(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: -)
سنن ابن ماجه - ت عبد الباقي   (ابن ماجه)

القسم: كتب السنة

الكتاب: سنن ابن ماجه

المؤلف: ابن ماجة أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، وماجة اسم أبيه يزيد (ت 273 هـ)

تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي [ت 1388 هـ]

الناشر: دار إحياء الكتب العربية - فيصل عيسى البابي الحلبي

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুনান ইবনে মাজাহ - তাহকীক: আব্দুল বাকী   (ইবনে মাজাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: সুনান ইবনে মাজাহ

লেখক: ইবনে মাজাহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ আল-কাযওয়িনী, এবং মাজাহ হলো তাঁর পিতা ইয়াজিদের নাম (মৃত্যু ২৭৩ হিজরী)

তাহকীক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকী [মৃত্যু ১৩৮৮ হিজরী]

প্রকাশক: দার ইহয়া আল-কুতুব আল-আরাবিয়্যাহ - ফয়সাল ঈসা আল-বাবী আল-হালাবী

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক নম্বরকৃত)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌[افتتاح الكتاب في الإيمان وفضائل الصحابة والعلم]
[ঈমান, সাহাবীগণের মর্যাদা এবং জ্ঞান বিষয়ক কিতাবের সূচনা]
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১)
بَابُ اتِّبَاعِ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আল্লাহর রাসূল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর সুন্নাহ অনুসরণের অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

(وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه ومحبيه)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

(এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর ভক্ত-অনুরাগীদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।)
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌1 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا أَمَرْتُكُمْ بِهِ فَخُذُوهُ، وَمَا نَهَيْتُكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا»

--------------------------------------------

صحيح
১ - আবু বকর ইবনে আবী শায়বা আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শারীক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমাশ থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে যা আদেশ করেছি তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকো।"

--------------------------------------------

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌2 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، قَالَ: أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «ذَرُونِي مَا تَرَكْتُكُمْ، فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِسُؤَالِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَخُذُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَانْتَهُوا»

--------------------------------------------

[ش (ذروني) أي اتركوني من السؤال. (ما تركتم) " ما " مصدرية ظرفية. أي مدة ما تركتم] .

 

صحيح
২ - মুহাম্মদ ইবন আস-সাব্বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “আমি যতক্ষণ তোমাদের (কোনো নির্দেশ না দিয়ে) ছেড়ে রাখি, ততক্ষণ তোমরা আমাকে (প্রশ্ন করা থেকে) ছেড়ে দাও। তোমাদের পূর্ববর্তীগণ কেবল তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতবিরোধ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো কিছুর নির্দেশ দেই, তখন তোমরা সাধ্যমতো তা পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো।”

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আমাকে ছেড়ে দাও) অর্থাৎ আমাকে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকো। (যতক্ষণ আমি তোমাদের ছেড়ে রাখি) এখানে ‘মা’ অব্যয়টি সময় নির্দেশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তোমাদের ছেড়ে রাখি বা কোনো বিষয়ে নির্দেশ না দেই।] .

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌3 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَطَاعَنِي فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ عَصَى اللَّهَ»

--------------------------------------------

هذا الحديث مما انفرد به المصنف.

 

صحيح
৩ - আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আবু মুয়াবিয়া ও ওয়াকী বর্ণনা করেছেন আ’মাশ থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্যতা করল সে আল্লাহরই অবাধ্যতা করল।»

--------------------------------------------

এই হাদীসটি গ্রন্থকার এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌4 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سُوقَةَ، عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ قَالَ: كَانَ ابْنُ عُمَرَ «إِذَا سَمِعَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا لَمْ يَعْدُهُ، وَلَمْ يُقَصِّرْ دُونَهُ»

--------------------------------------------

[ش (لم يعده) أي لم يتجاوز بالزيادة على قدر الوارد في الحديث ولا إفراط فيه ولم يقصر في التقصير دونه] .

 

صحيح
৪ - মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমায়র আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জাকারিয়া ইবনে আদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনুল মুবারক থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে সুকাহ থেকে, তিনি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে উমর যখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস শুনতেন, তখন তিনি তা অতিক্রম করতেন না এবং তার চেয়ে কমও করতেন না।

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (তিনি তা অতিক্রম করতেন না) অর্থাৎ হাদীসে বর্ণিত সীমার অতিরিক্ত বাড়িয়ে কিছু করতেন না এবং তাতে কোনো বাড়াবাড়ি করতেন না, আবার তা পালনে কোনো প্রকার কমতিও করতেন না।]

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌5 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ الدِّمَشْقِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى بْنِ الْقَاسِمِ بْنِ سُمَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْأَفْطَسُ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَنَحْنُ نَذْكُرُ الْفَقْرَ وَنَتَخَوَّفُهُ، فَقَالَ: «آلْفَقْرَ تَخَافُونَ؟ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتُصَبَّنَّ عَلَيْكُمُ الدُّنْيَا صَبًّا، حَتَّى لَا يُزِيغَ قَلْبَ أَحَدِكُمْ إِزَاغَةً إِلَّا هِيهْ، وَايْمُ اللَّهِ، لَقَدْ تَرَكْتُكُمْ عَلَى مِثْلِ الْبَيْضَاءِ، لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ»

قَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ: صَدَقَ وَاللَّهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «تَرَكَنَا وَاللَّهِ عَلَى مِثْلِ الْبَيْضَاءِ، لَيْلُهَا وَنَهَارُهَا سَوَاءٌ»

--------------------------------------------

[ش (نتخوفه) أي نظهر الخوف. (آلفقر) بمد الهمزة على الاستفهام. وهو مفعول مقدم. (إلا هيه) هي ضمير الدنيا. والهاء في آخره للسكت. أي لا يميل قلب أحدكم إلا الدنيا. (على مثل البيضاء) المعنى على قلوب بيضاء نقية عن الميل إلى الباطل لا يميلها عن الإقبال على الله تعالى السراء والضراء.

