(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: -)
نهر الذهب فى تاريخ حلب   (كامل الغزي)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: نهر الذهب في تاريخ حلب

المؤلف: كامل بن حسين بن محمد بن مصطفى البالي الحلبي، الشهير بالغزي (ت 1351هـ)

الناشر: دار القلم، حلب

الطبعة: الثانية، 1419 هـ

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাহরুত জাহাব ফি তারিখি হালাব   (কামিল আল-গাযযী)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: নাহরুত জাহাব ফি তারিখি হালাব

লেখক: কামিল বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-বালি আল-হালাবি, যিনি আল-গাযযী নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ১৩৫১ হিজরী)

প্রকাশক: দারুল কলাম, হালাব

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১৯ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: -)
كامل بن حسين الشهير بالغزّي

 

ولد كامل بن حسين بن محمد بن مصطفى البالي الحلبي الشهير بالغزّي في حلب سنة 1270 هـ / 1853 م أو قبلها بسنة في أقرب الروايات وتوفي فيها سنة 1351 هـ / 1933 م.

نبت في بيت علم وشرف فقد كان أبوه الحسين من أشهر رجال الشام في الفقه والحديث والأدب، توطن حلب قادماً من غزة في منتصف القرن الثالث عشر للهجرة ولبث فيها مدرسا بالمدرسة السيافية في محلة الفرافرة.

حرص ذووه على تعليمه وتثقيفه منذ بلغ سن الطلب فدفعوه إلى الكتّاب حيث أتم تلاوة القرآن الكريم، ثم سعى إلى الشيوخ في بلده فأخذ العلم عن الشيخ محمد الكحيل والشيخ مصطفى الكردي وغيرهما. ولم يكتف بما تلقاه عن أساتذته من علوم الدين، من فقه وحديث وتوحيد وفرائض وما يخدمها من علوم اللسان، بل أضاف إليها باجتهاده بعض العلوم الأخرى، مما لم تكن تتسع له مناهج الدرس في أيامه، ومن ذلك التاريخ الذي عمق معلوماته فيه استناداً إلى مؤلفات من سبقه من فحول المؤرخين كالطبري وابن الأثير وابن العديم وغيرهم. ولقد تقلّد عدداً من المناصب الرسمية في بلده.

بلغ الغزي بعلمه وجدّه منزلة فريدة عند الحكام، وقد اشتهر منذ شبابه بسعة الثقافة، وحب المطالعة، وبذكاء واضح وعقل راجح، ونفس لا تعرف التعصب، ولا عجب في ذلك، فقد كان أصدقاؤه من مختلف الأديان. كما وعرف عنه أنه أولع باقتناء الكتب منذ صباه، فكان يطوف الأسواق والخزائن في المشرق والمغرب متحرياً النفيس من أصنامها. حتى اجتمعت له منها خزانة نفيسة عامرة عدها البعض أنها واحدة من أشهر خزائن حلب لوقته.

هذا الاطلاع الواسع، وتلك الخزانة العامرة اللذان توفرا للغزي جعلاه يتمتع بثقافة موسوعية مكّنته من كتابة مؤلفات كثيرة.

آثاره المطبوعة

فمن آثاره المطبوعة: إتحاف الأخلاف في أحكام الأوقاف، نهر الذهب في تاريخ حلب وغيرها.

آثاره المخطوطة

ومن آثاره المخطوطة: ديوان شعر، الروضة الغناء في حقوق النساء وغيرها.

علاوة على عشرات المقالات العلمية والتحقيقات اللغوية والتاريخية المبثوثة في كبريات الصحف العربية والسورية.
কামিল বিন হুসাইন, আল-গাজ্জি নামে পরিচিত।

 

কামিল বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-বালি আল-হালাবি, যিনি আল-গাজ্জি নামে পরিচিত, তিনি হিজরি ১২৭০ সন / ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে অথবা নিকটতম বর্ণনা অনুযায়ী তার এক বছর আগে আলেপ্পোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই হিজরি ১৩৫১ সন / ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি একটি জ্ঞানদীপ্ত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তার পিতা আল-হুসাইন ছিলেন ফিকহ, হাদিস ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তি। তিনি হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গাজা থেকে এসে আলেপ্পোতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে আল-ফারাফিরা মহল্লার আল-সাইয়াফিয়া মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

তার অভিভাবকরা তার পড়াশোনার ব্যাপারে শৈশব থেকেই আগ্রহী ছিলেন, তাই তারা তাকে মক্তবে পাঠিয়েছিলেন যেখানে তিনি পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি তার শহরের শায়খদের শরণাপন্ন হন এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-কাহিল ও শায়খ মুস্তফা আল-কুর্দি এবং অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ফিকহ, হাদিস, তাওহিদ, ফারায়িয (উত্তরাধিকার আইন) এবং ভাষাতত্ত্বের মতো ধর্মীয় জ্ঞান যা তার শিক্ষকরা শিখিয়েছেন তাতে সীমাবদ্ধ থাকেননি। বরং তিনি নিজ প্রচেষ্টায় এমন কিছু অন্যান্য বিজ্ঞানও আয়ত্ত করেন যা সে সময়ের পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর মধ্যে ইতিহাস অন্যতম, যাতে তিনি পূর্ববর্তী প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ যেমন তাবারী, ইবনুল আসির, ইবনুল আদিম এবং অন্যদের রচনার ওপর ভিত্তি করে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তিনি তার শহরে বেশ কিছু সরকারি পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল-গাজ্জি তার জ্ঞান ও পরিশ্রমের মাধ্যমে শাসকদের কাছে এক অনন্য মর্যাদা লাভ করেছিলেন। যৌবনকাল থেকেই তিনি ব্যাপক পাণ্ডিত্য, পাঠানুরাগ, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা, প্রখর মেধা এবং সংকীর্ণতামুক্ত মনের জন্য পরিচিত ছিলেন। এতে বিস্ময়ের কিছু নেই, কারণ বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা তার বন্ধু ছিল। এটিও জানা যায় যে, শৈশব থেকেই তার বই সংগ্রহের প্রতি প্রবল অনুরাগ ছিল। তিনি প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বাজার ও লাইব্রেরিগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন মূল্যবান পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে। শেষ পর্যন্ত তিনি এক বিশাল ও মূল্যবান সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছিলেন, যা অনেকের মতে সে সময়ের আলেপ্পোর অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার ছিল।

এই ব্যাপক অধ্যয়ন এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার আল-গাজ্জিকে এক বিশ্বকোষীয় জ্ঞান দান করেছিল, যা তাকে অনেক গ্রন্থ রচনায় সমর্থ করে তোলে।

তার মুদ্রিত রচনাবলি

তার মুদ্রিত রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: ইতহাফুল আখলাফ ফি আহকামিল আওকাফ, নহরুয যাহাব ফি তারিখি হালাব এবং অন্যান্য।

তার পাণ্ডুলিপি রচনাবলি

তার পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে রয়েছে: দিওয়ানে শায়ের (কবিতাসমগ্র), আল-রাওদাতুল গান্না ফি হুকুকিন নিসা এবং অন্যান্য।

এছাড়া শীর্ষস্থানীয় আরবি ও সিরীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত তার কয়েক ডজন বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ, ভাষাতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গবেষণা রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[الجزء الاول]

‌‌كلمة الناشر

تتابع «دار القلم العربي» خطّتها التي انتهجتها لنفسها، وهي نشر التراث الحلبي الثمين، وتعريف الناس به، وتيسير وصوله إلى القراء عامة، والعلماء والباحثين خاصة، من مخطوطات قديمة، أو مطبوعات أصبحت نادرة الوجود.

وها هي ذي تعيد طباعة كتاب «نهر الذهب في تاريخ حلب» بمجلداته الثلاثة، للمؤرخ العلامة كامل الغزي، بحلّة قشيبة، وتحقيق جديد قام به الدكتور شوقي شعث، والأستاذ محمود فاخوري، بعد أن قامت الدار بطباعة «إعلام النبلاء بتاريخ حلب الشهباء» بمجلداته السبعة للعلامة الطباخ. وكلا الكتابين متمم للآخر، وبهما معا تكتمل صورة حلب في مختلف جوانبها، ومع أن هذين الكتابين هما لرجلين صديقين ومتعاصرين، وأنهما طبعا أول مرة في وقت واحد تقريبا، فلن يغني أحدهما عن الآخر، لأن كلا من المؤلفين كان يعمل في كتابه مستقلا عن الآخر، وهنا تكمن الفائدة للباحث والدارس.

وسوف تواصل دار القلم العربي خطواتها هذه في خدمة التاريخ والأدب والثقافة.

والله من وراء القصد.

حلب: 4 من ذي الحجة 1411 هـ 16/6/1991 م الناشر علاء الدين الرفاعي
‌[প্রথম খণ্ড]

‌প্রকাশকের কথা

‘দারুল কলাম আল-আরাবি’ তার সেই পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে যা সে নিজের জন্য নির্ধারণ করেছে; আর তা হলো—মূল্যবান হালাবি (আলেপ্পো) ঐতিহ্য প্রকাশ করা, জনগণের নিকট তা পরিচিত করানো এবং সাধারণ পাঠক ও বিশেষ করে আলেম ও গবেষকদের নিকট তা সহজলভ্য করা; চাই তা প্রাচীন পাণ্ডুলিপি হোক কিংবা বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য কোনো মুদ্রিত গ্রন্থ।

এই তো প্রতিষ্ঠানটি ঐতিহাসিক আল্লামা কামিল আল-গাজ্জি রচিত ‘নাহরুজ জাহাব ফি তারিখি হালাব’ গ্রন্থটি তার তিন খণ্ডে নতুন সাজে পুনঃমুদ্রণ করছে, যার নতুন তাহকিক (সম্পাদনা) করেছেন ডক্টর শাওকি শা'আছ এবং উস্তাদ মাহমুদ ফাখুরি। এর আগে এই প্রকাশনী আল্লামা তাব্বাখ রচিত সাত খণ্ডের ‘ই'লামুন নুবালা বি-তারিখি হালাবিশ শাহবা’ গ্রন্থটি মুদ্রণ করেছে। গ্রন্থ দুটির একটি অন্যটির পরিপূরক এবং এই দুটির মাধ্যমেই হালাবের বিভিন্ন দিকের চিত্র পূর্ণতা পায়। যদিও এই বই দুটির লেখকদ্বয় বন্ধু ও সমসাময়িক ছিলেন এবং বই দুটি প্রায় একই সময়ে প্রথমবার মুদ্রিত হয়েছিল, তবুও একটি অন্যটির বিকল্প হবে না। কারণ, প্রত্যেক লেখকই নিজ নিজ গ্রন্থে স্বতন্ত্রভাবে কাজ করেছেন, আর এখানেই গবেষক ও শিক্ষার্থীর জন্য প্রকৃত ফায়দা নিহিত।

দারুল কলাম আল-আরাবি ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতির খিদমতে তার এই পদক্ষেপসমূহ অব্যাহত রাখবে।

আল্লাহই আমাদের মূল লক্ষ্য ও সহায়।

হালাব: ৪ জিলহজ ১৪১১ হিজরি, ১৬/৬/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ। প্রকাশক: আলাউদ্দিন আল-রিফায়ি।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

‌‌حلب، ونهر الذهب

«حلب مدينة عظيمة واسعة، كثيرة الخيرات، طيبة الهواء، صحيحة الأديم والماء …

وشاهدت من حلب وأعمالها ما استدللت به على أن الله تعالى خصّها بالبركة، وفضّلها على جميع البلاد.. وأما قلعتها فبها يضرب المثل في الحسن والحصانة.. وما زال فيها على قديم الزمان وحديثه أدباء وشعراء.. وقد أكثر الشعراء من ذكرها ووصفها والحنين إليها» .

ذلك مجمل ما قاله ياقوت الحموي عن حلب في كتابه «معجم البلدان» ، وقد زارها وأقام فيها غير مرّة. وليس هو الوحيد الذي أشاد بهذه المدينة ونوّه بفضلها، فهناك أقوال كثيرة مماثلة للرحالة والجغرافيين العرب والغربيّين الذين زاروها، أو أقاموا فيها، وقد أجمعوا كافة على أن حلب من أقدم المدن العامرة في العالم، ولا تزال حتى اليوم زاخرة بالحياة، مزدهرة بالحضارة والعمران، بعد أن مرّت بأحقاب متلاحقة منذ القرن العشرين قبل الميلاد، وعرفت أمما شتّى تعاقبت عليها، كما عرفت الأمجاد التليدة، من جهة، والكوارث والزلازل من جهة أخرى، وهي بعد ملتقى الطرق التجارية الكبرى لقوافل الشرق والغرب، ثم إنها مدينة الآثار والأسوار، والأبراج والأبواب، وقد بقيت محافظة على تراثها الثمين، وكنوزها الأوابد، وجلال أبنيتها القديمة، وهذا ما جعل المؤرخين يهتمون بها، حتى إن ما ألّف فيها وحدها من كتب تاريخية يسترعي الانتباه بكثرته وتنوعه، منذ أن كتب حمدان الأثاربي (- 520 هـ) كتابه «القوت» في تاريخ حلب، حتى ألّف الغزي (- 1351 هـ- 1933 م) كتابه «نهر الذهب» ، وبينهما كتب كثيرة منها المطبوع، ومنها المفقود، ومنها الذي لا يزال مخطوطا.

ونكتفي- فيما يلي- بذكر ما طبع حتى اليوم من تلك الكتب عن حلب: 1- تاريخ حلب: لمحمد بن علي العظيمي (- 556 هـ) . طبع في دمشق 1984 م بتحقيق إبراهيم زعرور.
ভূমিকা

হালাব এবং নহরে জাহাব

«হালাব এক মহান ও প্রশস্ত নগরী, যা বহু সম্পদে সমৃদ্ধ, এখানকার আবহাওয়া মনোরম এবং এর মাটি ও পানি বিশুদ্ধ …

আমি হালাব ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এমন সব বিষয় দেখেছি যা থেকে আমি এই প্রমাণ পেয়েছি যে, আল্লাহ তাআলা একে বরকতের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন এবং একে সমস্ত ভূখণ্ডের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর এখানকার দুর্গের সৌন্দর্য ও সুদৃঢ়তার তো উদাহরণ দেওয়া হয়। প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালেই এখানে সাহিত্যিক ও কবিদের বিচরণ ছিল। কবিরা প্রচুর পরিমাণে এর আলোচনা ও বর্ণনা করেছেন এবং এর প্রতি ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন।»।

এটিই হলো ইয়াকুত আল-হামাউয়ি তাঁর ‘মুজামুল বুলদান’ গ্রন্থে হালাব সম্পর্কে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ; তিনি একাধিকবার শহরটি সফর করেছেন এবং সেখানে অবস্থান করেছেন। কেবল তিনিই এই শহরের প্রশংসা বা এর শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেননি; বরং বহু আরব ও পশ্চিমা পর্যটক এবং ভূগোলবিদের একই ধরণের বর্ণনা পাওয়া যায় যারা এটি সফর করেছেন অথবা সেখানে বসবাস করেছেন। তাঁরা সকলে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, হালাব পৃথিবীর প্রাচীনতম জনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম; যা আজও জীবনচাঞ্চল্যে ভরপুর এবং সভ্যতা ও নগরায়নে সমৃদ্ধ। খ্রিস্টপূর্ব বিংশ শতাব্দী থেকে এটি একের পর এক ধারাবাহিক যুগ অতিক্রম করে এসেছে এবং এটি এমন অনেক জাতির ইতিহাস দেখেছে যারা একের পর এক এখানে এসেছে। তেমনিভাবে এটি একদিকে যেমন সুপ্রাচীন গৌরব প্রত্যক্ষ করেছে, অন্যদিকে মহাবিপদ ও ভূমিকম্পও দেখেছে। এটি পূর্ব ও পশ্চিমের বাণিজ্য কাফেলাগুলোর যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সংযোগস্থল। এছাড়া এটি প্রাচীন নিদর্শন, প্রাচীর, টাওয়ার এবং প্রবেশদ্বারের শহর। শহরটি তার মূল্যবান ঐতিহ্য, চিরন্তন সম্পদ এবং প্রাচীন ইমারতগুলোর মহিমা আজও রক্ষা করে চলেছে। একারণেই ঐতিহাসিকগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এমনকি কেবল এই শহর নিয়ে রচিত ইতিহাস গ্রন্থগুলোর প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেমনটি হামদান আল-আসারিবী (মৃত্যু ৫২০ হিজরি) হালাবের ইতিহাসের ওপর তাঁর গ্রন্থ ‘আল-কুত’ লিখেছিলেন, এরপর আল-গাজ্জী (মৃত্যু ১৩৫১ হিজরি - ১৯৩৩ খ্রি.) তাঁর ‘নহরে জাহাব’ গ্রন্থটি রচনা করেন। আর এ দুইয়ের মধ্যবর্তী সময়ে আরও অনেক কিতাব রচিত হয়েছে, যার কিছু মুদ্রিত, কিছু হারিয়ে গেছে এবং কিছু এখনো পাণ্ডুলিপি আকারে রয়ে গেছে।

নিচে আমরা হালাব সম্পর্কে সেই কিতাবগুলোর মধ্য থেকে কেবল আজ পর্যন্ত মুদ্রিত কিতাবগুলোর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থাকব: ১. তারিখু হালাব (হালাবের ইতিহাস): মুহাম্মদ বিন আলী আল-আজিমি (মৃত্যু ৫৫৬ হিজরি)। দামেস্কে ১৯৮৪ সালে ইব্রাহিম জা’রুর-এর সম্পাদনায় মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৮)
2- بغية الطلب في تاريخ حلب: لابن العديم (- 660 هـ) . طبع في دمشق في 11 مجلدا سنة 1408 هـ/ 1988 م بتحقيق: د. سهيل زكار.

3- زبدة الحلب في تاريخ حلب: لابن العديم أيضا. اختصر به كتابه السابق «بغية الطلب» ، وقد نشره المعهد الفرنسي بدمشق سنة 1951 م في ثلاثة أجزاء بتحقيق د. سامي الدهان.

4- الدرّ المنتخب في تاريخ مملكة حلب: ينسب إلى ابن الشحنة (- 890 هـ) . طبع في بيروت سنة 1909 م بعناية يوسف سركيس، ثم نشرته مصورا دار الكتاب العربي بحلب سنة 1984 م. وربما كان أصل هذا الكتاب لابن الشحنة، ثم تعاقب على التصرف فيه عدة مؤلفين، وكل منهم زاد فيه ما وصل إليه علمه.

5- الزّبد والضّرب في تاريخ حلب: لابن الحنبلي (- 971 هـ) اختصر به كتاب «زبدة الحلب» لابن العديم، وأضاف إليه بعض الزيادات. طبع في الكويت سنة 1409 هـ بتحقيق د. محمد التونجي.

6- درّ الحبب في تاريخ أعيان حلب: لابن الحنبلي أيضا. طبع بدمشق سنة 1972- 1973 م بتحقيق محمود الفاخوري ويحيى عبارة. ويقع في جزءين ضخمين، وكل منهما يتألف من قسمين.

7- معادن الذهب في الأعيان المشرّفة بهم حلب: لأبي الوفاء العرضي الحلبي (- 1071 هـ) . طبع في دمشق 1987 بتحقيق د. محمد ألتونجي، ولم يعثر إلا على قطعة منه تضم 69 ترجمة.

8- اليواقيت والضرب في تاريخ حلب: نسب إلى «إسماعيل أبي الفداء» ، ولا يعرف شيء عن مؤلفه. والمكنّون بأبي الفداء ممن يسمّون «إسماعيل» كثر. نشرته دار القلم العربي بحلب، بتحقيق محمد كمال وفالح البكور.

9- التاريخ الطبيعي لحلب: ألفه بالإنكليزية الطبيب البريطاني «باتريك راسل» (- 1768 م) ، وعاونه فيه أخوه «إسكندر» . طبع في جزءين بلندن سنة 1794 م.

10- تحف الأنباء في تاريخ حلب الشهباء: جمعه الطبيب الجرماني «بيشوف» من «زبدة
২- বুগয়াতুত তলাব ফী তারীখি হালাব: ইবনুল আদীয়ম (মৃত্যু ৬৬০ হিজরি) রচিত। দামেস্কে ১১ খণ্ডে ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে ড. সুহাইল যাক্কারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

৩- যুবদাতুল হালাব ফী তারীখি হালাব: এটিও ইবনুল আদীয়ম রচিত। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী গ্রন্থ ‘বুগয়াতুত তলাব’-কে এতে সংক্ষিপ্ত করেছেন। ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কের ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট থেকে ড. সামি আদ-দাহহানের সম্পাদনায় তিন খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়েছে।

৪- আদ-দুররুল মুনতাখাব ফী তারীখি মামলিকাতি হালাব: এটি ইবনুশ শুহনা (মৃত্যু ৮৯০ হিজরি)-র প্রতি নিসবত করা হয়। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে ইউসুফ সারকিসের তত্ত্বাবধানে বৈরুতে মুদ্রিত হয়, এরপর ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে হালাবের দারুল কিতাব আল-আরাবি থেকে এর চিত্রায়িত সংস্করণ প্রকাশিত হয়। সম্ভবত এই গ্রন্থটির মূল লেখক ছিলেন ইবনুশ শুহনা, পরবর্তীতে একাধিক লেখক এতে রদবদল করেছেন এবং প্রত্যেকেই তাঁদের অর্জিত জ্ঞান অনুযায়ী এতে নতুন কিছু যোগ করেছেন।

৫- আয-যুবদ ওয়াদ-দরব ফী তারীখি হালাব: ইবনুল হাম্বলী (মৃত্যু ৯৭১ হিজরি) রচিত। এতে তিনি ইবনুল আদীয়মের ‘যুবদাতুল হালাব’ গ্রন্থটি সংক্ষেপ করেছেন এবং কিছু অতিরিক্ত তথ্য যোগ করেছেন। ১৪০৯ হিজরিতে কুয়েতে ড. মুহাম্মদ আত-তুনজির সম্পাদনায় এটি মুদ্রিত হয়েছে।

৬- দুররুল হাবাব ফী তারীখি আ’ইয়ানি হালাব: এটিও ইবনুল হাম্বলী রচিত। ১৯৭২-১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ আল-ফাখুরি এবং ইয়াহইয়া আব্বারাহর সম্পাদনায় দামেস্কে মুদ্রিত হয়েছে। এটি দুটি বিশাল খণ্ডে বিন্যস্ত, যার প্রতিটি আবার দুটি করে অংশে বিভক্ত।

৭- মা’আদিনুয যাহাব ফিল আ’ইয়ানিল মুশাররাফাতি বিহি হালাব: আবুল ওয়াফা আল-আরদি আল-হালাবি (মৃত্যু ১০৭১ হিজরি) রচিত। ১৯৮৭ সালে দামেস্কে ড. মুহাম্মদ আত-তুনজির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে। এর কেবল একটি অংশ পাওয়া গেছে যাতে ৬৯ জন ব্যক্তির জীবনী রয়েছে।

৮- আল-ইয়াওয়াকিত ওয়াদ-দরব ফী তারীখি হালাব: এটি ‘ইসমাইল আবুল ফিদা’-র প্রতি নিসবত করা হয়, তবে এর লেখক সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। ‘ইসমাইল’ নামধারী ব্যক্তিদের মধ্যে ‘আবুল ফিদা’ উপনামবিশিষ্ট অনেকেই রয়েছেন। এটি হালাবের দারুল কলাম আল-আরাবি থেকে মুহাম্মদ কামাল এবং ফালিহ আল-বাক্কুরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

৯- হালাবের প্রাকৃতিক ইতিহাস (The Natural History of Aleppo): এটি ব্রিটিশ চিকিৎসক ‘প্যাট্রিক রাসেল’ (মৃত্যু ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দ) ইংরেজি ভাষায় রচনা করেন এবং তাঁর ভাই ‘আলেকজান্ডার’ তাঁকে এতে সহায়তা করেন। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

১০- তুহাফুল আম্বা ফী তারীখি হালাব আশ-শাহবা: জার্মান চিকিৎসক ‘বিশফ’ এটি ‘যুবদাতুল...’ থেকে সংগ্রহ করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৯)
الحلب» لابن العديم، ومن كتب أخرى، ونسبه لنفسه وطبعه في بيروت سنة 1880 م.

11- نهر الذهب في تاريخ حلب: للشيخ كامل الغزي (- 1351 هـ/ 1933 م) وسوف نخصه بكلمة مفردة.

12- إعلام النبلاء بتاريخ حلب الشهباء: للشيخ محمد راغب الطباخ (- 1370 هـ) .

طبع في حلب سنة 1926 م في سبعة أجزاء، ثم نشرته دار القلم العربي بحلب سنة 1409 هـ/ 1989 م وقام بتصحيحه محمد كمال.

13- حلبيات: ألفه عبد الله يوركي حلاق، صاحب مجلة «الضاد» ، ونشره في حلب سنة 1983 م.

يضاف إلى هذه الكتب الثلاثة عشر، كتب أخرى تناول كل منها بعض الجوانب من تاريخ حلب أو أدبائها، أو آثارها. وهي كثيرة نذكر منها على سبيل المثال، مما ورد في عنوانه اسم «حلب» :

1- أدباء حلب ذوو الأثر في القرن التاسع عشر: لقسطاكي الحمصي الحلبي (- 1941 م) ترجم فيه لخمسين علما من أعلام حلب. طبع سنة 1925 م بحلب، ثم أعيد طبعه فيها سنة 1967 م.

2- محاضرات عن الحركة الأدبية في حلب (1800- 1950) : لسامي الكيالي.

طبع في القاهرة سنة 1957 م ضمن منشورات معهد الدراسات العربية العالية.

3- الآثار الإسلامية والتاريخية في حلب: ألّفه بالفرنسية المستشرق «جان سوفاجيه» ، ثم عرّبه محمد أسعد طلس وعلّق عليه تعاليق مفيدة، وأضاف إليه معلومات جديدة، وأصلح أخطاء وقع فيها المؤلف. طبع في دمشق سنة 1375 هـ- 1956 م.

4- الحركة الفكرية في حلب (في النصف الثاني من القرن التاسع عشر ومطلع القرن العشرين) : لعائشة الدباغ، طبع في بيروت سنة 1392 هـ- 1972 م.

5- أحياء حلب وأسواقها: لخير الدين الأسدي، حققه وزاد عليه وقدّم له: عبد الفتاح رواس قلعه جي. وطبع في دمشق سنة 1984 م، ضمن منشورات وزارة الثقافة.
'আল-হালাব' ইবনুল আদিমের কিতাব এবং অন্যান্য কিতাব থেকে সংকলিত, যা তিনি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন এবং ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে বৈরুতে ছেপেছেন।

১১- নাহরুদ দাহাব ফি তারিখি হালাব: শেখ কামিল আল-গাজ্জীর (- ১৩৫১ হিজরী/ ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দ), যার সম্পর্কে আমরা স্বতন্ত্র আলোচনা করব।

১২- ইলামুন নুবালা বি তারিখি হালাব আশ-শাহবা: শেখ মুহাম্মদ রাগিব আত-তাব্বাখের (- ১৩৭০ হিজরী)।

এটি ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে হালাবে সাত খণ্ডে মুদ্রিত হয়, অতঃপর ১৪০৯ হিজরী/ ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে হালাবের দারুল কলাম আল-আরাবি এটি প্রকাশ করে এবং মুহাম্মদ কামাল এর পাণ্ডুলিপি সংশোধন করেন।

১৩- হালাবিয়্যাত: এটি 'আদ-দাদ' ম্যাগাজিনের সম্পাদক আবদুল্লাহ ইয়ুরকি হাল্লাক রচনা করেছেন এবং ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে হালাবে এটি প্রকাশিত হয়েছে।

এই তেরোটি কিতাবের সাথে আরও কিছু কিতাব যুক্ত করা যায়, যেগুলোর প্রত্যেকটি হালাবের ইতিহাস, সাহিত্যিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের কোনো না কোনো দিক নিয়ে আলোচনা করেছে। সেগুলো অনেক, উদাহরণস্বরূপ আমরা সেই কিতাবগুলোর নাম উল্লেখ করছি যেগুলোর শিরোনামে 'হালাব' শব্দটি এসেছে:

১- উদাবা হালাব জাওয়ুল আসার ফিল করনিত তাসি আশার: কুস্তাকি আল-হিমসি আল-হালাবির (- ১৯৪১ খ্রিষ্টাব্দ), যাতে তিনি হালাবের পঞ্চাশজন খ্যাতনামা ব্যক্তির জীবনী আলোচনা করেছেন। এটি ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দে হালাবে মুদ্রিত হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে সেখানে পুনঃমুদ্রিত হয়।

২- মুহাদারাত আনিল হারাকাতিল আদাবিয়্যাহ ফি হালাব (১৮০০- ১৯৫০): সামি আল-কায়্যালির।

এটি ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে ইনস্টিটিউট অব হায়ার অ্যারাবিক স্টাডিজ-এর প্রকাশনার অধীনে মুদ্রিত হয়।

৩- আল-আসারুল ইসলামিয়্যাহ ওয়াত তারিখিয়্যাহ ফি হালাব: এটি ফরাসি ভাষায় প্রাচ্যবিদ 'জঁ সাউভাজে' রচনা করেছেন, অতঃপর মুহাম্মদ আসআদ তলাস এটি আরবিতে অনুবাদ করেন এবং এতে উপকারী টীকা যুক্ত করেন ও নতুন তথ্য সংযোজন করেন এবং মূল লেখকের ভুলগুলো সংশোধন করেন। এটি ১৩৭৫ হিজরী- ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কে মুদ্রিত হয়।

৪- আল-হারাকাতুল ফিকরিয়্যাহ ফি হালাব (উনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে): আয়িশা আদ-দাব্বাগের, এটি ১৩৯২ হিজরী- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বৈরুতে মুদ্রিত হয়।

৫- আহইয়াউ হালাব ওয়া আসওয়াকuহা: খায়রুদ্দিন আল-আসাদির, এটি সম্পাদনা, পরিবর্ধন ও ভূমিকা লিখেছেন আবদুল ফাত্তাহ রাওয়াস কালাজি। এটি ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্কে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশনার অধীনে মুদ্রিত হয়।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১০)
6- موسوعة حلب المقارنة: لخير الدين الأسدي. نشرها معهد التراث بجامعة حلب في سبعة مجلدات سنة 1984- 1985 م وأعدّها للطباعة محمد كمال.

7- بنو مرداس الكلابيون في حلب وشمال الشام: د. محمد أحمد عبد المولى. طبع في الإسكندرية سنة 1985 م.

8- أخبار حلب كما كتبها نعوم بخاش في دفاتر الجمعية: نشر منه جزءان بحلب سنة 1985- 1986 م بتحقيق وتعليق الأب يوسف قوشاقجي.

9- الحركة الشعرية زمن المماليك في حلب الشهباء: د. أحمد فوزي الهيب. طبع في بيروت سنة 1406 هـ- 1986 م.

10- الحركة الشعرية زمن الأيوبيين في حلب الشهباء: د. أحمد فوزي الهيب. طبع في الكويت سنة 1407 هـ- 1987 م.

11- الحياة الفكرية في حلب (في القرن التاسع عشر) : لفريد جحا. طبع في دمشق سنة 1988 م.

12- إمارة حلب في ظل الحكم السلجوقي: لمحمد ضامن، رسالة ماجستير نشرتها دار أسامة (دمشق- بيروت) سنة 1990 م.
6- মাউসুআত হালাব আল-মুকারানা (আলেপ্পোর তুলনামূলক বিশ্বকোষ): খায়রুদ্দিন আল-আসাদী কর্তৃক রচিত। এটি ১৯৮৪-১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ইনস্টিটিউট সাত খণ্ডে প্রকাশ করেছে এবং মুদ্রণের জন্য এটি প্রস্তুত করেছেন মুহাম্মদ কামাল।

7- আলেপ্পো এবং উত্তর শামে বনু মিরদাস আল-কিলাবিউন: ড. মুহাম্মদ আহমদ আবদুল মাওলা। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ায় মুদ্রিত।

8- আখবার হালাব (আলেপ্পোর সংবাদ) যা নাউম বাখাশ সমিতির নথিপত্রে লিপিবদ্ধ করেছেন: ফাদার ইউসুফ কুশাকজির সম্পাদনা ও টীকা সহ ১৯৮৫-১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে আলেপ্পোতে এর দুই খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে।

9- আলেপ্পো আশ-শাহবায় মামলুক আমলে কাব্যিক আন্দোলন: ড. আহমদ ফাওজি আল-হাইব। ১৪০৬ হিজরি-১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে বৈরুতে মুদ্রিত।

10- আলেপ্পো আশ-শাহবায় আইয়ুবী আমলে কাব্যিক আন্দোলন: ড. আহমদ ফাওজি আল-হাইব। ১৪০৭ হিজরি-১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে কুয়েতে মুদ্রিত।

11- আলেপ্পোর বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন (ঊনবিংশ শতাব্দীতে): ফরিদ জুহা। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে দামেস্কে মুদ্রিত।

12- সেলজুক শাসনামলে আলেপ্পো আমিরাত: মুহাম্মদ দামিন, এটি একটি মাস্টার্স থিসিস যা ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে দার উসামা (দামেস্ক-বৈরুত) প্রকাশ করেছে।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌نهر الذهب

أما كتاب «نهر الذهب في تاريخ حلب» الذي ألّفه الشيخ كامل الغزي «1» ، فقد طبع منه في حياته ثلاثة أجزاء بين سنتي 1922- 1926 م ثم نفدت هذه الطبعة حتى أصبحت نادرة جدا، ندرة المخطوطات، وطال انتظار الناس لطبعة ثانية تيسّر تداوله بين أيديهم وإفادتهم منه.

قسم الغزي كتابه هذا إلى مقدمة ضخمة، وأربعة أبواب كبيرة، وزعها على أجزاء الكتاب.

1- فالجزء الأول: يشتمل على المقدمة وحدها، كما فعل ابن خلدون في (مقدمة) تاريخه الكبير. وتكلم الغزي فيها على عدة أمور لا يتمكن القارئ دونها من الوقوف على ما انطوى عليه المكان الذي يؤرّخ له، ومن حقائق وأوصاف وأحوال. ومن ثم فإنه ذكر بعض من ألّف في تاريخ حلب، ثم انتقل إلى الكلام على أسماء حلب وجغرافيتها بالتفصيل، وما مدحت به من الشعر والنثر، وتحدث عن الأوزان والمقاييس المستعملة فيها، وعن صناعاتها ونباتاتها وحيواناتها وتجاراتها ومدارسها، وما يقوم على أرضها من مختلف الملل والنحل، والعادات والتقاليد، والنظم الإدارية والمالية، وما يتبع (حلب) من الأقضية والنواحي والألوية.

2- والجزء الثاني: يشتمل على الباب الأول برمّته. وقد خصّصه للكلام على أحياء حلب ومعالمها التاريخية وأوابدها الأثرية، بعد أن بدأه بالكلام على أسوار المدينة وأبوابها وقلعتها. وهو يسجل كل ما وقعت عليه عيناه من تراث معماري وعمراني وآثاري في مدينة حلب. ولا يفوته أن يتحدث عن الأوقاف التي كان ينفق منها على الجوامع والمساجد، والتكايا والمدارس، وكذلك نفقات الفرش والترميم والبناء. وقد استفاد في كل ذلك من عمله الذي كان يزاوله في المحكمة الشرعية بحلب، والذي سهّل له الرجوع إلى سجلات تلك المحكمة، وكلها مخطوطة قد حوت الكثير من المعلومات القيّمة المفيدة.
নহরুজ জাহাব

শেখ কামিল আল-গাজ্জী প্রণীত «নহরুজ জাহাব ফি তারিখি হালাব» (আলেপ্পোর ইতিহাসে স্বর্ণের নদী) গ্রন্থটির কথা বলতে গেলে, ১৯২২ থেকে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তাঁর জীবদ্দশাতেই এর তিনটি খণ্ড মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে এই সংস্করণটি নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পাণ্ডুলিপির মতোই অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়ে। মানুষ দীর্ঘকাল ধরে এর দ্বিতীয় সংস্করণের অপেক্ষায় ছিল যেন তা তাদের হাতে সহজলভ্য হয় এবং তারা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।

আল-গাজ্জী তাঁর এই গ্রন্থটিকে একটি বিশাল ভূমিকা এবং চারটি বড় অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন, যা তিনি কিতাবের বিভিন্ন খণ্ডে বিন্যস্ত করেছেন।

১- প্রথম খণ্ড: এটি শুধুমাত্র ভূমিকাটিকেই অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ইবনে খালদুন তাঁর বিশাল ইতিহাসের (মুকাদ্দিমা) ক্ষেত্রে করেছেন। আল-গাজ্জী এতে এমন কিছু বিষয়ের ওপর আলোচনা করেছেন যা ছাড়া পাঠকের পক্ষে সেই স্থানের ইতিহাস, বৈশিষ্ট্য ও অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা সম্ভব নয় যার ইতিহাস তিনি বর্ণনা করছেন। সেই সূত্র ধরে তিনি আলেপ্পোর ইতিহাসের ওপর যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি আলেপ্পোর নামসমূহ এবং এর বিস্তারিত ভৌগোলিক বিবরণ, একে নিয়ে রচিত প্রশংসামূলক গদ্য ও পদ্যের দিকে অগ্রসর হয়েছেন। তিনি সেখানে ব্যবহৃত ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতি, শিল্প-কারখানা, উদ্ভিদ, প্রাণী, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর ভূখণ্ডে বিদ্যমান বিভিন্ন ধর্ম ও মতবাদ, আচার-আচরণ, ঐতিহ্য, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং আলেপ্পোর অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক অঞ্চল ও জেলা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।

২- দ্বিতীয় খণ্ড: এটি সমগ্র প্রথম অধ্যায়টিকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি এই অংশটি আলেপ্পোর বিভিন্ন মহল্লা, ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্মৃতিচিহ্নসমূহের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। আলোচনার প্রারম্ভে তিনি শহরের প্রাচীর, এর প্রবেশদ্বারসমূহ এবং দুর্গের বর্ণনা দিয়েছেন। আলেপ্পো শহরের স্থাপত্য, নগরোন্নয়ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের ওপর যা কিছু তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে, তিনি তার সবকিছুই এখানে লিপিবদ্ধ করেছেন। জামে মসজিদ, সাধারণ মসজিদ, খানকাহ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য ব্যয়িত ওয়াকফ সম্পত্তি এবং আসবাবপত্র, সংস্কার ও নির্মাণ ব্যয়ের কথা উল্লেখ করতেও তিনি ভুলেননি। এই সবকিছুর বর্ণনায় তিনি আলেপ্পোর শরয়ি আদালতে তাঁর কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হয়েছেন, যা তাঁর জন্য সেই আদালতের নথিপত্রগুলো দেখার পথ সুগম করে দিয়েছিল; সেই নথিপত্রগুলো ছিল পাণ্ডুলিপি আকারে যা প্রচুর মূল্যবান ও তথ্যবহুল ছিল।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১২)
ولا شك أن الأحوال قد تغيّرت اليوم عما كانت عليه في عصر الغزي قبل سبعين سنة تقريبا، حيث اتّسع البناء في حلب وما زال يتسع، وأقيمت أحياء سكنية جديدة كحيّ السبيل، والمحافظة، والشهباء، وحلب الجديدة، والحمدانية، وصلاح الدين.. إلخ. وهذا ما سبب تغييرا جذريا في طبقات الناس، وأعدادهم، وفي بعض عاداتهم وتقاليدهم، حتى أصبح الأمر يحتاج إلى كتاب آخر يكون ذيلا لنهر الذهب.

3- والجزء الثالث: يشتمل على الباب الثاني من أبواب الكتاب، وفيه يتقصى تاريخ حلب منذ أقدم العصور حتى عصر المؤلف في الربع الأول من القرن العشرين. ويدخل في ذلك ذكر الأمم التي سكنت حلب والدول التي حكمتها، وكذلك فتح المدينة في صدر الإسلام والحوادث التي طرأت عليها بعد ذلك وما أصابها من زلازل وكوارث.. نتيجة لتنقل الدول وتبدل الحكام، وتعاقب الحروب والأوبئة، والفتن والمجاعات. وقد سار في ذلك كله على ترتيب السنين الهجرية، سنة سنة، حتى عصره، حين حلّ الانتداب الفرنسي في سورية، ويفصل في الكلام على أحوال حلب في ظلّ هذا الانتداب.

ويختم هذا الجزء بخلاصة مركزه عدّد فيها الأماكن القديمة التي يقصدها السيّاح في مدينة حلب وضواحيها، وكذلك الأماكن التي هي مظنّة لوجود العاديات والذخائر النفيسة.

وبذلك ينتهي الجزء الثالث، حيث قال في آخره ما نصّه:

«انتهى الجزء الثالث من كتاب نهر الذهب في تاريخ حلب، ويليه الجزء الرابع: المشتمل على الباب الثالث المفتتح بقولي: الحمد لله وحده، والصلاة والسلام على من لا نبيّ بعده» .

لكن هذا الجزء لم يطبع حتى اليوم، ولا ندري أكان معدّا للطباعة في حياة المؤلف نفسه، أم إنه كان ينوي تأليفه بعد أن ينتهي من طبع الأجزاء الثلاثة؟ لكن الدلائل تشير إلى أن مسوّدته- على الأقل- كانت موجودة ثم انتقلت إلى الورثة، يدل على ذلك العبارة التي ختم بها الجزء الثالث، من جهة، وما في الأجزاء الثلاثة من بعض الإحالات- في تراجم الرجال- على الجزء الرابع من جهة أخرى، حتى إن الطباخ يذكر في «إعلام النبلاء» «1» أن كتاب نهر الذهب في أربعة مجلدات، تصفح منها ثلاثة، ونقل منها ترجمتين اثنتين.
নিঃসন্দেহে আজ অবস্থা প্রায় সত্তর বছর আগের আল-গাজ্জির যুগের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে, যেখানে আলেপ্পোতে নগরায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা প্রসারিত হচ্ছে। আস-সাবিল, আল-মুহাফাজা, আশ-শাহবা, নতুন আলেপ্পো, আল-হামদানিয়া এবং সালাহুদ্দিন ইত্যাদি নতুন আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। এটি মানুষের শ্রেণি বিন্যাসে, তাদের সংখ্যায় এবং তাদের কিছু আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটিয়েছে, এমনকি বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে 'নাহর আদ-দাহাব'-এর পরিশিষ্ট হিসেবে অন্য একটি বইয়ের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

৩- এবং তৃতীয় খণ্ড: এটি বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে, যাতে প্রাচীনকাল থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ অর্থাৎ লেখকের যুগ পর্যন্ত আলেপ্পোর ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আলেপ্পোতে বসবাসকারী জাতিসমূহ এবং শহরটি শাসনকারী রাষ্ট্রসমূহের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই সাথে ইসলামের প্রাথমিক যুগে শহরটির বিজয় এবং পরবর্তীতে এতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাবলী এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন, শাসকদের রদবদল, ধারাবাহিক যুদ্ধ-মহামারী, ফিতনা ও দুর্ভিক্ষের ফলে যেসকল ভূমিকম্প ও দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তার বর্ণনা রয়েছে। তিনি এই সবকিছু হিজরি বর্ষের ক্রমানুসারে বছর বছর বর্ণনা করেছেন তার সময়কাল পর্যন্ত, যখন সিরিয়ায় ফরাসি ম্যান্ডেট শুরু হয়েছিল। তিনি এই ম্যান্ডেটের অধীনে আলেপ্পোর পরিস্থিতির বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছেন।

তিনি এই খণ্ডটি একটি সুসংহত সারসংক্ষেপের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যেখানে তিনি আলেপ্পো শহর এবং এর আশপাশের পর্যটকদের দর্শনীয় প্রাচীন স্থানগুলোর তালিকা দিয়েছেন, সেইসাথে সেইসব স্থানের উল্লেখ করেছেন যেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন এবং মূল্যবান প্রাচীন সম্পদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মাধ্যমেই তৃতীয় খণ্ড শেষ হয়েছে, যেখানে তিনি শেষে উদ্ধৃত করেছেন:

«আলেপ্পোর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ 'নাহর আদ-দাহাব'-এর তৃতীয় খণ্ড সমাপ্ত হয়েছে এবং এর পরবর্তী খণ্ড হলো চতুর্থ খণ্ড: যা তৃতীয় অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং যা আমার এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হবে: সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর পরে আর কোনো নবী নেই।’

কিন্তু এই খণ্ডটি আজ পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি, এবং আমরা জানি না এটি লেখকের জীবদ্দশায় মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত ছিল কি না, নাকি তিনি প্রথম তিন খণ্ড মুদ্রণ শেষ করার পর এটি রচনার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন? তবে আলামতগুলো নির্দেশ করে যে, এর পাণ্ডুলিপি—অন্ততপক্ষে—বিদ্যমান ছিল এবং পরবর্তীতে তা উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছিল। একদিকে তৃতীয় খণ্ডের সমাপ্তি বাক্য এবং অন্যদিকে তিন খণ্ডের বিভিন্ন স্থানে—ব্যক্তিবর্গের জীবনী বর্ণনায়—চতুর্থ খণ্ডের প্রতি প্রদত্ত কিছু তথ্যসূত্র এর প্রমাণ দেয়। এমনকি আত-তাব্বাখ তার ‘ইলামুন নুবালা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ‘নাহর আদ-দাহাব’ গ্রন্থটি চার খণ্ডে সমাপ্ত, যার মধ্যে তিনি তিনটি খণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং সেখান থেকে দুটি জীবনী উদ্ধৃত করেছেন।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
ونحن نزيد على ذلك أنه ربما كان في نيّة الغزي أن يؤلف جزءا خامسا يشتمل على الباب الرابع من الكتاب، بحسب تقسيمه هو لأبواب كتابه.

ومهما يكن من أمر فقد بذلت مساع كثيرة للحصول على الجزء الرابع المفقود أو للعثور عليه، ولكن تلك الجهود ذهبت أدراج الرياح، وتبددت الآمال المنشودة.

ولا بد من الإشارة إلى أن الغزي قد اعتمد في تأليف كتابه على مصادر كثيرة، مطبوعة ومخطوطة. في التاريخ والاجتماع، والأدب واللغة، ذكر بعضها في مواضع من كتابه، وأغفل بعضها الآخر. ويعد كتابه «نهر الذهب» - إلى جانب كونه في تاريخ حلب- موسوعة ثقافية واجتماعية وعمرانية تتلاقى فيها صور الماضي الغابر بالحاضر الراهن في زمن الغزي، وكثيرا ما كان يستطرد إلى ذكر موضوعات جانبية مفيدة في أثناء تناوله لبعض الظواهر، كحديثه عن التصوير في الإسلام، وعن قهوة البنّ واكتشاف حبّه أول مرة …

وقد أنفق الغزي في سبيل جمع كتابه. وتأليفه سنوات طويلة من عمره، فقال في مقدمته:

«وبعد، فإني منذ زمن بعيد أعاني جمع هذا الكتاب، وأصرف على تأليفه من نقد عمري وجوهر مالي ما يستكثر مثله من أمثالي. وقد تتبعت من أجله العدد الكثير من الكتب التاريخية وغيرها، وتصفحت زهاء مائة مجلّد من السجلات المحفوظة في المحكمة الشرعية، وتكبدّت عناء زائدا في الاطلاع على دفاتر الدوائر الرسمية، وعلى ما هو مدّخر في المكتبات الخيرية والأهلية من المجاميع والرّقاع.. وكنت في أثناء استقصائي أخبار الآثار أضطرّ في بعضها إلى تحمل مشاقّ الأسفار، لأتمكن من الاطلاع على حقيقة حالها، وأكتب عنها كتابة تحقيق، لا كتابة تقليد وتلفيق» .

يقول الدكتور سامي الدهان «1» : «والواقع أن الذي يميز هذا الكتاب من سواه، أن صاحبه أعمل فيه الرويّة والعقل، والنقد والتمحيص، والتثبت والتبويب، أكثر مما يعمل النقل والتقليد والرواية على علاتها، فكان تاريخا على الطريقة الحديثة سبق به زمانه، وكفى المؤلفين بعد زمانه مؤونة التأليف في مثله، فقد نظر في المصادر العربية القديمة، واستطاع أن يعرف ما في المصادر الأجنبية عن سبيل أصدقائه من الفرنجة المقيمين بحلب، أو المسيحيين المطّلعين على
আমরা এর সাথে আরও যোগ করছি যে, সম্ভবত আল-গাজ্জীর নিয়ত ছিল একটি পঞ্চম খণ্ড রচনা করার, যা তাঁর নিজের বইয়ের অধ্যায় বিভাজন অনুযায়ী বইটির চতুর্থ অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করত।

বিষয়টি যা-ই হোক না কেন, নিখোঁজ চতুর্থ খণ্ডটি সংগ্রহ করার বা তা খুঁজে বের করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে, কিন্তু সেই চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে এবং কাঙ্ক্ষিত আশাগুলো ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।

এটি উল্লেখ করা আবশ্যক যে, আল-গাজ্জী তাঁর গ্রন্থটি রচনায় ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, সাহিত্য ও ভাষা বিষয়ক বহু মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে সেগুলোর কয়েকটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং অন্যগুলো এড়িয়ে গেছেন। তাঁর ‘নাহরুয যাহাব’ গ্রন্থটি—আলেপ্পোর ইতিহাসের ওপর হওয়া সত্ত্বেও—একটি সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও স্থাপত্য বিষয়ক বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য হয়, যেখানে আল-গাজ্জীর সময়কার বর্তমানের সাথে অতীতের চিত্রগুলো মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। কোনো কোনো বিষয় আলোচনার সময় তিনি প্রায়শই বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক ও উপকারী বিষয়ের অবতারণা করতেন, যেমন ইসলামে চিত্রাঙ্কন এবং কফি ও এর দানা প্রথম আবিষ্কারের কাহিনী সম্পর্কে তাঁর আলোচনা …

আল-গাজ্জী তাঁর গ্রন্থ সংকলন ও রচনার পেছনে তাঁর জীবনের দীর্ঘ বছরগুলো ব্যয় করেছেন। তিনি তাঁর ভূমিকায় বলেছেন:

«অতঃপর, আমি দীর্ঘকাল ধরে এই গ্রন্থটি সংকলনের কষ্টে নিয়োজিত আছি এবং এর রচনায় আমার আয়ুর পুঁজি ও অর্থের সারবস্তু থেকে এমন পরিমাণ ব্যয় করেছি যা আমার মতো মানুষের পক্ষে অনেক বেশি। এর জন্য আমি বহুসংখ্যক ইতিহাস ও অন্যান্য গ্রন্থ অনুসন্ধান করেছি, শরীয়া আদালতে সংরক্ষিত নথিপত্র থেকে প্রায় একশ খণ্ড তন্ন তন্ন করে দেখেছি এবং সরকারি দপ্তরের রেজিস্টারসমূহ এবং দাতব্য ও ব্যক্তিগত লাইব্রেরিগুলোতে গচ্ছিত সংকলন ও চিরকুটগুলো দেখার জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম স্বীকার করেছি। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর সংবাদ অনুসন্ধানের সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমাকে সফরের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে, যাতে আমি সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারি এবং সে সম্পর্কে অনুসন্ধানী লেখা লিখতে পারি, নিছক অনুকরণ বা মনগড়া লেখা নয়»।

ডক্টর সামি আদ-দাহহান «১» বলেন: «বাস্তবতা হলো এই যে, যা এই গ্রন্থটিকে অন্যদের থেকে পৃথক করেছে তা হলো এর লেখক এতে নিছক উদ্ধৃতি, অনুকরণ ও ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনা ব্যবহারের চেয়ে চিন্তা, বুদ্ধি, সমালোচনা, যাচাই-বাছাই, নিশ্চিতকরণ ও বিন্যাসকে বেশি কাজে লাগিয়েছেন। ফলে এটি আধুনিক পদ্ধতিতে রচিত এমন এক ইতিহাস গ্রন্থে পরিণত হয়েছে যা তার সময়কে ছাড়িয়ে গেছে এবং তার পরবর্তী লেখকদের জন্য এই ধরনের গ্রন্থ রচনার কষ্ট লাঘব করেছে। তিনি প্রাচীন আরবি উৎসগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং আলেপ্পোতে বসবাসকারী ইউরোপীয় বন্ধু বা অভিজ্ঞ খ্রিস্টানদের মাধ্যমে বিদেশি উৎসগুলোতে কী রয়েছে তা জানতে সক্ষম হয়েছেন যারা...»
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
خزائن الغرب في هذا الموضوع. وكان الرجل متسامحا أشد التسامح، يأخذ عن المصادر المختلفة، من أي جهة كانت» .

أما أسلوب المؤلف في كتابه فإنه سهل واضح، وبعيد عن الصنعة والتأنق، وتلك سمات النثر التأليفي الذي يتناول به صاحبه موضوعات اجتماعية وتاريخية وعمرانية وما إليها، وربما وجدنا في الكتاب أحيانا فقرات تبدو عليها مسحة فنية من التأنق، وغلالة رقيقة من الصنعة، وهذا ظاهر في مقدمات أجزاء الكتاب، أو في نصوص وقفية طلب من الغزي إنشاؤها في مناسبات خاصة، فيأتي أسلوبه فيها على طريقة كتاب عصره آنذاك.

وظاهرة أخرى نجدها في كتاب الغزي، تلك أنه يترخّص في بعض التعابير أحيانا، وقد يتساهل في الالتزام بقواعد اللغة والرسم (الإملاء) ولا سيما كتابة الهمزة في وسط الكلمة، وربما تصرّف في بعض النصوص التي ينقلها. عرفنا ذلك من مقابلة تلك النصوص بأصولها القديمة التي لم يكن لها في عصره إلا طبعة وحيدة. وهو تساهل مألوف لدى كثير من المؤلفين، ولا سيما المتأخرين منهم.

والحق أن كتاب «نهر الذهب» ذو قيمة كبيرة، ويتجلّى فيه الجهد الوافر، والعمل الشخصي، والابتكار الظاهر، مع تخير وانتقاء، ونقد وتمحيص، دون أن يكتفي صاحبه بالجمع من المصادر وحدها، ولا غنى عنه لكل باحث أو دارس في تاريخ حلب خاصة، وسورية الشمالية عامة، ولا يغني عنه غيره، على الرغم من كثرة ما ألف عن حلب، كتبه عالم جليل سعى جهده ليكون كتابه شاملا لأحوال حلب في شتى المجالات والعصور، فجاء مرجعا مهما لكل من يريد الإحاطة بتاريخ حلب السياسي، والاقتصادي، والاجتماعي، والفكري، وما فيها من الآثار والأوابد، وما طرأ عليها من تطور حتى الربع الأول من القرن العشرين.

ولا شك أن مدينة حلب ومختلف مرافق الحياة فيها قد تبدلت اليوم وتطورت كثيرا عما كانت عليه في زمن الغزي، بعد مرور سبعة عقود من السنين، وهذا كله يقتضي تأليف كتاب آخر ينهض بما استجدّ من ألوان الحياة والعادات والعمران والثقافة والاقتصاد والزراعة وما إلى ذلك. وكان بودنا أن نضيف ذلك في تعليقاتنا على الكتاب، ولكننا وجدنا في ذلك إثقالا وإملالا للقارىء، وتضخيما لحجم الكتاب بما لا مسوّغ له. فاكتفينا بما هو ضروري من تلك
এই বিষয়ে পাশ্চাত্যের জ্ঞানভাণ্ডার। লোকটি অত্যন্ত উদার ছিলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করতেন, তা যে প্রান্ত থেকেই আসুক না কেন।

লেখকের রচনার শৈলী সহজ ও স্পষ্ট, এবং কৃত্রিমতা ও অতি-অলঙ্করণ থেকে মুক্ত। এটি সেই গবেষণামূলক গদ্যের বৈশিষ্ট্য যার মাধ্যমে লেখক সামাজিক, ঐতিহাসিক, স্থাপত্য ও অনুরূপ বিষয়গুলো আলোচনা করেন। কখনো কখনো বইটিতে এমন কিছু অনুচ্ছেদ পাওয়া যায় যাতে শৈল্পিক অলঙ্করণের ছোঁয়া এবং কৃত্রিমতার একটি সূক্ষ্ম আবরণ পরিলক্ষিত হয়। এটি বইটির বিভিন্ন খণ্ডের ভূমিকাগুলোতে অথবা ওয়াকফ সংক্রান্ত পাঠ্যগুলোতে স্পষ্ট, যা গাজ্জীকে বিশেষ উপলক্ষে রচনা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল; ফলে সেই অংশগুলোতে তাঁর শৈলী তৎকালীন লেখকদের রীতির অনুরূপ হয়েছে।

গাজ্জীর বইতে আমরা অন্য একটি বৈশিষ্ট্য দেখতে পাই, তা হলো তিনি মাঝে মাঝে কিছু প্রকাশভঙ্গিতে শিথিলতা প্রদর্শন করেন এবং ভাষাগত নিয়ম ও বানানরীতির (বিশেষ করে শব্দের মাঝে হামজা লেখার ক্ষেত্রে) অনুসরণে কিছুটা নমনীয়তা অবলম্বন করেন। সম্ভবত তিনি উদ্ধৃত কিছু পাঠ্যেও কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। আমরা এটি জানতে পেরেছি সেই পাঠ্যগুলোকে তাদের প্রাচীন মূল কপির সাথে তুলনা করে, যার তাঁর যুগে মাত্র একটিই সংস্করণ বিদ্যমান ছিল। এটি অনেক লেখকের ক্ষেত্রেই একটি পরিচিত শিথিলতা, বিশেষ করে পরবর্তী যুগের লেখকদের মধ্যে।

সত্য এই যে, ‘নাহরুদ দাহাব’ গ্রন্থটি অত্যন্ত মূল্যবান। এতে প্রচুর পরিশ্রম, ব্যক্তিগত কর্মতৎপরতা এবং সুস্পষ্ট উদ্ভাবনী শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে; সেই সাথে রয়েছে সতর্ক নির্বাচন, সমালোচনা ও যাচাই-বাছাই। লেখক কেবল বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হননি। বিশেষ করে আলেপ্পোর ইতিহাস এবং সাধারণভাবে উত্তর সিরিয়ার ইতিহাস নিয়ে কাজ করা প্রত্যেক গবেষক বা শিক্ষার্থীর জন্য এটি অপরিহার্য। আলেপ্পো সম্পর্কে প্রচুর লেখালেখি হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোনো বই এর স্থলাভিষিক্ত হতে পারে না। এটি এমন একজন মহান আলেম লিখেছেন যিনি আলেপ্পোর বিভিন্ন ক্ষেত্র ও যুগের পরিস্থিতিকে তাঁর গ্রন্থে পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। ফলে এটি আলেপ্পোর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাস এবং সেখানকার প্রাচীন নিদর্শন ও স্মৃতিস্তম্ভসমূহ, এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত এতে ঘটা বিবর্তনগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভে ইচ্ছুক প্রত্যেকের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্সে পরিণত হয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আলেপ্পো শহর এবং এর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র আজ গাজ্জীর সময়ের তুলনায় অনেক পরিবর্তিত ও উন্নত হয়েছে, বিশেষ করে গত সাত দশক অতিবাহিত হওয়ার পর। এই সবকিছুই জীবনযাত্রা, রীতিনীতি, স্থাপত্য, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, কৃষি এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে উদ্ভূত নতুন বিষয়গুলো নিয়ে অন্য একটি গ্রন্থ রচনার দাবি রাখে। বইটির ওপর আমাদের টীকায় আমরা এগুলো যোগ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা অনুভব করলাম যে এটি পাঠকদের জন্য বোঝা ও বিরক্তির কারণ হবে এবং বইটির কলেবর অহেতুক বৃদ্ধি করবে। তাই আমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুই গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
التعليقات «1» - والكتاب خال منها تماما- إذ كانت النية في أول الأمر طبع الكتاب بطريقة التصوير، ثم وجدت «دار القلم العربي» أن إخراج الكتاب بحلة طباعية جديدة، وتحقيق جديد، فيه نفع كبير للقرّاء والباحثين، بدلا من أن تبقى أجزاء الكتاب كما كانت عليه قبل سبعين عاما، وقبل ظهور الطباعة التقنية الحديثة.

وعندئذ كان لا بد من تصحيح ما وقع في الطبعة الأولى من أخطاء مطبعية، وسهو في الالتزام بقواعد الرسم والإملاء، أو وقوع في أغلاط عارضة، فضلا عن القيام بشرح العبارات والألفاظ التي تحتاج إلى ذلك، وتوضيح بعض الجوانب التاريخية والآثارية في المواضع التي تقتضي هذا التوضيح، مع توخي الإيجاز والاختصار. كما عدنا إلى ما استطعنا الوصول إليه من مصادر المؤلف لمقارنة النصوص الشعرية والنثرية التي أوردها، وتدارك ما وقع فيها من تحريف أو خلل أو نقص، وأشرنا في حواشي الكتاب إلى ما هو مهم وضروري، من ذلك، وأغفلنا الإشارة إلى ما هو ثانوي ولا يخفى تصويبه أصلا على القارئ.

ذلك مبلغ الجهد الصادق في خدمة كتاب «نهر الذهب» ، نشرا وطباعة، وتصحيحا وتحقيقا، وضبطا وتعليقا، ونرجو أن نكون عند حسن ظن القراء والباحثين.

والله الهادي إلى الإخلاص في القصد، والسداد في القول.

حلب في: 4 من ذي الحجة 1411 هـ 16 من حزيران 1991 م المحققان الدكتور شوقي شعث الأستاذ محمود فاخوري
টীকা-টিপ্পনী «১» - এবং মূল বইটি এটি থেকে সম্পূর্ণ খালি ছিল - কারণ শুরুতে ইচ্ছা ছিল বইটি ফটোকপি পদ্ধতিতে ছাপানোর, তারপর 'দারুল কলাম আল-আরাবি' দেখল যে বইটিকে একটি নতুন মুদ্রণ শৈলী এবং নতুন তাহকিকসহ (সম্পাদনা) প্রকাশ করা পাঠক ও গবেষকদের জন্য অনেক উপকারী হবে, বইটির খণ্ডগুলো সত্তর বছর আগের এবং আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি আসার আগের অবস্থার ওপর রাখার পরিবর্তে।

তখন প্রথম মুদ্রণে যে সব মুদ্রণজনিত ভুল, বানান ও লিখনশৈলীর নিয়মের অসতর্কতা বা আকস্মিক ভুলভ্রান্তি ঘটেছিল, তা সংশোধন করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এর পাশাপাশি যে সব বাক্যাংশ ও শব্দের ব্যাখ্যা প্রয়োজন ছিল তার ব্যাখ্যা করা এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে কিছু ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দিক স্পষ্ট করা হয়েছে, তবে তা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সংহত রাখা হয়েছে। একইভাবে আমরা লেখকের যেসব উৎসের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি, তাতে উল্লিখিত কবিতা ও গদ্যের পাঠগুলোকে তুলনা করার জন্য আমরা সেগুলোর দিকে ফিরে গিয়েছি এবং সেগুলোতে বিদ্যমান কোনো বিকৃতি, বিচ্যুতি বা অসম্পূর্ণতা সংশোধন করেছি। আমরা বইয়ের টীকায় এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি, আর যেসব বিষয় গৌণ এবং যা সংশোধন করা পাঠকের কাছে স্পষ্ট, সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থেকেছি।

এটিই 'নাহরুজ জাহাব' গ্রন্থটির প্রকাশনা, মুদ্রণ, সংশোধন, সম্পাদনা, বিন্যাস ও টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার সারকথা। আমরা আশা করি যে আমরা পাঠক ও গবেষকদের সুধারণার যোগ্য হতে পারব।

আল্লাহই নিয়তে ইখলাস এবং কথাবার্তায় সঠিকতা অর্জনে পথপ্রদর্শক।

আলেপ্পো: ৪ জিলহজ ১৪১১ হিজরি, ১৬ জুন ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ। গবেষকদ্বয়: ডক্টর শাওকি শা'ত ও অধ্যাপক মাহমুদ فاখুরি।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
كتاب نهر الذّهب في تاريخ حلب تأليف كامل البالي الحلبي الشّهير بالغزّي الجزء الأوّل
হালাবের ইতিহাস বিষয়ক ‘নহরুজ জাহাব’ (স্বর্ণনদী) গ্রন্থ; রচনায়: আল-গাজ্জি নামে সুপ্রসিদ্ধ কামিল আল-বালি আল-হালাবি; প্রথম খণ্ড।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌[مقدمة المؤلف]

بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله الأول والآخر، والظاهر والباطن، يؤتي الملك من يشاء، وينزع الملك ممن يشاء، ويعز من يشاء، ويذل من يشاء، وهو الذي يمنح السراء، ويدفع الضرّاء، ويحقق الرجاء، ويجزل العطاء. يغفر الذنب، ويقبل التوب، ويمحو الحوب «1» ، ويستر العيوب، ويكشف المكروب. وينعم بالراحة بعد اللّغوب «2» .

لا راد لما قضاه، ولا معاند لما ارتضاه. فليس بالإمكان، أبدع مما كان. جعل لكل نبأ مستقرا. ولكل شيء في حكمته البالغة مظهرا ومستسرا. وزّع على عباده السعادة والشقاء، والراحة والعناء، والعسر واليسر، والنفع والضر، والخذلان والنصر.

وشاء في قدره المحتوم، وعلمه المكتوم، أن يكون منهم الظالم والمظلوم، والحاكم والمحكوم. ثم أورد الكل مورد الفناء والعدم، وتفرد سبحانه بالبقاء والقدم.

وصلى الله وسلم على محمد بن عبد الله، حبيبه ومجتباه. نبي قص علينا ما فيه عبرة لنا فبلّغ وصدق، كما قص الله عليه من أنباء ما قد سبق. بشّر من اتبعه ووالاه، وأنذر من خالفه وناواه. وعلى آله وأصحابه الأطهار، رواة الأخبار، وحملة الآثار.

وسلم تسليما كثيرا.

وبعد فإني منذ زمن بعيد أعاني جمع هذا الكتاب، وأصرف على تأليفه من نقد عمري، وجوهر مالي، ما يستكثر مثله من أمثالي. وقد تتبعت من أجله العدد الكثير من الكتب التاريخية وغيرها، وتصفحت زهاء مائة مجلد من السجلّات المحفوظة في المحكمة الشرعية وتكبدت عناء زائدا في الاطلاع على دفاتر الدوائر الرسمية. وعلى ما هو مدخر في المكتبات الخيرية والأهلية من المجاميع والرقاع الخصوصية التي سطرها
[লেখকের ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি প্রথম ও শেষ, এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য; তিনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। তিনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপদস্থ করেন। তিনিই সেই সত্তা যিনি সুখ ও সমৃদ্ধি দান করেন, বিপদ-আপদ দূর করেন, আশা পূর্ণ করেন এবং প্রচুর দান করেন। তিনি পাপ ক্ষমা করেন, তওবা কবুল করেন, অপরাধ মোচন করেন, দোষত্রুটি গোপন রাখেন এবং দুঃখ-কষ্ট দূর করেন। তিনি ক্লান্তির পর প্রশান্তি দ্বারা ধন্য করেন।

তাঁর ফয়সালাকে রদ করার কেউ নেই এবং তিনি যা পছন্দ করেছেন তার বিরোধিতা করার কেউ নেই। যা অস্তিত্বে এসেছে, তার চেয়ে নিপুণতর কিছু হওয়া সম্ভব ছিল না। তিনি প্রতিটি সংবাদের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করেছেন। এবং তাঁর সুগভীর প্রজ্ঞায় প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি প্রকাশ্য ও একটি অপ্রকাশ্য রূপ রেখেছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে সুখ ও দুর্ভাগ্য, স্বাচ্ছন্দ্য ও ক্লেশ, অনটন ও সচ্ছলতা, উপকার ও অপকার এবং লাঞ্ছনা ও বিজয় বণ্টন করে দিয়েছেন।

তিনি তাঁর অমোঘ তকদিরে এবং গোপন জ্ঞানে এটি নির্ধারণ করেছেন যে, তাদের মধ্যে কেউ হবে জালেম আর কেউ মজলুম, কেউ হবে শাসক আর কেউ শাসিত। অতঃপর তিনি সকলকেই বিনাশ ও অস্তিত্বহীনতার ঘাটে উপনীত করেন এবং মহান পবিত্র সত্তা কেবল নিজেই স্থায়িত্ব ও অনাদিত্বের গুণে একক হয়ে থাকেন।

আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি, যিনি তাঁর প্রিয় এবং মনোনীত। তিনি এমন এক নবী যিনি আমাদের কাছে এমন বিষয় বর্ণনা করেছেন যাতে আমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; তিনি যথাযথভাবে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছেন এবং সত্য বলেছেন, যেমনটি আল্লাহ তাঁর কাছে পূর্ববর্তী সংবাদসমূহ বর্ণনা করেছিলেন। তিনি সুসংবাদ দিয়েছেন তাকে যে তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য করেছে, আর সতর্ক করেছেন তাকে যে তাঁর বিরোধিতা ও শত্রুতা করেছে। এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের প্রতি রহমত বর্ষিত হোক, যারা সংবাদসমূহের বর্ণনাকারী এবং ঐতিহ্যের বাহক।

এবং তাঁর ওপর অগণিত সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর, দীর্ঘকাল যাবত আমি এই কিতাবটি সংকলনের জন্য পরিশ্রম করছি এবং এর রচনায় আমি আমার জীবনের মূল্যবান সময় ও আমার শ্রেষ্ঠ সম্পদ ব্যয় করেছি, যা আমার মতো মানুষের পক্ষে সচরাচর সম্ভব হয় না। এই কিতাবের উদ্দেশ্যে আমি অসংখ্য ইতিহাস গ্রন্থ ও অন্যান্য উৎস অনুসন্ধান করেছি এবং শরয়ি আদালতে সংরক্ষিত প্রায় একশ খণ্ড নথিপত্র পর্যালোচনা করেছি। এছাড়া সরকারি দপ্তরসমূহের রেজিস্টার এবং জনকল্যাণমূলক ও ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন সংগ্রহ ও বিশেষ চিঠিপত্রগুলো দেখার জন্য আমাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে, যা লিপিবদ্ধ করেছিলেন...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২০)
ذووها في بعض شؤن تاريخية، ذات أهمية عظيمة في وقتها. فكنت لا أصل إلى ما يهمّني أمره من بعض هذه المواد، إلا بعد عناء شديد ونفقة باهظة.

وكنت في أثناء استقصائي أخبار الآثار، أضطر في بعضها إلى تحمل مشاقّ الأسفار.

لأتمكن من الاطلاع على حقيقة حالها، وأكتب عنها كتابة تحقيق، لا كتابة تقليد وتلفيق.

لم أزل مثابرا على هذا العمل، لا يعوقني عنه عائق، ولا يصرف همتي عنه صارف حتى يسرّ المولى لي إتمام هذا الكتاب اللابس من المحاسن أجمل جلباب فجاء بحمد الله تعالى تاريخا مفردا في بابه، فائقا جميع أترابه، من الكتب التاريخية الحلبية، جامعا أشتات ما تفرق فيها على اختلاف نزعاتها وأساليبها. فإنه جمع بين ذكر أخبار حلب وملحقات ولايتها وبين ذكر أخيارها وآثارها غير مقتصر على ذكر واحد منها، كأكثر التواريخ الحلبية السابقة.

وكنت كلما هممت بطبع هذا الكتاب وتدوينه إجابة لإلحاح الكثيرين المتشوقين إليه، عارضني بذلك سوء الظن باستحساني إياه، كمن قيل فيه:

ويسيء بالإحسان ظنا لا كمن … هو بابنه وبشعره مفتون

وناجاني وحي الضمير بقوله: لا تعجل بذلك، فعسى أن يكون استحسانك هذا من باب افتتان الرجل بشعره، وإعجاب المرء ببضاعته، أو هو من قبيل المثل: (القرنبى في عين أمها حسنة) «1» وحينئذ أضرب الصفح عن طبعه وتدوينه. وآخذ بالبحث عن طريقة أصل بواسطتها إلى معرفة حقيقة هذا الاستحسان: أهو حقيقي أم هو نوع من ذلك الافتتان. فلم أر في الوصول إلى هذا الغرض بعد البحث الطويل عنه- سوى طريقة واحدة، ألا وهي عرض الكتاب على كل من رغب بالاطلاع عليه، فكنت لا أضنّ بعرضه على كل وارد وصادر أتوسّم فيه سلامة الذوق، وصحة الانتقاد، وسجية الإنصاف، حتى عرضته على الجمّ الغفير من الذين عرفوا بممارسة التاريخ والوقوف على دقائقه، وكشف غوامضه. فكنت لا أسمع من كل من وقف عليه. وقرأ منه فصولا في
তাদের অধিকারীগণ কিছু ঐতিহাসিক বিষয়ে লিপ্ত ছিলেন যা সেই সময় অত্যন্ত গুরুত্ববহ ছিল। আমি এই বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে আমার জন্য যা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা কঠোর পরিশ্রম এবং বিপুল অর্থ ব্যয় ব্যতীত লাভ করতে পারছিলাম না।

প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদির সংবাদ অনুসন্ধানের সময় আমি কখনো কখনো সফরের কষ্ট সহ্য করতে বাধ্য হয়েছি।

যাতে আমি সেগুলোর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে পারি এবং সে বিষয়ে কোনো অনুকরণ বা অতিরঞ্জন ছাড়াই একটি গবেষণামূলক লেখা লিখতে পারি।

আমি এই কাজে অবিচল ছিলাম, কোনো বাধাই আমাকে আটকাতে পারেনি এবং কোনো বিচ্যুতিই আমার সংকল্পকে টলাতে পারেনি, যতক্ষণ না মহান প্রতিপালক আমার জন্য এই গ্রন্থটি সম্পন্ন করা সহজ করে দিলেন, যা সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠ বসন পরিহিত। আল্লাহর প্রশংসায় এটি আপন ক্ষেত্রে এক অনন্য ইতিহাস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা আলেপ্পোর অন্যান্য ঐতিহাসিক গ্রন্থাবলির মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে এবং বিভিন্ন ধারা ও শৈলীর বিক্ষিপ্ত বিষয়সমূহকে একত্রিত করেছে। এটি আলেপ্পো শহর ও এর অধীনস্থ এলাকাগুলোর সংবাদের পাশাপাশি সেখানকার মহৎ ব্যক্তি ও নিদর্শনাদির বিবরণও সংগ্রহ করেছে, যা পূর্ববর্তী অধিকাংশ আলেপ্পো কেন্দ্রিক ইতিহাসের মতো কেবল একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।

যখনই আমি এই গ্রন্থটির প্রতি আগ্রহী অনেক মানুষের অনুরোধে এটি মুদ্রণ ও সংকলন করার ইচ্ছা পোষণ করেছি, তখনই নিজের ভালো লাগার প্রতি এক প্রকার সংশয় বা কুধারণা আমাকে বাধা দিয়েছে, যেমনটি বলা হয়ে থাকে:

এবং তিনি সুন্দরের প্রতিও কুধারণা পোষণ করেন, সেই ব্যক্তির মতো নয় যে … তার সন্তান ও তার কবিতার মোহে আচ্ছন্ন।

আমার বিবেকের কণ্ঠস্বর আমাকে চুপিচুপি বলত: তাড়াহুড়ো করো না, কারণ হতে পারে তোমার এই পছন্দটি সেই ব্যক্তির মতো যে তার নিজের কবিতায় মুগ্ধ, অথবা নিজের পণ্যে নিজেই অভিভূত। অথবা এটি সেই প্রবাদের মতো: (গুবরে পোকা তার মায়ের চোখে সুন্দর) «১» আর তখন আমি এর মুদ্রণ ও সংকলন থেকে বিরত থাকতাম। আর আমি এমন একটি পথ খুঁজতে লাগলাম যার মাধ্যমে এই ভালো লাগার প্রকৃত রূপ জানতে পারি: এটি কি বাস্তবসম্মত নাকি কেবল সেই মোহেরই একটি অংশ। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য আমি একটি মাত্র উপায় দেখতে পেলাম, আর তা হলো—যারা এটি দেখতে আগ্রহী তাদের সকলের কাছে গ্রন্থটি উপস্থাপন করা। তাই আমি আগত ও প্রস্থানকারী এমন প্রত্যেকের কাছে এটি পেশ করতে কার্পণ্য করিনি যাদের মধ্যে রুচিবোধের সুস্থতা, নির্ভুল সমালোচনা এবং ইনসাফের স্বভাব লক্ষ্য করেছি। এমনকি আমি এটি সেই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছেও পেশ করেছি যারা ইতিহাসের চর্চা, এর সূক্ষ্ম বিষয়াবলি অনুধাবন এবং রহস্য উন্মোচনে সুপরিচিত। আমি তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকেই শুনেছি যারা এটি দেখেছেন এবং এর বিভিন্ন অধ্যায় পাঠ করেছেন যে-
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২১)
مواضيع مختلفة- سوى عبارات التقريظ والإطراء وإسداء الشكر والثناء. واستنهاض همتي لطبع هذا الكتاب وتدوينه بكل سرعة، حرصا على ثمالة «1» ما بقي من حياتي قبل نضوبها، كيلا يؤول أمر مسودة هذا الكتاب إلى الإهمال والضياع.

على أن لي الأمل الوطيد، أن يتلقى عشاق التاريخ، كتابي هذا برحب صدر، ويقبل عليه نصراء العلم وأعوان أهله إقبالا يذكر فيشكر، ولا سيما منهم أبناء الوطن العزيز.

فهم أولى من جميع الناس بالإقبال عليه. لأنه يخدم وطنهم المحبوب الذي حبّه بلا ريب من أقدس واجباتهم. كما نوه بذلك الخبر المأثور «حب الوطن من الإيمان» ، وكما قال سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه: (لولا محبة الأوطان لخربت) . وحكمة ذلك أن محبة الشيء تبعث على حفظه. وصيانته وجرّ النفع إليه ودفع الضرر عنه، وهي مقاصد لا تكون إلا بعد معرفته والاطلاع على محاسنه، إذ محبة المجهول غير معقولة، بل قد يكون الجهل بالشيء مدعاة إلى بغضه وكراهيته، على حد قول القائل: (المرء عدوّ لما جهل) .

وإني لأعجب من طلاب العلوم العمرانية العصرية. من أهل بلادنا إذا سألت أحدهم عن شأن من شؤون الممالك الغربية أجابك عن سؤالك بما يبلّ الغليل ويشفي العليل. وإذا سألته عن أقل شأن من شؤون وطنه أجابك عن سؤالك بالسكوت أو بقوله: لا علم لي بما تسألني عنه. ومعلوم أن الواجب على ساكن الدار أن يعلم أولا حقيقة داره وما اشتملت عليه من المحاسن والمساوي، ليعدّ لكل معنى عدّته. ويأخذ لكل شأن من شؤونها أهبته. ثم يتوسع بالعلم فيعلم حقيقة دار جاره، وما حوته من المحاسن والمساوي، استعدادا لطارىء يحوجه إلى أن يكون بها عالما وبشؤونها عارفا.

كنت شرعت بتأليف هذا الكتاب على صفة مفصلة مطولة، فجاءت مقدمته فقط في مجلد ضخم يستوعب نحو ألف صحيفة. فرأيت أنني إذا سرت بتأليفه على ذلك المنهج جاءت جملة الكتاب في نحو خمسة مجلدات ضخمة، مما يفضي إلى ملل القارئ. فعمدت إلى الاختصار ونحوت في تأليفه هذا المنحى وسميته «نهر الذهب في تاريخ حلب» ورتبته على مقدمة وأربعة أبواب:

فالمقدمة في الكلام على عدة أمور لا يتمكن القارئ دونها من الوقوف على ما انطوى
বিভিন্ন বিষয়—প্রশংসা, গুণকীর্তন এবং কৃতজ্ঞতা ও স্তুতির শব্দাবলি ব্যতিরেকে। আমার জীবনের অবশিষ্ট সময় ফুরিয়ে যাওয়ার আগে যা কিছু বাকি আছে তার প্রতি গুরুত্বারোপ করে, এই গ্রন্থটি মুদ্রণ ও দ্রুত সংকলনের ব্যাপারে আমার সংকল্প জাগ্রত হয়েছে, যাতে এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি অবহেলা ও ধ্বংসের মুখে না পড়ে।

আমার দৃঢ় আশা রয়েছে যে, ইতিহাসের অনুরাগীগণ আমার এই গ্রন্থটি অত্যন্ত উদারতার সাথে গ্রহণ করবেন এবং জ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ও জ্ঞানীদের সাহায্যকারীগণ এর প্রতি এমনভাবে নিবিষ্ট হবেন যা প্রশংসার যোগ্য ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে; বিশেষ করে প্রিয় জন্মভূমির সন্তানগণ।

তারাই সকল মানুষের চেয়ে এর প্রতি মনোনিবেশ করার অধিক হকদার। কারণ, এটি তাদের প্রিয় জন্মভূমির সেবা করে, যে জন্মভূমিকে ভালোবাসা নিঃসন্দেহে তাদের পবিত্রতম কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যেমনটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, "দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ," এবং যেমনটি আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "যদি দেশপ্রেম না থাকত, তবে দেশসমূহ ধ্বংস হয়ে যেত।" এর নিহিত রহস্য হলো, কোনো বস্তুর প্রতি ভালোবাসা তাকে সংরক্ষণ ও সুরক্ষা করতে এবং তার উপকার সাধনে ও ক্ষতি দূর করতে উদ্বুদ্ধ করে। আর এই উদ্দেশ্যসমূহ কেবল তখনই অর্জিত হওয়া সম্ভব, যখন সেই বস্তু সম্পর্কে জানা যায় এবং তার সৌন্দর্যসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। কেননা অজ্ঞাত কোনো বিষয়ের প্রতি ভালোবাসা অযৌক্তিক; বরং কোনো বিষয়ে অজ্ঞতা সেই বিষয়ের প্রতি ঘৃণা ও অনীহার কারণ হতে পারে, যেমনটি প্রবাদ রয়েছে: "মানুষ যা জানে না, সে তার শত্রু হয়।"

আমি আমাদের দেশের আধুনিক নাগরিক বিজ্ঞানের ছাত্রদের দেখে বিস্মিত হই। তাদের কাউকে যদি আপনি পশ্চিমা সাম্রাজ্যগুলোর কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে সে আপনাকে এমন তৃপ্তিদায়ক ও বিস্তারিত উত্তর দেবে যা জ্ঞানপিপাসা নিবারণ করে। কিন্তু যদি আপনি তাকে তার নিজের দেশের অতি সামান্য কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে সে হয় চুপ থাকে অথবা বলে: "আপনি যা জিজ্ঞাসা করছেন সে সম্পর্কে আমার কোনো জ্ঞান নেই।" এটা সর্বজনবিদিত যে, গৃহবাসীর কর্তব্য হলো প্রথমে তার নিজের ঘরের প্রকৃত অবস্থা এবং এর গুণাগুণ ও ত্রুটি-বিচ্যুতি সম্পর্কে জানা, যাতে সে প্রতিটি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারে। এরপর সে জ্ঞান প্রসারের মাধ্যমে তার প্রতিবেশীর ঘরের হাকীকত এবং এর ভালো-মন্দ দিকগুলো সম্পর্কে জানবে, যাতে কোনো আকস্মিক প্রয়োজনে সে সম্পর্কে অবগত ও অভিজ্ঞ থাকা সম্ভব হয়।

আমি এই গ্রন্থটি অত্যন্ত বিস্তারিত ও দীর্ঘ কলেবরে রচনা করতে শুরু করেছিলাম, যার ফলে কেবল এর ভূমিকাই প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার একটি বিশাল খণ্ডে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। আমি দেখলাম যে, যদি আমি সেই পদ্ধতি অনুসরণ করে গ্রন্থটি রচনা করি, তবে পুরো বইটি প্রায় পাঁচটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত হবে, যা পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে। তাই আমি সংক্ষেপণের আশ্রয় নিলাম এবং এই নীতিতে গ্রন্থটি সংকলন করলাম। আমি এর নামকরণ করেছি "নাহরুজ জাহাব ফি তারিখি হালাব" (আলেপ্পোর ইতিহাসে স্বর্ণের নদী) এবং একে একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

ভূমিকাটি বেশ কিছু বিষয়ের আলোচনায় সমৃদ্ধ, যা ব্যতীত পাঠকের পক্ষে গ্রন্থের অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২২)
عليه المكان المؤرخ من حقائق صفاته الحسية والمعنوية التي اعتبر معرفتها مؤرخو هذا العصر من أهم الأمور التاريخية. على أن عامة المتقدمين ممن ألف في تاريخ حلب لم يتعرضوا إلا إلى القليل مما تضمنته هذه المقدمة. كما ستقف عليه قريبا. وسنتكلم على موضوع كل باب من بقية الأبواب في مقدمته إن شاء الله تعالى.

تنبيه: حيث ذكرت السنة مجردة عن الوصف فمرادي بها السنة الهجرية. ومتى أطلقت اسم الشهر الشمسي فمرادي به أحد شهور السنة الرومية الشرقية التي كانت معتبرة عند الدولة العثمانية في ماليتها وهي: (آدار أو مارت) وهو أول السنة، (نيسان) ، (هيار أو أيار أو مايس) ، (حزيران) ، (تموز) ، (آب أو أغستوس) ، (أيلول) ، (تشرين الأول) ، (تشرين الثاني) ، (كانون الأول) ، (كانون الثاني) ، (شباط) .

ومتى أطلقت اسم كيل أو وزن أو مقياس، فمرادي به ما هو مستعمل في أيامنا في حلب، الذي سنتكلم عليه في فصل الأوزان والكيول والمقاييس، كما أن مرادي من القرش واللّيرا أو الذهب العثماني ما سأذكره عنها في الذيل الذي أثبتّه آخر الفصل المذكور. وإذا أطلقت اسم الميل فمرادي به المقياس الفرنجي المعروف باسم (كيلو متر) ، كما أن مرادي من الذراع هو الذراع المعماري المنوّه عنه في جدول الأوزان والكيول الآتي ذكره.

هذا وإن الدولة العثمانية كانت، قبل سنة 1279 هجرية، مقتصرة في سجلاتها ومعاملاتها المالية على اعتبار التاريخ الهجري. ثم لما رأت لزوما لأن تضع لها موازنة مالية لضبط دخل الدولة وخرجها، اضطرها تبدل الفصول واختلاف أوقات المحاصيل إلى اعتبار تاريخ شمسي تستورد فيه مرتباتها العشرية وغيرها في أوقات معلومة مضبوطة فعولت على استعمال التاريخ الشمسي الشرقي المذكور. وصادف ابتداء استعماله سنة 1279 هجرية.

فصارت تؤرخ به المعاملات المالية من ذلك الحين.

أعلام الرجال الموضوعة بين قوسين، لهم تراجم في باب تراجم الأخيار، فلتراجع هناك.
এর ওপর সেই স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে চিহ্নিত, যা তার দৃশ্যমান ও অদৃশ্য বাস্তব গুণাবলি দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। বর্তমান যুগের ঐতিহাসিকরা এসবের জ্ঞান অর্জনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয় হিসেবে গণ্য করেন। তবে ইতিপূর্বে যারা আলেপ্পোর (হালাব) ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশ এই ভূমিকার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সামান্যই আলোকপাত করেছেন। অচিরেই আপনি তা জানতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ তাআলা চাইলে) আমরা বাকি অধ্যায়গুলোর শুরুতে প্রতিটি অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করব।

সতর্কবার্তা: যেখানে আমি কোনো বিশেষণ ছাড়াই বছরের কথা উল্লেখ করেছি, সেখানে আমার উদ্দেশ্য হলো হিজরি সন। আর যখনই আমি সৌর মাসের নাম উল্লেখ করেছি, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো পূর্ব রোমান বর্ষপঞ্জির কোনো একটি মাস, যা উসমানীয় সাম্রাজ্যের অর্থখাতে প্রচলিত ছিল। সেগুলো হলো: (আদার বা মার্ত) যা বছরের প্রথম মাস, (নিসান), (হিয়ার বা আইয়ার বা মায়েস), (হাযিরান), (তাম্মুয), (আব বা অগাস্টাস), (আইলুল), (তিশরিনুল আউয়াল), (তিশরিনুত থানি), (কানুনুল আউয়াল), (কানুনুত থানি) এবং (শুবাত)।

যখনই আমি কোনো পরিমাপক পাত্র, ওজন বা মাপের নাম উল্লেখ করেছি, তখন আমার উদ্দেশ্য হলো আমাদের বর্তমান সময়ে আলেপ্পোতে প্রচলিত সেই মানদণ্ড, যা নিয়ে আমরা ওজন, পরিমাপক পাত্র ও মাপ সম্পর্কিত অধ্যায়ে আলোচনা করব। একইভাবে ‘কুরশ’ ও ‘লিরা’ বা উসমানীয় স্বর্ণমুদ্রা বলতে আমি তাই বুঝিয়েছি যা উক্ত অধ্যায়ের শেষে আমি সংযুক্ত পরিশিষ্টে উল্লেখ করেছি। আর যদি আমি ‘মাইল’ শব্দটি ব্যবহার করি, তবে আমার উদ্দেশ্য হলো ‘কিলোমিটার’ নামে পরিচিত ইউরোপীয় পরিমাপ। তদ্রূপ ‘হাত’ (যিরা) বলতে স্থপতিদের ব্যবহৃত সেই হাতকে বুঝিয়েছি, যা পরবর্তী পরিমাপ ও ওজনের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১২৭৯ হিজরি সালের পূর্বে উসমানীয় সাম্রাজ্য তাদের নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে কেবল হিজরি সনের ওপরই সীমাবদ্ধ ছিল। পরবর্তীতে যখন তারা রাষ্ট্রের আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আর্থিক বাজেট প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করল, তখন ঋতু পরিবর্তন এবং ফসল তোলার সময়ের পার্থক্যের কারণে তারা একটি সৌর বর্ষপঞ্জি গ্রহণ করতে বাধ্য হলো, যাতে নির্দিষ্ট ও সুশৃঙ্খল সময়ে দশমাংশ কর ও অন্যান্য পাওনা সংগ্রহ করা যায়। ফলে তারা উল্লিখিত পূর্ব সৌর বর্ষপঞ্জি ব্যবহারের ওপর নির্ভর করল। ১২৭৯ হিজরি সালে এর ব্যবহার শুরু হয়।

তখন থেকেই আর্থিক লেনদেনগুলো এই পঞ্জিকার মাধ্যমেই তারিখভুক্ত করা হতে থাকে।

যেসকল খ্যাতিমান ব্যক্তিদের নাম বন্ধনীতে রাখা হয়েছে, তাদের জীবনী ‘সৎলোকদের জীবনী’ (তারাজিমুল আখইয়ার) অধ্যায়ে রয়েছে; সুতরাং তা সেখান থেকে দেখে নেওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌تواريخ حلب

عقدنا هذا الفصل قصد إعلام القارئ ببعض الكتب التي أخذنا منها قضايا تاريخنا هذا، فنستغني بذلك عن عزو المسائل إلى مآخذها، فنقول: أول من صنف تاريخا خاصا بحلب، ابن أبي طي (يحيى بن أبي حميدة) الحلبي، وسماه معادن الذهب، وهو تاريخ كبير، وله ذيل عليه كما حكاه بعض المؤرخين. ثم تبعه كمال الدين أبو حفص (عمر بن أبي جرادة) العقيلي المعروف بابن العديم الحلبي، فألف تاريخا جمع فيه تراجم أعيان حلب على ترتيب الأسماء وسماه «بغية الطلب في تاريخ حلب» وهو يبلغ نحو أربعين جزءا «1» وقد اخترمته المنية قبل إكمال تبييضه وكان انتزعه من كتابه الذي سماه «زبدة الحلب في تاريخ حلب» أحضرت منه قطعة طبعت في باريس، سطرت فيها بعض حوادث حلب من يوم فتوحها عن يد المسلمين إلى سنة 336 وهي زبدة مشوبة بعدة أغلاط.

قال في كشف الظنون: وقد ذيل على بغية الطلب اليونيني اه. وذيله أيضا القاضي علاء الدين أبو الحسن علي بن محمد بن سعيد الجبريني الشافعي الشهير بابن خطيب الناصرية المتوفى سنة 843، وسمى الذيل: «الدر المنتخب» وهو معجم في تراجم الرجال في مجلدين ضخمين، ظفرت بهما.

قال في در الحبب ما ملخصه: ولما طالعه الحافظ أبو الفضل أحمد بن محمد المعروف بابن حجر العسقلاني حين قدومه إلى حلب سنة 836 ألحق فيه أشياء كثيرة كما ذكره في ديباجة كتابه المشهور «بإنباء الغمر بأبناء العمر» وأثنى على صاحبه اه. قلت وما زاده العسقلاني على الدر المنتخب سماه الكواكب المضيّة، ذيل تاريخ ابن خطيب الناصرية.

وقد ظفرت به تماما وهو جزء صغير.

وذيل الدر المنتخب أيضا موفق الدين أبو ذر (أحمد بن إبراهيم) الشهير بسبط العجمي
হালবের ইতিহাসসমূহ

আমরা এই পরিচ্ছেদটি সংকলন করেছি পাঠকদের সেই সব কিতাব সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে যেখান থেকে আমরা আমাদের এই ইতিহাসের বিষয়বস্তুগুলো গ্রহণ করেছি। এর ফলে আমরা প্রতিটি বিষয়কে তার মূল সূত্রের দিকে নিসবত করার প্রয়োজন থেকে মুক্ত হব। আমরা বলছি: হালব সম্পর্কে সর্বপ্রথম যিনি বিশেষ ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন তিনি হলেন ইবনে আবি তায়্যি (ইয়াহইয়া বিন আবি হামিদা) আল-হালাবি। তিনি এর নাম রেখেছিলেন 'মাআদিনুজ জাহাব' (স্বর্ণ খনি)। এটি একটি বিশাল ইতিহাস গ্রন্থ। কতিপয় ঐতিহাসিকের বর্ণনা মতে এর একটি 'যায়ল' বা পরিশিষ্টও রয়েছে। এরপর তাঁর পথ অনুসরণ করেন কামালুদ্দিন আবু হাফস (উমর বিন আবি জারাাদা) আল-উকায়লি, যিনি ইবনুল আদিম আল-হালাবি নামে পরিচিত। তিনি একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন যাতে হালবের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জীবনী নামের ক্রমানুসারে সংকলন করেছেন এবং তার নাম দিয়েছেন 'বুগইয়াতুত তলাব ফি তারিখি হালব'। এটি প্রায় চল্লিশ খণ্ডের একটি বিশাল কাজ। তবে এর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি এটি তাঁর 'যুবদাতুল হালব ফি তারিখি হালব' নামক কিতাব থেকে চয়ন করেছিলেন। আমি এর একটি অংশ সংগ্রহ করেছি যা প্যারিসে মুদ্রিত হয়েছে। তাতে মুসলমানদের হাতে হালব বিজিত হওয়ার দিন থেকে ৩৩৬ হিজরি পর্যন্ত কিছু ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে এই সারসংক্ষেপটি কিছু ভুলভ্রান্তি মিশ্রিত।

কাশফুয যুনুন গ্রন্থে বলা হয়েছে: আল-ইউনিনি 'বুগইয়াতুত তলাব'-এর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। এছাড়া কাজি আলাউদ্দিন আবুল হাসান আলি বিন মুহাম্মাদ বিন সাঈদ আল-জাবরিনি আশ-শাফিয়ি, যিনি ইবনে খাতিবুন নাসিরিয়াহ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৪৩ হিজরি), তিনিও এর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। তিনি এই পরিশিষ্টের নাম দিয়েছেন 'আদ-দুররুল মুনতাখাব'। এটি মূলত জীবনীসংক্রান্ত একটি অভিধান যা দুটি বিশাল খণ্ডে সমাপ্ত, যা আমি লাভ করতে সক্ষম হয়েছি।

দুররুল হাবাব গ্রন্থে এর সারসংক্ষেপ এভাবে বলা হয়েছে: হাফেজ আবুল ফজল আহমদ বিন মুহাম্মাদ, যিনি ইবনে হাজার আল-আসকালানি নামে পরিচিত, যখন ৮৩৬ হিজরিতে হালবে আগমন করেন এবং এটি পাঠ করেন, তখন তিনি এতে অনেক বিষয় যুক্ত করেন। যেমনটি তিনি তাঁর বিখ্যাত কিতাব 'ইনবাউল গুমর বি-আবনাউল উমর'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এবং এর লেখকের প্রশংসাও করেছেন। আমি বলছি, আসকালানি 'আদ-দুররুল মুনতাখাব'-এর ওপর যা কিছু বৃদ্ধি করেছেন তার নাম দিয়েছেন 'আল-কাওয়াকিবুল মুদিয়্যাহ', যা ইবনে খাতিবুন নাসিরিয়ার ইতিহাসের পরিশিষ্ট।

আমি এটি পূর্ণাঙ্গভাবে পেয়েছি এবং এটি একটি ছোট খণ্ড।

'আদ-দুররুল মুনতাখাব'-এর আরও একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন মুয়াফফাকুদ্দিন আবু যর (আহমদ বিন ইবরাহিম), যিনি সিবতিল আজমি নামে প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
الحلبي، وسمى ذيله «كنوز الذهب» ضمنه ذكر الأعيان والحوادث والآثار، ظفرت به مخطوطا بخط مشوّه جدا، هو خط المؤلف، وقد ذيل عليه رضي الدين (محمد بن إبراهيم المعروف بابن الحنبلي) ، وسمى ذيله «در الحبب» وضمنه ذكر الأعيان مرتبا أسماءهم على الحروف، وهو في مجلد وسط «1» ، ظفرت به. وقد اقتصر فيه على ذكر أعيان سبعين سنة فقط وهي من سنة 900 إلى سنة 970. ومن تواريخ حلب كتاب حضرة النديم من تاريخ ابن العديم. انتزعه من بغية الطلب (الحسن ابن حبيب الحلبي) . ومنها معادن الذهب في الأعيان الذي تشرفت بهم حلب (لأبي الوفاء بن عمر العرضي) وقد تكلمنا عليه في ترجمة مؤلفه. وهو مجلد صغير ظفرت بقسم منه. ومنها تاريخ باللغة الإنكليزية خاص بالكلام على طبيعة تربة حلب ونباتاتها وحيواناتها وغير ذلك، وهو في مجلدين أولهما تأليف باترك روسل، وثانيهما تأليف أخيه اسكندر، قدم حلب بعد وفاة أخيه المذكور ليخلفه فيها بوظيفة طب أبناء جنسهما، وكان نجاز كتابهما المذكور سنة 1753 م 1167 هجرية. وقد ظفرت بهذا الكتاب وطالعت معظمه بواسطة ترجمان.

ومنها تاريخ أبي عبد الله محمد بن علي العظيمي، على ما ذكره في كشف الظنون. ومنها تاريخ (بيشوف الطبيب الألماني) وسماه (تحفة الأنباء) في تاريخ حلب الشهباء، وسنتكلم عليه في الكلام على ترجمة مؤلفه. ومنها تاريخ محمد بن أحمد ابن محمد المعروف بابن المنلا، تعرض فيه لمن حكم حلب من زمن فتوحها إلى زمن الحاج إبراهيم باشا وذلك إلى سنة 1080 وقد وقفت منه على كراريس متخرمة. ومنها تاريخ لرضي الدين، المعروف بابن الحنبلي المتقدم ذكره، انتزعه من بغية الطلب وسماه الزبد والضرب. ومنها بعض كراريس في تراجم الأعيان تنسب (لأبي المواهب أفندي ابن ميرو) وقد وقفت على مسودته.

‌‌تنبيه

المشهور بين الناس عندنا أن تاريخ حلب هو لابن الشحنة، فكلما حكى أحدهم خبرا عن أثر أو حادثة تتعلق بحلب نسبها إلى التاريخ المذكور، مع أننا لم نقف على تاريخ خاص بحلب مؤلف من قبل أحد بني الشحنة، والذي رأيناه منسوبا إليهم من التواريخ في تراجمهم
হালাবি, এবং তিনি তাঁর পরিশিষ্টের নামকরণ করেছেন «কুনুযুদ যাহাব», যার মধ্যে তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ঘটনাবলি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনাদি অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি এটি অত্যন্ত অস্পষ্ট হস্তাক্ষরে পাণ্ডুলিপি আকারে পেয়েছি, যা ছিল স্বয়ং লেখকের হস্তাক্ষর। রযিউদ্দিন (মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম, যিনি ইবনুল হাম্বালি নামে পরিচিত) এর ওপর একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন এবং তিনি তাঁর সেই পরিশিষ্টের নাম দিয়েছেন «দুররুল হাবাব»। এতে তিনি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নাম বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছেন এবং এটি একটি মাঝারি আকারের খণ্ড, যা আমি সংগ্রহ করতে পেরেছি। তিনি এতে কেবল সত্তর বছরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যা ৯০০ হিজরি থেকে ৯৭০ হিজরি পর্যন্ত। আলেপ্পোর ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ইবনুল আদিমের ইতিহাস থেকে সংকলিত «হাযরাত আন-নাদিম» গ্রন্থটি। এটি «বুগইয়াতুত তলাব» থেকে আল-হাসান ইবনে হাবিব আল-হালাবি চয়ন করেছেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে আবু আল-ওয়াফা ইবনে উমর আল-আরযি রচিত «মাআদিনুয যাহাব ফীল আ’ইয়ানিল্লাযিনা তাশাররাফাত বিহিম হালাব»। তাঁর জীবনী আলোচনা প্রসঙ্গে আমরা এই কিতাবটি নিয়ে কথা বলেছি। এটি একটি ছোট খণ্ড, যার কিছু অংশ আমি পেয়েছি। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় রচিত একটি ইতিহাস গ্রন্থও রয়েছে যা বিশেষত আলেপ্পোর মাটির প্রকৃতি, উদ্ভিদ, প্রাণিকুল এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। এটি দুই খণ্ডে সমাপ্ত, যার প্রথম খণ্ডটি প্যাট্রিক রাসেল এবং দ্বিতীয় খণ্ডটি তাঁর ভাই আলেকজান্ডারের রচনা। তিনি তাঁর উল্লিখিত ভাইয়ের মৃত্যুর পর আলেপ্পোতে আসেন, যাতে তাঁদের স্বজাতীয়দের চিকিৎসার দায়িত্বে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। তাঁদের উল্লিখিত গ্রন্থটি ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১১৬৭ হিজরিতে সমাপ্ত হয়েছিল। আমি এই কিতাবটি পেয়েছি এবং একজন দোভাষীর সাহায্যে এর অধিকাংশ পাঠ করেছি।

এর মধ্যে আরও রয়েছে আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আলি আল-আযিমির ইতিহাস গ্রন্থ, যেমনটি «কাশফুয যুনুন»-এ বর্ণিত হয়েছে। আরও রয়েছে জার্মান চিকিৎসক বিশফ-এর ইতিহাস গ্রন্থ, যার নাম তিনি রেখেছেন «তুহফাতুল আনবা ফী তারিখি হালাব আশ-শাহবা»। তাঁর জীবনী আলোচনার সময় আমরা এ বিষয়ে কথা বলব। আরও রয়েছে মুহাম্মাদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ, যিনি ইবনুল মানলা নামে পরিচিত, তাঁর রচিত ইতিহাস গ্রন্থ। এতে তিনি বিজয়ের সময় থেকে আল-হাজ ইবরাহিম পাশার সময় পর্যন্ত অর্থাৎ ১০৮০ হিজরি পর্যন্ত যারা আলেপ্পো শাসন করেছেন তাদের বিবরণ তুলে ধরেছেন। আমি এর কিছু বিচ্ছিন্ন পাণ্ডুলিপি দেখেছি। আরও রয়েছে পূর্বে উল্লিখিত রযিউদ্দিন ইবনুল হাম্বালির একটি ইতিহাস গ্রন্থ, যা তিনি «বুগইয়াতুত তলাব» থেকে চয়ন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন «আয-যুবাদ ওয়াদ দারব»। এছাড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী সংক্রান্ত কিছু পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা আবু আল-মাওয়াহিব এফেন্দি ইবনে মিরু-র প্রতি নিসবত করা হয়, আমি এর খসড়াটি দেখেছি।

‌‌সতর্কবার্তা

আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ যে, আলেপ্পোর ইতিহাস গ্রন্থটি ইবনুশ শিহনার লেখা। ফলে যখনই কেউ আলেপ্পো সংক্রান্ত কোনো নিদর্শন বা ঘটনার বর্ণনা দেয়, সেটিকে উল্লিখিত ইতিহাসের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করে। অথচ আমরা বনু শিহনার কোনো ব্যক্তির রচিত আলেপ্পোর বিশেষ কোনো ইতিহাস গ্রন্থ দেখতে পাইনি। তাঁদের জীবনীতে তাঁদের প্রতি যেসব ইতিহাস গ্রন্থ সম্বন্ধযুক্ত হতে আমরা দেখেছি...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وفي كتاب كشف الظنون هو روضة المناظر أو الناظر أو النواظر في أخبار الأوائل والأواخر لمحمد بن محمد بن محمد بن محب الدين أبي الوليد ابن الشحنة، وهو المطبوع على الجزء الحادي عشر والثاني عشر من التاريخ الكامل لابن الأثير. ثم جاء بعده ولده محب الدين أبو الفضل، وصنف تاريخا سماه نزهة الناظر في روض المناظر، جعله كالشرح لتاريخ والده، وضمنه مصراعين، قسم بابهما إلى تسع طبقات، بعدد القرون التسعة، ذكر في كل طبقة منها حوادثها المشهورة على السنين ووفيات أعيانها المشهورين، على حروف المعجم، من غير تفريق بين الحلبيين وغيرهم. كما قسم أولاهما إلى ثلاثة فصول: الأول: في خلق آدم وما اتفق له ولأولاده. الثاني: في طبقات الأمم. الثالث: في الأمور المبشرة بظهور نبينا محمد صلى الله عليه وسلم.

وألّف ذيلا آخر على روضة الناظر سماه اقتطاف الأزاهر.

ويوجد متداولا بين أيدي الناس كتاب مشهور عندهم بتاريخ ابن الشحنة «1» معظمه خاص في الكلام على حلب، وباقيه على بعض البلدان القريبة منها والداخلة في أعمالها.

وفيه أغلاط كثيرة مصدّر بخطبة أولها: «الحمد لله القديم الأزلي، الرحيم الأبدي، مكوّر الليل على النهار عبرة لأولي الأبصار» … إلخ. وهي خطبة كتاب الدر المنتخب لابن خطيب الناصرية مع تحريف قليل وزيادة ونقص. وبعد هذه الخطبة يفتتح صاحبه بالبسملة، ثم يقول: وبعد فهذه نبذة انتخبتها من كتاب نزهة النواظر في روض الناظر إلخ. ثم يفتتح بالمقصود نقلا عن ابن الشحنة. ورأيت بعض النسخ من هذا الكتاب مصدرا بقوله: أما بعد فهذه نبذة انتخبتها مما انتخبه العلامة زين الدين أحمد بن علي بن الحسين ابن علي المعروف بالشغيفي، من تاريخ أقضى القضاة محب الدين إلخ. وعلى هذا فالكتاب المتداول المذكور منتخب من كتاب الشغيفي المنتخب من نزهة النواظر. ولعل منتخبه أبو اليمن البتروني، بدليل أنه يوجد في عدة مواضع من نسخة كانت عندي حواش ينسبها أبو اليمن المذكور إلى نفسه. ورأيت نسخة أخرى قد ذهب أولها ونقص منها مقدار عظيم.

وهي تختلف عن نسخة الشغيفي زيادة ونقصا، ظهر لي أنها مما انتخبه أحمد بن محمد المعروف
কাশফ আল-জুনুন কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি হলো মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহিব্বুদ্দীন আবুল ওয়ালিদ ইবনে আশ-শুহনার রচিত রওজাতুল মানাজির বা আন-নাজির অথবা আন-নাওয়াজির ফি আখবারিল আওয়াইল ওয়াল আওয়াহির। এটি ইবনুল আসিরের আত-তারিখুল কামিল-এর একাদশ ও দ্বাদশ খণ্ডের সাথে মুদ্রিত হয়েছে। এরপর তাঁর পুত্র মুহিব্বুদ্দীন আবুল ফজল আসেন এবং নুজহাতুন নাজির ফি রওজিল মানাজির নামক একটি ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি এটিকে তাঁর পিতার ইতিহাসের ব্যাখ্যাগ্রন্থের মতো করেছেন। এতে তিনি দুটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সেগুলোর পরিচ্ছেদগুলোকে নয়টি স্তরে ভাগ করেছেন, যা নয়টি শতাব্দীর সংখ্যার সমান। প্রতিটি স্তরে তিনি বছর অনুযায়ী প্রসিদ্ধ ঘটনাবলি এবং বর্ণমালার ক্রমানুসারে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যু সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, যেখানে হালাবি (আলেপ্পোবাসী) এবং অন্যদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। তেমনিভাবে তিনি প্রথম পরিচ্ছেদটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন: প্রথম: আদমের সৃষ্টি এবং তাঁর ও তাঁর সন্তানদের সাথে যা ঘটেছিল সে সম্পর্কে। দ্বিতীয়: বিভিন্ন জাতির স্তর বা শ্রেণি সম্পর্কে। তৃতীয়: আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের সুসংবাদ প্রদানকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে।

তিনি রওজাতুন নাজির-এর ওপর ইকতিফাতুল আজাহির নামে আরও একটি পরিশিষ্ট রচনা করেছেন।

মানুষের মাঝে ইবনে আশ-শুহনার ইতিহাস নামে একটি প্রসিদ্ধ কিতাব প্রচলিত রয়েছে, যার অধিকাংশ অংশই হালাব (আলেপ্পো) সম্পর্কিত আলোচনায় বিশেষায়িত, এবং বাকি অংশ এর নিকটবর্তী কিছু শহর ও এর আওতাভুক্ত এলাকা সম্পর্কে।

এতে অনেক ভুল রয়েছে এবং এর শুরুতে একটি ভূমিকা রয়েছে যার প্রারম্ভে বলা হয়েছে: «সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অনাদি ও চিরন্তন, যিনি অনন্তকাল দয়ালু, যিনি দৃষ্টিমানদের জন্য শিক্ষার স্বরূপ রাতকে দিনের ওপর আবর্তিত করেন» … ইত্যাদি। এটি মূলত ইবনে খাতিব আন-নাসিরিয়ার আদ-দুররুল মুনতাখাব কিতাবের ভূমিকা, যাতে সামান্য বিকৃতি এবং কম-বেশি করা হয়েছে। এই ভূমিকার পর লেখক বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেন, তারপর বলেন: অতঃপর এটি একটি সংক্ষিপ্ত অংশ যা আমি নুজহাতুন নাওয়াজির ফি রওজিন নাজির থেকে নির্বাচন করেছি ইত্যাদি। এরপর তিনি ইবনে আশ-শুহনার উদ্ধৃতি দিয়ে মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। আমি এই কিতাবের কিছু পাণ্ডুলিপি দেখেছি যার শুরুতে বলা হয়েছে: অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত অংশ যা আমি আল্লামা জয়নুদ্দীন আহমদ ইবনে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী—যিনি আশ-শাগিফি নামে পরিচিত—মুহিব্বুদ্দীন কাজিউল কুজাতের ইতিহাস থেকে যা নির্বাচন করেছিলেন তা থেকে চয়ন করেছি ইত্যাদি। এর ওপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, উল্লিখিত প্রচলিত কিতাবটি মূলত শাগিফির কিতাব থেকে চয়ন করা হয়েছে, যা আবার নুজহাতুন নাওয়াজির থেকে চয়ন করা হয়েছিল। সম্ভবত এর নির্বাচক হলেন আবুল ইয়ামান আল-বাত্রুনি, কারণ আমার কাছে থাকা একটি পাণ্ডুলিপির বেশ কিছু স্থানে এমন টীকা রয়েছে যা উল্লিখিত আবুল ইয়ামান নিজের দিকে সম্পৃক্ত করেছেন। আমি আরেকটি পাণ্ডুলিপি দেখেছি যার শুরুটি হারিয়ে গেছে এবং তার একটি বিশাল অংশ কম রয়েছে।

এটি শাগিফির পাণ্ডুলিপি থেকে কম-বেশির দিক থেকে ভিন্ন, এবং আমার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে এটি আহমদ ইবনে মুহাম্মদ যিনি প্রসিদ্ধ...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
بابن الملا من كتاب نزهة الناظر وهي فيما أظن من مسودة بخط المؤلف، لأنه يوجد على هامشها كثير من التعاليق مختتمة بقول محررها: اه إبراهيم ابن أحمد بن محمد منتخب هذا التاريخ وكاتبه.

خلاصة ما ظهر لي في الكتاب الذي ينسبه الناس إلى ابن الشحنة ويزعمون أنه خاص بحلب: أن عددا غير قليل من الأدباء والعلماء أخذ كل واحد منهم خلاصة من ابن شداد وابن الشحنة وابن المنلا وأضافها «1» شيئا من عنده وعملها كتابا على حدته. ولذا لا ترى نسختين من هذا التاريخ مطابقتين لبعضهما مع كثرة عدد نسخ هذا التاريخ. أما كتاب محمد بن إبراهيم ابن شداد فكثيرا ما يظنه الناس أنه تايخ خاص بحلب مع أننا لم نقف على تاريخ منسوب لابن شداد سوى سيرة السلطان صلاح الدين وكتاب الأعلاق الخطيرة في تاريخ الشام والجزيرة «2» . ومن التواريخ التي يتوهمها بعض الناس أنها خاصة بحلب: كتاب درة الأسلاك في دولة الأتراك، للحسن بن عمر المعروف بابن حبيب الحلبي مع أنه خاص بدولة الأتراك كما يعلم من تسميته. على أننا لا ننكر أن الحلبيين الذين ألفوا في التاريخ تكلموا في تواريخهم على ما يتعلق بحلب أكثر مما تكلموا على ما يتعلق بغيرها عناية منهم بها لأنها وطنهم. هذا ما أمكنني تحريره من الكلام على تواريخ حلب. والله سبحانه وتعالى أعلم.

‌‌تاريخان لحلب لمعاصرين فاضلين

أحدهما اعتنى بجمعه وشرع بطبعه صديقنا الفاضل (محمد راغب بن محمود) الشهير بالطباخ سماه (إعلام النبلاء بتاريخ حلب الشهباء) . والآخر يعتني بجمعه صديقنا الآخر الشاعر الأديب (ميخائيل بن أنطون) الشهير بالصقال. وقد تكلمنا على كل واحد من هذين التاريخين في ترجمة صاحبه التي نوردها في باب التراجم، فاكتفينا هنا بالتلميح إليهما.
ইবনুল মোল্লার রচিত 'নুজহাতুন নাজির' কিতাব থেকে, আর এটি আমার ধারণা মতে লেখকের হস্তলিপিতে লিখিত একটি খসড়া কপি, কেননা এর পার্শ্বটীকায় বহু মন্তব্য পাওয়া যায় যা এর সংকলকের এই উক্তির মাধ্যমে শেষ হয়েছে: সমাপ্ত, ইব্রাহিম ইবন আহমদ ইবন মুহাম্মদ, যিনি এই ইতিহাসের সংক্ষেপকারী ও লেখক।

মানুষ ইবনুল শিহনার দিকে যে কিতাবটিকে নিসবত করে এবং দাবি করে যে এটি শুধুমাত্র আলেপ্পো (হালাব) সংক্রান্ত, সে বিষয়ে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয়েছে তার সারসংক্ষেপ হলো: বেশ কিছু সংখ্যক সাহিত্যিক ও আলিম ইবন শাদ্দাদ, ইবনুল শিহনা এবং ইবনুল মোল্লার বর্ণনা থেকে সারসংক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং তাতে নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু যোগ করে স্বতন্ত্র কিতাব তৈরি করেছেন। এই কারণেই এই ইতিহাসের অসংখ্য পাণ্ডুলিপি থাকা সত্ত্বেও আপনি এর দুটি কপি একটি অন্যটির সাথে হুবহু মিল পাবেন না। আর মুহাম্মদ ইবন ইব্রাহিম ইবন শাদ্দাদের কিতাবটির ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ মনে করে যে এটি আলেপ্পোর একটি বিশেষ ইতিহাসগ্রন্থ, অথচ আমরা ইবন শাদ্দাদের দিকে সম্পৃক্ত সুলতান সালাহউদ্দিনের জীবনী এবং 'আল-আ'লাকুল খাতিরা ফি তারিখিশ শাম ওয়াল জাজিরা' নামক কিতাব ছাড়া অন্য কোনো ইতিহাসের সন্ধান পাইনি। আরও কিছু ইতিহাসগ্রন্থ যেগুলোকে কিছু মানুষ ভুলবশত কেবল আলেপ্পো কেন্দ্রিক মনে করে, তার মধ্যে রয়েছে হাসান ইবন উমর—যিনি ইবনে হাবিব আল-হালাবি নামে পরিচিত—তার রচিত 'দুররাতুল আসলাক ফি দাওলাতিল আতরাক' কিতাবটি। অথচ এর নাম থেকেই জানা যায় যে এটি তুর্কি রাষ্ট্র সংক্রান্ত। তবে আমরা এটি অস্বীকার করি না যে, আলেপ্পোর যে সকল অধিবাসী ইতিহাস রচনা করেছেন, তারা তাদের গ্রন্থগুলোতে অন্য বিষয়ের তুলনায় আলেপ্পো সংক্রান্ত বিষয়ে অধিক আলোচনা করেছেন, কারণ এটি তাদের স্বদেশ হওয়ায় এর প্রতি তাদের বিশেষ যত্ন ছিল। আলেপ্পোর ইতিহাসগ্রন্থসমূহের বিষয়ে এটুকু লেখাই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন।

‌‌দুইজন সমসাময়িক গুণী ব্যক্তির রচিত আলেপ্পোর দুটি ইতিহাসগ্রন্থ

এর মধ্যে একটি সংকলন ও মুদ্রণের দায়িত্ব নিয়েছেন আমাদের গুণী বন্ধু (মুহাম্মদ রাগিব ইবন মাহমুদ), যিনি তব্বাখ নামে প্রসিদ্ধ; তিনি এর নামকরণ করেছেন 'ইলামুন নুবালা বি-তারিখে হালাবাশ শাহবা'। অন্যটি সংকলনের কাজ করছেন আমাদের অপর বন্ধু কবি ও সাহিত্যিক (মিখাইল ইবন আন্তুন), যিনি সাককাল নামে প্রসিদ্ধ। আমরা এই উভয় ইতিহাসগ্রন্থের বিষয়ে এদের রচয়িতাদের জীবনী আলোচনা করার সময় বিস্তারিত বলেছি, যা আমরা জীবনী অধ্যায়ে উল্লেখ করব; তাই এখানে কেবল এ দুটির প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেই ক্ষান্ত হলাম।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌أسماء مدينة حلب ووجه تسميتها باسمها الحالي

يقال إن هذه المدينة سميت باسم بانيها الأول وهو حلب بن مهر بن خاب «1» . قلت:

هذا الاسم لم نعثر عليه في كتاب معتبر، ولا سمعنا بمن تسمى به. وقيل: إنها سميت بقول العرب (إبراهيم حلب الشهباء) حينما كان مقيما في تل القلعة يحلب كل يوم بقرة له شهباء، ويوزع لبنها على العرب المخيّمين في جواره. وهذا الوجه في تسميتها هو المشهور عند أكثر الحلبيين. على أنه قد يكون له نصيب من الصحة إذا اعتقدنا أن العرب كانوا يترددون على هذا الصقع للميرة والكلأ كجري عادتهم، أو أنهم كانوا يقطنونه مع إخوانهم الآراميين فقد صرح هيرودت واسترابون وغيرهما من قدماء المؤرخين وبعض علماء هذا العصر أن قبائل عديدة من بلاد العرب أو من جانب خليج العجم ارتحلوا إلى سورية منذ قديم الأيام، فمن الجائز أن يكون هذا الصقع عرف عندهم بهذا الاسم أخذا من فعل الخليل عليه السلام، وإن كان له أسماء أخرى عند بقية الأمم، فإن اليهود يسمّون حلب في صكوكهم (أرام صوبا) .

هذا الاسم مذكور في القسم الستين «2» من مزامير داود، وصوبا مذكورة في القسم الثامن من كتاب الملوك «3» وفي القسم الثامن عشر من أخبار الأيام الأول وفي غيرهما.

ويقول بعض العلماء الإسرائيليين: إن كلمة صوبا محرفة عن صهوبه، ومعناها: البياض المشوب بحمرة وإن حلب وضواحيها تتراءى للمقبل عليها بيضاء حمراء لأن بناءها بالحوّار، ولوجود سباخ كثيرة في براريها فسميت بهذا الاسم. اه. قلت: سيأتي لنا في الكلام على قنّسرين أنها هي التي كانت تسمى صوبا. ويقال إن اليهود نقلوا اسمها القديم بعد خرابها إلى حلب. ويحتمل أن تكون كلمة صوبا آرامية ومعناها الناحية أو الطرف أو الموعد أو
হালব শহরের নামসমূহ এবং এর বর্তমান নামকরণের কারণ

বলা হয় যে, এই শহরটি এর প্রথম নির্মাতা হালব বিন মেহর বিন খাব (১)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: আমরা কোনো নির্ভরযোগ্য গ্রন্থে এই নামের সন্ধান পাইনি এবং এই নামে কাউকে ডাকা হয়েছে বলেও শুনিনি। আরও বলা হয় যে: আরবদের উক্তি (ইবরাহীম 'আশ-শাহবা' দোহন করেছেন) থেকে এর নামকরণ করা হয়েছে, যখন তিনি কেল্লার টিলায় অবস্থান করতেন এবং প্রতিদিন তাঁর একটি সাদা-কালো বর্ণের গাভী দোহন করতেন এবং এর দুধ পার্শ্ববর্তী তাবু খাটিয়ে বসবাসরত আরবদের মাঝে বিতরণ করতেন। নামকরণের এই কারণটিই অধিকাংশ হালববাসীর নিকট প্রসিদ্ধ। তবে এতে কিছুটা সত্যতা থাকতে পারে যদি আমরা বিশ্বাস করি যে, আরবরা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী ও পশুখাদ্যের সন্ধানে এই অঞ্চলে যাতায়াত করত, অথবা তারা তাদের আরামীয় ভাইদের সাথে এখানে বসবাস করত; কেননা হেরোডোটাস, স্ট্রাবো এবং অন্যান্য প্রাচীন ইতিহাসবিদ ও বর্তমান যুগের কিছু পণ্ডিত স্পষ্ট করেছেন যে, আরব ভূখণ্ড বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অসংখ্য গোত্র প্রাচীনকাল থেকেই সিরিয়ায় হিজরত করেছিল। সুতরাং এটি সম্ভব যে, খলীল (আলাইহিস সালাম)-এর কর্ম থেকে এই অঞ্চলটি তাদের কাছে এই নামে পরিচিতি লাভ করেছিল, যদিও অন্যান্য জাতির কাছে এর ভিন্ন নাম ছিল। কেননা ইহুদিরা তাদের দলিলাদিতে হালবকে ‘আরাম সোবা’ নামে অভিহিত করে।

এই নামটি দাউদ (আলাইহিস সালাম)-এর যাবূরের ৬০তম অধ্যায়ে (২) বর্ণিত হয়েছে এবং ‘সোবা’ নামটি কিতাবুল মুলুক-এর অষ্টম অধ্যায়ে (৩), আখবারুল আইয়াম আল-আউওয়ালের অষ্টাদশ অধ্যায়ে এবং অন্যান্য স্থানে উল্লিখিত হয়েছে।

কিছু ইসরায়েলি পণ্ডিত বলেন: ‘সোবা’ শব্দটি ‘সুহুবা’ থেকে বিকৃত হয়েছে, যার অর্থ: লাল মিশ্রিত শুভ্রতা। হালব ও এর আশপাশের এলাকা আগন্তুকদের কাছে সাদা-লাল প্রতীয়মান হয়, কারণ এর দালানকোঠাগুলো চুনাপাথর দিয়ে নির্মিত এবং এর প্রান্তরে অনেক লোনাভূমি বিদ্যমান। এ কারণেই একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। (সমাপ্ত)। আমি বলছি: কিন্নাসরীন সম্পর্কে আলোচনার সময় আমাদের সামনে আসবে যে, সেটিকেই ‘সোবা’ বলা হতো। বলা হয় যে, ইহুদিরা কিন্নাসরীন ধ্বংস হওয়ার পর এর প্রাচীন নামটি হালবে স্থানান্তরিত করেছে। এটিও সম্ভব যে, ‘সোবা’ শব্দটি আরামীয় ভাষার এবং এর অর্থ হলো অঞ্চল, দিক বা প্রতিশ্রুত স্থান অথবা...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
المجتمع أو المنتهى. وهذه معان يوافق بعضها معاني الصوب في اللغة العربية. وعلى كل حال فإن أول من سكن صقع حلب هم الآراميون. وأما الكتابة الهيروكليفية في ظاهر الحجر الأسود في جدار جامع القيقان فهي لا تصلح أن تكون دليلا على أن أول من سكن حلب هم المصريون «1» إنما يستدل بها على مجيئهم إليها لا غير. وقد سماهم في «تحفة الأنباء» : العمالقة. وهو غلط. ولا شاهد على أنها كانت تسمى بلغتهم هلبون وهلبة إذ لم نسمعه ممن يعتدّ به. كما لا صحة لقول من قال: إن اليونان كانت تسميتها «خلبة» بالخاء المعجمة لعدم وجود الحاء المهملة بلغتهم إلا أن تكون كلمة «خلبة» تحريف حلب.

ولا يجوز أن يكون اليونان أخذوا هذا الاسم عن المصريين الذين كانوا يسمونها هلبة على رأي القائل به، فإن اليونان كانوا يسمونها بغير هذا الاسم، قيل هو برويا ومعناه البرّ يرى، وذلك لأن من كان في قلعة حلب يرى البرّ منها. لكن هذا إنما يصحّ فيما إذا كان هذا الاسم مركبا من كلمتين عربيتين وهو بعيد. وفي معجم ياقوت أن اسم حلب بالسريانية «باروّا» . وقرأت في وريقات تاريخية مطبوعة تنسب إلى حضرة البطريرك أفرام رحماني الثاني أن المقدونيين لما استولوا على بلاد سوريا أطلقوا على مدينة حلب اسم بروّا اقتداء باسم إحدى المدن اليونانية في بلاد «تراقي» غير أن الأهالي حافظوا على اسمها القديم اه.

فالمفهوم من هذا أن كلمة بارّوا أو بروّا يونانية لا سريانية، كما قال ياقوت. وأطلق كزانفون اليوناني تلميذ سقراط الحكيم كلمة «حلب» على جميع الصقع الممتد من أذنه إلى الفرات.

ويقال إن الصابئية كانت تسميها مابرغ «2» . والصواب أن هذا أحد اسمي منبج. كما ستقف عليه في الكلام على منبج.

إن الأستاذ منكه الفرنسوي الجغرافي الشهير سماها في أطلسه التاريخي في خارتة آشور «يره بوليس» . (والصواب أن يره بوليس هو أشهر اسمي منبج القديمة في الدولة اليونانية) وفي خارطة بني إسرائيل حلب وأطلق لفظ أرام صوبا على كورة بين حلب وحماة.

قلت: الأقرب إلى الصواب أن يطلق هذا الاسم على كورة حلب نفسها، كما هو
সমষ্টি বা গন্তব্য। আর এগুলো এমন কিছু অর্থ যা আরবি ভাষায় 'সওব' শব্দের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যাই হোক, আলেপ্পো অঞ্চলে প্রথম যারা বসবাস করেছিল তারা ছিল আরামীয়রা। আর কাইকান মসজিদের দেয়ালের বহির্ভাগের কালো পাথরে খোদাই করা হায়ারোগ্লিফিক লিপিটি আলেপ্পোতে প্রথম বসবাসকারী হিসেবে মিশরীয়দের গণ্য করার ক্ষেত্রে প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। বরং এটি কেবল সেখানে তাদের আগমনের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে মাত্র। 'তুহফাতুল আনবা' গ্রন্থে তাদেরকে 'আমালেকা' বলা হয়েছে, যা ভুল। তাদের ভাষায় শহরটিকে 'হালবুন' বা 'হালবাহ' বলা হতো এমন কোনো প্রমাণ নেই, কারণ নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে আমরা তা শুনিনি। তেমনিভাবে যারা বলেন যে গ্রীকরা একে নুকতাহযুক্ত 'খা' দিয়ে 'খালবাহ' বলত, তাদের কথারও কোনো ভিত্তি নেই। কেননা তাদের ভাষায় নুকতাহবিহীন 'হা' বর্ণের অস্তিত্ব না থাকার কারণে হয়তো 'খালবাহ' শব্দটি 'হালব' শব্দেরই একটি বিকৃত রূপ হয়ে থাকবে।

আর গ্রীকরা এই নামটি মিশরীয়দের কাছ থেকে নিয়েছে—যারা একে 'হালবাহ' বলত বলে প্রচলিত মত রয়েছে—তা হওয়া সম্ভব নয়। কারণ গ্রীকরা একে অন্য নামে ডাকত। বলা হয় যে সেই নামটি হলো 'বেরোয়া', যার অর্থ হলো 'স্থলভাগ দেখা যায়'। এর কারণ হলো আলেপ্পো দুর্গ থেকে উন্মুক্ত প্রান্তর বা স্থলভাগ দেখা যেত। তবে এটি কেবল তখনই সঠিক হতে পারত যদি নামটি দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হতো, যা বেশ অসম্ভব। ইয়াকুতের অভিধানে উল্লেখ আছে যে সিরিয়াক ভাষায় আলেপ্পোর নাম ছিল 'বারুয়া'। আমি পোপ দ্বিতীয় এফ্রাম রহমানীর নামে প্রচলিত কিছু মুদ্রিত ঐতিহাসিক পাতায় পড়েছি যে, মেসিডোনিয়ানরা যখন সিরিয়া জয় করে, তখন তারা 'থ্রেস' অঞ্চলের একটি গ্রীক শহরের নামানুসারে আলেপ্পো শহরের নাম রেখেছিল 'বেরোয়া'। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এর প্রাচীন নামটিই ধরে রেখেছিল। সমাপ্ত।

এ থেকে বোঝা যায় যে 'বারুয়া' বা 'বেরোয়া' শব্দটি গ্রীক, সিরিয়াক নয়, যেমনটি ইয়াকুত বলেছিলেন। বিজ্ঞ সক্রেটিসের ছাত্র গ্রীক লেখক জেনোফোন 'হালব' শব্দটি আদানা থেকে ইউফ্রেটিস পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র অঞ্চলের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

বলা হয় যে সাবেয়ীরা একে 'মাবারগ' বলত। তবে সঠিক তথ্য হলো এটি 'মানবিজ' শহরের দুটি নামের একটি। মানবিজ সংক্রান্ত আলোচনায় আপনি এটি বিস্তারিত জানতে পারবেন।

বিখ্যাত ফরাসি ভূগোলবিদ প্রফেসর মাঙ্ক তার ঐতিহাসিক অ্যাটলাসে আসিরিয়ার মানচিত্রে একে 'হায়ারাপোলিস' নামে অভিহিত করেছেন। (অথচ সঠিক হলো এই যে, গ্রীক শাসনামলে প্রাচীন মানবিজের দুটি বিখ্যাত নামের একটি হলো হায়ারাপোলিস)। বনী ইসরায়েলের মানচিত্রে একে 'হালব' বলা হয়েছে এবং আলেপ্পো ও হামার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে 'আরাম সোবা' বলে অভিহিত করা হয়েছে।

আমি বলি: অধিকতর সঠিক হলো এই যে, এই নামটি খোদ আলেপ্পো অঞ্চলের জন্যই প্রযোজ্য, যেমনটি...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
المفهوم من أخبار الحروب التي أقامها داود مع ملوك صوبا، وكانت الكورة تضاف إلى قنّسرين التي كانت تسمى صوبا عند الإسرائيليين.

وأطلق الأستاذ منكه كلمة آرام نهرايم على كورة بين حلب والعراق. وهي الجزيرة وآرام دمسقو على كورة بين حماة ودمشق وسماها في خارتة الفرس في عهد دارا خلب بالخاء المعجمة. وأطلق لفظ برويا في خارتة انطاكية في عهد بانيها الأول أنطيكوس على الطريق المتوسطة بين حلب وانطاكية، وسماها في خارتة بوتينانوس حلب. ولم يزل يسميها بهذا الاسم إلى البعثة المحمدية.

قال بعضهم إن لفظة «حلب» محرّكة بلد بالشام، معرّبة عن «ألبّ» ، بكسر اللام وتشديد الباء. منقولة عن اسم مجددها «ألبيوس» الشهير من وزراء بوليانوس العاصي واسمها القديم بيريا. قلت: لا صحة لهذا لأن «ألبيوس» المذكور كان بعد المسيح عليه السلام وقد علمت أنها كانت تسمى بهذا الاسم في عهد بني إسرائيل.

والذي أراه في هذه الكلمة وتطمئن إليه نفسي أنها سريانية محرفة عن «حلبا» بالألف ومعناها البيضاء، ثم حذفت ألفها بالاستعمال جريا على قاعدة المتكلمين باللغة السريانية من أنهم يحذفون هذه الألف في كلامهم، وأن إتباع حلب بكلمة الشهباء، التي معناها البيضاء، مما وضعه العرب كالتفسير لكلمة حلب، وأن السريانيين كانوا يسمونها بهذا الاسم لما كان يشاهد من بياض تربتها لكثرة سباخها ومادة حوّارها، ولأن عمائرها كانت تبنى بالحوار الأبيض المأخوذ من مغائرها القريبة منها كمغارة المعادي وباقي المغائر المعروفة فكانت مناظرها بيضاء كمناظر مدينة عينتاب والرها وغيرهما من البلاد التي ما زالت تبنى عمائرها من هذه المادة حتى الآن.

يؤيد أن لفظة حلب سريانية وجود محلات في نفس مدينة حلب لم تزل حتى الآن تسمى بأسماء سريانية، وهي: بنقوسا، وبحسيتا، اللتان «1» سنتكلم عليهما في الباب الأول بعد المقدمة. كما أن كثيرا من القرى التابعة حلب لم تزل أسماؤها حتى الآن سريانية.

كما سيرد عليك في محله والله أعلم.
দাউদ (আ.) এবং জোবাহ-এর রাজাদের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধসমূহের সংবাদ থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, এই অঞ্চলটি কিননাসরিনের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাকে বনী ইসরাঈলদের নিকট জোবাহ বলা হতো।

অধ্যাপক মেঙ্কে 'আরাম নাহারাইম' শব্দটি হালব এবং ইরাকের মধ্যবর্তী একটি অঞ্চলের জন্য ব্যবহার করেছেন, যা হলো আল-জাজিরা। আর 'আরাম দামেস্কু' শব্দটি হামাহ ও দামেস্কের মধ্যবর্তী অঞ্চলের জন্য ব্যবহার করেছেন। দারা-র আমলে পারস্যের মানচিত্রে তিনি একে 'খ' বর্ণ সহযোগে 'খালাব' নামে অভিহিত করেছেন। প্রথম নির্মাতা অ্যান্টিওকাসের আমলে আনতাকিয়ার মানচিত্রে হালব ও আনতাকিয়ার মধ্যবর্তী পথকে 'বেরোয়া' বলা হয়েছে, এবং পুতিনিয়ানাসের মানচিত্রে একে 'হালব' বলা হয়েছে। নবুয়তে মুহাম্মাদী পর্যন্ত একে এই নামেই অভিহিত করা হতো।

কেউ কেউ বলেছেন যে, 'হালব' (স্বরচিহ্নযুক্ত) শব্দটি শামের একটি শহর, যা 'আলিব্ব' (লাম-এর নিচে কাসরা এবং বা-তে তাশদীদসহ) শব্দ থেকে আরবিকৃত। এটি এর সংস্কারক আলবিউস-এর নাম থেকে উদ্ভূত, যিনি বিদ্রোহী জুলিয়ানাসের একজন বিখ্যাত উজির ছিলেন এবং এর প্রাচীন নাম ছিল বেরিয়া। আমি বলি: এর কোনো সত্যতা নেই, কারণ উল্লিখিত 'আলবিউস' ঈসা (আ.)-এর পরবর্তী সময়ের ব্যক্তি, অথচ আপনি অবগত হয়েছেন যে বনী ইসরাঈলদের আমলেও একে এই নামেই ডাকা হতো।

এই শব্দটি সম্পর্কে আমার নিজস্ব অভিমত এবং যাতে আমার মন আশ্বস্ত হয় তা হলো, এটি মূলত সিরিয়াক শব্দ 'হালবা' (শেষে আলিফসহ) থেকে পরিবর্তিত রূপ, যার অর্থ সাদা। পরবর্তীতে সিরিয়াক ভাষাভাষীদের ব্যাকরণিক রীতি অনুযায়ী ব্যবহারের ফলে এর আলিফটি বিলুপ্ত হয়ে যায়, কারণ তারা তাদের কথ্য ভাষায় এই আলিফটি বিলোপ করে থাকে। আর 'হালব' শব্দের সাথে 'আশ-শাহবা' (যার অর্থ সাদা) বিশেষণটি যুক্ত করা মূলত আরবদের পক্ষ থেকে 'হালব' শব্দের একটি ব্যাখ্যা স্বরূপ। সিরিয়াকরা একে এই নামে ডাকত কারণ এর মাটির শুভ্রতা, লোনা মাটির আধিক্য এবং চুনাপাথরের উপাদানের কারণে। এছাড়া এর অট্টালিকাগুলো নিকটস্থ গুহা যেমন মাআদি গুহা এবং অন্যান্য পরিচিত গুহা থেকে সংগৃহীত সাদা পাথর দিয়ে নির্মিত হতো। ফলে এর দৃশ্য ছিল অত্যন্ত শুভ্র, যেমনটা আইনতাব, রুহা এবং অন্যান্য শহরের ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেখানকার ভবনগুলো আজও এই উপাদান দিয়ে নির্মিত হয়ে আসছে।

'হালব' শব্দটি সিরিয়াক হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণ হলো খোদ হালব শহরের ভেতরে এমন কিছু এলাকা রয়েছে যা আজও সিরিয়াক নামে পরিচিত, যেমন: বানকুসা এবং বাহসিতা; যে দুটি সম্পর্কে আমরা ভূমিকার পরে প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করব। ঠিক তেমনিভাবে হালবের অধীনস্থ অনেক গ্রামের নামও আজও সিরিয়াক রয়ে গেছে।

যা যথাস্থানে আপনার সামনে উপস্থাপিত হবে। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌جغرافية مدينة حلب

اعلم أن مدينة حلب جديرة أن تعد في مقدمة المدن العظيمة لحسن منظرها وحصانتها وتموّل أهلها وكثر تجارتها وعمرانها. وكانت ولم تزل محطّ رحال قوافل دمشق والبصرة وأصبهان وإسلامبول. وهي من أمهات مدن بر الشام وإحدى المدن الأصلية في أواسط آسيا. وولاية حلب تأخذ القسم الأعظم من سوريا. والقسم الذي هي فيه يسمى عند القدماء سوريا كوماجان. أي سوريا ذات الهضاب. ثم إن مدينة حلب يحدّها قبلة أراضي قرية الشيخ سعيد وصقلاية، وشرقا أراضي قرية النيرب، وغربا جبل الجوشن «1» ، وأراضي الحلبة وراء نهر قويق، وشمالا بساتين بابلي وبعاذين التي تنتهي إلى أراضي قرية حيلان. وهي واقعة في صعيد ينتهي طرفه الشمالي إلى جبال الشيخ زيات، والغربي إلى جبل الجوشن، والجنوبي إلى جبل الحوشن، والجنوبي إلى جبال الأحص «2» ، وتبعد نهاية طرفه الشرقي. والبقعة التي قامت فيها أبنية مدينة حلب من هذا الصعيد يوجد فيها بعض ارتفاع وانخفاض من جهات متعددة ويصح أن يطلق على ما نشز «3» منها اسم ربوة.

ويمكن حصره في سبع ربوات وهي: قلعة الشريف، وعقبة بني المنذر، عقيبة الياسمين، وغربي حارة الجلّوم، ومحلّة أوغل بك المعروفة أيضا باسم باب الأحمر، والكلتاوية، وبندرة اليهود. على أن الجهة الجنوبية والشمالية من هذه البقعة متوازيتان بالارتفاع، ولربما زادت جهتهما الشمالية على جهتهما الجنوبية ارتفاعا. وهاتان الجهتان تأخذان بالانحطاط حتى يستقر قرارهما في محلة الجلّوم وما قاربها من المحلات الداخلة في السور، سيّما الجامع الأموي، فإنه في مطمئن عظيم، كما هو مشاهد. وادعى بعض الناس أن رأس منارة الأموي يوازي عتبة باب محلة أوغل بك.
আলেপ্পো শহরের ভূগোল

জেনে রাখুন যে, আলেপ্পো শহরটি তার চমৎকার দৃশ্যপট, সুরক্ষিত দুর্গ, অধিবাসীদের সচ্ছলতা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও নগর উন্নয়নের প্রাচুর্যের কারণে শ্রেষ্ঠ শহরগুলোর প্রথম সারিতে গণ্য হওয়ার যোগ্য। এটি দামেস্ক, বসরা, ইসফাহান ও ইস্তাম্বুলগামী কাফেলাগুলোর বিশ্রামস্থল ছিল এবং আজও তা বিদ্যমান। এটি শাম তথা সিরিয়া ভূখণ্ডের প্রধান শহরগুলোর অন্যতম এবং মধ্য এশিয়ার মূল শহরগুলোর একটি। আলেপ্পো প্রদেশটি সিরিয়ার বৃহত্তম অংশ জুড়ে বিস্তৃত। শহরটি যে অংশে অবস্থিত, প্রাচীনদের কাছে তা ‘সিরিয়া কোমাগেন’ নামে পরিচিত ছিল, যার অর্থ হলো পাহাড়বেষ্টিত সিরিয়া। আলেপ্পো শহরের দক্ষিণ দিকে শেখ সাঈদ গ্রাম ও সাকলাইয়া অঞ্চলের ভূমি, পূর্বে নায়রাব গ্রামের ভূমি, পশ্চিমে জাবালুল জাওশান ও কুওয়াইক নদীর ওপারের হালবা ভূমি এবং উত্তরে বাবেলি ও বাআযিন বাগানসমূহ অবস্থিত, যা হাইলান গ্রামের ভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি এমন এক সমতল উচ্চভূমিতে অবস্থিত যার উত্তর প্রান্ত শেখ যাইয়াত পাহাড় পর্যন্ত, পশ্চিম প্রান্ত জাবালুল জাওশান পর্যন্ত এবং দক্ষিণ প্রান্ত আল-আহাস পাহাড় পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে, আর এর পূর্ব প্রান্তটি বেশ দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উচ্চভূমির যে অংশে আলেপ্পো শহরের দালানকোঠাগুলো গড়ে উঠেছে, সেখানে বিভিন্ন দিকে কিছু উঁচু-নিচু জায়গা রয়েছে এবং এর উঁচু অংশগুলোকে ‘টিলা’ বলে অভিহিত করা সঠিক।

এগুলোকে সাতটি টিলায় সীমাবদ্ধ করা যায়, যথা: কালআতুশ শরীফ, আকাবাতু বানি মুনযির, আকাইবাতুল ইয়াসমীন, জাল্লুম মহল্লার পশ্চিমাংশ, ওগুল বেগ মহল্লা (যা বাবুল আহমার নামেও পরিচিত), কালতাউইয়্যাহ এবং বান্দারাতুল ইয়াহুদ। তবে এই ভূখণ্ডের দক্ষিণ ও উত্তর দিক উচ্চতায় প্রায় সমান, তবে সম্ভবত উত্তর দিকটি দক্ষিণ দিকের তুলনায় কিছুটা বেশি উঁচু। এই উভয় দিক ক্রমশ ঢালু হয়ে অবশেষে জাল্লুম মহল্লা এবং প্রাচীরের অভ্যন্তরে অবস্থিত এর নিকটবর্তী মহল্লাগুলোতে গিয়ে মিশেছে। বিশেষ করে উমাইয়া মসজিদটি একটি বিশাল নিচু স্থানে অবস্থিত, যা প্রত্যক্ষ করা যায়। কেউ কেউ দাবি করেন যে, উমাইয়া মসজিদের মিনারের শীর্ষদেশ ওগুল বেগ মহল্লার প্রবেশদ্বারের চৌকাঠের সমান উঁচু।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
ثم إن محيط سور هذه المدينة يبلغ نحو ثمانية أميال «1» ، وأما محيطها خارج السور فربما زاد على خمسة عشر ميلا. ونهرها المعروف بنهر قويق وافد عليها من جهة شمالها آخذ إلى جنوبها وغربيّها ساقيا ما على حافتيه من البساتين التي تستوعب مسافة أربع ساعات طولا من قرية حيلان إلى منتهى أراضي قرية الوضيحي. وإذا نظرت إلى المدينة وأنت مقبل عليها من أي جهة كانت، تراءت لك عروسا من عرائس البلدان، قد حفّتها البساتين من غربيها وبعض شماليّها. وكروم العنب وبساتين التين والفستق والزيتون من بقية جهاتها. وقام في وسطها قلعتها المشهورة كملك عظيم، حفت به الجواري الحسان التي هي منارات المدينة البديعة المنظر، خصوصا في ليالي المواسم الدينية، فإنها تكون فيها منوّرة بالمصابيح التي تحاكي النجوم الزواهر. وربما تتراءى القلعة المذكورة وبعض المنارات من بعد ثلاث ساعات من أكثر الجهات التي تقبل منها على حلب. وقد تشاهد منارة القلعة وقت الغروب من جبل الزاوية الواقع على سفحه قصبة ريحا.

‌‌ساحات حلب وخراباتها

يوجد في مدينة حلب عدة ساحات، أعظمها «ساحة برية المسلخ» خارج باب النيرب، شرقّي الخندق الرومي الذي كان محيطا بسور البلدة. وقد عمر الآن في بعض جوانبها بيوت ودكاكين وفرن ومسجد وميدان. وهذه الساحة هي سوق تجار الغنم والجمال.

ومن الساحات المشهورة: «ساحة الملح» وكانت تسمى الميدان الأسود. وهي داخل باب النيرب تجاه جامع ألتون بغا. «وساحة بزّي» داخل باب المقام وقد عمر أكثرها دورا وحوانيت متنوعة. «وساحة التّنانير» خارج باب النصر في قرب حارة الجديدة إلى شرقيها وغربي قسط المشط. وهذه أيضا عمر أكثرها ولم يبق منها إلا القليل. ويوجد بمدينة حلب عدة خرابات فسيحة خربت من مرور الحوادث كالزلازل والحرائق، وأعظمها خرابة تحت القلعة تبلغ مساحتها زهاء خمسين ألف ذراع شطرنجي. وكانت مزدحمة بالأبنية العظيمة كالحمامات والخانات والمدارس والمساجد. كما ستقف عليه في باب الآثار إن شاء
অতঃপর এই শহরের প্রাচীরের পরিধি প্রায় আট মাইল, আর প্রাচীরের বাইরে এর পরিধি সম্ভবত পনেরো মাইলেরও বেশি। এর নদীটি ‘কুয়াইক নদী’ নামে পরিচিত, যা উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে শহরের ভেতর দিয়ে দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে এবং এর দুই তীরের বাগানগুলোকে সিঞ্চিত করে, যা হাইলান গ্রাম থেকে আল-ওয়াদিহি গ্রামের শেষ সীমানা পর্যন্ত দৈর্ঘ্যে প্রায় চার ঘণ্টার পথ বিস্তৃত। যেকোনো দিক থেকে আপনি যখন শহরের দিকে অগ্রসর হবেন, তখন আপনার কাছে একে শহরসমূহের মধ্যে এক অনিন্দ্যসুন্দর কনের মতো মনে হবে, যাকে পশ্চিম দিক এবং উত্তরের কিছু অংশ থেকে বাগানসমূহ ঘিরে রেখেছে। আর অন্যান্য দিক থেকে আঙুর খেত এবং ডুমুর, পেস্তা ও জলপাইয়ের বাগানসমূহ একে পরিবেষ্টন করে আছে। শহরের মাঝখানে এর বিখ্যাত দুর্গটি একজন মহান রাজার মতো দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ঘিরে রয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর দাসীস্বরূপ শহরের চমৎকার মিনারগুলো; বিশেষ করে ধর্মীয় উৎসবের রাতগুলোতে যখন এগুলো প্রদীপমালায় আলোকিত হয়, যা উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজির সদৃশ হয়ে ওঠে। আলেপ্পোর দিকে আসার সময় অধিকাংশ দিক থেকেই প্রায় তিন ঘণ্টার দূরত্ব থেকে উক্ত দুর্গ এবং কিছু মিনার দৃশ্যমান হয়। সূর্যাস্তের সময় জাবালে যাউয়িয়া থেকে দুর্গের মিনারটি দেখা যেতে পারে, যার পাদদেশে রিহা নামক জনপদটি অবস্থিত।

‌‌আলেপ্পোর চত্বর ও ধ্বংসাবশেষসমূহ

আলেপ্পো শহরে বেশ কিছু চত্বর রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ‘সাহাতু বাররিয়াতিল মাসলাখ’ (কসাইখানার মাঠ) যা বাবুন নাইরাব-এর বাইরে, রোমান পরিখার পূর্ব দিকে অবস্থিত যা শহর প্রাচীরকে পরিবেষ্টন করে ছিল। বর্তমানে এর কিছু পার্শ্বে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, তন্দুর, মসজিদ ও ময়দান নির্মিত হয়েছে। আর এই চত্বরটি হলো ভেড়া ও উটের ব্যবসায়ীদের বাজার।

বিখ্যাত চত্বরগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘সাহাতুল মিলহ’ (লবণের চত্বর), যাকে ‘আল-মাইদানুল আসওয়াদ’ বলা হতো। এটি বাবুন নাইরাব-এর ভেতরে আলতুন বুগা মসজিদের বিপরীতে অবস্থিত। ‘সাহাতু বাযযি’ বাবুল মাকাম-এর ভেতরে অবস্থিত এবং এর অধিকাংশ স্থানে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন ধরণের দোকান গড়ে উঠেছে। ‘সাহাতুত তানানুর’ বাবুন নাসর-এর বাইরে আল-জাদিদাহ মহল্লার সন্নিকটে এর পূর্ব দিকে এবং কাসতুল মাশত-এর পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এরও অধিকাংশ স্থানে স্থাপনা গড়ে উঠেছে এবং সামান্য অংশই অবশিষ্ট আছে। আলেপ্পো শহরে বেশ কিছু প্রশস্ত ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যা ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো ঐতিহাসিক দুর্ঘটনার কারণে বিরান হয়ে গেছে। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো দুর্গের নিচের ধ্বংসাবশেষটি, যার আয়তন প্রায় পঞ্চাশ হাজার বর্গ হাত। এটি একসময় গোসলখানা, সরাইখানা, মাদরাসা ও মসজিদের মতো বিশাল সব অট্টালিকায় জনাকীর্ণ ছিল। যেমনটি আপনি সামনে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অধ্যায়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন, যদি আল্লাহ চান।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
الله تعالى. ومن الخرابات التي هي داخل حلب أيضا خرابة تتصل بالخرابة المتقدم ذكرها من درب الحزيزاتي، وتعرف بخرابة إسماعيل باشا. وتبلغ نحو عشرة آلاف ذراع شطرنجي.

وقد عمرت في هذه الأيام دورا وحوانيت، ولم يبق منها سوى القليل، ويوجد منها جانب عظيم جار في أوقاف جامع منكلي بغا المعروف بجامع الرومي، وبقيتها مملوكة لبعض الناس.

‌‌حدود ولاية حلب

ولاية حلب باعتبار ما يتبعها من المدن والقصبات والقرى، التي ترجع حكامها إلى أوامر حكام حلب أيام الحكومة العثمانية، يحدّها من جهة الجنوب لواء حماة من ولاية سورية التي مركز واليها مدينة دمشق الشام. ومن الغرب البحر الأبيض المتوسط، ثم ولاية أذنة.

ومن الشمال ولاية سيواس. ومن الشرق ولاية ديار بكر، وولاية معمورة العزيز ولواء الزور، الذي سنتكلم عليه في الباب الذي عقدناه في الكلام على البلدان التابعة ولاية حلب، فولاية حلب تستوعب مسافة طولها من الشرق إلى الغرب خمس وثمانون ساعة وعرضها من الجنوب إلى الشمال تسعون ساعة. وهذه المسافة كان يحكمها من قبل الدولة العثمانية وال مركزه حلب، وتنفذ أوامره إلى متصرّفين اثنين وثلاثة عشر وكيلا يعرف بالقائمقام.

أما المتصرفان فمركز أحدهما مدينة الرّها وأوامره تنفذ إلى ثلاثة وكلاء، ومراكزهم:

سروج وقلعة الروم والبيرة. وفي سنة 1328 قرر مجلس النواب فصل هذه المتصرفية عن ولاية حلب واستقلالها بالمخابرة توا مع استانبول. ومركز المتصرف الثاني مرعش وأوامره تنفذ إلى أربعة وكلاء مركزهم: الزيتون والبستان وأندرين وبازارجق. وأما الثلاثة عشر وكيلا فتتبع لواء حلب ومراكزهم: قصبة إدلب وبيلان ومنبج ومعرّة النعمان وعينتاب وإسكندرونة والباب وحارم وانطاكية وجسر الشغر، وكلّز ودارة عزة وتعرف بقضاء جبل سمعان، وقد رتب لها وكيل جديد. والمركز الثالث عشر الرقة وكانت تابعة متصرفية الزور، ثم ألحقت بلواء حلب. وسنثبت في عدد سكان كل لواء وقضاء جداول يعلم منها حدود الولاية على وجه الضبط والتحقيق.

ثم إن كل واحد من هؤلاء الوكلاء تنفذ أوامره إلى عدة مديرين مراكزهم في نواحي الإقليم الحاكم عليه ذلك الوكيل، وكل واحد من هؤلاء المديرين تنفذ أوامره إلى عدة من مختاري القرى التي في ناحيته. وجميع مديري نواحي الولاية نحو سبعة عشر مديرا وجميع
মহান আল্লাহ। আলেপ্পোর অভ্যন্তরে অবস্থিত ধ্বংসাবশেষগুলোর মধ্যে একটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যা হাজিজাতি পথ থেকে ইতিপূর্বে উল্লিখিত ধ্বংসাবশেষের সাথে সংযুক্ত এবং এটি ইসমাইল পাশার ধ্বংসাবশেষ নামে পরিচিত। এর আয়তন প্রায় দশ হাজার শতরঞ্জি হাত।

বর্তমানে এখানে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মিত হয়েছে এবং এর সামান্য অংশই অবশিষ্ট আছে। এর একটি বড় অংশ মানকালি বুগা মসজিদের ওয়াকফভুক্ত, যা রুমি মসজিদ নামে পরিচিত, আর বাকি অংশটি কিছু লোকের মালিকানাধীন।

‌‌আলেপ্পো প্রদেশের সীমানা

উসমানীয় শাসনের যুগে যেসকল শহর, নগর ও গ্রাম আলেপ্পোর শাসকদের আদেশের অনুগত ছিল, সেই হিসেবে আলেপ্পো প্রদেশের দক্ষিণ দিকে রয়েছে সিরিয়া প্রদেশের হামা জেলা, যার গভর্নরের কেন্দ্র হলো দামেস্ক শহর। পশ্চিম দিকে রয়েছে ভূমধ্যসাগর এবং এরপর আদানা প্রদেশ।

উত্তর দিকে সিভাস প্রদেশ। পূর্ব দিকে দিয়ারবাকির প্রদেশ, মামুরাতুল আজিজ প্রদেশ এবং যুর জেলা, যা সম্পর্কে আমরা আলেপ্পো প্রদেশের অধীনস্থ শহরগুলোর আলোচনায় নির্ধারিত অধ্যায়ে আলোচনা করব। আলেপ্পো প্রদেশটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে পঁচাশি ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে নব্বই ঘণ্টা প্রস্থের একটি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। এই অঞ্চলটি উসমানীয় সালতানাতের পক্ষ থেকে একজন গভর্নর শাসন করতেন যার কেন্দ্র ছিল আলেপ্পো, এবং তার আদেশগুলো দুইজন মুতাসাররিফ ও তেরোজন প্রতিনিধির মাধ্যমে কার্যকর হতো যারা কায়েম মাকাম নামে পরিচিত।

দুই মুতাসাররিফের মধ্যে একজনের কেন্দ্র ছিল রুহা শহর এবং তার আদেশগুলো তিনজন প্রতিনিধির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতো, যাদের কেন্দ্রগুলো ছিল: সারুজ, কালআতুর রুম এবং আল-বিরা। ১৩২৮ হিজরি সালে প্রতিনিধি পরিষদ এই মুতাসাররিফাতকে আলেপ্পো প্রদেশ থেকে পৃথক করার এবং সরাসরি ইস্তাম্বুলের সাথে যোগাযোগকারী একটি স্বাধীন প্রশাসনিক ইউনিট করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর দ্বিতীয় মুতাসাররিফের কেন্দ্র ছিল মারাশ এবং তার আদেশগুলো চারজন প্রতিনিধির মাধ্যমে কার্যকর হতো যাদের কেন্দ্র ছিল: যাইতুন, আল-বুস্তান, আন্দারিন এবং বাজারজাক। আর তেরোজন প্রতিনিধি আলেপ্পো জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাদের কেন্দ্রগুলো ছিল: ইদলিব শহর, বাইলান, মানবিজ, মা’আররাতুন নু’মান, আইনতাব, ইস্কান্দারুন, আল-বাব, হারিম, আনতাকিয়া, জিসরুশ শুগুর, কিলিস এবং দারাতে ইজ্জাহ যা জাবালে সামআন জেলা হিসেবে পরিচিত, যার জন্য একজন নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ করা হয়েছিল। ত্রয়োদশ কেন্দ্রটি ছিল রাক্কা, যা যুর মুতাসাররিফাতের অধীনস্থ ছিল, পরবর্তীতে একে আলেপ্পো জেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়। আমরা প্রতিটি জেলা ও মহকুমার জনসংখ্যা বিষয়ক ছকসমূহ উপস্থাপন করব, যা থেকে এই প্রদেশের সীমানা সুনির্দিষ্ট ও যথাযথভাবে জানা যাবে।

অতঃপর এই প্রত্যেক প্রতিনিধির আদেশ বেশ কয়েকজন পরিচালকের মাধ্যমে কার্যকর হতো, যাদের কেন্দ্র ছিল সেই প্রতিনিধির শাসিত অঞ্চলের উপ-জেলাগুলোতে, আর এই প্রত্যেক পরিচালকের আদেশ তার উপ-জেলার গ্রামপ্রধানদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতো। সমগ্র প্রদেশের উপ-জেলা পরিচালকদের সংখ্যা ছিল প্রায় সতেরোজন এবং সকল...
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
القرى التابعة مراكز حكامها نحو ثلاثة آلاف وثلاثمائة وأربع وسبعين قرية. وسنتكلم في الباب الثالث إن شاء الله تعالى على بعض مراكز المتصرفين والقوّام وبعض المديرين.

أما حدود حلب باعتبار ما كان يتبعها من المدن والقصبات والقرى، التي ترجع حكامها إلى أوامر حكام حلب في الأزمان السالفة فذلك شيء يعسر ضبطه جدا. فإن أعمال حلب في تلك الأزمان كانت تتغير زيادة ونقصا كلما تغير عمالها غالبا، ولربما تغيرت زيادة ونقصا في أيام عامل واحد فقط كما يعلم ذلك من تتبع أخبارها في هاتيك الأيام.

ونقل ابن الشحنة عن ابن شداد ما ملخصه أن أعمال حلب كانت تنتهي من جهة الجنوب إلى قرب حمص وكانت حماة من أعمالها. قال: وأما الآن فانفردت حماة عنها وصار بين حدود حلب وحماة بعض أميال، وحدها شرقا الفرات وشمالا دروب الروم وغربا البحر الأبيض. قال: وكانت قبلا تنتهي إلى حدود حمص، ثم إلى جبلة واللاذقية وإلى قرية بقربهما تعرف بالقرشية. وفي معجم البلدان لياقوت أن ما بيد ملكها في أيامه مسيرة خمسة أيام من المشرق إلى المغرب، ومثل ذلك من الجنوب إلى الشمال، وملكها في تلك الأيام هو الملك العزيز.

‌‌حدود دولة حلب

ولاية حلب صارت تدعى منذ سنة 1920 م دولة. قال في كتاب المجموعة السنوية لغرفة تجارة حلب ما مؤداه مع المحافظة على لفظه: بناء على مرسوم رئيس الجمهورية بتاريخ 8 تشرين الأول سنة 1919 ومرسوم أول أيلول سنة 1920 تقرر أن تكون تخوم ولاية حلب:

شمالا: التخوم الشمالية لسنجق إسكندرونة المستقل، كما كان محددا من المنطقة الغربية من الأراضي المحتلة ثم التخوم الشمالية للمنطقة الغربية القديمة، آخر نقطة منها تلتقي بالخط الحديدي شرقي محطة هلمن. ثم خط الحديد، وهو داخل التخوم حتى تل أبيض، ثم خط يجمع بين تل أبيض وخابور.

شرقا: نهر الخابور حتى انصبابه في الفرات ثم نهر الفرات حتى أبو كمال.

جنوبا: الخط المعروف بأبو كمال إلى تدمر ثم الحدود الغربية الشمالية لولاية الشام العثمانية
যেসকল গ্রাম তাদের শাসকদের কেন্দ্রের অধীন সেগুলোর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার তিনশত চুয়াত্তরটি। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা তৃতীয় অধ্যায়ে কিছু মুতাসারিফ (প্রশাসক), কায়েমকাম এবং কিছু পরিচালকদের কেন্দ্র সম্পর্কে আলোচনা করব।

অতীতকালে যেসব শহর, জনপদ ও গ্রাম হালব-এর শাসকদের আদেশের অধীন ছিল, সেই হিসেবে হালব-এর সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। কারণ ঐ সময়ে হালব-এর প্রশাসনিক এলাকাগুলো প্রায়ই এর কর্মকর্তাদের পরিবর্তনের সাথে সাথে হ্রাস-বৃদ্ধি পেত, এমনকি সম্ভবত একজন কর্মকর্তার আমলেই তা হ্রাস-বৃদ্ধি পেত, যেমনটি সেই সময়ের সংবাদগুলো অনুসন্ধান করলে জানা যায়।

ইবনে আশ-শিহনা ইবনে শাদ্দাদ থেকে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যে, হালব-এর প্রশাসনিক এলাকা দক্ষিণ দিক থেকে হিমসের নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং হামাহ্ ছিল এর অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন: বর্তমানে হামাহ্ তা থেকে পৃথক হয়ে গেছে এবং হালব ও হামাহ্-এর সীমানার মধ্যে কয়েক মাইলের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এর পূর্ব সীমান্ত হলো ফোরাত নদী, উত্তরে রোমান গিরিপথ এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর। তিনি বলেন: পূর্বে এর সীমানা হিমসের সীমানা পর্যন্ত পৌঁছাত, অতঃপর জাবলা ও লাতাকিয়া এবং এগুলোর নিকটবর্তী কুরাশিয়া নামক গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইয়াকুত আল-হামাভির 'মুজামুল বুলদান' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, তার সময়ে এর অধিপতির অধীনস্থ এলাকা ছিল পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাঁচ দিনের পথ এবং একইভাবে দক্ষিণ থেকে উত্তরেও, আর সে সময়কার অধিপতি ছিলেন আল-মালিকুল আজিজ।

‌‌হালব রাষ্ট্রের সীমানা

১৯২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে হালব প্রদেশকে 'রাষ্ট্র' (State) বলা হতে থাকে। হালব চেম্বার অফ কমার্সের বার্ষিক সংকলন গ্রন্থে এর মর্মার্থ (মূল শব্দসমূহ অক্ষুণ্ণ রেখে) এভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: ১৯১৯ সালের ৮ অক্টোবর এবং ১৯২০ সালের ১ সেপ্টেম্বরের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী হালব প্রদেশের সীমানা নির্ধারিত হয়েছে নিম্নরূপ:

উত্তর দিকে: স্বাধীন ইস্কানদারুন সানজাক-এর উত্তর সীমান্ত, যেভাবে অধিকৃত ভূমির পশ্চিমাঞ্চল থেকে এটি নির্ধারিত হয়েছিল; অতঃপর পুরাতন পশ্চিমাঞ্চলের উত্তর সীমান্ত, যার শেষ বিন্দু হেলমান স্টেশনের পূর্বে রেললাইনের সাথে মিশেছে। তারপর রেললাইন, যা তেল আবিয়াদ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তর্ভুক্ত, অতঃপর তেল আবিয়াদ ও খাবুরকে সংযোগকারী একটি রেখা।

পূর্ব দিকে: খাবুর নদী ফোরাত নদীতে মিলিত হওয়া পর্যন্ত, অতঃপর ফোরাত নদী আবু কামাল পর্যন্ত।

দক্ষিণ দিকে: আবু কামাল থেকে পালমিরা (তাদমুর) পর্যন্ত সুপরিচিত রেখা, অতঃপর উসমানীয় শাম প্রদেশের উত্তর-পশ্চিম সীমানা।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
القديمة. وتبقى كذلك إلى أن تحدد بدقة تعديات القبائل والرحالة المجاورة لجانبي هذا الخط.

ثم الحدود الشمالية للأراضي العلوية المعينة بموجب القرار عدد 319 في 31 آب سنة 1920 وابتداء من النقطة حيث تلتقي بتخوم ولاية دمشق.

غربا: البحر المتوسط.

‌‌كيف تألفت دولة حلب

تألفت هذه الدولة من ثلاثة ألوية: وهي لواء حلب، ولواء اسكندرونة المستقل، ولواء دير الزور.

يتألف لواء حلب من عشرة أقضية. هي: قضاء جبل سمعان وعزاز والباب ومنبج وجرابلس والمعرة وإدلب وحارم وجسر الشغر وكردطاغ.

ولواء إسكندرونة من قضاء انطاكية وبيلان.

ولواء دير الزور من قضاء أبو كمال وميادين والحسيجة والحميدي والرقة.

‌‌بحيرات ولاية حلب

‌‌بحيرة قلعة المضيق

في ولاية حلب بحيرات كثيرة أعظمها بحيرتان: إحداهما بحيرة كانت تعرف قديما ببحيرة أفامية وتعرف الآن ببحيرة قلعة المضيق، ومحلها قريب من جسر الشغر، بينهما مرحلة وماؤها حلو يأتي إليها من نهر العاصي، وهي عدة بطائح تفوق الحصر بين غابات من الأقصاب، وماء العاصي يدخل إليها من جنوبها ويخرج من شمالها وأرضها موحلة وقعرها قريب من قامة الإنسان، يحيط بها القصب والصفصاف. وفي وسطها كثير من جمم القصب «1» والبردي. وفي أيام الربيع ينبت فيها النيلوفر الأصفر حتى يغطي جميعها، وتبقى المراكب سائرة بينه، ويأتي إليها من طيور الماء ما لم يكن مثله في شيء من البحيرات.
প্রাচীন। এবং এটি তেমনই থাকবে যতক্ষণ না এই রেখার উভয় পার্শ্বে সংলগ্ন উপজাতি ও যাযাবরদের সীমা লঙ্ঘনগুলো সঠিকভাবে নির্ধারিত হয়।

অতঃপর ৩১ আগস্ট ১৯২০ সালের ৩১৯ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্ধারিত আলাউয়ি অঞ্চলের উত্তর সীমানা, এবং সেই বিন্দু থেকে শুরু করে যেখানে এটি দামেস্ক প্রদেশের সীমানার সাথে মিলিত হয়েছে।

পশ্চিমে: ভূমধ্যসাগর।

‌‌যেভাবে আলেপ্পো রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল

এই রাষ্ট্রটি তিনটি লিওয়া (প্রশাসনিক অঞ্চল) নিয়ে গঠিত হয়েছিল: সেগুলো হলো আলেপ্পো লিওয়া, স্বায়ত্তশাসিত ইস্কান্দারুন লিওয়া এবং দির এ-জোর লিওয়া।

আলেপ্পো লিওয়া দশটি কাজা (উপজেলা) নিয়ে গঠিত। সেগুলো হলো: জাবাল সামআন কাজা, আজাজ, আল-বাব, মানবিজ, জারাবুলুস, আল-মা'আররাহ, ইদলিব, হারিম, জিসর আল-শুঘুর এবং কুরদ তাগ।

এবং ইস্কান্দারুন লিওয়া আন্তাকিয়া ও বাইলান কাজা নিয়ে গঠিত।

এবং দির এ-জোর লিওয়া আবু কামাল, মায়াদিন, আল-হাসিজা, আল-হুমাইদি এবং রাক্কা কাজা নিয়ে গঠিত।

‌‌আলেপ্পো প্রদেশের হ্রদসমূহ

‌‌কালাত আল-মাদিক হ্রদ

আলেপ্পো প্রদেশে অনেকগুলো হ্রদ রয়েছে, যার মধ্যে দুটি সবচেয়ে প্রধান: একটি হ্রদ যা প্রাচীনকালে আফামিয়া হ্রদ নামে পরিচিত ছিল এবং বর্তমানে কালাত আল-মাদিক হ্রদ নামে পরিচিত। এর অবস্থান জিসর আল-শুঘুরের নিকটবর্তী, উভয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক মনজিল এবং এর পানি সুপেয় যা আসী নদী থেকে আসে। এটি নলখাগড়ার বনের মাঝে অগণিত জলাভূমি নিয়ে গঠিত। আসী নদীর পানি এর দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবেশ করে এবং উত্তর দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর ভূমি কর্দমাক্ত এবং এর গভীরতা প্রায় মানুষের উচ্চতার সমান, একে নলখাগড়া ও উইলো গাছ পরিবেষ্টন করে আছে। এর মাঝখানে প্রচুর নলখাগড়া ও নলবন রয়েছে। বসন্তের দিনগুলোতে এতে হলুদ নীলুফার জন্মে এমনকি তা সম্পূর্ণ হ্রদকে ঢেকে ফেলে এবং এর মাঝেই নৌকাগুলো চলাচল করতে থাকে। এই হ্রদে এমন সব জলচর পাখি আসে যা অন্য কোনো হ্রদে দেখা যায় না।
(খণ্ড: ১) নাহরুয যাহাব ফী তারীখি হালাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومساحة هذه البحيرة نحو ميلين في مثلهما، ويصاد منها من سمك الحياة والسّلور، وهو السمك الأسود الأملس ما لم يصد مثله من غيرها كثرة ويكون أوان صيده في فصل الشتاء.

‌‌بحيرة أنطاكية

والبحيرة الأخرى بحيرة أنطاكية منبسطة على أراض تعرف بالعمق، على بعد يومين من حلب في غربيّها محاطة بأطراف جبل طوروس وجبل أومانوس والجبل الأعلى وجبل سمعان، وطولها عشرون ميلا وعرضها تسعة أميال، يصب إليها من شماليها ماء نهر عفرين والنهر الأسود ونهر يغرا. ويخرج من جنوبها نهر واحد يتصل بالعاصي تحت جسر الحديد على بعد ميل من أنطاكية. وقرب هذا النهر مصائد للسمك يعرف واحدها باسم (داليان) جارية في تصرّف جماعة معلومين، وفي أواسط هذه البحيرة جزيرة عظيمة يسكن فيها عدد كبير من الأعراب الذين يعانون تربية الجاموس، ويقال لهم جمامسة. والظاهر أن هذه الجزيرة صناعية بدليل سياج قصير حجري عظيم يطيف بها من أسفلها.

في هذه البحيرة من الطيور والأسماك مثل ما في بحيرة قلعة المضيق، غير أن سمك السلور في هذه البحيرة يكون أكبر وأكثر.

كلتا البحيرتين يضمنهما الناس من الحكومة مسانهة «1» بمبالغ لا تقل عن ألف ذهب عثماني، وينقل منها السمك إلى حلب وغيرها مملوحا وغير مملوح.

‌‌جبال الولاية

جبل الثلج وجبل لبنان وجبل اللكام جميعها متصلة ببعضها. وقد يطلق جبل اللكام على السلسلة الجبلية الممتدة من جبال أومانوس من الشمال إلى الجنوب، حتى تجاوز صهيون والشغر والقصير، وتنتهي إلى أنطاكية وهناك تنقطع، ويمر بالعاصي بين منتهى هذه السلسلة وبين جبل موسى المشتمل على قرى الأرمن التابعة قضاء أنطاكية. وإذا كانت هذه السلسلة عند أفامية قابلها جبل آخر يسمى هناك جبل شحشبو «2» نسبة إلى قرية في طرفه الجنوبي
এই হ্রদের আয়তন প্রায় দুই মাইল বাই দুই মাইল। এখান থেকে 'সামাকুল হায়াত' এবং মাগুর জাতীয় মাছ শিকার করা হয়; এটি এক প্রকার কালো এবং মসৃণ মাছ। এখান থেকে যে পরিমাণ মাছ শিকার করা হয়, অন্য কোথাও থেকে তেমনটি হয় না। এর শিকারের উপযুক্ত সময় শীতকাল।

আনতাকিয়া হ্রদ

অপর হ্রদটি হলো আনতাকিয়া হ্রদ, যা 'আল-আমক' নামে পরিচিত ভূমিতে বিস্তৃত। এটি হালাব থেকে পশ্চিম দিকে দুই দিনের দূরত্বে অবস্থিত। এটি তউরাস পর্বতমালা, আমানোস পর্বতমালা, আল-জাবালুল আলা এবং সামআন পর্বতের প্রান্ত দ্বারা বেষ্টিত। এর দৈর্ঘ্য বিশ মাইল এবং প্রস্থ নয় মাইল। এর উত্তর দিক থেকে আফরিন নদী, আসওয়াদ নদী এবং ইগরা নদীর পানি এসে এখানে পড়ে। এর দক্ষিণ দিক থেকে একটি নদী বের হয়েছে যা আনতাকিয়া থেকে এক মাইল দূরে জিসরুল হাদিদ-এর নিচে আসী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এই নদীর কাছে কিছু মৎস্য শিকার ক্ষেত্র রয়েছে, যার একটি 'দালিয়ান' নামে পরিচিত। এগুলো নির্দিষ্ট একদল লোকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। এই হ্রদের মাঝখানে একটি বিশাল দ্বীপ রয়েছে, যেখানে প্রচুর সংখ্যক বেদুঈন বসবাস করে যারা মহিষ পালনে নিয়োজিত; তাদেরকে 'জামামিসা' বলা হয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এই দ্বীপটি কৃত্রিম, যার প্রমাণ হলো এর নিচের অংশকে ঘিরে থাকা একটি বিশাল নিচু পাথুরে বেষ্টনী।

এই হ্রদে কালাআতুল মাদিক হ্রদের মতো অনুরূপ পাখি ও মাছ রয়েছে, তবে এই হ্রদের মাগুর জাতীয় মাছগুলো আকারে বড় এবং সংখ্যায় অধিক হয়ে থাকে।

উভয় হ্রদই মানুষ বার্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে সরকার থেকে ইজারা নেয়, যার পরিমাণ এক হাজার ওসমানী স্বর্ণমুদ্রার কম নয়। এখান থেকে লবণাক্ত ও অলবণাক্ত অবস্থায় মাছ হালাব এবং অন্যান্য স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

প্রদেশের পাহাড়সমূহ

জাবালুস সালজ, লেবানন পাহাড় এবং লাক্কাম পাহাড়—সবগুলোই একে অপরের সাথে সংযুক্ত। কখনো কখনো উত্তর থেকে দক্ষিণে বিস্তৃত আমানোস পর্বতমালা থেকে শুরু করে সাহইউন, আশ-শুগুর এবং আল-কুসাইর অতিক্রম করে আনতাকিয়া পর্যন্ত পৌঁছানো পর্বতশ্রেণিকে লাক্কাম পাহাড় বলা হয়, যেখানে এটি শেষ হয়েছে। এই পর্বতশ্রেণির শেষ প্রান্ত এবং মুসা পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে আসী নদী প্রবাহিত হয়েছে। মুসা পাহাড় আনতাকিয়া বিচারিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত আর্মেনীয় গ্রামগুলো নিয়ে গঠিত। যখন এই পর্বতশ্রেণি আফামিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়, তখন এর বিপরীতে আরেকটি পাহাড় দেখা যায় যা এর দক্ষিণ প্রান্তের একটি গ্রামের নামানুসারে 'শাহশাবূ' পাহাড় নামে পরিচিত।