(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: -)
القرآن وإعجازه العلمي (محمد إسماعيل ابراهيم)
القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: القرآن وإعجازه العلمي
المؤلف: محمد إسماعيل إبراهيم
الناشر: دار الفكر العربي - دار الثقافة العربية للطباعة
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 174
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-কুরআন এবং এর বৈজ্ঞানিক মুজিজা (মুহাম্মদ ইসমাইল ইব্রাহিম)
বিভাগ: উলূমুল কুরআন ও উসূলুত তাফসীর
বই: আল-কুরআন এবং এর বৈজ্ঞানিক মুজিজা
লেখক: মুহাম্মদ ইসমাইল ইব্রাহিম
প্রকাশক: দারুল ফিকর আল-আরাবি - দারুস সাকাফাহ আল-আরাবিয়্যাহ লিত-তিবাআহ
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৪
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيمالحمد الله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين المقدمة لا أرانى في حاجة إلى التأكيد على من يطالع هذا الكتاب أننى أعددته رغبة منى في إثبات إعجاز القرآن بأى وجه من الوجوه، لان إعجازه حقيقة ثابتة وقضية واضحة وضوح الشمس منذ أن نزل القرآن على النبي معجزة كبرى تحدى بها البلغاء والحكماء وأهل الكتب السماوية فعجزوا عن تحديها وأقروا بصدقها وتساميها، ويكفى للدلاله على علو شأنها قوله تعالى: (وإنه لكتاب عزيز لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه تنزيل من حكيم حميد) وقوله تعالى: (قل لئن اجتمعت الانس والجن على أن يأتوا بمثل هذا القرآن لا يأتون بمثله ولو كان بعضهم لبعض ظهيرا) ، وها هي القرون تلو القرون تمر، وها هي العلوم قد إزدهرت والفنون قد أينعت؟ ولم يقدر أحد أن يأتي بمثل هذا الكتاب في أسلوبه أو منهجه أو هديه.وغاية قصدي من وضع هذا الكتاب أو قصد غيرى مما كتبوا على نسقه وفى موضوعه من العلماء الاجلاء في إعجاز القرآن إنما كان أولا وقبل كل شئ للتشرف والاستمتاع بالنظر في كتاب الله بعين الاجلال والاعظام والايمان بقداسته، ثم للاشادة بسموه وروعته والتذكير بعلو مكانته بين الكتب السماوية
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীদের ওপর। ভূমিকা: আমি মনে করি না যে, এই গ্রন্থটি যিনি পাঠ করবেন তাঁর কাছে এটি পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে বলার প্রয়োজন আছে যে, আমি এটি কোরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) যেকোনো দিক থেকে প্রমাণ করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রস্তুত করেছি। কেননা, এর অলৌকিকত্ব (إعجاز) একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য (ثابتة) এবং সূর্যের ন্যায় স্পষ্ট একটি বিষয়, সেই সময় থেকেই যখন নবী (সা.)-এর ওপর কোরআন এক মহান অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল, যার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন বাগ্মী, প্রজ্ঞাবান এবং আসমানি কিতাবধারীদের চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তারা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিল এবং এর সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছিল। এর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ হিসেবে মহান আল্লাহর এই বাণীই যথেষ্ট: (আর নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কিতাব। এতে মিথ্যা প্রবেশ করতে পারে না—না সম্মুখ হতে, না পশ্চাৎ হতে। এটি প্রজ্ঞাময়, চিরপ্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (বলুন, যদি এই কোরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন জাতি সমবেত হয়, তবুও তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না; যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।) একের পর এক শতাব্দী অতিক্রান্ত হচ্ছে, বিজ্ঞানের নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে এবং শিল্পকলা পূর্ণতা লাভ করেছে, তবুও আজ পর্যন্ত কেউ এই কিতাবের শব্দশৈলী, বিন্যাস পদ্ধতি কিংবা হেদায়েতের সমতুল্য কিছু পেশ করতে সক্ষম হয়নি।এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে আমার উদ্দেশ্য কিংবা আমার অনুসৃত পদ্ধতিতে কোরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে অন্যান্য বিজ্ঞ আলেমদের রচনার উদ্দেশ্য ছিল মূলত এবং সর্বপ্রথম আল্লাহর কিতাবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মহিমা এবং এর পবিত্রতার প্রতি ঈমান রেখে তা অনুধাবনের মাধ্যমে সম্মান ও তৃপ্তি লাভ করা। অতঃপর এর শ্রেষ্ঠত্ব ও অনন্যতা তুলে ধরা এবং আসমানি কিতাবসমূহের মাঝে এর সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৪)
الاخرى فقد حفظه الله من أي تبديل أو تغيير في نصه أو رسمه تحقيقا لقول الله تبارك وتعالى: (إنا نحن نزلنا الذكر وإنا له لحافظون) بل إنه جل شأنه كرم هذا الكتاب فقال: (لا يمسه إلا المطهرون) فليس بعد ذلك غاية لتكريم أو تعظيم هذا القرآن المجيد.واعتقادى أن أي محاولة من البشر لاظهار عظمة القرآن وقدسيته إنما هي وليدة رغبة إيمانية مخلصة فيها ما يشبه التأسي بموقف نبى الله إبراهيم عليه السلام وهو خليل الله عندما قال بروح الواثق من قدرة الله تعالى: (رب أرنى كيف تحيى الموتى، قال: أولم تؤمن؟ قال: بلى، ولكن ليطمئن قلبى) .والقرآن المجيد حافل بالكثير من الآيات الدالة على علم الله المحيط بكل ما في الكون من مخلوقات وكائنات وما فيه من نواميس وسنن وقوانين أوجدها سبحانه خاضعة لارادته وأمره، وقد نزلت هذه الآيات الكونية وغيرها من آيات الاعجاز العلمي في وقت لم يكن أهل الجزيرة العربية ومن حولها من الاقطار على علم بأسرارها فلما تقدم الانسان وازدادت علومه ومعارفه بدأت آيات القرآن تظهر أمام بصيرته بمعانيها العلمية الباهرة، وتكشف عن إعجازها الرائع.والمسلمون يعيشون الآن في عصر زاهر بالعلم وقد بهرهم فيه ما وصل إليه أهل أوروبا وأمريكا من تفوق ظاهر في العلوم والفنون والآداب وبخاصة علم التكنولوجيا وقد سبقوا فيها الدول الاسلامية بأشواط بعيدة الامر الذى جعلضعاف العقول يسيئون الظن بالاسلام ويحسبون أنه سبب قصورهم وتخلفهم في ذلك المضمار، وهم في ذلك الوهم نسوا أو تناسوا أن الدين الاسلامي بقرآنه المجيد وسنته المطهرة هو الذى خلق من العرب أهل البادية خير أمة أخرجت للناس وأسسوا أعظم الدول وأرقى الحضارات وأكثر الاصول العلمية التى اقتبس أهل الغرب منها علومهم وفنونهم.
অন্যান্য বিষয়ের মতো আল্লাহ তাআলা এই কুরআনকে এর শব্দবিন্যাস বা লিপিতে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা পরিমার্জন থেকে রক্ষা করেছেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণীরই প্রতিফলন: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" বরং তিনি এই কিতাবকে মহিমান্বিত করেছেন এবং বলেছেন: "পবিত্রগণ ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না।" সুতরাং এই কুরআন মাজিদকে সম্মান বা মহিমান্বিত করার এর চেয়ে বড় কোনো স্তর আর নেই।আমার বিশ্বাস এই যে, কুরআনের মহিমা ও পবিত্রতা প্রকাশের জন্য মানুষের যেকোনো প্রচেষ্টা মূলত একনিষ্ঠ ইমানি আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ, যার মধ্যে আল্লাহর খলিল ইবরাহিম আলাইহিস সালাম-এর অবস্থানের অনুকরণের (تأس) সাদৃশ্য রয়েছে। যখন তিনি মহান আল্লাহর কুদরতের ওপর পূর্ণ আস্থাশীল হয়ে বলেছিলেন: "হে আমার রব! আমাকে দেখান, আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন। তিনি বললেন: তবে কি আপনি বিশ্বাস করেন না? তিনি বললেন: অবশ্যই, তবে আমার অন্তরের প্রশান্তির জন্য।"কুরআন মাজিদ এমন অনেক আয়াতে পরিপূর্ণ যা বিশ্বজগতের সমস্ত সৃষ্টি এবং এতে বিদ্যমান প্রাকৃতিক নিয়ম-পদ্ধতি (سنن) ও বিধিসমূহ সম্পর্কে আল্লাহর পরিব্যাপ্ত জ্ঞানের প্রমাণ দেয়, যা তিনি তাঁর ইচ্ছা ও আদেশের অনুগত করে সৃষ্টি করেছেন। এই মহাজাগতিক আয়াতসমূহ এবং বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) বিষয়ক অন্যান্য আয়াত এমন এক সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল যখন আরব উপদ্বীপ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মানুষের কাছে এগুলোর রহস্য সম্পর্কে কোনো জ্ঞান ছিল না। অতঃপর যখন মানুষ উন্নতি লাভ করল এবং তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি পেল, তখন কুরআনের আয়াতসমূহ তার অন্তর্দৃষ্টির সামনে অভাবনীয় বৈজ্ঞানিক অর্থ নিয়ে উদ্ভাসিত হতে শুরু করল এবং এর চমৎকার অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রকাশ করতে লাগল।মুসলমানরা এখন বিজ্ঞানের এক সমৃদ্ধ যুগে বসবাস করছে এবং ইউরোপ ও আমেরিকার মানুষ বিজ্ঞান, কলা ও সাহিত্যে এবং বিশেষ করে প্রযুক্তিতে যে স্পষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে, তাতে তারা অভিভূত। তারা এই ক্ষেত্রগুলোতে মুসলিম দেশগুলোর চেয়ে অনেক ব্যবধানে এগিয়ে গেছে, যা সংকীর্ণমনা ব্যক্তিদের ইসলাম সম্পর্কে সংশয়ে নিপতিত করেছে। তারা মনে করছে যে, ইসলামই এই ময়দানে তাদের সীমাবদ্ধতা ও অনগ্রসরতার কারণ। এই বিভ্রমের বশবর্তী হয়ে তারা ভুলে গেছে বা বিস্মৃত হওয়ার ভান করছে যে, ইসলাম ধর্মই তার কুরআন মাজিদ এবং পবিত্র সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে মরুবাসী আরবদের থেকে এক শ্রেষ্ঠ জাতি (خير أمة) তৈরি করেছিল যা মানবজাতির কল্যাণে আবির্ভূত হয়েছে। তারাই মহান রাষ্ট্র ও উন্নত সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং বিজ্ঞানের অধিকাংশ মূলনীতি (أصول) প্রণয়ন করেছিল, যা থেকে প্রতীচ্যের মানুষ তাদের জ্ঞান ও শিল্পকলা আহরণ করেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৫)
وواجب كل مسلم ألا يختلط عليه الامر في حقيقة كل من الدين والعلم، أو أن ينظر إليهما على اعتبار أن كلا منهما مستقل عن الآخر، إذ الواقع أنهما صنوان متكاملان أصلا ومتحدان غاية ومنهجا لخدمة البشرية، فلا الدين يجافى العلم ولا العلم يعارض الدين، بل إن الدين بدوره يحض على طلب العلم والاستزادة منه، كما أن نور العلم يظهر لنا ما في الدين من جلال وبهاء وسمو روحي.والقرآن كتاب الله المجيد الذى يجب على المسلمين أن يحرصوا على حفظه كله أو بعضه عن ظهر قلب والعمل به بحيث يكلف الآباء أبناءهم منذ نعومة أظفارهم باستظهار قصار سوره، ويكلف الشباب بتلاوته دائما وفهمه، كما يجب ألا يتوانى الكهول عن دراسته وتطبيقه في حياتهم قولا وعملا، لان القرآن هو الكتاب الجامع لكنوز العلم النافع وهو الدستور الهادى إلى الطريق المستقيم وأن اتباعه نصا وروحا هو الوسيلة العملية الموصلة إلى سعادة الدارين.وقد نشط علماء الدين على مر العصور واجتهدوا في فهم القرآن والتدبر في آياته وتفسيرها وألفوا في ذلك كتبهم القيمة التى تعتبر من أجل وأبرك ما تركه السلف للخلف، ولكن أغلب ما صدر عنهم من التفسير يدل على أنهم نظروا إلى للقرآن على أنه كتاب دين وهداية وتهذيب وترغيب وترهيب دون تعمق فيما انطوى عليه من معاني علمية أخرى أبعد غاية وأجل شأنا، وقد عنيت الاجيالالتالية للسلف الصالح بإعادة النظر في القرآن في ضوء ما كان يجد في مجال العلم الحديث من تطور وتقدم في كل عصر.وفى عصرنا الحديث أخذت دولة العلم تزداد إتساعا وعمقا في أبحاثها وتنوعا في موضوعاتها، وذلك بفضل الطرق التى استحدثها الانسان في الكشف عن الحقائق بالمشاهدة والملاحظة والمقارنة واستعمال الاجهزة والمجاهر والمختبرات وإجراء
প্রত্যেক মুসলিমের জন্য এটি আবশ্যক যেন ধর্ম ও বিজ্ঞানের প্রকৃত স্বরূপ তার কাছে গুলিয়ে না যায়, অথবা সে এ দুটিকে এমনভাবে না দেখে যে এদের একটি অন্যটি থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র। কারণ বাস্তবে এই উভয়টি মূলত একে অপরের পরিপূরক এবং মানবজাতির সেবার লক্ষ্যে এদের উৎস ও কর্মপন্থা এক ও অভিন্ন। ধর্ম বিজ্ঞানকে বর্জন করে না, আর বিজ্ঞানও ধর্মের বিরোধিতা করে না; বরং ধর্ম তার নিজ অবস্থান থেকে জ্ঞান অন্বেষণ ও তা বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহিত করে, ঠিক তেমনি বিজ্ঞানের আলো আমাদের সামনে ধর্মের মাহাত্ম্য, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক শ্রেষ্ঠত্বকে ফুটিয়ে তোলে।আর কুরআন হলো আল্লাহর মহিমান্বিত কিতাব, যা পূর্ণাঙ্গরূপে অথবা এর কিয়দংশ মুখস্থ রাখা এবং তদনুযায়ী আমল করার ব্যাপারে মুসলিমদের যত্নবান হওয়া সকল মুসলিমের কর্তব্য। পিতামাতাদের উচিত তাদের সন্তানদের শৈশব থেকেই কুরআনের ছোট সূরাগুলো মুখস্থ করানোর দায়িত্ব অর্পণ করা। যুবকদের উচিত সর্বদা এটি তিলাওয়াত করা ও তা অনুধাবন করা। একইভাবে বয়োবৃদ্ধদেরও তাদের কথা ও কাজে এর অধ্যয়ন ও প্রয়োগে অবহেলা করা উচিত নয়। কারণ কুরআন হলো উপকারী জ্ঞানের ভাণ্ডার সম্বলিত একটি সংকলিত কিতাব এবং এটি সরল পথের দিশারী এক সংবিধান; আর এর আক্ষরিক ও মর্মার্থগত অনুসরণই হলো ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য অর্জনের বাস্তবসম্মত উপায়।যুগ যুগ ধরে ধর্মতত্ত্ববিদগণ সক্রিয় ছিলেন এবং কুরআনের মর্ম উপলব্ধি, এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা ও তা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন। তাঁরা এ বিষয়ে তাঁদের মূল্যবান গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন, যা পূর্বসূরি (السلف) কর্তৃক উত্তরসূরি (الخلف)-দের জন্য রেখে যাওয়া অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচিত। তবে তাঁদের থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ একথাই নির্দেশ করে যে, তাঁরা কুরআনকে কেবল ধর্ম, হিদায়াত, শিষ্টাচার এবং উৎসাহ প্রদান (ترغيب) ও ভীতি প্রদর্শন (ترهيب)-এর কিতাব হিসেবেই গণ্য করেছেন; এর মধ্যে নিহিত অন্যান্য বৈজ্ঞানিক অর্থসমূহের গভীরে প্রবেশ করেননি, যা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও মহিমান্বিত। আর পরবর্তী প্রজন্মসমূহযারা নেককার পূর্বসূরি (السلف الصالح)-দের অনুগামী, তাঁরা প্রতি যুগে আধুনিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অর্জিত উন্নতি ও অগ্রগতির আলোকে কুরআনের বিষয়াবলি পুনরায় পর্যালোচনার প্রতি মনোনিবেশ করেছেন।আর আমাদের আধুনিক যুগে বিজ্ঞানের জয়যাত্রা তার গবেষণা ও বিষয়বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে উত্তরোত্তর বিস্তৃত ও গভীর হচ্ছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ, তুলনা এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, অণুবীক্ষণ যন্ত্র ও গবেষণাগার ব্যবহারের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনে মানুষের উদ্ভাবিত নতুন নতুন পদ্ধতির কল্যাণে এবং পরিচালনা...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৬)
التجارب حتى تمكن بذلك من الوصول إلى نظريات وقوانين وعلوم وفنون لم تكن موجودة من قبل في معارف من سبقوه من العلماء والباحثين.وعندما جدد العلماء النظر في القرآن الكريم وحاولوا فهمه فهما عصريا وتفسيره في ضوء هذه العلوم الحديثة ظهر بوضوح أن آيات القرآن الكريم لها معان أوسع وأشمل مما فهم العلماء السابقون منها، وتبين بجلاء أن القرآن الكريم جاء بكثير من حقائق الكون ونواميسه وأصول العلوم الحديثة قبل أن يهتدى الانسان إلى معرفتها بمئات السنين وهذا هو الاعجاز كل الاعجاز الكامن في القرآن وأسرار آياته.وهكذا يتجلى لنا الدين الاسلامي بقرآنه المجيد وسنة المطهرة وكأنه كنز العلوم والمعارف لانه متصل أشد الاتصال بالعلم قديمه وحديثه، وأنه ليس بمعزل عن الحياة ومشاكلها وتطوراتها، وأنه ما جاء ليعادى العلم وأهله وإنما جاء ليقدم للبشرية منتهى العلم وأنفعه ويقودها إلى طريق الحق واليقين في كل أمر من أمور ديننا ودنيانا، وهو بذلك يؤكد ويحقق قول الله تعالى: (ما فرطنا في الكتاب من شئ) .(سورة الانعام آية 38) وتحدثا بنعم الله علي أذكر أننى بعد أن قمت بعون من الله بتأليف كتابي (معجم الالفاظ والاعلام القرآنية) وجدتني راغبا بل مشدودا ومساقا إلى خدمةكتاب الله مرة أخرى في محاولة ترادونى أن أكتب في إعجاز القرآن العلمي على قدر بضاعتي الضئيلة في هذا المجال وقد عزمت وتوكلت مستعينا بحول الله وقوته وبما ألفه العلماء في ذلك، أملا في أن يكون في عملي هذا ما يزيد القارئ للقرآن علما بجلال حقائقه وروعة أسراره وأن يمحو الله به الغشاوة عن أعين الذين عميت أبصارهم عن أنواره، وطمعا في أن بزيل به ظلمات الشكوك والريب
...পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যার মাধ্যমে তিনি এমন সব তত্ত্ব, নিয়ম, বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন যা তাঁর পূর্ববর্তী আলেম ও গবেষকদের জ্ঞানের ভাণ্ডারে বিদ্যমান ছিল না।যখন আলেমগণ কুরআনুল কারিমের প্রতি পুনরায় দৃষ্টিপাত করলেন এবং একে আধুনিক প্রেক্ষাপটে অনুধাবন ও এই আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে এর তাফসির করার চেষ্টা করলেন, তখন স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হলো যে, কুরআনুল কারিমের আয়াতসমূহের অর্থ পূর্ববর্তী আলেমদের অনুধাবনের চেয়েও অধিক বিস্তৃত ও ব্যাপক। এটি স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়েছে যে, মানুষ এই মহাজাগতিক সত্য, প্রাকৃতিক নিয়ম ও আধুনিক বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার শত শত বছর আগেই কুরআনুল কারিম তা উপস্থাপন করেছে। আর এটাই হলো কুরআনে নিহিত পূর্ণাঙ্গ অলৌকিকত্ব (إعجاز) এবং এর আয়াতসমূহের রহস্য।এভাবেই মহিমান্বিত কুরআন এবং পবিত্র সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম আমাদের কাছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক ভাণ্ডার হিসেবে প্রতিভাত হয়; কারণ এটি প্রাচীন ও আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এটি জীবন, জীবনের সমস্যা ও বিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। এটি বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কদের সাথে শত্রুতা করতে আসেনি, বরং মানবজাতিকে জ্ঞানের চূড়ান্ত ও সবচেয়ে উপকারী রূপ প্রদান করতে এবং আমাদের দ্বীন ও দুনিয়ার প্রতিটি বিষয়ে সত্য ও নিশ্চিত বিশ্বাসের (يقين) পথে পরিচালিত করতে এসেছে। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা ও নিশ্চয়তা বাস্তবায়িত হয়: "আমি কিতাবে কোনো কিছুই বাদ দেইনি।"(সুরা আল-আন'আম, আয়াত ৩৮) মহান আল্লাহর নেয়ামতের বর্ণনা স্বরূপ আমি উল্লেখ করছি যে, আল্লাহর সাহায্যে আমার গ্রন্থ "মু'জামুল আলফাজ ওয়াল আ'লাম আল-কুরআনিয়াহ" রচনার পর, আমি পুনরায় আল্লাহর কিতাবের খিদমতে (خدمة)নিয়োগ করতে আগ্রহী, বরং আকর্ষিত ও চালিত বোধ করি। এই ক্ষেত্রে আমার যৎসামান্য পুঁজি নিয়ে কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিষয়ে লেখার একটি প্রয়াস আমাকে আলোড়িত করে। আমি আল্লাহর সাহায্য ও শক্তির ওপর ভরসা করে এবং এই বিষয়ে আলেমদের রচিত গ্রন্থাবলির সহায়তা নিয়ে সংকল্পবদ্ধ হয়েছি। আমার প্রত্যাশা এই যে, আমার এই কাজ কুরআন পাঠকারীর মনে এর সত্যের মহিমা এবং রহস্যের চমৎকারিত্ব সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করবে এবং আল্লাহ যেন এর মাধ্যমে তাদের চোখের পর্দা সরিয়ে দেন যাদের দৃষ্টি এর জ্যোতির সামনে অন্ধ হয়ে আছে, আর যেন এর মাধ্যমে সন্দেহ ও সংশয়ের অন্ধকার দূরীভূত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৭)
من قلوب الذين كفروا بما جاء في هذا الكتاب من الحق ويهديهم إلى سواء السبيل.ومما يشجعني على تأليف هذا الكتاب أنى آنست في كثير من شبابنا المثقف رغبة ملحة في استجلاء معاني الآيات القرآنية بفهم عصرى وميلا إلى الاستزادة من أسرارها ومراميها، وهذه ظاهرة تدعو إلى الاستجابة لها والحث على دوامها وتشجيعها وأرجو أن يقابلها العلماء ورجال الدين من ائمة الدعوة إلى الله تعالى بكل ترحيب وإهتمام وأن يرووا ظمأ الظامئين من فيوض القرآن العذبة وأرجو الله أن يجعل من كتابي هذا منهلا سائغا رويا لمن يطالعه بوعى سديد.وإنه من المفيد لمن يقرأ هذا الكتاب أن يتعرف على محتوياته واتجاهاته فهو يشمل الابواب الثلاثة الآتية: الباب الاول: وفيه تمهيد لزيادة التعريف بالقرآن والتأكيد على أنه كتاب الله الذى لا ريب فيه والذى يأمر الشرع بتلاوته.إظهار موقف العرب من القرآن وقت نزوله وتصديهم له بالتكذيب والحجود.الباب الثاني: وفيه بيان عن سبب نزول القرآن معجزة معنوية دون غيرها.من المعجزات الحسية التى كانت لغيره من الانبياء.عرض لعلم تفسير القرآن والادوار التى مر بها في مختلف العصور.الباب الثالث: وفيه طائفة من الآيات التى تدل على إعجازها العلمي مع تفسيرها الدينى أولا ثم شرحها في ضوء العلوم الحديثة بفهم عصرى لها.
যাতে সেই কাফিরদের অন্তর থেকে (কুফর দূরীভূত হয়) যারা এই কিতাবে আগত সত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এটি যেন তাদের সরল সঠিক পথের দিশা প্রদান করে।এই গ্রন্থটি রচনায় আমাকে যা উৎসাহিত করেছে তা হলো, আমি আমাদের শিক্ষিত তরুণদের অনেকের মাঝে আধুনিক উপলব্ধির মাধ্যমে কুরআনের আয়াতসমূহের অর্থ পরিস্ফুট করার এক প্রবল আগ্রহ এবং এর রহস্য ও লক্ষ্যসমূহ সম্পর্কে উত্তরোত্তর জ্ঞান অর্জনের ঝোঁক প্রত্যক্ষ করেছি। এটি এমন একটি প্রপঞ্চ যা ইতিবাচক সাড়া প্রদানের দাবি রাখে এবং যার ধারাবাহিকতা রক্ষায় অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। আমি আশা করি মহান আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী উলামায়ে কেরাম ও ধর্মতাত্ত্বিকগণ একে পূর্ণ স্বাগতম ও গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন এবং তৃষ্ণার্তদের পিপাসা কুরআনের সুমিষ্ট প্রস্রবণ থেকে মেটাবেন। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই গ্রন্থটিকে সচেতন পাঠকের জন্য একটি সুপেয় ও তৃপ্তিদায়ক উৎস হিসেবে কবুল করেন।যিনি এই কিতাবটি পাঠ করবেন, তার জন্য এর বিষয়বস্তু ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হওয়া ফলপ্রসূ হবে। এটি নিম্নোক্ত তিনটি অধ্যায় সংবলিত: প্রথম অধ্যায়: এতে কুরআন সম্পর্কে অধিকতর পরিচিতি এবং এটি যে নিঃসন্দেহে আল্লাহর কিতাব ও শরীয়ত (الشرع) যে এটি তিলাওয়াতের নির্দেশ প্রদান করে, সে বিষয়ের ওপর একটি ভূমিকা রয়েছে।কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় আরবদের অবস্থান এবং তাদের মিথ্যা প্রতিপন্নকরণ ও হঠকারিতার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করার বিষয়টি এতে চিত্রিত হয়েছে।দ্বিতীয় অধ্যায়: এতে কুরআন কেন অন্য কোনো রূপের পরিবর্তে কেবল একটি অর্থগত অলৌকিকত্ব (معجزة معنوية) হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে।অন্যান্য নবীদের প্রদানকৃত সেই সকল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অলৌকিকত্ব (معجزات حسية) থেকে এর ভিন্নতা আলোচনা করা হয়েছে।কুরআনের তাফসির শাস্ত্র (علم تفسير القرآن) এবং বিভিন্ন যুগে এটি যেসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে তার একটি উপস্থাপনা।তৃতীয় অধ্যায়: এতে এমন একদল আয়াত সংকলিত হয়েছে যা সেগুলোর বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব (إعجاز علمي) প্রমাণ করে; এক্ষেত্রে প্রথমে আয়াতগুলোর ধর্মীয় তাফসির এবং পরবর্তীতে আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে সমকালীন উপলব্ধিতে সেগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد إقتضى هذا الباب الاخير الاهتمام بعرض موجز لبعض مبادئ العلوم الحديثة في أبسط أسلوب ومن غير تعمق في تفصيلاتها لبيان توافقها وتطابقها مع منهج القرآن إذا إقتضى الامر زيادة الايضاح.ولا يسعنى وأنا أختم هذه المقدمة إلا أن أحمد الله حمدا كثيرا، وأثنى على فضله ثناء جميلا على ما أو لانى من إتاحة الفرصة لتحقيق أمنية عزيزة على نفسي كنت أتمناها لاعداد هذا الكتاب وطبعه ونشره عسى أن يكون لى من وراء ذلك ما أنشده وهو إظهار أقباس من نور القرآن في إعجازه العلمي الذى أعتقد أن كثيرا من المتعلمين المتقين يتطلعون إلى استجلاء أسراره العليا لكى يحققوا لانفسهم مزيدا من العلم والايمان ومزيدا من التمكن والعرفان ببعض ما جاء في آيات القرآن من إعجاز علمي غاية في الروعة والبيان، ولعل في مطالعة غير المسلمين لها ما يحملهم على الايمان بالقرآن وأنه كتاب الاسلام حقا وصدقا.ولابد لى وأنا أقدم كتابي هذا أن أقول وحق أن ليس لى فيه من فضل يذكر في تأليفه أكثر من أنى تتبعت آيات الاعجاز العلمي: بالبحث والتنقيب عنها ثم جمعها والتنسيق لها، ثم عرض ما قطفته من ثمرات العلماء الاجلاء وآراء الخبراء النجباء الذين كان لهم فضل السبق في فهم القرآن وتفسير آياته في ضوء العلوم الحديثة التى هدى الله عباده إلى وضع قواعدها وهى العلوم التى أصبحت حقائق لا يعتورها شك لان العلماء كرسوا حياتهم في بحثها ودارستها بالفحص والتجريب حتى صارت لهم حصيلة تزداد نماء ورسوخا وتنوعا وتفرعا، وصارتلها مع آيات الله توافق عجيب وتطابق رائع حقا.وهناك حقيقة أخرى في هذا الاعجاز العلمي المشهود في قرءاننا وهو أن هذا الاعجاز لم ينته بعد بل هو قائم وممتد على طول العصور القادمة، وسوف تشهد
এই শেষ পরিচ্ছেদটি আধুনিক বিজ্ঞানের কিছু মূলনীতি অত্যন্ত সহজবোধ্য পদ্ধতিতে এবং এর বিস্তারিত তাত্ত্বিক গভীরে প্রবেশ না করে সংক্ষেপে উপস্থাপনের দাবি রাখে, যাতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আল-কুরআনের পদ্ধতির সাথে এগুলোর সংগতি ও ঐকমত্যের বিষয়টি অধিকতর স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।এই ভূমিকার সমাপ্তিলগ্নে আমি মহান আল্লাহর অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি এবং তাঁর অনুগ্রহের তরে অতি সুন্দর প্রশংসা ও স্তুতি পেশ করছি; যেহেতু তিনি আমাকে আমার অন্তরের এক প্রিয় আকাঙ্ক্ষা পূরণের তাওফিক দান করেছেন, যা আমি এই গ্রন্থটি প্রস্তুত, মুদ্রণ ও প্রকাশের মাধ্যমে লালন করে আসছিলাম। আশা রাখি, এর মাধ্যমে আমি আমার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হব, আর তা হলো আল-কুরআনের বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের নূরের আলোকচ্ছটা প্রকাশ করা। আমার বিশ্বাস, অনেক মুত্তাকী শিক্ষিত ব্যক্তি কুরআনের সুউচ্চ রহস্যসমূহ উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে তাঁরা নিজেদের জন্য অধিকতর জ্ঞান ও ঈমান এবং আল-কুরআনের আয়াতসমূহে বিদ্যমান অত্যন্ত চমৎকার ও সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্ব সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞা ও পরিচয় লাভ করতে পারেন। সম্ভবত অমুসলিমদের পাঠেও এমন কিছু থাকবে যা তাদের কুরআনের প্রতি এবং এটিই যে ইসলামের প্রকৃত ও সত্য কিতাব তার ওপর ঈমান আনতে উদ্বুদ্ধ করবে।আমার এই গ্রন্থটি পেশ করার সময় এটি বলা আবশ্যক যে, এর সংকলনে আমার বিশেষ কোনো কৃতিত্ব নেই। আমি কেবল বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের আয়াতসমূহ অনুসন্ধান ও গবেষণার মাধ্যমে তালাশ করেছি, অতঃপর সেগুলো সংগ্রহ ও বিন্যস্ত করেছি। এরপর আমি সেই বরেণ্য আলেম ও বিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ ফল ও মতামত উপস্থাপন করেছি, যাঁরা আধুনিক বিজ্ঞানের আলোকে কুরআন বুঝতে এবং এর আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদেরকে এই বিজ্ঞানের মূলনীতিসমূহ প্রণয়নের দিশা দিয়েছেন। এই বিজ্ঞানসমূহ আজ এমন এক বাস্তব সত্যে পরিণত হয়েছে যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই, কারণ বিজ্ঞানীগণ তাঁদের জীবন এর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে গবেষণার কাজে উৎসর্গ করেছেন। ফলে তাঁদের কাছে এমন এক জ্ঞানভাণ্ডার সঞ্চিত হয়েছে যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুদৃঢ় হচ্ছে এবং বিচিত্র শাখায় বিস্তৃত হচ্ছে। আর আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে এরএক বিস্ময়কর সংগতি এবং চমৎকার ঐকমত্য স্থাপিত হয়েছে।আমাদের কুরআনে পরিলক্ষিত এই বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের আরেকটি বাস্তবতা হলো, এই অলৌকিকত্ব এখনও শেষ হয়ে যায়নি; বরং এটি অনাগত কাল পর্যন্ত বিদ্যমান ও বিস্তৃত থাকবে এবং অচিরেই সাক্ষ্য দেবে...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৯)
القرون المقبلة من إعجاز القرآن آفاقا جديدة لان الشواهد دلت على أنه كلما تقدم العلم وتعمق الانسان في بحوره يجد مع كل ظاهرة علمية كانت في طى الخفاء أن لها أصولا في القرآن سابقة عليها، وسوف يبقى هذا السبق سمة ملازمة للقرآن ومستوعبة لكل ما سوف تأتى به العلوم على مدى الازمان، وفى هذا ما يؤكد ويحقق قول الله تبارك وتعالى: سنريهم آياتنا في الآفاق وفى أنفسهم حتى يتبين لهم أنه الحق) .وإنى أدعو الله الكريم أن يقبل عملي هذا قبولا حسنا وأن يجعل منه كتابا ينطق بالصدق ويدعو إلى ذكر الله والتذكير بجلاله وعظمته وأن يحيى به قلوب من قرأه بوعى وانتفع به في دينه ودنياه، وتأكد أن كل ما يدعوا إليه هو التدبر في ملك الله بقلب سليم.والله الهادى إلى سواء السبيل؟ المؤلف محمد اسماعيل ابراهيم 22 شارع المنتزه بالزمالك بالقاهرة
আগামী শতাব্দীসমূহ কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে; কারণ বিভিন্ন প্রমাণাদি একথাই নির্দেশ করে যে, বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হবে এবং মানুষ এর গভীর সমুদ্রে অবগাহন করবে, প্রতিটি বৈজ্ঞানিক রহস্য যা আগে অপ্রকাশিত ছিল, সে দেখবে যে কুরআনে ইতিপূর্বেই তার মূল উৎস বা ভিত্তি (أصول) বিদ্যমান রয়েছে। এই অগ্রবর্তিতা কুরআনের একটি চিরস্থায়ী বৈশিষ্ট্য হিসেবে অক্ষুণ্ণ থাকবে এবং যুগ যুগ ধরে বিজ্ঞান যা কিছু উপস্থাপন করবে তাকে তা নিজের মাঝে ধারণ করে নেবে। আর এটিই মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার এই বাণীর সত্যতা নিশ্চিত ও বাস্তবায়ন করে: "আমি অচিরেই তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ (آيات) দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব, যতক্ষণ না তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে এটিই সত্য (حق)"।আমি মহান করুণাময় আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে উত্তমরূপে কবুল (قبول) করেন এবং একে এমন এক গ্রন্থে পরিণত করেন যা সত্যের সাক্ষ্য দেবে এবং আল্লাহর জিকির ও তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। আর এর মাধ্যমে যেন তিনি সেই সব ব্যক্তিদের অন্তরকে সঞ্জীবিত করেন যারা এটি সচেতনভাবে পাঠ করবে এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণে এর দ্বারা উপকৃত হবে। এবং নিশ্চিত থাকুন যে, এই গ্রন্থটি যা কিছুর প্রতি আহ্বান জানায় তা হলো পরিশুদ্ধ হৃদয়ের (قلب سليم) সাথে আল্লাহর রাজত্ব সম্পর্কে গভীর চিন্তা-গবেষণা করা।আর আল্লাহই সরল পথের দিশারী। লেখক: মুহাম্মদ ইসমাইল ইব্রাহিম, ২২ আল-মুনতাহা স্ট্রিট, জামালেক, কায়রো।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১১)
الباب الأول: بل هو قرآن مجيد في لوح محفوظ (سورة البروج آية 21)
প্রথম অধ্যায়: বরং এটি এক মহিমান্বিত কুরআন, যা সংরক্ষিত ফলকে লিপিবদ্ধ (সূরা আল-বুরুজ, আয়াত: ২১)
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১২)
القرآن القرآن الكريم هو كلام رب العالمين نزل به الروح الامين على خاتم الانبياء والمرسلين سيدنا محمد لهداية الناس أجمعين، وقد جاء معجزة خالدة تحدى بها الاسلام العرب فعجزوا عن مجاراتها فيما حوت من إعجاز في نظمها وأسلوبها وما اشتملت عليه من روائع الشرائع والحكم والعلوم والامثال، وإن أفضل استهلال لموضوع هذا الكتاب هو أن نبدأ بذكر بعض ما ورد من وصف للقرآن في كتاب الله الكريم وما جاء في سنة رسوله العظيم عنه، وما نطق به لسان الحق من الخلق أجمعين تمهيدا للتعريف بجلال القرآن وحقيقة قدسيته، ثم نشفع ذلك بما يجب معرفته بالضرورة من أنه معجزة الاسلام الكبرى: آيات من كتاب الله تعالى في وصف القرآن: يقول الله تبارك وتعالى في أول سورة البقرة تعريفا بالقرآن: (ألم، ذلك الكتاب لا ريب فيه هدى للمتقين الذين يؤمنون بالغيب ويقيمون الصلاة ومما رزقناهم ينفقون) .ويقول سبحانه وتعالى في أول سورة الكهف: (الحمد لله الذى أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجا، قيما لينذر بأسا شديدا من لدنه ويبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات أن لهم أجرا حسنا ماكثين فيه أبدا) .ويقول جل من قائل في سورة المائدة آية - 16:
আল-কুরআন, আল-কুরআনুল কারীম হলো বিশ্বপ্রতিপালকের বাণী, যা রুহুল আমিন (জিবরাইল আ.) মানবজাতির হিদায়াতের লক্ষ্যে সর্বশেষ নবী ও রাসূল আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ করেছেন। এটি এক চিরন্তন মোজেজা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যার মাধ্যমে ইসলাম আরবদের চ্যালেঞ্জ করেছিল; কিন্তু তারা এর গঠনশৈলী ও রচনাশৈলীর অলৌকিকত্ব এবং এতে বিদ্যমান শরয়ি বিধানের চমৎকারিত্ব, প্রজ্ঞা, বিজ্ঞান ও উপমাসমূহের মোকাবিলায় সক্ষম হতে অপরাগ হয়েছিল। এই গ্রন্থের বিষয়বস্তুর জন্য সর্বোত্তম সূচনা হলো—আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত কুরআনের কিছু গুণাবলি এবং মহান রাসূলের সুন্নাহ (سنة)-এ বর্ণিত এ সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করা। এছাড়া সমগ্র সৃষ্টির সত্যনিষ্ঠ যবান থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করা, যাতে কুরআনের গাম্ভীর্য ও এর পবিত্রতার স্বরূপ উন্মোচিত হয়। অতঃপর আমরা এর সাথে সেই বিষয়গুলোও যুক্ত করব যা আবশ্যিকভাবে জানা প্রয়োজন, আর তা হলো—এটি ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ মোজেজা: কুরআনের বর্ণনায় মহান আল্লাহর কিতাব থেকে কিছু আয়াত: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কুরআন পরিচয়ে সূরা আল-বাকারার শুরুতে বলেন: (আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে)।সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সূরা আল-কাহফের শুরুতে বলেন: (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। তিনি একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারেন এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারেন যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে—যে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে)।মহান আল্লাহ সূরা আল-মায়িদার ১৬ নম্বর আয়াতে বলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
(قد جاءكم من الله نور وكتاب مبين يهدى به الله من أتبع رضوانه سبل السلام ويخرجهم من الظلمات إلى النور بإذنه ويهديهم إلى صراط مستقيم) .وقال تعالى في سورة الانعام آية - 155: (وهذا كتاب أنزلناه مبارك فاتبعوه وأتقوا لعلكم ترحمون) .وقال تعالى في سورة فصلت آية (1 - 4) : حم، تنزيل من الرحمن الرحيم كتاب فصلت آياته قرآنا عربيا لقوم يعلمون بشيرا ونذيرا فأعرض أكثرهم فهم لا يسمعون) .ما جاء في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم عن القرآن: (أفضل عبادة أمتى تلاوة القرآن) (القرآن مأدبة الله فتعلموا من مأدبته ما استطعتم) (نوروا منازلكم بالصلاة وتلاوة القرآن) (خيركم من تعلم القرآن وعلمه) (أهل القرآن أهل الله وخاصته) (وهم الحافظون له والعاملون بما فيه) (إن القلوب تصدأ كما يصدأ الحديد، فقيل يا رسول الله وما جلاؤها؟ فقال: (تلاوة القرآن وذكر الموت) (ما من أحد يعلم ولده القرآن إلا نوج يوم القيامة بتاج في الجنة) وفى حديث طويل للرسول صلوات الله وسلامه عليه أنه قال: (ستكون فتن كقطع الليل المظلم، قيل يا رسول الله وما المخرج منها؟ قال: كتاب الله
(আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট এক নূর ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর সন্তুষ্টির অনুসারীদের শান্তির পথে পরিচালিত করেন এবং নিজ নির্দেশনায় তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।) .এবং মহান আল্লাহ সূরা আল-আনআমের ১৫৫ নং আয়াতে বলেছেন: (আর এটি এমন এক কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়; সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও) .এবং মহান আল্লাহ সূরা ফুসসিলাতের ১-৪ আয়াতে বলেছেন: (হা-মীম। এটি পরম করুণাময়, অতি দয়ালুর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এমন এক কিতাব যার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে আরবী কুরআন হিসেবে সেই কওমের জন্য যারা জ্ঞান রাখে। এটি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী, কিন্তু তাদের অধিকাংশ বিমুখ হয়েছে, ফলে তারা শোনে না) .রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসসমূহে কুরআন সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে: (আমার উম্মতের সর্বোত্তম ইবাদত হলো কুরআন তিলাওয়াত) (কুরআন আল্লাহর ভোজসভা, সুতরাং তোমরা তাঁর এই ভোজসভা থেকে সাধ্যমতো শিক্ষা গ্রহণ করো) (তোমাদের ঘরগুলোকে সালাত ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আলোকিত করো) (তোমাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়) (কুরআনওয়ালাগণ আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশিষ্ট বান্দা) (এবং তারাই এর সংরক্ষণকারী এবং এতে যা আছে সে অনুযায়ী আমলকারী) (নিশ্চয়ই অন্তরসমূহে মরিচা ধরে যেমন লোহায় মরিচা ধরে। তখন জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এর উজ্জ্বলতা ফেরানোর উপায় কী? তিনি বললেন: কুরআন তিলাওয়াত এবং মৃত্যুকে স্মরণ করা) (যে ব্যক্তি তার সন্তানকে কুরআন শিক্ষা দেবে, কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতে মুকুট পরানো হবে) এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর একটি দীর্ঘ হাদিসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন: (অন্ধকার রাতের টুকরোর ন্যায় ফিতনা অচিরেই প্রকাশ পাবে। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? তিনি বললেন: আল্লাহর কিতাব)
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
تبارك وتعالى، فيه نبأ من قبلكم وخبر ما بعدكم وحكم ما بينكم، وهو الفصل ليس بالهزل، من تركه من جبار قصمه الله، ومن أتبع الهدى من غيره أضله الله فهو حبل الله المتين، ونوره المبين، والذكر الحكيم، وهو الصراط المستقيم، وهو الذى لا تزيغ به الاهواء، ولا تلتبس به الالسنة، ولا تتشعب معه الآراء، ولا يشبع منه العلماء، ولا يمله الاتقياء، ولا يخلق على كثرة التكرار،ولا تنقضي عجائبه، وهو الذى لم تنته الجن إذ سمعته أن قالوا: (إنا سمعنا قرآنا عجبا) من علم علمه سبق، ومن قال به صدق، ومن حكم به عدل، ومن دعا إليه هدى إلى صراط مستقيم) .وفى خطبة من خطبه صلى الله عليه وسلم أنه قال: (إن أصدق الحديث كتاب الله وأوثق العرى كلمة التقوى، وخير الملل ملة إبراهيم، وخير السنة سنة محمد، وأشرف الحديث ذكر الله، وأحسن القصص هذا القرآن) .وعن عبد الله بن مسعود رضى الله عنه قال: (قال لى رسول الله صلى الله عليه وسلم: اقرأ القرآن) قال: (فقلت يا رسول الله أقرأ عليك القرآن وعليك أنزل؟ قال: (إنى أشتهى أن أسمعه من غيرى) .أقوال بعض العلماء في القرآن: ذكر السيوطي في تعريف القرآن: إن القرآن إنما صار معجزا لانه جاء بأفصح الالفاظ في أحسن نظم التأليف متضمنا أصح المعاني من توحيد الله تعالى وتنزيهه في صفاته، ودعائه إلى طاعته، وبيان لطريق عبادته من تحليل وتحريم؟ وحظر وإباحة، ومن وعظ وتقويم، وأمر بمعروف ونهى عن منكر وإرشاد إلى محاسن الاخلاق وزجر عن مساويها، واضعا كل شئ منها موضعه الذى
তিনি বরকতময় ও সুউচ্চ; এতে রয়েছে তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ, তোমাদের পরবর্তীদের খবর এবং তোমাদের মধ্যকার বিবাদভঞ্জনের বিধান। এটি চূড়ান্ত ফয়সালা, কোনো নিরর্থক বিষয় নয়। কোনো স্বৈরাচারী অহংকারবশত একে বর্জন করলে আল্লাহ তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেন। যে ব্যক্তি এটি ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত অনুসন্ধান করবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন। এটি আল্লাহর সুদৃঢ় রশি, তাঁর উজ্জ্বল নূর এবং প্রজ্ঞাময় যিকির। এটিই সরল পথ, যা দ্বারা প্রবৃত্তিগুলো বিচ্যুত হয় না, ভাষাগুলো বিভ্রান্ত হয় না, মতাদর্শগুলো বহুবিধ ধারায় বিভক্ত হয় না, আলিমগণ এটি পাঠ করে তৃপ্ত হন না, মুত্তাকিগণ এতে ক্লান্ত বোধ করেন না এবং বারবার পাঠেও এটি পুরোনো হয় না।এর বিস্ময়কর বিষয়সমূহ ফুরিয়ে যায় না। এটি সেই কিতাব যা শুনে জিনেরা ক্ষান্ত হতে পারেনি, বরং তারা বলেছিল: ‘নিশ্চয়ই আমরা এক বিস্ময়কর কুরআন শুনেছি’। যে ব্যক্তি এর জ্ঞান অর্জন করে সে অগ্রগামী হয়, যে এর মাধ্যমে কথা বলে সে সত্য বলে, যে এর দ্বারা ফয়সালা দেয় সে ন্যায়বিচার করে এবং যে এর দিকে আহ্বান জানায় সে সরল পথের দিশা পায়।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর একটি খুতবায় ইরশাদ করেছেন: ‘নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব, সবচেয়ে মজবুত বন্ধন হলো তাকওয়ার কালিমা, সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্মাদর্শ হলো ইবরাহীমের ধর্মাদর্শ, সর্বোত্তম সুন্নত হলো মুহাম্মদের সুন্নত, সবচেয়ে সম্মানিত জিকির হলো আল্লাহর স্মরণ এবং সর্বোত্তম কাহিনী হলো এই কুরআন।’আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন: ‘তুমি আমাকে কুরআন পড়ে শোনাও।’ আমি বললাম: ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনাকে পড়ে শোনাব অথচ আপনার ওপরই এটি অবতীর্ণ হয়েছে?’ তিনি বললেন: ‘আমি অন্যের থেকে তা শুনতে পছন্দ করি।’কুরআন সম্পর্কে কতিপয় আলিমের উক্তি: সুয়ূতী কুরআনের সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছেন যে: নিশ্চয়ই কুরআন মুজিযা হয়েছে কারণ এটি সর্বোত্তম বিন্যাস ও শৈলীতে সর্বাধিক প্রাঞ্জল শব্দমালার সমন্বয়ে এসেছে; যা আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর গুণাবলির পবিত্রতা বর্ণনা, তাঁর আনুগত্যের প্রতি আহ্বান এবং ইবাদত পদ্ধতির বর্ণনার মতো বিশুদ্ধতম বিষয়সমূহ ধারণ করে আছে। যেমন—হালাল ও হারাম, নিষিদ্ধ ও বৈধ, নসিহত ও সংশোধন, সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধ, উত্তম চরিত্রের প্রতি দিকনির্দেশনা এবং মন্দ স্বভাব থেকে সতর্ক করা। এটি প্রতিটি বিষয়কে তার যথাযোগ্য স্থানে বিন্যস্ত করে...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
لا يرى شئ أولى منه، ولا يتوهم في صورة العقل أمر أليق به منه، مودعا أخبار القرون الاولى الماضية، وما نزل من مثلات الله بمن مضى، وعائد منهم منبئا عن الكوائن المستقبلة والاعصار الآتية من ذلك، جامعا في ذلك بين الحجة والمحتج له، والدليل والمدلول عليه ليكون ذلك أكد اللزوم ما دعا إليه وأنبأ عن وجوب ما أمر به ونهى عنه.وقال بعض العلماء عن مضمون القرآن أنه اشتمل على أنواع من الاعمالكلف الله بها عبادة للقيام بأدائها وهى: أولا: معاملة بين الله والعبد وهى العبادات التى لا تصح إلا بالنية، ومنها عبادات محضة وهى الصلاة والصوم، وعبادة مالية اجتماعية وهى الزكاة، وعبادة بدنية اجتماعية وهى الحج وقد اعتبرت هذه العبادات بعد الايمان أساس الاسلام.ثانيا: معاملة بين العباد بعضهم مع بعض وهى أقسام منها: (ا) مشروعات لتأمين الدعوة بالجهاد بالنفس والمال في سبيل الله.(ب) مشروعات للاسرة وهى ما يتعلق بالزواج والطلاق والمواريث.(ج) مشروعات لبيان المعاملة بين الناس من بيع وإجارة وهى بالمعاملات.(د) مشروعات لبيان العقوبات على الجرائم وهى القصاص والحدود.وقد عرف الاستاذ فريد وجدى مقاصد القرآن بقوله: (القرآن وحى إلهى نزل به الروح الامين جبريل على قلب رسول الله محمد صلى الله عليه وسلم ليكون للعاملين نذيرا وبشيرا، وعقيدتنا معشر المسلمين أنه الكتاب الجامع لاشتات الحكم ومتفرقات الاصول، وأنه فيه خلاصة سائر الكتب السماوية المتقدمة وأنه
এর চেয়ে শ্রেষ্ঠতর আর কিছুই দেখা যায় না এবং মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিতে এর চেয়ে অধিক উপযোগী কোনো বিষয়ের কল্পনাও করা যায় না। এটি পূর্ববর্তী যুগের সংবাদসমূহ এবং অতীত জাতিসমূহের ওপর আল্লাহর প্রেরিত শাস্তির দৃষ্টান্তসমূহ ধারণ করে আছে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যৎ ঘটনাবলি ও অনাগত যুগের সংবাদ প্রদান করে। এটি একই সাথে দলিল (الحجة) ও যার সপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে (المحتج له), এবং প্রমাণ (الدليل) ও প্রমাণের বিষয়বস্তুর (المدلول عليه) সমন্বয়কারী; যাতে এর দাওয়াতের আবশ্যকতা আরও সুদৃঢ় হয় এবং এর আদেশ ও নিষেধের অবশ্যপালনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।কুরআনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো কোনো আলেম বলেন যে, এটি এমন কিছু আমলের প্রকারভেদসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছেযা পালনের জন্য আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের দায়িত্বারোপ করেছেন, আর সেগুলো হলো: প্রথমত: আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক, যা মূলত সেই ইবাদতসমূহ (العبادات) যা নিয়ত (النية) ব্যতীত শুদ্ধ (تصح) হয় না। এর মধ্যে কিছু রয়েছে বিশুদ্ধ ইবাদত, যেমন সালাত ও সওম; কিছু আর্থিক-সামাজিক ইবাদত যেমন জাকাত এবং কিছু শারীরিক-সামাজিক ইবাদত যেমন হজ। ঈমানের (الإيمان) পর এই ইবাদতসমূহকে ইসলামের ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।দ্বিতীয়ত: বান্দাদের পারস্পরিক লেনদেন বা মুয়ামালাত, যা কয়েক ভাগে বিভক্ত, যথা: (ক) আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে জিহাদের (الجهاد) মাধ্যমে দাওয়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিষয়ক বিধানসমূহ।(খ) পরিবার সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ, যা বিবাহ, তালাক ও মিরাস বা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত।(গ) মানুষের মধ্যকার লেনদেনের বিবরণ সম্বলিত বিধানসমূহ, যেমন ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারা (ভাড়া), যা মুয়ামালাত (المعاملات) হিসেবে পরিচিত।(ঘ) অপরাধের দণ্ডবিধি সংক্রান্ত বিধানসমূহ, যথা কিসাস (القصاص) ও হুদুদ (الحدود)।উস্তাদ ফরিদ ওয়াজদি কুরআনের মাকাসিদ (مقاصد) বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: (কুরআন হলো এক ঐশী ওহি (وحي), যা রুহুল আমিন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন যেন তা আমলকারীদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা হয়। আমাদের মুসলিম উম্মাহর আকিদা (عقيدتنا) হলো—এটি এমন এক কিতাব যা হিকমতের (الحكم) বিবিধ অংশ ও উসুলের (الأصول) বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছে এবং এতে পূর্ববর্তী সমস্ত আসমানি কিতাবের নির্যাস নিহিত রয়েছে এবং এটি...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جاء بالناموس الاعظم لكمال الحياتين الدنيوية والاخروية، وأنه آخى بين طبيعتي الانسان الجسدية والروحية، وأنه أنزل للعالمين أجمعين وروعيت فيه مصالحهم على قسطاس مستقيم، ولا جرم أن كتابا هذا شأنه لابد أن يكون راميا إلى قصد ومتوخيا في تعاليمه دستورا، ولابد أن يكون قد وعد وأوعد، وبشر وأنذر، ورغب ونفر، وبنى وهدم، وقوى ووهن، ووصل وقطع، وسلك لكل ذلك مسالك خاصة أدته إلى المكانة التى بلغها في نفوس الآخذين به قديما وحديثا.القرآن آخر الكتب السماوية:جاء في بعض الآثار عن عدد الصحف السماوية المنزلة ما روى عن أبى ذر الغفاري قال: (قلت يا رسول الله كم كتابا أنزل على أنبيائه؟ قال الرسول: مائة صحيفة وأربعة كتب، فقد أنزل على آدم عشر صحائف وعلى شيث خمسين صحيفة وعلى إدريس ثلاثين صحيفة وعلى إبراهيم عشر صحائف وأنزل التوراة والانجيل والزبور والفرقان (وهو القرآن) وقد نزلت الكتب المقدسة جميعها دفعة واحدة إلا القرآن فقد نزل منجما أي مفرقا.فالقرآن آخر الكتب السماوية أنزله رب العزة جل جلاله على خاتم أنبيائه ورسله محمد صلى الله عليه وسلم، وقد ثبت نزوله بكل من الدليلين العقلي والنقلى، أما الدليل العقلي فهو ما تضمنه هذا الكتاب من وجوه الاعجاز الذى تحدى الانس والجن أن يأتوا بمثله فعجزوا عجزا مطلقا وما يزال التحدي قائما إلى يوم القيامة.وأما الدليل النقلي فهو ما نقله إلينا السلف الصالح الذين عاشوا في زمن النبي وعاصروه، فقد ثبت بالتواتر الذى لا يرقى إليه شك أن القرآن كلام الله الذى
তিনি ইহকালীন ও পরকালীন জীবনের পূর্ণতার জন্য মহত্তম বিধান (الناموس الاعظم) নিয়ে এসেছেন এবং তিনি মানুষের শারীরিক ও আধ্যাত্মিক প্রকৃতির মধ্যে এক সমন্বয় সাধন করেছেন। তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য প্রেরিত হয়েছেন এবং তাতে একটি সঠিক মানদণ্ডের ওপর তাদের যাবতীয় কল্যাণ বিবেচনা করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এমন বৈশিষ্ট্যের কিতাবকে অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অভিমুখী হতে হবে এবং এর শিক্ষার মধ্যে একটি নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। একে অবশ্যই প্রতিশ্রুতি ও ধমক, সুসংবাদ ও সতর্কবাণী প্রদান করতে হবে, উৎসাহিত ও নিরুৎসাহিত করতে হবে, নির্মাণ ও বিনাশ করতে হবে, শক্তিশালী ও দুর্বল করতে হবে, যুক্ত ও বিচ্ছিন্ন করতে হবে। আর এই সবকিছুর জন্য এটি এমন কিছু বিশেষ পথ অবলম্বন করেছে যা এটিকে প্রাচীন ও আধুনিক অনুসারীদের অন্তরে সেই সুউচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে যা এটি লাভ করেছে।কুরআন সর্বশেষ আসমানি কিতাব:অবতীর্ণ আসমানি সহিফাসমূহের সংখ্যা সম্পর্কে বর্ণিত কিছু বর্ণনায় (الآثار) আবু যার আল-গিফারি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! তাঁর নবীদের ওপর কতটি কিতাব নাযিল হয়েছে? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: একশত সহিফা ও চারটি কিতাব। আদমের ওপর দশটি সহিফা, শীসের ওপর পঞ্চাশটি সহিফা, ইদ্রিসের ওপর ত্রিশটি সহিফা এবং ইব্রাহিমের ওপর দশটি সহিফা নাযিল হয়েছে। আর তাওরাত, ইনজিল, যাবুর এবং ফুরকান (অর্থাৎ কুরআন) নাযিল হয়েছে।" সমস্ত পবিত্র কিতাব একবারে অবতীর্ণ হয়েছে, কেবল কুরআন ব্যতীত; কারণ এটি পর্যায়ক্রমে (منجماً) অর্থাৎ খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে।সুতরাং কুরআন হলো সর্বশেষ আসমানি কিতাব, যা মহান রব তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর নাযিল করেছেন। এর অবতরণ যৌক্তিক দলিল (الدليل العقلي) এবং বর্ণিত দলিল (الدليل النقلي) উভয়টির মাধ্যমেই সাব্যস্ত। যৌক্তিক দলিল হলো এই কিতাবটি অলৌকিকতার (الإعجاز) এমন সব দিক অন্তর্ভুক্ত করে আছে যার মাধ্যমে মানব ও জিন জাতিকে এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা সম্পূর্ণরূপে অক্ষম হয়েছে এবং এই চ্যালেঞ্জ কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে।আর বর্ণিত দলিল (الدليل النقلي) হলো তা, যা আমাদের নিকট সেই পুণ্যবান পূর্বসূরিগণ (السلف الصالح) বর্ণনা করেছেন যারা নবীর যুগে বাস করেছেন এবং তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। এটি এমন নিরবচ্ছিন্ন বর্ণনার (التواتر) দ্বারা প্রমাণিত যার প্রতি কোনো সন্দেহ পোষণ করা যায় না যে, কুরআন আল্লাহর বাণী যা...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كان ينزل على النبي ويوحى إليه به بمرأى ومسمع من عشيرته وصحابته المعاصرين والملازمين له، وكان النبي يأمر كتاب الوحى أن يسجلوا آياته فور نزولها على رقاع من العظم أو الجلد أو الجريد أو الحجارة وعلى كل ما كان ميسورا وصالحا للكتابة عليه وقتئذ.موقف العرب إزاء الدعوة الاسلامية والقرآن: لم يجد النبي من العرب عامة ومن قريش خاصة عندما أعلن دعوته بدين الاسلام سوى الصد والتكذيب والسخرية والاستهزاء والايذاء، فقد رموه بالكهانة تارة وبالجنون تارة أخرى، كما أعلنوا التنكر للقرآن وقالوا عنه إنه سحرمفترى، وقد تعرض النبي وكل أتباعه من المؤمنين لاشد ألوان الاذى والاعتداء ولم يثنه ذلك عن مواصلة جهاده وإعلان دعوته للتوحيد والحط شأن معبوداتهم من الاصنام والاوثان، وقد حاولوا أن يصرفوه عن دعوته بكل وسائل الارهاب وبالوعد والوعيد فكان يرد عليهم قائلا: (إن الله بعثنى رسولا وأنزل علي كتابا، وأمرني أن أكون لكم بشيرا ونذيرا فبلغتكم رسالات ربى ونصحت لكم فإن تقبلوا منى ما جئتكم به فهو حظكم في الدنيا والآخرة، وإن تردوه على أصبر لامر ربى حتى يحكم بينى وبينكم) .استعانة قريش باليهود في معارضة النبي وتحدى القرآن: استعان القرشيون في معارضة الدعوة الاسلامية وقرآنها بأحبار اليهود لانهم أهل كتاب يدعو للتوحيد لعلهم يجدوا لديهم أدلة يدحضون بها ما أنزل من الوحى على النبي، وكان اليهود يومئذ من ألد أعداء الاسلام ورسوله لانهم
এটি নবীর ওপর অবতীর্ণ হতো এবং তাঁর সমসাময়িক ও অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হিসেবে থাকা তাঁর আত্মীয়স্বজন ও সাহাবীবর্গের প্রত্যক্ষ দর্শন ও শ্রবণের মধ্য দিয়ে ওহি হিসেবে তাঁর কাছে আসত। নবী ওহি লেখকদের নির্দেশ দিতেন যেন তারা এর আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার পরপরই হাড়ের ফলক, চামড়া, খেজুরের ডাল অথবা পাথর এবং তৎকালীন সময়ে সহজলভ্য ও লেখার উপযোগী সবকিছুর ওপর লিপিবদ্ধ করে রাখেন।ইসলামি দাওয়াত ও কুরআনের প্রতি আরবদের অবস্থান: নবী যখন ইসলাম ধর্মের দাওয়াত ঘোষণা করেন, তখন তিনি সাধারণ আরবদের থেকে এবং বিশেষ করে কুরাইশদের পক্ষ থেকে বাধা, মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (تكذيب), বিদ্রূপ, উপহাস ও নিপীড়ন ছাড়া আর কিছুই পাননি। তারা কখনও তাঁকে গণকগিরি আবার কখনও উন্মাদনার অপবাদ দিয়েছিল। তদ্রূপ তারা কুরআনের প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছিল এবং একে একটি বানোয়াট (مفترى)জাদু বলে অভিহিত করেছিল। নবী এবং তাঁর মুমিন অনুসারীগণ কঠোরতম কষ্ট ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, কিন্তু তা তাঁকে তাঁর জিহাদ অব্যাহত রাখা, তাওহিদের দাওয়াত প্রচার এবং তাদের উপাস্য দেব-দেবী ও মূর্তিসমূহকে তুচ্ছজ্ঞান করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রলোভন ও হুমকির সর্বপ্রকার মাধ্যমে তাঁকে তাঁর দাওয়াত থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা করেছিল। তখন তিনি তাদের জবাবে বলতেন: (নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং আমার ওপর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন। তিনি আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদের জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হই। সুতরাং আমি তোমাদের কাছে আমার রবের রিসালাত পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি। অতঃপর আমি যা নিয়ে এসেছি তা যদি তোমরা গ্রহণ করো, তবে তা হবে দুনিয়া ও আখিরাতে তোমাদের পরম সৌভাগ্য। আর যদি তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করো, তবে আমি আমার রবের নির্দেশের ওপর ধৈর্য ধারণ করব যতক্ষণ না তিনি আমার ও তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন)।নবীর বিরোধিতা ও কুরআনকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে ইয়াহুদিদের নিকট কুরাইশদের সাহায্য প্রার্থনা: কুরাইশরা ইসলামি দাওয়াত ও কুরআনের বিরোধিতার ক্ষেত্রে ইয়াহুদি পণ্ডিতদের সহযোগিতা নিয়েছিল; কারণ তারা ছিল তাওহিদের দাওয়াত প্রদানকারী কিতাবধারী সম্প্রদায়, যাতে তারা তাদের কাছে এমন কোনো দলিল পায় যা দিয়ে তারা নবীর ওপর অবতীর্ণ ওহিকে খণ্ডন করতে পারে। আর সেই সময়ে ইয়াহুদিরা ছিল ইসলাম ও তাঁর রাসূলের অন্যতম কট্টর শত্রু, কারণ তারা...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يعتقدون أن النبي المنتظر سيكون من بنى إسرائيل لا من العرب، فأوعز اليهود لقريش أن يسألوا النبي عن ثلاثة أشياء فإن أخبرهم بهن فهو نبى مرسل، وإن لم يجب عنها فهو مدع منتحل للنبوة، وقالوا سلوه عن فتية ذهبوا في الدهر الاول، وعن رجل طواف، وعن الروح، وقد نزل الوحى بالاجابة عن هذه الاسئلة بأن الفتية الذين ذهبوا في الدهر هم أهل الكهف، وقد ذكر القرآن قصتهم، وأن الرجل الطواف هو ذوالقرنين المذكورة قصته أيضا في القرآن، أما عن الروح فكانت الاجابة عليها قوله تعالى: (الروح من أمر ربى وما أوتيتم من العلم إلا قليلا) .عناد قريش وتخبطهم في تكذيب القرآن: لقد كانت قريش أحرص الناس على إطفاء نور القرآن والطعن في إعجازهوالسعى في إخفاء حقائقه وإبعاد تأثيره القوى في نفوس من يسمعه عن القبائل وذلك بالدعايات الكاذبة، ولو كان في مقدروهم معارضة القرآن والاتيان بشئ من مثلة لفعلوا، ولكنهم قالوا عن القرآن إنه سحر كما جاء ذلك في قوله تعالى: (وإذا تلى عليهم آياتنا بينات قال الذين كفروا للحق لما جاءهم هذا سحر مبين) (سورة الاحقاف آية - 7) ثم قالوا عن القرآن إنه شعر شاعر فرد القرآن عليهم بقوله تعالى: وما علمناه الشعر وما ينبغى له إن هو إلا ذكر وقرآن مبين (سورة يس آية - 69) ثم عادوا فقالوا أنه أساطير الاولين علمها له غيره من العارفين بها فيرد عليهم الحق سبحانه وتعالى بقوله: (وقالوا أساطير الاولين اكتتبها فهى تملى عليه بكرة وأصيلا) (سورة الفرقان آية - 5) وقد اتهمه بعضهم بالجنون فرد القرآن عليهم بقوله تعالى: (ويقولون أئنا لتاركو آلهتنا لشاعر مجنون، بل جاء بالحق وصدق المرسلين) : (سورة الصافات آية - 36، 37) .
তারা বিশ্বাস করত যে, প্রতীক্ষিত নবী বনী ইসরাঈল থেকে আবির্ভূত হবেন, আরবদের মধ্য থেকে নয়। তাই ইহুদিরা কুরাইশদের প্ররোচিত করল যেন তারা নবীকে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে; যদি তিনি তাদের এ সম্পর্কে সংবাদ দেন তবে তিনি একজন প্রেরিত নবী (نبي مرسل), আর যদি উত্তর দিতে না পারেন তবে তিনি নবুওয়তের জনৈক ভণ্ড দাবিদার। তারা বলল, তাঁকে জিজ্ঞাসা কর সেই যুবকদের সম্পর্কে যারা প্রাচীনকালে প্রস্থান করেছিল, সেই পরিব্রাজক ব্যক্তি সম্পর্কে এবং রুহ সম্পর্কে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের জন্য ওহি নাজিল হলো যে, সেই প্রাচীনকালের প্রস্থানকারী যুবকরা হলো আসহাবে কাহাফ, কুরআনে যাদের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। আর সেই পরিব্রাজক ব্যক্তি হলো যুলকারনাইন, যার কাহিনীও কুরআনে উল্লিখিত হয়েছে। আর রুহ সম্পর্কে উত্তর ছিল মহান আল্লাহর বাণী: "রুহ আমার রবের নির্দেশ ঘটিত এবং তোমাদের সামান্যই জ্ঞান দান করা হয়েছে।" .কুরাইশদের হঠকারিতা এবং কুরআনকে অস্বীকার করার ক্ষেত্রে তাদের বিভ্রান্তি: কুরআনের জ্যোতি নির্বাপিত করতে এবং এর অলৌকিকত্বের (إعجاز) ওপর আঘাত হানতে কুরাইশরাই ছিল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগ্রহীএবং তারা কুরআনের সত্যকে গোপন করতে এবং বিভিন্ন গোত্র থেকে যারা এটি শোনে তাদের অন্তরে এর প্রবল প্রভাব দূর করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে সচেষ্ট ছিল। যদি কুরআনের মোকাবেলা করার এবং এর মতো কিছু তৈরি করার সামর্থ্য তাদের থাকত, তবে তারা অবশ্যই তা করত। কিন্তু তারা কুরআন সম্পর্কে বলেছিল যে এটি জাদু, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "আর যখন তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন সত্য তাদের কাছে আসার পর কাফিররা বলে, 'এ তো এক প্রকাশ্য জাদু'।" (সূরা আল-আহকাফ, আয়াত - ৭) এরপর তারা কুরআন সম্পর্কে বলেছিল যে এটি কবির কবিতা। তখন কুরআন তাদের উত্তরে মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে জবাব দিল: "আমি তাকে কবিতা শিক্ষা দিইনি এবং এটি তার জন্য শোভনীয়ও নয়; এটি তো কেবল এক উপদেশ এবং সুস্পষ্ট কুরআন" (সূরা ইয়াসিন, আয়াত - ৬৯) এরপর তারা পুনরায় ফিরে এসে বলল যে এটি পূর্ববর্তীদের উপকথা, যা তাকে অন্য কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তি শিখিয়ে দিয়েছে। তখন মহান সত্যময় আল্লাহ তাদের উত্তরে বললেন: "এবং তারা বলে, এগুলো পূর্ববর্তীদের উপকথা যা সে লিখিয়ে নিয়েছে, অতঃপর এগুলো সকাল-সন্ধ্যায় তার কাছে পাঠ করা হয়" (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত - ৫) তাদের কেউ কেউ তাঁকে উম্মাদনার দায়ে অভিযুক্ত করল, তখন কুরআন তাদের জবাবে মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ করল: "এবং তারা বলে, 'আমরা কি এক উন্মাদ কবির জন্য আমাদের উপাস্যদের বর্জন করব?' বরং তিনি সত্য নিয়ে এসেছেন এবং প্রেরিত পুরুষদের (مرسلين) সত্যায়ন করেছেন": (সূরা আস-সাফফাত, আয়াত - ৩৬, ৩৭) ।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
شهادة الوليد بن المغيرة أبلغ فصحاء العرب في القرآن: أعيت الحيل القرشيين في محاربة القرآن بتكذبيه وإطفاء نوره والحد من تأثيره في قلوب سامعيه فاجتمعوا عند الوليد بن المغيرة أحد بلغاء العرب يتشاورون فيما يمكن عمله لابطال سحر البيان في هذا القرآن العجز الذى كانت وفود القبائل الآتية إلى مكة للحج تستمع إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو يرتله فيبلغ تأثير القرآن أعماق نفوسهم ويروعهم أسلوبه ومعناه، وحارت قريش في أمرها وكيف يصدون هذه القبائل عن الاجتماع بمحمد والاستماع لرسالته فكانوا يقولون لهم مرة إنه كاهن، ومرة أخرى يقولون عنه أنه ساحر ومرة ثالثة يقولون عنه إنه شاعر ولكن عقلاء القبائل ما كانت في قرارة نفسها تصدق هذا الكلام المناقضلجلال ما يسمعون من آيات القرآن والذكر الحكيم.وأخيرا استقر رأى قريش أن يوزعوا أنفسهم عند مفارق الطريق الموصلة إلى مكة ويجلسون عند مداخلها لمقابلة القادمين وتحذيرهم من مقابلة محمد أو الاستماع إلى حديثه وقرآنه، ولما كانت قريش مسموعة الكلمة في العرب فكان كثير من هؤلاء الوافدين ينقادون لرأيهم، وكان الوليد بن المغيرة أشد المؤمنين بأن ما يتلوه محمد من القرآن حق لا ريب فيه، وكان يقول لقومه عن القرآن: (إن له لحلاوة وإن عليه لطلاوة وإن أعلاه لمثمر وإن أسفله لمغدق وإنه يعلو ولا يعلى عليه، وكان ينصح قومه أن يتركوا محمدا وشأنه لانه توسم مجسه المرهف أن دعوة محمد ستكون لها شأن وأى شأن.معجزة النبي الكبرى هي القرآن: إن كلمة القرآن لفظ مشتق من مادة قرأ وهى أول كلمة نزل بها الوحى على النبي في غار حراء إشارة إلى مكانة القراءة التى هي السبيل إلى العلم وسر التقدم
কুরআনের ব্যাপারে আরবদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাগ্মী আল-ওয়ালিদ বিন আল-মুগিরার সাক্ষ্য: কুরাইশরা কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে এর বিরোধিতা করতে, এর নূর নিভিয়ে দিতে এবং শ্রোতাদের হৃদয়ে এর প্রভাব সীমিত করতে সব ধরনের কৌশল প্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়েছিল। অতঃপর তারা আরবদের অন্যতম বাগ্মী আল-ওয়ালিদ বিন আল-মুগিরার নিকট একত্রিত হয়ে এই কুরআনের অলৌকিক বাচনভঙ্গিকে নস্যাৎ করার উপায় নিয়ে পরামর্শ করতে লাগল, যার সামনে তারা ছিল অপারগ। হজের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগত বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধিরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরআন তিলাওয়াত করতেন তখন তা শুনত এবং কুরআনের প্রভাব তাদের আত্মার গভীরে পৌঁছে যেত এবং এর শৈলী ও অর্থ তাদের অভিভূত করত। কুরাইশরা তাদের করণীয় নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ল যে কীভাবে এই গোত্রগুলোকে মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাঁর বাণী শোনা থেকে বিরত রাখা যায়। তারা কখনও তাদের বলত যে তিনি একজন গণক, আবার কখনও বলত তিনি একজন জাদুকর এবং তৃতীয়বার বলত তিনি একজন কবি। কিন্তু গোত্রগুলোর বুদ্ধিমান লোকেরা মনে মনে এই কথাগুলো বিশ্বাস করত না, কারণ তারা কুরআনের আয়াত ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীর সুমহান মর্যাদা শুনতে পাচ্ছিল।অবশেষে কুরাইশরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তারা মক্কায় প্রবেশের সংযোগস্থলগুলোতে অবস্থান নেবে এবং প্রবেশদ্বারে বসে আগন্তুকদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের মুহাম্মদের সাথে দেখা করতে অথবা তাঁর হাদিস ও কুরআন শুনতে সতর্ক করবে। যেহেতু আরবে কুরাইশদের কথার বিশেষ গুরুত্ব ছিল, তাই আগন্তুকদের অনেকেই তাদের কথা মেনে নিত। আল-ওয়ালিদ বিন আল-মুগিরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে মুহাম্মদ যা তিলাওয়াত করছেন তা সন্দেহাতীতভাবে সত্য। তিনি কুরআন সম্পর্কে তাঁর কওমকে বলতেন: “নিশ্চয়ই এর এক বিশেষ মাধুর্য রয়েছে, এর ওপর রয়েছে এক উজ্জ্বল আভা, এর উপরিভাগ ফলদায়ক এবং এর তলদেশ প্রবহমান; এটি সবকিছুর ঊর্ধ্বে থাকে এবং এর ঊর্ধ্বে কিছুই নেই।” তিনি তাঁর কওমকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যেন তারা মুহাম্মদকে তাঁর অবস্থায় ছেড়ে দেয়, কারণ তাঁর তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে মুহাম্মদের দাওয়াতের এক সুমহান ভবিষ্যৎ রয়েছে।নবীর শ্রেষ্ঠ মোজেজা হলো কুরআন: কুরআন শব্দটি ‘ক্বারাআ’ মূলধাতু থেকে উদ্ভূত এবং এটিই ছিল হেরা গুহায় নবীর ওপর অবতীর্ণ প্রথম শব্দ, যা পাঠের মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করে, যা জ্ঞানের পথ এবং অগ্রগতির রহস্য।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২০)
والارتقاء في الحياة وكانت معجزة النبي هي القرآن الذى كان يتلوه المسلمون في حياته والذى سوف يتلوه من بعده ألوف مؤلفة لا حصر لها إلى يوم القيامة ولم تكن معجزته معجزة مادية محسوسة كمعجزات الانبياء السابقين وقد طالبه قومه بإلحاح بمعجزة حسية ملموسة حتى يؤمنوا برسالته، والقرآن يقص علينا ذلك في قوله تعالى في سورة الاسراء - آية 92.(لن تؤمن لك حتى تفجر لنا من الارض ينبوعا، أو يكون لك جنة من نخيل وعنب فتفجر الانهار خلالها تفجيرا، أو تسقط السماء علينا كما زعمت كسفا، أو تأتى بالله والملائكة قبيلا، أو يكون لك بيت من زخرف، أو ترقى في السماء ولن نؤمن لرقيك حتى تنزل علينا كتابا تقرأه) فكان الجواب على هذا التحدي أن قال الرسول بأمر الله (قيلسبحان ربى! هل كنت إلا بشرا رسولا؟) وكان هذا هو الجواب المفحم بالحق والصدق أمام تعنت المتعنتين المطالبين بالبراهين المادية.لماذا كانت معجزة محمد صلى الله عليه وسلم هي القرآن؟ إن السر في أن يكون القرآن هو معجزة النبي الكبرى تتجلى في أنها المعجزة المعنوية القدسية ذات الاسرار الروحية المتصلة بالملا الاعلى، وأن فيه علوما وفيوضات آلهية جعلته الكنز الربانى الخالد على الدهر وأن له البقاء والنماء المعنوي والروحى ما دامت الالسنة ترتل آياته والقلوب تخشع عند سماعها والجلود والجوارح تلين وقت التأثر بها، ولم تشأ إرادة الله الحكيم العليم أن يجعل معجزة النبي معجزة مادية حسية كما كانت معجزات الانبياء من قبل عندما ظهرت للعيان ثم اختفت لانها عاشت في ذاكرة الناس مع حياة أنبيائها فقط، فلما ذهبوا ذهبت وانطوت بموتهم، وإنما أرادها الله لنبيه محمد أن تكون معجزته قرآنا خالدا على الدهر، وتبقى معجزة حية ما دام النبي حيا وأن تظل كذلك حية بعد موته
জীবনের উন্নতি ও উত্তরণ। নবীর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ছিল কুরআন, যা মুসলিমরা তাঁর জীবদ্দশায় তিলাওয়াত করতেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত অগণিত মানুষ তাঁর পর তিলাওয়াত করবে। তাঁর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) পূর্ববর্তী নবীদের অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) মতো কোনো জাগতিক (مادي) ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (محسوس) বিষয় ছিল না। তাঁর কওম তাঁর রিসালাতের (رسالة) ওপর ঈমান আনার জন্য তাঁর কাছে জোরালোভাবে একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسي) ও দৃশ্যমান অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) দাবি জানিয়েছিল। পবিত্র কুরআন সূরা আল-ইসরা-এর ৯২ নম্বর আয়াতে (آية) মহান আল্লাহর বাণীতে আমাদের কাছে তা বর্ণনা করেছে।(আমরা তোমার ওপর ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য ভূমি হতে এক ঝরনা প্রবাহিত করবে, অথবা তোমার খেজুর ও আঙুরের বাগান হবে যার মাঝখানে তুমি নদীসমূহ প্রবাহিত করবে, অথবা তুমি যেমন দাবি করেছ সেই অনুযায়ী আকাশকে খণ্ডবিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলবে, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাদের আমাদের সামনে নিয়ে আসবে, অথবা তোমার অলংকৃত একটি ঘর হবে, কিংবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে; তবে তোমার আরোহণকেও আমরা বিশ্বাস করব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের কাছে এমন এক কিতাব অবতীর্ণ করবে যা আমরা পাঠ করতে পারি।) অতঃপর এই চ্যালেঞ্জের জবাবে রাসূল আল্লাহর নির্দেশে বললেন (বলা হলোপবিত্র আমার রব! আমি তো কেবল একজন মানুষ (بشر) ও রাসূল (رسول) ছাড়া আর কিছু নই?) জাগতিক (مادي) প্রমাণের দাবিদার হঠকারীদের হঠকারিতার সামনে সত্য ও সততার সাথে এটিই ছিল চূড়ান্ত ও নিরুত্তর করে দেওয়ার মতো জবাব।কেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) কুরআন ছিল? কুরআনের নবীর বড় অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হওয়ার পেছনের রহস্যটি এই যে, এটি একটি আধ্যাত্মিক (معنوي) ও পবিত্র নিদর্শন, যা উর্ধ্বজগতের সাথে সম্পর্কিত আত্মিক রহস্যমণ্ডিত। এতে এমন ঐশী জ্ঞান ও বরকত রয়েছে যা একে অনন্তকালের জন্য একটি রব্বানি ধনভাণ্ডারে পরিণত করেছে। এর স্থায়িত্ব এবং আধ্যাত্মিক (معنوي) ও আত্মিক বিকাশ ততক্ষণ বজায় থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত জিহ্বা এর আয়াতসমূহ (آيات) তিলাওয়াত করবে, এটি শ্রবণকালে অন্তরসমূহ বিগলিত হবে এবং তা দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সময় দেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোমল হবে। প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর ইচ্ছা এটি ছিল না যে তিনি নবীর অলৌকিক নিদর্শনকে (معجزة) পূর্ববর্তী নবীদের অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) মতো কোনো জাগতিক (مادي) ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য (حسي) বিষয় করবেন; যা মানুষের চোখের সামনে দৃশ্যমান হয়ে পুনরায় বিলীন হয়ে যেত। কারণ সেগুলো কেবল সংশ্লিষ্ট নবীদের জীবদ্দশায় মানুষের স্মৃতিতে টিকে থাকত। যখন তারা চলে যেতেন, তখন সেই নিদর্শনসমূহও বিলীন হয়ে যেত এবং তাদের মৃত্যুর সাথে সাথে শেষ হয়ে যেত। বরং আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদের জন্য এটাই চেয়েছিলেন যে, তাঁর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হবে যুগান্তকারী এক চিরন্তন কুরআন। এটি নবীর জীবদ্দশায় যেমন একটি জীবন্ত অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হিসেবে থাকবে, এবং তাঁর ওফাতের পরেও একইভাবে জীবন্ত থাকবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإلى أن يرث الله الارض ومن عليها، وذلك لانها خاتمة الرسالات للناس أجمعين وليست بعدها رسالات ولا معجزات أخرى، ويكفى في تفوقها أنها جمعت فأوعت كل ما تحتاج إليه البشرية من أصح العقائد الحقة وأسمى المبادئ القويمة وأرقى المناهج للصلاح والاصلاح والفلاح، وأخلص العبادات الموصلة قولا وعملا إلى رضوان الله تعالى وسعادة الدارين.وكل الذين هداهم الله ووفقهم إلى قراءة القرآن وتدبر آياته من يوم أن نزل على النبي صلى الله عليه وسلم وإلى ما شاء الله يؤمنون بقدسيته ويقرون بروعته البيانية ويشعرون بلمساته الروحية ويأنسون بنفحاته السماوية، ويرجع ذلك إلى حقيقة ذاتية في القرآن تتمثل في كيانه القائم على الحق وفى أسراره العلوية التىتكمن وراء ألفاظه ومعافيه والتى تتجلى في جاذبيته الآلهية التى تأخذ بقلوب مرتليه وسامعيه، وليس أدل على ذلك من أن أبلغ بلغاء العرب من قريش كانوا إذا سمعوا آيات الله تتلى عليهم يستولى على مشاعرهم سحر بلاغتها، وقد بلغ من افتتان بعضهم بها أنهم كانوا يتسللون فرادى في دجى الليل على مقربة من دار النبي ينصتون إلى تلاوة القرآن فتملاهم تلاوته إعجابا وتقديرا واستمتاعا بما فيه من حلاوة وطلاوة وسمو روحي يأخذ بألبابهم، ومن عجيب أمر هؤلاء العرب الذين أنكروا القرآن وإعجازه في الاداء والبيان هم أبناء الامة التى كان لها غرام بالبلاغة والفصاحة حتى أنهم كانوا يعقدون الاسواق الادبية كل عام ليعرض فيها الادباء والشعراء إنتاج مواهبهم ويدعون الحكام للحكم بين الشعراء والادباء لتكريمهم والاحتفال بالنوابغ منهم.دلائل إعجاز القرآن: اشتمل القرآن الكريم على عدة دلائل قوية وبراهين دامغة على أنه المعجزة الكبرى وأنه آية من آيات الله العظمى الخالدة على الدهر ومن ذلك:
এবং আল্লাহ যতদিন এই পৃথিবী ও এর ওপর বিচরণকারীদের উত্তরাধিকারী হিসেবে বিদ্যমান রাখেন, আর এটি এজন্য যে, তা সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশেষ ঐশী বার্তা এবং এরপর আর কোনো ঐশী বার্তা বা মুজিজা নেই। এর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এটাই যথেষ্ট যে, এটি মানবজাতির প্রয়োজনীয় সকল বিষয় ধারণ করে আছে; যার মধ্যে রয়েছে বিশুদ্ধতম (صحيح) সত্য আকিদাহ, উচ্চতর সঠিক মূলনীতি এবং সংশোধন ও সফলতার সর্বোত্তম পথসমূহ। এটি কথা ও কাজে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি এবং পরকালীন সুখের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একনিষ্ঠ ইবাদতসমূহকে একীভূত করেছে।আল্লাহ যাদের হিদায়াত দিয়েছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এটি অবতীর্ণ হওয়ার দিন থেকে শুরু করে আল্লাহ যতদিন চান ততদিন পর্যন্ত যারা কুরআন পাঠ এবং এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করার তাওফিক লাভ করেছেন, তারা সকলেই এর পবিত্রতায় বিশ্বাস করেন, এর অলংকারিক শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করেন, এর আত্মিক স্পর্শ অনুভব করেন এবং এর আসমানি সুবাসে প্রশান্তি লাভ করেন। এটি কুরআনের একটি স্বকীয় বাস্তবতার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যা সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত এর অস্তিত্ব এবং এর সুউচ্চ রহস্যের মধ্যে নিহিত। যাএর শব্দ ও অর্থের অন্তরালে অবস্থান করে এবং যা এর খোদায়ি আকর্ষণে পরিস্ফুট হয়, যা তিলাওয়াতকারী ও শ্রোতাদের হৃদয় কেড়ে নেয়। এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর হতে পারে না যে, কুরাইশ বংশের আরবের সবচেয়ে বাগ্মী ব্যক্তিরা যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত পঠিত হতে শুনত, তখন এর অলংকার শাস্ত্রের জাদুকরী প্রভাব তাদের অনুভূতির ওপর জয়ী হতো। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর প্রতি এতটাই মোহিত হয়ে পড়েছিল যে, তারা রাতের নিবিড় অন্ধকারে একাকী চুপিচুপি নবীজির ঘরের কাছে এসে কুরআন তিলাওয়াত শুনত। কুরআনের তিলাওয়াত তাদের মধ্যে বিস্ময়, প্রশংসা এবং এর মাধুর্য, লাবণ্য ও আত্মিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ভালো লাগা তৈরি করত যা তাদের বুদ্ধিমত্তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলত। আর সেই আরবদের বিষয়টি বিস্ময়কর যারা কুরআনের বর্ণনাভঙ্গি ও অলংকারের অলৌকিকত্বকে অস্বীকার করেছিল, অথচ তারা ছিল এমন এক জাতির সন্তান যাদের অলংকার ও বাগ্মিতার প্রতি চরম অনুরাগ ছিল। এমনকি তারা প্রতি বছর সাহিত্য মেলার আয়োজন করত যেখানে সাহিত্যিক ও কবিরা তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখতেন এবং বিচারকদের আহ্বান করতেন কবি ও সাহিত্যিকদের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করার জন্য যাতে তাদের মধ্য থেকে কৃতি ব্যক্তিদের সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা যায়।কুরআনের অলৌকিকত্বের প্রমাণসমূহ: মহাগ্রন্থ কুরআন বেশ কিছু শক্তিশালী দলিল ও অকাট্য প্রমাণের সমন্বয়ে গঠিত যা নির্দেশ করে যে, এটি সর্বশ্রেষ্ঠ মুজিজা এবং এটি মহাকালের গহ্বরে আল্লাহ তাআলার এক চিরন্তন মহান নিদর্শন। তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২২)
أولا: بلاغته الفريدة في نظمه ولفظه وأسلوبه ومخالفته لمناهج العرب في فصاحتهم وبلاغتهم التى كانوا يعتزون بنبوغهم فيها، إذا لم يكن شعرا موزونا ولا نثرا مرسلا ولا سجعا مقفى وإنما هو نهج مستقل قائم بذاته في جمال عباراته العذبة وصياغة معانيه السامية التى لم يكن للعرب عهد بمثلها من قبل حتى أن بلغاءهم ما كانوا لا يدرون من أي ناحية من نواحيه يتملك مشاعرهم ويستولى على عقولهم وكانوا من فرط حيرتهم في وصفه يقولون عنه إنه السحر وما هو بالسحر.ثانيا: حفل القرآن بالكثير من قصص الانبياء والرسل وأخبار الامم السابقة وأحوالهم بما يطابق الصادق المؤكد مما جاء في كتب أهل الكتاب من اليهودوالنصارى، مع أن النبي صلوات الله وسلامه عليه نشأ أميا لا يقرأ ولا يكتب وقومه يعلمون أنه لم يدرس ولم يتعلم على يد أحد شيئا من العلم، فمن أين له هذه الانباء والمعلومات عن الرسل والانبياء وعن التاريخ القديم للامم والشعوب؟ إنه لا شئ سوى الوحى الذى يوحى إليه من ربه الذى يقول في كتابه العزيز في سورة العنكبوت - آية 48: (وما كنت تتلو قبله من كتاب ولا تخطه بيمينك إذن لارتاب المبطلون) ، ولما تملكتهم الحيرة في شأن القرآن وروعته افتروا على الله الكذب وأدعوا أن أحد فتيان الروم علمه سرا هذه الاخبار كلها وهذا كذب صراح لان هذا الرومي المزعوم كان أعجميا لا يحسن العربية، ويكذب القرآن افتراءهم هذا بقوله تعالى في سورة النحل آية - 103: (ولقد نعلم أنهم يقولون أنما يعلمه بشر لسان الذى يلحدون إليه أعجمى وهذا لسان عربي مبين) .ثالثا: لم يقتصر القرآن على ذكر أخبار أحوال الامم الماضية وأنبيائهم ورسلهم وما جرى من الحوادث التى مضى عليها زمن طويل بل أخبر كذلك عن أمور سوف تقع في المستقبل وقد تحقق فعلا وقوعها، ومن ذلك ما أخبر به
প্রথমত: এর বিন্যাস, শব্দচয়ন ও শৈলীতে এর অনন্য অলংকারশৈলী এবং আরবদের সাবলীলতা ও প্রাঞ্জলতার পদ্ধতিসমূহের সাথে এর বৈসাদৃশ্য, যে বিষয়ে তারা তাদের মেধার উৎকর্ষতায় গর্ববোধ করত। কেননা এটি কোনো ছন্দোবদ্ধ কবিতা নয়, মুক্ত গদ্য (مرسل) নয়, কিংবা অন্ত্যমিলযুক্ত গদ্যও নয়; বরং এটি এর সুমিষ্ট বাক্যের সৌন্দর্য এবং সুউচ্চ অর্থ বিন্যাসে এক স্বতন্ত্র ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পদ্ধতি, যার কোনো দৃষ্টান্ত আরবদের কাছে ইতিপূর্বে ছিল না। এমনকি তাদের বাগ্মীরাও বুঝতে পারত না যে, এর কোন দিকটি তাদের অনুভূতিকে আচ্ছন্ন করে ফেলছে এবং তাদের বুদ্ধিকে জয় করে নিচ্ছে। তারা একে বর্ণনা করতে গিয়ে চরম কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে একে জাদু বলে অভিহিত করত, অথচ এটি মোটেও জাদু নয়।দ্বিতীয়ত: পবিত্র কুরআন নবী ও রাসুলগণের অসংখ্য কাহিনী এবং পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ ও তাদের অবস্থা বর্ণনায় পরিপূর্ণ, যা আহলে কিতাব তথা ইহুদিদের কিতাবসমূহে বর্ণিত সত্য ও সুনিশ্চিত তথ্যের সাথে সংগতিপূর্ণএবং খ্রিস্টানদের বর্ণনার সাথেও; অথচ নবী (সা.) উম্মী হিসেবে বেড়ে উঠেছেন, তিনি পড়তে বা লিখতে পারতেন না এবং তাঁর সম্প্রদায় জানত যে, তিনি কারও নিকট থেকে কোনো জ্ঞান বা শাস্ত্র শিক্ষা করেননি। তবে তাঁর কাছে রাসুল ও নবীগণ এবং প্রাচীন জাতি ও গোষ্ঠীসমূহের ইতিহাসের এই সংবাদ ও তথ্যাদি কোত্থেকে এল? এটি ওহি ছাড়া আর কিছুই নয়, যা তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়; যিনি তাঁর মহিমান্বিত কিতাবের সূরা আল-আনকাবুত-এর ৪৮ নম্বর আয়াতে বলেন: (আর তুমি তো এর আগে কোনো কিতাব পাঠ করতে না এবং নিজ হাতে তা লিখতে না; তেমন হলে মিথ্যাচারীরা অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করত)। যখন কুরআনের বিষয়ে এবং এর গাম্ভীর্যে তারা বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হলো, তখন তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করল এবং দাবি করল যে, রোমের জনৈক যুবক তাকে গোপনে এসব সংবাদ শিক্ষা দিয়েছে। এটি একটি প্রকাশ্য মিথ্যা, কারণ এই কথিত রোমান ব্যক্তিটি ছিল অনারব যে ভালো আরবি জানত না। কুরআন তাদের এই অপবাদকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সূরা আন-নাহল-এর ১০৩ নম্বর আয়াতে বলছে: (আমি তো অবশ্যই জানি তারা বলে যে, তাকে একজন মানুষ শিক্ষা দেয়। যার প্রতি তারা ইঙ্গিত করে তার ভাষা তো অনারব, অথচ এটি সুস্পষ্ট আরবি ভাষা)।তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআন কেবল অতীত জাতিসমূহ, তাদের নবী ও রাসুলগণের সংবাদ এবং দীর্ঘকাল পূর্বে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ভবিষ্যতে ঘটবে এমন বিষয়েও সংবাদ দিয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবেও সংঘটিত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে যা তিনি সংবাদ দিয়েছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
القرآن عن دولة الروم المسيحية التى غلبتها دولة الفرس الوثنية أولا، ثم أخبر القرآن بأن دولة الروم المغلوبة سوف تنتصر بعد بضع سنين كما جاء ذلك في قوله تعالى في سورة الروم آية 1 - 4: (ألم، غلبت الروم في أدنى الارض وهم من بعد عليهم سيغلبون في بضع سنين لله الامر من قبل ومن بعد ويومئذ يفرح المؤمنون) .ومن ذلك أيضا ما أخبر به القرآن عن وعد الله لرسوله بأنه سوف يفتح مكة ويدخل المسجد الحرام، وقد تحقق ذلك فعلا بعد فترة وجيزة من الزمن فقال تعالى في سورة الفتح آية - 27: (لقد صدق الله رسوله الرؤبا بالحق لتدخلنالمسجد الحرام إن شاء الله آمنين محلقين رؤسكم ومقصرين لا تخافون فعلم ما لم تعلموا فجعل من دون ذلك فتحا قريبا) .رابعا: ما تضمنه القرآن من أمور دينية ما كان العرب يعرفون عنها شيئا مثل عقيدة التوحيد وإلايمان بالغيب وبيوم القيامة والحساب والجزاء والجنة والنار والملائكة وغيرها من المسائل الاخرى الخاصة بالتشريع ومعرفة الحلال والحرام والحقوق والواجبات للاسرة والوطن ثم بيان ما يجب على الانسان من مكارم الاخلاق وروح الاخوة والتعاون والبر والتقوى مما يؤدى إلى سعادة الدارين.وكان النبي صلوات الله وسلامه عليه يتلو على الناس ما أنزل إليه بلسان عربي مبين في موضوعات أخرى شتى وهو الامي الذى لم يدرس من أمور التشريع ولا من أمور الغيب ولا من أصول الاخلاق أو علم النفس أو علم الاجتماع شيئا، فمن أين له هذا الكنز الفياض بهذه العلوم والمعارف في دقة وروعة وإحكام؟ أنه النبوة الموحية إليه بهذا كله من عند الله تعالى.
কুরআন খ্রিষ্টান রোমান সাম্রাজ্য সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে, যাদেরকে প্রথমে পৌত্তলিক পারস্য সাম্রাজ্য পরাজিত করেছিল। অতঃপর কুরআন সংবাদ দিয়েছে যে, পরাজিত রোমান সাম্রাজ্য কয়েক বছরের মধ্যে বিজয়ী হবে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে সুরা রুমের ১-৪ আয়াতে বর্ণিত হয়েছে: "আলিফ-লাম-মীম। রোমানরা পরাজিত হয়েছে, নিকটবর্তী এলাকায়। এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শীঘ্রই বিজয়ী হবে, কয়েক বছরের মধ্যে। পূর্বের ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। আর সেদিন মুমিনগণ আনন্দিত হবে।"এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূলের প্রতি মক্কা বিজয় এবং মসজিদে হারামে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কুরআনের সংবাদ। অল্প সময়ের ব্যবধানেই এটি প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়িত হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা সুরা ফাতহের ২৭ নম্বর আয়াতে বলেন: "অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলের স্বপ্ন সত্যে পরিণত করেছেন। আল্লাহর ইচ্ছায় তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবেনিরাপদে, কেউ কেউ মস্তক মুণ্ডনকারী অবস্থায় এবং কেউ কেউ চুল কর্তনকারী অবস্থায়; তোমাদের কোনো ভয় থাকবে না। অতঃপর তিনি জেনেছেন যা তোমরা জাননি, সুতরাং এর আগে তিনি দিয়েছেন এক আসন্ন বিজয়।"চতুর্থত: কুরআন এমন সব ধর্মীয় বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করেছে যে সম্পর্কে আরবদের কোনো জ্ঞান ছিল না। যেমন—তাওহিদের (التوحيد) আকিদা, অদৃশ্যের (الغيب) প্রতি বিশ্বাস, কিয়ামত দিবস, হিসাব-নিকাশ, প্রতিদান, জান্নাত, জাহান্নাম, ফেরেশতা এবং শরয়ি বিধান (التشريع) সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়সমূহ। এছাড়া হালাল ও হারাম অনুধাবন, পরিবার ও রাষ্ট্রের অধিকার ও কর্তব্য এবং সর্বোপরি মানুষের ওপর আবশ্যকীয় মহান চারিত্রিক গুণাবলি, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহযোগিতা, পুণ্য ও তাকওয়ার (التقوى) বর্ণনা, যা ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য বয়ে আনে।নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মানুষের কাছে তাঁর প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় বিভিন্ন বিষয়ে তিলাওয়াত করতেন। অথচ তিনি ছিলেন উম্মী (الأمي)—যিনি শরয়ি বিধান (التشريع), অদৃশ্যের (الغيب) বিষয়াবলি, নৈতিকতার মূলনীতি, মনোবিজ্ঞান কিংবা সমাজবিজ্ঞানের কিছুই অধ্যয়ন করেননি। তবে কোত্থেকে তাঁর কাছে এই নির্ভুলতা, চমৎকারিত্ব ও সুনিপুণতায় ভরপুর জ্ঞান ও পরিচিতির এই বিশাল ভাণ্ডার এল? এটি মূলত নবুওয়াত (النبوة), যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সব কিছুর ওহি (الموحية) হিসেবে তাঁর কাছে প্রেরিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خامسا: لقد انطوى الكريم على آيات بينات كثيرة فيها حقائق علمية غاية في الاصالة والموضوعية فيما يتعلق بالكون والسماوات والارض والنجوم والكواكب التى تجرى في أفلاكها وتعاقب الليل والنهار ثم ما جاء عن خلق الانسان وتطوره جسما وعقلا وروحا ثم ما ذكره عن النبات والحيوان والحشرات كما أن القرآن تكلم عن السحب والامطار والعواصف والجبال والاشجار والانهار والبحار وغير ذلك من الكائنات والمخلوقات كبيرها وصغيرها وكل ذلك لم يكن الانسان قبل نزول القرآن ولا بعد نزوله بزمن طويل يعلم عن حقائقه شيئا ولا يدرى من أسبابه وأسراره أي شئ بل ظل ذلك كله سرا مطويا عن العقل البشرى إلى أن جاءت عصور النهضة العلمية التى أخذ الانسان خلالها يدرس ويبحثوينقب بحثا عن الحقائق الكونية والكشف عن أسرارها ونواميسها شيئا فشيئا حتى صارت لديه حصيلة قيمة من العلوم والمعارف والقوانين والنظريات التى عن طريقها بدأ الانسان يعرف ما جاء به القرآن منها وذلك قبل نهضته العلمية الحديثة بزمن بعيد.سادسا: أن القرآن الكريم وقد مضى على نزوله حتى الآن نحو أربعة عشر قرنا لم يظهر في نصوصه ولا في معانيه أو مراميه أي خلل أو تناقض أو اضطراب أو قصور فيما عبر به عن الحياة الدنيا وأحوالها أو ما جاء به من حقائق ومبادئ وتشريع وأحكام ونظام وقد حاول أعداء الاسلام خلال هذه القرون وبعد أن قرأوا القران مرارا ونخلوه وغربلوه.تكرارا لكى يجدوا فيه أي ثغرة من خطأ أو نقص أو ضعف في أي شئ فما وجدوا فيه غير الحق الصراح والعقائد القويمة والهداية الشاملة في أروع ظواهرها وبواطنها ويقول الله تعالى في سورة النساء آية - 82: (ولو كان من عند غير الله لوجدوا فيه اختلافا كثيرا.
পঞ্চমতঃ কুরআনুল কারীম এমন অসংখ্য সুস্পষ্ট নিদর্শনে পরিবেষ্টিত যাতে মহাবিশ্ব, আসমান ও যমীন এবং নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণকারী নক্ষত্র ও গ্রহরাজি এবং দিন-রাত্রির পরিক্রমণ সংক্রান্ত অত্যন্ত মৌলিক ও বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক সত্য নিহিত রয়েছে। তদুপরি এতে মানুষের সৃষ্টি এবং তার দেহ, বুদ্ধি ও আত্মার বিকাশ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। পাশাপাশি এতে উদ্ভিদ, প্রাণী ও পতঙ্গ সম্পর্কেও উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন কুরআন মেঘমালা, বৃষ্টি, ঝড়, পাহাড়, বৃক্ষরাজি, নদী ও সমুদ্রসহ ছোট-বড় সকল সৃষ্টি ও মাখলুকাত সম্পর্কে আলোচনা করেছে। কুরআন নাযিলের পূর্বে কিংবা নাযিলের দীর্ঘ সময় পর পর্যন্তও মানুষ এসবের প্রকৃত সত্য সম্পর্কে কিছুই জানত না এবং এগুলোর কারণ ও রহস্য সম্পর্কে বিন্দুমাত্র অবগত ছিল না। বরং এসব কিছু মানব মস্তিষ্কের কাছে এক নিগূঢ় রহস্য হিসেবেই থেকে গিয়েছিল, যতক্ষণ না জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবজাগরণের যুগ এলো; যখন মানুষ এসব নিয়ে অধ্যয়ন, গবেষণা ও অনুসন্ধান শুরু করল।মহাজাগতিক সত্যসমূহ অনুসন্ধান এবং এগুলোর রহস্য ও নিয়মাবলী উন্মোচনে মানুষ ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে থাকল। পরিশেষে তার নিকট বিজ্ঞান, জ্ঞান, নিয়ম ও তত্ত্বের এক মূল্যবান ভাণ্ডার অর্জিত হলো, যার মাধ্যমে মানুষ কুরআনে বর্ণিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে শুরু করল; অথচ আধুনিক এই বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষের দীর্ঘ সময় পূর্বেই কুরআনে তা বর্ণিত হয়েছিল।ষষ্ঠতঃ কুরআনুল কারীম নাযিল হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী অতিবাহিত হয়ে গেছে, কিন্তু এর পাঠ্য (নস), অর্থ কিংবা উদ্দেশ্যের কোথাও পার্থিব জীবন ও এর অবস্থাদি বর্ণনায় অথবা এতে বর্ণিত সত্য, মূলনীতি, শরীয়ত, বিধিবিধান ও ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি, বৈপরীত্য, অসংগতি (اضطراب) কিংবা অপূর্ণতা প্রকাশ পায়নি। ইসলামের শত্রুরা এই শতাব্দীগুলোতে বারবার কুরআন পাঠ করার পর এবং একে তন্ন তন্ন করে বিশ্লেষণ করার পরও...তারা বারবার চেষ্টা করেছে যাতে এতে কোনো ভুল, অসম্পূর্ণতা কিংবা কোনো বিষয়ে দুর্বলতা (ضعف) খুঁজে পায়; কিন্তু তারা এতে সুস্পষ্ট সত্য, সুদৃঢ় আকিদা এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন সকল দিক থেকে চমৎকার ও ব্যাপক হিদায়াত ছাড়া আর কিছুই পায়নি। আল্লাহ তাআলা সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতে বলেন: "আর যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক মতভেদ দেখতে পেত।"
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ويتجلي إعجاز القرآن بصفة خاصة في وجهين هامين من إعجازه: أولهما ما يتعلق بمنهاجه البيانى وثانيهما منهاجه العلمي.أما منهاجه البيانى فقد لمسه العرب لانهم كانوا أول من خوطبوا به وأدركوا ما في آياته من بلاغة وفصاحة وجزالة في ألفاظه ومعانيه، وقد أقروا بعجزهم عن تحديه، وظل إعجازه البيانى قائما في الجزيرة العربية طيلة عصر النبوة وما بعده إلى ما شاء الله تعالى.وأما منهاجه العلمي فقد كان إعجازا ممتدا على مدى العصور وإلى أن يرث الله الارض ومن عليها، وذلك لما اشتمل عليه القرآن من علوم كونية وحقائق علمية وتشريعية لم تكن معروفة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم، وسيظل هذاالمنهاج العلمي هو معجزة الاجيال كلها بما يظهر منها تباعا.ومنهج الاعجاز البيانى يتمثل في تأليف كلماته وتآخيها، وتلاقيها في عباراته المنسجمة وفى نظمها المحكم ورنينها الموسيقى، وقد جاءت المعاني القرآنية مؤاخية للالفاط وكأن الالفاظ قطعت لها وسويت على حجمها، ومن أمثلة التناسق بين الالفاظ ومعانيها قوله تعالى: (والصبح إذا تنقس) فإن استعمال لفظ تنفس لا يمكن أن يوضع مكانه لفظ آخر ليؤدي معناها، وذلك لان التنفس يندرج فيه ثلاثة معان تتصل بالحياة الدائمة المستمرة أولها التنفس بمعنى الحياة وثانيها حركتها واستمرارها وثالثها تدرجها في الظهور شيئا فشيئا، فلو وضعت كلمة أشرق بدل تنفس أو أصبح أو أنار أو أضاء لا تقوم مقام تنفس ولا تغنى غناءها.ومثل آخر للعبارات التى ترد في القرآن ولها معان لا يحل محلها أي تعبير آخر
কুরআনের অলৌকিকত্ব (إعجاز) বিশেষত এর অলৌকিকত্বের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে প্রকাশ পায়: প্রথমটি এর আলঙ্কারিক পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত এবং দ্বিতীয়টি এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাথে।তার আলঙ্কারিক পদ্ধতির বিষয়টি আরবরা প্রত্যক্ষ করেছিল, কারণ তারাই ছিল এর প্রথম সম্বোধিত জাতি। তারা কুরআনের আয়াতসমূহের বাকপটুতা (بلاغة), প্রাঞ্জলতা (فصاحة) এবং এর শব্দ ও অর্থের গাম্ভীর্য (جزالة) অনুধাবন করেছিল। তারা এর মোকাবিলা করতে নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করে নিয়েছিল। নবুয়তের পুরো সময়কাল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পরবর্তীকালেও আরব উপদ্বীপে এর আলঙ্কারিক অলৌকিকত্ব (إعجاز) অব্যাহত ছিল।আর এর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিষয়টি ছিল যুগ যুগ ধরে বিস্তৃত এক অলৌকিকত্ব (إعجاز), যা আল্লাহ পৃথিবী ও এর অধিবাসীদের উত্তরাধিকারী হওয়া পর্যন্ত বজায় থাকবে। এর কারণ হলো, কুরআনে এমন সব মহাজাগতিক বিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক ও বিধানগত (تشريعية) সত্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে পরিচিত ছিল না। এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিটিই পর্যায়ক্রমে প্রকাশের মাধ্যমে সকল প্রজন্মের জন্য অলৌকিকত্ব (إعجاز) হিসেবে বিদ্যমান থাকবে।আলঙ্কারিক অলৌকিকত্বের (إعجاز) পদ্ধতিটি এর শব্দাবলির বিন্যাস ও সৌহার্দ্য, সুসংগত বাক্য গঠন, সুদৃঢ় বিন্যাস এবং ছন্দময় ঝংকারের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। কুরআনের অর্থসমূহ শব্দাবলির সাথে এমনভাবে মিশে আছে যেন শব্দগুলো সেই অর্থের জন্যই সুনির্দিষ্টভাবে তৈরি ও পরিমাপ করা হয়েছে। শব্দ ও অর্থের মধ্যে এই সামঞ্জস্যের একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "শপথ সকালের, যখন তা নিশ্বাস ফেলে (تنفس)"। এখানে 'তানাফফাসা' (تنفس) শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করলে সেই অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণ 'তানাফফাসা' (تنفس) শব্দের মধ্যে স্থায়ী ও নিরন্তর জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনটি অর্থ নিহিত রয়েছে: প্রথমত, জীবন অর্থে নিশ্বাস নেওয়া; দ্বিতীয়ত, এর গতিশীলতা ও স্থায়িত্ব; এবং তৃতীয়ত, ক্রমান্বয়ে এর প্রকাশ পাওয়া। যদি 'তানাফফাসা' (تنفس) শব্দের স্থলে 'আশরাকা', 'আসবিহা', 'আনারা' বা 'আদাআ' শব্দ বসানো হয়, তবে তা 'তানাফফাসা' (تنفس) শব্দের স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে না এবং এর প্রয়োজনীয়তাও পূরণ করবে না।কুরআনে বর্ণিত বাক্যসমূহের আরও একটি উদাহরণ রয়েছে যার এমন গূঢ় অর্থ আছে যে অন্য কোনো অভিব্যক্তি তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كما في قوله تعالى: (واتل عليهم نبأ الذى آتيناه آياتنا فانسلخ منها، فأتبعه الشيطان فكان من الغاوين، ولو شئنا لرفعناه بها، ولكنه أخلد إلى الارض وأتبع هواه، فمثله كمثل الكلب، إن تحمل عليه يلهث، أو تتركه يلهث ذلك مثل، الذين كذبوا بآياتنا فاقصص القصص لعلهم يتفكرون) (الاعراف 175 - 176) .وتصور هذه الآيات رجلا أتاه الله العلم بالآيات الموجبة للتصديق بالحق، وأن هذه الآيات أحاطت بقلبه ونفسه كما يحيط الاهاب أي الجلد بالجسم ولكنه ترك الاخذ بالهدى استجابة لداعى الشيطان، وصار من الضالين الذين أغواهم إبليس اللعين فكان مثله كمثل الكلب يلهث دائما، إن ترك يلهث، وإن حمل عليه يلهث، فكل كلمة في هذة الآيات تؤدى معنى لا تعنى عنه كلمة أخرى مهما حاول الانسانذلك، والعبارات صادقة ومطابقة للحال في تصوريها.وأما المنهج العلمي من الاعجاز فهو موضوع هذا الكتاب بالذات وسوف فعرض له مجموعة من الآيات التى تبين كيف حفل القرآن بأصول العلوم المتصلة بنشأة الكون وخلق الانسان والكائنات كلها، وكيف أنه طلب منا التفكر والتدبر في أسرارها وحكمتها.القرآن والعلم: فليس غريبا ولا عجيبا أن يأتي القرآن وهو المعجزة الكبرى بكل الموافقات والمطابقات لكل ما وصلت إليه العلوم الحديثة من نتائج ووصل إليها العلماء بعد مئات السنين من الدراسة والبحث والتأمل لانه كلام الله العليم بالسر وأخفى في ملكه العظيم وإن كثيرا من القضايا الاجتماعية والسياسية والحربية والتشريعية
মহান আল্লাহর বাণীতে যেমন রয়েছে: (আর আপনি তাদের কাছে সেই ব্যক্তির সংবাদ পাঠ করুন, যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ দান করেছিলাম, অতঃপর সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। তখন শয়তান তার পিছু নেয়, ফলে সে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর আমি ইচ্ছা করলে সেসব নিদর্শনের মাধ্যমে তাকে উচ্চমর্যাদায় আসীন করতাম, কিন্তু সে পার্থিব জগতের প্রতি ঝুঁকে পড়ল এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং তার দৃষ্টান্ত হলো কুকুরের মতো, তাকে তাড়া করলে সে জিহ্বা বের করে হাঁপায় অথবা ছেড়ে দিলেও সে হাঁপায়। এটাই সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ যারা আমার নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি কাহিনী বর্ণনা করুন যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে) (আল-আরাফ ১৭৫-১৭৬)।এই আয়াতগুলো এমন এক ব্যক্তির চিত্র তুলে ধরে যাকে আল্লাহ সত্যকে সত্যায়ন করার জন্য আবশ্যকীয় নিদর্শনসমূহের জ্ঞান দান করেছিলেন। এই আয়াতগুলো তার অন্তর ও আত্মাকে এমনভাবে পরিবেষ্টিত করেছিল যেমন চামড়া শরীরকে বেষ্টন করে রাখে। কিন্তু সে শয়তানের ডাকে সাড়া দিয়ে হিদায়াত গ্রহণ করা বর্জন করল এবং সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হলো যাদের অভিশপ্ত ইবলিস বিভ্রান্ত করেছিল। ফলে তার দৃষ্টান্ত হলো কুকুরের মতো যে সর্বদা হাঁপাতে থাকে; তাকে ছেড়ে দিলেও সে হাঁপায়, আবার তাকে তাড়া করলেও সে হাঁপায়। এই আয়াতগুলোর প্রতিটি শব্দ এমন অর্থ বহন করে যার বিকল্প অন্য কোনো শব্দ হতে পারে না, মানুষ তা করার চেষ্টা করলেওতা সম্ভব নয়। এর প্রকাশভঙ্গি অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ এবং বর্ণিত অবস্থার চিত্রায়নে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।আর অলৌকিকত্বের (إعجاز) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিষয়টিই মূলত এই গ্রন্থের মূল প্রতিপাদ্য। এখানে এমন একদল আয়াত উপস্থাপন করা হবে যা স্পষ্ট করে যে, মহাবিশ্বের সৃষ্টি, মানুষের সৃষ্টি এবং সকল প্রাণিকুলের উৎপত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানের মূলনীতিগুলো কুরআন কীভাবে ধারণ করে আছে। পাশাপাশি এটি আমাদের কীভাবে এগুলোর রহস্য ও প্রজ্ঞা (حكمة) নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করার আহ্বান জানিয়েছে।কুরআন ও বিজ্ঞান: কুরআন যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), তাই আধুনিক বিজ্ঞান যেসব সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে এবং শত শত বছরের অধ্যয়ন, গবেষণা ও পর্যবেক্ষণের পর বিজ্ঞানীরা যা অর্জন করেছেন, তার সাথে কুরআনের প্রতিটি বিষয়ের মিল ও সামঞ্জস্য থাকা মোটেও আশ্চর্যজনক বা বিস্ময়কর কিছু নয়। কারণ এটি মহান আল্লাহর বাণী, যিনি তাঁর বিশাল রাজত্বের দৃশ্য ও অদৃশ্য সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত। নিশ্চয়ই অনেক সামাজিক, রাজনৈতিক, যুদ্ধবিগ্রহ সংক্রান্ত এবং আইন প্রণয়ন বিষয়ক বিষয়াবলি...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
والاخلاقية وغيرها جاء بها القرآن قبل أن تكون شيئا مذكورا في معارف الانسان وقت نزول القرآن ثم ظهرت معالمها واضحة بعد موت النبي صلى الله عليه وسلم بزمن طويل، بل أن في القرآن ما هو أكثر من الاعجاز العلمي ألا وهو ما أخبر به القرآن في عدة آيات بأمور لم يكن أحد يعلم أسرارها الغيبية مثل ما حدث في الملاء الاعلى قبل ظهور الانسان عندما خلق الله آدم عليه السلام وما كان من سجود الملائكة له وهبوطه إلى الارض وخلافته فيها، فهل ذلك كله من علم محمد رسول الله حتى يذكره لنا مفصلا؟ كلا أنه كتاب الله الذى يتحدث عن علم الله المحيط يكل شئ.المصحف كيف توحد وانتشر: إن كلام الله المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم سورا أو آيات متفرقة في في مدى ثلاث وعشرين سنة والمنقول تواترا صحيحا والمتعبد به تلاوة وعملاوالمجموع كله بين دفتى المصاحف من أول سورة الفاتحة إلى آخر سورة الناس، كان في أول الامر وعلى عهد النبي مكتوبا على رقاع متفرقة من الجلد أو العظم أو جريد النخل أو قطع الحجارة كما كان محفوظا في صدور الصحابة الذين حفظوه عن ظهر قلب، فلما قامت حروب الردة في خلافة أبى بكر الصديق وقتل فيها أكثر الصحابة المجيدين لحفظ القرآن، هال هذا الامر عمر بن الخطاب وأشار على أبى بكر بجمع الرقاع ونسخها، فستجاب أبو بكر لذلك وأمر زيدا بن ثابت وهو من أبرز كتاب الوحى أن يقوم بجمع القرآن من الرقاع المكتوب عليها ومن صدور الحفاظ فنسخه وحفظت هذه الاصول المنسوخة عند أبى بكر فلما مات حفظتها السيدة حفصة إبنة عمر عندها، وفى عهد سيدنا عثمان بن عفان ظهرت بعض اختلافات في القراءات بين المسلمين فرأى عثمان منعا لهذه الاختلافات أن
এবং নৈতিকতা ও অন্যান্য বিষয়সমূহ কুরআন নিয়ে এসেছে কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারে এ সকল বিষয় উল্লেখযোগ্য কিছু হিসেবে পরিগণিত হওয়ার পূর্বেই। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওফাতের দীর্ঘ সময় পর এগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। বরং কুরআনে বৈজ্ঞানিক অলৌকিকত্বের চেয়েও বড় কিছু রয়েছে, আর তা হলো কুরআন বেশ কিছু আয়াতে এমন সব বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছে যার অদৃশ্যের রহস্যসমূহ সম্পর্কে কারো কোনো জ্ঞান ছিল না; যেমন মানুষের আবির্ভাবের পূর্বে ঊর্ধ্বজগতে যা ঘটেছিল, যখন আল্লাহ আদম (আলাইহিস সালাম)-কে সৃষ্টি করেছিলেন এবং ফেরেশতাদের তাঁকে সেজদা করা, পৃথিবীতে তাঁর অবতরণ এবং তাতে তাঁর খেলাফত (প্রতিনিধিত্ব) লাভের ঘটনা। তবে কি এ সবই মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ-এর জ্ঞানলব্ধ ছিল যে তিনি তা আমাদের নিকট বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করবেন? কখনোই নয়, বরং এটি আল্লাহর কিতাব যা আল্লাহর সর্ববেষ্টিত জ্ঞান সম্পর্কে আলোচনা করে।মুসহাফ কীভাবে একত্রিত ও প্রচারিত হলো: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দীর্ঘ তেইশ বছর সময়কালে বিভিন্ন সূরা ও বিচ্ছিন্ন আয়াত হিসেবে অবতীর্ণ আল্লাহর কালাম, যা নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواترا) এবং বিশুদ্ধভাবে (صحيحا) বর্ণিত হয়েছে এবং যার তিলাওয়াত ও অনুসরণ ইবাদত হিসেবে গণ্য,এবং যা সূরা ফাতিহা থেকে শুরু করে সূরা নাস পর্যন্ত মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংগৃহীত, তা প্রাথমিক পর্যায়ে এবং নবীর যুগে চামড়া, হাড়, খেজুরের ডাল অথবা পাথরের টুকরোর ওপর বিচ্ছিন্নভাবে লিখিত ছিল; পাশাপাশি তা সাহাবীদের অন্তরেও সংরক্ষিত ছিল যারা এটি মুখস্থ করেছিলেন। অতঃপর যখন আবু বকর সিদ্দিক-এর খিলাফতকালে রিদ্দার যুদ্ধ শুরু হলো এবং তাতে কুরআন হিফযে পারদর্শী অনেক সাহাবী শহীদ হলেন, তখন বিষয়টি ওমর ইবনুল খাত্তাবকে শঙ্কিত করল এবং তিনি আবু বকরকে লিখিত অংশগুলো সংগ্রহ ও অনুলিপি করার পরামর্শ দিলেন। আবু বকর এতে সাড়া দিলেন এবং ওহী লেখকদের মধ্যে অন্যতম যায়েদ ইবনে সাবিতকে নির্দেশ দিলেন যাতে তিনি বিভিন্ন উপকরণে লিখিত অংশসমূহ এবং হাফেজদের অন্তর থেকে কুরআন সংগ্রহ করেন। অতঃপর তিনি তা অনুলিপি করেন এবং এই মূল অনুলিপিগুলো আবু বকরের নিকট সংরক্ষিত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর উম্মুল মুমিনীন হাফসা বিনতে ওমর তা নিজের কাছে সংরক্ষণ করেন। উসমান ইবনে আফফানের যুগে মুসলমানদের মাঝে পাঠরীতিতে কিছু মতভেদ দেখা দিলে উসমান এই মতভেদ নিরসনের লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নিলেন যে
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
يدون مصحفا واحدا مأخوذا من الاصول المحفوظة عند حفصة وأن ينسخ منها عدة مصاحف أعدها وأرسلها إلى الامصار الاسلامية ثم أحرق جميع الرقاع الاخرى كما أعدم كل ما سوى المصحف الموحد حتى لا يفتح باب الزيادة أو النقص أو التحريف في كتاب الله وخاصة بعد اختلاط العرب بأهالى البلاد غير العربية التى فتحوها وبذلك تحقق قول الله تعالى: إنا أنزلنا الذكر وإنا له لحافظون) .وسوف يبقى القرآن إلى ما شاء الله المعجزة الآلهية الخالدة وسوف يبقى كلام الله عزيزا بقدسيته غنيا بنفسه متلالا بآياته التى كلما مضى عليها الزمن إزدادت إشراقا وبهاء لانها أنوار آلهية وضاءة وطاقة علوية خلاقة وقوة روحية وثابة تدفع كل من يؤمن بها إلى العمل والجهاد والرقى حسا ومعنى، ولا يغيب عن البال أن كتاب الله حليف العلم والعلماء، وعدو الجهل والجهلاء وداعية الهدى والاهتداء ثم هو كتاب الله الذى لا يرضى مطلقا عن الجمود والركود والاستخذاء وما كانفي أي حال أو في أي عهد من عهود الزمان متعارضا أو متناقضا مع أصول العلم ومناهج الحكمة ونواميس الكون بل إنه كلما اكتشف العلماء جديدا من كليات العلوم وأصولها أو أي شئ من كنوز الحكمة وجدوا لها في كتاب الله مواضع وإشارات تنم عليها وتدل عليها.إن هذا القرآن هو كلام الله الحق وقد وعد المسلمين فيه بالتمكن في الارض والاستخلاف فيها بقوله تعالى: (وعد الله الذين آمنوا منكم وعملوا الصالحات ليستخلفنكم في الارض كما استخلف الذين من قبلهم وليمكنن لهم دينهم الذى ارتضى لهم وليبدلنهم من بعد خوفهم أمنا يعبدونني لا يشركون بى شيئا ومن كفر بعد ذلك فأولئك هم الفاسقون) فماذا جرى ونحن المسلمون المخاطبون بهذه الآيات وقد تخطانا هذا الوعد بأن يستخلفنا الله في الارض؟ أما آن لنا معاشر
হাফসার নিকট সংরক্ষিত মূল উৎসগুলো (الأصول) থেকে একটি একক মুসহাফ সংকলন করা এবং তা থেকে আরও বেশ কিছু অনুলিপি তৈরি করা, যা তিনি প্রস্তুত করে বিভিন্ন মুসলিম জনপদে পাঠিয়েছিলেন। এরপর তিনি অন্যান্য সকল পাণ্ডুলিপি পুড়িয়ে ফেলেন এবং এই ঐক্যবদ্ধ মুসহাফ ব্যতীত বাকি সব বিলুপ্ত করে দেন, যাতে আল্লাহর কিতাবে কোনো প্রকার বৃদ্ধি, হ্রাস কিংবা বিকৃতির (تحريف) দ্বার উন্মোচিত না হয়; বিশেষত বিজিত অঞ্চলগুলোর অনারব অধিবাসীদের সাথে আরবদের মেলামেশার পর। এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবতা রূপ পেয়েছে: "নিশ্চয়ই আমি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।"আল্লাহর ইচ্ছায় কুরআন চিরন্তন ঐশী মুজিজা হিসেবে টিকে থাকবে এবং আল্লাহর কালাম তার পবিত্রতায় মহিমান্বিত, আপন সত্তায় ঐশ্বর্যমণ্ডিত এবং এর আয়াতসমূহের জ্যোতিতে সমুজ্জ্বল হয়ে থাকবে। সময়ের আবর্তনে এই আয়াতগুলো আরও বেশি উদ্ভাসিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত হতে থাকবে; কারণ এগুলো হলো প্রদীপ্ত ঐশী নূর, উচ্চতর সৃজনশীল শক্তি এবং এক গতিশীল আধ্যাত্মিক বল, যা বিশ্বাসীদের কর্ম, জিহাদ এবং বস্তুগত ও আত্মিক উন্নতির দিকে ধাবিত করে। এটি বিস্মৃত হওয়া সমীচীন নয় যে, আল্লাহর কিতাব হলো জ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের পরম মিত্র, আর অজ্ঞতা ও মূর্খদের ঘোর শত্রু এবং হিদায়াত ও সঠিক পথপ্রাপ্তির আহ্বায়ক। উপরন্তু এটি আল্লাহর এমন এক কিতাব যা কোনোভাবেই স্থবিরতা, জড়তা ও হীনম্মন্যতাকে মেনে নেয় না। যা ছিল নাকোনো অবস্থাতেই বা যুগের কোনো পর্যায়ে বিজ্ঞানের মূলনীতি (أصول), প্রজ্ঞার পদ্ধতি ও মহাবিশ্বের নিয়মাবলির সাথে সাংঘর্ষিক কিংবা স্ববিরোধী। বরং বিজ্ঞানীরা যখনই বিজ্ঞানের মৌলিক শাখা ও এর উৎসসমূহ (أصول) থেকে নতুন কিছু অথবা প্রজ্ঞার ভাণ্ডার থেকে কোনো কিছুর সন্ধান পান, তখনই তারা আল্লাহর কিতাবে এমন সব স্থান ও ইঙ্গিত খুঁজে পান যা সে বিষয়টিকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে ও ফুটিয়ে তোলে।নিশ্চয়ই এই কুরআন মহান আল্লাহর সত্য বাণী। এতে তিনি মুমিনদের পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা লাভ ও প্রতিনিধিত্বের (استخلاف) প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) দান করবেন, যেমন তিনি প্রতিনিধিত্ব (استخلاف) দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদের এবং তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সুদৃঢ় করবেন যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই তাদের নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না। এরপর যারা কুফরি করবে তারাই তো ফাসিক।" তবে আমাদের কী হলো যে, আমরা এই আয়াতগুলোর সম্বোধিত মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবীতে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই প্রতিনিধিত্বের (استخلاف) প্রতিশ্রুতি আমাদের অতিক্রম করে গেল? হে মুসলিম সম্প্রদায়, আমাদের জন্য কি এখনো সময় আসেনি...
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المسلمين ونحن في كثرة من العدد ووفرة من الموارد أن نتحد ونتعاون ونستعيد أمجادنا بأن نتعلم كل ما هيأ الله في الارض من علم، وما يلهم به من عمل وصناعة ورقى مادى واختراع لكي نعد أنفسنا لحياتنا العصرية التى لا تتفوق فيها الامم إلا بالايمان وبالعلم وتطبيقاته، ولدينا من الحوافز القوية من كتاب الله وسنة رسوله ما يجعلنا خير أمة أخرجت الناس.وفى ختام هذا الباب يطيب لى أن أسجل ما سبق لى أن كتبته ونشرته في كتابي (مع الله) في باب كلام الله وهو القرآن ما يأتي بأسلوب الشعر الحر: كلام الله يتلوه أهل الذكر على مكث فيحدون هديه أجمل ما يكون.وهم يرددون تلاوته آناء اليل وأطراف النهار ما استطاعوا ولا يسأمون.وكل الذين يرتلونه بفهم يحسون قدسيته فتقشعر منهم الجلود ثم تلين.وكل الذين يتدبرون آياته يلهمون من أسراره وأهدافه أكثر وأمتنع مما يعلمون.وكل الذين يتفرغون لدراسته تنكشف لهم كنوز قيمة من العلوم والفنون وهكذا كل من يقرأ القرآن بفهم يجد فيه ينابيع من التقى تروى قلوب المؤمين.فتعلق يا أخي بحبل القرآن وأحرص على تلاوته وفهمه ولا تكن عنه من الغافلين لقد أنزل الله كتابه وقال له: كن لقرائك الابرار شفاء لما في الصدور.وكن نورا يهتدى به من يتعلمه ويحفظه ويتلوه خاشعا في مساء وبكور.وكن أيها القن آن مذكرا بالغيب وبحقيقة الحساب يوم البعث والنشور.وكن أيها القرآن معلما ومرشدا للناس بأن الآخرة هي دار القرار والمصير وأن هذه الحياة الدنيا متاع قليل، فلا يلههم الامل عن مآلهم بالغفلة والغرور.وأن الله سبحانه حسيب رقيب لا يغفل عن صغير من عملهم أو كبير.وهكذا القرآن على منوال الهدى ينسج الوعظ وعلى محور التقوى يدور.
মুসলমানদের জন্য আবশ্যক, যখন আমরা সংখ্যায় গরিষ্ঠ এবং সম্পদে সমৃদ্ধ, তখন ঐক্যবদ্ধ হওয়া, একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং আমাদের গৌরব পুনরুদ্ধার করা। এটি অর্জিত হবে আল্লাহ জমিনে যে জ্ঞানরাশি নির্ধারণ করেছেন তা শেখার মাধ্যমে এবং যে কাজ, শিল্প, বস্তুগত উন্নতি ও উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা তিনি দান করেন তার মাধ্যমে; যাতে আমরা নিজেদেরকে আধুনিক জীবনের জন্য প্রস্তুত করতে পারি, যেখানে জাতিসমূহ কেবল ঈমান, বিজ্ঞান এবং এর প্রায়োগিক ব্যবহারের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। আমাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহ (سنة) থেকে এমন শক্তিশালী উদ্দীপনা রয়েছে যা আমাদের মানবজাতির জন্য প্রেরিত শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে গড়ে তুলবে।এই পরিচ্ছেদের শেষে আমি যা পূর্বে আমার 'মা'আল্লাহ' (আল্লাহর সাথে) নামক গ্রন্থে 'আল্লাহর কালাম' তথা কুরআন বিষয়ক অধ্যায়ে লিখেছি ও প্রকাশ করেছি, তা মুক্ত ছন্দের শৈলীতে এখানে লিপিবদ্ধ করা সমীচীন মনে করছি: আল্লাহর বাণী যিকিরকারীগণ (أهل الذكر) ধীরে ধীরে পাঠ করেন এবং এর হিদায়াতকে (هديه) অত্যন্ত চমৎকারভাবে গ্রহণ করেন।তারা সাধ্যমতো দিবা-রাত্রির বিভিন্ন প্রহরে এর তিলাওয়াত পুনরাবৃত্তি করেন এবং এতে তারা ক্লান্তিবোধ করেন না।আর যারা অনুধাবন সহকারে এটি তারতীল (ترتيل) করেন, তারা এর পবিত্রতা অনুভব করেন; ফলে তাদের চামড়া রোমাঞ্চিত হয় এবং পরবর্তীতে তা কোমল হয়ে যায়।যারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে তাদাব্বুর (تدبر) করেন, তারা এর রহস্য ও লক্ষ্যসমূহ থেকে তাদের অর্জিত জ্ঞানের চেয়েও অধিক ও দুর্লভ অনুপ্রেরণা লাভ করেন।আর যারা এর অধ্যয়নে আত্মনিয়োগ করেন, তাদের কাছে জ্ঞান ও শিল্পের অমূল্য ভাণ্ডার উন্মোচিত হয়। এভাবে যে ব্যক্তিই অনুধাবন সহকারে কুরআন পাঠ করেন, তিনি এতে তাকওয়ার (تقوى) এমন ঝরনাধারা খুঁজে পান যা মুমিনদের অন্তরকে সিক্ত করে।অতএব হে ভাই, কুরআনের রজ্জুকে আঁকড়ে ধরুন এবং এর তিলাওয়াত ও অনুধাবনে সচেষ্ট হোন, আর এ বিষয়ে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আল্লাহ তাঁর কিতাব নাযিল করেছেন এবং একে বলেছেন: তোমার পুণ্যবান পাঠকদের অন্তরের ব্যাধির জন্য তুমি শেফা (شفاء) হয়ে যাও।এবং তুমি সেই নূর (نور) হয়ে যাও যার মাধ্যমে হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে সে ব্যক্তি, যে তোমাকে শিক্ষা করে, হিফজ (حفظ) করে এবং সকাল-সন্ধ্যায় বিনম্রভাবে (خاشعا) তিলাওয়াত করে।হে কুরআন, তুমি অদৃশ্যের (غيب) বিষয় এবং পুনরুত্থান ও হাশরের দিনের হিসাবের বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দাও।হে কুরআন, তুমি মানুষের জন্য শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক হও যে, আখেরাতই হলো চিরস্থায়ী নিবাস ও শেষ গন্তব্য এবং এই দুনিয়ার জীবন তুচ্ছ সম্পদ মাত্র; সুতরাং দীর্ঘ আশা যেন তাদের গাফিলতি ও অহংকারে লিপ্ত করে তাদের শেষ পরিণাম থেকে বিমুখ না করে।আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হিসাব গ্রহণকারী (حسيب) ও পর্যবেক্ষক (رقيب), তিনি তাদের ছোট-বড় কোনো আমল সম্পর্কেই গাফেল নন।এভাবেই কুরআন হিদায়াতের (هدى) আদলে উপদেশের বয়ন তৈরি করে এবং তাকওয়ার (تقوى) কেন্দ্রবিন্দুতে আবর্তিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
والقرآن معجزة الله الباقية من المعجزات التى جاءت وأنتهى أمرها بزمانها.ومعجزة القرآن جاءت كاملة خالدة لندوم إلى ما شاء الله تعالى لدوامها.وكل الكتب السماوية السابقة حرفت ولم يبق غير الاطلال من جلال أصولها.أما القرآن الكريم فهو باق على الدهر لا يتغير وآياته حافظة لرسمها ونصوصها.أليس في ذلك ما يقنع أهل الشك بالدليل القاطع على صدق آياته وإعجازها.وكم من جاجدين حاقدين يتمنون لو يعثرون على تناقص أو نقص في كمالها.وقد مضت القرون وما وجد المنقبون في آيات القرآن غير الحق في طياتها.
আল-কুরআন হলো আল্লাহর অবিনশ্বর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة), যা সেই সকল অলৌকিক নিদর্শনের (معجزات) অন্তর্ভুক্ত নয় যেগুলোর প্রভাব তাদের নির্দিষ্ট সময়ের সাথেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।কুরআনের অলৌকিকত্ব (معجزة) পূর্ণাঙ্গ ও চিরন্তন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যাতে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছানুযায়ী এটি স্থায়িত্ব লাভ করে।পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাব বিকৃত হয়েছে এবং সেগুলোর মূল মহিমার ধ্বংসাবশেষ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।তবে আল-কুরআন মহাকালের পরিক্রমায় অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এর আয়াতসমূহ নিজস্ব লিখনরীতি ও মূল পাঠ (نصوص) সংরক্ষণ করে চলেছে।এর মাঝে কি সংশয়বাদীদের জন্য এর আয়াতের সত্যতা ও অলৌকিকত্বের (إعجاز) ওপর অকাট্য প্রমাণের (دليل) মাধ্যমে আশ্বস্ত হওয়ার মতো উপকরণ নেই?কতই না বিদ্বেষী অস্বীকারকারী এমন রয়েছে যারা এর পূর্ণাঙ্গতার মাঝে কোনো বৈপরীত্য বা খুঁত পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।বহু শতাব্দী অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু সূক্ষ্ম অনুসন্ধানকারীরা কুরআনের আয়াতসমূহের ভাঁজে ভাঁজে সত্য ছাড়া অন্য কিছুর সন্ধান পায়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الباب الثاني: قد جاءكم من الله نور وكتاب مبين
দ্বিতীয় অধ্যায়: তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে এক জ্যোতি ও সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে
(খণ্ড: ১)
আল-কুরআন ওয়া ইজাজুহুল ইলমি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
القرآن روح الدعوة الاسلامية ومحور ثقافتها إن القرآن الكريم منذ نزل على محمد صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذاو هو ركيزة التوحيد الخالص وكنز العقائد الايمانية ومصدر الاحكام الشرعية ودليل الحقائق الكونية كما أنه الملهم بالفتوحات الالهية والباعث على الجهاد والاجتهاد في العبادة والطاعات، والحافز للعقول إلى التفكر في خلق السماوات والارض وغير ذلك من المجالات المتعلقة بالحسيات والمعنويات، فهو بحق مدار لكل حركات فكرية أو نهضات إصلاحية أو أعمال عمرانية وتقدمية على مدى الزمن.الله هو الخلاق العظيم: خلق الله الاكوان كلها من العدم، وأبدع صنعها وأتقن كل شئ من ظواهرها وخوافيها وجلائها ودقائقها، ولا تخفى عليه ذرة من مقوماتها وسننها ونواميسها فإذا ذكر سبحانه عنها شيئا في قرآنه فهو قول العليم الخبير الذى لا يعزب عن علمه شئ منها في الارض ولا في السماء، والقرآن بهذه المزايا الربانية هو المرجع الجامع لكل علم نافع أو نهج قويم يوصل إلى سعادة الدارين، والرسول صلوات الله وسلامه عليه يقول في حديث له: (من ابتغى الهدى في غير القرآن أضله الله) .ولا يتاح للبشرية إن تنتفع بالقرآن وتهتدى بنوره إلا إذا فهمت نصوصه لفظا ومعنى عن طريق تفسير واضح قائم على حقائقه المؤكدة التى تبين مقاصده ومراميه بغير تأويل له يراد به غايات دنيوية أو منافع ذاتية، ولهذا عنى المسلمون بتفسير القرآن واهتموا بفهم حقائقه اهتماما عظيما على مدى العصور، ولابد لنا قبل
আল-কুরআন হলো ইসলামি দাওয়াতের প্রাণ এবং এর সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র। মহান কুরআন মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশুদ্ধ তাওহীদের ভিত্তি, ঈমানি আকীদার ভাণ্ডার, শরীয়তের বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية)-এর উৎস এবং মহাজাগতিক সত্যের পথপ্রদর্শক। একইভাবে এটি খোদায়ী বিজয়ের অনুপ্রেরণাদানকারী এবং ইবাদত ও আনুগত্যের ক্ষেত্রে জিহাদ ও কঠোর সাধনার (الاجتهاد) উদ্দীপক। এটি আসমান ও জমিনের সৃষ্টি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও আধ্যাত্মিক বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ক্ষেত্রে চিন্তাভাবনা করার জন্য বিবেককে উৎসাহিত করে। প্রকৃতপক্ষে, এটি কালপরিক্রমায় প্রতিটি বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলন, সংস্কারমূলক জাগরণ অথবা গঠনমূলক ও প্রগতিশীল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু।আল্লাহ মহান স্রষ্টা: তিনি শূন্য থেকে সমস্ত মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, এর নির্মাণশৈলীকে চমৎকার করেছেন এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন এবং স্থূল ও সূক্ষ্ম প্রতিটি বিষয়কে নিখুঁত করেছেন। এর কোনো উপাদান, নিয়ম বা প্রাকৃতিক বিধান তাঁর অগোচরে নয়। সুতরাং মহান আল্লাহ যখন তাঁর কুরআনে এ সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেন, তখন তা সেই সর্বজ্ঞ ও সম্যক অবগত সত্তার বাণী যাঁর জ্ঞান থেকে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই গোপন থাকে না। এই খোদায়ী বৈশিষ্ট্যের কারণে কুরআন হলো প্রতিটি উপকারী জ্ঞান বা সঠিক পথের এক পূর্ণাঙ্গ উৎস, যা উভয় জগতের সৌভাগ্যের দিকে নিয়ে যায়। আর রাসূল (সা.) তাঁর একটি হাদিসে বলেন: "যে ব্যক্তি কুরআন ছাড়া অন্য কোথাও হেদায়েত খুঁজবে, আল্লাহ তাকে পথভ্রষ্ট করবেন।"মানবজাতির পক্ষে কুরআনের দ্বারা উপকৃত হওয়া এবং এর আলোতে হেদায়েত পাওয়া সম্ভব নয়, যতক্ষণ না এর শব্দ ও অর্থের সঠিক মর্ম একটি সুস্পষ্ট তাফসীরের মাধ্যমে অনুধাবন করা যাবে, যা এমন সুনিশ্চিত সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহকে স্পষ্ট করে; কোনো রূপ জাগতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অপব্যাখ্যা (تأويل) ব্যতিরেকে। একারণেই মুসলমানরা কুরআনের তাফসীরের প্রতি মনোনিবেশ করেছেন এবং যুগ যুগ ধরে এর প্রকৃত সত্য অনুধাবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন। আর আমাদের জন্য অবশ্যই এর আগে...