(খণ্ড: ১)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: -)
الملل والنحل القسم: العقيدة
الكتاب: الملل والنحل
المؤلف: أبو الفتح محمد بن عبد الكريم بن أبى بكر أحمد الشهرستاني (ت 548هـ)
الناشر: مؤسسة الحلبي
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল বিভাগ: আক্বীদা
গ্রন্থ: আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
লেখক: আবুল ফাতাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারিম বিন আবি বকর আহমাদ আশ-শাহরাস্তানি (মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল হালাবি
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিলপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٣)
المجلد الأول
مقدمات
مقدمة التعريف بكتاب الملل والنحل…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة تعريف بكتاب "الملل والنحل":
موضوع هذا الكتاب دراسة الأديان والمذاهب والفرق. ويعتبر هذا الكتاب فريدا في بابه، بل هو عمدة في هذا الموضوع، فهو دائرة معارف مختصرة للأديان والمذاهب والفرق؛ بل للآراء والفلسفة.
وقد نال هذا الكتاب من الشهرة قدرا عظيما، وذلك من علماء الشرق والغرب على السواء. فيقول عالم جليل مثل ابن السبكي عنه: "هو عندي خير كتاب صنف في هذا الباب". ويقول العالم الإنجليزي الأستاذ "ألفرد جيوم" عن هذا الكتاب: "إنه ظل المخلص الوافي، الذي تبوب فيه الملل على اختلافها وخصائص ومميزات كل منها مما يجعله بحيث لا يمكن الاستغناء عنه في أي زمان".
وأما "هابركر" الألماني فيقول: "بوساطة الشهرستاني في كتابه الملل والنحل نستطيع أن نسد الثغرة التي في تاريخ الفلسفة بين القديم والحديث".
تعريف بالمؤلف:
اسمه محمد بن عبد الكريم بن أحمد. وكنيته أبو الفتح، وشهرته المعروف بها الشهرستاني؛ نسبة إلى بلدة "شهرستان" مسقط رأسه، ومثوى رفاته.
أما مولده، فقد اختلف في تاريخه، فمن قائل يقول إنه ولد سنة 467هـ وقائل يذهب إلى أنه ولد سنة 469هـ.
প্রথম খণ্ডভূমিকাআল-মিলাল ওয়ান-নিহাল গ্রন্থের পরিচিতিমূলক ভূমিকা…পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
"আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল" গ্রন্থের পরিচিতিমূলক ভূমিকা:
এই গ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু হলো ধর্ম, মতাদর্শ ও বিভিন্ন দল-উপদল সংক্রান্ত অধ্যয়ন। এই গ্রন্থটি নিজ ক্ষেত্রে অনন্য হিসেবে বিবেচিত, বরং এটি এই বিষয়ের একটি প্রধান অবলম্বন। এটি ধর্ম, মতাদর্শ ও দলসমূহ—এমনকি বিভিন্ন দর্শন ও মতামতের একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ।
এই গ্রন্থটি প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য উভয় অঞ্চলের পণ্ডিতদের নিকট সমানভাবে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছে। ইবনে সুবকির মতো একজন মহান আলেম এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন: "আমার নিকট এই বিষয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটিই শ্রেষ্ঠ।" ইংরেজ পণ্ডিত অধ্যাপক "আলফ্রেড গুইয়োম" এই গ্রন্থ সম্পর্কে বলেন: "এটি একটি বিশ্বস্ত ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হিসেবে টিকে রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাস এবং তাদের স্বকীয়তা ও বৈশিষ্ট্যগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা একে যেকোনো সময়ের জন্য অপরিহার্য করে তুলেছে।"
আর জার্মান পণ্ডিত "হাবারকার" বলেন: "শাহরাস্তানি তাঁর 'আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল' গ্রন্থের মাধ্যমে দর্শনের ইতিহাসে প্রাচীন ও আধুনিক যুগের মধ্যকার শূন্যস্থান পূরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।"
লেখকের পরিচিতি:
তাঁর নাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন আহমদ। তাঁর উপনাম আবু ফাতহ, এবং তিনি 'শাহরাস্তানি' হিসেবেই সমধিক পরিচিত; তাঁর জন্মস্থান ও সমাধিস্থল 'শাহরাস্তান' শহরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেই তাঁকে এই নামে ডাকা হয়।
তাঁর জন্মসাল নিয়ে মতভেদ রয়েছে; কেউ বলেন তিনি ৪৬৭ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেছেন, আবার কারো মতে তাঁর জন্ম ৪৬৯ হিজরিতে।
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٤)
ولعل أصدق الأقوال أنه ولد سنة 479هـ وتوفي في شعبان سنة 548هـ الموافق 1153م، وبذلك يكون قد عاش 70 سنة.
والشهرستاني من حيث المذهب شافعي، ومن حيث الأصول أشعري. وقد تلقى الفقه على شيخه "أحمد الخوافي" قاضي طوس، وزميل الإمام الغزالي. وقرأ الأصول على "أبي القاسم الأنصاري" الذي كان متكلما وشيخا متصوفا ومفسرا وأصوليا. وسمع الحديث على "أبي الحسن المدائني" الإمام التقي.
وكان الشهرستاني مولعا بطلب العلم، بدأ نبوغه في تحصيل العلوم وشغفه بالدروس منذ صغره، وكان لا يدخر في طلب العلم وسعا، فكان يطوف بالبلاد الإسلامية في عصره يتعلم ويعلم، وظل ذلك حاله، حتى بلغ من العمر ثلاثين عاما قصد مكة المكرمة لأداء فريضة الحج، وبعد ذلك سافر إلى بغداد حيث استقر بها ثلاث سنوات كانت حافلة بما ألقاه من دروس نافعة بالمدرسة "النظامية" أعلى المدارس ببغداد، حيث يلتف حوله كبار العلماء للاستفادة منه.
وبلغ من جلال مجالسه العلمية أنها كانت تسجل وتدون، وذلك لعمقها. ومن صفوة الشيوخ الذين كانوا يحضرون هذه المجالس: أبو الحسن بن حمويه، والبيهقي، والإمام أبو منصور، وموفق الدين أحمد الليثي، وشهاب الدين الواعظ، وغيرهم من أئمة الفقه والعلم.
وخلاصة القول أن الشهرستاني وصل إلى قمة السلم العلمي وأربى عليها، فقد لقب بالإمام، بل بالإمام الأفضل. يقول ابن السبكي:
"وكان لعلمه يلقب أيضا بالأفضل: برع في الفقه والأصول والكلام" ويقول عنه ابن تغرى بردي: "كان إمام عصره في علم الكلام، عالما بفنون كثيرة من العلوم، وبه تخرج جماعة من العلماء". ويقول عنه ياقوت إنه "المتكلم الفيلسوف صاحب التصانيف".
সম্ভবত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মত অনুযায়ী তিনি ৪৭৯ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৪৮ হিজরির শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন, যা ১১৫৩ খ্রিস্টাব্দের সমসাময়িক। এভাবে তিনি সত্তর বছর জীবনকাল অতিবাহিত করেন।
শাহরাস্তানি মাযহাবের দিক থেকে শাফেয়ী এবং উসূলের (আকিদার) দিক থেকে আশআরী ছিলেন। তিনি তুসের বিচারক এবং ইমাম গাজালীর সহপাঠী শায়খ আহমদ আল-খাওয়াফির নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি আবু কাসিম আল-আনসারীর নিকট উসূল পাঠ করেন, যিনি একজন মুতাকাল্লিম (তত্ত্ববিদ), সুফি শায়খ, মুফাসসির এবং উসূলবিদ ছিলেন। আর তিনি মুত্তাকী ইমাম আবু হাসান আল-মাদায়িনীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।
শাহরাস্তানি জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। শৈশব থেকেই জ্ঞানার্জনে তার প্রতিভা এবং পাঠের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তিনি ইলম অন্বেষণে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখতেন না। তিনি সমসাময়িক মুসলিম ভূখণ্ডগুলোতে জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে পরিভ্রমণ করতেন এবং ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই অতিবাহিত করেন। অতঃপর তিনি হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা অভিমুখে যাত্রা করেন। এরপর তিনি বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে তিন বছর অবস্থান করেন। এ সময়টি বাগদাদের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ 'নিজামিয়া' মাদরাসায় তার প্রদত্ত উপকারী দরসগুলোর মাধ্যমে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ছিল, যেখানে প্রথিতযশা আলেমগণ তার থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য সমবেত হতেন।
তার ইলমি মজলিসগুলোর মহিমা ও গভীরতার কারণে সেগুলো লিপিবদ্ধ ও সংকলন করা হতো। এই মজলিসগুলোতে উপস্থিত হওয়া বরেণ্য শায়খদের মধ্যে ছিলেন: আবু হাসান বিন হামুয়াহ, বাইহাকী, ইমাম আবু মানসুর, মুওয়াফফাকুদ্দীন আহমদ আল-লাইসী, শিহাবুদ্দীন আল-ওয়ায়েজ এবং ফিকহ ও ইলমের অন্যান্য ইমামগণ।
সারকথা হলো, শাহরাস্তানি পাণ্ডিত্যের চরম শিখরে পৌঁছেছিলেন এবং তা অতিক্রম করেছিলেন। তাকে 'ইমাম', এমনকি 'ইমামুল আফজাল' (শ্রেষ্ঠ ইমাম) উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। ইবনে সুবকী বলেন:
"তার জ্ঞানের কারণে তাকে 'আল-আফজাল' উপাধিও দেওয়া হয়েছিল; তিনি ফিকহ, উসূল এবং কালাম শাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন।" ইবনে তাগরি বারদি তার সম্পর্কে বলেন: "তিনি কালাম শাস্ত্রে স্বীয় যুগের ইমাম ছিলেন, বহুবিদ বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং তার মাধ্যমে একদল আলেম তৈরি হয়েছিল।" ইয়াকুত তার সম্পর্কে বলেন যে, তিনি হলেন "মুতাকাল্লিম, দার্শনিক এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা।"
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٥)
ولم يقتصر الأمر على علماء الشرق، فقد عرف علماء الغرب أيضا منزلته وقدروا قدره. فيقول العالم الإنجليزي "ألفرد جيوم": "الشهرستاني كان رجلا دينا إلى الأعماق، وإخلاصه للعقيدة لا يمكن أن يشك فيه أي إنسان قرأ مؤلفاته، التي تكفي بنفسها لدحض ادعاءآت المنتقصين من شأنه
… وهو جدير بأن ينظر إليه باعتباره ذا أصالة فكرية".
ويقول "كارادي" الفرنسي: "إن عقلية الشهرستاني لم تكن في جوهرها إلا عقلية فلسفية".
وذهب الشيخ مصطفى عبد الرازق إلى أن الشهرستاني من أهل الفلسفة الإسلامية اللذين يستشهد بآرائهم، مثله مثل ابن سينا.
مؤلفاته:
للشهرستاني عديد من المؤلفات فله:
1- الإرشاد إلى عقائد العباد: ذكره الشهرستاني نفسه في كتابه "نهاية الأقدام".
2- الأقطار في الأصول: نسبه إلى الخوارزمي.
3- تاريخ الحكماء: وقد نسبه إليه "كيورتن" في مقدمته لطبعته لكتاب "الملل والنحل".
4- تلخيص الأقسام لمذاهب الأنام: نسبه إليه ابن خلكان وأبو الفداء، وحاجي خليفة.
5- دقائق الأوهام: نسبه إليه الخوارزمي.
6- شرح سورة يوسف بعبارة فلسفية لطيفة: نسبه إليه الخوارزمي.
7- العيون والأنهار: نسبه إليه البيهقي.
বিষয়টি কেবল প্রাচ্যের আলেমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং পাশ্চাত্যের পণ্ডিতগণও তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতেন এবং তাঁর যোগ্যতার মূল্যায়ন করতেন। ইংরেজ পণ্ডিত "আলফ্রেড গুইলাম" বলেন: "শাহরাস্তানি ছিলেন অন্তরের গভীর থেকে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ, এবং আকিদার প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতা নিয়ে এমন কোনো ব্যক্তি সন্দেহ করতে পারে না যে তাঁর রচনাবলি পাঠ করেছে। তাঁর এই রচনাবলিই তাঁর মর্যাদাহানিকারীদের দাবি নস্যাৎ করার জন্য যথেষ্ট
… এবং তিনি তাঁর চিন্তাশীল মৌলিকত্বের বিচারে মূল্যায়িত হওয়ার যোগ্য।"
ফরাসি পণ্ডিত "কারা ডি ভক্স" বলেন: "শাহরাস্তানির মানসিকতা মূলত একটি দার্শনিক মানসিকতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।"
শায়খ মোস্তফা আব্দুল রাজ্জাক এই মত পোষণ করেছেন যে, শাহরাস্তানি ইসলামী দর্শনের সেই সকল পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত যাঁদের মতামতের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়, যেমন ইবনে সিনার উদ্ধৃতি দেওয়া হয়।
তাঁর রচনাবলি:
শাহরাস্তানির অনেকগুলো গ্রন্থ রয়েছে, তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
১- আল-ইরশাদ ইলা আকাইদিল ইবাদ: শাহরাস্তানি নিজেই তাঁর "নিহায়াতুল আকদাম" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
২- আল-আকতার ফিল উসুল: খুওয়ারিজমি এটিকে তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
৩- তারিখুল হুকামা: "কিউরটন" তাঁর সম্পাদিত "আল-মিলাল ওয়ান নিহাল" গ্রন্থের মুদ্রণের ভূমিকায় এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
৪- তালখিসুল আকসাম লি-মাজাহিবিল আনাম: ইবনে খাল্লিকান, আবুল ফিদা এবং হাজি খলিফা এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
৫- দাকায়িকুল আওহাম: খুওয়ারিজমি এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
৬- শারহু সুরাতি ইউসুফ বি-ইবারাতিন ফালসাফিয়্যাতিন লাতিফাহ: খুওয়ারিজমি এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
৭- আল-উয়ুন ওয়াল আনহার: বাইহাকি এটি তাঁর দিকে নিসবত করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٦)
8- غاية المرام في علم الكلام: نسبه إليه الخوارزمي.
9- قصة موسى والخضر: نسبه إليه البيهقي.
10- المبدأ والمعاد: نسبه إليه الخوارزمي.
11- مجالس مكتوبة: رآها البيهقي -وكانت المجالس لا تكتب إلا للأئمة نادرا.
12- مصارعة الفلاسفة، أو المصارعة والمضارعة: نسبه إليه صدر الدين الشيرازي.
13- مفاتيح الأسرار ومصابيح الأبرار في تفسير القرآن: نسبه إليه البيهقي.
14- المناهج والآيات: نسبه إليه البيهقي وابن خلكان وأبو الفداء.
15- شبهان أرسطا طاليس وابن سينا ونقضها: ذكره الشهرستاني نفسه.
16- نهايات الأوهام: أشار إليه الشهرستاني في آخر كتابه نهاية الأقدام.
غير أنه مما يدعو إلى الأسف أن هذه الكتب لم تصل إلى أيدينا. ولم يطبع للشهرستاني إلا كتابان فقط هما:
1- نهاية الأقدام في علم الكلام.
2- والكتاب الذي بين أيدينا "الملل والنحل"، وقد ألفه الشهرستاني بعد أن اكتملت مكانته العلمية، ومكنته سنه من التجربة والتعمق في الأمور وحسن الاستنتاج؛ حيث ألفه بعد سن الأربعين.
ويمتاز هذا الكتاب بالاستقصاء في البحث، والدقة في الموضوعات التي يتناولها. والشهرستاني معتدل في الأحكام التي يصدرها في هذا السفر، فلا يصدرها عن ميل أو هوى، فهو يقول في المقدمة الثانية منه: "وشرطي على نفسي أن أورد مذهب كل فرقة على وحدته في كتبهم؛ من غير تعصب لهم، ولا كسر عليهم".
ومنهج الشهرستاني في هذا الكتاب يمتاز بالإحاطة التامة لموضوع البحث من جميع أطرافه.
