(খণ্ড: ১)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: -)
روضة الناظر وجنة المناظر - ت شعبان القسم: أصول الفقه
الكتاب: روضة الناظر وجنة المناظر في أصول الفقه على مذهب الإمام أحمد بن حنبل
المؤلف: موفق الدين عبد الله بن أحمد بن قدامة الجماعيلي (541 - 620 هـ)
قدم له ووضح غوامضه وخرج شواهده: الدكتور شعبان محمد إسماعيل [ت 1443 هـ]
الناشر: مؤسسة الريّان للطباعة والنشر والتوزيع
الطبعة: الطبعة الثانية 1423 هـ-2002 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মুনাযির - শা'বান তাহকীককৃত বিভাগ: উসূলে ফিকহ
কিতাব: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর মাযহাব অনুযায়ী উসূলে ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ রওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মুনাযির
লেখক: মুয়াফফাকুদ্দিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামাহ আল-জামাঈলী (৫৪১ - ৬২০ হিজরী)
ভূমিকা, অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা এবং উদ্ধৃতি যাচাই: ডক্টর শা'বান মুহাম্মদ ইসমাইল [মৃত্যু ১৪৪৩ হিজরী]
প্রকাশক: মুআসসাসাতুর রায়্যান মুদ্রণ ও প্রকাশনা সংস্থা
সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪২৩ হিজরী-২০০2 খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٥)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
صلى الله عليه وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
وبعد:
فمن فضل الله -تعالى- على عباده: أنه -سبحانه- بعد أن استخلفهم على هذه البسيطة لم يتركهم يخططون منهاج حياتهم، لأن العقل البشري مهما أوتي من الفطنة والذكاء يعتريه القصور، وتنتابه الشوائب، ولا يعلم الغيب، وتختلف مدارك الناس حول المصلحة الحقيقية التي ينشدونها، ولذلك: يحسّن بعض الناس ما هو عند غيرهم قبيحًا وبالعكس، بل قد يحسن الإنسان اليوم ما كان في نظره بالأمس قبيحًا ويقبح ما كان عنده قبل ذلك حسنًا.
প্রথম খণ্ডভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের ওপর আল্লাহর সালাত বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
বান্দাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: তিনি সুবহানাহু ওয়া তাআলা এই পৃথিবীতে তাদেরকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ করার পর তাদের জীবনবিধান প্রণয়নের ভার তাদের নিজেদের ওপর ছেড়ে দেননি। কারণ মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে যতই বিচক্ষণতা ও মেধা দান করা হোক না কেন, তা সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটিবিচ্যুতি দ্বারা আক্রান্ত হয় এবং তা অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না। আর মানুষ যে প্রকৃত কল্যাণের প্রত্যাশা করে, সে বিষয়ে তাদের উপলব্ধি ও চিন্তা-ভাবনাও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। একারণেই কিছু মানুষ এমন বিষয়কে উত্তম মনে করে যা অন্যদের নিকট মন্দ এবং এর বিপরীতও ঘটে থাকে। এমনকি আজ একজন মানুষ যে বিষয়কে উত্তম মনে করছে, গতকাল তার দৃষ্টিতে তা মন্দ ছিল এবং ইতিপূর্বে যা তার নিকট উত্তম ছিল, এখন তা মন্দ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٦)
ومن هنا تولى الله -سبحانه- عباده من أول الأمر بالعناية والتوجيه، وبيان المنهج الذي يجب أن يسيروا عليه. جاء ذلك واضحًا في قصة أبي البشر، بعد أن أهبطه الله -تعالى- إلى الأرض هو وزوجه "حواء" يقول الله -تعالى-: {قَالَ اهْبِطَا مِنْهَا جَمِيعًا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى، وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى، قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيرًا، قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ آيَاتُنَا فَنَسِيتَهَا وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى، وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِآياتِ رَبِّهِ وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى} 1.
وتتابعت الشرائع بعد ذلك توضح منهج الله -تعالى- لكل أمة حسب ظروفها ومقتضيات أحوالها، عن طريق رسول منها، بلغتها التي تتخاطب بها {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 2.
ولما شاء الله -تعالى- أن يختم هذه السلسلة المباركة من الأنبياء والمرسلين، اختار أفضل خلقه، وأكمل رسله، فحمّله الرسالة الخاتمة التي جمعت كل ما تحتاج إليه البشرية في حياتها الدنيوية، وما تعدّ له في حياتها الآخرة، فكانت بمثابة حجر الزاوية الذي يمسك أركان البناء. قال تعالى: {بَلْ جَاءَ بِالْحَقِّ وَصَدَّقَ الْمُرْسَلِينَ} 3.
وقال صلى الله عليه وسلم: "مثلي في النبيين كمثل رجل بنى دارًا فأحسنها وأكملها وأجملها، وترك فيها موضع لبنة لم يضعها، فجعل الناس يطوفون بالبنيان ويعجبون منه ويقولون: لو تم موضع هذه اللبنة؟ فأنا في
--------------------------------------------
আর এখান থেকেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা প্রথম থেকেই তাঁর বান্দাদের যত্ন ও নির্দেশনার দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সেই পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন যার ওপর তাদের চলতে হবে। মানবজাতির পিতার কাহিনীতে তা স্পষ্টভাবে এসেছে, যখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রী 'হাওয়া'কে পৃথিবীতে নামিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনি বললেন, তোমরা উভয়ে এখান থেকে একসাথে নেমে যাও, তোমাদের একে অপর হবে শত্রু। এরপর আমার পক্ষ থেকে যখন তোমাদের কাছে হিদায়াত আসবে, তখন যে ব্যক্তি আমার হিদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য অবশ্যই হবে এক সংকীর্ণ জীবন এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় সমবেত করব। সে বলবে, হে আমার রব! কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় সমবেত করলেন? অথচ আমি তো চক্ষুষ্মান ছিলাম। তিনি বলবেন, এভাবেই তোমার কাছে আমার আয়াতসমূহ এসেছিল, কিন্তু তুমি তা ভুলে গিয়েছিলে; আর এভাবেই আজ তোমাকে ভুলে যাওয়া হবে। আর এভাবেই আমি প্রতিদান দিয়ে থাকি তাকে, যে বাড়াবাড়ি করে এবং তার রবের আয়াতসমূহে ঈমান আনে না। আর আখিরাতের আজাব অবশ্যই অধিক কঠোর ও অধিক স্থায়ী।" ১।
এরপর ধারাবাহিকভাবে শরীয়তসমূহ আসতে থাকে যা প্রতিটি জাতির পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের দাবি অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকেই প্রেরিত রাসূলের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার বিধান স্পষ্ট করে দেয়, এবং তা ছিল তাদের নিজস্ব ভাষায় যা তারা একে অপরের সাথে বিনিময়ে ব্যবহার করত। "আর আমি প্রত্যেক রাসূলকে তাঁর কওমের ভাষাতেই পাঠিয়েছি যাতে তিনি তাদের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন। এরপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" ২।
আর যখন আল্লাহ তাআলা নবী ও রাসূলদের এই বরকতময় ধারাবাহিকতা সমাপ্ত করার ইচ্ছা করলেন, তখন তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে সর্বোত্তম এবং রাসূলদের মধ্যে পূর্ণতমকে বেছে নিলেন। অতঃপর তাঁকে শেষ রিসালাতের দায়িত্ব অর্পণ করলেন যা মানবজাতির দুনিয়াবী জীবনের সকল প্রয়োজন এবং আখিরাতের পাথেয়কে একত্রিত করেছে। ফলে এটি ছিল একটি ইমারতের সেই কোণের ইটের মতো যা নির্মাণের স্তম্ভসমূহকে ধরে রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং রাসূলদের সত্যায়ন করেছেন।" ৩।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "নবীদের মধ্যে আমার উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল এবং তাকে অতীব সুন্দর, পূর্ণাঙ্গ ও সুশোভিত করল, কিন্তু তাতে একটি ইটের জায়গা ফাঁকা রেখে দিল যা স্থাপন করা হয়নি। অতঃপর মানুষ সেই ইমারতের চারদিকে ঘুরতে লাগল এবং বিস্ময় প্রকাশ করে বলতে লাগল: যদি এই ইটের জায়গাটি পূর্ণ করা হতো? সুতরাং আমি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٧)
النبيين موضع تلك اللبنة" 1.
ومقتضى كون شريعة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم خاتمة المطاف، ومتضمنه لمنهج الله -تعالى- في صورته الأخيرة، مقتضى ذلك:
أ- حفظ أصول هذا الدين من التحريف والتبديل {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 2.
ب- جعل معجزته الأساسية في كتاب يخاطب العقل، ويحقق مقتضيات الفطرة والصفات الإنسانية الثابتة، ليكون مستمر الإعجاز والتأثير إلى يوم القيامة، على عكس ما كان من معجزات السابقين، حيث كانت محصورة في المحسوسات، باعتبارها مؤقتة بوقت معين، ولأناس معينين.
أما شريعة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فكانت، ولا تزال إلى كل البشر، وعلى جميع المستويات، حتى يرث الله الأرض ومن عليها.
ج- جمعه بين ما هو ثابت لا يتغير، وبين ما هو متغير حسب ظروف الناس وأحوالهم، ولذلك كانت الأحكام الشرعية شاملة للقطعي الذي لا مجال فيه للاجتهاد والرأي، لأن المصلحة في ثباته، كما شملت ما يسمى بالظني الذي فيه سعة ومجال للبحث والنظر، وهي ما تسمى بالأمور الاجتهادية، تمشيًا مع طبيعة الحياة وتغير ظروف الناس، حتى تكون الشريعة متسعة لكل ما يجدّ للناس من وقائع، فيجد فيها المسلم حاجته، ولا يحتاج -بعد ذلك- إلى شيء من التشريعات الوضعية التي يظهر نقصها من حين لآخر.
--------------------------------------------
নবীদের মাঝে সেই ইটের স্থান" ১।
এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরিয়ত সমাপ্তি হওয়ার এবং তা মহান আল্লাহর জীবনবিধানের চূড়ান্ত রূপকে অন্তর্ভুক্ত করার অনিবার্য দাবি হলো:
ক- এই দ্বীনের মূলনীতিসমূহকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষা প্রদান করা। "নিশ্চয়ই আমি উপদেশবাণী (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর হেফাজতকারী।" ২।
খ- তাঁর প্রধান মুজিজাকে এমন একটি কিতাবের মধ্যে নিহিত রাখা যা আকল বা বুদ্ধিকে সম্বোধন করে এবং মানুষের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও স্থায়ী মানবিক গুণাবলির দাবি পূরণ করে; যাতে কিয়ামত পর্যন্ত এর অলৌকিকত্ব ও প্রভাব অব্যাহত থাকে। এটি পূর্ববর্তী নবীদের মুজিজাসমূহের বিপরীত, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, যেহেতু সেগুলো একটি নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট একদল মানুষের জন্য সাময়িক ছিল।
পক্ষান্তরে আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরিয়ত সমগ্র মানবজাতির জন্য এবং সর্বস্তরের জন্য ছিল এবং থাকবে, যে পর্যন্ত না আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হন।
গ- যা অপরিবর্তনীয় ও শাশ্বত এবং যা মানুষের অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পরিবর্তনশীল—এই উভয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন। এই কারণেই শরিয়তের বিধানসমূহ এমন সুনিশ্চিত (কাতঈ) বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে যাতে ইজতিহাদ বা মতামতের কোনো অবকাশ নেই, কারণ তার স্থায়িত্বের মধ্যেই কল্যাণ নিহিত। পাশাপাশি এটি এমন বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে যাকে ধারণাপ্রসূত (জান্নি) বলা হয়, যেখানে গবেষণা ও পর্যালোচনার প্রশস্ততা ও অবকাশ রয়েছে। আর এগুলোকেই ইজতিহাদি বিষয় বলা হয়, যা জীবনের প্রকৃতি ও মানুষের পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সংগতিপূর্ণ। এর ফলে শরিয়ত মানুষের জীবনে উদ্ভূত সকল ঘটনার জন্য প্রশস্ত হয় এবং মুসলিমরা তাতে তাদের প্রয়োজনীয় সমাধান খুঁজে পায়। এর ফলে তাদের আর এমন কোনো মানবরচিত আইনের মুখাপেক্ষী হতে হয় না, যার ত্রুটি সময় সময় প্রকাশ পায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٨)
وبذلك تواكب الشريعة الإسلامية حركة الحياة في نموّها وازدهارها، من خلال وضع القواعد والضوابط التي تحقق مصالح العباد في العاجل والآجل.
ولذلك: كان من أهم الخصائص التي تميزت بها هذه الشريعة: أن أحكامها وتشريعاتها المختلفة قائمة على الحجة والدليل، ورد الأمور المتنازع فيها إلى الوحي الإلهي، المتمثل في القرآن والسنة، وما يلحق بهما عن طريق الاجتهاد من العلماء المؤهلين لذلك.
قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} 1.
فالرد إلى الله -تعالى- هو الرجوع إلى القرآن الكريم، والرد إلى الرسول صلى الله عليه وسلم يكون بالرجوع إليه صلى الله عليه وسلم في حياته وإلى سنّته بعد مماته كذا قال عمرو بن ميمون2.
وقال -تعالى- {وَإِذَا جَاءَهُمْ أَمْرٌ مِنَ الْأَمْنِ أَوِ الْخَوْفِ أَذَاعُوا بِهِ وَلَوْ رَدُّوهُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى أُولِي الْأَمْرِ مِنْهُمْ لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ......} 3.
والمراد بأولي الأمر -في هذه الآية- هم العلماء.
قال الشوكاني في تفسير قوله تعالي: {لَعَلِمَهُ الَّذِينَ يَسْتَنْبِطُونَهُ مِنْهُمْ} أي: يستخرجونه بتدبرهم وصحة عقولهم4.
