(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: -)
الجوهر النقي   (ابن التركماني)

القسم: التخريج والأطراف

الكتاب: الجوهر النقي على سنن البيهقي

المؤلف: علاء الدين علي بن عثمان بن إبراهيم بن مصطفى المارديني، أبو الحسن، الشهير بابن التركماني (ت 750هـ)

الناشر: دار الفكر

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-জাওহার আন-নাকী   (ইবনুত তুর্কমানী)

বিভাগ: তাখরীজ ও আতরাফ (হাদীসের উৎস অনুসন্ধান ও প্রাসঙ্গিক বর্ণনা)

গ্রন্থ: সুনানে বায়হাক্বীর ওপর আল-জাওহার আন-নাকী

লেখক: আলাউদ্দিন আলী বিন উসমান বিন ইবরাহীম বিন মুস্তাফা আল-মারদিনী, আবুল হাসান, ইবনুত তুর্কমানী নামে সুপরিচিত (মৃত্যু ৭৫০ হিজরি)

প্রকাশক: দারুল ফিকর

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১)
ما آتاكم الرسول فخدوه وما نهاكم عنه فانتهوا..الجزء الاول الجوهر النقي للعلامة علاء الدين بن علي بن عثمان المارديني الشهير بابن التركماني المتوفي سنة خمس وأربعين وسمع مائة دار الفكر
রাসুল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো... প্রথম খণ্ড, আল্লামা আলাউদ্দীন বিন আলী বিন উসমান আল-মারদিনী—যিনি ইবনুত তুর্কিমানি নামে পরিচিত—রচিত ‘আল-জাওহার আন-নাকী’। মৃত্যু: ৭৪৫ হিজরি। দারুল ফিকর।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم (قال) شيخنا علاء الدين قاضى القضاة ابن الشيخ الامام العلامة فخر الدين عثمان الماردينى الحنفي غفر الله له (الحمد لله) رب العالمين والعاقبة للمتقين والصلاة والسلام على سيد المرسلين محمد وآله وصحبه اجمعين * (اما عبد) بهذه فوائد على السنن الكبرى للحافظ ابن بكر البيهقى رحمه الله تعالى اكثرها اعتراضات عيه ومناقشات له ومباحثات معه وما توفيقي الا بالله عليه توكلت واليه انيب * * قال البيهقى * (باب التطهير بماء البحر) (قلت) كلام القزاز في الجامع يقتضى ان اسم البحر في الاصل للماح وان العذاب يسمى بذلك للتغليب عند المقارنة
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। (বলেছেন) আমাদের শাইখ আলাউদ্দীন, প্রধান বিচারপতি, ইমাম আল্লামা ফখরুদ্দীন উসমান আল-মারদিনী আল-হানাফীর পুত্র, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন: (সমস্ত প্রশংসা) জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। * (অতঃপর) এগুলো হাফিজ ইবনে বকর আল-বায়হাকী (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন) বিরচিত 'আস-সুনান আল-কুবরা'-এর ওপর কিছু ফায়দা, যার অধিকাংশই তাঁর ওপর আপত্তি, তাঁর সাথে পর্যালোচনা এবং তাঁর সাথে আলোচনা। আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, আমি তাঁর ওপরই ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি। * * বায়হাকী বলেছেন * (সমুদ্রের পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের অধ্যায়) (আমি বলছি) 'আল-জামে' গ্রন্থে আল-কাযযায-এর বক্তব্য এই দাবি রাখে যে, সমুদ্র (বাহর) নাম মূলত লোনা পানির জন্য নির্ধারিত, আর মিষ্ট পানিকে এই নামে অভিহিত করা হয় লোনা পানির সাথে অবস্থানের কারণে প্রাধান্য প্রদানের ভিত্তিতে।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৩)
كالعمر ين فانه إذا قال اجتمع الملح والمذب سموه باسم الملح أي بحرين قال ومنه قوله تعالى (مرج البحرين يلتقيان) * وقال ابن سيده في المحكم البحر الماء الكثير ملحا كان أو عذبا وقد غلب على الملح فقول البيهقى (بماء البحر) الظاهر انه قصد به التعميم كما قال ابن سيده ولهذا ذكر الآية فان قصد ذلك فقوله فيما بعد (باب التطهير بالعذب منه والاجاج) واعادته للحديث بعينه تكرار لافائد فيه وان قصد الملح خاصة فالضمير في قوله بعد ذلك (بالعذب منه) ينافى ذلك ثم ذكر (هو الطهور ماؤه) من روية سعيد بن سلمة عن المغيرة بن ابى بردة عن ابن هريرة ثم ذكر فيه اختلافا ثم قال (واختلفوا ايضا في اسم سعيد وهو الذى اراد الشافعي بقوله في اسناده من لا اعرفه أو المغيرة اوهما) قلت ذكر الحاكم في المستدرك هذا

যেমন 'উমরান' (দ্বিবচন), যখন লবণাক্ত ও মিষ্টি পানি একত্রিত হয় তখন তারা একে লবণাক্ত পানির নামানুসারে 'বাহরাইন' বা দুই সমুদ্র বলে অভিহিত করে। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি দুই সমুদ্রকে প্রবাহিত করেছেন যারা একে অপরের সাথে মিলিত হয়" — এটি এর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে সীদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বলেছেন: সমুদ্র হলো প্রচুর পানি, তা লবণাক্ত হোক বা মিষ্টি; তবে লবণাক্ত পানির ওপরই এ নামের প্রয়োগ প্রবল। বায়হাকীর উক্তি "(সমুদ্রের পানি দ্বারা)" এর বাহ্যিক অর্থ হলো তিনি এর দ্বারা ব্যাপকতা বা সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন, যেমনটি ইবনে সীদাহ বলেছেন; আর এ কারণেই তিনি আয়াতটি উল্লেখ করেছেন। যদি তিনি তা-ই উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে পরবর্তীতে তাঁর উক্তি "(তার মিষ্টি ও অত্যন্ত লবণাক্ত পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পরিচ্ছেদ)" এবং একই হাদিসের পুনরায় উল্লেখ করা একটি নিরর্থক পুনরাবৃত্তি হবে। আর যদি তিনি কেবল লবণাক্ত পানি উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে পরবর্তী উক্তি "তার মধ্যকার মিষ্টি পানি দ্বারা" এর সর্বনামটি তার পরিপন্থী হবে। অতঃপর তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ হতে, মুগীরা ইবনে আবি বুরদাহ'র সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— "তার পানি পবিত্র"— হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং এতে বিদ্যমান মতভেদও বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন, "সাঈদের নামের ব্যাপারেও তারা মতভেদ করেছেন; ইমাম শাফেঈ তাঁর সনদের বর্ণনাকারী সম্পর্কে যখন বলেছেন 'যাকে আমি চিনি না', তখন তিনি তাকে অথবা মুগীরাকে কিংবা তাদের উভয়কেই উদ্দেশ্য করেছেন।" আমি বলি: হাকীম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৪)
الحديث وذكر ما فيه من المتابعات ثم قال اسم الجهالة مرفوع عنهما بهذه المتابعات * وقال ابن مندة وقال ابن مندة اتفاق صفوان والجلاح يوجب شهرة سعيد بن سلمة واتفاق يحيى بن سعيد وسعيد بن سلمة عن المغيرة يوجب شهرته فصالا الاسناد مشهورا انتهى كلامه وهبذا ترتفع جهلة عينهما وفي كتاب المزى توثيقهما فزالت جهالة الحال ايضا ولهذا صحح الترمذي هذا الحديث وحكى عن البخاري تصحيحه وصححه ابن خزيمة وغيره وتصرف البيهقى فيما بعد يدل على ذلك ثم قال (قال الشافعي روى عبد العزيز بن عمر بن سعيد بن ثوبان عن ابي هند عن ابى هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال من لم يطهره البحر فلا طهره الله) ثم ذكر البيهقى بسنده وفيه محمد بن حميد هو الرازي عن ابراهيم بن المختار فسكت عنهما وابن حميد قال فيه البيهقى في باب فرض الجدة والجدتين ليس بالقوى * وابن المختار قال احمد بن على الآبار سألت زنيجا ابا غسان عنه فقال تركته ولم يرضه وقال البخاري فيه نظر وقال ابراهيم بن الجنيد عن ابن معين ليس بذاك * * قال البيهقى * (باب التطهير بالماء الكثير) (ذكر فيه) حديث بئر بضاعة وسكت عنه وراويه عن الخدرى عبيد الله بن عبد الله بن رافع بن خديج مختلف في اسمه اختلافا كثيرا بينه البيهقى فيما بعد في ابواب مى فسد الماء في (باب الماء الكثير ولا ينجس بنجاسة تحديث فيه ما لم بغيره)
হাদিসটি এবং এতে বিদ্যমান মুতাবাআত (সমর্থনমূলক বর্ণনা) উল্লেখ করার পর তিনি বলেন, এই মুতাবাআতগুলোর কারণে তাদের দুইজনের অজ্ঞাতনামা হওয়ার বিষয়টি দূরীভূত হয়েছে। ইবনুল মানদাহ বলেন, সাফওয়ান ও আল-জুল্লাহের ঐকমত্য সাঈদ ইবনে সালামাহর প্রসিদ্ধি সাব্যস্ত করে এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও সাঈদ ইবনে সালামাহর মুগীরা থেকে বর্ণনার ঐকমত্য তার প্রসিদ্ধি সাব্যস্ত করে। ফলে সনদটি প্রসিদ্ধ হয়ে গেল। তাঁর কথা এখানেই শেষ। এর মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিক পরিচয়হীনতা (জাহালাতুল আইন) দূরীভূত হয়। আর আল-মিযযীর কিতাবে তাদের বিশ্বস্ততা (তাওসিক) বর্ণিত হয়েছে, ফলে তাদের অবস্থাগত অজ্ঞাতনামাও (জাহালাতুল হাল) দূর হয়ে গেল। এই কারণেই তিরমিযী এই হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন এবং বুখারী থেকেও এর সহিহ হওয়ার কথা বর্ণনা করেছেন। ইবনে খুযাইমাহ ও অন্যান্যরা একে সহিহ বলেছেন। পরবর্তীতে বায়হাকীর কর্মকাণ্ডও এরই প্রমাণ দেয়। এরপর তিনি বলেন (শাফেয়ী বলেন: আব্দুল আজীজ ইবনে উমর ইবনে সাঈদ ইবনে সাওবান বর্ণনা করেছেন আবু হিন্দ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে; তিনি বলেছেন: যাকে সমুদ্রের পানি পবিত্র করে না, আল্লাহ তাকে পবিত্র করবেন না)। এরপর বায়হাকী তাঁর সনদে উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে হুমাইদ আর-রাযী ইব্রাহিম ইবনে আল-মুখতার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি তাদের ব্যাপারে নীরবতা পালন করেছেন। ইবনে হুমাইদ সম্পর্কে বায়হাকী দাদী ও নানীর মিরাস (ফরায়েজ) অধ্যায়ে বলেছেন, তিনি শক্তিশালী নন। আর ইবনে আল-মুখতার সম্পর্কে আহমাদ ইবনে আলী আল-আব্বার বলেন, আমি যুনাইয আবু গাসসানকে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, আমি তাঁকে বর্জন করেছি এবং তিনি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না। বুখারী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, তাঁর ব্যাপারে আপত্তি আছে (ফিহি নাযার)। ইব্রাহিম ইবনে আল-জুনাইদ ইবনে মাঈন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তেমন কিছু নন। বায়হাকী বলেন: (অধ্যায়: প্রচুর পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন)। (এতে তিনি উল্লেখ করেছেন) বি'রে বুদা'আ সংক্রান্ত হাদিস এবং তিনি এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। খুদরী থেকে এর বর্ণনাকারী হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে রাফে' ইবনে খাদীজ, যার নাম নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। পানি দূষিত হওয়া সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর মধ্যে (অধ্যায়: প্রচুর পানি এবং এতে কোনো নাপাকি পড়লে তা নাপাক হয় না যতক্ষণ না এর গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়) পরবর্তীতে বায়হাকী তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৫)
ومع الاضطراب في امسه لا يعرف له حال ولا عين ولهذا قال أبو الحسن بن القطان الحديث اذائبين امره تبين ضعفه ثم قال البيهقى (فإذا القيت فيه نجاسة) يعنى البئر (فمعنى الحديث فيما بلغ قلتين ولم يتغير) * قلت * الحديث مخالف لهذا التأويل فان مثل هذا الماء إذا وقعت فيه هذه الاشياء فالغالب ان الاوصاف الثلاثة تتغير * قال أبو داود في سننه ورأيت فيها يعنى بئر بضاعة ماء متغير اللون * (قال البيهقى) (باب الماء المسخن) (ذكر) عن عمر (انه كان يسخن له ماء في قمقمة ويغتسل به) ثم نقل عن الدارقطني انه صحح اسناده * قلت * قلده البيهقى في ذلك وفي اسناده رجلان متكلم فيهما (احدهما) هشام بن سعد وهو وان اخرج له له مسلم فقد قال الساجى تركه يحيى وقال عباس عن يحيى فيه ضعف وقال النسائي ضعيف وفي رواية عن احمد بن حنبل انه ذكر له فلم يرفعه وقال فليس بمحكم

