(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: -)
إنباء الأمراء بأنباء الوزراء   (ابن طولون)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: إنباء الأمراء بأنباء الوزراء

المؤلف: شمس الدين محمد بن علي بن خمارويه بن طولون الدمشقي الصالحي الحنفي (ت 953هـ)

المحقق: مهنّا حمد المهنّا

الناشر: دار البشائر الاسلامية، بيروت

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 126

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435

উজিরদের সংবাদের মাধ্যমে আমিরদের অবহিতকরণ   (ইবনে তুলুন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: উজিরদের সংবাদের মাধ্যমে আমিরদের অবহিতকরণ

লেখক: শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন খুমারাওয়াইহ বিন তুলুন আদ-দিমাশকী আস-সালিহী আল-হানাফী (মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি)

সম্পাদক: মুহান্না হামাদ আল-মুহান্না

প্রকাশক: দারুল বাশায়ের আল-ইসলামিয়া, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৫)
المقدّمة

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسّلام على سيد المرسلين وبعد؛

فهذه رسالة «إنباء الأمراء بأبناء الوزراء» لابن طولون الدمشقي تنشر لأول مرة بعد أن كانت مغيبة في خزائن الكتب، وهذه الرسال لها خصوصيتها وأهميتها وذلك للأسباب التالية:

1 - أنها واحدة من مصنفات ابن طولون الدمشقي وهو من المكثرين في التأليف حتى تجاوزت كتبه ورسائله السبعمائة والخمسين مؤلفا ولا يضارعه في كثرة التأليف سوى الإمام السيوطي رحمه الله.

2 - هي إضافة مهمة إلى كتب تراجم الوزراء التي لم ينشر منها إلاّ أقل القليل فضلا عن ندرة تلك الكتب التي تناولت حياة الوزراء مثل «الإشارة إلى من نال الوزارة» لابن الصيرفي و «الوزراء والكتاب» للجهشياري و «الوزراء» للثعالبي فإن ما نشر منها لا يتجاوز عددها أصابع اليدين (1).

3 - ومما يزيد في أهميتها أنها نسخة وحيدة-حسب علمي- وبخط المؤلف مما يوضح مدى الحاجة إلى بذل جهد مضاعف في

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة «رسوم دولة الخلافة» لميخائيل عواد.
ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদারের ওপর। অতঃপর;

এটি হলো ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি রচিত ‘ইনবাউল উমারা বি আবনায়িল উজারা’ নামক পুস্তিকা, যা গ্রন্থভাণ্ডারগুলোতে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশিত হচ্ছে। এই পুস্তিকাটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব রয়েছে, আর তা নিম্নোক্ত কারণসমূহের জন্য:

১ - এটি ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকির অন্যতম রচনা; তিনি ছিলেন অত্যন্ত উর্বর লেখক, এমনকি তাঁর গ্রন্থ ও পুস্তিকার সংখ্যা সাতশত পঞ্চাশটি ছাড়িয়ে গেছে। গ্রন্থ রচনার এই প্রাচুর্যে ইমাম সুয়ূতি (রাহিমাহুল্লাহ) ব্যতীত অন্য কেউ তাঁর সমকক্ষ নন।

২ - এটি উজিরদের (মন্ত্রীদের) জীবনী বিষয়ক গ্রন্থসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন, যার খুব সামান্য অংশই এযাবৎ প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া উজিরদের জীবন নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলো খুবই দুর্লভ; যেমন ইবনে সাইরাফি রচিত ‘আল-ইশারাহ ইলা মান নালাল উইজারাহ’, জাহশিয়ারি রচিত ‘আল-উজারা ওয়াল কুত্তাব’ এবং সা’লাবি রচিত ‘আল-উজারা’। কেননা এগুলোর মধ্য থেকে যা প্রকাশিত হয়েছে তা সংখ্যায় দুই হাতের আঙুলের বেশি হবে না (১)।

৩ - এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো যে—আমার জানামতে—এটিই একমাত্র পাণ্ডুলিপি এবং লেখকের স্বহস্তে লিখিত, যা এর পেছনে দ্বিগুণ প্রচেষ্টা ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে...

--------------------------------------------

(১) দেখুন মিখাইল আওয়াদ রচিত ‘রুসুমু দাওলাতিল খিলাফাহ’-এর ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৬)
تحقيقها؛ لصعوبة خط ابن طولون كما هو معروف، وعدم اطلاعي على نسخة أخرى يقابل عليها عند التحقيق.

4 - المدى الزمني التي غطته المخطوطة، فلم تقف عند عهد معين كالعصر العباسي أو الأيوبي، بل تجاوزته إلى العصر المملوكي والأيوبي، كذلك لم يكتف ابن طولون في عرض تراجم وزراء المشرق بل تعداها إلى الأندلس مثل ترجمة لسان الدّين ابن الخطيب.

لهذا ولكل ما سبق رأيت من نشر هذا الكتاب المهم وأود أن ألفت نظر القارىء أنني لم أتوسع في ترجمة المؤلف، واقتصرت على ما لا يسع القارىء جهله اكتفاء مني بما نشر من مؤلفاته السابقة التي قام محققوها مشكورين بتتبع حياة ابن طولون العلمية والاجتماعية كما فعل العلامة محمد أحمد دهمان رحمه الله، كما أن المؤلف ألف في ترجمة حياته كتابا مفصلا وهو «الفلك المشحون في أحوال محمد بن طولون» الذي نشر ثانيه منذ عهد قريب.

***
এটি সম্পাদনা করা; কারণ ইবনে তুলুনের হস্তাক্ষরের সুপরিচিত দুর্বোধ্যতা এবং সম্পাদনার সময় অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি না থাকা যার সাথে এটি মিলিয়ে দেখা যায়।

৪ - পাণ্ডুলিপিটি যে সময়কাল ব্যাপ্ত করেছে; এটি আব্বাসীয় বা আইয়ুবীয় যুগের মতো কোনো নির্দিষ্ট যুগে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছাড়িয়ে মামলুক এবং আইয়ুবীয় যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। একইভাবে ইবনে তুলুন কেবল প্রাচ্যের মন্ত্রীদের জীবনী উপস্থাপনেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি আন্দালুস পর্যন্ত তা সম্প্রসারিত করেছেন, যেমন লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিবের জীবনী।

এই কারণে এবং পূর্বে উল্লিখিত সকল প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে আমি এই গুরুত্বপূর্ণ বইটি প্রকাশ করা যুক্তিযুক্ত মনে করেছি। আমি পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই যে, আমি লেখকের জীবনীর বিস্তারিত আলোচনায় যাইনি, বরং কেবল সেই অংশটুকুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যা একজন পাঠকের পক্ষে না জানলেই নয়। লেখকের পূর্বে প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থাবলি—যেগুলোর সম্পাদকগণ ইবনে তুলুনের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও সামাজিক জীবনের অনুসন্ধানে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন, যেমনটি করেছেন আল্লামা মুহাম্মদ আহমদ দহমান (রাহিমাহুল্লাহ)—সেগুলোর মাধ্যমেই আমি সন্তুষ্ট থেকেছি। তাছাড়া লেখক নিজের জীবনীর ওপর একটি বিস্তারিত গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার নাম ‘আল-ফুলকুল মাশহুন ফি আহওয়ালি মুহাম্মাদ বিন তুলুন’, যা সম্প্রতি দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত হয়েছে।

***
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف

‌‌اسمه ونسبه ومولده:

هو شمس الدين أبو عبد الله محمد بن الشيخ علاء الدين علي ابن الخواجه شمس الدين محمد بن طولون الدمشقي الصالحي الحنفي.

ولد بصالحية دمشق في ربيع الأول سنة 880 هـ تقريبا.

 

‌‌شيوخه:

أخذ العلم عن علماء عصره وأشهرهم:

1 - القاضي ناصر الدين أبو البقاء محمد بن أبي بكر بن عبد الرحمن العمري القرشي المعروف بابن زريق (812 - 900) كان عالما بالحديث النبوي.

ترجمته في الأعلام للزركلي 6/ 58، والضوء اللامع للسخاوي 7/ 169، والجوهر المنضد لابن المبرد ص 126 (142).

2 - الخطيب سراج الدين عمر بن علي بن عثمان بن صالح الصيرفي (824 - 917 هـ)، كان خطيب دمشق ومن علماء الحديث بها.

ترجمته في الكواكب السائرة 1/ 286، وشذرات الذهب (ط القدس) 10/ 84.
লেখকের পরিচিতি

তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:

তিনি হলেন শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল শায়খ আলাউদ্দীন আলী ইবনুল খাজা শামসুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে তুলুন আদ-দিমাশকি আস-সালিহি আল-হানাফি।

তিনি আনুমানিক ৮৮০ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে দামেস্কের সালিহিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।

 

তাঁর শিক্ষকগণ:

তিনি তাঁর সমকালীন আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন:

১ - আল-কাদি নাসিরুদ্দীন আবুল বাকা মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর ইবনে আব্দুর রহমান আল-উমারি আল-কুরাশি, যিনি ইবনে জুরাইক (৮১২ - ৯০০) নামে পরিচিত, তিনি নববী হাদিসের পণ্ডিত ছিলেন।

তাঁর জীবনী আল-আ'লাম (যিরিকলি) ৬/৫৮, আদ-দাও আল-লামি' (সাখাভি) ৭/১৬৯ এবং আল-জাওহারুল মুনাদ্দাদ (ইবনুল মুবাররাদ) পৃষ্ঠা ১২৬ (১৪২)-এ বর্ণিত হয়েছে।

২ - আল-খতিব সিরাজুদ্দীন উমর ইবনে আলী ইবনে উসমান ইবনে সলিহ আস-সাইরাফি (৮২৪ - ৯১৭ হিজরি), তিনি দামেস্কের খতিব এবং সেখানকার হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তাঁর জীবনী আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরাহ ১/২৮৬ এবং শাজারাতুজ জাহাব (কুদ্স সংস্করণ) ১০/৮৪-এ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৮)
3 - جمال الدين يوسف بن حسن بن أحمد بن عبد الهادي المبرد الصالحي الحنبلي (840 - 909)، وقد ألف ابن طولون في ترجمته مؤلفا ضخما كما ذكره ابن العماد.

ترجمته في الأعلام 8/ 225، وشذرات الذهب 8/ 43.

4 - أبو الفتح شمس الدين محمد بن محمد بن علي بن عطية العوفي السكندري المزي (818 - 906 هـ).

ترجمته في الأعلام 7/ 53 والشذرات 8/ 30.

5 - عبد القادر بن محمد ابن النعيمي المتوفى سنة 927 هـ.

ترجمته في الأعلام 4/ 43، والكواكب السائرة للغزي 1/ 250.

6 - أخذ عن الإمام جلال الدين عبد الرحمن بن أبي بكر السيوطي، المتوفى سنة 911 هـ.

أجازه مكاتبة.

 

‌‌مؤلفاته:

لقد ذكرت في المقدمة أنه من المكثرين من التصنيف حتى أن ثبت مؤلفاته حوى ذكر ثلاثة وخمسين وسبعمائة كتابا بعضها في مجلدات ك «مفاكهة الخلان» و «القلائد الجوهرية» وبعضها رسائل صغيرة لا تتعدى الكراس، ولم يطبع من هذا التراث الغني إلاّ أقله، فمن كتبه المطبوعة:

1 - الفلك المشحون في أحوال محمد بن طولون.

2 - قيد الشريد في أخبار يزيد (ابن معاوية).

