(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: -)
رياض الصالحين - ت الرسالة الثاني   (النووي)

القسم: كتب السنة


الكتاب: رياض الصالحين

المؤلف: أبو زكريا محيي الدين يحيى بن شرف النووي (ت 676 هـ)

المحقق: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]

الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت، لبنان

الطبعة: الثالثة، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 527

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

রিয়াদুস সালিহীন - আর-রিসালাহ তাহকীক দ্বিতীয়   (আন-নববী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: রিয়াদুস সালিহীন

লেখক: আবু জাকারিয়া মুহিউদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে শরাফ আন-নববী (মৃত্যু ৬৭৬ হি.)

মুহাক্কিক: শুআইব আল-আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হি.]

প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত, লেবানন

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪১৯ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২৭

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
‌‌*

‌‌مقدمة المؤلف

…

رياض الصالحين

تأليف: الإمام أبي زكريا يحيى بن شرف النووي الدمشقيّ 631 - 676 هـ

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمْدُ للهِ الواحدِ القَهَّارِ، العَزيزِ الغَفَّارِ، مُكَوِّرِ اللَّيْلِ على النَّهَارِ، تَذْكِرَةً لأُولي القُلُوبِ والأَبصَارِ، وتَبْصرَةً لِذَوي الأَلبَابِ واَلاعتِبَارِ، الَّذي أَيقَظَ مِنْ خَلْقهِ مَنِ اصطَفاهُ فَزَهَّدَهُمْ في هذهِ الدَّارِ، وشَغَلهُمْ بمُراقبَتِهِ وَإِدَامَةِ الأَفكارِ، ومُلازَمَةِ الاتِّعَاظِ والادِّكَارِ، ووَفَّقَهُمْ للدَّأْبِ في طاعَتِهِ، والتّأهُّبِ لِدَارِ القَرارِ، والْحَذَرِ مِمّا يُسْخِطُهُ ويُوجِبُ دَارَ البَوَارِ، والمُحافَظَةِ على ذلِكَ مَعَ تَغَايُرِ الأَحْوَالِ والأَطْوَارِ. أَحْمَدُهُ أَبلَغَ حمدٍ وأَزكَاهُ، وَأَشمَلَهُ وأَنْمَاهُ.

وأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللهُ البَرُّ الكَرِيمُ، الرؤُوفُ الرَّحيمُ، وأشهَدُ أَنَّ مُحمّداً عَبدُهُ ورَسُولُهُ، وحبِيبُهُ وخلِيلُهُ، الهَادِي إلى صِرَاطٍ مُسْتَقيمٍ، والدَّاعِي إِلَى دِينٍ قَويمٍ، صَلَوَاتُ اللهِ وسَلامُهُ عَليهِ، وَعَلَى سَائِرِ النَّبيِّينَ، وَآلِ كلٍّ، وسائر الصالحين.

أَما بعد: فقد قال اللهُ تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ مَا أُرِيدُ مِنْهُمْ مِنْ رِزْقٍ وَمَا أُرِيدُ أَنْ يُطْعِمُونِ} [الذريات56، 57] وَهَذا تَصْريحٌ بِأَنَّهُمْ خُلِقوا لِلعِبَادَةِ، فَحَقَّ عَلَيْهِمُ الاعْتِنَاءُ بِمَا خُلِقُوا لَهُ وَالإعْرَاضُ عَنْ حُظُوظِ الدُّنْيَا بالزَّهَادَةِ، فَإِنَّهَا دَارُ نَفَادٍ لَا مَحَلُّ إخْلَادٍ، وَمَرْكَبُ عُبُورٍ لَا مَنْزِلُ حُبُورٍ، ومَشْرَعُ انْفصَامٍ لَا مَوْطِنُ دَوَامٍ. فلِهذا كَانَ الأَيْقَاظُ مِنْ أَهْلِهَا هُمُ العبَّاد، وَأعْقَلُ النَّاسِ فيهَا هُمُ الزُّهّادُ. قالَ اللهُ تعالى: {إِنَّمَا مَثَلُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاءٍ أَنْزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاءِ فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ مِمَّا يَأْكُلُ النَّاسُ وَالأَنْعَامُ حَتَّى إِذَا أَخَذَتِ الْأَرْضُ زُخْرُفَهَا وَازَّيَّنَتْ وَظَنَّ أَهْلُهَا أَنَّهُمْ قَادِرُونَ عَلَيْهَا أَتَاهَا أَمْرُنَا لَيْلاً أَوْ نَهَاراً فَجَعَلْنَاهَا حَصِيداً كَأَنْ لَمْ تَغْنَ بِالأَمْسِ كَذَلِكَ نُفَصِّلُ الآياتِ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} [يونس: 24]

والآيات في هذا المعنى كثيرةٌ. ولقد أَحْسَنَ القَائِلُ:

إِنَّ للهِ عِبَاداً فُطَنَا … طَلَّقُوا الدُّنْيَا وخَافُوا الفِتَنَا

نَظَروا فيهَا فَلَمَّا عَلِمُوا … أَنَّهَا لَيْسَتْ لِحَيٍّ وَطَنَا

جَعَلُوها لُجَّةً واتَّخَذُوا … صَالِحَ الأعمال فيها سفنا
*

লেখকের ভূমিকা

...

রিয়াদুস সালিহীন

রচনা: ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে শারাফ আন-নববী আদ-দিমাশকী ৬৩১ - ৬৭৬ হিজরি

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি একক, মহা প্রতাপশালী, মহা পরাক্রমশালী এবং অত্যন্ত ক্ষমাশীল। যিনি রাতের ওপর দিনকে পেঁচিয়ে দেন, যা অন্তর ও দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য একটি উপদেশ এবং বুদ্ধিমান ও শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য এক আলোকবর্তিকা। যিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে হতে তাকেই জাগ্রত করেছেন যাকে তিনি মনোনীত করেছেন, ফলে তিনি তাদেরকে এই নশ্বর দুনিয়ার প্রতি বিমুখ করেছেন। তাদেরকে তাঁর পর্যবেক্ষণ, নিরবচ্ছিন্ন চিন্তা-ভাবনা এবং সর্বদা উপদেশ গ্রহণ ও স্মরণের কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি তাদেরকে তাঁর আনুগত্যে অবিচল থাকতে, পরকালীন চিরস্থায়ী আবাসের জন্য প্রস্তুতি নিতে, তাঁর অসন্তুষ্টি ও ধ্বংসাত্মক আবাসের (জাহান্নাম) কারণ হতে পারে এমন বিষয় থেকে সতর্ক থাকতে এবং জীবনের সকল অবস্থায় ও পরিবর্তনের মাঝে এই পথ ধরে রাখতে তাওফিক দান করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করি এমন এক প্রশংসার মাধ্যমে যা সর্বোত্তম ও পবিত্রতম, অত্যন্ত ব্যাপক এবং উত্তরোত্তর বৃদ্ধিশীল।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, পরম দয়ালু ও অতি দানশীল আল্লাহ ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই, যিনি পরম স্নেহশীল ও পরম করুণাময়। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর প্রিয়ভাজন ও অন্তরঙ্গ বন্ধু; যিনি সরল পথের দিশারী এবং সুদৃঢ় দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী। আল্লাহর সালাত (রহমত) ও সালাম তাঁর ওপর, অন্য সকল নবীগণের ওপর, তাঁদের প্রত্যেকের পরিবারবর্গের ওপর এবং সকল নেককার বান্দাদের ওপর বর্ষিত হোক।

অতঃপর: মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। আমি তাদের কাছে কোনো রিযিক চাই না এবং আমি চাই না যে তারা আমাকে আহার করাবে।" [আয-যারিয়াত: ৫৬, ৫৭]। এটি একটি স্পষ্ট ঘোষণা যে, তাদেরকে ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং তাদের জন্য আবশ্যক হলো যে উদ্দেশ্যে তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে সে বিষয়ে যত্নবান হওয়া এবং দুনিয়ার ভোগ-বিলাস বর্জন করে এর প্রতি অনাসক্তি প্রকাশ করা। কেননা এটি ক্ষণস্থায়ী আবাস, চিরস্থায়ী থাকার জায়গা নয়। এটি পারাপারের বাহন মাত্র, আনন্দ উপভোগের আসল ঘর নয়; এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘাট, স্থায়ী কোনো নিবাস নয়। এই কারণেই দুনিয়াবাসীদের মধ্যে যারা প্রকৃত সচেতন তারাই হলো ইবাদতকারী এবং তাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে বুদ্ধিমান তারাই হলো দুনিয়াবিমুখ (যুহদ অবলম্বনকারী)। মহান আল্লাহ বলেছেন: "দুনিয়ার জীবনের উদাহরণ তো সেই বৃষ্টির মতো, যা আমি আসমান থেকে নাযিল করেছি, ফলে জমিনের উদ্ভিদরাজি এর দ্বারা ঘন হয়ে জন্মায় যা থেকে মানুষ ও গবাদি পশু ভক্ষণ করে। অবশেষে যখন জমিন তার শোভা ধারণ করে ও সুসজ্জিত হয় এবং তার অধিবাসীরা মনে করে যে তারা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী, তখনই রাতে বা দিনে আমার নির্দেশ সেখানে পৌঁছে যায় এবং আমি তাকে এমনভাবে কর্তিত ফসলে পরিণত করি, যেন গতদিন সেখানে কিছুই ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি।" [ইউনূস: ২৪]

এই মর্মার্থের আয়াতসমূহ অনেক রয়েছে। কবি কতই না চমৎকার বলেছেন:

নিশ্চয় আল্লাহর কিছু বুদ্ধিমান বান্দা রয়েছেন ... যারা দুনিয়াকে তালাক দিয়েছেন এবং ফিতনাকে ভয় করেছেন।

তারা দুনিয়ার প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করেছেন, আর যখন জানতে পেরেছেন ... যে এটি কোনো জীবিত ব্যক্তির জন্য স্থায়ী স্বদেশ নয়,

তখন তারা একে একটি অগাধ সমুদ্র মনে করেছেন এবং ... এতে নেক আমলসমূহকে কিশতি বা নৌকা হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
فإذا كَانَ حالُها ما وصَفْتُهُ، وحالُنَا وَمَا خُلِقْنَا لَهُ مَا قَدَّمْتُهُ، فَحَقٌّ عَلَى الْمُكلَّفِ أَنْ يَذْهَبَ بنفسِهِ مَذْهَبَ الأَخْيارِ ، وَيَسلُكَ مَسْلَكَ أُولي النُّهَى وَالأَبْصَارِ ، وَيَتَأهَّبَ لِمَا أشَرْتُ إليهِ، ويهتم بما نَبَّهتُ عليهِ. وأَصْوَبُ طريقٍ لهُ في ذَلِكَ، وَأَرشَدُ مَا يَسْلُكُهُ مِنَ المسَالِكِ: التَّأَدُّبُ بمَا صَحَّ عَنْ نَبِيِّنَا سَيِّدِ الأَوَّلينَ والآخرينَ ، وَأَكْرَمِ السَّابقينَ والَّلاحِقينَ. صَلَواتُ اللهِ وسَلامُهُ عَلَيهِ وَعَلى سَائِرِ النَّبيِّينَ. وقدْ قالَ اللهُ تعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} [المائدة: 2] وقد صَحَّ عَنْ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قالَ: " واللهُ في عَوْنِ العَبْدِ مَا كَانَ العَبْدُ في عَوْنِ أَخِيهِ "وَأَنَّهُ قالَ: " مَنْ دلَّ عَلَى خَيْرٍ فَلَهُ مِثْلُ أجْرِ فَاعِلِهِ" وأَنَّهُ قالَ: "مَنْ دَعَا إِلى هُدىً كَانَ لَهُ مِنَ الأَجرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تبعهُ لَا يَنْقُصُ ذلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيئاً" وأَنَّهُ قالَ لِعَليٍّ رضي الله عنه: "فَوَاللهِ لأَنْ يَهْدِي اللهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِداً خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ".

فَرَأَيتُ أَنْ أَجْمَعَ مُخْتَصَراً منَ الأحاديثِ الصَّحيحَةِ، مشْتَمِلاً عَلَى مَا يكُونُ طريقاً لِصَاحبهِ إِلى الآخِرَةِ ، ومُحَصِّلاً لآدَابِهِ البَاطِنَةِ وَالظَاهِرَةِ، جَامِعاً للترغيب والترهيب وسائر أنواع آداب السالكين: من أحاديث الزهد ، ورياضات النُّفُوسِ ، وتَهْذِيبِ الأَخْلاقِ، وطَهَارَاتِ القُلوبِ وَعِلاجِهَا، وصِيانَةِ الجَوَارحِ وَإِزَالَةِ اعْوِجَاجِهَا، وغَيرِ ذلِكَ مِنْ مَقَاصِدِ الْعارفِينَ.

وَألتَزِمُ فيهِ أَنْ لا أَذْكُرَ إلاّ حَدِيثاً صَحِيحاً مِنَ الْوَاضِحَاتِ، مُضَافاً إِلى الْكُتُبِ الصَّحِيحَةِ الْمَشْهُوراتِ، وأُصَدِّر الأَبْوَابَ مِنَ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ بِآياتٍ كَرِيماتٍ، وَأَوشِّحَ مَا يَحْتَاجُ إِلى ضَبْطٍ أَوْ شَرْحِ مَعْنىً خَفِيٍّ بِنَفَائِسَ مِنَ التَّنْبِيهاتِ. وإِذا قُلْتُ في آخِرِ حَدِيث: مُتَّفَقٌ عَلَيهِ، فمعناه: رواه البخاريُّ ومسلمٌ.

وَأَرجُو إنْ تَمَّ هذَا الْكِتَابُ أنْ يَكُونَ سَائِقاً للمُعْتَنِي بِهِ إِلى الْخَيْرَاتِ، حَاجزاً لَهُ عَنْ أنْواعِ الْقَبَائِحِ والْمُهْلِكَاتِ. وأَنَا سائلٌ أخاً انْتَفعَ بِشيءٍ مِنْهُ أنْ يَدْعُوَ لِي ، وَلِوَالِدَيَّ، وَمَشَايخي، وَسَائِرِ أَحْبَابِنَا، وَالمُسْلِمِينَ أجْمَعِينَ، وعَلَى اللهِ الكَريمِ اعْتِمادي، وَإِلَيْهِ تَفْويضي وَاسْتِنَادي، وَحَسبِيَ الله ونعم الوكيل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العزيز الحكيم.
যেহেতু এর অবস্থা আমি যা বর্ণনা করেছি তা-ই, এবং আমাদের অবস্থা ও যে উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তা আমি যা উল্লেখ করেছি তা-ই, তাই একজন মুকাল্লাফ (শরীয়তের বিধান মানতে বাধ্য ব্যক্তি) ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো নিজেকে নেককারদের পথে পরিচালিত করা, বুদ্ধিমান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা, আমি যে বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছি তার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং যে বিষয়ে সতর্ক করেছি সে সম্পর্কে সজাগ থাকা। এক্ষেত্রে তার জন্য সবচেয়ে সঠিক পথ এবং অনুসৃত পদ্ধতিগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা হিদায়াতপূর্ণ হলো আমাদের নবী, যিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের সরদার এবং অগ্রজ ও অনুজদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত, তাঁর থেকে যা সহীহভাবে প্রমাণিত হয়েছে সেই শিষ্টাচার অবলম্বন করা। তাঁর ওপর এবং সকল নবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা নেক কাজ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো" [আল-মায়িদাহ: ২]। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে লিপ্ত থাকে।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো কল্যাণের পথ দেখায়, সে তার সম্পাদনকারীর সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান করে, তার জন্য অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে, যা তাদের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না।" তিনি আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন ব্যক্তিকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।"

তাই আমি সহীহ হাদীসসমূহের এমন একটি সংক্ষিপ্ত সংকলন প্রস্তুত করার সংকল্প করেছি, যা এর অধ্যয়নকারীর জন্য পরকালের পাথেয় হবে, তার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক শিষ্টাচার অর্জনে সহায়ক হবে এবং যাতে উৎসাহব্যঞ্জক, ভীতিপ্রদর্শনকারী এবং সালেকদের (আল্লাহর পথের যাত্রী) যাবতীয় শিষ্টাচার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এর মধ্যে থাকবে দুনিয়াবিমুখতা (যুহদ), নফসের প্রশিক্ষণ, চরিত্র গঠন, অন্তরের পবিত্রতা ও তার ব্যাধির প্রতিকার, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সুরক্ষা ও তাদের বক্রতা সংশোধন এবং আরিফগণের (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) অন্যান্য লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বিষয়ক হাদীসসমূহ।

এতে আমি কেবল প্রসিদ্ধ সহীহ গ্রন্থসমূহ থেকে চয়ন করা সুস্পষ্ট সহীহ হাদীসসমূহ উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি অধ্যায়গুলোর শুরুতে মহান কুরআনের সম্মানিত আয়াতসমূহ সন্নিবেশিত করব এবং যেখানে শব্দ বিশ্লেষণ বা কোনো অস্পষ্ট অর্থ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে, সেখানে মূল্যবান টীকা যুক্ত করব। যখন আমি কোনো হাদীসের শেষে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' (সর্বসম্মত) বলব, তখন এর অর্থ হবে: এটি ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

আমি আশা করি, যদি এই গ্রন্থটি সম্পন্ন হয়, তবে এটি এর মনোযোগী পাঠককে কল্যাণের দিকে ধাবিত করবে এবং তাকে সকল প্রকার মন্দ ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত রাখবে। আমি সেই ভাইয়ের কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি যে এই কিতাব থেকে উপকৃত হবে, সে যেন আমার জন্য, আমার পিতামাতার জন্য, আমার উস্তাদদের জন্য, আমাদের সকল প্রিয়জনদের জন্য এবং সকল মুসলিমের জন্য দুআ করে। মহান আল্লাহর ওপরই আমার ভরসা এবং তাঁরই নিকট আমি নিজেকে সঁপে দিয়েছি ও নির্ভর করেছি। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক। মহান ও প্রজ্ঞাবান আল্লাহর সাহায্য ছাড়া না আছে কোনো ক্ষমতা, না আছে কোনো শক্তি।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
بسم الله الرحمن الرحيم

1-‌‌ باب الإِخلاصِ وإحضار النيَّة في جميع الأعمال والأقوال والأحوال البارزة والخفيَّة

قَالَ اللهُ تَعَالَى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَاّ لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ} [البينة: 5] وَقالَ تَعَالَى: {لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ} [الحج: 37] وَقالَ تَعَالَى: {قُلْ إِنْ تُخْفُوا مَا فِي صُدُورِكُمْ أَوْ تُبْدُوهُ يَعْلَمْهُ اللَّهُ} [آل عمران: 29]

1/1- وعَنْ أَميرِ الْمُؤْمِنِينَ أبي حفْصٍ عُمرَ بنِ الْخَطَّابِ بْن نُفَيْل بْنِ عَبْد الْعُزَّى بن رياحِ بْن عبدِ اللَّهِ بْن قُرْطِ بْنِ رَزاحِ بْنِ عَدِيِّ بْن كَعْبِ بْن لُؤَيِّ بنِ غالبٍ القُرَشِيِّ العدويِّ. رضي الله عنه، قالَ: سمعْتُ رسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يقُولُ: "إنَّما الأَعمالُ بالنِّيَّات، وإِنَّمَا لِكُلِّ امرئٍ مَا نَوَى، فمنْ كانَتْ هجْرَتُهُ إِلَى الله ورَسُولِهِ فهجرتُه إلى الله ورسُولِهِ، ومنْ كاَنْت هجْرَتُه لدُنْيَا يُصيبُها، أَو امرَأَةٍ يَنْكحُها فهْجْرَتُهُ إِلى مَا هَاجَر إليْهِ" متَّفَقٌ عَلَى صحَّتِه. رواهُ إِماما المُحَدِّثِين: أَبُو عَبْدِ الله مُحَمَّدُ بنُ إِسْمَاعيل بْن إِبْراهيمَ بْن الْمُغيرة بْن برْدزْبَهْ الْجُعْفِيُّ الْبُخَارِيُّ، وَأَبُو الحُسَيْنِى مُسْلمُ بْن الْحَجَّاجِ بْنِ مُسلمٍ القُشَيْريُّ النَّيْسَابُوريُّ رضي الله عنهما فِي صَحيحيهِما اللَّذَيْنِ هما أَصَحُّ الْكُتُبِ الْمُصَنَّفَة.

2/2 - وَعَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أُمِّ عَبْدِ اللَّهِ عَائشَةَ رضي الله عنها قالت: قالَ رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يَغْزُو
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

১-‌‌ সকল প্রকাশ্য ও গোপন কর্ম, কথা ও অবস্থায় ইখলাস (একনিষ্ঠতা) ও নিয়ত উপস্থিত রাখার অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই প্রদান করা হয়েছে যে, তারা যেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর ইবাদত করে এবং সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে। আর এটিই সঠিক ও সুদৃঢ় দ্বীন।" [আল-বাইয়্যিনাহ: ৫] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "আল্লাহর কাছে সেগুলোর গোশত কিংবা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।" [আল-হাজ্জ: ৩৭] আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "বলুন, তোমরা তোমাদের অন্তরে যা রয়েছে তা গোপন করো কিংবা প্রকাশ করো, আল্লাহ তা জানেন।" [আলে ইমরান: ২৯]

১/১- আমিরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আবদুল উযযা ইবনে রিয়াহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রাযাহ ইবনে আদী ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব আল-কুরাশী আল-আদাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সুবিধা লাভের উদ্দেশ্যে অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।" এর বিশুদ্ধতার ওপর ইমামগণ একমত হয়েছেন। এটি বর্ণনা করেছেন মুহাদ্দিসগণের দুই ইমাম: আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুগীরা ইবনে বারদিযবাহ আল-জুফী আল-বুখারী এবং আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরী আন-নাইসাপুরী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাঁদের স্ব-স্ব সহীহ গ্রন্থে, যা সংকলিত কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ।

২/২ - উম্মুল মুমিনীন উম্মু আবদুল্লাহ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একটি সৈন্যদল আক্রমণ করবে...
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
جَيْشٌ الْكَعْبَةَ فَإِذَا كَانُوا ببيْداءَ مِنَ الأَرْضِ يُخْسَفُ بأَوَّلِهِم وَآخِرِهِمْ". قَالَتْ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ يُخْسَفُ بَأَوَّلِهِم وَآخِرِهِمْ وَفِيهِمْ أَسْوَاقُهُمْ وَمَنْ لَيْسَ مِنهُمْ،؟ قَالَ: " يُخْسَفُ بِأَوَّلِهِم وَآخِرِهِمْ، ثُمَّ يُبْعَثُون عَلَى نِيَّاتِهِمْ" مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ: هذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ.

3/3- وعَنْ عَائِشَة رضي الله عنها قَالَت قالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " لا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ، وَلكنْ جِهَادٌ وَنِيَّةٌ، وَإِذَا اسْتُنْفرِتُمْ فانْفِرُوا" مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

وَمَعْنَاهُ: لا هِجْرَةَ مِنْ مَكَّةَ لأَنَّهَا صَارَتْ دَارَ إِسْلامٍ.

4/4- وعَنْ أبي عَبْدِ اللَّهِ جابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيِّ رضي الله عنهما قَالَ: كُنَّا مَع النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم في غَزَاة فَقَالَ: "إِنَّ بِالْمَدِينَةِ لَرِجَالاً مَا سِرْتُمْ مَسِيراً، وَلَا قَطَعْتُمْ وَادِياً إِلَاّ كانُوا مَعكُم حَبَسَهُمُ الْمَرَضُ" وَفِي روايَةِ: "إِلَاّ شَركُوكُمْ في الأَجْر" رَواهُ مُسْلِمٌ.

ورواهُ البُخَارِيُّ عَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: رَجَعْنَا مِنْ غَزْوَةِ تَبُوكَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: "إِنَّ أَقْوَامَاً خلْفَنَا بالمدِينةِ مَا سَلَكْنَا شِعْباً وَلَا وَادِياً إِلَاّ وَهُمْ مَعَنَا، حَبَسَهُمْ الْعُذْرُ".

