(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
نهج الوصول الي حقيقة محبة الرسول صلى الله عليه وسلم   (محمد بن خليفة التميمي)

القسم: العقيدة


الكتاب: نهج الوصول الي حقيقة محبة الرسول صلى الله عليه وسلم

(وهو مبحث من كتاب «حقوق النبي - صلى الله عليه وسلم - على أمته في ضوء الكتاب والسنة»)

المؤلف: محمد بن خليفة التميمي

انتقاه واعتنى به: عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد

الناشر: (دار الأماجد - دار الناشر المتميز)، الرياض - السعودية

الطبعة: الأولى، 1439 هـ - 2018 م

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 355

تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1444

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির পথ   (মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি)

বিভাগ: আকিদাহ


বই: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত স্বরূপ উপলব্ধির পথ

(এটি «কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবীর - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - অধিকারসমূহ» বইটির একটি গবেষণা অংশ)

লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি

সংকলন ও সম্পাদনা: আব্দুল জব্বার বিন আব্দুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল-মাজিদ

প্রকাশক: (দারুল আমাজিদ - দারুন নাশির আল-মুতামায়্যিজ), রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৯ হিজরি - ২০১৮ খ্রিস্টাব্দ

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৫

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জিলকদ ১৪৪৪

(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة المعتني بالكتاب

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُّسْلِمُونَ} [آل عمران].

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء].

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب].

أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار. وبعد:

[فقد كان الناس قبل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم في جاهلية جهلاء يعيشون في ظلمات من الشرك والجهل، وتسيطر عليهم الخرافات، ويتطاحنون في نزاعات وصراعات قبلية، يسبي بعضهم بعضًا، ويقتل بعضهم بعضًا، يعيشون في تخلف وهمجية وفرقة، شعارهم:
কিতাবের তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} [আল ইমরান]।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক ব্যক্তি থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে এবং তাদের দু’জন থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং সতর্ক থাকো রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তা বজায় রাখার ব্যাপারে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} [আন নিসা]।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল আহযাব]।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। এরপর:

[মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রেরণের পূর্বে মানুষ ঘোর অজ্ঞতার যুগে (জাহিলিয়াত) বসবাস করছিল, তারা শিরক ও মূর্খতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তাদের ওপর কুসংস্কারের রাজত্ব ছিল এবং তারা গোত্রীয় বিবাদ ও দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল, তারা একে অপরকে বন্দী করত এবং একে অপরকে হত্যা করত। তারা অনগ্রসরতা, বর্বরতা ও বিচ্ছিন্নতার মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত, তাদের স্লোগান ছিল:
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
ومَن لَمْ يَذُدْ عَنْ حَوْضِهِ بسلاحِهِ … يُهدَّمْ ومَنْ لا يَظلمِ النَّاسَ يُظْلَمِ

حتى إذا أذن الله لشمس الإسلام أن تشرق، بعث محمدا صلى الله عليه وسلم ليعلن للبشرية أنه: "لا إله إلا الله، ولا معبود بحق سواه".

لقد جاء بالتوحيد الذي هو حق الله على العبيد، والغاية العظمى من الخلق، كما قال جل ثناؤه: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات]، به بُعث الرسل وأنزلت الكتب، ورفع من أجله علم الجهاد.

ثلاث عشرة سنةً في مكة والنبي صلى الله عليه وسلم يدعو إليه، ويغرس جذوره في أعماق النفوس، ويبني أسسه ودعائمه في سويداء القلوب، ويثبت أركانه في الوجدان؛ حتى اتضحت سبيله للسالكين، وبانت معالمه للراغبين، فأظهر الله الحق وأزهق الباطل، وأضاءت القلوب أنوار التوحيد الخالص، فجلته من أوضار الشرك، وصقلته من أدران التنديد.

لقد جاء النبي صلى الله عليه وسلم والقلوب أرض جرداء، فسقاها من نمير التوحيد، وأرواها من سلسبيل الإخلاص، وساقها إلى الله دليل المتابعة، فاهتزت وربت وأنبتت من كل زوج بهيج، فعزت الأمة بعد ذلتها، واجتمعت بعد فرقتها، وصارت غالبة بعد أن كانت مغلوبة.

بقيت العقيدة على صفائها ونقائها وطهرها؛ حتى إذا قضى الله أمرًا كان مفعولا، ودخل في دين الله من لم يتشرب قلبه التوحيد الخالص، حدث في الناس الخلل، وتفرقت بهم السبل، وراجت المذاهب المنحرفة، والأفكار الهدامة، وأطلت الفتن برأسها، وفشت البدع ببؤسها، حتى إذا زاغت الأبصار، وبلغت القلوب الحناجر، وابتلي المؤمنون وزلزلوا زلزالا شديدا؛ قيض الله من أئمة الهدى، وأعلام الدجى من يعيد الناس إلى مشكاة النبوة وقلعة الإيمان، ويكشف لهم زيوف الباطل، ويدحض شبه المبطلين، ويردهم إلى منهج السلف الصَّالح.
যে ব্যক্তি তার অস্ত্র দিয়ে নিজের হাউজ রক্ষা করে না … তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়; আর যে মানুষের প্রতি জুলুম করে না, তাকেই জুলুমের শিকার হতে হয়।

অবশেষে যখন আল্লাহ ইসলামের সূর্যকে উদিত হওয়ার অনুমতি দিলেন, তখন তিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করলেন যেন তিনি মানবজাতির সামনে ঘোষণা করেন যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য মাবুদ নেই।"

তিনি সেই তাওহিদ নিয়ে এসেছেন যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর হক এবং সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি} [যারিআত]। এই তাওহিদ প্রচারের জন্যই রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর জন্যই জিহাদের ঝাণ্ডা উঁচু করা হয়েছে।

দীর্ঘ তেরো বছর মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, আত্মার গভীরে এর শিকড় রোপণ করেছেন, হৃদয়ের অন্তঃস্থলে এর ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ নির্মাণ করেছেন এবং চেতনার মাঝে এর রোকনসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন; ফলে এই পথ অনুগামীদের জন্য স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং এর নিদর্শনগুলো আগ্রহীদের জন্য উন্মোচিত হলো। অতঃপর আল্লাহ সত্যকে প্রকাশ করলেন ও মিথ্যাকে পরাভূত করলেন এবং খাঁটি তাওহিদের আলোয় অন্তরসমূহ আলোকিত হলো, যা শিরকের পঙ্কিলতা থেকে অন্তরকে মুক্ত করল এবং অংশীদারিত্বের কলুষতা থেকে একে পরিচ্ছন্ন করল।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন এক সময়ে আগমন করেছিলেন যখন মানুষের অন্তর ছিল উষর ভূমি সদৃশ। তিনি তাওহিদের স্বচ্ছ সুপেয় পানি দিয়ে তা সিক্ত করলেন, ইখলাসের সালসাবিল ঝরনাধারা দিয়ে তাকে তৃপ্ত করলেন এবং অনুসরণের দিকনির্দেশনা দিয়ে তাকে আল্লাহর দিকে ধাবিত করলেন। ফলে সেই ভূমি সজীব ও উর্বর হয়ে উঠল এবং তাতে নয়নাভিরাম সব ধরনের উদ্ভিদ উৎপন্ন হলো। এতে উম্মত লাঞ্ছনার পর সম্মান লাভ করল, অনৈক্যের পর ঐক্যবদ্ধ হলো এবং পরাজিত অবস্থা থেকে বিজয়ীর আসনে আসীন হলো।

আকিদা তার স্বচ্ছতা, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার ওপর অটল ছিল; অবশেষে যখন আল্লাহর অমোঘ ফয়সালা কার্যকর হলো এবং এমন সব লোক আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল যাদের অন্তরে বিশুদ্ধ তাওহিদ সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয়নি, তখন মানুষের মধ্যে বিচ্যুতির সৃষ্টি হলো, তাদের পথ ভিন্ন হয়ে গেল, পথভ্রষ্ট মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ছড়িয়ে পড়ল, ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং বিদআতের অশুভ প্রভাব বিস্তার লাভ করল। এমনকি যখন চক্ষু স্থির হয়ে গেল, প্রাণ কণ্ঠাগত হলো এবং মুমিনগণ পরীক্ষিত ও প্রচণ্ডভাবে প্রকম্পিত হলো; তখন আল্লাহ হিদায়াতের ইমামগণ ও অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ এমন মনীষীদের নির্ধারণ করে দিলেন, যারা মানুষকে নবুয়তের প্রদীপ শিখা ও ঈমানের দুর্গের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যান, তাদের সামনে বাতিলের অসারতা উন্মোচন করেন, বাতিলপন্থীদের সংশয় নিরসন করেন এবং তাদের পুনরায় সালাফে সালেহীনের মানহাজের দিকে ফিরিয়ে আনেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
إن المتبصر في تاريخ الأمة الإسلامية؛ ليرى أن عزتها وعلوها وغلبتها ودينونة الأمم لها مرتبطة بصفاء عقيدتها، وصدق توجهها إلى الله، واتباعها لأثر النبي صلى الله عليه وسلم، وسيرها على منهج السلف الصالح، واجتماعها على أئمتها، وعدم منازعتهم في ذلك، وأن ذلها وضعفها وانخذالها، وتسلط الأمم عليها مرتبط بانتشار البدع والمحدثات في الدين، واتخاذ الأنداد والشركاء مع الله، وظهور الفرق الضالة، ونزع يد الطاعة، والخروج على الأئمة.

إن الانحرافات العقدية، والحيدة عن منهج السلف الصالح، والانخداع بزخرف قول أرباب المذاهب المنحرفة هو الذي فرق الأمة، وأضعف قوتها، وكسر شوكتها، والواقع شاهد على ذلك، ولا مخرج لها من ذلك إلا بالرجوع إلى ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وأئمة الهدى، فلن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها. وإن النكوص عن جادة التوحيد، والرغبة عن منهج السلف الصالح، منافاة للعدل، ومجافاة للعقل. قال تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 20].

وإن أعظم القسط التوحيد، وهو رأس العدل وبه قوامه، وإن أظلم الظلم الشرك، قال تعالى حكاية عن لقمان في وصيته لابنه:

{يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ}، وإن أعظم الفرية أن تشرك بالله وقد خلقك.

وإذا كان الله سبحانه وتعالى قد أمر بالإصلاح، ونهى عن الفساد والإفساد، كما قال جلت عظمته: {وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} [الأعراف].
নিশ্চয়ই ইসলামী উম্মাহর ইতিহাসের প্রতি গভীর দৃষ্টিদানকারী দেখতে পাবেন যে, এর সম্মান, উচ্চতা, বিজয় এবং অন্যান্য জাতির ওপর এর আধিপত্য নির্ভর করে এর আকিদার বিশুদ্ধতা, আল্লাহর দিকে মুখ ফেরানোর একনিষ্ঠতা, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ, সালাফে সালেহীনের মানহাজের ওপর চলা, তাদের ইমামদের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার ওপর। আর এর লাঞ্ছনা, দুর্বলতা, পরাজয় এবং তাদের ওপর অন্যান্য জাতিগুলোর আধিপত্য বিস্তার সরাসরি জড়িত দ্বীনের মধ্যে বিদআত ও নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহের প্রসার, আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও শরীক সাব্যস্ত করা, পথভ্রষ্ট দলসমূহের আবির্ভাব, আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেওয়া এবং ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাথে।

নিশ্চয়ই আকিদাগত বিচ্যুতি, সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং পথভ্রষ্ট মাযহাবসমূহের প্রবক্তাদের চাকচিক্যময় কথায় প্রলুব্ধ হওয়া এই উম্মাহকে বিভক্ত করেছে, এর শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং এর প্রভাব-প্রতিপত্তি চূর্ণ করেছে। বাস্তবতা এর চাক্ষুষ সাক্ষী। আর এখান থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই সেই বিষয়ের দিকে ফিরে যাওয়া ছাড়া যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), তাঁর সাহাবীগণ এবং হিদায়াতের ইমামগণ ছিলেন। সুতরাং এই উম্মাহর পরবর্তী অংশ সংশোধন হবে না কেবল তা দ্বারাই যার দ্বারা এর প্রথম অংশ সংশোধিত হয়েছিল। তাওহীদের সরল পথ থেকে বিমুখ হওয়া এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে বিরাগী হওয়া ইনসাফের পরিপন্থী এবং বিবেকের বিরুদ্ধাচরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অবশ্যই আমি আমার রসূলগণকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে} [হাদীদ: ২০]।

আর শ্রেষ্ঠ ইনসাফ হলো তাওহীদ; যা ন্যায়ের মস্তক এবং যার ওপর ন্যায় দণ্ডায়মান। আর সবচাইতে বড় জুলুম হলো শিরক। আল্লাহ তাআলা লোকমান কর্তৃক তাঁর পুত্রকে দেওয়া অসিয়ত বর্ণনা করে বলেন:

{হে বৎস! আল্লাহর সাথে শরীক করো না; নিশ্চয়ই শিরক এক মহা জুলুম}। আর সবচেয়ে বড় মিথ্যা অপবাদ হলো আল্লাহর সাথে শরীক করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যখন সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন, যেমনটি তাঁর মহান সত্তা বলেছেন: {তোমরা পৃথিবীতে তা সংশোধিত হওয়ার পর বিপর্যয় সৃষ্টি করো না এবং তাঁকে ভয় ও আশার সাথে ডাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী} [আরাফ]।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
فإن أعظم الإفساد أن تفسد عقائد الناس، وتصوراتهم، وأفكارهم، ويقطع عليهم الطريق في مسيرهم إلى الله، ويحاد بهم عن الفطرة التي فطرهم الله عليها.

قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "كل مولود يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه"(1).

ويعضده قول النبي صلى الله عليه وسلم: "ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم، ما علمني يومي هذا: كل ما نحلته عبدًا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانًا .... "(2).

ولا شك أن هذا أعظم الظلم وأشنعه، كيف لا، وقد صار عاقبة ذلك خسران الدنيا والآخرة.

وفي هذه الأزمنة المتأخرة التي حدثت فيها الغير، وتزينت الدنيا لخُطَّابها، كشف أهل الأهواء عن أقنعتهم، وانتشرت بدعهم، وأحييت مذاهب أسلافهم بعد أن كانت بائدة، ونبشت كتب لهم كانت منسية، وظهرت أفكار جديدة، وبرزت جماعات معاصرة متباينة في مقاصدها، مختلفة في توجهاتها، متناقضة في غاياتها ووسائلها، كلما خرجت جماعة أو فرقة لعنت أختها، وتطاول أناس على قامة التوحيد والسنة، ولوثوا أفكار الناس، وأفسدوا عليهم عقائدهم، وهونوا عليهم أمر الشرك، ورفعوا أعلام الفتن، ونازعوا ذوي السلطان في سلطانهم، وشاقوا الرسول من بعد ما تبين لهم الهدى، واتبعوا غير سبيل المؤمنين. مما يوجب على الغيورين من علماء الأمة ودعاة السنة المقتفين للأثر؛ القيام بواجب الإبانة عن أصول الدِّيانة، وتبيين معالم منهج

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم.

(2) رواه مسلم.
বস্তুত সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো মানুষের আকিদা (বিশ্বাস), ধারণা এবং চিন্তাধারাকে কলুষিত করা, আল্লাহর দিকে তাদের যাত্রাপথ রুদ্ধ করে দেওয়া এবং আল্লাহ যে স্বভাবজাত প্রবৃত্তির (ফিতরাত) ওপর তাদের সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তাদের বিচ্যুত করা।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রত্যেক নবজাতকই স্বভাবজাত প্রবৃত্তির (ফিতরাত) ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে"(১)।

একে সমর্থন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জেনে রেখো, আমার রব আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজকের এই দিনে শিখিয়েছেন: (আল্লাহ বলেন) আমি আমার বান্দাকে যা কিছু দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (হানিফ) হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে এবং আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম তা তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছে। আর তারা তাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি..."(২)।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং জঘন্যতম জুলুম; কেনই বা হবে না, অথচ এর পরিণাম হলো দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতি।

এই শেষ যুগে যখন বহু পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং দুনিয়া তার প্রত্যাশীদের সামনে সুশোভিত হয়েছে, তখন প্রবৃত্তিপূজারীরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে, তাদের বিদআত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের পূর্বসূরিদের বিলুপ্ত প্রায় মতবাদসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। তাদের বিস্মৃত গ্রন্থসমূহকে খুঁড়ে বের করা হয়েছে, নতুন নতুন চিন্তাধারার উদয় হয়েছে এবং এমন সব সমসাময়িক দলের আবির্ভাব ঘটেছে যারা তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে ভিন্ন ভিন্ন, কর্মপন্থা ও ঝোঁকে বিচিত্র এবং তাদের গন্তব্য ও উপায়ে পরস্পরবিরোধী। যখনই কোনো দল বা গোষ্ঠী আবির্ভূত হয়, তারা অন্য দলকে অভিশাপ দেয়। কিছু মানুষ তাওহীদ ও সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদার ওপর হস্তক্ষেপ করেছে, মানুষের চিন্তাধারাকে কলুষিত করেছে, তাদের আকিদা নষ্ট করেছে, তাদের কাছে শিরকের বিষয়টিকে তুচ্ছ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, ফিতনার ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছে, শাসনকর্তাদের সাথে তাদের শাসনক্ষমতা নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে এবং হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া ভিন্ন পথ অনুসরণ করেছে। এ সকল পরিস্থিতি উম্মাহর সচেতন উলামায়ে কেরাম এবং সুন্নাহর প্রচারক যারা পূর্বসূরিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, তাদের ওপর দ্বীনের মূলনীতিসমূহ স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার এবং মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তোলার আবশ্যিক দায়িত্ব অর্পণ করে।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
السَّلف، وإيضاح سبيله، وتقريب كتب أئمة الهدى، وإبرازها بالتحقيق وشرح عبارات الأئمة، وبيان مقاصدهم والعناية بأمر التوحيد والمنهج في دروسهم وخطبهم ومحاضراتهم ومؤلفاتهم، وإرشاد العباد إلى اتباع خطى النبي صلى الله عليه وسلم ولزوم سنته، والسير على أثر أصحابه امتثالا لقوله تعالى:

{قُلْ إِنْ كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران].