 

حسن
৫ - হিশাম ইবনে আম্মার আদ-দিমাশকী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আল-কাসিম ইবনে সামী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে সুলায়মান আল-আফতাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালীদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-জুরাশী থেকে, তিনি জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে, তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এমতাবস্থায় যে আমরা দারিদ্র্যের আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম। তখন তিনি বললেন: «তোমরা কি দারিদ্র্যের ভয় পাচ্ছ? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, অবশ্যই তোমাদের উপর দুনিয়াকে অঝোর ধারায় ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তোমাদের কারো অন্তরকে কেবল দুনিয়াই (সত্য থেকে) বিচ্যুত করবে। আল্লাহর কসম, আমি তোমাদেরকে এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের উপর ছেড়ে যাচ্ছি, যার রাত ও দিন সমান (স্বচ্ছ)»

আবু দারদা বলেন: আল্লাহর কসম, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলেছেন: «আল্লাহর কসম, তিনি আমাদের এমন এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের উপর ছেড়ে গেছেন, যার রাত ও দিন সমান»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আমরা তা নিয়ে ভয় পাচ্ছিলাম) অর্থাৎ ভয় প্রকাশ করছিলাম। (দারিদ্র্য কি?) এখানে হামযাহ দীর্ঘ করার মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়েছে। আর এটি ব্যাকরণগতভাবে অগ্রবর্তী কর্ম। (ব্যতীত এটি) এখানে 'এটি' সর্বনামটি দুনিয়ার দিকে নির্দেশ করছে। আর শেষের 'হা' বর্ণটি সাকিন বা থামার জন্য এসেছে। অর্থাৎ তোমাদের কারো অন্তর দুনিয়া ছাড়া অন্য কিছুর দিকে ঝুঁকে পড়বে না। (উজ্জ্বল শুভ্রতার ন্যায়) এর অর্থ হলো এমন শুভ্র হৃদয়ের উপর যা বাতিলের দিকে ঝোঁকা থেকে পবিত্র, সুখ কিংবা দুঃখ কোনো অবস্থাই যা আল্লাহর অভিমুখী হওয়া থেকে বিচ্যুত করতে পারে না।

 

হাসান
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌6 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ»

--------------------------------------------

[ش (طائفة) الطائفة الجماعة من الناس. والتنكير للتقليل أو التعظيم لعظم قدرهم ووفور فضلهم. قال أحمد بن حنبل في هذه الطائفة إن لم يكونوا هم أهل الحديث فلا أدري من هم؟] .

 

صحيح
৬ - মুহাম্মদ ইবনে বাশশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শু’বাহ আমাদের নিকট মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত হতে থাকবে; কিয়ামত কায়েম হওয়া পর্যন্ত যারা তাদের সঙ্গ ত্যাগ করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (তায়েফাহ) তায়েফাহ হলো মানুষের একটি দল। আর এখানে শব্দটিকে অনির্দিষ্টবাচক রাখা হয়েছে তাদের সংখ্যায় স্বল্পতা বোঝাতে, অথবা তাদের উচ্চ মর্যাদা ও সুপ্রচুর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তাদের মহিমান্বিত করতে। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই দল সম্পর্কে বলেছেন: যদি তারা আহলুল হাদিস না হয়, তবে আমি জানি না তারা আর কারা?] .

 

সহিহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌7 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَلْقَمَةَ نَصْرُ بْنُ عَلْقَمَةَ، عَنْ عُمَيْرِ بْنِ الْأَسْوَدِ، وَكَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ: «لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي قَوَّامَةً عَلَى أَمْرِ اللَّهِ، لَا يَضُرُّهَا مَنْ خَالَفَهَا»

--------------------------------------------

حسن صحيح
৭ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হামযা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আলকামা নাসর ইবনে আলকামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, উমায়ের ইবনুল আসওয়াদ ও কাসীর ইবনে মুররা আল-হাদরামী থেকে বর্ণিত, আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অবিচল থাকবে; যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।»

--------------------------------------------

হাসান সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌8 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْجَرَّاحُ بْنُ مَلِيحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ زُرْعَةَ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا عِنَبَةَ الْخَوْلَانِيَّ، وَكَانَ قَدْ صَلَّى الْقِبْلَتَيْنِ، مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا يَزَالُ اللَّهُ يَغْرِسُ فِي هَذَا الدِّينِ غَرْسًا يَسْتَعْمِلُهُمْ فِي طَاعَتِهِ»

--------------------------------------------

حسن
৮ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল-জাররাহ ইবনে মালিহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর ইবনে যুরআহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইনাবাহ আল-খাওলানিকে বলতে শুনেছি—এবং তিনি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে উভয় কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন—তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «আল্লাহ সর্বদা এই দ্বীনের মধ্যে এমন নতুন চারা রোপণ করতে থাকবেন, যাদেরকে তিনি তাঁর আনুগত্যের কাজে নিয়োজিত করবেন।»

--------------------------------------------

হাসান
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌9 - حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ حُمَيْدِ بْنِ كَاسِبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ نَافِعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَامَ مُعَاوِيَةُ، خَطِيبًا فَقَالَ: أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ؟ أَيْنَ عُلَمَاؤُكُمْ؟ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا وَطَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى النَّاسِ، لَا يُبَالُونَ مَنْ خَذَلَهُمْ وَلَا مَنْ نَصَرَهُمْ»

--------------------------------------------

[ش (ظاهرون) أي غالبون] .

