(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: -)
سماحة الإسلام في التعامل مع غير المسلمين القسم: كتب عامة
الكتاب: سماحة الإسلام في التعامل مع غير المسلمين
المؤلف: أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 28
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 39
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের উদারতা বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থাবলী
গ্রন্থ: অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের উদারতা
লেখক: প্রফেসর ড. হিকমত বিন বাশীর বিন ইয়াসীন
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো (প্রকাশনা সংক্রান্ত) তথ্যাদি ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠাসংখ্যা (মুদ্রিত সংস্করণ) : ২৮
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত করা হয়েছে যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৩৯
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১)
سماحة الإسلام في التعامل مع غير المسلمين إعداد
أ. د. حكمت بن بشير بن ياسين
كلية القرآن الكريم والدراسات الإسلامية
الجامعة الإسلامية - المدينة المنورة
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الحمد لله العفو الغفور رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين وعلى من اهتدى بهديه وأخذ بحكمته إلى يوم الدين.
أما بعد فإن التسامح هو اللين والتساهل، قال ابن الأثير: والسماحة: المساهلة، وقال الفيروزآبادي: وتسامحوا: تساهلوا (1) وهو نوع من أنواع الإحسان إلى النفوس التي جُبلت على حب من أحسن إليها، لذا فإن التسامح يؤدي إلى المحبة والتآلف ونبذ العنف والتنافر، والتسامح هو: القلب النابض لحياة طيبة ونفس زكية خالية من العنف والتطرف.
--------------------------------------------
অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের উদারতা। উপস্থাপনায়:
প্রফেসর ড. হিকমত বিন বাশির বিন ইয়াসিন
কুরআন মাজিদ এবং ইসলামি শিক্ষা অনুষদ
মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় - মদিনা মুনাওয়ারাহ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা ক্ষমাশীল ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত হিসেবে প্রেরিত রাসূলের প্রতি এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াত দ্বারা পরিচালিত হবে এবং তাঁর হিকমত (প্রজ্ঞা) গ্রহণ করবে তাদের প্রতি।
অতঃপর, নিশ্চয়ই উদারতা হলো নম্রতা ও শিথিলতা। ইবনুল আসির বলেছেন: উদারতা হলো সহজসাধ্য করা। আল-ফিরোজাবাদি বলেছেন: তারা পরস্পর উদারতা বা শিথিলতা প্রদর্শন করেছে (১)। এটি মানুষের আত্মার প্রতি করা এক প্রকার ইহসান (সদাচরণ), কেননা মানবাত্মা স্বভাবগতভাবেই তাকে ভালোবাসে যে তার প্রতি অনুগ্রহ করে। অতএব, উদারতা ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করে এবং সহিংসতা ও অনৈক্যকে দূর করে। উদারতা হলো একটি সুন্দর জীবনের স্পন্দিত হৃদয় এবং সহিংসতা ও চরমপন্থা মুক্ত এক পবিত্র আত্মার স্বরূপ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২)
لقد أمر الله تعالى رسوله صلى الله عليه وسلم بأعلى درجات التسامح فقال له تعالى: {فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} (1) وقال أيضًا: {فَاصْفَحِ الصَّفْحَ الْجَمِيلَ} (2) ومعنى العفو: ترك المؤاخذة بالذنب، ومعنى الصفح: ترك أثره من النفس (3) وكونه لم يبق أثره في النفس قمة في التسامح وهو بغية المؤمن الذي يدعو الله تعالى: {رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا} (4) .
ومن نعم الله علينا وعلى الإنسانية إرسال نبينا محمدٍ صلى الله عليه وسلم بالحنيفية السمحاء رحمة للعالمين، وهذه الرحمة ذات صور من الود والتسامح والعفو والتناصح تضافرت نصوصها من القرآن والسنة، وتجسدت مرحلتها الأولى في المدينة النبوية من خلال تعامله صلى الله عليه وسلم مع المسلمين وغيرهم فقد اجتمعت الأقوال والأفعال فإذا بقاموس يشتمل على جميع مفردات السماحة يتحرك في شتّى نواحي الحياة.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সহনশীলতার সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেছেন: "অতএব আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং মার্জনা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুহসিনদের (সৎকর্মশীল) ভালোবাসেন।" (১) তিনি আরও বলেছেন: "সুতরাং আপনি পরম সৌজন্যের সাথে ক্ষমা প্রদর্শন করুন।" (২) 'আফউ' (ক্ষমা) এর অর্থ হলো: অপরাধের কারণে শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকা, আর 'সাফহ' (উপেক্ষা/মার্জনা) এর অর্থ হলো: মনের ভেতর সেই অপরাধের রেশ বা চিহ্নটুকুও মুছে ফেলা। (৩) মনের গহীনে কোনো ক্ষোভ অবশিষ্ট না থাকা হলো সহনশীলতার চরম উৎকর্ষ, যা সেই মুমিনের মূল লক্ষ্য যে মহান আল্লাহর নিকট এই বলে প্রার্থনা করে: "হে আমাদের রব, আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না।" (৪)।
আমাদের এবং সমগ্র মানবজাতির প্রতি আল্লাহ তাআলার অন্যতম অনুগ্রহ হলো আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ একনিষ্ঠ ও উদার দ্বীনসহ প্রেরণ করা। এই রহমতের রূপগুলো সৌহার্দ্য, সহনশীলতা, ক্ষমা ও হিতকামনার বিভিন্ন চিত্রে পরিস্ফুটিত, যার স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলসমূহ (نصوص) পরস্পরকে সুসংহত করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুসলিম ও অমুসলিমদের সাথে যে রূপ আচরণ করেছিলেন, তার মাধ্যমেই মদিনা মুনাওয়ারায় এই দর্শনের প্রাথমিক পর্যায়টি বাস্তবায়িত হয়েছিল। সেখানে তাঁর কথা ও কাজের এমন সমন্বয় ঘটেছিল যে, সহনশীলতার সকল শব্দ ও অর্থের সমাহারে গঠিত একটি জীবন্ত অভিধান যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সচল হয়ে ওঠে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৩)
ومع هذا فإن بعض الناس الذين لا يعرفون حقيقة هذا الدين يظن أن الإسلام لا يعرف العفو والصفح والسماحة، وإنما جاء بالعنف والتطرف والسماجة، لأنهم لم يتحروا الحقائق من مصادرها الأصلية، وإنما اكتفوا بسماع الشائعات والافتراءات من أرباب الإلحاد والإفساد الذين عبدوا الشهوات ونهجوا مسلك الشبهات بما لديهم من أنواع وسائل الإعلام المتطورة، من أجل ذلك أكتب هذا البحث لبيان الحق ودمغ الباطل بالأدلة الساطعة والحقائق الناطقة من القرآن والسنة القولية والفعلية والتاريخ الأصيل.
তা সত্ত্বেও এমন কিছু মানুষ যারা এই দ্বীনের প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অবগত নয়, তারা ধারণা করে যে ইসলাম ক্ষমা, মার্জনা এবং উদারতা চেনে না; বরং এটি কেবল সহিংসতা, চরমপন্থা ও রূঢ়তা নিয়ে এসেছে। এর কারণ হলো তারা এর মূল উৎসসমূহ থেকে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধান করেনি, বরং তারা নাস্তিকতা ও ফাসাদ সৃষ্টিকারী সেইসব হোতাদের পক্ষ থেকে ছড়ানো গুজব ও মিথ্যা অপবাদসমূহ (افتراءات) শ্রবণেই সন্তুষ্ট থেকেছে—যারা কুপ্রবৃত্তির পূজা করেছে এবং তাদের হাতে থাকা আধুনিক প্রচারমাধ্যমগুলোর সাহায্যে সংশয়ের (شبهات) পথ অনুসরণ করেছে। এই লক্ষ্যেই আমি এই গবেষণাটি লিখছি, যাতে কুরআন, বাচনিক সুন্নাহ (السنة القولية), কার্যকর সুন্নাহ (السنة الفعلية) এবং নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের আলোকে সুস্পষ্ট দলিল ও প্রামাণ্য তথ্যের মাধ্যমে সত্যকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং মিথ্যাকে চূর্ণবিচূর্ণ করা যায়।
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৪)
سماحة الإسلام في التعامل مع غير المسلمين لم تقتصر سماحة النبي صلى الله عليه وسلم مع المسلمين فقط بل شملت أهل الكتاب والمشركين أثناء الحرب فقد أوصى بالقبط خيرًا وثبت عنه أنه قال: «إذا فتحتم مصر فاستوصوا بالقبط خيرًا، فإن لهم ذمة ورحمًا» (1) .
وفي صحيح مسلم «ستفتحون أرضًا يذكر فيها القيراط فاستوصوا بأهلها خيرًا فإن لهم ذمة ورحمًا» (2) .
قال النووي: وفي رواية «ستفتحون مصر، وهي أرض يسمى فيها القيراط، وفيها: فإن لهم ذمة ورحمًا» . . . " قال العلماء القيراط جزء من أجزاء الدينار والدرهم وغيرهما ، وكان أهل مصر يكثرون من استعماله والتكلم به، وأما الذمة فهي الحرمة والحق وهي هنا بمعنى الذمام، وأما الرحم فلكون هاجر أم إسماعيل منهم وأما الصهر فلكون مارية أم إبراهيم منهم (3) .
--------------------------------------------
অমুসলিমদের সাথে আচরণে ইসলামের উদারতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদারতা কেবল মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যুদ্ধের সময়ও তা কিতাবধারী এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তিনি কিবতিদের সাথে সদয় আচরণের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর থেকে এটি প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন: «যখন তোমরা মিসর বিজয় করবে, তখন কিবতিদের সাথে ভালো আচরণ করবে; কেননা তাদের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি (ذمة) এবং রক্তসম্পর্ক (رحم) রয়েছে» (১)।
এবং সহিহ মুসলিম-এ রয়েছে: «তোমরা অচিরেই এমন একটি ভূমি বিজয় করবে যেখানে কিরাত শব্দটির ব্যবহার রয়েছে, সুতরাং তোমরা সেখানের অধিবাসীদের সাথে ভালো আচরণের অছিয়ত গ্রহণ করো, কেননা তাদের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি (ذمة) এবং রক্তসম্পর্ক (رحم) রয়েছে» (২)।
নববী বলেছেন: এক বর্ণনায় রয়েছে: «তোমরা অচিরেই মিসর বিজয় করবে, আর সেটি এমন এক ভূমি যেখানে কিরাত শব্দটির ব্যবহার রয়েছে, এবং সেখানে আরও রয়েছে: কেননা তাদের জন্য নিরাপত্তা চুক্তি (ذمة) এবং রক্তসম্পর্ক (رحم) রয়েছে»। . . . ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, কিরাত হলো দিনার ও দিরহামসহ অন্যান্য মুদ্রার একটি অংশ বিশেষ; মিসরীয়রা এর অধিক ব্যবহার ও এটি নিয়ে কথা বলত। আর 'জিম্মাহ' (ذمة) হলো সম্মান ও অধিকার, এখানে এটি অঙ্গীকার বা চুক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর 'রাহিম' (رحم) হলো এই কারণে যে, ইসমাইল (আ.)-এর মা হাজেরা ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত। আর বৈবাহিক সম্পর্ক (صهر) হলো এই কারণে যে, ইব্রাহিমের মা মারিয়া ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৫)
أما سماحته مع اليهود فعند ما قتل أحد الصحابة في أحد أحياء اليهود في خيبر فقد رضي وقبل صلى الله عليه وسلم يمين اليهود إذ أقسموا أنهم لم يقتلوه ولم يعلموا قاتله فقد أخرج البخاري بسنده عن بشير بن يسار قال: «زعم أن رجلًا من الأنصار يقال له سهل بن أبي حثمة أخبره أن نفرًا من قومه انطلقوا إلى خيبر فتفرقوا فيها فوجدوا قتيلًا، وقالوا للذي وجد فيهم: قد قتلتم صاحبنا، قالوا: ما قتلنا وما علمنا قاتلًا، فانطلقوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا: يا رسول الله انطلقنا إلى خيبر فوجدنا أحدنا قتيلًا، قال: الكُبرَ الكبرَ، فقال لهم تأتون البينة على من قتله؟ قالوا: ما لنا بينة، قال: فيحلفون، قالوا: لا نرضى بأيمان اليهود، فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يُطَّلَّ دمه " فوداه مائة من إبل الصدقة» (1) .
--------------------------------------------
ইহুদিদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহানুভবতার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যখন খায়বারের একটি ইহুদি পল্লীতে একজন সাহাবী নিহত হলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইহুদিদের শপথে সন্তুষ্ট হন এবং তা গ্রহণ করেন; যখন তারা শপথ করল যে তারা তাঁকে হত্যা করেনি এবং তাঁর হত্যাকারী সম্পর্কেও তারা অবগত নয়। ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনা পরম্পরা (سند) সহকারে বশীর বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আনসারদের জনৈক ব্যক্তি—যাঁকে সাহল বিন আবি হাসমাহ বলা হয়—তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তাঁর গোত্রের কিছু লোক খায়বারে গিয়েছিলেন এবং সেখানে তাঁরা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের একজনকে মৃত অবস্থায় খুঁজে পান। তখন তাঁরা যাদের মাঝে মৃতদেহটি পাওয়া গিয়েছিল তাদের বললেন, 'তোমরাই আমাদের সঙ্গীকে হত্যা করেছ।' তারা বলল, 'আমরা তাঁকে হত্যা করিনি এবং আমরা তাঁর হত্যাকারী সম্পর্কেও জানি না।' অতঃপর তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট গিয়ে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমরা খায়বারে গিয়েছিলাম এবং আমাদের একজনকে নিহত অবস্থায় পেয়েছি।' তিনি বললেন, 'জ্যেষ্ঠকে সুযোগ দাও, জ্যেষ্ঠকে সুযোগ দাও।' এরপর তিনি তাঁদের বললেন, 'তোমরা কি হত্যাকারীর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ (بينة) পেশ করতে পারবে?' তাঁরা বললেন, 'আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ (بينة) নেই।' তিনি বললেন, 'তবে তারা (ইহুদিরা) শপথ করবে।' তাঁরা বললেন, 'আমরা ইহুদিদের শপথে সন্তুষ্ট নই।' রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অপছন্দ করলেন যে তাঁর রক্ত বৃথা (يطل) রয়ে যাক, তাই তিনি সাদাকার উট থেকে একশত উট দিয়ে তাঁর রক্তপণ পরিশোধ করলেন। (১)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৬)
قال ابن حجر: قوله: (باب القسامة) بفتح القاف وتخفيف المهملة هي مصدر أقسم قسمًا وقسامة، وهي الأيمان تقسم على أولياء القتيل إذا ادّعوا الدم أو على المدعى عليهم الدم، وخصّ القسم على الدم بلفظ القسامة، وقال إمام الحرمين: القسامة عند أهل اللغة اسم للقوم الذين يقسمون، وعند الفقهاء اسم للأيمان، وقال في المحكم: القسامة الجماعة يقسمون على الشيء أو يشهدون به، ويمين القسامة منسوب إليهم ثم أطلقت على الأيمان نفسها، قال القرطبي في المفهم: فعل صلى الله عليه وسلم ذلك على مقتضى كرمه وحسن سياسته وجلبًا للمصلحة ودرءًا للمفسدة على سبيل التأليف، ولا سيما عند تعذر الوصول إلى استيفاء الحق، وقال القاضي عياض: هذا الحديث أصل من أصول الشرع وقاعدة من قواعد الأحكام وركن من أركان مصالح العباد، وبه أخذ جميع الأئمة والسلف من الصحابة والتابعين وعلماء الأمة وفقهاء الأمصار من الحجازيين والشاميين والكوفيين وإن اختلفوا في صور الأخذ به. . . (فيطلَّ) بضم أوله وفتح الطاء وتشديد اللام أي يهدر (1) .
قال النووي عند شرحه لهذا الحديث: وفي هذا دليل لصحة يمين الكافر والفاسق واليهودي (2) .
--------------------------------------------
ইবনে হাজার বলেন: তাঁর উক্তি: (বাবুল কাসামাহ) ‘ক্বাফ’ বর্ণের ফাতহাহ এবং ‘সীন’ বর্ণের তাশদীদহীনতার সাথে; এটি ‘আকসামা’, ‘কাসামান’ ও ‘কাসামাহ’ এর মাসদার (মূলধাতু)। এটি মূলত সেই সকল শপথকে বুঝায় যা নিহত ব্যক্তির অভিভাবকদের ওপর বণ্টন করা হয় যখন তারা রক্তের দাবি করে, অথবা যাদের বিরুদ্ধে হত্যার দাবি উত্থাপন করা হয় তাদের ওপর। রক্তের দাবির ক্ষেত্রে এই শপথকে বিশেষভাবে ‘কাসামাহ’ শব্দ দ্বারা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ইমামুল হারামাইন বলেন: ভাষাবিদদের মতে ‘কাসামাহ’ হলো ঐ জনসমষ্টির নাম যারা শপথ করে, আর ফকীহগণের নিকট এটি খোদ শপথগুলোর নাম। ‘আল-মুহকাম’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: কাসামাহ হলো ঐ দল যারা কোনো বিষয়ে শপথ করে অথবা সাক্ষ্য প্রদান করে; কাসামাহর শপথ তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত, পরবর্তীতে খোদ শপথগুলোকেই এই নামে অভিহিত করা হয়। আল-কুরতুবী ‘আল-মুফহিম’ গ্রন্থে বলেন: নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মহানুভবতা, উত্তম পরিচালনা এবং জনকল্যাণ সাধন ও অনিষ্ট প্রতিরোধের নিমিত্তে সম্প্রীতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে এটি করেছিলেন, বিশেষ করে যখন প্রাপ্য অধিকার আদায় করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কাজী ইয়াজ বলেন: এই হাদিস শরীয়তের অন্যতম একটি মূল উৎস, বিধানের অন্যতম একটি মূলনীতি এবং বান্দাদের জনকল্যাণের একটি স্তম্ভ। হিজাজ, শাম ও কুফার সকল ইমাম এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণসহ উম্মতের সকল আলেম ও ফকীহগণ এটি গ্রহণ করেছেন, যদিও এর প্রয়োগপদ্ধতি নিয়ে তাঁদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। . . (ফায়ুতাল্লা) প্রথম বর্ণে পেশ, ‘ত্ব’ বর্ণে যবর এবং ‘লাম’ বর্ণে তাশদীদের সাথে, অর্থাৎ তা বৃথা বা রক্তপণহীন যাবে।
ইমাম নববী এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন: এতে কাফির (كافر), ফাসিক (فاسق) এবং ইহুদির শপথের শুদ্ধতা (صحة) বা বৈধতার দলিল রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولو تتبعنا المعاهدات التي صدرت عن النبي صلى الله عليه وسلم لوجدنا فيها ضروبًا من التسامح والموادعة والمساواة، ومن هذه المعاهدات " إعلان دستور المدينة الذي اشتمل على سبع وأربعين فقرة منها ما يخص موادعة اليهود كما يأتي:
(24 - إن اليهود ينفقون مع المؤمنين ما داموا محاربين.
31 - وإن ليهود بني ثعلبة مثل ما ليهود بني عوف إلا من ظلم وأثم، فإنه لا يوتغ إلا نفسه وأهل بيته.
37 - وإن على اليهود نفقتهم، وعلى المسلمين نفقتهم، وإن بينهم النصر على من حارب أهل هذه الصحيفة، وإن بينهم النصح والنصيحة والبر دون الإثم.
45 - وإذا دعوا إلى صلح يصالحونه ويلبسونه فإنهم يصلحونه ويلبسونه، وإنهم إذا دعوا إلى مثل ذلك، فإن لهم على المؤمنين إلا من حارب في الدين.
46 - وإن يهود الأوس مواليهم وأنفسهم على مثل ما لأهل هذه الصحيفة مع البر المحض من أهل هذه الصحيفة، وإن البر دون الإثم لا يكسب كاسب إلا على نفسه، وإن الله على أصدق ما في هذه الصحيفة وأبره.
আমরা যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে জারিকৃত চুক্তিগুলো অনুসন্ধান করি, তবে আমরা তাতে সহনশীলতা, সন্ধি (موادعة) এবং সাম্যের নানাবিধ রূপ দেখতে পাব। এই চুক্তিগুলোর অন্যতম হলো "মদিনার সনদের ঘোষণা", যা সাতচল্লিশটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত। এর মধ্যে ইয়াহুদিদের সাথে সন্ধি (موادعة) সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিম্নরূপ:
(২৪ - ইয়াহুদিরা মুমিনদের সাথে যুদ্ধের ব্যয় বহন করবে যতক্ষণ তারা যুদ্ধরত থাকবে।
৩১ - আর বনু সা'লাবা গোত্রের ইয়াহুদিদের জন্য বনু আওফ গোত্রের ইয়াহুদিদের ন্যায় সমান অধিকার থাকবে; তবে যে ব্যক্তি জুলুম ও অপরাধ করবে, সে কেবল নিজেকে এবং তার পরিবারকেই ধ্বংস করবে।
৩৭ - ইয়াহুদিদের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যয় এবং মুসলিমদের ওপর তাদের নিজস্ব ব্যয় বর্তাবে। যারা এই সনদের অন্তর্ভুক্ত পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে তারা একে অপরকে সাহায্য করতে বাধ্য থাকবে। তাদের মধ্যে সদ্ভাব, সদুপদেশ এবং পুণ্য (بر) বজায় থাকবে, কোনো পাপ নয়।
৪৫ - আর যখন তাদের কোনো সন্ধি (صلح) করার বা তাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে, তখন তারা সেই সন্ধি (صلح) করবে এবং তাতে অংশগ্রহণ করবে। আর তারাও যদি একই আহ্বান জানায়, তবে মুমিনদের ওপর তা মেনে নেওয়া আবশ্যক হবে; তবে যারা দ্বীনের বিষয়ে যুদ্ধ করবে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
৪৬ - আউস গোত্রের ইয়াহুদি এবং তাদের মিত্রদের জন্য এই সনদের পক্ষগুলোর ন্যায় একই অধিকার থাকবে এবং এই সনদের অন্তর্ভুক্ত পক্ষগুলোর পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কেবল বিশুদ্ধ পুণ্য (بر) প্রদর্শন করা হবে। নিশ্চয়ই পুণ্য পাপের ঊর্ধ্বে। কোনো উপার্জনকারী কেবল নিজের বিরুদ্ধেই উপার্জন (পাপ) করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ এই সনদে বর্ণিত সবচেয়ে সত্য এবং সর্বোত্তম পুণ্যময় অঙ্গীকারের ওপর রয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৮)
47 - وإنه لا يحول هذا الكتاب دون ظالم أو آثم، وإنه من خرج آمن ومن قعد آمن بالمدينة، إلا من ظلم وأثم، وإن الله جار لمن بر واتقى، ومحمد رسول الله صلى الله عليه وسلم (1) .
قال ابن زنجويه: وقوله: " إن اليهود يُنِفقون مع المؤمنين ما داموا محاربين " فهو النفقة في الحرب خاصة، شرط عليهم المعاونة له على عدوه، ونرى أنه إنما كان يسهم لليهود إذا غزوا مع المسلمين لهذا الشرط الذي شرط عليهم من النفقة، ولولا هذا لم يكن لهم في غنائم المسلمين سهم.