وقول النبي: "أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن كان عبدا حبشيا، فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافا كثيرة؛ فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين؛ تمسكوا بها، وعَضُّوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة"(1)، فهذا هو الصراط المستقيم، الموصل إلى رضا رب العالمين.

قال تعالى: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْوَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [الأنعام]. وهو السبيل الذي دعا إليه رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، قال تعالى:

{قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} [يوسف].

وهو عقيدة الفرقة الناجية التي أخبر عنها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله:

"لا تزال من أمتي أمة قائمة بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم؛ حتى يأتيهم أمر الله وهم على ذلك"(2).

وهي التي بقيت على ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه؛ ففي

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود.

(2) رواه البخاري، باب (28) حديث (3991).
সালফ তথা পূর্বসূরিদের পথ এবং তাঁদের পথকে স্পষ্ট করা, হিদায়েতের ইমামদের কিতাবসমূহ সহজলভ্য করা, সেগুলোকে তাহকিকসহ প্রকাশ করা এবং ইমামগণের উক্তিগুলোর ব্যাখ্যা করা, তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা করা এবং তাঁদের পাঠদান, খুতবা, আলোচনা ও রচনাবলীতে তাওহিদ ও মানহাজের বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করা, আর বান্দাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণে ও তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে থাকতে এবং তাঁর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করার নির্দেশনা প্রদান করা; মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ:

“বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” [আলে ইমরান]।

এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহভীতি এবং (নেতার কথা) শোনা ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদি সে একজন হাবশি গোলামও হয়। কারণ তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে; তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা (দীনের মধ্যে) নব আবিষ্কৃত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা"(১), আর এটাই হলো সেই সরল পথ, যা রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছে দেয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং তোমরা এরই অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, অন্যথায় তা তোমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এ নির্দেশই দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করো।” [আল-আনআম]। আর এটিই সেই পথ যার দিকে তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহ্বান জানিয়েছেন, মহান আল্লাহ বলেন:

“বলুন, এটিই আমার পথ, আমি ও আমার অনুসারীগণ জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।” [ইউসুফ]।

আর এটিই হলো মুক্তিপ্রাপ্ত দলের (ফিরকায়ে নাজিয়াহ) আকিদা, যে সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীর মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন:

“আমার উম্মতের মধ্য থেকে একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসবে এবং তারা সেই অবস্থাতেই অটল থাকবে”(২)।

আর এটি সেই দল যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যে বিষয়ের ওপর ছিলেন, তার ওপরেই অবিচল রয়েছে; সুতরাং

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, অধ্যায় (২৮) হাদিস (৩৯৯১)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث أنه صلى الله عليه وسلم قال: " … وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين ملة، وتفترق أمتي على ثلاث وسبعين ملة؛ كلهم في النار إلا ملة واحدة قال - أي: عبد الله بن عمرو راوي الحديث: من هي يا رسول الله؟ قال: "ما أنا عليه وأصحابي"(1).

ومن هنا تأتي أهمية العناية بهذا الأمر، وتربية الناشئة عليه، وتصحيح مسيرة الصحوة إليه؛ حتى لا تتشعب بها السبل، فتضل في متاهات الأهواء والفتن](2).

وقد وفَّق الله تعالى عددا من مشايخنا وعلمائنا ونفرًا من طلبة العلم المخلصين إلى الاهتمام بهذا الموضوع العظيم تدريسًا وتحقيقا وتأليفا، وكان منهم:

صاحب الفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد بن خليفة بن علي التميمي حفظه الله في كتابه الكبير الماتع: "حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة".

وقد انتقيت من هذا الكتاب النفيس البحث الذي يتعلق بمحبة النبي الكريم صلى الله عليه وسلم، رغبة إفراده بالنشر لما حواه من فوائد عظيمة وتحقيق بديع، وسميته: "نهج الوصول إلى حقيقة محبة الرسول صلى الله عليه وسلم" رجاء أن ينفع الله به عموم المسلمين؛ لأن من حقه على أمته أن تكون الألسنة رطبة بالثناء على كل ما يتعلق به مع الحذر من الغلو الذي لا يرضاه الله ولا رسوله، وبيان ضرورة الثناء على سنته وإيضاح محاسنها والتمسك بها، لأن التعظيم الحقيقي للنبي صلى الله عليه وسلم لا يكون إلا وفق ما أمر به الشارع الحكيم.

--------------------------------------------

(1) رواه الترمذي.

(2) إستفدته من مقدمة معالي الشيخ صالح بن عبد العزيز بن محمد آل الشيخ حفظه الله لكتاب الوجيز في عقيدة السلف الصالح.
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: " … আর বনী ইসরাঈল বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, আর আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে; একটি দল ব্যতীত তারা সকলেই জাহান্নামী। হাদিসের বর্ণনাকারী আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: 'আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি'।"(১).

আর এখান থেকেই এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ, নতুন প্রজন্মকে এর ওপর গড়ে তোলা এবং জাগরণের পথকে এর দিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়; যাতে বিভিন্ন পথ ও মতের সৃষ্টি না হয় এবং তারা প্রবৃত্তি ও ফিতনার গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্ট না হয়](২).

আল্লাহ তাআলা আমাদের অনেক শায়েখ, উলামা এবং একদল একনিষ্ঠ ইলম অন্বেষণকারীকে শিক্ষকতা, গবেষণা ও রচনার মাধ্যমে এই মহান বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করার তাওফিক দান করেছেন, তাদের মধ্যে ছিলেন:

সম্মানিত শায়েখ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলী আত-তামিমি (হাফিযাহুল্লাহ), তাঁর সুবিশাল ও চমৎকার গ্রন্থ: "কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিকারসমূহ" এ।

আমি এই মূল্যবান কিতাবটি থেকে প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহব্বত সম্পর্কিত গবেষণাটি চয়ন করেছি, এতে থাকা মহান উপকারিতা ও চমৎকার গবেষণার কারণে এটি পৃথকভাবে প্রকাশের আকাঙ্ক্ষায়। আমি এর নামকরণ করেছি: "রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসার প্রকৃত হাকীকতে পৌঁছানোর পথ", এই প্রত্যাশায় যে আল্লাহ এর দ্বারা সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করবেন; কারণ উম্মতের ওপর তাঁর একটি অধিকার হলো তাঁর সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ের প্রশংসায় জিহ্বা সিক্ত রাখা, পাশাপাশি এমন বাড়াবাড়ি (গুলু) থেকে সতর্ক থাকা যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল পছন্দ করেন না। সেই সাথে তাঁর সুন্নাহর প্রশংসা করার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করা, এর সৌন্দর্য স্পষ্ট করা এবং তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন কেবল প্রজ্ঞাবান শরীয়তদাতার নির্দেশিত পদ্ধতি অনুযায়ীই সম্ভব।

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি আমি মাননীয় শায়েখ সালেহ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-শেখ (হাফিযাহুল্লাহ)-এর "আল-ওয়াজিজ ফি আকিদাহ আস-সালাফ আস-সালিহ" গ্রন্থের ভূমিকা থেকে গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১১)
وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يجزي صاحب الفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد بن خليفة التميمي حفظه الله خير الجزاء. وأن يمتعه بالصحة والعافية ويبارك له في عمره وعلمه وعمله.

كما أسأله جل ثناؤه أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم مقربًا إليه مباركًا نافعًا لعباده، إنه سبحانه سميع مجيب.

كتبه

الفقير إلى عفو ربه

عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد

غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين

a.J.majid.hotmail.com
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সম্মানিত শায়খ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমিকে (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন) সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। এবং তাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন এবং তাঁর জীবন, জ্ঞান ও কর্মে বরকত দান করেন।

সেইসাথে আমি তাঁর নিকট (যাঁর প্রশংসা মহান) প্রার্থনা করি তিনি যেন এই কাজটিকে একান্তই তাঁর মহান চেহারার সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, একে তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম, বরকতময় এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও উত্তরদাতা।

লিখেছেন

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

আবদুল জব্বার বিন আবদুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল মাজেদ

আল্লাহ তাকে, তার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।

a.J.majid.hotmail.com
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تمهيد (لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم)

[ينبغي الحذر والتحرُّز من الاشتباه الذي قد يحصل ما بين حق الله تعالى وما للرسول من حق؛ إذ قد يقع التداخل بين الحقين على وجه لا يشعر العبد فيه بالفرق، وقد يتعمد الخلط بين المفهومين ظانًا أنه بذلك يؤدي واجب تجاه النبي صلى الله عليه وسلم، أو قد يكون مدفوعا بفرط محبة النبي صلى الله عليه وسلم والمبالغة في تعظيمه؛ فيتجاوز بذلك حدود حق الله تعالى الخالص فيجعله - ظلمًا - من حق الرسول صلى الله عليه وسلم، فيصرف - بذلك - العبادة إليه، فيقع في الشرك المنهي عنه بهذه الأسباب أو بغيرها، فلا يحقق - بالتالي - ركن الشهادة ولا شرطها.

والمعلوم أن لله حقًّا خالصًا لا يشرك فيه معه غيره، وهو ما يختص به من الربوبية والألوهية، والأسماء والصفات؛ فإن كل ما دعا إليه الشرع الحكيم من أنواع الطاعات وأعمال الخير والإحسان ما أمر به وحثَّ على فعله ورغَّب فيه من الأقوال والأعمال الباطنة والظاهرة داخل في مفهوم العبادة وعمومها، لا يجوز صرفه - بحال - لغير الله تعالى، بل حق الله المؤكد على العبيد وجوب صرف كل العبادات له دون غيره؛ لأنه هو المعبود المطاع، ولا معبود بحق سواه، وهي الغاية التي خلق الله الخلق لأجلها، {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات]، والمعلوم أن لا نصيب لأحد في الجنة بدون القيام بحق الله تعالى، كما جاء في حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يا معاذ، أتدري
ভূমিকা (তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করো না, যেভাবে খ্রিস্টানরা মরিয়ম-পুত্রের প্রশংসা করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করেছিল)

[আল্লাহ তাআলার হক এবং রাসূলের হকের মধ্যে যে অস্পষ্টতা বা সংশয় সৃষ্টি হতে পারে, সে বিষয়ে সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কেননা কখনও কখনও উভয় হকের মধ্যে এমনভাবে সংমিশ্রণ ঘটে যায় যে, বান্দা তাদের মধ্যকার পার্থক্য অনুভব করতে পারে না। কখনও কখনও এই দুই ধারণার মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সংমিশ্রণ ঘটানো হয় এই ভেবে যে, এর মাধ্যমে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার আবশ্যিক দায়িত্ব পালন করছে; অথবা এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার আতিশয্য এবং তাঁর সম্মানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনের কারণেও হতে পারে। ফলে সে আল্লাহ তাআলার জন্য নির্দিষ্ট হকের সীমা অতিক্রম করে ফেলে এবং তা—অন্যায়ভাবে—রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের অন্তর্ভুক্ত করে দেয়। এভাবে সে ইবাদতকে তাঁর (রাসূলের) দিকে নিবেদন করে এবং এই সব কারণে বা অন্য কোনো কারণে নিষিদ্ধ শিরকে নিপতিত হয়। ফলস্বরূপ, সে সাক্ষ্য বা শাহাদাহ-র রুকন এবং এর শর্ত পূরণ করতে পারে না।

এটি সুবিদিত যে, আল্লাহর জন্য এমন কিছু একচ্ছত্র হক রয়েছে যাতে অন্য কাউকে শরিক করা যায় না; আর তা হলো রুবুবিয়্যাহ, উলুহিয়্যাহ এবং নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ। প্রজ্ঞাপূর্ণ শরিয়ত যত প্রকারের আনুগত্য, নেক আমল ও ইহসানের দিকে আহ্বান জানিয়েছে—চাই তা যে কোনো কথা কিংবা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য কাজ হোক যা করতে আদেশ করা হয়েছে, উৎসাহিত করা হয়েছে বা যার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে—তা ইবাদতের ধারণা ও ব্যাপকতার অন্তর্ভুক্ত। কোনো অবস্থাতেই তা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কারও জন্য নিবেদন করা বৈধ নয়। বরং বান্দাদের ওপর আল্লাহর সুনিশ্চিত হক হলো, সমস্ত ইবাদত অন্য কাউকে বাদ দিয়ে একমাত্র তাঁর জন্যই নিবেদন করা ওয়াজিব; কারণ তিনিই একমাত্র সত্য উপাস্য ও আনুগত্যের যোগ্য, আর তিনি ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবুদ নেই। এটিই সেই লক্ষ্য যার জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, “আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি” [আয-যারিয়াত]। আর এটিও সুবিদিত যে, আল্লাহ তাআলার হক আদায় করা ছাড়া জান্নাতে কারও কোনো অংশ নেই, যেমনটি মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে মুয়াজ, তুমি কি জানো
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
ما حق الله على العباد؟ " قال: "الله ورسوله أعلم"، قال: "أن يُعْبَدَ اللهُ ولا يشرك به شيئا"، قال: "أتدري ما حقهم عليه إذا فعلوا ذلك؟ " فقال: الله ورسوله أعلم"، قال: "أن لا يعذبهم(1).

قال السعدي رحمه الله: "وهذا النوع - يعني: توحيد الألوهية والعبادة - زبدة رسالة الله لرسله؛ فكل نبي يبعثه الله يدعو قومه يقول: {اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِّنْ إله غَيْرُهُ} [الأعراف: 59]، {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]، وهو الذي خلق الله الخلق لأجله، وشرع الجهاد لإقامته، وجعل الثواب الدنيوي والأخروي لمن قام به وحققه، والعقاب لمن تركه، وبه يحصل الفرق بين أهل السعادة القائمين به، وأهل الشقاوة التاركين له"(2)، وقال رحمه الله في موضع آخر: "فجميع الكتب السماوية وجميع الرسل دعوا إلى هذا التوحيد، ونهوا عن ضده من الشرك والتنديد، وخصوصا محمد صلى الله عليه وسلم وهذا القرآن الكريم؛ فإنه أمر به وفرضه وقرره أعظم تقرير، وبينه أعظم بيان، وأخبر أنه لا نجاة ولا فلاح ولا سعادة إلا بهذا التوحيد، وأن جميع الأدلة العقلية والنقلية والأفقية والنفسية أدلة وبراهين على هذا الأمر بهذا التوحيد ووجوبه؛ فالتوحيد هو حق الله الواجب على العبيد، وهو أعظم أوامر الدين وأصل الأصول كلها وأساس الأعمال"(3).

وأن للرسل والأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم - من جهة أخرى -

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب التوحيد باب ما جاء في دعاء النبي صلى الله عليه وسلم أمته إلى توحيد الله تبارك وتعالى برقم (7373)، ومسلم في كتاب الإيمان برقم (30)، من حديث معاذ بن جبل رضي الله عنه.

(2) "الحق الواضح المبين" للسعدي (ص 111).

