(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: -)
أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك - ت هبود القسم: النحو والصرف
الكتاب: أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك
المؤلف: جمال الدين، عبد الله بن هشام الأنصاري (ت 761 هـ)
حققه وعلّق عليه: بركات يوسف هبود
وسَمّى عَمَلَه: مصباح السالك إلى أوضح المسالك
راجعه: يوسف الشيخ محمد البقاعي
الناشر: دار الفكر للطباعة والنشر والتوزيع - بيروت
الطبعة: 1420 هـ - 2000 م
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আলফিয়্যা ইবনু মালিকের অধিকতর স্পষ্ট পথ - তাহকিক: হাব্বুদ বিভাগ: নাহু ও সরফ
কিতাব: আলফিয়্যা ইবনু মালিকের অধিকতর স্পষ্ট পথ (আওদাহুল মাসালিক)
লেখক: জামালুদ্দিন, আবদুল্লাহ ইবনু হিশাম আল-আনসারি (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)
তাহকিক ও টীকা: বারাকাত ইউসুফ হাব্বুদ
এবং তিনি তার কাজের নামকরণ করেছেন: অধিকতর স্পষ্ট পথের পথিকদের প্রদীপ (মিসবাহুস সালিক)
সম্পাদনা: ইউসুফ আল-শায়খ মুহাম্মাদ আল-বিকাঈ
প্রকাশক: দারুল ফিকর মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণ - বৈরুত
সংস্করণ: ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৩)
المجلد الأول
مقدمات…تمهيد:
أولا- تعريف موجز بابن هشام الأنصاري:
المولد والنشأة: ولد العلامة الشيخ، أبو محمد عبد الله جمال الدين بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري بالقاهرة في ذي القعدة، سنة ثمان وسبعمائة من الهجرة1، الموافق سنة / 1309/ من الميلاد. ومن ثم ترعرع فيها، وشب محبا للعلم والعلماء، فأخذ عن الكثيرين منهم، ولازم بعضا من الأدباء والفضلاء.
شيوخه: ذكر صاحب الدرر الكامنة2 أن ابن هشام لزم عددا من فحول عصره، وتلقى العلم على أيدي علماء زمانه، وتتلمذ لهم، ومنهم ابن السراج3، وأبو حيان4، والتاج التبريزي5، والتاج الفاكهاني6، والشهاب بن المرحل7، وابن جماعة8، وغيرهم.
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডভূমিকা…প্রস্তাবনা:
প্রথমত- ইবনে হিশাম আল-আনসারীর একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
জন্ম ও লালন-পালন: আল্লামা শায়খ, আবু মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ জামালুদ্দীন বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারী ৭০৮ হিজরীর যুল-কাদাহ মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন, যা ১৩০৯ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক। অতঃপর তিনি সেখানেই বেড়ে ওঠেন এবং ইলম ও ওলামাদের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে যৌবনে পদার্পণ করেন। ফলে তিনি তাদের অনেকের কাছ থেকেই জ্ঞান অর্জন করেন এবং বেশ কিছু সাহিত্যিক ও গুণীজনের সাহচর্য অবলম্বন করেন।
তাঁর উস্তাদগণ: আদ-দুরার আল-কামিনা গ্রন্থের লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে হিশাম তাঁর যুগের একদল শ্রেষ্ঠ বিদগ্ধ পণ্ডিতের সান্নিধ্যে ছিলেন এবং সমকালীন আলেমদের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন ও তাঁদের ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুস সাররাজ, আবু হাইয়ান, আত-তাজ আত-তাবরিযী, আত-তাজ আল-ফাকিহানী, আশ-শিহাব ইবনুল মুরাহহাল, ইবনে জামাআহ প্রমুখ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
تلاميذه:
لم تذكر كتب التراجم تلاميذ ابن هشام، ولعل أكثرهم كان من غير المشهورين، واكتفى صاحب البغية بالقول: "وتخرج به جماعة من أهل مصر وغيرهم"1.
منزلته العلمية:
أتقن ابن هشام العربية، حتى فاق أقرانه وشيوخه ومعاصريه، وكان لكتابيه: "مغني اللبيب عن كتب الأعاريب"، و"أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك". صدى في النفوس، ونال بهما منزلة لدى العلماء والأدباء "فاشتهر في حياته، وأقبل الناس عليه"3 غير أن شهرته لم تكن محصورة في مصر وحدها، بل تعدتها إلى المشرق والمغرب، حيث ذكر صاحب الدرر الكامنة نقلا عن ابن خلدون قوله: "ما زلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية، يقال له: ابن هشام، أنحى من سيبويه"3.
ذكاؤه وفطنته:
كان ابن هشام، يتمتع بذكاء خارق، وذاكرة قوية، حيث استطاع أن يجمع عدة علوم، وأن يبرز فيها، وهو "المتفرد بالفوائد الغريبة، والمباحث الدقيقة، والاستدراكات العجيبة، والتحقيق البارع، والاطلاع المفرط، والاقتدار على التصرف في الكلام، والملكة التي كان يتمكن من التعبير بها عن مقصوده بما يريد مسهبا وموجوزا"4، وما يدلنا على مدى فطنته، وقوة حافظته حتى أواخر حياته، أنه حفظ مختصر الخرقي في دون أربعة أشهر قبل موته بخمس سنين"5.
تدينه ومذهبه:
ابن هشام عالم ورِع، لم يتهم باعتقاده، ولا بتدينه، ولا بسلوكه، وهو شافعي المذهب، وتحنبل في أواخر حياته6، وهذا يدل على أنه كان متعمقا في كلا المذهبين.
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
জীবনীগ্রন্থসমূহ ইবনে হিশামের ছাত্রদের নাম উল্লেখ করেনি, সম্ভবত তাদের অধিকাংশই অখ্যাত ছিলেন। 'বুগয়াতুল উয়াত' গ্রন্থের লেখক কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন যে: "মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের একদল লোক তাঁর নিকট শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন" ১।
তাঁর ইলমি মর্যাদা:
ইবনে হিশাম আরবি ভাষায় এমন ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন যে, তিনি তাঁর সমসাময়িক ও শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দুটি গ্রন্থ: 'মুগনি আল-লাবিব আন কুতুবিল আয়ারিব' এবং 'আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' মানুষের হৃদয়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল। এই গ্রন্থদ্বয়ের মাধ্যমে তিনি আলেম ও সাহিত্যিকদের নিকট উচ্চ মর্যাদা লাভ করেন, "ফলে তিনি তাঁর জীবদ্দশাতেই প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং মানুষ তাঁর দিকে ধাবিত হয়" ২। তবে তাঁর খ্যাতি কেবল মিসরের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। 'আদ-দুরারুল কামিনাহ' গ্রন্থের লেখক ইবনে খালদুনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন: "আমরা যখন মাগরিবে (পাশ্চাত্য) ছিলাম, তখন থেকেই অনবরত শুনে আসছিলাম যে, মিসরে ইবনে হিশাম নামক আরবি ভাষার এক পণ্ডিতের আবির্ভাব ঘটেছে, যিনি সিবাওয়াইহ-এর চেয়েও বড় ব্যাকরণবিদ" ৩।
তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা:
ইবনে হিশাম অসাধারণ মেধা ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী ছিলেন। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জন করতে এবং তাতে পারদর্শিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন "বিরল তথ্য, সূক্ষ্ম আলোচনা, বিস্ময়কর সংশোধনী, নিপুণ গবেষণা, অগাধ পাণ্ডিত্য এবং বাকপটুতার অধিকারী। তাঁর এমন এক বিশেষ যোগ্যতা ছিল যার মাধ্যমে তিনি নিজের উদ্দেশ্য বিস্তারিত বা সংক্ষেপে যেভাবে ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারতেন" ৪। তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মেধা ও হেফজ শক্তির প্রখরতা যে কতটুকু ছিল তার প্রমাণ হলো, তিনি মৃত্যুর পাঁচ বছর আগে চার মাসেরও কম সময়ে 'মুখতাসারুল খিরাকি' মুখস্থ করেছিলেন ৫।
তাঁর ধার্মিকতা ও মাজহাব:
ইবনে হিশাম ছিলেন একজন পরহেজগার আলেম। তাঁর আকিদা, দ্বীনদারি কিংবা আচরণের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়নি। তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং জীবনের শেষভাগে হাম্বলী মাজহাব গ্রহণ করেন ৬। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি উভয় মাজহাবেই গভীর ব্যুৎপত্তি সম্পন্ন ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
صفته وأخلاقه: كان ابن هشام يمتاز "بالتواضع والبر والشفقة ودماثة الخلق رقة القلب"1 فضلًا عن دينه، وعفته، وحسن سيرته، واستقامته، وكان إلى ذلك صبورا في طلب العلم مداوِما عليه حتى آخر حياته-كما أشرنا- ومن شعره في الصبر:
ومن يصطبرْ للعلم يظفرْ بنيلِهِ
… ومن يخطبِ الحسناءَ يصبرْ على البذلِ
ومن لا يذل النفس في طلب العُلا
… يسيرًا يَعِشْ دهرًا طويلًا أَخَا ذُل2
آثاره:
لابن هشام مصنفات كثيرة، منها:
1- الإعراب عن قواعد الإعراب.
2- الألغاز.
3- أوضح المسالك إلى ألفية بن مالك.
4- التذكرة.
5- التحصيل والتفصيل لكتاب "التذييل والتكميل"
6- الجامع الصغير.
7- الجامع الكبير.
8- رسالة في انتصاب "لُغَةً" وفَضْلًا"، وإعراب "خِلافًا" و"أيضًا" و"هَلُم جرا".
9- رسالة في استعمال المنادى في تسع آيات من القرآن.
10- رفع الخصاصة عن قراء الخلاصة.
11- الروضة الأدبية في شواهد علم العربية.
12- شذور الذهب.
13- شرح البردة.
14- شرح شذور الذهب.
15- شرح الشواهد الصغرى.
16- شرح الشواهد الكبرى.
17- شرح القصيدة اللغوية في المسائل النحوية.
18- شرح قطر الندى وبل الصدى.
19- شرح اللحمة لأبي حيان.
20- عمدة الطالب في تحقيق صرف ابن الحاجب. 21- فوح الشذا في مسألة كذا.
22- قطر الندى وبل الصدى.
23- القواعد الصغرى.
24- القواعد الكبرى.
25- مختصر الانتصاف من الكشاف.
26- المسائل السفرية في النحو.
27- مغني اللبيب عن كتب الأعاريب.
28- موقد الأذهان وموقظ الوسنان.
وفاته:
توفي ابن هشام -رحمه الله تعالى- ليلة الجمعة في الخامس من ذي القعدة سنة إحدى وستين وسبعمائة من الهجرة، الموافق سنة 1360 من الميلاد3، ورثاه ابن نباتة بقوله:
سقى ابن هشام في الثرى نوء رحمة
… يجر على مثواه ذيل غمام
سأروي له من سيرة المدح مسندًا
… فما زِلْتُ أروي سيرة ابن هشام4
--------------------------------------------
তাঁর বৈশিষ্ট্য ও চারিত্রিক গুণাবলি: ইবনে হিশাম "বিনয়, পুণ্যকর্ম, দয়া এবং সচ্চরিত্র ও কোমল হৃদয়ের" জন্য বিশিষ্ট ছিলেন ১। তদুপরি তিনি দ্বীনদারি, পবিত্রতা, উত্তম জীবনচরিত ও সততার অধিকারী ছিলেন। এর পাশাপাশি তিনি জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর ওপর অবিচল ছিলেন—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। ধৈর্য ধারণ সম্পর্কে তাঁর রচিত কবিতা হলো:
যে জ্ঞানের জন্য ধৈর্য ধরে সে তা অর্জনে সফল হয়
… আর যে সুন্দরী রমণীকে পেতে চায় সে (মোহরানা) ব্যয়ে ধৈর্য ধরে।
আর যে উচ্চ মর্যাদা লাভের অন্বেষায় নিজেকে সামান্যও বিনীত করে না
… সে দীর্ঘকাল লাঞ্ছিত হয়েই জীবন অতিবাহিত করে ২।
তাঁর রচনাবলি:
ইবনে হিশামের অনেক গ্রন্থ রয়েছে, তার মধ্যে কয়েকটি হলো:
১- আল-ই'রাব আন কাওয়াইদিল ই'রাব।
২- আল-আলগায।
৩- আওজাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক।
৪- আত-তাযকিরা।
৫- আত-তাহসিল ওয়াত-তাফসিল লি কিতাবিত "তাদয়িল ওয়াত-তাকমিল"।
৬- আল-জামি’উস সাগির।
৭- আল-জামি’ুল কাবির।
৮- "লুগাতান" ও "ফাদলান"-এর নসব হওয়া এবং "খিলাফান", "আইদান" ও "হালুম্মা জাররা" শব্দাবলির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বিষয়ক পুস্তিকা।
৯- কুরআনের নয়টি আয়াতে মুনাদার ব্যবহার সংক্রান্ত পুস্তিকা।
১০- রাফ'উল খাসাসাহ আন কুররায়িল খুলাসাহ।
১১- আর-রাওদাতুল আদাবিয়্যাহ ফি শাওয়াহিদি ইলমিল আরাবিয়্যাহ।
১২- শাযুরুয যাহাব।
১৩- শারহুল বুরদাহ।
১৪- শারহু শাযুরিয়্যি যাহাব।
১৫- শারহুশ শাওয়াহিদিদ সুগরা।
১৬- শারহুশ শাওয়াহিদিল কুবরা।
১৭- শারহুল কাসিদাতিল লুগাবিয়্যাহ ফিল মাসায়িলিন নাহবিয়্যাহ।
১৮- শারহু কাতুরিন নাদা ওয়া বাল্লিস সায়দা।
১৯- শারহুল লুহমাহ লি আবি হাইয়ান।
২০- উমদাতুত তালিব ফি তাহকিকি সারফি ইবনিল হাজিব। ২১- ফাউহুশ শাযা ফি মাসআলাতি কাযা।
২২- কাতুরুন নাদা ওয়া বাল্লুস সায়দা।
২৩- আল-কাওয়াইদুস সুগরা।
২৪- আল-কাওয়াইদুল কুবরা।
২৫- মুখতাসারুল ইনতিসাফ মিনাল কাশশাফ।
২৬- আল-মাসায়িলুস সাফারিইয়াহ ফিন নাহু।
২৭- মুগনিল লাবিব আন কুতুবিল আ'আরিব।
২৮- মাওকিদুল আযহান ওয়া মাওকিযুস ওয়াসনান।
তাঁর ইন্তেকাল:
ইবনে হিশাম—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—৭৬১ হিজরি সালের ৫ই জিলকদ শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন, যা ১৩৬০ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক ৩। ইবনে নুবাতাহ তাঁর শোকে বিলাপ করে বলেন:
মাটির নিচে ইবনে হিশামকে রহমতের বারিধারা সিক্ত করুক
… তাঁর সমাধিস্থলে মেঘমালা যেন তার আঁচল বিছিয়ে দেয়।
আমি তাঁর প্রশংসায় একটি সনদযুক্ত জীবনী বর্ণনা করব
… কারণ আমি তো সর্বদা ইবনে হিশামের সীরাত (জীবনচরিত) বর্ণনা করেই চলেছি ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
ثانيا- منهج ابن هشام النحوي:
يعد ابن هشام الأنصاري شيخا من شيوخ النحاة المجتهدين، الذين لم يكتفِ بالحفظ والفهم، والتقليد، وإنما فهموا، وقارنوا، واستنبطوا، ووفقوا واصطفوا، ورجحوا، وقبلوا، ورفضوا، وهذا شأن العلماء المجتهدين والمجددين في القديم والحديث.
وابن هشام نحوي بارع في عرض مادته، كما هو بارع في تحليله ونقده، فضلًا عن براعته في تصيد أمثلته، والاستدلال بها عما يجول في خلده. وكان ابن هشام حرا في تفكيره، موضوعيا في أخذه ورده؛ فهو لم يتعصبْ لمذهب من المذاهب النحوية، أو لمدرسة بعينها، وإن كان ميالا إلى مدرسة البصرة، مبجلا علماءها وأحيانا كان يقول: "والذي عليه أصحابنا" ويعني بهم البصريين. غير أن هذا الميل لم يكن لهوىً في نفسه؛ وإنما لكونه رجح آراءهم في مواطن كثيرة، ورد عليهم في مواطن أقل، وأخذ بالرأي الأقوى كائنًا من كان صاحبه، والأمثلة على ذلك كثيرة ولا نستطيع الإحاطة بها في هذه العجالة، وإنما سنقتصر على نماذج قليلة من أخذه ورده.
أولا: رجح مذهب جمهور البصريين في أن المحذوف في مثل: "تأمروني" نون الرفع، لا نون الوقاية1، كما حذا حذوهم في عد "زيد" في مثل "إن زيد قائم" فاعلا لفعل محذوف، يفسره المذكور بعده، لا مبتدأ -خلافا للأخفش الأوسط- ولا فاعلا مقدما للفعل، خلافا للكوفيين2. والأمثلة على موافقته لمذهبهم كثيرة لا تحصى.
