصر ولا تستقصى.
ثم أشكر جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية والقائمين عليها على ما يبذلونه من جهود في خدمة العلم وطلابه، وأخص بالشكر مدير وأعضاء هيئة التدريس بالمعهد العالي للقضاء على ما قدموه لي من النصح والمشورة أثناء عملي في الكتاب أسأل الله تعالى أن يجمعنا وإياهم ووالدينا بالحبيب محمد صلى الله عليه وسلم في جنات النعيم إنه ولي ذلك والقادر عليه وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.
المحقق: أحمد بن سليمان العريني
1/7/1419هـ
এই উপযুক্ত অবয়বে, যাতে এটি থেকে ফায়দা হাসিল করা যায় এবং এটি অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্য ও সহজে পাঠ করা যায়। আমার এই কাজের উদ্দেশ্য যদি লেখক যেভাবে চেয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই কিতাবটিকে প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু না-ও হয়, তবে তা বাদে বাকি সবকিছু অতিরিক্ত মাত্র।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার দরবারে তাঁর সেই সকল নিআমতের জন্য প্রশংসা ও শুকরিয়া পেশ করছি, যা অগণিত ও অশেষ এবং যা পরিবেষ্টন করা বা পুরোপুরি আয়ত্ত করা অসম্ভব।
অতঃপর আমি ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর দায়িত্বশীলদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ইলম এবং শিক্ষার্থীদের খেদমতে তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টার জন্য। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি উচ্চতর বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটের (আল-মা'হাদুল আলী লিল কাদা) পরিচালক ও শিক্ষক মণ্ডলীকে কিতাবটির কাজ চলাকালীন আমাকে বিভিন্ন উপদেশ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের, তাঁদের এবং আমাদের পিতা-মাতাকে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে জান্নাতুন নাঈমে সমবেত করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
গবেষক ও সম্পাদক: আহমাদ বিন সুলাইমান আল-উরাইনি
১/৭/১৪১৯ হিজরি
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
القسم الأول: القسم الدراسي
الباب الأول: حياة المؤلف (بسط المارديني)
الفصل الأول: اسمه ونسبه ومولده…الباب الأول: في مؤلف الشرح "سبط المارديني "
وفيه ثمانية فصول:
الفصل الأول: اسمه ونسبه ومولده.
الفصل الثاني: نشأته وطلبه للعلم.
الفصل الثالث: أهم أعماله.
الفصل الرابع: صفاته وثناء العلماء عليه.
الفصل الخامس: شيوخه.
الفصل السادس: تلاميذه.
الفصل السابع: مؤلفاته.
الفصل الثامن: وفاته.
الفصل الأول: اسمه ونسبه ومولده:
هو أبو عبد الله، محمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بن أحمد بن محمد بدر الدين الغزَّال، الدِّمشقي الأصل، القاهري، الشافعي، سِبط المارديني.
واشتهر بـ "سبط المارديني" أي ابن بنت المارديني، وهو جده لأمه، واسم أمه فاطمة.
প্রথম অংশ: গবেষণা অংশপ্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী (সিবত আল-মারদিনি)প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম...প্রথম অধ্যায়: ব্যাখ্যাগ্রন্থের লেখক "সিবত আল-মারদিনি" প্রসঙ্গে
এতে আটটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর প্রধান কার্যাবলি।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর রচনাবলি।
অষ্টম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং জন্ম:
তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ বদরুদ্দিন আল-গাজ্জাল; আদি নিবাস দামেস্ক, বর্তমানে কায়রোবাসী, মাযহাবগতভাবে শাফিঈ, যিনি সিবত আল-মারদিনি নামে পরিচিত।
তিনি "সিবত আল-মারদিনি" নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যার অর্থ আল-মারদিনির দৌহিত্র (মেয়ের ঘরের নাতি); তিনি ছিলেন তাঁর মাতামহ এবং তাঁর মায়ের নাম ছিল ফাতেমা।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وجدُّه هذا: جمال الدين، عبد الله بن خليل بن يوسف بن عبد الله المارديني، المتوفى سنة 809 هـ1.
والمارديني نسبة إلى جامع المارديني، أو لبلدة "الماردين" بفتح الميم، وكسر الراء، بعدها دال مهملة بعدها الياء وفي آخرها النون، وهي بلدة من بلاد الجزيرة. وتقع الآن في تركيا2.
ولد السبط رحمه الله ليلة الرابع عشر من ذي القعدة سنة ست وعشرين وثمانمائة (826هـ) بالقاهرة، وهي مكان مولده ونشأته ووفاته3.
--------------------------------------------
এবং তার এই দাদা হলেন: জামালুদ্দিন, আবদুল্লাহ বিন খলিল বিন ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ আল-মারদিনি, যিনি ৮০৯ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন ১।
আর 'মারদিনি' নিসবত বা সম্বন্ধটি হলো মারদিনি জামে মসজিদের দিকে, অথবা 'মারদিন' শহরের দিকে—মিম বর্ণে ফাতহা, রা বর্ণে কাসরা, এরপর দাল মুহমালা (বিন্দুহীন দাল), এরপর ইয়া এবং শেষে নুন। এটি জাযিরা অঞ্চলের একটি শহর এবং বর্তমানে এটি তুরস্কে অবস্থিত ২।
সিবত (আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন) ৮২৬ হিজরি সনের যুল-কাদাহ মাসের চৌদ্দ তারিখ রাতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন; এটিই তার জন্মস্থান, বেড়ে ওঠার জায়গা এবং এখানেই তিনি ইন্তেকাল করেন ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الفصل الثاني: نشأته وطلبه للعلم:نشأ السبط- رحمه الله في مسقط رأسه- القاهرة- وكان أول اشتغاله في سنة تسع وثلاثين فحفظ القرآن وجوَّده على إمام الأزهر نور الدين البِلْبِيسي4 وتلاه عليه ببعض الروايات، وألفية النحو، وبعض المنهاج. وأخذ عن ابن المجدي الفرائض والحساب والميقات، ولازم دروسه، وأخذ عن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলম অন্বেষণ:সিবত—রহিমাহুল্লাহ—তাঁর জন্মস্থান কায়রোতে বেড়ে ওঠেন। তাঁর ইলম চর্চায় আত্মনিয়োগ শুরু হয় ঊনচল্লিশ সালে। তিনি আজহারের ইমাম নূরুদ্দীন আল-বিলবিসির নিকট কুরআন হিফজ ও তাজবিদ শিক্ষা করেন এবং তাঁর নিকট বিভিন্ন রিওয়াত অনুযায়ী তিলাওয়াত করেন। এছাড়াও তিনি নাহুর আলফিয়্যাহ এবং মিনহাজের কিছু অংশ অধ্যয়ন করেন। তিনি ইবনে আল-মাজদির নিকট ফারায়েজ, গণিত ও মিকাত শাস্ত্রের পাঠ গ্রহণ করেন এবং তাঁর দরসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তিনি আরও গ্রহণ করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
القَلْقَشنْدي الفرائض، ومنها الفصول المهمة لابن الهائم وغيره، وقرأ عليه البخاري والترمذي وغيرهما. وأخذ عن جملة من علماء القاهرة ومشاهيرها في عصره، وحفظ المختصرات.
