(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: -)
معيار الاختيار فى ذكر المعاهد والديار   (لسان الدين بن الخطيب)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: معيار الاختيار في ذكر المعاهد والديار

المؤلف: محمد بن عبد الله بن سعيد السلماني اللوشي الأصل، الغرناطي الأندلسي، أبو عبد الله، الشهير بلسان الدين ابن الخطيب (ت 776هـ)

الناشر: مكتبة الثقافة الدينية، القاهرة

عام النشر: 1423 هـ

عدد الصفحات: 198

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিয়ারুল ইখতিয়ার ফি যিকরিল মাআহিদ ওয়াদ দিয়ার (স্থান ও আবাসসমূহের বর্ণনায় নির্বাচনের মানদণ্ড)   (লিসানুদ্দীন ইবনুল খাতিব)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: মিয়ারুল ইখতিয়ার ফি যিকরিল মাআহিদ ওয়াদ দিয়ার (স্থান ও আবাসসমূহের বর্ণনায় নির্বাচনের মানদণ্ড)

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ আস-সালমানি আল-লাউশি বংশোদ্ভূত, আল-গারনাতি আল-আন্দালুসি, আবু আব্দুল্লাহ, যিনি লিসানুদ্দীন ইবনুল খাতিব নামে সুপরিচিত (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)

প্রকাশক: মাকতাবাতুস সাকাফাহ আদ-দীনিয়্যাহ, কায়রো

প্রকাশের বছর: ১৪২৩ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৮

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: -)
محمد بن عبد الله بن سعيد بن أحمد السّلماني

 

محمد بن عبد الله بن سعيد بن عبد الله بن سعيد بن علي بن أحمد السّلماني، قرطبيّ الأصل، ثم طليطليّ، ثم لوشيّ، ثم غرناطيّ. يكنى أبا عبد الله، ويلقّب بلسان الدين، وهو من الألقاب المشرقية. وزير، طبيب، أديب، مؤرخ، وفقيه مالكي أندلسي.

ولد بمدينة لوشة في الخامس والعشرين من شهر رجب سنة 713 هـ.

نشأ لسان الدين بغرناطة، وتأدّب على شيوخها، وهم كثر، فأخذ عنهم القرآن، والفقه، والتفسير، واللغة، والرواية، والطب، وصناعة التعديل.

التزم خدمة عدد من السلاطين كأبي الحجاج والسروي محمد الخامس المعروف بالغني بالله وتعرف على علماء المغرب وأصحاب مناصبها كابن خلدون وغيره وبدأ فيها يكتب بعض آثاره المنظومة والمنثورة.

كما وتقلّد بعض المناصب الحكومية ولذلك كان يتوخى تسلم زمام الأمور على الإطلاق، فأخذ يقوم بإبعاد رقبائه، الأمر الذي كلّفه حياته. حتى أنه لم يكن يحتمل وجود صديقه الشهير عبد الرحمن ابن خلدون في غرناطة، إذ كان يقلقه اهتمام الغني بالله به.

ثم شعر ابن الخطيب بأنّ أعداءه، أخذوا يكيدون له عند الغني بالله، وتخيّل أن الغني بالله أخذ يميل إلى قبول وشاياتهم، فاتّصل سرّاً بسلطان المغرب أبي فارس عبد العزيز بن أبي الحسن المريني، فوعده بأن يؤمّن له الحماية اللازمة والرعاية الكافية، وأخذ منه عهداً بالإقامة في كنفه. عندئذ استأذن الغنيّ بالله في تفقّد الثغور، وسار إليها في لمّة من فرسانه، ومعه ابنه عليّ، فمال إلى جبل طارق، فتلقّاه قائد الجبل، بناء على أمر سلطان المغرب المذكور أعلاه، فأجاز إلى سبتة في جمادى الآخرة من عام 773 هـ، ثم توجّه إلى تلمسان فوصلها في التاسع عشر من رجب من العام المذكور، واستقبله السلطان أحسن استقبال، وأحلّه من مجلسه محل الاصطفاء.

وفي الشهر نفسه من السنة نفسها أرسل سلطان المغرب سفيره إلى غرناطة، فأتى بأسرة ابن الخطيب مكرّمة.

عندئذ وجّه إليه القاضي النباهي تهمة الإلحاد والزندقة والطعن في الشريعة والوقوع في جناب الرسول الكريم، بعد أن نعى عليه تدخّله في شؤون القضاء أيام ولايته القضاء، فأصدر فتوى بإحراق كتبه، فأحرقت في ساحة غرناطة، وصودرت أملاكه، واستحثّ سلطان المغرب على تسليمه لإجراء العقوبة عليه، فرفض. ولمّا توفي سلطان المغرب في ربيع الآخر من عام 774 هـ فقد ابن الخطيب حاكماً مخلصاً يحميه من أعدائه. وأخيراً أودع في السجن، فطوقوا السجن ليلاً وقتلوه خنقاً. ثم أخرجوا جثته من القبر، وأشعلوا من حوله النار، فاحترق شعره واسودّت بشرته، ثم أعيد إلى القبر قبل أن يحترق، وذلك في ربيع الأول من العام 776 هـ.

أفاد ابن خطيب من أبرز أساتذة ذلك العصر ولكنه لم يرب الكثير من التلامذة إذ لم يكن له مجلس درس.

آثاره

وله تأليفات كثيرة تربو على الستّين مؤلّفاً، ما بين كتاب ورسالة، منها: آداب الوزارة، الإحاطة في أخبار غرناطة، أوصاف الناس في التاريخ والصلاة، جيش التوشيح، رقم الحلل في نظم الدول، روضة التعريف بالحب الشريف، ريحانة الكتاب وغيرها.
মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আহমদ আস-সালমানি

 

মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন আলী বিন আহমদ আস-সালমানি; তিনি বংশগতভাবে কর্ডোভার (কুরতুবি), এরপর টলেডোর (তুলইতলি), এরপর লোজার (লাউশি) এবং পরবর্তীতে গ্রানাডার (গারনাতি) অধিবাসী ছিলেন। তাঁর কুনিয়াত ছিল আবু আব্দুল্লাহ এবং উপাধি ছিল লিসানুদ্দীন, যা একটি প্রাচ্য উপাধি। তিনি ছিলেন একজন উজির (মন্ত্রী), চিকিৎসক, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক এবং আন্দালুসীয় মালিকি ফকিহ।

৭১৩ হিজরির ২৫শে রজব তিনি লোজা (লাউশাহ) শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

লিসানুদ্দীন গ্রানাডায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার অসংখ্য শায়খদের নিকট শিষ্টাচার ও শিক্ষা লাভ করেন। তিনি তাঁদের নিকট থেকে কুরআন, ফিকহ, তাফসির, ভাষা, হাদিস বর্ণনা (রিওয়ায়াত), চিকিৎসা শাস্ত্র এবং মানদণ্ড নির্ধারণের শিল্প (তাদিল) অর্জন করেন।

তিনি আবুল হাজ্জাজ এবং আল-গানি বিল্লাহ নামে পরিচিত সারওয়ি মুহাম্মদ আল-খামিসের (পঞ্চম মুহাম্মদ) মতো বেশ কয়েকজন সুলতানের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি ইবনে খালদুনসহ মাগরেবের (মরক্কো অঞ্চল) আলিমগণ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত হন এবং সেখানে তাঁর কাব্যিক ও গদ্য রচনার কিছু অংশ লিখতে শুরু করেন।

এছাড়াও তিনি কিছু সরকারি পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি সর্বময় ক্ষমতা পরিচালনার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। এ কারণে তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতে থাকেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবনের বিনিময়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল। এমনকি তিনি গ্রানাডায় তাঁর প্রখ্যাত বন্ধু আব্দুর রহমান ইবনে খালদুনের উপস্থিতিও সহ্য করতে পারতেন না, কারণ আল-গানি বিল্লাহর ইবনে খালদুনের প্রতি বিশেষ মনোযোগ তাকে বিচলিত করত।

এরপর ইবনে আল-খতিব অনুভব করলেন যে তাঁর শত্রুরা আল-গানি বিল্লাহর কাছে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং তিনি ধারণা করলেন যে আল-গানি বিল্লাহ তাদের চোগলখুরি বা অপবাদ গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। ফলে তিনি গোপনে মাগরেবের সুলতান আবু ফারিস আব্দুল আজিজ বিন আবু হাসান আল-মারিনির সাথে যোগাযোগ করেন। সুলতান তাকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ও পর্যাপ্ত যত্নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং তাঁর আশ্রয়ে থাকার অঙ্গীকার করেন। তখন তিনি সীমান্ত পরিদর্শনের অজুহাতে আল-গানি বিল্লাহর নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেন এবং একদল অশ্বারোহী নিয়ে সেদিকে যাত্রা করেন। সাথে তাঁর পুত্র আলীও ছিলেন। তিনি জিব্রাল্টার (জাবাল তারিক) পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হন এবং মাগরেবের সুলতানের নির্দেশানুযায়ী পাহাড়ের সেনাপতি তাকে অভ্যর্থনা জানান। ৭৭৩ হিজরির জুমাদাল আখিরা মাসে তিনি সমুদ্র পাড়ি দিয়ে সেউতা (সাবতাহ) পৌঁছান এবং এরপর তিলিমসানে গমন করে উক্ত বছরের ১৯শে রজব সেখানে উপস্থিত হন। সুলতান তাকে চমৎকারভাবে অভ্যর্থনা জানান এবং নিজের মজলিসে তাকে বিশেষ স্থান দান করেন।

সেই বছরের একই মাসে মাগরেবের সুলতান গ্রানাডায় তাঁর দূত পাঠান এবং সসম্মানে ইবনে আল-খতিবের পরিবারকে নিয়ে আসেন।

এমতাবস্থায় কাজী আন-নাবাহি তাঁর বিরুদ্ধে নাস্তিকতা, ধর্মদ্রোহিতা (জানদাকা), শরিয়তকে আক্রমণ এবং মহান রাসূলের মর্যাদাহানির অভিযোগ আনেন; অথচ এর আগে তিনি কাজী থাকাকালীন বিচার বিভাগে ইবনে আল-খতিবের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছিলেন। এরপর তিনি তাঁর কিতাবসমূহ পুড়িয়ে ফেলার ফতোয়া জারি করেন, ফলে গ্রানাডার ময়দানে তাঁর বইগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। মাগরেবের সুলতানের কাছে তাকে সোপর্দ করার জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হয় যাতে তাঁর ওপর দণ্ড কার্যকর করা যায়, কিন্তু সুলতান তা প্রত্যাখ্যান করেন। যখন ৭৭৪ হিজরির রবিউস সানি মাসে মাগরেবের সুলতান ইন্তেকাল করেন, তখন ইবনে আল-খতিব এমন একজন একনিষ্ঠ শাসককে হারালেন যিনি তাকে শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা করতেন। অবশেষে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়, এবং এক রাতে তারা কারাগার ঘেরাও করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর কবর থেকে তাঁর মৃতদেহ বের করে চারদিকে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাঁর চুল পুড়ে যায় এবং গায়ের চামড়া কালো হয়ে যায়। এরপর পুরোপুরি পুড়ে যাওয়ার আগেই তাকে পুনরায় কবরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এটি ৭৭৬ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের ঘটনা।

ইবনে আল-খতিব সে যুগের বিশিষ্ট উস্তাদদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, কিন্তু তিনি খুব বেশি ছাত্র গড়ে তুলতে পারেননি কারণ নিয়মিত পাঠদানের কোনো মজলিস তাঁর ছিল না।

তাঁর রচনাবলি

তাঁর ষাটের অধিক রচনা রয়েছে, যার মধ্যে কিতাব এবং রিসালাহ (প্রবন্ধ) উভয়ই বিদ্যমান। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: আদাবুল উইজারাহ, আল-ইহাতা ফি আখবার-ই গারনাতা, আওসাফুন নাস ফিত তারিখ ওয়াস সালাহ, জাইশুত তাউশিহ, রকমুল হুল্লাল ফি নাজমিল দুওয়াল, রওদাতুত তারিফ বিল হুব্বিশ শরিফ, রাইহানাতুল কিতাব এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة

أن كتاب «معيار الاختيار فى ذكر المعاهد والديار» لابن الخطيب من اطرف كتب المؤلف الشهيرة، فقد صاغه على هيئة مقامة ادبية ذات منهاج وأسلوب فنى انفرد به لسان الدين روعة وابداعا، مستهدفا وصف اهم المدن الاندلسية والمغربية جغرافيا واجتماعيا كما رآها وعاصرها فى منتصف القرن الثامن الهجرى (منتصف الرابع عشر الميلادى) . فلم تكن المقامة التقليدية لديه هدفا لذاتها من شعوذة واستجداء كما هى عند الحريرى والهمذانى وغيرهما، أو وعظ وتذكير بالدار الآخرة وما فيها من ثواب وعقاب كما هى عند الزمخشرى والدمياطى وامثالهما، بل ان المؤلف كانت غايته علمية بحتة ابرزها فى صورة ادبية ثقافية ممتعة، وبالرغم من قيود السجع والمحسنات البديعية الا أن وصفه للبلدان فى مناحى شتى قد جاء فى صورة مشوقة تنبض حياة، وتتألق براعة. ويصف المقرى هذا الكتاب فيقول:

«وللسان الدين مقامة عظيمة بديعة، وصف بها بلاد الاندلس والعدوة، وأتى فيها من دلائل براعته بالعجب العجاب «1» » .

ولقد أورد ابن الخطيب «معيار الاختيار» ضمن مؤلفه الادبى الضخم «ريحانة الكتاب، ونجعة المنتاب» الذي ما يزال مخطوطا، وان كان بعض الباحثين قد قام بتحقيق اجزاء منه، فمن اشهر نسخ «الريحانة» التى ورد بها «المعيار» واقتضت طبيعة التحقيق والدراسة الرجوع اليها فى كل من المغرب (الرباط- فاس) وتونس والجزائر والقاهرة واسبانيا وروما:

1- نسختان بدار الكتب بالقاهرة.

الاولى: يوجد منها الجزء الاول وبعض الجزء الاخير فى مجلدين، وبخط مغربى، فى ثناياها ثقوب ونقص واضطراب، وهذان الجزآن مصوران بالفوتوستات عن النسخة الخطية المحفوظة بمكتبة تونس، ويقعان فى 309 لوحة، مسجلين برقم 19875 ز.
ভূমিকা

ইবনে আল-খতিবের «মেয়ার আল-ইখতিয়ার ফি জিকর আল-মা’হিদ ওয়া আদ-দিয়ার» গ্রন্থটি লেখকের অন্যতম চমৎকার ও প্রসিদ্ধ বই। তিনি এটিকে একটি সাহিত্যিক মাকামাহ-এর আদলে রচনা করেছেন, যার পদ্ধতি ও শিল্পশৈলী লিসানুদ্দিনের অনুপম শ্রেষ্ঠত্ব ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। এর লক্ষ্য ছিল অষ্টম হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি (চতুর্দশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর মাঝামাঝি) সময়ে আন্দালুসিয়া ও মরক্কোর প্রধান শহরগুলোর ভৌগোলিক ও সামাজিক বর্ণনা প্রদান করা, যেমনটি তিনি নিজে দেখেছিলেন এবং যে সময়ে তিনি বসবাস করতেন। তাঁর কাছে ঐতিহ্যবাহী মাকামাহ কোনো চাতুরি বা ভিক্ষাবৃত্তির লক্ষ্য ছিল না, যেমনটি আল-হারিরি, আল-হামাদানি এবং অন্যদের ক্ষেত্রে দেখা যায়; অথবা এটি পরকাল এবং সেখানকার সওয়াব ও শাস্তি সম্পর্কে উপদেশ বা স্মারক ছিল না, যেমনটি আল-জামাকশারি, আদ-দামিয়াতি এবং তাদের সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়। বরং লেখকের উদ্দেশ্য ছিল বিশুদ্ধভাবে জ্ঞানতাত্ত্বিক, যা তিনি একটি আনন্দদায়ক সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অবয়বে ফুটিয়ে তুলেছেন। অন্ত্যমিল এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, বিভিন্ন দিক থেকে দেশগুলোর তাঁর বর্ণনা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, প্রাণবন্ত এবং পাণ্ডিত্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। আল-মাক্কারি এই গ্রন্থটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন:

«লিসানুদ্দিনের একটি সুমহান ও চমৎকার মাকামাহ রয়েছে, যাতে তিনি আন্দালুসিয়া ও মাগরিবের (মরক্কো) শহরগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন এবং এতে তিনি তাঁর অসাধারণ মেধার বিস্ময়কর সব নিদর্শন তুলে ধরেছেন।»

ইবনে আল-খতিব তাঁর বিশাল সাহিত্যকর্ম «রাইহানাতুল কিতাব ওয়া নুজয়াতুল মুনতাব»-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে «মেয়ার আল-ইখতিয়ার»-কে স্থান দিয়েছেন, যা এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে। যদিও কিছু গবেষক এর কিছু অংশ সম্পাদনা করেছেন। «রাইহানা»-র সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অনুলিপিগুলো যাতে «মেয়ার» অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং গবেষণা ও সম্পাদনার প্রকৃতি অনুযায়ী যা মরক্কো (রাবাত-ফেজ), তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, কায়রো, স্পেন এবং রোমে অনুসন্ধানের দাবি রাখে, তা হলো:

১- কায়রোর দারুল কুতুব-এ সংরক্ষিত দুটি অনুলিপি।

প্রথমটি: এর প্রথম অংশ এবং শেষ অংশের কিছু অংশ দুই খণ্ডে বিদ্যমান, যা মাগরিবি লিপিতে লিখিত; এর মাঝে কিছু ছিদ্র, অসম্পূর্ণতা এবং অসংলগ্নতা রয়েছে। এই দুই অংশ তিউনিসিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে ফটোস্ট্যাট করা হয়েছে, যা ৩০৯টি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত এবং ১৯৮৭৫-যাই নম্বরে নিবন্ধিত।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৪)
الثانية: بها نقص يسير من الخطبة، اولها بعد الديباجة: «.. وسميته لتنوع بساتينه المنسوقة، وتعدد افانينه المعشوقة، بريحانة الكتاب، ونجعة المنتاب» .. الخ، وتقع هذه النسخة فى مجلدين كتبا بخط النسخ، وقد نقلا عن الجزاين المخطوطين المقيدين بدار الكتب المصرية برقم 524 أدب س، ويقعان فى 460- 650 صفحة، مسطرتها 21 سطرا، وقد سجلا تحت رقم 3459 ز، وقد اتخذنا لهذه النسخة فى التحقيق الرمز «د» .

2- نسخة الاسكوريال بمدريد.

وهى مسجلة برقم 554 من فهرس الغزيرى، وهى نسخة جيدة للغاية قد كتبت بخط اندلسى باهت، وتقع فى 281 لوحة كبيرة، أعنى 562 صفحة، بكل صفحة 27 سطرا، وفى كل سطر 12 كلمة فى المعدل العام، وقد ذكر فى نهاية هذه النسخة أنها كتبت سنة 888 هـ، وقد رمزنا اليها خلال البحث بالرمز «أ» .

3- جزء مخطوط بمكتبة الفاتيكان الرسولية بروما، مكتوبة بخط مغربى وهى عبارة عن السفر الثالث من «الريحانة» ، وعدد لوحاتها 119 لوحة كبيرة، مسجلة برقم 252.

وقد احتوى هذا السفر على «معيار الاختيار» ، ورمزنا لهذا المخطوط اثناء التحقيق بالرمز «ف» .