وقوله: " إن يهود بني عوف أمة من المؤمنين " إنما أراد نصرهم المؤمنين، ومعاونتهم إياهم على عدوهم، بالنفقة التي شرطها عليهم، فأما الدّين فليسوا منه بشيء، ألا تراه قد بين ذلك فقال: لليهود دينهم وللمؤمنين دينهم، وقوله " لا يوتغ إلا نفسه " يقول: لا يهلك غيرها (2) .
--------------------------------------------
৪৭ - আর নিশ্চয়ই এই অঙ্গীকারনামা কোনো জালিম বা অপরাধীকে রক্ষা করবে না। নিশ্চয়ই যে (যুদ্ধের জন্য) বের হবে সে নিরাপদ থাকবে এবং যে মদিনায় অবস্থান করবে সেও নিরাপদ থাকবে, তবে যে জুলুম বা অপরাধ করেছে সে ব্যতীত। নিশ্চয়ই আল্লাহ ওই ব্যক্তির অভিভাবক যিনি সৎকর্মশীল ও আল্লাহভীরু এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। (১) ।
ইবনে জানজাওয়াইহ বলেন: তাঁর এই বাণী— "নিশ্চয়ই ইহুদিরা মুমিনদের সাথে ব্যয়ভার বহন করবে যতক্ষণ তারা যুদ্ধরত থাকবে"—এর দ্বারা বিশেষভাবে যুদ্ধের ব্যয়ভার বোঝানো হয়েছে। তিনি তাদের ওপর শত্রুর বিরুদ্ধে তাঁকে সাহায্য করার শর্তারোপ করেছেন। আমাদের অভিমত হলো, এই ব্যয়ের যে শর্ত তাদের ওপর আরোপ করা হয়েছিল, সেই শর্তের কারণেই ইহুদিরা যখন মুসলিমদের সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করত তখন তাদের গনিমতের অংশ দেওয়া হতো। যদি এই শর্ত না থাকত, তবে মুসলিমদের গনিমতে তাদের কোনো অংশ থাকত না।
আর তাঁর এই বাণী— "নিশ্চয়ই বনু আউফ গোত্রের ইহুদিরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত একটি সম্প্রদায়"—এর দ্বারা তিনি মুমিনদের প্রতি তাদের সাহায্য এবং শত্রুর বিরুদ্ধে তাদের সহযোগিতাকেই বুঝিয়েছেন, যা ব্যয়ের শর্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছিল। তবে দ্বীনের ব্যাপারে তারা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, তিনি তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে বলেছেন: "ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুমিনদের জন্য তাদের ধর্ম"? আর তাঁর বাণী— "সে কেবল নিজেকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে"—এর অর্থ হলো: সে অন্য কাউকে নয়, বরং কেবল নিজেকেই ধ্বংস করবে। (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قام بتحليل هذه المعاهدة مؤرخ السيرة أ. د. أكرم بن ضياء العمري، وأنقل ما ذكره بخصوص اليهود فقال: قد تناولت البنود من 25 إلى 35 تحديد العلاقة مع المتهودين من الأوس والخزرج، وقد نسبتهم البنود إلى عشائرهم من العربية، وأقرت حلفهم مع المسلمين، وإن يهود بني عوف أمة مع المؤمنين" وقد وردت العبارة في كتاب الأموال " أمة من المؤمنين " مما جعل أبا عبيد يقول: " فإنما أراد نصرهم المؤمنين ومعاونتهم إياهم على عدوهم بالنفقة التي شرطها عليهم، فأما الدين فليسوا منه في شيء، ألا تراه قد بين ذلك فقال لليهود دينهم وللمؤمنين دينهم " (1) أما ابن إسحاق فقد قال: " مع المؤمنين " وهو أجود، ولعل ما في كتاب الأموال مصحّف، وقد كفلت المادة رقم 25 لليهود حريتهم الدينية، كما حددت مسئولية الجرائم وحصرتها في مرتكبها (إلا من ظلم وأثم فإنه لا يوتغ - أي لا يهلك - إلا نفسه وأهل بيته) فالمجرم ينال عقابه وإن كان من المتعاهدين (لا يحول الكتاب دون ظالم ولا آثم) . . . كما أن المعاهدة امتدت بموجب البند رقم 45 لتشمل حلفاء المسلمين وحلفاء اليهود من القبائل الأخرى، إذ شرطت المادة على كل طرف مصالحة حلفاء الطرف الآخر
--------------------------------------------
সীরাত বিশেষজ্ঞ ঐতিহাসিক প্রফেসর ড. আকরাম বিন জিয়া আল-উমারি এই চুক্তিটি বিশ্লেষণ করেছেন। ইহুদিদের প্রসঙ্গে তিনি যা উল্লেখ করেছেন, আমি তা উদ্ধৃত করছি। তিনি বলেন: ২৫ থেকে ৩৫ নম্বর অনুচ্ছেদগুলোতে আওস ও খাজরাজ গোত্রভুক্ত ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি নির্ধারিত হয়েছে। অনুচ্ছেদগুলো তাদের আরবীয় বংশধারার সাথে সম্পৃক্ত করেছে এবং মুসলিমদের সাথে তাদের মিত্রতাকে অনুমোদন দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, "নিশ্চয়ই বনু আউফ গোত্রের ইহুদিরা মুমিনদের সাথে এক জাতি।" 'কিতাব আল-আমওয়াল' গ্রন্থে বাক্যটি "মুমিনদের থেকে এক জাতি" হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। যার কারণে আবু উবাইদ বলেছেন: "এর দ্বারা কেবল মুমিনদের সাহায্য করা এবং শত্রুদের বিরুদ্ধে শর্তযুক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে সহযোগিতা করা বোঝানো হয়েছে। কিন্তু ধর্মের ক্ষেত্রে তাদের সাথে মুমিনদের কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: 'ইহুদিদের জন্য তাদের ধর্ম এবং মুমিনদের জন্য তাদের ধর্ম'।" (১) তবে ইবনে ইসহাক "মুমিনদের সাথে" বলেছেন, যা অধিকতর উত্তম (أجود)। সম্ভবত 'কিতাব আল-আমওয়াল'-এ যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুলিখন প্রমাদ (مصحف)। চুক্তির ২৫ নম্বর ধারাটি ইহুদিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি অপরাধের দায়ভার নির্ধারণ করে তা কেবল অপরাধীর ওপরই সীমাবদ্ধ করেছে (তবে যে ব্যক্তি জুলুম ও অপরাধ করবে, সে কেবল নিজেকে এবং নিজের পরিবারকেই ধ্বংস করবে)। সুতরাং অপরাধী তার শাস্তি পাবে, যদিও সে চুক্তিবদ্ধ পক্ষগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয় (কোনো জালিম বা অপরাধীর জন্য এই চুক্তি প্রতিবন্ধক হবে না)। . . . তেমনিভাবে ৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই চুক্তির আওতা বৃদ্ধি করে অন্যান্য গোত্রের মধ্যকার মুসলিমদের মিত্র এবং ইহুদিদের মিত্রদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কেননা এই ধারাটি প্রতিটি পক্ষের জন্য অন্য পক্ষের মিত্রদের সাথে সন্ধি করার শর্তারোপ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১০)
لكن المسلمين استثنوا قريشًا " إلا من حارب في الدين " لأنهم كانوا في حالة حرب معهم (1) .
كما نرى تسامحه مع أهل الكتاب من الذين يعادون ويخالفون فيما يفتي إذ يتكلمون فيه ويبلغه ذلك، ثم يقدم لهم الهدية من اللبن أخرج مسلم بسنده عن أنس «أن اليهود كانوا إذا حاضت المرأة فيهم، لم يؤاكلوها ولم يجامعوهن في البيوت، فسأل أصحاب النبيِّ صلى الله عليه وسلم النبيَّ صلى الله عليه وسلم فأنزل الله تعالى: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ} إلى آخر الآية فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اصنعوا كل شيء إلا النكاح "، فبلغ ذلك اليهود فقالوا: ما يريد هذا الرجل أن يدع من أمرنا شيئًا إلا خالفنا فيه، فجاء أسيد بن حضير وعباد بن بشر فقالا: يا رسول الله! إن اليهود تقول: كذا وكذا، فلا نجامعهن؟ فتغير وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى ظننا أن قد وجد عليهما، فخرجا فاستقبلهما هدية من لبن إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فأرسل في آثارهما، فسقاهما، فعرفا أن لم يجد عليهما» (2) .
--------------------------------------------
কিন্তু মুসলিমরা কুরাইশদেরকে ব্যতিক্রম মনে করতেন "ব্যতীত সেই ব্যক্তি যে দ্বীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেছে", কারণ তারা তাদের সাথে যুদ্ধাবস্থায় ছিল (১) ।
একইভাবে আমরা আহলে কিতাবদের প্রতি তাঁর উদারতা দেখতে পাই, যারা শত্রুতা করত এবং তাঁর প্রদত্ত ফতোয়ার বিরোধিতা করত; যখন তারা তাঁর সম্পর্কে আলোচনা করত এবং তাঁর কাছে সেই সংবাদ পৌঁছাত, তবুও তিনি তাদের উপহারস্বরূপ দুধ প্রদান করতেন। মুসলিম তাঁর সনদ (سند) এর মাধ্যমে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, «ইহুদিদের মধ্যে যখন কোনো নারী ঋতুবতী হতো, তখন তারা তার সাথে একত্রে আহার করত না এবং ঘরে তাদের সাথে একত্রে অবস্থান করত না। তখন নবী (সা.)-এর সাহাবীগণ নবী (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। ফলে আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন: {তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলুন, তা অশুচি। সুতরাং ঋতুকালে তোমরা স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাক} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "সঙ্গম ব্যতীত তোমরা সব কিছুই করতে পার।" এই সংবাদ ইহুদিদের কাছে পৌঁছালে তারা বলল: এই ব্যক্তি আমাদের প্রতিটি বিষয়ের বিরোধিতা করা ছাড়া কিছুই ছাড়তে চায় না। অতঃপর উসাইদ ইবনে হুদাইর এবং আব্বাদ ইবনে বিশর (রা.) এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! ইহুদিরা এমন এমন বলছে, তবে কি আমরা তাদের সাথে সহবাস করব না? এতে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর চেহারা মুবারক পরিবর্তিত হয়ে গেল, এমনকি আমরা মনে করলাম যে তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হয়েছেন। অতঃপর তারা বেরিয়ে গেলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপহারস্বরূপ দুধ নিয়ে আসা হলো। তিনি তাদের পিছু লোক পাঠালেন এবং তাদের তা পান করালেন। তখন তারা বুঝতে পারলেন যে তিনি তাদের ওপর রাগান্বিত হননি» (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১১)
بل نجد سماحته مع لبيد بن الأعصم الذي سحر النبي صلى الله عليه وسلم في مشط ومشاطة وجف طلع نخل ذكر في بئر روان، وحينما أخبر عائشة بذلك قالت له: أفلا استخرجته؟ قال: «قد عافاني، فكرهت أن أثير على الناس فيه شرا، فأمر بها فدفنت» .
المشاطة وما يخرج من الشعر إذا مشط، والمشاط من مشاطة الكتان (1) .
وهكذا كان تسامحه مع بعض المنافقين فقد تحمل المنافق عبد الله بن أُبي ابن سلول قصة الإفك ومع ذلك فقد عفا عنه صلى الله عليه وسلم (2) بل حينما مات عبد الله بن أُبي غطّاه بقميصه واستغفر له حتى نزل قوله تعالى: {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِنْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ} (3) .
--------------------------------------------
বরং আমরা লাবীদ ইবনুল আসমের প্রতিও তাঁর মহানুভবতা দেখতে পাই, যে ব্যক্তি একটি চিরুনি, চিরুনির সাথে লেগে থাকা চুল এবং একটি পুরুষ খেজুর গাছের পুং-রেণুর শুষ্ক আবরণের মাধ্যমে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর জাদু করেছিল, যা রাওয়ান নামক কূপে রাখা হয়েছিল। যখন তিনি আয়েশাকে এ বিষয়ে অবহিত করলেন, তখন তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি তা বের করলেন না?" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে সুস্থ করেছেন, তাই আমি মানুষের মধ্যে এ নিয়ে কোনো অনিষ্ট ছড়াতে অপছন্দ করেছি।" এরপর তিনি সেগুলোর ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং সেগুলো দাফন করা হলো।
'মুশাতাহ' হলো চুল আঁচড়ানোর সময় যা ঝরে পড়ে, আর 'মুশাত' শব্দটি তিসি বা কাতান আঁচড়ানো থেকে উদ্ভূত (১)।
অনুরূপভাবে কিছু মুনাফিক (منافق)-দের প্রতিও তাঁর সহনশীলতা প্রকাশ পেয়েছিল। যেমন মুনাফিক (منافق) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল ইফক বা অপবাদের ঘটনার বোঝা বহন করেছিল, তা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন (২)। এমনকি যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই মারা গেল, তখন তিনি তাকে নিজের জামা দিয়ে ঢেকে দিলেন এবং তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, যতক্ষণ না মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলো: {তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা না করো; যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা করো, তবুও আল্লাহ কখনোই তাদের ক্ষমা করবেন না} (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১২)
كما عفا النبي صلى الله عليه وسلم عن عبد الله بن ذي الخويصرة التميمي «بينما كان النبي صلى الله عليه وسلم يقسم فقال له: اعدل يا رسول الله، فقال: ويلك ومن يعدل إذا لم أعدل؟ قال عمر بن الخطاب: دعني أضرب عنقه، قال دعه فإن له أصحابًا يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم وصيامه مع صيامهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، ينظر في قذذه فلا يوجد فيه شيء ثم ينظر إلى نصله فلا يوجد فيه شيء، ثم ينظر إلى رصافه فلا يوجد فيه شيء، ثم ينظر نضيّه فلا يوجد فيه شيء، قد سبق الفرث والدم، آيتهم رجل إحدى يديه - أو قال ثدييه - مثل ثدي المرأة، أو قال مثل البضعة تدردر، يخرجون على حين فرقة من الناس، قال أبو سعيد: أشهد سمعت من النبي صلى الله عليه وسلم ، وأشهد أن عليًّا قتلهم وأنا معه، جيء بالرجل على النعت الذي نعته النبي صلى الله عليه وسلم، قال: فنزلت فيه {وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ} » (1) .
إنها غاية السماحة إذ لم ينتصر رسول الله صلى الله عليه وسلم لنفسه بل عفا عنه.
--------------------------------------------
যেমন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুল্লাহ বিন যুল খুওয়াইসিরা আত-তামিমিকে ক্ষমা করেছিলেন: «নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (লব্ধ সম্পদ) বণ্টন করছিলেন, তখন সে তাকে বলেছিল: "হে আল্লাহর রাসূল, ইনসাফ করুন।" তখন তিনি বললেন: "তোমার দুর্ভোগ হোক! আমি যদি ইনসাফ না করি তবে আর কে ইনসাফ করবে?" ওমর ইবনুল খাত্তাব বললেন: "আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই।" তিনি বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও, কারণ তার এমন কিছু সঙ্গী রয়েছে যাদের সালাতের তুলনায় তোমাদের কেউ নিজের সালাতকে এবং যাদের সিয়ামের তুলনায় তোমাদের কেউ নিজের সিয়ামকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যেমন তীর শিকারি জন্তু ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তীরের পালকযুক্ত অংশ পরীক্ষা করলে তাতে কিছুই পাওয়া যায় না, তারপর তীরের ফলা পরীক্ষা করলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, তারপর তীরের সংযোগস্থল পরীক্ষা করলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না, এরপর তীরের দণ্ড পরীক্ষা করলে তাতেও কিছু পাওয়া যায় না। অথচ সেটি ইতিপূর্বেই মল ও রক্ত ভেদ করে চলে গেছে। তাদের পরিচয়চিহ্ন হলো এমন এক ব্যক্তি যার একটি হাত—অথবা তিনি বলেছেন স্তন—নারীর স্তনের মতো, অথবা তিনি বলেছেন গোশতের টুকরোর মতো যা নড়াচড়া করছে। মানুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির সময় তারা আত্মপ্রকাশ করবে।" আবু সাঈদ বলেন: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি শুনেছি এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আলী তাদের হত্যা করেছেন এবং আমি তার সাথে ছিলাম। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রূপ বর্ণনা করেছিলেন ঠিক সেই বর্ণানুযায়ী লোকটিকে আনা হয়েছিল।" তিনি বলেন: "তার ব্যাপারেই এই আয়াতটি নাযিল হয়েছিল: {আর তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা সদকা বণ্টনের ব্যাপারে আপনাকে দোষারোপ করে}"» (১) .
এটি ছিল মহানুভবতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ, যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের ব্যক্তিগত কারণে কোনো প্রতিশোধ নেননি, বরং তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
كما له مواقف أخرى مع المشركين فقد أخرج النسائي بسنده الثابت عن عبد الله بن مغفل المزني، قال: «كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالحديبية في أصل الشجرة التي قال الله، وكأني بغصن من أغصان تلك الشجرة على ظهر رسول الله صلى الله عليه وسلم، فرفعته عن ظهره، وعلي بن أبي طالب وسهيل بن عمرو بين يديه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اكتب بسم الله الرحمن الرحيم " فأخذ سهيل يده فقال: ما نعرف الرحمن الرحيم، اكتب في قضيتنا ما نعرف، فقال: " اكتب باسمك اللهم، هذا ما صالح عليه محمد رسول الله أهل مكة "، فأمسك بيده فقال: لقد ظلمناك إن كنت رسولًا، اكتب في قضيتنا ما نعرف، فقال: " اكتب هذا ما صالح عليه محمد بن عبد الله بن عبد المطلب، وأنا رسول الله "، قال فكتب، فبينما نحن كذلك، إذ خرج علينا ثلاثون شابا عليهم السلاح، فثاروا في وجوهنا، فدعا عليهم النبي صلى الله عليه وسلم فأخذ الله بأبصارهم، فقمنا إليهم فأخذناهم، فقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: " هل جئتم في عهد أحد، أو هل جعل لكم أحد أمانًا "، فقالوا: لا، فخلى سبيلهم، فأنزل الله عز وجل {وَهُوَ الَّذِي كَفَّ
মুশরিকদের সাথে তাঁর আরও কিছু ঘটনা রয়েছে। নাসায়ি তাঁর সুসাব্যস্ত (الثابت) সনদ (سند)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন (أخرج) আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল-মুজানি থেকে, তিনি বলেন: «আমরা হুদায়বিয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সেই গাছের নিচে ছিলাম যার কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন। আমার মনে পড়ে, সেই গাছের একটি ডাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিঠের ওপর ঝুলে ছিল, আমি তা তাঁর পিঠ থেকে সরিয়ে ধরলাম। তখন আলী ইবনে আবি তালিব এবং সুহাইল ইবনে আমর তাঁর সামনে ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "লেখো—বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম।" তখন সুহাইল তাঁর হাত ধরে বলল: "আমরা রহমান ও রাহিম চিনি না। আমাদের চুক্তিতে তাই লেখো যা আমরা জানি।" অতঃপর তিনি বললেন: "লেখো—হে আল্লাহ, আপনার নামে। এটি সেই চুক্তি যা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ মক্কাবাসীদের সাথে করেছেন।" তখন সে তাঁর হাত চেপে ধরল এবং বলল: "আমরা যদি আপনাকে রাসূল হিসেবেই মানতাম, তবে তো আপনার ওপর জুলুমই করতাম। আমাদের চুক্তিতে তাই লেখো যা আমরা জানি।" তখন তিনি বললেন: "লেখো—এটি সেই চুক্তি যা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব করেছেন; আর আমি (প্রকৃতপক্ষেই) আল্লাহর রাসূল।" বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি তা লিখলেন। আমরা এ অবস্থায় থাকাকালেই হঠাৎ অস্ত্রধারী ত্রিশজন যুবক আমাদের সামনে বেরিয়ে এল এবং আমাদের ওপর চড়াও হলো। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে দুআ করলেন, ফলে আল্লাহ তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলেন। আমরা তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম এবং তাদের পাকড়াও করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞেস করলেন: "তোমরা কি কারও অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে এসেছ, নাকি কেউ তোমাদের নিরাপত্তা প্রদান করেছে?" তারা বলল: "না।" তখন তিনি তাদের ছেড়ে দিলেন। এরপর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী অবতীর্ণ করলেন—{আর তিনিই সেই সত্তা যিনি রুখে দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أَيْدِيَهُمْ عَنْكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ عَنْهُمْ} إلى قوله {بَصِيرًا} » (1) .
لقد كان بإمكانه أن يأسرهم أو أن يقتلهم ولكن سماحته تأبى ذلك بل قال لهم ولغيرهم من أهل مكة حينما فتحها: اذهبوا فأنتم الطلقاء.
فقد تجلّت روح التسامح عند النبي صلى الله عليه وسلم حتى في الحرب فقد قال لهم أيضًا: من دخل دار أبي سفيان فهو آمن، ومن أغلق بابه فهو آمن ، ومن ألقى السلاح فهو آمن (2) .
ومن تسامحه مع المشركين أيضًا أنه كان لا يمنع صلة المسلمين بأهلهم المشركين فقد أخرج البخاري بسنده عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنهما قالت: «أتتني أمي راغبة في عهد النبي صلى الله عليه وسلم فسألت النبي صلى الله عليه وسلم أصلها؟ قال: " نعم» (3) .
--------------------------------------------
{তাদের হাত তোমাদের থেকে এবং তোমাদের হাত তাদের থেকে} থেকে তাঁর বাণী {সর্বদ্রষ্টা} পর্যন্ত (১) ।
তিনি চাইলে তাদের বন্দি করতে পারতেন অথবা তাদের হত্যা করতে পারতেন, কিন্তু তাঁর মহানুভবতা তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। বরং তিনি মক্কা বিজয়ের সময় তাদের এবং মক্কার অন্যান্য অধিবাসীদের বলেছিলেন: "তোমরা যাও, তোমরা আজ মুক্ত।"
যুদ্ধের ময়দানেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহনশীলতার চিত্র ফুটে উঠেছিল। তিনি তাদের উদ্দেশ্যে আরও বলেছিলেন: "যে আবু সুফিয়ানের ঘরে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ রাখবে সে নিরাপদ এবং যে অস্ত্র ত্যাগ করবে সে নিরাপদ" (২) ।
মুশরিকদের প্রতি তাঁর সহনশীলতার আরেকটি উদাহরণ হলো, তিনি মুসলিমদের তাদের মুশরিক আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বাধা দিতেন না। ইমাম বুখারি তাঁর সনদে (سند) আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সন্ধির যুগে আমার মা আমার কাছে আসলেন, তিনি (ইসলামের প্রতি) অনুরাগী ছিলেন। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি কি তাঁর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখব? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ'" (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
إن هذا المنهج العملي والقولي في التسامح والارتقاء فوق حظوظ النفس يؤتي أكله كل حين بإذن الله تعالى، فقد أثّر في نفوس الصحابة صلى الله عليه وسلم والتابعين رحمهم الله ومن جاء بعدهم إلى يومنا هذا نرى صورًا ونماذج من التسامح التي ازدانت بها صفحات التاريخ كالخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضى الله عنه في لون آخر من التسامح مع المشركين فقد أخرج البخاري بسنده عن عبد الله بن دينار قال: " سمعت ابن عمر رضي الله عنهما يقول: «رأى عمر حلة سيراء (1) تباع، فقال: يا رسول الله، ابتع هذه والبسها يوم الجمعة وإذا جاءك الوفود، قال: إنما يلبس هذه من لا خلاق له، فأُتِيَ النبي صلى الله عليه وسلم منها بحلل فأرسل إلى عمر بحلة فقال: كيف ألبسها وقد قلت فيها ما قلت؟ قال: إني لم أعطكها لتلبسها، ولكن لتبعها أو تكسوها، فأرسل بها عمر إلى أخ له من أهل مكة قبل أن يسلم» (2) .