ومعنى ذلك: أن العلماء المجتهدين هم الذين يستطيعون أن يفتوا
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ত তার প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধিতে জীবনের গতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে, এমন সব নিয়ম ও নীতিমালা নির্ধারণের মাধ্যমে যা ইহকাল ও পরকালে বান্দাদের কল্যাণ সাধন করে।
আর এই কারণেই: এই শরীয়তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো: এর বিভিন্ন বিধান ও আইনসমূহ দলিল ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোকে ঐশী ওহীর দিকে প্রত্যানয়ন করা, যা কুরআন ও সুন্নাহর মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ঐ সকল বিষয় যা যোগ্য আলেমদের ইজতিহাদের মাধ্যমে যুক্ত হয়।
মহান আল্লাহ বলেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো, আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদেরও। অতঃপর যদি কোনো বিষয়ে তোমাদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয়, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান এনে থাকো। এটাই উত্তম এবং পরিণতির দিক থেকে অতি উৎকৃষ্ট} ১।
সুতরাং মহান আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো কুরআন মাজীদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর কাছে এবং তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা; আমর ইবনে মাইমুন এমনই বলেছেন ২।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর যখন তাদের কাছে শান্তি বা ভয়ের কোনো সংবাদ আসে, তখন তারা তা প্রচার করে দেয়। অথচ যদি তারা তা রাসূলের কাছে এবং তাদের মধ্যকার উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী)-দের কাছে ফিরিয়ে দিতো, তবে তাদের মধ্যে যারা তা উদঘাটন করতে সক্ষম তারা অবশ্যই তা জানত......} ৩।
এই আয়াতে 'উলুল আমর' বলতে আলেমদের বোঝানো হয়েছে।
শাওকানী মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের মধ্যে যারা তা উদঘাটন করতে সক্ষম তারা অবশ্যই তা জানত} এর তাফসীরে বলেন, অর্থাৎ: যারা তাদের গভীর চিন্তা ও সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে তা আহরণ করে থাকেন ৪।
এর অর্থ হলো: মুজতাহিদ আলেমগণই ফতোয়া প্রদানে সক্ষম
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٩)
في الوقائع التي ليس فيها نص معين، على ضوء قواعد الشريعة ومقاصدها العامة، وروحها السمحة، وعلى أساس دلالات الألفاظ اللغوية، باعتبار أن القرآن الكريم نزل من عند الله -تعالى- بلسان عربي مبين، وكذلك السنة النبوية، فهي كلام أفصح العرب على الإطلاق، سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.
وبذلك يظهر دور أصول الفقه في تطبيق هذه الخاصية، خاصية قيام الشريعة الإسلامية على الدليل والبرهان، فهو الذي يبين مصادر التشريع الإسلامي، ويذكر حجتها، ومراتبها في الاستدلال، وكيفية استخراج الأحكام من هذه المصادر، كما يبين صفات الشخص الذي يستطيع أن يستبط الأحكام من هذه المصادر، وهو المجتهد.
ولذلك عرّفه البيضاوي بقوله: "أصول الفقه: معرفة دلائل الفقه إجمالًا، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد"1 والمستفيد هنا: المجتهد الذي يستفيد حكم الله -تعالى- من الدليل.
وهذا يقتضي أن يكون المتصدي للاجتهاد واستنباط الأحكام الشرعية على درجة علمية تؤهله لذلك، وهي التي يعبر عنها علماء الأصول بشروط الاجتهاد.
وهذه الأهلية كانت موجودة لدى الصدر الأول من الصحابة رضي الله عنهم حيث كانوا أفقه الناس لروح الإسلام، وأعلمهم بمقاصده ومراميه، فقد تربوا في الحضرة النبوية، وعاشوا نزول الآيات وأسبابها، وورود الأحاديث النبوية، مع سلامة الفطرة ونور البصيرة، وجودة الفهم، وتمكن من اللغة، حيث كانت سليقة وسجية طبعوا عليها منذ نعومة أظفارهم.
--------------------------------------------
যেসব ঘটনাপ্রবাহে কোনো নির্দিষ্ট নস (মূল পাঠ) নেই, সেখানে শরীয়তের নীতিমালা ও এর সাধারণ লক্ষ্যসমূহ, এর উদার বৈশিষ্ট্য এবং শব্দের ভাষাগত তাৎপর্যের ভিত্তিতে [বিধান আহরণ করা হয়]। কারণ মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পবিত্র কুরআন সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে। একইভাবে সুন্নাতে নববীও, যা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশুদ্ধভাষী আরব আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী।
এর মাধ্যমেই এই বৈশিষ্ট্যটি বাস্তবায়নে উসূলে ফিকহের ভূমিকা স্পষ্ট হয়, আর তা হলো—ইসলামী শরীয়ত দলিল ও প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বৈশিষ্ট্য। উসূলে ফিকহই ইসলামী শরীয়তের উৎসসমূহ বর্ণনা করে, এগুলোর প্রামাণিকতা ও ইস্তিদলাল (দলিল প্রয়োগ)-এর স্তরবিন্যাস উল্লেখ করে এবং এই উৎসগুলো থেকে কীভাবে বিধান আহরণ করতে হয় তা শেখায়। তেমনি এটি সেই ব্যক্তির গুণাবলিও বর্ণনা করে, যিনি এই উৎসসমূহ থেকে বিধান উদ্ভাবন করতে সক্ষম, আর তিনি হলেন মুজতাহিদ।
এই কারণেই ইমাম বাইযাভী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "উসূলে ফিকহ হলো—সংক্ষেপে ফিকহের দলিলসমূহ সম্পর্কে জানা, সেগুলো থেকে বিধান গ্রহণের পদ্ধতি এবং বিধান গ্রহণকারীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া।"১ এখানে বিধান গ্রহণকারী (মুস্তাফিদ) হলেন মুজতাহিদ, যিনি দলিল থেকে মহান আল্লাহ তায়ালার বিধান গ্রহণ করেন।
এটি দাবি করে যে, ইজতিহাদ এবং শরয়ী বিধান উদ্ভাবনে ব্রতী ব্যক্তিকে এমন এক জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তরে থাকতে হবে যা তাকে এর যোগ্য করে তোলে; উসূলবিদগণ যেটিকে 'ইজতিহাদের শর্তাবলি' হিসেবে অভিহিত করেন।
এই যোগ্যতা প্রথম যুগের সাহাবায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কেননা তাঁরা ছিলেন ইসলামের প্রাণসত্তা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে গভীর প্রজ্ঞাবান এবং এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী। তাঁরা স্বয়ং নবুওয়াতের সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হয়েছেন, আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট ও কারণসমূহ প্রত্যক্ষ করেছেন এবং হাদিসসমূহের সূত্রপাত অবলোকন করেছেন। এর পাশাপাশি ছিল তাঁদের নির্মল স্বভাবজাত প্রকৃতি, অন্তর্দৃষ্টির জ্যোতি, প্রখর সমঝশক্তি এবং ভাষার ওপর পূর্ণ দখল; কারণ ভাষা ছিল তাঁদের মজ্জাগত ও স্বভাবজাত বিষয়, যার ওপর তাঁরা শৈশব থেকেই গড়ে উঠেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٠)
وقد علّمهم الرسول صلى الله عليه وسلم كيف يواجهون الأمور التي لم يرد فيها نص، وذلك بالاجتهاد وتبادل الرأي بين أهل العلم والصلاح.
روى سعيد بن المسيب عن علي رضي الله عنه قال: قلت يا رسول الله، الأمر ينزل بنا لم ينزل فيه قرآن، ولم تمض لك فيه سنّة؟
فقال صلى الله عليه وسلم "اجمعوا له العالمين، أو قال: العابدين من المؤمنين فاجعلوه شورى بينكم، ولا تقضوا فيه برأي واحد" 1.
وقد طبق الصحابة رضي الله عنهم ما وجههم إليه الرسول صلى الله عليه وسلم في كل شئونهم.
روى الدارمي والبيهقي عن ميمون بن مهران قال: "كان أبو بكر إذا ورد عليه الخصوم نظر في كتاب الله، فإن وجد فيه ما يقضي به قضى به بينهم، وإن لم يجد في كتاب الله نظر: هل كانت من النبي صلى الله عليه وسلم فيه سنّة؟ فإن علمها قضى بها، فإن لم يعلم، خرج فسأل المسلمين فقال: أتاني كذا وكذا
… فلم أجد في ذلك شيئًا، فهل تعلمون أن النبي صلى الله عليه وسلم قضى في ذلك بقضاء؟
فربما قام إليه الرهط فقالوا: نعم، قضى بكذا وكذا، فيأخذ بقضاء رسول الله صلى الله عليه وسلم ويقول عند ذلك: الحمد لله الذي جعل فينا من يحفظ عن نبينا.
فإن أعياه ذلك دعا رءوس المسلمين وعلماءهم فاستشارهم، فإذا اجتمع رأيهم على أمر قضى به"2.
وكذلك كان يفعل عمر بن الخطاب رضي الله عنه وكتابه إلى
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে শিখিয়েছেন যে, কীভাবে এমন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয় যে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নস (বিধান) বর্ণিত হয়নি; আর তা হলো ইজতিহাদ এবং ইলম ও নেক আমলদার ব্যক্তিদের পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে।
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সামনে এমন বিষয় উপস্থিত হয় যে বিষয়ে কোনো কুরআন নাযিল হয়নি এবং আপনার সুন্নাহ থেকেও কোনো বিধান পাওয়া যায় না?
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "সেজন্য জ্ঞানীদের একত্রিত করো—অথবা তিনি বলেছেন: মুমিনদের মধ্য থেকে ইবাদতগুজার ব্যক্তিদের—অতঃপর একে তোমাদের মাঝে পরামর্শের বিষয়ে পরিণত করো, এবং একক মতামতের ভিত্তিতে সে বিষয়ে ফয়সালা করো না" ১।
আর সাহাবায়ে কিরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুম তাঁদের সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করেছেন।
দারেমী ও বায়হাকী মাইমুন ইবনে মিহরান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুর নিকট যখন কোনো বিবাদমান পক্ষ আসত, তখন তিনি আল্লাহর কিতাবে দেখতেন। যদি তাতে ফয়সালা করার মতো কিছু পেতেন, তবে সেই অনুযায়ী তাদের মধ্যে ফয়সালা করে দিতেন। আর যদি আল্লাহর কিতাবে না পেতেন, তবে দেখতেন যে: এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ আছে কি না? যদি সে বিষয়ে তিনি অবগত থাকতেন, তবে সেই অনুযায়ী ফয়সালা করতেন। আর যদি জানা না থাকত, তবে তিনি বের হয়ে মুসলমানদের জিজ্ঞেস করতেন এবং বলতেন: আমার কাছে অমুক অমুক বিষয় এসেছে
… কিন্তু এ বিষয়ে আমি কিছু পাইনি। তোমরা কি জানো যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে কোনো ফয়সালা দিয়েছেন কি না?
তখন সম্ভবত একদল লোক দাঁড়িয়ে বলতেন: হ্যাঁ, তিনি এমন এমন ফয়সালা দিয়েছেন। তখন তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালাটি গ্রহণ করতেন এবং বলতেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিদের রেখেছেন যারা আমাদের নবী থেকে (সুন্নাহ) সংরক্ষণ করেছেন।
অতঃপর যদি সেটিও তাকে অক্ষম করে দিত (অর্থাৎ সমাধান না পাওয়া যেত), তবে তিনি মুসলমানদের প্রধানদের এবং তাঁদের আলিমদের ডাকতেন ও তাঁদের সাথে পরামর্শ করতেন। যখন কোনো বিষয়ে তাঁদের মতৈক্য হতো, তখন তিনি সেই অনুযায়ী ফয়সালা করতেন" ২।
অনুরূপভাবে ওমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-ও করতেন এবং তাঁর পত্র...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١١)
شريح القاضي مشهور ومعروف.
قال الشعبي: "قال عمر بن الخطاب: ما في كتاب الله وقضاء النبي صلى الله عليه وسلم فاقض به، فإذا أتاك ما ليس في كتاب الله ولم يقض به النبي صلى الله عليه وسلم فما قضى به أئمة العدل، وما لم يقض به أئمة العدل فأنت بالخيار، إن شئت أن تجتهد رأيك، وأن شئت تؤامرني، ولا أرى في مؤامرتك إياي إلا أسلم لك"1.
وفي بعض رواياته: "
… إذا جاءك أمر فاقض فيه بما في كتاب الله، فإن جاءك ما ليس في كتاب الله فاقض بما سنّ رسول الله، فإن جاءك ما ليس في كتاب الله ولم يسنه رسول الله فاقض بما أجمع عليه الناس، فإن جاءك ما ليس في كتاب الله ولم يسنه رسول الله ولم يتكلم به أحد، فاختر أي الأمرين شئت، فإن شئت فتقدم واجتهد رأيك، وإن شئت فأخره، ولا أرى التأخير إلا خيرًا لك"2.
وقد نقل عن بعض الصحابة رضي الله عنهم وقائع كثيرة تدل على تطبيقهم لهذا المنهج، وأن القواعد الأصولية التي يذكرها علماء الأصول -بعد التدوين- كانت موجودة لدى الصدر الأول من الصحابة رضي الله عنهم وإن لم تعرف بهذه التسمية، لأنه ما دام هناك فقه، فلا بد وأن تصحبه قواعد وأصول يتفرع عنها هذا الفقه:
أ- روى مالك في الموطأ: كتاب الأشربة "أن عمر بن الخطاب استشار في الخمر يشربها الرجل، فقال علي بن ابي طالب: نرى أن تجلده ثمانينن جلدة، فإنه إذا شرب سكر، وإذا سكر هذى، وإذا هذى افترى، فأرى عليه حد القذف، أو كما قال، فجلد عمر في الخمر ثمانين"3.