 

صحيح
৯ - ইয়াকুব ইবনে হুমাইদ ইবনে কাসিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: কাসিম ইবনে নাফি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ ইবনে আরতাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমর ইবনে শুয়াইব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুআবিয়াহ ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে বললেন: তোমাদের আলিমগণ কোথায়? তোমাদের আলিমগণ কোথায়? আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আমার উম্মতের একটি দল মানুষের উপর বিজয়ী থাকবে; যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় কিংবা যারা তাদের সাহায্য করতে চায়—কারো পরোয়া তারা করবে না।»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (জাহিরুন) অর্থাৎ বিজয়ী] ।

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌10 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ ثَوْبَانَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يزالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي عَلَى الْحَقِّ مَنْصُورِينَ، لَا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ، حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ عز وجل»

--------------------------------------------

[ش (أمر الله) قال النووي ثم الحافظ ابن حجر المراد بأمر الله هبوب تلك الريح التي تقبض روح كل مؤمن] .

 

صحيح
১০ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে শুআইব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে বাশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাতাদাহ থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে, তিনি আবু আসমা আর-রাহাবি থেকে, তিনি সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর নির্দেশ আসবে।»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আল্লাহর নির্দেশ) ইমাম নববী এবং অতঃপর হাফেজ ইবনে হাজার বলেছেন, আল্লাহর নির্দেশ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই বাতাসের প্রবাহ যা প্রত্যেক মুমিনের রূহ কবজ করবে।]

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌11 - حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، قَالَ: سَمِعْتُ مُجَالِدًا يَذْكُرُ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَخَطَّ خَطًّا، وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَمِينِهِ، وَخَطَّ خَطَّيْنِ عَنْ يَسَارِهِ، ثُمَّ وَضَعَ يَدَهُ فِي الْخَطِّ الْأَوْسَطِ، فَقَالَ: «هَذَا سَبِيلُ اللَّهِ» ثُمَّ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] "

--------------------------------------------

صحيح
‌১১ - আবু সাঈদ আবদুল্লাহ ইবন সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু খালিদ আল-আহমার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি মুজালিদকে উল্লেখ করতে শুনেছি, তিনি আশ-শা’বী থেকে, তিনি জাবির ইবন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ছিলাম, তখন তিনি একটি রেখা টানলেন এবং তাঁর ডানে দুটি রেখা ও তাঁর বামে দুটি রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি মাঝখানের রেখাটির ওপর তাঁর হাত রাখলেন এবং বললেন: «এটি আল্লাহর পথ।» এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন: {আর নিশ্চয়ই এটি আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে।} [আল-আনআম: ১৫৩] "

--------------------------------------------

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৬)
بَابُ تَعْظِيمِ حَدِيثِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَالتَّغْلِيظِ عَلَى مَنْ عَارَضَهُ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা অবলম্বন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌12 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ معْدِ يكَرِبَ الْكِنْدِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " يُوشِكُ الرَّجُلُ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ، يُحَدَّثُ بِحَدِيثٍ مِنْ حَدِيثِي، فَيَقُولُ: بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ عز وجل، فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ، وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ، أَلَّا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ "

--------------------------------------------

[ش (يوشك الرجل) هو مضارع أوشك. قال ابن مالك هو أحد أفعال المقاربة ويقتضي اسما مرفوعا وخبرا يكون فعلا مضارعا مقرونا ب - " أن ". ولا أعلم تجرده من " أن " إلا في هذا الحديث وفي بعض الأشعار. (متكئا على أريكته) أي جالسا على سريره المزين. (استحللناه) اتخذناه حلالا] .

 

صحيح
১২ - আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবী শায়বাহ, তিনি বলেন: আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাইদ ইবনুল হুবাব, মুয়াবিয়া ইবনে সালেহ থেকে, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনে জাবির, আল-মিকদাম ইবনে মা’দী কারিব আল-কিনদী থেকে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "অচিরেই এমন এক ব্যক্তি আসবে যে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, তার কাছে আমার কোনো হাদীস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: আমাদের ও তোমাদের মাঝে মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কিতাবই রয়েছে; সুতরাং আমরা তাতে যা হালাল পাব তা-ই হালাল হিসেবে গ্রহণ করব এবং যা হারাম পাব তা-ই হারাম হিসেবে গ্রহণ করব। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই।"

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (অচিরেই এমন এক ব্যক্তি আসবে) এটি ‘আওশাকা’ ক্রিয়ার বর্তমান কাল (মুজারি)। ইবনে মালিক বলেন, এটি নৈকট্যজ্ঞাপক ক্রিয়াগুলোর (আফআলুল মুকারাবাহ) অন্যতম এবং এটি একটি মারফু বিশেষ্য (ইসম) ও একটি বর্তমান কালের ক্রিয়া রূপ খবর দাবি করে যা ‘আন’ অব্যয় যুক্ত হবে। এই হাদীস এবং কিছু কবিতা ছাড়া অন্য কোথাও আমি একে ‘আন’ বিহীন অবস্থায় ব্যবহারের কথা জানি না। (তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে) অর্থাৎ তার সুসজ্জিত খাটে বা পালঙ্কে উপবিষ্ট অবস্থায়। (আমরা তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করব) অর্থাৎ আমরা তা হালাল হিসেবে গণ্য করব।]

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌13 - حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ فِي بَيْتِهِ، أَنَا سَأَلْتُهُ، عَنْ سَالِمٍ أَبِي النَّضْرِ، ثُمَّ مَرَّ فِي الْحَدِيثِ قَالَ: أَوْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: " لَا أُلْفِيَنَّ أَحَدَكُمْ مُتَّكِئًا عَلَى أَرِيكَتِهِ، يَأْتِيهِ الْأَمْرُ مِمَّا أَمَرْتُ بِهِ، أَوْ نَهَيْتُ عَنْهُ، فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي، مَا وَجَدْنَا فِي كِتَابِ اللَّهِ اتَّبَعْنَاهُ "

--------------------------------------------

[ش (لا ألفين) صيغة المتكلم المؤكدة بالنون الثقيلة. من ألفيت الشيء وجدته وظاهره نهى النبي صلى الله عليه وسلم نفسه عن أن يجدهم على هذه الحالة. والمراد نهيهم عن أن يكونوا على هذه الحالة. (ما وجدنا) " ما " موصولة مبتدأ خبره اتبعناه] .