(3) "القول السديد" للسعدي (ص 13).
"বান্দাদের উপর আল্লাহর হক কী?" তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবথেকে ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর ইবাদত করা এবং তাঁর সাথে কোনো কিছু শরীক না করা।" তিনি বললেন: "তুমি কি জানো তারা যদি তা করে তবে আল্লাহর উপর তাদের কী হক রয়েছে?" তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই সবথেকে ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তাদের আযাব না দেওয়া"(১)।

আস-সা'দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর এই প্রকারটি—অর্থাৎ: তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ ও ইবাদত—হলো রাসূলগণের প্রতি আল্লাহর বাণীর সারবস্তু। আল্লাহ যে নবীকেই পাঠিয়েছেন তিনি তাঁর কওমকে ডেকে বলেছেন: {তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আ'রাফ: ৫৯], {নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [নাহল: ৩৬]। আর এরই জন্য আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন, এটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য জিহাদ প্রবর্তন করেছেন এবং যে এটি পালন ও বাস্তবায়ন করবে তার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিদান নির্ধারণ করেছেন, আর যে এটি বর্জন করবে তার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। এর মাধ্যমেই এটি পালনকারী ভাগ্যবান দল এবং এটি বর্জনকারী দুর্ভাগা দলের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়"(২)। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) অন্য স্থানে বলেন: "সুতরাং সকল আসমানী কিতাব ও সকল রাসূল এই তাওহিদের দিকেই আহ্বান জানিয়েছেন এবং এর বিপরীত বিষয় শিরক ও অংশীদার সাব্যস্ত করা থেকে নিষেধ করেছেন। বিশেষ করে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং এই আল-কুরআনুল কারীম; কারণ এটি তাওহিদের আদেশ দিয়েছে, একে ফরয করেছে এবং এর চরম স্বীকৃতি প্রদান করেছে ও সর্বোত্তমভাবে তা বর্ণনা করেছে। আর সংবাদ দিয়েছে যে, এই তাওহিদ ছাড়া কোনো নাজাত, সফলতা বা সৌভাগ্য নেই। সকল যৌক্তিক, নকলী (শরয়ি), দিগন্ত বিস্তৃত এবং মানসিক দলীলসমূহ মূলত এই তাওহিদের বিষয় ও এর আবশ্যকতা বা ওয়াজিব হওয়ার সপক্ষে দলীল ও প্রমাণ। সুতরাং তাওহিদই হলো বান্দাদের উপর আল্লাহর ওয়াজিব হক। এটি দ্বীনের মহানতম নির্দেশ, সকল মূলনীতির মূল এবং সকল আমলের ভিত্তি"(৩)।

আর অন্যদিকে রাসূল ও নবীগণের জন্য—তাদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী তাঁর তাওহীদ অধ্যায়ে, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তাঁর উম্মতকে আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বানের বর্ণনা' অনুচ্ছেদে (৭৩৭৩) নম্বরে এবং মুসলিম ঈমান অধ্যায়ে (৩০) নম্বরে মু’আয ইবনে জাবাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

(২) আস-সা'দী রচিত "আল-হাক্কুল ওয়াদিহুল মুবীন" (পৃষ্ঠা: ১১১)।

(৩) আস-সা'দী রচিত "আল-কাওলুস সাদীদ" (পৃষ্ঠা: ১৩)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
حقا خاصا: هو توقيرهم وتبجيلهم وإعانتهم ونصرتهم وتقديرهم بما يستحقون؛ لقوله تعالى: {وَتُعَزِّرُوهُ وَتُوَقِّرُوهُ} [الفتح: 9]، وهذا الحق الخاص للرسل والأنبياء عليهم السلام يندرج في النصيحة لرسول صلى الله عليه وسلم في الحديث المشهور: "الدين النصيحة" قلنا: لمن؟ " قال: "لله ولكتابه ولرسوله ولأئمة المسلمين وعامتهم))(1)، قال الخطابي رحمه الله: "وأما النصيحة لرسوله صلى الله عليه وسلم فإنما هي في تصديقه على الرسالة، وقبول ما جاء به ودعا إليه، وطاعته فيما سن وشرع وبين من أمر الدين وشرح، والانقياد له فيما أمر ونهى وحكم وأمضى، وترك التقديم بين يديه، وإعظام حقه وتعزيره وتوقيره ومؤازرته ونصرته، وإحياء طريقته في بث الدعوة وإشاعة السنة، ونفي التهمة في جميع ما قاله ونطق به؛ فإنه لكما وصفه ربه وباعثه فقال: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم]، وقال: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حتى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء] "(2).

وأما قوله تعالى في سورة الفتح: {وَتُسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا} فإن التسبيح من حقوق الله الخاصة به؛ فلا يجوز تسبيح الرسول صلى الله عليه وسلم كما يسبح الله تعالى فإن ذلك يعد - بلا شك - شركًا بخلاف الإيمان بالله ورسوله وطاعتهما؛ فإنهما من الحقوق المشتركة بين الله ورسوله؛ لقوله تعالى: {لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ}

[الفتح: 9]؛ ولقوله تعالى: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [المائدة: 92؛ التغابن: 12]، والإيمان بالله والرسول وطاعته هو - في حقيقة الأمر - إيمان بالله وطاعة له؛ لقوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80]، "فذكر الله - في هذه الآية - الحق

--------------------------------------------

(1). أخرجه مسلم في كتاب الإيمان باب بيان أن الدين النصيحة برقم (55) من حديث تميم بن أوسٍ الداريِّ رضي الله عنه.

(2) "أعلام الحديث" للخطابي (1/ 192)
একটি বিশেষ অধিকার: তা হলো তাঁদের সম্মান করা, শ্রদ্ধা করা, সাহায্য করা, সহায়তা করা এবং তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করা; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যাতে তোমরা তাঁর সহায়তা করো এবং তাঁকে সম্মান করো} [আল-ফাতহ: ৯]। রাসূল ও নবীদের (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি এই বিশেষ অধিকারটি সেই প্রসিদ্ধ হাদিসে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি 'নসিহত' বা শুভকামনার অন্তর্ভুক্ত: "দীন হলো নসিহত (শুভকামনা/আনুগত্য)।" আমরা বললাম: "কার জন্য?" তিনি বললেন: "আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিমদের ইমামদের জন্য এবং সাধারণ মুসলিমদের জন্য।"(১) খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নসিহত হলো তাঁর রিসালাতকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা নিয়ে এসেছেন ও যেদিকে আহ্বান করেছেন তা গ্রহণ করা, তিনি দীনের যে সব বিধি-বিধান ও ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং যে সুন্নাহ প্রবর্তন করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা আদেশ করেছেন, নিষেধ করেছেন, ফয়সালা করেছেন এবং কার্যকর করেছেন তাতে তাঁর অনুগত হওয়া, তাঁর আগে বেড়ে কিছু না করা, তাঁর অধিকারকে সুমহান জ্ঞান করা, তাঁকে সাহায্য করা, সম্মান করা, সহযোগিতা করা ও সহায়তা করা, দাওয়াত প্রচার ও সুন্নাহর বিস্তারের মাধ্যমে তাঁর তরীকা বা পথকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং তিনি যা কিছু বলেছেন বা উচ্চারণ করেছেন সে সম্পর্কে সকল প্রকার অপবাদ দূর করা; কারণ তিনি তেমনই যেমনটি তাঁর রব ও তাঁর প্রেরক বর্ণনা করেছেন: {তিনি নিজ খেয়ালখুশি মতো কথা বলেন না। তা তো কেবল ওহি, যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়।} [আন-নাজম], এবং তিনি বলেছেন: {তবে না, আপনার রবের শপথ! তারা ঈমানদার হবে না যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে বিচারক নিয়োগ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা দেবেন সে ব্যাপারে নিজেদের অন্তরে কোনো দ্বিধা না পায় এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়।} [আন-নিসা]"(২).

আর সূরা আল-ফাতহ-এ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা সকাল-সন্ধ্যা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো} প্রসঙ্গে বক্তব্য হলো, তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণা করা আল্লাহর জন্য নির্ধারিত বিশেষ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাসবিহ পাঠ করা বৈধ নয় যেভাবে মহান আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করা হয়; কারণ নিঃসন্দেহে তা শিরক হিসেবে গণ্য হবে। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁদের আনুগত্য করার বিষয়টি ভিন্ন; কারণ এগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যকার যৌথ অধিকারের অন্তর্ভুক্ত; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো}

[আল-ফাতহ: ৯]; এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো} [আল-মায়িদাহ: ৯২; আত-তাগাবুন: ১২]। আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর আনুগত্য করা মূলত আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁরই আনুগত্য করার নামান্তর; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০]। সুতরাং আল্লাহ এই আয়াতে সেই অধিকারটি উল্লেখ করেছেন...

--------------------------------------------

(১). এটি ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবুল ঈমান-এর 'দীন হলো নসিহত' এর বিবরণ অধ্যায়ে হাদিস নং (৫৫)-এ তামীম ইবনে আউস আদ-দারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন।

(2) খাত্তাবি রচিত "আলামুল হাদিস" (১/১৯২)
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
المشترك بين الله وبين رسوله وهو: الإيمان بهما، والمختص بالرسول وهو: التعزير والتوقير، والمختص بالله وهو: التسبيح له والتقديس بصلاة أو غيرها"(1).

لذلك يحرم مجاوزة الحد المشروع في الأنبياء والرسل عليهم السلام والغلو فيهم؛ خشية رفعهم من درجة النبوة إلى حيز صفات الربوبية والألوهية: كنسبة علم اللوح والقلم للرسول صلى الله عليه وسلم، أو اعتقاد القدرة فيه على كشف الضر أو جلب النفع والخير، وما ينجر عنه من دعائه والاستغاثة به فيما لا يقدر على تحصيله إلا الله تعالى، والتوكل عليه، ونحو ذلك مما ينافي التوحيد؛ لكونها من الحقوق الخاصة بالله عز وجل، سواء وقع التداخل والخلط بين هذه الحقوق من غير تميز بينها - جهلًا - أو بدعوى مزيد محبة النبي صلى الله عليه وسلم المفرطة، علما أن محبة الرسول الحقيقية إنما هي متابعته والمسارعة في طاعته فيما يحبه الله من الإيمان والعمل الصالح، ومن دفع ما يبغضه من الكفر والفسوق والعصيان؛ فالمحبة لها علامتان: فهي لا تتم إلا بتجريد المتابعة لشرع الله الذي جاء به النبي صلى الله عليه وسلم عن ربه.

أولا: لقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ} [آل عمران]، ومما جاء به عن ربه: إفراد الله بالعبادة بجميع أنواعها ومراتبها وصورها من غير صرف أي شيء منها لأحد كائنا من كان، وهذا معنى كلمة التوحيد.

ثانيا: ولا تتم محبة الله - إلا بموالاته تعالى وموافقته فيما يحب ويكره؛ فيحب العبد ما يحبه ربه ويبغض ما يبغضه؛ عملا بقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّى يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ} [التوبة: 34]، وبقوله صلى الله عليه وسلم:

--------------------------------------------

(1) "تفسير السعدي" (ص 934)
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যে যা সাধারণ (যৌথ) বিষয় তা হলো: তাঁদের উভয়ের প্রতি ঈমান আনা। আর যা রাসূলের জন্য নির্দিষ্ট তা হলো: তাঁকে সহযোগিতা ও সম্মান প্রদান করা। এবং যা আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট তা হলো: সালাত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে তাঁর মহিমা ঘোষণা (তাসবিহ) ও পবিত্রতা বর্ণনা (তাকদিস) করা।(১)

এই কারণে নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) ক্ষেত্রে শরয়ি সীমা অতিক্রম করা এবং তাঁদের ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (গুলু) করা হারাম; যাতে তাঁদেরকে নবুওয়াতের স্তর থেকে রুবুবিয়াত (প্রভুত্ব) ও উলুহিয়াতের (উপাস্যত্ব) বৈশিষ্ট্যের গণ্ডিতে উন্নীত করার আশঙ্কা না থাকে। যেমন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি লাওহ ও কলমের জ্ঞানের অধিকার আরোপ করা, অথবা বিপদ দূর করা কিংবা কল্যাণ ও মঙ্গল বয়ে আনার ক্ষেত্রে তাঁর সক্ষমতায় বিশ্বাস স্থাপন করা। এর ফলশ্রুতিতে তাঁর নিকট দোয়া করা ও তাঁর নিকট এমন বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনা করা যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কেউ সম্পন্ন করতে সক্ষম নয়, এবং তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করা—এই জাতীয় যা কিছু তাওহীদের পরিপন্থী। কারণ এগুলো মহান আল্লাহর একান্ত নিজস্ব অধিকার। অজ্ঞতাবশত এই অধিকারগুলোর মধ্যে পার্থক্য না করে কোনো সংমিশ্রণ ঘটানো হোক কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অতিমাত্রায় ভালোবাসার দাবিতে করা হোক—উভয়ই নিষিদ্ধ। জেনে রাখা প্রয়োজন যে, রাসূলের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা হলো তাঁর অনুসরণ করা এবং ঈমান ও নেক আমলের মধ্য থেকে আল্লাহ যা ভালোবাসেন তা পালনে তাঁর আনুগত্যে দ্রুত ধাবিত হওয়া এবং কুফর, পাপাচার ও অবাধ্যতার মধ্য থেকে আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা প্রতিহত করা। ভালোবাসার দুটি নিদর্শন রয়েছে: আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে শরীয়ত নিয়ে এসেছেন, তার একনিষ্ঠ অনুসরণ ব্যতীত ভালোবাসা পূর্ণ হয় না।

প্রথমত: আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: {বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু} [আল-ইমরান]। আর তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তার অন্যতম হলো: ইবাদতের যাবতীয় প্রকার, স্তর ও পদ্ধতিতে একমাত্র আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং এর কোনো অংশই অন্য কারো জন্য নিবেদন না করা, তিনি যেই হোন না কেন। আর এটাই হলো তাওহীদের কালিমার মূল অর্থ।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা পূর্ণ হয় না—মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং তিনি যা ভালোবাসেন ও অপছন্দ করেন তাতে তাঁর সাথে একমত হওয়া ব্যতীত। ফলে বান্দা তা-ই ভালোবাসবে যা তার রব ভালোবাসেন এবং তা-ই অপছন্দ করবে যা তিনি অপছন্দ করেন; আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ওপর আমলস্বরূপ: {বলুন, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের স্ত্রী, তোমাদের আত্মীয়-স্বজন, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা হওয়ার আশঙ্কা করো এবং তোমাদের পছন্দনীয় ঘরবাড়ি—আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত। আর আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না} [আত-তাওবাহ: ৩৪], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর কারণে:

--------------------------------------------

(১) "তাফসীরে সাদী" (পৃ. ৯৩৪)
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
" [فوالذي نفسي بيده]، لا يؤمن أحدكم حتى أكون أحب إليه من والده وولده [والناس أجمعين] "(1).

ولتثبيت هذه الحقائق والمعاني في نفوس المسلمين وترسيخها أفصح القرآن الكريم أن النبي صلى الله عليه وسلم بشر يدعو إلى عبادة الله وحده لا شريك له وإلى إقامة دينه مقيدا بما جاء به من سنته، قال تعالى: {قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْإِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف]، وقد بين ابن القيم رحمه الله هذا المعنى - بجلاء - بقوله: "والأعمال أربعة: واحد مقبول، وثلاثة مردودة؛ فالمقبول ما كان الله خالصا وللسنة موافقة، والمردود ما فقد منه الوصفان أو أحدهما، وذلك أن العمل المقبول هو ما أحبه الله ورضيه، وهو - سبحانه - إنما يحب ما أمر به وما عمل لوجهه، وما عدا ذلك من الأعمال فإنه لا يحبها، بل يمقتها ويمقت أهلها"(2).

وفصَّل ابن رجب رحمه الله مسألة العمل - من حيث ظاهره وباطنه - بما نصه: " .. وإنما يتم ذلك بأمرين: أحدهما: أن يكون العمل - في ظاهره - على موافقة السنة، وهذا هو الذي تضمنه حديث عائشة رضي الله عنها: "من أحدث في أمرنا ما ليس منه فهو رد"(3)، والثاني: أن يكون العمل في باطنه يقصد به وجه الله عز وجل، كما تضمنه حديث عمر: "الأعمال بالنيات"(4)

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب الإيمان باب: حب الرسول صلى الله عليه وسلم من الإيمان (14) من حديث أبي هريرة رضي الله عنه. وأخرجه البخاري (15)، ومسلم في "الإيمان" (44)، من حديث أنس بن مالك رضي الله عنه.

(2) "إعلام الموقعين" لابن القيم (2/ 181)

(3) أخرجه البخاري في "الصلح" باب: إذا اصطلحوا على صلح جور فالصلح مردود (2697)، ومسلم في "الأقضية" (1718)، من حديث عائشة رضي الله عنها.

(4). أخرجه البخاري في "بدء الوحي" باب: كيف كان بدء الوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ (1)، ومسلم في (الإمارة) (1907)، من حديث عمر بن الخطاب رضي الله عنه.
"[সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে], তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান [এবং সকল মানুষের] চেয়ে অধিক প্রিয় হই"(১).