--------------------------------------------
বিচারক শুরাইহ সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ।
শা’বী বলেন: “উমর ইবনুল খাত্তাব বলেছেন: আল্লাহর কিতাবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালায় যা আছে, তা দিয়ে ফয়সালা করো। যদি তোমার কাছে এমন কিছু আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও ফয়সালা করেননি, তবে ন্যায়পরায়ণ ইমামগণ যা ফয়সালা করেছেন তা অনুসরণ করো। আর যা ন্যায়পরায়ণ ইমামগণ ফয়সালা করেননি, সেক্ষেত্রে তোমার ইখতিয়ার রয়েছে; তুমি চাইলে নিজের রায় অনুযায়ী ইজতিহাদ করতে পারো, অথবা চাইলে আমার সাথে পরামর্শ করতে পারো। আর আমার সাথে পরামর্শ করাকেই আমি তোমার জন্য অধিক নিরাপদ মনে করি”১।
এর কিছু বর্ণনায় রয়েছে: “
… যখন তোমার কাছে কোনো বিষয় আসে, তখন আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা দিয়ে ফয়সালা করো। যদি এমন কিছু আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, তবে রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করো। যদি এমন কিছু আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই এবং রাসূলুল্লাহর সুন্নাহও তাতে নেই, তবে মানুষ যে বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে তা দিয়ে ফয়সালা করো। আর যদি এমন কিছু আসে যা আল্লাহর কিতাবে নেই, রাসূলুল্লাহর সুন্নাহতেও নেই এবং কেউ এ বিষয়ে আগে কথা বলেনি, তবে তোমার ইচ্ছানুযায়ী যেকোনো একটি বেছে নাও; তুমি চাইলে অগ্রসর হয়ে নিজের রায় অনুযায়ী ইজতিহাদ করতে পারো, অথবা চাইলে তা পিছিয়ে দিতে পারো। আর আমি পিছিয়ে দেওয়াটাকেই তোমার জন্য কল্যাণকর মনে করি”২।
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে এমন অনেক ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যা এই মানহাজ বা পদ্ধতির প্রয়োগের প্রমাণ দেয়। উসূলে ফিকহের বিশেষজ্ঞগণ যেসব উসূলী মূলনীতি—সংকলনের পরে—উল্লেখ করেছেন, তা সাহাবীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) প্রথম প্রজন্মেও বিদ্যমান ছিল, যদিও সেগুলো এই নামে পরিচিত ছিল না। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত ফিকহ বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ অবশ্যই তার সাথে কিছু মূলনীতি ও উসূল থাকবে যেখান থেকে সেই ফিকহ উৎসারিত হয়:
ক- মালিক মুয়াত্তায় 'পানীয় অধ্যায়'-এ বর্ণনা করেছেন যে: “উমর ইবনুল খাত্তাব জনৈক ব্যক্তির মদ পান করা সম্পর্কে পরামর্শ চাইলেন। তখন আলী ইবনে আবি তালিব বললেন: আমরা মনে করি যে আপনি তাকে আশিটি বেত্রাঘাত করবেন। কারণ সে যখন পান করে তখন মত্ত হয়, আর যখন মত্ত হয় তখন আবোল-তাবোল বলে, আর যখন আবোল-তাবোল বলে তখন অপবাদ দেয়। তাই আমি তার ওপর অপবাদের দণ্ডারোপ (হাদ্দ) করা উচিত মনে করি—অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন। ফলে উমর মদ পানের অপরাধে আশিটি বেত্রাঘাত করেন”৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٢)
فهو بهذا ينهج الحكم بالمآل، أو بسد الذرائع، وكلاهما من قواعد الأصول.
ب- روي عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه أن عدة الحامل المتوفى عنها زوجها بوضع الحمل، مهما كانت المدة بعد الوفاة قليلة أو كثيرة، أخذًا بقول الله تعالى: {وَأُولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ
… } 1. ويرى أن هذه الآية ناسخة لآية سورة البقرة وهي قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا....} 2. ويستدل على ذلك بقوله: "ومن شاء باهلته أن سورة النساء القصرى نزلت بعد قوله تعالى: {.... أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا
… } 3.
ويقصد بسورة النساء القصرى: سورة الطلاق، فإنها تزلت بعد سورة البقرة.
ج- قتل الجماعة بالواحد:
فقد روي أن امرأة بصنعاء غاب عنها زوجها، وترك في حجرها ابنًا له من غيرها غلامًا يقال له "أصيل" فاتخذت المرأة بعد زوجها خليلًا، فقالت له: إن هذا الغلام يفضحنا فاقتله، فأبى، فامتنعت منه، فطاوعها، فاجتمع على قتل الغلام: الرجل ورجل آخر والمرأة وخادمها فقتلوه، ثم
--------------------------------------------
তিনি এর মাধ্যমে পরিণতির ভিত্তিতে হুকুম প্রদান বা উপায়সমূহ রুদ্ধকরণ (সাদ্দুজ যারায়ে) পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন, আর এই উভয়টিই উসূলের মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
খ- আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যে গর্ভবতী মহিলার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন, তার ইদ্দত হলো সন্তান প্রসব করা, মৃত্যুর পর অতিবাহিত সময় অল্প হোক বা বেশি। তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর ভিত্তিতে এ মত পোষণ করেছেন: {আর গর্ভধারণকারিণীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত …} ১। তিনি মনে করেন যে, এই আয়াতটি সূরা আল-বাকারার আয়াতের জন্য রহিতকারী (নাসেখ), যা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে....} ২। তিনি এর সপক্ষে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: "যে চায় আমি তার সাথে মুবাহালা করতে প্রস্তুত যে, ছোট সূরা নিসা মহান আল্লাহর বাণী {.... চার মাস দশ দিন …} অবতীর্ণ হওয়ার পর নাজিল হয়েছে।" ৩।
আর ছোট সূরা নিসা বলতে তিনি সূরা আত-তালাক বুঝিয়েছেন, কারণ এটি সূরা বাকারার পর নাজিল হয়েছে।
গ- একজনের বিনিময়ে একদল ব্যক্তিকে হত্যা করা:
বর্ণিত আছে যে, সানআ-র এক মহিলার স্বামী অনুপস্থিত ছিল এবং সে তার কোলে (তত্ত্বাবধানে) অন্য স্ত্রীর এক পুত্র সন্তান রেখে গিয়েছিল, যাকে 'আসীল' বলা হতো। স্বামীর অনুপস্থিতিতে মহিলাটি এক উপপতি গ্রহণ করল। সে তাকে বলল: এই বালকটি আমাদের অপদস্থ করবে, তাই একে হত্যা করো। লোকটি প্রথমে অস্বীকার করল, তখন মহিলাটি তার সাথে মেলামেশা বন্ধ করে দিল। অবশেষে সে রাজি হলো। এরপর সেই বালকটিকে হত্যার ব্যাপারে ওই পুরুষটি, অন্য এক পুরুষ, মহিলাটি এবং তার গৃহভৃত্য—সকলে একত্রিত হলো এবং তাকে হত্যা করল। অতঃপর
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٤)
أما زيد بن ثابت: فيشبه الجد بساق الشجرة وأصلها، والأب بغصن منها، والإخوة بخوطين1 تفرعا عن ذلك الغصن، وأحد الخوطين إلى الآخر أقرب منه إلى أصل الشجرة، ألا ترى أنه إذا قطع أحدهما امتص الآخر ما كان يمتص المقطوع، ولا يرجع إلى الساق2.
هـ- تأبيد المرأة التي تتزوج في العدة:
فمن المسائل التي قضى فيها الصحابة رضي الله عنهم بالاجتهاد والرأي: ما إذا تزوجت المرأة وهي في العدة، ماذا حكمها؟
روي أن عمر بن الخطاب رضي الله عنه فرق بين طليحة الأسدية وبين زوجها راشد الثقفي، لما تزوجها في العدة، من زوج ثان وقال: "أيما امرأة نكحت في عدتها، فإن كان زوجها الذي تزوجها لم يدخل بها، فرّق بينهما، ثم اعتدت بقية عدتها من الأول، ثم كان الآخر خاطبًا من الخطاب، وإن كان قد دخل بها، فرق بينهما، ثم اعتدت بقية عدتها من الأول ثم اعتدت من الآخر، ثم لا يجتمعان أبدًا"3.
وذهب علي رضي الله عنه إلى أن للزوج الثاني نكاحها بعد انقضاء عدتها من الرجلين.
قال الشافعي: "أخبرنا عبد المجيد عن ابن جريج قال: أخبرنا عطاء أن رجلا طلق امرأته فاعتدت منه، حتى إذا بقي شيء من عدتها نكحها
--------------------------------------------
যায়িদ বিন সাবিত (রা.)-এর ক্ষেত্রে: তিনি দাদাকে গাছের কাণ্ড ও মূলের সাথে তুলনা করেন, পিতাকে তার একটি ডাল হিসেবে, আর ভাইদেরকে সেই ডাল থেকে নির্গত দুটি কচি শাখার সাথে তুলনা করেন। এই শাখা দুটির একটি অপরটির যতটা নিকটবর্তী, গাছের মূলের সাথে ততটা নয়। আপনি কি দেখেন না যে, যখন তাদের একটিকে কেটে ফেলা হয়, তখন অন্যটি সেই রস শোষণ করে যা কাটা অংশটি শোষণ করত, এবং তা কাণ্ডের দিকে ফিরে যায় না।
৫- ইদ্দত পালনরত অবস্থায় বিবাহিতা নারীর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা:
সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) ইজতিহাদ ও রায়ের ভিত্তিতে যে সকল মাসআলায় ফয়সালা দিয়েছেন তার মধ্যে একটি হলো: যখন কোনো নারী ইদ্দত পালনরত অবস্থায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তখন তার বিধান কী হবে?
বর্ণিত আছে যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) তুলাইহা আল-আসাদিয়া এবং তার স্বামী রাশিদ আস-সাকাফীর মধ্যে বিচ্ছেদ করে দেন, যখন তিনি তার ইদ্দত চলাকালীন দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "যে নারীই তার ইদ্দত চলাকালীন বিবাহ করবে, যদি তার স্বামী যার সাথে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে সে তার সাথে সহবাস না করে থাকে, তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দেওয়া হবে, এরপর সে প্রথম স্বামীর ইদ্দতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে, অতঃপর সেই ব্যক্তি পুনরায় বিয়ের প্রস্তাবকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। আর যদি সে তার সাথে সহবাস করে থাকে, তবে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদ করে দেওয়া হবে, এরপর সে প্রথম স্বামীর ইদ্দতের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করবে এবং দ্বিতীয় জনের জন্য ইদ্দত পালন করবে, এরপর তারা আর কখনোই একত্রিত হতে পারবে না" ।
আলী (রা.) এই মত পোষণ করেছেন যে, উভয় ব্যক্তির ইদ্দত শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় স্বামীর জন্য তাকে পুনরায় বিবাহ করার সুযোগ রয়েছে।
ইমাম শাফিঈ (রহ.) বলেন: "আমাদেরকে আব্দুল মাজিদ ইবনে জুরাইজ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদেরকে আতা সংবাদ দিয়েছেন যে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিল এবং সে ইদ্দত পালন করছিল, এমনকি যখন তার ইদ্দতের সামান্য কিছু অংশ বাকি ছিল তখন সে (অন্য এক ব্যক্তি) তাকে বিবাহ করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٦)
فلم يكن الصحابة ولا التابعون رضي الله عنهم في حاجة إلى معرفة القواعد والضوابط التي عرفت -فيما بعد- بأصول الفقه والاستنباط، لأنها كانت -كما قلت- مركوزة في أذهانهم وسجية لهم، فكانوا يعرفون الخاص والعام الذي أريد به العموم، والعام الذي يراد به الخصوص، والمطلق والمقيد، والمشترك والمفرد، والناسخ والمنسوخ، وما إلى ذلك من القواعد التي تدرس في هذا العلم.
أما بعد أن طال الزمن، وفسد اللسان العربي، نتيجة لاتساع البلاد الإسلامية، واختلاط الأعاجم بالعرب، وجدّت حوادث ووقائع كثيرة، وكثر الاجتهاد والمجتهدون، واختلفت طرقهم في الاستنباط، وظهر في الأفق الاتجاهان المعروفان باتجاه أهل الحديث بالحجاز، واتجاه أهل الرأي بالعراق، وأسرف كل فريق في الطعن على الفريق الآخر، فعاب أهل الرأي على أهل الحديث الإكثار من الرواية التي هي مظنة لقلة الفهم والتدبر، كما عاب أهل الحديث على أهل الرأي بأنهم يأخدون في دينهم بالظن، ويحكمون العقل في الدين1، فلما اتسع النزاع بين المدرستين المذكورتين، أرسل الإمام عبد الر حمن بن مهدي -عالم الحديث بالمدينة المنورة المتوفى سنة "198هـ"- إلى الإمام الشافعي -رحمه الله تعالى- يطلب منه وضع قواعد يحتكم إليها، وأسس يسير عليها العلماء في اجتهادهم، وكيف يتعاملون مع الأدلة الشرعية، فأجابه الإمام الشافعي، وبعث إليه بهذه القواعد، والتي عرفت فيما بعد باسم "الرسالة".
--------------------------------------------
সাহাবী এবং তাবিঈগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) এমন সব নিয়ম ও মূলনীতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি যা পরবর্তীতে 'উসূলে ফিকহ' ও 'ইসতিনবাত' (আইনগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ) নামে পরিচিত হয়েছে। কারণ আমি যেমন বলেছি, এগুলো তাঁদের অন্তরে প্রোথিত ছিল এবং তাঁদের সহজাত প্রকৃতির অংশ ছিল। ফলে তাঁরা 'খাস' (বিশেষ), 'আম' (সাধারণ) যার দ্বারা সাধারণ অর্থই উদ্দেশ্য, এবং 'আম' যার দ্বারা বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য, মুতলাক (নিশর্ত) ও মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), মুশতরাক (অ্যাম্বিগুয়াস) ও মুফরাদ (একবচন), এবং নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসুখ (রহিতকৃত) সহ এই ইলমে পঠিত অন্যান্য সকল নিয়ম সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।
তবে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর, ইসলামী ভূখণ্ডের বিস্তৃতি এবং অনারবদের সাথে আরবদের সংমিশ্রণের ফলে যখন আরবী ভাষার স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে গেল, এবং অনেক নতুন নতুন ঘটনা ও পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটল, ইজতিহাদ ও মুজতাহিদদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল এবং বিধান আহরণের ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতির ভিন্নতা দেখা দিল, আর দিগন্তে হিজাজের 'আহলুল হাদিস' এবং ইরাকের 'আহলুর রায়' নামে পরিচিত দুটি প্রসিদ্ধ ধারার আত্মপ্রকাশ ঘটল। তখন এক পক্ষ অন্য পক্ষকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি শুরু করল। আহলুর রায়গণ আহলুল হাদিসদের অধিক পরিমাণে বর্ণনা (রেওয়ায়েত) করার জন্য সমালোচনা করলেন, যা তাঁদের মতে সূক্ষ্ম বুঝ ও গভীর চিন্তার অভাবের লক্ষণ। অন্যদিকে, আহলুল হাদিসগণ আহলুর রায়দের সমালোচনা করলেন এই বলে যে, তাঁরা দ্বীনের ক্ষেত্রে ধারণা ও অনুমানের ওপর নির্ভর করেন এবং দ্বীনের বিষয়ে আকল বা যুক্তিকে ফয়সালাকারী হিসেবে গ্রহণ করেন১। যখন উল্লিখিত এই দুই ঘরানার মধ্যে বিবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ল, তখন মদীনা মুনাওয়ারার হাদিস বিশারদ ইমাম আবদুর রহমান বিন মাহদী (মৃত্যু ১৯৮ হিজরী) ইমাম শাফিঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নিকট পত্র পাঠালেন। তিনি তাঁর কাছে এমন কিছু নিয়ম প্রণয়ন করার অনুরোধ করলেন যার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসা করা যাবে এবং যার ওপর ভিত্তি করে আলিমগণ তাঁদের ইজতিহাদ পরিচালনা করবেন এবং শরয়ী দলীলগুলোর সাথে কীরূপ আচরণ করবেন তা জানবেন। ইমাম শাফিঈ তাঁর আহবানে সাড়া দিলেন এবং তাঁর নিকট এই নিয়মাবলী লিখে পাঠালেন, যা পরবর্তীতে 'আর-রিসালা' নামে পরিচিতি লাভ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٧)
وقد بين الإمام الشافعي -في هذه الرسالة- أهمية رسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم وأهمية الكتاب العزيز "القرآن الكريم" وأنه لا تنزل بأحد نازلة إلا في كتاب الله -تعالى- حكم لها، إما نصًّا وإما إلحاقًا بالنص، وأن مهمة الرسول صلى الله عليه وسلم تبيين ما نزّل إلى الناس، ثم أتبع ذلك بباب: "كيف يكون البيان" ثم تحدث عن علاقة السنة بالقرآن، وعن حجية السنة وأنها المصدر الثاني للتشريع، كما بين حجية خبر الآحاد بصفة خاصة، ثم أتبع ذلك الكلام على الإجماع، والقياس وحجيته وشروطه، وألحق به باب الاجتهاد، ثم الاستحسان، ثم ذكر الاختلاف بين العلماء، والمذموم منه والممدوح، وأنهى رسالته بموضوع "أقوال الصحابة" رضي الله عنهم، ومدى الاستدلال بها.