وقد اختار مذهب سيبويه في أن المبتدأ مرفوع بالابتداء وأن الخبر مرفوع
--------------------------------------------
দ্বিতীয়- ইবনে হিশামের ব্যাকরণিক পদ্ধতি:
ইবনে হিশাম আল-আনসারী মুজতাহিদ ব্যাকরণবিদদের (নাহবী) মধ্যে এমন একজন শায়খ হিসেবে পরিগণিত হন, যারা কেবল মুখস্থকরণ, অনুধাবন এবং অনুকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং তারা বিষয়বস্তু অনুধাবন করেছেন, তুলনা করেছেন, মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন, সমন্বয় ও চয়ন করেছেন, কোনো মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং কোনোটিকে গ্রহণ বা বর্জন করেছেন। আর প্রাচীন ও আধুনিককালের মুজতাহিদ ও মুজাদ্দিদ আলেমদের বৈশিষ্ট্য এমনই হয়ে থাকে।
ইবনে হিশাম তার বিষয়বস্তু উপস্থাপনায় যেমন নিপুণ ছিলেন, তেমনি এর বিশ্লেষণ ও সমালোচনাতেও ছিলেন অত্যন্ত পারদর্শী। এছাড়া নিজের চিন্তাধারার স্বপক্ষে উদাহরণ চয়ন করা এবং তা দিয়ে দলিল উপস্থাপনেও তার বিশেষ দক্ষতা ছিল। ইবনে হিশাম তার চিন্তাভাবনায় স্বাধীন এবং কোনো মত গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে বস্তুনিষ্ঠ ছিলেন; তিনি কোনো বিশেষ ব্যাকরণিক মাযহাব বা নির্দিষ্ট কোনো ঘরানার প্রতি অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করতেন না, যদিও তিনি বসরা ঘরানার প্রতি কিছুটা অনুরাগী ছিলেন এবং তাদের আলেমদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন। কখনো কখনো তিনি বলতেন: "আমাদের সাথীরা যে মতের ওপর রয়েছেন", আর এর দ্বারা তিনি বসরার ব্যাকরণবিদদের বোঝাতেন। তবে এই ঝোঁক তার কোনো খেয়ালখুশির কারণে ছিল না; বরং তা ছিল বহু স্থানে তাদের মতকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণে, আবার অল্প কিছু ক্ষেত্রে তিনি তাদের মত প্রত্যাখ্যানও করেছেন। তিনি সবসময় শক্তিশালী মতটিই গ্রহণ করতেন, চাই তার প্রবক্তা যে-ই হোক না কেন। এর উদাহরণ এত বেশি যে এই স্বল্প পরিসরে তা পুরোপুরি উল্লেখ করা সম্ভব নয়; তাই আমরা তার গ্রহণ ও বর্জনের মাত্র কয়েকটি নমুনা তুলে ধরব।
প্রথমত: "তা’মুরুনি" এর মতো শব্দে বিলুপ্ত হওয়া নুন-টি যে 'রাফা-এর নুন', 'নুন-ই-বিকায়া' নয়—এই বিষয়ে তিনি জমহুর বসরী ব্যাকরণবিদদের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। অনুরূপভাবে, "ইন যায়দুন কায়িমুন" এর মতো বাক্যে "যায়দ"-কে একটি উহ্য ক্রিয়ার (ফেল) কর্তা (ফায়েল) হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রেও তিনি তাদের অনুসরণ করেছেন, যা পরবর্তী শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়। একে তিনি মুবতাদা হিসেবে গণ্য করেননি (আখফাশ আল-আওসাতের মতের বিপরীতে), আবার ক্রিয়ার অগ্রবর্তী কর্তা হিসেবেও গণ্য করেননি (কুফীদের মতের বিপরীতে)। তাদের মাযহাবের সাথে তার ঐকমত্যের উদাহরণ অগণিত।
তিনি সিবওয়াইহ-এর মাযহাব গ্রহণ করেছেন যে, মুবতাদা 'ইবতিদা'-এর কারণে মারফু হয় এবং খবর মারফু হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبتدأ1. وأن المضاف إليه مجرور بالمضاف، لا بالإضافة، ولا باللام المحذوفة.
ثانياً: رجح ما ذهب إليه الكوفيون في قولهم: الفعل ماضٍ، ومضارع فقط، وأن الأمر فرع من المضارع المصحوب بلام الطلب، في مثل: "لِتَقُمْ"، فحذفت لام الطلب؛ لِلتخفيف، في مثل: "قمْ واقعُدْ" وتبعها حرف المضارعة3.
- ورجح ما ذهب إليه الكوفيون في مسألة جملة "البسملة"، حيث عدها البصريون اسمية، على تقدير "ابتدائي باسم الله"، وعدها الكوفيون. "فعلية"، على تقدير: "أبدأ باسم الله"، فوافق الكوفيين، وقدر: "باسم الله أقرأ".
- كما وافق الكوفيين، في نيابة حروف الجر بعضها عن بعض، وفي مجيء الباء" بمعنى: "من"، التي تفيد التبعيض4، مثل: {وَامْسَحُوا بِرُؤُوسِكُمْ} 5، وفي مجيء "من" مفيدة ابتداء الغاية الزمانية6، وفي نيابة "أل" عن الضمير7، وفي مجيء "لا" عاطفة8، كما وافقهم في مسائلَ كثيرةٍ، لا داعيَ لذكرها.
ثالثاً: ختار كثيرا من آراء البغداديين، واستشهد بها في مواطن كثيرة؛ منها:
- جواز نداء ما فيه "أل" في سعة الكلام، لا في ضرورة الشعر فقط9.
- جواز إعمال اسم المصدر، إن لم يكن علمًا، ولم يكن ميميا، خلافا للبصريين1.
--------------------------------------------
মুবতাদা১। এবং মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধিত পদ) মুদাফ দ্বারা মাজরুর হয়, ইদাফাত দ্বারা নয় এবং উহ্য 'লাম' দ্বারাও নয়।
দ্বিতীয়ত: তিনি কুফাবাসীদের মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন যেখানে তারা বলেন: ক্রিয়া কেবল মাজি (অতীতকাল) ও মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল) এবং 'আমর' (আদেশসূচক ক্রিয়া) হলো 'লামে তলাব' যুক্ত মুদারে-র একটি শাখা, যেমন: "লিতাকুম" (তোমার দাঁড়ানো উচিত), অতঃপর সহজকরণের জন্য 'লামে তলাব' বিলুপ্ত করা হয়েছে, যেমন: "কুম" (দাঁড়াও) এবং "উক’উদ" (বস), আর এর অনুবর্তী হিসেবে মুদারে-র বর্ণটিও বিলুপ্ত হয়েছে৩।
- এবং তিনি "বিসমিল্লাহ" বাক্যের ক্ষেত্রে কুফাবাসীদের অভিমতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বসরাবাসীরা একে ইসমিয়্যাহ (নামবাচক বাক্য) মনে করেন, যা "ইবতিদায়ি বিসমিল্লাহ" (আমার আরম্ভ আল্লাহর নামে) এর ওপর ভিত্তি করে। অন্যদিকে কুফাবাসীরা একে "ফেলিয়্যাহ" (ক্রিয়া প্রধান বাক্য) মনে করেন, যা "আবদাউ বিসমিল্লাহ" (আমি আল্লাহর নামে শুরু করছি) এর ওপর ভিত্তি করে। তিনি কুফাবাসীদের সাথে একমত হয়েছেন এবং "বিসমিল্লাহি আকরাউ" (আমি আল্লাহর নামে পড়ছি) হিসেবে উহ্য ধরেছেন।
- অনুরূপভাবে তিনি কুফাবাসীদের সাথে একমত পোষণ করেছেন হরফে জর-এর একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে, এবং "বা" বর্ণটি "মিন" অর্থে আসার ক্ষেত্রে, যা আংশিকতা (তাব'ঈজ) বোঝায়৪, যেমন: {তোমরা তোমাদের মাথা মাসাহ করো} ৫। এছাড়া "মিন" অব্যয়টি সময়ের সীমানা শুরুর অর্থ প্রদান করা৬, সর্বনামের পরিবর্তে "আলিফ-লাম" এর স্থলাভিষিক্ত হওয়া৭ এবং "লা" অব্যয়টি সংযোজক (আতিফাহ) হিসেবে আসার ক্ষেত্রেও৮ তিনি তাদের সাথে একমত হয়েছেন। এমন আরও অনেক বিষয়ে তিনি তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন যা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
তৃতীয়ত: তিনি বাগদাদবাসীদের অনেক মত গ্রহণ করেছেন এবং অনেক স্থানে সেগুলো থেকে দলিল পেশ করেছেন; তার মধ্যে রয়েছে:
- স্বাভাবিক কথাবার্তায় "আলিফ-লাম" যুক্ত শব্দকে সম্বোধন (নিদা) করা জায়েজ হওয়া, যা কেবল কবিতার প্রয়োজনেই সীমাবদ্ধ নয়৯।
- ইসমুল মাসদার-কে আমল (ক্রিয়ার মতো কাজ) করানো জায়েজ হওয়া, যদি তা আলম (সংজ্ঞা) না হয় এবং মিমি মাসদার না হয়; যা বসরাবাসীদের মতের পরিপন্থী১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
- جواز مجيء "ليس" حرفا عاطفا، كما في قول الشاعر:
إنما يجزي الفتى ليس الجمل1
ووافق ابن جني في أن الجملة قد تبدل من المفرد، كقول الشاعر:
إلى الله أشكو بالمدينة حاجةً
… وبالشام أُخرى كيف يلتقيانِ؟
على تقدير: "إلى الله أشكو حاجتين تعذر التقائهما".
رابعاً: اختار بعض ما ذهب إليه الأندلسيون، وخاصة ابن مالك وابن عصفور؛ فأما ابن مالك، فقد كان كثير الموافقة له في آرائه، وقلما خالفه فيها، ومعلوم أنه شرح له "الألفية" التي نحن في صدد الحديث عن شرحه لها، كما شرح له "التسهيل"، ومن الأمور التي وافقه فيها على سبيل المثال: أن "إلى"1 قد تأتي بمعنى "في"2، كما في قوله تعالى: {لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَة} 3. وأن "حتى" إذا عطفت على مجرور، أعيد الخافض فرقا بينها وبين "حتى" الجارة، مثل: "مررت بالقوم حتى بزيد"4.
وأما موافقته لابن عصفور فيمكن التمثيل عليها، بموافقته له بأن "لن" قد تأتي للدعاء، كما أنت "لا" لذلك، والحجة في قول الأعشى:
لن تزالوا كذلكم ثم لا زلـ
… ت لكم خالدًا خلود الجبالِ5
خامساً: وافق الزمخشري، ورد عليه في مواطن كثيرة:
فأما موافقته فتتجلى في استحسانه رأيه في أن أما" في مثل: "أما زيد فمنطلق" تفيد التوكيد. قال: "قل ذكره، ولم أر من أحكم شرحه غير الزمخشري، فإنه قال: فائدة "أما" في الكلام: أن تعطيه فضل توكيد، تقول: زيد ذاهب، فإذا قصدت توكيد.
--------------------------------------------
অব্যয় বা সংযোজক হিসেবে "লাইসা" আসার বৈধতা, যেমনটি কবির উক্তিতে রয়েছে:
নিশ্চয়ই কেবল যুবকই বিনিময় প্রদান করে, উট নয়১
তিনি ইবনে জিন্নীর সাথে একমত পোষণ করেছেন যে, একটি বাক্য কখনও একক শব্দের স্থলাভিষিক্ত বা বদল হতে পারে, যেমন কবির উক্তি:
আমি মদিনায় আল্লাহর কাছে একটি প্রয়োজনের অভিযোগ করছি... এবং শাম দেশে অন্য একটির, তারা উভয়ে কীভাবে মিলিত হবে?
এর ব্যাখ্যা হলো: "আমি আল্লাহর নিকট এমন দুটি প্রয়োজনের অভিযোগ করছি যাদের মিলন অসম্ভব।"
চতুর্থত: তিনি আন্দালুসীয় আলেমদের কোনো কোনো মত গ্রহণ করেছেন, বিশেষ করে ইবনে মালিক এবং ইবনে আসফুর। ইবনে মালিকের ক্ষেত্রে বলতে হয়, তিনি তাঁর মতামতের সাথে বহুলাংশে একমত পোষণ করেছেন এবং খুব কমই তাঁর বিরোধিতা করেছেন। এটি সবার জানা যে, তিনি তাঁর "আলফিয়্যাহ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেছেন, যা নিয়ে আমরা এখানে আলোচনা করছি। একইভাবে তিনি তাঁর "তাসহিল"-এরও ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর সাথে একমত হওয়া বিষয়গুলোর উদাহরণ হলো: "ইলা"১ শব্দটি কখনও "ফী"২ অর্থে আসতে পারে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তিনি অবশ্যই তোমাদের কিয়ামত দিবসে একত্রিত করবেন} ৩। এবং "হাত্তা" যখন কোনো মাজরুর (জেরযুক্ত শব্দ)-এর ওপর সংযোজক হিসেবে আসে, তখন তাকে হারফে জার "হাত্তা" থেকে আলাদা করার জন্য পূর্ববর্তী জার প্রদানকারী অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ করা হয়। যেমন: "আমি কওমের কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছি এমনকি যায়দ-এর কাছ দিয়েও"৪।
আর ইবনে আসফুরের সাথে তাঁর ঐকমত্যের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায় যে, তিনি তাঁর সাথে একমত হয়েছেন যে "লান" শব্দটি দোয়ার জন্য আসতে পারে, যেমনটি "লা" দোয়ার জন্য আসে। এর প্রমাণ আল-আশার উক্তিতে পাওয়া যায়:
তোমরা সর্বদা এমনই থাকো, অতঃপর আমি যেন পাহাড়ের স্থায়িত্বের মতো তোমাদের জন্য চিরস্থায়ী না হই৫
পঞ্চমত: তিনি যামাখশারীর সাথে একমত হয়েছেন এবং অনেক স্থানে তাঁর খণ্ডনও করেছেন:
তাঁর ঐকমত্যের বিষয়টি ফুটে ওঠে "আম্মা" সম্পর্কে যামাখশারীর মতটিকে উত্তম মনে করার মাধ্যমে; যেমন: "আম্মা যায়দুন ফামুনতালিকুন" বাক্যে "আম্মা" শব্দটি গুরুত্ব বা তাকীদ প্রদান করে। তিনি বলেন: "এর উল্লেখ খুব কমই পাওয়া যায় এবং আমি যামাখশারী ছাড়া আর কাউকে দেখিনি যিনি এর ব্যাখ্যা এত নিখুঁতভাবে করেছেন। তিনি বলেছেন: বাক্যে 'আম্মা'-এর উপকারিতা হলো এটি অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদান করে। আপনি বলেন: যায়দ যাচ্ছে, অতঃপর যখন আপনি গুরুত্ব দেওয়ার ইচ্ছা করেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
ذلكن وأنه لا محالة ذاهب، وأنه بصدد الذهاب، وأنه منه عزيمة، قلت: أما زيد فذاهب1.
وأما ردوده عليه فكثيرة، ونختار واحدًا منها على سبيل التمثيل، وهو رده عليه في أن "لن" تقتضي تأبيد النفي وتوكيده. فقال رادا: "وكلاهما دعوى بلا دليل، ولو كانت للتأبيد، لم يقيد منفيها باليوم في قوله تعالى: {فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا} 2، ولكان ذكر الأبد في قوله جل ثناؤه: {وَلن تَمَنَّوْنَهُ أَبَدًا} 3 تكرارا، والأصل: "عدمه"4.
سادساً: تعقب ابن هشام ابن الحاجب وكثيرًا ما أثبت عليه السهو، والوهم، والتعسف، ونقض آراءه، ومن أمثلة ذلك ما ذهب إليه ابن الحاجب، في قول ذي الرمة:
حراجيج ما تنفك إلا مناخة
… على الخسف أو نرمي بها بلدًا قفرا5.
من أن "ما تنفك": ناقصة، وأن الخبر "على الخسف"، وأن "مناخة": حال، وأن "إلا" زائدة، فقال ابن هشام: فاسد لبقاء الإشكال؛ إذ لا يقال: جاء زيد إلا راكبا.