তার নামের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার কারণে তার অবস্থা বা পরিচয় জানা যায় না। এই কারণেই আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান বলেছেন, যখন হাদিসটির বিষয়বস্তু পরিস্ফুট হয়, তখন তার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে যায়। এরপর বায়হাকী বলেছেন, (যদি তাতে নাপাকি নিক্ষিপ্ত হয়) অর্থাৎ কূপে, (তবে হাদিসটির মর্মার্থ হলো যা দুই কুল্লায় পৌঁছেছে এবং গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়নি)। *আমি বলছি* হাদিসটি এই ব্যাখ্যার পরিপন্থী; কেননা এই ধরণের পানিতে যখন এই বস্তুগুলো পতিত হয়, তখন সাধারণত এর তিনটি গুণই পরিবর্তিত হয়ে যায়। *আবু দাউদ তার সুনান গ্রন্থে বলেছেন, আমি তাতে অর্থাৎ বুদা'আহ কূপে এমন পানি দেখেছি যার রঙ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল।* (বায়হাকী বলেছেন) (অধ্যায়: উত্তপ্ত পানি) (বর্ণিত হয়েছে) উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে যে, (তার জন্য তামার পাত্রে পানি গরম করা হতো এবং তিনি তা দিয়ে গোসল করতেন)। এরপর তিনি দারা কুতনী থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি এর সনদকে সহীহ বলেছেন। *আমি বলছি* বায়হাকী এক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছেন, অথচ এর সনদে এমন দুইজন ব্যক্তি রয়েছেন যাদের ব্যাপারে সমালোচনা রয়েছে। (তাদের একজন হলেন) হিশাম বিন সা'দ; যদিও ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবুও সাজী বলেছেন যে ইয়াহইয়া তাকে বর্জন করেছেন। আব্বাস ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর মধ্যে দুর্বলতা রয়েছে এবং নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁর সামনে এটি উল্লেখ করা হলে তিনি একে মারফূ হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং বলেছেন যে এটি সুদৃঢ় নয়।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৬)
للحديث (والثانى) على بن غراب * قال أبو داود تركوا حديثه وقال الجوز جانى ساقط وقال ابن حبان حدث بالموضوعات وكان عاليا في التشيع * * قال * (باب كراهية الماء المشمس) (ذكر فيه) حديثا ضعيفا واثرا عن عمر بن طريقين في اسناد الاول ابراهيم بن محمد بن عن صدقة بن عبد الله بن فسكت عنهما وابراهيم هو ابن ابى يحى الاسمى مختلف في عدالته قال في باب نزول الرخصة في التميم وقال يحيى القطان كذاب وسألت مالكا اكان ثقة فقال لا ولا ثقة في دينه وقال ابن حنبل كان قدريا معتز لياجهميا كل بلاء فيه وعن احمد ترك الناس حديثه وقال بشر بن المفضل سألت فقهاء المدينة عنه فكلهم يقولون كذاب أو نحوه وقال البخاري جهمى تركه ابن المبارك والناس وعن ابن معين كذاب في كل ماروى وعنه كان كذابا قدريا رافضيا وقال النسائي متروك وصدقة في هذا هو السمين ضعفه النسائي وقال احمد ضعيف جدا وقال البيهقى في باب ما ورد في الغسل ضعيف ضعفه ابن حنبل وابن معين ل وغيرهما وفى اسناد الثاني اسماعيل بن عياش عن صفوان بن عمر وفسكت عن ابن عياش وهو متلكم فيه (فان قلت) صفوان ابن عمرو حمصي ورواية ابن عياش عن الشاميين صحيحة كذا قال البيهقى في باب ترك الوضوء من الدم (قلت) قد روى
হাদীসের বর্ণনায় (দ্বিতীয় জন) হলেন আলী বিন গুরাব * ইমাম আবু দাউদ বলেছেন, তারা তার হাদীস বর্জন করেছেন। আল-জাওযাজানি বলেছেন, তিনি অগ্রহণযোগ্য (সাকিত)। ইবনে হিব্বান বলেছেন, তিনি বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করতেন এবং শিয়া মতবাদে চরমপন্থী ছিলেন। * * তিনি বলেছেন * (অধ্যায়: রৌদ্রে তপ্ত পানির অপছন্দনীয়তা) * (এতে উল্লেখ করা হয়েছে) একটি দুর্বল হাদীস এবং উমর (রা.) থেকে একটি আসার (বর্ণনা) যা দুইটি সূত্রের মাধ্যমে বর্ণিত। প্রথম সূত্রের সনদে রয়েছেন ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ, তিনি সাদাকাহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি এই দুইজনের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন। এই ইব্রাহিম হলেন ইবনে আবি ইয়াহইয়া আল-আসলামি, যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তায়াম্মুমের অনুমতি সংক্রান্ত অধ্যায়ে এ কথা বলা হয়েছে। ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বলেছেন, তিনি চরম মিথ্যাবাদী। আমি ইমাম মালিককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি কি নির্ভরযোগ্য ছিলেন? তিনি উত্তর দিলেন, না, এমনকি দ্বীনের ব্যাপারেও তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইবনে হাম্বল বলেছেন, তিনি কাদারী, মুতাজিলা ও জাহমি মতাদর্শের ছিলেন; যাবতীয় অনিষ্ট তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত যে, মানুষ তার হাদীস বর্জন করেছে। বিশর বিন আল-মুফাদ্দাল বলেছেন, আমি মদীনার ফকীহদের তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, তারা সবাই বলেছেন: তিনি চরম মিথ্যাবাদী অথবা অনুরূপ কিছু। ইমাম বুখারী বলেছেন, তিনি জাহমি; ইবনুল মুবারক এবং সাধারণ মানুষ তাকে বর্জন করেছেন। ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত যে, তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সব কিছুতেই তিনি চরম মিথ্যাবাদী। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত যে, তিনি চরম মিথ্যাবাদী, কাদারী এবং রাফেযী ছিলেন। ইমাম নাসাঈ বলেছেন, তিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক)। আর এই সনদে সাদাকাহ বলতে 'আস-সামীন'কে বোঝানো হয়েছে, ইমাম নাসাঈ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম আহমাদ বলেছেন, তিনি অত্যন্ত দুর্বল। ইমাম বায়হাকী 'গোসল সংক্রান্ত যা বর্ণিত হয়েছে' অধ্যায়ে তাকে দুর্বল বলেছেন; ইবনে হাম্বল, ইবনে মাঈন এবং অন্যান্যরাও তাকে দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন। দ্বিতীয় সূত্রের সনদে রয়েছেন ইসমাঈল বিন আইয়াশ, তিনি সাফওয়ান বিন আমর থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি ইবনে আইয়াশ সম্পর্কে নীরব থেকেছেন, অথচ তার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে। (যদি আপনি বলেন) সাফওয়ান বিন আমর হিমসের অধিবাসী এবং সিরীয়দের থেকে ইবনে আইয়াশের বর্ণনা সহীহ, যেমনটি বায়হাকী রক্ত থেকে ওযু না করা সংক্রান্ত অধ্যায়ে বলেছেন, (আমি বলব) তিনি বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৭)
في باب الضب عن ضمضم بن زرعة هو حمصي ومع ذلك قال البيهقى هنك ابن عياش ليس بحجة واخرج البيهقى في باب سجود السهو في باب من قال يسجد هما بعد ما يسلم حديث ثوبان لكل سهو سجدتان بعدما يسلم * وليس في اسناده من ينظر في امره فيما علمت سوى ابن عياش وقد رواه عن عبيد الله بن عبيد الكلاعى الشامي ومع ذلك قال البيهقى هذا اسناد فيه ضعف * * قال * (باب منع التطهير بما عد الماء من المائعات) (استدل) على ذلك بحديث ابي ذر (فإذا وجدت الماء فامسه جلدك) (قلت) هذا استدلال بمفهوم لقب (1) ولم يقل به امامه الشافعي ولا اكثر العلماء * * قال * (باب التطهير بالماء الذى خالطه طاهر لم يغلب عليه) (ذكر فيه) حديثا عن مجاهد عن ام هانئ ثم قال (وقد قيل عن مجاهد عن ابن فاخته عن ام هانئ والذى رويناه مع ارساله اصح) * قلت * أي مع انقطاعه لان مجاهدا قال عنه الترمذي لا اعرف له سماعا عن ام هانئ ثم ذكر (عن الاوزاعي

গুইসাপের পরিচ্ছেদে দামদাম বিন যুরআহ সম্পর্কে—তিনি হিমসের অধিবাসী হওয়া সত্ত্বেও বায়হাকী সেখানে বলেছেন যে, ইবনে আইয়াশ দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন। আর বায়হাকী সিজদায়ে সাহু অধ্যায়ে, যারা সালাম ফেরানোর পর সিজদা করার কথা বলেন তাদের পরিচ্ছেদে সাওবানের হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন: "প্রত্যেক ভুলের জন্য সালাম ফেরানোর পর দুটি সিজদা রয়েছে।" * আমার জানামতে এর সনদে ইবনে আইয়াশ ছাড়া এমন কেউ নেই যার নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে পর্যালোচনার অবকাশ আছে। তিনি এটি ওবায়দুল্লাহ বিন ওবায়েদ আল-কালা'য়ী আশ-শামী থেকে বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও বায়হাকী বলেছেন, "এটি এমন একটি সনদ যাতে দুর্বলতা রয়েছে।" * * তিনি বললেন * (পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন নিষিদ্ধ হওয়ার পরিচ্ছেদ) (তিনি এর সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন) আবু যার-এর হাদীস দ্বারা: (যখন তুমি পানি পাবে, তখন তা তোমার চামড়ায় স্পর্শ করাও)। (আমি বলি) এটি 'মাফহুম আল-লাকাব' (১) থেকে দলিল গ্রহণ, যা তাঁর ইমাম শাফেয়ী কিংবা অধিকাংশ আলেম সমর্থন করেননি। * * তিনি বললেন * (এমন পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের পরিচ্ছেদ যার সাথে পবিত্র কোনো বস্তু মিশ্রিত হয়েছে কিন্তু তা পানির ওপর প্রবল হয়নি) (তাতে তিনি উল্লেখ করেছেন) মুজাহিদ থেকে উম্মেহানি সূত্রে একটি হাদীস। অতঃপর তিনি বলেছেন: (মুজাহিদ থেকে ইবনে ফাখিতাহ সূত্রে উম্মেহানি থেকে বর্ণিত হয়েছে; আর আমরা যা বর্ণনা করেছি তা মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও অধিক বিশুদ্ধ)। * আমি বলি * অর্থাৎ এর সনদ বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও; কেননা ইমাম তিরমিযী মুজাহিদ সম্পর্কে বলেছেন, "উম্মেহানি থেকে তাঁর কোনো কিছু শোনার (সিমাহ) ব্যাপারে আমার জানা নেই।" অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন (আওযায়ী থেকে...

