(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: -)
أعلام المغرب والأندلس في القرن الثامن   (ابن الأحمر)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: أعلام المغرب والأندلس في القرن الثامن

المؤلف: إسماعيل بن يوسف بن محمد بن نصر الخزرجي الأنصاري النصري، أبو الوليد، المعروف بابن الأحمر (ت 807هـ)

المحقق: الدكتور محمد رضوان الداية

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت

الطبعة: الأولى، 1396 هـ - 1976 م

عدد الصفحات: 526

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الآخرة 1435

অষ্টম শতাব্দীর মাগরেব ও আন্দালুসের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ   (ইবনুল আহমার)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: অষ্টম শতাব্দীর মাগরেব ও আন্দালুসের প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গ

লেখক: ইসমাঈল বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-খাযরাজী আল-আনসারী আন-নাসরী, আবুল ওয়ালীদ, ইবনুল আহমার নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮০৭ হিজরি)

সম্পাদক: ডক্টর মুহাম্মাদ রিদওয়ান আদ-দায়াহ

প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৩৯৬ হিজরি - ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৬

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনা তারিখ: ১৯ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৫

(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌مقدمة المحقق

1) يعد القرن الثامن-الهجري-أكثر عهود دولة بني الأحمر (من بني نصر) زهاء وقوة وتمكنا؛ فقد كانت أيامهم في القرن السابع (منذ سنة 635) تثبيتا لحدود الدولة وإرساء لدعائمها، ورسما لسياستها، وتهيئة للأسرة الحاكمة وأصهارها ومن يلوذ بها في أنحاء المملكة الفتية وكان استقرار الأمور وهدوؤها-في القرن الثامن-نسبيا، فقد شهد النصف الأول منه حروبا سجالا مع قشتالة وغيرها من دول إسبانيا المجاورة، بينما اتسم نصفه الآخر بالحفاظ على معاهدات السلم والهدنة التي عقدتها دولة غرناطة مع جيرانها.

وكان هذا القرن حافلا بالأعلام في الآداب والفنون والعلوم وشؤون الهندسة والعمران، وحافظ الأندلسيون على خبراتهم الموروثة، كما ظلت الأندلس الباقية منار إشعاع فكري وحضاري على الرغم من ظروفها السياسية والعسكرية القاسية.

ويكفي أن نذكر من أعلامه لسان الدين بن الخطيب (1)، وأستاذه أبا الحسن بن الجياب (2)، وابن خاتمة الأنصاري (3)، وابن زمرك (4)، والشريف

--------------------------------------------

(1) أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن الخطيب (713 - 766) الوزير الكاتب الشاعر صاحب المصنفات الشهيرة. (انظر دراسة عنه خاصة للأستاذ عنان)

(2) أبو الحسن علي بن محمد بن الجياب (673 - 749) الوزير الكاتب الشاعر له ديوان شعر، ورسائل. (وديوانه في سلسلة دراسات أندلسية)

(3) أبو جعفر أحمد بن علي بن خاتمة (700 - 771) متصوف، شاعر، أديب له ديوان مطبوع (وزارة الثقافة بدمشق)

(4) أبو عبد الله محمد بن يوسف الغرناطي (733 - 793) شاعر من مشهوري كتاب الدولة النصرية. (انظر دراسة عنه في سلسلة الذخائر)
সম্পাদকের ভূমিকা

১) হিজরি অষ্টম শতাব্দীকে বনী আল-আহমার (বনী নাসর বংশীয়) রাষ্ট্রের সর্বাধিক জৌলুস, শক্তি ও সক্ষমতার যুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সপ্তম শতাব্দীতে (৬৩৫ হিজরি থেকে) তাদের সময়কাল ছিল রাষ্ট্রের সীমানা সুসংহতকরণ, এর ভিত্তি স্থাপন, এর রাজনীতি নির্ধারণ এবং নবীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসক পরিবার, তাদের বৈবাহিক আত্মীয় এবং অনুসারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির সময়কাল। আর অষ্টম শতাব্দীতে পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও প্রশান্তি ছিল আপেক্ষিক; এর প্রথমার্ধে কাস্টিল এবং স্পেনের অন্যান্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে অব্যাহত যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল, অন্যদিকে এর দ্বিতীয়ার্ধটি প্রতিবেশীদের সাথে গ্রানাডা রাষ্ট্রের সম্পাদিত শান্তি চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছিল।

এই শতাব্দীটি সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ও স্থাপত্যের ক্ষেত্রে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল। আন্দালুসীয়রা তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ করেছিল, ঠিক যেমন অবশিষ্ট আন্দালুস তার কঠোর রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক আলোকবর্তিকা হিসেবে উজ্জ্বল ছিল।

এর বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে লিসানুদ্দিন ইবনে আল-খতিব (১), তাঁর শিক্ষক আবুল হাসান ইবনে আল-জায়য়াব (২), ইবনে খাতেমা আল-আনসারি (৩), ইবনে যুমরুক (৪) এবং আশ-শরিফ-এর নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট।

--------------------------------------------

(১) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আল-খতিব (৭১৩ - ৭৬৬), উজির, লেখক, কবি এবং বিখ্যাত গ্রন্থাবলির রচয়িতা। (তাঁর সম্পর্কে অধ্যাপক আনানের বিশেষ গবেষণাটি দেখুন)

(২) আবু হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-জায়য়াব (৬৭৩ - ৭৪৯), উজির, লেখক ও কবি; তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) ও পত্রাবলি রয়েছে। (এবং তাঁর দিওয়ানটি আন্দালুসীয় গবেষণা সিরিজে অন্তর্ভুক্ত)

(৩) আবু জাফর আহমদ বিন আলী বিন খাতেমা (৭০০ - ৭৭১) সুফি, কবি ও সাহিত্যিক; তাঁর একটি মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ রয়েছে (সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, দামেস্ক)

(৪) আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-গারনাতি (৭৩৩ - ৭৯৩) নাসরি রাষ্ট্রের বিখ্যাত লেখকদের মধ্য থেকে একজন কবি। (যাখায়ের সিরিজে তাঁর সম্পর্কে গবেষণাটি দেখুন)
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٦)
(السبتي) (1)، وأبا القاسم بن جزيّ الكلبي المفسر المشهور (2)، وأبا البقاء خالد البلوي صاحب رحلة «تاج المفرق» (3)، وأبا الحسن النباهي القاضي المشهور (4).

2) ومن رجال القرن الثامن الأديب المؤرخ المشارك في فنون من الثقافة العربية والإسلامية أحد أمراء البيت النصري: أبو الوليد إسماعيل بن يوسف بن محمد بن أبي سعيد فرج بن إسماعيل بن يوسف المدعو بالأحمر. وبنو نصر هم حكام دولة غرناطة منذ نشوئها-بعد انتهاء الموحدين وانقراض الثائرين على دولتهم- إلى نهاية الإسلام في الأندلس، وينتمون في نسبتهم إلى الصحابي الجليل سعد ابن عبادة الأنصاري. ومحمد بن الأحمر (شقيق جد صاحب الترجمة) هو مؤسس الدولة الذي استدعاه أهل غرناطة فملكها سنة 635. أما أبو سعيد فرج فقد كان واليا على «مالقة». وكانت لمحمد بن فرج ثورة في مدينة أندرش سنة 727؛ ذلك أنه قدم من تلمسان-حيث يقيم-إلى أندرش باستدعاء عثمان بن أبي العلاء القائد المغربي المريني صاحب (الجند الغربي) (5) بعد أن جافى الأمير محمد النصري (825 - 723) واصطدم بالوزير محمد بن أحمد بن المحروق. ولكن الخلاف بين ابن أبي العلاء والأمير النصري انتهى بوفاة الوزير، فصرف القائد المريني الأمير محمد بن أبي سعيد فرج ثانية إلى تلمسان.

--------------------------------------------

(1) أبو القاسم محمد بن أحمد الشريف الحسني الغرناطي (697 - 760) القاضي الأديب صاحب شرح مقصورة حازم (رفع الحجب المستورة عن محاسن المقصورة).

(2) (693 - 741) الشهيد في وقعة طريف، صاحب تفسير (التسهيل لعلوم التنزيل).

(3) أبو البقاء خالد بن عيسى البلوي القتوري صاحب الرحلة المشهورة تاج المفرق بتحلية علماء المشرق.

(4) علي بن عبد الله بن الحسن النباهي (713 - 792) صاحب كتاب المرقبة العليا فيمن يستحق القضاء والفتيا، المطبوع بعنوان: تاريخ قضاة الأندلس.

(5) كان المرينيون والنصريون قد اتفقوا على إبقاء حامية من الجند المغاربة برسم الجهاد في أرض العدو ومساعدة الأندلسيين في دفاع أو هجوم. وأول من رأس الجند المغربي عثمان بن أبي العلاء. (انظر اللمحة البدرية لابن الخطيب، ونهاية الأندلس لمحمد عبد الله عنان).
(সাবতি) (১), এবং বিখ্যাত মুফাসসির আবুল কাসিম বিন জুযাই আল-কালবি (২), এবং 'তাজুল মাফরিক' নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা আবুল বাকা খালিদ আল-বালাউয়ি (৩), এবং বিখ্যাত বিচারক আবুল হাসান আন-নুবাহি (৪)।

২) এবং অষ্টম শতাব্দীর ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক, যিনি আরবি ও ইসলামি সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী ছিলেন এবং নাসরি রাজবংশের অন্যতম আমির: আবুল ওয়ালিদ ইসমাইল বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন আবি সাঈদ ফারাজ বিন ইসমাইল বিন ইউসুফ, যিনি 'আল-আহমার' নামে পরিচিত। বনু নাসর হলো গ্রানাডা রাষ্ট্রের শাসকগোষ্ঠী, এর সূচনা থেকে—মুওয়াহহিদিনদের শাসনের অবসান এবং তাদের রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারীদের বিলুপ্তির পর—আন্দালুসে ইসলামের সমাপ্তি পর্যন্ত। বংশগতভাবে তারা মহান সাহাবি সাদ ইবনে উবাদাহ আল-আনসারির সাথে সম্পৃক্ত। এবং মুহাম্মদ বিন আল-আহমার (যাঁর জীবনী বর্ণিত হচ্ছে তাঁর দাদার সহোদর ভাই) হলেন এই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, যাঁকে গ্রানাডাবাসী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং তিনি ৬৩৫ হিজরিতে এর অধিপতি হন। অন্যদিকে আবু সাঈদ ফারাজ 'মালাকা'র গভর্নর ছিলেন। ৭২৭ হিজরিতে আন্দারাশ শহরে মুহাম্মদ বিন ফারাজের একটি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছিল; কারণ তিনি তিলিমসান থেকে—যেখানে তিনি বসবাস করতেন—আন্দারাশে এসেছিলেন মাগরিবের মারিনি সেনাপতি উসমান বিন আবিল উলার আমন্ত্রণে, যিনি 'পশ্চিমা বাহিনী'র (৫) প্রধান ছিলেন। আমির মুহাম্মদ আন-নাসরি (৭২৩ - ৮২৫) এর সাথে দূরত্ব তৈরি হওয়ার এবং উজির মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-মাহরুকের সাথে সংঘর্ষের পর তিনি সেখানে আসেন। তবে ইবনে আবিল উলা এবং নাসরি আমিরের মধ্যকার বিবাদ উজিরের মৃত্যুর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়, ফলে মারিনি সেনাপতি আমির মুহাম্মদ বিন আবি সাঈদ ফারাজকে পুনরায় তিলিমসানে ফেরত পাঠান।

--------------------------------------------

(১) আবুল কাসিম মুহাম্মদ বিন আহমদ আশ-শরিফ আল-হাসানি আল-গারনাতি (৬৯৭ - ৭৬০), বিচারক ও সাহিত্যিক, হাযেম-এর মাকসুরার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'রাফউল হুজুবিল মাসতুরা আন মাহাসিনিল মাকসুরা'-এর লেখক।

(২) (৬৯৩ - ৭৪১), তারিফের যুদ্ধে শহীদ, তাফসির গ্রন্থ 'আত-তাসহিল লি-উলুমিত তানজিল'-এর লেখক।

(৩) আবুল বাকা খালিদ বিন ঈসা আল-বালাউয়ি আল-কাতুরি, বিখ্যাত সফরনামা 'তাজুল মাফরিক বি-তাহলিয়াতি উলামাইল মাশরিক'-এর লেখক।

(৪) আলি বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আন-নুবাহি (৭১৩ - ৭৯২), 'আল-মুরকাবাতুল উলয়া ফিমান ইয়াসতাহিক্কুল কাদা ওয়াল ফুতইয়া' গ্রন্থের লেখক, যা 'তারিখু কুদাতি আন্দালুস' শিরোনামে মুদ্রিত।

(৫) মারিনি এবং নাসরিরা শত্রুর ভূখণ্ডে জিহাদ করার এবং প্রতিরক্ষা বা আক্রমণে আন্দালুসীয়দের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে মাগরিবের সৈন্যদের একটি গ্যারিসন রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। মাগরিবের এই বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন উসমান বিন আবিল উলা। (দ্রষ্টব্য: ইবনুল খাতিবের আল-লামহাতুল বাদরিয়াহ এবং মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইনানের নিহায়াতুল আন্দালুস)।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٧)
وكان الفرع الذي ينتمي إليه صاحب الترجمة قد اضطرب أمره بخلافات حول الملك، واصطدم إسماعيل بن فرج (خامس الملوك النصريين) بوالده، وبأخيه محمد، مما أدى إلى انتقال محمد إلى بلاد المغرب مع نفر من آله.

ومع هذا فإن صاحب الترجمة يقول إن والده يوسف خرج من الأندلس إلى بلاد المغرب، فوفد على بجاية أولا ثم استقر-مع أولاده، وفيهم إسماعيل- بفاس. ويظهر لنا من ترجمته أنه ولد بالأندلس، وعاش فيها صدرا من صباه، ثم استقر بالمغرب يتذكر أيامه بغرناطة ويحنّ إليها، ويتعيش من أعمال في دولة بني مرين، وجراية كانوا يجرونها على (الوافدين) من الأسرة النصرية (1).

3) ولد إسماعيل بن يوسف بن محمد نحو سنة 725 بغرناطة (2)، وغادرها مع أبيه-على الأكثر-إلى بجاية، ثم استقر بفاس. وكانت مغادرته في عهد الأمير يوسف (الأول) «725 - 733»، ويروي لنا أنه غادرها مرغما مغرّبا «فلولا أن هدر الملوك بنو عمي بوطني دمي لسرت إليه على رأسي لا على قدمي. . .» (3)، ويوافق هذا عهد أبي الحسن علي المريني.

وقد نبغ صاحب الترجمة في عهد أبي عنان المريني الذي قربه في جملة العلماء والأدباء

--------------------------------------------

(1) راجع تفاصيل ذلك في الدراسة الموسعة عن إسماعيل بن الأحمر في (نثير فرائد الجمان في نظم فحول الزمان: دراسة وتحقيق-المكتبة الأندلسية العدد 18 تأليف د. محمد رضوان الداية).

(2) انظر في ترجمته: درة الحجال لابن القاضي 1:116، وجذوة الاقتباس، له:69 ونيل الابتهاج لأحمد بابا:99، واللمحة البدرية للسان الدين بن الخطيب:24، وشجرة النور الزكية لمحمد مخلوف:238. وسلوة الأنفاس للكتاني 3:256 وفهرس الفهارس والأثبات لعبد الحي الكتاني 1:100، وإيضاح المكنون 1:172، وهدية العارفين 1:215. وله تراجم في كتب المعاصرين مثل تاريخ الأدب العربي لبروكلمان، والأعلام للزركلي، ومعجم المؤلفين لكحالة، وغيرها.

(3) نثير الجمان (نسخة دار الكتب) 2/ب.
যে শাখাটির সাথে আলোচ্য জীবনীকার সংশ্লিষ্ট ছিলেন, রাজত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে তাদের বিষয়াদি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। ইসমাঈল বিন ফারাজ (নাসরি রাজবংশের পঞ্চম সুলতান) তার পিতা এবং তার ভাই মুহাম্মাদের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন, যার ফলে মুহাম্মাদ তার পরিবারের একদল সদস্যসহ মাগরিব (মরক্কো) অভিমুখে যাত্রা করেন।

তা সত্ত্বেও জীবনীকার বলেন যে, তার পিতা ইউসুফ আন্দালুস থেকে মাগরিবে চলে গিয়েছিলেন। তিনি প্রথমে বিজায়ায় পৌঁছান, এরপর তার সন্তানদের নিয়ে—যাদের মধ্যে ইসমাঈলও ছিলেন—ফাসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার জীবনী থেকে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আন্দালুসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং শৈশবের একটি বড় অংশ সেখানেই কাটিয়েছেন। এরপর তিনি মাগরিবে স্থায়ী হন, যেখানে তিনি গ্রানাডার দিনগুলোর কথা স্মরণ করতেন এবং তার প্রতি আকুলতা বোধ করতেন। তিনি বনু মারিন রাষ্ট্রে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ এবং নাসরি পরিবারের (আগত সদস্যদের) জন্য তারা যে বৃত্তি প্রদান করত, তার ওপর নির্ভর করে জীবন অতিবাহিত করতেন (১)।

৩) ইসমাঈল বিন ইউসুফ বিন মুহাম্মাদ আনুমানিক ৭২৫ হিজরির দিকে গ্রানাডায় জন্মগ্রহণ করেন (২)। তিনি তার পিতার সাথে—সম্ভবত—বিজায়ার উদ্দেশ্যে গ্রানাডা ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে ফাসে স্থায়ী হন। তার এই দেশত্যাগ ছিল আমির (প্রথম) ইউসুফের শাসনামলে (৭২৫ - ৭৩৩ হিজরি)। তিনি আমাদের নিকট বর্ণনা করেন যে, তাকে বাধ্য হয়ে নির্বাসিত অবস্থায় দেশ ছাড়তে হয়েছিল: "যদি রাজারা, যারা আমার পিতৃব্য বংশীয়, আমার স্বদেশভূমিতে আমার রক্তপাত বৈধ না করে দিত, তবে আমি সেখানে পায়ের বদলে মাথার ওপর ভর দিয়ে হেঁটে যেতাম..." (৩)। এটি আবু হাসান আলী আল-মারিনির শাসনামলের সাথে মিলে যায়।

জীবনীকার আবু ইনান আল-মারিনির যুগে প্রসিদ্ধি লাভ করেন, যিনি তাকে আলেম ও সাহিত্যিকদের অন্তর্ভুক্ত করে নিজের সান্নিধ্যে স্থান দিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: ড. মুহাম্মাদ রিদওয়ান আদ-দায়া রচিত ইসমাঈল বিন আল-আহমার সম্পর্কিত বিস্তৃত গবেষণা (নাথীরু ফরাইদিল জুমান ফি নাজমি ফুহুলিজ জামান: দিরাসাতুন ওয়া তাহকীক—মাকতাবাতুল আন্দালুসিয়া, সংখ্যা ১৮)।

(২) তার জীবনীর জন্য দেখুন: ইবনুল কাজীর 'দুররাতুল হিজাল' ১:১১৬ এবং 'জাযওয়াতুল ইক্তিবাস' পৃষ্ঠা: ৬৯; আহমদ বাবার 'নাইলুল ইবতিহাজ' পৃষ্ঠা: ৯৯; লিসানুদ্দীন ইবনুল খতিবের 'আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ' পৃষ্ঠা: ২৪; মুহাম্মাদ মাখলুফের 'শাজারাতুন নূরুজ জাকিইয়্যাহ' পৃষ্ঠা: ২৩৮; কাত্তানীর 'সালওয়াতুল আনফাস' ৩:২৫৬; আব্দুল হাই কাত্তানীর 'ফিহরিসুল ফাহারিস ওয়াল আসবাত' ১:১০০; 'ঈজাহুল মাকনুন' ১:১৭২; 'হাদিয়্যাতুল আরিফীন' ১:২১৫। এ ছাড়াও সমসাময়িক লেখকদের গ্রন্থেও তার জীবনী রয়েছে, যেমন ব্রোকলম্যানের 'তারিখুল আদাবিল আরাবি', জিরিকলীর 'আল-আ'লাম', কাহহালার 'মু'জামুল মুয়াল্লিফীন' ইত্যাদি।

(৩) নাথীরুল জুমান (দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপি) ২/খ।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٨)
والشعراء، وكان مشهورا يحب العلم وأهله، جمّاعة للكتب، مثيبا للشعراء.