وهذا أنموذج آخر في زمن معاوية رضى الله عنه فإن الكفار لمّا نقضوا عهدهم امتنع المسلمون من قتالهم وقالوا: وفاء بغدر خيرٌ من عذر بغدر (3) .
--------------------------------------------
ক্ষমা এবং নফসের মোহের ঊর্ধ্বে ওঠার এই ব্যবহারিক ও বাচনিক কর্মপদ্ধতি মহান আল্লাহর ইচ্ছায় সর্বদা সুফল বয়ে আনে। এটি সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং তাঁদের পরবর্তী অনুসারীদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছে। আজ অবধি আমরা ক্ষমার এমন সব চিত্র ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে পাই যা ইতিহাসের পাতাকে সুশোভিত করেছে; যেমন খোলাফায়ে রাশেদার খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর মুশরিকদের সাথে ক্ষমার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ইমাম বুখারি তাঁর সনদ (سند)-এর মাধ্যমে আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি ইবনে ওমর (রা.)-কে বলতে শুনেছি: ওমর (রা.) একটি রেশমি মিশ্রিত পোশাক (১) বিক্রি হতে দেখলেন। তিনি বললেন: 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এটি ক্রয় করুন এবং জুমার দিনে ও যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসবে তখন পরিধান করুন।' তিনি (সা.) বললেন: 'এটি কেবল সেই ব্যক্তিই পরিধান করে যার (পরকালে) কোনো অংশ নেই।' অতঃপর নবী (সা.)-এর নিকট এরুপ কিছু পোশাক আনা হলো এবং তিনি ওমরের নিকট একটি পোশাক পাঠালেন। ওমর (রা.) বললেন: 'আমি এটি কীভাবে পরিধান করব অথচ আপনি এর ব্যাপারে যা বলার তা বলেছেন?' তিনি (সা.) বললেন: 'আমি তোমাকে এটি পরিধান করার জন্য দেইনি, বরং এটি বিক্রি করার জন্য অথবা কাউকে পরিয়ে দেওয়ার (উপহার দেওয়ার) জন্য দিয়েছি।' অতঃপর ওমর (রা.) সেটি মক্কায় অবস্থানরত তাঁর এক মুশরিক ভাইয়ের নিকট তিনি ইসলাম গ্রহণ করার পূর্বেই পাঠিয়ে দিলেন।" (২) .
এটি মুয়াবিয়া (রা.)-এর আমলের আরেকটি দৃষ্টান্ত। যখন কাফিররা তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল, তখন মুসলমানরা তাদের সাথে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকল এবং বলল: "বিশ্বাসঘাতকতার অজুহাত প্রদর্শনের চেয়ে বিশ্বাসঘাতকতার বিপরীতে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা উত্তম।" (৩) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إنه ذروة التسامح الذي نهجه النبي صلى الله عليه وسلم وأمر به بقوله: «أد الأمانة إلى من ائتمنك ولا تخن من خانك» (1) .
وإليك أنموذجًا آخر في زمن التابعين في درء الحدود فقد أخرج البخاري بسنده عن أبي قلابة أن عمر بن عبد العزيز أبرز سريره يومًا للناس ثم أذن لهم فدخلوا، فقال: ما تقولون في القسامة؟ قالوا القسامة القود بها حق، وقد أقادت بها الخلفاء، قال لي: ما تقول يا أبا قلابة؟ ونصبني للناس؟ فقلت: يا أمير المؤمنين ، عندك رءوس الأجناد وأشراف العرب، أرأيت لو أن خمسين منهم شهدوا على رجل محصن بدمشق أنه قد زنى ولم يروه أكنت ترجمه؟ قال: لا، قلت: أرأيت لو أن خمسين منهم شهدوا على رجل بحمص أنه سرق أكنت تقطعه ولم يروه؟ قال: لا. . . (2) .
إنه منهج دقيق في التثبت واحتياط رفيق بالمتهم لأن الشبهة قائمة والتهمة لم يجزم بها بواسطة الرؤية التي هي محور الجزم.
--------------------------------------------
এটি সহনশীলতার সেই চরম শিখর যা নবী (সা.) অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করেছেন: «তোমার কাছে যে আমানত রেখেছে তার আমানত আদায় করো এবং যে তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তার সাথে তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করো না» (১)।
নির্ধারিত দণ্ড (حدود) লাঘব করার ক্ষেত্রে তাবিঈদের যুগের আরেকটি দৃষ্টান্ত আপনার সামনে উপস্থাপন করা হলো। ইমাম বুখারি তাঁর নিজস্ব সনদ (سند) সহকারে আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর বিন আব্দুল আজিজ একদিন মানুষের উদ্দেশ্যে তাঁর আসন বের করলেন এবং তাদের প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তারা প্রবেশ করলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "কাসামাহ (হত্যার দায়ে সম্মিলিত শপথ) সম্পর্কে তোমরা কী বলো?" তারা উত্তর দিল: "কাসামাহ-এর মাধ্যমে কিসাস বা প্রতিশোধ (القود) গ্রহণ করা একটি ন্যায়সঙ্গত অধিকার এবং পূর্ববর্তী খলিফাগণ এর মাধ্যমে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন।" তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন: "হে আবু কিলাবাহ, আপনি কী বলেন?" তিনি আমাকে সবার সামনে দাঁড় করালেন। আমি বললাম: "হে আমিরুল মুমিনিন, আপনার সম্মুখে সেনাবাহিনীর প্রধানগণ এবং আরবের সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত আছেন। আপনি কি মনে করেন, যদি তাদের মধ্য থেকে পঞ্চাশজন দামেস্কের কোনো একজন বিবাহিত (محصن) ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে সে ব্যভিচার করেছে, অথচ তারা তা স্বচক্ষে দেখেনি, তবে কি আপনি তাকে রজম বা পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড দেবেন?" তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: "আপনি কি মনে করেন, যদি তাদের পঞ্চাশজন হিমসের কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয় যে সে চুরি করেছে, অথচ তারা তা দেখেনি, তবে কি আপনি তার হাত কেটে ফেলবেন?" তিনি বললেন: "না।"... (২)।
এটি সত্যতা যাচাইয়ের একটি সূক্ষ্ম পদ্ধতি এবং অভিযুক্তের প্রতি এক কোমল সতর্কতা। কারণ এখানে সন্দেহ (شبهة) বিদ্যমান এবং দর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা কোনো বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার মূল ভিত্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
السماحة في التجارة وقضاء الحق كما حث صلى الله عليه وسلم على السماحة في البيع والشراء فقال: «رحم الله رجلًا سمحًا إذا باع، وإذا اشترى وإذا اقتضى» (1) وهذا النص يشمل التعامل مع المسلم وغير المسلم.
قال ابن حجر: قوله (رحم الله رجلًا) يحتمل الدعاء ويحتمل الخبر، وبالأول جزم ابن حبيب المالكي وابن بطال ورجحه الداودي. . . قوله (سمحًا) بسكون الميم وبالمهملتين أي: سهلًا، وهي صفة مشبهة تدل على الثبوت. . . والسمح: الجواد، يقال: سمح بكذا إذا جاد، والمراد هنا المساهلة، قوله: (إذا اقتضى) أي طلب قضاء حقه بسهولة وعدم إلحاف. . . وفيه الحض على السماحة في المعاملة واستعمال معالي الأخلاق، وترك المشاحة، والحض على ترك التضييق على الناس في المطالبة، وأخذ العفو منهم (2) .
كما رغب وحث صلى الله عليه وسلم على السماحة في القرض وإنظار المعسر فقال: «تلقت الملائكة رجلًا ممن كان قبلكم فقالوا: أعملت من الخير شيئًا؟ قال: كنت آمر فتياني أن ينظروا ويتجاوزوا عن الموسر، قال: فتجاوزوا عنه» (3) .
وقد رجح الحافظ ابن حجر أن الموسر والمعسر يرجعان إلى العرف (4) .
--------------------------------------------
ব্যবসা-বাণিজ্য ও পাওনা আদায়ে উদারতা। যেমন রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্রয়-বিক্রয়ে উদার হতে উৎসাহিত করেছেন এবং বলেছেন: «আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যে বিক্রয়ের সময়, ক্রয়ের সময় এবং পাওনা আদায়ের সময় উদারতা প্রদর্শন করে» (১)। আর এই বক্তব্যটি মুসলিম ও অমুসলিম সকলের সাথে লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
ইবনে হাজার বলেন: তাঁর বাণী (আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন) দোয়া বা প্রার্থনা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে, আবার সংবাদ হওয়ার সম্ভাবনাও রাখে। ইবনে হাবিব আল-মালিকি ও ইবনে বাত্তাল প্রথম মতটির ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত ব্যক্ত করেছেন এবং আদ-দাউদি একেই প্রাধান্য দিয়েছেন। ... তাঁর শব্দ (উদার) 'মীম' বর্ণে সুকুন এবং দুটি নুকতাহীন অক্ষর (সীন ও হা) যোগে গঠিত, যার অর্থ: সহজ ও সাবলীল। এটি একটি বিশেষণের সাদৃশ্যপূর্ণ রূপ যা স্থায়িত্ব নির্দেশ করে। ... আর 'সাম্হ' মানে হলো দানশীল; বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি অমুক বিষয়ে উদারতা দেখিয়েছে যখন সে তা দান করে। এখানে উদ্দেশ্য হলো সহজিকরণ। তাঁর কথা: (যখন সে পাওনা দাবি করে) অর্থাৎ যখন সে সহজভাবে এবং পিড়াপিড়ি না করে নিজের পাওনা দাবি করে। ... এর মধ্যে লেনদেনে উদারতা প্রদর্শন, উন্নত নৈতিকতা অবলম্বন এবং বিবাদ পরিহারের উৎসাহ রয়েছে। এছাড়া পাওনা দাবির ক্ষেত্রে মানুষের ওপর কড়াকড়ি না করা এবং তাদের পক্ষ থেকে যা সহজে পাওয়া যায় তা গ্রহণ করারও নির্দেশনা রয়েছে (২)।
অনুরূপভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে উদার হতে এবং ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে অবকাশ দিতে উৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন: «তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির সাথে ফেরেশতাদের সাক্ষাৎ হলো। তারা তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি ভালো কোনো কাজ করেছ? সে বলল: আমি আমার কর্মচারীদের নির্দেশ দিতাম তারা যেন সচ্ছল ব্যক্তিকে অবকাশ দেয় এবং তাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেয়। (বর্ণনাকারী বলেন:) তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন» (৩)।
হাফিজ ইবনে হাজার এই মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যে, সচ্ছল ও অসচ্ছল হওয়ার বিষয়টি প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভরশীল (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وهذا دليل على أن السماحة اشتملت أمورًا كثيرة منها المجال الاقتصادي في البيع والشراء وهو أمر يتجدد يوميًا، مما يفصح أن التسامح ليس من الأمور النادرة بل يتجدد كل حين.
আর এটি এই মর্মে একটি প্রমাণ যে, উদারতা বহু বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রটিও রয়েছে; যা একটি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, সহনশীলতা কোনো বিরল বিষয় নয়, বরং এটি প্রতিনিয়ত নতুন রূপ লাভ করে।
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
السماحة في درء الحدود تنعق بعض الهيئات والشخصيات المعادية للإسلام بأن الإسلام جاء بالسيف وأن بعض الحدود في الإسلام فيها شدة وهدر للدماء وتخلّف في تنمية الموارد البشرية وهذه شبهة خطيرة تطعن في سماحة الإسلام والجواب أن حرب الإشاعة قامت ضد الإسلام منذ حادثة الإفك إلى زماننا وهذه الإشاعات ضرب من ضروب الحرب النفسيّة، وأنقل لهم قول المشتشرق الألماني د، ج كامبفماير، رئيس تحرير مجلة العالم الإسلامي: (إن الاعتداء على الإسلام لا ترجى منه فائدة، ولن يردّ المسلمين عن دينهم، ولن يعوق النهضة الإسلامية بل سيقويها) (1) ثم ليعلم هؤلاء أن الإسلام استخدم السيف مع المحاربين الذين يهددون كيان الدولة الإسلامية أما المسالمين فلا، فالإسلام يخيّر غير المسلمين بين الدخول في الإسلام أو التعايش مع المسلمين مع دفع الجزية، وهي ما يقابل ما يدفعه المسلمون من الزكاة وإلا فالسيف لحماية بيضة المسلمين، ولا يسلط السيف على الأطفال والنساء.
--------------------------------------------
দণ্ডবিধি মওকুফের ক্ষেত্রে মহানুভবতা। ইসলাম-বিদ্বেষী কিছু সংস্থা ও ব্যক্তিবর্গ এই রব তোলে যে, ইসলাম তরবারির জোরে এসেছে এবং ইসলামের কিছু দণ্ডবিধিতে কঠোরতা ও রক্তপাত রয়েছে এবং তা মানবসম্পদ উন্নয়নের অন্তরায়। এটি একটি বিপজ্জনক সংশয়, যা ইসলামের সহনশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর উত্তর হলো, অপপ্রচারের এই যুদ্ধ 'ইফক' (মিথ্যা অপবাদ)-এর ঘটনা থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান এবং এই গুজবগুলো মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধেরই একটি অংশ। আমি তাদের উদ্দেশ্যে জার্মান প্রাচ্যবিদ ড. জি. কাম্পফমেয়ার—যিনি 'ইসলামী বিশ্ব' সাময়িকীর প্রধান সম্পাদক—তাঁর একটি উক্তি উদ্ধৃত করছি: "ইসলামের ওপর আক্রমণ চালিয়ে কোনো সুফল আশা করা যায় না; এটি মুসলিমদের তাদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না এবং ইসলামী রেনেসাঁকেও বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং একে আরও শক্তিশালী করবে।" (১) অতঃপর তাদের জেনে রাখা উচিত যে, ইসলাম কেবল সেই সকল যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে তরবারি ব্যবহার করেছে যারা ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকির কারণ ছিল; তবে শান্তিকামীদের ক্ষেত্রে তা নয়। ইসলাম অমুসলিমদের সামনে ইসলাম গ্রহণ অথবা জিজয়া প্রদানের মাধ্যমে মুসলিমদের সাথে সহাবস্থানের বিকল্প পেশ করে, যা মুসলিমদের প্রদানকৃত জাকাতের সমতুল্য। অন্যথায় তরবারি কেবল মুসলিমদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়; আর শিশু ও নারীদের ওপর তরবারি চালানো হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২০)
ثم إن إقامة الحدود الشرعية لا تنفد إلا بنطاق ضيق محدود، فقد يظن بعض الناس أن إقامة الحدود في الإسلام كإقامة الصلاة في كثرتها، والحق أن أحكام الشريعة الإسلامية تعد بالمئات لكن عدد الحدود التي تقام هي سبعة: الحرابة (قطع الطريق) ، والردة، والبغي، والزنا، والقذف، والسرقة، وشرب الخمر، وإذا نفذت فإنه لا يمكن ذلك إلا بعد مراحل وشروط وذلك بعد التأكد من وقوع الجريمة وإقامة الحجة على الجاني كالاعتراف أو الشهادة عليه، وقد يصل عددهم إلى أربعة شهود في جريمة الزنا، ويشترط فيهم العدالة وعدم التهمة مما يدل على التحري والتثبت والاحتياط بهذا العدد الذي انفرد عن بقية الجرائم الأخرى.
(والحكمة في ذلك أن الله تعالى يحب الستر، كما أن جريمة الزنا لا تقع إلا من اثنين فكأن كل شاهدين يشهدان على أحدهما) (1) .
--------------------------------------------
অতঃপর শরয়ী দণ্ডবিধি (الحدود الشرعية) বাস্তবায়ন কেবল একটি সংকীর্ণ ও সীমিত পরিসরেই ঘটে থাকে। অনেক মানুষ মনে করতে পারেন যে, ইসলামে দণ্ডবিধি (الحدود) বাস্তবায়ন সালাত আদায়ের মতোই আধিক্যপূর্ণ। অথচ প্রকৃত সত্য হলো ইসলামী শরিয়তের বিধানসমূহ শত শত, কিন্তু যে দণ্ডবিধিগুলো (الحدود) কার্যকর করা হয় তা সংখ্যায় মাত্র সাতটি: ডাকাতি (الحرابة) বা পথরোধ (قطع الطريق), ধর্মত্যাগ (الردة), বিদ্রোহ (البغي), ব্যভিচার (الزنا), অপবাদ (القذف), চুরি (السرقة) এবং মদ্যপান (شرب الخمر)। আর এগুলো যখন কার্যকর করা হয়, তখন তা কেবল বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম এবং শর্তাবলি পূরণ হওয়ার পরেই সম্ভব হয়; আর তা অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এবং অপরাধীর (الجاني) বিরুদ্ধে প্রমাণ (الحجة) স্থাপনের পর, যেমন তার স্বীকারোক্তি (الاعتراف) বা তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য (الشهادة) প্রদানের মাধ্যমে। এমনকি ব্যভিচারের (الزنا) অপরাধের ক্ষেত্রে সাক্ষীর সংখ্যা চারজন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। তাদের মধ্যে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) থাকা এবং অভিযুক্ত হওয়ার কোনো কারণ না থাকা শর্ত। যা মূলত এই নির্দিষ্ট সংখ্যার মাধ্যমে অনুসন্ধান (التحري), যাচাইকরণ (التثبت) এবং সতর্কতা (الاحتياط) অবলম্বনের বিষয়টি প্রমাণ করে, যে সংখ্যাটি অন্য সকল অপরাধ থেকে একে অনন্য করেছে।
(এর অন্তর্নিহিত হিকমত হলো এই যে, আল্লাহ তাআলা গোপনীয়তা রক্ষা করা পছন্দ করেন। অধিকন্তু ব্যভিচারের (الزنا) অপরাধ কেবল দুই ব্যক্তির মাধ্যমেই সংঘটিত হয়, তাই যেন মনে হয় প্রত্যেক দুজন সাক্ষী তাদের একজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছেন) (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال ابن القيم، رحمه الله: " وكان من تمام حكمته ورحمته أنه لم يأخذ الجناة بغير حجة، كما لم يعذبهم في الآخرة إلا بعد إقامة الحجة عليهم، وجعل الحجة التي يأخذهم بها، إما منهم وهي الإقرار، أو ما يقوم مقامه من إقرار الحال وإما أن تكون الحجة من خارج عنهم، وهي البينة، واشترط فيها العدالة، وعدم التهمة، فلا أحسن في العقول والفطر من ذلك، ولو طلب منها الاقتراح لم تقترح أحسن من ذلك، ولا أوفق منه للمصلحة " (1) .
--------------------------------------------
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "এটি তাঁর পরিপূর্ণ প্রজ্ঞা ও করুণার অন্তর্ভুক্ত যে, তিনি প্রমাণ (حجة) ব্যতীত অপরাধীদের পাকড়াও করেন না, ঠিক যেমন তিনি আখিরাতেও তাদের ওপর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করার আগে শাস্তি প্রদান করেন না। আর তিনি অপরাধীকে পাকড়াও করার ভিত্তি হিসেবে যে প্রমাণ (حجة) নির্ধারণ করেছেন, তা হয় তাদের নিজেদের পক্ষ থেকে হতে পারে যা হলো স্বীকারোক্তি (الإقرار), অথবা যা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বীকারোক্তির স্থলাভিষিক্ত হয়; অথবা প্রমাণ (حجة) হতে পারে তাদের বাইরের কোনো বিষয়, আর তা হলো অকাট্য প্রমাণ (البينة)। আর তিনি এতে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) এবং অভিযোগমুক্ত (عدم التهمة) হওয়ার শর্তারোপ করেছেন। সুতরাং মানুষের বিবেক ও স্বভাবজাত বুদ্ধির কাছে এর চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না; যদি বিবেক ও ফিতরাত থেকে কোনো প্রস্তাবনা চাওয়া হতো, তবে তারা এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও জনকল্যাণের জন্য এর চেয়ে অধিকতর উপযোগী কোনো প্রস্তাব দিতে পারত না।" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২২)
فعلى سبيل المثال على قلة تنفيذ الحد لهذه الجريمة فإنه منذ أن نزل حد الزنا لم نسمع في تاريخ أمة الإسلام أن أُقيم حد الزنا بتوافر أربعة شهود، وكذلك لم تحد امرأة حتى لو تمت عليها الشهادة كما في الملاعنة إذا لم تقر بهذه الجريمة فقد ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يقم الحد على المرأة في قصة الملاعنة وذلك: «أن هلال بن أمية قذف امرأته عند النبي صلى الله عليه وسلم بشريك بن سمحاء، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "البينة أو حدِّ في ظهرك " فقال: يا رسول الله إذا رأى أحدنا على امرأته رجلا ينطلق يلتمس البيّنة؟ فجعل النبي صلى الله عليه وسلم يقول: " البيّنة وإلا حد في ظهرك "، فقال هلال: والذي بعثك بالحق إني لصادق، فلينزلن الله ما يبرئ ظهري من الحد، فنزل جبريل وأنزل عليه {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ} فقرأ حتى بلغ {إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ} فانصرف النبي صلى الله عليه وسلم فأرسل إليها فجاء هلال فشهد، والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: " إن الله يعلم أن أحدكما كاذب، فهل منكما تائب "؟ ثم قامت فشهدت، فلما كانت عند الخامسة وقفوها وقالوا: إنها موجبة، قال ابن عباس: فتلكّأت
উদাহরণস্বরূপ, এই অপরাধের জন্য দণ্ড (حد) বাস্তবায়নের বিরলতার বিষয়ে বলা যায় যে, ব্যভিচারের দণ্ড (حد) সংক্রান্ত বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসে আমরা শুনিনি যে, চারজন সাক্ষীর উপস্থিতির ভিত্তিতে ব্যভিচারের দণ্ড (حد) কার্যকর করা হয়েছে। একইভাবে, কোনো মহিলার ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হয়নি—এমনকি যদি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য পূর্ণতাও পায়, যেমনটি মুলাআনার ঘটনায় দেখা যায়—যদি না সে এই অপরাধের কথা স্বীকার করে। এটি প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুলাআনার ঘটনায় সেই মহিলার ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করেননি। আর তার কারণ এই যে: হিলাল ইবনে উমাইয়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট শারিক ইবনে সামহার সাথে তাঁর স্ত্রীর ব্যভিচারের অপবাদ (قذف) প্রদান করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "প্রমাণ (البينة) দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হবে।" তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীর সাথে কোনো পরপুরুষকে দেখে, তবে কি সে প্রমাণের (البينة) সন্ধানে ছুটে যাবে?" নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় বলতে লাগলেন: "প্রমাণ (البينة) দাও, অন্যথায় তোমার পিঠে দণ্ড (حد) কার্যকর করা হবে।" তখন হিলাল বললেন: "সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, আমি অবশ্যই সত্যবাদী। আল্লাহ অবশ্যই এমন কিছু অবতীর্ণ করবেন যা আমার পিঠকে দণ্ড (حد) থেকে রক্ষা করবে।" তখন জিবরাইল অবতীর্ণ হলেন এবং তাঁর ওপর {আর যারা তাদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে...} আয়াতটি নাযিল করলেন এবং তিনি {যদি সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়} পর্যন্ত পাঠ করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রস্থান করলেন এবং সেই মহিলার নিকট লোক পাঠালেন। অতঃপর হিলাল আসলেন এবং সাক্ষ্য দিলেন, এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন যে তোমাদের দুজনের একজন মিথ্যাবাদী, সুতরাং তোমাদের মধ্যে কি কেউ তওবাকারী আছো?" এরপর সেই মহিলা দাঁড়ালেন এবং সাক্ষ্য দিলেন। যখন পঞ্চম সাক্ষ্যের সময় হলো, তখন লোকেরা তাঁকে থামালেন এবং বললেন: "এটিই (শাস্তি) অনিবার্য (موجبة) করে দেবে।" ইবনে আব্বাস বলেন: তখন তিনি ইতস্তত করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ونكصت حتى ظننا أنها ترجع، ثم قالت: لا أفضح قومي سائر اليوم، فمضت، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " أبصروها، فإن جاءت به أكحل العينين سابغ الإليتين خدلّج الساقين فهو لشريك بن سمحاء " فجاءت به كذلك، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " لولا ما مضى من كتاب الله لكان لي ولها شأن» (1) إنه تسامح الإسلام ونبي الإسلام.
وحتى لو ثبتت جريمة الزنا بالاعتراف وأقيم حد الرجم فإن هذا الزاني الذي يرجم لو طلب منهم التوقف عن ذلك لإدلاء ما عنده ما يدفع عنه فينبغي أن يوقف الرجم ويُسمع منه هل ما يقوله يعتد به أم لا؟
وقد صح أن ماعز بن مالك فرّ حين وجد مسّ الحجارة ومسّ الموت فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «هلا تركتموه» ؟ " (2) .
وفي رواية ابن إسحاق بسند جيد. . . «فوجد مسّ الحجارة صرخ بنا: يا قوم ردوني إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فإن قومي قتلوني وغروني من نفسي، وأخبروني أن رسول الله صلى الله عليه وسلم غير قاتلي، فلم ننزع عنه حتى قتلناه، فلما رجعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم وأخبرناه، قال: فهلا تركتموه وجئتموني به» ؟ ليستثبت رسول الله صلى الله عليه وسلم منه (3) .
--------------------------------------------
তিনি দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পিছু হটছিলেন এমনকি আমরা ধারণা করলাম যে তিনি ফিরে যাবেন। অতঃপর তিনি বললেন: "আমি আজকের দিনে আমার কওমকে আর লজ্জিত করব না।" এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা তাকে লক্ষ্য করো; যদি সে কুচকুচে কালো চোখের অধিকারী, ভারী নিতম্ববিশিষ্ট এবং সুপুষ্ট নলাবিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে সন্তানটি শারিক ইবনে সামহার।" অতঃপর সে অনুরূপ সন্তানই প্রসব করল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "যদি আল্লাহর কিতাবের পূর্ববর্তী বিধান না থাকত, তবে আমার ও তার মধ্যে একটি বিশেষ ফয়সালা হতো।" (১) এটিই হলো ইসলাম ও ইসলামের নবীর সহনশীলতা ও মহানুভবতা।
এমনকি যদি স্বীকারোক্তির মাধ্যমে ব্যভিচারের অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং রজম করার দণ্ড কার্যকর হতে থাকে, এমতাবস্থায় যদি রজমকৃত এই ব্যক্তি দণ্ড থেকে বাঁচার জন্য কোনো বক্তব্য পেশ করতে চায়, তবে রজম স্থগিত রাখা উচিত এবং তার কথা শোনা উচিত যে, তার বক্তব্যটি গ্রহণযোগ্য কি না?
এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত (صح) যে, মায়েজ ইবনে মালিক যখন পাথরের আঘাত ও মৃত্যুর যন্ত্রণা অনুভব করলেন, তখন তিনি পলায়ন করলেন। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না?" (২) ।
ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় (رواية) একটি উত্তম (جيد) সনদে (سند) এসেছে— "যখন সে পাথরের আঘাত অনুভব করল, তখন সে আমাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলল: 'হে লোকসকল! আমাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে ফিরিয়ে নিয়ে চলো। আমার কওম আমাকে হত্যা করছে এবং তারা আমাকে আমার জীবনের ব্যাপারে ধোঁকা দিয়েছে। তারা আমাকে জানিয়েছিল যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে হত্যা করবেন না।' কিন্তু আমরা তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত নিবৃত্ত হলাম না। অতঃপর যখন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট ফিরে আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম, তিনি বললেন: 'তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসলে না?'" যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার থেকে বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত হতে পারতেন (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أما المرأة التي تزني وهي حامل فإنه إن ثبت ذلك ووصل الأمر إلى السلطان فإنه لا يقام عليها الحد إلا بعد أن تضع وليدها وترضعه أو يتكفل غيرها إرضاعه فإنه حينذاك يقام عليها الحد فيكون لها توبة وطهارة.
فقد ثبت ذلك من السنة النبوية الشريفة (1) .
ولو تأملنا في هذا الحكم لرأينا من حق هذه المرأة على الإمام أن يقيم عليها الحد لتتم الطهارة والتوبة، ثم من حق الأمة على الإمام القيام بذلك، فهي حقوق قبل أن تكون حدود، وما أغلى الأعراض والدفاع عن الحياض؟
--------------------------------------------
গর্ভবতী অবস্থায় কোনো নারী ব্যভিচারে লিপ্ত হলে, যদি তা প্রমাণিত হয় এবং বিষয়টি শাসকের নিকট পৌঁছায়, তবে তার সন্তান প্রসব না করা এবং তাকে স্তন্যদান না করা পর্যন্ত অথবা অন্য কেউ তার স্তন্যদানের দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করা হবে না। সেই সময়েই তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করা হবে, যা হবে তার জন্য তওবা ও পবিত্রতাস্বরূপ।
এটি পবিত্র নববী সুন্নাহ (السنة) থেকে প্রমাণিত হয়েছে (১)।
আমরা যদি এই বিধানটি পর্যালোচনা করি তবে দেখতে পাব যে, পবিত্রতা ও তওবা পূর্ণ করার লক্ষ্যে এই নারীর এটি ইমামের ওপর প্রাপ্য অধিকার যে তিনি তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করবেন। অতঃপর ইমামের ওপর এটি উম্মাহরও একটি অধিকার যে তিনি তা সম্পন্ন করবেন। সুতরাং এগুলো নির্ধারিত দণ্ড (حدود) হওয়ার আগে মূলত অধিকার মাত্র। আর ইজ্জত-আবরু এবং পবিত্রতা রক্ষার সংগ্রাম কতই না মূল্যবান!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فإذا اكتشف أحدهم برغبة في الوقوع في هذه الجريمة أو ينوي فعلها فإنه ينصح ولا يؤخذ بنيته ولا يعاقب عليها، ولقد استخدم النبي صلى الله عليه وسلم منهاجًا فريدًا في نصح الشاب الذي رغب في الزنا فأراد أن يستأذن النبي صلى الله عليه وسلم فقال له: «أتحبه لأمك؟ قال: لا والله ، جعلني الله فداك، قال: ولا الناس يحبونه لأمهاتهم، قال: أفتحبه لابنتك؟ قال: لا والله يا رسول الله، جعلني الله فداك، قال: ولا الناس يحبونه لبناتهم، قال: أتحبه لأختك؟ قال: لا والله جعلني الله فداك ، قال: ولا الناس يحبونه لأخواتهم، قال: أفتحبه لعمتك؟ قال: لا والله جعلني الله فداك ، قال: ولا الناس يحبونه لعماتهم ، أفتحبه لخالتك؟ قال: لا والله جعلني الله فداك ولا الناس يحبونه لخالاتهم ، قال: فوضع يده عليه وقال: " اللهم اغفر له ذنبه ، وطهّر قلبه وحصّن فرجه " قال: فلم يكن بعد ذلك الفتى يلتفت لشيء» (1) .
إن هذه السماحة النبوية لم تعاقب ذلك الشاب ولم تعنفه.
--------------------------------------------
যদি কেউ এই অপরাধে লিপ্ত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে বা এটি করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে তাকে উপদেশ দেওয়া হবে; তার নিয়ত বা ইচ্ছার জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না এবং এর জন্য তাকে শাস্তিও দেওয়া হবে না। ব্যভিচারের আকাঙ্ক্ষা পোষণকারী এবং এ ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুমতি প্রার্থনাকারী জনৈক যুবককে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক অনন্য পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: «তুমি কি এটি তোমার মায়ের জন্য পছন্দ করো? সে বলল: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বললেন: মানুষও তাদের মায়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না। তিনি বললেন: তুমি কি এটি তোমার মেয়ের জন্য পছন্দ করো? সে বলল: না, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বললেন: মানুষও তাদের মেয়েদের জন্য এটি পছন্দ করে না। তিনি বললেন: তুমি কি এটি তোমার বোনের জন্য পছন্দ করো? সে বলল: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বললেন: মানুষও তাদের বোনদের জন্য এটি পছন্দ করে না। তিনি বললেন: তুমি কি এটি তোমার ফুফুর জন্য পছন্দ করো? সে বলল: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন। তিনি বললেন: মানুষও তাদের ফুফুদের জন্য এটি পছন্দ করে না। তুমি কি এটি তোমার খালার জন্য পছন্দ করো? সে বলল: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন, আর মানুষও তাদের খালাদের জন্য এটি পছন্দ করে না। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: অতপর তিনি যুবকটির ওপর হাত রাখলেন এবং বললেন: "হে আল্লাহ, তার গুনাহ ক্ষমা করুন, তার অন্তর পবিত্র করুন এবং তার লজ্জাস্থানকে হিফাযত করুন।" বর্ণনাকারী বলেন: এরপর থেকে সেই যুবক আর কোনো কিছুর দিকে ফিরে তাকাত না» (১) .
নিশ্চয়ই এই নববী মহানুভবতা সেই যুবককে শাস্তি দেয়নি এবং তাকে কঠোর তিরস্কারও করেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
علمًا أن الصحابة أرادوا أن يزجروه وينهروه عن ذلك لكن تلك السؤالات التي ألقاها المصطفى صلى الله عليه وسلم على ذلك الشاب كانت درسًا عظيمًا له ولمن سمع تلك السؤالات، لأن فيها تذكيرًا بمن سيزني إما بأم أو أخت أو عمّة أو خالة، وأنه هذّب عواطفه ودغدغ غيرته، وكذلك حينما يقع الشخص في بعض المحرمات، فإن الأصل قبل الحد الستر عليه، وذلك عند شرب الخمر أو عندما يرى الزنى.
فالقاعدة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من ستر عورة مسلم في الدنيا ستر الله عليه في الدنيا والآخرة» (1) وهذه القاعدة ذروة السماحة.
وإقامة الحدود لا بد أن تكون مقيّدة بالقضاء والسلطان فقد اتفق الفقهاء على أنه لا يجوز استيفاء الحق في العقوبات في الحقوق الشرعيّة من غير رفع الأمر إلى القاضي لأنها أمور خطيرة ، فيجب الاحتياط في إثباتها واستيفائها وهي أمور يختص بها الحاكم (2) .
أما إذا وصل أمره إلى السلطان فإنه ينظر في إثبات الجريمة: " فإن الإثبات يتحقق به حقن الدماء، وصيانة الأعراض، ورد الحقوق إلى أصحابها واستتباب الأمن في المجتمع، وسيادة الطمأنينة والنظام، وإن تنظيم الإثبات وتقنينه علامة على تنظيم الحياة الإنسانية " (3) .
--------------------------------------------
জেনে রাখা প্রয়োজন যে, সাহাবীগণ তাকে তিরস্কার ও নিষেধ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই যুবককে যেসব প্রশ্ন করেছিলেন তা ছিল তার জন্য এবং যারা সেই প্রশ্নগুলো শুনেছিল তাদের জন্য এক মহান শিক্ষা। কারণ এতে তাকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সে কার সাথে জিনা করবে— মা, বোন, ফুফু নাকি খালা? এর মাধ্যমে তিনি তার আবেগ পরিশুদ্ধ করেন এবং তার আত্মমর্যাদাবোধকে জাগ্রত করেন। তেমনিভাবে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো হারামে লিপ্ত হয়, তখন শরয়ি দণ্ডবিধি (الحدود) প্রয়োগের আগে মূল নীতি হলো তার দোষ গোপন রাখা; যেমন মদ্যপান কিংবা জিনা দেখার ক্ষেত্রে।
এর মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস: «যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন» (১) আর এই মূল নীতিটি সহনশীলতার চূড়ান্ত শিখর।
আর শরয়ি দণ্ডবিধি (الحدود) কার্যকর করার বিষয়টি অবশ্যই বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। ফকীহগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, বিচারকের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা ছাড়া শরয়ি অধিকারের ক্ষেত্রে শাস্তি কার্যকর করা বৈধ নয়, কারণ এগুলো অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তাই এগুলো প্রমাণ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক এবং এগুলো এমন বিষয় যা শাসকের বিশেষ এখতিয়ারভুক্ত (২)।
তবে যদি বিষয়টি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়, তবে তারা অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন: "নিশ্চয়ই অপরাধ প্রমাণের মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ হয়, মান-সম্মান রক্ষা পায়, অধিকার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরে যায় এবং সমাজে শান্তি-নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি সুবিন্যস্ত ও বিধিবদ্ধ করা মানবজীবন সুশৃঙ্খল হওয়ার অন্যতম নিদর্শন" (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فإذا كان الحاكم لم تتوافر لديه الإثباتات فإنه لا يقيم الحد بل يدرأ الحد بالشبهات كما في قصة الملاعنة المتقدمة، وكما في أمر المقتول من المسلمين عند يهود خيبر إذ لم يثبت من هو القاتل فدفع النبي صلى الله عليه وسلم الدية لأهل المقتول بمائة من الإبل (1) .
وفيه درء الحد بالشبهة وهي قاعدة فقهية مشهورة، وفي ذلك أثر صحيح عن ابن مسعود موقوفًا " ادرءوا الجلد والقتل عن المسلمين ما استطعتم " (2) .
وصح عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: «أتى رجل رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو في المسجد فناداه فقال: يا رسول الله إني زنيت، فأعرض عنه حتى ردد عليه أربع مرات فلما شهد على نفسه أربع مرات دعاه النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أبك جنون؟ قال: لا، قال: فهل أحصنت؟ قال: نعم، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: " اذهبوا به فارجموه» (3) وفي رواية صحيحة أن النبي صلى الله عليه وسلم لما أتاه ماعز بن مالك قال: «لعلك قبّلت أو غمزت أو نظرت؟ قال: لا، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أنكتها؟ - لا يكني - قال: نعم، قال: فعند ذلك أمر برجمه» (4) .
--------------------------------------------
বিচারকের কাছে যদি পর্যাপ্ত প্রমাণাদি বিদ্যমান না থাকে, তবে তিনি দণ্ড (الحد) কার্যকর করবেন না, বরং সন্দেহের কারণে দণ্ড (الحد) পরিহার করবেন; যেমনটি পূর্বে বর্ণিত লিআনকারী মহিলার ঘটনায় এবং খায়বরের ইহুদিদের নিকট জনৈক মুসলিম নিহত হওয়ার ঘটনায় দেখা গেছে। যেহেতু হত্যাকারী কে তা প্রমাণিত হয়নি, তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিহতের পরিবারকে একশটি উট দিয়াত হিসেবে প্রদান করেছিলেন (১)।
এর মধ্যে সন্দেহের কারণে দণ্ড (الحد) পরিহারের বিষয়টি রয়েছে, যা একটি প্রসিদ্ধ ফিকহি মূলনীতি। এ বিষয়ে ইবনে মাসউদ থেকে একটি সহিহ (صحيح) এবং মাওকুফ (موقوفًا) আছার (أثر) বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মুসলিমদের থেকে বেত্রাঘাত ও মৃত্যুদণ্ড সরিয়ে দাও" (২)।
আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে সহিহ (صح) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: «এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন যখন তিনি মসজিদে ছিলেন, অতঃপর তাকে ডেকে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে লোকটি চারবার তার কথার পুনরাবৃত্তি করলেন। যখন তিনি নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে ডাকলেন এবং বললেন: তোমার কি মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে? তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তুমি কি বিবাহিত? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তাকে নিয়ে যাও এবং রজম (পাথর নিক্ষেপে মৃত্যুদণ্ড) কর» (৩)। এবং একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় এসেছে যে, মা'ইজ ইবনে মালিক যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসলেন, তখন তিনি বললেন: «সম্ভবত তুমি কেবল চুম্বন করেছ, অথবা ইশারা করেছ, অথবা তাকিয়েছ? তিনি বললেন: না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তখন স্পষ্টভাবে বললেন (রূপক শব্দ ব্যবহার করেননি): তুমি কি তার সাথে সঙ্গম করেছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে রজম করার আদেশ দিলেন» (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وفي رواية مسلم قال: «جاء ماعز بن مالك إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله طهرني، فقال: ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه، قال: فرجع غير بعيد، ثم جاء فقال: يا رسول الله طهرني، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ويحك ارجع فاستغفر الله وتب إليه، قال: فرجع غير بعيد، ثم جاء فقال: يا رسول الله طهرني، فقال النبي صلى الله عليه وسلم مثل ذلك حتى إذا كانت الرابعة قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: فيم أطهرك؟ فقال من الزنى» . . . الحديث (1) .
ويستفاد من الحديث أنه لا يمكن إقامة الحد إلا بعد الاعتراف أربع مرات تعادل أربعة شهود، وأن الإمام يتأكد من سلامة عقل المعترف، وفيه أيضًا السماحة بقوله: ارجع فاستغفر الله وتب إليه.
أما من شهد على أحد بالزنا فإنه لا يكفي إلا بأربعة شهود، فإن شهد أقل من ذلك فإنه يقام عليهم حد القذف، وقد حصل ذلك في زمن عمر بن الخطاب رضى الله عنه لما شهد عنده أبو بكرة ونافع وشبل بن معبد على المغيرة بن شعبة بالزنى حدّهم حد القذف لما تخلف الرابع زياد فلم يشهد (2) .
--------------------------------------------
মুসলিমের এক বর্ণনা (رواية)-য় এসেছে, তিনি বলেছেন: «মাঈয ইবনে মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে পবিত্র করুন। তিনি বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! তুমি ফিরে যাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর নিকট তাওবা করো। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি অল্প দূরত্ব পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে পবিত্র করুন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তোমার প্রতি আক্ষেপ! তুমি ফিরে যাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর নিকট তাওবা করো। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি অল্প দূরত্ব পর্যন্ত গিয়ে ফিরে এলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে পবিত্র করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একইভাবে উত্তর দিলেন, যতক্ষণ না চতুর্থবার হলো; তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: আমি তোমাকে কোন বিষয় থেকে পবিত্র করব? তিনি বললেন: ব্যভিচার থেকে» . . . হাদিস (১) ।
এই হাদিস থেকে এ বিষয়টি উপলব্ধ হয় যে, চারজন সাক্ষীর সমতুল্য চারবার স্বীকৃতির (اعتراف) পূর্বে দণ্ডবিধি (حد) প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। আরও বোঝা যায় যে, ইমাম (শাসক) স্বীকারোক্তি প্রদানকারীর মানসিক সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন। এতে নবীজীর এই বাণীর মাধ্যমে মহানুভবতাও প্রকাশ পেয়েছে: "ফিরে যাও, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তাঁর নিকট তাওবা করো।"
আর যে ব্যক্তি কারো বিরুদ্ধে ব্যভিচারের সাক্ষ্য দেয়, চারজন সাক্ষী ছাড়া তা যথেষ্ট হবে না। যদি এর চেয়ে কম সংখ্যক লোক সাক্ষ্য দেয়, তবে তাদের ওপর অপবাদের দণ্ডবিধি (حد القذف) প্রয়োগ করা হবে। ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এমনটি ঘটেছিল, যখন আবু বাকরাহ, নাফে এবং শিবল ইবনে মাবাদ মুগিরা ইবনে শু'বাহর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তখন তিনি তাদের ওপর অপবাদের দণ্ডবিধি (حد القذف) প্রয়োগ করেছিলেন, যেহেতু চতুর্থ ব্যক্তি যিয়াদ সাক্ষ্য না দিয়ে পিছিয়ে গিয়েছিলেন (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সামাহাতুল ইসলাম ফিত তাআমুলি মাআ গাইরিল মুসলিমীন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وثبت عن عمر قال: لأن أخطي في الحدود بالشبهات أحب إلي من أن أقيمها بالشبهات (1) إنها سماحة الخليفة الراشد الذي تربى في مدرسة التسامح.
وقد وردت قواعد فقهية في الشبهات الدارئة للحدود ذكرها سلطان العلماء العز ابن عبد السلام فقال: الشبهات دارئة للحدود وهي ثلاثة: إحداهن في الفاعل وهو ظن حل الوطء إذا وطئ امرأة يظنها أنها زوجته أو مملوكته؛ الثانية شبهة الموطوءة كوطء الشركاء الجارية المشتركة، الثالثة في السبب المبيح للوطء كالنكاح المختلف في صحته.
--------------------------------------------
ওমর (রা.) থেকে প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "সন্দেহের (الشبهات) কারণে দণ্ডবিধি (الحدود) বাস্তবায়নে ভুল করা আমার কাছে দণ্ডবিধি কার্যকর করার চেয়ে অধিকতর পছন্দনীয়।" (১) এটি সেই খুলাফায়ে রাশেদীনের উদারতা যিনি সহনশীলতার মাদ্রাসায় লালিত-পালিত হয়েছেন।
দণ্ডবিধি (الحدود) রহিতকারী সন্দেহসমূহ (الشبهات) প্রসঙ্গে কিছু ফিকহী মূলনীতি (قواعد فقهية) বর্ণিত হয়েছে যা সুলতানুল উলামা ইয ইবন আবদুস সালাম উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: সন্দেহসমূহ (الشبهات) দণ্ডবিধিকে (الحدود) রহিতকারী (دارئة); আর এগুলো তিন প্রকার: প্রথমটি কর্তার ক্ষেত্রে, আর তা হলো সহবাস বৈধ হওয়ার ধারণা করা যখন কেউ এমন মহিলার সাথে সহবাস করে যাকে সে তার স্ত্রী বা দাসী বলে মনে করে; দ্বিতীয়টি হলো যার সাথে সহবাস করা হয়েছে তার ক্ষেত্রে সন্দেহ (شبهة), যেমন অংশীদারদের যৌথ মালিকানাধীন দাসীর সাথে সহবাস করা; তৃতীয়টি হলো সহবাস বৈধকারী কারণের মধ্যে সন্দেহ, যেমন এমন নিকাহ যার বিশুদ্ধতা (صحته) নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
--------------------------------------------