(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: -)
التصاريف لتفسير القرآن مما اشتبهت أسمائه وتصرفت معانيه القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: التصاريف لتفسير القرآن مما اشتبهت أسمائه وتصرفت معانيه
المؤلف: يحيى بن سلام بن أبي ثعلبة، التيمي بالولاء، من تيم ربيعة، البصري ثم الإفريقي القيرواني (ت 200هـ)
قدمت له وحققته: هند شلبي
الناشر: الشركة التونسية للتوزيع
عام النشر: 1979 م
عدد الصفحات: 353
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তাসারিফ লি তাফসিরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহি (কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে সমরূপ শব্দাবলি ও অর্থবৈচিত্র্য) বিভাগ: উলুমুল কুরআন ও উসুলুত তাফসির
বই: আত-তাসারিফ লি তাফসিরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহি
লেখক: ইয়াহইয়া ইবনে সালাম ইবনে আবি সালাবা, আনুগত্য সূত্রে (بالولاء) আল-তাইমি, তায়িম রাবিয়া গোত্রভুক্ত, আল-বাসরি অতপর আল-ইফ্রিকি আল-কায়রাওয়ানি (মৃত্যু ২০০ হিজরি)
ভূমিকা ও গবেষণামূলক সম্পাদনা (تحقيق): হিন্দ শালাবি
প্রকাশক: আশ-শারিকাহ আত-তিউনিসিয়্যাহ লিত-তাওজি (তিউনিসীয় বিতরণ কোম্পানি)
প্রকাশকাল: ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫৩
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة التحقيق
تقديميندرج تحقيق هذا الكتاب في نطاق خطة عملية تهدف إلى الكشف عن إسهام إفريقية التونسية في خدمة القرآن وعلومه. فقد وقفت الباحثة الفاضلة هند شلبي جهدها في السنوات الأخيرة على البحث في هذا الإسهام، مفيدة من ثقافتها العميقة وتخصصها المتين في أصول الدين الذي تخرجت فيه من الكلية الزيتونية للشريعة وأصول الدين.
وبالرغم من أنه قد أنجزت لحد الآن دراسات تاريخية وحضارية تناولت الحياة الأدبية واللغوية في إفريقية، كما استهدفت التاريخ والسياسة والاجتماع على مدى يشمل أغلب أدوار إفريقية التاريخية فإننا لا نجد أية دراسة جادة اهتمت بالقرآن وعلومه في إفريقية خاصة في القرون الإسلامية الأولى، وهذا ما جعل عمل المحققة رائدا، فهو سيفتق للباحثين سبل البحث في القرآن وعلومه بإفريقية، وذلك بحكم طرحه لقضايا أصلية ما كان من اليسير الوقوف عليها أو تجليتها لو لم يكن للباحثة هذا الصبر البين على مثافنة النصوص، وتلك القدرة الفائقة على النقد والتحليل، وذلك التمرس البادي على الاستقراء والاستدلال.
إن صورة إفريقية من خلال كتاب التصاريف ليحيى بن سلام المغربي تبدو جلية، يتآلف فيها تعلق التونسيين بالقرآن، واستهداؤهم به، وإلحافهم في مقاومة البدع والأهواء.
وهذا الكتاب هو أحد الكتب الستة في الوجوه والنظائر التى ظهرت في القرن الثاني، وقد جلت جميعها اللفظ القرآني في تلاحق معانيه وسمو إعجازه، وكان أسبقها إلى الظهور كتاب التصاريف وكتاب مقاتل بن سليمان، بالإضافة إلى هذه القيمة اللغوية المتميزة فإنها ساعدت على تقريب علم التفسير بما أتاحته من الوقوف على مقاصد ألفاظ القرآن وطرائق بيانه وتنوع دلالته فأحكمت أفهام المختصين وأزاحت حيرة
সম্পাদনার ভূমিকা (مقدمة التحقيق)উপস্থাপনা (تقديم)এই গ্রন্থটির সম্পাদনা (تحقيق) একটি বাস্তব কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত, যার লক্ষ্য হলো কুরআন ও এর উলূম (علوم) বা সংশ্লিষ্ট জ্ঞানবিজ্ঞানের সেবায় তিউনিসীয় ইফ্রিকিয়ার অবদান উন্মোচন করা। বিদুষী গবেষক হিন্দ শালবি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অবদানের ওপর গবেষণায় তার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিবেদিত করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি তার গভীর পাণ্ডিত্য এবং উসুল আদ-দীন (أصول الدين) বা ধর্মের মূলনীতি শাস্ত্রের ওপর সুদৃঢ় বিশেষায়িত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছেন, যে বিষয়ে তিনি যাইতুনা শরীয়াহ ও উসুল আদ-দীন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
যদিও এখন পর্যন্ত ইফ্রিকিয়ার সাহিত্যিক ও ভাষাতাত্ত্বিক জীবন নিয়ে ঐতিহাসিক ও সভ্যতা-কেন্দ্রিক বহু গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে, যা ইফ্রিকিয়ার ইতিহাসের অধিকাংশ সময়কাল জুড়ে ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে; তথাপি আমরা ইফ্রিকিয়ায় বিশেষ করে ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে কুরআন এবং এর উলূম (علوم) নিয়ে কোনো ঐকান্তিক গবেষণা খুঁজে পাই না। আর এটিই গবেষকের এই কাজটিকে অগ্রগামী (رائدا) করে তুলেছে। এটি ইফ্রিকিয়ায় কুরআন ও এর উলূম (علوم) নিয়ে গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে, কারণ এতে এমন কিছু মৌলিক বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে যা উপলব্ধি করা বা স্পষ্ট করা সহজসাধ্য ছিল না, যদি না গবেষকের মূল পাঠসমূহ (النصوص) পর্যালোচনার ক্ষেত্রে এমন প্রগাঢ় ধৈর্য এবং সমালোচনা (نقد) ও বিশ্লেষণের অসামান্য ক্ষমতা এবং আরোহ (استقراء) ও অবরোহ (استدلال) পদ্ধতিতে সুস্পষ্ট অভিজ্ঞতা থাকত।
ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লাম আল-মাগরিবির কিতাবুত তাসারিফ গ্রন্থের মাধ্যমে ইফ্রিকিয়ার যে চিত্রটি ফুটে ওঠে তা অত্যন্ত সুষ্পষ্ট; যেখানে তিউনিসীয়দের কুরআনের প্রতি গভীর অনুরাগ, কুরআন থেকে তাদের হিদায়েত অন্বেষণ এবং বিদআত (بدع) ও কুপ্রবৃত্তি (أهواء) মোকাবিলার ক্ষেত্রে তাদের অবিচল দৃঢ়তা সুসংহতভাবে পরিলক্ষিত হয়।
এই গ্রন্থটি আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর শাস্ত্রের ওপর রচিত সেই ছয়টি গ্রন্থের অন্যতম, যা দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে প্রকাশিত হয়েছিল। এই গ্রন্থগুলোর প্রতিটিই কুরআনিক শব্দাবলির অর্থ-পরম্পরা এবং এর মুজিযা (إعجاز) তথা অলৌকিকত্বের মাহাত্ম্যকে সমুজ্জ্বল করেছে। এই ধারার গ্রন্থগুলোর মধ্যে কিতাবুত তাসারিফ এবং মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের গ্রন্থটি ছিল সর্বপ্রথম। এই বিশিষ্ট ভাষাতাত্ত্বিক মূল্যের পাশাপাশি গ্রন্থটি তাফসীর (تفسير) শাস্ত্রকে সহজবোধ্য করতে সহায়তা করেছে; কারণ এটি কুরআনের শব্দাবলির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য (مقاصد), এর বর্ণনাশৈলী এবং এর বৈচিত্র্যময় দ্যোতনা (دلالة) সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। ফলে এটি বিশেষজ্ঞদের বোধগম্যতাকে সুসংহত করেছে এবং সংশয় দূর করেছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
المريدين، وغدت أداة طيعة في أيدي من لم تسعفه سليقته اللغوية بالوقوف على أسرار اللغة العربية، إما لقصور في ثقافته الدينية أو لجهله بالعربية وأساليبها بحكم انتسابه إلى غير العرب.
ومنذ ذلك الوقت تتالت التآليف في هذا الموضوع حسبما فصلته المحققة في المقدمة، وتلاحق الاهتمام باللفظ القرآني من حيث كونه غريبا، أو متشابها، أو مبهما، وتبعا لذلك تعددت التفاسير وزكت علوم القرآن، واختلفت مناهج المفسرين وفقا لاختلاف المذاهب الفقهية والعقدية. ولقد أبدعت المحققة في تعريفها للوجوه والنظائر بالانطلاق من تعريف الزركشي وما أثاره من ردود فعل مختلفة، وفي وضع اطار لترجمة ابن سلام تناول أهم القضايا المتعلقة به، كما أنها حددت طبيعة العلاقة بين هذا الكتاب لابن سلام وبين تفسيره من جهة، وبينهما وبين مذهبه وثقافة مجتمعه من جهة ثانية، فكشفت عن تضلع في اعتمادها الاستقراء والاستدلال والمقارنة، وهو اعتماد لا غنى عنه للباحث في ثقافة الإسلام.
إن كتاب التصاريف بتحقيقه ليدل على إبداع تونسي مزدوج، فهو إبداع مبكر من ابن سلام في خدمة القرآن وتقريبه من القراء والدارسين، وهو إبداع للمرأة التونسية يذكرنا بما كان لعدد من التونسيات في عهود مختلفة من شغف بالقرآن وانصراف إليه وعناية بكتابته واقتنائه وتحبيسه. وفي هذا النطاق يندرج إعداد المحققة لأطروحة للحصول على درجة دكتوراه الحلقة الثالثة من الكلية الزيتونية موضوعها: "القرآن وعلومه في تونس حتى منتصف القرن الخامس الهجري"، وهي قد أشرفت على الانتهاء منه، وبلا جدال فإن هذا الموضوع سيفتح آفاقاً للبحث تجلي إسهام تونس المبكر وتحض الباحثين على التعمق في دراسة موضوعات محددة تثري البحث وتنير السبيل التي عرفتها المباحث القرآنية في تلك الفترة.
نرجو الله أن يوفقنا إلى ما فيه الخير والسداد وأن يكلأنا برعايته وعونه، إنه هو السميع المجيب
এটি জ্ঞানান্বেষীদের জন্য একটি সহজ হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে তাদের হাতে যাদের ভাষাগত সহজাত প্রবৃত্তি আরবি ভাষার রহস্যসমূহ অনুধাবনে সহায়ক ছিল না; তা ধর্মীয় সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতার কারণেই হোক অথবা অনারব বংশোদ্ভূত হওয়ার দরুন আরবি ভাষা ও এর শৈলী সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে হোক।
সেই সময় থেকে এই বিষয়ে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যেমনটি গবেষক ভূমিকার বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। কুরআনের শব্দাবলির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে—সেগুলো দুর্ভেদ্য (غريب), অস্পষ্ট (متشابه) কিংবা অসংজ্ঞায়িত (مبهم) হওয়ার দিক থেকে। এর ফলে তাফসিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উলূমুল কুরআন সমৃদ্ধ হয়েছে। ফিকহি ও আকিদাগত মাজহাবের ভিন্নতার কারণে মুফাসসিরগণের কর্মপদ্ধতিতেও ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। গবেষক আল-জারকাশির সংজ্ঞা ও এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ‘আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর’-এর সংজ্ঞায়নে মুন্সীয়ানা দেখিয়েছেন। তিনি ইবনে সাল্লামের জীবনী রচনার ক্ষেত্রে একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন যেখানে তাঁর সাথে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইবনে সাল্লামের এই গ্রন্থ এবং তাঁর তাফসিরের মধ্যকার সম্পর্কের প্রকৃতি নির্ধারণ করেছেন; এবং অন্যদিকে গ্রন্থ দুটির সাথে তাঁর মাজহাব ও সামাজিক সংস্কৃতির সম্পর্কের ধরনও স্পষ্ট করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি আরোহী পদ্ধতি (استقراء), যুক্তিনির্ভর প্রমাণ (استدلال) এবং তুলনামূলক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে নিজের গভীর পাণ্ডিত্য প্রকাশ করেছেন, যা ইসলামি সংস্কৃতির গবেষকদের জন্য অপরিহার্য।
‘কিতাবুত তাসারিফ’ গ্রন্থটির এই সম্পাদনা একটি দ্বিমুখী তিউনিসীয় সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। প্রথমত, এটি কুরআনের খিদমতে এবং পাঠক ও গবেষকদের নিকট তা সহজবোধ্য করতে ইবনে সাল্লামের এক অনন্য পূর্বসূরী সৃজনশীল প্রয়াস। দ্বিতীয়ত, এটি তিউনিসীয় নারীর সৃজনশীলতা, যা আমাদের সেইসব তিউনিসীয় নারীদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় যারা বিভিন্ন যুগে কুরআনের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন, এর চর্চায় নিমগ্ন থাকতেন এবং কুরআন লিপিবদ্ধ করা, সংগ্রহ করা ও ওয়াকফ (تحبيس) করার ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নিতেন। এই প্রেক্ষাপটেই গবেষক আজ-জাইতুনা কলেজ থেকে তাঁর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি অভিসন্দর্ভ প্রস্তুত করেছেন, যার বিষয়বস্তু হলো: "হিজরি পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত তিউনিসিয়ায় কুরআন ও উলূমুল কুরআন"। তিনি এটি সমাপ্ত করার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। নিঃসন্দেহে এই বিষয়টি গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে যা তিউনিসিয়ার প্রাচীন অবদানকে স্পষ্ট করবে এবং গবেষকদের সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো গভীরভাবে অধ্যয়নে উৎসাহিত করবে, যা গবেষণাকে সমৃদ্ধ করবে এবং সেই সময়ের কুরআন সংশ্লিষ্ট গবেষণার পথকে আলোকিত করবে।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের কল্যাণ ও সঠিক পথের তাওফিক দান করেন এবং তাঁর সুরক্ষা ও সাহায্য দ্বারা আমাদের বেষ্টন করে রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, কবুলকারী।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
تصديرنضع بين يدي القارئ الكريم كتاب "التصاريف"، وهو في الوجوه والنظائر القرآنية. والكتاب - حسب ما ورد في المخطوط - ليحيى بن محمد بن يحيى بن سلام البصري (ت 180/893) وقد رأينا نشر هذا المخطوط رغم ما به من نقص لأسباب:
- انتماؤه إلى التراث الثقافي بإفريقية الإسلامية التونسية.