واستمرت صلته بالدولة المرينية طوال حياته، سواء كانت علاقة بالسلاطين أنفسهم أم بالكتاب والوزراء والحجاب وطبقتهم. (1).

وقد تلقى علومه الأولى في غرناطة، ولكن شيوخه الذين ذكرهم في فهرسته كانوا من المغرب، أو من الأندلسيين المقيمين فيه، أو الأندلسيين في أثناء ترددهم عليه أو في أثناء رحلاتهم إلى الشرق وعودتهم منه. فمن شيوخه محمد بن محمد بن داود الصنهاجي (ابن آجروم)، والقاضي الفقيه الحسن بن عثمان الوانشريسي، والقاضي محمد بن أحمد الفشتالي، والفقيه سعيد بن أبي العافية المكناسي. وممن أجازه من الأندلسيين أبو سعيد فرج بن لب التغلبي الغرناطي وأبو القاسم عبد الرحمن الأموي، وأبو عبد الله محمد بن سعيد الرّعيني. السراج، وأبو القاسم عبد الله بن يوسف بن رضوان النجّاري وغيرهم.

وكان يتصل بالوفود الغرناطية الأندلسية الزائرة، ويلتقي بالعلماء والأدباء يستجيزهم علومهم، ويستنشدهم أشعارهم، ويستكتبهم رسائلهم ويدوّن ذلك ويجمعه ويحرص عليه. كما كان يطلب إليهم موافاته ببعض إنتاجهم ليرسمه في بعض مؤلفاته، كما يظهر بجلاء في ثنايا كتابه هذا الذي نقدم له.

وكانت وفاته عن سن متقدمة بفاس سنة 807، وقيل سنة 810.

4) وقد حفظت لنا عدة أسماء ممن تتلمذ على ابن الأحمر أو روى عنه أو أخذ عنه الإجازة مثل سعيد بن إبراهيم السّدراتي الشهير بشهبون، وعبد الرحمن الجادري (2).

وله عدد من المؤلفات، بعضها مفقود، والذي نعرفه منها:

--------------------------------------------

(1) راجع تفاصيل صلته ببني مرين في دراسة المحقق عن حياة ابن الأحمر وأدبه:85 - 87.

(2) انظر: دراسة في حياة ابن الأحمر وأدبه؛87.
এবং কবিগণ; তিনি ইলম ও আহলে ইলমকে ভালোবাসার জন্য সুপরিচিত ছিলেন, তিনি প্রচুর কিতাব সংগ্রহ করতেন এবং কবিদের পুরস্কৃত করতেন।

মারিনি রাষ্ট্রের সাথে তাঁর সম্পর্ক জীবনভর অটুট ছিল, চাই তা খোদ সুলতানদের সাথে হোক কিংবা লেখক, উজির, হাজিব এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাথে হোক। (১)।

তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা গারনাতায় (গ্রানাডা) অর্জন করেন, তবে তাঁর 'ফিহরিস্ট'-এ তিনি যেসব শায়খের নাম উল্লেখ করেছেন তাঁরা ছিলেন মাগরিবের (মরক্কো) অধিবাসী, অথবা সেখানে বসবাসরত আন্দালুসীয়, কিংবা সেখানে যাতায়াতকারী বা প্রাচ্য ভ্রমণের পথে যাতায়াতকারী আন্দালুসীয়। তাঁর শায়খদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন দাউদ আস-সানহাজি (ইবনুল আজুররুম), বিচারক ও ফকিহ হাসান বিন উসমান আল-ওয়ানশারিসি, বিচারক মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-ফাশতালি এবং ফকিহ সাঈদ বিন আবি আল-আফিয়া আল-মিকনাসি। যেসব আন্দালুসীয় তাঁকে 'ইজাযাহ' প্রদান করেছিলেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবু সাঈদ ফারাজ বিন লুব্ব আত-তাগলিবি আল-গারনাতি, আবুল কাসিম আব্দুর রহমান আল-উমাউই, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ আর-রুআইনি আস-সাররাজ, আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন রেদওয়ান আন-নাজ্জারি এবং আরও অনেকে।

তিনি গারনাতা থেকে আগত আন্দালুসীয় প্রতিনিধিদলের সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং উলামা ও সাহিত্যিকদের সাথে সাক্ষাৎ করতেন। তিনি তাঁদের জ্ঞানগত বিষয়ে 'ইজাযাহ' প্রার্থনা করতেন, তাঁদের কবিতা শুনতে চাইতেন এবং তাঁদের পত্রগুলো লিখে দেওয়ার অনুরোধ করতেন; অতঃপর তিনি সেগুলো লিপিবদ্ধ ও সংগ্রহ করতেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করতেন। তিনি তাঁদের নিকট তাঁদের কিছু রচনা পাঠানোরও অনুরোধ জানাতেন যাতে তিনি তা নিজের গ্রন্থসমূহে যুক্ত করতে পারেন, যেমনটি আমাদের উপস্থাপিত এই গ্রন্থের পরতে পরতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

তাঁর মৃত্যু হয় বার্ধক্য অবস্থায় ফাস নগরীতে ৮০৭ হিজরি সালে, মতান্তরে ৮১০ সালে।

৪) ইবনুল আহমারের নিকট যারা শিক্ষা লাভ করেছেন অথবা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন কিংবা তাঁর থেকে ইজাযাহ গ্রহণ করেছেন, এমন বেশ কিছু নাম সংরক্ষিত রয়েছে; যেমন শাহবুন নামে পরিচিত সাঈদ বিন ইবরাহিম আস-সিদরাতি এবং আব্দুর রহমান আল-জাদারি (২)।

তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার কয়েকটি বর্তমানে বিলুপ্ত। তাঁর যেসব গ্রন্থ সম্পর্কে আমরা জানি তা হলো:

--------------------------------------------

(১) বনু মারিনের সাথে তাঁর সম্পর্কের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন ইবনুল আহমারের জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে মুহাক্কিকের অধ্যয়ন: ৮৫ - ৮৭।

(২) দেখুন: ইবনুল আহমারের জীবন ও সাহিত্য বিষয়ক গবেষণা; ৮৭।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٩)
1 - شرح البردة: ذكره في نثير الجمان ونقل منه نصا في الورقات 53 - 56 (مخطوطة دار الكتب المصرية).

2 - عرائس الأمراء ونفائس الوزراء: ذكره في نثير فرائد الجمان، وذكره ابن القاضي أيضا.

3 - تأنيس النفوس في تكميل نقط العروس: ذكره ابن القاضي، وأحمد بابا، وصاحب سلوة الأنفاس، وصاحب فهرس الفهارس.

4 - برنامج أو مشيخة ونقل أحمد بابا منه نقولا كثيرة في (نيل الابتهاج).

5 - المنتخب من درر السلوك في شعر الخلفاء الأربعة والملوك: ذكره في نثير الجمان (الورقة 32).

6 - نظم وشرح: على غرار كتاب لسان الدين رقم الحلل (في التاريخ) ذكره في سلوة الأنفاس، وأحمد بابا في نيل الابتهاج.

7 - فريد العصر في شعر بني نصر: ذكره في نثير الجمان.

8 - مشاهير بيوتات فاس: قال في فهرس الفهارس: وهو الذي اختصره أبو زيد الفارسي في كتابه المطبوع.

9 - حديقة النسرين في أخبار بني مرين: ذكره ابن القاضي، وأحمد بابا، وفي فهرس الفهارس.

10 - روضة النسرين في أخبار بني عبد الوادي وبني مرين: ذكره غير واحد وهو مطبوع. نشره ل. بروفنسال في المجلة الآسيوية (أكتوبر ديسمبر-1923)، ثم أعاد نشره الأستاذ المؤرخ عبد الوهاب بن منصور (1382 - 1962) (1).

--------------------------------------------

(1) المرجع السابق ص 125 - 129.
১ - শারহুল বুরদাহ: 'নাথিরুল জুমান'-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং 'আল-ওয়ারাকাত' (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি) এর ৫৩-৫৬ পৃষ্ঠায় এর থেকে সরাসরি উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

২ - আরাইসুল উমারা ওয়া নাফাইসুল উজারা: 'নাথিরু ফারিদিল জুমান'-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে এবং ইবনুল কাদিও এটি উল্লেখ করেছেন।

৩ - তানিছুন নুফুস ফি তাকমিল নুকাতিল আরুস: ইবনুল কাদি, আহমদ বাবা, 'সালওয়াতুল আনফাস'-এর লেখক এবং 'ফিহরিসুল ফাহরিস'-এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন।

৪ - বারনামাজ অথবা মাশয়াখাহ: আহমদ বাবা 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এ এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

৫ - আল-মুনতাখাব মিন দুরারিস সুলুক ফি শিরিল খুলাফা আর-রাবিয়া ওয়াল মুলুক: এটি 'নাথিরুল জুমান'-এ (৩২ নম্বর পৃষ্ঠায়) উল্লেখ করা হয়েছে।

৬ - নাজম ও শারহ: লিসানুদ্দিন-এর 'রাকমুল হুলাল' (ইতিহাস বিষয়ক) গ্রন্থের আদলে; এটি 'সালওয়াতুল আনফাস'-এ এবং আহমদ বাবা 'নাইলুল ইবতিহাজ'-এ উল্লেখ করেছেন।

৭ - ফারিদুল আসর ফি শিরি বানি নাসর: 'নাথিরুল জুমান'-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

৮ - মাশাহিরু বুয়ুতাত ফাস: 'ফিহরিসুল ফাহরিস'-এ বলা হয়েছে: এটি সেই গ্রন্থ যা আবু জাইদ আল-ফারিসি তার মুদ্রিত গ্রন্থে সংক্ষেপ করেছেন।

৯ - হাদিকাতুন নাসরিন ফি আখবার বানি মারিন: ইবনুল কাদি, আহমদ বাবা এবং 'ফিহরিসুল ফাহরিস'-এ এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

১০ - রওদাতুন নাসরিন ফি আখবার বানি আবদিল ওয়াদি ওয়া বানি মারিন: এটি একাধিক ব্যক্তি উল্লেখ করেছেন এবং এটি মুদ্রিত। এটি লেভি প্রোভেন্সাল 'এশীয় সাময়িকী'তে (অক্টোবর-ডিসেম্বর ১৯২৩) প্রকাশ করেন, পরবর্তীতে ঐতিহাসিক উস্তাদ আব্দুল ওয়াহহাব বিন মনসুর (১৩৮২ - ১৯৬২) এটি পুনরায় প্রকাশ করেন (১)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত সূত্র, পৃষ্ঠা ১২৫ - ১২৯।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٠)
11 - مستودع العلامة ومستبدع العلاّمة: ذكر فيه من تولى «العلامة» من الكتاب عن الملوك. وطبع الكتاب في تطوان عن كلية الآداب بجامعة محمد الخامس بتحقيق الأستاذ محمد التركي التونسي ومحمد بن تاويت التطواني.

12 - نثير فرائد الجمان في نظم فحول الزمان: ألفه سنة 799 وجعله في فصلين: الأول لعدد من شعراء المشرق والثاني لعدد من شعراء المغرب.

وجعل الفصل الثاني في قسمين: أحدهما لشعراء الأندلس والثاني لشعراء المغرب (برّ العدوة). وتراجم الكتاب كله ثلاثون عدا ترجمة المؤلف الذاتية وقد حققت الكتاب ونشرته في المكتبة الأندلسية (العدد 18) (1).

13 - نثير الجمان في شعر من نظمني وإياه الزمان: وهو هذا الكتاب الذي نقدم له ألفه ابن الأحمر سنة 776 وقصره على شعراء الأندلس والمغرب (بمعناه العام) ولم يذكر فيه أحدا من المشارقة على سبيل الترجمة. وهو كتاب تراجم يعتني بالنصوص الأدبية، وبخاصة منها النصوص الشعرية.

وفيه نيف وسبعون ترجمة لأدباء ومتأدبين من الأندلس، والمغرب (الأقصى) من رجال الدولة المرينية، والمغرب (الأوسط) من رجال الدولة الزيانية العبد الوادية، والمغرب (الأدنى) من رجال الدولة الحفصية. وقد انتظمت هذه التراجم معظم المشهورين من أعلام هذه الدول ورجالها.

وجعل كتابه في اثني عشر بابا، عشرة أبواب في التراجم، واثنان مكملان لمقاصد المؤلف، فالأول في فضل الشعر وإباحة انشاده بالمساجد، والثاني عشر في الشعر الذي قيل في السيف الذي [كان] بصومعة جامع القرويين من فاس، مع مقدمة وخاتمة.

والكتاب واحد من كتب التراجم القليلة التي بقيت من هذا العصر، وأشهرها كتاب الإحاطة في أخبار غرناطة، وكتاب الكتيبة الكامنة فيمن

--------------------------------------------

(1) طبع في دار الثقافة ببيروت.
১১ - মুস্তাওদাউল আলামাহ ওয়া মুস্তাবদিউল আল্লামাহ: এতে রাজন্যবর্গের পক্ষ থেকে সচিবদের মধ্য থেকে যারা 'আলামাহ' (রাজকীয় সীল বা চিহ্ন) প্রদানের দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইটি তিতওয়ানে মুহাম্মাদ আল-খামিস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য অনুষদ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মাদ আত-তুর্কি আত-তিউনিসি এবং মুহাম্মাদ বিন তাউয়িত আত-তিতওয়ানির সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

১২ - নাছিরু ফারা’ইদিল জুমান ফি নাযমি ফুহুলিয যামান: এটি তিনি ৭৯৯ হিজরিতে রচনা করেন এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেন: প্রথমটি প্রাচ্যের (মাশরিক) একদল কবির জন্য এবং দ্বিতীয়টি পাশ্চাত্যের (মাগরিব) একদল কবির জন্য।

তিনি দ্বিতীয় পরিচ্ছেদকে দুটি ভাগে ভাগ করেছেন: একটি আন্দালুসের কবিদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি মাগরিবের (বাররুল আদওয়াহ) কবিদের জন্য। লেখকের আত্মজীবনী ব্যতিরেকে পুরো বইটির জীবনী আলোচনা সংখ্যা মোট ত্রিশটি। আমি বইটি সম্পাদনা করেছি এবং আল-মাকতাবাতুল আন্দালুসিয়্যাহ (সংখ্যা ১৮) থেকে প্রকাশ করেছি (১)।

১৩ - নাছিরুল জুমান ফি শিয়রি মান নাযামানি ওয়া ইয়্যাহুয যামান: এটি সেই কিতাব যা আমরা এখন পেশ করছি। ইবনুল আহমার এটি ৭৭৬ হিজরিতে রচনা করেন এবং এটিকে আন্দালুস ও মাগরিবের (সাধারণ অর্থে) কবিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। জীবনী আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি এখানে প্রাচ্যের (মাশরিক) কাউকেও উল্লেখ করেননি। এটি একটি জীবনীগ্রন্থ যা সাহিত্যিক পাঠের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে, বিশেষ করে কাব্যিক পাঠের ক্ষেত্রে।

এতে আন্দালুস, সুদূর মাগরিবের (মরক্কো) মারিনি সালতানাতের ব্যক্তিবর্গ, মধ্য মাগরিবের (আলজেরিয়া) যিয়ানি আবদালওয়াদি সালতানাতের ব্যক্তিবর্গ এবং নিকটবর্তী মাগরিবের (তিউনিসিয়া) হাফসি সালতানাতের ব্যক্তিবর্গ—এরূপ সত্তরটিরও বেশি সাহিত্যিক ও বিদগ্ধ ব্যক্তির জীবনী রয়েছে। এই জীবনীগুলো এই রাষ্ট্রসমূহের অধিকাংশ প্রসিদ্ধ মণীষী ও ব্যক্তিবর্গকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তিনি তার বইটিকে বারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন, যার মধ্যে দশটি অধ্যায় জীবনীমূলক এবং দুটি অধ্যায় লেখকের মূল উদ্দেশ্যের পরিপূরক। প্রথমটি কবিতার ফযীলত এবং মসজিদে কবিতা পাঠের বৈধতা সম্পর্কে, আর দ্বাদশটি হলো সেই কবিতা সম্পর্কে যা ফাসের জামে কারাওয়ীয়িনের মিনারে রক্ষিত তলোয়ার সম্পর্কে বলা হয়েছে। সাথে একটি ভূমিকা ও উপসংহার রয়েছে।

বইটি এই যুগের অবশিষ্ট অল্প কয়েকটি জীবনীগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ‘আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা’ এবং ‘আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফীমান...’

--------------------------------------------

(১) বৈরুতের দারুস সাকাফাহ থেকে প্রকাশিত।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١١)
لقيناه بالأندلس من شعراء المئة الثامنة للسان الدين بن الخطيب، وكتابا ابن الأحمر المشار إليها. وقد ألفت كتب أخرى في التراجم، والتعريف بالمدن ورجالها ولكنها في حكم المفقودة مثل كتاب ابن خاتمة المسمى مزيّة المريّة.