 

صحيح
‌১৩ - নাসর ইবন আলী আল-জাহদামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবন উইয়াইনাহ তাঁর ঘরে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সালিম আবু আন-নাদর থেকে, অতঃপর হাদিসের বর্ণনায় তিনি বলেন: অথবা যায়েদ ইবন আসলাম থেকে, উবায়দুল্লাহ ইবন আবী রাফি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি যেন তোমাদের কাউকেই এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে, এমতাবস্থায় তার নিকট আমার প্রদানকৃত কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছেছে, আর সে বলছে: ‘আমি জানি না; আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি, কেবল তারই অনুসরণ করেছি’।"

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (লা আলফিয়ান্না) এটি নুন-এ সাকিলাহ দ্বারা গুরুত্বারোপকৃত উত্তম পুরুষের ক্রিয়াপদ। এটি 'আলফাইতুশ শাইআ' থেকে গৃহীত, যার অর্থ—আমি বস্তুটি পেয়েছি। এর বাহ্যিক দিক হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেকে নিষেধ করছেন যেন তিনি তাদেরকে এই অবস্থায় না পান। তবে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে এই অবস্থায় থাকা থেকে বারণ করা। (মা ওয়াজাদনা) এখানে 'মা' হলো সম্বন্ধসূচক বিশেষ্য (ইসম মাউসুল) যা উদ্দেশ্য (মুবতাদা), আর 'ইত্তাবানাহু' হলো তার বিধেয় (খবর)]।

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌14 - حَدَّثَنَا أَبُو مَرْوَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعُثْمَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ»

--------------------------------------------

[ش (في أمرنا) أي في شأننا. فالأمر واحد الأمور. أو في ما أمرنا به فالأمر واحد الأوامر. (فهو رد) أي مردود] .

 

صحيح
‌১৪ - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু মারওয়ান মুহাম্মাদ ইবন উসমান আল-উসমানী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবরাহীম ইবন সা'দ ইবন ইবরাহীম ইবন আবদুর রহমান ইবন আওফ, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি কাসিম ইবন মুহাম্মাদ থেকে, তিনি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে এমন কিছুর নতুন উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আমাদের বিষয়ে) অর্থাৎ আমাদের দ্বীনের বিষয়ে। এখানে 'আমর' শব্দটি 'উমুর' (বিষয়সমূহ) এর একবচন। অথবা যা আমরা আদেশ করেছি তার মধ্যে, সেক্ষেত্রে 'আমর' শব্দটি 'আওয়ামির' (আদেশসমূহ) এর একবচন। (তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য) অর্থাৎ তা প্রত্যাখ্যাত।]

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌15 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ الْمِصْرِيُّ قَالَ: أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَهُ: أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ خَاصَمَ الزُّبَيْرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فِي شِرَاجِ الْحَرَّةِ الَّتِي يَسْقُونَ بِهَا النَّخْلَ، فَقَالَ الْأَنْصَارِيُّ: سَرِّحِ الْمَاءَ يَمُرُّ، فَأَبَى عَلَيْهِ، فَاخْتَصَمَا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ: رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «اسْقِ يَا زُبَيْرُ، ثُمَّ أَرْسِلِ الْمَاءَ إِلَى جَارِكَ» فَغَضِبَ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنْ كَانَ ابْنَ عَمَّتِكَ؟ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ قَالَ: «يَا زُبَيْرُ، اسْقِ، ثُمَّ احْبِسِ الْمَاءَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى الْجَدْرِ» قَالَ: فَقَالَ الزُّبَيْرُ: وَاللَّهِ، إِنِّي لَأَحْسِبُ هَذِهِ الْآيَةَ، نَزَلَتْ فِي ذَلِكَ: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء: 65]

--------------------------------------------

[ش (شراج الحرة) الشراج جمع شرجة وهي مسايل الماء. والحرة أرض ذات حجارة سود. (سرح الماء) أي أطلقه بعد احتباسه. (إن كان) يفتح الهمزة حرف مصدري أو مخفف " أن " واللام مقدرة. أي حكمت بذلك لكونه ابن عمتك. والجملة استئنافية في موضع التعليل. (فتلون) أي تغير وظهر فيه آثار الغضب. (الجدر) هو الجدار. قبل المراد ما رفع حول المزرعة كالجدار. وقيل أصول الشجر] .

 

صحيح
১৫ - মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ ইবনুল মুহাজির আল-মিসরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস ইবনে সাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনুল যুবাইর থেকে, আর আবদুল্লাহ ইবনুল যুবাইর তাকে বর্ণনা করেছেন যে: জনৈক আনসারি ব্যক্তি হাররার নালা নিয়ে (যা দ্বারা তারা খেজুর গাছে পানি সেচ দিতেন) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যুবাইরের সাথে বিবাদে লিপ্ত হলেন। তখন আনসারি লোকটি বললেন: পানি ছেড়ে দিন যেন তা বয়ে যায়, কিন্তু তিনি (যুবাইর) তা করতে অস্বীকার করলেন। ফলে তারা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বিচার নিয়ে আসলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে যুবাইর, তুমি পানি সেচ দাও, তারপর তোমার প্রতিবেশীর জন্য পানি ছেড়ে দাও»। এতে আনসারি লোকটি রাগান্বিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রসূল, তিনি আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণে কি এমন ফয়সালা দিলেন? তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল, তারপর তিনি বললেন: «হে যুবাইর, তুমি পানি সেচ দাও, এরপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা বাঁধ পর্যন্ত ফিরে যায়»। যুবাইর বলেন: আল্লাহর কসম, আমি মনে করি এই আয়াতটি এই ঘটনা সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে: {কিন্তু না, আপনার পালনকর্তার কসম, তারা মুমিন হবে না যতক্ষণ না তারা আপনাকে তাদের মধ্যকার বিবাদে বিচারক হিসেবে মেনে নেয়, তারপর আপনি যা ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তারা নিজেদের মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব না করে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫]