4- قطعة مخطوطة أخرى فى مكتبة الجزائر الوطنية من «الريحانة» ، تشتمل على 181 لوحة مزدوجة من القطع الكبير، مكتوبة بأكثر من خط معظمه قديم، والبعض منها- ولا سيما الوسط- قد أكمل مؤخرا، أو بتاريخ أحدث، وهذه النسخة تشتمل على النصف الثانى والاخير من «الريحانة» ، حيث تبدا بالفصل الذي يحمل عنوان «جمهور الاغراض السلطانيات» ، ويغلب على الظن أن هذه النسخة هى أقدم جزء من المخطوط رقم 2010، وقد احتوى هذا الجزء- ضمن ما احتوى- كتاب «معيار الاختيار» موضوع الحديث، وقد رمزنا اليها بالرمز «ج» .

5- وفى خزانة القرويين بفاس قطعتان من «ريحانة الكتاب» :

الاولى: تضم السفرين الرابع والخامس، وتقع فى 99 لوحة مزدوجة من القطع الكبير، فى كل صفحة منها 27 سطرا، قد كتبت بخط مغربى، وفى نهايتها تاريخ الفراغ من نسخها، وهو يوم الاحد قبل الزوال عام تسعة عشر
দ্বিতীয়টি: এতে ভূমিকার সামান্য অংশ বাদ পড়েছে। মুখবন্ধের পর এর শুরু এভাবে: «...আর আমি এর সুবিন্যস্ত বাগানসমূহের বৈচিত্র্য এবং এর প্রিয় শাখা-প্রশাখার আধিক্যের কারণে এর নামকরণ করেছি ‘রায়হানাতুল কিতাব ওয়া নুজআতুল মুনতাব’...» ইত্যাদি। এই পাণ্ডুলিপিটি দুই খণ্ডে বিভক্ত যা নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে। এগুলো মিসরের ‘দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ’তে ৫২৪ আদব-সীন নম্বরে সংরক্ষিত দুটি পাণ্ডুলিপি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে। এই দুই খণ্ড ৪৬০-৬৫০ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত, যাতে প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি করে লাইন রয়েছে। এগুলো ৩৪৫৯-যা নম্বরে নিবন্ধিত হয়েছে। আমরা সম্পাদনার কার্যে এই পাণ্ডুলিপিটির জন্য ‘দাল’ প্রতীক নির্ধারণ করেছি।

২- মাদ্রিদের এসকোরিয়াল পাণ্ডুলিপি।

এটি আল-গাজিরি ক্যাটালগের ৫৫৪ নম্বরে নিবন্ধিত। এটি একটি অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের পাণ্ডুলিপি যা হালকা আন্দালুসি লিপিতে লেখা হয়েছে। এটি ২৮১টি বড় পাতায় (অর্থাৎ ৫৬২ পৃষ্ঠায়) বিন্যস্ত। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি করে লাইন এবং সাধারণ গড়ে প্রতি লাইনে ১২টি করে শব্দ রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপির শেষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি ৮৮৮ হিজরি সালে লেখা হয়েছিল। গবেষণার সময় আমরা এটিকে ‘আলিফ’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৩- রোমের ভ্যাটিকান অ্যাপোস্টোলিক লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপির অংশ। এটি মাগরিবি লিপিতে লেখা এবং এটি ‘আর-রায়হানা’র তৃতীয় খণ্ড। এর পাতার সংখ্যা ১১৯টি বড় পাতা, যা ২৫২ নম্বরে নিবন্ধিত।

এই খণ্ডটিতে ‘মিইয়ারুল ইখতিয়ার’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সম্পাদনার সময় আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকে ‘ফা’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

৪- আলজেরিয়া জাতীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত ‘আর-রায়হানা’র অন্য একটি পাণ্ডুলিপির অংশ। এতে বড় আকারের ১৮১টি দ্বি-পৃষ্ঠার পাতা রয়েছে। এটি একাধিক লিপিতে লিখিত যার অধিকাংশই প্রাচীন; তবে কিছু অংশ—বিশেষ করে মাঝখানের অংশটুকু—পরবর্তীতে বা নিকট অতীতে পূর্ণ করা হয়েছে। এই কপিটিতে ‘আর-রায়হানা’র দ্বিতীয় ও শেষ অর্ধাংশ রয়েছে। এটি ‘জুমহুরুল আগরাদ আস-সুলতানিয়্যাত’ শিরোনামের অধ্যায় দিয়ে শুরু হয়েছে। প্রবল ধারণা এই যে, এই কপিটি ২০১০ নম্বর পাণ্ডুলিপির সবচেয়ে প্রাচীন অংশ। এই অংশে অন্যান্য বিষয়ের সাথে আলোচ্য বিষয় ‘মিইয়ারুল ইখতিয়ার’ কিতাবটিও রয়েছে। আমরা এটিকে ‘জীম’ প্রতীক দিয়ে চিহ্নিত করেছি।

৫- মরক্কোর ফেজ শহরের আল-কারউইয়্যিন লাইব্রেরিতে ‘রায়হানাতুল কিতাব’-এর দুটি খণ্ডাংশ রয়েছে:

প্রথমটি: এতে চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি বড় আকারের ৯৯টি দ্বি-পৃষ্ঠার পাতা নিয়ে গঠিত। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ২৭টি লাইন রয়েছে। এটি মাগরিবি লিপিতে লেখা হয়েছে। এর শেষে এটি নকল সম্পন্ন করার তারিখ উল্লেখ আছে, যা ছিল উনিশ হিজরি সালের এক রবিবার সূর্য ঢলে পড়ার পূর্বে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৫)
ومائة وألف (لم يذكر تاريخ اليوم أو الشهر) وهى برقم 40- 565، ورمزها «س» فى تحقيقتا.

أما القطة الثانية: فهى برقم 3011، وتنطبق عليها نفس أوصاف الاولى ولا سيما الخط.

6- أما فى الخزانة العامة بالرباط (قسم المخطوطات والمحفوظات) فتوجد عدة نسخ من «الريحانة» ، اظهرها واشهرها النسخة الكتانية المسجلة برقم 331 ك، وهى عبارة عن مجلد ضخم يتألف من 609 صفحة من القطع الكبير، وفى كل صفحة 25 سطرا، قد كتبت بخط مغربى واضح، وبها زيادات حديثة، أغلب الظن أنها ليست من انشاء ابن الخطيب، ولا سيما الجزء الخاص بذكر ملوك بنى امية والخلفاء من بنى العباس، وهو غفل من تاريخ كتابته، أما النسخة الاساسية للريحانة فتقع فى 599 صفحة، وقد رمزنا اليها بالرمز «ك»

وتوجد بنفس هذه الخزانة غير التى ذكرنا- سبع نسخ من «الريحانة» قد اشتمل معظمها على «معيار الاختيار» وفيما يلى ما تضمن منها «المعيار» :

فأولها: نسخة كاملة عبارة عن مجلدين من الحجم المتوسط، ويشتمل أولها على 222 لوحة، مكتوبة بخط مغربى واضح. والمجلد الآخر عبارة عن 215 لوحة من نفس الحجم، وقد كتب بنفس الخط المغربى الواضح. وهذه النسخة بمجلديها مسجلة برقم 2195 بالمكتبة الملكية، وقد رمزنا اليها بالرمز «ل» اثناء التحقيق.

وثانيتها: تشتمل على السفرين الرابع والخامس من «الريحانة» وعدد لوحاتها 145 لوحة من الحجم الصغير، ورقم التسجيل 600

وثالثها: عبارة عن النصف الثانى من «الريحانة» ، وهى نسخة تحتوى على الاسفار الرابع والخامس والسادس، وتقع جميعها فى 186 لوحة.

ورابعها: نسخة ذات اوراق بالية وقديمة تشمل 40 لوحة كبيرة، قد كتب على الصفحة الاولى منها «السفر الثالث من ريحانة الكتاب» ، وفى نهاية اللوحة الاخيرة عبارة «كمل السفر الخامس» ورقم تسجيلها 6400.
১১০০ হিজরি (দিন বা মাসের তারিখ উল্লেখ করা হয়নি), এটি ৪০-৫৬৫ নম্বরে নিবন্ধিত এবং আমাদের সম্পাদনায় এর প্রতীক হলো ‘সীন’।

দ্বিতীয় অংশটি: এটি ৩০১১ নম্বরে নিবন্ধিত এবং এর ওপর প্রথমটির ন্যায় একই বৈশিষ্ট্যসমূহ প্রযোজ্য, বিশেষ করে লিপির ক্ষেত্রে।

৬- রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ বা সাধারণ গ্রন্থাগারে (পাণ্ডুলিপি ও সংরক্ষণাগার বিভাগ) ‘আর-রাইহানা’-এর বেশ কয়েকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ হলো ৩৩১ ‘কাফ’ নম্বরে নিবন্ধিত কিত্তানি পাণ্ডুলিপিটি। এটি একটি বিশাল খণ্ড যা বড় আকারের ৬০৯ পৃষ্ঠা নিয়ে গঠিত। প্রতি পৃষ্ঠায় ২৫টি লাইন রয়েছে, যা স্পষ্ট মাগরিবি লিপিতে লিখিত। এতে কিছু আধুনিক সংযোজন রয়েছে, প্রবল ধারণা মতে এগুলো ইবনুল খাতিবের রচনা নয়, বিশেষ করে উমাইয়া বংশের রাজা এবং আব্বাসীয় বংশের খলিফাদের বর্ণনাসংবলিত অংশটি; এর অনুলিখনের কোনো তারিখ উল্লেখ নেই। আর ‘আর-রাইহানা’-এর মূল পাণ্ডুলিপিটি ৫৯৯ পৃষ্ঠা সংবলিত, যাকে আমরা ‘কাফ’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ছাড়াও উক্ত গ্রন্থাগারে ‘আর-রাইহানা’-এর আরও সাতটি পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। এগুলোর অধিকাংশে ‘মিয়ারুল ইখতিয়ার’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিচে ‘মিয়ার’ অন্তর্ভুক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রথমটি: একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি যা মাঝারি আকারের দুটি খণ্ড নিয়ে গঠিত। এর প্রথম খণ্ডে ২২২টি পত্র রয়েছে, যা স্পষ্ট মাগরিবি লিপিতে লিখিত। অন্য খণ্ডটি একই আকারের ২১৫টি পত্র নিয়ে গঠিত এবং একই স্পষ্ট মাগরিবি লিপিতে লিখিত। দুই খণ্ড বিশিষ্ট এই পাণ্ডুলিপিটি রাজকীয় গ্রন্থাগারে ২১৯৫ নম্বরে নিবন্ধিত। সম্পাদনার সময় আমরা একে ‘লাম’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

দ্বিতীয়টি: এটি ‘আর-রাইহানা’-এর চতুর্থ ও পঞ্চম খণ্ড অন্তর্ভুক্ত করে। এর পত্র সংখ্যা ছোট আকারের ১৪৫টি এবং এর নিবন্ধন নম্বর ৬০০।

তৃতীয়টি: এটি ‘আর-রাইহানা’-এর শেষার্ধ। এই পাণ্ডুলিপিটি চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ড ধারণ করে এবং সব মিলিয়ে এর পত্র সংখ্যা ১৮৬টি।

চতুর্থটি: এটি একটি জীর্ণ ও প্রাচীন পাতাবিশিষ্ট পাণ্ডুলিপি যা ৪০টি বড় আকারের পত্র সংবলিত। এর প্রথম পৃষ্ঠায় লেখা আছে ‘রাইহানাতুল কিতাব-এর তৃতীয় খণ্ড’ এবং শেষ পত্রের শেষে ‘পঞ্চম খণ্ড সমাপ্ত হলো’ বাক্যটি লিখিত আছে। এর নিবন্ধন নম্বর ৬৪০০।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৬)
هذا، ولا يغيب عن الفكر أن هناك نسخا أخرى من مؤلف ابن الخطيب «ريحانة الكتاب» فى حوزة المكتبات الخاصة، جلها فى المغرب الاقصى، ومعظمها قد انتظم «معيار الاختيار» ، بيد أنه لا يتسنى للباحث أن يستدل ويطلع عليها فى سهولة ويسر لسبب أو لآخر، فمن ذلك على سبيل المثال النسخة الجيدة التى بمكتبه صديقى الاستاذ عبد الكبير الفهرى الفاسى بالرباط، وقد تصفحت سفرا خاصا ب «معيار الاختيار» فوجدتها نسخة قريبة الشبه خطا ونسخا من النسخة الاولى الخاصة بالمكتبة الكتانية التى أشرنا اليها فى ثنايا الحديث عن نسخ الخزانة العامة بالرباط.

ونرى- بهذه المناسبة- أن نذكر أن مؤرخ المملكة المغربية الاستاذ عبد الوهاب بن منصور قد أخبرنا فى صدد «معيار الاختيار» بأنه سبق أن رأى نسخة تكاد تكون فريدة منه لدى أحد شيوخ مدينة «تلمسان» منذ مدة طويلة، وترجع أهميتها لكون هذه النسخة قد اشتملت على وصف تلك المدينة وهو ما تنفرد به من دون النسخ الاخرى الخالية منها تماما، ويعزز رواية الاستاذ عبد الوهاب وجود وصف مدينة تلمسان فى كتاب «نفح الطيب» (ج 9 ص 340- 341) وهو لابن الخطيب كما اثبته المقرى، والاسلوب فى الوصف على نمط الاسلوب الذي انتهجه المؤلف فى «معيار الاختيار» من بداية بالاستفسار: «قلت فمدينة تلمسان؟ فاجابة من الراوى: قال:

«تلمسان مدينة جمعت بين الصحراء والريف، ووضعت فى موضع شريف..

الخ» ، ثم يعقب وصفه للمدينة بما عودنا من ايراد أبرز المثالب كمثيلاتها، فقال: «.. ألا أنها بسبب حب الملوك، مطعمة للملوك. ومن أجل جمعها الصيد فى جوف الفرا، مغلوبة للامراء،.. الخ» .

حقا لقد كانت «تلمسان» يومئذ ضمن مملكة بنى مرين حينما امتد ملكهم الى الجزائر عام 796 هـ (1393 م) ، واضحى ملك بنى زيان تابعا لبنى مرين، وبقى الامر كذلك حتى دب الضعف فى الدولة المرينية، واستبد بنو وطاس ووزراؤهم بالامر، فهيأ ذلك لبنى زيان أن يستقلوا مرة أخرى بأمر تلمسان، كما هيا مثل هذا الاستقلال للاشراف أن يظهروا فى مراكش بجنوب المغرب «1» .

وقد وفد ابن الخطيب فى ذلك الابان على مدينة تلمسان سفيرا ثم زائرا، وأخيرا عندما لجا فارا من الاندلس، حيث احتمى بظلال بنى مرين على ما
এটিও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ইবনুল খাতিবের রচনা ‘রায়হানাতুল কিতাব’-এর আরও কিছু পাণ্ডুলিপি ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারসমূহে সংরক্ষিত আছে, যার অধিকাংশই দূরবর্তী মাগরিবে (মরক্কো) অবস্থিত। এগুলোর বেশিরভাগই ‘মে’য়ারুল ইখতিয়ার’ গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে কোনো না কোনো কারণে গবেষকদের পক্ষে এগুলোর সন্ধান পাওয়া বা তা পর্যালোচনা করা সহজসাধ্য হয়ে ওঠে না। উদাহরণস্বরূপ, রাবাতে অবস্থিত আমার বন্ধু অধ্যাপক আবদুল কাবীর আল-ফিহরি আল-ফাসির গ্রন্থাগারে থাকা উৎকৃষ্ট পাণ্ডুলিপিটির কথা উল্লেখ করা যায়। আমি ‘মে’য়ারুল ইখতিয়ার’ সংশ্লিষ্ট একটি খণ্ড পর্যালোচনা করে দেখেছি যে, এটি রাবাতের পাবলিক লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপিগুলো নিয়ে আলোচনার সময় উল্লিখিত কাত্তানিয়া গ্রন্থাগারের প্রথম পাণ্ডুলিপিটির সাথে হস্তাক্ষর ও প্রতিলিপির দিক থেকে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ।

এই প্রসঙ্গে আমরা উল্লেখ করা আবশ্যক মনে করি যে, মরক্কো সাম্রাজ্যের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাব বিন মানসুর ‘মে’য়ারুল ইখতিয়ার’ সম্পর্কে আমাদের জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ সময় আগে তিনি ‘তিলিমসান’ শহরের জনৈক শায়খের কাছে এই গ্রন্থের একটি অনন্যপ্রায় পাণ্ডুলিপি দেখেছিলেন। এর গুরুত্ব এই কারণে যে, উক্ত পাণ্ডুলিপিটিতে সেই শহরের বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা অন্য সব পাণ্ডুলিপিতে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। অধ্যাপক আবদুল ওয়াহাবের এই বর্ণনাকে শক্তিশালী করে ‘নাফহুত তীব’ (৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪০-৩৪১) গ্রন্থে তিলিমসান শহরের বর্ণনার উপস্থিতি। আল-মাক্কারীর বর্ণনা মতে এটি ইবনুল খাতিবেরই রচনা এবং বর্ণনার শৈলীটি লেখক ‘মে’য়ারুল ইখতিয়ার’-এ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন ঠিক সেই ধাঁচেরই। এর শুরু হয়েছে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে: “আমি বললাম, তবে তিলিমসান শহরটি কেমন?” বর্ণনাকারী উত্তর দিয়ে বললেন:

“তিলিমসান এমন এক শহর যা মরুভূমি ও গ্রামাঞ্চলের সমন্বয় ঘটিয়েছে এবং এক মর্যাদাপূর্ণ স্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে... ইত্যাদি।” এরপর তিনি শহরের বর্ণনার শেষে তাঁর চিরাচরিত অভ্যাসের মতো অন্যান্য শহরের ন্যায় এখানকার প্রধান ত্রুটিগুলোও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: “...তবে রাজাদের প্রিয় হওয়ার কারণে এটি রাজাদের খাদ্যস্থলে (শোষণস্থল) পরিণত হয়েছে। আর এর শিকারের প্রাচুর্যের কারণে এটি আমিরদের দ্বারা বিজিত হয়েছে... ইত্যাদি।”

প্রকৃতপক্ষে তিলিমসান তখন বনু মারিন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যখন ৭৯৬ হিজরিতে (১৩৯৩ খ্রিস্টাব্দ) তাদের রাজত্ব আলজেরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। তখন বনু জিয়ান রাজবংশ বনু মারিনদের অনুগত হয়ে পড়ে। মারিনি রাষ্ট্র দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত এবং বনু ওয়াত্তাস ও তাদের উজিররা ক্ষমতা দখল না করা পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল। এই পরিস্থিতি বনু জিয়ানদের জন্য পুনরায় তিলিমসানের বিষয়ে স্বাধীন হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যেমন এই স্বাধীনতা দক্ষিণ মরক্কোর মারাকেশে আশরাফদের (সৈয়দ বংশ) আত্মপ্রকাশের পথ সুগম করেছিল [১]।

সেই সময়ে ইবনুল খাতিব প্রথমে রাষ্ট্রদূত হিসেবে, তারপর পর্যটক হিসেবে এবং সর্বশেষ আন্দালুস থেকে পলায়ন করে শরণার্থী হিসেবে তিলিমসান শহরে আগমন করেন। সেখানে তিনি বনু মারিনদের আশ্রয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন যেমনটি...
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৭)
سنفصله فى الترجمة للمؤلف من بعد، الامر الذي يقطع بأن المؤلف أورد وصف تلمسان ضمن «المجلس الثانى» الخاص بأهم المدن المغربية، كما لا نستبعد من ناحية أخرى أن تأليف لسان الدين للمعيار كان زمن امتلاك المرينيين لتلمسان، وربما كان ذلك أواخر أيامه، حيث أتيحت له أكثر من فرصة لدراسة المدينة وسواها من مدن المغرب، ورسم صورة واقعية لها، كعهدنا به نحو المدن الاخرى التى تناولها بالوصف فى مؤلفه هذا.