فكانت هذه الرسالة بمثابة اللبنة الأولى في هذا العلم، من حيث التأليف والتدوين، وأن الإمام الشافعي صاحب السبق في ذلك.
وإن كان هناك من ينازع في ذلك، ويدّعي أن هناك من سبق الإمام الشافعي في ذلك، كالإمامين: أبي يوسف، ومحمد بن الحسن، صاحبي الإمام أبي حنيفة رحمهم الله جميعًا- كما ادعت الشيعة ذلك أيضًا.
وهي مجرد دعوى لا دليل عليها، فلم يصلنا من هذه المؤلفات شيء، كما وصلتنا رسالة الإمام الشافعي.
وفي تصوّري: أن ما يدعيه هؤلاء، إنما هو من قبيل القواعد التي ترد في بعض المسائل الفقهية بطريقة عارضة، وهو أمر مسلم به؛ فإن كل إمام من الأئمة المجتهدين كانت له قواعده وأصوله التي يسير عليها، ويحتكم إليها في اجتهاده، وسبق أن قلنا: إن هذا كان موجودًا ومطبقًا في عصر الصحابة والتابعين رضي الله عنهم وفرق كبير بين تطبيق القواعد
ইমাম শাফিঈ এই ‘রিসালা’ গ্রন্থে আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের গুরুত্ব এবং মহান গ্রন্থ ‘আল-কুরআন আল-কারীম’-এর গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো ব্যক্তির ওপর এমন কোনো সমস্যা বা বিপদ আপতিত হয় না, আল্লাহর কিতাবে যার বিধান বিদ্যমান নেই—তা সরাসরি পাঠ্যের (নস) মাধ্যমে হোক অথবা পাঠ্যের সাথে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে হোক। রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দায়িত্ব হলো মানুষের নিকট যা নাজিল করা হয়েছে তা বর্ণনা করা। এরপর তিনি ‘বর্ণনাভঙ্গি কেমন হবে’ শীর্ষক একটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি কুরআনের সাথে সুন্নাহর সম্পর্ক এবং সুন্নাহর প্রামাণিকতা (হুজ্জিয়াত) নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দেখিয়েছেন যে এটি শরয়ি বিধানের দ্বিতীয় উৎস। বিশেষভাবে তিনি ‘খবরে ওয়াহিদ’-এর প্রামাণিকতা স্পষ্ট করেছেন। এরপর ইজমা, কিয়াস এবং এর প্রামাণিকতা ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর সাথে তিনি ইজতিহাদ ও ইসতিহসান পরিচ্ছেদগুলো যুক্ত করেছেন। অতঃপর তিনি ওলামাদের মধ্যকার মতভেদ এবং এর মধ্যে নিন্দনীয় ও প্রশংসনীয় দিকগুলো উল্লেখ করেছেন। তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর উক্তি এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার পরিধি বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে তাঁর ‘রিসালা’ সমাপ্ত করেছেন।
সংকলন ও গ্রন্থবদ্ধকরণের দিক থেকে এই ‘রিসালা’ ছিল এই শাস্ত্রের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্বরূপ। আর ইমাম শাফিঈ এ ক্ষেত্রে অগ্রগামীত্বের অধিকারী।
যদিও এ বিষয়ে বিতর্ককারী একদল রয়েছে যারা দাবি করে যে ইমাম শাফিঈর পূর্বেও কেউ কেউ এই বিষয়ে কাজ করেছেন; যেমন ইমাম আবু হানিফার দুই শিষ্য ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন হাসান (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর রহম করুন)। শিয়ারাও অনুরূপ দাবি করেছে।
এটি কেবলই একটি ভিত্তিহীন দাবি যার স্বপক্ষে কোনো দলিল নেই। কারণ ইমাম শাফিঈর ‘রিসালা’ যেভাবে আমাদের নিকট পৌঁছেছে, সেই কথিত গ্রন্থগুলোর কোনো কিছুই আমাদের নিকট পৌঁছেনি।
আমার দৃষ্টিতে, তারা যা দাবি করছে তা মূলত কিছু ফিকহি মাসআলার বর্ণনায় প্রাসঙ্গিকভাবে আসা কতিপয় মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত বিষয়। আর এটি একটি স্বীকৃত বিষয়; কারণ প্রত্যেক মুজতাহিদ ইমামেরই নিজস্ব কিছু মূলনীতি ও উসুল ছিল যা তিনি অনুসরণ করতেন এবং ইজতিহাদের ক্ষেত্রে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতেন। আমরা ইতিপূর্বে বলেছি যে, সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) যুগেও এই বিষয়টি বিদ্যমান ও প্রয়োগকৃত ছিল। তবে মূলনীতির প্রয়োগের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে...
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٨)
والاحتكام إليها، وبين تأليف كتاب مستقل متكامل مستوعب لأبواب العلم1.
ثم تتابع العلماء بعد ذلك في التأليف وإضافة بعض الموضوعات إلى رسالة الإمام الشافعي، شأنه في ذلك شأن سائر العلوم، تبدأ قليلة، ثم تنمو وتتسع.
وقد سلك العلماء -بعد الإمام الشافعي- مسالك مختلفة:
أ- فمنهم من اتجه نحو تحرير المسائل الأصولية وتقرير القواعد تقريرًا منطقيًّا يقوم على الدليل العقلي، دون نظر إلى ما يتفرع عنها من فروع فقهية، وسمي هذا الاتجاه: باتجاه المتكلمين؛ لأنهم أشبهوا علماء الكلام في إقامة الأدلة، ودفع شبه المخالفين.
ومن أمهات الكتب المؤلفة على هذه الطريقة:
1- كتاب "العمد" للقاضي عبد الجبار بن أحمد الهمذاني المعتزلي المتوفى سنة 415هـ.
2- كتاب "المعتمد" لأبي الحسين البصري: محمد بن علي الطيب البصري المعتزلي المتوفى سنة 436هـ.
3- كتاب "البرهان" لإمام الحرمين: عبد الملك بن يوسف الجويني المتوفى سنة 478هـ.
4 - كتاب "المستصفى" للإمام أبي حامد: محمد بن محمد الغزالي المتوفى سنة 505هـ.
فكانت هذه الكتب الأربعة بمثابة المرجع في الأصول على هذه
--------------------------------------------
এবং এর ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা করা এবং ইলমের অধ্যায়সমূহকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ কিতাব রচনার মধ্যে ১।
অতঃপর উলামায়ে কেরাম গ্রন্থ রচনা এবং ইমাম শাফেঈর ‘রিসালা’-তে বিভিন্ন বিষয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে থাকেন; অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায় এক্ষেত্রেও তা প্রথমে অল্প আকারে শুরু হয়, অতঃপর ক্রমশ বৃদ্ধি ও বিস্তৃতি লাভ করে।
ইমাম শাফেঈর পর উলামায়ে কেরাম বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন:
ক- তাদের মধ্যে একদল উসূলের মাসআলাগুলো বিশ্লেষণ এবং যুক্তিভিত্তিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে যৌক্তিকভাবে নীতিসমূহ নির্ধারণের দিকে ধাবিত হয়েছেন, এর থেকে উদ্ভূত ফিকহী শাখাগুলোর (ফুরু) দিকে লক্ষ্য না করেই। এই ধারাটিকে ‘মুতাকাল্লিমীনদের ধারা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ তারা দলিল উপস্থাপন এবং বিরোধীদের সংশয় নিরসনে ইলমুল কালামের পণ্ডিতদের সদৃশ ছিলেন।
এই পদ্ধতিতে রচিত মৌলিক গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- কাযী আবদুল জাব্বার বিন আহমাদ আল-হামাদানী আল-মুতাজিলী (মৃত্যু ৪১৫ হিজরী) রচিত ‘আল-উমাদ’ কিতাব।
২- আবুল হুসাইন আল-বাসরী: মুহাম্মাদ বিন আলী আত-তাইয়িব আল-বাসরী আল-মুতাজিলী (মৃত্যু ৪৩৬ হিজরী) রচিত ‘আল-মুতামাদ’ কিতাব।
৩- ইমামুল হারামাইন: আবদুল মালিক বিন ইউসুফ আল-জুওয়াইনী (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরী) রচিত ‘আল-বুরহান’ কিতাব।
৪ - ইমাম আবু হামিদ: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাযালী (মৃত্যু ৫০৫ হিজরী) রচিত ‘আল-মুস্তাসফা’ কিতাব।
এই চারটি কিতাব এই পদ্ধতির উসূলে ফিকহের প্রধান রেফারেন্স বা মূল উৎস হিসেবে গণ্য হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الطريقة، إلى أن قام عالمان جليلان بتلخيص ما فيها، هما: فخر الدين الرازي المتوفى سنة "606هـ" في كتاب سماه "المحصول" وسيف الدين الآمدي المتوفى سنة "361هـ" في كتاب سماه "الإحكام في أصول الأحكام".
وقد عني العلماء بهذين الكتابين عناية فائقة، بالاختصار والشرح والتعليق.
وتوالت -بعد ذلك- المؤلفات على هذه الطريقة مما يطول بيانه في هذه المقدمة.
ب- وبجانب طريقة المتكلمين ظهرت طريقة أخرى تسمى طريقة الفقهاء أو الحنفية، تميزت بربط القواعد الأصولية بالفروع الفقهية، بمعنى: أنهم جعلوا الأصول تابعة للفروع، بحيث تتقرر القواعد على مقتضى الفروع الفقهية، باعتبار أن هذه القواعد إنما هي لخدمة الفروع.
ومن أهم الكتب التي وضعت على هذه الطريقة:
1- رسالة الكرخي في الأصول: تأليف أبي الحسن عبد الله بن الحسن الكرخي المتوفى سنة "340هـ".
2- أصول الفقه: لأبي بكر أحمد بن علي الرازي الجصاص المتوفى سنة "370هـ".
3- كنز الوصول إلى معرفة الأصول: تأليف الإمام فخر الإسلام أبي الحسن علي بن محمد البزدوي المتوفى سنة "482هـ".
4- أصول السرخسي: محمد بن أحمد بن سهل السرخسي المتوفى سنة "483هـ".
5- منار الأنوار: لأبي البركات: عبد الله بن أحمد النسفي المتوفى
পদ্ধতিটি, যে পর্যন্ত না দুইজন মহান আলেম এর বিষয়বস্তুকে সারসংক্ষেপ করেছেন; তাঁরা হলেন: ফখরুদ্দীন আল-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি), তাঁর 'আল-মাহসুল' নামক গ্রন্থে এবং সাইফুদ্দীন আল-আমিদী (মৃত্যু ৩৬১ হিজরি), 'আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম' নামক গ্রন্থে।
আলেমগণ এই কিতাব দুটির প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়েছেন—সংক্ষিপ্তকরণ, ব্যাখ্যা প্রদান এবং টীকা সংযোজনের মাধ্যমে।
এরপর এই পদ্ধতিতে একের পর এক কিতাব রচিত হতে থাকে, যার বর্ণনা এই ভূমিকায় দীর্ঘ হয়ে যাবে।
খ- মুতাকাল্লিমীন পদ্ধতির পাশাপাশি আরও একটি পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে যাকে ফুকাহা বা হানাফী পদ্ধতি বলা হয়। এই পদ্ধতিটি উসূলি মূলনীতিসমূহকে ফিকহি শাখা-প্রশাখার (ফুরু) সাথে সম্পৃক্ত করার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। অর্থাৎ, তাঁরা উসূলকে ফুরুর অনুগামী করেছেন, যাতে ফিকহি ফুরু-এর চাহিদা অনুযায়ী মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়; এই বিবেচনায় যে, এই মূলনীতিসমূহ শাখা-প্রশাখার খিদমতের জন্যই তৈরি হয়েছে।
এই পদ্ধতিতে রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো:
১- উসূল বিষয়ে আল-কারখির রিসালাহ: আবু হাসান আবদুল্লাহ ইবনে হাসান আল-কারখি (মৃত্যু ৩৪০ হিজরি) এর রচনা।
২- উসূলুল ফিকহ: আবু বকর আহমদ ইবনে আলী আল-রাজি আল-জাসসাস (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি) এর।
৩- কানযুল উসূল ইলা মা’রিফাতিল উসূল: ইমাম ফখরুল ইসলাম আবু হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাযদাওয়ী (মৃত্যু ৪৮২ হিজরি) এর রচনা।
৪- উসূলুস সারাখসি: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে সাহল আস-সারাখসি (মৃত্যু ৪৮৩ হিজরি)।
৫- মানারুল আনওয়ার: আবুল বারাকাত আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আন-নাসাফি, যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন...
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
سنة "710هـ". وعليه عدة شروح نفيسة، واختصره كثير من العلماء.
ج- طريقة الجمع بين المتكلمين والفقهاء:
وفي القرن السابع الهجري بدأت تظهر طريقة ثالثة تجمع بين المنهجين المتقدمين: منهج المتكلمين، ومنهج الفقهاء، بحيث تذكر القاعدة الأصولية وتقيم الأدلة عليها، وتقارن بين ما قاله المتكلمون وما قاله الفقهاء، مع المناقشة والترجيح، ثم تذكر بعض الفروع المخرجة عليها.
ومن أشهر الكتب التي ألفت على هذا المنهج:
1- كتاب "بديع النظام الجامع بين أصول البزدوي والإحكام" لمظفر الدين: أحمد بن علي الساعاتي الحنفي المتوفى سنة "694هـ".
2- كتاب "التنقيح" للقاضي صدر الشريعة: عبيد الله بن مسعود البخاري الحنفي المتوفى سنة "747هـ".
وقد وضع عليه شرحًا سماه "التوضيح شرح التنقيح".
3 - "جمع الجوامع" لتاج الدين: عبد الوهاب بن على السبكي المتوفى سنة "771هـ". وعليه عدة شروح وحواش عظيمة.
4- "التحرير" تأليف: كمال الدين: محمد بن عبد الواحد، المشهور بابن الهمام الفقيه الحنفي المتوفى سنة "861هـ".
شرحه تلميذه: محمد بن محمد أمير حاج الحلبي المتوفى سنة "879هـ" في كتاب سماه "التقرير والتحبير" وعليه شرح آخر يسمى "تيسير التحرير" للشيخ محمد أمين المعروف بأمير بادشاه.
5- "مسلم الثبوت" لمحب الدين بن عبد الشكور البهاري الفقيه الحنفي المتوفى "1119هـ" وعليه شرح نفيس للعلامة: عبد العلي
৭১০ হিজরি। এর ওপর বেশ কিছু মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে এবং অনেক আলেম এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন।
গ- মুতাকাল্লিমীন (ধর্মতত্ত্ববিদ) এবং ফুকাহাদের (আইনবিদ) পদ্ধতির সমন্বিত ধারা:
সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে একটি তৃতীয় ধারার উদ্ভব ঘটে যা পূর্বোক্ত পদ্ধতিদ্বয়কে একত্রিত করে: মুতাকাল্লিমীনদের পদ্ধতি এবং ফুকাহাদের পদ্ধতি। এতে উসূলি নীতিমালার উল্লেখ করা হয় এবং এর সপক্ষে দলীল উপস্থাপন করা হয়। মুতাকাল্লিমীন এবং ফুকাহারা যা বলেছেন তার মধ্যে তুলনা করা হয়, সাথে থাকে আলোচনা ও প্রাধান্য প্রদান (তারজীহ্)। এরপর এর ওপর ভিত্তি করে উদ্ভূত কিছু শাখা-প্রশাখা (ফুরু) উল্লেখ করা হয়।
এই পদ্ধতিতে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- মুজাফফারুদ্দীন আহমাদ ইবনে আলী আস-সাআতী আল-হানাফী (ওফাত ৬৯৪ হি.) রচিত "বাদিউন নিযাম আল-জামে বাইনা উসূলিল বাযদাভী ওয়াল ইহকাম" কিতাবটি।
২- কাযী সদরুশ শরীআহ উবাইদুল্লাহ ইবনে মাসউদ আল-বুখারী আল-হানাফী (ওফাত ৭৪৭ হি.) রচিত "আত-তানকীহ" কিতাবটি।
তিনি নিজেই এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন "আত-তাওযীহ শারহুত তানকীহ"।
৩ - তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আলী আস-সুবকী (ওফাত ৭৭১ হি.) রচিত "জামউল জাওয়ামি"। এর ওপর বেশ কিছু মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা (হাশিয়া) রয়েছে।
৪- হানাফী ফকীহ কামালুদ্দীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ, যিনি ইবনুল হুমাম (ওফাত ৮৬১ হি.) নামে প্রসিদ্ধ, তার রচিত "আত-তাহরীর"।
এর ব্যাখ্যা করেছেন তার ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আমীর হাজ্জ আল-হালাবী (ওফাত ৮৭৯ হি.) "আত-তাকরীর ওয়াত তাহবীর" নামক গ্রন্থে। এর ওপর "তাইসীরুত তাহরীর" নামে আরও একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে, যা আমীর বাদশাহ নামে পরিচিত শেখ মুহাম্মাদ আমীনের রচনা।
৫- হানাফী ফকীহ মুহিব্বুল্লাহ ইবনে আব্দুল শাকুর আল-বিহায়ী (ওফাত ১১১৯ হি.) রচিত "মুসাল্লামুস সুবুত"। এর ওপর আল্লামা আব্দুল আলীর একটি মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢١)
21
محمد بن نظام الدين الأنصاري يسمى: "فواتح الرحموت بشرح مسلم الثبوت".
وهكذا بدأ المتأخرون ينسجون على منوال ما سلكه المتقدمون1.
د- اتجاه تخريج الفروع على الأصول:
وبجانب الاتجاهات المتقدمة، ظهر اتجاه رابع يسمى اتجاه "تخريج الفروع على الأصول" بحيث يذكر القاعدة الأصولية، وآراء العلماء فيها، دون الخوض في أدلة كل مذهب، ثم يفرع عليها بعض الفروع الفقهية، إما على مذهب معين، وإما مع المقارنة بين مذهبين مختلفين، كالحنفية والشافعية -مثلا- أو الشافعية والمالكية والحنابلة وهكذا.
ومن الكتب التي ألفت في هذا الاتجاه:
1- "تخريج الفروع على الأصول" للإمام شهاب الدين محمود بن أحمد الزنجاني المتوفى سنة "656هـ".
يذكر القاعدة الأصولية، ثم يتبعها بتطبيقات فقهية على مذهب الحنفية والشافعية.
2- "مفتاح الوصول إلى بناء الفروع على الأصول" للإمام الشريف أبي عبد الله محمد التلمساني المالكي المتوفى سنة "771هـ".
سلك فيه مؤلفه نفس المسلك السابق، إلا أنه يقارن بين المذاهب الثلاثة: الحنفي والمالكي والشافعي.
3- "التمهيد في تخريج الفروع على الأصول" للإمام جمال الدين عبد الرحيم بن الحسن القرشي الإسنوي الشافعي المتوفى سنة "772هـ".
ويعتبر من أهم الكتب التي ألفت على هذا المنهج، حيث استوعب
--------------------------------------------
21
মুহাম্মদ বিন নিজামুদ্দিন আল-আনসারী যা "ফাওয়াইহুর রাহমুত বিশারহি মুসাল্লামিস সুবুত" নামে অভিহিত।
এভাবে পরবর্তীকালের পণ্ডিতগণ পূর্ববর্তীদের অনুসৃত পথ অনুসরণ করতে শুরু করেন১।
ঘ- উসূলের ভিত্তিতে ফুরু’র (শাখা মাসআলা) আহরণ পদ্ধতি:
পূর্বোক্ত ধারাগুলোর পাশাপাশি চতুর্থ একটি ধারার উদ্ভব ঘটে যাকে বলা হয় "উসূলের ভিত্তিতে ফুরু’র আহরণ" পদ্ধতি। এতে উসূলী মূলনীতি এবং সে বিষয়ে আলেমদের মতামত উল্লেখ করা হয়, প্রতিটি মাযহাবের দলীল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই। এরপর সেই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে কিছু ফিকহী শাখা মাসআলা বের করা হয়; যা হয় কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের ভিত্তিতে অথবা দুটি ভিন্ন মাযহাবের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে—যেমন উদাহরণস্বরূপ হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাব, অথবা শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব ইত্যাদি।
এই ধারায় রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- ইমাম শিহাবুদ্দিন মাহমুদ বিন আহমদ আয-যানজানী (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরী) রচিত "তাখরীজুল ফুরু’ আলাল উসূল" ।
তিনি এতে উসূলী মূলনীতি উল্লেখ করেন এবং এরপর হানাফী ও শাফেয়ী মাযহাবের ভিত্তিতে সেগুলোর ফিকহী প্রয়োগ বর্ণনা করেন।
২- ইমাম আশ-শরীফ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আত-তিলমিসানী আল-মালেকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরী) রচিত "মিফতাহুল উসূল ইলা বিনাইল ফুরু’ আলাল উসূল" ।
এর লেখক এতে পূর্ববর্তী লেখকের মতো একই পথ অনুসরণ করেছেন, তবে তিনি তিনটি মাযহাবের মধ্যে তুলনা করেছেন: হানাফী, মালেকী ও শাফেয়ী।
৩- ইমাম জামালুদ্দিন আব্দুর রহীম বিন আল-হাসান আল-কুরাশী আল-ইসনাভী আশ-শাফেয়ী (মৃত্যু ৭৭২ হিজরী) রচিত "আত-তামহীদ ফী তাখরীজুল ফুরু’ আলাল উসূল" ।
এটি এই পদ্ধতিতে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে তিনি বিস্তারিতভাবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
القواعد الأصولية، إلا أنه قصر التخريج على مذهب الشافعية فقط.
4- "القواعد والفوائد الأصولية وما يتعلق بها من الأحكام الفرعية" للإمام: أبي الحسن علاء الدين: علي بن عباس البعلي الحنبلي، المعروف بابن اللحام المتوفى في سنة "803هـ".
سار فيه مؤلفه على نفس المنهج، غير أنه أبرز رأي علماء الحنابلة بشكل أوضح، وإن كان يذكر آراء بعض المذاهب الأخرى.
هـ- اتجاه بناء القواعد الأصولية على مقاصد الشريعة:
وبجانب الاتجاهات المتقدمة ظهر اتجاه مخالف للاتجاهات السابقة، سلكه الإمام الشاطبي: أبو إسحاق إبراهيم بن موسى اللخمي الغرناطي المالكي المتوفى سنة "790هـ" ألف الشاطبي كتابه المشهور المسمى "الموافقات" وكان في بداية الأمر قد سماه "عنوان التعريف بأسرار التكليف" ثم عدل عن هذه التسمية لأمر ما.
سلك الشاطبي في كتابه هذا مسلكًا جديدًا لم يسبق إليه، بحيث يذكر القواعد الأصولية تحت أبواب معينة تتضمن مقاصد الشريعة الإسلامية ومراميها المختلفة، والتي تتضمن حفظ الضروريات، والحاجيات والتحسينيات.
وتوالت -بعد ذلك- المؤلفات على الاتجاهات المختلفة، منها: المطول، ومنها المختصر، ومنها المتوسط، لكنها -في الجملة- لا تختلف كثيرًا عما أصّله المتقدمون، إلا في طريقة العرض، أو تقديم موضع على آخر، كما هو الشأن في التأليف.
وبعد هذه المقدمة عن نشأة هذا العلم وتطوّره، نذكر لمحة سريعة عن مؤلف كتاب "روضة الناظر وجنة المناظر" وعن منهجه في الكتاب، والعمل الذي نقوم به.
উসূলে ফিকহ-এর মূলনীতিসমূহ, তবে তিনি এই তাখরীজকে (শাখা বিধানের উদ্ঘাটন) শুধুমাত্র শাফেয়ী মাযহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।
৪- ইমাম আবুল হাসান আলাউদ্দীন আলী বিন আব্বাস আল-বালী আল-হানবালী (যিনি ইবনুল লাহহাম নামে পরিচিত, মৃত্যু: ৮০৩ হিজরী) রচিত "আল-কাওয়াইদ ওয়াল ফাওয়াইদ আল-উসূলিয়্যাহ ওয়ামা ইয়াতাআল্লাকু বিহা মিনাল আহকামিল ফারইয়্যাহ"।
এর লেখক এতে একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তবে তিনি হাম্বলী আলেমদের মতামতকে অধিক স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যদিও তিনি অন্যান্য কিছু মাযহাবের মতামতও উল্লেখ করেছেন।
ঙ- শরীয়তের মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের ওপর উসূলী মূলনীতিসমূহ নির্মাণের ধারা:
পূর্বোক্ত ধারাসমূহের পাশাপাশি পূর্ববর্তী পদ্ধতিগুলোর তুলনায় ভিন্নধর্মী একটি ধারার আবির্ভাব ঘটে, যা ইমাম শাতিবী অনুসরণ করেছেন। তিনি হলেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মূসা আল-লাখমী আল-গারনাতী আল-মালিকী (মৃত্যু: ৭৯০ হিজরী)। শাতিবী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "আল-মুওয়াফাকাত" রচনা করেন। শুরুতে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন "উনওয়ানুত তারিফ বি আসরারিত তাকলীফ", কিন্তু কোনো এক কারণে পরবর্তীতে তিনি এই নাম পরিবর্তন করেন।
শাতিবী তাঁর এই গ্রন্থে এমন এক নতুন পথ অবলম্বন করেছেন যাতে ইতিপূর্বে আর কেউ অগ্রসর হননি। তিনি এতে উসূলী মূলনীতিসমূহকে এমন কিছু নির্দিষ্ট অধ্যায়ের অধীনে উল্লেখ করেছেন যা ইসলামী শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ এবং এর বিভিন্ন লক্ষ্যকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এগুলো জরুরি প্রয়োজন (জরুরিয়্যাত), সাধারণ প্রয়োজন (হাজিয়াত) এবং সৌন্দর্যবর্ধক (তাহসিনিয়াত) বিষয়গুলোর সুরক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এরপরে বিভিন্ন ধারায় ধারাবাহিকভাবে গ্রন্থাবলি রচিত হয়েছে; যার মধ্যে কোনটি বিস্তারিত, কোনটি সংক্ষিপ্ত আবার কোনটি মধ্যম মানের। তবে সামগ্রিকভাবে এগুলো পূর্ববর্তীদের মূলনীতিসমূহ থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়, কেবল উপস্থাপনার ধরণ অথবা একটি বিষয়কে অন্যটির আগে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে যা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়, যেমনটি সাধারণত গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
এই ইলমের উৎপত্তি ও বিকাশ সম্পর্কে এই ভূমিকার পর, আমরা এখন "রওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মুনাযির" গ্রন্থের লেখক, এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি এবং আমাদের সম্পাদিত কাজ সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আভাস তুলে ধরছি।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
التعريف بالإمام ابن قدامة
تمهيد:الإمام ابن قدامة علم من أعلام الفكر الإسلامي، وله من الآثار العلمية ما يشهد بفضله ومكانته العلمية، الأمر الذي جعل العلماء يكتبون عن حياته من نواحيها المختلفة، حتى سجلت فيه بعض الرسائل العلمية1.
فأرى أن الكتابة عن حياته هنا من فضول القول.
وسوف أكتفي هنا بالإشارة السريعة إلى تاريخ حياته، تمهيدًا للحديث عن منهجه في كتابه: "روضة الناظر وجنة المناظر".
--------------------------------------------
ইমাম ইবনে কুদামাহ-এর পরিচিতি
ভূমিকা:ইমাম ইবনে কুদামাহ ইসলামি চিন্তাধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিকপাল। তাঁর এমন সব জ্ঞানতাত্ত্বিক রচনা ও নিদর্শন রয়েছে যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও উচ্চ মর্যাদার সাক্ষ্য বহন করে। এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম তাঁর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন, এমনকি তাঁর ওপর বেশ কিছু গবেষণামূলক অভিসন্দর্ভও নিবদ্ধ হয়েছে১।
সুতরাং আমি মনে করি, এখানে তাঁর জীবনী নিয়ে বিস্তারিত লেখা অনর্থক দীর্ঘায়ন মাত্র।
তাঁর 'রওজাতুন নাজিল ওয়া জান্নাতুল মুনাজির' গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার ভূমিকা স্বরূপ আমি এখানে কেবল তাঁর জীবনীর প্রতি সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
1- اسمه ونسبه ونشأته:
هو: أبو محمد، موفق الدين: عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة بن مقدام بن نصر بن عبد الله بن حذيفة بن محمد بن يعقوب بن القاسم بن إبراهيم بن إسماعيل بن يحيى بن محمد بن سالم بن عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله عنه المقدسي، ثم الدمشقي الصالحي.
فأسرته -رحمه الله تعالى- أسرة عريقة، يتصل نسبها إلى الخليفة الثاني عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
ولد رحمه الله في شهر شعبان من عام 541هـ الموافق 1146م في إحدى قرى نابلس، ثم رحل -بعد ذلك- إلى "دمشق" فحفظ القرآن، وتلقى العلوم على علمائها، وحفظ بعض المتون، ومنها: "مختصر الخرقي" للإمام: عمر بن الحسين بن عبد الله بن أحمد، أبو القاسم الخرقي المتوفى سنة "334هـ" وهو مختصر في فقه الإمام أحمد بن حنبل، وهو الذي شرحه ابن قدامة -فيما بعد- وسماه "المغني".
وفي عام 561هـ رحل ابن قدامة إلى "بغداد" وأخذ العلم عن علمائها، وبعد فترة عاد إلى دمشق، ثم إلى "بغداد" مرة ثانية، ثم إلى "مكة المكرمة" فسمع من علمائها وأفاد منهم كثيرًا في جوار البيت الحرام.
وهكذا كانت حياته الأولى، حل وارتحال، في سبيل طلب العلم، حتى وصل إلى المكانة المرموقة بين العلماء.
قال عنه أبو شامة "
… كان إمام عصره في علم العربية والنحو واللغة، ولم أتمكن من الإكثار من مجالسته والتعلم منه؛ لكثرة الزحام عليه"1.
--------------------------------------------
১- তাঁর নাম, বংশপরিচয় এবং বেড়ে ওঠা:
তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ, মুওয়াফফাকুদ্দীন: আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা বিন মিকদাম বিন নাসর বিন আবদুল্লাহ বিন হুযাইফা বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব বিন কাসিম বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সালিম বিন আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু), আল-মাকদিসি, অতঃপর আদ-দিমাশকি আস-সালিহি।
তাঁর পরিবার—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন—একটি অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত পরিবার, যার বংশপরম্পরা দ্বিতীয় খলিফা উমর বিন আল-খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) ৫৪১ হিজরি মোতাবেক ১১৪৬ খ্রিস্টাব্দে শাবান মাসে নাবলুসের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ‘দামেস্ক’-এ সফর করেন এবং সেখানে কুরআন হিফজ করেন ও সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি বেশ কিছু ‘মতন’ (মূল পাঠ) মুখস্থ করেন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ইমাম: উমর বিন আল-হুসাইন বিন আবদুল্লাহ বিন আহমাদ, আবু আল-কাসিম আল-খিরাকি (মৃত্যু: ৩৩৪ হিজরি)-এর রচিত ‘মুখতাসার আল-খিরাকি’। এটি ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল-এর ফিকহ বিষয়ক একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, যেটির ব্যাখ্যা পরবর্তীতে ইবনে কুদামা নিজেই রচনা করেছিলেন এবং এর নাম দিয়েছিলেন ‘আল-মুগনি’।
৫৬১ হিজরিতে ইবনে কুদামা ‘বাগদাদ’-এ সফর করেন এবং সেখানকার আলেমদের নিকট থেকে ইলম হাসিল করেন। কিছু সময় পর তিনি দামেস্কে ফিরে আসেন এবং পুনরায় দ্বিতীয়বার বাগদাদে যান। অতঃপর তিনি ‘মক্কা মুকাররমা’ সফর করেন এবং সেখানে বায়তুল্লাহর সান্নিধ্যে থেকে আলেমদের নিকট থেকে ইলম শ্রবণ করেন ও তাঁদের নিকট থেকে অনেক উপকৃত হন।
এভাবেই তাঁর প্রাথমিক জীবন ইলম অর্জনের পথে সফর ও অবস্থানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়, যতক্ষণ না তিনি আলেমদের মাঝে এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে আসীন হন।
তাঁর সম্পর্কে আবু শামাহ বলেন, “
... তিনি তাঁর যুগে আরবি সাহিত্য, নাহু (ব্যাকরণ) এবং ভাষাতত্ত্বে নিজ সময়ের ইমাম ছিলেন। তাঁর নিকট মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কারণে আমি তাঁর মজলিসে অধিক সময় বসার এবং তাঁর থেকে শেখার সুযোগ পাইনি” ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
شيوخه:
إن كثرة رحلاته وتنقله بين دمشق، وبغداد، ومكة، جعل شيوخه كثيرين، والحديث عنهم يطول، وليس هذا مجاله، وسوف نكتفي بذكر بعضهم.
أولًا- شيوخه في دمشق:
1- والده -رحمه الله تعالى- أحمد بن محمد بن قدامة المتوفى سنة "558هـ".
2- أبو المعالي: عبد الله بن عبد الرحمن بن أحمد بن علي بن صابر السلمي الدمشقي المتوفى سنة "576هـ".
3- أبو المكارم: عبد الواحد بن محمد بن المسلّم بن هلال الأزدي الدمشقي المتوفى سنة "565هـ".
ثانيًا- شيوخه في بغداد:
1- أحمد بن صالح بن شافع الجيلي البغدادي المتوفى سنة "565هـ".
2- أحمد بن المقرب بن الحسين البغدادي الكرخي المتوفى سنة "563هـ".
ثالثًا- من شيوخه من مكة:
المبارك بن علي البغدادي الحنبلي، المحدث الفقيه، إمام الحنابلة بالحرم الشريف، المتوفى سنة "575هـ"1.
--------------------------------------------
তাঁর শায়খগণ:
নিশ্চয়ই দামেস্ক, বাগদাদ এবং মক্কার মাঝে তাঁর অধিক সফর ও যাতায়াত তাঁর শায়খদের সংখ্যাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে, এবং তাঁদের সম্পর্কে আলোচনা দীর্ঘ হবে, আর এটি তার উপযুক্ত ক্ষেত্র নয়। আমরা তাঁদের কয়েকজনের উল্লেখের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হব।
প্রথমত- দামেস্কে তাঁর শায়খগণ:
১- তাঁর পিতা -আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন- আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা, যিনি "৫৫৮ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।
২- আবুল মাআলি: আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান বিন আহমাদ বিন আলী বিন সাবির আস-সুলামি আদ-দিমাশকি, যিনি "৫৭৬ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।
৩- আবুল মাকারিম: আবদুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসলিম বিন হিলাল আল-আজদি আদ-দিমাশকি, যিনি "৫৬৫ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।
দ্বিতীয়ত- বাগদাদে তাঁর শায়খগণ:
১- আহমাদ বিন সালিহ bin শাফি আল-জিলি আল-বাগদাদি, যিনি "৫৬৫ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।
২- আহমাদ বিন আল-মুকাররাব বিন আল-হুসাইন আল-বাগদাদি আল-কারখি, যিনি "৫৬৩ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।
তৃতীয়ত- মক্কার শায়খদের মধ্য হতে:
আল-মুবারক বিন আলী আল-বাগদাদি আল-হাম্বলি, মুহাদ্দিস ও ফকিহ, হারাম শরীফের হাম্বলিদের ইমাম, যিনি "৫৭৫ হিজরি" সালে ইন্তেকাল করেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
تلاميذه:
وكما كان شيوخ "ابن قدامة" كثيرين، فإن تلاميذه كانوا -أيضًا- كثيرين.
فإذا كانت التلمذة -بالمعني العام- تثبت لكل من تلقى عنه وأفاد منه مباشرة، أو عن طريق مؤلفاته، فإن كان الأجيال المتأخرة عنه تعتبر من تلاميذه، ونحن منهم.
وسوف نقتصر على بعض المشهورين من تلاميذه الذين تلقوا عنه مباشرة. فمنهم:
1- تقي الدين أبو العباس: أحمد بن محمد بن عبد الغني المقدسي الصالحي، شيخ الحنابلة في عصره، المتوفى سنة "643هـ".
2- أبو شامة: عبد الرحمن بن إسماعيل بن إبراهيم المقدسي الدمشقي المتوفى سنة "665هـ".
3- أبو بكر: محمد بن إبراهيم بن عبد الواحد المقدسي الحنبلي، قاضي القضاة المعروف بابن العماد المتوفى سنة "676هـ".
4- أبو الفرج: عبد الرحمن بن محمد بن أحمد بن قدامة المقدسي المتوفى سنة "682هـ".
عقيدته:
كان -رحمه الله تعالى- سلفي العقيدة، يسير على منهج أهل السنة والجماعة، ويكره الخوض في طرق المتكلمين؛ لأنها لا توصل إلى يقين، ويحمل صفات الباري سبحانه وتعالى على ظاهرها، كما جاءت في الكتاب والسنة، دون تكلف ولا تعسف، ولا تشبيه ولا تعطيل، فيثبت ما أثبته الله -تعالى- على وجه لا يعلمه إلا هو سبحانه، عملًا بقوله
তাঁর ছাত্রগণ:
যেমন ইবনে কুদামার উস্তাদগণ অনেক ছিলেন, ঠিক তেমনি তাঁর ছাত্ররাও ছিল অসংখ্য।
যদি ছাত্রত্ব বলতে সাধারণ অর্থে তাদের বুঝায় যারা সরাসরি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন অথবা তাঁর রচনাবলির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন, তবে তাঁর পরবর্তী প্রজন্মসমূহকেও তাঁর ছাত্র হিসেবে গণ্য করা হয় এবং আমরাও তাদের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা তাঁর ঐ সকল প্রসিদ্ধ ছাত্রদের কয়েকজনের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব যারা সরাসরি তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
১- তাক্বিউদ্দীন আবুল আব্বাস: আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল গনি আল-মাকদিসী আস-সালিহী, তিনি ছিলেন তাঁর যুগের হাম্বলী মাযহাবের শাইখ, মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী।
২- আবু শামা: আব্দুর রহমান বিন ইসমাঈল বিন ইব্রাহীম আল-মাকদিসী আদ-দিমাশকী, মৃত্যু ৬৬৫ হিজরী।
৩- আবু বকর: মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসী আল-হাম্বলী, তিনি কাযীউল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) ছিলেন এবং ইবনুল ইমাদ নামে পরিচিত ছিলেন, মৃত্যু ৬৭৬ হিজরী।
৪- আবুল ফারাজ: আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী, মৃত্যু ৬৮২ হিজরী।
তাঁর আকিদাহ:
তিনি—আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—সলাফী আকিদাহর অধিকারী ছিলেন, তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের মানহাজের ওপর চলতেন এবং ইলমুল কালামবিদদের পদ্ধতিতে নিমগ্ন হওয়া অপছন্দ করতেন; কারণ তা নিশ্চিত বিশ্বাসের (ইয়াকীন) দিকে নিয়ে যায় না। তিনি মহান স্রষ্টার গুণাবলিকে কুরআন ও সুন্নাহতে যেভাবে এসেছে সেভাবেই তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর গ্রহণ করতেন, কোনো প্রকার কৃত্রিমতা, জবরদস্তি, তুলনা (তাশবীহ) কিংবা অস্বীকার (তা’তীল) ছাড়াই। ফলে আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য যা সাব্যস্ত করেছেন, তিনি তা এমনভাবে সাব্যস্ত করতেন যার প্রকৃত ধরণ তিনি সুবহানাহু ব্যতীত আর কেউ জানে না। এটি মহান আল্লাহর বাণীর ওপর আমল করার অংশ হিসেবে...
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
تعالى-: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} 1.
يدل على ذلك ما ذكره -رحمه الله تعالى- في كتبه في مواضع مختلفة:
فمن ذلك ما جاء في كلامه على قضية المحكم والمتشابه في القرآن الكريم، يقول رحمه الله بعد أن أورد آراء العلماء في المراد من المتشابه: "والصحيح: أن المتشابه: ما ورد في صفات الله -سبحانه- مما يجب الإيمان به، ويحرم التعرض لتأويله، كقوله تعالى: {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} 2 {بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} 3 {لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ} 4 {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ} 5 {تَجْرِي بِأَعْيُنِنَا} 6 ونحوه.
فهذا اتفق السلف رحمهم الله على الإقرار به، وإمراره على وجهه، وترك تأويله؛ فإن الله -سبحانه- ذم المتبعين لتأويله وقرنهم -في الذم- بالذين يبتغون الفتنة وسماهم أهل زيغ7.
يضاف إلى ذلك مؤلفاته في العقيدة، والتي منها:
1- "ذم التأويل" وهي رسالة مطبوعة ضمن مجموعة رسائل بمطبعة كروستان بمصر عام 1329هـ.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" ১।
তিনি -আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন- তাঁর গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন স্থানে যা উল্লেখ করেছেন, তা একথাই প্রমাণ করে:
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পবিত্র কুরআনের মুহকাম ও মুতাশাবিহ্ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর বক্তব্য। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) মুতাশাবিহ্-এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলেমগণের অভিমতগুলো উল্লেখ করার পর বলেন: "আর সঠিক অভিমত হলো: মুতাশাবিহ্ হচ্ছে আল্লাহর -সুবহানাহু- গুণাবলি সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, যার ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং যার অপব্যাখ্যা করা হারাম। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: 'দয়াময় আরশের ওপর উঠেছেন।' ২ 'বরং তাঁর হাত দুটি প্রসারিত।' ৩ 'যাকে আমি আমার দুই হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি।' ৪ 'আর আপনার রবের চেহারা অবশিষ্ট থাকবে।' ৫ 'যা আমার চোখের সামনে চলছে।' ৬ এবং এই জাতীয় অন্যান্য আয়াত।
এগুলোর স্বীকৃতি দান, এগুলোকে যেভাবে এসেছে সেভাবে রাখা এবং এগুলোর অপব্যাখ্যা বর্জন করার ওপর সলফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) ঐক্যমত পোষণ করেছেন। কেননা আল্লাহ -সুবহানাহু- এগুলোর অপব্যাখ্যাকারীদের নিন্দা করেছেন এবং নিন্দার ক্ষেত্রে তাদেরকে ফিতনা অন্বেষণকারীদের সাথে যুক্ত করেছেন ও তাদেরকে সত্যত্যাগী দল হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৭।
এর সাথে আকিদাহ বিষয়ে তাঁর গ্রন্থাবলিও যুক্ত হবে, যার মধ্যে রয়েছে:
১- "যম্মুত তাউয়িল" (অপব্যাখ্যার নিন্দা), এটি একটি পুস্তিকা যা ১৩২৯ হিজরিতে মিশরের কুর্দিস্তান ছাপাখানায় একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
2- "لمعة الاعتقاد" وهي رسالة في عقيدة أهل السنة، والجماعة، نسبها إليه "بروكلمان" في تاريخ الأدب العربي1.