3 - أعلام الورى بمن ولى نائبا من الأتراك بدمشق الشام الكبرى.
৩ - জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনে হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল হাদি আল-মুবারিদ আস-সালিহি আল-হাম্বলি (৮৪০ - ৯০৯ হিজরি)। ইবনে তুলুন তার জীবনী নিয়ে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমনটি ইবনুল ইমাদ উল্লেখ করেছেন।

তার জীবনী রয়েছে আল-আলাম ৮/ ২২৫ এবং শাজারাতুজ জাহাব ৮/ ৪৩-এ।

৪ - আবু আল-ফাতহ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে আতিয়্যাহ আল-আওফি আল-ইস্কান্দারি আল-মিজ্জি (৮১৮ - ৯০৬ হিজরি)।

তার জীবনী রয়েছে আল-আলাম ৭/ ৫৩ এবং শাজারাত ৮/ ৩০-এ।

৫ - আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নুআইমি, মৃত্যু ৯২৭ হিজরি।

তার জীবনী রয়েছে আল-আলাম ৪/ ৪৩ এবং গাজ্জি রচিত আল-কাওয়াকিব আস-সাইয়িরাহ ১/ ২৫০-এ।

৬ - তিনি ইমাম জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর আস-সুয়ুতি (মৃত ৯১১ হিজরি) থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।

তিনি তাকে পত্রবিনিময়ের মাধ্যমে অনুমতি (ইজাজাহ) প্রদান করেছিলেন।

 

‌‌তার গ্রন্থাবলি:

আমি ভূমিকায় উল্লেখ করেছি যে, তিনি অত্যন্ত উচ্চপদস্থ এবং প্রচুর গ্রন্থ প্রণেতাদের একজন, এমনকি তার রচিত গ্রন্থের তালিকা সাতশ তিপ্পান্নটি গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর মধ্যে কিছু বহু খণ্ডে রচিত যেমন ‘মাফাকাহাতুল খিলান’ এবং ‘আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়্যাহ’, আবার কিছু ছোট পুস্তিকা যা এক দস্তার বেশি নয়। এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের খুব সামান্যই এ পর্যন্ত মুদ্রিত হয়েছে। তার মুদ্রিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১ - আল-ফুলকুল মাশহুন ফি আহওয়ালি মুহাম্মাদ ইবনে তুলুন।

২ - কাইদুশ শারিদ ফি আখবারি ইয়াজিদ (ইবনে মুয়াবিয়া)।

৩ - আলামুল ওয়ারা বিমান ওয়াল্লা না-ইবান মিনাল আতুরাক বি দিমাসক আশ-শাম আল-কুবরা।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৯)
4 - القلائد الجوهرية في تاريخ الصالحية.

5 - إعلام السائلين عن كتب سيد المرسلين.

6 - نقد الطالب لزغل المناصب.

7 - المعزة فيما قيل في المزة.

8 - اللمعات البرقية.

9 - فص الخواتم فيما قيل في الولائم.

10 - مفاكهة الخلان في حوادث الزمان.

11 - ضرب الحوطة على جميع الغوطة.

. . . وغيرها كثير.

انظر ذخائر التراث العربي 1/ 162.

 

‌‌تلاميذه:

1 - شهاب الدين أحمد بن أحمد الطيبي الشافعي المتوفى سنة 981 هـ.

ترجمته في الأعلام 1/ 91.

2 - نجم الدين وقيل شمس الدين محمد بن محمد بن رجب البهنسي المتوفى سنة 986 هـ.

ترجمته في شذرات الذهب 8/ 410.

3 - علاء الدين علي بن عماد الدين إسماعيل بن موسى الشهير بابن ألوس المتوفى سنة 971 هـ.

ترجمته في الشذرات (ط الأرناؤوط) 10/ 530، ومعجم المؤلفين (ط الرسالة) 2/ 406.
৪ - আস-সালিহিয়্যাহর ইতিহাসে রত্নখচিত হার।

৫ - রাসুলগণের সরদারের কিতাবসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসুদের অবহিতকরণ।

৬ - পদমর্যাদার অসারতা বিষয়ে ছাত্রের সমালোচনা।

৭ - আল-মিযযাহ এলাকায় যা বলা হয়েছে সে বিষয়ে সম্মাননা।

৮ - বিদ্যুৎসম ঝলকানি।

৯ - ওলিমা বা ভোজ অনুষ্ঠান সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার সারাংশ।

১০ - কালের ঘটনাবলিতে বন্ধুদের সাথে আলাপচারিতা।

১১ - পুরো গুতা অঞ্চলের ওপর বেষ্টনী স্থাপন।

. . . এবং এ ছাড়াও আরও অনেক।

দেখুন: যাখাইরুত তুরাসিল আরাবি ১/ ১৬২।

 

‌‌তাঁর ছাত্রবৃন্দ:

১ - শিহাবুদ্দিন আহমাদ বিন আহমাদ আত-তৈয়্যিবি আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৯৮১ হিজরি।

তাঁর জীবনী আল-আ'লাম ১/ ৯১-এ রয়েছে।

২ - নাজমুদ্দিন, মতান্তরে শামসুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন রাজাব আল-বাহনাসি, মৃত্যু ৯৮৬ হিজরি।

তাঁর জীবনী শাজারাতুজ জাহাব ৮/ ৪১০-এ রয়েছে।

৩ - আলাউদ্দীন আলী বিন ইমাদুদ্দীন ইসমাইল বিন মুসা, যিনি ইবনে আলুস নামে পরিচিত, মৃত্যু ৯৭১ হিজরি।

তাঁর জীবনী আশ-শাজারাত (আরনাউত সংস্করণ) ১০/ ৫৩০ এবং মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (রিসালাহ সংস্করণ) ২/ ৪০৬-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১০)
4 - شيخ الإسلام إسماعيل بن أحمد بن إبراهيم النابلسي الشافعي مفتي الشافعية المتوفى سنة 993 هـ.

5 - زين الدين عمر بن محمد بن أبي اليمن المعروف بابن سلطان المتوفى سنة 997 هـ.

ترجمته في الكواكب السائرة 3/ 196، وعرف البسام ص 37.

6 - شيخ الإسلام أحمد بن شرف الدين يونس بن عبد الوهاب العيتاوي الشافعي المتوفى سنة 1025 هـ.

ترجمته في خلاصة الأثر 1/ 369، وكحالة (ط الرسالة) 1/ 331.

7 - شيخ الإسلام شهاب الدين أحمد بن أبي الوفاء علي بن إبراهيم المفلحي الصالحي ثم الدمشقي المتوفى سنة 1035 هـ وقيل سنة 1038 هـ.

ترجمته في النعت الأكمل للكمال ابن الغزي ص 198، وخلاصة الأثر 1/ 165.

8 - القاضي أكمل الدين محمد بن إبراهيم بن عمر بن مفلح المتوفى سنة 1011 هـ.

ترجمته في خلاصة الأثر 3/ 314، والأعلام 5/ 303.

 

‌‌مكانته العلمية وأراء العلماء فيه:

لقد كان ابن طولون من العلماء الذين رسخت أقدامهم في العلم وبلغوا فيه شأوا بعيدا مما دعا الكثير من العلماء إلى وصفه بالعلم والحفظ وهاك أقوال بعضهم:
৪ - শায়খুল ইসলাম ইসমাইল ইবনে আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আন-নাবুলুসি আশ-শাফিয়ি, শাফিয়ি মাজহাবের মুফতি, মৃত্যু: ৯৯৩ হিজরি।

৫ - জয়নুদ্দীন উমর ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবিল ইয়ামান, যিনি ইবনে সুলতান নামে পরিচিত, মৃত্যু: ৯৯৭ হিজরি।

তাঁর জীবনী আল-কাওয়াকিবুস সাইয়িরাহ ৩/১৯৬ এবং আরফাল বাসসাম পৃষ্ঠা ৩৭-এ রয়েছে।

৬ - শায়খুল ইসলাম আহমাদ ইবনে শরাফুদ্দীন ইউনুস ইবনে আবদুল ওয়াহহাব আল-আইতাউয়ি আশ-শাফিয়ি, মৃত্যু: ১০২৫ হিজরি।

তাঁর জীবনী খুলাসাতুল আসার ১/৩৬৯ এবং কাহহালা (রিসালাহ সংস্করণ) ১/৩৩১-এ রয়েছে।

৭ - শায়খুল ইসলাম শিহাবুদ্দীন আহমাদ ইবনে আবিল ওয়াফা আলি ইবনে ইবরাহিম আল-মুফলিহি আস-সালিহি আদ-দিমাশকি, মৃত্যু: ১০৩৫ হিজরি, মতান্তরে ১০৩৮ হিজরি।

তাঁর জীবনী কামিল ইবনুল গাজ্জি রচিত আন-নাতুল আকমাল পৃষ্ঠা ১৯৮ এবং খুলাসাতুল আসার ১/১৬৫-এ রয়েছে।

৮ - কাজি আকমালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে উমর ইবনে মুফলিহ, মৃত্যু: ১০১১ হিজরি।

তাঁর জীবনী খুলাসাতুল আসার ৩/৩১৪ এবং আল-আলাম ৫/৩০৩-এ রয়েছে।

 

‌‌তাঁর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের অভিমত:

ইবনে তুলুন ছিলেন সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যাদের ইলমের ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল এবং যারা এর সুউচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিলেন। যা অনেক আলেমকে তাঁর জ্ঞান ও স্মরণশক্তি সম্পর্কে প্রশংসা করতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর সম্পর্কে কয়েকজনের বক্তব্য নিম্নে দেওয়া হলো:
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১১)
فقد قال عنه الغزي في كواكبه: الإمام العلامة المسند المفنن الفهامة.

وقال عنه ابن العماد الحنبلي في شذراته: الإمام العلامة المسند المؤرخ.

ووصفه العلامة محمد بن جعفر الكتاني في الرسالة المستطرفة:

مسند الشام في عصره.

وترجمه الكتاني الآخر في فهرس الفهارس بقوله: الإمام العلامة المحدث مسند الشام ومفخرته وحافظه.

 

‌‌بعض الأمور المتصلة بحياته:

وكما اشتهر الإمام ابن طولون بالعلم والحفظ في عصره فقد عرف عنه نظم الشعر ولكنه قليل ومن جيّده قوله ملمّحا بالحديث المسلسل بالأولية:

ارحم محبك يا رشا … ترحم من الله العلي

فحديث دمعي من جفا … ك مسلسل بالأولي

ومن شعره:

ميلوا عن الدنيا ولذاتها … فإنها ليست بمحموده

واتبعوا الحق كما ينبغي … فإنها الأنفاس معدوده

فأطيب المأكول من نحلة … وأفخر الملبوس من دوده

كذلك كانت له مشاركة في سائر العلوم حتى في التعبير والطب ومما يروى عنه أن الشيخ أحمد بن سليمان الشلاح قال: كنت عند والدي
আল-গাজ্জি তাঁর 'কাওয়াকিব' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, মুসনিদ, বহুবিদ্যায় পারদর্শী এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব।

এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বালি তাঁর 'শাযারাত' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, মুসনিদ এবং ইতিহাসবিদ।

এবং আল্লামা মুহাম্মাদ বিন জাফর আল-কাত্তানি 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ' গ্রন্থে তাঁকে এভাবে বর্ণনা করেছেন:

তাঁর যুগের শামের মুসনিদ।

এবং অপর কাত্তানি 'ফিহরিসুল ফাহারিস' গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনায় বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, মুহাদ্দিস, শামের মুসনিদ, শামের গর্ব এবং তার হাফেজ।

 

তাঁর জীবন সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়:

ইমাম ইবনে তুলুন তাঁর যুগে যেমন জ্ঞান ও মুখস্থশক্তির জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, তেমনি তিনি কবিতা রচনার জন্যও পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর কবিতার সংখ্যা কম এবং তাঁর অন্যতম উৎকৃষ্ট পঙক্তি হলো এটি, যেখানে তিনি 'হাদিসে মুসালসাল বিল আওয়ালিয়াহ'র (প্রথমত্বের পরম্পরায় বর্ণিত হাদিস) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:

হে সুন্দরী, তোমার প্রেমিককে দয়া করো … তবেই সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে দয়া প্রাপ্ত হবে

কেননা তোমার বিমুখতার কারণে ঝরা আমার অশ্রুর ইতিবৃত্ত … আদিকাল থেকেই নিরবচ্ছিন্ন (মুসালসাল)

তাঁর আরও কবিতা:

দুনিয়া এবং এর ভোগবিলাস থেকে বিমুখ হও … কারণ এটি প্রশংসনীয় নয়

এবং যথাযথভাবে সত্যের অনুসরণ করো … কেননা নিঃশ্বাসগুলো সুনির্ধারিত ও গণনাকৃত

সবচেয়ে সুস্বাদু আহার্য আসে মৌমাছি হতে … আর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পোশাক আসে কীট (রেশম পোকা) হতে

অনুরূপভাবে অন্যান্য সকল শাস্ত্রেও তাঁর পদচারণা ছিল, এমনকি স্বপ্নের ব্যাখ্যা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানেও। তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, শেখ আহমদ বিন সুলাইমান আশ-শাল্লাহ বলেছেন: আমি আমার পিতার নিকট ছিলাম
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১২)
فدخل عليه الشيخ شمس الدين ابن طولون زائرا فلما جلس تقدم رجل من الفقراء فقص على الوالد أنه رأى في منامه النبي صلى الله عليه وسلم وأنه أسود اللون فقال الشيخ سليمان: هذا مولانا الشيخ شمس الدين يعبّر لك هذه الرؤيا فقال الشيخ شمس الدين: هذه الرؤيا تدل على أن الرائي مبتدع مخالف لسنّة النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأن السواد غير صفة النبي صلى الله عليه وسلم، والرؤيا تدل على حال الرائي فالظاهر أنه على غير السّنّة فقال الرجل: ليس في عقيدتي شيء، لكني ربما تشاغلت عن الصلاة. فقال ابن طولون: وأي مخالفة أعظم من الصلاة. فأخذ عليه العهد بالتوبة.