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৮)
عن رجل سماه عن ام هانئ انها كرهت ان يتوضأ بالماء الذي يبل فيه الخبز) وقال وهذا ان صح فانما ارادت إذا غلب عليه حتى اضيف إليه * قلت * لا حاجة إلى تأويله هذا الشك بل هو ضعيف لجهالة الراوى عن ام هانئ * (باب منع التطهير بالنبيذ) (ذكر فيه) حديث ابى ذر وقد تقدم ما عليه في الاستدلال ثم استدل على ذلك ايضا بحديث (كل شراب اسكر فهو حرام) * قلت * الاعيان تقبل الحرمة بنفسها بل المختار تحريم ما يردا منها تحريم الميتة تحريم اكلها وتحريم المرأة
উম্মে হানি থেকে জনৈক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত—যিনি তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন—যে, তিনি (উম্মে হানি) রুটি ভেজানো পানি দিয়ে অজু করা অপছন্দ করতেন। এবং তিনি (গ্রন্থকার) বলেছেন, এটি যদি সহিহ হয়, তবে তিনি কেবল তখনই এমনটি উদ্দেশ্য করেছেন যখন রুটি পানির ওপর প্রবল হয়ে যায় এবং পানিকে তার (রুটির) দিকে সম্বন্ধ করা হয়। * আমি বলি * এই সংশয়ের প্রেক্ষিতে এরূপ ব্যাখ্যার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং উম্মে হানি থেকে বর্ণনাকারী রাবি অজ্ঞাত হওয়ার কারণে এটি একটি দুর্বল বর্ণনা। * (নাবিজ দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের নিষেধাজ্ঞার পরিচ্ছেদ) (এতে উল্লেখ করা হয়েছে) আবু যর-এর হাদিস এবং এর দ্বারা দলিল পেশ করার পদ্ধতি সম্পর্কে যা আলোচনা করার তা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অতঃপর তিনি এর সপক্ষে এই হাদিস দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন যে (প্রত্যেক নেশাজাতীয় পানীয় হারাম) * আমি বলি * সত্তাসমূহ (আ'ইয়ান) স্বয়ং হারাম হওয়ার বিধান গ্রহণ করে, বরং পছন্দনীয় মত হলো—সেগুলোর মাধ্যমে যা উদ্দেশ্য তা হারাম হওয়া; যেমন মৃত প্রাণী হারাম হওয়ার অর্থ হলো তা ভক্ষণ করা হারাম হওয়া এবং নারী হারাম হওয়া।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৯)
تحريم الاستمتاع بها وتحريم المسكر تحريم شربه فعلى هذا لا يلزم من حرمة الشرب حرمة غيره من الافعال * قال البيهقى (وقد روي هذا الحديث يعنى حديث الوضوء النبيذ عن حماد بن سلمة عن على بن زيد بن جد عان عن ابى رافع عن ابن مسعود ولا يصح) * قلت * اخرجه بهذا الطريق الدارقطني ثم قال على بن زيد ضعيف وابو رافع لم يثبت سماعه من ابن مسعود وليس هذا الحديث في مصنفات حماد بن سلمة انتهى كالمه وعلى روى له مسلم مقرونا بغيره وقال العجلى لا بأس به وفي مواضع اخر قال يكتب حديثه واخرج له الحاكم في المستدرك وقال الترمذي صدوق وقوله لم يثبت سماعه من ابن مسعود فهو على مذهب من يشترط في الاتصال ثبوت السماع وقد انكر مسلم ذلك في مقدمته كتابه انكارا شديد اوزعم انه قول مخترع وان المتفق عليه انه يكفى للاتصال امكان اللقاء والسماع وابو رافع هو نفيع الصائغ جاهلي الكمال صرح بانه سمع منه وكذا ذكر الصريفينى فيما قرأت بخطه ولم يحك البيهقى عن الدارقطني هذا الكلام فيحتمل انه لم يرض به ولا يلزم من كونه ليس في مصنفات حمادان يكون ضعيفا واخرج وابو بكر البزار في مسنده هذا الحديث من طريق ابن لهيعة عن قيس بن الحجاج عن حنش عن ابن عباس عن ابن مسعود ومقتضى هذا ان يكون

তা উপভোগ করা হারাম হওয়া এবং নেশাদ্রব্য হারাম হওয়া বলতে মূলত তা পান করা হারাম হওয়াকে বোঝায়। অতএব, পান করা হারাম হওয়ার কারণে সেই বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কাজ হারাম হওয়া আবশ্যক হয় না। বায়হাকী বলেন, (এই হাদীসটি—অর্থাৎ নাবিয দিয়ে ওযু করার হাদীসটি—হাম্মাদ বিন সালামাহ্‌ থেকে, তিনি আলী বিন যায়েদ বিন জুদ’আন থেকে, তিনি আবু রাফি থেকে, তিনি ইবনে মাসঊদ থেকে বর্ণিত হয়েছে; তবে এটি সহীহ নয়)।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি:

দারাকুতনী এই সূত্রেই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং এরপর বলেছেন: আলী বিন যায়েদ হলেন যঈফ (দুর্বল), আর আবু রাফি কর্তৃক ইবনে মাসঊদ থেকে হাদীস শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়। এছাড়া এই হাদীসটি হাম্মাদ বিন সালামাহ্‌র সংকলিত গ্রন্থসমূহে নেই—তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। আলী (বিন যায়েদ) এর প্রসঙ্গে ইমাম মুসলিম অন্য রাবীদের সাথে মিলিয়ে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইজলী বলেছেন: ‘তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই’, আবার অন্য স্থানে বলেছেন: ‘তাঁর হাদীস লিখে রাখা উচিত’। ইমাম হাকিম ‘মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে তাঁর হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিযী তাঁকে ‘সাদূক’ (সত্যবাদী) বলেছেন। আর ‘ইবনে মাসঊদ থেকে তাঁর শোনার বিষয়টি প্রমাণিত নয়’—এই বক্তব্যটি সেই মতাদর্শ অনুযায়ী যারা হাদীসের সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতার (ইত্তিসাল) জন্য সরাসরি শোনার অকাট্য প্রমাণ থাকাকে শর্ত মনে করেন। ইমাম মুসলিম তাঁর গ্রন্থের মুকাদ্দামায় (ভূমিকায়) এ বিষয়টিকে কঠোরভাবে অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি একটি নব-উদ্ভাবিত মত। তাঁর মতে সর্বসম্মত অভিমত হলো, সূত্রের নিরবচ্ছিন্নতার জন্য রাবীদের পরস্পরের সাক্ষাৎ ও হাদীস শোনার সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট। আবু রাফি হলেন নুফাই আস-সায়িগ, যিনি জাহিলী যুগের মানুষ। ‘আল-কামাল’ গ্রন্থে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে তিনি তাঁর থেকে হাদীস শুনেছেন। একইভাবে সরীফীনীও তাঁর স্বহস্তে লিখিত পাণ্ডুলিপিতে যা আমি পড়েছি, সেখানে এটি উল্লেখ করেছেন। বায়হাকী দারাকুতনীর এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেননি, সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে তিনি এতে একমত ছিলেন না। আর কোনো হাদীস হাম্মাদের সংকলিত গ্রন্থসমূহে না থাকলেই যে তা যঈফ বা দুর্বল হবে, এমন কোনো আবশ্যকতা নেই। আবু বকর আল-বাযযার তাঁর ‘মুসনাদ’ গ্রন্থে এই হাদীসটি ইবনে লাহীআহ্‌র সূত্রে, তিনি কায়স বিন হাজ্জাজ থেকে, তিনি হানাশ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে এবং তিনি ইবনে মাসঊদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর দাবি হলো এই যে—

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১০)
الحديث في مسند ابن مسعود واخرجه ابن ماجة في سننه بهذا الطريق الا انه قال عن ابن عباس انه عليه السلام قال لابن مسعود الحديث ومقتضى هذا ان يكون في مسند ابن عباس على حال فهو شاهد لما تقدم وابن لهيعة وان ضعف لكن روى عنه الائمة كالثوري والاوزاعي والليث وغيرهم واستشهد به مسلم في موضعين من كتابه واخرج له ابن خزيمة في صحيحه مقرونا بآخر واخرج له الحاكم في المستدرك وقال الثوري حججت حججا لا لقاه وقال ابن مهدى

وددت انى اسمع منه خمس مائة حديث واني عزمت ماذا ووحدث ابن وهب بحديث فقيل من حدثك بهذا قال حدثنى به والله الصادق البار عبد الله بن لهيعة * قال البيهقى وقد انكر ابن مسعود شهوده مع النبي صلى الله عليه واله وسلم ليلة الجن * قلت * يعارض ذلك ماروى انه كان معه من وجوه ذكر البيهقى بعضها والدارقطني وغيره بعضها عن ابن عثمان النهدي عن ابن مسعود قال صلى الله عليه وسلم العشاء ثم انصرف فاخذ بيد ابن مسعود حتى خرج به إلى بطحاء مكة فاجلسه ثم خط عليه خطاثم قال لا تبر حن خطك فانه ستنهى إليك رجال فلا تكلمهم فانهم لا يكلمونك فمضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث اراد فبينا انا جالس في خطى إذا تانى رجال كأنهم الزط فذكر حديثا طويلا
হাদিসটি মুসনাদে ইবনে মাসউদে বর্ণিত হয়েছে এবং ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে এই পথেই এটি বর্ণনা করেছেন; তবে তিনি ইবনে আব্বাসের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনে মাসউদকে হাদিসটি বলেছেন। এর দাবি অনুযায়ী এটি যে কোনো অবস্থায় মুসনাদে ইবনে আব্বাসে থাকার কথা, ফলে এটি পূর্বোক্ত বর্ণনার জন্য একটি সমর্থক দলিল হিসেবে গণ্য হবে। আর ইবনে লাহিয়াহ যদিও দুর্বল, তবে আইম্মায়ে কেরাম যেমন সাওরি, আওযায়ি, লাইস এবং অন্যরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবের দুই স্থানে তাঁর দ্বারা সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন এবং ইবনে খুযাইমা তাঁর সহিহ গ্রন্থে অন্য বর্ণনাকারীর সাথে মিলিয়ে তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিমও আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে তাঁর হাদিস উল্লেখ করেছেন। ইমাম সাওরি বলেছেন: "আমি তাঁর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বহুবার হজ করেছি।" ইবনে মাহদি বলেছেন:

"আমার আকাঙ্ক্ষা ছিল যে আমি যদি তাঁর থেকে পাঁচশত হাদিস শুনতে পেতাম, আর আমি সংকল্প করেছিলাম..."। ইবনে ওয়াহাব একটি হাদিস বর্ণনা করলে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, "আপনাকে এটি কে বর্ণনা করেছেন?" তিনি বললেন, "আল্লাহর শপথ, সত্যবাদী ও পুণ্যবান আবদুল্লাহ ইবনে লাহিয়াহ আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।" বায়হাকি বলেন, ইবনে মাসউদ জিনের রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে তাঁর উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আমি বলছি, এর বিপরীতে এমন কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর সাথেই ছিলেন। বায়হাকি এর কিছু দিক এবং দারাকুতনি ও অন্যরা কিছু দিক উল্লেখ করেছেন। আবু উসমান আন-নাহদি ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এশার সালাত আদায় করলেন, তারপর প্রস্থানকালে ইবনে মাসউদের হাত ধরলেন এবং তাঁকে মক্কার বাতহা নামক প্রান্তরে নিয়ে গেলেন। সেখানে তাঁকে বসালেন এবং তাঁর চারপাশে একটি রেখা টেনে দিলেন। অতঃপর বললেন, "তুমি তোমার এই রেখা ছেড়ে নড়বে না, কারণ তোমার নিকট কিছু লোক আসবে, তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না এবং তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।" এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেখানে ইচ্ছা চলে গেলেন। এমতাবস্থায় আমি আমার রেখার ভেতরে বসে থাকাকালীন হঠাৎ আমার কাছে কিছু লোক আসল যারা দেখতে অনেকটা জুত্ত গোত্রের লোকদের মতো ছিল। এরপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদিস বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১১)
اخرجه الترمذي وقال حسن صحيح غريب من هذا الوجه وسليمان التيمى قد روى هذا الحديث ايضا انتهى كلامه وقال الطحاوي ما علمنا لاهل الكوفة حديثا في ثبت كون ابن مسعود معه عليه السلام ليلة الجن مما يقبل مثله الاما حدثنا يحيى بن عثمان ثنا اصبغ بن الفرج وموسى بن هارون البردى (قالا) حدثنا جرير بن عبد الحميد عن قابوس عن ابيه عن ابن مسعود قال انطلق رسول الله صلى الله عليه وسلم فخط خطا وادخلني فيه وقال لا تبرح حتى ارجع اليك ثم ابطأ فما جاء حتى السحر وجعلت اسمع الاصوات ثم جاء فقلت اين كنت يا رسول الله فقال ارسلت إلى الجن فقلت ما هذه الاصوات التى سمعت قال هو اصواتهم حين ودعوني وسلموا علي * وقرأت في مسند احمد بن حنبل عارم وعفان (قالا) حدثنا معتمر قال قال ابن حدثنى أبو تميمة عن عمرو البكالى عن عبد الله بن مسعود قال استتبعني رسول الله صلى الله عليه وسلم فانطلقنا حتى اتيتا مكان كذا وكذا فحط في خطة وقال لى كن بين ظهرى هذه لا تخرج منها فانك ان خرجت هلكت ثم ذكر حديثا طويلا وهوفي المسند واخرج الطحاوي هذا الحديث في كتابه المسمى بالرد على الكرايسى وقال البكالى هذا من اهل الشام ولم يروا وهذا الحديث عنه الا أبو تميمة وهذا ليس بالهجيمى بل هو السلمى

তিরমিযী এটি সংকলন করেছেন এবং বলেছেন, এই সূত্র থেকে হাদীসটি হাসান সহীহ গরীব। সুলায়মান আত-তায়মীও এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। ইমাম ত্বহাবী বলেন, জিনদের রাতে ইবনে মাসঊদ (রা.) নবী কারীম (সা.)-এর সাথে থাকার বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার ব্যাপারে কূফাবাসীদের নিকট হতে গ্রহণযোগ্য এমন কোনো হাদীস আমাদের জানা নেই, তবে যা আমাদের নিকট ইয়াহইয়া ইবনে উসমান বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন—আসবাহ বিন আল-ফারাজ এবং মূসা বিন হারুন আল-বারদী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেন—জারীর বিন আব্দুল হামীদ কাবুস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) রওয়ানা হলেন এবং একটি রেখা (গণ্ডি) টানলেন এবং আমাকে তার ভেতরে প্রবেশ করালেন। তিনি বললেন, "আমি তোমার কাছে ফিরে না আসা পর্যন্ত এখান থেকে নড়বে না।" এরপর তিনি বিলম্ব করলেন এবং শেষ রাত পর্যন্ত ফিরে এলেন না। আমি বিভিন্ন আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। অতঃপর তিনি ফিরে এলে আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কোথায় ছিলেন?" তিনি বললেন, "আমাকে জিনদের কাছে পাঠানো হয়েছিল।" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আমি যেসব শব্দ শুনছিলাম সেগুলো কিসের ছিল?" তিনি বললেন, "সেগুলো ছিল তাদের কণ্ঠস্বর যখন তারা আমাকে বিদায় জানাচ্ছিল এবং আমাকে সালাম দিচ্ছিল।"