2- التعريف بالكتاب، لما لاحظناه من سكوت الناس عنه قديما وحديثا.
3- إننا نملك منه نسخة نادرة، لا نعلم لها ثانية في المكتبات التي وقفناعلى فهارسها. وقد لاحظنا تلاشي عدد كبير من أوراقها. فكانت المبادرة إلى نشرها، ضمانا لحفظ ما تبقى منها.
وكتاب "التصاريف"، وإن لم يكن الأول في موضوعه ومادته، إذ قد ظهر قبله كتاب مقاتل بن سليمان (ت 150/767) ، فإنه فرصة لنا نغتنمها للحديث عن فن الوجوه والنظائر بشيء من التفصيل.
ذلك أن ما اطلعنا عليه، مما نشر من كتب الوجوه والنظائر لم يحفل فيه المحققون بتفصيل القول في هذا الفن واكتفوا بتسجيل عبارة، كتب علوم القرآن في التعريف به، وهي كما سنرى موجزة لا تبرز موضوعه بوضوح، ولا تذكر منزلة هذا العلم بين بقية العلوم القرآنية الأخرى.
وقد أبقينا التأليف على هيأته التي وصل بها إلينا، فهو مقسم إلى فقرات وكل فقرة اشتملت على شرح لفظة من الألفاظ القرآنية.
وعمدنا إلى ترقيم هذه الفقرات ليتم الرجوع إليها بسهولة، وعند الإحالة نرجع إلى تلك الأرقام.
উপক্রমণিকা (تصدير)আমরা সম্মানিত পাঠকের সামনে "আত-তাসারিফ" নামক গ্রন্থটি পেশ করছি, যা কুরআনের বহুমুখী অর্থ (الوجوه) এবং সমার্থক শব্দ (النظائر) বিষয়ক। পাণ্ডুলিপিতে (المخطوط) বর্ণিত তথ্য অনুযায়ী—গ্রন্থটি ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাল্লাম আল-বাসরী (মৃত্যু ১৮০/৮৯৩)-এর রচনা। এই পাণ্ডুলিপিতে (المخطوط) কিছু অসম্পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও আমরা কয়েকটি কারণে এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি:
- তিউনিসিয়ার ইসলামী ইফরিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের (التراث) সাথে এর সম্পৃক্ততা।
2- গ্রন্থটির সাথে পরিচয় করানো; কারণ আমরা লক্ষ্য করেছি যে, প্রাচীন ও আধুনিক উভয় যুগে গবেষকরা এটি সম্পর্কে নীরব থেকেছেন।
3- আমাদের নিকট এর একটি দুর্লভ অনুলিপি (نسخة) রয়েছে, যার দ্বিতীয় কোনো অনুলিপির অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা জানি না এমন কোনো গ্রন্থাগারে যার ক্যাটালগ আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, এর বহুসংখ্যক পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই এর অবশিষ্ট অংশ সংরক্ষণের নিশ্চয়তা বিধানে এটি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যদিও "আত-তাসারিফ" গ্রন্থটি এর বিষয়বস্তু ও উপাদানের ক্ষেত্রে প্রথম নয়—যেহেতু এর আগে মুকাতিল বিন সুলাইমান (মৃত্যু ১৫০/৭৬৭)-এর গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছিল—তথাপি এটি আমাদের জন্য বহুমুখী অর্থ (الوجوه) এবং সমার্থক শব্দ (النظائر) বিষয়ক শিল্প সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনার এক সুযোগ এনে দিয়েছে।
এর কারণ হলো, বহুমুখী অর্থ (الوجوه) এবং সমার্থক শব্দ (النظائر) বিষয়ক প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে যা কিছু আমরা দেখেছি, সেখানে গবেষকগণ (المحققون) এই শিল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় তেমন গুরুত্ব দেননি। তারা কেবল উলূমুল কুরআনের গ্রন্থগুলোতে এ বিষয়ে প্রদত্ত সংজ্ঞামূলক বাক্যগুলো লিপিবদ্ধ করেই ক্ষান্ত হয়েছেন, যা—আমরা যেমনটা দেখতে পাব—সংক্ষিপ্ত এবং যা এর বিষয়বস্তুকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে না, কিংবা অন্যান্য কুরআনিক বিজ্ঞানের মধ্যে এই বিজ্ঞানের মর্যাদা উল্লেখ করে না।
আমরা রচনাটিকে (التأليف) আমাদের নিকট যেভাবে পৌঁছেছে সেই রূপেই রেখেছি। এটি বিভিন্ন অনুচ্ছেদে বিভক্ত এবং প্রতিটি অনুচ্ছেদ কুরআনের কোনো না কোনো শব্দের ব্যাখ্যা সম্বলিত।
আমরা এই অনুচ্ছেদগুলো নম্বরযুক্ত করেছি যাতে সহজে সেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় এবং উদ্ধৃতি প্রদানের সময় আমরা সেই নম্বরগুলোকেই নির্দেশ করি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
وقد سجل الناسخ في الجزءين الثاني والرابع، في الهوامش الجانبية، الكلمة التي سوف يقع البحث فيها مع المعنى الذي ذكرت به. وهو بهذا لا يضيف شيئاً إلى ما كتب داخل الفقرات. لذلك رأينا الاستغناء عن إيراد ذلك.
ثم إننا عمدنا في الهوامش إلى الإشارة إلى أرقام الآيات في المصحف، كما أشرنا إلى السورة كلما وجدنا ابن سلام قد أغفل ذكرها.
وأشرنا في الهوامش إلى الإضافات التي أدخلت على النص. وقد حرصنا على كتابة الآيات على الرسم التوقيفي الموجود بالمصحف المطبوع برواية حفص. وما وجدناه في النص مخالفا لهذه الرواية أشرنا إليه في الهامش مع ذكر صاحب تلك الرواية الأخرى. وعرفنا في الهوامش أيضاً بالأشخاص الذين ذكرهم ابن سلام عند نسبة الأقوال إلى قائليها.
أما النقص الموجود في النسخة بسبب تلف أجزاء بعض الأوراق، فقد حاولنا إكماله بالوقوف على كتب الوجوه والنظائر الموجودة بين يدينا خاصة منها كتاب مقاتل بين سليمان، للشبه الكبير الموجود بينه وبين كتاب التصاريف. وقد جعلنا ما نقلناه من تلك الكتب بين معقفين هكذا [] .
كما جعلنا للكتاب فهارس، لعلها تسهل البحث على الناظر في هذا الكتاب.
أما ترقيم المخطوط، فما اعتبرنا فيه ما ورد في النسخة الخطية، لأن الأرقام التي نلاحظها عليها ليست من وضع الناسخ، إنما هي وضع المرحوم الأستاذ البهلي النيال، وقد وضعها لغاية عملية، ولم يراع فيها تجزئة الكتاب مراعاة صحيحة. لذلك فضلنا وضع الأرقام متسلسلة من رقم: 1 إلى آخر ورقة في المخطوط.
وقبل الختام أود أن أذكر بتشجيعات أستاذي الجليل، الدكتور علي الشابي الذي تفضل بالإشراف على هذا التحقيق. وقد أنار لي السبل لإنجاز هذا العمل، بتوجيهاته القيمة فله جزيل الشكر.
كما أود أن أشكر كل من قدم لي مساعدة في هذا العمل وأخص بالذكر الأستاذ عز الدين قلوز، مدير دار الكتب الوطنية بتونس، وأسرة قسم المخطوطات بها وكذلك الأستاذ سعد غراب، فقد مكنوني من الاطلاع على قطع كتاب التصاريف، وغيرها من المخطوطات الموجودة بمكتبة القيروان الأثرية مما يتعلق بالبحث، قبل أن تتم فهرسة تلك المكتبة.
অনুলিপিকার দ্বিতীয় ও চতুর্থ খণ্ডে পার্শ্বটীকাগুলোতে এমন শব্দসমূহ নথিবদ্ধ করেছেন যা নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং যে অর্থে সেগুলো উল্লেখিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মূল অনুচ্ছেদগুলোতে যা লেখা হয়েছে তার বাইরে নতুন কিছু যোগ করেননি। তাই আমরা সেগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছি।
অতঃপর আমরা পাদটীকাগুলোতে আল-কুরআনের আয়াত নম্বরগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেছি, তেমনিভাবে যখনই আমরা দেখেছি ইবনে সালাম সূরার নাম উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন, আমরা তা উল্লেখ করে দিয়েছি।
আর আমরা মূল পাঠে যে সংযোজনগুলো করা হয়েছে তা পাদটীকায় নির্দেশ করেছি। আমরা হাফস-এর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী মুদ্রিত কুরআনের নির্দিষ্ট লিখনরীতি (رسم) অনুসরণ করে আয়াতগুলো লিখতে সচেষ্ট হয়েছি। মূল পাঠে যা কিছু এই বর্ণনার (رواية) পরিপন্থী পেয়েছি, তা আমরা পাদটীকায় উল্লেখ করেছি এবং সেই অন্য বর্ণনার বর্ণনাকারীর নামও উল্লেখ করেছি। এছাড়াও ইবনে সালাম যখন কোনো উক্তিকে তার প্রবক্তার দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তখন আমরা পাদটীকায় সেই ব্যক্তিদের পরিচয় তুলে ধরেছি।
পাণ্ডুলিপির কিছু পৃষ্ঠা নষ্ট হওয়ার কারণে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তা আমরা আমাদের হাতে থাকা আভিধানিক ও প্রসঙ্গিক অর্থ (الوجوه والنظائر) সংক্রান্ত বইগুলোর সাহায্য নিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে মুকাতিল বিন সুলাইমানের কিতাব থেকে সহায়তা নেওয়া হয়েছে, কারণ সেটির সাথে কিতাবুত তাসারিফ-এর ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে। আর সেই বইগুলো থেকে আমরা যা কিছু উদ্ধৃত করেছি তা থার্ড ব্র্যাকেট বা বন্ধনীর [] মধ্যে রেখেছি।
আমরা বইটির জন্য নির্ঘণ্ট তৈরি করেছি, যাতে এই বইটির পাঠকদের জন্য অনুসন্ধান সহজ হয়।
পাণ্ডুলিপির সংখ্যায়নের ক্ষেত্রে আমরা হাতে লেখা কপির ক্রমকে গ্রহণ করিনি; কারণ আমরা যে সংখ্যাগুলো সেখানে দেখতে পাই তা অনুলিপিকারের দেওয়া নয়, বরং তা প্রয়াত উস্তাদ আল-বাহলি আল-নায়্যাল-এর দেওয়া। তিনি একটি ব্যবহারিক উদ্দেশ্যে এগুলো বসিয়েছিলেন এবং তাতে বইটির সঠিক খণ্ডবিন্যাস বজায় রাখা হয়নি। তাই আমরা ১ নম্বর থেকে শুরু করে পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সংখ্যা বসানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।
পরিশেষে, আমি আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর আলী আল-শাবি-র উৎসাহের কথা উল্লেখ করতে চাই, যিনি এই সম্পাদনা (تحقيق) কর্মের তত্ত্বাবধান করার সদয় সম্মতি দিয়েছেন। তিনি তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এই কাজটি সম্পন্ন করার পথ আমার জন্য সহজ করে দিয়েছেন, তাই তাঁর প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।
এছাড়াও আমি এই কাজে আমাকে সাহায্যকারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে উস্তাদ ইজ্জুদ্দিন কালুজ, তিউনিসিয়ার দারুল কুতুব আল-ওয়াতানিয়া-র পরিচালক এবং সেখানকার পাণ্ডুলিপি বিভাগের সকল কর্মীবৃন্দ, সেইসাথে উস্তাদ সাদ গুরাব-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ কাইরুয়ানের প্রাচীন লাইব্রেরির ক্যাটালগ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই তারা আমাকে 'কিতাবুত তাসারিফ'-এর অংশবিশেষ এবং গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পাণ্ডুলিপিগুলো দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
كما أقدم شكري إلى الأستاذ محمد العياري الذي أعارني صورا لمخطوطات تتعلق بهذا البحث.
