(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: -)
رحلة ابن بطوطة ط دار الشرق العربي القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: رحلة ابن بطوطة المسماة تحفة النظار في غرائب الامصار وعجائب الأسفار
المؤلف: محمد بن عبد الله بن محمد بن إبراهيم اللواتي الطنجي، أبو عبد الله، ابن بطوطة (ت 779هـ)
الناشر: دار الشرق العربي
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
রিহলা ইবনে বতুতা, দারুশ শারক আল-আরাবি সংস্করণ বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: রিহলা ইবনে বতুতা, যার নাম তুহফাতুন নুজ্জার ফি গারাইবিল আমসার ওয়া আজায়িবিল আসফার
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-লাওয়াতি আত-তানজি, আবু আবদুল্লাহ, ইবনে বতুতা (মৃত্যু ৭৭৯ হিজরি)
প্রকাশক: দারুশ শারক আল-আরাবি
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৩)
المجلد الاول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة
قال الشيخ الفقيه العالم الثقة الناسك الأبر وفد الله المعتمر شرف الدين لمعتمد في سياحة على رب العالمين أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن محمد بن إبراهيم اللواتي ثم الطبخى المعروف بابن بطوطة رحمه الله ورضي عنه وكرمه آمين.
الحمد لله1 الذي ذلل الأرض لعباده ليسلكوا منها سبلا فجاجاً، وجعل منها وإليها تاراتهم الثلاث نباتا وإعادة وإخراجاً. دحاها بقدرته فكانت مهاداً للعباد، وأرساها بالأعلام الراسيات والأطواد، ورفع فوقها سمك السماء بغير عماد وأطلع الكواكب هداية في ظلمات البر والبحر. وجعل القمر نورا والشمس سراجا ثم أنزل من السماء ماء فأحيا به الأرض بعد الممات. وأنبت فيها من كل الثمرات. وفطر أقطارها بصنوف النبات، وفجر البحرين عذبا فراتا وملحاً أجاجاً، وأكمل على خلقه الأنعام، بتذليل مطايا الأنعام، وتسخير المنشآت كالأعلام لتمتطوا من صهوة القفر ومتن البحر أثباجاً. وصلى الله على سيدنا ومولانا محمد الذي أوضح منهاجاً. وطلع نور هدايته وهّاجا. بعثه الله تعالى رحمة للعالمين واختاره للنبيين وأمكن صوارمه من رقاب المشركين حتى دخل الناس في دين الله أفواجاً، وأيده بالمعجزات الباهرات، وأنطق بتصديقه الجمادات، وأحيا بدعوته الرمم الباليات، وفجر ومن بين أنامله ماء ثجاجاً، ورضي الله تعالى عن المتشرفين بالإنتماء إليه أصحابا وآلا وأزواجاً،
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা
শায়খ, ফকীহ, আলিম, নির্ভরযোগ্য, ইবাদতগুজার, পুণ্যবান, আল্লাহর মেহমান, উমরাকারী, দ্বীনের গৌরব, বিশ্বজাহানের রবের উদ্দেশ্যে ভ্রমণে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-লাওয়াতি অতঃপর আত-তাবখি, যিনি ইবনে বতুতা হিসেবে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সম্মানিত করুন, আমীন)—তিনি বলেছেন:
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যমীনকে তাঁর বান্দাদের জন্য সুগম করেছেন যাতে তারা তা থেকে প্রশস্ত পথে বিচরণ করতে পারে, এবং একে তাদের জন্য তিনটি পর্যায়ের স্থান—উদ্ভিদ হিসেবে উদ্গত হওয়া, তাতে ফিরে যাওয়া এবং তা থেকে বের হয়ে আসা—নির্ধারণ করেছেন। তিনি স্বীয় ক্ষমতায় একে বিস্তৃত করেছেন, ফলে তা বান্দাদের জন্য শয্যাস্বরূপ হয়েছে। তিনি একে সুদৃঢ় পাহাড় ও পর্বতমালা দ্বারা স্থির করেছেন এবং এর উপরে আকাশের ছাদকে স্তম্ভ ছাড়াই উন্নীত করেছেন। তিনি স্থল ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথপ্রদর্শনের জন্য নক্ষত্ররাজি উদিত করেছেন এবং চাঁদকে আলো ও সূর্যকে প্রদীপে পরিণত করেছেন। অতঃপর তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন এবং তার মাধ্যমে যমীনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেছেন। তিনি সেখানে সকল প্রকার ফলমূল উৎপন্ন করেছেন এবং এর বিভিন্ন প্রান্তকে নানা প্রকার উদ্ভিদ দ্বারা বিদীর্ণ করেছেন। তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন—একটি মিষ্ট ও সুস্বাদু এবং অপরটি লোনা ও তিক্ত। তিনি পশুকুলকে বশীভূত করে এবং পাহাড়সদৃশ জাহাজসমূহকে অনুগত করে তাঁর সৃষ্টির ওপর নেয়ামত পূর্ণ করেছেন, যাতে তোমরা মরুর পৃষ্ঠে এবং সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গে সওয়ার হতে পারো। এবং আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি সঠিক পথ স্পষ্ট করেছেন এবং যাঁর হেদায়েতের আলো উজ্জ্বলভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন, তাঁকে নবীদের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন এবং মুশরিকদের ঘাড়ের ওপর তাঁর তলোয়ারকে সক্ষম করেছেন, যতক্ষণ না মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছে। তিনি তাঁকে উজ্জ্বল মুজিযাসমূহ দ্বারা শক্তিশালী করেছেন, জড় পদার্থকে তাঁর সত্যতার সাক্ষ্যে বাকশক্তি দান করেছেন, তাঁর দাওয়াতের মাধ্যমে জীর্ণ হাড়সমূহকে জীবিত করেছেন এবং তাঁর আঙ্গুলসমূহের মাঝখান থেকে প্রচুর পানি প্রবাহিত করেছেন। এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর সাথে সম্পর্কযুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জনকারী সাহাবীগণ, পরিবারবর্গ এবং সহধর্মিনীগণের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৪)
المقيمين تقاة الدين فلا تخشى بعدهم اعوجاجاً، فهم الذين آزروه على جهاد الأعداء، وظاهروه على إظهار الملة البيضاء، وقاموا بحقوقها الكريمة من الهجرة والنصرة والإيواء، واقتحموا دونه نار اليأس حامية، وخاضوا بحر الموت عجاجا، ونستوهب الله تعالى لمولانا الإمام الخليفة أمير المؤمنين المتوكل على رب العالمين المجاهد في سبيل الله المؤيد بنصر الله - أبي عنان فارس ابن موالينا الأئمة المهتدين الخلفاء الراشدين نصرا يوسع الدنيا وأهلها ابتهاجاً، وسعادًا يكون لزمانه لزمان علاجاً، كما وهبه الله بأسا وجودا لم يدع طاغيا ولا محتاجاً، وجعل بسيفه وسيبه لكل ضيق انفراجاً. وبعد، فقد قضت العقول، وحكم المعقول والمنقول، بأن هذه الخلافة العلية، المجاهدة المتوكلة الفاسية. هي ظل الله الممدود على الأنام، وحبله الذي به الاعتصام، وفي سلك طاعته يجب الانتظام، فهي التي أبرأت الدين عند اعتلاله، وأغمدت سيف العدوان عند انسلاله، وأصلحت الأيام بعد فسادها، ونفقت سوق العلم بعد كسادها، وأوضحت طرق البر عند انتهاجها، وسكنت أقطار الأرض عند ارتجاجها وأحيت سنن المكارم بعد مماتها وأماتت رسوم المظالم بعد حياتها وأخمدت نار الفتنة عند اشتعالها، وأنقضت حكام البغي عند استقلالها وشادت مباني الحق على عماد التقوى، واستمسكت من التوكل على الله بالسبب الأقوى فلها العز الذي عقد تاجه على مفرق الجوزاء، والمجد الذي جر أذياله على مجرة السماء، والسعد الذي رد على الزمان غض شبابه والعدل الذي أهل الإيمان مديد أطنانه والجود الذي قطر سحابه اللجين والنضار والبأس الذي فيه غمامة الدار الموار، والنصر الذي تفض كتائبه الأجل، والتأييد الذي بعض غنائمه الدول والبطش الذي سبق سيفه العذل والأناة التي لا يمل عندها الأمل والحزم الذي يسد على الأعداء وجوه المسارب والعزم الذي يفل جموعها قبل قراع الكتائب والحلم الذي يجني من ثمر الذنوب، والرفق الذي جمع على محبته بنات القلوب والعلم الذي يجلو نوره دياجي المشكلات والعمل المفيد بالإخلاص والاعمال بالنيات.
ولما كانت حضرته العلية: مطمح الآمال ومسرح هم الرجال، ومحط رحال الفضائل، ومثابة أمن الخائف ومنية السائل توخى الزمان خدمتهما ببدائع تحفه وروائع طرفه فانثال عليها العلماء انثيال جودها على الصفات وتسابق
ধর্মভীরুতার সংস্থাপকগণ, যাদের পর আর কোনো বক্রতার আশঙ্কা নেই। তাঁরাই শত্রুদের বিরুদ্ধে জিহাদে তাঁকে সাহায্য করেছেন, শ্বেতশুভ্র মিল্লাতকে বিজয়ী করতে সহায়তা করেছেন। তাঁরা হিজরত, নসরত ও আশ্রয় দেওয়ার মতো মহান হকসমূহ আদায় করেছেন। তাঁরা চরম নিরাশার উত্তপ্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়েছেন এবং মৃত্যুর উত্তাল সমুদ্রে অবগাহন করেছেন। আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি আমাদের অভিভাবক, ইমাম, খলিফা, আমিরুল মুমিনীন, বিশ্বজগতের প্রতিপালকের ওপর ভরসাকারী, আল্লাহর পথে জিহাদকারী এবং আল্লাহর সাহায্যে পুষ্ট—আবু ইনান ফারিস ইবন আমাদের অভিভাবক হেদায়াতপ্রাপ্ত ইমাম ও খোলাফায়ে রাশেদীনগণের বংশধরকে এমন বিজয় দান করার জন্য, যা পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের জন্য আনন্দকে প্রশস্ত করবে। এবং এমন সৌভাগ্য দান করুন যা তাঁর যুগের ব্যাধির জন্য নিরাময় স্বরূপ হবে, যেমন আল্লাহ তাঁকে এমন বিক্রম ও দানশীলতা দান করেছেন যা কোনো অবাধ্য বা অভাবীকে আর অবশিষ্ট রাখেনি। তিনি তাঁর তরবারি ও দাক্ষিণ্যের মাধ্যমে প্রতিটি সংকটের মোচন ঘটিয়েছেন। অতঃপর, জ্ঞান ও যুক্তি এবং বর্ণিত দলিলসমূহ এই ফয়সালা দিয়েছে যে, এই সুউচ্চ জিহাদকারী, আল্লাহ-নির্ভর ফাসি খিলাফত হলো সৃষ্টির ওপর আল্লাহর প্রসারিত ছায়া এবং তাঁর সেই রজ্জু যাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হয়। এর আনুগত্যের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়া অপরিহার্য। এটি সেই খিলাফত যা দ্বীনের রুগ্নাবস্থায় তাকে নিরাময় করেছে, বিদ্রোহের তরবারি কোষমুক্ত হলে তাকে পুনরায় খাপবদ্ধ করেছে। এটি বিশৃঙ্খলার পর সময়কে সংশোধন করেছে এবং স্থবিরতার পর জ্ঞানের বাজারকে সচল করেছে। এটি সৎপথের অনুসারীদের জন্য কল্যাণের পথসমূহকে স্পষ্ট করেছে, পৃথিবীর ভূখণ্ড প্রকম্পিত হলে তাকে শান্ত করেছে। এটি সচ্চরিত্রের সুন্নাতসমূহ বিলুপ্ত হওয়ার পর তাকে পুনর্জীবিত করেছে এবং জুলুমের প্রথাগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তাকে মিটিয়ে দিয়েছে। এটি ফিতনার আগুন জ্বলে উঠলে তা নিভিয়ে দিয়েছে এবং বিদ্রোহী শাসকদের দম্ভ চূর্ণ করেছে। এটি তাকওয়ার স্তম্ভের ওপর সত্যের ইমারত নির্মাণ করেছে এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের মজবুত রজ্জু ধারণ করেছে। তাঁরই জন্য রয়েছে সেই মর্যাদা যার মুকুট জাওজা নক্ষত্রপুঞ্জের শীর্ষে স্থাপিত, এবং সেই শ্রেষ্ঠত্ব যা আকাশের ছায়াপথের ওপর আপন আঁচল টেনে দেয়। সেই সৌভাগ্য যা সময়ের হারানো যৌবনকে ফিরিয়ে দেয় এবং সেই ইনসাফ যা ঈমানদারদের জন্য আপন তাঁবুর খুঁটি সুদূরপ্রসারী করে। সেই দানশীলতা যার মেঘমালা হতে রৌপ্য ও স্বর্ণ বর্ষিত হয়, সেই বিক্রম যার ভেতরে নিরাপত্তার মেঘমালা বিচরণ করে। সেই বিজয় যার বাহিনী মৃত্যুকেও পরাস্ত করে এবং সেই ঐশী সাহায্য যার সামান্য গনিমতের ভাগ হলো বড় বড় রাষ্ট্র। সেই কঠোরতা যার তরবারি নিন্দার আগেই ফয়সালা করে এবং সেই ধৈর্য যেখানে আশা কখনো নিরাশ হয় না। সেই দৃঢ়তা যা শত্রুদের পালানোর পথ রুদ্ধ করে দেয় এবং সেই সংকল্প যা যুদ্ধের আগেই শত্রুবাহিনীকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সেই সহনশীলতা যা অপরাধের ফলস্বরূপ ক্ষমা আহরণ করে, সেই কোমলতা যা মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা সঞ্চার করে। সেই জ্ঞান যার আলো সমস্যার অন্ধকার দূর করে এবং ইখলাসের মাধ্যমে সম্পাদিত ফলপ্রসূ আমল ও নিয়ত অনুযায়ী কর্মতৎপরতা।
যখন তাঁর এই মহান দরবার হলো আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু, মহৎ ব্যক্তিদের সংকল্পের চারণভূমি, গুণাবলিসমূহের বিশ্রামস্থল, ভীতদের নিরাপত্তা এবং সাহায্যপ্রার্থীদের কামনার স্থল—তখন কাল পরিক্রমা তাঁর সেবায় নিজের দুর্লভ উপঢৌকন ও চমৎকার সামগ্রী পেশ করার ইচ্ছা পোষণ করল। ফলে আলেমগণ সেখানে এমনভাবে সমবেত হলেন, যেমন করে তাঁর দানশীলতা বর্ষিত হয়, এবং তাঁরা প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৫)
إليها الأدباء تسابق عزماتها إلى العداة، وحج العارفون حرمها الشريف، وقصد السائحون استطلاع معناها المنيف ولجأ الخائفون إلى الامتناع بعز جنابها واستجارت الملوك بخدمة أبوابها فهي القطب الذي عليه مدار العالم وفي القطع بتفضيلها تساوت بديهة عقل الجاهل والعالم وعن مآثرها الفائقة يسند صحاح الآثار كل مسلم وبإكمال محاسنها الرائعة يفصح كل معلم وكان ممن وفد على بابها السامي وتعدى أوشال البلاد إلى بحرها الطامي الشيخ الفقيه السائح الثقة الصدوق جوال الأرض ومخترق الأقاليم بالطول والعرض أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن محمد بن إبراهيم اللواتي المعروف بابن بطوطة المعروف في البلاد الشرقية بشمس الدين وهو الذي طاف الأرض معتبرا وطوى الأمصار مختبرا وباحث فرق الأمم وسبر سير العرب والعجم ثم ألقى عصا التسيار بهذه الحضرة العليا لما علم أن لها مزية الفضل دون شرط ولاثنيا وطوى المشارق إلى مطلع بدرها بالغرب وآثرها على الأقطار إيثار التبر على الترب اختيارا بعد طول اختيار البلاد والخلق ورغبة اللحاق بالطائفة المثلى التي على الحق فغمره من إحسانه الجزيل وامتنانه الحفي الحفيل ما أنساه الماضي بالحال وأغناه عن طول الترحال وحقر عنده ما كان من سواه يستعظمه وحقق لديه ما كان من فصله يتوهمه فنسي ما كان ألفه من جولان البلاد وظفر بالمرعى الخصب بعد طول الارتياد ونفذت الإشارة الكريمة بأن يملي ما شاهده في رحلته من الأمطار وما علق بحفظه من نوادر الأخبار ويذكر من لقيه من ملوك الأقطار وعلمائها الأخيار وأوليائها الأبرار فأملى من ذلك ما فيه نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنواظر من كل غريبة أفاد باجتلائها وعجيبة أطرف بانتحائها وصدر الأمر العالي لعقد مقامهم الكريم المنقطع إلى بابهم المتشرف بخدمة جنابهم محمد بن محمد بن جزي الكلبي أعانه الله على خدمتهم وأوزعه شكر نعمتهم أن يضم أطراف ما أملاه الشيخ أبو عبد الله من ذلك مشتملا في تصنيف يكون على فوائده مشتملا ولنيل مقاصده مكملا متوخيا تنقيح الكلام وتهذيبه معتمدا إيضاحه وتقريبه ليقع الاستمتاع بتلك الطرف ويعظم الانتفاع بدرها عند تجريده من الصدف فامتثل ما أمر به مبادرا وشرع بمنهله ليكون بمعونة الله عن توفية الغرض منه صادرا ونقلت معاني كلام الشيخ أبي عبد الله بألفاظ موفية للمقاصد التي قصدها موضحة للمناحي التي اعتمدها وربما اوردت لفظه على وضعه فلم
সাহিত্যিকরা এর দিকেই ধাবিত হন এবং তাদের সংকল্প শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। আরিফগণ এর পবিত্র হারামে হজ করেন এবং পর্যটকরা এর মহান তাৎপর্য অন্বেষণের সংকল্প করেন। ভীত-সন্ত্রস্তরা এর মর্যাদাপূর্ণ আশ্রয়ে নিরাপত্তা প্রার্থনা করে এবং রাজন্যবর্গ এর দ্বারের খিদমতে আত্মনিয়োগ করে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এটিই সেই কেন্দ্রবিন্দু যার ওপর বিশ্ব আবর্তিত হচ্ছে। এর শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে মূর্খ ও জ্ঞানী উভয়েরই বুদ্ধিবৃত্তিক স্বজ্ঞা সমপর্যায়ভুক্ত। এর অতুলনীয় কীর্তিসমূহ সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলিম বিশুদ্ধ বর্ণনা প্রদান করেন এবং এর চমৎকার সৌন্দর্যের পূর্ণতা সম্পর্কে প্রত্যেক শিক্ষক প্রাঞ্জল বর্ণনা দেন।
এর সুউচ্চ দ্বারে যারা উপস্থিত হয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশের ক্ষুদ্র জলাশয় অতিক্রম করে এর উত্তাল সমুদ্রে উপনীত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফকীহ, পর্যটক, নির্ভরযোগ্য ও সত্যবাদী শায়খ, ভূমণ্ডল পরিভ্রমণকারী এবং দেশ-দেশান্তরের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ পাড়িদানকারী আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল-লুওয়াতি, যিনি ইবনে বতুতা নামে পরিচিত এবং প্রাচ্যের দেশগুলোতে 'শামসুদ্দিন' নামে প্রসিদ্ধ। তিনি উপদেশ গ্রহণের মানসে পৃথিবী ভ্রমণ করেছেন এবং অভিজ্ঞতার সন্ধানে বিভিন্ন নগরী অতিক্রম করেছেন। তিনি বিভিন্ন জাতির দলসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং আরব ও অনারবদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর তিনি এই সুউচ্চ দরবারে তাঁর পরিভ্রমণের যষ্ঠি ত্যাগ করেন, যখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে, কোনো শর্ত বা দ্বিধা ছাড়াই এই স্থানের বিশেষ শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তিনি পশ্চিম দিগন্তে উদিত পূর্ণিমার সন্ধানে প্রাচ্যসমূহকে গুটিয়ে নিয়েছেন এবং মৃত্তিকার ওপর স্বর্ণকে যেভাবে প্রাধান্য দেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই অন্যান্য দেশের ওপর একে প্রাধান্য দিয়েছেন। দীর্ঘকাল দেশ ও মানুষ পর্যালোচনার পর তিনি স্বেচ্ছায় এটি নির্বাচন করেছেন এবং সেই সর্বোত্তম দলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেছেন যারা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর সুলতানের অঢেল অনুগ্রহ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতাপাশে তিনি এমনভাবে আবদ্ধ হলেন যা তাঁকে অতীতের কথা ভুলিয়ে দিয়ে বর্তমানের আনন্দে বিভোর করল এবং দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি থেকে মুক্তি দিল। অন্য কারো কাছে যা বিশাল মনে হতো, তাঁর কাছে তা তুচ্ছ হয়ে গেল এবং সুলতানের যে মহানুভবতার কথা তিনি কল্পনা করতেন, তা বাস্তবে রূপ পেল। ফলে তিনি দেশ-দেশান্তরে ঘুরে বেড়ানোর সেই অভ্যাস ভুলে গেলেন এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এক উর্বর চারণভূমি লাভ করলেন।
অতঃপর একটি মহান রাজকীয় নির্দেশনা জারি হলো যেন তিনি তাঁর ভ্রমণে দেখা শহরসমূহ এবং তাঁর স্মৃতিতে সংরক্ষিত বিরল সংবাদসমূহ শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করেন; এবং তিনি বিভিন্ন দেশের যে সকল রাজন্যবর্গ, নেককার আলেম ও পুণ্যবান ওলিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তাঁদের কথা উল্লেখ করেন। ফলে তিনি এমন সব বিষয় শ্রুতিলিপি হিসেবে প্রদান করলেন যা চিন্তার খোরাক জোগায় এবং কান ও চোখের জন্য আনন্দদায়ক হয়। এতে এমন সব অদ্ভুত ও চমৎকার বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে যা তিনি তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতায় লাভ করেছেন।
আর এই সুউচ্চ ফরমান জারি হলো তাঁদের মহান দরবারের অনুগত এবং তাঁদের খিদমতে ধন্য হওয়ার গৌরব অর্জনকারী মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন জুযাই আল-কালবীর প্রতি—আল্লাহ তাঁকে তাঁদের খিদমতে সাহায্য করুন এবং তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের তাওফীক দান করুন—যাতে তিনি শায়খ আবু আবদুল্লাহর প্রদানকৃত শ্রুতিলিপির অংশসমূহকে একটি সুবিন্যস্ত সংকলনে রূপ দেন যা এর উপকারিতাগুলোকে ধারণ করবে এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণ করবে। তিনি যেন এই ভাষাকে পরিমার্জিত ও সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা করেন এবং বিষয়টিকে স্পষ্ট ও সহজবোধ্য করার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে এর থেকে আনন্দ লাভ করা যায় এবং আবর্জনা মুক্ত মুক্তার ন্যায় এর দ্বারা মহান উপকার সাধিত হয়। অতঃপর তিনি আদিষ্ট হয়ে দ্রুত কাজ শুরু করলেন এবং আল্লাহর সাহায্যে মূল লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হলেন। আমি শায়খ আবু আবদুল্লাহর কথার মর্মার্থ এমন সব শব্দে অনুবাদ করেছি যা তাঁর অভিপ্রায়কে পূর্ণরূপে প্রকাশ করে এবং তাঁর অনুসৃত পথসমূহকে স্পষ্ট করে। ক্ষেত্রবিশেষে আমি তাঁর শব্দগুলোকে হুবহু রেখেছি এবং সেগুলোকে পরিবর্তন করিনি।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৬)
أخل بأصله ولا فرعه وأوردت جميع ما أورد من الحكايات والأخبار ولم أتعرض لبحث عن حقيقة ذلك ولا اختبار على أنه سلك في إسناد صحاحا أقوم المسالك وخرج عهده سائرها بما يشعر من الألفاظ بذلك وقيد المشكل من أسماء المواضع والرجال بالشكل والنقط ليكون أنفع في التصحيح والضبط وشرحت ما أمكنني شرحه من الأسماء العجمية لأنها تلتبس بعجميتها على الناس ويخطيء في فك معماها معهود القياس وإنا لنرجو أنما قصدته من المقام العلي أيده الله بمحل القبول وأبلغ من الأعضاء عن تقصيره المأمول فعوائدهم في السماح جميلة ومكارمهم بالصفح عن الهفوات كفيلة والله تعالى يديم لهم عادة النصر والتمكين ويعرفهم عوارف التأييد والفتح المبين.