আমি মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বলে আরিম ও আফফান থেকে পড়েছি, তাঁরা বলেন—মুতামির আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, ইবনে (সুলায়মান) বলেছেন, আবু তামীমাহ আমর আল-বাকারী থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে তাঁর অনুসরণ করতে বললেন, ফলে আমরা চলতে লাগলাম যতক্ষণ না আমরা অমুক অমুক স্থানে পৌঁছালাম। এরপর তিনি একটি রেখা টানলেন এবং আমাকে বললেন, "তুমি এর ভেতরেই অবস্থান করো, এখান থেকে বের হবে না। কেননা তুমি যদি বের হও তবে ধ্বংস হয়ে যাবে।" এরপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন যা মুসনাদে বিদ্যমান। ইমাম ত্বহাবী তাঁর 'আর-রাদ্দু আলাল কারাবীসী' নামক কিতাবে এই হাদীসটি সংকলন করেছেন এবং বলেছেন, এই বাকারী শাম দেশের অধিবাসী এবং আবু তামীমাহ ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে এই হাদীসটি বর্ণনা করেননি। তিনি আল-হুজাইমী নন বরং তিনি আল-সুলামী।

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১২)
الصوري " ليس بالمعروف وقد وفق جماعة من المحققين بين الاخبار التى تقتضي انه كان معه وبين الاخبار التى تقتضي انه لم يكن معه بانه كان معه وعند مخالطته للجن لم يكن معه وذكر ابن السيد البطليوسى في التنبيه على اسباب الخلاف انه جاء في بعض الروايات لم يشهده احد غيرى فاسقط بعض الرواة غيرى ثم اسند البيهقى (عن عمرو بن مرة قال سألت ابا عبيدة بن عبد الله اكان عبد الله مع النبي صلى الله عليه وسلم ليلة الجن قال لا وسألت ابراهيم فقال ليت

صاحبنا كان ذاك) * قلت * فهو منقطع لم يسمع أبو عبيدة من ابيه قال البيهقى في باب من كبر بالطائفتين (أبو عبيدة لم يدرك اباه وابراهيم ايضا لم يسمع من ابن مسعود) * قال البيهقى (ثم صفة انبذتهم مذكورة فيما أخبرنا علي فذكر انه كان عليه السلام بنبذله غدوة فيشربه عشاء وينبذ له عشاء فيشربه غدوة) وذكر (عن ابن العالية قال ترى نبيذكم هذا الخبيث انما كان ما يلقى فيه تمرات فيصير حلوا) * قلت * المفهوم من كلامه ان مثل هذا النبيذ يجوز الوضوء به ومذهب الشافعي التمر ونحوه إذا غلب وصف منه أو اكثر على الماء فازال اسمه يمنع الوضوء به والظاهر ان ما ينبذه من غدوة إلى عشية وصار حلوا صار كذلك ولانه عليه السلام قال هل معكك ماء قال لا فدل ان الماء استحال في التمر حتى سلب عنه اسم الماء
আস-সুরি "সুপরিচিত নন। একদল মুহাক্কিক (গবেষক) সেই সব সংবাদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন যা দাবি করে যে তিনি তাঁর সাথে ছিলেন এবং যে সংবাদগুলো দাবি করে যে তিনি তাঁর সাথে ছিলেন না। সমন্বয়টি হলো, তিনি তাঁর সাথে ছিলেন, তবে জিনের সাথে মেলামেশার সময় তিনি তাঁর সাথে ছিলেন না। ইবনে আস-সাইয়্যিদ আল-বাতালইউসি 'আত-তানবিহ আলা আসবাবিল খিলাফ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কিছু বর্ণনায় এসেছে—'আমি ছাড়া অন্য কেউ সেখানে উপস্থিত ছিল না'—কিন্তু কিছু বর্ণনাকারী 'আমি ছাড়া' শব্দটি বাদ দিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর আল-বায়হাকি বর্ণনা করেছেন (আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি বলেন, আমি আবু উবায়দাহ ইবনে আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আব্দুল্লাহ কি জিনের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন? তিনি বললেন, না। আমি ইব্রাহিমকেও জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন: আহা, আমাদের

সাথি যদি সেখানে থাকতেন!) * আমি বলছি * এটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন), কারণ আবু উবায়দাহ তাঁর পিতার কাছ থেকে সরাসরি শোনেননি। আল-বায়হাকি 'উভয় দলের সাথে যারা তাকবির পাঠ করেছেন' অধ্যায়ে বলেছেন (আবু উবায়দাহ তাঁর পিতাকে পাননি এবং ইব্রাহিমও ইবনে মাসউদ থেকে শোনেননি)। * আল-বায়হাকি বলেছেন (অতঃপর তাদের নাবিয তৈরির পদ্ধতি সেই বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যা আমাদের আলী সংবাদ দিয়েছেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য ভোরে নাবিয তৈরি করা হতো এবং তিনি তা সন্ধ্যায় পান করতেন, আবার সন্ধ্যায় তৈরি করা হতো এবং তিনি তা ভোরে পান করতেন)। আরও বর্ণিত হয়েছে (ইবনুল আলিয়া থেকে, তিনি বলেন: তোমরা তোমাদের এই নাবিযকে অপবিত্র মনে করো, অথচ তাতে কেবল কিছু খেজুর ফেলা হতো এবং তা মিষ্টি হয়ে যেত)। * আমি বলছি * তাঁর বক্তব্য থেকে যা বোঝা যায় তা হলো, এই ধরণের নাবিয দিয়ে অজু করা জায়েজ। আর ইমাম শাফেয়ির মাযহাব হলো: খেজুর বা এই জাতীয় কিছুর এক বা একাধিক বৈশিষ্ট্য যখন পানির ওপর এমনভাবে প্রবল হয় যে তা পানির নামকে বিলুপ্ত করে দেয়, তখন তা দিয়ে অজু করা নিষেধ। আর দৃশ্যত যা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিজিয়ে রাখা হয় এবং মিষ্টি হয়ে যায়, তা এমনই হয়ে থাকে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, 'তোমার কাছে কি পানি আছে?' তিনি বলেছিলেন, 'না'। এটি প্রমাণ করে যে, খেজুরের সংমিশ্রণে পানি এমনভাবে রূপান্তরিত হয়েছিল যে তা থেকে পানির নাম অপসারিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৩)
والا لما جاز نفيه عنه * * قال * (باب ازالة النجاسة بالماء دون سائر المائعات) (استدل) على ذلك بحديث اسماء (ثم اقرصيه بالماء) * قلت * هو ايضا مفهوم لقب ثم ذكر حديث عائشة (ما كان لا حدانا الاثوب واحد تحيض فيه فان اصابه شئ من دم بلته بريقها ثم قصعته بظفرها) ثم قال (وهذا في الدم اليسير الذى يكون معفوا عنه فاما الكثير منه فصحيح عنها انها كانت تغسله) * قلت * الغسل لا يختص بالماء ولو اختص به دل ذلك على جواز الازلة بالماء ودل الاول على جواز الازلة بالريق إذ لا تنافي بين الدليلين فلا حاجة إلى تأويل البيهقى (ذلك باليسير) من غير دليل على ان قليل النجاسة وكثيرها سواء عند الشافعية في انه لا يعفى عن شئ منها واستثنوا من ذلك اشياء ليس دم الحيض منها ثم السند (عن سلمان انه قال إذا حك احدكم جلده فلا يمسحه بريقه فانه ليس بطاهر قال يعنى الراوى فذكرت ذلك لابراهيم فقال امسحه ماء) * قال البيهقى * وانما اراد سلمان والله اعلم (ان الريق لا يطهر الدم الخارج منه بالحك) قلت * فيه اشياء (احدها) ان فيه حمادا هو ابن ابى سليمان ضعفه البيهقى في باب الربالا يحرم الحلال (الثاني) انه اختلف على حماد فروي عنه عن عمرو بن عطية وروي عنه عن ربعى عن سلمان بين ذلك الرامهر مزى في كتاب الفاصل (الثالث) ان سلمان لو اراد الريق لا يطهر كما زعم البيهقى لقال فانه ليس بمطهر بل المفهوم من كلامه انه كان
অন্যথা তাঁর থেকে এটি অস্বীকার করা বৈধ হতো না। তিনি বলেন, (পরিচ্ছেদ: অন্যান্য তরল পদার্থ ব্যতিরেকে কেবল পানি দ্বারা অপবিত্রতা দূরীকরণ)। এ বিষয়ে তিনি আসমা (রা.)-এর বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: (অতঃপর তুমি তা পানি দিয়ে রগড়ে নাও)। আমি বলি, এটিও ‘মাফহুম আল-লাকাব’ (উপাধির অর্থগত ইঙ্গিত)। অতঃপর তিনি আয়েশা (রা.)-এর হাদীস উল্লেখ করেন: (আমাদের কারোরই একটির বেশি কাপড় ছিল না যাতে সে ঋতুবতী হতো। যদি তাতে রক্তের কোনো অংশ লাগত, তবে সে তার লালা দিয়ে তা ভিজিয়ে নিত এবং নখ দিয়ে তা খুঁটে ফেলত)। এরপর তিনি (বায়হাকী) বলেন, (এটি সেই স্বল্প পরিমাণ রক্তের ক্ষেত্রে যা ক্ষমার যোগ্য। আর অধিক পরিমাণের ক্ষেত্রে তাঁর থেকে সহীহভাবে বর্ণিত আছে যে, তিনি তা ধৌত করতেন)। আমি বলি, ধৌত করা কেবল পানির সাথে নির্দিষ্ট নয়। আর যদি তা নির্দিষ্ট হতোও, তবে তা পানি দিয়ে অপবিত্রতা দূর করা বৈধ হওয়ার প্রমাণ হতো। আর প্রথম দলিলটি লালা দিয়ে অপবিত্রতা দূর করা বৈধ হওয়ার প্রমাণ প্রদান করে। কারণ এই দুই দলিলের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই। সুতরাং কোনো দলিল ছাড়াই বায়হাকীর এই ব্যাখ্যার (এটি স্বল্প পরিমাণের ক্ষেত্রে) কোনো প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে শাফিঈদের নিকট অল্প বা বেশি সব অপবিত্রতাই সমান এই অর্থে যে, এর কোনোটিই ক্ষমাযোগ্য নয়; তারা এ থেকে কিছু বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন, কিন্তু ঋতুস্রাবের রক্ত তার অন্তর্ভুক্ত নয়। অতঃপর সনদ সহকারে বর্ণিত হয়েছে (সালমান রা. থেকে যে তিনি বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন তার চামড়া চুলকায়, তখন সে যেন সেখানে তার লালা না লাগায়, কারণ তা পবিত্র নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইব্রাহীম নাখঈর নিকট এটি উল্লেখ করলে তিনি বললেন, তা পানি দিয়ে মুছে নাও)। বায়হাকী বলেন, সালমান (রা.) সম্ভবত এটিই বুঝিয়েছেন—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যে (চুলকানোর ফলে যে রক্ত বের হয়, লালা তা পবিত্র করে না)। আমি বলি, এতে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত: এতে হাম্মাদ রয়েছেন, যিনি ইবনে আবু সুলাইমান; বায়হাকী নিজেই ‘সুদ হালালকে হারাম করে না’ পরিচ্ছেদে তাকে দুর্বল বলেছেন। দ্বিতীয়ত: হাম্মাদের বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে। তাঁর থেকে আমর ইবনে আতিয়্যাহর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আবার তাঁর থেকে রিবঈর সূত্রে সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। রামাহুরমুযী ‘আল-ফাসিল’ গ্রন্থে এটি স্পষ্ট করেছেন। তৃতীয়ত: সালমান (রা.) যদি লালা পবিত্রকারী নয়—এমনটিই বুঝাতে চাইতেন যা বায়হাকী দাবি করেছেন, তবে তিনি বলতেন ‘নিশ্চয়ই এটি পবিত্রকারী নয়’ (মুতাহহির)। বরং তাঁর কথা থেকে যা বোঝা যায় তা হলো তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৪)
يرى الريق ليس بطاهر في نفسه ويؤيد ذلك ما اسنده صاحب الامام عنه انه قال إذا اصاب البصاق الثوب أو الجسد فليغسل بالماء ويروى ذلك عن بعض العلماء ذكره الطحاوي في كتاب الاختلاف وقال أبو بكر بن ابى شيبة في