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (শিরাজুল হাররাহ) শিরাজ হলো শারজাহ-এর বহুবচন, যা পানির প্রবাহপথ। আর হাররাহ হলো কালো পাথরবিশিষ্ট ভূমি। (সাররিহিল মা-আ) অর্থাৎ আটকে রাখার পর পানি ছেড়ে দেওয়া। (আন কানা) এখানে হামজা জবরযুক্ত, যা কারণ দর্শানোর জন্য এসেছে। অর্থাৎ তিনি আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণেই কি আপনি এমন ফয়সালা করলেন। (ফাতাল্লাওয়ানা) অর্থাৎ চেহারার রঙ পরিবর্তন হওয়া এবং তাতে রাগের চিহ্ন প্রকাশ পাওয়া। (আল-জাদার) অর্থ দেয়াল। বলা হয়েছে এর দ্বারা ক্ষেতের চারপাশের দেয়াল সদৃশ উঁচু আইল বোঝানো হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন এর দ্বারা গাছের গোড়া উদ্দেশ্য।] .

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌16 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا تَمْنَعُوا إِمَاءَ اللَّهِ أَنْ يُصَلِّينَ فِي الْمَسْجِدِ» فَقَالَ ابْنٌ لَهُ: إِنَّا لَنَمْنَعُهُنَّ، فَقَالَ: فَغَضِبَ غَضَبًا شَدِيدًا، وَقَالَ: أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وتقولُ: إِنَّا لَنَمْنَعُهُنَّ؟

--------------------------------------------

[ش (إماء الله) أي النساء] .

 

صحيح
১৬ - মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া আন-নায়সাবুরি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুর রাজ্জাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আয-যুহরি থেকে, তিনি সালিম থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «তোমরা আল্লাহর বাঁদীদের মসজিদে সালাত আদায় করতে বাধা দিয়ো না» তখন তাঁর এক পুত্র বলল: আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব। বর্ণনাকারী বলেন: এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে হাদিস শোনাচ্ছি, আর তুমি বলছ: আমরা অবশ্যই তাদের বাধা দেব?

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আল্লাহর বাঁদীসমূহ) অর্থাৎ নারীগণ] ।

 

সহিহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌17 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ ثَابِتٍ الْجَحْدَرِيُّ، وَأَبُو عَمْرٍو حَفْصُ بْنُ عَمْرٍو، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا إِلَى جَنْبِهِ ابْنُ أَخٍ لَهُ، فَخَذَفَ، فَنَهَاهُ، وَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا وَقَالَ: «إِنَّهَا لَا تَصِيدُ صَيْدًا، وَلَا تَنْكِي عَدُوًّا، وَإِنَّهَا تَكْسِرُ السِّنَّ، وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ» قَالَ: فَعَادَ ابْنُ أَخِيهِ يخذفَ فَقَالَ: أُحَدِّثُكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْهَا، ثُمَّ عُدْتَ تَخْذِفُ، لَا أُكَلِّمُكَ أَبَدًا

--------------------------------------------

[ش (فحذف) هو في الحصاة والنواة يأخذها بين السبابتين ويرمي بها. (تنكى) من نكيت العدو أنكى نكاية إذا أكثرت فيه الجراح والقتل. (تفقأ) تشق] .

 

صحيح
১৭ - আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবন সাবিত আল-জাহদারী এবং আবু আমর হাফস ইবন আমর, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাকাফী, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন আইয়ুব, সাঈদ ইবন জুবায়ের থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবন মুগাফফাল থেকে বর্ণনা করেন যে, তাঁর পাশে তাঁর এক ভাতিজা বসা ছিল, সে কঙ্কর ছুঁড়ল। তখন তিনি তাকে তা করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: «নিশ্চয়ই এটি কোনো শিকার ধরতে পারে না এবং শত্রুকেও ঘায়েল করে না, বরং এটি দাঁত ভেঙে দেয় এবং চোখ উপড়ে ফেলে।» বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তাঁর ভাতিজা পুনরায় কঙ্কর ছুঁড়তে লাগল, তখন তিনি বললেন: আমি তোমাকে বলছি যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা করতে নিষেধ করেছেন, আর তুমি পুনরায় কঙ্কর ছুঁড়ছ; আমি তোমার সাথে কখনো কথা বলব না।

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (ফাহাযাফা) এটি কঙ্কর এবং ফলের বীজের ক্ষেত্রে যা তর্জনী আঙ্গুলদ্বয়ের মাঝে নিয়ে নিক্ষেপ করা হয়। (তানকা) শব্দটি ‘নাকাইতুল আদুউওয়া’ থেকে আগত, যার অর্থ যখন তুমি শত্রুর মাঝে অধিক পরিমাণে জখম এবং হত্যা সংঘটিত করো। (তাফকাউ) বিদীর্ণ করা বা ফুঁড়ে ফেলা] ।

 

সহিহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌18 - حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي بُرْدُ بْنُ سِنَانٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ قَبِيصَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ الْأَنْصَارِيَّ النَّقِيبَ، صَاحِبَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: غَزَا مَعَ مُعَاوِيَةَ أَرْضَ الرُّومِ، فَنَظَرَ إِلَى النَّاسِ وَهُمْ يَتَبَايَعُونَ كِسَرَ الذَّهَبِ بِالدَّنَانِيرِ، وَكِسَرَ الْفِضَّةِ بِالدَّرَاهِمِ، فَقَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّكُمْ تَأْكُلُونَ الرِّبَا، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لَا تَبْتَاعُوا الذَّهَبَ بِالذَّهَبِ، إِلَّا مِثْلًا بِمِثْلٍ، لَا زِيَادَةَ بَيْنَهُمَا وَلَا نَظِرَةً» فَقَالَ: لَهُ مُعَاوِيَةُ يَا أَبَا الْوَلِيدِ، لَا أَرَى الرِّبَا فِي هَذَا، إِلَّا مَا كَانَ مِنْ نَظِرَةٍ، فَقَالَ عُبَادَةُ: أُحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، وَتُحَدِّثُنِي عَنْ رَأْيِكَ لَئِنْ أَخْرَجَنِي اللَّهُ لَا أُسَاكِنُكَ بِأَرْضٍ لَكَ عَلَيَّ فِيهَا إِمْرَةٌ، فَلَمَّا قَفَلَ لَحِقَ بِالْمَدِينَةِ، فَقَالَ لَهُ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ: مَا أَقْدَمَكَ يَا أَبَا الْوَلِيدِ؟ فَقَصَّ عَلَيْهِ الْقِصَّةَ، وَمَا قَالَ مِنْ مُسَاكَنَتِهِ، فَقَالَ: ارْجِعْ يَا أَبَا الْوَلِيدِ إِلَى أَرْضِكَ، فَقَبَحَ اللَّهُ أَرْضًا لَسْتَ فِيهَا وَأَمْثَالُكَ، وَكَتَبَ إِلَى مُعَاوِيَةَ: لَا إِمْرَةَ لَكَ عَلَيْهِ، وَاحْمِلِ النَّاسَ عَلَى مَا قَالَ، فَإِنَّهُ هُوَ الْأَمْرُ

--------------------------------------------

[ش (النقيب) أي نقيب الأنصار ليلة العقبة. (كسر الذهب) قطع الذهب وزنا ومعنى] .

 

صحيح
১৮ - হিশাম ইবনে আম্মার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে হামজাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বুরদ ইবনে সিনান আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে কাবিাসাহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর আনসারী নাকীব উবাদাহ ইবনে সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহু মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে রোম ভূখণ্ডে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তখন তিনি লোকজনকে দেখলেন যে তারা সোনার টুকরো দিনারের বিনিময়ে এবং রূপার টুকরো দিরহামের বিনিময়ে কেনাবেচা করছে। তখন তিনি বললেন: হে লোকসকল! তোমরা তো সুদ খাচ্ছ। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমরা সোনার বিনিময়ে সোনা ক্রয়-বিক্রয় করো না, তবে তা সমান সমান হতে হবে; তাদের মধ্যে কোনো কম-বেশি থাকবে না এবং কোনো বিলম্বও হবে না।" মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: হে আবুল ওয়ালিদ! আমি এতে কোনো সুদ দেখি না, তবে যদি তা বাকিতে হয়। উবাদাহ বললেন: আমি আপনার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস বর্ণনা করছি, আর আপনি আমাকে আপনার ব্যক্তিগত মত শোনাচ্ছেন! যদি আল্লাহ আমাকে এখান থেকে ফিরিয়ে নেন, তবে আমি আপনার সাথে এমন কোনো ভূখণ্ডে বসবাস করব না যেখানে আমার উপর আপনার কর্তৃত্ব থাকবে। অতঃপর যখন তিনি ফিরে আসলেন, তখন মদিনায় উপস্থিত হলেন। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেন: হে আবুল ওয়ালিদ! আপনাকে কিসে নিয়ে আসল? তখন তিনি তাঁর কাছে পুরো ঘটনাটি এবং তাঁর সাথে বসবাস না করার ব্যাপারে যা বলেছিলেন তা বর্ণনা করলেন। তিনি (ওমর) বললেন: হে আবুল ওয়ালিদ! আপনি আপনার ভূখণ্ডে ফিরে যান। আল্লাহ সেই ভূখণ্ডকে কলঙ্কিত করুন যেখানে আপনি এবং আপনার মতো লোক নেই। আর তিনি মুয়াবিয়ার নিকট লিখে পাঠালেন: তাঁর উপর আপনার কোনো কর্তৃত্ব নেই এবং আপনি লোকজনকে সেটির উপরেই পরিচালিত করবেন যা তিনি বলেছেন, কেননা সেটিই সঠিক সিদ্ধান্ত।

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (আন-নাকীব) অর্থাৎ আকাবার রাতে আনসারদের প্রতিনিধি। (সোনার টুকরো) ওজনে ও অর্থে সোনার খণ্ডসমূহ] ।

 

সহীহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌19 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ الْخَلَّادِ الْبَاهِلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ عَجْلَانَ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَوْنُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: «إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَظُنُّوا بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، الَّذِي هُوَ أَهْنَاهُ، وَأَهْدَاهُ، وَأَتْقَاهُ»

--------------------------------------------

[ش (أهناه وأهداه وأتقاه) " اهنأ " في الأصل بالهمزة اسم تفصيل من هنأ الطعام إذا ساغ أو جاء بلا تعب ولم يعقبه بلاء لكن قلبت همزته ألفا للازدواج والمشاكلة. وأتقى اسم تفضيل من الاتقاء على الشذوذ لأن القياس بناء اسم التفضيل من الثلاثي المجرد وهو مبني على توهم أن التاء حرف أصلي] .

 

ضعيف منقطع
‌১৯ - আমাদের কাছে আবু বকর বিন আল-খাল্লাদ আল-বাহিলি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আমাদের কাছে ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আওন বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ থেকে, তিনি বলেন: «আমি যখন তোমাদের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করো যা সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক, সবচেয়ে হিদায়াতপূর্ণ এবং সবচেয়ে তাকওয়াসম্পন্ন হয়।»

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক, সবচেয়ে হিদায়াতপূর্ণ এবং সবচেয়ে তাকওয়াসম্পন্ন) "আহনা" শব্দটি মূলত হামযাহ সহযোগে ছিল, যা কোনো খাবার তৃপ্তিদায়ক হওয়া থেকে নির্গত 'ইসমে তাফদীল' (অধিকত্ববোধক বিশেষ্য), যখন তা সহজে ভক্ষণ করা যায় বা কোনো কষ্ট ছাড়াই অর্জিত হয় এবং কোনো মন্দ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। তবে শব্দের পারস্পরিক সামঞ্জস্য ও ছন্দের খাতিরে এর হামযাহকে আলিফে রূপান্তর করা হয়েছে। আর "আতকা" শব্দটি 'ইত্তিকা' থেকে নির্গত একটি অনিয়মিত 'ইসমে তাফদীল', কারণ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ইসমে তাফদীল কেবল তিন বর্ণবিশিষ্ট মূল ধাতু থেকে গঠিত হয়। এটি এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত যে, এর 'তা' বর্ণটি একটি মূল অক্ষর।] .

 

যঈফ (দুর্বল), মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌20 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: «إِذَا حَدَّثْتُكُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا، فَظُنُّوا بِهِ الَّذِي هُوَ أَهْنَاهُ، وَأَهْدَاهُ، وَأَتْقَاهُ»

--------------------------------------------

صحيح
20 - আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে বাশশার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, তিনি শু’বা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি আবুল বাখতারী থেকে, তিনি আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী থেকে, তিনি আলী ইবনে আবু তালিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: «আমি যখন তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস বর্ণনা করি, তখন তোমরা সে সম্পর্কে এমন ধারণা পোষণ করবে যা সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত, সবচেয়ে বেশি হিদায়াতপূর্ণ এবং সবচেয়ে বেশি তাকওয়াপূর্ণ।»

--------------------------------------------

সহিহ
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌21 - حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُنْذِرِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمَقْبُرِيُّ، عَنْ جَدِّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ: " لَا أَعْرِفَنَّ مَا يُحَدَّثُ أَحَدُكُمْ عَنِّي الْحَدِيثَ وَهُوَ مُتَّكِئٌ عَلَى أَرِيكَتِهِ، فَيَقُولُ: اقْرَأْ قُرْآنًا، مَا قِيلَ مِنْ قَوْلٍ حَسَنٍ فَأَنَا قُلْتُهُ "

--------------------------------------------

[ش (ما يحدث) " ما " مصدرية. و " يحدث " من التحديث على بناء المفعول أي أن يحدث (فيقول) أي في رده. (اقرأ قرآنا) أي يقول للراوي اقرأ قرآنا حتى نعرف صدق هذا الحديث من كذبه. (ما قيل من قول) هذا من قوله صلى الله عليه وسلم. ذكره ردا على المتكئ بأن رد المتكئ لقوله صلى الله عليه وسلم مردود عليه] .

 

منكر
২১ - আলী ইবনুল মুনজির আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনুল ফুযাইল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মাকবুরী তাঁর দাদা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি যেন অবশ্যই এমন কাউকে না পাই যাকে আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস শোনানো হচ্ছে আর সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে আছে, অতঃপর সে বলছে: কুরআন পাঠ করো (অর্থাৎ কুরআন থেকে প্রমাণ দাও); যে কোনো উত্তম কথাই বলা হয়ে থাকুক না কেন, তা আমিই বলেছি।"

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (মা ইউহাদ্দাসু) এখানে 'মা' মাসদারিয়্যাহ। আর 'ইউহাদ্দাসু' শব্দটি 'তাহদীস' এর মাজহুল বা কর্মবাচ্য রূপ, অর্থাৎ তাকে হাদীস শোনানো হয়। (ফাইয়াকুলু) অর্থাৎ হাদীসটি প্রত্যাখ্যান করার সময় সে বলে। (ইকরা কুরআনান) অর্থাৎ সে বর্ণনাকারীকে বলে: কুরআন পাঠ করো যাতে আমরা এই হাদীসটির সত্যতা বা মিথ্যা হওয়া জানতে পারি। (মা কিলা মিন কওলিন) এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী। তিনি এটি সেই হেলান দিয়ে থাকা ব্যক্তির প্রতিবাদে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর প্রতি তার এই প্রত্যাখ্যান খোদ তার নিজের উপরই বর্তাবে।]

 

মুনকার
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌22 - حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادِ بْنِ آدَمَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، قَالَ لِرَجُلٍ: يَا ابْنَ أَخِي، «إِذَا حَدَّثْتُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حَدِيثًا، فَلَا تَضْرِبْ لَهُ الْأَمْثَالَ»

--------------------------------------------

[ش (قال لرجل) هو ابن عباس. حين روى عنه الوضوء مما مسته النار فقال له ابن عباس أنتوضأ من الحميم أي الماء الحار. أي ينبغي على مقتضى هذا الحديث أن الإنسان إذا توضأ بالماء الحار أن يتوضأ ثانية بالماء البارد. فرد عليه أبو هريرة بأن الحديث لا يعارض بمثل هذه المعارضات المدفوعة بالنظر. فإن المراد أن " أكل " ما مسته النار يوجب الوضوء لا " مسه "] .