لقد كنت تواقا الى رؤية تلك النسخة، عسى أن أتمكن من ازالة علامة الاستفهام التى ترتسم حيال بقية النسخ من «الريحانة» المشتملة على «معيار الاختيار» والتى خلت- للاسف- من وصف مدينة «تلمسان» ، ومن يدرى فربما كانت نسخة الجزائر اقرب من غيرها الى عصر المؤلف أن لم تكن قد نسخت على أيامه، ولكن ما الحيلة وقد طوى الزمن صاحب النسخة، ولا ندرى بالتالى الى من آلت، هذا أن لم تكن قد انقرضت هى بدورها حيث لم نسمع عنها حتى يومنا هذا من قريب أو بعيد، ولم تتناولها من قبل فهارس المستشرقين، كما لم تشر اليها أقلام الباحثين من المهتمين بالتراث الاندلسى خاصة.

وعلى اى حال فلا مناص من الحاق وصف مدينة «تلمسان» فى نهاية «المجلس الثانى» للمدن المغربية، وذلك نقلا عن «نفح الطيب» بنصه، مقدرا للاستاذ عبد الوهاب بن منصور لفتته العلمية.

هذا، وقد نوهت اثناء عرض الكتاب ب «الفصل الثالث» أن النسخة التى رأيت أنها أوفى واحق بالاعتماد فى التحقيق- مع اعتبار بقية النسخ- هى نسخة الاسكوريال (554) .

وقد رأيت استكمالا للفائدة، والماما بما قد يحتاجه الباحث أن اختط فى هذا التحقيق النحو التالى فى أربعة فصول:

الفصل الاول:

وقد أوردت فيه ترجمة تكاد تكون وافية بالغرض لحياة المؤلف «لسان الدين ابن الخطيب» .

الفصل الثانى:

وبه بيان لوجهة نظر بعض المستشرقين والباحثين تجاه ابن الخطيب.
আমরা পরবর্তীতে লেখকের জীবনীতে এটি বিস্তারিত বর্ণনা করব। এই বিষয়টি নিশ্চিত করে যে, লেখক তিলিমসানের বর্ণনা 'দ্বিতীয় অধিবেশন'-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যা মরক্কোর গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর জন্য নির্ধারিত। অন্যদিকে, আমরা এই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, লিসানুদ্দীন কর্তৃক 'আল-মিইয়ার' গ্রন্থটি রচনার সময় তিলিমসান মারিনি রাজবংশের অধীনে ছিল। সম্ভবত এটি তাঁর জীবনের শেষদিকের ঘটনা, যখন তিনি এই শহর এবং মরক্কোর অন্যান্য শহরগুলো অধ্যয়ন করার এবং সেগুলোর একটি বাস্তব চিত্র অঙ্কন করার একাধিক সুযোগ পেয়েছিলেন, যেমনটি আমরা তাঁর এই গ্রন্থে বর্ণিত অন্যান্য শহরগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর অভ্যাসের অনুরূপ দেখে থাকি।

আমি সেই পাণ্ডুলিপিটি দেখার জন্য অত্যন্ত উদগ্রীব ছিলাম, যাতে 'আর-রাইহানা'র অন্যান্য পাণ্ডুলিপি নিয়ে সৃষ্ট প্রশ্নবোধক চিহ্নটি দূর করতে পারি, যেগুলোতে 'মিইয়ারুল ইখতিয়ার' অন্তর্ভুক্ত থাকলেও দুর্ভাগ্যবশত 'তিলিমসান' শহরের বর্ণনা নেই। কে জানে, হয়তো আলজেরিয়ার পাণ্ডুলিপিটি অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনায় লেখকের সময়ের সবচেয়ে নিকটবর্তী ছিল, যদি না সেটি তাঁর জীবদ্দশাতেই অনুলিপি করা হয়ে থাকে। কিন্তু কী আর করা! সময় সেই পাণ্ডুলিপির মালিককে গ্রাস করেছে এবং ফলশ্রুতিতে আমরা জানি না সেটি কার কাছে গিয়ে পৌঁছেছে—যদি না সেটি নিজেও বিলুপ্ত হয়ে গিয়ে থাকে। কেননা আজ অবধি আমরা নিকট বা দূর থেকে এর সম্পর্কে কোনো খবর শুনিনি, প্রাচ্যবিদদের ক্যাটালগেও এর উল্লেখ নেই এবং আন্দালুসিয় ঐতিহ্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহী গবেষকদের কলমেও এর কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

যা-ই হোক, মরক্কোর শহরসমূহ সম্পর্কিত 'দ্বিতীয় অধিবেশন'-এর শেষে 'তিলিমসান' শহরের বর্ণনাটি যুক্ত করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। এটি 'নাফহুত তীব' থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আব্দুল ওয়াহহাব বিন মনসুরের পাণ্ডিত্যপূর্ণ দৃষ্টির প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

উল্লেখ্য যে, বইটির উপস্থাপনার সময় 'তৃতীয় অধ্যায়ে' আমি ইঙ্গিত দিয়েছিলাম যে, অন্য সব পাণ্ডুলিপি বিবেচনায় রেখেও যে পাণ্ডুলিপিটিকে আমি সম্পাদনার কাজে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেছি, তা হলো এস্কোরিয়াল পাণ্ডুলিপি (৫৫৪)।

উপকারিতাকে পূর্ণতা দান এবং গবেষকদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আমি এই সম্পাদনা কার্যটিকে নিম্নোক্তভাবে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার পথ বেছে নিয়েছি:

প্রথম অধ্যায়:

এতে আমি লেখক 'লিসানুদ্দীন ইবনুল খতিব'-এর জীবনের ওপর একটি প্রায় পূর্ণাঙ্গ জীবনী বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়:

এতে ইবনুল খতিবের ব্যাপারে কিছু প্রাচ্যবিদ ও গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গির বর্ণনা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৮)
الفصل الثالث:

وقد أوردت فيه دراسة خاصة ب «معيار الاختيار» فى عرض تحليلى من الناحيتين الادبية والتاريخية، واهمية الكتاب كعمل أدبى، ثم كوثيقة تاريخية هامة.

الفصل الرابع:

وقد أوردت فيه «المجلس الاول» من النص، وهو الخاص بوصف «المدن الاندلسية» .

الفصل الخامس:

وقد أوردت فيه «المجلس الثانى» من النص، وهو الخاص بوصف «المدن المغربية» . وفى ذيلا كلا «المجلسين» اثبت فى التعليق ما اقتضاه التحقيق، واستوجبته الدراسة.

ولا يسعنى- اذ أقدم هذا العمل كتحقيق جديد فى مجال التراث الاندلسى- الا أن أعترف بالفضل لكل سابق فى هذا الميدان، ولا سيما حيال من أسهموا بدراسة أو تحقيق لابن الخطيب ومؤلفاته فقد كانت بحوثهم عونا جديرا بالتقدير، كما اذكر لاستاذنا العلامة عبد الله كنون فضله فى هذا العمل، جزاه الله خير الجزاء، وانوه بسبق الزميل الدكتور أحمد مختار العبادى، معترفا بالاستفادة الحقة من دراسته فى هذا الموضوع.

أخيرا، آمل بهذا التحقيق- على هذه الصورة- لكتاب «معيار الاختيار» أن أكون قد أسهمت بلبنة فى صرح الذخائر الاندلسية.

والله أسأل أن يجد فيه رواد الفكر وعشاق التراث ما ينشدون أو يؤملون، أنه سميع قريب، وبالاجابة جدير.

وهو- سبحانه- ولى التوفيق

المحقق دكتور محمد كمال شبانه أستاذ التاريخ والحضارة الاسلامية بجامعات المغرب

القاهرة/ 2- 3- 2002
তৃতীয় পরিচ্ছেদ:

এতে আমি সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বিশ্লেষণাত্মক উপস্থাপনায় ‘মেয়ার আল-ইখতিয়ার’ গ্রন্থের ওপর একটি বিশেষ গবেষণা উপস্থাপন করেছি; পাশাপাশি সাহিত্যকর্ম হিসেবে এই বইটির গুরুত্ব এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে এর গুরুত্ব তুলে ধরেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ:

এতে আমি মূল পাঠের ‘প্রথম মজলিস’ উপস্থাপন করেছি, যা ‘আন্দালুসীয় শহরগুলোর’ বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ:

এতে আমি মূল পাঠের ‘দ্বিতীয় মজলিস’ উপস্থাপন করেছি, যা ‘মরক্কোর শহরগুলোর’ বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। উভয় ‘মজলিসের’ শেষে আমি টীকা-টিপ্পনীতে তাহকীক ও গবেষণার দাবি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো সাব্যস্ত করেছি।

আন্দালুসীয় ঐতিহ্যের ক্ষেত্রে এই কাজটি একটি নতুন তাহকীক হিসেবে পেশ করার সময় আমি এই ময়দানের সকল পূর্বসূরির অবদানের কথা স্বীকার না করে পারছি না, বিশেষ করে যারা ইবনে আল-খতিব এবং তাঁর রচনাবলির ওপর গবেষণা বা তাহকীকের মাধ্যমে অবদান রেখেছেন; তাঁদের গবেষণাগুলো প্রশংসার যোগ্য সহযোগিতা ছিল। আমি এই কাজে আমাদের শিক্ষক আল্লামা আবদুল্লাহ কানুন-এর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করছি, আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি সহকর্মী ডক্টর আহমদ মুখতার আল-আবাদীর অগ্রণী ভূমিকার কথা উল্লেখ করছি এবং এই বিষয়ে তাঁর গবেষণা থেকে যথাযথ উপকার লাভের বিষয়টি স্বীকার করছি।

পরিশেষে, ‘মেয়ার আল-ইখতিয়ার’ গ্রন্থের এই তাহকীকের মাধ্যমে—এই রূপে—আমি আন্দালুসীয় রত্নভাণ্ডারের প্রাসাদে একটি ইট সংযোজন করতে পেরেছি বলে আশা করি।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, চিন্তাশীল ব্যক্তি এবং ঐতিহ্য-প্রেমীরা এতে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত বা প্রত্যাশিত বিষয়গুলো খুঁজে পাবেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, অতি নিকটবর্তী এবং প্রার্থনা কবুল করার যোগ্য।

আর তিনি—পবিত্রতা তাঁরই—সফলতা দানকারী।

সম্পাদক ডক্টর মুহাম্মদ কামাল শাবানা, মরক্কোর বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার অধ্যাপক।

কায়রো/ ২-৩-২০০২
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الأوّل حياة ابن الخطيب وآراء بعض المستشرقين حوله
প্রথম অধ্যায়: ইবনে আল-খতিবের জীবন এবং তাঁর সম্পর্কে কয়েকজন প্রাচ্যবিদের মতামত
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌ابن الخطيب 713- 776 هـ (1313- 1374 م)

ثانى اثنين أرّخا لعصر بنى الأحمر، فكشفا عن السلالة النصرية، حتى عصرهما الذي عاشاه جنبآ الى جنب، ولم ينل من علاقتهما الطيبة سوى التنازع على المزيد من السلطة، فى دولة طالما استبد فيها الحجاب والوزراء، وانتقصوا من سلطة السلطان، فكانت نهايتهم على يدى من نازعوهم أمور المملكة، بايعاز من صاحب سلطة قضائية أو ادارية، وهذا ما حدث بين ابن الخطيب، وبين قاضى الجماعة أبى الحسن على النباهى الجذامى، على نحو ما سنرى من خلال سيرة الأول.

هو لسان الدين أبو عبد الله محمد، بن عبد الله، بن عبد الله، بن سعيد، بن على، بن أحمد، السلمانى، نسبة الى سلمان، بقعة باليمن نزلت بها بعض القبائل القحطانية، وكانت أسرة ابن الخطيب احدى هذه القبائل، ومن اليمن وفدت الأسرة الى الأندلس، حيث اتخذت قرطبة مقرا لها.

ثم هاجرت الأسرة الى طليطلة- كما أخبر بذلك ابن الخطيب نفسه فى‌‌ مقدمة «الاحاطة» - عام 202 هـ 817 م، وهو العام الذي حدثت فيه ثورة أهل الربض بقرطبة، ضد أمير الأندلس الحكم بن هشام، حيث حرض الفقهاء أهل الربض ضد الأمير، ولكن الحكم قضى على الثورة فى الموقعة المشهورة
ইবনে আল-খাতিব ৭১৩-৭৭৬ হিজরি (১৩১৩-১৩৭৪ খ্রিষ্টাব্দ)

তিনি ছিলেন বনু আহমার যুগের ইতিহাস রচনাকারী দুই ব্যক্তির মধ্যে দ্বিতীয় জন, যাঁরা নসরীয় রাজবংশ সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন তাঁদের সমসাময়িক কাল পর্যন্ত, যে সময়কালটি তাঁরা পাশাপাশি অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁদের মধ্যকার সুসম্পর্ক কেবল অধিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণেই ক্ষুণ্ণ হয়েছিল, এমন এক রাষ্ট্রে যেখানে দীর্ঘকাল ধরে রাজপ্রাসাদের রক্ষক ও উজিরগণ স্বৈরাচারী হয়ে উঠেছিলেন এবং সুলতানের ক্ষমতা খর্ব করেছিলেন। ফলে তাদের জীবনাবসান ঘটেছিল সেইসব ব্যক্তিদের হাতে যাঁরা রাজ্যের বিষয়ে তাঁদের সাথে বিরোধে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং যাঁদের পেছনে কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তির ইন্ধন ছিল। ইবনে আল-খাতিব এবং কাজিউল জামাআহ আবুল হাসান আলী আল-নাবাহি আল-জুজামি-এর মধ্যে যা ঘটেছিল তা এমনই ছিল, যা আমরা প্রথমোক্ত ব্যক্তির জীবনীর মাধ্যমে দেখতে পাব।

তিনি হলেন লিসানুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ ইবনে আলী ইবনে আহমাদ আস-সালমানি। তাঁর এই বংশনাম ইয়ামেনের সালমান নামক স্থানের সাথে সম্পর্কিত যেখানে কিছু কাহ্তানি গোত্র বসতি স্থাপন করেছিল এবং ইবনে আল-খাতিবের পরিবার ছিল এই গোত্রগুলোরই একটি। ইয়ামেন থেকে এই পরিবারটি আন্দালুসে পাড়ি জমায় এবং কর্ডোভাকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে গ্রহণ করে।

অতঃপর পরিবারটি তোলেদোতে হিজরত করে—যেমনটি ইবনে আল-খাতিব নিজেই তাঁর ‘আল-ইহাতা’ গ্রন্থের উপক্রমণিকায় উল্লেখ করেছেন—২০২ হিজরি মোতাবেক ৮১৭ খ্রিষ্টাব্দে। এটি ছিল সেই বছর যে বছর কর্ডোভার রাবাদবাসীরা আন্দালুসের আমির আল-হাকাম বিন হিশামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল। সেখানে ফকিহগণ আমিরের বিরুদ্ধে রাবাদবাসীদের উসকে দিয়েছিলেন, কিন্তু আল-হাকাম এক বিখ্যাত যুদ্ধের মাধ্যমে সেই বিদ্রোহ দমন করেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১২)
ب (موقعة الربض) وشنتت شمل القائمين بها، فنفى من نفى، وشرد من شرد، وغادر قرطبة جمهور من المعارضين وعديد من العلماء، ومن هؤلاء أسرة ابن الخطيب، حيث قصدت طليطلة، فبقيت بها قرابة قرن ونصف، ولما أحست أسرة المترجم له بالخطر المحدق بالمدينة- حيث أصبحت هدفا للأسبان فى أواسط القرن الخامس الهجرى (أوائل القرن الثانى عشر الميلادى) - بادرت بالنزوح عنها الى مدينة لوشة «1» مسقط رأس ابن الخطيب فى 25 رجب 713 هـ (16 نوفمبر 1313 م) .

تربى ابن الخطيب فى أسرة عرفت بالاصالة والعلم والجاه، فقد كان أبوه عبد الله من أكابر العلماء والخاصة، كما أخبر بذلك ابن الخطيب نفسه، حيث ترجم لأبيه فى كتابه (الاحاطة فى أخبار غرناطة) فروى لنا أنه ولد فى (672 هـ 1273 م) واستقر حينا فى غرناطة، ثم عاد الى لوشة مقر الأسرة، ثم رجع الى غرناطة أخيرا، حيث التحق بخدمة السلطان أبى الوليد اسماعيل ملك غرناطة (713- 725 هـ- 1314- 1324 م) .

وقد كانت أسرته تحمل اسم «الوزير» الى أن جاء جده سعيد فعرفت باسم «الخطيب» .

ولما توفى هذا السلطان، وخلفه ابنه السلطان أبو عبد الله محمد، التحق والد ابن الخطيب بديوان كتابته أيضا، ثم بأخيه السلطان أبى الحجاج يوسف (733- 755 هـ- 1333- 1354 م) ، حيث عاصر الكاتب الكبير، والرئيس العظيم أبا الحسن على بن الجيّاب، والذي منح من قبله لقب الوزارة، وأخيرا سقط عبد الله مع ولده الأكبر- أخى لسان الدين- قتيلا فى موقعة طريف الشهيرة، التى تمخضت عن فوز الأسبان على المسلمين من الأندلس والمغرب، وسقوط كل من طريف ثم الجزيرة الخضراء وقلعة بنى سعيد، وذلك فى جمادى الأولى 741. هـ (1340 م) .
(রাবাদ যুদ্ধ) এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল। ফলে যাকে নির্বাসন দেওয়ার তাকে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল, যাকে বিতাড়িত করার তাকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। কর্ডোভা ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন বহু বিরোধী এবং অনেক আলেম। তাঁদেরই একজন ছিলেন ইবনুল খাতিবের পরিবার, যারা টলেডো অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন এবং সেখানে প্রায় দেড় শতাব্দীকাল অবস্থান করেছিলেন। যখন জীবনীকারের পরিবার শহরের ওপর ঘনিয়ে আসা বিপদের আভাস পেলেন—কেননা হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি (খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুতে) এটি স্পেনীয়দের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল—তখন তাঁরা সেখান থেকে ইবনুল খাতিবের জন্মস্থান লোশা শহরের দিকে হিজরত করেন। দিনটি ছিল ২৫ রজব ৭১৩ হিজরি (১৬ নভেম্বর ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দ)।

ইবনুল খাতিব এমন এক পরিবারে লালিত-পালিত হয়েছিলেন যা আভিজাত্য, ইলম এবং মর্যাদার জন্য পরিচিত ছিল। তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ছিলেন বড় মাপের আলেম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ইবনুল খাতিব নিজেই জানিয়েছেন। তিনি তাঁর 'আল-ইহাতা ফি আখবার গারনাতা' গ্রন্থে তাঁর পিতার জীবনী উল্লেখ করতে গিয়ে আমাদের জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা ৬৭২ হিজরি (১২৭৩ খ্রিস্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কিছুকাল গ্রানাডায় বসবাস করেন, তারপর পরিবারের প্রধান কেন্দ্র লোশায় ফিরে আসেন। সবশেষে তিনি পুনরায় গ্রানাডায় ফিরে যান, যেখানে তিনি গ্রানাডার সুলতান আবুল ওয়ালিদ ইসমাইলের (৭১৩-৭২৫ হিজরি / ১৩১৪-১৩২৪ খ্রিস্টাব্দ) অধীনে রাজসেবায় নিয়োজিত হন।

তাঁর পরিবার 'আল-ওয়াজির' উপাধি বহন করত, যতক্ষণ না তাঁর দাদা সাঈদ আসেন এবং পরিবারটি 'আল-খাতিব' নামে পরিচিতি লাভ করে।

যখন এই সুলতান ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র সুলতান আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ, তখন ইবনুল খাতিবের পিতাও তাঁর সচিবালয়ে যোগ দেন। এরপর তিনি সুলতানের ভাই সুলতান আবুল হাজ্জাজ ইউসুফের (৭৩৩-৭৫৫ হিজরি / ১৩৩৩-১৩৫৪ খ্রিস্টাব্দ) অধীনে দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি প্রখ্যাত লেখক ও মহান প্রধান আবুল হাসান আলী ইবনুল জায়য়্যাবের সমসাময়িক ছিলেন, যাঁর পক্ষ থেকে তাঁকে উজির উপাধি প্রদান করা হয়েছিল। পরিশেষে আবদুল্লাহ তাঁর বড় ছেলে—লিসানুদ্দিনের ভাই—সহ বিখ্যাত তারীফ যুদ্ধে নিহত হন। এই যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে আন্দালুস ও মাগরিবের মুসলিমদের ওপর স্পেনীয়রা জয়লাভ করে এবং তারীফ, এরপর আল-জাজিরাতুল খাদরা এবং কালআত বনি সাঈদ-এর পতন ঘটে। এটি সংঘটিত হয়েছিল ৭৪১ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসে (১৩৪০ খ্রিস্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৩)
لقد نشأ ابن الخطيب فى العاصمة غرناطة، وتلقى بها دراسته «2» ، فقد كانت وقتئذ ميدانا احتشد فيه الأكابر من العلماء والأدباء، فدرس اللغة والشريعة والأدب على جماعة من أقطاب العصر، مثل «أبى عبد الله بن الفخار الألبيرى» شيخ النحاة فى عصره، «وأبى عبد الله بن مرزوق» فقيه المغرب الكبير، «والقاضى أبى البركات بن الحاج البلفيقى» ، ودرس الأدب والشعر على الوزير «أبى عبد الله ابن الحكيم اللخمى» وعلى الرئيس «أبى الحسن على بن الجياب» ، وغير هؤلاء، كما درس الطب والفلسفة على حكيم العصر وفيلسوفه الشيخ «يحيى بن هذيل» . فلا نبالغ اذن اذا قلنا: ان غرناطة- فى ذلك الوقت- كانت أعظم مركز للدراسات الأدبية والعلمية والاسلامية، فى هذا القطر الغربى من العالم الاسلامى، وكان هذا من حظ ابن الخطيب الى حد بعيد.