ورحل إلى الشام، والقدس، وحماه غير مرة، وحج وجاور غير مرة1.
--------------------------------------------
আল-কালকাশান্দি ফারায়েজ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছেন, যার মধ্যে ইবনুল হাইম ও অন্যান্যদের রচিত ‘আল-ফুসুল আল-মুহিম্মাহ’ কিতাবটিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি তাঁর নিকট বুখারি, তিরমিযি এবং অন্যান্য কিতাবসমূহ পাঠ করেছেন। তিনি সমকালীন কায়রোর একদল আলিম ও প্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন এবং ইলমের সংক্ষিপ্ত পাঠ্যবইসমূহ মুখস্থ করেছেন।
তিনি সিরিয়া, জেরুজালেম এবং হামাহ শহরে একাধিকবার সফর করেছেন। এছাড়াও তিনি একাধিকবার হজ পালন করেছেন এবং (পবিত্র ভূমিতে) অবস্থান করেছেন১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
الفصل الثالث: أهم أعماله:مما لا شك فيه أن ثمرة العلم العمل، فلا بد للعلماء أن يؤتوا ثمار علمهم يانعة خصوصاً المخلصين منهم.
وقد ذكر العلماء للسبط- رحمه الله وظائف عديدة، أهمها ما يلي:
1- تعيينه مؤقتاً بالجامع الأزهر، والمؤقت هو الذي يؤمهم أوقات الصلوات الخمس فقط، دون الجمع والأعياد ونحوها مما يجتمع له الناس.
2- تصدره للإقراء في مواطن، ومن أهمها جامع طولون فقد تصدر به سنة 879 هـ فتولى التدريس فيه والإفتاء. وإذا كان جامع طولون2 من أشهر البقاع في مصر فهذا يدل على أهمية السبط وتبحره؛ إذ لا يتصدر في الأماكن المشهورة عادة إلا المشاهير.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কর্মসমূহ:এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলমের ফল হলো আমল। তাই আলেমদের জন্য আবশ্যক হলো তাঁদের ইলমের পরিপক্ক ফল প্রদান করা, বিশেষ করে তাঁদের মধ্যে যাঁরা মুখলিস বা নিষ্ঠাবান।
উলামায়ে কেরাম আস-সিব্ত -রাহিমাহুল্লাহ- এর অনেক দায়িত্ব ও পদের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণগুলো নিম্নরূপ:
১- জামে আযহারে 'মুওয়াক্কিত' হিসেবে তাঁর নিয়োগ। মুওয়াক্কিত হলেন তিনি, যিনি কেবল পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময়গুলোতে ইমামতি করেন; জুমুআ, ঈদ বা এ জাতীয় জনসমাগমের নামাযসমূহ ব্যতীত।
২- বিভিন্ন স্থানে কুরআন পাঠ ও কিরাত শিক্ষার জন্য তাঁর প্রধান্য লাভ। এর মধ্যে অন্যতম হলো জামে তুলুন। তিনি সেখানে ৮৭৯ হিজরীতে প্রধান হিসেবে আসীন হন এবং সেখানে অধ্যাপনা ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। আর জামে তুলুন যেহেতু মিসরের অন্যতম প্রসিদ্ধ স্থান, তাই এটি আস-সিব্ত-এর গুরুত্ব ও তাঁর জ্ঞানের গভীরতার প্রমাণ দেয়; কারণ সাধারণত প্রসিদ্ধ স্থানগুলোতে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিরাই আসীন হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
3- مباشرته الرياسة في أماكن، أي أنه أصبح رئيساً في عدة أماكن كالمدارس الفقهية، والأربطة العلمية ونحوها، ولم يُسمُّ مترجموه مكاناً معيناً مما ترأسه، لكن قولهم: عدة أماكن، يدل على أنه ترأس في أماكن كثيرة لا تتاح لكل أحد.
4- ذكر مترجموه أنه باسمه بعض وظائف الحنابلة، أي أنه ينوب عن الحنابلة فيما يشترط في شاغله أن يكون حنبلياً، من إدارة المدارس، والأوقاف، ونحوها، وهذا غالباً يكون في الأوقاف التي يشترط أهلها أن يشغلها عالم من المذهب الفلاني، كالحنبلي مثلاً، فلا يجدون حنبلياً؛ فينيب القائمون عليها من النظار ونواب السلطة من يقوم عليها من غير الحنابلة، لثقتهم به، ولكونه أهلاً للقيام بها.
تلكم هي الوظائف التي شغلها السبط- رحمه الله حسبما وقفت عليه في مصادر ترجمته1.
--------------------------------------------
৩- বিভিন্ন স্থানে তাঁর নেতৃত্ব প্রদান; অর্থাৎ তিনি ফিকহী মাদরাসা, ইলমি রিবাত (শিক্ষাকেন্দ্র) ও এ জাতীয় বেশ কিছু স্থানে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর জীবনীকারগণ তাঁর নেতৃত্বাধীন সুনির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁদের বক্তব্য "বেশ কিছু স্থান" নির্দেশ করে যে, তিনি এমন অনেক স্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন যা সবার ভাগ্যে জোটে না।
৪- তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, হাম্বলিদের কিছু পদ তাঁর নামে বরাদ্দ ছিল; অর্থাৎ মাদরাসা ও ওয়াকফ পরিচালনা এবং এ জাতীয় যেসব পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির হাম্বলি হওয়া শর্ত ছিল, সেখানে তিনি হাম্বলিদের প্রতিনিধিত্ব করতেন। এটি সাধারণত সেই সব ওয়াকফের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যেখানে ওয়াকফকারী শর্তারোপ করেন যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের (যেমন হাম্বলি) আলেম পরিচালনা করবেন, কিন্তু তাঁরা কোনো হাম্বলিকে খুঁজে পান না; ফলে এর তদারককারী ও সরকারি প্রতিনিধিগণ তাঁর প্রতি আস্থা এবং সেই পদের যোগ্য হওয়ার কারণে হাম্বলি ব্যতীত অন্য কাউকে তা পরিচালনা করার জন্য নিযুক্ত করতেন।
সিবত—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—যেসব পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, তাঁর জীবনী বিষয়ক উৎসসমূহে আমি যা পেয়েছি তা এই।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الفصل الرابع: صفاته وثناء العلماء عليه:للعلامة السبط مكانته العلمية، كغيره من العلماء ممن تصدى للفتيا، والتدريس، ونفع الناس، خصوصاً فيما يتعلق بعلوم الآلة، كالفلك، والمواقيت، والرياضيات، والفرائض، والعربية.
