(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: -)
طبقات المدلسين = تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: تعريف اهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس
المؤلف: أبو الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر العسقلاني (ت 852 هـ)
المحقق: د. عاصم بن عبدالله القريوتي
الناشر: مكتبة المنار - عمان
الطبعة: الأولى، 1403 - 1983
عدد الصفحات: 71
تنبيه: في التعليق تم إدراج المرتبة التي ينتمي لها الراوي مع تميز ما قد زاده المحقق على أصل الكتاب من تراجم
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
তবকাতুল মুদাল্লিসীন = তা'রীফু আহলিত তাকদীস বি-মারাতিবিল মাউসূফীনা বিত-তাদলীস বিভাগ: জীবনী ও তবকাত (শ্রেণীবিন্যাস)
কিতাব: তা'রীফু আহলিত তাকদীস বি-মারাতিবিল মাউসূফীনা বিত-তাদলীস
লেখক: আবুল ফযল আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাজার আল-আসকালানী (মৃ. ৮৫২ হি.)
মুহাক্কিক: ড. আসিম বিন আব্দুল্লাহ আল-কারয়ূতী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল মানার - আম্মান
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ - ১৯৮৩
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১
সতর্কতা: টীকাতে রাবী যে স্তরের অন্তর্ভুক্ত তা উল্লেখ করা হয়েছে এবং মূল কিতাবে মুহাক্কিক যে সকল অতিরিক্ত জীবনী সংযোজন করেছেন তাও পৃথকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المحققان الحمد لله نحمده، ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور انفسنا ومن سيئات اعمالنا من يهده الله فلا مصل له، ومن يضلل فلا هادي له، واشد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له واشهد ان محمدا عبده وسوله.
اما بعد: فهذا كتاب تعريف اهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس المعروف بطبقات المدلسين للعلامة الحافظ احمد بن علي بن محمد بن محمد (1) الشهير بابن حجر العسقلاني (ت 852 هـ) اقدمه للقلراء الكرام الذين يعهمهم شان سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم استجابة لرغبة شيخنا الفاضل محدث باكستان ابي الطيب محمد عطاء الله حنيف (3) بارك الله في عمره وعلمه وعمله واهله وماله - حيث رغب فضيلته ان اعلق على هذا الكتاب لخلو الاسواق من طبعة محققة ولندرة وجوده في ديار الهند بشكل خاص، وبعد اتكالي على الله شرعت في المقصود مستمدا العون من الله وحده المعبود سائلا اياه ان يجعل في عملي هذا خامة للعلم واهله.
মুহাক্কিকের (সম্পাদকের) ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
অতপর: এটি হলো 'তারিফু আহলিত তাকদিস বি-মারাতিবিল মাউসুফিনা বিত-তাদলিস' নামক কিতাব, যা 'তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন' নামে সমধিক পরিচিত। এর রচয়িতা হলেন আল্লামা আল-হাফিজ আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ (১), যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানী (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) নামে প্রসিদ্ধ। আমি এটি সেইসব সম্মানিত পাঠকদের সমীপে পেশ করছি যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। এটি আমাদের শ্রদ্ধেয় শায়খ, পাকিস্তানের মুহাদ্দিস আবুুত তায়্যিব মুহাম্মদ আতাউল্লাহ হানিফ (৩) -আল্লাহ তাঁর হায়াত, ইলম, আমল, পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন- এর আকাঙ্ক্ষার প্রেক্ষিতে করা হয়েছে। যেহেতু শায়খ চেয়েছিলেন যে আমি যেন এই কিতাবটির উপর টীকা প্রদান করি, কারণ বাজারে কোনো সম্পাদিত (তাহকিককৃত) সংস্করণ নেই এবং বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে এর প্রাপ্তি অত্যন্ত বিরল। আল্লাহর ওপর ভরসা করে আমি উদ্দিষ্ট লক্ষ্যপানে যাত্রা শুরু করছি, কেবল একমাত্র মাবুদ আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট আবেদন করছি যেন তিনি আমার এই কাজকে ইলম ও আহলে ইলমের জন্য খিদমত হিসেবে গণ্য করেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৬)
منهجي في التحقيق: 1 - اعتمدت في التحقيق على النسخة المطبوعة في المطبعة المحمودية التجارية بمصر لصاحبها محمود على صبيح والواقعة في بضع وثلاثين صفحة ويبدو انها الطبعة الاولى للكتاب (3) .
2 - رقمت اسماء المدلسين البالغ عددهم (152) بارقام متسلسلة لجميع المراتب.
3 - صححت الاخطاء المطبعية الواردة في الطعبة السابقة من كتب المصنف نفسه أو من غيرها من كتب الرجال مع الاشارة الى ذلك في بعض الاحيان.
4 - إذا كان الراوي من رجال التقريب وتوجد فائدة زائدة في التقريب لم تذكر في الكتاب كالحكم (4) على الراوي أو بيان طبقته ونحو ذلك اثبتها اثبتها في التعليق من غير الاشارة
--------------------------------------------
আমার তাহকীক পদ্ধতি: ১ - আমি তাহকীক করার সময় মিশরের মাহ্মুদিয়্যাহ তিজারিইয়্যাহ প্রেস থেকে মুদ্রিত সংস্করণের উপর নির্ভর করেছি, যার মালিক মাহমুদ আলী সাবিহ। এটি প্রায় ত্রিশোর্ধ্ব পৃষ্ঠার এবং মনে হয় এটিই বইটির প্রথম সংস্করণ (৩)।
২ - আমি সকল স্তরের মুদাল্লিসদের নামগুলোকে (যাদের মোট সংখ্যা ১৫২ জন) ধারাবাহিক ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি।
৩ - পূর্ববর্তী সংস্করণে বিদ্যমান মুদ্রণজনিত ভুলগুলো আমি স্বয়ং লেখকের অন্যান্য কিতাব অথবা অন্যান্য রিজাল শাস্ত্রের কিতাব থেকে সংশোধন করেছি এবং মাঝে মাঝে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।
৪ - যদি রাবী 'তাকরীব' কিতাবের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হন এবং তাকরীব-এ এমন কোনো অতিরিক্ত ফায়দা থাকে যা এই কিতাবে উল্লেখ করা হয়নি—যেমন রাবীর ওপর হুকুম (৪) বা তার তবকা (স্তর) বর্ণনা ইত্যাদি—তবে আমি কোনো প্রকার ইঙ্গিত ছাড়াই তা টীকাতে সাব্যস্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৭)
لتقريب فعلى هذا فكل تعليق لم اعزه لاحد فهو للحافظ بن حجر من التقريب الا ان صرحت بخلاف ذلك.
5 - قارنت بين الرموز الواردة في المطبوع وبين ما في التقريب وغيره مع الاشارة الى ذلك عند الاختلاف.
6 - إذا لم يكن الراوى من رجال التقريب ذكرت أقوال أئمة الجرح والتعديل فيه مع العزو لمصدر النقل.
7 - خرجت بعض الاحاديث المذكورة في الكتاب.
8 - قمت في آخر الكتاب بالحاق (22) راويا وصفوا بالتدليس ممن لم يذكرو في كتاب الحافظ بن حجر فاصلح الكتاب يحتوى على (174) راويا بل (177) راويا (5) .
9 - الحقت منظومتين في التدليس في آخر الكتاب احدا هما للحافظ الذهبي والاخرى لتلميذه أبى محمود المقدسي..
10 - قمت بفهرسة لجميع اسماء الموصوفين بالتدليس مع ترتيبهم على حروف المعجم حتى يعلم الباحث موضع ذكره في الكتاب وان لم يعلم مرتبته.
11 - الرموز التى استعملتها في التحقيق هي للحافظ بن حجر العسقلاني من مقدمة التقريب اسوقها هنا للفائدة:
--------------------------------------------
তাকরিব; সুতরাং এই ভিত্তিতে, আমি যে সকল মন্তব্য কারো প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করিনি তা হাফিজ ইবনে হাজার-এর ‘তাকরিব’ থেকে সংগৃহীত, যদি না আমি স্পষ্টভাবে তার বিপরীত কিছু উল্লেখ করি।
৫ - আমি মুদ্রিত কপিতে বিদ্যমান সংকেতসমূহ এবং ‘তাকরিব’ ও অন্যান্য গ্রন্থে যা আছে তার মধ্যে তুলনা করেছি এবং পার্থক্যের ক্ষেত্রে তা নির্দেশ করেছি।
৬ - বর্ণনাকারী যদি ‘তাকরিব’-এর রাবিদের অন্তর্ভুক্ত না হন, তবে আমি উদ্ধৃতির উৎস উল্লেখসহ তাঁর সম্পর্কে জারহ ও তাদিল-এর ইমামগণের উক্তি বর্ণনা করেছি।
৭ - আমি কিতাবে উল্লিখিত কিছু হাদিসের তাখরিজ (সূত্রনির্দেশ) করেছি।
৮ - আমি কিতাবের শেষে (২২) জন বর্ণনাকারীকে যুক্ত করেছি যারা তাদলিসের (তথ্য গোপনকারী) গুণে বিশেষিত ছিলেন এবং হাফিজ ইবনে হাজারের কিতাবে যাদের কথা উল্লেখ করা হয়নি; ফলে কিতাবটি (১৭৪) জন বরং (১৭৭) জন বর্ণনাকারীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে (৫)।
৯ - আমি কিতাবের শেষে তাদলিস বিষয়ে দু’টি কাব্যগ্রন্থ (মানজুমা) যুক্ত করেছি যার একটি হাফিজ জাহাবির এবং অপরটি তাঁর ছাত্র আবু মাহমুদ আল-মাকদিসির।
১০ - আমি তাদলিসের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বর্ণনাকারীর নাম বর্ণানুক্রমিকভাবে একটি নির্ঘণ্ট প্রস্তুত করেছি যাতে গবেষক তাদের স্তর সম্পর্কে অবগত না থাকলেও কিতাবে তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন।
১১ - তাহকিকের ক্ষেত্রে আমি যে সংকেতগুলো ব্যবহার করেছি সেগুলো হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানির ‘তাকরিব’-এর ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা আমি উপকারের জন্য এখানে তুলে ধরছি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৮)
البخاري في صحيحه خ فان كان حديثه عنده معلقا.
خت وللبخاري في الادب المفرد، بخ وفى خلق أفعال العباد: عخ وفى جزء القراءة: ز، وفى رفع اليدين ى.
ولمسلم: م.