هذا، وقد تأثر مستقبل ابن الخطيب السياسى بحكم منصب والده، فمنذ شب عن الطوق ونفسه تطمح للوصول الى مركز أبيه، فلما توفى الوالد دعى ابنه للخدمة مكانه، وكان حينئذ فى الثامنة والعشرين من عمره، حيث تولى أمانة السر لأستاذه الرئيس «أبى الحسن بن الجياب» وزير السلطان ابى الحجاج يوسف الأول النصرى وكاتبه «3» ، ثم خلف أستاذه فى الوزارة، وتقلد ديوان الانشاء لهذا السلطان، وكان ابن الخطيب يومئذ قد ملك زمام أرفع الأساليب شعرا ونثرا، بفضل أستاذه الراحل، وظهر أثر هذه التلمذة على رسائله السلطانية، التى حررها بقلمه على لسان ملوك الأندلس والمغرب، والتى نعتها المؤرخ ابن خلدون بالغرائب، وقد جمع ابن الخطيب نفسه منها الكثير فى كتابه «ريحانة الكتاب، ونجعة المنتاب» ، كما أورد المقرى عددا منها فى مؤلفه «نفح الطيب» »

، ويعتبر كتاب ابن الخطيب «كناسة الدكان بعد انتقال السكان» مجموعة من الرسائل السلطانية التى تمثل العلاقات السياسية بين غرناطة والمغرب، فى منتصف القرن الرابع عشر الميلادى، على لسان سلطانه يوسف الأول ابن الأحمر، الى معاصره فى فاس أبى عنان فارس المرينى.
ইবনে আল-খাতিব রাজধানী গ্রানাডায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। সে সময় গ্রানাডা ছিল মহান আলেম ও সাহিত্যিকদের এক মিলনস্থল। তিনি সমকালীন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের নিকট ভাষা, শরীয়াহ ও সাহিত্য অধ্যয়ন করেন; যেমন—তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ ব্যাকরণবিদ ‘আবু আবদুল্লাহ ইবনে আল-ফাকখার আল-আলবিরি’, মরক্কোর প্রখ্যাত ফকিহ ‘আবু আবদুল্লাহ ইবনে মারজুক’, এবং ‘কাযী আবু আল-বারাকাত ইবনে আল-হাজ আল-বালফিকি’। তিনি উজির ‘আবু আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাকিম আল-লাখমি’ ও প্রধান ‘আবু আল-হাসান আলী ইবনে আল-জায়য়াব’-এর নিকট সাহিত্য ও কাব্যতত্ত্ব এবং সমকালীন বিজ্ঞ দার্শনিক শেখ ‘ইয়াহইয়া ইবনে হুযাইল’-এর নিকট চিকিৎসাশাস্ত্র ও দর্শন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। সুতরাং আমরা যদি বলি যে, গ্রানাডা সেই সময় ইসলামি বিশ্বের এই পশ্চিমাঞ্চলে সাহিত্যিক, বৈজ্ঞানিক ও ইসলামি জ্ঞানচর্চার শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র ছিল, তবে তা মোটেও অতুক্তি হবে না; আর এটি ইবনে আল-খাতিবের জন্য ছিল এক পরম সৌভাগ্য।

ইবনে আল-খাতিবের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তাঁর পিতার পদের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছিল। শৈশব থেকেই তিনি তাঁর পিতার পদমর্যাদায় পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা পোষণ করতেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তাঁকে সেই পদে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তখন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর। তিনি সুলতান আবু আল-হাজ্জাজ ইউসুফ আল-আউয়াল আন-নাসরির উজির ও লেখক এবং তাঁর শিক্ষক প্রধান ‘আবু আল-হাসান ইবনে আল-জায়য়াব’-এর অধীনে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর শিক্ষকের স্থলাভিষিক্ত হয়ে উজির নিযুক্ত হন এবং সুলতানের রাজকীয় লিখন বিভাগের (দিওয়ানুল ইনশা) দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ইবনে আল-খাতিব ততদিনে তাঁর মরহুম শিক্ষকের অনুগ্রহে কবিতা ও গদ্যের উচ্চতর শৈলীর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর এই জ্ঞান ও দক্ষতার ছাপ ফুটে ওঠে সেই সব সুলতানি পত্রাবলিতে, যা তিনি আন্দালুস ও মরক্কোর সুলতানদের পক্ষ থেকে রচনা করেছিলেন। ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন এই পত্রগুলোকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন। ইবনে আল-খাতিব নিজেই তাঁর ‘রাইহানাত আল-কুত্তাব ওয়া নুজয়াত আল-মুনতাব’ গ্রন্থে এগুলোর অনেকগুলো সংকলিত করেছেন। এছাড়াও আল-মাক্কারি তাঁর ‘নাফহুত তিব’ গ্রন্থে এগুলোর একটি বড় অংশ উদ্ধৃত করেছেন।

ইবনে আল-খাতিব রচিত ‘কুনাসাত আদ-দুক্কান বা’দা ইনতিকাল আস-সুক্কান’ গ্রন্থটি সুলতানি পত্রাবলির এমন এক সংকলন হিসেবে বিবেচিত হয়, যা চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গ্রানাডার সুলতান ইউসুফ আল-আউয়াল ইবনে আল-আহমারের পক্ষ থেকে মরক্কোর ফেজের সমসাময়িক শাসক আবু ইনান ফারিস আল-মারিনির নিকট প্রেরিত পত্রগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্কের চিত্র তুলে ধরে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولقد كسب ابن الخطيب ثقة هذا السلطان الغرناطى، حيث قربه من مجلسه، وخلع عليه الجم من النعم، كما أنه أصبح أثيرا لديه، مودعا اياه أمانة سره وكتابته، وذلك لروعة هذه المكاتبات السلطانية التى دبجها له من جهة، ولنجاح سفاراته مع ملوك النصارى والمغرب من جهة أخرى، فقد بعثه عاهل غرناطة سفيرا الى أبى الحسن المرينى ملك المغرب عام 749 هـ (1348 م) .

ولما توفى السلطان أبو الحجاج يوسف قتيلا- فى يوم عيد الفطر 755 هـ (19 أكتوبر 1354 م) - خلفه فى الملك ولده السلطان محمد الخامس الغنى بالله، واستمر ابن الخطيب فى معاونة الوزير أبى النعيم رضوان على خدمة السلطان الجديد، كما تولى الوصاية على الأبناء القصر للسلطان المتوفى، ثم قام بسفارة الى السلطان «أبى عنان فارس المرينى» عام 755 هـ 1354 م، ولقد نجح ابن الخطيب فى مهمته هذه نجاحا عظيما، ذلك أن ملك المغرب استجاب للمطالب التى حملها ابن الخطيب لصالح ملك غرناطة، وفى مقدمتها العون الحربى لمقاومة أطماع ملك قشتالة.

ولقد ظفر ابن الخطيب بمكانة ممتازة لدى الغنى بالله، اذ منحه ثقته كأبيه من قبل، وخلع عليه لقب (ذو الوزارتين) ، لجمعه بين وزارة القلم ووزارة السيف.

ولكن حدث أن اندلعت الثورة بغرناطة، فى رمضان 760 هـ 1359 م، ونتج عنها فقدان السلطان الغنى بالله لملكه، واستيلاء أخيه الأمير اسماعيل على العرش، كما تمخضت هذه الثورة عن مقتل الحاجب أبى النعيم رضوان، ثم فرار الغنى بالله الى وادى آش «5» ، وعليه فأصبح ابن الخطيب لا يملك من الأمر شيئا، غير أنه حاول أن يستميل السلطان الجديد، فقبله فى منصب الوزارة مؤقتا، ثم تشكك بعد قليل فى نواياه، وذلك بتحريض منافسيه وحساده، فقبض عليه، وصادر أملاكه، وبذلك فقد ابن الخطيب جاهه ونفوذه، بل ومتاعه بين عشية وضحاها.
ইবনে আল-খাতিব এই গ্রানাডীয় সুলতানের আস্থা অর্জন করেছিলেন, কারণ তিনি তাঁকে নিজের মজলিসের নিকটবর্তী করেছিলেন এবং তাঁর ওপর অঢেল অনুগ্রহ বর্ষণ করেছিলেন। তিনি তাঁর অত্যন্ত প্রিয়পাত্রে পরিণত হন এবং সুলতান তাঁর কাছে নিজের গোপনীয় রহস্য ও চিঠিপত্রের আমানত ন্যস্ত করেন। এটি একদিকে সুলতানের পক্ষে তাঁর রচিত চমৎকার রাজকীয় পত্রাবলীর কারণে এবং অন্যদিকে খ্রিস্টান ও মরক্কোর রাজাদের সাথে তাঁর সফল কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে সম্ভব হয়েছিল। গ্রানাডার অধিপতি তাঁকে ৭৪৯ হিজরি (১৩৪৮ খ্রিস্টাব্দ) সালে মরক্কোর সুলতান আবুল হাসান আল-মারিনির নিকট দূত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন।

যখন সুলতান আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ আততায়ীর হাতে নিহত হলেন—৭৫৫ হিজরির ঈদুল ফিতরের দিনে (১৯ অক্টোবর ১৩৫৪ খ্রিস্টাব্দ)—তখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র সুলতান মুহাম্মদ পঞ্চম আল-গানি বিল্লাহ। ইবনে আল-খাতিব নতুন সুলতানের সেবায় উজির আবু নাঈম রিজওয়ানকে সহযোগিতা করতে থাকেন এবং মৃত সুলতানের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ৭৫৫ হিজরি (১৩৫৪ খ্রিস্টাব্দ) সালে তিনি সুলতান 'আবু ইনান ফারিস আল-মারিনি'-র নিকট এক কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করেন। ইবনে আল-খাতিব তাঁর এই মিশনে বিশাল সাফল্য লাভ করেন; কেননা মরক্কোর সুলতান গ্রানাডার সুলতানের স্বার্থে ইবনে আল-খাতিবের উপস্থাপিত দাবিগুলো মঞ্জুর করেছিলেন, যার মধ্যে কাস্টিল রাজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রতিহত করার জন্য সামরিক সাহায্য ছিল প্রধান।

ইবনে আল-খাতিব আল-গানি বিল্লাহর নিকট এক অনন্য মর্যাদা লাভ করেছিলেন, কারণ সুলতান তাঁর পিতার মতোই তাঁর ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং তাঁকে 'জু-ল উইজরাতাইন' (দুই মন্ত্রণালয়ের অধিকারী) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন; যেহেতু তিনি লেখনী ও অসি—উভয় বিভাগের মন্ত্রিত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।

কিন্তু ৭৬০ হিজরির রমজান মাসে (১৩৫৯ খ্রিস্টাব্দ) গ্রানাডায় বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে সুলতান আল-গানি বিল্লাহ ক্ষমতাচ্যুত হন এবং তাঁর ভাই আমির ইসমাইল সিংহাসন দখল করেন। এই বিদ্রোহের ফলে হাজিব আবু নাঈম রিজওয়ান নিহত হন এবং আল-গানি বিল্লাহ ওয়াদিউ আশে পালিয়ে যান। এমতাবস্থায় ইবনে আল-খাতিবের হাতে কোনো কর্তৃত্ব অবশিষ্ট ছিল না। তবুও তিনি নতুন সুলতানকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং সুলতান তাঁকে সাময়িকভাবে উজিরের পদে বহাল করেন। কিন্তু অল্পকাল পরেই প্রতিদ্বন্দ্বী ও ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তিদের প্ররোচনায় সুলতান তাঁর আনুগত্যের বিষয়ে সন্দিহান হয়ে ওঠেন। ফলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর মাধ্যমেই ইবনে আল-খাতিব রাতারাতি তাঁর প্রতিপত্তি, প্রভাব এবং সহায়-সম্বল সবকিছু হারান।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৫)
لم تطل هذه النكبة بابن الخطيب، فقد بعث ملك المغرب السلطان أبو سالم سفيره (الشريف أبا القاسم التلمسانى) الى ملك غرناطة الجديد، يطلب اليه أن يسمح للملك المخلوع (الغنى بالله) ووزيره ابن الخطيب بمغادرة الأندلس الى المغرب ضيفين عزيزين، فرضخ سلطان غرناطة لهذا الطلب، سياسة منه فى الابقاء على أواصر الوداد مع بنى مرين، واحتفاظا بهم سندا لمستقبل الدولة الاسلامية بالأندلس. ولهذا أطلق سراح ابن الخطيب، ولحق بسلطانه، حيث لجأ إلى وادى آش، ومن ثم الى المغرب، ومعهما نفر كبير من الحاشية، فوصل الركب فاس فى محرم 760 هـ (ديسمبر 1358 م) حيث استقبلهما السلطان أبو سالم استقبالا حارا، واحتفل بقدومهم احتفالا عظيما، وألقى ابن الخطيب فى هذه المناسبة- بين يدى المضيف- قصيدته الشهيرة «6» ، يستنصره ويستصرخه؛ ليعين سلطانه على أمره.

ويشهد ابن خلدون المؤرخ ذلك الحفل- بصفته من كبار رجال البلاط المرينى- فيصفه لنا ويقول: «إن ابن الخطيب استولى على سامعيه، فأبكاهم تأثرا» .

هذا وقد طاب العيش لابن الخطيب بالمغرب فى رعاية السلطان «أبى سالم» ، الذي أقطعه الأراضى، ورتب له الرواتب، حيث استقر فى مدينة «سلا» «7» حوالى ثلاثة أعوام منفيا 760- 763 هـ (1358- 1361 م) ، اقتنى خلالها الضياع والأموال، ولكن لم ينس- فى الوقت نفسه- نزعته الثقافية والتأليفية، فجاس خلال مدن المغرب دارسا باحثا، ملتقيا بالعلماء فى تجواله، وفى نهاية المطاف يرجع الى سلا، حيث يرابط بضاحية «شالة» ، قرب أضرحة ملوك بنى مرين.
ইবনুল খাতিবের এই দুর্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মরক্কোর সুলতান আবু সালিম তাঁর দূত (আশ-শরীফ আবুল কাসিম আত-তিলিমসানি)-কে গ্রানাডার নতুন সুলতানের নিকট প্রেরণ করেন এবং এই অনুরোধ জানান যেন ক্ষমতাচ্যুত সুলতান (আল-গনি বিল্লাহ) ও তাঁর উজির ইবনুল খাতিবকে সম্মানিত অতিথি হিসেবে আন্দালুস ত্যাগ করে মরক্কো গমনের অনুমতি দেওয়া হয়। গ্রানাডার সুলতান বনু মারিনের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার রাজনৈতিক স্বার্থে এবং আন্দালুসে ইসলামী রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের জন্য তাঁদের সমর্থন অটুট রাখার নিমিত্তে এই অনুরোধ মেনে নেন। এই কারণে ইবনুল খাতিব মুক্তি লাভ করেন এবং তাঁর সুলতানের সাথে মিলিত হন। তাঁরা প্রথমে ওয়াদি আশ-এ আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখান থেকে বিশাল এক অনুসারী দলসহ মরক্কোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। কাফেলাটি ৭৬০ হিজরির মহররম মাসে (ডিসেম্বর ১৩৫৮ খ্রিস্টাব্দ) ফেজ শহরে পৌঁছায়। সেখানে সুলতান আবু সালিম তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং তাঁদের আগমন উপলক্ষে এক বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করেন। ইবনুল খাতিব এই অনুষ্ঠানে স্বাগতিক সুলতানের সম্মুখে তাঁর সেই বিখ্যাত কাসিদা পাঠ করেন, যেখানে তিনি নিজ সুলতানের হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে তাঁর সাহায্য ও আর্তনাদ তুলে ধরেন।

ইতিহাসবিদ ইবনে খালদুন মারিনি দরবারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে সেই দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে বলেন: “ইবনুল খাতিব তাঁর শ্রোতাদের হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন এবং তাঁর বক্তব্যে প্রভাবিত হয়ে তারা অশ্রুপাত করেছিলেন।”

মরক্কোতে সুলতান আবু সালিমের পৃষ্ঠপোষকতায় ইবনুল খাতিবের জীবন স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে ওঠে। সুলতান তাঁকে ভূসম্পত্তি প্রদান করেন এবং তাঁর জন্য নিয়মিত ভাতা নির্ধারণ করে দেন। তিনি ৭৬০ থেকে ৭৬৩ হিজরি (১৩৫৮-১৩৬১ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত প্রায় তিন বছর ‘সালা’ নগরীতে নির্বাসিত জীবন অতিবাহিত করেন। এই সময়ে তিনি প্রচুর ভূসম্পত্তি ও অর্থ-সম্পদের মালিক হন। তবে একই সাথে তিনি তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক ও রচনামূলক কর্মতৎপরতা বিস্মৃত হননি। তিনি মরক্কোর বিভিন্ন শহর পরিভ্রমণ করে পড়াশোনা ও গবেষণায় লিপ্ত হন এবং তাঁর এই ভ্রমণে বিভিন্ন আলেম ও জ্ঞানীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। পরিশেষে তিনি পুনরায় সালা নগরীতে ফিরে আসেন এবং বনু মারিন সুলতানদের সমাধিস্থলের নিকটবর্তী ‘শালাহ’ নামক উপশহরে অবস্থান গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৬)
ولقد أصيب ابن الخطيب- ابان هذه الفترة- فى زوجته أم أولاده، وبالرغم من كل ما أصابه من نكبات متوالية فانه لم يقعد عن التأليف، ولم يخلد الى الراحة والسكينة، ويكفى دليلا على هذا تلك المؤلفات التى حررها وقتئذ، ومن أهمها:

1) معيار الاختيار، فى ذكر المعاهد والديار (هذا الكتاب) .

