(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: -)
جهود أئمة الدعوة السلفية بنجد في التصدي للعنف والإرهاب من خلال الدعوة إلى فقه إنكار المنكر القسم: كتب عامة
الكتاب: جهود أئمة الدعوة السلفية بنجد في التصدي للعنف والإرهاب من خلال الدعوة إلى فقه إنكار المنكر
المؤلف: صالح بن عبد الله الفريح
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 43
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 73
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রচেষ্টা: অন্যায় (منكر) প্রতিরোধ সংক্রান্ত ফিকহ প্রচারের মাধ্যমে বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
গ্রন্থ: নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রচেষ্টা: অন্যায় (منكر) প্রতিরোধ সংক্রান্ত ফিকহ প্রচারের মাধ্যমে
লেখক: সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-ফুরাইহ
প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
মুদ্রিত বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা (কাগজে মুদ্রিত) : ৪৩
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩
শামিলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১)
جهود أئمة الدعوة السلفية بنجد في التصدي للعنف والإرهاب من خلال الدعوة إلى فقه إنكار المنكر إعداد
د. صالح بن عبد الله الفريح
عضو الجمعية العلمية السعودية للدراسات الدعوية
والأستاذ المساعد بقسم الدعوة والثقافة الإسلامية
بكلية الدعوة وأصول الدين - جامعة أم القرى
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. .
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] .
নজদের সালাফি দাওয়াহর ইমামগণের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রচেষ্টাসমূহ: মন্দ কাজ প্রতিরোধের ফিকহ (فقه) প্রচারের মাধ্যমে। উপস্থাপনায়:
ড. সালেহ বিন আবদুল্লাহ আল-ফুরাইহ
দাওয়াহ স্টাডিজ বিষয়ক সৌদি সায়েন্টিফিক সোসাইটির সদস্য
এবং দাওয়াহ ও ইসলামি সংস্কৃতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক
দাওয়াহ ও উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদ - উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না।} [আল-ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার চেয়ে থাকো এবং সতর্ক থাকো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা সম্পর্কে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষণকারী।} [আন-নিসা: ১]।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২)
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70-71] .
فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
أما بعد:
فقد أوجب الله في كتابه الكريم، ورسوله صلى الله عليه وسلم في سنته المطهرة على كل مسلم القيام بشعيرة الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وجاءت النصوص الشرعية تتضافر في هذا الجانب لتؤكد على أهمية هذه الشعيرة وعظيم قدرها عند الله جل وعلا، حتى عدها بعض العلماء ركنًا من أركان الإسلام، فعدوها ستة أركان بدلًا من خمسة (1) .
ولأجل هذا الأمر عُني العلماء سلفًا وخلفًا بهذه الشعيرة العظيمة، فبينوا أصولها وشرحوا أسسها.
--------------------------------------------
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।} {তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১] ।
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভুদ বিষয়সমূহ (محدثات); এবং প্রতিটি নবউদ্ভুদ বিষয়ই হলো বিদআত (بدعة), আর প্রতিটি বিদআতই হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর:
আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পবিত্র সুন্নাহর (سنة) মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমানের ওপর সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিধান পালন করা আবশ্যক করেছেন। এই প্রসঙ্গে শরয়ি দলীলসমূহ সম্মিলিতভাবে এই বিধানের গুরুত্ব এবং মহান আল্লাহর নিকট এর সুউচ্চ মর্যাদাকে নিশ্চিত করে; এমনকি কোনো কোনো আলিম একে ইসলামের অন্যতম রুকন (ركن) হিসেবে গণ্য করেছেন। ফলে তাঁরা ইসলামের রুকন পাঁচটি হওয়ার পরিবর্তে ছয়টি বলে উল্লেখ করেছেন (১)।
এই কারণেই পূর্বসূরী (سلف) এবং উত্তরসূরী (خلف) উলামায়ে কেরাম এই মহান বিধানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন, এর মূলনীতিসমূহ (أصول) বর্ণনা করেছেন এবং এর ভিত্তিসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৩)
والمتأمل لواقعنا المعاصر يلحظ وبوضوح شيئًا من ذلك الانحراف في الفقه الحقيقي لكيفية إنكار المنكر حيث طغت الغيرة على محارم الله وزادت عن الحد المشروع الذي يرضاه الله تعالى، وتجاوز بها أصحابها في غلو لا يحكم به شرع ولا عقل، وكان نتاج ذلك أعمال إرهابية فيها تدمير وتفجير وقتل وإرهاب، الأمر الذي يوجب على طلبة العلم والعلماء والمفكرين والكُتَّاب القيام بدورهم في التصدي لهذه الأفكار المنحرفة وبيان ضلالها لقطع دابر الفساد والإفساد.
ولعل من أعجب ما يراه المتأمل لهذه الأحداث المعاصرة وما صاحبها من ردود أفعال، اتهام بعضهم لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب بالضلوع في تغذية مثل هذا الفكر المنحرف وأنها سبب لظهوره، في جهل واضح بحقيقة الدعوة، ومواقف أئمتها من مثل هذه الأعمال، ولعل للهوى دور كبير في مثل هذا الاتهام.
أسباب اختيار الموضوع:
1- بيان جهود أئمة الدعوة السلفية في نجد في محاربة التطرف والغلو وما يتبعهما من إرهاب، وأن مواقفهم إزاء ذلك مواقف صارمة لا تقبل التجاوز في هذا الباب.
আমাদের সমকালীন বাস্তবতার প্রতি মনোনিবেশকারী ব্যক্তি মন্দ কাজ প্রতিহত করার প্রকৃত প্রজ্ঞার ক্ষেত্রে সেই বিচ্যুতি (انحراف) স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করেন, যেখানে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াবলীর প্রতি আত্মমর্যাদাবোধ প্রবল হয়ে শরিয়ত অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে গেছে—যা মহান আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন না। এর অনুসারীরা এমন চরমপন্থা বা অতিরঞ্জনের (غلو) দিকে ধাবিত হয়েছে যা শরিয়ত কিংবা বিবেক কোনটি দ্বারাই শাসিত নয়। এর ফলে জন্ম নিয়েছে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড, বিষ্ফোরণ, হত্যা ও সন্ত্রাসবাদ; যা ইলম অন্বেষী ছাত্র, উলামা, চিন্তাবিদ ও লেখকদের ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করে যে, তারা এই বিচ্যুত (انحراف) চিন্তাধারার মোকাবিলায় সচেষ্ট হবেন এবং এর পথভ্রষ্টতা (ضلال) স্পষ্ট করবেন যাতে ফিতনা ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা যায়।
সমকালীন এই ঘটনাপ্রবাহ এবং এর প্রতিক্রিয়াস্বরূপ যা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে একজন পর্যবেক্ষকের কাছে সম্ভবত সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—কেউ কেউ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতকে এই বিচ্যুত (انحراف) চিন্তাধারা লালন করার দায়ে অভিযুক্ত করেন এবং দাবি করেন যে এটিই এর উত্থানের কারণ। এটি দাওয়াতের প্রকৃত রূপ এবং এসব কর্মকাণ্ডের প্রতি এই দাওয়াতের ইমামগণের অবস্থানের বিষয়ে সুস্পষ্ট অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই নয়। সম্ভবত এজাতীয় অভিযোগের পেছনে প্রবৃত্তির অনুসরণের (هوى) একটি বড় ভূমিকা রয়েছে।
বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:
1- নজদ অঞ্চলের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ উগ্রবাদ ও চরমপন্থা (غلو) এবং এর অনুসঙ্গে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন তা বর্ণনা করা; এবং এটি ফুটিয়ে তোলা যে, এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর যা এ ক্ষেত্রে কোনো ধরণের সীমা লঙ্ঘন গ্রহণ করে না।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৪)
2- غموض موقف أئمة الدعوة السلفية بنجد من التطرف والإرهاب لدى بعض من يعدون من المثقفين والمفكرين، وما يتبع ذلك أطروحات متطرفة تحمل دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب كثيرا من التبعات التي هي منها براء مما سيبينه هذا البحث بحول الله تعالى.
3- عدم وجود دراسة علمية تتناول هذه القضية وتبرز للناس الموقف الجيد النابع من حقيقة الإسلام ضد هذه الأفكار.
4- إبراز تحذير أئمة الدعوة السلفية بنجد من التطرف والغلو وما يتبعهما من إرهاب وإظهار بعض الفتاوى المهمة التي كتبها أئمة الدعوة في التحذير من قضايا نعيشها في واقعنا المعاصر اليوم.
5- بيان انحراف من زعم أن منهجه المتطرف والغالي وما يتبعه هو منهج أئمة الدعوة السلفية بنجد وبيان تفنيدهم لذلك وحقيقة منهجهم.
مشكلة البحث:
يمكن تحديد مشكلة البحث في بيان الموقف الحقيقي لأئمة الدعوة السلفية في نجد من الغلو والتطرف والعنف والإرهاب، وهل كانت تلك الدعوة تغذي التطرف والإرهاب أو هل هي سبب في ظهوره أو ظهور شيء من آثاره التي نعيشها اليوم من إرهاب وعنف.
حدود الدراسة:
2- কিছু বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাবিদদের নিকট নজদ অঞ্চলের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের চরমপন্থা (تطرف) ও সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) বিষয়ক অবস্থানের অস্পষ্টতা; এবং এর ফলে উদ্ভূত এমন সব চরমপন্থী থিসিস যা শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের ওপর অনেক দায়ভার চাপিয়ে দেয় যা থেকে এই দাওয়াত সম্পূর্ণ মুক্ত—আর তা মহান আল্লাহর শক্তিতে এই গবেষণায় স্পষ্ট করা হবে।
3- এই বিষয়টি নিয়ে কোনো তাত্ত্বিক বা বৈজ্ঞানিক গবেষণার অনুপস্থিতি, যা মানুষের নিকট এই সব চিন্তাধারার বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে উদ্ভূত সঠিক অবস্থানটি ফুটিয়ে তুলবে।
4- নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের পক্ষ থেকে চরমপন্থা (تطرف) ও অতিরঞ্জন (غلو) এবং এর ফলশ্রুতিতে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) সম্পর্কে সতর্কবাণী তুলে ধরা এবং বর্তমান সমসাময়িক বাস্তবতায় আমরা যেসকল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, সে সম্পর্কে ইমামগণের লিখিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া প্রকাশ করা।
5- যারা দাবি করে যে তাদের চরমপন্থী ও অতিরঞ্জনপূর্ণ পদ্ধতি (منهج) এবং এর অনুগামীরা নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের পদ্ধতি (منهج) অনুযায়ী চলছে, তাদের বিচ্যুতি বর্ণনা করা; এবং তাদের সেই দাবির অসারতা প্রমাণ ও ইমামগণের প্রকৃত পদ্ধতির (منهج) স্বরূপ উন্মোচন করা।
গবেষণার সমস্যা:
গবেষণার সমস্যাটি নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের অতিরঞ্জন (غلو), চরমপন্থা (تطرف), সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ (إرهاب) বিষয়ে প্রকৃত অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করা যেতে পারে। সেই সাথে এটি খতিয়ে দেখা যে, এই দাওয়াত কি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদকে উস্কে দিয়েছিল, নাকি এটি বর্তমান সময়ে আমরা যে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার রূপ প্রত্যক্ষ করছি তার উৎপত্তির কারণ বা প্রভাব ছিল।
গবেষণার পরিসর:
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৫)
ستكون الدراسة منصبة على استخراج المنهج لدى أئمة الدعوة السلفية بنجد في قضية إنكار المنكر ومحاربتهم للغلو والتطرف والعنف فيها وتجاوز المأمور به شرعًا في تطبيقها.
