(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: -)
تداخل الأصول اللغوية وأثره في بناء المعجم القسم: النحو والصرف
الكتاب: تداخل الأصول اللغوية وأثره في بناء المعجم
المؤلف: عبد الرزاق بن فراج الصاعدي
الناشر: عمادة البحث العلمي، الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، المملطة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ/2002م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ভাষাগত মূলের মিথস্ক্রিয়া এবং অভিধান নির্মাণে এর প্রভাব বিভাগ: নাহু ও সরফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
বই: ভাষাগত মূলের মিথস্ক্রিয়া এবং অভিধান নির্মাণে এর প্রভাব
লেখক: আবদুর রাজ্জাক বিন ফাররাজ আল-সায়েদী
প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المجلد الأول
مقدمة…تداخل الأصول اللغوية وأثره في بناء المعجم
تأليف: د/عبد الرزاق بن فرج الصاعدي
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدّمة
الحمد لله، فاتحة كلّ خير، وتمام كلّ نعمة، أحمده سبحانه وتعالى حمدا طيّبا مباركا فيه، وأصلّي وأسلم على سَيِّدنا محمد، أفصح العرب لسانا، وأبينهم حُجّة، وأقومهم عبارة، وأرشدهم سبيلا، صلى الله عليه، وعلى آله الطاهرين، وصحابته أجمعين.
أمّا بعد، فإنّ مجال العمل المعجميّ يعدّ من أهم مجالات النشاط اللّغويّ وأصعبها؛ ويقتضي مواصفات خاصّة في روّاده؛ في مقدّمتها الدّقة والأناة والصّبر. ولنا أن ننظر -اليوم- إلى جهود علمائنا القدامى في صناعة المعاجم، وما خلّفوه لنا من تراث معجميّ زاخر لنرى ما عانوه من نَصَبٍ بالغ، وما بذلوه من دقّة متناهية في الجمع والاستيعاب، وفي التّنظيم والتّبويب؛ وما وَفّروه لهذا الأمر المهم من أسباب النّضج والنُّجْح ما كفل له أن يتصدّر قمة نشاطاتهم اللّغوية؛ فصفت لنا بذلك موارد اللّغة وحُفظت أصولها، وما ترمي إليه من صحاح المعاني، ودقائق الدّلالات.
ولمّا كان جمهور المشتغلين بعلوم العربيّة في شتّى فنونها ومناحيها لا يستغنون عن الرّجوع إلى هذا الضّرب من المؤلفات؛ فقد استمرّت جهود العلماء، وتضافرت في هذا المجال، وتعاقبت، وامتازت بالشّمول
প্রথম খণ্ডভূমিকা...ভাষাতাত্ত্বিক মূলের সংমিশ্রণ এবং অভিধান নির্মাণে এর প্রভাব
রচনা: ড. আবদুর রাজ্জাক বিন ফারাজ আল-সায়েদি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল কল্যাণের প্রারম্ভ এবং সকল নিয়ামতের পূর্ণতা। আমি তাঁর প্রশংসা করি, যিনি পবিত্র ও মহিমান্বিত, এমন প্রশংসা যা উত্তম ও বরকতময়। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী, দলিলে সর্বাধিক স্পষ্ট, অভিব্যক্তিতে সর্বাধিক সুদৃঢ় এবং পথে সর্বাধিক সঠিক নির্দেশক। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর, অভিধান সংকলনের ক্ষেত্রটি ভাষাতাত্ত্বিক কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিনতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। এটি এর পথপ্রিকৃতদের মধ্যে বিশেষ কিছু গুণের দাবি রাখে, যার শীর্ষে রয়েছে সূক্ষ্মতা, ধীরস্থিরতা ও ধৈর্য। আজ আমাদের পূর্বসূরি আলেমদের অভিধান তৈরির প্রচেষ্টার দিকে তাকানো উচিত এবং তাঁরা আমাদের জন্য যে সমৃদ্ধ অভিধানের ঐতিহ্য রেখে গেছেন তা দেখা উচিত, যাতে আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে সংগ্রহ ও আত্তীকরণে এবং বিন্যাস ও অধ্যায় বিভাজনে তাঁরা কতটা চরম পরিশ্রম করেছেন এবং কতটা নিখুঁত সূক্ষ্মতা অবলম্বন করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরিপক্কতা ও সাফল্যের জন্য তাঁরা যা কিছু প্রদান করেছেন, তা-ই একে তাঁদের ভাষাতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের শীর্ষে স্থান দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে। ফলে আমাদের জন্য ভাষার উৎসসমূহ স্বচ্ছ হয়েছে, এর মূল ভিত্তিগুলো সংরক্ষিত হয়েছে এবং শব্দের সঠিক অর্থ ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিতসমূহ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
যেহেতু আরবি বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা ও দিক নিয়ে গবেষণারত অধিকাংশ মানুষ এ ধরণের রচনাবলির শরণাপন্ন হওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী হতে পারেন না, তাই এই ক্ষেত্রে আলেমদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, সম্মিলিত হয়েছে এবং একের পর এক ধারাবাহিকভাবে চলেছে, যা তার ব্যাপকতা দ্বারা বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والتّنويع؛ فرأينا جوانب شتّى فيه؛ كالبسط والاختصار والتّهذيب والاستدراك والتّحشية والتّعليق والنّقد. وقد اتصل جهد الخلف بجهود السلف في النشاط المعجمي، الذي لا يزال معدودا في مجالات الدراسات اللغوية الخصيبة في الأصوات والأبنية والتراكيب والدلالات؛ فاستقطب – بأَخَرَةٍ – اهتمامات كثير من الباحثين؛ غير أنه لا يزال في حاجة إلى المزيد من الدراسات.
ومن المعلوم أن الكلمات في اللغة العربية ترتبط بأصولها ومعانيها؛ في نظام بالغ الدقة، يكشف عن جمال هذه اللغة وجلالها. ومن الثابت عند علماء اللغة العربية أن لكل كلمة وما تفرع عنها أصلا واحدا فحسب، بَيْدَ أنَّ ثَمَّةَ أصولا - يصعب حصرها – تتداخل؛ وأعني بذلك: أن الكلمة الواحدة قد يتوارد عليها أصلان أو أكثر، مما يؤدّي إلى التداخل مع أصلها الحقيقي؛ فيلتبس الأصلان أو الأصول؛ فكلمة (المَدِينة) – مثلا – يتوارد عليها أصلان ثلاثيان؛ فيتداخلان؛ وهما (م د ن) و (د ي ن) ويتداخل في كلمة (الرُّمَّان) أصلان؛ وهما (ر م م) و (ر م ن) أما كلمة (القرآن) فإنها تحتمل ثلاثة أصول: (ق ر أ) و (ق ر ي) و (ق ر ن) وتحتمل كلمة (مَأْجَجٍ) ثلاثة أصول – أيضا -، وهي: (أج ج) و (م ج ج) و (م أج ج) .
এবং বৈচিত্র্যকরণ; আমরা এতে বিভিন্ন দিক দেখেছি; যেমন বিস্তারিত আলোচনা, সংক্ষিপ্তকরণ, পরিমার্জন, সংযোজন, টীকা সংযোজন, ব্যাখ্যা এবং সমালোচনা। অভিধান সংক্রান্ত কার্যক্রমে পরবর্তী প্রজন্মের প্রচেষ্টা পূর্বসূরিদের প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত হয়েছে, যা আজও ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব এবং অর্থতত্ত্বের উর্বর ভাষাগত গবেষণার ক্ষেত্রে গণ্য হয়ে থাকে; সম্প্রতি এটি অনেক গবেষকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে; তবে এটি এখনও আরও অধিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা রাখে।
এটা সুবিদিত যে, আরবি ভাষার শব্দগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম একটি নিয়মের মাধ্যমে তাদের মূল এবং অর্থের সাথে জড়িত; যা এই ভাষার সৌন্দর্য ও মহিমাকে প্রকাশ করে। আরবি ভাষাবিদদের কাছে এটি প্রতিষ্ঠিত যে, প্রতিটি শব্দ এবং তার থেকে উদ্ভূত রূপগুলোর জন্য কেবল একটিই মূল উৎস থাকে, তবে এমন কিছু মূল রয়েছে - যা সীমাবদ্ধ করা কঠিন - যেগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায়; এর মাধ্যমে আমি বুঝাচ্ছি যে: একটি একক শব্দের ওপর দুটি বা ততোধিক মূলের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে, যা তার প্রকৃত মূলের সাথে সংমিশ্রণ ঘটায়; ফলে দুটি বা ততোধিক মূলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়; উদাহরণস্বরূপ (আল-মদিনাহ) শব্দটি—এটির ওপর দুটি ত্রয়ী মূল আপতিত হয়; ফলে সেগুলো মিশে যায়; সেগুলো হলো (ম দ ন) এবং (দ ই ন)। এবং (আর-রুম্মান) শব্দটিতে দুটি মূল মিশে যায়; সেগুলো হলো (র ম ম) এবং (র ম ন)। আর (আল-কুরআন) শব্দটির ক্ষেত্রে তিনটি মূলের সম্ভাবনা থাকে: (ক র আ), (ক র ই) এবং (ক র ন)। এবং (মা’জাজ) শব্দটিও তিনটি মূলের সম্ভাবনা রাখে—সেগুলোও হলো: (অ জ জ), (ম জ জ) এবং (ম অ জ জ)।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ومن أعجب ما وقع فيه التداخل كلمة (كَوْكَب) فإن فيها خمسة أصول متداخلة؛ وهي: (ك ك ب) على مذهب الجمهور، و (وك ب) على مذهب الأصمعي والأزهري، و (ك ب ب) على مذهب الراغب الأصفهاني، و (ك وك ب) على مذهب الخليل وأبي بكر الزبيدي، و (ك ب ك ب) على مذهب بعض الباحثين المعاصرين. وقد كثر التداخل في أنواع مخصوصة من ألفاظ اللغة، منها: الرباعي المضاعف؛ نحو: سلسل وزلزل ووسوس، فأثر ذلك في بناء معاجم القافية تأثيرا بالغا؛ إذ تابع صناع تلك المعاجم فيه المذهب الكوفي؛ وهو أن مثل تلك الكلمات هو من الثلاثي، وتركوا المذهب المشهور، وهو مذهب البصريين وجمهور النحاة واللغويين؛ وحاصله أن تلك الكلمات رباعية. وعلى الرغم من ذلك فإن متابعتهم الكوفيين لم تتصف بالاطراد؛ فثَمَّةَ كلمات من ذلك الضرب وضعت عندهم في الرباعي؛ وهو موضعها الصحيح؛ ومما يثير الانتباه أنّ ما جاء في موضعه الصحيح من هذا الضرب كاد يقتصر على باب الهمزة فقط. أما نحو: سَبِطٍ وسِبَطْرٍ، ودَمِثٍ ودِمَثْرٍ؛ فهو باب من التداخل؛ وتداخل الأصلين منه عند المعجميين دفعهم إلى ترجمة أحدهما في الآخر.
শব্দমূলের সংমিশ্রণ বা তাদাখুল যে সকল ক্ষেত্রে ঘটেছে, তার মধ্যে অন্যতম বিস্ময়কর উদাহরণ হলো 'কাওকাব' শব্দটি; কারণ এতে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন মূলের সংমিশ্রণ ঘটেছে। সেগুলো হলো: জুমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমদের মতে (কাফ কাফ বা), আসমায়ি ও আজহারির মতে (ওয়াও কাফ বা), রাগিব আল-ইসফাহানির মতে (কাফ বা বা), খলিল ও আবু বকর আল-জুবাইদির মতে (কাফ ওয়াও কাফ বা), এবং কিছু সমকালীন গবেষকের মতে (কাফ বা কাফ বা)। ভাষার কিছু নির্দিষ্ট ধরণের শব্দের ক্ষেত্রে এই রূপতাত্ত্বিক সংমিশ্রণ অধিক পরিমাণে ঘটেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো দ্বিত্ব চতুর্মূলীয় শব্দ (রুবায়ি মুদাআফ); যেমন: সালসালা, জালজালা এবং ওয়াসওয়াসা। এটি অন্ত্যমিল ভিত্তিক অভিধানসমূহের (মাআজিমুল কাফিয়া) বিন্যাসে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে; কারণ ওইসব অভিধানপ্রণেতারা এক্ষেত্রে কুফি মতাদর্শ অনুসরণ করেছেন। কুফিদের মতে, এই ধরণের শব্দগুলো মূলত ত্রিমূলীয় (সুলাসি), অথচ তারা প্রসিদ্ধ মতটি বর্জন করেছেন—যা হলো বসরিদের এবং অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদদের অভিমত; যার সারকথা হলো এই শব্দগুলো চতুর্মূলীয় (রুবায়ি)। তা সত্ত্বেও, কুফিদের প্রতি তাদের এই অনুসরণ সব ক্ষেত্রে ধারাবাহিক ছিল না; এই শ্রেণির কিছু শব্দকে তারা চতুর্মূলীয় অধ্যায়েই স্থান দিয়েছেন, যা মূলত সেগুলোর সঠিক স্থান। একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই শ্রেণির শব্দগুলোর মধ্যে যা সঠিক স্থানে বিন্যস্ত হয়েছে, তা প্রায় কেবল 'হামজা' অধ্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। আর যেমন: 'সাবিত' ও 'সিবাতর', এবং 'দামিস' ও 'দিমাসর'—এটিও শব্দমূলের সংমিশ্রণের একটি পর্যায়; অভিধানপ্রণেতাদের নিকট এই দুই মূলের সংমিশ্রণ ঘটার কারণে তারা একটির ব্যাখ্যা অন্যটির অধীনে প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
ومما كثر فيه التداخل، واختلفت فيه المعاجم: المهموز والأجوف والناقص وذو النون أو الميم، فكان بعضهم يرى الهمزة أو الميم أو النون من الأصل، وبعضهم يرى ذلك زائداً أو يرى الهمزة منقلبة عن حرف علة، أو العكس؛ فيضعها فريق في باب، ويضعها فريق في باب آخر، بل إنهم كثيرا ما وقعوا في تكرار المهموز في المعتل؛ مما أدى إلى تضخيم البابين.