 

حسن، ويأتي بأتم 485
২২ - মুহাম্মদ ইবনে আব্বাদ ইবনে আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন শুবা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। (হ) এবং হান্নাদ ইবনুস সারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদাহ ইবনে সুলাইমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবু হুরায়রা এক ব্যক্তিকে বললেন: হে আমার ভাতিজা, "আমি যখন তোমার কাছে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করি, তখন তুমি তার বিপরীতে কোনো উদাহরণ বা যুক্তি পেশ করো না।"

--------------------------------------------

[ব্যাখ্যা: (এক ব্যক্তিকে বললেন) তিনি হলেন ইবনে আব্বাস। যখন তিনি তাঁর নিকট থেকে আগুনের স্পর্শ লেগেছে এমন বস্তু ব্যবহারের ফলে ওযু করা সম্পর্কিত হাদীসটি শুনলেন, তখন ইবনে আব্বাস তাকে বললেন, আমরা কি গরম পানি (হামিম) থেকেও ওযু করব? অর্থাৎ, এই হাদীসের দাবি অনুযায়ী মানুষের উচিত হলো গরম পানি দিয়ে ওযু করলে পুনরায় ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করা। তখন আবু হুরায়রা তাকে উত্তর দিলেন যে, হাদীসকে এ জাতীয় যুক্তি নির্ভর আপত্তির মাধ্যমে মোকাবিলা করা উচিত নয়। কেননা এখানে উদ্দেশ্য হলো আগুনের স্পর্শ লেগেছে এমন কিছু ‘আহার করা’ ওযুকে আবশ্যক করে, আগুনের ‘স্পর্শ’ নয়।]

 

হাসান, হাদীসটি পূর্ণাঙ্গরূপে সামনে আসবে (৪৮৫)।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ: أَبُو الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْكَرَابِيسِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، مِثْلَ حَدِيثِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهُ

--------------------------------------------

حسن، وهو مكرر رقم 20
আবুল হাসান বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কারাবিসী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনুল জা'দ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শু'বা থেকে, তিনি আমর ইবনে মুররাহ থেকে, আলী (আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর হাদিসের অনুরূপ।

--------------------------------------------

হাসান, এবং এটি ২০ নম্বরের পুনরাবৃত্তি।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
بَابُ التَّوَقِّي فِي الْحَدِيثِ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) হতে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) সুনানু ইবনু মাজাহ - তা. আবদুল বাকী (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌23 - حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ مُعَاذٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ الْبَطِينُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ: " مَا أَخْطَأَنِي ابْنُ مَسْعُودٍ عَشِيَّةَ خَمِيسٍ إِلَّا أَتَيْتُهُ فِيهِ، قَالَ: فَمَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ لِشَيْءٍ قَطُّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا كَانَ ذَاتَ عَشِيَّةٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَنَكَسَ " قَالَ: «فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ، فَهُوَ قَائِمٌ مُحَلَّلَةً، أَزْرَارُ قَمِيصِهِ، قَدْ اغْرَوْرَقَتْ عَيْنَاهُ، وَانْتَفَخَتْ أَوْدَاجُهُ» قَالَ: أَوْ دُونَ ذَلِكَ، أَوْ فَوْقَ ذَلِكَ، أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ، أَوْ شَبِيهًا بِذَلِكَ

--------------------------------------------

هذا الحديث قد انفرد به المصنف. وفي الزوائد إسناده صحيح احتج الشيخان بجميع رواته

 

[ش (ما أخطأني ابن مسعود) أي ما فاتني لقائه إلا أتيته. (إلا أتيته فيه) الضمير للعشية باعتبار الوقت. أي لا يفوته الملاقاة حال إتيانه إياه. (بشيء) أي في شيء. (ذات عشية) بالنصب أي كان الزمان ذات عشية. أو بالرفع و " كان " تامة. ولفظ " الذات " مقحم. (اغرورقت) أي دمعتا كأنهما غرقتا في دمعهما. و " اغرورق " من " غرق " ك " اخشوشن " من " خشن "] .

 

صحيح
23 - আবু বকর ইবন আবি শায়বাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুআয ইবন মুআয আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবন আউন থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে, তিনি ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আমর ইবন মাইমুন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কোনো বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যা আমার থেকে বাদ পড়ত না যাতে আমি ইবন মাসউদের নিকট উপস্থিত হতাম না। তিনি বলেন: আমি তাঁকে কোনো কিছুর ব্যাপারে কখনো বলতে শুনিনি যে 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন'। অতঃপর এক সন্ধ্যায় তিনি বললেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন', এরপর তিনি মাথা নত করলেন।" তিনি বলেন: "আমি তাঁর দিকে তাকালাম, তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, তাঁর কামিজের বোতামগুলো খোলা ছিল, তাঁর চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাঁর ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠেছিল।" তিনি বললেন: "অথবা এর চেয়ে কম, অথবা এর চেয়ে বেশি, অথবা এর কাছাকাছি, অথবা এর সদৃশ কিছু।"

--------------------------------------------

এই হাদিসটি এককভাবে গ্রন্থকার বর্ণনা করেছেন। আর যাওয়ায়েদ গ্রন্থে বলা হয়েছে এর সনদ সহিহ, শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) এর সকল বর্ণনাকারীর থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।

 

[ব্যাখ্যা: (ইবন মাসউদ আমার থেকে বাদ পড়তেন না) অর্থাৎ তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হওয়া কখনো বাদ যেত না বরং আমি তাঁর কাছে আসতাম। (তবে আমি সেই সন্ধ্যায় তাঁর কাছে আসতাম) সর্বনামটি সময়ের বিবেচনায় সন্ধ্যার দিকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ তাঁর কাছে আসার সময় সাক্ষাৎ হওয়া বাদ যেত না। (কোনো কিছুর ব্যাপারে) অর্থাৎ কোনো বিষয়ে। (এক সন্ধ্যায়) নসব অবস্থায়, অর্থাৎ সময়টি ছিল এক সন্ধ্যায়। অথবা রফ অবস্থায় এবং 'কানা' ক্রিয়াটি পূর্ণাঙ্গ। আর 'জাত' শব্দটি অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে। (অশ্রুসিক্ত হয়েছিল) অর্থাৎ চোখ দুটি এমনভাবে অশ্রুপূর্ণ হয়েছিল যেন সেগুলো অশ্রুতে ডুবে গেছে। 'ইগরওরাকা' শব্দটি 'গারাক' থেকে এসেছে যেমন 'খাশুনা' থেকে 'ইখশাওশানা' আসে।]

 

সহিহ