৮- গায়াতুল মারাম ফী ইলমিল কালাম: খাওয়ারিজমি এটি তাঁর রচিত বলে নিসবত করেছেন।
৯- কিসসাতু মূসা ওয়াল খিদর: বায়হাকী এটি তাঁর রচিত বলে উল্লেখ করেছেন।
১০- আল-মাবদা ওয়াল মাআদ: খাওয়ারিজমি এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।
১১- মাজালিস মাকতুবা: বায়হাকী এটি দেখেছেন—আর মজলিসসমূহ খুব কমই কেবল ইমামদের জন্য লিপিবদ্ধ করা হতো।
১২- মুসারাআতুল ফালাসিফাহ, অথবা আল-মুসারাআ ওয়াল মুদারাআ: সদরুদ্দীন আশ-শিরাজী এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।
১৩- মাফাতীহুল আসরার ওয়া মাসাবীহুল আবরার ফী তাফসীরিল কুরআন: বায়হাকী এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।
১৪- আল-মানাহিজ ওয়াল আয়াত: বায়হাকী, ইবনে খাল্লিকান এবং আবুল ফিদা এটি তাঁর প্রতি নিসবত করেছেন।
১৫- শুবুহান আরিসতু তালীস ওয়া ইবনু সিনা ওয়া নাকদুহা: শাহরাস্তানি নিজেই এটি উল্লেখ করেছেন।
১৬- নিহায়াতুল আওহাম: শাহরাস্তানি তাঁর 'নিহায়াতুল ইকদাম' কিতাবের শেষে এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
তবে এটি পরিতাপের বিষয় যে, এই কিতাবগুলো আমাদের হস্তগত হয়নি। শাহরাস্তানির কিতাবসমূহের মধ্যে কেবল দুটি কিতাবই মুদ্রিত হয়েছে, সেগুলো হলো:
১- নিহায়াতুল ইকদাম ফী ইলমিল কালাম।
২- এবং বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা এই কিতাব "আল-মিলাল ওয়ান-নিহাল"। শাহরাস্তানি এটি তাঁর ইলমী মর্যাদা পূর্ণতা লাভের পর রচনা করেছেন, যখন তাঁর বয়স তাঁকে অভিজ্ঞতালব্ধ গভীরতা এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার সক্ষমতা দান করেছিল; কেননা তিনি এটি চল্লিশ বছর বয়সের পর রচনা করেছিলেন।
এই কিতাবটি গবেষণার ব্যাপকতা এবং আলোচিত বিষয়বস্তুর সূক্ষ্মতার জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। শাহরাস্তানি এই গ্রন্থে প্রদত্ত সিদ্ধান্তসমূহে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি কোনো ঝোঁক বা প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে তা প্রদান করেননি। তিনি এর দ্বিতীয় ভূমিকায় বলেছেন: "আমি নিজের ওপর এই শর্তারোপ করেছি যে, প্রতিটি দলের মতবাদ তাদের কিতাবসমূহে যেভাবে আছে সেভাবেই উপস্থাপন করব; তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে এবং তাদের খণ্ডন করার উদ্দেশ্য ছাড়াই।"
এই গ্রন্থে শাহরাস্তানির কর্মপদ্ধতি হলো গবেষণার বিষয়বস্তুকে সকল দিক থেকে পরিপূর্ণভাবে বেষ্টন করা।
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٧)
ولعلنا بعد ما قدمناه من أدلة على منزلة الشهرستاني العلمية نقول -ما قاله أستاذنا الكبير الدكتور محمد بن فتح الله بدران: "لعله قد آن لنا أن نقرر في يقين واطمئنان أن الشهرستاني أقام بمفرده مدرسة "فلسفية" للملل والنحل أو تاريخ الأديان".
ونسأل الله العلي القدير أن ينفع به كل طالب للمعرفة وباحث عن طريق الحق والهدى.
عبد العزيز الوكيل
সম্ভবত শাহরাস্তানির জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদার বিষয়ে আমরা যে সকল প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছি, এরপর আমরা আমাদের মহান উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মাদ ইবনে ফাতহুল্লাহ বদরানের সেই উক্তিটিই করতে পারি: "সম্ভবত আমাদের জন্য এখন পূর্ণ নিশ্চয়তা ও প্রশান্তির সাথে এটি সাব্যস্ত করার সময় এসেছে যে, শাহরাস্তানি এককভাবেই 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' বা ধর্মসমূহের ইতিহাসের একটি 'দার্শনিক' ধারা প্রতিষ্ঠা করেছেন।"
আমরা সুউচ্চ ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর মাধ্যমে প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষী এবং সত্য ও হিদায়াতের পথ অনুসন্ধানকারীকে উপকৃত করেন।
আবদুল আজিজ আল-ওয়াকিল
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٩)
مقدمات المؤلف
مدخل…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله حمد الشاكرين بجميع محامده كلها؛ على جميع نعمائه كلها، حمدا كثيرا طيبا مباركا كما هو أهله. وصلى الله على محمد المصطفى رسول الرحمة خاتم النبيين وعلى آله الطيبين الطاهرين؛ صلاة دائمة بركتها إلى يوم الدين، كما صلى على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنه حميد مجيد.
وبعد: فلما وفقني الله تعالى لمطالعة مقالات أهل العلم من أرباب الديانات والملل1، وأهل الأهواء والنحل2، والوقوف على مصادرها ومواردها، واقتناص أوانسها3 وشواردها4، أردت أن أجمع ذلك في مختصر يحوي جميع ما تدين به المتدينون، وانتحله5 المنتحلون؛ عبرة لمن استبصر، واستبصارا لمن اعتبر.
وقبل الخوض فيما هو الغرض لا بد من أن أقدم خمس مقدمات:
المقدمة الأولى: في بيان أقسام أهل العالم جملة مرسلة6.
المقدمة الثانية: في تعيين قانون يبنى عليه تعديد الفرق7 الإسلامية.
المقدمة الثالثة: في بيان أول شبهة وقعت في الخليقة، ومن مصدرها، ومن مظهرها؟
--------------------------------------------
লেখকের ভূমিকাপ্রবেশিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত কৃতজ্ঞতাপূর্ণ প্রশংসার মাধ্যমে, তাঁর সকল নিআমতের ওপর; এমন অধিক, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা যা তাঁর শানের উপযোগী। এবং আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক মনোনীত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি দয়ার রাসূল ও শেষ নবী, এবং তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধরদের প্রতি; এমন রহমত যার বরকত কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যেমন তিনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম ও ইব্রাহীমের বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তিনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।
অতঃপর: যখন আল্লাহ তাআলা আমাকে বিভিন্ন ধর্ম ও মিল্লাতের১ আলেমদের মতামত এবং প্রবৃত্তিপূজারি ও বিভিন্ন মতবাদের২ অনুসারীদের বক্তব্যসমূহ পর্যালোচনার তাওফীক দিলেন এবং সেগুলোর উৎস ও নির্গমস্থল সম্পর্কে অবগতি ও সেগুলোর মূল্যবান তথ্য৩ এবং বিরল বিষয়সমূহ৪ আহরণের সুযোগ দিলেন, তখন আমি এ সকল বিষয়কে একটি সংক্ষিপ্তসারে সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করলাম, যাতে ধার্মিকদের অনুসৃত সকল ধর্মবিশ্বাস এবং দাবিদারদের৫ কৃত দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে; যা দূরদৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য শিক্ষা এবং উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য অন্তর্দৃষ্টি লাভের মাধ্যম হবে।
মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশের পূর্বে পাঁচটি ভূমিকা পেশ করা আবশ্যক:
প্রথম ভূমিকা: জগতের অধিবাসীদের সামগ্রিক৬ শ্রেণীবিভাগ বর্ণনা প্রসঙ্গে।
দ্বিতীয় ভূমিকা: একটি মূলনীতি নির্ধারণ প্রসঙ্গে, যার ওপর ভিত্তি করে ইসলামি দলসমূহের৭ সংখ্যা গণনা করা হবে।
তৃতীয় ভূমিকা: সৃষ্টিজগতের মধ্যে প্রথম যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছিল এবং তার উৎস ও বহিঃপ্রকাশকারী কে—তা বর্ণনা প্রসঙ্গে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المقدمة الرابعة: في بيان أول شبهة وقعت في الملة الإسلامية، وكيفية انشعابها1، ومن مصدرها، ومن مظهرها؟
المقدمة الخامسة: في بيان السبب الذي أوجب ترتيب هذا الكتاب على طريق الحساب.
--------------------------------------------
চতুর্থ ভূমিকা: ইসলামি মিল্লাতে উদ্ভূত প্রথম সংশয়, এর শাখা-প্রশাখা বিস্তারের পদ্ধতি, এর উৎস এবং এর বিকাশকারী সম্পর্কে।
পঞ্চম ভূমিকা: এই গ্রন্থটিকে গাণিতিক পদ্ধতিতে বিন্যস্ত করার অপরিহার্য কারণ বর্ণনায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٠)
المقدمة الأولى:في بيان تقسيم أهل العالم جملة مرسلة:
1- من الناس من قسم أهل العالم بحسب الأقاليم السبعة. وأعطى أهل كل إقليم حظه من اختلاف الطبائع والأنفس التي تدل عليها الألوان والألسن1.
2- ومنهم من قسمهم بحسب الأقطار الأربعة التي هي: الشرق، والغرب، والجنوب، والشمال. ووفر على كل قطر حقه من اختلاف الطبائع، وتباين الشرائع.
3- ومنهم من قسمهم بحسب الأمم، فقال كبار الأمم أربع: العرب، والعجم، والروم، والهند، ثم زاوج2 بين أمة وأمة؛ فذكر أن العرب والهند يتقاربان على مذهب واحد، وأكثر ميلهم إلى تقرير خواص الأشياء والحكم بأحكام الماهيات3 والحقائق، واستعمال الأمور الروحانية. والروم والعجم يتقاربان على مذهب واحد، وأكثر ميلهم إلى تقرير طبائع الأشياء والحكم بأحكام الكيفيات4 والكميات5، واستعمال الأمور الجسمانية.
4- ومنهم من قسمهم بحسب الآراء والمذاهب. وذلك غرضنا في تأليف هذا الكتاب. وهم منقسمون بالقسمة الصحيحة الأولى إلى أهل الديانات والملل، وأهل الأهواء والنحل.
--------------------------------------------
প্রথম ভূমিকা:সমগ্র বিশ্বের অধিবাসীদের সাধারণ বিভাজন বর্ণনায়:
১- মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বিশ্বের অধিবাসীদের সাতটি জলবায়ু অঞ্চল অনুযায়ী বিভক্ত করেছেন। এবং তারা প্রতিটি অঞ্চলের অধিবাসীদের স্বভাব ও আত্মার বৈচিত্র্যের সেই অংশটি প্রদান করেছেন, যা গাত্রবর্ণ ও ভাষার মাধ্যমে নির্দেশিত হয়।
২- তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদেরকে চারটি দিক অনুযায়ী বিভক্ত করেছেন, যা হলো: পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ এবং উত্তর। এবং প্রতিটি দিকের জন্য স্বভাবের ভিন্নতা ও শরীয়তের বৈচিত্র্যের যথাযথ অংশ নির্ধারণ করেছেন।
৩- তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদেরকে জাতিসমূহের ভিত্তিতে বিভক্ত করেছেন; তারা বলেছেন প্রধান জাতি চারটি: আরব, আজম (অনারব), রোম ও হিন্দ। অতঃপর তারা এক জাতির সাথে অন্য জাতির তুলনা ও সমন্বয় করেছেন; তারা উল্লেখ করেছেন যে, আরব ও হিন্দ একই মতাদর্শের নিকটবর্তী; তাদের অধিকাংশ ঝোঁক বস্তুর বৈশিষ্ট্যসমূহ নিরূপণ করা, সত্তা ও হাকিকতের বিধান অনুযায়ী বিচার করা এবং আধ্যাত্মিক বিষয়াদি ব্যবহারের দিকে। আর রোম ও আজম একই মতাদর্শের নিকটবর্তী; তাদের অধিকাংশ ঝোঁক বস্তুর প্রকৃতি নিরূপণ করা, গুণগত ও পরিমাণগত বিধান অনুযায়ী বিচার করা এবং বস্তুগত বিষয়াদি ব্যবহারের দিকে।
৪- এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদেরকে মত ও আদর্শের ভিত্তিতে বিভক্ত করেছেন। আর এটিই আমাদের এই গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য। তারা প্রথম সঠিক বিভাজন অনুযায়ী ধর্ম ও মিল্লাত অনুসারী এবং প্রবৃত্তি ও মতবাদ অনুসারী—এই দুই ভাগে বিভক্ত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١١)
فأرباب الديانات مطلقا مثل المجوس، واليهود، والنصارى، والمسلمين.
وأهل الأهواء والآراء مثل الفلاسفة، والدهرية1، والصابئة2، وعبدة الكواكب والأوثان، والبراهمة3.
ويفترق كل منهم فرقا. فأهل الأهواء ليست تنضبط مقالاتهم في عدد معلوم. وأهل الديانات قد انحصرت مذاهبهم بحكم الخبر الوارد فيها. فافترقت المجوس على سبعين فرقة واليهود على إحدى وسبعين فرقة. والنصارى على اثنتين وسبعين فرقة. والمسلمون على ثلاث وسبعين فرقة. والناجية أبدا من الفرق واحدة، إذ الحق من القضيتين المتقابلتين في واحدة، ولا يجوز أن تكون قضيتان متناقضتان متقابلتان على شرائع التقابل، إلا وأن تقتسما الصدق والكذب. فيكون الحق في إحداهما دون الأخرى. ومن المحال الحكم على المتخاصمين المتضادين في أصول المعقولات بأنهما محقان صادقان. وإذا كان الحق في كل مسألة عقلية واحدا؛ فالحق في جميع المسائل يجب أن يكون مع فرقة واحدة وإنما عرفنا هذا بالسمع، وعنه أخبر التنزيل في قوله عز وجل: {وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ} 4 وأخبر النبي عليه السلام: "ستفترق أمتي على ثلاث وسبعين فرقة، الناجية منها واحدة، والباقون هلكى. قيل: ومن الناجية؟ قال: أهل السنة والجماعة. قيل: وما السنة والجماعة؟ قال: ما أنا عليه اليوم وأصحابي".
وقال عليه السلام: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق إلى يوم القيامة" وقال عليه السلام: "لا تجتمع أمتي على ضلالة".
--------------------------------------------
সাধারণভাবে ধর্মাবলম্বীরা যেমন অগ্নিপূজক, ইহুদি, নাসারা এবং মুসলিমগণ।
আর প্রবৃত্তিপূজক ও মতবাদীরা যেমন দার্শনিক, দাহরিয়্যা১, সাবিঈন২, গ্রহ ও মূর্তিপূজক এবং ব্রাহমণগণ৩।
তাদের প্রত্যেকেই বিভিন্ন দলে বিভক্ত। প্রবৃত্তিপূজকদের বক্তব্যসমূহ কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। আর ধর্মাবলম্বীদের মতবাদসমূহ এ সংক্রান্ত বর্ণিত সংবাদের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়েছে। সুতরাং অগ্নিপূজকরা সত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে, ইহুদিরা একাত্তর দলে, নাসারারা বাহাত্তর দলে এবং মুসলিমরা তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হয়েছে। আর এই দলগুলোর মধ্যে চিরকাল কেবল একটি দলই নাজাতপ্রাপ্ত, কেননা দুটি বিপরীতমুখী দাবির মধ্যে কেবল একটিতেই সত্য থাকে। বৈপরীত্যের নিয়ম অনুযায়ী দুটি পরস্পরবিরোধী ও বিপরীতমুখী দাবি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে বিভক্ত হওয়া ছাড়া সম্ভব নয়। অতএব সত্য হবে দুটির একটিতে, অন্যটিতে নয়। বুদ্ধিবৃত্তিক মূলনীতিসমূহে বিবাদমান দুটি পরস্পরবিরোধী পক্ষকে একইসাথে সত্যপন্থী ও সত্যবাদী বলা অসম্ভব। আর যদি প্রতিটি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে সত্য একটিই হয়, তবে সকল বিষয়ে সত্য একটি দলের সাথেই থাকা আবশ্যক। আর আমরা এটি দলিলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, যার সংবাদ মহান আল্লাহ তাঁর অবতীর্ণ কিতাবে দিয়েছেন: "আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্যের পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ীই ইনসাফ করে।"৪ এবং নবী আলাইহিস সালাম সংবাদ দিয়েছেন: "শীঘ্রই আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে কেবল একটি দল নাজাতপ্রাপ্ত হবে আর বাকিরা ধ্বংস হবে। জিজ্ঞেস করা হলো: নাজাতপ্রাপ্ত কারা? তিনি বললেন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত। জিজ্ঞেস করা হলো: সুন্নাত ও জামায়াত কী? তিনি বললেন: আমি ও আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর রয়েছি।"
তিনি আলাইহিস সালাম আরও বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে" এবং তিনি আলাইহিস সালাম বলেছেন: "আমার উম্মত গোমরাহির ওপর ঐক্যবদ্ধ হবে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٢)
المقدمة الثانية:في تعيين قانون يبنى عليه تعديد الفرق الإسلامية:
اعلم أن لأصحاب المقالات طرقا في تعديد الفرق الإسلامية، لا على قانون مستند إلى أصل ونص، ولا على قاعدة مخبرة عن الوجود. فما وجدت مصنفين منهم متفقين على منهاج واحد في تعديد الفرق.
ومن المعلوم الذي لا مراء فيه أن ليس كل من تميز عن غيره بمقالة ما؛ في مسألة ما، عد صاحب مقالة. وإلا فتكاد تخرج المقالات عن حد الحصر والعد. ويكون من انفرد بمسألة في أحكام الجواهر مثلا معدودا في عداد أصحاب المقالات. فلا بد إذن من ضابط في مسائل هي أصول وقواعد يكون الاختلاف فيها اختلافا يعتبر مقالة، ويعد صاحبه صاحب مقالة.
وما وجدت لأحد من أرباب المقالات عناية بتقرير هذا الضابط، إلا أنهم استرسلوا1 في إيراد مذاهب الأمة كيف اتفق، وعلى الوجه الذي وجد، لا على قانون مستقر، وأصل مستمر. فاجتهدت على ما تيسر من التقدير، وتقدر من التيسير حتى حصرتها في أربع قواعد، هي الأصول الكبار.