5) والكتاب، على كل حال، من الآثار الأدبية الباقية من القرن الثامن وهو ذو أهمية متنوعة الجوانب، فإن فيه نماذج هامة من شعر رجال العصر ونثرهم وفيه تراجم عدد كبير منهم، مما يستقل المؤلف بذكره، أو يعضد تراجم أخرى لهم في كتب سابقة أو لاحقة، وفيه ملاحظات تاريخية واجتماعية وثقافية تلقي أضواء على العصر وأحواله وتقلباته. والكتاب -بعد-معرض لحياة المؤلف، وعلاقاته، وتجاربه، وصلاته بالدول والأمراء لزمانه، ومجال عرفنا فيه شخصيته التاريخية والأدبية، ومشاركاته في عدد من الفنون والأغراض. وعلى الرغم من لغة المؤلف التي أكثر فيها من السجع ومن الأسلوب المرصع فإن القارئ يستشف آراءه وتقريراته وأحكامه بوضوح. وكان ربما خرج إلى الأسلوب المرسل وتحرر من القيود.

6) اعتمدت في تحقيق الكتاب على نسختيه المعروفتين لنا، وهما مخطوطة دار الكتب المصرية (المحفوظة تحت رقم: أدب 1863) ومخطوطة الخزانة الملكية بالرباط.

ومخطوطة دار الكتب المصرية تقع في 129 ورقة، وسقطت منها ورقتان من البداية وورقة واحدة من الخاتمة، ولا نجد تأريخا للنسخة لفقدان أولها وآخرها. وطمس أسفل بضع صفحات من أول النسخة (في حدود سطرين إلى ثلاثة أسطر) بفعل ترميم جرى عليها، وهي بخط مغربي جميل.

أما مخطوطة الخزانة الملكية بالرباط فتقع في 136 ورقة، منها أربع
আমরা একে আন্দালুসে লিসানুদ্দীন ইবনুল খাতিব বর্ণিত অষ্টম শতাব্দীর কবিদের মাঝে এবং ইবনুল আহমারের উল্লিখিত গ্রন্থদ্বয়ে পেয়েছি। জীবনী এবং শহর ও সেগুলোর ব্যক্তিবর্গের পরিচিতি বিষয়ে আরও অন্যান্য গ্রন্থ রচিত হয়েছে, কিন্তু সেগুলো বর্তমানে নিখোঁজ বা বিলুপ্ত হিসেবে গণ্য, যেমন 'মাজিয়্যাতুল মারিয়্যাহ' নামক ইবনু খাতিমার গ্রন্থটি।

৫) যা-ই হোক, গ্রন্থটি অষ্টম শতাব্দীর টিকে থাকা সাহিত্যিক নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং এটি বহুমুখী গুরুত্বের অধিকারী। কারণ এতে সেই যুগের ব্যক্তিবর্গের কবিতা ও গদ্যের গুরুত্বপূর্ণ নমুনা রয়েছে এবং তাদের একটি বিশাল অংশের জীবনী রয়েছে, যা লেখক স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছেন অথবা যা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী গ্রন্থসমূহে তাদের সম্পর্কে বর্ণিত অন্যান্য জীবনীকে সমর্থন যোগায়। এতে ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা সেই যুগ, তার অবস্থা ও পরিবর্তনসমূহের ওপর আলোকপাত করে। উপরন্তু, গ্রন্থটি লেখকের জীবন, তাঁর সম্পর্কসমূহ, অভিজ্ঞতা এবং সমকালীন রাষ্ট্র ও আমিরদের সাথে তাঁর যোগসূত্রের একটি প্রদর্শনী। এটি এমন এক ক্ষেত্র যেখানে আমরা তাঁর ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন শিল্প ও বিষয়ে তাঁর অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে পারি। লেখকের ভাষা—যাতে তিনি প্রচুর অনুপ্রাস ও অলঙ্কৃত শৈলী ব্যবহার করেছেন—তা সত্ত্বেও পাঠক তাঁর মতামত, বর্ণনা ও সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। কখনো কখনো তিনি সম্ভবত সরল শৈলীর দিকে অগ্রসর হয়েছেন এবং নিয়মবদ্ধতার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়েছেন।

৬) গ্রন্থটির সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমি আমাদের জানা এর দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি; সেগুলো হলো: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি (যা আদব ১৮৬৩ নম্বরে সংরক্ষিত) এবং রাবাতের আল-খিজানাতুল মালিকিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপি।

দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপিটি ১২৯ পৃষ্ঠার, যার শুরু থেকে দুটি পৃষ্ঠা এবং সমাপ্তি থেকে একটি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে। পাণ্ডুলিপিটির শুরু এবং শেষ অংশ না থাকায় আমরা এর কোনো তারিখ খুঁজে পাইনি। পাণ্ডুলিপিটির শুরুর কয়েক পৃষ্ঠার নিচের অংশ (প্রায় দুই থেকে তিন লাইন পর্যন্ত) সংস্কার কাজের ফলে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। এটি চমৎকার মাগরিবি হস্তলিপিতে লিখিত।

আর রাবাতের আল-খিজানাতুল মালিকিয়্যাহ-এর পাণ্ডুলিপিটি ১৩৬ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে চারটি...
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٢)
ورقات من الحوامي وليست من أصل الكتاب. وهي بخط مغربي دقيق، وكتبت بأكثر من قلم واحد. وهي إلى ذلك متداخلة الصفحات مضطربة الترتيب. ولم يكن ناسخها-أو ناسخوها-على نصيب من العلم فتداخل الشعر بالنثر في بعض التراجم. والنسخة المغربية بعد متآكلة في مواطن متعددة بفعل الأرضة. وقد عاينت النسخة الأصلية واستدركت مواضع كثيرة غمضت في النسخة المصورة منها (1).

وقد تداركت من النسخة المغربية ما سقط من نسخة دار الكتب المصرية وقابلت النصين، وإن كانت الفروق بينهما قليلة. ولكن الفائدة الحقيقية كانت في توثيق الكتاب وعرضه وضبطه، واستدراك أوله وآخره.

واعتمدت نسخة دار الكتب أساسا؛ لوضوحها، وضبطها، وحسن خط كاتبها، ووضوح قاعدة رسمه، وانسجام النسخة من أولها إلى آخرها.

وجعلت النسخة المغربية أصلا ثانيا أتدارك منه النقص، وأقابل عليه.

وقد اجتهدت في العناية بالنص، وضبطه، ومقابلته، وأحلت في التراجم على مظان ذكرهم وأخبارهم، وقابلت النصوص على أصولها في الدواوين والمختارات في الكتب الأصلية (2) -إن وجدت-وأضفت حواشي وتعليقات

--------------------------------------------

(1) كان ذلك في شهر تشرين الأول (أكتوبر) سنة 1975، في أثناء مهرجان ابن زيدون، وكانت زيارتي للرباط تلبية لدعوة كريمة من وزارة الثقافة، وقد اطلعت على المكتبة العامة بالرباط والخزانة الملكية بها، وسهل لنا المسؤولون جميعا سبيل القراءة والمراجعة والتصوير، فإليهم أقدم آيات الشكر، والثناء.

(2) من أهم مارجعت إليه كتب لسان الدين بن الخطيب في التاريخ والأدب مثل الإحاطة والكتيبة الكامنة، واللمحة البدرية، ورقم الحلل، ومعيار الاختيار، ومشاهدات لسان الدين، وريحانة الكتّاب، ودواوين بعض المعاصرين كديوان لسان الدين بن الخطيب وديوان ابن خاتمة الأنصاري، وديوان أبي الحسن بن الجياب. ومن ذلك رحلة أبي البقاء البلوي والمرقبة العليا للنباهي. ومن ذلك كتابا المقري نفح الطيب وأزهار الرياض، بالإضافة إلى كتب التراجم، وكتب التاريخ كتاريخ ابن خلدون وترجمته الذاتية. . . ومن هذه الكتب ما هو مطبوع ومنها ما هو مخطوط، كما هو مبين في ثبت المصادر والمراجع.
এগুলো কিছু প্রান্তিক পাতা যা মূল গ্রন্থের অংশ নয়। এগুলো সূক্ষ্ম মাগরেবি হস্তলিপিতে লিখিত এবং একাধিক কলমে লেখা হয়েছে। এছাড়া এর পৃষ্ঠাগুলো পরস্পর জড়িয়ে গেছে এবং বিন্যাসও এলোমেলো। এর অনুলিপিকারক—বা অনুলিপিকারকগণ—খুব একটা জ্ঞানী ছিলেন না, যার ফলে কিছু জীবনীতে গদ্যের সাথে পদ্য মিশে গেছে। মাগরেবি অনুলিপিটি উইপোকার কারণে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি মূল পাণ্ডুলিপিটি পরীক্ষা করেছি এবং এর ছায়ালিপিতে যা অস্পষ্ট ছিল এমন অনেক স্থান সংশোধন করেছি (১)।

মিসরের 'দারুল কুতুব' অনুলিপি থেকে যা বাদ পড়েছিল, আমি মাগরেবি অনুলিপি থেকে তা পূরণ করেছি এবং উভয় পাঠের মধ্যে তুলনা করেছি, যদিও তাদের মধ্যে পার্থক্য সামান্যই ছিল। তবে প্রকৃত উপকার হয়েছে গ্রন্থটির নির্ভরযোগ্যতা নিরূপণ, উপস্থাপন, বিন্যাস এবং এর শুরু ও শেষ সংশোধনের ক্ষেত্রে।

আমি দারুল কুতুব অনুলিপিটিকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি; কারণ এর স্পষ্টতা, নির্ভুলতা, লেখকের চমৎকার হস্তলিপি, লিখনরীতির পরিচ্ছন্নতা এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনুলিপিটির সামঞ্জস্যতা।

আমি মাগরেবি অনুলিপিটিকে দ্বিতীয় উৎস হিসেবে রেখেছি, যাতে এর মাধ্যমে ঘাটতিগুলো পূরণ করতে পারি এবং এর সাথে তুলনা করতে পারি।

আমি পাঠ্যের যত্ন, বিন্যাস ও তুলনামূলক পর্যালোচনায় কঠোর পরিশ্রম করেছি। জীবনীসমূহের ক্ষেত্রে তাদের উল্লেখ ও সংবাদ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎসগুলোর সূত্র প্রদান করেছি। আমি মূল পাঠগুলোকে মূল কাব্যসংকলন ও মূল গ্রন্থসমূহের নির্বাচিত অংশের (২) সাথে তুলনা করেছি—যদি তা পাওয়া যায়—এবং টীকা ও ব্যাখ্যা যুক্ত করেছি।

--------------------------------------------

(১) এটি ছিল ১৯৭৫ সালের অক্টোবর মাসে ইবনে জায়দুন উৎসব চলাকালে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একটি সদয় আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে আমি রাবাত সফর করি। সেখানে আমি রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগার এবং রাজকীয় গ্রন্থাগার পর্যবেক্ষণ করি। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা আমাদের জন্য পাঠ, পর্যালোচনা এবং ছায়ালিপি তৈরির পথ সুগম করে দিয়েছিলেন; তাঁদের প্রতি আমি গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি।

(২) আমি যেসব গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি তার মধ্যে ইতিহাস ও সাহিত্যে লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিবের গ্রন্থসমূহ উল্লেখযোগ্য, যেমন: 'আল-ইহাতা', 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ', 'আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ', 'রাক্মুল হুলাল', 'মেয়ারুল ইখতিয়ার', 'মুশাহাদাতু লিসানিদ্দিন' এবং 'রাইহানাতুল কুততাব'। এছাড়া সমসাময়িক কিছু কবির কাব্যসংকলন, যেমন: লিসানুদ্দিন ইবনুল খাতিবের দিওয়ান, ইবনে খাতমাহ আল-আনসারির দিওয়ান এবং আবুল হাসান ইবনুল জায়য়াবের দিওয়ান। আরও রয়েছে আবুল বাকা আল-বালভির ভ্রমণকাহিনি এবং নুবাহির 'আল-মারকাবাতুল উলিয়া'। এর পাশাপাশি মাক্কারির 'নাফহুত তীব' ও 'আযহারুর রিয়াদ' গ্রন্থদ্বয় এবং বিভিন্ন জীবনীর গ্রন্থ ও ইতিহাসের বই যেমন ইবনে খালদুনের ইতিহাস ও তাঁর আত্মজীবনী। এই বইগুলোর কিছু মুদ্রিত এবং কিছু পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, যা উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٣)
بما يفيد الكتاب ولا يثقل بهوامش يمكن الاستغناء عنها، على قدر الطاقة، والنظر، والاجتهاد.

وبعد:

فإنني أرجو أن يكون هذا الجهد المتواضع خطوة أخرى في طريق إحياء التراث الاندلسي وأن يساهم في جلاء جوانب جديدة من حياة الأدب الأندلسي وتاريخه وآمل أن يتلقاه المهتمون بالأندلسيات بعين الرضا وأن يلتمسوا لما سهوت عنه، وغاب عني منه، عذرا مقبولا.

وآخر دعواهم أن الحمد لله رب العالمين.

وهران (بالقطر الجزائري)

1395 هـ-1975 م

د. محمد رضوان الداية
যাতে বইটি ফলপ্রসূ হয় এবং অপ্রয়োজনীয় টীকা দ্বারা এটি ভারাক্রান্ত না হয়, সাধ্যমতো চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে আমি সেই প্রয়াস পেয়েছি।

অতঃপর:

আমি আশা করি যে এই বিনম্র প্রচেষ্টা আন্দালুসিয় ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবনের পথে আরও একটি পদক্ষেপ হবে এবং আন্দালুসিয় সাহিত্যের জীবন ও ইতিহাসের নতুন দিকগুলো উন্মোচনে অবদান রাখবে। আমি আরও আশা করি যে আন্দালুসতত্ত্ব নিয়ে আগ্রহীগণ এটিকে সন্তুষ্টির সাথে গ্রহণ করবেন এবং আমার যেসব ভুলত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটেছে সেগুলোর জন্য আমাকে মার্জনার দৃষ্টিতে দেখবেন।

তাদের শেষ কথা হলো—সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

ওরান (আলজেরিয়া অঞ্চল)

১৩৯৫ হিজরি-১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ

ড. মুহাম্মদ রিদওয়ান আল-দায়াহ
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٤)
صورة الورقة (83) من مخطوطة دار الكتب المصرية (م)، وفيها بداية ترجمة «ابن خلدون»
মিশরীয় দারুল কুতুব (ম) পাণ্ডুলিপির ৮৩ নম্বর পৃষ্ঠার চিত্র, যাতে ‘ইবনে খালদুন’-এর জীবনীর সূচনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٥)
صورة الصفحة الاخيرة من مخطوطة دار الكتب المصرية (نسخة م) وعليها طابع الدار (الكتبخانة الخديوية المصرية).

صورة الصفحة الأولى من نسخة دار الكتب المصرية واستدرك عنوان الكتاب في رأس الصفحة بخط مغاير
মিশরীয় দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি (সংস্করণ 'মীম') এবং এতে লাইব্রেরির (মিশরীয় খেদিভীয় কুতুবখানা) সিলমোহর রয়েছে।

মিশরীয় দারুল কুতুব পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার ছবি এবং পৃষ্ঠার উপরিভাগে ভিন্ন হস্তাক্ষরে বইটির শিরোনাম সংযোজন করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٦)
بداية مخطوطة الخزانة الملكية (بالرباط) والسطور الشاحبة في الصورة كتبت في الأصل بقلم أحمر
আল-খিজানা আল-মালাকিয়া (রাবাত) পাণ্ডুলিপির সূচনা এবং ছবির বিবর্ণ রেখাগুলো মূলত লাল কালিতে লিখিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٧)
صورة الورقة الاخيرة من المخطوطة المحفوظة في الخزانة الملكية بالرباط، وفيها عبارة ختام الكتاب
রাবাতে রাজকীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিটির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র, যাতে গ্রন্থ সমাপ্তির বাক্যটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌[مقدمة مؤلف الكتاب]

بسم الله الرحمن الرحيم قال الرئيس الفقيه (1) النحوي (2) الراوية المسند الحافظ، فارس النظم والنثر، أبو الوليد إسماعيل بن الرئيس أبي الحجاج يوسف بن السلطان أمير المسلمين القائم بإذن الله (3) أبي عبد الله بن علم الأمراء ووالد الكبراء، الرئيس الأمير أبي سعيد فرج بن الأمير أبي الوليد إسماعيل بن الأمير أبي الحجاج يوسف الشهير بالأحمر، ابن السلطان أمير المؤمنين المنصور بالله أبي بكر محمد ابن أحمد بن محمد بن خميس بن نصر بن محمد بن محمد (4) بن نصر (5) بن علي بن يحيى بن سعد بن قيس بن سعد بن عبادة الخزرجي، رضي الله عنه بمنه وكرمه:

[أحمد الله تعالى الذي] (6) جعل مورد الآداب لدى البث والاكتئاب (7)

--------------------------------------------

(1 و 2) سقط من نسخة الرباط عدد من ألقاب المؤلف العلمية بسبب تآكل النسخة، وتقدر بنحو 6 كلمات.

(3) لقبه في نثير الفرائد بالقائم بأمر الله (ص 215).

(4) (محمد) زيادة عما أورده في نثير الفرائد.

(5) في نثير الفرائد: نصير، ولعلها من تصحيف النساخ.

(6) ما بين معقوفتين غير ظاهر تماما في نسخة الرباط.

(7) تآكل من الأصل بمقدار كلمات تقريبا.
[গ্রন্থকারের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। ফকীহ (১), ব্যাকরণবিদ (২), বর্ণনাকারী, মুসনিদ, হাফেজ, গদ্য ও পদ্যের অশ্বারোহী, প্রধান আবু আল-ওয়ালিদ ইসমাইল ইবনে প্রধান আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে সুলতান, মুসলিমদের আমির, আল্লাহর আদেশে দণ্ডায়মান (৩), আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আমীরদের শিরোমণি ও বড়দের পিতা, প্রধান আমির আবু সাঈদ ফারাজ ইবনে আমির আবু আল-ওয়ালিদ ইসমাইল ইবনে আমির আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ—যিনি আল-আহমার নামে পরিচিত—ইবনে সুলতান, মুমিনদের আমির, আল্লাহর সাহায্যে সাহায্যপ্রাপ্ত আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খামিস ইবনে নাসর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ (৪) ইবনে নাসর (৫) ইবনে আলী ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে সাদ ইবনে কায়স ইবনে সাদ ইবনে উবাদাহ আল-খাজরাজী (আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন:

[আমি সেই মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি] (৬) দুঃখ ও বিষণ্ণতার সময় সাহিত্যের ঝরনাধারাকে প্রশান্তির উৎস হিসেবে নির্ধারণ করেছেন (৭)

--------------------------------------------

(১ ও ২) পান্ডুলিপি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার কারণে রাবাত কপি থেকে গ্রন্থকারের বেশ কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাধি বাদ পড়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৬টি শব্দ।

(৩) ‘নাথীরুল ফারাঈদ’ গ্রন্থে তাঁর উপাধি ‘আল-কায়িম বি-আম্রিল্লাহ’ (পৃষ্ঠা ২১৫)।

(৪) (মুহাম্মদ) ‘নাথীরুল ফারাঈদ’ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার চেয়ে অতিরিক্ত।

(৫) ‘নাথীরুল ফারাঈদ’ গ্রন্থে আছে: নাসীর, সম্ভবত এটি অনুলিপিকারদের লিখনপ্রমাদ।

(৬) বন্ধনীভুক্ত অংশটি রাবাত কপিতে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপি থেকে প্রায় কয়েকটি শব্দ পরিমাণ অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يروي ذا القلب المعنى من فائق اللفظ ورائق المعنى. وأطلق من وثاق (1) الحرمان نفس الجعد البنان (2) إلى طلاقة (3) وسماحة (3).

