(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: -)
توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار القسم: علوم الحديث
الكتاب: توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (ت 1182هـ)
المحقق: أبو عبد الرحمن صلاح بن محمد بن عويضة
الناشر: دار الكتب العلمية, بيروت- لبنان
الطبعة: الأولى 1417هـ/1997م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তাওযীহুল আফকার লি-মাআনী তানকীহিল আনযার বিভাগ: উলূমুল হাদীস
গ্রন্থ: তাওযীহুল আফকার লি-মাআনী তানকীহিল আনযার
লেখক: মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন সালাহ ইবন মুহাম্মদ আল-হাসানী, আল-কাহলানী অতঃপর আস-সানআনী, আবু ইবরাহীম, ইযযুদ্দীন, তার পূর্বপুরুষদের ন্যায় আল-আমীর নামে পরিচিত (মৃত্যু ১১৮২ হিজরী)
সম্পাদক: আবু আবদুর রহমান সালাহ ইবন মুহাম্মদ ইবন উওয়ায়দাহ
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত- লেবানন
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৭ হিজরী/১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৯)
المجلد الأول
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف.
حمدا لك يا من صح سند كل كمال إليه فلا يحوم حوله قدح ولا إعلال وشكرا لك على أياديك الحسان المنزهة عن الضعف والإعضال والصلاة والسلام على رسولك المرسل الموصول بشرائف الخلال وعلى آله الذين أحاديث شرفهم مرفوعة غير موضوعة وعلوم حديثهم لمن أرادها غير مقطوعة ولا ممنوعة الموقوف على حبهم الفوز في المعاد الموضوع من ناوأهم عن الاعتماد وعلى أصحابه الذين عليهم يدور فلك الإسناد.
وبعد فهذا شرح كتبته على "تنقيح الأنظار" تأليف الإمام الحافظ العلامة النظار محمد بن إبراهيم الوزير أسكنه الله جنات تجري من تحتها الأنهار! فإنه جمع فيه نفائس تحقيقات أئمة الآثار وأضاف إليه من أنظاره ما هو نور للبصائر ولما أخذ علينا فيه بعض من لا يقنعه من التحقيق إلا أقصاه ولا يشفيه من الأبحاث إلا ما بلغ غايته ومنتهاه أمليت عليه من المعاني عند حل المباني ما يجب أن يدخره الأول للثاني فطلب كتب لفظه وإبرازه في الوجود الخطي إبقاء لحفظه فكتبت عليه ما هو قرة لعين طالب التوفيق ولا يستغني عنه إلا من يستغني التصور عن التصديق وسميته "توضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار" والله أسأله أن ينفع به كاتبه وقارئه والناظر بعين الإنصاف في ألفاظه ومعانيه.
واعلم أن المصنف رحمه الله تعالى لم يجعل لمسائل كتابه عنوانا بمسألة ولا فصل ولا نوع ولا باب وفي عنوان المسائل بذلك مالا يخفى على ذوي الألباب، وقد عنون ابن الصلاح1 كتابه بالأنواع والمصنف رحمه الله جعل اسم كل نوع ترجمته كقوله
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা।
আপনারই প্রশংসা করি হে সেই সত্তা, যাঁর দিকে প্রতিটি পূর্ণতার সনদ বিশুদ্ধভাবে পৌঁছেছে, ফলে তাঁর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি বা দোষ স্পর্শ করতে পারে না। আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা আপনার সেই সুন্দর অনুগ্রহসমূহের জন্য যা দুর্বলতা ও জটিলতা থেকে মুক্ত। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আপনার প্রেরিত রাসূলের প্রতি, যিনি মহৎ গুণাবলীতে ভূষিত। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজনের প্রতি, যাঁদের মর্যাদাবিষয়ক হাদিসসমূহ উন্নত (মারফু), জাল (মাওজু) নয়; এবং হাদিসের জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য তাঁদের ইলম বিচ্ছিন্ন কিংবা নিষিদ্ধ নয়। তাঁদের প্রতি ভালোবাসার ওপরই পরকালের সফলতা নির্ভরশীল, আর যারা তাঁদের বিরোধিতা করে তারা নির্ভরযোগ্যতা থেকে বিচ্যুত। এবং তাঁর সাহাবীগণের প্রতিও সালাম, যাঁদের কেন্দ্র করেই সনদের পরিমণ্ডল আবর্তিত হয়।
অতঃপর, এটি একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা আমি ইমাম, হাফেজ, প্রাজ্ঞ ও গবেষক আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-ওয়াজির—আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে বসবাস করান যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত—রচিত "তানকিহুল আনজার"-এর ওপর লিখেছি। তিনি এতে হাদিস বিশারদ ইমামগণের সূক্ষ্ম ও মূল্যবান তাহকিকসমূহ একত্রিত করেছেন এবং এতে নিজের এমন সব গবেষণালব্ধ বিষয় যোগ করেছেন যা অন্তর্দৃষ্টির জন্য আলোস্বরূপ। যখন আমার নিকট এমন একজন ব্যক্তি এটি ব্যাখ্যা করার আবদার করলেন, যার মন সর্বোচ্চ তাহকিক ব্যতীত সন্তুষ্ট হয় না এবং সর্বোচ্চ স্তরের আলোচনা ব্যতীত যার জ্ঞানপিপাসা মেটে না; তখন আমি এই গ্রন্থের মূল পাঠ বিশ্লেষণের সময় এমন সব গূঢ় অর্থ তাঁর সামনে তুলে ধরেছি, যা পূর্ববর্তীদের পক্ষ থেকে পরবর্তীদের জন্য সঞ্চয় করে রাখা একান্ত কর্তব্য। অতঃপর তিনি এর শব্দাবলি লিখে রাখার এবং তা গ্রন্থাকারে প্রকাশ করার অনুরোধ করলেন যাতে এটি সংরক্ষিত থাকে। তাই আমি এর ওপর এমন ব্যাখ্যা লিখলাম যা সঠিক পথ অন্বেষণকারীর চোখের শীতলতাস্বরূপ এবং এমন ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ এর থেকে অমুখাপেক্ষী নয় যার নিকট কোনো বিষয়ের কল্পনা তার সত্যতা প্রমাণের তুলনায় যথেষ্ট। আমি এর নামকরণ করেছি "তাওজিহুল আফকার লি-মাআনি তানকিহিল আনজার"। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর লেখক, পাঠক এবং ইনসাফের দৃষ্টিতে এর শব্দ ও অর্থের প্রতি লক্ষ্যকারী ব্যক্তিকে এর দ্বারা উপকৃত করেন।
জেনে রাখুন যে, গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) তাঁর কিতাবের মাসআলাগুলোর জন্য মাসআলা, পরিচ্ছেদ, প্রকার কিংবা অধ্যায়—এ জাতীয় কোনো শিরোনাম ব্যবহার করেননি। অথচ মাসআলাগুলোকে এভাবে শিরোনামবদ্ধ করার মধ্যে যে উপকারিতা রয়েছে তা বুদ্ধিমানদের কাছে গোপন নয়। ইবনে সালাহ (১) তাঁর কিতাবকে বিভিন্ন 'নও' বা প্রকার দ্বারা শিরোনামবদ্ধ করেছেন, কিন্তু গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) প্রতিটি প্রকারের নামকেই তার শিরোনাম বানিয়েছেন, যেমন তিনি বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১০)
"أصح الأسانيد" وقوله "المراد بالصحيح" إلا أنه عنوان خفي فرأيت أن اجعل عنوان كل بحث لفظ مسألة إذ قد لا يتنبه الناظر لجعله أسماء الأنواع عنوانا وقد قال جار الله1 إنه بوب المصنفون في كل من كتبهم أبوابا موشحة الصدور بالتراجم ومن فوائده أن الجنس إذا انطوت تحته أنواع واشتمل على أصناف كان أحسن وأنبل وأفخم من أن يكون بيانا2 واحدا ومنها أن القارئ إذا ختم سورة أو بابا من الكتاب ثم أخذ في آخر كان أنشط له وأهز لعطفه وأبعث على الدروس والتحصيل منه لو استمر على الكتاب بطوله إلى آخر كلامه.
وقد أضبط من أجوز خفاء ضبط لفظه من الرجال أو أذكر من حاله بعض ماله من الخلال ولا أتعرض لمن هو مشهود الصفات يعرفه طلبه الفن والإثبات كأهل الأمهات ومن شاركهم في الشهرة من الرواة أو أئمة المصنفات.
--------------------------------------------
"সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহ" এবং তাঁর কথা "সহীহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য", তবে এটি একটি অস্পষ্ট শিরোনাম। তাই আমি প্রতিটি আলোচনার শিরোনাম "মাসআলা" শব্দ দ্বারা নির্ধারণ করাকে সমীচীন মনে করেছি, কারণ পাঠক প্রকারগুলোর নামকে শিরোনাম হিসেবে খেয়াল নাও করতে পারেন। আর জারুল্লাহ১ বলেছেন যে, গ্রন্থকারগণ তাঁদের প্রতিটি গ্রন্থে অধ্যায় বিন্যাস করেছেন এবং সেগুলোর শুরুকে শিরোনাম দ্বারা সুসজ্জিত করেছেন। এর উপকারিতাগুলোর মধ্যে একটি হলো, যখন কোনো একটি সাধারণ বিষয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রকার ও শ্রেণী অন্তর্ভুক্ত থাকে, তখন তা একটিমাত্র বিবরণের২ তুলনায় অধিক উত্তম, মহৎ ও মহিমান্বিত হয়। আরেকটি উপকারিতা হলো, পাঠক যখন একটি সূরা বা বইয়ের একটি অধ্যায় শেষ করে অন্যটি শুরু করেন, তখন তা তাঁর জন্য অধিক উদ্দীপক, চিত্তাকর্ষক এবং পাঠ গ্রহণ ও জ্ঞান অর্জনের জন্য অধিক প্রেরণাদায়ক হয়; যা বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একনাগাড়ে পড়ার তুলনায় বেশি ফলপ্রসূ।
আর আমি সেইসব ব্যক্তিদের নামের উচ্চারণ নির্ভুলভাবে বর্ণনা করব যাদের নাম অস্পষ্ট থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, অথবা তাদের অবস্থার কিছু বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করব। তবে আমি তাঁদের ব্যাপারে কোনো আলোচনা করব না যারা সুপ্রসিদ্ধ গুণাবলীর অধিকারী এবং যাদেরকে এই শিল্পের ছাত্র ও বিশেষজ্ঞগণ চেনেন; যেমন মূল হাদিস গ্রন্থসমূহের ইমামগণ এবং প্রসিদ্ধির ক্ষেত্রে তাঁদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী বা গ্রন্থকার ইমামগণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
"الحمد لله الذي رفع أعلام" جمع علم وهو كما في القاموس العلم محركة الجبل الطويل والراية وله معان آخر وأنسبها هنا الراية إذ رفع العلم هنا كتابه عن علو الشأن بالنصر ونحوه "علوم الحديث" 1 شبه علوم الحديث بالجيش ثم أثبت لها لازمه وهو العلم فهو من باب أظفار المنية2 "وفضل العلم النبوي" هو كل ما صدر عنه صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير ويدخل القرآن في العلم النبوي إلا أن يحمل العلم على أن اللام فيه لعلم الحديث بقرينة سبق ذكره وأن كان قوله "بالإجماع" يناسب أن يراد به ما يشمل القرآن والسنة لأنه من المتفق "على شرفه في قديم الزمان والحديث" ولا ضير في إرادة الأعم وإن كان التدوين للأخص إذا الحديث شعبة من القرآن في معانيه وبيان ما فيه.
وقوله "اشترك في الحاجة إليه والحث عليه بالقرابة" وهم آله صلى الله عليه وسلم "والصحابة" يأتي تفسير الصحابي "والسلف" سلف الأمة فيشمل الصحابة ومن بعدهم إذ السلف كل متقدم كما يفيده القاموس "والخلف" هو من ذهب من الحي ومن حضر منه كما فيه أيضا والمراد هنا الآخر "فهو علم قديم الفضل" لحاجة السلف إليه وحثهم عليه "شريف الأصل" لأنه نبع من بحر النبوة، وتفرع من دوحة الرسالة فلا غرو ولأنه.
"دل على شرفه العقل" لأنه علم دل على كل ما يقرب إلى الله ويبعد عما سواه وأرشد إلى مصالح الدين والدنيا ودعا العباد إلى نيل الذروة العليا وما كان بهذه
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
"সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি (হাদিস বিজ্ঞানের) পতাকাসমূহকে সমুন্নত করেছেন।" 'আলাম' (পতাকা) শব্দটি 'আলাম'-এর বহুবচন। যেমনটি 'আল-কামুস' অভিধানে উল্লেখ রয়েছে যে, যবরযুক্ত অবস্থায় 'আলাম' অর্থ হলো সুউচ্চ পাহাড় এবং পতাকা। এর আরও অনেক অর্থ রয়েছে, তবে এখানে 'পতাকা' অর্থটিই সবচেয়ে বেশি মানানসই। কারণ, এখানে পতাকা উত্তোলন করা বলতে বিজয় বা এ জাতীয় বিষয়ের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের উচ্চ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করাকে বুঝানো হয়েছে। আর সেই বিষয়টি হলো "হাদিস বিজ্ঞান"। ১ এখানে হাদিস বিজ্ঞানকে একটি বিশাল বাহিনীর সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং এরপর সেই বাহিনীর একটি অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গকে এর জন্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা হলো 'পতাকা'। এটি 'আজফারুল মানিয়্যাহ' (মৃত্যুর নখর) নামক অলঙ্কারশাস্ত্রীয় পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত। ২ "এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব।" এটি হলো তাঁর থেকে বর্ণিত প্রতিটি কথা, কাজ বা মৌনসম্মতি। ইলমে নববীর মধ্যে কুরআনও অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে যদি এখানে 'ইলম' শব্দের নির্দিষ্টতা বা 'আল' (নির্ধারক অব্যয়টি) ইতিপূর্বে উল্লিখিত 'ইলমে হাদিস'-এর দিকে ইঙ্গিতকারী হিসেবে ধরা হয়, তবে তা কেবল হাদিসকেই বোঝাবে। যদিও তাঁর উক্তি "সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমা)" এমন অর্থ গ্রহণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা কুরআন ও সুন্নাহ উভয়কেই শামিল করে। কারণ প্রাচীন এবং আধুনিক সর্বকালে এর সুউচ্চ মর্যাদার বিষয়টি সর্বসম্মত। আর ব্যাপক অর্থ (কুরআন ও সুন্নাহ) গ্রহণ করায় কোনো সমস্যা নেই, যদিও গ্রন্থবদ্ধকরণের বিষয়টি বিশেষ অর্থে (হাদিস) হয়ে থাকে। কেননা হাদিস হলো কুরআনের ভাবার্থ এবং এর বর্ণনার একটি অন্যতম শাখা।
এবং তাঁর উক্তি "এর প্রয়োজনীয়তা ও এর প্রতি উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনরা অংশীদার"—তারা হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারবর্গ (আহলে বাইত); "এবং সাহাবীগণ"—সাহাবীর সংজ্ঞা সামনে আসবে; "এবং সালাফ"—অর্থাৎ উম্মতের পূর্বসূরীগণ, যা সাহাবী এবং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মকে অন্তর্ভুক্ত করে। কেননা 'আল-কামুস' অভিধান অনুযায়ী সালাফ অর্থ হলো প্রত্যেক অগ্রবর্তী ব্যক্তি। "এবং খালাফ"—যিনি জীবিতদের মধ্য থেকে গত হয়েছেন বা যিনি উপস্থিত আছেন, যেমনটি অভিধানে রয়েছে। তবে এখানে খালাফ দ্বারা পরবর্তী প্রজন্ম উদ্দেশ্য। "অতএব এটি সুপ্রাচীন শ্রেষ্ঠত্বমণ্ডিত একটি ইলম", কারণ সালাফদের কাছে এর অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা ছিল এবং তাঁরা এর প্রতি উৎসাহিত করতেন। "এর উৎস অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ", কারণ এটি নবুওয়াতের মহাসমুদ্র থেকে উৎসারিত এবং রিসালাতের মহাবৃক্ষ থেকে শাখা-প্রশাখা লাভ করেছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই এবং কারণ—
"বিবেচনাপ্রসূত বুদ্ধিও এর মর্যাদার প্রমাণ দেয়।" কারণ এটি এমন এক ইলম যা এমন সবকিছুর দিকে পথ দেখায় যা আল্লাহর নৈকট্য দান করে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে দূরে রাখে। এটি দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের দিকে পরিচালিত করে এবং বান্দাদেরকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর আহ্বান জানায়। আর যার বৈশিষ্ট্য এমন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصفات دل العقل على أن له الشرف الذي تقصر عن وصفه العبارات "و" كذلك دل على شرفه "النقل" عنه صلى الله عليه وسلم فإنه ورد مالا يدخل تحت الحصر من بيان شرف علم الحديث.
أخرج البيهقي من حديث ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم: "من تمسك بسنتي عنه فساد أمتي فله أجر مائة شهيد" وأخرجه الطبراني من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال الحافظ المنذري بإسناد لا بأس به إلا أنه قال: "أجر شهيد" 1.
وكفى فيه بحديث معاذ رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تعلموا العلم فإن تعلمه لله خشية وطلبه عبادة ومذاكرته تسبيح والبحث عنه جهاد وتعليمه لمن لا يعلمه صدقة وبذله لأهله قربة لأنه معالم الحلال والحرام ومنار سبيل الجنة وهو الأنيس في الوحشة والصاحب في الغربة والمحدث في الخلوة والدليل على السراء والضراء والسلاح على الأعداء والزين عند الأخلاء يرفع الله أقواما فيجعلهم في الخير قادة وأئمة تقتص آثارهم ويقتدي بأفعالهم وينتهي إلى رأيهم ترغب الملائكة في خلتهم وبأجنحتها تمسحهم فيستغفر لهم كل رطب ويابس وحيتان البحر وهوامه وسباع البر وأنعامه لأن العلم حياة القلوب من الجهل ومصابيح الأبصار من الظلم يبلغ العبد بالعلم منازل الأخبار والدرجات العلى في الدنيا والآخرة والتنكر فيه يعدل الصيام، ومدارسته تعدل القيام به توصل الأرحام وبه يعرف الحلال من الحرام وهو إمام العمل والعمل تابعه يلهمه السعداء ويحرمه الأشقياء".
رواه ابن عبد البر في كتاب العلم2 قال: وهو حديث حسن جدا وليس له إسناد قوي. اهـ.
قال الحافظ ابن حجر3: راد بالحسن حسن اللفظ قطعا فإنه من رواية موسى بن
--------------------------------------------
গুণাবলি: বিবেক এ কথা প্রমাণ করে যে, তাঁর (রাসুলের) এমন মর্যাদা রয়েছে যা বর্ণনা করতে শব্দরাজি অপরাগ। অনুরূপভাবে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত ‘নকল’ বা বর্ণনাও তাঁর মর্যাদার প্রমাণ দেয়। কেননা ইলমে হাদিসের মর্যাদা বর্ণনায় অগণিত বর্ণনা এসেছে।
বায়হাকি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন: "আমার উম্মতের ফিতনা-ফ্যাসাদের সময় যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য রয়েছে একশত শহীদের সওয়াব।" তাবারানি এটি আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। হাফেজ মুনযিরি একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন: "একজন শহীদের সওয়াব" ১।
এ বিষয়ে মুয়াজ (রাযি.)-এর হাদিসটিই যথেষ্ট, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো; কেননা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান অর্জন করা হলো তাকওয়া, এর অন্বেষণ করা ইবাদত, এর পর্যালোচনা করা তাসবিহ, এর অনুসন্ধান করা জিহাদ, যে জানে না তাকে তা শিক্ষা দেওয়া সদকা এবং উপযুক্ত পাত্রে তা বিলিয়ে দেওয়া আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম। কারণ এটি হালাল ও হারামের পরিচয়জ্ঞাপক এবং জান্নাতের পথের আলোকবর্তিকা। এটি নির্জনতায় বন্ধু, প্রবাসে সঙ্গী, একাকীত্বের কথোপকথনকারী, সুখ ও দুঃখে পথপ্রদর্শক, শত্রুর বিরুদ্ধে অস্ত্র এবং বন্ধুদের মাঝে অলঙ্কার। আল্লাহ এর মাধ্যমে কোনো কোনো জাতিকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তাদেরকে কল্যাণের পথে নেতা ও ইমাম বানান, যাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করা হয়, যাদের কর্ম অনুকরণ করা হয় এবং যাদের মতামতের ওপর নির্ভর করা হয়। ফেরেশতারা তাদের বন্ধুত্ব কামনা করে এবং নিজেদের ডানা দিয়ে তাদের স্পর্শ করে। জগতের প্রতিটি সজীব ও নির্জীব বস্তু, এমনকি সমুদ্রের মাছ ও কীট-পতঙ্গ এবং স্থলের হিংস্র প্রাণী ও চতুষ্পদ জন্তু তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা জ্ঞান হলো অজ্ঞতা থেকে হৃদয়ের জীবন এবং অন্ধকার থেকে দৃষ্টির প্রদীপ। বান্দা জ্ঞানের মাধ্যমে নেককারদের স্তরে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে। এতে চিন্তা-গবেষণা করা রোজা পালনের সমতুল্য এবং এর পাঠদান ও পর্যালোচনা করা রাতের ইবাদতে দণ্ডায়মান হওয়ার সমতুল্য। এর মাধ্যমেই আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা হয় এবং এর মাধ্যমেই হালাল ও হারামকে চেনা যায়। এটি হলো কর্মের ইমাম বা চালক এবং কর্ম এর অনুগামী; সৌভাগ্যবানরা এটি লাভ করে আর দুর্ভাগারা এটি থেকে বঞ্চিত হয়।"
ইবনে আবদুল বার এটি 'কিতাবুল ইলম' ২-এ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটি অত্যন্ত চমৎকার (হাসান) একটি হাদিস, তবে এর সনদ শক্তিশালী নয়। সমাপ্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার ৩ বলেন: এখানে হাসান দ্বারা নিশ্চিতভাবে শব্দের চমৎকারিত্ব বোঝানো হয়েছে, কেননা এটি মুসা বিন... এর বর্ণনা থেকে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
محمد البلقاوي عن عبد الرحيم بن زيد العمي والبلقاوي هذا كذاب كذبه أبو زرعة وأبو حاتم ونسبه ابن حبان والعقيلي إلى وضع الحديث والظاهر أن هذا الحديث مما صنعت يداه1 وعبد الرحيم بن زيد العمي متروك أيضا2 انتهى ذكره استدلالا بأن أئمة الحديث قد يطلقون الحسن على الحديث الضعيف ويريدون حسن لفظه وسيأتي هذا في بحث الحسن وقال الحافظ المنذري وإسناده ليس بالقوي وقد رويناه من طرق شتى موقوفا انتهى. و
لا يخفي أن عليه حلاوة الكلام النبوي وطلاوته ولفصوله شواهد في شرف العلم والأحاديث كثيرة وكل حديث في الحث على العلم وفضله فإنه صادق على علم الحديث بل هو العلم الحقيقي والفرد الكامل عند إطلاق لفظ العلم:
العلم قال الله قال رسوله
… إن صح والإجماع فاجهد فيه
وحذار من نصب الخلاف جهالة
… بين النبي وبين قول فقيه
وقال المصنف رحمه الله تعالى:
العلم ميراث النبي كذا أتى
… في النص والعلماء هم ورائه
فإذا أردت حقيقة تدري بمن
… ورائه فكرت ما ميراثه
ما خلف المختار غير حديثه
… فينا فذاك متاعه وأثاثه
فلنا الحديث ورائه نبوية
… ولكل محدث بدعة أحداثه
"واعتضد" من عضده كنصره أعانه "الإجماعان" إجماع السلف والخلف "عليه" أي على فضل العلم النبوي "من بعد" أي من بعد إجماع السلف وهو إجماع الخلف "ومن قبل" أي من قبل إجماع الخلف وهو إجماع السلف ويحتمل إجماع الصحابة والقرابة أو إجماع أهل العقل والنقل.