هذا بعض من أحواله رحمه الله فقد قضى حياته في العلم والدرس.

وتوفي رحمه الله يوم الأحد حادي عشر أو ثاني عشر جمادى الأول سنة ثلاث وخمسين وتسعمائة، ودفن بتربتهم عند عمه القاضي جمال الدين بالسفح قبلي الكهف والخوارزمين ولم يعقب أحد ولم يكن له زوجة حين مات.

***
শেখ শামসুদ্দিন ইবনে তুলুন তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে এলেন। তিনি যখন বসলেন, তখন দরিদ্রদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এগিয়ে এল এবং পিতার কাছে বর্ণনা করল যে, সে স্বপ্নে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছে এবং তিনি কৃষ্ণবর্ণের ছিলেন। তখন শেখ সুলাইমান বললেন: আমাদের এই মওলানা শেখ শামসুদ্দিন আপনার এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা করবেন। শেখ শামসুদ্দিন বললেন: এই স্বপ্নটি প্রমাণ করে যে, স্বপ্নদ্রষ্টা একজন বিদয়াতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী; কারণ কালো বর্ণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য নয়। স্বপ্ন স্বপ্নদ্রষ্টার অবস্থারই প্রতিফলন ঘটায়, তাই স্পষ্টত সে সুন্নাহর আদর্শের বাইরে রয়েছে। তখন লোকটি বলল: আমার আকীদায় কোনো বিচ্যুতি নেই, তবে আমি সম্ভবত সালাত আদায়ে গাফিলতি করি। ইবনে তুলুন বললেন: সালাত বর্জন করার চেয়ে বড় অবাধ্যতা আর কী হতে পারে! অতঃপর তিনি তাঁর কাছ থেকে তওবার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন।

এগুলো তাঁর জীবনের কিছু দিক, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন; তিনি তাঁর জীবন জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষাদানে অতিবাহিত করেছেন।

তিনি ৯৫৩ হিজরি সালের জামাদিউল আউয়াল মাসের এগারো বা বারো তারিখ রবিবার ইন্তেকাল করেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁকে তাঁদের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর চাচা কাজী জামালুদ্দিনের পাশে গুহা ও খাওয়ারিজমিনের দক্ষিণ পাদদেশে দাফন করা হয়। তিনি কোনো উত্তরসূরি রেখে যাননি এবং মৃত্যুর সময় তাঁর কোনো স্ত্রীও ছিল না।

***
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌وصف المخطوطة

اعتمدت في تحقيقها على نسخة وحيدة بخط المؤلف، والأصل موجود في خزانة برلين تحت رقم (9880)، وهي من المجموعة التي أهداها (لاند برج) ورقمها في المجموعة (409 - 704) وتتكون من (20) ورقة في كل ورقة (22) سطرا بالخط الدقيق، وهي مصورة عند أستاذي العالم الفاضل الدكتور محمد عيسى صالحين، وقد أهداني هذه المصورة لتحقيقها، فله مني جزيل الشكر ودوام العرفان.

وفي الختام أود أن أشكر أخوين فاضلين فلولا الله سبحانه وتعالى ثم إلحاحهما لم تنشر هذه المخطوطة، وهما الشيخ الفاضل محمد بن ناصر العجمي، والشيخ الفاضل رمزي دمشقية، فجزاهما الله خير الجزاء في الدنيا والآخرة.

وكتبه

مهنّا حمد المهنّا

الكويت-العمرية

في 5 من ذي الحجة سنة 1417 هـ

الموافق 12/ 4/1997 م
পাণ্ডুলিপির বর্ণনা

এর সম্পাদনায় আমি লেখকের স্বহস্তে লিখিত একটি অনন্য পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি। এর মূল কপিটি বার্লিন গ্রন্থাগারে ৯৮৮০ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এটি ল্যান্ডবার্গ কর্তৃক উপহার দেওয়া সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত এবং ওই সংগ্রহে এর নম্বর হলো ৪০৯ - ৭০৪। এটি ২০টি পত্র নিয়ে গঠিত এবং প্রতি পৃষ্ঠায় সূক্ষ্ম হস্তাক্ষরে ২২টি করে লাইন রয়েছে। এটি আমার উস্তাদ, বিদগ্ধ আলেম ডক্টর মুহাম্মদ ঈসা সালিহায়নের নিকট সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির আলোকচিত্র থেকে নেওয়া। তিনি এটি সম্পাদনা করার জন্য আমাকে উপহার দিয়েছেন; তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা ও চিরন্তন শ্রদ্ধা।

পরিশেষে, আমি দুইজন মহৎ ভাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, কেননা মহান আল্লাহ (যিনি পবিত্র ও সুউচ্চ) তাঁর অনুগ্রহের পর তাঁদের বিশেষ আগ্রহ ও পীড়াপীড়ি না থাকলে এই পাণ্ডুলিপিটি প্রকাশিত হতো না। তাঁরা হলেন শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমি এবং শ্রদ্ধেয় শায়খ রামজি দিমাশকিয়াহ। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে ইহকাল ও পরকালে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

লিখেছেন

মুহান্না হামাদ আল-মুহান্না

কুয়েত-উমরিয়াহ

৫ জিলহজ, ১৪১৭ হিজরি

মোতাবেক ১২/ ৪/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১৫)
صورة الصفحة الأولى من المخطوط

صورة الصفحة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি

পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১৭)
إنباء الأمراء بأنباء الوزراء

تأليف شمس الدّين محمّد بن عليّ بن طولون المتوفى سنة 953

تحقيق مهنّا حمد المهنّا
মন্ত্রীদের সংবাদের মাধ্যমে আমিরদের অবহিতকরণ

রচনায় শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে তুলুন, মৃত্যু ৯৫৩ হিজরি

সম্পাদনায় মুহান্না হামদ আল-মুহান্না
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي لا شريك له في ملكه ولا نظير ولا وزير، أحمده على كثرة نعمه علينا وقبل منّا اليسير، وأشهد أن لا إله إلاّ الله وحده السميع البصير، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله السراج المنير، صلّى الله عليه وعلى آله وصحبه كبيرهم والصغير، وبعد:

فهذا تعليق سميته (إنباء الأمراء لأنباء الوزراء) (1) لم يشر عليّ بجمعه مشير وإنما ألهمني لذلك المولى القدير، وبه أستعين فإنه نعم المعين والنّصير، وبالإجابة لكل دعاء جدير.

فنقول: قال الله تعالى: وَاِجْعَلْ لِي وَزِيراً مِنْ أَهْلِي (29) هارُونَ أَخِي (30) اُشْدُدْ بِهِ أَزْرِي (31) وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي (32) كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيراً (33) وَنَذْكُرَكَ كَثِيراً (34) إِنَّكَ كُنْتَ بِنابَصِيراً (35) [طه:29 - 35] يعني قال موسى عليه السلام: يا رب اجعل لي وزيرا من أهلي، هارون أخي، يعينني على ما كلّفتني.

واشتقاق الوزير إما من الوزر لأنه يحمل ثقل أميره أو من الوزر وهو

--------------------------------------------

(1) كذا، وعند الزركلي 6/ 291، ومعجم المؤرخين الدمشقيين 291، وتاريخ آداب اللغة العربية لجرجي زيدان 2/ 307: بأنباء الوزراء.
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যার রাজত্বে কোনো অংশীদার নেই, নেই কোনো সমকক্ষ কিংবা কোনো উজির (সহকারী)। আমি তাঁর প্রশংসা করি আমাদের প্রতি তাঁর অজস্র নিআমতের জন্য, আর তিনি আমাদের পক্ষ থেকে সামান্য আমলই কবুল করেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং প্রদীপ্ত চেরাগ। আল্লাহর দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও ছোট-বড় সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

এটি একটি টীকাগ্রন্থ যার নাম আমি রেখেছি (ইনবাউল উমারা লি-আনবাউল উযারা) (১)। এটি সংকলনের জন্য কোনো পরামর্শদাতা আমাকে পরামর্শ দেননি, বরং মহান পরাক্রমশালী প্রভু আমাকে এ কাজের প্রেরণা দিয়েছেন। আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি, কারণ তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী ও সহযোগী এবং সকল দোয়া কবুল করার যোগ্য।

আমরা বলছি: মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন উজির (সহকারী) নির্ধারণ করে দিন (২৯), আমার ভাই হারুনকে (৩০); তার মাধ্যমে আমার শক্তি বৃদ্ধি করুন (৩১), এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন (৩২), যাতে আমরা আপনার অধিক পরিমাণে পবিত্রতা বর্ণনা করতে পারি (৩৩), এবং আপনাকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করতে পারি (৩৪)। নিশ্চয়ই আপনি আমাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন (৩৫)।” [ত্বহা: ২৯ - ৩৫] অর্থাৎ মুসা আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: হে আমার রব, আমার পরিবার থেকে আমার জন্য একজন উজির নির্ধারণ করে দিন, আমার ভাই হারুনকে, যে আপনার অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমাকে সাহায্য করবে।

উজির শব্দের ব্যুৎপত্তি হয় হয় ‘বিযর’ থেকে, কারণ তিনি তাঁর আমীরের (নেতার) বোঝা বহন করেন, অথবা এটি ‘ওয়াযার’ থেকে যা হলো...

--------------------------------------------

(১) এভাবেই মূল পাঠে আছে; যিরিকলি ৬/২৯১, মু‘জামুল মুয়াররিখিন আদ-দিমাশকিয়্যিন ২৯১ এবং জর্জি যায়দানের তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ ২/৩০৭-এ রয়েছে: বি-আনবায়িল উযারা।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২০)
الملجأ لأن الأمير يعتصم برأيه ويلتجىء إليه في أموره، ومنه الموازرة، وقيل أصله من أزير من الأزر بمعنى القوة فعيل بمعنى فاعل، كالعشير والجليس قلبت همزتها كقلبها في موازن.

وقال أبو البقاء (1): وزيرا الواو أصل لأنه من الوزر والموازرة، وقيل: هي بدل من الهمزة لأن الوزير يشد أزر الموازر وهو قليل، وفعيل هنا بمعنى الفاعل كالخليط.

وفي الصحاح (2): الوزير: الموازر كالأكيل والمواكل لأنه يحمل عنه (3) وزره. والوزارة لغة في الوزارة. انتهى.

وفي مفعولي اجعل ثلاثة أوجه:

أحدها: أنهما وزير وهارون، ولكن قدّم المفعول الثاني للعناية، فعلى هذا يجوز أن يتعلق (لي) ب (اجعل) وأن يكون حالا من وزير.

الثاني: أن يكون، «وزيرا»، مفعولا أول و «لي» الثاني و «هارون» بدل أو عطف بيان و «أخي» كذلك.

والثالث: أن يكون المفعول الثاني «من أهلي» و «لي» تبيين، مثل قوله تعالى: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ (4)} [الإخلاص]، و «هارون أخي» على ما تقدم ويجوز أن ينتصب «هارون» بفعل محذوف، أي اضمم

--------------------------------------------

(1) في كتابه (التبيان في إعراب القرآن) 2/ 890، وهو الإمام النحوي اللغوي محب الدين عبد الله بن الحسين بن عبد الله العكبري، المتوفى سنة 616 هـ، ترجمته في إنباه الرواة 2/ 116.

(2) للجوهري 2/ 845.