ولابي داود، وفى المراسيل له مد، وفى فضائل الانصار صد: وفى الناسخ خد وفي القدر قد وفى التفرد، ف، وفى المسائل ل، وفى مسند مالك كد، وللترمذي، ت، وفى الشمائل له: تم.
وللنسائي: س، وفى عمل اليوم والليلة له: سى وفى مسند على له عس: وفى مسند مالك كن.
ولابن ماجه: ق، وفى التفسير له فق.
وإذا اجتمعت فالرقم، ع.
وأما علامة 4 فهى لهم سوى الشيخين.
ومن ليست له عند هم رواية مرقوم عليه تميز، اشارة الى انه ذكر ليتميز عن غيره، أن ممن أخرجوا له.
وأما الطبقات عند الحافظ فهى كما يلى.
الاول الصحابة على اختلاف مراتبهم وتمييز من ليس له منهم الا مجرد الرؤية من غيره.
الثانية طبقة كبار التابعين كابين المسيب فان كان مخضر ما صرحت بذ لك.
বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ‘খ’। যদি হাদিসটি তাঁর নিকট মুআল্লাক (ঝুলন্ত সনদ) হয়, তবে তা ‘খত’।
বুখারির ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এর জন্য ‘বখ’, ‘খালাকু আফআলিল ইবাদ’-এর জন্য ‘আখ’, ‘জুজউল কিরাআহ’-এর জন্য ‘যা’ এবং ‘রাফউল ইয়াদাইন’-এর জন্য ‘ইয়া’।
মুসলিমের জন্য: ‘ম’।
আবু দাউদের জন্য ‘দ’, তাঁর ‘আল-মারাসিল’-এর জন্য ‘মাদ’, ‘ফাযাইলুল আনসার’-এর জন্য ‘সাদ’, ‘আন-নাসিখ’-এর জন্য ‘খাদ’, ‘আল-কদর’-এর জন্য ‘কাদ’, ‘আত-তাফাররুদ’-এর জন্য ‘ফা’, ‘আল-মাসাইল’-এর জন্য ‘লাম’ এবং ‘মুসনাদে মালিক’-এর জন্য ‘কাদ’। তিরমিযির জন্য ‘ত’ এবং তাঁর ‘আশ-শামাইল’-এর জন্য ‘তাম’।
নাসাঈর জন্য ‘স’, তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’-এর জন্য ‘সী’, তাঁর ‘মুসনাদে আলী’-এর জন্য ‘আস’ এবং ‘মুসনাদে মালিক’-এর জন্য ‘কুন’।
ইবনে মাজাহর জন্য ‘ক’ এবং তাঁর ‘আত-তাফসির’-এর জন্য ‘ফাক’।
যদি তাঁরা সকলে (ছয় ইমাম) একত্রিত হন, তবে প্রতীক হলো ‘আইন’।
আর ‘৪’ চিহ্নটি হলো শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত বাকি চারজন ইমামের জন্য।
যাঁদের পক্ষ থেকে তাঁদের নিকট কোনো বর্ণনা নেই, তাঁদের ওপর ‘তাময়িয’ শব্দটির চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। এটি এই সংকেত প্রদানের জন্য যে, তাঁকে অন্যদের থেকে পৃথক করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যাদের বর্ণনা তাঁরা গ্রহণ করেছেন।
আর হাফিজ (ইবনে হাজার)-এর নিকট তবাকাত বা স্তরসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম স্তর: সাহাবীগণ, তাঁদের মর্যাদার বিভিন্নতা সত্ত্বেও। তাঁদের মধ্য থেকে যাঁদের কেবল দেখার সৌভাগ্য হয়েছে, তাঁদের অন্যদের থেকে পৃথক করা হয়েছে।
দ্বিতীয় স্তর: প্রবীণ তাবেয়িগণের স্তর, যেমন ইবনুল মুসাইয়িব। যদি কেউ মুখাদরাম হন, তবে আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৯)
الثانية: الطبقة الوسطى من التابعين كالحسن وابن سيرين.
الرابعة: طبقة تليها جل روايتهم عن كبار التابعين
كالزهري وقتادة.
الخامسة: الطبقة الصغرى منهم، الذين رأوا الواحد والاثنين ولم يثبت لبعضهم السماع من الصحابة كالاعمش.
السادسة: طبقة عاصروا الخامسة لكن لم يثبت لهم لقاء أحد من الصحابة كابن جريج.
السابعة طبقة كبار اتباع التابعين كمالك والثوري.
الثامنة: الطبقة الوسطى منهم كابن عينية وابن عليه.
التاسعة: الطبقة الصغرى من اتباع التابعين كيزيد بن هارون والشافعي وأبى داود الطيالسي وعبد الرزاق.
العاشرة: كبار الاخذين عن تبع الاتباع ممن لم يلق التابعين كأحمد بن حنبل.
الحادية عشرة: الطبقة الوسطى من ذلك، كالذهلي والبخاري.
الثانية عشرة، صغار الاخذين عن تبع الاتباع كالترمذي ثم قال الحافظ في بيان وفاة كل طبقة منها.
فان كان من الاولى والثانية فهم قبل المائة وان كان من الثالثة الى آخر الثامنة فهم بعد المائة، وان كان من التاسعة.
দ্বিতীয়: তাবেয়ীদের মধ্যম স্তর, যেমন হাসান ও ইবনে সিরীন।
চতুর্থ: এর পরবর্তী স্তর, যাদের অধিকাংশ বর্ণনা জ্যেষ্ঠ তাবেয়ীদের থেকে
যেমন যুহরী ও কাতাদাহ।
পঞ্চম: তাদের মধ্যে কনিষ্ঠ স্তর, যারা এক বা দুইজনকে দেখেছেন কিন্তু তাদের কারো কারো ক্ষেত্রে সাহাবীগণের থেকে শ্রবণ প্রমাণিত নয়, যেমন আমাশ।
ষষ্ঠ: এমন এক স্তর যারা পঞ্চম স্তরের সমসাময়িক ছিলেন কিন্তু তাদের জন্য কোনো সাহাবীর সাথে সাক্ষাৎ প্রমাণিত নয়, যেমন ইবনে জুরাইজ।
সপ্তম: তাবে-তাবেয়ীদের জ্যেষ্ঠ স্তর, যেমন মালিক ও সাওরী।
অষ্টম: তাদের মধ্যম স্তর, যেমন ইবনে উয়াইনাহ ও ইবনে উলাইয়্যাহ।
নবম: তাবে-তাবেয়ীদের কনিষ্ঠ স্তর, যেমন ইয়াজিদ ইবনে হারুন, শাফেয়ী, আবু দাউদ তায়ালিসি ও আব্দুর রাজ্জাক।
দশম: তাবে-তাবেয়ীদের থেকে গ্রহণকারী জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ যারা তাবেয়ীদের সাক্ষাৎ পাননি, যেমন আহমাদ ইবনে হাম্বল।
একাদশ: সেই পর্যায়ের মধ্যম স্তর, যেমন যুহলী ও বুখারী।
দ্বাদশ: তাবে-তাবেয়ীদের থেকে গ্রহণকারী কনিষ্ঠ স্তর, যেমন তিরমিযী। অতঃপর হাফিয প্রতিটি স্তরের মৃত্যুর সময়কাল বর্ণনায় বলেন:
যদি কেউ প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের হন, তবে তারা হিজরী একশত সালের পূর্বের। আর যদি তৃতীয় থেকে অষ্টম স্তরের শেষ পর্যন্ত হন, তবে তারা একশ সালের পরের। আর যদি নবম স্তরের হন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১০)
الى آخر الطبقات فهم بعد المائتين ومن ندر عن ذلك بينته انتهى.