মুসলিমদের অন্তরে এই সকল হাকিকত ও অর্থসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত ও বদ্ধমূল করার জন্য আল-কুরআনুল কারীম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একজন মানুষ, যিনি একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন যাঁর কোনো শরিক নেই এবং তাঁর সুন্নাহ অনুযায়ী আনীত বিধানের দ্বারা সীমাবদ্ধ থেকে তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দিকে আহ্বান করেন। মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষই, আমার প্রতি ওহি পাঠানো হয় যে, তোমাদের ইলাহ কেবল এক ইলাহ। অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ প্রত্যাশা করে সে যেন নেক আমল করে এবং তার রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে} [আল-কাহফ]। ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আমল চার প্রকার: একটি কবুলযোগ্য এবং তিনটি প্রত্যাখ্যাত। কবুলযোগ্য আমল হলো তা যা কেবল আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ এবং সুন্নাহর অনুসারী। আর প্রত্যাখ্যাত হলো তা যাতে এই দুটি গুণের উভয়টি বা কোনো একটির অনুপস্থিতি থাকে। কারণ, কবুলযোগ্য আমল হলো সেটি যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং যা তিনি পছন্দ করেন। আর তিনি—সুবহানাহু—কেবল তা-ই ভালোবাসেন যার নির্দেশ তিনি দিয়েছেন এবং যা তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আমলসমূহ তিনি ভালোবাসেন না, বরং তিনি সেগুলোকে এবং সেগুলোর সম্পাদনকারীদের ঘৃণা করেন"(২).

ইবনে রাজাব (রহিমাহুল্লাহ) আমলের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ের মাসআলাটি বিস্তারিতভাবে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছেন: " .. এবং এটি দুটি বিষয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়: প্রথমটি হলো: আমলটি—বাহ্যিকভাবে—সুন্নাহর অনুসারী হওয়া, আর এটিই আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "যে আমাদের এই দ্বীনের ব্যাপারে এমন কিছু উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত"(৩), দ্বিতীয়টি হলো: আমলটি তার অভ্যন্তরে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হওয়া, যেমনটি ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"(৪)

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন 'ঈমান' পর্বে, অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ভালোবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত (১৪), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র হাদিস থেকে। বুখারি (১৫) এবং মুসলিম 'ঈমান' পর্বে (৪৪) আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইবনুল কাইয়্যিমের "ইলামুল মুওয়াক্কিয়ীন" (২/ ১৮১)

(৩) বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন "আস-সুলহ" পর্বে, অধ্যায়: যখন তারা অন্যায় কোনো চুক্তিতে উপনীত হয় তবে সে চুক্তি প্রত্যাখ্যাত (২৬৯৭), এবং মুসলিম "আল-আকদিয়াহ" পর্বে (১৭১৮), আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-র হাদিস থেকে।

(৪). বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন "বাদউল ওহি" পর্বে, অধ্যায়: কীভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ওহির সূচনা হয়েছিল? (১), এবং মুসলিম (আল-ইমারাহ) পর্বে (১৯০৭), ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-র হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال الفضيل رحمه الله في قوله تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا}، قال: "أخلصه وأصوبه"، وقال: "إن العمل إذا كان خالصا ولم يكن صوابا لم يقبل، وإذا كان صوابا ولم يكن خالصا لم يقبل، حتى يكون خالصًا وصوابًا"، قال: "والخالص إذا كان لله عز وجل، والصواب إذا كان على السنة"(1)

ولهذا كان الدعاء لجلب الخير والنفع أو لكشف الضر أو دفع السوء والأذى إنما هو موجه للمعبود الحق دون غيره لقوله تعالى في سورة الإسراء: {قُلِ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُم مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا}، وقد فسر ابن باديس رحمه الله هذه الآية بقوله: "فمن دعا غير الله فقد عبده، ومن دعا مخلوقا مع الخالق فقد أشرك، فإذا دعوت فادع ربك ولا تدع معه أحدًا، وكيف تدعو من لا يملك لنفسه نفعًا ولا ضرًا؟! وإذا توسلت فتوسل بأعمالك: بإيمانك وتوحيدك، وباتباعك لمحمد، ومحبتك له، واعتقادك ما له عند الله من عظيم المنزلة وسمو المقام عليه وعلى آله الصلاة والسلام"(2)، ولقوله تعالى: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا إِلَّا مَا شَاءَ الله} [يونس: 49].

قال الشيخ محمد صديق حسن خان رحمه الله في حكم التوجه إلى الرسول بالدعاء والاستغاثة به ما نصه: "وفي هذا أعظم واعظ وأبلغ زاجر لمن صار ديدنه وهجيراه المناداة لرسول الله صلى الله عليه وسلم، والاستغاثة به عند نزول النوازل التي لا يقدر على دفعها إلا الله سبحانه، وذلك من صار يطلب من الرسول صلى الله عليه وسلم ما لا يقدر على تحصيله إلا الله سبحانه؛ فإن هذا مقام رب العالمين الذي خلق الأنبياء والصالحين وجميع المخلوقين: رزقهم وأحياهم ويميتهم؛ فكيف يطلب من نبي من الأنبياء أو ملك من

--------------------------------------------

(1) جامع العلوم والحِكَم" لابن رجب (ص 10).

(2) "مجالس التذكير من كلام الحكيم الخبير" لابن باديس (ص 468).
এবং ফুদাইল (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ} সম্পর্কে বলেছেন: "যা অধিক একনিষ্ঠ এবং অধিক সঠিক।" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমল যদি একনিষ্ঠ হয় কিন্তু সঠিক না হয়, তবে তা কবুল করা হবে না। আবার যদি তা সঠিক হয় কিন্তু একনিষ্ঠ না হয়, তবেও তা কবুল করা হবে না, যতক্ষণ না তা একনিষ্ঠ ও সঠিক উভয়ই হয়।" তিনি বলেন: "একনিষ্ঠ হলো যা একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য হয়, আর সঠিক হলো যা সুন্নাহ অনুযায়ী হয়"(১)

এই কারণেই কল্যাণ ও উপকার লাভ অথবা ক্ষতি মোচন কিংবা অনিষ্ট ও কষ্ট দূর করার জন্য দোয়া কেবল সত্য মাবুদের উদ্দেশ্যেই নিবেদিত হতে হবে, অন্য কারো জন্য নয়। কেননা মহান আল্লাহ সূরা আল-ইসরায় বলেছেন: {বলুন, তোমরা ডাকো তাদেরকে যাদেরকে তোমরা তাঁর পরিবর্তে ইলাহ মনে করতে, তারা তোমাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার বা পরিবর্তন করার কোনো ক্ষমতা রাখে না}। ইবনে বাদিস (রহিমাহুল্লাহ) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যকে ডাকল, সে তার ইবাদত করল। আর যে স্রষ্টার সাথে কোনো সৃষ্টিকে ডাকল, সে শিরক করল। অতএব যখন তুমি ডাকবে, তখন তোমার রবকেই ডাকো এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না। তুমি তাকে কীভাবে ডাকো যে নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার মালিক নয়?! আর যদি তুমি উসিলা তালাশ করো, তবে তোমার আমলের মাধ্যমে উসিলা ধরো: তোমার ঈমান ও তাওহিদের মাধ্যমে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসরণের মাধ্যমে, তাঁর প্রতি তোমার ভালোবাসার মাধ্যমে এবং আল্লাহর নিকট তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান মাকামের প্রতি তোমার বিশ্বাসের মাধ্যমে (তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)"(২), এবং মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {বলুন, আল্লাহ যা চান তা ছাড়া আমার নিজের কোনো অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা আমার নেই} [ইউনুস: ৪৯]।

শাইখ মুহাম্মাদ সিদ্দিক হাসান খান (রহিমাহুল্লাহ) রাসূলের প্রতি দোয়ার মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া এবং তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা (ইস্তিগাসা) করার বিধান সম্পর্কে যা বলেছেন তার উদ্ধৃতি হলো: "এতে ওই ব্যক্তির জন্য মহান উপদেশ ও কঠোর সতর্কবার্তা রয়েছে যার অভ্যাস ও প্রাত্যহিক বুলি হয়ে দাঁড়িয়েছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ডাকা এবং এমন বিপদ-মুসিবতের সময় তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা যা দূর করার ক্ষমতা মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কারো নেই। আর এটি ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এমন কিছু প্রার্থনা করে যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ব্যতীত আর কেউ প্রদান করতে সক্ষম নয়। কারণ এটি বিশ্বজগতের রবেরই মাকাম, যিনি নবীগণ, নেককার বান্দাগণ এবং সমস্ত সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন: তাদের রিজিক দিয়েছেন, জীবন দান করেছেন এবং মৃত্যু দান করবেন। সুতরাং কীভাবে কোনো নবীর কাছে বা ফেরেশতার কাছে চাওয়া যেতে পারে...

--------------------------------------------

(১) ইবনে রজব কৃত "জামি'উল উলুম ওয়াল হিকাম" (পৃ. ১০)।

(২) ইবনে বাদিস কৃত "মাজালিসুত তাযকির মিন কালামিল হাকিমিল খাবির" (পৃ. ৪৬৮)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
الملائكة أو صالح من الصالحين ما هو عاجز عنه غير قادر عليه، ويترك الطلب لرب الأرباب، القادر على كل شيء، الخالق الرازق المعطي المانع؟ وحسبك - في هذه الآية - موعظة؛ فإن هذا سيد ولد آدم وخاتم الرسل يأمره الله بأن يقول لعباده: {قُلْ لَا أَمْلِكُ لِنَفْسِي ضَرًّا وَلَا نَفْعًا} [يونس: 49]؛ فكيف يملكه لغيره؟ وكيف يملكه غيره - ممن رتبته دون رتبته، ومنزلته لا تبلغ إلى منزلته - لنفسه فضلا عن أن يملكه لغيره؟ فيا عجبا القوم يعكفون على قبور الأموات الذين قد صاروا تحت أطباق الثرى، ويطلبون منهم من الحوائج ما لا يقدر عليه إلا الله عز وجل، كيف لا يتيقظون لما وقعوا به من الشرك، ولا ينتبهون إما حل بهم من المخالفة لمعنى: (لا إله إلا الله)، ومدلول: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ}؟! وأعجب من هذا اطلاع بعض أهل العلم على ما يقع من هؤلاء ولا ينكرون عليهم ولا يحولون بينهم وبين الرجوع إلى الجاهلية الأولى، بل إلى ما هو أشد منها؛ فإن أولئك يعترفون بأن الله - سبحانه هو الخالق الرازق المحيي المميت الضار النافع، وإنما يجعلون أصنامهم شفعاء لهم عند الله ومقربين إليه، وهؤلاء يجعلون لهم قدرة على الضر والنفع، وينادونهم - تارة - على الاستقلال وتارة مع ذي الجلال، وكفاك من شر سماعه، والله ناصر دينه ومظهر شريعته من أوضار الشرك وأدناس الكفر، ولقد تول الشيطان - أخزاه الله - بهذه الذريعة إلى ما تقر به عينه وينثلج به صدره من كفر كثير من هذه الأمة المباركة وهم يحسبون أنهم يحسنون صنعا، إنا لله وإنا إليه راجعون"(1).

هذا، والقرآن الكريم تضمن العديد من الآيات الناهية عن الدعاء بجلب الخير، والسؤال لكشف الضر أو تحويله، إلا من الله تعالى الذي دعانا إلى طلبه منه والتوجه إليه مباشرة دون واسطة، قال تعالى: {ادْعُونِي

--------------------------------------------

(1) (فتح البيان) للقنوجي (4/ 225).
ফিরিশতাগণ বা সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কেউ আছেন কি যিনি অক্ষম এবং কোনো বিষয়ে সক্ষম নন, অথচ মানুষ নিখিল বিশ্বের প্রতিপালক, সর্বশক্তিমান, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, দানকারী ও বারণকারীর নিকট প্রার্থনা করা পরিত্যাগ করে? এই আয়াতের উপদেশই আপনার জন্য যথেষ্ট; কারণ আদম সন্তানের সরদার এবং সর্বশেষ রাসূলকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বান্দাদের বলতে: "বলুন, আমি নিজের জন্য কোনো ক্ষতি বা উপকারের মালিক নই" [ইউনুস: ৪৯]; সুতরাং তিনি কীভাবে অন্যের জন্য এর মালিক হতে পারেন? আর অন্যের মর্যাদা যেখানে তাঁর মর্যাদার নিচে এবং যার অবস্থান তাঁর স্তরের ধারেকাছেও নয়, সে কীভাবে নিজের জন্য এর মালিক হবে, অন্যের জন্য মালিক হওয়া তো সুদূরপরাহত! আশ্চর্যের বিষয় যে, মানুষ এমন সব মৃত ব্যক্তির কবরে পড়ে থাকে যারা মাটির স্তরের নিচে বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের কাছে এমন সব প্রয়োজন পূরণের আর্জি জানায় যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা ব্যতীত আর কেউ করতে সক্ষম নয়। তারা কীভাবে সেই শিরক সম্পর্কে সজাগ হচ্ছে না যাতে তারা লিপ্ত হয়েছে? এবং তারা কেন সতর্ক হচ্ছে না সেই বিচ্যুতি সম্পর্কে যা তাদের ওপর আপতিত হয়েছে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই) এর অর্থের এবং ‘বলুন, তিনি আল্লাহ এক’ এর মর্মার্থের বিরোধিতার কারণে? এর চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় হলো কিছু আলিমের এই কর্মকাণ্ডসমূহ প্রত্যক্ষ করা, অথচ তারা এর প্রতিবাদ করেন না এবং তাদেরকে প্রাক-ইসলামী জাহেলি যুগে অথবা তার চেয়েও নিকৃষ্ট অবস্থায় ফিরে যাওয়া থেকে বিরত রাখেন না। কেননা পূর্ববর্তী জাহেলরা তো স্বীকার করত যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবন ও মৃত্যু দানকারী এবং ক্ষতি ও উপকারের মালিক; তারা কেবল তাদের মূর্তিদের আল্লাহর কাছে সুপারিশকারী এবং তাঁর নৈকট্য লাভের মাধ্যম মনে করত। কিন্তু এরা তাদের জন্য ক্ষতি ও উপকারের ক্ষমতা সাব্যস্ত করে এবং কখনও স্বাধীনভাবে আবার কখনও মহান মহিমান্বিত আল্লাহর সাথে তাদের আহ্বান করে। এই মন্দ সম্পর্কে শ্রবণ করাই যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং শিরকের পঙ্কিলতা ও কুফরের অপবিত্রতা থেকে তাঁর শরীয়তকে সমুন্নতকারী। আর শয়তান—আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন—এই উসিলার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করেছে যাতে তার চক্ষু শীতল হয় এবং তার হৃদয় প্রশান্ত হয়; আর তা হলো এই বরকতময় উম্মতের অনেকের কুফরিতে লিপ্ত হওয়া, অথচ তারা মনে করছে যে তারা সৎকর্মই সম্পাদন করছে। আমরা তো আল্লাহরই এবং তাঁরই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।(১).

বস্তুত কুরআন মাজীদ এমন অনেক আয়াত অন্তর্ভুক্ত করেছে যা কল্যাণ অর্জন এবং ক্ষতি দূরীকরণ বা তা পরিবর্তনের জন্য আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও নিকট দুআ করতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি তাঁর কাছে প্রার্থনা করতে এবং তাঁর প্রতি অভিমুখী হতে আহ্বান জানিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা আমাকে ডাকো

--------------------------------------------

(১) কাননোজী রচিত ‘ফাতহুল বায়ান’ (৪/২২৫)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
أَسْتَجِبْ لَكُمْ} [غافر: 60]. وقال تعالى: {وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ} [البقرة: 186].

وعليه، فلا وساطة للرسل والأنبياء عليهم السلام في شيء بين الله تعالى وعباده من طلب الحوائج من الله تعالى، وإنما وساطتهم تتجلى في تبليغ شرع الله ودينه لعباده.

وفي بيان هذه الوساطة وإثباتها قال الشيخ عبد العزيز المحمد السلمان رحمه الله ما يلي: "إنها على قسمين:

- واسطةٌ من تمام الدين والإيمان إثباتها: وهي أن الرسول صلى الله عليه وسلم وغيره من الرسل وسائط بين الله وبين عباده في تبليغ دينه وشرعه.

* وواسطةٌ شركيةٌ: وهي التقرب إلى أحد من الخلق ليقربه إلى الله، وليجلب له المنافع التي لا يقدر عليها إلا الله، أو يدفع عنه المضار؛ فهذا النوع من الشرك الأكبر الذي لا يغفره الله.

فالخلق مضطرون إلى وساطة الرسل في تبليغ الدين، وليس بهم حاجة إلى وساطة أحد في طلب الحوائج من الله؛ فليس بين العبد وبين الله حجاب ولا واسطة"(1).

ومنه يعلم أن الله تعالى لم يجعل وساطة الرسل والأنبياء عليهم السلام ولا مكانتهم وجاههم - فضلا عن الصالحين - طريقة للتقرب منه أو وسيلة موصلة إليه ولا سبأ للزلفى لديه، وإنما جعل القرب منه والوسيلة إليه في تصديقهم فيما أخبروا به، واتباع النور الذي جاءوا به من عبادته وطاعته وامتثال أوامره ونواهيه، والتزام محابه واجتناب مكارهه، والعمل على تقرير شرعه ونشره وتثبيته وإقامته بين الخلق.

ولا يخفى أن الأنبياء والرسل عليهم السلام التي لم يدعوا أن بأيديهم مفاتيح

--------------------------------------------

(1) "الكواشف الجلية" للسلمان (ص 73).
আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।} [গাফির: ৬০]। এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর যখন আমার বান্দাগণ আমার সম্পর্কে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। আমি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দেই যখন সে আমাকে ডাকে।} [আল-বাকারাহ: ১৮৬]।

সুতরাং, মহান আল্লাহর কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে রাসূল ও নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) কোনো মধ্যস্থতা নেই। বরং তাঁদের মধ্যস্থতা কেবল আল্লাহর শরীয়ত ও তাঁর দ্বীন বান্দাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই প্রকাশ পায়।

এই মধ্যস্থতার ব্যাখ্যা ও তা সাব্যস্ত করার বিষয়ে শায়খ আব্দুল আজিজ আল-মুহাম্মাদ আস-সালমান (রাহিমাহুল্লাহ) নিম্নোক্ত কথা বলেছেন: "এটি দুই প্রকার:

- এমন মধ্যস্থতা যা সাব্যস্ত করা দ্বীন ও ঈমানের পূর্ণতার অংশ: আর তা হলো, আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের মাঝে তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অন্যান্য রাসূলগণ হলেন মধ্যস্থতাকারী।

* শিরকি মধ্যস্থতা: আর তা হলো সৃষ্টির কারো নৈকট্য অন্বেষণ করা যাতে সে তাকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেয়, অথবা তার জন্য এমন উপকার বয়ে আনে যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ করতে সক্ষম নয়, কিংবা তার থেকে অপকার দূর করে দেয়; আর এটি হলো বড় শিরকের প্রকার যা আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।

কাজেই সৃষ্টিজগত দ্বীন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে রাসূলগণের মধ্যস্থতার মুখাপেক্ষী, কিন্তু আল্লাহর কাছে প্রয়োজন পূরণের আবেদনের ক্ষেত্রে তাদের কারো মধ্যস্থতার কোনো প্রয়োজন নেই; কেননা বান্দা এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা বা মধ্যস্থতা নেই"(1)।

এ থেকে জানা যায় যে, মহান আল্লাহ নবী ও রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) মধ্যস্থতা কিংবা তাঁদের মর্যাদা ও সম্মানকে—নেককার ব্যক্তিদের কথা তো বলাই বাহুল্য—তাঁর নৈকট্য লাভের পদ্ধতি বা তাঁর কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম অথবা তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার উপায় হিসেবে নির্ধারণ করেননি। বরং তিনি তাঁর নৈকট্য ও মাধ্যম কেবল তাঁদের সংবাদসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁরা যে নূর নিয়ে এসেছেন তার অনুসরণ করার মধ্যে নিহিত রেখেছেন; যা হলো আল্লাহর ইবাদত করা, তাঁর আনুগত্য করা, তাঁর আদেশ ও নিষেধ মেনে চলা, তাঁর পছন্দনীয় বিষয়গুলোকে আঁকড়ে ধরা ও অপছন্দনীয় বিষয়গুলো বর্জন করা এবং তাঁর শরীয়ত প্রতিষ্ঠা, প্রচার, সুসংহতকরণ ও সৃষ্টির মাঝে তা কায়েম করার জন্য কাজ করা।

আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, নবী ও রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাম) কখনোই দাবি করেননি যে তাঁদের হাতে চাবিকাঠি রয়েছে

--------------------------------------------

(1) আস-সালমান লিখিত "আল-কাওয়াশিফুল জালিয়াহ" (পৃ. ৭৩)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
رزق الله ورحمته، ولا أنهم يملكون التصرف في خزائن الله، ولا أنهم يعلمون الغيب، ولا أنهم ملائكة، وإنما هم بشر ممن خلق، يوحى إليهم منن الله تعالى، شرفهم الله بالوحي الذي يتبعونه ولا يخرجون عنه، وأنعم عليهم بالمكارم والفضائل والكمالات، وعصمهم من الرذائل والنقائص والمعايب، وأكرمهم بالرسالة أو النبوة لهداية الخلق إلى الحق وإقامة الحجة عليهم، وأيدهم بالآيات البينات والمعجزات الباهرات وخوارق العادات الدالة على صدقهم؛ حتى لا يبقى عذر لأحد في تكذيبهم والخروج عن طاعتهم؛ وليس للرسل والأنبياء عليهم السلام أي تصرف مع الله في الكون؛ لذلك كانوا إذا سئلوا الآيات المعجزات الخارقة للعادة؛ ردوا الأمر إلى الله، ونفوا أن تكون لهم قدرة على الإتيان بها إلا بإذن الله، كما قال تعالى: {وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَّأْتِيَكُم بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ} [إبراهيم: 11]؛ فيظهر الله - على أيديهم - الآيات تأييد لهم وتخويفا لأقوامهم وقطعة لمشاغبتهم؛ فيخضع لها بعضهم ويستمر الأكثرون على العناد، فما من نبي من الأنبياء إلا وقد أعطاه الله من الآيات والمعجزات ما يمثله - في وضوحه وظهوره والعجز عن معارضته - ما يؤمن عليه العباد ويتفقون عليه لولا ما يصدهم عنه من العناد، وهو معنى قوله: "ما من الأنبياء نبي إلا أعطي من الآيات ما مثله آمن عليه البشر"(1)(2)؛ ولهذا أمر الله تعالى نبيه أن يبرأ من دعوى هذه المحاور الثلاثة من العلم والقدرة والغني، التي ترجع إليها المعجزان بقوله تعالى: {قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في كتاب "فضائل القرآن" باب: كيف نزل الوحي، وأول ما نزل برقم (4981)، ومسلم في "الإيمان" باب وجوب الإيمان برسالة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم إلى جميع الناس، ونسخ الملل بملته برقم (152)، من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

(2) "مجالس التذكير من حديث البشير النذير" لابن باديس (33 - 34).
আল্লাহর রিযিক ও তাঁর রহমত, এবং তাঁরা যে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহে কোনো পরিচালনার মালিক নন, আর না তাঁরা গায়েব (অদৃশ্য) জানেন, আর না তাঁরা ফেরেশতা; বরং তাঁরা তাঁর সৃষ্টিরই অন্তর্ভুক্ত মানুষ, যাঁদের নিকট মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী পাঠানো হয়। আল্লাহ তাঁদেরকে সেই ওহীর মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন যা তাঁরা অনুসরণ করেন এবং যা থেকে তাঁরা বিচ্যুত হন না। তিনি তাঁদেরকে মহত্ত্ব, শ্রেষ্ঠত্ব ও পূর্ণতা দান করেছেন এবং তাঁদেরকে চারিত্রিক কলুষতা, ত্রুটি ও দোষ থেকে মুক্ত (নিষ্পাপ) রেখেছেন। তিনি তাঁদেরকে সৃষ্টির হেদায়েতের জন্য এবং মানুষের ওপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠার জন্য রিসালাত বা নবুওয়াতের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, উজ্জ্বল মুজিজা ও অলৌকিক ঘটনাবলীর মাধ্যমে সাহায্য করেছেন যা তাঁদের সত্যতার প্রমাণ দেয়; যাতে তাঁদেরকে অস্বীকার করার এবং তাঁদের আনুগত্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার জন্য কারো কোনো অজুহাত অবশিষ্ট না থাকে। মহাবিশ্ব পরিচালনায় আল্লাহর সাথে রাসূল ও নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) কোনো কর্তৃত্ব নেই। একারণেই যখন তাঁদের কাছে অলৌকিক নিদর্শন বা মুজিজা দাবি করা হতো, তখন তাঁরা বিষয়টি আল্লাহর দিকে সোপর্দ করতেন এবং আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত সেগুলো আনয়ন করার কোনো ক্ষমতা তাঁদের আছে বলে অস্বীকার করতেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তোমাদের কাছে কোনো প্রমাণ বা মুজিজা নিয়ে আসা আমাদের কাজ নয়} [ইবরাহীম: ১১]। আল্লাহ তাঁদের হাতের মাধ্যমে নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করেন তাঁদের সাহায্যার্থে, তাঁদের কওমকে সতর্ক করার জন্য এবং তাদের হাঙ্গামা বন্ধ করতে। ফলে কেউ কেউ সেগুলোর সামনে মাথা নত করে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই হঠকারিতায় লিপ্ত থাকে। এমন কোনো নবী নেই যাকে আল্লাহ এমন কিছু নিদর্শন ও মুজিজা দান করেননি—যা স্পষ্টতা ও প্রকাশের দিক থেকে এবং তার বিরোধিতায় অক্ষম হওয়ার দিক থেকে এমন ছিল যে—যার ওপর ভিত্তি করে বান্দারা ঈমান আনত এবং তারা এর ওপর ঐক্যমত হতো যদি না তাদের হঠকারিতা তাদের বাধা দিত। আর এটিই তাঁর এই বাণীর অর্থ: "নবীদের মধ্য থেকে এমন কোনো নবী নেই যাকে এমন কিছু নিদর্শন দেওয়া হয়নি যার অনুরূপ দেখে মানুষ ঈমান এনেছে"(১)(২)। একারণেই মহান আল্লাহ তাঁর নবীকে জ্ঞান, ক্ষমতা এবং অভাবহীনতার এই তিনটি দাবি থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেগুলোর দিকে মুজিজাগুলো প্রত্যাবর্তিত হয়। আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে এবং আমি গায়েব জানি না এবং আমি তোমাদের এও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা; আমি তো কেবল অনুসরণ করি যা...

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন 'ফাযাইলুল কুরআন' কিতাবে, অনুচ্ছেদ: ওহী কীভাবে নাযিল হতো এবং সর্বপ্রথম যা নাযিল হয়েছিল, হাদীস নং (৪৯৮১); এবং মুসলিম 'ঈমান' অধ্যায়ে, অনুচ্ছেদ: আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের ওপর সকল মানুষের ঈমান আনা ওয়াজিব হওয়া এবং তাঁর শরীয়ত দ্বারা অন্য সকল ধর্ম রহিত হওয়া প্রসঙ্গে, হাদীস নং (১৫২), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।

(২) ইবনে বাদীস কৃত "মাজালিসুত তাযকীর মিন হাদীসিল বাশীরুন নাযীর" (৩৩ - ৩৪)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
يُوحَى إِلَيَّ} [الأنعام: 50]. قال ابن تيمية رحمه الله و ما نصه: "فأمره أن يخبر أنه لا يعلم الغيب، ولا يملك خزائن الله، ولا هو ملك غني عن الأكل والمال، إن هو إلا متبع لما أوحي إليه، واتباع ما أوحي إليه هو الدين، وهو طاعة الله وعباده علما وعملا بالباطن والظاهر، وإنما ينال من تلك الثلاثة بقدر ما يعطيه الله تعالى: فيعلم منه ما علمه إياه، ويقدر منه على ما أقدره الله عليه، ويستغني عما أغناه الله عنه من الأمور المخالفة للعادة المطردة أو لعادة غالب الناس"(1).

ومن هنا يظهر - جليا - أن حياة أنبياء الله ورسله - صلوات الله وسلامه عليهم - لم تكن مبنية على تغييب حقيقتهم البشرية، أو رفع أنفسهم إلى مقام الربوبية، أو ادعاء خصائص الألوهية، أو إرادة تلبيس بين حق الله الخالص وحق أنبيائه الكرام عليهم السلام، كلا، إنما كانت حياتهم مليئة بالصلة بالله، وعامرة بالعلم النافع، والعمل الصالح، والقوة في العبادة، والمسارعة في الخيرات، والبصيرة النافذة في الدين؛ حتى بلغوا الغاية في العبودية والسمو الروحي، يهدون الناس إلى الله، ويبلغون دينه وشرعه، ويدعون إلى الهدى ودين الحق، ويتنافسون في القرب من ربهم، ويبذلون ما في وسعهم من الأعمال الصالحة المقربة إلى الله بجد واجتهاد، يرجون - بأعمالهم الصالحة ومحبتهم الصادقة - رحمته، ويخافون - بمخالفتهم لأمره - عذابه، ويخشون - بقصورهم عن أداء حقه - عقوبته وانتقامه؛ لعلمهم بقوة الله وعظيم سلطانه، وأن عذابه أليم شديد، شأنه أن يتقى ويُحذر، قال الله تعالى عن أهل اصطفائه واجتبائه: {أُولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا} [الإسراء]، وقال تعالى:

--------------------------------------------

(1) "مجموع الفتاوى" لابن تيمية (11/ 313)، وانظر: "شرح العقيدة الطحاوية" لابن أبي العز (558).
আমার প্রতি ওহি পাঠানো হয়} [আল-আনআম: ৫০]। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন এবং তার পাঠ হলো: "অতঃপর তাঁকে (রাসূলকে) নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি সংবাদ দেন যে, তিনি গায়েব জানেন না, আল্লাহর ভাণ্ডারের মালিক নন এবং তিনি এমন কোনো ফেরেশতাও নন যিনি আহার ও সম্পদ থেকে অমুখাপেক্ষী; বরং তিনি কেবল তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশকৃত ওহির অনুসরণ করেন। আর ওহির অনুসরণ করাই হলো দ্বীন, আর তা হলো ইলম ও আমল তথা প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর আনুগত্য ও বন্দেগি করা। আর তিনি এই তিনটি বিষয় থেকে কেবল ততটুকুই প্রাপ্ত হন যতটুকু আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেন। সুতরাং তিনি তাঁর থেকে তা-ই জানেন যা আল্লাহ তাঁকে শিখিয়েছেন, আর তিনি তা-ই করতে সক্ষম হন যা আল্লাহ তাঁকে সক্ষম করেছেন এবং তিনি সে সব বিষয় থেকে অমুখাপেক্ষী থাকেন যা থেকে আল্লাহ তাঁকে অমুখাপেক্ষী করেছেন—সেগুলো অলৌকিক বিষয় হোক কিংবা অধিকাংশ মানুষের স্বভাবজাত অভ্যাসের পরিপন্থী বিষয় হোক।"(১).

আর এখান থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর নবী ও রাসূলগণের—তাঁদের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক—জীবন তাঁদের মানবীয় বাস্তবতাকে আড়াল করার ওপর ভিত্তি করে ছিল না, কিংবা নিজেদের রুবুবিয়্যাতের (প্রভুত্বের) মাকামে উন্নীত করা, অথবা উলুহিয়্যাতের (উপাস্য হওয়ার) বৈশিষ্ট্য দাবি করা, কিংবা আল্লাহর নিরঙ্কুশ হক এবং সম্মানিত নবীগণের (আলাইহিমুস সালাম) হকের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটানোর কোনো ইচ্ছা তাঁদের ছিল না। মোটেও তা নয়, বরং তাঁদের জীবন ছিল আল্লাহর সাথে নিবিড় সম্পর্কে পরিপূর্ণ এবং উপকারী ইলম, নেক আমল, ইবাদতে দৃঢ়তা, কল্যাণের পথে প্রতিযোগিতা এবং দ্বীনের ব্যাপারে তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টিতে সমৃদ্ধ; এমনকি তাঁরা বন্দেগি ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন। তাঁরা মানুষকে আল্লাহর দিকে পরিচালিত করেন, তাঁর দ্বীন ও শরীয়ত পৌঁছে দেন এবং হিদায়াত ও সত্য দ্বীনের দিকে আহ্বান করেন। তাঁরা তাঁদের রবের নৈকট্য লাভে পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করেন এবং কঠোর পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্যদানকারী নেক আমলসমূহে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ বিলিয়ে দেন। তাঁরা তাঁদের নেক আমল ও অকৃত্রিম ভালোবাসার মাধ্যমে তাঁর রহমতের আশা করেন এবং তাঁর নির্দেশের অবাধ্যতার কারণে তাঁর শাস্তিকে ভয় করেন। আর তাঁর হক আদায়ে ত্রুটির কারণে তাঁর দণ্ড ও প্রতিশোধকে ভয় করেন; কারণ তাঁরা আল্লাহর শক্তি ও মহান রাজত্ব সম্পর্কে অবগত এবং জানেন যে তাঁর আজাব অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কঠোর, যা থেকে বেঁচে থাকা এবং সতর্ক হওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত বান্দাদের সম্পর্কে বলেন: {তারাই তো তারা, যাদেরকে এরা আহ্বান করে, তারা নিজেরাই তাদের রবের নৈকট্য লাভের মাধ্যম তালাশ করে যে, তাদের মধ্যে কে কত বেশি নিকটবর্তী হতে পারে, আর তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয় তোমার রবের শাস্তি অত্যন্ত ভয়াবহ।} [আল-ইসরা], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়্যাহর "মাজমুউল ফাতাওয়া" (১১/ ৩১৩), এবং দেখুন: ইবনুল আবিল ইযযের "শারহুল আকীদাতিত ত্বহাবীইয়্যাহ" (৫৫৮)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
{وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا وَأَوْحَيْنَا إِلَيْهِمْ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَإِقَامَ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءَ الزَّكَاةِ وَكَانُوا لَنَا عَابِدِينَ} [الأنبياء]، وقال تعالى: {إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ وَيَدْعُونَنَا رَغَبًا وَرَهَبًا وَكَانُوا لَنَا خَاشِعِينَ} [الأنبياء].

فتلك هي العبودية الحقه التي كان الرسل والأنبياء عليهم السلام، والمعلوم أن العبد كلما ازداد في تحقيق العبودية الخالصة ازداد كماله وسمت روحه وعلت درجته، وكلما نقصت عبوديته ازداد بعدا وهبوطا وانحدارًا، والرسل والأنبياء عليهم السلام وإن تفاوتوا في الفضل والدرجة - إلا أنهم كانوا يتنافسون في القرب من ربهم، ويتسابقون في تحقيق العبودية، ويسارعون في الخيرات كما تقدمت به الآيات؛ ولهذا وصفهم الله تعالى في كتابه بوصف العبودية التي أساسها المحبة والخوف والرجاء فقال تعالى: {إِنَّا أَخْلَصْنَاهُم بِخَالِصَةٍ ذِكْرَى الدَّارِ (46) وَإِنَّهُمْ عِنْدَنَا لَمِنَ الْمُصْطَفَيْنَ الْأَخْيَارِ (47) وَاذْكُرْ إِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَذَا الْكِفْلِ وَكُلٌّ مِنَ الْأَخْيَارِ} [ص]، وقال: {وَاذْكُرْ عَبْدَنَا أَيُّوبَ} [ص: 41]، وذكر نبينا محمد صلى الله عليه وسلم بوصف العبودية في أسمى أحواله وأشرف مقاماته: كالإسراء في قوله تعالى: {سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى} [الإسراء: 1]، وفي مقام الإيحاء والتحدي بالذي أنزل عليه، كما في قوله تعالى: {فَأَوْحَاإِلَى عَبْدِهِ مَا أَوْحَى} [النجم: 10]، وقوله تعالى: {إِنْ كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا} [البقرة: 23]، وفي مقام القيام بالدعوة، كما في قوله تعالى: {وَأَنَّهُ لَمَّا قَامَ عَبْدُ اللَّهِ يَدْعُوهُ} [الجن: 19]، وغيرها من الآيات المخبرة عن فضائل عباده المرسلين وأنبيائه العابدين، المجتهدين في تحقيق العبودية الخالصة لله رب العالمين.

وعلينا - أخيرًا - أن نقتدي بهم في تحقيق هذه العبودية الخالصة لله تعالى ونهتدي بهديهم، مع احترام حقهم ومنزلتهم في التوقير والتبجيل
"আর আমি তাদেরকে ইমাম (নেতা) করেছিলাম, যারা আমার আদেশে পথপ্রদর্শন করত। আর আমি তাদের প্রতি নেক কাজ করা, সালাত কায়েম করা এবং যাকাত প্রদানের ওহী পাঠিয়েছিলাম। তারা ছিল আমারই ইবাদতকারী।" [আল-আম্বিয়া], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই তারা নেক কাজে প্রতিযোগিতা করত এবং আমাকে আশা ও ভয় নিয়ে ডাকত। আর তারা ছিল আমার প্রতি অত্যন্ত বিনীত।" [আল-আম্বিয়া]।

আর এটাই হলো সেই প্রকৃত দাসত্ব (উবুদিয়্যাত), যার ওপর রাসূল ও নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। এটা সুপরিজ্ঞাত যে, বান্দা যখনই একনিষ্ঠ দাসত্ব অর্জনে অগ্রসর হয়, ততই তার পূর্ণতা বৃদ্ধি পায়, তার আত্মা উন্নত হয় এবং তার মর্যাদা উচ্চতর হয়। আর যখনই তার দাসত্বে ঘাটতি আসে, ততই তার দূরত্ব, পতন ও অবনতি ঘটে। রাসূল ও নবীগণ (আলাইহিমুস সালাম) মর্যাদা ও সম্মানের ক্ষেত্রে একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখলেও, তাঁরা তাঁদের রবের নৈকট্য অর্জনে একে অপরের সাথে পাল্লা দিতেন, দাসত্ব পূর্ণ করতে প্রতিযোগিতা করতেন এবং নেক কাজে দ্রুত ধাবিত হতেন, যেমনটি পূর্বোক্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হয়েছে। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে তাঁদেরকে 'দাসত্বের' বিশেষণে বিশেষিত করেছেন, যার মূল ভিত্তি হলো ভালোবাসা, ভয় ও আশা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে একটি বিশেষ গুণের মাধ্যমে—পরকালের স্মরণের মাধ্যমে—একনিষ্ঠ করেছিলাম (৪৬) আর নিশ্চয়ই তারা আমার নিকট মনোনীত ও উত্তমদের অন্তর্ভুক্ত (৪৭) এবং স্মরণ করুন ইসমাঈল, আল-ইয়াসা ও যুল-কিফলের কথা; তারা প্রত্যেকেই ছিলেন উত্তমদের অন্তর্ভুক্ত।" [সোয়াদ], এবং তিনি বলেন: "আর স্মরণ করুন আমার বান্দা আইয়ুবকে।" [সোয়াদ: ৪১], এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর সর্বোচ্চ অবস্থা ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদাপূর্ণ স্থানসমূহে দাসত্বের বিশেষণে উল্লেখ করা হয়েছে: যেমন ইসরার ঘটনায় আল্লাহ তাআলা বলেন: "পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত।" [আল-ইসরা: ১]। আবার ওহী প্রদান এবং অবতীর্ণ কিতাব সম্পর্কে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার ক্ষেত্রেও, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "অতঃপর তিনি তাঁর বান্দার প্রতি ওহী পাঠালেন যা পাঠানোর ছিল।" [আন-নাজম: ১০], এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো..." [আল-বাকারা: ২৩]। দাওয়াতের কাজের সূচনার ক্ষেত্রেও, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: "আর যখন আল্লাহর বান্দা তাকে ডাকার জন্য দাঁড়ালেন..." [আল-জ্বিন: ১৯]। এ ছাড়াও আরও অনেক আয়াত রয়েছে যা রব্বুল আলামীনের প্রেরিত বান্দা ও ইবাদতকারী নবীগণের মর্যাদার কথা বর্ণনা করে, যারা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ দাসত্ব অর্জনে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন।

পরিশেষে—আমাদের কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর একনিষ্ঠ দাসত্ব অর্জনে তাঁদের অনুসরণ করা এবং তাঁদের প্রদর্শিত পথে পরিচালিত হওয়া, সেই সাথে তাঁদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রাপ্য হক ও মর্যাদা বজায় রাখা।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
والمحبة والنصرة، من غير غُلُوٍّ في تعظيمهم ولا إطراءٍ مُفْضٍ بمحبتهم إلى امتزاج حقهم بما لله تعالى من حق خالص في العبودية](1).

 

‌‌كيف كان الغلو أول سبب لوقوع الشرك في العالم؟

[ .. كان الناس أمة واحدة على الإسلام، موحدين متفقين على الحق والتوحيد في زمن أبينا آدم عليه السلام، إلى قبيل زمن نوح عليهم السلام.

ثم اختلفوا بسبب مكر الشيطان وحيله الخفية، قال تعالى: {كَانَ النَّاسُ أُمَّةً وَاحِدَةً فَبَعَثَ اللَّهُ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَأَنْزَلَ مَعَهُمُ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ لِيَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ فِيمَا اخْتَلَفُوا فِيهِ} [البقرة: 213].

وقال تعالى: {وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا} [يونس: 19].

وقال صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه: "إني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم(2) عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانا"(3).

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: "كان بين نوح وآدم عشرة قرون، كلهم على شريعة من الحق، فاختلفوا، فبعث الله النبيين مبشرين ومنذرين"(4).

--------------------------------------------

(1) من الكلمات الشهرية لسماحة الشيخ محمد علي فركوس حفظه الله برقم (106)

(2) من الجلاء؛ أي: ترك الإنسان موطنه ومكانه، وهنا بمعنى: ترك الدين والابتعاد عنه. انظر: "لسان العرب" (2/ 337)، مادة: (جلل).

(3) "مجموع الفتاوى" لابن تيمية (11/ 313)، وانظر: "شرح العقيدة الطحاوية" لابن أبي العز (558) جزء من حديث رواه مسلم، في كتاب الجنة وصفة نعيمها وأهلها، باب الصفات التي يعرف بها في الدنيا أهل الجنة وأهل النار برقم (2865).

(4) "جامع البيان" للطبري (29/ 99)، و "المستدرك" للحاكم (2/ 546) وقال: صحيح على شرط البخاري، ووافقه الذهبي، وصححه الألباني في "تحذير الساجد" (ص 147).
এবং ভালোবাসা ও সাহায্য, তাদের মর্যাদাদানে কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি কিংবা তাদের ভালোবাসার ক্ষেত্রে এমন কোনো অতিপ্রশংসা ব্যতিরেকে যা তাদের অধিকারকে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত একনিষ্ঠ ইবাদতের হকের সাথে মিশিয়ে ফেলে।(১).

 

‌‌বিশ্বে শিরক সংঘটিত হওয়ার প্রথম কারণ হিসেবে বাড়াবাড়ি (গুলু) কীভাবে কাজ করেছিল?

[ .. মানুষ আমাদের পিতা আদম আলাইহিস সালামের সময় থেকে নূহ আলাইহিস সালামের সময় পর্যন্ত ইসলামের ওপর এক উম্মত হিসেবে ছিল, তারা সত্য ও তাওহীদের ওপর একমত ও একেশ্বরবাদী ছিল।

অতঃপর শয়তানের চক্রান্ত ও তার সূক্ষ্ম কৌশলের কারণে তারা মতভেদে লিপ্ত হলো। মহান আল্লাহ বলেন: {মানুষ ছিল এক উম্মত, অতঃপর আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীগণকে পাঠালেন এবং তাদের সাথে সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করলেন, যাতে তারা মানুষের মাঝে সে বিষয়ে ফয়সালা করতে পারেন যাতে তারা মতভেদ করছিল} [আল-বাকারাহ: ২১৩]।

মহান আল্লাহ আরও বলেন: {মানুষ এক উম্মত ছাড়া অন্য কিছু ছিল না, অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হলো} [ইউনূস: ১৯]।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেন: "আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ সত্যপন্থী হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে ফেলে(২) এবং আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছিলাম তা তাদের ওপর হারাম করে দেয়, আর তাদের নির্দেশ দেয় আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করতে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করিনি"(৩)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নূহ ও আদমের মাঝে দশটি প্রজন্ম অতিবাহিত হয়েছিল, তারা সবাই সত্য শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। অতঃপর তারা মতভেদে লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে নবীগণকে প্রেরণ করেন"(৪)।

--------------------------------------------

(১) শাইখ মুহাম্মদ আলী ফারকাস হাফিজাহুল্লাহর প্রসিদ্ধ বাণীর সংকলন থেকে, নম্বর (১০৬)।

(২) এটি 'আল-জ্বালা' শব্দ থেকে গৃহীত; যার অর্থ: মানুষের নিজ আবাস ও স্থান পরিত্যাগ করা। আর এখানে এর অর্থ: দ্বীন ত্যাগ করা ও তা থেকে দূরে সরে যাওয়া। দেখুন: 'লিসানুল আরব' (২/ ৩৩৭), শব্দমূল: (জ-ল-ল)।

(৩) ইবনে তাইমিয়্যাহর 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (১১/ ৩১৩), এবং দেখুন: ইবনুল আবিল ইজ্জের 'শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ' (৫৫৮)। এটি মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশবিশেষ, জান্নাত এবং এর নিআমত ও অধিবাসীদের গুণাবলী অধ্যায়, দুনিয়াতে জান্নাতী ও জাহান্নামী চেনার আলামতসমূহ অনুচ্ছেদ, নম্বর (২৮৬৫)।

(৪) তাবারীর 'জামেউল বায়ান' (২৯/ ৯৯), এবং হাকেমের 'আল-মুসতাদরাক' (২/ ৫৪৬); তিনি বলেছেন: এটি বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ, আর যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। আলবানী 'তাহযীরুস সাজিদ' (পৃষ্ঠা ১৪৭) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وبهذا يتضح لنا أن الأمة كانت على شريعة واحدة؛ التي هي التوحيد الخالص، ثم طرأ الشرك عليها(1).

وإليك التدرج الذي فعله الشيطان مع بني الإنسان لإخراج الناس من عبادة الله وحده إلى الشرك به وعبادة غيره، وهو مأخوذ من تفسير قوله تعالى: {وَقَالُوا لَا تَذَرُنَّ آلِهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح]، حيث إن هؤلاء الخمسة كانوا عبادًا صالحين، فلما ماتوا، أوحى الشيطان إلى قومهم؛ أن انجبوا لهم أنصابًا، وسموها بأسمائهم، واعكفوا عليها لتتذكروهم، وتقتدوا بأعمالهم الصالحة، فلما ذهب هذا الجيل، وأتي من بعدهم، أوحي إليهم الشيطان: إن أسلافكم كانوا يعبدونهم، فافعلوا كما كانوا يفعلون، ففعلوا؛ فوقع الشرك في بني آدم من طريق الغلو في الصالحين، ومن ثم أرسل الله جل وعلا نوح عليه السلام ليدعوهم إلى عبادة الله وحده وترك الشرك، فلم يستجيبوا له إلا قليل منهم.

ويتضح هذا المعنى بذكر الآثار الواردة في تفسير الآية المتقدم ذكرها من سورة نوح عليه السلام، وإليك بعضا منها:

عن ابن عباس رضي الله عنهما، قال: "هذه أسماء رجال صالحين من قوم نوح، فلما هلكوا أوحى الشيطان إلى قومهم، أن انصبوا إلى مجالسهم التي كانوا يجلسون أنصابًا، وسموها بأسمائهم، ففعلوا، فلم تعبد، حتى إذا هلك أولئك وتنسَّخ العلم، عُبدت"(2).

وما روى ابن جرير بإسناده عن محمد بن قيس، قال: كانوا قوم صالحين من بني آدم، وكان لهم أتباع يقتدرون بهم، فلما ماتوا

--------------------------------------------

(1) انظر: "مجموع الفتاوى" (2/ 437، 8/ 285، 20/ 106، 107) بتصرف.