5/5- وَعَنْ أبي يَزِيدَ مَعْنِ بْن يَزِيدَ بْنِ الأَخْنسِ رضي الله عنهم، وَهُوَ وَأَبُوهُ وَجَدّهُ صَحَابِيُّونَ، قَال: كَانَ أبي يَزِيدُ أَخْرَجَ دَنَانِيرَ يَتصَدَّقُ بِهَا فَوَضَعَهَا عِنْدَ رَجُلٍ في الْمَسْجِدِ فَجِئْتُ فَأَخَذْتُهَا فَأَتيْتُهُ بِهَا. فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا إِيَّاكَ أَرَدْتُ، فَخَاصمْتُهُ إِلَى رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: "لَكَ مَا نويْتَ يَا يَزِيدُ، وَلَكَ مَا أَخذْتَ يَا مَعْنُ "رواهُ البخاريُّ.
"একটি সৈন্যবাহিনী কাবার [উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে]। যখন তারা একটি মরুপ্রান্তরে পৌঁছাবে, তখন তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই মাটির নিচে ধসিয়ে দেওয়া হবে।" আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, আমি বললাম: "হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অথচ তাদের মধ্যে তাদের বাজারের লোকজন এবং এমন লোকও থাকবে যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়?" তিনি বললেন: "তাদের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকেই ধসিয়ে দেওয়া হবে, অতঃপর তাদের নিয়ত অনুযায়ী তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি: এটি বুখারির শব্দাবলি)।

৩/৩- আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই, তবে জিহাদ ও নিয়ত অবশিষ্ট আছে। আর যখন তোমাদের যুদ্ধের জন্য ডাক দেওয়া হবে, তখন তোমরা বেরিয়ে পড়ো।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এর অর্থ হলো: মক্কা থেকে হিজরত করার আবশ্যকতা আর নেই, কারণ এটি এখন দারুল ইসলামে পরিণত হয়েছে।

৪/৪- আবু আবদুল্লাহ জাবির ইবনে আবদুল্লাহ আনসারী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা এক যুদ্ধে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মদিনায় এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে, তোমরা যে পথই চলেছ এবং যে উপত্যকাই অতিক্রম করেছ, তারা তোমাদের সাথেই ছিল; অসুস্থতা তাদের আটকে দিয়েছিল।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তারা তোমাদের সাথে সওয়াবে শরিক ছিল।" (মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।

আর ইমাম বুখারি এটি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে তাবুক যুদ্ধ থেকে ফিরে আসছিলাম। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মদিনায় আমাদের পেছনে এমন কিছু কওম রয়ে গেছে, আমরা যে গিরিপথ বা উপত্যকাই অতিক্রম করেছি, তারা আমাদের সাথেই ছিল; ওজর (সংগত কারণ) তাদের আটকে দিয়েছিল।"

৫/৫- আবু ইয়াজিদ মা'ন ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আখরাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত—তিনি, তাঁর পিতা এবং তাঁর দাদা সকলেই সাহাবী ছিলেন—তিনি বলেন: আমার পিতা ইয়াজিদ কিছু দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) সদকা করার জন্য বের করলেন এবং তা মসজিদে এক ব্যক্তির কাছে রাখলেন। এরপর আমি এসে সেগুলো নিয়ে নিলাম এবং তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: "আল্লাহর কসম! আমি তো তোমাকে দেওয়ার ইচ্ছা করিনি।" অতঃপর আমি বিষয়টি নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে বিচার নিয়ে গেলাম। তিনি বললেন: "হে ইয়াজিদ! তুমি যা নিয়ত করেছ তা তোমার জন্য, আর হে মা'ন! তুমি যা গ্রহণ করেছ তা তোমার জন্য।" (বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন)।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣١)
6/6- وَعَنْ أبي إِسْحَاقَ سعْدِ بْنِ أبي وَقَّاصٍ مَالك بنِ أُهَيْبِ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ زُهرةَ بْنِ كِلابِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ كعْبِ بنِ لُؤىٍّ الْقُرشِيِّ الزُّهَرِيِّ رضي الله عنه، أَحدِ الْعَشرة الْمَشْهودِ لَهمْ بِالْجَنَّة، رضي الله عنهم قَالَ: "جَاءَنِي رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي عَامَ حَجَّة الْوَداعِ مِنْ وَجعٍ اشْتدَّ بِي فَقُلْتُ: يَا رسُول اللَّهِ إِنِّي قَدْ بلغَ بِي مِن الْوجعِ مَا تَرى، وَأَنَا ذُو مَالٍ وَلَا يَرثُنِي إِلَاّ ابْنةٌ لِي، أَفأَتصَدَّق بثُلُثَىْ مالِي؟ قَالَ: لا، قُلْتُ: فالشَّطُر يَارسوُلَ اللهِ؟ فقالَ: لا، قُلْتُ فالثُّلُثُ يَا رَسُولَ اللَّه؟ قَالَ: الثُّلثُ والثُّلُثُ كثِيرٌ -أَوْ كَبِيرٌ - إِنَّكَ إِنْ تَذرَ وَرثتك أغنِياءَ خَيْرٌ مِن أَنْ تذرهُمْ عالَةً يَتكفَّفُونَ النَّاس، وَإِنَّكَ لَنْ تُنفِق نَفَقةً تبْتغِي بِهَا وجْهَ اللهِ إِلَاّ أُجرْتَ عَلَيْهَا حَتَّى ما تَجْعلُ فِيِّ امْرَأَتكَ قَال: فَقلْت: يَا رَسُولَ اللهِ أُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي؟ قَال: إِنَّك لَنْ تُخَلَّفَ فتعْمَل عَمَلاً تَبْتغِي بِهِ وَجْهَ اللهِ إلَاّ ازْددْتَ بِهِ دَرجةً ورِفعةً ولعَلَّك أَنْ تُخلَّف حَتَى ينْتفعَ بكَ أَقَوامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخرُونَ. اللَّهُمَّ أَمْضِ لأِصْحابي هجْرتَهُم، وَلَا ترُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهم، لَكن الْبائسُ سعْدُ بْنُ خوْلَةَ"يرْثى لَهُ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم"أَن مَاتَ بمكَّةَ" متفقٌ عليهِ.

7/7- وَعَنْ أبي هُريْرة عَبْدِ الرَّحْمن بْنِ صخْرٍ رضي الله عنه قَالَ: قالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ الله لا يَنْظُرُ إِلى أَجْسامِكْم، وَلا إِلى صُوَرِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ "رواه مسلم.

8/8- وعَنْ أبي مُوسَى عبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ الأَشعرِيِّ رضي الله عنه قالَ: سُئِلَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم عَنِ الرَّجُلِ يُقاتِلُ شَجَاعَةً، ويُقاتِلُ حَمِيَّةً ويقاتِلُ رِياءً، أَيُّ ذلِك في سَبِيلِ اللَّهِ؟ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم: "مَنْ قاتَلَ لِتَكُون كلِمةُ اللَّهِ هِي الْعُلْيَا فهُوَ في سَبِيلِ اللَّهِ" مُتَّفَقٌ عَلَيهِ
৬/৬- আবু ইসহাক সা‘দ ইবন আবু ওয়াক্কাস মালিক ইবন উহাইব ইবন আবদ মানাফ ইবন জুহরা ইবন কিলাব ইবন মুররা ইবন কাব ইবন লুওয়াই আল-কুরাইশি আজ-জুহরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, যিনি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর অন্যতম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), তিনি বলেন: "বিদায় হজ্জের বছর আমার রোগ কঠিন আকার ধারণ করলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দেখতে আসেন। তখন আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো দেখছেন আমার রোগ কতটা প্রকট হয়েছে। আমি একজন সম্পদশালী ব্যক্তি, আর আমার একটি মাত্র মেয়ে ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। এমতাবস্থায় আমি কি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সদকা করে দেব?' তিনি বললেন: 'না।' আমি বললাম: 'তাহলে অর্ধেক, হে আল্লাহর রাসূল?' তিনি বললেন: 'না।' আমি বললাম: 'তাহলে এক-তৃতীয়াংশ, হে আল্লাহর রাসূল?' তিনি বললেন: 'এক-তৃতীয়াংশ (করতে পারো), আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক—বা তিনি বলেছেন বড়। তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে, এটি তাদেরকে মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় অভাবী করে রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। আর তুমি আল্লাহর চেহারা কামনা করে যা কিছু ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দাও তার জন্যও।' তিনি (সা‘দ) বলেন: আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার সঙ্গীদের চলে যাওয়ার পর পেছনে রয়ে যাব?' তিনি বললেন: 'তুমি যদি পেছনে থেকে যাও এবং আল্লাহর চেহারা কামনা করে কোনো আমল করো, তবে তার মাধ্যমে তোমার মর্যাদা ও উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সম্ভবত তুমি দীর্ঘজীবী হবে, এমনকি তোমার দ্বারা অনেক জাতি উপকৃত হবে এবং অন্য অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। হে আল্লাহ! আপনি আমার সাহাবীদের হিজরতকে বলবৎ রাখুন এবং তাদেরকে পেছনে ফিরিয়ে দেবেন না।' কিন্তু করুণার পাত্র হলেন সা'দ ইবন খাওলাহ।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর মক্কায় মৃত্যু বরণ করার কারণে তাঁর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। (বুখারী ও মুসলিম)।

৭/৭- আবু হুরায়রা আবদুর রহমান ইবন সাখর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের দেহ এবং তোমাদের অবয়বের দিকে তাকান না, বরং তিনি তোমাদের অন্তরের দিকে তাকান।" (মুসলিম)।

৮/৮- আবু মুসা আবদুল্লাহ ইবন কায়স আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সাহসিকতা প্রদর্শনের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ আত্মমর্যাদা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে, আর কেউ লোকদেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; এদের মধ্যে কোনটি আল্লাহর পথে? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য যুদ্ধ করে, সেই আল্লাহর পথে।" (বুখারী ও মুসলিম)
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
9/9- وعن أبي بَكْرَة نُفيْعِ بْنِ الْحارِثِ الثَّقفِي رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِذَا الْتقَى الْمُسْلِمَانِ بسيْفيْهِمَا فالْقاتِلُ والمقْتُولُ في النَّارِ"قُلْتُ: يَا رَسُول اللَّهِ، هَذَا الْقَاتِلُ فمَا بَالُ الْمقْتُولِ؟ قَال: " إِنَّهُ كَانَ حَرِيصاً عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ" متفقٌ عليه.

10/10- وَعَنْ أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "صَلَاةُ الرَّجُلِ في جماعةٍ تزيدُ عَلَى صَلَاتِهِ في سُوقِهِ وَبَيْتِهِ بضْعاً وعِشْرينَ دَرَجَةً، وذلِكَ أَنَّ أَحَدَهُمْ إِذا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ، ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِد لا يَنْهَزُهُ إِلَاّ الصَّلَاةُ، لا يُرِيدُ إِلَاّ الصَّلَاةَ، لَمْ يَخطُ خُطوَةً إِلَاّ رُفِعَ لَهُ بِها دَرجةٌ، وَحُطَّ عَنْهُ بِهَا خَطيئَةٌ حتَّى يَدْخلَ الْمَسْجِدَ، فَإِذَا دَخَلَ الْمَسْجِدَ كانَ في الصَّلَاةِ مَا كَانَتِ الصَّلاةُ هِيَ تحبِسُهُ، وَالْمَلائِكَةُ يُصَلُّونَ عَلَى أَحَدكُمْ مَا دَامَ في مَجْلِسهِ الَّذي صَلَّى فِيهِ، يقُولُونَ: اللَّهُمَّ ارْحَمْهُ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ، اللَّهُمَّ تُبْ عَلَيْهِ، مالَمْ يُؤْذِ فِيهِ، مَا لَمْ يُحْدِثْ فِيهِ "متفقٌ عليه، وهَذَا لَفْظُ مُسْلمٍ. وَقَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم: "ينْهَزُهُ"هُوَ بِفتحِ الْياءِ وَالْهاءِ وَبالزَّاي: أَي يُخْرِجُهُ ويُنْهِضُهُ.

11/11- وَعَنْ أبي الْعَبَّاسِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَِّلب رضي الله عنهما، عَنْ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم، فِيما يَرْوى عَنْ ربِّهِ، تبارك وتعالى قَالَ: "إِنَّ اللهَ كتَبَ الْحسناتِ والسَّيِّئاتِ ثُمَّ بَيَّنَ ذلِكَ: فمَنْ همَّ بِحَسَنةٍ فَلمْ يعْمَلْهَا كتبَهَا اللَّهُ تبارك وتعالى عِنْدَهُ حَسَنَةً كامِلةً وَإِنْ همَّ بهَا فَعَمِلَهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عَشْر حَسَنَاتٍ إِلَى سَبْعِمَائِةِ ضِعْفٍ إِلَى أَضْعَافٍ كثيرةٍ، وَإِنْ هَمَّ بِسيِّئَةِ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كَتَبَهَا اللَّهُ عِنْدَهُ حَسَنَةً كامِلَةً، وَإِنْ هَمَّ بِها فعَمِلهَا كَتَبَهَا اللَّهُ سَيِّئَةً وَاحِدَةً" متفقٌ عليهِ.

12/12- وعن أبي عَبْد الرَّحْمَن عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخطَّابِ، رضي الله عنهما قَالَ: سَمِعْتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "انْطَلَقَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَتَّى آوَاهُمُ الْمبِيتُ إِلَى غَارٍ فَدَخَلُوهُ، فانْحَدَرَتْ صَخْرةٌ مِنَ الْجبلِ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمْ الْغَارَ، فَقَالُوا: إِنَّهُ لَا يُنْجِيكُمْ مِنْ الصَّخْرَةِ إِلَاّ أَنْ تَدْعُوا الله تعالى بصالح أَعْمَالكُمْ قَالَ رجلٌ مِنهُمْ: اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوانِ شَيْخَانِ كَبِيرانِ، وكُنْتُ لَا أَغبِقُ قبْلهَما أَهْلاً وَلا مالاً
৯/৯- আবু বাকরা নুফাই ইবনে হারিস আস-সাকাফি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “যখন দুইজন মুসলিম তাদের তলোয়ার নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।” আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, এটি তো হত্যাকারীর ব্যাপার, কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অবস্থা? তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই সেও তার সঙ্গীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।” মুত্তাফাকুন আলাইহি।

১০/১০- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “জামাতে কোনো ব্যক্তির সালাত তার বাজারে বা ঘরে পড়ার চেয়ে বিশের অধিক গুণ বেশি মর্যাদা রাখে। আর এটি এজন্য যে, তাদের মধ্যে কেউ যখন সুন্দরভাবে ওজু করে, অতঃপর মসজিদের দিকে রওনা হয় এবং সালাত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য তার থাকে না, সে প্রতিটি কদমের বিনিময়ে একটি মর্যাদা লাভ করে এবং তার একটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হয় যতক্ষণ না সে মসজিদে প্রবেশ করে। যখন সে মসজিদে প্রবেশ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাতরত হিসেবে গণ্য হয় যতক্ষণ সালাত তাকে আটকে রাখে। আর ফেরেশতারা তোমাদের একজনের জন্য দোয়া করতে থাকে যতক্ষণ সে তার সালাতের স্থানে বসে থাকে; তারা বলে: হে আল্লাহ! আপনি তাকে দয়া করুন, হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, হে আল্লাহ! তার তাওবা কবুল করুন; যতক্ষণ না সে সেখানে কাউকে কষ্ট দেয় বা যতক্ষণ না তার ওজু নষ্ট হয়।” মুত্তাফাকুন আলাইহি, এটি মুসলিমের শব্দমালা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী ‘ইউনহাজুহু’ (ইয়া এবং হা-এর যবর এবং ঝা সহকারে): এর অর্থ হলো তাকে বের করা এবং উদ্দীপ্ত করা।

১১/১১- আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার প্রতিপালক বরকতময় ও সুউচ্চ আল্লাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ নেকি ও গুনাহসমূহ লিখে রেখেছেন, অতঃপর তা ব্যাখ্যা করেছেন: যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের ইচ্ছা করল কিন্তু তা করল না, আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছে একে একটি পূর্ণ নেকি হিসেবে লিখে দেন। আর যদি সে ইচ্ছা করার পর তা আমল করে, তবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর কাছে দশটি নেকি থেকে সাতশত গুণ এমনকি তার চেয়েও অনেক গুণ বেশি লিখে দেন। আর যদি সে কোনো গুনাহের কাজের ইচ্ছা করে কিন্তু তা না করে, তবে আল্লাহ তাঁর কাছে একে একটি পূর্ণ নেকি হিসেবে লিখে দেন। আর যদি সে ইচ্ছা করার পর তা করে ফেলে, তবে আল্লাহ তাকে একটি মাত্র গুনাহ হিসেবেই লিখেন।” মুত্তাফাকুন আলাইহি।

১২/১২- আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “তোমাদের পূর্ববর্তী যুগের তিন ব্যক্তি পথ চলছিল, একপর্যায়ে রাত কাটানোর জন্য তারা একটি গুহায় আশ্রয় নিল এবং তাতে প্রবেশ করল। তখন পাহাড় থেকে একটি পাথর খণ্ড পড়ে গুহার মুখ বন্ধ হয়ে গেল। তারা বলল: তোমাদের সৎ আমলের উসিলায় আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করা ছাড়া এই পাথর থেকে তোমাদের মুক্তি পাওয়ার আর কোনো উপায় নেই। তাদের মধ্যে এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমার অতি বৃদ্ধ পিতা-মাতা ছিলেন, আমি তাদের আগে আমার পরিবার বা সম্পদ (দাস-দাসী)-এর কাউকেই রাতের পানীয় পান করাতাম না।”
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
فنأَى بِي طَلَبُ الشَّجرِ يَوْماً فَلمْ أُرِحْ عَلَيْهمَا حَتَّى نَامَا فَحَلبْت لَهُمَا غبُوقَهمَا فَوَجَدْتُهُمَا نَائِميْنِ، فَكَرِهْت أَنْ أُوقظَهمَا وَأَنْ أَغْبِقَ قَبْلَهُمَا أَهْلاً أَوْ مَالاً، فَلَبِثْتُ وَالْقَدَحُ عَلَى يَدِى أَنْتَظِرُ اسْتِيقَاظَهُما حَتَّى بَرَقَ الْفَجْرُ وَالصِّبْيَةُ يَتَضاغَوْنَ عِنْدَ قَدَمى فَاسْتَيْقظَا فَشَربَا غَبُوقَهُمَا. اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَة، فانْفَرَجَتْ شَيْئاً لا يَسْتَطيعُونَ الْخُرُوجَ مِنْهُ.

قَالَ الآخر: اللَّهُمَّ إِنَّهُ كَانتْ لِيَ ابْنَةُ عمٍّ كانتْ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَيَّ"وفي رواية: "كُنْتُ أُحِبُّهَا كَأَشد مَا يُحبُّ الرِّجَالُ النِّسَاءِ، فَأَرَدْتُهَا عَلَى نَفْسهَا فَامْتَنَعَتْ مِنِّى حَتَّى أَلَمَّتْ بِهَا سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ فَجَاءَتْنِى فَأَعْطَيْتُهِا عِشْرينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلِّىَ بَيْنِى وَبَيْنَ نَفْسِهَا ففَعَلَت، حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا"وفي رواية: "فَلَمَّا قَعَدْتُ بَيْنَ رِجْليْهَا، قَالتْ: اتَّقِ اللهَ وَلَا تَفُضَّ الْخاتَمَ إِلَاّ بِحَقِّهِ، فانْصَرَفْتُ عَنْهَا وَهِىَ أَحَبُّ النَّاسِ إِليَّ وَتركْتُ الذَّهَبَ الَّذي أَعْطَيتُهَا، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعْلتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فانفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لا يَسْتَطِيعُونَ الْخُرُوجَ مِنْهَا.

وقَالَ الثَّالِثُ: اللَّهُمَّ إِنِّي اسْتَأْجَرْتُ أُجرَاءَ وَأَعْطَيْتُهمْ أَجْرَهُمْ غَيْرَ رَجُلٍ وَاحِدٍ تَرَكَ الَّذي لَّه وَذَهبَ فثمَّرت أجْرَهُ حَتَّى كثرت منه الأموال فجائنى بَعدَ حِينٍ فَقالَ يَا عبدَ اللهِ أَدِّ إِلَيَّ أَجْرِي، فَقُلْتُ: كُلُّ مَا تَرَى منْ أَجْرِكَ: مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالْغَنَم وَالرَّقِيق فقالَ: يا عَبْدَ اللَّهِ لا تَسْتهْزيْ بي، فَقُلْتُ: لَا أَسْتَهْزيُ بِكَ، فَأَخَذَهُ كُلَّهُ فاسْتاقَهُ فَلَمْ يَتْرُكْ مِنْه شَيْئاً، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتغَاءَ وَجْهِكَ فافْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ فخرَجُوا يَمْشُونَ "متفقٌ عليه.
একদা গবাদি পশুর জন্য চারণভূমির সন্ধানে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। আমি ফিরে আসার আগেই তারা (পিতা-মাতা) ঘুমিয়ে পড়লেন। আমি তাদের জন্য সান্ধ্যকালীন পানীয় দোহন করলাম কিন্তু তাদের ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। আমি তাদের জাগিয়ে তোলা কিংবা তাদের আগে পরিবার বা ধন-সম্পদকে পান করানো অপছন্দ করলাম। এমতাবস্থায় আমি দুধের পাত্র হাতে নিয়ে তাদের জেগে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং এভাবেই ফজর হয়ে গেল। আর শিশুরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় আমার পায়ের কাছে চিৎকার করছিল। অবশেষে তারা জাগ্রত হলেন এবং তাদের সান্ধ্যকালীন পানীয় পান করলেন। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্ধানে এটি করে থাকি, তবে এই পাথরখণ্ড হতে আমাদের মুক্তি দিন যাতে আমরা আটকে আছি। তখন পাথরটি সামান্য সরে গেল, কিন্তু তারা তা থেকে বের হতে সক্ষম ছিল না।

দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমার এক চাচাতো বোন ছিল যে আমার কাছে সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় ছিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে: পুরুষরা নারীদের যেভাবে অত্যন্ত তীব্র ভালোবাসে, আমি তাকে সেভাবেই ভালোবাসতাম। আমি তার সাথে সঙ্গত হতে চাইলাম কিন্তু সে আমাকে প্রত্যাখ্যান করল। এভাবে এক দুর্ভিক্ষের বছরে সে অভাবগ্রস্ত হয়ে আমার কাছে এল। তখন আমি তাকে একশ বিশ দিনার এই শর্তে দিলাম যে, সে নিজেকে আমার নিকট সঁপে দেবে। সে রাজি হলো। অবশেষে যখন আমি তার ওপর সক্ষম হলাম—অন্য এক বর্ণনায় আছে: যখন আমি তার দুই পায়ের মাঝে বসলাম—সে বলল: আল্লাহকে ভয় করুন এবং ন্যায়সঙ্গত অধিকার ব্যতীত সতীত্বের মোহর ভাঙবেন না। তখন আমি তাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা সত্ত্বেও তার কাছ থেকে সরে দাঁড়ালাম এবং তাকে দেওয়া স্বর্ণমুদ্রাগুলোও ছেড়ে দিলাম। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্ধানে এটি করে থাকি, তবে আমাদের এই বিপদ দূর করে দিন। তখন পাথরটি আরও সরে গেল কিন্তু তারা তখনও বের হতে পারছিল না।

তৃতীয় ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহ! আমি কয়েকজন শ্রমিক নিয়োগ করেছিলাম এবং একজনকে ছাড়া বাকি সবার পারিশ্রমিক দিয়ে দিয়েছিলাম। সেই এক ব্যক্তি তার প্রাপ্য ছেড়ে চলে গিয়েছিল। অতঃপর আমি তার পারিশ্রমিক দিয়ে ব্যবসা করলাম, ফলে তা থেকে অনেক ধন-সম্পদ অর্জিত হলো। দীর্ঘ সময় পর সে আমার কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার পারিশ্রমিক আমাকে দিয়ে দিন। আমি বললাম: আপনি যা কিছু দেখছেন—উট, গরু, ছাগল ও দাস-দাসী—সবই আপনার পারিশ্রমিক। সে বলল: হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে উপহাস করবেন না। আমি বললাম: আমি আপনার সাথে উপহাস করছি না। অতঃপর সে সব কিছু নিয়ে গেল এবং কিছুই অবশিষ্ট রাখল না। হে আল্লাহ! আমি যদি আপনার চেহারার সন্ধানে এটি করে থাকি, তবে আমাদের এই বিপদ দূর করে দিন। তখন পাথরটি সম্পূর্ণ সরে গেল এবং তারা বের হয়ে হেঁটে চলে গেল। (বুখারি ও মুসলিম)।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٣)
2-‌‌ باب التوبة

قَالَ العلماءُ: التَّوْبَةُ وَاجبَةٌ مِنْ كُلِّ ذَنْب، فإنْ كَانتِ المَعْصِيَةُ بَيْنَ العَبْدِ وبَيْنَ اللهِ تَعَالَى لَا تَتَعلَّقُ بحقّ آدَمِيٍّ، فَلَهَا ثَلاثَةُ شُرُوط:

أحَدُها: أنْ يُقلِعَ عَنِ المَعصِيَةِ.

والثَّانِي: أَنْ يَنْدَمَ عَلَى فِعْلِهَا.

والثَّالثُ: أنْ يَعْزِمَ أَنْ لا يعُودَ إِلَيْهَا أَبَداً. فَإِنْ فُقِدَ أَحَدُ الثَّلاثَةِ لَمْ تَصِحَّ تَوبَتُهُ.
২-‌‌ তওবা অধ্যায়

বিদ্বানগণ বলেছেন: প্রত্যেক গুনাহ থেকে তওবা করা ওয়াজিব। যদি নাফরমানিটি বান্দা এবং আল্লাহ তাআলার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে এবং কোনো মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট না হয়, তবে তার জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে:

প্রথমটি: সেই গুনাহটি বর্জন করা।

দ্বিতীয়টি: তা করার জন্য অনুতপ্ত হওয়া।

তৃতীয়টি: পুনরায় কখনো সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা। যদি এই তিনটির কোনো একটি শর্তের অভাব ঘটে, তবে তার তওবা বিশুদ্ধ হবে না।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٤)
وإنْ كَانَتِ المَعْصِيةُ تَتَعَلقُ بآدَمِيٍّ فَشُرُوطُهَا أرْبَعَةٌ: هذِهِ الثَّلاثَةُ، وأنْ يَبْرَأ مِنْ حَقّ صَاحِبِها، فَإِنْ كَانَتْ مالاً أَوْ نَحْوَهُ رَدَّهُ إِلَيْه، وإنْ كَانَت حَدَّ قَذْفٍ ونَحْوَهُ مَكَّنَهُ مِنْهُ أَوْ طَلَبَ عَفْوَهُ، وإنْ كَانْت غِيبَةً استَحَلَّهُ مِنْهَا. ويجِبُ أنْ يَتُوبَ مِنْ جميعِ الذُّنُوبِ، فَإِنْ تَابَ مِنْ بَعْضِها صَحَّتْ تَوْبَتُهُ عِنْدَ أهْلِ الحَقِّ مِنْ ذلِكَ الذَّنْبِ، وبَقِيَ عَلَيهِ البَاقي. وَقَدْ تَظَاهَرَتْ دَلائِلُ الكتَابِ، والسُّنَّةِ، وإجْمَاعِ الأُمَّةِ عَلَى وُجوبِ التَّوبةِ:

قَالَ الله تَعَالَى: {وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} [النور: 31] وَقالَ تَعَالَى: {اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ} [هود: 3] وَقالَ تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحاً} [التحريم: 8}

1/13- وعَنْ أبي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قالَ: سمِعتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: "واللَّه إِنِّي لأَسْتَغْفرُ الله، وَأَتُوبُ إِليْه، في اليَوْمِ، أَكثر مِنْ سَبْعِين مرَّةً "رواه البخاري.

