(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: -)
جهود الشيخ محمد الأمين الشنقيطي في تقرير عقيدة السلف القسم: العقيدة
الكتاب: جهود الشيخ محمد الأمين الشنقيطي في تقرير عقيدة السلف
المؤلف: عبد العزيز ين صالح بن إبراهيم الطويان
الناشر: مكتبة العبيكان، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1419هـ/1999م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাফদের আক্বীদা প্রতিষ্ঠায় শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর প্রচেষ্টা বিভাগ: আক্বীদা
বই: সালাফদের আক্বীদা প্রতিষ্ঠায় শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতীর প্রচেষ্টা
লেখক: আবদুল আজিজ বিন সলিহ বিন ইব্রাহিম আত-তুওয়াইয়ান
প্রকাশক: মাকতাবাতুল ওবাইকান, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المجلد الأول
المقدمة…جهود الشيخ محمد الأمين الشنقيطي في تقرير عقيدة السلف
تأليف: الدكتور/عبد العزيز بن صالح بن إبراهيم الطويان
المقدمة:
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلاّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار4.
وبعد: فإن الله سبحانه وتعالى أرسل رسوله الكريم رحمة لهذه الأمة ليخرجهم من الظلمات إلى النور، وأنزل عليه الوحي فيه الهدى والبيان، فدعى إلى التوحيد الخالص ليكون الدين كله لله،
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…সালাফদের আকিদা প্রতিষ্ঠায় শায়খ মুহাম্মদ আল-আমিন আশ-শানকিতির প্রচেষ্টা
রচনা: ডক্টর আবদুল আজিজ বিন সালেহ বিন ইব্রাহিম আত-তুওয়াইয়ান
ভূমিকা:
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। ১, হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন। ২, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে। ৩।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়, প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি এবং প্রতিটি গোমরাহিই জাহান্নামে যাবে। ৪।
অতঃপর: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর সম্মানিত রাসূলকে এই উম্মতের প্রতি রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন যাতে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাঁর ওপর ওহী নাযিল করেছেন যাতে রয়েছে হেদায়েত ও সুস্পষ্ট বর্ণনা। অতঃপর তিনি খাঁটি তাওহীদের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন যাতে সমস্ত দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয়,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
وليتأله العباد ربهم تعظيماً، ومحبة، وتوكلاً، ورغبة، ورهبة، وخوفاً، ورجاء، فيوحدوه بربوبيته وألوهيته وأسمائه وصفاته.
فدخل الناس في دين الله أفواجاً، وأظهر الله دينه على الرغم من كيد اليهود، ومكر المنافقين، وحقد المشركين.
ولم يمت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى بلغ رسالة ربه، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، وجاهد في الله حق جهاده: لم يترك خيرا إلا دل عليه، ولا شرا إلا حذر منه.
والتحق عليه الصلاة والسلام بالرفيق الأعلى بعد أن ترك الناس على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك، قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإسْلامَ دِيناً} 1.
وقد حمل الأماجد الأوائل من المدرسة المحمدية بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم مشاعل النور والهدى إلى مشارق الأرض ومغاربها يبلغون رسالة ربهم، فأناروا الأرض بعبادة الله، وإبطال عبادة ما سواه. وضربوا أروع الأمثال في التضيحة والفداء.
وقد سار هؤلاء الأماجد؛ أعني بهم الصحابة والتابعين وتابعيهم بإحسان، على هذا الطريق الواضح على بصيرة من أمر دينهم؛ يرفضون الجاهلية عن علم، ويدعون إلى الله على دراية.
وقد دخل في هذا الدين من قصده الإفساد، فحالوا صرف المسلمين عن عبادة ربهم ودراسة كتابه العظيم وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم بشتى الخطط الماكرة، سالكين بذلك أساليب الشبهات والشهوات، ليكيدوا
--------------------------------------------
এবং বান্দারা তাদের প্রতিপালককে মহিমা, ভালোবাসা, নির্ভরতা, আকাঙ্ক্ষা, ভীতি, ভয় এবং আশার সাথে উপাসনা করবে; ফলে তারা তাঁর রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব), উলুহিয়্যাহ (উপাস্যত্ব) এবং তাঁর নাম ও গুণাবলিতে তাঁর একত্ব সাব্যস্ত করবে।
অতঃপর মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল এবং আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র, মুনাফিকদের চাতুরতা এবং মুশরিকদের বিদ্বেষ সত্ত্বেও বিজয়ী করলেন।
আর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ততক্ষণ পর্যন্ত ইন্তেকাল করেননি যতক্ষণ না তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন: তিনি এমন কোনো কল্যাণ বাকি রাখেননি যার দিকে তিনি পথপ্রদর্শন করেননি, এবং এমন কোনো অকল্যাণ বাকি রাখেননি যা থেকে তিনি সতর্ক করেননি।
আর তিনি (তাঁর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক) মানুষকে এক সুস্পষ্ট উজ্জ্বল রাজপথের ওপর রেখে মহান বন্ধুর সান্নিধ্যে চলে যান, যার রাত তার দিনের মতোই স্পষ্ট; যেখান থেকে কেবল ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিই বিচ্যুত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: {আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম} ১।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইন্তেকালের পর মুহাম্মাদী পাঠশালার সেই প্রথম যুগের মহান ব্যক্তিবর্গ পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমে নূর ও হিদায়াতের মশাল বহন করে নিয়ে যান তাঁদের রবের বাণী পৌঁছে দেওয়ার জন্য; ফলে তাঁরা আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য সব কিছুর উপাসনা বাতিলের মাধ্যমে পৃথিবীকে আলোকিত করেন। আর তাঁরা আত্মত্যাগ ও উৎসর্গের সর্বোত্তম উদাহরণ পেশ করেন।
আর এই মহান ব্যক্তিবর্গ; অর্থাৎ সাহাবী, তাবিঈ এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, তাঁরা তাঁদের দ্বীনি বিষয়ের ওপর অর্জিত চাক্ষুষ প্রজ্ঞার ভিত্তিতে এই সুস্পষ্ট পথে চলেছেন; তাঁরা জেনেশুনে জাহেলিয়াতকে প্রত্যাখ্যান করতেন এবং সম্যক জ্ঞানের সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানাতেন।
আর এই দ্বীনে এমন লোকেরাও প্রবেশ করেছিল যাদের উদ্দেশ্য ছিল অনিষ্ট সাধন করা, তাই তারা মুসলিমদেরকে তাদের রবের ইবাদত এবং তাঁর মহান কিতাব ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অধ্যয়ন থেকে বিমুখ করার জন্য বিভিন্ন চাতুরতাপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল; এক্ষেত্রে তারা সংশয় ও প্রবৃত্তির পথ অনুসরণ করেছিল, যাতে তারা ষড়যন্ত্র করতে পারে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
للإسلام، ويمكروا بأهله مكراً، فظهرت الفرق والمذاهب الهدامة.
لكن الله مظهر دينه، وحافظ شريعته، ومعز أوليائه؛ قال تعالى: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1، وقال: {لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ} 2.
وهذا مقتضى حكمة الله سبحانه وتعالى؛ لأن الرسول صلى الله عليه وسلم خاتم الأنبياء ولا نبي بعده، لذلك قيّض الله رجالاً فقهوا كتاب ربهم وسنة نبيهم يذوذون عن هذا الدين تحريف الغالين، وتلبيس الجاهلين، وانتحال المبطلين؛ يردون كل بدعة بالحجج القوية، والبراهين الساطعة.
وما زال الله سبحانه يظهر من يجدد ما اندرس من هذا الدين، فيعيد لهذه الأمة شبابها وحيويتها، لتكون كلمة الله هي العليا، وكلمة الذين كفروا السفلى، والله غالب على أمره ولو كره المبطلون.
لذلك بقي معتقد السلف ظاهر المعالم، واضح السبل، لا غموض فيه ولا دخن.
وكل ذلك بسبب حفظ الله جل وعلا لهذا الدين، ثم بجهود علماء السلف في العناية بإبراز هذه العقيدة الصافية، والذبّ عنها.
وكان من هؤلاء العلماء الأماجد الذين ذادوا عن هذا الدين تحريف الغالين، وتلبيس الجاهلين، وانتحال المبطلين: الشيخ العلامة محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله الذي يُعدّ بحقّ علماً من أعلام هذه الأمة المحمدية؛ صرف وقته، وقضى عمره، وبذل جهده في خدمة هذا الدين، والنصح لهذه الأمة، وتوجيهها إلى ما فيه الخير لها في العاجلة والآجلة. فجزاه الله عن الإسلام وأهله خير الجزاء.
--------------------------------------------
ইসলামের বিরুদ্ধে এবং এর অনুসারীদের সাথে তারা গভীর চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল, যার ফলে ধ্বংসাত্মক ফেরকা ও মতবাদসমূহের উদ্ভব ঘটে।
কিন্তু আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে প্রকাশকারী, তাঁর শরীয়তকে হিফাযতকারী এবং তাঁর বন্ধুদের সম্মানিতকারী; মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমিই যিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই তার হিফাযতকারী} ১, এবং তিনি বলেন: {যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন} ২।
আর এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার হিকমতের দাবি; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন শেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। এজন্য আল্লাহ এমন কিছু ব্যক্তিকে প্রস্তুত করেছেন যারা তাঁদের রবের কিতাব ও তাঁদের নবীর সুন্নাহ সম্পর্কে বিজ্ঞ, যারা এই দ্বীন থেকে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, মূর্খদের বিভ্রান্তি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার দূর করেন; তাঁরা শক্তিশালী যুক্তি ও উজ্জ্বল প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিটি বিদআতকে খণ্ডন করেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সর্বদা এমন ব্যক্তিদের আবির্ভূত করেন যারা এই দ্বীনের বিলুপ্তপ্রায় বিষয়গুলোকে সংস্কার করেন, ফলে এই উম্মতের মাঝে প্রাণের স্পন্দন ও সজীবতা ফিরিয়ে আনেন, যাতে আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ থাকে এবং কাফেরদের বাণী হয় অতি নিম্ন। আর আল্লাহ তাঁর কার্যে বিজয়ী, যদিও বাতিলপন্থীরা তা অপছন্দ করে।
একারণেই সালাফদের আকিদা সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত এবং পরিষ্কার পথ হিসেবে অবশিষ্ট রয়েছে, যাতে নেই কোনো অস্পষ্টতা কিংবা আবিলতা।
আর এসবই সম্ভব হয়েছে মহান আল্লাহর এই দ্বীনকে হিফাযত করার কারণে, এবং অতপর এই বিশুদ্ধ আকিদা প্রচার ও এর প্রতিরক্ষায় সালাফ উলামায়ে কেরামের প্রচেষ্টার মাধ্যমে।
সেই সব মহান আলেমদের অন্যতম একজন, যারা সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি, মূর্খদের বিভ্রান্তি এবং বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার থেকে এই দ্বীনকে রক্ষা করেছেন, তিনি হলেন শায়খ আল্লামা মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতী (রহিমাহুল্লাহ)। তাঁকে প্রকৃতপক্ষেই এই মুহাম্মাদী উম্মতের অন্যতম এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়; তিনি তাঁর সময় ব্যয় করেছেন, জীবন অতিবাহিত করেছেন এবং এই দ্বীনের খিদমতে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা উৎসর্গ করেছেন। তিনি এই উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং ইহকাল ও পরকালে যা তাদের জন্য কল্যাণকর সেদিকে তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
سبب اختيار الموضوع:
ولما كان نظام الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية يحتم على طلاب الدراسات العليا الذين يتقدمون للحصول على شهادة العالمية "الماجستير" أن يكتبوا بحثاً علمياً في مجال تخصصهم، فقد بحثت عن موضوع في تخصصي أتقدم به لنيل هذه الدرجة، فأشار عليّ الشيخ الفاضل عبد المحسن بن حمد العباد حفظه الله أن أوضح جهود الشيخ محمد الأمين الشنقيطي رحمه الله في خدمة عقيدة السلف، وقد رأيت منه استحساناً وتشجيعاً؛ إذ الشيخ عبد المحسن حفظه الله من معاصري الشيخ الشنقيطي رحمه الله، وممن أخذ عنه، وسبر شخصيته عن قرب.
وقد زادني تشجيعا على الكتابة في ذلك: كون هذا الموضوع لم يطرق من قبل؛ فقد كتب عن الشيخ الأمين رحمه الله باحثون أفاضل في مجال التفسير، وأصول الفقه، فأحببت أن أضع في هذا العقد واسطته؛ ألا وهي العقيدة التي علمها أشرف العلوم. أضف إلى ذلك رغبتي في الاطلاع عن كثب على علم هذا العلامة الفاضل، والاستفادة مما كتب من تآليف تُعدّ بحق موسوعة علمية ترشد إلى تبحر هذا الإمام في مختلف الفنون، وخاصة العقيدة.
والشيخ الأمين رحمه الله من مؤسسي الجامعة الإسلامية، وكان له جهود في إبرازها، ورقيها، ولكفاءته النادرة ذاع صيتها، واشتهرت عالمياً في شتى نواحي العلم والمعرفة الإسلامية. فكان من الواجب إبراز جهوده بالدراسة والبحث.