(3) في الأصل: عليه.
আশ্রয়স্থল; কেননা নেতা তার মতামতের আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং তার কার্যাবলিতে তার শরণাপন্ন হন। এ থেকেই 'সহযোগিতা' (মুয়াযারা) শব্দটি এসেছে। বলা হয়ে থাকে যে, এর মূল হলো 'আযীর' যা 'আযর' থেকে গৃহীত যার অর্থ শক্তি। এটি 'ফাঈল' ওজনে 'ফাইল' (কর্তা) এর অর্থ প্রদান করে, যেমন 'সঙ্গী' এবং 'সহচর'। এর হামযাহ বর্ণটি 'ওয়াও' তে পরিবর্তিত হয়েছে যেমন 'মুয়াযিন' শব্দের ক্ষেত্রে হয়েছে।

আবু আল-বাকা (১) বলেন: 'উজির' (সহযোগী) শব্দে 'ওয়াও' বর্ণটি মূল, কারণ এটি 'বোঝা' এবং 'সহযোগিতা' থেকে এসেছে। আবার বলা হয়েছে: এটি হামযাহ-এর স্থলাভিষিক্ত, কারণ উজির সাহায্যপ্রার্থীর শক্তি মজবুত করেন, তবে এই ব্যবহার বিরল। এখানে 'ফাঈল' ওজনটি 'ফাইল' (কর্তা) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন 'মিশ্রণকারী'।

'আস-সিহাহ' (২) গ্রন্থে রয়েছে: উজির বা মন্ত্রী হলেন সাহায্যকারী, যেমন 'ভোজনকারী' এবং 'সহ-ভোজনকারী', কারণ তিনি তার বোঝা বহন করেন (৩)। 'ওয়াযারাহ' শব্দটি 'উযারাহ' এর একটি ভাষাগত রূপ। সমাপ্ত।

'নির্ধারণ করুন' (ইজআল) ক্রিয়াটির দুটি কর্মপদের ক্ষেত্রে তিনটি সম্ভাবনা রয়েছে:

প্রথমত: কর্মপদ দুটি হলো 'উজির' এবং 'হারুন', তবে গুরুত্ব প্রদানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় কর্মপদটিকে আগে আনা হয়েছে। এমতাবস্থায় 'আমার জন্য' (লী) অংশটি 'নির্ধারণ করুন' ক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হওয়া বৈধ, অথবা এটি 'উজির' থেকে 'অবস্থা' (হাল) হিসেবেও হতে পারে।

দ্বিতীয়ত: 'উজির' শব্দটি প্রথম কর্মপদ এবং 'আমার জন্য' অংশটি দ্বিতীয় কর্মপদ হবে। আর 'হারুন' শব্দটি হবে 'বদলি' (বাদাল) বা 'পরিচয়জ্ঞাপক' (আতফে বায়ান), আর 'আমার ভাই' শব্দটিও তদ্রূপ হবে।

তৃতীয়ত: দ্বিতীয় কর্মপদ হবে 'আমার পরিবার থেকে' এবং 'আমার জন্য' অংশটি হবে ব্যাখ্যামূলক, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (৪)" [সূরা আল-ইখলাস], আর 'হারুন আমার ভাই' পূর্বোক্ত নিয়ম অনুযায়ী হবে। এছাড়া 'হারুন' শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা জবরযুক্ত হওয়াও বৈধ, যার অর্থ 'সংযুক্ত করুন'।

--------------------------------------------

(১) তাঁর 'আত-তিবয়ান ফী ই'রাবিল কুরআন' গ্রন্থে ২/৮৯০; তিনি হলেন ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদ ইমাম মুহিব্বুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-উকবুরী, মৃত্যু ৬১৬ হিজরী। তাঁর জীবনী 'ইনবাহুর রুওয়াত' ২/১১৬ তে বর্ণিত হয়েছে।

(২) আল-জাওহারী রচিত, ২/৮৪৫।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: তাঁর ওপর।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২১)
إليّ هارون «اشدد» يقرأ بقطع الهمزة، «وأشركه» بضمها وجزمها على جواب الدعاء وهي قراءة ابن عامر (1) ويقرآن على لفظ الأمر «كي نسبحك كثيرا ونذكرك كثيرا» أي تسبيحا كثيرا [أ] (2) ووقتا كثيرا فإن التعاون يهيّج الرغبات ويؤدي إلى تكاثر الخير وتزايده، «إنك كنت بنا بصيرا» أي عالما بأحوالنا فإن التعاون مما يصلحنا وأن هارون نعم الولي لي فيما أمرتني به.

…

--------------------------------------------

(1) انظر التبصرة في القراءات لمكي بن أبي طالب ص 259.

(2) استدركتها من التبيان.
আমার নিকট হারুনকে (দিন) «অশদুদ» (শক্তিশালী করুন) এটি হামজাতুল কাত’ যোগে পঠিত হয়, এবং «ওয়া আশরিকহু» (এবং তাকে অংশীদার করুন) এটি হামজায় পেশ এবং শেষে জজম সহকারে দোয়ার উত্তর হিসেবে পঠিত হয়; এটি ইবনে আমিরের কিরাত (১) এবং উভয়টি নির্দেশবাচক শব্দরূপে পঠিত হয় «যাতে আমরা আপনার অনেক বেশি পবিত্রতা ঘোষণা করি এবং আপনাকে অনেক বেশি স্মরণ করি» অর্থাৎ অনেক বেশি তাসবীহ [আ] (২) এবং দীর্ঘ সময় ধরে; কেননা সহযোগিতা সৎকাজের আকাঙ্ক্ষাকে উদ্দীপিত করে এবং কল্যাণের প্রবৃদ্ধি ও আধিক্যের দিকে নিয়ে যায়, «নিশ্চয় আপনি আমাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা» অর্থাৎ আমাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত; কেননা পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের সংশোধনের অন্যতম মাধ্যম এবং আপনি আমাকে যা আদেশ করেছেন, তাতে হারুন আমার জন্য এক উত্তম সাহায্যকারী।

…

--------------------------------------------

(১) মাক্কী বিন আবি তালিব রচিত ‘আত-তাবসিরা ফিল কিরাত’ দেখুন, পৃষ্ঠা ২৫৯।

(২) আমি এটি ‘আত-তিবয়ান’ থেকে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২২)
ومن أعيان الوزراء:

 

‌‌1 - أبو المواهب القميّ (1)

وكان يدّعي أنه شريف علوي، وكان وزيرا للإمام الناصر/وكتب إليه نجم الدين يعقوب بن صابر المنجنيقي يعرّض بهذا الوزير:

خليليّ قولا للخليفة أحمد (2) … توقّ وقيت الشرّ ما أنت صانع

وزيرك هذا بين أمرين فيهما … صنيعك يا خير البرية ضائع

فإن كان حقّا من سلالة أحمد … فهذا وزير في الخلافة طامع

وإن كان فيما يدّعي غير صادق … فأضيع ما كانت لديه الصنايع

فلما وقف الناصر عليها كانت سبب تغيّره عليه وأمر فخرج إليه مملوكان مسرعين فهجما على الوزير في داره وضرباه بدواته على رأسه

--------------------------------------------

(1) أبو الحسن نصير الدين ناصر بن مهدي بن حمزة المازندراني. قبض عليه الخليفة الناصر لدين الله العباسي سنة 604 هـ. وتوفي سنة 617 هـ، ترجمته في الكامل 12/ 276، وتاريخ الإسلام (طبقة 62) ص 348، والفخري 325، والذيل على الروضتين 59 و 124، ونهاية الأرب 23/ 315.

(2) في الحوادث الجامعة 11، والذيل على الروضتين 60: حيدر.
এবং বিশিষ্ট উজিরদের মধ্যে হলেন:

 

‌‌১ - আবুল মাওয়াহিব আল-কুম্মী (১)

তিনি দাবি করতেন যে তিনি একজন আলীয় শরীফ ছিলেন এবং তিনি ইমাম আন-নাসিরের উজির ছিলেন। নাজম উদ্দীন ইয়াকুব ইবনে সাবির আল-মানজানিমি এই উজিরের প্রতি ইঙ্গিত করে খলিফার নিকট লিখেছিলেন:

হে আমার দুই বন্ধু, খলিফা আহমদকে (২) বলো … সতর্ক হোন, আপনি অনিষ্ট থেকে রক্ষা পান, আপনি কী করছেন!

আপনার এই উজির এমন দুই বিষয়ের মধ্যে আছেন যাতে … হে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, আপনার সদাচরণ বৃথা যাচ্ছে।

যদি তিনি প্রকৃতপক্ষে আহমদের বংশধর হন … তবে তিনি খিলাফতের লোভী এক উজির।

আর তিনি যদি তাঁর দাবিতে সত্যবাদী না হন … তবে আপনার সব অনুগ্রহ তাঁর নিকট চরমভাবে বিফলে গেছে।

যখন আন-নাসির এটি অবগত হলেন, তখন এটি উজিরের প্রতি তাঁর মন পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়াল এবং তিনি আদেশ দিলেন। ফলে দুইজন মামলুক দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে উজিরের বাড়িতে তাঁর ওপর চড়াও হলো এবং তাঁর দোয়াত দিয়েই তাঁর মাথায় আঘাত করল।

--------------------------------------------

(১) আবুল হাসান নাসিরুদ্দীন নাসির ইবনে মাহদী ইবনে হামজা আল-মাজান্দারানি। আব্বাসীয় খলিফা আন-নাসির লিদীনিল্লাহ ৬০৪ হিজরি সনে তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি ৬১৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী রয়েছে আল-কামিল ১২/২৭৬, তারিখুল ইসলাম (স্তর ৬২) পৃ. ৩৪৮, আল-ফাখরি ৩২৫, আয-যাইল আলা রওদাতাইন ৫৯ ও ১২৪ এবং নিহায়াতুল আরাব ২৩/৩১৫ গ্রন্থে।

(২) আল-হাওয়াদিস আল-জামিআ ১১ এবং আয-যাইল আলা রওদাতাইন ৬০-এ রয়েছে: হায়দার।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وحملاه إلى المطبق (1) فكتب إلى الخليفة:

إلقني في لظى فإن غيّرتني (2) … فتيقن أن لست بالياقوت

عرف (3) النسج كلّ من حاك لكن … ليس داود فيه كالعنكبوت (4)

فكتب إليه الخليفة الجواب:

نسج داود لم يفد صاحب (5) الغا … ر وكان الفخار للعنكبوت

وبقاء السّمند في لهب النا … ر يزيل (6) فضيلة الياقوت

اخترناك فصرفناك، واختبرناك فعرفناك والسّلام.

ومن ها هنا أخذ المعنى ناصر الدين حسن بن النقيب:

ودود القزّ إن نسجت حريرا … يجمل لبسه في كلّ شيّ

فإن العنكبوت أجلّ منها … بما نسجت على رأس النبيّ

وعلى ذكر العنكبوت ودود القز ذكرت قول محمد بن أبي الحسن المعروف بالأردخل:

أقول إذا قالوا نراك مقطّبا … إذا ما ادّعى دين الهوى غير أهله

--------------------------------------------

(1) المطبق: هو السجن تحت الأرض. متن اللغة 3/ 583.

(2) كذا، وفي وفيات الأعيان 7/ 41: احرقتني.

(3) كذا بالأصل وفي الوفيات: جمع.

(4) نقل إحسان عباس عن ابن الشعار أن الأبيات للقاضي الفاضل. وفيات الأعيان 7/ 41 الحاشية.

(5) في الوفيات: ليله.

(6) في الوفيات: مزيل.
তারা তাকে মুতবাকে (১) নিয়ে গেল। তখন তিনি খলিফার নিকট লিখলেন:

আমাকে অগ্নিশিখায় নিক্ষেপ করুন, যদি তা আমাকে পরিবর্তিত করে দেয় (২) … তবে নিশ্চিত জেনে নিন যে আমি ইয়াকুত (মণি) নই।

বয়নকারী মাত্রই বুনন শিল্প সম্পর্কে অবগত, কিন্তু … দাউদ এ ক্ষেত্রে মাকড়সার মতো নন। (৪)

তখন খলিফা তাকে উত্তরে লিখলেন:

দাউদের বুনন গুহার সাথীর (৫) কোনো উপকারে আসেনি … বরং শ্রেষ্ঠত্ব ছিল মাকড়সার জন্য।

আর আগুনের লেলিহান শিখায় সামান্দালের (অগ্নি-প্রাণী) টিকে থাকা … ইয়াকুতের শ্রেষ্ঠত্বকে বিলুপ্ত (৬) করে দেয়।

আমরা আপনাকে নির্বাচন করেছি ও নিয়োগ দিয়েছি, এবং আপনাকে পরীক্ষা করেছি ও চিনে নিয়েছি। ইতি।

আর এখান থেকেই নাসেরুদ্দিন হাসান ইবনুল নাকীব এই ভাবটি গ্রহণ করেছেন:

রেশম পোকা যদি রেশম বুনে … তবে তার পরিধান সব কিছুতেই সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়।

কিন্তু মাকড়সা তার চেয়েও অধিক মহিমান্বিত … যেহেতু সে নবীর মাথার উপরে জাল বুনেছিল।

মাকড়সা এবং রেশম পোকার বর্ণনার সূত্রে আমি মুহাম্মদ ইবনে আবুল হাসান আল-আরদাখাল হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির উক্তিটি স্মরণ করলাম:

আমি বলি যখন তারা বলে আমি তোমাকে বিমর্ষ দেখছি … যখন অযোগ্যরা ভালোবাসার ধর্মের দাবি করে।

--------------------------------------------

(১) মুতবাক: এটি ভূগর্ভস্থ কারাগার। মাতনুল লুগাহ ৩/৫৮৩।

(২) মূলে এরূপই আছে, তবে ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৭/৪১-এ রয়েছে: 'আপনি আমাকে পুড়িয়ে দিয়েছেন'।

(৩) মূলে এরূপই আছে, আর ওয়াফায়াত গ্রন্থে রয়েছে: 'একত্রিত করা'।

(৪) ইহসান আব্বাস ইবনুশ শাআর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এই পঙক্তিগুলো কাজী আল-ফাদিলের। ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৭/৪১ (টীকা)।

(৫) ওয়াফায়াত গ্রন্থে রয়েছে: 'তার রাত্রি'।

(৬) ওয়াফায়াত গ্রন্থে রয়েছে: 'বিনাশকারী'।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৪)
يحقّ لدود القزّ يقتل نفسه … إذا جاء بيت العنكبوت بمثله (1)

وقال الآخر وهو أبو محمد القاسم بن القاسم بن عمر بن منصور الواسطي شارح «المقامات»:

حق دود القزّ يبني … فوقه ثم يموت

بعد ما سدّى وقد صا … ر يسدّي العنكبوت (2)

…

--------------------------------------------

(1) البيتان في وفيات الأعيان 7/ 42.