2/14- وعن الأَغَرِّ بْن يَسار المُزنِيِّ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يَا أَيُّها النَّاس تُوبُوا إِلى اللَّهِ واسْتغْفرُوهُ فإِني أَتوبُ في اليَوْمِ مائة مَرَّة" رواه مسلم.

3/ 15- وعنْ أبي حَمْزَةَ أَنَس بنِ مَالِكٍ الأَنْصَارِيِّ خَادِمِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "للَّهُ أَفْرحُ بتْوبةِ عَبْدِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ سقطَ عَلَى بعِيرِهِ وقد أَضلَّهُ في أَرضٍ فَلاةٍ "متفقٌ عليه.

وفي رواية لمُسْلمٍ: "للَّهُ أَشدُّ فَرَحاً بِتَوْبةِ عَبْدِهِ حِين يتُوبُ إِلْيهِ مِنْ أَحَدِكُمْ كَانَ عَلَى راحِلَتِهِ بِأَرْضٍ فلاةٍ، فانْفلتتْ مِنْهُ وعلَيْها طعامُهُ وشرَابُهُ فأَيِسَ مِنْهَا، فأَتَى شَجَرةً فاضْطَجَعَ في ظِلِّهَا، وقد أَيِسَ مِنْ رَاحِلتِهِ، فَبَيْنما هوَ كَذَلِكَ إِذْ هُوَ بِها قَائِمة عِنْدَهُ، فَأَخذ بِخطامِهَا ثُمَّ قَالَ مِنْ شِدَّةِ الفَرحِ: اللَّهُمَّ أَنت عبْدِي وأَنا ربُّكَ، أَخْطَأَ مِنْ شِدَّةِ الفرح".
আর গুনাহ যদি কোনো মানুষের হকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, তবে তার তাওবার শর্ত চারটি: উক্ত তিনটি শর্ত, এবং সেই ব্যক্তির হক থেকে মুক্ত হওয়া। যদি তা ধন-সম্পদ বা এ জাতীয় কিছু হয়, তবে তা তাকে ফিরিয়ে দিবে। যদি তা অপবাদের দণ্ড বা এ জাতীয় কিছু হয়, তবে নিজেকে তার হাতে সোপর্দ করবে অথবা তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর যদি তা গীবত (পরনিন্দা) হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট ক্ষমা চেয়ে নিবে। সকল গুনাহ থেকে তাওবা করা ওয়াজিব। যদি কেউ কেবল কিছু গুনাহ থেকে তাওবা করে, তবে সত্যপন্থীদের (আহলে হক) মতে ঐ বিশেষ গুনাহ থেকে তার তাওবা শুদ্ধ হবে, কিন্তু অবশিষ্ট গুনাহসমূহ তার জিম্মায় থেকে যাবে। তাওবা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন, সুন্নাহ এবং উম্মতের ইজমার দালিলিক প্রমাণাদি সুস্পষ্ট:

মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।" [সূরা আন-নূর: ৩১] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমরা তোমাদের রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর তাঁর নিকট তাওবা করো।" [সূরা হূদ: ৩] মহান আল্লাহ আরও বলেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো—একনিষ্ঠ তাওবা।" [সূরা আত-তাহরীম: ৮]

১/১৩- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন আল্লাহর নিকট সত্তর বারেরও অধিক ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার) ও তাওবা করি।" (বুখারী)

২/১৪- আল-আগারর ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে লোকসকল! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। কেননা আমি দিনে একশত বার তাওবা করি।" (মুসলিম)

৩/১৫- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেম আবু হামযাহ আনাস ইবনে মালিক আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাঁর বান্দার তাওবায় তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যার উট কোনো এক নির্জন মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়ার পর সে তা ফিরে পায়।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: "বান্দা যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে, তখন আল্লাহ তোমাদের সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি আনন্দিত হন, যে তার সওয়ারিতে চড়ে কোনো এক নির্জন মরুভূমি পাড়ি দিচ্ছিল। হঠাৎ সওয়ারিটি তার থেকে পালিয়ে গেল, অথচ সেটির ওপরই তার খাদ্য ও পানীয় ছিল। সে সেটি ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল। এরপর সে একটি গাছের নিচে এসে তার ছায়ায় শুয়ে পড়ল—সে তার সওয়ারিটির ব্যাপারে সম্পূর্ণ হতাশ হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় সে হঠাৎ দেখতে পেল যে, সওয়ারিটি তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে তার লাগাম ধরে অত্যধিক আনন্দের আতিশয্যে বলে ফেলল: 'হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব'। সে প্রচণ্ড খুশির কারণে ভুল করে ফেলেছিল।"
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٥)
4/16- وعن أبي مُوسى عَبْدِ اللَّهِ بنِ قَيْسٍ الأَشْعَرِيِّ، رضي الله عنه، عن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"إِن الله تَعَالَى يبْسُطُ يدهُ بِاللَّيْلِ ليتُوب مُسيءُ النَّهَارِ وَيبْسُطُ يَدهُ بالنَّهَارِ ليَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ حتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِن مغْرِبِها" رواه مسلم.

5/17- وعَنْ أبي هُريْرةَ رضي الله عنه قَالَ: قالَ رَسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ تَابَ قَبْلَ أَنْ تطلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مغْرِبِهَا تَابَ الله علَيْه" رواه مسلم.

6/18- وعَنْ أبي عَبْدِ الرَّحْمن عَبْدِ اللَّهِ بنِ عُمرَ بن الخطَّاب رضي الله عنهما عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ الله عز وجل يقْبَلُ توْبة العبْدِ مَالَم يُغرْغرِ "رواه الترمذي وقال: حديث حسنٌ.

1/19- وعَنْ زِرِّ بْنِ حُبْيشٍ قَال: أَتيْتُ صفْوانَ بْنِ عسَّالٍ رضي الله عنه أَسْأَلُهُ عَن الْمَسْحِ عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقالَ: مَا جَاءَ بِكَ يَا زِرُّ؟ فقُلْتُ: ابْتغَاءُ الْعِلْمِ، فقَال: إِنَّ الْملائِكَةَ تَضَعُ أَجْنِحتِها لِطَالِبِ الْعِلْمِ رِضاء بمَا يَطلُبُ، فَقلْتُ: إِنَّه قدْ حَكَّ في صدْرِي الْمسْحُ عَلَى الْخُفَّيْنِ بَعْدَ الْغَائِطِ والْبوْلِ، وكُنْتَ امْرَءاً مِنْ أَصْحاب النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَجئْت أَسْأَلُكَ: هَلْ سمِعْتَهُ يذْكرُ في ذَلِكَ شيْئاً؟ قَالَ: نعَمْ كانَ يأْمُرنا إِذَا كُنا سَفراً أوْ مُسافِرين أَن لا ننْزعَ خفافَنا ثَلاثَةَ أَيَّامٍ ولَيَالِيهنَّ إِلَاّ مِنْ جنَابةٍ، لكِنْ مِنْ غائطٍ وبْولٍ ونْومٍ. فقُلْتُ: هَل سمِعتهُ يذكُر في الْهوى شيْئاً؟ قَالَ: نعمْ كُنَّا مَع رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في سفرٍ، فبيْنا نحنُ عِنْدهُ إِذ نادَاهُ أَعْرابي بصوْتٍ لَهُ جهوريٍّ: يَا مُحمَّدُ، فأَجَابهُ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم نحْوا مِنْ صَوْتِه: "هاؤُمْ" فقُلْتُ لهُ: وَيْحَكَ اغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ فإِنَّك عِنْد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وقدْ نُهِيت عَنْ هذا، فقال: واللَّه لَا أَغضُضُ: قَالَ الأَعْرابِيُّ: الْمَرْءُ يُحِبُّ الْقَوم ولَمَّا يلْحق بِهِمْ؟ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: " الْمرْءُ مَعَ منْ أَحَبَّ يَوْمَ الْقِيامةِ"فَمَا زَالَ يُحدِّثُنَا حتَّى ذَكَرَ بَاباً مِنَ الْمَغْرب مَسيرةُ عرْضِه أوْ يسِير الرَّاكِبُ في عرْضِهِ أَرْبَعِينَ أَوْ سَبْعِينَ عَاماً. قَالَ سُفْيانُ أَحدُ الرُّوَاةِ. قِبل الشَّامِ خلقَهُ اللَّهُ تعالى يوْم خلق السموات والأَرْضَ مفْتوحاً لِلتَّوبة لا يُغلقُ حتَّى تَطلُعَ الشَّمْسُ مِنْهُ "رواه التِّرْمذي وغيره وَقالَ: حديث حسن صحيح.
৪/১৬- আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন কাইস আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন দিনে অপরাধকারী তওবা করে এবং দিনে তাঁর হাত প্রসারিত করেন যেন রাতে অপরাধকারী তওবা করে; যতক্ষণ না সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হয়।" (মুসলিম)।

৫/১৭- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার পূর্বে তওবা করবে, আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন।" (মুসলিম)।

৬/১৮- আবু আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহামহিম আল্লাহ বান্দার তওবা কবুল করেন যতক্ষণ না তার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়।" (তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস)।

১/১৯- যির বিন হুবাইশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি সাফওয়ান বিন আসসাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে মোজার উপর মাসেহ করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে এলাম। তিনি বললেন: হে যির, তোমাকে কিসে নিয়ে এসেছে? আমি বললাম: ইলম অন্বেষণ করতে। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ইলম অন্বেষণকারীর কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেয়। আমি বললাম: আমার মনে মলত্যাগ ও প্রস্রাবের পর মোজার উপর মাসেহ করার ব্যাপারে খটকা তৈরি হয়েছে, আর আপনি ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একজন সাহাবী, তাই আমি আপনার কাছে এ বিষয়ে কিছু শুনেছেন কিনা তা জিজ্ঞাসা করতে এসেছি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি আমাদের নির্দেশ দিতেন যখন আমরা সফরে থাকতাম বা মুসাফির হতাম, তখন যেন তিন দিন ও তিন রাত আমাদের মোজা না খুলি, তবে জানাবত ব্যতীত; কিন্তু মলত্যাগ, প্রস্রাব ও ঘুমের কারণে (খোলার প্রয়োজন নেই)। আমি বললাম: আপনি কি তাঁকে ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমরা এক সফরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম। আমরা যখন তাঁর কাছে ছিলাম, তখন এক বেদুইন তার উচ্চস্বরে তাঁকে ডাকল: হে মুহাম্মদ! রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার কণ্ঠের কাছাকাছি স্বরে উত্তর দিলেন: "আমি এখানে উপস্থিত।" আমি তাকে বললাম: তোমার জন্য আফসোস! তোমার কণ্ঠ নিচু করো, কারণ তুমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে আছো এবং তোমাকে এ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। সে বলল: আল্লাহর কসম, আমি আমার কণ্ঠ নিচু করব না। বেদুইনটি বলল: এক ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসে কিন্তু সে তাদের স্তরে পৌঁছাতে পারেনি (তথা তাদের মতো আমল করতে পারেনি)? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "কিয়ামতের দিন মানুষ তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।" অতঃপর তিনি আমাদের কাছে বর্ণনা করতে থাকলেন যতক্ষণ না পশ্চিম দিকের একটি দরজার কথা উল্লেখ করলেন যার প্রস্থ অতিক্রম করতে কোনো আরোহীর চল্লিশ বা সত্তর বছর সময় লাগবে। বর্ণনাকারীদের একজন সুফিয়ান বলেন: এটি সিরিয়ার দিকে, আল্লাহ তাআলা আসমান ও জমিন সৃষ্টির দিনই এটি সৃষ্টি করেছেন। এটি তওবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং সূর্য এর মধ্য দিয়ে উদিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি বন্ধ করা হবে না। (তিরমিজি ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি হাসান সহীহ হাদিস)।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٦)
8/20- وعنْ أبي سعِيدٍ سَعْد بْنِ مالكِ بْنِ سِنانٍ الْخُدْرِيِّ رضي الله عنه أَن نَبِيَّ الله صلى الله عليه وسلم قَال: "كَانَ فِيمنْ كَانَ قَبْلكُمْ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعةً وتِسْعين نفْساً، فسأَل عَنْ أَعلَم أَهْلِ الأَرْضِ فدُلَّ عَلَى راهِبٍ، فَأَتَاهُ فقال: إِنَّهُ قَتَل تِسعةً وتسعِينَ نَفْساً، فَهلْ لَهُ مِنْ توْبَةٍ؟ فقالَ: لا فقتلَهُ فكمَّلَ بِهِ مِائةً ثمَّ سألَ عَنْ أَعْلَمِ أهلِ الأرضِ، فدُلَّ على رجلٍ عالمٍ فقال: إنهَ قَتل مائةَ نفسٍ فهلْ لَهُ مِنْ تَوْبةٍ؟ فقالَ: نَعَمْ ومنْ يحُولُ بيْنَهُ وبيْنَ التوْبة؟ انْطَلِقْ إِلَى أَرْضِ كَذَا وكَذَا، فإِنَّ بِهَا أُنَاساً يعْبُدُونَ الله تَعَالَى فاعْبُدِ الله مَعْهُمْ، ولَا تَرْجعْ إِلى أَرْضِكَ فإِنَّهَا أَرْضُ سُوءٍ، فانطَلَق حتَّى إِذا نَصَف الطَّريقُ أَتَاهُ الْموْتُ فاختَصمتْ فيهِ مَلائكَةُ الرَّحْمَةِ وملاكةُ الْعَذابِ. فقالتْ ملائكةُ الرَّحْمَةَ: جاءَ تائِباً مُقْبلا بِقلْبِهِ إِلى اللَّهِ تَعَالَى، وقالَتْ ملائكَةُ الْعذابِ: إِنَّهُ لمْ يَعْمَلْ خيْراً قطُّ، فأَتَاهُمْ مَلكٌ في صُورَةِ آدَمِيٍّ فجعلوهُ بيْنهُمْ أَي –حَكَماً- فقالَ قِيسُوا ما بَيْن الأَرْضَين فإِلَى أَيَّتهما كَان أَدْنى فهْو لَهُ، فقاسُوا فوَجَدُوه أَدْنى إِلَى الأَرْضِ التي أَرَادَ فَقبَضْتهُ مَلائكَةُ الرَّحمةِ" متفقٌ عليه.

وفي روايةٍ في الصحيح:"فكَان إِلَى الْقرْيَةِ الصَّالحَةِ أَقْربَ بِشِبْرٍ، فجُعِل مِنْ أَهْلِها"وفي رِواية في الصحيح: " فأَوْحَى اللَّهُ تعالَى إِلَى هَذِهِ أَن تَبَاعَدِى، وإِلى هَذِهِ أَن تَقرَّبِي وقَال: قِيسُوا مَا بيْنهمَا، فَوَجدُوه إِلَى هَذِهِ أَقَرَبَ بِشِبْرٍ فَغُفَرَ لَهُ" وفي روايةٍ:"فنأَى بِصَدْرِهِ نَحْوهَا".

1/21- وعَنْ عبْدِ اللَّهِ بنِ كَعْبِ بنِ مَالكٍ، وكانَ قائِدَ كعْبٍ رضي الله عنه مِنْ بَنِيهِ حِينَ عَمِيَ، قَالَ: سَمِعْتُ كعْبَ بنَ مَالكٍ رضي الله عنه يُحَدِّثُ بِحدِيِثِهِ حِين تخَلَّف عَنْ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، في غزوةِ تبُوكَ. قَال كعْبٌ: لمْ أَتخلَّفْ عَنْ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، في غَزْوَةٍ غَزَاها قط إِلَاّ في غزْوَةِ تَبُوكَ، غَيْر أَنِّي قدْ تخلَّفْتُ في غَزْوةِ بَدْرٍ، ولَمْ يُعَاتَبْ أَحد تَخلَّف عنْهُ، إِنَّما خَرَجَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم والمُسْلِمُونَ يُريُدونَ عِيرَ قُريْش حتَّى جَمعَ الله تعالَى بيْنهُم وبيْن عَدُوِّهِمْ عَلَى غيْرِ ميعادٍ. وَلَقَدْ شهدْتُ مَعَ رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ليْلَةَ العَقبَةِ حِينَ تَوَاثَقْنَا عَلَى الإِسْلامِ، ومَا أُحِبُّ أَنَّ لِي بِهَا مَشهَدَ بَدْرٍ، وإِن كَانتْ بدْرٌ أَذْكَرَ في النَّاسِ مِنهَا

وكانَ مِنْ خَبَري حِينَ تخلَّفْتُ عَنْ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، في غَزْوَةِ تبُوك أَنِّي لَمْ أَكُنْ قَطُّ أَقْوَى ولا أَيْسَرَ مِنِّي حِينَ تَخلَّفْتُ عَنْهُ في تِلْكَ الْغَزْوَة، واللَّهِ ما جَمعْتُ قبْلها رَاحِلتيْنِ قطُّ حتَّى جَمَعْتُهُما في تِلْكَ الْغَزوَةِ،
8/20- আবু সাঈদ সা'দ ইবন মালেক ইবন সিনান আল-খুদরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের মাঝে এক ব্যক্তি ছিল যে নিরানব্বইজন মানুষকে হত্যা করেছিল। অতঃপর সে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন দরবেশের সন্ধান দেওয়া হলো। সে তার কাছে এসে বলল যে, সে নিরানব্বইটি প্রাণ সংহার করেছে, এখন তার জন্য কি তাওবার কোনো পথ আছে? সে বলল: না। তখন সে তাকেও হত্যা করে একশ পূর্ণ করল। এরপর সে পুনরায় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ আলেম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তাকে একজন আলেমের সন্ধান দেওয়া হলো। সে বলল যে, সে একশটি প্রাণ হত্যা করেছে, তার জন্য কি তাওবার কোনো সুযোগ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তার এবং তাওবার মাঝে কে অন্তরায় হতে পারে? তুমি অমুক অমুক জনপদে চলে যাও, কেননা সেখানে এমন কিছু মানুষ আছে যারা মহান আল্লাহর ইবাদত করে। তুমিও তাদের সাথে আল্লাহর ইবাদত করো এবং তোমার নিজের জনপদে ফিরে যেও না, কারণ সেটি একটি মন্দ জনপদ। অতঃপর সে রওয়ানা হলো। যখন সে পথের অর্ধেকে পৌঁছাল তখন তার মৃত্যু উপস্থিত হলো। তার ব্যাপারে রহমতের ফেরেশতাগণ এবং আজাবের ফেরেশতাগণ বিতর্কে লিপ্ত হলেন। রহমতের ফেরেশতারা বললেন: সে তাওবা করে একনিষ্ঠ চিত্তে মহান আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়ে এসেছে। আজাবের ফেরেশতারা বললেন: সে কখনো কোনো নেক কাজ করেনি। তখন তাদের নিকট মানুষের বেশে একজন ফেরেশতা আসলেন। তারা তাঁকে তাঁদের মাঝে ফয়সালাকারী নিযুক্ত করলেন। তিনি বললেন: তোমরা উভয় জনপদের মধ্যবর্তী দূরত্ব মেপে দেখো, যেটির সে বেশি নিকটবর্তী হবে সে সেটিরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে। তারা পরিমাপ করলেন এবং তাকে যে জনপদের দিকে সে যাচ্ছিল তার অধিক নিকটবর্তী পেলেন। ফলে রহমতের ফেরেশতাগণ তার রূহ কবজ করলেন।" এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক ঐক্যমত পোষণকৃত।

সহীহ-এর এক বর্ণনায় আছে: "সে পুণ্যবানদের জনপদের এক বিঘত বেশি নিকটবর্তী ছিল, তাই তাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হলো।" সহীহ-এর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর আল্লাহ তাআলা এই ভূমিকে (মন্দ ভূমিকে) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি দূরে সরে যাও এবং ওই ভূমিকে (পুণ্যবানদের ভূমিকে) নির্দেশ দিলেন যে, তুমি কাছে আসো। আর বললেন: তোমরা তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব মেপে দেখো। তারা তাকে ওই ভূমির এক বিঘত অধিক নিকটবর্তী পেলেন, ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "সে তার বুক দিয়ে সেই দিকে (পুণ্যবানদের ভূমির দিকে) ঝুঁকে পড়েছিল।"

১/২১- আবদুল্লাহ ইবন কা'ব ইবন মালেক হতে বর্ণিত, তিনি কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার পর তাঁর সন্তানদের মাঝে তাঁর পথপ্রদর্শক ছিলেন। তিনি বলেন: আমি কা'ব ইবন মালেক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তাঁর সেই কাহিনী বর্ণনা করতে শুনেছি যখন তিনি তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে পিছনে রয়ে গিয়েছিলেন। কা'ব বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কর্তৃক পরিচালিত কোনো যুদ্ধ হতেই কখনো পিছনে থাকিনি কেবল তাবুকের যুদ্ধ ব্যতীত। তবে আমি বদরের যুদ্ধেও অনুপস্থিত ছিলাম, কিন্তু যারা সেই যুদ্ধে পিছনে ছিল তাদের কাউকে ভর্ৎসনা করা হয়নি। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং মুসলিমগণ কেবল কুরাইশদের বাণিজ্য কাফেলার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন, পরিশেষে আল্লাহ তাআলা কোনো পূর্বনির্ধারিত সময় ছাড়াই তাঁদেরকে শত্রুর মুখোমুখি করে দিয়েছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আকাবার রাতে উপস্থিত ছিলাম যখন আমরা ইসলামের ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলাম। আমার নিকট এর বিনিময়ে বদরের যুদ্ধে উপস্থিত থাকা অধিক প্রিয় নয়, যদিও মানুষের নিকট বদরের যুদ্ধ এর চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ।

আমার পিছনে রয়ে যাওয়ার ঘটনা এই যে, যখন আমি তাবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে পিছনে থেকে গেলাম, আমি তখন যতটা শক্তিশালী ও সচ্ছল ছিলাম আগে কখনো তেমন ছিলাম না। আল্লাহর কসম! এর আগে আমার নিকট কখনো একত্রে দু’টি সওয়ারি জমা হয়নি, যা আমি এই যুদ্ধের সময় সংগ্রহ করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٧)
ولَمْ يكُن رسولُ الله صلى الله عليه وسلم يُريدُ غَزْوةً إِلَاّ ورَّى بغَيْرِهَا حتَّى كَانَتْ تِلكَ الْغَزْوةُ، فغَزَاها رسولُ الله صلى الله عليه وسلم في حَرٍّ شَديدٍ، وَاسْتَقْبَلَ سَفراً بَعِيداً وَمَفَازاً. وَاسْتَقْبَلَ عَدداً كَثيراً، فجَلَّى للْمُسْلمِينَ أَمْرَهُمْ ليَتَأَهَّبوا أُهْبَةَ غَزْوِهِمْ فَأَخْبَرَهُمْ بوَجْهِهِمُ الَّذي يُريدُ، وَالْمُسْلِمُون مَع رسولِ الله كثِيرٌ وَلَا يَجْمَعُهُمْ كِتَابٌ حَافِظٌ"يُريدُ بذلكَ الدِّيَوان"قَالَ كَعْبٌ: فقلَّ رَجُلٌ يُريدُ أَنْ يَتَغَيَّبَ إِلَاّ ظَنَّ أَنَّ ذلكَ سَيَخْفى بِهِ مَالَمْ يَنْزِلْ فيهِ وَحْىٌ مِن اللَّهِ، وغَزَا رَسُول الله صلى الله عليه وسلم تلكَ الغزوةَ حِينَ طَابت الثِّمَارُ والظِّلالُ، فَأَنا إِلَيْهَا أَصْعرُ، فتجهَّز رسولُ الله صلى الله عليه وسلم وَالْمُسْلِمُون معهُ، وطفِقْت أَغدو لِكىْ أَتَجَهَّزَ معهُ فأَرْجعُ ولمْ أَقْض شَيْئاً، وأَقُولُ في نَفْسى: أَنا قَادِرٌ علَى ذلِكَ إِذا أَرَدْتُ، فلمْ يَزلْ يَتَمادى بي حتَّى اسْتمَرَّ بالنَّاسِ الْجِدُّ، فأَصْبَحَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم غَادياً والْمُسْلِمُونَ معَهُ، وَلَمْ أَقْضِ مِنْ جِهَازي شيْئاً، ثُمَّ غَدَوْتُ فَرَجَعْتُ وَلَم أَقْض شَيْئاً، فَلَمْ يزَلْ يَتَمادَى بِي حَتَّى أَسْرعُوا وتَفَارَط الْغَزْوُ، فَهَمَمْتُ أَنْ أَرْتَحِل فأَدْركَهُمْ، فَيَاليْتَني فَعلْتُ، ثُمَّ لَمْ يُقَدَّرْ ذلِكَ لي، فَطفقتُ إِذَا خَرَجْتُ في النَّاسِ بَعْد خُرُوجِ رسُول اللهِ صلى الله عليه وسلم يُحْزُنُنِي أَنِّي لا أَرَى لِي أُسْوَةً، إِلَاّ رَجُلاً مَغْمُوصاً عَلَيْه في النِّفاقِ، أَوْ رَجُلاً مِمَّنْ عَذَرَ اللَّهُ تعالَى مِن الضُّعَفَاءِ، ولَمْ يَذكُرني رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حتَّى بَلَغ تَبُوكَ، فقالَ وَهُوَ جَالِسٌ في القوْمِ بتَبُوك: ما فَعَلَ كعْبُ بْنُ مَالكٍ؟ فقالَ رَجُلٌ مِن بَنِي سلمِة: يا رَسُولَ اللهِ حَبَسَهُ بُرْدَاهُ، وَالنَّظرُ في عِطْفيْه. فَقال لَهُ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ رضي الله عنه: بِئس مَا قُلْتَ، وَاللَّهِ يا رَسُولَ اللهِ مَا عَلِمْنَا علَيْهِ إِلَاّ خَيْراً، فَسكَت رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم. فبَيْنَا هُوَ علَى ذَلِكَ رَأَى رَجُلاً مُبْيِضاً يَزُولُ بِهِ السَّرَابُ، فقالَ رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: كُنْ أَبَا خَيْثمَةَ، فَإِذا هوَ أَبُو خَيْثَمَةَ الأَنْصَاريُّ وَهُوَ الَّذي تَصَدَّقَ بِصَاعِ التَّمْر حِيْنَ لمَزَهُ المنافقون قَالَ كَعْبٌ: فَلَّما بَلَغني أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ توَجَّهَ قَافلا منْ تَبُوكَ حَضَرَني بَثِّي، فطفقتُ أَتذكَّرُ الكذِبَ وَأَقُولُ: بِمَ أَخْرُجُ مِنْ سَخطه غَداً وَأَسْتَعينُ عَلَى ذلكَ بِكُلِّ ذِي رَأْي مِنْ أَهْلي، فَلَمَّا قِيلَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قدْ أَظِلَّ قَادِمَاً زاحَ عَنِّي الْبَاطِلُ حَتَّى عَرَفتُ أَنِّي لم أَنج مِنْهُ بِشَيءٍ أَبَداً