منهجي في هذا البحث:
وأما عن منهجي في هذا البحث فيتلخص فيما يأتي:
أولاً: جمعت الجزئيات المتعلقة بالعقيدة مما قاله الشيخ رحمه الله، أو كتبه؛
বিষয় নির্বাচনের কারণ:
যেহেতু মদিনা মুনাওয়ারাহর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী উচ্চতর গবেষণার শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের 'মাজেস্টিয়ার' বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে নিজ বিশেষায়িত বিষয়ে একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ লেখা আবশ্যক, তাই আমি এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য আমার বিশেষায়িত বিষয়ের ওপর একটি বিষয় খুঁজছিলাম। এমতাবস্থায় শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) আমাকে পরামর্শ দিলেন যেন আমি সালাফদের আকিদাহর খিদমতে শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমিন আশ-শানকিতির (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) প্রচেষ্টাসমূহ ফুটিয়ে তুলি। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আমি প্রশংসা ও উৎসাহ লাভ করেছি; কেননা শায়খ আব্দুল মুহসিন (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) শায়খ শানকিতির (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) সমসাময়িকদের একজন এবং যারা তার নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন ও কাছ থেকে তার ব্যক্তিত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত।
এই বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে আমার উৎসাহ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো এই বিষয়টি ইতিপূর্বে এভাবে আলোচিত হয়নি। শ্রদ্ধেয় গবেষকগণ শায়খ আল-আমিন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) সম্পর্কে তাফসির এবং উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে অনেক লিখেছেন। তাই আমি এই মণিহারের মধ্যমণিটি স্থাপন করতে চেয়েছি; আর তা হলো আকিদাহ, যার জ্ঞান হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞান। এর সাথে যুক্ত হয়েছে এই বিজ্ঞ আল্লামার ইলম সম্পর্কে কাছ থেকে জানার এবং তার রচিত গ্রন্থাবলি থেকে উপকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তার রচনাসমূহ প্রকৃতপক্ষে একটি ইলমি বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয়, যা বিভিন্ন শাস্ত্রে—বিশেষ করে আকিদাহর বিষয়ে—এই ইমামের গভীর পাণ্ডিত্যের পথ দেখায়।
শায়খ আল-আমিন (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) ছিলেন ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এর পরিচিতি ও উৎকর্ষ সাধনে তার ব্যাপক প্রচেষ্টা ছিল। তার বিরল যোগ্যতার কারণে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং ইসলামি ইলম ও মারেফাতের বিভিন্ন শাখায় এটি বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাই অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে তার অবদানসমূহ ফুটিয়ে তোলা ছিল একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।
এই গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি:
এই গবেষণায় আমার অনুসৃত পদ্ধতি সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: আকিদাহ সংক্রান্ত সেই সকল খুঁটিনাটি বিষয় আমি সংগ্রহ করেছি যা শায়খ (আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) বলেছেন অথবা লিখেছেন;
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
يستوي في ذلك المسموع، والمطبوع، والمخطوط.
ثانياً: وزّعت المادة العلمية التي جمعتها على أبواب العقيدة، مقسماً تلك الأبواب إلى فصول، والفصول إلى مباحث، والمباحث، إلى مطالب، وهكذا دواليك –حسب مقتضى الحال -.
ثالثاً: عند دراسة أي مسألة من مسائل العقيدة التي عرضها الشيخ الأمين رحمه الله وقررها، أبدأ هذه المسألة بمدخل عام لها، أتبعه بذكر رأي الشيخ فيها ملخصاً بأسلوبي، ومن ثم أنقل كلام الشيخ الأمين رحمه الله المؤيد لما ذكرت. وبعد ذلك أذكر أقوالاً لبعض السلف في هذه المسألة مدللاً بذلك على أن كلام الشيخ رحمه الله موافق لمذهبهم، وأن الشيخ رحمه الله متبع لهم يسير على منهجهم ويترسم خطاهم.
رابعاً: إذا كان للشيخ رحمه الله رد على طائفة معينة ابتدعت رأياً في مسألة ما خالفت فيه معتقد السلف، أورد ذلك مصوراً رأي الفرقة التي يرد عليها في هذه المسألة، وناسباً هذا الرأي إلى مظانه في كتب الفرق، ثم أتبع ذلك بذكر كلام الشيخ في تفنيد هذه المسألة.
خامساً: عند الترجمة للشيخ الأمين رحمه الله اعتمدت في الغالب على ما تلقيته مشافهة من بعض تلاميذه من معلومات تتصل بالشيخ، وشخصيته، وصفاته، وحياته العلمية.
سادساً: عزوت الآيات القرآنية الواردة في البحث إلى مواضعها في القرآن الكريم، ذاكراً اسم السورة، ورقم الآية.
سابعاً: خرّجت الأحاديث الواردة في البحث من كتب السنة: فإن كان الحديث في الصحيحين أو أحدهما اكتفيت بالعزو إلى موضعه في
এতে শ্রুত, মুদ্রিত এবং পাণ্ডুলিপি—সবই সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত: আমি সংগৃহীত ইলমী বিষয়বস্তুসমূহকে আকিদার বিভিন্ন অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি এবং সেই অধ্যায়গুলোকে পরিচ্ছেদ, পরিচ্ছেদগুলোকে অনুচ্ছেদ এবং অনুচ্ছেদগুলোকে উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি—প্রয়োজন অনুযায়ী এভাবেই বিন্যাস করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: শায়খ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ) আকিদার যেসকল মাসআলা উপস্থাপন ও সপ্রমাণ করেছেন, সেগুলো আলোচনার ক্ষেত্রে আমি প্রথমে একটি সাধারণ ভূমিকা প্রদান করেছি। এরপর আমার নিজস্ব শৈলীতে শায়খের মতামতের একটি সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি এবং তার পরপরই আমার বক্তব্যের সমর্থনে শায়খ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর মূল বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি। এরপর উক্ত মাসআলায় সালাফদের কিছু বক্তব্য উল্লেখ করেছি, যাতে প্রমাণিত হয় যে শায়খের বক্তব্য তাঁদের মাজহাবের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁদেরই অনুসারী হয়ে তাঁদের মানহাজ ও পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন।
চতুর্থত: সালাফদের আকিদাহ বিরোধী কোনো মাসআলায় যদি শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) কোনো নির্দিষ্ট বিদআতি গোষ্ঠীর প্রতিবাদ করে থাকেন, তবে আমি সেই গোষ্ঠীর মতামতটি যথাযথভাবে চিত্রিত করেছি এবং ফিরকা বা দল সংক্রান্ত মূল কিতাবসমূহ থেকে সেই মতামতের উৎস উল্লেখ করেছি। এরপর উক্ত বিষয়টি খণ্ডন করে শায়খের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।
পঞ্চমত: শায়খ আল-আমিন (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী রচনার ক্ষেত্রে আমি মূলত তাঁর কিছু ছাত্রের কাছ থেকে প্রাপ্ত মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর করেছি, যা শায়খের ব্যক্তিত্ব, গুণাবলি এবং ইলমী জীবন সংশ্লিষ্ট।
ষষ্ঠত: গবেষণায় উল্লিখিত কুরআনের আয়াতসমূহকে কুরআনে কারিমের মূল সংস্থানের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি এবং সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখ করেছি।
সপ্তমত: গবেষণায় বর্ণিত হাদিসসমূহ আমি সুন্নাহর কিতাবসমূহ থেকে তাখরিজ করেছি। যদি হাদিসটি সহিহাইন বা এর যেকোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু এর মূল স্থানের বরাতেই ক্ষান্ত হয়েছি।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الصحيح.
وإذا لم يكن في الصحيحين اجتهدت في تخريجه من كتب السنة الأخرى ناقلا قول علماء أهل الشأن فيه؛ من تصحيح أو تحسين أو تضعيف.
ثامناً: اجتهدت في الترجمة لأعلام ورد ذكرهم في هذه الرسالة.
خطة البحث:
وقد سرت في هذا البحث على الخطة التالية:
قسمت الموضوع إلى مقدمة، وتمهيد، وبابين، وخاتمة.
أما المقدمة: فقد اشتملت على أهم الدوافع التي حملتني على الكتابة في هذا الموضوع، وعلى منهج البحث، والخطة التي سرت عليها.
وأما التمهيد: فقد خصصته للتعريف بالشيخ محمد الأمين رحمه الله وعقدت له فصلين:
الفصل الأول:
في الكلام عن حياة الشيخ الشخصية: وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: نسبه، وولادته.
المبحث الثاني: نشأته.
المبحث الثالث: قدومه المملكة، واستقراره فيها، واستقبال العلماء له.
المبحث الرابع: صفاته الخِلْقية.
সহীহ।
যদি তা সহীহাইনে (বুখারী ও মুসলিম) না থাকে, তবে আমি সুন্নাহর অন্যান্য গ্রন্থ থেকে এর তাখরীজ করার চেষ্টা করেছি এবং এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য—সহীহ, হাসান কিংবা যয়ীফ হওয়া সংক্রান্ত মন্তব্য—উদ্ধৃত করেছি।
অষ্টম: এই রিসালায় যে সকল প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের নাম এসেছে, আমি তাদের জীবনী প্রদানের চেষ্টা করেছি।
গবেষণা পরিকল্পনা:
এই গবেষণায় আমি নিমোক্ত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:
আমি বিষয়বস্তুটিকে ভূমিকা, উপক্রমণিকা, দুটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।
ভূমিকা প্রসঙ্গে: এতে এই বিষয়ে লিখতে আমাকে উদ্বুদ্ধকারী প্রধান কারণসমূহ, গবেষণার পদ্ধতি এবং আমি যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আর উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে: এটি আমি শায়খ মুহাম্মাদ আল-আমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর পরিচিতির জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ:
শায়খের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আলোচনা: এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর শৈশব ও বেড়ে ওঠা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর রাজ্যে (সৌদি আরব) আগমন, সেখানে স্থিতি এবং আলেমদের পক্ষ থেকে তাঁর অভ্যর্থনা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক গঠন ও অবয়ব।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث الخامس: صفاته الخُلُقية.
المبحث السادس: أدبه، وذكاؤه، وظُرَفُه، وبعض مواقفه وأقواله.
المبحث السابع: وفاته.
الفصل الثاني: في الحديث عن حياته العلمية، وفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: طلبه للعلم وشيوخه.
المبحث الثاني: عقيدته.
المبحث الثالث: أعماله، ووظائفه.
المبحث الرابع: تلاميذه.
المبحث الخامس: مؤلفاته.
المبحث السادس: ثناء العلماء عليه.
أما الباب الأول: فقد بينت فيه جهود الشيخ الأمين رحمه الله في توضيح الإيمان بالله.
وفيه ثلاثة فصول:
الفصل الأول: في توحيد الربوبية.
الفصل الثاني: في توحيد الألوهية، وفيه أربعة مباحث.
المبحث الأول: تعريف التوحيد.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর শিষ্টাচার, বুদ্ধিমত্তা, রসবোধ এবং তাঁর কিছু অবস্থান ও উক্তি।
সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন সম্পর্কে আলোচনা, এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞান অন্বেষণ ও তাঁর শিক্ষকগণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর আকীদা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর কর্ম ও দায়িত্বসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রগণ।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থাবলি।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা।
আর প্রথম খণ্ড: এতে আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে শায়খ আল-আমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রচেষ্টাগুলো বর্ণনা করেছি।
এবং এতে তিনটি অধ্যায় রয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় অধ্যায়: তাওহীদে উলুহিয়্যাহ প্রসঙ্গে, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদের পরিচয়।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الثاني: براهين التوحيد، وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: دلالة الصفات على توحيد الألوهية.
المطلب الثاني: البراهين الكونية.
المطلب الثالث: بطلان إلهية ما سوى الله.
المبحث الثالث: أنواع العبادة.
وفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: الدعاء.
المطلب الثاني: التوكل.
المطلب الثالث: الولاء والبراء.
المطلب الرابع: الخوف والرجاء.
المطلب الخامس: الحكم بما أنزل الله.
المبحث الرابع: ما يضاد إخلاص العبادة.
وفيه ستة مطالب:
المطلب الأول: الشرك بالله.
المطلب الثاني: الذبح لغير الله.
المطلب الثالث: ادِّعاء علم الغيب.
المطلب الرابع: الحلف بغير الله.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রমাণসমূহ, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: উলুহিয়্যাহর তাওহীদের ওপর সিফাত বা গুণাবলির প্রমাণ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মহাজাগতিক প্রমাণসমূহ।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য সবকিছুর উপাস্য হওয়ার অসারতা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবাদতের প্রকারভেদ।
এতে পাঁচটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: দোয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাওয়াক্কুল (ভরসা)।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বন্ধুত্ব ও শত্রুতা)।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ভয় ও আশা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে ফয়সালা করা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইবাদতের একনিষ্ঠতার পরিপন্থী বিষয়সমূহ।
এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আল্লাহর সাথে শিরক করা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবেহ করা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গায়েবের ইলম বা অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে কসম করা।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المطلب الخامس: السحر.
المطلب السادس: البناء على القبور.