المصنف حدثنا سعيد بن يحيى الحميرى حدثنا أبو العلاء قال كنا عند قتادة فتذاكروا قول ابراهيم وقول الكوفيين في البزاق يغسل قال فحك قتادة ساقه ثم اخذ من ريقه شيئا ثم امره عليه ليرينا انه ليس بشئ والحميري هذا ثقة خرج له البخاري وبو العلاء هو ايوب بن مسكين ويقال ابن ابى مسكين القصاب وثقه ابن حنبل وابن سعود والنسائي * قال البيهقى * (واما حديث عمر بن ياسران النبي صلى الله عليه وسلم قال له يا عمار يا نخامتك ولا دموع عينيك الا بمنزلة الماء الذى في ركوتك انما تغسل ثوبك من البول والغائط والمنى والدم والقئ فهذا باطل لا اصل له وانما رواه ثابت بن حماد عن على بن زيد عن ابن المسيب عن عمار وعلى بن زيد غيره محتج به وثابت بن حماد متهم بالوضع) * قلت * هذا الحديث
তিনি মনে করেন যে লালা বা থুথু স্বয়ং পবিত্র নয় এবং ইমামের সাথী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে যে, তিনি বলেছেন: যদি কাপড় বা শরীরে থুথু লাগে তবে তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এটি কিছু আলেম থেকেও বর্ণিত হয়েছে যা তহাবী ‘কিতাবুল ইখতিলাফ’-এ উল্লেখ করেছেন। আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ তাঁর

মুসান্নাফ-এ বলেছেন: সাঈদ ইবনে ইয়াহইয়া আল-হিমইয়ারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আল-আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা কাতাদাহর নিকট ছিলাম। তখন তারা থুথু ধুয়ে ফেলার বিষয়ে ইব্রাহিম এবং কুফাবাসীদের মতামত নিয়ে আলোচনা করছিলেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন কাতাদাহ তাঁর পা চুলকালেন এবং তাঁর লালা থেকে কিছু অংশ নিয়ে তার ওপর বুলিয়ে দিলেন আমাদের দেখানোর জন্য যে এটি (নাপাক) কিছু নয়। আর এই হিমইয়ারি নির্ভরযোগ্য, ইমাম বুখারী তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। আর আবু আল-আলা হলেন আইয়ুব ইবনে মিসকিন, তাঁকে ইবনে আবি মিসকিন আল-কাসসাবও বলা হয়; ইবনে হাম্বল, ইবনে সাউদ এবং নাসাঈ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। * বায়হাকী বলেছেন * (আর উমর ইবনে ইয়াসিরের বর্ণিত হাদিস যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন: হে আম্মার, তোমার শ্লেষ্মা বা চোখের পানি তোমার পানির পাত্রে থাকা পানির সমতুল্য। তুমি তোমার কাপড় কেবল প্রস্রাব, পায়খানা, বীর্য, রক্ত এবং বমি থেকেই ধৌত করবে—এটি বাতিল এবং এর কোনো ভিত্তি নেই। এটি কেবল সাবিত ইবনে হাম্মাদ বর্ণনা করেছেন আলি ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ইবনুল মুসায়্যিব থেকে এবং তিনি আম্মার থেকে। আর আলি ইবনে যাইদ দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন এবং সাবিত ইবনে হাম্মাদ হাদিস জাল করার দায়ে অভিযুক্ত।) * আমি বলছি * এই হাদিসটি
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৫)
اخرجه الدارقطني ولفظه عن عمار قال اتى علي رسول الله صلى الله عليه وسلم وانا على بئراد لو مافى ركوة لى فقال يا عمار ما تصنع فقلت يا رسول الله بابى وامى اغسل ثوبي من نخامة اصابته فقال يا عمار انما يغسل الثوب من خمس من الغائط والبول والقئ والدم والمنى يا عمار ما نخامتك ولاد موع عينيك والماء الذى في ركوتك الاسواء * فسياق الحديث يدل على انه عليه السلام جعل النخامة طاهرة فليا يغسل الثوب منها كالماء وكذلك الدموع طاهرة ولم يرد عليه السلام جعلها كلماء في تطهير الاشياء بهما على انه لا يلزم من جعل شئ بمنزلة شئ آخر وتسويته به استواؤهما من كل الوجوه فظهر بهذا ان الحديث غير مناسب لهذا الباب وعلى بن زيد قد تقدم ان مسلما روى له مقرونا بغيره وثابت هذا قال الدارقطني ضعيف جدا وقال ابن عدى احاديثه مناكير ومقلوبات واما كونه متهما بالوضع فما رأيت احدا بعد الكشف التام ذكره غير البيقهى وقد ذكرا ياضا هو هذا الحديث في كتاب المعرفة وضعف ثابتا هذا ولم ينسبه إلى التهمة بالوضع * * قال * (باب طهارة جلد الميتة بالدبغ) (ذكر فيه) حديث ابن عباس رضى الله عنهما من طريقين في الاولى (الا اخذوا اهابها فدبغوه فانتفعوه به) وفي الثانية (الانزعتم اهابها فدبغتموه فانتفعتهم به) لا دلالة فيه من هذين الطريقين على طهارة الجلد بالدباغ فان الانتفاع قد يكون بما ليس بطاهر (وقد قال مالك) لا بأس بالجلوس على جلود الميتة إذا دبغت ولا بأس ان يغربل عليها وهذا وجه قول البنى
এটি দারাকুতনী বর্ণনা করেছেন এবং এর শব্দমালা আম্মার (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট আসলেন যখন আমি একটি কূপে আমার চামড়ার পাত্রে পানি ভরছিলাম। তিনি বললেন, হে আম্মার! তুমি কী করছ? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আমি আমার কাপড়ে লেগে থাকা শ্লেষ্মা ধুয়ে নিচ্ছি। তখন তিনি বললেন, হে আম্মার! কাপড় কেবল পাঁচটি জিনিসের কারণে ধৌত করা হয়: মল, মূত্র, বমি, রক্ত এবং বীর্য। হে আম্মার! তোমার শ্লেষ্মা, তোমার চোখের পানি এবং তোমার চামড়ার পাত্রের পানি সবই সমান। * সুতরাং হাদিসের প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে যে, তিনি (আলাইহিস সালাম) শ্লেষ্মাকে পবিত্র গণ্য করেছেন, তাই এটি থেকে কাপড় ধোয়ার প্রয়োজন নেই যেমনটি পানির ক্ষেত্রে হয়। অনুরূপভাবে অশ্রুও পবিত্র। তিনি (আলাইহিস সালাম) এগুলোকে অন্য বস্তু পবিত্র করার ক্ষেত্রে পানির সমতুল্য বুঝাতে চাননি। এছাড়া কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর স্থলাভিষিক্ত করা বা সমমর্যাদা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, সব দিক থেকে উভয়ের সমান হওয়া আবশ্যক। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, হাদিসটি এই অধ্যায়ের জন্য উপযোগী নয়। আর আলী বিন যাইদ সম্পর্কে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, ইমাম মুসলিম তার থেকে অন্য রাবীর সাথে মিলিয়ে বর্ণনা করেছেন। আর এই সাবিত সম্পর্কে দারাকুতনী বলেছেন যে সে অত্যন্ত দুর্বল, এবং ইবনে আদি বলেছেন তার বর্ণিত হাদিসসমূহ মুনকার (প্রত্যাখ্যাত) ও উল্টোপাল্টা। আর তার প্রতি হাদিস জাল করার অভিযোগের বিষয়ে পূর্ণ অনুসন্ধানের পর বাইহাকী ব্যতীত অন্য কাউকে তা উল্লেখ করতে দেখিনি। তিনি নিজেও এই হাদিসটি ‘কিতাবুল মা’রিফাহ’-তে উল্লেখ করেছেন এবং এই সাবিতকে দুর্বল বলেছেন, তবে তার প্রতি হাদিস জাল করার অপবাদ আরোপ করেননি। * * তিনি বলেন * (পরিচ্ছেদ: চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে মৃত পশুর চামড়া পবিত্র হওয়া) (এতে উল্লিখিত হয়েছে) ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর হাদিস দুটি সূত্রে; প্রথমটিতে: (তোমরা কেন এর চামড়া নিলে না, অতঃপর তা প্রক্রিয়াজাত করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে?) এবং দ্বিতীয়টিতে: (তোমরা কেন এর চামড়াটি ছাড়িয়ে নিলে না, অতঃপর তা প্রক্রিয়াজাত করতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে?)। এই দুটি সূত্রের কোনোটিতেই প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চামড়া পবিত্র হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই, কারণ অপবিত্র বস্তু থেকেও উপকার গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে। (ইমাম মালিক বলেছেন) মৃত পশুর চামড়া যখন প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন তার ওপর বসাতে কোনো সমস্যা নেই এবং তার ওপর চালনি দিয়ে চালতেও কোনো অসুবিধা নেই; আর এটিই নবীজির বাণীর উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৬)
صلى الله عليه وسلم الا انتفتم بجلدها ولا يصلى في جلود الميتة إذا دبغت ولا يستسقى بها حكى ذلك عنه ابن القاسم وإذا لم يلزم الانتفاع الطهارة انه لا دليل في هذا الحديث من هذين الطريقين على ما عقد البيهقى الباب لا جله * قال البيهقى

(وروام جماعة عن الزهري * فذكرهم ثم قال (ولم يذكروا فيه فدبغوه وقد حفظه سفيان بن عيبنة والزيادة من مثله مفعولة إذا كان لها شواهد) * قلت * لا حاجة إلى هذا القيد بل هلى من مثله مقبولة سواء كان لها شواهد ام لا على ابن عيينة اختلف عنه منهم من ذكر عنه هذه الزيادة ومنهم من لم يذكر ها وكذلك واخرجه أو داود والنسائي
(আল্লাহর রাসূল) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (বললেন): "তোমরা কেন এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হলে না?" মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করা হয়ে থাকলেও তাতে সালাত আদায় করা যাবে না এবং তা দ্বারা পানি তোলা যাবে না। ইবনুল কাসিম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। আর যদি উপকার লাভের জন্য পবিত্রতা আবশ্যক না হয়, তবে ইমাম বায়হাকী যে বিষয়ের জন্য অধ্যায়টি বিন্যস্ত করেছেন, এই হাদীসের এই দুটি সূত্রের মধ্যে তার কোনো দলীল নেই। ইমাম বায়হাকী বলেছেন:

(একদল বর্ণনাকারী এটি যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন—অতঃপর তিনি তাদের নাম উল্লেখ করে বললেন—তারা এতে 'সুতরাং তারা যেন তা পাকা করে নেয়' কথাটি উল্লেখ করেননি। তবে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ এটি মুখস্থ রেখেছেন এবং তাঁর মতো রাবীর বর্ণিত অতিরিক্ত অংশ কার্যকর হয় যখন তাঁর স্বপক্ষে অন্যান্য সাক্ষ্য থাকে)। আমি বলি: এই শর্তারোপের কোনো প্রয়োজন নেই, বরং তাঁর মতো রাবীর বর্ণিত অতিরিক্ত অংশ গ্রহণযোগ্য, চাই তাঁর স্বপক্ষে সাক্ষ্য থাকুক বা না থাকুক। ইবনে উয়াইনাহর ক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে; তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর থেকে এই অতিরিক্ত অংশটি উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ কেউ করেননি। আবু দাউদ এবং নাসাঈও এটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৭)
في سننهما عن ابن عيينة بنسده عن ابن عباس عن ميمونة فلم يذكر فيه الدباغ ثم ذكر البيهقى من حديث محمد بن عبد الرحمن بن ثوبان (عن امه عن عائشة انه عليه السلام امران يستمتع يجلود الميتة) الحديث وسكت عنه وعلله الاثرم بان امه غير معروفة ولم يسمع انه روي عنها غير هذا الحديث وسأل عبد الله بن احمد بن حنبل اباه عن هذا الحديث فقال فيه امه كأنه انكره من اجل امه ثم ذكر البيهقى حديث الجون بن قتادة عن سلمة بن المحبق وسكت عنه والجون مجهول كذا عن احمد بن حنبل وابن المدينى وابن عدى *

তাদের উভয়ের সুনান গ্রন্থে ইবনে উয়াইনা থেকে তাঁর সনদে ইবনে আব্বাস থেকে, তিনি মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন; তবে এতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এরপর বায়হাকী মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে সাওবানের হাদীস থেকে উল্লেখ করেছেন (তিনি তাঁর মা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—মৃত পশুর চামড়া ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন); তিনি হাদীসটি বর্ণনা করে নীরব থেকেছেন। আল-আছরাম একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন এই কারণে যে, তাঁর মা অপরিচিত এবং এই হাদীসটি ছাড়া তাঁর থেকে অন্য কোনো হাদীস বর্ণিত হয়েছে বলে শোনা যায়নি। আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর পিতাকে এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এতে তাঁর মায়ের কথা উল্লেখ করেন; যেন তিনি তাঁর মায়ের কারণেই হাদীসটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অতঃপর বায়হাকী সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক থেকে জাওন ইবনে কাতাদার হাদীসটি উল্লেখ করেছেন এবং নীরব থেকেছেন; অথচ জাওন একজন অপরিচিত বর্ণনাকারী, যেমনটি আহমদ ইবনে হাম্বল, ইবনুল মাদিনী এবং ইবনু আদি উল্লেখ করেছেন। *

(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৮)
(باب المنع من الانتفاع بجلد الكلب والخنز يروانهما نجسان وهما حيان) (استدل) على ذلك بحديث عبد الله بن عكيم (لا تستمتعوا من الميتة باهاب ولا عصب) * قلت * قد بين فيما مضى في باب جلد الميتة رواه عن مجاهيل ثمان البيهقى حمله على ما قبل المدبغ فكيف يستدل به هاهنا على ان المنع من الانتفاع يجلد الكلب والخنزير بعد الدبغ وعلى تقدير صحة هذا الحديث فهو شامل الغير الكلب والخنزير ايضا وهو لا يقول بذلك ثم.