وفي الختام اسأل الله سبحانه وتعالى أن يجعل أعمالنا خالصة لوجهه الكريم وأن يوفقنا لما يحب ويرضى انه سميع مجميب.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المدينة 3 ربيع ثانى 1404 هـ وكتب ذلكم أبو صهيب عاصم بن عبد الله القريوتى
সর্বশেষ স্তর পর্যন্ত তারা দুইশ হিজরির পরবর্তী সময়ের এবং এর বাইরে যারা ব্যতিক্রম ছিলেন, আমি তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। সমাপ্ত।
পরিশেষে আমি মহান ও পবিত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের আমলসমূহকে তাঁর মহান সত্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠ করে দেন এবং আমাদেরকে সেই কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মদিনা, ৩ রবিউস সানি ১৪০৪ হিজরি। এটি লিখেছেন আবু সুহাইব আসিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-কারইউতি।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১১)
تعريف أهل التقديس بمراتب الموصوفين بالتدليس للحافظ أحمد بن على بن حجر العسقلاني
তদলীস (সনদে সত্য গোপন) করার দায়ে অভিযুক্তদের স্তরসমূহ সম্পর্কে পবিত্রতা অর্জনকারীদের পরিচয়দান — হাফিজ আহমাদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানী।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الرحمن الرحيم الحمد لله المنزه عن النقائص بالتسبيح والتقديس والصلاة والسلام على محمد عبده ورسوله المبرأ عن كل عيب ينشأ عن توضيح أو تلبيس وعلى آله وصحبه الذين شملتهم أنواره فاستغنوا بها عن التدليس أما بعد فهذه معرفة مراتب الموصوفين بالتدليس في أسانيد الحديث النبوي لخصتها في هذه الاوراق لتحفظ وهي مستمدة من جامع التحصيل للامام صلاح الدين العلائي شيخ شيوخنا تغمده الله برحمته من زيادات كثيرة في الاسماء تعرف بالتأمل وهم على خمس مراتب (0) الاولى (0) من لم يوصف بذلك الا نادرا كيحيى بن سعيد
الانصاري (0) الثانية (0) من احتمل الائمة تدليسه وأخرجوا له في الصحيح لامامته وقلة تدليسه في جنب ما روى كالثوري أو كان لا يدلس الا عن ثقة كإبن عيينة (0) الثالثة (0) من أكثر من التدليس فلم يحتج الائمة من أحاديثهم الا بما صرحوا فيه بالسماع ومنهم من رد حديثهم مطلقا ومنهم من قبلهم كأبي الزبير المكي (0)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাসবিহ ও তাকদিসের মাধ্যমে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে পবিত্র। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ-এর প্রতি, যিনি স্পষ্টীকরণ বা অস্পষ্টতা থেকে উদ্ভূত সকল দোষ থেকে মুক্ত। এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের প্রতি, যাঁদেরকে তাঁর নূরসমূহ বেষ্টন করে নিয়েছিল, ফলে তাঁরা এর মাধ্যমে তাদলীস থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছিলেন। অতঃপর, এটি হলো নববী হাদিসের সনদসমূহে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষিত ব্যক্তিদের স্তরবিন্যাস পরিচিতি; আমি এটি এই পৃষ্ঠাগুলোতে সংক্ষেপে সংকলন করেছি যেন তা মুখস্থ রাখা যায়। এবং এটি আমাদের শায়খদের শায়খ ইমাম সালাহউদ্দিন আল-আলাই —আল্লাহ তাঁকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন— রচিত 'জামি' আত-তাহসীল' গ্রন্থ এবং নামের ক্ষেত্রে অনেক অতিরিক্ত সংযুক্তি থেকে সংগৃহীত যা গভীর পর্যালোচনার মাধ্যমে চেনা যায়। তাঁরা পাঁচটি স্তরে বিভক্ত: (০) প্রথম স্তর (০) যাঁরা খুব সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া এই গুণে বর্ণিত হননি, যেমন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ
আল-আনসারী (০) দ্বিতীয় স্তর (০) ইমামগণ যাঁদের তাদলীস সহ্য করে নিয়েছেন এবং তাঁদের ইমামত ও তাঁদের বর্ণিত হাদিসের তুলনায় তাদলীসের পরিমাণ খুব নগণ্য হওয়ার কারণে 'সহীহ' গ্রন্থসমূহে তাঁদের হাদিস গ্রহণ করেছেন, যেমন সাওরী; অথবা এমন ব্যক্তি যিনি কেবল নির্ভরযোগ্য রাবী ছাড়া অন্য কারও থেকে তাদলীস করতেন না, যেমন ইবনে উয়াইনাহ। (০) তৃতীয় স্তর (০) যাঁরা অধিক মাত্রায় তাদলীস করেছেন, ফলে ইমামগণ তাঁদের হাদিসসমূহের মধ্যে কেবল সেগুলোকেই দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন যাতে তাঁরা স্পষ্টভাবে শ্রবণের (সামা') কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মধ্যে এমন রাবীও আছেন যাঁদের হাদিস নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এবং এমনও আছেন যাঁদের গ্রহণ করা হয়েছে, যেমন আবুয যুবায়ের আল-মাক্কী। (০)
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابعة (0) من اتفق على أنه لا يحتج بشئ من حديثهم الا بما صرحوا فيه بالسماع لكثرة تدليسهم على الضعفاء والمجاهيل كبقية بن الوليد (0) الخامسة (0) من ضعف بأمر آخر سوى التدليس فحديثهم مردود ولو صرحوا بالسماع الا أن يوثق من كان ضعفه يسيرا كابن لهيعة وهذا التقسيم المذكور حرره الحافظ صلاح الدين المذكور في كتابه المذكور فمن عليه رقم هـ فهو مذكور في الفصل الذي ذكره في أسماء المدلسين والا فهو من الزيادات عليه وقد أفرد أسماء المدلسين بالتصنيف من القدماء الحسين بن علي الكرابيسي صاحب الامام الاعظم الشافعي ثم النسائي ثم الدارقطني ثم نظم شيخ شيوخنا الحافظ شمس الدين الذهبي في ذلك أرجوزة وتبعه بعض
চতুর্থ (০) যাদের হাদীস দলিল হিসেবে গ্রহণ না করার বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়েছে, তবে তারা যদি স্পষ্টভাবে সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করে তবে তা ভিন্ন; কারণ তারা দুর্বল ও অজ্ঞাত রাবীদের পক্ষ থেকে অধিক মাত্রায় তাদলীস করে থাকে, যেমন বাকিয়্যাহ বিন আল-ওয়ালিদ। (০) পঞ্চম (০) যাদেরকে তাদলীস ব্যতীত অন্য কোনো কারণে দুর্বল সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাদের বর্ণিত হাদীস বর্জনীয়—এমনকি তারা স্পষ্টভাবে সরাসরি শোনার কথা উল্লেখ করলেও। তবে যার দুর্বলতা সামান্য ছিল এবং তাকে নির্ভরযোগ্য গণ্য করা হয়েছে (তার বিষয়টি ভিন্ন), যেমন ইবনে লাহিয়াহ। আর উল্লিখিত এই বিন্যাসটি হাফেজ সালাহউদ্দীন তার সেই কিতাবে সুবিন্যস্ত করেছেন। সুতরাং যার ওপর ‘হা’ চিহ্ন রয়েছে, সে মুদাল্লিসদের নাম সম্পর্কিত পরিচ্ছেদে উল্লিখিত হয়েছে; অন্যথায় সে এর অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে গণ্য। প্রাচীন আলেমদের মধ্যে ইমাম আল-আজম আশ-শাফিঈর সহচর আল-হুসাইন বিন আলী আল-কারাবিসী সর্বপ্রথম মুদাল্লিসদের নাম নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, এরপর ইমাম নাসাঈ এবং ইমাম দারা কুতনী। অতঃপর আমাদের শায়খদের শায়খ হাফেজ শামসুদ্দীন আয-যাহাবী এই বিষয়ে একটি উরজুযা (ছন্দোবদ্ধ কবিতা) রচনা করেন এবং পরবর্তীতে কেউ কেউ তাকে অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تلاميذه وهو الحافظ أبو الحافظ أبو محمود أحمد بن المقدسي فزاد عليه من تصنيف العلائي شيئا كثيرا مما فات الذهبي ذكره ثم ذيل شيخنا حافظ العصر أبو الفضل بن الحسين في هوامش كتاب العلائي أسماء وقعت له زائدة ثم ضمها ولده العلامة قاضي القضاة ولي الدين أبو زرعة الحافظ بن الحافظ إلى من ذكره العلائي وجعله تصنيفا مستقلا وزاد من تتبعه شيئا يسيرا جدا وعلم بما زاده على العلائي ز وأفرد المدلسين بالتصنيف من المتأخرين المحدث الكبير المتقن برهان الدين الحلبي سبط بن العجمي غير متقيد بكتاب العلائي فزاد عليهم قليلا فجميع ما في كتاب العلائي من الاسماء ثمانية وستون نفسا وزاد عليهم بن العراقي ثلاثة عشر نفسا وزاد عليه الحلبي اثنين وثلاثين نفسا وزدت عليهما تسعة وثلاثين نفسا فجمله ما في كتابي هذا مائة واثنان وخمسون نفسا ومن عليه رمز أحد الستة فحديثه مخرج فيه (0)
তার ছাত্রগণ, আর তিনি হলেন হাফিজ আবু মাহমুদ আহমদ বিন আল-মাকদিসি। তিনি আল-আলাই-এর সংকলন থেকে এমন অনেক কিছু এতে যোগ করেছেন যা ইমাম আল-জাহাবি উল্লেখ করতে বাদ ফেলেছিলেন। এরপর আমাদের উস্তাদ, সমকালের হাফিজ আবুল ফজল বিন আল-হুসাইন, আল-আলাই-এর কিতাবের পার্শ্বটীকায় এমন কিছু অতিরিক্ত নাম যোগ করেছেন যা তিনি লাভ করেছিলেন। এরপর তার পুত্র আল্লামা, প্রধান বিচারপতি ওয়ালিউদ্দীন আবু জুরআ—যিনি হাফিজের পুত্র হাফিজ—সেগুলোকে আল-আলাই কর্তৃক বর্ণিত ব্যক্তিদের সাথে যুক্ত করেছেন এবং একে একটি স্বতন্ত্র সংকলনে রূপ দিয়েছেন। তিনি নিজের অনুসন্ধানের মাধ্যমে এতে খুব সামান্য কিছু বৃদ্ধি করেছেন। আর আল-আলাই-এর বর্ণনার ওপর তিনি যা বৃদ্ধি করেছেন তা 'যা' (ز) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছেন। পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসদের মধ্যে মহান ও প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস বুরহানুদ্দীন আল-হালাবি সিবত ইবনুল আজামি, আল-আলাই-এর কিতাবের ওপর সীমাবদ্ধ না থেকে 'মুদাল্লিসীন' (যাঁরা তাদলীস করেন) দের নিয়ে পৃথক সংকলন রচনা করেছেন। ফলে তিনি তাদের ওপর সামান্য কিছু বৃদ্ধি করেছেন। আল-আলাই-এর কিতাবে সর্বমোট নামের সংখ্যা হলো আটষট্টি জন। ইবনুল ইরাকি তাদের ওপর তেরো জন বৃদ্ধি করেছেন। আল-হালাবি তাদের ওপর বত্রিশ জন বৃদ্ধি করেছেন। আর আমি তাদের উভয়ের ওপর উনচল্লিশ জন বৃদ্ধি করেছি। সুতরাং আমার এই কিতাবে মোট নামের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে একশত বায়ান্ন জন। আর যার নামের ওপর কুতুবে সিত্তাহর (ছয়টি কিতাবের) কোনো একটির প্রতীক রয়েছে, তার হাদিস সেই কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। (০)