وسيركز الباحث على ما سطره أئمة الدعوة من العلماء والحكام ويحلل عباراتهم ويستنبط منها منهجهم العلمي في ذلك.
منهج البحث:
سيستخدم الباحث في هذا البحث المنهج التحليلي الاستنباطي حيث سيجمع النصوص الواردة عنهم في قضية إنكار المنكر وما يتعلق بها ثم يحلل عباراتهم ويدرسها بعناية مستنبطًا منها منهجيتهم في هذه القضية الهامة وسيكون ذلك وفق الخطوات الآتية:
1- جمع ما تيسر من رسائل أئمة الدعوة السلفية بنجد والكتب التي عُنيت بجمع تلك الرسائل ومؤلفاتهم واستخراج النصوص المتعلقة بالموضوع منها.
2- إجراء دراسة تحليلية لما جُمع من نصوص تتعلق بموضوع البحث واستنباط منهجهم منها.
3- التركيز على ما كتبه أئمة الدعوة السلفية بنجد دون ما نُقل عنهم ليتم الوصول إلى منهجهم دون وسائط قد تحرف البحث عن مساره.
4- الحرص على نقل عباراتهم بنصها غالبًا في الموضوع ليكون واقعيًا.
5- عزو الآيات لموضعها من كتاب الله.
এই গবেষণাটি নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের মাঝে 'মন্দ কাজের নিষেধ' (إنكار المنكر) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের কর্মপদ্ধতি উদঘাটন, এবং এতে চরমপন্থা, উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের লড়াই এবং এটি প্রয়োগের ক্ষেত্রে শরয়ি নির্দেশনার সীমা লঙ্ঘন সংক্রান্ত আলোচনার ওপর নিবদ্ধ থাকবে।
গবেষক দাওয়াতের ইমামগণের মধ্য থেকে আলেম ও শাসকগণ যা লিপিবদ্ধ করেছেন তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন এবং তাদের বক্তব্যসমূহ বিশ্লেষণ করে তা থেকে এ বিষয়ে তাদের ইলমি মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন।
গবেষণার পদ্ধতি:
গবেষক এই গবেষণায় বিশ্লেষণধর্মী উদ্ভাবনমূলক (المنهج التحليلي الاستنباطي) পদ্ধতি ব্যবহার করবেন; যেখানে তিনি 'মন্দ কাজের নিষেধ' (إنكار المنكر) এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের থেকে বর্ণিত পাঠ্যসমূহ (نصوص) সংগ্রহ করবেন, অতঃপর তাদের বক্তব্যসমূহ বিশ্লেষণ করবেন এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সেগুলো পর্যালোচনা করে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন করবেন। এটি নিম্নোক্ত পদক্ষেপ অনুযায়ী সম্পন্ন হবে:
1- নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের চিঠিপত্র এবং যেসব কিতাব এই চিঠিপত্র ও তাদের রচনাবলি সংকলনের জন্য নিবেদিত, সেখান থেকে যথাসম্ভব তথ্য সংগ্রহ করা এবং এ বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যসমূহ (نصوص) বের করা।
2- গবেষণার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগৃহীত পাঠ্যসমূহের (نصوص) ওপর একটি বিশ্লেষণধর্মী অধ্যয়ন পরিচালনা করা এবং তা থেকে তাদের কর্মপদ্ধতি উদ্ভাবন করা।
3- নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ সরাসরি যা লিখেছেন তার ওপর গুরুত্বারোপ করা, তাদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার পরিবর্তে; যাতে কোনো মাধ্যম ছাড়াই তাদের প্রকৃত কর্মপদ্ধতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যা গবেষণাকে তার সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে।
4- বিষয়বস্তু বাস্তবসম্মত করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যসমূহ হুবহু মূল পাঠ্য (نص) সহ উদ্ধৃত করার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।
5- কুরআনের আয়াতসমূহকে আল্লাহর কিতাবের সংশ্লিষ্ট স্থানে সম্বন্ধযুক্ত করা।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৬)
6- عزو الأحاديث لمن خرجها مقدمًا الصحيحين على غيرهما.
7- الترجمة للأعلام باختصار.
قائمة المحتويات:
6- হাদিসসমূহ সেগুলোর সংকলনকারীদের (مخرج) প্রতি সম্বন্ধ করা, এক্ষেত্রে অন্যগুলোর তুলনায় সহীহাইনকে অগ্রাধিকার প্রদান করা।
7- প্রখ্যাত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) উপস্থাপন করা।
সূচিপত্র:
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৭)
وسوف يتكون البحث من مقدمة وتمهيد ومبحثين:
المقدمة: وفيها
خطة البحث وأسباب اختيار الموضوع ومشكلة البحث وحدود الدراسة ومنهج البحث وقائمة المحتويات.
التمهيد: فيه نبذة عن الدعوة السلفية بنجد.
المبحث الأول: فقه ما يجب قبل الإنكار. وفيه ثلاثة مطالب هي:
* المطلب الأول: حقيقة فاعل المنكر.
* المطلب الثاني: التثبت وعدم العجلة.
* المطلب الثالث: العلم.
المبحث الثاني: فقه ما يجب حال الإنكار. وفيه ثلاثة مطالب هي:
* المطلب الأول: الحكم إذا ترتب على الإنكار مفسدة أعظم.
* المطلب الثاني: أسلوب الإنكار.
* المطلب الثالث: الإنكار على ولاة الأمور (الحكام) .
গবেষণাটি একটি ভূমিকা, একটি উপক্রমণিকা এবং দুইটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত হবে:
ভূমিকা: এতে
গবেষণার পরিকল্পনা , বিষয় নির্বাচনের কারণসমূহ, গবেষণার সমস্যাবলি, গবেষণার পরিধি, গবেষণা পদ্ধতি এবং সূচিপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উপক্রমণিকা: এতে নজদের সালাফি দাওয়াহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রতিবাদ করার পূর্ববর্তী আবশ্যিক বিষয়সমূহের ফিকহ। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: অসৎ কাজে (المنكر) লিপ্ত ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া এবং তাড়াহুড়া না করা।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্ঞান।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রতিবাদ করার সময়কালীন আবশ্যিক বিষয়সমূহের ফিকহ। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
* প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রতিবাদের ফলে যদি আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা থাকে তবে তার বিধান।
* দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রতিবাদের পদ্ধতি।
* তৃতীয় অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপ্রধান বা শাসকদের নিকট প্রতিবাদ জানানো।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৮)
تمهيد نبذة عن الدعوة السلفية بنجد:في منتصف القرن الثاني عشر الهجري وفي قرية حريملاء التي تقع بنجد كان ظهور النشاط الأولي لدعوة تجديدية تهدف إلى إحياء الإسلام الصحيح في عقول الناس وقلوبهم، وقد تمثلت في الواقع بما قام به الشيخ محمد بن عبد الوهاب (1) من دعوة الناس إلى مبادئ الإسلام وعلى رأسها توحيد الله والتحذير من الإشراك به إذ هو " أعظم فريضة جاء بها النبي صلى الله عليه وسلم " (2) ، التي وقع فيه انحراف عظيم حتى تصاغر انحراف المشركين الأولين أمام شرك المتأخرين في أمور، حيث اجتمع لهم الجهل وضعف العقل إذ الأولون أصح عقولًا منهم (3) .
--------------------------------------------
নজদে সালাফি দাওয়াত সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা:হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এবং নজদে অবস্থিত হুরয়মিলা গ্রামে একটি সংস্কারবাদী দাওয়াতের প্রাথমিক কার্যক্রমের সূচনা হয়, যার লক্ষ্য ছিল মানুষের মন ও হৃদয়ে সঠিক ইসলামকে পুনরুজ্জীবিত করা। বাস্তবে এটি রূপ লাভ করেছিল শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (১)-এর দাওয়াতের মাধ্যমে, যেখানে তিনি মানুষকে ইসলামের মূলনীতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন যার শীর্ষে ছিল আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর সাথে অংশীদার করার বিরুদ্ধে সতর্ক করা। কেননা এটিই ছিল "সবচেয়ে মহান ফরজ যা নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করেছিলেন" (২)। এতে এমন এক বিশাল বিচ্যুতি ঘটেছিল যে, কিছু কিছু বিষয়ে পরবর্তীকালের লোকদের শিরকের সামনে পূর্ববর্তী মুশরিকদের বিচ্যুতিও তুচ্ছ হয়ে পড়েছিল; যেহেতু তাদের মধ্যে মূর্খতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা একত্রিত হয়েছিল, অথচ পূর্ববর্তীরা তাদের তুলনায় অধিকতর সুস্থ বিবেকের অধিকারী ছিল (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولأجل هذا شمر الشيخ محمد بن عبد الوهاب عن ساعد الجد قيامًا بواجب الدعوة إلى الله تعالى؛ لكن الأمور لم تأت كما أراد، فواجهته المصاعب يتلو بعضها بعضًا؛ ففي حريملاء كاد يُقتل (1) ، ثم في العيينة تم طرده بسبب دعوته (2) ؛ حتى حط رحله في رحاب الأمير محمد بن سعود (3) الذي لم يتاون في نصر الدعوة والقيام لأجلها ولم يثنه عن مواصلة السير في طريق مناصرة الدعوة ما واجهه في سبيلها من صعوبات كان أبرزها معاداة الجميع له ورميهم إياه عن قوس واحدة، وما تبع ذلك من مقتل ابنيه فيصل وسعود (4) ، لكن ثبت على نصر الدعوة واستمر.