القاعدة الأولى: الصفات والتوحيد فيها. وهي تشتمل على مسائل: الصفات الأزلية، إثباتا عند جماعة، ونفيا عند جماعة. وبيان صفات الذات، وصفات الفعل، وما يجب لله تعالى، وما يجوز عليه، وما يستحيل، وفيها الخلاف بين الأشعرية، والكرامية، والمجسمة والمعتزلة.
القاعدة الثانية: القدر والعدل فيه، وهي تشتمل على مسائل: القضاء، والقدر، والجبر والكسب، وإرادة الخير والشر، والمقدور، والمعلوم؛ إثباتا عند جماعة، ونفيا
--------------------------------------------
দ্বিতীয় ভূমিকা:ইসলামী দলসমূহের শ্রেণিবিভাগ করার ভিত্তি হিসেবে একটি নীতিমালা নির্ধারণ প্রসঙ্গে:
জেনে রাখুন যে, মতবাদ বিষয়ক গ্রন্থকারগণের নিকট ইসলামী দলসমূহের সংখ্যা নির্ধারণে বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে, যা কোনো মূলনীতি বা অহি-ভিত্তিক দলীল (নস) নির্ভর আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় এবং বাস্তব অস্তিত্বের সংবাদ দানকারী কোনো নিয়মের ওপরও নির্ভরশীল নয়। তাই আমি তাদের মধ্যে এমন দুজন লেখককেও পাইনি যারা দলগুলোর সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন পদ্ধতির ওপর একমত হয়েছেন।
এটি একটি সুবিদিত এবং অনস্বীকার্য বিষয় যে, কোনো নির্দিষ্ট মাসআলায় কোনো বিশেষ মতামতের মাধ্যমে অন্যের থেকে আলাদা হওয়া মাত্রই কাউকে একটি স্বতন্ত্র মতবাদের প্রবক্তা হিসেবে গণ্য করা হয় না। অন্যথায় মতবাদসমূহের সংখ্যা গণনা ও সীমাবদ্ধতার গণ্ডি ছাড়িয়ে যেত। আর উদাহরণস্বরূপ, যে ব্যক্তি কেবল বস্তুর মৌলিক কণার (জাওহার) বিধানাবলী সংক্রান্ত কোনো মাসআলায় একাকী কোনো ভিন্ন মত পোষণ করে, তাকেও স্বতন্ত্র মতবাদের প্রবক্তাদের তালিকায় গণ্য করা হতো। অতএব, এমন কিছু মৌলিক ও নীতিগত মাসআলার ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ড থাকা আবশ্যক, যেগুলোর ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ঘটলে তাকে একটি স্বতন্ত্র মতবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং তার প্রবক্তাকে একজন স্বতন্ত্র মতাবলম্বী হিসেবে গণ্য করা হবে।
আমি মতবাদ বিষয়ক লেখকদের কাউকেই এই মানদণ্ড নির্ধারণে যত্নশীল হতে দেখিনি, বরং তারা উম্মাহর মাযহাবসমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনার১ আশ্রয় নিয়েছেন যেভাবে তা পাওয়া গেছে এবং যে পদ্ধতিতে তা বিদ্যমান ছিল; কোনো সুপ্রতিষ্ঠিত আইন বা সুনির্দিষ্ট মূলনীতির ভিত্তিতে নয়। তাই আমি যথাসম্ভব চেষ্টার মাধ্যমে সেগুলোকে চারটি মূলনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছি, যেগুলো হলো প্রধান প্রধান মূল ভিত্তি।
প্রথম মূলনীতি: আল্লাহর গুণাবলী এবং তাতে তাওহীদ। এটি অনাদি গুণাবলী সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে, যা একদলের নিকট সাব্যস্ত এবং অন্যদলের নিকট অস্বীকৃত। এছাড়া এতে রয়েছে সত্তাগত গুণাবলী ও কর্মগত গুণাবলীর বর্ণনা; আর যা মহান আল্লাহর জন্য আবশ্যক, যা তাঁর ক্ষেত্রে সম্ভব এবং যা তাঁর জন্য অসম্ভব। এ বিষয়েই আশআরিয়াহ, কাররামিয়াহ, মুজাসসিমা এবং মুতাযিলাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
দ্বিতীয় মূলনীতি: তাকদীর এবং তাতে ইনসাফ। এটি ক্বাযা, কদর, জাবর (বাধ্যবাধকতা) ও কাসব (উপার্জন), ভালো ও মন্দের ইচ্ছা, নির্ধারিত বিষয় এবং জ্ঞাত বিষয় সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে; যা একদলের নিকট সাব্যস্ত এবং অন্যদলের নিকট অস্বীকৃত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٣)
عند جماعة. وفيها الخلاف بين: القدرية، والنجارية، والجبرية، والأشعرية، والكرامية.
القاعدة الثالثة: الوعد، والوعيد، والأسماء، والأحكام. وهي تشتمل على مسائل الإيمان، والتوبة، والوعيد، والإرجاء، والتكفير، والتضليل؛ إثباتا على وجه عند جماعة، ونفيا عند جماعة. وفيها الخلاف بين المرجئة، والوعيدية، والمعتزلة، والأشعرية، والكرامية.
القاعدة الرابعة: السمع والعقل، والرسالة، والإمامة. وهي تشتمل على مسائل: التحسين، والتقبيح، والصلاح والأصلح، واللطف، والعصمة في النبوة. وشرائط الإمامة، نصا عند جماعة، وإجماعا عند جماعة. وكيفية انتقالها على مذهب من قال بالنص، وكيفية إثباتها على مذهب من قال بالإجماع. والخلاف فيها بين الشيعة، والخوارج، والمعتزلة والكرامية، والأشعرية.
فإذا وجدنا انفراد واحد من أئمة الأمة بمقالة من هذه القاعدة، عددنا مقالته مذهبا وجماعته فرقة. وإن وجدنا واحدا انفرد بمسالة فلا نجعل مقالته مذهبا، وجماعته فرقة. بل نجعله مندرجا تحت واحد ممن وافق سواها مقالته. ورددنا باقي مقالاته إلى الفروع التي لا تعد مذهبا مفردا؛ فلا تذهب المقالات إلى غير النهاية. فإذا تعينت المسائل التي هي قواعد الخلاف، تبينت أقسام الفرق الإسلامية، وانحصرت كبارها في أربع بعد أن تداخل بعضها في بعض.
كبار الفرق الإسلامية أربع
"1" القدرية. "2" الصفاتية. "3" الخوارج. "4" الشيعة.
ثم يتركب بعضها مع بعض، ويتشعب عن كل فرقة أصناف، فتصل إلى ثلاث وسبعين فرقة.
এক দলের মতে। আর এতে কাদারিয়া, নাজ্জারিয়া, জাবরিয়া, আশআরিয়া এবং কাররামিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
তৃতীয় মূলনীতি: প্রতিশ্রুতি (ওয়াদ), ভীতিপ্রদর্শন (ওয়াইদ), নাম ও বিধানসমূহ। এটি ঈমান, তওবা, ওয়াইদ, ইরজা, তাকফির এবং তাদলিল সংক্রান্ত মাসআলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে; যা একদলের মতে একভাবে সাব্যস্ত এবং অন্যদলের মতে অস্বীকৃত। আর এতে মুরজিয়া, ওয়াইদিয়া, মুতাজিলা, আশআরিয়া এবং কাররামিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
চতুর্থ মূলনীতি: শ্রুতি ও বুদ্ধি, রিসালাত এবং ইমামত। এটি ভালো ও মন্দের যৌক্তিক বিচার, সংশোধন ও অধিকতর কল্যাণকর বিষয়, লুতফ (অনুগ্রহ) এবং নবুয়তের নিষ্পাপতা সংক্রান্ত মাসআলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে। সেইসাথে ইমামতের শর্তাবলি; যা একদলের মতে সুস্পষ্ট বর্ণনা (নস) দ্বারা এবং অন্যদলের মতে ঐকমত্য (ইজমা) দ্বারা সাব্যস্ত। আর যারা নস-এর প্রবক্তা তাদের মতে এটি হস্তান্তরের পদ্ধতি এবং যারা ইজমার প্রবক্তা তাদের মতে এটি প্রমাণের পদ্ধতিও এর অন্তর্ভুক্ত। এই বিষয়ে শিয়া, খারেজি, মুতাজিলা, কাররামিয়া এবং আশআরিয়াদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
যদি আমরা উম্মাহর ইমামদের মধ্য থেকে কাউকে এই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি বক্তব্যে একক হিসেবে পাই, তবে তার বক্তব্যকে আমরা একটি স্বতন্ত্র মাজহাব এবং তার অনুসারীদের একটি ফিরকা হিসেবে গণ্য করব। আর যদি কাউকে একটি বিশেষ মাসআলায় একক হিসেবে পাই, তবে তার বক্তব্যকে মাজহাব এবং তার অনুসারীদের ফিরকা হিসেবে গণ্য করব না। বরং তাকে এমন একজনের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করব যার অন্যান্য বক্তব্যের সাথে তার বক্তব্য মিলে যায়। আর তার অবশিষ্ট বক্তব্যগুলোকে আমরা এমন সব শাখাগত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করব যেগুলোকে স্বতন্ত্র মাজহাব হিসেবে গণ্য করা হয় না; যাতে বক্তব্যগুলো সীমাহীন হয়ে না পড়ে। যখন মতভেদের মূলনীতি হিসেবে মাসআলাগুলো সুনির্ধারিত হল, তখন ইসলামি ফিরকাগুলোর শ্রেণিবিভাগ সুস্পষ্ট হয়ে উঠল এবং একে অপরের সাথে সংমিশ্রিত হওয়ার পর তাদের প্রধান দলগুলো চারটিতে পর্যবসিত হল।
ইসলামের প্রধান ফিরকা চারটি
"১" কাদারিয়া। "২" সিফাতিয়া। "৩" খারেজি। "৪" শিয়া।
অতঃপর এদের একটির সাথে অপরটি মিলে যায় এবং প্রতিটি ফিরকা থেকে বিভিন্ন উপদল তৈরি হয়, এভাবে সেগুলো তিয়াত্তরটি (৭৩) ফিরকায় গিয়ে পৌঁছায়।
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ولأصحاب كتب المقالات طريقان في الترتيب:
أحدهما: أنهم وضعوا المسائل أصولا. ثم أوردوا في كل مسألة مذهب طائفة طائفة وفرقة فرقة.
والثاني: أنهم وضعوا الرجال وأصحاب المقالات أصولا، ثم أوردوا مذاهبهم، في مسألة مسألة.
وترتيب هذا المختصر على الطريقة الأخيرة، لأني وجدتها أضبط للأقسام، وأليق بباب الحساب.
وشرطي على نفسي أن أورد مذهب كل فرقة على ما وجدته في كتبهم؛ من غير تعصب1 لهم، ولا كسر عليهم2؛ دون أن أبين صحيحه من فاسده، وأعين حقه من باطله، وإن كان لا يخفى على الأفهام الذكية في مدارج3 الدلائل العقلية لمحات الحق ونفحات الباطل، وبالله التوفيق.
--------------------------------------------
মাযহাব ও মতবাদ বিষয়ক গ্রন্থ প্রণেতাদের বিন্যাস পদ্ধতিতে দুটি ধারা রয়েছে:
প্রথমটি হলো: তারা মাসআলাসমূহকে মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এরপর প্রতিটি মাসআলায় প্রতিটি দল ও উপদলের অভিমতগুলো উল্লেখ করেছেন।
দ্বিতীয়টি হলো: তারা ব্যক্তি ও মতবাদ প্রণেতাদের মূল ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, এরপর প্রতিটি মাসআলায় তাদের অভিমতগুলো উল্লেখ করেছেন।
এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটির বিন্যাস শেষোক্ত পদ্ধতিতে করা হয়েছে; কেননা আমি একে শ্রেণিবিভাগের ক্ষেত্রে অধিক সুসংহত এবং পর্যালোচনার জন্য অধিকতর উপযুক্ত মনে করেছি।
আমি নিজের ওপর এই শর্তারোপ করেছি যে, আমি প্রতিটি দলের অভিমত তাদের কিতাবে যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই বর্ণনা করব; তাদের প্রতি কোনো পক্ষপাতিত্ব1 ব্যতিরেকে এবং তাদের তুচ্ছ2 না করে। আমি তাদের সঠিক ও ভ্রান্ত বিষয়ের পার্থক্য করব না এবং সত্য ও মিথ্যা নির্দিষ্ট করব না। যদিও বুদ্ধিমানদের কাছে যুক্তিনির্ভর দলিলের স্তরসমূহে3 সত্যের আভা এবং মিথ্যার দুর্গন্ধ গোপন থাকে না। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٤)
المقدمة الثالثة:في بيان أول شبهة وقعت في الخليقة، ومن مصدرها في الأول ومن مظهرها في الآخر:
اعلم أن أول شبهة وقعت في الخليقة: شبهة إبليس لعنه الله، ومصدرها استبداده بالرأي في مقابلة النص، واختياره الهوى في معارضة الأمر، واستكباره بالمادة التي خلق منها وهي النار على مادة آدم عليه السلام وهي الطين.
وانشعبت1 من هذه الشبهة سبع شبهات، وسارت في الخليقة، وسرت في أذهان الناس حتى صارت مذاهب بدعة وضلالة، وتلك الشبهات مسطورة2 في شرح الأناجيل
--------------------------------------------
তৃতীয় ভূমিকা:সৃষ্টিজগতে সংঘটিত প্রথম সংশয় এবং আদিতে এর উৎস ও শেষে এর বহিঃপ্রকাশের বর্ণনায়:
জেনে রাখুন যে, সৃষ্টিজগতে প্রথম যে সংশয়টি দেখা দিয়েছিল তা হলো ইবলিসের সংশয়—আল্লাহ তাকে অভিশাপ দিন। এর উৎস ছিল অহি-র বিধানের (নস) বিপরীতে নিজ মতামতের স্বেচ্ছাচারিতা, নির্দেশের মোকাবিলায় প্রবৃত্তির অনুসরণ করা এবং যে উপাদান (আগুন) দ্বারা সে সৃষ্ট তা নিয়ে আদমের (আলাইহিস সালাম) উপাদানের (মাটি) ওপর অহংকার করা।
এই সংশয় থেকে আরও সাতটি সংশয় শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়েছে এবং সৃষ্টিজগতে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষের মনে এগুলো এমনভাবে সঞ্চারিত হয়েছে যে পরিশেষে তা বিদআত ও পথভ্রষ্টতার মতবাদে পরিণত হয়েছে। সেই সংশয়গুলো ইঞ্জিলের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الأربعة: إنجيل لوقا، ومارقوس، ويوحنا، ومتى، ومذكورة في التوراة متفرقة على شكل مناظرات بينه وبين الملائكة بعد الأمر بالسجود، والامتناع منه.
قال كما نقل عنه؛ إني سلمت أن الباري تعالى إلهي وإله الخلق، عالم قادر، ولا يسأل عن قدرته ومشيئته، وأنه مهما أراد شيئا قال له كن فيكون، وهو حكيم، إلا أنه يتوجه على مساق حكمته1 أسئلة، قالت الملائكة: ما هي؟ وكم هي؟ قال لعنه الله: سبعة.
الأول منها: أنه قد علم قبل خلقي أي شيء يصدر عني ويحصل مني، فلم خلقني أولا؟ وما الحكمة في خلقه إياي؟
والثاني: إذ خلقني على مقتضى إرادته ومشيئته؛ فلم كلفني بمعرفته وطاعته؟ وما الحكمة في هذا التكليف بعد أن لا ينتفع بطاعة، ولا يتضرر بمعصية؟
والثالث: إذ خلقني وكلفني فالتزمت تكليفه بالمعرفة والطاعة فعرفت وأطعت، فلم كلفني بطاعة آدم والسجود له؟ وما الحكمة في هذا التكليف على الخصوص بعد أن لا يزيد ذلك في معرفتي وطاعتي إياه؟
والرابع: إذ خلقني وكلفني على الإطلاق، وكلفني بهذا التكليف على الخصوص، فإذا لم أسجد لآدم، فلم لعنني وأخرجني من الجنة؟ وما الحكمة في ذلك بعد أن لم أرتكب قبيحا إلا قولي: لا أسجد إلا لك؟
والخامس: إذ خلقني وكلفني مطلقا، وخصوصا؛ فلم أطع فلعنني وطردني، فلم طرقني2 إلى آدم حتى دخلت الجنة ثانيا وغررته بوسوستي3، فأكل من الشجرة المنهي عنها، وأخرجه من الجنة معي؟ وما الحكمة في ذلك بعد أن لو منعني من دخول الجنة لاستراح مني آدم، وبقي خالدا فيها؟
--------------------------------------------
চারটি: লূক, মার্ক, যোহন এবং মথি-র ইঞ্জিল; এবং তাওরাতে এগুলো বিচ্ছিন্নভাবে তাঁর ও ফেরেশতাদের মধ্যেকার বিতর্ক আকারে বর্ণিত হয়েছে, যা সিজদার নির্দেশ এবং তা থেকে বিরত থাকার পর সংঘটিত হয়েছিল।
তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন; আমি স্বীকার করি যে মহান স্রষ্টা আমার এবং সমস্ত সৃষ্টির উপাস্য, তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান এবং তাঁর ক্ষমতা ও ইচ্ছা সম্পর্কে প্রশ্ন করা যায় না। তিনি যখনই কোনো কিছু ইচ্ছা করেন, তখন তিনি তাকে বলেন 'হও' এবং তা হয়ে যায়। তিনি প্রজ্ঞাময়, তবে তাঁর প্রজ্ঞার গতিপথ সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। ফেরেশতারা বললেন: সেগুলো কী? এবং কয়টি? অভিশপ্ত (ইবলিস) বলল: সাতটি।
প্রথমটি হলো: আমার সৃষ্টির পূর্বেই তিনি জানতেন আমার পক্ষ থেকে কী প্রকাশ পাবে এবং আমার দ্বারা কী ঘটবে, তবে কেন তিনি আমাকে প্রথমত সৃষ্টি করলেন? আর আমাকে সৃষ্টির পেছনে তাঁর প্রজ্ঞা কী ছিল?