أسأل الله التوفيق أولا وآخرا
সেইসাথে আমি উস্তাদ মুহাম্মদ আল-আইয়ারির নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি আমাকে এই গবেষণা সংশ্লিষ্ট পাণ্ডুলিপিগুলোর আলোকচিত্র ধার দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
আমি আদিতে ও অন্তে আল্লাহর নিকট তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
علم الوجوه والنظائر القرآنية
موضوع الكتاب - عنوان المخطوطورد عنوان المخطوط بطريقتين مختلفتين:
ففي الورقة الأولى من الجزء الأول ورد العنوان على هذا النحو:
"الأول من التصاريف"
كما ورد في الجزء الرابع على نفس الصورة:
"الرابع من التصاريف"
ثم جاء العنوان في ظهر الورقة الأولى من الجزء الأول على النحو التالي:
"الأول من تفسير القرآن مما اشتبهت أسماؤه وتصرفت معانيه"
وبالجمع بين الصورتين للعنوان نتبين موضوع الكتاب. فهو يتعلق بتفسير القرآن. وليس هو تفسيرا بأتم معنى الكلمة لأنه يتقيد بجانب معين من جوانب التفسير وهو: دراسة ألفاظ تكرر ورودها في القرآن، مع ذكر معانيها المختلفة التي جاءت بها في الآيات. يعني إيراد الوجوه التي يصرف إليها اللفظ الواحد في القرآن. فموضوع الكتاب إذن، علم من علوم القرآن عرف في الكتب التي تحدثت عن تلك العلوم بعلم الوجوه والنظائر أو النظائر
কুরআনের বহুবিধ অর্থ ও সমরূপ শব্দ সংক্রান্ত জ্ঞান (علم الوجوه والنظائر القرآنية)
গ্রন্থের বিষয়বস্তু - পাণ্ডুলিপির (المخطوط) শিরোনামপাণ্ডুলিপির (المخطوط) শিরোনামটি দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে উল্লেখ করা হয়েছে:
প্রথম খণ্ডের প্রথম পাতায় শিরোনামটি এভাবে এসেছে:
"শব্দের রূপান্তর বিষয়ক প্রথম অংশ (الأول من التصاريف)"
অনুরূপভাবে চতুর্থ খণ্ডেও একই রূপ দেখা যায়:
"শব্দের রূপান্তর বিষয়ক চতুর্থ অংশ (الرابع من التصاريف)"
অতঃপর প্রথম খণ্ডের প্রথম পাতার উল্টো পিঠে শিরোনামটি নিম্নোক্তভাবে এসেছে:
"কুরআনের তাফসিরের (تفسير القرآن) প্রথম অংশ, যার শব্দাবলি সদৃশ কিন্তু অর্থসমূহ বৈচিত্র্যপূর্ণ"
শিরোনামের এই দুটি রূপকে একত্রিত করলে আমরা গ্রন্থের বিষয়বস্তু স্পষ্ট বুঝতে পারি। মূলত এটি কুরআনের তাফসিরের (تفسير القرآن) সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে এটি শব্দের পূর্ণাঙ্গ অর্থে কোনো তাফসির (تفسير) নয়; কারণ এটি তাফসিরের (تفسير) একটি বিশেষ দিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর তা হলো: কুরআনে বারবার ব্যবহৃত শব্দাবলি নিয়ে গবেষণা করা এবং আয়াতসমূহে (الآيات) সেগুলোর যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ এসেছে তা উল্লেখ করা। অর্থাৎ কুরআনের একটি শব্দের যেসব বহুবিধ অর্থ (الوجوه) হতে পারে তা উপস্থাপন করা। সুতরাং, এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু হলো কুরআনের উলুমের (علوم القرآن) অন্তর্ভুক্ত এমন একটি জ্ঞান, যা উলুম সংক্রান্ত গ্রন্থাবলীতে 'বহুবিধ অর্থ ও সমরূপ শব্দ সংক্রান্ত জ্ঞান' (علم الوجوه والنظائر) বা 'সমরূপ শব্দ' (النظائر) হিসেবে পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أو الألفاظ المشتركة.
ومما يلفت الانتباه بالنسبة لعنوان الكتاب، أن ابن سلام انفرد على ما نعلم، بهذه الطريقة في التسمية، فجميع ما وقفنا عليه من عناوين كتب الوجوه والنظائر، سلك فيه منهج متقارب في التسمية، ذكر فيه لفظ الوجوه أو الأشباه ولفظ النظائر سوى هذا التأليف الذي اختلف عنها بأن حدد موضوع كتابه في العنوان بأكثر دقة.
ولا يبتعد كتاب التصاريف عن المؤلفات الأخرى في استعمال المصطلحين الدالين على هذا العلم إذ أن المؤلف استعملهما داخل النص، فهو يردف كل كلمة يروم بيانها بعدد الوجوه التي جاءت بها في القرآن ويصدر كل معنى بلفظة الوجه، مشفوعة بالرقم المناسب لها على التسلسل.
كما يستعمل عبارة: ونظيرها، للدلالة على كون اللفظ ورد بنفس المعنى في آية أخرى. غير أنه إن لم نجد من بين كتب الوجوه والنظائر ما يشبه عنوانه عنوان كتاب ابن سلام. فإن مادة "صرف" قد وردت في تلك الكتب سواء منها المؤلفة في الفن نفسه أو المتحدثة عنه. ولعل ابن سلام ذاته قد أوردها فيما لم نقف عليه من بقية كتابه.
وبالرجوع إلى متون اللغة، نجد بأن المعاني التي أعطيت إلى هذه المادة ومشتقاتها يتضمن جميعها مفهوم الحركة والانتقال.
অথবা সমার্থবোধক শব্দসমূহ (الألفاظ المشتركة)।
গ্রন্থটির শিরোনামের ক্ষেত্রে যা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, আমাদের জানামতে ইবনে সাল্লাম নামকরণের এই পদ্ধতিতে একক বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ছিলেন। 'বহুমাত্রিক অর্থ ও সমরূপ শব্দ' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থাবলির যত শিরোনাম আমাদের নজরে এসেছে, সেগুলোর নামকরণে প্রায় একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে; যেখানে 'বহুমাত্রিক অর্থ' (الوجوه) অথবা 'সাদৃশ্য' (الأشباه) এবং 'সমরূপ শব্দ' (النظائر) শব্দগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই সংকলনটি সেগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রম, কারণ এটি শিরোনামের মধ্যেই গ্রন্থের বিষয়বস্তুকে অধিকতর সূক্ষ্মতার সাথে নির্দিষ্ট করেছে।
'কিতাবুত তাসারিফ' গ্রন্থটি এই শাস্ত্রের নির্দেশক পরিভাষা দুটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যান্য রচনা থেকে ভিন্ন নয়; কারণ লেখক মূল পাঠের অভ্যন্তরে সেগুলো ব্যবহার করেছেন। তিনি যে শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করতে চেয়েছেন, কুরআনে সেটি কতগুলো 'পদ্ধতি বা অর্থে' (الوجوه) এসেছে তার সংখ্যা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি অর্থের শুরুতে 'প্রেক্ষিত' (الوجه) শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার সাথে ক্রম অনুযায়ী যথাযথ সংখ্যা যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া তিনি 'এর সমরূপ' (ونظيرها) বাক্যাংশটি ব্যবহার করেছেন এটি নির্দেশ করতে যে, শব্দটি অন্য আয়াতেও একই অর্থে বর্ণিত হয়েছে। যদিও 'বহুমাত্রিক অর্থ ও সমরূপ শব্দ' (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে ইবনে সাল্লামের গ্রন্থের শিরোনামের সদৃশ কোনো শিরোনাম আমরা খুঁজে পাইনি, তবুও 'রূপান্তর' (صرف) মূল ধাতুটি ওইসব কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে—চাই সেটি এই নির্দিষ্ট শাস্ত্রের ওপর রচিত গ্রন্থ হোক বা এই শাস্ত্র সম্পর্কে আলোচনা করা কোনো গ্রন্থ হোক। সম্ভবত ইবনে সাল্লাম নিজেও তার গ্রন্থের অবশিষ্টাংশে এটি উল্লেখ করেছেন যা আমাদের হস্তগত হয়নি।
আর ভাষাতাত্ত্বিক মূল পাঠগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমরা দেখতে পাই যে, এই মূল ধাতু এবং এর ব্যুৎপন্ন শব্দগুলোর যে অর্থ প্রদান করা হয়েছে, তার সবগুলোর মধ্যেই গতিশীলতা এবং পরিবর্তনের (الانتقال) ধারণা নিহিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
فالصرف هو رد الشيء عن وجهه، يعني إبعاده عما يكون عليه عادة، وتصريف الأمور هو الانتقال بها من حالة إلى أخرى والابتعاد بها عن الاستقرار. وتصريف الآيات، يعني تبيينها.
نستخلص من هذا أن الذي يدل عليه العنوان:
1- معنى البيان يعني الخروج باللفظ من الغموض إلى الوضوح والانتقال به من حالة إلى أخرى.
2- تقليب اللفظ والانتقال به من معنى إلى آخر.
نضيف إلى هذا العلاقة الموجودة بين مفهوم التصريف اللاحق بأصل الكلمة في الاشتقاق، والتصريف اللاحق بالمعنى الذي يتغير بتغير الاشتقاق. ففي تفسير "إظهار" مثلا، ورد اللفظ في صورته الفعلية المجردة: "ظهر" والمزيدة "تظهرون" وفي مصادر متعددة "الظهور"، "الإظهار"، "التظاهر"، وفي صورتين اسميتين، "ظاهر"، "ظهري"، ولكل مشتق من هذه المشتقات معناه الخاص. وهذا خلاف ما ذهب إليه صاحب كشف الظنون في تعريفه للوجوه والنظائر.
وقد عقد الزركشي فصلا في كتابه سماه: "معرفة التصريف". عرفه بقوله: "وهو ما يلحق الكلمة ببنيتها
… . وفائدة التصريف حصول المعاني المختلفة المتشعبة عن معنى واحد".
ولمزيد من التعريف نعود إلى عبارتي الوجوه والنظائر فتتبع معانيها في كتب اللغة وكتب علوم القرآن بالإضافة إلى الكتب التي عمدت إلى التعريف بالعلوم عموما، مثل كتاب كشف الظنون، وكتاب كشاف اصطلاحات الفنون.