وأخص بالصلاة سيدنا ومولانا محمدا سراج البيان (4) مصباحه، وأعم به [آله] (5) ذوي الأخلاق الساطعة الإشراق والصباحه. وأسلم عليهم كثيرا عميما، مساء الزمان وصباحه.

وبعد: فإنه لما كان الشعر أعذب ما تطمح إليه الهمم الهمامية (6)، وأسنى ما تعتمده أنفس أولي الفعال الاهتمامية، [لما يشتمل] (7) عليه من ضبط القوافي والأوزان، ويحتوي عليه مسرحه من بديع الحلاوة والنغمات [المذهبة] (7) للأحزان. [ولما كان] (8) ديوان العرب الذي خلدت به مآثرها (9) به تتفاوت في الناس الأخطار وتتشرف النفوس وإن اختلفت بهم الأقطار. وإذ هو أشرف زي وأرفع لباس، وأجلب شيء لنفع وأدفع لباس (10)، ولما كان في المرتبة العالية في نفوس أهل العقد والحل، وبلغ عند ذوي الألباب المنزلة الرفيعة وسنيّ المحل، وصار يعتلق بها اعتلاق الحرباء بالأعواد، ويسلك منها مسلك السماحة في أجساد الأجواد، وكانت العيون

--------------------------------------------

(1) في الأصل: وثائق. وهو تحريف.

(2) جعد البنان: كناية عن البخيل.

(3) كلمة غير ظاهرة.

(4) كذا بغير واو العطف. وانظر الفقرة الموازنة بعد.

(5) غير واضحة في الأصل.

(6) تآكل بعض أجزاء الكلمة في الأصل.

(7) غير واضحة في الأصل.

(8) تآكل بعض العبارة في الأصل.

(9) عبارات لم تظهر بتآكل شديد في النسخة، تقدر بنحو 3 أسطر.

(10) سطران غير واضحين في نسخة الرباط.
তিনি এই ব্যাকুল হৃদয়কে সিক্ত করেন অত্যুত্তম শব্দ ও চমৎকার অর্থের মাধ্যমে। এবং বঞ্চনার শৃঙ্খল (১) থেকে কৃপণ (২) ব্যক্তির আত্মাকে মুক্তি দিয়েছেন সচ্ছলতা (৩) ও ঔদার্যের (৩) দিকে।

আমি বিশেষভাবে দরুদ পাঠ করছি আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের প্রতি, যিনি বাগ্মিতার প্রদীপ (৪) ও তার আলোকবর্তিকা। এবং এই দরুদকে ব্যাপক করছি তাঁর [পরিবারবর্গের] (৫) জন্য, যারা উজ্জ্বল দীপ্তি ও সৌন্দর্যমণ্ডিত চরিত্রের অধিকারী। আমি তাঁদের ওপর প্রচুর ও ব্যাপক সালাম পেশ করছি, কালের সন্ধ্যায় ও প্রভাতে।

অতঃপর: যেহেতু কবিতা হলো সেই সুমধুর বিষয় যার প্রতি উচ্চাভিলাষী সংকল্পসমূহ (৬) ধাবিত হয়, এবং এটিই সর্বাধিক মহিমান্বিত বিষয় যার ওপর গুরুত্বপূর্ণ কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিরা নির্ভর করেন; [কারণ এটি] (৭) ছন্দ ও মাত্রার সুশৃঙ্খল বিন্যাসকে অন্তর্ভুক্ত করে, এবং এর বিচরণক্ষেত্র চমৎকার মাধুর্য ও বিষাদ [দূরকারী] (৭) সুরলহরীকে ধারণ করে। [আর যেহেতু এটি ছিল] (৮) আরবদের দেওয়ান (ইতিহাস ও সাহিত্যের সংকলন), যার মাধ্যমে তাদের কীর্তিগাথা (৯) অমর হয়ে আছে। এর মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে মর্যাদার পার্থক্য নিরূপিত হয় এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও আত্মাসমূহ সম্মানিত হয়। যেহেতু এটি হলো সর্বোত্তম ভূষণ ও সর্বোচ্চ পোশাক, এবং এটি উপকারের জন্য সর্বাধিক ফলপ্রসূ ও ক্ষতির জন্য গতিরোধক (১০)। আর যেহেতু এটি প্রভাবশালী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের অন্তরে উচ্চ মর্যদায় আসীন এবং প্রজ্ঞাবানদের নিকট উচ্চ ও সম্মানিত স্থানে পৌঁছেছে। এটি তাদের অন্তরে এমনভাবে গেঁথে গেছে যেমনটি গিরগিটি কাষ্ঠখণ্ডের সাথে লেপ্টে থাকে, এবং এটি দানশীলদের দেহে ঔদার্যের ন্যায় প্রবেশ করেছে। আর যখন চোখগুলো...

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: وثائق; এটি একটি ভুল লিখন।

(২) জাদুল বানান: কৃপণ ব্যক্তির রূপক।

(৩) শব্দটি অস্পষ্ট।

(৪) মূল পাঠে এভাবেই সংযোজক অব্যয় 'ওয়াও' ব্যতীত রয়েছে। পরবর্তী সামঞ্জস্যপূর্ণ অনুচ্ছেদটি দেখুন।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট।

(৬) মূল পাঠে শব্দের কিছু অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট।

(৮) মূল পাণ্ডুলিপিতে বাক্যের কিছু অংশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে।

(৯) মূল পাণ্ডুলিপিতে অত্যধিক ক্ষয়ের কারণে বাক্যগুলো স্পষ্ট নয়, যা প্রায় ৩ লাইনের সমতুল্য।

(১০) রাবাত পাণ্ডুলিপিতে দুটি লাইন অস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢١)
أبدا إلى (1) المخترع منه طامحة، وإلى رؤية (1) ما نجم من محاسنه لامحة، والأنفس بقبول حفظه سامحة، وكان في هذا العصر الذي أنا فيه من يأتي في (2) نظمه بالبديع ويوفيه. من محب متغزل، ومادح للمطلوب مستنزل، سنحت لأهله نصحيتي وسمعت بعمله قريحتي.

فسألت الله التيسير في كل عسير، فزال عني الالتباس، وذهب أكثر الباس. فجمعت في هذا التأليف ما وجدته لهم متمحقا شعاعه، وألفته من نفائس [جواهرهم] (3) متفرقا شعاعه لأطلع منه على بدائع جالبة للسلوان (4) في كل أوان. معولا في ذلك على ما طاب فصله، وفرع ذرى الإجادة فرعه وأصله.

واقتصرت فيه على من لنفسه أنشدني، ومن بنظامه البارع استرشدني [ممن رأيته بالعيان من الشعراء الأعيان] (5) ومن بسنّي لحقته (6). وغرضي أن أكتب ما أجده من الرسائل لمن ثبت اسمه، وأضمنه (7) أنواعا شتى من المكاتبات، وأحسن رسمه.

إذ [هذا] (8) النوع الإنشائي من الطبقة العليا بالموضع الذي لا يجهل علوّه، ولم [يتقلد حليه] (8) من الجنس الإنساني إلا الآحاد فلا ينبغي أن يهمل سموّه.

وسمّيت كتابي هذا: نثير الجمان في شعر من نظمني وإياه الزمان وألفته

--------------------------------------------

(1) كلمة غير واضحة في الأصل.

(2) كلمة (في) زيادة على الأصل.

(3) الكلمة متآكلة في الأصل، واستدركت من نثير الفرائد (في عبارة مشابهة).

(4) سقطت عبارة تقدر بنحو 3 كلمات، ظهر منها: وأتيت، بمحاسن

(5) من نثير الفرائد (في عبارة مشابهة).

(6) سقطت ثلاثة أسطر تقريبا.

(7) في الأصل: ونضمنه. وقد ورد كذا في نثير الفرائد في عبارة مقاربة. قلت: انظر الفعل التالي.

(8) غير واضح في الأصل، والمثبت من: نثير الفرائد.
সর্বদা (১) তার উদ্ভাবকের প্রতি উচ্চাভিলাষী এবং তার সৌন্দর্যের প্রস্ফুটিত অংশ দর্শনে উন্মুখ; আর আত্মাগুলো তা মুখস্থ করতে ও গ্রহণ করতে সদা প্রস্তুত। আমি যে যুগে রয়েছি, তাতে এমন লোক রয়েছেন যারা তাদের রচনায় চমৎকারিত্ব নিয়ে আসেন এবং তা পূর্ণতা দান করেন (২)। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেমাসক্ত গজল রচয়িতা এবং কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনে প্রশংসাকারী। তাদের জন্য আমার সদুপদেশ উদিত হয়েছে এবং আমার মেধা তাদের কর্মে সাড়া দিয়েছে।

অতঃপর আমি প্রত্যেক কঠিন বিষয়ে আল্লাহর নিকট সহজসাধ্যতা প্রার্থনা করলাম, ফলে আমার সংশয় দূর হলো এবং অধিকাংশ ক্লেশ অপসারিত হলো। আমি এই সংকলনে তাদের সেসব বিষয় একত্রিত করেছি যার ঔজ্জ্বল্য ম্লান হতে দেখেছিলাম এবং তাদের মূল্যবান [রত্নরাজির] (৩) মধ্য থেকে তা সংকলন করেছি যা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল; যাতে আমি এর মাধ্যমে এমন সব চমৎকারিত্ব প্রত্যক্ষ করতে পারি যা প্রতিটি সময়ে প্রশান্তি (৪) বয়ে আনে। এ ক্ষেত্রে আমি নির্ভর করেছি সেই সব বিষয়ের ওপর যার প্রকৃতি ছিল নির্মল এবং যার শাখা ও মূল শ্রেষ্ঠত্বের শিখর স্পর্শ করেছে।

এতে আমি কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি যারা আমাকে স্বয়ং (কবিতা) শুনিয়েছেন এবং যারা তাদের নিপুণ রচনারীতিতে আমার দিকনির্দেশনা চেয়েছেন [প্রখ্যাত কবিদের মধ্য থেকে যাদের আমি সচক্ষে দেখেছি] (৫) এবং যাদের সান্নিধ্য আমি লাভ করেছি (৬)। আমার উদ্দেশ্য হলো যাদের নাম সুপ্রতিষ্ঠিত তাদের সেসব পত্রাবলি লিখে রাখা যা আমি খুঁজে পাই এবং এতে বিভিন্ন প্রকারের পত্রালাপ অন্তর্ভুক্ত করা এবং তার লিখনশৈলীকে সুন্দর করা (৭)।

যেহেতু [এই] (৮) রচনামূলক শিল্পটি এমন এক উচ্চস্তরের বিষয় যার উচ্চমর্যাদা কারো অজানা নয় এবং মানবজাতির মধ্য থেকে কেবল হাতেগোনা কিছু ব্যক্তিই এর অলঙ্কার [ধারণ করেছে], তাই এর শ্রেষ্ঠত্বকে অবহেলা করা উচিত নয়।

আমি আমার এই গ্রন্থের নাম রেখেছি: ‘নাথীরুল জুমান ফী শি’রি মান নাযামানি ওয়া ইয়্যাহুয যামান’ (মুক্তার বিচ্ছুরণ: তাদের কবিতাসমগ্রে যাদেরকে কাল ও আমি এক সুত্রে গেঁথেছি) এবং আমি তা সংকলন করেছি।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি অস্পষ্ট।

(২) ‘মধ্য’ শব্দটি মূল পাঠের অতিরিক্ত।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে শব্দটি ক্ষয়ে গেছে, ‘নাথীরুল ফারায়েদ’ (অনুরূপ বক্তব্যে) থেকে এটি উদ্ধার করা হয়েছে।

(৪) প্রায় ৩টি শব্দ বাদ পড়েছে, যার মধ্যে ‘আমি নিয়ে এসেছি’, ‘সৌন্দর্যমণ্ডিত’ শব্দগুলো দৃশ্যমান হয়েছে।

(৫) ‘নাথীরুল ফারায়েদ’ থেকে সংগৃহীত (অনুরূপ বক্তব্যে)।

(৬) প্রায় তিনটি পঙক্তি বাদ পড়েছে।

(৭) মূলে রয়েছে: ‘আমরা তা অন্তর্ভুক্ত করব’। এটি ‘নাথীরুল ফারায়েদ’-এ প্রায় কাছাকাছি বক্তব্যে এসেছে। আমি বলি: পরবর্তী ক্রিয়াটি দেখুন।

(৮) মূলে অস্পষ্ট, ‘নাথীরুল ফারায়েদ’ থেকে গৃহীত।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٢)
وأنا ببرّ العدوة، في كنف الملك المريني والحفوة (1)، حين أخرجنا من الأندلس بنو عمنا الملوك الأحمريون وعشيرتنا السلاطين النصريون، خوفا منّا على سلطانهم (2) بأوطانهم. [لأجل] (3) واش مرود (4) متملق بذلك [غير] (5) ودود. يظهر لهم النصيحة حالية، ويخوفهم مما (6) وقع في الأيام الخالية. وإن الملك عقيم. وإذ كل من هو من بيته من حوله مقيم.

ولما كان الحلول بملوك المغرب [أمطروا] (7) علينا سحائب كرمهم المغرب، وحسنت الأحوال، وذهبت الأهوال. وطاب المقام، ونجم الأمن واستقام.

ومع هذه (8) الفضائل السامية والمفاخر النامية، فكثيرا (9) ما أنشد في الحنين إلى الوطن:

بلادي وإن شطت عليّ عزيزة … وقومي وإن شحوا [علي كرام] (10)

إذ هو من وطن آبائه، ومحل قومه وأحبائه. ومن مروءة المرء حنينه

--------------------------------------------

(1) في الأصل: الحفوة. قلت والمصدر من حفي به: حفاوة-بفتح الحاء وكسرها- وتحفاية. وأما الحفوة بضم الحاء وكسرها فهو مصدر حفي: مشى بغير خف ولا نعل.

(2) تآكل بمقدار كامتين. والأشبه أن تكونا: إذ كنا (؟).

(3) ظهر نصف الكلمة.

(4) في القاموس: مرد فهو مارد، ومريد.

(5) ظهر نصف الكلمة.

(6) واقرأ أيضا: بما.

(7) غير ظاهرة في الأصل.

(8) بعض حروف العبارة متآكل من الأصل.

(9) في الأصل: فكثير.

(10) البيت ناقص في الأصل بتآكل الصفحة والمحفوظة فيه: وإن جارت. . وإن ضنوا.
আমি এখন সমুদ্রের ওপারের ভূখণ্ডে (আফ্রিকা), মারিনি সুলতানের আশ্রয়ে এবং সমাদরে (১), যখন আমাদের চাচাতো ভাই আহমারি রাজন্যবর্গ এবং আমাদের স্বগোত্রীয় নাসরি সুলতানগণ তাদের নিজ নিজ রাজ্যে নিজেদের ক্ষমতার ভয়ে (২) আমাদের আন্দালুস থেকে বের করে দিয়েছিলেন। [কারণ হিসেবে ছিল] (৩) একজন চাটুকার (৪) এবং পরশ্রীকাতর ব্যক্তির কুমন্ত্রণা, যে মূলত কোনো হিতাকাঙ্ক্ষী [নয়] (৫)। সে তাদের কাছে চমৎকার উপদেশ প্রদর্শন করত এবং অতীত দিনগুলোতে যা (৬) ঘটেছিল তা দিয়ে তাদের ভীত করে তুলত। আর ক্ষমতা তো বন্ধ্যা (তা কোনো আত্মীয়তা মানে না)। যেহেতু তার পরিবারের প্রত্যেকেই তার চারপাশে অবস্থান করছিল।

আর যখন মাগরেবের (মরক্কো) রাজন্যবর্গের নিকট আমাদের আগমন ঘটল, তখন তারা আমাদের ওপর তাদের মাগরেবি বদান্যতার মেঘমালা [বর্ষণ করলেন] (৭)। ফলে অবস্থার উন্নতি হলো এবং সকল ভীতি দূর হয়ে গেল। থাকার স্থান মনোরম হলো এবং শান্তি ও নিরাপত্তা সুপ্রতিষ্ঠিত হলো।

এই (৮) উচ্চমর্যাদা এবং ক্রমবর্ধমান গৌরব সত্ত্বেও, স্বদেশের বিরহে আমি প্রায়শই (৯) এই কবিতাটি আবৃত্তি করতাম:

আমার দেশ যদিও আমার থেকে দূরে সরে গেছে তবুও তা আমার কাছে প্রিয় … এবং আমার স্বগোত্রীয়রা যদিও আমার প্রতি বিমুখ হয়েছে [তবুও তারা আমার কাছে সম্মানিত] (১০)

যেহেতু এটি তার পিতৃপুরুষের স্বদেশ এবং তার স্বগোত্রীয় ও প্রিয়জনদের আবাসস্থল। আর স্বদেশের প্রতি বিরহ বা টান তো মানুষের পৌরুষেরই অংশ।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে: আল-হাফওয়াহ। আমি বলছি, 'হাফিয়া বিহি' এর মাসদার (ক্রিয়ামূল) হলো: হাফাওয়াহ—হা-বর্ণে ফাতহাহ ও কাসরা যোগে—এবং তাহফাইয়াহ। আর 'হুফওয়াহ' হা-বর্ণে দম্মাহ ও কাসরা যোগে হলে তা 'হাফি' এর মাসদার, যার অর্থ: মোজা বা জুতা ছাড়াই হাঁটা।

(২) দুটি শব্দের সমপরিমাণ অংশ মুছে গেছে। সম্ভবত শব্দ দুটি হবে: যেহেতু আমরা (?)।

(৩) শব্দের অর্ধেক অংশ দৃশ্যমান।

(৪) আল-কামুস গ্রন্থে রয়েছে: 'মারাঁদা' অর্থ সে অবাধ্য হয়েছে, সুতরাং সে অবাধ্য ও বিদ্রোহী।

(৫) শব্দের অর্ধেক অংশ দৃশ্যমান।

(৬) এটি 'বিমা' হিসেবেও পড়া যায়।

(৭) মূল নুসখায় এটি স্পষ্ট নয়।

(৮) মূল পাঠ থেকে বাক্যের কিছু বর্ণ মুছে গেছে।

(৯) মূলে রয়েছে: 'ফা-কাছির'।

(১০) পৃষ্ঠা ক্ষয়ে যাওয়ার কারণে মূল পাঠে কবিতাটি অসম্পূর্ণ। এর সংরক্ষিত পাঠ হলো: 'যদিও তা অন্যায় করে... যদিও তারা কার্পণ্য করে'।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٣)
إلى وطنه (1). وقد حن رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى مكة إذ هي دار مولده (2).