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখনই কোনো যুদ্ধের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি অন্য কোনো গন্তব্যের কথা বলে তা অস্পষ্ট রাখতেন, যতক্ষণ না এই যুদ্ধটির (তাবুকের যুদ্ধ) সময় উপস্থিত হলো। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই যুদ্ধে বের হলেন। তাকে এক দীর্ঘ সফর ও মরুভূমি পাড়ি দিতে ছিল এবং এক বিশাল শত্রু বাহিনীর সম্মুখীন হতে হয়েছিল। তাই তিনি মুসলিমদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন যাতে তারা যুদ্ধের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে। তিনি তাদের লক্ষ্যস্থল সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন যেদিকে তিনি যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। আল্লাহর রাসুলের সাথে তখন মুসলিমদের সংখ্যা ছিল অনেক এবং কোনো সংরক্ষিত রেজিস্টার বা খাতা (অর্থাৎ দিওয়ান) তাদের হিসাব একত্র করতে পারত না।

কা'ব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: যে ব্যক্তিই অনুপস্থিত থাকার ইচ্ছা পোষণ করত সে মনে করত যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো ওহি নাজিল না হওয়া পর্যন্ত তার এই বিষয়টি সম্ভবত গোপন থাকবে। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই যুদ্ধটি তখন পরিচালনা করেন যখন ফল পেকেছিল এবং ছায়া মনোরম হয়েছিল; আর আমি সেগুলোর প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলাম। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার সাথে মুসলিমরা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিলেন। আমিও প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সকালে বের হতাম কিন্তু কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই ফিরে আসতাম। আমি মনে মনে বলতাম: আমি চাইলে যেকোনো সময় প্রস্তুতি নিতে সক্ষম। এভাবে গড়িমসি করতে করতে মানুষের মধ্যে চূড়ান্ত ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেল। এক সকালে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার সাথে মুসলিমরা যাত্রা শুরু করলেন, অথচ আমার প্রস্তুতির কিছুই তখনও সম্পন্ন হয়নি। এরপর আবারও আমি সকালে বের হলাম এবং কোনো কাজ না করেই ফিরে আসলাম। আমার এই ঢিলেমি চলতেই থাকল, ইতোমধ্যে তারা দ্রুত পথ চলে অনেক দূর এগিয়ে গেলেন এবং যুদ্ধ যাত্রার সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। তখন আমি ইচ্ছা করলাম যে সফর শুরু করে তাদের ধরে ফেলব, আফসোস যদি আমি তা করতাম! কিন্তু আমার জন্য তা নির্ধারিত ছিল না।

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বের হয়ে যাওয়ার পর আমি যখন মানুষের মধ্যে বের হতাম, তখন এই দেখে আমার খুব দুঃখ হতো যে, আমার মতো পেছনে রয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল তারাই আছে যারা মুনাফিক হিসেবে অভিযুক্ত অথবা ওই সব দুর্বল ব্যক্তি যাদের আল্লাহ তাআলা ওজর কবুল করেছেন। তাবুক পৌঁছানো পর্যন্ত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার কথা উল্লেখ করেননি। তাবুকে লোকজনের মাঝে বসে থাকাবস্থায় তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কা'ব ইবনে মালিকের কী হলো? বনু সালিমাহ গোত্রের এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসুল! তার সুন্দর পোশাক এবং নিজের আভিজাত্যের প্রতি অতিশয় দৃষ্টি তাকে আটকে রেখেছে। তখন মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন: তুমি কতই না মন্দ কথা বললে! আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা তার সম্পর্কে ভালো ছাড়া আর কিছুই জানি না। তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নীরবতা অবলম্বন করলেন। এমন সময় তিনি ধবধবে সাদা পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তিকে মরীচিকার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে দেখলেন। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তুমি আবু খাইসামা হও। দেখা গেল তিনি আবু খাইসামা আনসারিই ছিলেন, যিনি এক সা' খেজুর দান করেছিলেন যখন মুনাফিকরা তাকে বিদ্রূপ করেছিল।

কা'ব বলেন: যখন আমি জানতে পারলাম যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাবুক থেকে প্রত্যাবর্তনের পথ ধরেছেন, তখন আমার দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ তীব্র হলো। আমি মিথ্যার আশ্রয় নেওয়ার কথা ভাবতে শুরু করলাম এবং মনে মনে বলতে লাগলাম: আগামীকাল কীভাবে আমি তার অসন্তুষ্টি থেকে রক্ষা পাব? আমি এ বিষয়ে আমার পরিবারের সকল বিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্য কামনা করলাম। কিন্তু যখন বলা হলো যে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একেবারে নিকটবর্তী হয়েছেন, তখন আমার মন থেকে সমস্ত মিথ্যা অপনোদিত হয়ে গেল এবং আমি বুঝতে পারলাম যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমি কখনোই তার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারব না।

(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٨)
ذَلك جَاءَهُ الْمُخلَّفُونَ يعْتذرُون إِليْه وَيَحْلفُون لَهُ، وَكَانُوا بِضْعاً وثمَانين رَجُلا فَقَبِلَ منْهُمْ عَلانيَتهُمْ وَبَايَعَهُمْ وَاسْتغفَر لهُمْ وَوَكلَ سَرَائرَهُمْ إِلى الله تعَالى. حتَّى جئْتُ، فلمَّا سَلَمْتُ تبسَّم تبَسُّم الْمُغْضب ثمَّ قَالَ:"تَعَالَ،"فجئتُ أَمْشي حَتى جَلَسْتُ بيْن يَدَيْهِ، فقالَ لِي:"مَا خَلَّفَكَ؟ أَلَمْ تكُنْ قَدِ ابْتَعْتَ ظَهْرَك،"قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ الله إِنِّي واللَّه لَوْ جلسْتُ عنْد غيْركَ منْ أَهْلِ الدُّنْيَا لَرَأَيْتُ أَني سَأَخْرُج منْ سَخَطه بعُذْرٍ، لقدْ أُعْطيتُ جَدَلا، وَلَكنَّني وَاللَّه لقدْ عَلمْتُ لَئن حَدَّثْتُكَ الْيَوْمَ حَدِيثَ كَذبٍ ترْضى به عنِّي لَيُوشكَنَّ اللَّهُ يُسْخطك عليَّ، وإنْ حَدَّثْتُكَ حَديث صدْقٍ تجدُ علَيَّ فِيهِ إِنِّي لأَرْجُو فِيه عُقْبَى الله عز وجل، واللَّه ما كَانَ لِي مِنْ عُذْرٍ، واللَّهِ مَا كُنْتُ قَطُّ أَقْوَى وَلا أَيْسر مِنِّي حِينَ تَخلفْتُ عَنك

قَالَ: فقالَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم:"أَمَّا هذَا فقَدْ صَدَقَ، فَقُمْ حَتَّى يَقْضيَ اللَّهُ فيكَ "وسَارَ رِجَالٌ مِنْ بَنِي سَلمة فاتَّبعُوني، فقالُوا لِي: واللَّهِ مَا عَلِمْنَاكَ أَذنْبتَ ذَنْباً قبْل هذَا، لقَدْ عَجَزتَ في أنْ لا تَكُون اعتذَرْت إِلَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم بمَا اعْتَذَرَ إِلَيهِ الْمُخَلَّفُون فقَدْ كَانَ كافِيَكَ ذنْبكَ اسْتِغفارُ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم لَك. قَالَ: فَوالله ما زَالُوا يُؤنِّبُوننِي حتَّى أَرَدْت أَنْ أَرْجِعَ إِلى رسولِ الله صلى الله عليه وسلم فأَكْذِب نفسْي، ثُمَّ قُلتُ لهُم: هَلْ لَقِيَ هَذا معِي مِنْ أَحدٍ؟ قَالُوا: نَعَمْ لقِيَهُ مَعَكَ رَجُلان قَالا مِثْلَ مَا قُلْتَ، وَقيلَ لَهمَا مِثْلُ مَا قِيلَ لكَ، قَال قُلْتُ: مَن هُمَا؟ قالُوا: مُرارةُ بْنُ الرَّبِيع الْعَمْرِيُّ، وهِلال ابْن أُميَّةَ الْوَاقِفِيُّ؟ قَالَ: فَذكَروا لِي رَجُلَيْنِ صَالِحَيْن قدْ شَهِدا بدْراً فِيهِمَا أُسْوَةٌ. قَالَ: فَمَضيْت حِينَ ذَكَروهُمَا لِي. وَنهَى رَسُول الله صلى الله عليه وسلم عَنْ كَلامِنَا أَيُّهَا الثلاثَةُ مِن بَين من تَخَلَّف عَنهُ، قالَ: فاجْتَنبَنا النَّاس أَوْ قَالَ: تَغَيَّرُوا لَنَا حَتَّى تَنَكَّرت لِي في نَفْسي الأَرْضُ، فَمَا هيَ بالأَرْضِ الَّتي أَعْرِفُ، فَلَبثْنَا عَلَى ذَلكَ خمْسِينَ ليْلَةً. فأَمَّا صَاحبايَ فَاستَكَانَا وَقَعَدَا في بُيُوتهمَا يَبْكيَانِ وأَمَّا أَنَا فَكُنتُ أَشَبَّ الْقَوْمِ وَأَجْلَدَهُمْ، فَكُنتُ أَخْرُج فَأَشهَدُ الصَّلاة مَعَ الْمُسْلِمِينَ، وَأَطُوفُ في الأَسْوَاقِ وَلا يُكَلِّمُنِي أَحدٌ، وآتِي رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فأُسَلِّمُ عَلَيْهِ، وَهُو في مجْلِسِهِ بعدَ الصَّلاةِ، فَأَقُولُ في نفسِي: هَل حَرَّكَ شفتَيهِ بردِّ السَّلامِ أَم لَا؟ ثُمَّ أُصلِّي قَريباً مِنهُ وأُسَارِقُهُ النَّظَرَ، فَإِذَا أَقبَلتُ عَلَى صلاتِي نَظر إِلَيَّ، وإِذَا الْتَفَتُّ نَحْوَهُ أَعْرَضَ عَنِّي، حَتى إِذا طَال ذلكَ عَلَيَّ مِن جَفْوَةِ الْمُسْلمينَ مشَيْت حَتَّى تَسوَّرْت
এরপর যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তারা তাঁর কাছে এসে ওজর পেশ করতে লাগল এবং তাঁর কাছে শপথ করতে লাগল। তারা ছিল সংখ্যায় আশির কিছু বেশি লোক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বাহ্যিক কৈফিয়ত কবুল করলেন, তাদের থেকে আনুগত্যের শপথ (বায়াত) গ্রহণ করলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন; আর তাদের অন্তরের বিষয়গুলো আল্লাহর ওপর সোপর্দ করলেন। অবশেষে আমি যখন আসলাম এবং সালাম দিলাম, তিনি রাগান্বিত ব্যক্তির ন্যায় মুচকি হাসলেন। তারপর বললেন: "কাছে এসো।" তখন আমি হেঁটে গিয়ে তাঁর সামনে (তাঁর দুই হাতের সামনে) বসলাম। তিনি আমাকে বললেন: "তোমাকে কিসে পিছিয়ে রাখল? তুমি কি তোমার সওয়ারি ক্রয় করোনি?" তিনি (কা'ব) বলেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কসম, আমি যদি দুনিয়াদার অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বসতাম, তবে আমি মনে করি যে কোনো ওজর পেশ করে আমি অবশ্যই তার অসন্তুষ্টি থেকে মুক্তি পেয়ে যেতাম; আমাকে বাকপটুতা দান করা হয়েছে। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমি নিশ্চিত জানি যে, আজ যদি আপনার কাছে কোনো মিথ্যা কথা বলি যাতে আপনি আমার ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান, তবে অচিরেই আল্লাহ আপনাকে আমার ওপর অসন্তুষ্ট করে দেবেন। আর যদি আমি আপনার কাছে সত্য কথা বলি যাতে আপনি আমার ওপর ক্ষুব্ধ হবেন, তবে আমি এতে মহান আল্লাহর নিকট উত্তম পরিণামের আশা রাখি। আল্লাহর কসম, আমার কোনো ওজর ছিল না। আল্লাহর কসম, আপনার থেকে পেছনে রয়ে যাওয়ার সময় আমি এর আগে কখনো এত শক্তিশালী ও সচ্ছল ছিলাম না।

তিনি (কা'ব) বলেন: তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর কথা যেখানে সত্য, অতএব তুমি উঠে যাও যতক্ষণ না আল্লাহ তোমার বিষয়ে ফয়সালা করেন।" তখন বনু সালামার কিছু লোক আমার পিছু নিল এবং আমাকে বলল: আল্লাহর কসম, আমাদের জানা মতে ইতিপূর্বে তুমি কোনো অপরাধ করোনি। অন্যান্য যারা পেছনে রয়ে গিয়েছিল তারা যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ওজর পেশ করেছে, তুমি সেভাবে ওজর পেশ করতে কেন পারলে না? তোমার এই অপরাধের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইস্তিগফারই (ক্ষমা প্রার্থনা) তোমার জন্য যথেষ্ট ছিল। তিনি (কা'ব) বলেন: আল্লাহর কসম, তারা আমাকে এভাবে তিরস্কার করতে থাকল যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পুনরায় ফিরে গিয়ে নিজেকে মিথ্যাবাদী ঘোষণা করতে চেয়েছিলাম। তারপর আমি তাদের বললাম: আমার সাথে কি আর কেউ এমন অবস্থায় আছে? তারা বলল: হ্যাঁ, তোমার সাথে আরও দুইজন লোক এমন অবস্থায় পড়েছে যারা তোমার মতোই কথা বলেছে এবং তাদেরও সেই একই কথা বলা হয়েছে যা তোমাকে বলা হয়েছে। আমি বললাম: তারা কারা? তারা বলল: মুরারা ইবনুর রবী আল-আমরী এবং হিলাল ইবনে উমাইয়া আল-ওয়াকিফী। তিনি বলেন: তারা আমার কাছে এমন দুজন নেককার লোকের নাম উল্লেখ করল যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে (আমার জন্য) অনুসরণীয় আদর্শ ছিল। তিনি বলেন: যখন তারা আমার কাছে তাঁদের কথা উল্লেখ করল, তখন আমি চলে গেলাম। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছনে রয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কেবল আমাদের এই তিনজনের সাথে কথা বলতে লোকজনকে নিষেধ করে দিলেন। তিনি বলেন: ফলে লোকজন আমাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করল (অথবা বললেন: আমাদের প্রতি তাদের আচরণ বদলে গেল), এমনকি পৃথিবীটা আমার কাছে অপরিচিত হয়ে উঠল; এ যেন সেই পৃথিবী নয় যা আমি চিনি। এভাবে আমরা পঞ্চাশটি রাত অতিবাহিত করলাম। আমার বাকি দুইজন সাথী তো ভেঙে পড়লেন এবং নিজ ঘরে বসে কাঁদতে লাগলেন। কিন্তু আমি ছিলাম কওমের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ ও শক্তিশালী। আমি বাইরে বের হতাম, মুসলমানদের সাথে সালাতে শরিক হতাম এবং বাজারে ঘোরাঘুরি করতাম, কিন্তু কেউ আমার সাথে কথা বলত না। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আসতাম এবং সালাত শেষে তিনি যখন মজলিসে বসতেন তখন তাঁকে সালাম দিতাম। আমি মনে মনে বলতাম: তিনি কি সালামের উত্তর দিতে তাঁর ওষ্ঠদ্বয় নাড়ালেন নাকি নাড়ালেন না? তারপর আমি তাঁর কাছেই সালাত আদায় করতাম এবং আড়চোখে তাঁকে দেখতাম। যখন আমি সালাতে মনোনিবেশ করতাম, তখন তিনি আমার দিকে তাকাতেন; আর যখনই আমি তাঁর দিকে ফিরে তাকাতাম, তিনি মুখ ফিরিয়ে নিতেন। এভাবে যখন মুসলমানদের বিমুখতা আমার কাছে দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠল, তখন আমি হাঁটতে হাঁটতে (আবু কাতাদার বাগানের) প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করলাম...
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٣٩)
جدارَ حَائط أبي قَتَادَةَ وَهُوَا ابْن عَمِّي وأَحبُّ النَّاسَ إِلَيَّ، فَسلَّمْتُ عَلَيْهِ فَواللَّهِ مَا رَدَّ عَلَيَّ السَّلامَ، فَقُلْت لَه: يَا أَبَا قتادَة أَنْشُدكَ باللَّه هَلْ تَعْلَمُني أُحبُّ الله وَرَسُولَه صلى الله عليه وسلم؟ فَسَكَتَ، فَعُدت فَنَاشَدتُه فَسكَتَ، فَعُدْت فَنَاشَدْته فَقَالَ: اللهُ ورَسُولُهُ أَعْلَمُ. فَفَاضَتْ عَيْنَايَ، وَتَوَلَّيْتُ حَتَّى تَسَوَّرتُ الْجدَارَفبَيْنَا أَنَا أَمْشي في سُوقِ المدينةِ إِذَا نَبَطيُّ منْ نبطِ أَهْلِ الشَّام مِمَّنْ قَدِمَ بالطَّعَامِ يبيعُهُ بالمدينةِ يَقُولُ: مَنْ يَدُلُّ عَلَى كعْبِ بْنِ مَالكٍ؟ فَطَفقَ النَّاسُ يُشِيرُونَ لَهُ إِلَى حَتَّى جَاءَني فَدَفَعَ إِلى كتَاباً منْ مَلِكِ غَسَّانَ، وكُنْتُ كَاتِباً. فَقَرَأْتُهُ فَإِذَا فيهِ: أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّهُ قَدْ بلَغَنَا أَن صاحِبَكَ قدْ جَفاكَ، ولمْ يجْعلْك اللَّهُ بدَارِ هَوَانٍ وَلا مَضْيعَةٍ، فَالْحقْ بِنا نُوَاسِك، فَقلْت حِين قرأْتُهَا: وَهَذِهِ أَيْضاً مِنَ الْبَلاءِ فَتَيمَّمْتُ بِهَا التَّنُّور فَسَجرْتُهَا حَتَّى إِذَا مَضَتْ أَرْبَعُون مِن الْخَمْسِينَ وَاسْتَلْبَثِ الْوَحْىُ إِذَا رسولِ رسولِ الله صلى الله عليه وسلم يَأْتِينِي، فَقَالَ: إِنَّ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَأَمُرُكَ أَنْ تَعْتزِلَ امْرأَتكَ، فقُلْتُ: أُطَلِّقُهَا، أَمْ مَاذا أَفعْلُ؟ قَالَ: لَا بَلْ اعتْزِلْهَا فَلَا تقربَنَّهَا، وَأَرْسلَ إِلى صَاحِبيَّ بِمِثْلِ ذلِكَ. فَقُلْتُ لامْرَأَتِي: الْحقِي بِأَهْلكِ فَكُونِي عِنْدَهُمْ حَتَّى يَقْضِيَ اللُّهُ في هذَا الأَمر، فَجَاءَت امْرأَةُ هِلالِ بْنِ أُمَيَّةَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم فقالتْ لَهُ: يَا رَسُولَ الله إِنَّ هِلالَ بْنَ أُميَّةَ شَيْخٌ ضَائعٌ ليْسَ لَهُ خادِمٌ، فهلْ تَكْرهُ أَنْ أَخْدُمهُ؟ قَالَ:"لَا، وَلَكِنْ لَا يَقْربَنَّك"فَقَالَتْ: إِنَّهُ وَاللَّه مَا بِهِ مِنْ حَركةٍ إِلَى شَيءٍ، وَوَاللَّه مَا زَالَ يَبْكِي مُنْذُ كَانَ مِنْ أَمْرِهِ مَا كَانَ إِلَى يَوْمِهِ هَذَا. فَقَال لِي بعْضُ أَهْلِي: لَو اسْتأَذنْت رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم في امْرَأَتِك، فقَدْ أَذن لامْرأَةِ هِلالِ بْنِ أُمَيَّةَ أَنْ تَخْدُمَهُ؟ فقُلْتُ: لَا أَسْتَأْذِنُ فِيهَا رسولَ الله صلى الله عليه وسلم، ومَا يُدْريني مَاذا يَقُولُ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَأْذَنْتُهُ فِيهَا وَأَنَا رَجُلٌ شَابٌّ فلَبِثْتُ بِذلك عشْر ليالٍ، فَكَمُلَ لَنا خمْسُونَ لَيْلَةً مِنْ حينَ نُهي عَنْ كَلامنا.

ثُمَّ صَلَّيْتُ صَلَاةَ الْفَجْرِ صباحَ خمْسينَ لَيْلَةً عَلَى ظهْرِ بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِنَا، فَبينَا أَنَا جَالسٌ عَلَى الْحال الَّتي ذكَر اللَّهُ تعالَى مِنَّا، قَدْ ضَاقَتْ عَلَيَّ نَفْسِى وَضَاقَتْ عَليَّ الأَرضُ بمَا رَحُبَتْ، سَمعْتُ صَوْتَ صَارِخٍ أوفَى عَلَى سَلْعٍ يَقُولُ بأَعْلَى صَوْتِهِ: يَا كَعْبُ بْنَ مَالِكٍ أَبْشِرْ، فخرَرْتُ سَاجِداً، وَعَرَفْتُ أَنَّهُ قَدْ جَاءَ فَرَجٌ فَآذَنَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم النَّاس بِتوْبَةِ الله عز وجل عَلَيْنَا حِين صَلَّى صَلاة الْفجْرِ فذهَبَ النَّاسُ يُبَشِّرُوننا، فذهَبَ قِبَلَ صَاحِبَيَّ مُبَشِّرُونَ، وَرَكَضَ رَجُلٌ إِليَّ فرَساً وَسَعَى ساعٍ مِنْ أَسْلَمَ قِبَلِي وَأَوْفَى عَلَى
আবু কাতাদার বাগানের দেয়াল; সে ছিল আমার চাচাতো ভাই এবং মানুষের মধ্যে আমার নিকট সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি। আমি তাকে সালাম দিলাম, কিন্তু আল্লাহর কসম! সে আমার সালামের উত্তর দিল না। আমি তাকে বললাম: হে আবু কাতাদা! আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করছি, তুমি কি জানো যে আমি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভালোবাসি? সে নীরব থাকল। আমি পুনরায় তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, সে আবারও নীরব থাকল। আমি পুনরায় তাকে কসম দিয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভালো জানেন। তখন আমার দুচোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠল এবং আমি ফিরে এসে দেয়াল টপকে বেরিয়ে আসলাম। অতঃপর আমি যখন মদিনার বাজারে হাঁটছিলাম, তখন সিরিয়ার কৃষকদের মধ্যে জনৈক ব্যক্তি, যে মদিনায় খাদ্যশস্য বিক্রি করতে এসেছিল, সে বলতে লাগল: আমাকে কা’ব বিন মালিকের সন্ধান কে দেবে? তখন লোকজন আমার দিকে ইশারা করে তাকে দেখিয়ে দিতে লাগল। শেষ পর্যন্ত সে আমার নিকট এসে গাসসানের বাদশাহর একটি পত্র প্রদান করল। আমি লিখতে জানতাম, তাই আমি তা পাঠ করলাম। তাতে লেখা ছিল: ‘অতঃপর সংবাদ এই যে, আমাদের নিকট খবর পৌঁছেছে যে, তোমার সাথী তোমার প্রতি রূঢ় আচরণ করেছেন। আল্লাহ তোমাকে এমন কোনো স্থানে রাখেননি যেখানে তুমি অবমানিত হবে কিংবা তোমার অধিকার নষ্ট হবে। সুতরাং তুমি আমাদের সাথে এসে মিলিত হও, আমরা তোমার প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করব।’ আমি যখন এটি পাঠ করলাম, তখন বললাম: এটিও এক পরীক্ষা। অতঃপর আমি সেটি নিয়ে চুলার নিকট গেলাম এবং তা জ্বালিয়ে দিলাম। এভাবে পঞ্চাশ দিনের মধ্যে যখন চল্লিশ দিন অতিবাহিত হলো এবং ওহী আসতে বিলম্ব হচ্ছিল, তখন হঠাৎ আল্লাহর রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক দূত আমার নিকট আসলেন। তিনি বললেন: আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে আপনার স্ত্রীর থেকে পৃথক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি বললাম: আমি কি তাকে তালাক দেব, নাকি কী করব? তিনি বললেন: না, বরং তার থেকে পৃথক থাকুন, তার নিকটবর্তী হবেন না। তিনি আমার অপর দুই সাথীর নিকটও অনুরূপ বার্তা প্রেরণ করলেন। তখন আমি আমার স্ত্রীকে বললাম: তুমি তোমার পিত্রালয়ে চলে যাও এবং তাদের নিকট অবস্থান করো, যতক্ষণ না আল্লাহ এই বিষয়ে কোনো ফয়সালা করেন। অতঃপর হিলাল বিন উমাইয়্যার স্ত্রী আল্লাহর রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট এসে আরজ করল: হে আল্লাহর রসূল! হিলাল বিন উমাইয়্যা একজন অতি বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ, তার কোনো সেবক নেই। আপনি কি আমি তার সেবা করি সেটা অপছন্দ করবেন? তিনি বললেন: ‘না, তবে সে যেন তোমার নিকটবর্তী না হয়।’ সে বলল: আল্লাহর কসম! কোনো কিছুর প্রতিই তার কোনো শারীরিক চাহিদা নেই। আল্লাহর কসম! এই ঘটনা ঘটার পর থেকে আজ পর্যন্ত সে অবিরত ক্রন্দন করছে। তখন আমার পরিবারের কেউ কেউ আমাকে বলল: আপনি যদি আপনার স্ত্রীর ব্যাপারে আল্লাহর রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট অনুমতি প্রার্থনা করতেন? কেননা তিনি হিলাল বিন উমাইয়্যার স্ত্রীকে তার সেবা করার অনুমতি দিয়েছেন। আমি বললাম: আমি এ ব্যাপারে আল্লাহর রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট অনুমতি চাইব না। আমি জানি না আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলবেন যদি আমি তাঁর নিকট অনুমতি চাই, অথচ আমি একজন যুবক মানুষ। এভাবে আমি আরও দশ রাত অতিবাহিত করলাম। আমাদের সাথে কথা বলা নিষিদ্ধ হওয়ার সময় থেকে এভাবে পঞ্চাশ রাত পূর্ণ হলো।