অতএব, রূপান্তর (الصرف) হলো কোনো বিষয়কে তার স্বাভাবিক দিক থেকে ফিরিয়ে দেওয়া, অর্থাৎ সাধারণত এটি যে অবস্থায় থাকে তা থেকে সরিয়ে দেওয়া। আর বিষয়াবলির বিন্যাস বা তাসরিফ (تصريف) হলো সেগুলোকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত করা এবং স্থিরতা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া। আর আয়াতের তাসরিফ (تصريف) অর্থ হলো সেগুলোর বিশদ বর্ণনা করা।
এ থেকে আমরা এই নির্যাস গ্রহণ করতে পারি যে, শিরোনামটি যা নির্দেশ করে তা হলো:
1- বর্ণনার অর্থ হলো শব্দকে অস্পষ্টতা থেকে স্পষ্টতার দিকে বের করে আনা এবং তাকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় স্থানান্তরিত করা।
2- শব্দের আবর্তন ঘটানো এবং একে এক অর্থ থেকে অন্য অর্থে নিয়ে যাওয়া।
এর সাথে আমরা শব্দের মূল ব্যুৎপত্তির (اشتقاق) সাথে সম্পৃক্ত রূপান্তর (تصريف) এবং ব্যুৎপত্তি পরিবর্তনের ফলে অর্থের যে পরিবর্তন ঘটে সেই রূপান্তরের (تصريف) মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কটি যুক্ত করতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, 'ইযহার' শব্দের ব্যাখ্যায় শব্দটি তার মূল ক্রিয়ারূপে 'যাহারা' (ظهر) এবং অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ক্রিয়ারূপে 'তাযহারুন' (تظهرون) হিসেবে এসেছে। এছাড়াও বিভিন্ন মূলশব্দ বা মাসদারে 'আয-যুহুর' (الظهور), 'আল-ইযহার' (الإظهار), 'আত-তাযাহুর' (التظاهر) এবং দুটি বিশেষ্যরূপে 'যাহির' (ظاهر) ও 'যুহরি' (ظهري) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রতিটি ব্যুৎপন্ন (مشتق) শব্দেরই নিজস্ব বিশেষ অর্থ রয়েছে। আর এটি কাশফ উজ-যুনুন গ্রন্থের সংজ্ঞায় 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তার পরিপন্থী।
ইমাম যারকাশি তাঁর গ্রন্থে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন যার শিরোনাম দিয়েছেন: 'মা'রিফাতুত তাসরিফ' (معرفة التصريف)। তিনি এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন একটি বিষয় যা শব্দের কাঠামোর সাথে যুক্ত হয়...। আর রূপান্তরের (تصريف) উপকারিতা হলো একটি মূল অর্থ থেকে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত বহুবিধ অর্থ লাভ করা।"
আরও বিস্তারিত সংজ্ঞার জন্য আমরা 'আল-উজুহ' (الوجوه) এবং 'আন-নাযাইর' (النظائر) শব্দ দুটির প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারি এবং অভিধানগ্রন্থ, উলূমুল কুরআন বিষয়ক গ্রন্থ এবং সেই সাথে সাধারণ পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থ যেমন—কাশফ উজ-যুনুন এবং কাশশাফু ইস্তিলাহাত আল-ফুনুন-এ এগুলোর অর্থগুলো অনুসন্ধান করতে পারি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الوجوه والنظائر في كتب علوم القرآن وما تابعها من التآليفيقول الزركشي في كتابه البرهان، في الباب الذي عنونه بقوله: "في جمع الوجوه والنظائر ما يلي: "فالوجوه، اللفظ المشترك الذي يستعمل في عدة معان كلفظ الأمة، والنظائر كالألفاظ المتواطئة. وقيل النظائر في اللفظ والوجوه في المعاني، وضعف لأنه لو أريد هذا لكان الجمع في الألفاظ المشتركة. وهم يذكرون في تلك الكتب اللفظ الذي معناه واحد في مواضع كثيرة فيجعلون الوجوه نوعا لأقسام، والنظائر نوعا آخر، كالأمثال".
لقد فضلنا إيراد مقالة الزركشي كاملة لسببين:
1- اعتماد المؤلفين في علوم القرآن، وكذلك من عرَّفوا بالعلوم عامة على تلك المقالة، عند تعريفهم للوجوه والنظائر.
2- شيء من الغموض فيها أحوجها إلى مزيد من التحليل.
وقد ذكرت عبارة الزركشي في الإتقان وفي مفتاح السعادة وفي كشاف اصطلاحات الفنون.
أما كشف الظنون فإنه قد شذ عن الجماعة، إذ عرف الوجوه والنظائر بما ضعفه الزركشي ومن أتى بعده.
أورد الزركشي تعريفين اعتمد أولهما وضعّف الثاني.
التعريف الأول للوجوه والنظائر عند الزركشي:
إن ما ذكره الزركشي في التعريف الأول للوجوه والنظائر، يلتحق بالتعريف اللغوي للكلمتين، إذ نتبين في الوجوه معنى التعدد، وفي النظائر معنى التشابه والاتفاق. ولعل ترجمة عبارة الزركشي في الوجوه، تصبح أقرب للأذهان لو قلنا الوجوه هي
উলুমুল কুরআনের কিতাবসমূহ এবং এ বিষয়ক পরবর্তী সংকলনগুলোতে বহুরূপী শব্দ (الوجوه) ও সমজাতীয় শব্দ (النظائر)যারকাশি তাঁর আল-বুরহান কিতাবে, ‘বহুরূপী শব্দ (الوجوه) ও সমজাতীয় শব্দ (النظائر) একত্রিতকরণ’ শিরোনামের অধ্যায়ে নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন: “ওয়ুজুহ (الوجوه) হলো সেই সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ (اللفظ المشترك) যা একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘উম্মত’ শব্দটি। আর নাযাইর (النظائر) হলো সেই সব শব্দের মতো যেগুলো অর্থগত দিক থেকে অভিন্ন বা সমার্থক শব্দ (الألفاظ المتواطئة)। কেউ কেউ বলেছেন, শব্দের ক্ষেত্রে নাযাইর (النظائر) এবং অর্থের ক্ষেত্রে ওয়ুজুহ (الوجوه) ব্যবহৃত হয়, তবে এ মতটিকে দুর্বল (ضعف) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কারণ, যদি এমনটিই উদ্দেশ্য হতো, তবে এই সংকলন কেবল সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলোর (الألفاظ المشتركة) মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো। অথচ তাঁরা ঐসব কিতাবে এমন শব্দের কথা উল্লেখ করেন যার অর্থ বহু স্থানে অভিন্ন, ফলে তাঁরা ওয়ুজুহকে (الوجوه) একটি স্বতন্ত্র প্রকার এবং নাযাইরকে (النظائر) উপমা বা সদৃশ বর্ণনার মতো অন্য একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেন।”
আমরা যারকাশির বক্তব্যটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করাকে দুটি কারণে অগ্রাধিকার দিয়েছি:
1- উলুমুল কুরআনের লেখকগণ এবং যারা সাধারণত শাস্ত্রীয় পরিভাষার পরিচয় প্রদান করেছেন, তাঁরা বহুরূপী শব্দ (الوجوه) ও সমজাতীয় শব্দ (النظائر)-এর সংজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে এই বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করেছেন।
2- এর মধ্যে কিছুটা অস্পষ্টতা থাকায় এটি আরও বিশদ বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
যারকাশির এই বক্তব্যটি আল-ইতকান, মিফতাহুস সাআদাহ এবং কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কাশফ উজ-জুনুন কিতাবটি এক্ষেত্রে মূলধারার পণ্ডিতদের থেকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে, কেননা এটি বহুরূপী শব্দ (الوجوه) ও সমজাতীয় শব্দ (النظائر)-কে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে যা যারকাশি ও তাঁর পরবর্তী পণ্ডিতগণ দুর্বল (ضعفه) বলে গণ্য করেছেন।
যারকাশি দুটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যার মধ্যে তিনি প্রথমটির ওপর নির্ভর করেছেন এবং দ্বিতীয়টিকে দুর্বল (ضعف) বলেছেন।
যারকাশির মতে বহুরূপী শব্দ (الوجوه) ও সমজাতীয় শব্দ (النظائر)-এর প্রথম সংজ্ঞা:
যারকাশি প্রথম সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত শব্দ দুটির আভিধানিক অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা আমরা ওয়ুজুহ (الوجوه) শব্দের মধ্যে বহুত্বের অর্থ এবং নাযাইর (النظائر) শব্দের মধ্যে সাদৃশ্য ও মিলের অর্থ খুঁজে পাই। সম্ভবত যারকাশির ওয়ুজুহ (الوجوه) সংক্রান্ত বক্তব্যটির অনুবাদ অনুধাবনের জন্য আরও সহজ হবে যদি আমরা বলি যে, ওয়ুজুহ (الوجوه) হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المعاني المختلفة التي تكون للفظ الواحد في سياقات متعددة فيسمى اللفظ من أجل ذلك مشتركا. يعني تتشارك فيه معان متعددة. وقد ذكر السيوطي هذه المسألة في كتابيه الإتقان، ومعترك الأقران، فسمى بحثه مرة في معرفة الوجوه والنظائر. وجعله في الكتاب الثاني متعلقا بالألفاظ المشتركة في القرآن.
والملاحظ أن الزركشي قد استعمل في تعريف الوجوه والنظائر مصطلحين تابعين لعلم المنطق وهما: اللفظ المشترك، والألفاظ المتواطئة.
فالألفاظ المشتركة في كتب المنطق هي "الألفاظ المتحدة الدالة بالوضع المتساوي على مسميات مختلفة بالحقيقة، كلفظ العين الدال على عين الماء، والذهب والعضو الباصر".
فالوجوه إذن هي اللفظ المشترك باعتبار أن اللفظ الواحد تتعدد استعمالاته في القرآن دون أن تكون هنالك علاقة واضحة (في الظاهر) بين المعاني المختلفة التي استعمل فيها.
وقد مثل الزركشي للوجوه بكلمة "الأمة" التي أوردها ابن سلام في الجزء الأول من كتاب التصاريف وجعل لها تسعة وجوه أو معاني هي: عصبة، ملة، سنين، قوم، إمام، الأمم الخالية، أمة محمد خاصة، أمة محمد الكفار منهم خاصة، خلق.
أما النظائر فقد أوجز الزركشي في تعريفها إذ قال: "والنظائر كالألفاظ المتواطئة". وأضاف في موضع آخر: "فيجعلون (يعني الذين ألفوا في الوجوه والنظائر) الوجوه نوعا لأقسام، والنظائر نوعاً آخر كالأمثال".
وذكرنا منذ قليل أن عبارة "الألفاظ المتواطئة" هي بدورها من مصطلحات علم المنطق. وتدل هذه العبارة على "الألفاظ المتحدة الدالة على مسميات مختلفة الحقيقة باعتبار
একটি শব্দের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে যে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ থাকে, সেই কারণে শব্দটিকে দ্ব্যর্থবোধক (مشترك) বলা হয়। অর্থাৎ এতে একাধিক অর্থ অংশীদার থাকে। ইমাম সুয়ূতী তাঁর আল-ইতকান এবং মুতারাকুল আকরান গ্রন্থদ্বয়ে এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন। তিনি তাঁর এই গবেষণাকে একবার 'উজুহ ও নাযাইর' (الوجوه والنظائر) এর জ্ঞান হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং দ্বিতীয় গ্রন্থে তিনি একে কুরআনের দ্ব্যর্থবোধক শব্দাবলি (الألفاظ المشتركة) সংক্রান্ত বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
লক্ষণীয় যে, আল-যারকাশী 'উজুহ ও নাযাইর' (الوجوه والنظائر) এর সংজ্ঞায় যুক্তিবিদ্যার দুটি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো হলো: দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (اللفظ المشترك) এবং একার্থবোধক শব্দ (الألفاظ المتواطئة)।
যুক্তিবিদ্যার গ্রন্থসমূহে দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (الألفاظ المشتركة) হলো "সেই সকল অভিন্ন শব্দ যা ভাষাগত ব্যবহারের দিক থেকে সমানভাবে ভিন্ন ভিন্ন সত্তাকে নির্দেশ করে; যেমন— 'আইন' (العين) শব্দটি যা পানির ঝরনা, স্বর্ণ এবং দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন অঙ্গ (চক্ষু) নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।"
সুতরাং, 'উজুহ' (الوجوه) হলো সেই দ্ব্যর্থবোধক শব্দ (اللفظ المشترك), যেখানে একটি শব্দ পবিত্র কুরআনে একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, অথচ সেই ভিন্ন ভিন্ন অর্থগুলোর মধ্যে (বাহ্যিকভাবে) কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না।
আল-যারকাশী 'উজুহ' (الوجوه)-এর উদাহরণ হিসেবে 'উম্মাহ' (الأمة) শব্দটিকে উল্লেখ করেছেন, যা ইবনে সালাম তাঁর কিতাবুত তাসারিফ-এর প্রথম খণ্ডে এনেছেন। তিনি এর নয়টি দিক বা অর্থ (وجوه أو معاني) প্রদান করেছেন, সেগুলো হলো: দল (عصبة), ধর্মাদর্শ (ملة), বছরসমূহ (سنين), জাতি (قوم), নেতা (إمام), পূর্ববর্তী জাতিসমূহ (الأمم الخالية), বিশেষভাবে মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মত (أمة محمد خاصة), বিশেষভাবে উম্মতের মধ্যকার কাফিরগণ (أمة محمد الكفار منهم خاصة) এবং সৃষ্টি (خلق)।
অন্যদিকে, আল-যারকাশী 'নাযাইর' (النظائر)-এর সংজ্ঞায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "'নাযাইর' (النظائر) হলো একার্থবোধক শব্দের (الألفاظ المتواطئة) ন্যায়।" তিনি অন্য এক স্থানে যোগ করেছেন: "তারা (অর্থাৎ যারা 'উজুহ ও নাযাইর' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন) 'উজুহ' (الوجوه)-কে বিভিন্ন ভাগের একটি প্রকার (نوعا لأقسام) এবং 'নাযাইর' (النظائر)-কে উদাহরণের ন্যায় অন্য একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেন।"
আমরা কিছুক্ষণ আগেই উল্লেখ করেছি যে, 'একার্থবোধক শব্দাবলি' (الألفاظ المتواطئة) অভিব্যক্তিটি যুক্তিবিদ্যার একটি পরিভাষা। এই পরিভাষাটি এমন অভিন্ন শব্দাবলিকে নির্দেশ করে যা ভিন্ন ভিন্ন সত্তাকে বুঝায়...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
معنى مشترك بينها كدلالة الحيوان على أنواعه: الإنسان، والفرس والطائر. فالتواطؤ في اللفظ هو عبارة عن اتفاق مسميات مختلفة على الاشتراك في اللفظ وفي معنى معين كالحيوانية في المثال السابق بالنسبة للانسان، والفرس والطائر.