চতুর্থ অধ্যায়: তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:আল্লামা সিবতের এক বিশেষ ইলমী মর্যাদা রয়েছে, ঠিক সেইসব আলেমদের মতো যারা ফতোয়া প্রদান, শিক্ষকতা এবং জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন, বিশেষত সহায়ক শাস্ত্রসমূহের ক্ষেত্রে, যেমন: জ্যোতির্বিজ্ঞান, সময় নির্ধারণ বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, উত্তরাধিকার আইন এবং আরবি ভাষা।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
وقد ألّف فيها المؤلفات العديدة، والمصنفات المفيدة التي أكسبته مكانة خالدة وهناك عبارات العلماء، والمؤرخين في الثناء عليه:
أ- قال عنه السخاوي في الضوء اللامع 9/36: تَميَّز في الفنون، وعُرف بالذكاء وحسن المعاشرة، والتواضع، والرغبة في الممازحة والنكتة والنادرة، وامتهان نفسه وترك التأنق في أمره، وأشير إليه بالفضيلة، فتصدى للإقراء، وانتفع به الفضلاء في الفرائض، والحساب، والميقات، والعربية ونحوها وصار بأخرة فريداً في فنون، وباشر الرياسة في أماكن، بل تصدّر بجامع طولون برغبة نور الدين بن النقَّاش له عنه، وعمل فيه إجلاساً في صفر سنة تسع وسبعين -بعد الثمانمائة- وكتب في الميقات مقدمات جمة تزيد كما أخبرني على مائتين
… وبالجملة ففضيلته منتشرة، ومحاسنه مقررة، لكنه لم ينصف في تقرير شيء يناسبه، كما هو الغالب في المستحقين أ-هـ.
2- وصفه السيوطي- رحمه الله في الحاوي للفتاوى 1/236 بقوله: "سألني الشيخ بدر الدين المارديني فَرَضِيُّ هذا الوقت".
3- وقال عنه الشوكاني في البدر الطالع 2/242: دخل الشام والقدس وحماه وحج وجاور، واشتهر بالذكاء، وتصدّى للإقراء، وانتفع به الناس في الفرائض والحساب والميقات والعربية، وغير ذلك..أ-هـ.
4- وقال عنه العلامة محمد بن عبد الله الشنشوري في مقدمة فتح القريب المجيب بشرح كتاب الترتيب 1/3: المحقق المفيد العلامة، والبحر
তিনি এ বিষয়ে বহু গ্রন্থ ও উপকারী সংকলন রচনা করেছেন, যা তাঁকে চিরস্থায়ী মর্যাদা দান করেছে। তাঁর প্রশংসায় ওলামা ও ঐতিহাসিকদের কিছু উক্তি নিম্নরূপ:
ক- তাঁর সম্পর্কে সাখাওয়ী 'আদ-দাও আল-লামি' ৯/৩৬ গ্রন্থে বলেছেন: তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং তাঁর প্রখর মেধা, উত্তম ব্যবহার, বিনয়, রসিকতা ও কৌতুকের প্রতি অনুরাগের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি নিজেকে সাধারণ রাখতেন এবং আড়ম্বর বর্জন করতেন। তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি পাঠদানের কাজে নিয়োজিত হন। ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন), গণিত, মীকাত (সময় বিজ্ঞান), আরবি ভাষা ও এই জাতীয় বিষয়গুলোতে গুণী ব্যক্তিরা তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন। জীবনের শেষ ভাগে তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় অনন্য হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এমনকি নূরুদ্দীন ইবনে আন-নাক্কাশের আগ্রহে তিনি ইবনে তুলুন জামে মসজিদে প্রধান আসন গ্রহণ করেন এবং সেখানে ৮৭৯ হিজরীর সফর মাসে পাঠদান শুরু করেন। মীকাত শাস্ত্রের উপর তিনি অনেকগুলো ভূমিকা গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার সংখ্যা আমাকে জানানো অনুযায়ী দুইশ'রও বেশি
… সারকথা হলো, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বত্র বিস্তৃত এবং তাঁর গুণাবলী সুপ্রতিষ্ঠিত; তবে তাঁকে তাঁর যোগ্য কোনো অবস্থানে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি, যেমনটি সচরাচর যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। — (উক্তি সমাপ্ত)।
২- সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহ) 'আল-হাওয়ি লিল-ফাতাওয়া' ১/২৩৬ গ্রন্থে তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ফারায়েযবিদ শায়খ বদরুদ্দীন আল-মারদিনী আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন।"
৩- শাওকানী 'আল-বদর আত-তালি' ২/২৪২ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি শাম, কুদস ও হামাহ সফর করেন এবং হজ পালন করে সেখানে অবস্থান করেন। তিনি তাঁর প্রখর মেধার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং শিক্ষকতায় আত্মনিয়োগ করেছিলেন। মানুষ তাঁর কাছ থেকে ফারায়েয, গণিত, মীকাত, আরবি ভাষা এবং অন্যান্য বিষয়ে উপকৃত হয়েছে। — (উক্তি সমাপ্ত)।
৪- আল্লামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শিনশূরী 'ফাতহুল কারীব আল-মাজীব বিশারহি কিতাবিত তারতীব' ১/৩ গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "অত্যন্ত উপকারী গবেষক, প্রখ্যাত আলেম এবং জ্ঞানের সমুদ্র..."
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
الزاخر الفهامة، شيخ المتأخرين والمشايخ، والمتكلم في العلمين بقدم راسخ، خلاصة شيخه ابن المجدي رحمه الله، وأعطاه في الآخرة سؤله وما يتمناه، وشارح كتب ابن الهائم، ومنفقها في أشرف المواسم، بدر الدين، محمد بن محمد، المظَفَّر في تصانيفه، والمسدَّد، الشهير بسبط المارديني رحمه الله وجعل الجنة متقلبه ومثواه أ-هـ.
وقال عنه أيضاً ص4: وصنف المصنفات الكثيرة، منها في الميقات ما يزيد- كما قيل عنه- على مائتي مقدمة، ومنها في الفرائض والوصايا والحساب من المؤلفات الحسنة المنتفع بها من زمانه إلى يومنا هذا ما هو معلوم موجود بين الفرضيين مما يدل على غزارة علمه.. وبالجملة ففضيلته مشهورة، وكتبه منتفع بها منشورة رحمه الله تعالى رحمة واسعة أ-هـ.
5- ووصفه حاجي خليفة في كشف الظنون 2/1247 بـ الشيخ العلامة. وفي ص 1605 بـ الشيخ الإمام.
6- وقال عنه العلامة محمد بن عمر البقري الشافعي في حاشيته على شرح السبط على متن الرحبية ص5: ولد بالقاهرة، ونشأ بها حتى تقدم على غيره في العلوم وله مؤلفات كثيرة في الفرائض وغيرها.. ففضله مشهور، وكتبه منتفع بها لخلوص نيته، تغمده الله برحمته ورضوانه أ-هـ.
7- ووصفه الشيخ إبراهيم بن عبد الله الفرضي في العذب الفائض 1/24 بـ العلامة سبط المارديني.