والحق أن المعتل والمهموز من أكثر الأصول إثارة لحيرة اللغويين والمعجميين، ولا سيما تداخل الواو والياء في المعتل الناقص؛ فأدى ذلك إلى محاولة بعض المعجميين تجاوز هذه العقبة بوضع الواوي واليائي في باب واحد؛ وأول من فعل ذلك: الجوهري في (الصحاح) فغدا صنيعه منهجا يُحتذى.
أما النون فمزلقتها كبيرة، فإن أصالتها تلتبس في أول الكلمة، وفي وسطها، وفي آخرها؛ نحو: نَرْجِسٍ، وذُرْنُوحٍ، وضَيْفَنٍ. وللميم مزلقة لا تقل عن النون فأصالتها تلتبس في أول الكلمة، وفي وسطها، وفي آخرها – أيضا– نحو: الْمَدِينَةِ، ودُلَامِصٍ، وحُلْقُومٍ.
وقد تخفى حالة التاء؛ إذا وقعت في أول الكلمة، نحو: تَرْقُوَةٍ، وتَنُّورٍ، وتَأْلَبٍ، وتُرَامِزٍ، وتَوْلَجٍ، وتَنُوخَ.
আর যে বিষয়গুলোতে অধিক মাত্রায় সংমিশ্রণ ঘটেছে এবং অভিধানগুলোতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা হলো: মাহমুজ (হামযাযুক্ত), আজওয়াফ (মধ্য-ইল্লত), নাকিস (শেষ-ইল্লত) এবং নুন অথবা মীম যুক্ত শব্দসমূহ। ভাষাবিদদের কেউ কেউ হামযা, মীম অথবা নুনকে মূল অক্ষরের অংশ মনে করেন, আবার কেউ কেউ এগুলোকে অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে গণ্য করেন অথবা হামযাকে কোনো ইল্লত (দুর্বল) অক্ষর থেকে পরিবর্তিত মনে করেন, কিংবা এর বিপরীতটি ভাবেন। ফলে একদল এগুলোকে এক অধ্যায়ে স্থান দেন এবং অন্য দল অন্য অধ্যায়ে। প্রকৃতপক্ষে, তারা বহুলাংশে মো'তাল অধ্যায়ে মাহমুজ শব্দের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছেন; যার ফলে উভয় অধ্যায়ই কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে。
সত্য এই যে, মো'তাল ও মাহমুজ হচ্ছে ভাষাতত্ত্ববিদ ও অভিধানপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করার মতো অন্যতম প্রধান মূল বিষয়, বিশেষ করে নাকিস মো'তালের ক্ষেত্রে 'ওয়াও' এবং 'ইয়া' বর্ণের পারস্পরিক সংমিশ্রণ। ফলস্বরূপ, কিছু অভিধানপ্রণেতা 'ওয়াও' ও 'ইয়া' সম্বলিত শব্দগুলোকে একই অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার মাধ্যমে এই প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করার চেষ্টা করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন আল-জাওহারী তাঁর 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে; ফলে তাঁর এই কর্মপদ্ধতি একটি অনুকরণীয় নীতিতে পরিণত হয়।
আর নুন বর্ণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি বেশ প্রকট; কারণ শব্দের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে এর মূলত্ব নিয়ে সংশয় তৈরি হয়; যেমন: নারজিস, যুরনুহ এবং দ্বাইফান। মীমের বিভ্রান্তিও নুনের চেয়ে কম নয়; শব্দের শুরুতে, মাঝে এবং শেষে এর মূলত্ব নিয়েও সংশয় দেখা দেয়— যেমন: আল-মদিনাহ, দুলামিস এবং হুলকুম।
কখনো 'তা' বর্ণের অবস্থাও অস্পষ্ট থেকে যায় যখন তা শব্দের শুরুতে আসে; যেমন: তারকুয়াহ, তন্নুর, তা’লাব, তুরামীজ, তাওলাজ এবং তানুখ।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومن عجائب تداخل الأصول في: (اللِّسَان) أنّ ابن منظور ذكر (الأَفْكَلَ) وهي: الرعدة – في أصل رباعي، في باب اللام؛ فصل الهمزة، مع نص أكثر العلماء العربية على أن الكلمة ثلاثية الأصول، والهمزة فيها زائدة، وقد قرر ابن منظور نفسه زيادة الهمزة فيها؛ فوزنها عنده: (أَفْعَل) ومع ذلك وضعها في الرباعي، على أصالة الهمزة. والحق أن لتداخل الأصول أثراً بالغاً في بناء المعجم العربي، ولا سيما معاجم القافية، التي تعتمد على أصل الكلمة أساسا في التبويب والترتيب؛ فإن الكلمة قد تنتقل من باب إلى باب آخر، أو من فصل إلى فصل آخر، فتجيء في غير موضعها الصحيح، أو توضع في موضعين، أو أكثر، مما يؤدي إلى خلل بَيِّن في النظام المعجمي الدقيق، ويسهم في تضخيم بعض الأبواب.
ومن ضرر التداخل في المعاجم أنه يحول بين الباحث فيها عن شيء ومراده فيها، وقد امتد هذا الأثر إلى بعض العلماء في مؤلفاتهم؛ فاستدركوا على بعض المعاجم مواد هي فيها.
ويؤدي التداخل – أيضا – إلى الحكم على الكلمة بأنها من أصل ليست منه، مما ينتج عنه شيء من الاضطراب في بعض الأحكام التصريفية، كحركة عين المضارع في الأجوف، أو الناقص، أو المهموز، وكذا في الجمع والتصغير.
‘লিসানুল আরব’ গ্রন্থে মূলশব্দসমূহের সংমিশ্রণের একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো, ইবনু মঞ্জুর ‘আল-আফকাল’ (যা হলো কম্পন) শব্দটিকে একটি চতুর্মূলীয় মূলের অন্তর্ভুক্ত করে ‘লাম’ অধ্যায়ে ‘হামযা’ পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন। অথচ অধিকাংশ আরবী ভাষাবিদ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, শব্দটি ত্রিমূলীয় এবং এতে হামযাটি অতিরিক্ত। এমনকি ইবনু মঞ্জুর নিজেও এতে হামযার অতিরিক্ত হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন; ফলে তার নিকট এর গঠনকাঠামো হলো ‘আফআল’। তা সত্ত্বেও তিনি হামযাকে মূল ধরে শব্দটি চতুর্মূলীয় পরিচ্ছেদে রেখেছেন। প্রকৃত সত্য এই যে, আরবী অভিধান রচনার ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ছন্দভিত্তিক অভিধানগুলোতে, যা অধ্যায় ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে শব্দের মূলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, সেখানে মূলশব্দসমূহের সংমিশ্রণের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। এর ফলে শব্দ এক অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে অথবা এক পরিচ্ছেদ থেকে অন্য পরিচ্ছেদে স্থানান্তরিত হতে পারে। ফলে তা তার সঠিক স্থানে না এসে ভুল স্থানে চলে আসে অথবা দুই বা ততোধিক স্থানে স্থান লাভ করে। এটি সূক্ষ্ম অভিধানিক পদ্ধতিতে স্পষ্ট বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং কিছু অধ্যায়কে অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ করতে অবদান রাখে।
অভিধানে এই সংমিশ্রণের একটি ক্ষতি হলো, এটি অনুসন্ধানকারী এবং তার উদ্দিষ্ট বিষয়ের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রভাব কোনো কোনো আলিমের রচনায়ও পরিলক্ষিত হয়; ফলে তারা কিছু অভিধানের এমন সব শব্দের ওপর সংশোধনী দিয়েছেন যা আসলে সেই অভিধানেই বিদ্যমান ছিল।
তদুপরি, এই সংমিশ্রণ কোনো শব্দকে এমন এক মূলের দিকে সম্বন্ধ করার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা আসলে তার মূল নয়। এর ফলে কিছু রূপতাত্ত্বিক বিধানে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যেমন আজওয়াফ, নাকিস বা মাহমুয ক্রিয়ার ক্ষেত্রে মুযারি-এর আইন কালিমার স্বরচিহ্ন, এবং তদ্রূপ বহুবচন ও ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ গঠনের ক্ষেত্রেও।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويقود وضع الكلمة في موضعين أو أكثر إلى اختلاف شرحي الكلمة أو شروحها؛ في المضمون، من حيث الترجمة، أو الضبط، أو الأحكام، أو النقول، أو الشواهد، أو النصوص، ونحو ذلك. وقد يؤدي تداخل الأصول إلى ظهور أبنية غريبة على العربية، بعيدة عن قياسها، كـ (افْلأَعْلَ) على رأي من يجعل كلمة: (اكْلأَزَّ) من الأصل الثلاثي (ك ز ز) و (فَعْفَبِيلٍ) نحو: (سَلْسَبِيلٍ) على تقدير أنه ثلاثي من (س ل ل) على مذهب الراغب الأصفهاني؛ و (افْعَالَ) نحو: (انبَاقَ) حملا على صنيع الجوهري، في وضعه الكلمة في (ن ب ق) .
وتهدف هذه الدراسة، التي بين أيدينا، إلى تناول أمرين:
أولهما: تداخل الأصول اللغوية؛ وهو جانب صرفيّ محض.
وثانيهما: سَبْرُ الأثر الذي يمكن أن يحدثه هذا التداخل في بناء معاجم القافية.
واتخذتُ من مدرسة القافية ميدانا للدرس والتحليل في الأمرين كليهما، بوصفها المدرسة التي اعتمدت معاجمها أصل الكلمة أساسها الأول في الترتيب؛ فسبقت بذلك غيرها من المدارس المعجمية.
ولذلك اخترت أن يكون عنوان الدراسة: (تداخل الأصول اللغوية، وأثره في بناء المعجم العربي من خلال مدرسة القافية) .
একটি শব্দকে দুই বা ততোধিক স্থানে স্থাপন করা শব্দটির ব্যাখ্যা বা ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি করে; যা বিষয়বস্তু, অনুবাদ, স্বরচিহ্ন নির্ধারণ, বিধান, উদ্ধৃতি, প্রমাণাদি বা মূল পাঠ এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। মূল বুৎপত্তিগত উৎসের সংমিশ্রণ আরবি ভাষায় এমন কিছু অদ্ভুত গঠনশৈলীর উদ্ভব ঘটাতে পারে যা এর সাধারণ ব্যাকরণিক নিয়মের (কিয়াস) বহির্ভূত; যেমন: ‘ইফলা’লা’ গঠনটি তাদের মতানুসারে যারা ‘ইকলাআজ্জা’ শব্দটিকে ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট মূল ‘কাফ-যা-যা’ থেকে উদ্ভূত বলে মনে করেন। আবার রাগেব আল-ইসফাহানির মতানুসারে ‘সালসাবীল’ শব্দটিকে ‘সীন-লাম-লাম’ মূল থেকে উৎপন্ন ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ বিবেচনা করলে ‘ফা’ফাবীল’ এর ন্যায় গঠন পরিলক্ষিত হয়। তদ্রূপ ‘ইনবাকা’ শব্দটিকে ‘ইফ’আলা’ ছাঁচে ফেলা, যা জাওহারির অনুসরণে করা হয়েছে, যিনি শব্দটিকে ‘নূন-বা-কাফ’ মূলের অধীনে স্থান দিয়েছেন।
আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান এই গবেষণার লক্ষ্য হলো দুটি বিষয় আলোচনা করা:
প্রথমটি: ভাষাগত মূল বা বুৎপত্তিগত উৎসের সংমিশ্রণ; যা একটি বিশুদ্ধ রূপতাত্ত্বিক (সারফ) বিষয়।
দ্বিতীয়টি: অন্ত্যমিল বা ছন্দভিত্তিক অভিধান (কাফিয়া ডিকশনারি) নির্মাণের ক্ষেত্রে এই সংমিশ্রণের সম্ভাব্য প্রভাব অনুসন্ধান করা।
আমি উভয় বিষয়ের অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্র হিসেবে ‘কাফিয়া ধারা’ বা ছন্দ-পদ্ধতিকে গ্রহণ করেছি; কারণ এটি এমন একটি ধারা যা শব্দ বিন্যাসের ক্ষেত্রে শব্দের মূল বুৎপত্তিকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে এটি অন্যান্য অভিধানতাত্ত্বিক ধারার অগ্রবর্তীতে অবস্থান করছে।
এই কারণেই আমি গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করেছি: ‘ভাষাগত মূলের সংমিশ্রণ এবং আরবি অভিধান নির্মাণে এর প্রভাব: কাফিয়া ধারার একটি পর্যালোচনা’।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ولقد أقمتها على مواد منتخبة، مما يربي على ألفي مادة، تداخل في كل منها أصلان، أو أكثر، وهذا يعني أن الأصول المتداخلة – فيما وقفت عليه – تزيد على أربعة آلاف أصل.