3- "رسالة في مسألة العلو" نسبها إليه ابن رجب في ذيل طبقات الحنابلة2، وإسماعيل باشا في هدية العارفين3.
مذهبه الفقهي:
أما مذهبه الفقهي: فمعروف أنه من أئمة فقهاء الحنابلة، ومؤلفاته المتعددة في فقه الإمام أحمد -رحمه الله تعالى- شاهدة على ذلك، ومنها: "المغني" و"المقنع" و"الكافي".
وإذا كان كتابه "المغني" في الأصل موضوعًا على مذهب الإمام أحمد، فإن العلماء -وبالأخص في الأزهر- يعتبرونه مصدرًا مهمًّا من مصادر الفقه المقارن، ويضعونه بجانب كتاب "المجموع" للإمام النووي، و"بداية المجتهد" لابن رشد.
مكانته وثناء العلماء عليه:
أما مكانة "ابن قدامة" فحدّث ولا حرج، فقد شهد له علماء عصره، ومن بعدهم بالفضل والعلم والأخلاق الكريمة، ولا غرو، فهو شريف النسب، حيث يتصل نسبه إلى الخليفة العادل "عمر بن الخطاب" رضي الله عنه كما تقدم.
قال عنه تلميذه أبو شامة:
"كان إمامًا من أئمة المسلمين، وعَلَمًا من أعلام الدين، في العلم
--------------------------------------------
২- "লুম'আতুল ই'তিকাদ", এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা'আতের আকীদা বিষয়ক একটি পুস্তিকা, যা "ব্রোকলম্যান" তাঁর 'আরবি সাহিত্যের ইতিহাস' গ্রন্থে তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।১
৩- "রিসালাহ ফী মাসআলাতিল উলুওয়" (আল্লাহর উচ্চতা সংক্রান্ত মাসআলার পুস্তিকা); ইবনে রজব 'যাইলু তবাকাতিল হানাবিলাহ' গ্রন্থে২ এবং ইসমাইল পাশা 'হাদিয়াতুল আরিফীন' গ্রন্থে৩ এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।
তাঁর ফিকহী মাযহাব:
তাঁর ফিকহী মাযহাবের কথা বলতে গেলে, এটি সর্বজনবিদিত যে তিনি হাম্বলী ফকীহগণের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম আহমাদ -আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি রহম করুন- এর ফিকহ শাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত একাধিক গ্রন্থ এর সাক্ষ্য দেয়, যার মধ্যে রয়েছে: "আল-মুগনী", "আল-মুকনি" এবং "আল-কাফী"।
যদিও তাঁর "আল-মুগনী" গ্রন্থটি মূলত ইমাম আহমাদের মাযহাবের উপর ভিত্তি করে রচিত, তথাপি উলামায়ে কেরাম -বিশেষ করে আল-আযহারের আলিমগণ- এটিকে তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করেন এবং একে ইমাম নববীর "আল-মাজমূ" এবং ইবনে রুশদের "বিদায়াতুল মুজতাহিদ" এর সমপর্যায়ে স্থান দেন।
তাঁর মর্যাদা এবং তাঁর ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের প্রশংসা:
ইবনে কুদামার মর্যাদার ব্যাপারে আপনি দ্বিধাহীনভাবে বলতে পারেন; তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী আলিমগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব, ইলম এবং উন্নত চরিত্রের সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তিনি অত্যন্ত সম্মানিত বংশের অধিকারী, যা ন্যায়পরায়ণ খলীফা "উমর ইবনুল খাত্তাব" রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
তাঁর ছাত্র আবু শামা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
"তিনি ছিলেন মুসলিম উম্মাহর ইমামগণের মধ্য হতে একজন ইমাম এবং দ্বীনের অন্যতম দিকপাল, ইলমের ময়দানে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
والعمل، صنف كتبًا حسانًا في الفقه، وغيره، عارفًا بمعاني الآثار والأخبار"1.
وقال عنه الصفدي:
".... كان أوحد زمانه، إمامًا في علم الفقه، والأصول، والخلاف، والفرائض، والنحو، والحساب، والنجوم السيارة والمنازل"2.
وقال عنه ابن الجوزي:
"كان إمامًا في فنون، ولم يكن في زمانه بعد أخيه "أبي عمر" أزهد منه، وكان معرضًا عن الدنيا وأهلها، هينًا لينًا متواضعًا، حسن الأخلاق، جوادًا سخيًّا، ومن رآه كأنما رأى بعض الصحابة، وكأن النور يخرج من وجهه"3.
وهذه شهادة تلميذ من تلاميذه الذين عاصروه وعاشروه عن قرب، وهي شهادة عدل فلا يطعن فيها كونه واحدًا من تلاميذه.
وفاته:
وبعد حياة حافلة بالبذل والعطاء ونشر العلم، تدريسًا وتأليفًا، توفي -رحمه الله تعالى- في يوم السبت غرة شوال عام 620هـ الموافق 1223م.
رحمه الله -تعالى- رحمة واسعة، وأسكنه فسيح جناته مع النبيين والصديقين والشهداء والصالحين، آمين.
--------------------------------------------
এবং কর্মেও (পারদর্শী ছিলেন), তিনি ফিকহ এবং অন্যান্য বিষয়ে উত্তম কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন, তিনি আসার (সাহাবীদের বাণী) এবং আখবার (হাদীস) এর মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানী ছিলেন।১
সাফাদি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
".... তিনি তাঁর সময়ের অদ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন, ফিকহ শাস্ত্র, উসুল (মূলনীতি), খিলাফ (মতভেদপূর্ণ মাসআলা), ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন), নাহু (ব্যাকরণ), হিসাব (গণিত), ভ্রাম্যমাণ নক্ষত্র ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে একজন ইমাম ছিলেন।"২
ইবনুল জাওযী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:
"তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন, এবং তাঁর ভাই 'আবু উমর'-এর পর তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে বড় কোনো দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি ছিলেন না। তিনি দুনিয়া ও দুনিয়াদারদের থেকে বিমুখ ছিলেন, ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, দাতা ও মহানুভব। যে ব্যক্তি তাঁকে দেখত, মনে হতো যেন সে কোনো সাহাবীকে দেখছে, এবং মনে হতো তাঁর চেহারা থেকে নূর নির্গত হচ্ছে।"৩
এটি তাঁর এমন একজন ছাত্রের সাক্ষ্য যিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর অতি নিকটে থেকে জীবন অতিবাহিত করেছেন, এটি একটি ন্যায়নিষ্ঠ সাক্ষ্য, তাই তিনি তাঁর ছাত্র হওয়ার কারণে এতে কোনো আপত্তি তোলা যায় না।
তাঁর মৃত্যু:
ত্যাগ, দান এবং অধ্যাপনা ও রচনার মাধ্যমে ইলম প্রচারের এক কর্মমুখর জীবনের পর, তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—৬২০ হিজরি সনের ১লা শাওয়াল মোতাবেক ১২২৩ খ্রিস্টাব্দের শনিবার মৃত্যুবরণ করেন।
আল্লাহ তাআলা তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন এবং তাঁকে নবীগণ, সত্যবাদীগণ, শহীদগণ ও নেককারদের সাথে জান্নাতের বিশাল উদ্যানে স্থান দান করুন, আমীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
مؤلفاته:
مؤلفات "ابن قدامة" كثيرة ومتعددة الاتجاهات، منها ما يتعلق بالعقيدة، ومنها ما يتعلق بالقرآن والسنة، ومنها ما يتعلق بالفقه وأصوله، ومنها ما يتعلق بالآداب وفضائل الصحابة رضي الله عنهم ومنها ما يتعلق بالتاريخ والأنساب، إلى غير ذلك من الفنون التي برز فيها "ابن قدامة" وألّف فيها الموسوعات والرسائل، التي أفاد منها طلاب العلم في شتى المعارف المختلفة.
وهذه هي المؤلفات التي وقفت عليها، والتي أوردها فضيلة الدكتور عبد العزيز بن عبد الرحمن بن عثمان السعيد -يحفظه الله- في دراسته الضافية عن "ابن قدامة وآثاره الأصولية".
أولًا- في العقيدة:
1- الاعتقاد.
2- ذم التأويل.
3- رسالة إلى الشيخ فخر الدين ابن تيمية في تخليد أهل البدع في النار.
4- لمعة الاعتقاد، وهي رسالة في عقيدة أهل السنة والجماعة.
5- رسالة في مسألة العلو.
6- مسألة في تحريم النظر في كتب أهل الكتاب.
7- كتاب القدر.
ثانيًا- في أصول الفقه:
لم أجد -فيما اطلعت عليه- أن له في الأصول سوى "روضة الناظر وجنة المناظر" والذي سوف نتحدث عن منهج المصنف فيه إن شاء الله تعالى.
তাঁর রচনাবলী:
"ইবনে কুদামা"-এর রচনাবলী সংখ্যায় অনেক এবং বহুমুখী। এর মধ্যে কিছু আকিদা বিষয়ক, কিছু কুরআন ও সুন্নাহ বিষয়ক, কিছু ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ বিষয়ক, কিছু শিষ্টাচার ও সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মর্যাদা বিষয়ক, আবার কিছু ইতিহাস ও বংশলতিকা বিষয়ক। এ ছাড়াও অন্যান্য শাস্ত্র রয়েছে যাতে "ইবনে কুদামা" পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন এবং বিভিন্ন বিশ্বকোষ ও পুস্তিকা রচনা করেছিলেন, যা থেকে ইলম অন্বেষণকারীরা বিবিধ জ্ঞানে উপকৃত হয়েছেন।
এগুলো হলো সেই সব গ্রন্থ যেগুলোর ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি এবং যা ফাদিলাতুশ শাইখ ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান বিন উসমান আস-সাঈদ —আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন— তাঁর "ইবনে কুদামা ও তাঁর উসুলি নিদর্শনসমূহ" শীর্ষক বিস্তারিত গবেষণায় উল্লেখ করেছেন।
প্রথমত- আকিদা শাস্ত্রে:
১- আল-ই’তিকাদ।
২- যাম্মুত তাবীল (ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের নিন্দা)।
৩- বিদআতপন্থীদের জাহান্নামে চিরস্থায়ী অবস্থান বিষয়ে শাইখ ফখরুদ্দিন ইবনে তাইমিয়্যাহর প্রতি লিখিত একটি রিসালাহ।
৪- লুমআতুল ই’তিকাদ; এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা বিষয়ক একটি রিসালাহ।
৫- আল্লাহর সুউচ্চ হওয়ার (উলুউ) মাসআলা সংক্রান্ত একটি রিসালাহ।
৬- আহলে কিতাবদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন নিষিদ্ধ হওয়া সংক্রান্ত মাসআলা।
৭- কিতাবুল কদর।
দ্বিতীয়ত- উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে:
আমি যতটুকু অবগত হয়েছি, তাতে উসুল শাস্ত্রে "রাওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মুনাযির" ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো গ্রন্থ পাইনি; ইনশাআল্লাহ তায়ালা এই গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে আমরা আলোচনা করব।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ثالثًا- في الفقه:
أما مؤلفات "ابن قدامة" في الفقه، فكثيرة جدًّا، منها ما وقفنا عليه:
1- المغني في شرح مختصر الخرقي.
2 - المقنع.
3 - الكافي.
4 - عمدة الأحكام.
5 - مختصر الهداية لأبي الخطاب.
6 - رسالة في المذاهب الأربعة.
7 - فقه الإمام.
8 - فتاوى ومسائل منثورة.
9 - مقدمة في الفرائض.
10- مناسك الحج.
رابعًا- في الكتاب والسنّة:
1- البرهان في مسألة القرآن.
2- قنعة الأريب في الغريب.
3- مختصر علل الحديث؛ لأبي بكر أحمد بن محمد بن هارون الخلال المتوفى سنة "311هـ".
4- مختصر في غريب الحديث.
5- جواب مسألة وردت من صرخد في القرآن.
خامسًا- في الفضائل والأخلاق:
1- فضائل الصحابة.
2- فضائل العشرة المبشرين بالجنة.
3- فضائل عاشوراء.
তৃতীয়ত- ফিকহ শাস্ত্রে:
ফিকহ শাস্ত্রে "ইবনে কুদামা"-র রচনাবলি অনেক বেশি, তার মধ্যে আমরা যেগুলোর সন্ধান পেয়েছি:
১- আল-মুগনি ফী শারহি মুখতাসারিল খারাকি।
২- আল-মুকনি।
৩- আল-কাফি।
৪- উমদাতুল আহকাম।
৫- আবুল খাত্তাব রচিত 'আল-হিদায়া'-র সংক্ষিপ্তসার।
৬- চার মাযহাব বিষয়ক একটি রিসালা (পুস্তিকা)।
৭- ফিকহুল ইমাম।
৮- ফাতাওয়া ও বিক্ষিপ্ত মাসায়েল।
৯- ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শাস্ত্রের ভূমিকা।
১০- হজ্জের নিয়মাবলী।
চতুর্থত- কিতাব ও সুন্নাহ শাস্ত্রে:
১- কুরআন বিষয়ক মাসআলায় আল-বুরহান।
২- কানআতুল আরীব ফিল গারীব।
৩- ৩১১ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হারুন আল-খাল্লালের 'ইলালুল হাদিস'-এর সংক্ষিপ্তসার।
৪- গারীবুল হাদিস বিষয়ক সংক্ষিপ্তসার।
৫- কুরআন বিষয়ে সারখাদ থেকে আসা একটি প্রশ্নের উত্তর।
পঞ্চমত- মর্যাদা ও চারিত্রিক গুণাবলি শাস্ত্রে:
১- সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা।
২- জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মর্যাদা।
৩- আশুরার মর্যাদা।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
4- كتاب التوابين.
5- كتاب الرقة والبكاء.
6- كتاب الزهد.
7- ذم الوسواس.
8- كتاب المتحابين في الله.
سادسًا- في التاريخ والأنساب:
1- الاستبصار في نسب الأنصار.
2- التبيين في نسب القرشيين.
3- مشيخة شيوخه.
4- مشيخة أخرى.
هذا بالإضافة إلى رسائل أخرى في موضوعات متفرقة1.
--------------------------------------------
৪- তওবাকারীদের কিতাব।
৫- হৃদয়ের কোমলতা ও ক্রন্দনের কিতাব।
৬- দুনিয়া বিমুখতার কিতাব।
৭- কুমন্ত্রণার নিন্দা।
৮- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পর মহব্বতকারীদের কিতাব।
ষষ্ঠত- ইতিহাস ও বংশতত্ত্ব বিষয়ে:
১- আনসারদের বংশপরিচয় পর্যবেক্ষণ।
২- কুরাইশদের বংশপরিচয় বর্ণনা।
৩- তাঁর শিক্ষকদের শিক্ষকদের তালিকা।
৪- অন্য একটি শিক্ষক তালিকা।
এছাড়া বিবিধ বিষয়ে তাঁর আরও কিছু পুস্তিকা রয়েছে।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
منهج ابن قدامة:
في كتابه: روضة الناظر وجنة المناظر
1- من المعروف أن "ابن قدامة" حنبلي المذهب، والحنابلة -بصفة عامة- يسيرون على منهج المتكلمين الذي يعنون بتأسيس القواعد وإقامة الأدلة عليها.
والمؤلف سلك نفس المسلك، فيذكر مذاهب العلماء في المسألة مقرونة بأدلتها، ثم يذكر ما يراه راجحًا، مؤيدًا بالبرهان والدليل، ثم يناقش أدلة المخالفين ويبين وجه الخطأ فيما قالوه.
وقد بين -رحمه الله تعالى- منهجه هذا في مقدمة كتابه فقال:
"أما بعد: فهذا كتاب نذكر فيه أصول الفقه، والاختلاف فيه، ودليل كل قول، على وجه الاختصار، والاقتصار من كل قول على المختار، ونبين من ذلك ما نرتضيه، ونجيب على من خالفنا فيه".
فهو بذلك يريد أن يجعل كتابه في "أصول الفقه المقارن" كما فعل ذلك في كتابه "المغني" في الفقه، فهو موضوع أساسًا على مذهب الإمام أحمد بن حنبل -رحمه الله تعالى- لكنه أضاف إليه أقوال بعض المذاهب الأخرى، مقرونة -أحيانا- بأدلتها، ثم يناقش هذه الأدلة ويبين الراجح في النهاية بقوله: "ولنا".
ولذلك يعتبره العلماء من أهم المراجع في الفقه المقارن.
ইবনে কুদামার মানহাজ (পদ্ধতি):
তাঁর গ্রন্থ: রওজাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির-এ
১- এটি সর্বজনবিদিত যে "ইবনে কুদামা" হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং হাম্বলিগণ—সাধারণত—মুতাকাল্লিমীনদের পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যারা মূলত মূলনীতি প্রতিষ্ঠা এবং তার পক্ষে দলিল উপস্থাপনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
লেখক একই পথ অনুসরণ করেছেন; ফলে তিনি কোনো মাসআলায় আলেমদের বিভিন্ন মাযহাব বা মতসমূহ সেগুলোর দলিলের সাথে উল্লেখ করেন, এরপর তিনি যেটিকে অগ্রগণ্য মনে করেন তা প্রমাণ ও দলিলের মাধ্যমে উল্লেখ করেন, অতঃপর তিনি ভিন্নমত পোষণকারীদের দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং তাদের বক্তব্যের ভুলগুলো ব্যাখ্যা করেন।
তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এই পদ্ধতির কথা উল্লেখ করে বলেছেন:
"অতঃপর: এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে আমরা উসূলুল ফিকহ, এ বিষয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্য এবং প্রতিটি মতের দলিল সংক্ষেপে উল্লেখ করব, এবং প্রতিটি মতের মধ্য থেকে কেবল মনোনীত মতটিই গ্রহণ করব। এর মধ্যে আমরা যেটিকে পছন্দ করি তা বর্ণনা করব এবং যারা আমাদের বিরোধিতা করেছেন তাদের জবাব দেব।"
এর মাধ্যমে তিনি তাঁর গ্রন্থটিকে "তুলনামূলক উসূলুল ফিকহ" হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন, যেমনটি তিনি ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর "আল-মুগনি" গ্রন্থে করেছেন। এটি মূলত ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এর মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে রচিত হলেও এতে তিনি অন্যান্য কিছু মাযহাবের মতামতও যোগ করেছেন, যা মাঝে মাঝে দলিলের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি সেই দলিলগুলো নিয়ে আলোচনা করেন এবং পরিশেষে "আমাদের জন্য" বলার মাধ্যমে অগ্রগণ্য মতটি স্পষ্ট করেন।
আর একারণেই আলেমগণ এটিকে তুলনামূলক ফিকহ শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে গণ্য করেন।
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
2- والمؤلف سلك في كتابه "الروضة" مسلك الإمام الغزالي في كتاب "المستصفى من علم الأصول" في الجملة، حتى إنه تبعه في إضافة المقدمة المنطقية إلى كتابه، والتي كانت مثار انتقاد له من بعض العلماء، حتى قيل: إنه حذفها فيما بعد من بعض النسخ.
كما تبعه في ترتيب أدلة الأحكام، فجعلها على هذا النحو: كتاب الله -تعالى-، ثم سنّة رسوله صلى الله عليه وسلم، ثم الإجماع، ثم دليل العقل المبقي على النفي الأصلي، ثم في الأدلة المختلف فيها، وأخر القياس وجعله في باب: ما يقتبس من الألفاظ، مخالفًا ما عليه جمهور العلماء من المذاهب الأربعة، حيث يجعلون القياس من الأدلة الأربعة المتفق عليها: الكتاب، السنة، الإجماع، القياس.
جاء في شرح الكوكب المنير1: "أدلة الفقه المتفق عليها -على ما في بعضها من خلاف ضعيف جدًّا- أربعة:
الأول: الكتاب، وهو القرآن، وهو الأصل.
والثاني: السنة..... وهي مخبرة عن حكم الله تعالى.
والثالث: الإجماع..... وهو مستند إلى الكتاب والسنّة.
والرابع: القياس على الصحيح، وعليه جماهير العلماء.
وقال أبو المعالي وجمع: ليس القياس من الأصول، وتعلقوا بأنه لا يفيد إلا الظن.
قال في شرح التحرير: والحق هو الأول، والثاني ضعيف جدًّا، فإن القياس قد يفيد القطع -كما سيأتي- وإن قلنا: لا يفيد إلا الظن فخبر الواحد ونحوه لا يفيد الظن.
--------------------------------------------
২- এবং লেখক তাঁর "আর-রাওদাহ" গ্রন্থে মোটের ওপর "আল-মুস্তাসফা মিন ইলমিল উসুল" গ্রন্থে ইমাম গাযালীর অনুসৃত পথ অবলম্বন করেছেন। এমনকি তিনি তাঁর গ্রন্থে যৌক্তিক ভূমিকা (মানতিকি মুকাদ্দিমাহ) সংযোজন করার ক্ষেত্রেও তাঁকে অনুসরণ করেছেন, যা কিছু আলেমের পক্ষ থেকে তাঁর সমালোচনার কারণ হয়েছিল; এমনকি বলা হয়ে থাকে যে, পরবর্তীতে তিনি কিছু পাণ্ডুলিপি থেকে এটি বাদ দিয়েছিলেন।
তেমনি তিনি আহকামের দলিলসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রেও তাঁকে অনুসরণ করেছেন এবং সেগুলোকে এইভাবে বিন্যস্ত করেছেন: আল্লাহ তাআলার কিতাব, অতঃপর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ, অতঃপর ইজমা, অতঃপর বিবেকপ্রসূত দলিল যা মৌলিক নাস্তির ওপর বহাল থাকে, এরপর মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহ। আর তিনি কিয়াসকে বিলম্বিত করেছেন এবং একে 'শব্দাবলি থেকে যা আহরণ করা হয়' শীর্ষক অধ্যায়ে স্থান দিয়েছেন। এটি চার মাযহাবের অধিকাংশ আলেমের মতের পরিপন্থী, কারণ তাঁরা কিয়াসকে চারটি সর্বসম্মত দলিলের অন্তর্ভুক্ত করেন, যা হলো: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস।
"শরহুল কাওকাবিল মুনীর"-এ এসেছে১: "ফিকহের সর্বসম্মত দলিলসমূহ—যার কোনো কোনোটিতে অত্যন্ত দুর্বল মতভেদ থাকলেও—হলো চারটি:
প্রথমটি: কিতাব, যা হলো কুরআন এবং এটিই মূল ভিত্তি।
দ্বিতীয়টি: সুন্নাহ... যা আল্লাহ তাআলার বিধান সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করে।
তৃতীয়টি: ইজমা... যা কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল।
চতুর্থটি: সঠিক মতানুসারে কিয়াস, আর অধিকাংশ আলেম এর ওপরই রয়েছেন।
আবুল মাআলি এবং একদল আলেম বলেছেন: কিয়াস উসুলের (মূলনীতির) অন্তর্ভুক্ত নয় এবং তাঁরা এই যুক্তি পেশ করেছেন যে, এটি ধারণা (যন) ব্যতীত অন্য কিছু প্রদান করে না।
"শরহুত তাহরীর"-এ বলা হয়েছে: হক হলো প্রথমটি, আর দ্বিতীয়টি অত্যন্ত দুর্বল। কেননা কিয়াস কখনো কখনো নিশ্চিত জ্ঞান (কাতয়ি) প্রদান করতে পারে—যেমনটি সামনে আসবে—আর যদি আমরা বলি যে: এটি কেবল ধারণা প্রদান করে, তবে খবরুল ওয়াহিদ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো ধারণা প্রদান করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
রওদাতুন নাজির ওয়া জান্নাতুল মুনাজির - তা শাবান
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
وهو: أي القياس مستنبط من الثلاثة: التي هي الكتاب والسنة والإجماع".
و"ابن قدامة" وإن كان قد سار على منهج "الغزالي" إلا أنه قد خالفه في بعض المسائل، وفي ترتيب الفصول، وتقديم بعض المباحث وتأخير البعض، كما أنه امتاز عن "المستصفي" بإبراز آراء علماء الحنابلة، كالقاضي أبي يعلى المتوفى سنة "458هـ"، وأبي حامد: الحسن بن حامد بن علي البغدادي المتوفى "403هـ" والتميمي: عبد العزيز بن الحارث بن أسد المتوفى سنة "371هـ"، وعبد العزيز بن جعفر بن أحمد الحنبلي، المعروف بغلام الخلال المتوفى سنة "363هـ"، وعلي بن عقيل بن محمد "ابن عقيل الحنبلي" المتوفى سنة "513هـ"، ومحفوظ بن أحمد بن الحسن أبو الخطاب الحنبلي المتوفى سنة "510هـ" وغيرهم من علماء المذهب، فضلًا عن النقل عن إمامهم جميعًا: الإمام أحمد -رحمه الله تعالى-.
3- ولما كان الغرض من الكتاب الاختصار والاقتصار على ما هو الراجح -غالبًا- كما جاء في مقدمة الكتاب، فإن المصنف كثيرًا ما يحيل على المسائل المتقدمة التي تشبه المسألة التي يعالجها، ومن أمثلة ذلك:
قوله في باب النهي: "اعلم أن ما ذكرناه من الأوامر، تتضح به أحكام النواهي؛ إذ لكل مسألة من الأوامر وزان من النواهي، وعلى العكس، فلا حاجة إلى التكرار إلا في اليسير"1 كما أنه -أحيانًا- يضطر إلى إضافة بعض الأشياء في نهاية المسألة، حتى لا تخفى على القارئ بسب الاختصار الذي يختصره من كلام الغزالي.
ففي مسألة الأفعال والأعيان المنتفع بها قبل ورود الشرع بحكمها
--------------------------------------------
আর এটি: অর্থাৎ কিয়াস এই তিনটি উৎস থেকে উৎসারিত: যেগুলো হলো কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা।
এবং "ইবনে কুদামা" যদিও "গাজালী"র পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তবে তিনি কিছু মাসআলায়, অধ্যায় বিন্যাসে এবং কিছু আলোচনার অগ্রায়ন ও পশ্চাদায়নের ক্ষেত্রে তাঁর বিরোধিতা করেছেন। তদুপরি তিনি হাম্বলী আলেমদের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে "আল-মুসতাসফা" থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছেন, যেমন কাজী আবু ইয়ালা (মৃত্যু ৪৫৮ হি.), আবু হামিদ: হাসান ইবনে হামিদ ইবনে আলী আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৪০৩ হি.), তামীমী: আব্দুল আজীজ ইবনুল হারিস ইবনে আসাদ (মৃত্যু ৩৭১ হি.), আব্দুল আজীজ ইবনে জাফর ইবনে আহমদ আল-হাম্বলী, যিনি গুলামুল খাল্লাল নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৬৩ হি.), আলী ইবনে আকীল ইবনে মুহাম্মদ "ইবনে আকীল আল-হাম্বলী" (মৃত্যু ৫১৩ হি.), মাহফুজ ইবনে আহমদ ইবনুল হাসান আবুল খাত্তাব আল-হাম্বলী (মৃত্যু ৫১০ হি.) এবং মাযহাবের অন্যান্য আলেমগণ। এছাড়া তাঁদের সকলের ইমাম: ইমাম আহমদ -রহিমাহুল্লাহ তায়ালা- থেকে উদ্ধৃতি তো রয়েছেই।
৩- যেহেতু এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষেপণ এবং—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—কেবল যা রাজেহ (প্রাধান্যপ্রাপ্ত) তার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা, যেমনটি কিতাবের ভূমিকায় বর্ণিত হয়েছে, সেহেতু লেখক প্রায়শই পূর্ববর্তী মাসআলাসমূহের দিকে ইঙ্গিত করেন যা তাঁর আলোচিত মাসআলার সদৃশ। এর একটি উদাহরণ হলো:
নিষেধাজ্ঞা (নাহি) অধ্যায়ে তাঁর উক্তি: "জেনে রাখুন যে, আমরা আদেশের (আমরের) ক্ষেত্রে যা উল্লেখ করেছি, তার মাধ্যমেই নিষেধাজ্ঞার বিধানসমূহ স্পষ্ট হয়ে যায়; কেননা আদেশের প্রতিটি মাসআলার সমান্তরাল নিষেধাজ্ঞার একটি মাসআলা রয়েছে এবং এর বিপরীতটিও সত্য। তাই সামান্য কিছু ক্ষেত্র ব্যতীত পুনরাবৃত্তির কোনো প্রয়োজন নেই।" তেমনিভাবে—মাঝে মাঝে—তিনি মাসআলার শেষে কিছু বিষয় যোগ করতে বাধ্য হন, যাতে গাজালীর বক্তব্য থেকে তিনি যে সংক্ষেপণ করেছেন তার কারণে তা পাঠকের কাছে অস্পষ্ট না থাকে।
শরীয়তের বিধান আসার পূর্বে মানুষের কার্যাবলি ও ব্যবহার্য বস্তুসমূহের বিধান সংক্রান্ত মাসআলায়...
--------------------------------------------