[وفد أصيل الغفاري على رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يضرب الحجاب، فقالت له عائشة رضي الله عنها]: كيف تركت مكة؟ قال: تركتها وقد (اخضرت جنباتها) (3)، وابيضت بطحاؤها، وانتشر سلمها، وأعذق إذخرها، فقال النبي عليه السلام (*) [1/ب]: دع القلوب تقر.

وحدثني بفاس في سنة أربع وسبعين وسبع مئة، شيخنا الفقيه المحدث الراوية المسند الحاج الرحال الصالح المعمر أبو عبد الله محمد بن سعيد الرعيني المعروف بالسرّاج، وشيخنا الفقيه القاضي الخطيب العالم المفتي المدرس أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عبد الملك الفشتالي؛ قالا: حدثنا الفقيه الخطيب الحاج الرحال المحدث الحافظ محب الدين أبو عبد الله محمد بن عمر بن رشيد الفهري السبتي نزيل فاس، عن الفقيه الخطيب الصالح أبي عبد الله محمد بن صالح بن أحمد بن محمد الكناني الشاطبي عن الفقيه القاضي أبي الحسن علي بن عبد الله بن محمد بن

--------------------------------------------

(1) جملة ظهر منها: وإن؟. . . مستوطنه.

(2) تآكلت ثلاثة أسطر وظهر نحو سطرين، ثم تعانقت النسختان المخطوطتان. وما بين معقوفتين غير ظاهر في نسخة الرباط. وفيه أصيل الخزاعي والحديث: قدم أصيل الغفاري على رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن يضرب الحجاب، فقالت له عائشة رضي الله عنها كيف تركت مكة؟ قال اخضرت جنباتها، وابيضت بطحاؤها، وأعذق إذ خرها، وانتشر سلمها. . الحديث. وفيه: فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم ويها يا أصيل، دع القلوب تقر» أخرجه الخطابي في غريب الحديث من طريق الزهري، وأبو موسى المديني من وجه آخر. وانظر: المقاصد الحسنة للسخاوي 183 وكشف الخفا ومزيل الإلباس 1:346، والنهاية في غريب الحديث لابن الأثير 1:33 والإذخر: حشيشة طيبة الرائحة، تسقف بها البيوت فوق الخشب. وأعذق أي صار له أعذاق. والسلم: شجر.

(3) في الأصل: وقد (اخضر؟) ثمامها. وكلمة (اخضر) غير واضحة. والثمام نبات.

(*) من هنا تبدأ نسخة م (دار الكتب المصرية) وإحالات الأرقام عليها.
তার স্বদেশ অভিমুখে (১)। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার প্রতি ব্যাকুল হয়েছিলেন, কেননা তা ছিল তাঁর জন্মস্থান (২)।

[উসাইল আল-গিফারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হিজাবের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে প্রতিনিধি হিসেবে আসলেন, তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বললেন]: আপনি মক্কাকে কী অবস্থায় রেখে এসেছেন? তিনি বললেন: আমি তাকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছি যে, তার চারপাশ (সবুজ হয়ে গিয়েছে) (৩), তার উপত্যকাগুলো শুভ্র হয়ে গিয়েছে, তার 'সালাম' গাছ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তার 'ইযখির' ঘাস মঞ্জুরিত হয়েছে। তখন নবী আলাইহিস সালাম বললেন (*) [১/খ]: হৃদয়গুলোকে স্থির হতে দাও।

সাতশ চুয়াত্তর হিজরি সনে ফাস নগরীতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমাদের শায়খ, ফকিহ, মুহাদ্দিস, বর্ণনাকারী, মুসনিদ, হাজি, পর্যটক, সৎকর্মশীল ও দীর্ঘজীবী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-রুয়াইনি, যিনি 'সাররাজ' নামে পরিচিত; এবং আমাদের শায়খ, ফকিহ, বিচারক, খতিব, আলিম, মুফতি ও শিক্ষক আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল মালিক আল-ফিশতালি। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ফকিহ, খতিব, হাজি, পর্যটক, মুহাদ্দিস ও হাফিজ মুহিব্বুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে রুশাইদ আল-ফিহরি আস-সাবতি, যিনি ফাসের অধিবাসী ছিলেন; তিনি বর্ণনা করেছেন ফকিহ, খতিব ও সৎকর্মশীল আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ আল-কিনানি আশ-শাতিবি থেকে; তিনি ফকিহ ও বিচারক আবু হাসান আলি ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে... থেকে।

--------------------------------------------

(১) একটি বাক্য যেখান থেকে প্রকাশ পায়: আর যদিও?... তার আবাসস্থল।

(২) তিনটি লাইন ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং প্রায় দুই লাইন প্রকাশ পেয়েছে, এরপর পাণ্ডুলিপি দুটি একত্রিত হয়েছে। আর বন্ধনীভুক্ত অংশটি রিবাত পাণ্ডুলিপিতে নেই। তাতে 'উসাইল আল-খুজায়ি' রয়েছে এবং হাদিসটি হলো: উসাইল আল-গিফারি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হিজাবের বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে আসলেন, তখন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তাকে বললেন: আপনি মক্কাকে কী অবস্থায় রেখে এসেছেন? তিনি বললেন: তার চারপাশ সবুজ হয়ে গিয়েছে, তার উপত্যকাগুলো শুভ্র হয়ে গিয়েছে, তার ইযখির মঞ্জুরিত হয়েছে এবং তার সালাম ছড়িয়ে পড়েছে... হাদিসটি। এতে আরও আছে: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "থামো হে উসাইল, হৃদয়গুলোকে স্থির হতে দাও।" খাত্তাবি এটি 'গারিবুল হাদিস' গ্রন্থে জুহরি-র সূত্রে এবং আবু মুসা আল-মাদিনি অন্য সূত্রে বর্ণনা করেছেন। আরও দেখুন: সাখাউয়ি রচিত 'আল-মাকাসিদুল হাসানাহ' ১৮৩, 'কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস' ১:৩৪৬, এবং ইবনুল আসির রচিত 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিস' ১:৩৩। আর 'ইযখির' হলো সুগন্ধি ঘাস, যা দিয়ে কাঠের উপর ঘরের ছাদ তৈরি করা হয়। 'আ'যাক্ব' অর্থ তার মঞ্জরি বা শাখা বেরিয়েছে। আর 'সালাম' হলো একটি গাছ।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: এবং (সবুজ হয়েছে?) তার সুমাম (একপ্রকার ঘাস)। আর 'সবুজ হয়েছে' শব্দটি অস্পষ্ট। সুমাম হলো একটি উদ্ভিদ।

(*) এখান থেকে পাণ্ডুলিপি 'ম' (মিশরীয় দারুল কুতুব) শুরু হয়েছে এবং নাম্বারিং রেফারেন্সগুলো এর ওপর ভিত্তি করে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٤)
يوسف بن قطرال عن الحافظ محمد بن سعيد بن زرقون الأنصاري عن الراوية أبي عبد الله أحمد بن محمد الخولاني عن أبي عمرو عثمان بن أحمد بن محمد بن يوسف اللخمي القبحطيلي قال: حدثني أبو عيسى يحيى بن عبد الله بن أبي عيسى قال: حدثني عمي أبو مروان عبيد الله بن يحيى بن يحيى عن أبيه يحيى ابن يحيى عن مالك بن أنس عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة أم المؤمنين أنها قالت: لما قدم رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة وعك أبو بكر وبلال. قالت فدخلت عليهما فقلت: يا أبت: كيف تجدك؟ ويا بلال: كيف تجدك؟ قالت فكان أبو بكر إذا أخذته الحمى يقول:

كل أمرئ مصبّح في أهله … والموت أدنى من شراك نعله

قالت: وكان بلال إذا أقلعت عنه يرفع عقيرته ويقول (1):

ألا ليت شعري هل أبيتن ليلة … بواد وحولي إذخر وجليل

وهل أردن يوما مياه مجنة … وهل يبدون لي شامة وطفيل (2)

[2/أ] قالت عائشة: فجئت رسول الله صلى الله عليه وسلم فأخبرته فقال: اللهم حبب لنا المدينة كحبنا مكة أو أشد، وصححها، وبارك لنا في صاعها ومدها، وانقل حمّاها فاجعلها في الجحفة (3).

وأنشدني في الحنين إلى الأوطان ذو الوزارتين الحاجب القائد الخطيب الفقيه الكاتب صاحب القلم الأعلى، أبو عبد الله محمد بن الفقيه الخطيب الكاتب

--------------------------------------------

(1) لم يظهر ما بين معقوفتين في الأصلين لطمس فيهما وهو مستدرك من صحيح البخاري ج 4:264 وهو في معجم ما استعجم 2:369 والعقد 5:272. والبداية والنهاية 3:221

(2) تآكلت حروف قليلة من الشعر في نسخة ط. وذهب الشعر كله من م.

(3) الحديث في صحيح البخاري 4:264، وفيه حبب إلينا. و: بالجحفة. والجحفة كانت قرية كبيرة على طريق المدينة من مكة. وهي ميقات أهل مصر والشام إن لم يمروا على المدينة. وانظر صحيح مسلم بشرح النووي 9:105
ইউসুফ বিন কাতারাল বর্ণনা করেন হাফিজ মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন জারকুন আল-আনসারি থেকে, তিনি বর্ণনাকারী আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খাওলানি থেকে, তিনি আবু আমর উসমান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আল-লাখমি আল-কুবহাতিলি থেকে, তিনি বলেন: আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু ঈসা আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার চাচা আবু মারওয়ান উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আমাকে তাঁর পিতা ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক বিন আনাস থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি মুমিনদের জননী আয়েশা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় আসলেন, তখন আবু বকর ও বিলাল জ্বরে আক্রান্ত হলেন। তিনি বলেন: আমি তাঁদের নিকট প্রবেশ করলাম এবং বললাম: হে আব্বাজান! আপনি কেমন বোধ করছেন? এবং হে বিলাল! আপনি কেমন বোধ করছেন? তিনি বলেন: আবু বকর যখন জ্বরে আক্রান্ত হতেন, তখন বলতেন:

প্রত্যেক ব্যক্তি তার পরিবারে প্রভাত অতিবাহিত করে ... অথচ মৃত্যু তার জুতার ফিতার চেয়েও নিকটে।

তিনি বলেন: বিলালের যখন জ্বর ছেড়ে যেত, তখন তিনি উচ্চস্বরে বলতেন (১):

হায়, যদি আমি জানতে পারতাম! আমি কি কখনো কোনো উপত্যকায় একটি রাতও অতিবাহিত করতে পারব ... যেখানে আমার চারপাশে ইজখির ও জালীল ঘাস থাকবে?

আর আমি কি কোনোদিন মাজান্নার জলাশয়ে উপস্থিত হতে পারব? ... আর আমার সামনে কি শামা ও তুফাইল পাহাড় দু'টি দৃশ্যমান হবে? (২)

[২/অ] আয়েশা বলেন: এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে সংবাদ দিলাম। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কাছে মদীনাকে প্রিয় করে দিন যেমন আমরা মক্কাকে ভালোবাসি অথবা তার চেয়েও বেশি। এর পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর করুন, এর সা’ ও মুদ-এ আমাদের জন্য বরকত দান করুন এবং এর জ্বরকে সরিয়ে জুহফাতে পাঠিয়ে দিন (৩)।

এবং স্বদেশের প্রতি অনুরাগের বিষয়ে আমাকে কবিতা শুনিয়েছেন দুই মন্ত্রণালয়ের অধিকারী, হাজিব, সেনাপতি, খতিব, ফকিহ, লেখক, উচ্চ কলমের অধিকারী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-ফকিহ আল-খতিব আল-কাতিব।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপি দুটিতে ঘষামাজা থাকার কারণে বন্ধনীভুক্ত অংশটি স্পষ্ট নয়। এটি সহীহ বুখারী ৪:২৬৪ থেকে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এটি মু'জাম মা ইস্তা'জাম ২:৩৬৯, আল-ইকদ ৫:২৭২ এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩:২২১-এ রয়েছে।

(২) 'ত' পাণ্ডুলিপিতে কবিতার কয়েকটি অক্ষর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং 'ম' পাণ্ডুলিপি থেকে পুরো কবিতাটিই বাদ পড়েছে।

(৩) হাদীসটি সহীহ বুখারী ৪:২৬৪-এ রয়েছে, তাতে 'আমাদের কাছে প্রিয় করুন' এবং 'জুহফাতে' শব্দ এসেছে। জুহফা মক্কা থেকে মদীনার পথে একটি বড় গ্রাম ছিল। এটি মিশর ও শামবাসীদের জন্য মীকাত যদি তারা মদীনার পথ দিয়ে না আসে। দেখুন: সহীহ মুসলিম শারহু নববী ৯:১০৫।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أبي محمد عبد الله بن سعيد بن الخطيب السلماني الأندلسي (1) بفاس يتشوق معاهده بالأندلس لما كان بالعدوة حين خلع عن ملكه مخدومه ابن عمنا السلطان الغني بالله محمد (2)

أحبك يا مغنى الحقوق بواجب … وأقطع في أوصافك الغر أوقاتي

تقسّم منك الترب أهلي وجيرتي … ففي الظهر أحيائي وفي البطن أمواتي

وقلت أنا في ذلك، حين مقامي ببر العدوة في حضرة ملوك مرين لما أخرجنا عن الأندلس بنو عمنا الملوك الأحمريون النصريون لما قدمناه:

فؤادي يشتكي داء دفينا … لبعدي عن مزار الظاعنينا (3)

وأكبادي من الأشواق ذابت … ووجدي فاق وجد العاشقينا

ولي جسم أضرّ به سقام … وقلبي بعدهم أليف الشجونا

ورب البيت لا أنسى هواهم … وكيف؟ وهم بقلبي ساكنونا

لعمري [ما النّوى] إلا عذاب … وإني قد بليت به سنينا (4)

يهيّج زفرتي تذكار أرضي … ويفجعني ويستهمي الجفونا

حنيني ما حييت لها عظيم … وما بسوى محبتها بلينا

فما صبر وإن بعدت بباق … كذا سنن الكرام الماجدينا

وما بمراد نفسي كان عنها … بعادي، لا، ورب العالمينا!

فواجب على الحر الطاهر أن يحن إلى وطنه في السر والظاهر، ويردد بالشوق العظيم ما إني أردده من قصيدة ابن عبد العظيم:

--------------------------------------------

(1) هو لسان الدين بن الخطيب، وسيرد عنه حديث مفصل.

(2) هو الأمير محمد بن يوسف، حكم غرناطة مرتين، الأولى من 755 - 760 والثانية من 763 - 793 وهو مخدوم لسان الدين. انظر اللمحة البدرية:82.

(3) في الأصلين: لبعد. ورجحت ما أثبت.

(4) (ما النوى) زيادة أقترحها، لطمس في الأصلين مكانها.
আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনুল খতিব আল-সালমানি আল-আন্দালুসি (১) ফেজ শহরে অবস্থানকালে আন্দালুসে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর প্রতি গভীর মমতাভরে আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করছিলেন, যখন তিনি উত্তর আফ্রিকায় অবস্থান করছিলেন সেই সময়ে, যখন তাঁর সেবাপ্রাপ্ত ব্যক্তি (মালিক) আমাদের চাচাতো ভাই সুলতান আল-গানি বিল্লাহ মুহাম্মদ (২) সিংহাসনচ্যুত হয়েছিলেন।

হে হকের নিকেতন, আমি তোমাকে তোমার প্রাপ্য অধিকারে ভালোবাসি … আর তোমার গৌরবময় গুণাবলি বর্ণনায় আমি আমার সময় অতিবাহিত করি।

তোমার মাটি আমার পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিভক্ত হয়েছে … তাই মাটির উপরিভাগে আমার জীবিতরা রয়েছে আর এর অভ্যন্তরে রয়েছে আমার মৃতরা।

আর এ সম্পর্কে আমি বলেছিলাম, যখন আমি উত্তর আফ্রিকার উপকূলে মারিনি রাজাদের দরবারে অবস্থান করছিলাম, যখন আমাদের চাচাতো ভাই বনু আহমার বা নাসরি রাজারা আমাদের আন্দালুস থেকে বের করে দিয়েছিলেন যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি:

আমার অন্তর এক গোপন ব্যথার অভিযোগ করছে … বিদায় গ্রহণকারীদের আবাসস্থল থেকে আমার দূরত্বের কারণে। (৩)

আকাঙ্ক্ষায় আমার কলিজা গলে গিয়েছে … আর আমার বিরহ-বেদনা প্রেমিকদের বেদনাকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

আমার এমন এক দেহ রয়েছে যা অসুস্থতায় জর্জরিত … আর তাদের বিচ্ছেদের পর আমার অন্তর দুঃখের সাথী হয়েছে।

কাবাগৃহের রবের কসম, আমি তাদের ভালোবাসা ভুলব না … আর ভুলবই বা কীভাবে? তারা তো আমার হৃদয়েই বসবাস করছেন।

আমার জীবনের কসম, [বিচ্ছেদ] কেবলই এক আজাব … আর আমি এতে দীর্ঘ বছর ধরে ক্লিষ্ট হচ্ছি। (৪)

আমার জন্মভূমির স্মৃতি আমার দীর্ঘশ্বাসকে জাগিয়ে তোলে … তা আমাকে ব্যথিত করে এবং চোখের পাতা অশ্রুসিক্ত করে।

আমি যতদিন বেঁচে থাকব, তার প্রতি আমার হাহাকার হবে সুমহান … আর তার ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছুতে আমি ক্লিষ্ট হইনি।

দূরত্ব দীর্ঘ হলে আর ধৈর্য অবশিষ্ট থাকে না … মহানুভব ও সুমহান ব্যক্তিদের নীতি এমনই।

আমার নিজের ইচ্ছায় আমি তা থেকে দূরে সরে আসিনি … না, বিশ্বজগতের রবের কসম!