আমি এর মূল কিংবা শাখাগত কোনো বিষয়েই ব্যাঘাত ঘটাইনি এবং তিনি যেসব উপাখ্যান ও সংবাদ উল্লেখ করেছেন তার সবই আমি এতে সন্নিবেশিত করেছি। আমি সেগুলোর বাস্তবতা অনুসন্ধান বা যাচাই-বাছাইয়ের কোনো প্রয়াস পাইনি, যদিও তিনি সহীহ বর্ণনার সনদগুলোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদৃঢ় পথ অনুসরণ করেছেন এবং অন্যান্য বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন শব্দ প্রয়োগ করেছেন যা সেগুলোর পর্যায় বা অবস্থা নির্দেশ করে। তিনি স্থান ও ব্যক্তিবর্গের নামের জটিল বিষয়সমূহ হরকত ও নুকতার মাধ্যমে সুনিশ্চিত করেছেন যেন তা সংশোধন ও নিখুঁতকরণের ক্ষেত্রে অধিকতর উপকারী হয়। অনারব নামগুলোর মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব আমি ব্যাখ্যা করেছি, কারণ অনারব হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের নিকট তা অস্পষ্ট থেকে যায় এবং প্রচলিত অনুমান বা কিয়াসের মাধ্যমে এগুলোর জটিলতা নিরসনে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমরা আশা রাখি যে, উচ্চ মাকাম বা মহান দরবারের উদ্দেশ্যে আমার এই নিবেদন—যাঁকে আল্লাহ তাআলা শক্তিশালী করুন—তা কবুলিয়াত বা গ্রহণের মর্যাদা লাভ করবে এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষেত্রে ক্ষমাসুলভ দৃষ্টির যে প্রত্যাশা করা হয়েছে তা পূর্ণ হবে। কেননা উদারতা প্রদর্শন তাঁদের চিরন্তন সুন্দর অভ্যাস এবং পদস্খলন মার্জনা করার ক্ষেত্রে তাঁদের মহানুভবতাই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা তাঁদের বিজয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার ধারা সর্বদা অব্যাহত রাখুন এবং তাঁদেরকে তাঁর বিশেষ সাহায্য ও সুস্পষ্ট বিজয়ের নিআমতসমূহ দান করুন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৭)
نقطة البدايةقال الشيخ أبو عبد الله: كان خروجي من طنجة مسقط رأسي في يوم الخميس الثاني من شهر الله رجب الفرد عام خمسة وعشرين وسبعمائة معتمدا حج بيت الله الحرام وزيارة قبر الرسول عليه أفضل الصلاة والسلام منفردا عن رفيق آنس بصحبته وراكب أكون في جملته لباعث على النفس شديد العزائم وشوق إلى تلك المعاهد الشريفة كامن في الحيازم فحزمت امري على هجر الأحباب من الإناث والذكور وفارقت وطني مفارقة الطيور للوكور وكان والدي بقيد الحياة فتحملت لبعدهما وصب ولقيت كما لقيا من الفراق نصيبا وسني يومئذ ثنتان وعشرون سنة. قال ابن جزي: أخبرني أبو عبد الله بمدينة غرناطة أن مولده بطنجة في يوم الاثنين السابع عشر من رجب الفرد سنة ثلاث وسبعمائة.
وكان ارتحالي في أيام أمير المؤمنين وناصر الدين المجاهد في سبيل رب العالمين الذي رويت أخبار جوده وصولة الاسناد بالاسناد وشهرت آثار كرمه شهرة واضحة الاشهاد وتحلت الأيام بحلي فضله ورتع الأنام في ظل رفقه وعدله الإمام المقدس أبو سعيد بن مولانا أمير المؤمنين وناصر الدين الذي فل حد الشرك صدق رعزائمه وأطفأت نار الكفر جداول صارمه وفتكت بعباد الصليب كتائبه وكرمت في إخلاص الجهاد مذاهبه الإمام المقدس أبو يوسف بن عبد الحق جدد الله عليهم رضوانه وسقى ضرائحهم المقدسة من صوب الحيا طله وتهتانه وجزاهم أفضل الجزاء عن الإسلام والمسلمين وأبقى الملك في عقبهم إلى يوم الدين، فوصلت مدينة تلمسان وسلطانها يومئذ أبو تاشفين عبد الرحمن بن موسى بن عثمان بن يغمر أسن بن زيان ووافقت بها رسولي ملك افريقية السلطان أبي يحيى رحمه الله وهما قاضي الأنكحة بمدينة تونس أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن علي بن إبراهيم النفزاوي والشيخ الصالح أبو عبد
যাত্রার প্রারম্ভশায়খ আবু আব্দুল্লাহ বলেন: আমার জন্মস্থান তানজাহ থেকে আমার প্রস্থান ছিল সাতশত পঁচিশ হিজরি সনের আল্লাহর পবিত্র মাস রজবুল ফারদ-এর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার। আল্লাহর পবিত্র ঘর হজ করার এবং রাসুলের (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) রওজা মুবারক জিয়ারতের সংকল্প নিয়ে আমি একাকী বের হয়েছিলাম; সাথে এমন কোনো বন্ধু ছিল না যার সাহচর্যে আনন্দ পাব, কিংবা এমন কোনো কাফেলা ছিল না যার অন্তর্ভুক্ত হব। আমার অন্তরে ছিল এক সুদৃঢ় সংকল্প এবং সেই সব সম্মানিত স্থানগুলোর প্রতি এক সুপ্ত ব্যাকুলতা। তাই আমি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল প্রিয়জনকে ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং স্বদেশ ত্যাগ করলাম যেমনিভাবে পাখিরা তাদের নীড় ত্যাগ করে। আমার পিতামাতা তখনো জীবিত ছিলেন। তাঁদের বিচ্ছেদের কষ্ট আমি সহ্য করেছি এবং তাঁরা যেমন আমার বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়েছেন, আমিও তেমনি ব্যথিত হয়েছি। সে সময় আমার বয়স ছিল বাইশ বছর। ইবনে জুযাই বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আমাকে গারনাতা শহরে জানিয়েছেন যে, তাঁর জন্ম সাতশত তিন হিজরি সনের সতেরো রজব সোমবার তানজাহ শহরে হয়েছে।
আর আমার এই সফর শুরু হয়েছিল সেই আমীরুল মুমিনীন, নাসিরুদ্দীন এবং রাব্বুল আলামীনের পথে জিহাদকারীর শাসনামলে, যাঁর দানশীলতা ও বীরত্বের সংবাদ বংশপরম্পরায় বর্ণিত হয়েছে এবং যাঁর মহানুভবতার কথা সবার কাছে সুপরিচিত। তাঁর অনুগ্রহের ভূষণে দিনগুলো সুশোভিত ছিল এবং তাঁর কোমলতা ও ন্যাবিচারের ছায়ায় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করত। তিনি হলেন পবিত্র ইমাম আবু সাঈদ ইবনে মাওলানা আমীরুল মুমিনীন ও নাসিরুদ্দীন, যাঁর দৃঢ় সংকল্প শিরকের শক্তিকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিল এবং যাঁর তীক্ষ্ণ তলোয়ারের প্রবাহ কুফরের আগুনকে নির্বাপিত করেছিল। তাঁর সেনাদল ক্রুশপূজারীদের বিনাশ করেছিল এবং জিহাদের একনিষ্ঠতায় তাঁর কর্মপন্থা ছিল অত্যন্ত মহৎ। তিনি হলেন পবিত্র ইমাম আবু ইউসুফ বিন আব্দুল হক। আল্লাহ তাঁদের ওপর তাঁর সন্তুষ্টি নবায়ন করুন এবং জীবনদায়ী বারিপাত ও মুষলধারে বৃষ্টির মাধ্যমে তাঁদের পবিত্র সমাধিগুলোকে সিক্ত করুন। ইসলাম ও মুসলমানদের পক্ষ থেকে তিনি যেন তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের বংশধরদের মধ্যে রাজত্ব বজায় রাখেন। অতঃপর আমি তিলিমসান শহরে পৌঁছালাম, সে সময়কার সুলতান ছিলেন আবু তাশফিন আব্দুর রহমান বিন মুসা বিন উসমান বিন ইয়াগমুর আসন বিন জিয়ান। সেখানে আমি আফ্রিকা রাজ সুলতান আবু ইয়াহইয়া (রহিমাহুল্লাহ)-এর দুই দূতের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তাঁরা হলেন তিউনিস শহরের বিবাহের কাজী আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আলী বিন ইবরাহিম আন-নাফযাওয়ি এবং নেককার শায়খ আবু আব্দ...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৮)
الله محمد بن الحسين بن عبد الله القرشي الزبيدي – بضم الزاي نسبة إلى قرية بساحل المهدية وهو أحد الفضلاء وفاته عام أربعين وفي يوم وصولي إلى تلسمان خرج عنها الرسولان المذكوران فأشار علي بعض الإخوان بمرافقتهما فاستخرت الله عز وجل في ذلك وأقمت بتلسمان ثلاثا في قضاء مآربي وخرجت أجد السير في آثارهما، فوصلت مدينة مليانة وأدركتهما بها وذلك في إبان القيظ فلحق الفقيهين مرض أقمنا بسببه عشرا ثم ارتحلنا وقد اشتد المرض بالقاضي منهما فأقمنا ببعض المياه على مسافة أميال من مليانة ثلاثا، وقضى القاضي نحبه ضحى اليوم الرابع فعاد ابنه أبو الطيب ورفيقه أبو عبد الله الزبيدي إلى مليانة فقبروه بها وتركتهم هنالك وارتحلت مع رفقة من تجار تونس منهم الحاج مسعود بن المنتصر والحاج العدولي ومحمد بن الحجر فوصلنا مدينة الجزائر وأقمنا بخارجها أياما إلى أن أقدم الشيخ أبو عبد الله وابن القاضي فتوجهنا جميعا على منجبة جبل الزان ثم وصلنا إلى مدينة بجاية فنزل الشيخ أبو عبد الله بدار قاضيها أبي عبد اللعه الزواوي ونزل أبو الطيب ابن القاضي بدار الفقيه أبي عبد الله المفسر وكان أمير بجاية إذ ذاك أبا عبد الله محمد بن سيد الناس الحاجب وكان قد توفي من تجار تونس الذين صحبتهم من مليانة محمد بن الحجر الذي تقدم ذكره وترك ثلاثة آلآف دينار من الذهب وأوصى بها لرجل من أهل الجزائر يعرف بابن حديدة ليوصلها إلى ورثته بتونس فانتهى خبره لابن سيد الناس المذكور فانتزعها من يده وهذا أول ما شاهدته من ظلم عمال الموحدين وولاتهم ولما وصلنا إلى بجاية كما ذكرته أصابتني الحمى فأشار علي أبو عبد الله الزبيدي بالإقامة فيها حتى يتمكن البرد مني فأبيت وقلت أن قضى الله عز وجل بالموت فتكون وفاتي بالطريق وأنا قاصد أرض الحجاز فقال لي أما أن عزمت فبع دابتك وثقل المتاع وأنا أعيرك دابة وخباء وتصحبنا خفيفا فإننا نجد السير خوف غارة العرب في الطريق ففعلت هذا وأعارني ما وعد به جزاه الله خيرا وكان ذلك أول ما ظهر لي من الألطاف الإلهية في تلك الوجهة الحجازية وسرنا إلى أن وصلنا إلى مدينة قسنطينة1 فنزلنا خارجها وأصابنا مطر جود اضطررنا إلى الخروج عن الأخبية ليلا إلى دور هنالك فلما
--------------------------------------------
আল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ আল-কুরাশি আজ-জুবাইদি—'যা' বর্ণের উপর পেশ সহকারে (জুবাইদি), যা মাহদিয়ার উপকূলবর্তী একটি গ্রামের নামানুসারে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত গুণীজনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং হিজরি চল্লিশ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। আমি তিলিমসানে (Tlemcen) পৌঁছানোর দিন উল্লিখিত দুই দূত সেখান থেকে প্রস্থান করেন। জনৈক ভ্রাতা আমাকে তাঁদের সঙ্গী হওয়ার পরামর্শ দেন। আমি এ বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি এবং প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে তিলিমসানে তিন দিন অবস্থান করি। এরপর তাঁদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে দ্রুত যাত্রা শুরু করি এবং মিলিয়ানা (Miliana) শহরে পৌঁছে তাঁদের নাগাল পাই। সেটি ছিল প্রচণ্ড গরমের সময়। দুই ফকিহ্ তখন রোগে আক্রান্ত হলেন, যার ফলে আমাদের সেখানে দশ দিন অবস্থান করতে হলো। অতঃপর আমরা যাত্রা শুরু করি, তবে তাঁদের মধ্যে যিনি কাজি ছিলেন তাঁর অসুস্থতা বৃদ্ধি পেল। ফলে মিলিয়ানা থেকে কয়েক মাইল দূরে একটি জলাধারের কাছে আমরা তিন দিন অবস্থান করলাম। চতুর্থ দিনের চাশতের (পূর্বাহ্ণ) সময়ে কাজি সাহেব ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর পুত্র আবু আত-তৈয়্যিব এবং তাঁর সঙ্গী আবু আব্দুল্লাহ আজ-জুবাইদি মিলিয়ানাতে ফিরে যান এবং সেখানে তাঁকে দাফন করেন। আমি তাঁদের সেখানে রেখে তিউনিসের একদল বণিকের সাথে যাত্রা করি, যাদের মধ্যে ছিলেন আল-হাজ মাসউদ বিন আল-মুনতাসির, আল-হাজ আল-আদউলি এবং মুহাম্মাদ বিন আল-হাজার। এরপর আমরা আলজিয়ার্স শহরে পৌঁছাই এবং এর বাইরে কয়েক দিন অবস্থান করি, যতক্ষণ না শায়খ আবু আব্দুল্লাহ এবং কাজির পুত্র সেখানে উপস্থিত হলেন। এরপর আমরা সবাই জাবালুজ জান-এর দুর্গম পথ ধরে অগ্রসর হলাম এবং বেজাইয়া (Bejaia) শহরে পৌঁছলাম। সেখানে শায়খ আবু আব্দুল্লাহ শহরটির কাজি আবু আব্দুল্লাহ আজ-জাওয়াবির ঘরে অবস্থান করেন এবং কাজি-পুত্র আবু আত-তৈয়্যিব ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুফাস্সিরের ঘরে অবস্থান করেন। সেই সময়ে বেজাইয়ার আমির ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন সাইয়্যিদুন নাস আল-হাজিব। তিউনিসিয়ার যেসব বণিকের সাথে আমি মিলিয়ানা থেকে এসেছিলাম, তাঁদের মধ্যে পূর্বোল্লিখিত মুহাম্মাদ বিন আল-হাজার ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি তিন হাজার স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) রেখে যান এবং আলজিয়ার্সের ইবনে হাদিদাহ নামক এক ব্যক্তিকে এই মর্মে অসিয়ত করে যান যেন সে তা তিউনিসে তাঁর ওয়ারিশদের কাছে পৌঁছে দেয়। এই খবর উল্লিখিত ইবনে সাইয়্যিদুন নাস-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তা জবরদস্তি ছিনিয়ে নেন। মুওয়াহ্হিদুনদের কর্মচারী ও শাসকদের পক্ষ থেকে এটিই ছিল আমার দেখা প্রথম জুলুম। আমি যেমনটি উল্লেখ করেছি, বেজাইয়া পৌঁছানোর পর আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। তখন আবু আব্দুল্লাহ আজ-জুবাইদি আমাকে পরামর্শ দিলেন সেখানে অবস্থান করতে, যাতে আমি সুস্থ হয়ে উঠি। কিন্তু আমি অস্বীকার করলাম এবং বললাম, 'যদি মহান আল্লাহ আমার মৃত্যু নির্ধারণ করে থাকেন, তবে যেন তা হিজাজ অভিমুখে যাত্রাপথেই হয়।' তিনি আমাকে বললেন, 'যদি আপনি সংকল্প করেই থাকেন, তবে আপনার সওয়ারি এবং ভারী আসবাবপত্র বিক্রি করে দিন। আমি আপনাকে একটি সওয়ারি ও তাবু ধার দেব এবং আপনি হালকাভাবে আমাদের সাথে চলবেন। কেননা আরবদের দস্যুবৃত্তির ভয়ে আমাদের দ্রুত পথ চলতে হবে।' আমি তা-ই করলাম এবং তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাকে সরঞ্জাম ধার দিলেন, আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। সেই হিজাজ যাত্রায় এটিই ছিল আমার প্রতি প্রথম ঐশ্বরিক অনুগ্রহ। এরপর আমরা যাত্রা অব্যাহত রাখলাম এবং কন্সটানটাইন শহরে পৌঁছলাম। আমরা শহরের বাইরে অবস্থান নিলাম, কিন্তু তখন এত প্রবল বৃষ্টিপাত হলো যে আমরা রাতের বেলা তাবু ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলাম। অতঃপর যখন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৯)
كان من الغد تلقانا حاكم المدينة وهو من الشرفاء الفضلاء يسمى بأبي الحسن فنظر إلى ثيابي وقد لوثها المطر فأمر بغسلها في داره وكان الإحرام منها خلقا فبعث مكانه إحراما بعلبكيا وصر في أحد طرفيه دينارين من الذهب فكان ذلك أول ما فتح به علي وجهتي ورحلنا إلى أن وصلنا مدينة بونة ونزلنا بداخلها وأقمنا بها أياما ثم تركنا بها ما كان في صحبتنا من التجار لأجل التخوف في الطريق وتجردنا للسير وواصلنا الجهد، وأصابتني الحمى فكنت أشسد نفسي بعمامة فوق السرج خوف السقوط بسبب الضعف ولا يمكنني النزول من الخوف إلى أن وصلنا إلى مدينة تونس فبرز أهلها للقاء الشيخ أبي عبد الله الزبيدي ولقاء أبي الطيب ابن القاضي أبي عبد الله النفزاوي فأقبل بعضهم على بعض بالسلام والسؤال ولم يسلم علي أحد لعدم معرفي بهم فوجدت من ذلك في النفس ما لم أملك معه سوابق العبرة واشتد بكائي فشعر بحالي بعض الحجاج فأقبل علي بالسلام والإيناس وما زال يؤنسني بحديثه حتى دخلت المدينة ونزلت منها بمدرسة الكتبيين. قال ابن الجزي: أخبرني شيخي قاضي الحماعة أخطب الخطباء أبو البركات محمد بن محمد إبراهيم السلمي هو ابن الحاج البلفيقي أنه جرى له مثل هذه الحكاية. قال قصدت مدينة بلش من بلاد الأندلس في ليلة عيد، برسم رواية الحديث المسلسل بالعيد عن أبي عبد الله ابن الكماد، وحضرت المصلى مع الناس، فلما فرغت الصلاة والخطبة، أقبل الناس بعضهم على بعض بالسلام، وأنا في ناحية لا يسلم عليّ أحد، فقصد إليّ شيخ من أهل المدينة المذكورة، وأقبل عليّ بالسلام والإيناس، وقال: نظرت إليك، فرأيتك منتبذا من الناس، لا يسلم عليك أحد فعرفت أنك غريب فأحببت إيناسك جزاه الله خير الجزاء.