2) نفاضة الجراب، وعلالة الاغتراب.

3) اللمحة البدرية، فى تاريخ الدولة النصرية.

4) الحلل المرقوقة، فى اللمع المنظومة «8» .

5) رقم الحلل، فى نظم الدول.

6) كناسة الدكان، بعد انتقال السكان.

7) رسائل فى فنون مختلفة، معظمها نظمه شعرا.

وفى هذه الأثناء تم انقلاب فى فاس، ترتب عليه مصرع السلطان أبى سالم، فى ذى القعدة 762 هـ (1360 م) ، وتقلد السلطان صاحب الانقلاب الوزير عمر بن عبد الله، الذي أعان ابن الأحمر المخلوع على أمره، ووقف الى جانبه فى استرجاع عرشه، حتى سنحت الفرصة، وواتت الظروف، باندلاع ثورة جديدة فى غرناطة، صرع فيها السلطان اسماعيل بن الأحمر على يد الرئيس أبى سعيد، الذي فر الى (قشتالة) عقب عودة الغنى بالله الى الأندلس، واستيلائه على ولاية مالقة، ثم دخوله غرناطة، وتربعه على العرش من جديد عام 763 هـ- 1361 م.

لقد استدعى سلطان غرناطة الجديد، محمد الخامس الغنى بالله، وزيره المنفى ابن الخطيب، ليقدم الى دار ملكه، برسالة مؤرخة: 14 جمادى الآخرة 763 هـ (15 أبريل 1361 م) وليتقلد منصبه السابق، فاستجاب ابن
ইবনুল খাতিব এই সময়কালে তাঁর সন্তানদের জননী তথা নিজ স্ত্রীকে হারিয়ে শোকাহত হন। একের পর এক আপতিত এই সমস্ত বিপর্যয় সত্ত্বেও তিনি গ্রন্থ রচনা থেকে নিবৃত্ত হননি এবং আরাম ও বিশ্রামে মগ্ন হননি। সেই সময়ে তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থাবলিই এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

১) মিইয়ারুল ইখতিয়ার, ফী যিক্রিল মাআহিদ ওয়াদ্দিয়ার (এই গ্রন্থটি)।

২) নুফাযাতুল জিরাব, ওয়া উলালাতুল ইগতিরাব।

৩) আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ, ফী তারিখিদ্দাওলাতিন নাসরিয়্যাহ।

৪) আল-হিলালুল মারকুকাহ, ফীল লুমা-ইল মানযুমাহ «৮»।

৫) রাকমুল হিলাল, ফী নাযমিদ দুওয়াল।

৬) কুনাসাতুদ দুক্কান, বা’দা ইনতিকালিস সুক্কান।

৭) বিভিন্ন বিষয়ের ওপর রচিত পত্রাবলি, যার অধিকাংশ তিনি কাব্যাকারে রচনা করেছেন।

ইতিমধ্যে ফেজ শহরে এক অভ্যুত্থান ঘটে, যার ফলশ্রুতিতে ৭৬২ হিজরীর যিলকদ মাসে (১৩৬০ খ্রিস্টাব্দ) সুলতান আবু সালিম নিহত হন। অভ্যুত্থানের নায়ক উজির উমর বিন আব্দুল্লাহ ক্ষমতা দখল করেন, যিনি ক্ষমতাচ্যুত ইবনুল আহমারকে তাঁর কার্যে সহায়তা করেছিলেন এবং তাঁর সিংহাসন পুনরুদ্ধারে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। অবশেষে যখন সুযোগ ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলো, গ্রানাডায় এক নতুন বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ল। সেখানে প্রধান আবু সাঈদের হাতে সুলতান ইসমাইল বিন আহমার নিহত হন। এরপর আল-গণি বিল্লাহ আন্দালুসে প্রত্যাবর্তন করেন এবং মালাগা প্রদেশ জয় করার পর গ্রানাডায় প্রবেশ করে ৭৬৩ হিজরী (১৩৬১ খ্রিস্টাব্দ) সালে পুনরায় সিংহাসনে আরোহণ করেন, আর আবু সাঈদ (কাস্তিল) অভিমুখে পলায়ন করেন।

গ্রানাডার নতুন সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদ আল-গণি বিল্লাহ তাঁর নির্বাসিত উজির ইবনুল খাতিবকে তাঁর রাজদরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য একটি পত্রের মাধ্যমে তলব করেন। পত্রটি ছিল ১৪ই জুমাদাল আখিরা ৭৬৩ হিজরী (১৫ই এপ্রিল ১৩৬১ খ্রিস্টাব্দ) তারিখের। তাঁকে তাঁর পূর্বের পদে পুনর্বহাল করার উদ্দেশ্যেই এই আহ্বান জানানো হয়। ইবনুল খাতিব এতে সাড়া দিয়ে...
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৭)
الخطيب، وجاز البحر صحبة أسرة السلطان وأسرته، ثم وصل العاصمة، وهناك وجد من يزاحمه منصبه، وينافسه السلطة، وهو شيخ الغزاة (عثمان بن أبى يحيى) ، صاحب اليد على السلطان فى استرجاع العرش، فنشب خلاف بين الرجلين، وحقد كلاهما على الآخر، ولكن ابن الخطيب كان أشد مراسا بأساليب الكيد والدس، فتغلب على خصمه؛ اذ زين للسلطان خطورة نفوذ عثمان هذا، وبدأ يخيفه من غدره وغدر أشياعه، فاستجاب ابن الأحمر لنصح ابن الخطيب، وقضى على عثمان وآله فى شهر رمضان 764 هـ- 1363 م، وبذلك استرد ابن الخطيب كامل سلطته، دون مناوئ أو منافس، ولكن الى حين، فقد شعر مرة أخرى بما يحاك حوله من دسائس ومكائد، ورأى سلطانه يتأثر بسعاية الخصوم، وقد تزعم هذه الحملة الجديدة ضد ابن الخطيب رجلان وثيقا الصلة بالسلطان بحكم وضعيتهما فى الخدمة السلطانية، ولمكانتهما السياسية فى الدولة، وهما:

1) الشاعر محمد بن يوسف المعروف ب «ابن زمرك» تلميذ ابن الخطيب، ومعاونه فى الوزارة.

2) قاضى الجماعة أبو الحسن على بن عبد الله النباهى، ولى نعمة ابن الخطيب.

وحينئذ شعر ابن الخطيب بخطورة موقفه عند السلطان، بين هذين الرجلين الداهيتين، فدبر أمره على مغادرة الأندلس نهائيا، دون أن يشعر السلطان مطلقا بذلك، وفعلا طلب منه أن يأذن له فى تفقد بعض الثغور والموانئ الأندلسية، فأجابه السلطان، وكان وزيرنا- من جانبه- قد أعد العدة للابحار الى المغرب، حيث يحل ضيفا لاجئا على السلطان أبى عنان فارس بن أبى الحسن المرينى، وقد تم له ذلك بوصوله الى جبل طارق، الذي كان يومئذ ضمن أملاك المرينيين، ونجحت الخطة، اذ استقبله قائد الميناء بحفاوة، وسهل له مهمته، بأمر من سلطان المغرب، وأجازه الى سبتة هو ومن معه من ولده، وقبل أن يودع هذه البقاع بعث برسالة مؤثرة الى السلطان الغنى بالله
আল-খতিব; তিনি সুলতানের পরিবার এবং নিজ পরিবারের সাথে সমুদ্র পাড়ি দিলেন, তারপর রাজধানীতে পৌঁছালেন। সেখানে তিনি এমন একজনকে পেলেন যিনি তার পদের জন্য ভিড় করছেন এবং ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন; তিনি হলেন গাজীদের শায়খ (উসমান বিন আবি ইয়াহইয়া), সিংহাসন পুনরুদ্ধারে সুলতানের প্রতি যার বিশেষ অবদান ছিল। ফলে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিরোধ দেখা দিল এবং তারা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করতে লাগল। কিন্তু ইবনে আল-খতিব ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কৌশলে অধিক পারদর্শী ছিলেন, ফলে তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বীর ওপর জয়লাভ করলেন; কারণ তিনি সুলতানের সামনে এই উসমানের প্রভাবের ভয়াবহতাকে সুশোভিত করে ফুটিয়ে তুললেন এবং তাকে উসমান ও তার অনুসারীদের বিশ্বাসঘাতকতার ভয় দেখাতে শুরু করলেন। ফলে ইবনে আল-আহমার ইবনে আল-খতিবের পরামর্শে সাড়া দিলেন এবং ৭৬৪ হিজরি - ১৩৬৩ খ্রিস্টাব্দের রমজান মাসে উসমান ও তার পরিবারকে নির্মূল করলেন। এর মাধ্যমে ইবনে আল-খতিব কোনো বিরোধী বা প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই তার পূর্ণ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করলেন, কিন্তু তা ছিল সাময়িক। কারণ তিনি পুনরায় তার বিরুদ্ধে বুনে যাওয়া ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তগুলো অনুভব করতে পারলেন এবং দেখলেন যে তার প্রতিপত্তি বিরোধীদের কুৎসা রটনার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইবনে আল-খতিবের বিরুদ্ধে এই নতুন অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সুলতানের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত দুই ব্যক্তি, যা ছিল রাজকীয় সেবায় তাদের অবস্থান এবং রাষ্ট্রে তাদের রাজনৈতিক মর্যাদার কারণে। তারা হলেন:

১) কবি মুহাম্মদ বিন ইউসুফ, যিনি ‘ইবনে যামরাক’ নামে পরিচিত, ইবনে আল-খতিবের ছাত্র এবং মন্ত্রণালয়ে তার সহযোগী।

২) কাজিউল জামাআত আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ আল-নাবাহি, যিনি ইবনে আল-খতিবের হিতৈষী ছিলেন।

তখন ইবনে আল-খতিব এই দুই ধূর্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে সুলতানের কাছে তার অবস্থানের ভয়াবহতা অনুভব করলেন। ফলে তিনি সুলতানকে বিন্দুমাত্র টের পেতে না দিয়ে চিরতরে আন্দালুস ত্যাগ করার পরিকল্পনা করলেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি সুলতানের কাছে আন্দালুসের কিছু সীমান্ত ও বন্দর পরিদর্শনের অনুমতি চাইলেন এবং সুলতান তাতে সম্মতি দিলেন। আমাদের উজির নিজের পক্ষ থেকে মরক্কোর উদ্দেশ্যে সমুদ্রযাত্রার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিলেন, যেখানে তিনি সুলতান আবু ইনান ফারিস বিন আবুল হাসান আল-মারিনির কাছে শরণার্থী মেহমান হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করবেন। জিব্রাল্টারে পৌঁছানোর মাধ্যমে তার সেই পরিকল্পনা পূর্ণ হলো, যা তখন মারিনিদের শাসনাধীন ছিল। পরিকল্পনাটি সফল হলো, কারণ বন্দরের সেনাপতি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন এবং মরক্কোর সুলতানের নির্দেশে তার কাজ সহজ করে দিলেন। তিনি তাকে এবং তার সন্তানদের সিউটা পর্যন্ত পার করে দিলেন। এই ভূখণ্ড বিদায় জানানোর আগে তিনি সুলতান আল-গনি বিল্লাহর নিকট একটি আবেগঘন পত্র পাঠিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৮)
يعلل فيها مسلكه هذا، ويبرر تصرفه الاضطرارى، وأخيرا يطلب غفرانه، راجيا عونه لأسرته التى خلفها وراءه فى غرناطة.

وصل ابن الخطيب الى سبتة ومنها التحق بتلمسان، مقر السلطان عبد العزيز الذي احتفى به وأكرمه، ثم بعث بسفرائه الى غرناطة، يلتمس من سلطانها ان يجيز أسرة ابن الخطيب، فأجابه ابن الأحمر الى طلبه، وكان ذلك عام 773 هـ- 1371 م.

وكان من المتوقع أن يهنأ ابن الخطيب بهذا المقام بالمغرب، فالسلطان قد أحله مكانته اللائقة به، وأبدله مما فقد الشيء الكثير، ولكن- للأسف- اتخذ منافسوه بغرناطة من هربه- على هذه الصورة- مادة دسمة للكيد، وأكدوا للسلطان محمد الخامس ابن الأحمر ادانته، وعدم وفائه لولى نعمته، وزاد الاتهام تأكيدا أن ابن الخطيب كان حريصا على أن يحمل معه أمواله وذخائره الى المغرب، وفى هذا يخاطب القاضى النباهى غريمه- فى الرسالة المعروفة التى بعث بها اليه: «فهمزتم ولمزتم، وجمعتم من المال ما جمعتم، … ، ثم هربتم بأثقالكم» «9» .

كان القاضى النباهى فيما سبق من أنصار الوزير ابن الخطيب، بل إن تعيينه قاضيا للجماعة واستصدار ظهير هذا المنصب قد تم على يدى ابن الخطيب نفسه، كما نجد فى كتاب الاحاطة ترجمة للنباهى تنبئ عن تقدير ابن الخطيب لهذا الرجل؛ اذ ينعته بأنه «قريع بيت مجادة وجلالة، وبقية تعين وأصالة، عف النشأة، طاهر الثوب، مؤثر للوقار والحشمة، بعيد الغور، مرهف الجوانب، ناظم، ناثر، نثره يشف عن نظمه، ذاكر للكثير، بعيد المدى فى باب النزاهة، ماضي غير هيوب … الخ» ، ولكن ذلك «النباهى» تنكر تماما لابن الخطيب، ولم يحفظ له هذا الجميل؛ فقد آزر الوزير «ابن زمرك» ضده، وسعى سعيا حثيثا فى سبيل القضاء عليه، وتتجلى هذه الروح الشريرة، وما يمليه الحقد الشخصى، والضغائن الدفينة، فى تلك
যেখানে তিনি তাঁর এই আচরণের কারণ দর্শান এবং তাঁর এই নিরুপায় পদক্ষেপকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করেন। পরিশেষে তিনি তাঁর ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং গ্রানাদায় ফেলে আসা তাঁর পরিবারের জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করেন।

ইবনুল খতিব সিউতায় পৌঁছান এবং সেখান থেকে তিলিমসানে গমন করেন, যা ছিল সুলতান আব্দুল আজিজের রাজধানী। সুলতান তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং সম্মানিত করেন। এরপর তিনি গ্রানাদায় তাঁর দূত প্রেরণ করে সেখানকার সুলতানের কাছে এই মর্মে আবেদন করেন যেন তিনি ইবনুল খতিবের পরিবারকে সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেন। ইবনুল আহমার তাঁর এই অনুরোধ মঞ্জুর করেন এবং এটি ছিল ৭৭৩ হিজরি মোতাবেক ১৩৭১ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা।

প্রত্যাশা করা হয়েছিল যে, ইবনুল খতিব মরক্কোর এই অবস্থানে শান্তিতে বসবাস করবেন, কারণ সুলতান তাঁকে তাঁর যোগ্য মর্যাদা দান করেছিলেন এবং তিনি যা হারিয়েছিলেন তার বিনিময়ে তাঁকে অনেক মূল্যবান বস্তু প্রদান করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, গ্রানাদায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাঁর এই পলায়নের ধরনটিকে চক্রান্তের একটি মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। তারা সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদ ইবনুল আহমারের কাছে তাঁর অপরাধ এবং তাঁর হিতৈষীর প্রতি অকৃতজ্ঞতার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন করে। এই অভিযোগটি আরও জোরালো হয় কারণ ইবনুল খতিব মরক্কোতে আসার সময় তাঁর সকল অর্থকড়ি ও সঞ্চিত সম্পদ সাথে নিয়ে আসার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। এই প্রসঙ্গেই কাজী আন-নাবাহি তাঁর প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে তাঁর সেই বিখ্যাত পত্রে লিখেছিলেন: "আপনারা নিন্দা ও উপহাস করেছেন এবং যা কিছু সম্পদ জমা করার তা করেছেন, ... অতঃপর আপনাদের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ পলায়ন করেছেন" [৯]।

কাজী আন-নাবাহি ইতিপূর্বে উজির ইবনুল খতিবের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এমনকি ইবনুল খতিবের নিজের মাধ্যমেই তাঁর প্রধান বিচারপতি (কাজী আল-জামাআ) পদে নিয়োগ এবং এই সংক্রান্ত রাজকীয় ফরমান জারির বিষয়টি সম্পন্ন হয়েছিল। যেমনটি আমরা 'আল-ইহাতা' গ্রন্থে আন-নাবাহির জীবনীতে ইবনুল খতিবের পক্ষ থেকে এই ব্যক্তির প্রতি উচ্চ ধারণার প্রতিফলন দেখতে পাই; সেখানে তিনি তাঁকে বর্ণনা করেছেন এভাবে: "তিনি এক মর্যাদাবান ও মহান বংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের উত্তরসূরি, নিষ্কলুষ আচরণের অধিকারী, পবিত্র চরিত্রের মানুষ, গাম্ভীর্য ও শালীনতাপছন্দকারী, গভীর চিন্তাশীল, সূক্ষ্মদর্শী, কবি ও গদ্যকার—যার গদ্য তাঁর পদ্যের সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলে, প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, সততার ক্ষেত্রে সুউচ্চ মানের এবং নির্ভীক তেজস্বী ... ইত্যাদি।" কিন্তু সেই "নাবাহি" পরবর্তীতে ইবনুল খতিবের সাথে সম্পূর্ণ ভিন্ন আচরণ করেন এবং তাঁর সেই অনুগ্রহের কথা রক্ষা করেননি। তিনি উজির "ইবনু যামরাক"-কে তাঁর বিরুদ্ধে সহায়তা করেন এবং তাঁকে ধ্বংস করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালান। এই অশুভ মানসিকতা, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং অন্তরের অন্তস্থলে প্রোথিত বিদ্বেষ স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় সেই...
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ১৯)
الرسالة التى بعث بها القاضى النباهى الى ابن الخطيب بالمغرب، وفيها يعيب عليه الانصراف الى اقتناء الضياع والديار، كما أنه نسب اليه- فى بعض مؤلفاته- بعض محدثات فى الدين، مما يمس الشريعة الاسلامية، كما تناول فى بعض هذه المؤلفات الأموات من الناس، وذلك بالطعن أو العيب فيهم، الأمر الذي يستنكره الدين....، الى آخر ما جاء فى تلك الرسالة من هذه المثالب، وحتى مغادرة ابن الخطيب للأندلس مؤخرا- على تلك الصورة- رأى فيها النباهى غدرا بالسلطان ولى نعمته، كما كذبه فى ادعائه الانقطاع للعبادة فى المغرب، وأنه لو أرادها حقيقة لقصد الديار المقدسة، أو أبقى على نفسه بغرناطة بجوار الكفاح والجهاد، لنصرة المملكة الاسلامية التى يتهددها خطر الأسبان كل حين.

وفى الأخير ينهى النباهى رسالته بالنيل من أسرة ابن الخطيب، بأنها حديثة النعمة، وأن ثروتها هذه لم تأت الا عن طريق المنصب والسلطة..

وقد كان لهذه الرسالة أثر كبير فيما بعد؛ حيث كانت صك الاتهام، وأدين ابن الخطيب على أساس ما ورد فيها، وذلك عندما حلت نكبته، ودنت ساعة نحسه «10» .

هذا، ويرجع تاريخ الرسالة هذه الى أواخر جمادى الأولى 773 هـ- 1371 م، وقد تسلمها ابن الخطيب بتلمسان، وأجاب على ما جاء بها مفصلا، فى كتابه «الكتيبة الكامنة فيمن لقيناه بالأندلس من شعراء المائة الثامنة» ، وشدد النكير على القاضى النباهى، عندما وصقه بأنه «الجعسوس» أى: القزم الدميم، وزاد ابن الخطيب فوضع رسالة خاصة للنيل من خصمه اللدود، وسماها «خلع الرسن، فى وصف القاضى أبى الحسن» .

ظل القاضى النباهى وابن زمرك على عزمهما بسحق غريمهما ابن الخطيب، فبعد احراق كتبه العقائدية، عهد النباهى الى قضاة غرناطة باستصدار حكم الشرع فى جريمة الالحاد، وهو الاعدام، وحصل من السلطان على مصادقة بهذا
মরক্কোতে ইবনে আল-খতিবের কাছে কাজী আল-নুবাহি যে চিঠিটি পাঠিয়েছিলেন, তাতে তিনি তার জমিজমা ও ঘরবাড়ি অর্জনের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সমালোচনা করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি তার কিছু রচনায় দ্বীনের মাঝে কিছু নব-উদ্ভাবিত বিষয়ের (বিদআত) সম্পৃক্ততা তার দিকে নিসবত করেছেন, যা ইসলামী শরীয়তকে স্পর্শ করে। এছাড়া তিনি তার কিছু রচনায় মৃত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কটূক্তি বা তাদের দোষ বর্ণনা করেছেন, যা দ্বীন কর্তৃক নিন্দিত... এই চিঠিতে বর্ণিত এই ধরণের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোর শেষ পর্যন্ত, এমনকি ইবনে আল-খতিবের সাম্প্রতিক সময়ে আন্দালুস ত্যাগ করার বিষয়টিও আল-নুবাহি তার আশ্রয়দাতা সুলতানের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য করেছেন। তদুপরি, মরক্কোতে ইবাদতে মগ্ন হওয়ার বিষয়ে তার দাবিকেও তিনি মিথ্যা সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি যদি সত্যিই তা চাইতেন তবে পবিত্র ভূমির উদ্দেশ্যে যাত্রা করতেন অথবা স্প্যানিশদের ক্রমবর্ধমান বিপদের মুখে ইসলামী রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য সংগ্রাম ও জিহাদের লক্ষে গ্রানাডাতেই নিজের জীবন উৎসর্গ করতেন।

পরিশেষে, আল-নুবাহি ইবনে আল-খতিবের পরিবারকে আক্রমণ করে তার চিঠির ইতি টানেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তারা নব্য ধনী এবং তাদের এই সম্পদ কেবল পদমর্যাদা ও ক্ষমতার মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে।

পরবর্তীতে এই চিঠির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী; কারণ এটিই ছিল অভিযোগনামা এবং এর ভিত্তিতেই ইবনে আল-খতিবকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল যখন তার বিপর্যয় ঘনিয়ে এসেছিল এবং তার দুর্ভাগ্যের সময় সমাগত হয়েছিল।

এই চিঠির তারিখ ছিল ৭৭৩ হিজরির জমাদিউল আউয়াল মাসের শেষ দিক (১৩৭১ খ্রিস্টাব্দ)। ইবনে আল-খতিব তিলিমসানে এটি গ্রহণ করেন এবং তার 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফীমান লাকীনাহু বিল আন্দালুস মিন শুআরাইল মায়াতিত সামিনাহ' গ্রন্থে এর বিস্তারিত জবাব দেন। তিনি কাজী আল-নুবাহির কঠোর নিন্দা করেন এবং তাকে 'আল-জাসুস' অর্থাৎ কদাকার বামন বলে অভিহিত করেন। ইবনে আল-খতিব আরও এক ধাপ এগিয়ে তার এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে নাজেহাল করার জন্য 'খালউর রাসান ফী ওয়াসফিল কাজী আবিল হাসান' নামে একটি বিশেষ পুস্তিকা রচনা করেন।

কাজী আল-নুবাহি এবং ইবনে জুমরুক তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ইবনে আল-খতিবকে চূর্ণ করার সংকল্পে অটল ছিলেন। তার আকীদা বিষয়ক গ্রন্থগুলো পুড়িয়ে ফেলার পর, আল-নুবাহি গ্রানাডার কাজীদের ওপর ইলহাদ বা ধর্মদ্রোহিতার অপরাধে শরয়ী ফয়সালা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করেন, যার দণ্ড ছিল মৃত্যুদণ্ড। তিনি সুলতানের কাছ থেকে এর অনুমোদনও লাভ করেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২০)
الحكم، وبعث القاضى أبو الحسن بنوابه الى السلطان عبد العزيز وبأيديهم هذا الحكم، فقابل السلطان رسل غرناطة بالاستنكار، وخاطبهم قائلا: «هلا أنفذتم فيه حكم الشرع وهو عندكم، وأنتم عالمون بما كان عليه!!!» وبالغ فى اكرام ابن الخطيب، وأضفى عليه مزيدا من عنايته.

وتجدر الاشارة هنا الى أن ابن الخطيب قد لاحظ وقتئذ قوة المغرب فى عهد صديقه السلطان عبد العزيز، ومبلغ العداء بين فاس وغرناطة وقد بلغ أوجه، فحرض السلطان على ضم غرناطة لمملكته، وقد رمى من وراء ذلك الى سحق أعدائه هناك، وتأمين مقامه بالمغرب، وما يتبع ذلك من حماية مصالحه.

ويظهر أن هذه السياسة قد لاقت قبولا عند السلطان عبد العزيز، فصمم على تنفيذها، وفى ذلك يقول ابن خلدون: «ثم تأكدت العداوة بينه (ابن الخطيب) وبين ابن الأحمر، فرغب السلطان عبد العزيز فى ملك الأندلس وحمله عليه، وتواعدوا لذلك عند رجوعه من تلمسان الى المغرب «11» » ، وبلغت ابن الأحمر رغبة ملك المغرب هذه، فتخوف لذلك كثيرا، وأسرع الى ايفاد رسله بالهدايا والتحف الثمينة الى بلاط فاس، آملا فى نيل رضا السلطان عبد العزيز، واتقاء شره. ثم تفاجئ الظروف الموقف، فيموت السلطان عبد العزيز بعدئذ بقليل، ويجلس على عرش المغرب ابنه «أبو زيان محمد السعيد» طفلا فى الرابعة من عمره، فى ربيع الآخر 774- 1372 م، وقبض على زمام السلطة الفعلية وزيره «أبو بكر بن غازى» ، فتغيرت الأوضاع السياسية بالمغرب تماما، واضطر ابن الخطيب حينئذ أن يتزلف الى الملك الطفل ووزيره، فألف كتابه المعروف باسم «أعمال الأعلام، فيمن بويع قبل الاحتلام من ملوك الاسلام» ، وفيه يبرر هذا الوضع الجديد شرعا، وعرفا وتاريخا، وأورد لذلك الأشباه والنظائر، ردا على المناهضين بالمغرب، وخاصة بنى الأحمر وعملائهم.
ফয়সালাটি। কাযী আবুল হাসান তাঁর প্রতিনিধিদের সুলতান আব্দুল আযীযের নিকট প্রেরণ করলেন এবং তাঁদের হাতে ছিল এই ফয়সানাপত্রটি। তখন সুলতান গ্রানাডার প্রতিনিধিদের অবজ্ঞার সাথে মোকাবিলা করলেন এবং তাঁদের সম্বোধন করে বললেন: «কেন তোমরা তাঁর ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর করলে না যখন তিনি তোমাদের কাছেই ছিলেন? অথচ তোমরা ভাল করেই জানতে তিনি কীসের ওপর ছিলেন!!!» তিনি ইবনে আল-খাতিবকে অত্যন্ত সম্মান দান করলেন এবং তাঁর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হলেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইবনে আল-খাতিব তখন তাঁর বন্ধু সুলতান আব্দুল আযীযের শাসনামলে মরক্কোর শক্তি এবং ফাস ও গ্রানাডার মধ্যকার শত্রুতা চরম পর্যায়ে পৌঁছানো প্রত্যক্ষ করেছিলেন। ফলে তিনি সুলতানকে গ্রানাডা নিজের সাম্রাজ্যভুক্ত করার জন্য প্ররোচিত করেন। এর মাধ্যমে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেখানে অবস্থানরত তাঁর শত্রুদের নির্মূল করা এবং মরক্কোতে নিজের অবস্থান ও স্বার্থ রক্ষা করা।

প্রকাশ থাকে যে, এই নীতি সুলতান আব্দুল আযীযের নিকট গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল এবং তিনি এটি বাস্তবায়নের দৃঢ় সংকল্প করেন। এ সম্পর্কে ইবনে খালদুন বলেন: «অতঃপর তাঁর (ইবনে আল-খাতিব) এবং ইবনে আল-আহমারের মধ্যকার শত্রুতা আরও গভীর হয়। ফলে সুলতান আব্দুল আযীয আন্দালুস বিজয়ে আগ্রহী হন এবং ইবনে আল-খাতিব তাঁকে এ কাজে উৎসাহিত করেন। তিলিমসান থেকে মরক্কো ফেরার পথে তাঁরা এ বিষয়ে একমত হন (১১)»। মরক্কোর অধিপতির এই অভিপ্রায়ের কথা ইবনে আল-আহমারের কানে পৌঁছালে তিনি অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি সুলতান আব্দুল আযীযের সন্তুষ্টি অর্জন ও তাঁর অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায় মূল্যবান উপঢৌকন ও নজরানাসহ দ্রুত ফাস রাজদরবারে প্রতিনিধি প্রেরণ করেন। এরপর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে; কিছুকাল পরেই সুলতান আব্দুল আযীয মৃত্যুবরণ করেন। ৭৭৪ হিজরির রবিউস সানি (১৩৭২ খ্রি.) মাসে তাঁর চার বছর বয়সী শিশুপুত্র «আবু যায়িয়ান মুহাম্মদ আস-সাঈদ» মরক্কোর সিংহাসনে আরোহণ করেন। ক্ষমতার প্রকৃত চাবিকাঠি তাঁর উজির «আবু বকর ইবনে গাজী»-র হাতে চলে যায়। এতে মরক্কোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ পাল্টে যায় এবং ইবনে আল-খাতিব তখন শিশু সুলতান ও তাঁর উজিরের সান্নিধ্য লাভে সচেষ্ট হতে বাধ্য হন। এই প্রেক্ষাপটেই তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ «আ'মালুল আ'লাম ফীমান বুয়ি'আ ক্বাবলাল ইহতিলাম মিন মুলুকিল ইসলাম» রচনা করেন। এতে তিনি শরয়ী, সামাজিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই নতুন পরিস্থিতির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন এবং মরক্কোর বিরোধী পক্ষ, বিশেষ করে বনু আহমার ও তাদের অনুচরদের প্রতিত্তোরে বিভিন্ন নজির ও সদৃশ ঘটনা উপস্থাপন করেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২১)
وفى هذه الأثناء قام السلطان ابن الأحمر بمحاولة أخرى للايقاع بابن الخطيب، وذلك بأن أوعز الى الوزير «ابن غازى» أن يبعث اليه بابن الخطيب، فامتنع ابن غازى، وتوترت العلاقات مرة أخرى، بين غرناطة وفاس، الأمر الذي جعل ابن الأحمر يوغر صدور هؤلاء الأمراء المرينيين ضد النظام القائم فى فاس، وبذل فى سبيل القضاء على هذا النظام مساعدات ضخمة، كما أقنع من اتصل بهم من حكام الأقاليم- وخاصة حاكم سبتة أبا محمد بن عثمان- بأن من الأفضل للمغرب أن يكون الملك رجلا راشدا، لا طفلا صغيرا، لا يدرك شيئا، واتفق معه على تنصيب الأمير المرينى أبى العباس أحمد بن أبى سالم ملكا على المغرب، وأنه- أى محمد بن عثمان- سيكون الوزير مستقبلا، وأعطاه المزيد من المساعدات الهائلة لتنفيذ هذا الاتفاق، على أن يحقق هذا الوزير لابن الأحمر ثلاثة مطالب، بعد نجاح الخطة، وهى:

1) تسليم ابن الخطيب.

2) تسليم الأمراء المناهضين لابن الأحمر.

3) تسليم جبل طارق.

ووقعت بعض الحوادث بالمغرب، وتمخضت عنها ثورة قاضية، أدت الى حدوث الانقلاب المنشود لابن الأحمر، ونودى حينئذ بالأمير أحمد بن السلطان أبى سالم واليا على المغرب (776 هـ- 1374 م) .

وهنا أسرع السلطان الجديد بالقبض على ابن الخطيب، وسجنه، وبذلك تهيأت الفرصة لوضع نهاية الوزير المنكود؛ فقد كان الوزير الجديد ببلاط فاس سليمان بن داود من ألد خصوم ابن الخطيب، ومن جهة أخرى فقد أرسل سلطان غرناطة سفيره ووزيره عبد الله بن زمرك الى فاس ليشهد آخر فصل فى هذه الرواية، وليدق آخر مسمار فى نعش ابن الخطيب، وبوصول ابن زمرك عقد السلطان أحمد مجلسا من مستشاريه وكبار رجال الدولة، ونوقش ابن الخطيب أمام هذا المجلس، حول كافة الادعاءات المقامة ضده، وبالأخص دعوى الالحاد، تلك الدعوى التى صاغها القاضى النباهى من قبل، وكان مجلسا
ইতিমধ্যে সুলতান ইবনুল আহমার ইবনুল খতিবকে পাকড়াও করার জন্য আরেকটি প্রচেষ্টা চালান। তিনি উজির 'ইবনে গাজী'র কাছে ইবনুল খতিবকে তাঁর নিকট পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু ইবনে গাজী তা প্রত্যাখ্যান করেন, ফলে গ্রানাডা ও ফেজ-এর মধ্যে সম্পর্কের পুনরায় অবনতি ঘটে। এই বিষয়টি ইবনুল আহমারকে ফেজ-এর বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মেরিনি রাজপুত্রদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে প্ররোচিত করে এবং এই শাসনব্যবস্থা উৎখাত করার লক্ষ্যে তিনি বিপুল সাহায্য প্রদান করেন। একইভাবে তিনি যে সকল প্রাদেশিক গভর্নরদের সাথে যোগাযোগ করেছিলেন—বিশেষ করে সিউটার গভর্নর আবু মুহাম্মদ বিন উসমানকে—এই মর্মে আশ্বস্ত করেন যে, মরক্কোর জন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বাদশা হওয়া শ্রেয়, কোনো অবুঝ ছোট শিশু নয়। এবং তিনি তাঁর সাথে এই মর্মে একমত হন যে, মেরিনি রাজপুত্র আবুল আব্বাস আহমদ বিন আবি সালিমকে মরক্কোর বাদশা হিসেবে নিযুক্ত করা হবে এবং তিনি—অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন উসমান—ভবিষ্যতে উজির হবেন। এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য তিনি তাঁকে আরও বিশাল অঙ্কের সাহায্য প্রদান করেন, তবে শর্ত ছিল যে পরিকল্পনা সফল হওয়ার পর এই উজির ইবনুল আহমারের তিনটি দাবি পূরণ করবেন, সেগুলো হলো:

১) ইবনুল খতিবকে হস্তান্তর করা।

২) ইবনুল আহমার বিরোধী রাজপুত্রদের হস্তান্তর করা।

৩) জিব্রাল্টার সমর্পণ করা।

অতঃপর মরক্কোতে কিছু ঘটনাপ্রবাহের উদ্ভব হয়, যার ফলে একটি চূড়ান্ত বিপ্লব দানা বেঁধে ওঠে এবং এটি ইবনুল আহমারের কাঙ্ক্ষিত সেই ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হয়। সেই সময় সুলতান আবু সালিমের পুত্র রাজপুত্র আহমদকে মরক্কোর শাসক হিসেবে ঘোষণা করা হয় (৭৭৬ হিজরি - ১৩৭৪ খ্রিস্টাব্দ)।

এরপর নতুন সুলতান দ্রুত ইবনুল খতিবকে গ্রেফতার ও কারারুদ্ধ করেন, আর এভাবেই দুর্ভাগা উজিরের জীবনের ইতি টানার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কেননা ফেজ দরবারের নতুন উজির সুলাইমান বিন দাউদ ছিলেন ইবনুল খতিবের ঘোরতর শত্রুদের একজন। অন্যদিকে গ্রানাডার সুলতান তাঁর দূত ও উজির আবদুল্লাহ বিন যুমরাককে ফেজ-এ পাঠান, যাতে তিনি এই কাহিনীর শেষ অধ্যায়ের সাক্ষী হতে পারেন এবং ইবনুল খতিবের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকতে পারেন। ইবনে যুমরাকের আগমনের পর সুলতান আহমদ তাঁর উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সভা আহ্বান করেন। এই সভার সামনে ইবনুল খতিবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়, বিশেষ করে নাস্তিকতার অভিযোগটি, যা আগে কাজী নাবাহী উত্থাপন করেছিলেন। এটি ছিল একটি সভা...
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২২)
صوريا بطبيعة الحال؛ فان نتيجة المحاكمة كانت مقررة، ومتفقا عليها من قبل، فى كل من غرناطة وفاس.

لقد أوذى ابن الخطيب أمام شهود هذه المؤامرة، وأفتى الفقهاء المتعصبون باعدامه شرعا، فأعيد الى سجنه حيث دبر الوزير سليمان بن داود أمر قتله فى السجن، وفعلا بعث اليه ببعض الأشرار الذين قتلوه خنقا أواخر عام 776 هـ- 1375 م، وفى الصباح سحبت جثته الى الفضاء، حيث تم حرقها، ودفن بضاحية فاس «12» .

ويروى المقرى أنه تمكن مؤخرا من معرفة قبر ابن الخطيب، وذلك خلال اقامته بفاس، أوائل القرن الحادى عشر الهجرى (القرن السابع عشر الميلادى) ، فزاره مرارا حيث يرقد، وفى هذا يقول: «وقد زرته مرارا- رحمه الله تعالى- بفاس المحروسة، فوق باب المدينة الذي يقال له: باب الشريعة، وهو يسمى الآن «باب المحروق» ، وشاهدت موضع دفنه غير مستو مع الأرض، بل ينزل اليه بانحدار كثير «13» » .