অতএব, একজন পবিত্র ও স্বাধীন মানুষের জন্য কর্তব্য হলো সংগোপনে ও প্রকাশ্যে তার স্বদেশের প্রতি ব্যাকুল হওয়া, এবং সেই সুমহান আকাঙ্ক্ষায় তা পুনরাবৃত্তি করা যা আমি ইবনে আবদিল আজিমের কাসিদা থেকে পুনরাবৃত্তি করছি:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন লিসান উদ্দিন ইবনুল খতিব, তাঁর সম্পর্কে সামনে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

(২) তিনি হলেন আমির মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ, তিনি দুইবার গ্রানাডা শাসন করেছেন; প্রথমবার ৭৫৫ - ৭৬০ এবং দ্বিতীয়বার ৭৬৩ - ৭৯৩ হিজরি পর্যন্ত। তিনি লিসান উদ্দিনের মালিক ছিলেন। দেখুন: আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ: ৮২।

(৩) উভয় মূল পাণ্ডুলিপিতে 'দূরত্বের কারণে' (লিবুদ) ছিল। আমি যা সাব্যস্ত করেছি তাকেই প্রাধান্য দিয়েছি।

(৪) (বিচ্ছেদ কি) অংশটি আমার প্রস্তাবিত সংযোজন, কারণ মূল পাণ্ডুলিপিদ্বয়ের ওই স্থানটি অস্পষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٦)
حنيني إلى تلك المعاهد أنها … معاهد أحبابي تذكرتها حبا

ويتأوه حزنا عليه، ويكثر من تذكار الأوبة إليه. فلولا أن هدر الملوك بنو عمي بوطني دمي، لسرت إليه على راسي لا على قدمي!

على أن مثلي لا تنهنهه الزواجر، ولا تصده عن مطلبه السيوف والخناجر؛ بل يقتحم من مراده الأهوال، ويعمل بقول الشاعر في كل الأحوال:

أزور ولو أن السيوف شواهر … وأدنو ولو أن الجحيم مزارها

إذ كنت من بيت الملك الرفيع السعيد، ومن أحفاد السلطان الرئيس الأمير أبي سعيد. وقصدي في هذا الكتاب عند ذكر الملوك والأمراء والكبراء وغيرهم من سائر الشعراء أن أغضي عما آخذه لهم من القبائح، وأذكر ما امتازوا به من الفضائل والمنائح؛ لأن مثلي لا يليق به إظهار العورات، ولا يحل له تتبع العثرات. غيرة على أعراض الموحدين (1)، [اتباعا للشرع في تحريم الغيبة، وضربا عن الكريبة، وإثباتا لحظوظ النقيبة الرغيبة (2).

تركت مثاليب الرجال لأنني … أفضل أن ألقى بفضلي للناس (3)]

وأرجو بذاك الستر يوم فضيحة … إذا جل خطب في القيامة بالناس

مع أنه ليس في كشف عورات الناس مسرّة. وربما نال ما أثبت (4) ذلك بوسى ومضرة. فما ضره لو اشتغل بذنوبه، وتأسف على ما فرط من حوبه، وستر العيوب وكف الباس، وقال كما قال ابن طاهر عامل آل عباس:

وما السر من قلبي كثاو بحفرة … لأني أرى المدفون ينتظر الحشرا

ولكنني أخفيه حتى كأنه … من الدهر يوما ما أحطت به خبرا

--------------------------------------------

(1) سقطت جملة، لم تستبن في الأصلين.

(2) الكريبة: الداهية الشديدة. والنقيبة، النفس والطبيعة.

(3) ما بين معقوفتين من نسخة ط. وقد استجليت بعض الكلمات من ترجمة لسان الدين بن الخطيب في نثير الفرائد 223 - 224، فقد كرر هناك هذه الفقرة بمناسبة ترجمته له إدلالا بذكر محاسنه دون مساوئه. (راجع الترجمة).

(4) كذا فيهما.
সেই শিক্ষালয়গুলোর প্রতি আমার ব্যাকুলতা এই যে … সেগুলো আমার প্রিয়জনদের শিক্ষালয়, ভালোবাসার আতিশয্যে আমি সেগুলো স্মরণ করি।

আর তিনি এর বিরহে ব্যথায় দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এবং সেখানে ফিরে যাওয়ার কথা বারবার স্মরণ করেন। আমার পিতৃব্য সম্পর্কের বাদশাহগণ যদি আমার জন্মভূমিতে আমার রক্তকে বৈধ করে না দিতেন, তবে আমি সেখানে পায়ের পরিবর্তে মাথার ওপর ভর দিয়ে হেঁটে যেতাম!

যদিও আমার মতো ব্যক্তিকে কোনো ধমক নিবৃত্ত করতে পারে না, এবং তলোয়ার বা খঞ্জর তাকে তার উদ্দেশ্য থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারে না; বরং সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে ভয়াবহ বিপদের মুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং সব অবস্থায় কবির এই কথা অনুযায়ী আমল করে:

আমি সাক্ষাৎ করবই যদি তলোয়ারগুলো কোষমুক্ত থাকে … আর আমি নিকটবর্তী হবই যদি সেই সাক্ষাৎস্থলটি জাহান্নামও হয়।

যেহেতু আমি এক সুউচ্চ ও সৌভাগ্যবান রাজবংশের সন্তান এবং মহান সুলতান আমীর আবু সাঈদের বংশধর। এই কিতাবে বাদশাহ, আমীর, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং অন্যান্য কবিদের উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য হলো—তাদের যেসব মন্দ দিক আমার নজরে এসেছে তা এড়িয়ে যাওয়া এবং তাদের সেসব গুণাবলি ও দানশীলতার কথা উল্লেখ করা যাতে তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন; কারণ আমার মতো ব্যক্তির জন্য অন্যের দোষ প্রকাশ করা শোভা পায় না এবং কারও পদস্খলন অনুসন্ধান করাও তার জন্য বৈধ নয়। তাওহীদী মুসলিমদের সম্মানের প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ থেকে (১), [গীবত বা পরনিন্দা হারামের বিষয়ে শরীয়তের অনুসরণে, কঠিন বিপদ থেকে দূরে থাকতে এবং প্রশংসনীয় স্বভাবের অংশ নিশ্চিত করতে (২)।

আমি মানুষের দোষত্রুটি বর্ণনা করা ছেড়ে দিয়েছি, কারণ আমি মানুষের কাছে আমার সৌজন্য নিয়ে উপস্থিত হওয়াকে অধিক পছন্দ করি (৩)]

আর এর মাধ্যমে আমি সেই অপদস্থ হওয়ার দিনে পর্দার প্রত্যাশা করি … যখন কিয়ামতের ময়দানে মানুষের ওপর কঠিন বিপদ নেমে আসবে।

অথচ মানুষের দোষ প্রকাশ করার মধ্যে কোনো আনন্দ নেই। আর সম্ভবত যে ব্যক্তি তা লিপিবদ্ধ করে (৪), সে এর দ্বারা দুর্গতি ও ক্ষতিরই সম্মুখীন হয়। সুতরাং তার কী ক্ষতি হতো যদি সে নিজের গুনাহ নিয়ে ব্যস্ত থাকত, নিজের কৃত পাপের জন্য অনুতপ্ত হতো, অন্যের দোষ গোপন রাখত এবং অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাকত! আর সে যদি আব্বাসীয় বংশের গভর্নর ইবনে তাহেরের মতো বলত:

আর আমার হৃদয়ে থাকা গোপন রহস্য কোনো গর্তে শায়িত মৃতদেহের মতো নয় … কারণ আমি দেখি যে, দাফনকৃত ব্যক্তি পুনরুত্থানের প্রতীক্ষায় থাকে।

কিন্তু আমি তা এমনভাবে গোপন রাখি যেন মনে হয় … যুগের কোনো এক দিনে আমি সে সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত হইনি।

--------------------------------------------

(১) একটি বাক্য বাদ পড়েছে, যা মূল পাণ্ডুলিপি দুটিতে স্পষ্ট নয়।

(২) আল-কারীবা: চরম বিপদ বা দুর্যোগ। আন-নাকীবা: আত্মা ও স্বভাব।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু 'ত' কপি থেকে নেওয়া হয়েছে। আমি লিসান উদ্দিন ইবনুল খতীবের জীবনী থেকে 'নাথীরুল ফারায়িদ' (২২৩-২২৪)-এ কিছু শব্দ স্পষ্ট করেছি; সেখানে তিনি তার জীবনী বর্ণনার প্রসঙ্গে তার দোষত্রুটি বাদ দিয়ে কেবল গুণাবলি উল্লেখ করার খাতিরে এই অনুচ্ছেদটির পুনরাবৃত্তি করেছেন। (জীবনীটি দেখুন)।

(৪) উভয় কপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وقد قال بعض الناس من تعرض للأعراض (1)، صار عرضه هدفا لسهام الأغراض. وأرجو من الله بتركي لذلك، أن يقيني من المهالك.

وكتابي هذا قد أينعت أفنان رياضه، وملئت بالآداب الرائقة أرجاء حياضه، فآدابه فائقة، وصفحاته بالحسن رائقة، وقد قلت في وصفه:

هذا الكتاب له فضل على الكتب … كتب القريض مع التاريخ والأدب

لأجل تركي مساوي من به، وسما … سمو واضعه في أشرف الرتب

لم أرض ذكر مساوي الناس عن كرم … فإنني لست للفحشا بمنتسب

يبدي السرور لقاريه، ويبعده … عن التفكر والأحزان والكرب

له فوائد مثل الروض في جيدة … وفوق أزهاره في الحسن والنسب

يروي الظما (ويداوي؟) كل ذي وله … وليس جدواه عن راج بمحتجب (2)

إذا اطلعتَ عليه زدتَ منفعة … وَحُزْتَ آداب أهل العلم والكتب

علم البيان بأشعار مزخرفة … جئنا بها مثل نظم الماء بالحبب

تنافس الصبح فيه عند بهجته … وعند ما تم منه منتهى أرب (3)

قاريه في لذة ما تنقضي أبدا … إلى انقضاء الأماني البيض في الطلب

من جاء يقبس منه نور فائدة … يلقى الهدى وهو لا يخشى من الريب

تهديه للحق فيه كل بارقة … تفوق بارقة الأمطار والسحب

أبديت فيه عجيبا من محافظتي … على العلوم ومن بحثي على العجب

حتى ملأت عياب الطرس من طرف … ومن علوم ومن شعر ومن نسب (4)

فخذه واصلح به ما جاء من خلل … واعذر، هديت إلى الإرشاد والقرب (5)

--------------------------------------------

(1) رسم كلمة أشبه ب (أن) غير معجمة قبل صار. ولا معنى لها هنا.

(2) بعد هذا البيت بيت لم يتضح. وكذا صدر البيت التالي له، وبعض عجزه.

(3) كذا في الأصل؛ واقرأ: أربي.

(4) العياب: جمع عيبة: (ما يجعل فيه الثياب، وغيره).

(5) في م: القرب وفي ط الغرب.
কিছু লোক বলেছে যে, যে ব্যক্তি অন্যের সম্মানের (১) ওপর হস্তক্ষেপ করে, তার নিজের সম্মানও অসৎ উদ্দেশ্যের তীরের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায়। আর আমি এটি বর্জন করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশা করি যে, তিনি আমাকে ধ্বংসাত্মক বিষয়সমূহ থেকে রক্ষা করবেন।

আমার এই গ্রন্থটির উদ্যানের শাখাগুলো ফলবতী হয়েছে এবং এর জলাধারের চারপাশ মনোমুগ্ধকর সাহিত্যে পরিপূর্ণ হয়েছে। এর আদবসমূহ উৎকৃষ্ট এবং এর পৃষ্ঠাগুলো সৌন্দর্যে ভাস্বর। আমি এর বর্ণনায় বলেছি:

এই কিতাবটি অন্যান্য কিতাবের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে … কবিতা, ইতিহাস এবং সাহিত্যের কিতাবসমূহের ওপর

কারণ আমি এতে অন্যের দোষচর্চা বর্জন করেছি, আর এটি উন্নত হয়েছে … এর লেখকের উচ্চমর্যাদার ন্যায় এটিও শ্রেষ্ঠ স্তরে উন্নীত হয়েছে

মহানুভবতার কারণে আমি মানুষের দোষচর্চায় সন্তুষ্ট হইনি … কারণ আমি অশ্লীলতার সাথে সম্পর্কযুক্ত নই

এটি তার পাঠকের মনে আনন্দ উদয় করে এবং তাকে দূরে সরিয়ে রাখে … দুশ্চিন্তা, বিষণ্ণতা এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে

এতে সতেজ বাগানের মতো উপকারিতা রয়েছে … আর সৌন্দর্য ও আভিজাত্যে তা বাগানের ফুলের চেয়েও শ্রেষ্ঠ

এটি তৃষ্ণা মেটায় (এবং আরোগ্য দেয়?) প্রত্যেক ব্যাকুল হৃদয়কে … আর এর কল্যাণ কোনো আশাবাদীর নিকট গোপন নয় (২)

যখন আপনি এটি পাঠ করবেন, তখন আপনার উপকারিতা বৃদ্ধি পাবে … এবং আপনি জ্ঞানবান ও গ্রন্থকারদের শিষ্টাচার অর্জন করবেন

অলঙ্কার শাস্ত্রের সুশোভিত কবিতাগুলোর মাধ্যমে … যা আমি পানির ওপর বুদবুদের মালার মতো সুবিন্যস্ত করে নিয়ে এসেছি

এর মনোরম দৃশ্যের কারণে সকালবেলাও এর সাথে প্রতিযোগিতা করে … এবং যখন এটি পূর্ণতা পেল, তখন তা আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছাল (৩)

এর পাঠক এমন এক অনিঃশেষ তৃপ্তিতে থাকে যা কখনো শেষ হয় না … অন্বেষণের পথে শুভ কামনার সমাপ্তি পর্যন্ত

যে ব্যক্তি এখান থেকে কোনো উপকারের আলো নিতে আসে … সে সঠিক পথ খুঁজে পায় এবং কোনো সন্দেহের ভয় পায় না

এর প্রতিটি চমক তাকে সত্যের দিকে পরিচালিত করে … যা বৃষ্টি ও মেঘের বিদ্যুৎ চমককেও ছাড়িয়ে যায়

আমি এতে জ্ঞান-বিজ্ঞান সংরক্ষণে আমার বিস্ময়কর প্রচেষ্টা প্রদর্শন করেছি … এবং এতে চমৎকার সব গবেষণালব্ধ বিষয় ফুটিয়ে তুলেছি

এমনকি আমি কাগজের আধারগুলোকে দুর্লভ বিষয়াবলী … জ্ঞান-বিজ্ঞান, কবিতা এবং বংশতালিকা দিয়ে পূর্ণ করে দিয়েছি (৪)

সুতরাং এটি গ্রহণ করুন এবং এর কোনো ভুল সংশোধন করে নিন … আর আমাকে ক্ষমা করবেন; আপনি সঠিক পথ ও নৈকট্যের দিকে পরিচালিত হোন (৫)

--------------------------------------------

(১) 'সার' শব্দের আগে একটি শব্দের রেখা রয়েছে যা দেখতে অনেকটা নুকতাহীন (আন) শব্দের মতো। এখানে এর কোনো অর্থ হয় না।

(২) এই পঙক্তির পরে একটি পঙক্তি স্পষ্ট নয়। একইভাবে পরবর্তী পঙক্তির প্রথমাংশ এবং শেষাংশের কিছু অংশও অস্পষ্ট।

(৩) মূলে এভাবেই আছে; পাঠ করুন: 'আরাবি' (আমার আকাঙ্ক্ষা)।

(৪) আল-আইয়াব: এটি 'আইবাহ' শব্দের বহুবচন: (যাতে কাপড় বা অন্য কিছু রাখা হয়)।

(৫) 'ম' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আল-কুরব (নৈকট্য) এবং 'ত' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: আল-গারব (পশ্চিম)।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٨)
ولعلي أن أكون قد خرجت عن حد الصواب، فيما ألفته؛ وتركت من فصل الخطاب، أضعاف ما عرفته. وإنما ذلك من عوائق تبلد الذهن، وموانع للنشاط توقع في الفكر الصحيح الوهن. ولم لا؟ والدهر قد جار بالبعد عن الأهل والجار، وتبدد شمل الألفة بالأحباب، ومنع الحياة في القرب منهم والأسباب. والخروج عن الأوطان؛ والربط من عدوانه بأشطان.

فأي صواب يوجد مع هذه المحن، وأي فصل خطاب معها بما جرت من الإحن. وايم الله لولا لهجي بالأدب، وكلفي بمن جد في طلبه ودأب، لم أسارع في تأليف كتاب، بل لكنت ممن عن وضعه تاب؛ لهذه المصائب التي غدا سهمها صائب (1). فمن تصفح كتابي هذا، ووقع على خلل في تركيبه، أو عذلني في تبويبه (2):

[4/أ] فعين الرضا عن كل عيب كليلة … ولكن عين السخط تبدي المساويا

ومع ذلك فلم أخل أن جمعت ما تستملح، وأحسن شيء في فنه العيون تستلمح (3). وجئت ببيان السحر ولبابه. وبدائع تنسي عهد الصبا وحسن شبابه.

بدائع جلّت عن مثال لأنها … -لعمرك- إسماعيل ألّف حسنها!

فجئت بمجموع قد أشرقت أسرّة براعته الفائقة؛ وهبّ عطر نواسم جودته الرائقة. قل ما يسمح الزمان بمثاله، أو ينسج على منواله. لم تقدر على الإتيان بمثله أيدي المصنفين، ولا شنفت آذان إبداعه أنامل المشنفين!

--------------------------------------------

(1) كذا في الأصلين، مراعاة للسجع.

(2) في الأصلين نحو سطرين، طمسا في نسخة م بورق لاصق محا الأصل، وبتآكل نسخة (ط) تآكلا شديدا.