ولا ريب أن علم الحديث من أشرف العلوم وأفضلها لأنه ثاني أدلة علوم الإسلام ومادة علوم الأصول والأحكام لا يرغب في نشره إلا كل صادق تقي ولا يزهد في نصره إلا كل منافق شقي قال أبو نصر بن سلام وليس شيء أثقل على أهل الإلحاد ولا أبغض إليهم من سماع الحديث وروايته وإسناده.
--------------------------------------------
মুহাম্মদ আল-বালকাউয়ী আবদুর রহীম ইবনে যাইদ আল-আম্মী থেকে বর্ণনা করেছেন। এই বালকাউয়ী একজন চরম মিথ্যাবাদী; আবু যুরআ ও আবু হাতিম তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন। ইবনে হিব্বান ও উকায়লী তাকে হাদীস জাল করার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। বাহ্যত মনে হয় এই হাদীসটি তার নিজের হাতের তৈরি ১। আর আবদুর রহীম ইবনে যাইদ আল-আম্মীও পরিত্যক্ত (মাতরুক) ২। সমাপ্ত। তিনি এটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ অনেক সময় দুর্বল হাদীসের ক্ষেত্রেও 'হাসান' (সুন্দর) শব্দ ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা তারা হাদীসের শব্দের সৌন্দর্য বুঝিয়ে থাকেন। হাসান হাদীসের আলোচনায় এটি সামনে আসবে। হাফেজ মুনযিরী বলেছেন, এর সনদ শক্তিশালী নয়, আর আমরা এটি বিভিন্ন সূত্রে মাওকুফ (সাহাবীর বক্তব্য) হিসেবে বর্ণনা করেছি। সমাপ্ত।
আর এটি গোপন নয় যে, এর ওপর নবুওয়াতের বাণীর মিষ্টতা ও লালিত্য বিদ্যমান। ইলমের (জ্ঞানের) মর্যাদার বিষয়ে এর প্রতিটি অংশের সপক্ষে অনেক প্রমাণ ও হাদীস বিদ্যমান। ইলমের প্রতি উৎসাহ প্রদান ও এর ফযীলত সম্পর্কে বর্ণিত প্রতিটি হাদীস মূলত ইলমে হাদীসের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বরং 'ইলম' শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন ইলমে হাদীসই হলো প্রকৃত ইলম এবং এর পূর্ণাঙ্গ রূপ:
ইলম হলো যা আল্লাহ বলেছেন এবং তাঁর রাসূল বলেছেন
… যদি তা সহীহ হয়, এবং ইজমা; সুতরাং তুমি এতেই পরিশ্রম করো।
আর অজ্ঞতাবশত নবী এবং ফকীহদের বক্তব্যের মধ্যে
… বিরোধ তৈরি করা থেকে সাবধান থেকো।
এবং গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:
ইলম হলো নবীর মিরাস (উত্তরাধিকার), দলীলসমূহে এমনটাই এসেছে
… আর আলেমরাই হলেন তাঁর উত্তরসূরি।
সুতরাং আপনি যদি প্রকৃতপক্ষেই জানতে চান কারা তাঁর
… উত্তরসূরি, তবে চিন্তা করুন তাঁর মিরাস কী।
নবী আমাদের মাঝে তাঁর হাদীস ছাড়া আর কিছুই রেখে যাননি
… সেটিই তাঁর সম্পদ ও আসবাবপত্র।
অতএব আমাদের জন্য রয়েছে নবীর উত্তরসূরি হিসেবে প্রাপ্ত হাদীস
… আর প্রত্যেক বিদআতী নতুন আবিষ্কারকারীর জন্য রয়েছে তার নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ।
"ওয়া’তাদাদ" শব্দটি 'আদাদাহু' থেকে এসেছে—যেমন 'নাসারাহু'—এর অর্থ সাহায্য করা। "দুই ইজমা" বলতে সালাফ ও খালাফের ইজমা। "এর ওপর" অর্থাৎ নববী ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর। "পরবর্তী" অর্থাৎ সালাফের ইজমায়ের পরবর্তী খালাফের ইজমা। "পূর্ববর্তী" অর্থাৎ খালাফের ইজমায়ের পূর্ববর্তী সালাফের ইজমা। অথবা এর দ্বারা সাহাবী ও (নবীর) নিকটাত্মীয়দের ইজমা, কিংবা আকল (বিবেক) ও নকলের (বর্ণনার) অনুসারীদের ইজমাও উদ্দেশ্য হতে পারে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইলমে হাদীস অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান। কারণ এটি ইসলামের জ্ঞানসমূহের দ্বিতীয় দলিল এবং উসূল (মূলনীতি) ও আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত জ্ঞানসমূহের মূল উৎস। কেবল সত্যবাদী ও পরহেযগার ব্যক্তিই এর প্রসারে আগ্রহী হয়, আর কেবল হতভাগা মুনাফিকই এর সাহায্যে বিমুখ হয়। আবু নাসর বিন সাল্লাম বলেছেন, হাদীস শ্রবণ করা, বর্ণনা করা এবং এর সনদ যাচাই করার চেয়ে নাস্তিকদের কাছে অধিক ভারী এবং অধিক ঘৃণ্য আর কিছু নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
"والصلاة والسلام على خاتم الرسل" لما كانت هذه الصفة معينة للموصوف وهو محمد صلى الله عليه وسلم اكتفى بها عن تعيين اسمه "وعلى أهله" هم آله1 "خير أهل" له أو خير أهل لكل ذي أهل "وعلى أصحابه كنوز الفضل" في القاموس الكنز المال المدفون فقد جعل الفضل كالمال المدفون وجعل الصحابة محله الذي يستخرج منه "وسيوف الفصل" أي السيوف التي تفصل الحق من الباطل والمؤمن من الكافر.
"وبعد" أي بعد حمد الله والصلاة "فهذا" أي المعاني المخزونة في النفس بعد تزيلها المحسوس لكمال ظهورها لديه "مختصر يشتمل على مهمات علوم الحديث" وهو علم دراية لا رواية رسمه الشيخ عطا في مختصره المسمى "بالقول المعتبر في مصطلح أهل الأثر" بقوله علم يعرف به حال الراوي والمروي من جهة القبول والرد وموضوعه الراوي والمروي عنه من هذه الجهة وغايته معرفة ما يقبل وما يرد وأما الحديث فهو علم رواية ورسمه أيضا بأنه علم يشتمل على نقل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم: قيل أو إلى صحابي فمن دونه قولا أو فعلا أو هما أو تقريرا أو صفة وقيل ما جاء عن النبي صلى عليه وآله وسلم والخبر ما جاء عن غيره وعلم درايته اصطلاحي كما قال المصنف "واصطلاحات أهله ولا غنى لطالب هذا العلم" أي علم الحديث "عن معرفته" المختصر "أو" معرفة "مثله" وقد جعل ابن الصلاح أنواع علوم الحديث خمسة وستين نوعا وجعل النوع الأول معرفة الصحيح كما جعل المصنف أقسام الحديث أول أبحاثه.
--------------------------------------------
"সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসুলের ওপর।" যেহেতু এই গুণটি বিশেষিত ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট—আর তিনি হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—তাই তাঁর নাম নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করার পরিবর্তে এই গুণের উল্লেখই যথেষ্ট হয়েছে। "এবং তাঁর পরিবারের ওপর," তাঁরাই তাঁর আপনজন, "যিনি সর্বোত্তম পরিবার" তাঁর জন্য অথবা প্রত্যেক পরিবারধারীর জন্য তাঁরাই শ্রেষ্ঠ পরিবার। "এবং তাঁর সাহাবীদের ওপর, যাঁরা শ্রেষ্ঠত্বের ভাণ্ডার;" 'আল-কামূস' অভিধানে 'কানজ' (ভাণ্ডার) বলতে প্রোথিত সম্পদকে বোঝানো হয়েছে। এখানে শ্রেষ্ঠত্বকে প্রোথিত সম্পদের মতো গণ্য করা হয়েছে এবং সাহাবীবৃন্দকে সেই আধার বা স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যেখান থেকে তা আহরণ করা হয়। "এবং মীমাংসাকারী তলোয়ারসমূহ," অর্থাৎ সেই সকল তলোয়ার যা সত্য ও মিথ্যার মাঝে এবং মুমিন ও কাফিরের মাঝে পার্থক্য করে দেয়।
"অতঃপর," অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ পাঠের পর। "ইহা হলো," অর্থাৎ সেই সকল অর্থ যা তাঁর নিকট পূর্ণরূপে প্রকাশিত হওয়ার পর ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য রূপে অবতীর্ণ হয়ে মনের মাঝে সংরক্ষিত হয়েছে, "একটি সংক্ষিপ্ত সার যা হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।" আর এটি হলো তত্ত্বীয় জ্ঞান (দিরাইয়াহ), কেবল বর্ণনা (রিওয়ায়াহ) নয়। শায়খ আতা তাঁর 'আল-কাওলুল মু'তাবার ফি মুসত্বলাহি আহলিল আসার' নামক সংক্ষিপ্তসারে এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে বর্ণনাকারী ও বর্ণিত বিষয়ের অবস্থা গ্রহণ বা বর্জনের দিক থেকে জানা যায়।" আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে এর আলোচ্য বিষয় হলো বর্ণনাকারী ও যাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তিনি। এর উদ্দেশ্য হলো যা গ্রহণযোগ্য এবং যা বর্জনীয় তা চেনা। পক্ষান্তরে 'হাদিস' হলো বর্ণনা-সংক্রান্ত (রিওয়ায়াহ) বিদ্যা। তিনি এর সংজ্ঞায় আরও বলেন যে, এটি এমন এক বিদ্যা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়েছে তার বর্ণনাকে অন্তর্ভুক্ত করে। বলা হয়েছে: অথবা সাহাবী কিংবা তাঁর পরবর্তী স্তরের কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত কথা, কাজ, উভয়টি, মৌন সম্মতি অথবা গুণাগুণ। আবার কেউ কেউ বলেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে তা-ই হাদিস, আর যা অন্য কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে তা হলো 'খবর'। লেখক যেমনটি বলেছেন, এর তত্ত্বীয় জ্ঞানটি (দিরাইয়াহ) পারিভাষিক। "এবং এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পরিভাষাসমূহ; আর এই শাস্ত্রের অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর জন্য এই সংক্ষিপ্তসারটি" অথবা "এর অনুরূপ কোনো গ্রন্থ" সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। ইবনুস সালাহ উলুমুল হাদিসের প্রকারভেদকে পঁয়ষট্টিটি প্রকারে বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রথম প্রকার হিসেবে সহিহ হাদিসের পরিচিতিকে রেখেছেন, যেমনটি লেখক তাঁর আলোচনার প্রারম্ভে হাদিসের প্রকারসমূহকে স্থান দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
مسألة1 [في أقسام الحديث]
قال "أقسام الحديث" أي في اصطلاحات أئمة الحديث "قسمه الخطابي" هو الحافظ حمد بفتح الميم بغير همزة كما رواه الحاكم أبو عبد الله أنه سئل الخطابي عن اسمه قال اسمي حمد ولكن الناس كتبوا أحمد فتركته عليه والخطابي فقيه أديب محدث له مؤلفات منها "معالم السنين" على أبى داود وله أعلام السنن في شرح البخاري وغير ذلك وفاته سنة ثمان وثمانين وثلاثمائة بمدينة بست بضم الموحدة وسكون السين المهملة ومثناه فوقية مدينة من بلاد كابل والخطابي بفتح الخاء المعجمة وتشديد الطاء المهملة وبعد الألف موحدة نسبة إلى جده وقيل إنه ذوية زيد بن الخطاب1 "في المعالم" أي معالم السنن جمع معلم بفتح الميم وسكون المهملة في القاموس معلم الشيء كمقعد مظنته وما يستدل به عليها كالعلامة كرمانة والمراد مظنة السنن وما يستدل به عليها وبهذا سمى البغوي2 تفسيره "معالم التنزيل" "إلى صحيح وحسن وسقيم" وقال ابن الصلاح: في كتابه علوم الحديث3 اعلم أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف."
"وعرف الصحيح" 4 أي رسمه "بأنه عندهم: ما اتصل سنده" السند هو الإخبار عن
--------------------------------------------
মাসআলা ১ [হাদিসের প্রকারভেদ সম্পর্কে]
তিনি বলেছেন "হাদিসের প্রকারভেদ" অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের ইমামগণের পরিভাষায়। "খাত্তাবি এটি ভাগ করেছেন"—তিনি হলেন হাফেজ হামদ (মিম বর্ণে জবর সহ এবং হামজা ব্যতীত), যেমনটি হাকেম আবু আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন যে, খাত্তাবিকে তাঁর নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, "আমার নাম হামদ, কিন্তু মানুষ 'আহমদ' লেখে, তাই আমি তা সেই অবস্থাতেই রেখে দিয়েছি।" খাত্তাবি একজন ফকিহ, সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস; তাঁর অনেক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে আবু দাউদের ওপর রচিত "মাআলিমুস সুনান" অন্যতম। এছাড়া বুখারির ব্যাখ্যায় তাঁর "আলামুস সুনান" এবং আরও অন্যান্য কিতাব রয়েছে। তাঁর মৃত্যু ৩৮৮ হিজরিতে বুস্ত নগরে—যা এক নুক্তা বিশিষ্ট বর্ণে (বা) পেশ, নুক্তাবিহীন বর্ণে (সিন) সুকুন এবং উপরে দুই নুক্তা বিশিষ্ট বর্ণ (তা) যোগে গঠিত—এটি কাবুল অঞ্চলের একটি শহর। 'খাত্তাবি' শব্দটি (নুক্তাযুক্ত 'খা' বর্ণে জবর, নুক্তাবিহীন 'ত্বা' বর্ণে তাশদিদ এবং আলিফের পর এক নুক্তা বিশিষ্ট 'বা' বর্ণ যোগে) তাঁর দাদার দিকে সম্বন্ধযুক্ত। বলা হয় যে তিনি যায়েদ বিন খাত্তাবের বংশধর। "মাআলিম"-এ অর্থাৎ 'মাআলিমুস সুনান'; যা 'মালাম'-এর বহুবচন (মিম বর্ণে জবর এবং নুক্তাবিহীন বর্ণে সুকুন যোগে)। 'কামুস' গ্রন্থে রয়েছে: কোনো বিষয়ের 'মালাম' হলো (মাকআদ-এর ওজনে) তার সম্ভাব্য স্থান এবং যার দ্বারা সেটির ওপর দলিল পেশ করা যায়, যেমন 'আলামাহ' (রুম্মানাহ-এর ওজনে)। এখানে উদ্দেশ্য হলো সুনান (হাদিসসমূহের) সম্ভাব্য স্থান এবং যার মাধ্যমে সেগুলোর ওপর দলিল পেশ করা যায়। আর এই অর্থেই বাগাওয়ি তাঁর তাফসিরের নাম রেখেছেন "মাআলিমুত তানজিল"। "[হাদিসকে] সহিহ, হাসান এবং সাকিম (অসুস্থ/দুর্বল) ভাগে [বিভক্ত করেছেন]।" ইবনুস সালাহ তাঁর 'উলূমুল হাদিস' কিতাবে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস সহিহ, হাসান এবং জয়িফ (দুর্বল)—এই তিন ভাগে বিভক্ত।"
"এবং তিনি সহিহ-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন" অর্থাৎ এর পারিভাষিক রূপরেখা দিয়েছেন যে: "তাদের নিকট এটি হলো তা-ই যার সনদ (সূত্র) নিরবচ্ছিন্ন।" সনদ হলো সংবাদ প্রদান করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طريق المتن1 من قولهم "فلان سند" أي معتمد سمي سندا لاعتماد الحفاظ في صحة الحديث وضعه عليه وأما الإسناد فهو رفع الحديث إلى قائله وقد يستعمل كل منهما في مكان الآخر فقوله "ما اتصل سنده" احتراز عن المتقطع وهو الذي لم يتصل سنده بأقسامه2 ويأتي بيان أقسامه في كلام المصنف "وعدلت نقلت" احتراز عن المستور ومن قيه نوع جرح والعدل عندهم من له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة ويأتي لنا بحث في رسم العدل بهذا.
"ولم يشترط" الخطابي في رسم الصحيح "الضبط" كما اشترط غيره من أئمة الحديث قال السيوطي في شرح ألفيته قال الحافظ ابن حجر قول الخطابي "وعدلت نقلته" مغن عن التصريح باشتراط الضبط لأن المعدل من عدلة النقاد أي وثقوه وإنما يوثقون من اجتمع فيه العدالة والضبط بخلاف من عرفه بلفظ العدل فيحتاج إلى زيادة قيد الضبط فلا اعتراض عليه [ويؤخذ من هذا أنه إذا قيل فلان ثقة يخطئ ففيه مناقضة] نعم يبقى الاعتراض عيه بعد زيادة قيد السلامة عن الشذوذ كما يأتي والضابط عندهم من يكون حافظا متيقظا غير مغفل ولا ساه ولا شاك في حالتي التحمل والأداء وهذا الضبط التام وهو المراد هنا.
واعلم أن الضبط قسمان ضبط صدر بأن يثبت الراوي ما سمعه بحيث يتمكن من استحضاره متى شاء وضبط كتاب بأن يصونه منذ سمع فيه وصححه إلى أن يؤدي منه لأن الناقل إن كان فيه نوع قصور عن درجة الإتقان دخل حديثه في حد الحسن وإذا نزلت درجته عن ذلك ضعف حديثه3.
--------------------------------------------
মতনের পথ; তাদের পরিভাষা "অমুক ব্যক্তি সনদ" থেকে এসেছে, অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য। একে সনদ বলা হয় কারণ হাফেজগণ হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে এর ওপর নির্ভর করেন। আর ইসনাদ হলো হাদিসকে এর প্রবক্তা পর্যন্ত উন্নীত করা। অনেক সময় একটির পরিবর্তে অন্যটি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তাঁর কথা "যার সনদ সংযুক্ত"- এটি বিচ্ছিন্ন বর্ণনা থেকে সতর্কতা স্বরূপ; যা তার সকল প্রকারভেদসহ যার সনদ সংযুক্ত নয়। গ্রন্থকারের আলোচনায় এর প্রকারভেদগুলো সামনে আসবে। "এবং এর বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ"- এটি অজ্ঞাত পরিচয় এবং যাদের মধ্যে কোনো ধরণের সমালোচনা রয়েছে, তাদের থেকে সতর্কতা স্বরূপ। তাঁদের নিকট ন্যায়পরায়ণ হলেন এমন ব্যক্তি যার মধ্যে এমন এক স্বভাবজাত গুণ বিদ্যমান যা তাকে তাকওয়া ও মুরুওয়াত বা মর্যাদাবোধ আঁকড়ে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে। ন্যায়পরায়ণতার সংজ্ঞায় এ বিষয়ে আমাদের আলোচনা সামনে আসবে।
ইমাম খাত্তাবী সহিহ হাদিসের সংজ্ঞায় 'সংরক্ষণ শক্তি' বা দাবতের শর্তারোপ করেননি, যা অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ করেছেন। আল্লামা সুয়ূতী তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যায় বলেছেন, হাফেজ ইবনে হাজার বলেন, খাত্তাবীর কথা "এর বর্ণনাকারীরা ন্যায়পরায়ণ"- এটি বর্ণনাকারীর সংরক্ষণ শক্তির শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরিবর্তে যথেষ্ট। কারণ যাকে ন্যায়পরায়ণ সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাকে হাদিস সমালোচকগণ ন্যায়পরায়ণ বলেছেন অর্থাৎ তাকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করেছেন। আর তাঁরা কেবল তাকেই নির্ভরযোগ্য বলেন যার মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা এবং সংরক্ষণ শক্তি উভয়টির সমাবেশ ঘটে। এর বিপরীতে যারা শুধু ন্যায়পরায়ণ শব্দ দিয়ে একে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ শক্তির শর্ত যোগ করার প্রয়োজন হয়। সুতরাং খাত্তাবীর ওপর কোনো আপত্তি থাকে না। [এ থেকে বোঝা যায় যে, যখন বলা হয় অমুক ব্যক্তি নির্ভরযোগ্য কিন্তু তিনি ভুল করেন, তখন এতে বৈপরীত্য প্রকাশ পায়]। হ্যাঁ, তবে অস্বাভাবিকতা থেকে মুক্ত থাকার শর্ত যোগ করার বিষয়ে তাঁর ওপর আপত্তি রয়ে যায়, যেমনটি সামনে আসবে। তাঁদের নিকট সংরক্ষণকারী হলেন তিনি, যিনি হাদিস গ্রহণ এবং বর্ণনা—উভয় অবস্থায় মুখস্থবিদ্যায় দক্ষ, সদা সতর্ক, অমনোযোগী নন, ভুলকারী নন এবং সংশয়গ্রস্ত নন। আর এটিই হলো পূর্ণাঙ্গ সংরক্ষণ শক্তি, যা এখানে উদ্দেশ্য।
জেনে রাখুন যে, সংরক্ষণ শক্তি দুই প্রকার: অন্তরের সংরক্ষণ—অর্থাৎ বর্ণনাকারী যা শুনেছেন তা এমনভাবে মুখস্থ রাখা যাতে তিনি যখন ইচ্ছা তা উপস্থাপন করতে পারেন। এবং পাণ্ডুলিপির সংরক্ষণ—অর্থাৎ শ্রবণের পর থেকে তা সংশোধন করে বর্ণনা করার সময় পর্যন্ত তা সুরক্ষিত রাখা। কারণ বর্ণনাকারীর যদি নিখুঁততার মানে কোনো ধরণের ঘাটতি থাকে, তবে তার বর্ণিত হাদিস 'হাসান' এর অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যদি মান এর চেয়েও নিচে নেমে যায়, তবে তার হাদিস দুর্বল হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"ولا" اشترط الخطابي "سلامة الحديث من الشذوذ" احترازا عن الحديث الشاذ وسيأتي بيانه "و" لا اشترط سلامته من "العلة" والذي لم يسلم منها يقال له المعل أي الذي لم يسلم عن أسباب حفية قادحة كما ستعرفه في تعريف العلة في كلام المصنف فإن قيل هذا قيد مستدرك فإنه لا يخفى على الضابط الحازم مثل تلك القادحة قيل يقال الصارم قد ينبو والحازم قد يسهو.
"ولا بد من اشتراط الضبط" أي لا فراق ولا محالة كما في القاموس أي لا بد من اشتراط تمام الضبط ولا مطلقه كما ستعرفه من عبارات أئمة هذا الشأن وكأن المصنف أطلقه بناء على أن الضبط التام هو الفرد الكامل المتبادر كما هو الواقع في رسوم الصحيح عند علماء الفن.
قال ابن الصلاح: أما الحديث الصحيح فهو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه1 وقال الحافظ ابن حجر في "لنخبة"2بنقل عدل تام الضبط ومثله عبارة المصنف في مختصره في هذا الفن.
ووجه الاحتياج إلى هذا القيد في الرسم قوله "لأن من كثر خطؤه عند المحدثين" الظاهر تعلقه بقوله "استحق الترك" فلو أخره كان أولى فإن المعنى استحقاق كثير الخطأ الترك عند أئمة الحديث لا أن كثرة أخطائه عند المحدثين كما هو واضح ترشد إليه عبارته الآتية قريبا "وإن كان عدلا" إذا العدالة لا تنافي كثرة الخطأ في الرواية إذ مدرك ذلك عدم تمام الضبط ومدرك العدالة غيره وهذا في كثرة الخطأ وأما خفته فإنه يكون الراوي معه مقبولا ويصير حديثه حسنا كما قال الحافظ فإن حف الضبط فهو الحسن لذاته.
وقال المصنف في مختصره فإن خف الضبط وكان له من جنسه تابع أو شاهد فالحسن ويأتي تحقيق ذلك في بحثه من هذا الكتاب إن شاء الله تعالى.