--------------------------------------------
আর এই কারণেই শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আল্লাহ তাআলার দিকে দাওয়াতের দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন; কিন্তু পরিস্থিতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী চলেনি, ফলে তিনি একের পর এক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। হুরয়মলায় তাঁকে হত্যার উপক্রম করা হয়েছিল (১), এরপর তাঁর দাওয়াতের কারণেই উয়ায়না থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয় (২); শেষ পর্যন্ত তিনি আমির মুহাম্মদ বিন সাউদের (৩) আশ্রয়ে উপনীত হন, যিনি দাওয়াতের সাহায্যে ও এর প্রসারে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করেননি। এই দাওয়াতের সমর্থনের পথে চলতে গিয়ে যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন—যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল সকলের শত্রুতা এবং একযোগে বিরোধিতা—তা তাঁকে দমে যেতে বাধ্য করেনি। এমনকি তাঁর দুই পুত্র ফয়সাল ও সাউদের নিহত হওয়ার (৪) ঘটনা সত্ত্বেও তিনি দাওয়াতের সাহায্যে অটল থাকেন এবং তা অব্যাহত রাখেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১০)
ويعد المؤرخون لقاء الشيخ محمد بن عبد الوهاب والأمير محمد بن سعود عام 1157هـ (1) ، والبيعة المباركة التي تمت بينهما في الدرعية نقطة الانطلاقة العملية للدولة السعودية في أول أدوارها وهي كذلك الانطلاقة الفعلية للدعوة السلفية بنجد إذ منها بدأت الدعوة تأخذ طابعًا جديدًا متميزًا؛ يظهر في وجودها ضمن كيان قام عليها ولأجلها ويهدف لحمايتها ونشرها، ومن هنا بدأت الدعوة السلفية في نجد تأخذ تميزها، ومما أسهم في ظهورها وبروزها أئمتها الذين يمثلهم مجموعة من الحكام الذين تعاقبوا على إدارة أزمة الأمور في الدولة السعودية، وعلماء كان لهم دورهم البارز في نشر مبادئ الدعوة وأفكارها التي تمثل مبادئ الإسلام وأسسه، كما كان لهم دورهم الفاعل في القيام بواجب الحماية الفكرية لتلك المبادئ العظيمة التي تمثل حقيقة الإسلام، وهؤلاء العلماء هم الذين تتلمذوا على الشيخ محمد بن عبد الوهاب؛ أو على تلامذته، وانتهجوا الأفكار والمبادئ نفسها التي دعا إليها الشيخ المجدد سواء كانوا من أبنائه وأحفاده أو من غيرهم.
--------------------------------------------
ঐতিহাসিকগণ ১১৫৭ হিজরি সালে (১) শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এবং আমির মুহাম্মদ ইবনে সাউদের সাক্ষাৎ এবং দিরইয়াহ-তে তাঁদের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া বরকতময় আনুগত্যের শপথ (البيعة)-কে সৌদি রাষ্ট্রের প্রথম পর্যায়ের সূচনার ব্যবহারিক প্রারম্ভিক বিন্দু হিসেবে গণ্য করেন। এটি নজদ অঞ্চলে সালাফি দাওয়াতের প্রকৃত যাত্রারও সূচনা ছিল, কারণ এখান থেকেই এই দাওয়াত একটি নতুন ও স্বতন্ত্র রূপ নিতে শুরু করে; যা প্রকাশ পায় এমন এক রাষ্ট্রীয় কাঠামোর উপস্থিতিতে যা এই দাওয়াতের উপর ভিত্তি করে এবং একে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল এবং যার লক্ষ্য ছিল একে রক্ষা করা ও প্রচার করা। এখান থেকেই নজদে সালাফি দাওয়াত তার স্বাতন্ত্র্য অর্জন করতে শুরু করে। এই দাওয়াতের প্রকাশ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এর ইমামগণ, যাদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন সৌদি রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনার দায়িত্বে ধারাবাহিকভাবে নিয়োজিত একদল শাসক, এবং এমন একদল আলেম যারা দাওয়াতের নীতিমালা ও চিন্তাধারা প্রচারে বিশিষ্ট ভূমিকা রেখেছিলেন—যা মূলত ইসলামেরই মূলনীতি ও ভিত্তির প্রতিনিধিত্ব করে। তেমনিভাবে, ইসলামের প্রকৃত রূপের পরিচায়ক সেই মহান নীতিমালাগুলোর বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষায় তাঁরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই আলেমগণ ছিলেন তাঁরাই, যাঁরা শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব অথবা তাঁর শিষ্যদের নিকট শিক্ষালাভ করেছিলেন এবং সংস্কারক (المجدد) শায়খ যে চিন্তাধারা ও নীতিমালার প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেই একই পথ তাঁরা অনুসরণ করেছিলেন; তাঁরা তাঁর সন্তান ও বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত হোন অথবা অন্য কেউ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১১)
وهؤلاء الأئمة كانوا فاعلين في الدعوة السلفية بنجد، في أدوار الدولة التي مرت بها، فقد كان من أبرزهم في الدور الأول: المجدد الشيخ محمد بن عبد الوهاب، والشيخ عبد العزيز الحصين (1) ، وحمد بن ناصر بن معمر (2) ، والشيخ عبد الله بن محمد بن عبد الوهاب (3) ، وغيرهم؛ أما الحكام فقد كان منهم الأمير / محمد بن سعود، ثم ابنه / عبد العزيز (4) ، ثم ابنه / سعود (5) ، ثم ابنه / عبد الله (6) ، وهو آخرهم في الدور الأول. أما الدور الثاني فقد كان منهم الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ (7) ، والشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ (8) ، والشيخ عبد الله أبا بطين (9) ، والشيخ حمد بن علي بن عتيق (10) ، ومن تلامذتهم الشيخ سليمان بن سحمان (11) ، والشيخ عبد الله بن عبد العزيز العنقري (12) ، والشيخ محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ (13) ، والشيخ عمر بن محمد بن سليم (14) ، والشيخ سعد بن حمد بن عتيق (15) ، وغيرهم كثير، وأبرز من ولي الحكم فيه الإمام تركي بن عبد الله (16) ، وفيصل بن تركي (17) ، وعبد الله بن فيصل، وعبد الرحمن بن فيصل، ثم الملك الموحد المجدد عبد العزيز بن عبد الرحمن في الدور الثالث.
--------------------------------------------
এই সকল ইমামগণ নজদ অঞ্চলের সালাফি দাওয়াতে সক্রিয় ছিলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে যা এর মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে ছিলেন: সংস্কারক (المجدد) শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব, শেখ আব্দুল আজিজ আল-হুসাইন (১), হামাদ ইবনে নাসের ইবনে মুয়াম্মার (২), শেখ আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (৩) এবং অন্যান্যরা; আর শাসকদের মধ্যে ছিলেন আমির মুহাম্মদ ইবনে সাউদ, তারপর তাঁর পুত্র আব্দুল আজিজ (৪), তারপর তাঁর পুত্র সাউদ (৫), তারপর তাঁর পুত্র আবদুল্লাহ (৬), যিনি ছিলেন প্রথম পর্যায়ের সর্বশেষ শাসক। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন শেখ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আল-শেখ (৭), শেখ আব্দুল লতিফ ইবনে আব্দুর রহমান আল-শেখ (৮), শেখ আবদুল্লাহ আবা বাতিন (৯), শেখ হামাদ ইবনে আলী ইবনে আতিক (১০) এবং তাঁদের ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন শেখ সুলাইমান ইবনে সাহমান (১১), শেখ আবদুল্লাহ ইবনে আব্দুল আজিজ আল-আনকারি (১২), শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল লতিফ আল-শেখ (১৩), শেখ উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সুলিম (১৪), শেখ সাদ ইবনে হামাদ ইবনে আতিক (১৫) এবং আরও অনেকে। এই পর্যায়ে যারা শাসনভার পরিচালনা করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম তুর্কি ইবনে আবদুল্লাহ (১৬), ফয়সাল ইবনে তুর্কি (১৭), আবদুল্লাহ ইবনে ফয়সাল, আব্দুর রহমান ইবনে ফয়সাল। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে ছিলেন ঐক্যবদ্ধকারী সংস্কারক (المجدد) বাদশাহ আব্দুল আজিজ ইবনে আব্দুর রহমান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১২)
ولا شك أن أئمة الدعوة السلفية بنجد كان يمثلون وحدة متكاملة تتكون من الحكام والعلماء وكان بينهم توافق عجيب حيث كان كلاهما يكمل دور الآخر (1) ؛ حتى ذكر الشيخ محمد بن عبد الوهاب في معرض تأكيده على أن كليهما يكمل صاحبه، ولا يمكن أن يصل أداؤهما إلى الدرجة المطلوبة إلا بالتعاون والتعاضد حيث قال رحمه الله: ". . . وترى الكل من أهل الدين والأمير ما يعبد الله أحد منهم إلا برفيقه. . . " (2) .
--------------------------------------------
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ শাসক ও উলামাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ এককের প্রতিনিধিত্ব করতেন এবং তাঁদের মধ্যে এক বিস্ময়কর ঐকমত্য বিদ্যমান ছিল, যেখানে প্রত্যেকেই অপরের ভূমিকার পরিপূরক হিসেবে কাজ করতেন (১); এমনকি শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব উভয় পক্ষই যে একে অপরের পরিপূরক তা নিশ্চিত করার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি ছাড়া তাঁদের কর্মতৎপরতা কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "...আপনি দ্বীনদার ব্যক্তি ও আমির—উভয়কেই এমন অবস্থায় দেখবেন যে, তাঁদের কেউ তাঁর সঙ্গীকে ছাড়া আল্লাহর ইবাদত করেন না..." (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول فقه ما قبل الإنكار
المطلب الأول - حقيقة فاعل المنكر:أدرك علماء الدعوة السلفية بنجد أن من المهم جدًا أن يدرك القائم بشعيرة إنكار المنكر حقيقة فاعل المنكر، وذلك أن بعضهم قد يطغى عليه النظر إلى المنكر وقبحه ومخالفته لأمر الله جل وعلا، ثم يغفل عن النظر إلى أن فاعل المنكر يبقى مسلمًا، لا يخرجه فعل المنكر عن دائرة الإسلام، الأمر الذي يوجب على المسلم أن يتعامل مع أخيه وفق ما جاءت به النصوص الشرعية في التعامل بين المسلمين بعضهم مع بعض وفاءً بالحقوق التي شرعها الله بينهم.