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
فصل (0) والتدليس تارة في الاسناد وتارة في الشيوخ فالذي في الاسناد أن يروي عن من لقيه شيئا لم يسمعه منه بصيغة محتملة ويلتحق به من رآه ولم يجالسه ويلتحق بتدليس الاسناد تدليس القطع وهو أن يحذف الصيغة ويقتصر على قوله مثلا الزهري عن أنس وتدليس العطف وهو أن يصرح بالتحديث في شيخ له ويعطف عله شيخا آخر له ولا يكون
سمع ذلك من الثاني وتدليس التسوية وهو أن يصنع ذلك لشيخه فان أطلعه على أنه دلسه حكم به وان لم يطلعه طرقه الاحتمال فيقبل من الثقة ما صرح فيه بالتحديث ويتوقف عما عداه وإذا روى عمن عاصره ولم يثبت لقيه له شيئا بصيغة محتملة فهو الارسال الخفي ومنهم من ألحقه بالتدليس والاولى التفرقة لتتميز الانواع ويلتحق بالتدليس ما يقع من بعض المحدثين من التعبير بالتحديث أو الاخبار عن الاجازة موهما للسماع ولا يكون سمع من ذلك الشيخ شيئا ومن لم يوصف بالتدليس من الثقات إذا روى عن من لقيه بصيغة محتملة حملت على السماع وإذا روى عن من عاصره بالصيغة المحتملة لم يحمل على السماع في الصحيح المختار وفاقا للبخاري وشيخه بن المديني ومن روى بالصيغة المحتملة عن من لم يعاصره فهو مطلق للارسال فان كان تابعيا سمي السند مرسلا وان كان دونه سمى منقطعا أو معضلا وقد بسطت ذلك في علوم الحديث ولله الحمد وممن وصف بالتدليس ممن صرح بالتحدث في
পরিচ্ছেদ (০) তাদলিস কখনও ইসনাদ বা সনদের ক্ষেত্রে হয় এবং কখনও শাইখ বা বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে হয়। সনদের ক্ষেত্রে তাদলিস হলো—যে ব্যক্তির সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছে, তাঁর কাছ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করা যা তিনি তাঁর নিকট থেকে সরাসরি শোনেননি, এমন শব্দ ব্যবহার করে যা শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে। এর অন্তর্ভুক্ত হবে সেই ব্যক্তিও যাকে তিনি দেখেছেন কিন্তু তাঁর মজলিসে বসেননি। সনদগত তাদলিসের সাথে 'তাদলিসুল কাত্' (কর্তনযুক্ত তাদলিস) যুক্ত হবে; আর তা হলো শ্রবণের শব্দটি বাদ দিয়ে দেওয়া এবং কেবল বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করা, যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা: যুহরি আন আনাস। এবং 'তাদলিসুল আত্বফ' (সংযোজনযুক্ত তাদলিস); আর তা হলো নিজের একজন শাইখের নিকট হতে শোনার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এবং তাঁর সাথে নিজের অপর একজন শাইখকে যুক্ত করে দেওয়া, অথচ তিনি তা
দ্বিতীয়জন থেকে শোনেননি। এবং 'তাদলিসুত তাসবিয়্যাহ' (সমতাকরণমূলক তাদলিস); আর তা হলো নিজের শাইখের উর্ধ্বতন সনদে এরূপ করা। যদি তিনি তাদলিস করেছেন বলে প্রকাশ করে দেন তবে সে অনুযায়ী হুকুম হবে, আর যদি প্রকাশ না করেন তবে তাতে সংশয়ের অবকাশ থাকে। এমতাবস্থায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (সিকাহ) থেকে সেই বর্ণনাটিই গ্রহণ করা হবে যাতে তিনি শ্রবণের কথা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, আর এ ছাড়া অন্যগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হবে। আর যখন তিনি তাঁর সমসাময়িক কারো কাছ থেকে এমন শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করেন যা শ্রবণের সম্ভাবনা রাখে, অথচ তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত নয়, তখন তাকে 'ইরসালে খাফি' (গোপন বিযুক্তি) বলা হয়। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ একে তাদলিসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, তবে প্রকারভেদগুলো স্পষ্ট করার জন্য এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করাই উত্তম। তাদলিসের অন্তর্ভুক্ত হবে যা কিছু মুহাদ্দিসগণের মাঝে ঘটে থাকে, যেমন—ইজাজতের (অনুমতি) ক্ষেত্রে শ্রবণের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে 'হাদ্দাসানা' (আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন) বা 'আখবারানা' (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দ ব্যবহার করা, অথচ তিনি সেই শাইখের কাছ থেকে সরাসরি কিছুই শোনেননি। নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মধ্যে যাদেরকে তাদলিসের গুণে অভিহিত করা হয়নি, তারা যখন তাদের সাক্ষাৎ পাওয়া ব্যক্তিদের থেকে শ্রবণের সম্ভাবনাযুক্ত শব্দে বর্ণনা করবেন, তখন তা শ্রবণের ওপরই গণ্য করা হবে। আর যখন তিনি তাঁর সমসাময়িক কারো কাছ থেকে শ্রবণের সম্ভাবনাযুক্ত শব্দে বর্ণনা করেন, তখন ইমাম বুখারী ও তাঁর উস্তাদ ইবনে মাদিনীর সাথে ঐকমত্য পোষণকারী বিশুদ্ধ ও পছন্দনীয় মতানুসারে তা শ্রবণের ওপর গণ্য করা হবে না। আর যিনি তাঁর সমসাময়িক নন এমন কারো কাছ থেকে শ্রবণের সম্ভাবনাযুক্ত শব্দে বর্ণনা করেন, তবে তা সাধারণভাবে 'ইরসাল' (বিযুক্তি) হিসেবে গণ্য হবে। যদি বর্ণনাকারী তাবেয়ী হন তবে সেই সনদকে 'মুরসাল' বলা হবে, আর যদি তার নিচের স্তরের কেউ হন তবে তাকে 'মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন) বা 'মু'দাল' (জটিল) বলা হবে। আমি উলুমুল হাদিসের কিতাবে এটি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। আর যাদেরকে তাদলিসের গুণে অভিহিত করা হয়েছে তাদের মধ্য হতে যারা শ্রবণের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الوجادة أو صرح بالتحديث لكن تجوز في صيغة الجمع فأوهم دخوله وليس كذلك فسيأتي بيان من فعل ذلك ان شاء الله تعالى وأما تدليس الشيوخ فهو أن يصف شيخه بما لم يشتهر به من اسم أو لقب أو كنية أو نسبة ايهاما للتكثير غالبا وقد يفعل ذلك لضعف شيخه وهو خيانة ممن تعمده كما إذا وقع ذلك في تدليس الاسناد والله المستعان (0)
উইজাদাহ অথবা স্পষ্টভাবে বর্ণনার কথা উল্লেখ করা, তবে তিনি বহুবচনবাচক শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শন করেছেন, যার ফলে ভ্রম সৃষ্টি হয়েছে যে তিনি তাতে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। যারা এমনটি করেছেন ইনশাআল্লাহ তাআলা অচিরেই তাদের বর্ণনা সামনে আসবে। আর শায়খদের তাদলিস হলো, বর্ণনাকারী তার শায়খকে এমন নাম, উপাধি, কুনিয়াত বা নিসবত দিয়ে বর্ণনা করবেন যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধ নন; যা সাধারণত শায়খদের আধিক্য বোঝানোর ভ্রম সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে। কখনো কখনো এটি শায়খের দুর্বলতা ঢাকার জন্যও করা হয়, যা ইচ্ছাকৃতভাবেকারীর পক্ষ থেকে একটি খিয়ানত বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য, যেমনটি ইসনাদের তাদলিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি। (০)
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المرتبة الاولى (0)
وعدتهم ثلاثة وثلاثون نفسا
(1) أحمد بن عبد الله بن أحمد بن إسحاق الاصبهاني الحافظ أبو نعيم صاحب التصانيف الكثيرة الشائعة منها حلية الاولياء ومعرفة الصحابة والمستخرجين على الصحيحين كانت له إجازة من أناس أدركهم ولم يلقهم فكان يروى عنهم بصيغة أخبرنا ولا يبين كونها إجازة لكنه كان إذا حدث عن من سمع منه يقول حدثنا سواء كان ذلك قراءة أو سماعا وهو اصطلاح له تبعه عليه بعضهم وفيه نوع تدليس بالنسبة لمن لا يعرف ذلك قال الخطيب رأيت لابي نعيم أشياء يتساهل فيها منها أنه يطلق في الاجازة أخبرنا ولا يبين قال الذهبي هذا مذهب رآه أو نعيم وهو ضرب من التدليس وقد فعله غيره
(2) أحمد بن محمد بن إبراهيم بن حزم السمرقندي أبويحيى الكرابيسي محدث مشهور سمع محمد بن نصر المروزي ومحمد بن إسحاق بن خزيمة قال الادريسي أكثر عن محمد بن نصر فاتهم في ذلك يعني أنه دلس عنه الاجازة
--------------------------------------------
প্রথম স্তর (০)
এবং তাঁদের সংখ্যা তেত্রিশ জন
(১) আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন ইসহাক আল-আসফাহানি আল-হাফিয আবু নুআইম; তিনি বহু প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় গ্রন্থের প্রণেতা, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হিলইয়াতুল আউলিয়া’, ‘মা’রিফাতুস সাহাবা’ এবং সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর ওপর মুস্তাখরাজসমূহ। তাঁর নিকট এমন কিছু ব্যক্তির ইজাযত ছিল যাঁদের সমকাল তিনি পেয়েছিলেন কিন্তু তাঁদের সাথে তাঁর সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি। তিনি তাঁদের থেকে ‘আখবারানা’ (আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) শব্দে বর্ণনা করতেন এবং এটি যে ইজাযত ছিল তা তিনি স্পষ্ট করতেন না। তবে যাঁর নিকট থেকে তিনি সরাসরি শুনেছেন, তাঁর থেকে বর্ণনা করার সময় তিনি ‘হাদ্দাসানা’ (আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন) বলতেন, চাই তা পাঠ করার মাধ্যমে হোক বা শ্রবণ করার মাধ্যমে। এটি তাঁর একটি নিজস্ব পরিভাষা ছিল যা পরবর্তীতে কেউ কেউ অনুসরণ করেছেন, তবে যারা এই পরিভাষা সম্পর্কে অবগত নয় তাদের জন্য এতে এক প্রকার ‘তাদলিস’ (বর্ণনার অস্পষ্টতা) রয়েছে। আল-খতিব বলেন: আমি আবু নুআইমের মাঝে এমন কিছু বিষয় লক্ষ্য করেছি যাতে তিনি শিথিলতা প্রদর্শন করতেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো তিনি ইজাযতের ক্ষেত্রে ‘আখবারানা’ শব্দ ব্যবহার করতেন এবং তা প্রকাশ করতেন না। আয-যাহাবী বলেন: এটি একটি পদ্ধতি যা আবু নুআইম অনুসরণ করতেন, যা এক প্রকার তাদলিস; তাঁর বাইরে অন্যরাও এমনটি করেছেন।
(২) আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম বিন হাযম আস-সামারকান্দি আবু ইয়াহইয়া আল-কারাবিসি; তিনি একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি মুহাম্মাদ বিন নাসর আল-মারওয়াযী এবং মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযাইমাহ থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন। আল-ইদরীসী বলেন: তিনি মুহাম্মাদ বিন নাসরের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, ফলে এ বিষয়ে তিনি অভিযুক্ত হয়েছেন; অর্থাৎ তিনি তাঁর থেকে ইজাযতের ক্ষেত্রে তাদলিস করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فان له منه إجازة صحيحة قال الادريسي رأيتها بخط محمد بن نصر
(3) أحمد بن محمد بن يحيى بن حمزة الدمشقي القاضي أكثر عن أبيه عن جده فقال أبو حاتم الرازي سمعته يقول لم أسمع من أبي شيئا وقال أبو عوانة الاسفرائيني أجاز له أبوه فروى عنه بذلك يعني ولم يبين كونها إجازة
(4) خ 4 إسحاق بن راشد الجزري كان يطلق حدثنا في الوجادة فإنه حدث عن الزهري فقيل له أني لقيته قال مررت ببيت المقدس فوجدت كتابا حكى ذلك الحاكم في علوم الحديث عن الاسماعيلي
(5) ع أيوب بن أبي تميمة السختياني أحد الائمة متفق على الاحتجاج به رأى أنسا ولم يسمع منه فحدث عنه بعدة أحاديث بالعنعنة أخرجها عنه الدارقطني والحاكم في كتابهما
(6) أيوب بن النجار اليمامي صح أنه قال لم أسمع من يحيى بن أبي كثير الا حديثا واحدا وقد روى عنه أكثر من حديث
--------------------------------------------
কেননা তার নিকট থেকে তার একটি সহিহ ইজাযত (অনুমতি) রয়েছে। ইদরিসি বলেছেন, আমি এটি মুহাম্মদ ইবনে নাসরের হস্তাক্ষরে দেখেছি।
(৩) আহমাদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে হামযা আদ-দিমাশকি আল-কাদি। তিনি তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে অধিক বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি যে, আমি আমার পিতার নিকট থেকে কিছুই শুনিনি। আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি বলেছেন, তার পিতা তাকে ইজাযত দিয়েছিলেন, ফলে তিনি সেই সূত্রে বর্ণনা করেছেন; অর্থাৎ তিনি এটি যে ইজাযত ছিল তা স্পষ্ট করেননি।
(৪) বুখারি ৪ ইসহাক ইবনে রাশিদ আল-জাজারি। তিনি উইজাদা (লিখিত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি) এর ক্ষেত্রে ‘হাদ্দাসানা’ শব্দ ব্যবহার করতেন। তিনি যুহরি থেকে বর্ণনা করেছেন। তাকে বলা হলো, আপনি কোথায় তার সাক্ষাৎ পেয়েছেন? তিনি বললেন, আমি বায়তুল মাকদিস অতিক্রম করার সময় একটি কিতাব পেয়েছিলাম। আল-হাকিম ‘উলূমুল হাদিস’ গ্রন্থে আল-ইসমাইলি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(৫) জামা'আত আইয়ুব ইবনে আবি তামিমিয়াহ আস-সাখতিয়ানি। তিনি অন্যতম ইমাম, যার মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে সকলে একমত। তিনি আনাসকে দেখেছেন কিন্তু তার থেকে কিছু শোনেননি। তবে তিনি তার সূত্রে ‘আন’ শব্দযোগে বেশ কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন। আদ-দারাকুতনি এবং আল-হাকিম তাদের কিতাবদ্বয়ে তা বর্ণনা করেছেন।
(৬) আইয়ুব ইবনে আন-নাজ্জার আল-য়ামামি। এটি সহিহ সূত্রে প্রমাণিত যে তিনি বলেছেন, আমি ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের নিকট থেকে একটি হাদিস ব্যতীত আর কিছুই শুনিনি। অথচ তিনি তার থেকে একের অধিক হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২০)
(7) ع جرير بن حازم الازدي أحد الثقات وصفه بالتدليس يحيى الحماني في حديثه عن أبي حازم عن سهل بن سعد في صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم
(8) م 4 الحسين بن واقد المروزي أحد الثقات من اتباع التابعين وصفه الدارقطني وأبو يعلى الخليلي بالتدليس
(9) ع حفص بن غياث الكوفي القاضي أحد الثقات من أتباع التابعين وصفه أحمد بن حنبل والدارقطني بالتدليس
(10) ع خالد بن مهران الحذاء أحد الاثبات المشهورين روى عن عراك بن مالك حديثا سمعه من خالد بن أبي الصلت عنه في استقبال القبلة في البول
(11) ع زيد بن أسلم العمري مولاهم روى عن بن عمر رضي الله تعالى عنهما في رد السلام بالاشارة قال بن عبيد قلت لانسان سله اسمعه من بن عمر فسأله فقال أما اني فكلمني وكلمته أخرجه البيهقي وفي هذا الجواب اشعار بأنه
--------------------------------------------
(৭) 'আইন' জারীর ইবনে হাযিম আল-আযদী, অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাবী। ইয়াহইয়া আল-হিমানী তাকে 'তাদলীস'-এর অভিযোগে বর্ণনা করেছেন আবু হাযিম থেকে বর্ণিত তাঁর সেই হাদীসে যা তিনি সাহল ইবনে সা'দ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন।
(৮) 'মীম ৪' আল-হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ আল-মারওয়াযী, তাবি-তাবিঈনদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাবী। আদ-দারা কুতনী এবং আবু ইয়ালা আল-খালীলী তাকে 'তাদলীস'-এর অভিযোগে বর্ণনা করেছেন।
(৯) 'আইন' হাফস ইবনে গিয়াস আল-কুফী আল-কাযী, তাবি-তাবিঈনদের মধ্যে অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাবী। আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং আদ-দারা কুতনী তাকে 'তাদলীস'-এর অভিযোগে বর্ণনা করেছেন।
(১০) 'আইন' খালিদ ইবনে মিহরান আল-হায্যা, প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য রাবীদের অন্যতম। তিনি ইরাক ইবনে মালিক থেকে একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তিনি খালিদ ইবনে আবুত-সালত থেকে তাঁর সূত্রে পেশাব করার সময় কিবলার দিকে মুখ করার বিষয়ে শুনেছেন।
(১১) 'আইন' যায়েদ ইবনে আসলাম আল-উমারী, তাঁদের আযাদকৃত গোলাম। তিনি ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা থেকে ইশারায় সালামের উত্তর দেওয়ার বিষয়ে বর্ণনা করেছেন। ইবনে উবাইদ বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে বললাম, তাঁকে জিজ্ঞাসা করো যে তিনি কি এটি ইবনে উমর থেকে শুনেছেন? তখন সে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "অবশ্যই, তিনি আমার সাথে কথা বলেছেন এবং আমিও তাঁর সাথে কথা বলেছি।" এটি বায়হাকী বর্ণনা করেছেন এবং এই উত্তরের মধ্যে ইঙ্গিত রয়েছে যে তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২১)
لم يسمع هذا بخصوصه منه مع أنه مكثر عنه فيكون قد دلسه
(12) س سلمة بن تمام الشقري من اتباع التابعين ذكره بن حبان في ثقات التابعين وذكر بن أبي حاتم ما يدل على أنه كان يدلس ولذلك قال العلائي في كتاب المراسيل كأنه مدلس
(13) د س ق شباك الضبي صاحب إبراهيم النخعي مشهور من أهل الكوفة وصفه بالتدليس الدارقطني والحاكم
(14) ع طاوس بن كيسان اليماني التابعي المشهور ذكره الكرابيسي في المدلسين وقال أخذ كثيرا من علم بن عباس رضي الله تعالى عنهما ثم كان بعد ذلك يرسل عن بن عباس وروى عن عائشة فقال بن معين لا أراه سمع منها وقال أبو داود لا أعلمه سمع منها
(15) ع عبد الله بن زيد الجرمي أبو قلابة التابعي الشهير مشهور بكنيته وصغه بذلك الذهبي والعلائي
--------------------------------------------
তিনি এটি বিশেষভাবে তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেননি, যদিও তিনি তাঁর পক্ষ থেকে অধিক বর্ণনাকারী, ফলে তিনি সম্ভবত এতে তাদলিস করেছেন।
(১২) (স) সালামাহ বিন তাম্মাম আশ-শাক্বারী: তিনি তাবে-তাবেঈনদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হিব্বান তাঁকে 'সিক্বাতুত তাবেঈন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবি হাতিম এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে তিনি তাদলিস করতেন। এই কারণেই আল-আলাঈ তাঁর 'কিতাবুল মারাসীল'-এ বলেছেন: "তিনি যেন একজন মুদাল্লিস"।
(১৩) (দ, স, ক্ব) শুবাক আদ-দাব্বি: ইব্রাহিম আন-নাখায়ীর সহচর, কুফাবাসীদের মধ্যে প্রসিদ্ধ। আদ-দারাকুতনী ও আল-হাকিম তাঁকে তাদলিসের গুণে বিশেষিত করেছেন।
(১৪) (আ) তাউস বিন কাইসান আল-ইয়ামানি: প্রসিদ্ধ তাবেঈ। আল-কারাবিসি তাঁকে মুদাল্লিসদের মধ্যে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা) থেকে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেছেন, অতঃপর তিনি ইবনে আব্বাসের পক্ষ থেকে ইরসাল করতেন। তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, সে সম্পর্কে ইবনে মাঈন বলেছেন: "আমি মনে করি না যে তিনি তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন"। আবু দাউদ বলেছেন: "আমি জানি না যে তিনি তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন"।
(১৫) (আ) আবদুল্লাহ বিন জাইদ আল-জারমি আবু ক্বিলাবাহ: সুপ্রসিদ্ধ তাবেঈ, যিনি তাঁর উপনামেই পরিচিত। আয-যাহাবী ও আল-আলাঈ তাঁকে তাদলিসের গুণে বিশেষিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২২)
(16) م 4 عبد الله بن عطاء الطائفي نزيل مكة من صغار التابعين قضيته في التدليس مشهورة رواها شعبة عن أبي إسحاق السبيعي
(17) ع عبد الله بن وهب المصري الفقيه المشهور وصفه بذلك محمد بن سعد في الطبقات
(18) خ م د س ق عبد ربه بن نافع أبو شهاب الحناط بالمهلمة والنون نزيل المدائن وثقة بن معين ولينه النسائي وأشار الخطيب في مقدمة تاريخه إلى أنه دلس حديثا
(19) علي بن عمر بن مهدي الدارقطني الحافظ المشهور قال أبو الفضل بن طاهر كان له مذهب خفي في التدليس يقول قرئ على أبي القاسم البغوي حدثكم فلان فيوهم أنه سمع منه لكن لا يقول وأنا أسمع
(20) ع عمرو بن دينار المكي الثقة المشهور التابعي أشار الحاكم في علوم الحديث إلى أنه كان يدلس
--------------------------------------------
(১৬) মুসলিম ও চার সুনান: আবদুল্লাহ বিন আতা আল-তায়েফী, মক্কার অধিবাসী, ছোট স্তরের তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত। তদলিসের বিষয়ে তার বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ, যা শু’বাহ আবু ইসহাক আল-সাবি’ঈ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(১৭) কুতুবে সিত্তাহ: আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব আল-মিসরী, সুপ্রসিদ্ধ ফকীহ। মুহাম্মদ বিন সাদ ‘আত-তবকাত’ গ্রন্থে তাকে এই (তদলিসের) বিশেষণে বর্ণিত করেছেন।
(১৮) বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ: আবদ রাব্বিহি বিন নাফে’ আবু শিহাব আল-হান্নাত (হা ও নূন সহযোগে), মাদায়েনের অধিবাসী। ইবনে মাইন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং নাসাঈ তাকে শিথিল (দুর্বল) বলেছেন। খতীব তার ইতিহাসের ভূমিকায় ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি একটি হাদীসে তদলিস করেছেন।
(১৯) আলী বিন উমর বিন মাহদী আল-দারাকুতনী, সুপ্রসিদ্ধ হাফেয। আবুল ফজল বিন তাহির বলেছেন: তদলিসের ক্ষেত্রে তার একটি প্রচ্ছন্ন পদ্ধতি ছিল; তিনি বলতেন: ‘আবু কাসিম আল-বাগাওয়ীর নিকট পাঠ করা হয়েছে যে, অমুক আপনাদের নিকট বর্ণনা করেছেন’, এতে এই ভ্রম সৃষ্টি হতো যে তিনি তা সরাসরি শুনেছেন, তবে তিনি এটি বলতেন না যে ‘আমি শুনছিলাম’।
(২০) কুতুবে সিত্তাহ: আমর বিন দীনার আল-মাক্কী, সুপ্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য তাবেয়ী। আল-হাকিম ‘উলূমুল হাদীস’ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি তদলis করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
(21) ع الفضل بن دكين بن زهير أبو نعيم الكوفي مشهور من كبار شيوخ البخاري وصفه أحمد بن صالح المصري بذلك
(22) ع مالك بن أنس الامام المشهور يلزم من جعل التسوية تدليسا أن يذكره فيهم لانه كان يروى عن ثور بن زيد حديث عكرمة عن بن عباس وكان يحذف عكرمة وقع ذلك في غير ما حديث في الموطأ يقول عن ثور عن
--------------------------------------------
(২১) আল-ফাদল ইবনে দুকাইন ইবনে যুহাইর আবু নুআইম আল-কুফি। তিনি ইমাম বুখারীর প্রখ্যাত উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত; আহমদ ইবনে সালেহ আল-মিসরি তাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(২২) মালিক ইবনে আনাস, প্রসিদ্ধ ইমাম। যারা ‘তাসবিয়াহ’কে (তাদলিসুত তাসবিয়াহ) তাদলিস হিসেবে গণ্য করেন, তাদের ক্ষেত্রে তাকেও এদের মধ্যে উল্লেখ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ তিনি সাওর ইবনে যায়েদ থেকে ইকরিমা সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করতেন এবং ইকরিমাকে বাদ দিয়ে দিতেন। মুওয়াত্তার একাধিক হাদিসে এমনটি ঘটেছে যেখানে তিনি বলতেন ‘সাওর থেকে...’।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بن عباس ولا يذكر عكرمة وكذا كان يسقط عاصم بن عبد الله من إسناد آخر ذكر الدارقطني وأنكر بن عبد البر أن يكون تدليسا
(23) ق س محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة البخاري الامام وصفه بذلك أبو عبد الله بن مندة في كلام له فقال فيه اخرج البخاري قال فلان وقال لنا فلان وهو تدليس ولم يوافق بن مندة على ذلك والذي يظهر أنه يقول فيما لم يسمع وفيما سمع لكن لا يكون على شرطه أو موقوفا قال لي أو قال لنا وقد عرفت ذلك بالاستقراء من صنيعه
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস, এবং তিনি ইকরিমা-র কথা উল্লেখ করতেন না। অনুরূপভাবে তিনি অন্য একটি সনদ থেকে আসিম বিন আব্দুল্লাহ-কেও বাদ দিতেন; এটি দারা কুতনী উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে আব্দুল বার এটিকে তাদলিস হিসেবে গণ্য করতে অস্বীকার করেছেন।
(২৩) কাফ, সিন। মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন আল-মুগীরা আল-বুখারী, আল-ইমাম। আবু আব্দুল্লাহ বিন মানদাহ তাঁর এক বক্তব্যে তাঁকে এই (তাদলিস) বিশেষণে বিশেষিত করেছেন এবং তাতে বলেছেন: "বুখারী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন 'অমুক বলেছেন' ও 'আমাদের নিকট অমুক বলেছেন', যা তাদলিস।" তবে ইবনে মানদাহ-র এই বক্তব্যের সাথে কেউ একমত হননি। প্রকৃতপক্ষে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি (বুখারী) এমন সব বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলো বলেন যা তিনি সরাসরি শোনেননি অথবা যা শুনেছেন কিন্তু তা তাঁর শর্ত অনুযায়ী নয় অথবা তা মাওকুফ। তিনি "আমাকে বলেছেন" বা "আমাদের নিকট বলেছেন" শব্দ ব্যবহার করেছেন। তাঁর কর্মপদ্ধতি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে আমি তা জানতে পেরেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
(24) محمد بن عمران بن موسى المرزباني الكاتب الاخباري كان يطلق التحديث والاخبار في الاجازة ولا يبين ذكر ذلك الخطيب وغيره
(25) ت ق محمد بن يزيد بن خنيس العابد قال بن حبان يعتبر حديثه إذا بين السماع في روايته
(26) محمد بن يوسف بن مسدي الحافظ الاندلسي نزيل مكة في المائة السابعة وكان يدلس الاجازة وله معجم مشهور مات بمكة سنة ثلاث وستين وستمائة
(27) م د س مخرمة بن بكير بن عبد الله بن الاشج قال بن المديني سمع من أبيه قليلا وقيل لم يسمع منه شيئا وحدث عنه بالكثير وقال أبو داود ولم يسمع منه الا حديث الوتر ووصفه زكريا الساجي بالتدليس وقال مالك حلف لي مخرمة أنه سمع من أبيه وقال موسى بن سلمة قلت لمخرمة بن بكير سمعت من أبيك قال لم أدرك أبي وهذه كتبه.
--------------------------------------------
(২৪) মুহাম্মদ বিন ইমরান বিন মুসা আল-মারযুবানি আল-কাতিব আল-আখবারি। তিনি ইজাযাহ বা অনুমতির ক্ষেত্রে বর্ণনা (তাহদিস) ও সংবাদ প্রদান (আখবার) শব্দগুলো ঢালাওভাবে ব্যবহার করতেন এবং বিষয়টি স্পষ্ট করতেন না। আল-খতিব এবং অন্যান্যরা এটি উল্লেখ করেছেন।
(২৫) তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ। মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদ বিন খুনাইস আল-আবিদ। ইবনে হিব্বান বলেছেন: যখন তিনি তাঁর বর্ণনায় সরাসরি শ্রবণের (সামা‘) বিষয়টি স্পষ্ট করেন, তখন তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
(২৬) মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন মাসদি আল-হাফিজ আল-আন্দালুসি, সপ্তম শতাব্দীতে মক্কায় বসবাসকারী। তিনি ইজাযাহর ক্ষেত্রে তাদলীস করতেন এবং তাঁর একটি প্রসিদ্ধ ‘মুজাম’ রয়েছে। তিনি ৬৬৩ হিজরি সনে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন।
(২৭) মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসাঈ। মাখরামা বিন বুকাইর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আশাজ। ইবনুল মাদিনী বলেছেন: তিনি তাঁর পিতার নিকট হতে সামান্য কিছু শুনেছেন। আবার বলা হয়েছে যে, তিনি তাঁর পিতার নিকট হতে কিছুই শুনেননি, অথচ তাঁর পক্ষ হতে অনেক বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেছেন: বিতরের হাদিস ব্যতীত তিনি তাঁর পিতা হতে আর কিছুই শুনেননি। যাকারিয়া আল-সাজি তাঁকে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন। ইমাম মালিক বলেছেন: মাখরামা আমার নিকট শপথ করেছেন যে, তিনি তাঁর পিতার নিকট হতে শ্রবণ করেছেন। মুসা বিন সালামাহ বলেন: আমি মাখরামা বিন বুকাইরকে বললাম, আপনি কি আপনার পিতার নিকট হতে শুনেছেন? তিনি বললেন: আমি আমার পিতাকে পাইনি (অর্থাৎ তাঁর শৈশবেই পিতা মারা গেছেন), তবে এগুলো তাঁর পাণ্ডুলিপি বা কিতাবসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(28) ت مسلم بن الحجاج القشيري النيسابوري الامام المشهور قال بن مندة انه كان يقول فيما لم يسمعه من مشائخه قال لنا فلان وهو تدليس ورد ذلك شيخنا الحافظ أبو الفضل بن الحسين وهو كما قال
(29) ع موسى بن عقبة المدني تابعي صغير ثقة متفق عليه وصفه الدارقطني بالتدليس أشار إلى ذلك الاسماعيلي
(30) ع هشام بن عروة بن الزبير بن العوام تابعي صغير مشهور ذكره بذلك أبو الحسن القطان وأنكره الذهبي وابن القطان فان الحكاية المشهورة عنه أنه قدم العراق ثلاث مرات ففي الاولى حدث عن أبيه فصرح بسماعه وفي الثانية حدث بالكثير فلم يصرح بالقصة وهي تقتضي انه حدث عنه بما لم يسمعه منه وهذا هو التدليس
--------------------------------------------
(২৮) ত মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী আন-নিশাপুরী, প্রসিদ্ধ ইমাম। ইবনে মানদাহ বলেছেন যে, তিনি তাঁর উস্তাদদের থেকে যা শুনেননি সে বিষয়ে 'আমাদের নিকট অমুক বলেছেন' বলতেন, আর এটি হলো তাদলীস। আমাদের উস্তাদ হাফেজ আবুল ফজল বিন আল-হুসাইন এটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি বলেছেন।
(২৯) আইন মূসা বিন উকবা আল-মাদানী, ছোট তাবেয়ী, নির্ভরযোগ্য ও সর্বসম্মত। আদ-দারা কুতনী তাঁকে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষায়িত করেছেন এবং আল-ইসমাঈলী সেদিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(৩০) আইন হিশাম বিন উরওয়াহ বিন আজ-জুবায়ের বিন আল-আওয়াম, প্রসিদ্ধ ছোট তাবেয়ী। আবুল হাসান আল-কাত্তান তাঁকে তাদলীসের সাথে উল্লেখ করেছেন, তবে আয-যাহাবী ও ইবনুল কাত্তান এটি অস্বীকার করেছেন। কেননা তাঁর সম্পর্কে প্রসিদ্ধ ঘটনা হলো তিনি তিনবার ইরাকে এসেছিলেন। প্রথমবার তিনি তাঁর পিতার সূত্রে হাদিস বর্ণনা করার সময় সরাসরি শোনার কথা ব্যক্ত করেছিলেন। দ্বিতীয়বার তিনি অনেক হাদিস বর্ণনা করেন কিন্তু শোনার বিষয়টি স্পষ্ট করেননি, যা দাবি করে যে তিনি তাঁর থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাঁর থেকে শুনেননি; আর এটাই হলো তাদলীস।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(31) ع لاحق بن حميد أبو مجلز البصري التابعي المشهور صاحب أنس مشهور بكنيته أشار بن أبي خيثمة عن بن معين إلى انه كان يدلس وجزم بذلك الدارقطني
(32) ع يحيى بن سعيد بن قهد بالقاف بن قيس الانصاري المدني تابعي صغير مشهور وصغه بذلك علي المديني فيما ذكره عبد الغني بن سعيد الازدي وكذا وصفه به الدارقطني
(33) ع يزيد بن هارون الواسطي أحد الاعلام من أتباع التابعين قال ما دلست قط الا في حديث واحد فما بورك فيه
--------------------------------------------
(৩১) আইন। লাহেক বিন হুমাইদ আবু মিজলাজ আল-বাসরি, প্রসিদ্ধ তাবিঈ এবং আনাস (রা.)-এর ছাত্র। তিনি তার কুনিয়ত (উপনাম) মাধ্যমেই অধিক প্রসিদ্ধ। ইবনে আবি খাইসামাহ ইবনে মাঈন থেকে ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি তাদলীস করতেন এবং দারা কুতনী এ বিষয়ে দৃঢ় মত পোষণ করেছেন।
(৩২) আইন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বিন কাহদ (ক্বাফ সহ) বিন কায়েস আল-আনসারি আল-মাদানি। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ছোট তাবিঈ। আলী আল-মাদিনি তাকে তাদলীসকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেমনটি আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদী উল্লেখ করেছেন এবং দারা কুতনীও তাকে একইভাবে বর্ণনা করেছেন।
(৩৩) আইন। ইয়াযিদ বিন হারুন আল-ওয়াসিতি, তাবি-তাবিঈনদের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম। তিনি বলেছেন: আমি একটি হাদিস ছাড়া কখনো তাদলীস করিনি, আর সেই হাদিসটিতে বরকত দেওয়া হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
(0)
المرتبة الثانية(0) وعدتهم ثلاثة وثلاثون نفسا
(34) إبراهيم بن سليمان الافطس الدمشقي عن مكحول وغيره وعن يحيى بن حمزة وجماعة قال أبو حاتم لا بأس به وأشار البخاري إلى أنه كان يدلس
--------------------------------------------
(০)
দ্বিতীয় স্তর(০) এবং তাঁদের সংখ্যা তেত্রিশ জন
(৩৪) ইবরাহিম বিন সুলাইমান আল-আফতাস আদ-দিমাশকি; তিনি মাকহুল ও অন্যান্যদের থেকে এবং ইয়াহইয়া বিন হামযা ও এক জামাত থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেন: তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (তিনি নির্ভরযোগ্য)। ইমাম বুখারি ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি তাদলিস করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(35) ع إبراهيم بن يزيد النخعي الفقيه المشهور في التابعين من أهل الكوفة ذكر الحاكم أنه كان يدلس وقال أبو حاتم لم يلق أحدا من الصحابة الا عائشة رضي الله تعالى عنها ولم يسمع منها وكان يرسل كثيرا ولا سيما عن بن مسعود وحدث عن أنس وغيره مرسلا
(36) ع إسماعيل بن أبي خالد المشهور الكوفي الثقة من صغار التابعين وصفه النسائي بالتدليس
(37) ع أشعث بن عبد الملك الحمراني بصري قال معاذ سمعته يقول كل شئ حدثتكم عن الحسن منه الا ثلاثة أحاديث حديث الذي يركع دون الصف وحديث عدة الحائض وحديث علي في الخلاص
(38) م 4 بشير بن المهاجر الغنوي كوفي من صغار التابعين قال بن حبان في الثقات كان يدلس
(39) م 4 جبير بن نفير الخضرمي من ثقات التابعين من أهل الشام قال الذهبي في طبقات الحفاظ ربما دلس عن كبار الصحابة
--------------------------------------------
(35) ইব্রাহীম বিন ইয়াজিদ আল-নাখঈ, তাবিঈদের মধ্যে বিখ্যাত ফকীহ এবং কুফার অধিবাসী। আল-হাকিম উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাদলীস করতেন। আবু হাতিম বলেছেন যে, তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহা) ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ পাননি এবং তাঁর থেকেও কিছু শোনেননি। তিনি প্রচুর মুরসাল বর্ণনা করতেন, বিশেষ করে ইবনে মাসউদ থেকে। এছাড়া তিনি আনাস এবং অন্যদের থেকে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
(36) ইসমাঈল বিন আবি খালিদ, কুফার বিখ্যাত নির্ভরযোগ্য রাবী এবং কনিষ্ঠ তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। আন-নাসায়ী তাকে তাদলীসের বিশেষণে বিশেষিত করেছেন।
(37) আশআছ বিন আব্দুল মালিক আল-হামরানী, তিনি বসরার অধিবাসী। মুআয বলেন, আমি তাঁকে বলতে শুনেছি যে, হাসান থেকে আমি তোমাদের কাছে যা কিছু বর্ণনা করেছি তার সবই তাঁর থেকে প্রাপ্ত, কেবল তিনটি হাদীস ব্যতীত: সেই ব্যক্তির হাদীস যে কাতারে পৌঁছানোর আগেই রুকু করে, ঋতুবতী মহিলার ইদ্দত সংক্রান্ত হাদীস এবং মুক্তি বিষয়ে আলীর হাদীস।
(38) বশীর বিন আল-মুহাজির আল-গানাভী, কুফাবাসী এবং কনিষ্ঠ তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হিব্বান 'আছ-ছিকাত' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি তাদলীস করতেন।
(39) জুবায়ের বিন নুফাইর আল-হাদরামী, শাম দেশের নির্ভরযোগ্য তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত। আয-যাহাবী 'তাবাকাতুল হুফফায' গ্রন্থে বলেছেন যে, তিনি সম্ভবত প্রবীণ সাহাবীদের থেকে তাদলীস করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
(40) ع الحسن بن أبي الحسن البصري الامام المشهور من سادات التابعين رأى عثمان وسمع خطبته ورأى عليا ولم يثبت سماعه منه كان مكثرا من الحديث ويرسل كثيرا عن كل أحد وصفه بتدليس الاسناد النسائي وغيره
(41) الحسن بن علي بن محمد التميمي أبو علي المذهب راوي مسند أحمد عن القطيعي قال الخطيب روى عن القطيعي حديث لم يسمعه منه قال الذهبي لعله استجاز روايته بالاجازة والوجاد قال الخطيب وحدثني عن أبي عمر بن مهدي بحديث فقلت لم يكن هذا عند بن مهدي فضرب عليه قال الخطيب وكان سماعه صحيحا في المسند
--------------------------------------------
(৪০) আল-হাসান বিন আবিল হাসান আল-বাসরি; তিনি তাবেঈদের নেতৃবৃন্দের অন্তর্ভুক্ত একজন বিখ্যাত ইমাম। তিনি উসমানকে (রা.) দেখেছেন এবং তাঁর খুতবা শুনেছেন, আর আলীকেও (রা.) দেখেছেন তবে তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ প্রমাণিত নয়। তিনি প্রচুর হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন এবং সবার পক্ষ থেকে প্রচুর ‘ইরসাল’ (সূত্রবিচ্ছিন্ন বর্ণনা) করতেন। আন-নাসায়ী ও অন্যান্যগণ তাঁকে ‘তাদলিসুল ইসনাদ’-এর দোষে বিশেষিত করেছেন।
(৪১) আল-হাসান বিন আলী বিন মুহাম্মদ আত-তামিমী আবু আলী আল-মুজাহহাব; আল-কাতীঈ-এর সূত্রে তিনি মুসনাদে আহমাদ-এর বর্ণনাকারী। আল-খতীব বলেন: তিনি আল-কাতীঈ থেকে এমন হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তিনি তাঁর থেকে শুনেননি। আয-যাহাবী বলেন: সম্ভবত তিনি ‘ইজাযাহ’ (অনুমতি) এবং ‘ভিজাদাহ’ (লিখিত পাণ্ডুলিপি প্রাপ্তি)-এর মাধ্যমে তা বর্ণনা করা বৈধ মনে করেছিলেন। আল-খতীব বলেন: তিনি আবু উমর বিন মাহদীর সূত্রে আমার কাছে একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তখন আমি বললাম: “এটি ইবনে মাহদীর কাছে ছিল না”, ফলে তিনি তা কেটে (বাতিল করে) দেন। আল-খতীব বলেন: মুসনাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর শ্রবণ সঠিক (সহীহ) ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الا في أجزاء منه ألحق اسمه فيها وتعقبه بن نقطة بأنه لم يحدث بمسندي فضالة بن عبيد وعوف بن مالك وبقطعة من مسند جابر فلو كان يلحق اسمه لالحقه في الجميع ولعل ما ذكره الخطيب انه ألحقه كان يعرف أنه سمعه أو رواه بالاجازة
(42) الحسن بن مسعود أبو علي الدمشقي بن الوزير محدث مكثر مذكور بالحفظ وصفه بن عساكر بالتدليس وقال مات سنة ثلاث وأربعين وخمسمائة
(43) ع الحكم بن عتيبه بمثناه ثم موحدة مصغر تابعي صغير من فقهاء الكوفة مشهور وصفه النسائي بالتدليس وحكاه السلمي عن الدارقطني
(44) ع حماد بن أسامة أبو أسامة الكوفي من الحفاظ من أتباع التابعين مشهور بكنيته متفق على الاحتجاج به مات سنة مائتين وصفه بذلك القبطي فقال كان كثير التدليس ثم رجع عنه وقال بن سعد كان كثير الحديث ويدلس ويبين تدليسه انتهى وقد قال أحمد كان صحيح الكتاب ضابطا لحديثه وقال أيضا كان ثبتا ما كان أثبته لا يكاد يخطئ مات سنة إحدى ومائتين
(45) م 4 حماد بن أبي سليمان الكوفي الفقيه المشهور ذكر الشافعي أن شعبة حدث بحديث عن حماد عن إبراهيم
--------------------------------------------
...তবে এর কিছু অংশ ব্যতীত যেখানে তিনি নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইবনে নুকতাহ এর সমালোচনা করে বলেছেন যে, তিনি ফাদালাহ বিন উবাইদ ও আউফ বিন মালিকের মুসনাদদ্বয় এবং জাবিরের মুসনাদের একটি অংশ বর্ণনা করেননি। যদি তিনি নিজের নাম যুক্ত করতেন, তবে সবক্ষেত্রেই যুক্ত করতেন। সম্ভবত আল-খতিব যা উল্লেখ করেছেন যে তিনি নিজের নাম যুক্ত করেছেন, তা এজন্য যে তিনি জানতেন তিনি এটি শুনেছেন অথবা ইজাজতের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।
(৪২) আল-হাসান বিন মাসউদ আবু আলি আদ-দিমাশকি ইবনুল ওয়াজির। তিনি একজন মুহাদ্দিস, যিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং হিফজ (স্মৃতিশক্তি)-এর জন্য সুপরিচিত। ইবনে আসাকির তাকে তাদলিসের গুনে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি পাঁচশ তেতাল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(৪৩) আ. আল-হাকাম বিন উতাইবাহ (তাসগির বা ক্ষুদ্রার্থক রূপ)। তিনি কুফার ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত একজন ছোট স্তরের তাবিঈ এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। আন-নাসায়ী তাকে তাদলিসের গুণে বর্ণনা করেছেন এবং আস-সুলামি এটি আদ-দারা কুতনি থেকে বর্ণনা করেছেন।
(৪৪) আ. হাম্মাদ বিন উসামাহ আবু উসামাহ আল-কুফি। তিনি হাফিজদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাবিঈদের অনুসারী (আতবাউত তাবিঈ)। তিনি তার কুনিয়ত বা উপনামেই প্রসিদ্ধ। তার বর্ণনার উপর দলিল গ্রহণের ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে। তিনি দুইশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন। আল-কিবতি তাকে তাদলিসের গুণে বর্ণনা করে বলেছিলেন যে, তিনি প্রচুর তাদলিস করতেন; অতঃপর তিনি এই মত থেকে ফিরে আসেন। ইবনে সাদ বলেন, "তিনি প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী ছিলেন এবং তাদলিস করতেন, তবে নিজের তাদলিস স্পষ্ট করে দিতেন।" সমাপ্ত। ইমাম আহমাদ বলেছেন, "তিনি নির্ভুল পাণ্ডুলিপির অধিকারী এবং নিজের বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুসংহত ছিলেন।" তিনি আরও বলেন, "তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ছিলেন, তার চেয়ে নির্ভরযোগ্য আর কে হতে পারে? তিনি ভুল করতেন না বললেই চলে।" তিনি দুইশ এক হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(৪৫) মু. ৪. হাম্মাদ বিন আবি সুলাইমান আল-কুফি। তিনি একজন প্রসিদ্ধ ফকিহ। ইমাম শাফিয়ী উল্লেখ করেছেন যে, শু'বাহ হাম্মাদ থেকে এবং তিনি ইবরাহিম থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال فقلت لحماد سمعته من إبراهيم قال لا أخبرني به مغيرة بن مقسم عنه
(46) ع خالد بن معدان الشامي الثقة المشهور قال الذهبي كان يرسل ويدلس
(47) ع زكريا بن أبي زائدة الكوفي من اتباع التابعين أكثر عن الشعبي وابن جريج ووصفه الدارقطني بالتدليس
(48) ع سالم بن أبي الجعد الكوفي ثقة مشهور من التابعين ذكره الذهبي في الميزان بذلك
(49) م 4 سعيد بن عبد العزيز الدمشقي ثقة من كبار الشاميين من طبقة الاوزاعي روى عن زيادة بن أبي سودة فقال أبو الحسن بن القطان لا يدري سمعه منه أو دلسه عنه
(50) ع سعيد بن أبي عروبة البصري رأى أنسا رضي الله تعالى عنه وأكثر عن قتادة وهو ممن اختلط ووصفه النسائي وغيره بالتدليس
--------------------------------------------
তিনি বললেন, আমি হাম্মাদকে বললাম, আপনি কি এটি ইবরাহিমের নিকট থেকে শুনেছেন? তিনি বললেন, না, বরং মুগীরাহ বিন মিকসাম আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে এটি জানিয়েছেন।
(৪৬) ‘আইন [ছয় কিতাব]: খালিদ বিন মা‘দান আশ-শামী, নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ; যাহাবী বলেছেন, তিনি ইরসাল ও তাদলীস করতেন।
(৪৭) ‘আইন: যাকারিয়া বিন আবি যায়িদাহ আল-কুফী, আতবাউত তাবিঈনের অন্তর্ভুক্ত; তিনি আশ-শা‘বী ও ইবনে জুরাইজ থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন এবং দারা কুতনী তাঁকে তাদলীসের দোষে অভিহিত করেছেন।
(৪৮) ‘আইন: সালিম বিন আবিল জা‘দ আল-কুফী, তাবিঈদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ রাবী; যাহাবী আল-মীযানে তাঁকে সেই (তাদলীসকারী) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
(৪৯) মীম ৪ [মুসলিম ও সুনান চতুষ্টয়]: সাঈদ বিন আব্দুল আযীয আদ-দিমাশকী, নির্ভরযোগ্য এবং শামবাসীদের বড়দের অন্তর্ভুক্ত ও আল-আওযাঈর সমপর্যায়ের; তিনি যিয়াদাহ বিন আবি সাওদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আবুল হাসান বিন আল-কাত্তান বলেছেন: জানা যায় না তিনি কি এটি তাঁর থেকে শুনেছেন নাকি তাঁর পক্ষ থেকে তাদলীস করেছেন।
(৫০) ‘আইন: সাঈদ বিন আবি আরুবাহ আল-বাসরী, তিনি আনাস রাযিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুকে দেখেছেন এবং কাতাদাহ থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন; তিনি সেই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা শেষ জীবনে স্মৃতিভ্রমের (ইখতিলাত) শিকার হয়েছিলেন এবং নাসায়ী ও অন্যান্যরা তাঁকে তাদলীসের দোষে অভিহিত করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাবাকাতুল মুদাল্লিসিন - তারিফু আহলিত তাকদিসি বি-মারাতিবিল মাওসুফিনা বিত তাদলিস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(51) ع سفيان بن سعيد الثوري الامام المشهور الفقيه العابد الحافظ الكبير وصفه النسائي وغيره بالتدليس وقال البخاري ما أقل تدليسه
(52) ع سفيان بن عيينة الهلالي الكوفي ثم المكي الامام المشهور فقيه الحجاز في زمانه كان يدلس لكن لا يدلس الا عن ثقة وادعى بن حبان بأن ذلك كان خاصا ووصفه النسائي وغيره بالتدليس وذكر البرهان الحلبي لسفيان بن عيينة ترجمتين الاول هذا والثاني سفيان بن عيينة الهلالي مولى مسعر بن كدام من أسفل ليس بشئ كان يدلس قال البرهان هذا آخر غير الاول
قلت: ليس كما ظن فإن ابن عيينة مولى بني هلال وقد ذكر الذهبي في فوائد رحلته أنه لما اجتمع بابن دقيق العيد سأله من أبو محمد الهلالي فقال سفيان بن عيينة فأعجبه استحضاره وانما نسب لمسعر لان مسعرا من بني هلال صليبة ولعل العجلي إنما قال فيه ليس بشئ لامر آخر غير
--------------------------------------------
(৫১) সুফিয়ান বিন সাঈদ আল-সাওরি; প্রসিদ্ধ ইমাম, ফকিহ, আবিদ এবং সুমহান হাফিজ। আন-নাসায়ি ও অন্যান্যরা তাকে তাদলিসের গুণে বিশেষায়িত করেছেন এবং ইমাম বুখারি বলেছেন যে, তার তাদলিস কতই না কম!
(৫২) সুফিয়ান বিন উয়াইনা আল-হিলালি আল-কুফি, অতঃপর আল-মাক্কি; প্রসিদ্ধ ইমাম, নিজ যুগের হিজাজের ফকিহ। তিনি তাদলিস করতেন, তবে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো থেকে তাদলিস করতেন না। ইবনে হিব্বান দাবি করেছেন যে, এটি তার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল। আন-নাসায়ি ও অন্যান্যরা তাকে তাদলিসকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বুরহান আল-হালাবি সুফিয়ান বিন উয়াইনার জন্য দুটি জীবনী উল্লেখ করেছেন: প্রথমটি ইনি, আর দ্বিতীয়জন হলেন মিসআর বিন কিদামের আজাদকৃত দাস সুফিয়ান বিন উয়াইনা আল-হিলালি, যিনি নিম্নস্তরের এবং নির্ভরযোগ্য নন; তিনি তাদলিস করতেন। বুরহান বলেছেন যে, এটি প্রথম ব্যক্তি ব্যতীত অন্য একজন।
আমি বলি: বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি তিনি ধারণা করেছেন। কেননা ইবনে উয়াইনা হলেন বনু হিলালের আজাদকৃত দাস। ইমাম জাহাবি তার সফরনামার সংকলিত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অংশে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি যখন ইবনে দাকিক আল-ইদ-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেন— আবু মুহাম্মদ আল-হিলালি কে? তিনি উত্তরে বললেন— সুফিয়ান বিন উয়াইনা। তার এই তাৎক্ষণিক স্মরণশক্তি তাকে মুগ্ধ করেছিল। তাকে মূলত মিসআরের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে কারণ মিসআর ছিলেন বনু হিলালের মূল বংশোদ্ভূত। সম্ভবত আল-ইজলি তার ব্যাপারে ‘তিনি নির্ভরযোগ্য নন’ কথাটি অন্য কোনো কারণে বলেছেন...
--------------------------------------------