অতঃপর পঞ্চাশতম রাতে আমি আমাদের একটি ঘরের ছাদের উপর ফজরের নামাজ আদায় করলাম। আমি সেই অবস্থায় উপবিষ্ট ছিলাম যা আল্লাহ তাআলা আমাদের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন; আমার প্রাণ আমার জন্য ওষ্ঠাগত হয়ে পড়েছিল এবং প্রশস্ত পৃথিবীও আমার নিকট সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। এমন সময় আমি সাল’ পাহাড়ের উপর থেকে এক উচ্চৈঃস্বরকারীর কণ্ঠ শুনতে পেলাম, সে উচ্চৈঃস্বরে বলছিল: হে কা’ব বিন মালিক! সুসংবাদ গ্রহণ করো। তখন আমি সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম এবং বুঝতে পারলাম যে মুক্তির পথ খুলে গেছে। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফজরের নামাজ আদায় করে লোকজনকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কর্তৃক আমাদের তওবা কবুল করার সংবাদ প্রদান করলেন। তখন লোকজন আমাদের সুসংবাদ দিতে বের হয়ে পড়ল। আমার দুই সাথীর নিকটও সুসংবাদদাতারা গমন করল। এক ব্যক্তি ঘোড়া ছুটিয়ে আমার দিকে আসল এবং আসলাম গোত্রের একজন দৌড়বিদ আমার দিকে দৌড়ে আসলো এবং পাহাড়ের ওপর আরোহণ করল...
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٠)
الْجَبلِ، وكَان الصَّوْتُ أَسْرَعَ مِنَ الْفَرَسِ، فلمَّا جَاءَنِي الَّذي سمِعْتُ صوْتَهُ يُبَشِّرُنِي نَزَعْتُ لَهُ ثَوْبَيَّ فَكَسَوْتُهُمَا إِيَّاهُ ببشارَته واللَّه مَا أَمْلِكُ غَيْرَهُمَا يوْمَئذٍ، وَاسْتَعَرْتُ ثَوْبَيْنِ فَلَبسْتُهُمَا وانْطَلَقتُ أَتَأَمَّمُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يَتَلَقَّانِي النَّاسُ فَوْجاً فَوْجاً يُهَنِّئُونني بِالتَّوْبَةِ وَيَقُولُون لِي: لِتَهْنِكَ تَوْبَةُ الله عَلَيْكَ، حتَّى دَخَلْتُ الْمَسْجِدَ فَإِذَا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ حَوْلَهُ النَّاسُ، فَقَامَ طلْحَةُ بْنُ عُبَيْد اللهِ رضي الله عنه يُهَرْوِل حَتَّى صَافَحَنِي وهَنَّأَنِي، واللَّه مَا قَامَ رَجُلٌ مِنَ الْمُهاجِرِينَ غَيْرُهُ، فَكَان كَعْبٌ لَا يَنْساهَا لِطَلحَة. قَالَ كَعْبٌ: فَلَمَّا سَلَّمْتُ عَلَى رَسُولِ الله صلى الله عليه وسلم، قَالَ: وَهوَ يَبْرُقُ وَجْهُهُ مِنَ السُّرُور "أَبْشِرْ بِخَيْرِ يَوْمٍ مَرَّ عَلَيْكَ، مُذْ ولَدَتْكَ أُمُّكَ،"فقُلْتُ: أمِنْ عِنْدِكَ يَا رَسُول اللَّهِ أَم مِنْ عِنْد الله؟ قَالَ:"لَا بَلْ مِنْ عِنْد الله عز وجل،" وكانَ رسولُ الله صلى الله عليه وسلم إِذَا سُرَّ اسْتَنارَ وَجْهُهُ حتَّى كَأنَّ وجْهَهُ قِطْعَةُ قَمر، وكُنَّا نعْرِفُ ذلِكَ مِنْهُ، فلَمَّا جلَسْتُ بَيْنَ يدَيْهِ قُلتُ: يَا رسولَ اللَّهِ إِنَّ مِنْ تَوْبَتِي أَنْ أَنْخَلِعَ مِن مَالي صدَقَةً إِلَى اللَّهِ وإِلَى رَسُولِهِ.

فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عليه وسلم:"أَمْسِكْ عَلَيْكَ بَعْضَ مَالِكَ فَهُوَ خَيْر لَكَ، "فَقُلْتُ إِنِّي أُمْسِكُ سَهْمِي الَّذي بِخيْبَر. وَقُلْتُ: يَا رَسُولَ الله إِن الله تَعَالىَ إِنَّما أَنْجَانِي بالصِّدْقِ، وَإِنْ مِنْ تَوْبَتي أَن لا أُحدِّثَ إِلَاّ صِدْقاً ما بَقِيتُ، فوا لله مَا علِمْتُ أَحَداً مِنَ المسلمِين أَبْلاْهُ اللَّهُ تَعَالَى في صدْق الْحَديث مُنذُ ذَكَرْتُ ذَلكَ لرِسُولِ الله صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ مِمَّا أَبْلَانِي اللَّهُ تَعَالَى، وَاللَّهِ مَا تَعمّدْت كِذْبَةً مُنْذُ قُلْت ذَلِكَ لرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَى يَوْمِي هَذَا، وَإِنِّي لأَرْجُو أَنْ يَحْفظني اللَّهُ تَعَالى فِيمَا بَقِي، قَالَ: فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: {لَقَدْ تَابَ اللَّهُ عَلَى النَّبِيِّ وَالْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ فِي سَاعَةِ الْعُسْرَةِ} حَتَّى بَلَغَ: {إِنَّهُ بِهِمْ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ، وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ} حَتَّى بَلَغَ: {اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} [التوبة: 117، 117}

قالَ كعْبٌ: واللَّهِ مَا أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ نِعْمَةٍ قَطُّ بَعْدَ إِذْ هَدانِي اللَّهُ لِلإِسْلام أَعْظمَ في نَفسِي مِنْ صِدْقي رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَن لَاّ أَكُونَ كَذَبْتُهُ، فأهلكَ كَمَا هَلَكَ الَّذِينَ كَذَبُوا إِن الله تَعَالَى قَالَ للَّذِينَ كَذَبُوا حِينَ أَنزَلَ الْوَحْيَ شَرَّ مَا قَالَ لأحدٍ، فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انْقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ إِنَّهُمْ رِجْسٌ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ. يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنْ تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لا يَرْضَى عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ} [التوبة: 95،96]

قَالَ كَعْبٌ: كنَّا خُلِّفْنَا أَيُّهَا الثَّلَاثَةُ عَنْ أَمْر أُولِئَكَ الَّذِينَ قَبِلَ مِنْهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ حَلَفوا لَهُ، فبايعَهُمْ وَاسْتَغْفَرَ لَهُمْ، وِأرْجَأَ رَسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أمْرَنا حَتَّى قَضَى اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ بِذَلكَ، قَالَ اللُّه تَعَالَى:
পাহাড়ের চূড়া থেকে; আর সেই আওয়াজ ঘোড়ার চেয়েও দ্রুতগামী ছিল। যখন সেই ব্যক্তি আমার কাছে এলেন যার কণ্ঠস্বর আমি সুসংবাদদাতা হিসেবে শুনেছিলাম, তখন আমি আমার পরনের কাপড় দুটি খুলে তাঁকে পরিয়ে দিলাম। আল্লাহর কসম! সেদিন ওই দুটি কাপড় ছাড়া আমার মালিকানায় আর কোনো কাপড় ছিল না। এরপর আমি দুটি কাপড় ধার করলাম এবং তা পরিধান করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অভিমুখে রওনা হলাম। মানুষ দলে দলে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে তওবা কবুল হওয়ার কারণে আমাকে অভিনন্দন জানাতে লাগল। তারা আমাকে বলতে লাগল: "আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার তওবা কবুল হওয়া তোমার জন্য মুবারক হোক।" অবশেষে আমি মসজিদে প্রবেশ করলাম। সেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন এবং তাঁর চারপাশ ঘিরে মানুষ ছিল। তখন তালহা বিন উবায়দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু উঠে দ্রুতবেগে এগিয়ে এলেন এবং আমার সাথে মুসাফাহা করলেন ও আমাকে অভিনন্দন জানালেন। আল্লাহর কসম! মুহাজিরদের মধ্যে তিনি ছাড়া আর কেউ উঠে দাঁড়াননি। কা'ব রাদিয়াল্লাহু আনহু তালহার এই আচরণের কথা কখনো ভুলতেন না। কা'ব বলেন: যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সালাম দিলাম, তখন খুশিতে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠছিল। তিনি বললেন: "তোমার মাতা তোমাকে জন্ম দেওয়ার পর থেকে তোমার ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত হওয়া শ্রেষ্ঠতম দিনের সুসংবাদ গ্রহণ করো।" আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! এটি কি আপনার পক্ষ থেকে নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে? তিনি বললেন: "না, বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।" রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আনন্দিত হতেন, তখন তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠত, যেন তাঁর চেহারাটি চাঁদের একটি টুকরো। আমরা তাঁর থেকে এই অবস্থাটি চিনতে পারতাম। যখন আমি তাঁর সামনে বসলাম, তখন বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমার তওবার অংশ হিসেবে আমি আমার সমস্ত সম্পদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে সদকা হিসেবে ত্যাগ করতে চাই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তোমার সম্পদের কিছু অংশ নিজের কাছে রাখো, তা-ই তোমার জন্য উত্তম।" আমি বললাম: আমি খায়বারে আমার যে অংশ রয়েছে তা নিজের কাছে রাখছি। আর আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলা আমাকে সত্যবাদিতার কারণেই মুক্তি দিয়েছেন। আর আমার তওবার একটি দাবি এই যে, আমি যতদিন বেঁচে থাকব সর্বদা সত্যই বলব। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ কথা বলার পর থেকে সত্য কথা বলার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলা আমাকে যে উত্তম পুরস্কার দিয়েছেন, অন্য কোনো মুসলিমকে তেমনটি দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সেই অঙ্গীকার করার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মিথ্যা বলিনি। আর আমি আশা করি আল্লাহ তাআলা আমার বাকি জীবনেও আমাকে হিফাজত করবেন। কা'ব বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {আল্লাহ ক্ষমা করেছেন নবীকে এবং মুহাজির ও আনসারদের, যারা সংকটের সময়ে নবীর অনুসারী হয়েছিল} যে পর্যন্ত আয়াতাংশ: {নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রতি পরম স্নেহশীল ও দয়ালু। আর সেই তিন ব্যক্তিকেও, যাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যতক্ষণ না পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে এসেছিল} যে পর্যন্ত আয়াতাংশ: {আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গী হও।} [তওবা: ১১৭-১১৯]

কা'ব বলেন: আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে ইসলাম গ্রহণের হিদায়াত দেওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সত্য বলার চেয়ে বড় কোনো নিয়ামত আমার প্রতি আর বর্ষিত হয়নি। যেন আমি তাঁর কাছে মিথ্যা বলে ধ্বংস না হয়ে যাই যেমন মিথ্যাবাদীরা ধ্বংস হয়েছে। কারণ যারা মিথ্যা বলেছিল, ওহী নাযিলের সময় আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের সামনে আল্লাহর কসম খাবে যাতে তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও। সুতরাং তোমরা তাদের উপেক্ষা করো; নিশ্চয়ই তারা অপবিত্র এবং তাদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম, যা তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল। তারা তোমাদের কাছে কসম খাবে যাতে তোমরা তাদের ওপর সন্তুষ্ট হও। যদি তোমরা তাদের ওপর সন্তুষ্টও হও, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়ের ওপর সন্তুষ্ট হবেন না।} [তওবা: ৯৫-৯৬]

কা'ব বলেন: আমরা সেই তিনজন ছিলাম যাদের বিষয়টি সেই সব লোকদের থেকে আলাদা রাখা হয়েছিল যাদের ওজর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রহণ করেছিলেন যখন তারা তাঁর কাছে কসম খেয়েছিল; তিনি তাদের বায়আত গ্রহণ করেছিলেন এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বিষয়টি বিলম্বিত করেছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা এ বিষয়ে ফয়সালা দেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤١)
{وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا} وليْسَ الَّذي ذَكَرَ مِمَّا خُلِّفنا تَخَلُّفُنا عَن الغَزْو، وَإِنََّمَا هُوَ تَخْلَيفهُ إِيَّانَا وإرجاؤُهُ أَمْرَنَا عَمَّنْ حَلَفَ لَهُ واعْتذَرَ إِليْهِ فَقَبِلَ مِنْهُ. مُتَّفَقٌ عليه. وفي رواية "أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ في غَزْوةِ تَبُوك يَوْمَ الخميسِ، وَكَان يُحِبُّ أَنْ يَخْرُجَ يَوْمَ الخمِيس".وفي رِوَايةٍ:"وَكَانَ لَا يَقدُمُ مِنْ سَفَرٍ إِلَاّ نهَاراً في الضُّحَى. فَإِذَا قَدِم بَدَأَ بالمْسجدِ فصلَّى فِيهِ ركْعتيْنِ ثُمَّ جَلَس فِيهِ".

10/22- وَعَنْ أبي نُجَيْد-بِضَم النُّونِ وَفَتْح الْجيِمِ عِمْرانَ بْنِ الحُصيْنِ الخُزاعيِّ رضي الله عنهما أَنَّ امْرأَةً مِنْ جُهينةَ أَتَت رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم وَهِيَ حُبْلَى مِنَ الزِّنَا، فقَالَتْ: يَا رسول الله أَصَبْتُ حَدّاً فأَقِمْهُ عَلَيَّ، فَدَعَا نَبِيُّ الله صلى الله عليه وسلم وَليَّهَا فَقَالَ: "أَحْسِنْ إِليْهَا، فَإِذَا وَضَعَتْ فَأْتِنِي"فَفَعَلَ فَأَمَرَ بِهَا نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَشُدَّتْ عَلَيْهَا ثِيَابُها، ثُمَّ أَمَرَ بِهَا فرُجِمتْ، ثُمَّ صلَّى عَلَيْهَا. فَقَالَ لَهُ عُمَرُ: تُصَلِّي عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَقَدْ زَنَتْ، قَالَ:"لَقَدْ تَابَتْ تَوْبةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْن سبْعِينَ مِنْ أَهْلِ المدِينَةِ لوسعتهُمْ وَهَلْ وَجَدْتَ أَفْضَلَ مِنْ أَنْ جَادَتْ بِنفْسهَا للَّهِ عز وجل؟ ، رواه مسلم

11/23- وَعَنِ ابْنِ عَبَّاس وأنس بن مالك رضي الله عنهم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَوْ أَنَّ لابْنِ آدَمَ وَادِياً مِنْ ذَهَبِ أَحَبَّ أَنْ يَكُونَ لَهُ وادِيانِ، وَلَنْ يَمْلأَ فَاهُ إِلَاّ التُّرَابُ، وَيَتُوب اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ" مُتَّفَقٌ عَليْهِ.

12/24- وَعَنْ أبي هريرة رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "يَضْحكُ اللَّهُ سبحانه وتعالى إِلَى رَجُلَيْنِ يقْتُلُ أحدُهُمَا الآخَرَ يدْخُلَانِ الجَنَّة، يُقَاتِلُ هَذَا في سبيلِ اللَّهِ فيُقْتل، ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ عَلَى الْقَاتِلِ فَيسْلِمُ فيستشهدُ" مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.
{এবং সেই তিনজনের ওপর যাদের পেছনে রাখা হয়েছিল}। তিনি (কাব ইবনে মালিক) যে 'পেছনে রাখা'র কথা উল্লেখ করেছেন তা আমাদের যুদ্ধ থেকে পিছিয়ে থাকাকে বোঝায় না, বরং তা ছিল আমাদের বিষয়টিকে পেছনে রাখা এবং ফয়সালা স্থগিত রাখা তাদের তুলনায় যারা তাঁর কাছে শপথ করেছিল এবং ওজর পেশ করেছিল আর তিনি তা গ্রহণ করেছিলেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাবুক যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার বের হয়েছিলেন এবং তিনি বৃহস্পতিবার সফরে বের হওয়া পছন্দ করতেন।" অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি চাশতের সময় দিনের বেলা ছাড়া সফর থেকে ফিরতেন না। যখন তিনি ফিরতেন, প্রথমে মসজিদে গিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন এবং সেখানে বসতেন।"

১০/২২- আবু নুজাইদ (নুনের ওপর পেশ এবং জিমের ওপর জবর দিয়ে)—ইমরান ইবনুল হুসাইন আল-খুযায়ি রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, জুহাইনা গোত্রের এক নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসল, সে ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী ছিল। সে বলল: "হে আল্লাহর রাসুল! আমি দণ্ডযোগ্য অপরাধ করেছি, তাই আমার ওপর দণ্ড কার্যকর করুন।" তখন আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বললেন: "তার সাথে সদ্ব্যবহার করো। যখন সে সন্তান প্রসব করবে, তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।" তিনি তাই করলেন। এরপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তার কাপড় তার শরীরের সাথে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হলো। অতঃপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর ছুড়ে মৃত্যুদণ্ড (রজম) দেওয়া হলো। তারপর তিনি তার জানাজার সালাত পড়লেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি তার জানাজা পড়ছেন অথচ সে ব্যভিচার করেছে?" তিনি বললেন: "সে এমন এক তওবা করেছে যে, যদি তা মদিনার সত্তরজন অধিবাসীর মাঝে ভাগ করে দেওয়া হতো তবে তাদের সবার জন্য তা যথেষ্ট হতো। তুমি কি এর চেয়ে উত্তম কিছু পেয়েছ যে সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে?" মুসলিম।

১১/২৩- ইবনে আব্বাস ও আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যদি আদম সন্তানের জন্য স্বর্ণের একটি উপত্যকা থাকত তবে সে পছন্দ করত যে তার জন্য যেন দুটি উপত্যকা হয়। তার মুখ মাটি ছাড়া আর কিছু দিয়ে পূর্ণ হবে না। আর যে তওবা করে আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।

১২/২৪- আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এমন দুই ব্যক্তির প্রতি হাসেন যাদের একজন অপরজনকে হত্যা করেছে অথচ তারা উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। একজন আল্লাহর পথে লড়াই করে নিহত হয়, অতঃপর আল্লাহ হত্যাকারীর তওবা কবুল করেন এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করে।" মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤١)
3-‌‌ باب الصبر

قَالَ الله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اصْبِرُوا وَصَابِرُوا} [آل عمران: 200] وقال تعالى:
৩-‌‌ ধৈর্য অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ করো এবং ধৈর্যের প্রতিযোগিতায় জয়ী হও} [আলে ইমরান: ২০০] এবং তিনি আরো বলেন:
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٢)
{وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 155] وَقالَ تَعَالَى: {إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ} [الزمر: 10] وَقالَ تَعَالَى: {وَلَمَنْ صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَلِكَ لَمِنْ عَزْمِ الْأُمُورِ} [الشورى: 43] وَقالَ تَعَالَى: {اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} [البقرة: 153] وَقالَ تَعَالَى: {وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ حَتَّى نَعْلَمَ الْمُجَاهِدِينَ مِنْكُمْ وَالصَّابِرِينَ} [محمد: 31] وَالآياتُ في الأمر بالصَّبْر وَبَيانِ فَضْلهِ كَثيرةٌ مَعْرُوفةٌ.

1/25- وعن أبي مَالِكٍ الْحَارِثِ بْنِ عَاصِم الأشْعريِّ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَان، وَالْحَمْدُ للَّه تَمْلأَ الْميزانَ وسُبْحَانَ الله والحَمْدُ للَّه تَمْلآنِ أَوْ تَمْلأ مَا بَيْنَ السَّموَات وَالأَرْضِ وَالصَّلَاةِ نورٌ، والصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ، وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ، والْقُرْآنُ حُجَّةُ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ. كُلُّ النَّاس يَغْدُو، فَبِائِعٌ نَفْسَهُ فمُعْتِقُها، أَوْ مُوبِقُهَا" رواه مسلم.

2/26- وَعَنْ أبي سَعيدٍ بْن مَالِك بْن سِنَانٍ الخُدْرِيِّ رضي الله عنهما أَنَّ نَاساً مِنَ الأنصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ الله صلى الله عليه وسلم فأَعْطاهُم، ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ، حَتَّى نَفِد مَا عِنْدَهُ، فَقَالَ لَهُمْ حِينَ أَنَفَقَ كُلَّ شَيْءٍ بِيَدِهِ: "مَا يَكُنْ مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أدَّخِرَهُ عَنْكُمْ، وَمَنْ يسْتعْفِفْ يُعِفَّهُ اللهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ، وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ. وَمَا أُعْطِىَ أَحَدٌ عَطَاءً خَيْراً وَأَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ" مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

3/27- وَعَنْ أبي يَحْيَى صُهَيْبِ بْنِ سِنَانٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: "عَجَباً لأمْرِ الْمُؤْمِنِ إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ، وَلَيْسَ ذَلِكَ لأِحَدٍ إِلَاّ للْمُؤْمِن: إِنْ أَصَابَتْهُ سَرَّاءُ شَكَرَ فَكَانَ خَيْراً لَهُ، وَإِنْ أَصَابَتْهُ ضَرَّاءُ صَبَرَ فَكَانَ خيْراً لَهُ".رواه مسلم.

4/28- وعنْ أَنسٍ رضي الله عنه قَالَ: لمَّا ثقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم جَعَلَ يتغشَّاهُ الكرْبُ فقَالتْ فاطِمَةُ
{এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে; আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।} [আল-বাকারাহ: ১৫৫] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে প্রদান করা হবে কোনো হিসাব ছাড়াই।} [আয-যুমার: ১০] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে দেয়, নিশ্চয় তা দৃঢ় সংকল্পের কাজের অন্তর্ভুক্ত।} [আশ-শূরা: ৪৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো, নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} [আল-বাকারাহ: ১৫৩] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {এবং আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি জেনে নিই তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদকারী এবং কারা ধৈর্যশীল।} [মুহাম্মাদ: ৩১] ধৈর্যের নির্দেশ এবং এর ফযিলত বর্ণনায় আয়াতসমূহ অনেক এবং সুপরিচিত।

১/২৫- আবু মালিক আল-হারিস ইবনে আসিম আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক, আর 'আলহামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) মিজানকে (আমল মাপার পাল্লা) পূর্ণ করে দেয় এবং 'সুবহানাল্লাহ' (আল্লাহ পবিত্র) ও 'আলহামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মধ্যবর্তী স্থানকে পূর্ণ করে দেয়। সালাত হলো নূর, সাদাকা হলো প্রমাণ, ধৈর্য হলো আলোকবর্তিকা এবং কুরআন তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে দলিল। প্রতিটি মানুষ সকালে বের হয় এবং নিজের নফসের সওদা করে; অতঃপর সে তাকে (আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে) মুক্ত করে অথবা তাকে (পাপের মাধ্যমে) ধ্বংস করে।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

২/২৬- আবু সাঈদ মালিক ইবনে সিনান আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আনসারদের কিছু লোক আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কিছু চাইল, তিনি তাদের দিলেন। পুনরায় তারা চাইল, তিনি তাদের দিলেন। এমনকি তাঁর কাছে যা ছিল তা শেষ হয়ে গেল। যখন তিনি তাঁর হাতের সবকিছু খরচ করে ফেললেন, তখন তাদের বললেন: "আমার কাছে কোনো কল্যাণ (সম্পদ) থাকলে আমি তা তোমাদের থেকে জমা করে রাখব না। আর যে ব্যক্তি পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পবিত্র রাখেন। আর যে অমুখাপেক্ষী হতে চায়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত করে দেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল করেন। আর ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও অধিক প্রশস্ত কোনো দান কাউকে দেওয়া হয়নি।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

৩/২৭- আবু ইয়াহইয়া সুহাইব ইবনে সিনান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিনের বিষয়টি কতই না বিস্ময়কর! নিশ্চয়ই তার প্রতিটি বিষয়ই তার জন্য কল্যাণকর। আর মুমিন ছাড়া অন্য কারো জন্য এমনটি হয় না। যদি তার কোনো সুখের বিষয় পৌঁছে তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যদি তার কোনো কষ্টের বিষয় পৌঁছে তবে সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তাও তার জন্য কল্যাণকর হয়।" (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

৪/২৮- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রোগযন্ত্রণা প্রবল হলো এবং তিনি কষ্টে আচ্ছন্ন হতে লাগলেন, তখন ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন:
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٣)
رَضِيَ الله عنْهَا: واكَرْبَ أبَتَاهُ، فَقَالَ: "ليْسَ عَلَى أَبيكِ كرْبٌ بعْدَ اليَوْمِ "فلمَّا مَاتَ قالَتْ: يَا أبتَاهُ أَجَابَ رَبّاً دعَاهُ، يَا أبتَاهُ جنَّةُ الفِرْدَوْسِ مأوَاهُ، يَا أَبَتَاهُ إِلَى جبْريلَ نْنعَاهُ، فلَمَّا دُفنَ قالتْ فاطِمَةُ رضي الله عنها: أطَابتْ أنفسُكُمْ أَنْ تَحْثُوا عَلَى رسُول الله صلى الله عليه وسلم التُّرابَ؟ روَاهُ البُخاريُّ.

