(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: -)
فقه الخلاف وأثره في القضاء على الإرهاب القسم: كتب عامة
الكتاب: فقه الخلاف وأثره في القضاء على الإرهاب
المؤلف: د. يوسف بن عبد الله الشبيلي
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 38
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 47
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মতভেদের ফিকহ এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এর প্রভাব বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: মতভেদের ফিকহ এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এর প্রভাব
লেখক: ড. ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আশ-শুবাইলি
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩৮
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১)
فقه الخلاف وأثره في القضاء على الإرهاب إعداد
د. يوسف بن عبد الله الشبيلي
الأستاذ المساعد بقسم الفقه المقارن
بالمعهد العالي للقضاء
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليمًا كثيرًا إلى يوم الدين، أما بعد:
فإن الله بعث نبيه محمدًا صلى الله عليه وسلم بالشريعة الغراء، والملة السمحاء، والحنيفية البيضاء، ومن سمات هذه الشريعة أنها شريعة خاتمة لكل الشرائع، وعامة لكل الناس، وشاملة لكل نواحي الحياة، فما تركت شيئًا مما يحتاج إليه الناس إلا وبينت لنا وجه الحق فيه، ودلتنا على خير ما يصلح لنا ديننا ودنيانا، وحذرتنا من كل ما تعود عاقبته وبالًا علينا، يقول تعالى: {مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ} (الأنعام:38) .
মতপার্থক্য সংক্রান্ত ফিকহ এবং সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এর প্রভাব - উপস্থাপনায়
ড. ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ আল-শুবাইলি
তুলনামূলক ফিকহ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
উচ্চ বিচার বিভাগীয় ইনস্টিটিউটে
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছেই ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের কর্মসমূহের মন্দ দিকগুলো থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন, তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে উজ্জ্বল শরীয়ত, সহজ ও উদার ধর্মাদর্শ এবং একনিষ্ঠ সত্য মিল্লাতসহ প্রেরণ করেছেন। এই শরীয়তের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এটি পূর্ববর্তী সকল শরীয়তের পরিসমাপ্তিকারী, সমস্ত মানুষের জন্য সার্বজনীন এবং জীবনের সকল দিকের জন্য ব্যাপক ও পূর্ণাঙ্গ। মানুষের প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ই এটি বাদ রাখেনি; বরং তাতে সত্যের রূপটি আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে এবং আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য যা সর্বাধিক কল্যাণকর, সেদিকে আমাদের পরিচালিত করেছে। আর যার পরিণাম আমাদের জন্য অমঙ্গলজনক, সে সম্পর্কেও আমাদের সতর্ক করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি কিতাবে কোনো কিছু বাদ দিইনি।" (সূরা আল-আন'আম: ৩৮)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২)
وإن من أهم القضايا التي عالجها الإسلام قضية الإرهاب، تلك القضية التي أضحت البشرية تعاني منها أشد المعاناة، وذاقت بسببها الويلات، فلم تعد تمارس على مستوى الأفراد فحسب، بل على مستوى الدول والجماعات والمنظمات، وكان المسلمون هم الضحية الأولى لهذه الظاهرة، حيث تنتهك حقوقهم، وتسلب أموالهم، وتزهق أرواحهم، في ظل ما يسمى ب " مكافحة الإرهاب ".
وقد حذر الإسلام أتباعه من الانزلاق في هذه المزلة الخطيرة، ووضع السياجات الحصينة التي تحميهم من الوقوع فيها، فجاءت النصوص الشرعية بالتحذير من الغلو في الدين، والانحراف في فهم نصوص الشرع الحكيم.
ইসলাম যে সকল অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি নিরসন করেছে, তন্মধ্যে সন্ত্রাসবাদ অন্যতম; এটি এমন এক সংকট যাতে মানবজাতি আজ চরমভাবে ভুগছে এবং যার কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। এটি এখন আর কেবল ব্যক্তি পর্যায়েই চর্চিত হচ্ছে না, বরং রাষ্ট্রীয়, গোষ্ঠীগত এবং সাংগঠনিক পর্যায়েও এর বিস্তার ঘটেছে। আর এই পরিস্থিতির প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে মুসলিমরাই; যেখানে তথাকথিত 'সন্ত্রাসবাদ দমন'-এর নামে তাদের অধিকার লুণ্ঠন করা হচ্ছে, সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং জীবন সংহার করা হচ্ছে।
ইসলাম তার অনুসারীদের এই বিপজ্জনক স্খলনের গহ্বরে নিপতিত হওয়া থেকে সতর্ক করেছে এবং এমন সুদৃঢ় সুরক্ষা প্রাচীর নির্মাণ করেছে যা তাদেরকে এতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা করে। ফলশ্রুতিতে, শরয়ি দলিলাদিতে দ্বীনের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন (الغلو) এবং প্রজ্ঞাময় শরয়ি বিধানের সঠিক অনুধাবনের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি (الانحراف) সম্পর্কে কঠোর সতর্কতা ব্যক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
ولعل من أهم أسباب الانحراف في هذا الباب عند المسلمين الجهل بفقه الخلاف وآدابه، حيث يحل العنف في مسائل اجتهادية محل الحوار، وتظهر المنابذة في أمور تقتضي الصفح والوئام، وربما أدى الأمر في بعض الحالات إلى تكفير المخالف واستباحة دمه في مسألة غاية ما فيها أن القائل بها إما مجتهد مخطئ له أجر واحد، أو مجتهد على حقٍ فله أجران، ولذا أحببت أن أقدم هذه الدراسة المتواضعة بذكر ما يسمح به المقام من قواعد الخلاف المستنبطة من نصوص الشريعة، وأقوال أهل العلم، وقد اقتصرت على إحدى عشرة قاعدة لأن المقام لا يتسع لأكثر من ذلك، على أن أستوفي الحديث عن بقية القواعد في بحث أطول إن شاء الله تعالى.
ويجدر التنبيه إلى أن المقصود بالإرهاب في هذا البحث الإفساد الذي يقصد منه انتهاك حقوق المعصومين، في دمائهم أو أعراضهم أو أموالهم أو غير ذلك مما كفلته الشريعة لهم، أما ما كان دفاعًا مشروعًا ضد معتدٍ ظالم، فلا يعد ذلك إرهابًا، بل هو الكفاح المشروع الذي أقرته كل الشرائع السماوية والأنظمة الوضعية.
أسأل الله تبارك وتعالى أن يلهمنا الرشد والصواب وأن يوفقنا للخير والسداد.
সম্ভবত মুসলমানদের মাঝে এই ক্ষেত্রে বিচ্যুতির অন্যতম প্রধান কারণ হলো মতপার্থক্যের ফিকহ এবং এর আদব সম্পর্কে অজ্ঞতা, যেখানে ইজতিহাদমূলক (اجتهادية) মাসআলাসমূহে সংলাপের পরিবর্তে সহিংসতা স্থান পায় এবং এমন বিষয়ে পারস্পরিক বিদ্বেষ প্রকাশ পায় যা ক্ষমা ও সম্প্রীতি দাবি করে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্নমতাবলম্বীকে কাফির ঘোষণা (تكفير) করা এবং তার রক্ত বৈধ মনে করার পর্যায়ে পৌঁছে যায় এমন সব মাসআলার ক্ষেত্রে, যেখানে বড়জোর এটুকু বলা যায় যে, উক্ত মতের প্রবক্তা হয়তো একজন ভুলকারী মুজতাহিদ (مجتهد مخطئ), যার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব, অথবা তিনি সত্যে উপনীত মুজতাহিদ (مجتهد على حق), যার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। তাই আমি শরিয়তের মূল পাঠ এবং বিজ্ঞ আলেমদের উক্তি থেকে উদ্ভূত মতপার্থক্যের মূলনীতি (قواعد الخلاف) সম্পর্কে আলোচনার অবকাশ অনুযায়ী এই বিনম্র গবেষণাটি উপস্থাপন করতে চেয়েছি। এখানে আমি মাত্র এগারোটি মূলনীতির বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছি, কারণ বর্তমান পরিসর এর চেয়ে বেশি সংকুলান করে না। তবে ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে দীর্ঘ কোনো গবেষণায় অবশিষ্ট মূলনীতিগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করছি।
এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই গবেষণায় সন্ত্রাসবাদ বলতে এমন বিপর্যয় সৃষ্টি করাকে বোঝানো হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো সংরক্ষিত (معصومين) ব্যক্তিদের জীবন, সম্পদ, ইজ্জত-আব্রু বা শরিয়ত নিশ্চিত করেছে এমন অন্যান্য অধিকার হরণ করা। তবে কোনো জালিম ও আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে যে আত্মরক্ষা বৈধ, তা সন্ত্রাসবাদ হিসেবে গণ্য হবে না; বরং তা একটি বিধিসম্মত সংগ্রাম, যা সকল আসমানি শরিয়ত এবং প্রচলিত মানবীয় আইনসমূহ স্বীকৃতি দিয়েছে।
আমি বরকতময় ও মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ ও সত্যের প্রেরণা দান করেন এবং আমাদের কল্যাণ ও সঠিকতার তাওফিক দান করেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
تمهيد في معنى الخلاف الخلاف في اللغة والاختلاف والمخالفة بمعنًى واحد، (1) قال في المصباح المنير: " خالفته مخالفة وخلافًا وتخالف القوم واختلفوا إذا ذهب كل واحدٍ إلى خلاف ما ذهب إليه الآخر، وهو ضد الاتفاق ". (2)
ولا يختلف المعنى الشرعي للخلاف عن المعنى اللغوي، إلا أنه مقصور على الاختلاف في المسائل الشرعية، فالعلاقة بين المعنيين هي علاقة عموم وخصوص مطلق، ذلك أن علماء الشريعة يطلقون الخلاف على المسائل الشرعية التي لم يجمع عليها، فالخلاف ضد الإجماع. (3)
ونعني بالخلاف هنا ما هو أشمل من الخلاف في المسائل الفقهية الاجتهادية، فيدخل في ذلك المخالفة في المسائل الاعتقادية، كما في قوله تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ} (آل عمران: 105) ، وسيأتي بيان ذلك إن شاء الله.