سابعاً: ولم يكن ابن هشام في تتبعه لآراء النحاة السابقين جامعا لها، ومستوعبا لها وحسب، وإنما كان يناقشها، ويبين الصحيح منها من الفاسد -كما أسلفنا- وكان يكثر من الاستنباطات، ويعرض إلى جانبها الآراء المبتكرة غير المسبوقة، وهي أكثر من أن تُحصى، ومنها على سبيل المثال ذهابه إلى أن "عشر"
--------------------------------------------
সেটিই এবং নিশ্চয়ই তা অনিবার্যভাবে প্রস্থানকারী, আর তিনি যাওয়ার পথেই রয়েছেন, এবং এটি তার পক্ষ থেকে এক দৃঢ় সংকল্প; আমি বলেছি: যায়েদ তো প্রস্থানকারী১।
আর তার উপর তার (ইবনে হিশামের) খণ্ডনসমূহ অনেক, এবং আমরা উদাহরণস্বরূপ তার মধ্য থেকে একটি বেছে নিচ্ছি, আর তা হলো তার সেই দাবির খণ্ডন যে "লান" শব্দটি নেতিবাচকতাকে চিরস্থায়ী করা এবং তা জোরদার করার দাবি রাখে। তিনি এর উত্তরে বলেন: "উভয়টিই প্রমাণহীন দাবি। যদি এটি চিরস্থায়িত্বের জন্য হতো, তবে মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং আমি আজ কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না}২ -এ নেতিবাচক বিষয়টি 'আজ' শব্দ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হতো না। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কখনোই তা কামনা করবে না}৩ -এ 'আবাদান' (চিরকাল) শব্দের উল্লেখ নিরর্থক পুনরাবৃত্তি হতো, অথচ মূলনীতি হলো পুনরাবৃত্তি না হওয়া"৪।
ষষ্ঠত: ইবনে হিশাম ইবনুল হাজিবের সমালোচনা করেছেন এবং প্রায়শই তার ভুল, বিভ্রম ও জবরদস্তি প্রমাণ করেছেন এবং তার মতামত খণ্ডন করেছেন। এর একটি উদাহরণ হলো যুর রুম্মাহ-র এই পংক্তিতে ইবনুল হাজিবের অভিমত:
দীর্ঘদেহী শক্তিশালী উটগুলো যারা কেবল বসা অবস্থাতেই থাকে
… ক্ষুধা ও অবজ্ঞার ওপর, অথবা আমরা সেগুলোকে নিয়ে কোনো নির্জন জনপদে পাড়ি দিই৫।
ইবনুল হাজিবের মতে "মা তানফাক্কু" শব্দটি অসম্পূর্ণ ক্রিয়া (নাকিসাহ), "আলাল খাসফি" হলো খবর, "মুনাখাতান" হলো হাল (অবস্থা) এবং "ইল্লা" হলো অতিরিক্ত। ইবনে হিশাম বলেন: এটি ত্রুটিপূর্ণ কারণ এতে জটিলতা থেকেই যায়; কেননা বলা হয় না: "যায়েদ কেবল আরোহী অবস্থায় এসেছে"।
সপ্তমত: ইবনে হিশাম পূর্ববর্তী ব্যাকরণবিদদের মতামত অনুসরণের ক্ষেত্রে কেবল সেগুলো সংগ্রহ বা আয়ত্তকারীই ছিলেন না, বরং তিনি সেগুলো নিয়ে আলোচনা করতেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণগুলো স্পষ্ট করতেন—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তিনি প্রচুর উদ্ভাবনী সিদ্ধান্ত নিতেন এবং এর পাশাপাশি নজিরবিহীন মৌলিক মতামত উপস্থাপন করতেন, যা গণনাতীত। এর মধ্যে উদাহরণস্বরূপ রয়েছে "আশার" (দশ) শব্দটির ব্যাপারে তার অভিমত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
في قولنا: "اثني عشر"، حلت محل النون، في "اثنين"، وهي بذلك ليست مضافة إلى ما قبلها، ولا محل لها من الإعراب1.
ومما سبق يتأكد لنا أن ابن هشام، كان يوازن بين آراء البصريين، والكوفيين، والبغداديين، وسواهم من النجاة "ويختار لنسفه ما يتمشى مع مقاييسه مظهرا قدرة فائقة في التوجيه والتعليل والتخريج، وكثيرا ما يشتق لنفسه رأيا جديدا، لم يُسبَق إليه، وخاصة في توجيهاته الإعرابية، وهو في أغلب اختياراته، يقف مع البصريين، وكان يجل سيبويه إجلالا بعيدا، كما كان يجل جمهور البصريين، ويدافع عن آرائهم"2.
وأما طريقة ابن هشام في عرض موضوعاته، فكان يعرض الفكرة ثم يسوق الأدلة والشواهد من القرآن الكريم، والحديث الشريف، والشعر القديم، وأحيانا من الحكم والأقوال المأثورة، ومن منثور الكلام القديم أحيانا أخرى، وربما ذكر أبياتا لشعراء لا يُحتَج بشعرهم؛ على سبيل التمثيل لا الاستشهاد بها؛ أو ليبين لحن أصحابها.
وأما تعاطيه مع الشواهد، فينم عن ثقافة واسعة، وقدرة عجيبة على الاستنباط والتحليل، وكان يقدم الشواهد القرآنية على غيرها؛ لأنها كلام فصل لا مجال للشك فيها، وله ثلاثة اتجاهات في اعتماده الآيات القرآنية في كتبه، هي2:
أولاً: آيات استشهد بها على تثبيت قاعدة متفقٍ عليها.
ثانياً: آيات اتخذ منها المؤلف أدلة على قاعدة ارتآها وأراد أن يدعمها بدليل قرآني.
ثالثاً: آيات أوضح ابن هشام ما دار حولها من نقاش وجدل.
وأما بالنسبة إلى القراءات القرآنية، فقد "حاول دائما، إزاء القراءات التي في
--------------------------------------------
আমাদের বক্তব্য "ইছনা আশারা" (বারো)-তে [আশারা শব্দটি] "ইছনাইন" শব্দের 'নুন'-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ফলে এটি তার পূর্ববর্তী শব্দের প্রতি মুদাফ (সম্বন্ধিত) নয় এবং এর কোনো ব্যাকরণিক (ইরাবি) অবস্থান নেই১।
পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের নিকট এটি সুনিশ্চিত হয় যে, ইবনে হিশাম বসরি, কুফি, বাগদাদি এবং অন্যান্য ব্যাকরণবিদদের মতামতের মধ্যে তুলনা ও সমন্বয় সাধন করতেন এবং "তিনি নিজের জন্য এমন পথ বেছে নিতেন যা তার নিজস্ব মানদণ্ডের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এক্ষেত্রে তিনি দিকনির্দেশনা প্রদান, কারণ দর্শানো এবং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এক অনন্য পারদর্শিতা প্রদর্শন করতেন। অনেক সময় তিনি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন মত উদ্ভাবন করতেন যা পূর্বে কেউ করেনি। তিনি তার অধিকাংশ পছন্দের ক্ষেত্রে বসরিদের অনুসারী ছিলেন এবং সিবওয়াইহসহ জুমহুর বসরি আলেমদের অত্যন্ত শ্রদ্ধা করতেন এবং তাদের মতামতের সপক্ষে যুক্তি পেশ করতেন"২।
আর বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ইবনে হিশামের পদ্ধতি ছিল এই যে, তিনি প্রথমে মূল ধারণাটি পেশ করতেন, অতঃপর পবিত্র কুরআন, হাদিস শরিফ, প্রাচীন কবিতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রবাদ-প্রবচন ও প্রাচীন গদ্য সাহিত্য থেকে প্রমাণ ও উদাহরণ উপস্থাপন করতেন। আবার কখনও এমন সব কবিদের পঙ্ক্তি উল্লেখ করতেন যাদের কাব্য দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়; তবে তা কেবল দৃষ্টান্ত স্বরূপ, দলীল হিসেবে নয়; অথবা তাদের ব্যাকরণগত বিচ্যুতি স্পষ্ট করার নিমিত্তে।
প্রমাণাদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার কর্মপদ্ধতি তার গভীর জ্ঞান এবং উদ্ভাবন ও বিশ্লেষণের এক বিস্ময়কর সক্ষমতার পরিচয় দেয়। তিনি কুরআনের প্রমাণসমূহকে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দিতেন; কেননা তা অকাট্য বাণী এবং সেখানে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই। তার কিতাবসমূহে কুরআনের আয়াতসমূহ গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনটি ধারা পরিলক্ষিত হয়২:
প্রথমত: এমন সব আয়াত যা তিনি কোনো সর্বসম্মত ব্যাকরণিক নিয়মকে সুসংহত করার জন্য পেশ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: এমন সব আয়াত যা লেখক নিজের উদ্ভাবিত কোনো নিয়মের পক্ষে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং একে কুরআনি দলীল দ্বারা সুদৃঢ় করতে চেয়েছেন।
তৃতীয়ত: এমন সব আয়াত যেগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে ব্যাকরণবিদদের মধ্যে বিদ্যমান আলোচনা ও বিতর্ককে ইবনে হিশাম স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।
আর কুরআনের কিরাতসমূহের ক্ষেত্রে তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন সেই সকল কিরাতের ব্যাপারে যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ظاهرها خروج عن القواعد العربية توجيهها وتخريجها على وجه ترتضيه اللغة، ويقبله النحو، ولا يتجرأ عليها، فيصفها بالشذوذ، كما كان يفعل بعض النحاة"1.
وربما "بنى ابن هشام بعض القواعد النحوية مستندا إلى القراءات، وقد صرح بذلك قائلا: إن القراءة سنة متبعة، وليس كل ما تجوزه العربية، تجوز القراءة به"2.
وأما بالنسبة إلى الحديث الشريف، فقد استشهد به ابن هشام، واستدل به خلافا للكثيرين من النحاة الذين لا يجيزون الاستدلال بالحديث الشريف3 حيث استشهد في كتابه "المغني" باثنين وستين حديثا سبعا وسبعين مرة، واستشهد في أوضح المسالك بستة وثلاثين حديثا، واستشهد في شرحه لكتاب "اللمحة البدرية في علم اللغة العربية" لأبي حيان، بستة وعشرين حديثا، سبعا وعشرين مرة، واستشهد في كتابه "شرح شذور الذهب" بستة وعشرين حديثا سبعا وعشرين مرة أيضا4.
ومن الأحاديث التي استشهد بها على سبيل المثال.
"من توضأ يوم الجمعة فبها ونعمت، ومن اغتسل فالغسل أفضل".
--------------------------------------------
আপাতদৃষ্টিতে আরবী ব্যাকরণের নিয়ম বহির্ভূত মনে হলেও সেগুলোকে ভাষার মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ উপায়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ প্রদান করা এবং সেগুলোর প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন না করে 'শাজ' (বিচ্যুত) হিসেবে অভিহিত না করা, যেমনটি কোনো কোনো ব্যাকরণবিদ করতেন ১।
এবং সম্ভবত ইবনে হিশাম কিরাআতের ওপর ভিত্তি করে কিছু ব্যাকরণিক নিয়ম তৈরি করেছেন, এবং তিনি এটি স্পষ্ট করে বলেছেন: কিরাআত হলো একটি অনুসৃত সুন্নত, আর আরবী ভাষায় যা কিছু অনুমোদিত, তার সবকিছুই কিরাআতের ক্ষেত্রে অনুমোদিত নয় ২।
আর হাদীস শরীফের ক্ষেত্রে, ইবনে হিশাম একে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং এর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করেছেন, যা সেই সব বহু ব্যাকরণবিদদের মতের বিপরীত যারা হাদীস শরীফের মাধ্যমে দলিল গ্রহণ করা বৈধ মনে করেন না ৩। তিনি তার 'আল-মুগনী' গ্রন্থে বাষট্টিটি হাদীস সাতাত্তর বার উদ্ধৃত করেছেন, 'আওযাহুল মাসালিক'-এ ছত্রিশটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন, আবু হাইয়ানের 'আল-লামহাতুল বাদরিয়্যাহ ফী ইলমিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ' গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থে ছাব্বিশটি হাদীস সাতাশ বার উদ্ধৃত করেছেন এবং তার 'শারহু শুযুরিজ যাহাব' গ্রন্থেও ছাব্বিশটি হাদীস সাতাশ বার উদ্ধৃত করেছেন ৪।
উদাহরণস্বরূপ তিনি যেসব হাদীস উদ্ধৃত করেছেন তার মধ্য থেকে একটি হলো:
"যে ব্যক্তি জুমার দিন ওযু করল তার জন্য তা-ই যথেষ্ট ও উত্তম, আর যে ব্যক্তি গোসল করল তবে গোসলই শ্রেষ্ঠতর।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فقد استشهد بهذا الحديث على أن "نعم، وبئس، وعسى، وليس" أفعال فقال: فأما "نعم وبئس"، فذهب الفراء وجماعة من الكوفيين إلى أنهما اسمان واستدلوا على ذلك، بدخول حرف الجر عليهما، في قول بعضهم وقد بشر ببنت: "والله ما هي بنعم الولد"؛ وأما "ليس" فذهب الفارسي في الحلبيات: "إلى أنها حرف نفي بمنزلة "ما" النافية، وتبعه على ذلك أبو بكر بن شقير، وأما "عسى"، فذهب الكوفيون: إلى أنها حرف تَرَجٍ بمنزلة "لعل" وتبعهم على ذلك ابن السراج. ثم قال: والصحيح: أن الأربعة أفعال، بدليل اتصال تاء التأنيث الساكنة بهن، كقوله عليه الصلاة والسلام: "من توضأ يوم الجمعة فبها ونعمت، ومن اغتسل فالغسل أفضل"، والمعنى: من توضأ يوم الجمعة، فبالرخصة أخذ، ونعمت الرخصة الوضوء"1.
وأما الشواهد الشعرية، فقد غصت بها مؤلفات ابن هشام، وقلما نجد مؤلفه فيه من الشواهد ما يدانيه، ففي "شرح قطر الندى وبل الصدى" بلغ مجموع الشواهد الشعرية خمسين شاهدا ومائة شاهد، وفي "شرح اللمحة البدرية" واحدا وتسعين شاهدا ومائة شاهد، وفي "شرح شذور الذهب" تسعة وثلاثين شاهدا ومائتي شاهد، وفي "أوضح المسالك" ثلاثة وثمانية شاهدا وخمسمائة شاهد، وهو في شواهده الشعرية، لا يبني على النادر منها قاعدة؛ لأن النادر عند ابن هشام: أقل من القليل، كما صرح بقوله: "اعلم أنهم يستعملون "غالبا" و"كثيرا" و"نادرا" و"قليلا" و"مطردا"، فالمطرد: لا يتخلف، والغالب: أكثر الأشياء، ولكنه يتخلف، والكثير دونه، والقليل دون الكثير، والنادر أقل من القليل"2.
وقد خالف ابنُ هشام الكوفيين في قضية الاستشهاد بما لم يعرف قائله، "لأن الجهل بالناقل، يوجب الجهل بالعدالة"، وقد أورد في شرحه للألفية الشعر الذي استدل به الكوفيون على جواز مد المقصور للضرورة، وهو:
قد علمت أخت بني السعلاء
… وعلمت ذاك مع الجزاء
--------------------------------------------
এই হাদিসটি দ্বারা এই সপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, "নি'মা, বি'সা, 'আসা এবং লাইসা" হলো ক্রিয়াপদ (ফে'ল)। তিনি বলেছেন: "নি'মা এবং বি'সা" সম্পর্কে আল-ফাররা এবং কুফিবাদীদের একটি দল অভিমত দিয়েছেন যে তারা উভয়ই বিশেষ্য (ইসম)। তারা এর সপক্ষে দলিল হিসেবে এগুলোর শুরুতে অব্যয় (হরফে জর) যুক্ত হওয়াকে পেশ করেছেন, যেমন কারো বর্ণনায় এসেছে যাকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল: "আল্লাহর কসম, সে তো উত্তম (নি'মা) সন্তান নয়"। আর "লাইসা" সম্পর্কে আল-ফারিসি তার 'আল-হালাবিয়্যাত' গ্রন্থে বলেছেন: এটি না-বাচক অব্যয় (হরফ), যা না-বোধক "মা"-এর সমপর্যায়ের; আবু বকর ইবনু শুকুয়াইরও এই মত অনুসরণ করেছেন। আর "আসা" সম্পর্কে কুফিবাদীরা বলেছেন: এটি প্রত্যাশামূলক অব্যয়, যা "লা'আল্লা"-এর সমপর্যায়ের; ইবনুস সাররাজও তাদের অনুসরণ করেছেন। এরপর তিনি বলেন: সঠিক মত হলো এই চারটিই ক্রিয়াপদ, যার প্রমাণ হলো এগুলোর সাথে স্থির তানিছ 'তা' (স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা) যুক্ত হওয়া। যেমন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি জুমার দিন ওযু করল, সে সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করল এবং তা কতই না উত্তম; আর যে গোসল করল, তবে গোসলই শ্রেষ্ঠ।" এখানে অর্থ হলো: যে জুমার দিন ওযু করল, সে অবকাশ (রুখসাত) গ্রহণ করল, আর ওযু কতই না উত্তম অবকাশ।
কবিতার উদ্ধৃতিগুলোর (শাওয়াহিদ) ক্ষেত্রে ইবনে হিশামের রচনাবলি কানায় কানায় পূর্ণ। খুব কমই তাঁর এমন কোনো রচনা পাওয়া যাবে যাতে উদ্ধৃতির প্রাচুর্য অন্য রচনার সমপর্যায়ের। "শারহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিস সয়াদা" গ্রন্থে কবিতার উদ্ধৃতি সংখ্যা একশত পঞ্চাশটিতে পৌঁছেছে। "শারহুল লামহাতিল বাদরিয়্যাহ" গ্রন্থে একশত একানব্বইটি, "শারহু শাযুরিল যাহাব" গ্রন্থে দুইশত উনচল্লিশটি এবং "আওদাহুল মাসালিক" গ্রন্থে পাঁচশত তিরাশিটি উদ্ধৃতি রয়েছে। তিনি তাঁর কাব্যিক উদ্ধৃতিগুলোর ক্ষেত্রে বিরল (নাদির) বিষয়ের ওপর কোনো নিয়ম বা মূলনীতি নির্মাণ করেন না। কারণ ইবনে হিশামের নিকট বিরল বিষয়টি সামান্যর চেয়েও কম। যেমন তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন: "জেনে রেখো যে, তাঁরা 'غالبا' (প্রবলভাবে), 'كثيرا' (অধিক হারে), 'نادرا' (বিরলভাবে), 'قليلا' (সামান্য হারে) এবং 'مطردا' (অবিচ্ছিন্নভাবে) শব্দগুলো ব্যবহার করেন। সুতরাং 'মুত্তারিদ' হলো যা কখনো নিয়ম বহির্ভূত হয় না, 'গালিব' হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা ঘটে তবে কখনো নিয়ম বহির্ভূত হতে পারে, 'কাসীর' তার নিচের স্তর, 'কালীল' হলো কাসীরের চেয়ে কম এবং 'নাদির' হলো কালীল বা সামান্যর চেয়েও কম।"
ইবনে হিশাম অজ্ঞাত কবির উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কুফিবাদীদের বিরোধিতা করেছেন, "কারণ বর্ণনাকারী সম্পর্কে অজ্ঞতা তাঁর নির্ভরযোগ্যতা সম্পর্কেও অজ্ঞতা অনিবার্য করে তোলে।" তিনি আলফিয়্যাহ-র ব্যাখ্যায় সেই কবিতাটি উল্লেখ করেছেন যার মাধ্যমে কুফিবাদীরা প্রয়োজনে 'মাকসুর' (হ্রস্ব) শব্দকে 'মামদুদ' (দীর্ঘ) করার বৈধতার পক্ষে দলিল পেশ করেছেন, আর তা হলো:
বনু সা'লার বোন জেনে নিয়েছে
… এবং সে প্রতিদানের সাথে সেটিও জেনেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أنْ نعم مأكول على الخواء
… يا لك من تمر ومن شيشاء
ينشب في المسعل واللهاء
ثم قال: "الجواب عندنا أنه لا يعلم قائله، فلا حجة فيه"1.