واقتضت طبيعة الموضوع أن تأتي الدراسة في خمسة أبواب؛ يسبقها تمهيد؛ أتيت فيه على أمور تتصل بالبحث؛ وهي: (الأصول) و (التداخل) و (المعجم) و (القافية) و (سبب اختيارها) .
وجاء الباب الأول بعنوان: (الأصول والزوائد) وبنيته على ثلاثة فصول.
أفردت أولها للأصول في عرف اللغويين، قدامى ومحدثين.
وجعلتُ ثانيها للزوائد بجميع أنواعها، كالزيادات المقيسة، والإلحاق، والزيادات غير المقيسة.
أما ثالثها فهو يبحث في مقاييس التفريق بين الأصول.
ونال (تداخل الأصول) ما يستحق من الدراسة، فجاء في البابين الثاني والثالث، ونحوت فيهما منحى يؤدي إلى حصر ظاهرة التداخل في إطارها العام، بحيث يؤمن أن يند شيء من صورها المختلفة؛ فالتداخل على قسمين:
ما يقع في البناء الواحد.
وما يقع بين بناءين مختلفين غير متاكفئين.
আমি এটি দুই হাজারেরও অধিক নির্বাচিত উপকরণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছি, যার প্রতিটিতে দুই বা ততোধিক মূলবর্ণ একে অপরের সাথে প্রবিষ্ট হয়েছে। এর অর্থ এই যে, আমি যা পর্যবেক্ষণ করেছি তাতে পরস্পর প্রবিষ্ট মূলবর্ণের সংখ্যা চার হাজারেরও অধিক।
বিষয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী এই গবেষণাটি পাঁচটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হওয়া আবশ্যক ছিল; যার শুরুতে একটি ভূমিকা রয়েছে। সেখানে আমি গবেষণা সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ আলোচনা করেছি, যথা: (মূলবর্ণ), (তাদাখুল বা পারস্পরিক প্রবেশ), (অভিধান), (অন্ত্যমিল) এবং (তা নির্বাচনের কারণ)।
প্রথম অধ্যায়টির শিরোনাম হলো: (মূল ও অতিরিক্ত বর্ণসমূহ) এবং এটি আমি তিনটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি।
এর প্রথম পরিচ্ছেদটি আমি প্রাচীন ও আধুনিক ভাষাবিদদের পরিভাষায় মূলবর্ণের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদটি আমি সব ধরনের অতিরিক্ত বর্ণের জন্য নির্ধারণ করেছি, যেমন—নিয়মানুগ বৃদ্ধি (কিয়াসী), ইলহাক (সংযোজন) এবং অনিয়মিত বৃদ্ধি (গাইরে কিয়াসী)।
আর তৃতীয় পরিচ্ছেদটিতে মূলবর্ণসমূহের মধ্যে পার্থক্য করার মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(মূলবর্ণের তাদাখুল বা প্রবেশ) বিষয়টি গবেষণায় তার প্রাপ্য গুরুত্ব পেয়েছে, যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে। সেখানে আমি এমন এক পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা তাদাখুলের বিষয়টিকে তার সাধারণ কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে, যাতে নিশ্চিত করা যায় যে এর কোনো বৈচিত্র্যময় রূপ বাদ না পড়ে। তাদাখুল বা প্রবেশ দুই প্রকার:
যা একই গঠনের মধ্যে সংঘটিত হয়।
এবং যা সমমর্যাদাসম্পন্ন নয় এমন দুটি ভিন্ন ভিন্ন গঠনের মধ্যে সংঘটিত হয়।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وللأول ثلاث صور:
التداخل بين الثلاثي والثلاثي.
والتداخل بين الرباعي والرباعي.
والتداخل بين الخماسي والخماسي.
وللثاني ثلاث صور ـ أيضاً ـ:
التداخل بين الثلاثي والثلاثي.
والتداخل بين الثلاثي والخماسي.
والتداخل بين الرباعي والخماسي.
وجعلت للقسم الأول بابا مستقلا؛ وهو الباب الثاني؛ وكان الباب الثالث للقسم الثاني من قسمي التداخل. ولما كان أسباب التداخل وأثره في بناء المعاجم من أهم ما في هذه الدراسة، وهو يُعَدُّ ثمرتها، فقد أفردته في بابين مستقلين: الرابع والخامس، فجاء أولهما – وهو الباب الرابع – بعنوان: (أسباب التداخل وأثره في بناء معاجم القافية) وكان هذا الباب من أوسع أبواب الدراسة، فناسب اتساعه أهميته، وفيه فصلان:
أولهما: أسباب التداخل.
ثانيهما: أثر التداخل في بناء معاجم القافية.
প্রথমটির তিনটি রূপ রয়েছে:
ত্রিাক্ষরিক ও ত্রিাক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
এবং চতুরক্ষরিক ও চতুরক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
এবং পঞ্চাক্ষরিক ও পঞ্চাক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
দ্বিতীয়টির জন্যও—অনুরূপভাবে—তিনটি রূপ রয়েছে:
ত্রিাক্ষরিক ও ত্রিাক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
এবং ত্রিাক্ষরিক ও পঞ্চাক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
এবং চতুরক্ষরিক ও পঞ্চাক্ষরিকের মধ্যকার অনুপ্রবেশ।
আমি প্রথম অংশের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় নির্ধারণ করেছি, যা হলো দ্বিতীয় অধ্যায়; আর তৃতীয় অধ্যায়টি ছিল অনুপ্রবেশের দুই প্রকারের মধ্যে দ্বিতীয় প্রকারের জন্য। যেহেতু অভিধান সংকলনে অনুপ্রবেশের কারণসমূহ এবং এর প্রভাব এই গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং একে এর ফসল হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই আমি একে চতুর্থ ও পঞ্চম নামক দুটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি। ফলে এর প্রথমটি—অর্থাৎ চতুর্থ অধ্যায়টি—'অনুপ্রবেশের কারণ এবং কাফিয়া-ভিত্তিক অভিধান সংকলনে এর প্রভাব' শিরোনামে এসেছে। এই অধ্যায়টি ছিল গবেষণার অন্যতম বিস্তৃত অধ্যায়, আর এর প্রশস্ততা এর গুরুত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথমটি: অনুপ্রবেশের কারণসমূহ।
দ্বিতীয়টি: কাফিয়া-ভিত্তিক অভিধান সংকলনে অনুপ্রবেশের প্রভাব।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما الباب الخامس - وهو الأخير – فقد أفرد لـ (أثر التداخل في النقد المعجمي) وجاء في فصلين:
أولهما: للنقد المعجمي عند القدامى.
ثانيهما: للنقد المعجمي عند المتأخرين.
ثم جاءت الخاتمة، واشتملت على أبرز النتائج، التي توصل إليها البحث، وبعض التوصيات، وتلا ذلك الفهارس العامة. وقد درست هذه الظاهرة اللغوية دراسة تاريخية مقارنة، مستقرئا آراء القدماء والمحدثين، ومحللا إياها، ومبديا ما أراه حيال بعضها من ملحوظات، متخذا من الدرس الصرفي القديم – لا سيما ما استقر عليه البصريون – أساسا لدراسة الأصول، فاقتضت طبيعة الدراسة الاعتماد فيها على أربعة مناهج معروفة في الدراسات اللغوية الحديثة، وهي:
1- المنهج الوصفي.
2- المنهج التاريخي المقارن.
3- المنهج الاستقرائي.
4- المنهج النقدي.
وحاولت المزج بينها بما يخدم الدراسة. ثم إني كنت أعلم تماما ما في البحث من مصاعب ومتاعب، وقد حملني على ركوب الصعبة بلا أَحْلاسٍ دوافعُ لم يزل صداها يَرِنُّ في أذني،
আর পঞ্চম অধ্যায় - যা সর্বশেষ - তা (অভিধানতাত্ত্বিক সমালোচনায় পারস্পরিক প্রভাব) এর জন্য নির্ধারিত হয়েছে এবং এটি দুটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:
প্রথমটি: প্রাচীন পণ্ডিতদের নিকট অভিধানতাত্ত্বিক সমালোচনা।
দ্বিতীয়টি: পরবর্তী পণ্ডিতদের নিকট অভিধানতাত্ত্বিক সমালোচনা।
এরপর উপসংহার এসেছে, যা গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত প্রধান ফলাফলসমূহ এবং কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে, আর এর পরেই সাধারণ নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করা হয়েছে। এই ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়টি একটি ঐতিহাসিক তুলনামূলক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রাচীন ও আধুনিক পণ্ডিতদের মতামতের অনুসন্ধান করা হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং তাদের কিছুর বিষয়ে আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে প্রাচীন রূপতাত্ত্বিক পাঠকে - বিশেষ করে বসরীয় ভাষাবিদদের নিকট যা স্থির হয়েছে তাকে - মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। গবেষণার প্রকৃতি এতে আধুনিক ভাষাতাত্ত্বিক অধ্যয়নের চারটি পরিচিত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করার দাবি রেখেছে, আর সেগুলো হলো:
১- বর্ণনামূলক পদ্ধতি।
২- ঐতিহাসিক তুলনামূলক পদ্ধতি।
৩- আরোহী পদ্ধতি।
৪- সমালোচনামূলক পদ্ধতি।
এবং আমি গবেষণার সহায়ক হিসেবে এগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা করেছি। এরপর আমি এই গবেষণায় বিদ্যমান কষ্ট ও প্রতিকূলতা সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত ছিলাম, আর কোনো বিশেষ প্রস্তুতি ছাড়াই আমাকে এই কঠিন পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করেছে এমন কিছু প্রেরণা, যার প্রতিধ্বনি এখনও আমার কানে বাজছে,
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأهدافٌ لمعت لي من بعيد، فشمرت لها عن ساعد الجِدّ، آملا أن أضع صُوًى على بُنَيّاتِ الطريق، وكان من أهم هذه الدوافع والأهداف:
أ - حُبّي الشديد للدرس اللغوي؛ ولا سيما مجالات الصرف العربي، وموضوعات فقه اللغة وعلى رأسها الدراسات المعجمية؛ وقد تيسر لي – بتوفيق الله – في هذه الدراسة الجمع بين الرغبتين.
ب- الوقوف على ظاهرة تداخل الأصول بالدراسة التفصيلية التحليلية؛ أسوة بغيرها من الظواهر اللغوية؛ التي نالت حظها من الدرس؛ وقد تبين لي أن موضوع هذه الدراسة مما لم يطرقه الباحثون قديما وحديثا، خلا ما جاء منه في إشارات متفرقة هنا وهناك، وأهمها ما جاء في (الخصائص) لابن جني، الذي عرض لبعض جوانبه، والإشارات النقدية التي أثارها بعض المعجميين في معاجمهم؛ ولعل إغفال الباحثين المعاصرين هذا الموضوع راجع إلى ما يكتنفه من تشعب وغموض في بعض جوانبه.
ج- الوقوف على أثر (تداخل الأصول) في بناء معجم القافية، وحصر آثاره السلبية، والتنبيه عليها، ومحاولة وضع الحلول الممكنة لتلافي ذلك مستقبلا، فيما يؤلف من معاجم، تتخذ من الأصول أساسا لبنائها، وعلى رأسها المعجم التاريخي، الذي وضعت فكرته في العصر الحديث، وأرسيت قواعده.
এবং দূর থেকে কিছু লক্ষ্য আমার নিকট উদ্ভাসিত হয়েছিল, তাই আমি সেগুলোর জন্য কঠোর অধ্যবসায়ের সাথে কোমর বেঁধেছি, এই আশায় যে আমি পথের বাঁকগুলোতে কিছু দিকনির্দেশক চিহ্ন স্থাপন করব। এই প্রেরণা ও লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল:
ক- ভাষাতাত্ত্বিক পাঠের প্রতি আমার গভীর অনুরাগ; বিশেষত আরবি রূপতত্ত্ব (সরফ)-এর ক্ষেত্রসমূহ এবং ভাষাতত্ত্বের বিষয়াবলি, যার শীর্ষে রয়েছে অভিধানতাত্ত্বিক গবেষণা। আল্লাহর তৌফিকে—এই গবেষণায় আমার পক্ষে উভয় বিষয়ের সমন্বয় ঘটানো সহজ হয়েছে।
খ- বিস্তারিত ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনার মাধ্যমে 'মূলশব্দের সংমিশ্রণ' (তাদাখুলুল উসুল)-এর বিষয়টি অনুধাবন করা; যেমনটি অন্যান্য ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়ের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে। আমার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রাচীন বা আধুনিক গবেষকগণ এই বিষয়টি নিয়ে তেমন কাজ করেননি, কেবল এখানে-সেখানে কিছু বিক্ষিপ্ত ইঙ্গিত ছাড়া। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইবনে জিন্নীর 'আল-খাসায়েস'-এ বর্ণিত আলোচনা, যেখানে তিনি এর কিছু দিক তুলে ধরেছেন এবং কিছু অভিধানকার তাদের অভিধানে যে সমালোচনামূলক ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্ভবত আধুনিক গবেষকদের এই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হলো এর বিভিন্ন দিকের জটিলতা ও অস্পষ্টতা।
গ- 'অন্ত্যমিল ভিত্তিক অভিধান' (মু'জামুল কাফিয়াহ) গঠনে 'মূলশব্দের সংমিশ্রণের' প্রভাব অনুধাবন করা, এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো চিহ্নিত করা ও সে বিষয়ে সতর্ক করা এবং ভবিষ্যতে যেসব অভিধান মূলশব্দের ভিত্তিতে সংকলিত হবে, সেগুলোতে এই সমস্যাগুলো এড়ানোর সম্ভাব্য সমাধান খোঁজার চেষ্টা করা। এর শীর্ষে রয়েছে 'ঐতিহাসিক অভিধান' (আল-মু'জাম আত-তারিখি), যার ধারণা আধুনিক যুগে প্রবর্তিত হয়েছে এবং যার নীতিমালা নির্ধারিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
د- تَغَيُّرُ معنى الكلمة بسبب التداخل، وما يترتب عليه من عدم إدراك السامع مراد المتكلم، ومن أشهر أمثلته ما جاء في الحديث المرفوع أن قوما من جهينة جاءوا إلى النبي-صلى الله عليه وسلم بأسير، وهو يُرْعَدُ من البرد، فقال: "أَدْفُوهُ"، فذهبوا به فقتلوه، فَوَدَاهُ النبي صلى الله عليه وسلم وإنما أراد – عليه السلام: أَدْفِئُوهُ من البرد، وهو من: (د ف أ) وسهّله؛ لأنه ليس من لغته التحقيق؛ فالتبس بأصل آخر؛ وهو (د ف و) ومنه قولك: دَفَوْتُ الجَرِيحَ أَدْفُوهُ دَفْوًا؛ إذا أَجْهَزْتَ عليه.
هـ- إبراز أكبر قدر ممكن، مما جاء من الألفاظ في غير موضعه، في معاجم القافية، أو مما وضع في موضعين أو أكثر، ليكون عونا للقارئ.
و ومما شحذ همتي على المضي في هذا البحث ما قرأته أو سمعته من أن بعض المتختصّصين في غير العربية كان يشكو من إهمال المعاجم بعض الكلمات، ككلمة (امْتَارَ) مثلا، لأنه طلبها في مادة (م ت ر) وفاته أن التاء فيها تاء الافتعال، وأن الكلمة معتلة العين، وهي مثل: (اخْتَارَ) من الخير، فـ (امْتَارَ) من المِيرة، وهي جَلْبُ الطعام، وليست من (م ت ر) .
وقرأت للدكتور محمود الطناحي ما نصّه: (جاءني – ذات يوم – طالب يُعِدّ رسالة (دكتوراه) وسألني – متعجباً -: "كيف لا يذكر ابن منظور في (لسان العرب) شيئا عن معنى كلمة (التراث) ؟ " فقلت له: "وكيف كان
ঘ- আভিধানিক সংমিশ্রণের কারণে শব্দের অর্থের পরিবর্তন এবং এর ফলে বক্তার উদ্দেশ্য অনুধাবনে শ্রোতার ব্যর্থতা; এর অন্যতম প্রসিদ্ধ উদাহরণ হলো সেই মারফূ হাদীসটি, যেখানে জুহাইনা গোত্রের একদল লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন বন্দীকে নিয়ে আসে যে শীতে কাঁপছিল। তিনি বললেন: "তাকে উষ্ণ করো (আদফূহু)"। তারা তাকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ফেলল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার রক্তপণ পরিশোধ করলেন। তিনি মূলত তাকে শীত থেকে উষ্ণ করার (আদফি'ঊহু) ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, যা (দাল-ফা-হামযাহ) মূলধাতু থেকে উৎপন্ন। তিনি শব্দটি সহজ করে উচ্চারণ করেছিলেন কারণ তাঁর ভাষাভঙ্গি 'তাহকীক' (স্পষ্ট হামযাহ উচ্চারণ) ছিল না; ফলে এটি অন্য একটি মূলধাতুর সাথে সংশয়যুক্ত হয়ে যায়, যা হলো (দাল-ফা-ওয়াউ)। আর তা থেকেই আপনার উক্তি: "আমি আহত ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে হত্যা করলাম (দাফাউতু আল-জারীহা আদফূহু দাফওয়ান)"; অর্থাৎ যখন আপনি তাকে চিরতরে শেষ করে দিলেন।
ঙ- ছন্দভিত্তিক অভিধানসমূহে যে সকল শব্দ আপন স্থান ব্যতীত অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে অথবা যা দুই বা ততোধিক স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঠকের সহায়তার জন্য সেগুলোর মধ্য থেকে অধিকতম পরিমাণ শব্দকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা।
চ- এই গবেষণায় অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে যা আমার সংকল্পকে শাণিত করেছে তা হলো—আমি পড়েছি বা শুনেছি যে, আরবি ভাষা বহির্ভূত অন্যান্য বিষয়ের কিছু বিশেষজ্ঞ অভিধানসমূহে কিছু শব্দের অনুপস্থিতি সম্পর্কে অভিযোগ করছিলেন, যেমন (ইমতারা) শব্দটি। কারণ তিনি এটি (মীম-তা-রা) মূলধাতুর অধীনে অনুসন্ধান করেছিলেন এবং বিষয়টি লক্ষ্য করতে পারেননি যে এতে বিদ্যমান 'তা' হলো 'ইফতি'আল' ছাঁচের অতিরিক্ত 'তা' এবং শব্দটি মধ্যাক্ষর-দুর্বল (মু’তাল্লুল আ’ইন); এটি মূলত 'খাইর' থেকে (ইখতারা) শব্দের সদৃশ। সুতরাং (ইমতারা) শব্দটি (আল-মিরাহ) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ খাদ্য সংগ্রহ করা, এটি (মীম-তা-রা) থেকে নয়।
ছ- আমি ড. মাহমুদ আত-তানাহীর একটি লেখায় নিম্নোক্ত বক্তব্যটি পড়েছি: "একদা একজন পিএইচডি গবেষণারত ছাত্র আমার নিকট এসে বিস্ময়ের সাথে প্রশ্ন করল: 'ইবনে মানযূর কেন (লিসানুল আরব) অভিধানে (তুরাছ) শব্দের অর্থ সম্পর্কে কিছুই উল্লেখ করেননি?' আমি তাকে বললাম: 'তিনি কীভাবে..."
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ذلك؟ " قال: "هو على ما وصفت لك، لقد بحثت عن مادة (ت ر ث) في فصل التاء من كتاب الثاء، فلم أجد لها ذكرا!! " فقلت له: "ابحث في مادة (ور ث) وستجد بغيتك " 1.
وإذا كان أصل كلمتي: (امْتَارَ) و (التُّرَاثِ) ظاهرا لأكثر الباحثين، والكشف عنهما في المعجم لا يعد مطلبا عسيرا، فإن الباحث عن كلمة (تُكَلَةٍ) مثلا ليعجب حين يجد ابن منظور يضعها في (ك ل ت) من باب التاء، إلى جانب موضعها الصحيح، وهو (وك ل) . ومثل هذه الدقائق كثير يغري الغاصة على تتبعه وتقميشه. نعم، ولا أنسى – في ختام هذه الكلمة – أن أتوجه بالشكر لأساتذتي في قسم اللغويات بكلية اللغة العربية بالجامعة الإسلامية، الذين أفدت منهم في هذا البحث، وأخص بالشكر الجزيل، والعرفان بالجميل: أستاذي الفاضل الأستاذ الدكتور محمد يعقوب تركستاني، المشرف على هذا البحث؛ الذي كان لي نعم العون والسند، بتوجيهاته السديدة، ومتابعته الدقيقة، فكان له يَدٌ في إتمام البحث، واستوائه على سوقه، وظهوره بالصورة، التي كنت أطمح إليها، فله مني موفور الشكر، والدعاء الصادق له بالمثوبة من الله عز وجل.
--------------------------------------------
সেটি কি? " তিনি বললেন: "আমি আপনাকে যা বর্ণনা করেছি তা-ই, আমি ‘সা’ (الثاء) বর্ণের কিতাবের ‘তা’ (التاء) পরিচ্ছেদে ‘ত-র-স’ (ت ر ث) মূলশব্দটি খুঁজেছিলাম, কিন্তু আমি সেটির কোনো উল্লেখ পাইনি!!" আমি তাকে বললাম: "আপনি ‘ওয়া-র-স’ (و ر ث) মূলশব্দে অনুসন্ধান করুন, তবেই আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি পেয়ে যাবেন।" ১.
যদি ‘ইমতারা’ (امْتَارَ) এবং ‘আত-তুরাস’ (التُّرَاثِ) শব্দ দুটির উৎস অধিকাংশ গবেষকের নিকট স্পষ্ট হয়ে থাকে এবং অভিধানে সেগুলোর মূল নির্ণয় করা কঠিন কাজ না হয়, তবে ‘তুকলাহ’ (تُكَلَةٍ) শব্দটির অনুসন্ধানকারী আশ্চর্যান্বিত হবেন যখন তিনি দেখবেন যে ইবনে মানজুর শব্দটিকে তার সঠিক স্থান ‘ওয়া-কা-লা’ (و ك ل)-এর পাশাপাশি ‘তা’ পরিচ্ছেদের ‘কা-লা-তা’ (ك ل ت) অংশে স্থান দিয়েছেন। এ জাতীয় সূক্ষ্ম বিষয় প্রচুর রয়েছে যা এ বিষয়ের গভীরে প্রবেশকারীদের অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহে উদ্বুদ্ধ করে। হ্যাঁ, আমি এই আলোচনার শেষে মদীনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা অনুষদের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের আমার সম্মানিত শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে ভুলছি না, যাদের থেকে আমি এই গবেষণায় উপকৃত হয়েছি। আমি বিশেষভাবে অশেষ কৃতজ্ঞতা ও সম্মান প্রদর্শন করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ ইয়াকুব তুর্কিস্তানির প্রতি, যিনি এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন; তার সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি আমার জন্য এক উত্তম সাহায্যকারী ও অবলম্বন ছিলেন। এই গবেষণাটি সমাপ্ত করা এবং এটি আপন কাণ্ডের ওপর উঠে দাঁড়ানো এবং আমার কাঙ্ক্ষিত রূপে এটি আত্মপ্রকাশ করার ক্ষেত্রে তার একটি হাত ছিল। তাই তার প্রতি আমার অঢেল কৃতজ্ঞতা এবং মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য উত্তম প্রতিদানের আন্তরিক দোয়া রইল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأستاذي الفاضل الأستاذ الدكتور سليمان بن إبراهيم العايد، الذي أهدى إليّ فكرة هذا البحث، وهوّنه عليّ بعد أن كدتُ أن أنصرف عنه، لوعورة الطريق، وضخامة الجَهد، الذي يتطلبه، فجزاه الله خير الجزاء. وأستاذي الفاضل الأستاذ الدكتور عبد العزيز محمد فاخر الذي استحسن الموضوع، وحبب إليّ الكتابة فيه، وحثني على إتمامه، فجزاه الله خيرا وأجزل له المثوبة.
كما أشكر: إخواني، وزملائي، وكل من مد لي يد العون، فجزاهم الله عني جميعاً خيراً.
وبعد: فقد أفرغت – في هذا البحث – جَهْدي وطاقتي، غير زاعم بلوغ الغاية؛ ولكنني أرجو المقاربة والسداد، بما أسعفني به جهدي القليل، وفكري الكليل، في التنقيب، والاستقصاء، والاستنباط، والتعليل، ولا أبرئ نفسي – مع هذا – من التقصير، وسوء الفهم، والعثرة، والزلة؛ والمأمول ممن ينظر في عملي أن يصلح ما طغى به القلم، وزاغ عنه البصر، وقصر عنه الفهم، فالإنسان محلُّ النسيان، وعلى الله التكلان، ومنه العون والتوفيق.
এবং আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর সুলাইমান বিন ইবরাহিম আল-আইয়িদ, যিনি আমাকে এই গবেষণার মূল ভাবনাটি উপহার দিয়েছেন এবং তিনি এটি আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন যখন আমি পথের বন্ধুরতা এবং প্রয়োজনীয় মেহনতের বিশালতার কারণে প্রায় এটি পরিত্যাগ করার উপক্রম করেছিলাম, আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক প্রফেসর ডক্টর আবদুল আজিজ মুহাম্মদ ফাখির, যিনি বিষয়টিকে পছন্দ করেছেন এবং এতে লেখার ব্যাপারে আমার মনে আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে এটি সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করেছেন, আল্লাহ তাকে কল্যাণ দান করুন এবং তার প্রতিদানকে বহুগুণে বৃদ্ধি করুন।
সেই সাথে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার ভাইদের, সহকর্মীদের এবং যারা আমার প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের সবাইকে, আল্লাহ আমার পক্ষ থেকে তাদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
অতঃপর: আমি এই গবেষণায় আমার মেধা ও শ্রম নিংড়ে দিয়েছি, যদিও আমি চরম লক্ষ্যে পৌঁছানোর দাবি করছি না; তবে আমি অনুসন্ধান, বিস্তারিত তদন্ত, মূলনীতি আহরণ এবং কারণ বিশ্লেষণে আমার স্বল্প প্রচেষ্টা ও পরিশ্রান্ত চিন্তাধারার মাধ্যমে সঠিকতার কাছাকাছি পৌঁছানোর এবং নির্ভুলতার আশা রাখি। তবে তা সত্ত্বেও আমি নিজেকে ত্রুটি-বিচ্যুতি, ভুল বুঝাবুঝি এবং পদস্খলন থেকে মুক্ত মনে করি না। যারা আমার এই কাজটি দেখবেন, তাদের কাছে আমার বিনীত নিবেদন হলো—লেখনীর স্খলন, দৃষ্টির বিচ্যুতি কিংবা বুঝের ঘাটতির কারণে যা কিছু ভুল হয়েছে, তারা যেন তা সংশোধন করে দেন। কারণ মানুষ হলো ভুল ও বিস্মৃতির আধার, আর আল্লাহর উপরই সকল নির্ভরতা, তাঁর নিকট হতেই সাহায্য ও তাওফিক কাম্য।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والحمد لله، الذي كتب على الإنسان الإحسان في كل شيء، وهو حسبي، ونعم الوكيل.
المدينة المنورة 1414هـ الموافق 1994م
এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি মানুষের ওপর প্রতিটি বিষয়ে ইহসান বিধিবদ্ধ করেছেন; আর তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
মদিনা মুনাওয়ারা ১৪১৪ হিজরি মোতাবেক ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
التمهيد
المبحث الأول: الأصول…المبحث الأول: الأصول:
الأصول جمع أصل، ولمادة (أص ل) في اللغة عدة معان، يمكن ردها إلى ثلاثة معان مختلفة، وهي:
1- أساسُ الشّيء.
2- نوعٌ من الحيات.
3- ما كان من النهار قبل الغروب 1.
أما الأول: فأصل الشيء: أسفله، وأساس الحائط: أصله، وأصل الشجرة: جذورها، ويقال: استأصل الله بني فلان، إذا لم يدع لهم أصلا. ثم كثر ذلك حتى قيل، أصل كل شيء، ما يستند وجود ذلك الشيء إليه، فالأب أصل للولد، والنهر أصل للجدول.
وأما الثاني: فالأصلة جنس من الحيات، وهو أخبثها، وقيل: حية عظيمة قصيرة الجسم، تَثِبُ على الفارس فتقتله.
وأما الثالث: فزمان من النهار، يسمى: أصيلا، وهو العشي 2، أو ما بعد العشي 3، والمشهور أنه ما بعد صلاة العصر إلى الغروب 4، قال أبو ذؤيب:
--------------------------------------------
ভূমিকা
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-উসুল (মূলনীতিসমূহ)…প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-উসুল:
‘আল-উসুল’ শব্দটি ‘আসল’-এর বহুবচন। অভিধানে ‘আ-স-ল’ (অলিফ-সোয়াদ-লাম) মূলধাতুর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যেগুলোকে তিনটি ভিন্ন অর্থে পর্যবসিত করা যায়। সেগুলো হলো:
১- কোনো বস্তুর ভিত্তি।
২- এক প্রকারের সাপ।
৩- দিনের সূর্যাস্তের পূর্ববর্তী সময় ১।
প্রথমটির ক্ষেত্রে: কোনো বস্তুর ‘আসল’ হলো তার নিম্নদেশ বা গোড়া। দেয়ালের ভিত্তিই হলো তার ‘আসল’। আর বৃক্ষের ‘আসল’ হলো তার শিকড়সমূহ। বলা হয়ে থাকে: ‘আল্লাহ অমুক গোত্রকে সমূলে উৎপাটিত করেছেন’, যখন তিনি তাদের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট রাখেন না। অতঃপর এর ব্যবহার এত বৃদ্ধি পায় যে বলা হতে থাকে—যেকোনো জিনিসের ‘আসল’ হলো সেটিই যার ওপর ওই জিনিসের অস্তিত্ব নির্ভর করে। সুতরাং পিতা হলো সন্তানের ‘আসল’ (মূল), এবং নদী হলো নহরের জন্য ‘আসল’।
দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে: ‘আসালাহ’ হলো এক প্রজাতির সাপ, যা সাপের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট বা বিষাক্ত। কেউ কেউ বলেন: এটি এমন এক বিশাল কিন্তু ক্ষুদ্রদেহী সাপ, যা অশ্বারোহীর ওপর লাফিয়ে পড়ে তাকে মেরে ফেলে।
তৃতীয়টির ক্ষেত্রে: দিনের একটি সময়কে ‘আসীল’ বলা হয়। আর তা হলো সন্ধ্যাবেলা ২, অথবা সন্ধ্যার পরের সময় ৩। তবে প্রসিদ্ধ মত অনুযায়ী তা হলো আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় ৪। আবু যুআইব বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
َعَمْرِي لأنتَ البَيْتُ أُكْرِمُ أَهْلَهُ
… وَأَقْعُدُ فِي أَفْيَائِهِ بِالأَصَائِلِ1
ومن العسير إعادة هذه المعاني المتباينة إلى معنى واحد مشترك، وهذا ما يجعلنا نميل إلى أنها لغات.
أما الأصول في اصطلاح اللغويين والصرفيين، فلا تبتعد عن المعنى اللغوي الأول لمادة (أص ل) فالأصل هو الحرف: الذي يلزم في بناء الكلمة 2 لفظا أو تقديرا، قال ابن مالك في تعريفه:
وَالْحَرْفُ إن يَلْزَمْ فَأَصْلُُ والذِّي
… لا يَلْزَمُ الزَّائدُ مَثلُ (تا) احتُذِي3
وقد اعْتُرِضَ عليه بأن هذا التعريف غير جامع للأصول4، لأنه لا يجمع أفراد المعرف كلها، إذ يخرج عن ذلك، نحو: (وَعَدَ) وواوه أصل، وتسقط في بعض تصاريف الكلمة لعلة، كـ (عِدَةٍ) و (يَعِدُ) .
--------------------------------------------
আমার জীবনের কসম! আপনিই তো সেই গৃহ যার বাসিন্দাদের আমি সম্মান করি
... এবং আমি এর ছায়াতলে অপরাহ্ণে বসি।১
এই ভিন্ন ভিন্ন অর্থগুলোকে একটি একক সাধারণ অর্থে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন, আর এটাই আমাদের এই মতের দিকে ধাবিত করে যে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন উপভাষা।
আর ভাষাবিদ ও রূপতত্ত্ববিদদের পরিভাষায় 'উসুল' (মূলসমূহ) এর অর্থ (আ-সা-লা) মূলের প্রথম আভিধানিক অর্থ থেকে দূরে নয়। সুতরাং 'আসল' (মূল) হলো সেই বর্ণ: যা শব্দের গঠনে শব্দত বা উহ্যভাবে অপরিহার্য হয়২, ইবনে মালিক এর সংজ্ঞায় বলেছেন:
আর যে বর্ণটি অপরিহার্য থাকে তা-ই মূল, আর যা অপরিহার্য নয় তা অতিরিক্ত, যেমন (তা) বর্ণটি অনুসৃত হয়েছে৩
তাঁর ওপর এই মর্মে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, এই সংজ্ঞাটি মূল বর্ণগুলোর জন্য পূর্ণাঙ্গ নয়৪, কারণ এটি সংজ্ঞায়িত বিষয়ের সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে না। কেননা এর বাইরে থেকে যায় যেমন: (ওয়া'আদা) শব্দটি, এর 'ওয়াও' বর্ণটি মূল হওয়া সত্ত্বেও কোনো কারণবশত শব্দের কিছু রূপান্তরে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়, যেমন (ইদাতুন) এবং (ইয়া'ইদু) শব্দের ক্ষেত্রে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ويمكن دفع هذا الاعتراض بأن المراد باللزوم: لفظاً أو تقديراً، إذ الفاء في: (عِدَةٍ) والعين في: (قُلْ) واللام في (لُغَةٍ) ونحو ذلك أصول على الرغم من سقوطهن في بعض التصاريف، والساقط لعلة تصريفية كالثابت 1. ويتلخص من ذلك أن الأصول هي: الحروف التي تلزم في جميع تصاريف الكلمة، فتكون موجودة تحقيقا أو تقديرا.
فالموجودة تحقيقا كحروف (أَكَلَ) و (دَحْرَجَ) و (سَفَرْجَل) والموجودة تقديرا هي التي تسقط لعلة تصريفية، كفاء (سِمَةٍ) وهي الواو، وعين (بِعْ) وهي الياء، ولام (سُفَيْرِج) و (سَفَارِج) وهي اللام2، والفاء واللام في قولك (قِ نفسك عذاب النار) وهما الواو والياء، ونحو ذلك.
وترد كلمة (جُذُورٍ) مرادفة لـ (أُصُولٍ) في معناها اللغوي3 والاصطلاحي، وبخاصة عند اللغويين المتأخرين4، فيقال جَذْرُ الكلمة، بمعنى: أصلها.
--------------------------------------------
এই আপত্তিটি এভাবে খণ্ডন করা সম্ভব যে, 'অপরিহার্যতা' (লুজুম) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উচ্চারিত হওয়া অথবা উহ্য থাকা। কেননা 'ইদাতুন' শব্দের 'ফা', 'কুল' শব্দের 'আইন' এবং 'লুগাতুন' শব্দের 'লাম' ও এই জাতীয় বর্ণগুলো শব্দের মূল উপাদান, যদিও কোনো কোনো রূপান্তরের ক্ষেত্রে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। আর রূপতাত্ত্বিক কারণে যা বিলুপ্ত হয়, তা বিদ্যমান বর্ণের মতোই গণ্য হয়। এর সারকথা হলো: মূল বর্ণ (উসুল) হচ্ছে সেই সব বর্ণ যা শব্দের সকল রূপান্তরে অপরিহার্যভাবে বিদ্যমান থাকে, চাই তা বাস্তবে বিদ্যমান থাকুক বা উহ্যভাবে।
বাস্তবে বিদ্যমান বর্ণ যেমন: 'আকালা', 'দাহরাজা' ও 'সাফারজাল' শব্দের বর্ণসমূহ। আর উহ্যভাবে বিদ্যমান বর্ণ হলো সেগুলো যা রূপতাত্ত্বিক কারণে বিলুপ্ত হয়ে যায়, যেমন 'সিমাতুন' শব্দের 'ফা' বর্ণ (যা মূলত 'ওয়াও'), 'বি' শব্দের 'আইন' বর্ণ (যা মূলত 'ইয়া'), এবং 'সুফাইরিজ' ও 'সাফারিজ' শব্দের 'লাম' বর্ণটি। তেমনিভাবে আপনার উক্তি 'কি নাফাসাকা আযাবান নার' (নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো)-এর ক্ষেত্রে 'ফা' এবং 'লাম' বর্ণদ্বয়, যা মূলত 'ওয়াও' এবং 'ইয়া', এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ।
শব্দের ভাষাগত ও পারিভাষিক অর্থের ক্ষেত্রে 'জুযুর' (শিকড়) শব্দটি 'উসুল' (মূল)-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের ভাষাবিদদের নিকট। তাই বলা হয় 'শব্দের শিকড়' (জাযরুল কালিমা), যার অর্থ হলো 'শব্দের মূল' (আসলুল কালিমা)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وللكلمة العربية أصل واحد فحسب، فلا يكون لها أصلان فأكثر، ويدل على ذلك دليلان:
أما الأول: فإن الأصل لا يستحق أن يكون أصلا، ويتصف بهذه الصفة إلا إذا تفرّد، فإن الشيء الواحد ليس له إلا أصل واحد.
أما الثاني: فإنك ترى باستقراء ما ظهر اشتقاقه في العربية أن الكلمة الواحدة تعود إلى أصل واحد، فأصل الكتاب (ك ت ب) والاجتهاد (ج هـ د) والتناصح (ن ص ح) وهكذا، وهو أكثر اللغة، ويزيد على تسعة أعشارها، ولا تجد كلمة واحدة من ذلك آلت إلى أصلين. ومن هنا فينبغي أن يحمل ما قل وخفيت أصوله على ما كثر وظهرت أصوله. وإذا وُجدت كلمتان متحدتان في المعنى، ومتشابهتان في أكثر الحروف، فلا تخلوان من أحد أمرين:
أولهما: أن تكونا من أصل واحد، وقد طرأ عليهما أو على أحدهما تغيير صوتي أو بنائي، بسبب القلب، أو الإعلال، أو الإبدال، أو الهمز، أو التسهيل، أو نحو ذلك.
وثانيهما: أن تكونا من أصلين مختلفين، وهما من قبيل الترادف، ولا يصح الوجهان معا، بل لا بد أن يكون أحدهما – في نهاية الأمر – هو الصواب، وإن خفي ولم يوصل إليه.
আরবি শব্দের কেবল একটি মূল (আসল) থাকে, সুতরাং এর দুটি বা ততোধিক মূল হতে পারে না; আর এর সপক্ষে দুটি প্রমাণ রয়েছে:
প্রথমটি হলো: কোনো মূল তখনই 'মূল' হওয়ার যোগ্য হয় এবং এই বৈশিষ্ট্যে গুণান্বিত হয় যখন সেটি একক হয়; কেননা একটি জিনিসের কেবল একটিই মূল থাকে।
দ্বিতীয়টি হলো: আরবি ভাষায় যে শব্দগুলোর ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক) স্পষ্ট, সেগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে আপনি দেখতে পাবেন যে একটি শব্দ একটি মূলের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। যেমন—'কিতাব' শব্দের মূল হলো (কাফ-তা-বা), 'ইজতিহাদ'-এর মূল (জিম-হা-দাল), 'তানাশুহ'-এর মূল (নুন-সোয়াদ-হা), এভাবেই অধিকাংশ ভাষা গঠিত। এটি ভাষার দশ ভাগের নয় ভাগের চেয়েও বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে এবং এর মধ্যে এমন একটি শব্দও পাওয়া যাবে না যা দুটি মূলে গিয়ে পৌঁছেছে। এখান থেকে এটিই সংগত যে, যে শব্দগুলোর সংখ্যা কম এবং যাদের মূল অস্পষ্ট, সেগুলোকে সেই শব্দগুলোর ওপর ভিত্তি করে বুঝতে হবে যাদের সংখ্যা বেশি এবং যাদের মূল স্পষ্ট। আর যদি এমন দুটি শব্দ পাওয়া যায় যাদের অর্থ অভিন্ন এবং অধিকাংশ বর্ণে মিল রয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের কোনো একটি ঘটবে:
প্রথমত: শব্দ দুটি একই মূল থেকে উৎসারিত, তবে সেগুলোর ওপর বা কোনো একটির ওপর ধ্বনিগত বা গঠনগত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে; যা হতে পারে অক্ষর পরিবর্তন (কাল্ব), স্বরবর্ণের পরিবর্তন (ই'লাল), বর্ণ বিনিময় (ইবদাল), হামযাহ্ যুক্ত হওয়া, সহজীকরণ (তাসহিল) বা এ জাতীয় কোনো কারণে।
দ্বিতীয়ত: শব্দ দুটি ভিন্ন ভিন্ন দুটি মূল থেকে এসেছে এবং তারা সমার্থক শব্দ (তারাদুফ) হিসেবে গণ্য। তবে উভয় সম্ভাবনা একসাথে সঠিক হতে পারে না; বরং শেষ পর্যন্ত যেকোনো একটিই সঠিক হবে, যদিও তা অস্পষ্ট থাকে এবং সে পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব না হয়।
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وينبغي التنبيه على التزام الحذر عند الترجيح – مع الاعتراف بصعوبة ذلك – فلا يُقطع به من غير دليل قوي. وأقل ما تكون عليه أصول الكلمة المتصرفة ثلاثة أحرف؛ حرف يبتدأ به، وحرف يوقف عليه، وحرف يحشى به، وهو الكثير، وهذا مشترك بين الأسماء والأفعال، وأكثر ما تكون عليه الكلمة خمسة أحرف، وهو خاص بالأسماء، وذلك قليل، وأما ما جاء من الكلمات المتصرفة على حرفين أو حرف واحد فمما سقط بعض حروفه، وما جاء على أكثر من خمسة أحرف ففيه زيادة. وهذا مذهب الجمهور من اللغويين والصرفيين النحاة.1
--------------------------------------------
অগ্রাধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে সচেতন করা আবশ্যক—এর কাঠিন্য স্বীকার করেই—তাই শক্তিশালী দলিল ছাড়া কোনো বিষয়ে অকাট্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না। আর রূপান্তরযোগ্য শব্দের (কালিমা মুতাসারিফা) মূল অক্ষরসমূহ কমপক্ষে তিনটি হয়ে থাকে; একটি অক্ষর যা দিয়ে শুরু হয়, একটি যা দিয়ে শেষ করা হয় এবং একটি যা মধ্যখানে যুক্ত থাকে; এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে এবং এটি বিশেষ্য ও ক্রিয়া উভয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ বিষয়। আর একটি শব্দ অনধিক পাঁচটি অক্ষরবিশিষ্ট হতে পারে, যা কেবল বিশেষ্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এবং তা বিরল। আর রূপান্তরযোগ্য শব্দসমূহের মধ্য থেকে যা দুই অক্ষর বা এক অক্ষরে এসেছে, তা মূলত কোনো কোনো অক্ষর বিলুপ্ত হওয়ার কারণে হয়েছে। আর যা পাঁচ অক্ষরের বেশি হয়েছে, তাতে অতিরিক্ত অক্ষর রয়েছে। এটিই ভাষাবিদ, ইলমুস সরফ বিশারদ এবং ব্যাকরণবিদদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (জমহুর) অভিমত।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
المبحث الثاني: التَّداخُلالتداخل (تَفَاعُل) من مادة (د خ ل) وهي أصل مطرد؛ وهو الولوج1.ويقال: فلان دخيل في بني فلان: إذا كان من غيرهم2،ودخيل الرجل: الذي يداخله في أموره3، والدخيل ـ أيضاً ـ الضيف والنَّزيل؛ لدخوله على المضيف4. والجامع بين هذه المعاني المختلفة معنىً عام؛ وهو ولوج شيءٍ في غيره.
والتداخل في الاصطلاح من ذلك المعنى اللغوي العام؛ وهو دخول أصل لغوي (جذر) في أصل آخر؛ مما قد يؤدي إلى صعوبة تمييز الأصل الأول من الثاني، أو الداخل من المدخول عليه.
ومن هنا استخدمت صيغة التفاعل (التَّدَاخُل) لتدل على المشاركة. ومثال التداخل: (الأَوْتَكُ) 5 وهو نوع من التمر، يتوارد عليه أصلان؛ هما (وت ك) و (أت ك) فيتداخلان.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাদাখুল (পারস্পরিক প্রবেশ)তাদাখুল (তাফাউল ওজনে) 'দা খা লা' মূলধাতু থেকে আগত, যা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মূল; এর অর্থ হলো প্রবেশ করা।১ বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি অমুক বংশের 'দাখিল' (বহিরাগত): যখন সে তাদের বংশের অন্তর্ভুক্ত না হয়।২ আর কোনো ব্যক্তির 'দাখিল' বলতে তাকে বোঝায়, যে তার ব্যক্তিগত বিষয়াবলিতে সংশ্লিষ্ট থাকে।৩ এছাড়া 'দাখিল' বলতে মেহমান বা আগন্তুককেও বোঝানো হয়; কারণ সে মেজবানের নিকট প্রবেশ করে।৪ এই ভিন্ন ভিন্ন অর্থগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ অর্থ বিদ্যমান; আর তা হলো এক জিনিসের অন্য জিনিসের মধ্যে প্রবেশ করা।
পারিভাষিক অর্থে 'তাদাখুল' উক্ত সাধারণ ভাষাতাত্ত্বিক অর্থ থেকেই গৃহীত; আর তা হলো একটি ভাষাতাত্ত্বিক মূল (রুট) অন্য একটি মূলের মধ্যে প্রবিষ্ট হওয়া; যার ফলে প্রথম মূল থেকে দ্বিতীয় মূলকে, অথবা প্রবেশকারীকে যাঁর মধ্যে প্রবেশ করা হয়েছে তা থেকে পৃথক করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এ কারণে অংশীদারিত্ব বা পারস্পরিক ক্রিয়া বোঝাতে 'তাফাউল' (তাদাখুল) রূপটি ব্যবহার করা হয়েছে। তাদাখুল-এর একটি উদাহরণ হলো: 'আল-আওতাকু',৫ যা এক প্রকার খেজুর। এর ক্ষেত্রে দুটি মূল বা ধাতুর ব্যবহার পাওয়া যায়; সেগুলো হলো 'ওয়া তা কা' এবং 'আ তা কা', ফলে এ দুটির মাঝে তাদাখুল (পারস্পরিক প্রবেশ) ঘটেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ومن أوائل من فطن إلى هذا المعنى الاصطلاحي إمام العربية ابن جني؛ وهو أول من استخدم عبارة (تَدَاخُلِ الأُصُولِ) فيما وصل علمي إليه؛ إذ عقد باباً لذلك عنوانه: (باب في تداخل الأصول الثلاثية والرباعية والخماسية) 1 وذكر جملة من أمثلته، وبحث في أصولها، ولكنه بحث التداخل من جانب واحد فحسب. فتداخل الأصول؛ الذي أعنيه في هذا البحث؛ ذو شقين:
أحدهما: أن يتوارد أصل أو أكثر على كلمة؛ مما يؤدي إلى التداخل مع أصلها الحقيقي؛ فيلتبس الأصلان أو الأصول؛ كـ (المكان) يتوارد عليه أصلان؛ فيتداخلان؛ وهما (م ك ن) و (ك ون) ويتوارد على (الترقوة) ـ وهي القَلْت بين العنق ورأس العضد ـ ثلاثة أصول؛ فتتداخل؛ وهي (ر ق و) و (ر ق ي) و (ت ر ق) وهذا هو الشق الأكبر من (تداخل الأصول) .
أما الشق الثاني من التداخل؛ ـ وهو أقل كثيراً من سابقه ـ فهو ما عناه ابن جني؛ وهو: أن يتشابه الأصلان في الحروف أو في أكثرها مع اتفاقهما في المعنى؛ كـ (رَخْوٍ) و (رِخْوَدٍّ) 2، و (ضَيَّاطٍ)
--------------------------------------------
এই পরিভাষাগত অর্থের প্রতি যারা সর্বপ্রথম সচেতন হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আরবির ইমাম ইবনে জিন্নি। আমার জানামতে তিনিই সর্বপ্রথম 'মূলসমূহের সংমিশ্রণ' (তাদাখুলুল উসুল) পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন; যেহেতু তিনি এই বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম ছিল: 'তিন, চার ও পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট মূলসমূহের সংমিশ্রণ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ' ১। তিনি এর বেশ কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোর মূল নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তিনি এই সংমিশ্রণ বা অনুপ্রবেশের বিষয়টি কেবল একটি দিক থেকে আলোচনা করেছেন। সুতরাং মূলসমূহের সংমিশ্রণ—যা আমি এই গবেষণায় বুঝাতে চেয়েছি—তার দুটি দিক রয়েছে:
প্রথমটি হলো: একটি শব্দে এক বা একাধিক মূলের সমাবেশ ঘটা; যা শব্দটির প্রকৃত মূলের সাথে সংমিশ্রণের দিকে নিয়ে যায়; ফলে মূলগুলোর মধ্যে অস্পষ্টতা তৈরি হয়। যেমন 'মাকান' (স্থান) শব্দটিতে দুটি মূলের সমাবেশ ঘটে এবং তারা পরস্পরের সাথে মিশে যায়; মূল দুটি হলো (ম ক ন) এবং (ক ও ন)। অনুরূপভাবে 'তারকুওয়াহ' (কণ্ঠাস্থি)—যা ঘাড় ও বাহুর অগ্রভাগের মধ্যবর্তী গর্ত—শব্দটিতে তিনটি মূলের সমাবেশ ঘটে এবং সেগুলো মিশে যায়; সেগুলো হলো (র ক ও), (র ক ই) এবং (ত র ক)। আর এটিই হলো 'মূলসমূহের সংমিশ্রণ'-এর প্রধান অংশ।
আর সংমিশ্রণের দ্বিতীয় দিকটি—যা পূর্ববর্তীটির চেয়ে অনেক কম—হলো ইবনে জিন্নি যা বুঝিয়েছেন। তা হলো: দুটি মূলের বর্ণসমূহ বা অধিকাংশ বর্ণে সাদৃশ্য থাকা এবং অর্থের দিক দিয়েও এক হওয়া; যেমন 'রাখউন' ও 'রিখওয়াদ্দুন' ২, এবং 'দায়্যাতিন'।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪০)
و (ضَيْطار) 1، و (دَمِثٍ) و (دِمَثْرٍ) 2 فيظن من أنهما أصل واحد؛ وهما أصلان مختلفان؛ على مذهب المحققين من اللغويين. وقد وضّح ابن جني مراده في ذلك بقوله عن التداخل في الثلاثي: "أن تجد الثلاثي على أصلين متقاربين، والمعنى واحد، فههنا يتداخلان، ويوهم كل واحد منهما كثيراً من الناس أنه من أصل صاحبه؛ وهو ـ في الحقيقةـ من أصل غيره".3
وقال عن تداخل الثلاثي بالرباعي: "فأما تداخل الثلاثي والرباعي لتشابههما في أكثر الحروف فكثير؛ منه قولهم: سَبِطٌ وسِبَطْرٌ 4؛ فهذان أصلان لا محالة؛ ألا ترى أن أحداً لا يدعي زيادة الراء) 5.
وقال عن تداخل الرباعي والخماسي: "وأما تزاحم الرباعي مع الخماسي فقليل؛ وسبب ذلك قلة الأصلين جميعاً؛ فلما قلاّ قَلّ ما يعرض من هذا الضرب فيهما"6.
--------------------------------------------
এবং (দাইতার) ১, এবং (দামিছ) ও (দিমাছর) ২-এর ক্ষেত্রে কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে সেগুলো একই মূল ধাতু থেকে এসেছে; অথচ ভাষাতাত্ত্বিক গবেষকদের মতানুসারে সেগুলো দুটি ভিন্ন মূল ধাতু। ইবনে জিন্নি এ বিষয়ে তাঁর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে ত্রৈাক্ষরিক শব্দের সংমিশ্রণ সম্পর্কে বলেছেন: "আপনি যখন কাছাকাছি দুটি মূল ধাতুর ওপর ভিত্তি করে দুটি ত্রৈাক্ষরিক শব্দ পাবেন যাদের অর্থ অভিন্ন, তখন সেখানে উভয়ের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটে। এর প্রতিটি অনেক মানুষকে এই বিভ্রান্তিতে ফেলে যে এটি তার সঙ্গীর মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত; অথচ বাস্তবে এটি অন্য একটি মূল ধাতু থেকে উৎসারিত।" ৩
তিনি ত্রৈাক্ষরিক ও চতুরক্ষরিক শব্দের সংমিশ্রণ সম্পর্কে বলেন: "অধিকাংশ বর্ণের সাদৃশ্যের কারণে ত্রৈাক্ষরিক ও চতুরক্ষরিক শব্দের মধ্যে সংমিশ্রণ হওয়া একটি সাধারণ বিষয়; যেমন তাদের উক্তি: 'সাবিত' এবং 'সিবাতর' ৪; এই দুটি নিঃসন্দেহে আলাদা দুটি মূল ধাতু; আপনি কি দেখছেন না যে, কেউ 'রা' বর্ণটিকে অতিরিক্ত বলে দাবি করে না?" ৫
তিনি চতুরক্ষরিক ও পঞ্চাক্ষরিক শব্দের সংমিশ্রণ সম্পর্কে বলেন: "আর চতুরক্ষরিকের সাথে পঞ্চাক্ষরিকের সংমিশ্রণ খুবই কম; এর কারণ হলো এই উভয় প্রকার মূল ধাতুর স্বল্পতা; যেহেতু এই উভয় প্রকার শব্দই কম, তাই এদের মধ্যে এই ধরণের ঘটনাও কম ঘটে।" ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪১)
ومما يُلْحظ في بعض نصوص ابن جني أنه يستعمل كلمة (تَزَاحُم) بمعنى (تَدَاخُل) مرادفة لها.