দ্বিতীয়টি হলো: যেহেতু তিনি তাঁর ইচ্ছা ও অভিপ্রায় অনুযায়ী আমাকে সৃষ্টি করেছেন; তবে কেন তিনি আমাকে তাঁর পরিচয় লাভ ও আনুগত্য করার আদেশ দিলেন? আর আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর কোনো উপকার হয় না এবং অবাধ্যতার মাধ্যমে তাঁর কোনো ক্ষতি হয় না—এমতাবস্থায় এই দায়িত্বার্পণের পেছনে প্রজ্ঞা কী?
তৃতীয়টি হলো: যেহেতু তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং দায়িত্বার্পণ করেছেন, আর আমি পরিচয় লাভ ও আনুগত্যের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করেছি, ফলে আমি তাঁকে চিনেছি এবং আনুগত্য করেছি, তবে কেন তিনি আমাকে আদমের আনুগত্য করার ও তাঁকে সিজদা করার নির্দেশ দিলেন? বিশেষ করে এই নির্দেশের পেছনে প্রজ্ঞা কী ছিল, যেখানে এই কাজ তাঁর প্রতি আমার পরিচয় বা আনুগত্যে কোনো বৃদ্ধি ঘটায় না?
চতুর্থটি হলো: যেহেতু তিনি আমাকে সাধারণভাবে সৃষ্টি করেছেন ও দায়িত্ব দিয়েছেন এবং বিশেষভাবে এই (সিজদার) দায়িত্ব দিয়েছেন, এমতাবস্থায় আমি যখন আদমকে সিজদা করলাম না, তখন কেন তিনি আমাকে অভিশপ্ত করলেন এবং জান্নাত থেকে বের করে দিলেন? আর এর পেছনে প্রজ্ঞা কী ছিল, যেখানে আমি এই কথাটি বলা ছাড়া কোনো মন্দ কাজ করিনি যে: "আমি আপনি ছাড়া আর কাউকে সিজদা করব না"?
পঞ্চমটি হলো: যেহেতু তিনি আমাকে সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে সৃষ্টি করে দায়িত্ব দিলেন; এরপর আমি যখন আনুগত্য করলাম না, তখন তিনি আমাকে অভিশপ্ত ও বিতাড়িত করলেন, তবে কেন তিনি আমাকে আদমের কাছে পৌঁছানোর পথ করে দিলেন যাতে আমি পুনরায় জান্নাতে প্রবেশ করে আমার প্ররোচনার মাধ্যমে তাকে বিভ্রান্ত করতে পারি, ফলে সে নিষিদ্ধ গাছ থেকে ভক্ষণ করল এবং আমার সাথে তাকেও জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হলো? এর পেছনে প্রজ্ঞা কী ছিল, যেখানে তিনি যদি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বাধা দিতেন, তবে আদম আমার হাত থেকে রেহাই পেতেন এবং সেখানে চিরকাল অবস্থান করতেন?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٦)
والسادس: إذ خلقني وكلفني عموما، وخصوصا، ولعنني، ثم طرقني إلى الجنة، وكانت الخصومة بيني وبين آدم؛ فلم سلطني على أولاده حتى أراهم من حيث لا يرونني، وتؤثر فيهم وسوستي ولا يؤثر في حولهم وقوتهم، وقدرتهم واستطاعتهم؟ وما الحكمة في ذلك بعد أن لو خلقهم على الفطرة دون من يحتالهم1 عنها فيعيشوا طاهرين سامعين مطيعين، كان أحرى بهم، وأليق بالحكمة؟
والسابع: سلمت هذا كله: خلقني وكلفني مطلقا ومقيدا، وإذ لم أطع لعنني وطردني وإذ أردت دخول الجنة مكنني وطرقني، وإذ عملت عملي أخرجني ثم سلطني على بني آدم، فلم إذ استمهلته2 أمهلني، فقلت: {أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ} 3، {قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ، إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ} 4. وما الحكمة في ذلك بعد أن لو أهلكني في الحال استراح آدم والخلق مني وما بقي شر ما في العالم؟ أليس بقاء العالم على نظام الخير خيرا من امتزاجه بالشر؟!
قال: فهذه حجتي على ما ادعيته في كل مسألة.
قال شارح الإنجيل: فأوحى الله تعالى إلى الملائكة عليهم السلام، قولوا له: إنك في تسليمك الأول أني إلهك وإله الخلق غير صادق ولا مخلص، إذ لو صدقت أني إله العالمين ما احتكمت علي بلم، فأنا الله الذي لا إله إلا أنا، لا أسأل عما أفعل، والخلق مسئولون. وهذا الذي ذكرته مذكور في التوراة، ومسطور في الإنجيل على الوجه الذي ذكرته.
وكنت برهة من الزمان أتفكر وأقول: من المعلوم الذي لا مرية فيه أن كل شبهة وقعت لبني آدم؛ فإنما وقعت من إضلال الشيطان الرجيم5 ووساوسه، ونشأت من
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: যেহেতু তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সাধারণভাবে ও বিশেষভাবে আমার ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, অতঃপর আমাকে অভিশপ্ত করেছেন, এরপর আমার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথ করে দিয়েছেন, অথচ আমার ও আদমের মধ্যে শত্রুতা বিদ্যমান ছিল; তবে কেন তিনি আমাকে আদমের সন্তানদের ওপর এমনভাবে কর্তৃত্ব দিলেন যে আমি তাদের দেখতে পাই কিন্তু তারা আমাকে দেখতে পায় না, এবং আমার কুমন্ত্রণা তাদের মধ্যে প্রভাব ফেলে অথচ তাদের উপায়-উপকরণ, শক্তি, সামর্থ্য ও ক্ষমতা আমার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না? আর এতে প্রজ্ঞাই বা কী ছিল, যেখানে তিনি যদি তাদের ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করতেন—এমন কাউকে ছাড়া যে তাদের তা থেকে বিচ্যুত করবে১—যাতে তারা পবিত্র, অনুগত ও আজ্ঞাবহ হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে পারত, তবে কি তা তাদের জন্য অধিকতর উপযোগী এবং প্রজ্ঞার বিচারে অধিক মানানসই হতো না?
সপ্তমত: আমি এই সব কিছুই মেনে নিলাম: তিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিঃশর্ত ও শর্তযুক্তভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন, আর যেহেতু আমি আনুগত্য করিনি তাই তিনি আমাকে লানত করেছেন ও বিতাড়িত করেছেন, আর যখন আমি জান্নাতে প্রবেশ করতে চেয়েছি তখন তিনি আমাকে সক্ষম করেছেন ও পথ করে দিয়েছেন, এবং যখন আমি আমার কাজ সম্পন্ন করেছি তখন তিনি আমাকে বের করে দিয়েছেন, অতঃপর আদম সন্তানদের ওপর আমাকে আধিপত্য দিয়েছেন। কিন্তু আমি যখন তাঁর কাছে অবকাশ২ চেয়েছিলাম কেন তিনি আমাকে অবকাশ দিলেন? আমি বললাম: {আপনি আমাকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিন, যে দিন তারা পুনরুত্থিত হবে}৩, {তিনি বললেন: নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত, নির্ধারিত সময়ের দিন পর্যন্ত}৪। আর এতেই বা কী প্রজ্ঞা ছিল, যেখানে তিনি যদি আমাকে তৎক্ষণাৎ ধ্বংস করে দিতেন তবে আদম ও সকল সৃষ্টি আমার অনিষ্ট থেকে শান্তিতে থাকত এবং পৃথিবীতে কোনো মন্দ অবশিষ্ট থাকত না? কল্যাণের শৃঙ্খলার ওপর জগতের স্থায়িত্ব কি মন্দের সাথে সংমিশ্রণের চেয়ে উত্তম নয়?!
সে বলল: প্রতিটি বিষয়ে আমি যা দাবি করেছি, তার সপক্ষে এটিই আমার প্রমাণ।
ইঞ্জিলের ব্যাখ্যাকার বলেন: তখন আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের (তাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) প্রতি ওহি নাজিল করলেন যে, তোমরা তাকে বলো: তোমার এই প্রাথমিক স্বীকারোক্তি যে আমি তোমার ও সকল সৃষ্টির ইলাহ, তাতে তুমি সত্যবাদী নও এবং একনিষ্ঠও নও। কারণ তুমি যদি সত্যই বিশ্বাস করতে যে আমিই বিশ্বজগতের ইলাহ, তবে তুমি আমার ওপর 'কেন' বলে প্রশ্ন তুলতে না। আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া অন্য কোনো সত্য মাবুদ নেই, আমি যা করি সে সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে না, বরং সৃষ্টিজগতকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আর তুমি যা উল্লেখ করেছ তা তাওরাতে বর্ণিত আছে এবং ইঞ্জিলেও হুবহু সেভাবেই লিপিবদ্ধ রয়েছে।
আমি দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করতাম এবং বলতাম: এটি একটি সুনিশ্চিত বিষয় যাতে কোনো সংশয় নেই যে, আদম সন্তানদের মধ্যে যে সমস্ত বিভ্রান্তি ও সংশয় সৃষ্টি হয়েছে, তা বিতাড়িত শয়তানের৫ পথভ্রষ্টতা ও কুমন্ত্রণার মাধ্যমেই ঘটেছে, আর তার উদ্ভব হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٧)
شبهاته. وإذا كانت الشبهات محصورة في سبع، عادت كبار البدع والضلالات إلى سبع. ولا يجوز أن تعدو شبهات فرق الزيغ والكفر والضلال هذه الشبهات وإن اختلفت العبارات، وتباينت الطرق، فإنها بالنسبة إلى أنواع الضلالات كالبذور، وترجع جملتها إلى إنكار الأمر بعد الاعتراف بالحق، وإلى الجنوح1 إلى الهوى في مقابلة النص.
هذا، ومن جادل نوحا، وهودا، وصالحا، وإبراهيم، ولوطا، وشعيبا، وموسى، وعيسى، ومحمدا؛ صلوات الله عليهم أجمعين، كلهم نسجوا على منوال اللعين الأول في إظهار شبهاته. وحاصلها يرجع إلى دفع التكليف عن أنفسهم، وجحد أصحاب الشرائع والتكاليف بأسرهم، إذ لا فرق بين قولهم {أَبَشَرٌ يَهْدُونَنَا} 2 وبين قوله: {أَأَسْجُدُ لِمَنْ خَلَقْتَ طِينًا} 3 وعن هذا صار مفصل الخلاف، ومحز4 الافتراق ما هو في قوله تعالى: {وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَى إِلَّا أَنْ قَالُوا أَبَعَثَ اللَّهُ بَشَرًا رَسُولًا} 5 فبين أن المانع من الإيمان هو هذا المعنى، كما قال المتقدم في الأول: {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} 6 وقال المتأخر من ذريته كما قال المتقدم: {أَنَا خَيْرٌ مِنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلا يَكَادُ يُبِينُ} 7 وكذلك لو تعقبنا أقوال المتقدمين منهم لوجدناها مطابقة لأقوال المتأخرين {كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ مِثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ} 8 {فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا بِهِ مِنْ قَبْلُ} 9.
--------------------------------------------
তার সংশয়গুলো। আর যখন সংশয়গুলো সাতটির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়, তখন বড় বড় বিদআত ও ভ্রষ্টতাগুলোও সেই সাতটির দিকেই ফিরে যায়। আর পথভ্রষ্টতা, কুফরি ও গোমরাহির দলগুলোর সংশয়সমূহ এই সংশয়গুলোকে অতিক্রম করতে পারে না, যদিও তাদের বর্ণনাশৈলী ভিন্ন হয় এবং পথসমূহ পৃথক হয়। কেননা এগুলো বিভিন্ন প্রকার ভ্রষ্টতার ক্ষেত্রে বীজের মতো, আর এগুলোর সামগ্রিক রূপ হলো সত্য স্বীকার করার পর নির্দেশকে অস্বীকার করা এবং দলিলের বিপরীতে প্রবৃত্তির দিকে ঝুঁকে পড়া।
আর যারা নূহ, হূদ, সালিহ, ইবরাহীম, লুত, শুয়াইব, মূসা, ঈসা এবং মুহাম্মাদ (আল্লাহর সালাত তাদের সবার ওপর বর্ষিত হোক)-এর সাথে বিতর্ক করেছে, তারা সবাই সংশয় প্রকাশের ক্ষেত্রে সেই প্রথম অভিশপ্তের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। আর এগুলোর সারমর্ম হলো নিজেদের ওপর থেকে শরিয়তের দায়বদ্ধতা দূর করা এবং শরিয়ত ও আদেশদানকারী ব্যক্তিবর্গকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। কারণ তাদের এই উক্তি "মানুষ কি আমাদের পথ দেখাবে?" এবং শয়তানের এই উক্তি "আমি কি তাকে সিজদা করব যাকে আপনি মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?"-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আর এ থেকেই মতভেদের মূল কেন্দ্র এবং বিভাজনের প্রকৃত স্থানটি চিহ্নিত হয়েছে যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: "হেদায়েত আসার পর মানুষকে ঈমান আনতে যা বাধা দিয়েছে তা হলো তাদের এই কথা যে, আল্লাহ কি একজন মানুষকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন?" সুতরাং তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ঈমান আনার পথে বাধা হলো এই ধারণাটিই, যেমনটি পূর্ববর্তী (শয়তান) শুরুতে বলেছিল: "আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম তখন তোমাকে কিসে সিজদা করতে বাধা দিল? সে বলল, আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।" আর তার পরবর্তী বংশধরেরাও ঠিক তেমনটিই বলেছে যেমনটি পূর্ববর্তী বলেছিল: "আমি এই ব্যক্তি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যে হীন এবং প্রায় অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলে।" একইভাবে আমরা যদি পূর্ববর্তীদের বক্তব্যগুলো অনুসন্ধান করি তবে সেগুলোকে পরবর্তীদের বক্তব্যের হুবহু অনুরূপ দেখতে পাব। "এভাবেই তাদের পূর্ববর্তীরা তাদের মতোই কথা বলেছিল, তাদের অন্তরসমূহ একে অপরের সদৃশ হয়ে গেছে।" "তারা আগে যা অস্বীকার করেছিল তাতে তারা ঈমান আনার ছিল না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٨)
فاللعين الأول لما حكم العقل على من لا يحكم عليه العقل، لزمه أن يجري حكم الخالق في الخلق، أو حكم الخلق في الخالق. والأول غلو1، والثاني تقصير.
فثار من الشبهة الأولى مذاهب: الحلولية، والتناسخية2، والمشبهة، والغلاة من الروافض، حيث غلوا في حق شخص من الأشخاص حتى وصفوه بأوصاف الإله.
وثار من الشبهة الثانية مذاهب: القدرية، والجبرية، والمجسمة، حيث قصروا في وصفه تعالى حتى وصفوه بصفات المخلوقين.
فالمعتزلة مشبهة الأفعال، والمشبهة حلولية الصفات، وكل واحد منهم أعور بأي عينيه شاء، فإن من قال: إنما يحسن منه ما يحسن منا، ويقبح منه ما يقبح منا، فقد شبه الخالق بالخلق؛ ومن قال: يوصف الباري تعالى بما يوصف به الخلق، أو يوصف الخلق بما يوصف به الباري تعالى، فقد اعتزل عن الحق. وسنخ3 القدرية طلب العلة في كل شيء، وذاك من سنخ اللعين الأول؛ إذ طلب العلة في الخلق أولا، والحكمة في التكليف ثانيا، والفائدة في تكليف السجود لآدم عليه السلام ثالثا. وعنه نشأ مذهب الخوارج، إذ لا فرق بين قولهم: لا حكم إلا الله ولا نحكم الرجال، وبين قوله: لا أسجد إلا لك، {أَأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِنْ صَلْصَالٍ مِنْ حَمَأٍ مَسْنُونٍ} 4 وبالجملة "كلا طرفي قصد الأمور ذميم" فالمعتزلة غلوا في التوحيد بزعمهم حتى وصلوا إلى التعطيل بنفي الصفات. والمشبهة قصروا حتى وصفوا الخالق بصفات الأجسام. والروافض غلوا في النبوة والإمامة حتى وصلوا إلى الحلول. والخوارج قصروا حتى نفوا تحكيم الرجال.