غير أنه لم ينكر الأبيات المجهولة كلها، ولا يمنع من الاستشهاد بها "إذا وفرت فيها صفات حددها لنفسه، وهي: فصاحة القول وصفاؤه، وسلامته من الفساد، فلا يحتج بمن لابس الضعف لغته، وخالطت العجمة كلامه، وتسربت الركاكة إلى لفظه"2.
وكذلك خالف ابن هشام البصريين في تأويل الشواهد؛ والتأويل كان الوسيلة التي لجأ إليها النحاة؛ لِلتوفيق بين القواعد وبين النصوص المخالفة لها، المنسوبة -في الوقت نفسه- إلى عصر الاستشهاد. أما ما لا ينتسب إلى عصر الاستشهاد، من هذه النصوص، فقد كان الرفض هو السمة البارزة التي توضح موقف النحاة منه. وكان التعبير عن هذا الموقف-في أكثر الأحيان- يتخذ اصطلاح الشذوذ"3.
وأما استشهاده بالنثر، فواضح في كتابه، حيث ساق بعضا من الأمثال والأقوال المشهورة، وإن كانت نسبتها أقل بالقياس مع الشواهد القرآنية، وشواهد الحديث، والشواهد الشعرية، حيث ذكر في "شرح شذور الذهب" ستة أمثال، وفي شرح "اللمحة البدرية"، ذكر ستة عشر قولا ومثلا، وفي أوضح المسالك، ذكر ثمانية وخمسين قولا ومثلا، وذكر في "مغني اللبيب" تسعة وأربعين قولا ومثلا، ومن الأمثلة التي استشهد بها على سبيل المثال: "تسمعَ بالمعيدي خير من أن تراه". وقولهم: "مره يحفرَها"، وقولهم: "خذِ اللص قبل يأخذَك"، فقد حذفت "أن" الناصبة في هذه الشواهد، فنصبوا "تسمع" ويأخذك"، و"يحفرها"، وهو شاذ، يُحفظ ولا يقاس عليه4.
--------------------------------------------
খালি পেটে আহার হিসেবে কতই না চমৎকার
... তোমার জন্য চমৎকার খেজুর এবং উত্তম শিষা (এক প্রকার খেজুর)!
যা কণ্ঠনালী ও আলজিহ্বায় আটকে যায়।
তারপর তিনি বললেন: "আমাদের নিকট উত্তর হলো এই যে, এর প্রণেতা অজ্ঞাত, সুতরাং এতে কোনো দলিল নেই"১।
তবে তিনি সমস্ত অজ্ঞাত কবিতাংশকে অস্বীকার করেননি এবং সেগুলোকে প্রমাণ হিসেবে পেশ করা থেকেও বিরত থাকেননি, "যদি তাতে এমন কিছু বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে যা তিনি নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। সেগুলো হলো: বক্তব্যের সাবলীলতা ও বিশুদ্ধতা এবং ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া। সুতরাং যার ভাষায় দুর্বলতা বিদ্যমান, যার কথায় অনারবীয় প্রভাব মিশে গেছে এবং যার শব্দচয়নে অসারতা অনুপ্রবেশ করেছে, তাকে দলিল হিসেবে পেশ করা যাবে না"২।
একইভাবে ইবনে হিশাম উদ্ধৃতিসমূহের ব্যাখ্যার (তাবিল) ক্ষেত্রে বসরীয়দের বিরোধিতা করেছেন; আর এই ব্যাখ্যা ছিল বৈয়াকরণদের অবলম্বন করা একটি মাধ্যম, যাতে ব্যাকরণিক নিয়মাবলি এবং ঐসব উদ্ধৃতির মধ্যে সমন্বয় করা যায় যা একই সাথে নিয়মের বিপরীত কিন্তু উদ্ধৃতিযোগ্য যুগের অন্তর্ভুক্ত। আর যেসব উদ্ধৃতি উদ্ধৃতিযোগ্য যুগের অন্তর্ভুক্ত নয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যানই ছিল বৈয়াকরণদের অবস্থানের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আর এই অবস্থান প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় 'শুজুজ' (ব্যতিক্রম) পরিভাষাটি ব্যবহৃত হতো৩।
আর গদ্য থেকে তাঁর উদ্ধৃতি দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কিতাবে স্পষ্ট, যেখানে তিনি কিছু প্রবাদ এবং প্রসিদ্ধ উক্তি নিয়ে এসেছেন, যদিও কুরআনি উদ্ধৃতি, হাদিসের উদ্ধৃতি এবং কাব্যিক উদ্ধৃতির তুলনায় এগুলোর অনুপাত কম। তিনি "শারহু শুজুরিজ জাহাব"-এ ছয়টি প্রবাদ উল্লেখ করেছেন, "শারহুল লামহাতিল বাদরিয়্যাহ"-তে ষোলোটি উক্তি ও প্রবাদ উল্লেখ করেছেন, "আওদাহুল মাসালিক"-এ আটান্নটি উক্তি ও প্রবাদ এবং "মুগনীল লাবীব"-এ ঊনপঞ্চাশটি উক্তি ও প্রবাদ উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি যেসব দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে: "মুয়াইদী সম্পর্কে শোনার চেয়ে তাকে দেখা উত্তম।" এবং তাদের কথা: "তাকে এটি খনন করার আদেশ দাও," এবং তাদের কথা: "চোর তোমাকে ধরার আগেই তাকে ধরো।" এই উদ্ধৃতিগুলোতে নাসব প্রদানকারী 'আন' বিলুপ্ত করা হয়েছে, ফলে তারা 'তাসমাআ', 'ইয়াহখুজাকা' এবং 'ইয়াহফিরাহা' শব্দগুলোকে মানসুব (নসবযুক্ত) পড়েছেন; আর এটি বিরল, যা মুখস্থ রাখা হয় কিন্তু এর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (নতুন নিয়ম তৈরি) করা যায় না৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأسلوب ابن هشام واضح، لا تعقيد فيه، وهو يميل إلى البساطة والبعد عن التقعير والتعقيد، همه أن يوصل الفكرة إلى المتعلم من أقصر الطرق؛ ولهذا اتسم أسلوبه بشيء من الركاكة اللغوية، حتى خاله بعضهم يلحن في اللغة، وما ذلك إلا لكونه كان يترخص -أحيانا- في الاستعمالات اللغوية، فيدع الراجح، ويأخذ بالمرجوح، غير أنه كان سهل العبارة، دقيقا في تخير ألفاظه، واضحا في دلالاته.
وأما ظاهرة الاستطراد فهي السمة الغالبة في مؤلفاته؛ حيث لم يستطع -على الرغم من منهجيته، وطريقته المبتكرة في ترتيب موضوعاته- من التحرر منها، فتراه وهو يعالج مسألة من المسائل، يستطرد في شرح كلمة عارضة في سياق شاهد من الشواهد، وكأنه يعقد مبحثا جديدا لمناقشتها، ثم يعود إلى موضوعه الأول، ولعل ابن هشام قصد الاستطراد؛ ليوضح أفكاره، ويزيدها جلاء؛ لتكون أرسخ في الأذهان، وربما أراد -من خلالها- إقحام أكبر قدر ممكن من المعلومات في مخيلة قارئي كتبه، فضلا عن المعلومات الرئيسية التي يريد إفهامها.
ومهما يكن من أمر، فإن ابن هشام الأنصاري علم من أعلام النحاة المجتهدين والمجددين الذي يعود الفضل إليهم في تهذيب النحو العربي، وإخرجه بشكله المتكامل الواضح بعيدا عن الغموض والتعقيد.
وفي الختام، نتضرع إلى الله سبحانه وتعالى أن ينفع بهذا الكتاب كما نفع بأصله، والحمد لله أولا وآخرا.
ইবনে হিশামের রচনারীতি অত্যন্ত স্পষ্ট, এতে কোনো জটিলতা নেই। তিনি সারল্য পছন্দ করতেন এবং কৃত্রিমতা ও দুর্বোধ্যতা থেকে দূরে থাকতেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল স্বল্পতম উপায়ে শিক্ষার্থীর কাছে মূল ধারণাটি পৌঁছে দেওয়া; এ কারণে তাঁর রচনারীতিতে কিছুটা ভাষাগত শিথিলতা লক্ষ্য করা যায়, এমনকি কেউ কেউ তাঁকে ব্যাকরণিক অশুদ্ধি করার দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। এর কারণ ছিল মূলত ভাষাগত ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে তাঁর সহজ পথ অবলম্বন করা; তিনি অধিকতর বিশুদ্ধ রূপটি বর্জন করে কম প্রচলিত রূপটি গ্রহণ করতেন। তবে তাঁর বাক্য গঠন ছিল সহজবোধ্য, শব্দ নির্বাচনে তিনি ছিলেন সূক্ষ্ম এবং অর্থের দিক থেকে স্পষ্ট।
আর তাঁর গ্রন্থসমূহে প্রাসঙ্গিক প্রসঙ্গের বাইরে আলোচনা (ইস্তিতরাদ) একটি প্রবল বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিদ্যমান। তাঁর সুশৃঙ্খল পদ্ধতি এবং বিষয়বস্তু বিন্যাসের উদ্ভাবনী শৈলী থাকা সত্ত্বেও তিনি এর প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারেননি। দেখা যায় যে, তিনি যখন কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন, তখন কোনো একটি উদ্ধৃতির প্রেক্ষিতে আসা একটি আকস্মিক শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় চলে যান; মনে হয় যেন তিনি তা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। এরপর আবার তিনি তাঁর মূল বিষয়ে ফিরে আসেন। সম্ভবত ইবনে হিশাম তাঁর ধারণাগুলোকে আরও স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করার উদ্দেশ্যেই এই দীর্ঘ আলোচনার আশ্রয় নিতেন, যাতে তা পাঠকের মনে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যায়। সম্ভবত তিনি এর মাধ্যমে মূল তথ্যের পাশাপাশি আরও অধিক পরিমাণ তথ্য পাঠকের স্মৃতিতে প্রবেশ করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
যাই হোক না কেন, ইবনে হিশাম আল-আনসারী হলেন সেই সমস্ত যুগান্তকারী ও গবেষণাধর্মী ব্যাকরণবিদদের অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আরবি ব্যাকরণকে সুশৃঙ্খল ও পরিশোধিত করার ক্ষেত্রে এবং একে অস্পষ্টতা ও জটিলতামুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট রূপে উপস্থাপন করার পেছনে যাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।
পরিশেষে, আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর মূল গ্রন্থের ন্যায় এই গ্রন্থটির মাধ্যমেও সকলকে উপকৃত করেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে এবং অন্তে।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثالثاً: عملنا في الكتاب:
أ- في المتن:
باب معلوما للدارسين والمحققين على السواء أن المحافظة على نص المتن مسألة لا يجوز الحديث فيها، حيث لا يسمح بتغيير حرف واحد في متن الكتاب المحقق، إذا جاءت لغته سليمة، وعباراته صحيحة، وإذا ما اقتضت الضرورة أي تغيير يذكر في الأصل؛ لِأمر ما، فلا بد من الإشارة إلى هذا التغيير في الحاشية؛ وانطلاقا من هذه الحقيقة المسلم بها، وتمشيا مع المنهجية العلمية، فقد حرصنا على متن الكتاب -كما هو- من دون أي زيادة أو نقصان.
غير أننا أثبتنا في المتن أمورا، لا تتنافى مع المنهجية العلمية، وأصول قواعد التحقيق، وهي:
أولاً: ضبطنا علامات الترقيم، ووضعناها في الأماكن المناسبة بين الكلمات، والجمل، والعبارات المختلفة؛ لأنها تساعد الطالب في قراءة النص قراءة صحيحة، تمكنه من فهم المراد.
ثانياً: وضعنا عناوين فرعية لمباحث الكتاب، فضلا عن عناوين الأبواب، والفصول، والمباحث التي جاءت في الأصل؛ لِيتمكن الطالب من العودة إلى المطلوب بيسر وسهولة وقد وضعنا هذه العناوين بين معقوفين.
ثالثاً: أثبتنا اسم البحر الشعري -فوق الشاهد، إلى جهة اليسار- بين خطين مائلين، على النحو التالي:
"
… وقد تبدل الجملة من المفرد، كقوله: [الطويل]
إلى الله أشكو بالمدينة حاجة
… وبالشام أخرى كيف يلتقيان؟
তৃতীয়ত: গ্রন্থটিতে আমাদের কাজ:
ক- মূল পাঠে (মতন):
গবেষক ও সংকলক উভয়ের কাছে এটি সুপরিচিত যে, মূল পাঠের (মতন) সুরক্ষা এমন একটি বিষয় যা নিয়ে তর্কের অবকাশ নেই। সম্পাদিত গ্রন্থের মতন বা মূল পাঠে একটি অক্ষরও পরিবর্তন করার অনুমতি নেই যদি তার ভাষা শুদ্ধ এবং বাক্য গঠন সঠিক হয়। কোনো কারণে যদি মূল পাঠে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দেয়, তবে পাদটীকায় অবশ্যই সেই পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করতে হবে। এই স্বীকৃত ধ্রুব সত্যের ওপর ভিত্তি করে এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অনুসরণে আমরা গ্রন্থের মূল পাঠকে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই অপরিবর্তিত রাখার ব্যাপারে সচেষ্ট হয়েছি।
তবে আমরা মূল পাঠে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছি যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সম্পাদনা রীতির মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, সেগুলো হলো:
প্রথমত: আমরা যতিচিহ্নগুলো ঠিক করেছি এবং সেগুলোকে শব্দ, বাক্য ও বিভিন্ন বাক্যাংশের মাঝে উপযুক্ত স্থানে বসিয়েছি; কারণ এগুলো শিক্ষার্থীকে পাঠ্যটি সঠিকভাবে পড়তে সাহায্য করে, যা তাকে উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝতে সক্ষম করে।
দ্বিতীয়ত: মূল গ্রন্থে থাকা অধ্যায়, পরিচ্ছেদ ও আলোচনার শিরোনামের পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন বিষয়ের উপ-শিরোনাম যুক্ত করেছি; যাতে শিক্ষার্থী সহজেই তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে পারে। আমরা এই শিরোনামগুলোকে তৃতীয় বন্ধনী বা থার্ড ব্র্যাকেটের মধ্যে রেখেছি।
তৃতীয়ত: আমরা কাব্যিক ছন্দের নাম—উদ্ধৃতির উপরে, বাম দিকে—দুটি হেলানো রেখার (স্ল্যাশ) মধ্যে নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করেছি:
"
… কখনো কখনো একবচনের পরিবর্তে বাক্যও স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন কবির উক্তি: [আত-তাবিল]
আল্লাহর কাছে মদিনায় আমার একটি অভাবের অভিযোগ করি
… আর অন্যটি সিরিয়ায়, এই দুইয়ের মিলন কীভাবে হবে?
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ب- في الحاشية:
أولا: الآيات القرآنية:
أ- عزونا الآيات القرآنية.
ب- بينا أوجه القراءات في الآية الواحدة، إذا كان لها وجهان أو أكثر، ومن ثم ذكرنا توجيه القراءات، على الشكل التالي: "..... يجوز في الاسم الذي يتلو الوصف العامل أن ينصب به، وأن يخفض بإضافته، وقد قرئ: {إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِه} ، و: {هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّه} 2، بالوجهين..... ". 65 سورة الطلاق، الآية: 3.
أوجه القراءات:
قرأ عاصم وحفص والمفضل وأبان وجبلة وجماعة عن أبي عمرو: "بالغ أمره". برفع بالغ من دون تنوين. وقرأ العامة بتنوين "بالغ"، ونصب "أمره".