5/29- وعنْ أبي زيْد أُسامَة بن زيد حَارثَةَ موْلَى رسُول الله صلى الله عليه وسلم وحبَّهِ وابْنِ حبِّهِ رضي الله عنهما، قالَ: أَرْسلَتْ بنْتُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: إنَّ ابْنِي قَدِ احتُضِرَ فاشْهدْنَا، فأَرسَلَ يقْرِئُ السَّلامَ ويَقُول: "إنَّ للَّه مَا أَخَذَ، ولهُ مَا أعْطَى، وكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهُ بأجَلٍ مُسمَّى، فلتصْبِر ولتحْتسبْ" فأرسَلَتْ إِليْهِ تُقْسمُ عَلَيْهِ ليأْتينَّها. فَقَامَ وَمَعَهُ سَعْدُ بْنُ عُبادَةَ، وَمُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ، وَأُبَيُّ بْنَ كَعْبٍ، وَزَيْدُ بْنِ ثاَبِتٍ، وَرِجَالٌ رضي الله عنهم، فَرُفِعَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الصبيُّ، فأقعَدَهُ في حِجْرِهِ ونَفْسُهُ تَقعْقعُ، فَفَاضتْ عَيْناهُ، فقالَ سعْدٌ: يَا رسُولَ الله مَا هَذَا؟ فقالَ: "هَذِهِ رَحْمةٌ جعلَهَا اللَّهُ تعَالَى في قُلُوبِ عِبَادِهِ" وفي روِايةٍ:" فِي قُلُوبِ منْ شَاءَ مِنْ عِبَادِهِ وَإِنَّمَا يَرْحَمُ اللَّهُ منْ عِبَادِهِ الرُّحَمَاءَ" مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.

وَمَعْنَى"تَقَعْقَعُ": تَتحَرَّكُ وتَضْطَربُ.

6/30- وَعَنْ صُهَيْبٍ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "كَانَ مَلِكٌ فيِمَنْ كَانَ قبْلَكُمْ، وَكَانَ لَهُ سَاحِرٌ، فَلَمَّا كَبِرَ قَالَ لِلْمَلِك: إِنِّي قَدْ كَبِرْتُ فَابعَثْ إِلَيَّ غُلَاماً أُعَلِّمْهُ السِّحْرَ، فَبَعَثَ إِلَيْهِ غُلَاماً يعَلِّمُهُ، وَكَانَ في طَريقِهِ إِذَا سَلَكَ رَاهِبٌ، فَقَعَدَ إِلَيْهِ وَسَمِعَ كَلَامهُ فأَعْجَبهُ، وَكَانَ إِذَا أَتَى السَّاحِرَ مَرَّ بالرَّاهِب وَقَعَدَ إِلَيْه، فَإِذَا أَتَى السَّاحِرَ ضَرَبَهُ، فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِبِ فَقَالَ: إِذَا خَشِيتَ السَّاحِر فَقُلْ: حبَسَنِي أَهْلي، وَإِذَا خَشِيتَ أَهْلَكَ فَقُلْ: حَبَسَنِي السَّاحرُ.

فَبيْنَمَا هُو عَلَى ذَلِكَ إذْ أتَى عَلَى دابَّةٍ عظِيمَة قدْ حَبَسَت النَّاس فَقَالَ: اليوْمَ أعْلَمُ السَّاحِرُ أفْضَل أم الرَّاهبُ أفْضلَ؟ فأخَذَ حجَراً فقالَ: اللهُمَّ إنْ كَانَ أمْرُ الرَّاهب أحَبَّ إلَيْكَ مِنْ أَمْرِ السَّاحِرِ فاقتُلْ هَذِهِ الدَّابَّة حتَّى يمْضِيَ النَّاسُ، فرَماها فقتَلَها ومَضى النَّاسُ، فأتَى الرَّاهب فأخبَرهُ. فَقَالَ لهُ الرَّاهبُ: أىْ بُنيَّ أَنْتَ اليوْمَ أفْضلُ منِّي، قدْ بلَغَ مِنْ أمْركَ مَا أَرَى، وإِنَّكَ ستُبْتَلَى، فإنِ ابْتُليتَ فَلَا تدُلَّ عليَّ، وكانَ الغُلامُ يبْرئُ
আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন, তিনি বললেন: হায় আব্বাজান! আপনার কী নিদারুণ কষ্ট! তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আজকের পর তোমার পিতার আর কোনো কষ্ট নেই।" অতঃপর যখন তিনি ইন্তেকাল করলেন, ফাতেমা বললেন: হে আব্বাজান! তিনি তাঁর রবের ডাকে সাড়া দিয়েছেন যিনি তাঁকে ডেকেছেন। হে আব্বাজান! জান্নাতুল ফিরদাউস তাঁর ঠিকানা। হে আব্বাজান! জিবরাঈলকে আমরা তাঁর মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি। এরপর যখন তাঁকে দাফন করা হলো, ফাতেমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বললেন: হে সাহাবীগণ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেহের ওপর মাটি নিক্ষেপ করতে তোমাদের অন্তর কীভাবে সায় দিল? এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

৫/২৯- আবু যায়েদ উসামা ইবনে যায়েদ ইবনে হারিসা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত—যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুক্তদাস এবং তাঁর অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ও তাঁর প্রিয়ভাজনের পুত্র—তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা সংবাদ পাঠালেন যে, আমার ছেলে মৃত্যুশয্যায় রয়েছে, সুতরাং আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি সালাম জানিয়ে বলে পাঠালেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যা নিয়েছেন তা তাঁরই এবং তিনি যা দিয়েছেন তাও তাঁরই। তাঁর নিকট সবকিছুর জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত রয়েছে। অতএব সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সওয়াবের আশা রাখে।" অতঃপর কন্যা আবারও শপথ দিয়ে সংবাদ পাঠালেন যে, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে সা'দ ইবনে উবাদাহ, মুআয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কাব, যায়েদ ইবনে সাবিত ও আরও কয়েকজন লোক (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) ছিলেন। শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তুলে দেওয়া হলো। তিনি তাকে নিজের কোলে বসালেন, তখন শিশুটির প্রাণ ছটফট করছিল। তা দেখে তাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হলো। সা'দ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এ কী? তিনি বললেন: "এটি একটি দয়া, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের অন্তরে দান করেছেন।" অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য তিনি চান। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্যে কেবল দয়ালুদের প্রতিই দয়া করেন।" এটি বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন।

'তাকা'কাউ' শব্দের অর্থ হলো: নড়াচড়া করা ও ছটফট করা।

৬/৩০- সুহাইব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী কওমের মধ্যে এক বাদশাহ ছিল। তার একজন জাদুকর ছিল। যখন জাদুকর বৃদ্ধ হয়ে গেল, সে বাদশাহকে বলল: আমি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি, সুতরাং আমার কাছে একটি বালক পাঠান যেন আমি তাকে জাদু শেখাতে পারি। তখন বাদশাহ তার কাছে শেখার জন্য একটি বালক পাঠাল। সেই বালকের যাতায়াতের পথে একজন দরবেশ থাকতেন। বালকটি তাঁর কাছে বসল এবং তাঁর কথা শুনল যা তাকে মুগ্ধ করল। অতঃপর যখনই সে জাদুকরের কাছে যেত, পথিমধ্যে সেই দরবেশের কাছে বসত। (দেরি করে আসায়) জাদুকর তাকে মারধর করত। বালকটি দরবেশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বললেন: যদি তুমি জাদুকরের ভয় করো তবে বলো—আমার পরিবার আমাকে আটকে রেখেছিল। আর যদি পরিবারের ভয় করো তবে বলো—জাদুকর আমাকে আটকে রেখেছিল।

সে এই অবস্থায় থাকাকালীন একদিন বিশাল এক জন্তুর সামনে উপস্থিত হলো যা মানুষের পথ আটকে রেখেছিল। সে (মনে মনে) বলল: আজ আমি জানতে পারব জাদুকর শ্রেষ্ঠ নাকি দরবেশ শ্রেষ্ঠ। অতঃপর সে একটি পাথর হাতে নিল এবং বলল: হে আল্লাহ! যদি জাদুকরের বিষয়ের চেয়ে দরবেশের বিষয়টি আপনার কাছে অধিক প্রিয় হয়ে থাকে, তবে এই জন্তুটিকে মেরে ফেলুন যাতে মানুষ চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে পাথরটি নিক্ষেপ করল এবং জন্তুটিকে মেরে ফেলল, আর মানুষ চলাচল করতে লাগল। এরপর সে দরবেশের কাছে এসে বিষয়টি জানাল। দরবেশ তাকে বললেন: হে বৎস! আজ তুমি আমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ হয়েছো। তোমার অবস্থা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আমি দেখছি। আর অচিরেই তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি তুমি পরীক্ষায় আক্রান্ত হও, তবে আমার কথা কাউকে বলো না। আর সেই বালকটি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীদের আরোগ্য করত...
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٤)
الأكْمةَ والأبرصَ، ويدَاوي النَّاس مِنْ سائِرِ الأدوَاءِ. فَسَمعَ جلِيسٌ للملِكِ كانَ قدْ عمِىَ، فأتَاهُ بهداياَ كثيرَةٍ فقال: ما هاهُنَا لَكَ أجْمَعُ إنْ أنْتَ شفَيْتني، فَقَالَ إنِّي لا أشفِي أحَداً، إِنَّمَا يشْفِي اللهُ تعَالى، فإنْ آمنْتَ بِاللَّهِ تعَالَى دعوْتُ اللهَ فشَفاكَ، فآمَنَ باللَّه تعَالى فشفَاهُ اللَّهُ تَعَالَى، فأتَى المَلِكَ فجَلَس إليْهِ كَما كانَ يجْلِسُ فقالَ لَهُ المَلكُ: منْ ردَّ علَيْك بصَرك؟ قَالَ: ربِّي. قَالَ: ولكَ ربٌّ غيْرِي؟، قَالَ: رَبِّي وربُّكَ اللهُ، فأَخَذَهُ فلَمْ يزلْ يُعذِّبُهُ حتَّى دلَّ عَلَى الغُلَامِ فجئَ بِالغُلَامِ، فَقَالَ لهُ المَلكُ: أىْ بُنَيَّ قدْ بَلَغَ منْ سِحْرِك مَا تبْرئُ الأكمَهَ والأبرَصَ وتَفْعلُ وَتفْعَلُ فقالَ: إِنَّي لا أشْفي أَحَداً، إنَّما يشْفي الله تَعَالَى، فأخَذَهُ فَلَمْ يزَلْ يعذِّبُهُ حتَّى دلَّ عَلَى الرَّاهبِ، فجِئ بالرَّاهِبِ فَقيلَ لَهُ: ارجَعْ عنْ دِينكَ، فأبَى، فدَعا بالمنْشَار فوُضِع المنْشَارُ في مفْرقِ رأْسِهِ، فشقَّهُ حتَّى وقَعَ شقَّاهُ، ثُمَّ جِئ بجَلِيسِ المَلكِ فقِيلَ لَهُ: ارجِعْ عنْ دينِكَ فأبَى، فوُضِعَ المنْشَارُ في مفْرِقِ رَأسِهِ، فشقَّهُ به حتَّى وقَع شقَّاهُ، ثُمَّ جئ بالغُلامِ فقِيل لَهُ: ارجِعْ عنْ دينِكَ، فأبَى، فدَفعَهُ إِلَى نَفَرٍ منْ أصْحابِهِ فَقَالَ: اذهبُوا بِهِ إِلَى جبَلِ كَذَا وكذَا فاصعدُوا بِهِ الجبلَ، فإذَا بلغتُمْ ذروتهُ فإنْ رجعَ عنْ دينِهِ وإِلَاّ فاطرَحوهُ فذهبُوا بِهِ فصعدُوا بهِ الجَبَل فَقَالَ: اللَّهُمَّ اكفنِيهمْ بمَا شئْت، فرجَف بِهمُ الجَبَلُ فسَقطُوا، وجَاءَ يمْشي إِلَى المَلِكِ، فقالَ لَهُ المَلكُ: مَا فَعَلَ أَصحَابكَ؟ فقالَ: كفانيهِمُ الله تعالَى، فدفعَهُ إِلَى نَفَرَ منْ أصْحَابِهِ فَقَالَ: اذهبُوا بِهِ فاحملُوه في قُرقُور وَتَوسَّطُوا بِهِ البحْرَ، فإنْ رَجَعَ عنْ دينِهِ وإلَاّ فَاقْذفُوهُ، فذَهبُوا بِهِ فَقَالَ: اللَّهُمَّ اكفنِيهمْ بمَا شِئْت، فانكَفَأَتْ بِهِمُ السَّفينةُ فغرِقوا، وجَاءَ يمْشِي إِلَى المَلِك. فقالَ لَهُ الملِكُ: مَا فَعَلَ أَصحَابكَ؟ فَقَالَ: كفانِيهمُ الله تعالَى. فقالَ للمَلِكِ إنَّك لسْتَ بقَاتِلِي حتَّى تفْعلَ مَا آمُركَ بِهِ. قَالَ: مَا هُوَ؟ قَالَ: تجْمَعُ النَّاس في صَعيدٍ واحدٍ، وتصلُبُني عَلَى جذْعٍ، ثُمَّ خُذ سهْماً مِنْ كنَانتِي، ثُمَّ ضعِ السَّهْمِ في كَبدِ القَوْسِ ثُمَّ قُل: بسْمِ اللَّهِ ربِّ الغُلَامِ ثُمَّ ارمِنِي، فإنَّكَ إذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ قَتَلْتنِي. فجَمَع النَّاس في صَعيدٍ واحِدٍ، وصلَبَهُ عَلَى جذْعٍ، ثُمَّ أَخَذَ سهْماً منْ كنَانَتِهِ، ثُمَّ وضَعَ السَّهمَ في كبِدِ القَوْسِ، ثُمَّ قَالَ: بِسْم اللَّهِ رَبِّ الغُلامِ، ثُمَّ رمَاهُ فَوقَعَ السَّهمُ في صُدْغِهِ، فَوضَعَ يدَهُ في صُدْغِهِ فمَاتَ. فقَالَ النَّاسُ: آمَنَّا بِرَبِّ الغُلَامِ، فَأُتِىَ المَلكُ فَقِيلُ لَهُ: أَرَأَيْت مَا كُنْت تحْذَر قَدْ وَاللَّه نَزَلَ بِك حَذرُكَ. قدْ آمنَ النَّاسُ. فأَمَرَ بِالأخدُودِ بأفْوَاهِ السِّكك فخُدَّتَ وَأضْرِمَ فِيها النيرانُ وقالَ: مَنْ لَمْ يرْجَعْ عنْ دينِهِ فأقْحمُوهُ فِيهَا أوْ قيلَ لَهُ: اقْتَحمْ، ففعَلُوا حتَّى جَاءتِ امرَأَةٌ ومعَهَا صَبِيٌّ لهَا، فَتقَاعَسَت

...জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করত এবং মানুষের যাবতীয় রোগের চিকিৎসা করত। রাজার এক সভাসদ, যে অন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সে এ সংবাদ শুনতে পেল। সে প্রচুর উপঢৌকন নিয়ে তার (বালকের) কাছে এল এবং বলল: "এখানে যা কিছু আছে তার সবই তোমার হবে, যদি তুমি আমাকে সুস্থ করে দাও।" সে বলল: "নিশ্চয়ই আমি কাউকে সুস্থ করি না, বরং আল্লাহ তাআলাই সুস্থ করেন। সুতরাং আপনি যদি আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান আনেন, তবে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করব এবং তিনি আপনাকে সুস্থ করে দেবেন।" অতঃপর সে আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান আনল এবং আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করলেন।

এরপর সে রাজার কাছে এল এবং আগের মতো তার পাশে গিয়ে বসল। রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করল: "কে তোমাকে তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিল?" সে বলল: "আমার প্রতিপালক।" রাজা বলল: "আমি ছাড়া কি তোমার আর কোনো প্রতিপালক আছে?" সে বলল: "আমার ও আপনার প্রতিপালক হলেন আল্লাহ।" রাজা তখন তাকে পাকড়াও করল এবং তাকে ক্রমাগত নির্যাতন করতে লাগল, যতক্ষণ না সে সেই বালকের হদিস দিল। তখন বালকটিকে হাজির করা হলো। রাজা তাকে বলল: "হে বৎস! তোমার জাদু কি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করছ এবং আরও কত কী করছ!" বালকটি বলল: "নিশ্চয়ই আমি কাউকে সুস্থ করি না, বরং আল্লাহ তাআলাই সুস্থ করেন।"

তখন রাজা তাকেও পাকড়াও করল এবং তাকে ক্রমাগত নির্যাতন করতে লাগল, যতক্ষণ না সে সেই পাদ্রীর সন্ধান দিল। পাদ্রীকে নিয়ে আসা হলো এবং তাকে বলা হলো: "তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো।" সে অস্বীকার করল। তখন রাজা একটি করাত চাইল এবং তা তার মাথার মাঝখানে রাখা হলো। এরপর তাকে চিরে দ্বিখণ্ডিত করা হলো, এমনকি তার দুই অংশ মাটিতে পড়ে গেল। তারপর রাজার সেই সভাসদকে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো: "তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো।" সেও অস্বীকার করল। তখন তার মাথার মাঝখানে করাত রাখা হলো এবং তাকে চিরে দ্বিখণ্ডিত করা হলো, এমনকি তার দুই অংশ মাটিতে পড়ে গেল।

এরপর বালকটিকে আনা হলো এবং তাকে বলা হলো: "তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো।" সে অস্বীকার করল। তখন রাজা তাকে তার একদল অনুসারীর হাতে তুলে দিয়ে বলল: "একে অমুক অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে নিয়ে পাহাড়ের উপরে ওঠো। যখন তোমরা পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছাবে, তখন সে যদি তার দ্বীন থেকে ফিরে আসে তবে ভালো, নতুবা তাকে সেখান থেকে নিচে ফেলে দাও।" তারা তাকে নিয়ে পাহাড়ের উপরে উঠল। তখন বালকটি দোয়া করল: "হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে এদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হোন।" অমনি পাহাড়টি প্রকম্পিত হলো এবং তারা সবাই নিচে পড়ে গেল। আর বালকটি হেঁটে রাজার কাছে ফিরে এল।

রাজা তাকে জিজ্ঞাসা করল: "তোমার সঙ্গীদের কী হলো?" সে বলল: "আল্লাহ তাআলা তাদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন।" রাজা পুনরায় তাকে তার একদল অনুসারীর হাতে সোপর্দ করল এবং বলল: "একে নিয়ে যাও এবং একটি ছোট নৌকায় তুলে সমুদ্রের মাঝখানে নিয়ে যাও। এরপর যদি সে তার দ্বীন থেকে ফিরে আসে তবে ভালো, নতুবা তাকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করো।" তারা তাকে নিয়ে গেল। তখন সে দোয়া করল: "হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা করেন সেভাবে এদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হোন।" অমনি নৌকাটি উল্টে গেল এবং তারা সবাই ডুবে মরল। আর বালকটি হেঁটে রাজার কাছে ফিরে এল।

রাজা তাকে বলল: "তোমার সঙ্গীদের কী হলো?" সে বলল: "আল্লাহ তাআলা তাদের মোকাবেলায় আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছেন।" এরপর সে রাজাকে বলল: "আমি যা করতে বলব তা না করা পর্যন্ত আপনি আমাকে হত্যা করতে পারবেন না।" রাজা জিজ্ঞাসা করল: "সেটি কী?" সে বলল: "আপনি সকল মানুষকে একটি বিশাল ময়দানে সমবেত করবেন এবং আমাকে একটি খেজুর গাছের কাণ্ডের সাথে শূলে চড়াবেন। এরপর আমার তূণীর থেকে একটি তীর নেবেন এবং ধনুকের মাঝখানে তীরটি স্থাপন করবেন। তারপর বলবেন: 'বালকটির প্রতিপালক আল্লাহর নামে', এরপর তীরটি নিক্ষেপ করবেন। আপনি যদি এটি করেন, তবেই আমাকে হত্যা করতে পারবেন।"

তখন রাজা সকল মানুষকে এক ময়দানে সমবেত করল এবং বালকটিকে একটি গাছের কাণ্ডের সাথে শূলে চড়াল। এরপর তার তূণীর থেকে একটি তীর নিল এবং ধনুকের মাঝখানে তীরটি রাখল। এরপর বলল: "বালকটির প্রতিপালক আল্লাহর নামে।" তারপর সে তীরটি নিক্ষেপ করল এবং তীরটি গিয়ে বালকের কপালে বিদ্ধ হলো। বালকটি তার কপালে নিজের হাত রাখল এবং মৃত্যুবরণ করল। তখন উপস্থিত জনতা বলতে লাগল: "আমরা এই বালকের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনলাম।"

রাজার কাছে গিয়ে বলা হলো: "আপনি কি দেখেছেন, যা নিয়ে আপনি আতঙ্কিত ছিলেন, আল্লাহর কসম! আপনার সেই আশঙ্কাই আজ বাস্তবে নেমে এসেছে। সকল মানুষ ঈমান এনেছে।" তখন রাজা রাস্তার মোড়ে মোড়ে গর্ত (অগ্নিগহ্বর) খনন করার নির্দেশ দিল। গর্তগুলো খনন করা হলো এবং তাতে আগুন প্রজ্বলিত করা হলো। রাজা ঘোষণা করল: "যে ব্যক্তি তার দ্বীন থেকে ফিরে আসবে না, তাকে এতে নিক্ষেপ করো।" অথবা তাকে বলা হলো: "তুমি নিজেই এতে ঝাঁপ দাও।" তারা তা-ই করতে লাগল। এক পর্যায়ে একজন নারী তার দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ উপস্থিত হলো এবং সে আগুনে ঝাঁপ দিতে দ্বিধাগ্রস্ত হলো...

(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٥)
أنْ تَقعَ فِيهَا، فَقَالَ لَهَا الغُلَامُ: يَا أمَّاهْ اصبِرِي فَإِنَّكَ عَلَي الحَقِّ" روَاهُ مُسْلَمٌ.

"ذرْوةُ الجَبلِ": أعْلاهُ، وَهي بكَسْر الذَّال المعْجمَة وَضَمِّهَا و"القُرْقورُ"بضَمِّ القَافَيْن: نوْعٌ منْ السُّفُن وَ"الصَّعِيدُ"هُنا: الأرضُ البارزَةُ وَ"الأخْدُودُ": الشُّقوقُ في الأرْضِ كالنَّهْرِ الصَّغيرِو"أُضرِمَ"أوقدَ"وانكفَأَت"أَي: انقلبَتْ وَ"تقاعسَت"توقَّفتْ وجبُنتْ.

7/31- وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِامْرَأَةٍ تَبْكِي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَال: " اتَّقِي الله وَاصْبِرِي"فَقَالَتْ: إِلَيْكَ عَنِّي، فَإِنِّكَ لَمْ تُصَبْ بمُصِيبتى، وَلَمْ تعْرفْهُ، فَقيلَ لَها: إِنَّه النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَأَتتْ بَابَ النَّبِّي صلى الله عليه وسلم، فلَمْ تَجِد عِنْدَهُ بَوَّابينَ، فَقالتْ: لَمْ أَعْرِفْكَ، فقالَ:"إِنَّما الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأولَى" متفقٌ عَلَيهِ.

وفي رواية لمُسْلمٍ:"تَبْكِي عَلَى صَبيٍّ لَهَا".

8/32- وَعَنْ أَبي هَرَيرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم قالَ: "يَقولُ اللَّهُ تَعَالَى: مَا لِعَبْدِي المُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءٌ إِذَا قَبضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبهُ إِلَاّ الجَنَّة" رواه البخاري.

9/33- وعَنْ عائشَةَ رضي الله عنها أنَهَا سَأَلَتْ رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم عَن الطَّاعونِ، فَأَخبَرَهَا "أَنَهُ كَانَ عَذَاباً يَبْعَثُهُ اللَّه تَعَالَى عَلَى منْ يَشَاءُ، فَجَعَلَهُ اللَّهُ تعالَى رحْمةً للْمُؤْمنِينَ، فَلَيْسَ مِنْ عَبْدٍ يَقَعُ في الطَّاعُون فَيَمْكُثُ في بلَدِهِ صَابِراً مُحْتَسِباً يَعْلَمُ أَنَّهُ لَا يُصِيبُهُ إِلَاّ مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ إِلَاّ كَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ الشَّهِيدِ" رواه البخاري.

10/34- وعَنْ أَنسٍ رضي الله عنه قالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم يقولُ: "إنَّ اللَّه عز وجل قَالَ:"إِذَا ابْتَلَيْتُ عَبدِي بحبيبتَيْهِ فَصبَرَ عَوَّضْتُهُ مِنْهُمَا الْجنَّةَ" يُريدُ عينيْه، رواه البخاريُّ.