(3) فيهما: في فنه العيون تستملح.
সম্ভবত আমি যা রচনা করেছি তাতে সঠিকতার সীমা অতিক্রম করেছি; এবং আমি যা জানি তার বহুগুণ অকাট্য বক্তব্য বর্জন করেছি। বস্তুত এটি মেধার জড়তার প্রতিবন্ধকতা এবং প্রাণশক্তির অন্তরায়সমূহের কারণে যা সঠিক চিন্তাকে দুর্বল করে দেয়। আর কেনই বা হবে না? অথচ মহাকাল পরিবার ও প্রতিবেশী থেকে বিচ্ছেদের মাধ্যমে অবিচার করেছে, প্রিয়জনদের সাথে হৃদ্যতার বন্ধন ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে এবং তাদের সান্নিধ্যে বসবাস ও জীবনের উপকরণসমূহ থেকে বঞ্চিত করেছে। আর নিজ মাতৃভূমি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া এবং এর শত্রুতায় শৃঙ্খলিত হওয়া।

এসব পরীক্ষার মুখে কী সঠিকতা পাওয়া সম্ভব, আর এসকল দুঃখ-বেদনার মাঝে কী অকাট্য বক্তব্য সম্ভব। আল্লাহর শপথ, যদি সাহিত্যের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ এবং যারা তা অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম ও নিরবচ্ছিন্ন সাধনা করে তাদের প্রতি আমার ভালোবাসা না থাকত, তবে আমি কোনো গ্রন্থ রচনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতাম না; বরং আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হতাম যারা গ্রন্থ রচনা থেকে তওবা করেছে; এই সকল মুসিবতের কারণে যার তীর আজ লক্ষ্যভেদী হয়ে উঠেছে (১)। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার এই বইটি পাঠ করবে এবং এর বিন্যাসে কোনো ত্রুটি খুঁজে পাবে অথবা এর অধ্যায় বিন্যাসের কারণে আমাকে ভর্ৎসনা করবে (২):

[৪/অ] সন্তুষ্টির দৃষ্টি সকল দোষের ব্যাপারে অন্ধ … কিন্তু অসন্তুষ্টির দৃষ্টি কেবল ত্রুটিসমূহকেই ফুটিয়ে তোলে।

তা সত্ত্বেও, আমি যা সংকলন করেছি তা অত্যন্ত চমৎকার হওয়া থেকে মুক্ত নয়, আর এর শিল্পশৈলীতে চোখ যা অবলোকন করে তা হবে সর্বোত্তম জিনিস (৩)। আমি জাদুময়ী বর্ণনা ও তার সারবস্তু নিয়ে এসেছি, এবং এমন সব অপূর্ব সৃষ্টি যা শৈশবকাল ও যৌবনের সৌন্দর্যকেও ভুলিয়ে দেয়।

এমন সব চমৎকার সৃষ্টি যা উপমা প্রদানের ঊর্ধ্বে, কারণ … —আপনার জীবনের শপথ— ইসমাইলই এর সৌন্দর্যকে সুবিন্যস্ত করেছেন!

ফলে আমি এমন এক সংকলন পেশ করেছি যার অসাধারণ নৈপুণ্যের ললাট উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে; এবং যার নির্মল গুণাবলির সুগন্ধি সমীরণ প্রবাহিত হয়েছে। যুগ এর অনুরূপ খুব কমই প্রদান করে থাকে, কিংবা এর নকশা অনুযায়ী অন্য কিছু বুনন করে। এর সমতুল্য কিছু আনতে সংকলকদের হাত সক্ষম হয়নি এবং কোনো সৌন্দর্যমণ্ডিতকারীর আঙুল এর উদ্ভাবনী কানে অলঙ্কার পরাতে পারেনি!

--------------------------------------------

(১) উভয় মূলে এভাবেই আছে, অন্ত্যমিল রক্ষার খাতিরে।

(২) উভয় মূলে প্রায় দুই লাইনের মতো, যা 'ম' পাণ্ডুলিপিতে আঠালো কাগজ দিয়ে মোছার ফলে মূল পাঠটি মুছে গেছে এবং 'ত' পাণ্ডুলিপিটি মারাত্মকভাবে ক্ষয় হয়ে যাওয়ার কারণে বিলুপ্ত হয়েছে।

(৩) উভয়টিতে রয়েছে: এর শিল্পশৈলীতে চোখ তৃপ্তি পায়।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وبوّبته أحد عشر بابا (1):

الباب الأول: في فضل الشعر وإباحة إنشاده بالمساجد.

الباب الثاني: في شعر ملوك بني مرين وأبنائهم.

الباب الثالث: في شعر ملوك-بني الأحمر من بني نصر-قومي-وأبنائهم.

الباب الرابع: في شعر ملوك الموحدين الحفصيين وأبنائهم.

الباب الخامس: في شعر ملوك بني زيّان من بني عابد الوادي وأبنائهم.

الباب السادس: في شعر ملوك بني العزفي وأبنائهم.

الباب السابع: فيما بلغنا من شعر وزراء قومي بني الأحمر من بني نصر، ملوك الأندلس.

الباب الثامن: فيما بلغنا من شعر قضاة بلادنا الأندلسية، وفقهائها.

الباب التاسع: فيما بلغنا من شعر كتّاب قومي بني الأحمر ملوك الأندلس.

الباب العاشر: فيما بلغنا من شعر كتّاب بني مرين ملوك المغرب.

الباب الحادي عشر: فيما بلغنا من شعر قضاة المغرب وفقهائها.

الباب الثاني عشر: فيما قيل من الشعر في السيف الذي بصومعة جامع [4/ب] القرويين من مدينة فاس.

--------------------------------------------

(1) فيهما: أحد عشر بابا. والحق أن المؤلف أضاف إلى تراجم الشعراء بابا للشعر الذي قيل في السيف الذي كان بصومعة جامع القرويين بفاس (انظره فيما بعد).
আমি এটিকে এগারোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি (১):

প্রথম অধ্যায়: কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব এবং মসজিদে তা পাঠ করার বৈধতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: বনী মারিন রাজবংশের রাজা এবং তাদের সন্তানদের কবিতা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: বনী নাসর গোত্রের বনী আহমার (আমার স্বজাতি) রাজা এবং তাদের সন্তানদের কবিতা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: মুওয়াহহিদ হাফসি রাজবংশের রাজা এবং তাদের সন্তানদের কবিতা প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: বনী আবিদ আল-ওয়াদি গোত্রের বনী যায়িয়ান রাজবংশের রাজা এবং তাদের সন্তানদের কবিতা প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: বনী আজফী রাজবংশের রাজা এবং তাদের সন্তানদের কবিতা প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: আন্দালুসের শাসক, আমার স্বজাতি বনী নাসর গোত্রের বনী আহমার মন্ত্রীদের থেকে আমাদের কাছে যে কবিতাগুলো পৌঁছেছে, সে প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: আমাদের দেশ আন্দালুসের কাজী এবং ফকিহদের থেকে আমাদের কাছে যে কবিতাগুলো পৌঁছেছে, সে প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: আন্দালুসের শাসক আমার স্বজাতি বনী আহমার রাজবংশের লেখকদের থেকে আমাদের কাছে যে কবিতাগুলো পৌঁছেছে, সে প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়: মাগরিবের শাসক বনী মারিন রাজবংশের লেখকদের থেকে আমাদের কাছে যে কবিতাগুলো পৌঁছেছে, সে প্রসঙ্গে।

একাদশ অধ্যায়: মাগরিবের কাজী এবং ফকিহদের থেকে আমাদের কাছে যে কবিতাগুলো পৌঁছেছে, সে প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ অধ্যায়: ফাস শহরের কায়রাউয়িন জামে মসজিদের মিনারে [৪/খ] রাখা তলোয়ার সম্পর্কে রচিত কবিতা প্রসঙ্গে।

--------------------------------------------

(১) এগুলোতে রয়েছে: এগারোটি অধ্যায়। তবে সত্য এই যে, লেখক কবিদের জীবনীর সাথে ফাস শহরের কায়রাউয়িন জামে মসজিদের মিনারে রক্ষিত তলোয়ার সম্পর্কে রচিত কবিতার জন্য আরও একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন (পরবর্তীতে এটি দেখুন)।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الباب الأول

في فضل الشّعر وإباحة إنشاده بالمساجد

نقول-والله المسدد-: الشعر لا يقوله إلا أهل الفضل والذكاء، ولا يرتاح لسماعه إلا الكرام. وقد روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يحب أن ينشد بين يديه قصيدة امرئ القيس (1):

ألا عم صباحا أيها الطلل البالي … وهل يعمن من كان في العصر الخالي

فإذا وصل منشدها بين يديه إلى قوله (2):

ألا زعمت بسباسة اليوم أنني … كبرت وأن لا يحسن اللهو أمثالي

يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أمسك» نزاهة منه صلى الله عليه وسلم أن يسمع الفحش الذي بعد ذلك في القصيدة.

وبعض المتفقهين الذين لا أدب عندهم، ولا هو في طبعهم ينكرون الشعر ويذمونه، ويرون أنه قبيح، وقائله مذموم. فليت شعري لم أنكروه وهذا رسول الله صلى الله عليه وسلم-وهو الأسوة والقدوة-كان يحب سماع قصيدة امرئ القيس المذكورة، وكانت في أكثر الأوقات تنشد بين يديه. وقد أنشده كعب بن

--------------------------------------------

(1) مطلع قصيدة له (الديوان بشرح الأعلم الشنتمري):27.

(2) قال الأعلم «قوله ألا زعمت بسباسة هي امرأة عبرته بالكبر، وأنه لا يحسن اللهو، فنفى ذلك عن نفسه بقوله -في البيت التالي- كذبت لقد أصبي على المرء عرسه».
প্রথম পরিচ্ছেদ

কবিতার মর্যাদা এবং মসজিদে তা আবৃত্তি করার বৈধতা প্রসঙ্গে

আমরা বলছি—আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শনকারী—: কবিতা কেবল ফযীলত ও তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞার অধিকারীরাই বলে থাকে, আর কেবল মর্যাদাবান লোকেরাই তা শ্রবণে তৃপ্তি পায়। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সম্মুখে ইমরুল কায়েসের কাসিদা আবৃত্তি করা পছন্দ করতেন (১):

হে জীর্ণ ধ্বংসাবশেষ! তোমার প্রভাতটি শান্তিময় হোক … আর অতীতকালে বসবাসকারী ব্যক্তি কি আর শান্তি পেতে পারে?

আবৃত্তিকারী যখন তাঁর সম্মুখে এই চরণে পৌঁছাত (২):

সাবধান! আজ বাসবাসাহ দাবি করেছে যে আমি … বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং আমার মতো লোক আমোদ-প্রমোদে পারদর্শী নয়

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: «থামো»; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাসিদার পরবর্তী অংশে থাকা অশ্লীল কথা শ্রবণ থেকে নিজেকে পবিত্র রাখতেই এরূপ করতেন।

কিছু ফকীহ নামধারী ব্যক্তি যাদের মধ্যে কোনো শিষ্টাচার নেই এবং তা তাদের স্বভাবেও নেই, তারা কবিতার বিরোধিতা করে এবং এর নিন্দা জানায়। তারা মনে করে যে এটি কদর্য এবং এর রচয়িতা নিন্দনীয়। হায়! তারা কেন এর বিরোধিতা করে, অথচ এই তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—যিনি আমাদের আদর্শ ও অনুসরণীয়—তিনি উল্লিখিত ইমরুল কায়েসের কাসিদা শ্রবণ করা পছন্দ করতেন এবং অধিকাংশ সময় তাঁর সম্মুখে তা আবৃত্তি করা হতো। আর কা’ব বিন...

--------------------------------------------

(১) এটি তার একটি কাসিদার প্রারম্ভিক অংশ (আল-আলাম আশ-শানতামারীর ব্যাখ্যা সংবলিত দিওয়ান): ২৭।

(২) আল-আলাম বলেন: ‘তার উক্তি "সাবধান বাসবাসাহ দাবি করেছে", সে ছিল একজন নারী যে তাঁকে বার্ধক্যের খোঁটা দিয়েছিল এবং বলেছিল যে তিনি আমোদ-প্রমোদে পারদর্শী নন। তখন তিনি পরবর্তী চরণে নিজের থেকে তা অস্বীকার করে বলেন—সে মিথ্যা বলেছে, আমি তো এখনো স্ত্রীর প্রতি আসক্ত হতে পারি’।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٣٢)
زهير بن أبي سلمى بالمسجد قصيدته التي أولها (1):

بانت سعاد فقلبي اليوم متبول … متيم إثرها لم يفد مكبول

فأصغى إليها صلوات الله عليه وأثابه عليها ببردته. ولو كان الشعر-مدحا أو غزلا-نكرا ما سمعه عليه السلام بالمسجد ولا بسواه، ولا أصغى إليه.

وحسب الشعر رفعة وعزة أن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قد حظّى عليه وندب أصحابه إليه، وتجند على المشركين به، فقال لحسان بن ثابت: شق القوافي على الغطاريف من بني عبد مناف، فوالله لشعرك أشد عليهم من وقع السهام في غبش الظلام (2).

ومن فضل الشعر وشرفه أن النبي صلى الله عليه وسلم أردف الشريد بن سويد يوما فاستنشده من شعر أمية بن أبي الصلت فأنشده مئة قافية؛ يقول النبي عليه السلام عند كل قافية: هيه! استحسانا له (3).

ومن فضل الشعر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن من الشعر لحكما (4)؛ قاله للعلاء بن الحضرمي وقد سأله: هل تروي من الشعر شيئا؟، فأنشده العلاء (5):

--------------------------------------------

(1) ديوان كعب بن زهير: وانظر خبر إسلام كعب، وقصيدته في السيرة النبوية لابن هشام (بتحقيق الأستاذ مصطفى السقا ورفاقه) 4:501 وانظر العمدة 1:7

(2) انظر العمدة في صناعة الشعر ونقده لابن رشيق (ط الخانجي) 1:12. والغطريف: السيد الشريف والسخي السري.

(3) الخبر في العقد 5:277، وفيه «فقال-النبي صلى الله عليه وسلم-هذا رجل آمن لسانه وكفر قلبه».

(4) قال في كشف الخفا؛ رواه أحمد وأبو داود عن ابن عباس. وهو عند مالك وأحمد والبخاري وأبي داود والترمذي عن ابن عمر بلفظ إن من البيان لسحرا. وفي رواية البخاري قال جاء رجلان من الشرق فخطبا فقال صلى الله عليه وسلم: إن من البيان لسحرا: (كشف الخفا ومزيل الإلباس:296) وانظر العمدة 1:9.

(5) الخبر في معجم الشعراء للمرزباني 156، والعمدة لابن رشيق 1:180 وفي رواية الأبيات بعض خلاف.
কাব বিন জুহাইর বিন আবি সুলমা মসজিদে তাঁর সেই কাসিদাটি পাঠ করেন যার শুরু হলো (১):

সুয়াদ পৃথক হয়েছে, তাই আজ আমার হৃদয় ব্যথিত … তার বিরহে আচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলিত, যা মুক্ত হয়নি

আল্লাহর সালাত তাঁর উপর বর্ষিত হোক, তিনি মনোযোগ দিয়ে তা শুনলেন এবং তাকে নিজের চাদর মোবারক উপহার দিয়ে পুরস্কৃত করলেন। যদি কবিতা—তা প্রশংসা হোক বা প্রেমমূলক—ঘৃণ্য হতো, তবে তিনি (সা.) মসজিদে বা অন্য কোথাও তা শুনতেন না এবং সেদিকে কর্ণপাতও করতেন না।

কবিতার উচ্চমর্যাদা ও সম্মানের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আর এর মাধ্যমে মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি হাসসান বিন সাবিতকে বলেছিলেন: বনু আবদে মানাফের সর্দারদের বিরুদ্ধে ছন্দের আক্রমণ চালাও। আল্লাহর কসম! তোমার কবিতা তাদের জন্য অন্ধকার ভোরে তীরের আঘাতের চেয়েও অধিক যন্ত্রণাদায়ক (২)।

কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের আরও প্রমাণ হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন শারীদ বিন সুওয়াইদকে তাঁর পেছনে বাহনে বসালেন এবং উমাইয়া বিন আবিস সালতের কবিতা পাঠ করতে বললেন। শারীদ তাঁকে একশত পঙ্ক্তি শুনিয়েছিলেন; প্রতিটি পঙ্ক্তি শেষে নবী (আলাইহিস সালাম) বলছিলেন: আরও শোনাও!—তার কবিতা পছন্দ করার কারণে (৩)।

কবিতার অন্যতম ফজিলত হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই কিছু কবিতায় প্রজ্ঞা রয়েছে (৪); তিনি কথাটি আলা ইবনুল হাদরামিকে বলেছিলেন যখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: তুমি কি কবিতার কিছু অংশ বর্ণনা করতে পারো? তখন আলা তাঁকে পাঠ করে শোনালেন (৫):

--------------------------------------------

(১) দিওয়ান কাব বিন জুহাইর: কাবের ইসলাম গ্রহণের ঘটনা এবং তার কবিতা দেখুন ইবনে হিশামের সিরাত আন-নববিয়্যাহ (উস্তাদ মুস্তফা আস-সাক্কা ও তার সহযোগীদের সম্পাদনায়), ৪:৫০১ এবং আল-উমদাহ, ১:৭।

(২) ইবনে রশিকের 'আল-উমদাহ ফি সিনায়াতুশ শির ওয়ানাকদিহি' (খানজি সংস্করণ), ১:১২ দেখুন। 'আল-গতরিফ' অর্থ: সম্মানিত নেতা এবং দয়ালু মহান ব্যক্তি।

(৩) আল-ইকদ গ্রন্থে ঘটনাটি রয়েছে, ৫:২৭৭। সেখানে আছে: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "এটি এমন এক ব্যক্তি যার জিহ্বা ঈমান এনেছে কিন্তু অন্তর কুফরি করেছে"।

(৪) 'কাশফুল খাফা' গ্রন্থে বলা হয়েছে; আহমদ ও আবু দাউদ ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর মালিক, আহমদ, বুখারি, আবু দাউদ ও তিরমিজি ইবনে উমর থেকে 'নিশ্চয়ই কিছু বক্তব্যে জাদু রয়েছে' শব্দে বর্ণনা করেছেন। বুখারির বর্ণনায় আছে, পূর্ব দিক থেকে দুজন লোক এসে ভাষণ দিল, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই কিছু বক্তব্যে জাদু রয়েছে: (কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস: ২৯৬) এবং আল-উমদাহ ১:৯ দেখুন।

(৫) মারজুবানির 'মুজামুশ শুয়ারা' ১৫৬ এবং ইবনে রশিকের 'আল-উমদাহ' ১:১৮০-এ খবরটি রয়েছে; তবে পঙ্ক্তিগুলোর বর্ণনায় কিছু পার্থক্য আছে।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٣٣)
وحيّ ذوي الأضغان تسب قلوبهم … تحيّتك الحسنى وقد يرقع النغل

فإن دحسوا بالكره فاعف تكرما … وإن خنسوا عنك الحديث فلا تسل

فإن الذي يؤذيك منه سماعه … وإن الذي قالوا وراءك لم يقل

ومن فضل الشعر: روى عيسى بن طلحة أن النبي عليه السلام قال:

الشعر الحسن مما يزين الله به الرجل المسلم.

ومن فضل الشعر: لما قدم وفد تميم (1) على رسول الله صلى الله عليه وسلم فنادوه من وراء الحجرات (2)، خرج إليهم عليه السلام فقال: ما تشاؤون؟ قالوا:

جئناك بخطيب وشاعر نفاخرك (3)، فقال عليه السلام: قولوا ما شئتم. فقام الزبرقان بن بدر (4) فقال: قد علم الله أنا أكثر أهل الأرض عدة وعددا، ولو شئنا أن نقول قلنا، ولكنه لا يجمل بنا فيما آتانا الله الإكثار. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لزيد بن قيس بن شماس (5) الأنصاري من بني الحارث بن الخزرج:

قم فأجبهم. فقام فقال: الحمد لله الذي خلق السموات والأرض بأمره، ولم يكن له شيء فيما مضى إلا بعلمه؛ بعث خير خلقه رسولا؛ أكرمهم حسبا

--------------------------------------------

(1) السيرة النبوية 4:560

(2) انظر في ذلك ما ساقه المفسرون في سورة الحجرات. كالقرطبي 16:305.