"وكذلك" أي يستحق الترك "عند الأصوليين" أي أهل أصول الفقه ولكن بشرط غير شرط الأولين وهو "إذا كان خطؤه أكثر من صوابه واختلفوا" أي الأصوليون لا أهل الحديث فإنه يعلم أنهم إذا تركوا من كثر خطؤه فتركهم من تساوي خطؤه وصوابه بالأولى والفرق بين كثيرا وأكثر ظاهر فهذان قسمان والثالث: أشار إليه بقوله "إذا
--------------------------------------------
আল-খাত্তাবী হাদীস "শায" (ব্যতিক্রমধর্মী) হওয়া থেকে মুক্ত থাকার শর্তারোপ করেননি, যা শায হাদীস থেকে সতর্ক থাকার জন্য করা হয় এবং এর ব্যাখ্যা সামনে আসবে। আর তিনি "ইল্লাত" (সূক্ষ্ম ত্রুটি) থেকে মুক্ত থাকার শর্তও দেননি। যে হাদীস এটি থেকে মুক্ত নয় তাকে "মুআল্লাল" বলা হয়, অর্থাৎ যা এমন কিছু গোপন ক্ষতিকারক কারণ থেকে মুক্ত নয় যা আপনি গ্রন্থকারের বক্তব্যে ইল্লাতের সংজ্ঞায় জানতে পারবেন। যদি বলা হয় যে এই শর্তটি অতিরিক্ত, কারণ একজন সুদৃঢ় হিফযকারী ব্যক্তির কাছে এজাতীয় ক্ষতিকারক বিষয় গোপন থাকে না; তবে এর উত্তরে বলা হয় যে, সুতীক্ষ্ণ তলোয়ারও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে পারে এবং অতি সাবধানী ব্যক্তিও ভুল করতে পারে।
"আর দাবত (স্মৃতিশক্তির নির্ভুলতা) শর্ত হওয়া অপরিহার্য", অর্থাৎ আল-কামুস গ্রন্থে যেভাবে এসেছে—অনিবার্য ও আবশ্যিক। এর অর্থ হলো পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তি শর্ত হওয়া জরুরি, সাধারণ স্মৃতিশক্তি নয়, যেমনটি আপনি এই শাস্ত্রের ইমামগণের উক্তিসমূহ থেকে জানতে পারবেন। যেন গ্রন্থকার একে সাধারণভাবেই উল্লেখ করেছেন এই ভিত্তিতে যে, পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিই হলো সেই কামিল বা পূর্ণ রূপ যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত।
ইবনুস সালাহ বলেছেন: সহীহ হাদীস হলো সেই মুসনাদ হাদীস যার সনদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী কর্তৃক অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে অবিচ্ছিন্নভাবে পৌঁছেছে।১ হাফিয ইবনে হাজার 'নুখবাহ' গ্রন্থে বলেছেন: পূর্ণ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে।২ এই শাস্ত্রের ওপর লিখিত গ্রন্থকারের সংক্ষিপ্তসারেও অনুরূপ বক্তব্য রয়েছে।
সংজ্ঞায় এই শর্তটির প্রয়োজনীয়তার কারণ হলো তাঁর এই উক্তি: "কেননা মুহাদ্দিসগণের নিকট যার ভুল বেশি হয়", এটি সম্ভবত তাঁর এই উক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট: "সে পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য"। যদি তিনি একে পরে উল্লেখ করতেন তবে তা উত্তম হতো। কারণ এর অর্থ হলো, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের নিকট অধিক ভুলকারীর বর্ণনা বর্জিত হওয়ার যোগ্য; বিষয়টি এমন নয় যে মুহাদ্দিসগণের নিকট তার ভুল বেশি হওয়াটা একটি সাধারণ বিষয়, যা তাঁর পরবর্তী উক্তি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়: "যদিও সে ব্যক্তি আদিল (ন্যায়পরায়ণ) হয়"। কেননা ন্যায়পরায়ণতা বর্ণনায় অধিক ভুলের পরিপন্থী নয়; কারণ ভুলের ভিত্তি হলো স্মৃতিশক্তির অপূর্ণতা, আর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তি ভিন্ন। এটি অধিক ভুলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে যদি ভুলের পরিমাণ কম হয়, তবে সেই বর্ণনাকারী গ্রহণযোগ্য হবেন এবং তার হাদীস 'হাসান' স্তরে উন্নীত হবে, যেমনটি হাফিয বলেছেন: যদি স্মৃতিশক্তি কিছুটা হালকা হয় তবে তা স্বকীয়ভাবে হাসান (হাসান লি-যাতিহি)।
গ্রন্থকার তাঁর সংক্ষিপ্তসারে বলেছেন: যদি স্মৃতিশক্তি কিছুটা কম হয় এবং সমজাতীয় কোনো সমর্থক বর্ণনা বা সাক্ষী থাকে, তবে তা হাসান হিসেবে গণ্য হবে। ইনশাআল্লাহ এই কিতাবের সংশ্লিষ্ট আলোচনায় এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসবে।
"অনুরূপভাবে" অর্থাৎ পরিত্যাজ্য হওয়ার যোগ্য "উসূলবিদগণের নিকটও", অর্থাৎ উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট। তবে পূর্বোক্তদের শর্ত থেকে ভিন্ন একটি শর্তে, আর তা হলো "যখন তার ভুলের পরিমাণ সঠিকের চেয়ে বেশি হয় এবং তারা মতভেদ করেছেন", অর্থাৎ উসূলবিদগণ, মুহাদ্দিসগণ নন। কারণ এটি জানা কথা যে, তারা যদি অধিক ভুলকারীকে বর্জন করেন, তবে যার ভুল ও সঠিক সমান তাকে তো তারা আরও স্বাভাবিকভাবেই বর্জন করবেন। 'অধিক' এবং 'অধিকতর'-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট। সুতরাং এগুলো হলো দুটি প্রকার, আর তৃতীয় প্রকারটির দিকে তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: "যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
استويا فالأكثر منهم" أي الأصوليين "على رده" لعدم الظن بصدقه "لأنه لا يحصل الظن بصدقه" ولا يقبل إلا ما يظن صدقه وإلا كان تحكما وهذا ثالث الأقسام ورابعها أن يخف ضبطه وهذا لم يذكره المصنف وقد أشرنا إليه وخامسها من صوابه أكثر من أخطائه وهو مفهوم كلام المصنف حيث قال لأن من كثر خطؤه عند المحدثين واستحق الترك كما سلف وهذا يحتمل أنه الخفيف الضبط فهو مقبول عند المحدثين لكن حديثه حسن لا صحيح عندهم ويكون مقبولا عند الأصوليين.
"ومنع رده جماعة منهم المنصور بالله" عبد الله بن حمزة "ولكنه قال طريق قبوله الاجتهاد" ولا يخفي أن هذه كلها أخبار آحاد وطريق قبولها الاجتهاد وهو النظر في أدلة التعبد بأخبار الآحاد فما وجه تخصيص هذا القسم بالشرط المذكور ثم لا يخفى أنه إذا استوى ضبط الراوي وعدمه كان قبول روايته قبولا مع الشك فيها والشك لا يعمل به فإن أراد المنصور بالله أنه إذا حفته قرائن تقيد المجتهد ظن صدقه فليس يعلم بالمشكوك فيه من هذه الجهة بل من جهة ما حفه من القرائن.
"كما هو قول عيسى بن أبان" بفتح الهمزة "ذكره" المنصور بالله "في" كتابه "الصفوة" وحكاه عنه في الجوهرة للشيخ الحسن الرصاص "وكذلك الفقيه عبد الله بن زيد" العنسي "ذهب إلى قبوله" أي قبول من تساوى ضبطه وعدمه.
وأما قوله "وادعى الإجماع على قبوله إن كان صوابه أكثر من خطائه" فيحمل على أن ضمير قبوله في هذه الجملة للراوي المفيد بكثرة صوابه على خطائه لتصح دعوى الإجماع لا فيمن تساويا وإن كانت عبارته تقضي بعود الضمير إليه إذ الكلام فيه ولا يصح أن يجعل قوله "إن كان صوابه أكثر من خطائه" قيدا لقوله "ذهب إلى قبوله" لأنه غير محل النزاع فإن النزاع فيمن تساويا فيه ولا من كان خطؤه مكثورا فإن مفهوم قوله آنفا أنه يرد الأصوليون من كان خطاؤه أكثر من صوابه أن من كان صوابه أكثر من خطائه غير مردود عندهم وكذلك عند المحدثين لأن الأظهر أنه المراد بخفيف الضبط الذي جعلوا حديثه حسنا ولهذا راج للفقيه عبد الله دعوى الإجماع على قبوله "ذكر" الفقيه عبد الله "ذلك كله في الدرر" جمع درة، وهو كتاب للفقيه في أصول الفقه "وفي دعوى" الفقيه عبد الله "الإجماع نظر لمخالفة المحدثين".
اعلم أنه يتصور هنا أربع صور:
الأولى: تام الضبط.
"যদি উভয়টি (সঠিক হওয়া ও ভুল হওয়া) সমান হয় তবে তাদের অধিকাংশ," অর্থাৎ উসুলবিদগণ, "তা প্রত্যাখ্যান করার পক্ষপাতী" তার সত্যতা সম্পর্কে প্রবল ধারণা না থাকার কারণে, "কেননা তার সত্যতা সম্পর্কে প্রবল ধারণা জন্মে না।" আর যে বিষয়ে সত্য হওয়ার প্রবল ধারণা জন্মে না তা কবুল করা হয় না, অন্যথায় তা হবে খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত। এটি হলো প্রকারভেদের মধ্যে তৃতীয় প্রকার। চতুর্থ প্রকার হলো যার নির্ভুলতা বা স্মরণশক্তি কিছুটা কম; গ্রন্থকার এটি উল্লেখ করেননি তবে আমরা এর দিকে ইঙ্গিত করেছি। পঞ্চম প্রকার হলো যার সঠিক হওয়ার পরিমাণ ভুলের চেয়ে বেশি; গ্রন্থকারের বক্তব্যের মর্মার্থ এটিই, যেহেতু তিনি বলেছেন যে, মুহাদ্দিসগণের নিকট যার ভুল বেশি তার বর্ণনা বর্জনীয়, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। এটি সম্ভব যে, সে হলো ওই ব্যক্তি যার নির্ভুলতা কিছুটা কম (খফীফুদ দাবত), ফলে সে মুহাদ্দিসগণের নিকট গ্রহণযোগ্য কিন্তু তার বর্ণিত হাদিস তাদের নিকট সহিহ নয় বরং হাসান; আর উসুলবিদদের নিকট সে গ্রহণযোগ্য।
"আল-মনসুর বিল্লাহসহ একদল আলেম এটি প্রত্যাখ্যান করতে নিষেধ করেছেন," অর্থাৎ আব্দুল্লাহ ইবন হামজা, "কিন্তু তিনি বলেছেন যে, এটি কবুল করার পথ হলো ইজতিহাদ।" এটি স্পষ্ট যে, এ সবই হলো খবরে ওয়াহিদ এবং তা কবুল করার পথ হলো ইজতিহাদ, যা মূলত খবরে ওয়াহিদের মাধ্যমে আমল করার দলীলসমূহ নিয়ে পর্যালোচনা করা। সুতরাং উল্লিখিত শর্তের মাধ্যমে এই প্রকারকে বিশিষ্ট করার কারণ কী? অতঃপর এটিও স্পষ্ট যে, যখন রাবীর নির্ভুলতা এবং অনির্ভরযোগ্যতা সমান হয়ে যায়, তখন তার বর্ণনা কবুল করার অর্থ দাঁড়ায় সন্দেহের সাথেই তা কবুল করা, অথচ সন্দেহ অনুযায়ী আমল করা যায় না। যদি আল-মনসুর বিল্লাহর উদ্দেশ্য এটি হয় যে, যখন বর্ণনার সাথে এমন কিছু আলামত বা আনুষঙ্গিক প্রমাণ যুক্ত হয় যা মুজতাহিদের মনে তার সত্যতা সম্পর্কে প্রবল ধারণা সৃষ্টি করে, তবে সেটি মূলত এই সন্দেহপূর্ণ দিক থেকে জানা গেল না, বরং তার সাথে সংশ্লিষ্ট আলামতসমূহের দিক থেকে জানা গেল।
"যেমনটি ঈসা ইবন আবানের অভিমত," আলিফে ফাতাহ যোগে, "আল-মনসুর বিল্লাহ এটি উল্লেখ করেছেন" তার "আস-সাফওয়াহ" নামক গ্রন্থে এবং শেখ হাসান আর-রাসসাস তার পক্ষ থেকে এটি "আল-জাওহারাহ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। "অনুরূপভাবে ফকীহ আব্দুল্লাহ ইবন যাইদ" আল-আনসী "তা কবুল করার দিকে মত দিয়েছেন," অর্থাৎ যার নির্ভুলতা ও ভুলের পরিমাণ সমান তার বর্ণনা কবুল করার কথা বলেছেন।
আর তার এই বক্তব্য: "এবং তিনি এটি কবুল করার ব্যাপারে ইজমার দাবি করেছেন যদি তার নির্ভুলতা ভুলের চেয়ে বেশি হয়।" এখানে 'কবুল করা'র সর্বনামটিকে সেই রাবীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যার নির্ভুলতা ভুলের তুলনায় বেশি, যাতে ইজমার দাবিটি সঠিক হয়; এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যার উভয়টি সমান, যদিও তার ইবারত বা বাক্যরীতি অনুযায়ী সর্বনামটি সেদিকেই ফেরার দাবি রাখে কারণ আলোচনা তাকে নিয়েই হচ্ছে। আর "যদি তার নির্ভুলতা ভুলের চেয়ে বেশি হয়" এই কথাটিকে "তা কবুল করার দিকে মত দিয়েছেন" বাক্যটির জন্য শর্ত হিসেবে গণ্য করা সঠিক হবে না, কারণ এটি বিতর্কের মূল বিষয় নয়। কেননা বিতর্ক হলো সেই রাবীকে নিয়ে যার নির্ভুলতা ও ভুলের পরিমাণ সমান, তাকে নিয়ে নয় যার ভুল অত্যন্ত বেশি। কারণ ইতিপূর্বে তার এই কথার মর্মার্থ যে, উসুলবিদগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করেন যার ভুল নির্ভুলতার চেয়ে বেশি, এর দ্বারা বোঝা যায় যে যার নির্ভুলতা ভুলের চেয়ে বেশি সে তাদের নিকট প্রত্যাখ্যাত নয়। অনুরূপভাবে মুহাদ্দিসগণের নিকটও তা-ই, কারণ এটিই সবচেয়ে স্পষ্ট যে এর দ্বারা 'খফীফুদ দাবত' (স্বল্প নির্ভুলতাসম্পন্ন) রাবী উদ্দেশ্য যাদের হাদিসকে তারা 'হাসান' হিসেবে গণ্য করেছেন। আর একারণেই ফকীহ আব্দুল্লাহর নিকট এটি কবুল করার ব্যাপারে ইজমার দাবি করা সহজ হয়েছে। ফকীহ আব্দুল্লাহ "এই সব কিছুই 'আদ-দুরার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন" যা দুররাহ শব্দের বহুবচন এবং এটি উসুলুল ফিকহ বিষয়ে ফকীহ-এর একটি গ্রন্থ। তবে ফকীহ আব্দুল্লাহর "ইজমার দাবির বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে, যেহেতু মুহাদ্দিসগণ এর বিরোধিতা করেছেন।"
জেনে রাখুন যে, এখানে চারটি অবস্থা কল্পনা করা যায়:
প্রথমটি: পূর্ণ নির্ভুলতা (তামমুত দাবত)।
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الثانية: من تساوى ضبطه وعدمه.
الثالثة: من كان ضبطه أكثر من عدمه.
الرابعة: من عدم ضبطه أكثر من ضبطه.
وينضاف إليها صورتان:
الأولى: من قل غلطه.
والثانية: من كثر غلطه.
الأولى من الأربع بشرط الصحيح والخامسة شرط الحسن فإن قلة الضبط هي خفته والسادسة هي التي قال المصنف إنه يستحق صاحبها الترك عند المحدثين وأما من صوابه أكثر من خطائه وهي الصورة الثالثة فمفهوم كلام المصنف أن صاحبها مقبول عند الأصوليين ويحتمل أنها صورة خفة الضبط عند المحدثين فيكون مقبولا عندهم أيضا فأنا لم ترهم عينوا خفة الضبط برتبة يتميز بها عن غيره وعلى هذا فقد قبل المحدثون أهل هذه الصفة في رجال الحسن فلا يتم قول المنصف إن في دعوى الفقيه عبد الله الإجماع نظرا لمخالفة المحدثين فإن الفقيه عبد الله ادعى الإجماع على قبول من صوابه أكثر من خطائه وهو فيما يظهر لنا خفيف الضبط فيتم دعواه الإجماع على قبوله من الفريقين لكنه شرط للحسن والفقيه عبد الله إنما يتكلم على مجرد القبول لا على ما هو شرط الصحيح ويدل لذلك أن المحدثين جعلوا من القوادح في الراوي فحش غلطة أي كثرته وسوء حفظه وهو عبارة عمن يكون غلطة أكثر من إصابته هكذا ذكره الحافظ في النخبة وشرحها.
فالذي ذكر المحدثون أربع صور تام الضبط خفيفة كثير الغلط من غلطة أكثر من حفظه فالأوليان مقبول من اتصف بهما والأخريان مردود من اتصف بهما.
فعرفت أن قوله "إلا أن يعني إجماع الصحابة وإجماع غيرهم كما أشار إليه" لا حاجة إليه اللهم إلا أن يتبين أن المحدثين يفرقون بين من صوابه أكثر من خطائه وبين خفيف الضبط فيقبلون الثاني: في الحسن ويردون الأول صح ما قاله المصنف رحمه الله تعالى!
"وأما السلامة من الشذوذ والعلة" عطف على قوله "ولا بد من اشتراط الضبط" أي وأما اشتراط السلامة من الشذوذ والعلة أي في رسم الصحيح كما صنعه جماعة من أئمة الحديث "فقال الشيخ تقي الدين" هو العلامة التقي محمد ابن علي القشيري
দ্বিতীয়: যার নির্ভুলতা এবং নির্ভুলতার অভাব সমান।
তৃতীয়: যার নির্ভুলতা তার নির্ভুলতার অভাবের চেয়ে বেশি।
চতুর্থ: যার নির্ভুলতার অভাব তার নির্ভুলতার চেয়ে বেশি।
এর সাথে আরও দুটি অবস্থা যুক্ত করা হয়:
প্রথম: যার ভুল খুবই কম।
দ্বিতীয়: যার ভুল অনেক বেশি।
চারটির মধ্যে প্রথমটি হলো সহীহ হওয়ার শর্ত, এবং পঞ্চমটি হলো হাসান হওয়ার শর্ত; কেননা নির্ভুলতার স্বল্পতাই হলো তার শিথিলতা। ষষ্ঠ অবস্থাটি এমন যার ব্যাপারে লেখক বলেছেন যে, মুহাদ্দিসদের নিকট এর অধিকারী ব্যক্তি বর্জনীয় হওয়ার যোগ্য। আর যার সঠিকতা ভুলের চেয়ে বেশি—যা হলো তৃতীয় অবস্থা—লেখকের বক্তব্যের মর্মার্থ অনুযায়ী উসূলে ফিকহবিদদের নিকট তিনি গ্রহণযোগ্য। সম্ভাবনা আছে যে, এটিই মুহাদ্দিসদের নিকট নির্ভুলতার শিথিলতার অবস্থা, ফলে তাদের নিকটও তিনি গ্রহণযোগ্য হবেন। কারণ আমি তাদের এমন কোনো নির্দিষ্ট স্তর নির্ধারণ করতে দেখিনি যার মাধ্যমে এটি অন্যদের থেকে আলাদা করা যায়। এর ভিত্তিতে মুহাদ্দিসগণ হাসান হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে এই গুণসম্পন্ন ব্যক্তিদের গ্রহণ করেছেন। সুতরাং ফকীহ আবদুল্লাহর ঐকমত্যের দাবিতে মুহাদ্দিসদের বিরোধিতার কারণে লেখকের যে সংশয়, তা সঠিক নয়। কারণ ফকীহ আবদুল্লাহ ঐ ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতার ওপর ঐকমত্য দাবি করেছেন যার সঠিকতা ভুলের চেয়ে বেশি, এবং আমাদের কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো তিনি শিথিল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন। ফলে উভয় দলের নিকট তার গ্রহণযোগ্যতার ওপর করা ঐকমত্যের দাবিটি পূর্ণাঙ্গ হয়। তবে এটি হাসান হাদীসের জন্য শর্ত। ফকীহ আবদুল্লাহ কেবল সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কথা বলছেন, সহীহ হওয়ার শর্ত নিয়ে নয়। এর প্রমাণ হলো, মুহাদ্দিসগণ বর্ণনাকারীর দোষসমূহের মধ্যে অত্যধিক ভুল এবং মন্দ স্মৃতিশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আর এটি ঐ ব্যক্তির পরিচয় যার ভুল তার সঠিক হওয়ার চেয়ে বেশি। হাফিজ (ইবনে হাজার) নুখবাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই উল্লেখ করেছেন।
মুহাদ্দিসগণ যে চারটি অবস্থা উল্লেখ করেছেন তা হলো: পূর্ণাঙ্গ নির্ভুলতা, শিথিল নির্ভুলতা, অত্যধিক ভুলকারী এবং যার ভুল তার মুখস্থের চেয়ে বেশি। প্রথম দুটির অধিকারী ব্যক্তিগণ গ্রহণযোগ্য এবং শেষ দুটির অধিকারী ব্যক্তিগণ প্রত্যাখ্যাত।
সুতরাং আপনি বুঝতে পারলেন যে, তার এই উক্তি—"যদি না তিনি সাহাবীগণ এবং অন্যদের ঐকমত্যের কথা বুঝিয়ে থাকেন যেমনটি তিনি ইঙ্গিত করেছেন"—এর কোনো প্রয়োজন নেই। আল্লাহই ভালো জানেন, তবে যদি এটি স্পষ্ট হয় যে মুহাদ্দিসগণ ঐ ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য করেন যার সঠিকতা ভুলের চেয়ে বেশি এবং যার স্মৃতিশক্তি শিথিল, যেখানে তারা দ্বিতীয়জনকে হাসানের ক্ষেত্রে গ্রহণ করেন এবং প্রথমজনকে প্রত্যাখ্যান করেন—তবেই লেখক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) যা বলেছেন তা সঠিক হবে!
"আর বিচ্যুতি এবং সূক্ষ্ম ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া" অংশটি তার "স্মৃতিশক্তির শর্তারোপ অনিবার্য" কথার ওপর সংযোজিত। অর্থাৎ সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় বিচ্যুতি ও সূক্ষ্ম ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়ার শর্তারোপ করা, যেমনটি হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের একটি দল করেছেন। "শায়খ তাকীউদ্দীন বলেছেন"—তিনি হলেন আল্লামা তাকী মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-কুশাইরী।
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২০)
المعروف بابن دقيق العيد1 "في" كتابه المسمى "الاقتراح في هذين الشرطين نظر" أي في ذكرهما في رسم الصحيح "على مقتضى نظر الفقهاء" لا على مقتضى نظر أئمة الحديث وقد صرح بهذا المفهوم بقوله "إن أصحاب الحديث زادوا ذلك في حد الصحيح" "فإن كثيرا من العلل التي يعلل بها المحدثون لا تجري على أصول الفقهاء" فليست عندهم شرطا في صحة الحديث.
واعلم أن بعض المحدثين يردون الحديث بالعلل سواء كانت قادحة أو غير قادحة كما صرح به الحافظ ابن حجر في نكته على ابن الصلاح حيث قال وأما الفقهاء فلا يردونه إلا بالعلة القادحة كما ذكره الشيخ تقي الدين بقوله فإن كثيرا من العلل إلى قوله لا تجري على أصول الفقهاء2 فإن فيه ما يدل أن قليلا منها تجري على أصولهم وهي العلل القادحة لا غير القادحة.
قال الحافظ وأما العلل التي يعلل بها كثير من المحدثين ولا تكون قادحة أي عند الفقهاء فكثيرة منها أن يروي العدل الضابط عن تابعي مثله عن صحابي حديثا فيرويه عدل ضابط مثله مساو له في عدالته وضبطه وغير ذلك من الصفات العلية عن ذلك التابعي بعينه عن صحابي آخر فإن هذا يسمى علة عندهم أي المحدثين لوجود لوجود الاختلاف على ذلك التابعي في شيخه ولكنها غير قادحة لجواز أن يكون التابعي سمعه من الصحابيين معا ومن هذا جملة كثيرة انتهى.