ذكر حديث النهى عن جلولد السباع * قلت * سيأتي في كلام الترمذي ان الاصح ان مرسل ثم الشافعي لم يقبل بعموم هذا الحديث فان عنده جلود السباع تطهر بالدبا غير الكلب والخنزير وليس في الحديث النهى عن دباغها فقد حكى الخطابى عما لك انه كره الصلوة في جلود السباع وان دبغت ورأى الانتفاع بها على سائر الوجوه بائزا وقال الخطابى في باب اهب الميتة تأويل هذا الحديث اصحاب الشافعي ومن ذهب مذهبه ان الدباغ يطهر جلود السباع ولا يطهر شعورها على انه انما نهى عن استعمالها من اجل شعورها لانها نجسة عندهم وقد يكون النهى من اجل انها مراكب اهل
(পরিচ্ছেদ: কুকুর ও শূকরের চামড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া এবং জীবিত অবস্থায় সেগুলো অপবিত্র হওয়া প্রসঙ্গে) (প্রমাণ পেশ করা হয়েছে) এর স্বপক্ষে আবদুল্লাহ ইবনে উকাঈমের হাদিস দ্বারা (যে, “তোমরা মৃত পশুর কাঁচা চামড়া ও রগ থেকে কোনো উপকার গ্রহণ করো না”)। আমি বলি, ইতিপূর্বে ‘মৃত পশুর চামড়া’ পরিচ্ছেদে এটি বর্ণনা করা হয়েছে যে, বায়হাকী আটজন অজ্ঞাত বর্ণনাকারীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পূর্বের অবস্থার ওপর প্রয়োগ করেছেন। সুতরাং, এখানে এর মাধ্যমে কীভাবে প্রমাণ পেশ করা সম্ভব যে, প্রক্রিয়াজাত করার পর কুকুর ও শূকরের চামড়া ব্যবহার নিষিদ্ধ? আর যদি এই হাদিসটি সহিহ বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবে এটি কুকুর ও শূকর ব্যতীত অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, অথচ তিনি তা বলেন না। অতঃপর।

শিকারি প্রাণীর চামড়া ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। আমি বলি, তিরমিযীর বক্তব্যে সামনে আসবে যে, অধিক সঠিক মতানুসারে এটি মুরসাল। অতঃপর শাফিঈ (রহ.) এই হাদিসের ব্যাপকতাকে গ্রহণ করেননি; কারণ তাঁর মতে কুকুর ও শূকর ব্যতীত শিকারি প্রাণীর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে পবিত্র হয়। আর হাদিসে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার ব্যাপারে কোনো নিষেধ নেই। খাত্তাবী মালেক (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি শিকারি প্রাণীর চামড়ার ওপর নামাজ পড়া অপছন্দ করতেন, যদিও তা প্রক্রিয়াজাত করা হোক না কেন। তবে অন্যান্য উপায়ে এর ব্যবহার তিনি বৈধ মনে করতেন। খাত্তাবী ‘মৃত পশুর চামড়া’ পরিচ্ছেদে বলেছেন, ইমাম শাফিঈর অনুসারীগণ এবং যারা তাঁর মাযহাব গ্রহণ করেছেন, তাদের নিকট এই হাদিসের ব্যাখ্যা হলো—প্রক্রিয়াজাতকরণ শিকারি প্রাণীর চামড়াকে পবিত্র করে, কিন্তু তার পশমকে পবিত্র করে না। আর এর ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা এসেছে মূলত এর পশমের কারণে, কারণ তা তাঁদের নিকট নাপাক। আবার এই নিষেধাজ্ঞা এজন্যও হতে পারে যে, এগুলো ছিল বিলাসপ্রিয় লোকেদের বাহন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ১৯)
السرف والخيلاء وقد جاء النهى عن ركوب جلد النمرو ذكره أبو داود في هذا الباب فاما ما دبغ جلده وتنف شعره فانه طاهر على مذهبه ولا ينكر تخصيص العموم بدليل يوجهب انتهى كلامه وقد جاء النهى على جلود السباع مخصصا

فروى أبو داود والنسأى من حديث المقدام بن معد يكرب انه عليه السلام نهى عن لبس جلود السباع والركوب عليها وقد ذكر البيهقى هذا الحديث هذا الباب ببابين وذكر هناك (عن ابى المليح عن ابيه نهى عليه السلام عن جلود السباع ان تفرش) ثم ذكر البيهقى حديث ولوغ الكلب مستد لا بذلك على نجاسة ومالك يمنع ذلك ويحمل الامر بالغسل على التعبد وربما رجحه اصحابه بذكر هذا العدد المخصوص وهو السبع فانه لو كان للنجاسة ولاكتفى باقل من السبع لانه ليس باغلظ من نجاسة العذرة وقد اكتفى بها باقل من ذلك لكن الامر بالغسل دليل على التنجس ظاهر كالعذرة والتبعد بالنسبة إلى الاحكام المعقولة واظهر من ذلك في الدلالة على التنجس ما ورد في بمض الروايات الصحيحة (طهور اناء احدكم إذا ولغ فيه الكلب ان يغسل سبعا) فلو استدل البيهقى بهذا الكان اظهر ثم معتسليم نجاسته لا يلزم من ذلك منع الانتفاع بجلده بل طاهر إذا دبغ كجلد الميتة عملا بعموم حديث ابن عباس المتقدم * ايما اهاب دبغ فقد طهر * وبحديثه ايضا الذى صحح البيهقى اسناده فيما تقدم ولفظه ان دباغه ذهب بخبثه أو رجسه أو نجسه وبحديث سلمة المتقدم * دباغها طهورها * وبهذا يظهرانه لادليل للبيقى في هذا الحديث ثم اخرج من حديث (يوسف بن خالد عن الضحاك بن عثمان عن عكرمة عن ابن عباس انه عليه السلام قال ثمن الكلب خبيث وهو اخبث منه) ثم قال (يوسف بن خالد هو السمتى غيره
অপব্যয় ও অহংকার। আর চিতাবাঘের চামড়ার ওপর আরোহণ করা থেকে নিষেধের বর্ণনা এসেছে এবং আবু দাউদ এই পরিচ্ছেদে তা উল্লেখ করেছেন। তবে যে পশুর চামড়া দাবাগাত (সংস্কার) করা হয়েছে এবং যার পশম উপড়ে ফেলা হয়েছে, তা তাঁর মাযহাব অনুযায়ী পবিত্র। কোনো দলিলের ভিত্তিতে সাধারণ বিধানকে নির্দিষ্ট করা অস্বীকার করার অবকাশ নেই—তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। আর হিংস্র পশুর চামড়ার ব্যাপারেও সুনির্দিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

অতঃপর আবু দাউদ ও নাসায়ী মিকদাম ইবনে মা'দী কারিবের হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) হিংস্র পশুর চামড়া পরিধান করতে এবং তার ওপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন। ইমাম বাইহাকী এই হাদিসটি বর্তমান পরিচ্ছেদের দুই পরিচ্ছেদ পূর্বে উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি বর্ণনা করেছেন (আবু আল-মালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে যে, নবী (সা.) হিংস্র পশুর চামড়া বিছানা হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন)। অতঃপর বাইহাকী কুকুরের পাত্র চাটার হাদিসটি উল্লেখ করে তার নাপাক হওয়ার ওপর দলিল পেশ করেছেন; কিন্তু ইমাম মালিক তা অস্বীকার করেন এবং ধৌত করার নির্দেশকে কেবল তায়াব্বুদ (আনুগত্যমূলক ইবাদত) হিসেবে গণ্য করেন। সম্ভবত তাঁর অনুসারীরা এই নির্দিষ্ট সংখ্যা—অর্থাৎ সাতবার—উল্লেখ করার মাধ্যমে এটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কারণ এটি যদি কেবল নাপাকির কারণে হতো, তবে সাতের কম সংখ্যাই যথেষ্ট হতো; কেননা এটি মানুষের মলের চেয়ে অধিক গুরুতর নাপাকি নয়, অথচ মলের ক্ষেত্রে এর চেয়ে কম সংখ্যাতেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। তবে ধৌত করার নির্দেশটি মলের মতোই নাপাক হওয়ার প্রকাশ্য দলিল এবং বুদ্ধিগ্রাহ্য বিধানের তুলনায় এটি তায়াব্বুদী বিষয়ের অধিক নিকটবর্তী। নাপাক হওয়ার বিষয়ে এর চেয়েও স্পষ্ট দলিল হলো যা কিছু সহিহ রেওয়ায়েতে এসেছে: ‘তোমাদের কারো পাত্র পবিত্র করার উপায় হলো—যখন কুকুর তাতে মুখ দেয়—তা সাতবার ধৌত করা।’ যদি বাইহাকী এটি দ্বারা দলিল পেশ করতেন তবে তা অধিক স্পষ্ট হতো। এরপর তার নাপাকি মেনে নিলেও, এর চামড়া দ্বারা উপকৃত হওয়া নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে না; বরং মৃত পশুর চামড়ার মতো দাবাগাত করলে তা পবিত্র হয়ে যায়। এটি ইবনে আব্বাসের পূর্বোক্ত সাধারণ হাদিসের ওপর আমল করার কারণে: ‘যেকোনো চামড়া যখন দাবাগাত করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।’ এবং তাঁর সেই হাদিসের ভিত্তিতেও যার সনদ বাইহাকী পূর্বে সহিহ বলেছেন এবং তার শব্দ হলো: ‘নিশ্চয়ই তার দাবাগাত করা তার ভেতরের অপবিত্রতা বা নাপাকি দূর করে দেয়।’ আর সালামার পূর্বোক্ত হাদিসের ভিত্তিতেও যে: ‘তার দাবাগাতই তার পবিত্রতা।’ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, বাইহাকীর নিকট এই হাদিসে কোনো দলিল নেই। অতঃপর তিনি ইউসুফ ইবনে খালিদ থেকে, তিনি যাহহাক ইবনে উসমান থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: ‘কুকুরের বিক্রয়মূল্য নিকৃষ্ট এবং কুকুর তার চেয়েও বেশি নিকৃষ্ট।’ অতঃপর তিনি বলেছেন: ‘ইউসুফ ইবনে খালিদ হলেন সামতী, অন্য কেউ নন।’
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২০)
اوثق منه) * قلت * في هذا الكلام توثيق له لانه شارك ذلك الغير في الثقة وان كان الغير اوثق منه فان كان البيهقى اراد بذلك تضعيفه اخطأ في عبارته وان كان اراد توثيقه كما هو المفهوم من كلامه فليس الامر كذلك بل هو قد اغلظ الناس القول فيه * قال النسائي متروك وقال ابن معين كذاب خبيث عدو الله رجل سوء رأيته بالبصرة ما لا احصى لا يحدث عنه احد فيه وقال في رواية عباس الدوري هو كذاب زنديق لا يكتب عنه وقال أبو حاتم انكرت قول يحيى فيه زنديق حمل الي كتاب فقد وضعه في التجهم ينكر فيه الميزان والقيامة فعلمت ان يحيى كان لا يتلكم الا عن بصيرة وفهم وهو ذاهب الحديث وقال ابن سعد كانوا يتقون حديثه وضعفه البيهقى فيما بعد في باب قطع الشجر وحرق المنازل فهو مخالف لظاهر كلامه هنا ثم على تقدير صحة الحديث فالخبيث من حيث هو لا يدل على النجاسة صريحا * قال الجوهرى الخبيث ضد الطيب فكما ان الطيب ليس بمنحصر في الطاهر فكذا الخبيث ليس بمنحصر في النجس ولو كان كذلك لكان ثمن الكلب ومهر البغى وكسب الحجام نجسة لانه عليه السلام اطلق اسم الخبيث على هذه الثلاثة كما اخرجه الشيخان من حديث رافع بن خديج ولم يقل احد بنجاسة هذه الاشياء *.

* قال *) باب اشتراط الدباغ في طهارة جلد ما لا يوكل لحمه) (استدل) على ذلك بحديث (إذا دبغ الاهاب فقد طهر) * قلت * هومن باب مفهوم الشرط وخصمه لا يقول به ولان صح هذا الاستدلال يلزم منه القول بنجاسة جلد ما يوكل لحمه فاشتراط الدباغ فيه والبيهقي واصحابه لا يقولون بذلك.
...তাঁহার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য) * আমি বলি * এই বক্তব্যের মধ্যে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণিত হয়, কারণ তিনি নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তির অংশীদার, যদিও সেই ব্যক্তি তাঁর চেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য। বায়হাকী যদি এর দ্বারা তাঁকে দুর্বল প্রমাণ করতে চেয়ে থাকেন, তবে তিনি তাঁর অভিব্যক্তিতে ভুল করেছেন। আর যদি তিনি তাঁর নির্ভরযোগ্যতা বুঝিয়ে থাকেন—যেমনটি তাঁর কথা থেকে বোঝা যায়—তবে বিষয়টি তেমন নয়; বরং বিশেষজ্ঞগণ তাঁর ব্যাপারে কঠোর মন্তব্য করেছেন। * নাসাঈ বলেছেন: তিনি মাতরুক (পরিত্যক্ত)। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি একজন মিথ্যাবাদী, খবিস, আল্লাহর শত্রু, একজন মন্দ লোক; আমি তাকে বসরায় অগণিতবার দেখেছি, তাঁর থেকে কেউ হাদিস বর্ণনা করে না। আব্বাস আদ-দৌরীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তিনি মিথ্যাবাদী যিনদীক, তাঁর থেকে হাদিস লেখা যাবে না। আবু হাতিম বলেছেন: আমি তাঁর ব্যাপারে ইয়াহইয়ার এই উক্তিটি—যে তিনি একজন যিনদীক—তা অস্বীকার করেছিলাম; কিন্তু পরবর্তীতে আমার নিকট একটি বই আনা হলো যা তিনি জাহমিয়্যা মতবাদ প্রচারের জন্য রচনা করেছিলেন, যেখানে তিনি মিযান (দাঁড়িপাল্লা) এবং কিয়ামত অস্বীকার করেছেন। তখন আমি জানতে পারলাম যে ইয়াহইয়া গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞা থেকেই কথা বলতেন; এবং বর্ণনাকারী হিসেবে তিনি অগ্রহণযোগ্য। ইবনে সাদ বলেছেন: লোকেরা তাঁর হাদিস থেকে বিরত থাকত। পরবর্তীতে বায়হাকী 'গাছ কাটা ও ঘরবাড়ি পোড়ানো' অধ্যায়ে তাঁকে দুর্বল বলেছেন, যা তাঁর এখানকার প্রকাশ্য বক্তব্যের পরিপন্থী। অতঃপর, হাদিসটি সঠিক হওয়ার অনুমিত শর্তেও, 'খবিস' শব্দটি শব্দগত দিক থেকে স্পষ্টভাবে অপবিত্রতা বোঝায় না। * জাওহারী বলেছেন: 'খবিস' হলো 'তৈয়িব' (উত্তম/পবিত্র)-এর বিপরীত। সুতরাং 'তৈয়িব' যেমন কেবল শরয়ী পবিত্র বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তেমনি 'খবিস'ও কেবল অপবিত্র বস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যদি বিষয়টি তাই হতো, তবে কুকুরের মূল্য, ব্যভিচারিণীর পারিশ্রমিক এবং ক্ষৌরকারের উপার্জন অপবিত্র হতো; কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই তিনটির ওপর 'খবিস' নাম প্রয়োগ করেছেন, যেমনটি শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) রাফে বিন খাদীজ থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন। অথচ এই বস্তুগুলো অপবিত্র হওয়ার কথা কেউ বলেননি। *

* তিনি বলেছেন * (অনুচ্ছেদ: যার গোশত খাওয়া হয় না তার চামড়া পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে চামড়া পাকা করার শর্তারোপ)। এর স্বপক্ষে এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, "যখন চামড়া পাকা করা হয় তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" * আমি বলি * এটি 'শর্তের অনুমিত অর্থের' (মাফহুমুশ শারত) অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তাঁর প্রতিপক্ষ এটি স্বীকার করেন না। আর যদি এই দলিলটি সঠিকও হয়, তবে এর দ্বারা সেই পশুর চামড়াও অপবিত্র হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে যার গোশত খাওয়া বৈধ, এবং সে ক্ষেত্রেও চামড়া পাকা করার শর্ত প্রযোজ্য হবে; অথচ বায়হাকী এবং তাঁর সঙ্গীরা এমনটি বলেন না।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২১)
ثم استدل ايضا بحديث عائشة (طهور كل اديم دباغه) وقال (رواته كلهم تقات) * قلت * في سنده ابراهيم بن الهيثم لم يخرج له في شئ من الكتب الستة وذكره ابن عدى في الكامل وقال حدث ببغداد فكذبه الناس واحاديثه مستقيمة سوى الحديث الذي ردوه عليه وهو حديث الغار ثم قوله (طهور كل اديم دباغه) ان كان البيهقى يرى انه من باب العالم زيد وانه يفيد الحصر فمذهب القاضى من المالكية والحنيفة انه لا يفيد الحصر ثم استدل بحديث سلمة بن المحيق (ذكاتها دباغها) وفيه البحث المذكور وتقدم ايضا في سنده الجون وهو مجهول ثم ذكر حديث (النهى عن جلود السباع ان تفرش) وذكر (انه روي عن ابى المليح مرسلا دون ذر ابيه) * قلت * لم يذكر الاصح من المرسل والمسند وقال الترمذي المرسل اصح ثم ان البيهقى استدل به فيما تقدم على المنع من الانتفاع بجلد الكلب والخنزير والمفهوم من كلامه في هذا الباب طهارة ما لا يوكل بالدباغ لا بالذكاة والحديث لم يتعرض لذلك *
এরপর তিনি আয়েশা (রা.)-এর হাদিস (প্রতিটি চামড়া পবিত্র হওয়া তার দাবাগাত করার মাধ্যমে) দ্বারাও দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন (এর বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভরযোগ্য)। * আমি বলছি * এর বর্ণনাসূত্রে ইব্রাহিম বিন আল-হাইসাম রয়েছেন, যাঁর থেকে কুতুবুস সিত্তার কোনো কিতাবে কোনো হাদিস বর্ণিত হয়নি। ইবন আদি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, তিনি বাগদাদে হাদিস বর্ণনা করতেন, ফলে মানুষ তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে। তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিক, তবে সেই হাদিসটি ব্যতীত যা তারা তাঁর ব্যাপারে প্রত্যাখ্যান করেছে, আর সেটি হলো ‘গুহার হাদিস’। এরপর তাঁর বক্তব্য (প্রতিটি চামড়া পবিত্র হওয়া তার দাবাগাত করার মাধ্যমে)—যদি বায়হাকী মনে করেন যে এটি ‘আল-আলিম যায়দ’ পরিভাষাভুক্ত এবং এটি সীমাবদ্ধতা (হাসর) বুঝায়, তবে মালিকী মাযহাবের কাযী এবং হানাফীদের মাযহাব হলো এটি সীমাবদ্ধতা বুঝায় না। এরপর তিনি সালামাহ বিন আল-মুহাইক-এর হাদিস (এর দাবাগাতই হলো এর জবেহ) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যাতে ইতিপূর্বে উল্লিখিত পর্যালোচনা বিদ্যমান। পূর্বে এর সনদে ‘আল-জাওন’-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যিনি একজন অজ্ঞাত (মাজহুল) রাবী। এরপর তিনি (হিংস্র প্রাণীর চামড়া বিছানা হিসেবে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা) সংক্রান্ত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন (এটি আবুল মালিহ থেকে তাঁর পিতার নাম ব্যতীত মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে)। * আমি বলছি * তিনি মুরসাল ও মুসনাদ বর্ণনার মধ্যে কোনটি অধিকতর বিশুদ্ধ তা উল্লেখ করেননি, অথচ ইমাম তিরমিযী বলেছেন মুরসাল বর্ণনাটিই অধিকতর বিশুদ্ধ। এরপর বায়হাকী ইতিপূর্বে কুকুর ও শূকরের চামড়া ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার সপক্ষে এটি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এই পরিচ্ছেদে তাঁর বক্তব্য থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, যা খাওয়া যায় না এমন পশুর চামড়া দাবাগাতের মাধ্যমে পবিত্র হয়, জবেহ করার মাধ্যমে নয়; অথচ হাদিসটি এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেনি। *
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২২)
* ثم قال * (باب لد ما يوكل لحمه إذا كان مذكى) (مراده) انه طاهر واستدل على ذلك بحديث الخدرى (انه عليه السلام مر بغلام شاة وانه عليه السلام لم يتوضأ ان ادخل يده بين الجلد واللحم) * قلت * لا يلزم من نفى غيره فيحتمل انه غسل يده ولم يتوضأ (فان قلت) فقد ذكر فيما بعد (ان عمر زاد في حديثه يعنى لم يمس ماء) * قلت * ذكر فيثما تقدم ان عمرا وايوب لم يجزما في هذا الحديث بل تردد افق لا اراده عن ابى سعيد وقد روى الحافظ أبو حاتم بن حبان هذا الحديث في صحيحه بسنده إلى عطاء الليثى عن ابى سعيد وفي آخره ثم انطلق فصلى ولم يتوضأ ولم يمس ماء فلو ذكر البيهقى الحديث من هذا الطريق كان هو الصواب إذ لا تردد فيه وفي الجمع بين قوله فلم يتوضأ وقوله لم يمس ماء * * قال البيهقى * (باب المنع من الانتفاع بشعر الميتة) (ذكر) فيه حديث (لا تركبوا الخز ولا النمار) ثم قال (وهو في الخز محمول على التزيه) * قلت * إذا جعل

البيهقى في الخز للتنزيه لزم ان يجعل في النمار ايضا كذلك والا لزم استعمال النهي في حقيقته ومجازه ثم لو سلم ان النهى في النمار للتحريم لا يلزمه من صنع ركوبه صنع الانتفاع بشعره وان اراد البيهقى المنع من الانتفاع بشعر الميتة النجاسة.

فلا نسلم ان تحريم كوبه يدل على نجاسته كالحرير حرم لا لنجاسته بل للفخر والخيلاء ولغير ذلك على حسب ما اختلفوا في علة حرمته ثم ذكر (ان بعض اصحابهم احتج بحديث ابن عباس المتقدم الا اخذتم اهابها فاستمتعتم به) وانهم قالوا اخص
* এরপর তিনি বলেন * (পরিচ্ছেদ: জবেহকৃত হালাল পশুর চামড়া প্রসঙ্গে) (তাঁর উদ্দেশ্য হলো) এটি পবিত্র এবং তিনি এর সপক্ষে খুদরী (রা.)-এর হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন (যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বকরির চামড়া ছাড়ানো বালকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তিনি চামড়া ও গোশতের মাঝখানে তাঁর হাত প্রবেশ করানোর পর ওজু করেননি)। * আমি বলি * অন্য কিছু অস্বীকার করা থেকে এটি আবশ্যক হয় না, ফলে সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি তাঁর হাত ধুয়েছিলেন কিন্তু ওজু করেননি। (যদি আপনি বলেন) তিনি পরবর্তীতে উল্লেখ করেছেন (যে, আমর তার হাদিসে অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ তিনি পানি স্পর্শ করেননি)। * আমি বলি * পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমর এবং আইয়ুব এই হাদিসের ব্যাপারে দৃঢ়তাপূর্ণ ছিলেন না বরং দ্বিধান্বিত ছিলেন, আমি আবু সাঈদ (রা.) থেকে এর ইচ্ছা করিনি। অথচ হাফেজ আবু হাতেম ইবনে হিব্বান এই হাদিসটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে আতা আল-লাইসি হতে আবু সাঈদ (রা.)-এর সূত্রে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এর শেষে রয়েছে: "অতঃপর তিনি প্রস্থান করলেন এবং সালাত আদায় করলেন, অথচ তিনি ওজু করেননি এবং পানি স্পর্শ করেননি।" সুতরাং বায়হাকী যদি হাদিসটি এই সূত্রে উল্লেখ করতেন তবে সেটিই সঠিক হতো, যেহেতু এতে কোনো দ্বিধা নেই এবং "তিনি ওজু করেননি" ও "তিনি পানি স্পর্শ করেননি" - এই দুই বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও এটিই সঠিক। * * বায়হাকী বলেন * (পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণীর পশম ব্যবহার করা নিষেধ) (তিনি এতে উল্লেখ করেছেন) হাদিস: (তোমরা রেশমমিশ্রিত কাপড় এবং চিতা বাঘের চামড়ার ওপর আরোহণ করো না)। এরপর তিনি বলেন (রেশমমিশ্রিত কাপড়ের ক্ষেত্রে এটি তানজিহ বা অপছন্দনীয়তা অর্থে ব্যবহৃত)। * আমি বলি * যদি বায়হাকী

রেশমমিশ্রিত কাপড়ের ক্ষেত্রে একে তানজিহ হিসেবে গণ্য করেন, তবে চিতা বাঘের চামড়ার ক্ষেত্রেও অনুরূপ গণ্য করা আবশ্যক, অন্যথায় একই নিষেধাজ্ঞাকে তার প্রকৃত ও রূপক উভয় অর্থে ব্যবহার করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। অতঃপর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে চিতা বাঘের চামড়ার ওপর আরোহণ করা হারাম, তবুও আরোহণ করা নিষিদ্ধ হওয়া থেকে তার পশম ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া আবশ্যক হয় না। আর বায়হাকী যদি মৃত প্রাণীর পশম ব্যবহার করা নিষেধ করার মাধ্যমে তার অপবিত্রতা উদ্দেশ্য করে থাকেন,

তবে আমরা এটি স্বীকার করি না যে, আরোহণ করা হারাম হওয়া তার অপবিত্রতার প্রমাণ দেয়; যেমন রেশম হারাম করা হয়েছে তার অপবিত্রতার জন্য নয়, বরং দম্ভ ও অহংকারের কারণে এবং অন্যান্য কারণে, যেমনিভাবে তারা হারামের কারণ বা ইল্লতের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। এরপর তিনি উল্লেখ করেছেন (যে, তাঁদের কেউ কেউ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর পূর্বে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: "তোমরা কেন এর চামড়া গ্রহণ করলে না যাতে তা দ্বারা উপকৃত হতে পারতে") এবং তাঁরা বলেছেন এটি আরও বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২৫)
الاهاب بالاستمتاع) * قلت * قد تقدم ان مفهوم القلب ليس بحجة فما خص الاهاب نم لو سلم حص الاهاب فهو اسم للجلد بشعره فدل على الطهارة شعره ايضا اذلو لا ذلك لقال احلقوا اشعره ثم انتفعوا به * * قال * (باب المنع من الادهان في عظام الفيلة وغيرها ممالا يوكل لحمه) (ذكر) فيه (نهيه عليه السلام عن كل ذى ناب من السباع) * قلت * ليس ذلك على عمومه فالمراد النهى عن اكله وتبين
চামড়া ব্যবহারের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া) * আমি বলছি * ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, বিপরীত মর্ম (মফহুমুল কালব) কোনো দলিল নয়। সুতরাং যা কাঁচা চামড়াকে নির্দিষ্ট করে, তবুও যদি কাঁচা চামড়াকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি মেনে নেওয়া হয়, তবে এটি লোমসহ চামড়ারই নাম। সুতরাং এটি তার লোমের পবিত্রতার ওপরও প্রমাণ বহন করে; কেননা যদি তা না হতো, তবে তিনি বলতেন: তোমরা এর লোম মুণ্ডন করো, এরপর তা ব্যবহার করো। * * তিনি বলেন * (পরিচ্ছেদ: হাতির হাড় এবং অন্যান্য অখাদ্য প্রাণীর হাড়ের তেল ব্যবহার করার নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে) এতে (উল্লেখ করেছেন) (প্রত্যেক হিংস্র শিকারী প্রাণীর ব্যাপারে তাঁর [আলাইহিস সালাম] নিষেধাজ্ঞা)। * আমি বলছি * এটি তার ব্যাপক অর্থে নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তা ভক্ষণ করার নিষেধাজ্ঞা, এবং বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২৬)
ذلك بمارود في الصحيح من حديث ابي ثعلبة نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ع اكل كل ذى ناب من السباع وحديث ابي هريرة كل ذى ناب من السباع فاكله حرام * ثم ذكر حديث ابن عكيم (لا تستعتموا من الميتة بشئ) وقد بيتا ان فيه اختلافا واضطرابا ثم ان البيهقى ترك عمومه في جواز الانتفاع بجلد الميتة إذا دبغ ثم ذكر عن ابن عمر (انه كره ان يدهن في
এটি সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত আবু সা’লাবার হাদিসের কারণে, যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রত্যেক ছেদন দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র পশু ভক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন এবং আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস—প্রত্যেক ছেদন দাঁত বিশিষ্ট হিংস্র পশু ভক্ষণ করা হারাম। * অতঃপর তিনি ইবনে উকাইমের হাদিস উল্লেখ করেছেন: (মৃত জন্তুর কোনো কিছু থেকেই তোমরা উপকার গ্রহণ করো না)। আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি যে, এতে মতভেদ ও অস্থিরতা (ইযতিরাব) বিদ্যমান। অতঃপর ইমাম বায়হাকী মৃত পশুর চামড়া পাকা করার পর তা ব্যবহারের বৈধতার ক্ষেত্রে এই হাদিসের সাধারণ প্রয়োগটি বর্জন করেছেন। এরপর তিনি ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, (তিনি তেল মালিশ করার ক্ষেত্রে অপছন্দ করতেন...
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২৭)
عظم فيل) وفي سنده ابراهيم الاسلمي سكت عنه وهو مكشوف الحال وذكر (عن بقية عن عمرو بن خالد عن قتادة عن انس كان عليه السلام يتمشط من عاج) ثم قال (رواية بقية عن شيوخه المجهولين ضعيفة) وقال في الخلافيات عمرو بن خالد الوسطى ضعيف والمفهوم من كلامه هاهنا ان الواسطي مجهول وهو ليس كذلك ثم ذكر (ان الخطابى قال واما العاج الذى تعرفه العامة فهو عظم انياب الفيلة وهو ميتة لا يجوز استعماله) * قلت * كان الواجب عليه اتباع الحديث
হাতির হাড়) এবং এর সনদে ইব্রাহিম আল-আসলামী রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন অথচ তাঁর অবস্থা সুপ্রকাশিত। তিনি উল্লেখ করেছেন (বাকিয়্যাহর সূত্রে আমর বিন খালিদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি আনাস [রা.] থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী আলাইহিস সালাম হাতির দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করতেন)। অতঃপর তিনি বলেছেন (বাকিয়্যাহর তাঁর অজ্ঞাত শাইখদের থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত দুর্বল)। তিনি আল-খিলাফিয়্যাত গ্রন্থে বলেছেন যে, আমর বিন খালিদ আল-ওয়াসিতী দুর্বল; আর এখানে তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে ওয়াসিতী অজ্ঞাত ব্যক্তি, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন (আল-খাত্তাবী বলেছেন: সাধারণ মানুষ যে ‘আজ’ বা হাতির দাঁত চেনে, তা হলো হাতির সামনের দীর্ঘ দাঁতের হাড় এবং তা মৃত প্রাণীর হাড়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যবহার করা বৈধ নয়)। *আমি বলি* তাঁর জন্য হাদিস অনুসরণ করাই আবশ্যক ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২৮)
وترك رأيه ولم يفعل كذلك بل رد الحديث إلى رأيه واوهم بقوله (الذى تعرفه العامة) انه ليس من صحيح لغة العرب وليس كذلك * قال ابن سيدة في المحكم العاج انياب الفيلة ولا يسمى غير الناب عاجا وكذا قال الليث من المتقدمين فيما حكاه

الازهرى قال الجوهرى العاج عظم الفيل الواحدة عاجة * * قال * (باب النهى عن الاناء المفضض) (ذكر حديث) ابن عمر (من شرب في اناء فضلة أو ذهب أو اناء فيه شئ من ذلك الحديث) وسكت عنه وفيه زكريا
তিনি তাঁর মত পরিত্যাগ করেছেন এবং সেরূপ করেননি, বরং হাদিসটিকে তাঁর নিজ মতের দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে (যা সাধারণ মানুষ জানে) এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন যে এটি বিশুদ্ধ আরবি ভাষা নয়, অথচ বিষয়টি তেমন নয়। ইবনে সিদাহ 'আল-মুহকাম' গ্রন্থে বলেছেন, 'আজ' হলো হাতির দাঁত এবং দাঁত ব্যতীত অন্য কিছুকে 'আজ' বলা হয় না। অনুরূপভাবে পূর্ববর্তীদের মধ্য থেকে লাইসও এমনটি বলেছেন যা আল-আযহারী বর্ণনা করেছেন।

আল-আযহারী বলেন, আল-জাওহারী বলেছেন যে 'আজ' হলো হাতির হাড়, এর একবচন হলো 'আজাহ'। তিনি বলেছেন: (অধ্যায়: রৌপ্যখচিত পাত্র ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে) (ইবনে উমরের হাদিস উল্লেখ প্রসঙ্গে) (যে ব্যক্তি রূপা বা সোনার পাত্রে অথবা এমন কোনো পাত্রে পান করে যাতে এগুলোর কিছু রয়েছে—হাদিসটি) এবং তিনি এ বিষয়ে নীরবতা অবলম্বন করেছেন, আর এতে যাকারিয়া (নামক বর্ণনাকারী) রয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ২৯)
ابن ابراهيم عن ابيه * قال ابن القطان هذا الحديث لا يصح زكريا وابوه لا يعرف لهما حال ثم ذكر عن ابن عمر (انه اني بقدح مفضض فابى ان يشرب) وفيه خصيف الجزرى فسكت عنه وقال (في باب كفارة من اتى الحائض) خصيف غير محتج به *
ইবনে ইবরাহিম তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন * ইবনুল কাত্তান বলেছেন, এই হাদিসটি সহিহ নয়। জাকারিয়া এবং তাঁর পিতার অবস্থা (রাবি হিসেবে) অজ্ঞাত। অতঃপর তিনি ইবনে উমর থেকে উল্লেখ করেছেন যে, (তাঁকে রূপাখচিত একটি পাত্র দেওয়া হয়েছিল, ফলে তিনি তা থেকে পান করতে অস্বীকৃতি জানান)। এতে খাসিফ আল-জাজারি রয়েছেন, যাঁর ব্যাপারে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন। এবং তিনি (ঋতুবতী স্ত্রীর সাথে মিলনকারীর কাফফারা অধ্যায়ে) বলেছেন: খাসিফ দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নন *
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৩৩)
(باب التطهر في اوانيهم يعنى المشركين بعد الغسل) (ذكر فيه حديثا) من رواية خالد عن ابى قلابة عن ابى اسماء عن ابى ثعلبة ثم قال (وقد ارسله جماعة عن ايوب وخالد فلم يذكروا ابا اسماء في اسناده) * قلت * اخرجه الحاكم في المستدرك بدون ذكر ابى اسماء وقال صحيح على شرط الشيخين البخاري ومسلم وابو قلابة سمع من ابى ثعلبة انتهى كلامه فلا نسلم انه كذلك مرسل وجعل الحاكم الطريق الذى فيه أبو اسماء صحيحا ايضا *
(পরিচ্ছেদ: মুশরিকদের পাত্র ধৌত করার পর তাতে পবিত্রতা অর্জন) (তিনি এতে একটি হাদিস উল্লেখ করেছেন) যা খালেদ-এর সূত্রে আবু কিলাবা থেকে, তিনি আবু আসমা থেকে এবং তিনি আবু সা'লাবা থেকে বর্ণিত। অতঃপর তিনি বলেছেন, (আইয়ুব ও খালেদ থেকে একদল বর্ণনাকারী একে মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদে আবু আসমার নাম উল্লেখ করেননি)। * আমি বলছি * হাকেম 'আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে আবু আসমার নাম উল্লেখ ছাড়াই এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন এটি শাইখাইন—বুখারি ও মুসলিম—এর শর্তানুসারে সহিহ। আর আবু কিলাবা আবু সা'লাবা থেকে শ্রবণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত হলো। সুতরাং এটি সেভাবে মুরসাল বলে আমরা স্বীকার করি না, আর হাকেম সেই সূত্রটিকেও সহিহ সাব্যস্ত করেছেন যাতে আবু আসমা রয়েছেন। *
(খণ্ড: ১) আল-জাওহারুন নাকি (পৃষ্ঠা: ৩৪)
* قال * (باب فضل السواك) (اسند فيه) عن الشافعي (اخيرنا ابن عيينة عن محمد بن اسحاق عن ابن ابى عتيق عن عائشة ان النبي صلى الله عليه وسلم قال السواك مطهرة للفم الحديث) ثم قال (ورواه محمد بن يحيى بن ابى عمر عن ابن عيينة عن مسعر عن ابن اسحاق) * قلت * ذكر صاحب الاما انه رآه في مسند ابن ابى عمر وكما رواه الشافعي عن ابن عيينة وكذا ريته انا في نسخة جيدة
* তিনি বললেন * (মেসওয়াক করার ফযীলত অধ্যায়) (এতে সনদ বর্ণিত হয়েছে) ইমাম শাফেয়ী থেকে (ইবনে উয়াইনা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক থেকে, তিনি ইবনে আবু আতীক থেকে, তিনি আয়েশা থেকে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: মেসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম - হাদীসটি) অতঃপর তিনি বললেন (এবং এটি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবু উমর ইবনে উয়াইনা থেকে, তিনি মিসআর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে) * আমি বলি * আল-ইমা’ গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি মুসনাদে ইবনে আবু উমরে দেখেছেন যেভাবে ইমাম শাফেয়ী ইবনে উয়াইনা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর আমি নিজেও একটি উত্তম পাণ্ডুলিপিতে অনুরূপ দেখেছি।