11/35- وعنْ عطاءِ بْن أَبي رَباحٍ قالَ: قالَ لِي ابْنُ عبَّاسٍ رضي الله عنهما ألَا أريكَ امْرَأَةً مِن أَهْلِ الجَنَّة؟ فَقُلت: بلَى، قَالَ: هذِهِ المْرأَةُ السوْداءُ أَتَتِ النبيَّ صلى الله عليه وسلم فقالَتْ: إِنِّي أُصْرَعُ، وإِنِّي أَتكَشَّفُ، فَادْعُ اللَّه تَعَالَى لِي قَالَ: "إِن شئْتِ صَبَرْتِ ولكِ الْجنَّةُ، وإِنْ شِئْتِ دعَوْتُ اللَّه تَعالَى أَنْ يُعافِيَكِ"فقَالتْ: أَصْبرُ، فَقالت: إِنِّي أَتَكشَّفُ، فَادْعُ اللَّه أَنْ لا أَتكشَّفَ، فَدَعَا لَهَا. متَّفقٌ عليْهِ.
সে তাতে পতিত হতে (কুণ্ঠাবোধ করছিল), তখন বালকটি তাকে বলল: হে মা! আপনি ধৈর্য ধরুন, কারণ আপনি সত্যের ওপর রয়েছেন। মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

"যিরওয়াতুল জাবাল": পাহাড়ের উপরিভাগ বা চূড়া; এটি 'যাল' বর্ণের নিচে কাসরা (যের) এবং ওপরে যাম্মা (পেশ) উভয় যোগে পড়া যায়। "আল-কুরকুর" (উভয় ক্বাফ-এর ওপর পেশ যোগে): এক প্রকারের জাহাজ। "আস-সাঈদ" এখানে: প্রকাশ্য ভূমি। "আল-উখদুদ": জমিনের ফাটল বা গর্ত যা ছোট নদীর মতো। "উদরিমা": প্রজ্বলিত করা হয়েছে। "ইনকাফায়াত" অর্থাৎ: উল্টে গিয়েছে। "তাক্বায়াসাত": থেমে গিয়েছে এবং ভীরুতা প্রদর্শন করেছে।

৭/৩১- আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যে একটি কবরের নিকট কাঁদছিল। তিনি বললেন: "আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো।" সে বলল: আপনি আমার নিকট থেকে দূরে সরুন, কারণ আপনি আমার মতো বিপদে পড়েননি। মহিলাটি তাঁকে চিনতে পারেনি। তাকে যখন বলা হলো যে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তখন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরজায় এল এবং সেখানে কোনো দ্বাররক্ষী পেল না। সে বলল: আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেন: "প্রকৃত ধৈর্য তো বিপদের প্রথম ধাক্কার সময়ই।" বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।

মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "সে তার একটি ছোট শিশুর জন্য কাঁদছিল।"

৮/৩২- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার মুমিন বান্দার দুনিয়াবাসীদের মধ্য থেকে তার প্রিয় কোনো ব্যক্তিকে যখন আমি উঠিয়ে নিই (মৃত্যু দান করি), অতঃপর সে সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধারণ করে, তবে তার জন্য জান্নাত ছাড়া আমার কাছে অন্য কোনো প্রতিদান নেই।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

৯/৩৩- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্লেগ রোগ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁকে জানালেন যে, "তা ছিল একটি আজাব, আল্লাহ তাআলা যার ওপর ইচ্ছা তা প্রেরণ করতেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা একে মুমিনদের জন্য রহমত বানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং কোনো বান্দা যদি প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয় এবং সওয়াবের আশায় ধৈর্য ধরে নিজ শহরে অবস্থান করে ও এই বিশ্বাস রাখে যে, আল্লাহ তার জন্য যা লিখে রেখেছেন তা ছাড়া অন্য কিছু তাকে স্পর্শ করবে না, তবে তার জন্য একজন শহীদের সওয়াবের সমতুল্য সওয়াব রয়েছে।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

১০/৩৪- আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আল্লাহ—যিনি পরাক্রমশালী ও মহান—বলেছেন: যখন আমি আমার বান্দাকে তার দুটি প্রিয় বস্তু (অর্থাৎ তার দুই চোখ) দিয়ে পরীক্ষায় ফেলি এবং সে ধৈর্য ধারণ করে, আমি তার বিনিময়ে তাকে জান্নাত দান করি।" বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন।

১১/৩৫- আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে জান্নাতবাসী একজন মহিলা দেখাব না? আমি বললাম, অবশ্যই। তিনি বললেন: এই কালো মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: আমি মৃগী রোগে আক্রান্ত হই এবং এতে আমার শরীর অনাবৃত হয়ে পড়ে, সুতরাং আপনি আমার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করুন। তিনি বললেন: "তুমি চাইলে ধৈর্য ধারণ করতে পারো, তবে তোমার জন্য জান্নাত রয়েছে। আর তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারি যেন তিনি তোমাকে আরোগ্য দান করেন।" সে বলল: আমি ধৈর্যই ধারণ করব। অতঃপর সে বলল: আমার শরীর অনাবৃত হয়ে পড়ে, তাই আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন আমার শরীর অনাবৃত না হয়। তখন তিনি তার জন্য দোয়া করলেন। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٦)
12/36- وعنْ أَبي عبْدِ الرَّحْمنِ عبْدِ اللَّه بنِ مسْعُودٍ رضي الله عنه قَال: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلى رسولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم يحْكيِ نَبيّاً مِنَ الأَنْبِياءِ، صلواتُ اللَّهِ وسَلَامُهُ عَليْهم، ضَرَبُهُ قَوْمُهُ فَأَدْموْهُ وهُو يمْسحُ الدَّم عنْ وجْهِهِ، يقُولُ: "اللَّهمَّ اغْفِرْ لِقَوْمي فإِنَّهُمْ لا يعْلمُونَ "متفقٌ عَلَيْه.

13/37- وَعنْ أَبي سَعيدٍ وأَبي هُرَيْرة رضي الله عنهما عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ نَصَبٍ وَلَا وَصَبٍ وَلَا هَمٍّ وَلَا حَزَن وَلَا أَذًى وَلَا غمٍّ، حتَّى الشَّوْكَةُ يُشَاكُها إِلَاّ كفَّر اللَّه بهَا مِنْ خطَايَاه" متفقٌ عَلَيهِ.

و"الْوَصَب": الْمرضُ.

14/38- وعن ابْن مسْعُود رضي الله عنه قَالَ: دَخلْتُ عَلى النَبيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُو يُوعَكُ فَقُلْتُ يَا رسُولَ اللَّه إِنَّكَ تُوعكُ وَعْكاً شَدِيداً قَالَ: "أَجَلْ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلانِ مِنْكُم"قُلْتُ: ذلِكَ أَنَّ لَكَ أَجْريْن؟ قَالَ:"أَجَلْ ذَلك كَذَلك مَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى، شوْكَةٌ فَمَا فوْقَهَا إلَاّ كَفَّر اللَّه بهَا سَيِّئَاتِهِ، وَحطَّتْ عنْهُ ذُنُوبُهُ كَمَا تَحُطُّ الشَّجرةُ وَرقَهَا" متفقٌ عَلَيهِ.

وَ"الْوَعْكُ": مَغْثُ الحمَّى، وَقيلَ: الْحُمى.

15/39- وعنْ أَبي هُرَيرة رضي الله عنه قال: قال رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْراً يُصِبْ مِنْهُ": رواه البخاري.

وضَبطُوا"يُصِب": بفَتْحِ الصَّادِ وكَسْرِهَا.

16/40- وعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "لا يتَمنينَّ أَحدُكُمُ الْمَوْتَ لِضُرٍّ أَصَابَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا بُدَّ فاعلاً فليقُل: اللَّهُمَّ أَحْيني مَا كَانَت الْحياةُ خَيراً لِي وتوفَّني إِذَا كَانَتِ الْوفاَةُ خَيْراً لِي "متفق عليه.

17/41 - وعنْ أبي عبدِ اللَّهِ خَبَّابِ بْن الأَرتِّ رضي الله عنه قَالَ: شَكَوْنَا إِلَى رسولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُو مُتَوسِّدٌ بُردةً لَهُ في ظلِّ الْكَعْبةِ، فَقُلْنَا: أَلا تَسْتَنْصرُ لَنَا أَلا تَدْعُو لَنَا؟ فَقَالَ: قَد كَانَ مَنْ قَبْلكُمْ يؤْخَذُ
১২/৩৬- আবু আব্দুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি যেন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে তাকাচ্ছি, তিনি নবীদের মধ্য থেকে এমন একজন নবীর কথা বর্ণনা করছিলেন (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক), যাঁর কওম তাঁকে প্রহার করে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল। তিনি তাঁর চেহারা থেকে রক্ত মুছছিলেন আর বলছিলেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার কওমকে ক্ষমা করে দিন, কারণ তারা জানে না।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

১৩/৩৭- আবু সাঈদ এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "একজন মুসলিম যে কোনো ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, দুশ্চিন্তা, শোক, কষ্ট কিংবা উদ্বেগের শিকার হয়, এমনকি তার শরীরে একটি কাঁটাও যদি ফোটে, তবে আল্লাহ এর বিনিময়ে তার পাপসমূহ মোচন করে দেন।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এবং "আল-ওয়াসাব" হলো: রোগ।

১৪/৩৮- ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রবেশ করলাম যখন তিনি জ্বরে ভুগছিলেন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তো অত্যন্ত তীব্র জ্বরে ভুগছেন! তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তোমাদের দুইজন লোক যতটুকু জ্বরে ভোগে, আমি একাই ততটুকু জ্বরে ভুগি।" আমি বললাম: এটা কি এই জন্য যে আপনার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, বিষয়টি তেমনই। যে কোনো মুসলিম কোনো কষ্টের শিকার হয়, তা একটি কাঁটা হোক কিংবা তার চেয়ে বড় কিছু, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার মন্দ কাজগুলো মোচন করে দেন এবং তার গুনাহসমূহ ঝরে পড়ে যেমনভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

এবং "আল-ওয়াক" হলো: জ্বরের তীব্র কম্পন; আবার বলা হয়েছে: সাধারণ জ্বর।

১৫/৩৯- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে তিনি বিপদে ফেলেন।" ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং আলেমগণ "ইউসিব" শব্দটির 'সাদ' বর্ণে ফাতাহ ও কাসরা উভয়ভাবে পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

১৬/৪০- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন কোনো আপদ-বিপদে পতিত হওয়ার কারণে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে। তবে যদি তাকে তা করতেই হয়, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আমাকে ততদিন জীবিত রাখুন যতদিন বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয়, আর যখন মৃত্যু আমার জন্য শ্রেয় হয় তখন আমার মৃত্যু দান করুন।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)।

১৭/৪১- আবু আবদুল্লাহ খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট অভিযোগ পেশ করলাম যখন তিনি কাবার ছায়ায় একটি চাদর বালিশ বানিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম: আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? তখন তিনি বললেন: "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মাঝে এমন ব্যক্তিও অতিবাহিত হয়েছে যাকে ধরে নিয়ে আসা হতো..."
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٧)
الرَّجُلُ فيُحْفَرُ لَهُ في الأَرْضِ فيجْعلُ فِيهَا، ثمَّ يُؤْتِى بالْمِنْشارِ فَيُوضَعُ علَى رَأْسِهِ فيُجعلُ نصْفَيْن، ويُمْشطُ بِأَمْشاطِ الْحديدِ مَا دُونَ لَحْمِهِ وَعظْمِهِ، مَا يَصُدُّهُ ذلكَ عَنْ دِينِهِ، واللَّه ليتِمنَّ اللَّهُ هَذا الأَمْر حتَّى يسِير الرَّاكِبُ مِنْ صنْعاءَ إِلَى حَضْرمْوتَ لَا يخافُ إِلَاّ اللهَ والذِّئْبَ عَلَى غنَمِهِ، ولكِنَّكُمْ تَسْتَعْجِلُونَ" رواه البخاري.

وفي رواية:"وهُوَ مُتَوسِّدٌ بُرْدةً وقَدْ لقِينَا مِنَ الْمُشْركِين شِدَّةً".

18/42- وعن ابن مَسعُودٍ رضي الله عنه قال: لمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم نَاساً في الْقِسْمَةِ: فأَعْطَى الأَقْرعَ بْنَ حابِسٍ مائةً مِنَ الإِبِلِ وأَعْطَى عُييْنَةَ بْنَ حِصْنٍ مِثْلَ ذلِكَ، وأَعطى نَاساً منْ أشرافِ الْعربِ وآثَرهُمْ يوْمئِذٍ في الْقِسْمَةِ. فَقَالَ رجُلٌ: واللَّهِ إنَّ هَذِهِ قِسْمةٌ مَا عُدِلَ فِيها، وَمَا أُريد فِيهَا وَجهُ اللَّه، فَقُلْتُ: واللَّه لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فأتيتُهُ فَأخبرته بِما قَالَ، فتغَيَّر وَجْهُهُ حتَّى كَانَ كَالصِّرْفِ. ثُمَّ قَالَ: "فَمنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ يعدِلِ اللَّهُ ورسُولُهُ؟ ثُمَّ قَالَ: يرحَمُ اللَّهُ مُوسَى قَدْ أُوْذِيَ بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصبرَ" فَقُلْتُ: لَا جرمَ لَا أَرْفعُ إلَيه بعْدها حدِيثاً. متفقٌ عَلَيهِ.

وقَوْلُهُ"كَالصِرْفَ"هُو بِكسْرِ الصادِ الْمُهْملةِ: وَهُوَ صِبْغٌ أَحْمَرُ.

19/43- وعن أنس رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بعبْدِهِ خَيْراً عجَّلَ لَهُ الْعُقُوبةَ في الدُّنْيَا، وإِذَا أَرَادَ اللَّه بِعبدِهِ الشَّرَّ أمسَكَ عنْهُ بذَنْبِهِ حتَّى يُوافِيَ بهِ يَومَ الْقِيامةِ".

وقَالَ النبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "إِنَّ عِظَمَ الْجزاءِ مَعَ عِظَمِ الْبلاءِ، وإِنَّ اللَّه تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ قَوماً ابتلاهُمْ، فَمنْ رضِيَ فلَهُ الرضَا، ومَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ "رواه الترمذي وقَالَ: حديثٌ حسنٌ.

20/44- وعنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ ابْنٌ لأبي طلْحةَ رضي الله عنه يَشْتَكي، فَخَرَجَ أبُو طَلْحة، فَقُبِضَ الصَّبِيُّ، فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو طَلْحةَ قَالَ: مَا فَعَلَ ابنِي؟ قَالَت أُمُّ سُلَيْم وَهِيَ أُمُّ الصَّبيِّ: هُوَ أَسْكَنُ مَا كَانَ، فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ الْعَشَاءَ فَتَعَشَّى، ثُمَّ أَصَابَ مِنْهَا، فَلَمَّا فرغَ قَالَتْ: وارُوا الصَّبيَّ، فَلَمَّا أَصْبحَ أَبُو طَلْحَة أَتَى رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم فَأَخْبرهُ، فَقَالَ: "أَعرَّسْتُمُ اللَّيْلَةَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ:"اللَّهمَّ باركْ لَهُما "فَولَدتْ غُلاماً فقَالَ لِي أَبُو طَلْحَةَ: احْمِلْهُ حتَّى تَأَتِيَ بِهِ النبيَّ صلى الله عليه وسلم، وبَعثَ مَعهُ بِتمْرَات، فَقَالَ:"أَمعهُ شْيءٌ؟ "قَالَ: نعمْ، تَمراتٌ فَأَخَذَهَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَمضَغَهَا، ثُمَّ أَخذَهَا مِنْ فِيهِ فَجَعَلَهَا في فِيِّ الصَّبيِّ ثُمَّ حَنَّكَه وسمَّاهُ عبدَ اللَّهِ متفقٌ عَلَيهِ.
ব্যক্তিকে (ধরা হতো), তার জন্য জমিনে গর্ত খনন করা হতো এবং তাকে তাতে রাখা হতো। তারপর করাত এনে তার মাথার ওপর রাখা হতো এবং তাকে দুই ভাগে চিরে ফেলা হতো। লোহার চিরুনি দিয়ে তার গোশত ও হাড়ের নিচ পর্যন্ত আঁচড়ানো হতো, কিন্তু এই সব কিছুই তাকে তার দ্বীন থেকে বিচ্যুত করতে পারত না। আল্লাহর কসম! আল্লাহ অবশ্যই এই বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করবেন, এমনকি একজন আরোহী সানআ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করবে অথচ সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাবে না এবং তার মেষপালের ব্যাপারে নেকড়ে বাঘের ভয়ও থাকবে না। কিন্তু তোমরা তাড়াহুড়া করছ।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন।

অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তিনি একটি চাদরে বালিশ বানিয়ে হেলান দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, আর আমরা মুশরিকদের পক্ষ থেকে চরম কষ্ট ভোগ করছিলাম।"

১৮/৪২- ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন হুনাইনের যুদ্ধের দিন এলো, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গনিমতের মাল বণ্টনের ক্ষেত্রে কিছু লোককে প্রাধান্য দিলেন। তিনি আকরা বিন হাবিসকে একশটি উট দিলেন এবং উয়াইনাহ বিন হিসনকেও অনুরূপ দিলেন। এভাবে তিনি আরবের অন্যান্য অভিজাত ব্যক্তিদেরও সে দিন বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিলেন। তখন এক ব্যক্তি বলল: আল্লাহর কসম! এটি এমন একটি বণ্টন যাতে ইনসাফ করা হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যও রাখা হয়নি। আমি বললাম: আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সংবাদ দেব। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এলাম এবং তিনি যা বলেছিলেন তা তাঁকে জানালাম। এতে তাঁর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল, এমনকি তা লাল রঞ্জকের মতো হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন: "যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ইনসাফ না করেন, তবে আর কে ইনসাফ করবে?" এরপর তিনি বললেন: "আল্লাহ মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।" আমি বললাম: এরপর থেকে আমি আর তাঁর কাছে এ জাতীয় কোনো কথা পৌঁছাব না। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

তাঁর উক্তি "আস-সিরফ": এটি 'সাদ' বর্ণের নিচে কাসরা (জের) দিয়ে পড়তে হয়, যা একটি লাল রঙের রঞ্জক।

১৯/৪৩- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ যখন তাঁর কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন দুনিয়াতেই তাকে দ্রুত শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন আল্লাহ তাঁর কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার গুনাহের শাস্তি আটকে রাখেন, যাতে কিয়ামতের দিন তাকে এর পূর্ণ প্রতিফল দিতে পারেন।"

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেছেন: "বিপদের ভয়াবহতা অনুযায়ী প্রতিদানও বড় হয়। আল্লাহ তাআলা যখন কোনো জাতিকে ভালোবাসেন, তখন তাদের পরীক্ষায় ফেলেন। সুতরাং যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি থাকে; আর যে অসন্তুষ্ট হয়, তার জন্য আল্লাহর অসন্তুষ্টি থাকে।" এটি তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি হাসান হাদিস।

২০/৪৪- আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু তালহা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এক পুত্র সন্তান অসুস্থ ছিল। আবু তালহা বাইরে গেলেন এবং সেই সময় শিশুটি মারা গেল। আবু তালহা যখন ফিরে এলেন, তখন জিজ্ঞেস করলেন: আমার ছেলের কী অবস্থা? শিশুটির মা উম্মু সুলাইম বললেন: সে এখন আগের চেয়ে অনেক শান্ত আছে। এরপর তিনি তাঁর সামনে রাতের খাবার পেশ করলেন এবং তিনি রাতের খাবার খেলেন। তারপর তিনি স্ত্রীর সাথে মিলিত হলেন। যখন তিনি অবসর হলেন, তখন উম্মু সুলাইম বললেন: শিশুটিকে দাফন করার ব্যবস্থা করো। যখন সকাল হলো, আবু তালহা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলেন এবং তাঁকে পুরো ঘটনা জানালেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি গত রাতে বাসর করেছ?" তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি দোয়া করলেন: "হে আল্লাহ! তাদের উভয়ের ওপর বরকত দান করুন।" এরপর তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন। আবু তালহা আমাকে বললেন: তাকে বহন করে নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে যাও। তিনি তার সাথে কিছু খেজুরও পাঠিয়ে দিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেন: "তার সাথে কি কিছু আছে?" তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিছু খেজুর। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেগুলো নিলেন এবং চিবালেন। তারপর তা নিজের মুখ থেকে বের করে শিশুটির মুখে দিলেন এবং এভাবে তার তাহনিক করলেন ও তার নাম রাখলেন আবদুল্লাহ। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٨)
وفي روايةٍ للْبُخَاريِّ: قَالَ ابْنُ عُيَيْنَة: فَقَالَ رجُلٌ منَ الأَنْصارِ: فَرَأَيْتُ تَسعة أَوْلادٍ كلُّهُمْ قدْ قَرؤُوا الْقُرْآنَ، يعْنِي مِنْ أَوْلادِ عَبْدِ اللَّه الْموْلُود.

وَفي روايةٍ لمسلِم: ماتَ ابْنٌ لأبِي طَلْحَةَ مِنْ أُمِّ سُلَيْمٍ، فَقَالَتْ لأهْلِهَا: لَا تُحَدِّثُوا أَبَا طَلْحَةَ بابنِهِ حتَّى أَكُونَ أَنَا أُحَدِّثُهُ، فَجَاءَ فَقَرَّبَتْ إِلَيْهِ عَشَاءً فَأَكَلَ وشَرِبَ، ثُمَّ تَصنَّعتْ لهُ أَحْسنَ مَا كانتْ تَصَنَّعُ قَبْلَ ذلكَ، فَوقَعَ بِهَا، فَلَمَّا أَنْ رأَتْ أَنَّهُ قَدْ شَبِعِ وأَصَابَ مِنْها قَالتْ: يَا أَبَا طلْحةَ، أَرَايْتَ لَوْ أَنَّ قَوْماً أَعارُوا عارِيتهُمْ أَهْل بيْتٍ فَطَلبوا عاريَتَهُم، ألَهُمْ أَنْ يمْنَعُوهَا؟ قَالَ: لا، فَقَالَتْ: فاحتسِبْ ابْنَكَ. قَالَ: فغَضِبَ، ثُمَّ قَالَ: تركتنِي حتَّى إِذَا تَلطَّخْتُ ثُمَّ أَخْبرتِني بِابْني، فَانْطَلَقَ حتَّى أَتَى رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم فأخْبَرهُ بِمَا كَانَ، فَقَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "بَاركَ اللَّه لكُما في ليْلتِكُما".

قَالَ: فحملَتْ، قَالَ: وكَانَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم في سفَرٍ وهِي مَعَهُ وكَانَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم إِذَا أَتَى الْمَدِينَةِ مِنْ سَفَرٍ لَا يَطْرُقُها طُرُوقاً فَدنَوْا مِنَ الْمَدِينَةِ، فَضَرَبَهَا الْمَخاضُ، فَاحْتَبَس عَلَيْهَا أَبُو طلْحَةَ، وانْطلَقَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم. قَالَ: يقُولُ أَبُو طَلْحةَ إِنَّكَ لتعلمُ يَا ربِّ أَنَّهُ يعْجبُنِي أَنْ أَخْرُجَ معَ رسولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم إِذَا خَرَجَ، وأَدْخُلَ مَعهُ إِذَا دَخَلَ، وقَدِ احْتَبَسْتُ بِما تَرى. تقولُ أُمُّ سُلَيْمٍ: يَا أَبَا طلْحةَ مَا أَجِد الَّذي كنْتُ أَجِدُ، انْطَلِقْ، فانْطَلقْنَا، وضَربهَا المَخاضُ حينَ قَدِمَا فَولَدتْ غُلاماً. فقالَتْ لِي أُمِّي: يا أَنَسُ لا يُرْضِعُهُ أَحدٌ تَغْدُوَ بِهِ عَلَى رسُول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فلمَّا أَصْبحَ احتملْتُهُ فانطَلقْتُ بِهِ إِلَى رسولِ اللَّه صلى الله عليه وسلم. وذَكَرَ تمامَ الْحَدِيثِ.

21/45- وعنْ أَبِي هُريرةَ رضي الله عنه أَن رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لَيْسَ الشديدُ بالصُّرَعةِ إِنمَّا الشديدُ الَّذي يمْلِكُ نَفسَهُ عِنْد الْغَضَبِ "متفقٌ عَلَيهِ.

"والصُّرَعَةُ"بِضمِّ الصَّادِ وفتْحِ الرَّاءِ، وأصْلُهُ عنْد الْعربِ منْ يصرَعُ النَّاسَ كثيراً.