ولأجل ذلك جاءت توجيهات علماء الدعوة تؤكد وترسخ هذا المعنى؛ في الدعوة إلى نظرة متوازنة للعاصي أو فاعل المنكر؛ تُراعي ما فيه من الشر وما فيه من الخير، فليس كل عاصٍ فاقدا لكل الخير، ولأجل ذلك فالعاصي وفاعل المنكر يُبغضُ على ما فيه من الشر والمعصية، ويُحب على ما فيه من الخير، ولا ينبغي للمسلم أن يجعل بغضه على ما معه من الشر قاطعًا وقاضيًا على ما معه من الخير فلا يحبه (1) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রতিরোধের ফিকহ (فقه ما قبل الإنكار)
প্রথম অনুচ্ছেদ - মন্দ কর্ম সম্পাদনকারীর (فاعل المنكر) প্রকৃত অবস্থা:নজদ অঞ্চলের সালাফি দাওয়াতের ওলামায়ে কেরাম উপলব্ধি করেছেন যে, মন্দ কাজ প্রতিরোধের (إنكار المنكر) শারয়ি বিধান পালনকারীর জন্য মন্দ কর্ম সম্পাদনকারীর (فاعل المنكر) প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কারো কারো ওপর মন্দ কাজের (المنكر) কদর্যতা এবং মহান আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণের বিষয়টি এতটাই প্রবল হয়ে উঠতে পারে যে, সে এই প্রসঙ্গের প্রতি লক্ষ্য রাখতে উদাসীন হয়ে পড়ে যে—মন্দ কর্ম সম্পাদনকারী (فاعل المنكر) তখনও একজন মুসলিমই থাকে; মন্দ কাজ (المنكر) তাকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না। আর এই বিষয়টিই একজন মুসলিমের ওপর আবশ্যক করে যে, সে যেন তার ভাইয়ের সাথে ঐ সকল শারয়ি দলিলের (النصوص الشرعية) আলোকে আচরণ করে যা মুসলমানদের একে অপরের হক আদায়ের বিষয়ে আল্লাহ বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন।
আর একারণেই দাওয়াতের ওলামায়ে কেরামের দিকনির্দেশনাসমূহ এই অর্থকে সুদৃঢ় করতে এসেছে; যা পাপাচারী (عاصي) বা মন্দ কর্ম সম্পাদনকারীর (فاعل المنكر) প্রতি একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের আহ্বান জানায়; যেখানে তার মধ্যকার মন্দ ও ভালো—উভয় দিকই বিবেচনা করা হয়। কেননা, প্রত্যেক পাপাচারীই (عاصي) সমস্ত কল্যাণ থেকে রিক্ত নয়। আর এই কারণেই পাপাচারী (عاصي) ও মন্দ কর্ম সম্পাদনকারীকে (فاعل المنكر) তার মন্দ ও পাপাচারের কারণে ঘৃণা করা হবে, আবার তার মধ্যকার কল্যাণের জন্য তাকে ভালোবাসাও হবে। একজন মুসলিমের জন্য এটি সমীচীন নয় যে, সে তার মন্দের প্রতি ঘৃণাকে তার মধ্যকার কল্যাণের ওপর বিচ্ছেদকারী বা চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হিসেবে সাব্যস্ত করবে, যার ফলে সে তাকে আর ভালোবাসবে না (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ومن المؤكد أن إدراك هذا المعنى وفهمه وترسخه لدى القائم بهذه الشعيرة له تأثيره في أدائه، فإذا علم أن فاعل هذا المنكر (العاصي) هو أخ له في الإسلام، تجمع بينهما رابطة الدين، وأدرك الحقوق العظيمة لهذا الرابط، وحقوق أخيه المسلم عليه، دفق هذا الشعور إلى الترفق بأخيه، والاهتمام باختيار الأسلوب الأمثل والأفضل لإنكار المنكر وتعليم العاصي دون الإجحاف بحقه أو الإضرار به.
ومن أخطر المشكلات التي تواجه الدعوة من بعض القائمين بهذه الشعيرة هي عدم الفهم الحقيقي لهذا الأمر، فتجد من يغفل عن هذا الأمر؛ بل يشتط بعضهم فيتجاوزه إلى أمور خطيرة لا تصدر عمن رزقه الله علمًا وبصيرة؛ فيرمي أخاه بالكفر، ويخرجه من الملة لأجل معصية لا توجب ذلك.
নিশ্চয়ই এই বিষয়ের উপলব্ধি, অনুধাবন এবং এই বিধান পালনকারীর অন্তরে এর বদ্ধমূল হওয়া তার কর্মসম্পাদনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। সুতরাং যখন সে অবগত হয় যে, এই মন্দ কাজের (منكر) কর্তব্যক্তি অর্থাৎ সেই পাপাচারী (عاصي) ইসলামে তার একজন ভাই এবং দ্বীনি বন্ধন তাদের উভয়কে ঐক্যবদ্ধ করে রেখেছে, আর সে যখন এই বন্ধনের সুমহান হকসমূহ এবং তার ওপর তার মুসলিম ভাইয়ের অধিকারগুলো উপলব্ধি করতে পারে, তখন এই অনুভূতি তাকে তার ভাইয়ের প্রতি নম্র হতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলশ্রুতিতে সে তার অধিকার খর্ব না করে কিংবা তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে মন্দ কাজ বারণ করার (إنكار المنكر) এবং সেই পাপাচারীকে (عاصي) শিক্ষা দেওয়ার জন্য সর্বোত্তম ও যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বনের প্রতি যত্নবান হয়।
এই বিধান পালনকারী কতিপয় ব্যক্তির মাধ্যমে দাওয়াহর ময়দানে যে সকল ভয়াবহ সমস্যার সৃষ্টি হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো এই বিষয়টি সম্পর্কে প্রকৃত অনুধাবনের অভাব। ফলে আপনি এমন কাউকে পাবেন যে এই বিষয়ে উদাসীন থাকে; বরং তাদের কেউ কেউ সীমালঙ্ঘন করে এমন সব বিপজ্জনক বিষয়ে লিপ্ত হয়, যা আল্লাহ প্রদত্ত ইলম ও অন্তর্দৃষ্টি (بصيرة) প্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির দ্বারা প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। সে তার ভাইকে কুফরির (كفر) অপবাদ দেয় এবং এমন সব পাপের (معصية) কারণে তাকে দ্বীন থেকে বহিষ্কার করে দেয় যা তাকে বহিষ্কার করার কারণ হিসেবে গণ্য হয় না।
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ولإدراك أئمة الدعوة السلفية بنجد خطورة الأمر، واحتمال بل تأكد وقوعه من بعض الغالين؛ كانوا يحذرون من حدوث مثل هذا، ويقفون سدًا منيعًا أمام التجاوز في هذا الباب، ولعل من أبرز الأمثلة على ذلك موقف الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ لما عُين قاضيًا في الأحساء عام أربعة وستين ومائتين وألف للهجرة النبوية، حيث وجد فيها رجلين قد اعتزلا الجمعة والجماعة وكفرا من بتلك البلاد من المسلمين بحجج واهية وشبهات باطلة، فأحضرهما الشيخ عبد اللطيف وكشف شبهاتهما وأدحض ضلالتهما ورد على زعمهم أن هذا هو معتقد الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب، وبيّن لهم أن الشيخ المجدد لا يكفر إلا بما أجمع المسلمون على تكفير فاعله بعد قيام الحجة وبلوغها المعتبر (1) .
--------------------------------------------
নজদের দাওয়াতে সালাফিয়ার ইমামগণ এই বিষয়ের ভয়াবহতা এবং কিছু চরমপন্থীদের (غالين) মাধ্যমে এর সংঘটনের সম্ভাবনা—বরং নিশ্চয়তা—উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন; তাই তারা এ জাতীয় ঘটনা ঘটার ব্যাপারে সতর্ক করতেন এবং এই ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। সম্ভবত এর অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হলো শেখ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল-শেখ-এর অবস্থান, যখন ১২৬৪ হিজরিতে তাকে আল-আহসায় বিচারক (قاضي) হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে তিনি এমন দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন যারা জুমুআ ও জামাত ত্যাগ করেছিল এবং দুর্বল অজুহাত ও বাতিল সংশয়ের (شبهات) ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের মুসলমানদের কাফের সাব্যস্ত (كفر) করেছিল। অতঃপর শেখ আব্দুল লতিফ তাদের উভয়কে উপস্থিত করলেন এবং তাদের সংশয়গুলো (شبهات) উন্মোচন করে তাদের ভ্রষ্টতাকে (ضلالة) খণ্ডন করলেন। তিনি তাদের এই দাবিরও জবাব দিলেন যে, এটিই মুজাদ্দিদ শেখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের বিশ্বাস (معتقد)। তিনি তাদের কাছে স্পষ্ট করলেন যে, মুজাদ্দিদ শেখ কেবল সেই সব বিষয়েই কাফের সাব্যস্ত (تكفير) করেন যেগুলোর কর্তাকে কাফের বলার ব্যাপারে মুসলমানগণ ঐকমত্য (أجمع) পোষণ করেছেন, তাও আবার দলিল প্রতিষ্ঠিত (قيام الحجة) হওয়ার এবং তা গ্রহণযোগ্য পন্থায় পৌঁছানোর পর (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولم يكتف رحمه الله بذلك بل كان يحذر من يشعر أن لديهم شيئًا من الانحراف في ذلك من خلال المكاتبات والرسائل، يقول في إحداها مخاطبًا من شعر أن لديهم انحرافًا في الفهم نحو التكفير: " وأما التكفير بهذه الأمور التي ظننتموها من مكفرات أهل الإسلام فهذا مذهب الحرورية المارقين الخارجين على علي بن أبي طالب أمير المؤمنين ومن معه من الصحابة. . . " (1) ، ويقول في بيان أن التكفير لمجرد المعاصي مخالف لما عليه أئمة الإسلام من أهل السنة والجماعة: ". . . والتجاسر على تكفير من ظاهره الإسلام من غير مستند شرعي ولا برهان مرضي يخالف ما عليه أئمة العلم من أهل السنة والجماعة وهذه الطريقة هي طريقة أهل البدع والضلال. . . " (2) .