وقد جعل الزركشي النظائر بمثابة الألفاظ المتواطئة. يعني ذلك أن اللفظ الواحد، إن تكرر وروده في مواضع متعددة من القرآن على معنى واحد، هو القسط المشترك بينها، تحصلنا على نظائر. فلفظ "الأمة"، عندما يرد في آيات متعددة (وهي ما يناسب المسميات في التعريف المنطقي) بمعنى عصبة (وهو ما يناسب المعنى المشترك بين المسميات) نسمي تلك الآيات نظائر، لاشتراكها جميعا في معنى واحد يجمع بينها. وكذلك عندما يرد لفظ الأمّة بمعنى "ملة" أو "سنين" الخ
…ويؤيد هذا الذي انتهينا إليه، سقالة طاش كبرى زادة في النظائر. وهو يتفق مثل ما رأينا في تعريف الوجوه والنظائر مع الزركشي.
يقول طاش كبرى زادة: "ومثال النظائر: كل ما فيه من البروج، فهو الكواكب. إلا {وَلَوْ كُنتُمْ فِي بُرُوجٍ مُّشَيَّدَةٍ} فهي القصور الطوال الحصينة. والمقصود من المثال إنما هو الجزء الأول منه، يعني "كل ما فيه من البروج فهو الكواكب" حيث نتبين التعريف اللغوي والتعريف المنطقي للفظة "نظائر".
فكلما وردت كلمة بروج في القرآن (خلا ذلك الموضع الذي أشار إليه المثال) ، فإنها تعني الكواكب. معنى ذلك أن كل الآيات التي ورد فيها لفظ البروج بذلك المعنى، تعتبر نظائر لاتفاقها في المعنى المراد. فالعبرة إذن هنا بالاشتراك المعنوي إلى جانب الاشتراك اللفظي.
وهكذا فإن الفرق واضح بين الوجوه والنظائر في هذا التعريف. فبينا تدل الوجوه على التعدد في المسميات للفظ الواحد مع الفصل بينهما، تدل النظائر على التعدد في المسميات أيضا، ولكن مع الجمع بينها عن طريق معنى معين تشترك فيه. فتكون النظائر بذلك أمثالاً، يعني أشباها، يلتقي جميعها في معنى واحد. ويمكن
তাদের মাঝে একটি সাধারণ অর্থ বিদ্যমান, যেমন প্রাণিত্বের বিষয়টি তার বিভিন্ন প্রকার যথা: মানুষ, ঘোড়া ও পাখির ওপর নির্দেশনা প্রদান করে। সুতরাং শব্দের একমুখিতা (التواطؤ) বলতে মূলত বিভিন্ন নামকৃত সত্তার (مسميات) শব্দ ও একটি নির্দিষ্ট অর্থের ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে বোঝায়; যেমন পূর্বের উদাহরণে মানুষ, ঘোড়া ও পাখির ক্ষেত্রে 'প্রাণিত্ব' একটি সাধারণ অর্থ।
ইমাম যারকাশি সমরূপ শব্দাবলিকে (النظائر) একার্থক শব্দের (الألفاظ المتواطئة) পর্যায়ভুক্ত করেছেন। এর অর্থ হলো, যদি একটি একক শব্দ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একই অর্থে বারবার ব্যবহৃত হয় এবং তা তাদের মধ্যে একটি সাধারণ অংশ হিসেবে বিদ্যমান থাকে, তবে আমরা তাকে সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) হিসেবে গণ্য করি। যেমন "উম্মাহ" শব্দটি যখন একাধিক আয়াতে (যা যৌক্তিক সংজ্ঞায় নামকৃত সত্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ) 'দল' (যা নামকৃত সত্তাগুলোর মধ্যে সাধারণ অর্থের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ) অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন আমরা সেই আয়াতগুলোকে সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) বলি; কারণ তারা সবাই একটি সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার। একইভাবে যখন "উম্মাহ" শব্দটি 'ধর্ম' বা 'কাল' ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়
…আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, তাশ কুবরা জাদাহ সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) সম্পর্কে তার বক্তব্যে একে সমর্থন করেছেন। তিনি বহু অর্থবোধক শব্দ (الوجوه) ও সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ইমাম যারকাশির সাথে একমত পোষণ করেছেন।
তাশ কুবরা জাদাহ বলেন: "সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) এর উদাহরণ হলো: কুরআনে যেখানেই 'বুরুজ' শব্দ এসেছে, তার অর্থ হলো নক্ষত্রমন্ডলী। তবে {যদি তোমরা সুউচ্চ মজবুত দুর্গের (بروج) ভেতরেও অবস্থান করো} আয়াতটি ব্যতীত; এখানে এর অর্থ হলো সুউচ্চ ও সুরক্ষিত প্রাসাদ।" এই উদাহরণের উদ্দেশ্য হলো তার প্রথম অংশটি, অর্থাৎ "যেখানেই 'বুরুজ' শব্দ আছে তা নক্ষত্রমন্ডলীকে বোঝায়", যার মাধ্যমে আমরা সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) শব্দটির ভাষাগত ও যৌক্তিক সংজ্ঞাটি স্পষ্ট করতে পারি।
সুতরাং কুরআনে যেখানেই 'বুরুজ' শব্দটি এসেছে (উদাহরণে উল্লিখিত স্থানটি ছাড়া), তা নক্ষত্রকে বোঝায়। এর মানে হলো, যে সকল আয়াতে 'বুরুজ' শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, তারা উদ্দেশ্যগত অর্থের ঐক্যের কারণে সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এখানে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শাব্দিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি অর্থগত অংশীদারিত্ব (الاشتراك المعنوي)।
অতএব, এই সংজ্ঞার আলোকে বহু অর্থবোধক শব্দ (الوجوه) ও সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) এর মধ্যকার পার্থক্য সুস্পষ্ট। বহু অর্থবোধক শব্দ (الوجوه) বলতে একই শব্দের বিভিন্ন স্বতন্ত্র অর্থকে বোঝায় যা একে অপরের থেকে পৃথক, অন্যদিকে সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) বলতেও নামকৃত সত্তার বহুত্বকে বোঝায়, তবে তা একটি নির্দিষ্ট সাধারণ অর্থের মাধ্যমে একত্রিত থাকে। ফলে সমরূপ শব্দাবলি (النظائر) হচ্ছে সদৃশ বা অনুরূপ (أشباه), যা সবই একটি অর্থের বিন্দুতে মিলিত হয়। এবং সম্ভব...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
تقسيم هذا التعريف الأول للوجوه والنظائر في رسم بياني. (الرسم رقم: 1)
الشكل الأول
حيث أن ثلاث مجموعات من النظائر: مجموعة أولى تشمل الآيات المتضمنة لكلمة "أمة" بمعنى عصبة. فلفظة "أمة" في الآية الثانية من المجموعة الأولى نظيرة لفظة "أمة" في الآية الأولى من نفس تلك المجموعة لاتحادهما لفظا ومعنى. لفظة "أمة" في الآية الثالثة من هذه المجموعة، نظيرة للفظة "أمة" في الآية الثانية من نفس المجموعة، وهكذا في بقية آيات المجموعة، وقل نفس الشيء في المجموعتين الثانية والثالثة.
ففي كل مجموعة، ورد لفظ "أمة" على معنى واحد، في مواضع كثيرة من القرآن. ورد اللفظ في المجموعة الأولى في خمس نظائر وفي المجموعة الثانية في ثماني نظائر، وفي الثالثة في نظيرين.
وكما نطلق لفظ "نظير" على كلمة "أمة" في هذا المثال، نطلقه أيضا على الآية التي ورد فيها لفظ "أمة". يقول طاش كبرى زادة: "ومثال النظائر: كل ما فيه من البروج والكواكب. يعني كل الآيات التي ورد فيها البروج فهي تعني الكواكب. فهي إذن نظائر. ويعبر ابن سلام أحيانا عن النظائر بقوله "والتي في سورة كذا
… " كما جاء في الوجه الثاني من كلمة "لباس" حيث قال: "والتي في عم يتساءلون {وَجَعَلْنَا الليل لِبَاساً} [الاية: 10] يعني بـ "التي" الآية.
التعريف الثاني للوجوه والنظائر عند الزركشي = تعريف حاجي خليفة:
أورد الزركشي تعريفا ثانيا للوجوه والنظائر، وذكر بأنه قد ضعف. لكنه لم يبين مَنْ ضعفه، ولم نقف بدورنا على من ذهب ذلك المذهب. إنما رأينا حاجي خليفة لا غير في تعريف الوجوه والنظائر سوى هذا التعريف.
يقول حاجي خليفة في حديثه عن علم الوجوه والنظائر: "ومعناه أن تكون كلمة واحدة، ذكرت في مواضع من القرآن على لفظ واحد، وحركة واحدة، أريد بها في كل مكان معنى غير الآخر. فلفظ كل كلمة ذكرت في موضع نظير لـ الكلمة المذكورة في الموضع الآخر، هو النظائر، وتفسير كل كلمة بمعنى غير معنى الأخرى، هو الوجوه. فإذا النظائر اسم الألفاظ، والوجوه اسم المعاني". إن هذا التعريف مع التعريف السابق في معنى الوجوه. فهي المعاني المختلفة التي تصرف إليها اللفظة في القرآن. مثل تصرف لفظة "أمة" إلى: عصبة، ملة، سنين الخ
… .
একটি চিত্রলৈখিক নকশায় 'উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' (শব্দের বহুমুখী অর্থ ও সমরূপ ব্যবহার) এর এই প্রথম সংজ্ঞার বিন্যাস। (চিত্র নম্বর: ১)
প্রথম অবয়ব
যেখানে সমরূপ শব্দের বা 'নাযাইর' (نظائر) এর তিনটি দল রয়েছে: প্রথম দলটিতে সেই সকল আয়াত অন্তর্ভুক্ত যেখানে "উম্মাহ" (أمة) শব্দটি 'দল' বা 'গোষ্ঠী' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং প্রথম দলের দ্বিতীয় আয়াতে উল্লিখিত "উম্মাহ" শব্দটি একই দলের প্রথম আয়াতে উল্লিখিত "উম্মাহ" শব্দের সমরূপ (نظيرة), কারণ শব্দ ও অর্থ উভয় দিক থেকেই তারা অভিন্ন। এই দলের তৃতীয় আয়াতের "উম্মাহ" শব্দটি একই দলের দ্বিতীয় আয়াতের "উম্মাহ" শব্দের সমরূপ (نظيرة), এবং এভাবে ওই দলের বাকি আয়াতগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দলের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।
প্রতিটি দলে "উম্মাহ" শব্দটি কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একটি একক অর্থেই বর্ণিত হয়েছে। শব্দটি প্রথম দলে পাঁচটি সমরূপে (نظائر), দ্বিতীয় দলে আটটি সমরূপে (نظائر) এবং তৃতীয় দলে দুইটি সমরূপে (نظائر) এসেছে।
এই উদাহরণে আমরা যেমন "উম্মাহ" শব্দটির ক্ষেত্রে "নাযির" (نظير) শব্দটি ব্যবহার করছি, তেমনি যে আয়াতে "উম্মাহ" শব্দটি এসেছে সেই আয়াতের ক্ষেত্রেও আমরা এটি প্রয়োগ করি। তাশ কুবরা জাদা বলেন: "'নাযাইর' (نظائر) এর উদাহরণ হলো: কুরআনের যেখানেই 'বুরুজ' (بروج) শব্দটি এসেছে তা নক্ষত্ররাজি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ যে সকল আয়াতে 'বুরুজ' শব্দটি এসেছে সেগুলো নক্ষত্র অর্থ বুঝানোর কারণে পরস্পর সমরূপ (نظائر)। ইবনে সালাম মাঝে মাঝে 'নাযাইর' (نظائر) বুঝাতে গিয়ে বলেন, 'এবং যা অমুক সূরায় রয়েছে
…'; যেমনটি 'লিবাস' (لباس) শব্দের দ্বিতীয় অর্থের (الوجه الثاني) বর্ণনায় এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন: 'এবং যা আম্মা ইয়াতাসাআলুন সূরায় {আমি রাত্রিকে করেছি আবরণ} [আয়াত: ১০] রয়েছে'। এখানে 'যা' বলতে তিনি আয়াতকে বুঝিয়েছেন।
আল-যারকাশি বর্ণিত 'উজুহ ওয়া নাযাইর' এর দ্বিতীয় সংজ্ঞা = হাজি খলিফার সংজ্ঞা:
আল-যারকাশি 'উজুহ ওয়া নাযাইর' এর একটি দ্বিতীয় সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, এটিকে দুর্বল (ضعيف) বলা হয়েছে। তবে কে এটিকে দুর্বল (ضعفه) করেছেন তিনি তা স্পষ্ট করেননি এবং আমরাও এই মত পোষণকারী কাউকে খুঁজে পাইনি। বরং আমরা হাজি খলিফা ছাড়া আর কাউকে 'উজুহ ওয়া নাযাইর' এর সংজ্ঞায় এই সংজ্ঞাটি দিতে দেখিনি।
হাজি খলিফা 'ইলমুল উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' সম্পর্কে বলেন: "এর অর্থ হলো একটি শব্দ কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একই শব্দরূপ ও একই হরকতে উল্লিখিত হবে, কিন্তু প্রতিটি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রদান করবে। সুতরাং এক স্থানে উল্লিখিত শব্দ অন্য স্থানে উল্লিখিত শব্দের সদৃশ হওয়াকে বলা হয় 'নাযাইর' (نظائر), আর প্রতিটি শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যাখ্যা করাকে বলা হয় 'উজুহ' (وجوه)। অতএব, 'নাযাইর' (نظائر) হলো শব্দের নাম এবং 'উজুহ' (وجوه) হলো অর্থের নাম।" এই সংজ্ঞাটি 'উজুহ' (وجوه) এর অর্থের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ কুরআনে ব্যবহৃত কোনো শব্দের যে বিভিন্নমুখী অর্থ হয়ে থাকে তাকেই 'উজুহ' (وجوه) বলে। যেমন: "উম্মাহ" শব্দটি দল, ধর্মাদর্শ, সময় ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হওয়া
…।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لكنهما يفترقان افتراقا كليا في تعريف النظائر. وقد وقفنا قبل حين على التعريف اللغوي للنظائر فرأيناها تدل على التساوي في التشابه. لكن المقصود بها في هذا التعريف عكس ذلك تماما. فهي تعني هنا الانتقال باللفظ المشترك (يعني أمة في مثالنا) من معنى إلى آخر. يعني ذلك أن اللفظ المشترك الوارد بمعنى معين في مجموعة من الآيات يعتبر نظيرا لنفسه عندما يرد في مجموعة ثانية يكون فيها بمعنى ثان.