وأنت ترى -إذا نظرت- أن هذه الشبهات كلها ناشئة من شبهات اللعين الأول،
--------------------------------------------
সুতরাং প্রথম অভিশপ্ত যখন এমন একজনের ওপর যুক্তি প্রয়োগ করল যার ওপর যুক্তি খাটে না, তখন তার জন্য স্রষ্টার বিধান সৃষ্টির ওপর অথবা সৃষ্টির বিধান স্রষ্টার ওপর প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ল। প্রথমটি হলো বাড়াবাড়ি, আর দ্বিতীয়টি হলো ঘাটতি।
প্রথম সংশয় থেকে এই মতবাদগুলো উদ্ভূত হয়েছে: হুলুলিয়া, তানাসুখিয়া, মুশাব্বিহা এবং রাফেজিদের অতিবাদী গোষ্ঠীসমূহ; যেখানে তারা কোনো বিশেষ ব্যক্তির ব্যাপারে এমন বাড়াবাড়ি করেছে যে তাকে উপাস্যের গুণাবলিতে ভূষিত করেছে।
দ্বিতীয় সংশয় থেকে এই মতবাদগুলো উদ্ভূত হয়েছে: কাদারিয়া, জাবরিয়া এবং মুজাসসিমা; যেখানে তারা মহান আল্লাহর বর্ণনার ক্ষেত্রে এমন ঘাটতি প্রদর্শন করেছে যে তাঁকে সৃষ্টির গুণাবলিতে বিশেষিত করেছে।
অতএব মুতাজিলারা হলো কার্যাবলির সাদৃশ্যদানকারী, আর মুশাব্বিহারা হলো গুণাবলির হুলুলিয়া। তাদের প্রত্যেকেই একচোখা, সে তার যে চোখ দিয়েই দেখতে চাক না কেন। কেননা যে ব্যক্তি বলে: আমাদের কাছে যা ভালো তাঁর কাছেও কেবল তাই ভালো হবে, আর আমাদের কাছে যা মন্দ তাঁর কাছেও কেবল তাই মন্দ হবে—সে মূলত স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করল। আর যে বলে: মহান স্রষ্টাকে সৃষ্টির গুণে গুণান্বিত করা যাবে অথবা সৃষ্টিকে স্রষ্টার গুণে গুণান্বিত করা যাবে, সে সত্য পথ থেকে বিচ্যুত হলো। কাদারিয়াদের মূল ভিত্তি হলো প্রতিটি বিষয়ে কারণ অনুসন্ধান করা, আর তা সেই প্রথম অভিশপ্তের মূল ভিত্তি থেকেই আগত; যেহেতু সে প্রথমে সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধান করেছিল, দ্বিতীয়ত শরিয়তের বিধানের হিকমত খুঁজেছিল এবং তৃতীয়ত আদম আলাইহিস সালামকে সিজদা করার নির্দেশের উপকারিতা খুঁজেছিল। আর তা থেকেই খাওয়ারিজ মতবাদের উদ্ভব হয়েছে, কারণ তাদের এই কথার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই যে: "আল্লাহর বিধান ছাড়া কোনো বিধান নেই এবং আমরা মানুষের ফয়সালা মানি না" এবং ইবলিসের এই কথার মাঝে: "আমি কেবল তোমাকেই সিজদা করব, আমি কি এমন কোনো মানুষকে সিজদা করব যাকে তুমি শুকনো পচা কাদা থেকে সৃষ্টি করেছ?" মোটকথা "সব বিষয়ের মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়, আর দুই প্রান্তই নিন্দনীয়।" অতএব মুতাজিলারা তাদের ধারণামতে তাওহীদের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করেছে, এমনকি তারা গুণাবলি অস্বীকার করার মাধ্যমে 'তাতিল' বা গুণহীনতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। মুশাব্বিহারা ঘাটতি করেছে, এমনকি তারা স্রষ্টাকে দেহের গুণাবলি দিয়ে বিশেষিত করেছে। রাফেজিরা নবুওয়াত ও ইমামতের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করে হুলুল বা অনুপ্রবেশবাদে পৌঁছেছে। আর খাওয়ারিজরা ঘাটতি করেছে, এমনকি তারা মানুষের সালিশি বা ফয়সালাকেও অস্বীকার করেছে।
আর আপনি যদি লক্ষ্য করেন তবে দেখতে পাবেন যে, এই সকল সংশয়ই সেই প্রথম অভিশপ্তের সংশয়সমূহ থেকে জন্ম নিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
وتلك في الأول مصدرها، وهذه في الآخرة مظهرها. وإليه أشار التنزيل في قوله تعالى: {وَلا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ} 1.
وشبه النبي صلى الله عليه وسلم كل فرقة ضالة من هذه الأمة بأمة ضالة من الأمم السالفة، فقال: "القدرية مجوس هذه الأمة" وقال: "المشبهة يهود هذه الأمة، والروافض نصاراها" وقال عليه الصلاة والسلام جملة: "لتسلكن سبل الأمم قبلكم حذو القذة بالقذة 2، والنعل بالنعل، حتى لو دخلو جحر ضب لدخلتموه".
--------------------------------------------
প্রথমটির ক্ষেত্রে ওগুলোই হলো উৎস, আর শেষটির ক্ষেত্রে ওগুলোই হলো বহিঃপ্রকাশ। আল-কুরআনের এ বাণীর মাধ্যমে মহান আল্লাহ সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: "তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।" ১।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই উম্মতের প্রতিটি পথভ্রষ্ট দলকে পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্য থেকে কোনো এক পথভ্রষ্ট জাতির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "কাদারিয়া সম্প্রদায় হলো এই উম্মতের মাজুসি (অগ্নিউপাসক)।" তিনি আরও বলেছেন: "মুশাব্বিহা সম্প্রদায় হলো এই উম্মতের ইয়াহুদি এবং রাফেজিরা হলো এর নাসারা (খ্রিস্টান)।" তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সামগ্রিকভাবে বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর পথ অনুসরণ করবে, এক তীরের পালকের সঙ্গে অপর পালকের সমতুল্য এবং এক জুতোর সঙ্গে অপর জুতোর সমতুল্যভাবে; এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ١٩)
المقدمة الرابعة:في بيان أول شبهة وقعت في الملة الإسلامية، وكيفية انشعابها، ومن مصدرها، ومن مظهرها:
وكما قررنا أن الشبهات التي وقعت في آخر الزمان هي بعينها تلك الشبهات التي وقعت في أول الزمان، كذلك يمكن أن نقرر في زمان كل نبي ودور صاحب كل ملة وشريعة: أن شبهات أمته في آخر زمانه؛ ناشئة من شبهات خصماء أول زمانه من الكفار والملحدين وأكثرها من المنافقين. وإن خفي علينا ذلك في الأمم السالفة لتمادى الزمان، فلم يخف في هذه الأمة أن شبهاتها نشأت كلها من شبهات منافقي زمن النبي عليه السلام، إذ لم يرضوا بحكمه فيما كان يأمر وينهى، وشرعوا فيما لا مسرح للفكر فيه ولا مسرى، وسألوا عما منعوا من الخوض فيه، والسؤال عنه، وجادلوا بالباطل فيما لا يجوز الجدال فيه.
اعتبر حديث ذي الخويصرة التميمي إذ قال: اعدل يا محمد فإنك لم تعدل، حتى قال عليه الصلاة والسلام: "إن لم أعدل فمن يعدل؟ " فعاود اللعين وقال:
চতুর্থ ভূমিকা:ইসলামি মিল্লাতে বা উম্মাহর মধ্যে উদ্ভূত প্রথম সংশয়, এর শাখা-প্রশাখা বিস্তার, এর উৎস এবং এর বহিঃপ্রকাশের বর্ণনায়:
যেভাবে আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, শেষ যামানায় সংঘটিত সংশয়গুলো ঠিক সেই সংশয়গুলোই যা আদি যুগে দেখা দিয়েছিল, তেমনিভাবে আমরা প্রত্যেক নবীর যুগে এবং প্রত্যেক মিল্লাত ও শরীয়ত প্রবর্তকের আমলে এ কথা সাব্যস্ত করতে পারি যে: তাঁর উম্মতের শেষ যামানার সংশয়গুলো তাদের আদি যুগের বিরোধী কাফের, নাস্তিক এবং বিশেষ করে মুনাফিকদের সংশয় থেকেই উৎসারিত। অতীতের উম্মতদের দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার কারণে যদি এই বিষয়টি আমাদের কাছে অস্পষ্টও থেকে থাকে, তবে এই উম্মতের ক্ষেত্রে এটি মোটেও অস্পষ্ট নয় যে, এর যাবতীয় সংশয় নবী আলাইহিস সালাম-এর যুগের মুনাফিকদের সংশয় থেকেই জন্ম নিয়েছে; যেহেতু তারা তাঁর আদেশ ও নিষেধের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট ছিল না এবং তারা এমন সব বিষয়ে লিপ্ত হয়েছিল যেখানে চিন্তাভাবনার কোনো অবকাশ নেই, আর তারা এমন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিল যা নিয়ে মগ্ন হতে বা প্রশ্ন করতে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল এবং তারা এমন সব বিষয়ে বাতিল পন্থায় বিতর্ক করেছিল যাতে বিতর্ক করা বৈধ নয়।
যুল খুওয়াইসিরা আত-তামিমির হাদিসটি বিবেচনা করুন, যখন সে বলেছিল: "হে মুহাম্মদ! ইনসাফ করুন, কেননা আপনি ইনসাফ করেননি।" এমনকি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বললেন: "আমি যদি ইনসাফ না করি, তবে কে ইনসাফ করবে?" এরপর সেই অভিশপ্ত ব্যক্তিটি পুনরায় বলল:
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
"هذه قسمة ما أريد بها وجه الله تعالى". وذلك خروج صريح على النبي عليه الصلاة والسلام، ولو صار من اعترض على الإمام الحق خارجيا، فمن اعترض على الرسول أحق بأن يكون خارجيا. أو ليس ذلك قولا بتحسين العقل وتقبيحه؟ وحكما بالهوى في مقابلة النص، واستكبارا على الأمر بقياس العقل؟ حتى قال عليه الصلاة والسلام: "سيخرج من ضئضئ 1 هذا الرجل قوم يمرقون 2 من الدين كما يمرق السهم من الرمية
… " الخبر بتمامه.
واعتبر حال طائفة أخرى من المنافقين يوم أحد إذ قالوا: {هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ} 3 وقولهم: {لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا} 4 وقولهم: {لَوْ كَانُوا عِنْدَنَا مَا مَاتُوا وَمَا قُتِلُوا} 5 فهل ذلك إلا تصريح بالقدر؟ وقول طائفة من المشركين: {لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُونِهِ مِنْ شَيْءٍ} 6 وقول طائفة: {أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ} 7 فهل هذا إلا تصريح بالجبر؟
واعتبر حال طائفة أخرى حيث جادلوا في ذات الله، تفكرا في جلاله، وتصرفا في أفعاله حتى منعهم وخوفهم بقوله تعالى: {وَيُرْسِلُ الصَّوَاعِقَ فَيُصِيبُ بِهَا مَنْ يَشَاءُ وَهُمْ يُجَادِلُونَ فِي اللَّهِ وَهُوَ شَدِيدُ الْمِحَالِ} 8 فهذا ما كان في زمانه عليه الصلاة والسلام وهو على شوكته وقوته وصحة بدنه. والمنافقون يخادعون فيظهرون الإسلام ويبطنون الكفر، وإنما يظهر نفاقهم بالاعتراض في كل وقت على حركاته وسكناته، فصارت الاعتراضات كالبذور، وظهرت منها الشبهات كالزروع.
وأما الاختلافات الواقعة في حال مرضه عليه الصلاة والسلام وبعد وفاته بين الصحابة رضي الله عنهم، فهي اختلافات اجتهادية كما قيل، كان غرضهم منها إقامة مراسم الشرع، وإدامة مناهج الدين.
--------------------------------------------
"এটি এমন এক বণ্টন যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি উদ্দেশ্য করা হয়নি।" এটি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের বিরুদ্ধে এক প্রকাশ্য বিদ্রোহ। যদি সত্যনিষ্ঠ ইমামের বিরোধিতা করা ব্যক্তি খারিজি হয়ে থাকে, তবে যে ব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে সে খারিজি হওয়ার অধিক যোগ্য। এটি কি আকল বা বুদ্ধিকে ভালো-মন্দ নির্ধারণকারী হিসেবে সাব্যস্ত করা নয়? এবং নস বা দলিলের বিপরীতে প্রবৃত্তির অনুসরণ করে ফয়সালা প্রদান করা এবং আকলের কিয়াসের মাধ্যমে নির্দেশের ওপর অহংকার প্রদর্শন করা নয়? এমনকি নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেন: "এই ব্যক্তির বংশ থেকে এমন এক কওম বের হবে যারা দীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমনভাবে শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়..." পুরো হাদিসটি।
উহুদ যুদ্ধের দিন মুনাফিকদের অপর এক দলের অবস্থা বিবেচনা করুন যখন তারা বলেছিল: {আমাদের কি এই বিষয়ে কোনো এখতিয়ার আছে?} এবং তাদের কথা: {যদি এই বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না।} এবং তাদের কথা: {তারা যদি আমাদের কাছে থাকত তবে তারা মারা যেত না এবং নিহতও হতো না।} তবে এটি কি তাকদীরেরই প্রকাশ্য ঘোষণা নয়? এবং মুশরিকদের এক দলের কথা: {আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে আমরা তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতাম না।} এবং অপর এক দলের কথা: {আমরা কি তাকে খাওয়াব যাকে আল্লাহ চাইলে খাওয়াতে পারতেন?} তবে এটি কি জাবর বা ভাগ্যবাদেরই প্রকাশ্য ঘোষণা নয়?
অন্য এক দলের অবস্থার কথা চিন্তা করুন যেখানে তারা আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, তাঁর মাহাত্ম্য নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে এবং তাঁর কার্যাবলীর মধ্যে নিজেদের মতামত প্রয়োগ করতে গিয়ে, এমনকি আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে নিষেধ করেছেন এবং সতর্ক করেছেন: {তিনি বজ্রপাত পাঠান, অতঃপর এর মাধ্যমে যাকে ইচ্ছা আঘাত করেন, অথচ তারা আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং তিনি মহাশক্তিশালী।} এটি সেই সময়ের কথা যখন নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম বিদ্যমান ছিলেন এবং তিনি ছিলেন তাঁর পূর্ণ প্রভাব, শক্তি এবং শারীরিক সুস্থতার মাঝে। আর মুনাফিকরা প্রতারণা করত, তারা ইসলাম প্রকাশ করত এবং কুফরকে অন্তরে গোপন রাখত। তাদের নিফাক কেবল রাসূলের প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতার ওপর সর্বদাই আপত্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। ফলে সেই আপত্তিগুলো বীজের মতো হয়ে গেল এবং তা থেকে সন্দেহগুলো ফসলের মতো উৎপন্ন হলো।
আর নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের অসুস্থতার সময় এবং তাঁর ওফাতের পর সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মধ্যে যে মতভেদগুলো সংঘটিত হয়েছিল, সেগুলো ইজতিহাদগত মতভেদ ছিল যেমনটি বলা হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শরীয়তের রীতিনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং দীনের পথসমূহ অব্যাহত রাখা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢١)
فأول تنازع وقع في مرضه عليه الصلاة والسلام فيما رواه الإمام أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري بإسناده عن عبد الله بن عباس رضي الله عنه، قال: "لما اشتد بالنبي صلى الله عليه وسلم مرضه الذي مات فيه قال: "ائتوني بدواة وقرطاس أكتب لكم كتابا لا تضلوا بعدي" فقال عمر رضي الله عنه: "إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قد غلبه الوجع، حسبنا كتاب الله" وكثر اللغط1، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "قوموا عني، لا ينبغي عندي التنازع" قال ابن عباس: "الرزية كل الرزية ما حال بيننا وبين كتاب رسول الله صلى الله عليه وسلم".
الخلاف الثاني: في مرضه أنه قال: "جهزوا جيش أسامة، لعن الله من تخلف عنه" فقال قوم: يجب علينا امتثال أمره، وأسامة قد برز من المدينة. وقال قوم: قد اشتد مرض النبي عليه الصلاة والسلام فلا تسع قلوبنا مفارقته، والحالة هذه، فنصبر حتى نبصر أي شيء يكون من أمره.
وإنما أوردت هذين التنازعين، لأن المخالفين ربما عدوا ذلك من الخلافات المؤثرة في أمر الدين، وليس كذلك. وإنما كان الغرض كله: إقامة مراسم الشرع في حال تزلزل القلوب، وتسكين نائرة2 الفتنة المؤثرة عند تقلب الأمور.