--------------------------------------------
মতভেদের (الخلاف) অর্থ প্রসঙ্গে ভূমিকা আভিধানিক দৃষ্টিতে মতভেদ (الخلاف), মতান্তর (الاختلاف) এবং বিরোধিতা (المخالفة) একই অর্থবোধক। (১) আল-মিসবাহুল মুনির গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আমি তার বিরোধিতা (مخالفة) করলাম এবং আমাদের মাঝে মতভেদ (خلافًا) তৈরি হলো; আর কোনো কওম বা গোষ্ঠী তখন ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করে ও মতভেদে (اختلفوا) লিপ্ত হয়, যখন তাদের প্রত্যেকে অন্যের গৃহীত মতের বিপরীতে অবস্থান নেয়। আর এটি হলো ঐকমত্যের (الاتفاق) বিপরীত।" (২)
মতভেদের (الخلاف) শরয়ী অর্থ আভিধানিক অর্থ থেকে ভিন্ন কিছু নয়, তবে তা কেবল শরয়ী মাসআলাসমূহের (المسائل الشرعية) পার্থক্যের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ। সুতরাং এই উভয় অর্থের মধ্যকার সম্পর্ক হলো সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ সম্পর্ক (عموم وخصوص مطلق)। কারণ, শরীয়তবিদগণ 'খিলাফ' (الخلاف) শব্দটি এমন সব শরয়ী মাসআলার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন যেগুলোতে ঐকমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অতএব, মতভেদ (الخلاف) হলো ঐকমত্যের (الإجماع) বিপরীত। (৩)
এখানে আমরা মতভেদ (الخلاف) বলতে কেবল গবেষণালব্ধ (الاجتهادية) ফিকহী মাসআলাসমূহের মতভেদের চেয়েও ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছি। ফলে এর অন্তর্ভুক্ত হবে আকিদাগত (الاعتقادية) মাসআলার বিরোধসমূহও, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা বিভক্ত হয়েছে এবং তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর মতভেদে (اختلفوا) লিপ্ত হয়েছে} (আল-ইমরান: ১০৫)। ইনশাআল্লাহ সামনে এ বিষয়ের ব্যাখ্যা আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
القاعدة الأولى الاختلاف منه ما هو محمود ومنه ما هو مذموم
النوع الأول: الاختلاف المذمومويكون في حالات:
الحال الأولى: الاختلاف في مسائل العقيدة المتفق عليها عند أهل السنة والجماعة:
فهذا اختلاف مذموم لأن العقيدة ثابتة بنصوص قطعية في الكتاب والسنة وقد أجمع عليها الصحابة فلا يصح أن يكون فيها اختلاف بين المسلمين.
الحال الثانية: الاختلاف في الأدلة القطعية:
والمقصود بها المسائل التي تكون قطعية الثبوت وقطعية الدلالة، مثل وجوب الصلاة والصيام والزكاة، وقطع يد السارق، ورجم الزاني، ووجوب الحجاب وتحريم الخمر، ونحو ذلك.
فالاختلاف في هذه المسائل غير سائغ لأنه لو قبل الخلاف فيها لما بقي شيء من مسائل الدين إلا وأصبح قابلًا للأخذ والرد.
الحال الثالثة: الاختلاف الناشئ عن تعصبٍ أو هوى لا عن حجةٍ وبرهان:
فقد ذم الله تعالى الذين يجادلون في آياته بغير حجة ولا برهان، فقال سبحانه: {إِنَّ الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ إِنْ فِي صُدُورِهِمْ إِلَّا كِبْرٌ مَا هُمْ بِبَالِغِيهِ} (غافر: 56) .
وقوله:"سلطان " أي حجة وبرهان.
প্রথম নীতি: মতভিন্নতা কোনোটি প্রশংসনীয় আবার কোনোটি নিন্দনীয় হয়
প্রথম প্রকার: নিন্দনীয় মতভিন্নতা (الاختلاف المذموم)এটি কয়েকটি ক্ষেত্রে হয়ে থাকে:
প্রথম ক্ষেত্র: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট সর্বসম্মত (إجماع) আকীদার বিষয়াবলীতে মতভেদ করা:
এটি একটি নিন্দনীয় মতভিন্নতা (اختلاف مذموم); কারণ আকীদা কুরআন ও সুন্নাহর অকাট্য (قطعية) দলিলের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সাহাবীগণ এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) পোষণ করেছেন। সুতরাং মুসলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ হওয়া সঠিক নয়।
দ্বিতীয় ক্ষেত্র: অকাট্য দলিলাদির (الأدلة القطعية) ক্ষেত্রে মতভেদ করা:
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সকল বিষয় যা সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে অকাট্য (قطعية الثبوت) এবং মর্মের দিক থেকেও অকাট্য (قطعية الدلالة); যেমন—নামাজ, রোজা ও যাকাত ফরজ হওয়া, চোরের হাত কাটা, ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ (رجم) করা, হিজাব আবশ্যক হওয়া এবং মদ হারাম হওয়া ইত্যাদি।
এই সকল বিষয়ে মতভেদ করা বৈধ নয়; কারণ যদি এসব ক্ষেত্রেও মতভেদ গ্রহণ করা হয়, তবে দ্বীনের এমন কোনো বিষয় অবশিষ্ট থাকবে না যা গ্রহণ বা বর্জনের ঊর্ধ্বে থাকবে।
তৃতীয় ক্ষেত্র: গোঁড়ামি বা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে উদ্ভূত মতভেদ, যা কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) বা নিদর্শনের (برهان) ভিত্তিতে নয়:
আল্লাহ তাআলা ঐ সকল ব্যক্তির নিন্দা করেছেন যারা কোনো অকাট্য প্রমাণ (حجة) বা নিদর্শন (برهان) ছাড়াই তাঁর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় যারা তাদের কাছে আসা কোনো অকাট্য দলিল (سلطান) ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের অন্তরে কেবল অহংকারই আছে, যা তারা অর্জন করতে পারবে না।" (গাফির: ৫৬)।
আর তাঁর বাণী: "সুলতান (سلطان)" অর্থ হলো অকাট্য প্রমাণ (حجة) ও নিদর্শন (برهان)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
الحال الرابعة: مخالفة ما أجمعت عليه الأمة:
ففي هذه الحالات الأربع يكون الاختلاف مذمومًا، وهو ما يطلق عليه الشارع الافتراق، كما في حديث الافتراق المشهور الذي رواه عوف بن مالك رضي الله عنه وغيره من الصحابة قال: قال صلى الله عليه وسلم: «افترقت اليهود على إحدى وسبعين فرقة فواحدة في الجنة وسبعون في النار، وافترقت النصارى على اثنتين وسبعين فرقة فواحدة في الجنة وإحدى وسبعون فرقة في النار. والذي نفسي بيده لتفترقن هذه الأمة على ثلاث وسبعين فرقة كلها في النار إلا واحدة، قيل من هم يا رسول الله، قال الجماعة» ، (1) وفي رواية قال: «من كان على مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي» ، وفي رواية قال: «هم السواد الأعظم» .
--------------------------------------------
চতুর্থ অবস্থা: উম্মাহ যে বিষয়ের ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছে তার বিরোধিতা করা:
এই চারটি অবস্থায় মতভেদ নিন্দনীয় বলে গণ্য হবে, যাকে শরিয়ত প্রণেতা বিচ্ছিন্নতা (افتراق) বলে অভিহিত করেছেন। যেমনটি আউফ ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং অন্যান্য সাহাবীগণ থেকে বর্ণিত প্রসিদ্ধ বিচ্ছিন্নতা (افتراق) বিষয়ক হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ইয়াহুদিরা একাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি দল জান্নাতে এবং সত্তরটি দল জাহান্নামে। খ্রিস্টানরা বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল, তাদের মধ্যে একটি দল জান্নাতে এবং একাত্তরটি দল জাহান্নামে। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই এই উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের সবাই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি দল ব্যতীত। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: জামা'আত (الجماعة)» , (১) অন্য একটি বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: «আজ আমি এবং আমার সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর আছি, যারা তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে» , এবং অন্য বর্ণনায় (رواية) তিনি বলেছেন: «তারা হলো বিশাল জনগোষ্ঠী (السواد الأعظم)» ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
والمتأمل في هذا الحديث يلحظ الفارق بين فقه الصحابة وفقه من بعدهم، فالصحابة رضوان الله عليهم كانت عنايتهم بمعرفة الفرقة الناجية وصفاتها للتشبه بها، ولهذا سألوا النبي عن صفة تلك الفرقة، وكان السائل عمر بن الخطاب كما جاء مصرحًا به في رواية جابر، أما من بعدهم فقد شغلوا بالفرق الهالكة، والعلم بالفرق المنحرفة أمر مطلوب شرعًا، ولذلك كان حذيفة رضي الله عنه يقول: كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن أقع فيه.
ويقول الشاعر:
عرفت الشر لا للشر ولكن لتوقيه
… ومن لا يعرف الخير من الشر يقع فيه.
إلا أن الواجب على المسلم أن يعرف من طرق أهل الضلال الأصول التي ينطلقون منها والمناهج التي يسلكونها ومعرفة أسباب زيغها وانحرافها والرد عليها وبيان فسادها أما التعمق في أقاويلها وتفصيلاتها والفروق الدقيقة بينها فلم يُكلفنا الله به.
وهنا نأتي إلى مسألة هامة تتعلق بهذا الحديث، قد اتخذها بعض الضالين متكئًا للتكفير، وإخراج جميع المخالفين عن الملة، وهي:
هل هذه الفرق المذكورة في الحديث كافرة أو لا؟ .
للإجابة عن هذا السؤال لا بد من بيان عدة أمور:
এই হাদিসটি নিয়ে যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি সাহাবীদের ফিকহ (فقه) এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফিকহের মধ্যকার পার্থক্য লক্ষ্য করবেন। সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মূল মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية) এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো চিনে নিয়ে নিজেদের সেই ছাঁচে গড়ে তোলার প্রতি। এই কারণেই তাঁরা নবীকে সেই দলের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। যেমনটি জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রশ্নকারী ছিলেন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। পক্ষান্তরে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত দলগুলো (الفرق الهالكة) নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যদিও পথভ্রষ্ট দলগুলো (الفرق المنحرفة) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা শরয়িভাবে কাম্য (مطلوب شرعاً); এই কারণেই হুযাইফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত, আর আমি তাঁকে অকল্যাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম এই ভয়ে যে, আমি যেন তাতে নিপতিত না হই।"
এবং কবি বলেন:
আমি মন্দকে জেনেছি মন্দের জন্য নয়, বরং তা থেকে বেঁচে থাকার জন্য
… আর যে ব্যক্তি মন্দের দিক থেকে কল্যাণকে পৃথক করে চিনতে পারে না, সে মন্দের মধ্যেই পতিত হয়।
তবে একজন মুসলিমের ওপর অর্পিত আবশ্যিক দায়িত্ব হলো পথভ্রষ্টদের সেই মূলনীতিসমূহ (الأصول) চিনে নেওয়া যেখান থেকে তাদের উৎপত্তি এবং যে মানহাজ বা কর্মপন্থা (المناهج) তারা অনুসরণ করে; সেই সাথে তাদের বিচ্যুতি ও পথভ্রষ্টতার কারণগুলো জানা, সেগুলোর প্রতিবাদ করা এবং তাদের অসারতা সুস্পষ্ট করা। আর তাদের অবান্তর কথা, পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ এবং তাদের মধ্যকার সূক্ষ্ম মতভেদগুলো নিয়ে গভীরে প্রবেশ করার দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের দেননি।
এখানে আমরা এই হাদিস সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা (مسألة)-তে উপনীত হয়েছি, যাকে কিছু পথভ্রষ্ট লোক তাকফির (التكفير) বা কাফির সাব্যস্ত করার এবং সকল ভিন্নমতাবলম্বীকে মিল্লাত (الملة) বা ইসলাম থেকে বহিষ্কার করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, আর তা হলো:
হাদিসে উল্লেখিত এই দলগুলো কি কাফির (كافر) নাকি কাফির নয়? .
এই প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা আবশ্যক:
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
أولًا: المراد بقوله عليه الصلاة والسلام: «وستفترق هذه الأمة» هنا أمة الإجابة (1) لا أمة الدعوة، (2) ففرق اليهود والنصارى لا تدخل في عد هذه الفرق.
ثانيًا: قوله عليه الصلاة والسلام: «كلها في النار إلا واحدة» ، هذه الجملة دليل على أن هذه الفرق ضالة مجانبة للحق ومستحقة للوعيد بالنار وهذا لا خلاف فيه بين أهل العلم.
ثالثًا: الحديث لا دلالة فيه على التكفير أو أن هذه الفرق مخلدة في النار لأن الوعيد بالنار لا يقتضي الخلود فيها، فالكلام في البدع كالكلام في الكبائر وقد توعد النبي صلى الله عليه وسلم بالنار على كثير من الذنوب التي لا يختلف أهل الحق على عدم التكفير بمجردها كالقتل وإباق العبد من مواليه المسلم والرغبة عن الآباء.
ومما يؤيد ذلك: أنه عليه الصلاة والسلام جعل هذه الفرق من الأمة حيث قال: «ستفترق أُمتي على ثلاث وسبعين فرقة» فجعل الاثنتين وسبعين فرقة من أمة محمد عليه الصلاة والسلام، وهذا يعني أنهم مسلمون في الجملة، والأصل أن المسلم باقٍ على إسلامه فلا يخرج منه إلا بيقين.
--------------------------------------------
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «আর এই উম্মত বিভক্ত হবে» এর দ্বারা এখানে উম্মাতে ইজাবাহ (أمة الإجابة) (১) উদ্দেশ্য, উম্মাতে দাওয়াত (أمة الدعوة) (২) নয়। সুতরাং ইহুদি ও খ্রিস্টানদের দলগুলো এই দলগুলোর গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «একটি ব্যতীত তারা সকলেই জাহান্নামে যাবে», এই বাক্যটি প্রমাণ করে যে, এই দলগুলো পথভ্রষ্ট (ضالة), সত্য থেকে বিচ্যুত এবং শাস্তির ধমকের (وعيد) উপযুক্ত। এ বিষয়ে আলেমগণের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
তৃতীয়ত: এই হাদিসে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) অথবা এই দলগুলো চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকার কোনো প্রমাণ নেই। কারণ জাহান্নামের শাস্তির ধমক (وعيد) পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, সেখানে চিরকাল থাকতে হবে। বিদআত (بدعة) সম্পর্কিত আলোচনা হলো কবিরা গুনাহ (كبائر) সম্পর্কিত আলোচনার মতো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন অনেক গুনাহের জন্য জাহান্নামের শাস্তির ধমক (وعيد) দিয়েছেন যেগুলোর কারণে কাফির সাব্যস্ত (تكفير) না করার ব্যাপারে আহলে হক একমত; যেমন: হত্যা করা, মুসলিম মনিব থেকে দাসের পালিয়ে যাওয়া এবং পৈতৃক পরিচয় অস্বীকার করা।
এই বিষয়টিকে যা সমর্থন করে তা হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দলগুলোকে উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যখন তিনি বলেছেন: «আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে», সুতরাং তিনি বাহাত্তরটি দলকে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর অর্থ হলো তারা সামগ্রিকভাবে মুসলিম। আর মূল নীতি হলো, একজন মুসলিম তার ইসলামের ওপরই বহাল থাকে, সুতরাং নিশ্চিত প্রমাণ ব্যতীত তাকে ইসলাম থেকে বের করা যাবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية: " وكذلك سائر الاثنتين وسبعين فرقة من كان منهم منافقًا فهو كافر في الباطن، ومن لم يكن منافقًا بل كان مؤمنًا بالله ورسوله في الباطن لم يكن كافرًا في الباطن وإن أخطأ في التأويل كائنًا ما كان خطؤه. وقد يكون في بعضهم شعبة من شُعب النفاق ولا يكون فيه النفاق الذي يكون صاحبه في الدرك الأسفل من النار. ومن قال: إن الاثنتين وسبعين فرقة كل واحد منهم يُكفر كفرًا ينقل عن الملة فقد خالف الكتاب والسنة وإجماع الصحابة رضوان الله عليهم، بل إجماع الأئمة الأربعة وغير الأربعة فليس منهم من كفر كل واحد من الاثنتين وسبعين فرقة وإنما يكفر بعضهم بعضا ببعض المقالات ". (1)
--------------------------------------------
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "অনুরূপভাবে অবশিষ্ট বাহাত্তরটি দলের ক্ষেত্রেও (একই বিধান); তাদের মধ্যে যারা মুনাফিক (منافق), তারা অন্তরে কাফির (كافر)। আর যারা মুনাফিক (منافق) নয় বরং অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিন (مؤمن), তারা অন্তরে কাফির (كافر) নয়—যদিও ব্যাখ্যার (تأويل) ক্ষেত্রে তাদের ভুল হয়ে থাকে, সেই ভুল যে পর্যায়েরই হোক না কেন। তাদের কারো কারো মধ্যে নিফাকের (نفاق) কোনো একটি শাখা থাকতে পারে, তবে তার মধ্যে সেই নিফাক (نفاق) নেই যার অধিকারী জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি বলে যে, বাহাত্তর দলের প্রত্যেকেই এমন কুফরে (كفر) লিপ্ত যা তাকে মিল্লাত (ملة) থেকে বের করে দেয়, তবে সে কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ইজমার (إجماع) বিরোধিতা করল; বরং সে চার ইমাম এবং চার ইমাম ব্যতীত অন্য ইমামগণের ইজমারও (إجماع) বরখেলাপ করল। তাঁদের কেউই বাহাত্তর দলের প্রত্যেককে কাফির (كافر) আখ্যা দেননি, বরং তারা একে অপরকে কিছু সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের কারণে কাফির (كافر) বলে থাকে।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
النوع الثاني من الاختلاف: الاختلاف المحمود
وهو الاختلاف في المسائل الظنية، مثل الاختلاف في وقوع طلاق الثلاث واحدة، والقنوت في صلاة الفجر، ورفع اليدين في الصلاة، وما يجب تغطيته من المرأة، ونحو ذلك.
فمثل هذه المسائل يسوغ فيها الخلاف إذا لم يكن عن تعصب وهوى وإنما عن اجتهاد وتحرٍ لقوله عليه الصلاة والسلام: «إذا اجتهد الحاكم فأصاب فله أجران وإذا اجتهد فأخطأ فله أجرٌ واحد» (1) ، وقد أقر النبي صلى الله عليه وسلم الصحابة رضوان الله عليهم على اختلافهم في الاجتهاد في صلاة العصر في غزوة بني قريظة. (2)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় প্রকারের মতভেদ: প্রশংসনীয় মতভেদ (الاختلاف المحمود)
আর এটি হলো ধারণাপ্রসূত (ظنية) বিষয়াবলির মধ্যকার মতভেদ; যেমন: এক সাথে তিন তালাক প্রদান করলে তা এক তালাক হিসেবে গণ্য হওয়া, ফজরের নামাজে কুনুত পাঠ করা, নামাজে হাত তোলা (رفع اليدين), মহিলার যে অঙ্গসমূহ ঢেকে রাখা ওয়াজিব এবং এই জাতীয় মাসআলাসমূহ।
এই ধরনের মাসআলাসমূহে মতভেদের অবকাশ রয়েছে যদি তা গোঁড়ামি ও প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে না হয়, বরং ইজতিহাদ (اجتهاد) ও সত্য অনুসন্ধানের মাধ্যমে হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো বিচারক ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান, তবে তাঁর জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে। আর যখন তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং ভুল করেন, তবে তাঁর জন্য একটি সওয়াব রয়েছে।" (১) আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বনু কুরাইজা যুদ্ধের প্রাক্কালে আসরের সালাত নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ইজতিহাদ (اجتهاد) গত মতভেদকে অনুমোদন দিয়েছিলেন। (২)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:"ما تنازعوا فيه مما أقروا عليه وساغ لهم العمل به من اجتهاد العلماء والمشايخ والأمراء والملوك كاجتهاد الصحابة في قطع اللينة وتركها: واجتهادهم في صلاة العصر لما بعثهم النبي صلى الله عليه وسلم إلى بني قريظة وأمرهم أن لا يصلوا العصر إلا في بني قريظة فصلى قوم في الطريق في الوقت وقالوا: إنما أراد التعجل لا تفويت الصلاة. وأخرها قوم إلى أن وصلوا وصلوها بعد الوقت تمسكا بظاهر لفظ العموم فلم يعنف النبي صلى الله عليه وسلم واحدة من الطائفتين. . . وقد اتفق الصحابة في مسائل تنازعوا فيها ; على إقرار كل فريق للفريق الآخر على العمل باجتهادهم كمسائل في العبادات والمناكح والمواريث والعطاء والسياسة وغير ذلك وحكم عمر أول عام في الفريضة الحمارية بعدم التشريك وفي العام الثاني بالتشريك في واقعة مثل الأولى ولما سئل عن ذلك قال: تلك على ما قضينا وهذه على ما نقضي. وهم الأئمة الذين ثبت بالنصوص أنهم لا يجتمعون على باطل ولا ضلالة ودل الكتاب والسنة على وجوب متابعتهم. وتنازعوا في مسائل علمية اعتقادية كسماع الميت صوت الحي وتعذيب الميت ببكاء أهله ورؤية محمد صلى الله عليه وسلم
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "বিদ্বান, মাশায়েখ, শাসক ও রাজন্যবর্গের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد), যা নিয়ে তাঁরা বিবাদে লিপ্ত হয়েছেন অথচ একে অপরের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং তার ওপর আমল করা তাঁদের জন্য বৈধ হয়েছে; যেমনটি ছিল খেজুর গাছ কাটা বা তা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে সাহাবীগণের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد)। এবং তাঁদের গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্ত (اجتهاد) আসরের সালাতের ব্যাপারে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের বনু কুরাইজার দিকে পাঠিয়েছিলেন এবং নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন বনু কুরাইজায় না পৌঁছে কেউ আসরের সালাত আদায় না করে। তখন একদল লোক পথিমধ্যে সময়ের ভেতরেই সালাত আদায় করে নিলেন এবং বললেন: 'তিনি কেবল দ্রুত যাত্রার উদ্দেশ্য করেছিলেন, সালাত কাজা করা নয়।' আর অন্য দল সালাত বিলম্বিত করলেন যতক্ষণ না তাঁরা গন্তব্যে পৌঁছালেন এবং সাধারণ শব্দের বাহ্যিক অর্থের ওপর অটল থেকে সময়ের পরে তা আদায় করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুই দলের কোনোটিকেই তিরস্কার করেননি। . . . সাহাবীগণ এমন সব মাসআলায় একমত হয়েছিলেন যাতে তাঁরা পরস্পর দ্বিমত পোষণ করেছিলেন; অর্থাৎ গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (اجتهاد) ভিত্তিতে আমল করার ক্ষেত্রে একে অপরকে স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। যেমন ইবাদত, বিবাহ, মিরাস (উত্তরাধিকার), রাষ্ট্রীয় অনুদান, রাজনীতি ও অন্যান্য বিষয়ের মাসআলাসমূহ। উমর (রা.) প্রথম বছর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত 'হিমারিয়্যাহ' মাসআলায় অংশীদারিত্বহীনতার ফয়সালা দেন, আর দ্বিতীয় বছর প্রথমটির মতোই হুবহু এক ঘটনায় অংশীদারিত্বের ফয়সালা প্রদান করেন। যখন তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: 'সেটি ছিল আমাদের তৎকালীন ফয়সালা অনুযায়ী, আর এটি আমাদের বর্তমান ফয়সালা অনুযায়ী'। তাঁরাই হলেন সেই সকল ইমাম যাদের ব্যাপারে অকাট্য প্রমাণসমূহ (نصوص) দ্বারা প্রমাণিত যে, তাঁরা কোনো বাতিল বা ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হবেন না; এবং কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের অনুসরণের আবশ্যকতা নির্দেশ করেছে। তাঁরা বিভিন্ন তাত্ত্বিক আকিদাগত (اعتقادية) মাসআলায়ও মতভেদ করেছেন, যেমন মৃত ব্যক্তি জীবিত ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পায় কি না, পরিবারের কান্নাকাটির কারণে মৃত ব্যক্তির শাস্তি হওয়া এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আল্লাহকে) দেখেছিলেন কি না।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
ربه قبل الموت مع بقاء الجماعة والألفة. . . ومذهب أهل السنة والجماعة أنه لا إثم على من اجتهد وإن أخطأ". (1)
--------------------------------------------
মৃত্যুর পূর্বে তাঁর প্রতিপালকের (সাক্ষাৎ লাভ করেন) ঐক্য ও সম্প্রীতি বজায় থাকা অবস্থায়। . . . এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত (مذهب) এই যে, যে ব্যক্তি ইজতিহাদ বা গবেষণা (اجتهد) করে তার কোনো গুনাহ নেই, যদিও সে ভুল (أخطأ) করে।" (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
القاعدة الثانية الافتراق سنة كونية ودفعه فريضة شرعية فمما كتبه الله - تعالى - على الأمة الإسلامية أنها ستفترق وتختلف كما اختلفت الأمم من قبلها، وهذا الافتراق هو حكم كوني يقول تعالى: {وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ} ، {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} (هود: 118- 119)
وقد اختلف المفسرون إلى أي شيء يعود اسم الإشارة في قوله: {وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} ، فمنهم من قال: إنه يعود إلى الاختلاف أي: خلقهم ليختلفوا وذهب إلى هذا الحسن البصري، وذهب بعض المفسرين ومنهم عطاء إلى أن اسم الإشارة يعود إلى الرحمة أي خلقهم ليرحمهم، وبعضهم قال: اسم الإشارة يعود إلى الاثنين معًا، أي خلقهم ليختلفوا وليرحم من سلك الصراط المستقيم وممن ذهب إلى هذا القول ابن جرير الطبري وابن كثير والشيخ عبد الرحمن بن سعدي رحمه الله.
দ্বিতীয় মূলনীতি: বিভক্তি (الافتراق) একটি মহাজাগতিক বিধান (سنة كونية) এবং তা প্রতিহত করা একটি শরয়ি আবশ্যকতা (فريضة شرعية)আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তার মধ্যে এটিও রয়েছে যে, তারা পূর্ববর্তী উম্মতদের মতোই বিভিন্ন দলে বিভক্ত ও মতভেদগ্রস্ত হবে। এই বিভক্তি (الافتراق) মূলত একটি মহাজাগতিক বিধান (حكم كوني)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর তোমার পালনকর্তা যদি চাইতেন, তবে অবশ্যই সব মানুষকে এক জাতি করে দিতেন এবং তারা সব সময় মতভেদ করতেই থাকবে। কিন্তু যাদের ওপর তোমার পালনকর্তা রহমত করেছেন তারা ব্যতীত; আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।" (হুদ: ১১৮-১১৯)
মুফাসসিরগণ (المفسرون) এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, আল্লাহর বাণী—"আর এজন্যই তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন"—এখানে ইশারা সূচক শব্দটি (اسم الإشارة) কোন বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করছে? তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি মতভেদ (اختلاف)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে, অর্থাৎ: তিনি তাঁদেরকে সৃষ্টি করেছেন যাতে তারা মতভেদ করে; হাসান বসরী এই মত পোষণ করেছেন। আতা সহ কিছু মুফাসসির (المفسرون) মনে করেন যে, ইশারা সূচক শব্দটি (اسم الإشارة) রহমত (الرحمة)-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে, অর্থাৎ তিনি তাঁদেরকে সৃষ্টি করেছেন তাঁদের ওপর রহমত করার জন্য। আবার কেউ কেউ বলেছেন: ইশারা সূচক শব্দটি (اسم الإشارة) উভয়টির দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছে; অর্থাৎ তিনি তাঁদেরকে সৃষ্টি করেছেন যেন তারা মতভেদ করে এবং যেন তিনি তাঁদের ওপর রহমত করেন যারা সরল পথ (الصراط المستقيم) অবলম্বন করে। ইবনে জারীর তাবারী, ইবনে কাসীর এবং শায়খ আবদুর রহমান ইবনে সাদী (রহিমাহুল্লাহ) এই মতটি গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يقول ابن سعدي:" يُخبر الله - تعالى - أنه لو شاء لجعل الناس أُمة واحدة على الدين الإسلامي فإن مشيئته غير قاصرة ولا يمتنع عليه شيء ولكنه اقتضت حكمته ألا يزالوا مختلفين مخالفين للصراط المستقيم متّبعين للسبل الموصلة إلى النار كلٌّ يرى الحق فيما قاله والضلالة في قول غيره، وقوله سبحانه: {إِلَّا مَنْ رَحِمَ رَبُّكَ} ، فهداهم إلى العلم بالحق والعمل به والاتفاق عليه، فهؤلاء سبقت لهم سابقة السعادة وتداركتهم العناية الربانية والتوفيق الإلهي، وأما من عداهم فهم مخذولون موْكولون إلى أنفسهم، وقوله سبحانه: {وَلِذَلِكَ خَلَقَهُمْ} ، قال: أي اقتضت حكمته أنه خلقهم ليكون منهم السعداء والأشقياء والمتفقون والمختلفون والفريق الذي هدى الله والفريق الذي حقت عليهم الضلالة ليتبين للعباد عدله وحكمته وليظهر ما كمن من الطباع البشرية من الخير والشر ولتقوم سوق الجهاد والعبادات التي لا تتم ولا تستقيم إلا بالامتحان والابتلاء " (1) .
--------------------------------------------
ইবনে সাদি বলেন: "আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি যদি চাইতেন তবে সকল মানুষকে ইসলাম ধর্মের ওপর এক জাতিভুক্ত করে দিতেন। কেননা তাঁর ইচ্ছা অপূর্ণাঙ্গ নয় এবং কোনো কিছুই তাঁকে প্রতিহত করতে পারে না। তবে তাঁর প্রজ্ঞা এটিই দাবি করেছে যে, তারা সর্বদা মতভেদে লিপ্ত থাকবে এবং সরল পথ পরিহার করে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার পথগুলোর অনুসরণ করবে; যেখানে প্রত্যেকেই তার নিজের কথাকে সত্য মনে করবে এবং অন্যের কথাকে ভ্রান্তি হিসেবে দেখবে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তবে আপনার প্রতিপালক যাকে দয়া করেছেন সে ব্যতীত}, আল্লাহ তাদের সত্যের জ্ঞান অর্জন, তদনুযায়ী আমল এবং সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন। তাদের জন্য পূর্ব থেকেই সৌভাগ্য নির্ধারিত ছিল এবং রব্বানি তদারকি ও ঐশী সহায়তা তাদের প্রাপ্ত হয়েছে। আর তারা ব্যতীত অন্য যারা আছে, তারা হলো পরিত্যক্ত এবং তাদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং এজন্যই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন}, তিনি (ইবনে সাদি) বলেন: অর্থাৎ তাঁর প্রজ্ঞার দাবি অনুযায়ীই তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন যাতে তাদের মধ্যে সৌভাগ্যবান ও দুর্ভাগা, ঐকমত্য পোষণকারী ও মতভেদকারী বিদ্যমান থাকে; আর একটি দল থাকে যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিয়েছেন এবং অন্য একটি দল যাদের ওপর পথভ্রষ্টতা অবধারিত হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো—যাতে বান্দাদের নিকট আল্লাহর ন্যায়বিচার ও প্রজ্ঞা সুস্পষ্ট হয় এবং মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে লুকায়িত ভালো ও মন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে, আর যাতে জিহাদ ও ইবাদতের ক্ষেত্রসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয় যা পরীক্ষা ও যাচাই ছাড়া পূর্ণতা পায় না এবং সুসংহত হয় না।" (১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وبعضهم يتكئ على هذه السنة الكونية لرد أي محاولة لجمع الكلمة وتوحيد صف المسلمين، بحجة أن الاختلاف سنة كونية لا يمكن ردها، وهذا من الخطأ في فهم النصوص فإنه لا تعارض بين حكم الله الكوني وحكمه الشرعي، فهو قد قدر الاختلاف بحكمه الكوني، وذمه ونهى عنه بحكمه الشرعي، يقول تعالى: {وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ تَفَرَّقُوا وَاخْتَلَفُوا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَأُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ} (آل عمران: 105) .
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করার এবং তাদের কাতার সুসংহত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য এই মহাজাগতিক নিয়মের (سنة كونية) ওপর নির্ভর করে; এই অজুহাতে যে, মতভেদ একটি মহাজাগতিক নিয়ম (سنة كونية) যা প্রতিহত করা সম্ভব নয়। এটি মূল পাঠ বা টেক্সটসমূহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি ভুল, কেননা আল্লাহর মহাজাগতিক বিধান (حكم كوني) এবং তাঁর শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। তিনি তাঁর মহাজাগতিক বিধানের (حكم كوني) মাধ্যমে মতভেদ নির্ধারণ করেছেন, আবার তাঁর শরয়ি বিধানের (حكم شرعي) মাধ্যমে এর নিন্দা করেছেন এবং তা থেকে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর তোমরা তাদের মতো হয়ো না, যারা তাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে; তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি} (আল ইমরান: ১০৫)।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
القاعدة الثالثة الحق يقبل من أي جهة جاء الحق يقبل لكونه موافقًا للدليل، فلا أثر للمتكلم به في قبوله أو رفضه؛ ولهذا كان أهل السنة يقبلون ما عند جميع الطوائف من الحق، ويردون ما عندها من الباطل، بغض النظر عن الموالي منها أو المعادي.
قال تعالى: {فَهَدَى اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا لِمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ مِنَ الْحَقِّ بِإِذْنِهِ وَاللَّهُ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (البقرة 213) .
وفي دعاء النبي صلى الله عليه وسلم: ". . . «اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم» . (1)
قال ابن القيم رحمه الله: فمن هداه الله - سبحانه - إلى الأخذ بالحق حيث كان ومع من كان، ولو كان مع من يبغضه ويعاديه، ورد الباطل مع من كان ولو كان مع من يحبه ويواليه، فهو ممن هدى الله لما اختُلف فيه من الحق.
وقال تعالى: {وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} (المائدة 8) ، ومن العدل فيهم قبول ما عندهم من الحق.
--------------------------------------------
তৃতীয় নীতি: সত্য যে কোনো উৎস থেকে আসুক না কেন, তা গ্রহণীয় সত্য গ্রহণ করা হয় দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার কারণে; তাই সত্য গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে বক্তার পরিচয়ের কোনো প্রভাব নেই। এই কারণেই আহলে সুন্নাত সকল দলের কাছে বিদ্যমান সত্যকে গ্রহণ করেন এবং তাদের নিকট থাকা বাতিলকে প্রত্যাখ্যান করেন, চাই তারা বন্ধুভাবাপন্ন হোক বা শত্রুভাবাপন্ন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতঃপর আল্লাহ তাঁর নির্দেশে মুমিনদেরকে সেই সত্য বিষয়ে হেদায়াত দান করলেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিশা দেন} (আল-বাকারা ২১৩)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়ায় বর্ণিত হয়েছে: "...যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার নির্দেশে আমাকে সত্যের দিশা দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের পথপ্রদর্শন করেন।" (১)
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যাকে সত্য যেখানেই থাকুক এবং যার কাছেই থাকুক—তা গ্রহণ করার হেদায়াত দিয়েছেন, এমনকি যদি তা তার বিরাগভাজন বা শত্রু ব্যক্তির কাছেও হয়; আর যার কাছেই বাতিল থাকুক—তা বর্জন করার তাওফিক দিয়েছেন, এমনকি যদি তা তার প্রিয় বা বন্ধুর কাছেও হয়; তবে সে ঐ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ মতভেদপূর্ণ বিষয়ে সত্যের হেদায়াত দান করেছেন।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ বর্জনে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, এটিই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} (আল-মায়িদাহ ৮)। আর তাদের প্রতি ইনসাফ করার একটি দিক হলো তাদের কাছে থাকা সত্যকে গ্রহণ করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهكذا أدبنا القرآن الكريم حين ساق كلام بلقيس- وقت كفرها - ثم وافقها عليه؛ قال تعالى-حكاية عنها-: {قَالَتْ إِنَّ الْمُلُوكَ إِذَا دَخَلُوا قَرْيَةً أَفْسَدُوهَا وَجَعَلُوا أَعِزَّةَ أَهْلِهَا أَذِلَّةً} قال الله تعالى: {وَكَذَلِكَ يَفْعَلُونَ} (النمل 34) .
ولما دلّ الشيطان أبا هريرة رضي الله عنه إلى آية الكرسي لتكون له حرزًا من الشيطان، وذلك مقابل فكه من الأسر، قال له النبي صلى الله عليه وسلم: «أما إنه قد صدقك وهو كذوب» . (1)
وقد قبل عليه الصلاة والسلام الحق من بعض اليهود ففي سنن النسائي عن قتيلة - امرأة من جهينة - «أن يهوديا أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال إنكم تنددون وإنكم تشركون تقولون: ما شاء الله وشئت، وتقولون: والكعبة فأمرهم النبي صلى الله عليه وسلم إذا أرادوا أن يحلفوا أن يقولوا ورب الكعبة ويقولون ما شاء الله ثم شئت» .
--------------------------------------------
এভাবেই পবিত্র কুরআন আমাদের শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে যখন তা বিলকিসের উক্তি—তার কুফরি অবস্থায় থাকাকালীন—উদ্ধৃত করেছে এবং আল্লাহ তার সাথে একমত হয়েছেন; আল্লাহ তাআলা তার পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেন: {সে বলল, নিশ্চয়ই রাজা-বাদশাহরা যখন কোনো জনপদে প্রবেশ করে, তখন তাকে বিপর্যস্ত করে দেয় এবং তার সম্মানিত অধিবাসীদের লাঞ্ছিত করে।} আল্লাহ তাআলা বললেন: {আর তারা এভাবেই করে থাকে।} (আন-নামল ৩৪)।
আর যখন শয়তান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষার মাধ্যম হিসেবে আয়াতুল কুরসির সন্ধান দিয়েছিল—যা ছিল তার বন্দিদশা থেকে মুক্তির বিনিময়—তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: “জেনে রেখো, সে তোমার কাছে সত্য বলেছে, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী (كذوب)।” (১)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু ইহুদির কাছ থেকেও সত্য গ্রহণ করেছেন। সুনান নাসায়ি-তে জুহাইনা গোত্রের কুতাইলা নামক জনৈক নারী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এক ইহুদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: “আপনারা আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করান এবং আপনারা শিরক করেন; আপনারা বলেন: ‘আল্লাহ যা চান এবং আপনি যা চান’ এবং আপনারা বলেন: ‘কাবার কসম’।” তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদের নির্দেশ দিলেন যে, তাঁরা যখন শপথ করতে চাইবেন তখন যেন বলেন: “কাবার রবের কসম” এবং বলেন: “আল্লাহ যা চান, অতঃপর আপনি যা চান।”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بل يقبل الحق وإن جاء على لسان البهائم، ففي الصحيحين عن أبي هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بينما رجل يسوق بقرة له قد حمل عليها التفتت إليه البقرة فقالت: إني لم أخلق لهذا ولكني إنما خلقت للحرث فقال الناس: سبحان الله تعجبا وفزعا أبقرة تكلم؟! فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: فإني أومن به وأبو بكر وعمر» قال أبو هريرة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بينا راع في غنمه عدا عليه الذئب فأخذ منها شاة فطلبه الراعي حتى استنقذها منه فالتفت إليه الذئب فقال له من لها يوم السبع يوم ليس لها راع غيري فقال الناس سبحان الله فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم فإني أومن بذلك أنا وأبو بكر وعمر» .
وكان معاذ بن جبل رضي الله عنه يقول: اقبلوا الحق من كل من جاء به، وإن كان كافرًا-أو قال فاجرًا- واحذروا زيغة الحكيم، قالوا: كيف نعلم أن الكافر يقول كلمة الحق؟ قال: إن على الحق نورًا.
ولهذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " ولكنّ الحق يقبل من كل من تكلم به ". (1)
--------------------------------------------
বরং সত্যকে গ্রহণ করা হবে, যদিও তা পশুর মুখ দিয়ে আসে। সুতরাং সহীহাইন-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “এক ব্যক্তি তার একটি গাভীকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিল যার ওপর সে বোঝা চাপিয়েছিল। তখন গাভীটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং বলল: ‘আমাকে তো এর জন্য সৃষ্টি করা হয়নি, বরং আমাকে চাষাবাদের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।’ তা শুনে মানুষ বিস্ময় ও আতঙ্কিত হয়ে বলল: ‘সুবহানাল্লাহ! গাভী কি কথা বলে?!’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘আমি এতে ঈমান এনেছি এবং আবু বকর ও উমরও (ঈমান এনেছে)।’” আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “একদা এক রাখাল তার ভেড়ার পালের মধ্যে ছিল, তখন একটি নেকড়ে বাঘ তার ওপর চড়াও হলো এবং একটি ভেড়া নিয়ে গেল। রাখাল নেকড়েটিকে তাড়া করল এবং তার কাছ থেকে ভেড়াটি উদ্ধার করল। তখন নেকড়েটি তার দিকে ফিরে তাকাল এবং তাকে বলল: ‘বন্য পশুর দিনে (শিকারের দিনে) এদের রক্ষক কে হবে, যেদিন আমি ছাড়া এদের আর কোনো রাখাল থাকবে না?’ তখন মানুষ বলল: ‘সুবহানাল্লাহ!’ রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: ‘আমি এতে ঈমান এনেছি—আমি, আবু বকর এবং উমর’।”
আর মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) বলতেন: “যে সত্য নিয়ে আসে তার থেকেই সত্য গ্রহণ করো, যদিও সে কাফির (كافر) —অথবা তিনি বলেছিলেন পাপিষ্ঠ (فاجر)— হয়। আর তোমরা জ্ঞানীর বিচ্যুতি থেকে সতর্ক থাকো।” তারা জিজ্ঞাসা করল: “আমরা কীভাবে জানব যে কাফির (كافر) ব্যক্তিটি সত্য কথা বলছে?” তিনি বললেন: “নিশ্চয়ই সত্যের ওপর একটি নূর (আলো) থাকে।”
আর এই কারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন: “তবে সত্যকে গ্রহণ করা হবে যে ব্যক্তিই তা বলুক না কেন।” (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا شك أن رسوخ مثل هذه المعاني في أذهان المسلمين من أكبر الدوافع إلى الإذعان للحق والرضوخ له مهما كان قائله، ويجعل المسلم مستسلمًا للحق دومًا، قابلًا له، وهذا من شأنه أن يقضي على التعصب المقيت الذي يحمل صاحبه إلى المنابذة والإصرار على الباطل، لا لشيءٍ إلا لأن القائل بالحق ليس من جماعته أو حزبه أو لربما بلده، وهذا هو عين الإرهاب الفكري حيث يصبح المرء أحادي النظرة، نابذًا لآراء جميع مخالفيه، غير مستعدٍ لأن يتمعن في مقولتهم فضلًا عن أن يقبلها.
إن من شأن التربية القرآنية أن تزيل كل الحواجز التي تقف بين المسلم وقبول الحق، فإن قبول الحق متى بان خير من التمادي في الباطل، ولا غضاضة ولا منقصة عليه في ذلك، فإذا كان سيد البشر صلوات الله وسلامه عليه قد قبل ذلك الحق من اليهودي، فكيف بآحاد المسلمين ممن يلوح له الحق على لسان من هو خير من ذلك اليهودي.
নিঃসন্দেহে মুসলমানদের অন্তরে এ জাতীয় বিষয়ের প্রতিফলন সত্যের প্রতি আনুগত্য এবং তার সামনে মস্তক অবনত করার অন্যতম প্রধান প্রেরণা, চাই সেই সত্যের প্রবক্তা যে-ই হোক না কেন। এটি একজন মুসলিমকে সর্বদা সত্যের অনুগামী ও তা গ্রহণকারী করে তোলে। আর এটি সেই ঘৃণ্য গোঁড়ামি নির্মূল করে যা মানুষকে শত্রুতা এবং মিথ্যার ওপর অটল থাকতে প্ররোচিত করে; কেবল এই কারণে যে, সত্য প্রকাশকারী ব্যক্তি তার দল, গোষ্ঠী কিংবা সম্ভবত তার দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। এটিই হলো প্রকৃত বুদ্ধিবৃত্তিক সন্ত্রাস, যেখানে ব্যক্তি একদেশদর্শী হয়ে পড়ে এবং তার সকল বিরোধীদের মতামতকে প্রত্যাখ্যান করে; সে তাদের বক্তব্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা তো দূরের কথা, তা গ্রহণ করতেও প্রস্তুত থাকে না।
নিশ্চয়ই কুরআনভিত্তিক শিক্ষা ও সংস্কারের বৈশিষ্ট্য হলো এটি মুসলিম এবং সত্য গ্রহণের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্ত অন্তরায় দূর করে দেওয়া। কারণ সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যায়, তখন তা গ্রহণ করে নেওয়া মিথ্যার ওপর অটল থাকার চেয়ে শ্রেয়। আর এতে তার জন্য কোনো গ্লানি বা হীনম্মন্যতার অবকাশ নেই। যদি সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একজন ইহুদির কাছ থেকে সেই সত্য গ্রহণ করে থাকেন, তবে সাধারণ মুসলমানদের (آحاد) ক্ষেত্রে বিষয়টি কেমন হওয়া উচিত যখন সেই ইহুদির চেয়েও উত্তম কোনো ব্যক্তির জবানিতে তাদের সামনে সত্য উদ্ভাসিত হয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
القاعدة الرابعة وجوب عرض أقوال الناس على الشرع ما يقوله سائر الناس من الكلام في المطالب الشرعية لا بد من عرضه على الكتاب والسنة، فإن وافق الكتاب والسنة فهو حق يقبل، وإن خالفها فهو باطل يرد.
ولهذا كان الأئمة الأربعة رضوان الله عليهم ينهون أتباعهم عن تقليدهم في كل شيء، يقول أبو حنيفة: إذا خالف الحديث قولي فاضرب بقولي عرض الحائط، ويقول مالك: كل يؤخذ من قوله ويترك إلا صاحب هذا القبر، يقصد النبي صلى الله عليه وسلم، ويقول الشافعي: إذا صح الحديث فهو مذهبي، ويقول أحمد: لا تقلدني ولا تقلدن أبا حنيفة ولا مالكًا ولا الشافعي وخذ من حيث أخذوا. (1)
--------------------------------------------
চতুর্থ মূলনীতি: মানুষের বক্তব্যকে শরীয়তের আলোকে যাচাই করা আবশ্যক (وجوب) শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ যা কিছু বলে, তা অবশ্যই কুরআন ও সুন্নাহর নিরিখে যাচাই করতে হবে। যদি তা কুরআন ও সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তবে তা সত্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য (مقبول); আর যদি তা এগুলোর পরিপন্থী হয়, তবে তা বাতিল হিসেবে বর্জনীয় (مردود)।
এই কারণেই চার ইমাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) তাঁদের অনুসারীদের প্রতিটি বিষয়ে তাঁদের অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করতে নিষেধ করতেন। আবু হানিফা বলতেন: যখন কোনো হাদিস আমার বক্তব্যের পরিপন্থী হয়, তখন আমার বক্তব্যকে দেয়ালে ছুড়ে মারো। ইমাম মালিক বলতেন: এই কবরের অধিপতি—অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—ব্যতীত অন্য যে কারো কথা গ্রহণ করা যায় অথবা বর্জন করা যায়। ইমাম শাফেয়ী বলতেন: যদি হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে সেটিই আমার মাযহাব। ইমাম আহমাদ বলতেন: তোমরা আমার অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না এবং আবু হানিফা, মালিক কিংবা শাফেয়ীরও অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করো না; বরং তাঁরা যে উৎস থেকে জ্ঞান গ্রহণ করেছেন, তোমরাও সেখান থেকেই গ্রহণ করো। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: " ذم الله - تعالى - في القرآن من عدل عن اتباع الرسل إلى ما نشأ عليه من دين آبائه وهذا هو التقليد الذي حرمه الله ورسوله وهو: أن يتبع غير الرسول فيما خالف فيه الرسول وهذا حرام باتفاق المسلمين على كل أحد ; فإنه لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق والرسول طاعته فرض على كل أحد من الخاصة والعامة في كل وقت وكل مكان ; في سره وعلانيته وفي جميع أحواله، وهذا من الإيمان قال الله تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} (النساء: 65)
وقال: {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا} (النور: 51)
وقال: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} (الأحزاب: 36)
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়য়াহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আল্লাহ তাআলা কুরআনে সেই ব্যক্তির নিন্দা করেছেন যে রাসূলগণের অনুসরণ (اتباع) বর্জন করে তার পিতৃপুরুষদের উদ্ভাবিত সেই দ্বীনের দিকে ফিরে যায় যার ওপর সে বেড়ে উঠেছে। আর এটিই হলো সেই অন্ধ অনুসরণ (تقليد) যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন। আর তা হলো: রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ হয় এমন বিষয়ে রাসূল ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ (اتباع) করা; এটি মুসলিমদের ঐকমত্যে প্রত্যেকের জন্য হারাম। কেননা স্রষ্টার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির আনুগত্য নেই। আর রাসূলের আনুগত্য করা সর্বাবস্থায়, প্রকাশ্যে ও গোপনে, সকল সময়ে এবং সকল স্থানে সাধারণ ও বিশিষ্ট নির্বিশেষে প্রত্যেকের ওপর ফরজ; আর এটি ঈমানের অংশ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {অতএব, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} (আন-নিসা: ৬৫)
তিনি আরও বলেন: {মুমিনদের কথা তো কেবল এটাই, যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয়, তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম এবং আনুগত্য করলাম} (আন-নূর: ৫১)
এবং তিনি বলেন: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে ফয়সালা করলে কোনো মুমিন পুরুষ বা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো ইখতিয়ার বা সিদ্ধান্তের অধিকার থাকে না} (আল-আহযাব: ৩৬)
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
وقال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (النور: 63) .
وقال: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} (آل عمران: 31) .
وقد أوجب الله طاعة الرسول على جميع الناس في قريب من أربعين موضعا من القرآن وطاعته طاعة لله: وهي: عبادة الله وحده لا شريك له وذلك هو دين الله وهو الإسلام وكل من أمر الله بطاعته من عالم وأمير ووالد وزوج ; فلأن طاعته طاعة لله، وإلا فإذا أمر بخلاف طاعة الله فإنه لا طاعة له وقد يأمر الوالد والزوج بمباح فيطاع وكذلك الأمير إذا أمر عالما يعلم أنه معصية لله والعالم إذا أفتى المستفتي بما لم يعلم المستفتي أنه مخالف لأمر الله فلا يكون المطيع لهؤلاء عاصيا وأما إذا علم أنه مخالف لأمر الله فطاعته في ذلك معصية لله" اه. (1)
--------------------------------------------
এবং তিনি (আল্লাহ) বলেছেন: {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসবে} (আন-নূর: ৬৩)।
এবং তিনি বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} (আল-ইমরান: ৩১)।
নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র কোরআনের প্রায় চল্লিশটি স্থানে সকল মানুষের ওপর রাসূলের আনুগত্যকে অপরিহার্য (واجب) করেছেন এবং তাঁর আনুগত্য করা মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করা। আর তা হলো: অংশীদারহীন এক আল্লাহর ইবাদত করা; এটিই আল্লাহর মনোনীত দ্বীন এবং এটিই ইসলাম। আর আলেম (عالم), আমির (أمير), পিতা ও স্বামী—যাদের আনুগত্য করার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন, তা মূলত আল্লাহরই আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে। অন্যথায়, যদি আল্লাহর অবাধ্যতার কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়, তবে তাদের কোনো আনুগত্য করা যাবে না। পিতা ও স্বামী কোনো বৈধ (مباح) কাজের নির্দেশ দিলে তাদের আনুগত্য করা হবে। অনুরূপভাবে আমিরের (أمير) ক্ষেত্রেও—যখন তিনি কোনো আলেমকে (عالم) এমন বিষয়ের নির্দেশ দেন যা আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা (معصية) বলে সেই আলেম (عالم) জানেন। আর আলেম (عالم) যখন কোনো ফতোয়া প্রার্থীকে (مستفتي) এমন কোনো ফতোয়া প্রদান করেন যা আল্লাহর নির্দেশের বিরোধী হওয়া সম্পর্কে ফতোয়া প্রার্থী (مستفتي) অবগত নন, তবে তাকে অনুসরণকারী ব্যক্তি পাপাচারী (عاصي) বলে গণ্য হবে না। কিন্তু যখন সে জানতে পারবে যে তা আল্লাহর নির্দেশের বিরোধী, তখন সেক্ষেত্রে তার আনুগত্য করা আল্লাহর প্রতি অবাধ্যতা (معصية) হিসেবে গণ্য হবে।" সমাপ্ত। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذه القاعدة ذات أثر كبير في حماية المجتمع من الغلو في المتبوعين، ورفعهم فوق منزلتهم التي جعلهم الله عليها، فإن العصمة ليست لأحد من البشر إلا لأنبياء الله ورسله، وبعضهم قد يجعل لمتبوعه قداسة من حيث لا يشعر، فيذعن لقوله، ويسلم لأمره، حتى وإن تبين له أنه على خلاف الحق، وبهذا تظهر الآراء الشاذة والأفكار المنحرفة التي قد تجر ويلات على الأمة الإسلامية برمتها، وما ذاك إلا بسبب التقليد الأعمى، والغلو المذموم في القادة والمتبوعين، وشأن المسلم أن يدور مع الحق حيث دار، وأن يتحرى وجه الصواب في كل مسألة يقدم عليها، ولا سيما في المسائل التي تعم فيها البلوى، وتأخذ طابعًا عموميًا للأمة المسلمة، فينبغي أن يكون صدور الفتوى فيها من هيئات شرعية تأخذ بالاجتهاد الجماعي، كالمجامع الفقهية ولجان الفتوى التي يكون على رأسها علماء ثقات، لأن الرأي الجماعي أحرى بإصابة الحق بإذن الله من الرأي الفردي.
ولهذا كان علماء الأمة يحذرون من زلة العالم، فإن العالِم إذا زل، زل بزلته عالَم، وفي حديث ثوبان رضي الله عنه مرفوعًا: «وإنما أخاف على أمتي الأئمة المضلين» . (1)
--------------------------------------------
এই মূলনীতিটি অনুসৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন (غلو) থেকে সমাজকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এবং আল্লাহ তাদের যে স্তরে রেখেছেন তার ঊর্ধ্বে তাদের উত্তোলন করা থেকে বিরত রাখতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা রাখে। কেননা, মহান আল্লাহর নবী ও রাসুলগণ ব্যতীত অন্য কোনো মানুষের জন্য অভ্রান্ততা (عصمة) নেই। কেউ কেউ অবচেতনভাবেই নিজের অনুসৃত ব্যক্তির মাঝে পবিত্রতা আরোপ করে বসে, ফলে তার কথা ও আদেশের সামনে এমনভাবে আত্মসমর্পণ করে যেন তার কথাটি সত্যের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও সে তা মেনে নেয়। এর মাধ্যমেই বিচ্ছিন্ন (شاذة) মতামত এবং বিভ্রান্ত চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য মহাবিপদ ডেকে আনতে পারে। আর এটি স্রেফ অন্ধ অনুকরণ এবং নেতা ও অনুসৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিন্দনীয় বাড়াবাড়ির কারণেই ঘটে থাকে। একজন মুসলিমের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত সত্য যেদিকেই থাকবে সেদিকে আবর্তিত হওয়া এবং প্রতিটি বিষয়ে সঠিক দিকটি অন্বেষণ করা, বিশেষ করে এমন সব মাসআলার ক্ষেত্রে যা ব্যাপক সমস্যার (عموم البلوى) রূপ নিয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি সর্বজনীন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমতাবস্থায় উচিত হলো, ফতোয়াগুলো এমন সব শরয়ি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা যা সামষ্টিক ইজতিহাদ (اجتهاد جماعي)-এর ভিত্তিতে পরিচালিত হয়; যেমন ফিকহ একাডেমি এবং ফতোয়া বোর্ডসমূহ যার নেতৃত্বে রয়েছেন নির্ভরযোগ্য (ثقات) উলামায়ে কেরাম। কারণ, আল্লাহর ইচ্ছায় সামষ্টিক রায় ব্যক্তিগত রায়ের তুলনায় সত্যের অধিক নিকটবর্তী হয়।
এই কারণেই উম্মাহর আলেমগণ আলেমের বিচ্যুতি থেকে সতর্ক করে এসেছেন। কেননা, একজন আলেম যখন বিচ্যুত হন, তখন তার বিচ্যুতিতে একটি জগত বিচ্যুত হয়। সাওবান (রা.) হতে বর্ণিত মারফু (مرفوع) হাদিসে এসেছে: «আমি আমার উম্মতের ব্যাপারে পথভ্রষ্টকারী নেতাদেরই ভয় করি»। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والأئمة المضلون: هم علماء وقادة السوء الذين يحلون ويحرمون على خلاف حكم الله، وقد سمى الله طاعتهم في ذلك عبادة، فقال تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} (التوبة: 31) .
يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله:" وكثير من المتفقهة وأجناد الملوك وأتباع القضاة والعامة المتبعة لهؤلاء يشركون شرك الطاعة وقد «قال النبي صلى الله عليه وسلم لعدي بن حاتم لما قرأ: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ} فقال: يا رسول الله، " ما عبدوهم فقال ما عبدوهم ولكن أحلوا لهم الحرام فأطاعوهم وحرموا عليهم الحلال فأطاعوهم» (1) ، فتجد أحد المنحرفين يجعل الواجب ما أوجبه متبوعه والحرام ما حرمه والحلال ما حلله والدين ما شرعه إما دينا وإما دنيا وإما دنيا ودينا، ثم يخوف من امتنع من هذا الشرك وهو لا يخاف أنه أشرك به شيئا في طاعته بغير سلطان من الله وبهذا يخرج من أوجب الله طاعته من رسول وأمير وعالم ووالد وشيخ وغير ذلك " (2) .
--------------------------------------------
বিভ্রান্তিকারী নেতা (الأئمة المضلون): তারা হলো ঐ সমস্ত মন্দ আলেম ও নেতৃবৃন্দ যারা আল্লাহর বিধানের বিপরীতে কোনো কিছুকে বৈধ (الحلال) বা নিষিদ্ধ (الحرام) ঘোষণা করে। আল্লাহ তাদের এই আনুগত্যকে ইবাদত হিসেবে অভিহিত করেছেন, কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে} (আত-তাওবাহ: ৩১)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আইনশাস্ত্রের বহু শিক্ষার্থী (المتفقهة), রাজকীয় সৈন্য, বিচারকদের অনুসারী এবং এদের অনুগামী সাধারণ মানুষের অনেকেই আনুগত্যের শিরক (شرك الطاعة)-এ লিপ্ত হয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদি বিন হাতিমকে বলেছিলেন যখন তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের এবং মরিয়ম-তনয় মসীহকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে}। তখন আদি বিন হাতিম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তারা তো তাদের ইবাদত করত না। তিনি (নবী) বললেন: তারা কি তাদের ইবাদত করত না? বরং তারা তাদের জন্য নিষিদ্ধ (الحرام) বিষয়কে বৈধ (الحلال) করে দিত আর তারা তাদের আনুগত্য করত; এবং তারা তাদের জন্য বৈধ (الحلال) বিষয়কে নিষিদ্ধ (الحرام) করত আর তারা তাতেও তাদের আনুগত্য করত (১)। ফলে আপনি দেখতে পাবেন যে, বিচ্যুত ব্যক্তিদের কেউ কেউ তার অনুসৃত ব্যক্তি যা আবশ্যিক (الواجب) করেছে তাকেই ওয়াজিব মনে করে, যা নিষিদ্ধ (الحرام) করেছে তাকেই হারাম মনে করে, যা বৈধ (الحلال) করেছে তাকেই হালাল মনে করে এবং সে যা বিধান হিসেবে প্রবর্তন করেছে তাকেই দ্বীন মনে করে—তা দ্বীনি বিষয় হোক কিংবা দুনিয়াবী, অথবা দুনিয়া ও দ্বীন উভয়ই হোক। এরপর সে ওই ব্যক্তিকে ভয় দেখায় যে এই শিরক থেকে বিরত থাকে, অথচ সে নিজে ভয় পায় না যে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো দলিল ছাড়াই সে আনুগত্যের ক্ষেত্রে তাঁর সাথে কাউকে শরিক করেছে। এভাবে সে ওই ব্যক্তিদের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যায় যাদের আনুগত্য করা আল্লাহ আবশ্যক করেছেন; যেমন—রাসূল, আমির, আলেম, পিতা এবং শায়খ প্রমুখ (২)।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وإذا تتبعنا أسباب انحراف الفرق الضالة نجد أن من أهم تلك الأسباب الغلو في المتبوعين حتى أصبح كلامهم مقدمًا على كلام الله وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم، فأصبح الولاء والبراء معقودًا على الانقياد لذلك المتبوع من عدمه، فمن قبل أقوال ذلك المتبوع فهو المسلم الذي تجب موالاته، ومن ردها فهو الضال الذي تجب معاداته، وهذا بلا شك هو الوقود الذي يشعل نار الفتنة بين الأحزاب والطوائف، ويذكي روح التعصب والتطرف بين الأفراد والجماعات.
আমরা যদি ভ্রান্ত দলগুলোর বিচ্যুতির কারণসমূহ অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে, সেই কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো অনুসরিত ব্যক্তিদের প্রতি অতিরঞ্জন (غلو), যার ফলে তাদের বক্তব্য মহান আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণীর ওপর প্রাধান্য পায়। ফলে আনুগত্য ও বিরাগ (الولاء والبراء) সংশ্লিষ্ট অনুসরিত ব্যক্তির অনুসরণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতে থাকে। অতএব, যে ব্যক্তি সেই অনুসরিত ব্যক্তির কথা গ্রহণ করল, সে-ই সেই মুসলিম যার সাথে বন্ধুত্ব রাখা আবশ্যক; আর যে তা প্রত্যাখ্যান করল, সে-ই সেই পথভ্রষ্ট যার সাথে শত্রুতা রাখা কর্তব্য। নিঃসন্দেহে এটিই সেই ইন্ধন যা বিভিন্ন দল ও উপদলের মধ্যে ফিতনা (فتنة) বা বিশৃঙ্খলার আগুন প্রজ্জ্বলিত করে এবং ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মধ্যে গোঁড়ামি ও চরমপন্থার মানসিকতাকে উসকে দেয়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
القاعدة الخامسة الحق لا يعرف بالرجال، اعرف الحق تعرف رجاله هذا الكلام مما ينقل عن علي رضي الله عنه، والحق ما وافق الدليل من غير التفات إلى كثرة المقبلين، أو قلتهم، فالحق لا يوزن بالرجال، وإنما يوزن الرجال بالحق، ومجرد نفور النافرين، أو محبة الموافقين لا يدلّ على صحة قول أو فساده، بل كل قول يحتج له، خلا قول النبي صلى الله عليه وسلم فإنه يحتج به.
وكثرة الأتباع ليست دليلًا على صدق الدعوى، كما أن قلة الأتباع ليست دليلًا على ضعفها أو فسادها، ففي الصحيحين عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «عرضت علي الأمم فرأيت النبي ومعه الرهيط، والنبي ومعه الرجل والرجلان، والنبي ليس معه أحد» الحديث.
ولهذا قال بعض السلف: عليك بالحق ولا تستوحش من قلة السالكين، وإياك والباطل ولا تغتر بكثرة الهالكين.
পঞ্চম মূলনীতি: সত্য ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচিত হয় না; সত্যকে জানুন, তবেই তার অনুসারীদের চিনতে পারবেন এই কথাটি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। সত্য হলো তা যা অনুসারীদের আধিক্য বা স্বল্পতার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে দলিলের অনুকূল হয়। সত্যকে ব্যক্তিদের দ্বারা পরিমাপ করা হয় না, বরং ব্যক্তিদেরই সত্যের মানদণ্ডে বিচার করা হয়। কোনো বিমুখ ব্যক্তির নিছক বিমুখতা কিংবা কোনো অনুসারীর ভালোবাসা কোনো বক্তব্যের সঠিকতা (صحة) বা অসারতার প্রমাণ দেয় না। বরং নবী (সা.)-এর কথা ব্যতীত প্রতিটি বক্তব্যের সপক্ষে দলিল পেশ করতে হয়, আর নবী (সা.)-এর কথা নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ণ দলিল।
অনুসারীদের আধিক্য কোনো দাবির সত্যতার দলিল নয়, ঠিক যেমন অনুসারীদের স্বল্পতা তার দুর্বলতা (ضعف) বা অসারতার প্রমাণ নয়। সহিহাইন-এ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সা.) বলেছেন: «আমার সামনে উম্মতদের পেশ করা হলো। আমি দেখলাম কোনো নবীর সাথে একটি ছোট দল রয়েছে, কোনো নবীর সাথে মাত্র একজন বা দুইজন লোক রয়েছে, আবার এমন নবীকেও দেখলাম যার সাথে কেউ নেই» (হাদিস)।
একারণে পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বলেছেন: "তুমি সত্যকে আঁকড়ে ধরো এবং সত্যের পথে পথিকের স্বল্পতায় বিচলিত হয়ো না। আর বাতিল থেকে বেঁচে থাকো এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রতারিত হয়ো না।"
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولهذا فإنه من غير المستساغ لمسلمٍ أن يحتج على عمله بكثرة الفاعلين له، فانتشار التطرف والإرهاب المذموم، واستخدام العنف من قبل الطوائف المختلفة لنشر مذاهبها وآرائها، كل ذلك ليس دليلًا على مشروعيتها، لأن العبرة بموافقة الدليل لا بالكثرة، وقد أمر الله نبيه صلى الله عليه وسلم أن يسلك في دعوته سبيل الحكمة والبصيرة، وهما بمعنى موافقة الحق، وألا يهتم بتجميع سواد الناس إذا كان في ذلك مجانبة الحق، ولننظر إلى ذلك التوجيه الرباني لمحمد صلى الله عليه وسلم، ففي آخر سورة يوسف بين الله له أنه ليس مكلفًا بأن يدخل الناس كلهم في دين الله فقال سبحانه: {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} الآية (103) ثم بعدها ببضع آيات يبين الله له ما هو مكلف به وهو أن يسلك مسلك البصيرة، فقال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} (الآية: 108) ، وفي سورة النحل يقول سبحانه: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ} (الآية 125) ، فالمؤمن ليس مأمورًا بأن يُدخل الناس في دين الله بالقوة، وأجره عند
এজন্য একজন মুসলিমের পক্ষে তার কর্মের স্বপক্ষে অধিকসংখ্যক সম্পাদনকারীর মাধ্যমে যুক্তি প্রদান করা সুসংগত নয়। সুতরাং চরমপন্থা ও নিন্দিত সন্ত্রাসবাদের বিস্তার এবং বিভিন্ন উপদল কর্তৃক তাদের মতবাদ ও মতামত প্রচারের জন্য সহিংসতার ব্যবহার—এসব কিছুই তাদের বৈধতার প্রমাণ (دليل) নয়। কারণ ধর্তব্য হলো প্রমাণের (الدليل) সাথে সামঞ্জস্য হওয়া, আধিক্য নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি তাঁর দাওয়াতের ক্ষেত্রে হিকমত ও বসিরাহ-এর পথ অবলম্বন করেন, যার অর্থ হলো সত্যের অনুগামী হওয়া; এবং যদি তাতে সত্য থেকে বিচ্যুতি ঘটে, তবে সাধারণ মানুষের ভিড় জমানোর প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া। মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি সেই রব্বানি নির্দেশনার দিকে লক্ষ করি; সূরা ইউসুফের শেষে আল্লাহ তাঁর নিকট স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সমস্ত মানুষকে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করানোর জন্য দায়বদ্ধ নন। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনি যতই সচেষ্ট হোন না কেন, অধিকাংশ মানুষই ঈমান আনয়নকারী নয়।" (আয়াত: ১০৩)। এরপর কয়েক আয়াত পরে আল্লাহ তাঁর নিকট বর্ণনা করেছেন তিনি কিসের জন্য দায়বদ্ধ, আর তা হলো অন্তর্দৃষ্টির পথ অবলম্বন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত অন্তর্দৃষ্টির সাথে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা।" (আয়াত: ১০৮)। এবং সূরা আন-নাহলে মহান আল্লাহ বলেন: "আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।" (আয়াত: ১২৫)। সুতরাং মুমিন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক মানুষকে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি, আর তার প্রতিদান রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الله ليس مبنيًا على ذلك، بل هو مأمور بتبليغ الرسالة ويؤجر على قدر موافقته للهدي الرباني، حتى وإن لم يستجب له أحد، ولهذا كان الرسل أفضل البشر مع أن بعضهم يأتي يوم القيامة ولم يؤمن معه أحد.
وعلى المؤمن ألا يستعجل النتائج في دعوته لأن ذلك يتعارض مع منهج الحكمة الذي أمره الله به، هذا فضلًا عما تؤدي إليه العجلة من الإضرار بالدعوة، وتضييق الخناق عليها وعلى أهلها.
আল্লাহ বিষয়টি এর ওপর ভিত্তি করেননি, বরং তিনি কেবল রিসালাত (الرسالة) পৌঁছে দেওয়ার জন্য আদিষ্ট এবং রব্বানী হিদায়াতের (الهدي الرباني) সাথে তাঁর সংগতির মাত্রা অনুযায়ী তিনি প্রতিদান লাভ করবেন, যদিও তাঁর প্রতি কেউ সাড়া না দেয়। এই কারণেই রাসূলগণ মানবজাতির মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ছিলেন, যদিও কিয়ামতের দিন তাঁদের কেউ কেউ এমন অবস্থায় উপস্থিত হবেন যে তাঁদের সাথে কোনো মুমিন (مؤمن) থাকবে না।
আর মুমিনের জন্য দাওয়াতের ক্ষেত্রে ফলাফলের প্রত্যাশায় তাড়াহুড়ো করা সংগত নয়, কারণ তা হিকমতের (الحكمة) সেই মানহাজ বা পদ্ধতির (المنهج) পরিপন্থী যা পালনের নির্দেশ আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। তদুপরি, এই তাড়াহুড়ো দাওয়াতের ক্ষতিসাধন এবং দাওয়াত ও দাঈদের জন্য পথ রুদ্ধ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(খণ্ড: ১)
ফিকহুল খিলাফি ওয়া আসারুহু ফিল কদাই আলাল ইরহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القاعدة السادسة الفرق بين الحكم المطلق والحكم المعين وهذه من أهم قواعد الخلاف، والتي نشأ بسبب الجهل بها خلط ولبس كبير، جعل من بعض الجهلة يكفرون المخالف لهم، أو يبدعونه بمجرد ارتكابه للبدعة أو وقوعه فيما يعده أهل السنة كفرًا، وإن من سمات أهل السنة أتباع الفرقة الناجية العدل في الحكم على المخالفين، فهم وسط بين الوعيدية الذين يكفرون بارتكاب الكبيرة، والمرجئة الذين يقولون: لا يضر مع الإيمان ذنب كما لا ينفع مع الكفر طاعة.
فيفرق أهل السنة بين الحكم المطلق على المخالفين بالمعصية أو الفسق أو الكفر، وبين الحكم على شخص معين، ممن ثبت إسلامه بيقين، ثم صدرت منه هذه البدع فلا يحكمون عليه بأنه فاسق أو عاص أو كافر حتى تقوم عليه الحجة، وتزول عنه الشبهة، كما يفرقون بين نصوص الوعيد المطلقة وبين استحقاق شخص بعينه لهذا الوعيد في أحكام الآخرة.
ষষ্ঠ নীতি: সাধারণ হুকুম (الحكم المطلق) এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর হুকুমের (الحكم المعين) মধ্যে পার্থক্য। এটি মতভেদ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালাসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে কতিপয় মূর্খ ব্যক্তি তাদের বিরোধীদের কেবল বিদআত (بدعة) চর্চা করার কারণে অথবা আহলে সুন্নাতের নিকট যা কুফর (كفر) হিসেবে গণ্য তাতে লিপ্ত হওয়ার কারণে কাফের (كافر) সাব্যস্ত করে কিংবা বিদআতি (مبتدع) হিসেবে আখ্যা দেয়। অথচ আহলে সুন্নাত তথা মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (الفرقة الناجية) অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো বিরোধীদের ব্যাপারে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার বজায় রাখা। তারা ওয়াইদিয়্যাহ (الوعيدية)—যারা কবিরা গুনাহ (كبيرة) করার কারণে কাফের (كافر) ঘোষণা করে—এবং মুরজিয়াদের (المرجئة)—যারা বলে: ঈমানের সাথে কোনো গুনাহ ক্ষতি করে না, যেমন কুফরের সাথে কোনো আনুগত্য উপকারে আসে না—এই দুই চরমপন্থী দলের মধ্যবর্তী অবস্থানে রয়েছেন।
আহলে সুন্নাত বিরোধীদের অবাধ্যতা, ফাসেক হওয়া (فسق) কিংবা কুফর (كفر) সংক্রান্ত সাধারণ হুকুম (الحكم المطلق) এবং এমন নির্দিষ্ট ব্যক্তির (الحكم المعين) ওপর হুকুম আরোপের মধ্যে পার্থক্য করেন যার ইসলাম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত। এমতাবস্থায় তার থেকে কোনো বিদআত (بدعة) প্রকাশ পেলেও তাকে ততক্ষণ পর্যন্ত ফাসেক (فاسق), পাপিষ্ঠ (عاص) কিংবা কাফের (كافر) বলা যাবে না, যতক্ষণ না তার ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার সংশয় (شبهة) দূর হয়। ঠিক তেমনিভাবে তারা পরকালীন বিধানের ক্ষেত্রে শাস্তির সাধারণ ধমক সম্বলিত নصوص (نصوص الوعيد) এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির সেই শাস্তির উপযুক্ত হওয়ার বিষয়ের মাঝেও পার্থক্য নিরূপণ করেন।