قلت: كلام الشيختقي الدين تنظير على شرطي السلامة من الشذوذ من العلة ولم يبين وجه النظر إلا في اشتراط السلامة من العلة دون الشذوذ فالعلة قاصرة عن المدعي ثم لا يخفى أنه قد حصل مما ذكر أن اصطلاح الفقهاء في صحة الحديث غير اصطلاح المحدثين إذ المحدثون يشترطون خلوه من العلة مطلقا والفقهاء يشترطون خلوه من العلة القادحة فهو اصطلاحهم أخص منه باصطلاح الفقهاء وإذا كان كذلك فلا يتم جمع الخاص والعام في رسم واحد فاعتراض الشيخ تقي الدين على رسم المحدثين بأنه غير موافق لاصطلاح الفقهاء غير وارد بل لا بد من مخالفة الرسمين.
--------------------------------------------
ইবনে দাকীক আল-ঈদ১ হিসেবে পরিচিত আল-তাকি আল-কুশায়রী তাঁর 'আল-ইকতিরাহ' নামক গ্রন্থে বলেছেন, "এই দুটি শর্তের ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে," অর্থাৎ সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় এই দুটি বিষয়ের (শায ও ইল্লাত থেকে মুক্ত থাকা) উল্লেখ করা "ফকীহগণের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী" হয়েছে, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী নয়। তিনি এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে বলেছেন, "হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় এটি বৃদ্ধি করেছেন।" কারণ, "হাদীস বিশারদগণ যে সকল সূক্ষ্ম ত্রুটির (ইল্লাত) কারণে হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত বলেন, তার অনেকগুলোই ফকীহগণের মূলনীতির আলোকে কার্যকর হয় না।" সুতরাং তাঁদের নিকট হাদীস সহীহ হওয়ার জন্য এগুলো শর্ত নয়।
জেনে রাখুন যে, কিছু হাদীস বিশারদ সূক্ষ্ম ত্রুটির কারণে হাদীস প্রত্যাখ্যান করেন, তা ক্ষতিকারক হোক বা না হোক। যেমন হাফেজ ইবনে হাজার 'ইবনে আস-সালাহ'-এর গ্রন্থের ওপর তাঁর লিখিত টীকা 'আন-নুকাত'-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, পক্ষান্তরে ফকীহগণ কেবল ক্ষতিকারক ত্রুটির (ইল্লাতুল কাদিহাহ) কারণেই হাদীস প্রত্যাখ্যান করেন। যেমনটি শেখ তাকিউদ্দীন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন: "কেননা অনেক সূক্ষ্ম ত্রুটি..." থেকে "ফকীহগণের মূলনীতির আলোকে কার্যকর হয় না"২ পর্যন্ত। এতে এমন ইঙ্গিত রয়েছে যে, সেগুলোর মধ্যে খুব অল্প কিছু ত্রুটি তাঁদের মূলনীতির আলোকে গণ্য হয়, আর সেগুলো হলো ক্ষতিকারক ত্রুটি, অ-ক্ষতিকারক ত্রুটি নয়।
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন, আর এমন অনেক সূক্ষ্ম ত্রুটি রয়েছে যেগুলোর কারণে অনেক হাদীস বিশারদ হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত বলেন কিন্তু সেগুলো ফকীহগণের নিকট ক্ষতিকারক নয়। এর অনেক উদাহরণের মধ্যে একটি হলো: একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (আদল দ্বাবিত) বর্ণনাকারী তাঁর সমপর্যায়ের একজন তাবেয়ীর সূত্রে একজন সাহাবী থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। এরপর তাঁরই সমপর্যায়ের অপর একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন বর্ণনাকারী—যিনি বিশ্বস্ততা ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতায় এবং অন্যান্য উচ্চগুণাবলীতে তাঁর সমতুল্য—সেই একই তাবেয়ীর সূত্রে অন্য একজন সাহাবী থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেন। হাদীস বিশারদগণের নিকট এটি একটি 'ইল্লাত' বা সূক্ষ্ম ত্রুটি হিসেবে গণ্য, কারণ সেই তাবেয়ীর উস্তাদের ব্যাপারে মতপার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ফকীহগণের নিকট এটি ক্ষতিকারক নয়, কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে উক্ত তাবেয়ী উভয় সাহাবীর নিকট থেকেই হাদীসটি শুনেছেন। এই জাতীয় প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। সমাপ্ত।
আমি বলি: শেখ তাকিউদ্দীনের বক্তব্যটি 'শায' (বিসংগতি) ও 'ইল্লাত' (সূক্ষ্ম ত্রুটি) থেকে মুক্ত থাকার শর্তদ্বয়ের ওপর একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা। তবে তিনি 'ইল্লাত' থেকে মুক্ত থাকার শর্তের ব্যাপারে আপত্তির কারণ স্পষ্ট করলেও 'শায' বা বিসংগতির বিষয়টি স্পষ্ট করেননি। ফলে তাঁর দাবি অনুযায়ী 'ইল্লাত'-এর বিষয়টি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। অধিকন্তু, এটি স্পষ্ট যে সহীহ হাদীসের ক্ষেত্রে ফকীহগণের পরিভাষা এবং হাদীস বিশারদগণের পরিভাষা এক নয়। কেননা হাদীস বিশারদগণ হাদীসটি সাধারণভাবে যে কোনো সূক্ষ্ম ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া শর্ত হিসেবে গণ্য করেন, আর ফকীহগণ কেবল ক্ষতিকারক ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া শর্ত মনে করেন। সুতরাং হাদীস বিশারদগণের পরিভাষা ফকীহগণের পরিভাষার তুলনায় অধিক সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন সাধারণ ও বিশেষ (আম ও খাস) বিষয়কে একটি সংজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং হাদীস বিশারদগণের সংজ্ঞার ওপর শেখ তাকিউদ্দীনের এই আপত্তি—যে এটি ফকীহগণের পরিভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—তা গ্রহণযোগ্য নয়। বরং উভয় সংজ্ঞার মধ্যে ভিন্নতা থাকা অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২১)
لاختلاف الاصطلاحين.
"قال ابن الصلاح": هو كما قال الذهبي في التذكرة الإمام الحافظ المفتي شيخ الإسلام تقي الدين أبو عمرو عثمان الشهرزوري الشافعي صاحب كتاب علوم الحديث وقال أبو حفص بن الحاجب في معجمه إمام ورع وافر العقل حسن السمت متبحر في الأصول والفروع بارع في الطب وأثنى عليه الذهبي كثيرا ولد سنة سبع وسبعين وخمسمائة قال بان خلكان كان أوحد فضلاء عصره في التفسير والفقه "وزين الدين" هو العلامة الحافظ عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن العراقي البغدادي كان إماما علامة مقرئا فقيها شافعي المذهب أصوليا منقطع القرين في فنون الحديث وصناعته ارتحل فيه إلى البلاد النائية وشهدت له بالتفرد فيه أئمة عصره وعولوا عليه ولى قضاء المدينة نحو ثلاث سنين وسلوك وانتفع به الأجلاء مع الزهد والورع والتحري في الطهارة وغيرها والتقنع باليسير التواضع والكرم والوفاء أفرد ابنه له ترجمة في تأليف مات في شعبان سنة ست وثمانمائة عن إحدى وثمانين سنة ذكره الحافظ السخاوي في "شرح الألفية"1 "فالصحيح ما اتصل سنده بنقل عدل ضابط عن مثله من غير شذوذ ولا علة قادحة" ظاهره أن هذا رسم ابن الصلاح والزين بلفظه والذي رسمه ابن الصلاح، ليس فيه لفظ قادحة بل لفظه كما قدمنا بعضه وتمامه "وأن لا يكون شاذا ولا معللا".
وأما الزين فإنه زاد وصف العلة بالقادحة في رسمه فكأن المصنف أراد أن هذا الرسم مجموع رسميهما وإن ذكر أحدهما ما لم يذكره الآخر لكن عرفت أن الرسم على اصطلاح المحدثين إذ هذه الكتب ألف في بيان اصطلاح وعرفت أنهم يشترطون في الصحيح السلامة من العلة مطلقا فزيادة القادحة في وصف العلة زيادة قادحة في صحة الرسم على أصلهم فحذف ابن الصلاح لها هو الصواب وإثبات الشيخ زين الدين لها صير رسمه على اصطلاح الفقهاء وهو بصدد بيان اصطلاح المحدثين نعم قال ابن الصلاح: في بيان فوائد قيود حده إنه احترز عما فيه علة قادحة يريد أنه وقع الاحتراز عن هذا بقوله "معللا". ومراده قادحة على رأي المحدثين وإن لم تكن قادحة عند الفقهاء بدليل أنه مثل في النوع الثامن عشر في بحث
--------------------------------------------
পরিভাষাদ্বয়ের পার্থক্যের কারণে।
"ইবনুল সালাহ বললেন": তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, মুফতি, শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিঈ, 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থের রচয়িতা, যেমনটি আজ-জাহাবি 'আত-তাজকিরা' গ্রন্থে বলেছেন। আবু হাফস ইবনুল হাজিব তার 'মু'জাম' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি ছিলেন একজন মুত্তাকি ইমাম, অত্যন্ত বুদ্ধিমান, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা) শাস্ত্রে সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী এবং চিকিৎসাশাস্ত্রে পারদর্শী। আজ-জাহাবি তার অনেক প্রশংসা করেছেন। তিনি পাঁচশত ৭৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি তার যুগের তাফসির ও ফিকহ শাস্ত্রের অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। "যাইনুদ্দীন" হলেন আল্লামা হাফিজ আবদুর রহিম ইবনুল হুসাইন ইবনে আবদুর রহমান আল-ইরাকি আল-বাগদাদি। তিনি ছিলেন ইমাম, মহাজ্ঞানী, ক্বারি, ফকিহ, শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী এবং উসুলবিদ; হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা এবং এর কারিগরি বিষয়ে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তিনি হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে দূরদেশ ভ্রমণ করেছেন। তার সমসাময়িক ইমামগণ তার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তার ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি প্রায় তিন বছর মদিনার বিচারপতির (কাজী) দায়িত্ব পালন করেন। তার জীবন ছিল পরিচ্ছন্ন এবং জাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), পরহেজগার, পবিত্রতা অর্জনে অতীব সতর্ক এবং অল্পে তুষ্ট। তিনি বিনয়ী, দানশীল ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ছিলেন। তার পুত্র একটি পৃথক গ্রন্থে তার জীবনী রচনা করেছেন। তিনি আটশত ছয় হিজরির শাবান মাসে একাশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। হাফিজ আস-সাখাভি 'শারহুল আলফিয়্যাহ' গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন।১ "সহিহ হাদিস হলো যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন, যা একজন ন্যায়নিষ্ঠ ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারী তার সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী থেকে বর্ণনা করেছেন, যাতে কোনো প্রকার শায (বিচ্যুতি) বা ক্ষতিকর ত্রুটি নেই।" বাহ্যিকভাবে মনে হয় যে এটি ইবনুল সালাহ এবং যাইনুদ্দীনের প্রদত্ত শব্দ অনুযায়ী সংজ্ঞা। তবে ইবনুল সালাহ যে সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন তাতে 'ক্ষতিকর' (কাদিহাহ) শব্দটি নেই। বরং তার সংজ্ঞাটি ঠিক তেমনই যেমনটি আমরা আগে কিছু অংশ উল্লেখ করেছি এবং তার পূর্ণরূপ হলো: "এবং তা যেন শায (বিচ্যুত) বা ত্রুটিযুক্ত না হয়।"
আর যাইনুদ্দীন তার সংজ্ঞায় ত্রুটির বর্ণনায় 'ক্ষতিকর' (কাদিহাহ) বিশেষণটি যোগ করেছেন। ফলে মনে হয় যে লেখক এই সংজ্ঞাটিকে তাদের উভয়ের সংজ্ঞার সমষ্টি হিসেবে উল্লেখ করতে চেয়েছেন, যদিও একজন এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা অন্যজন করেননি। তবে আপনি জানেন যে, এই সংজ্ঞাটি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী। কারণ এই গ্রন্থগুলো পরিভাষা বর্ণনার জন্যই রচিত হয়েছে। আর আপনি এও জানেন যে, মুহাদ্দিসগণ হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য সাধারণভাবে সকল প্রকার ত্রুটি (ইল্লাত) থেকে মুক্ত থাকাকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। তাই ত্রুটির বর্ণনায় 'ক্ষতিকর' (কাদিহাহ) শব্দটি যোগ করা তাদের মূলনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞার নির্ভুলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সুতরাং ইবনুল সালাহ কর্তৃক এই শব্দটি বর্জন করাই সঠিক ছিল। আর শাইখ যাইনুদ্দীন কর্তৃক এটি অন্তর্ভুক্ত করা তার সংজ্ঞাকে ফকিহদের পরিভাষা অনুযায়ী করে দিয়েছে, অথচ তিনি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা বর্ণনা করছিলেন। হ্যাঁ, ইবনুল সালাহ তার সংজ্ঞার শর্তাবলির উপযোগিতা বর্ণনায় বলেছেন যে, তিনি এর মাধ্যমে ক্ষতিকর ত্রুটি থেকে সতর্ক করেছেন। এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, "ত্রুটিযুক্ত" (মু'আল্লাল) শব্দটির মাধ্যমেই এটি অর্জিত হয়েছে। তার উদ্দেশ্য হলো মুহাদ্দিসগণের মতে যা ক্ষতিকর, যদিও ফকিহগণের নিকট তা ক্ষতিকর না হয়। এর প্রমাণ হলো তিনি আঠারোতম প্রকারের আলোচনায় উদাহরণ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২২)
المعلل بأمثلة يقدح بها المحدثون ولا يقدح بها الفقهاء وسيأتي.
وبهذا تعرف أن وصفه للعلة بالقادحة عند بيان القيود وإهمالها في الرسم بيان منه لما عليه المحدثون فإن العلة تقدح عندهم في صحة الحديث وإن لم تقدح عند غيرهم فحذف وصفها بالقادحة في الرسم لأن ألفاظه إنما يؤتى بها للاحتراز والجمع والمنع فلو أتى بقيد القادحة في الرسم لحمل رسمه على اصطلاح الفقهاء فإنه يحترز به عن العلة التي ليست بقادحة عندهم وأتى به في بيان فوائد القيود وصفا كاشفا لا تحترز به عن شيء وبه تعرف أن وصف العلة بالقادحة عند الفقهاء احتراز عن علة لا يقدح بها وأن وصفها في لسان المحدثين إنما هو للكشف لا للاحتراز.
وقلنا في نظمنا للنخبة في رسم الصحيح:
وهو بنقل العدل ذي التمام
…في ضبط ما يروى عن الأعلام
منصلا إسناد ما يرويه
…لا علة ولا شذوذ فيه
يدعي الصحيح في العلوم عرفا
فهذا كما ترى جامع مانع على اصطلاح أئمة الحديث.
وبهذا التحقيق تعلم أن اعتراض الشيخ تقي الدين ليس في محله وتعرف أن قول ابن حجر في جوابه عن اعتراضه إن ابن الصلاح لم يخل بذلك القيد بل قوله في الرسم ولم يكن معللا يريد علة خفيه قادحة مستدلا برسمه للحديث المعلل على اصطلاح المحدثين حيث قال: "أنه الحديث الذي اطلع في إسناده على علة خفيه قادحة" غير صحيح لأنه لم يرد بوصف العلة بالقادحة في رسم العلل إلا القادحة عند المحدثين ولا مفهوم لها بل هي وصف كاشف وتعرف إتقان ابن الصلاح في رسمه وجريه على اصطلاح أئمة الحديث من غير ملاحظة لاصطلاح غيرهم.
وقد حذف المصنف في مختصره من رسم الصحيح قيد القادحة فهو غير موافق لما قررناه هنا فتأمل وتعرف أنه كان يحسن من المصنف تأخير كلام الشيخ تقي الدين وأن يفرد عبارة ابن الصلاح ثم يورد عقبيها اعتراض الشيخ تقي الدين فإنه اعتراض لرسم ابن الصلاح.
"قال الشيخ تقي الدين: لو قيل هذا" أي الرسم الذي ذكره ابن الصلاح وزين الدين رسم "الحديث الصحيح المجمع على صحته لكان" قولا "حسنا لأن من لا يشترط هذه الشروط لا يحصر الصحيح في هذه الأوصاف" يريد أنه لو قيل إن رسم ابن الصلاح
মুআল্লাল এমন সব উদাহরণ দ্বারা যা মুহাদ্দিসগণের নিকট ক্ষতিকর ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়, কিন্তু ফকীহগণের নিকট তা ক্ষতিকর নয় এবং এটি সামনে আসবে।
এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, শর্তাবলি বর্ণনার সময় তাঁর পক্ষ থেকে ইল্লতকে (ত্রুটি) ‘কাদিহাহ’ (ক্ষতিকর) হিসেবে গুণান্বিত করা এবং সংজ্ঞায় (রাসম) তা বাদ দেওয়া মূলত মুহাদ্দিসগণের অবস্থানেরই প্রতিফলন। কারণ ইল্লত বা ত্রুটি তাঁদের নিকট হাদীসের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর হিসেবে গণ্য হয়, যদিও অন্যদের নিকট তা ক্ষতিকর না-ও হতে পারে। ফলে তিনি সংজ্ঞায় ‘কাদিহাহ’ বিশেষণটি বাদ দিয়েছেন, কারণ সংজ্ঞার শব্দাবলি মূলত বর্জন, অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যকে প্রতিরোধের জন্যই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তিনি যদি সংজ্ঞায় ‘কাদিহাহ’ শর্তটি উল্লেখ করতেন, তবে তাঁর সংজ্ঞাটি ফকীহগণের পরিভাষার অনুকূলে চলে যেত; কারণ তাঁরা এর মাধ্যমে ওই ত্রুটি থেকে বাঁচতে চান যা তাঁদের নিকট ক্ষতিকর নয়। আর তিনি শর্তাবলির উপকারিতা বর্ণনার ক্ষেত্রে একে একটি বিবরণমূলক বিশেষণ হিসেবে এনেছেন যা দিয়ে কোনো কিছু বর্জন করা উদ্দেশ্য নয়। এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন যে, ফকীহগণের পরিভাষায় ইল্লতকে ‘কাদিহাহ’ বলা হলো এমন ত্রুটি থেকে বারণ করা যা ক্ষতি করে না, আর মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় তা কেবল বিবরণমূলক, বর্জনমূলক নয়।
আর আমি নুখবাহ-এর কাব্যানুবাদে সহীহ হাদীসের সংজ্ঞায় বলেছি:
এটি হলো পূর্ণ ইনসাফসম্পন্ন বর্ণনাকারীর বর্ণনা
…বিশিষ্ট ইমামদের থেকে বর্ণিত বিষয়ের সংরক্ষণের ক্ষেত্রে
সনদটি হবে নিরবচ্ছিন্নভাবে যা তিনি বর্ণনা করেন
…তাতে কোনো ত্রুটি ও বিচ্যুতি থাকবে না
জ্ঞানবিদ্যার পরিভাষায় একেই সহীহ বলা হয়
সুতরাং এটি আপনি যেমনটি দেখছেন, হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের পরিভাষা অনুযায়ী একটি সংগতিপূর্ণ ও যথাযথ সংজ্ঞা।
এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন যে, শায়খ তাকীউদ্দীনের আপত্তিটি সঠিক স্থানে নয়। এবং আপনি জানতে পারবেন যে, ইবনে হাজার তাঁর আপত্তির উত্তরে যা বলেছেন যে—ইবনে সালাহ সেই শর্তটি বাদ দেননি, বরং সংজ্ঞায় তাঁর কথা ‘তা মুআল্লাল (ত্রুটিযুক্ত) হবে না’ বলতে তিনি মূলত এমন সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর ত্রুটি উদ্দেশ্য করেছেন; যা তিনি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী মুআল্লাল হাদীসের সংজ্ঞায় দলিল হিসেবে পেশ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: “এটি এমন হাদীস যার সনদে কোনো সূক্ষ্ম ও ক্ষতিকর ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়”—তা সঠিক নয়। কারণ তিনি ইল্লতের সংজ্ঞায় ‘কাদিহাহ’ বিশেষণটি দ্বারা মুহাদ্দিসগণের নিকট যা ক্ষতিকর তা ছাড়া অন্য কিছু বুঝাতে চাননি এবং এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেই, বরং এটি কেবল একটি বিবরণমূলক বিশেষণ। এর মাধ্যমে আপনি ইবনে সালাহ-এর সংজ্ঞার নিখুঁত হওয়া এবং অন্যদের পরিভাষার দিকে লক্ষ্য না করে কেবল হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণের পরিভাষার অনুসরণ সম্পর্কে জানতে পারবেন।
লেখক তাঁর সংক্ষিপ্তসারে সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা থেকে ‘কাদিহাহ’ শর্তটি বাদ দিয়েছেন, যা আমরা এখানে যা সাব্যস্ত করেছি তার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। সুতরাং এটি নিয়ে চিন্তা করুন। আপনি এটিও বুঝতে পারবেন যে, লেখকের জন্য শায়খ তাকীউদ্দীনের কথাটি পরে আনা এবং ইবনে সালাহ-এর বক্তব্যকে পৃথকভাবে উল্লেখ করে তার পরপরই শায়খ তাকীউদ্দীনের আপত্তিটি উল্লেখ করা অধিকতর উত্তম হতো; কারণ এটি মূলত ইবনে সালাহ-এর সংজ্ঞার ওপর একটি আপত্তি।
“শায়খ তাকীউদ্দীন বলেছেন: যদি এটি বলা হতো”—অর্থাৎ ইবনে সালাহ এবং যায়নুদ্দীন যে সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন—“যে এটি এমন সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা যার বিশুদ্ধতার ওপর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তবে তা হতো” একটি “উত্তম কথা। কারণ যারা এই শর্তগুলো আরোপ করেন না, তাঁরা সহীহ হাদীসকে কেবল এই গুণাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেন না।” তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, যদি বলা হতো ইবনে সালাহ-এর সংজ্ঞা...
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الذي سبق اعتراضه له رسم للحديث الصحيح المتفق على صحته لكان حسنا لأن من العلماء من لا يشترط ما ذكر من الشروط فيما يجعله صحيحا فيكون هذا صحيحا عنده لأنه حوى ما شرطه وزيادة "ومن شرط الحد الجمع" لأفراد المحدود "والمنع" لدخول غيرها في، "فقال ابن الصلاح1: هذا صحيح باتفاق أهل الحديث" قلت: ذلك لأنه قد جمع القيود المعتبرة عند أئمة الحديث وهي ثلاثة ثبوتية وهي اتصال السند وعدالة الناقل وضبطه وقيدان عدميان هما عدم الشذوذ والعلة فهذه الخمسة هي المعتبرة في حقيقة الصحيح عند المحدثين لكن تقييده هنا للعلة بالقادحة أخرج منه بعض أفراد الصحيح وهو ما فيه علة غير قادحة فإنه غير صحيح عند المحدثين كما عرفت.
فقوله: "صحيح باتفاق المحدثين" مسلم لكنه غير جماع لخروج بعض أفراد الصحيح منه عندهم كما عرفت وقد قال الشيخ تقي الدين "من شرط الحد الجمع والمنع" وهذا الحد قد جمع أفراد المحدود ومنع ما عندها وإن خرج منه بعض أفراد الصحيح أئمة الحديث وتسمية مثل هذه الرسوم حدودا لا يتم على اصطلاح أهل الميزان فهو من باب التسامح في ذلك.
ويحتمل أن يراد بقوله: "ومن شرط الحد
… إلى آخره" الاعتراض على الحد بأنه لم يشمل كل أفراد الصحيح على اصطلاح الفقهاء فلم يكن جامعا فإن أراد هذا فجوابه ما سلف أنه بصدد رسمه على اصطلاح المحدثين ومعناه أخص من معناه عند الفقهاء ولا يتم جمع الأخص والأعم في حد.
وقد أفصح ابن الصلاح عن مراده من بيان معناه عند الفقهاء بما نقله عنه المصنف من قوله "فقال ابن الصلاح: هذا صحيح باتفاق أهل الحديث" ولفظ ابن الصلاح فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة بلا خلاف بين أهل الحديث انتهى فتسامح الزين في عبارته ولم ينقلها بلفظها وتبعه المصنف ثم رأيت بعد ككتب هذا بأيام في "شرح الإلمام" لابن دقيق العيد المتن والشرح له ما لفظه إن لكل من أئمة الفقه والحديث طريقا غير طريق الآخر فإن الذي تقضيه قواعد الأصول والفقه أن العمدة في تصحيح الحديث عدالة الراوي وجزمه بالرواية ونظرهم يميل إلى اعتبار التجويز الذي يمكن
--------------------------------------------
যার ওপর ইতিপূর্বে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে, তাঁর কাছে যদি সহিহ হাদিসের এমন কোনো সংজ্ঞা থাকত যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সকলে একমত, তবে তা উত্তম হতো। কারণ আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাঁরা একে সহিহ সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে উল্লিখিত শর্তাবলিকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন না। ফলে এটি তাঁর কাছে সহিহ বলে গণ্য হবে, কারণ এতে তাঁর শর্তারোপিত বিষয়গুলো এবং তার অতিরিক্তও বিদ্যমান রয়েছে। "আর সংজ্ঞার শর্ত হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সকল একককে অন্তর্ভুক্ত করা (জামে‘)" এবং "অন্যান্য বিষয়কে এর ভেতরে প্রবেশ করা থেকে প্রতিহত করা (মানে‘)"। "অতঃপর ইবনুস সালাহ ১ বলেন: এটি হাদিস শাস্ত্রবিদদের সর্বসম্মত মতে সহিহ।" আমি বলি: এটি এই কারণে যে, এতে হাদিসের ইমামগণের নিকট স্বীকৃত সীমাবদ্ধতাগুলো একত্রিত করা হয়েছে। আর তা হলো তিনটি ইতিবাচক: সনদের ধারাবাহিকতা, বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা ও তাঁর নির্ভুলতা; এবং দু’টি নেতিবাচক: ‘শুজুজ’ (বিচ্যুতি) না থাকা এবং ‘ইল্লাত’ (ত্রুটি) না থাকা। এই পাঁচটি বিষয়ই মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ হাদিসের প্রকৃত স্বরূপ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এখানে তিনি ইল্লাত বা ত্রুটিকে ‘ক্ষতিকর’ (কাদিহাহ) হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ করার ফলে সহিহ হাদিসের কিছু প্রকার এর বাইরে চলে গেছে। আর তা হলো এমন হাদিস যাতে অ-ক্ষতিকর ত্রুটি রয়েছে; কারণ তা মুহাদ্দিসগণের নিকট সহিহ নয়, যেমনটি আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন।
সুতরাং তাঁর কথা: "মুহাদ্দিসগণের ঐকমত্যে সহিহ" এটি স্বীকৃত, কিন্তু তা ‘জামে‘ (সর্বব্যাপী) নয়; কারণ তাঁদের নিকট সহিহ হাদিসের কিছু প্রকার এর থেকে বের হয়ে গেছে, যেমনটি আপনি জেনেছেন। আর শাইখ তাকিউদ্দীন বলেছেন: "সংজ্ঞার শর্ত হলো অন্তর্ভুক্ত করা (জামে‘) এবং প্রতিহত করা (মানে‘)।" আর এই সংজ্ঞাটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের এককগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্যদের প্রতিহত করেছে, যদিও মুহাদ্দিসগণের ইমামদের নিকট সহিহ হাদিসের কিছু প্রকার এর থেকে বেরিয়ে গেছে। এ ধরনের গুণাবলি বা বর্ণনাকে ‘হদ্দ’ বা পারিভাষিক সংজ্ঞা হিসেবে অভিহিত করা যুক্তিবিদদের পরিভাষা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ হয় না; বরং এটি এই ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শনের অন্তর্ভুক্ত।
আর সম্ভাবনা আছে যে, তাঁর কথা "সংজ্ঞার শর্ত হলো
... শেষ পর্যন্ত" দ্বারা সংজ্ঞার ওপর এই আপত্তি করা উদ্দেশ্য যে, এটি ফকিহগণের পরিভাষা অনুযায়ী সহিহ হাদিসের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করেনি, ফলে তা ‘জামে‘ হয়নি। যদি তিনি এটিই উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে এর উত্তর আগে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি এটি মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত করছেন, আর এর অর্থ ফকিহগণের নিকট প্রচলিত অর্থের চেয়ে অধিকতর সুনির্দিষ্ট। আর একই সংজ্ঞায় সাধারণ (আম) এবং সুনির্দিষ্ট (খাস) বিষয়কে একত্রিত করা পূর্ণাঙ্গ হয় না।
ইবনুস সালাহ ফকিহগণের নিকট এর অর্থের বর্ণনায় তাঁর উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করেছেন যা গ্রন্থকার তাঁর থেকে উদ্ধৃত করেছেন তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "ইবনুস সালাহ বলেছেন: এটি হাদিস শাস্ত্রবিদদের সর্বসম্মত মতে সহিহ।" আর ইবনুস সালাহ-এর প্রকৃত শব্দগুলো হলো: "সুতরাং এটিই সেই হাদিস যা হাদিস শাস্ত্রবিদদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই সহিহ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। যাইন তাঁর অভিব্যক্তিতে শিথিলতা দেখিয়েছেন এবং এর মূল শব্দগুলো হুবহু নকল করেননি, আর গ্রন্থকারও তাঁকে অনুসরণ করেছেন। অতঃপর এটি লেখার কয়েকদিন পর ইবনু দাকীকুল ঈদের ‘শারহুল ইলমাম’ (যার মূল পাঠ এবং ব্যাখ্যা উভয়ই তাঁর নিজের)-এ আমি দেখলাম যার বক্তব্য হলো: "নিশ্চয়ই ফিকহ এবং হাদিসের ইমামগণের প্রত্যেকের জন্য অন্যের পথ থেকে ভিন্ন পথ রয়েছে। কেননা উসুল এবং ফিকহের মূলনীতি যা দাবি করে তা হলো, হাদিস সহিহ করার ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সুনিশ্চিত হওয়া; আর তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্ভবপরতাকে বিবেচনার দিকে ঝুঁকে থাকে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
معه صدق الراوي وعدم غلطه فمتى حصل ذلك وجاز أن لا يكون غلطا وأمكن الجمع بين روايته ورواية من خالفه بوجه من الوجوه الجائزة لم يترك حديثه فأما أهل الحديث فإنهم قد يروون الحديث من رواية الثقات العدول ثم تقوم لهم علل تمنعهم عن الحكم بصحته انتهى كلامه بنصه وهو صريح في اختلاف الاصطلاحين في مسمى الصحيح من الحديث كما قررناه والحمد لله.
واعلم أن ابن الصلاح قال في كتابه "علوم الحديث": "أما الحديث الصحيح فهو الحديث المسند الذي يتصل بإسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه ولا يكون شاذا ولا معللا" ثم قال: "فهذا الحديث الذي تحكم له بالصحة بلا خلاف بين المحدثين" انتهى كلامه بلفظه.
إذا عرفت هذا عرفت أن تعريف ابن الصلاح جامع مانع على رأي أهل الحديث كما قررناه ولكن المصنف لما أتى بالتعريف الذي نسبه إلى ابن الصلاح والزين وفيه تقييد العلة بالقادحة فخرج بزيادتها عن أن يكون جامعا على رأي المحدثين كما عرفناك.
ثم قال ابن الصلاح:: "فهذا هو الحديث
… إلى آخره" مشيرا إلى رسمه فكلامه صحيح وحده جامع مانع على رأي المحدثين فالخلل وقع من نسبة المصنف الحد الذي أتى به إلى الزين وابن الصلاح وزيادة "قادحة" للزين فقط وعرفت أن قول المصنف فقال ابن الصلاح: هذا صحيح نقل لكلام ابن الصلاح بالمعنى على أنه إنما أشار بهذا إلى الحديث حيث قال فهذا الحديث الذي نحكم له بالصحة وعبارة المصنف رحمه الله تعالى قاضية بأن الإشارة إلى الحد الذي ذكره هو.
"قال زين الدين: إنما قيد" أي ابن الصلاح "نفى الخلاف بأهل الحديث لأن في المعتزلة من يشترط العدد1" أي زيادة عدد الرواة على الواحدة "حكاه الحازمي" هو الأمام الحافظ البارع النسابة أبو بكر محمد بن موسى بن حازم الهمذاني أثنى على الذهبي وذكر له عدة مؤلفات منها الناسخ والمنسوخ في الحديث وعدله أشياء غير ذلك2 "في شروط الأئمة" لفظ الزين في شرح ألفيته بعد نقل كلام ابن الصلاح إنما قيد نفي
--------------------------------------------
তার সাথে বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতা এবং তার ভুল না হওয়ার বিষয়টি জড়িত। যখন এটি অর্জিত হয় এবং এটি ভুল না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর তার বর্ণনা এবং তার বিরোধিতাকারীর বর্ণনার মধ্যে গ্রহণযোগ্য কোনো উপায়ে সমন্বয় করা সম্ভব হয়, তখন তার বর্ণিত হাদিস বর্জন করা হয় না। কিন্তু হাদিস শাস্ত্রবিদদের অবস্থা হলো, তারা বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারীদের সূত্র থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, অতঃপর তাদের নিকট এমন কিছু সূক্ষ্ম ত্রুটি প্রকাশ পায় যা তাদেরকে উক্ত হাদিসকে সহিহ বলার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে। তার বক্তব্য হুবহু শেষ হলো। এটি হাদিসের 'সহিহ' নামকরণের ক্ষেত্রে উভয় পরিভাষার পার্থক্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট, যেমনটি আমরা সাব্যস্ত করেছি। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
আর জেনে রাখুন যে, ইবনে আস-সালাহ তার "উলুমুল হাদিস" গ্রন্থে বলেছেন: "সহিহ হাদিস হলো সেই মুসনাদ হাদিস যা নিরবচ্ছিন্ন সনদে একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল বর্ণনাকারী থেকে অপর একজন ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভুল বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং তা শায (অস্বাভাবিক) ও ত্রুটিযুক্ত নয়।" অতঃপর তিনি বলেছেন: "এটিই সেই হাদিস যার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই সহিহ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়।" তার বক্তব্য আক্ষরিকভাবে শেষ হলো।
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, ইবনে আস-সালাহ-এর সংজ্ঞাটি মুহাদ্দিসগণের মতানুসারে পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনকারী, যেমনটি আমরা সাব্যস্ত করেছি। কিন্তু গ্রন্থকার যখন এমন সংজ্ঞা নিয়ে আসলেন যা তিনি ইবনে আস-সালাহ এবং যায়নুদ্দিনের দিকে নিসবত করেছেন এবং সেখানে ত্রুটিকে 'ক্ষতিকর' হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন, তখন এই অতিরিক্ত সংযোজনের কারণে তা মুহাদ্দিসগণের মতানুসারে পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা হওয়া থেকে বেরিয়ে গেছে, যা আমরা আপনাকে জানিয়েছি।
অতঃপর ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: "এটিই সেই হাদিস
… শেষ পর্যন্ত" এর মাধ্যমে তিনি এর রূপরেখার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। সুতরাং তার কথা সঠিক এবং তার সংজ্ঞা মুহাদ্দিসগণের নিকট পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনকারী। মূল ত্রুটিটি ঘটেছে গ্রন্থকারের পক্ষ থেকে, তিনি যে সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন তা যায়নুদ্দিন ও ইবনে আস-সালাহ-এর দিকে নিসবত করেছেন এবং 'ক্ষতিকর' শব্দটি কেবল যায়নুদ্দিনের জন্য অতিরিক্ত ছিল। আপনি আরও জেনেছেন যে, গ্রন্থকারের উক্তি "ইবনে আস-সালাহ বলেছেন: এটি সহিহ" এটি ইবনে আস-সালাহ-এর বক্তব্যের মর্মার্থের বর্ণনা। কারণ তিনি এর দ্বারা কেবল সেই হাদিসের দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন যেখানে তিনি বলেছিলেন "এটিই সেই হাদিস যার সহিহ হওয়ার ফয়সালা আমরা করি"। অথচ গ্রন্থকার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, এই ইঙ্গিতটি তার বর্ণিত সংজ্ঞার দিকেই।
"যায়নুদ্দিন বলেছেন: তিনি কেবল সীমাবদ্ধ করেছেন" অর্থাৎ ইবনে আস-সালাহ "মতভেদের অনুপস্থিতিকে হাদিস শাস্ত্রবিদদের সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, কারণ মুতাজিলাদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা সংখ্যার শর্তারোপ করেন" অর্থাৎ বর্ণনাকারীর সংখ্যা একের অধিক হওয়া। "এটি আল-হাযিমি বর্ণনা করেছেন।" তিনি হলেন ইমাম, হাফেজ, দক্ষ বংশলতিকাবিদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসা ইবনে হাযিম আল-হামাদানি। আয-যাহাবি তার প্রশংসা করেছেন এবং তার বেশ কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে হাদিসের নাসেখ ও মানসুখ অন্যতম এবং তিনি এর বাইরে আরও কিছু বিষয় সংশোধন করেছেন। "শুরুতুল আইম্মাহ" গ্রন্থে। ইবনে আস-সালাহ-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর তার আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যার শব্দাবলি ছিল—তিনি কেবল অস্বীকারের বিষয়টি সীমাবদ্ধ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الخلاف بأهل الحديث لأن بعض متأخري المعتزلة يشترط العدد في الرواية كالشهادة إلى آخره فأفادت عبارته أنه أشار ابن الصلاح إلى من يقول أنه يشترط في الرواية عدد الشهادة وهو الاثنان وهذا العدد ذكره أبو منصور عن الجاحظ1.
[وعبارة المصنف بقوله العدد مجملة في قدر العدد فلذا نقلنا لفظ الزين] .
وأنه يشترط في الرواية الاثنين عن الاثنين والمصنف قال "قلت: بل مذهب البغدادية من المعتزلة اشتراط التواتر" وهو نقل جماعة عن جماعة تحيل العادة تواطؤهم على الكذب مع استواء الوسط2 والطرفين3 بشرط أن يسند إلى الحس4 ولا يشترط له عدد معين عند المحققين كما عرف في الأصول.
وكأن المصنف أراد بمجرد الإفادة أن من الناس من يشترط التواتر وإلا فأنه لا يصح تفسير عبارة الزين بمذهب البغدادية من المعتزلة لأن من يشترط التواتر لا يشترط عددا معينا وعبارة الزين أن بعض المعتزلة يشترط العدد في الرواية كالشهادة فلا يصح أن يجعل إشارة إلى القائلين منهم بشرطية التواتر.
فإن قلت: لعل معتزلة بغداد يجعلون للتواتر عددا معينا فيصح تفسير ما قاله الزين بهم.
قلت: لا يصح وإن قالوا بالعدد لاتفاق القائلين إنه لابد وأن يكون أهل التواتر أكثر من أربعةوزين الدين أشار إلى من يقول إن الرواية كالشهادة والشهادة عند
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণের সাথে মতপার্থক্য কারণ পরবর্তী মুতাজিলাদের কেউ কেউ বর্ণনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যদানের মতো সংখ্যা শর্ত করেছেন ইত্যাদি। সুতরাং তার বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, ইবনুস সালাহ এমন ব্যক্তিদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যারা বলেন যে, বর্ণনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যদানের সংখ্যার মতোই সংখ্যা শর্ত, আর তা হলো দুইজন। আর এই সংখ্যার কথা আবু মানসুর জাহিজের সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
[সংখ্যার পরিমাণ সম্পর্কে লেখকের 'সংখ্যা' কথাটি অস্পষ্ট, তাই আমরা যাইনুদ্দীনের শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি]।
এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে দুইজনের থেকে দুইজনের বর্ণনা শর্ত করা হয়েছে। লেখক বলেছেন, "আমি বলছি: বরং বাগদাদী মুতাজিলাদের মাজহাব হলো মুতাওয়াতির হওয়া শর্ত করা।" আর তা হলো এমন এক দল থেকে অন্য এক দলের বর্ণনা করা যাদের পক্ষে মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অভ্যাসবশত অসম্ভব, যেখানে মধ্যবর্তী স্তর এবং উভয় প্রান্তের আধিক্য সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে, এই শর্তে যে তা যেন ইন্দ্রিয়জাত অনুভূতির ওপর নির্ভরশীল হয়। আর মুহাক্কিকদের মতে এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা শর্ত নয়, যেমনটি উসুলে জানা যায়।
মনে হয় লেখক স্রেফ এটি বুঝাতে চেয়েছেন যে, কিছু মানুষ মুতাওয়াতির হওয়াকে শর্ত করেন। অন্যথায় যাইনুদ্দীনের বক্তব্যকে বাগদাদী মুতাজিলাদের মাজহাব দ্বারা ব্যাখ্যা করা সঠিক হবে না। কারণ যারা মুতাওয়াতির হওয়াকে শর্ত করেন তারা কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা শর্ত করেন না। আর যাইনুদ্দীনের বক্তব্য হলো—কিছু মুতাজিলা বর্ণনার ক্ষেত্রে সাক্ষ্যদানের মতো সংখ্যা শর্ত করেন। সুতরাং তার এই কথাকে তাদের মধ্যে যারা মুতাওয়াতির হওয়া শর্ত করেন তাদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়।
যদি আপনি বলেন: হয়তো বাগদাদী মুতাজিলারা মুতাওয়াতির হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করেছেন, ফলে যাইনুদ্দীনের কথা তাদের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সঠিক হতে পারে।
আমি বলব: তা সঠিক নয়, যদিও তারা সংখ্যার কথা বলেন; কারণ যারা বলেন যে মুতাওয়াতির হওয়ার জন্য বর্ণনাকারীদের সংখ্যা অবশ্যই চারের অধিক হতে হবে তাদের ঐকমত্য রয়েছে। আর যাইনুদ্দীন এমন ব্যক্তিদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যারা বলেন যে বর্ণনা হলো সাক্ষ্যদানের মতো, আর সাক্ষ্যদান হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الإطلاق تتبادر إلى الاثنين على أنا لو حملنا عبارته على أكثر نصاب الشهادة فهو أربعة [كما في الزنا] والتواتر لا يكفي فيه الأربعة.
واعلم أنه قال الحافظ ابن حجر إنه رأي في تصانيف الجاحظ أحد المعتزلة أن الخبر لا يصح عندهم إلا إن رواه أربعة وعن أبي علي الجبائي أحد المعتزلة كما حكاه أبو الحسين البصري في المعتمد أن الخبر لا يقبل إذا رواه العدل الواحد إلا إذا انضم إليه خبر عدل آخر وعضده موافقة ظاهر الكتاب أو ظاهر خبر آخر أو يكون قد اشتهر بين الصحابة أو عمل بعضهم انتهى.
وفي مختصر المنتهى لابن الحاجب أن الجبائي يقول لا يجوز التعبد بخبر الواحد عقلا وأما وجوب العمل به فإنه نسب عدم وجوب العمل به إلى القاشاني وابن داود والرافضة وجعلها مسألتين.
"وعندي أنه" أي ابن الصلاح "لو لم يقيد نقي الخلاف بذلك" أي بقوله عند المحدثين "كما فعل الشيخ تقي الدين" ابن دقيق العيد فإنه قال لو قيل هذا الحديث الصحيح المجمع على صحته فإنه أطلق الإجماع ولم يقيده بالمحدثين ولا غيرهم لكان أي الحد مع عدم التقييد "صحيحا ويحمل على إجماع الصحابة" أي يحمل رسم ابن الصلاح للصحيح بتلك القيود على أنه أراد إجماع الصحابة والمراد إجماعهم على قبول من له تلك الأوصاف لا أنهم رسموا الصحيح فإن هذا التقسيم للحديث عرف حادث بعد عصرهم "ومن بعدهم" من التابعين "حتى حدث هذا الخلاف" أي خلاف المعتزلة.
قلت: في كلام المصنف رحمه الله تعالى أبحاث:
أحدها: أن الصحابة لم يجمعوا على قبول من له هذه الأوصاف فإنه سيأتي للمصنف رحمه الله تعالى أن عليا كرم الله وجهه يحلف الراوي وقد علم من كتب الحديث أن عمر1 رضي الله عنه رد خبر المغيرة ورد خبر أبي موسى حتى انضم إليهما غيرهما ورد خبر فاطمة بنت قيس ورد على رضي الله عنه خبر معقل بن سنان وقال أعرابي بوال على عقبيه وإن قيل إنه لم يصح عنه ثم كانوا يقبلون
--------------------------------------------
সাধারণভাবে দুইজনের প্রতি ইঙ্গিত যায়, তবে যদি আমরা তাঁর শব্দকে সাক্ষ্যের সর্বোচ্চ নেসাব অনুযায়ী ধরি তবে তা চারজন [যেমন যিনার ক্ষেত্রে], আর মুতাওয়াতির হওয়ার ক্ষেত্রে চারজন যথেষ্ট নয়।
জেনে রাখুন যে, হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন যে তিনি মুতাযিলা সম্প্রদায়ের অন্যতম সদস্য আল-জাহিজের রচনাবলিতে দেখেছেন যে, তাদের নিকট সংবাদ (খবর) বিশুদ্ধ হয় না যতক্ষণ না চারজন তা বর্ণনা করেন। আর মুতাযিলাদের অন্যতম সদস্য আবু আলী আল-জুব্বায়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে—যেমনটি আবুল হুসাইন আল-বাসরি আল-মুতামাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন—যে, কোনো একজন ন্যায়পরায়ণ (আদল) ব্যক্তি সংবাদ বর্ণনা করলে তা কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না তার সাথে অন্য একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনা যুক্ত হয় এবং কিতাবের (কুরআনের) স্পষ্ট অর্থ বা অন্য কোনো সংবাদের স্পষ্ট অর্থের সাথে মিল থাকার মাধ্যমে তা শক্তিশালী হয়, অথবা সাহাবায়ে কিরামের মাঝে তা প্রসিদ্ধি লাভ করে বা তাদের কেউ তার ওপর আমল করেন। (সমাপ্ত)
ইবনুল হাজিবের মুখতাসারুল মুনতাহা গ্রন্থে আছে যে, জুব্বায়ী বলেন, খবরুল ওয়াহিদের (একক ব্যক্তির সংবাদ) মাধ্যমে ইবাদত করা যুক্তিগতভাবে বৈধ নয়। আর এর ওপর আমল ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি—তিনি আমল ওয়াজিব না হওয়ার মতটিকে আল-কাশানি, ইবনে দাউদ এবং রাফেজিদের দিকে নিসবত করেছেন এবং একে দুটি স্বতন্ত্র মাসআলায় পরিণত করেছেন।
আমার নিকট বিষয়টি হলো, অর্থাৎ ইবনুস সালাহ যদি মতভেদহীনতার বিষয়টি সেটির সাথে সীমাবদ্ধ না করতেন—অর্থাৎ মুহাদ্দিসগণের নিকট এটি বলার মাধ্যমে—যেমনটি শাইখ তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীকুল ঈদ করেছেন; কারণ তিনি বলেছেন যে, যদি বলা হতো এটি এমন এক সহিহ হাদিস যার বিশুদ্ধতার ওপর ইজমা (ঐক্যমত্য) হয়েছে, কেননা তিনি ইজমাকে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই ব্যক্ত করেছেন এবং একে মুহাদ্দিস বা অন্যদের সাথে সীমাবদ্ধ করেননি, তবে সংজ্ঞাটি সীমাবদ্ধতাহীন অবস্থায় সঠিক হতো এবং একে সাহাবায়ে কিরামের ইজমার ওপর প্রয়োগ করা হতো। অর্থাৎ ইবনুস সালাহ সহিহ হাদিসের যে সংজ্ঞা ঐ সকল শর্তের সাথে দিয়েছেন, তার ব্যাখ্যা হতো যে তিনি সাহাবায়ে কিরামের ইজমা উদ্দেশ্য করেছেন। আর এর উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল গুণের অধিকারীদের থেকে বর্ণনা গ্রহণ করার বিষয়ে তাঁদের ইজমা, এটি নয় যে তাঁরা সহিহ হাদিসের কোনো সংজ্ঞা প্রদান করেছিলেন। কারণ হাদিসের এই বিভাজন তাঁদের যুগ এবং তাঁদের পরবর্তী তাবেয়ীদের যুগের পরে উদ্ভূত একটি পরিভাষা, যতক্ষণ না এই মতভেদ—অর্থাৎ মুতাযিলাদের মতভেদ—সৃষ্টি হয়েছে।
আমি বলি: মুসান্নিফ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি)-এর বক্তব্যে কিছু পর্যালোচনা রয়েছে: প্রথমত: সাহাবায়ে কিরাম ঐ সকল গুণের অধিকারীদের বর্ণনা কবুল করার বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেননি। কারণ মুসান্নিফ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা আলাইহি) সামনে উল্লেখ করবেন যে, আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) বর্ণনাকারীকে শপথ করাতেন। আর হাদিসের কিতাবসমূহ থেকে জানা যায় যে, উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুগিরার সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং আবু মুসার সংবাদও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন যতক্ষণ না তাঁদের সাথে অন্য কেউ যুক্ত হন। তিনি ফাতিমা বিনতে কায়েসের সংবাদও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মাকাল বিন সিনানের সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে, সে তার দুই গোড়ালির ওপর পেশাব করা একজন গ্রাম্য ব্যক্তি; যদিও বলা হয় যে এটি তাঁর থেকে প্রমাণিত নয়। এরপরও তাঁরা গ্রহণ করতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المرسل فإنهم قالوا إن ابن عباس1 رضي الله عنهما لم يسمع من النبي صلى الله عليه وسلم: إلا بضعة عشر حديثا وقيل أقل وروي الكثير الطيب عن الصحابة من دون ذكرهم وكذلك غيره.
الثاني: أن ابن الصلاح قد صرح بمراده من قيد نقي الخلاف فإنه قال باختلاف بين أهل الحديث وقد يختلفون في صحة بعض الأحاديث لاختلافهم في وجود هذه الأوصاف فيه أو لاختلاف في اشتراط بعض هذه الأوصاف كما في المرسل انتهى فأفاد أن المحدثين يختلفون في صحته لعدم وجود بعض الأوصاف التي هي الاتصال بنقل العدل الضابط عن مثله وعدم الشذوذ والعلة فإن وجدت فهو عندهم صحيح بلا خلاف بينهم وإن فقد البعض منها جاء فيه الخلاف ومثل بالمرسل لأنه فقد الاتصال وقد ذهب أقوام إلى أنه صحيح ولذا قال المصنف في مختصره في رسم الصحيح إنه نقل عدل تام الضبط متصل السند غير معل ثم قال وعند من يقبل المرسل نقل عدل غير مغفل بصيغة الجزم دون التمريض والبلاغ فجعل المرسل قابليه قسما من الصحيح.
وإذا عرفت هذا عرفت أن ابن الصلاح لم يرد بقوله بلا خلاف بين أهل الحديث الإشارة إلى من يشترط العدد من المعتزلة كما قاله زين الدين بل الإشارة إلى خلاف أهل الحديث الذين ألف كتابه في اصطلاحهم ولذا قال قد يختلفون أي أهل الحديث أنفسهم فالحديث إن جمع تلك القيود اتفقوا على صحته وإن فقد بعضها جاء فيه الخلاف بين أهل الحديث إذا منهم من لا يشترط تمام الضبط فيدخل الحسن في الصحيح كما سيأتي.
وبه تعرف أنه لا بد من التقييد لنفي الخلاف بالمحدثين إذ التأليف على اصطلاحهم والخلاف بينهم لا أنه إشارة إلى من يشترط العدد وتعرف أنه لا يريد إجماع الصحابة وكيف يحمل كلامه على الإشارة إلى من يشترط العدد كما زعمه زين الدين وهو يقول لاختلافهم في وجود هذه الأوصاف فيه أو لاختلافهم في اشتراط بعض الأوصاف - أي في شرطيته - كالاتصال فان من يقبل المرسل لا يشترطه ولم يقل
--------------------------------------------
মুরসাল হাদিস প্রসঙ্গে তারা বলেন, ইবন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে মাত্র দশটির কিছু বেশি হাদিস সরাসরি শুনেছেন; কেউ কেউ এর চেয়েও কম বলেছেন। তিনি সাহাবীদের নাম উল্লেখ ছাড়াই তাঁদের থেকে প্রচুর উত্তম হাদিস বর্ণনা করেছেন। অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ।
দ্বিতীয়ত: ইবনুল সালাহ 'মতভেদহীন হওয়ার' শর্তটি দ্বারা কী বুঝিয়েছেন তা স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন যে, এটি হাদিস বিশারদদের (আহলুল হাদিস) মধ্যকার মতভেদকে বুঝায়। হাদিস বিশারদগণ কখনো কখনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতার (সহিহ হওয়া) ব্যাপারে মতভেদ করেন, কারণ সেই হাদিসে [সহিহ হওয়ার] গুণাবলি বিদ্যমান থাকার বিষয়ে তাঁদের মাঝে মতভেদ থাকে, অথবা সেই গুণাবলির কোনো একটিকে শর্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে তাঁদের মাঝে মতভেদ থাকে; যেমনটি মুরসাল হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়। এটি একথাই প্রকাশ করে যে, মুহাদ্দিসগণ এর বিশুদ্ধতার বিষয়ে মতভেদ করেন কারণ এতে এমন কিছু গুণের অভাব রয়েছে যা হলো—একজন ন্যায়পরায়ণ ও সুসংরক্ষণকারী বর্ণনাকারী কর্তৃক তাঁর অনুরূপ বর্ণনাকারীর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হওয়া এবং তাতে কোনো শায (ব্যতিক্রমী) বা ইল্লাত (ত্রুটি) না থাকা। যদি এই গুণগুলো পাওয়া যায়, তবে তাঁদের নিকট কোনো মতভেদ ছাড়াই সেটি 'সহিহ'। আর যদি এর কোনো একটির অভাব ঘটে, তবে সেখানে মতভেদ তৈরি হয়। তিনি মুরসাল হাদিসের উদাহরণ দিয়েছেন কারণ এতে সংযোগের (ইত্তিসাল) অভাব রয়েছে। যদিও একদল আলিম একে সহিহ বলে গণ্য করেছেন। এই কারণেই লেখক তাঁর সংক্ষেপে (মুখতাসার) সহিহ-এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি একজন পূর্ণ সুসংরক্ষণকারী ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনা, যার সনদ নিরবচ্ছিন্ন এবং যা ত্রুটিমুক্ত। এরপর তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন: "যারা মুরসাল গ্রহণ করেন তাঁদের নিকট এটি একজন অসতর্ক নয় এমন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির বর্ণনা।" এখানে তিনি সংশয়সূচক শব্দ ব্যবহার না করে বরং দৃঢ়তার সাথে কথাটি বলেছেন। ফলে তিনি মুরসাল গ্রহণকারীদের নিকট একে সহিহ-এর একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন।
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, ইবনুল সালাহ তাঁর কথা "হাদিস বিশারদদের মাঝে কোনো মতভেদ ছাড়াই" দ্বারা মুতাযিলাদের মতো যারা বর্ণনাকারীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করার শর্তারোপ করে, তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করেননি—যেমনটি যিনুদ্দীন দাবি করেছেন। বরং তিনি সেই হাদিস বিশারদদের মধ্যকার মতভেদের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যাঁদের পরিভাষা নিয়ে তিনি তাঁর কিতাব রচনা করেছেন। এজন্যই তিনি বলেছেন "তাঁরা মতভেদ করতে পারেন" অর্থাৎ হাদিস বিশারদগণ নিজেরাই। সুতরাং কোনো হাদিসে যদি সেই শর্তগুলো একত্রিত হয়, তবে তাঁরা এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে একমত হন। আর যদি কিছু শর্তের অভাব ঘটে, তবে হাদিস বিশারদদের মাঝেই মতভেদ দেখা দেয়। কারণ তাঁদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যাঁরা বর্ণনাকারীর পূর্ণ সুসংরক্ষণকে শর্ত করেন না, ফলে তাঁরা 'হাসান' হাদিসকেও 'সহিহ' এর অন্তর্ভুক্ত করেন, যা সামনে আলোচনা করা হবে।
এর মাধ্যমে আপনি জানতে পারলেন যে, মতভেদ অস্বীকার করার বিষয়টি মুহাদ্দিসদের সাথেই সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক; কারণ এই রচনা তাঁদের পরিভাষার ওপর ভিত্তি করেই এবং মতভেদটি তাঁদের মধ্যেই। এটি বর্ণনাকারীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করার শর্তারোপকারীদের প্রতি কোনো ইঙ্গিত নয়। আপনি এটাও জানতে পারলেন যে, তিনি সাহাবীদের ঐকমত্য (ইজমা) বুঝাতে চাননি। যিনুদ্দীন যেমনটা দাবি করেছেন, তাঁর কথাকে কীভাবে সংখ্যা নির্দিষ্ট করার শর্তারোপকারীদের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে ধরা যেতে পারে? অথচ তিনি নিজেই বলছেন—"তাতে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকার বিষয়ে তাঁদের মতভেদের কারণে অথবা কোনো কোনো গুণের শর্ত হওয়ার বিষয়ে তাঁদের মতভেদের কারণে"—অর্থাৎ সেই গুণটি শর্ত কি না, যেমন সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া। কেননা যারা মুরসাল হাদিস গ্রহণ করেন তাঁরা একে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন না। এবং তিনি বলেননি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
لاختلافهم هل تكفي هذه الأوصاف أو لابد من زيادة عليها حتى يفسرها باشتراط العدد.
وبه أيضا تعرف أن قول المصنف قلت: بل مذهب البغدادية من المعتزلة اشتراط التواتر ليس في محله.
البحث الثالث: أن من جعل ذلك القيد للإشارة إلى من يشترط العدد مبنى على أنه أريد بالعدل الضابط في الرسم الواحد فلا يدخل فيه الاثنان ولا أكثر منهما ولا تصح إرادته لأنه يخرج حينئذ عن الرسم الحديث العزيز وهو ما يرويه اثنان عن اثنين والمشهور وهو ما له طرق محصورة بأكثر من اثنين والكل من قسم الآحاد ورسم الصحيح عام لهما فلابد من أن يراد بالعدل والضابط والجنس ليشمل ما ذكر وحينئذ لا يخرج عنه من يشترط العدد باثنين أو أكثر.
البحث الرابع: كلام الزين والسيد محمد رحمهما الله تعالى أن شرط العدد إنما هو لجماعة غير أهل الحديث غير صحيح فإن أهل الحديث قاطبة قد اعتبروا العدد في العزيز وهو أحد أقسام الآحاد كما عرفت وإنما اختص الجبائي بأنه حصر المقبول من الآحاد عليه فما فوقه ثم أنه قد نقل ابن الأثير في مقدمة جامع الأصول أن شرط الشيخين أن يروي الحديث الصحابي المشهور بالرواية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وله راويان ثقتان ثم يرويه عنه التابعي المشهور بالرواية عن الصحابة وله راويان ثقتان ثم يرويه عنه من أتباع التابعين الحافظ المشهور وله رواة من الطبقة الرابعة ثم يكون شيخ البخاري ومسلم متقنا مشهورا بالعدالة في روايته ثم قال وهذا الشرط الذي ذكرناه ذكره الحاكم ثم رد ابن الأثير على من قال إن هذا لا يتم إذ في البخاري أحاديث على غير هذا الشرط كما هو معروف في كتابه وقرر أن هذا شرط الشيخين.
وقال الحافظ ابن حجر في النخبة وشرحها1 عند ذكر العزيز وهو أن لا يروي الحديث أقل من اثنين وليس شرطا للصحيح خلافا لمن زعمه وهو أبو على الجبائي من المعتزلة وإليه يومئ كلام الحاكم2 في علوم الحديث قال الصحيح أن يرويه
--------------------------------------------
তাদের মতপার্থক্যের কারণে যে, এই বৈশিষ্ট্যগুলোই কি যথেষ্ট নাকি এর ওপর অতিরিক্ত কিছু প্রয়োজন যাতে তিনি তা সংখ্যার শর্তের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
এর মাধ্যমে আপনি ইহাও জানতে পারবেন যে, গ্রন্থকারের এই উক্তি: "আমি বলি: বরং মুতাজিলাদের বাগদাদী মতাদর্শ অনুযায়ী মুতাওয়াতির হওয়া শর্ত"—এটি সঠিক নয়।
তৃতীয় আলোচনা: যারা সংখ্যার শর্তারোপকারীদের প্রতি ইঙ্গিত করার জন্য এই সীমাবদ্ধতা প্রদান করেছেন, তা এই ভিত্তির ওপর যে, সংজ্ঞায় 'আদিল' ও 'দাবিত' (ন্যায়পরায়ণ ও সংরক্ষণকারী) দ্বারা একক ব্যক্তি উদ্দেশ্য। ফলে এতে দুইজন বা তার অধিক অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু এমন উদ্দেশ্য করা সঠিক নয়; কারণ তখন এটি 'আজিজ' হাদিসের সংজ্ঞা থেকে বেরিয়ে যাবে—যা দুইজন থেকে দুইজন বর্ণনা করেন—এবং 'মাশহুর' থেকেও—যার সূত্রগুলো দুইয়ের অধিক সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর এই সবগুলিই 'আহাদ' শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত এবং সহীহ হাদিসের সংজ্ঞা উভয়ের জন্যই সাধারণ। সুতরাং 'আদিল' ও 'দাবিত' দ্বারা শ্রেণি (জিলস) উদ্দেশ্য হওয়া আবশ্যক যাতে উল্লিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হয়। এমতাবস্থায় যারা দুই বা ততোধিক সংখ্যার শর্তারোপ করেন, তারা এর বাইরে থাকবেন না।
চতুর্থ আলোচনা: জাইন এবং সাইয়্যেদ মুহাম্মদ (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর এই কথা যে, সংখ্যার শর্ত কেবল একদল মুহাদ্দিস ব্যতীত অন্যদের জন্য—তা সঠিক নয়। কারণ মুহাদ্দিসগণ সর্বসম্মতভাবে আজিজ হাদিসের ক্ষেত্রে সংখ্যা বিবেচনা করেছেন এবং তা আহাদ হাদিসের একটি প্রকার যেমনটি আপনি জেনেছেন। তবে জুব্বায়ী এই বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র যে, তিনি আহাদ হাদিসের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্যতাকে আজিজ বা তার ওপরের স্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। এরপর ইবনুল আসির 'জামি আল-উসুল'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্ত হলো: হাদিসটি এমন একজন সাহাবী বর্ণনা করবেন যিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এবং তার থেকে দুইজন বিশ্বস্ত রাবী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তার থেকে এমন একজন তাবেয়ী বর্ণনা করবেন যিনি সাহাবীদের থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ এবং তার থেকে দুইজন বিশ্বস্ত রাবী বর্ণনা করেছেন। এরপর তার থেকে আতবাউত তাবেয়ীনের মধ্য থেকে একজন প্রসিদ্ধ হাফেজ বর্ণনা করবেন এবং চতুর্থ স্তরেও তার বর্ণনাকারী থাকবে। এরপর ইমাম বুখারী ও মুসলিমের উস্তাদ তার বর্ণনায় দক্ষ এবং ন্যায়পরায়ণতায় প্রসিদ্ধ হবেন। এরপর তিনি বলেন, আমরা যে শর্তটি উল্লেখ করেছি তা হাকেম বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনুল আসির ঐ ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যিনি বলেছেন যে এটি পূর্ণাঙ্গ নয়, কারণ বুখারীতে এমন কিছু হাদিস আছে যা এই শর্তানুযায়ী নয় যেমনটি তার কিতাবে প্রসিদ্ধ; এবং তিনি সাব্যস্ত করেছেন যে এটিই শায়খাইনের শর্ত।
হাফেজ ইবনে হাজার 'নুখবাহ' ও এর শারাহ-এ ১ আজিজ বর্ণনায় বলেছেন যে, এটি হলো এমন হাদিস যা দুইজনের কম ব্যক্তি বর্ণনা করেনি। তবে এটি সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়, যারা এমনটি দাবি করেছেন তাদের বিপরীতে—আর তিনি হলেন মুতাজিলাদের আবু আলী আল-জুব্বায়ী। আর 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থে হাকেমের ২ কথা এদিকেই ইঙ্গিত করে; তিনি বলেন, সহীহ হলো যা বর্ণনা করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الصحابي الزائل عنه اسم الجهالة بأن يكون له راويان ثم يتداوله أهل الحديث إلى وقتنا كالشهادة على الشهادة وصرح به القاضي أبو بكر بن العربي1 في شرح البخاري.
ثم قال: قال ابن رشيد2: ولقد كان يكفي القاضي في بطلان ما ادعى أول حديث فيه مذكور. انتهى.
قلت: وإليه أشرنا في نظم النخبة بقولنا:
وليس شرطا للصحيح فاعلم
… وقيل شرط وهو قول الحاكم
ومراده ابن رشيد بأول حديث: "إنما الأعمال بالنيات" 3 وهو مروي بالآحاد فإنه لم يروه إلا عمر رضي الله عنه ولم يروه عنه إلا علقمة ولم يروه عن علقمة إلا محمد بن ابراهيم ثم تفرد به يحيى بن سعيد عن محمد وكذلك آخر حديث مذكور فيه وهو حديث: "كلمتان خفيفتان على اللسان...." إلخ4 لم يروه إلا أبو هريرة وتفرد به عنه أبو زرعة وتفرد به عنه عمارة بن القعقاع وتفرد به محمد بن فضيل وعنه انتشر.
وإذا عرفت هذا عرفت أن في اعتبار خلافا لبعض أئمة الحديث وادعي أنه شرط البخاري لكن التحقيق خلاف ذلك.
"وسوف يأتي تعريف الحسن والضعيف وغيرهما إن شاء الله تعالى" بعد استيفاء الكلام على ما يتعلق بالصحيح.
--------------------------------------------
সাহাবী যার থেকে অজ্ঞতার নাম দূরীভূত হয় এমনভাবে যে, তার থেকে দুজন বর্ণনাকারী বর্ণনা করেন এবং তারপর আমাদের সময় পর্যন্ত হাদীস বিশারদগণ তা পরস্পরের মাধ্যমে বর্ণনা করে আসছেন, যেমন সাক্ষ্যের ওপর সাক্ষ্য প্রদানের বিষয়টি। বিচারক আবু বকর ইবনুল আরাবী ১ তাঁর বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
অতঃপর তিনি বলেন: ইবনে রুশদ ২ বলেছেন: বিচারক যা দাবি করেছেন তা বাতিল করার জন্য এতে উল্লেখিত প্রথম হাদীসটিই যথেষ্ট ছিল। সমাপ্ত।
আমি বলছি: এবং এর প্রতিই আমরা নুখবাতুল ফিকারের কাব্যে আমাদের এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছি:
জেনে রেখো, এটি সহীহ হওয়ার জন্য কোনো শর্ত নয়
… আর বলা হয়েছে যে এটি শর্ত, যা ইমাম হাকিমের অভিমত।
প্রথম হাদীস দ্বারা ইবনে রুশদ-এর উদ্দেশ্য হলো: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" ৩। এটি একক সূত্রে বর্ণিত। কেননা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি, তাঁর থেকে আলকামা ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি, আলকামা থেকে মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম ব্যতীত কেউ বর্ণনা করেননি, অতঃপর মুহাম্মদ থেকে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। একইভাবে এতে বর্ণিত সর্বশেষ হাদীসটি অর্থাৎ: "দুটি বাক্য যা জিহ্বায় উচ্চারণে খুবই সহজ..." ৪ ইত্যাদি, আবু হুরাইরাহ ব্যতীত কেউ এটি বর্ণনা করেননি এবং তাঁর থেকে আবু যুরআহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে উমারা ইবনুল কা'কা' এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে ফুুদাইল এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমেই এটি ছড়িয়ে পড়েছে।
আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে, কিছু হাদীস বিশারদের নিকট এর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে এটি বুখারীর শর্ত, কিন্তু সঠিক অনুসন্ধান এর বিপরীত।
"সহীহ সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত করার পর হাসান, যয়ীফ এবং অন্যান্য সংজ্ঞাসমূহ ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مسألة 2 [في بيان مراد أهل الحديث بقولهم: هذا حديث صحيح]"المراد" أي مراد أهل علوم الحديث "بالصحيح والضعيف" ذكره وإن كان تعريفه متأخرا ذكرا لحكم النقيض عند حكم نقيضه "قال زين الدين: وحيث يقول المحدثون هذا حديث صحيح فمرادهم فيما ظهر لنا عملا بظاهر الإسناد لا أنه مقطوع بصحته" 1 هو مأخوذ من كلام ابن الصلاح فإنه قال ليس من شرطه يريد الصحيح أن يكون مقطوعا به "في نفس الأمر" 2.
وهذا كلام صحيح "لجواز الخطأ والنسيان على الثقة" سواء أريد المصحح له من الرواة إلا أنه لا يخفي أن هذا الإخبار عن مرادهم قليل الإفادة لأنه معلوم أن ما في نفس الأمر لا يطلع عليه إلا الله تعالى وأنه لا يكلف أحدا إلا بالعمل بما خوطب به وظهر له صحته أو غيرها.
وقد قال نبينا صلى الله عليه وسلم: "إنما أقطع له قطعة من نار" 3 لأنه يحكم بما أوجب عليه الحكم به عنده وهو حصول نصاب الشهادة مثلا وإن كانت كذبا في نفس الأمر وقد نقل إليه صلى الله عليه وسلم أن رجلا يأتي أم ولده فأرسل عليا عليه السلام لقتله فوجده محبوبا فتركه فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "أحسنت" 4.
ولكنه ذكره المصنف ليتوصل به إلى قوله: "هذا هو الصحيح الذي عليه أكثر أهل العلم خلافا لمن قال: إن خبر الواحد يوجب العلم الظاهر كحسين الكرابيسي" نسبة إلى الكرباس بالكسر الثوب الأبيض من القطن معرب فارسيته بالفتح غيروه لغزة
--------------------------------------------
২য় মাসআলা [মুহাদ্দিসগণের এই বক্তব্যের মর্ম বর্ণনায় যে: 'এটি একটি সহীহ হাদীস']"উদ্দেশ্য" অর্থাৎ হাদীস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণের উদ্দেশ্য "সহীহ এবং যয়ীফ" (বলতে)। এর কথা তিনি (গ্রন্থকার) উল্লেখ করেছেন যদিও এর সংজ্ঞা পরে আসবে, মূলত কোনো বিষয়ের বিধান বর্ণনা করার সময় তার বিপরীত বিষয়ের বিধানটিও পাশাপাশি উল্লেখ করার রীতি অনুযায়ী। "জয়নুদ্দীন (রহ.) বলেন: মুহাদ্দিসগণ যখন বলেন যে, 'এটি একটি সহীহ হাদীস', তখন তাদের উদ্দেশ্য হলো সনদের বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে আমাদের কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তা-ই; এর মানে এই নয় যে এটি বাস্তবতার নিরিখে অকাট্যভাবে সহীহ।" ১ এটি ইবনুস সালাহ-এর বক্তব্য থেকে গৃহীত। কেননা তিনি বলেছেন, সহীহ হওয়ার জন্য "বাস্তবতার নিরিখে" ২ এটি অকাট্য হওয়া শর্ত নয়।
এটি একটি সঠিক কথা, "কেননা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল ও বিস্মৃতির সম্ভাবনা রয়েছে"; চাই এর দ্বারা হাদীসটিকে যিনি সহীহ সাব্যস্ত করছেন তাকে বোঝানো হোক অথবা বর্ণনাকারীদের। তবে এটি গোপন নয় যে, মুহাদ্দিসগণের এই উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া খুব সামান্যই ফলদায়ক; কারণ এটি সবারই জানা যে বাস্তব রহস্য আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কেউ জানেন না এবং তিনি কাউকেই তার সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন না, বরং তাকে তার প্রতি নির্দেশিত বিষয়ের ওপর আমল করতে হয় যা তার কাছে সহীহ বা অন্য কিছু হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তার জন্য জাহান্নামের আগুনের একটি টুকরোই বরাদ্দ করছি।" ৩ কারণ তিনি সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই ফয়সালা করেন যা তাঁর নিকট ফয়সালা করাকে অপরিহার্য করে তোলে, যেমন সাক্ষ্যের নেসাব পূর্ণ হওয়া, যদিও বাস্তবে সেটি মিথ্যা হয়ে থাকে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট সংবাদ পৌঁছালো যে এক ব্যক্তি তাঁর উম্মে ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী)-এর নিকট যাতায়াত করে। তখন তিনি আলী (আলাইহিস সালাম)-কে তাকে হত্যার জন্য পাঠালেন। আলী (আলাইহিস সালাম) তাকে পুরুষত্বহীন (লিঙ্গহীন) অবস্থায় পেলেন এবং তাকে ছেড়ে দিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তুমি সঠিক কাজ করেছো।" ৪
কিন্তু লেখক এটি উল্লেখ করেছেন তাঁর পরবর্তী এই বক্তব্যের সোপান হিসেবে: "এটিই হচ্ছে সঠিক মত যার ওপর অধিকাংশ আহলে ইলম রয়েছেন, সেই মতের বিপরীতে যারা বলেন যে: খবরে ওয়াহেদ বাহ্যিক নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, যেমন হুসাইন আল-কারাবিসী।" 'কারাবিসী' শব্দটি 'কারবাস' (শুরুতে কাসরা বা জের সহ) থেকে সম্বন্ধযুক্ত, যার অর্থ তুলার তৈরি সাদা কাপড়; এটি ফারসি শব্দের আরবিকরণ (মূল শব্দে ফাতহা বা জবর ছিল), তারা একে 'গাজ্জা' (এক প্রকার কাপড়)-এর কারণে পরিবর্তন করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فعلال والنسبة كرابيسي كأنه شبه بالأنصاري1 وإلا فالقياس كرباسي قاله في القاموس "وغيره".
واعلم أن ظاهر مراده بالعلم العلم بالمعنى الأخص إذ العلم بالمعنى الأعم يشمل الظن لكن لما قال الظاهر قال الحافظ ابن حجر إنما يكون ذلك مخالفا لو قال يفيد العلم وأطلق فأما الظاهر وهو غلبة الظن على صحته فلا خلاف في أنه يفيده والله أعلم بمراد الكرابيسي فإن العبارة المذكورة هنا لا تصرح بالمقصود وقد نقل عن أبي بكر القفال مثلها وأول ذلك بغالب الظن لأن العلم لا يتفاوت. اهـ.
قلت: يعني لا يقال فيه ظاهر وغير ظاهر بخلاف الظن.
"وحكاه ابن الصباغ" بفتح الصاد المهملة فموحدة مشدده فغين معجمة بعد ألفه هو أبو نصر عبد الله بن محمد بن عبد الواحد فقيه العراقيين في وقته مؤلف كتاب الشامل في فقه الشافعية والعدة في الأصول "في العدة عن قوم من أصحاب الحديث" قد علم أن خبر الواحد يفيد الظن فإذا حفته القرائن أفاد العلم كما قال الحافظ في النخبة وشرحها2 وقد يقع فيها أي في أخبار الآحاد المنقسمة إلى مشهور وعزيز وغريب وهي أقسام الآحاد ما يفيد العلم النظري بالقرائن على المختار. اهـ.
وقلنا في نظم النخبة:
وقد يفيد العلم أعني النظري
… إذا أتت قرائن للخبر
واعلم أن الأقوال في خبر الواحد في إفادته العلم ثلاثة كما ذكره ابن الحاجب والعضد وغيرهما:
الأول: أنه يفيد العلم بنفسه مطردا أي كلما حصل خبر الواحد حصل العلم وهو قول أحمد بن حنبل3.
والثاني: أنه يحصل به العلم ولا يطرد أي ليس كلما حصل حصيل العلم به.
الثالث: أنه لا يحصل العلم به إلا بقرينة.
--------------------------------------------
ফে'লাল ও নিসবত (সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য) হলো 'কারাবিসি', যেন একে 'আনসারি'-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। অন্যথায় কিয়াস বা নিয়ম অনুযায়ী এটি 'কারবাসি' হওয়ার কথা। এটি 'আল-কামুস' ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
জেনে রাখুন যে, 'ইলম' (জ্ঞান) দ্বারা তাঁর আপাত উদ্দেশ্য হলো এর বিশেষ অর্থের জ্ঞান, যেহেতু সাধারণ অর্থে জ্ঞান 'জান্ন' বা ধারণাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু তিনি যখন 'যহির' (আপাত) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তখন হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: এটি তখনই অসঙ্গতিপূর্ণ হতো যদি তিনি শর্তহীনভাবে বলতেন যে এটি 'ইলম' বা জ্ঞান প্রদান করে। পক্ষান্তরে যা 'যহির', তা হলো কোনো বিষয়ের শুদ্ধতার ব্যাপারে প্রবল ধারণা, আর এটি যে তা প্রদান করে সে ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। কারাবিসির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন, কারণ এখানে উল্লিখিত বক্তব্যটি উদ্দেশ্যকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে না। আবু বকর আল-কাফফাল থেকেও অনুরূপ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি একে প্রবল ধারণার অর্থে ব্যাখ্যা করেছেন, কেননা সুনিশ্চিত জ্ঞান তারতম্যপূর্ণ হয় না। সমাপ্ত।
আমি বলছি: অর্থাৎ, জ্ঞানের ক্ষেত্রে 'আপাত' বা 'আপাত নয়'—এমন কথা বলা যায় না, যা ধারণার ক্ষেত্রে সম্ভব।
"এবং ইবনে আস-সাব্বাগ এটি বর্ণনা করেছেন"—সোয়াদ বর্ণে ফাতহাহ, এরপর তাশদীদযুক্ত বা এবং আলিফের পর গাইন বর্ণ সহযোগে। তিনি হলেন আবু নাসর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহিদ, যিনি নিজ সময়ের ইরাকিদের ফকিহ ছিলেন এবং শাফেয়ী ফিকহের 'আশ-শামিল' ও উসুলের গ্রন্থ 'আল-উদ্দাহ'-এর রচয়িতা। "আল-উদ্দাহ গ্রন্থে তিনি একদল হাদিস বিশারদ থেকে বর্ণনা করেছেন" যে, এটি জানা কথা যে খবরুল ওয়াহিদ (একক বর্ণনা) কেবল প্রবল ধারণা প্রদান করে। তবে যখন এর সাথে বিভিন্ন আলামত বা সূত্র যুক্ত হয়, তখন তা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার 'আন-নুখবাহ' ও এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেছেন। আর খবরুল ওয়াহিদ যা মশহুর, আযীয ও গরীব—এই তিন ভাগে বিভক্ত, সেগুলোর ক্ষেত্রে পছন্দনীয় মত অনুযায়ী আলামত বা সূত্রের উপস্থিতিতে 'ইলমে নাযারি' (লব্ধ জ্ঞান) অর্জিত হতে পারে। সমাপ্ত।
এবং আমরা নুখবাহ-এর কাব্যরূপায়ণে বলেছি:
এবং এটি কখনো জ্ঞান প্রদান করে, অর্থাৎ লব্ধ জ্ঞান
… যখন সংবাদের সাথে বিভিন্ন আলামত বা সূত্র উপস্থিত হয়।
জেনে রাখুন যে, খবরুল ওয়াহিদ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে কি না, এ বিষয়ে তিনটি মত রয়েছে, যা ইবনে হাজিব, আল-আযুদ এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন:
প্রথম: এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং সর্বদাই জ্ঞান প্রদান করে, অর্থাৎ যখনই খবরুল ওয়াহিদ পাওয়া যাবে তখনই জ্ঞান অর্জিত হবে। এটি আহমাদ বিন হাম্বলের মত।
দ্বিতীয়: এর মাধ্যমে জ্ঞান অর্জিত হয় কিন্তু তা সর্বদা নয়; অর্থাৎ প্রতি ক্ষেত্রেই এর দ্বারা জ্ঞান অর্জিত হওয়া আবশ্যক নয়।
তৃতীয়: কোনো আলামত বা আনুষঙ্গিক সূত্র ছাড়া এর দ্বারা জ্ঞান অর্জিত হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩২)
والمسألة مستوفاة هنالك والمراد بيان أن المسألة من المسائل المعروفة والخلاف فيها واسع فأحد أقوال أحمد كقول الكرابيسي وكأنه الذي أراده ابن الصباغ بقوله عن قوم من أصحاب الحديث والحق أن فيه ما يفيد العلم كما هو أحج الأقوال.
وقد كان صلى الله عليه وسلم يبعث الآحاد إلى الأقطار يدعون إلى الإيمان ولابد فيه من العلم ولا يكفي فيه الدخول بالظن وكان يرتب على خبر الآحاد ما يرتب على ما يفيد العلم كقبوله خبر الوليد بن عقبة في قصة بني المصطلق وإرادته صلى الله عليه وسلم غزوهم استنادا إلى خبره حتى أنزل الله: {إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَأٍ} [الحجرات: 6] ثم المراد من العلم هنا بخبر الآحاد العلم بالمعنى الخاص وهو الاعتقاد الجازم المطابق الذي لا يبقى معه شك ولا شبهة فقول الزين العلم الظاهر يريد به هذا المعنى إذ العلم بالمعنى الأعم لا خلاف في إفادة خبر الآحاد له على أن قول الكرابيسي العلم الظاهر يحتمل أه لا يريد به ما في نفس الأمر بل أنه يفيد خبر الآحاد العلم المذكور ظاهر لا قطعا.
"قال الباقلائي" هو أبو بكر محمد بن الطيب الباقلائي بفتح الموحدة وبعد الألف قاف ثم لام ألف وبعده نون نسبة إلى الباقلا وبيعه وأنكر الحريري هذه النسبة وقال من قصر الباقلا قال باقلي ومن مد قال باقلاوي وباقلائي وفي جامع الأصول قولهم باقلائي على خلاف القياس مثل صنعائي ذكر ابن خلكان أنه سكن بغداد وصنف التصانيف الكثيرة في علم الكلام وسمع الحديث "أنه" أي القول بإفادة خبر الواحد العلم "قول من لا يحصل علم هذا الباب" أي باب ما تفيده أخبار الآحاد ولا يخفى ما تقدم من قول أحمد وغيره في إفادته إياه.
والحاصل أنه قبل بإفادته العلم وعدمها مطلقا وإفادته تارة وعدمها أخرى فكيف يقال أنه قول من لا يحصل على هذا الباب على أنه لا يخفي أن من أخبر نفسه بأنه حصل له العلم بأي سبب من الأسباب المحصلة له يصدق في نفسه وأما حكمه بأنه تحصل لغيره ما حصل له من العلم بذلك السبب فهذه دعوى على الغير مستندها القياس على النفس واختلاف الإدراك معلوم فلا يكاد يستوي اثنان في رتبه فالقول بأن هذا السبب الفلاني مثلا يفيد العلم أولا يفيده لكل من حصل له ليس بمقبول.
"قال زين الدين: إن أخرجه" أي الحديث الصحيح الأحادي "الشيخان" البخاري
বিষয়টি সেখানে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। এখানে উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, এই বিষয়টি সুপরিচিত এবং এ নিয়ে মতভেদও ব্যাপক। ইমাম আহমাদের একটি মত আল-কারাবিসীর মতের অনুরূপ। আর ইবন আল-সাব্বাগ 'একদল আহলুল হাদীস' বলতে সম্ভবত এটিই বুঝিয়েছেন। সত্য কথা হলো, এতে এমন কিছু রয়েছে যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, যেমনটি অধিকতর শক্তিশালী মতসমূহে বলা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিভিন্ন অঞ্চলে একক ব্যক্তিদের ঈমানের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠাতেন, আর ঈমানের ক্ষেত্রে নিশ্চিত জ্ঞান থাকা অপরিহার্য, কেবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে তাতে প্রবেশ করা যথেষ্ট নয়। তিনি একক সংবাদ বা খবর-ই আহাদের ওপর ভিত্তি করে এমন সব সিদ্ধান্ত নিতেন যা কেবল নিশ্চিত জ্ঞানের মাধ্যমেই নেওয়া সম্ভব। যেমন বনু মুসতালিকের ঘটনায় আল-ওয়ালিদ বিন উকবার সংবাদ গ্রহণ করা এবং তার সংবাদের ভিত্তিতেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ইচ্ছা করেছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: "যদি কোনো ফাসিক তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে" [আল-হুজুরাত: ৬]। এরপর, খবর-ই আহাদের ক্ষেত্রে এখানে জ্ঞান বলতে বিশেষ অর্থ উদ্দেশ্য, যা হলো এমন সুদৃঢ় ও বাস্তবসম্মত বিশ্বাস যার সাথে কোনো সন্দেহ বা সংশয় থাকে না। তাই জাইনুদ্দীনের উক্তি 'প্রকাশ্য জ্ঞান' দ্বারা তিনি এই অর্থই বুঝিয়েছেন। কারণ সাধারণ অর্থে খবর-ই আহাদ জ্ঞান প্রদান করে—এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। তবে আল-কারাবিসীর উক্তি 'প্রকাশ্য জ্ঞান' দ্বারা সম্ভবত তিনি প্রকৃত বাস্তব বিষয়টি বোঝাননি, বরং এটি বুঝিয়েছেন যে খবর-ই আহাদ উল্লেখিত জ্ঞানটি বাহ্যিকভাবে প্রদান করে, অকাট্যভাবে নয়।
"আল-বাকিললানি বলেছেন" তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-তয়্যিব আল-বাকিললানি। 'বা' বর্ণে ফাতহা, এরপর আলিফ ও 'কাফ', তারপর লাম-আলিফ এবং শেষে 'নুন' সহযোগে শব্দটি গঠিত। এটি 'বাকিল্লা' (শিমজাতীয় উদ্ভিদ) ও তা বিক্রির সাথে সম্পর্কিত। আল-হারিরি এই সম্বন্ধকে অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, যারা 'বাকিল্লা' শব্দটিকে সংক্ষেপ করে তারা বলে 'বাকিলি', আর যারা দীর্ঘ করে তারা বলে 'বাকিললায়ি' ও 'বাকিললাই'। জামিউল উসুল-এ বলা হয়েছে, 'বাকিললাই' শব্দটি ব্যাকরণগত নিয়মের বহির্ভূত, যেমন 'সানআয়ি'। ইবন খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন, ইলমে কালামের ওপর বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং হাদীস শ্রবণ করেছেন। "এটি" অর্থাৎ খবর-ই ওয়াহিদ নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করার বিষয়টি হলো "এমন ব্যক্তির কথা যে এই অধ্যায়ের জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি"। অর্থাৎ খবর-ই আহাদ কী অর্থ প্রদান করে সে সংক্রান্ত অধ্যায়। অথচ ইমাম আহমাদ ও অন্যদের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে এটি নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে, যা কারো অজানা নয়।
সারকথা হলো, এটি জ্ঞান প্রদান করে বা করে না—উভয় বিষয়েই সাধারণ মত রয়েছে, আবার কখনো জ্ঞান প্রদান করে এবং কখনো করে না এমন মতও রয়েছে। এমতাবস্থায় কীভাবে বলা যায় যে, এটি এমন ব্যক্তির উক্তি যে এই বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেনি? উপরন্তু, এটি স্পষ্ট যে কোনো ব্যক্তি যদি নিজের সম্পর্কে জানায় যে কোনো একটি মাধ্যমের ফলে তার মধ্যে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জিত হয়েছে, তবে সে তার নিজের ক্ষেত্রে সত্যবাদী হতে পারে। কিন্তু সেই একই মাধ্যমে অন্যের ক্ষেত্রেও একই জ্ঞান অর্জিত হয়েছে বলে হুকুম দেওয়া হলো অন্যের ওপর একটি দাবি মাত্র, যার ভিত্তি হলো নিজের ওপর অনুমান করা। অথচ মানুষের উপলব্ধির ভিন্নতা সর্বজনবিদিত; দুজনের উপলব্ধির স্তর খুব কমই সমান হয়। অতএব, এই নির্দিষ্ট মাধ্যমটি প্রত্যেকের জন্যই নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করবে বা করবে না—এ কথা গ্রহণযোগ্য নয়।
"জাইনুদ্দীন বলেছেন: যদি এটি বর্ণনা করেন" অর্থাৎ সহীহ আহাদ হাদীসটি যদি বর্ণনা করেন "শায়খাইন" অর্থাৎ বুখারী...
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ومسلم أي اتفقا على إخراجه على الصحابي "أو" انفرد "أحدهما" بإخراجه "فاختيار ابن الصلاح القطع بصحته وخالفه المحققون كما سيأتي" 1 للمصنف في ذكر حكم الصحيحين ويأتي الكلام عليه.
"وكذا قولهم" أي أئمة الحديث "هذا حديث ضعيف مرادهم فيما لم يظهر لنافيه شروط للصحة" أي ولا الحسن "لا أنه كذب في نفس الأمر" هذا إذا كان تضعيفه لكذب راوية وإلا فإن أسباب التضعيف كثيرة كما يأتي فلو قال لا أنه ضعيف في نفس الأمر لكان أشمل وفي قوله وإصابة من هو كثير الخطأ إشارة إلى ما صوبنا به عبارته إذ كثير الخطأ ليس خبره كذبا بل مردودا "لجواز صدق الكاذب وإصابة من هو كثير الخطأ" 2.
--------------------------------------------
এবং মুসলিম অর্থাৎ তাঁরা সেই সাহাবীর সূত্রে হাদিসটি উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন "অথবা" তাঁদের "কোনো একজন" এককভাবে তা উদ্ধৃত করেছেন। "ইবনে আস-সালাহ এর অভিমত হলো এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া, তবে মুহাক্কিকগণ তাঁর বিরোধিতা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে" ১ গ্রন্থকারের সহীহাইনের বিধান সংক্রান্ত আলোচনায় এবং এর ওপর আলোচনা সামনে আসবে।
"এবং অনুরূপভাবে তাঁদের কথা" অর্থাৎ হাদিস বিশারদগণের "এটি একটি দুর্বল হাদিস; তাঁদের উদ্দেশ্য হলো যাতে আমাদের নিকট সহীহ হওয়ার শর্তাবলি প্রকাশ পায়নি" অর্থাৎ হাসান হওয়ার শর্তও নয়, "এমন নয় যে তা বাস্তবে মিথ্যা"। এটি তখন প্রযোজ্য যদি এর দুর্বলতা বর্ণনাকারীর মিথ্যার কারণে হয়, অন্যথায় দুর্বলতার কারণসমূহ অনেক যেমনটি সামনে আসবে। সুতরাং তিনি যদি বলতেন "এমন নয় যে তা বাস্তবে দুর্বল" তবে তা অধিক ব্যাপক হতো। আর তাঁর কথা "এবং অধিক ভুলকারীর সঠিক হওয়া" এর মধ্যে সেই দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা তাঁর বক্তব্যকে সংশোধন করেছি, কেননা অধিক ভুলকারীর সংবাদ মিথ্যা নয় বরং তা প্রত্যাখ্যাত "কেননা মিথ্যাবাদীর সত্য বলা এবং অধিক ভুলকারীর সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
مسألة 3 [من علوم الحديث: في معرفة أصح الأسانيد]"أصح الأسانيد- واختلفوا" أي أئمة الحديث على ثلاثة أقوال إطلاقين وتفصيل كما ستعرفها "هل يمكن معرفة" المحدث "أصح الأسانيد" وكذا يجري في الحديث نفسه.
قال ابن الصلاح1: ولهذا ترى الإمساك عن إسناد أو حديث إلى آخره فليس الكلام مقصورا على الأسانيد كما هنا.
قلت: كأنه حذف الزين قوله أو حديث لأنه قال الحافظ ابن حجر لا يحفظ عن أحد من أئمة الحديث أنه قال حديث كذا أصح الأحاديث على الإطلاق لأنه لا يلزم من كون الإسناد أصح من غيره أن يكون المتن المروي به أصح من المتن المروي بالإسناد المرجوح لاحتمال انتفاء العلة عن الثاني: ووجودها في الأول أو كثرة المنابعات وتواترها على الثاني: دون الأول فلأجل هذا ما خاض الأئمة إلا في الأول خاصة وكأنه قال هل يمكن أو لا يمكن.
"قال زين الدين: والمختار أنه" أي معرفة الأصح ذكر الضمير لإضافته إلى المذكر "لا يصح" الظاهر أن يقال لا يمكن أنه عنوان البحث فكأنه أراد الصحة الإمكان "لأن تفاوت مراتب الصحة" التي يفيدها صحيح وأصح إلا أن ابن الصلاح ذكر هذا البحث بعد بيان مراتب الصحة فإنه قال الصحيح يتنوع إلى متفق عليه ومختلف فيه ويتنوع إلى مشهور وغريب وبين ذلك ثم قال إن درجات الصحيح تتفاوت في القوة بحسب تمكن الحديث من الصفات المذكورة التي تنبني الصحة عليها وتنقسم باعتبار ذلك إلى أقسام يستعصي إحصاؤها على العاد الحاصر2. اهـ.
--------------------------------------------
মাসয়ালা ৩ [হাদিস শাস্ত্র থেকে: সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদসমূহ চেনার বিষয়ে]"সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ—আর তাঁরা মতভেদ করেছেন" অর্থাৎ হাদিসের ইমামগণ তিনটি মতের ওপর (রয়েছেন): দুটি সাধারণ এবং একটি বিস্তারিত, যা আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন; "মুহাদ্দিসের পক্ষে কি জানা সম্ভব" যে কোনটি "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ", এবং একই বিষয়টি খোদ হাদিসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ইবনুস সালাহ১ বলেন: এই কারণেই আপনি কোনো নির্দিষ্ট সনদ বা হাদিসকে (নিশ্চিতভাবে শ্রেষ্ঠ বলতে) বিরত থাকতে দেখেন শেষ পর্যন্ত; সুতরাং আলোচনাটি কেবল সনদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় যেমনটি এখানে।
আমি বলি: মনে হচ্ছে জয়নুদ্দীন তাঁর "বা হাদিস" কথাটি বাদ দিয়েছেন, কারণ হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন যে, হাদিসের কোনো ইমাম থেকেই এমনটি বর্ণিত নেই যে তিনি বলেছেন অমুক হাদিসটি নিরঙ্কুশভাবে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাদিস। কেননা কোনো সনদ অন্যটির চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে, সেই সনদে বর্ণিত মতনটি (মূল পাঠ) তুলনামূলক দুর্বল সনদে বর্ণিত মতনের চেয়ে বেশি বিশুদ্ধ হবে। কারণ দ্বিতীয়টিতে ত্রুটি না থাকার এবং প্রথমটিতে তা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, অথবা দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে অনেক বেশি সমর্থনমূলক বর্ণনা ও নিরবচ্ছিন্নতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যা প্রথমটির ক্ষেত্রে নেই। এই কারণেই ইমামগণ কেবল প্রথম বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করেছেন; আর এটি যেন এমন যে তিনি বলছেন, এটি সম্ভব কি সম্ভব নয়।
"জয়নুদ্দীন বলেন: এবং পছন্দনীয় মত হলো এই যে," অর্থাৎ সবচেয়ে বিশুদ্ধটি জানা—এখানে সর্বনামটি পুংলিঙ্গ হিসেবে আনা হয়েছে কারণ এটি একটি পুংলিঙ্গ শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত—"তা সঠিক নয়"। বাহ্যত 'সম্ভব নয়' বলা উচিত ছিল কারণ এটিই আলোচনার শিরোনাম, তাই মনে হচ্ছে তিনি সঠিকতা দ্বারা সম্ভব হওয়াকে বুঝিয়েছেন। "কেননা বিশুদ্ধতার স্তরের তারতম্য" যা 'সহিহ' ও 'আসাহ' (অধিকতর সহিহ) শব্দগুলো নির্দেশ করে। তবে ইবনুস সালাহ এই আলোচনাটি বিশুদ্ধতার স্তরসমূহ বর্ণনা করার পর উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি বলেছেন, সহিহ হাদিস মুত্তাফাক আলাইহি এবং মুখতালাফ ফিহি হিসেবে বিভক্ত হয়, আবার তা মাশহুর ও গরিব হিসেবেও বিভক্ত হয়। তিনি এগুলো ব্যাখ্যা করার পর বলেছেন, সহিহ হাদিসের স্তরসমূহ শক্তির দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন হয়, যা হাদিসটির মধ্যে বিদ্যমান সেই গুণাবলির ওপর নির্ভর করে যার ওপর ভিত্তি করে বিশুদ্ধতা সাব্যস্ত হয়। আর এই বিচারে হাদিস এমন সব প্রকারে বিভক্ত হয় যা গণনা করা গণনাকারীর পক্ষেও দুঃসাধ্য২। সমাপ্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وهذا التفاوت في المراتب التي علل بها زين الدين لا يتضح إلا بعد معرفة هذه التقاسيم فلو أشار إليها كان أتم في الإفادة لقوله: "مترتب على تمكن الإسناد من شروط الصحة" ولا سبيل إلى معرفة تمكنه منها إلا بعد معرفة هذه التقاسيم ليعرف الأعلى مرتبة من الأدنى كما قال: "ويعز وجود أعلى درجات القبول في كل فرد فرد" من الرواة: بأن يكون أكمل رواة الأحاديث عدالة وضبطا بالنسبة إلى كل راو في الدنيا للحديث النبوي "في ترجمة واحدة بالنسبة لجميع الرواة" إذ قد لا يعز في بعض الرواة أو في تراجم معقودة رواة متعددين كما يأتي أنه قد حكم على بعض التراجم بالنسبة إلى راو معين وهذا التعليل يشعر بأنه يمكن وإنما يعز ولو عبر المصنف في أول البحث بقوله يعز معرفة أصح الأسانيد لكان أوفق لما ذكره هنا.
نعم عبارة الحافظ بلفظ لا يمكن أن يقطع الحكم في أصح الأسانيد لصحابي واحد وكأنه لذلك قال المصنف "وقريب من هذا" أي من كلام الزين "ما قاله الحاكم" أي أبو عبد الله الإمام الكبير الحافظ الشهير الضبي النيسابوري متفق على إمامته وجلالته ويأتي ذكر كتابه المستدرك وكلام الأئمة فيه وهذا الذي ذكره المصنف ذكره الحاكم في كتابه علوم الحديث "وسيأتي كلامه" قريبا.
وهذا الإطلاق الأول في مسألة والإطلاق الثاني: ما أفاده قوله: "قال ابن الصلاح: إن جماعة من المحدثين خاضوا غمرة ذلك" الغمرة بالغين المعجمة فيم ساكنة فراء من غمرة الماء غطاه ففي الكلام استعارة شبه البحث عن أصح الأسانيد بالبحر فأثبت له الخوض والغمرة وهذا دليل على أن هؤلاء الخائضين يرون إمكان معرفة أصح الأسانيد بل وجزموا فيما عينوه.
وهذا القسم يقابل قول المصنف يمكن وكأنه قال أولا ثم ذكر القسم الأول وأخذ في ذكر الثاني "فاضطربت أقوالهم" اختلفت في تعيين أصح الأسانيد.
"فقال البخاري: أصح الأسانيد" زاد ابن الصلاح لفظ كلها وكذلك الحاكم في الرواية عن البخاري وما كان يحسن حذفها إذا فيها التنصيص على المارد أي كل سند في الدنيا "ما رواه مالك1" الإمام المعروف "عن نافع" مولى عبد الله بن عمر "عن ابن
--------------------------------------------
মর্যাদার এই যে তারতম্য যয়নুদ্দীন যার কারণ দর্শিয়েছেন, তা এই বিভাজনগুলো জানার আগে স্পষ্ট হয় না। যদি তিনি এগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতেন তবে তা উপকারের দিক থেকে অধিক পূর্ণাঙ্গ হতো; যেহেতু তাঁর বক্তব্য: "সহীহ হওয়ার শর্তাবলীতে সনদের সক্ষমতার ওপর এটি নির্ভরশীল।" আর এই বিভাজনগুলো না জানা পর্যন্ত তা সক্ষম হওয়ার বিষয়টি জানার কোনো পথ নেই, যাতে উচ্চতর মর্যাদাকে নিম্নতর মর্যাদা থেকে পৃথক করা যায়; যেমনটি তিনি বলেছেন: "রাবীদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে কবুলিয়ত বা গ্রহণের সর্বোচ্চ স্তর পাওয়া দুষ্কর।" অর্থাৎ দুনিয়ার নববী হাদীসের প্রত্যেক রাবীর তুলনায় ন্যায়নিষ্ঠতা ও স্মৃতিশক্তির পূর্ণাঙ্গতার ক্ষেত্রে হাদীসের রাবীদের মধ্যে অধিকতর কামিল হওয়া "সকল রাবীর তুলনায় একটি নির্দিষ্ট বর্ণনাসূত্রে।" কেননা কোনো কোনো রাবীর ক্ষেত্রে অথবা একাধিক রাবী নিয়ে গঠিত বর্ণনাসূত্রে এটি পাওয়া দুষ্কর নাও হতে পারে, যেমন সামনে আসবে যে, নির্দিষ্ট কোনো রাবীর নিরিখে কোনো কোনো বর্ণনাসূত্রের ওপর হুকুম প্রদান করা হয়েছে। এই কারণ দর্শানোটি ইঙ্গিত দেয় যে এটি সম্ভব, তবে তা কেবল দুষ্কর মাত্র। লেখক যদি আলোচনার শুরুতে "বিশুদ্ধতম সনদসমূহ জানা দুষ্কর" বলতেন, তবে তা এখানে যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো।
হ্যাঁ, হাফিযের বক্তব্য এমন শব্দে বর্ণিত যে, একজন সাহাবীর ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম সনদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা দেয়া সম্ভব নয়। সম্ভবত একারণেই লেখক বলেছেন, "এর কাছাকাছি" অর্থাৎ যয়নুদ্দীনের বক্তব্যের কাছাকাছি "যা হাকীম বলেছেন।" অর্থাৎ আবু আব্দুল্লাহ আল-ইমাম আল-কাবীর আল-হাফিয আশ-শাহীর আদ-দাব্বী আন-নাইসাবুরী, যাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সকলে একমত। তাঁর গ্রন্থ আল-মুস্তাদরাক এবং সে বিষয়ে ইমামদের বক্তব্য সামনে আসবে। লেখক যা উল্লেখ করেছেন, তা হাকীম তাঁর উলূমুল হাদীস গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং "তাঁর বক্তব্য শীঘ্রই সামনে আসবে।"
এটি একটি মাসআলায় প্রথম সাধারণ বর্ণনা। আর দ্বিতীয় সাধারণ বর্ণনাটি হলো তাঁর কথা থেকে যা পাওয়া যায়: "ইবনুস সালাহ বলেছেন: মুহাদ্দিসগণের একটি দল এর গভীরতায় নিমজ্জিত হয়েছেন।" গামরা শব্দটি গাইন, মীম ও রা বর্ণ দিয়ে গঠিত, যা পানির অতল থেকে এসেছে যা ঢেকে ফেলে। এখানে রূপক ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে বিশুদ্ধতম সনদ অনুসন্ধানকে সমুদ্রের সাথে তুলনা করা হয়েছে এবং তার জন্য নিমজ্জিত হওয়া ও অতল গভীরতা সাব্যস্ত করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, এই নিমজ্জিত ব্যক্তিগণ বিশুদ্ধতম সনদ জানা সম্ভব বলে মনে করেন, বরং তাঁরা যা নির্দিষ্ট করেছেন সে ব্যাপারে চূড়ান্ত মত ব্যক্ত করেছেন।
এই অংশটি লেখকের "সম্ভব" কথাটির বিপরীতে। যেন তিনি প্রথমে এটি বলেছেন, এরপর প্রথম প্রকার উল্লেখ করেছেন এবং দ্বিতীয় প্রকারটি বর্ণনা করতে শুরু করেছেন, "ফলে তাঁদের বক্তব্যগুলো ইতস্তত হয়ে পড়েছে" অর্থাৎ বিশুদ্ধতম সনদ নির্ধারণে তাঁদের মাঝে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
"অতঃপর বুখারী বলেছেন: সবচেয়ে বিশুদ্ধতম সনদ হলো" - ইবনুস সালাহ 'সবগুলো' শব্দটি বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি হাকীমও বুখারীর বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন। এই শব্দটি বাদ দেয়া সমীচীন ছিল ছিল না, কারণ এতে উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে অর্থাৎ দুনিয়ার প্রতিটি সনদ। "যা মালিক১" সুপ্রসিদ্ধ ইমাম বর্ণনা করেছেন "নাফে' থেকে," যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের মুক্তদাস, "তিনি ইবনে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عمر" هو الصحابي الجليل عبد الله بن عمر بن الخطاب أخرج هذا الحاكم عن البخاري بسنده فهذا رأي البخاري ولا يصح أنه يريد أصح أسانيد عبد الله بن عمر عنده في نظره لأنه صرح بقوله كلها فإذا هذا الحكم بالنسبة إليه ليس محلا للخلاف إذ محله بالنسبة إلى كل حديث يروى ثم إذا كان البخاري عين الأصح عنده فلا يقال إنها اضطربت أقوال من عين رتبة الأصح عنده لأنه أخبر عن رأيه وما حصل عنده فكل قائل قوله غير مضطرب في نفسه ولا يلزمه القول بقول غيره إذ هو مخبر عما صح له.
"وقال عبد الرزاق" هو الصنعاني الإمام المعروف صحاب المسند "وأبو بكر بن أبي شيبة" هو عبد الله بم محمد بن أبي شيبة صاحب المسند والمصنف "أصحها مطلقا الزهري" هو محمد بن شهاب التابعي المعروف منسوب إلى زهرة بن كلاب بطن من قبيلة من قريش منهم أم النبي صلى الله عليه وسلم: "عن علي بن الحسين" زين العابدين وإمام المتقين شهرة أمره تغني عن ذكره "عن أبيه الحسين بن علي" ريحانة المصطفى وسيد الشهداء وقتيل كربلاء "عن جده" على بن أبي طالب أمير المؤمنين أبي الحسن خامس أهل الكساء وسيد الأتقياء وإمام الشهداء قد بينا بعض ما يجب من بيان فضائله في الروضة الندية شرح التحفة العلوية "سلام الله عليهم أجمعين" وهذه الرواية عن عبد الرزاق وابن أبي شيبة أخرجها الحاكم في علوم الحديث يسنده وفيها أصح الأسانيد كلها.
"وقال أحمد" هو إمام الحدثين أبو عبد الله أحمد بن حنبل صاحب المسند "واسحاق" هو أبو يعقوب اسحق بن ابراهيم الحنظلي من أئمة الحديث عرف بابن راهوية "أصحها" مطلقا "الزهري عن سلام ابن عبد الله بن عمر عن أبيه" عبد الله بن عمر بن الخطاب.
"وقال عمر بن علي الفلاس" أخرجه الحاكم عنه وفي كتاب ابن الصلاح عمرو بفتح العين وهي نسخة في كتاب المصنف والفلاس بفتح الففاء فتشديد اللام فسين مهملة "وسليمان بن حرب" وفي كتاب علوم الحديث للحاكم ابن داود وفي نكت الحافظ ابن حجر ابن حرب مثل ما هنا "وعلي بن المديني" وهو الحافظ المعروف شيخ البخاري "أصحها محمد بن سيرين" التابعي المعروف بتعبيره الأحلام "عن عبيدة" بفتح المهملة فموحدة فمثناة تحتية فدال مهملة "السلماني" بالسين المهملة وسكون اللام ويقال
"উমর" হলেন মহান সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব। আল-হাকিম এটি স্বীয় সনদে ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করেছেন, তাই এটি ইমাম বুখারীর অভিমত। এটি সঠিক নয় যে, তিনি এর মাধ্যমে তাঁর দৃষ্টিতে কেবল আবদুল্লাহ ইবনে উমরের বিশুদ্ধতম সনদগুলো বুঝিয়েছেন, কারণ তিনি স্পষ্টভাবে তাঁর 'সবগুলো' উক্তির কথা উল্লেখ করেছেন। সুতরাং, এই সিদ্ধান্তটি তাঁর নিকট কোনো মতভেদের বিষয় নয়, কারণ এর প্রয়োগ প্রতিটি বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে। অতঃপর ইমাম বুখারী যখন নিজের নিকট বিশুদ্ধতমটি নির্দিষ্ট করেছেন, তখন এমনটি বলা যাবে না যে, যারা বিশুদ্ধতমের স্তর নির্ধারণ করেছেন তাদের কথাগুলো স্ববিরোধী; কারণ তিনি কেবল নিজের অভিমত এবং তাঁর কাছে যা অর্জিত হয়েছে তা-ই ব্যক্ত করেছেন। প্রত্যেক বক্তার উক্তি নিজের ক্ষেত্রে সুসংগত, আর অন্যের মত গ্রহণ করা তাঁর জন্য আবশ্যক নয়, কারণ তিনি কেবল তাঁর নিকট যা সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে তা-ই বর্ণনা করেছেন।
"এবং আবদুর রাজ্জাক বলেছেন" — তিনি হলেন মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা সুপরিচিত ইমাম সানআনী। "এবং আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ" — তিনি হলেন মুসনাদ ও মুসান্নাফ গ্রন্থের রচয়িতা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবী শায়বাহ। "সার্বিকভাবে এগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো যুহরী" — তিনি হলেন প্রখ্যাত তাবিঈ মুহাম্মদ ইবনে শিহাব, যিনি কুরাইশ বংশের একটি শাখা জুহরাহ ইবনে কিলাব গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা এই বংশেরই সদস্য ছিলেন। "আলী ইবনে হুসাইন থেকে" — যিনি যয়নুল আবেদীন ও মুত্তাকীদের ইমাম, তাঁর সুখ্যাতিই তাঁর পরিচয় বর্ণনার জন্য যথেষ্ট। "তাঁর পিতা হুসাইন ইবনে আলী থেকে" — যিনি মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুগন্ধি নাতি, শহীদদের সরদার এবং কারবালায় শাহাদাতবরণকারী। "তাঁর দাদা থেকে" — যিনি মুমিনদের আমির, আবুল হাসান আলী ইবনে আবী তালিব, চাদর পরিহিত (আহলুল কিসা) ব্যক্তিদের মধ্যে পঞ্চম, পরহেজগারদের সরদার এবং শহীদদের ইমাম। আমরা তাঁর মর্যাদার বর্ণনায় যা আবশ্যক তার কিছু অংশ 'আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুত তুহফাতুল আলাভিয়্যাহ' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি। "তাঁদের সকলের উপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক।" আবদুর রাজ্জাক ও ইবনে আবী শায়বাহ থেকে বর্ণিত এই রেওয়ায়েতটি আল-হাকিম স্বীয় সনদে 'উলুমুল হাদিস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এতে সমস্ত বিশুদ্ধতম সনদের কথা রয়েছে।
"এবং আহমাদ বলেছেন" — তিনি হলেন মুহাদ্দিসগণের ইমাম আবু আবদুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বল, যিনি মুসনাদ গ্রন্থের রচয়িতা। "এবং ইসহাক" — তিনি হলেন হাদিসের অন্যতম ইমাম আবু ইয়াকুব ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-হানজালী, যিনি ইবনে রাহওয়াইহ নামে পরিচিত। "সর্বদিক থেকে এগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতম" হলো "যুহরী, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে, তিনি তাঁর পিতা" আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণনা করেছেন।
"এবং উমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস বলেছেন" — আল-হাকিম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে সালাহ-এর কিতাবে এটি 'আমর' (আইন অক্ষরে ফাতহা যোগে) এসেছে, যা এই লেখকের কিতাবে একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ। আর 'ফাল্লাস' শব্দটি ফা অক্ষরে ফাতহা, লাম অক্ষরে তাশদীদ এবং নুকতাহীন সীন সহকারে। "এবং সুলাইমান ইবনে হারব" — আল-হাকিমের 'উলুমুল হাদিস' কিতাবে এটি 'ইবনে দাউদ' এসেছে, কিন্তু হাফেজ ইবনে হাজারের 'নুকাত' গ্রন্থে এখানে যা আছে সেভাবে 'ইবনে হারব' এসেছে। "এবং আলী ইবনে আল-মাদীনী" — তিনি হলেন প্রখ্যাত হাফেজ এবং ইমাম বুখারীর উস্তাদ। "এগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধতম হলো মুহাম্মদ ইবনে সিরীন" — তিনি স্বপ্নের ব্যাখ্যার জন্য সুপরিচিত তাবিঈ। "উবাইদাহ থেকে" — এখানে নুকতাহীন প্রথম অক্ষরে ফাতহা, এরপর এক নুকতাযুক্ত বর্ণ, এরপর নিচে দুই নুকতাযুক্ত বর্ণ এবং শেষে নুকতাহীন দাল। "আস-সালমানী" — নুকতাহীন সীন এবং লাম অক্ষরে সুকুন যোগে, আর বলা হয় যে...
(খণ্ড: ১)
তাওদীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
بفتحها وهو أحد الرواة "عن علي بن أبي طالب عليه السلام إلا أن علي بن المديني قال: أجود الأسانيد" كأنه عبارة عن أصحها ليوافق ما تقدم [من قوله أصحها] "عبد الله بن عون عن" محمد "ابن سيرين عن عبيدة عن علي" فشرط أن يكون الراوي عن محمد بن سيرين عبد الله بن عون.
"وقال سليمان بن حرب: أصحها أيوب" السختياني الثقة المعروف "عن محمد بن سيرين بن عن عبيدة عن علي" فشرط في الراوي عن ابن سيرين أن يكون أيوب فقد اتفق الثالثة: أن أصحها محمد بن سيرين عن عبيدة عن عي وإن اختلفوا في الراوي عن محمد وظاهر هذا أن الفلاس لم يشترط راويا معينا عن محمد.
"وقال ابن معين" بفتح الميم فعين مهملة فمثناة تحتية فنون هو يحيى بن معين الإمام الحافظ صاحب الجرح والتعديل "أصحها سليمان ابن مهران" بسكر الميم وسكون الهاء فراء "الأعمش" بعين مهملة فشين معجمة حافظ مشهور ثقة عالم رأي أنس بن مالك ولم يرزق السماع منه فهو تابعي برؤية الصحابي وأما ما يرويه عنه فهو مرسل أرسل عن كبار التابعين "عن ابراهيم بن يريد النخعي" بفتح النون وفتح الخاء المعجمة فعين مهملة فقيه كوفي أحد الأئمة المشهورين تابعي رأي عائشة ولم يسمع منها وهو منسبوب إلى النخع قبيلة كبيرة من مذحج باليمين "عن علقمة" بعين مهملة مفتوحة فلام فقاف فقيه ثبت تابعي عالم "ابن قيس" ابن عبد الله النخعي الكوفي "عن عبد الله بن مسعود" أخرجه الحاكم بسنده عن يحيى زاد فقال له أي ليحيى إنسان الأعمش مثل الزهري فقال برئت من الأعمش أن يكون مثل الزهري كان يرى العرض والإجازة وكان يعمل لبني أمية وكان الأعمش فمدحه فقال فقير صبور مجانب للسلطان.
"فهذه الأقوال" وهي خمسة "ذكرها ابن الصلاح1 قال زين الدين" بعد سياقه لكلام ابن الصلاح "وفي المسألة أقوال أخر ذكرتها في الشرح الكبير" الذي شرح به ألفيته.
وقد ذكر الحافظ ابن حجر أقوالا أخر نص أئمة من أئمة الحديث بأنها أصح الأسانيد غير ما ذكر.
"وفيه" أي في الشرح الكبير "فوائد مهمة لا يستغني عنها طالب الحديث" 2 لنفعها
--------------------------------------------
বর্ণটির ফাতাহ বা জবর সহকারে, এবং তিনি হলেন আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণনাকারীদের একজন। তবে আলী ইবনুল মাদিনী বলেছেন: "সর্বোত্তম সনদসমূহ হলো"—যেন এটি তাঁর পূর্বোক্ত কথা "সবচেয়ে বিশুদ্ধ" (অসহহা)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—"আবদুল্লাহ বিন আউন, মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবিদাহ থেকে, তিনি আলী থেকে"। সুতরাং শর্ত হলো মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনাকারী যেন আবদুল্লাহ বিন আউন হন।
"এবং সুলাইমান বিন হারব বলেছেন: সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো আইয়ুব" আস-সাখতিয়ানী, যিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও সুপ্রসিদ্ধ রাবী, "তিনি মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন থেকে, তিনি আবিদাহ থেকে, তিনি আলী থেকে"। সুতরাং এখানে ইবনে সিরীন থেকে বর্ণনাকারী আইয়ুব হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে। ফলে তৃতীয় বিষয়টি একমত হয়েছে যে: সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন, আবিদাহ থেকে, তিনি আলী থেকে—যদিও মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তারা ভিন্নমত পোষণ করেছেন। এবং এর প্রকাশ্য অর্থ হলো ফাল্লাস মুহাম্মাদ থেকে কোনো নির্দিষ্ট রাবীকে শর্ত করেননি।
"এবং ইবনে মাঈন"—মিম-এর ফাতাহ, এরপর মুহমালা (বিন্দুহীন) আইন, এরপর নিচের দিকে দুই নুক্তাওয়ালা ইয়া এবং এরপর নূন—তিনি হলেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, ইমাম, হাফেজ এবং জারহ ও তা'দীল শাস্ত্রের প্রবক্তা, তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ হলো সুলাইমান ইবনে মিহরান"—মিম-এর কাসরা এবং হা-এর সুকুন ও এরপর রা—"আল-আ’মাশ"—মুহমালা আইন ও মু’জাম (বিন্দুযুক্ত) শীন—তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ হাফেজ, নির্ভরযোগ্য ও আলেম। তিনি আনাস বিন মালিককে দেখেছিলেন কিন্তু তাঁর থেকে শোনার সৌভাগ্য হয়নি, তাই তিনি সাহাবীর দর্শনের মাধ্যমে তাবেয়ী। আর তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয় তা মুরসাল; তিনি বড় বড় তাবেয়ী থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। "ইব্রাহিম ইবনে ইয়াজিদ আন-নাখায়ী থেকে"—নূন-এর ফাতাহ ও মু'জাম খা-এর ফাতাহ ও এরপর মুহমালা আইন—তিনি একজন কুফী ফকীহ এবং সুপ্রসিদ্ধ ইমামদের একজন, তিনি তাবেয়ী, আয়িশাকে দেখেছেন কিন্তু তাঁর থেকে কিছু শুনেননি। তাঁর সম্বন্ধ ইয়ামেনের মাজহিজ গোত্রের একটি বড় শাখা নাখ-এর দিকে। "আলকামা থেকে"—মুহমালা আইন-এর ফাতাহ, এরপর লাম ও কফ—তিনি একজন ফকীহ, প্রমাণিত নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী ও আলেম, "ইবনে কায়েস" ইবনে আবদুল্লাহ আল-নাখায়ী আল-কুফী, "তিনি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে"। হাকেম তাঁর সনদে ইয়াহইয়া থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে আরও যোগ করেছেন যে: জনৈক ব্যক্তি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন, আ’মাশ কি যুহরীর মতো? তিনি বললেন: আ’মাশ যে যুহরীর মতো হবেন তা থেকে আমি সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করছি। যুহরী আরজ (উপস্থাপন) ও ইজাযতকে (সনদ প্রদানের পদ্ধতি) সঠিক মনে করতেন এবং তিনি বনী উমাইয়াদের জন্য কাজ করতেন। আর আ’মাশ—এরপর তিনি তাঁর প্রশংসা করে বললেন: তিনি ছিলেন দরিদ্র, ধৈর্যশীল এবং সুলতানদের থেকে বিমুখ।
"এই মতগুলো"—যা সংখ্যায় পাঁচটি—"ইবনে আস-সালাহ উল্লেখ করেছেন। যয়নুদ্দীন বলেছেন" ইবনে আস-সালাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর: "এই বিষয়ে আরও অন্যান্য মত রয়েছে যা আমি ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এ বর্ণনা করেছি" যার মাধ্যমে তিনি তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার আরও কিছু মতামত উল্লেখ করেছেন যেখানে হাদীস শাস্ত্রের ইমামগণ সেগুলোকে বর্ণিত মতগুলোর বাইরে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
"এবং তাতে" অর্থাৎ ‘আশ-শারহুল কাবীর’-এ "অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা রয়েছে যা হাদীসের ছাত্রের জন্য অপরিহার্য" তার উপকারের কারণে।
--------------------------------------------