وهذا الشق من التداخل الذي ذكره ابن جني ـ على قلته ـ يمكن إدخاله في الشق الأول؛ فيُنظَرُ إلى التداخل من جهة واحدة؛ فهو يقول: إن (سَبِطا وسِبطراً) يتداخلان؛ وهما أصلان مختلفان؛ فيقال ـ حينئذ ـ إن (سِبَطراً) يتوارد عليه أصلان فيتداخلان؛ وهما: (س ب ط) و (س ب ط ر) وكذلك (رِخْوَدٌّ) يتوارد عليه أصلان فيتداخلان؛ وهما (ر خ د) و (ر خ و) 1 وهكذا يمكن توجيه ما ذكره ابن جني، فالمآل واحد. نعم؛ وثَمَّةَ كلمات كثيرة تتداخل أصولها عند اللغويين؛ فكلمة (أُفْنُون) وهو الغصن المُلتفّ، والجري المختلط، والكلام المُثبّج ـ يتداخل أصلها بغيره؛ فيتوارد عليها أصلان، هما: (ف ن ن) و (أف ن) فهي (أفْعُول) أو (فُعْلُول) 2 وكلمة (البُرْهَان) ـ بمعنى البيان ـ يتداخل فيها أصلان: (ب ر هـ ن) و (ب ر هـ) .3
--------------------------------------------
ইবনে জিন্নির কিছু ভাষ্যে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি ‘তাজাহুম’ শব্দটিকে ‘তাদাখুল’-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
ইবনে জিন্নি কর্তৃক উল্লিখিত সংমিশ্রণের (তাদাখুল) এই অংশটি—যদিও তা পরিমাণে অল্প—প্রথম অংশের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব; ফলে এই সংমিশ্রণকে একক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়। তিনি বলেন: ‘সাবিদ’ এবং ‘সিবতার’ শব্দদ্বয়ের মাঝে সংমিশ্রণ ঘটে; অথচ এগুলো দুটি ভিন্ন মূলধাতু। তখন বলা হয় যে, ‘সিবতার’ শব্দটির ওপর দুটি মূলধাতুর আগমন ঘটে এবং তাদের মাঝে সংমিশ্রণ হয়; সেগুলো হলো: (স ব ত) এবং (স ব ত র)। একইভাবে ‘রিখওয়াদ্দ’ শব্দটির ক্ষেত্রেও দুটি মূলধাতুর আগমন ঘটে এবং তাদের মাঝে সংমিশ্রণ ঘটে; সেগুলো হলো: (র খ দ) এবং (র খ ও)।১ এভাবে ইবনে জিন্নি যা উল্লেখ করেছেন তার ব্যাখ্যা প্রদান করা সম্ভব, কেননা পরিণাম একই। হ্যাঁ; ভাষাবিদদের নিকট এমন অনেক শব্দ রয়েছে যেগুলোর মূলধাতুসমূহের মাঝে সংমিশ্রণ ঘটে। যেমন ‘উফনুন’ শব্দটি—যার অর্থ পেঁচানো ডালপালা, এলোমেলো দৌড় কিংবা অস্পষ্ট কথাবার্তা—এর মূলধাতু অন্যটির সাথে মিশে যায়; ফলে এর ওপর দুটি মূলধাতুর আগমন ঘটে, সেগুলো হলো: (ফ ন ন) এবং (অ ফ ন)। সুতরাং এটি ‘আফউল’ অথবা ‘ফুলুল’ ওজনের শব্দ।২ এবং ‘আল-বুরহান’ শব্দটি—স্পষ্ট প্রমাণ অর্থে—এর মাঝেও দুটি মূলধাতুর সংমিশ্রণ ঘটে: (ব র হ ন) এবং (ব র হ)।৩
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪২)
وربما تتداخل أصول ثلاثة، فتتوارد على كلمة واحدة، فكلمة الملائكة يتوارد عليها ثلاثة أصول1: (ل أك) و (أل ك) و (م ل ك) .
ومثل ذلك (المُعَار) في قول الشاعر:
أَعِيرُوا خَيْلَكُمْ ثُمَّ اركِضُوهَا
… أَحَقُّ الخَيْلِ بالرَّكْضِ المُعَارُ2
وهو السمين المُضَمّر، أو المنتوف الذّنَب، فتتوارد عليه ثلاثة أصول؛ هي: (ع ور) 3 و (ع ي ر) 4 و (م ع ر) 5. وربما تتداخل أصول أربعة فتتوارد على كلمة واحدة، فمن ذلك لفظ الجلالة (الله) يتوارد عليه6: (أل هـ) و (ول هـ) و (ل وهـ) و (ل اهـ ا) والأخير من (لاها) بالسريانية أو العبرانية.
--------------------------------------------
কখনও কখনও তিনটি মূল ধাতু পরস্পর সম্পৃক্ত হয় এবং একটি শব্দের ওপর এসে আপতিত হয়। যেমন: ‘মালাইকা’ (ফেরেশতাগণ) শব্দটি তিনটি মূল ধাতুর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হতে পারে১: (লাম-হামজা-কাফ), (আলিফ-লাম-কাফ) এবং (মিম-লাম-কাফ)।
অনুরূপভাবে কবির বাণীতে ব্যবহৃত ‘আল-মুআর’ শব্দটিও তদ্রূপ:
তোমাদের ঘোড়াগুলোকে ধার দাও অতঃপর সেগুলোকে দ্রুত দৌড়াও
... আর দ্রুত দৌড়ানোর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ঘোড়া হলো সেই ‘আল-মুআর’২।
আর এটি হলো সেই ঘোড়া যা সুঠামদেহী ও মেদহীন, অথবা যার লেজের পশম ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এই শব্দটিতে তিনটি মূল ধাতু এসে মিলিত হয়েছে; সেগুলো হলো: (আইন-ওয়াও-রা)৩, (আইন-ইয়া-রা)৪ এবং (মিম-আইন-রা)৫। কখনও কখনও চারটি মূল ধাতু পরস্পর সম্পৃক্ত হয়ে একটি শব্দের ওপর এসে আপতিত হয়। এর উদাহরণ হলো মহান ‘আল্লাহ’ শব্দ (আল্লাহর পবিত্র নাম), যাতে এই চারটি ধাতু পাওয়া যায়৬: (আলিফ-লাম-হা), (ওয়াও-লাম-হা), (লাম-ওয়াও-হা) এবং (লাম-আলিফ-হা-আলিফ), আর শেষোক্তটি সুরিয়ানি বা হিব্রু ভাষার ‘লা-হা’ শব্দ থেকে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
وكذلك الذُّرِّيّة يتوارد عليها أصول أربعة؛ وهي (ذ ر أ) و (ذ ر ر) و (ذ ر و) و (ذ ر ى) 1.
وتداخل الأصول يختلف من كلمة إلى أخرى؛ فمنها ما هو شديد الوضوح، ومنها ما هو شديد الخفاء والغموض. والذي يدل على خفاء بعض الأصول وتداخلها تردد بعض العلماء في أصولها؛ فـ (مَنجَنُون) وهو الدَّولاب (فَعْلَلُول) عند سيبويه، ولكنه ذكر بعد بضعة أسطر أنه (فَنْعَلُول) 2.
وتردد الصّغاني في أصل (الحَدَلَّق) ـ وهو القصير المجتمع ـ حيث نقل عن ابن دريد أنه (فَعَوْلل) 3 فقال الصّغاني: "فإن كانت اللام أصلية فهذا موضِعُ ذِكْرِه4، وإن كانت زائدة فموضع ذكره قبل هذا التركيب بتركيب" 5.
--------------------------------------------
একইভাবে 'যুররিয়্যাহ' (বংশধর) শব্দটির ক্ষেত্রে চারটি মূল ধাতু পাওয়া যায়; আর সেগুলো হলো (যা রা আ), (যা রা রা), (যা রা ওয়া) এবং (যা রা ইয়া) ১।
মূল ধাতুগুলোর একে অপরের মধ্যে প্রবেশ বা সমাপতন এক শব্দ থেকে অন্য শব্দে ভিন্ন ভিন্ন হয়; এর মধ্যে কোনটি অত্যন্ত স্পষ্ট, আবার কোনটি অত্যন্ত প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট। কিছু মূল ধাতুর প্রচ্ছন্নতা ও সমাপতনের প্রমাণ হলো সেগুলোর মূল নির্ধারণে কোনো কোনো পণ্ডিতের দ্বিধাদ্বন্দ্ব; যেমন 'মানজানুন' যা একটি চাকা বিশেষ, সিবওয়াইহ-এর মতে এটি 'ফাল্লালুন' ওজনের, কিন্তু কয়েক ছত্র পরেই তিনি উল্লেখ করেছেন যে এটি 'ফ্যানআলুলুন' ওজনের ২।
আল-সাগানি 'আল-হাদাল্লাক'—যার অর্থ বেঁটে ও হৃষ্টপুষ্ট—এর মূল নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, যেখানে তিনি ইবনে দুরেদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে এটি 'ফাওলাল' ৩ ওজনের। তখন আল-সাগানি বলেন: "যদি 'লাম' অক্ষরটি মূল হয় তবে এটিই হবে তা উল্লেখের স্থান ৪, আর যদি এটি অতিরিক্ত হয় তবে এর উল্লেখের স্থান হবে এই বিন্যাসের আগের একটি বিন্যাসে" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
ويدل على ذلك ـ أيضاً ـ كثرة ما يوجد من الهفوات أو السهو فيه لجلِّة العلماء؛ ألا ترى ما حكي عن أبي عبيد القاسم بن سلام من أنه قال في (مَنْدُوحَة) من قولك: ما لي عنه مندوحة؛ أي: متسع: إنها مشتقة من (انداحَ) ؟ 1
قال ابن عصفور:"وذلك فاسد؛ لأن (انداح) : (انفَعَلَ) ونونه زائدة، ومَنْدُوحة: (مَفْعُولة) ونونه أصلية؛ إذ لو كانت زائدة لكانت (مَنفُعْلَة) وهو بناء لم يثبت في كلامهم؛ فهو على هذا مشتق من النَّدْحِ؛ وهو جانب الجبل وطرفه؛ وهو إلى السَّعَة"2.
ومن ذلك أن المازني سأل ابن السكيت في مجلس المتوكل بقوله: "يا أبا يوسف، ما وزن (نَكْتَل) من قوله تعالى: {فَأَرْسِلْ مَعَنَا أَخَانَا نَكْتَلْ} 3؟ " قال له: " (نَفْعَل) ". قال ابن سيده ـ في تمام الرواية: "وكان هنالك قوم قد علموا هذا المقدار؛ ولم يؤتوا من حظ يعقوب ـ في اللغة ـ المِعشار، ففاضوا ضحكاً، وأداروا من الهزء فَلَكاً، وارتفع المتوكل؛ فخرج السّكّيتي والمازني؛ فقال ابن السكيت: "يا أبا عثمان؛ أسأت عِشْرتي، وأَذْوَيْتَ
--------------------------------------------
আরও এটি প্রমাণ করে যে, বড় বড় আলিমদের মধ্যেও অনেক বিচ্যুতি বা অসতর্কতা পরিলক্ষিত হয়; আপনি কি আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবন সাল্লাম সম্পর্কে বর্ণিত সেই বিষয়টি দেখেননি যেখানে তিনি ‘মান্দুহাহ’ (আপনার উক্তি ‘মা লি আনহু মানদুহাহ’ অর্থাৎ আমার এতে কোনো প্রশস্ততা নেই) সম্পর্কে বলেছিলেন যে: এটি ‘ইনদাহা’ থেকে উদ্ভূত? ১
ইবন উসফুর বলেন: "আর তা ত্রুটিপূর্ণ; কেননা ‘ইনদাহা’ হলো ‘ইনফায়া’লা’ ছাঁচের এবং এর ‘নুন’ বর্ণটি অতিরিক্ত, আর ‘মান্দুহাহ’ হলো ‘মাফউলাহ’ ছাঁচের এবং এর ‘নুন’ বর্ণটি মূল। কারণ যদি এটি অতিরিক্ত হতো তবে এর ছাঁচ হতো ‘মানফু’লাহ’, যা তাদের ভাষায় কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত গঠন নয়; সুতরাং এটি ‘নাদহ’ থেকে উদ্ভূত; আর তা হলো পাহাড়ের পার্শ্বদেশ ও তার প্রান্তভাগ; যা প্রশস্ততার অর্থ বহন করে।" ২
এর আরেকটি উদাহরণ হলো, আল-মাজিনী খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিলের মজলিসে ইবন আস-সিক্কিতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "হে আবু ইউসুফ, মহান আল্লাহর বাণী: ‘আমাদের সাথে আমাদের ভাইকে পাঠিয়ে দিন যেন আমরা মেপে আনতে পারি’—এর মধ্যে ‘নাকতাল’ শব্দটির ওজন কী?" ৩ তিনি তাকে বললেন: "নাফআল"। ইবন সীদাহ—বর্ণনার অবশিষ্টাংশে—বলেন: "সেখানে এমন কিছু লোক ছিল যারা এই সামান্য বিষয়টুকু জানত; কিন্তু ভাষাতত্ত্বে ইয়াকুবের দশ ভাগের এক ভাগ ভাগ্যও তাদের জোটেনি, ফলে তারা হাসিতে ফেটে পড়ল এবং বিদ্রূপের আসর বসাল। অত:পর আল-মুতাওয়াক্কিল উঠে গেলেন; এবং সিক্কিতি ও মাজিনী বেরিয়ে এলেন; তখন ইবন আস-সিক্কিত বললেন: "হে আবু উসমান; আপনি আমার সাথে মন্দ আচরণ করেছেন এবং আমাকে হীন করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
مَشْرَتي".1 فقال له المازني: "والله ما سألتك عن هذه حتى تحققت أني لم أجد أدنى محاولاً، ولا أقرب منه متناولاً".2
ولا شك ـ عندي ـ أن ذلك سهو من أبي يوسف؛ كأنه اشتق (نَكْتَل) من (ك ت ل) وهي من (ك ي ل) . وجواب ما سأل عنه أبو عثمان أن يقال: (نَفْتَلْ) مضارع (افْتَعَل) من (اكتال) حُذفت عينه بسبب التقاء الساكنين عند جزم الفعل.
وذهب ثعلب في قولهم: (أُسْكُفُّةُ الباب) إلى أنها من قولهم: اسْتَكَفّ؛ أي: اجتمع. قال ابن جني: "وهذا أمر ظاهر الشناعة؛ وذلك أن أُسْكُفَّةً: (أُفْعُلّة) والسين فيها فاء، وتركيبه من (س ك ف) وأما اسْتَكفّ، فسينه زائدة؛ لأنه (اسْتَفْعَل) وتركيبه من (ك ف ف) فأين هذان الأصلان حتى يُجمعا، ويدانى من شملهما؟ ولو كانت أُسْكُفَّة من: اسْتَكَفّ لكانت (أسْفُعْلَة) "3 وهذا لا نظير له.
ومن ذلك ما ذكره عبد القاهر الجرجاني، بقوله: "وأما ذكر ابن دريد: المَلَك في تركيب (م ل ك) فلا اعتداد به؛ لأنه قد ذكر ـ أيضاً ـ:
--------------------------------------------
"আমার সৌন্দর্য।"১ তখন মাজিনী তাকে বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি আপনাকে এ বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করিনি যতক্ষণ না আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, এর চেয়ে সামান্যতম প্রচেষ্টাও আমার আয়ত্তে ছিল না এবং এর চেয়ে নিকটতর কোনো সমাধানও আমি খুঁজে পাইনি।"২
আমার নিকট এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটি আবু ইউসুফের একটি ভুল; যেন তিনি (নাকতাল) শব্দটিকে (কা-তা-লা) মূলধাতু থেকে নির্গত মনে করেছেন, অথচ এটি (কা-ইয়া-লা) থেকে এসেছে। আবু উসমান যা জিজ্ঞাসা করেছেন তার উত্তর হলো: (নাফতাল) হলো (ইকতাল) এর (ইফতাআলা) ছাঁচের মুজারি (বর্তমানকালীন রূপ), যার 'আইন' বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে ক্রিয়াটি জজম অবস্থায় থাকার সময় দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে।
দরজার চৌকাঠ (উসকুফফাতুল বাব) সম্পর্কে সা'লাব মনে করেন যে এটি তাদের কথা 'ইসতাকাফ্ফা' থেকে এসেছে; অর্থাৎ: একত্রিত হওয়া। ইবনে জিন্নি বলেন: "এটি স্পষ্টভাবে একটি অসার কথা; কারণ 'উসকুফফাতুন' শব্দটি (উফউল্লাহ) ছাঁচের এবং এর 'সিন' বর্ণটি হলো 'ফা' কালমা বা প্রথম মূলবর্ণ, আর এর শব্দমূল হলো (সিন-কাফ-ফা)। অন্যদিকে 'ইসতাকাফ্ফা' শব্দে 'সিন' বর্ণটি অতিরিক্ত; কারণ এটি (ইসতাফআলা) ছাঁচের এবং এর শব্দমূল হলো (কাফ-ফা-ফা)। এই দুটি মূলধাতুর মধ্যে কী এমন সম্পর্ক আছে যে এদেরকে একত্রিত করা হবে বা একে অপরের নিকটবর্তী করা হবে? যদি 'উসকুফফাহ' শব্দটি 'ইসতাকাফ্ফা' থেকে হতো, তবে এর ছাঁচ হতো (আসফুল্লাহ)।"৩ আর এর কোনো নজির নেই।
এর মধ্যে আরও একটি উদাহরণ হলো যা আব্দুল কাহের আল-জুরজানি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "ইবনে দুরাইদ 'আল-মালাক' (ফেরেশতা) শব্দটিকে (মীম-লাম-কাফ) মূলধাতুর আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ তিনি আরও উল্লেখ করেছেন—"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
-: لِثَة مع: ثَهْلان ورِعَة مع: عاهر، وغير ذلك؛ مما هو من تصريف الصّبيان".1 هكذا قال الشيخ عبد القاهر، وعندي أن ذلك لم يكن لقلة ما في اليد؛ بل وقع ـ ومثله كثير في الجمهرة ـ لأسبابٍ منها: أن ابن دريد أملى الجمهرة إملاء من حفظه من دون مراجعة؛ فكانت الكلمات تنثال، والأصول تتزاحم؛ فتتداخل، وربما صحّف المستملي، أو حرّف، أو كتب غير ما سمع، فتحمل أبو بكر وِزْرَ ذلك. على أن أعجب ما وقفت عليه مما يتصل بالتداخل جعْل أبي الحسن كُراع النمل حرف العين من (دعق) في قولهم: (دَعَقَتِ) الدابةُ الطريقَ (دَعْقاً) زائدة2 فيكون الأصل (د ق ق) ؛ وهو مما لا يقول به أحد من المتقدمين؛ لأنه يخالف ما انتهوا إليه في الأصول.
وبالجملة فإن (تداخل الأصول) لا يخرج عن قسمين:
أولها: التداخل في البناء (الأصل) الواحد؛ كتداخل الثلاثي بالثلاثي، والرباعي بالرباعي، والخماسي بالخماسي.
--------------------------------------------
-: "লিছাহ শব্দকে ছাহলান-এর সাথে এবং রিআহ শব্দকে আহির-এর সাথে মেলানো, ইত্যাদি বিষয়গুলো মূলত শিশুসুলভ শব্দরূপান্তর মাত্র।" ১ শেখ আব্দুল কাহের এভাবেই বলেছেন। আমার মতে, এটি হাতের সংকীর্ণতার (জ্ঞানের স্বল্পতার) কারণে ঘটেনি; বরং এটি ঘটেছে—এবং আল-জামহারাহ গ্রন্থে এমন আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে—এমন কিছু কারণে যার মধ্যে অন্যতম হলো: ইবন দুরেয়িদ আল-জামহারাহ গ্রন্থটি কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল তাঁর স্মৃতি থেকে মুখস্থ শ্রুতিলিপি দিয়েছিলেন; ফলে শব্দসমূহ অবিরাম ঝরছিল এবং মূল ধাতুসমূহ একে অপরের ওপর ভিড় করছিল; যার ফলে সেগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায়। সম্ভবত শ্রুতলেখক পাঠ বিকৃতি ঘটিয়েছেন, অথবা পরিবর্তন করেছেন, কিংবা যা শুনেছেন তার বাইরে অন্য কিছু লিখেছেন; ফলে আবু বকর (ইবন দুরেয়িদ) এর দায়ভার বহন করেছেন। তবে ধাতুর সংমিশ্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে আমি যা পেয়েছি তার মধ্যে সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো আবুল হাসান কুরা' আন-নামল-এর অভিমত; তিনি 'দাআকা' শব্দে 'আইন' বর্ণটিকে—যেমন তারা বলে: 'পশুটি পথটি মাড়িয়ে দিয়েছে (দাআকাত)'—অতিরিক্ত বর্ণ হিসেবে গণ্য করেছেন। ২ ফলে এর মূল ধাতু হবে 'দ-ক-ক'; আর এটি এমন একটি কথা যা পূর্বসূরিদের কেউই বলেননি; কারণ এটি মূলনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের নির্ধারিত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী।
সংক্ষেপে, (মূল ধাতুর সংমিশ্রণ) দুই প্রকারের বাইরে নয়:
প্রথমত: একই ধরনের কাঠামোর (মূল ধাতুর) মধ্যে সংমিশ্রণ; যেমন—ত্রিবর্ণী ধাতুর সাথে ত্রিবর্ণী ধাতুর, চতুর্বর্ণী ধাতুর সাথে চতুর্বর্ণী ধাতুর এবং পঞ্চবর্ণী ধাতুর সাথে পঞ্চবর্ণী ধাতুর সংমিশ্রণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাদাখুলুল উসুলিল লুগাবিয়্যাতি ওয়া আসারুহু ফী বিনাইল মুজাম
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
وثانيهما: التداخل بين بناءين (أصلين) مختلفين؛ كتداخل الثلاثي بالرباعي، والثلاثي بالخماسي، والرباعي بالخماسي. وهذا سبيل حصر الظاهرة في إطارها العام؛ بحيث لا يَتخلّف من جوانبها المختلفة شيء ـ إن شاء الله ـ وهو ما يأتي تفصيله في البابين الثاني والثالث.
وثَمَّةَ نوع من التداخل شاع ذكره عند اللغويين والصرفيين، وأعني به: تداخل اللغات، ويسمى ـ أيضاً ـ تَرَكّب اللغات، وقد عقد له ابن جني باباً1؛ وذكر له أمثلةً منها ما جاء على فَعِلَ يفْعَلُ؛ نحو: نَعِمَ ينعُمُ، وفَعَلَ يَفْعَلُ؛ مما ليس حلقي العين أو اللام؛ نحو: قَلَى يَقْلَى، ورَكَنَ يَرْكَنُ؛ وأخرج ابن جني ذلك من الشذوذ، وعزاه إلى تداخل اللغات وتركبها؛ بقوله: "واعلم أن أكثر ذلك وعامته إنما هو لغات تداخلت فتركّبت".2
ويوضح حال التداخل في ذلك بقوله: "قولهم: قَنَطَ يَقْنَطُ إنما هو لغتان تداخلتا؛ وذلك أن قَنَطَ يَقْنِطُ لغة، وقَنِطَ يَقْنَط أخرى؛ ثم تداخلتا؛ فتركبت لغة ثالثة".3
--------------------------------------------
এবং এদের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো: দুটি ভিন্ন গঠনকাঠামোর (মূলশব্দের) মধ্যে সংমিশ্রণ; যেমন ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সাথে চতু-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সংমিশ্রণ, ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সাথে পঞ্চ-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সংমিশ্রণ এবং চতু-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সাথে পঞ্চ-অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের সংমিশ্রণ। এটি এই বিষয়টিকে তার সাধারণ কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার একটি পথ; যাতে এর বিভিন্ন দিক থেকে কোনো কিছুই বাদ না যায়—ইনশাআল্লাহ—আর এ বিষয়টি দ্বিতীয় ও তৃতীয় অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে আসবে।
এবং সেখানে সংমিশ্রণের এমন এক প্রকার রয়েছে যা ভাষাবিদ এবং রূপতত্ত্ববিদদের নিকট বহুল আলোচিত, আর তা হলো: উপভাষার সংমিশ্রণ, যাকে উপভাষার সমন্বয়ও বলা হয়। ইবনে জিন্নি এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন; এবং তিনি এর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যার মধ্যে রয়েছে 'ফা-ই-লা ইয়াফ-উ-লু' ওজনের শব্দ; যেমন: 'না-ই-মা ইয়ান-উ-মু', এবং 'ফা-আ-লা ইয়াফ-আ-লু' ওজনের শব্দ; যা 'আইন' বা 'লাম' বর্ণ কণ্ঠনালীয় নয় এমন শব্দগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমন: 'ক্বলা ইয়াক্বলা' এবং 'রকানা ইয়ারকানু'। ইবনে জিন্নি এ বিষয়গুলোকে ব্যাকরণিক বিচ্যুতি বা অনিয়মের বাইরে রেখেছেন এবং এগুলোকে উপভাষার সংমিশ্রণ ও সমন্বয়ের প্রতি সম্বন্ধিত করেছেন; তাঁর উক্তি হলো: "জেনে রেখো যে, এর অধিকাংশ এবং সাধারণ রূপগুলো মূলত এমন কিছু উপভাষা যা একে অপরের সাথে মিশ্রিত ও সমন্বিত হয়েছে।"
তিনি সেই সংমিশ্রণের অবস্থা স্পষ্ট করে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে বলেন: "তাদের উক্তি: 'ক্বানাতা ইয়াক্বনাতু' মূলত দুটি উপভাষার সংমিশ্রণ; কারণ 'ক্বানাতা ইয়াক্বনিতু' একটি উপভাষা এবং 'ক্বানিতা ইয়াক্বনাতু' অন্য একটি; অতঃপর এই দুটি সংমিশ্রিত হয়েছে; ফলে একটি তৃতীয় উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে।"
--------------------------------------------