رحم الله ابن الخطيب كفاء ما زود التاريخ من ذخائر، وأهدى العلوم والمعارف من نفائس.
স্বাভাবিকভাবেই এটি ছিল নিছক লোকদেখানো বিষয়; কেননা বিচারের ফলাফল গ্রানাডা এবং ফেজ—উভয় স্থানেই আগে থেকেই নির্ধারিত এবং ঐকমত্যপূর্ণ ছিল।

এই ষড়যন্ত্রের সাক্ষীদের সামনে ইবনুল খাতিবকে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল এবং গোঁড়া ফকিহগণ শরীয়ত মোতাবেক তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ফতোয়া দেন। অতঃপর তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে উজির সুলাইমান বিন দাউদ তাকে কারাগারে হত্যার পরিকল্পনা করেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি তার নিকট কিছু দুষ্কৃতকারীকে প্রেরণ করেছিলেন যারা ৭৭৬ হিজরি সনের শেষভাগে (১৩৭৫ খ্রিষ্টাব্দ) তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সকালে তার মৃতদেহ উন্মুক্ত স্থানে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তা পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং ফেজের উপকণ্ঠে তাকে দাফন করা হয় «১২»।

আল-মাক্কারি বর্ণনা করেন যে, তিনি একাদশ হিজরি শতাব্দীর শুরুর দিকে (সপ্তদশ খ্রিষ্টাব্দ) ফেজে অবস্থানকালে ইবনুল খাতিবের কবরের সন্ধান পেতে সক্ষম হন। যেখানে তিনি শায়িত আছেন, সেখানে তিনি বারবার যিয়ারত করতে যেতেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন: “আমি সুরক্ষিত ফেজ শহরে তাকে—আল্লাহ তায়ালা তার ওপর রহম করুন—বারবার যিয়ারত করেছি। এটি শহরের সেই ফটকের উপরে অবস্থিত যাকে ‘বাবুল শারিয়াহ’ বলা হয় এবং বর্তমানে একে ‘বাবুল মাহরুক’ বলা হয়। আমি লক্ষ্য করেছি যে, তার দাফনের স্থানটি ভূমির সাথে সমতল নয়, বরং সেখানে বেশ ঢাল বেয়ে নামতে হয় «১৩»।”

ইতিহাসকে তিনি যে অমূল্য জ্ঞানভাণ্ডার সরবরাহ করেছেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানকে যে দুর্লভ উপহারসমূহ দান করেছেন, তার বিনিময়ে আল্লাহ ইবনুল খাতিবকে রহমত দান করুন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ابن الخطيب في نظر بعض المؤرخين والمستشرقين

قضى الوزير الفذ، والمفكر العظيم، والمؤرخ الكبير، والموسوعة العلمية، على هذا النحو، ضحية الأحقاد والأضغان، وبالرغم مما أثير حول الرجل إبان محنته من موجة عارمة بالسخط، فان هذه الموجة لم يطل أمدها، إذ كانت مغرضة عارية من ثوب الحقيقة، يدل على هذا ما رأيناه من المؤرخين القدامى، الذين انبرت أقلامهم لانصافه، واحلاله المكانة اللائقة به بين رجال التاريخ، ونخص من المؤرخين أولئك الذين قربوا من عهده؛ فابن خلدون صديقه القديم يسجل أولا أنه «هو الهالك لهذا العهد، شهيدا بسعاية أعدائه «14» ،» ثم يورد- فى مقام آخر- أنه «شاعر الأندلس والمغرب فى عصره» ، كما يشهد له فى ميدان الشعر والنثر بقوله: «وامتلأ حوض السلطان من نظمه ونثره، مع انتقاء الجيد منه، وبلغ فى الشعر والترسل، حيث لا يجارى فيهما، وامتدح السلطان أبا الحجاج من ملوك بنى الأحمر، وملأ الدولة بمدايحه، وانتشرت فى الآفاق قدماه» ، ويتحدث ابن خلدون كذلك عن رسائل ابن الخطيب السلطانية بقوله: «وصدرت عنه غرائب من الترسل فى مكاتبة جيرانهم (ملوك بنى الأحمر) من ملوك العدوة» .

وحقا لقد خلف ابن الخطيب من هذه الرسائل روائع، تعد نموذجا رفيعا، لما بلغه قلم الرجل من شأو فى فن النثر الوزارى السياسى خاصة،
কিছু ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিশারদদের দৃষ্টিতে ইবনুল খাতিব

এই অনন্য সাধারণ উজির, মহান চিন্তাবিদ, শ্রেষ্ঠ ঐতিহাসিক এবং ইলমের বিশ্বকোষ এভাবেই বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শেষ হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পরীক্ষার সময় তাঁকে ঘিরে অসন্তোষের যে প্রবল ঢেউ উঠেছিল, তা সত্ত্বেও সেই ঢেউ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি; কারণ তা ছিল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সত্যের লেবাস বর্জিত। এর প্রমাণ মেলে প্রাচীন ঐতিহাসিকদের লেখনীতে, যাঁরা তাঁর প্রতি ইনসাফ করার জন্য এবং ইতিহাসের বরণীয় ব্যক্তিদের মাঝে তাঁকে তাঁর যোগ্য আসনে আসীন করার জন্য কলম ধরেছিলেন। আমরা বিশেষভাবে সেই সমস্ত ঐতিহাসিকদের কথা উল্লেখ করব যাঁরা তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। তাঁর পুরাতন বন্ধু ইবনে খালদুন প্রথমেই লিপিবদ্ধ করেন যে, "তিনি এই যুগের এমন এক ব্যক্তি যিনি তাঁর শত্রুদের প্ররোচণায় শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।" অতঃপর তিনি অন্য স্থানে উল্লেখ করেন যে, "তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের আন্দালুস ও মাগরিবের শ্রেষ্ঠ কবি।" কবিতা ও গদ্যের ময়দানে তাঁর কৃতিত্বের সাক্ষ্য দিয়ে তিনি বলেন: "সুলতানের দরবার তাঁর কাব্য ও গদ্যে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল, যেখান থেকে কেবল উৎকৃষ্টটিই নির্বাচন করা হতো; তিনি কবিতা ও পত্রসাহিত্যে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিল না। তিনি বনু আহমার রাজবংশের সুলতান আবু হাজ্জাজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর স্তুতিগীতি দিয়ে রাষ্ট্রকে ভরিয়ে দিয়েছেন, আর তাঁর খ্যাতি দিগন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।" ইবনে খালদুন ইবনুল খাতিবের রাজকীয় পত্রাবলী সম্পর্কেও বলেন: "পার্শ্ববর্তী মরক্কো অঞ্চলের রাজাদের নিকট পত্র বিনিময়ের ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে পত্রসাহিত্যের এমন সব চমৎকার উদাহরণ প্রকাশিত হয়েছিল যা ছিল বিস্ময়কর।"

প্রকৃতপক্ষে ইবনুল খাতিব এই পত্রাবলীর এমন সব শ্রেষ্ঠ নিদর্শন রেখে গেছেন যা একটি উচ্চমানের আদর্শ হিসেবে গণ্য হয়, বিশেষ করে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক গদ্য সাহিত্যে তাঁর কলম যে উচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল তার প্রমাণ হিসেবে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৪)
سواء- من هذه الرسائل- ما بعث به على لسان سلطانه الى ملوك المغرب أو ملوك النصارى، أو سلاطين مصر؛ فبين أيدينا الكثير الجمّ، ويعتبر كتابه «ريحانة الكتاب ونجعة المنتاب» مجلدا ضخما لألوان نثر ابن الخطيب المختلفة، ما بين أغراض سلطانية، الى رسائل اخوانية، الى أوصاف حربية لمعارك دارت رحاها على أيامه.

أما المقرى فقد جمع فى مؤلفه «نفح الطيب» معظم آثار ابن الخطيب.

وما كان له من أخبار فى الفترة التى عاشها بالأندلس والمغرب، ويكاد يكون معظم هذا السفر الضخم وقفا على ابن الخطيب، حتى أنه قرن اسم الكتاب به.

وقد أشاد المقرى فى أكثر من موضع- من كتابه هذا- بوزيرنا، فيقول عنه مثلا: «اذ هو فارس النظم والنثر فى ذلك العصر، والمنفرد بالسبق فى تلك الميادين بأداة الحصر «15» » .

وفى مجال العلوم والآداب بألوانها هو «امام هذه الفنون، المحقق لذوى الآمال والظنون، المستخرج من بحار البلاغة درها المكنون، وله اليد الطولى فى العلوم على اختلاف أجناسها، والألفاظ الرائعة التى تزيح وحشة الأنفس بايناسها «16» » .

وبالجملة، فالمقرى يرى أن ابن الخطيب «قد قصرت ألسن البلغاء عن علاه، وزانت صدور الدواوين حلاه، وجمع خلالا حسانا، وكان للدين لسانا «17» » .

أما الأمير «أبو الوليد اسماعيل ابن الأحمر» ، معاصر ابن الخطيب، فيسجل فى كتابه «نثير فرائد الجمان، فيمن ضمنى واياهم الزمان» مواهب
এই পত্রগুলোর মধ্যে—যা তিনি তাঁর সুলতানের পক্ষ থেকে মাগরেবের রাজন্যবর্গ, খ্রিস্টান রাজা বা মিশরের সুলতানদের নিকট পাঠিয়েছিলেন—আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। তাঁর 'রায়হানাতুল কিতাব ওয়া নুজআতুল মুনতাব' গ্রন্থটি ইবনে আল-খতিবের গদ্যের বিবিধ রীতির একটি বিশাল সংকলন হিসেবে বিবেচিত, যাতে রাষ্ট্রীয় পত্রাবলি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত পত্র এবং তাঁর সমকালীন যুদ্ধবিগ্রহের বর্ণনা স্থান পেয়েছে।

অন্যদিকে আল-মাককারী তাঁর 'নাফহুত তীব' গ্রন্থে ইবনে আল-খতিবের অধিকাংশ সাহিত্যকর্ম সংগ্রহ করেছেন।

আন্দালুস ও মাগরেবে তাঁর অতিবাহিত জীবনের সংবাদসমূহও এতে বিদ্যমান। বস্তুত এই বিশাল গ্রন্থের সিংহভাগই ইবনে আল-খতিবের জন্য নিবেদিত, এমনকি তিনি গ্রন্থের নামের সাথে তাঁর নামও সংশ্লিষ্ট করেছেন।

আল-মাককারী তাঁর এই গ্রন্থের একাধিক স্থানে আমাদের এই উজিরের উচ্চ প্রশংসা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন: "কেননা তিনি সেই যুগের পদ্য ও গদ্যের শ্রেষ্ঠ অশ্বারোহী, এবং এই ময়দানসমূহে অনন্য শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী।"

আর বিবিধ বিজ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে তিনি হলেন "এই সকল শিল্পের ইমাম, সত্যপিপাসুদের আকাঙ্ক্ষা ও ধারণার সার্থক রূপকার এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সমুদ্র হতে নিগূঢ় মুক্তা আহরণকারী। বিভিন্ন শাস্ত্রীয় জ্ঞানে তাঁর সুদীর্ঘ হাত রয়েছে এবং তাঁর চমৎকার শব্দাবলী মানুষের হৃদয়ের বিষণ্ণতা দূর করে প্রশান্তি দান করে।"

পরিশেষে, আল-মাককারী মনে করেন যে ইবনে আল-খতিব এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর "মর্যাদার বর্ণনায় বাগ্মীদের জিহ্বা অক্ষম হয়ে পড়ে, যাঁর অলঙ্করণে কাব্য সংকলনগুলোর হৃদয় সুশোভিত হয়, যিনি সকল মহৎ গুণের আধার এবং দ্বীনের কণ্ঠস্বর।"

আর ইবনে আল-খতিবের সমসাময়িক আমির 'আবু ওয়ালিদ ইসমাইল ইবনে আল-আহমার' তাঁর 'নাছিরু ফাওয়াইদিল জুমান, ফিমান যাম্মানি ওয়া ইয়্যাহুমুয যামান' গ্রন্থে তাঁর প্রতিভাসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا الوزير وعبقرياته، فيقول: «هو شاعر الدنيا، وعلم الفرد والثنيا، وكاتب العرض الى يوم العرض، لا يدافع مدحه فى الكتب، ولا يجنح فيه الى العتب، آخر من تقدم فى الماضى، وسيف مقولة ليس بالكهام؛ اذ هو الماضى، والا فانظر كلام الكتاب الأول من العصبة، كيف كان فيهم بالافادة صاحب القصبة، للبراعة، باليراعة، وبه أسكت صائلهم، وما حمدت بكرهم وأصائلهم، المشربة بالحلاوة، الممكنة من مفاصل الطلاوة، وهو نفيس العدوتين، ورئيس الدولتين، بالاطلاع على العلوم العقلية، والامتاع بالفهوم العقلية «18» » .

كذلك يبدى النقاد الأجانب اعجابهم وتقديرهم لابن الخطيب، وينوّهون فى كثير من المناسبات بمنزلة الرجل العلمية والأدبية، وما زالت آثاره محل دراستهم المستفيضة، معينا لا يغيض، ومنهلا بالمعارف يفيض.

وفى طليعة هؤلاء النقاد الأجانب المستشرق الأسبانى (سيمونيت (Simonet حيث يقول: «ان ابن الخطيب قد خلّف لنا آثارا كثيرة، فى النثر والشعر، والتاريخ، والجغرافيا، والرحلات، والبلاغة، والشريعة، والعلوم، والأخلاق، والدين، والنبات، والطب والبيطرة، والموسيقى، والفن الحربى، والسياسة، وكلها غنية فى الابتكار والتعمق والرشاقة «19» » .

وبهذه المناسبة نذكر أن المستشرق «سيمونيت» تناول بالتحقيق والترجمة المدن الأندلسية التى وصفها ابن الخطيب فى كتابه «معيار الاختيار، فى ذكر المعاهد والديار» موضوع هذا الكتاب- كما أسلفنا فى المقدمة- على نحو ما سنفصل القول عنه فى الباب الثالث، عند حديثنا عن قيمة مؤلفه هذا من الناحيتين التاريخية والأدبية.
এই উজির এবং তাঁর অনন্য প্রতিভা সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তিনি বিশ্বের কবি, একক ও তুলনাহীন ব্যক্তিত্ব, এবং হাশরের ময়দানে পেশ করার যোগ্য এক অনন্য লেখক। কিতাবসমূহে তাঁর প্রশংসা অবিসংবাদিত, এতে কোনো অভিযোগের অবকাশ নেই। তিনি উত্তরসূরিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অগ্রগামী এবং এমন এক বাক-তলোয়ার যা ভোঁতা নয়; বরং অত্যন্ত ধারালো। আপনি পূর্ববর্তী লেখকগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করুন, কীভাবে তিনি তাঁর নিপুণ লেখনীর মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন। তাঁর পাণ্ডিত্য ও সাবলীলতার মাধ্যমে তিনি তাদের বাগ্মীদের নিরস্ত করেছিলেন। তাদের সকাল-সন্ধ্যার স্তুতি তাঁর মতো মিষ্টতাপূর্ণ ও সুবিন্যস্ত ছিল না। তিনি ছিলেন উভয় তীরের রত্ন এবং উভয় রাষ্ট্রের প্রধান, যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান এবং মানসিক বোধশক্তি দ্বারা সকলকে আনন্দ দান করতেন।"

একইভাবে, বিদেশি সমালোচকগণও ইবনে আল-খাতিবের প্রতি তাঁদের মুগ্ধতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে এই মহান ব্যক্তির বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর রচনাবলি আজও তাঁদের বিস্তারিত গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে আছে, যা একটি অফুরন্ত ঝরনা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক প্রবহমান উৎস।

এই সকল বিদেশি সমালোচকদের অগ্রভাগে রয়েছেন স্প্যানিশ প্রাচ্যবিদ সিমোনেট (Simonet), যেখানে তিনি বলেন: "ইবনে আল-খাতিব আমাদের জন্য গদ্য, পদ্য, ইতিহাস, ভূগোল, ভ্রমণকাহিনি, অলঙ্কারশাস্ত্র, শরিয়ত, বিজ্ঞান, নীতিশাস্ত্র, ধর্ম, উদ্ভিদবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, পশুচিকিৎসা, সংগীত, যুদ্ধবিদ্যা এবং রাজনীতি বিষয়ে প্রচুর জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গেছেন। এর প্রতিটিই উদ্ভাবনী শক্তি, গভীরতা এবং লালিত্যে ভরপুর।"

এই প্রেক্ষিতে আমরা উল্লেখ করছি যে, প্রাচ্যবিদ 'সিমোনেট' আন্দালুসিয়ার সেই শহরগুলো সম্পাদনা ও অনুবাদ করেছেন যেগুলোর বর্ণনা ইবনে আল-খাতিব তাঁর 'মেয়ার আল-ইখতিয়ার ফি জিকর আল-মাআহিদ ওয়াল দিয়ার' নামক গ্রন্থে প্রদান করেছেন। এই গ্রন্থটিই বর্তমান বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য—যেমনটি আমরা ভূমিকায় উল্লেখ করেছি—যেমনিভাবে আমরা তৃতীয় পরিচ্ছেদে ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর এই রচনার গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৬)
هذا، ويكفينا فى هذا العرض الموجز للتعريف بابن الخطيب أن نقتصر على آراء هؤلاء المؤرخين وبعض المستشرقين كشهادة صادقة للرجل الذي دخل دخل التاريخ من أوسع أبوابه، وإن هذه الشهادة من أمثال هؤلاء لفى غنى منا عن التعليق، فقد استقاها أصحابها من واقع مؤلفاته العديدة، أبلغ حجة، وأوضح بيان، وأقوى برهان، على مدى ما بلغه ابن الخطيب من شهرة سمت الى الأوج، لما تمتع به من عقلية فذة ذات آراء نافذة.

এক্ষেত্রে, ইবনে আল-খাতিবের পরিচিতি বিষয়ক এই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনায় আমাদের জন্য এই ঐতিহাসিকগণের এবং কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববিদের মতামতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাই যথেষ্ট, যা এমন এক ব্যক্তির জন্য এক সত্যনিষ্ঠ সাক্ষ্য যিনি ইতিহাসের প্রশস্ততম দ্বার দিয়ে প্রবেশ করেছেন। আর তাঁদের ন্যায় ব্যক্তিদের এই সাক্ষ্য আমাদের পক্ষ হতে কোনো প্রকার মন্তব্যের প্রয়োজনীয়তা রাখে না; কেননা লেখকগণ তাঁর অসংখ্য রচনার বাস্তব নির্যাস থেকেই তা আহরণ করেছেন, যা ইবনে আল-খাতিবের সেই উচ্চমার্গীয় খ্যাতির ওপর এক বলিষ্ঠ দলিল, সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং শক্তিশালী প্রমাণ; আর তিনি এই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তাঁর অনন্য সাধারণ মেধা ও দূরদর্শী চিন্তাশক্তির কারণে।

(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৭)
الفصل الثاني تراثه الفكري
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌آثار ابن الخطيب

مؤلفات الوزير العبقرى الغرناطى ابن الخطيب متعددة الفنون، ما بين شعر ونثر، وتاريخ، وطب، وموسيقى، وسياسة، وغيرها، وهى- على وجه التقريب- تربو على الخمسين مؤلفا، ففى الترجمة التى عقدها ابن الخطيب لنفسه فى آخر كتابه «الاحاطة فى أخبار غرناطة» أورد أسماء مؤلفاته، بيد أن قدرا هاما من هذه المؤلفات قد أعدم قبله، على يد الوزير ابن زمرك والقاضى النباهي بغرناطة، عام 773 هـ (1371 م) ، ومعظم هذه الكتب تتعلق بعلوم الأخلاق والعقائد، أما مؤلفاته التى بين أيدينا الآن فهي القسم الأدبى والتاريخى فى الغالب، وقد حاول كثير من المؤرخين والمستشرقين حصر هذه المؤلفات فى فهارسهم، ولكن حياة ابن الخطيب السياسية، والتقلبات التى تعرض لها جعلت هؤلاء المستشرقين أو المؤرخين لا يفرقون بين ما ألّفه الرجل فى المغرب، وبين ما ألفه فى الأندلس. ويرى «ليفي بروفنسال» أن مؤلفات لسان الدين قد بلغت حوالي ستين كتابا، ولكن لم يبق منها الا الثلث تقريبا.

هذا، وإن كتب ابن الخطيب- سواء منها ما هو مخطوط لم يحقق بعد، أم ما حقق ونشر- لتحتل مركزا ممتازا بين المصادر التاريخية المعتمدة، لا سيما منها ما يتناول هذا الجزء من الغرب الاسلامى فى المغرب والأندلس، فقد أنارت السبيل أمام المؤرخين والعلماء، ويسرت لهم بحوثهم عن هذه البقاع، لقلة المصادر الأخرى المعاصرة، ولأن ابن الخطيب قد عاش هذه الحقبة من القرن الثامن الهجرى (الرابع عشر الميلادى) .
ইবনুল খাতিবের রচনাবলি

গ্রানাডার প্রতিভাধর উজির ইবনুল খাতিবের রচনাবলি কবিতা, গদ্য, ইতিহাস, চিকিৎসা, সঙ্গীত, রাজনীতিসহ বিবিধ শিল্পকলায় সমৃদ্ধ এবং তাঁর রচনার সংখ্যা আনুমানিক পঞ্চাশের অধিক। ইবনুল খাতিব তাঁর 'আল-ইহাতা ফি আখবার গ্রানাডা' গ্রন্থের শেষে নিজের যে জীবনী লিখেছেন, সেখানে তিনি তাঁর রচনাবলির নাম উল্লেখ করেছেন। তবে তাঁর রচনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁর পূর্বেই ৭৭৩ হিজরি (১৩৭১ খ্রিস্টাব্দ) সনে গ্রানাডায় উজির ইবনু যুমরুক এবং কাজি আন-নাবাহির হাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এই বইগুলোর অধিকাংশই ছিল নীতিবিদ্যা ও আকাইদ সংক্রান্ত। বর্তমানে আমাদের হাতে তাঁর যে রচনাবলি রয়েছে, সেগুলো মূলত সাহিত্য ও ইতিহাস বিষয়ক। অনেক ঐতিহাসিক ও প্রাচ্যবিদ তাঁদের গ্রন্থতালিকায় এই রচনাবলিগুলোকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু ইবনুল খাতিবের রাজনৈতিক জীবন এবং পরিস্থিতির চড়াই-উতরাইয়ের কারণে এই প্রাচ্যবিদ বা ঐতিহাসিকগণ মাগরিব (মরক্কো) এবং আন্দালুসে তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হননি। 'লেভি প্রোভেনসাল'-এর মতে, লিসানুদ্দিনের রচনার সংখ্যা প্রায় ষাটটি পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যার মধ্যে বর্তমানে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট আছে।

ইবনুল খাতিবের গ্রন্থসমূহ—তা পাণ্ডুলিপি আকারে হোক যা এখনও সম্পাদিত হয়নি, অথবা যা সম্পাদিত ও প্রকাশিত হয়েছে—নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক উৎসগুলোর মধ্যে এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী। বিশেষ করে মাগরিব এবং আন্দালুসের অন্তর্ভুক্ত ইসলামি বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চলীয় এই ভূখণ্ড নিয়ে রচিত তাঁর কাজগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমসাময়িক অন্যান্য উৎসের অপ্রতুলতা এবং ইবনুল খাতিব নিজে হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে (চতুর্দশ খ্রিস্টাব্দ) জীবিত থাকার কারণে তাঁর এই কাজগুলো ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতদের পথ প্রদর্শন করেছে এবং এই অঞ্চলগুলো সম্পর্কে তাঁদের গবেষণাকে সহজতর করেছে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৩০)
ونزيد فنقول: إن هذه المؤلفات العديدة- بصفة عامة- ما تزال تحظى بالتقدير والبحث منذ عصر وزيرنا حتى الآن، لا عند العرب فقط، بل وعند غيرهم أيضا، فذخائر ابن الخطيب تراث مشاع، يدرسه المستشرقون على اختلاف أجناسهم، ويجلون كنوزه، ويبرزونها الى الفكر الانسانى فى العالم، ليشهد طلاب الأدب والمعرفة ما تمخضت عنه عقلية الرجل الواسعة، مما تحتويه المكتبات العربية والأجنبية منها.

ويجدر بنا أن نعرض هنا موجزا لأهم آثار ابن الخطيب مما ينسب إليه تأليفه، سواء أكان موجودا أم مفقودا، وسواء أكان مخطوطا أم تم تحقيقه ونشره، والذي لا أعتقد أنه بيان شامل لكل مؤلفاته، فقد يتسنى لباحث آخر أن يعثر على مؤلفات أخرى له زيادة عما أعرض منها مما فاتنى تحصيله (1) :

‌‌1- «الاحاطة فى أخبار غرناطة» .

(تاريخ وتراجم)

من أشهر مؤلفات ابن الخطيب، توجد له نسخ فى كل من القاهرة «20» (الأزهر ودار الكتب) وتونس، والرباط، ومدريد، والاسكوريال، وعنوان الكتاب ينبئ عن موضوعه، فقد تناول فيه أخبار هذه المدينة الشهيرة، تاريخيا وجغرافيا وسياسيا واجتماعيا وأدبيا، منذ الفتح العربى لاسبانيا حتى عصر المؤلف (دولة بنى الأحمر) ، منتهيا منه إلى عهد السلطان الغني بالله محمد
আমরা আরও যোগ করে বলছি: সাধারণভাবে এই অসংখ্য রচনাবলী আমাদের উজিরের সময় থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এখনও মূল্যায়ন ও গবেষণার বিষয় হয়ে আছে, কেবল আরবদের কাছেই নয়, বরং অন্যদের কাছেও। ইবনুল খাতিবের এই অমূল্য সম্পদ এক সাধারণ ঐতিহ্য, যা বিভিন্ন জাতির প্রাচ্যবিদরা অধ্যয়ন করেন, এর গুপ্তধনসমূহকে উচ্চ মর্যাদা দেন এবং বিশ্ব-মানবতার চিন্তাধারার কাছে তা তুলে ধরেন; যাতে সাহিত্য ও জ্ঞানপিপাসুরা এই ব্যক্তির বিশাল মননশীলতার ফসল প্রত্যক্ষ করতে পারে, যা আরব ও বিদেশী গ্রন্থাগারসমূহে সংরক্ষিত রয়েছে।

এখানে ইবনুল খাতিবের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ পেশ করা সমীচীন হবে যা তাঁর রচনা বলে গণ্য হয়, চাই তা বিদ্যমান থাকুক বা হারিয়ে যাক, এবং চাই তা পাণ্ডুলিপি আকারে থাকুক অথবা সম্পাদিত ও প্রকাশিত হোক। আমি মনে করি না যে এটি তাঁর সমস্ত রচনার একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ; কারণ অন্য কোনো গবেষক হয়তো তাঁর আরও এমন কিছু রচনার সন্ধান পেতে পারেন যা সংগ্রহ করতে আমি সক্ষম হইনি (১):

‌‌১- «আল-ইহাতা ফি আখবারি গারনাতা» (গ্রানাডার সংবাদ সংশ্লিষ্ট পূর্ণাঙ্গ বিবরণ) .

(ইতিহাস ও জীবনী)

এটি ইবনুল খাতিবের অন্যতম প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, কায়রোতে (আল-আজহার ও দারুল কুতুব) এর «২০টি» পাণ্ডুলিপি রয়েছে, এছাড়াও তিউনিসিয়া, রাবাত, মাদ্রিদ এবং এসকোরিয়ালে এর পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান। বইটির শিরোনামই এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করে; এতে তিনি এই বিখ্যাত শহরের ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাহিত্যিক সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছেন—স্পেনে আরব বিজয় থেকে শুরু করে লেখকের যুগ (বনু আহমার রাষ্ট্র) পর্যন্ত, যা সুলতান আল-গনি বিল্লাহ মুহাম্মাদের শাসনকাল পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৩১)
الخامس ثامن ملوك بنى نصر، حيث وزر له مرتين، ويتألف هذا الكتاب من خمسة عشر سفرا، وهي فى مجموعها قسمان، كما جاء بنهاية المقدمة:

1) «القسم الأول فى حلي المعاهد والأماكن والمنازل والمساكن» ، وهو الخاص بالعاصمة «غرناطة» ، ويشغل هذا القسم عشرين لوحة (أربعين صفحة) .

2) «القسم الثانى فى حلي الزائر والقاطن، والمتحرك والساكن» ، وهو لب الكتاب، ففيه تراجم الملوك والوزراء والقواد والعلماء والأدباء، ومن إلى هؤلاء، ملتزما فى هذا الترتيب الأبجدى لا التاريخى. ويرجع تأليف ابن الخطيب للاحاطة إلى ما قبيل عام 760 هـ، ولكنه لم يفرغ منه إلا فى أواسط عام 765 هـ، ففى نهاية ترجمته لنفسه يحدثنا عن فراغه من «الاحاطة» بقوله:

«والحال إلى هذا العهد، وهو منتصف عام خمسة وستين وسبعمائة، على ما ذكرته» . هذا، وتوجد من الاحاطة نسخة مطبوعة فى جزأين (القاهرة 1319 هـ) ، ثم حقق الأستاذ عبد الله عنان الجزء الأول منها، بتحقيق جديد، ضمن مجموعة (ذخائر العرب 17) نشر دار المعارف بالقاهرة عام 1955 م.

‌‌2- «الاماطة عن وجه الاحاطة، فيما أمكن من تاريخ غرناطة» .

(تاريخ) ورد ذكر هذا المؤلف فى كتاب ابن الخطيب (اللمحة البدرية) ، فربما كان مختصرا لكتابة (الاحاطة) ، على أنه لم يرد اسمه ضمن كتبه التى ذكرها فى هذه الاحاطة.

‌‌3- «مركز الاحاطة، فى أدباء غرناطة» .

مؤلف أورده المستشرقون فى فهارسهم، ويعتقد أنه تكملة لتراجم الاحاطة.

‌‌4- «ريحانة الكتّاب، ونجعة المنتاب» .

(ألوان أدبية وسياسية) عبارة عن مقتبسات من مؤلفاته الأخرى، مثل بستان الدول، ورقم
বনু নাসরের অষ্টম সম্রাট পঞ্চম (মুহাম্মদ), যাঁর কাছে তিনি দুইবার উজির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই গ্রন্থটি পনেরটি খণ্ডে বিভক্ত, এবং এর ভূমিকায় উল্লিখিত হয়েছে যে এটি মূলত দুটি ভাগে বিন্যস্ত:

১) «প্রথম বিভাগ: প্রতিষ্ঠান, স্থান, আবাসন এবং বাসস্থানের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে», যা রাজধানী «গ্রানাডা»র জন্য নির্দিষ্ট। এই বিভাগটি বিশটি ফলক (চল্লিশ পৃষ্ঠা) জুড়ে বিস্তৃত।

২) «দ্বিতীয় বিভাগ: দর্শনার্থী, অধিবাসী এবং চলমান ও স্থবিরদের সৌন্দর্য প্রসঙ্গে», এটিই গ্রন্থের মূল নির্যাস। এতে রাজা, উজির, সেনাপতি, আলেম, সাহিত্যিক এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের জীবনী স্থান পেয়েছে। এখানে ঐতিহাসিক ক্রমের পরিবর্তে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুসরণ করা হয়েছে। ইবনুল খাতিব ৭৬০ হিজরির কিছুকাল আগে 'আল-ইহাতা' রচনা শুরু করেন, তবে ৭৬৫ হিজরির মাঝামাঝি সময়ের আগে এটি সমাপ্ত করতে পারেননি। নিজের জীবনীগ্রন্থের শেষে তিনি 'আল-ইহাতা' সমাপ্তি সম্পর্কে আমাদের জানান এই বলে:

«আমি যা উল্লেখ করেছি, এই সময় তথা সাতশত পঁষট্টি হিজরির মাঝামাঝি পর্যন্ত অবস্থা এমনই ছিল‌।» উল্লেখ্য যে, 'আল-ইহাতা'-র একটি মুদ্রিত সংস্করণ দুই খণ্ডে পাওয়া যায় (কায়রো ১৩১৯ হিজরি)। পরবর্তীতে উস্তাদ আবদুল্লাহ ইনান এর প্রথম খণ্ডটি নতুনভাবে সম্পাদনা করেন, যা ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে কায়রোর দারুল মা'আরিফ থেকে 'জাখাইরুল আরব ১৭' সিরিজের অধীনে প্রকাশিত হয়।

‌‌২- «আল-ইমাতা আন ওয়াজহিল ইহাতা, ফিমা আমকানা মিন তারিখি গারনাতা» .

(ইতিহাস) এই রচনার উল্লেখ ইবনুল খাতিবের 'আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ' গ্রন্থে পাওয়া যায়। সম্ভবত এটি 'আল-ইহাতা' গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, যদিও তিনি 'আল-ইহাতা'-তে নিজের বইয়ের যে তালিকা দিয়েছেন সেখানে এর নাম উল্লেখ নেই।

‌‌৩- «মারকাযুল ইহাতা, ফি আদাবায়ি গারনাতা» .

এই রচনাটির কথা প্রাচ্যবিদরা তাঁদের সূচিপত্রে উল্লেখ করেছেন এবং ধারণা করা হয় যে এটি 'আল-ইহাতা'-র জীবনীসমূহের একটি পরিশিষ্ট।

‌‌৪- «রাইহানাতুল কুত্তাব, ওয়া নুজআতুল মুনতাব» .

(সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক বৈচিত্র্য) এটি তাঁর অন্যান্য রচনা থেকে সংকলিত উদ্ধৃতিসমূহের সমষ্টি, যেমন বুস্তানুদ দুওয়াল এবং রকুম...
(খণ্ড: ১) মিয়ারুল ইখতিয়ার ফী যিকরিল মাআহিদি ওয়াদ দিয়ার (পৃষ্ঠা: ৩২)
الحلل، وغيرهما، وتوجد لهذا المؤلف الضخم أكثر من مخطوطة، فى كل من الرباط والقاهرة ومدريد والفاتيكان، بيد أن نسخا كاملة منه موجودة فى الخزانة العامة بالرباط، بالاضافة الى أخرى بمكتبة مدريد الوطنية.

‌‌5- «أعمال الأعلام، فى من بويع قبل الاحتلام، من ملوك الاسلام، وما يجر ذلك من الكلام» .

(تاريخ) وهو مؤلف فى التاريخ الاسلامى، يقع فى جزأين، أولهما خاص بالشرق الاسلامى، وثانيهما خاص بتاريخ الأندلس، ولاسيما ملوك الطوائف، وبنى نصر، وملوك النصارى، وذلك على سبيل الايجاز … ، وقد أشار المؤلف فى مقدمته الى أن هذا الكتاب هو آخر مؤلّف له، فقد وضعه فى الفترة الأخيرة من حياته وقبيل مقتله بالمغرب، استجابة للظروف التى كان يجتازها حينئذ، ثم انقلب الوضع بعدها، وكانت نهايته على نحو ما سبق تبيانه.

توجد للكتاب نسخة فى مدريد، نقلا عن نسخة الجزائر، وقد حقق الجزء الأول منه والخاص بتاريخ الأندلس- الأستاذ ليفى؟؟؟ برو؟؟؟ فنسال سنة 1934 م وحقق الجزء الثانى منه الدكتور العبادى والأستاذ محمد ابراهيم الكتانى- وهو الخاص بتاريخ المغرب، العصر الوسيط- (دار الكتاب بالمغرب عام 1967 م) .

‌‌6- «الكتيبة الكامنة، فى من لقيناه بالأندلس من شعراء المئة الثامنة»

. (تراجم) هذا الكتاب عبارة عن تراجم لطائفة من الأدباء والعلماء والكتاب المعاصرين للمؤلف، متضمنا نماذج من آثارهم شعرا ونثرا، ويقع المؤلف فى ست وثمانين لوحة بمكتبة مدريد الوطنية، وهى نسخة من مخطوطة الجزائر، وقد حقق هذا الكتاب الدكتور إحسان عباس سنة 1963 م، (دار الثقافة ببيروت- المكتبة الأندلسية 8) ، وأثبت لنا أن ابن الخطيب كان يحرر الكتيبة فى جمادى الآخرة 774 هـ، معتمدا فى ذلك على قول المؤلف نفسه فى (الورقة 85 ب) : «.. وكل من ذكر الى هذا الحد من المشايخ والأتراب، فقد تسابقوا تسابق الغراب الى التراب..، ومن يجرى ذكره بعد هذا فهم بقيد الحياة لتمام جمادى الآخرة عام أربعة وسبعين وسبعمئة» ، كذلك استنتج المحقق
আল-হুলাল এবং অন্যগুলো। এই বিশাল গ্রন্থটির একাধিক পাণ্ডুলিপি রাবাত, কায়রো, মাদ্রিদ এবং ভ্যাটিকানে বিদ্যমান। তবে এর পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিগুলো রাবাতের সাধারণ গ্রন্থাগারে রক্ষিত আছে, সেই সাথে মাদ্রিদের জাতীয় গ্রন্থাগারেও এর অন্য কিছু কপি রয়েছে।

‌‌৫- 'আ'মালুল আ'লাম ফী মান বুয়ি'আ ক্বাবলাল ইহতিলাম মিন মুলুকিল ইসলাম ওয়া মা ইয়াজুররু যালিকা মিনাল কালাম'.

(ইতিহাস) এটি ইসলামী ইতিহাসের ওপর একটি রচনা, যা দুই খণ্ডে বিভক্ত। এর প্রথম খণ্ডটি ইসলামী প্রাচ্য সম্পর্কিত এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি আন্দালুসের ইতিহাস, বিশেষ করে 'মুলুকুত তাওয়াইফ' (ক্ষুদ্র রাজবংশসমূহ), বনু নাসর এবং খ্রিস্টান রাজাদের ইতিহাস নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে রচিত …। লেখক তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি তাঁর সর্বশেষ রচনা। তিনি এটি তাঁর জীবনের শেষভাগে এবং মরক্কোতে নিহত হওয়ার কিছুকাল আগে তৎকালীন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে লিখেছিলেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং তাঁর পরিণতি তা-ই হয়েছিল যা আগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

আলজেরিয়ার পাণ্ডুলিপির অনুসরণে মাদ্রিদে এই বইটির একটি অনুলিপি রয়েছে। এর প্রথম অংশ, যা আন্দালুসের ইতিহাস সংবলিত, ১৯৩৪ সালে অধ্যাপক লেভি প্রোভেনসাল সম্পাদনা করেছেন। আর এর দ্বিতীয় অংশটি—যা মধ্যযুগের মরক্কোর ইতিহাস সংবলিত—ডক্টর আল-আব্বাদী এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইব্রাহিম আল-কাত্তানী সম্পাদনা করেছেন (দারুল কিতাব, মরক্কো, ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দ)।

‌‌৬- 'আল-কাতিবাতুল কামিনাহ ফী মান লাক্বাইনাহু বিল আন্দালুস মিন শু'আরয়িল মিআতিল ছামিনাহ'

. (জীবনী) এই গ্রন্থটি লেখকের সমসাময়িক একদল সাহিত্যিক, আলিম এবং লেখকের জীবনী সংবলিত, যেখানে তাঁদের কাব্য ও গদ্যের নমুনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাদ্রিদের জাতীয় গ্রন্থাগারে এই পাণ্ডুলিপিটি ৮৬টি পত্রে সংরক্ষিত আছে, যা মূলত আলজেরিয়ার পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি। ১৯৬৩ সালে ডক্টর ইহসান আব্বাস এই বইটি সম্পাদনা করেছেন (দারুস সাকাফাহ, বৈরুত - আল-মাকতাবাতুল আন্দালুসিয়াহ ৮)। তিনি আমাদের সামনে প্রমাণ করেছেন যে, ইবনুল খাতিব ৭৭৪ হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে 'আল-কাতিবাহ' গ্রন্থটি লিখছিলেন। তিনি এ ক্ষেত্রে লেখকের নিজস্ব বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন যা (৮৫-বি নম্বর পত্রে) বর্ণিত হয়েছে: "...এই পর্যন্ত যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—তাঁরা উস্তাদ হোক বা সমবয়সী—তাঁরা সকলেই কবরের মাটির দিকে কাকের মতো দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়েছেন... আর এরপর যাঁদের নাম আসবে তাঁরা সাতশ চুয়াত্তর হিজরির জমাদিউল আখিরা মাস পর্যন্ত জীবিত ছিলেন।" একইভাবে সম্পাদক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে...