(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: -)
التبيين لأسماء المدلسين القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: التبيين لأسماء المدلسين
المؤلف: برهان الدين الحلبي أبو الوفا إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسي الشافعي سبط ابن العجمي (ت 841هـ)
المحقق: يحيى شفيق حسن
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الاولى 1406 هـ - 1986 م
عدد الأجزاء: 1
في الحاشية: أهم تعليقات التحقيق
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মুদাল্লিসগণের নামের বর্ণনা বিভাগ: জীবনী ও স্তরায়ন
গ্রন্থ: আত-তাবয়ীন লি আসমায়িল মুদাল্লিসীন
লেখক: বুরহানুদ্দীন আল-হালাবী আবুল ওয়াফা ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন খালীল আত-তরাবুলুসী আশ-শাফিঈ সিবত ইবনুল আজমী (মৃত্যু ৮৪১ হিজরি)
সম্পাদক: ইয়াহইয়া শফিক হাসান
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম ১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ১
টীকায়: সম্পাদনার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যসমূহ
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
تصديرالحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله ولي الصالحين وأشهد أن محمدا عبد الله ورسوله نبي الهدى وخاتم النبيين.
أما بعد
لقد خص الله تعالى أمة الاسلام بأعظم خاصية حفظ الله بها دينه وشريعته متمثلة في علم الاسناد بحيث تم نقل الدين على أعين الرجال ومسامع الحافظين
… فما تجد من أمر من أمور الدين إلا وأمكنك ان تعلم صحة نسبته إلى تعالى أو نبيه صلى الله عليه وسلم من عدمه
…وسخر الله تعالى لحفط شريعته قرآنا وسنة كتابا وحكمة رجالا وعلوما وإمكانات، فأما الرجال فحفاظ هذه الامة وعدولها وثقاتهم وضابطوهم وأما العلوم فكل العلوم التي تناولت كل أمر يخص أمر تمحيص الخبر الصحيح الثابت نسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم من غيره من كتب تراجم وتواريخ الرجال وكتب في علل الحديث وآفات الاسناد ومدونات في قواعد قبول الخبر أورده وموازين التحمل والاداء وأنواع العلل ومراتب الصحة ودرجات العدالة والتوثيق
…ولقد ظهر في عهدنا الحديث أنواع من الفنون والعلوم الحديثية لم تكن موجودة بحجمها الرائع هذا أيام السابقين من الحفاظ والائمة مما تبعه بالحتم ظهور موازين اصطلاحية ومقررات نقلية لا يمكن لاحد من الناس أجمعين إنسهم وجنهم، تقيهم وفاجرهم، أم يرد منها شعرة ولا ينكر منها شيئا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি নেককারদের অভিভাবক। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, হেদায়েতের নবী এবং নবীগণের সমাপ্তিকারী।
অতঃপর,
আল্লাহ তাআলা উম্মতে ইসলামকে এক মহান বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দ্বীন ও শরীয়তকে হিফাজত করেছেন; আর তা হলো সনদতত্ত্ব (ইলমুল ইসনাদ)। এর মাধ্যমে ব্যক্তিবর্গের চাক্ষুষ তত্ত্বাবধানে এবং হাফেজদের শ্রবণলব্ধ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দ্বীন স্থানান্তরিত হয়েছে
… ফলে দ্বীনের যেকোনো বিষয়ই আপনি পান না কেন, তা মহান আল্লাহর দিকে অথবা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত হওয়ার বিশুদ্ধতা বা অসারতা সম্পর্কে আপনি জানতে সক্ষম হবেন
…আল্লাহ তাআলা তাঁর শরীয়ত—কুরআন ও সুন্নাহ, কিতাব ও হিকমত—হিফাজতের জন্য কতিপয় ব্যক্তি, জ্ঞান ও উপায়-উপকরণকে নিয়োজিত করেছেন। ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রে তারা হলেন এই উম্মতের হাফেজগণ, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিবর্গ, নির্ভরযোগ্য ও নির্ভুল বর্ণনাকারীগণ। আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে সেসব জ্ঞান, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধিত বিশুদ্ধ ও প্রমাণিত সংবাদকে অন্যদের থেকে পৃথক করার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে; যেমন—বর্ণনাকারীদের জীবনী ও ইতিহাসের গ্রন্থাবলি, হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) ও সনদের আপদসমূহ সংক্রান্ত গ্রন্থাবলি, সংবাদ গ্রহণ ও বর্জনের নিয়মাবলি সম্পর্কিত সংকলনসমূহ, হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের মানদণ্ডসমূহ, বিভিন্ন প্রকার ত্রুটি, বিশুদ্ধতার পর্যায়সমূহ এবং ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভরযোগ্যতার স্তরসমূহ
…বর্তমান যুগে হাদিস শাস্ত্রের এমন কিছু শাখা ও জ্ঞান আত্মপ্রকাশ করেছে, যা পূর্ববর্তী হাফেজ ও ইমামগণের যুগে এই বিস্ময়কর ব্যাপকতায় বিদ্যমান ছিল না। ফলশ্রুতিতে অনিবার্যভাবে এমন কিছু পারিভাষিক মানদণ্ড ও বর্ণনাগত নীতিমালা প্রণীত হয়েছে যে, মানুষ ও জিন, পরহেজগার ও পাপাচারী—সমগ্র সৃষ্টির কারো পক্ষেই এর সামান্যতম অংশও প্রত্যাখ্যান করা কিংবা কোনো কিছু অস্বীকার করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৪)
ظهرت في هذه الآونة فهارس حديثية اختلفت أحجامها ومنهج التصنيف فيها فمنها المعاجم، ومنها الموسوعات ومنها موسوعة الموسوعات، ولقد أبرز الصديق محمد السعيد بسيوني آل زغلول الاطراف وهي موسوعة حازت إعجاب الخاصة ودهشة العامة وتهافت خاصة الخاصة عليها - وقام الاستاذ الفاضل محمد السعيد زغلول بمنحي نسخة مخطوطة من الموسوعة اشتريتها (1) منه وتضم هذه الموسوعة بالشكل غير المعدل أطراف أحاديث مائة كتاب من كتب السنة والسيرة والفقه والرجال والعلل والمصنفات والمسانيد وغيرها..رتبها هجائيا على أطراف الاحاديث ومقاطعها وهي طريقة تعتبر من أحسن طرق الفهرسة راجع كتاب " منهج التصنيف والفهرسة في الحديث والعلل " للدكتور عبد الغفار سليمان عبد الغفار البنداري، حيث قام بعمل مؤلف ضخم قيم للغاية في منهج الفهارس والفهرسة ومناهج التصنيف تناول فيه بابا غاية في الاهمية في وصف موسوعة الفهارس التي قام بإعدادها الشيخ الفاضل محمد السعيد بسيوني زغلول وتناول في هذا الباب فوائد الموسوعة والانقلاب العلمي الحديثي الذي أحدثته هذه الموسوعة في عالم التحقيقات والتصنيفات والعلل والحديث بل والفقه نفسه..وقد أطلعه الدكتور عبد الغفار على بعض فوائد هذه الموسوعة في منهج مقارنة المتون - وهو ثمرة ناضجة حية أحدثت صحوة حديثية سيعم نورها وينتشر ضيأوها أتيا إن شاء الله تعالى
…وقد تبين من خلال عملية فهرسة المتون هجائيا من حوالى مائة وخمسين كتابا ومصنفا حتى الآن الاختلافات التي دخلت على المتون من تصحيفات أو تحريفات أو تبديلات لفظية أو معنوية أو إسقاطات أو حذف أو ايجاز أو روايات بالمعنى أو بالتصور أو تدليسات المتن - وهو علم سنتعرض له هنا
--------------------------------------------
সম্প্রতি বিভিন্ন আকারের ও বিন্যাস পদ্ধতির হাদিস নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে অভিধানসমূহ, বিশ্বকোষসমূহ এবং বিশ্বকোষের বিশ্বকোষ। সুহৃদ মুহাম্মদ আল-সাঈদ বাসইউনি আল-যাগলুল 'আতরাফ' (হাদিসের প্রথমাংশ) প্রকাশ করেছেন, যা এমন একটি বিশ্বকোষ যা বিশেষজ্ঞ মহলের প্রশংসা ও সাধারণ মানুষের বিস্ময় কুড়িয়েছে এবং গবেষক মহলে এটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুহাম্মদ আল-সাঈদ যাগলুল আমাকে এই বিশ্বকোষের একটি পাণ্ডুলিপি সংস্করণ প্রদান করেছিলেন যা আমি (১) তাঁর নিকট থেকে ক্রয় করেছি। এই বিশ্বকোষটি এর অপরিবর্তিত অবস্থায় সুন্নাহ, সিরাত, ফিকহ, রিজাল (বর্ণনাকারী), ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি), মুসান্নাফ, মুসনাদ এবং অন্যান্য বিষয়ের ১০০টি গ্রন্থের হাদিসের প্রথমাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এগুলোকে হাদিসের প্রথমাংশ ও বাক্যাংশের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন, যা নির্ঘণ্ট তৈরির অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হয়। এ বিষয়ে ডক্টর আবদুল গাফফার সুলাইমান আবদুল গাফফার আল-বান্দারীর "মানহাজুত তাসনিফ ওয়াল ফাহরাসা ফিল হাদিস ওয়াল ইলাল" (হাদিস ও ইলাল শাস্ত্রে বিন্যাস ও নির্ঘণ্ট পদ্ধতি) গ্রন্থটি দেখা যেতে পারে; যেখানে তিনি নির্ঘণ্ট ও বিন্যাস পদ্ধতির ওপর অত্যন্ত মূল্যবান ও বিশাল এক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। তিনি সেখানে শেখ ফাদিল মুহাম্মদ আল-সাঈদ বাসইউনি যাগলুল কর্তৃক সংকলিত এই বিশ্বকোষটির বর্ণনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচ্ছেদ আলোচনা করেছেন। উক্ত পরিচ্ছেদে তিনি এই বিশ্বকোষের উপকারিতা এবং তাহকিক (গবেষণা), বিন্যাস, ইলাল ও হাদিস, এমনকি ফিকহ শাস্ত্রের জগতেও এটি যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ডক্টর আবদুল গাফফার তাঁকে 'মতন' বা হাদিসের মূল পাঠের তুলনামূলক পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এই বিশ্বকোষের কিছু উপকারিতা সম্পর্কে অবহিত করেছেন—যা একটি জীবন্ত ও পরিপক্ক ফল এবং এটি হাদিস শাস্ত্রে এমন এক জাগরণ সৃষ্টি করেছে যার আলো ইনশাআল্লাহ অদূর ভবিষ্যতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে …
প্রায় দেড়শত গ্রন্থ ও মুসান্নাফ থেকে বর্ণানুক্রমিকভাবে হাদিসের মূল পাঠের (মতন) নির্ঘণ্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় এ যাবৎ পাঠ্যের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে; যেমন—তাসহীফ (অক্ষর বা নুকতার ভুল), তাহরিফ (শব্দ বিকৃতি), শাব্দিক বা অর্থগত পরিবর্তন, বিচ্যুতি, বিলোপন, সংক্ষিপ্তকরণ, অর্থভিত্তিক বর্ণনা কিংবা ধারণাভিত্তিক বর্ণনা অথবা মতনের তাদলীস—এটি এমন এক বিদ্যা যা নিয়ে আমরা এখানে আলোকপাত করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
بإيجاز - وقد أسهبه في كتابه (مناهج مقارنة المتون) وهو سيطبع إن شاء الله قريبا.
وهكذا من علل أخرى تداخل منهج مقارنة المتون - وقد عرضه منهجا قيما للغاية في كيفية ضبط المتن بعد المقارنة واستخراج أصح ألفاظ الرواية الواحدة - رغم صحة أسانيدها مع اختلاف ألفاظها بل وسياقها، وقد أخرج الدكتور عبد الغفار تحقيقا على كتاب (الديباج المذهب) للسيد الشريف علي بن محمد الجرجاني الحنفي تناول فيه علل المتن باختصار أخرجته دار الحديث للنشر - القاهرة.
كما تعرضنا نحن لتفصيلات هذا المنهج في تحقيق مفصل على هامش كتاب " الانصاف في بيان سبب الاختلاف في الاحكام الفقهية " للشيخ ولي الله أحمد ابن عبد الرحيم الفاروقي الدهلوي (1110 - 1176) وهو تحت الطبع إن شاء الله تعالى..كما تناوله هذا العلم في كتب كثيرة ستخرج إلى حيز النور قريبا ان شاء الله والله الموفق
সংক্ষেপে - এবং তিনি এটি তাঁর (মানাহিজু মুকারানাতিল মুতুন) গ্রন্থে সবিস্তারে আলোচনা করেছেন, যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই মুদ্রিত হবে।
এবং অনুরূপভাবে অন্যান্য সূক্ষ্ম ত্রুটির (ইলাল) ক্ষেত্রেও মূলপাঠ তুলনার পদ্ধতিটি (মানহাজু মুকারানাতিল মুতুন) সমন্বিত হয়েছে—তিনি তুলনার পর মূলপাঠের নির্ভুলতা নিরূপণ এবং একক বর্ণনার সর্বাধিক সঠিক শব্দাবলী নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে একে অত্যন্ত মূল্যবান একটি পদ্ধতি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন—যদিও সেগুলোর সনদসমূহ বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও শব্দগত এমনকি প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা থাকতে পারে। ড. আব্দুল গাফফার সাইয়্যেদ শরীফ আলী বিন মুহাম্মদ আল-জুরজানী আল-হানাফী রচিত (আদ-দীবাজুল মুদহহাব) গ্রন্থের একটি সম্পাদনা (তাহকীক) প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি সংক্ষেপে মূলপাঠের ত্রুটিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন; এটি কায়রোর দারুল হাদীস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
অনুরূপভাবে আমরাও শেখ ওয়ালীউল্লাহ আহমদ ইবনে আব্দুর রহীম আল-ফারুকী আদ-দেহলভী (১১১০ - ১১৭৬ হিজরী) রচিত "আল-ইনসাফ ফী বায়ানি সাবাবিল ইখতিলাফ ফিল আহকামিল ফিকহিয়্যাহ" গ্রন্থের একটি বিস্তারিত সম্পাদনার টীকায় এই পদ্ধতির বিবরণ তুলে ধরেছি, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা বর্তমানে মুদ্রণাধীন রয়েছে। এছাড়া এই বিষয়টি আরও অনেক গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে যা ইনশাআল্লাহ অচিরেই আলোর মুখ দেখবে। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
نبذة عن تدليس المتنلقد تناول اهل هذا الفن من أئمة النقد تدليس السند وأسهبوا في تفصيلاته حتى عدوا حوالى خمسة أو ستة أنواع منه، من ذلك تدليس الاسناد، ومنه تدليس الشيوخ وكذا تدليس التسوية وكذا تدليس القطع وتدليس العطف.
وقد جاء وصف لذلك في كتاب - تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس تحقيق الدكتور عبد الغفار البنداري وزيدان - فليراجع.
[إن من يدلس في الاسناد لا يعظم عليه أن يدلس في المتن لان الباعث النفسي واحد - فكما أن هناك من يستبيح تدليس المتن أو تسويته غير أن اكتشاف مدلسي الاسناد سهل بخلاف مدلسي المتن والسبب عدم توجه الاولين بدراسة ومقارنة المتون وإفراد رسائل أو كتب خاصة بعلل المتن مثلما حدث في دراسة الاسانيد. انني لا أستطيع ان أحصي أعداد المصنفات التي تناولت الاسانيد وعللها، وعلى النقيض فلا أكاد أرى أو اقع على مصنفات أو كتب في دراسة المتن وعلله إلا بعض الرسائل التي برز بعضها في شكل فردي بصورة غير متكاملة - بغير قصد لمنهج شامل أو متكامل في هذا المجال - ولاجل هذا امتلات كتب الفقه التي أسست قواعدها الشرعية على أساس الاستدلال بموضوع المتن اختلافا ضاربا ومتشابكا في أصغر المسائل وأكبرها وفي أبسطها وأخطرها - ذلك لانك لو تصورت مثلا أن رواية واحدة جاءت بأكثر من لفظ في بعضها اختصار وفي بعضها إجمال وفي بعضها إبدال وفي بعضها إدراج أو
মতনের তাদলীস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনাএই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ সমালোচক ইমামগণ সনদের তাদলীস নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এর বিস্তারিত বিবরণে অত্যন্ত গভীরতা অবলম্বন করেছেন, এমনকি তাঁরা এর প্রায় পাঁচ বা ছয়টি প্রকার বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে তাদলীসুল ইসনাদ, তাদলীসুশ শুইউখ, তেমনিভাবে তাদলীসুত তাসবিয়াহ, এবং তাদলীসুল কাত’ ও তাদলীসুল আত্বফ।
এর বর্ণনা ‘তারিফু আহলিত তাকদিস বি মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত তাদলিস’ নামক গ্রন্থে এসেছে (যা ডক্টর আবদুল গাফফার আল-বান্দারি ও যায়দান কর্তৃক সম্পাদিত), সুতরাং বিষয়টি সেখান থেকে দেখে নেওয়া যেতে পারে।
[নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি সনদের ক্ষেত্রে তাদলীস (তথ্য গোপন বা জালিয়াতি) করে, তার জন্য মতনের ক্ষেত্রে তাদলীস করা কোনো কঠিন বিষয় নয়; কারণ উভয় ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক প্রেরণা অভিন্ন। ঠিক যেমন এমন লোক রয়েছে যারা মতনের তাদলীস বা মতনের তাসবিয়াহ করাকে বৈধ মনে করে, তবে সনদের তাদলীসকারীদের শনাক্ত করা সহজ হলেও মতনের তাদলীসকারীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়। এর কারণ হলো পূর্ববর্তীগণ মতনসমূহ নিয়ে গবেষণা ও তুলনামূলক পর্যালোচনার প্রতি তেমন মনোযোগ দেননি এবং সনদের ইল্লাত বা দোষ-ত্রুটি নিয়ে গবেষণার ন্যায় মতনের দোষ-ত্রুটি বিষয়ে স্বতন্ত্র কোনো রিসালা বা কিতাবও রচনা করেননি। আমি ঐসব রচনার সংখ্যা গণনা করতে সক্ষম নই যেগুলোতে সনদ এবং তার দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পক্ষান্তরে, মতনের গবেষণা এবং এর দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে আমি তেমন কোনো গ্রন্থ বা কিতাব পাই না বললেই চলে, কেবল কিছু হাতেগোনা রিসালা ছাড়া, যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই ক্ষেত্রে কোনো পূর্ণাঙ্গ বা সমন্বিত পদ্ধতির অনুসরণ ছাড়াই অসম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আর এই কারণেই ফিকহ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ—যেগুলোর শারয়ী মূলনীতিসমূহ মতনের দলিল গ্রহণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত—ছোট-বড় এবং সহজ ও জটিল উভয় প্রকার মাসআলার ক্ষেত্রে গভীর ও জট পাকানো মতভেদে ভরে গেছে। কারণ, আপনি যদি কল্পনা করেন যে, উদাহরণস্বরূপ একটি রেওয়ায়েত একাধিক শব্দে বর্ণিত হয়েছে, যার কোনোটিতে সংক্ষেপণ, কোনোটিতে অস্পষ্টতা, কোনোটিতে শব্দ পরিবর্তন এবং কোনোটিতে অনুপ্রবেশ (ইদরাজ) ঘটেছে অথবা...
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهم أو خطأ أو سوء تأويل فلك ان تتخيل كم الخلاف الفقهي الذي سيرتبه كل صاحب مذهب يستدل بجزء من هذه المتون المختلفة للحديث الواحد ولك أيضا أن تسرتسل في الخيال: فكم يكون حجم وشكل المسائل المتضاربة والمتناقضة وبالتالي حجم وكم الاحكام المختلفة المتضاربة في حادثة واحدة لصحابي واحد في مقام واحد.
إن التدليس في المتن يكون: إما في سياق أو في الالفاظ، أما أنواع تدليسات المتن:
1 - تدليس السياق: وهو إيراد الرواية بسياق يفيد المعنى آخر محقق للغرض من ذلك.
2 - وأما تدليس اللفظ فهو روايته بلفظ مرادف لغرض إحداث قدر من التعمية دون طمس لاصل الحكم لان أصل المعنى موجود ومن أسبابه دخول الشك في سماع أحد اللفظين واستحسان اللفظ المدلس، أو ايراد الرواية بأحد اللفظين لكونه سمعهما مع أنه سمع اللفظ الآخر بتأكيد أكثر إلا أنه لم يورده.
3 - وأما تدليس التسوية فإسقاط أحد الالفاظ من العبارة تم تسوية طرفي الحديث فيستوي المتن على المعنى المراد.
ومن أمثلة ذلك حديث عبد الله بن عمرو قال [لما نهى النبي عن (
… ) الاسقية قيل للنبي: ليس كل الناس يجد سقاء فرخص لهم في الجر غير المزفت] .
فقد سقط من الحديث (النبيذ إلا في) وكان ينبغي أن يكون مكانها في الحديث بين القوسين (
… ) : بين لفظي " عن " و " الاسقية " إن هذا الاسقاط أعطى حكما زائفا إذ صور أن المقصود هو النهي عن الاسقية حيث الاصل الواقع عليه النهي " النبيذ إلا في " وسوي المتن - وبرد المحذوف إلى وضعه في الحديث يصير كالآتي: [لما نهى النبي عن (النبيذ إلا في) الاسقية
… الخ] الحديث.
এটি একটি ভ্রম, ভুল অথবা অপব্যাখ্যা; সুতরাং আপনি কল্পনা করতে পারেন যে, প্রতিটি মাযহাবের অনুসারী যখন একটি হাদিসের এই ভিন্ন ভিন্ন পাঠের (মতন) অংশ বিশেষ দিয়ে দলিল পেশ করবেন, তখন এর ফলে কতটা ফিকহি মতপার্থক্য তৈরি হবে। আপনি আরও গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন: একজন সাহাবীর ক্ষেত্রে একটি একক স্থানে ঘটা একটি মাত্র ঘটনার প্রেক্ষিতে কত বিশাল ও বৈচিত্র্যময় সাংঘর্ষিক ও পরস্পরবিরোধী মাসআলা এবং ফলশ্রুতিতে কত অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন ও বিপরীতমুখী বিধান বা হুকুম সৃষ্টি হতে পারে।
মূল পাঠে (মতনে) তাদলীস দুইভাবে হতে পারে: হয় প্রেক্ষাপটে, অথবা শব্দে। আর মতনের তাদলীসের প্রকারগুলো হলো:
১ - প্রেক্ষাপটের তাদলীস: এটি হলো কোনো বর্ণনাকে এমন একটি প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা যা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অন্য একটি অর্থ প্রদান করে।
২ - আর শব্দের তাদলীস হলো, মূল বিধানের ভিত্তি বিলুপ্ত না করে কিছুটা অস্পষ্টতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো বর্ণনাকে সমার্থক শব্দ দিয়ে বর্ণনা করা; কারণ মূল অর্থ সেখানে বিদ্যমান থাকে। এর অন্যতম কারণ হলো দুটি শব্দের যেকোনো একটি শোনার ব্যাপারে সন্দেহ জাগা এবং তাদলীসকৃত শব্দটিকে পছন্দ করা, অথবা কোনো বর্ণনাকে দুটি শব্দের একটির মাধ্যমে উল্লেখ করা যেহেতু সে দুটিই শুনেছে, যদিও সে অন্য শব্দটি অধিকতর নিশ্চয়তার সাথে শুনেছিল কিন্তু সেটি সে উল্লেখ করেনি।
৩ - আর সমতাকরণের তাদলীস (তাদলীসুত তাসউইয়াহ) হলো বাক্য থেকে কোনো শব্দ বাদ দেওয়া, যাতে হাদিসের দুই প্রান্তের সামঞ্জস্য বিধান করা যায় এবং এর ফলে মতনটি কাঙ্ক্ষিত অর্থের অনুকূলে স্থির হয়।
এর একটি উদাহরণ হলো আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: [যখন নবী (সা.) (
… ) পাত্রসমূহ সম্পর্কে নিষেধ করলেন, তখন নবী (সা.)-কে বলা হলো: সবার কাছে মশক (চামড়ার পাত্র) নেই। তখন তিনি তাদের জন্য আলকাতরা মাখানো পাত্র ব্যতীত মাটির পাত্র ব্যবহারের অনুমতি দিলেন]।
এখানে হাদিস থেকে "(পাত্রে রাখা) নবীয ব্যতীত" অংশটি বাদ পড়েছে, যা হাদিসে বন্ধনীভুক্ত (
… ) স্থানে অর্থাৎ "সম্পর্কে" এবং "পাত্রসমূহ" শব্দ দুটির মাঝখানে থাকা উচিত ছিল। এই বিচ্যুতিটি একটি ভ্রান্ত বিধান প্রদান করেছে, কারণ এটি এমনভাবে চিত্রায়িত করেছে যেন মূল উদ্দেশ্য ছিল পাত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, অথচ যে বিষয়ের ওপর প্রকৃতপক্ষে নিষেধাজ্ঞা এসেছিল তা হলো "পাত্রে রাখা নবীয"। এভাবে মতনটিকে সমান করা হয়েছে - আর বিলুপ্ত অংশটিকে হাদিসে তার স্বস্থানে ফিরিয়ে আনলে তা নিম্নরূপ হবে: [যখন নবী (সা.) (পাত্রে রাখা নবীয ব্যতীত) পাত্রসমূহ সম্পর্কে নিষেধ করলেন... ইত্যাদি] হাদিস।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
وهذا المتن متوافق تماما مع ما رواه مسلم (6 / 98) ولفظه [قال رسول الله صلى الله عليه وسلم نهيتكم عن (النبيذ إلا في) سقاء واشربوا في الاسقية كلها ولا تشربوا مسكرا] من رواية بريدة عن أبيه مرفوعا.
فالحديث الناقص يفيد بأن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن الاسقية، والحديث الكامل يفيد بأمره بها إذ النهي عن النبيذ أصلا - فالفرق بين النص ذاته قبل وبعد تسويته بعد الحذف هو الفرق بين الاثبات والنفي. أما كيف عرف ذلك فبمقارنة ألفاظ الرواية كلها النازلة في صحيحي البخاري ومسلم وغيرهما مما صح سنده.
والفارق بين الاسقاط (الحذف) وبين إسقاط التسوية أنك تلمح في السياق بعد المقارنة براعة التسوية بين طرفي الحديث.
إن أي عاقل أو مسلم متبصر يأبى أن يستدل بالحديث الناقص بعد التأكد من اعتلاله لانه حتما مناقض لمراد الله وحكمة لان المراد النهي عن الانتباذ والمحرف هو النهي عن الاسقية وشتان بينهما.
4 - ومن التدليس أيضا تدليس الحذف إذ يتصرف أحد الرواة بحذف ألفاظ أو عبارات من النصوص وإليك أمثلة من هذا الحذف:
روى البخاري في صحيحه (391 - فتح الباري) من حديث ميمون بن سياه عن أنس مرفوعا [من صلى صلاتنا واستقبل قبلتنا وأكل ذبيحتنا فذلك المسلم الذي له ذمة الله وذمة رسوله فلا تخفروا الله في ذمته] .
وهذا لفظ مختصر محذف منه ما جاء كاملا في السياق التالي فقد روى البخاري (393 - فتح الباري) نفس الرواية من نفس حديث ميمون بن سياه عن أنس بن مالك (يسأله) قال: يا أبا حمزة ما يحرم دم العبد وماله فقال: من شهد أن لا إله إلا الله واستقبل قبلتنا وصلى صلاتنا وأكل ذبيحتنا فهو المسلم له ما للمسلم وعليه ما على المسلم] فحذف من أول الحديث في الرواية السابقة قوله
এবং এই মতনটি (পাঠ্যটি) ইমাম মুসলিম (৬/৯৮) যা বর্ণনা করেছেন তার সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার শব্দচয়ন হলো: [আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমি তোমাদেরকে চামড়ার পাত্র ব্যতীত (নাবীয তৈরি করতে) নিষেধ করেছিলাম, এখন তোমরা সকল প্রকার পাত্রে পান করো, তবে কোনো মাদকদ্রব্য পান করো না]। এটি বুরাইদাহ কর্তৃক তার পিতার সূত্রে বর্ণিত একটি মারফু হাদীস।
সুতরাং অপূর্ণাঙ্গ হাদীসটি এই অর্থ প্রদান করে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানপাত্র ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, অথচ পূর্ণাঙ্গ হাদীসটি তা ব্যবহারের আদেশ প্রদান করে; কেননা নিষেধাজ্ঞাটি মূলত ছিল নাবীয (তৈরির পদ্ধতি) সম্পর্কে। ফলে মূল পাঠের মধ্যে বিলোপনের (হযফ) মাধ্যমে কাটছাঁট (তাসবিয়াহ) করার আগের এবং পরের পার্থক্যটি হলো ইতিবাচকতা এবং নেতিবাচকতার মধ্যকার পার্থক্যের মতো। আর এটি কীভাবে জানা গেল? তা জানা গেছে সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য কিতাবে বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত এই বর্ণনার সকল শব্দচয়নের তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে।
আর সাধারণ বিলোপন (হযফ) এবং কাটছাঁটমূলক বিলোপনের (ইসকাতুত তাসবিয়াহ) মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, তুলনামূলক আলোচনার পর আপনি প্রসঙ্গের মধ্যে হাদীসের দুই প্রান্তের মাঝে কাটছাঁট করার চতুরতা বা মুন্সিয়ানা লক্ষ্য করতে পারবেন।
যেকোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি বা বিচক্ষণ মুসলিম এই অপূর্ণাঙ্গ হাদীসটির ত্রুটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর তা দ্বারা দলিল পেশ করতে অস্বীকার করবেন। কারণ এটি নিশ্চিতভাবেই আল্লাহর উদ্দেশ্য ও হিকমতের পরিপন্থী। কেননা (আল্লাহর) উদ্দেশ্য ছিল নাবীয তৈরি বা ভিজিয়ে রাখা নিষেধ করা, আর বিকৃত অর্থটি হলো পানপাত্র ব্যবহার করা নিষেধ করা; অথচ এই দুইয়ের মাঝে আসমান-যমীন ব্যবধান রয়েছে।
৪ - তাদলীসের (প্রতারণা) অন্তর্ভুক্ত একটি হলো বিলোপনমূলক তাদলীস (তাদলীসুল হযফ), যেখানে কোনো বর্ণনাকারী পাঠ্যের শব্দ বা বাক্য বাদ দিয়ে পরিবর্তন ঘটান। এই ধরণের বিলোপনের কিছু উদাহরণ নিচে দেওয়া হলো:
ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৩৯১ - ফাতহুল বারী) মাইমুন বিন সিয়াহ-এর সূত্রে আনাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে বর্ণনা করেছেন: [যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করে, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে এবং আমাদের যবেহকৃত পশু ভক্ষণ করে, সে-ই সেই মুসলিম যার জন্য আল্লাহর জিম্মাদারি (নিরাপত্তা) ও তাঁর রাসূলের জিম্মাদারি রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর জিম্মাদারি ক্ষুণ্ণ করো না।]
এটি একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ যা থেকে কিছু অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গভাবে এসেছে। ইমাম বুখারী (৩৯৩ - ফাতহুল বারী) একই বর্ণনায় মাইমুন বিন সিয়াহ থেকে আনাস বিন মালিক (রা.)-এর সূত্রে (তাকে জিজ্ঞাসা করার কথা) বর্ণনা করেছেন। তিনি (মাইমুন) বললেন: হে আবু হামযাহ, কোন জিনিসটি কোনো বান্দার রক্ত ও সম্পদকে হারাম (সুরক্ষিত) করে? তিনি বললেন: [যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমাদের কিবলার দিকে মুখ করে, আমাদের মতো সালাত আদায় করে এবং আমাদের যবেহকৃত পশু ভক্ষণ করে, তবে সে-ই মুসলিম। একজন মুসলিম যে সুযোগ-সুবিধা পায় সে-ও তা পাবে এবং একজন মুসলিমের ওপর যে দায়িত্ব বর্তায় তার ওপরও তা বর্তাবে।] সুতরাং পূর্ববর্তী বর্ণনায় হাদীসের শুরু থেকে তাঁর এই কথাটি বাদ দেওয়া হয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
" من شهد ان لا إله إلا الله " واستبدل في الحديث الثاني قوله: [له ما للمسلم وعليه ما على المسلم] بمعناها في الحديث الاول [له ذمة الله وذمة رسوله] وزاد فلا تخفروا الله في ذمته والراجح أنها من إدراج أنس.
وهكذا فقد تبين أن الحديث قد يصح سنده ويعتل متنه بإحدى العلل التي غالبا ما تكون من تصرف أحد الرواة كالايجاز والاختصار والرواية بالمعنى أو بالمفهوم أو بالابدال أو أن يدخل متنها التدليس فأنت ترى أن ابن جريج مع كونه ثقة إلا أنه دلس المتن في حديث (من مات مرابطا مات شهيدا) فرواة: (من مات مريضا مات شهيدا) .
وتوجد هناك أنواع اخرى سنتناولها في كتبنا قريبا ان شاء الله.
وهكذا مما سنتابع بإذن الله ومشيئته تفصيله وذكره بعد ذلك.
ولك ان تعلم كيف كانت قضية السند من حيث صحتها ليست كافية وحدها للحكم على الحديث بمطلق الصحة فقد قال السيوطي وابن الصلاح (ليس كل ما صح سنده يصح متنه) .
فمن كتاب علوم الحديث المعروف بمقدمة ابن الصلاح ص 6 قال الحافظ ابن الصلاح:
ومتى قالوا هذا حديث صحيح فمعناه أنه اتصل سنده مع سائر الاوصاف المذكورة (أي في علم الرجال) وليس من شرطه ان يكون مقطوعا به في نفس الامر (أي في صحة المتن) وكذلك إذ قد يكون صدقا في نفس الامر (أي المتن) انما المراد إسناده على الشرط المذكور (أي في علم الاسناد) .
وكذلك نقل ابن الصلاح في فتاويه قال - وقد قالت الائمة في الحديث: حديث صحيح الاسناد ضعيف المتن، وحديث ضعيف الاسناد صحيح المتن.
"যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই" এবং দ্বিতীয় হাদিসে তার কথা: [একজন মুসলমানের যা প্রাপ্য তার জন্যও তা-ই এবং একজন মুসলমানের উপর যা করণীয় তার উপরও তা-ই] এর পরিবর্তে প্রথম হাদিসের অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে [তার জন্য আল্লাহর নিরাপত্তা এবং তাঁর রাসূলের নিরাপত্তা রয়েছে] এবং আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, "সুতরাং তোমরা আল্লাহর দেওয়া নিরাপত্তার ব্যাপারে তাঁর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করো না।" আর অগ্রগণ্য মত হলো এটি আনাস (রা.)-এর বর্ণনার অন্তর্ভুক্তিকরণ (ইদরাজ)।
এভাবে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, হাদিসের সনদ (সূত্র) সহিহ হতে পারে কিন্তু তার মতন (মূল পাঠ) কোনো একটি ত্রুটির কারণে সমস্যাযুক্ত হতে পারে, যা সাধারণত কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে ঘটা কোনো পরিবর্তনের কারণে হয়; যেমন—সংক্ষিপ্তকরণ, পরিমার্জন, অর্থের ভিত্তিতে বর্ণনা বা ধারণার ভিত্তিতে বর্ণনা অথবা শব্দ পরিবর্তন অথবা তার মতনের মধ্যে 'তাদলিস' (তথ্য গোপন) প্রবেশ করা। আপনি দেখতে পাবেন যে, ইবনে জুরাইজ নির্ভরযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি "যে ব্যক্তি সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত অবস্থায় মারা যায় সে শহীদ হিসেবে মারা যায়" হাদিসটির মতনে তাদলিস করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় মারা যায় সে শহীদ হিসেবে মারা যায়"।
সেখানে আরও অন্যান্য প্রকারভেদ রয়েছে যা আমরা শীঘ্রই আমাদের গ্রন্থসমূহে আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ।
এভাবেই আমরা আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুগ্রহে পরবর্তীতে এর বিস্তারিত আলোচনা ও উল্লেখ অব্যাহত রাখব।
আপনার জানা থাকা উচিত যে, সনদের বিশুদ্ধতা হাদিসটিকে নিরঙ্কুশভাবে সহিহ হিসেবে বিচার করার জন্য এককভাবে যথেষ্ট নয়। কেননা সুয়ূতী এবং ইবনুস সালাহ বলেছেন, "যার সনদ সহিহ তার মতনও যে সহিহ হবে এমনটি সব সময় আবশ্যিক নয়।"
'মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ' নামে পরিচিত 'উলূমুল হাদিস' গ্রন্থের ৬ পৃষ্ঠায় হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেছেন:
যখন তাঁরা বলেন "এটি একটি সহিহ হাদিস", তখন তার অর্থ হলো—উল্লিখিত অন্যান্য গুণাবলি (অর্থাৎ ইলমুর রিজাল অনুযায়ী) সহ এর সনদটি সংযুক্ত। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে (অর্থাৎ মতনের বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে) এটি অকাট্য হওয়া এর শর্ত নয়। একইভাবে এটি বাস্তব ক্ষেত্রে (অর্থাৎ মতনটি) সত্য হতে পারে, তবে এখানে উদ্দেশ্য হলো বর্ণিত শর্তানুযায়ী (অর্থাৎ ইলমুল ইসনাদ অনুযায়ী) এর সনদ।
অনুরূপভাবে ইবনুস সালাহ তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থেও উদ্ধৃত করেছেন, তিনি বলেছেন—ইমামগণ হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: এমন হাদিস রয়েছে যার সনদ সহিহ কিন্তু মতন দুর্বল, আবার এমন হাদিসও আছে যার সনদ দুর্বল কিন্তু মতন সহিহ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
وكذلك قال الزين العراقي للمتوفى سنة 806 هـ في ص 12 من فتح المغيث بشرح ألفية الحديث قال أهل الحديث: هذا الحديث صحيح فمرادهم فيما ظهر لنا عملا بظاهر الاسناد لا أنه مقطوع بصحته في نفس الامر لجواز الخطأ والنسيان في الثقة.
وكذلك ذكر السمعاني في القواطع: إن الصحيح لا يعرف برواية الثقات فقط وإنما يعرف بالفهم والمعرفة وكثرة السماع والمذاكرة.
وكذلك النووي في لاكثر المحققين: إن صحة الحديث لا توجب القطع به في نفس الامر لجواز الخطا والنسيان على الثقة وعزاه لاكثر المحققين.
والله أسأل أن تتنبه أمة الاسلام إلى أهمية هذا المنهج وخطورة أن يغفل ومدى تأثيره في ضبط الفقه ونصوص الشرع على الذي نزل به الوحي والمطابق لارادة الله تعالى والخارج من فم النبي صلى الله عليه وسلم الذي لا ينطق عن الهوى. وللاسف الشديد لقد غفل بعض الناس عن هذه الحقيقة وكأن العلماء لم يذكروا عنها شيئا. ولاجل اظهار العلم الذي ذكره العلماء سنتابع النشر في هذا الموضوع ولقد أعددنا عدتنا له كما أنني والزميل الدكتور عبد الغفار سليمان البندري أعددنا كتبا تناولنا فيها المنهج وستنشر قريبا ان شاء الله، فالله وحده نسأل ان يحق الحق، إن الله على ما يشاء قدير، وما توفيقي إلا بالله.
المحقق
يحيى شفيق حسن
مؤسس المدرسة الظاهرية بمصر
তদ্রূপ ৮০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী যাইনুল ইরাকি 'ফাতহুল মুগিস বি-শরহি আলফিয়্যাতিল হাদিস'-এর ১২ নম্বর পৃষ্ঠায় বলেছেন, হাদিস বিশারদগণ বলেছেন: "এই হাদিসটি সহিহ"; এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো সনদের বাহ্যিক অবস্থার ভিত্তিতে আমাদের কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তা-ই, এই নয় যে তা বাস্তবে অকাট্যভাবে সহিহ, কারণ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও ভুল ও বিস্মৃতির সম্ভাবনা বিদ্যমান।
তেমনিভাবে আল-সামআনি 'আল-কাওয়াত্বি' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: সহিহ হাদিস কেবল নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের বর্ণনার মাধ্যমেই চেনা যায় না, বরং তা চেনা যায় গভীর বোধশক্তি, প্রজ্ঞা এবং অধিক শ্রবণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে।
একইভাবে ইমাম আন-নববী অধিকাংশ গবেষক আলিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: হাদিসের শুদ্ধতা বাস্তবক্ষেত্রে তা অকাট্য হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে না, কারণ নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রেও ভুল ও বিস্মৃতি ঘটা সম্ভব; তিনি একে অধিকাংশ গবেষকের অভিমত বলে অভিহিত করেছেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন মুসলিম উম্মাহ এই পদ্ধতির গুরুত্ব এবং এর প্রতি উদাসীন থাকার ভয়াবহতা উপলব্ধি করে। সেই সাথে ফিকহ এবং শরিয়তের পাঠসমূহকে ওহির মাধ্যমে অবতীর্ণ রূপ অনুযায়ী সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে এর প্রভাব সম্পর্কেও সচেতন হয়, যা মহান আল্লাহর ইচ্ছার অনুকূল এবং যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে, যিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, কিছু মানুষ এই সত্যটি সম্পর্কে উদাসীন হয়ে পড়েছেন, যেন আলিমগণ এ ব্যাপারে কিছুই উল্লেখ করেননি। আলিমগণের বর্ণিত সেই জ্ঞান প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমরা এই বিষয়ে লেখা প্রকাশ অব্যাহত রাখব এবং আমরা এর জন্য যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমি এবং আমার সহকর্মী ডক্টর আব্দুল গাফফার সুলাইমান আল-বান্দারি এমন কিছু কিতাব প্রস্তুত করেছি যেখানে আমরা এই মানহাজ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং ইনশাআল্লাহ তা শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। আমরা একমাত্র আল্লাহর কাছেই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রার্থনা করছি, নিশ্চয়ই আল্লাহ যা চান তা করতে সক্ষম। আর আমার সাফল্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।
গবেষক
ইয়াহইয়া শফিক হাসান
মিসরের আল-মাদরাসাতুয যাহিরিয়্যাহ-র প্রতিষ্ঠাতা
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الكتابقال شيخنا الامام العالم العلامة الحافظ الرحلة الورع برهان الدين أبوالوفا ابراهيم بن محمد بن خليل سبط ابن العجمي الشافعي أمتع الله بحياته وبمحمد وآله.
الحمد لله رب العالمين والعاقبة للمتقين وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم.
أما بعد فهذا تعليق في أسماء المدلسين كنت قد جمعته قديما في سنة اثنتين وتسعين وسبعماية (792 هـ) في تعليق لي على سيرة أبي الفتح اليعمري ثم في تعليق لي على البخاري ثم اني نقلتهم إلى هذا المؤلف المفرد واسماؤهم تحتمل مجلدا إذا ذكرت تراجمهم ولكني اختصرتها الآن جدا ليسهل تحصيلهم وغالبهم في كلام شيخ شيوخنا الحافظ صلاح الدين خليل العلائي في كتابه " المراسيل " وقد أخبرني به إجازة شيخنا الحافظ سراج الدين بن الملقن القاهري بقراءته له عليه اجمع ببيت المقدس وبعضهم رأيته في قصيد الامام أبي محمود المقدسي أخبرني بأنها له شيخنا بن الملقن وبعضهم ظفرت انا به في تواليف أذكرها في ذكر أسمائهم وقد رأيت في كتاب المراسيل المشار إليه ان الحافظ الذهبي نظم غالبهم في قصيد.
انتهى.
ولم أر هذه القصيد أنا. ثم اعلم أن التدليس على ثلاثة أقسام:
الاول: تدليس الاسناد وهو ان يسقط اسم شيخه الذي سمع منه ويرتقي إلى شيخ شيخه بعن وان وقال أو يسقط أداة الرواية ويسمي الشيخ فقط فيقول فلان مثلا.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গ্রন্থের ভূমিকাআমাদের শায়খ, ইমাম, প্রাজ্ঞ আলেম, হাফিজ, পরিব্রাজক, পরহেজগার বুরহানউদ্দীন আবুল ওয়াফা ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল সিবত ইবনুল আজমি শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর জীবন দ্বারা এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উসিলায় আমাদের উপকৃত করুন) বলেছেন।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্য। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর, এটি মুদাল্লিস (তথ্য গোপনকারী) বর্ণনাকারীদের নাম সম্বলিত একটি টীকা, যা আমি অনেক আগে ৭৯২ হিজরি সনে আবুল ফাতহ আল-ইয়ামারি রচিত সীরাতের ওপর আমার একটি টীকায় এবং পরবর্তীতে বুখারীর ওপর আমার টীকায় সংগ্রহ করেছিলাম। অতঃপর আমি সেগুলো এই পৃথক গ্রন্থে স্থানান্তরিত করেছি। যদি তাদের জীবনী বিস্তারিত উল্লেখ করা হতো তবে তাদের নামগুলো একটি পূর্ণ খণ্ড দখল করত, কিন্তু আমি এখন তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছি যাতে তা আয়ত্ত করা সহজ হয়। তাদের অধিকাংশের উল্লেখ আমাদের শায়খদের শায়খ হাফিজ সালাহউদ্দীন খলিল আল-আলাঈ তাঁর 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে করেছেন। আমাদের শায়খ হাফিজ সিরাজুদ্দীন ইবনুল মুলাক্কিন আল-কাহিরি বাইতুল মুকাদ্দাসে তাঁর সামনে পূর্ণ পাঠের মাধ্যমে আমাকে এর ইজাজত প্রদান করেছেন। তাদের মধ্য থেকে কাউকে কাউকে আমি ইমাম আবু মাহমুদ আল-মাকদিসীর কবিতায় দেখেছি; আমাদের শায়খ ইবনুল মুলাক্কিন আমাকে জানিয়েছেন যে কবিতাটি তাঁরই। আর তাদের মধ্যে কিছু আমি বিভিন্ন সংকলনে খুঁজে পেয়েছি, যা আমি তাদের নাম উল্লেখের সময় বর্ণনা করব। আমি পূর্বোক্ত 'আল-মারাসিল' গ্রন্থে দেখেছি যে, হাফিজ যাহাবী তাদের অধিকাংশকে পদ্যের আকারে সাজিয়েছেন।
সমাপ্ত।
আমি সেই কবিতাটি দেখিনি। এরপর জেনে রাখুন যে, তাদলিস (তথ্য গোপন করা) তিন প্রকার:
প্রথমত: তাদলিসে ইসনাদ (সনদে তথ্য গোপন করা)। আর তা হলো—বর্ণনাকারী যার কাছ থেকে শুনেছেন সেই শায়খের নাম বাদ দিয়ে 'তাঁর পক্ষ থেকে' (আন), 'নিশ্চয়ই' (আন্না) অথবা 'বলেছেন' (ক্বলা) শব্দের মাধ্যমে শায়খের শায়খের দিকে সনদকে নিয়ে যাওয়া, অথবা বর্ণনার শব্দ বাদ দিয়ে কেবল শায়খের নাম উল্লেখ করা, যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা—অমুক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
واختلف في أهل هذا القسم فقيل يرد حديثهم مطلقا سواء أثبتوا (1) السماع أم لا وان التدليس نفسه جرح والصحيح التفصيل فان صرح بالاتصال كقوله سمعت أو أو أنا فهو مقبول يحتج به وان اتى بلفظ يحتمل فحكمه حكم المرسل.
والقسم الثاني تدليس الشيوخ وهو ان يصف الشيخ المسمع بوصف لا يعرف به من اسم أو كنية أو لقب أو نسبة إلى قبيلة أو بلدة أو صنعة ونحو ذلك ولم اذكر انا من أهل هذا القسم أحدا. قال بن الصلاح: وأمره أخف يعني من القسم الاول انتهى وقد جزم بن الصباغ (2) في العدة بان من فعل ذلك لكون من روى عنه غير ثقة عند الناس وانما أراد ان يغير اسمه ليقبلوا خبره يجب ان لا يقبل خبره وان كان هو يعتقد فيه الثقة فقد غلط في ذلك لجواز ان يعرف غيره من جرحه ما لا يعرفه هو وان كان لصغر سنه فهو رواية عن مجهول لا يجب قبول خبره حتى يعرف من روى عنه انتهى.
والقسم الثالث وهو تدليس التسوية ولم يذكره بن الصلاح وقد ذكره غيره وهو ان يروي حديثا عن شيخ ثقة غير مدلس وذلك الثقة يرويه عن ضعيف عن ثقة فيأتي المدلس الذي سمع من الثقة الاول غير المدلس فيسقط الضعيف الذي في السند ويجعل الحديث عن شيخه الثقة عن الثقة الثاني بلفظ محتمل فيستوي الاسناد كله ثقات وهذا أشر الاقسام.
قال شيخنا الحافظ العراقي في " النكت " له على بن الصلاح وهذا قادح فيمن تعمده فعله انتهى.
وقال العلائي في كتاب " المراسيل " ولا ريب في تضعيف من أكثر هذا النوع وقد وقع فيه جماعة من الائمة الكبار ولكن يسيرا كالاعمش والثوري حكاه عنهما الخطيب انتهى وممن نقل عنه فعل ذلك بقية بن.
--------------------------------------------
এই শ্রেণীর বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন তাদের হাদিস নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে, তারা শ্রবণ সাব্যস্ত করুক বা না করুক; কেননা তাদলিস নিজেই একটি ত্রুটি (জারহ)। আর সঠিক মত হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা: যদি তিনি স্পষ্টভাবে নিরবচ্ছিন্নতা (ইত্তিসাল) প্রকাশ করেন, যেমন তাঁর কথা—'আমি শুনেছি' অথবা 'তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন'—তবে তা গ্রহণযোগ্য এবং এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা যাবে। কিন্তু যদি তিনি এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে (অস্পষ্ট), তবে তার বিধান মুরসাল হাদিসের বিধানের মতো হবে।
দ্বিতীয় প্রকার হলো শায়খদের তাদলিস (তাদলিসুশ শুয়ুখ)। আর তা হলো—যে উস্তাদের কাছ থেকে হাদিস শোনা হয়েছে তাকে এমন বৈশিষ্ট্যে বর্ণনা করা যার মাধ্যমে তাকে চেনা যায় না; যেমন নাম, উপনাম (কুনিয়াত), উপাধি, অথবা কোনো গোত্র, শহর বা পেশার দিকে সম্বন্ধ করার মাধ্যমে। আমি এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত কাউকে উল্লেখ করিনি। ইবনুল সালাহ বলেছেন: "এর বিষয়টি প্রথম প্রকারের তুলনায় হালকা"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। ইবনুস সাব্বাগ তাঁর "আল-উদ্দাহ" গ্রন্থে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে, যে ব্যক্তি এমনটি করে কারণ যার থেকে তিনি বর্ণনা করছেন তিনি মানুষের কাছে নির্ভরযোগ্য নন এবং তিনি তার নাম পরিবর্তন করতে চেয়েছেন যাতে তারা তার সংবাদ গ্রহণ করে—তবে অবশ্যই তার সংবাদ গ্রহণ করা হবে না। এমনকি বর্ণনাকারী যদি তাকে নির্ভরযোগ্য মনেও করেন, তবুও তিনি এতে ভুল করেছেন; কেননা হতে পারে অন্য কেউ তার সম্পর্কে এমন ত্রুটি (জারহ) জানেন যা তিনি জানেন না। আর যদি বর্ণনাকারীর বয়স অল্প হওয়ার কারণে এমন করা হয়, তবে তা একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) ব্যক্তি থেকে বর্ণনা হিসেবে গণ্য হবে এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাকে না চেনা পর্যন্ত তার সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক নয়—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
তৃতীয় প্রকার হলো সমান্তরালকরণের তাদলিস (তাদলিসুত তাসউইয়াহ)। ইবনুল সালাহ এটি উল্লেখ করেননি, তবে অন্যগণ এটি উল্লেখ করেছেন। তা হলো—কোনো বর্ণনাকারী একজন নির্ভরযোগ্য ও অ-মুদাল্লিস উস্তাদ থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, আর সেই নির্ভরযোগ্য উস্তাদ হাদিসটি বর্ণনা করেন একজন দুর্বল বর্ণনাকারী থেকে, যিনি আবার বর্ণনা করেন জনৈক নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে। এরপর সেই মুদাল্লিস ব্যক্তি (যিনি প্রথম নির্ভরযোগ্য উস্তাদ থেকে শুনেছেন) সনদের মাঝখান থেকে সেই দুর্বল বর্ণনাকারীকে ফেলে দেন এবং হাদিসটিকে তার নির্ভরযোগ্য উস্তাদ থেকে সরাসরি দ্বিতীয় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনা হিসেবে এমন শব্দে পেশ করেন যা শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে। ফলে পুরো সনদটিই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের দ্বারা সমান্তরাল হয়ে যায়। আর এটিই হলো তাদলিসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রকার।
আমাদের উস্তাদ হাফিজ আল-ইরাকি তাঁর ইবনুল সালাহর ওপর লিখিত "আন-নুকাত" গ্রন্থে বলেছেন: "এটি এমন ব্যক্তির জন্য দোষণীয় যে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করে"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
আল-আলাঈ তাঁর "আল-মারাসিল" গ্রন্থে বলেছেন: "যে ব্যক্তি এই প্রকারটি অধিকহারে করে তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বড় ইমামদের একদল এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছেন কিন্তু তা সামান্য পরিমাণে, যেমন আমাশ এবং সাওরি; খতিব বাগদাদি তাদের উভয়ের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর যাদের পক্ষ থেকে এটি করার কথা বর্ণিত হয়েছে তাদের মধ্যে বাকিয়্যাহ বিন (আল-ওয়ালিদ) অন্যতম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الوليد والوليد بن مسلم والحسن بن ذكوان كما سيأتي وقال الخطيب البغدادي: وكان الاعمش والثوري وبقية يفعلون مثل هذا انتهى وقد تقدم بعض هذا.
ونقل الذهبي عن أبي الحسن بن القطان في بقية انه يدلس عن الضعفاء ويستبيح ذلك وهذا إن صح عنه مفسد لعدالته.
قال الذهبي في الميزان قلت نعم والله صح هذا عنه انه يفعله وصح عن الوليد بن مسلم بل وعن جماعة كبار فعله وهذا بلية منهم ولكنهم فعلوا ذلك باجتهاد وما جوزوا على ذلك الشخص الذي يسقطون ذكره بالتدليس انه تعمد الكذب وهذا أمثل ما يعتذر به عنهم والله اعلم انتهى.
(تنبيه) اعلم ان الشافعي اثبت أصل التدليس بمرة واحدة قال بن الصلاح والحكم بأنه لا يقبل من المدلس حتى يبين قد اجراه الشافعي فيمن عرفناه دلس مرة انتهى وممن حكاه عن الشافعي البيهقي في " المدخل " والله اعلم.
واعلم انه لا يدخل في المدلسين القسم الذين ارسلوا وقد ذكر منهم العلائي في كتابه المراسيل جملة وزدت انا جملة ذكرتهم على هوامش كتابه لكن الفرق بين التدليس وبين الارسال الخفي ان الارسال رواية الشخص عمن لم يسمع منه قال أبو بكر البزار ان الشخص إذا روى عمن لم يدركه بلفظ موهم فان ذلك ليس بتدليس على الصحيح المشهور انتهى والتدليس إذا روي بعن أو ان أو قال وكان قد عاصر المروي عنه أو لقيه ولم يسمع منه أو سمع منه ولم يسمع منه ذلك الحديث الذي دلسه عنه وقد حكى بن عبد البر في التمهيد عن قوم الذي ذكرته في الارسال انه تدليس فجلعوا التدليس ان يحدث الرجل عن الرجل بما لم يسمعه منه بلفظ لا يقتضي تصريحا بالسماع (1) والا لكان كذبا والصحيح الاول وهو الفرق بين التدليس والارسال الخفي والله اعلم.
والله اسأل ان ينفع به قارئه وكاتبه والمنتفع به انه قريب مجيب بمنه وكرمه.
--------------------------------------------
আল-ওয়ালিদ, আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এবং হাসান বিন যাকওয়ান, যেমনটি সামনে আসবে। খতীব আল-বাগদাদী বলেছেন: আমাশ, সাওরী এবং বাকিয়্যাহ এমনটি করতেন। সমাপ্ত। এর কিছু অংশ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
আয-যাহাবী আবুল হাসান বিন আল-কাত্তান থেকে বাকিয়্যাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে তাদলীস করতেন এবং একে বৈধ মনে করতেন। যদি তার সম্পর্কে এটি সঠিক হয়, তবে তা তার ন্যায়পরায়ণতাকে নষ্টকারী।
আয-যাহাবী 'আল-মিযান'-এ বলেছেন, আমি বলি: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, তার সম্পর্কে এটি সঠিক যে তিনি এটি করতেন। এমনকি আল-ওয়ালিদ বিন মুসলিম এবং একদল বড় পর্যায়ের ইমামদের থেকেও এটি করা প্রমাণিত। এটি তাদের পক্ষ থেকে একটি বিপদ, কিন্তু তারা তা ইজতিহাদের ভিত্তিতে করেছিলেন। আর তারা যার নাম তাদলীসের মাধ্যমে বাদ দিতেন, তার সম্পর্কে তারা এটি মনে করতেন না যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলবে। তাদের পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার জন্য এটিই সর্বোত্তম মাধ্যম। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। সমাপ্ত।
(সতর্কীকরণ) জেনে রাখুন যে, ইমাম শাফিঈ মাত্র একবারের মাধ্যমেই তাদলীসের মূল ভিত্তি সাব্যস্ত করেছেন। ইবনুস সালাহ বলেছেন: বিধান হলো যে ব্যক্তি তাদলীস করেন তার বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না যতক্ষণ না তিনি স্পষ্টভাবে শোনার কথা উল্লেখ করেন, ইমাম শাফিঈ এই বিধানটি তার ওপর প্রয়োগ করেছেন যার সম্পর্কে আমরা জেনেছি যে তিনি একবার তাদলীস করেছেন। সমাপ্ত। ইমাম শাফিঈ থেকে যারা এটি বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে আল-বায়হাকী তার 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে অন্যতম। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।
জেনে রাখুন যে, যারা ইরসাল করেছেন তারা মুদাল্লিসদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। আল-আলাঈ তার 'আল-মারাসীল' গ্রন্থে তাদের একটি বড় অংশ উল্লেখ করেছেন এবং আমি তার কিতাবের টীকায় আরও কিছু সংখ্যা যোগ করেছি। কিন্তু তাদলীস এবং 'ইরসাল খাফী'-র মধ্যে পার্থক্য হলো: ইরসাল হলো এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে বর্ণনা করা যার থেকে তিনি শোনেননি। আবু বকর আল-বাযযার বলেছেন: কোনো ব্যক্তি যদি এমন কারো থেকে বর্ণনা করেন যাকে তিনি সমসাময়িক হিসেবে পাননি এমন শব্দের মাধ্যমে যা শোনার ধারণা দেয়, তবে বিশুদ্ধ ও প্রসিদ্ধ মতানুসারে তা তাদলীস নয়। সমাপ্ত। আর তাদলীস হলো যখন ‘থেকে’ (আন), ‘যে’ (আন্না) অথবা ‘বলেছেন’ (ক্বালা) শব্দে বর্ণনা করা হয় এবং তিনি যার থেকে বর্ণনা করছেন তার সমসাময়িক ছিলেন অথবা তার সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে কিন্তু তার থেকে শোনেননি, অথবা তার থেকে শুনেছেন কিন্তু সেই নির্দিষ্ট হাদিসটি শোনেননি যা তিনি তার পক্ষ থেকে তাদলীস করেছেন। ইবনু আব্দিল বার ‘আত-তামহীদ’ গ্রন্থে একদল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি ইরসাল সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি সেটিকে তারা তাদলীস বলেছেন। তারা তাদলীসকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি থেকে যা শোনেনি তা এমন শব্দে বর্ণনা করা যা স্পষ্টভাবে শোনার দাবি রাখে না (১); নতুবা তা মিথ্যা হতো। তবে প্রথম মতটিই সঠিক, যা তাদলীস এবং ইরসাল খাফী-র মধ্যে পার্থক্য করে। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর পাঠক, লেখক এবং যারা এর দ্বারা উপকৃত হবে তাদের কল্যাণ দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে এবং তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় কবুলকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد رتبتهم على حروف المعجم في الاسم واسم الاب ورقمت على من له في الكتب الستة أو بعضها برقومهم المعروفة عند أهل الحديث وسميته (بالتبيين لاسماء المدلسين) .
1 - (و) (إبراهيم بن محمد بن أبي يحيى الاسلمي) شيخ الامام الشافعي وصفه الامام أحمد بن حنبل بالتدليس. توفى سنة 184.
আর আমি তাদের নাম এবং পিতার নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি এবং হাদীস বিশারদদের নিকট পরিচিত সংকেত দ্বারা তাদের চিহ্নিত করেছি যাদের বর্ণনা কুতুবে সিত্তাহ অথবা এর কোনো কোনো কিতাবে রয়েছে। আমি এর নামকরণ করেছি ‘আত-তাবয়ীন লি আসমাইল মুদাল্লিসীন’।
১ - (ওয়াও) (ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ বিন আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামী), তিনি ইমাম শাফিঈর উস্তাদ; ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাকে তাদলীসকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি ১৮৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2 - (ع) (إبراهيم بن يزيد النخعي) ذكر الحاكم وغيره انه مدلس وحكى خلف بن سالم عن عدة من مشايخه ان تدليسه من أحمض شئ وكانوا يتعجبون منه. توفى سنة 39.
২ - (সকল) (ইবরাহিম ইবনে ইয়াজিদ আন-নাখয়ী) আল-হাকেম ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে তিনি মুদাল্লিস ছিলেন এবং খালাফ ইবনে সালেম তাঁর বহু উস্তাদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর তাদলিস (বর্ণনাগত লুকোচুরি) ছিল অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির এবং তাঁরা এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করতেন। তিনি ৩৯ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - (ع) (إسماعيل بن أبي خالد) ذكره بالتدليس النسائي وغيره توفي سنة 132.
৩ - (ছয় ইমামের বর্ণনাকারী) (ইসমাঈল বিন আবি খালিদ) আন-নাসায়ী এবং অন্যান্যরা তাকে তাদলীসকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তিনি ১৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
4 - (م) (بشير بن المهاجر الغنوي) قال بن حبان في ثقاته روى عن أنس ولم يره دلس عنه.
৪ - (মুসলিম) (বাশীর বিন আল-মুহাজির আল-গানাওয়ী) ইবনে হিব্বান তাঁর ‘আস-সিকাত’ গ্রন্থে বলেছেন, তিনি আনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তাঁকে দেখেননি, তিনি তাঁর থেকে তাদলিস করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
5 - (4) (بقية بن الوليد) مشهور بالتدليس مكثر له عن الضعفاء وتعاني تدليس التسوية وقد تقدمت صورته. توفى سنة 197.
৫ - (৪) (বাকিয়া বিন ওয়ালিদ) তিনি তাদলিসের (তথ্য গোপন করার) জন্য প্রসিদ্ধ, দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে তিনি এটি অধিক মাত্রায় করতেন এবং তিনি তাদলিসুত তাসওয়িয়া করতেন। তাঁর অবস্থা সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি ১৯৭ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
6 - (بكير بن سليمان الكوفي) قال فيه أحمد بن صالح العجلي كان يدلس.
৬ - (বুকাইর বিন সুলাইমান আল-কুফি) তাঁর সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ আল-ইজলি বলেছেন, তিনি তাদলীস করতেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
7 - (ت) (تليد بن سليمان) رايته في قصيدة منسوبة لابي محمود المقدسي وقاله شيخنا العراقي أيضا.
৭ - (ত) (তালিদ বিন সুলাইমান) তাকে আমি আবু মাহমুদ আল-মাকদিসির প্রতি নিসবতকৃত একটি কবিতায় দেখেছি এবং আমাদের শায়খ আল-ইরাকিও এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
8 - (ح 4) (ثور بن يزيد) قال أبو داود في سننه في مسح الخفين: بلغني انه لم يسمع ثور هذا الحديث من رجاء يعني بن حيوة انتهى ولفظه فيه عن رجاء وقد تقدم كلام الشافعي. توفي سنة 55 وقيل سنة 53 وقيل غير ذلك (د ت ق) (جابر الجعفي) قال أبوتعيم قال الثوري كل ما قال فيه جابر سمعت أو حدثنا فاشدد يديك به وما كان سوى ذلك فتوقه.
৮ - (হা ৪) (থওর ইবনে ইয়াজিদ) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে চামড়ার মোজার ওপর মাসাহ অধ্যায়ে বলেছেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, থওর এই হাদিসটি রাজা—অর্থাৎ ইবনে হাইওয়াহ—থেকে শ্রবণ করেননি। সমাপ্ত। সেখানে শব্দগুলো রাজা থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং ইমাম শাফি'ঈর বক্তব্য ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তিনি ১৫৫ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ১৫৩ হিজরি সনে, এছাড়াও অন্যান্য মত বর্ণিত হয়েছে। (দা তি ক) (জাবির আল-জু'ফী) আবু নুআইম বলেছেন, আস-সাওরী বলেছেন: জাবির যে সকল বর্ণনায় ‘আমি শুনেছি’ বা ‘আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেগুলো দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো; আর এর বাইরে যা আছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকো।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
9 - (م 4) (جبير بن نفير) قال ابن عبد الهادي الامام شمس الدين الحنبلي
৯ - (ম ৪) (জুবাইর ইবনে নুফাইর) ইমাম শামসুদ্দীন আল-হাম্বলী ইবনে আব্দুল হাদী বলেছেন
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
في طبقات الحفاظ (1) لم يخرج له البخاري لانه ربما دلس عن قدماء الصحابة توفي سنة 75 وقيل سنة 85 وكان مخضرما.
10 - (4) (حبيب بن أبي ثابت) قال بن حبان كان مدلسا وروى
--------------------------------------------
তাবাকাতুল হুফফাজ-এ (১) ইমাম বুখারী তাঁর কোনো বর্ণনা সংকলন করেননি, কারণ সম্ভবত তিনি প্রাচীন সাহাবীদের থেকে তাদলিস করতেন। তিনি ৭৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন, মতান্তরে ৮৫ হিজরিতে এবং তিনি একজন মুখাদরাম ছিলেন।
১০ - (৪) (হাবীব বিন আবী সাবিত) ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি মুদাল্লিস ছিলেন এবং তিনি বর্ণনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
أبو بكر بن عياش عن الاعمش قال قال لي حبيب بن أبي ثابت لو ان رجلا حدثني عنك ما باليت ان ارويه عنك (1) . توفى سنة 119 وقيل غير ذلك.
11 - (4 م) حجاج بن أرطاة مشهور به عن الضعفاء. توفى سنة 147.
--------------------------------------------
আবু বকর ইবন আইয়াশ আমাশ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হাবীব ইবন আবী সাবিত আমাকে বললেন, "যদি কোনো ব্যক্তি আপনার উদ্ধৃতি দিয়ে আমার কাছে বর্ণনা করে, তবে আমি তা আপনার মাধ্যমেই বর্ণনা করতে দ্বিধা করি না।" (১)। তিনি ১১৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং এ নিয়ে ভিন্ন মতও বর্ণিত হয়েছে।
১১ - (৪ ম) হাজ্জাজ ইবন আরতাহ; তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে বর্ণনা করার জন্য প্রসিদ্ধ। তিনি ১৪৭ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
12 - (4) الحسن بن أبي الحسن البصري من المشهورين بالتدليس.
১২ - (৪) হাসান ইবন আবিল হাসান আল-বাসরী তাদলীসের জন্য প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
13 - خ د ت ق الحسن بن ذكوان ذكر محمد بن نصر المروزي في حديث عن حبيب بن أبي ثابت عن عاصم بن ضمرة عن علي حديث نهى عن ثمن الميتة الحدديث قال محمد بن نصر سمعه الحسن بن ذكواعن عمرو بن خالد (1) عن حبيب بن أبي ثابت فدلسه بإسقاط عمرو بن خالد لانه منكر الحديث وكذلك قال بن معين في كل ما رواه الحسن بن ذكوان عن حبيب بن أبي ثابت ان بينه وبين حبيب رجلا ليس بثقة.
১৩ - বুখারি (তালিক), আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ। হাসান ইবনে জাকওয়ান। মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াজি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন যেখানে মৃত পশুর মূল্য গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে নাসর বলেন, হাসান ইবনে জাকওয়ান এটি আমর ইবনে খালিদ (১) থেকে এবং তিনি হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে শুনেছিলেন। অতঃপর তিনি আমর ইবনে খালিদকে বাদ দিয়ে ‘তাদলিস’ করেছেন, কারণ সে ‘মুনকারুল হাদিস’ (পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী)। একইভাবে ইবনে মাইন হাসান ইবনে জাকওয়ান কর্তৃক হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে বর্ণিত সকল হাদিসের ক্ষেত্রে বলেছেন যে, তার এবং হাবিবের মাঝে এমন একজন ব্যক্তি রয়েছেন যিনি নির্ভরযোগ্য নন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
14 - الحسن بن مسعود بن الحسن أبو علي بن الوزير الدمشقي متأخر توفي سنة 543 قال بن عساكر كان يدلس عن شيوخه ما لم يسمعه منهم.
১৪ - আল-হাসান বিন মাসউদ বিন আল-হাসান আবু আলি বিন আল-ওয়াজির আদ-দিমাশকি; তিনি পরবর্তী যুগের একজন আলেম ছিলেন এবং ৫৪৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে আসাকির বলেন: তিনি তাঁর শিক্ষকদের থেকে এমন বিষয়ে তাদলীস করতেন যা তিনি তাঁদের নিকট থেকে শোনেননি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
15 - حسين بن عطاء بن يسار من أهل المدينة يروي عن زيد بن اسلم روى عنه عبد الحميد بن جعفر يخطئ ويدلس قاله بن حبان في ثقاته.
১৫ - হুসাইন ইবনে আতা ইবনে ইয়াসার মদিনার অধিবাসী। তিনি যায়েদ ইবনে আসলাম থেকে বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে আব্দুল হামিদ ইবনে জাফর বর্ণনা করেছেন। তিনি ভুল করেন এবং তাদলিস করেন। ইবনে হিব্বান তাঁর 'সিকাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
16 - (م4) الحسين بن واقد المروزي ذكره أبو يعلى الخليلي ممن يدلس.
16 - (ম৪) আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আল-মারওয়াযী; আবু ইয়ালা আল-খালীলী তাকে ঐসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন যারা তাদলীস করেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
16 - مكرر - ع حفص بن غياث الكوفي ذكره أحمد بن حنبل في رواية الاثرم عنه.
১৬ - পুনরাবৃত্ত - হাফস ইবনে গিয়াস আল-কুফি, আহমাদ ইবনে হাম্বল আল-আছরামের বর্ণনায় তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাবয়িন লি আসমাইল মুদাল্লিসিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
17 - ع الحكم بن عتيبة وصفه بالتدليس غير واحد.
১৭ - আল-হাকাম ইবনু উতাইবাহ; তাঁকে একাধিক ব্যক্তি তাদলীস (বর্ণনায় সূত্র গোপন করা)-এর বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।