পরদিন মদিনার শাসক আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি ছিলেন এক সম্মানিত ও গুণী ব্যক্তি, যার নাম ছিল আবুল হাসান। তিনি আমার পোশাকের দিকে তাকালেন যা বৃষ্টির পানিতে নোংরা হয়ে গিয়েছিল। তিনি তাঁর বাড়িতে তা ধোয়ার নির্দেশ দিলেন। আমার ইহরামের কাপড়টি পুরনো হয়ে গিয়েছিল, তাই তিনি তার পরিবর্তে একটি বা’লাবাক্কী ইহরাম পাঠালেন এবং তার এক প্রান্তে দুটি স্বর্ণের দিনার বেঁধে দিলেন। আমার সফরের শুরুতে এটিই ছিল প্রথম অনুগ্রহ যা আমি প্রাপ্ত হলাম। এরপর আমরা পথ চললাম যতক্ষণ না বূনা শহরে পৌঁছলাম। আমরা সেখানে প্রবেশ করলাম এবং কয়েক দিন অবস্থান করলাম। এরপর পথের বিপদের আশঙ্কায় আমাদের সাথে থাকা বণিকদের সেখানে রেখে আমরা একাই যাত্রা শুরু করলাম এবং ক্লান্তিহীনভাবে পথ চলতে থাকলাম। আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। দুর্বলতার কারণে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি পাগড়ি দিয়ে নিজেকে জিনের সাথে শক্ত করে বেঁধে নিতাম। ভয়ের কারণে আমার পক্ষে ঘোড়া থেকে নামা সম্ভব ছিল না, যতক্ষণ না আমরা তিউনিস শহরে পৌঁছলাম। শহরের অধিবাসীরা শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-জুবাইদী এবং কাজি আবু আবদুল্লাহ আল-নাফযাওয়ীর পুত্র আবু তাইয়্যেবকে অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে এলেন। তারা একে অপরকে সালাম দিচ্ছিলেন এবং কুশল বিনিময় করছিলেন। কিন্তু কেউ আমাকে সালাম দেয়নি, কারণ তাদের সাথে আমার কোনো পরিচয় ছিল না। এতে আমি মনে মনে এমন এক বিষণ্ণতা অনুভব করলাম যে আমার চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারলাম না এবং অঝোরে কাঁদতে লাগলাম। একজন হাজি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে এগিয়ে এলেন, আমাকে সালাম দিলেন এবং সান্ত্বনা দিলেন। শহরে প্রবেশ করা এবং সেখানে কুতুবিয়্যীন মাদ্রাসায় অবস্থান করা পর্যন্ত তিনি তার কথাবার্তা দিয়ে আমাকে সঙ্গ দিতে থাকলেন। ইবনে জুযাই বলেন: আমার উস্তাদ, কাজিউল জামাআহ ও শ্রেষ্ঠ খতিব আবুল বারাকাত মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইব্রাহিম আস-সুলামি (যিনি ইবনুল হাজ আল-বালফীকি নামে পরিচিত) আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর সাথেও অনুরূপ একটি ঘটনা ঘটেছিল। তিনি বলেন: ঈদের রাতে আমি আন্দালুসের বালাশ শহরে গিয়েছিলাম, আবু আবদুল্লাহ ইবনুল কাম্মাদের নিকট থেকে ঈদের মুসালসাল হাদিসটি বর্ণনা করার উদ্দেশ্যে। আমি লোকজনের সাথে ঈদগাহে উপস্থিত হলাম। যখন নামাজ ও খুতবা শেষ হলো, লোকেরা একে অপরকে সালাম দিতে শুরু করল। আমি এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কিন্তু কেউ আমাকে সালাম দিল না। তখন উক্ত শহরের একজন বৃদ্ধ লোক আমার দিকে এগিয়ে এলেন, আমাকে সালাম দিলেন এবং সান্ত্বনা দিয়ে বললেন: “আমি আপনার দিকে তাকালাম এবং দেখলাম আপনি লোকজনের থেকে আলাদা হয়ে আছেন এবং কেউ আপনাকে সালাম দিচ্ছে না। তখন আমি বুঝতে পারলাম আপনি একজন মুসাফির বা অপরিচিত ব্যক্তি, তাই আপনাকে সঙ্গ দিতে ও আপনার একাকীত্ব দূর করতে পছন্দ করলাম।” আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ৯)
خبر حاكم تونسوكان سلطان تونس عند دخولي إليها السلطان أبا يحيى ابن السلطان أبي زكريا يحيى ابن السلطان أبي إسحاق إبراهيم ابن السلطان أبي زكريا يحيى بن عبد الواحد بن أبي حفص رحمه الله وكان بتونس جماعة من أعلام العلماء منهم قاضي الجماعة أبو عبد الله محمد بن قاضي الجماعة أبي العباس أحمد بن محمد بن حسن بن محمد الأنصاري الخزرجي البلنسي الأصل ثم
তিউনিসিয়ার শাসকের সংবাদআমি যখন তিউনিসিয়ায় প্রবেশ করি তখন সেখানকার সুলতান ছিলেন সুলতান আবু ইয়াহইয়া ইবনে সুলতান আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে সুলতান আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে সুলতান আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আবি হাফস, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন। তিউনিসিয়ায় একদল প্রখ্যাত আলেম ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন প্রধান বিচারপতি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে প্রধান বিচারপতি আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-খাযরাজি, যাঁর আদি নিবাস ছিল বালানসিয়া, অতঃপর...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১০)
التونسي هو ابن الغماز ومنهم الخطيب أبو إسحاق ابراهيم بن حسين بن علي بن عبد الرفيع وولي أيضا قضاء الجماعة في خمس دول ومنهم الفقيه أبو علي عمر بن علي بن قداح الهواري وولي أيضا قضاءها وكان من أعلام العلماء ومن عوائده أنه يستند كل يوم جمعة بعد صلاته إلى بعض أساطين الجامع الأعظم المعروف بجامع الزيتونة ويستفتيه الناس في المسائل فإذا افتى في أربعين مسألة انصرف عن مجلسه لذلك وأظلني بتونس عيد الفطر فحضرت المصلى وقد احتفل الناس لشهود عيدهم وبرزوا في أجمل هيئة وأكمل شارة ووافى المسجد السلطان أبو يحيى المذكور راكبا وجمع أقاربه وخواصه وخدم مملكته مشاة على أقدامهم في ترتيب عجيب وصليت الصلاة وانقضت الخطبة وانصرف الناس إلى منازلهم وبعد مدة تعين لركب الحجاز الشريف شيخه ويعرف بأبي يعقوب السومي من أهل إقليبية من بلاد أفريقية وأكثره المصامدة فقدموني قاضيا بينهم وخرجنا من تونس في أواخر شهر ذي القعدة سالكين طريق الساحل فوصلنا إلى بلدة سوسة وهي صغيرة حسنة مبنية على شاطيء البحر بينها وبين مدينة تونس أربعون ميلا ثم وصلنا إلى مدينة صفاقس وبخارج هذه البلدة قبر الإمام أبو الحسن اللخمي المالكي مؤلف كتاب التبصرة في الفقه قال ابن جزي في بلدة صفاقس: يقول علي بن حبيب التنوخي:
سقيا لأرض صفاقس
… ذات المصانع والمصلى
محمى القصر إلى الخليج
… فقصرها السامي المعلى
بلد يكاد يقول حين
… تزوره أهلا وسهلا
وكأنه والبحر يحـ
… سر تارة عنه ويملأ
صب يريد زيادة
… فإذا رأى الرقباء ولى
وفي عكس ذلك يقول الأديب البارع أبو عبد الله محمد بن أبي تميم وكان من المجيدين المكثرين:
صفاقس لا صفا عيش لساكنها
… ولا سقى أرضها غيث إذا انسكبا
ناهيك من بلدة من حل ساحتها
… عانى بها العادين الروم والعربا
كم في البر مسلوبا بضاعته
… وبات في البحر يشكو الأسر والعطبا
قد عاين البحر من لؤم لقاطنها
… فكلما هم أن يدنو لها هربا
তিউনিসীয় হলেন ইবনে আল-গাম্মায, এবং তাদের মধ্যে খতীব আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবদুর রফি রয়েছেন, যিনি পাঁচটি সাম্রাজ্যে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে ফকীহ আবু আলী উমর ইবনে আলী ইবনে কাদ্দাহ আল-হাওয়ারীও রয়েছেন, যিনি সেখানকার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি প্রথিতযশা আলেমদের অন্যতম ছিলেন। তার একটি অভ্যাস ছিল যে, প্রতি জুমআর দিন নামাযের পর তিনি জামে যাইতুনা নামে পরিচিত বড় মসজিদের কোনো এক স্তম্ভে হেলান দিয়ে বসতেন এবং মানুষ তাকে বিভিন্ন মাসআলায় ফতোয়া জিজ্ঞেস করত। যখন তিনি চল্লিশটি মাসআলায় ফতোয়া দিয়ে দিতেন, তখন তিনি সেই মজলিস থেকে প্রস্থান করতেন। তিউনিসে থাকাকালীন ঈদুল ফিতর উপস্থিত হলো। আমি ঈদগাহে উপস্থিত হলাম; মানুষ তাদের ঈদ উদযাপনের জন্য সমবেত হয়েছিল এবং তারা অত্যন্ত সুন্দর বেশভূষায় ও পূর্ণ সাজসজ্জায় বের হয়েছিল। উল্লিখিত সুলতান আবু ইয়াহিয়া সওয়ার হয়ে ঈদগাহে এলেন, আর তার আত্মীয়-স্বজন, ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ এবং রাষ্ট্রের সেবকরা এক বিস্ময়কর শৃঙ্খলার সাথে পায়ে হেঁটে তার সাথে একত্র হলেন। নামায সম্পন্ন হলো এবং খুতবা শেষ হলো, তারপর মানুষ তাদের নিজ নিজ গৃহে ফিরে গেল। কিছুকাল পর হিজাজ শরীফগামী কাফেলার জন্য একজন শাইখ নির্ধারিত হলেন, যিনি আবু ইয়াকুব আস-সূমী নামে পরিচিত এবং তিনি ইফ্রিকিয়া অঞ্চলের ইকলিবিয়া এলাকার অধিবাসী ছিলেন। সেই কাফেলার অধিকাংশ ছিল মাসমুদাহ গোত্রের লোক, তারা আমাকে তাদের মধ্যে বিচারক হিসেবে নিযুক্ত করল। আমরা যিলকদ মাসের শেষ দিকে উপকূলীয় পথ ধরে তিউনিস থেকে যাত্রা শুরু করলাম এবং সুসা শহরে পৌঁছলাম। এটি একটি ছোট ও সুন্দর শহর যা সমুদ্রতীরে অবস্থিত। তিউনিস শহর থেকে এর দূরত্ব চল্লিশ মাইল। এরপর আমরা সফাক্স শহরে পৌঁছলাম। এই শহরের বাইরে ইমাম আবুল হাসান আল-লাখমী আল-মালিকীর কবর অবস্থিত, যিনি ফিকহ শাস্ত্রের 'আত-তাবসিরা' কিতাবের লেখক। ইবনে জুযাই সফাক্স শহর সম্পর্কে বলেন: আলী ইবনে হাবিব আত-তানূখী বলেছেন:
সফাক্সের জমিন সিক্ত হোক
… যা শিল্পালয় ও ঈদগাহে সমৃদ্ধ
প্রাসাদ থেকে উপসাগর পর্যন্ত সুরক্ষিত
… এর প্রাসাদগুলো সুউচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ
এমন এক শহর যা আপনার আগমনে প্রায় বলেই ফেলে
… সুস্বাগতম, আপনার আসা সহজ হোক
আর সমুদ্র কখনো শহর থেকে সরে যায়
… আবার কখনো তা পূর্ণ হয়ে ফিরে আসে
যেন এক প্রেমিক যে মিলনের আকাঙ্ক্ষা করে
… কিন্তু পাহারাদারদের দেখে পলায়ন করে
এর বিপরীতে নিপুণ সাহিত্যিক আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু তামীম—যিনি অত্যন্ত দক্ষ ও অধিক রচয়িতা ছিলেন—বলেন:
সফাক্স! এর বাসিন্দাদের জীবন যেন প্রশান্ত না হয়
… আর যখন বৃষ্টি নামে, তখন যেন তা এ ভূমিকে সিক্ত না করে
এমন এক শহর যার আঙিনায় যে-ই অবস্থান নেয়
… তাকে রোমান ও আরবীয় আক্রমণকারীদের যাতনা সইতে হয়
স্থলের কত লোক তাদের পণ্য হারিয়ে রিক্ত হস্ত হয়েছে
… আর কতজন সমুদ্রে রাত কাটিয়ে বন্দিত্ব ও ধ্বংসের অভিযোগ করেছে
সমুদ্র এর বাসিন্দাদের হীনতা প্রত্যক্ষ করেছে
… তাই যখনই সে এর নিকটবর্তী হতে চায়, অমনি পলায়ন করে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثم وصلنا إلى مدينة قابس ونزلنا بداخلها وأقمنا بها عشر لتوالي نزول الأمطار، قال ابن جزي في ذكر قابس: يقول بعضهم:
لهفي على طيب ليال خلت
… بجانب البطحاء من قابس
كأن قلبي عند تذكارها
… جذوة نار بيد القابس
ثم خرجنا من مدينة قابس قاصدين طرابلس وصحبنا في بعض المراحل إليها نحو مائة فارس أو يزيد وكان بالركب قوم رماة فهابتهم العرب وتحامت مكانهم وعصمنا الله منهم وأظلنا عيد الأضحى في بعض تلك المراحل وفي الرابع بعده وصلنا إلى مدينة طرابلس فأقمنا بها مدة وكنت عقدت بصفاقس على بنت لبعض أمناء تونس فبنيت بها بطرابلس ثم خرجت من طرابلس أواخر شهر المحرم من عام ستة وعشرين ومعي أهلي وفي صحبتي جماعة من المصامدة وقد رفعت العلم وتقدمت عليهم وأقام الركب في طرابلس خوفا من البرد والمطر وتجاوزنا مسلاة ومسراته وقصور سرت وهنالك أرادت طوائف العرب الإيقاع بنا ثم صرفتهم القدرة وحالت دون ما راموه من إذايتنا ثم توسطنا الغابة وتجاوزناها إلى قصر برصيصا العابر إلى قبة سلام وأدركنا هنالك الذين تخلفوا بطرابلس ووقع بينى وبين صهري مشاجرة أوجبت فراق بنته وتزوجت بنتا لبعض طلبة فارس وبنيت بها بقصر الزعافية وأولمت وليمة حبست لها الركب يوما وأطعمتهم، ثم وصلنا في أول جمادى الأولى إلى مدينة الاسكندرية حرسها الله وهي الثغر المحروس والقطر المأنوس العجيبة الشأن الأصيلة البنيان بها ما شئت من تحسين وتحصين ومآثر دنيا ودين كرمت مغانيها ولطفت معانيها وجمعت بين الضخامة والإحكام مبانيها فهي الفريدة في تجلي سناها والغريدة تجلى في جلاها الزاهية بجمالها المغرب والجامعة لمفترق المحاسن لتوسطها بين المشرق والمغرب فكل بديعة بها اختلاؤها وكل طريفة فإليها انتهاؤها وقد وصفها الناس فأطنبوا وصنفوا في عجائبها فأغربوا وحسب المشوق1 إلى ذلك ما سطره أبو عبيد في كتاب المسالك.
--------------------------------------------
এরপর আমরা কাবিস শহরে পৌঁছলাম এবং তার অভ্যন্তরে অবতরণ করলাম। সেখানে একটানা বৃষ্টিপাতের কারণে আমরা দশ দিন অবস্থান করলাম। ইবনে জুযাই কাবিসের বর্ণনায় বলেন: কেউ কেউ বলেন:
কাবিসের প্রশস্ত প্রান্তরে অতিবাহিত হওয়া সেই পবিত্র রাতগুলোর জন্য আমার কতই না আক্ষেপ!
…সেগুলোর বিচ্ছেদে আমার হাহাকার!
সেগুলোর স্মৃতিচারণের সময় আমার হৃদয় যেন আগুন গ্রহণকারীর হাতে থাকা এক জ্বলন্ত অঙ্গার।
এরপর আমরা ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে কাবিস শহর থেকে বের হলাম। যাত্রাপথের কিছু পর্যায়ে আমাদের সাথে প্রায় একশত বা তারও বেশি অশ্বারোহী ছিল। কাফেলায় একদল তীরন্দাজও ছিল, তাই আরবরা তাদের ভয় পেত এবং তাদের অবস্থান থেকে দূরে থাকত। আল্লাহ আমাদের তাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এই যাত্রাপথেরই কোনো এক পর্যায়ে ঈদুল আজহা আমাদের ওপর ছায়া ফেলল (অর্থাৎ আমরা ঈদ পালন করলাম)। তার চার দিন পর আমরা ত্রিপোলি শহরে পৌঁছলাম এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করলাম। আমি সাফাকিস নামক স্থানে তিউনিসের জনৈক বিশ্বস্ত ব্যক্তির কন্যার সাথে বিয়ের আকদ করেছিলাম, তাই ত্রিপোলিতে তার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলাম। অতঃপর ৭২৬ হিজরী সালের মহররম মাসের শেষ দিকে আমি ত্রিপোলি থেকে বের হলাম। আমার সাথে আমার পরিবার এবং মাসমুদাহ গোত্রের একদল লোক ছিল। আমি পতাকা উত্তোলন করে তাদের অগ্রভাগে চললাম। আর মূল কাফেলা শীত ও বৃষ্টির ভয়ে ত্রিপোলিতেই অবস্থান করছিল। আমরা মাসলাতাহ, মিসরাতাহ এবং সির্তের প্রাসাদগুলো অতিক্রম করলাম। সেখানে আরবদের কিছু দল আমাদের ওপর আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছিল, কিন্তু ঐশ্বরিক শক্তি তাদের ফিরিয়ে দিল এবং আমাদের কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের লক্ষ্যপূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াল। এরপর আমরা অরণ্যের মাঝখানে প্রবেশ করলাম এবং তা অতিক্রম করে বারসিসা প্রাসাদে পৌঁছলাম, যা কুব্বাতুস সালামের দিকে যাওয়ার পথ। সেখানে যারা ত্রিপোলিতে পেছনে থেকে গিয়েছিল, তারা আমাদের সাথে মিলিত হলো। তখন আমার ও আমার শ্বশুরের মধ্যে এক বিবাদ সৃষ্টি হলো, যার ফলে তার কন্যার সাথে আমার বিচ্ছেদ ঘটে গেল। এরপর আমি পারস্যের জনৈক তালিবে ইলমের কন্যাকে বিয়ে করলাম এবং কাসরুয যাআফিয়্যাহ-তে তার সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করলাম। সেখানে আমি এক ওলিমা ভোজের আয়োজন করলাম যার জন্য কাফেলাকে একদিন আটকে রাখলাম এবং তাদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ালাম। এরপর আমরা জমাদিউল আউয়াল মাসের শুরুতে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে পৌঁছলাম—আল্লাহ একে রক্ষা করুন। এটি এক সুরক্ষিত সীমান্ত শহর এবং মনোরম জনপদ; এর মহিমা বিস্ময়কর এবং এর নির্মাণশৈলী অত্যন্ত সুদৃঢ়। এতে সৌন্দর্যমন্ডিতকরণ, দুর্গ নির্মাণ এবং দুনিয়া ও দীনের নিদর্শনাবলির যা কিছু আপনি চাইবেন সবই রয়েছে। এর আবাসভূমিগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং এর বৈশিষ্ট্যসমূহ সূক্ষ্ম; এর ভবনগুলোতে বিশালত্ব ও সুদৃঢ়তার সমন্বয় ঘটেছে। সে তার দীপ্তির বিকাশে অনন্য এবং তার ঔজ্জ্বল্যে একক। সে তার সৌন্দর্যের দ্বারা পশ্চিমকে আলোকিত করে এবং পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থানের কারণে বিবিধ সৌন্দর্যের মিলনস্থলে পরিণত হয়েছে। সকল অপূর্ব বস্তুই সেখানে একান্তে মিলিত হয় এবং সকল অভিনব জিনিসের সেখানেই সমাপ্তি ঘটে। মানুষ এর বর্ণনা দিতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছে এবং এর বিস্ময়কর বিষয়গুলো নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনায় অভূতপূর্ব পারদর্শিতা দেখিয়েছে। অনুরাগী ব্যক্তির জন্য আবু উবাইদ তার ‘কিতাবুল মাসালিক’-এ যা লিপিবদ্ধ করেছেন তাই যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১২)
مدينة الإسكندرية- أبوابها- مرساها:ولمدينة الإسكندرية أربعة أبواب باب السدرة وإليه يشرع طريق المغرب وباب رشيد وباب البحر والباب الأخضر وليس يفتح إلا يوم الجمعة فيخرج الناس منه إلى زيارة القبور ولها المرسى العظيم الشأن ولم أر في مراسي الدنيا مثله إلا ما كان من مرسى كولم وقاليقوط ببلاد الهند ومرسى الكفار بسرادق ببلاد الأتراك ومرسى الزيتون ببلاد الصين وسيقع ذكرها.
منار الإسكندرية:
قصدت المنار في هذه الوجهة فرأيت أحد جوانبه متهدما وصفته أنه بناء مربع ذاهب في الهواء وبابه مرتفع على الأرض وإزاء بابه بناء بقدر ارتفاعه وضعت بينهما ألواح خشب يعبر عليها إلى بابه فإذا أزيلت لم يكن له سبيل وداخل الباب موضع لجلوس حارس المنار وداخل المنار بيوت كثيرة وعرض الممر بداخله تسعة أشبار وعرض الحائط عشرة أشبار وعرض المنار من كل جهة من جهاته الأربع مائة وأربعون شبرا وهو على تل مرتفع ومسافة ما بينه وبين المدينة فرسخ واحد في بر مستطيل يحيط به البحر من ثلاث جهات إلى أن يتصل البحر بسور البلد فلا يمكن التوصل إلى المنار في البر إلا من المدينة وفي هذا البر المتصل بالمنار مقبرة الاسكندرية وقصدت المنار عند عودي إلى بلاد المغرب عام خمسين وسبعمائة فوجدته قد استولى عليه الخراب بحيث لا يمكن دخوله ولا الصعود إلى بابه وكان الملك الناصر رحمه الله قد شرع في بناء منار مثله بإزائه فعاقه الموت من إتمامه.
عمود السواري الهائل:
ومن غرائب هذه المدينة عمود الرخام الهائل الذي بخارجها المسمى عندهم بعمود السواري وهو متوسط في غابة نخل وقد امتاز عن شجراتها سموا وارتفاعا وهو قطعة واحدة محكمة النحت قد أقيم على قواعد حجارة مربعة أمثال الدكاكين العظيمة ولا تعرف كيفية وضعه هنالك ولا يتحقق من وضعه. قال ابن جزي: أخبرني بعض أشياخي الرحالين أن أحد الرماة بالإسكندرية صعد
আলেকজান্দ্রিয়া শহর- এর প্রবেশদ্বারসমূহ- এর পোতাশ্রয়:আলেকজান্দ্রিয়া শহরের চারটি প্রবেশদ্বার রয়েছে: সিদরাহ দ্বার, যার দিকে মাগরিবের (মরক্কো/পাশ্চাত্য) পথ বিস্তৃত; রশীদ দ্বার; সমুদ্র দ্বার এবং সবুজ দ্বার। সবুজ দ্বারটি কেবল জুমুআর দিন খোলা হয়, তখন মানুষ কবর জিয়ারতের জন্য সেটি দিয়ে বের হয়। এই শহরের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পোতাশ্রয় রয়েছে। আমি পৃথিবীর পোতাশ্রয়গুলোর মধ্যে এর সমতুল্য আর কিছু দেখিনি, কেবল হিন্দুস্তানের কোলম ও কালিকট, তুর্কি অঞ্চলের সুরাক নামক স্থানে কাফিরদের পোতাশ্রয় এবং চীন দেশের জায়তুন পোতাশ্রয় ব্যতীত, যা সামনে আলোচিত হবে।
আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর:
আমি এই সফরে বাতিঘরটি অভিমুখে যাত্রা করলাম এবং দেখলাম এর একটি পাশ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। এর বর্ণনা হলো, এটি একটি বর্গাকৃতি দালান যা আকাশের দিকে উঠে গিয়েছে এবং এর প্রবেশদ্বারটি মাটি থেকে উঁচুতে অবস্থিত। প্রবেশদ্বারের বিপরীতে এর উচ্চতার সমান একটি কাঠামো রয়েছে এবং এই দুইয়ের মাঝখানে কাঠের তক্তা রাখা হয় যার ওপর দিয়ে এর প্রবেশদ্বারে যাতায়াত করা যায়। তক্তাগুলো সরিয়ে ফেললে সেখানে পৌঁছানোর আর কোনো পথ থাকে না। প্রবেশদ্বারের ভেতরে বাতিঘরের প্রহরীর বসার স্থান রয়েছে। বাতিঘরের অভ্যন্তরে অনেকগুলো কামরা আছে। এর ভেতরের পথের প্রশস্ততা নয় বিঘত, দেয়ালের প্রশস্ততা দশ বিঘত এবং বাতিঘরের চারদিকের প্রতি দিকের প্রশস্ততা একশত চল্লিশ বিঘত। এটি একটি উঁচু টিলার ওপর অবস্থিত এবং শহর থেকে এর দূরত্ব এক ফারসাখ। এটি একটি দীর্ঘ ভূখণ্ডে অবস্থিত যা তিন দিক থেকে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত, যে পর্যন্ত না সমুদ্র শহরের প্রাচীরের সাথে মিলিত হয়। ফলে স্থলপথে শহর ছাড়া অন্য কোনো দিক থেকে বাতিঘরে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বাতিঘরের সাথে সংযুক্ত এই ভূখণ্ডেই আলেকজান্দ্রিয়ার গোরস্থান অবস্থিত। আমি যখন ৭৫০ হিজরি সনে মাগরিব দেশে ফেরার পথে বাতিঘরটি অভিমুখে গেলাম, তখন সেটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখলাম, ফলে তাতে প্রবেশ করা বা এর দ্বারে আরোহণ করা সম্ভব ছিল না। সুলতান আল-নাসির (রাহিমাহুল্লাহ) এর বিপরীতে অনুরূপ একটি বাতিঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে তা সমাপ্ত করতে বাধা দেয়।
বিশাল আমুদুস সাওয়ারী:
এই শহরের বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো এর বাইরে অবস্থিত বিশাল মার্বেল পাথরের স্তম্ভটি, যা তাদের কাছে 'আমুদুস সাওয়ারী' নামে পরিচিত। এটি একটি খেজুর বাগানের মাঝখানে অবস্থিত এবং উচ্চতা ও গৌরবে এটি সেখানের গাছগুলো থেকে পৃথক ও অনন্য। এটি সুনিপুণভাবে খোদাই করা একটি অখণ্ড পাথর, যা বিশাল পিঁড়ির মতো বর্গাকৃতি পাথরের ভিত্তির ওপর স্থাপন করা হয়েছে। এটি সেখানে কীভাবে স্থাপন করা হয়েছিল তা জানা যায় না এবং এর স্থাপন প্রক্রিয়া সম্পর্কেও নিশ্চিত হওয়া যায় না। ইবনে জুযাই বলেন: আমার ভ্রমণকারী উস্তাদদের কেউ কেউ আমাকে জানিয়েছেন যে, আলেকজান্দ্রিয়ার একজন তীরন্দাজ আরোহণ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إلى أعلى ذلك العمود ومعه قوسه وكنانته واستقر هنالك وشاع خبره، فاجتمع الغفير لمشاهدته، وطال العجب منه، وخفي على الناس وجه واحتياله وأظنه كان خائفاً، أو طالب حاجة، فانتج له فعله الوصول إلى قصده لغرابة ما أتى به. وكيفية احتياله في صعوده أنه رمى بنشابة قد عقد بفوقها1 خيطاً طويلاً، وعقد بطرف الخيط حبلاً وثيقاً، فتجاوزت النشابة أعلى العمود معترضة عليه، ووقعت من الجهة الموازية للرامي، فصار خيطاً معترضاً على أعلى العمود، فجذبه حتى توسط الحبل أعلى العمود مكان الخيط، فأوثقه من إحدى الجهتين في الأرض، وعلق به صاعداً من الجهة الأخرى، واستقر بأعلاه وجذب الحبل، واستصحب من احتمله، فلم يهتد الناس لحيلته، وعجبوا من شأنه. وكان أمير الإسكندرية في عهد وصلولي إليها يسمى بصلاح الدين وكان فيها أيضا في ذلك العهد سلطان أفريقية المخلوع وهو زكريا أبو يحيى بن محمد ابن أبي حفص المعروف باللحياني وأمر الملك الناصر بإنزاله بدار السلطنة من إسكندرية وأجرى له مائة درهم كل يوم وكان معه أولاده عبد الواحد ومصري وإسكندري وحاجبه أبو زكريا بن يعقوب ووزيره أبو عبد الله بن ياسين وبالإسكندرية توفي اللحياني المذكور وولده الإسكندري وبقي المصري بها. قال ابن جزي: من الغريب ما اتفق من صدق الزجر في اسمي ولدي اللحياني الإسكندراني والمصري فمات الاسكندري بها، وعاش المصري دهراً طويلاً بها وهي من بلاد مصر. وتحول عبد الواحد لبلاد الأندلس والمغرب وأفريقية وتوفي هنالك بجزيرة جربة.
خبر بعض علماء الإسكندرية:
وعلى رأسهم عماد الدين الكندي، إمام من أئمة علم اللسان وكان يعتم بعمامة خرقت المعتاد للعمائم لم أر في مشارق الأرض ومغاربها أعظم منها رأيته يوما قاعدا في صدر محراب وقد كادت عمامته أن تملأ المحراب ومنهم فخر الدين بن الريغي وهو أيضا من القضاة بالإسكندرية فاضل من أهل العلم.