(3) ورد ذكر الخطبتين والشعرين في مصادر كثيرة، منها تاريخ الطبري:115 - 120 والسيرة النبوية لابن هشام 4:560 - 567 وديوان حسان:243 - 252 وتفسير القرطبي 16:302 - 206 والأغاني 4:15. وقد تصرف المصنف في نقل الخطبتين فاجتزأ، واختصر.

(4) في السيرة النبوية وتاريخ الطبري، وديوان حسان، وغيرها من المصادر اتفاق على أن خطيب تميم يومها هو عطارد بن حاجب، وأن شاعرهم هو الزبرقان بن بدر. بيد أن القرطبي ذكر أن الخطيب هو الأقرع بن حابس. وأجمعت المصادر على أن الأقرع بن حابس هو الذي شهد لخطيب المسلمين بالغلبة.

(5) الصحيح أنه ثابت بن قيس بن شماس أخو بلحارث من الخزرج.
বিদ্বেষ পোষণকারীদের অভিবাদন করো, তোমার সুন্দর অভিবাদন তাদের অন্তরকে বশীভূত করবে … কেননা জীর্ণ চর্মও (সম্পর্ক) জোড়া লাগানো সম্ভব।

তারা যদি ঘৃণাভরে বিবাদে লিপ্ত হয়, তবে মহানুভবতার সাথে ক্ষমা করো … আর তারা যদি তোমার কাছে কোনো কথা গোপন করে, তবে তা নিয়ে প্রশ্ন করো না।

কেননা যা শুনলে তুমি কষ্ট পাবে (তা শোনার চেষ্টা করো না) … আর তারা তোমার পেছনে যা বলেছে তা যেন বলাই হয়নি।

কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে: ঈসা ইবনে তালহা বর্ণনা করেছেন যে, নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন:

সুন্দর কবিতা এমন এক বিষয় যা দিয়ে আল্লাহ একজন মুসলিম ব্যক্তিকে সুশোভিত করেন।

কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে: যখন বনু তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দল (১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হলো এবং কক্ষসমূহের (২) পেছন থেকে তাঁকে উচ্চস্বরে ডাকতে লাগল, তখন তিনি (আলাইহিস সালাম) তাদের কাছে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: তোমরা কী চাও? তারা বলল:

আমরা আপনার নিকট আমাদের বাগ্মী ও কবি নিয়ে এসেছি যাতে আপনার সাথে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতা (৩) করতে পারি। তখন আলাইহিস সালাম বললেন: তোমরা যা চাও বলো। অতঃপর যিবরকান ইবনে বদর (৪) দাঁড়িয়ে বললেন: আল্লাহ জানেন যে আমরা সংখ্যা ও যুদ্ধ সরঞ্জামাদির দিক থেকে পৃথিবীর মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ; আমরা যদি কিছু বলতে চাইতাম তবে বলতাম, কিন্তু আল্লাহ আমাদের যা দিয়েছেন সে বিষয়ে আতিশয্য প্রকাশ করা আমাদের জন্য শোভনীয় নয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু হারিস ইবনে খাযরাজ গোত্রের আনসারী সাহাবী যাইদ ইবনে কায়েস ইবনে শামাসকে (৫) বললেন:

দাঁড়াও এবং তাদের উত্তর দাও। তখন তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর আদেশে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অতীতে এমন কোনো বিষয় ছিল না যা তাঁর জ্ঞানের পরিধিতে ছিল না; তিনি তাঁর সৃষ্টির সেরা ব্যক্তিকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি বংশমর্যাদায় তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।

--------------------------------------------

(১) সীরাত আন-নববিয়্যাহ ৪:৫৬০

(২) এ বিষয়ে মুফাসসিরগণ সূরা আল-হুজুরাতের ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছেন তা দেখুন। যেমন কুরতুবী ১৬:৩০৫।

(৩) এই দুই ভাষণ ও কবিতা অনেকগুলো উৎসে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তারিখ আত-তাবারী: ১১৫-১২০, ইবনে হিশামের সীরাত আন-নববিয়্যাহ ৪:৫৬০-৫৬৭, দিওয়ানে হাসসান: ২৪৩-২৫২, তাফসীরে কুরতুবী ১৬:৩০২-৩০৬ এবং আল-আগানী ৪:১৫। গ্রন্থকার ভাষণ দুটি উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে সংক্ষেপ ও পরিমার্জন করেছেন।

(৪) সীরাত আন-নববিয়্যাহ, তারিখ আত-তাবারী, দিওয়ানে হাসসান এবং অন্যান্য সূত্রে একমত হওয়া গেছে যে, সেদিন বনু তামিমের বক্তা ছিলেন উতবারিদ ইবনে হাজিব এবং তাদের কবি ছিলেন যিবরকান ইবনে বদর। তবে কুরতুবী উল্লেখ করেছেন যে, বক্তা ছিলেন আকরা ইবনে হাবিস। আর সকল সূত্র একমত যে, আকরা ইবনে হাবিসই মুসলিমদের বক্তার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেছিলেন।

(৫) সঠিক হলো তিনি সাবিত ইবনে কায়েস ইবনে শামাস, খাযরাজের বনু হারিস গোত্রের সদস্য।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وأوسطهم نسبا في عترته من قريش، وذوي رحمه من الأنصار. فلم يزل يقاتل الناس حق يقولوا لا إله إلا الله، فمن قالها منع منا ماله ودمه، ومن أبى قتلناه، وكان قتله من الله يسيرا. ثم جلس، فقالوا للأقرع بن حابس (1):

قم فأنشده، فقام فقال: [5/ب]

نحن الملوك فلا حيّ يعادلنا … منا الملوك وفينا تنصب البيع

ونحن نطعم يوم المحل جائعكم … من السنام إذا لم تبصر القزع (2)

فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لحسان بن ثابت: قم فأجبه، فقام فمد لسانه فضرب به أرنبة أنفه، وقال قصيدته التي يقول فيها (3):

إن الذوائب من فهر وإخوتهم … قد شرعوا سنة للحق تتبع

يرضى بها كل من كانت سجيته … تقوى الإله ويرضى كل ما صنعوا

أكرم بقوم رسول الله قائدهم … إذا تفرقت الأهواء والشيع

خذ منهم ما أتوا عفوا فإن منعوا … فلا يكن همك الأمر الذي منعوا

فإن في حربهم-فاحذر-عداوتهم … سما يخاض عليه الصاب والسلع (4)

--------------------------------------------

(1) الشاعر كما سبق هو الزبرقان بن بدر. (انظر الحاشية 4 صفحة 33)

(2) رواية البيتين في السيرة النبوية (4:563)

نحن الكرام فلا حي يعادلنا … منا الملوك وفينا تنصب البيع

ونحن يطعم عند القحط مطعمنا … من الشواء إذا لم يؤنس القزع

وبينهما بيت ثالث في أبيات أخرى. ورواية المؤلف هنا غريبة. (والبيع: مواضع الصلوات والعبادات واحدها بيعة. والقزع السحاب الرقيق. يريد: إذا لم تمطرهم السماء فأجدبت أرضهم).

(3) ديوانه:248. والأبيات هنا مختارة على غير ترتيب رواية الديوان. وبين روايته ورواية الديوان خلاف في مواضع كثيرة.

(4) الصاب والسلع: ضربان من الشجر ممران. يقال: أمر من السلع.
এবং কুরাইশদের মধ্য হতে তাঁর বংশধরেরা এবং আনসারদের মধ্য হতে তাঁর আত্মীয়স্বজনগণ বংশমর্যাদায় তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্তরের। তিনি মানুষের সাথে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তারা বলে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। অতঃপর যে ব্যক্তি তা বলবে, সে আমাদের থেকে তার ধন-সম্পদ ও জীবন রক্ষা করবে, আর যে তা অস্বীকার করবে, আমরা তাকে হত্যা করব; আর তাকে হত্যা করা আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ ছিল। এরপর তিনি বসলেন, তখন তারা আকরা বিন হাবিসকে (১) বলল:

দাঁড়াও এবং তাকে কবিতা শোনাও। তিনি দাঁড়িয়ে বললেন: [৫/খ]

আমরাই রাজা, কোনো গোত্রই আমাদের সমকক্ষ নয় … আমাদের মধ্য হতেই রাজাগণ এবং আমাদের মাঝেই উপাসনালয়সমূহ স্থাপিত হয়।

দুর্ভিক্ষের দিনে আমরা তোমাদের ক্ষুধার্তদের আহার করাই … উটের কুঁজ থেকে, যখন আকাশে মেঘের লেশমাত্র দেখা যায় না (২)।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসসান বিন সাবিতকে বললেন: দাঁড়াও এবং তার জবাব দাও। তিনি দাঁড়ালেন এবং নিজ জিহ্বা বের করে তা দিয়ে তাঁর নাসিকাগ্র স্পর্শ করলেন, এবং তাঁর সেই কাসীদাটি পাঠ করলেন যাতে তিনি বলেন (৩):

নিশ্চয়ই ফিহর ও তাদের ভাইদের উচ্চমর্যাদাবান নেতৃবৃন্দ … সত্যের এমন এক সুন্নাত প্রবর্তন করেছেন যা অনুসরণ করা হয়।

যার স্বভাব আল্লাহর তাকওয়া, সে এতে সন্তুষ্ট হয় … এবং তারা যা কিছু করে তাতেও সে সন্তুষ্ট থাকে।

সেই জাতি কতই না শ্রেষ্ঠ যাদের নেতা আল্লাহর রাসূল … যখন মানুষের প্রবৃত্তি ও দলসমূহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যা প্রদান করে তা গ্রহণ করো, আর যদি তারা কিছু না দেয় … তবে তারা যা দেয়নি তার জন্য আক্ষেপ করো না।

কেননা তাদের সাথে যুদ্ধে—সুতরাং সাবধান থেকো—তাদের শত্রুতা হলো … এমন বিষ যাতে তিতকুটে গাছ ও বিষাক্ত বৃক্ষ মিশ্রিত থাকে (৪)।

--------------------------------------------

(১) ইতিপূর্বে যেমনটি অতিক্রান্ত হয়েছে, কবি হলেন যিবরিকান বিন বদর। (পৃষ্ঠা ৩৩-এর টিকা ৪ দ্রষ্টব্য)

(২) সীরাতে ইবনে হিশামে এই দুই পঙক্তির বর্ণনা নিম্নরূপ (৪:৫৬৩):

আমরাই সম্মানিত, কোনো গোত্রই আমাদের সমকক্ষ নয় … আমাদের মধ্য হতেই রাজাগণ এবং আমাদের মাঝেই উপাসনালয়সমূহ স্থাপিত হয়।

দুর্ভিক্ষের সময় আমাদের অন্নদাতা আহার দান করেন … ভুনা গোশত থেকে, যখন আকাশে মেঘের চিহ্ন দেখা যায় না।

অন্যান্য বর্ণনায় এই দুই পঙক্তির মাঝে তৃতীয় একটি পঙক্তি রয়েছে। এখানে লেখকের বর্ণনাটি বিরল। (আল-বিয়া': সালাত ও ইবাদতের স্থানসমূহ, এর একবচন বিয়া'। আল-কাযা': পাতলা মেঘ। কবির উদ্দেশ্য হলো: যখন আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয় না এবং ভূমি অনাবর হয়ে পড়ে)।

(৩) তাঁর দিওয়ান: ২৪৮। এখানকার পঙক্তিগুলো দিওয়ানের ক্রম অনুসারে নয় বরং ভিন্নভাবে সংকলিত। তাঁর বর্ণনা এবং দিওয়ানের বর্ণনার মধ্যে অনেক স্থানে পার্থক্য রয়েছে।

(৪) আস-সাব এবং আস-সিলা': দুই প্রকারের অত্যন্ত তিক্ত গাছ। বলা হয়ে থাকে: সিলা'-এর চেয়েও তিক্ত।
(খণ্ড: ১) আলামুল মাগরিব ওয়াল আন্দালুস ফিল কারনিল সামিন (পৃষ্ঠা: ٣٥)
فقال التميميون: نشهد أن خطيبك أخطب من خطيبنا، وأن شاعرك أشعر من شاعرنا وأنك امرؤ مهيأ لك الخير، وأنك لرسول الله. فأسلموا من حينهم. وكان شعر حسان سبب إسلامهم. فلأي شيء يذم الشعر وهو يفعل هذا؟ (*)

ومن فضل الشعر خرج الترمذي عن أنس بن مالك، أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة في عمرة القضاء، وعبد الله بن رواحة يمشي بين يديه ويقول (1):

خلّوا بني الكفار عن سبيله … اليوم نضربكم على تنزيله

ضربا يزيل الهام عن مقيله … ويذهل الخليل عن خليله

قال عمر: يا ابن رواحة! بين يدي رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفي حرم الله تقول الشعر؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خلّ عنك يا عمر، فلهي أسرع فيهم من نضح النبل.

ومن فضل الشعر، روي عن عائشة-رضي الله عنها-أنها قالت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم [يقول] فجاءهم حسان-يعني قريشا-فشفى واشتفى (2)؛ حين قال (3) حسان (4): [6/أ]

--------------------------------------------

(*) في السيرة النبوية (4:567) أن حسان بن ثابت رضي الله عنه لما فرغ من قوله قال الأقرع بن حابس: «وأبي إن هذا الرجل لمؤتى له، لخطيبه أخطب من خطيبنا ولشاعره أشعر من شاعرنا ولأصواتهم أحلى من أصواتنا. فلما فرغ القوم أسلموا وجوزهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأحسن جوائزهم».

(1) انظر العمدة لابن رشيق 1:12.

(2) في الديوان (1 - 10) أن حسان رضي الله عنه قال هذه القصيدة قبل فتح مكة، والأبيات المختارة هنا في الرد على أبي سفيان بن الحارث، وكان هجا النبي صلى الله عليه وسلم، قبل إسلامه.

(3) روى أبو الفرج الأصفهاني في ترجمة حسان (دار الثقافة 4:147) بلغني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أمرت عبد الله بن رواحة فقال وأحسن، وأمرت كعب ابن مالك فقال وأحسن، وأمرت حسان بن ثابت فشفى واشتفى».

(4) الأبيات مختارة، وفي رواية الديوان خلافات عما ذكر المؤلف هنا. وفي ترتيب المؤلف هنا للأبيات تقديم وتأخير.
এরপর তামিমি গোত্রের লোকেরা বলল: "আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনার বক্তা আমাদের বক্তার চেয়ে বেশি বাগ্মী, আপনার কবি আমাদের কবির চেয়ে বড় কবি, আপনি এমন এক ব্যক্তি যার জন্য কল্যাণ সুনির্ধারিত এবং আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসুল।" ফলে তখনই তারা ইসলাম গ্রহণ করল। হাসসানের কবিতাই তাদের ইসলাম গ্রহণের কারণ হয়েছিল। তবে কেন কবিতার নিন্দা করা হবে যখন তা এমন প্রভাব বিস্তার করে?

কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম প্রমাণ হলো, তিরমিজি আনাস বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ওমরাতুল ক্বাজার সময় মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা তাঁর সামনে সামনে হাঁটছিলেন আর বলছিলেন (১):

হে কাফেরের বংশধরেরা! তোমরা তাঁর পথ ছেড়ে দাও … আজ আমরা এই কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ভিত্তিতে তোমাদের আঘাত করব

এমন এক আঘাত যা মস্তককে তার স্কন্ধ থেকে বিচ্যুত করে দেয় … এবং বন্ধুকে তার বন্ধু থেকে উদাসীন করে দেয়

ওমর বললেন: "হে ইবনে রাওয়াহা! আল্লাহর রাসুলের (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সামনে এবং আল্লাহর হারামে দাঁড়িয়ে তুমি কবিতা পাঠ করছ?" তখন আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বললেন: "হে ওমর, তাকে ছেড়ে দাও। কারণ, এই কবিতা তাদের ওপর তীরের আঘাতের চেয়েও দ্রুত প্রভাব ফেলে।"

কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের আরও প্রমাণ হলো, আয়েশা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুলকে (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলতে শুনেছি—অতঃপর হাসসান তাদের (অর্থাৎ কুরাইশদের) কাছে আসলেন এবং তিনি (মুসলিমদের অন্তরকে) প্রশান্ত করলেন ও নিজে তৃপ্ত হলেন (২); যখন হাসসান বললেন (৩) (৪): [৬/অ]

--------------------------------------------

(*) সীরাত আন-নাবাবিয়্যাহ-তে (৪:৫৬৭) বর্ণিত হয়েছে যে, হাসসান বিন সাবিত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) যখন তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আকরা বিন হাবিস বললেন: «আমার পিতার কসম, এই ব্যক্তি অবশ্যই ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত; তাঁর বক্তা আমাদের বক্তার চেয়ে বেশি বাগ্মী, তাঁর কবি আমাদের কবির চেয়ে বড় কবি এবং তাঁদের কণ্ঠস্বর আমাদের কণ্ঠস্বরের চেয়ে অধিক মিষ্টি। যখন তারা তাদের কথা শেষ করল, তারা ইসলাম গ্রহণ করল এবং আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাদের পুরস্কৃত করলেন এবং সর্বোত্তম উপহার প্রদান করলেন।»

(১) ইবনে রশিকের 'আল-উমদাহ' দেখুন ১:১২।

(২) দিওয়ানে (১-১০) বর্ণিত হয়েছে যে, হাসসান (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) এই কাসিদাটি মক্কা বিজয়ের আগে রচনা করেছিলেন এবং এখানে নির্বাচিত কবিতাগুলো আবু সুফিয়ান বিন আল-হারিসের উত্তরের প্রেক্ষিতে ছিল, যে ইসলাম গ্রহণের আগে নবী (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক কবিতা লিখেছিল।

(৩) আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি হাসসানের জীবনীতে (দারুস সাকাফাহ ৪:১৪৭) বর্ণনা করেছেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে আল্লাহর রাসুল (আল্লাহর শান্তি ও আশীর্বাদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: «আমি আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহাকে আদেশ দিয়েছিলাম, সে কবিতা বলেছিল এবং চমৎকার করেছিল; আমি কাব বিন মালিককে আদেশ দিয়েছিলাম, সে বলেছিল এবং চমৎকার করেছিল; আর আমি হাসসান বিন সাবিতকে আদেশ দিয়েছিলাম, ফলে সে মুসলিমদের অন্তর প্রশান্ত করেছিল এবং নিজেও তৃপ্ত হয়েছিল।»

(৪) কবিতাগুলো নির্বাচিত, এবং দিওয়ানের বর্ণনায় লেখক এখানে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আর এখানে লেখকের বিন্যাসে কবিতাগুলোর আগে-পিছে হওয়ার বিষয় রয়েছে।