ويقول الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ: ". . . ما دون الشرك والكفر من المعاصي فلا يكفر فاعله لكنه يُنهى عنه، وإذا أصر على كبيرة ولم يتب منها فيجب نهيه والقيام عليه، وكل منكر يجب إنكاره، من تَرْكِ واجبٍ أو ارتكاب محرمٍ، لكن لا يكفر إلا من فعل مكفرًا دل الكتاب والسنة على أنه كفر، وكذا ما اتفق العلماء على أن من فعله أو اعتقده كفر. . . " (3) .
--------------------------------------------
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এতেই ক্ষান্ত হননি, বরং চিঠিপত্র ও বার্তার মাধ্যমে যাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো ধরণের বিচ্যুতি অনুভব করতেন তাদের সতর্ক করতেন। তাদের মধ্যে যাদের মাঝে তাকফির (التكفير) সংক্রান্ত বুঝের বিকৃতি লক্ষ্য করতেন, তাদের উদ্দেশ্যে একটি পত্রে তিনি বলেন: "আর আপনারা যেসব বিষয়কে মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করার কারণ মনে করেছেন, সেগুলোর ভিত্তিতে তাকফির (التكفير) করা হলো দলত্যাগী হারুরিয়াদের (الحرورية) মতাদর্শ, যারা আমিরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবি তালিব এবং তাঁর সাথে থাকা সাহাবীগণের (الصحابة) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল... " (১) । আর নিছক পাপের কারণে তাকফির (التكفير) করা যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের (أهل السنة والجماعة) ইমামগণের অবস্থানের পরিপন্থী, তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন: " ...শরয়ী কোনো দলিল বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ব্যতীত কোনো প্রকাশ্য মুসলিমকে তাকফির (التكفير) করার দুঃসাহস দেখানো আহলে ইলম তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের (أهل السنة والجماعة) ইমামগণের অনুসৃত পদ্ধতির বিপরীত। আর এই পদ্ধতিটি হলো বিদআতপন্থী (أهل البدع) ও পথভ্রষ্টদের পদ্ধতি... " (২) ।
শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আল-শেখ বলেন: " ...শিরক (الشرك) ও কুফর (الكفر) ব্যতীত অন্য যেসব পাপ রয়েছে, সেগুলোর কারণে কোনো আমলকারীকে কাফির বলা যাবে না, তবে তাকে তা থেকে নিষেধ করতে হবে। যদি কেউ কোনো কবিরা গুনাহের (كبيرة) ওপর অটল থাকে এবং তা থেকে তওবা না করে, তবে তাকে নিষেধ করা এবং তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ওয়াজিব। প্রত্যেকটি মন্দ কাজই (منكر) প্রত্যাখান করা আবশ্যক, তা কোনো ওয়াজিব ত্যাগ করা হোক বা কোনো হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া হোক। তবে কুরআন ও সুন্নাহর দলিল অনুযায়ী যা কুফর (كفر) বলে প্রমাণিত, এমন কোনো কুফরি কাজে (مكفرًا) লিপ্ত হওয়া ব্যতীত কাউকে কাফির বলা যাবে না। একইভাবে উলামায়ে কেরাম যে কাজ বা আকিদাকে কুফর (كفر) হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন, সেটি ব্যতীত কাউকে কাফির বলা যাবে না... " (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومما يتعلق بهذا الباب أمر أكد عليه أئمة الدعوة السلفية رحمهم الله وهو أن الواجب على المسلم قبول علانية إخوانهم، ولا يجوز لأحد التجسس عليهم أو اتهام نياتهم، بل الواجب أن توكل السرائر إلى الله تعالى، ولأجل ذلك كتب الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب ٍٍِ مؤكدًا على هذا الأمر حيث يقول:". . . إن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعرف منافقين بأعيانهم ويقبل علانيتهم ويكل سرائرهم إلى الله، فإذا ظهر منهم وتحقق ما يوجب جهادهم جاهدهم. . . " (1) ، وهذا كلام نفيس، فقد أشار الشيخ فيه إلى أن العبرة ليست فقط بمجرد ظهور ما يوجب جهادهم، بل لا بد من التحقق الكامل من ذلك، وهذا تأكيد لوجوب التعامل مع هذا الأمر بحساسية بالغة إذ هو من أخطر الأبواب وأعظمها في إفساد المجتمع وتدميره، فاتهام النيات ومحاكمة المقاصد والتجسس لأجل ذلك له آثاره الوخيمة وعواقبه الخطيرة على المجتمع إذ تُشغل أبناءه بعضهم ببعض مما يكون بداية النهاية له.
--------------------------------------------
এই অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয় হলো যা সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ (রহিমাহুমুল্লাহ) গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো—মুসলমানদের জন্য তাদের ভাইদের প্রকাশ্য অবস্থাকে গ্রহণ করা ওয়াজিব; কারো জন্য তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরি করা বা তাদের নিয়তের ওপর অপবাদ দেওয়া জায়েজ নয়। বরং ওয়াজিব হলো তাদের গোপন বিষয়সমূহ মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করা। আর এই কারণেই মুজাদ্দিদ শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এই বিষয়টি নিশ্চিত করে লিখেছেন, যেখানে তিনি বলেন: ". . . নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুনির্দিষ্ট মুনাফিক (منافقين)-দের চিনতেন, তবুও তিনি তাদের প্রকাশ্য অবস্থাকে গ্রহণ করতেন এবং তাদের গোপন বিষয়সমূহ আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতেন। অতঃপর যখন তাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু প্রকাশ পেত এবং নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হতো যা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করাকে ওয়াজিব করে, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতেন। . . ." (১)। এটি একটি অমূল্য বক্তব্য; শেখ এখানে ইঙ্গিত করেছেন যে, কেবল তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার মতো কোনো বিষয় প্রকাশ পাওয়াটুকুই বিবেচ্য নয়, বরং সে সম্পর্কে পূর্ণ যাচাই-বাছাই হওয়া আবশ্যক। এটি উক্ত বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সাথে মোকাবিলা করার আবশ্যকতাকে নিশ্চিত করে; কারণ সমাজকে কলুষিত ও ধ্বংস করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম ভয়াবহ ও মারাত্মক পথ। কেননা নিয়তের ওপর অপবাদ দেওয়া, উদ্দেশ্য বিচার করা এবং সেই উদ্দেশ্যে গোয়েন্দাগিরি করার ফলে সমাজের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব ও মারাত্মক পরিণতি নেমে আসে; কারণ এটি সমাজের সন্তানদের একে অপরের বিরুদ্ধে লিপ্ত করে দেয়, যা তার ধ্বংসের সূচনালগ্ন হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المطلب الثاني - التثبت وعدم العجلة:التثبت في الأمور وعدم الاستعجال منهج إسلامي متميز؛ يحفظ على المجتمع تماسكه وتآلفه، ويحميه من الأخطاء والزلات التي يتبعها فساد عريض، ولأجل ذلك نبه القرآن الكريم على حكمةٍ من حكم هذا المنهج العظيم فقال جل وعلا: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جَاءَكُمْ فَاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْمًا بِجَهَالَةٍ فَتُصْبِحُوا عَلَى مَا فَعَلْتُمْ نَادِمِينَ} (1) ، فيندم الفاعل ويتألم المتضرر.
وقد أدرك أئمة الدعوة السلفية بنجد هذا الأمر فأكدوا عليه في رسائلهم وتوجهاتهم، يقول الشيخ محمد عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ في هذا الباب:
". . . ينبغي لمن قصد الخير والدعوة إلى الله التوقع في الأمور والتثبت وعدم الطيش والعجلة. . . " (2) .
وينقسم التثبت عند أئمة الدعوة السلفية بنجد من خلال الاستقراء إلى قسمين:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ - যাচাই-বাছাই (التثبت) এবং তাড়াহুড়ো না করা:যেকোনো বিষয়ে যাচাই-বাছাই (التثبت) করা এবং তাড়াহুড়ো না করা একটি স্বতন্ত্র ইসলামি পদ্ধতি; যা সমাজের সংহতি ও ঐক্য রক্ষা করে এবং একে এমন ভুল-ত্রুটি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে যার পরিণাম হয় ব্যাপক বিপর্যয়। এ কারণে পবিত্র কুরআন এই মহান পদ্ধতির অন্যতম প্রজ্ঞার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছে: "হে মুমিনগণ, যদি কোনো পাপাচারী (فاسق) তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই (فتبينوا) করে নাও, পাছে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে বসো এবং পরে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হও।" ফলে (যাচাই না করলে) কর্তা অনুতপ্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যথিত হয়।
নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের পত্রাবলি ও দিকনির্দেশনায় এর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এ প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল-শায়খ বলেন:
". . . যে ব্যক্তি কল্যাণ এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের ইচ্ছা পোষণ করে, তার উচিত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা, যাচাই-বাছাই (التثبت) করা এবং অস্থিরতা ও তাড়াহুড়ো পরিহার করা. . . " (২)।
অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার (الاستقراء) মাধ্যমে নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামদের নিকট যাচাই-বাছাই (التثبت) প্রক্রিয়াটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أ) التثبت من أن المنكر قد وقع على الحقيقة؛ إذ لا يكفي أن يذكر ذلك أو أن يتردد في المجالس في إشاعات مغرضة وأقاويل مختلقة، يتناقلها بعض من لا خلاق لهم ولا معرفة لديهم، يقول الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب في هذا الأمر: ". . . الواجب عليهم إذا ذكر لهم عن أحد منكر عدم العجلة، فإن تحققوا أتوا صاحبه ونصحوه. . . " (1) .
وفي قوله ترسيخ لهذا الأمر فلا بد من التحقق قبل الإقدام على أي تصرف مترتب على الخبر الذي ورد، فإذا تحقق وثبت صدقه، هنا يأتي دور العمل وهو النصح والإنكار وأما قبل ذلك فلا.