(2) "صحيح البخاري"، كتاب التفسير، تفسير سورة نوح، باب ودًا وسواعًا ويغوث ويعوق. "الفتح" (8/ 535)، حديث رقم (4920).
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, উম্মাহ একটি শরীয়তের উপর ছিল; যা হলো বিশুদ্ধ তাওহীদ, অতঃপর তাদের মধ্যে শিরকের অনুপ্রবেশ ঘটে(১)।

আর মানুষের নিকট সেই পর্যায়ক্রমিক ধারা তুলে ধরা হলো যা শয়তান আদম সন্তানদের সাথে করেছিল মানুষকে কেবল আল্লাহর ইবাদত থেকে বের করে তাঁর সাথে শিরক করা এবং অন্য কিছুর ইবাদত করার দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আর এটি মহান আল্লাহর বাণীর তাফসীর থেকে নেওয়া হয়েছে: {এবং তারা বলেছিল: তোমরা তোমাদের উপাস্যদের পরিত্যাগ করো না; এবং পরিত্যাগ করো না ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াঊক ও নাসরকে} [নূহ], মূলত এই পাঁচজন ছিলেন নেককার বান্দা, যখন তারা মারা গেলেন, শয়তান তাদের কওমের নিকট প্ররোচনা দিল যে; তোমরা তাদের বসার স্থানগুলোতে কিছু স্মারক বা মূর্তি স্থাপন করো এবং সেগুলোকে তাদের নামে নামকরণ করো, আর সেগুলোর নিকট অবস্থান করো যাতে তোমরা তাদেরকে স্মরণ করতে পারো এবং তাদের নেক আমলগুলোর অনুসরণ করতে পারো। অতঃপর যখন সেই প্রজন্ম গত হলো এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম এলো, শয়তান তাদের নিকট কুমন্ত্রণা দিল যে: তোমাদের পূর্বপুরুষেরা তো এদের ইবাদত করত, সুতরাং তোমরাও তাই করো যেমন তারা করত। ফলে তারা তা-ই করল; আর এভাবেই নেককারদের ব্যাপারে অতিরঞ্জনের মাধ্যমে আদম সন্তানদের মধ্যে শিরকের উৎপত্তি হলো। এরপর মহান আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন যাতে তিনি তাদেরকে কেবল আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন এবং শিরক ত্যাগ করার দাওয়াত দেন, কিন্তু তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া আর কেউ তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

সূরা নূহের পূর্বোল্লিখিত আয়াতের তাফসীরে বর্ণিত আসারসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়, সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু নিচে দেওয়া হলো:

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "এগুলো নূহ আলাইহিস সালামের কওমের কিছু নেককার লোকের নাম, যখন তারা মারা গেলেন তখন শয়তান তাদের কওমের মনে প্ররোচনা দিল যে, তারা যেন তাদের বসার মজলিসগুলোতে কিছু স্মারক স্থাপন করে এবং তাদের নামে সেগুলোর নামকরণ করে। তারা তা-ই করল, কিন্তু তখন সেগুলোর ইবাদত করা হয়নি। অবশেষে যখন সেই প্রজন্ম মারা গেল এবং ইলম বা দ্বীনি জ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন সেগুলোর ইবাদত করা শুরু হলো"(২)।

আর ইবনে জারীর তাঁর সনদে মুহাম্মদ ইবনে কায়স থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তারা ছিলেন আদম সন্তানদের মধ্য থেকে কিছু নেককার লোক এবং তাদের এমন কিছু অনুসারী ছিল যারা তাদেরকে অনুসরণ করত, যখন তারা মারা গেলেন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২/ ৪৩৭, ৮/ ২৮৫, ২০/ ১০৬, ১০৭) কিছুটা পরিমার্জিত।

(২) "সহীহ বুখারী", কিতাবুত তাফসীর, সূরা নূহের তাফসীর, ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস ও ইয়াঊক পরিচ্ছেদ। "আল-ফাতহ" (৮/ ৫৩৫), হাদীস নং (৪৯২০)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال أصحابهم الذين كانوا يقتدون بهم: لو صورناهم؛ كان أشوق لنا إلى العبادة إذا ذكرناهم، فصوروهم، فلما ماتوا وجاء آخرون، دب إليهم إبليس، فقال: إنما كان يعبدونهم، وبهم يسقون المطر، فعبدوهم"(1).

فهنا قولان:

الأول: أنها كانت في قوم نوح.

الثاني: أنها كانت أسماء رجال صالحين.

ولا فرق بين القولين، فإن كونها أسماء أصنام لا ينافي كون تلك الأصنام لرجال صالحين في الأصل.

قال ابن حجر رحمه الله بعد حكايته للقولين -: "بل مرجع ذلك إلى قول واحد، وقصة الصالحين كانت مبتدأ عبادة قوم نوح هذه الأصنام، ثم تبعهم من بعدهم على ذلك"(2).

إذا علم ذلك كله، ظهر أن أعظم أسباب الشرك وعبادة الأصنام الغلو في المخلوقين، ورفعهم فوق منازلهم(3)، فلذلك نهى الله عن الغلو ومشابهة أهل الكتاب الذين غلوا في أنبيائهم وصالحيهم حتى عبدوهم من دون الله؛ فقال تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِّنْهُ} [النساء: 171]، {فَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَمَنْ تَابَ مَعَكَ وَلَا تَطْغَوْا إِنَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} [هود].

--------------------------------------------

(1) "جامع البيان" للطبري (29/ 98، 99).

(2) "فتح الباري" (8/ 137).

(3) "مجموع الفتاوى" (14/ 362)، وقاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق لابن تيمية (ص 42، 43) بتصرف.
তাদের অনুসারীরা যারা তাদের অনুসরণ করত, তারা বলল: “যদি আমরা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করি, তবে তাদের কথা স্মরণ হলে তা আমাদের ইবাদতে অধিক আগ্রহী করে তুলবে।” অতঃপর তারা তাদের প্রতিকৃতি তৈরি করল। যখন তারা মৃত্যুবরণ করল এবং পরবর্তী প্রজন্মের আগমন ঘটল, তখন ইবলিস তাদের নিকট প্ররোচনা নিয়ে আসল এবং বলল: “নিশ্চয়ই তারা (পূর্বসূরিরা) এদের ইবাদত করত এবং এদের অসিলাতেই তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করা হত।” ফলে তারা তাদের ইবাদত করতে শুরু করল(১)।

এখানে দুটি মত রয়েছে:

প্রথম: এগুলো নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে ছিল।

দ্বিতীয়: এগুলো ছিল নেককার ব্যক্তিদের নাম।

আর এই উভয় মতের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; কেননা এগুলো মূর্তির নাম হওয়া এই বিষয়ের পরিপন্থী নয় যে, সেই মূর্তিগুলো মূলত নেককার ব্যক্তিদের স্মরণে নির্মিত হয়েছিল।

ইবনে হাজার (রহ.) উভয় মত বর্ণনা করার পর বলেন: “বরং এর মূল কথা একই, আর নেককার ব্যক্তিদের এই ঘটনাটিই ছিল নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায়ের এই মূর্তিগুলোর ইবাদত শুরু হওয়ার সূচনা। অতঃপর পরবর্তী প্রজন্ম এ বিষয়ে তাদের অনুসরণ করে”(২)।

যখন এই সবকিছু জানা গেল, তখন স্পষ্ট হলো যে, শিরক ও মূর্তিপূজার সর্ববৃহৎ কারণ হলো সৃষ্টিজগতকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করা এবং তাদেরকে তাদের মর্যাদার ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া(৩)। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বাড়াবাড়ি এবং আহলে কিতাবদের সদৃশ হওয়া থেকে নিষেধ করেছেন, যারা তাদের নবী ও নেককার ব্যক্তিদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করেছিল, এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের ইবাদত শুরু করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর ব্যাপারে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলো না। নিশ্চয়ই মারইয়াম-পুত্র ঈসা মাসীহ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে একটি রূহ।} [আন-নিসা: ১৭১], {সুতরাং যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছ তাতে অটল থাক এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে তারাও; এবং তোমরা সীমালঙ্ঘন করো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর, তিনি তার সম্যক দ্রষ্টা।} [হূদ]।

--------------------------------------------

(১) তাবারির “জামেউল বায়ান” (২৯/ ৯৮, ৯৯)।

(২) “ফাতহুল বারী” (৮/ ১৩৭)।

(৩) “মাজমুউল ফাতাওয়া” (১৪/ ৩৬২), এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত ‘ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও মুনাফিকদের ইবাদতের পার্থক্যের মহান মূলনীতি’ (পৃ. ৪২, ৪৩) থেকে সংক্ষেপিত।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك اهتم النبي صلى الله عليه وسلم بهذا الباب، فحذر أشد التحذير من الغلو، وسد ذرائعه وأبوابه، وحاربه في جميع ميادين ونواحي العبادة(1).

ومما ورد عنه في ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: "لا تطروني كما أطرت النصارى ابن مريم، إما أنا عبد، فقولوا: عبد الله ورسوله"(2).

قال الشيخ سليمان بن عبد الله رحمه الله بعد إيراده لهذا الحديث ما نصه: "أي: لا تمدحوني فتغلوا في مدحي، كما غالت النصارى في عيسى؛ فادعوا فيه الربوبية، وإنما أنا عبد الله، فصفوني بذلك كما وصفني به ربي، وقولوا: عبد الله ورسوله"(3).

* منها ما جاء عن عائشة رضي الله عنها: أن أم حبيبة وأم سلمة ذكرتا كنيسة - رأينها بالحبشة فيها تصاوير - لرسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أولئك إذا كان فيهم الرجل الصالح فمات، بنوا على قبره مسجدا، وصوروا فيه تلك الصور، أولئك شرار الخلق عند الله يوم القيامة"(4).

قال شيخ الإسلام رحمه الله: "وهذه العلة التي لأجلها نهى الشارع هي التي أوقعت كثيرًا من الأمم؛ إما في الشرك الأكبر، أو فيما دونه من الشرك، فإن النفوس قد أشركت بتماثيل القوم

--------------------------------------------

(1) "مجموع الفتاوى" (2/ 404، 405) بتصرف

(2) رواه البخاري في كتاب أحاديث الأنبياء، باب قوله تعالى: {وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ إِذِ انتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا}. [الفتح] (6/ 551)، حديث رقم (3445).

(3) (تيسير العزيز الحميد) (ص 314).

(4) رواه البخاري في كتاب الجنائز، باب بناء المسجد على القبر برقم (1341)؛ ومسلم، كتاب المساجد ومواضع الصلاة، باب النهي عن بناء المساجد على القبور واتخاذ الصور فيها والنهي عن اتخاذ القبور مساجد برقم (528).
তেমনিভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, ফলে তিনি চরম বাড়াবাড়ি (গুলু) থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, এর সকল মাধ্যম ও পথ রুদ্ধ করেছেন এবং ইবাদতের সকল ক্ষেত্র ও দিক থেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন(১).

এ বিষয়ে তাঁর থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই বাণী: "তোমরা আমার অতি প্রশংসা করো না যেমনটি নাসারারা মারইয়াম-পুত্রের অতি প্রশংসা করেছিল। আমি তো কেবল একজন বান্দা; সুতরাং তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল"(২).

শাইখ সুলাইমান বিন আবদুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর তাঁর বক্তব্যের পাঠ হলো: "অর্থাৎ: তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমনটি নাসারারা ঈসার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছিল; ফলে তারা তাঁর মধ্যে রুবুবিয়্যত (প্রভুত্ব) দাবি করেছিল। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা, সুতরাং আমাকে সেভাবেই বিশেষায়িত করো যেভাবে আমার রব আমাকে বিশেষায়িত করেছেন, আর তোমরা বলো: আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল"(৩).

* তন্মধ্যে যা আয়িশাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে: উম্মে হাবিবা ও উম্মে সালামাহ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট একটি গির্জার কথা উল্লেখ করলেন—যা তাঁরা হাবাশা (আবিসিনিয়া) দেশে দেখেছিলেন এবং তাতে অনেক চিত্র ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "নিশ্চয়ই তাদের মধ্যে যখন কোনো নেককার লোক থাকত এবং সে মারা যেত, তারা তার কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করত এবং সেখানে সেই চিত্রগুলো অঙ্কন করত। কিয়ামতের দিন তারা আল্লাহর নিকট সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্টতম"(৪).

শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আর এই কারণটির জন্যই শরিয়ত প্রণেতা নিষেধ করেছেন, যা অনেক জাতিকে হয় বড় শিরকে অথবা তার চেয়ে ছোট শিরকে নিপতিত করেছে। কেননা অন্তরসমূহ মানুষের মূর্তির মাধ্যমে শিরকে লিপ্ত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) "মাজমুউল ফাতাওয়া" (২/ ৪০৪, ৪০৫) পরিমার্জিত।

(২) বুখারি এটি 'কিতাব আহাদিসিল আম্বিয়া' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {আর এই কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করো, যখন সে তার পরিবার থেকে পৃথক হয়ে নির্জনে গিয়ে অবস্থান নিল}। [আল-ফাতহ] (৬/ ৫৫১), হাদিস নম্বর (৩৪৪৫)।

(৩) (তায়সিরুল আজিজিল হামিদ) (পৃষ্ঠা ৩১৪)।

(৪) বুখারি 'কিতাবুল জানাইজ' অধ্যায়ে কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ অনুচ্ছেদে (১৩৪১) নম্বরে বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম 'কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াদিউস সালাত' গ্রন্থে, কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ ও তাতে চিত্র অঙ্কন করা এবং কবরকে সিজদাহগাহ বানানো থেকে নিষেধ অনুচ্ছেদে (৫২৮) নম্বরে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
الصالحين … فهذه المفسدة - التي هي مفسدة الشرك كبيره وصغيره - هي التي حسم النبي صلى الله عليه وسلم مادتها؛ حتى نهى عن الصلاة في المقبرة مطلقا …(1)(2).

* منها ما جاء عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم غداة العقبة وهو على راحلته -: "هات القط لي" فلقط له حصيات هن حصى الخذف(3)، فلما وضعتهن في يده قال: "بأمثال هؤلاء، وإياكم والغلو في الدين، فإنما أهلك من كان قبلكم الغلو في الدين"(4).

قال شيخ الإسلام رحمه الله بعد إيراده لهذا الحديث -: "إن هذا عام في جميع أنواع الغلو في الاعتقادات والأعمال"(5).

--------------------------------------------

(1) يشير إلى قوله صلى الله عليه وسلم: "الأرض كلها مسجد إلا المقبرة والحمام"، رواه ابن ماجه في كتاب المساجد والجماعات، باب المواضع التي تكره فيها الصلاة (1/ 246)، حديث رقم (745) واللفظ له؛ وأبو داود، كتاب الصلاة، باب في المواضع التي لا تجوز فيها الصلاة (1/ 330)، حديث رقم (492)؛ والترمذي، كتاب أبواب الصلاة، باب ما جاء أن الأرض كلها مسجد إلا المقبرة والحمام (1/ 131)، حديث رقم (317)، وقال: فيه اضطراب. وصححه الألباني في (صحيح ابن ماجه) (1/ 231) حديث رقم (612).

(2) "اقتضاء الصراط المستقيم" (2/ 674)

(3) هو: الحصى الصغير الذي يمكن حمله بأطراف الأصابع لصغره. انظر: "لسان العرب" (4/ 44)، مادة: (خذف).

(4) رواه النسائي في "سننه"، كتاب المناسك، باب التقاط الحصى (5/ 296)، حديث رقم (3057)؛ وابن ماجه، كتاب المناسك، باب قدر حصى الرمي (2/ 1008)، حديث رقم (3029). وصححه الألباني في (صحيح ابن ماجه) (3/ 49)، حديث رقم (2473).

(5) "اقتضاء الصراط المستقيم" (1/ 289).
নেককার বান্দাগণ … এই অনিষ্ট—যা বড় ও ছোট শিরকের অনিষ্ট—তার মূল নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উপড়ে ফেলেছেন; এমনকি তিনি ঢালাওভাবে কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন …(১)(২)।

* তার মধ্যে একটি হলো যা ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাবার সকালে তাঁর সওয়ারীতে থাকা অবস্থায় আমাকে বললেন: "আমার জন্য পাথর কুড়িয়ে দাও।" তখন আমি তাঁর জন্য কিছু ছোট পাথর কুড়ালাম যা ছিল নিক্ষেপ করার মতো ছোট পাথর(৩)। আমি যখন সেগুলো তাঁর হাতে রাখলাম, তিনি বললেন: "এই ধরণের পাথরই ব্যবহার করবে এবং দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি থেকে সাবধান থাকবে। কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়িই ধ্বংস করেছে"(৪)।

শায়খুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "নিশ্চয় এটি বিশ্বাস ও আমলের সকল প্রকার বাড়াবাড়ির ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রযোজ্য"(৫)।

--------------------------------------------

(১) এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণীর দিকে ইঙ্গিত করে: "পুরো জমিনই মসজিদ, তবে কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত।" এটি ইবনে মাজাহ 'মসজিদ ও জামাত' অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অনুচ্ছেদ: যেসব স্থানে সালাত আদায় করা অপছন্দনীয় (১/২৪৬), হাদিস নং (৭৪৫), শব্দগুলো তাঁর; আবু দাউদ, 'সালাত' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: যেসব স্থানে সালাত জায়েয নেই (১/৩৩০), হাদিস নং (৪৯২); তিরমিজি, 'সালাতের পরিচ্ছেদসমূহ', অনুচ্ছেদ: পুরো জমিনই মসজিদ তবে কবরস্থান ও গোসলখানা ব্যতীত (১/১৩১), হাদিস নং (৩১৭), তিনি বলেছেন: এতে অসংগতি রয়েছে। আলবানী (সহীহ ইবনে মাজাহ) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন (১/২৩১), হাদিস নং (৬১২)।

(২) "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম" (২/৬৭৪)

(৩) এটি হলো: এমন ছোট পাথর যা ছোট হওয়ার কারণে আঙুলের অগ্রভাগ দিয়ে ধরা যায়। দেখুন: "লিসানুল আরব" (৪/৪৪), শব্দমূল: (খাজাফ)।

(৪) নাসায়ী তাঁর "সুনান" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, 'হজ্জের নিয়মাবলী' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: পাথর কুড়ানো (৫/২৯৬), হাদিস নং (৩০৫৭); ইবনে মাজাহ, 'হজ্জের নিয়মাবলী' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ: নিক্ষেপ করার পাথরের পরিমাণ (২/১০০৮), হাদিস নং (৩০২৯)। আলবানী (সহীহ ইবনে মাজাহ) গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন (৩/৪৯), হাদিস নং (২৪৭৩)।

(৫) "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম" (১/২৮৯)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
* ومنها: أنه صلى الله عليه وسلم نهى أن يجصَّص القبرُ، وأن يُقعَد عليه، وأن يبنى عليه(1).