--------------------------------------------
সেই স্তম্ভের শীর্ষে সে পৌঁছাল এবং তার সাথে ছিল তার ধনু ও তূণীর। সে সেখানে অবস্থান নিল এবং তার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল। ফলে তাকে দেখার জন্য বিপুল লোক সমাগম ঘটল এবং তার বিষয়ে মানুষের বিস্ময় দীর্ঘায়িত হলো। তার এই কৌশলের বিষয়টি মানুষের নিকট গোপন রয়ে গেল। আমার ধারণা, সে হয়তো ভীত ছিল অথবা কোনো অভাব পূরণের প্রত্যাশী ছিল। তার কৃত এই অদ্ভুত কর্মের মাধ্যমেই সে তার উদ্দেশ্য সফল করতে সক্ষম হয়েছিল। তার উপরে আরোহণের কৌশলের পদ্ধতি ছিল এই যে, সে একটি তীরের অগ্রভাগে একটি দীর্ঘ সুতা বেঁধে নিক্ষেপ করল এবং সেই সুতার প্রান্তের সাথে একটি মজবুত রশি যুক্ত ছিল। তীরটি স্তম্ভের শীর্ষভাগ অতিক্রম করে আড়াআড়িভাবে এর বিপরীত দিকে গিয়ে পড়ল। ফলে সুতাটি স্তম্ভের শীর্ষের ওপর দিয়ে আড়াআড়িভাবে ঝুলে থাকল। এরপর সে সুতাটি ধরে টান দিল যতক্ষণ না রশিটি সুতার স্থলে স্তম্ভের শীর্ষে আড়াআড়িভাবে অবস্থান নিল। তারপর সে রশির এক প্রান্ত মাটিতে সুদৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করল এবং অন্য প্রান্ত ধরে আরোহণ করল। সে শীর্ষে স্থির হয়ে রশিটি টেনে নিল এবং তার বহনকৃত দ্রব্যাদি সাথে রাখল। মানুষ তার এই কৌশল অনুধাবন করতে সক্ষম হলো না এবং তার এই কর্মকাণ্ডে বিস্মিত হলো। আমার আলেকজান্দ্রিয়া পৌঁছানোর সময় সেখানকার আমিরের নাম ছিল সালাহউদ্দীন। সেই সময়ে সেখানে আফ্রিকার ক্ষমতাচ্যুত সুলতান যাকারিয়া আবু ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ ইবনে আবি হাফস অবস্থান করছিলেন, যিনি আল-লিহিয়ানি নামে সুপরিচিত ছিলেন। সুলতান আল-নাসির তাকে আলেকজান্দ্রিয়ার রাজপ্রাসাদে রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার জন্য দৈনিক একশত দিরহাম বরাদ্দ করেছিলেন। তার সাথে তার পুত্র আব্দুল ওয়াহিদ, মিসরি ও ইস্কান্দারি এবং তার দেহরক্ষী আবু যাকারিয়া বিন ইয়াকুব ও উজির আবু আব্দুল্লাহ বিন ইয়াসিন ছিলেন। উক্ত আল-লিহিয়ানি এবং তার পুত্র ইস্কান্দারি আলেকজান্দ্রিয়াতেই ইন্তেকাল করেন, আর মিসরি সেখানে রয়ে যান। ইবনে জুযাই বলেন: আল-লিহিয়ানির দুই পুত্র—ইস্কান্দারি ও মিসরির নামের সার্থকতার ক্ষেত্রে ভাগ্যের এক অদ্ভুত মিল পরিলক্ষিত হয়। ইস্কান্দারি সেখানে (আলেকজান্দ্রিয়ায়) মৃত্যুবরণ করেন, আর মিসরি সেখানে দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন, যা মিসর ভূখণ্ডেরই অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্যদিকে আব্দুল ওয়াহিদ আন্দালুস, মাগরিব ও আফ্রিকার দেশসমূহে গমন করেন এবং সেখানে জারবা দ্বীপে মৃত্যুবরণ করেন।
আলেকজান্দ্রিয়ার কতিপয় আলেমদের সংবাদ:
তাদের শীর্ষস্থানীয় ছিলেন ইমাদুদ্দীন আল-কিন্দি, যিনি ভাষাবিজ্ঞানের ইমামদের অন্যতম ছিলেন। তিনি এমন এক পাগড়ি পরিধান করতেন যা পাগড়ির স্বাভাবিক রীতিকে অতিক্রম করেছিল। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের কোথাও আমি এর চেয়ে বড় পাগড়ি দেখিনি। একদিন আমি তাকে একটি মেহরাবের সম্মুখভাগে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখলাম, যেখানে তার পাগড়িটি প্রায় সমগ্র মেহরাবটি পূর্ণ করে ফেলেছিল। তাদের মধ্যে ফখরুদ্দীন ইবনেুর রিগিও ছিলেন, যিনি আলেকজান্দ্রিয়ার অন্যতম বিচারক এবং একজন বিজ্ঞ আলেম ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يذكر أن جده كان من أهل ريغة واشتغل بطلب العلم ثم رحل إلى الحجاز فوصل الاسكندرية بالعشى. وهو قليل ذات اليد فأحب أن لا يدخلها حتى يسمع فألاً حسناً فقعد قريبا من بابها إلى أن دخل جميع الناس وجاء وقت سد الباب ولم يبق هنالك سواه فاغتاظ الموكل بالباب من إبطائه وقال متهكما ادخل يا قاضي فقال: قاض أن شاء الله ودخل إلى بعض المدارس ولازم القراءة وسلك طريق الفضلاء فعظم صيته وشهر اسمه وعرف بالزهد والورع واتصلت أخباره بملك مصر واتفق أن توفي قاضي الإسكندرية وبها إذا ذاك الجم الغفير من الفقهاء والعلماء وكلهم متشوف للولاية وهو من بينهم لا يتشوف لذلك فبعث إليه السلطان بالتقليد وهو ظهير القضاء وأتاه البريد بذلك فأمر خديمه أن ينادي في الناس من كانت له خصومه فليحضر لها وقعد للفصل بين الناس فاجتمع الفقهاء وسواهم إلى رجل منهم كانوا يظنون أن القضاء لا يتعداه وتفاوضوا في مراجعة السلطان في أمره ومخاطبته بأن الناس لا يرضونه وحضر لذلك أحد الحذاق من المنجمين فقال لهم لا تفعلوا ذلك فإني عدلت طالع ولايته وحققته فظهر لي أنه يحكم أربعين سنة فأضربوا عما هموا به من المراجعة في شأنه وكان أمره على ما ظهر للمنجم وعرف في ولايته بالعدل والنزاهة. ومنهم وجيه الدين الصنهاجي من قضاتها مشتهر بالعلم والفضل. ومنهم شمس الدين ابن بنت التنيسي فاضل شهير الذكر. ومن الصالحين بها الشيخ أبو عبد الله الفاسي من كبار أولياء الله تعالى يذكر أنه كان يسمع رد السلام عليه إذا سلم من صلاته. ومنهم الإمام العالم الزاهد الخاشع الورع خليفة صاحب المكاشفات.
وأخبرني بعض الثقات من أصحابه قال رأى الشيخ خليفة رسول الله صلى الله عليه وسلم في النوم فقال يا خليفة زرنا فرحل إلى المدينة الشريفة وأتى المسجد الكريم فدخل من باب السلام وحيا المسجد وسلم على رسول الله صلى الله عليه وسلم وقعد مستندا إلى بعض سواري المسجد ووضع رأسه على ركبتيه وذلك يسمى عند المتصوفة الترفيق فلما رفع رأسه وجد أربعة أرغفة وآنية فيها لبن وطبقا فيه تمر فأكل هو وأصحابه وانصرف عائدا إلى الاسكندرية ولم يحج تلك السنة. ومنهم الإمام العالم الزاهد الورع الخاشع برهان الدين الأعرج من كبار الزهاد وأفراد العباد لقيته أيام مقامي بالإسكندرية وأقمت في ضيافته ثلاثاً.
উল্লেখ করা হয় যে, তাঁর দাদা রিগা অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন এবং ইলম অন্বেষণে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। অতঃপর তিনি হিজাজের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং শেষ বিকেলে ইসকান্দারিয়ায় পৌঁছেন। সে সময় তিনি বেশ নিঃস্ব ছিলেন, তাই কোনো শুভ লক্ষণ না শোনা পর্যন্ত শহরে প্রবেশ করা সমীচীন মনে করলেন না। তিনি শহরের প্রবেশদ্বারের নিকট বসে রইলেন যতক্ষণ না সমস্ত মানুষ ভেতরে প্রবেশ করল এবং দ্বার রুদ্ধ করার সময় উপস্থিত হলো। তিনি ব্যতীত সেখানে আর কেউ অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর এই বিলম্ব দেখে দ্বাররক্ষী রাগান্বিত হলো এবং উপহাসচ্ছলে বলল, ‘হে কাজী, প্রবেশ করুন!’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘আল্লাহ চাহেন তো কাজী-ই হব।’ অতঃপর তিনি একটি মাদরাসায় প্রবেশ করলেন এবং নিয়মিত অধ্যয়ন চালিয়ে গেলেন। তিনি গুণীজনদের পথ অনুসরণ করলেন, ফলে তাঁর সুখ্যাতি বৃদ্ধি পেল এবং তাঁর নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। তিনি তাঁর যুহদ ও তাকওয়ার জন্য সুপরিচিত হলেন এবং মিশরের বাদশাহর নিকট তাঁর সংবাদ পৌঁছল। ঘটনাক্রমে ইসকান্দারিয়ার বিচারক ইন্তেকাল করলেন; তখন সেখানে বহু ফকীহ ও আলেমের সমাবেশ ছিল এবং তাদের সকলেই বিচারক পদের আকাঙ্ক্ষী ছিলেন। কিন্তু তিনি তাদের মাঝে থেকেও সেই পদের কোনো অভিলাষ পোষণ করেননি। সুলতান তাঁর নিকট বিচারক পদের নিয়োগপত্র পাঠালেন। বার্তাবাহক সেই আদেশনামা নিয়ে উপস্থিত হলে তিনি তাঁর খাদেমকে নির্দেশ দিলেন যেন জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়—যাদের কোনো বিবাদ আছে তারা যেন উপস্থিত হয়। তিনি মানুষের মাঝে বিচারকার্য পরিচালনার নিমিত্তে বসলেন। তখন ফকীহগণ ও অন্যান্যরা তাদের মধ্যকার এমন এক ব্যক্তির নিকট সমবেত হলেন, যাঁকে তারা বিচারক পদের জন্য নির্ধারিত মনে করতেন। তারা সুলতানের নিকট তাঁর ব্যাপারে পুনরায় আবেদনের এবং তাঁকে এই মর্মে সম্বোধন করতে চাইলেন যে, জনগণ তাঁকে গ্রহণ করছে না। সে সময় জনৈক দক্ষ জ্যোতিষী সেখানে উপস্থিত ছিলেন; তিনি তাদের বললেন, ‘তোমরা এমনটি করো না। কারণ আমি তাঁর শাসনের রাশিফল ও লগ্ন বিচার করে নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি চল্লিশ বছর শাসন করবেন।’ ফলে তারা সুলতানের নিকট আবেদনের সংকল্প ত্যাগ করল। সেই জ্যোতিষীর নিকট যা প্রতীয়মান হয়েছিল, তাঁর বিষয়টি তেমনই হলো এবং তিনি তাঁর বিচারকার্যে ইনসাফ ও সততার জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করলেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ওয়াজিহ উদ্দিন আস-সিনহাজি, যিনি শহরের বিচারকদের মধ্যে ইলম ও ফযিলতের জন্য মশহুর ছিলেন। আরও ছিলেন শামস উদ্দিন ইবনে বিনত আত-তিন্নিসি, যিনি সুবিখ্যাত ছিলেন। সেখানকার নেককারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাসি, যিনি মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ ওলিদের একজন ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন সালাত শেষে সালাম ফেরাতেন, তখন তাঁর সালামের জওয়াব শুনতে পেতেন। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন প্রাজ্ঞ আলেম, যাহিদ, বিনীত ও পরহেজগার ইমাম খলিফা, যিনি কাশফের অধিকারী ছিলেন।
তাঁর কোনো এক নির্ভরযোগ্য সাথী আমাকে জানিয়েছেন যে, শায়খ খলিফা স্বপ্নে আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে দেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বললেন, ‘হে খলিফা, আমাদের যিয়ারত করো।’ তখন তিনি মদিনা শরীফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন এবং পবিত্র মসজিদে উপস্থিত হয়ে ‘বাবুস সালাম’ দিয়ে প্রবেশ করলেন। তিনি মসজিদের হক আদায় করলেন এবং আল্লাহর রাসুল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রতি সালাম পেশ করলেন। অতঃপর তিনি মসজিদের একটি স্তম্ভে হেলান দিয়ে বসলেন এবং নিজের মাথা দুই হাঁটুর ওপর রাখলেন; সূফীদের পরিভাষায় একে ‘তারফীক’ বলা হয়। যখন তিনি মাথা তুললেন, তখন চারটি রুটি, দুধে ভরা একটি পাত্র এবং একটি পাত্রে কিছু খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি এবং তাঁর সাথীরা তা থেকে আহার করলেন এবং এরপর ইসকান্দারিয়ায় ফিরে এলেন; সে বছর তিনি হজ করেননি। তাঁদের মধ্যে আরও ছিলেন প্রাজ্ঞ আলেম, যাহিদ, পরহেজগার ও বিনীত বোরহান উদ্দিন আল-আরাজ, যিনি শ্রেষ্ঠ যাহিদ ও অনন্য ইবাদতগুজারদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইসকান্দারিয়ায় অবস্থানকালে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছি এবং তিন দিন তাঁর মেহমানদারিতে ছিলাম।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ودخلت عليه يوماً فقال لي: أراك تحب السياحة والجولان في البلاد فقلت له نعم إني أحب ذلك ولم يكن حينئذ بخاطري التوغل في البلاد القاصية من الهند والصين فقال لا بد لك أن شاء الله من زيارة أخي فريد الدين بالهند وأخي ركن الدين زكرياء بالسند وأخي برهان الدين بالصين فإذا بلغتهم فأبلغهم مني السلام فعجبت من قوله وألقى في روعي التوجه إلى تلك البلاد ولم أزل أجول حتى لقيت الثلاثة الذين ذكرهم وأبلغتهم سلامه ولما ودعته زودني دراهم لم تزل عندي محوطة لم أحتج بعد إلى إنفاقها إلى أن سلبها مني كفار الهنود فيم سلبوه لي في البحر. ومنهم الشيخ ياقوت الحبشي من أفراد الرجال وهو تلميذ أبو العباس المرسي وأبو العباس المرسي تلميذ ولي الله تعالى أبي الحسن الشاذلي الشهير ذي الكرامات الجليلة والمقامات العالية.
أما أبو الحسن الشاذلي أخبرني الشيخ ياقوت عن شيخه أبي العباس المرسي أن أبا الحسن كان يحج في كل سنة ويجعل طريقه على صعيد مصر ويجاور بمكة شهر رجب وما بعده إلى انقضاء الحج ويزور القبر الشريف ويعود على الدرب الكبير إلى بلده فلما كان في بعض السنين وهي آخر سنة خرج فيها قال لخديمه استصحب فأسا وقفه وحنوطا وما يجهز به الميت فقال له الخديم ولم ذا يا سيدي فقال له في حميثرا سوف ترى وحميثرا في صعيد مصر في صحراء عيذاب وبها عين ماء زعاق وهي كثيرة الضباع فلما بلغا حميثرا اغتسل الشيخ أبو الحسن وصلى ركعتين وقبضه الله عز وجل في آخر سجدة من صلاته ودفن هناك وقد زرت قبره وعليه تربة مكتوب فيها اسمه ونسبه متصلا بالحسن بن علي رضي الله عنه.
كان يسافر في كل عام كما ذكرناه على صعيد مصر وبحر جدة فكان إذا ركب السفينة يقرأ حزباً، وتلامذته إلى الآن يقرؤنه في كل يوم، وهو هذا: يا الله يا علي يا عظيم يا حليم يا عليم، أنت ربي وعليك حسبي، فنعم الرب ربّي، ونعم الحسب حسبي، تنصر من تشاء، وأنت العزيز الرحيم. نسألك العصمة في الحركات والسكنات والكلمات والإرادات والخطرات من الشكوك والظنون والأوهام الساترة للقلوب عن مطالعة الغيوب فقد ابتلي المؤمنون وزلزلوا زلزالاً شديداً، ليقول المنافقون والذين في قلوبهم مرضٌ ما وعدنا الله ورسوله إلاّ غروراً، فثبّتنا وانصرنا وسخر لنا هذا البحر، كما سخرت البحر لموسى عليه
একদিন আমি তাঁর কাছে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: "আমি দেখছি তুমি দেশ-বিদেশে ভ্রমণ ও পর্যটন পছন্দ করো।" আমি তাঁকে বললাম, "হ্যাঁ, আমি তা পছন্দ করি।" তখন ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং চীনে যাওয়ার কথা আমার মনে ছিল না। তিনি বললেন, "ইনশাআল্লাহ, তোমাকে অবশ্যই ভারতে আমার ভাই ফরিদ উদ্দিনের সাথে, সিন্ধু দেশে আমার ভাই রুকন উদ্দিন জাকারিয়ার সাথে এবং চীনে আমার ভাই বোরহান উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করতে হবে। যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছাবে, তখন তাদের কাছে আমার সালাম পৌঁছে দিও।" তাঁর কথা শুনে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম এবং আমার মনে ঐসব দেশ অভিমুখে যাত্রার সংকল্প জাগ্রত হলো। আমি ভ্রমণ চালিয়ে গেলাম যতক্ষণ না তাঁর উল্লেখিত সেই তিন ব্যক্তির সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো এবং আমি তাঁদের কাছে তাঁর সালাম পৌঁছে দিলাম। যখন আমি তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিলাম, তিনি আমাকে কিছু দিরহাম দিলেন যা আমার কাছে সংরক্ষিত ছিল; তা খরচ করার প্রয়োজন আমার কখনো পড়েনি, যতক্ষণ না ভারতের কাফিররা সমুদ্রপথে আমার কাছ থেকে অন্যান্য জিনিসের সাথে সেগুলোও ছিনিয়ে নেয়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শেখ ইয়াকুত আল-হাবাশি, যিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একজন। তিনি আবুল আব্বাস আল-মুরসির ছাত্র, আর আবুল আব্বাস আল-মুরসি মহান আল্লাহর অলি আবুল হাসান আশ-শাযিলির ছাত্র, যিনি সুপ্রসিদ্ধ এবং মহান কারামত ও উচ্চ মাকামের অধিকারী ছিলেন।
আবুল হাসান আশ-শাযিলি সম্পর্কে শেখ ইয়াকুত তাঁর উস্তাদ আবুল আব্বাস আল-মুরসির সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন যে, আবুল হাসান প্রতি বছর হজ পালন করতেন। তিনি উচ্চ মিশরের পথ দিয়ে যাতায়াত করতেন এবং রজব মাস ও পরবর্তী সময়ে হজের সমাপ্তি পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করতেন। এরপর তিনি পবিত্র রওজা জিয়ারত করতেন এবং বড় রাস্তা দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসতেন। এক বছর, যা ছিল তাঁর শেষ সফরের বছর, তিনি তাঁর খাদেমকে বললেন, "তুমি কুড়াল, ঝুড়ি, সুগন্ধি এবং মৃত ব্যক্তিকে দাফন-কাফনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন হয় তা সঙ্গে নাও।" খাদেম তাঁকে জিজ্ঞেস করল, "হে আমার মনিব, এসব কেন?" তিনি বললেন, "হুমাইসারাতে গেলে তুমি তা দেখতে পাবে।" হুমাইসারা উচ্চ মিশরের আয়যাব মরুভূমিতে অবস্থিত। সেখানে একটি লোনা পানির ঝর্ণা রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর হায়না পাওয়া যায়। যখন তাঁরা হুমাইসারাতে পৌঁছালেন, শেখ আবুল হাসান গোসল করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ পড়লেন। নামাজের শেষ সেজদায় মহান আল্লাহ তাঁর রুহ কবজ করলেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়। আমি তাঁর কবর জিয়ারত করেছি এবং সেখানে একটি ফলক রয়েছে যাতে তাঁর নাম এবং বংশপরম্পরা হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পর্যন্ত লিপিবদ্ধ আছে।
তিনি প্রতি বছর উচ্চ মিশর এবং জেদ্দা সমুদ্র হয়ে ভ্রমণ করতেন যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি। তিনি যখন নৌকায় আরোহণ করতেন তখন একটি দোয়া পাঠ করতেন, যা তাঁর ছাত্ররা আজও প্রতিদিন পাঠ করে থাকে। আর তা হলো: হে আল্লাহ, হে সুউচ্চ, হে মহান, হে ধৈর্যশীল, হে সর্বজ্ঞাত, আপনিই আমার রব এবং আপনার ওপরই আমার নির্ভরতা। কতই না উত্তম রব আমার রব, আর কতই না উত্তম আশ্রয়দাতা আমার আশ্রয়দাতা। আপনি যাকে ইচ্ছা সাহায্য করেন, আর আপনি মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। আমরা আপনার কাছে চলাফেরায়, স্থিরতায়, কথা বলায়, ইচ্ছা ও চিন্তায় যাবতীয় সন্দেহ, ধারণা এবং অমূলক কল্পনা থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি, যা অদৃশ্য বিষয় অবলোকন থেকে অন্তরসমূহকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কেননা মুমিনরা পরীক্ষিত হয়েছিল এবং প্রবলভাবে প্রকম্পিত হয়েছিল, যাতে মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল আমাদের কেবল প্রতারণার প্রতিশ্রুতিই দিয়েছেন। অতএব আমাদের দৃঢ়পদ রাখুন, আমাদের সাহায্য করুন এবং এই সমুদ্রকে আমাদের জন্য অনুগত করে দিন, যেমন আপনি সমুদ্রকে মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর জন্য অনুগত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
السلام، وسخرت النار لإبراهيم عليه السلام، وسخرت الجبال والحديد لداود عليه السلام وسخرت الريح والشياطين والجن لسليمان عليه السلام، وسخر لنا كلّ بحر هو لك في الأرض والسماء، والملك والملكوت، وبحر الدنيا وبحر الآخرة، وسخر لنا شيئاً يا من بيده ملكوت كلّ شيء. كهيعص حم عسق، انصرنا فإنك خير الناصرين، وافتح لنا فإنك خير الفاتحين، واغفر لنا فإنك خي الغافرين، وارحمنا فإنك خير الراحمين، وارزقنا فإنك خير الرازقين، واهدنا ونجنا من القوم الظالمين، وهب لنا ريحاً طيبة كما هي في علمك، انشرها علينا من خزائن رحمتك، واحملنا بنا حمل الكرامة مع السلامة والعافية في الدين والدنيا والآخرة، إنك على كلّ شيء قدير. اللهم يسر لنا أمورنا مع الراحة لقلوبنا وأبداننا، والسلامة والعافية في ديننا ودنيانا، وكن لنا صاحباً في سفرنا، وخليفة في أهلنا، واطمس على وجوه أعدائنا، وامسخهم على مكانتهم، فلا يستطيعون المضي ولا المجيء إلينا، {وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ ، وَلَوْ نَشَاءُ لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَى مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيّاً وَلا يَرْجِعُونَ} 1. {يس} . إلى {فَهُمْ لا يُبْصِرُونَ} 2. شاهت الوجوه {وَعَنَتِ الْوُجُوهُ لِلْحَيِّ الْقَيُّومِ وَقَدْ خَابَ مَنْ حَمَلَ ظُلْماً} 3. طس طسم حم عسق {مَرَجَ الْبَحْرَيْنِ يَلْتَقِيَانِ ، بَيْنَهُمَا بَرْزَخٌ لا يَبْغِيَانِ} 4. حم حم حم حم حم حم حم حم الأمر، وجاء النصر فعلينا لا ينصرون {حم ، تَنْزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ ، غَافِرِ الذَّنْبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ} 5. باسم الله بابنا، تبارك حيطاننا يس سقفنا. كهيعص كفايتنا. حم عسق حمايتنا: {فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} 6. ستر العرش مسبول علينا، وعين الله ناظرة إلينا، بحول الله لا يقدر علينا {وَاللَّهُ مِنْ وَرَائِهِمْ مُحِيطٌ ، بَلْ هُوَ قُرْآنٌ مَجِيدٌ ، فِي لَوْحٍ
--------------------------------------------
শান্তি, এবং আপনি ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জন্য আগুনকে অনুগত করেছেন, দাউদ আলাইহিস সালামের জন্য পাহাড় ও লোহাকে অনুগত করেছেন, সুলাইমান আলাইহিস সালামের জন্য বাতাস, শয়তান ও জিনদের অনুগত করেছেন; আমাদের জন্য প্রতিটি সমুদ্রকে অনুগত করে দিন যা জমিন ও আসমানে আপনারই জন্য, এবং রাজত্ব ও মালাকুত (সার্বভৌমত্ব), দুনিয়ার সমুদ্র ও আখেরাতের সমুদ্র। আমাদের জন্য প্রতিটি বস্তুকে অনুগত করে দিন, হে তিনি যাঁর হাতে সবকিছুর রাজত্ব। কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ, হা-মিম-আইন-সিন-কাফ, আমাদের সাহায্য করুন কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। আমাদের জন্য বিজয়ের দ্বার খুলে দিন কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ বিজয়দানকারী। আমাদের ক্ষমা করুন কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ ক্ষমাশীল। আমাদের প্রতি দয়া করুন কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমাদের রিজিক দান করুন কেননা আপনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা। আমাদের হেদায়েত দান করুন এবং আমাদের জালেম সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করুন। আমাদের জন্য একটি পবিত্র বাতাস দান করুন যেমনটি আপনার জ্ঞানে রয়েছে; আপনার রহমতের ভাণ্ডার থেকে তা আমাদের ওপর ছড়িয়ে দিন এবং আমাদের সম্মানের সাথে বহন করুন, দ্বীন, দুনিয়া ও আখেরাতে নিরাপত্তা ও সুস্থতার সাথে; নিশ্চয়ই আপনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আমাদের কাজগুলো আমাদের অন্তর ও শরীরের প্রশান্তির সাথে এবং আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার নিরাপত্তা ও সুস্থতার সাথে সহজ করে দিন। আমাদের সফরে আপনি আমাদের সঙ্গী হোন এবং আমাদের পরিবারে আপনি আমাদের স্থলাভিষিক্ত হোন। আমাদের শত্রুদের চেহারাগুলো মিটিয়ে দিন এবং তাদের নিজ নিজ স্থানে বিকৃত করে দিন, যেন তারা সামনে এগিয়ে যেতে না পারে এবং আমাদের কাছে আসতেও না পারে। {এবং আমরা যদি চাইতাম তবে অবশ্যই তাদের চোখগুলো মুছে দিতাম, তখন তারা পথের দিকে দৌড়াত, কিন্তু তারা কীভাবে দেখবে? আর আমরা যদি চাইতাম তবে তাদের নিজ নিজ স্থানে তাদের বিকৃত করে দিতাম, ফলে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারত না এবং ফিরেও আসতে পারত না} ১। {ইয়া-সিন} থেকে {ফলে তারা দেখতে পায় না} ২ পর্যন্ত। চেহারাগুলো বিকৃত হোক। {এবং চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারকের সামনে চেহারাগুলো অবনত হলো, আর সে অবশ্যই ব্যর্থ হলো যে জুলুম বহন করেছে} ৩। ত্বা-সীন, ত্বা-সীন-মীম, হা-মীম-আইন-সীন-কাফ {তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়, তাদের উভয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল যা তারা অতিক্রম করতে পারে না} ৪। হা-মীম, হা-মীম, হা-মীম, হা-মীম, হা-মীম, হা-মীম, হা-মীম। কাজ সুসম্পন্ন হলো এবং সাহায্য পৌঁছে গেল, ফলে আমাদের বিরুদ্ধে তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না। {হা-মীম। এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর পক্ষ থেকে। যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তওবা কবুলকারী, কঠোর শাস্তিদাতা এবং অসীম অনুগ্রহের অধিকারী। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে} ৫। আল্লাহর নামে আমাদের প্রবেশদ্বার, 'তাবারাকা' আমাদের দেয়াল, 'ইয়া-সিন' আমাদের ছাদ, 'কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ' আমাদের জন্য যথেষ্ট হওয়া, 'হা-মিম-আইন-সিন-কাফ' আমাদের সুরক্ষা। {অতএব তাদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হবেন, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ} ৬। আরশের পর্দা আমাদের ওপর ঝোলানো, আল্লাহর চোখ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে, আল্লাহর শক্তিতে কেউ আমাদের ওপর জয়ী হতে পারবে না। {এবং আল্লাহ তাদের পেছন দিক থেকে পরিবেষ্টন করে আছেন। বরং এটি এক সম্মানিত কুরআন, যা লওহে (সংরক্ষিত আছে)...}
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مَحْفُوظ} 1. {فَاللَّهُ خَيْرٌ حَافِظاً وَهُوَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ} 2. {إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ} 3. {فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ} 4. بسم الله الذي لا يضرّ مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم. وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلّم.