توجيه القراءات:
قراءة عاصم وحفص ومن معهما على إضافة اسم الفاعل إلى مفعوله "أمره". وأما قراءة العامة، فعلى إعمال اسم الفاعل عمل فعله؛ لأنه بمعنى الاستقبال، فنصب "أمره" ولم يضف إليه. انظر البحر المحيط: "8/ 273، والقرطبي: 18/ 161، ومشكل إعراب القرآن: 2/ 384.
ج- بينا موطن الشاهد ووجه الاستشهاد في الآية الكريمة، ومن ثم ذكرنا الحكم كما في تعليقنا على الآية السابقة: {هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّه} ، 39 سورة الزمر، الآية: 38.
--------------------------------------------
খ- পাদটীকায়:
প্রথমত: কুরআনের আয়াতসমূহ:
ক- আমরা কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ করেছি।
খ- আমরা একটি আয়াতের কিরাআতের বিভিন্ন রূপ স্পষ্ট করেছি, যদি তাতে দুই বা ততোধিক রূপ থাকে। অতঃপর আমরা কিরাআতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ নিম্নোক্তভাবে উল্লেখ করেছি: "..... আমলকারী গুণের (বিশেষণ) পরবর্তী ইসমটির (বিশেষ্য) ক্ষেত্রে এটি জায়েজ যে, তা উক্ত গুণের দ্বারা নসব হবে অথবা ইদাফাতের কারণে জর (খফদ) হবে। আর 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণকারী' এবং 'তারা কি তাঁর ক্ষতি দূরকারী' ২—এই উভয় পদ্ধতিতেই পাঠ করা হয়েছে....."। ৬৫ নম্বর সূরা আত-তালাক, আয়াত: ৩।
কিরাআতের রূপসমূহ:
আসেম, হাফস, মুফাদদাল, আবান, জাবালাহ এবং আবু আমর থেকে বর্ণিত একটি জামাত 'বালিগু আমরিহি' পাঠ করেছেন; অর্থাৎ তানভীন ছাড়া 'বালিগ' শব্দে রফা (পেশ) দিয়ে। আর সাধারণ কিরাআত পাঠকারীগণ 'বালিগুন' শব্দে তানভীন এবং 'আমরাহু' শব্দে নসব (যবর) দিয়ে পাঠ করেছেন।
কিরাআতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ:
আসেম, হাফস এবং তাঁদের অনুসারীদের কিরাআতটি ইসমুল ফাঈলকে (কর্তৃবাচক বিশেষ্য) তার মাফউলের (কর্ম) দিকে ইদাফাত করার ভিত্তিতে হয়েছে। আর সাধারণ কিরাআত পাঠকারীদের পাঠরীতিটি ইসমুল ফাঈলকে তার ক্রিয়ার মতো আমল করানোর ভিত্তিতে হয়েছে; কারণ এটি ভবিষ্যৎকাল অর্থ প্রদান করছে। ফলে 'আমরাহু' শব্দটি নসব হয়েছে এবং ইদাফাত করা হয়নি। দেখুন আল-বাহরুল মুহিত: ৮/২৭৩, আল-কুরতুবী: ১৮/১৬১ এবং মুশকিলু ই'রাবিল কুরআন: ২/৩৮৪।
গ- আমরা সম্মানিত আয়াতের মধ্যে শাহেদ (প্রমাণস্থল) এবং ইস্তিশহাদ (প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি) স্পষ্ট করেছি। এরপর পূর্ববর্তী আয়াতের ওপর আমাদের টীকায় যেভাবে উল্লেখ করেছি, সে অনুযায়ী বিধান বর্ণনা করেছি: "তারা কি তাঁর ক্ষতি দূর করতে সক্ষম?", ৩য় নম্বর সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
موطن الشاهد: {كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ} .
وجه الاستشهاد: إضافة اسم الفاعل "كاشفات" إلى ضره".
ثانياً: الأحاديث الشريفة:
خرجنا الأحاديث الواردة في المتن بعد إتمامها، ومن ثم ذكرنا اختلاف رواياتها وبيَّنَّا موطن الشاهد فيها، ووجه الاستشهاد، إذا لم يبين المؤلف في المتن المراد من الاستشهاد بها.
ثالثاً: الشواهد الشعرية:
سبقت الإشارة في أثناء حديثنا عن عملنا في المتن، أننا أثبتنا اسم البحر الشعري، للشاهد فوق البيت. وأما في الحاشية، فتجلى عملنا في الآتي:
أ- ذكرنا اسم صاحب البيت، إن صحَّت نسبته إلى شاعر بعينه، وتيقنَّا من صحة هذه النسبة. وإذا نسب إلى غير واحد، ذكرنا المنسوب إليهما، أو إليهم ورجحنا نسبته إلى واحد منهم إن توفَّرت القرائن، وإلا اكتفينا بذكر المنسوب إليهم فقط.
ب- ترجمنا لصاحب الشاهد ترجمة موجزة. وإن لم نعثر على ترجمة لذلك القائل، اكتفينا بما ذكره أصحاب المتون، وعقبنا بالقول: "لم نعثر له على ترجمة وافية".
ج- ذكرنا المصادر والمراجع التي يوجد فيها الشاهد، وركزنا على ذكر كتب النحو المعتمدة. وإذا أتى الشاهد مرقما في مصدر من المصادر، أثبتنا رقمه في ذلك المصدر أولا، ثم ذكرنا الصفحة، وإذا كان المصدر أو المرجع جزأين أو أكثر، ذكرنا رقم الشاهد أولا، ثم رقم الجزء أو المجلد ثانيا، ثم رقم الصفحة ثالثا.
وأما إذا ورد غير مرقم، فإننا نثبت اسم الكتاب أولا، ثم الصفحة ثانيا، وإن كان المصدر جزأين أو أكثر نذكر رقم الجزء أو المجلد أولا، ثم الصفحة ثانيا، وهكذا، كما في تخريج الشاهد التالي:
سبقوا هويَّ وأعنقوا لهواهم
… فتخرموا ولكل جنب مصرع
উদ্ধৃতির স্থান: {তাঁর কষ্ট দূরকারিণী}।
উদ্ধৃতির ধরণ: কর্তাবাচক বিশেষ্য (ইসমুল ফায়িল) "কাশেফাত"-কে "দুররিহি"-এর দিকে সম্বন্ধ (ইজাফাত) করা।
দ্বিতীয়ত: হাদিসে শরিফ:
আমরা মূল পাঠে (মাতান) বর্ণিত হাদিসগুলোকে পূর্ণাঙ্গ করার পর সেগুলোর উৎস বের করেছি (তাখরিজ করেছি), অতঃপর সেগুলোর বর্ণনার ভিন্নতা উল্লেখ করেছি এবং সেগুলোর মধ্যে উদ্ধৃতির স্থান ও উদ্ধৃতির ধরণ স্পষ্ট করেছি, যদি লেখক মূল পাঠে উদ্ধৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্য স্পষ্ট না করে থাকেন।
তৃতীয়ত: কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহ:
মূল পাঠে আমাদের কাজের পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনার সময় ইতিপূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, আমরা পঙ্ক্তির উপরে উদ্ধৃতির কাব্যিক ছন্দের (বাহর) নাম উল্লেখ করেছি। আর টীকায় আমাদের কাজ নিচের বিষয়গুলোতে পরিলক্ষিত হয়:
ক- আমরা পঙ্ক্তির রচয়িতার নাম উল্লেখ করেছি, যদি নির্দিষ্ট কোনো কবির দিকে এর সম্বন্ধ সঠিক হয় এবং আমরা এই সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হই। আর যদি এটি একাধিক ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে আমরা তাদের নাম উল্লেখ করেছি এবং কোনো আলামত পাওয়া গেলে তাদের মধ্যে কোনো একজনের দিকে নিসবত করাকে প্রাধান্য দিয়েছি। অন্যথায় শুধু যাদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাদের নাম উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।
খ- আমরা উদ্ধৃতির রচয়িতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরেছি। আর যদি সেই রচয়িতার কোনো জীবনী খুঁজে না পাই, তবে মূল পাঠের সংকলকগণ যা উল্লেখ করেছেন তাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং শেষে এই কথাটি যুক্ত করেছি: "আমরা তার কোনো পূর্ণাঙ্গ জীবনী খুঁজে পাইনি।"
গ- আমরা সেই সকল উৎস ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছি যেখানে উদ্ধৃতিটি পাওয়া যায় এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাকরণ (নাহু) গ্রন্থগুলোর বর্ণনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। যদি উদ্ধৃতিটি কোনো উৎসে নম্বরযুক্ত অবস্থায় থাকে, তবে আমরা প্রথমে সেই উৎসের নম্বরটি লিখেছি, তারপর পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। আর যদি উৎস বা তথ্যসূত্রটি দুই বা ততোধিক খণ্ড বিশিষ্ট হয়, তবে আমরা প্রথমে উদ্ধৃতির নম্বর, দ্বিতীয়ত খণ্ড বা ভলিউম নম্বর এবং তৃতীয়ত পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।
আর যদি তা নম্বরবিহীন হয়, তবে আমরা প্রথমে বইয়ের নাম এবং দ্বিতীয়ত পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। যদি উৎসটি দুই বা ততোধিক খণ্ডের হয়, তবে প্রথমে খণ্ড বা ভলিউম নম্বর এবং দ্বিতীয়ত পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি; এভাবেই পরবর্তী উদ্ধৃতির উৎসের বর্ণনায় করা হয়েছে:
তারা আমার আকাঙ্ক্ষাকে ছাড়িয়ে গেছে এবং নিজেদের প্রবৃত্তির দিকে দ্রুত ধাবিত হয়েছে
… অতঃপর তারা ধ্বংস হয়ে গেছে, আর প্রতিটি পার্শ্বদেশের জন্যই রয়েছে একটি পতনের স্থান।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
تخريج الشاهد:
البيت من عينيَّة أبي ذؤيب الهذلي المشهورة، وهو من شواهد: الأشموني "674/ 2/ 331"، والعيني: 3/ 493، والمحتسب: 1/ 76، وأمالي ابن الشجري: 1/ 281" وشرح المفصل: 3/ 33، والمقرب: 46، وهمع الهوامع: 2/ 53، والدرر اللوامع: 2/ 68، والمفضليات: 421، وديوان الهذليين: 1/ 2، والتصريح على التوضيح: 2/ 61.
د- شرحنا المفردات الغريبة في الشاهد، والتي يعثر فهمها على الطالب.
هـ- شرحنا الشاهد الشعري شرحا موجزا، يفي بالغرض.
وأعربنا الشاهد إعرابا مفصلا، وموجزا في الوقت نفسه؛ لأن الدارس في هذا الكتاب، يملك القدرة التي تمكنه من فهم المراد، ولا سيما بعد أن يكون ألَمَّ بمبادئ النحو، وقواعد الإعراب.
ز- بيَّنَّا موطن الشاهد في البيت، ومن ثم وجه الاستشهاد، أو وجه الدلالة في البيت أو العلة التي لأجلها ساق المؤلف هذا البيت، على النحو التالي:
أودي بني وأعقبوني حسرة
… عند الرقاد وعبرة لا تقلعُ
الإعراب:
أودي: فعل ماضي مبني على الفتح المقدَّر على الألف.
بني: فاعل مرفوع، وعلامة رفعه الواو المنقلبة ياء، المدغمة في ياء المتكلم، نيابة عن الضمة؛ لأن جمع مذكر سالم، وياء المتكلم: في محل جر بالإضافة.
وأعقبوني: الواو عاطفة، أعقبوني: فعل ماضي مبني على الضم؛ لاتصاله بواو الجماعة، والواو: في محل رفع فاعل، والنون: للوقاية، والياء: في محل نصب مفعول به أول.
حسرة: مفعول به ثانٍ.
উদ্ধৃতির উৎস:
কবিতাটি আবু জুআইব আল-হুযালীর বিখ্যাত ‘আইনিয়্যাহ’ থেকে গৃহীত, এবং এটি নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহের শাহেদ বা ব্যাকরণিক প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে: আল-আশমুনি (২/৩৩১/৬৭৪), আল-আইনি (৩/৪৯৩), আল-মুহতাসিব (১/৭৬), আমালি ইবনুশ শাজারি (১/২৮১), শারহুল মুফাসসাল (৩/৩৩), আল-মুকাররাব (৪৬), হামউল হাওয়ামি (২/৫৩), আদ-দুরারুল লাওয়ামি (২/৬৮), আল-মুফাদ্দালিয়্যাত (৪২১), দিওয়ানুল হুযালিয়্যিন (১/২) এবং আত-তাসরিহ আলাত তাওযিহ (২/৬১)।
ঘ- আমরা উদ্ধৃতির দুর্বোধ্য শব্দাবলির ব্যাখ্যা করেছি, যা একজন ছাত্রের পক্ষে অনুধাবন করা কষ্টসাধ্য হতে পারে।
ঙ- আমরা কাব্যিক উদ্ধৃতিটির একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছি, যা উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট।
এবং আমরা উদ্ধৃতিটির বিস্তারিত ও একই সাথে সংক্ষিপ্ত ই’রাব (ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ) করেছি; কারণ এই কিতাবের পাঠকের এমন সামর্থ্য রয়েছে যা তাকে উদ্দেশ্য বুঝতে সক্ষম করে তুলবে, বিশেষত নাহুর মূলনীতি এবং ই’রাবের নিয়মাবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত হওয়ার পর।
চ- আমরা পঙ্ক্তিতে শাহেদের স্থান এবং সেই সাথে শাহেদের প্রেক্ষিত বা পঙ্ক্তিটির নির্দেশিত দিক অথবা লেখক যে কারণে পঙ্ক্তিটি উপস্থাপন করেছেন, তা নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করেছি:
আমার সন্তানরা ধ্বংস হয়ে গেল এবং তারা আমার জন্য আক্ষেপ রেখে গেল
… ঘুমের সময় এবং এমন অশ্রু যা থামবার নয়
ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব):
আউদা: আলিফের ওপর উহ্য ফাতাহ-এর ভিত্তিতে মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেল মাজি)।
বানিয়্যা: মারফু ফায়েল (কর্তা), এবং এর রাফা-র আলামত হলো ‘ওয়াও’ যা ‘ইয়া’-তে রূপান্তরিত হয়েছে এবং মুতাকাল্লিমের ‘ইয়া’-তে ইদগাম বা লীন হয়েছে, যা যম্মাহ-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে; কারণ এটি ‘জামা মুযাক্কার সালেম’। আর মুতাকাল্লিমের ‘ইয়া’টি ইজাফাতের কারণে জার-এর স্থানে রয়েছে।
ওয়া আ’কাবুনি: ‘ওয়াও’টি হরফে আতিফ (অব্যয়)। আ’কাবুনি: ‘ওয়াও আল-জামাআ’-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে যম্মাহ-এর ভিত্তিতে মাবনি হওয়া অতীতকালীন ক্রিয়া (ফেল মাজি)। ‘ওয়াও’টি ফায়েল (কর্তা) হিসেবে রাফা-র স্থানে রয়েছে। ‘নুন’টি নুনুল বিকায়া (সুরক্ষাকারী নুন), এবং ‘ইয়া’টি প্রথম মাফউল বিহি (কর্মপদ) হিসেবে নসব-এর স্থানে রয়েছে।
হাসরাতান: দ্বিতীয় মাফউল বিহি (কর্মপদ)।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
"عند": مضاف إليه مجرور.
وعبرة: الواو حرف عطف، عبرة: اسم معطوف على حسرة منصوب مثله.
لا تقلع: لا نافية، تقلع: فعل مضارع مرفوع، والفاعل: ضمير مستتر جوازا، تقديره: هي، يعود إلى عبرة، وجملة "لا تقلع": في محل نصب صفة لـ "عبرة".
موطن الشاهد: "بني".
وجه الاستشهاد: قلب واو الجمع ياء عند إضافة الاسم إلى ياء المتكلم، وإدغامهما، وحكم هذا الإدغام الجواز.
وتجدر الإشارة -هنا- إلى أننا في إعراب المفردات، راعينا مسألة: "الخيارات الإعرابية"، فإذا كان للفظة بحسب موقعها في الجملة وجهان من الإعراب، ذكرنا الوجهين غالبا، وإن كان لأحد الوجهين مرجح، ذكرنا في نهاية الإعراب: "وهو الأرجح"، وإذا لم يكن مرجح لأحدهما، اعتمدنا الإعراب الأيسر، والأسهل، وقلنا في نهاية الإعراب: "وهو الأفضل". وأما بالنسبة إلى شبه الجملة -الظرف والجار والمجرور- فقد أعربناه من دون تفصيل لا فائدة فيه، حيث حصرنا الظرف، والجار والمجرور بين تنصيصين، وذكرنا متعلقه مباشرة، كما في الجملة التالية:
يغدو الفلاح النشيط إلى أرضه قبيل طلوع الشمس.
فأعربنا شبه الجملة على النحو التالي:
"إلى أرضه" متعلق بـ "يغدو"، وأرض: مضاف، والهاء: مضاف إليه.
"قبيل": متعلق بـ "يغدو" أيضا، وهو مضاف.
طلوع: مضاف إليه مجرور، وهكذا.
كما تجدر الإشارة إلى أننا لم نذكر الإعراب المفصل للأفعال المعلومة، والمعروفة لدى المبتدئين، إلا إذا اقتضت الضرورة ذلك. وفي إعرابنا للحروف، اكتفينا بالقول: "حرف عطف، حرف استئناف، حرف مشبه بالفعل، حرف نداء، حرف استثناء
… إلخ"، ولم نقل: لا محل له من الإعراب؛ لأن الحروف -بشكل
"ইন্দা": মাজরুর মুদাফ ইলাইহি।
এবং 'ইবরাহ': ওয়াও হরফে আত্বফ, 'ইবরাহ' শব্দটি 'হাসরাহ'-এর ওপর আত্বফ হওয়ার কারণে তার মতোই মানসুব।
'লা তাকলাউ': 'লা' নাফিয়া (নিষেধজ্ঞাপক), 'তাকলাউ' মারফু মুদারে ফে'ল, এবং ফায়েল হলো জাওয়াজান মুসতারতির (উহ্য) জমির 'হিয়া', যা 'ইবরাহ' এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। আর 'লা তাকলাউ' জুমলাটি 'ইবরাহ' এর সিফাত হিসেবে মানসুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
উদাহরণের মূল লক্ষ্য: "বানিয়্যা"।
উদাহরণের প্রাসঙ্গিকতা: কোনো বিশেষ্যকে যখন 'ইয়ায়ে মুতাকাল্লিম'-এর দিকে ইজাফত করা হয়, তখন জমার 'ওয়াও'-কে 'ইয়া' দ্বারা পরিবর্তন করা এবং উভয়কে ইদগাম করা; আর এই ইদগামের বিধান হলো জায়েজ (বৈধ)।
এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা শব্দসমূহের ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে 'ইরাবগত বৈচিত্র্যের' বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছি। সুতরাং বাক্যের অবস্থান অনুযায়ী যদি কোনো শব্দের ইরাবের ক্ষেত্রে দুটি দিক থাকে, তবে আমরা সাধারণত উভয়টিই উল্লেখ করেছি। যদি কোনো একটির প্রাধান্য থাকে, তবে ইরাবের শেষে আমরা বলেছি: "এটিই অধিকতর শক্তিশালী (অধিক গ্রহণযোগ্য)", আর যদি কোনোটিরই প্রাধান্য না থাকে, তবে আমরা সহজ ও সরল ইরাবটি গ্রহণ করেছি এবং ইরাবের শেষে বলেছি: "এটিই সর্বোত্তম"। আর শিবেহ জুমলা (কাল ও স্থানবাচক অব্যয় এবং হরফে জর ও মাজরুর)-এর ক্ষেত্রে আমরা কোনো অপ্রয়োজনীয় বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই কেবল জরফ বা জার-মাজরুর অংশটুকুকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে রেখে সরাসরি সেটির মুতাআল্লাক (সংশ্লিষ্ট শব্দ) উল্লেখ করেছি, যেমনটি নিচের বাক্যে দেখা যাচ্ছে:
পরিশ্রমী কৃষক সূর্যোদয়ের ঠিক আগে তার জমির দিকে যায়।
আমরা শিবেহ জুমলার ইরাব নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে করেছি:
"তার জমির দিকে" (ইলা আরদিহি) অংশটি "যায়" (ইয়াগদু) ক্রিয়ার সাথে মুতাআল্লাক; আর 'আরদ' শব্দটি মুদাফ এবং 'হা' জমিরটি মুদাফ ইলাইহি।
"ঠিক আগে" (কুবাইলা) শব্দটিও "যায়" (ইয়াগদু) ক্রিয়ার সাথে মুতাআল্লাক এবং এটি মুদাফ।
'সূর্যোদয়' (তুলু') শব্দটি মাজরুর মুদাফ ইলাইহি, এভাবেই।
আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিকট পরিচিত ও সুপরিচিত ক্রিয়াগুলোর বিস্তারিত ইরাব উল্লেখ করিনি, যদি না তার বিশেষ প্রয়োজন দেখা দেয়। হরফের ইরাবের ক্ষেত্রে আমরা কেবল বলেছি: "আত্বফ করার হরফ, প্রারম্ভিক হরফ, হরফে মুশাব্বাহ বিল ফে'ল, আহ্বানের হরফ, ব্যতিক্রমসূচক হরফ
… ইত্যাদি"। আমরা "এর কোনো ব্যাকরণিক (ইরাবি) অবস্থান নেই" কথাটি উল্লেখ করিনি; কারণ হরফ মূলত ব্যাকরণিকভাবে এমনই।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
عام- لا محل لها من الإعراب دائما. وبالنسبة إلى: "الفاء والباء"، وهما حرفان يجوز فيهما أن يكون للعطف، أو للاستئناف، في الموطن الواحد، فذكرنا في الإعراب ما رأيناه مناسبا للسياق، ويقتضيه المعنى، وقلنا: ويعربه بعضهم: حرف عطف، أو استئناف -الوجه الآخر- والمراد: في الشاهد نفسه، حتى لا يحار الطالب في أمره.
وأما الأحرف المصدرية وما تنسبك معه، فقد حصرنا الحرف المصدري بين تنصيصين، وقلنا: و"أن وما بعدها"، أو والمصدر المؤول من "أن وما بعدها": في محل كذا، كما في المثال التالي:
يذهب الطلاب إلى المدرسة ليتعلموا، حتى يفيدوا وطنهم في المستقبل.
فقلنا في الإعراب.
والمصدر المؤؤل من "أن المضمرة بعد لام التعليل-وما بعدها": في جر جر باللام، والتقدير: للتعلم، و"للتعلم": متعلق بفعل "يذهب".
وفي قولنا: "حتى يفيدوا وطنهم".
والمصدر المؤول من "أن المضمرة -بعد حتى- وما بعدها": في محل جر بـ "حتى"، والتقدير: لإفادة وطنهم، و"الجار والمجرور": متعلق بفعل "يذهب" أيضان وهكذا.
رابعا: الأمثال والكلمات المشهورة:
خرجنا الأمثال والحكم الواردة في المتن، وذكرنا المصادر والمراجع التي اعتمدناها، ومن ثم ذكرنا موطن الشاهد ووجه الاستشهاد بالحكمة أو بالمثل، إن لم يكن المؤلف، قد بين المراد من الاستشهاد بهما، في المتن.
خامساً: تراجم الأعلام:
زيادة في الفائدة، فقد ترجمنا للنحاة واللغويين والقراء والمفسرين والأدباء، والعلماء الواردة أسماؤهم في المتن، حيث بلغ مجموع من ترجم لهم ما يزيد على
সাধারণ- এগুলোর সর্বদা কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান (ই'রাব) থাকে না। আর "ফা" এবং "বা"-এর ক্ষেত্রে, এ দুটি এমন অক্ষর যা একই স্থানে সংযোজক (আতিফ) অথবা প্রারম্ভিক (ইস্তিনাফ) উভয়ই হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তাই আমরা ই'রাবের ক্ষেত্রে প্রসঙ্গের সাথে যা মানানসই এবং অর্থের জন্য যা প্রয়োজনীয় বলে মনে করেছি তা উল্লেখ করেছি। আমরা বলেছি: কেউ কেউ একে সংযোজক অক্ষর বা প্রারম্ভিক অক্ষর -অন্যটি- হিসেবে ই'রাব করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো একই উদাহরণের ক্ষেত্রে, যাতে শিক্ষার্থী বিভ্রান্তিতে না পড়ে।
আর মাসদারি অক্ষর এবং যা এর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়, আমরা মাসদারি অক্ষরকে উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছি এবং বলেছি: "আন এবং এর পরবর্তী অংশ", অথবা "আন এবং এর পরবর্তী অংশ" থেকে গঠিত মাজদারে মুয়াউওয়াল: অমুক স্থানে অবস্থিত, যেমনটি নিচের উদাহরণে রয়েছে:
ছাত্ররা বিদ্যালয়ে যায় যাতে তারা শিখতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে তারা তাদের স্বদেশের উপকার করতে পারে।
অতঃপর আমরা ই'রাবের ক্ষেত্রে বলেছি:
এবং "লামে তায়লীল"-এর পরে উহ্য থাকা "আন" ও তার পরবর্তী অংশ থেকে গঠিত মাজদারে মুয়াউওয়াল: "লাম" দ্বারা মাজরুর অবস্থায় রয়েছে। আর এর মূল রূপটি হলো: "শেখার জন্য", এবং "শেখার জন্য" অংশটি "যায়" ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত।
এবং আমাদের কথা: "যাতে তারা তাদের স্বদেশের উপকার করতে পারে"-এর ক্ষেত্রে:
এবং "হাত্তা"-এর পরে উহ্য থাকা "আন" ও তার পরবর্তী অংশ থেকে গঠিত মাজদারে মুয়াউওয়াল: "হাত্তা" দ্বারা মাজরুর-এর স্থানে রয়েছে। আর এর মূল রূপটি হলো: "তাদের স্বদেশের উপকারের জন্য", এবং "যার ও মাজরুর" অংশটি "যায়" ক্রিয়ার সাথেও সম্পৃক্ত, আর এভাবেই বাকিগুলো করা হয়েছে।
চতুর্থত: প্রবাদ ও প্রসিদ্ধ বাক্যসমূহ:
আমরা মূল পাঠে উল্লিখিত প্রবাদ ও প্রজ্ঞাপূর্ণ বাণীসমূহ উদ্ধৃত করেছি এবং আমরা যে সকল উৎস ও সূত্রের ওপর নির্ভর করেছি তা উল্লেখ করেছি। এরপর আমরা সেই প্রজ্ঞা বা প্রবাদের প্রাসঙ্গিক স্থান এবং এর মাধ্যমে প্রমাণের ধরন উল্লেখ করেছি, যদি লেখক মূল পাঠে সেগুলোর দ্বারা প্রমাণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট না করে থাকেন।
পঞ্চমত: বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী:
অতিরিক্ত উপকারের লক্ষ্যে আমরা মূল পাঠে উল্লিখিত নাহুবিদ, ভাষাবিদ, ক্বারী, মুফাসসির, সাহিত্যিক এবং আলেমদের জীবনী বর্ণনা করেছি। যাদের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মোট সংখ্যা এর অধিক পৌঁছেছে।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أربعين ترجمة ومائتي ترجمة. وقد أثبتنا المصادر والمراجع المعتمدة بعد كل ترجمة. وأما الأسماء التي لم نستطع الحصول على ترجمة لها، فاكتفينا بالاسم الوارد في المتن، وعقبنا بالقول: "ولم نعثر له على ترجمة وافية".
سادساً: تعليقنا على المتن:
معلوم أن هذا الكتاب شرح لألفية ابن مالك، وقد أراد المؤلف منه أن يوضح معاني الألفية، وهو لم يؤلفه للمبتدئين، كما فعل في "شرح قطر الندى وبل الصدى". و"شرح شذور الذهب"، وإنما ألفه لمن صار لديهم قدرة على فهم المراد، ويستطيعيون القياس والاستنباط، ولهذا كثرت رموز هذا الكتاب، وغمض الكثير من عباراته مما اضطر الشيخ خالد الأزهري لأن يصنف حاشية عليه، أسماها: "التصريح على التوضيح"، وقد علق الشيخ يس العلمي الحمصي على هذه الحاشية تعليقات مفيدة، طبعت مع الحاشية والشرح. ولما قام المرحوم الشيخ محمد محيي الدين عبد الحميد بتحقيق "أوضح المسالك" وضع له تعليقات على غاية من الأهمية، غير أنه لم ينسب تلك التعليقات إلى أصحابها، وأكثرها نقل حرفيا من الكتب المشهورة كـ "همع الهوامع"، و"حاشية الصبان"، و"المغني" وغيرها......، فضلا عن التصريح، وحاشية الشيخ يس.
وكذلك، قام الشيخ محمد عبد العزيز النجار بوضع تعليقات، لا تقل أهمية، من تعليقات المرحوم محمد محيي الدين عبد الحميد، وجعل هذه التعليقات على مستويين، الأول للمبتدئين، والثاني للجامعيين، وطلاب المعاهد العليا، وسماه: "ضياء السالك"، غير أنه -هو الآخر- لم يذكر المصادر والمراجع التي اقتبس منها، هي نفسها التي اعتمدها الشيخ عبد الحميد كما يظهر لمتتبع طرق الكتابين.
ولما كان هذا الكتاب مرجعا مهما للأساتذة والباحثين ولا غنىً عنه بحال بالنسبة إلى الطلاب المتخصصين، ووفاءً بالعهد الذي قطعناه على أنفسنا، بإعادة النظر في كتب ابن هشام المحققة، وإخراجها إخراجًا عصريا، وشرحها شرحا واضحا، وفق أصول المنهجية العلمية؛ لِيستفيد منها الكبار والصغار معا، فقد قمنا
দুইশত চল্লিশটি জীবনী। আমরা প্রতিটি জীবনীর পর নির্ভরযোগ্য উৎস এবং তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করেছি। আর যেসব ব্যক্তির জীবনী আমরা সংগ্রহ করতে পারিনি, তাদের ক্ষেত্রে মূল পাঠে বর্ণিত নামের ওপরই ক্ষান্ত হয়েছি এবং এরপর এই মন্তব্য করেছি যে: "আমরা তার পূর্ণাঙ্গ কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।"
ষষ্ঠত: মূল পাঠের ওপর আমাদের টীকা:
এটি সর্বজনবিদিত যে, এই গ্রন্থটি ইবনে মালিকের আলফিয়ার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। লেখক এর মাধ্যমে আলফিয়ার অর্থসমূহ স্পষ্ট করতে চেয়েছেন। তিনি এটি নবীনদের জন্য রচনা করেননি, যেমনটি তিনি "শরহু কাতরিুন নাদা ওয়া বাল্লুয সাদি" এবং "শরহু শুযুরিয যাহাব"-এ করেছেন। বরং তিনি এটি তাদের জন্য রচনা করেছেন যাদের উদ্দেশ্য বোঝার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে এবং যারা কিয়াস (অনুমান) ও ইস্তিনবাত (উদ্ভাবন) করতে সক্ষম। এই কারণেই এই গ্রন্থে প্রতীকের ব্যবহার প্রচুর এবং এর অনেক শব্দ বা বাক্য জটিল, যা শেখ খালিদ আল-আযহারীকে এর ওপর একটি টীকা সংকলন করতে বাধ্য করেছে, যার নাম তিনি দিয়েছেন: "আত-তাসরিহ আলাত তাওযিহ"। শেখ ইয়াসিন আল-উলিমি আল-হিমসি এই টীকাটির ওপর উপকারী কিছু মন্তব্য করেছেন, যা মূল টীকা ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে। যখন মরহুম শেখ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ "আওদাহুল মাসালিক"-এর সম্পাদনা করেন, তখন তিনি এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু টীকা যুক্ত করেন। তবে তিনি সেই টীকাগুলোকে তাদের মূল লেখকদের দিকে সম্বন্ধ করেননি। এগুলোর অধিকাংশ "হামউল হাওয়ামি", "হাশিয়া আস-সাব্বান", "আল-মুগনি" এবং অন্যান্য প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ থেকে হুবহু উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেই সাথে "আত-তাসরিহ" এবং শেখ ইয়াসিনের হাশিয়া থেকেও নেয়া হয়েছে।
একইভাবে, শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জারও কিছু টীকা যুক্ত করেছেন, যা মরহুম মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের টীকাগুলোর চেয়ে কোনো অংশে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি এই টীকাগুলোকে দুটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন: প্রথমটি নবীনদের জন্য এবং দ্বিতীয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের জন্য; আর তিনি এর নাম দিয়েছেন: "দিয়াউস সালিক"। তবে তিনিও সেই উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করেননি যেখান থেকে তিনি এগুলো গ্রহণ করেছেন। এই উৎসগুলো মূলত সেগুলোই যা শেখ আব্দুল হামিদ গ্রহণ করেছিলেন, যেমনটি উভয় গ্রন্থের রচনারীতি পর্যবেক্ষণ করলে প্রতীয়মান হয়।
যেহেতু এই গ্রন্থটি শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স এবং বিশেষায়িত ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য, এবং ইবনে হিশামের সম্পাদিত গ্রন্থসমূহ পুনরায় পর্যালোচনা করার, সেগুলোকে আধুনিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসারে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার যে প্রতিশ্রুতি আমরা নিজেদের কাছে দিয়েছিলাম—যাতে বড় ও ছোট সবাই সমানভাবে উপকৃত হতে পারে—তা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بشرح ما غمض من مسائل الكتاب، وأوضحنا ما يعسر فهمه على الطلاب، من العبارات، والألفاظ، والتراكيب، والمصطلحات، والأفكار، واعتمدنا التصريح على التوضيح مرجعا أساسًا في عملنا، ولم نهمل تعليقات الشيخين، محمد محيي الدين عبد الحميد، والشيخ محمد عبد العزيز النجار، وكثيرا ما نقلنا عنهما، ونسبنا القول إليهما، أو إلى المصادر التي استقيا منها، إن كان النقل حرفيا من دون أي إضافة تذكر. وتوخيا للأمانة العلمية، فقد آثرنا ذكر المراجع والمصادر المعتمدة؛ ليطمئن الطالب والباحث إلى صحة ما أتينا به من المعاني والأفكار.
ولما كان طلاب الجامعات، وطلاب الدراسات العليا، يجدون صعوبة ومشقة، في العودة إلى المصادر والمراجع النحوية؛ لكثرتها من جهة، ولتعدد طبعاتها من جهة أخرى، فقد أحلنا الباحثين، ومن يودُّون التعمق في البحث والتحليل، إلى المصادر التي تشبع نهمهم، بعد تعليقنا على كل فكرة، أو مبحث بحاجة إلى مزيد الشرح والإيضاح؛ وذلك تمكينا للطالب والباحث من الوصول إلى مبتغاه من دون عناء.
التوجيهات والتعقيبات:
لما كان هذا الكتاب مختصرا -كما سماه صاحبه- فقد تجاوز كثيرا من الأمور التي ينبغي للطالب أن يطلع عليها، حيث أغفل كثيرا من التعريفات الضرورية في مستهل الفصول والأبواب، فكان يشرع في الحديث عن الأحكام، والشروط من دون تمهيد يذكر، أو تعريف يحدد المراد بالمصطلح النحوي، وأحيانا أخرى كان يتجاوز أمورا ضرورية وجوهرية لا غنى للطالب عنها، وما ذلك -بحسب اعتقاده؛ إلا لكون الدارس أو الطالب الذي يتناول هذا الكتاب، قد ألمَّ بالمبادئ والأوليات في كتبه التي صنفها للمبتدئين، كقطر الندى وبلِّ الصدى، وشذور الذهب وأمثالهما.
فإتمامًا للفائدة، ومراعاة لمستوى طلابنا في هذه الأيام، فقد أضفنا كثيرا من الفوائد، والتوجيهات، والتنبيهات، والتعقيبات، فضلا عن التعريفات، كلما وجدنا الضرورة تقتضي ذلك، فرب فائدة تساق في موقعها المناسب، تكون أكثر فائدة من
গ্রন্থের অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য দুর্বোধ্য ইবারত, শব্দাবলি, বাক্য গঠন পদ্ধতি, পরিভাষা এবং ভাবার্থসমূহ স্পষ্ট করেছি। আমরা আমাদের কাজে ‘আত-তাসরিহ আলাত-তাওদিহ’ গ্রন্থটিকে প্রধান সূত্র হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমরা দুই শেখ—মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ এবং শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জারের টীকাগুলোকে অবজ্ঞা করিনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা তাঁদের থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছি এবং সেগুলোকে তাঁদের দিকেই নিসবত করেছি, অথবা সেই মূল উৎসগুলোর দিকে নিসবত করেছি যেখান থেকে তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেছেন—যদি উদ্ধৃতিটি কোনো উল্লেখযোগ্য সংযোজন ছাড়াই হুবহু হয়ে থাকে। বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার স্বার্থে আমরা নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ও উৎসসমূহ উল্লেখ করাকে প্রাধান্য দিয়েছি; যাতে শিক্ষার্থী ও গবেষক আমাদের উপস্থাপিত অর্থ ও চিন্তাধারার সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত হতে পারেন।
যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং উচ্চতর গবেষণারত ছাত্ররা ব্যাকরণ বিষয়ক মূল উৎস এবং তথ্যসূত্রসমূহের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে বেশ কষ্ট ও সমস্যার সম্মুখীন হন—একদিকে সেগুলোর প্রাচুর্যের কারণে এবং অন্যদিকে সেগুলোর বিভিন্ন সংস্করণের আধিক্যের কারণে—তাই আমরা গবেষক এবং যারা গভীর বিশ্লেষণ ও গবেষণায় আগ্রহী, তাঁদের এমন সব উৎসের দিকে নির্দেশনা দিয়েছি যা তাঁদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করবে। প্রতিটি ধারণা বা পরিচ্ছেদ যা অধিকতর ব্যাখ্যা ও বিশদ আলোচনার দাবি রাখে, সেগুলোর ওপর আমাদের নিজস্ব টীকা প্রদানের পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; যাতে শিক্ষার্থী ও গবেষক কোনো প্রকার ক্লেশ ছাড়াই তাঁদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন।
নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণসমূহ:
যেহেতু এই গ্রন্থটি একটি সংক্ষিপ্ত সার—যেমনটি এর লেখক স্বয়ং নামকরণ করেছেন—তাই এটি এমন অনেক বিষয় এড়িয়ে গেছে যা একজন শিক্ষার্থীর জানা আবশ্যক। এটি বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ের শুরুতে প্রয়োজনীয় অনেক সংজ্ঞা প্রদান থেকে বিরত থেকেছে। ফলে কোনো প্রকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা বা নাহু শাস্ত্রীয় পরিভাষার সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা প্রদান ছাড়াই সরাসরি বিধান ও শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। আবার কখনও কখনও এটি এমন কিছু প্রয়োজনীয় ও মৌলিক বিষয়ও এড়িয়ে গেছে যা ব্যতীত শিক্ষার্থীর কোনো গত্যন্তর নেই। লেখকের ধারণা অনুযায়ী এর কারণ সম্ভবত এই যে, এই গ্রন্থটি পাঠকারী শিক্ষার্থী ইতিপূর্বেই তাঁর প্রারম্ভিক স্তরের রচিত গ্রন্থসমূহ, যেমন—‘কাতরুন নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা’ এবং ‘শুজুরুজ জাহাব’ ও এই জাতীয় অন্যান্য কিতাবগুলোর মাধ্যমে প্রাথমিক ও মৌলিক নিয়মাবলি সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করেছে।
সুফলকে পূর্ণতা দিতে এবং বর্তমান সময়ের শিক্ষার্থীদের মান বিবেচনা করে, যেখানেই প্রয়োজন মনে হয়েছে আমরা সেখানে সংজ্ঞার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ অতিরিক্ত তথ্য, নির্দেশনা, সতর্কতা এবং পর্যবেক্ষণ যুক্ত করেছি। কারণ সঠিক স্থানে উপস্থাপিত একটি ক্ষুদ্র তথ্যও অনেক বেশি উপকারী হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث بكامله-أحيانا- ورُبَّ توجيه يثير انتباه الطالب، يكون له أثر محمود في تركيز اهتمام الباحث. وأما حرصنا على التعريفات والتعقيبات، فلكى تكون موضوعات الكتاب متكاملة قدر الإمكان.
ج- من الناحية الفنية:
أ- المصادر والمراجع:
آثرنا ذكر المصادر والمراجع لـ "الشروح، والتعليقات، والتخريجات، والترجمات، والفوائد، والتوجيهات، والتعقيبات بعد الانتهاء من ذكرها مباشرة، لكيلا نجعل لها حواشي في أسفل الصفحات؛ لأن عملنا كله، يعد حاشية على الكتاب من جهة، ولكيلا يمل القارئ ويتشتت انتباهه من جهة أخرى.
ب- المسارد الفنية:
صنعنا للكتاب اثني عشر مسردا فضلا عن مسرد الموضوعات، كل منها مختص بجانب محدد؛ لتمكن الباحث من العودة إلى ما هو بحاجة إليه بسرعة وسهولة، وهذه المسارد هي:
أولاً: مسرد الآيات القرآنية.
ثانياً: مسرد الأحاديث الشريفة.
ثالثاً: مسرد الأمثال والأقوال المشهورة.
رابعاً: مسرد الشواهد النثرية.
خامساً: مسرد الشواهد الشعرية.
سادساً: مسرد الأعلام.
سابعاً: مسرد الشعراء.
ثامناً: مسرد القبائل والجماعات.
تاسعاً: مسرد الأماكن والبلدان.
عاشراً: مسرد المصادر والمراجع
حادي عشر: مسرد محتويات الكتاب.
ثاني عشر: مسرد المسارد.
وختامًا، أسأل الله تبارك وتعالى أن يفيد بهذا الكتاب، وأن يمنَّ علينا بدوام الصحة والعافية؛ لِنتمكن من إعادة تحقيق مؤلفات ابن هشام كلها، وفق النهج الذي بدأنا والحمد لله أولا وآخرا.
কখনো কখনো পুরো বিষয়টি - এবং সম্ভবত এমন কোনো দিকনির্দেশনা যা ছাত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে, গবেষকের মনোযোগ নিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার একটি প্রশংসনীয় প্রভাব থাকবে। আর সংজ্ঞা এবং টীকা-টিপ্পনীর ব্যাপারে আমাদের যত্নশীল হওয়ার কারণ হলো, যাতে বইটির বিষয়বস্তু যথাসম্ভব পূর্ণাঙ্গ হয়।
গ- কারিগরি দিক থেকে:
ক- উৎস ও তথ্যসূত্র:
ব্যাখ্যা, টীকা, হাদিসের উৎস নির্ণয়, জীবনী, বিভিন্ন ফায়দা, দিকনির্দেশনা এবং মন্তব্যসমূহ উল্লেখ করার পরপরই আমরা সেগুলোর উৎস ও তথ্যসূত্র উল্লেখ করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, যাতে সেগুলোর জন্য পৃষ্ঠার নিচে কোনো পাদটীকা দিতে না হয়; কারণ একদিকে আমাদের পুরো কাজটাই মূল বইয়ের ওপর একটি হাশিয়া (টীকা) হিসেবে গণ্য, আর অন্যদিকে যাতে পাঠক ক্লান্ত না হন এবং তাঁর মনোযোগ বিক্ষিপ্ত না হয়।
খ- কারিগরি নির্ঘণ্টসমূহ:
বিষয়সূচি ছাড়াও আমরা বইটির জন্য বারোটি নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যার প্রতিটি নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের জন্য নির্ধারিত; যাতে গবেষক তাঁর যা প্রয়োজন তা দ্রুত এবং সহজে খুঁজে পেতে সক্ষম হন। এই নির্ঘণ্টগুলো হলো:
প্রথম: কুরআনের আয়াতের নির্ঘণ্ট।
দ্বিতীয়: হাদিসে শরিফের নির্ঘণ্ট।
তৃতীয়: প্রবাদ ও বিখ্যাত উক্তিগুলোর নির্ঘণ্ট।
চতুর্থ: গদ্য উদ্ধৃতিসমূহের নির্ঘণ্ট।
পঞ্চম: কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের নির্ঘণ্ট।
ষষ্ঠ: বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট।
সপ্তম: কবিদের নির্ঘণ্ট।
অষ্টম: গোত্র ও দলসমূহের নির্ঘণ্ট।
নবম: স্থান ও জনপদসমূহের নির্ঘণ্ট।
দশম: উৎস ও তথ্যসূত্রের নির্ঘণ্ট।
একাদশ: বইয়ের বিষয়বস্তুর নির্ঘণ্ট।
দ্বাদশ: নির্ঘণ্টসমূহের নির্ঘণ্ট।
পরিশেষে, আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই বইটির মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং আমাদের ওপর সর্বদা সুস্থতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখেন; যাতে আমরা ইবনে হিশামের সমস্ত রচনাবলি আমাদের শুরু করা এই পদ্ধতি অনুযায়ী পুনরায় সম্পাদনা করতে সক্ষম হই। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে এবং অন্তে।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
مقدمة أوضح المسالك:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد:
يعد كتاب "الخلاصة الألفية" في النحو والصرف، لابن مالك الأندلسي1، من أهم المنظومات النحوية واللغوية، لما حظيت به من عناية العلماء والأدباء الذين انْبَرَوْا للتعليق عليها، بالشروح والحواشي.
ولعل من أهم هذه الشروح: شرح ابن عقيل2، وشرح ابن هشام الأنصاري، وشرح الأشموني، وسنتحدث بإيجاز عن كل من هذه الشروح الثلاثة.
أما الأول: فهو من أهم الشروح على كثرتها؛ لِما فيه من الوضوح والسهولة
--------------------------------------------
আওদাহুল মাসালিকের ভূমিকা:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর:
ইবনে মালিক আল-আন্দালুসি (১) রচিত নাহু ও সরফ বিষয়ক গ্রন্থ "আল-খুলাসাতুল আলফিয়্যাহ" অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাহু ও ভাষাতাত্ত্বিক কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ হলো এটি এমন সব আলেম ও সাহিত্যিকদের বিশেষ মনোযোগ ও যত্ন লাভ করেছে যারা এর ওপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও টীকা রচনার কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
সম্ভবত এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: ইবনে আকীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ (২), ইবনে হিশাম আল-আনসারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আল-আশমুনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমরা সংক্ষেপে এই তিনটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রতিটি সম্পর্কে আলোচনা করব।
প্রথমটির কথা বলতে গেলে: ব্যাখ্যাগ্রন্থের সংখ্যা অনেক হওয়া সত্ত্বেও এটি অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যাগ্রন্থ; কারণ এতে রয়েছে স্পষ্টতা ও সাবলীলতা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
مع شيء من الإيجاز. وقد علق على هذا الشرح حواشٍ عدة، أشهرها: حاشية الجلال السيوطي "911هـ"، وحاشية أحمد السجاعي "1197هـ" وأشهرها وأوسعها: حاشية محمد الخضري الدمياطي "1227هـ".
وأما الشرح الثالث: فهو شرح الأشموني1، وهو "يعد أغزر شروح الألفية مادة على كثرة الشروح2، واختلاف مشارب أصحابها، بل ويعد من أكثر كتب النحو جميعا واستيفاء، لمذاهب النحاة، وتعليلاتهم وشواهدهم مع البسط والتفصيل3، على الرغم مما قيل فيه، ووجه إليه من النقد الذي لا يخلو منه كتاب يضاهيه. وقد علق على هذا الشرح حواشٍ كثيرة، أهمها: حاشية الصبان4 "1206هـ".
وأما الشرح الثاني: فهو شرح ابن هشام الأنصاري، وهو موضوع بحثنا، وندع الحديث عنه للعلامة خالد الأزهري5، حيث قال في مقدمة حاشيته على التوضيح واصفا هذا الكتاب: "
… وهو في غاية حسن الموقع عند جميع الإخوان
--------------------------------------------
সংক্ষেপণ সহকারে। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর বেশ কিছু টীকাগ্রন্থ সংযোজিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো: জালালুদ্দিন সুয়ূতী (৯১১ হিজরি)-র টীকাগ্রন্থ, আহমদ সুজাঈ (১১৯৭ হিজরি)-র টীকাগ্রন্থ এবং সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও বিস্তারিত হলো: মুহাম্মদ আল-খুদারি আদ-দামিয়াতি (১২২৭ হিজরি)-র টীকাগ্রন্থ।
আর তৃতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি হলো: আশমুনী-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ১, যা অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ২ এবং তাদের লেখকদের রুচির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও আলফিয়্যাহ-র সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। এমনকি এটি ব্যাকরণবিদদের মতবাদসমূহ, তাদের কারণ বর্ণনা এবং কাব্যিক প্রমাণাদির বিস্তারিত ও বিশদ আলোচনার৩ ক্ষেত্রে সকল ব্যাকরণ গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হিসেবে গণ্য, যদিও এর সম্পর্কে কিছু সমালোচনা করা হয়েছে এবং এর দিকে এমন কিছু আপত্তি তোলা হয়েছে যা এর সমকক্ষ কোনো গ্রন্থই এড়াতে পারে না। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির ওপর অনেক টীকাগ্রন্থ লেখা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো: সাব্বান-এর টীকাগ্রন্থ৪ (১২০৬ হিজরি)।
আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যাগ্রন্থটি হলো: ইবনে হিশাম আল-আনসারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু। আমরা এই সম্পর্কে আলোচনার ভার আল্লামা খালিদ আল-আযহারী৫-এর ওপর ছেড়ে দিচ্ছি, যেখানে তিনি আত-তাওদীহ-র ওপর লিখিত তাঁর টীকাগ্রন্থের ভূমিকায় এই কিতাবটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "
… এবং এটি সকল ভাইদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لم يؤتَ بمثاله، ولم يُنسَجْ على منواله، ولم يوضع في ترتيب الأقسام مثله، ولم يبرز للوجود في هذا النحو شكله"1.
وأما الغاية التي هدف إليها ابن هشام في شرحه المسمى: "أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك" فقد أوجزها في مقدمة كتابه، ويمكن إيجازها بالآتي:
- أن يساعد المتعلمين في فهم كتاب "الخلاصة الألفية".
- أن يأتي بمثل ما أتى به ابن مالك في "الخلاصة" ويستدرك ما فاته.
- أن يبين ويشرح مفرداته، ويفصل تراكيبه ويوضحها.
- أن يرتب المعلومات، وينسقها وفق الطريقة التي أرادها، واتبعها في مؤلفاته الأخرى، في ضم القواعد المتصلة بعضها ببعض، ولو خالف المؤلف في تفصيله وترتيبه.
- ألا يترك مسألة فيه من دون أن يأتي لها بشاهد أو بمثال يوضحها.
غير أن هذا الإيضاح الذي قصد إليه ابن هشام، يصفه بعد أن تحدث عن "كتاب الخلاصة الألفية" قائلا: "غير أنه -أي: الخلاصة- لإفراد الإيجاز، قد كاد يعد من جملة الألغاز -وأردف واصفا عمله- وقد أسعفت طالبه بمختصر يدانيه"2، ولهذا كانت طريقته شبيهة بطريقة شرح قطر الندى وبلِّ الصدى، وإن كانت عبارته هناك -أي: في شرح قطر الندى- أكثر بسطا منها، في أوضح المسالك؛ لأن الأول صنف للمبتدئين، وأما الثاني فيأتي في الدرجة الرابعة في الترتيب الهرمي بعد "الإعراب عن قواعد الإعراب" و: "شرح قطر الندى وبلِّ الصدى" وشرح شذور الذهب".