22/46- وعنْ سُلَيْمانَ بْنِ صُرَدٍ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ جالِساً مَعَ النَّبِي صلى الله عليه وسلم، ورجُلان يستَبَّانِ وأَحدُهُمَا قَدِ احْمَرَّ وَجْهُهُ. وانْتفَخَتْ أودَاجهُ. فَقَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "إِنِّي لأعلَمُ كَلِمةً لَوْ
বুখারীর এক বর্ণনায় ইবনে উয়াইনা বলেন: আনসারদের একজন ব্যক্তি বলেছেন: আমি নয়জন সন্তানকে দেখেছি যারা প্রত্যেকেই কুরআন পাঠ করেছেন, অর্থাৎ সেই নবজাতক আবদুল্লাহর সন্তানদের মধ্য থেকে।

মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে: আবু তালহার এক পুত্র মারা গেল যিনি উম্মে সুলাইমের গর্ভজাত ছিলেন। তিনি (উম্মে সুলাইম) তার পরিবারের লোকদের বললেন, "তোমরা আবু তালহার কাছে তার ছেলের (মৃত্যুর) খবর দিও না যতক্ষণ না আমি নিজে তাকে তা জানাই।" এরপর তিনি (আবু তালহা) আসলেন এবং উম্মে সুলাইম তার সামনে রাতের খাবার পরিবেশন করলেন। তিনি আহার ও পান করলেন। এরপর উম্মে সুলাইম তার জন্য পূর্বের চেয়েও উত্তম রূপে সাজসজ্জা করলেন এবং তিনি তার সাথে মিলিত হলেন। যখন তিনি দেখলেন যে তিনি তৃপ্ত হয়েছেন এবং তার সাথে মিলিত হয়েছেন, তখন তিনি বললেন, "হে আবু তালহা, আপনি কি মনে করেন যে যদি কোনো সম্প্রদায় কোনো পরিবারকে কিছু ধার দেয় এবং এরপর তারা তাদের ধার দেওয়া জিনিসটি ফেরত চায়, তবে কি তাদের তা আটকে রাখার অধিকার আছে?" তিনি বললেন, "না।" তখন উম্মে সুলাইম বললেন, "তবে আপনি আপনার পুত্রের ব্যাপারে সওয়াবের আশা রাখুন (ধৈর্য ধারণ করুন)।" তিনি (আবু তালহা) রাগান্বিত হলেন এবং বললেন, "তুমি আমাকে ছেড়ে দিলে যতক্ষণ না আমি (যৌনকর্মে) লিপ্ত হলাম, তারপর তুমি আমাকে আমার ছেলের সংবাদ দিলে!" এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গিয়ে যা ঘটেছিল তা জানালেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আল্লাহ তোমাদের এই রাতে তোমাদের জন্য বরকত দান করুন।"

বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি গর্ভবতী হলেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সফরে ছিলেন এবং উম্মে সুলাইমও তাঁর সাথে ছিলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফর থেকে মদিনায় ফিরতেন, তখন তিনি রাতে হুট করে প্রবেশ করতেন না। যখন তাঁরা মদিনার কাছাকাছি পৌঁছালেন, তখন উম্মে সুলাইমের প্রসব বেদনা শুরু হলো। ফলে আবু তালহা তাঁর কারণে আটকে গেলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে এগিয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: আবু তালহা বলতে লাগলেন, "হে আমার রব, আপনি নিশ্চয়ই জানেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে বের হন তখন তাঁর সাথে বের হতে এবং তিনি যখন প্রবেশ করেন তখন তাঁর সাথে প্রবেশ করতে আমি পছন্দ করি। কিন্তু এখন আমি আটকে পড়েছি যা আপনি দেখছেন।" উম্মে সুলাইম বললেন, "হে আবু তালহা, আমি আগের মতো প্রসব বেদনা অনুভব করছি না, আপনি চলুন।" সুতরাং তাঁরা চলতে লাগলেন এবং পৌঁছানোর পর তাঁর প্রসব বেদনা উঠলো এবং তিনি একটি পুত্র সন্তান প্রসব করলেন। আমার মা (উম্মে সুলাইম) আমাকে বললেন, "হে আনাস, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিয়ে যাওয়ার আগে কেউ যেন তাকে দুধ পান না করায়।" যখন সকাল হলো, আমি নবজাতককে নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলাম। এরপর তিনি পূর্ণ হাদিসটি উল্লেখ করলেন।

২১/৪৫- আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "কুস্তিতে অন্যকে আছাড় দিয়ে হারিয়ে দেওয়া প্রকৃত শক্তিশালী হওয়া নয়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।" (বুখারী ও মুসলিম)।

"আস-সুরাআহ" শব্দটি 'সদ' বর্ণে পেশ এবং 'রা' বর্ণে জবর সহ। আরবদের নিকট এর মূল অর্থ হলো সেই ব্যক্তি যে মানুষকে প্রচুর আছাড় দেয়।

২২/৪৬- সুলায়মান ইবনে সুরাদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বসা ছিলাম এবং দুই ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিচ্ছিল। তাদের একজনের মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল এবং ঘাড়ের রগ ফুলে উঠেছিল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি নিশ্চয়ই এমন একটি বাক্য জানি যা যদি..."
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٤٩)
قَالَهَا لَذَهَبَ عنْهُ مَا يجِدُ، لوْ قَالَ: أَعْوذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ ذَهَبَ منْهُ مَا يجدُ "فقَالُوا لَهُ: إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ:"تعوَّذْ بِاللِّهِ مِن الشَّيَطان الرَّجِيمِ". متفقٌ عَلَيهِ.

23/47- وعنْ مُعاذ بْنِ أَنَسٍ رضي الله عنه أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ كظَمَ غَيظاً، وهُو قَادِرٌ عَلَى أَنْ يُنْفِذَهُ، دَعَاهُ اللَّهُ سبحانه وتعالى عَلَى رُؤُوسِ الْخلائقِ يَوْمَ الْقِيامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ مِنَ الْحُورِ الْعِينِ مَا شَاءَ" رواه أَبُو داوُدَ، والتِّرْمِذيُّ وَقالَ: حديثٌ حسنٌ.

24/48- وعنْ أَبِي هُريْرَةَ رضي الله عنه أَنَّ رَجُلاً قَالَ للنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم: أوْصِني، قَالَ: "لا تَغضَبْ"فَردَّدَ مِراراً قَالَ،"لا تَغْضَبْ" رواه البخاريُّ.

25/49- وَعَنْ أَبي هُرَيْرةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "مَا يَزَال الْبَلاءُ بِالْمُؤْمِنِ وَالْمؤمِنَةِ في نَفْسِهِ وَولَدِهِ ومَالِهِ حَتَّى يَلْقَى اللَّه تَعَالَى وَمَا عَلَيْهِ خَطِيئَةٌ" رواه التِّرْمِذيُّ وَقالَ: حديثٌ حسنٌ صحِيحٌ.

26/50- وَعَنْ ابْن عَبَاسٍ رضي الله عنهما قَالَ: قَدِمَ عُيَيْنَة بْنُ حِصْنٍ فَنَزلَ عَلَى ابْنِ أَخيِهِ الْحُر بْنِ قَيْسٍ، وَكَانَ مِن النَّفَرِ الَّذِين يُدْنِيهِمْ عُمرُ رضي الله عنه، وَكَانَ الْقُرَّاءُ أَصْحابَ مَجْلِسِ عُمَرَ رضي الله عنه وَمُشاوَرَتِهِ كُهولاً كَانُوا أَوْ شُبَّاناً، فَقَالَ عُييْنَةُ لابْنِ أَخيِهِ: يَا ابْنَ أَخِى لَكَ وَجْهٌ عِنْدَ هَذَا الأمِيرِ فَاسْتَأْذِنْ لِي عَلَيْهِ، فاستَأذنَ فَأَذِنَ لَهُ عُمرُ. فَلَمَّا دخَلَ قَالَ: هِيْ يَا ابْنَ الْخَطَّاب، فَوَاللَّه مَا تُعْطِينَا الْجَزْلَ وَلا تَحْكُمُ فِينَا بالْعَدْل، فَغَضِبَ عُمَرُ رضي الله عنه حتَّى هَمَّ أَنْ يُوقِعَ بِهِ فَقَالَ لَهُ الْحُرُّ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ اللَّه تعَالى قَال لِنبِيِّهِ صلى الله عليه وسلم: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [سورة الأعراف: 198] وإنَّ هَذَا مِنَ الجاهلينَ، وَاللَّه مَا جاوَزَها عُمَرُ حِينَ تَلَاهَا، وكَانَ وَقَّافاً عِنْد كِتَابِ اللَّهِ تَعَالَى رواه البخاري.

27/51- وعَن ابْنِ مسْعُودٍ رضي الله عنه أنَّ رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّهَا سَتكُونُ بَعْدِى أَثَرَةٌ
তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "যদি সে এটি বলত, তবে তার যা (রাগ) অনুভূত হচ্ছে তা চলে যেত। যদি সে বলত: আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তবে তার যা অনুভূত হচ্ছে তা দূর হয়ে যেত।" অতঃপর তারা তাকে বলল, "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।" (বুখারি ও মুসলিম)।

২৩/৪৭- মুয়াজ ইবনে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি নিজের রাগকে সংবরণ করে, অথচ সে তা কার্যকর করার ক্ষমতা রাখে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাকে কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টির সামনে ডেকে আনবেন এবং তাকে জান্নাতের ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদের মধ্য থেকে যাকে খুশি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেবেন।" (আবু দাউদ ও তিরমিজি; ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি হাসান হাদিস)।

২৪/৪৮- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বললেন, "আমাকে উপদেশ দিন।" তিনি বললেন: "রাগ করো না।" লোকটি বারবার একই প্রার্থনা করল, আর তিনি প্রত্যেকবারই বললেন: "রাগ করো না।" (বুখারি)।

২৫/৪৯- আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মুমিন নর-নারীর নিজের ওপর, তার সন্তান ও সম্পদের ওপর বিপদ-আপদ লেগেই থাকে, যতক্ষণ না সে মহান আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে তার আর কোনো গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।" (তিরমিজি; তিনি বলেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস)।

২৬/৫০- ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উয়ায়না ইবনে হিসন এসে তার ভ্রাতুষ্পুত্র আল-হুর ইবনে কাইসের নিকট অবস্থান করলেন। তিনি (হুর) ছিলেন সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নিজের সান্নিধ্যে রাখতেন। আর ক্বারীগণই (কুরআনের আলেমগণ) ছিলেন ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মজলিসের সদস্য ও পরামর্শদাতা, তারা বৃদ্ধ হোন কিংবা যুবক। উয়ায়না তার ভ্রাতুষ্পুত্রকে বললেন: "হে ভ্রাতুষ্পুত্র! এই আমিরের কাছে তোমার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে, সুতরাং আমার জন্য তাঁর কাছে সাক্ষাতের অনুমতি প্রার্থনা করো।" তিনি অনুমতি চাইলেন এবং ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে অনুমতি দিলেন। যখন তিনি প্রবেশ করলেন, তখন বললেন: "ওহে খাত্তাবের পুত্র! আল্লাহর কসম, আপনি আমাদের পর্যাপ্ত দান করেন না এবং আমাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে বিচার করেন না।" এতে ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন, এমনকি তিনি তাকে শাস্তি দিতে উদ্যত হলেন। তখন হুর তাঁকে বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আল্লাহ তাআলা তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলেছেন: {আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন, সৎকাজের নির্দেশ দিন এবং অজ্ঞদের এড়িয়ে চলুন} [সূরা আল-আরাফ: ১৯৯]। আর এই ব্যক্তি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত।" আল্লাহর কসম! যখন হুর এই আয়াতটি পাঠ করলেন, ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আর তা অতিক্রম করলেন না; তিনি আল্লাহর কিতাবের বিধানের সামনে অত্যন্ত বিনম্র ও অটল থাকতেন। (বুখারি)।

২৭/৫১- ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার পর স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব দেখা দেবে..."
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٥٠)
وَأُمُورٌ تُنْكِرونَها، قَالُوا: يَا رسُولَ اللَّهِ فَما تَأمرُنا؟ قالَ: تُؤَدُّونَ الْحقَّ الَّذي عَلَيْكُمْ وتَسْألونَ اللَّه الَّذِي لكُمْ" متفقٌ عَلَيهِ.

"والأَثَرَةُ": الانفرادُ بالشيْءِ عمَّنْ لَهُ فيهِ حقٌّ.

28/52- وَعن أبي يحْيَى أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ رضي الله عنه أَنَّ رَجُلاً مِنَ الأَنْصَارِ قَالَ: يَا رسولَ اللَّهِ أَلا تَسْتَعْمِلُني كَمَا اسْتْعْملتَ فُلاناً وفلاناً فَقَالَ:"إِنَّكُمْ سَتَلْقَوْنَ بَعْدي أَثَرَةً فاصْبِرُوا حَتَّى تلقَوْنِي علَى الْحوْضِ" متفقٌ عَلَيهِ.

"وأُسَيْدٌ"بِضَمِّ الْهمْزةِ."وحُضَيْرٌ"بِحاءٍ مُهْمَلَةٍ مضمُومَةٍ وضادٍ مُعْجَمَةٍ مفْتُوحةٍ، واللَّهُ أَعْلَمُ.

29/53- وَعنْ أبي إِبْراهيمَ عَبْدِ اللَّه بْنِ أبي أَوْفي رضي الله عنهما أَنَّ رسولَ اللَّه صلى الله عليه وسلم في بعْضِ أَيَّامِهِ التي لَقِيَ فِيهَا الْعَدُوَّ، انْتَظرَ حَتَّى إِذَا مَالَتِ الشَّمْسُ قَامَ فِيهمْ فَقَالَ: "يَا أَيُّهَا النَّاسُ لا تَتَمنَّوا لِقَاءَ الْعدُوِّ، وَاسْأَلُوا اللَّه العَافِيَةَ، فَإِذَا لقيتُموهم فاصْبرُوا، وَاعْلَمُوا أَنَّ الْجَنَّة تَحْتَ ظِلَالِ السُّيُوفِ" ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "اللَّهُمَّ مُنْزِلَ الْكِتَابِ وَمُجْرِيَ السَّحَابِ، وَهَازِمَ الأَحْزابِ، اهْزِمْهُمْ وَانْصُرْنا عَلَيْهِمْ". متفقٌ عليه وباللَّه التَّوْفيقُ.
"এবং এমন সব বিষয় (দেখবে) যা তোমরা অপছন্দ করবে।" তাঁরা বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাদের কী আদেশ দিচ্ছেন?" তিনি বললেন, "তোমাদের ওপর যে হক (কর্তব্য) রয়েছে তা তোমরা পালন করবে এবং তোমাদের যে হক (প্রাপ্য) রয়েছে তা আল্লাহর কাছে চাইবে।" (বুখারী ও মুসলিম)।

"আল-আসারাহ" অর্থ হলো: যার প্রাপ্য অধিকার রয়েছে তাকে বাদ দিয়ে কোনো বস্তুকে নিজের জন্য এককভাবে গ্রহণ করা।

২৮/৫২- আবু ইয়াহইয়া উসায়েদ ইবনে হুদাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আনসারদের জনৈক ব্যক্তি বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে (রাষ্ট্রীয় কাজে) নিয়োগ দেবেন না যেমন আপনি অমুক অমুককে নিয়োগ দিয়েছেন?" তিনি বললেন, "নিশ্চয়ই তোমরা আমার পরে পক্ষপাতিত্ব দেখতে পাবে, সুতরাং তোমরা ধৈর্য ধারণ করো যতক্ষণ না হাউজের নিকট আমার সাথে সাক্ষাৎ করো।" (বুখারী ও মুসলিম)।

"উসায়েদ" শব্দটি হামযাহ-র পেশ সহযোগে এবং "হুদাইর" শব্দটি নুকতাহহীন 'হা'-এর পেশ ও নুকতাহযুক্ত 'দাদ'-এর যবর সহযোগে উচ্চারিত হবে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

২৯/৫৩- আবু ইব্রাহীম আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুদ্ধের কোনো একদিনে শত্রুর মুখোমুখি হলেন এবং সূর্য হেলে পড়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলেন। অতঃপর তিনি লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, "হে লোকসকল! তোমরা শত্রুর সাথে মুকাবিলার আকাঙ্ক্ষা করো না এবং আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করো। তবে যখন তোমরা তাদের মুখোমুখি হও তখন ধৈর্য ধারণ করো এবং জেনে রেখো যে, জান্নাত তরবারির ছায়ার নিচে।" অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, "হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, মেঘমালা পরিচালনাকারী এবং সম্মিলিত শত্রু বাহিনীকে পরাজিতকারী! আপনি তাদের পরাজিত করুন এবং তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন।" (বুখারী ও মুসলিম)। আর আল্লাহর তাওফীকেই সাফল্য অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٥٠)
4-‌‌ باب الصدق

قَالَ الله تَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ} [التوبة: 119] وَقالَ تَعَالَى:
৪-‌‌ সত্যবাদিতার অধ্যায়

আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।” [আত-তাওবাহ: ১১৯] এবং তিনি আরও বলেন:
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٥١)
{وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ} [الأحزاب: 35] وَقالَ تَعَالَى: {فَلَوْ صَدَقُوا اللَّهَ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ} [محمد: 21]

وأما الأحاديث:

1/54- فَالأَوَّلُ: عَن ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه عن النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "إِنَّ الصَّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ ليصْدُقُ حَتَّى يُكتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقاً، وإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الفجُورِ وَإِنَّ الفجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَكْذِبُ حَتَّى يُكتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّاباً" متفقٌ عَلَيهِ.

2/55- الثَّاني: عَنْ أبي مُحَمَّدٍ الْحَسنِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ أبي طَالِبٍ، رضي الله عنهما، قَالَ حفِظْتُ مِنْ رسولِاللَّه صلى الله عليه وسلم: "دَعْ مَا يَرِيبُكَ إِلَى مَا لَا يَريبُكَ، فَإِنَّ الصِّدْقَ طُمأنينَةٌ، وَالْكَذِبَ رِيبةٌ" رواه التِرْمذي وَقالَ: حديثٌ صحيحٌ.

قَوْلُهُ:"يرِيبُكَ"هُوَ بفتحِ الياء وضَمِّها، وَمَعْناهُ: اتْرُكْ مَا تَشُكُّ في حِلِّه، واعْدِلْ إِلى مَا لا تَشُكُّ فِيهِ.

3/56- الثَّالثُ: عنْ أبي سُفْيانَ صَخْرِ بْنِ حَربٍ. رضي الله عنه. في حديثِه الطَّويلِ في قِصَّةِ هِرقْلُ، قَالَ هِرقْلُ: فَماذَا يَأْمُرُكُمْ يعْني النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَبُو سُفْيَانَ: قُلْتُ: يقولُ"اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ لا تُشرِكُوا بِهِ شَيْئاً، واتْرُكُوا مَا يَقُولُ آباؤُكُمْ، ويَأْمُرنَا بالصَّلاةِ والصِّدقِ، والْعفَافِ، والصِّلَةِ". متفقٌ عليه.

4/57- الرَّابِعُ: عَنْ أبي ثَابِتٍ، وقِيلَ: أبي سعيدٍ، وقِيلَ: أبي الْولِيدِ، سَهْلِ بْنِ حُنيْفٍ، وَهُوَ بدرِيٌّ، رضي الله عنه، أَن النبيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنْ سَأَلَ اللَّهَ، تعالَى الشِّهَادَة بِصِدْقٍ بَلَّغهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهدَاء، وإِنْ مَاتَ عَلَى فِراشِهِ" رواه مسلم.

5/58- الخامِسُ: عَنْ أبي هُريْرة رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "غَزَا نَبِيٌّ مِنَ
{এবং সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারীগণ} [আল-আহজাব: ৩৫] এবং মহান আল্লাহ বলেন: {যদি তারা আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকারে সত্যবাদী হতো, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো} [মুহাম্মাদ: ২১]

আর হাদিসসমূহ:

১/৫৪- প্রথম হাদিস: ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই সত্যবাদিতা পুণ্যের দিকে পরিচালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ সত্য বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট পরম সত্যবাদী (সিদ্দীক) হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। আর নিশ্চয়ই মিথ্যাচার পাপাচারের দিকে পরিচালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করে। আর মানুষ মিথ্যা বলতে থাকে যতক্ষণ না সে আল্লাহর নিকট চরম মিথ্যাবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি/বুখারি ও মুসলিম)।

২/৫৫- দ্বিতীয় হাদিস: আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে মুখস্থ করেছি: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা বর্জন করো এবং যাতে তোমার সন্দেহ নেই তা গ্রহণ করো। কেননা সত্য হলো প্রশান্তি এবং মিথ্যা হলো সংশয়।" (তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি একটি সহিহ হাদিস)।

তাঁর উক্তি: "ইয়ারিবুকা" শব্দটি 'ইয়া' বর্ণে জবর এবং পেশ উভয় ভাবেই পড়া যায়। এর অর্থ হলো: যা হালাল হওয়ার বিষয়ে তোমার সন্দেহ রয়েছে তা বর্জন করো এবং যাতে কোনো সন্দেহ নেই তার দিকে ধাবিত হও।

৩/৫৬- তৃতীয় হাদিস: আবু সুফিয়ান সাখর ইবনে হারব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে হিরাক্লিয়াস সংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসে বর্ণিত আছে, হিরাক্লিয়াস জিজ্ঞেস করল: তিনি (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের কিসের আদেশ দেন? আবু সুফিয়ান বলেন: আমি বললাম: তিনি বলেন, "তোমরা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা যা বলত তা বর্জন করো।" আর তিনি আমাদের নামাজ, সত্যবাদিতা, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার আদেশ দেন। (মুত্তাফাকুন আলাইহি/বুখারি ও মুসলিম)।

৪/৫৭- চতুর্থ হাদিস: আবু সাবিত, মতান্তরে আবু সাঈদ, মতান্তরে আবু ওয়ালিদ সাহল ইবনে হুনাইফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)—যিনি বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন—থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সত্য হৃদয়ে মহান আল্লাহর নিকট শাহাদাত কামনা করে, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যদায় পৌঁছে দেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।" (মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন)।

৫/৫৮- পঞ্চম হাদিস: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নবীদের মধ্য থেকে একজন নবী যুদ্ধ পরিচালনা করেন...
(খণ্ড: ১) রিয়াদুস সালিহীন - তা আর-রিসালাতুত সানি (পৃষ্ঠা: ٥٢)
الأَنْبِياءِ صلواتُ اللَّه وسلامُهُ علَيهِمْ فَقَالَ لقوْمِهِ: لا يتْبعْني رَجُلٌ ملَكَ بُضْعَ امْرَأَةٍ. وَهُوَ يُرِيدُ أَن يَبْنِيَ بِهَا وَلَمَّا يَبْنِ بِها، وَلا أَحدٌ بنَى بيُوتاً لَمْ يرفَع سُقوفَهَا، وَلا أَحَدٌ اشْتَرى غَنَماً أَوْ خَلَفَاتٍ وهُو يَنْتَظرُ أوْلادَهَا. فَغزَا فَدنَا مِنَ الْقَرْيةِ صلاةَ الْعصْرِ أَوْ قَريباً مِنْ ذلكَ، فَقَال للشَّمس: إِنَّكِ مَأمُورةٌ وأَنا مأمُورٌ، اللهمَّ احْبسْهَا علَينا، فَحُبستْ حَتَّى فَتَحَ اللَّهُ عليْهِ، فَجَمَعَ الْغَنَائِم، فَجاءَتْ يَعْنِي النَّارَ لتَأكُلهَا فَلَمْ تطْعمْهَا، فَقَالَ: إِنَّ فِيكُمْ غُلُولاً، فليبايعنِي منْ كُلِّ قبِيلَةٍ رجُلٌ، فلِزقتْ يدُ رَجُلٍ بِيدِهِ فَقَالَ: فِيكُم الْغُلولُ، فليبايعنِي قبيلَتُك، فلزقَتْ يدُ رجُليْنِ أو ثلاثَةٍ بِيَدِهِ فقَالَ: فِيكُمُ الْغُلُولُ، فَجاءوا برَأْسٍ مِثْلِ رَأْس بَقَرَةٍ مِنْ الذَّهبِ، فوضَعها فَجَاءَت النَّارُ فَأَكَلَتها، فلمْ تَحل الْغَنَائِمُ لأحدٍ قَبلَنَا، ثُمَّ أَحَلَّ اللَّهُ لَنا الغَنَائِمَ لمَّا رأَى ضَعفَنَا وعجزنَا فأحلَّها لنَا" متفقٌ عَلَيهِ.

"الخلفاتُ"بفتحِ الخاءِ المعجمة وكسرِ اللامِ: جمْعُ خَلِفَةٍ، وهِي النَّاقَةُ الحاملُ.

6/59- السادِسُ: عن أبي خالدٍ حكيمِ بنِ حزَامٍ. رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم: "الْبيِّعَان بالخِيارِ مَا لَمْ يَتفرَّقا، فإِن صدقَا وبيَّنا بوُرِك لهُما في بَيعْهِما، وإِن كَتَما وكذَبَا مُحِقَتْ بركةُ بيْعِهِما" متفقٌ عليه.
নবীগণের মধ্য থেকে একজন (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁদের উপর বর্ষিত হোক) তাঁর কওমকে বললেন: "এমন কোনো ব্যক্তি যেন আমার অনুসরণ না করে যে কোনো নারীর সাথে বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে কিন্তু তার সাথে বাসর সম্পন্ন করতে চায় অথচ এখনও তা করেনি। আর এমন কোনো ব্যক্তিও নয় যে ঘর নির্মাণ করেছে কিন্তু তার ছাদ উঠায়নি। আর এমন ব্যক্তিও নয় যে বকরি বা গর্ভবতী উটনি ক্রয় করেছে এবং সে সেগুলোর বাচ্চা প্রসবের অপেক্ষা করছে।" অতঃপর তিনি যুদ্ধে বের হলেন এবং আসরের নামাজের সময় বা তার কাছাকাছি সময়ে একটি জনপদের নিকটবর্তী হলেন। তিনি সূর্যকে লক্ষ্য করে বললেন: "নিশ্চয় তুমিও আদিষ্ট এবং আমিও আদিষ্ট। হে আল্লাহ! একে আমাদের জন্য থামিয়ে দিন।" ফলে সূর্যকে আটকে রাখা হলো যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁকে বিজয় দান করলেন। এরপর তিনি গনিমতের মাল একত্রিত করলেন। অতঃপর আগুন এলো (অর্থাৎ তা গ্রাস করার জন্য) কিন্তু তা খেল না। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎকারী রয়েছে। অতএব প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন ব্যক্তি যেন আমার কাছে বায়আত গ্রহণ করে।" তখন একজনের হাত তাঁর হাতের সাথে আটকে গেল। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে আত্মসাৎ রয়েছে। সুতরাং তোমার গোত্র যেন আমার কাছে বায়আত হয়।" তখন দুই বা তিনজনের হাত তাঁর হাতের সাথে আটকে গেল। তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যেই আত্মসাৎ রয়েছে।" অতঃপর তারা গরুর মাথার সমান একটি স্বর্ণের মাথা নিয়ে এলো এবং সেটি রাখা হলো। এরপর আগুন এলো এবং তা খেয়ে ফেলল। আমাদের পূর্ববর্তী কারও জন্য গনিমতের মাল হালাল ছিল না। এরপর আল্লাহ আমাদের দুর্বলতা ও অক্ষমতা দেখে আমাদের জন্য গনিমতের মাল হালাল করে দিয়েছেন। (বুখারি ও মুসলিম)।

‘আল-খালিফাত’ (খা বর্ণের ওপর জবর এবং লাম বর্ণের নিচে জের যোগে): এটি ‘খালিফাহ’ শব্দের বহুবচন, আর তা হলো গর্ভবতী উটনি।

৬/৫৯- ষষ্ঠ: আবু খালিদ হাকিম ইবনে হিযাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) ইখতিয়ার থাকে। যদি তারা সত্য বলে এবং (পণ্যের দোষ-ত্রুটি) স্পষ্ট করে প্রকাশ করে, তবে তাদের কেনা-বেচায় বরকত দান করা হয়। আর যদি তারা (কোনো কিছু) গোপন করে এবং মিথ্যা বলে, তবে তাদের কেনা-বেচার বরকত মিটিয়ে দেওয়া হয়।" (বুখারি ও মুসলিম)।