ومما جرى بمدينة الإسكندرية سنة سبع وعشرين. وبلغنا خبر ذلك بمكة شرفها الله أنه وقع بين المسلمين وتجار النصارى مشاجرة وكان والي الإسكندرية رجلا يعرف بالكركي فذهب إلى حماية الروم وأمر المسلمين فحضروا بين فصيلي باب المدينة وأغلق دونهم الأبواب نكالا لهم فأنكر الناس ذلك وأعظموه وكسروا الباب وثاروا إلى منزل الوالي فتحصن منهم وقاتلهم من أعلاه وطير الحمام بالخبر إلى الملك الناصر فبعث أمير ايعرف بالجمالي ثم أتبعه أمير ايعرف بطوغان جبار قاسي القلب متهم في دينه يقال أنه يعبد الشمس فدخلا الإسكندرية وقبضا على كبار أهلها وأعيان التجار بها كأولاد الكوبك وسواهم وأخذ منهم الأموال الطائلة وجعلت في عنق عماد الدين القاضي جامعة حديد ثم أن الأمير ين قتلا من أهل المدينة ستة وثلاثين رجلا وجعلوا كل رجل قطعتين وصلبوهم صفين وذلك في يوم جمعة وخرج الناس على عادتهم بعد الصلاة لزيارة القبور وشاهدوا مصارع القوم فعظمت حسرتهم وتضاعفت أحزانهم وكان في جملة أولئك المصلوبين تاجر كبير القدر يعرف بابن رواحة وكان له قاعة معدة للسلاح فمتى كان خوف أو قتال جهز منها المائة والمائتين من الرجال بما يكفيهم من الأسحلة وبالمدينة قاعات على هذه الصورة لكثير من أهلها فزل لسانه وقال للأمير ين أنا أضمن هذه المدينة وكل ما يحدث فيها أطلب به وأحوط على السلطان مرتبات العساكر والرجال فأنكر الأمير ان قوله وقالا إنما تريد الثورة على السلطان وقتلاه. وإنما كان قصده رحمه الله إظهار النصح والخدمة للسلطان فكان فيه
--------------------------------------------
সংরক্ষিত} ১. {সুতরাং আল্লাহই শ্রেষ্ঠ হেফাজতকারী এবং তিনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।} ২. {নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হলেন আল্লাহ, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তিনি নেককারদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন।} ৩. {অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনি বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তিনি মহান আরশের রব।} ৪. আল্লাহর নামে, যাঁর নামের সাথে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। মহান ও শ্রেষ্ঠ আল্লাহ ব্যতীত কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
সাতাশ সালে আলেকজান্দ্রিয়া শহরে যা ঘটেছিল—এবং সেই সংবাদ আমাদের কাছে মক্কা শরীফে পৌঁছেছিল, আল্লাহ শহরটিকে সম্মানিত করুন—তা হলো মুসলিম ও খ্রিস্টান বণিকদের মধ্যে একটি বাদানুবাদ হয়েছিল। আলেকজান্দ্রিয়ার ওয়ালি (প্রশাসক) ছিলেন আল-কারকি নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। তিনি রোমানদের (খ্রিস্টানদের) পক্ষাবলম্বন করলেন এবং মুসলিমদের আদেশ দিলেন, ফলে তারা শহরের ফটকের দুই পাশের মধ্যবর্তী স্থানে উপস্থিত হলো। তিনি শাস্তিস্বরূপ তাদের ওপর শহরের ফটকগুলো বন্ধ করে দিলেন। মানুষ এই ঘটনা প্রত্যাখ্যান করল এবং একে চরম ধৃষ্টতা মনে করল। তারা ফটক ভেঙে ওয়ালির বাসভবনের দিকে ধাবিত হলো। তিনি নিজেকে রক্ষা করতে দুর্গাভ্যন্তরে আশ্রয় নিলেন এবং ছাদ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলেন। কবুতরের মাধ্যমে এই সংবাদ মালিক আন-নাসিরের কাছে পাঠানো হলো। তিনি আল-জামালি নামে পরিচিত এক আমিরকে পাঠালেন, এরপর তুগান নামক আরেক আমিরকে পাঠালেন, যে ছিল অত্যন্ত জালেম, কঠোর হৃদয়ের এবং নিজের দ্বীনের ব্যাপারে অভিযুক্ত—বলা হতো সে সূর্যের পূজা করত। তারা আলেকজান্দ্রিয়ায় প্রবেশ করে সেখানকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং প্রধান বণিকদের গ্রেপ্তার করল, যেমন কুবাক পরিবার ও অন্যান্যরা। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ আদায় করা হলো এবং কাজি (বিচারক) ইমাদুদ্দীনের গলায় লোহার জিঞ্জির পরানো হলো। এরপর আমিরদ্বয় শহরের ছত্রিশ জন মানুষকে হত্যা করল এবং প্রতিটি মানুষকে দুই খণ্ড করে দুই সারিতে শূলে চড়ালো। তা ছিল জুমাবারের দিন। নামাজের পর মানুষ তাদের রীতি অনুযায়ী কবর জিয়ারতের জন্য বের হয়ে এই নিদারুণ হত্যাকাণ্ড প্রত্যক্ষ করল। এতে তাদের দুঃখ-বেদনা বহুগুণ বেড়ে গেল। সেই শূলে চড়ানো ব্যক্তিদের মধ্যে ইবনে রাওয়াহা নামক এক বড় মাপের বণিক ছিলেন। তাঁর একটি অস্ত্রাগার ছিল; যখনই কোনো ভয় বা যুদ্ধের উপক্রম হতো, তিনি সেখান থেকে একশ বা দুইশ মানুষকে প্রয়োজনীয় অস্ত্র দিয়ে সুসজ্জিত করতেন। এই শহরের অনেক লোকেরই এ ধরনের কক্ষ ছিল। কিন্তু তাঁর মুখ ফসকে একটি কথা বের হয়ে গেল এবং তিনি আমিরদ্বয়কে বললেন, "আমি এই শহরের দায়িত্ব নিচ্ছি, এখানে যা কিছু ঘটবে তার দায়ভার আমার ওপর থাকবে এবং আমি সুলতানের পক্ষ থেকে সৈন্যদের বেতন ও ভাতার ব্যবস্থা করব।" আমিরদ্বয় তাঁর এই কথাকে প্রত্যাখ্যান করল এবং বলল, "তুমি কেবল সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে চাও।" অতঃপর তারা তাঁকে হত্যা করল। অথচ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সুলতানের প্রতি শুভকামনা ও সেবা প্রদর্শন করা। তাঁর মধ্যে ছিল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
حتفه وكنت سمعت أيام إقامتي بالإسكندرية بالشيخ الصالح العابد المنقطع المنفق من الكون أبي عبد الله المرشدي وهو من كبار الأولياء المكاشفين أنه منقطع بمنية بني مرشد له هنالك زاوية هو منفرد فيها لا خديم له ولا صاحب ويقصد الأمراء والوزراء وتأتيه الوفود من طوائف الناس في كل يوم فيطعمهم الطعام وكل واحد منهم ينوي أن يأكل عنده طعاما أو فاكهة أو حلوى فيأتي لكل واحد بما نواه وربما كان ذلك في غير إبانه ويأتيه الفقهاء لطلب الخطبة فيولي ويعزل وذلك كله من أمر مستفيض متواتر وقد قصده الملك الناصر مرات بموضعه. فخرجت من مدينة الإسكندرية قاصدا هذا الشيخ نفعنا الله به ووصلت قرية تروجة "وضبطها بفتح التاء الفوقية وواو وجيم مفتوحة"1 وهي على مسيرة نصف يوم من مدينة الإسكندرية قرية كبيرة بها قاض ووال وناظر ولأهلها مكارم أخلاق ومروءة صحبت قاضيها صفي الدين وخطيبها فخر الدين وفاضلا من أهلها يسمى بمبارك وينعت بزين الدين ونزلت بها على رجل من العباد الفضلاء كبير القدر يسمى عبد الوهاب وأضافني ناظرها زين الدين بن الواعظ وسألني عن بلدي وعن مجباه فأخبرته أن مجباه نحو اثني عشر ألفا من دينار الذهب فعجب وقال لي رأيت هذه القرية فإن مجباها اثنان وسبعون ألف دينار ذهبا وإنما عظمت مجابي ديار مصر لأن جميع أملاكها لبيت المال. ثم خرجت من هذه القرية فوصلت مدينة دمنهور وهي مدينة كبيرة جبايتها كثيرة ومحاسنها أثيرة أم مدن البحيرة بأسرها وقطبها الذي عليه مدار أمرها، "وضبطها بدال مهملة وميم وميم مفتوحتين ونون ساكنة وهاء مضمومة وواو وراء". وكان قاضيها في ذلك العهد فخر الدين بن مسكين من فقهاء الشافعية وتولى قضاء الإسكندرية لما عزل عنها عماد الدين الكندي بسبب الواقعة التي قصصناها2 وأخبرني الثقة أن ابن مسكين أعطي خمسة وعشرين ألف درهم وصرفها من دنانير الذهب ألف دينار على ولاية القضاء بالإسكندرية. ثم رحلنا إلى مدينة فوا وهذه المدينة عجيبة المنظر حسنة المخبر بها
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু। আমি আলেকজান্দ্রিয়ায় অবস্থানকালে নেককার, ইবাদতগুজার, নির্জনবাসী এবং দুনিয়াত্যাগী শায়খ আবু আবদুল্লাহ আল-মুরশিদি সম্পর্কে শুনেছিলাম। তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক রহস্য উন্মোচনকারী মহান ওলিদের অন্যতম। তিনি মুনয়াত বনী মুরশিদে নির্জনবাস করতেন। সেখানে তাঁর একটি খানকাহ ছিল যেখানে তিনি একাকী থাকতেন; তাঁর কোনো সেবক বা সঙ্গী ছিল না। আমীর ও উজিরগণ তাঁর কাছে আসতেন এবং প্রতিদিন সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিদল তাঁর কাছে আসত। তিনি তাদের খাদ্য দান করতেন। তাদের প্রত্যেকে মনে মনে কোনো খাবার, ফল বা মিষ্টি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করত, আর তিনি তাদের প্রত্যেকের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী তা উপস্থিত করতেন; অথচ অনেক সময় তা সেই খাবারের মৌসুমও হতো না। ফকীহগণ তাঁর কাছে পদের সুপারিশ নিতে আসতেন, আর তিনি কাউকে নিয়োগ দিতেন বা অপসারণ করতেন। এসব বিষয় অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ও অবিচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত। সুলতান মালিক আল-নাসির বহুবার তাঁর অবস্থানে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অতঃপর আমি এই শায়খের উদ্দেশ্যে আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে বের হলাম, আল্লাহ আমাদের তাঁর দ্বারা উপকৃত করুন। আমি তুরুজাহ গ্রামে পৌঁছালাম (এর বানান হলো: 'ত' বর্ণের ওপর ফাতহা বা জবর, ওয়াও এবং 'জিম' বর্ণের ওপর ফাতহা)। এটি আলেকজান্দ্রিয়া শহর থেকে আধাবেলার দূরত্বে অবস্থিত একটি বড় গ্রাম। সেখানে একজন বিচারক, একজন প্রশাসক এবং একজন পরিদর্শক রয়েছেন। এর অধিবাসীরা উন্নত চরিত্রের অধিকারী এবং অত্যন্ত দয়ালু। আমি এর বিচারক সফিউদ্দিন, খতিব ফখরুদ্দিন এবং সেখানকার একজন গুণী ব্যক্তি যার নাম মুবারক এবং উপাধি যাইনুদ্দিন, তাঁদের সান্নিধ্য লাভ করেছি। সেখানে আমি আবদ আল-ওয়াহহাব নামক একজন বিশিষ্ট ও পুণ্যবান ব্যক্তির কাছে অবস্থান করলাম। সেখানকার পরিদর্শক যাইনুদ্দিন ইবনুল ওয়ায়েজ আমাকে আতিথেয়তা দান করলেন এবং আমার দেশ ও তার রাজস্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। আমি তাঁকে জানালাম যে আমার দেশের রাজস্ব প্রায় বারো হাজার স্বর্ণদিনার। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে আমাকে বললেন, 'এই গ্রামটি দেখুন, এর রাজস্বই হলো বাহাত্তর হাজার স্বর্ণদিনার।' মূলত মিশরের অঞ্চলগুলোর রাজস্ব এত অধিক হওয়ার কারণ হলো এর সমস্ত ভূসম্পত্তি সরকারি কোষাগারের অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর আমি এই গ্রাম থেকে বের হয়ে দামানহুর শহরে পৌঁছালাম। এটি একটি বড় শহর যার রাজস্ব অনেক এবং এর সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এটি সমগ্র বুহাইরা প্রদেশের প্রধান শহর এবং এর কেন্দ্রবিন্দু, যার ওপর এই অঞ্চলের যাবতীয় কাজকর্ম আবর্তিত হয়। (এর বানান হলো: 'দাল', 'মিম' ও 'মিম' বর্ণের ওপর ফাতহা, 'নুন' সাকিন, 'হা' বর্ণের ওপর পেশ, ওয়াও এবং 'রা')। সেই সময়ে এর বিচারক ছিলেন শাফেয়ী মাযহাবের ফকীহ ফখরুদ্দিন ইবনে মিসকিন। ইমাদউদ্দীন আল-কিন্দীকে যে ঘটনার কারণে অপসারণ করা হয়েছিল—যা আমরা বর্ণনা করেছি—এরপর তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, ইবনে মিসকিনকে পঁচিশ হাজার দিরহাম দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি আলেকজান্দ্রিয়ার বিচারকের পদ লাভের জন্য এক হাজার স্বর্ণদিনার ব্যয় করেছিলেন। তারপর আমরা ফুওয়াহ শহরের দিকে রওয়ানা হলাম। এই শহরটি দেখতে চমৎকার এবং এর অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
البساتين الكثيرة والفوائد الخطيرة الأثيرة، "وضبطها بالفاء والواو المفتوحين مع تشديد الواو"1. بها قبر الشيخ الولي أبي النجاة الشهير الاسم خبير تلك البلاد، وزاوية الشيخ أبي عبد الله المرشدي الذي قصدته بمقربة من المدينة يفصل بينها خليج هنالك فلما وصلت تعديتها ووصلت إلى زاوية الشيخ المذكور قبل صلاة العصر وسلمت عليه ووجدت عنده الأمير سيف الدين يلملك وهو من الخاصكية والعامة تقول فيه الملك فيخطئون ونزل هذا الأمير بعسكره خارج الزاوية ولما دخلت على الشيخ رحمه الله قام إلي وعانقني وأحضر طعاما فواكلني وكانت عليه جبة صوف سوداء فلما حضرت صلاة العصر قدمني للصلاة إماما وكذلك لكل ما حضرني عنده حين إقامتي معه من الصلاة ولما أردت النوم قال لي اصعد إلى سطح الزاوية فنم هنالك وذلك أوان القيظ فقلت للأمير بسم الله فقال لي وما منا إلا له مقام معلوم فصعدت السطح فوجدت به حصيرا ونطعا2 وآنية للوضوء وجرة ماء وقدحا للشرب فنمت هنالك.
وكانت لهذا الشيخ كرامة فقد رأيت ليلتي تلك وأنا نائم بسطح الزاوية كأني على جناح طائر عظيم يطير بي في سمت القبلة يتيامن ثم يشرق ثم يذهب في ناحية الجنوب ثم يبعد الطيران في ناحية الشرق وينزل في أرض مظلمة خضراء ويتركني بها فعجبت من هذه الرؤيا وقلت في نفسي أن كاشفني الشيخ برؤياي فهو كما يحكى عنه فما غدوت لصلاة الصبح قدمني إماما لها ثم أتاه الأمير يلملك فوادعه وانصرف ووادعه من كان هناك من الزوار وانصرفوا أجمعين من بعد أن زودهم كعيكات صغارا ثم سبحت الضحى ودعاني وكاشفني برؤياي فقصصتها عليه فقال سوف تحج وتزور النبي صلى الله عليه وسلم وتجول في بلاد اليمن والعراق وبلاد الترك وتبقى بها مدة طويلة وستلقى بها دلشاد الهندي ويخلصك من شدة تقع فيها ثم زودني كعيكات ودراهم
--------------------------------------------
প্রচুর বাগান এবং গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান উপকারিতা; এর উচ্চারণ ফ এবং যবরযুক্ত ওয়াও এর সাথে ওয়াও-তে তাশদীদ দিয়ে ১। সেখানে রয়েছে ওলী শায়খ আবু আল-নাজাতের কবর, যার নাম সেই অঞ্চলের অভিজ্ঞ ব্যক্তি হিসেবে প্রসিদ্ধ, এবং শায়খ আবু আব্দুল্লাহ আল-মুরশিদীর খানকাহ, যার উদ্দেশ্যে আমি শহরের নিকটে গিয়েছিলাম, একটি খাল শহর ও তার মধ্যে ব্যবধান তৈরি করে রেখেছে। যখন আমি পৌঁছলাম, সেটি অতিক্রম করলাম এবং আসরের নামাজের পূর্বে উল্লিখিত শায়খের খানকাহে পৌঁছলাম। আমি তাকে সালাম দিলাম এবং তার নিকট আমীর সাইফুদ্দিন ইয়ালমাককে পেলাম, যিনি খাসসাকিয়া বাহিনীর সদস্য ছিলেন। সাধারণ মানুষ তাকে 'আল-মালিক' বলে থাকে, যা তাদের একটি ভুল। এই আমীর তার সৈন্যবাহিনী নিয়ে খানকাহর বাইরে অবস্থান করছিলেন। যখন আমি শায়খের (আল্লাহ তার ওপর রহমত বর্ষণ করুন) নিকট প্রবেশ করলাম, তিনি আমার জন্য উঠে দাঁড়ালেন, আমাকে আলিঙ্গন করলেন এবং খাবার আনালেন, অতঃপর আমরা একত্রে আহার করলাম। তার পরনে একটি কালো পশমী জুব্বা ছিল। যখন আসরের নামাজের সময় হলো, তিনি আমাকে ইমাম হিসেবে নামাজ পড়ানোর জন্য সামনে এগিয়ে দিলেন; একইভাবে আমি তার সাথে থাকাকালীন যত ওয়াক্ত নামাজ হয়েছে, সবগুলোতে তিনি আমাকেই ইমামতি করতে দিলেন। যখন আমি ঘুমানোর ইচ্ছা করলাম, তিনি আমাকে বললেন, "খানকাহর ছাদে উঠে যাও এবং সেখানে ঘুমাও।" সেটি ছিল প্রচণ্ড গরমের সময়। আমি আমীরকে বললাম, "বিসমিল্লাহ।" তিনি আমাকে বললেন, "আমাদের প্রত্যেকের জন্যই নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে।" অতঃপর আমি ছাদে উঠলাম এবং সেখানে একটি চাটাই, চামড়ার দস্তরখান ২ এবং ওযুর পাত্র, পানির কলস ও পান করার পেয়ালা দেখতে পেলাম। সেখানেই আমি ঘুমালাম।
এই শায়খের একটি কারামত ছিল। আমি সেই রাতে খানকাহর ছাদে ঘুমানোর সময় স্বপ্নে দেখলাম, যেন আমি এক বিশাল পাখির ডানার ওপর সওয়ার হয়েছি, যা আমাকে কিবলার দিকে নিয়ে উড়ছে, এরপর ডান দিকে ঘুরে পূর্ব দিকে গেল, তারপর দক্ষিণ দিকে গেল, এরপর অনেক দূর উড়ে পুনরায় পূর্ব দিকে গিয়ে এক অন্ধকার ও সবুজ শ্যামল ভূমিতে অবতরণ করল এবং আমাকে সেখানে রেখে গেল। আমি এই স্বপ্নে আশ্চর্য হলাম এবং মনে মনে বললাম, "যদি শায়খ আমার এই স্বপ্নের কথা কাশফের মাধ্যমে বলে দিতে পারেন, তবেই তিনি তেমন যেমনটা তার সম্পর্কে বলা হয়।" যখন ফজরের নামাজের সময় হলো, তিনি আমাকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দিলেন। এরপর আমীর ইয়ালমাক তার কাছে এসে বিদায় নিয়ে চলে গেলেন। সেখানে উপস্থিত দর্শনার্থীরাও তার কাছ থেকে বিদায় নিলেন এবং শায়খ তাদের ছোট ছোট কিছু কেক পাথেয় হিসেবে দেওয়ার পর তারা সকলে প্রস্থান করলেন। এরপর আমি চাশতের নামাজ পড়লাম। তিনি আমাকে ডাকলেন এবং কাশফের মাধ্যমে আমার স্বপ্নের কথা বলে দিলেন। আমি সেটি তার কাছে বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, "তুমি শীঘ্রই হজ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা যিয়ারত করবে। তুমি ইয়ামেন, ইরাক ও তুর্কিদের দেশে ভ্রমণ করবে এবং সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করবে। সেখানে তোমার সাথে দিলশাদ হিন্দির দেখা হবে, যে তোমাকে এক কঠিন বিপদ থেকে উদ্ধার করবে যা তোমার ওপর আসবে।" এরপর তিনি আমাকে কিছু কেক ও দিরহাম পাথেয় হিসেবে দিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأودعته وانصرفت ومنذ فارقته لم ألق في أسفاري إلا خيرا وظهرت علي بركاته ثم لم ألق فيمن لقيته مثله إلا الولي سيدي محمدا الموله بأرض الهند.