الفصل الثالث: توحيد الأسماء والصفات.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: جهوده في إبراز عقيدة السلف في توحيد الأسماء والصفات.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات.
المطلب الثاني: الأسس التي يقوم عليها معتقد السلف في الصفات.
المطلب الثالث: قواعد في الصفات.
المطلب الرابع: ذكر جملة من الصفات التي ذكرها الشيخ الأمين.
المبحث الثاني: موقف الشيخ الأمين من أهل التأويل.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: معاني التأويل.
المطلب الثاني: بعض شبه أهل التأويل، ورد الشيخ الأمين رحمه الله عليها.
المطلب الثالث: مقارنةٌ بين مذهب السلف، ومذهب الخلف.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জাদু।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ।
তৃতীয় অধ্যায়: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলির একত্ব)।
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের ক্ষেত্রে সালাফদের আকিদা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: গুণাবলির ক্ষেত্রে সালাফদের বিশ্বাসের মূলভিত্তিসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: গুণাবলি সংক্রান্ত মূলনীতিসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শায়খ আল-আমীন কর্তৃক উল্লিখিত বেশ কিছু গুণাবলির বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আহলুত তাবীলদের (ব্যাখ্যাকারীদের) প্রতি শায়খ আল-আমীনের অবস্থান।
এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাবীলের অর্থসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আহলুত তাবীলদের কিছু সংশয় এবং শায়খ আল-আমীন (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক তার নিরসন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাফদের মাযহাব ও খালাফদের মাযহাবের মধ্যে তুলনা।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২০)
المطلب الرابع: رجوع بعض أئمة أهل التأويل إلى معتقد السلف.
أما الباب الثاني: فبينت فيه جهود الشيخ في توضيح بقية مباحث الإيمان.
وفيه سبعة فصول:
الفصل الأول: الإيمان بالملائكة.
الفصل الثاني: الإيمان بالكتب.
الفصل الثالث: جهوده في توضيح النبوات.
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: الإيمان بالأنبياء.
وفيه خمسة مطالب:
المطلب الأول: دعوة الرسل واحدةٌ.
المطلب الثاني: الرسل لا يعلمون الغيب.
المطلب الثالث: عصمة الأنبياء.
المطلب الرابع: أولو العزم من الرسل.
المطلب الخامس: هل آدم رسول أم نبي؟.
المبحث الثاني: حقيقة الخضر.
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: هل الخضر نبي أم وليّ؟.
চতুর্থ বিষয়: আহলুত তাবিলের কতিপয় ইমামের সালাফদের আকিদার দিকে প্রত্যাবর্তন।
আর দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে আমি ইমানের অবশিষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্টকরণে শাইখের প্রচেষ্টা বর্ণনা করেছি।
এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফেরেশতাদের প্রতি ইমান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবসমূহের প্রতি ইমান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবুওয়াত স্পষ্টকরণে তাঁর প্রচেষ্টা।
এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: নবিগণের প্রতি ইমান।
এবং এতে পাঁচটি বিষয় রয়েছে:
প্রথম বিষয়: রাসুলগণের দাওয়াত অভিন্ন।
দ্বিতীয় বিষয়: রাসুলগণ গায়েব জানেন না।
তৃতীয় বিষয়: নবিগণের মাসুম হওয়া বা নিষ্পাপত্ব।
চতুর্থ বিষয়: উলুল আযম রাসুলগণ।
পঞ্চম বিষয়: আদম কি রাসুল নাকি নবি?।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: খিজিরের প্রকৃত পরিচয়।
এবং এতে দুটি বিষয় রয়েছে:
প্রথম বিষয়: খিজির কি নবি নাকি ওলি?।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثاني: هل الخضر حي أم ميت؟.
المبحث الثالث: الإيمان بنبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: عموم رسالته.
المطلب الثاني: احترامه.
المطلب الثالث: تعظيمه.
المطلب الرابع: حياته البرزخية.
المبحث الرابع: معجزات بعض الأنبياء.
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: من معجزات نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.
المطلب الثاني: من معجزات موسى عليه السلام.
المطلب الثالث: معجزة صالح عليه السلام.
الفصل الرابع: جهود الشيخ الأمين في توضيح اليوم الآخر.
وفيه سبعة مباحث:
المبحث الأول: بعض أشراط الساعة:
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: نزول عيسى عليه السلام.
المطلب الثاني: يأجوج ومأجوج.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খিজির কি জীবিত না মৃত?।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ঈমান।
এবং এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর রিসালাতের ব্যাপকতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁকে সম্মান করা।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁকে মর্যাদা প্রদান করা।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর বরজখী জীবন।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: কতিপয় নবীর মোজেজাসমূহ।
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মোজেজাসমূহ থেকে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর মোজেজাসমূহ থেকে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালেহ (আলাইহিস সালাম)-এর মোজেজা।
চতুর্থ অধ্যায়: পরকাল স্পষ্টীকরণে শেখ আমীনের প্রচেষ্টা।
এবং এতে সাতটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের কিছু আলামত:
এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর অবতরণ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইয়াজুজ ও মাজুজ।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২২)
المطلب الثالث: بعض العلامات الصغرى.
المبحث الثاني: القبر:
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: عذاب القبر.
المطلب الثاني: سماع الموتى.
المبحث الثالث: البعث:
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: براهين البعث.
المطلب الثاني: الحشر.
المبحث الرابع: الميزان.
المبحث الخامس: الصراط.
المبحث السادس: الجنة:
وفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: نعيمها، وبقاؤها.
المطلب الثاني: رؤية المؤمنين ربهم في الجنة.
المطلب الثالث:هل رأى رسول الله صلى الله عليه وسلمربه ليلة المعراج؟
المبحث السابع: النار:
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: عذابها.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কিয়ামতের কিছু ক্ষুদ্র আলামত।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবর:
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: কবরের আজাব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মৃতদের শ্রবণ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুনরুত্থান:
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পুনরুত্থানের প্রমাণাদি।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: হাশর।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মিযান।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: সিরাত।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: জান্নাত:
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর নিয়ামত ও স্থায়িত্ব।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: জান্নাতে মুমিনদের তাদের রব্বকে দর্শন।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মেরাজের রাতে তাঁর রব্বকে দেখেছিলেন?
সপ্তম পরিচ্ছেদ: জাহান্নাম:
এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: এর আজাব।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المطلب الثاني: الرد على من قال بفنائها.
الفصل الخامس: جهود الشيخ في توضيح الإيمان بالقدر:
وفيه أربعة مباحث:
المبحث الأول: مراتب القدر.
المبحث الثاني: الفرق بين الإرادة الكونية والإرادة الشرعية.
المبحث الثالث: الهداية.
المبحث الرابع: أفعال العباد بين الإفراط والتفريط:
وفيه ثلاثة مطالب.
المطلب الأول: وسطية أهل السنة والجماعة في أفعال العباد.
المطلب الثاني: موقف الشيخ الأمين من الجبرية.
المطلب الثالث: موقفه من القدرية النفاة.
الفصل السادس: حقيقة الإيمان:
وفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الإيمان.
المبحث الثاني: الفرق بين الإسلام والإيمان.
المبحث الثالث: زيادة الإيمان ونقصانه.
المبحث الرابع: مراتب المؤمنين.
المبحث الخامس: الكبائر.
المبحث السادس: حكم أهل الفترة.
الفصل السابع: جهود الشيخ الأمين في توضيح الإمامة.
ثم الخاتمة: وقد ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها.
وفي الختام أشكر الله العلي القدير على توفيقه لي لإتمام هذا البحث،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যারা এর ধ্বংসের প্রবক্তা তাদের খণ্ডন।
পঞ্চম অধ্যায়: তাকদীরের প্রতি ঈমান স্পষ্টীকরণে শাইখের প্রচেষ্টা:
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাকদীরের স্তরসমূহ।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সৃষ্টিগত ইচ্ছা ও বিধানগত ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হিদায়াত।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: প্রান্তিকতা ও শিথিলতার মাঝে বান্দার কর্মসমূহ:
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: বান্দার কর্মের ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মধ্যপন্থা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাবরিয়াদের ব্যাপারে শাইখ আমীনের অবস্থান।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাকদীর অস্বীকারকারী কাদারিয়াদের ব্যাপারে তাঁর অবস্থান।
ষষ্ঠ অধ্যায়: ঈমানের হাকিকত:
এতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমানের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইসলাম ও ঈমানের মধ্যে পার্থক্য।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: মুমিনদের স্তরসমূহ।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: কবিরা গুনাহ।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: আহলুল ফাতরাহ (দুই নবীর মধ্যবর্তী সময়ের মানুষ)-দের বিধান।
সপ্তম অধ্যায়: ইমামাত স্পষ্টীকরণে শাইখ আমীনের প্রচেষ্টা।
অতঃপর উপসংহার: এতে আমি গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।
পরিশেষে, এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করার জন্য আমি মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি,
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وأسأله سبحانه أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن يتقبله بقبول حسن.
ثم أتقدم بالشكر الجزيل للقائمين على هذه الجامعة المباركة، وفي مقدمتهم فضيلة الدكتور عبد الله بن صالح العبيد على ماقدموه لأبناء العالم الإسلامي من زاد روحي ومعنوي.
كماأتقدم بالشكر إلى شيخي الفاضل فضيلة الدكتور أحمد بن عطية الغامدي على حسن تعامله معي، وصبره علي، وعلى حسن توجيهه وملاحظاته القيمة التي كان لها أكبر الأثر في إظهار هذا البحث بمظهره الذي هو عليه.
كما أشكر الشيخين الفاضلين فضيلة شيخنا الشيخ عبد المحسن بن حمد العبّاد، وفضيلة الشيخ الدكتور صالح بن سعد السحيمي على تفضلهما بقراءة هذه الرسالة وتجشمهما عناء تصويبها، سائلا الله عز وجل أن يجعل ذلك في ميزان حسناتهما، كما أشكر جميع من أسدى إليّ نصحاً أو مشورة، راجيا من الله أن يجزيهم خير الجزاء.
وفي الختام أرجو من الله العلي القدير أن يعمنا بدعوة الشيخ الأمين رحمه الله حيث يقول: "ونرجو الله القريب المجيب إذ وفقنا لخدمة هذا الكتاب المبارك أن يجعلنا مباركين أينما كنا، وأن يبارك لنا وعلينا، وأن يشملنا ببركاته العظيمة في الدنيا والآخرة، وأن يعم جميع إخواننا المسلمين الذين يأتمرون بأوامره بالبركات والخيرات في الدنيا والآخرة إنه قريب مجيب"1.
هذا وإني لأسأل الله العفو والغفران لما بدر مني من خطأ وزلات وأن يمن عليّ وعلى إخواني المسلمين بتوفيقه إنه جواد كريم. وصلى الله على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
--------------------------------------------
আমি মহামহিম আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং একে উত্তমভাবে কবুল করেন।
অতঃপর আমি এই বরকতময় বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যাঁদের শীর্ষে রয়েছেন ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন সলিহ আল-উবাইদ, মুসলিম বিশ্বের সন্তানদের জন্য তাঁরা যে আধ্যাত্মিক ও মানসিক পাথেয় প্রদান করেছেন তার জন্য।
একইভাবে আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আহমাদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামিদীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, আমার প্রতি তাঁর সদাচরণ, ধৈর্য এবং তাঁর সঠিক দিকনির্দেশনা ও মূল্যবান পর্যবেক্ষণের জন্য, যা এই গবেষণাকর্মটিকে বর্তমান রূপে উপস্থাপনে সবচাইতে বড় প্রভাব বিস্তার করেছে।
এছাড়াও আমি দুই ফযীলতপূর্ণ শাইখ—আমাদের শাইখ আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ এবং ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর সলিহ বিন সা'দ আস-সুহাইমীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তাঁদের অনুগ্রহের জন্য যে তাঁরা এই অভিসন্দর্ভটি পাঠ করেছেন এবং এর ভুল সংশোধনের কষ্ট স্বীকার করেছেন; আমি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। পাশাপাশি আমি তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই যাঁরা আমাকে নসীহত বা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, আল্লাহর নিকট তাঁদের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদানের আশা রাখছি।
পরিশেষে, আমি সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট এই আশা করি যে তিনি যেন আমাদের শাইখ আল-আমীন (রাহিমাহুল্লাহ)-এর দোয়ার অন্তর্ভুক্ত করেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী আল্লাহর নিকট আশা রাখি—যিনি আমাদের এই বরকতময় কিতাবটির খিদমতের তাওফীক দান করেছেন—তিনি যেন আমাদের বরকতময় করেন যেখানেই আমরা থাকি না কেন, আমাদের জন্য এবং আমাদের ওপর বরকত নাযিল করেন, দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর মহান বরকতে আমাদের সিক্ত করেন এবং আমাদের সেই সকল মুসলিম ভাইদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে বরকত ও কল্যাণ ব্যাপক করে দেন যারা তাঁর নির্দেশসমূহ মেনে চলে; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী।"১।
পরিশেষে, আমার পক্ষ থেকে যে সকল ভুল-ত্রুটি বা বিচ্যুতি ঘটেছে তার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি এবং তিনি যেন আমাকে ও আমার মুসলিম ভাইদের তাঁর তাওফীক দান করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতি দয়ালু। আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
التمهيد
الفصل الأول: حياة الشيخ الأمين الشخصية
المبحث الأول: نسبه، وولادته…المبحث الأول: نسبه، وولادته
نسبه:
هو العلامة محمد الأمين بن محمد المختار بن عبد القادر بن محمد بن أحمد نوح بن محمد بن سيدي بن أحمد بن المختار. من أولاد الطالب أوبك. وهذا من أولاد أولاد كرير بن الموافي بن يعقوب بن جاكن الأبر؛ جد القبيلة الكبيرة المشهورة المعروفة بالجكنيين، ويعرفون بتجكانت.