--------------------------------------------
ক) মন্দ বিষয়টি (منكر) প্রকৃতপক্ষে সংঘটিত হয়েছে কি না তা সুনিশ্চিত করা; কেননা কেবল এর চর্চা হওয়া কিংবা মজলিসসমূহে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও বানোয়াট (مختلقة) কথাবার্তা হিসেবে ছড়িয়ে পড়াই যথেষ্ট নয়, যা এমন কিছু লোক আদান-প্রদান করে যাদের না আছে কোনো নৈতিকতা আর না আছে কোনো জ্ঞান। শাইখুল মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এই প্রসঙ্গে বলেন: ". . . কারো পক্ষ থেকে কোনো মন্দ বিষয়ের (منكر) কথা উল্লেখ করা হলে তাড়াহুড়ো না করা তাদের জন্য আবশ্যক। যদি তারা নিশ্চিত হতে পারে, তবে তারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট আসবে এবং তাকে নসিহত করবে. . . " (১)।
তাঁর এই বক্তব্যে এ বিষয়টিই সুদৃঢ় করা হয়েছে যে, প্রাপ্ত সংবাদের (خبر) বিপরীতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করা আবশ্যক। যদি বিষয়টি যাচাই করা হয় এবং এর সত্যতা (صدق) প্রমাণিত হয়, তবেই কর্মতৎপরতার ক্ষেত্র তৈরি হবে—যা হলো নসিহত ও মন্দ কাজে বাধা (إنكار) প্রদান করা; আর এর আগে নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২০)
ب) أن يثبت أن هذا الفعل هو من المنكر حقًا، وهذا بالعلم الشرعي الذي لا يتم إلا من خلال معرفة الكتاب والسنة المطهرة، ولذا كان من الواجب المتحتم والمتأكد على من ليس لديه معرفة بالكتاب والسنة، ولا يملك الأهلية لذلك، أن يتريث ويتثبت ولا يستعجل حتى يرجع للعلماء الراسخين في العلم المدركين لمقاصد الشريعة ومعانيها فلا يتجاوزهم، وهذا من الأمور التي كان يؤكد عليها أئمة الدعوة السلفية بنجد حيث يقول الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب في هذا الباب: ". . . والإنسان لا يجوز له الإنكار إلا بعد المعرفة، فأول درجات الإنكار معرفتك أن هذا مخالف لأمر الله. . . " (1) . ولتعلق هذا الأمر بمسألة من أهم المسائل التي عُني بها أئمة الدعوة السلفية بنجد فسوف نفرد القول فيها في المطلب الآتي إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
খ) এটি প্রমাণিত হওয়া যে, এই কাজটি প্রকৃতপক্ষে একটি মন্দ কাজ (منكر); আর এটি শরয়ি ইলমের মাধ্যমেই সম্ভব যা কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর জ্ঞান ব্যতিরেকে সম্পন্ন হয় না। আর একারণেই যার নিকট কিতাব ও সুন্নাহর জ্ঞান নেই এবং যার এই বিষয়ে পর্যাপ্ত যোগ্যতা নেই, তার জন্য এটি অপরিহার্য ও সুনিশ্চিত কর্তব্য যে, সে যেন ধীরস্থিরতা অবলম্বন করে এবং বিষয়টি যাচাই করে নেয়, আর ইলমের ক্ষেত্রে সেই সকল সুদৃঢ় আলেমদের শরণাপন্ন হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো না করে যারা শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ ও এর মর্মার্থ সম্পর্কে সম্যক অবগত; সুতরাং সে যেন তাদেরকে অতিক্রম না করে। এটি এমন একটি বিষয় যার ওপর নজদ অঞ্চলের সালাফী দাওয়াতের ইমামগণ গুরুত্বারোপ করতেন। মুজাদ্দিদ শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এ প্রসঙ্গে বলেন: "...মানুষের জন্য জ্ঞান অর্জন ব্যতিরেকে কোনো বিষয়ের প্রতিবাদ করা বৈধ নয়। সুতরাং প্রতিবাদের প্রথম স্তর হলো আপনার এটি জানা যে, এই বিষয়টি আল্লাহর নির্দেশের পরিপন্থী..." (১)। যেহেতু এই বিষয়টি নজদের সালাফী দাওয়াতের ইমামদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তী পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে পৃথকভাবে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الثالث - العلم:لا شك أن من أهم الأسس التي يقوم عليها أي عمل يُراد له النجاح: العلم؛ إذ هو من أهم الأسس التي تحقق ذلك للعمل، ولا سيما في أمر الدعوة إلى الله تعالى، وخاصة في جانب إنكار المنكر لخطورة هذا الأمر؛ ولأجل ذلك جاءت وصايا وتوجيهات أئمة الدعوة السلفية بنجد، تحمل في طياتها الكثير عن العلم في جوانب مختلفة، تصب كلها في الوصول إلى أداء أكمل في جانب الدعوة إلى الله عمومًا، وإنكار المنكر خصوصًا، فمن ذلك ما يأتي:
1- بيان أن من أهم وأخطر أسباب الغلو والتطرف هو الجهل حيث يوقع في الخطأ في الفهم؛ ويدفع إلى بناء تصورات غير صحيحة، وعليها تنبني تصرفات منحرفة توقع فظائع الأمور (1) .
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ - জ্ঞান:নিঃসন্দেহে যে কোনো কাজের সফলতার জন্য জ্ঞান অন্যতম প্রধান ভিত্তি; কারণ এটিই সেই কাজকে সফল করে তোলার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, বিশেষ করে মহান আল্লাহর পথে দাওয়াতের ক্ষেত্রে এবং বিশেষভাবে অসৎ কাজের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে—এই বিষয়ের সংবেদনশীলতার কারণে। আর একারণেই নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণের বিভিন্ন উপদেশ ও দিকনির্দেশনা এসেছে, যা জ্ঞানের নানাবিধ দিক সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ধারণ করে। এই সবকিছুর মূল লক্ষ্য হলো সাধারণভাবে দাওয়াত ইলাল্লাহ এবং বিশেষভাবে অসৎ কাজের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ কর্মপদ্ধতি অর্জন করা। তার মধ্য থেকে কিছু নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১- এটি স্পষ্ট করা যে, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের অন্যতম প্রধান ও ভয়ংকর কারণ হলো অজ্ঞতা; যা সঠিক বুঝের ক্ষেত্রে ত্রুটি তৈরি করে এবং ভ্রান্ত ধারণা গঠনে প্ররোচিত করে। আর এর ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন বিচ্যুত আচরণ পরিলক্ষিত হয় যা ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্ম দেয় (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২২)
2- ولأجل القضاء على الغلو والتطرف وما يتبعهما من الإرهاب كان لا بد من الاهتمام بالعلم وتعليم الناس عامة، والممارسين للعمل الدعوي بخاصة، إذ من المؤكد أنه يرفع كفاءة القائم بالإنكار إذا ما طبق مفردات العلم على أرض الواقع، وهذا أمر معلوم؛ إذ فاقد الشيء لا يعطيه، فكيف ينكر وفق الأصول المعتبرة شرعًا؛ من لم يتعلمها، ولا يعرف منها شيئًا، يقول الشيخ المجدد محمد بن عبد الوهاب بعد رسالة له ضمنها أصولًا مهمة في إنكار المنكر مبينًا أثر الجهل بها: ". . . فالله الله العمل بما ذكرت لكم والتفقه فيه فإنكم إن ما فعلتم صار إنكاركم مضرة على الدين " (1) ، ولقد سلك أئمة الدعوة السلفية بنجد سبلًا كثيرة للرفع من قدرة الناس المعرفية وإيصال العلم إليهم بكل الوسائل والأساليب، فمن ذلك:
--------------------------------------------
২- চরমপন্থা (غلو) ও উগ্রবাদ (تطرف) এবং এগুলোর অনুসরণে সৃষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যে ইলম বা জ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং সাধারণভাবে জনগণকে ও বিশেষভাবে দাওয়াহর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের শিক্ষা প্রদান করা অপরিহার্য ছিল। কারণ এটি সুনিশ্চিত যে, মন্দ কাজের প্রতিবাদকারী ব্যক্তি যখন ইলম বা জ্ঞানের বিষয়গুলো বাস্তবে প্রয়োগ করেন, তখন তা তার দক্ষতা বৃদ্ধি করে। আর এটি একটি সুবিদিত বিষয়; কেননা যার নিজের কাছে কিছু নেই, সে অন্যকে তা দিতে পারে না। সুতরাং যে ব্যক্তি শরয়িভাবে স্বীকৃত মূলনীতিসমূহ (أصول) শিক্ষা করেনি এবং সে সম্পর্কে কিছুই জানে না, সে কীভাবে সেই স্বীকৃত মূলনীতি অনুযায়ী মন্দ কাজের প্রতিবাদ করবে? শায়খুল মুজাদ্দিদ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব তাঁর একটি পত্রের পর, যাতে তিনি মন্দ কাজের প্রতিবাদের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (أصول) অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, সে সম্পর্কে অজ্ঞতার প্রভাব বর্ণনা করে বলেন: "...আল্লাহর দোহাই, আমি তোমাদের কাছে যা উল্লেখ করেছি তার ওপর আমল করো এবং তাতে গভীর জ্ঞান অর্জন করো। কারণ তোমরা যদি তা না করো, তবে তোমাদের প্রতিবাদ করাটা দ্বীনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।" (১) নজদের সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ মানুষের জ্ঞানতাত্ত্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এবং সকল মাধ্যম ও পদ্ধতি অবলম্বন করে তাদের কাছে ইলম পৌঁছে দেওয়ার জন্য অনেক পথ অবলম্বন করেছেন। যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أ) مخاطبة من له الإمامة وولاية الأمر بوجوب الاهتمام بتعليم الناس، والتأكيد على إرسال من يعلمهم أمور دينهم، يقول الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ للإمام فيصل بن تركي: " وعلى الإمام - وفقه الله - أن يبعث للدين عمالًا كما يبعث للزكاة عمالًا ليعلموهم دينهم. . . " (1) ، ويقول في رسالة أخرى: ". . . وكذلك يجب على الإمام النظر في أمر العلم وترغيب الناس في طلبه وإعانة من تصدى للطلب. . . " (2) ، ويقول الشيخ محمد بن عبد اللطيف ومجموعة من العلماء في بيان أهمية نشر العلم ودور الإمام في ذلك: " إن مما أوجب الله ورسوله صلى الله عليه وسلم على من ولي الأمر نشر العلم وإقامة الدين. . . " (3) .
--------------------------------------------
ক) ইমামত এবং শাসনকর্তৃত্বের অধিকারীদের প্রতি জনশিক্ষার বিষয়ে যত্নবান হওয়ার আবশ্যকতা এবং তাদের দ্বীনি বিষয়সমূহ শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিক্ষক প্রেরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সম্বোধন; শায়খ আবদুর রহমান বিন হাসান আল-শায়খ ইমাম ফয়সাল বিন তুর্কিকে বলেন: "এবং ইমামের ওপর—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—আবশ্যক হলো দ্বীনি কাজের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করা, যেমন তিনি জাকাত আদায়ের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করেন, যাতে তারা জনগণকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে পারেন..." (১), তিনি অন্য এক পত্রে বলেন: "...তেমনিভাবে ইমামের ওপর জ্ঞানের বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখা, মানুষকে তা অর্জনে উৎসাহিত করা এবং যারা জ্ঞান অন্বেষণে সচেষ্ট হয়েছে তাদের সহায়তা করা আবশ্যক..." (২), শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ এবং একদল আলেম জ্ঞান প্রচারের গুরুত্ব এবং এ ক্ষেত্রে ইমামের ভূমিকার বর্ণনায় বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাসনকর্তাদের ওপর যা আবশ্যক করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো জ্ঞান প্রচার করা এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠা করা..." (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وقد كان أئمة الدعوة السلفية من الحكام يبذلون في هذا الأمر الشيء الكثير حيث يرسلون الدعاة إلى مختلف البلدان ليقوموا بدورهم في التعليم والتوجيه، يقول الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ في رسالة منه لأحد طلبة العلم متضمنة تكليفه بالقيام بواجب التعليم بأمر الإمام عبد الرحمن الفيصل (1) : ". . . وقد أجمع الرأي والمشورة على إلزامك بالدعوة إلى الله والتذكير بدينه. . . وهذا خط الإمام عبد الرحمن وأهلك فلا تجاوب بلا ولن. . . " (2) ، ويقول في رسالة موجهة لأمير من الأمراء: ". . . والواصل إليك ولدنا علي بن سليم (3) بتدبير الإمام بتذكير أهل الإسلام وحثهم على الثبات والتمسك بدين الله. . . " (4) .
ويقول الشيخ محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ ومجموعة معه من العلماء في بيان جهد الإمام في ذلك: ". . . والإمام - وفقه الله - وأعانه مهتم لهذا الأمر، وقد بعث لأكثر القبائل دعاة يعلمونهم أمر دينهم. . . " (5) .
--------------------------------------------
শাসকগণের মধ্য থেকে সালাফী দাওয়াতের ইমামগণ এই বিষয়ে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তারা বিভিন্ন দেশে দাঈদের প্রেরণ করতেন যাতে তারা শিক্ষা ও নির্দেশনার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা পালন করতে পারেন। শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আল-শায়খ ইলমে দ্বীনের জনৈক ছাত্রের নিকট প্রেরিত এক পত্রে (যাতে ইমাম আব্দুর রহমান আল-ফয়সালের (১) নির্দেশে তাকে শিক্ষা প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে) বলেন: ". . . মতামত ও পরামর্শ আপনাকে আল্লাহর পথে আহ্বান এবং তাঁর দ্বীন স্মরণ করানোর কাজে নিয়োজিত করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। . . . আর এটি ইমাম আব্দুর রহমানের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পন্থা এবং আপনার জন্য সমীচীন বিষয়, সুতরাং 'না' বা 'কখনও না' বলে উত্তর দেবেন না। . . ." (২), এবং তিনি জনৈক আমীরের নিকট প্রেরিত এক পত্রে বলেন: ". . . আপনার নিকট আমাদের পুত্র আলী বিন সুলাইম (৩) পৌঁছাবেন, ইমামের ব্যবস্থাপনায় মুসলিমদের উপদেশ প্রদান এবং আল্লাহর দ্বীনের ওপর অবিচল থাকা ও তা আঁকড়ে ধরার জন্য তাদের উৎসাহিত করতে। . . ." (৪)।
শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আল-শায়খ এবং তাঁর সাথে একদল আলেম এই বিষয়ে ইমামের প্রচেষ্টার বর্ণনায় বলেন: ". . . আর ইমাম—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—এবং তাঁকে সাহায্য করুন, এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন, এবং তিনি অধিকাংশ গোত্রের নিকট দাঈদের পাঠিয়েছেন যারা তাদের দ্বীনের বিষয়ে শিক্ষা প্রদান করবেন। . . ." (৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ب) جعل التعليم إلزاميًا على مجموعة من كل بلد حيث يتكفل الإمام بنفقاتهم، ويُفرغون لطلب العلم وتلقيه؛ ليقوموا بدورهم في تعليم قومهم بعد ذلك، وهو منهج سلكه الإمام سعود بن عبد العزيز، يقول رحمه الله في رسالة له: ". . . وأنتم خابرون أني قد لزمت على كل أمير ناحية يخص على خمسة عشر أو أكثر أو أقل من أهل بلدانه؛ ويلزمهم طلب العلم؛ لأنه أمر ضروري. . . ولا أعذر كل أمير ناحية إلا عنده أناس مخصوصين، ويلزمهم طلب العلم، ويكتب لنا أسماءهم في ورقة ونوصلهم - إن شاء الله - ما يعاونهم على معيشتهم. . . " (1) .
ج) التأكيد على طلبة العلم القيام بواجبهم في تعليم الناس وبذل ما رزقهم الله من علم وفهم، وفي ذلك يقول الشيخ عبد الرحمن بن حسن آل الشيخ: "فالواجب على من أعطاه الله شيئًا من العلم أن يبذله للطالبين، وأن يقوم بما أوجبه الله تعالى عليه من النصيحة لله ولرسوله ولكتابه ولأئمة المسلمين وعامتهم. . . " (2) . ويقول الشيخ عبد اللطيف في تأكيد ذلك على بعض طلابه: ". . . ونشر العلم وبيان السنة من أوجب الواجبات وأفضل الطاعات. . . " (3) .
--------------------------------------------
খ) প্রতিটি জনপদ থেকে একদল লোকের ওপর শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা, যেখানে ইমাম তাদের ব্যয়নির্বাহের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং তারা ইলম অন্বেষণ ও তা গ্রহণের জন্য নিজেদের নিবেদিত করবেন; যাতে তারা পরবর্তীতে নিজ নিজ কওমের শিক্ষা প্রসারে ভূমিকা রাখতে পারেন। এটি এমন এক পদ্ধতি যা ইমাম সৌদ ইবনে আব্দুল আজিজ অনুসরণ করেছিলেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর একটি পত্রে লিখেছেন: "...আর তোমরা অবগত আছ যে, আমি প্রতিটি অঞ্চলের আমিরের ওপর এটি আবশ্যক করেছি যে, সে তার জনপদ থেকে পনের জন অথবা তার কম-বেশি ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করবে; এবং তাদের ইলম অন্বেষণে বাধ্য করবে; কারণ এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ... আমি কোনো অঞ্চলের আমিরকে ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহতি দেব না যতক্ষণ না তার নিকট নির্দিষ্ট কিছু লোক থাকে যাদের জন্য ইলম অন্বেষণ করা বাধ্যতামূলক এবং সে আমাদের নিকট একটি কাগজে তাদের নাম লিখে পাঠাবে। ইনশাআল্লাহ আমরা তাদের নিকট এমন কিছু পৌঁছে দেব যা তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে।" (১) ।
গ) ইলম অন্বেষণকারীদের ওপর এই মর্মে গুরুত্বারোপ করা যেন তারা মানুষকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে এবং আল্লাহ তাদের যে ইলম ও প্রজ্ঞা দান করেছেন তা বিলিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে হাসান আলু শায়খ বলেন: "সুতরাং আল্লাহ যাকে ইলমের সামান্য অংশও দান করেছেন, তার ওপর কর্তব্য হলো তা অন্বেষণকারীদের নিকট বিলিয়ে দেওয়া এবং মহান আল্লাহ তাঁর ওপর আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, তাঁর কিতাবের প্রতি এবং মুসলিমদের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষা পোষণের যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন তা পালন করা... " (২) । শায়খ আব্দুল লতিফ তাঁর কতিপয় ছাত্রের নিকট এ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন: "...আর ইলম প্রচার করা এবং সুন্নাহর ব্যাখ্যা প্রদান করা অন্যতম প্রধান ওয়াজিব এবং সর্বোত্তম আনুগত্যমূলক কাজ... " (৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
3- التأكيد على أهم قضية في منهجية تلقي العلم وهي: كيفية التلقي، فليس المراد بطلب العلم هو أن يجمع منه شيئًا لا يفهمه ولا يدركه، بل القضية هي الفقه والفهم قبل الحفظ، ولأجل ذلك كان أئمة الدعوة السلفية يؤكدون على المنهجية الصحيحة في طلب العلم وتلقيه، وفي ذلك يبين الشيخ عبد الله بن عبد العزيز العنقري أن الواجب على طلبة العلم أن يأخذوا العلم عن أهله، ولا يعتمدوا على مجرد أفهامهم أو التلقي عن الكتب فقط، ويؤكد أن ذلك غير نافع (1) ، وفي بيان ذلك يقول الشيخ عمر بن سليم: ". . . أن الذي يستغني بمجموعة التوحيد أو يقلد من يقرأها وهو لا يعرف معناها قد وقع في جهل وضلال بل يجب عليه الأخذ عن علماء المسلمين. . . " (2) . ويقول الشيخ سعد بن عتيق: " وأعظم أسباب السلامة الهرب من سبل أهل الغي والفساد واقتباس نور الهدى من محله والتماس العلم النافع من حملته وأهله وهم أهل العلم والدين. . . " (3) .
--------------------------------------------
3- ইলম অর্জনের পদ্ধতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ, আর তা হলো: জ্ঞান গ্রহণের পদ্ধতি; কেননা ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য এই নয় যে, ব্যক্তি এমন কিছু সংগ্রহ করবে যা সে বোঝে না বা উপলব্ধি করে না; বরং মূল বিষয়টি হলো মুখস্থ করার পূর্বে ফিকহ (الفقه) এবং সঠিক অনুধাবন। আর এই কারণেই সালাফি দাওয়াতের ইমামগণ ইলম অন্বেষণ ও তা গ্রহণের সঠিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। এ প্রসঙ্গে শায়খ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল-আনকারি বর্ণনা করেন যে, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য ওয়াজিব হলো তারা যেন ইলম তার যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করে এবং শুধুমাত্র নিজেদের বুঝ কিংবা কেবল বইপত্র থেকে জ্ঞান অর্জনের ওপর নির্ভর না করে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এটি কোনো ফলপ্রসূ পদ্ধতি নয় (১)। এ বিষয়ে শায়খ উমর বিন সুলাইম বলেন: "...যে ব্যক্তি মাজমুআতুত তাওহীদ নিয়েই তুষ্ট থাকে অথবা এমন কাউকে অন্ধ অনুসরণ (تقليد) করে যে তা পাঠ করে অথচ তার অর্থ বোঝে না, সে মূর্খতা ও গোমরাহিতে নিপতিত হয়েছে; বরং তার জন্য আবশ্যক হলো মুসলিম আলেমদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করা..." (২)। শায়খ সা'দ বিন আতিক বলেন: "পরিত্রাণ লাভের সর্বশ্রেষ্ঠ উপায় হলো পথভ্রষ্ট ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ থেকে পলায়ন করা এবং হেদায়েতের নূর তার সঠিক উৎস থেকে গ্রহণ করা, আর উপকারী ইলম তার বাহক ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিকট থেকে সন্ধান করা, আর তারা হলেন ইলম ও দ্বীনের অধিকারী ব্যক্তিগণ..." (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولا شك أن من لا يتلقى العلم عن العلماء هو على خطر عظيم، إذ إنهم يتعلقون بألفاظ تلك الكتب ويغيب عن كثير منهم معانيها (1) ، ومما يزيد الأمر بلاءً أن هذا الصنف لا يسأل العلماء فيما خفي عليه من المعاني فلا يظهر له المقصود لا بفهمه ولا باستفساره فيبقى في جهل وضلال وهو يظن أنه على علم، وفي هذا يقول الشيخ محمد بن عبد اللطيف آل الشيخ والشيخ عبد الله العنقري: ". . . فأما من تعلق بظواهر ألفاظ من كلام العلماء المحققين ولم يعرضها على العلماء بل يعتمد على فهمه وربما قال حجتنا مجموعة التوحيد أو كلام العالم الفلاني وهو لا يعرف مقصوده بذلك الكلام فإن هذا جهل وضلال. . . إذا عُرف هذا يتبين أن الذي يدعي أنه يستغني بمجموعة التوحيد عن الأخذ عن علماء المسلمين مخطئ. . . " (2) . ويقول الشيخ عمر بن سليم في وصف هذا البلاء: ". . . فأما من رغب عن سؤال العلماء أو قال حجتنا الكتاب الفلاني أو مجموعة التوحيد أو كلام العالم الفلاني وهو لا يعرف مقصوده بذلك فإن هذا جهل وضلال. . . " (3) ، ويُبين الشيخ عبد اللطيف بن عبد الرحمن آل الشيخ أن وجود الكتب وحدها لا يكفي بل يجب أن يؤخذ العلم عن عالم رباني فيقول: ". . . وإن كانت
--------------------------------------------
নিঃসন্দেহে যারা আলেমদের থেকে ইলম অর্জন করে না তারা চরম বিপদের মুখে রয়েছে, কারণ তারা ওই সকল কিতাবের শব্দাবলির ওপর নির্ভর করে এবং তাদের অনেকের কাছ থেকেই এর প্রকৃত অর্থ অস্পষ্ট থেকে যায় (১)। এই মুসিবতকে যা আরও বাড়িয়ে দেয় তা হলো, এই শ্রেণির লোকেরা অর্থের যে বিষয়গুলো তাদের কাছে অস্পষ্ট থাকে সে সম্পর্কে আলেমদের জিজ্ঞাসা করে না; ফলে না নিজের বুঝের মাধ্যমে, না জিজ্ঞাসার মাধ্যমে প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাছে স্পষ্ট হয়। ফলে তারা অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার মাঝেই নিমজ্জিত থাকে অথচ তারা মনে করে যে তারা ইলমের ওপর আছে। এ প্রসঙ্গে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ আলে শায়খ এবং শায়খ আব্দুল্লাহ আল-আনকারি বলেন: "...কিন্তু যে ব্যক্তি অভিজ্ঞ (محقق) আলেমদের বক্তব্যের বাহ্যিক শব্দের ওপর নির্ভর করে এবং তা আলেমদের কাছে পেশ করে না, বরং নিজের বুঝের ওপর নির্ভর করে এবং সম্ভবত বলে যে আমাদের দলিল হলো মাজমুআতুত তাওহিদ অথবা অমুক আলেমের কথা, অথচ সে ওই কথার উদ্দেশ্য জানে না—তবে এটিই হলো অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা... যখন এটি জানা গেল, তখন এটি স্পষ্ট হয় যে, যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে মুসলিম আলেমদের থেকে ইলম গ্রহণ করা ব্যতিরেকে কেবল মাজমুআতুত তাওহিদ-এর মাধ্যমেই অমুখাপেক্ষী হতে পারবে, সে ভুল পথে আছে..." (২)। শায়খ উমর বিন সুলাইম এই মুসিবতের বর্ণনায় বলেন: "...কিন্তু যে ব্যক্তি আলেমদের জিজ্ঞাসা করা থেকে বিমুখ হয় অথবা বলে আমাদের দলিল হলো অমুক কিতাব বা মাজমুআতুত তাওহিদ কিংবা অমুক আলেমের কথা, অথচ সে এর উদ্দেশ্য জানে না, তবে এটিই হলো অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতা..." (৩), শায়খ আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান আলে শায়খ বর্ণনা করেন যে, কেবল কিতাব থাকাই যথেষ্ট নয় বরং ইলম অবশ্যই রব্বানি (رباني) আলেমদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন: "...যদিও
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الكتب موجودة فهي لا تغني ما لم يساعده التوفيق وتؤخذ المعاني والحدود والأحكام عن عالم رباني " (1) .
--------------------------------------------
বইপত্র বিদ্যমান রয়েছে, তবে তা যথেষ্ট নয় যতক্ষণ না তাকে তাওফিক সহায়তা করে এবং এর মর্মার্থ, সংজ্ঞা ও বিধিবিধানসমূহ (الأحكام) একজন রব্বানি আলেমের নিকট থেকে গ্রহণ করা হয় " (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুহুদু আইম্মাতিল দাওয়াতিস সালাফিয়্যাতি বিনাজদিন ফিত তাসাদি লিল-উনুফি ওয়াল ইরহাবি মিন খিলালিদ দাওয়াতি ইলা ফিকহি ইনকারিল মুনকার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
4- الزهد بالأخذ عن العلماء من أهم أسبابه فقد الثقة بهم لأجل أهواء وشبهات وحسد تدفع إلى الطعن بهم، ولأجل ذلك جاء تحذير أئمة الدعوة السلفية من الطعن في علماء المسلمين الصادقين لأن ذلك يوجد الفجوة ويزيدها بين العلماء وطلبة العلم والعامة؛ الأمر الذي ينعكس سلبًا على طلبة العلم؛ حيث يصدهم الشيطان بمكره عن التلقي من العلماء، ويزين الطعن فيهم، واتهامهم بالتهم الباطلة، وقذفهم بالأوصاف القبيحة؛ لتزداد الفجوة مما يحرم طلبة العلم من الاستفادة من أولئك العلماء وما رزقهم الله من العلم النافع فيبقون في ضلالتهم وجهلهم ويحسبون أنهم على شيء، يقول الشيخ عمر بن سليم: " ومن كيد الشيطان أيضًا الذي صدهم عن تعلم العلم وطلبه واتهام علماء المسلمين وسوء الظن بهم وعدم الأخذ عنهم وهذا سبب لحرمان العلم. . . " (1) . ويقول الشيخ محمد بن عبد اللطيف والشيخ عبد الله العنقري في التحذير من ذلك: " ومما أدخل الشيطان على بعض المتدينين اتهام علماء المسلمين بالمداهنة وسوء الظن بهم وعدم الأخذ عنهم، وهذا سبب لحرمان العلم النافع، والعلماء هم ورثة الأنبياء في كل زمان ومكان فلا يُتلقى العلم إلا عنهم. فمن زهد في الأخذ عنهم
--------------------------------------------
4- আলেমদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণে অনীহার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রবৃত্তি, সংশয় এবং হিংসার বশবর্তী হয়ে তাঁদের প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (الثقة) হারিয়ে ফেলা, যা তাঁদের প্রতি মানহানি বা সমালোচনা (الطعن) করার দিকে ধাবিত করে। এই কারণেই সালাফি দাওয়াহর ইমামগণ সত্যনিষ্ঠ (الصادقين) মুসলিম আলেমদের সমালোচনা (الطعن) করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন; কারণ এটি আলেম, ইলম অন্বেষী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে এবং তা বৃদ্ধি করে। এই বিষয়টি ইলম অন্বেষীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে; যেখানে শয়তান তার চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁদের আলেমদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করতে বাধা দেয়, তাঁদের প্রতি সমালোচনাকে (الطعن) সুশোভিত করে উপস্থাপন করে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে এবং তাঁদের কদর্য বিশেষণে ভূষিত করে; যাতে এই দূরত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ইলম অন্বেষীরা ওই সকল আলেম এবং আল্লাহ তাঁদের যে উপকারী ইলম দান করেছেন তা থেকে উপকৃত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। পরিশেষে তারা তাদের ভ্রষ্টতা ও মূর্খতার মধ্যেই নিমজ্জিত থাকে, অথচ তারা ধারণা করে যে তারা সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছে। শেখ ওমর বিন সুলাইম বলেন: "শয়তানের অন্যতম চক্রান্ত যা মানুষকে ইলম শিক্ষা ও অন্বেষণ থেকে বিমুখ করে তা হলো—মুসলিম আলেমদের অভিযুক্ত করা, তাঁদের সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করা এবং তাঁদের থেকে জ্ঞান গ্রহণ না করা; আর এটিই ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ..." (১)। শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ এবং শেখ আব্দুল্লাহ আল-আনকারি এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন: "শয়তান কিছু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তির মধ্যে যা প্রবিষ্ট করিয়েছে তা হলো—মুসলিম আলেমদের তোষামোদ বা আপসকামিতার দায়ে অভিযুক্ত করা, তাঁদের প্রতি কুধারণা পোষণ করা এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ না করা। এটিই উপকারী ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ। আলেমরা প্রতিটি যুগ ও স্থানে নবীগণের উত্তরাধিকারী, তাই কেবল তাঁদের নিকট থেকেই ইলম গ্রহণ করা যায়। সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করবে..."
--------------------------------------------