ولما وجد العلماء صعوبة في عبارة الكتاب، مع إيجاز يكاد يكون رمزا في كثير
--------------------------------------------
এর মতো কোনো দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়নি, এর শৈলীর অনুরূপ কিছু আগে রচিত হয়নি, অধ্যায়গুলোর বিন্যাসে এর সমতুল্য কিছু সংকলিত হয়নি এবং এই ধারায় এর মতো কোনো রূপ ইতিপূর্বে প্রকাশ পায়নি।১
আর ইবনে হিশাম তাঁর 'আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' নামক ব্যাখ্যাগ্রন্থে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, তা তিনি তাঁর কিতাবের ভূমিকায় সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। সেগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সারসংক্ষেপ করা যায়:
- 'আল-খুলাসা আল-আলফিয়্যা' কিতাবটি বুঝতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা।
- ইবনে মালিক 'খুলাসা' গ্রন্থে যা উপস্থাপন করেছেন তার অনুরূপ কিছু নিয়ে আসা এবং তিনি যা বাদ দিয়েছেন তা পূর্ণ করা।
- এর শব্দসমূহ ব্যাখ্যা করা এবং এর গঠনশৈলী বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও স্পষ্ট করা।
- তথ্যসমূহ সুবিন্যস্ত করা এবং যে পদ্ধতিতে তিনি চেয়েছেন সে অনুযায়ী সাজানো—যা তিনি তাঁর অন্যান্য রচনায়ও অনুসরণ করেছেন। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট নিয়মগুলোকে একে অপরের সাথে যুক্ত করা, যদিও তা মূল লেখকের বিন্যাস ও বিশ্লেষণের ভিন্ন হয়।
- কিতাবের কোনো মাসআলা এমনভাবে না রাখা যার স্বপক্ষে কোনো কাব্যিক উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়নি যা তাকে স্পষ্ট করে।
ইবনে হিশাম যে ব্যাখ্যার সংকল্প করেছিলেন, 'কিতাবুল খুলাসা আল-আলফিয়্যা' সম্পর্কে আলোচনার পর তিনি সেটির বর্ণনা দিয়ে বলেন: "তবে এটি—অর্থাৎ আলফিয়্যা—তার চরম সংক্ষিপ্ততার কারণে প্রায় ধাঁধার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল—এরপর তিনি তাঁর কাজের বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন—আর আমি এর অন্বেষণকারীকে এমন এক সংক্ষিপ্তসার দ্বারা সাহায্য করেছি যা এর বোধগম্যতার কাছাকাছি নিয়ে আসে।"২ এই কারণেই তাঁর পদ্ধতিটি 'শরহু ক্বাতরুন নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা' এর পদ্ধতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যদিও সেখানে—অর্থাৎ শরহু ক্বাতরুন নাদা-তে—তাঁর ভাষা 'আওদাহুল মাসালিক' অপেক্ষা অধিক বিস্তৃত। কারণ প্রথমটি প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য রচিত হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি পিরামিড সদৃশ স্তরবিন্যাসে 'আল-ই'রাব আন ক্বাওয়া'ইদিল ই'রাব', 'শরহু ক্বাতরুন নাদা ওয়া বাল্লুস সাদা' এবং 'শরহু শযুরিজ জাহাব' এর পরে চতুর্থ স্তরে আসে।
আলেমগণ যখন কিতাবটির বর্ণনাভঙ্গিতে কাঠিন্য খুঁজে পেলেন, যার সংক্ষিপ্ততা অনেক ক্ষেত্রে প্রায় সংকেতের মতো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
من الأحيان، عمدوا إلى شرحه، والتعليق عليه. ولعل أشهر من حشى عليه، الشيخ خالد الأزهري1، وسمى حاشيته "التصريح بمضمون التوضيح".
ويصف الشيخ خالد عمله بعد أن وصف الكتاب بأنه لم يُنسَجْ على منواله: وهو يحتاج إلى شرح يسفر عن وجوه مخدّراته النقاب، ويبرز من خفي مكنوناته ما وراء الحجاب"2. هذا وقد علق على هذه الحاشية الشيخ ياسين العليمي الحمصي3 تعليقات طبعت مع الحاشية والشرح معا.
وأما من علقوا على كتاب "أوضح المسالك" فكثر، منهم: العيني المتوفى سنة 819هـ، والإمام السيوطي المتوفى سنة 911هـ، وابن جماعة المتوفى سنة 919هـ. ومهما يكن من أمر، فإن "أوضح المسالك" يعد من أشهر كتب النحو بشكل عام، ومن أشهر كتب ابن هشام بشكل خاص. وقد عكف عليه الدارسون قديما وحديثا؛ لِما فيه من السهولة في العبارة، والترتيب في الأفكار، وإن كان فيه كثير من الاستطراد.
وقد عني به المرحوم الشيخ محمد محيي الدين عبد الحميد فحققه، وأخرجه مع تعليقات في غاية الأهمية، وإن كان تعليقاته- هو الآخر، لا تخلو من الاستطراد. ثم شرحه الشيخ محمد عبد العزيز النجار شرحين؛ أحدهما: للمبتدئين.
والثاني: لطلاب المعاهد والجامعيين، وسماه: "ضياء السالك إلى أوضح المسالك"، وهو أقل استطرادا في تعليقاته، وأكثر تفصيلا، ووقوفًا على الجزئيات، وأكثر تحليلا للتراكيب والعبارات. وقد استفدنا -في عملنا- من الكتابين. وكثيرا ما عزونا اقتباساتهما وتعليقاتهما إلى أهلها.
--------------------------------------------
তারা মাঝে মাঝে এটি ব্যাখ্যা ও এর ওপর টীকা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্ভবত এর ওপর হাশিয়া (টীকা) প্রদানকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলেন শেখ খালিদ আল-আযহারী১, এবং তিনি তাঁর হাশিয়ার নাম দিয়েছেন "আত-তাসরিহ বি-মাদমুনিত তাওদিহ"।
শেখ খালিদ বইটিকে অতুলনীয় হিসেবে বর্ণনা করার পর তাঁর নিজের কাজ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "এটি এমন এক ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী যা এর অপ্রকাশিত সূক্ষ্ম বিষয়গুলোর পর্দা উন্মোচন করবে এবং এর লুকায়িত গুঢ় তত্ত্বগুলোর অন্তরাল থেকে সেগুলোকে প্রকাশ করবে।"২। এই হাশিয়ার ওপর শেখ ইয়াসিন আল-আলিমি আল-হিমসি৩ এমন কিছু টীকা লিখেছেন যা হাশিয়া এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থের সাথেই একত্রে মুদ্রিত হয়েছে।
আর যারা "আওদাহুল মাসালিক" কিতাবটির ওপর টীকা প্রদান করেছেন তাদের সংখ্যা অনেক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: আল-আইনি (মৃত্যু ৮১৯ হিজরি), ইমাম সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) এবং ইবন জামাআহ (মৃত্যু ৯১৯ হিজরি)। যা-ই হোক না কেন, "আওদাহুল মাসালিক" সাধারণভাবে নাহু বা আরবি ব্যাকরণের অন্যতম বিখ্যাত গ্রন্থ এবং বিশেষভাবে ইবন হিশামের প্রসিদ্ধতম কিতাবগুলোর একটি হিসেবে গণ্য হয়। প্রাচীন ও আধুনিক কালের শিক্ষার্থীরা এর প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেছেন; কারণ এর সহজ সাবলীল ভাষা এবং চিন্তাধারার সুশৃঙ্খল বিন্যাস, যদিও এতে অনেক ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে।
মরহুম শেখ মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ এই কিতাবটির প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছেন এবং এটি সম্পাদনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টীকাসহ এটি প্রকাশ করেছেন, যদিও তাঁর টীকাগুলোও অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘ আলোচনা থেকে মুক্ত নয়। এরপর শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ আন-নাজ্জার এটি দুইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন; তার মধ্যে একটি হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য।
আর দ্বিতীয়টি হলো ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য, যার নাম তিনি দিয়েছেন: "দিয়াউস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক"। এটি টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত কিন্তু অধিক বিস্তারিত, সূক্ষ্ম বিষয়াবলির প্রতি সজাগ এবং বাক্য ও শব্দ গঠনের বিশ্লেষণে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আমরা আমাদের কাজে এই উভয় কিতাব থেকে উপকৃত হয়েছি এবং প্রায়ই তাদের উদ্ধৃতি ও মন্তব্যগুলোকে মূল লেখকের নামে যুক্ত করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وأما اعتمادنا الأول -في عملنا- فكان على "شرح التصريح"، وحاشية ياسين الحمصي عليه، وعلى حاشية الصبان، واقتبسنا كثيرا من الفوائد والتوجيهات من شرح الأشموني، وعلى شرح ابن عقيل، وعلى الدرر اللوامع، للشنقيطي، وعلى المغني لابن هشام وعلى كتب أخرى ذكرت في حواشي الكتاب.
وقد سِرْنَا -في أثنا عملنا- وفق الخطة التي رسمناها لتحقيق مؤلفات ابن هشام وغيرها، وقد أوضحناها في التمهيد.
وقد سمينا عملنا هذا "مصباح السالك إلى أوضح المسالك" متضرعين إلى الله تعالى أن يسلكنا سبيل العلماء العاملين المخلصين. وأن ينفعنا بما علمنا، وأن يبعد عنا الجهل، والفسوق والعصيان، وأن يجنبنا الهوى، والزيغ، والبهتان. وأن يكرمنا بالتقوى، ويجملنا بالعافية ما أحيانَا. وأن يبارك لنا فيما آتانا. وأن يمدنا بالصبر والثبات؛ لِنتم الطريق الذي بدأنا. وصلى الله وسلم على سيدنا محمد، وعلى آله وصحبه، ومن بهداهم اقتدى، والحمد لله أولا وآخرا.
بركات يوسف هبود.
بيروت في 22/ صفر/ 1414هـ. الموافق لـ 9/ آب/ 1993م.
আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আমাদের প্রধান নির্ভরতা ছিল "শরহুত তাসরিহ", এর উপর ইয়াসিন আল-হিমসির হাশিয়া, এবং সাব্বানের হাশিয়ার ওপর। আমরা আশমুনীর শরহ, ইবনে আকীলের শরহ, শানকিতীর "আদ-দুরারুল্লাওয়ামি", ইবনে হিশামের "আল-মুগনি" এবং কিতাবটির পাদটীকায় উল্লিখিত অন্যান্য গ্রন্থ থেকে অনেক ফায়দা ও নির্দেশনা গ্রহণ করেছি।
আমরা আমাদের কাজ চলাকালীন ইবনে হিশাম এবং অন্যদের রচনাবলি তাহকীক (সম্পাদনা) করার জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম সেই অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি, যা আমরা মুখবন্ধে স্পষ্ট করেছি।
আমরা আমাদের এই কাজের নাম দিয়েছি "মিসবাহুস সালিক ইলা আওদাহিল মাসালিক", মহান আল্লাহর কাছে এই বিনম্র প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন আমাদের মুখলিস ও আমলকারী আলেমদের পথে পরিচালিত করেন। তিনি যেন আমাদের যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করেন এবং আমাদের থেকে মূর্খতা, পাপাচার ও অবাধ্যতা দূর করে দেন। তিনি যেন আমাদের কুপ্রবৃত্তি, বিভ্রান্তি ও অপবাদ থেকে বাঁচিয়ে রাখেন। তিনি যতদিন আমাদের জীবিত রাখেন, আমাদের তাকওয়া দ্বারা সম্মানিত করেন এবং আফিয়াত (সুস্থতা) দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত করেন। তিনি আমাদের যা দিয়েছেন তাতে বরকত দান করেন। তিনি আমাদের ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করেন যেন আমরা যে পথ শুরু করেছি তা সম্পন্ন করতে পারি। আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাদের হেদায়াতের অনুসরণ করে, তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর আদিতে ও অন্তে যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
বারাকাত ইউসুফ হাব্বুদ।
বৈরুত, ২২ সফর ১৪১৪ হিজরি, মোতাবেক ৯ আগস্ট ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مقدمة المؤلف:
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين1، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على سيدنا محمد خاتم النبيين، وإمام المتقين، وقائد الغر2 المحجلين3، وعلى آله4 وصحبه أجمعين، صلاة وسلامًا5 دائمين بدوام السموات والأرضين6.
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকা:
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য১, এবং সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যিনি নবীদের সিলমোহর, মুত্তাকীদের ইমাম এবং উজ্জ্বল ললাট ও দীপ্ত হস্তপদবিশিষ্ট মুমিনদের২ নেতা৩; আর বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন৪ এবং সকল সাহাবীর ওপর; এমন রহমত ও শান্তি৫ যা আসমান ও জমিনসমূহ৬ বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত চিরস্থায়ী হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
أما1 بعد حمد الله مستحق الحمد وملهمه2، ومنشئ الخلق ومعدمه، والصلاة والسلام على أشرف الخلق وأكرمه، المنعوت بأحسن الخلق3 وأعظمه4، محمد5، نبيه، وخليله وصفيه، وعلى آله وأصحابه، وأحزابه وأحبابه، فإن كتاب الخلاصة الألفية، في علم العربية6، نظم الإمام العلامة جمال الدين أبي عبد الله محمد بن مالك الطائي7، رحمه الله، كتاب صغر
--------------------------------------------
অতঃপর১ সকল প্রশংসার হকদার এবং প্রশংসার অনুপ্রেরণা দানকারী২ আল্লাহর প্রশংসার পর, যিনি সৃষ্টির উদ্ভাবক ও বিনাশকারী; এবং সৃষ্টির সর্বাধিক সম্মানিত ও শ্রেষ্ঠ সত্তার ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক, যিনি সর্বোত্তম চরিত্র৩ ও মহানতম গুণের৪ অধিকারী হিসেবে গুণান্বিত, (যিনি হলেন) মুহাম্মদ৫, তাঁর নবী, খলীল ও মনোনীত বান্দা; আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ, তাঁর দলভুক্তগণ ও প্রিয়জনদের ওপর। নিশ্চয়ই আরবি ভাষা বিজ্ঞানের৬ অন্তর্গত 'আল-খুলাসাহ আল-আলফিয়্যাহ' কিতাবটি, যা ইমাম আল্লামা জামালুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মালিক আত-তায়ী৭ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাব্যিক রচনা, তা আয়তনে ছোট হলেও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক - তাহকীক হাব্বুদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
حجمًا، وغزر علمًا، غير1 أنه لإفراط الإيجاز2، قد كان يعد من جملة الألغاز.
وقد أسعفت3 طالبيه، بمختصر يُدانيه4، وتوضيح يسايره ويباريه5، أحل به ألفاظه وأوضح معانيه، وأحلل به تراكيبه، وأنقح مبانيه6، وأعذب به موارده، وأعقل به شوارده7، ولا أخلي منه مسألة شاهد أو تمثيل، وربما أشير فيه إلى خلاف أو نقد أو تعليل، ولم آل جهدًا8 في توضيحه وتهذيبه، وربما خالفته في تفصيله وترتيبه وسميته:
"أوضح المسالك، إلى ألفية ابن مالك".
وبالله أعتصم9، وأسأله العصمة مما يصم10، لا رب غيره، وما مأمول إلا خيره، عليه توكلت، وإليه أنيب.
--------------------------------------------
আয়তনে ছোট, কিন্তু জ্ঞানে সমৃদ্ধ; তবে এর অত্যধিক সংক্ষিপ্ততার কারণে একে ধাঁধার অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা হতো।
আমি এর জ্ঞানান্বেষীদের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত ভাষ্য তৈরি করে সাহায্য করেছি যা এর বিষয়বস্তুর নিকটবর্তী এবং একটি ব্যাখ্যা যা এর সমান্তরাল ও প্রতিদ্বন্দ্বী। এর মাধ্যমে আমি এর শব্দসমূহ বিশ্লেষণ করেছি, এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করেছি, এর বাক্যগঠন উন্মোচন করেছি এবং এর মূলভিত্তিগুলোকে পরিমার্জিত করেছি। আমি এর উৎসগুলোকে সুপেয় করেছি এবং এর বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ ও একত্রিত করেছি। আমি এতে কোনো উদাহরণের প্রয়োগ বা কাব্যিক সাক্ষ্য বাদ দিইনি। অনেক ক্ষেত্রে এতে মতভেদ, সমালোচনা বা কারণ দর্শানোর (তালিল) প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আমি এটি স্পষ্ট করতে এবং পরিমার্জিত করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। কখনো কখনো আমি এর বিস্তারিত বর্ণনা এবং বিন্যাসে মূল গ্রন্থের বিরোধিতা করেছি। আমি এর নামকরণ করেছি:
"আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনে মালিক" (ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর সহজতম পথ)।
আর আমি আল্লাহরই আশ্রয় গ্রহণ করছি এবং তাঁর কাছে দোষণীয় বিষয় থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি। তিনি ছাড়া কোনো পালনকর্তা নেই এবং তাঁর কল্যাণ ব্যতীত কোনো প্রত্যাশা নেই। আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করছি।
--------------------------------------------