প্রগাঢ় পাণ্ডিত্যের অধিকারী, পরবর্তী যুগের আলেম ও মাশায়েখদের প্রধান, সুদৃঢ় পদক্ষেপে উভয় বিদ্যায় (যুক্তি ও শ্রুতি) পারদর্শী, তাঁর উস্তাদ ইবনুল মাজদী’র (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং পরকালে তাঁকে তাঁর কাঙ্ক্ষিত ও আকাঙ্ক্ষিত সবকিছু দান করুন) যোগ্য উত্তরসূরি, ইবনুল হাইম-এর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাকার এবং সর্বোত্তম সময়ে সেগুলোর প্রচারকারী; তিনি হলেন বদরুদ্দীন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ, যিনি তাঁর রচনাবলীতে সফল এবং সঠিক পথের দিশারী, সিবত আল-মারদিনী নামেই যিনি সমধিক পরিচিত। আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং জান্নাতকে তাঁর প্রত্যাবর্তনস্থল ও আবাসে পরিণত করুন। সমাপ্ত।
তাঁর সম্পর্কে ৪ পৃষ্ঠায় আরও বলা হয়েছে: তিনি অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে মীকাতে (সময় বিজ্ঞান) তাঁর—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—দুইশোরও বেশি ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), অসিয়ত এবং গণিত শাস্ত্রে তাঁর অত্যন্ত চমৎকার সব রচনাবলী রয়েছে, যা তাঁর সময় থেকে আমাদের এই বর্তমান সময় পর্যন্ত সমানভাবে সমাদৃত ও উপকারী; ফারায়েজ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে এগুলো সুপরিচিত ও বিদ্যমান, যা তাঁর ইলমের গভীরতার প্রমাণ দেয়। মোদ্দাকথা হলো, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সর্বজনবিদিত এবং তাঁর কিতাবসমূহ ব্যাপক প্রচার ও প্রসার লাভ করেছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অসীম রহমত বর্ষণ করুন। সমাপ্ত।
৫- হাজ্বী খলিফা তাঁর 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থের ২/১২৪৭ পৃষ্ঠায় তাঁকে 'আল্লামাহ শায়খ' হিসেবে এবং ১৬০৫ পৃষ্ঠায় 'ইমাম শায়খ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৬- আল্লামাহ মুহাম্মদ বিন উমর আল-বাক্বারী আশ-শাফেয়ী তাঁর 'হাশিয়াতু আলা শারহিস সিবত আলা মাতনির রাহবিয়্যাহ' গ্রন্থের ৫ পৃষ্ঠায় তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন, এমনকি তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় অন্যদের ছাড়িয়ে যান। ফারায়েজ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর মর্যাদা সুপ্রসিদ্ধ এবং তাঁর বিশুদ্ধ নিয়তের কারণে তাঁর কিতাবসমূহ অত্যন্ত উপকারী। আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির চাদরে আবৃত করুন। সমাপ্ত।
৭- শায়খ ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারাযী তাঁর 'আল-আযবুল ফায়েয' গ্রন্থের ১/২৪ পৃষ্ঠায় তাঁকে 'আল্লামাহ সিবত আল-মারদিনী' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
8- وقال عنه عمر رضا كحالة في معجم المؤلفين 3/624: فرضي، رياضي، فلكي، نحوي أ-هـ.
8- এবং উমর রিদা কাহহালা তাঁর সম্পর্কে 'মুজামুল মুআল্লিফীন' ৩/৬২৪ গ্রন্থে বলেছেন: ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, ব্যাকরণবিদ— সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الفصل الخامس: شيوخه:لقد سمع السبط، وتتلمذ على شيوخ عدة من الفقهاء والمحدثين، فأخذ عنهم الفرائض وغيرها من العلوم التي اشتهر بها.
وقد ذكر السخاوي1 والشوكاني2 أنه أخذ عن ابن المجدي الفرائض والحساب والميقات، ولازم دروسه، ولازم العلاء القلقَشَندي في الفرائض، والفقه، وأخذ عنه الفصول المهمة، وحضر دروس القاياتي، والمحلّى، والعلم البَلْقيني، وسمع على ابن حجر، والصالحي، والرشيدي، وغيرهم بالقاهرة، وأبي الفتح المراغي بمكة، وشمس الدين بن الفقيه حسن بدمياط.
وهذه نبذة مختصرة عنهم:
أ- ابن المجدي3 وهو أحمد بن رجب بن طيبغا، المجدي، القاهري، الشافعي، ويعرف بابن المجدي، نسبة إلى جده. ولد سنة 767هـ بالقاهرة فنشأ بها، وحفظ القرآن والمتون، وصار رأس الناس في الحساب والفرائض
--------------------------------------------
পঞ্চম অধ্যায়: তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:সিবত বেশ কয়েকজন ফকীহ ও মুহাদ্দিস শিক্ষকের নিকট ইলম অর্জন করেছেন এবং তাঁদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে ইলমে ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) এবং অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করেছেন যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন।
সাখাভী (১) এবং শাওকানী (২) উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনুল মাজদী থেকে ইলমে ফারায়েয, গণিত ও সময় গণনা বিদ্যা (মীখাত) শিক্ষা করেছেন এবং নিয়মিত তাঁর দরসে উপস্থিত থাকতেন। এছাড়াও তিনি আলা আল-কালকাশানদীর নিকট ফারায়েয ও ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন এবং তাঁর নিকট থেকে 'আল-ফুসুল আল-মুহিম্মাহ' গ্রহণ করেছেন। তিনি আল-কায়াতি, আল-মাহাল্লি এবং আল্লামা আল-বালকিনি-এর দরসে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি কায়রোতে ইবনে হাজার, আস-সালিহি, আর-রাশিদি ও অন্যান্যদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং মক্কায় আবুল ফাতহ আল-মারাগী ও দামিয়েত্তায় শামস উদ্দিন বিন আল-ফকীহ হাসান থেকে শ্রবণ করেছেন।
নিম্নে তাঁদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি প্রদান করা হলো:
ক- ইবনুল মাজদী (৩): তিনি হলেন আহমদ ইবনে রজব ইবনে তয়বাগা, আল-মাজদী, আল-কাহিরাভি, আশ-শাফিঈ। তিনি তাঁর দাদার সাথে সম্পর্কিত হয়ে ইবনুল মাজদী নামে পরিচিত। তিনি ৭৬৭ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই লালিত-পালিত হন। তিনি কুরআন ও বিভিন্ন ইলমি মতুন (মূল পাঠ) মুখস্থ করেন এবং গণিত ও ফারায়েয শাস্ত্রে শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিতে পরিণত হন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
والهندسة والميقات، أخذ عنه السبط في الحساب والفرائض والميقات وغيرها له مؤلفات كثيرة منها: شرح الجعبرية وإبراز لطائف الغوامض في إحراز صناعة الفرائض. توفي رحمه الله سنة 850هـ وأمهم بالصلاة عليه الحافظ ابن حجر رحمهم الله.
2- ابن حجر1 وهو الحافظ أحمد بن علي بن حجر العسقلاني القاهري، الشافعي شهاب الدين، الحافظ، صاحب فتح الباري، من أئمة العلم والتاريخ، ولد بالقاهرة سنة 773هـ، وأصبح حافظ الإسلام في عصره، له مؤلفات كثيرة أخذ عنه السبط ونقل عنه في شرح الفصول. توفي رحمه الله سنة 852هـ.
3- علاء الدين القلقَشَندي2 وهو أبو الفتح علي بن أحمد بن إسماعيل القلقَشَندي- نسبة إلى قلقشندة بمصر- الشافعي، القرشي، ولد بالقاهرة سنة 788هـ، برع في الفقه، وتصدى للإفتاء، لازمه السبط وأخذ عنه الفرائض والفقه، توفي رحمه الله سنة 856هـ.
4- علم الدين البلقيني3 وهو صالح بن عمر بن رسلان البلقيني الأصل الشافعي ولد بالقاهرة سنة 791هـ، محدث، مفسر، متكلم، فقيه، ناثر،
--------------------------------------------
...এবং জ্যামিতি ও সময়নির্ণয় বিজ্ঞান। সিবত তাঁর নিকট থেকে পাটিগণিত, উত্তরাধিকার আইন (মিরাস), সময়নির্ণয় বিজ্ঞান এবং অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো: 'শারহুল জাবারিয়া' এবং 'ইবরাযু লাতায়িফিল গাওয়ামিদি ফি ইহরাজি সিনাআতিল ফারায়িদ'। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৫০ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন এবং হাফেজ ইবনে হাজার (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) তাঁর জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
২- ইবনে হাজার: তিনি হলেন হাফেজ আহমদ বিন আলী বিন হাজার আল-আসকালানি আল-কাহেরি, আশ-শাফেয়ি শিহাবুদ্দিন। তিনি হাফেজ, 'ফাতহুল বারি'র রচয়িতা এবং ইলম ও ইতিহাসের অন্যতম ইমাম। তিনি ৭৭৩ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাঁর সময়ে 'হাফেজুল ইসলাম' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। সিবত তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং 'শারহুল ফুসুল' গ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৩- আলাউদ্দীন আল-কালকাশান্দি: তিনি হলেন আবুল ফাতহ আলী বিন আহমদ বিন ইসমাইল আল-কালকাশান্দি—মিসরের কালকাশান্দার অধিবাসী—আশ-শাফেয়ি, আল-কুরাশি। তিনি ৭৮৮ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন এবং ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন। সিবত তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছ থেকে উত্তরাধিকার আইন ও ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৮৫৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
৪- আলম উদ্দীন আল-বুলকিনি: তিনি হলেন সালিহ বিন উমর বিন রাসলান আল-বুলকিনি বংশীয়, আশ-শাফেয়ি। তিনি ৭৯১ হিজরি সনে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে মুহাদ্দিস, মুফাসসির, কালামশাস্ত্রবিদ, ফকিহ এবং গদ্যকার।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
ناظم، تصدر للتدريس والإفتاء، وولي قضاء الديار المصرية، سنة 825هـ، له مؤلفات كثيرة، تتلمذ عليه السبط، توفي رحمه الله سنة 898هـ.
5- المحلي1 وهو جلال الدين محمد بن أحمد بن إبراهيم المحلي نسبة للمحلة الكبرى من الغربية بمصر، المصري، الشافعي، ولد بالقاهرة سنة 791هـ، واشتغل وبرع وفاق الأقران، أخذ عنه السبط، ونقل عنه في شرح الفصول توفي رحمه الله سنة 864هـ.
6- أبو الفتح المراغي2 وهو محمد بن الحسين بن عمر بن محمد المراغي، القاهري، المدني، الشافعي، ولد بالمدينة سنة 764هـ، أخذ عنه جماعة منهم السبط، توفي رحمه الله في مكة سنة 859هـ.
7- الرشيدي3 وهو محمد بن عبد الله بن محمد شمس الدين الرشيدي، فقيه شافعي، خطيب، أصله من رشيد بمصر، ولد بالقاهرة سنة 769 هـ، أخذ عنه السبط، توفي سنة 854هـ بالقاهرة.
8- شمس الدين القاياتي4 وهو محمد بن علي بن محمد القاياتي نسبة إلى قايات بلد قرب الفيوم، القاهري، الشافعي، ولد سنة 785هـ، وحفظ المتون كان إماماً عالماً لازمه السبط وأخذ عنه توفي رحمه الله سنة 850هـ بالقاهرة.
--------------------------------------------
তিনি কাব্য রচয়িতা ছিলেন, পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং ৮২৫ হিজরীতে মিশরের বিচারপতির পদ অলঙ্কৃত করেন। তাঁর বহু গ্রন্থ রয়েছে। সিবত তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ৮৯৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
৫- আল-মাহাল্লি: তিনি হলেন জালালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে ইবরাহিম আল-মাহাল্লি। মিশরের গারবিয়া প্রদেশের মাহাল্লাতুল কুবরা নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে আল-মাহাল্লি বলা হয়। তিনি কায়রোবাসী ও শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। ৭৯১ হিজরীতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং পারদর্শিতা অর্জন করে নিজ সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। সিবত তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং শারহুল ফুসুল-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি ৮৬৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
৬- আবুল ফাতহ আল-মারগি: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আল-হুসাইন ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ আল-মারগি। তিনি কায়রো ও মদিনার অধিবাসী এবং শাফেয়ী ছিলেন। ৭৬৪ হিজরীতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন। সিবতসহ একদল আলেম তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৮৫৯ হিজরীতে মক্কায় ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
৭- আর-রশিদি: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ শামসুদ্দিন আর-রশিদি। তিনি একজন শাফেয়ী ফকিহ ও খতিব ছিলেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস মিশরের রশিদ নামক স্থানে। তিনি ৭৬৯ হিজরীতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। সিবত তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৮৫৪ হিজরীতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।
৮- শামসুদ্দিন আল-কায়াতি: তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ আল-কায়াতি। ফাইয়ুমের নিকটবর্তী কায়াত নামক জনপদের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে কায়াতি বলা হয়। তিনি কায়রোবাসী ও শাফেয়ী ছিলেন। ৭৮৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মূল গ্রন্থসমূহ (মুতুন) মুখস্থ করেন। তিনি একজন ইমাম ও আলেম ছিলেন। সিবত তাঁর সান্নিধ্যে থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৮৫০ হিজরীতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
9- الصالحي1 وهو محمد بن علي بن محمد بن عثمان أبو المعالي الصالحي المكي ولد بمكة سنة 769هـ أخذ عنه السبط، توفي رحمه الله سنة 846هـ بمكة.
10- نور الدين البِلْبِيسي2 وهو إمام الأزهر، الشيخ، نور الدين، تتلمذ عليه السبط فحفظ القرآن وتلاه عليه ببعض الروايات وأخذ عنه ألفية النحو وبعض المنهاج.
--------------------------------------------
৯- আস-সালিহি১। তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন উসমান আবুল মাআলি আস-সালিহি আল-মাক্কি। তিনি ৭৬৯ হিজরি সনে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আস-সিবত তার নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। তিনি ৮৪৬ হিজরি সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।
১০- নুর উদ্দিন আল-বিলবিসি২। তিনি হলেন আজহারের ইমাম, শায়খ নুর উদ্দিন। আস-সিবত তাঁর নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং কুরআন হিফজ করেন ও তাঁর নিকট কয়েকটি রিওয়ায়াত অনুযায়ী তা তিলাওয়াত করেন। এছাড়া তিনি তাঁর নিকট থেকে নাহু শাস্ত্রের আলফিয়াহ এবং মিনহাজ-এর কিছু অংশ পাঠ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
الفصل السادس: تلاميذه:بعد أن ظهرت مكانة السبط العلمية، وفقهه في كثير من العلوم، خصوصاً الفرائض، والعربية، والميقات أقبل عليه الطلاب للأخذ عنه.
ومما تجدر الإشارة إليه أن مَن ترجموا للسبط أهملوا ذكر طلابه، إلا ما ذكره السخاوي من قوله: وممن أخذ عنه النجم بن حجي.
لكن من طالع تراجم معاصريه وقف على ذكر الآخذين عنه، وقد استقرأتُ الضوء اللامع فوقفتُ على تسعة وعشرين تلميذاً أخذوا عن السبط رحمه الله وإليك ترجمة موجزة لبعضهم:
1- إبراهيم بن أحمد بن محمد البلالي، الدمياطي، الأزهري، الشافعي، ولد سنة 857هـ، ولازم السبط في الفرائض والحساب وبرع فيهما (الضوء اللامع 1/25) .
ষষ্ঠ অধ্যায়: তাঁর ছাত্রগণ:আস-সিবতের ইলমী মর্যাদা এবং ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), আরবি ভাষা ও মীকাত (সময় নির্ধারণ বিদ্যা) সহ বহু শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতা প্রকাশ পাওয়ার পর, শিক্ষার্থীরা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জনের জন্য আসতে শুরু করে।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যারা আস-সিবতের জীবনী রচনা করেছেন, তারা তাঁর ছাত্রদের বর্ণনার ক্ষেত্রে উদাসীনতা প্রদর্শন করেছেন; কেবল সাখাভী যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত। তিনি বলেছেন: "যিনি তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাদের মধ্যে নাজম বিন হিজজি অন্যতম।"
কিন্তু যারা তাঁর সমসাময়িকদের জীবনী পাঠ করবেন, তারা তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণকারীদের বর্ণনা খুঁজে পাবেন। আমি 'আদ-দাউ আল-লামি' গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে পাঠ করে উনত্রিশজন ছাত্রের সন্ধান পেয়েছি যারা আস-সিবত (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। নিম্নে তাঁদের কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো:
১- ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-বিলালি, আদ-দামইয়াতি, আল-আযহারি, আশ-শাফিয়ি। তিনি ৮৫৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ফারায়েজ ও গণিত শাস্ত্রে আস-সিবতের সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন এবং এই উভয় বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেন (আদ-দাউ আল-লামি ১/২৫)।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
2- إبراهيم بن محمد بن أحمد الدمشقي، القاهري، الشافعي ولد سنة 847هـ، حفظ القرآن وتفقه على علماء عصره ومنهم السبط حج سنة 895هـ، وناب في القضاء عن البلقيني (الضوء اللامع 1/128) .
3- أحمد بن داود بن سليمان البيجوري، القاهري، الأزهري، الشافعي، ولد سنة 845هـ، أخذ عن السبط، توفي رحمه الله سنة 897هـ (الضوء اللامع 1/297) .
4- أحمد بن محمد بن محمد بن أبو بكر المخزومي، القاهري، الشافعي، ولد سنة 844هـ، بالقرب من الأزهر، حفظ القرآن وبعض المتون وأخذ عن السبط وخطب بالسلطان في جامع القلعة حين يتوعك القاضي. (الضوء اللامع 2/172) .
5- محمد بن عبد الله بن محمد الأنصاري، القاهري، الحنبلي، نشأ وحفظ القرآن، أخذ عن السبط الفرائض وأذن له. (الضوء اللامع 8/108) .
6- يحيى بن محمد بن عمر بن حجي، نجم الدين أبو زكريا، الدمشقي ثم القاهري، الشافعي، المعروف بابن حجي، ولد سنة 838هـ، ونشأ وطلب العلم وانتفع في الفرائض والحساب بسبط المارديني، توفي رحمه الله سنة 888 هـ. (الضوء اللامع10/252) .
2- ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আদ-দিমাশকি, আল-কাহিরি, আশ-শাফেয়ি ৮৪৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং তাঁর সমসাময়িক আলেমদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেন, যাঁদের মধ্যে আস-সিবত অন্যতম। তিনি ৮৯৫ হিজরিতে হজ পালন করেন এবং আল-বুলকিনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিচারকার্য পরিচালনা করেন (আদ-দাও আল-লামি ১/১২৮)।
3- আহমাদ বিন দাউদ বিন সুলাইমান আল-বাইজুরি, আল-কাহিরি, আল-আজহারি, আশ-শাফেয়ি ৮৪৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আস-সিবতের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন এবং ৮৯৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন (আদ-দাও আল-লামি ১/২৯৭)।
4- আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আবু বকর আল-মাখজুমি, আল-কাহিরি, আশ-শাফেয়ি ৮৪৪ হিজরিতে আল-আজহারের নিকটবর্তী স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুরআন ও কিছু মূলগ্রন্থ হিফজ করেন এবং আস-সিবতের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। প্রধান বিচারক অসুস্থ হলে তিনি কেল্লার জামে মসজিদে সুলতানের উপস্থিতিতে খুতবা প্রদান করতেন (আদ-দাও আল-লামি ২/১৭২)।
5- মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-আনসারি, আল-কাহিরি, আল-হাম্বলি। তিনি লালিত-পালিত হন এবং কুরআন হিফজ করেন। তিনি আস-সিবতের নিকট ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা করেন এবং তিনি তাঁকে অনুমতি প্রদান করেন (আদ-দাও আল-লামি ৮/১০৮)।
6- ইয়াহইয়া bin মুহাম্মাদ বিন উমর বিন হাজ্জি, নাজমুদ্দিন আবু জাকারিয়া, আদ-দিমাশকি অতঃপর আল-কাহিরি, আশ-শাফেয়ি, যিনি ইবনে হাজ্জি নামে পরিচিত। তিনি ৮৩৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং জ্ঞান অন্বেষণ করেন। তিনি সিবত আল-মারদিনির নিকট ফারায়িজ ও গণিতশাস্ত্রে বিশেষ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। ৮৮৮ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন (আদ-দাও আল-লামি ১০/২৫২)।
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
الفصل السابع: مؤلفاته عامة:تقدم في مبحث صفات المؤلف ثناء العلماء عليه بكثرة مؤلفاته وتنوعها،
সপ্তম অধ্যায়: তাঁর সাধারণ রচনাবলি:ইতিপূর্বে লেখকের গুণাবলি শীর্ষক পরিচ্ছেদে তাঁর রচনাবলির আধিক্য ও বৈচিত্র্যের কারণে আলেমদের ভূয়সী প্রশংসার কথা বর্ণিত হয়েছে,
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
وانتفاع الناس بها في الحساب، والمواقيت، والفرائض، والنحو، وغيرها. حتى إنه كتب المواقيت وحدها ما يزيد على مائتي مقدمة.
قال السخاوي: وكتب في الميقات مقدمات جمّة تزيد- كما أخبرني- على مائتين1.
وها أنذا أذكر مؤلفاته مرتبة على حروف المعجم، حسبما وقفت عليه في كتب التراجم:
وسأشير إلى ما طبع منها، وأرمز إلى ما لم يطبع بحرف الخاء:
1- إرشاد الطلاب إلى وسيلة الحساب (خ) .
وهو شرح لكتاب "الوسيلة في الحساب" لابن الهائم في الجبر2.
2- إرشاد الفارض إلى كشف الغوامض (خ) .
وهو شرح المؤلف على كتابه الآخر "كشف الغوامض في علم الفرائض" 3.
3- الإشارات في العمل بربع المقنطرات (خ) 4.
4- إظهار السِّر المودوع في ترتيب المجموع. أو ترتيب المجموع (خ) .
--------------------------------------------
এবং হিসাববিজ্ঞান, সময়তত্ত্ব (মিাকাত), উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ), ব্যাকরণ এবং অন্যান্য বিষয়ে তাঁর মাধ্যমে মানুষের উপকৃত হওয়া। এমনকি তিনি কেবল সময়তত্ত্ব বিষয়েই দুই শতাধিক ভূমিকা বা প্রাথমিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
সাখাভী বলেন: তিনি মিাকাত শাস্ত্রে অনেকগুলো ভূমিকা লিখেছেন যা—তিনি আমাকে যেমনটা জানিয়েছেন—দুই শতাধিকও বেশি।১
এখন আমি জীবনীগ্রন্থসমূহে যতটুকু অবগত হয়েছি, তার ভিত্তিতে তাঁর গ্রন্থাবলি বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করছি:
এগুলোর মধ্যে যা মুদ্রিত হয়েছে আমি তা নির্দেশ করব এবং যা অমুদ্রিত (পাণ্ডুলিপি) রয়ে গেছে তাকে 'খা' অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করব:
১- ইরশাদুত তুল্লাব ইলা ওয়াসিলাতিল হিসাব (খা)।
এটি বীজগণিত বিষয়ে ইবনুল হাইয়িম রচিত "আল-ওয়াসিলা ফিল হিসাব" গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।২
২- ইরশাদুল ফারিদ ইলা কাশফিল গাউয়ামিদ (খা)।
এটি লেখকের নিজের অন্য একটি গ্রন্থ "কাশফুল গাউয়ামিদ ফি ইলমিল ফারায়েজ"-এর ওপর তাঁর নিজস্ব ব্যাখ্যাগ্রন্থ।৩
৩- আল-ইশারাত ফিল আমালি বি-রুবয়িল মুকান্তারাত (খা)।৪
৪- ইজহারুস সিররিল মাওদু ফি তারতিবিল মাজমু, অথবা তারতিবুল মাজমু (খা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وهو ترتيب المؤلف لمجموع الكلائي في الفرائض1.
5- إظهار السر المودوع في العمل بالربع المقطوع (خ) 2.
6- إيضاح الإشارات في العمل بربع المقنطرات (خ) .
وهو تعليق على كتابه "الإشارات في العمل بربع المقنطرات" 3.
7- تحفة الأحباب في علم الحساب (خ) 4.
8- التحفة الماردينية في شرح الياسمينية، محقق.
وهو شرح له على أرجوزة ابن الياسمين في الجبر5.
9- تحفة المختصرات في معرفة القبلة وأوقات الصلوات (خ) 6.
10- تدريب العامل بالربع الكامل7.
11- جداول رسم المنحرفات على الحيطان "في الميقات" (خ) 8.
--------------------------------------------
এটি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ে কাল্লাঈ-এর সংগ্রহের ওপর লেখকের বিন্যাস১।
৫- ইজহারুস সিররিল মাওদু’ ফিল আমালি বির রুব’ইল মাকতু’ (পাণ্ডুলিপি) ২।
৬- ঈজাহুল ইশারাত ফিল আমালি বি রুব’িল মুকান্তারাত (পাণ্ডুলিপি)।
এটি তাঁর "আল-ইশারাত ফিল আমালি বি রুব’িল মুকান্তারাত" গ্রন্থের ওপর একটি টিকা ৩।
৭- তুহফাতুল আহবাব ফি ইলমিল হিসাব (পাণ্ডুলিপি) ৪।
৮- আত-তুহফাতুল মারিদিনিয়্যাহ ফি শারহিল ইয়াসমিনিয়্যাহ, সম্পাদিত।
এটি বীজগণিত বিষয়ে ইবনুল ইয়াসমিনের আরজুজার (কাব্যগ্রন্থ) ওপর তাঁর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ৫।
৯- তুহফাতুল মুখতাসারাত ফি মা’রিফাতিল কিবলা ওয়া আওকাতিস সালাওয়াত (পাণ্ডুলিপি) ৬।
১০- তাদরীবুল আমিলি বির রুব’িল কামিল ৭।
১১- জাদাভিলু রাসমিল মুনহারিফাত আলাল হিতান "ফিল মিকাত" (পাণ্ডুলিপি) ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
12- حاوي المختصرات في العمل بربع المقنطرات "في الفلك" (خ) 1.
13- الدر المنثور في العمل بربع الدستور "في الفلك" (خ) 2.
14- دقائق الحقائق في حساب الدرج والدقائق "في الفلك" (خ) .
وهو اختصار لكتاب شيخه ابن المجدي "كشف الحقائق في حساب الدرج والدقائق" 3.
15 - الرسالة الفتحية في الأعمال جيبية "في الفلك" (خ) 4.
16 - رسالة في الحساب (خ) 5.
17 - شرح الأشنهية، في الفرائض ولم يكمله (خ) 6.
18- شرح التوضيح في النحو لابن هشام، لم يكمله (خ) 7.
19- شرح الجعبرية (خ) 8.
--------------------------------------------
১২- রুবয়ুল মুকান্তারাতের মাধ্যমে আমল সংক্রান্ত সংক্ষিপ্তসারসমূহের সংকলন "জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক" (পাণ্ডুলিপি) ১।
১৩- রুবয়ুদ দাস্তুরের মাধ্যমে আমল সংক্রান্ত বিচ্ছুরিত মুক্তামালা "জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক" (পাণ্ডুলিপি) ২।
১৪- ডিগ্রি ও মিনিট গণনার সূক্ষ্ম সত্যসমূহ "জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক" (পাণ্ডুলিপি)।
এটি তার উস্তাদ ইবনুল মাজদির গ্রন্থ "ডিগ্রি ও মিনিট গণনায় প্রকৃত রহস্য উন্মোচন"-এর সংক্ষিপ্তসার ৩।
১৫ - জ্যামিতিক সাইন সংক্রান্ত কার্যাবলীতে বিজয় বার্তা "জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ক" (পাণ্ডুলিপি) ৪।
১৬ - গণিতশাস্ত্র বিষয়ক একটি রিসালা (পাণ্ডুলিপি) ৫।
১৭ - শারহুল উশনাহিইয়াহ, উত্তরাধিকার আইন বিষয়ক, যা তিনি সম্পন্ন করেননি (পাণ্ডুলিপি) ৬।
১৮- ইবন হিশাম রচিত নাহু শাস্ত্রের গ্রন্থ 'আত-তাওদিহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা তিনি সম্পন্ন করেননি (পাণ্ডুলিপি) ৭।
১৯- শারহুল জাবারিয়্যাহ (পাণ্ডুলিপি) ৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
25- شرح الرحبية1.
وهو شرح له على منظومة العلامة محمد بن على بن محمد الرحبي الشافعي المتوفى سنة 577هـ، وهو مطبوع مع حاشية البقري على شرح السبط بتحقيق مصطفى ديب البُغَا.
21- شرح شذرات الذهب لابن هشام (خ) 2.
22- شرخ فرائض الحوفي (خ) 3.
23- شرح فرائض السراجية (خ) 4.
24- شرح الفصول المهمة في علم مواريث الأمة- وهو الكتاب المحقق، وسيأتي تفصيل عنه-.
25- شرح قطر الندى في النحو لابن هشام5.
26- شرح كفاية الحفاظ (خ) 6.
--------------------------------------------
২৫- শরহে রাহবিয়্যাহ।
এটি আল্লামা মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-রাহবি আল-শাফিঈর (মৃত্যু ৫৭৭ হিজরি) কাব্যগ্রন্থের ওপর তাঁর রচিত একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। এটি মুস্তফা দীব আল-বুগার তাহকিকে ‘শরহুস সিবত’-এর ওপর আল-বাকরির হাশিয়াসহ মুদ্রিত।
২১- ইবনে হিশাম রচিত শাযারাতুয যাহাব-এর ব্যাখ্যা (পাণ্ডুলিপি)।
২২- ফরায়েজুল হূফী-র ব্যাখ্যা (পাণ্ডুলিপি)।
২৩- ফরায়েজুস সিরাজিয়্যাহ-র ব্যাখ্যা (পাণ্ডুলিপি)।
২৪- শরহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী ইলমি মাওয়ারিছিল উম্মাহ—এটিই সেই সম্পাদিত গ্রন্থ, যার বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসছে।
২৫- ইবনে হিশাম রচিত নাহু শাস্ত্রের ক্বাতরুন নাদা-র ব্যাখ্যা।
২৬- কিফায়াতুল হুফফায-এর ব্যাখ্যা (পাণ্ডুলিপি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
27- شرح اللمع في الحساب (خ) 1.
وهو شرح على كتاب "اللمع في الحساب" لابن الهائم.
28- شرح منظومة ابن نصر الله الحنبلي (خ) 2.
29- الطراز المذهَّب في العمل بالربع المجَّيب (خ) 3.
30- الطرق السنية في العمل بالنسبة الستينية (خ) 4.
31- فتح الوهاب في حل حاوي الحساب (خ) 5.
32- قرَّة العين في بيان المذهبين في علم الفرائض (خ) 6.
33- قرة الناظر في معرفة وضع خطوط فضل الدوائر (خ) 7.
34- القول المبدع في شرح المقنع (خ) 8.
35- القول المجتبى (خ) 9.
--------------------------------------------
২৭- শারহুল লুমা ফিল হিসাব (পাণ্ডুলিপি) ১।
এটি ইবনুল হাইয়াম রচিত "আল-লুমা ফিল হিসাব" গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যা।
২৮- শারহু মানজুমাহ ইবনি নাসরিল্লাহ আল-হাম্বলি (পাণ্ডুলিপি) ২।
২৯- আত-তিরাজুল মুযাহহাব ফিল আমালি বির রুবয়িল মুজাইয়াব (পাণ্ডুলিপি) ৩।
৩০- আত-তুরুকুস সানিয়্যাহ ফিল আমালি বিন নিসবাতিল সিত্তিনিয়্যাহ (পাণ্ডুলিপি) ৪।
৩১- ফাতহুল ওয়াহহাব ফি হাল্লি হাওয়িল হিসাব (পাণ্ডুলিপি) ৫।
৩২- কুররাতুল আইন ফি বায়ানিল মাযহাবাইনি ফি ইলমিল ফারায়েজ (পাণ্ডুলিপি) ৬।
৩৩- কুররাতুন নাযির ফি মা’রিফাতি ওয়াদয়ি খুতুতি ফাদলিল দাওয়াইর (পাণ্ডুলিপি) ৭।
৩৪- আল-কাওলুল মুবদি’ ফি শারহিল মুকনি’ (পাণ্ডুলিপি) ৮।
৩৫- আল-কাওলুল মুজতাবাহ (পাণ্ডুলিপি) ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
শারহুল ফুসুলিল মুহিম্মাহ ফী মাওয়ারিছিল উম্মাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
36- كشف الغوامض في علم الفرائض1.
وقد طبع بتحقق الدكتور عوض بن رجاء العوفي ونشرته مكتبة العلوم والحكم بالمدينة عام 1417هـ لأول مرة.
37- كفاية القنوع في اختصار المجموع (خ) 2.
38- كفاية القنوع في العمل بالربع الشمالي المقطوع (خ) 3.
وهو اختصار لكتابه -المتقدم- "إظهار السر المودوع في العمل بالربع المقطوع".
39- لقط الجواهر في تحديد الخطوط والدوائر4.
40- اللمعة الشمسية على التحفة القدسية (خ) 5.
وهو شرح لمنظومة ابن الهائم "التحفة القدسية في اختصار الرحبية".
41- المطلب في العمل بالربع المجيب (خ) 6.
--------------------------------------------
৩৬- কাশফুল গাওয়ামিদ ফি ইলমিল ফরায়েজ (উত্তরাধিকার শাস্ত্রের জটিলতা উন্মোচন)।১
এটি ড. আওয়াদ বিন রাজা আল-আউফীর সম্পাদনায় প্রথমবার মদিনার মাকতাবাতুল উলুম ওয়াল হিকমাহ থেকে ১৪১৭ হিজরিতে প্রকাশিত হয়েছে।
৩৭- কিফায়াতুল কানূ' ফি ইখতিসারিল মাজমূ' (পাণ্ডুলিপি)।২
৩৮- কিফায়াতুল কানূ' ফিল আমালি বির রুবয়িশ শামালিল মাকতূ' (পাণ্ডুলিপি)।৩
এটি তার পূর্বোল্লিখিত গ্রন্থ "ইজহারুস সিররিল মাওদূ' ফিল আমালি বির রুবয়িল মাকতূ'" এর সংক্ষিপ্তসার।
৩৯- লাকতুল জাওয়াহির ফি তাহদীদিল খুূতূতি ওয়াদ দাওয়াইর।৪
৪০- আল-লুমআতুশ শামসিয়্যাহ আলাত তুহফাতিল কুদসিয়্যাহ (পাণ্ডুলিপি)।৫
এটি ইবনুল হাইয়াম রচিত কাব্যগ্রন্থ "আত-তুহফাতুল কুদসিয়্যাহ ফি ইখতিসারির রাহবিয়্যাহ" এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪১- আল-মাতলাব ফিল আমালি বির রুবয়িল মুজাইব (পাণ্ডুলিপি)।৬
--------------------------------------------