ويرحع نسب القبيلة إلى حِمْيَر1.
لقبه:
آبّا؛ بمد الهمزة، وتشديد الباء من الإباء2.
ولادته:
ولد رحمه الله (عام1325هـ) ، وكان مسقط رأسه رحمه الله عند ماء يسمى (تَنْبه) ؛ من أعمال مديريةكيفا" من القطر المسمى بشنقيط"؛ وهو دولة موريتانيا الإسلامية الآن. علماً بأن كلمة شنقيط" كانت، ولا تزال تطلق على قرية من أعمال مديرية أطار" في أقصى موريتانيا في الشمال الغربي3.
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রথম অধ্যায়: শেখ আমীনের ব্যক্তিগত জীবন
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম…প্রথম পরিচ্ছেদ: তাঁর বংশপরিচয় ও জন্ম
বংশপরিচয়:
তিনি হলেন আল্লামা মুহাম্মদ আল-আমীন বিন মুহাম্মদ আল-মুখতার বিন আব্দুল কাদির বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ নূহ বিন মুহাম্মদ বিন সিদি বিন আহমদ বিন আল-মুখতার। তিনি তালিব আওবাকের বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি হলেন কারীর বিন আল-মুওয়াফি বিন ইয়াকুব বিন জাকান আল-আবারের বংশধরদের বংশধর; যিনি জাকানিয়্যিন নামে পরিচিত সুপ্রসিদ্ধ বড় গোত্রের পূর্বপুরুষ, আর তারা তাজাকান্ত নামে পরিচিত।
এই গোত্রের বংশধারা হিমইয়ার পর্যন্ত পৌঁছেছে ১।
উপাধি:
আব্বা; হামযাহর দীর্ঘস্বর এবং 'ইবা' শব্দ থেকে উদ্ভূত বা-এর তাশদীদসহ ২।
জন্ম:
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ১৩২৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান ছিল 'তানবাহ' নামক একটি জলাশয়ের নিকট; যা 'শিনকিত' নামক ভূখণ্ডের 'কিফা' প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্গত; এটি বর্তমানে মৌরিতানিয়া ইসলামি প্রজাতন্ত্র। উল্লেখ্য যে, 'শিনকিত' শব্দটি উত্তর-পশ্চিম মৌরিতানিয়ার প্রান্তসীমায় অবস্থিত 'আতার' প্রশাসনিক অঞ্চলের একটি গ্রামের ওপর অতীতে প্রয়োগ করা হতো এবং এখনো তা করা হয় ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثاني: نشأتهنشأ - أحسن الله مثواه - في جو يغلب عليه طلب العلم، وروح الفروسية، وقد نما وترعرع وشب متأثراً بالوسط القبلي المحيط به؛ وهو وسط تحتضنه البادية، ويغلب عليه التنقل من مكان إلى آخر طلباً للمناخ الأصلح. وإلى هذا يشير أحد مشايخ الجكنيين1 إذ يقول:
ونحن ركب من الأشراف مُنتظم أجل ذا العصر قدراً دون أدنانا
قد اتخذنا ظهور العيس مدرسة بها نبين دين الله تبيانا
فهو يصف قومه بأنهم ركب" للدلالة على استمرار تنقلهم، ويرى أدنى فرد من قبيلته أعلى مكاناً من أعاظم رجال عصره، وأنهم مواظبون على مذاكرة العلم، لايمنعهم منه حل وترحال. إنه العلم الذي يثبت في القلوب دين الله، ويوضح لطالبيه أحكام الشريعة2.
أما كرم الطبع في هذه القبيلة: "فهو سجية في جميعهم، وأمر يشب فيه الصغير، ويشيب عليه الكبير. وقد ألفوا الضيف لنجعة منازلهم. ومن عاداتهم إذا نزل وفد على بيت فإن أهل هذا المنزل يرسلون لأهل بيت المضيف حتى لو كان معدماً غداً واجداً، ويرحل الوفد وهو في غاية الرضا.
وفي ذلك الجو، وفي تلك البيئة نشأ الأمين رحمه الله.
يخبر رحمه الله عن أحداث فترة طفولته بقوله: "توفي والدي وأنا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বেড়ে ওঠাতিনি বেড়ে উঠেছেন—আল্লাহ তাঁর শেষ অবস্থাকে উত্তম করুন—এমন এক পরিবেশে যেখানে জ্ঞান অন্বেষণ এবং বীরত্বের আদর্শ প্রবল ছিল। তিনি তাঁর চারপাশের গোত্রীয় পরিবেশের প্রভাবে বড় হয়েছেন ও বিকাশ লাভ করেছেন; এটি এমন এক পরিবেশ যা মরুভূমিবেষ্টিত এবং যেখানে উত্তম আবহাওয়ার সন্ধানে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরের প্রবণতা ছিল প্রবল। যাকানি গোত্রের জনৈক শাইখ সেদিকেই ইঙ্গিত করে বলেন:
আমরা এক সুশৃঙ্খল সম্ভ্রান্ত কাফেলা; আমাদের মধ্যে মর্যাদায় যে সর্বনিম্ন, সেও এই যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের চেয়ে মহান।
আমরা উটের পিঠকে মাদরাসায় পরিণত করেছি, যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর দ্বীনকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করি।
তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে একটি "কাফেলা" হিসেবে বর্ণনা করেছেন তাদের নিরবচ্ছিন্ন যাযাবর জীবন বোঝাতে। তিনি তাঁর গোত্রের সাধারণ সদস্যকেও সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের চেয়ে উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন মনে করেন। তারা ইলম বা জ্ঞানচর্চায় সর্বদা নিমগ্ন থাকতেন, যাত্রা বা বিরতি কোনো কিছুই তাদের এতে বাধা দিত না। এটি সেই জ্ঞান যা হৃদয়ে আল্লাহর দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে এবং জ্ঞানপিপাসুদের নিকট শরীয়তের বিধানসমূহ স্পষ্ট করে তোলে।
এই গোত্রের স্বভাবজাত দানশীলতা সম্পর্কে বলা হয়েছে: "এটি তাদের সকলের মজ্জাগত গুণ এবং এমন এক আদর্শ যাতে ছোটরা বেড়ে ওঠে এবং বড়রা বার্ধক্যে উপনীত হয়। তারা মেহমানদারিতে অভ্যস্ত ছিল। তাদের রীতি ছিল, যদি কোনো মেহমান দল কোনো বাড়িতে অবস্থান করত, তবে পাড়া-প্রতিবেশীরা সেই মেজবানের বাড়িতে উপহার-সামগ্রী পাঠিয়ে দিত; ফলে রিক্তহস্ত ব্যক্তিও পরদিন সচ্ছল হয়ে যেত এবং মেহমানরা পূর্ণ সন্তুষ্টি নিয়ে বিদায় নিত।
সেই পরিবেশে এবং সেই আবহাওয়ায় আল-আমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বেড়ে ওঠেন।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর শৈশবের ঘটনাবলি সম্পর্কে বলেন: "আমার পিতা ইন্তেকাল করেন যখন আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صغير أقرأ في جزء عم، وترك لي ثروة من الحيوان والمال. وكانت سكناي في بيت أخوالي، وأمي ابنة عم أبي. وحفظت القرآن على خالي عبد الله بن محمد المختار بن إبراهيم بن أحمد نوح؛ جد الأب المتقدم" 1.
--------------------------------------------
ছোট থাকাবস্থায় আমি জুয আম্মা পড়তাম; তিনি আমার জন্য গবাদি পশু ও ধন-সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন। আমার বসবাস ছিল আমার মামাদের বাড়িতে এবং আমার মা ছিলেন আমার পিতার চাচাতো বোন। আমি আমার মামা আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আল-মুখতার বিন ইব্রাহীম বিন আহমাদ নূহের নিকট কুরআন হিফজ করেছি; যিনি উপরে উল্লিখিত পিতার দাদা।" ১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثالث: قدومه إلى المملكة، واستقراره بها، واستقبال العلماء لهكان خروج الشيخ الأمين رحمه الله من بلاده لأداء فريضة الحج في السابع من شهر رجب، عام (1367هـ) ، على نية العودة. وكان سفره براً، وقد كتب أثناءه رسالة سماها رحلة الحج"، ضمنها مباحث جليلة1.
وبعد وصوله إلى هذه البلاد في أواخر شهر ذي القعدة، من عام (1367هـ) تجددت نية بقائه. ومن عجيب الاتفاق أن ينزل رحمه الله في بعض منازل الحج، بجوار خيمة الأمير خالد السديري دون أن يعرف أحدهما الآخر. وكان الأمير يبحث مع جلسائه بيتاً في الأدب، وهو ذواقة أديب. وامتد الحديث إلى أن سألوا الشيخ لعله يشاركهم، فوجدوا بحراً لا ساحل له. ومن تلك الجلسة وذاك المنزل بدأت العلاقة والمعرفة، وأوصاه الأمير إن هو قدم المدينة أن يلتقي بالشيخين؛ الشيخ عبد الله بن زاحم، والشيخ عبد العزيز بن صالح رحمهما الله، وفي المدينة التقى بهما رحمه الله، وكان صريحاً معهما فيما يسمع عن البلاد، وكانا حكيمين فيما يعرضان عليه ما عليه أهل هذه البلاد من مذهب في الفقه ومنهج في العقيدة. وتوطدت العلاقة بين الطرفين، وتجددت رغبة متبادلة في بقائه لإفادة المسلمين، ورغب رحمه الله في هذا الجوار الكريم، وكان يقول: "ليس من عمل أعظم من تفسير كتاب الله في مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم2.
ويحدثني الدكتور محمد الخضر الناجي عن أول قدوم الشيخ رحمه الله، وسبب بقائه؛ فيقول: "كان هناك وصية من الملك عبد العزيز أنه قدم
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর রাজ্যে আগমন, সেখানে স্থায়ী হওয়া এবং ওলামায়ে কেরাম কর্তৃক তাঁকে বরণ করে নেওয়াশেখ আল-আমিন রহিমাহুল্লাহ ১৩৬৭ হিজরি সালের ৭ই রজব হজ্জের ফরজ পালনের উদ্দেশ্যে নিজ দেশ থেকে বের হন, এবং তাঁর ফিরে যাওয়ার নিয়ত ছিল। তাঁর সফরটি ছিল স্থলপথে, এবং এই সফরকালীন সময়ে তিনি একটি পুস্তিকা লিখেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন "রিহলাতুল হজ্জ" (হজ্জ সফর), যাতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন।১
১৩৬৭ হিজরি সালের জিলকদ মাসের শেষ দিকে এই দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর এখানে থেকে যাওয়ার নিয়ত নতুন করে জাগ্রত হয়। এটি এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা ছিল যে, তিনি রহিমাহুল্লাহ হজ্জের একটি অবস্থানে আমির খালিদ আস-সুদাইরির তাঁবুর পাশেই অবস্থান গ্রহণ করেন, অথচ তাঁদের কেউ কাউকে চিনতেন না। আমির তাঁর মজলিশের সঙ্গীদের সাথে সাহিত্যের একটি পঙক্তি নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত রুচিশীল ও সাহিত্যমনা ব্যক্তি। আলোচনা দীর্ঘায়িত হতে হতে এক পর্যায়ে তাঁরা শেখকে জিজ্ঞাসা করলেন যদি তিনি তাঁদের সাথে আলোচনায় শরিক হন, তখন তাঁরা যেন এক কূলহীন সমুদ্রের দেখা পেলেন। সেই মজলিশ এবং সেই অবস্থান থেকেই সম্পর্ক ও জানাশোনা শুরু হয়। আমির তাঁকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যদি মদিনায় যান তবে যেন দুই শেখ; শেখ আব্দুল্লাহ ইবনে জাহেম এবং শেখ আব্দুল আজিজ ইবনে সালেহ রহিমাহুমাল্লাহ-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন। মদিনায় তিনি তাঁদের উভয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং এই দেশ সম্পর্কে তিনি যা শুনতেন সে বিষয়ে তাঁদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ছিলেন। অন্যদিকে তাঁরাও অত্যন্ত প্রজ্ঞার সাথে এই দেশের অধিবাসীদের ফিকহি মাযহাব এবং আকিদাগত মানহাজ তাঁর কাছে তুলে ধরেন। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় হলো এবং মুসলিমদের উপকারের স্বার্থে তাঁর এখানে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হলো। তিনি রহিমাহুল্লাহ এই মর্যাদাপূর্ণ সান্নিধ্যে থাকা পছন্দ করলেন এবং বলতেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে আল্লাহর কিতাবের তাফসির করার চেয়ে মহান কোনো আমল নেই।"২
ডক্টর মুহাম্মদ আল-খিদর আন-নাজি আমাকে শেখের প্রথম আগমন এবং তাঁর থেকে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: "বাদশাহ আব্দুল আজিজের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা ছিল যে, যখন তিনি আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أحد من العلماء الكبار يحتفظون به، ويحاولون إبقاءه في البلاد هنا. فجاء أحد الإخوة، اسمه الشيخ أحمد خون، وأخبر به المحكمة الشرعية، واجتمعوا به، وتكلم معهم، وأعجبوا به، وأرسلوا إلى الملك عبد العزيز بأنهم وجدوا طلبته، فأمر أن يقيم هنا".
وهذا لايعارض ماكان في موسم الحج مع الأمير خالد السديري؛ فهذا حصل في موسم الحج، وهذا حصل في المدينة. ولا مانع من الجمع بين هاتين الوصيتين؛ لأن الوصية كانت عامة من الملك عبد العزيز رحمه الله.
বড় আলেমদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে আগলে রাখছিলেন এবং তাঁকে এ দেশেই রাখার চেষ্টা করছিলেন। অতঃপর শেখ আহমদ খুন নামক এক ভাই এলেন এবং শরয়ী আদালতকে বিষয়টি জানালেন। তাঁরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তিনি তাঁদের সাথে কথা বললেন। তাঁরা তাঁর প্রতি মুগ্ধ হলেন এবং বাদশাহ আব্দুল আজিজের নিকট বার্তা পাঠালেন যে, তাঁরা তাঁর কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে খুঁজে পেয়েছেন। তখন তিনি তাঁকে এখানে অবস্থানের নির্দেশ দিলেন।
আর এটি আমির খালিদ আস-সুদাইরির সাথে হজ মৌসুমে যা ঘটেছিল তার সাথে সাংঘর্ষিক নয়; কারণ এটি হজ মৌসুমে ঘটেছিল আর এটি ঘটেছিল মদিনায়। এই দুটি বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় সাধনে কোনো বাধা নেই; কেননা বাদশাহ আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে এই নির্দেশটি সাধারণ ছিল।
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الرابع: صفاته الخِلقيةكان رحمه الله أسمر اللون، ربعاً معتدلاً، قوي البنية والعضلات، عظيم الهامة، معتدلاً في الضخامة، ليس بالضخم ولابالرقيق. إلا أنه في آخر حياته حين اشتد به المرض رق جسمه كثيراً1.
وقال عنه الشيخ بكر بن عبد الله أبو زيد حفظه الله: "لو مر في جمع من الناس وأنت لاتعرفه، لقلت هذا عالم كبير؛ لما تلمحه فيه من النبوغ والألمعية، ولما عليه من جلالة العلم، ووقار العلماء" 2.
وقال ابنه د. محمد المختار: "إن والده كان شجاعاً، قوي البنية. وقد صرع رجلاً مشهوراً بالقوة.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্যসমূহতিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) ছিলেন উজ্জ্বল শ্যামবর্ণের, মাঝারি উচ্চতার এবং সুঠাম দেহ ও শক্তিশালী মাংসপেশি বিশিষ্ট। তাঁর মস্তক ছিল বড় এবং শারীরিক অবয়বে তিনি ছিলেন সুসামঞ্জস্যপূর্ণ; অর্থাৎ তিনি অতি স্থূলও ছিলেন না, আবার অতি কৃশও ছিলেন না। তবে জীবনের শেষ ভাগে যখন তাঁর রোগ প্রবল হয়, তখন তাঁর শরীর অনেক ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল১।
শেখ বকর বিন আব্দুল্লাহ আবু যায়েদ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "যদি তিনি লোকসমাগমের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতেন আর আপনি তাঁকে না চিনতেন, তবুও তাঁর মাঝে প্রতিভা ও তীক্ষ্ণবুদ্ধির যে ছাপ পরিলক্ষিত হতো এবং তাঁর মাঝে ইলমের যে গাম্ভীর্য ও আলেমদের যে মর্যাদা বিদ্যমান ছিল, তা দেখে আপনি নিশ্চিতভাবেই বলতেন যে, ইনি একজন বড় আলেম" ২।
তাঁর পুত্র ড. মুহাম্মদ আল-মুখতার বলেছেন: "নিশ্চয়ই তাঁর পিতা সাহসী ও শক্তিশালী শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন। তিনি এমনকি শারীরিক শক্তির জন্য সুপ্রসিদ্ধ এক ব্যক্তিকে কুস্তিতে ধরাশায়ী করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
المبحث الخامس: صفاته الخُلقيةكان الشيخ الأمين رحمه الله يتمتع بأخلاق ومزايا فاضلة عديدة حدثني عن بعضها تلميذه: "الدكتور محمد الخضر الناجي، فقال: "من أخلاقه الفاضلة أنه لاينتقم لنفسه. ويحب إذا كان له يد في الحصول على مصالح عامة يحاول أن يتساوى فيها إخوانه ولايفرق بين قريب وبعيد فيهم. ومن أخلاقه أيضاً أنه كان يتبسط مع إخوانه في الفكاهة والممازحة التي تدخل عليهم السرور، وله ملح ونوادر كثيرة في هذا المجال من غير أن يؤذي أحداً. وكنا نعتبر مجالسه مع الأخوان أيام أعياد وأعراس؛ كأننا نجلس في بستان ذي فواكه كثيرة، وذي أفنان كثيرة؛ مرة في العلم، ومرة في المرح، ومرة في النكت، ولايمكن أن يتعرض لشخص إلا غضب غضباً شديداً. ومن أخلاقه الفاضلة قضاء حاجة الضعيف، وغض الطرف عن زلة من زل عليه، وعن إساءة من أساء إليه رحمه الله"1.
كما أنه رحمه الله كان معروفاً بفضائل أخرى، حدثني عن بعضها تلميذه الأستاذ محمد الأمين بن الحسين، فقال: "إنه رحمه الله معروف بسعة الخاطر، وعدم الغضب؛ فكانت الناس تعجب من عدم غضبه؛ فكل من قال له مالايرضيه يقابله بالحسنة على الرغم من أنه كان من قبيلة ذات شوكة وخطورة ولاتخاف من أحد، وأهله كذلك. لكنه رحمه الله من صغره لم يعلم أنه أساء إلى أحد، أو قابل أحداً إلا بشيء حسن. وكان كريماً، ومن كرمه أنه قال لي: "لم يسألني أحد قرضة من مال وأقرضه؛ ذلك لأنه إن كان عندي أعطيته ولم أقرضه، وإن لم يكن عندي طلبه فذلك شأن آخر. وما
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাঁর চারিত্রিক গুণাবলিশেখ আল-আমীন রহিমাহুল্লাহ বহু উত্তম চরিত্র ও শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিলেন। তাঁর জনৈক ছাত্র ডক্টর মুহাম্মাদ আল-খাদর আন-নাজী আমাকে তাঁর কিছু গুণাবলি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: "তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ ছিল যে, তিনি কখনো নিজের ব্যক্তিগত কারণে প্রতিশোধ নিতেন না। জনকল্যাণমূলক কোনো বিষয় অর্জনে তাঁর কোনো ভূমিকা থাকলে তিনি চাইতেন যেন তাঁর অন্য ভাইয়েরাও তাতে সমানভাবে অংশীদার হন এবং তিনি তাদের মাঝে নিকটবর্তী বা দূরবর্তী হওয়ার কোনো ভেদাভেদ করতেন না। তাঁর চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তিনি তাঁর ভাইদের সাথে হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুকের মাধ্যমে অত্যন্ত অমায়িকভাবে মেলামেশা করতেন যা তাদের মনে আনন্দের সঞ্চার করত। এই ক্ষেত্রে তাঁর অনেক সূক্ষ্ম রসবোধ ও চমৎকার সব বিরল ঘটনা রয়েছে, তবে তিনি কাউকে সামান্যতম কষ্টও দিতেন না। ভাইদের সাথে তাঁর মজলিসগুলোকে আমরা ঈদের দিন বা বিবাহের অনুষ্ঠানের মতো মনে করতাম; যেন আমরা ফলমূল ও শাখা-প্রশাখায় ভরপুর এক বাগানে বসে আছি; সেখানে কখনো চলত ইলমী আলোচনা, কখনো আমোদ-প্রমোদ, আবার কখনো রসালাপ। তাঁর সামনে কোনো ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করা বা আক্রমণ করা অসম্ভব ছিল, অন্যথায় তিনি প্রচণ্ড রাগান্বিত হতেন। তাঁর মহান গুণাবলির মধ্যে ছিল দুর্বলের প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাঁর সাথে কেউ ভুল করলে বা মন্দ আচরণ করলে তা উপেক্ষা করা ও ক্ষমা করে দেওয়া, রহিমাহুল্লাহ।"১
তেমনিভাবে তিনি রহিমাহুল্লাহ অন্যান্য বহু ফযিলতের জন্যও সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর ছাত্র উস্তায মুহাম্মাদ আল-আমীন বিন আল-হুসাইন আমাকে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি রহিমাহুল্লাহ প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী ও রাগহীন হওয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন; মানুষ তাঁর রাগান্বিত না হওয়ার বিষয়টি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করত। যে কেউ তাঁকে অপ্রীতিকর কিছু বলত, তিনি তার জবাবে সদাচরণ করতেন; যদিও তিনি এমন এক প্রতাপশালী ও প্রভাবশালী গোত্রের লোক ছিলেন যারা কাউকে ভয় পায় না এবং তাঁর পরিবারও ছিল তদ্রূপ। কিন্তু তিনি রহিমাহুল্লাহ শৈশব থেকেই কখনো কাউকে কষ্ট দিয়েছেন বা কারও সাথে মন্দ আচরণ করেছেন বলে জানা যায় না। তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন এবং তাঁর দানশীলতার পরিচয় হিসেবে তিনি আমাকে বলেছিলেন: 'আমার কাছে কেউ টাকা ঋণ চাইলে আমি কখনো তাকে ঋণ দিইনি; কারণ যদি আমার কাছে থাকত তবে আমি তাকে দিয়েই দিতাম, ঋণ দিতাম না। আর যদি আমার কাছে না থাকত তবে সেটি ছিল ভিন্ন কথা। আর যা...'"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
يسأله أحد من ماله زائد عنه إلا أعطاه إياه، وهذا نعلمه. وكان رحمه الله يأخذ من راتبه ويعطي لكل ضعيف من جماعته امرأة أو رجل صدقة سراً وعلانية. وكان رحمه الله يحمل لواء جماعته هنا وهناك في إدارة مصالحهم. فكان جمع بين الدنيا والآخرة رحمه الله.وكان مهاباً لا يجلس في مجلس -حسب علمي به، وكثرة ملازمتي له - يستطيع أحد أن يناقشه في مسألة سواء جدية أو هزلية. وكان كثير القيام بالليل، كثير المطالعة، كثير قراءة القرآن والتدبر فيه" 1.
وأخبرني الأستاذ محمد الأمين بن الحسين عن بعض أخلاق الشيخ الأمين رحمه الله أيضاً، فقال: "أمور الرجولة متناهية فيه كلها؛ فصيح اللسان، خطيب، إذا أراد أن يتكلم، لايستطيع أحد الحاضرين الكلام معه لا في مسألة جدية ولا هزلية ولامداعبة ونحو ذلك. وكان حسن المجلس، صاحب دعابة خالية من الغيبة، وخالية من القدح، ومما يغضب الناس. ولم يُغضب أحداً حسب علمي" 2.
وقد حدثني ولده الدكتور عبد الله أن والده لم يكن يؤثرهم على تلاميذه وإخوانه؛ ومن أمثلة ذلك: "أن سيارة الشيخ رحمة الله عليه كان يركبها من يسبق إليها، وكنت مرة ذهبت معه رحمة الله عليه في وقت حار إلى المسجد النبوي، ولما جئت معه إلى السيارة بعد الظهر، وجدناها امتلأت. فقال لي: "ياولدي اذهب على رجليك. فأراد أحد الركاب أن ينزل، فقال: "لاتنزل أنت سبقته. فكانت السيارة؛ من سبق إليها يركب، ومن تأخر - ولو ابنه - يمشي على رجليه"3.
--------------------------------------------
কেউ তাঁর কাছে তাঁর অতিরিক্ত সম্পদ থেকে চাইলে তিনি তা তাকে দিয়ে দিতেন, এটি আমাদের জানা বিষয়। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর বেতন থেকে অর্থ নিতেন এবং তাঁর জামাতের প্রত্যেক দুর্বল নারী ও পুরুষকে গোপনে ও প্রকাশ্যে সদকা করতেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি ব্যবস্থাপনায় সবখানে তাঁর জামাতের ঝান্ডা বহন করতেন। তিনি দুনিয়া ও আখিরাত উভয়কে একত্রিত করেছিলেন (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি অত্যন্ত মর্যাদাবান ও গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিলেন—তাঁর ব্যাপারে আমার জানা মতে এবং তাঁর সাথে আমার দীর্ঘ সাহচর্যের ভিত্তিতে—তাঁর মজলিসে বসে কেউ তাঁর সাথে কোনো বিষয়ে আলোচনা বা বিতর্ক করার সাহস পেত না, তা গুরুতর বিষয় হোক বা কৌতুকপূর্ণ। তিনি প্রচুর পরিমাণে রাত জেগে ইবাদত করতেন, প্রচুর অধ্যয়ন করতেন এবং প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত ও তাতে গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণা করতেন। ১.
উস্তাদ মুহাম্মাদ আল-আমিন বিন আল-হুসাইন আমাকে শায়খ আল-আমিনের (রহিমাহুল্লাহ) কিছু চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে আরও জানিয়েছেন, তিনি বলেন: "পুরুষত্বের সকল গুণ তাঁর মধ্যে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল; তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী ও সুবক্তা। তিনি যখন কথা বলতে চাইতেন, উপস্থিত কেউ তাঁর সাথে কথা বলার সামর্থ্য রাখত না, তা গুরুতর বিষয় হোক, কিংবা কৌতুক বা হাসি-ঠাট্টা বা এই জাতীয় কিছু। তিনি চমৎকার মজলিসী মানুষ ছিলেন, গীবত ও পরনিন্দা মুক্ত এবং মানুষকে রাগান্বিত করে এমন বিষয় থেকে পবিত্র কৌতুক করতেন। আমার জানামতে তিনি কখনও কাউকে রাগান্বিত করেননি।" ২.
তাঁর পুত্র ডক্টর আবদুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা তাঁদেরকে (সন্তানদের) তাঁর ছাত্র ও ভাইদের ওপর প্রাধান্য দিতেন না। এর একটি উদাহরণ হলো: "শায়খ (রহিমাহুল্লাহ)-এর গাড়িতে সেই আরোহণ করত যে আগে সেখানে পৌঁছাত। একবার প্রচণ্ড গরমের সময় আমি তাঁর সাথে মসজিদে নববীতে গিয়েছিলাম। যোহরের পর যখন আমি তাঁর সাথে গাড়ির কাছে এলাম, তখন দেখলাম সেটি পূর্ণ হয়ে গেছে। তিনি আমাকে বললেন: 'হে বৎস, তুমি পায়ে হেঁটে যাও।' তখন জনৈক আরোহী নেমে যেতে চাইলেন, কিন্তু তিনি বললেন: 'তুমি নেমো না, তুমি ওর আগে এসেছ।' গাড়িটি এমনই ছিল; যে আগে আসত সে আরোহণ করত, আর যে দেরি করত—সে তাঁর পুত্র হলেও—পায়ে হেঁটে যেত।" ৩.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وكان رحمه الله لايرد الزوار عن بيته، ولا يقول لأحد لا تدخل، ولم يكن على بيته حاجب. ولكن إذا كان يشتغل وجاء الزوار، فإذا رأوه يشتغل إما أن يخرجوا أو يجلسوا، وكانوا إذا جلسوا يتفرغ لهم، ويترك عمله.
وكان رحمه الله ينصح للمسئولين، وإذا رأى ما لا ينبغي يكتب لهم، ويقول لهم دائماً: "أنتم أكرمكم الله بالحرمين، ومادمتم تتمسكون بهذا الدين فإن الله لن يضيعكم1.
زهده في الدنيا:
يتحدث الشيخ عطية سالم عن زهد شيخه الشيخ الأمين رحمه الله في الدنيا، فيقول: "الواقع أن الدنيا لم تكن تساوي عنده شيئاً، فلم يكن يهتم لها. ومنذ وجوده في المملكة، وصلته بالحكومة حتى فارق الدنيا لم يطلب عطاء، ولامرتباً، ولا ترفيعاً لمرتبه، ولاحصولاً على مكافأة أو علاوة. ولكن ماجاءه من غير سؤال أخذه، وماحصل عليه لم يكن يستبقيه، بل يوزعه في حينه على المعوزين؛ من أرامل ومنقطعين. وكنت أتولى توزيعه وإرساله من الرياض إلى كل من مكة والمدينة. ومات ولم يخلف درهماً ولاديناراً. وكان مستغنياً بعفته وقناعته، بل إن حقه الخاص ليتركه تعففاً عنه؛ كما فعل في مؤلفاته وهي فريدة في نوعها، لم يقبل التكسب بها، وتركها لطلبة العلم. وسمعته يقول: "لقد جئت معي من البلاد بكنز عظيم يكفيني مدى الحياة وأخشى عليه الضياع. فقلت له: "وما هو؟ قال القناعة. وكان شعاره في ذلك قول الشاعر:
--------------------------------------------
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর বাড়ি থেকে দর্শনার্থীদের ফিরিয়ে দিতেন না এবং কাউকে বলতেন না যে ‘প্রবেশ করবেন না’। তাঁর বাড়িতে কোনো দ্বাররক্ষী ছিল না। কিন্তু তিনি যখন কাজকর্মে ব্যস্ত থাকতেন এবং দর্শনার্থীরা আসতেন, তখন তারা তাকে ব্যস্ত দেখে হয় চলে যেতেন অথবা বসে থাকতেন। আর যখন তারা বসে থাকতেন, তিনি নিজের কাজ ছেড়ে দিয়ে তাদের জন্য সময় দিতেন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) দায়িত্বশীলদের নসিহত করতেন এবং যখনই কোনো অনুচিত বিষয় দেখতেন, তখনই তাদের নিকট লিখে জানাতেন। তিনি সর্বদা তাদের বলতেন: "আল্লাহ আপনাদের হারামাইন (পবিত্র দুই মক্কা ও মদিনা) দ্বারা সম্মানিত করেছেন; যতক্ষণ আপনারা এই দ্বীনকে আঁকড়ে ধরে রাখবেন, ততক্ষণ আল্লাহ আপনাদের ধ্বংস করবেন না।"১
দুনিয়ার প্রতি তাঁর অনাসক্তি (যুহদ):
শাইখ আতিয়্যাহ সালিম তাঁর উস্তাদ শাইখ আল-আমিন (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে বলেন: "বাস্তবতা এই যে, দুনিয়া তাঁর নিকট তুচ্ছ ছিল এবং তিনি এর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করতেন না। সৌদি আরবে তাঁর আগমনের সময় থেকে এবং সরকারের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কখনো কোনো অনুদান, বেতন, বেতন বৃদ্ধি কিংবা কোনো পুরস্কার বা অতিরিক্ত ভাতা চাননি। তবে যা কিছু না চাওয়া সত্ত্বেও তাঁর নিকট আসত, তা তিনি গ্রহণ করতেন। আর যা কিছু তিনি পেতেন, তা নিজের কাছে জমিয়ে রাখতেন না; বরং তৎক্ষণাৎ তা বিধবা ও নিঃস্বসহ অভাবীদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। আমি রিয়াদ থেকে মক্কা ও মদিনায় সেই অর্থ পৌঁছানো ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করতাম। তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন অথচ কোনো দিরহাম বা দিনার রেখে যাননি। তিনি নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা ও অল্পেতুষ্টির মাধ্যমে অভাবমুক্ত ছিলেন; এমনকি চারিত্রিক দৃঢ়তাবশত তিনি নিজের প্রাপ্য অধিকারও ত্যাগ করতেন, যেমনটি তিনি তাঁর অনন্য রচনাবলির ক্ষেত্রে করেছিলেন। তিনি এগুলোর মাধ্যমে অর্থ উপার্জনকে গ্রহণ করেননি এবং তা জ্ঞানান্বেষীদের জন্য উৎসর্গ করেছেন। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: "আমি আমার দেশ থেকে এমন এক বিশাল সম্পদ নিয়ে এসেছি যা সারাজীবনের জন্য আমার যথেষ্ট এবং আমি সেটি হারিয়ে যাওয়ার ভয় করি।" আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: "সেটি কী?" তিনি বললেন: "অল্পেতুষ্টি (কানাআত)।" এক্ষেত্রে তাঁর মূলমন্ত্র ছিল কবির এই উক্তি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
الجوع يطرد بالرغيف اليابس
فعلام تكثر حسرتي ووساوسي
وكان اهتمامه بالعلم، والعلم وحده، وكل العلوم عنده آلة ووسيلة، وعلم الكتاب وحده غايته"1.
وحدثني ابنه عبد الله حفظه الله عن زهده فقال: "كان رحمه الله لايريد الدنيا، ولايهتم بها، ويحرص على الاقتصاد".ويقول: "الذي يفرحنا أن الدنيا لو كانت ميتة لأباح الله منها سد الخلة. وكان يقول: "لم أقترض قط لأحد، ولم أبع، ولم أشتر، وترك لي والدي ثروة فكنت أعيش منها، وكان عندي كنز عظيم أرجو الله أن لا يضيع مني؛ هو القناعة"2.
وقد أخبرني أيضاً أنه كان في المدينة، وكان لايوجد عنده أي مال، وقد وعده أحد جيرانه أن يقترض له مالاً. ولما أراد الشيخ رحمه الله أن يأتيه وجده يشتغل، وعليه ملابس متبذلة، فرجع عنه وكأنه وجد في نفسه قليلاً أنه في عازة. قال: "ولم أشعر حتى خررت ساجداً في الطريق في الغبار، ورفعت رأسي وعندي فرح ونشوة لايعلمها إلا الله إكراماً لما أعطاني من العلم، فكيف أريد دنيا وربي أكرمني بالعلم، وبفهم كتاب الله. فذهبت إلى البيت وكأن الدنيا كملت لي لاستشعاري نعمة الله عليّ بما أعطاني من فهم القرآن. وقد سد الله لي تلك الحاجة من غير أن أسأل أحداً ونذهب لأحد إكراماً منه وفضلاً"3.
وأخبرني ولده عبد الله أيضاً، قال: "كان رحمه الله يخاف من الدنيا، ويكلمني بقوله: "احذر من الدنيا؛ فإنها كالماء المالح، والشيطان يكذب عليك ويقول: "اجمع الأموال لتتصدق بها، وتبني بها المدارس، وتعمل بها
--------------------------------------------
ক্ষুধা তো এক টুকরো শুকনো রুটি দিয়েই দূর করা যায়
তবে কেন আমার আক্ষেপ ও কুমন্ত্রণার এতো আধিক্য?
তাঁর সমস্ত মনোযোগ ছিল ইলম বা জ্ঞানের প্রতি, এবং কেবল ইলমের প্রতিই। তাঁর নিকট সকল জ্ঞান ছিল কেবল একটি মাধ্যম ও উপকরণ স্বরূপ, আর আল্লাহর কিতাবের ইলমই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য"১।
তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) আমাকে তাঁর যুহদ বা দুনিয়াবিমুখতা সম্পর্কে বর্ণনা করে বলেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দুনিয়া অন্বেষণ করতেন না, এর প্রতি গুরুত্ব দিতেন না এবং মিতব্যয়িতার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন।" তিনি বলতেন: "যে বিষয়টি আমাদের আনন্দিত করে তা হলো—দুনিয়া যদি মৃতও হতো, তবুও আল্লাহ তাআলা তা থেকে প্রয়োজন মেটানোর অনুমতি দিতেন। তিনি বলতেন: "আমি কখনও কারও নিকট হতে ঋণ গ্রহণ করিনি, কোনো কিছু কেনা-বেচাও করিনি। আমার পিতা আমার জন্য কিছু সম্পদ রেখে গিয়েছিলেন যা দিয়ে আমি জীবন নির্বাহ করতাম। আমার নিকট এক বিশাল ভাণ্ডার ছিল, যা যেন আমার থেকে হারিয়ে না যায় সেজন্য আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি; আর তা হলো অল্পে তুষ্টি"২।
তিনি আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তিনি একবার মদীনায় ছিলেন এবং তাঁর নিকট কোনো অর্থ ছিল না। তাঁর জনৈক প্রতিবেশী তাঁকে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শেখ (রহিমাহুল্লাহ) যখন তাঁর নিকট যাওয়ার ইচ্ছা করলেন, তখন তাঁকে কাজ করতে দেখলেন এবং তাঁর পরনে ছিল জীর্ণ পোশাক। তখন তিনি তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলেন এবং মনে কিছুটা অভাববোধ করলেন। তিনি বলেন: "আমি টেরও পাইনি কখন আমি রাস্তার ধুলোর ওপর সিজদায় লুটিয়ে পড়লাম। আমি যখন মাথা তুললাম, তখন আমার মধ্যে এমন এক আনন্দ ও প্রশান্তি কাজ করছিল যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানেন না। এটি ছিল আল্লাহ আমাকে যে ইলম দান করেছেন তাঁর প্রতি সম্মানস্বরূপ। সুতরাং আমি কেন দুনিয়া চাইব যখন আমার রব আমাকে ইলম এবং আল্লাহর কিতাব বোঝার তাওফিক দিয়ে সম্মানিত করেছেন? আমি ঘরে ফিরে এলাম এমনভাবে যেন পুরো পৃথিবীটাই আমার হস্তগত হয়েছে, কারণ আমি আমার প্রতি আল্লাহর নেয়ামত ও কুরআন বোঝার তাওফিক অনুভব করছিলাম। আর আল্লাহ আমার সেই প্রয়োজন এমনভাবে পূরণ করে দিয়েছিলেন যে আমাকে কারো কাছে কিছু চাইতে হয়নি এবং কারো কাছে যেতেও হয়নি। এটি ছিল কেবল তাঁরই পক্ষ থেকে সম্মান ও অনুগ্রহ"৩।
তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ আমাকে আরও জানিয়েছেন যে, তিনি বলেন: "তিনি (রহিমাহুল্লাহ) দুনিয়াকে ভয় পেতেন এবং আমাকে বলতেন: 'দুনিয়া হতে সতর্ক থেকো; কারণ এটি লোনা পানির মতো। আর শয়তান তোমাকে ধোঁকা দেয় এবং বলে: সম্পদ জমা করো যাতে তুমি তা সদকা করতে পারো, এর মাধ্যমে মাদ্রাসা নির্মাণ করতে পারো এবং কল্যাণমূলক কাজ করতে পারো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الأربطة. وهو يكذب عليك يريد أن يضيع وقتك، فإذا جمعت المال لا أنت تعطيه للناس، ويشغلك عن عبادة الله، فهذا شيطان يريد أن يصرفك عن ما هو خير لك، وأنا أقدر الناس على أن أكون أغنى الناس، وتركت الدنيا لأني أعلم إذا تلطخ بها العبد لا ينجو منها إلا من عصمه الله. ولم يوجب الله عليك أن تجمع الأموال لكي تتصدق بها على الناس، فاحذر ياولدي من الدنيا واعلم أنها كالماء المالح، وأن أهل الدنيا في شغل وتعب؛ فصاحب الدنيا النهار يشتغل في البضاعة والتجارة، وفي الليل يفكر فيها، ويموت عنها، وقد لا يترحم عليه الورثة، يقولون: "هذا ماله مات عنه. فاحذر يابني من الدنيا"1.
وأخبرني الدكتور محمد الخضر الناجي حفظه الله: "أن الشيخ لما كان في القاهرة للعلاج، وكانت السفارة تلبي رغبة الشيخ، فلما انتهى من العلاج، حسب البقية الباقية عنده من المادة التي أرسلتها الحكومة، وقال ليس لنا هذا، أعطوه لمندوب السفارة. وجاء مندوب السفارة وقال له: "سوف لن ينتفع بذلك أحد، وهذا ياشيخ لك، والحكومة أعطته لك، فقال: "أرسلوه لي لغرض العلاج، والعلاج قد انتهى، لن نأخذه".
وكان رحمه الله زاهداً في الملبس، لايأبه للثياب، ولايبالي بها؛ حدثني الأستاذ محمد الأمين بن الحسين قال: "حضرته يوماً في الرياض، وكان قادماً لإلقاء محاضرة في المعهد العالي للدعوة، وكان عليه ثوب لايناسب في نظري الحضور، فقلت له: "نغير لك هذا الثوب؟ فقال: "يافلان القضية ليست بالثياب، وإنما ما تحت الثياب من العلم. ونحو ذلك".
حذره من الغيبة، وتحذيره منها:
لم يكن الشيخ الأمين رحمه الله يغتاب أحداً، أو يسمح بغيبة أحد في
--------------------------------------------
...বন্ধনসমূহ। সে তোমার নিকট মিথ্যা বলছে এবং তোমার সময় নষ্ট করতে চাইছে। সুতরাং তুমি যখন সম্পদ জমা করবে তখন তুমি তা মানুষকে দেবে না, বরং তা তোমাকে আল্লাহর ইবাদত থেকে বিমুখ করে রাখবে। এটি এক শয়তান যে তোমাকে তোমার জন্য যা কল্যাণকর তা থেকে বিমুখ করতে চায়। আর আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হওয়ার সামর্থ্য রাখি, তবুও আমি দুনিয়া ত্যাগ করেছি কারণ আমি জানি যে, কোনো বান্দা যখন এতে কলুষিত হয়, তখন আল্লাহ যাকে রক্ষা করেন সে ছাড়া কেউ মুক্তি পায় না। আল্লাহ তোমার ওপর এটি আবশ্যক করেননি যে তুমি সম্পদ জমা করবে যাতে তুমি তা মানুষের মাঝে সদকা করতে পারো। অতএব হে বৎস! দুনিয়া থেকে সতর্ক থাকো এবং জেনে রেখো যে তা লোনা পানির ন্যায়। দুনিয়াদার লোকেরা সর্বদা ব্যস্ততা ও ক্লান্তিতে থাকে; দুনিয়াদার ব্যক্তি দিনে পণ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং রাতে তা নিয়ে চিন্তা করে, অতঃপর তা রেখে সে মৃত্যুবরণ করে। এমনকি হয়তো উত্তরাধিকারীরা তার জন্য রহমতের দোয়াও করবে না, তারা বলবে: "এটি তার সম্পদ যা সে রেখে মারা গেছে।" অতএব হে বৎস! দুনিয়া থেকে সাবধান থেকো।"১।
ডক্টর মুহাম্মদ আল-খিদর আন-নাজি (হাফিজাহুল্লাহ) আমাকে জানিয়েছেন: "শায়খ যখন চিকিৎসার জন্য কায়রোতে ছিলেন, তখন দূতাবাস শায়খের সকল চাহিদা পূরণ করছিল। চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর, সরকার যে অর্থ পাঠিয়েছিল তার অবশিষ্ট অংশ তিনি হিসাব করলেন এবং বললেন, 'এটি আমাদের জন্য নয়, এটি দূতাবাসের প্রতিনিধির হাতে ফিরিয়ে দাও।' দূতাবাসের প্রতিনিধি এসে তাকে বললেন, 'এটি দিয়ে আর কারো কোনো উপকার হবে না, হে শায়খ এটি আপনার জন্যই এবং সরকার এটি আপনাকেই দিয়েছে।' তখন তিনি বললেন: 'তারা এটি আমার কাছে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে পাঠিয়েছিল, আর চিকিৎসা তো শেষ হয়ে গেছে, আমরা এটি গ্রহণ করব না'।"
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) পোশাকের ক্ষেত্রে অনাড়ম্বর ছিলেন, তিনি পোশাকের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতেন না এবং এর কোনো পরোয়া করতেন না। উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আল-হুসাইন আমাকে বলেছেন: "একদা রিয়াদে আমি তাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তিনি উচ্চতর দাওয়াহ ইনস্টিটিউটে একটি বক্তৃতা প্রদানের জন্য আসছিলেন। তাঁর পরনে এমন একটি পোশাক ছিল যা আমার দৃষ্টিতে জনসম্মুখে আসার উপযোগী ছিল না। আমি তাকে বললাম, 'আমরা কি আপনার এই পোশাকটি বদলে দেব?' তিনি বললেন, 'হে অমুক! বিষয়টি পোশাকের নয়, বরং পোশাকের নিচে যে ইলম বা জ্ঞান রয়েছে সেটিই আসল বিষয়।' অথবা এই জাতীয় কথা।"
গীবত (পরনিন্দা) থেকে তাঁর সতর্কতা এবং এ বিষয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি:
শায়খ আল-আমিন (রাহিমাহুল্লাহ) কখনো কারো গীবত করতেন না, অথবা তাঁর মজলিসে কাউকে গীবত করার সুযোগ দিতেন না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
مجلسه. وكثيراً مايقول لإخوانه: "تكايسوا" أي من الكياسة والتحفظ من خطر الغيبة. ويقول: "إذا كان الإنسان يعلم أن كل مايتكلم به يأتي في صحيفته، فلا يأتي فيها إلا الشيء الطيب"1.
وأخبرني ابنه عبد الله أن والده كان يكره الكلام في الناس، أو التكلم في الدنيا، وكان لا يرضى من طلابه، ولا من جلسائه أن يغتابوا أحداً، ويقول لهم: "يا أبنائي وإخواني إن قتل الأولاد وأخذ الأموال يهون، لكن أخذ حسناتي وأنا شايب فهذا لاسكوت عليه، هذا خور وضعف، وأنا رجل مؤمن وهذه البقعة ملكنيها الله فلا يكون لأحد الغيبة فيها، ولا تأكلوا لي أعراض الناس. والله لو أخذتم مالي لتغاضيت عنكم، ولكن تأخذوا لي حسناتي وأنا شايب، هذا لا صبر لي عليه".وقد كنت يوماً أنا وأحد الطلاب، وكان عنده شيخ يصحح عليه تأليفاً له، وكنا في مكة، فقال أحد الجلوس: "ويكره التأليف من مقصر. فضحكت أنا، فغضب، وقال: "يابني ماذا فعلت لك؟ كيف تأكل الغيبة في المسجد الحرام".
ورعه عن الفتيا:
أخبرني ابنه عبد الله أنه في آخر حياته أصبح لايتكلم إلا في كتاب، أو سنة. ويقول: "كلام الناس لا أضعه في ذمتي. إذا كان عندي على المسألة نص من كتاب أو سنة أقول بها، وإذا لم يكن عندي نص أقول: "الله أعلم؛ لأن الله يقول: "ولاتقف ماليس لك به علم".وفي يوم من الأيام جاءه طلبة من الكويت، وسألوه عن مسائل من الأمور المستحدثة، فقال الشيخ: "أجيبكم من كتاب الله تعالى".فاشرأبت أعناق الحضور لسماع هذه الإجابة من كتاب الله تعالى، فقال: "أقول لكم: الله أعلم، والله تعالى يقول:
--------------------------------------------
তাঁর মজলিস। তিনি প্রায়ই তাঁর ভাইদের বলতেন: "তোমরা বুদ্ধিমান হও," অর্থাৎ বুদ্ধিমত্তা অর্জন এবং গীবতের ঝুঁকি থেকে বেঁচে থাকার বিষয়ে। তিনি বলতেন: "মানুষ যদি জানত যে সে যা কিছু বলছে তার সবই তার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে, তবে সে সেখানে উত্তম কথা ছাড়া আর কিছুই আনত না।"১।
তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা মানুষের সমালোচনা করা বা পার্থিব বিষয়ে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। তিনি তাঁর ছাত্রদের বা তাঁর মজলিসে উপস্থিতদের কাউকেও গীবত করতে পছন্দ করতেন না। তিনি তাদের বলতেন: "হে আমার সন্তানেরা ও ভাইরা, সন্তান হত্যা করা এবং সম্পদ কেড়ে নেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু এই বৃদ্ধ বয়সে আমার নেকিগুলো হারিয়ে ফেলা—এটি এমন বিষয় যার ওপর চুপ থাকা যায় না। এটি এক প্রকার ভীরুতা ও দুর্বলতা। আমি একজন মুমিন ব্যক্তি এবং এই স্থানটি আল্লাহ আমাকে দান করেছেন, তাই এখানে কেউ গীবত করবে না। তোমরা আমার সামনে মানুষের মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করো না। আল্লাহর কসম, যদি তোমরা আমার সম্পদ নিতে তবে আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিতাম, কিন্তু তোমরা এই বৃদ্ধ বয়সে আমার নেকি কেড়ে নেবে, এর ওপর ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা আমার নেই।" একদিন আমি এবং একজন ছাত্র ছিলাম এবং তাঁর নিকট এক শায়খ ছিলেন যিনি তাঁর একটি রচনা সংশোধন করছিলেন। আমরা মক্কায় ছিলাম। তখন মজলিসে উপবিষ্টদের একজন বললেন: "একজন অযোগ্য ব্যক্তির পক্ষে গ্রন্থ রচনা করা অপছন্দনীয়।" তখন আমি হাসলাম, এতে তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: "হে বৎস, আমি তোমার কী ক্ষতি করেছি? তুমি মসজিদে হারামে বসে কীভাবে গীবত করছ?"
ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁর সতর্কতা:
তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, জীবনের শেষভাগে তিনি কিতাব বা সুন্নাহ ছাড়া অন্য বিষয়ে কথা বলতেন না। তিনি বলতেন: "মানুষের কথা আমি আমার জিম্মায় রাখি না। কোনো বিষয়ে যদি আমার কাছে কিতাব বা সুন্নাহর দলিল থাকে তবেই আমি তা বলি। আর যদি কোনো দলিল না থাকে তবে আমি বলি: 'আল্লাহই ভালো জানেন'; কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: 'যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার পেছনে পড়ো না'।" একদিন কুয়েত থেকে কিছু ছাত্র তাঁর কাছে এল এবং কিছু নতুন উদ্ভূত বিষয় সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞেস করল। শায়খ বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে উত্তর দেব।" তখন উপস্থিত সকলে আল্লাহর কিতাব থেকে সেই উত্তর শোনার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠল। তিনি তখন বললেন: "আমি তোমাদের বলছি: আল্লাহই ভালো জানেন, আর আল্লাহ তাআলা বলছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
{وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ} 1.والله لا أعلم فيها شيئاً من كتاب ولا سنة. وكلام الناس لا أضعه في ذمتي، اذهبوا إلى غيري".
وحدثني الدكتور محمد الخضر الناجي عن هذه المزية العظيمة من مزايا الشيخ رحمه الله بقوله: "من أفضل أخلاقه التي تعلمتها منه: هو قوله: "لا أدري" حين يستفتى في بعض الأحيان، والوقف عند مايشتبه من الأمور. ولي معه موقف في هذا الشأن؛ وهو أنني معه ذات يوم، ثقل عليّ الحال لكثرة قوله: "لا أدري، والله أعلم".فاجتمعنا مرة منفردين ليس معنا أحد سوى الله عز وجل. فقلت له ياشيخي أنتم تقولون دائماً في دروسكم أنّ النبيّ صلى الله عليه وسلم ترك هذه الشريعة محجة بيضاء ليلها كنهارها، لا يزيغ عنها إلا هالك. ومقتضى هذا أنها واضحة لا لبس فيها ولا غموض يخفى على أحد. ونحن نسأل من نثق بعلمه ومعرفته، فكثيراً ما يجيبنا: "لا أدري.-وأنا بالذات أعنيه هو -.فقال: "يابنيّ هذا بيّنه حديث: "إنّ الحلال بيّن وإن الحرام بينّ، وبينهما أمور مشتبهات، فمن اتقى الشبهات فقد استبرأ لدينه وعرضه، ومن وقع في الشبهات وقع في الحرام "2.وحديث: "دع مايريبك إلى مالايريبك" 3؛ ومعنى هذا أنه إذا كان الأمر حلالا، وحليته واضحة، فقل: حلال، ولاتبالي. وإذا كان الأمر حراماً ودليله واضح فقل: حرام، ولاتبالي. وإذا كان مشتبهاً ليس دليل حرمته ولاحليته واضحاً، فالطريق الواضح أمامك، والذي هو كالمحجة البيضاء أن تقول: "لاأدري؛ فهذا هو معنى كونه ترك الناس على محجة بيضاء؛ لأنّ هذا
--------------------------------------------
{এবং যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না} ১। "আল্লাহর কসম, আমি এ বিষয়ে কিতাব বা সুন্নাহ থেকে কিছুই জানি না। মানুষের কথা আমি নিজের জিম্মায় নেব না, তোমরা অন্য কারো কাছে যাও।"
ডক্টর মুহাম্মদ আল-খিদর আন-নাজী শায়খের (রহিমাহুল্লাহ) এই মহান বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আমাকে বলেন: "তাঁর কাছ থেকে আমি যে উত্তম চরিত্রগুলো শিখেছি তার মধ্যে অন্যতম হলো: যখন তাঁর কাছে কোনো ফতোয়া জানতে চাওয়া হতো, অনেক সময় তিনি বলতেন: 'আমি জানি না', এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলোতে বিরত থাকা। এই ব্যাপারে তাঁর সাথে আমার একটি ঘটনা আছে; একদিন আমি তাঁর সাথে ছিলাম, তাঁর অধিক মাত্রায় 'আমি জানি না, আল্লাহই ভালো জানেন' বলাতে আমি মনে মনে কিছুটা ভার অনুভব করলাম। এরপর একদিন আমরা নির্জনে একত্রিত হলাম যেখানে মহান আল্লাহ ছাড়া আর কেউ ছিল না। আমি তাঁকে বললাম, 'হে আমার শায়খ, আপনি সর্বদা আপনার দরসগুলোতে বলেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই শরীয়তকে এক উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার, ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না। এর দাবি হলো এই যে, শরীয়ত অত্যন্ত স্পষ্ট, এতে কোনো সংশয় বা অস্পষ্টতা নেই যা কারো কাছে গোপন থাকতে পারে। অথচ আমরা এমন একজনকে জিজ্ঞাসা করি যার জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ওপর আমাদের আস্থা আছে, কিন্তু তিনি প্রায়ই আমাদের উত্তর দেন: 'আমি জানি না'—এখানে আমি বিশেষভাবে তাঁর কথাই বোঝাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন: 'হে বৎস, এটি এই হাদিস দ্বারা স্পষ্ট করা হয়েছে: "নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এই উভয়ের মাঝে রয়েছে কিছু সন্দেহপূর্ণ বিষয়। যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকল, সে তার দ্বীন ও সম্মানকে রক্ষা করল, আর যে ব্যক্তি সন্দেহপূর্ণ বিষয়ে লিপ্ত হলো সে হারামে লিপ্ত হলো।" ২। এবং হাদিস: "যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে তা ত্যাগ করে তাতে মনোনিবেশ করো যা তোমাকে সংশয়ে ফেলে না।" ৩; এর অর্থ হলো, যখন বিষয়টি হালাল হবে এবং তার বৈধতা স্পষ্ট হবে, তখন বলো: হালাল, কোনো পরোয়া করো না। আর যখন বিষয়টি হারাম হবে এবং তার দলিল স্পষ্ট হবে, তখন বলো: হারাম, কোনো পরোয়া করো না। কিন্তু যদি বিষয়টি অস্পষ্ট হয় এবং তার হারাম বা হালাল হওয়ার দলিল স্পষ্ট না হয়, তবে তোমার সামনের পরিষ্কার পথ—যা সেই উজ্জ্বল পথের মতো—তাহলো এই বলা যে: "আমি জানি না"; এটাই হলো মানুষকে উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাওয়ার অর্থ; কারণ এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الحديث حديثه صلى الله عليه وسلم. فاسترحت لهذا الجواب كثيراً؛ إذ جاء به من غير تكلف، وبوضوح".
حبه للرماية:
أخبرني ابنه عبد الله عن والده أنه كان يحب الرماية والسباحة، وكان عنده في البيت شوزن، وساكتون، وفي كلّ يوم خميس يذهب إلى الصيد1.
وقال لي الدكتور/محمد الخضر الناجي: "ذهبنا مرة إلى العاقول، خارج حدود الحرم. واصطاد الشيخ حمامة في السماء، فرجعت إليها صاحبتها تحوم فوقها، فتعرضها بالبندقية فضربها فأسقط الثنتين".
وأخبرني الأستاذ/محمد الأمين بن الحسين قال: "كان الشيخ رحمه الله يوماً من الأيام مع الأمير عبد الله بن عبد الرحمن، وكان صديقاً له، وكانوا في بستان في الرياض. فقال يمزح مع الشيخ: "تقولون إنكم عرب وأهل رماية للأهداف، فهل تستطيع أن ترمي ذلك الطير - وكان يراه من بعيد-.فأخذ البندقية أحد تلاميذ الشيخ، فضربه فلم يصبه. فأخذ الشيخ رحمه الله البندقية بعد أن أبعد الطير جداً، فرماه بتلك البندقية واصطاده، فأعجب الحاضرون بذلك. وكان رحمه الله يحب الصيد، لا أنه يتعب من ورائه ويسافر لأجله".
--------------------------------------------
হাদিসটি হলো তাঁরই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হাদিস। এই উত্তরে আমি অত্যন্ত আশ্বস্ত হলাম; কারণ উত্তরটি কোনো প্রকার কৃত্রিমতা ছাড়াই স্পষ্ট ও সাবলীলভাবে এসেছে।"
তীরন্দাজি বা লক্ষ্যভেদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা:
তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ তাঁর পিতা সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি লক্ষ্যভেদ ও সাঁতার কাটতে ভালোবাসতেন। তাঁর ঘরে 'শোজন' এবং 'সাকেতুন' ছিল এবং প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি শিকারে যেতেন।১
ডক্টর মুহাম্মদ আল-খিদর আন-নাজি আমাকে বলেছেন: "একবার আমরা হারামের সীমানার বাইরে আল-আকুল নামক স্থানে গিয়েছিলাম। সেখানে শাইখ আকাশে উড়ন্ত একটি কবুতর শিকার করলেন। তখন কবুতরটির সাথিটি তার চারপাশে উড়তে লাগল। তিনি বন্দুক তাক করে সেটিকেও আঘাত করলেন এবং দুটিকেই ভূপাতিত করলেন।"
উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আমিন বিন আল-হুসাইন আমাকে জানিয়েছেন যে: "শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) কোনো একদিন আমির আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমানের সাথে ছিলেন, যিনি তাঁর বন্ধু ছিলেন। তাঁরা রিয়াদের একটি বাগানে অবস্থান করছিলেন। তিনি শাইখের সাথে রসিকতা করে বললেন: 'আপনারা বলে থাকেন যে আপনারা আরব এবং লক্ষ্যভেদে পারদর্শী, তাহলে আপনি কি ঐ পাখিটিকে শিকার করতে পারবেন? - পাখিটি অনেক দূরে দেখা যাচ্ছিল।' তখন শাইখের এক ছাত্র বন্দুকটি হাতে নিয়ে গুলি করলেন, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন। এরপর পাখিটি যখন আরও অনেক দূরে চলে গেল, তখন শাইখ (রাহিমাহুল্লাহ) বন্দুকটি নিলেন এবং সেটি দিয়ে গুলি করে শিকার করলেন। উপস্থিত সকলে এতে বিস্মিত হলেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) শিকার পছন্দ করতেন, তবে এমন নয় যে এর জন্য তিনি অনেক কষ্ট করতেন বা দূর-দূরান্তে ভ্রমণ করতেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদুশ শাইখ মুহাম্মাদ আল-আমীন আশ-শানকীতি ফী তাকরীরি আকীদাতুস সালাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
المبحث السادس: أدبه، وذكاؤه وظرفه، ومن مواقفه وأقوالهكان الشيخ الأمين رحمه الله أديبا ضليعاً، شهد بذلك معاصروه من العلماء، وتلامذته. وهذا ما تراه جليا في كتبه.
يقول الشيخ محمد المجذوب: "إنّ الغزارة في محفوظ الشيخ من شعر العرب دليل قاطع على تذوقه إياه. ولابدّ للحافظ المتذوق أن تواتيه الموهبة على صياغته. وكذلك كان شيخنا -طيب الله مثواه-؛ فهو رهيف الحسّ، سريع التأثر بالكلمة البليغة. وقد سبق أن طالعنا بعض محاولاته الأولى، فلمحنا ما وراءها من استعداد للاندفاع، إلا أنّ انشغاله اليومي بالجوانب الأخرى قد أدى به إلى الانصراف عن الشعر الخالص"1.
وأخبرني ابنه عبد الله أن والده رحمه الله كان يحبّ الأدب، ويخصص يوماً في الأسبوع في أول زمن دراسته للأدب، ويقول: "نحن نحفظ الأدب لنستشهد به على لغة العرب.
وكان أحياناً يأتي بأبيات قد يكون ظاهرها سمجاً، ويبيّن أنّ القصد ما فيها من اللغة. وكان دائماً يكرر ذا البيت2:
ولولا الشعر بالعلماء يزري
لكنت اليوم أشعر من لبيد
وقد ذكر رحمه الله أبياتاً في آخر حياته تدلّ على قوته في الشعر، ذكر في أولها أنّ الشعر لاينبغي له. يقول رحمه الله:
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর সাহিত্যপ্রতিভা, বুদ্ধিমত্তা ও রসবোধ এবং তাঁর কিছু অবস্থান ও উক্তিশায়খ আল-আমিন (রাহিমাহুল্লাহ) একজন সুদক্ষ সাহিত্যিক ছিলেন; তাঁর সমসাময়িক আলিমগণ এবং তাঁর ছাত্ররা এর সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর এটিই আপনি তাঁর কিতাবসমূহে স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন।
শায়খ মুহাম্মদ আল-মাজযূব বলেন: “আরবি কবিতার ক্ষেত্রে শায়খের মুখস্থবিদ্যার প্রাচুর্য তাঁর কাব্যরসবোধের এক অকাট্য প্রমাণ। আর কাব্যরসবোধসম্পন্ন একজন হাফিজের কাব্য রচনার প্রতিভা থাকাই স্বাভাবিক। আমাদের শায়খ—আল্লাহ তাঁর কবরকে পবিত্র করুন—তেমনই ছিলেন; তিনি অত্যন্ত সংবেদনশীল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন এবং প্রাঞ্জল বাক্যের দ্বারা দ্রুত প্রভাবিত হতেন। ইতিপূর্বে আমরা তাঁর প্রাথমিক কিছু প্রচেষ্টা লক্ষ্য করেছি, যার নেপথ্যে কাব্যচর্চায় অগ্রসর হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা আমরা দেখতে পেয়েছি; কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে তাঁর প্রাত্যহিক ব্যস্ততা তাঁকে বিশুদ্ধ কাব্যচর্চা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিল।”১।
তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর বাবা (রাহিমাহুল্লাহ) সাহিত্য ভালোবাসতেন এবং তাঁর পাঠদানের শুরুর দিকে তিনি সপ্তাহে একদিন সাহিত্যের জন্য নির্দিষ্ট রাখতেন। তিনি বলতেন: “আমরা সাহিত্য মুখস্থ করি যাতে এর মাধ্যমে আমরা আরবদের ভাষার প্রমাণ পেশ করতে পারি।”
মাঝে মাঝে তিনি এমন কিছু পঙক্তি নিয়ে আসতেন যা বাহ্যত স্থূল মনে হতে পারে, কিন্তু তিনি স্পষ্ট করে দিতেন যে উদ্দেশ্য হলো এর মধ্যে থাকা ভাষাতাত্ত্বিক প্রয়োগ। তিনি সর্বদা এই পঙক্তিটি আবৃত্তি করতেন:২
যদি কবিতা আলিমদের মর্যাদাহানি না করত,
তবে আজ আমি লাবীদের চেয়েও বড় কবি হতাম।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর জীবনের শেষ দিকে এমন কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছেন যা কাব্যচর্চায় তাঁর দক্ষতার পরিচয় দেয়; যার শুরুতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে কবিতা তাঁর জন্য শোভনীয় নয়। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
--------------------------------------------