(2) البيتان في الوفيات 7/ 41.
রেশম পোকার নিজেকে হত্যা করাই সংগত … যদি মাকড়সার জাল তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসে (১)

অপর এক কবি বলেছেন, আর তিনি হলেন আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম ইবনে আল-কাসিম ইবনে উমর ইবনে মনসুর আল-ওয়াসিতি, যিনি ‘আল-মাকামাত’-এর ব্যাখ্যাকারী:

রেশম পোকার সংগত কাজ হলো বুনন করা … নিজের উপরে এবং তারপর মৃত্যুবরণ করা

বুননের সুতা টানার পর, অথচ এখন মাকড়সাও … সুতা টানতে শুরু করেছে (২)

…

--------------------------------------------

(১) কবিতা দুটি ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ ৭/৪২-এ রয়েছে।

(২) কবিতা দুটি ‘ওয়াফায়াত’ ৭/৪১-এ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومن أعيانهم:

 

‌‌2 - الوزير أبو الحسن القاسم

ابن عبيد الله بن سليمان بن وهب
(1)

وزير الإمام المعتضد كان عظيم الهيبة، شديد الإقدام، سفاكا للدماء، الصغير والكبير منه على وجل لا يعرف أحد من أرباب الأموال معه نعمة.

ذكر ابن خلّكان (2): في ترجمة أبي الحسن علي بن الرومي الشاعر المشهور أن له في الهجاء كل معنى طريف، وكان الوزير أبو الحسن ابن وهب يخاف من هجوه وفلتات لسانه بالفحش، فدس عليه ابن فراس فأطعمه خشكنانه (3) مسمومة وهو في مجلسه فلما أكلها وأحس بالسم قام، فقال له الوزير: إلى أين تذهب؟ فقال: إلى الموضع الذي بعثتني

--------------------------------------------

(1) ترجمته في سير أعلام النبلاء 14/ 18، وانظر حاشيته، والمنتظم 6/ 46، ووفيات الأعيان 3/ 361.

(2) في وفيات الأعيان 3/ 361.

(3) في الوفيات: خشكنانجه وكلاهما صحيح، والخشكنانه نوع من الخبز يعمل بالزبد والسكر واللوز والفستق، كما في تكملة المعاجم العربية لدوزى 4/ 102.
এবং তাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে:

 

‌‌২ - উজির আবুল হাসান আল-কাসিম

ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে সুলায়মান ইবনে ওয়াহাব
(১)

তিনি ইমাম আল-মুতাদিদ-এর উজির ছিলেন। তিনি অত্যন্ত প্রতাপশালী, অতিশয় দুঃসাহসী এবং রক্তপাতকারী ছিলেন। ছোট-বড় সবাই তাকে নিয়ে সর্বদা ভয়ে তটস্থ থাকত। তার উপস্থিতিতে সম্পদশালী ব্যক্তিদের কেউই কোনো স্বস্তি বা নেয়ামত অনুভব করত না।

ইবনে খাল্লিকান (২) বিখ্যাত কবি আবুল হাসান আলী বিন আর-রুমীর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে, বিদ্রূপাত্মক কবিতার ক্ষেত্রে তার এক অভিনব শৈলী ছিল। উজির আবুল হাসান ইবনে ওয়াহাব তার বিদ্রূপাত্মক কবিতা এবং অশালীন বাকপটুতাকে ভয় পেতেন। তাই তিনি ইবনে ফিরাসের মাধ্যমে তাকে বিষ মিশ্রিত খুশকুনানা (৩) খাওয়ান যখন তিনি তার মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। যখন তিনি তা খেলেন এবং বিষের প্রভাব অনুভব করলেন, তখন তিনি উঠে দাঁড়ালেন। উজির তাকে জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কোথায় যাচ্ছেন? তিনি উত্তর দিলেন: আপনি আমাকে যেখানে পাঠিয়েছেন সেখানেই যাচ্ছি।

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১৪/১৮ এবং এর টীকা; আল-মুনতাজাম ৬/৪৬; এবং ওফায়াতুল আইয়ান ৩/৩৬১।

(২) ওফায়াতুল আইয়ান ৩/৩৬১ তে।

(৩) ওফায়াতুল আইয়ানে এসেছে: 'খুশকনানজাহ' এবং উভয়টিই সঠিক। খুশকুনানা হলো মাখন, চিনি, কাঠবাদাম এবং পেস্তা বাদাম দিয়ে তৈরি এক বিশেষ প্রকারের রুটি, যেমনটি ডোজির 'তাকমিলাতুল মাআজিম আল-আরাবিয়্যাহ' ৪/১০২ তে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৬)
إليه (1). فقال له: سلّم لي على والدي. فقال: ما طريقي على النار.

فخرج من مجلسه وأتى منزله فأقام أياما ومات يوم الأربعاء لليلتين بقيتا من جمادى الأولى سنة ثلاث وثمانين وقيل أربع وثمانين وقيل ست وسبعين ومائتين ببغداد، ودفن في مقبرة باب البستان.

قال: وكان الطبيب يتردد إليه ويعالجه بالأدوية النافعة للسم فزعم أنه غلط عليه في بعض العقاقير.

قال إبراهيم بن محمد بن عرفة الأزدي المعروف بنفطويه، رأيت ابن الرومي وهو يجود بنفسه، فقلت: ما حالك؟ فأنشد:

غلط الطبيب عليّ غلطة مورد … عجزت موارده عن الإصدار

والناس يلحون الطبيب وإنّما … غلط الطبيب إصابة المقدار

وقال أبو عثمان الناجم الشاعر: دخلت على ابن الرومي أعوده فوجدته يجود بنفسه، فلما قمت من عنده قال لي:

أبا عثمان أنت حميد قومك … وجودك للعشيرة دون لومك (2)

تزوّد من أخيك فما أراه … يراك ولا تراه بعد يومك

وتوفي الوزير المذكور عشية الأربعاء لعشر خلون من شهر ربيع الأول (3) سنة إحدى وتسعين ومائتين في خلافة المكتفي وعمره نيّف وثلاثون سنة وفي ذلك يقول عبد الله بن الحسن بن سعد:

--------------------------------------------

(1) في الأصل: عليه.

(2) في الأصل: يومك والتصحيح من الوفيات.

(3) كذا بالأصل وفي الوفيات 3/ 362: ربيع الآخر، وسير النبلاء 14/ 20: في ذي القعدة.
তার নিকট (১)। অতঃপর তিনি তাকে বললেন: আমার পক্ষ থেকে আমার পিতাকে সালাম দিও। তিনি বললেন: জাহান্নামের দিকে তো আমার পথ নয়।

অতঃপর তিনি তার মজলিস থেকে বের হয়ে নিজ গৃহে আসলেন এবং কয়েক দিন অবস্থান করলেন। তিনি দুইশত তিরাশি হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসের দুই দিন বাকি থাকতে বুধবার দিন ইন্তেকাল করেন। বলা হয়েছে যে, দুইশত চুরাশি হিজরী অথবা দুইশত ছিয়াত্তর হিজরী সনে বাগদাদে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাকে ‘বাবুল বুস্তান’ কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি বলেন: চিকিৎসক নিয়মিত তার কাছে আসতেন এবং বিষক্রিয়া নিরাময়ে উপকারী ওষুধ দিয়ে তার চিকিৎসা করতেন। তবে তিনি (বর্ণনাকারী) দাবি করেন যে, চিকিৎসক কোনো একটি ভেষজ ওষুধের ক্ষেত্রে ভুল করেছিলেন।

‘নাফতাওয়াইহ’ নামে পরিচিত ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আরাফাহ আল-আযদি বলেন: আমি ইবনুল রুমিকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনার অবস্থা কী? তখন তিনি আবৃত্তি করলেন:

চিকিৎসক আমার প্রতি এমন এক ভুল করেছেন যা আমাকে অন্তিম গন্তব্যে নিয়ে গেছে … যেখান থেকে ফিরে আসার সাধ্য কারো নেই।

মানুষ চিকিৎসককে ভর্ৎসনা করে, অথচ চিকিৎসকের ভুল … আসলে তাকদিরের লিখন অনুযায়ীই সংঘটিত হয়।

কবি আবু উসমান আল-নাজিম বলেন: আমি ইবনুল রুমির সেবা করতে তার কাছে গেলাম এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেলাম। যখন আমি তার কাছ থেকে উঠে আসতে চাইলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন:

হে আবু উসমান, তুমি তোমার সম্প্রদায়ের নিকট প্রশংসিত … আর তোমার গোত্রের প্রতি তোমার দানশীলতা অনিন্দ্য (২)।

তোমার ভাইয়ের কাছ থেকে শেষ পাথেয় সংগ্রহ করে নাও, কারণ আমি মনে করি না যে … আজকের দিনের পর সে তোমাকে দেখবে অথবা তুমি তাকে দেখবে।

উক্ত উজির আল-মুক্তাফির খিলাফতকালে দুইশত একানব্বই হিজরী সনের দশই রবিউল আউয়াল (৩) বুধবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স ছিল ত্রিশ বছরের কিছু বেশি। এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে সাদ বলেন:

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: তার উপরে।

(২) মূল পাঠে: তোমার দিন। সংশোধন ‘আল-ওয়াফايات’ থেকে গৃহীত।

(৩) মূল পাঠে এভাবেই আছে। তবে ‘আল-ওয়াফايات’ (৩/৩৬২) গ্রন্থে রয়েছে: রবিউল আখির, এবং ‘সিয়ারুল আলামিন নুবালা’ (১৪/২০) গ্রন্থে রয়েছে: জিলকদ মাস।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৭)
شربنا عشية مات الوزير … سرورا ونشرب في ثالثه

فلا رحم الله تلك العظام … ولا بارك الله في وارثه

قلت وفي معنى هذين البيتين قول بعضهم:

أقول وقد مرّ بي نعشه … إلى سقر الله روح الشّقي

فلا رحم الله من قد مضى … ولا رضي الله عمن بقي

قال ابن خلكان (1): وكان لهذا الوزير أخ يقال [له] (2) أبو محمد الحسن، فمات في حياة أبيه وحياة الوزير فعمل أبو الحارث النوفلي وقيل -البسّامي-وهو الأصح ثم رأيت في (الذيل) (3) للسمعاني في ترجمة علي بن المقلد بن عبد الله بن كرامة البواب، أن أبا الحارث النوفلي قال:

كنت أبغض القاسم بن عبيد الله لمكروه نالني منه فلما مات أخوه الحسن كتبت على لسان البسّامي، وأنشد هذه الأبيات، وقال السمعاني قبل هذا الكلام: وقال أبو بكر الصولي النديم: وقد رأيت أبا الحارث هذا وكان رجلا صدوقا:

قل لأبي القاسم المرزّا … قابلك الدهر بالعجائب

مات لك ابن وكان زينا … وعاش ذو الشّين والمعايب

--------------------------------------------

(1) في الوفيات:3/ 362.

(2) ساقطة من الأصل.

(3) وهو ذيل تاريخ بغداد للخطيب البغدادي. انظر عنه تاريخ الأدب العربي لبروكلمان 6/ 63، والسمعاني هو أبو سعد عبد الكريم بن محمد بن منصور المروزي المحدث والمؤرخ صاحب (الأنساب) و (أدب الإملاء والاستملاء) توفي سنة 562 هـ.
আমরা পান করেছি সেই সন্ধ্যায় যখন উজির মারা গেল … আনন্দের সাথে, আর আমরা পান করব তার (মৃত্যুর) তৃতীয় দিনে

আল্লাহ যেন সেই অস্থিগুলোর ওপর দয়া না করেন … আর আল্লাহ যেন তার উত্তরাধিকারীর মধ্যে বরকত না দেন

আমি বলছি, এই দুই পঙক্তির অর্থেই কারো একজনের উক্তি হলো:

আমি বলছিলাম যখন তার কফিন আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিল … এই দুর্ভাগার আত্মা আল্লাহর সাকার (জাহান্নাম)-এর দিকে যাক

সুতরাং আল্লাহ যেন তার ওপর দয়া না করেন যে গত হয়েছে … আর আল্লাহ যেন তাদের ওপর সন্তুষ্ট না হন যারা অবশিষ্ট আছে

ইবনুল খাল্লিকান (১) বলেন: এই উজিরের একজন ভাই ছিল যাকে বলা হতো [তার নাম] (২) আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান। সে তার পিতার জীবদ্দশায় এবং উজিরের জীবদ্দশায় মারা যায়। তখন আবু আল-হারিস আন-নাওফালি—মতান্তরে আল-বাসসামি, যা অধিকতর সঠিক—কবিতা রচনা করেন। এরপর আমি আস-সাম'আনির (আয-যাইল) (৩) গ্রন্থে আলী ইবনুল মুকাল্লাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কারামাহ আল-বাওয়াব-এর জীবনীতে দেখেছি যে, আবু আল-হারিস আন-নাওফালি বলেছেন:

আমি আল-কাসিম ইবনে উবাইদুল্লাহকে ঘৃণা করতাম তার পক্ষ থেকে আমার প্রতি পৌঁছানো একটি অপছন্দনীয় আচরণের কারণে। যখন তার ভাই হাসান মারা গেল, তখন আমি আল-বাসসামির ভাষায় লিখলাম এবং এই পঙক্তিগুলো আবৃত্তি করলাম। আস-সাম'আনি এই বক্তব্যের আগে বলেছেন: আবু বকর আস-সুলি আন-নাদিম বলেছেন: আমি এই আবু আল-হারিসকে দেখেছি এবং সে একজন সত্যবাদী লোক ছিল:

বিপদগ্রস্ত আবু আল-কাসিমকে বলো … মহাকাল তোমাকে বিস্ময়কর সব ঘটনার সম্মুখীন করেছে

তোমার এমন এক পুত্র মারা গেছে যে ছিল তোমার শোভাস্বরূপ … আর সে বেঁচে রইল যে কলঙ্ক ও দোষে ভরপুর

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াফায়াত গ্রন্থে: ৩/ ৩৬২।

(২) মূল পাঠ থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) এটি খতিব আল-বাগদাদির তারিখে বাগদাদ-এর পরিশিষ্ট (যাইল)। এ সম্পর্কে ব্রোকলম্যানের তারিখুল আদাবিল আরাবি ৬/ ৬৩ দেখুন। আর সাম'আনি হলেন আবু সা'দ আব্দুল কারিম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মানসুর আল-মারওয়াযি, মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক, যিনি (আল-আনসাব) ও (আদাবুল ইমলা ওয়াল ইসতিমলা) এর রচয়িতা; তিনি ৫৬২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৮)
حياة هذا كموت هذا … فلست تخلو من المصايب

قال: وعمل آخر في المعنى ولا أعرفه.

قل لأبي القاسم المرزّا … وناد يا ذا المصيبتين

مات لك ابن وكان زينا … وعاش شين وابن (1) شين

حياة هذا كموت هذا … فالطم على الرأس باليدين

انتهى كلام ابن خلكان.

ويقرب من هذا المعنى قول الشيخ شمس الدين محمد بن الصايغ الحنفي يرثي الشيخ جمال الدين عبد الرحيم الإسنوي:

أتيت يا موت بخطب عظيم … وجئت بالأمر المرّ الجسيم

الجاهل الناقص أبقيته … و/رحت بالفاضل عبد الرحيم

ونسج الشمس النواجي على هذا فقال:

كأن جمالا درّ لفظة ألفاظه … من فوق جيد الدهر عقد نظيم

لهفي عليه إذا غدا راحلا … وصار ذاك الدرّ درّا يتيم

قلت: ورأيت بخط هذا الوزير [أن] (2) موسى صلوات الله عليه لما أمره الله تعالى بالرسالة إلى فرعون لدعوته إلى الإيمان سأل الله تعالى أن يكون أخوه هارون معه قال الله تعالى: وَاِجْعَلْ لِي وَزِيراً مِنْ أَهْلِي (29) هارُونَ أَخِي (30) اُشْدُدْ بِهِ أَزْرِي (31) وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي (32) (3) [طه:29،32]، وقال

--------------------------------------------

(1) في الوفيات: وأي.

(2) الزيادة يقتضيها السياق.

(3) أمري: في الأصل: «أحمره».
একজনের জীবন যেন অন্যজনের মৃত্যু … তাই তুমি মুসিবত থেকে মুক্ত নও।

তিনি বলেন: একই অর্থে অন্য একটি রচনাও রয়েছে যা আমার জানা নেই।

আবুল কাসেম আল-মারযাকে বলো … আর আহ্বান করো: হে দুই বিপদের অধিকারী!

তোমার এক পুত্র মারা গেছে যে ছিল সৌন্দর্যস্বরূপ … আর বেঁচে থাকল এক কলঙ্কিত এবং কলঙ্কিতের (১) পুত্র।

একজনের জীবন যেন অন্যজনের মৃত্যু … তাই দুই হাত দিয়ে মাথায় আঘাত করো।

ইবনে খাল্লিকানের বক্তব্য এখানে সমাপ্ত।

এই অর্থের কাছাকাছি হলো শেখ শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনুল সায়িগ আল-হানাফির উক্তি, যখন তিনি শেখ জামালুদ্দিন আব্দুর রহিম আল-ইসনাবির জন্য শোকগাঁথা রচনা করেছিলেন:

হে মৃত্যু! তুমি এক মহা বিপদ নিয়ে এসেছ … আর নিয়ে এসেছ এক তিক্ত ও গুরুতর বিষয়।

অজ্ঞ ও অপূর্ণ ব্যক্তিকে তুমি বাঁচিয়ে রেখেছ … আর নিয়ে গিয়েছ গুণী আব্দুর রহিমকে।

আশ-শামস আন-নাওয়াজি এই ধারায় কাব্য রচনা করে বলেছেন:

যেন জামালের শব্দের মুক্তাসমূহ … কালের গ্রীবায় এক সুসজ্জিত কণ্ঠহার।

তার জন্য আমার আক্ষেপ, যখন সে প্রস্থান করল … আর সেই মুক্তাটি হয়ে গেল এক অনন্য একাকী মুক্তা।

আমি বলছি: এই উজিরের হস্তলিপিতে আমি দেখেছি যে, যখন মহান আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-কে ফেরাউনের কাছে ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার জন্য রিসালাতের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন যেন তার ভাই হারুন তার সাথে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন: 'আর আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার জন্য একজন সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দিন (২৯) আমার ভাই হারুনকে (৩০) তার মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন (৩১) এবং তাকে আমার কাজে অংশীদার করুন (৩২)' [ত্বহা: ২৯-৩২], এবং তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াফায়াত গ্রন্থে রয়েছে: এবং কোনো এক।

(২) প্রসঙ্গের প্রয়োজনে এই সংযোজন করা হয়েছে।

(৩) আমরি (আমার কাজ): মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল: 'আহমারুহু'।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ২৯)
النبي صلى الله عليه وسلم: إذا أراد الله بملك خيرا، قيّض له وزيرا صالحا، إن نسي ذكره، وإن نوى خيرا أعانه، وإن أراد شرا كفه عنه (1).

وكان أنوشروان يقول: لا يستغني أجود السيف عن الصقل، ولا أكرم الدواب عن السوط، ولا أعلم الملوك عن الوزير.

قلت: ولو لم يكن في الوزير إلاّ المشورة لكان كافيا، قال الله تعالى فيما أدب به رسول الله صلى الله عليه وسلم: وَشاوِرْهُمْ فِي اَلْأَمْرِ [آل عمران:159]، وقال الصلاح الصفدي: وما أحسن قول الشاعر:

إذا عنّ أمر فاستشر به صاحبا … وإن كنت ذا رأي تشير على الصّحب

فإني رأيت العين تجهل نفسها … وتدرك ما قد جلّ في موضع الشّهب

وقلت أنا في المشورة:

لا تسع في أمر ولا تعمل به … ما لم يزنه لديك عقل ثاني

فالشعر معتدل بوزن عروضه … وكذا اعتدال الشمس بالميزان

…

--------------------------------------------

(1) لم أجده بهذا اللفظ ووجدت عند أبي داود في سننه 3/ 131 (2932)، إذا أراد الله بالأمير خيرا جعل له وزير صدق: إن نسي ذكره وإن ذكر أعانه، وإذا أراد الله به غير ذلك جعل له وزير سوء: إن نسي لم يذكره وإن ذكر لم يعنه. وصحح إسناده عبد القادر الأرناؤوط في جامع الأصول 4/ 73.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: যখন আল্লাহ কোনো শাসকের কল্যাণ চান, তখন তার জন্য একজন সৎ কর্মপরায়ণ মন্ত্রী নির্ধারণ করে দেন; তিনি বিস্মৃত হলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং কোনো কল্যাণের সংকল্প করলে তাকে সাহায্য করেন। আর যদি তিনি অকল্যাণের ইচ্ছা করেন, তবে তিনি তাকে তা থেকে বিরত রাখেন (১)।

আনুশিরওয়ান বলতেন: সর্বোত্তম তরবারিও পালিশ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নয়, আর অত্যন্ত উন্নত মানের পশুও চাবুকের প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নয়, তদ্রূপ সর্বাধিক জ্ঞানী শাসকও মন্ত্রীর প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত নন।

আমি বলছি: যদি মন্ত্রীর উপযোগিতা কেবল পরামর্শ লাভের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে তাই যথেষ্ট হতো। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন তাতে বলেছেন: "আর আপনি কাজের ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করুন" [আলে ইমরান: ১৫৯]। সালাহ আল-সাফাদি বলেন: কবির এই কথাটি কতই না চমৎকার:

যদি কোনো বিষয় উপস্থিত হয় তবে সে বিষয়ে বন্ধুর সাথে পরামর্শ করো ... যদিও তুমি বিজ্ঞ হও এবং বন্ধুদের পরামর্শ দিয়ে থাকো

কেননা আমি দেখেছি চোখ নিজেকে দেখতে পায় না ... অথচ তা নক্ষত্রমন্ডলীর স্থানে থাকা সুদূরপ্রসারী বস্তুসমূহ প্রত্যক্ষ করে

আর পরামর্শ সম্পর্কে আমি বলেছি:

কোনো কাজে ধাবিত হয়ো না এবং তা সম্পাদন করো না ... যতক্ষণ না দ্বিতীয় কোনো বিবেক তোমার নিকট তা পরিমাপ করে দেয়

ছন্দের ওজনে যেমন কবিতা সুসংহত হয় ... তেমনি মিযানের মাধ্যমে সূর্যের ভারসাম্য নিরূপিত হয়

...

--------------------------------------------

(১) আমি এই শব্দবিন্যাসে এটি খুঁজে পাইনি, তবে আবু দাউদ তাঁর সুনানে ৩/১৩১ (২৯৩২) বর্ণনা করেছেন: "যখন আল্লাহ কোনো আমীরের কল্যাণ চান, তখন তার জন্য সত্যবাদী মন্ত্রী প্রদান করেন: তিনি ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেন আর তিনি স্মরণ করলে তাকে সাহায্য করেন। আর যখন আল্লাহ তার জন্য অন্য কিছু (অকল্যাণ) চান, তখন তার জন্য মন্দ মন্ত্রী প্রদান করেন: তিনি ভুলে গেলে তাকে স্মরণ করিয়ে দেন না আর তিনি স্মরণ করলেও তাকে সাহায্য করেন না।" জামেউল উসূল ৪/৭৩-এ আব্দুল কাদির আরনাউত এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنهم

 

‌‌3 - يحيى بن خالد بن برمك (1)

كان من محاسنه أنه خرج يوما من دار الخلافة قاصدا داره فرأى على باب داره رجلا فلما قرب منه نهض وسلم عليه وقال: يا يحيى إنا نحتاج إلى ما في يدك وقد جعلت الله وسيلتي إليك. فأمر أن يفرد له مكان بجانب داره وأن يحمل إليه في كل يوم ألف درهم وأن يكون طعامه من خاص طعامه، فبقي الرجل كذلك شهرا، فلما انقضى الشهر أخذ الرجل ثلاثين ألف درهم وانصرف فقيل ليحيى ذلك فقال: والله لو أقام مدة عمره لما منعته صلتي ولا قطعت عنه ضيافتي.

وقيل إن ولده قال له (2) وهو في السجن: يا أبه بعد الأمر والنهي والأموال صرنا إلى هذا! فقال: يا بني دعوة مظلوم غفلنا عنها.

مات يحيى سنة تسعين ومائة في حبس الرقّة بعد قتل ولده جعفر، وله سبعون سنة.

…

--------------------------------------------

(1) ترجمته في تاريخ بغداد 14/ 128، ووفيات الأعيان 6/ 219، وتاريخ الإسلام (حوادث ووفيات 181 - 190 هـ) ص 448، وانظر حاشيته.

(2) في الأصل: لهم.
তাদের মধ্যে রয়েছেন

 

‌‌৩ - ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন বারমাক (১)

তাঁর সদ্গুণাবলির অন্যতম ছিল যে, একদিন তিনি খিলাফত ভবন থেকে স্বীয় গৃহের উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং তাঁর ঘরের দরজায় এক ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। যখন তিনি তার নিকটবর্তী হলেন, সে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সালাম দিল এবং বলল: হে ইয়াহইয়া, আপনার হাতে যা রয়েছে আমাদের তা প্রয়োজন, আর আমি আল্লাহকে আপনার নিকট আমার মাধ্যম বানিয়েছি। তখন তিনি নির্দেশ দিলেন যেন তাঁর গৃহের পার্শ্বে তার জন্য একটি স্বতন্ত্র স্থান নির্দিষ্ট করা হয়, প্রতিদিন তাকে এক হাজার দিরহাম প্রদান করা হয় এবং তার আহার যেন তাঁর নিজের বিশেষ আহার থেকে হয়। লোকটি এভাবেই এক মাস অবস্থান করল। অতঃপর মাস অতিক্রান্ত হলে লোকটি ত্রিশ হাজার দিরহাম গ্রহণ করে চলে গেল। ইয়াহইয়াকে সে বিষয়ে বলা হলে তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, সে যদি সারাজীবনও অবস্থান করত, তবে আমি তাকে আমার দান থেকে বঞ্চিত করতাম না এবং আমার আতিথেয়তাও ছিন্ন করতাম না।

বলা হয় যে, তাঁর পুত্র কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁকে বলেছিল (২): হে পিতা! শাসন-ক্ষমতা ও ধন-সম্পদের পর আমাদের এই দশা হলো! তিনি বললেন: হে বৎস! এটি কোনো মজলুমের বদদোয়া যা সম্পর্কে আমরা অসতর্ক ছিলাম।

ইয়াহইয়া ১৯০ হিজরীতে তাঁর পুত্র জাফরের হত্যাকাণ্ডের পর রাক্কার কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল সত্তর বছর।

…

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী রয়েছে তারীখে বাগদাদ ১৪/ ১২৮, ওফায়াতুল আ’য়ান ৬/ ২১৯, তারীখুল ইসলাম (১৮১ - ১৯০ হিজরীর ঘটনাবলি ও মৃত্যু) পৃ. ৪৪৮-এ, এবং এর টীকা দ্রষ্টব্য।

(২) মূলে রয়েছে: লাহুম (তাদের জন্য)।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩১)
ومنهم:

 

‌‌4 - الفضل بن يحيى بن خالد (1)

وكان كأبيه في السخاء والجود.

قال سعيد الباهلي: انكسرت عليّ دينة (2) عجزت منها ولزمتني (3) أصحابها، فقصدت الفضل بن يحيى وشكوت له حالي فقال:

أعانك الله، وقام لك بالكفاية. فخرجت وأنا لا أعرف الطريق من الخجل والهم، فقصدت بعض أصحابي فقعدت عنده وأنا مهموم، وإذا بغلامي قد أقبل فقال: يا سيدي ببابنا بغال كثيرة ومعهم شخص يقول: أنا وكيل الفضل، فقمت وإذا بوكيل الفضل فسلم عليّ ودفع إلي ورقة فيها مكتوب: إنك حين جئت إلي توجهت إلى الرشيد وأعلمته حالك، فأمر لك بألف ألف درهم، فقلت: يا مولانا! هذه لديونه فما الذي ينفق عليه وعلى عياله؟ فأمر لك (4) بثمانمائة

--------------------------------------------

(1) ترجمته في سير أعلام النبلاء 9/ 91، وتاريخ الإسلام (حوادث ووفيات 191 - 200 هـ) ص 339، وانظر حاشيتهما.

(2) الدينة هي الدّين. القاموس 1546.

(3) الصحيح «لزمني» وما كتبه المؤلف عامي.

(4) في الأصل: له.
তাদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৪ - আল-ফাদল ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে খালিদ (১)

তিনি বদান্যতা ও উদারতায় তাঁর পিতার ন্যায় ছিলেন।

সাঈদ আল-বাহিলি বলেন: আমার ওপর ঋণের (২) বোঝা এমনভাবে চেপেছিল যে আমি তা পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়ি এবং পাওনাদাররা আমাকে ঘিরে ধরে (৩)। ফলে আমি আল-ফাদল ইবনে ইয়াহইয়ার নিকট গিয়ে আমার অবস্থার কথা জানাই। তিনি বললেন:

আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করুন এবং আপনার প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট হোন। এরপর আমি বের হলাম এমতাবস্থায় যে লজ্জায় ও দুশ্চিন্তায় আমি পথ চিনতে পারছিলাম না। আমি আমার জনৈক বন্ধুর কাছে গেলাম এবং অত্যন্ত চিন্তিত অবস্থায় তার নিকট বসলাম। হঠাৎ আমার গোলাম এসে বলল: হে আমার মনিব! আমাদের দরজায় অনেকগুলো খচ্চর দাঁড়িয়ে আছে এবং তাদের সাথে এক ব্যক্তি আছে যে বলছে: "আমি ফাদলের প্রতিনিধি"। আমি দাঁড়ালাম এবং দেখলাম ফাদলের প্রতিনিধি উপস্থিত। সে আমাকে সালাম দিল এবং আমার হাতে একটি চিরকুট দিল যাতে লেখা ছিল: "আপনি যখন আমার কাছে এসেছিলেন তখন আমি রশীদের নিকট গিয়েছিলাম এবং তাঁকে আপনার অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেছিলাম। তিনি আপনার জন্য দশ লক্ষ দিরহামের নির্দেশ দিয়েছেন। তখন আমি বললাম: হে আমাদের নেতা! এ তো তার ঋণের জন্য, তবে তার নিজের ও তার পরিবারের ভরণপোষণের জন্য কী থাকবে? ফলে তিনি আপনার জন্য (৪) আরও আট লক্ষের নির্দেশ দিলেন।"

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৯/৯১ এবং তারিখুল ইসলাম (১৯১ - ২০০ হিজরির ঘটনাবলি ও মৃত্যু সংবাদ) পৃষ্ঠা ৩৩৯-এ বর্ণিত হয়েছে; এগুলোর পাদটীকা দেখুন।

(২) 'দীনাহ' মানে হলো ঋণ। আল-কামুস ১৫৪৬।

(৩) সঠিক হলো ‘লাযিমানি’, আর লেখক যা লিখেছেন তা সাধারণ কথ্য রীতি।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে আছে: ‘তার জন্য’।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩২)
ألف درهم أخرى، وقد حملت إليك (1) من خاص مالي مائتي ألف درهم لتكملة ألف ألف درهم فخذها بارك الله لك فيها.

مات الفضل بن يحيى وهو أيضا في حبس الرشيد سنة اثنتين وتسعين ومائة رحمه الله.

…

--------------------------------------------

(1) في الأصل: إلى.
আরও এক হাজার দিরহাম; আর আমি আপনার নিকট (১) আমার নিজস্ব সম্পদ হতে দুই লক্ষ দিরহাম নিয়ে এসেছি দশ লক্ষ দিরহাম পূর্ণ করার জন্য। সুতরাং এগুলো গ্রহণ করুন, আল্লাহ এতে আপনার জন্য বরকত দান করুন।

ফাদল ইবনে ইয়াহইয়া একশত বিরানব্বই হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, এমতাবস্থায় যে তিনিও রশীদের কারাবন্দী ছিলেন; আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন।

...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: ইলা।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومنهم:

 

‌‌5 - جعفر بن يحيى بن خالد (1)

أخو الفضل، كان أصلهم من الفرس، وكان جعفر جليلا، لسنا، أديبا، بليغا، عالما، يضرب بجوده المثل، وكان مسرفا على نفسه، غارقا في بحر الملذات، تمكن من الرشيد حتى بلغ من الجاه والرفعة ما لا مزيد عليه، وتولى هو وأبوه وإخوته الأعمال الجليلة.

يقال أن جعفر وقّع في ليلة بحضرة الرشيد زيادة على ألف توقيع ونظر في جميعها فلم يخرج شيئا عن موجب الفقه.

وكان أبوه يحيى قد ضم جعفر إلى القاضي أبي يوسف وكان مثل أخيه في السخاء وأعظم، قال إسحاق: لما حج الرشيد حججنا معه، فلما دخلنا مكة قال لي (يا) (2) جعفر: أبصر جارية مغنية، فطفت على حاجته حتى وجدتها فرجعت إليه وقلت: يا سيدي قد وجدت حاجتك، قال:

--------------------------------------------

(1) ترجمته في الفخري لابن طباطبا 205، والوافي بالوفيات 11/ 156، وسير أعلام النبلاء 9/ 59، وتاريخ الإسلام (حوادث ووفيات 181 - 190 هـ) ص 98 وانظر حاشيتهما.

(2) كذا في الأصل ولا معنى لها، فالقائل هو جعفر والمخاطب هو إسحاق الموصلي.
তাদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৫ - জাফর বিন ইয়াহইয়া বিন খালিদ (১)

ফদলের ভাই; তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে। জাফর ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান, সুবক্তা, সাহিত্যিক, বাগ্মী এবং পণ্ডিত ব্যক্তি; তার দানশীলতার উদাহরণ দেওয়া হতো। তিনি নিজের ব্যাপারে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং ভোগবিলাসের সাগরে নিমজ্জিত ছিলেন। হারুনুর রশীদের নিকট তিনি এমন প্রভাব ও অবস্থান তৈরি করেছিলেন যে, সম্মান ও উচ্চমর্যাদার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছিলেন। তিনি, তার পিতা এবং তার ভাইয়েরা বড় বড় রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতেন।

বলা হয়ে থাকে যে, জাফর এক রাতে হারুনুর রশীদের উপস্থিতিতে এক হাজারের বেশি আদেশনামায় স্বাক্ষর করেছিলেন এবং সেগুলোর সবকটি এমন নিপুণভাবে পর্যালোচনা করেছিলেন যে, কোনোটিই ফিকহ শাস্ত্রের বিধানের বাইরে যায়নি।

তার পিতা ইয়াহইয়া জাফরকে ইমাম কাজী আবু ইউসুফের কাছে সোপর্দ করেছিলেন। তিনি উদারতার ক্ষেত্রে তার ভাইয়ের মতোই ছিলেন, এমনকি তার চেয়েও শ্রেষ্ঠ ছিলেন। ইসহাক বলেন: হারুনুর রশীদ যখন হজে গেলেন, আমরাও তার সাথে হজ করলাম। যখন আমরা মক্কায় প্রবেশ করলাম, জাফর আমাকে বললেন: (হে) (২) একজন গায়িকা দাসী খুঁজে বের করো। আমি তার প্রয়োজনে ঘুরে বেড়ালাম এবং অবশেষে তাকে পেয়ে গেলাম। এরপর আমি তার কাছে ফিরে এসে বললাম: হে আমার নেতা, আমি আপনার কাঙ্ক্ষিত দাসীকে পেয়েছি। তিনি বললেন:

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী দেখুন ইবনুত তিবতাবা রচিত আল-ফাখরি ২০৫, আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১১/ ১৫৬, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/ ৫৯ এবং তারিখুল ইসলাম (১৮১ - ১৯০ হিজরীর ঘটনাবলি ও মৃত্যু সংবাদ) ৯৮ পৃষ্ঠায় এবং এগুলোর টীকা দ্রষ্টব্য।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, যার কোনো বিশেষ অর্থ হয় না। কারণ বক্তা হলেন জাফর এবং সম্বোধিত ব্যক্তি হলেন ইসহাক আল-মাওসিলি।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فامض بنا حتى نراها، فأخذته وتوجهنا إلى بيت سيد الجارية فأخرجها لنا فجلست وغنت فأعجب جعفر جمالها وغناؤها فاشتراها من مولاها بأربعين ألف دينار فلما حضر المال قالت الجارية لسيدها: يا مولاي لو كنت أنا ما بعتك بملء الأرض فبكت، فقال سيدها: أشهدكم أنها حرّة لوجه الله تعالى، فقمنا وحمل الغلام المال معنا، فقال له جعفر: إلى أين تذهب بمالي؟ أعطه لهما يستعينان به (1) على شدتهما، فأعطى الأربعين ألف دينار لسيد الجارية وانصرفنا.

وقيل كان أبو علقمة الثقفي صاحب الغريب عند جعفر، فقال-وقد أقبلت إليه خنفساء-: أليس يقال أن الخنفساء إذا أقبلت إلى الرجل جاءت بخير، قالوا: بلى، فقال جعفر: يا غلام أعط الشيخ [ألف] (2) دينار. ثم نحّوها عنه، فأقبلت الخنفساء، فقال: يا غلام أعطه ألفا أخرى.

وقال الحافظ الذهبي (3) -في ترجمة جعفر: عن محمد بن عبد الرحمن الهاشمي-صاحب صلاة الكوفة، قال: دخلت على أمي يوم النحر وعندها امرأة في أثواب رثّة، فقالت لي: أتعرف هذه؟ قلت: لا، قالت: هذه إيادة (4) أم جعفر البرمكي فسلمت عليها ورحبت بها ثم قلت:

يا فلانة حدثينا ببعض أمرك؟ قالت: أذكر لك جملة فيها عبرة/: لقد

--------------------------------------------

(1) في الأصل: بهما.

(2) ساقطة من الأصل.

(3) في تاريخ الإسلام (حوادث ووفيات 181 - 190 هـ) ص 140، بتصرف.

(4) كذا في الأصل. وفي تاريخ الإسلام وتاريخ بغداد 7/ 156، ومروج الذهب 3/ 383: عبادة. وفي نهاية الأرب 22/ 144، والوافي بالوفيات 11/ 164: عتابه.
"আমাদের সাথে চলুন যেন আমরা তাকে দেখতে পাই," তারপর আমি তাকে নিয়ে গেলাম এবং আমরা দাসীর মুনিবের গৃহের দিকে অগ্রসর হলাম। তিনি তাকে আমাদের সামনে বের করে আনলেন, সে বসল এবং গান গাইল। জাফর তার সৌন্দর্য ও গানে মুগ্ধ হলেন এবং চল্লিশ হাজার দিনারের বিনিময়ে তাকে তার মুনিবের কাছ থেকে ক্রয় করলেন। যখন অর্থ নিয়ে আসা হলো, তখন দাসীটি তার মুনিবকে বলল: "হে আমার মুনিব, যদি বিষয়টি আমার ইচ্ছাধীন হতো, তবে পৃথিবীর সমান বিনিময়েও আমি আপনাকে বিক্রি করতাম না," এবং সে কেঁদে ফেলল। তখন তার মুনিব বললেন: "আমি আপনাদের সাক্ষী রাখছি যে, সে মহান আল্লাহর চেহারার সন্তুষ্টির জন্য স্বাধীন।" আমরা উঠে দাঁড়ালাম এবং বালকটি অর্থ আমাদের সাথে বহন করল। তখন জাফর তাকে বললেন: "তুমি আমার অর্থ নিয়ে কোথায় যাচ্ছ? এটি তাদের দুজনকে দিয়ে দাও যাতে তারা তাদের এই কঠিন সময়ে এর মাধ্যমে সাহায্য লাভ করতে পারে।" অতঃপর সে চল্লিশ হাজার দিনার দাসীর মুনিবকে দিয়ে দিল এবং আমরা ফিরে আসলাম।

বলা হয় যে, বিরল ও কঠিন শব্দের পণ্ডিত আবু আলকামা আস-সাকাফী জাফরের নিকট ছিলেন। এমতাবস্থায় একটি গোবরে পোকা তার দিকে এগিয়ে আসলে তিনি বললেন: "এমন কি বলা হয় না যে, যখন গোবরে পোকা কোনো ব্যক্তির দিকে এগিয়ে আসে তখন তা কল্যাণ বয়ে আনে?" তারা বলল: "হ্যাঁ।" জাফর বললেন: "হে বালক, শেখকে [এক হাজার] (২) দিনার দাও।" এরপর তারা পোকাটি তার কাছ থেকে সরিয়ে দিল। পোকাটি আবার তার দিকে এগিয়ে আসলে তিনি বললেন: "হে বালক, তাকে আরও এক হাজার দাও।"

হাফিজ আয-যাহাবী (৩) জাফরের জীবনীতে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান আল-হাশেমী—যিনি কুফার নামাজের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন—তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি কুরবানীর দিন আমার মায়ের কাছে প্রবেশ করলাম। তখন তার নিকট জীর্ণ পোশাকে এক নারী বসা ছিলেন। মা আমাকে বললেন: "তুমি কি একে চেনো?" আমি বললাম: "না।" তিনি বললেন: "ইনি জাফর আল-বারমাকীর মা ইয়াদাহ (৪)।" আমি তাকে সালাম দিলাম এবং তাকে স্বাগত জানালাম, অতঃপর বললাম: "হে অমুক, আপনার অবস্থার কিছু কাহিনী আমাদের শোনান?" তিনি বললেন: "আমি তোমার কাছে এমন এক সারকথা বর্ণনা করছি যাতে শিক্ষা রয়েছে: নিশ্চয়ই..."

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: তাদের উভয়ের দ্বারা।

(২) মূল পাঠ থেকে বাদ পড়েছে।

(৩) তারিখুল ইসলাম (১৮১ - ১৯০ হিজরীর ঘটনাবলি ও মৃত্যু), পৃষ্ঠা ১৪০, কিছুটা সম্পাদিত।

(৪) মূল পাঠে এভাবেই আছে। তবে তারিখুল ইসলাম এবং তারিখু বাগদাদ ৭/১৫৬ ও মুরুজুয যাহাব ৩/৩৮৩ গ্রন্থে: উবাদাহ। আর নিহায়াতুল আরাব ২২/১৪৪ ও আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১১/১৬৪ গ্রন্থে: আতাবাহ।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩৫)
هجم عليّ مثل هذا العيد وعلى رأسي أربعمائة جارية، وأنا أزعم أن ابني جعفر عاق لي وقد أتيتكم يقنعني جلد شاتين أجعل أحدهما شعارا والآخر دثارا.

وفي سنة سبع وثمانين ومائة أوقع الرشيد بهم فقتل جعفر وصلبه على الجسر، وسنّه سبع وثلاثون سنة، وكان قتله في أول صفر ولم يعلم لأي شيء قتل جعفر المذكور وقد كثر الكلام في ذلك (1). وقتل بعده جماعة من البرامكة.

…

--------------------------------------------

(1) اختلف المؤرخون في أسباب نكبة البرامكة، وقد حقق إمام المؤرخين عبد الرحمن بن خلدون، -توفي سنة 808 هـ-في مقدمته ذلك، وبين أن أهم أسبابها استبدادهم بأمور الدولة دون الرشيد، راجع مقدمته ص 20 (ط شحادة). ومن المؤرخين المحدثين شاكر مصطفى في كتابه دولة بني العباس 1/ 462 وشوقي أبو خليل في كتابه (هارون الرشيد أمير الخلفاء وأجل ملوك الدنيا) ص 150.
এমন এক ঈদ আমার ওপর এসেছিল যখন আমার অধীনে চারশ দাসী ছিল, আর আমি মনে করতাম আমার পুত্র জাফর আমার প্রতি অবাধ্য। অথচ আজ আমি তোমাদের নিকট এসেছি এই অবস্থায় যে, দুটি ভেড়ার চামড়াতেই আমি সন্তুষ্ট হচ্ছি, যার একটিকে আমি অন্তর্বাস এবং অন্যটিকে বহির্বাস বানিয়েছি।

আর একশত সাতাশি হিজরি সনে রশীদ তাদের ওপর চড়াও হন। ফলে তিনি জাফরকে হত্যা করেন এবং সেতুর ওপর তাকে শূলে চড়ান। সে সময় তার বয়স ছিল সাইত্রিশ বছর। তাকে সফর মাসের শুরুতে হত্যা করা হয়েছিল। উক্ত জাফরকে কেন হত্যা করা হয়েছিল তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি, তবে এই বিষয়ে অনেক কথা প্রচলিত আছে (১)। তার পর বারমাকিদের একটি দলকে হত্যা করা হয়।

...

--------------------------------------------

(১) ইতিহাসবিদগণ বারমাকিদের পতনের কারণ নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইতিহাসবিদদের ইমাম আবদুর রহমান ইবনে খালদুন (মৃত্যু ৮০৮ হিজরি) তাঁর মুকাদ্দিমা গ্রন্থে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, এর প্রধান কারণ ছিল রশীদকে উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার। দেখুন তাঁর মুকাদ্দিমা, পৃষ্ঠা ২০ (শিহাদা সংস্করণ)। আধুনিক ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছেন শাকের মুস্তফা তাঁর ‘দাওলাতু বনী আব্বাস’ (১/৪৬২) গ্রন্থে এবং শাওকি আবু খলিল তাঁর ‘হারুনুর রশীদ: আমীরুল খুলাফা ওয়া আজাল্লু মুলুকিদ দুনিয়া’ (পৃষ্ঠা ১৫০) গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইনবাউল উমারা বিআনবাইল উযারা (পৃষ্ঠা: ৩৬)
ومنهم:

 

‌‌6 - الحسن بن سهل (1)

الوزير أبو محمد، أخو ذي الرياستين [و] (2) الفضل بن سهل الوزير أيضا، كانا من بيت رئاسة في المجوس فأسلما مع أبيهما في أيام الرشيد، واتصلوا بالبرامكة فضم يحيى البرمكي الأخوين الحسن والفضل ولدا سهل إلى ولديه الفضل وجعفر، فضم جعفر الفضل بن سهل إلى المأمون ابن الرشيد وهو ولي عهد فغلب عليه واتصل به، ولم يزل معه إلى أن قتل الفضل بن سهل (3) فكتب المأمون بمنصبه وهو الوزارة إلى أخيه الحسن بن سهل المذكور، فاتصل أيضا به ولم تزل رتبته في ارتفاع عند المأمون إلى أن تزوج المأمون بنته بوران، وانحدر المأمون إلى فم الصّلح (4) للدخول

--------------------------------------------

(1) ترجمته في سير أعلام النبلاء 11/ 171، وتاريخ الإسلام (حوادث ووفيات 231 - 240 هـ) ص 131، وانظر حاشيتهما.

(2) كذا ولا معنى لها.

(3) قتله خال المأمون في حمام سرخس في شعبان سنة اثنتين ومائتين، سير أعلام النبلاء 10/ 10.

(4) كذا ضبطها في معجم البلدان 4/ 276، وقال: والصّلح نهر كبير فوق واسط بينها وبين جبل عليه عدة قرى.
তাদের মধ্যে রয়েছেন:

 

‌‌৬ - আল-হাসান ইবনে সাহল (১)

উজির আবু মুহাম্মদ; তিনি যুর রিয়াসাতাইন [এবং] (২) আল-ফাদল ইবনে সাহলের ভাই, যিনি নিজেও উজির ছিলেন। তাঁরা পারস্যের অগ্নিপূজকদের এক নেতৃত্বস্থানীয় পরিবারভুক্ত ছিলেন এবং হারুনুর রশিদের শাসনামলে তাঁদের পিতার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁরা বারমাকি পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট হন; ফলে ইয়াহইয়া আল-বারমাকি সাহলের দুই পুত্র আল-হাসান ও আল-ফাদলকে তাঁর দুই পুত্র আল-ফাদল ও জাফরের সাথে যুক্ত করে দেন। এরপর জাফর আল-ফাদল ইবনে সাহলকে হারুনুর রশিদের পুত্র আল-মামুনের সাথে যুক্ত করেন, যখন তিনি যুবরাজ ছিলেন। ফলে আল-ফাদল তাঁর ওপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। আল-ফাদল ইবনে সাহল নিহত (৩) হওয়া পর্যন্ত তিনি তাঁর সঙ্গেই ছিলেন। এরপর আল-মামুন তাঁর পদমর্যাদা তথা উজিরের পদটি তাঁর ভাই উল্লেখিত আল-হাসান ইবনে সাহলকে প্রদান করেন। তিনিও আল-মামুনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন এবং আল-মামুনের কাছে তাঁর মর্যাদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, এমনকি আল-মামুন তাঁর কন্যা বুরানকে বিবাহ করেন। আর আল-মামুন বাসর যাপনের উদ্দেশ্যে ‘ফামুস সুলহ্’ (৪) অভিমুখে যাত্রা করেন।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/১৭১; তারিখুল ইসলাম (২৩১-২৪০ হিজরির ঘটনাবলি ও মৃত্যু সংবাদ) পৃষ্ঠা ১৩১ এবং উক্ত গ্রন্থদ্বয়ের টীকা দেখুন।

(২) মূল কপিতে এভাবেই আছে, তবে এর কোনো অর্থ হয় না।

(৩) আল-মামুনের মামা তাঁকে ২০২ হিজরির শাবান মাসে সারাখস-এর একটি গোসলখানায় (হাম্মামখানা) হত্যা করেন; সিয়ারু আলামিন নুবালা ১০/১০।

(৪) মুজামুল বুলদান ৪/২৭৬-এ শব্দটির উচ্চারণ বা স্বরচিহ্ন এভাবেই দেওয়া হয়েছে; তিনি বলেন: ‘আস-সুলহ্’ হলো ওয়াসিত-এর উপরে অবস্থিত একটি বড় নদী, যা ওয়াসিত ও একটি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং এর তীরে অনেকগুলো গ্রাম রয়েছে।