الخلاف الثالث: في موته عليه السلام، قال عمر بن الخطاب: من قال: إن محمدا قد مات قتلته بسيفي هذا؛ وإنما رفع إلى السماء كما رفع عيسى عليه السلام، وقال أبو بكر بن أبي قحافة رضي الله عنه: من كان يعبد محمدا فإن محمدا قد مات، ومن كان يعبد إله
--------------------------------------------
প্রথম যে বিবাদটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থকালীন সময়ে সংঘটিত হয়েছিল, তা ইমাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী তাঁর সনদে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই রোগে আক্রান্ত হলেন যাতে তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি বললেন: 'তোমরা আমার কাছে দোয়াত ও কাগজ নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন একটি লিপি লিখে দেব যার পর তোমরা আর কখনও পথভ্রষ্ট হবে না।' তখন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: 'আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর রোগের যন্ত্রণা প্রবল হয়েছে, আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট।' এরপর শোরগোল১ বৃদ্ধি পেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'তোমরা আমার কাছ থেকে উঠে যাও, আমার কাছে বিবাদ করা সমীচীন নয়।' ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: 'সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে সেই বিপদ, যা আমাদের এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই লিপি লিখে দেওয়ার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।'"
দ্বিতীয় মতভেদ: তাঁর অসুস্থকালীন সময়ে তিনি বলেছিলেন: "উসামার বাহিনীকে সুসজ্জিত করো; যে ব্যক্তি তার থেকে পিছিয়ে থাকবে আল্লাহ তাকে লানত করবেন।" তখন একদল লোক বলল: আমাদের ওপর তাঁর নির্দেশ মান্য করা ওয়াজিব এবং উসামা মদিনা থেকে বের হয়ে গেছেন। আবার অন্য একদল লোক বলল: নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর রোগ অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এমতাবস্থায় তাঁকে ছেড়ে যাওয়া আমাদের অন্তর সইবে না; সুতরাং আমরা ধৈর্য ধারণ করি যাতে দেখতে পাই তাঁর বিষয়ে কী ফয়সালা হয়।
আমি এই দুটি বিবাদের কথা এ কারণেই উল্লেখ করেছি যে, বিরোধীরা হয়তো এগুলোকে দ্বীনি বিষয়ে প্রভাবশালী মতভেদ হিসেবে গণ্য করতে পারে, কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং এর সামগ্রিক উদ্দেশ্য ছিল: হৃদয়ের অস্থিরতার সময় শরিয়তের রীতিনীতিসমূহ কায়েম রাখা এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনের সময় প্রভাবশালী ফিতনার আগুন২ নির্বাপিত করা।
তৃতীয় মতভেদ: তাঁর (আলাইহিস সালাম) ইন্তেকাল সম্পর্কে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: যে ব্যক্তি বলবে মুহাম্মদ মারা গেছেন, তাকে আমি আমার এই তলোয়ার দিয়ে হত্যা করব; বরং তাঁকে আসমানে তুলে নেওয়া হয়েছে যেমন ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে তুলে নেওয়া হয়েছিল। তখন আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: যে ব্যক্তি মুহাম্মদের ইবাদত করত, তবে মুহাম্মদ তো ইন্তেকাল করেছেন, আর যে ব্যক্তি ইলাহর ইবাদত করত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
محمد فإن إله محمد حي لم يمت ولن يموت، وقرأ قول الله سبحانه وتعالى: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ} 1 فرجع القوم إلى قوله؛ وقال عمر رضي الله عنه: "كأني ما سمعت هذه الآية حتى قرأها أبو بكر".
الخلاف الرابع: في موضع دفنه عليه السلام، أراد أهل مكة من المهاجرين رده إلى مكة لأنها مسقط رأسه، ومأنس نفسه، وموطئ قدمه، وموطن أهله، وموقع رحله؛ وأراد أهل المدينة من الأنصار دفنه بالمدينة لأنها دار هجرته، ومدار نصرته؛ وأرادت جماعة نقله إلى بيت المقدس لأنه موضع دفن الأنبياء، ومنه معراجه إلى السماء. ثم اتفقوا على دفنه بالمدينة لما روى عنه عليه الصلاة والسلام: "الأنبياء يدفنون حيث يموتون".
الخلاف الخامس: في الإمامة، وأعظم خلاف بين الأمة خلاف الإمامة، إذ ما سل سيف في الإسلام على قاعدة دينية مثل ما سل على الإمامة في كل زمان. وقد سهل الله تعالى ذلك في الصدر الأول، فاختلف المهاجرون والأنصار فيها، فقالت الأنصار: منا أمير ومنكم أمير واتفقوا على رئيسهم سعد بن عبادة الأنصاري، فاستدركه أبو بكر وعمر رضي الله عنهما في الحال بأن حضرا سقيفة بني ساعدة، وقال عمر: كنت أزور2 في نفسي كلاما في الطريق، فلما وصلنا إلى السقيفة أردت أن أتكلم فقال أبو بكر: مه3 يا عمر، فحمد الله وأثنى عليه، وذكر ما كنت أقدره في نفسي كأنه يخبر عن غيب، فقبل أن يشتغل الأنصار بالكلام مددت يدي إليه فبايعته وبايعه الناس وسكنت الفتنة،
--------------------------------------------
মুহাম্মদ, তবে মুহাম্মদের ইলাহ চিরঞ্জীব, তিনি মৃত্যুবরণ করেননি এবং কখনো করবেনও না। আর তিনি মহান আল্লাহর বাণী তিলাওয়াত করলেন: {মুহাম্মদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নন, তাঁর পূর্বেও অনেক রাসূল গত হয়েছেন। সুতরাং যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন বা নিহত হন, তবে কি তোমরা তোমাদের হিল বা গোড়ালির ওপর ফিরে যাবে (বিমুখ হবে)? আর যে তার গোড়ালির ওপর ফিরে যাবে, সে আল্লাহর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ অচিরেই কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দেবেন।} ১ অতঃপর লোকসমূহ তাঁর কথার দিকে ফিরে এল। আর ওমর (রা.) বললেন: "মনে হলো যেন আমি এই আয়াতটি আবু বকর তিলাওয়াত করার আগ পর্যন্ত শুনিইনি।"
চতুর্থ মতভেদ: তাঁর (আলাইহিস সালাম) দাফনের স্থান প্রসঙ্গে। মুহাজিরদের মধ্যে মক্কাবাসীরা তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে নিতে চাইলেন, কারণ সেটি তাঁর জন্মভূমি, তাঁর আত্মার প্রশান্তির স্থান, তাঁর পদাঙ্কধন্য ভূমি, তাঁর পরিবারের আবাসস্থল এবং তাঁর যাত্রাবিরতির স্থান। আর আনসারদের মধ্যে মদিনাবাসীরা তাঁকে মদিনায় দাফন করতে চাইলেন, কারণ এটি তাঁর হিজরতের গৃহ এবং তাঁর সাহায্যের কেন্দ্রবিন্দু। একদল লোক তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থানান্তরের ইচ্ছা পোষণ করলেন, কারণ তা নবীদের দাফনের স্থান এবং সেখান থেকেই তাঁর আসমানে মিরাজ হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা মদিনায় তাঁকে দাফন করার বিষয়ে একমত হলেন, কারণ তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "নবীগণ সেখানেই দাফন হন যেখানে তাঁরা মৃত্যুবরণ করেন।"
পঞ্চম মতভেদ: ইমামত (নেতৃত্ব) প্রসঙ্গে। আর উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে বড় মতভেদ হলো ইমামতের মতভেদ, কারণ ইসলামের কোনো ধর্মীয় মূলনীতির ভিত্তিতে তলোয়ার ততটা কোষমুক্ত হয়নি যতটা প্রতিটি যুগে ইমামত বা নেতৃত্বের প্রশ্নে হয়েছে। মহান আল্লাহ প্রথম যুগে বিষয়টি সহজ করে দিয়েছিলেন। মুহাজির ও আনসাররা এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন; আনসাররা বলেছিলেন: "আমাদের পক্ষ থেকে একজন আমির এবং তোমাদের পক্ষ থেকে একজন আমির থাকবে।" তাঁরা তাঁদের নেতা সাদ বিন উবাদাহ আল-আনসারীর ব্যাপারে একমত হয়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ আবু বকর ও ওমর (রা.) বনু সায়েদাহর চত্বরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সামাল দিলেন। ওমর বললেন: "আমি পথে মনে মনে একটি বক্তব্য সাজিয়েছিলাম ২। যখন আমরা চত্বরে পৌঁছালাম, আমি কথা বলতে চাইলাম, তখন আবু বকর বললেন: ৩ থামো হে ওমর। অতঃপর তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান বর্ণনা করলেন এবং আমি মনে মনে যা ভেবে রেখেছিলাম তিনি তাই উল্লেখ করলেন, যেন তিনি গায়েবের খবর দিচ্ছিলেন। আনসাররা কথা বলা শুরু করার আগেই আমি তাঁর দিকে আমার হাত বাড়িয়ে দিলাম এবং তাঁর হাতে বায়াত (আনুগত্যের শপথ) গ্রহণ করলাম, লোকেরাও তাঁর বায়াত গ্রহণ করল এবং ফিতনা শান্ত হলো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
إلا أن بيعة أبي بكر كانت فلتة1 وقى الله المسلمين شرها، فمن عاد إلى مثلها فاقتلوه، فأيما رجل بايع رجلا من غير مشورة من المسلمين فإنهما تغرة2 يجب أن يقتلا.
وإنما سكتت الأنصار عن دعواهم لرواية أبي بكر عن النبي عليه السلام: "الأئمة من قريش" وهذه البيعة هي التي جرت في السقيفة، ثم لما عاد إلى المسجد انثال3 الناس عليه وبايعوه عن رغبة، سوى جماعة من بني هاشم وأبي سفيان من بني أمية. وأمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه كان مشغولا بما أمره النبي صلى الله عليه وسلم من تجهيزه ودفنه وملازمة قبره من غير منازعة ولا مدافعة.
الخلاف السادس: في أمر فدك4 والتوارث عن النبي عليه السلام، ودعوى فاطمة عليها السلام وراثة تارة، وتمليكا أخرى، حتى دفعت عن ذلك بالرواية المشهورة عن النبي عليه السلام: "نحن معاشر الأنبياء لا نورث، ما تركناه صدقة".
الخلاف السابع:
في قتال مانعي الزكاة، فقال قوم: لا نقاتلهم قتال الكفرة.
وقال قوم: بل نقاتلهم، حتى قال أبو بكر رضي الله عنه: لو منعوني عقالا مما أعطوا رسول الله صلى الله عليه وسلم لقاتلتهم عليه، ومضى بنفسه إلى قتالهم، ووافقه جماعة الصحابة بأسرهم. وقد أدى اجتهاد عمر رضي الله عنه في أيام خلافته إلى رد السبايا والأموال إليهم، وإطلاق المحبوسين منهم، والإفراج عن أسراهم.
--------------------------------------------
তবে আবু বকরের আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) ছিল আকস্মিক
১, যার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ মুসলিমদের রক্ষা করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি পুনরায় অনুরূপ কাজের দিকে ফিরে আসবে, তাকে তোমরা হত্যা করো। যে ব্যক্তি মুসলিমদের পরামর্শ ব্যতীত কোনো ব্যক্তির আনুগত্যের শপথ নেয়, তবে তারা উভয়ই নিজেদের ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়
২, যাদেরকে হত্যা করা উচিত।
আনসাররা তাদের দাবি থেকে বিরত হয়েছিল আবু বকর কর্তৃক নবী আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত এই বর্ণনার কারণে: "নেতৃবৃন্দ হবেন কুরাইশ থেকে।" আর এই আনুগত্যের শপথটি সাকীফাহতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। অতঃপর যখন তিনি মসজিদে ফিরে আসলেন, তখন মানুষ দলে দলে তাঁর কাছে ভিড় করল
৩ এবং স্বেচ্ছায় তাঁর আনুগত্যের শপথ নিল। তবে বনু হাশিমের একদল এবং বনু উমাইয়ার আবু সুফিয়ান ব্যতীত। আর আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ মোতাবেক তাঁর কাফন-দাফনের প্রস্তুতি এবং কবরের পাশে অবস্থানে ব্যস্ত ছিলেন, কোনো প্রকার বিরোধ বা প্রতিরোধ ছাড়াই।
ষষ্ঠ মতপার্থক্য: ফাদাক
৪ এর বিষয় এবং নবী আলাইহিস সালামের উত্তরাধিকার নিয়ে। ফাতিমা আলাইহাস সালাম কখনো উত্তরাধিকার সূত্রে আবার কখনো মালিকানা সূত্রে দাবি করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত নবী আলাইহিস সালামের প্রসিদ্ধ বর্ণনার মাধ্যমে তা নাকচ করা হয়: "আমরা নবী সমাজ কাউকে উত্তরাধিকারী করি না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।"
সপ্তম মতপার্থক্য:
যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা নিয়ে। একদল বললেন: আমরা তাদের সাথে কাফেরদের মতো যুদ্ধ করব না।
অন্য দল বললেন: বরং আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। এমনকি আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: তারা যদি আমাকে একটি উটের রশি দিতেও অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিত, তবে আমি তার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। তিনি নিজেই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রসর হলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম সকলেই তাঁর সাথে একমত হলেন। আর উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইজতিহাদ তাঁর খিলাফতের দিনগুলোতে যুদ্ধবন্দি ও সম্পদ তাদের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবং তাদের মধ্যকার কারাবন্দি ও বন্দিদের মুক্তি দিতে পরিচালিত করেছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
الخلاف الثامن: في تنصيص1 أبي بكر على عمر بالخلافة وقت الوفاة، فمن الناس من قال: قد وليت علينا فظا غليظا، وارتفع الخلاف بقول أبي بكر: لو سألني ربي يوم القيامة لقلت: وليت عليهم خيرهم لهم.
وقد وقع في زمانه اختلافات كثيرة في مسائل ميراث الجد، والإخوة، والكلالة2، وفي عقل3 الأصابع، وديات الأسنان، وحدود بعض الجرائم التي لم يرد فيها نص، وإنما أهم أمورهم: الاشتغال بقتال الروم، وغزو العجم. وفتح الله تعالى الفتوح على المسلمين، وكثرت السبايا والغنائم، وكانوا كلهم يصدرون عن رأي عمر رضي الله عنه، وانتشرت الدعوة، وظهرت الكلمة، ودانت العرب، ولانت العجم.
الخلاف التاسع: في أمر الشورى واختلاف الآراء فيها. واتفقوا كلهم على بيعة عثمان رضي الله عنه، وانتظم الأمر واستمرت الدعوة في زمانه، وكثرت الفتوح، وامتلأ بيت المال، وعاشر الخلق على أحسن خلق، وعاملهم بأبسط يد، غير ان أقاربه من بني أمية قد ركبوا نهابر4 فركبته، وجاروا فجير عليه، ووقعت في زمانه اختلافات كثيرة وأخذوا عليه أحداثا كلها محالة5 على بني أمية.
منها: رده الحكم بن أمية إلى المدينة بعد أن طرده رسول الله صلى الله عليه وسلم وكان يسمى طريد رسول الله؛ وبعد أن تشفع إلى أبي بكر وعمر رضي الله عنهما أيام خلافتهما فما أجاباه إلى ذلك، ونفاه عمر من مقامه باليمن أربعين فرسخا.
--------------------------------------------
অষ্টম মতভেদ: মৃত্যুকালে ওমরের খেলাফতের ব্যাপারে আবু বকরের সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা নিয়ে। মানুষের মধ্যে কেউ কেউ বলেছিল: আপনি আমাদের উপর একজন কঠোর ও রূঢ় ব্যক্তিকে নিয়োগ করেছেন। আবু বকরের এই বাণীর মাধ্যমে এই মতভেদের অবসান ঘটে: "যদি কিয়ামতের দিন আমার রব আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তবে আমি বলব: আমি তাদের জন্য তাদের মধ্যে যে সর্বোত্তম তাকেই তাদের ওপর দায়িত্ব দিয়েছি।"
তাঁর যুগে দাদার মিরাস, ভাইদের মিরাস এবং কালালাহ (পিতা ও সন্তানহীন মৃত ব্যক্তি) এর মাসআলাসমূহে, এবং আঙুলের দিয়ত (রক্তপণ), দাঁতের দিয়ত এবং নির্দিষ্ট কিছু অপরাধের দণ্ডবিধিতে যেখানে কোনো স্পষ্ট নস (বিধান) আসেনি, সেসব ক্ষেত্রে অনেক মতভেদ দেখা দিয়েছিল। তবে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া এবং অনারব দেশগুলোতে অভিযান পরিচালনা করা। মহান আল্লাহ মুসলমানদের ওপর বিজয় দান করেন, এবং যুদ্ধবন্দী ও গনীমতের প্রাচুর্য ঘটে। তাঁরা সকলেই ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হতেন। দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে, ইসলামের বাণী জয়যুক্ত হয়, আরবরা আনুগত্য স্বীকার করে এবং অনারবরা নতিস্বীকার করে।
নবম মতভেদ: শূরার বিষয়ে এবং এতে মতামতের বিভিন্নতা নিয়ে। তাঁরা সকলেই উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বায়আতের ওপর একমত হন। তাঁর সময়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দাওয়াত অব্যাহত থাকে। বিজয়সমূহ বৃদ্ধি পায়, বাইতুল মাল পূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি মানুষের সাথে সর্বোত্তম আচরণের সাথে বসবাস করতেন এবং তাদের সাথে অত্যন্ত উদার হস্ত অবলম্বন করতেন। তবে বনী উমাইয়া গোত্রের তাঁর আত্মীয়রা ধ্বংসাত্মক পথে পরিচালিত হয়েছিল যার দায়ভার তাঁর ওপর এসে পড়েছিল; তারা জুলুম করেছিল যার বোঝা তাঁর ওপর চাপানো হয়েছিল। তাঁর যুগে অনেক মতভেদ দেখা দেয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে এমন কিছু নতুন বিষয়ের অভিযোগ আনা হয় যার সবটুকুই বনী উমাইয়ার ওপর বর্তায়।
এর মধ্যে একটি ছিল: হাকাম ইবনে উমাইয়াকে মদিনায় ফিরিয়ে আনা, যাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বহিষ্কার করেছিলেন এবং যাকে 'আল্লাহর রাসূলের বহিষ্কৃত ব্যক্তি' বলা হতো। সে আবু বকর ও ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খেলাফতকালে সুপারিশ করা সত্ত্বেও তাঁরা তাতে সাড়া দেননি এবং ওমর তাকে ইয়েমেনে তার অবস্থানস্থল থেকে চল্লিশ ফারসাখ দূরে নির্বাসিত করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ومنها نفيه أبا ذر إلى الربذة1، وتزويجه مروان بن الحكم بنته، وتسليمه خمس غنائم أفريقية له وقد بلغت مائتي ألف دينار.
ومنها: إيواؤه عبد الله بن سعد بن أبي سرح، وكان رضيعه بعد أن أهدر النبي عليه الصلاة والسلام دمه، وتوليته إياه مصر بأعمالها، وتوليته عبد الله بن عامر البصرة حتى أحدث فيها ما أحدث. إلى غير ذلك مما نقموا عليه، وكان أمراء جنوده: معاوية بن أبي سفيان عامل الشام، وسعد بن أبي وقاص عامل الكوفة، وبعده الوليد بن عقبة، وسعيد بن العاص، وعبد الله بن عامر عامل البصرة، وعبد الله بن سعد بن أبي سرح عامل مصر. وكلهم خذلوه ورفضوا حتى أتى قدره عليه، وقتل مظلوما في داره، وثارت الفتنة من الظلم الذي جرى عليه، ولم تسكن بعد.
الخلاف العاشر: في زمان أمير المؤمنين علي رضي الله عنه بعد الاتفاق عليه وعقد البيعة له. فأوله: خروج طلحة والزبير إلى مكة، ثم حمل عائشة إلى البصرة، ثم نصب القتال معه. ويعرف ذلك بحرب الجمل. والحق أنهما رجعا وتابا، إذ ذكرهما أمرا فتذكراه. فأما الزبير فقتله ابن جرموز بقوس وقت الانصراف، وهو في النار لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "بشر قاتل ابن صفية بالنار". وأما طلحة فرماه مروان بن الحكم بسهم وقت الإعراض2 فخر ميتا. وأما عائشة رضي الله عنها فكانت محمولة على ما فعلت، ثم تابت بعد ذلك ورجعت. والخلاف بينه وبين معاوية، وحرب صفين، ومخالفة الخوارج، وحمله على التحكيم، ومغادرة عمرو بن العاص أبا موسى الأشعري، وبقاء الخلاف إلى وقت وفاته مشهور. وكذلك الخلاف بينه وبين الشراة3
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে আবু যরকে রাবাযা১ নামক স্থানে নির্বাসন দেয়া, মারওয়ান ইবনুল হাকামের নিকট তাঁর কন্যার বিয়ে দেয়া এবং আফ্রিকার গনিমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ তাকে প্রদান করা, যার পরিমাণ ছিল দুই লক্ষ দিনার।
আরও রয়েছে: আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহকে আশ্রয় দান, যিনি তাঁর দুধভাই ছিলেন, অথচ নবী (সা.) ইতিপূর্বে তাঁর রক্ত বৈধ ঘোষণা করেছিলেন; এবং তাকে মিশরের প্রশাসনিক কার্যাবলীর দায়িত্ব প্রদান। এছাড়া আবদুল্লাহ ইবনে আমিরকে বসরার গভর্নর নিয়োগ করা, যে পর্যন্ত না সেখানে যা ঘটার তা ঘটল। এছাড়াও অন্যান্য বিষয় রয়েছে যা নিয়ে লোকেরা তাঁর সমালোচনা করত। তাঁর সেনাবাহিনীর আমীরগণ ছিলেন: শামের গভর্নর মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, কুফার গভর্নর সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, এরপর ওয়ালিদ ইবনে উকবা, সাঈদ ইবনুল আস এবং বসরার গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে আমির ও মিশরের গভর্নর আবদুল্লাহ ইবনে সাদ ইবনে আবি সারহ। তারা সবাই তাঁকে একাকী ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং আনুগত্য বর্জন করেছিলেন যতক্ষণ না তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এল। তিনি তাঁর নিজ গৃহে মজলুম অবস্থায় নিহত হন এবং তাঁর ওপর যে জুলুম সংঘটিত হয়েছিল তা থেকে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে, যা আজও প্রশমিত হয়নি।
দশম মতপার্থক্য: আমিরুল মুমিনীন আলী (রা.)-এর যুগে তাঁর ওপর ঐক্যমত ও তাঁর হাতে বায়আত গ্রহণের পর। এর সূচনা হয় তালহা ও যুবায়েরের মক্কায় গমনের মাধ্যমে, এরপর আয়েশাকে নিয়ে বসরার অভিমুখে যাত্রা এবং আলীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। এটি উটের যুদ্ধ (জঙ্গে জামাল) নামে পরিচিত। সত্য হলো তারা উভয়েই ফিরে এসেছিলেন এবং তওবা করেছিলেন, কারণ আলী তাঁদেরকে একটি বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছিলেন যা তাঁদের স্মরণে এসেছিল। যুবায়েরকে ইবনে জারমুজ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার সময় হত্যা করে; আর সে জাহান্নামী, কারণ নবী (সা.) বলেছিলেন: "সাফিয়্যার পুত্রের হত্যাকারীকে জাহান্নামের সুসংবাদ দাও।" আর তালহাকে মারওয়ান ইবনুল হাকাম যুদ্ধ থেকে বিমুখ থাকার২ সময় তীর নিক্ষেপ করেন, ফলে তিনি ঢলে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। আয়েশা (রা.)-এর বিষয়ে বলা যায়, তিনি যা করেছিলেন সে বিষয়ে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন, এরপর তিনি তওবা করেছিলেন এবং ফিরে এসেছিলেন। তাঁর এবং মুয়াবিয়ার মধ্যকার মতপার্থক্য, সিফফিনের যুদ্ধ, খারেজীদের বিরোধিতা, আলীকে সালিশি মানতে বাধ্য করা, আবু মুসা আশআরীর সাথে আমর ইবনুল আসের প্রতারণা এবং আলীর মৃত্যু পর্যন্ত এই মতপার্থক্য স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি সুপ্রসিদ্ধ। অনুরূপভাবে তাঁর এবং শারাহদের৩ মধ্যকার বিরোধও প্রসিদ্ধ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المارقين بالنهروان1 عقدا وقولا، ونصب القتال معه فعلا ظاهرا معروف، وبالجملة كان علي رضي الله عنه مع الحق، والحق معه. وظهر في زمانه الخوارج2 عليه مثل الأشعث بن قيس، ومسعود بن فدكي التميمي، وزيد بن حصين الطائي وغيرهم. وكذلك ظهر في زمانه الغلاة في حقه مثل عبد الله بن سبإ وجماعة معه. ومن الفريقين ابتدأت البدعة والضلالة، وصدق فيه قول النبي صلى الله عليه وسلم: "يهلك فيه اثنان: محب غال ومبغض قال".
وانقسمت الاختلافات بعده إلى قسمين: أحدهما الاختلاف في الإمامة. والثاني: الاختلاف في الأصول.
والاختلاف في الإمامة على وجهين:
أحدهما: القول بأن الإمامة تثبت بالاتفاق والاختيار.
والثاني: القول بأن الإمامة تثبت بالنص والتعيين.
فمن قال إن الإمامة تثبت بالاتفاق والاختيار؛ قال بإمامة كل من اتفقت عليه الأمة، أو جماعة معتبرة من الأمة: إما مطلقا، وإما بشرط أن يكون قرشيا؛ على مذهب قوم. وبشرط أن يكون هاشميا؛ على مذهب قوم. إلى شرائط أخرى كما سيأتي.
ومن قال بالأول، قال بإمامة معاوية وأولاده، وببعدهم بخلافة مروان وأولاده.
والخوارج اجتمعوا في كل زمان على واحد منهم بشرط أن يبقى على مقتضى اعتقادهم، ويجري على سنن العدل في معاملاتهم، وإلا خذلوه وخلعوه، وربما قتلوه.
ومن قالوا إن الإمامة تثبت بالنص، اختلفوا بعد علي رضي الله عنه، فمنهم من قال
--------------------------------------------
নাহরাওয়ানে যারা বিশ্বাসে ও কথায় দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে তাঁর প্রকাশ্য যুদ্ধ পরিচালনা ছিল একটি সুপরিচিত ঘটনা। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) সত্যের সাথে ছিলেন এবং সত্যও তাঁর সাথে ছিল। তাঁর সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে খারেজীদের আবির্ভাব ঘটে, যেমন আশআস বিন কায়স, মাসউদ বিন ফাদাকী আত-তামীমী, যায়েদ বিন হুসাইন আত-তাঈ এবং অন্যান্যরা। অনুরূপভাবে তাঁর ব্যাপারে অতিশয়োক্তি করা চরমপন্থীদেরও আবির্ভাব ঘটেছিল, যেমন আবদুল্লাহ বিন সাবা এবং তার সাথে থাকা একটি দল। এই দুই দল থেকেই বিদআত ও গোমরাহীর সূচনা হয় এবং তাঁর ব্যাপারে নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী সত্য প্রমাণিত হয়: "তাঁর কারণে দুই ধরনের লোক ধ্বংস হবে: অতিশয়োক্তি করা প্রেমিক এবং বিদ্বেষ পোষণকারী শত্রু।"
তাঁর পরে মতপার্থক্যসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়: প্রথমটি ইমামত সংক্রান্ত মতপার্থক্য। দ্বিতীয়টি উসূল বা মৌলিক নীতি সংক্রান্ত মতপার্থক্য।
ইমামত সংক্রান্ত মতপার্থক্য দুই ধরনের:
প্রথমত: এই মত যে, ইমামত ঐক্যমত ও নির্বাচনের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।
দ্বিতীয়ত: এই মত যে, ইমামত স্পষ্ট নির্দেশ ও সুনির্দিষ্ট মনোনয়নের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়।
যারা মনে করেন যে ইমামত ঐক্যমত ও নির্বাচনের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়; তারা উম্মাহ অথবা উম্মাহর একটি গ্রহণযোগ্য জামাত যার ওপর ঐক্যমত পোষণ করে, তার ইমামতকে বৈধ মনে করেন: তা শর্তহীনভাবে হতে পারে, অথবা কোনো এক গোষ্ঠীর মতে কুরাইশী হওয়ার শর্তে; আবার অন্য গোষ্ঠীর মতে হাশেমী হওয়ার শর্তে। এ ছাড়াও আরও কিছু শর্ত রয়েছে যা সামনে বর্ণিত হবে।
যারা প্রথম মতটি গ্রহণ করেছেন, তারা মুয়াবিয়া ও তাঁর সন্তানদের ইমামত এবং তাদের পরে মারওয়ান ও তাঁর সন্তানদের খেলাফতের প্রবক্তা।
আর খারেজীরা প্রতি যুগে তাদের মধ্য থেকে একজনের ওপর এই শর্তে ঐক্যবদ্ধ হতো যে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তাদের আকিদার দাবি অনুযায়ী অটল থাকবে এবং পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ইনসাফের পথ অনুসরণ করবে; অন্যথায় তারা তাকে সাহায্য করা বন্ধ করে দিত এবং পদচ্যুত করত, এমনকি অনেক সময় তাকে হত্যাও করত।
যারা বলেন যে ইমামত স্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তারা আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর পর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে যান। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
إنه نص على ابنه محمد بن الحنفية، وهؤلاء هم الكيسانية، ثم اختلفوا بعده، فمنهم من قال إنه لم يمت، ويرجع فيملأ الأرض عدلا، ومنهم من قال إنه مات، وانتقلت الإمامة بعده إلى ابنه أبي هاشم، وافترق هؤلاء، فمنهم من قال الإمامة بقيت في عقبه وصية بعد وصية، ومنهم من قال إنها انتقلت إلى غيره، واختلفوا في ذلك الغير، فمنهم من قال هو بنان بن سمعان النهدي، ومنهم من قال هو علي بن عبد الله بن عباس، ومنهم من قال هو عبد الله بن حرب الكندي، ومنهم من قال هو عبد الله بن معاوية بن عبد الله بن جعفر بن أبي طالب، وهؤلاء كلهم يقولون إن الدين طاعة رجل، ويتأولون أحكام الشرع كلها على شخص معين كما ستأتي مذاهبهم.
وأما من لم يقل بالنص على محمد بن الحنفية فقال بالنص على الحسن والحسين رضي الله عنهما، وقال: لا إمامة في الأخوين إلا الحسن والحسين رضي الله عنهما. ثم اختلفوا، فمنهم من أجرى الإمامة في أولاد الحسن، فقال بعده بإمامة ابنه الحسن، ثم ابنه عبد الله، ثم ابنه محمد، ثم أخيه إبراهيم الإمامين، وقد خرجا في أيام المنصور فقتلا في أيامه. ومن هؤلاء من يقول برجعة محمد الإمام، ومنهم من أجرى الوصية في أولاد الحسين وقال بعده بإمامة ابنه علي بن الحسين زيد العابدين نصا عليه. ثم اختلفوا بعده، فقالت الزيدية بإمامة ابنه زيد. ومذهبهم: أن كل فاطمي خرج، وهو عالم، زاهد، شجاع، سخي، كان إماما واجب الاتباع، وجوزوا رجوع الإمامة إلى أولاد الحسن. ثم منهم من وقف وقال بالرجعة، ومنهم من ساق وقال بإمامة كل من هذا حاله في كل زمان، وسيأتي فيما بعد تفصيل مذاهبهم.
وأما الإمامية فقالوا بإمامة محمد بن علي الباقر نصا عليه، ثم بإمامة جعفر بن محمد الصادق وصية إليه، ثم اختلفوا بعده في أولاده: من المنصوص عليه؟ وهم خمسة: محمد، وإسماعيل، وعبد الله، وموسى، وعلي. فمنهم من قال بإمامة محمد وهم العمارية، ومنهم من قال بإمامة إسماعيل وأنكر موته في حياة أبيه وهم المباركية، ومن هؤلاء من
নিশ্চয়ই তিনি তাঁর পুত্র মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার অনুকূলে ইমামতের স্পষ্ট নির্দেশ (নাস) দিয়েছিলেন; আর এঁরাই হলেন কায়সানিয়া। অতঃপর তাঁর পরে তারা মতভেদ করল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল যে, তিনি মারা যাননি, বরং তিনি ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন। আবার তাদের মধ্যে কেউ বলল যে, তিনি মারা গেছেন এবং তাঁর পর ইমামত তাঁর পুত্র আবু হাশিমের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই দলটি আবার বিভক্ত হলো; তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলল যে, ইমামত তাঁর বংশধরদের মধ্যেই একের পর এক অসিয়তের মাধ্যমে রয়ে গেছে। আবার কেউ কেউ বলল যে, তা অন্য কারো কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেই 'অন্য ব্যক্তি'র ব্যাপারে তারা মতভেদ করল। তাদের কেউ বলল, তিনি হলেন বায়ান ইবনে সামআন আন-নাহদি। কেউ বলল, তিনি আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস। কেউ বলল, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে হারব আল-কিন্দি। আবার কেউ বলল, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর ইবনে আবি তালিব। এরা সবাই মনে করে যে, ধর্ম হলো একজন ব্যক্তির আনুগত্য করা এবং তারা শরিয়তের সমস্ত বিধানকে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ওপর আরোপ করে অপব্যাখ্যা করে, যেমনটি তাদের মতাদর্শের বর্ণনায় সামনে আসবে।
আর যারা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়ার অনুকূলে স্পষ্ট নির্দেশের প্রবক্তা ছিলেন না, তারা হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর অনুকূলে স্পষ্ট নির্দেশের কথা বলেন। তারা বলেছিলেন: হাসান ও হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) ব্যতীত আর কোনো দুই ভাইয়ের মধ্যে ইমামত হতে পারে না। অতঃপর তারা মতভেদ করল; তাদের মধ্যে কেউ কেউ হাসান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তানদের মধ্যে ইমামত জারি রাখলেন। তারা হাসানের পর তাঁর পুত্র হাসান, এরপর তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ, তারপর তাঁর পুত্র মুহাম্মদ, এরপর তাঁর ভাই ইব্রাহিম—এই দুই ইমামের ইমামতের কথা বলেন। তাঁরা খলিফা মনসুরের আমলে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং তাঁর সময়েই নিহত হন। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইমাম মুহাম্মদের প্রত্যাবর্তনের (রাজ'আত) কথা বলেন। আবার কেউ কেউ হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সন্তানদের মধ্যে ইমামতের অসিয়ত জারি রাখেন এবং তাঁর পর তাঁর পুত্র আলী ইবনে হুসাইন জয়নুল আবেদিনের অনুকূলে স্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে ইমামতের কথা বলেন। এরপর তাঁর পরে তারা মতভেদ করল। জায়দিয়া সম্প্রদায় তাঁর পুত্র জায়দের ইমামতের কথা বলল। তাদের মূলনীতি হলো: ফাতিমি বংশীয় যে কেউ বিদ্রোহ করবেন এবং তিনি যদি জ্ঞানী, যাহিদ (বিরাগী), সাহসী ও দানশীল হন, তবে তিনিই অনুসরণযোগ্য ইমাম। তারা ইমামত পুনরায় হাসানের সন্তানদের কাছে ফিরে আসাকে বৈধ মনে করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্দিষ্ট ইমামে থমকে গিয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছেন, আবার কেউ কেউ ইমামতকে অব্যাহত রেখেছেন এবং বলেছেন যে, প্রত্যেক যুগে যার মধ্যে এই গুণাবলি পাওয়া যাবে তিনিই ইমাম। পরবর্তীতে তাদের মতাদর্শের বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
আর ইমামিয়া সম্প্রদায় মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-বাকিরের অনুকূলে স্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে তাঁর ইমামতের কথা বলেন, এরপর জাফর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদিকের অনুকূলে অসিয়তের মাধ্যমে তাঁর ইমামতের কথা বলেন। এরপর তাঁর সন্তানদের মধ্যে কে স্পষ্ট নির্দেশপ্রাপ্ত—তা নিয়ে তারা মতভেদ করল। তাঁরা ছিলেন পাঁচজন: মুহাম্মদ, ইসমাইল, আব্দুল্লাহ, মুসা এবং আলী। তাদের মধ্যে যারা মুহাম্মদের ইমামতের কথা বলেন তারা হলেন আম্মারিয়া। আর যারা ইসমাইলের ইমামতের কথা বলেন এবং তাঁর পিতার জীবদ্দশায় তাঁর মৃত্যুকে অস্বীকার করেন তারা হলেন মুবারাকিয়া। তাদের মধ্য থেকে যারা...
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقف عليه وقال برجعته، ومنهم من ساق الإمامة في أولاده نصا بعد نص إلى يومنا هذا، وهم الإسماعيلية، ومنهم من قال بإمامة عبد الله الأفطح، وقال برجعته بعد موته لأنه مات ولم يعقب1، ومنهم من قال بإمامة موسى نصا عليه إذ قال والده: سابعكم قائمكم، إلا وهو سمي صاحب التوراة. ثم هؤلاء اختلفوا، فمنهم من اقتصر عليه وقال برجعته؛ إذ قال لم يمت هو، ومنهم من توقف في موته وهم الممطورة، ومنهم من قطع بموته، وساق الإمامة إلى ابنه علي بن موسى الرضا، وهم القطعية. ثم هؤلاء اختلفوا في كل ولد بعده، فالاثنا عشرية ساقوا الإمامة من على الرضا إلى ابنه محمد، ثم إلى ابنه علي، ثم إلى ابنه الحسن، ثم إلى ابنه محمد القائم المنتظر الثاني عشر، وقالوا: هو حي لم يمت، ويرجع فيملأ الدنيا عدلا، كما ملئت جورا. وغيرهم ساقوا الإمامة إلى الحسن العسكري، ثم قالوا بإمامة أخيه جعفر، وقالوا بالتوقف عليه، أو قالوا بالشك في حال محمد، ولهم خبط2 طويل في سوق الإمامة، والتوقف، والقول بالرجعة بعد الموت، والقول بالغيبة، ثم بالرجعة بعد الغيبة.
فهذه جملة الاختلافات في الإمامة، وسيأتي تفصيل ذلك عند ذكر المذاهب.
وأما الاختلافات في الأصول فحدثت في آخر أيام الصحابة بدعة معبد الجهني، وغيلان الدمشقي، ويونس الأسواري في القول بالقدر وإنكار إضافة الخير والشر إلى القدر، ونسج على منوالهم واصل بن عطاء الغزال، وكان تلميذ الحسن البصري، وتلمذ له عمرو بن عبيد، وزاد عليه في مسائل القدر، وكان عمرو من دعاة يزيد الناقص أيام بني أمية، ثم والي المنصور وقال بإمامته، ومدحه المنصور يوما فقال: نثرت الحب للناس فلقطوا غير عمرو بن عبيد.
والوعيدية من الخوارج، والمرجئة من الجبرية.
والقدرية ابتدءوا بدعتهم في زمان الحسن، واعتزل واصل عنهم وعن أستاذه
--------------------------------------------
তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং তার প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তার সন্তানদের মধ্যে আজ অবধি একের পর এক সুস্পষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে ইমামত পরিচালনা করেছেন, তারা হলেন ইসমাইলিয়া। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আব্দুল্লাহ আল-আফতাহ-এর ইমামতের কথা বলেছেন এবং তার মৃত্যুর পর তার প্রত্যাবর্তনের কথা বলেছেন, কারণ তিনি কোনো উত্তরসূরি রেখে যাননি১। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুসা (আল-কাজিম)-এর ইমামতের পক্ষে সুস্পষ্ট নির্দেশের কথা বলেছেন, যেহেতু তার পিতা বলেছিলেন: "তোমাদের সপ্তম ব্যক্তিই তোমাদের কায়েম (উত্থানকারী), সে তাওরাতের অধিকারীর নামধারী হবে।" এরপর তারা পরস্পর মতবিরোধ করেন; তাদের কেউ কেউ কেবল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকেন এবং তার প্রত্যাবর্তনের কথা বলেন, যেহেতু তারা বলেন যে তিনি মারা যাননি। আবার তাদের কেউ কেউ তার মৃত্যুর ব্যাপারে সংশয়ে থমকে দাঁড়িয়েছেন, তারা হলেন মামতুরাহ। আর কেউ কেউ তার মৃত্যুর ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন এবং ইমামতকে তার পুত্র আলী বিন মুসা আর-রিদা পর্যন্ত এগিয়ে নিয়েছেন, তারা হলেন ক্বাতঈয়াহ। এরপর তারা তার পরবর্তী প্রতিটি সন্তানের বিষয়ে মতবিরোধ করেছেন। ইছনা আশারিয়া (বারো ইমামী) সম্প্রদায় ইমামতকে আলী আর-রিদা থেকে তার পুত্র মুহাম্মদ, অতঃপর তার পুত্র আলী, অতঃপর তার পুত্র হাসান, এরপর তার পুত্র দ্বাদশ প্রতীক্ষিত মুহাম্মদ আল-কায়েম পর্যন্ত নিয়ে গেছেন এবং বলেছেন: তিনি জীবিত আছেন, মারা যাননি এবং তিনি ফিরে আসবেন ও পৃথিবীকে ন্যায়বিচারে পূর্ণ করে দেবেন, যেমনটি তা অবিচারে পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। অন্যরা ইমামতকে হাসান আল-আসকারি পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছেন, তারপর তার ভাই জাফরের ইমামতের কথা বলেছেন এবং তার ওপরই স্থির থেকেছেন; অথবা তারা মুহাম্মদের অবস্থা নিয়ে সন্দেহের কথা বলেছেন। ইমামতের ধারা পরিচালনা করা, কোনো একজনের ওপর থমকে যাওয়া, মৃত্যুর পর প্রত্যাবর্তনের দাবি করা, আত্মগোপন এবং আত্মগোপনের পর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাদের দীর্ঘ বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা২ রয়েছে।
এই হলো ইমামত সংক্রান্ত মতপার্থক্যসমূহের সারসংক্ষেপ, আর বিভিন্ন মাযহাবের বর্ণনার সময় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
আর মূলনীতিসমূহের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য সাহাবীদের যুগের শেষ দিকে শুরু হয়েছিল—মা'বাদ আল-জুহানি, গাইলান আদ-দিমাশকি এবং ইউনুস আল-আসওয়ারির বিদআতের মাধ্যমে, যা ছিল তাকদির সংক্রান্ত এবং তাকদিরের সাথে কল্যাণ ও অকল্যাণের সম্পর্ককে অস্বীকার করা বিষয়ে। তাদের পথ অনুসরণ করেন ওয়াসিল বিন আতা আল-গাজ্জাল, তিনি হাসান বসরির ছাত্র ছিলেন। আমর বিন উবাইদ তার কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং তাকদিরের মাসআলায় তার চেয়েও বাড়াবাড়ি করেন। আমর উমাইয়া যুগে ইয়াজিদ আন-নাক্বিসের অন্যতম আহ্বায়ক ছিলেন, অতঃপর তিনি মানসুরের অনুসারী হন এবং তার ইমামতের কথা বলেন। মানসুর একদিন তার প্রশংসা করে বলেছিলেন: "আমি মানুষের জন্য দানা ছিটিয়েছিলাম এবং তারা তা কুড়িয়ে নিয়েছিল, কিন্তু আমর বিন উবাইদ ব্যতীত।"
আর খারেজিদের মধ্য থেকে ওয়াইদিয়্যাহ এবং জাবরিয়াদের মধ্য থেকে মুরজিয়াহ সম্প্রদায়।
কাদারিয়াগণ হাসানের যুগে তাদের বিদআত শুরু করেছিল এবং ওয়াসিল তাদের থেকে ও তার উস্তাদ থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মিলাল ওয়ান নিহাল
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
بالقول منه بالمنزلة بين المنزلتين. فسمي هو وأصحابه معتزلة. وقد تلمذ له زيد بن علي وأخذ الأصول فلذلك صارت الزيدية كلهم معتزلة. ومن رفض زيد بن علي لأنه خالف مذهب آبائه في الأصول، وفي التبري والتولي؛ وهم من أهل الكوفة؛ وكانوا جماعة، سموا رافضة. ثم طالع بعد ذلك شيوخ المعتزلة كتب الفلاسفة حيث نشرت أيام المأمون فخلطت مناهجها بمناهج الكلام. وأفردتها فنا من فنون العلم، وسمتها باسم الكلام، إما لأن أظهر مسألة تكلموا فيها وتاقتلوا عليها، هي مسألة الكلام، فسمي النوع باسمها، وإما لمقابلتهم الفلاسفة في تسميتهم فنا من فنون علمهم بالمنطق، والمنطق والكلام مترادفان.
وكان أبو الهذيل العلاف شيخهم الأكبر؛ وافق الفلاسفة في أن الباري تعالى عالم بعلم، وعلمه ذاته، وكذلك قادر بقدرة، وقدرته ذاته، وأبدع بدعا في الكلام، والإرادة، وأفعال العباد، والقول بالقدر، والآجال، والأرزاق، كما سيأتي في حكاية مذهبه، وجرت بينه وبين هشام بن الحكم مناظرات في أحكام التشبيه، وأبو يعقوب الشحام والآدمي صاحبا أبي الهذيل وافقاه في ذلك كله.
ثم إبراهيم بن سيار النظام في أيام المعتصم كان قد غلا في تقرير مذاهب الفلاسفة وانفرد عن السلف ببدع في القدر والرفض، وعن أصحابه بمسائل نذكرها، ومن أصحابه محمد بن شبيب، وأبو شمر، وموسى بن عمران، والفضل الحدثي، وأحمد بن خابط، ووافقه الأسواري في جميع ما ذهب غليه من البدع، وكذلك الإسكافية أصحاب أبي جعفر الإسكافي، والجعفرية أصحاب الجعفر بن جفعر بن مبشر، وجعفر بن حرب.
ثم ظهرت بدع بشر بن المعتمر؛ من القول بالتولد والإفراط فيه والميل إلى الطبيعيين من الفلاسفة، والقول بأن الله تعالى قادر على تعذيب الطفل، وإذا فعل ذلك فهو ظالم، إلى غير ذلك مما تفرد به عن أصحابه.
দুই অবস্থানের মধ্যবর্তী অবস্থান (আল-মানজিলাতু বাইনাল মানজিলাতাইন) সংক্রান্ত মতবাদের কারণে তাকে এবং তার সঙ্গীদের 'মুতাযিলা' নামকরণ করা হয়। যায়িদ বিন আলী তার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং উসুল বা মূলনীতিসমূহ গ্রহণ করেছিলেন, এ কারণেই যায়দিয়া সম্প্রদায়ের সকলেই মুতাযিলায় পরিণত হয়। আর যারা যায়িদ বিন আলীকে বর্জন করেছিল, কারণ তিনি উসুলের ক্ষেত্রে এবং 'তাবারি' (বিচ্ছিন্নতা) ও 'তাওয়াল্লি' (আনুগত্য) এর ক্ষেত্রে তাঁর পিতৃপুরুষদের মাযহাবের বিরোধিতা করেছিলেন; তারা ছিল কুফাবাসী একদল লোক, যাদের 'রাফিদা' বলা হয়। এরপর মুতাযিলা শাইখগণ দার্শনিকদের কিতাবসমূহ অধ্যয়ন করেন যা আল-মামুনের যুগে প্রচারিত হয়েছিল। ফলে তারা দর্শনের পদ্ধতির সাথে ইলমুল কালামের পদ্ধতির সংমিশ্রণ ঘটান। তারা একে ইলমের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে নির্ধারণ করেন এবং এর নাম দেন 'কালাম'। হয়তো এ কারণে যে, তারা যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন এবং একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তা ছিল 'কালামুল্লাহ' (আল্লাহর কথা বলা) সংক্রান্ত মাসআলা, তাই এই শাস্ত্রের নামকরণ করা হয়েছে এর নামানুসারে। অথবা দার্শনিকরা তাদের ইলমের একটি শাখার নাম 'মানতিক' (যুক্তিবিদ্যা) রেখেছিলেন বলে তার বিপরীতে তারা এর নাম রাখেন 'কালাম', আর মানতিক ও কালাম সমার্থক।
আবু আল-হুযায়িল আল-আল্লাফ ছিলেন তাদের প্রধান শাইখ; তিনি এই বিষয়ে দার্শনিকদের সাথে একমত পোষণ করেন যে, স্রষ্টা মহান আল্লাহ জ্ঞানের মাধ্যমে জ্ঞানী এবং তাঁর জ্ঞানই হলো তাঁর সত্তা। একইভাবে তিনি কুদরতের মাধ্যমে সক্ষম এবং তাঁর কুদরতই হলো তাঁর সত্তা। তিনি আল্লাহর কালাম, ইচ্ছা (ইরাদা), বান্দাদের কাজ, তাকদির, মানুষের মৃত্যুকাল এবং রিজিকের বিষয়ে নতুন কিছু বিদআতি মতবাদ উদ্ভাবন করেন, যা তাঁর মাযহাবের বর্ণনায় সামনে আসবে। তাঁর এবং হিশাম বিন আল-হাকামের মধ্যে আল্লাহর গুণাবলির ক্ষেত্রে 'তাশবিহ' (সাদৃশ্য দান)-এর বিধান নিয়ে বিতর্ক সংঘটিত হয়। আবু ইয়াকুব আল-শাহহাম এবং আল-আদামি, যারা আবু আল-হুযায়িলের দুই সঙ্গী ছিলেন, তারা এই সমস্ত বিষয়ে তাঁর সাথে একমত পোষণ করেন।
অতঃপর আল-মুতাসিমের যুগে ইব্রাহিম বিন সাইয়্যার আন-নাজ্জাম দার্শনিকদের মতবাদগুলো দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে চরমপন্থা অবলম্বন করেন। তিনি তাকদির ও 'রাফয' (শিয়া মতবাদ) সংক্রান্ত বিদআতের ক্ষেত্রে সালাফদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং কিছু মাসআলায় তিনি তাঁর সঙ্গীদের থেকেও আলাদা মত পোষণ করেন যা আমরা উল্লেখ করব। তাঁর অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন মুহাম্মদ বিন শাবিব, আবু শামার, মুসা বিন ইমরান, আল-ফাদল আল-হাদাছি এবং আহমদ বিন খাবিত। আল-আসওয়ারি তাঁর প্রবর্তিত সমস্ত বিদআতি মতবাদের সাথে একমত ছিলেন। একইভাবে ইসকাফিয়্যাহ সম্প্রদায় তথা আবু জাফর আল-ইসকাফির অনুসারীরা এবং জাফরিয়্যাহ সম্প্রদায় তথা জাফর বিন মুবাশশির ও জাফর বিন হারবের অনুসারীরাও তাঁর সাথে একমত ছিল।
এরপর বিশর বিন আল-মুতামিরের বিদআতসমূহ প্রকাশিত হয়; এর মধ্যে ছিল 'তাওয়াল্লাদ' (কারণের প্রভাবে কার্য ঘটা) সংক্রান্ত মতবাদ এবং এতে বাড়াবাড়ি করা, দার্শনিকদের মধ্যে যারা প্রকৃতিবাদী তাদের দিকে ঝুঁকে পড়া এবং এই দাবি করা যে, আল্লাহ তাআলা শিশুদের শাস্তি দিতে সক্ষম, কিন্তু যদি তিনি তা করেন তবে তিনি জালিম হবেন। এ ধরনের আরও অনেক মাসআলায় তিনি তাঁর সঙ্গীদের থেকে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন।