(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: -)
المسالك والممالك للمهلبي = العزيزي   (المهلبي، الحسن بن أحمد)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الكتاب العزيزي أو المسالك والممالك

المؤلف: الحسن بن أحمد المهلبي العزيزي (ت 380هـ)

جمعه وعلق عليه ووضع حواشيه: تيسير خلف

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক (মুহাল্লাবি রচিত) = আল-আজিজি   (আল-মুহাল্লাবি, আল-হাসান বিন আহমদ)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: আল-কিতাব আল-আজিজি অথবা আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক

লেখক: আল-হাসান বিন আহমদ আল-মুহাল্লাবি আল-আজিজি (মৃত্যু ৩৮০ হিজরি)

সংকলন, ব্যাখ্যা এবং টীকা প্রদান করেছেন: তাইসির খালাফ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: -)
الحسن بن أحمد المُهلّبي (ت 380 هـ / 990 م)

 

أحد العلماء والرحّالة في عهد الدولة الفاطمية بمصر. ولكن المؤسف أن كتب التراجم العربية قد سكتت عن هذا المؤلف، فلم يذكره ابن خلّكان في «وفيات الأعيان» ، ولا الذهبي في «سير أعلام النبلاء» ولا الصفدي في «الوافي بالوفيّات» ، ولا ابن النديم في الفهرست. غير أن حاجي خليفة صاحب «كشف الظنون» قال في كتابه: «المسالك والممالك المشهور بالعزيزي للحسين بن أحمد المهلّبي المتوفى سنة 380 هـ … » ، وربما يرجع خطأ حاجي خليفة في تسميته بالحسين بدل الحسن إلى اعتماده على ياقوت الحموي الذي أخطأ أيضاً في الاسم غير مرة، حيث ذكره باسم: محمد بن الحسن المهلبي، وأبو الحسن المهلبي، والحسن بن محمد المهلبي، والحسين بن محمد المهلبي و … ، ولكن الكلاعي وأبي الفداء وابن العديم يجمعون على أن اسمه الحسن بن أحمد المهلّبي.

وقد قام ابن العديم بترجمة مختصرة للمهلّبي في سرده لرجال ولاية حلب. إذ يقول: «الحسن بن أحمد المهلّبي العزيزي: رجل فاضل كان متصلاً بالعزيز الفاطمي المستولي على مصر، ووضع له كتاب المسالك والممالك … » .

وفي أحد المقاطع التي ينقلها ياقوت عن المهلّبي يصفه بالمصري، وهي الإشارة الوحيدة التي عثرنا عليها حول انتمائه إلى مصر ولو بالإقامة، علماً أن احتمال أن يكون شامياً احتمال وارد.

ويتضح لنا من خلال ما وصلنا من كتاب «المسالك والممالك» ، أن المهلّبي رحّالة لا يشق له غبار، وصل إلى أقاليم لم يسبقه أحد إليه.

 

وإن ما يلفت النظر في ما وصلنا من كتاب المهلّبي أنه يتبنى وجهة نظر شيعية حيال الواقع والتاريخ، وذلك ما نلمسه من خلال تعليقاته على بعض القضايا والأحداث التي يمرّ بها.
আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুহাল্লাবি (মৃত্যু ৩৮০ হিজরি / ৯৯০ খ্রিস্টাব্দ)

 

মিশরের ফাতেমীয় খিলাফতের যুগের অন্যতম আলেম ও পর্যটক। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো যে, আরবি জীবনীগ্রন্থগুলো এই লেখক সম্পর্কে নিরব থেকেছে। তাই ইবনুন খাল্লিকান তার ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ গ্রন্থে, আয-যাহাবি তার ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে, আস-সাফাদি তার ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’ গ্রন্থে এবং ইবনুন নাদিম তার ‘আল-ফিহরিস্ট’ গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেননি। তবে ‘কাশফুয যুনুন’ এর লেখক হাজি খলিফা তার গ্রন্থে বলেছেন: "আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক যা আল-আযীযী নামে পরিচিত, এটি ৩৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-হুসাইন ইবনে আহমাদ আল-মুহাল্লাবির রচনা …", আর হাজি খলিফার তাকে হাসানের পরিবর্তে হুসাইন নামকরণ করার ভুলটি সম্ভবত ইয়াকুত আল-হামাভির ওপর নির্ভর করার কারণে হয়েছে, যিনি নিজেও তার নামে একাধিকবার ভুল করেছেন। তিনি তাকে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মুহাল্লাবি, আবুল হাসান আল-মুহাল্লাবি, হাসান ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুহাল্লাবি এবং হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুহাল্লাবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে আল-কালাঈ, আবুল ফিদা এবং ইবনুল আদীয়ম এই ব্যাপারে একমত যে তার নাম হলো আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুহাল্লাবি।

ইবনুল আদীয়ম আলেপ্পো প্রদেশের ব্যক্তিবর্গের বর্ণনার সময় আল-মুহাল্লাবির একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: "আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুহাল্লাবি আল-আযীযী: একজন বিজ্ঞ ব্যক্তি যিনি মিশরের বিজয়ী ফাতেমীয় খলিফা আল-আযীযের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং তার জন্য তিনি ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থটি রচনা করেন …"।

ইয়াকুত আল-মুহাল্লাবি থেকে যে উদ্ধৃতিগুলো বর্ণনা করেছেন তার একটিতে তাকে ‘মিসরি’ (মিশরীয়) বলে বর্ণনা করেছেন। এটিই একমাত্র ইঙ্গিত যা আমরা তার মিশরের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে পেয়েছি, তা সেখানে বসবাসের কারণেই হোক না কেন। তবে তার সিরীয় হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থের যে অংশটুকু আমাদের কাছে পৌঁছেছে তা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, আল-মুহাল্লাবি ছিলেন একজন অতুলনীয় পর্যটক, যিনি এমন সব অঞ্চলে পৌঁছেছিলেন যেখানে তার আগে কেউ পৌঁছায়নি।

 

আল-মুহাল্লাবির গ্রন্থের যে অংশটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে তাতে একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো যে, তিনি বাস্তবতা ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি লালন করতেন। তার আলোচিত কিছু ঘটনা ও বিষয়ের ওপর তার মন্তব্য থেকে আমরা তা অনুভব করতে পারি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৫)
تقديم

نشأ علم «المسالك والممالك» في أوج ازدهار الخلافة العباسية، على يد عدد من المصنفين وكتاب الدواوين، الذين كانت تتجمع بين أيدهم معطيات كثيرة عن الطرق والمسالك والخراج والواردات والنفقات، وأسماء المواضع. وكان كتاب ابن خرداذبة «المسالك والممالك» الذي وضعه سنة 232 هجرية [846 م] فاتحة هذا العلم، بعد أن تولّى البريد والأخبار في «بلاد الجبل» في عهد المعتمد العباسي.

وقد تطور هذا العلم بشكل مضطرد، إلى أن بلغ ذروته في القرنين اللاحقين. ثم تطور في صدر العصر المملوكي على شكل موسوعات كوزموغرافية لعلّ أشهرها وأهمها موسوعة «مسالك الأبصار في ممالك الأمصار» لابن فضل الله العمري المتوفى سنة 749 هجرية [1338 م] . واختتم بكتاب «زبدة كشف الممالك في بيان الطرق والمسالك» لخليل بن شاهين الظاهري المتوفى سنة 873 هجرية [1468 م] ، والذي يعدّ آخر المصنّفات العربية الإسلامية في هذا العلم.

وبين كتاب ابن خرداذبة وكتاب الظاهري، ظهرت مؤلّفات كثيرة تحمل الاسم نفسه، أي «المسالك والممالك» أو شيئا قريبا من
ভূমিকা

আব্বাসীয় খিলাফতের চরম সমৃদ্ধির যুগে বেশ কয়েকজন গ্রন্থকার এবং দিওয়ান-সংশ্লিষ্ট লেখকদের হাতে ‘মাসালিক ওয়াল মামালিক’ (পথ ও রাজ্যসমূহ) বিজ্ঞানের উদ্ভব ঘটে, যাঁদের নিকট পথঘাট, রাস্তা, ভূমিরাজস্ব, আমদানি, ব্যয় এবং বিভিন্ন স্থানের নাম সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য সংরক্ষিত ছিল। ইবনে খোরদাদবেহর গ্রন্থ ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’, যা তিনি ২৩২ হিজরিতে [৮৪৬ খ্রিস্টাব্দ] রচনা করেছিলেন, তা ছিল এই বিজ্ঞানের শুভ সূচনা। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতামিদের শাসনামলে ‘বিলাদুল জাবাল’ অঞ্চলে ডাক ও সংবাদ বিভাগের দায়িত্ব পালনকালে এটি সংকলন করেন।

এই বিজ্ঞানটি ধারাবাহিকভাবে বিকশিত হতে থাকে, যতক্ষণ না পরবর্তী দুই শতাব্দীতে তা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়। অতঃপর মামলুক যুগের শুরুতে এটি বিশ্বকোষীয় বর্ণনার রূপ ধারণ করে, যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে বিখ্যাত ও গুরুত্বপূর্ণ হলো ইবনে ফাদলুল্লাহ আল-উমারি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি [১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দ]) রচিত বিশ্বকোষ ‘মাসালিকুল আবসার ফি মামালিকিল আমসার’। এই শাস্ত্রের সমাপ্তি ঘটে খলিল বিন শাহিন আদ-জাহেরি (মৃত্যু ৮৭৩ হিজরি [১৪৬৮ খ্রিস্টাব্দ]) রচিত ‘জুবদাতু কাশফিল মামালিক ফি বায়ানিত তুরুকি ওয়াল মাসালিক’ গ্রন্থের মাধ্যমে, যা এই বিজ্ঞানে রচিত সর্বশেষ আরবি-ইসলামি সংকলন হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইবনে খোরদাদবেহর গ্রন্থ এবং আদ-জাহেরির গ্রন্থের মধ্যবর্তী সময়ে একই শিরোনামে অর্থাৎ ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ বা এর কাছাকাছি নামে আরও অনেক পাণ্ডুলিপি রচিত হয়েছে যা এর-
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك، مثل كتاب الجيهاني وابن حوقل والإصطخري والبكري وغيرهم.

ويرى العلّامة السوري الدكتور صلاح الدين المنجّد، أن علم «المسالك والممالك» هو أقرب ما يكون للجغرافيا الوصفية) Geographie Descriptive (لأنه لم يقتصر على ذكر الطرق والمسالك والمراحل بل وصف البلدان والمدن، إدارة وتاريخا واقتصادا، أوصافا تقلّ أو تزيد باختلاف العصر والمؤلف.

ومن أبرز من وضعوا كتبا في علم «المسالك والممالك» مؤلّف عاش في الحقبة الفاطمية يدعى الحسن بن أحمد المهلّبي، الذي صنّف كتابا في هذا العلم للعزيز بالله الفاطمي في النصف الثاني من القرن الرابع الهجري سمي بالكتاب «العزيزي» . وقد حظي هذا المصنّف المهم بعناية واهتمام الكثير من المؤلفين العرب المسلمين الذين أتوا بعده، فوصفه ابن العديم مؤلّف «بغية الطلب في تاريخ حلب» والمتوفى سنة 660 هجرية [1262 م] ، بأنه «كتاب حسن في فنه، يوجد فيه مما لا يوجد في غيره من أخبار البلاد وفتوحها وخواصها» . وقد نقل ابن العديم عن المهلّبي مقاطع مهمة تتعلق بحلب والثغور الشمالية قبل سقوطها نهائيا في يد البيزنطيين أواسط القرن الرابع الهجري. كما نقل ياقوت الحموي في معجم البلدان عن كتاب المهلّبي أكثر من ثلاث وخمسين مرة، ونقل عنه أبو الفداء في تقويم البلدان 210 مرات.
সেটি আল-জাইহানি, ইবন হাওকাল, আল-ইস্তাখরি, আল-বাকরি এবং অন্যদের কিতাবসমূহের মতো।

সিরীয় পণ্ডিত ডক্টর সালাহউদ্দিন আল-মুনজিদ মনে করেন যে, ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ (পথ ও জনপদ) শাস্ত্রটি বর্ণনামূলক ভূগোলের (Geographie Descriptive) সবচেয়ে কাছাকাছি। কারণ এটি কেবল পথঘাট, রুট এবং পর্যায়গুলোর বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং দেশ ও শহরগুলোর প্রশাসনিক, ঐতিহাসিক এবং অর্থনৈতিক বর্ণনাও প্রদান করেছে। এই বর্ণনাগুলো যুগ এবং লেখকের ভিন্নতা অনুযায়ী কম বা বেশি হয়েছে।

‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ শাস্ত্রে যারা কিতাব রচনা করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ফাতেমি যুগে বসবাসকারী আল-হাসান ইবন আহমাদ আল-মুহাল্লাবি। তিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ফাতেমি খলিফা আল-আজিজ বিল্লাহর জন্য এই বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা ‘আল-কিতাব আল-আজিজি’ নামে পরিচিত। এই গুরুত্বপূর্ণ সংকলনটি পরবর্তীকালের অনেক আরব মুসলিম লেখকের বিশেষ মনোযোগ ও গুরুত্ব লাভ করেছে। ‘বুগইয়াতুত তালাব ফি তারিখি হালাব’-এর রচয়িতা ইবনুল আদিম (মৃত্যু ৬৬০ হিজরি [১২৬২ খ্রিস্টাব্দ]) এটিকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, “এটি স্বীয় বিষয়ে একটি চমৎকার কিতাব; এতে বিভিন্ন জনপদের সংবাদ, বিজয় এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।” ইবনুল আদিম আল-মুহাল্লাবির নিকট থেকে আলেপ্পো এবং উত্তরদিকের সীমান্ত অঞ্চল সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদ্ধৃত করেছেন, যা চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বাইজেন্টাইনদের হাতে চূড়ান্ত পতনের আগের অবস্থার বিবরণ দেয়। একইভাবে ইয়াকুত আল-হামাউয়ি ‘মু’জামুল বুলদান’-এ আল-মুহাল্লাবির কিতাব থেকে তিপ্পান্নবারেরও বেশি উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং আবুল ফিদা ‘তাকউয়িমুল বুলদান’-এ তার থেকে ২১০ বার উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৭)
ورغم ذلك سكتت كتب التراجم العربية عن هذا المؤلف الفذ، ولم يذكره ابن خلّكان في «وفيات الأعيان» ، ولا الذهبي في «سير أعلام النبلاء» ولا الصفدي في «الوافي بالوفيّات» ، ولا ابن النديم في الفهرست. غير أن حاجي خليفة صاحب «كشف الظنون» قال فيه «المسالك والممالك المشهور بالعزيزي للحسين بن أحمد المهلّبي المتوفى سنة 380 هـ ألّفه للعزيز بالله الفاطمي صاحب مصر ونسبه إلى اسمه» . وربما يرجع خطأ حاجي خليفة في تسميته بالحسين بدل الحسن إلى اعتماده على ياقوت الحموي الذي يخطئ أيضا في الاسم غير مرة.

ويشير الباباني في «هديّة العارفين» إلى المهلّبي ولكنه يذكر معلومات غير دقيقة، فينسب الكتاب للمعز الفاطمي وليس للعزيز.

ولا نعرف على ماذا اعتمد حاجي خليفة والباباني في تقدير أن وفاة المهلّبي كانت في عام 380 هجرية [990 م] .

وقد تجاوز المستشرقون الغربيون الذين درسوا التراث الجغرافي العربي هذا المؤلّف الفذ، باستثناء المستشرق آدم ميتز صاحب كتاب «الحضارة الإسلامية في القرن الرابع» [الهجري] . الذي قال:

«إن لكتاب المهلّبي مزية، هي أنه أول كتاب وصف بلاد السودان وصفا دقيقا، وكان علماء الجغرافيا في القرن الرابع لا يعرفون من أخبار السودان شيئا» .
তা সত্ত্বেও আরবি জীবনীগ্রন্থগুলো এই অনন্য রচয়িতা সম্পর্কে নীরব থেকেছে। ইবনে খাল্লিকান তাঁর ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’-এ, যাহাবী তাঁর ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’-তে, সাফাদী তাঁর ‘আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত’-এ এবং ইবনুন নাদিম তাঁর ‘আল-ফিহরিস্ট’-এ তাঁর উল্লেখ করেননি। তবে ‘কাশফুজ জুনুন’-এর রচয়িতা হাজি খলিফা তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক—যা ‘আল-আজিজি’ নামে পরিচিত—এটি ৩৮০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী হুসাইন ইবন আহমদ আল-মুহাল্লাবির রচনা। তিনি এটি মিশরের শাসক ফাতিমি খলিফা আজিজ বিল্লাহর জন্য রচনা করেছিলেন এবং তাঁর নামানুসারেই এর নামকরণ করেছিলেন।” হাসান-এর পরিবর্তে হুসাইন নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে হাজি খলিফার ভুলটি সম্ভবত ইয়াকুত আল-হামাভির ওপর নির্ভর করার কারণে হয়েছে, যিনি নিজেও একাধিকবার এই নামের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন।

বাবানি তাঁর ‘হাদিয়্যাতুল আরিফিন’-এ মুহাল্লাবির উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি কিছু ভুল তথ্য দিয়েছেন; তিনি গ্রন্থটিকে আজিজের পরিবর্তে ফাতিমি খলিফা মুইয-এর রচনা বলে উল্লেখ করেছেন।

মুহাল্লাবির মৃত্যু ৩৮০ হিজরি [৯৯০ খ্রিস্টাব্দ] সনে হওয়ার অনুমানের ক্ষেত্রে হাজি খলিফা এবং বাবানি কিসের ওপর ভিত্তি করেছিলেন, তা আমাদের জানা নেই।

যেসব পশ্চিমা প্রাচ্যবিদ আরবি ভৌগোলিক ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাঁরা এই অনন্য রচয়িতাকে এড়িয়ে গেছেন; কেবল ‘চতুর্থ [হিজরি] শতাব্দীর ইসলামি সভ্যতা’ গ্রন্থের রচয়িতা প্রাচ্যবিদ অ্যাডাম মেটজ ব্যতীত। যিনি বলেছেন:

“মুহাল্লাবির গ্রন্থের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এটিই প্রথম গ্রন্থ যা সুদান অঞ্চলের নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছে। অথচ চতুর্থ শতাব্দীর ভূগোলবিদগণ সুদান অঞ্চলের খবরাখবর সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।”
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৮)
كما تحدث عنه المستشرق الروسي إغناتي يوليا نوفيتش كراتشكوفسكي صاحب «تاريخ الأدب الجغرافي العربي» ، الذي أكّد على الأثر الكبير لكتاب المهلّبي على المؤلفات التالية.

ورغم أن كراتشكوفسكي يقرّ بصعوبة الحكم على هذا الكتاب بسبب فقدانه، فهو يلاحظ أن المقتطفات التي نقلها عنه المؤلفون المتأخرون، توضح أنه يستند على أوصاف الطرق، وخاصة طرق إفريقيا، فهو يمثل أحد المصادر الرئيسية لياقوت، الذي ينقل عنه أكثر من ستين مرة «1» ، ولكنه لا يقتصر على إفريقيا وحدها، فياقوت مثلا يرجع إليه أكثر من مرة بصدد مواضع مختلفة في الجزيرة العربية. ويلاحظ كراتشكوفسكي أن ياقوت يوليه عناية خاصة من بين مصادره ويضعه جنبا إلى جنب مع المقدسي.

ويشير أخيرا إلى أن أبا الفداء استعان به كثيرا. كما ظل كتابه معروفا مباشرة إلى أيام دولة التيموريين، فاستعمله في بداية القرن التاسع الهجري [الخامس عشر الميلادي] حافظ آبرو «2» عند ما وضع مصنفه في الجغرافيا «3» .

في صيف سنة 1957 م من القرن الماضي، عثر الباحث الدكتور صلاح الدين المنجّد على مخطوطة فيها قطعة من كتاب المهلّبي
যেমনটি তাঁর সম্পর্কে রুশ প্রাচ্যবিদ ইগনাতি ইউলিয়ানভিচ ক্রাচকভস্কি আলোচনা করেছেন, যিনি «আরবি ভৌগোলিক সাহিত্যের ইতিহাস»-এর রচয়িতা; তিনি পরবর্তী গ্রন্থসমূহের ওপর আল-মুহাল্লাবির গ্রন্থের ব্যাপক প্রভাবের কথা নিশ্চিত করেছেন।

যদিও ক্রাচকভস্কি স্বীকার করেছেন যে, বইটি হারিয়ে যাওয়ার কারণে এর ওপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া কঠিন, তবুও তিনি লক্ষ্য করেছেন যে পরবর্তী লেখকদের উদ্ধৃত করা অংশগুলো স্পষ্ট করে যে, এটি রাস্তার বিবরণ—বিশেষ করে আফ্রিকার পথগুলোর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে রচিত। এটি ইয়াকুতের অন্যতম প্রধান উৎস, যিনি এখান থেকে ষাটেরও বেশি বার উদ্ধৃতি দিয়েছেন «১»। তবে এটি কেবল আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; যেমন ইয়াকুত আরব উপদ্বীপের বিভিন্ন স্থানের বিষয়ে একাধিকবার এর শরণাপন্ন হয়েছেন। ক্রাচকভস্কি লক্ষ্য করেছেন যে, ইয়াকুত তাঁর উৎসগুলোর মধ্যে একে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং একে আল-মাকদিসির সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন।

সবশেষে তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে আবুল ফিদা এখান থেকে প্রচুর সাহায্য নিয়েছেন। এমনকি তৈমুরি সালতানাতের সময় পর্যন্ত তাঁর বইটি সরাসরি পরিচিত ছিল; নবম হিজরি শতকের শুরুতে [পঞ্চদশ খ্রিস্টাব্দ] হাফেজ আবরু «২» তাঁর ভৌগোলিক গ্রন্থ «৩» রচনার সময় এটি ব্যবহার করেছিলেন।

গত শতাব্দীর ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মকালে গবেষক ড. সালাহউদ্দীন আল-মুনজিদ একটি পাণ্ডুলিপির সন্ধান পান যেখানে আল-মুহাল্লাবির গ্রন্থের একটি অংশ বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৯)
«المسالك والممالك» في مجموعة يمنى من مخطوطات الأمبروزيانا بميلانو تحت رقم.G 3 وهي عدة أوراق قديمة إلى جانب أوراق أحدث منها، خطها واضح قليل الإعجام، وتقع في أربعة عشر ورقة، في الصفحة 30 سطرا، وفي السطر 10 كلمات وقد تبلغ 13 كلمة. وهي عبارة عن قطعة من كتاب لمحمد بن الحسن الكلاعي، ينقل فيه صفة بيت المقدس عن كتاب المسالك والممالك للحسن بن أحمد المهلّبي، وذكر لولاة مصر، وصفة دمشق، إضافة إلى اقتباس آخر من ابن حوقل.

وقام الدكتور المنجّد بنشر هذه المخطوطة في مجلة المخطوطات العربية عام 1958 مع تحقيق مبدئي لها، وتعريف مختصر بالكاتب والكتاب. غير أن الدكتور المنجّد يخلط في تعريفه لهذا الجغرافي بينه وبين أحد رواة الحديث، ويدعى محمد بن الحسن بن المهلّب، والذي حدّث عنه أبو العباس أحمد بن محمد بن جعفر المؤدّب الأبهري، حسبما يرد في مادة أبهر من «معجم البلدان» لياقوت الحموي. ومصدر هذا الخلط أن الدكتور المنجّد لم يحقق الاسم بشكل صحيح ليتأكد من أنه يخص شخصا آخر، ربما ولد في زمن آخر. كما أنه لم ينتبه إلى انتماء الحسن بن أحمد المهلّبي إلى المنظومة الفكرية الشيعية التي لا تعنى بعلم الحديث لا من قريب ولا من بعيد.
‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ মিলানের আমব্রোসিয়ানা পাণ্ডুলিপি সংগ্রহের ইয়েমেনি সংকলনে জি ৩ (G 3) নম্বরের অধীনে রয়েছে। এটি কিছু প্রাচীন পাতার পাশাপাশি তুলনামূলক নতুন কিছু পাতার সমন্বয়ে গঠিত; এর হস্তলিপি স্পষ্ট এবং নুকতাহীনতা বা হরকতের ব্যবহার কম। এটি চৌদ্দটি পাতায় বিন্যস্ত, প্রতি পৃষ্ঠায় ৩০টি লাইন এবং প্রতি লাইনে ১০ থেকে ১৩টি শব্দ রয়েছে। এটি মুহাম্মদ বিন হাসান আল-কালা’য়ী রচিত একটি গ্রন্থের অংশবিশেষ, যেখানে তিনি হাসান বিন আহমদ আল-মুহাল্লাবী রচিত ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থ থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসের বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন। এতে মিসরের গভর্নরদের বিবরণ এবং দামেস্কের বর্ণনা রয়েছে, এর সাথে ইবনে হাওকাল থেকে সংগৃহীত আরও একটি উদ্ধৃতিও যুক্ত হয়েছে।

ডক্টর আল-মুনাজ্জিদ ১৯৫৮ সালে আরবি পাণ্ডুলিপি সাময়িকীতে এই পাণ্ডুলিপিটি এর প্রাথমিক সম্পাদনা এবং লেখক ও গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ প্রকাশ করেন। তবে ডক্টর আল-মুনাজ্জিদ এই ভূগোলবিদের পরিচয় দিতে গিয়ে তাকে মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আল-মুহাল্লাব নামক একজন হাদিস বর্ণনাকারীর সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন, যার থেকে আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর আল-মুয়াদ্দিব আল-আবহারি বর্ণনা করেছেন; যেমনটি ইয়াকুত আল-হামাওয়ীর ‘মুজামুল বুলদান’-এর ‘আবহার’ ভুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিভ্রান্তির কারণ হলো, ডক্টর আল-মুনাজ্জিদ নামটি সঠিকভাবে যাচাই করেননি যাতে নিশ্চিত হওয়া যেত যে এটি অন্য কোনো ব্যক্তি, যিনি সম্ভবত অন্য কোনো যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অধিকন্তু, তিনি হাসান বিন আহমদ আল-মুহাল্লাবীর শিয়া বুদ্ধিভিত্তিক কাঠামোর অনুসারী হওয়ার বিষয়টি খেয়াল করেননি, যাদের ইলমে হাদিসের সাথে দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১০)
كما أن الكلاعي الذي ينقل عن المهلّبي في مخطوطة الأمبروزيانا، هو الآخر مجهول بشكل كامل، ولا نعلم شيئا عنه باستثناء ما رجّحه المنجّد من أن يكون قد عاش في القرن الخامس الهجري، بناء على تذييله لمن حكم مصر وصولا إلى الظاهر الفاطمي.

ويبدو التساؤل مشروعا حول سبب توقف المهلّبي عند المعز لدين الله الفاطمي في تعداده لمن حكم مصر، ولماذا لم يذكر العزيز بالله رغم أن الكتاب أهدي له. فالاحتمال الأول أنه ألف الكتاب أثناء حياة المعز وعند ما كان العزيز وليا للعهد. أما الاحتمال الثاني وهو الأقرب للمنطق فهو أن اسم الحاكم يوضع عادة في كتب التراجم بعد نهاية حكمه، إما بالموت أو الخلع. ولذلك لم يوضع اسم العزيز في اللائحة لأنه كان ما يزال على قيد الحياة.

وغير ذلك لا نكاد نعثر على شيء يخصّ هذا المؤلّف الذي شكّل أحد المصادر الرئيسية لأهم كتابين في البلدانيات العربية وهما «معجم البلدان» و «تقويم البلدان» . فلماذا سكتت الكتب عن ترجمته؟ ولماذا فقد الكتاب أساسا ما دام يحظى بهذه الأهمية؟! أسئلة تؤرق أي باحث بعد أن يقرأ ما يتوفر له من هذا الكتاب، ولكنه سرعان ما يكتشف أن حالة الانغلاق الفكري التي سادت الجزء الثاني من العصر المملوكي هي المسؤولة عن إغفال الحديث
একইভাবে আল-কালায়ি, যিনি আমব্রোসিয়ানা পাণ্ডুলিপিতে আল-মুহাল্লাবি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনিও সম্পূর্ণ অপরিচিত; আল-মুনাজজিদ কর্তৃক প্রদত্ত এই প্রবল ধারণাটি ব্যতীত আমরা তাঁর সম্পর্কে আর কিছুই জানি না যে, তিনি হিজরি পঞ্চম শতাব্দীতে জীবিত ছিলেন; এই ধারণাটির ভিত্তি হলো ফাতিমি শাসক আয-যাহির পর্যন্ত মিশরের শাসকদের বর্ণনায় তাঁর সংযোজিত পরিশিষ্ট।

মিশরের শাসকদের তালিকার ক্ষেত্রে আল-মুহাল্লাবি কেন আল-মুইজ লি-দিনিল্লাহ ফাতিমি পর্যন্ত এসে থেমে গেলেন এবং কেন তিনি আল-আজিজ বিল্লাহর নাম উল্লেখ করলেন না, যদিও বইটি তাঁকে উৎসর্গ করা হয়েছিল—এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া সংগত। প্রথম সম্ভাবনাটি হলো, তিনি বইটি আল-মুইজের জীবদ্দশায় এবং যখন আল-আজিজ যুবরাজ ছিলেন তখন রচনা করেছিলেন। আর দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি, যা অধিকতর যৌক্তিক, তা হলো—সাধারণত জীবনীগ্রন্থগুলোতে শাসকের নাম তাঁর শাসনের সমাপ্তিতে, মৃত্যু বা ক্ষমতাচ্যুতির পর লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই আল-আজিজের নাম তালিকায় রাখা হয়নি কারণ তিনি তখনো জীবিত ছিলেন।

তাছাড়া আমরা এই লেখক সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্যের সন্ধান পাই না, অথচ তাঁর কাজ আরবি ভূগোলশাস্ত্রের প্রধান দুটি গ্রন্থ—‘মুজামুল বুলদান’ ও ‘তাকউইমুল বুলদান’-এর অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। তাহলে কেন গ্রন্থসমূহ তাঁর জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে নীরব থাকল? এবং বইটি যেহেতু এতোটা গুরুত্ববহ, তবে কেন এটি মূলত হারিয়ে গেল? এই বইটির লভ্য অংশগুলো পাঠ করার পর এই প্রশ্নগুলো যেকোনো গবেষককে বিচলিত করবে, তবে তিনি দ্রুতই অনুধাবন করতে পারবেন যে, মামলুক যুগের দ্বিতীয়ার্ধে বিরাজমান বুদ্ধিবৃত্তিক সংকীর্ণতাই এই আলোচনাকে উপেক্ষা করার জন্য দায়ী।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১১)
عن المهلّبي، وربما إحراق كتابه بشكل نهائي، ومحاولة محو أثره من هذا الوجود.

أول ما يلفت النظر في ما وصلنا من كتاب المهلّبي أنه يتبنى وجهة نظر شيعية حيال الواقع والتاريخ، وذلك ما نلمسه من خلال تعليقاته على بعض القضايا والأحداث التي يمرّ بها.

فتجده يفسر سقوط الثغور الشمالية أي طرسوس والمصيصة وغيرها، بوصول قوم من الخوز والعجم إلى هذه البلاد ومجاهرتهم بالنصب أي شتم آل البيت. فيقول تعليقا على سقوط هذه الثغور «فأخذناهم أخذ عزيز مقتدر» ، محاولا تصوير الأمر وكأنه انتقام إلهي.

كما نلمس تبنيه لروايات شيعية حول بني أمية. حيث يذكر أن الوليد بن عبد الملك اصطبح في الجامع الأموي بين قيانه أربعين يوما، وقال: أخذت صفوه وتركت للناس كدره. كما أنه يشير إلى محاولة الوليد صرف أبناء الشام عن الحج إلى البيت الحرام ببنائه حرما في القدس لكي يحجّ الناس إليه ولا يذهبوا إلى الحجاز ويعرفوا فضل آل البيت على بني أمية. وكذلك روايته لزيارة عمر بن الخطاب إلى دمشق في الجاهلية ومساهمته في ترميم الكنيسة، وإرشاد اليهود له إلى موضع الصخرة التي أقيم عليها المسجد وغير ذلك من روايات وتفاسير وقراءات للتاريخ، ولا غرابة في ذلك، ففي عصر المهلّبي كان الشيعة يشكلون غالبية أهل
মুহাল্লাবি সম্পর্কে, এবং সম্ভবত তার বই চূড়ান্তভাবে পুড়িয়ে ফেলা, এবং এই অস্তিত্ব থেকে তার চিহ্ন মুছে ফেলার প্রচেষ্টা।

মুহাল্লাবির বই থেকে আমাদের কাছে যা পৌঁছেছে তাতে প্রথম যে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, তিনি বাস্তবতা ও ইতিহাসের প্রতি শিয়া দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন; এবং এটি আমরা তার সামনে আসা কিছু বিষয় ও ঘটনার ওপর তার মন্তব্যের মাধ্যমে অনুভব করি।

আপনি তাকে উত্তর সীমান্তের পতন, অর্থাৎ তারসুস, মাসিসা এবং অন্যান্য অঞ্চলের পতনের ব্যাখ্যা দিতে দেখবেন খুয ও অনারবদের এক জাতির এই দেশগুলোতে আগমন এবং তাদের প্রকাশ্য 'নাসব' অর্থাৎ আহলে বাইতকে গালিগালাজ করার মাধ্যমে। এই সীমান্তগুলোর পতনের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, "অতঃপর আমি তাদেরকে এক মহাশক্তিধর পরাক্রমশালীর পাকড়াওয়ের মতো পাকড়াও করলাম", বিষয়টিকে একটি ঐশ্বরিক প্রতিশোধ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করে।

একইভাবে আমরা বনু উমাইয়া সম্পর্কে তার শিয়া বর্ণনাগুলো গ্রহণের বিষয়টিও অনুভব করি। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে, ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক উমাইয়া মসজিদে তার গায়িকাদের মাঝে চল্লিশ দিন সকালবেলা মদ্যপান করেছিলেন এবং বলেছিলেন: "আমি এর স্বচ্ছ অংশটুকু নিয়েছি এবং মানুষের জন্য ঘোলা অংশটুকু ছেড়ে দিয়েছি।" এছাড়াও তিনি ইঙ্গিত করেন যে, ওয়ালিদ শামবাসীদের বাইতুল হারামে হজ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন জেরুজালেমে একটি হারাম নির্মাণের মাধ্যমে, যাতে মানুষ সেখানে হজ করে এবং হিজাজে না যায় এবং বনু উমাইয়ার ওপর আহলে বাইতের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে জানতে না পারে। অনুরূপভাবে জাহেলিয়াতের যুগে উমর বিন খাত্তাবের দামেস্ক সফর এবং গির্জা সংস্কারে তার অবদান, এবং মসজিদের ভিত্তি যে পাথরের ওপর স্থাপিত সেই পাথরের স্থানের দিকে ইহুদিদের তাকে পথপ্রদর্শন করা সংক্রান্ত তার বর্ণনা এবং ইতিহাসের অন্যান্য বর্ণনা, ব্যাখ্যা ও পাঠসমূহ। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ মুহাল্লাবির যুগে শিয়ারা সেখানকার অধিকাংশ জনগণের...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১২)
الشام، وكانت العائلات الشيعية تحكم معظم أجزائه بدءا بالحمدانيين في حلب والثغور الشمالية، ثم تلاهم بنو مرداس الكلابيين في نواحي حلب أيضا، ثم بعدهم بنو جندل في البقاع ووادي التيم. ناهيك عن وجود معاقل شيعية مدينية كبرى كمدينة حلب وطبرية وما حولهما، هذا إذا تجاوزنا الجبال والأرياف.

وقد أدى صعود نجم السلاجقة الترك وبعدهم الأيوبيين الكرد، في فترة الحروب الصليبية وهم من السنّة، إلى تراجع النفوذ الشيعي في بلاد الشام بشكل متدرج، إلى أن تم إقصاؤه نهائيا في العصر الملوكي. وهنا لا بد وأن نشير إلى حالة الجمود الفكري التي سادت بلاد الشام ومصر في نهاية دولة الشراكسة، ما يجعلنا نعتقد بأن ذلك العصر تحديدا، شهد إحراق كتاب العزيزي، حيث فقد أثره ولم يعد قيد التداول.

ورغم أن القلقشندي الذي عاش في الجزء الثاني من الفترة المملوكية نقل عنه أكثر من مائة مرة في «صبح الأعشى» ، إلا أن مراجعتنا النقدية لتلك المنقولات جعلتنا نتأكد أنها منقولة عن أبي الفداء وليس من المصدر. كما يمكن القول أن اقتباس عزّ الدين ابن شداد لمقطع حول مدينة حلب من المهلّبي كان عن طريق ابن العديم وليس من المصدر أيضا. ويتضح ضيق ابن شدّاد المتوفى سنة 684 هجرية [1285 م] مما ورد في كتاب المهلّبي عند ما استنكر بعض ما ذكر عن حلب قائلا في نهاية اقتباسه: «وذكر كلاما
শাম অঞ্চল; এর অধিকাংশ এলাকা শিয়া পরিবারগুলো শাসন করত, যার সূচনা হয়েছিল আলেপ্পো ও উত্তরের সীমান্ত অঞ্চলে হামদানিদের মাধ্যমে। এরপর আলেপ্পোর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বনু মিরদাস আল-কিলাবি এবং তাদের পরে বাকা ও ওয়াদি আল-তায়াম অঞ্চলে বনু জান্দাল শাসন করে। এ ছাড়া আলেপ্পো ও তাবারিয়্যা এবং এর আশপাশে বড় ধরনের নগরকেন্দ্রিক শিয়া শক্তিশালী অবস্থান বিদ্যমান ছিল, যদি আমরা পাহাড় ও গ্রামাঞ্চলগুলোর কথা বাদও দিই।

ক্রুসেড যুদ্ধের সময় সুন্নি মতাবলম্বী তুর্কি সেলজুক এবং পরবর্তীতে কুর্দি আইয়ুবিদের উত্থান শাম অঞ্চলে শিয়া প্রভাবের ক্রমিক অবনতি ঘটায়, শেষ পর্যন্ত মামলুক যুগে তাদের চূড়ান্তভাবে অপসারিত করা হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, সার্কাসীয় শাসনের শেষ দিকে শাম ও মিশরে যে বুদ্ধিবৃত্তিক স্থবিরতা বিরাজ করছিল, তা আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে ঠিক সেই যুগেই 'কিতাব আল-আজিজি' পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল, যার ফলে এর চিহ্ন হারিয়ে যায় এবং এটি আর প্রচলনে থাকেনি।

যদিও মামলুক আমলের দ্বিতীয়ার্ধে বসবাসকারী আল-কালকাশান্দি তাঁর ‘সুবহ আল-আশা’ গ্রন্থে এটি থেকে শতাধিকবার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তবে সেই উদ্ধৃতিগুলোর আমাদের সমালোচনামূলক পর্যালোচনা আমাদের নিশ্চিত করেছে যে সেগুলো মূল উৎস থেকে নয় বরং আবু আল-ফিদা থেকে উদ্ধৃত। একইভাবে বলা যায় যে, ইজ্জুদ্দিন ইবনে শাদ্দাদ কর্তৃক আল-মুহাল্লাবি থেকে আলেপ্পো শহর সম্পর্কে যে অংশটি উদ্ধৃত হয়েছে তা ইবনে আল-আদিমের মাধ্যমে সংগৃহীত, সরাসরি মূল উৎস থেকে নয়। হিজরি ৬৮৪ [১২৮৫ খ্রিস্টাব্দ] সালে মৃত্যুবরণকারী ইবনে শাদ্দাদের অসন্তোষ আল-মুহাল্লাবির কিতাবে বর্ণিত তথ্যের ব্যাপারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন তিনি আলেপ্পো সম্পর্কে বর্ণিত কিছু তথ্যের নিন্দা জানিয়ে তাঁর উদ্ধৃতির শেষে বলেন: "এবং তিনি এমন কথা উল্লেখ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৩)
كثيرا لا يليق بما نحن بصدده فأضربنا عنه» . عكس أبي الفداء الذي نقل خبر بناء الوليد بن عبد الملك للقباب في بيت المقدس، ومحاولته صرف الناس عن الحج إلى البيت الحرام، وقال معلّقا:

«والعهد عليه في ذلك» ، أي أنه لم يصدر حكم قيمة، بل ذكر أنه لم يعثر على هذه الرواية في مصدر آخر، ولذلك أشار تلك الإشارة.

ويثير الانتباه ذلك الخلط الكبير حول اسم المهلّبي في اقتباسات ياقوت الحموي حيث يرد بأكثر من رسم، فهو يسميه محمد بن الحسن المهلّبي، وأبو الحسن المهلّبي، والحسن بن محمد المهلّبي، والحسين بن محمد المهلّبي، والحسين بن أحمد المهلّبي. والحسن بن محمد المهلّبي المصري. وما يجعلنا نتأكد من أن الأسماء السابقة كلّها تخصّ شخصا واحدا وجود مشترك بينها وهو الكتاب «العزيزي» ، الذي يقطع الشك باليقين حول هذا الالتباس. والمؤكد أن السبب في ذلك غزارة إنتاج ياقوت، وانشغاله عن مراجعة الاسم بشكل صحيح.

ولكن الكلاعي وأبي الفداء وابن العديم يجمعون على أن اسمه الحسن بن أحمد المهلّبي. وهو الذي يجعلنا نوقن بأنه الصحيح، نظرا لاعتناء أبي الفداء بالضبط والتدقيق والتمحيص في كتابه الذي وضع أساسا لهذه الغاية.

لقد سعينا من خلال إعادة جمع هذا الكتاب من شتات الكتب والمخطوطات وترتيبه وتحقيقه، إلى إضاءة جانب مهم
অনেক কিছু যা আমাদের উদ্দেশ্যের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়, তাই আমরা তা পরিহার করেছি। এর বিপরীতে আবুল ফিদা ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের বায়তুল মুকাদ্দাসে গম্বুজ নির্মাণ এবং মানুষকে বায়তুল হারামে হজ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টার সংবাদ বর্ণনা করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন:

«আর এর দায়ভার তারই উপর», অর্থাৎ তিনি কোনো বিচারমূলক রায় প্রদান করেননি, বরং তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি অন্য কোনো উৎসে এই বর্ণনাটি খুঁজে পাননি, তাই তিনি এই ইঙ্গিতটি দিয়েছেন।

ইয়াকুত আল-হামাভির উদ্ধৃতিগুলোতে আল-মুহাল্লাবির নাম নিয়ে বড় ধরনের বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়, যেখানে নামটি একাধিকরূপে এসেছে। তিনি তাকে মুহাম্মদ বিন হাসান আল-মুহাল্লাবি, আবুল হাসান আল-মুহাল্লাবি, হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি, হুসাইন বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি এবং হুসাইন বিন আহমদ আল-মুহাল্লাবি নামে অভিহিত করেছেন। আবার কোথাও আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি আল-মিসরি হিসেবে। পূর্বোক্ত সব নাম যে একই ব্যক্তির তা নিশ্চিত করে একটি সাধারণ যোগসূত্র, আর তা হলো 'আল-আজিজি' গ্রন্থটি, যা এই অস্পষ্টতার বিপরীতে সন্দেহাতীত নিশ্চয়তা প্রদান করে। এটা নিশ্চিত যে, ইয়াকুতের রচনার প্রাচুর্য এবং নামগুলো সঠিকভাবে যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর ব্যস্ততাই এর কারণ।

তবে আল-কালায়ি, আবুল ফিদা এবং ইবনুল আদিম একমত হয়েছেন যে তার নাম হাসান বিন আহমদ আল-মুহাল্লাবি। আর এটিই সঠিক বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে, কারণ আবুল ফিদা তাঁর গ্রন্থে শব্দবিন্যাস, সূক্ষ্মতা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন যা মূলত এই লক্ষ্যেই রচিত হয়েছিল।

আমরা বিভিন্ন বই ও পাণ্ডুলিপির ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অংশ থেকে এই গ্রন্থটি পুনরায় সংগ্রহ, বিন্যাস ও সম্পাদনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আলোকিত করার চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৪)
وأساس من جوانب الثقافة العربية الإسلامية، بعد قرون من محاولات تأطيرها في نمط فكري محدد، أو ضمن لون واحد لا يرى الآخر ولا يعترف باختلافه، بل يلجأ إلى تكفيره واختزاله وقولبته في أنماط فكرية ومقولات جاهزة.

ولنا في قول أبي الفداء: «والعهد عليه في ذلك» أي الرواية على ذمة الراوي، خير منهج في التعاطي مع الرواية المخالفة، أو تلك التي لا تتفق مع توجهاتنا، ذلك المنهج الذي غاب منذ نحو سبعة قرون فوصلنا إلى ما وصلنا إليه.

ألّف الحسن بن أحمد المهلّبي كتابه «المسالك والممالك» للعزيز بالله الفاطمي، في الفترة ما بين عامي 365 هجرية [975 م] و 380 هجرية [990 م] أي تاريخ وفاته كما تشير المصادر المتوفرة. ولذلك سمي بالكتاب «العزيزي» .

وينقل لنا المقريزي في «اتعاظ الحنفا» صورة مشرقة عن العزيز بالله الفاطمي الذي يبدو لنا قائدا حكيما حليما محبا للعلم والعلماء كارها لسفك الدماء، عفوّا إلى أقصى درجات العفو، لم ينتقم من رجل قام ضدّه أو تمرّد عليه، ولم يردّ طالبا ولم يخذل سائلا. جنوحا نحو السلم والمهادنة، حريصا على أداء فرائضه الدينية، مواظبا على خدمة الحرمين بالكسوة والنفقات.

وإضافة إلى كل ذلك من صفات تجعله واحدا من أعدل وأعظم الحكام العرب المسلمين، تجده مهتما بالعلم والعلماء شغوفا
এটি আরব-ইসলামী সংস্কৃতির দিকসমূহের একটি ভিত্তি, কয়েক শতাব্দী ধরে একে একটি নির্দিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করার অথবা এমন এক একরঙা রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টার পর যা অন্যকে দেখে না এবং তার ভিন্নতাকে স্বীকৃতি দেয় না; বরং তাকে কাফির সাব্যস্ত করা, সংকুচিত করা এবং পূর্বনির্ধারিত বুদ্ধিবৃত্তিক ছাঁচে ও বুলিগুলোতে ঢেলে সাজানোর আশ্রয় নেয়।

আবুল ফিদার উক্তি: "এর দায়িত্ব তাঁর ওপর" অর্থাৎ বর্ণনাটি বর্ণনাকারীর জিম্মায়—এর মধ্যে আমাদের জন্য বিরুদ্ধ বর্ণনা বা আমাদের মতাদর্শের সাথে মেলে না এমন বর্ণনার সাথে আচরণের সর্বোত্তম পদ্ধতি নিহিত রয়েছে। এই পদ্ধতিটি প্রায় সাত শতাব্দী ধরে অনুপস্থিত ছিল, যার ফলে আমরা আজ এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছি।

আল-হাসান ইবনে আহমাদ আল-মুহাল্লাবী ৩৬৫ হিজরি [৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ] থেকে ৩৮০ হিজরি [৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ]—অর্থাৎ লভ্য উৎসসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁর মৃত্যুর তারিখ—এই সময়ের মধ্যে আল-আজিজ বিল্লাহ আল-ফাতিমীর জন্য তাঁর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' গ্রন্থটি রচনা করেন। একারণেই গ্রন্থটিকে 'আল-আজিজি' নামে অভিহিত করা হয়।

আল-মাকরিজি তাঁর 'ইত্তিআজ আল-হুনাফা' গ্রন্থে আল-আজিজ বিল্লাহ আল-ফাতিমীর একটি উজ্জ্বল চিত্র তুলে ধরেছেন, যিনি আমাদের কাছে একজন প্রজ্ঞাবান, সহনশীল, ইলম ও ওলামাদের প্রতি অনুরাগী এবং রক্তপাতবিমুখ নেতা হিসেবে প্রতীয়মান হন। তিনি ছিলেন ক্ষমার সর্বোচ্চ শিখরে আসীন এক ব্যক্তিত্ব; তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান বা বিদ্রোহকারী কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি প্রতিশোধ নেননি এবং কোনো সাহায্যপ্রার্থীকে ফিরিয়ে দেননি বা কোনো আবেদনকারীকে নিরাশ করেননি। তিনি শান্তি ও সন্ধির প্রতি অনুরাগী ছিলেন, ধর্মীয় ফরজসমূহ পালনে ছিলেন সচেষ্ট এবং গিলাফ ও ব্যয়ভার বহনের মাধ্যমে হারামাইন শরীফাইনের খেদমতে সদা নিয়োজিত ছিলেন।

এই সমস্ত গুণাবলি—যা তাঁকে অন্যতম ন্যায়পরায়ণ ও শ্রেষ্ঠ আরব মুসলিম শাসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে—তার পাশাপাশি আপনি তাঁকে ইলম ও ওলামাদের প্রতি আগ্রহী ও অত্যন্ত অনুরাগী হিসেবে দেখতে পাবেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৫)
بالكتب إلى أقصى درجات الشغف. يقول المقريزي: «ذكر عند العزيز كتاب العين في اللغة، فأخرج منه نيفا وثلاثين نسخة من خزانته، منها واحد بخط الخليل بن أحمد مؤلّفها. وحملت إليه نسخة من تاريخ الطبري اشتراها بمائة دينار، فأمر الخزّان فأخرجوا من خزائنه عشرين نسخة، منها نسخة بخط محمد بن جرير جامعه. وذكرت عنده جمهرة ابن دريد فأخرج منها مائة نسخة» . كما يشير واضعو كتب التراجم إلى أن الشابشتي مؤلف كتاب" الديارات" عمل خازنا لمكتبة العزيز بالله، والرحالة الفذ المقدسي البشاري أهداه النسخة الأخيرة المنقحة من مؤلفة المهم" أحسن التقاسيم".

ولذلك لم يكن غريبا أن يهدي المهلّبي كتابه لهذا الرجل الحليم، والذي سبق لمؤلّف آخر أن أهداه كتابا عن «البيزرة» أي علم أحوال الجوارح من حيث صحّتها ومرضها، ومعرفة العلائم الدالّة على قوتها في الصيد. حيث قال المؤلف إنه كان «بازيار العزيز بالله نزار الفاطمي ونشأ في ظل هذا الخليفة منذ كان صبيا، وغذاه بنعمته ورقّاه إلى أن صار إقطاعه عشرين ألف دينار، وجعله مقدّما على البيازرة» «4» .

وحسب السمعاني في كتاب الأنساب فإن المهلّبي بضم الميم، وفتح الهاء، وتشديد اللام، وفي آخرها الباء المنقوطة بواحدة، هذه
বইয়ের প্রতি অনুরাগ ছিল চরম পর্যায়ের। আল-মাকরিজি বলেন: «আল-আজিজের নিকট ভাষাতত্ত্বের কিতাবুল আইন-এর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি তাঁর গ্রন্থাগার থেকে ত্রিশটিরও বেশি পাণ্ডুলিপি বের করেন, যার একটি ছিল এর লেখক খলিল ইবনে আহমদের স্বহস্তে লিখিত। তাঁর কাছে তারিখুত তবারির একটি পাণ্ডুলিপি আনা হলে তিনি তা একশ দিনারে ক্রয় করেন। অতঃপর তিনি গ্রন্থাগারিকদের আদেশ দিলে তাঁরা তাঁর ভাণ্ডার থেকে বিশটি পাণ্ডুলিপি বের করে আনেন, যার মধ্যে একটি ছিল এর সংকলক মুহাম্মদ ইবনে জারিরের স্বহস্তে লিখিত। তাঁর কাছে ইবনে দুরাইদের জমহরা-র কথা উল্লেখ করা হলে তিনি তা থেকে একশটি পাণ্ডুলিপি বের করেন»। জীবনীগ্রন্থসমূহের রচয়িতারাও উল্লেখ করেছেন যে, "কিতাবুদ দিয়ারাত"-এর লেখক আশ-শাবুশতি আল-আজিজ বিল্লাহর গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর প্রখ্যাত পর্যটক আল-মাকদিসি আল-বাশারি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ "আহসানুত তাকাসিম"-এর সর্বশেষ পরিমার্জিত সংস্করণটি তাঁকে উপহার দিয়েছিলেন।

সেজন্য এটা আশ্চর্যের কিছু ছিল না যে, আল-মুহাল্লাবি তাঁর গ্রন্থটি এই সহনশীল ব্যক্তিকে উপহার দেবেন, যাকে ইতিপূর্বে অন্য এক লেখক «আল-বাইযারা» অর্থাৎ শিকারি পাখিদের সুস্থতা ও অসুস্থতা সংক্রান্ত জ্ঞান এবং শিকারে তাদের সক্ষমতা নির্দেশক চিহ্নসমূহ চেনার বিদ্যা বিষয়ক একটি গ্রন্থ উপহার দিয়েছিলেন। যেখানে লেখক উল্লেখ করেছেন যে, তিনি «আল-আজিজ বিল্লাহ নিজার আল-ফাতিমির শিকারি পাখি প্রশিক্ষক ছিলেন এবং শৈশব থেকেই এই খলিফার ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠেছেন। খলিফা তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে তাঁকে লালন-পালন করেছেন এবং পদোন্নতি দান করেছেন, এমনকি তাঁর জায়গিরের পরিমাণ বিশ হাজার দিনারে উন্নীত হয় এবং তাঁকে শিকারি পাখি প্রশিক্ষকদের প্রধান নিযুক্ত করেন» «৪»।

আস-সামআনির কিতাবুল আনসাব অনুযায়ী, মুহাল্লাবি শব্দটি মিম অক্ষরে পেশ, হা অক্ষরে জবর এবং লাম অক্ষরে তাশদিদ সহযোগে এবং শেষে একটি বিন্দুযুক্ত বা অক্ষরের মাধ্যমে গঠিত; এটি
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৬)
النسبة إلى أبي سعيد المهلّب بن أبي صفرة الأزدي أمير خراسان وأولاده العشرة نسبة وولاء. أي أن كل من يتكنى بالمهلّبي إما أنه ينتسب لأحد أبناء المهلّب بن أبي صفرة العشرة أو من مواليهم. ولا تتوفر لدينا معلومات لنحكم إن كان المهلّبي مهلبيا بالأصل أم بالموالاة.

ويقوم ابن العديم بترجمة مختصرة للمهلّبي في سرده لرجال ولاية حلب. إذ يقول: «الحسن بن أحمد المهلّبي العزيزي: رجل فاضل كان متصلا بالعزيز الفاطمي المستولي على مصر، ووضع له كتاب المسالك والممالك «العزيزي» وهو كتاب حسن في فنه، يوجد فيه مما لا يوجد في غيره من أخبار البلاد وفتوحها وخواصها.

ذكر في كتابه هذا أنه دخل حلب، ولحق بقية من ولد صالح بن علي، يقال لهم بنو القلندر، وأنه شاهد لهم نعما ضخمة ورأى لهم منازل في نهاية السرو» «5» .

وفي أحد المقاطع التي ينقلها ياقوت عن المهلّبي يصفه بالمصري، وهي الإشارة الوحيدة التي نعثر عليها حول انتمائه إلى مصر ولو بالإقامة، علما أن احتمال أن يكون شاميا احتمال وارد.

ويتضح لنا من خلال ما وصلنا من كتاب «المسالك والممالك» ، أن المهلّبي رحّالة لا يشق له غبار، وصل إلى أقاليم لم يسبقه أحد إليها وخصوصا في بلاد السودان. كما أنه يتحدث عن المسافات
খুরাসানের আমির আবু সাঈদ মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা আল-আজদি এবং তাঁর দশ সন্তানের প্রতি এই সম্বন্ধ (নিসবত) বংশগত কিংবা আনুগত্যের (ওয়ালা)। অর্থাৎ, যারই উপাধি ‘মুহাল্লাবি’, তিনি হয় মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরার দশ সন্তানের একজনের বংশধর অথবা তাঁদের অনুসারীদের (মাওয়ালি) অন্তর্ভুক্ত। মুহাল্লাবি কি বংশগতভাবে মুহাল্লাবি ছিলেন নাকি আনুগত্যের সূত্রে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য আমাদের কাছে নেই।

ইবনুল আদীম হালব প্রদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বর্ণনায় মুহাল্লাবির একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছেন। তিনি বলেন: «হাসান ইবনে আহমদ মুহাল্লাবি আল-আজিজি: তিনি একজন বিদগ্ধ ব্যক্তি ছিলেন এবং মিসরের ফাতিমি শাসক আল-আজিজ বিল্লাহর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি তাঁর জন্য ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ (আল-আজিজি) গ্রন্থটি রচনা করেন। এটি নিজ বিষয়ে একটি চমৎকার গ্রন্থ, যাতে বিভিন্ন দেশের সংবাদ, সেগুলোর বিজয় এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এমন অনেক তথ্য রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

তিনি তাঁর এই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হালব-এ প্রবেশ করেছিলেন এবং সালিহ ইবনে আলীর বংশধরদের অবশিষ্টাংশের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যাদের ‘বনু কালান্দার’ বলা হতো। তিনি তাদের প্রচুর ধন-সম্পদ প্রত্যক্ষ করেছিলেন এবং আভিজাত্যের চরম শিখরে থাকা তাদের আবাসস্থল দেখেছিলেন» (৫)।

ইয়াকুত মুহাল্লাবি থেকে উদ্ধৃত একটি অনুচ্ছেদে তাঁকে ‘মিসরি’ (মিসরীয়) বলে অভিহিত করেছেন। মিসরের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততা—তা কেবল বসবাসের কারণেই হোক না কেন—এটিই একমাত্র ইঙ্গিত যা আমরা খুঁজে পাই। যদিও তাঁর শামি (সিরীয়) হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।

‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থের যে অংশটুকু আমাদের কাছে পৌঁছেছে, তা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, মুহাল্লাবি ছিলেন একজন অতুলনীয় পর্যটক। তিনি এমন সব অঞ্চলে পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁর আগে কেউ পৌঁছাতে পারেনি, বিশেষ করে সুদান ভূখণ্ডে। এছাড়া তিনি দূরত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৭)
والطرق حديث العارف والمجرّب، وهو ما انتبه إليه أبو الفداء وأشار له أكثر من مرة.

وتتصف معلومات المهلّبي بدقتها بالنسبة للمسافات بين المدن والأقاليم، وجدّتها حيث يبدو مصدرا وحيدا لبعض المواضع، وسعتها حيث يذكر مصادر المياه وعادات الناس وأحوالهم وزروعهم ومحاصيلهم.

وأكثر ما يثير الاهتمام تلك الأرقام التي يسوقها عند حديثه عن نفقات طرسوس على تأمين حمايتها قبيل سقوطها بيد البيزنطيين بقيادة نقفور فوكاس عام 354 هجرية [965 ميلادية] .

ومن خلال وصف المهلّبي، نستطيع أن نكوّن فكرة شبه كاملة عن التاريخ الاجتماعي، والتركيبة السكانية للثغور الإسلامية الشمالية قبيل سقوطها، وربما، العوامل التي أدت إلى هذا السقوط.

كما أن الكتاب يحفل بمعلومات جديدة حول دمشق وبيت المقدس وحلب وأنطاكية وغيرها من المدن التي وصلتنا مقاطع مسهبة عنها، ما يؤشر إلى غنى وسعة معلومات، لم يغيبا عن ابن العديم، الذي نوّه إلى أن في «العزيزي» ما لا يوجد في غيره.

ونستطيع أن نجزم بأنه زار البلاد التي تحدّث عنها في كتابه ولم يعتمد على النقل من غيره، وذلك من خلال إشارات عابرة وردت في متن ما وصلنا من كتابه، منها أنه أقام في مدينة نخشب
পথসমূহ সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা হলো একজন অভিজ্ঞ ও বিদগ্ধ ব্যক্তির বক্তব্যের মতো, যা আবুল ফিদা অনুধাবন করেছেন এবং একাধিকবার এর উল্লেখ করেছেন।

শহর ও অঞ্চলগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্বের ক্ষেত্রে মুহাল্লাবীর তথ্যসমূহ সূক্ষ্মতা ও নতুনত্বের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যেখানে কিছু স্থানের ক্ষেত্রে তিনি একমাত্র উৎস হিসেবে প্রতীয়মান হন। এছাড়াও তাঁর তথ্যের ব্যাপকতা ফুটে ওঠে পানির উৎস, মানুষের অভ্যাস, তাদের অবস্থা এবং তাদের চাষাবাদ ও ফসল বর্ণনার মাধ্যমে।

সবচেয়ে কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো সেই সকল পরিসংখ্যান, যা তিনি ৩৫৪ হিজরি [৯৬৫ খ্রিস্টাব্দ] সালে নিকফোর ফোকাসের নেতৃত্বে বাইজেন্টাইনদের হাতে পতনের ঠিক পূর্বে তারসুসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যয়ের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন।

মুহাল্লাবীর বর্ণনার মাধ্যমে আমরা পতনের পূর্বমুহূর্তে উত্তরদিকের ইসলামী সীমান্ত শহরগুলোর সামাজিক ইতিহাস ও জনসংখ্যার বিন্যাস সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারি, এবং সম্ভবত সেই পতনের কারণগুলোও স্পষ্ট হয়।

এছাড়াও গ্রন্থটি দামেস্ক, বায়তুল মাকদিস, আলেপ্পো এবং আন্তাকিয়াসহ অন্যান্য শহর সম্পর্কে নতুন তথ্যে সমৃদ্ধ, যেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এটি তথ্যের প্রাচুর্য ও ব্যাপকতাকেই নির্দেশ করে, যা ইবনুল আদিমের দৃষ্টি এড়ায়নি; তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ‘আল-আজিজি’ গ্রন্থে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, তিনি তাঁর গ্রন্থে বর্ণিত দেশগুলো নিজে ভ্রমণ করেছেন এবং অন্যদের থেকে বর্ণনার ওপর নির্ভর করেননি। তাঁর গ্রন্থের যে অংশটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেখানে আসা কিছু প্রাসঙ্গিক ইশারা থেকে এটি প্রমাণিত হয়, যেমন তিনি নাখশাব শহরে অবস্থান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৮)
في بلاد ما وراء النهر مدة شهر، وأنه اجتاز بسامراء، وأنه أتى حلب، وغير ذلك. هذا إذا تجاوزنا طريقة وصفه للمدن والمواضع التي تشير بما لا يدع مجالا للشك أنه زارها وعاينها بنفسه.

ومن الإشارات المهمة حديثه في مادة بصرى عن قلعتها التي شبّهها بقلعة دمشق، وهي إشارة من شأنها أن تضيء جانبا من تاريخ قلعة دمشق، التي يقال إن السلاجفة هم الذين بنوها، علما أن المهلّبي زار دمشق قبل دخول السلاجفة إليها بنحو قرن.

كما أن إشارته لوجود كنيسة مقابلة للمسجد الأقصى من جهة المحراب بحيث تتصل أروقتها بأروقة المسجد، تعدّ على غاية من الأهمية بالنسبة إلى وضع المساجد والكنائس في بيت المقدس قبل الحروب الصليبية وما تلاها من عمليات هدم وإعادة بناء طالت كل شيء تقريبا.

لقد قمنا بجمع مادة الكتاب من جميع المصادر العربية المتوفرة، وهو ما كلفنا جهدا كبيرا، وبوّبناه على نسق «تقويم البلدان» لأبي الفداء، نظرا لدقة المنهج الذي اعتمده، كما قمنا بوضع الحواشي والشروح والتعليقات بالاعتماد على المراجع والمعاجم المتوفرة لتوضيح اللبس الذي يلفّ بعض النصوص، الناتج عن عمليات الاجتزاء التي جرت عليها نتيجة النقل. كما عدنا إلى الكتاب المقدس بعهديه القديم والجديد للوقوف على الاقتباسات التي أخذها المهلّبي عنه عند ما تحدث عن تاريخ بيت المقدس. وقد
মা-ওয়ারাউন-নাহর অঞ্চলে এক মাস অবস্থান করেছেন, এবং তিনি সামাররা অতিক্রম করেছেন, এবং তিনি আলেপ্পোতে এসেছেন, ইত্যাদি। এটি তার শহর ও স্থানসমূহের বর্ণনার ধরণকে বিবেচনা না করেই বলা যায়, যা নিঃসন্দেহে নির্দেশ করে যে তিনি সেগুলো নিজে পরিভ্রমণ করেছেন এবং সচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো 'বসরা' ভুক্তিতে এর দুর্গ সম্পর্কে তার আলোচনা, যাকে তিনি দামেস্ক দুর্গের সাথে তুলনা করেছেন। এটি এমন একটি ইঙ্গিত যা দামেস্ক দুর্গের ইতিহাসের একটি দিককে আলোকিত করে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে সেলজুকরাই সেটি নির্মাণ করেছিলেন; অথচ এটি জানা কথা যে মুহাল্লাবী সেলজুকদের সেখানে প্রবেশের প্রায় এক শতাব্দী আগে দামেস্ক সফর করেছিলেন।

একইভাবে মিহরাবের দিক থেকে মসজিদুল আকসার বিপরীতে একটি গির্জার অস্তিত্ব সম্পর্কে তার ইঙ্গিত, যার বারান্দাগুলো মসজিদের বারান্দার সাথে সংযুক্ত ছিল, তা ক্রুসেড যুদ্ধ এবং পরবর্তী ধ্বংস ও পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ার আগে—যা প্রায় সবকিছুকেই প্রভাবিত করেছিল—বাইতুল মাকদিসের মসজিদ ও গির্জাগুলোর অবস্থার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

আমরা সহজলভ্য সকল আরবি উৎস থেকে এই বইটির বিষয়বস্তু সংগ্রহ করেছি, যা আমাদের প্রচুর পরিশ্রমসাধ্য ছিল। এর বিন্যাস আমরা আবুল ফিদার «তাকউয়ীমুল বুলদান»-এর আদলে সাজিয়েছি, তার অনুসৃত পদ্ধতির সূক্ষ্মতার কারণে। এছাড়া আমরা বিদ্যমান রেফারেন্স ও অভিধানগুলোর ওপর ভিত্তি করে টীকা, ব্যাখ্যা এবং মন্তব্য যুক্ত করেছি, যাতে উদ্ধৃতির ফলে কোনো কোনো পাঠে যে অস্পষ্টতার সৃষ্টি হয়েছে তা স্পষ্ট করা যায়। বাইতুল মাকদিসের ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনার সময় মুহাল্লাবী বাইবেল (পুরাতন ও নতুন নিয়ম) থেকে যে সকল উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন, তা যাচাই করার জন্য আমরা মূল বাইবেলেরও শরণাপন্ন হয়েছি। এবং
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ১৯)
لاحظنا أن النصوص تكاد تكون متطابقة بين ما نقله المهلّبي وبين ما هو موجود في أسفار العهد القديم، والذي ينقل عنه دون أن يشير إلى موضع النقل جريا على عادة القدماء، إذ يكتفي بالقول:

«يزعم أهل الكتاب» ، أو «قال أهل الكتاب» ، أو «قال أهل الكتاب من النصارى» .

ومن الواضح أن المهلّبي أراد لكتابه أن يكون جديدا في كل شيء، فلم ينقل عن غيره من المصنّفين العرب الذين سبقوه في هذا العلم، ولم يشر إلى أي مصدر، كما أن الدراسة المقارنة للنصوص تجعلنا نجزم بأن معلوماته أصيلة حققها بنفسه، ومصدرها تجربة شخصية وبحث ميداني. ومن هنا أتت أهمية هذا الكتاب، ولذلك نقل عنه مؤلفون رصينون مثل ابن العديم وياقوت الحموي وأبو الفداء.

وفي النهاية لا بد من إيضاح أن المقاييس والأطوال التي ترد في نصوص هذا الكتاب تعتمد المصطلحات القديمة كالفرسخ والميل والمرحلة، وقد فصل أبو الفداء في هذه المقاييس وقارن بينها في مؤلفه" تقويم البلدان" ونفردها هنا لكي نزيل أي التباس:

الفرسخ 3 أميال.

الميل 3 آلاف ذراع حسب القياس القديم و 4 آلاف ذراع حسب القياس الحديث (المعاصر لأبي الفداء) .
আমরা লক্ষ্য করেছি যে আল-মুহাল্লাবি যা বর্ণনা করেছেন এবং ওল্ড টেস্টামেন্টের (পুরাতন নিয়ম) কিতাবসমূহে যা বিদ্যমান রয়েছে তার পাঠ্যগুলো প্রায় অভিন্ন; তিনি প্রাচীনদের রীতি অনুযায়ী উদ্ধৃতির উৎস উল্লেখ না করেই সেখান থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তিনি কেবল এটুকু বলেই ক্ষান্ত হন যে:

«আহলে কিতাবগণ দাবি করেন», অথবা «আহলে কিতাবগণ বলেছেন», অথবা «নাসারাদের অন্তর্ভুক্ত আহলে কিতাবগণ বলেছেন»।

এটা স্পষ্ট যে আল-মুহাল্লাবি চেয়েছিলেন তার বইটি প্রতিটি বিষয়ে নতুন হোক, তাই তিনি এই শাস্ত্রে তার পূর্বসূরি অন্যান্য আরব গ্রন্থকারদের থেকে কিছু নকল করেননি এবং কোনো উৎসের দিকে ইঙ্গিতও করেননি। তেমনি পাঠ্যসমূহের তুলনামূলক অধ্যয়ন আমাদের এই বিষয়ে নিশ্চিত করে যে, তার সংগৃহীত তথ্যাদি মৌলিক যা তিনি নিজেই যাচাই করেছেন এবং এর উৎস হলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সরেজমিন গবেষণা। আর এখান থেকেই এই বইটির গুরুত্ব ফুটে ওঠে, একারণেই ইবনুল আদিম, ইয়াকুত আল-হামাউয়ি এবং আবু আল-ফিদার মতো প্রাজ্ঞ লেখকগণ তার থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

পরিশেষে এটি স্পষ্ট করা আবশ্যক যে, এই বইটির পাঠ্যে উল্লিখিত মাপ ও দৈর্ঘ্যসমূহ প্রাচীন পরিভাষা যেমন ফারসাখ, মাইল এবং মারহালার ওপর নির্ভরশীল। আবু আল-ফিদা তার "তাকউয়িম আল-বুলদান" গ্রন্থে এই পরিমাপগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন; কোনো প্রকার অস্পষ্টতা দূর করার লক্ষ্যে আমরা সেগুলো এখানে পৃথকভাবে উল্লেখ করছি:

ফারসাখ ৩ মাইল।

মাইল হলো প্রাচীন পরিমাপ অনুযায়ী ৩ হাজার হাত এবং আধুনিক পরিমাপ (আবু আল-ফিদার সমসাময়িক) অনুযায়ী ৪ হাজার হাত।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২০)
الذراع 32 إصبعا حسب القياس القديم، و 24 إصبعا حسب الحديث.

الإصبع 6 حبات شعير معتدلات مضمومة بطون بعضها إلى بعض.

وحبة الشعير في المتوسط 6، 2 ملم.

وعند المقدسي البشاري:

المرحلة بريدين

البريد 6 أميال «6»

تيسير خلف دمشق في 13 آب من عام 2005 م 8 رجب 1426 هـ.
প্রাচীন পরিমাপ অনুযায়ী এক হাত (জিরা‘) ৩২ আঙুল এবং আধুনিক পরিমাপ অনুযায়ী ২৪ আঙুল।

এক আঙুল হলো স্বাভাবিক আকারের ৬টি যব দানা, যেগুলোর একটির পেট অপরটির সাথে মিলিয়ে রাখা হয়েছে।

আর একটি যব দানা গড়ে ৬.২ মিলিমিটার।

আর আল-মাকদিসি আল-বাশশারির মতে:

এক মারহালা হলো দুই বারীদ।

এক বারীদ হলো ৬ মাইল «৬»।

তাইসীর খালাফ, দামেস্ক, ১৩ আগস্ট ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ, ৮ রজব ১৪২৬ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌جزيرة العرب

‌‌الأبوا

قال في العزيزي: والأبوا بها آبار، وبينها وبين الجحفة تسعة وعشرون ميلا «7» .

‌‌أيلة

قال محمد بن الحسن المهلّبي: من الفسطاط إلى جب عميرة ستة أميال، ثم إلى منزل يقال له عجرود وفيه بئر ملحة بعيدة الرشاء أربعون ميلا، ثم إلى مدينة القلزم «8» خمسة وثلاثون ميلا ثم إلى ماء يعرف بتجر يومان، ثم إلى ماء يعرف بالكرسي فيه بئر رواء مرحلة، ثم إلى رأس عقبة أيلة مرحلة، ثم إلى مدينة أيلة مرحلة.

قال: ومدينة أيلة جليلة على لسان من البحر الملح وبها مجتمع حج الفسطاط والشام، وبها قوم يذكرون أنهم من موالي عثمان بن عفان، ويقال إن بها برد النبي صلى الله عليه وسلم، وكان قد
আরব উপদ্বীপ

আল-আবওয়া

আল-আজিজিতে বলা হয়েছে: আল-আবওয়াতে অনেক কূয়ো রয়েছে এবং এর ও আল-জুহফার মধ্যবর্তী দূরত্ব উনত্রিশ মাইল «৭»।

আয়লা

মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আল-মুহাল্লাবি বলেন: ফুসতাত থেকে জুব্বে উমাইরাহ পর্যন্ত ছয় মাইল, তারপর আজরুদ নামক এক মনজিল পর্যন্ত যেখানে একটি লোনা পানির কূয়ো রয়েছে যার রশি অনেক দীর্ঘ, এর দূরত্ব চল্লিশ মাইল, তারপর আল-কুলজুম শহর পর্যন্ত পঁয়ত্রিশ মাইল, তারপর তাজর নামক জলাধার পর্যন্ত দুই দিনের পথ, তারপর আল-কুরসি নামক জলাধার পর্যন্ত যেখানে সুপেয় পানির কূয়ো রয়েছে তা এক মনজিল, তারপর আকাবায়ে আয়লার অগ্রভাগ পর্যন্ত এক মনজিল, তারপর আয়লা শহর পর্যন্ত এক মনজিল।

তিনি বলেন: আয়লা শহরটি লোনা সমুদ্রের এক খাড়ির তীরে অবস্থিত এক সুবিশাল শহর এবং সেখানে ফুসতাত ও শামের হাজীদের মিলনস্থল। সেখানে এমন এক সম্প্রদায় বাস করে যারা উল্লেখ করে যে তারা উসমান ইবন আফফানের মুক্ত করা দাসদের অন্তর্ভুক্ত। বলা হয় যে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাদর ছিল এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২২)
وهبه ليوحنة بن رؤبة لمّا سار إليه إلى تبوك؛ وخراج أيلة ووجوه الجبايات بها نحو ثلاثة آلاف دينار. وأيلة في الإقليم الثالث وعرضها ثلاثون درجة «9» .

‌‌تدمر

قال في العزيزي: وبينها وبين دمشق تسعة وخمسون ميلا، ومن تدمر إلى الرحبة مئة ميل وميلان.

وقال في العزيزي أيضا: وهي مدينة قديمة كثيرة الآثار العجيبة، يقال إن سليمان بن داود بناها «10» .

‌‌تيماء

ومن الكتاب العزيزي قال: تيماء حاضرة طي، وبها الحصن المعروف بالأبلق، وينتسب إلى السموأل بن عادياء الذي يقول:

لنا جبل يحتله من نجيره … منيع يرد الطرف وهو كليل

هو الأبلق الفرد الذي سار ذكره … له غرر مشهورة وحجول «11»
তিনি এটি রুয়বাহর পুত্র ইউহান্নাকে দান করেন যখন তিনি তাবুকের দিকে যাত্রা করেছিলেন; আইলার ভূমিরাজস্ব এবং সেখানকার কর আদায়ের বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় তিন হাজার দিনার সংগৃহীত হতো। আইলা তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এবং এর অক্ষাংশ ত্রিশ ডিগ্রি।

‌‌তাদমুর

আল-আজিজি গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি এবং দামেস্কের মধ্যবর্তী দূরত্ব উনষাট মাইল, আর তাদমুর থেকে রাহবাহ পর্যন্ত দূরত্ব একশত দুই মাইল।

আল-আজিজি গ্রন্থে আরও বলা হয়েছে: এটি একটি প্রাচীন শহর যেখানে প্রচুর বিস্ময়কর প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে; বলা হয় যে, দাউদ তনয় সুলায়মান এটি নির্মাণ করেছিলেন।

‌‌তায়মা

কিতাব আল-আজিজি থেকে বর্ণিত হয়েছে: তায়মা হলো তাই গোত্রের প্রধান জনপদ, সেখানে আল-আবলক নামে পরিচিত দুর্গটি অবস্থিত। এটি সামাওয়াল ইবন আদিয়া-র সাথে সম্পর্কিত, যিনি বলেছিলেন:

আমাদের এমন একটি পর্বত রয়েছে যেখানে আমাদের আশ্রিতরা বসবাস করে … যা অত্যন্ত দুর্ভেদ্য এবং ক্লান্ত হয়ে দৃষ্টি সেখান থেকে ফিরে আসে।

এটিই সেই অদ্বিতীয় আবলক যার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে … যার রয়েছে সুপ্রসিদ্ধ শুভ্র কপাল ও পা। (তার খ্যাতি ও মহিমা অত্যন্ত সুস্পষ্ট)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌جرش

قال في العزيزي: وجرش بلدة صالحة وحولها من شجر القرط ما لا يحصى وبها مدابغ كثيرة وعرضها ست عشر درجة «12» .

‌‌الجمّاء

وفي كتاب أبي الحسن المهلّبي: الجمّاء اسم هضبة سوداء. قال وهما جماهان، يعني هضبتين من يمين الطريق للخارج من المدينة إلى مكة «13» .

‌‌خيوان

قال في العزيزي: وخيوان طرف منازل بني الضحّاك من آل يعفر من أولاد التبابعة، وماؤها من السماء «14» .
জারশ

আল-আজিজিতে বলা হয়েছে: জারশ একটি সমৃদ্ধ শহর এবং এর চারপাশে অসংখ্য কর্ট গাছ রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর চর্মশালা (চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র) রয়েছে, আর এর অক্ষাংশ হলো ষোল ডিগ্রি «১২»।

আল-জাম্মা

আবু আল-হাসান আল-মুহাল্লাবির কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: আল-জাম্মা হলো একটি কৃষ্ণবর্ণের উঁচু ভূমির নাম। তিনি বলেছেন, এগুলি হলো দুটি জাম্মা, অর্থাৎ মদিনা থেকে মক্কায় বহির্গমনকারীর রাস্তার ডানদিকের দুটি উঁচু ভূমি «১৩»।

খাইওয়ান

আল-আজিজিতে বলা হয়েছে: খাইওয়ান হলো তুব্বা সন্তানদের বংশধর আল-ইয়াফুরের অন্তর্ভুক্ত বনু দাহহাকের আবাসস্থলের শেষ সীমানা, আর এর পানির উৎস হলো আকাশ (বৃষ্টি) «১৪»।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ذات عرق

قال في العزيزي: وبين ذات عرق وعمرة ستة وعشرين ميلا «15» .

‌‌زبيد

قال في العزيزي: ولها ساحل بعرف بعلافقة، وبينهما خمسة عشر ميلا «16» .

‌‌السّرين

قال في العزيزي: والسّرين مدينة على ساحل البحر بينها وبين مكة أربعة أيام كبار «17» .

‌‌الشبا

قال أبو الحسن المهلّبي: شبا واد بالأثيل من أعراض المدينة، فيه عين يقال لها خيف الشبا لبني جعفر بن إبراهيم من بني جعفر بن أبي طالب «18» .
যাতু ইরক

আল-আজিজি বলেন: যাতু ইরক ও উমরার মধ্যবর্তী দূরত্ব ছাব্বিশ মাইল «১৫»।

জাবিদ

আল-আজিজি বলেন: এর একটি উপকূল রয়েছে যা ‘আলাফিকা’ নামে পরিচিত, এবং এ দুইয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব পনেরো মাইল «১৬»।

আস-সাররিন

আল-আজিজি বলেন: আস-সাররিন হলো সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি শহর, এর এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব বড় চার দিনের পথ «১৭»।

আশ-শাবা

আবুল হাসান আল-মুহাল্লাবি বলেন: শাবা হলো মদিনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহের আল-আসিল নামক স্থানের একটি উপত্যকা, এতে একটি ঝরনা রয়েছে যাকে খাইফে শাবা বলা হয়, যা জাফর ইবনে আবি তালিবের বংশধর জাফর ইবনে ইব্রাহিমের সন্তানদের মালিকানাধীন «১৮»।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌شبام (قصبة حضرموت)

قال في العزيزي: في الجبل المذكور سكان كثيرون، وهو ممتنع من كل ناحية، وهو معدن الحجر المعروف بالعقيق والجزع «19» .

‌‌صحار (قصبة عمان)

قال في العزيزي: وعمان مدينة جليلة بها مرسى السفن من السند والهند والصين والزنج، والقصبة اسمها صحار وليس على بحر فارس «20» مدينة أجلّ منها، وأعمالها نحو ثلاثمائة فرسخ وهي ديار الأزد «21» .

‌‌صعدة

قال الحسن بن محمد المهلّبي: صعدة مدينة عامرة آهلة يقصدها التجّار من كل بلد وبها مدابغ الأدم وجلود البقر التي للنعال. وهي خصبة كثيرة الخير، وهي في الإقليم الثاني عرضها ست عشرة درجة وارتفاعها وجميع وجوه المال مائة ألف دينار ومنها
শিবাম (হাদরামাউতের প্রধান শহর)

আল-আজিজি বলেছেন: উল্লিখিত পাহাড়ে বহু অধিবাসী রয়েছে এবং এটি সব দিক থেকেই দুর্ভেদ্য। এটি আকিক ও জায’ নামে পরিচিত পাথরের খনি।

সোহর (ওমানের প্রধান শহর)

আল-আজিজি বলেছেন: ওমান একটি মর্যাদাপূর্ণ শহর, যেখানে সিন্ধু, হিন্দুস্তান, চীন ও জানজ (আফ্রিকা) থেকে আগত জাহাজসমূহ নোঙর করে। এর প্রধান শহরের নাম সোহর এবং পারস্য উপসাগরের উপকূলে এর চেয়ে মহিমান্বিত কোনো শহর নেই। এর আয়তন প্রায় তিনশত ফারসাখ এবং এটি আজদ গোত্রের আবাসস্থল।

সাদা

আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি বলেছেন: সাদা একটি আবাদকৃত ও জনাকীর্ণ শহর যেখানে প্রতিটি দেশ থেকে বণিকরা যাতায়াত করে। সেখানে চামড়া এবং জুতার জন্য ব্যবহৃত গরুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার ট্যানারি রয়েছে। এটি অত্যন্ত উর্বর ও প্রাচুর্যময়। এটি দ্বিতীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত, যার অক্ষাংশ ষোলো ডিগ্রি এবং এর উচ্চতা এবং এর সকল প্রকার রাজস্ব এক লক্ষ দিনার এবং এখান থেকে
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلى الأعشبية قرية عامرة خمسة وعشرون ميلا. ومنها إلى خيوان أربعة وعشرون ميلا «22» .

‌‌صنعاء

قال في العزيزي: مدينة صنعاء مدينة جليلة وهي قصبة اليمن، وبها أسواق جليلة ومتاجر كثيرة «23» .

‌‌عسفان

قال في العزيزي: وبين عسفان وبين الجحفة أحد وخمسون ميلا، ومن عسفان إلى بطن مر ثلاثة وثلاثون ميلا، ثم إلى مكة تسعة عشر ميلا، فبين عسفان وبين مكة اثنان وخمسون ميلا «24» .

‌‌فيد

قال في العزيزي: وفيد نصف طريق حجاج العراق. قال وبينها وبين الجبلين المعروفين بسلمى وأجا ستة وثلاثون ميلا، والثعلبية ثلث طريق حجاج العراق «25» .
আল-আ'শাবিয়্যাহ পর্যন্ত, যা একটি জনবহুল গ্রাম, পঁচিশ মাইল। এবং সেখান থেকে খাইওয়ান পর্যন্ত চব্বিশ মাইল «২২»।

সান'আ

'আল-আজিজি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সান'আ শহর একটি মর্যাদাপূর্ণ শহর এবং এটি ইয়ামেনের রাজধানী। সেখানে চমৎকার সব বাজার এবং অনেক বাণিজ্যকেন্দ্র রয়েছে «২৩»।

উসফান

'আল-আজিজি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: উসফান ও আল-জুহফার মধ্যবর্তী দূরত্ব একান্ন মাইল। উসফান থেকে বাতনে মার পর্যন্ত তেত্রিশ মাইল, অতঃপর মক্কা পর্যন্ত উনিশ মাইল। সুতরাং উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব বায়ান্ন মাইল «২৪»।

ফায়দ

'আল-আজিজি' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ফায়দ হলো ইরাকের হাজীদের রাস্তার মধ্যবর্তী স্থান। তিনি বলেন: ফায়দ এবং সালমা ও আজা নামক প্রসিদ্ধ পাহাড়দ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব ছত্রিশ মাইল। আর আস-সা'লাবিয়্যাহ হলো ইরাকের হাজীদের রাস্তার এক-তৃতীয়াংশ «২৫»।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌قرن

قال الحسن بن محمد المهلّبي: قرن قرية بينها وبين مكة واحد وخمسون ميلا، وهي ميقات أهل اليمن، بينها وبين الطائف ذات اليمين ستة وثلاثون ميلا «26» .

‌‌هجر

وفي العزيزي: عرضها أربع وثلاثون درجة وزعم أنها في الإقليم الثالث «27» .

‌‌الهماء

في كتاب أبي الحسن المهلّبي الهماء موضع «28» .

‌‌اليمامة

وفي كتاب العزيزي: إنها في الإقليم الثالث، وعرضها خمس وثلاثون درجة «29» .
কারন

আল-হাসান বিন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি বলেন: কারন একটি গ্রাম, যার এবং মক্কার মধ্যবর্তী দূরত্ব একান্ন মাইল। এটি ইয়ামেনবাসীদের মিকাত। এটি এবং তায়েফের ডানদিকের মধ্যবর্তী দূরত্ব ছত্রিশ মাইল «২৬»।

হাজার

আল-আজিজি কিতাবে রয়েছে: এর অক্ষাংশ চৌত্রিশ ডিগ্রি এবং তিনি দাবি করেছেন যে এটি তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত «২৭»।

আল-হামা

আবু হাসান আল-মুহাল্লাবির কিতাবে উল্লেখ আছে যে, আল-হামা একটি স্থান «২৮»।

আল-ইয়ামামা

এবং আল-আজিজি কিতাবে রয়েছে: এটি তৃতীয় জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত এবং এর অক্ষাংশ পঁয়ত্রিশ ডিগ্রি «২৯»।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌ديار مصر

‌‌أبوتيج

قال العزيزي: ومن أسيوط إلى أبوتيج أربعة وعشرون ميلا، ومن أبو تيج إلى أخميم، مدينة قديمة على عنق البحر، أربعة وعشرون ميلا «30» .

‌‌أرمنت

قال في العزيزي: وبين أسوان وأرمنت مرحلتان، وبين أرمنت وقوص مرحلتان «31» .

‌‌الأشتوم

قال الحسن بن محمد المهلّبي في كتابه العزيزي: ومن تنيس إلى حصن الأشتوم، وفيه مصبّ ماء البحيرة، إلى بحر الروم ستة فراسخ، ومن هذا الحصن إلى مدينة الفرما في البرّ ثمانية أميال، وفي البحيرة ثلاثة فراسخ.
মিশরের অঞ্চলসমূহ

‌আবু তিজ

আল-আজিজি বলেন: আসিউত থেকে আবু তিজ চব্বিশ মাইল, এবং আবু তিজ থেকে আখমিম—যা সমুদ্রের মোহনায় অবস্থিত একটি প্রাচীন শহর—চব্বিশ মাইল (৩০)।

‌আরমান্ত

আল-আজিজি গ্রন্থে বলা হয়েছে: আসওয়ান ও আরমান্তের মধ্যে দুই মারহালা, এবং আরমান্ত ও কুসের মধ্যে দুই মারহালা (৩১)।

‌আল-আশতুম

আল-হাসান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবি তাঁর কিতাবুল আজিজিতে বলেন: তিন্নীস থেকে আল-আশতুম দুর্গ পর্যন্ত—যেখানে হ্রদের পানির মোহনা রোম সাগরের (ভূমধ্যসাগর) দিকে উন্মুক্ত—ছয় ফারসাখ, এবং এই দুর্গ থেকে স্থলপথে আল-ফারামা শহর পর্যন্ত আট মাইল এবং হ্রদপথে তিন ফারসাখ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ثم قال عند ذكر دمياط: ومن شمالي دمياط يصب النيل إلى البحر الملح في موضع يقال له الأشتوم، عرض النيل هناك نحو مئة ذراع، وعليه من حافتيه سلسلة حديد وهذا غير الأول «32» .

‌‌بنا

قال أبو الحسن المهلّبي: من الفسطاط إلى‌‌ بنها ثمانية عشر ميلا، وإلى صنهشت بن زيد ثمانية أميال، وإلى مدينة بنا وهي مدينة قديمة جاهلية لها ارتفاع جليل، ومنها إلى سمنود ميلان «33» .

بنها

قال أبو الحسن المهلّبي: من الفسطاط إلى مدينة بنها، وهي على شعبة من النيل وأكثر عسل مصر الموصوف بالجودة مجلوب منها ومن كورتها وهي عامرة حسنة العمارة، ثمانية عشر ميلا «34» .
তারপর তিনি দমিয়্যাত সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন: দমিয়্যাতের উত্তর দিক থেকে নীল নদ আল-আশতুম নামক স্থানে লোনা সাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে। সেখানে নীল নদের প্রস্থ প্রায় একশ হাত এবং এর দুই তীরে একটি লোহার শিকল রয়েছে; আর এটি প্রথমটি থেকে ভিন্ন «৩২»।

‌‌বিনা

আবু আল-হাসান আল-মুহাল্লাবি বলেন: ফুস্তাত থেকে বানহা পর্যন্ত আঠারো মাইল, এবং সানহাশত ইবনে জায়েদ পর্যন্ত আট মাইল, এবং বিনা শহর পর্যন্ত—যা জাহেলী যুগের এক প্রাচীন শহর এবং এর বিশেষ উচ্চতা বা মর্যাদা রয়েছে। সেখান থেকে সামান্নুদ পর্যন্ত দুই মাইল «৩৩»।

বানহা

আবু আল-হাসান আল-মুহাল্লাবি বলেন: ফুস্তাত থেকে বানহা শহর পর্যন্ত আঠারো মাইল; এটি নীল নদের একটি শাখার ওপর অবস্থিত। মিশরের গুণগত মানের জন্য সুপরিচিত অধিকাংশ মধু এখান থেকে এবং এর সংলগ্ন এলাকা থেকে সংগৃহীত হয়। এটি একটি জনবহুল এবং সুনির্মিত শহর «৩৪»।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌تنّيس

قال الحسين بن محمد المهلّبي: أما تنّيس فالحال فيها كالحال في دمياط، إلا أنها أجل وأوسط وبها تعمل الثياب الملونة، والفرش البوقلمون، وبحيرتها التي هي عليها مقدار إقلاع يوم في عرض نصف يوم، ويكون ماؤها أكثر السنة ملحا لدخول ماء بحر الروم إليه عند هبوب ريح الشمال، فإذا انصرف نيل مصر في دخول الشتاء وكثر هبوب الريح الغريبة حلت البحيرة وحلا سيف البحر الملح مقدار بريدين حتى يجاوز مدينة الفرما، فحينئذ يخزنون الماء في جباب لهم ويعدونه لسنتهم، ومن حذق نواتي البحر في هذه البحيرة، إنهم يقلعون بريح واحدة يريدون القلوع بها حتى يذهبوا في جهتين مختلفتين فيلقى المركب المركب مختلف السير في مثل لحظ الطرف بريح واحدة. قال وليس بتنيس هوام مؤذية لأن أرضها سبخة شديدة الملوحة «35» .

‌‌الجفار

قال أبو الحسن المهلّبي في كتابه الذي ألّفه للعزيز، وكان موته في سنة 386: وأعيان مدن الجفار، العريش، ورفح، والورّادة.

والنخل في جميع الجفار كثير وكذلك الكروم وشجر الرمان،
তিন্নীস

হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবী বলেন: তিন্নীসের অবস্থা দিময়াতের অবস্থার মতোই, তবে এটি অধিকতর মহিমান্বিত ও কেন্দ্রীয় এবং এখানে রঙিন বস্ত্র ও বূকালামুন গালিচা তৈরি করা হয়। এর হ্রদটি—যার তীরে এটি অবস্থিত—দৈর্ঘ্যে একদিনের নৌ-যাত্রার পথ এবং প্রস্থে অর্ধ দিবসের পথ। বছরের অধিকাংশ সময় এর পানি লোনা থাকে, কারণ উত্তর বায়ু প্রবাহিত হলে এতে রোম সাগরের পানি প্রবেশ করে। যখন শীতের শুরুতে মিশরের নীল নদের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং পশ্চিমা বায়ুর প্রবাহ বেড়ে যায়, তখন হ্রদের পানি মিষ্টি হয়ে যায় এবং সমুদ্রের লোনা উপকূলীয় অংশও আল-ফারামা শহর অতিক্রম করা পর্যন্ত প্রায় দুই বারীদ দূরত্ব পর্যন্ত মিষ্টি হয়ে যায়। তখন তারা তাদের জলাধারে পানি জমা করে রাখে এবং সারা বছরের জন্য তা প্রস্তুত রাখে। এই হ্রদের নাবিকদের চাতুর্য এই যে, তারা একই বাতাসের সাহায্যে পাল তোলে এবং সেই বাতাস ব্যবহার করেই দুটি ভিন্ন দিকে অগ্রসর হয়; ফলে চোখের পলকে একটি নৌকা অপর নৌকার সাথে বিপরীতমুখী অবস্থায় মিলিত হয়, অথচ উভয়ই একই বাতাসে চলছে। তিনি আরও বলেন: তিন্নীসে কোনো ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নেই, কারণ এর ভূমি অত্যন্ত লবণাক্ত জলাভূমি।

আল-জিফার

আবুল হাসান আল-মুহাল্লাবী তার গ্রন্থে—যা তিনি আল-আযীযের জন্য রচনা করেছিলেন এবং যার মৃত্যু হয়েছিল ৩৮৬ হিজরিতে—বলেছেন: আল-জিফার অঞ্চলের প্রধান শহরগুলো হলো আল-আরিশ, রাফাহ এবং আল-ওয়াররাদা।

সমগ্র আল-জিফার অঞ্চলে খেজুর গাছ প্রচুর, তেমনিভাবে আঙুর ও ডালিম গাছও অনেক।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৩২)
وأهلها بادية محتضرون، ولجميعهم في ظواهر مدنهم أجنّة وأملاك وأخصاص فيها كثير منهم، ويزرعون في الرمل زرعا ضعيفا يؤدون فيه العشر، وكذلك يؤخذ من ثمارهم، ويقطع في وقت من السنة إلى بلدهم من بحر الروم طير من السلوى يسمونه المرع «36» ، يصيدون منه ما شاء الله يأكلونه طريّا ويقتنونه مملوحا، ويقطع أيضا إليهم من بلد الروم على البحر في وقت من السنة جارح كثير فيصيدونه، منه الشواهين والصقور والبواشق، وقلّ ما يقدرون على البازي، وليس لصقورهم وشواهينهم من الفراهة ما لبواشقهم، وليس يحتاجون لكثرة أجنتهم إلى الحرّاس، لأنه لا يقدر أحد منهم أن يعدو على أحد لأن الرجل منهم إذا أنكر شيئا من حال جنانه نظر إلى الوطء في الرمل ثم قفا ذلك إلى مسيرة يوم ويومين حتى يلحق من سرقه، وذكر بعضهم أنهم يعرفون أثر وطء الشاب من الشيخ والأبيض من الأسود والمرأة من الرجل والعاتق من الثيّب، فإن كان هذا حقّا فهو من أعجب العجائب «37» .

এবং এর বাসিন্দারা মরুবাসী যারা স্থায়িভাবে বসবাস করে। তাদের প্রত্যেকেরই শহরের উপকণ্ঠে বাগান, ভূ-সম্পত্তি এবং কুঁড়েঘর রয়েছে, যেখানে তাদের অনেকে বসবাস করে। তারা বালিতে স্বল্প পরিসরে চাষাবাদ করে এবং তার ওপর উশর প্রদান করে; একইভাবে তাদের ফলমূল থেকেও কর গ্রহণ করা হয়। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোম সাগর হতে তাদের ভূখণ্ডে 'সালওয়া' জাতীয় এক প্রকার পাখি উড়ে আসে, যাকে তারা 'আল-মুরউ' (৩৬) বলে অভিহিত করে। তারা সেখান থেকে আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী প্রচুর পরিমাণে শিকার করে; সেগুলো তারা তাজা অবস্থায় আহার করে এবং লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখে। বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমুদ্রপথে রোম দেশ থেকে তাদের নিকট প্রচুর পরিমাণে শিকারি পাখিও আসে এবং তারা সেগুলো শিকার করে। এর মধ্যে রয়েছে শাহীন, বাজ এবং শিকরা; তবে তারা 'আল-বাজি' খুব সামান্যই শিকার করতে সক্ষম হয়। তাদের বাজ ও শাহীন পাখিগুলো তাদের শিকরা পাখিগুলোর ন্যায় তেমন দক্ষ ও ক্ষিপ্র নয়। বাগানের প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রহরীর প্রয়োজন হয় না; কারণ তাদের কেউ অপরের ওপর সীমালঙ্ঘন করতে পারে না। কেননা তাদের কোনো ব্যক্তি যখন তার বাগানে কোনো অসংগতি লক্ষ্য করে, তখন সে বালির ওপরকার পদচিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে এবং তা অনুসরণ করে এক বা দুই দিনের পথ পর্যন্ত পাড়ি দেয়, যতক্ষণ না সে চোরকে পাকড়াও করে। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, তারা পদচিহ্ন দেখে বৃদ্ধ ও যুবক, শ্বেতবর্ণ ও কৃষ্ণবর্ণ, পুরুষ ও নারী এবং কুমারী ও বিবাহিতা নারীর পার্থক্য নিরূপণ করতে সক্ষম। যদি এটি সত্য হয়, তবে তা বিস্ময়কর বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত (৩৭)।

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক লিল মুহাল্লাবী = আল-আযীযী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌دمياط

قال الحسن بن محمد المهلّبي: ومن طريف أمر دمياط وتنيّس أنّ الحاكة «38» بها الذين يعملون هذه الثياب الرفيعة قبط من سفلة الناس وأوضعهم وأخسهم مطعما ومشريا، وأكثر أكلهم السمك المملوح والطريّ والصّير «39» المنتن، وأكثرهم يأكل ولا يغسل يده ثم يعود إلى تلك الثياب الرفيعة الجليلة القدر فيبطش بها ويعمل في غزولها ثم ينقطع الثوب، فلا يشك مقلّبه للابتياع أنه قد بخّر بالندّ «40» .

قال: ومن طريف أمر دمياط في قبليها على الخليج مستعمل فيه غرف تعرف بالمعامل، يستأجرها الحاكة لعمل ثياب الشرب فلا تكاد تنجب إلا بها، فإن عمل بها ثوب وبقي منه شبر ونقل إلى غير هذه المعامل علم بذلك السمسار المبتاع للثوب، فينقص من ثمنه لاختلاف جوهر الثوب عليه «41» .
‌দমিয়্যাত

আল-হাসান ইবন মুহাম্মদ আল-মুহাল্লাবী বলেন: দমিয়্যাত ও তিন্নীসের একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো এই যে, সেখানকার বুননশিল্পী যারা এই উন্নত মানের বস্ত্রসমূহ তৈরি করে, তারা কিবতী বংশোদ্ভূত নিচু শ্রেণির মানুষ এবং আহার ও পানীয়ের দিক থেকে অত্যন্ত নিম্ন ও তুচ্ছ স্বভাবের। তাদের অধিকাংশ খাবারই হলো লবণাক্ত মাছ, তাজা মাছ এবং দুর্গন্ধযুক্ত ছোট মাছ। তাদের অনেকেই আহার করার পর হাত ধৌত না করেই সেই উচ্চমূল্যবান ও মহিমান্বিত বস্ত্রগুলোর কাছে ফিরে যায় এবং সেগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করে ও সুতা বুননের কাজ সম্পন্ন করে। অতঃপর যখন কাপড়টি তৈরি শেষ হয়, তখন কোনো ক্রেতা তা পরীক্ষা করার সময় বিন্দুমাত্র সন্দেহ করে না যে এটি নিশ্চয়ই ‘নাদ’ (এক প্রকার সুগন্ধি) দ্বারা ধূপায়িত করা হয়েছে।

তিনি বলেন: দমিয়্যাতের আরও একটি বিস্ময়কর বিষয় হলো, এর দক্ষিণ দিকে খালের তীরে কিছু কক্ষ ব্যবহৃত হয় যা ‘মাআমিল’ (কারখানা) নামে পরিচিত। বুননশিল্পীরা ‘শুরব’ (সূক্ষ্ম বস্ত্র) তৈরির জন্য সেগুলো ভাড়া নেয়; এই কারখানাগুলো ছাড়া সেই কাপড় অন্য কোথাও আশানুরূপভাবে তৈরি হয় না। যদি সেখানে কোনো কাপড় তৈরি করা শুরু হয় এবং মাত্র এক বিঘত পরিমাণ কাজ বাকি থাকাবস্থায় তা এই কারখানাগুলো ছাড়া অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়, তবে কাপড় ক্রয়কারী দালাল তা বুঝতে পেরে যায়। কাপড়ের গুণগত মানের পার্থক্যের কারণে সে তখন তার মূল্য কমিয়ে দেয়।