* ومنها: أمره صلى الله عليه وسلم بتسوية القبور وطمس التماثيل؛ فعن أبي الهياج الأسدي، قال: قال لي علي بن أبي طالب رضي الله عنه: ألا أبعثك على ما بعثني عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ألا تدع تمثالا إلا طمسته، ولا قبرًا مشرفا إلا سويته"(2)

* ومنها: ما جاء عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: دخل النبي صلى الله عليه وسلم فإذا حبل ممدود بين الساريتين، فقال: "ما هذا الحبل؟ "، قالوا: هذا حبل لزينب، فإذا فترت تعلقت به، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "لا، حُلُّوهُ، لِيُصَلِّ أحدكم نشاطه، فإذا فتر، فليقعد"(3).

قال ابن حجر رحمه الله تحت هذا الحديث: "وفيه الحث على الاقتصاد في العبادة، والنهي عن التعمق فيها"(4).

وغيرها كثير من أقواله صلى الله عليه وسلم في النهي عن التشدد، والأخذ بالأيسر، والرفق في الأمر كله(5)؛ كما قال صلى الله عليه وسلم: "إن الدين يسر، ولن يشاد الدينَ

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في كتاب الجنائز، باب النهي عن تجصيص القبر والبناء عليه (2/ 667)، حديث رقم (970).

(2) رواه مسلم في كتاب الجنائز، باب الأمر بتسوية القبر (2/ 666)، حديث رقم (969)

(3) رواه البخاري في كتاب التهجد، باب ما يكره من التشديد في العبادة. "الفتح" (3/ 43)، حديث رقم (1150)؛ ومسلم في كتاب صلاة المسافرين، باب أمر من نعس في صلاته أو استعجم عليه القرآن أو الذكر بأن يرقد أو يقعد حتى يذهب عنه ذلك (1/ 541، 542)، حديث رقم (784).

(4) "فتح الباري" (3/ 45).

(5) "قاعدة عظيمة في الفرق بين عبادات أهل الإسلام والإيمان وعبادات أهل الشرك والنفاق" (ص 42 - 45).
* এর মধ্যে রয়েছে: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর চুনকাম করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর কোনো কিছু নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন(১).

* এর মধ্যে রয়েছে: কবরসমূহ সমান করার এবং মূর্তিসমূহ মিটিয়ে ফেলার ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দেশ; আবুল হাইয়াজ আল-আসাদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বললেন: "আমি কি তোমাকে সেই কাজে পাঠাব না যে কাজে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে পাঠিয়েছিলেন? তা হলো: তুমি কোনো মূর্তিকে মিটিয়ে না দিয়ে ছাড়বে না এবং কোনো উঁচু কবরকে সমান না করে ছাড়বে না"(২)

* এর মধ্যে রয়েছে: আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রবেশ করলেন এবং দেখতে পেলেন দুটি খুঁটির মাঝখানে একটি রশি লটকানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "এই রশিটি কীসের?" তারা বললেন: "এটি যয়নবের রশি; যখন তিনি সালাতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তখন এটি ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন।" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "না, এটি খুলে ফেলো। তোমাদের প্রত্যেকের উচিত প্রাণবন্ত থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করা, আর যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়বে তখন যেন সে বসে পড়ে"(৩).

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "এতে ইবাদতের ক্ষেত্রে পরিমিতবোধের প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং এতে অতিরঞ্জনের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে"(৪).

এ ছাড়া কঠোরতা বর্জন, সহজপন্থা গ্রহণ এবং সকল বিষয়ে কোমলতা অবলম্বনের ব্যাপারে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরও অনেক বাণী রয়েছে(৫); যেমনটি তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ, আর দ্বীনের সাথে যে-ই কঠোরতা প্রদর্শন করবে...

--------------------------------------------

(১) মুসলিম কর্তৃক জানাযা অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: কবর চুনকাম করা এবং তার উপর দালান নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা (২/ ৬৬৭), হাদিস নম্বর (৯৭০)।

(২) মুসলিম কর্তৃক জানাযা অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: কবর সমান করার নির্দেশ (২/ ৬৬৬), হাদিস নম্বর (৯৬৯)।

(৩) বুখারি কর্তৃক তাহাজ্জুদ অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: ইবাদতে কঠোরতা অবলম্বনের অপছন্দনীয়তা। 'আল-ফাতহ' (৩/ ৪৩), হাদিস নম্বর (১১৫০); এবং মুসলিম কর্তৃক মুসাফিরদের সালাত অধ্যায়ে বর্ণিত, অনুচ্ছেদ: যে ব্যক্তি সালাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হয় অথবা যার কাছে কুরআন বা যিকির অস্পষ্ট হয়ে যায়, তাকে ঘুমিয়ে নেওয়া বা বসে পড়ার নির্দেশ যতক্ষণ না তা দূর হয় (১/ ৫৪১, ৫৪২), হাদিস নম্বর (৭৮৪)।

(৪) 'ফাতহুল বারি' (৩/ ৪৫)।

(৫) 'ইসলাম ও ঈমানদারদের ইবাদত এবং শিরক ও নিফাকপন্থীদের ইবাদতের মধ্যে পার্থক্যের মহান মূলনীতি' (পৃ. ৪২ - ৪৫)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
أحد إلا غلبه، فسددوا وقاربوا، وأبشروا، واستعينوا بالغَدْوَةِ(1) والرَّوْحَةِ(2) وشيءٍ من الدُّلْجَةِ(3)(4)، والله تعالى أعلم](5).

* * *

--------------------------------------------

(1) الغَدْوة: السير في أول النهار.

(2) الرَّوحة: السير بعد الزوال.

(3) الدُّلْجة: السير آخر الليل، والمراد هنا، قال ابن حجر: "أي: استعينوا على مداومة العبادة بإيقاعها في الأوقات المنشطة". انظر في هذا كله: فتح الباري لابن حجر (1/ 118).

(4) رواه البخاري في كتاب الإيمان، باب الدين يسر. "الفتح" (1/ 116) حديث رقم (39).

(5) انظر: "الجواب الباهر في زوار المقابر" لشيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله، دراسة وتحقيق د. إبراهيم بن خالد المخيف حفظه الله (ص 85 - 91).
কেউ (দ্বীনের ক্ষেত্রে কঠোরতা করলে) তা তাকে পরাস্ত করবে, সুতরাং তোমরা সঠিক পথে থাকো, মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, সুসংবাদ গ্রহণ করো এবং সকালের শুরুতে, দুপুরের পর এবং রাতের শেষাংশের কিছু সময়ের ইবাদতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।](৫).

* * *

--------------------------------------------

(১) গাদওয়াহ: দিনের শুরুতে পথ চলা।

(২) রাওহাহ: সূর্য ঢলার পর পথ চলা।

(৩) দুলজাহ: রাতের শেষ অংশে পথ চলা। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো, ইবনে হাজার বলেছেন: "অর্থাৎ: ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ইবাদতকে এমন সময়ে সম্পাদন করে সাহায্য নিন যখন মন প্রফুল্ল থাকে।" এ বিষয়ে বিস্তারিত দেখুন: ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী (১/ ১১৮)।

(৪) ইমাম বুখারী এটি ঈমান অধ্যায়ে, 'দ্বীন সহজ' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। 'আল-ফাতহ' (১/ ১১৬) হাদিস নং (৩৯)।

(৫) দেখুন: শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর "আল-জাওয়াবুল বাহের ফি জুওয়ারিল মাকাবির", ড. ইব্রাহিম বিন খালিদ আল-মুখাইফ (হাফিজাহুল্লাহ)-এর গবেষণা ও সম্পাদনায় (পৃ. ৮৫ - ৯১)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الباب الأول: وجوب محبته صلى الله عليه وسلم -

وفيه فصلان
প্রথম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি ভালোবাসা ওয়াজিব হওয়া-

এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الفصل الأول: بيان المعنى الصحيح لمحبته صلى الله عليه وسلم والأدلة على وجوبها

وفيه مبحثان
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার সঠিক অর্থের বর্ণনা এবং তা ওয়াজিব হওয়ার দলীলসমূহ

এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌المبحث الأول: المعنى الصحيح لمحبته صلى الله عليه وسلم -

‌‌المطلب الأول: تعريف المحبة:

أحببت قبل الشروع في بيان المعنى الصحيح لمحبة النبي صلى الله عليه وسلم أن أتطرق للمعنى اللغوي والاصطلاحي لكلمة المحبة، وذلك بهدف التعريف بهذه الكلمة وبيان مدلولها:

 

‌‌أ - أصل اشتقاق المحبة:

قال صاحب لسان العرب: "المحبة: اسم للحب"(1).

ويرى ابن القيم أن مادة كلمة "حب" تدور في اللغة على خمسة أشياء:

أحدها: الصفاء والبياض، ومنه قولهم لصفاء بياض الأسنان ونضارتها "حبب الأسنان".

الثاني: العلو والظهور، ومنه "حبب الماء وحبابه" وهو ما يعلوه عند المطر الشديد، وحبب الكأس منه.

الثالث: اللزوم والثبات، ومنه: "حبَّ البعير وأحب، إذا برك ولم يقم.

--------------------------------------------

(1) (1/ 290).
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার সঠিক অর্থ-

প্রথম অনুচ্ছেদ: ভালোবাসার সংজ্ঞা:

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার সঠিক অর্থ বর্ণনা করার প্রারম্ভে আমি ‘মাহাব্বাহ’ বা ভালোবাসা শব্দের শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছি, যাতে এই শব্দের পরিচয় এবং এর অর্থের তাৎপর্য স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে:

 

ক - ভালোবাসার শব্দমূল ও ব্যুৎপত্তি:

লিসানুল আরব অভিধানের প্রণেতা বলেছেন: "মাহাব্বাহ: এটি ‘হুব্ব’ বা ভালোবাসার একটি নাম"(১)।

ইবনুল কাইয়্যিম মনে করেন যে, ভাষাগতভাবে ‘হুব্ব’ শব্দের মূল উপাদান পাঁচটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়:

প্রথমত: স্বচ্ছতা ও শুভ্রতা; এ থেকেই দাঁতের শুভ্রতা ও সজীবতার স্বচ্ছতাকে ‘হাবাবুল আসনান’ বলা হয়।

দ্বিতীয়ত: উচ্চতা ও প্রকাশ; এ থেকেই প্রবল বৃষ্টির সময় পানির ওপর ভেসে ওঠা বুদবুদকে ‘হাবাবুল মা’ বলা হয়, আর কানায় কানায় পূর্ণ পাত্রের উপরিভাগকেও এটি বলা হয়।

তৃতীয়ত: স্থায়িত্ব ও অবিচলতা; এখান থেকেই বলা হয়: ‘হাব্বাল বাঈর’, যখন উট হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়ে এবং আর দাঁড়ায় না।

--------------------------------------------

(১) (১/ ২৯০)।
(খণ্ড: ১) নাহজুল উসুল ইলা হাকিকাতি মাহাব্বাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
قال الشاعر:

حلت عليه بالفلاة ضربًا … ضرب بعير السوء إذ أحبَّا

الرابع: اللب، ومنه: حبة القلب، للبُّه وداخله.

ومنه: الحبة لواحدة الحبوب، إذ هي أصل الشيء ومادته وقوامه.

الخامس: الحفظ والإمساك، ومنه حب الماء للوعاء الذي يحفظ فيه ويمسكه وفيه معنى الثبوت أيضًا.

ثم قال رحمه الله: ولا ريب أن هذه الخمسة من لوازم المحبة:

1 - فإنها صفاء المودة، وهيجان إرادات القلب للمحبوب.

2 - وعلوها وظهورها منه لتعلقها بالمحبوب المراد.

3 - وثبوت إرادة القلب للمحبوب ولزومها لزوما لا تفارقه.

4 - ولإعطاء المحب محبوبه لبه وأشرف ما عنده، وهو قلبه.

5 - ولاجتماع عزماته وإراداته وهمومه على محبوبه.

فاجتمعت فيها المعاني الخمسة(1).

ووضعوا لمعناها حرفين مناسبين للمسمى غاية المناسبة: "الحاء" التي هي من أقصى الحلق.

و "الباء" الشفوية التي هي نهايته.

--------------------------------------------

(1) زاد ابن القيم في كتابه روضة المحبين (ص 17، 18) على هذه المعاني الخمسة ما يلي: "وقيل: بل هي مأخوذة من القلق والاضطراب، ومنه سمي القرط حبا لقلقه في الأذن واضطرابه. وقيل بل هي مأخوذة من الحب الذي هو إناء واسع فيمتلئ به بحيث لا يسع لغيره، وكذلك قلب المحب ليس فيه سعة لغير محبوبه، وقيل: مأخوذة من الحب وهو الخشبات الأربع التي يستقر عليها ما يوضع من جرة أو غيرها فسمي الحب بذلك لأن المحب يتحمل لأجل محبوبه الأثقال، كما تتحمل الخشبات ثقل ما يوضع عليها.
কবি বলেছেন:

সে মরুভূমিতে তার ওপর আঘাত নিয়ে আপতিত হলো … মন্দ উটের আঘাতের মতো যখন সে জেদ ধরে।

চতুর্থ: নির্যাস বা মূল মজ্জা। আর তা থেকেই এসেছে: হৃদপিণ্ডের মূল, যা তার নির্যাস এবং অভ্যন্তরীণ অংশ।

আর তা থেকেই এসেছে: শস্যদানা, যেহেতু তা কোনো জিনিসের উৎস, উপাদান এবং ভিত্তি।

পঞ্চম: সংরক্ষণ ও ধারণ করা। আর তা থেকেই এসেছে: পানির পাত্র, যে পাত্রে পানি সংরক্ষণ ও ধারণ করা হয়। এর মধ্যে স্থিরতার অর্থও বিদ্যমান।

এরপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই পাঁচটি বিষয় ভালোবাসার অবিচ্ছেদ্য অংশ:

১ - কারণ তা হলো বন্ধুত্বের স্বচ্ছতা এবং প্রিয়জনের প্রতি হৃদয়ের ইচ্ছাসমূহের প্রবল আলোড়ন।

২ - আর প্রিয়জনের সাথে সম্পৃক্ততার কারণে তার পক্ষ থেকে এর উচ্চতা ও প্রকাশ।

৩ - প্রিয়জনের প্রতি হৃদয়ের ইচ্ছার দৃঢ়তা এবং এর সাথে এমনভাবে লেগে থাকা যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না।

৪ - আর প্রেমিকের তার প্রিয়জনকে নিজের নির্যাস এবং তার কাছে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু তথা হৃদয় বিলিয়ে দেওয়া।

৫ - এবং প্রিয়জনের প্রতি তার সংকল্প, ইচ্ছা ও চিন্তাসমূহের কেন্দ্রবিন্দু হওয়া।

সুতরাং এতে এই পাঁচটি অর্থ একত্রিত হয়েছে(১)।

আর তারা এর অর্থের জন্য এমন দুটি বর্ণ নির্ধারণ করেছেন যা বিষয়টির সাথে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ: ‘হা’, যা কণ্ঠনালীর শেষ প্রান্ত থেকে উচ্চারিত হয়।

এবং ওষ্ঠ্য বর্ণ ‘বা’, যা তার সমাপ্তি।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আল-কাইয়্যিম তাঁর ‘রাওদাতুল মুহিব্বিন’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১৭, ১৮) এই পাঁচটি অর্থের সাথে আরও নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যোগ করেছেন: "বলা হয়েছে: বরং এটি অস্থিরতা ও কম্পন থেকে নেওয়া হয়েছে। আর এ কারণেই কানের দুলকে ‘হাব্ব’ বলা হয়, কারণ তা কানে দোদুল্যমান থাকে ও নড়াচড়া করে। আরও বলা হয়েছে: এটি ‘হুব্ব’ থেকে নেওয়া হয়েছে যা হলো একটি প্রশস্ত পাত্র; এটি এমনভাবে পূর্ণ হয়ে যায় যে অন্য কিছুর জন্য আর জায়গা থাকে না। তদ্রূপ প্রেমিকের হৃদয়েও তার প্রিয়জন ছাড়া অন্য কারও স্থান সংকুলান হয় না। আবার বলা হয়েছে: এটি ‘হাব্ব’ থেকে নেওয়া হয়েছে যা হলো চারটি কাঠের টুকরো যার ওপর কলস বা অন্য কিছু রাখা হয়। ভালোবাসাকে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, প্রেমিক তার প্রিয়জনের জন্য কষ্ট ও বোঝা বহন করে, যেমনটি সেই কাঠগুলো তার ওপর রাখা জিনিসের বোঝা বহন করে।"