ثم رحلنا إلى مدينة النحرارية وهي رحبة الفناء حديثة البناء أسواقها حسنة الرؤية، "وضبطها بفتح النون وحاء مهمل مسكن وراءين"، وأمير ها كبير القدر يعرف بالسعدي وولده في خدمة ملك الهند وسنذكره وقاضيها صدر الدين سليمان المالكي من كبار المالكية سفر عن الملك الناصر إلى العراق وولي قضاء البلاد الغربية وله هيئة جميلة وصورة حسنة وخطيبها شرف الدين السخاوي من الصالحين. ورحلت منها إلى مدينة أبيار وهي قديمة البناء أرجة الأرجاء كثيرة المساجد ذات حسن زائد وهي بمقربة من النحرارية ويفصل بينها النيل وتصنع بأبيار ثياب حسان تعلو قيمتها بالشام والعراق ومصر وغيرها ومن الغريب قرب النحرارية منها والثياب التي تصنع بها غير معتبرة ولا مستحسنة عند أهلها ولقيت بأبيار قاضيها عز الدين المليجي الشافعي وهو كريم الشمائل كبير القدر حضرت عنده مرة يوم الركبة وهم يسمون ذلك يوم ارتقاب هلال رمضان وعادتهم فيه أن يجتمع فقهاء المدينة ووجوهها بعد العصر من اليوم التاسع والعشرين لشعبان بدار القاضي ويقف على الباب نقيب المتعممين وهو ذو شارة وهيئة حسنة فإذا أتى أحد الوجوه تلقاه ذلك النقيب ومشى بين يديه قائلا بسم الله سيدنا فلان الدين1 فيسمع القاضي ومن معه فيقومون له ويجلسه النقيب في موضع يليق به فإذا تكاملوا هنالك ركب القاضي وركب من معه أجمعين وتبعهم جميع من بالمدينة من الرجال والنساء والصبيان وينتهون إلى موضع مرتفع خارج المدينة وهو مرتقب الهلال عندهم وقد فرش ذلك الموضع بالبسط والفرش فينزل فيه القاضي ومن معه فيرتقبون الهلال ثم يعودون إلى المدينة بعد صلاة المغرب وبين أيديهم الشمع والمشاعل والفوانيس ويوقد أهل الحوانيت بحوانيتهم الشمع ويصل الناس مع القاضي إلى داره ثم ينصرفون هكذا فعلهم في كل سنة ثم توجهت
--------------------------------------------
আমি তাকে বিদায় জানিয়ে চলে গেলাম। তাকে ছেড়ে আসার পর থেকে আমার সফরে কেবল কল্যাণই দেখেছি এবং তার বরকতসমূহ আমার ওপর প্রকাশিত হয়েছে। এরপর আমি যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তাদের মধ্যে হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের ওলী সাইয়্যিদি মুহাম্মাদ আল-মুওয়াল্লাহ ব্যতীত তার মতো আর কাউকে পাইনি।
অতঃপর আমরা নাহরাউইয়্যাহ শহরের দিকে যাত্রা করলাম। এটি প্রশস্ত আঙ্গিনা এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর একটি শহর; এর বাজারগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। (এর উচ্চারণ হলো: নুন-এর ওপর ফাতহা, সাকিনযুক্ত হা এবং দুটি রা)। এর আমীর একজন উচ্চমর্যাদাবান ব্যক্তি, যিনি আস-সা'দী নামে পরিচিত। তার পুত্র হিন্দুস্তানের বাদশাহর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন, আমরা তার কথা পরে উল্লেখ করব। এখানকার কাজী ছিলেন সদরুদ্দীন সুলাইমান আল-মালিকী, যিনি মালিকী মাযহাবের অন্যতম বড় ফকীহ। তিনি বাদশাহ আন-নাসিরের পক্ষ থেকে ইরাকে দূত হিসেবে গিয়েছিলেন এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় দেশসমূহের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার অবয়ব ছিল সুন্দর এবং চেহারা ছিল লাবণ্যময়। আর এখানকার খতিব ছিলেন শরফুদ্দীন আস-সাখাওয়ী, যিনি নেককার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সেখান থেকে আমি আবিয়ার শহরের দিকে যাত্রা করলাম। এটি একটি প্রাচীন শহর, যার চারপাশ সুগন্ধময় এবং সেখানে অনেক মসজিদ রয়েছে। এটি অত্যন্ত সুন্দর এবং নাহরাউইয়্যাহ শহরের সন্নিকটে অবস্থিত, নীল নদ এই দুই শহরের মাঝখানে অন্তরায়। আবিয়ারে চমৎকার পোশাক তৈরি করা হয়, যার মূল্য শাম, ইরাক, মিশর ও অন্যান্য স্থানে অনেক বেশি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নাহরাউইয়্যাহ এর খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও সেখানে তৈরি পোশাকগুলো সেখানকার অধিবাসীদের কাছে তেমন সমাদৃত বা প্রশংসিত নয়। আমি আবিয়ারে এখানকার কাজী ইযযুদ্দীন আল-মালিজী আশ-শাফিয়ী এর সাথে সাক্ষাৎ করেছি। তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। আমি একবার 'ইয়াওমুর রুকবাহ' বা আরোহণের দিনে তার নিকট উপস্থিত ছিলাম। তারা রমজানের চাঁদ দেখার দিনকে এই নামে অভিহিত করে। এই দিনে তাদের প্রথা হলো, শাবান মাসের উনত্রিশ তারিখ আসরের নামাজের পর শহরের ফকীহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কাজীর বাড়িতে একত্রিত হন। দরজায় পাগড়িধারীদের প্রধান দাঁড়িয়ে থাকেন, যার বেশভূষা ও অবয়ব অত্যন্ত সুন্দর। যখন কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি আসেন, তখন নকীব তাকে অভ্যর্থনা জানান এবং তার সামনে হাঁটতে হাঁটতে বলেন, "বিসমিল্লাহ, আমাদের সাইয়্যিদ অমুক উদ্দীন" ১। কাজী এবং তার সাথে যারা থাকেন তারা তা শুনতে পেয়ে তার সম্মানে উঠে দাঁড়ান। নকীব তাকে তার উপযুক্ত স্থানে বসিয়ে দেন। যখন সবাই সমবেত হন, তখন কাজী এবং তার সফরসঙ্গী সবাই সওয়ার হন এবং শহরের পুরুষ, নারী ও শিশুরা তাদের অনুসরণ করে। তারা শহরের বাইরে একটি উঁচু স্থানে গিয়ে পৌঁছান, যা তাদের কাছে চাঁদ দেখার স্থান হিসেবে পরিচিত। সেই স্থানটি গালিচা ও শতরঞ্জি দিয়ে বিছানো থাকে। কাজী ও তার সঙ্গীরা সেখানে অবতরণ করেন এবং চাঁদের প্রতীক্ষা করেন। অতঃপর মাগরিবের নামাজের পর তারা মোমবাতি, মশাল ও লণ্ঠন নিয়ে শহরে ফিরে আসেন। দোকানদাররা তাদের দোকানে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখেন। লোকজন কাজীর সাথে তার বাড়ি পর্যন্ত যায় এবং তারপর বিদায় নেয়। প্রতি বছর তারা এভাবেই করে থাকে। এরপর আমি যাত্রা করলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২১)
إلى مدينة المحلة الكبيرة وهي جليلة المقدار حسنة الآثار كثير أهلها جامع بالمحاسن شملها واسمها بين ولهذه المدينة قاضي القضاة ووالي الولاة وكان قاضي قضاتها أيام وصولي إليها في فراش المرض ببستان له على مسافة فرسخين من البلد وهو عز الدين بن الأشمرين فقصدت زيارته صحبة نائبه الفقيه أبي القاسم بن بنون المالكي التونسي وشرف الدين الدميري قاضي محلة منوف وأقمنا عنده يوما وسمعت منه وقد جرى ذكر الصالحين أن على مسيرة يوم من المحلة الكبيرة بلاد البرلس ونسترو وهي بلاد الصالحين وبها قبر الشيخ مرزوق صاحب المكاشفات من المحلة الكبرى إلى القاهرة فقصدت تلك البلاد ونزلت بزاوية الشيخ المذكور وتلك البلاد كثيرة النخل والثمار والطير البحري والحوت المعروف بالبوري ومدينتهم تسمى ملطين1 وهي على ساحل البحيرة المجتمعة من ماء النيل وماء البحر المعروفة ببحيرة تنيس2. ونسترو بمقربة منها نزلت هنالك بزاوية الشيخ شمس الدين القلوي من الصالحين وكانت تنيس بلدا عظيما شهيرا وهي الآن خراب. قال ابن جزي: "تنيس بكسر التاء المثناة والنون المشددة وياء وسين مهمل"، وإليه ينسب الشاعر المجيد أبو الفتح ابن وكيع، وهو القائل في خليجها:
قم فاسقني والخليج مضطرب
… والريح تثني ذوائب القصب
كأنها والرياح تعطفها
… صب قنا سندسية العذب
والجو في حلة ممسّكة
… قد طرّزتها البروق بالذهب.
"ونسترو بفتح النون وإسكان السين وراء مفتوحة وواو مسكن" والبرلس بياء موحدة وراء وآخره سين مهملة، وقيده بعضهم بضم حروفه الأول الثلاثة وتشديد اللام3. وقيده أبو بكر بن نقطة بفتح الأولين – وهو على البحر ومن غريب ما اتفق به ما حكاه أبو عبد الله الرازي عن أبيه أن قاضي البرلس، وكان رجلاً صالحاً خرج ليلة إلى النيل. فبينما أسبغ الوضوء، وصلى ما شاء الله أن يصلي، إذ سمع قائلاً يقول:
--------------------------------------------
আল-মাহাল্লা আল-কাবিরা শহরের দিকে যাত্রা করলাম, যা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্দর নিদর্শনমণ্ডিত। এর অধিবাসীর সংখ্যা অনেক এবং সৌন্দর্যের সকল অনুষঙ্গ এতে বিদ্যমান। এর খ্যাতি সুদূরপ্রসারী। এই শহরের জন্য একজন প্রধান বিচারপতি এবং একজন প্রধান গভর্নর রয়েছেন। আমি যখন সেখানে পৌঁছাই, তখন এর প্রধান বিচারপতি ছিলেন ইজ্জুদ্দিন ইবনুল আশমারিন। তিনি শহর থেকে দুই ফারসাখ দূরে অবস্থিত তাঁর এক বাগানবাড়িতে রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন। আমি তাঁর উপ-বিচারপতি ফকিহ আবুল কাসিম ইবনে বানুন আল-মালিকি আল-তুনুসি এবং মাহাল্লা মানুফের বিচারপতি শরফুদ্দিন আদ-দামিরির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতে যাই। আমরা তাঁর কাছে একদিন অবস্থান করি। আমি তাঁর নিকট—যখন নেককার লোকেদের আলোচনা হচ্ছিল—শুনলাম যে, মাহাল্লা আল-কাবিরা থেকে একদিনের পথ দূরত্বে আল-বুরুুল্লুস ও নাস্তারাউ অঞ্চল অবস্থিত। এগুলো পুণ্যবানদের দেশ এবং সেখানে অতীন্দ্রিয় দর্শনের অধিকারী (সাহেবে মুকাশাফাত) শায়খ মারযুকের সমাধি রয়েছে। মাহাল্লা আল-কুবরা থেকে কায়রো যাওয়ার পথে আমি সেই অঞ্চলে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি এবং উক্ত শায়খের খানকাহতে অবস্থান করি। সেই অঞ্চল প্রচুর খেজুর গাছ, ফলমূল, জলজ পাখি এবং 'বুরি' নামে পরিচিত মাছের জন্য সমৃদ্ধ। তাদের শহরের নাম মালতিন ১, যা নীল নদ ও সমুদ্রের পানির সংমিশ্রণে গঠিত হ্রদের তীরে অবস্থিত, যা তিন্নিস হ্রদ ২ নামে পরিচিত। নাস্তারাউ এর কাছেই অবস্থিত। সেখানে আমি পুণ্যবান শায়খ শামসুদ্দিন আল-কালওয়ির খানকাহতে অবস্থান করি। তিন্নিস একসময় অত্যন্ত মহৎ ও প্রসিদ্ধ শহর ছিল, কিন্তু বর্তমানে তা ধ্বংসস্তূপ। ইবনে জুযাই বলেন: "তিন্নিস" শব্দটি 'তা' বর্ণের নিচে কাসরা, 'নুন' বর্ণে তাশদিদ এবং 'ইয়া' ও 'সিন' বর্ণ সহযোগে গঠিত। এই শহরের দিকেই শ্রেষ্ঠ কবি আবুল ফাতহ ইবনে ওয়াকি সম্বন্ধিত হন। তিনি এর খাঁড়ি সম্পর্কে বলেছেন:
ওঠো এবং আমাকে পান করাও যখন খাঁড়িটি বিক্ষুব্ধ
… আর বাতাস নলখাগড়ার ডগাগুলোকে নুইয়ে দিচ্ছে
বাতাসের ঝাপটায় সেগুলো যখন নুয়ে পড়ে তখন মনে হয়
… সেগুলো যেন সবুজাভ রেশমি বর্শার কোমল প্রান্ত
আর আকাশ যেন মৃগনাভিময় এক বসনে আবৃত
… বিদ্যুৎ যার আঁচলে স্বর্ণালী সুতোর কারুকাজ করেছে।
"নাস্তারাউ" শব্দটি 'নুন' বর্ণে ফাতহা, 'সিন' বর্ণে সুকুন, 'রা' বর্ণে ফাতহা এবং 'ওয়াও' বর্ণে সুকুন সহযোগে। আর "আল-বুরুুল্লুস" শব্দটি 'বা' এবং 'রা' বর্ণের পর শেষে 'সিন' বর্ণ সহযোগে। কেউ কেউ এর প্রথম তিন বর্ণে পেশ এবং 'লাম' বর্ণে তাশদিদ সহযোগে উচ্চারণ করেছেন ৩। আবু বকর ইবনে নুকতাহ এর প্রথম দুই বর্ণে ফাতহা দিয়েছেন। এটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত। এক আশ্চর্য ঘটনা যা আবু আব্দুল্লাহ আর-রাজি তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, বুরুুল্লুসের বিচারপতি—যিনি একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন—এক রাতে নীল নদের তীরে বের হলেন। যখন তিনি পূর্ণরূপে অজু সম্পন্ন করলেন এবং আল্লাহর ইচ্ছায় নামাজ আদায় করলেন, এমতাবস্থায় তিনি এক আহ্বানকারীকে বলতে শুনলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২২)
لولا رجال لهم سرد يصومونا
… وآخرون لهم ورد يقومونا
لزلزلت أرضكم من تحتكم سَحراً
… لأنكم قوم سوء لا تبالونا
قال: فتجوزت في صلاتي، وأدرت طرفي، فما رأيت أحداً، ولا سمعت حساً، فعلمت أن ذلك زاجر من الله تعالى. ثم سافرت في أرض رملة إلى مدينة دمياط وهي مدينة فسيحة الأقطار متنوعة الثمار عجيبة الترتيب آخذة من كل حسن بنصيب والناس يضبطون اسمها باعجام الذال وكذلك ضبطه الإمام أبو محمد عبد الله بن علي الرشاطي وكان شرف الدين الإمام العلامة أبو محمد عبد المؤمن بن خلف الدمياطي إمام المحدثين يضبطها بإهمال الدال ويتبع ذلك بأن يقول خلاف الرشاطي وغيره وهو أعرف بضبط اسم بلده ومدينة دمياط على شاطيء النيل وأهل الدور الموالية يستقون منه الماء بالدلاء وكثير من دورها بها دركات ينزل فيها إلى النيل وشجر الموز بها كثير يحمل ثمره إلى مصر في المراكب وغنمها سائحة هملا بالليل والنهار ولهذا يقال في دمياط سورها حلوى وكلابها غنم وإذا دخلها أحد لم يكن له سبيل إلى الخروج عنها إلا بطابع الوالي فمن كان من الناس معتبرا طبع له في قطعة كاغد يتظهر به لحراس بابها وغيرهم يطبع على ذراعه فيستظهر به والطير البحري بهذه المدينة كثير متناهي السمن وبها الألبان الجاموسية التي لا مثل لها في عذوبة الطعم وطيب المذاق وبها الحوت البوري يحمل منها إلى الشام وبلاد الروم ومصر وبخارجها جزيرة بين البحرين والنيل يسمى البرزخ بها مسجد وزاوية لقيت بها شيخها المعروف بابن قفل وحضرت عنده ليلة جمعة ومعه جماعة من الفقراء الفضلاء المتعبدين الأخيار فقطعوا ليلتهم صلاة وقراءة وذكرا ودمياط هذه حديثة البناء والمدينة القديمة هي التي خربها الإفرنج على عهد الملك الصالح وبها زاوية الشيخ جمال الدين الساوي قدوة الطائفة المعروفة بالقلندرية1 وهم الذين يحلقون لحاهم وحواجبهم ويسكن الزاوية في هذا العهد الشيخ فتح التكروري.
--------------------------------------------
যদি এমন সব পুরুষ না থাকত যারা ধারাবাহিকভাবে রোজা রাখে
… এবং অন্যরা যাদের রাতের ইবাদতের নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে যারা রাতে ইবাদতে দণ্ডায়মান থাকে
তবে শেষ রাতে তোমাদের নিচ থেকে তোমাদের জমিন প্রকম্পিত হয়ে যেত
… কারণ তোমরা এক মন্দ কওম যারা কোনো পরোয়া করো না
তিনি বলেন: এরপর আমি আমার সালাত সংক্ষেপ করলাম এবং চারদিকে দৃষ্টি ফেরালাম, কিন্তু কাউকে দেখলাম না এবং কোনো সাড়াও পেলাম না। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি সতর্কবার্তা ছিল। এরপর আমি রামলার ভূখণ্ড হয়ে দমিয়াত শহরের দিকে সফর করলাম। এটি এক প্রশস্ত অঞ্চলের শহর, যেখানে বিবিধ ফলমূল রয়েছে, যার বিন্যাস বিস্ময়কর এবং যা সৌন্দর্যের প্রতিটি অংশ থেকে নিজ ভাগ গ্রহণ করেছে। মানুষ এর নাম উচ্চারণের ক্ষেত্রে 'যাল' (ذ) বর্ণে নুকতা দিয়ে উচ্চারণ করে এবং অনুরূপভাবে ইমাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আলী আর-রুশাতী এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে শারাফুদ্দিন ইমাম আল্লামা আবু মুহাম্মদ আব্দুল মুমিন বিন খালাফ আদ-দমিয়াতী, যিনি মুহাদ্দিসগণের ইমাম ছিলেন, তিনি একে 'দাল' (د) বর্ণে নুকতা ছাড়া উচ্চারণ করতেন এবং এর অনুসরণে তিনি বলতেন যে এটি আর-রুশাতী ও অন্যদের মতের বিপরীত, আর তিনি নিজের শহরের নামের উচ্চারণের ব্যাপারে অধিক অবগত ছিলেন। দমিয়াত শহর নীল নদের তীরে অবস্থিত। পার্শ্ববর্তী ঘরবাড়ির অধিবাসীরা বালতির সাহায্যে তা থেকে পানি সংগ্রহ করে। এর অনেক বাড়িতেই সিড়ি বা ধাপ রয়েছে যা দিয়ে নীল নদে নামা যায়। সেখানে প্রচুর পরিমাণে কলার গাছ রয়েছে, যার ফল নৌকাযোগে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার ভেড়াগুলো দিনরাত বিচরণ করে বেড়ায়; এ কারণেই দমিয়াত সম্পর্কে বলা হয়: এর প্রাচীর হলো মিষ্টি আর এর কুকুর হলো ভেড়া। সেখানে কেউ প্রবেশ করলে ওয়ালীর সিলমোহর ছাড়া তার বের হওয়ার কোনো পথ থাকে না। মানুষের মধ্যে যারা গণ্যমান্য হতেন, তাদের জন্য কাগজের টুকরোয় সিল মেরে দেওয়া হতো যা তারা ফটকের রক্ষীদের দেখাতেন, আর অন্যদের বাহুতে সিল মেরে দেওয়া হতো যা তারা প্রদর্শন করতেন। এই শহরে সামুদ্রিক পাখি প্রচুর এবং সেগুলো অত্যন্ত স্থূলকায়। সেখানে মহিষের দুধ পাওয়া যায় যার মিষ্টতা ও স্বাদের কোনো তুলনা নেই। সেখানে 'বূরী' মাছ পাওয়া যায় যা সেখান থেকে শাম, রোম ও মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বাইরে দুই সমুদ্র ও নীল নদের মাঝে একটি দ্বীপ আছে যাকে 'বারযাখ' বলা হয়; সেখানে একটি মসজিদ ও খানকাহ রয়েছে। সেখানে আমি তার শাইখ ইবনে কুফ্ল হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করি এবং এক জুমার রাতে তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তাঁর সাথে একদল ফযীলতসম্পন্ন, ইবাদতগুজার ও পুণ্যবান ফকীর ছিলেন। তারা তাদের রাতটি সালাত, তিলাওয়াত এবং যিকিরের মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। বর্তমান এই দমিয়াত নবনির্মিত। আর প্রাচীন শহরটি সেই শহর যা মালিক সালিহ-এর যুগে ইউরোপীয়রা ধ্বংস করে দিয়েছিল। সেখানে শাইখ জামালুদ্দিন আস-সাওয়ীর খানকাহ রয়েছে, যিনি ক্বলান্দারিয়া১ নামক সম্প্রদায়ের অগ্রপথিক ছিলেন। তারা তাদের দাড়ি ও ভ্রু মুণ্ডন করে থাকে। বর্তমান যুগে শাইখ ফাতহ আত-তাকরুরী এই খানকাহতে বসবাস করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وقد روي أن السبب كان يدعو الشيخ جمال الدين الساوي إلى حلق لحيته وحاجبيه أنه كان جميل الصورة حسن الوجه فعلقت به امرأة من أهل ساوة وكانت تراسله وتعارضه في الطرق وتدعوه لنفسها وهو يمتنع ويتهاون فلما أعياها أمره دست له عجوزا تصدت له إزاء دار على طريقه إلى المسجد وبيدها كتاب مختوم فلما مر بها قالت له يا سيدي أتحسن القراءة؟ قال نعم قالت له الكتاب وجهه إليّ ولدي وأحب أن تقرأه علي فقال لها نعم فلما فتح الكتاب قالت له يا سيدي أن لولدي زوجة وهي بأسطوان الدار فلو تفضلت بقراءته بين بابي الدار بحيث تسمعها فأجابها لذلك فلما توسط بين البابين غلقت العجوز الباب وأخرجت المرأة جواريها فتعلقن به وأدخلنه إلى الدار وراودته المرأة عن نفسه فلما رأى أن لا خلاص له قال لها إني حيث تريدين فأريني بيت الخلاء فأرته إياه فأدخل معه الماء وكانت عنده موسى جديدة فحلق لحيته وحاجبيه وخرج عليها فاستقبحت هيئته واستنكرت فعله وأمرت بإخراجه وعصمه الله بذلك فبقي على هيئته فيما بعد وصار كل من يسلك طريقته أن يحلق رأسه ولحيته وحاجبيه.
وذكر أنه لما قصد مدينة دمياط لزم مقبرتها وكان بها قاض يعرف بابن العميد فخرج يوما إلى جنازة بعض الأعيان فرأى الشيخ جمال الدين بالمقبرة فقال له أنت الشيخ المبتدع فقال له وأنت القاضي الجاهل تمر بدابتك بين القبور وتعلم أن حرمة الإنسان ميتا كحرمته حيا فقال له القاضي وأعظم من ذلك حلقك للحيتك فقال له إياي تعني وزعق الشيخ ثم رفع رأسه فإذا هو ذو لحية سوداء عظيمة فعجب القاضي ومن معه ونزل إليه عن بغلته ثم زعق ثانيا فإذا هو ذو لحية بيضاء حسنة ثم زعق ثالثاً ورفع رأسه فإذا هو بلا لحية كهيئة الأولى فقبل القاضي يده وتتلمذ له وبنى له زاوية حسنة وصحبه أيام حياته حتى مات الشيخ فدفن بزاويته ولما حضرت القاضي وفاته أوصى أن يدفن بباب الزاوية حتى يكون كل داخل إلى زيارة الشيخ يطأ قبره وبخارج دمياط المزار المعروف بشطا، "بفتح الشين المعجمة والطاء المهملة"، وهو ظاهر البركة يقصده أهل الديار المصرية وله أيام في السنة معلومة لذلك.
বর্ণিত আছে যে, শায়খ জামালুদ্দিন আল-সাওয়ি তাঁর দাড়ি ও ভ্রু কামানোর কারণ ছিল এই যে, তিনি অত্যন্ত সুশ্রী ও সুদর্শন ছিলেন। ফলে সাওয়াহর জনৈক নারী তাঁর প্রেমে পড়ে যায়। সে তাঁকে পত্র পাঠাত, পথে-ঘাটে তাঁর গতিরোধ করত এবং তাঁকে নিজের কুপ্রবৃত্তির দিকে আহ্বান জানাত; কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করতেন এবং এড়িয়ে চলতেন। যখন সেই নারী তাঁর বিষয়ে নিরাশ হলো, তখন সে তাঁর জন্য এক বৃদ্ধাকে নিয়োজিত করল। বৃদ্ধাটি মসজিদে যাওয়ার পথে একটি বাড়ির সামনে তাঁর পথ আগলে দাঁড়াল, তাঁর হাতে একটি সীলমোহরযুক্ত চিঠি ছিল। যখন তিনি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তাঁকে বলল, "হে আমার মহোদয়! আপনি কি পড়তে জানেন?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ।" সে বলল, "আমার ছেলে আমার কাছে এই চিঠিটি পাঠিয়েছে, আমি চাই আপনি আমাকে এটি পড়ে শোনান।" তিনি বললেন, "ঠিক আছে।" যখন তিনি চিঠিটি খুললেন, সে তাঁকে বলল, "হে মহোদয়! আমার ছেলের স্ত্রী ঘরের ভেতরের বারান্দায় আছে। আপনি যদি অনুগ্রহ করে দরজার ভেতরে দাঁড়িয়ে এটি পড়তেন যাতে সে শুনতে পায়।" তিনি তাতে রাজি হলেন। যখন তিনি দুই দরজার মাঝখানে পৌঁছালেন, বৃদ্ধাটি দরজা বন্ধ করে দিল এবং সেই নারী তার দাসীদের বের করে নিয়ে এল। তারা তাঁকে জাপটে ধরল এবং ঘরের ভেতরে নিয়ে গেল। এরপর নারীটি তাঁকে ফুসলাতে শুরু করল। যখন তিনি দেখলেন যে মুক্তির কোনো উপায় নেই, তখন তিনি তাঁকে বললেন, "তুমি যা চাও আমি তাতেই রাজি, তবে আমাকে শৌচাগারটি দেখিয়ে দাও।" সে তাঁকে শৌচাগারটি দেখিয়ে দিল এবং তিনি নিজের সাথে পানি নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাঁর কাছে একটি নতুন ক্ষুর ছিল, তা দিয়ে তিনি নিজের দাড়ি ও ভ্রু কামিয়ে ফেললেন এবং তার সামনে বেরিয়ে এলেন। তাঁর সেই শ্রীহীন অবস্থা দেখে নারীটি তাঁকে ঘৃণা করল এবং তাঁর কাজকে অপছন্দ করল, অতঃপর তাঁকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিল। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করলেন। পরবর্তীতে তিনি এই বেশেই অবস্থান করেন এবং যারা তাঁর তরিকা অনুসরণ করত, তারা সকলেই মাথা, দাড়ি ও ভ্রু কামাতে শুরু করল।
বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন দমিয়াত শহরে যাওয়ার সংকল্প করলেন, তখন সেখানকার গোরস্থানে অবস্থান গ্রহণ করলেন। সেখানে ইবনুল আমীদ নামে পরিচিত জনৈক বিচারক ছিলেন। একদিন তিনি জনৈক গণ্যমান্য ব্যক্তির জানাজায় বের হলেন এবং গোরস্থানে শায়খ জামালুদ্দিনকে দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, "আপনিই কি সেই বিদআতি শায়খ?" তিনি তাঁকে উত্তর দিলেন, "আর আপনি কি সেই মূর্খ বিচারক? আপনি কবরের মাঝখান দিয়ে আপনার পশু নিয়ে চলাচল করছেন, অথচ আপনি জানেন যে একজন মানুষের জীবিত অবস্থায় যেমন সম্মান, মৃত অবস্থাতেও ঠিক তেমনই সম্মান।" কাজি তাঁকে বললেন, "তার চেয়ে বড় কাজ হলো আপনার দাড়ি কামানো।" শায়খ বললেন, "আপনি কি আমাকেই বোঝাচ্ছেন?" অতঃপর শায়খ এক চিৎকার দিয়ে মাথা তুললেন, দেখা গেল তাঁর মুখে এক বিশাল কালো দাড়ি শোভা পাচ্ছে। এতে কাজি ও তাঁর সঙ্গীরা বিস্মিত হলেন এবং কাজি তাঁর খচ্চর থেকে নেমে তাঁর কাছে আসলেন। অতঃপর শায়খ দ্বিতীয়বার চিৎকার দিলেন, তখন দেখা গেল তাঁর মুখে এক সুন্দর সাদা দাড়ি। এরপর তিনি তৃতীয়বার চিৎকার দিয়ে মাথা তুললেন, তখন দেখা গেল তিনি আগের মতো দাড়িহীন অবস্থায় আছেন। তখন কাজি তাঁর হাতে চুমু খেলেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন। তিনি তাঁর জন্য একটি চমৎকার খানকাহ নির্মাণ করে দিলেন এবং শায়খের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্যে থাকলেন। শায়খ যখন মারা গেলেন, তখন তাঁকে সেই খানকাহতেই দাফন করা হলো। যখন কাজির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি অসিয়ত করলেন যেন তাঁকে সেই খানকাহর দরজার সামনে দাফন করা হয়, যাতে শায়খের জিয়ারতে আগত প্রত্যেক দর্শনার্থী তাঁর কবরের ওপর দিয়ে পায়ে হেঁটে প্রবেশ করে। দমিয়াতের বাইরে "শাতা" (শীন বর্ণে ফাতাহ ও ত- বর্ণে ফাতাহ যোগে) নামক এক পরিচিত মাজার রয়েছে। এটি অত্যন্ত বরকতময় স্থান, মিসরবাসীরা সেখানে গমন করে এবং বছরের বিশেষ কিছু দিনে সেখানে সমাবেত হওয়ার নির্দিষ্ট রীতি রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وبخارجها أيضا بين بساتينها موضع يعرف بالمنية فيه شيخ من الفضلاء يعرف بابن النعمان قصدت زاويته وبت عنده وكان بدمياط أيام إقامتي بها وال يعرف بالمحسني من ذوي الإحسان والفضل بنى مدرسة على شاطيء النيل وبها كان نزولي في تلك الأيام وتأكدت بيني وبينه مودة. ثم سافرت إلى مينة فارسكور وهي مدينة على ساحل النيل، "والكاف الذي في اسمها مضموم". ونزلت بخارجها ولحقني هنالك فارس وجهه إلي الأمير المحسني فقال لي أن الأمير سأل عنك وعرف بسيرتك فبعث إليك بهذه النفقة ودفع إلي بجملة دراهم جزاه الله خيرا. ثم سافرت إلى مدينة أشمون الرمان، "وضبط اسمها بفتح الهمزة وإسكان الشين المعجم". ونسبت إلى الرمان لكثرته بها ومنها يحمل إلى مصر وهي مدينة عتيقة كبيرة على خلج النيل ولها قنطرة خشب ترسو المراكب عندها فإذا كان العصر رفعت تلك الخشب وجازت المراكب صاعدة ومنحدرة وبهده البلدة قاضي القضاة ووالي الولاة. ثم سافرت عنها إلى مدينة سمنود وهي على شاطيء النيل كثيرة المراكب حسنة الأسواق وبينها وبين المحلة الكبيرة ثلاثة فراسخ، "وضبط اسمها بفتح السين المهملة والميم وتشديد النون وضمها وواو ودال مهمل". ومن هذه المدينة ركبت النيل مصعدا إلى مصر ما بين مدائن وقرى منتظمة متصل بعضها ببعض ولا يفتقر راكب النيل إلى استصحاب الزاد لأنه مهما أراد النزول بالشاطيء نزل للوضوء والصلاة وشراء الزاد وغير ذلك والأسواق متصلة من مدينة الإسكندرية إلى مصر ومن مصر إلى مدينة أسوان من الصعيد. ثم وصلت إلى مدينة مصر وهي أم البلاد وقرارة فرعون1 ذي الأوتاد ذات الإقاليم العريضة والبلاد الأريضة المتناهية في كثرة العمارة المتناهية بالحسن والنضارة ومجمع الوارد والصادر ومحط رحل الضعيف والقادر وبها ما شئت من عالم وجاهل وجاد وهازل،
--------------------------------------------
এর বাইরেও বাগানগুলোর মাঝে মিনিয়া নামে পরিচিত একটি স্থান রয়েছে। সেখানে বিদগ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ইবনুন নুমান নামে পরিচিত একজন শায়েখ ছিলেন। আমি তাঁর জাউইয়ায় (খানকায়) যাওয়ার সংকল্প করি এবং তাঁর কাছে রাত কাটাই। দিময়াতে অবস্থানকালে আল-মুহসিনী নামে পরিচিত একজন শাসক ছিলেন, যিনি অত্যন্ত অনুগ্রহশীল ও গুণী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি নীল নদের তীরে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেছিলেন এবং সেই দিনগুলোতে সেখানেই আমার আবাসন ছিল। তাঁর ও আমার মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। অতঃপর আমি ফারাসকুর বন্দরে সফর করি, যা নীল নদের তীরে অবস্থিত একটি শহর (এর নামের 'কাফ' বর্ণটি পেশযুক্ত)। আমি শহরের বাইরে অবস্থান করি। সেখানে আমীর আল-মুহসিনীর পাঠানো একজন অশ্বারোহী আমার নিকট আসলেন। তিনি আমাকে বললেন যে, আমীর আপনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন এবং আপনার অবস্থা জানতে পেরে এই খরচ পাঠিয়েছেন। তিনি আমাকে বেশ কিছু দিরহাম প্রদান করলেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন। এরপর আমি আশমুনুর রুমান শহরে সফর করি (এর নামের বানান হচ্ছে হামযাহ-তে যবর এবং শীন বর্ণে সাকিন)। প্রচুর ডালিম বা আনারের কারণে এর সাথে 'রুমান' শব্দটি যুক্ত হয়েছে; এখান থেকেই সেগুলো মিশরে (কায়রোতে) নিয়ে যাওয়া হয়। এটি নীল নদের একটি খালের ওপর অবস্থিত একটি প্রাচীন ও বড় শহর। এখানে একটি কাঠের সেতু রয়েছে যেখানে নৌকাগুলো নোঙর করে। যখন আসর হয়, তখন সেই কাঠগুলো তুলে ফেলা হয় এবং উজান ও ভাটির দিকে যাতায়াতকারী নৌকাগুলো যাতায়াত করে। এই শহরে কাযিল কুযাত (প্রধান বিচারপতি) এবং ওয়ালিল উলাত (গভর্নরদের প্রধান) অবস্থান করেন। এরপর আমি সেখান থেকে সামানূদ শহরে সফর করি। এটি নীল নদের তীরে অবস্থিত, যেখানে প্রচুর নৌকা এবং চমৎকার সব বাজার রয়েছে। এটি এবং মাহাল্লাতুল কুবরার মধ্যবর্তী দূরত্ব তিন ফারসাখ (এর নামের বানান হচ্ছে সীন ও মীম বর্ণে যবর, নূন বর্ণে তাশদীদ ও পেশ, এরপর ওয়াও এবং দাল বর্ণ)। এই শহর থেকে আমি নীল নদে আরোহণ করে উজানের দিকে মিশরের (কায়রো) উদ্দেশ্যে রওনা হই। যাত্রাপথে সুশৃঙ্খলভাবে একের পর এক শহর ও গ্রাম পড়ে। নীল নদের যাত্রীদের সাথে করে পাথেয় বা খাবার নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কারণ যখনই কেউ তীরে নামতে চায়, সে অজু, নামাজ, খাবার কেনা এবং অন্যান্য প্রয়োজনে নামতে পারে। ইসকান্দারিয়া (আলেকজান্দ্রিয়া) থেকে মিশর এবং মিশর থেকে উচ্চ মিশরের আসওয়ান পর্যন্ত বাজারগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। অতঃপর আমি মিশর (কায়রো) শহরে পৌঁছলাম। এটি দেশসমূহের জননী এবং কীলকধারী ফেরাউনের১ আবাসস্থল। এটি প্রশস্ত অঞ্চল এবং উর্বর ভূখণ্ডের অধিকারী। এর জনবসতি অত্যন্ত ঘন এবং এটি সৌন্দর্য ও সজীবতায় পরিপূর্ণ। এটি আগন্তুক ও প্রস্থানকারীদের মিলনস্থল এবং দুর্বল ও সবল সবার বিশ্রামের স্থান। এখানে আপনি আপনার ইচ্ছানুযায়ী আলেম ও জাহেল, গম্ভীর ও কৌতুকপ্রিয়—সব ধরনের মানুষই পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وحليم وسفيه ووضيع ونبيه وشريف ومشروف ومنكر ومعروف تموج موج البحر بسكانها وتكاد تضيق بهم على سعة مكانها وإمكانها شبابها يجد على طول العهد وكوكب تعديلها لا يبرح عن منزل السعد قهرت قاهرتها الأمم وتمكنت ملوكها نواصي العرب والعجم ولها خصوصية النيل الذي أجل خطرها وأغناها عن أن يستمد القطر قطرها وأرضها مسيرة شهر لمجد السير كريمة التربة مؤنسة لذي الغربة. قال ابن جزي: وفيها يقول الشاعر:
لَعمرُك ما مصر بمصرٍ وإنما
هي الجنة الدنيا لمن يتبصّر
فأولادها الولدان والحور عينُها
وروضتها الفردوس والنيل كوثر
وفيها يقول ناصر الدين بن ناهض:
شاطئ مصر جنة
…ما مثلها من بلد
لا سيّما مذ زُخرفَت
…بنيلها المطّرد
وللرياح فوقه
…سوابغٌ من زَرَد
مسرودةٌ ما مسّها
…داوُدُها بمبرد
سائلة هواؤها
…يرعد عاري الجسد
والفلك كالأفلاك بي
…ن حادر ومصعد
ويقال أن بمصر من السائقين على الجمال اثني عشر ألف سقاء وأن بها ثلاثين ألف مكار وأن بنيلها من المراكب ستة وثلاثين ألفا للسلطان والرعية تمر صاعدة إلى الصعيد ومنحدرة إلى الإسكندرية ودمياط بأنواع الخيرات والمرافق وعلى ضفة النيل مما يواجه مصر الموضع المعروف بالروضة وهو مكان النزهة والتفرج وبه البساتين الكثيرة الحسنة وأهل مصر ذوو طرب وسرور ولهو شاهدت بها مرة فرجة بسبب برء الملك الناصر من كسر أصاب يده فزين كل أهل سوق سوقهم وعلقوا بحوانيتهم الحلل والحلي وثياب الحرير وبقوا على ذلك أياما.
مسجد عمرو بن العاص والمدارس والمارستانات والزوايا:
ومسجد عمرو بن العاص مسجد شريف كبير القدر شهير الذكر، تقام فيه الجمعة. والطريق يعترضه من شرق إلى غرب وبشرقه الزاوية حيث كان يدرس
সহনশীল ও নির্বোধ, হীন ও বুদ্ধিমান, উচ্চবংশীয় ও সাধারণ এবং অখ্যাত ও বিখ্যাত—সব ধরণের মানুষ সেখানে রয়েছে। তার বাসিন্দাদের ভিড়ে শহরটি সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো উত্তাল হয়ে ওঠে এবং এর স্থানের বিশালতা ও প্রশস্ততা সত্ত্বেও এটি যেন তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও এর যৌবন সর্বদা নতুন থাকে এবং এর ভারসাম্য রক্ষার নক্ষত্রটি সৌভাগ্যের আলয় থেকে বিচ্যুত হয় না। তার বিজয়িনী (কাহেরা) সকল জাতিকে পরাভূত করেছে এবং এর রাজন্যবর্গ আরব ও অনারবদের ভাগ্যনিয়ন্তা হয়েছে। এর রয়েছে নীল নদের বিশেষত্ব, যা এর মর্যাদাকে মহিমান্বিত করেছে এবং বৃষ্টির প্রত্যাশা থেকে একে অমুখাপেক্ষী করেছে। এর ভূখণ্ড একজন দ্রুতগামী পথিকের জন্য এক মাসের পথ; এর মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং প্রবাসীদের জন্য পরম স্বস্তিদায়ক। ইবনে জুযাই বলেন: এর সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন:
তোমার জীবনের শপথ, মিশর কেবল একটি জনপদ নয়, বরং এটি চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের জন্য পার্থিব জান্নাত।
তার শিশুরা যেন জান্নাতের চিরকিশোর, তার রূপসীরা যেন ডাগরনয়না হুর,
তার উদ্যান যেন ফিরদাউস এবং তার নীল নদ যেন কাউসার।
এ সম্পর্কে নাসিরুদ্দিন বিন নাহিদ বলেন:
মিশরের তীর যেন এক জান্নাত
…এর মতো কোনো শহর নেই
বিশেষ করে যখন তা সুশোভিত হয়
…তার প্রবহমান নীল নদের দ্বারা
তার উপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের প্রবাহ যেন
…বর্মের কড়ি যা নিপুণভাবে সাজানো
তা যেন এমন নিখুঁত বুনন যাকে
…দাউদ (আ.)-এর রেত (উখারি) স্পর্শ করেনি
তার শীতল বাতাস প্রবাহিত হলে
…অনাবৃত দেহের অধিকারী ব্যক্তি কেঁপে ওঠে
আর নৌকাগুলো যেন গ্রহ-নক্ষত্রের মতো আমার চারপাশ দিয়ে
…নিচে নামছে বা উপরে উঠছে
বলা হয়ে থাকে যে, মিশরে উটের পিঠে পানি বহনকারীর সংখ্যা বারো হাজার। সেখানে ত্রিশ হাজার ভাড়ায় চালিত পশুচালক রয়েছে। আর সুলতান ও প্রজাদের মালিকানাধীন নীল নদে চলাচলকারী নৌকার সংখ্যা ছত্রিশ হাজার, যা বিভিন্ন ধরণের পণ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে উচ্চ মিশরের দিকে উজান বেয়ে যায় এবং আলেকজান্দ্রিয়া ও দমিয়াতের দিকে ভাটির টানে নেমে আসে। মিশরের মুখোমুখি নীল নদের তীরে 'রওজা' নামক একটি প্রসিদ্ধ স্থান রয়েছে। এটি মূলত একটি বিনোদন ও ভ্রমণের জায়গা এবং এখানে অসংখ্য সুন্দর বাগান রয়েছে। মিশরের অধিবাসীরা আমোদ-প্রমোদ ও আনন্দ-উৎসব প্রিয়। বাদশাহ আল-নাসিরের হাতের হাড় ভেঙে যাওয়ার পর সুস্থতা লাভ উপলক্ষ্যে আমি একবার সেখানে একটি উৎসব প্রত্যক্ষ করেছি। প্রতিটি বাজারের ব্যবসায়ীরা তাদের দোকান সজ্জিত করেছিল এবং তাদের বিপণিবিতানে রেশমি কাপড়, অলঙ্কার ও দামী পোশাক ঝুলিয়ে দিয়েছিল। বেশ কয়েকদিন যাবত এই অবস্থা বজায় ছিল।
আমর ইবনুল আস মসজিদ, মাদরাসা, হাসপাতাল ও খানকাহসমূহ:
আমর ইবনুল আস মসজিদটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ, মহান এবং সুপ্রসিদ্ধ একটি মসজিদ, যেখানে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। একটি রাস্তা একে পূর্ব থেকে পশ্চিমে অতিক্রম করেছে এবং এর পূর্ব দিকে রয়েছে একটি কোণ যেখানে পাঠদান করা হতো।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الإمام أبو عبد الله الشافعي وأما المدارس بمصر فلا يحيط أحد بحصرها لكثرتها وأما المارستان الذي بين القصرين عند تربة الملك المنصور قلاوون فيعجز الواصف عن محاسنه وقد أعد فيه من المرافق والأدوية مالا يحصر يذكر أن مجباه ألف دينار كل يوم. وأما الزوايا فكثيرة وهو يسمونها الخوانق واحدتها خانقة1 والأمراء بمصر يتنافسون في بناء الزوايا وكل زاوية بمصر معينة لطائفة من الفقراء وأكثرهم الأعاجم وهم أهل أدب ومعرفة بطريقة التصوف ولكل زاوية شيخ وحارس وترتيب أمورهم عجيب ومن عوائدهم في الطعام أنه يأتي خديم الزاوية إلى الفقراء صباحا فيعين له كل واحد ما يشتهيه من الطعام فإذا اجتمعوا للأكل جعلوا لكل إنسان خبزه ومرقة في إناء على حدة لا يشاركه فيه أحد وطعامهم مرتان في اليوم ولهم كسوة الشتاء وكسوة الصيف ومرتب شهري من ثلاثين درهما للواحد في الشهر إلى عشرين ولهم الحلاوة من السكر كل ليلة جمعة والصابون لغسل أثوابهم والأجرة لدخول الحمام والزيت للإستصباح وهم أعزاب وللمتزوجين زوايا على حدة ومن المشترط عليهم حضور الصلوات الخمس والمبيت بالزاوية واجتماعهم بقبة داخل الزاوية ومن عوائدهم أن يجلس كل واحد منهم على سجادة مختصة به وإذا صلوا الصبح قرأوا سورة الفتح وسورة الملك وسورة عم ثم يؤتى بنسخ من القرآن العظيم مجزأة فيأخذ كل فقير جزءا ويختمون القرآن ويذكرون ثم يقرأ القراء على عادة أهل المشرق ومثل ذلك يفعلون بعد صلاة العصر ومن عوائدهم مع القادم أنه يأتي باب الزاوية فيقف به مشدود الوسط وعلى كاهله سجادة وبيمناه العكاز وبيسراه الإبريق فيعلم البواب خديم الزاوية بمكانه فيخرج إليه ويسأله من أي البلاد أتى وبأي الزوايا نزل في طريقه ومن شيخه فإذا عرف صحة قوله أدخله الزاوية وفرش له سجادته في موضع يليق به وأراه موضع الطهارة فيجدد الوضوء ويأتي إلى سجادته فيحل وسطه ويصل ركعتين ويصافح الشيخ ومن حضر ويقعد معهم ومن عوائدهم أنهم إذا كان يوم الجمعة أخذ الخادم جميع سجاجيدهم فيذهب بها إلى المسجد ويفرشها لهم هنالك ويخرجون مجتمعين ومعهم
--------------------------------------------
ইমাম আবু আবদুল্লাহ আশ-শাফিঈ। মিসরের মাদরাসাসমূহের কথা বলতে গেলে, সেগুলোর আধিক্যের কারণে কেউ তা গণনা করে শেষ করতে পারবে না। আর দুই প্রাসাদের মধ্যবর্তী স্থানে মালিক আল-মানসুর কালাউনের সমাধিস্থলের পাশে যে হাসপাতালটি (মারিস্তান) অবস্থিত, বর্ণনাকারী তার সৌন্দর্যের বর্ণনা দিতে অক্ষম। সেখানে এত বিপুল পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যা গণনা করা যায় না। উল্লেখ করা হয় যে, এর দৈনিক আয় এক হাজার দিনার। আর জাউইয়া (খানকাহ) সংখ্যা অনেক; তারা এগুলোকে খাওয়ানিজ বলে ডাকে, যার একবচন হলো খানকাহ।১ মিসরের আমীরগণ জাউইয়া নির্মাণের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করেন। মিসরের প্রতিটি জাউইয়া ফকীরদের (সুফী সাধক) একটি নির্দিষ্ট দলের জন্য নির্ধারিত। তাদের অধিকাংশ অনারব এবং তারা শিষ্টাচার ও তাসাউফের পথ সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। প্রতিটি জাউইয়ার জন্য একজন শাইখ ও একজন পাহারাদার রয়েছেন এবং তাদের বিষয়াদির ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চমৎকার। খাদ্যের ক্ষেত্রে তাদের একটি নিয়ম হলো, জাউইয়ার খাদেম সকালে ফকীরদের কাছে আসেন এবং প্রত্যেকে তার পছন্দমতো খাবারের কথা জানান। যখন তারা খাওয়ার জন্য একত্রিত হন, তখন প্রত্যেকের জন্য আলাদা পাত্রে রুটি ও ঝোল দেওয়া হয়, যাতে অন্য কেউ শরিক হয় না। তাদের দিনে দুই বেলা খাবার দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক এবং মাসে বিশ থেকে ত্রিশ দিরহাম পর্যন্ত মাসিক ভাতা প্রদান করা হয়। প্রতি জুমার রাতে তাদের জন্য চিনির তৈরি মিষ্টির ব্যবস্থা থাকে এবং কাপড় ধোয়ার জন্য সাবান, গোসলখানায় যাওয়ার খরচ এবং বাতি জ্বালানোর তেলের ব্যবস্থাও করা হয়। তারা অবিবাহিত; বিবাহিতদের জন্য আলাদা জাউইয়া রয়েছে। তাদের ওপর শর্তারোপ করা হয় যেন তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে উপস্থিত থাকে, জাউইয়াতে রাত্রিযাপন করে এবং জাউইয়ার ভেতরের গম্বুজের নিচে সমবেত হয়। তাদের একটি নিয়ম হলো, প্রত্যেকে নিজের জন্য নির্দিষ্ট জায়নামাজে বসেন। যখন তারা ফজরের নামাজ আদায় করেন, তখন সূরা ফাতহ, সূরা মুলক এবং সূরা আম্মা পাঠ করেন। এরপর মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বিভিন্ন পারা নিয়ে আসা হয় এবং প্রত্যেক ফকীর এক একটি অংশ গ্রহণ করেন। এভাবে তারা কুরআন খতম করেন এবং জিকির করেন। এরপর প্রাচ্যের অধিবাসীদের প্রথা অনুযায়ী কারীগণ তিলাওয়াত করেন। আসরের নামাজের পর তারা একই কাজ করেন। নবাগতদের ক্ষেত্রে তাদের নিয়ম হলো, সে জাউইয়ার দরজায় এসে কোমর বেঁধে দাঁড়াবে, তার কাঁধে থাকবে একটি জায়নামাজ, ডান হাতে লাঠি এবং বাম হাতে পানির পাত্র। দ্বাররক্ষী বা জাউইয়ার খাদেম তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পেরে তার কাছে বের হয়ে আসেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করেন সে কোন দেশ থেকে এসেছে, পথে কোন কোন জাউইয়াতে অবস্থান করেছে এবং তার শাইখ কে। যখন তার কথার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়, তখন তাকে জাউইয়াতে প্রবেশ করানো হয় এবং তার মর্যাদাপূর্ণ স্থানে তার জায়নামাজ বিছিয়ে দেওয়া হয়। তাকে পবিত্রতা অর্জনের স্থান দেখানো হয়, সে অজু নবায়ন করে তার জায়নামাজে ফিরে আসে, কোমর আলগা করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে এবং শাইখ ও উপস্থিতদের সাথে মুসাফাহা করে তাদের সাথে বসে পড়ে। তাদের একটি নিয়ম হলো, জুমার দিন খাদেম তাদের সকল জায়নামাজ নিয়ে মসজিদে যান এবং সেখানে তাদের জন্য সেগুলো বিছিয়ে দেন। তারা একত্রে বের হয়ে তাদের সাথে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
شيخهم فيأتون المسجد ويصلي كل واحد على سجادته فإذا فرغوا من الصلاة قرءوا القرآن على عادتهم ثم ينصرفون مجتمعين إلى الزاوية ومعهم شيخهم.
তাদের শাইখ; অতঃপর তারা মসজিদে আগমন করে এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়নামাজে সালাত আদায় করে। যখন তারা সালাত সমাপ্ত করে, তখন তারা তাদের রীতি অনুযায়ী কুরআন তিলাওয়াত করে, অতঃপর তারা একত্রিত অবস্থায় জাউয়িয়ার দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং তাদের শাইখ তাদের সঙ্গেই থাকেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قرافة مصر ومزاراتها:ولمصر القرافة العظيمة الشأن في التبرك بها وقد جاء في فضلها أثر أخرجه القرطبي وغيره لأنها من جملة الجبل المقطم الذي وعد الله أن يكون روضة من رياض الجنة وهم يبنون بالقرافة القباب الحسنة ويجعلون عليها الحيطان فتكون كالدور ويبنون بها البيوت ويرتبون القراء ويقرءون ليلا ونهارا بالأصوات الحسان ومنهم من يبني الزاوية والمدرسة إلى جانب التربة ويخرجون كل ليلة جمعة إلى البيت بأولادهم ونسائهم ويطوفون على الأسواق بصنوف المأكل ومن المزارات الشريفة المشهد المقدس العظيم الشأن حيث رأس الحسين بن علي عليهما السلام وعليه رباط ضخم عجيب البناء على أبوابه وحلق الفضة وصفائحها أيضا كذلك وهو موفى الحق من الإجلال والتعظيم ومنها تربة السيدة نفيسة بنت الحسن الأنور بن علي بن الحسين بن علي عليهم السلام وكانت مجابة الدعوة مجتهدة في العبادة وهذه التربة أنيقة البناء مشرقة الضياء عليها رباط مقصود ومنها تربة الإمام أبي عبد الله بن محمد بن إدريس الشافعي رضي الله عنه وعليها رباط كبير ولها جراية ضخمة وبها القبة الشهيرة البديعة الإتقان العجيبة البنيان المتناهية الأحكام المفرطة السمو وسعتها أزيد من ثلاثين ذراعا وبقرافة مصر من قبور العلماء والصالحين ما لا يضبطه الحصر وبها عدد جم من الصحابة وصدور السلف والخلف رضي الله تعالى عنهم مثل عبد الرحمن بن القاسم وأشهب بن عبد العزيز وأصبغ بن الفرج وابني عبد الحكيم وأبي القاسم بن شعبان وأبي محمد عبد الوهاب ولكن ليس لهم بها اشتهار ولا يعرفهم إلا من له بهم عناية والشافعي رضي الله عنه ساعده الجد في نفسه وأتباعه وأصحابه في حياته ومماته فظهر من أمره مصداق قوله:
الجد يدفي كل أمر شائع
… والجد يفتح كل باب مغلق
মিসরের কারাফা (কবরস্থান) ও এর মাজারসমূহ:বরকত হাসিলের ক্ষেত্রে মিসরের কারাফার সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। এর শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে ইমাম কুরতুবী ও অন্যান্যরা একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন; কারণ এটি মুকাত্তাম পাহাড়ের অংশবিশেষ, যে পাহাড়কে আল্লাহ জান্নাতের বাগানসমূহের একটি বাগান হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তারা কারাফাতে সুন্দর সুন্দর গম্বুজ নির্মাণ করে এবং সেগুলোর চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরাও করে দেয়, ফলে সেগুলো বাসগৃহের মতো মনে হয়। সেখানে তারা ঘরবাড়ি নির্মাণ করে এবং ক্বারী নিয়োগ করে, যারা দিন-রাত সুমধুর কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ কবরের পাশে খানকাহ ও মাদ্রাসা নির্মাণ করেন। প্রতি জুমআর রাতে তারা তাদের সন্তান ও স্ত্রীদের নিয়ে সেখানে যান এবং বিভিন্ন ধরণের খাবারের পসরা নিয়ে বাজারের মতো ঘুরে বেড়ান। সম্মানিত জিয়ারতগাহসমূহের মধ্যে একটি হলো অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পবিত্র মাশহাদ, যেখানে হুসাইন ইবনে আলী (আলাইহিমাস সালাম)-এর মস্তক মোবারক রয়েছে। এর ওপর একটি বিশাল ও বিস্ময়কর স্থাপত্যশৈলীর রিবাত (খানকাহ) রয়েছে। এর দরজাগুলোতে রূপার কড়া ও পাত লাগানো আছে। একে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হয়। মাজারসমূহের মধ্যে আরও রয়েছে সাইয়্যিদা নাফিসা বিনতে হাসান আল-আনোয়ার ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী (আলাইহিমুস সালাম)-এর সমাধি। তিনি ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার দোয়া কবুল হয়) এবং ইবাদতে অত্যন্ত পরিশ্রমী। এই সমাধিটি নির্মাণশৈলীতে অত্যন্ত রুচিশীল এবং জ্যোতির্ময়; এখানে একটি সুপরিচিত রিবাত রয়েছে। আরও রয়েছে ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদরিস আশ-শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সমাধি। এর ওপর একটি বড় রিবাত রয়েছে এবং এর জন্য বিশাল ব্যয়ভারের ব্যবস্থা বিদ্যমান। সেখানে অত্যন্ত সুনিপুণ কারুকার্যখচিত ও বিস্ময়কর স্থাপত্যের সেই বিখ্যাত গম্বুজটি রয়েছে, যার নির্মাণ অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং উচ্চতা অত্যধিক। এর প্রশস্ততা ত্রিশ হাতেরও বেশি। মিসরের কারাফাতে ওলামায়ে কেরাম ও নেককার বান্দাদের এতো অধিক সংখ্যক কবর রয়েছে যা গণনা করা সম্ভব নয়। সেখানে সাহাবায়ে কেরাম এবং সালাফ ও খালাফের অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের এক বিশাল জামাত শায়িত আছেন (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম); যেমন—আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম, আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ, আসবাগ ইবনুল ফারাজ, ইবনে আব্দুল হাকামের দুই ছেলে, আবুল কাসিম ইবনে শা'বান এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহহাব। কিন্তু সেখানে তারা তেমন পরিচিত নন এবং যারা তাদের সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত তারা ছাড়া অন্য কেউ তাদের চেনে না। ইমাম শাফিঈ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে তাঁর নিজ সত্তা, তাঁর অনুসারী এবং তাঁর সঙ্গীদের মাঝে তাঁর জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর সৌভাগ্য তাঁর সহায়ক হয়েছে। ফলে তাঁরই বলা বাণীর সত্যতা তাঁর ক্ষেত্রে প্রকাশিত হয়েছে:
সৌভাগ্য সকল সুপরিচিত বিষয়কে উষ্ণতা দান করে... আর সৌভাগ্যই সকল বন্ধ দরজাকে উন্মুক্ত করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
نيل مصر:
ونيل مصر يفضل أنهار الأرض عذوبة مذاق واتساع قطر وعظم منفعة والمدن والقرى بضفتيه منتظمة ليس في المعمور مثلها ولا يعلم نهر يزرع عليه ما يزرع على النيل وليس في الأرض نهر يسمى بحرا غيره قال الله تعالى: {فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ} 1. فسماه يما وهو البحر وفي الحديث الصحيح أن رسول الله صلى الله عليه وسلم وصل ليلة الإسراء إلى سدرة المنتهى فإذا في أصلها أربعة أنهار نهران ظاهران ونهران باطنان فسأل عنها جبريل عليه السلام فقال أما الباطنان ففي الجنة وأما الظاهران فالنيل والفرات وفي الحديث أيضا النيل والفرات وسيحون وجيحون كل من أنهار الجنة ومجرى النيل من الجنوب إلى الشمال خلافا لجميع الأنهار ومن عجائبه أن ابتداء زيادته في شدة الحر عند نقص الأنهار وجفوفها وابتداء نقصه حين زيادة الأنهر وفيضها ونهر السند مثله في ذلك وسيأتي ذكره وأول ابتداء زيادته في حزيران وهو يونيه فإذا بلغت زيادته ستة عشر ذراعا تم خراج السلطان فإذا زاد ذراعا كان الخصب في العام والصلاح التام فإن بلغ ثمانية عشر ذراعا أضر بالضياع وأعقب الوباء وإن نقص ذراعا عن ستة عشر نقص خراج السلطان وإن نقص ذراعين استسقى الناس وكان الضرر شديد والنيل أحد أنهار الدنيا الخمسة الكبار وهي النيل والفرات والدجلة وسيحون وجيحون وتماثلها أنهار خمسة أيضا نهر السند ويسمى بنج أب ونهر الهند ويسمى الكنك وإليه تحج الهنود وإذا أحرقوا أمواتهم رموا برمادهم فيه ويقولون هو من الجنة ونهر الجون بالهند أيضا ونهر اتل بصحراء قفجق وعلى ساحله مدينة السرا ونهر السرو بأرض الخطا وعلى ضفته مدينة خان بالق ومنها ينحدر إلى مدينة الخنسا ثم إلى مدينة الزيتون بأرض الصين وسيذكر ذلك كله في مواضعه أن شاء الله والنيل يفترق بعد مسافة من مصر على ثلاثة أقسام ولا يعبر نهر منها إلا في السفن شتاء وصيفا وأهل كل بلد لهم خلجان تخرج من النيل فإذا مد أترعها وفاضت على المزارع.
--------------------------------------------
মিশরের নীল নদ:
মিশরের নীল নদ স্বাদের মাধুর্য, বিস্তৃতি এবং উপকারের বিশালত্বের দিক থেকে পৃথিবীর সমস্ত নদীর তুলনায় শ্রেষ্ঠ। এর দুই তীরের শহর ও গ্রামগুলো এমন সুশৃঙ্খল যে আবাদকৃত পৃথিবীতে এর কোনো নজির নেই। নীল নদের মতো এত অধিক চাষাবাদ হয় এমন কোনো নদী সম্পর্কে জানা যায় না। পৃথিবীতে এটি ছাড়া আর কোনো নদীকে 'সমুদ্র' নামে অভিহিত করা হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যখন তুমি তার ব্যাপারে আশঙ্কা করবে, তখন তাকে নদীতে নিক্ষেপ করো।" এখানে তিনি একে 'ইয়াম' বলেছেন, যা মূলত সমুদ্র। সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিরাজের রাতে সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছেছিলেন। সেখানে তিনি এর মূলে চারটি নদী দেখতে পান—দুটি প্রকাশ্য নদী এবং দুটি অপ্রকাশ্য নদী। তিনি এ সম্পর্কে জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য দুটি জান্নাতে অবস্থিত, আর প্রকাশ্য দুটি হলো নীল ও ফুরাত। অন্য একটি হাদীসেও এসেছে যে, নীল, ফুরাত, সাইহুন ও জাইহুন—এর প্রতিটিই জান্নাতের নদী। নীল নদের প্রবাহ অন্যান্য সকল নদীর বিপরীত, অর্থাৎ দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে। এর বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো যে, যখন অন্যান্য নদীগুলোতে পানি হ্রাস পায় ও শুকিয়ে যায়, তখন প্রচণ্ড গরমের সময় এতে পানি বাড়তে শুরু করে; আবার যখন অন্য নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি পায় ও প্লাবিত হয়, তখন এতে পানি কমতে শুরু করে। সিন্ধু নদও এ ক্ষেত্রে নীল নদের মতো, যার বর্ণনা সামনে আসবে। নীল নদে পানি বৃদ্ধির সূচনা হয় হাজীরান অর্থাৎ জুন মাসে। যখন এর পানির উচ্চতা ষোলো হাতে পৌঁছায়, তখন সুলতানের খাজনা আদায় পূর্ণ হয়। যদি উচ্চতা আরও এক হাত বৃদ্ধি পায়, তবে সে বছর প্রচুর ফসল ফলে এবং সার্বিক কল্যাণ সাধিত হয়। আর যদি আঠারো হাতে পৌঁছায়, তবে তা জনপদের ক্ষতি করে এবং মহামারি বয়ে আনে। আর যদি উচ্চতা ষোলো হাতের চেয়ে এক হাত কম হয়, তবে সুলতানের খাজনা কমে যায়। আর যদি দুই হাত কম হয়, তবে মানুষ বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করে এবং ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত প্রকট হয়। নীল নদ পৃথিবীর পাঁচটি বড় নদীর অন্যতম; সেগুলো হলো নীল, ফুরাত, দজলা, সাইহুন ও জাইহুন। এগুলোর সমতুল্য আরও পাঁচটি নদী রয়েছে: সিন্ধু নদ—যাকে পাঞ্জাব বলা হয়; ভারতের নদী—যাকে গঙ্গা বলা হয় এবং হিন্দুরা এখানে তীর্থযাত্রা করে, তারা তাদের মৃতদেহ পুড়িয়ে তার ছাই এই নদীতে নিক্ষেপ করে এবং বলে যে এটি জান্নাত থেকে এসেছে; ভারতের জুন নদী; কিপচাক মরুভূমির আতিল নদী—যার তীরে সরাই শহর অবস্থিত; এবং খাতা অঞ্চলের সারু নদী—যার তীরে খানবালিক শহর অবস্থিত, সেখান থেকে এটি নিমে এসে খানসা শহর হয়ে চীনের জাইতুন শহর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা যথাস্থানে আসবে। নীল নদ মিশর থেকে কিছু দূরত্ব অতিক্রম করার পর তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। শীত বা গ্রীষ্ম কোনো ঋতুতেই নৌকা ছাড়া এই নদীগুলো পার হওয়া যায় না। প্রতিটি জনপদের অধিবাসীদের জন্য নীল নদ থেকে নির্গত খাল রয়েছে; যখন নীল নদ পূর্ণ হয়, তখন তা খালগুলোকে ভরে দেয় এবং ফসলের ক্ষেত প্লাবিত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু ইবনু বাতুতা ত দারুশ শারকিল আরাবি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأهرام والبرابي:
وهي من العجائب المذكورة على مر الدهور وللناس فيها كلام كثير وخوض في شأنها وأولية بنائها ويزعمون أن العلوم التي ظهرت قبل الطوفان أخذت من هرمس الأول الساكن بصعيد مصر الأعلى ويسمى الخنوج وهو إدريس عليه السلام وأنه أول من تكلم في الحركات الفلكية والجواهر العلوية وأول من بنى الهياكل ومجد الله تعالى وفيها أنه أنذر الناس بالطوفان وخاف ذهاب العلم ودروس الصنائع فبنى الأهرام والبرابي وصور فيها جميع الصنائع والآلات ورسم العلوم فيها لتبقى مخلدة ويقال أن دار العلم والملك بمصر مدينة منف1 وهي على بريد من الفسطاط فلما بنيت الاسكندرية انتقل الناس إليها وصارت دار العلم والملك إلى أن أتى الإسلام فاختطّ عمرو بن العاص رضي الله عنه مدينة الفسطاط فهي قاعدة مصر إلى هذا العهد والأهرام بناء بالحجر الصلد المنحوت متناهي السمو مستدير متسع الأسفل ضيق الأعلى كالشكل المخروط ولا أبواب لها ولا تعلم كيفية بنائها ومما يذكر في شأنها أن ملكا من ملوك مصر قبل الطوفان رأى رؤيا هالته وأوجبت عنده أنه بنى تلك الأهرام بالجانب الغربي من النيل لتكون مستودعا للعلوم ولجثث الملوك وأنه سأل المنجمين هل يفتح منها موضع فأخبروه أنه تفتح من الجانب الشمالي وعينوا له الموضع الذي تفتح منه ومبلغ الإنفاق في فتحه فأمر أن يجعل بذلك الموضع من المال قدر ما أخبروه أنه ينفق في فتحه واشتد في البناء فأتمه في ستين سنة وكتب عليها بنينا هذه الأهرام في ستين سنة فليهدمها من يريد ذلك في ستمائة سنة فإن الهدم أيسر من البقاء فلما أفضت الخلافة إلى أمير المؤمنين المأمون أراد هدمها فأشار عليه بعض مشايخ مصر أن لا يفعل فلج في ذلك وأمر أن تفتح من الجانب الشمالي فكانوا يوقدون عليها النار ثم يرشونها بالخل ويرمونها بالمنجنيق حتى فتحت الثلمة التي بها إلى اليوم ووجدوا بإزاء النقب مالا أمر أمير المؤمنين بوزنه فحصر ما أنفق في النقب فوجدهما سواء فطال عجبه من ذلك ووجدوا عرض الحائط عشرين ذراعاً.
--------------------------------------------
পিরামিড ও প্রাচীন মন্দিরসমূহ:
এগুলো যুগ যুগ ধরে বর্ণিত বিস্ময়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে মানুষের অনেক কথা রয়েছে এবং এর স্বরূপ ও নির্মাণের সূচনা সম্পর্কে অনেক আলোচনা প্রচলিত। তারা দাবি করে যে, মহাপ্লাবনের আগে যেসব জ্ঞান প্রকাশিত হয়েছিল তা মিশরের উচ্চভূমি বা আপার ইজিপ্টে বসবাসকারী প্রথম হারমেস থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, যাকে আখনুখ বলা হয় আর তিনিই হলেন ইদরিস আলাইহিস সালাম। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি মহাকাশের গতিবিধি এবং ঊর্ধ্বজগতের সারবস্তু নিয়ে কথা বলেছেন এবং তিনিই প্রথম উপাসনালয় নির্মাণ করেছেন ও মহান আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করেছেন। এতে এ কথাও আছে যে, তিনি মানুষকে মহাপ্লাবন সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এবং জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার ও শিল্পকলা বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন। তাই তিনি পিরামিড ও প্রাচীন মন্দিরসমূহ নির্মাণ করেন এবং তাতে সমস্ত শিল্পকলা ও যন্ত্রপাতির চিত্র অঙ্কন করেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান লিপিবদ্ধ করেন যাতে তা চিরস্থায়ী হয়। বলা হয়ে থাকে যে, মিশরে জ্ঞান ও রাজত্বের কেন্দ্র ছিল মানফ শহর এবং এটি ফুসতাত থেকে এক বারিদ (ডাক-চৌকি) দূরত্বে অবস্থিত। যখন আলেকজান্দ্রিয়া নির্মিত হলো, তখন মানুষ সেখানে স্থানান্তরিত হলো এবং ইসলাম আসার আগ পর্যন্ত এটিই জ্ঞান ও রাজত্বের কেন্দ্র ছিল। অতঃপর আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ফুসতাত শহরের পত্তন করেন এবং এটি বর্তমান সময় পর্যন্ত মিশরের রাজধানী। পিরামিড হলো খোদাই করা শক্ত পাথর দিয়ে নির্মিত অত্যন্ত সুউচ্চ স্থাপনা, যার নিচের দিক প্রশস্ত এবং উপরের দিক সংকীর্ণ, অনেকটা মোচাকৃতির মতো। এর কোনো দরজা নেই এবং এর নির্মাণ পদ্ধতি সম্পর্কেও কিছু জানা যায় না। এর সম্পর্কে আরও বর্ণিত আছে যে, মহাপ্লাবনের আগে মিশরের রাজাদের মধ্যে একজন রাজা একটি স্বপ্ন দেখে আতঙ্কিত হন, যা তাকে নীল নদের পশ্চিম তীরে এই পিরামিডগুলো নির্মাণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যেন তা জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং রাজাদের মরদেহের আধার হতে পারে। তিনি জ্যোতিষীদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে, এর কোনো অংশ কি খোলা সম্ভব? তারা তাকে জানিয়েছিলেন যে, এর উত্তর দিক থেকে একটি অংশ খোলা হবে এবং তারা তাকে সেই স্থানটি এবং তা খুলতে কত ব্যয় হবে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তখন তিনি সেই স্থানে ততটুকু অর্থ রাখার নির্দেশ দিলেন যতটুকু অর্থ তা খুলতে ব্যয় হবে বলে তাকে জানানো হয়েছিল। তিনি নির্মাণ কাজে অত্যন্ত তৎপর হলেন এবং ষাট বছরে তা সম্পন্ন করেন। তিনি এর উপরে লিখে দিয়েছিলেন: "আমরা এই পিরামিডগুলো ষাট বছরে নির্মাণ করেছি; যারা এগুলো ধ্বংস করতে চায় তারা যেন তা ছয়শ বছরে ধ্বংস করে। কেননা ধ্বংস করা টিকে থাকার চেয়ে সহজ।" যখন খিলাফত আমিরুল মুমিনীন আল-মামুনের হাতে পৌঁছাল, তখন তিনি এগুলো ধ্বংস করতে চাইলেন। মিশরের কিছু বিজ্ঞ ব্যক্তি তাকে এমনটি না করার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু তিনি তাতে অটল থাকলেন এবং উত্তর দিক থেকে তা খোলার নির্দেশ দিলেন। তারা এর উপর আগুন জ্বালাত, তারপর সিরকা ছিটিয়ে দিত এবং মিনজানিক দিয়ে আঘাত করত, যতক্ষণ না সেই ফাটলটি তৈরি হলো যা আজও বিদ্যমান। ফাটলটির পাশে তারা কিছু ধনসম্পদ পেল। আমিরুল মুমিনীন সেগুলো ওজন করার নির্দেশ দিলেন। এরপর সেই ফাটল বা সুড়ঙ্গ তৈরিতে যা ব্যয় হয়েছিল তা গণনা করা হলে দেখা গেল উভয়টি সমান। এতে তিনি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হলেন। তারা দেয়ালের প্রস্থ বিশ হাত দেখতে পেয়েছিলেন।
--------------------------------------------