ويمكن أن نستعمل الرسم السابق لنجسم الفرق الحاصل بين التعريفين: (انظر الرسم رقم: 2) .
الشكل الثاني
فالمقصود بالنظائر في هذا التعريف اللفظ الواحد، وبالتالي الآية التي ذكر فيها اللفظ، عندما يرد في سياقات مختلفة بمعان مختلفة. فيكون بذلك عدد النظائر في هذا التعريف على عدد الوجوه، مهما كان عدد الآيات المندرجة تحت كل معنى من معاني اللفظ المشترك. ولا يمكن الفصل بين الوجوه والنظائر في هذا التعريف، لأن النظائر تمثل التعبير اللفظي عن الوجوه.
فلفظة: "وجوه"، وبالتالي عبارة: "لفظ مشترك"، يتضمنان مفهوم النظائر ضرورة لأن اختلاف المعاني لا بد أن يبرز في اللفظ، وذلك ما تحققه النظائر.
وهذا هو المطعن الذي وجهه الزركشي إلى هذا التعريف. فهو يقول: "وقيل النظائر في اللفظ، والوجوه في المعاني. وضعف لأنه لو أريد هذا لكان الجمع (يعني الجميع: الوجوه والنظائر) في الألفاظ المشتركة". وهذا غير ممكن حسب الزركشي الذي توجه إلى واقع كتب الوجوه والنظائر، فوجدها تميز بين المصطلحين، ولم تجعل بينهما علاقة عضوية، من شأنها أن يتم عن طريقها معنى أحدها بالأخرى. فليست النظائر عند الزركشي سوى أمثال، يعني آيات متشابهة يتكرر فيها معنى معين من معاني اللفظ المشترك. فهي لا تضيف إلى مفهوم "الوجوه" أي شيء يذكر، بينما هي عند حاجي خليفة ضرورية لأنها تجسيم لفظي، يعبر عن الوجه المراد.
فالفرق بين الزركشي وبين حاجي خليفة في تعريف النظائر يتمثل في أن الأول قد سلك في تعريفها سبيل المناطقة، مراعيا الاتفاق المعنوي بين الألفاظ، إلى جانب الاتفاق اللفظي، بينما عمد حاجي خليفة إلى اعتبار التشابه اللفظي فحسب.
أي التعريفين أقرب إلى واقع كتب الوجوه والنظائر؟
يظهر أن التعريف الأول أقرب إلى واقع كتب الوجوه والنظائر من التعريف الثاني. ذلك أن المؤلفين في الوجوه والنظائر القرآنية يذكرون لفظة: "نظير" عند سرد الآيات
কিন্তু 'নাজাইর' (النظائر)-এর সংজ্ঞায় তারা সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেন। আমরা কিছুক্ষণ আগে 'নাজাইর' (النظائر)-এর ভাষাগত সংজ্ঞা সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং দেখেছি যে এটি সমতা ও সাদৃশ্যের অর্থ প্রদান করে। কিন্তু এই সংজ্ঞায় এর উদ্দেশ্য ঠিক তার বিপরীত। এখানে এর অর্থ হলো একই শব্দ বা একাধিক অর্থবোধক শব্দ (اللفظ المشترك) (যেমন আমাদের উদাহরণে 'উম্মাহ' শব্দটি) এক অর্থ থেকে অন্য অর্থে স্থানান্তরিত হওয়া। এর অর্থ হলো, আয়াতসমূহের একটি গুচ্ছে একটি নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হওয়া একাধিক অর্থবোধক শব্দটি স্বয়ং নিজেরই সদৃশ (نظير) হিসেবে গণ্য হবে যখন সেটি দ্বিতীয় কোনো গুচ্ছে অন্য কোনো অর্থে ব্যবহৃত হবে।
এবং এই দুই সংজ্ঞার মধ্যকার পার্থক্যটি দৃশ্যমান করার জন্য আমরা পূর্ববর্তী চিত্রটি ব্যবহার করতে পারি: (চিত্র নং ২ দেখুন)।
দ্বিতীয় চিত্র
সুতরাং এই সংজ্ঞায় 'নাজাইর' (النظائر) বলতে সেই একক শব্দকে বোঝানো হয়, এবং ফলস্বরূপ যে আয়াতে সেই শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে তাকেও, যখন তা বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। ফলে এই সংজ্ঞায় 'নাজাইর' (النظائر)-এর সংখ্যা বহুমাত্রিক অর্থ বা 'উজুহ' (الوجوه)-এর সংখ্যার সমান হবে, একাধিক অর্থবোধক শব্দের (اللفظ المشترك) প্রতিটি অর্থের অধীনে আয়াত সংখ্যা যাই হোক না কেন। আর এই সংজ্ঞায় 'উজুহ' (الوجوه) এবং 'নাজাইর' (النظائر)-এর মধ্যে পার্থক্য করা সম্ভব নয়, কারণ 'নাজাইর' (النظائر) মূলত 'উজুহ' (الوجوه)-এরই শাব্দিক বহিঃপ্রকাশ মাত্র।
অতএব, 'উজুহ' (الوجوه) শব্দটির মাধ্যমে এবং ফলস্বরূপ 'একাধিক অর্থবোধক শব্দ' (اللفظ المشترك) শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে আবশ্যিকভাবে 'নাজাইর' (النظائر)-এর ধারণাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, কারণ অর্থের ভিন্নতা অবশ্যই শব্দে প্রকাশিত হতে হবে এবং সেটিই 'নাজাইর' (النظائر) সম্পন্ন করে।
আর এটিই সেই আপত্তি যা ইমাম যারকাশি এই সংজ্ঞার বিরুদ্ধে তুলেছেন। তিনি বলেন: "বলা হয়েছে যে, 'নাজাইর' (النظائر) হলো শব্দের ক্ষেত্রে এবং 'উজুহ' (الوجوه) হলো অর্থের ক্ষেত্রে। একে দুর্বল (ضعيف) বলা হয়েছে, কারণ যদি এটাই উদ্দেশ্য হতো তবে একাধিক অর্থবোধক শব্দের (اللفظ المشترك) ক্ষেত্রে সবকিছুই (অর্থাৎ উজুহ ও নাজাইর) একত্র হয়ে যেত।" ইমাম যারকাশির মতে এটি সম্ভব নয়, কারণ তিনি 'উজুহ' ও 'নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য করেছেন এবং দেখেছেন যে সেগুলো এই দুটি পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য করে। তিনি এগুলোর মধ্যে এমন কোনো অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক স্থাপন করেননি যার মাধ্যমে একটির অর্থ অন্যটি দ্বারা পূর্ণ হয়। ইমাম যারকাশির নিকট 'নাজাইর' (النظائر) হলো সদৃশ বা উপমা মাত্র, অর্থাৎ এমন সব আয়াত যাতে একাধিক অর্থবোধক শব্দের (اللفظ المشترك) একটি নির্দিষ্ট অর্থ বারবার ফিরে এসেছে। ফলে এটি 'উজুহ' (الوجوه)-এর ধারণায় নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য সংযোজন করে না। পক্ষান্তরে হাজি খলিফার নিকট এটি অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি কাঙ্ক্ষিত অর্থের একটি শাব্দিক রূপায়ন যা সেই অর্থকে (الوجه) ফুটিয়ে তোলে।
সুতরাং 'নাজাইর' (النظائر)-এর সংজ্ঞায় যারকাশি এবং হাজি খলিফার মধ্যকার পার্থক্য হলো, প্রথমজন (যারকাশি) এটি সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে যৌক্তিক চিন্তাবিদদের (المناطقة) পথ অনুসরণ করেছেন এবং শাব্দিক মিলের পাশাপাশি অর্থের মিলকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে হাজি খলিফা কেবল শাব্দিক সাদৃশ্যকেই বিবেচনা করেছেন।
কোন সংজ্ঞাটি 'উজুহ' ও 'নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী?
প্রতীয়মান হয় যে, প্রথম সংজ্ঞাটি দ্বিতীয় সংজ্ঞার তুলনায় 'উজুহ' ও 'নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বাস্তবতার অধিক নিকটবর্তী। এর কারণ হলো, কুরআনের 'উজুহ' ও 'নাজাইর' (النظائر) বিষয়ক লেখকগণ আয়াতগুলো বর্ণনা করার সময় 'সদৃশ' (نظير) শব্দটি উল্লেখ করেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
التي يعددونها في سياق التمثيل لوجه واحد من الوجوه التي تكون للفظ المشترك، بحيث يكون لكل وجه نظائره التابعة له، ولا يمكن لوجهين أن يشتركا في النظائر، فيميزون بذلك بين الوجوه والنظائر.
أضف إلى ذلك أن الاستعمالات الأخرى للفظة نظير، غالبا ما تركز على المعنى. وقبل أن ننهي الحديث عن تعريف الوجوه والنظائر، نذكر بأنه ليس من الضروري أن تكون الكلمة المشتركة - خلافا لما ذهب إليه حاجي خليفة - على لفظ واحد، وحركة واحدة، لأن الذي نلاحظه في كتب الوجوه والنظائر، استعمال اللفظة ومشتقاتها على السواء.
أسباب ظهور كتب الوجوه والنظائر القرآنيةلم نعثرعند من وقفنا عليهم ممن ألفوا في الوجوه والنظائر على ذكر واضح للأسباب التي دفعتهم للتأليف في هذا الفن. كما لم يبين المؤرخون لعلوم القرآن تلك الأسباب مثلما فعلوا عند حديثهم عن كتب الغريب.
ولعل العودة إلى مادة كتب الوجوه والنظائر تقربنا أكثر من الإجابة عن سبب التأليف فيها. ونود أن تقف قبل ذلك على سبب عام يمكن تقديمه لوضع هذا الفن في إطاره. ذلك أنه قد ظهر في عصر مبكر، إذ أن أقدم أثر فيه وصل إلينا يرجع إلى القرن الثاني للهجرة.
ولا يخفى أن هذا القرن يمتاز بنشاط الحركة العلمية، وتنافس المدن فيها. نخص بالذكر ذلك التنافس الذي ظهر بين الكوفة والبصرة حيث أقام مقاتل بن سليمان ويحيى ابن سلام.
وبحكم الاستقرار السياسي نسبيا، بظهور الدولة العباسية، وبحكم كثرة الاختلاط الناتج عن دخول كثير من الأعاجم في الإسلام، ظهر في هذا القرن اهتمام شديد باللغة، قصد به إلى الحفاظ على القرآن خاصة من التحريف، وبدأ التأليف يظهر في عدة ميادين: في الحديث، والتفسير، واللغة. وظهرت التآليف أجزاء مفرقة، تختص بمسألة ضيقة، يجمع فيها أصحابها ما بلغهم عنها من معلومات، ترتكز على
যাকে তারা সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দের (اللفظ المشترك) কোনো একটি অর্থের (وجه) দৃষ্টান্ত প্রদানের প্রেক্ষাপটে গণনা করেন, যাতে প্রতিটি অর্থের (وجه) জন্য তার নিজস্ব কিছু সমজাতীয় শব্দ (نظائر) থাকে এবং দুটি ভিন্ন অর্থের (وجه) জন্য একই সমজাতীয় শব্দ (نظائر) হওয়া সম্ভব নয়। এর মাধ্যমেই তারা অর্থ (وجوه) এবং সমজাতীয় শব্দের (نظائر) মধ্যে পার্থক্য করেন।
এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, 'নাযির' (نظير) শব্দের অন্যান্য ব্যবহারগুলো সাধারণত অর্থের ওপরই নিবদ্ধ থাকে। 'উজুহ' (وجوه) এবং 'নাযাইর' (نظائر) এর সংজ্ঞা সমাপ্ত করার আগে আমরা উল্লেখ করছি যে—হাজি খলিফার মতের বিপরীতে—এটি আবশ্যক নয় যে সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দটি (الكلمة المشتركة) সর্বদা একই শব্দরূপ এবং একই হরকত বিশিষ্ট হবে। কারণ 'উজুহ' (وجوه) এবং 'নাযাইর' (نظائر) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে আমরা মূল শব্দ এবং তার বুৎপত্তিগত রূপগুলোর (مشتقات) সমান ব্যবহার লক্ষ্য করি।
কুরআনী 'উজুহ' (وجوه) এবং 'নাযাইর' (نظائر) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ আবির্ভাবের কারণসমূহযারা 'উজুহ' (وجوه) এবং 'নাযাইর' (نظائر) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের নিকট থেকে আমরা এই শাস্ত্রে (فن) গ্রন্থ রচনার কোনো সুস্পষ্ট কারণ খুঁজে পাইনি। অনুরূপভাবে কুরআন বিজ্ঞানের (علوم القرآن) ইতিহাসবিদগণও সেই কারণগুলো ব্যাখ্যা করেননি, যেমনটি তারা বিরল বা অপরিচিত শব্দ (غريب) সংক্রান্ত গ্রন্থসমূহ আলোচনার সময় করেছেন।
হয়তো 'উজুহ' (وجوه) এবং 'নাযাইর' (نظائر) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তুর পর্যালোচনাই আমাদের এই রচনার কারণ খুঁজে পাওয়ার উত্তরের নিকটবর্তী করতে পারে। তার আগে আমরা একটি সাধারণ কারণ উল্লেখ করতে চাই, যা এই শাস্ত্রকে (فن) তার সঠিক কাঠামোতে স্থাপন করতে সহায়ক হতে পারে। আর তা হলো, এই শাস্ত্রের উদ্ভব অত্যন্ত প্রাথমিক যুগে হয়েছে; আমাদের কাছে পৌঁছানো এই শাস্ত্রের প্রাচীনতম নিদর্শনটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর।
এটি অনস্বীকার্য যে, এই শতাব্দীটি জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং শহরগুলোর মধ্যকার জ্ঞানগত প্রতিযোগিতার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল। আমরা বিশেষভাবে কুফা এবং বসরার মধ্যকার সেই প্রতিযোগিতার কথা উল্লেখ করছি, যেখানে মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং ইয়াহইয়া ইবনে সাল্লাম অবস্থান করতেন।
আব্বাসীয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তুলনামূলক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইসলামে প্রচুর সংখ্যক অনারবদের প্রবেশের ফলে সৃষ্ট সংমিশ্রণের প্রভাবে এই শতাব্দীতে ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগের জন্ম হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল বিশেষভাবে কুরআনকে বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা করা। আর এভাবেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার সূত্রপাত হয়: হাদিস, তাফসির এবং ভাষা বিজ্ঞানে। এই সংকলনগুলো বিভিন্ন পৃথক অংশে আত্মপ্রকাশ করে, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর নিবদ্ধ ছিল, যেখানে সংকলকগণ তাদের কাছে পৌঁছানো তথ্যসমূহ একত্রিত করতেন, যা মূলত...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الرواية خاصة. وهكذا ظهرت رسائل في اللغة، تتعلق بموضوع معين، ككتاب الخيل، وكتاب النخل، وكتاب المطر وغيرها.
وظهرت رسائل تتعلق بعلوم قرآنية، في لغات القرآن، والناسخ والمنسوخ والتفسير وغيرها. فمن الطبيعي أن تظهر في هذا الإطار الثقافي كتب الوجوه والنظائر القرآنية التي تجمع بين الفهم اللغوي والتفسير القرآني، كما سنبين ذلك.
ونعود إلى مادة كتب الوجوه والنظائر نستجليها عن أسباب ظهور التأليف فيها. إن الذي نستنتجه، بعد وقوفنا على تعريف مصطلحات هذا العلم، أن الباحث يجد في كتب الوجوه والنظائر:
1) شرحا لألفاظ قرآنية روعي فيه السياق القرآني.
2) جمعا لآيات اتفقت في اشتمالها على لفظ معين، يدل في كل مجموعة منها على معنى واحد من المعاني التي يتصرف إليها في النص القرآني.
فربما كانت هاتان المسألتان هما الحافزتان على التأليف في الوجوه والنظائر. وكلتاهما هدف قرآني، ما دام المؤلف يعمد في الأول إلى شرح اللفظ ببيان معناها المقصود في الآية فيتمكن بذلك المطلع على كتب الوجوه والنظائر من الإلمام بالمعاني القرآنية. ولا تخفى العلاقة الموجودة بين هذا وبين اللغة. فالمعاني التي تعطى عادة للألفاظ في كتب الوجوه، نجدها غالبا في كتب اللغة. يقول الهروي في كتابه الغريبين: "فإن اللغة العربية إنما يحتاج إليها لمعرفة غريبي القرآن وأحاديث الرسول عليه السلام، والصحابة والتابعين.
أما الهدف الثاني فهو شرح للقرآن بالقرآن، بتجميع الآيات المتحدة في المعنى في مكان واحد.
বর্ণনা (الرواية) সুনির্দিষ্ট। এভাবেই ভাষাতত্ত্বে সুনির্দিষ্ট বিষয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পুস্তিকা আত্মপ্রকাশ করেছে, যেমন: কিতাবুল খাইল, কিতাবুন নাখল, কিতাবুল মাতার এবং অন্যান্য।
এবং কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান (علوم قرآنية), কুরআনের ভাষাশৈলী, রহিতকারী ও রহিতকৃত (الناسخ والمنسوخ), তাফসির (التفسير) এবং অন্যান্য বিষয়েও বিভিন্ন পুস্তিকা আত্মপ্রকাশ করেছে। সুতরাং এই সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে কুরআনের 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর' (وجوه ونظائر قرآنية) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ রচিত হওয়া স্বাভাবিক ছিল, যা ভাষাগত উপলব্ধি এবং কুরআনি তাফসিরের (التفسير القرآني) সমন্বয় ঘটায়, যেমনটি আমরা সামনে স্পষ্ট করব।
আমরা পুনরায় 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মূল উপাদানে ফিরে যাই এবং এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনার কারণসমূহ অনুসন্ধান করি। এই শাস্ত্রের পরিভাষাসমূহের সংজ্ঞা পর্যালোচনার পর আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি তা হলো, একজন গবেষক 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থসমূহে যা খুঁজে পাবেন তা হলো:
১) কুরআনের শব্দাবলির এমন ব্যাখ্যা (شرح) যেখানে কুরআনি প্রাসঙ্গিকতা (السياق القرآني) বিবেচনা করা হয়েছে।
২) এমন সব আয়াতের সমষ্টি (جمع) যা একটি সুনির্দিষ্ট শব্দ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে একমত, যেখানে প্রতিটি গুচ্ছে শব্দটি কুরআনি পাঠের (النص القرآني) অন্তর্ভুক্ত কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে।
সম্ভবত এই দুটি বিষয়ই 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থ রচনার মূল প্রেরণা ছিল। এবং উভয়টিই কুরআনি লক্ষ্য হিসেবে গণ্য, যতক্ষণ পর্যন্ত লেখক প্রথম ক্ষেত্রে আয়াতের অভীষ্ট অর্থ বর্ণনা করার মাধ্যমে শব্দের ব্যাখ্যা (شرح) করার প্রয়াস পান, ফলে 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাজাইর' বিষয়ক গ্রন্থসমূহের পাঠকারী কুরআনের অর্থসমূহ সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান অর্জনে সক্ষম হন। এর সাথে ভাষার যে বিদ্যমান সম্পর্ক রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়। কারণ 'উজুহ' বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে শব্দসমূহের সাধারণত যে অর্থ প্রদান করা হয়, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমরা ভাষা বিষয়ক গ্রন্থসমূহেও খুঁজে পাই। আল-হারাবি তাঁর কিতাবুল গারিবাইন গ্রন্থে বলেন: "নিশ্চয়ই আরবি ভাষার প্রয়োজন হয় কুরআন এবং রাসূল (সা.), সাহাবী (الصحابة) ও তাবেঈগণের (التابعين) হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দাবলি (غريب) অনুধাবনের জন্য।"
আর দ্বিতীয় লক্ষ্যটি হলো কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাখ্যা (شرح), যা একই অর্থবোধক আয়াতসমূহকে এক স্থানে একত্রিত করার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولعله قصد بهذه الكتب إلى غاية عملية كانت سائدة في الكتب الدينية وغيرها، وأقصد بذلك تسهيل عملية الحفظ على الطلاب.
وقد وقفت في مقدمة تفسير ابن جزي، على فصل عقده لذكر "الكلمات التي يكثر دورها في القرآن، أو تقع في موضعين فأكثر من الأسماء، والأفعال والحروف". فعلل أسباب جمعه لتلك الكلمات، وجعل من بينها حرصه على أن يلم المطلع على كتابه بتفسيرها، وأن يكون حفظه لها مجموعة أسهل عليه.
كذلك ورد في مقدمة كتاب النيسابوري في الوجوه والنظائر قوله: "ورتبته على حروف التهجي ليسهل على الباحث طلبها (يعني الأبواب) وعلى التحفظ (هكذا) حفظها".
وربما اعتبرنا ما أورده ابن جزي أيضاً سببا آخر للتأليف في هذا الفن. فقد اعتبر أنه من بين البواعث على الخلاف بين المفسرين، "اشتراك اللفظ بين معنيين فأكثر". فيكون ضبط معاني اللفظ القرآني الواحد، في مواضعه المختلفة داعيا إلى الحد من ذلك الخلاف.
هذه الأسباب عموما، هي التي نجدها أصلا للتأليف في بقية العلوم القرآنية. والمتعلقة باللفظ القرآني خاصة، مثل كتب الغريب، وكتب المتشابه، وكتب مبهمات القرآن وغيرها.
والهدف منها جميعا مزيد الاهتمام بالنص القرآني ضبطا، وحفظا.
وقد ذكرت المصادر حديثا يروونه عن أبي الدرداء فيه حث على تعليم وجوه القرآن وهذ نصه: "لا يكون الرجل فقيها كل الفقه حتى يرى للقرآن وجوها كثيرة".
واتفقت المصادر على أن الذي أورد هذا الحديث مقاتل بن سليمان في كتابه في نظائر القرآن. وهذا الحديث لم نقف عليه في كتب الصحاح. إنما أورده ابن سعد في طبقاته
সম্ভবত তিনি এই গ্রন্থগুলোর মাধ্যমে একটি ব্যবহারিক লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন যা ধর্মীয় ও অন্যান্য বইয়ে প্রচলিত ছিল; আর তা হলো শিক্ষার্থীদের জন্য মুখস্থ করার প্রক্রিয়া সহজতর করা।
আমি ইবনে জুযাই-এর তাফসিরের ভূমিকায় একটি পরিচ্ছেদ পেয়েছি যা তিনি সেই "শব্দসমূহ উল্লেখ করার জন্য রচনা করেছেন যা কুরআনে বারবার আবর্তিত হয় অথবা বিশেষ্য (أسماء), ক্রিয়া (أفعال) ও অব্যয় (حروف) হিসেবে দুই বা ততোধিক স্থানে আসে"। তিনি এই শব্দগুলো সংকলনের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর মধ্যে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, পাঠক যেন তার গ্রন্থের মাধ্যমে এগুলোর ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং এগুলোকে একত্রে মুখস্থ রাখা তার জন্য সহজতর হয়।
একইভাবে নিশাপুরি-র আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর গ্রন্থের ভূমিকায় তাঁর এই উক্তিটি এসেছে: "আমি এটি বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি যাতে অনুসন্ধানকারীর জন্য তা (অর্থাৎ অধ্যায়গুলো) খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং মুখস্থকারীর জন্য তা মুখস্থ রাখা সহজ হয়।"
ইবনে জুযাই যা উল্লেখ করেছেন তাকে সম্ভবত এই শিল্পে গ্রন্থ রচনার আরেকটি কারণ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তিনি মনে করেন যে, মুফাসসিরদের মধ্যে মতবিরোধের অন্যতম কারণ হলো "একই শব্দের দুই বা ততোধিক অর্থের মধ্যে অংশীদারিত্ব"। সুতরাং কুরআনের একক শব্দের বিভিন্ন স্থানের অর্থসমূহ সুনির্দিষ্ট করা সেই মতবিরোধ হ্রাস করার একটি মাধ্যম হতে পারে।
সাধারণত এই কারণগুলোকেই আমরা অন্যান্য কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানে গ্রন্থ রচনার মূল ভিত্তি হিসেবে পাই। বিশেষ করে যেগুলো কুরআনিক শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন: গারিব (غريب) বিষয়ক গ্রন্থ, মুতাশাবিহ (متشابه) বিষয়ক গ্রন্থ, এবং কুরআনের মুবহামাত (مبهمات) বিষয়ক গ্রন্থ ইত্যাদি।
এগুলোর সবগুলোরই লক্ষ্য হলো কুরআনের মূল পাঠের নির্ভুলতা এবং সংরক্ষণের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্বারোপ করা।
বিভিন্ন উৎসগ্রন্থে আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে যাতে কুরআনের উজুহ (وجوه) বা নানামুখী অর্থসমূহ শিক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে, যার পাঠ নিম্নরূপ: "কোনো ব্যক্তি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ফকিহ (فقيه) হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে কুরআনের বহুবিধ দিক দেখতে পাবে।"
উৎসসমূহ এ ব্যাপারে একমত যে, এই হাদিসটি মুকাতিল ইবনে সুলাইমান তার নাযাইরুল কুরআন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে এই হাদিসটি আমরা সিহাহ গ্রন্থাবলীতে পাইনি। বরং ইবনে সাদ এটি তার তবাকাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وكأنه اعتبره كلاما لأبي الدرداء لا حديثا نبويا شريفا يرويه، إذ يقول:
… عن أبي قلابة أن أبا الدرداء كان يقول: "إنك لن تفقه كل الفقه حتى ترى القرآن وجوها".
وهذا الحديث لا يبتعد في اتجاهه عن الحديث الآخر الذي يحث على تعلم معاني الألفاظ القرآنية والإلمام بمعرفة غريبها. وقد روي عن أبي هريرة وغير ولفظه: "اعربوا القرآن والتمسوا غريبه".
والقريب من الذهن أن هذا الحديث ومثله مما وضع قصد الحث على الاهتمام بهذه المادة، ومما نعلمه من أسباب الوضع في الحديث الترغيب والترهيب.
ونضيف إلى هذا، أن الذي أورد الحديث مقاتل بن سليمان وهو كذاب.
غير أن السيوطي بدا عليه الاهتمام بهذا الحديث. وقد نقل في تفسيره له تأويلين اثنين:
التأويل الأول: يرجع إلى المعنى اللغوي للفظة وجوه. يعني أن يرى الباحث للفظ الواحد معاني متعددة في مواضع من القرآن.
التأويل الثاني: يلتحق بالتفسير الإشاري، حيث إن المقصود بالوجوه فيه "استعمال الإشارات الباطنة، وعدم الاقتصار على التفسير الظاهر".
ولعل تأليف الحكيم الترمذي يلتحق بهذا المفهوم للوجوه والنظائر، وكذلك ما نلمسه في تفاسير الشيعة عند اعتبارهم أن للقرآن ظاهرا وباطنا.
ثم إن السيوطي عاد إلى التأويل الأول، ليبين انعكاس احتمال اللفظ القرآني لوجوه متعددة على نفسية الناظر في القرآن. فإذا الوجوه تصبح كالحاجز المانع للباحث عن الخوض في التفسير. وهذه الفكرة ترتبط ارتباطا وثيقا بموقف المانعين عن الخوض في التفسير. "فقلت لأيوب (وهو من رجال السند عن أبي الدرداء
মনে হচ্ছে তিনি একে আবু দারদার উক্তি হিসেবে গণ্য করেছেন, নবিজি (সা.)-এর বর্ণিত কোনো হাদিস হিসেবে নয়। কেননা তিনি বলেন:
… আবু কিলাবা থেকে বর্ণিত যে, আবু দারদা বলতেন: "তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ ফকিহ হতে পারবে না, যতক্ষণ না কুরআনের বহুমুখী অর্থসমূহ (وجوها) দেখতে পাবে।"
এই হাদিসটি তার লক্ষ্যের দিক থেকে সেই অন্য হাদিসটি থেকে ভিন্ন নয়, যা কুরআনের শব্দাবলির অর্থ শেখার এবং এর বিরল শব্দাবলি (غريب) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহিত করে। আবু হুরায়রা এবং অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যার শব্দরূপ হলো: "তোমরা কুরআনকে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করো এবং এর বিরল শব্দসমূহ (غريبه) অনুসন্ধান করো।"
সহজেই অনুমেয় যে, এই হাদিসটি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বর্ণনাগুলো এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করার উদ্দেশ্যে জাল (وضع) করা হয়েছে। আর হাদিস জাল করার (الوضع) কারণগুলোর মধ্যে একটি হলো সওয়াবের আশায় উৎসাহ প্রদান ও আজাবের ভীতি প্রদর্শন (الترغيب والترهيب)।
এর সাথে আমরা আরও যোগ করতে পারি যে, যিনি এই হাদিসটি উদ্ধৃত করেছেন তিনি হলেন মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, আর তিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)।
তবে সুয়ূতির নিকট এই হাদিসটির গুরুত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে। তিনি তার তাফসিরে এর দুটি ব্যাখ্যা (تأويلين) উল্লেখ করেছেন:
প্রথম ব্যাখ্যা: এটি 'উজুহ' শব্দের শাব্দিক অর্থের দিকে ফিরে যায়। অর্থাৎ, গবেষক কুরআনের বিভিন্ন স্থানে একটি শব্দের একাধিক অর্থ দেখতে পাবেন।
দ্বিতীয় ব্যাখ্যা: এটি ইশারি তাফসিরের (التفسير الإشاري) অন্তর্ভুক্ত, যেখানে 'উজুহ' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "আভ্যন্তরীণ ইশারা বা ইঙ্গিতগুলোর প্রয়োগ এবং কেবল বাহ্যিক তাফসিরের (التفسير الظاهر) ওপর সীমাবদ্ধ না থাকা।"
সম্ভবত হাকিম তিরমিযীর রচনাটিও 'উজুহ ও নাযাইর'-এর (الوجوه والنظائر) এই ধারণার অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে শিয়াদের তাফসিরগুলোতেও আমরা এটি লক্ষ্য করি, যেখানে তারা বিবেচনা করে যে কুরআনের একটি বাহ্যিক (ظاهر) ও একটি অভ্যন্তরীণ (باطن) দিক রয়েছে।
অতঃপর সুয়ূতি পুনরায় প্রথম ব্যাখ্যার দিকে ফিরে যান, যাতে তিনি কুরআনের শব্দাবলির একাধিক অর্থের সম্ভাবনা কুরআন পাঠকারীর মানসিকতায় কী প্রভাব ফেলে তা স্পষ্ট করতে পারেন। ফলে এই বহুমুখী অর্থগুলো (وجوه) গবেষকের জন্য তাফসিরে গভীরভাবে নিমগ্ন হওয়ার ক্ষেত্রে একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এই ধারণাটি তাফসিরে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে যারা নিষেধ করেন তাদের অবস্থানের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। "অতঃপর আমি আইয়ুবকে (যিনি আবু দারদা থেকে বর্ণিত সনদের (السند) অন্যতম রাবি বা বর্ণনাকারী...
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
عند ابن عساكر) أرأيت قوله: "حتى ترى القرآن وجوها" أهو أن ترى له وجوها فتهاب الإقدام عليه؟ "قال: نعم، هو هذا".
وقد تجاوز انعكاس خاصية احتمال اللفظ القرآني لوجوه متعددة ميدان العلوم إلى الميدان العقدي، بل قل والسياسي كذلك. فذكر السيوطي أن ابن سعد أخرج عن ابن عباس أن علي بن أبي طالب أرسله إلى الخوارج فقال: "اذهب إليهم فخاصمهم ولا تحاجّهم بالقرآن فإنه ذو وجوه، ولكن خاصمهم بالسنة".
غير أنه قد رأينا قبل حين بأن هذا ليس سببا كافيا للإمساك عن الخوض في التفسير، ويكفي المفسر أن يطلع على مختلف الوجوه للفظ القرآني لكي يعصم نفسه من الوقوع في الخطأ.
بهذا يمكن اعتبار علم الوجوه والنظائر من العلوم الأداة التي لا يحق لمفسر الاستغناء عنها.
كتب الوجوه والنظائر القرآنيةيمكن أن نعتبر التأليف في الوجوه والنظائر من أسبق ما ظهر في ميدان علوم القرآن. فقد ورد في كشف الظنون نقلا عن ابن الجوزي، أنه قد نسب في هذا العلم كتاب إلى عكرمة (ت105/723) مولى ابن عباس، وآخر إلى علي بن أبي طلحة (ت143/760) عن ابن عباس أيضا.
ويتفق هذا القول مع ما ذكره الإمام أبو عبد الرحمن إسماعيل بن أحمد الضرير النيسابوري الحيري في مقدمة كتابه: وجوه القرآن حيث قال: "ذكرت في هذا الكتاب وجوه القرآن. والسابق بهذا التصنيف، عبد الله بن عباس رضي الله عنه، ثم مقاتل ثم الكلبي".
(ইবনে আসাকিরের নিকট বর্ণিত) আপনি কি তাঁর এই উক্তিটি লক্ষ্য করেছেন: "যতক্ষণ না তুমি কুরআনকে বহুমুখী (وجوها) হিসেবে দেখতে পাও"? এর অর্থ কি এই যে, তুমি এর নানাবিধ রূপ (وجوها) দেখতে পাবে ফলে তাতে অগ্রসর হতে দ্বিধাবোধ করবে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, এটাই।"
কুরআনের শব্দাবলির একাধিক অর্থ (وجوه) বহনের বৈশিষ্ট্যের প্রভাব জ্ঞানতাত্ত্বিক ক্ষেত্র ছাড়িয়ে আকিদাগত (عقدي), এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রসারিত হয়েছে। সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে সাদ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব তাকে খারেজীদের (الخوارج) নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: "তাদের কাছে যাও এবং তাদের সাথে বিতর্ক করো, তবে কুরআনের মাধ্যমে তাদের সাথে দলিল পেশ (تحاجّهم) করো না; কারণ এটি বহুমুখী অর্থসম্পন্ন (ذو وجوه), বরং তাদের সাথে সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে বিতর্ক করো।"
তবে আমরা কিছুক্ষণ আগেই দেখেছি যে, এটি তাফসীর (تفسير) চর্চায় নিমগ্ন হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়। বরং একজন মুফাসসিরের (مفسর) জন্য কুরআনের শব্দের বিভিন্ন অর্থ (الوجوه) সম্পর্কে অবগত হওয়া যথেষ্ট, যাতে তিনি নিজেকে ভুল করা থেকে রক্ষা করতে পারেন।
এ কারণে 'উজুহ ও নাযাইর' (وجوه ونظائر) শাস্ত্রকে এমন একটি সহায়ক শাস্ত্র (العلوم الأداة) হিসেবে গণ্য করা যায়, যা থেকে কোনো মুফাসসিরের (مفسর) বিমুখ হওয়ার অবকাশ নেই।
কুরআনের উজুহ ও নাযাইর বিষয়ক গ্রন্থাবলি'উজুহ ও নাযাইর' (وجوه ونظائر) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা (التأليف) কে উলূমুল কুরআনের (علوم القرآن) ক্ষেত্রে সূচনালগ্নের কাজ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। কাশফুয যুনুন-এ ইবনুল জাওযীর বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই শাস্ত্রে একটি কিতাব ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস ইকরিমার (মৃত্যু ১০৫ হি./৭২৩ খ্রি.) প্রতি এবং অন্যটি ইবনে আব্বাসের সূত্রে আলী ইবনে আবি তালহার (মৃত্যু ১৪৩ হি./৭৬০ খ্রি.) প্রতি ন্যস্ত করা হয়েছে।
এই কথাটি ইমাম আবু আবদুর রহমান ইসমাইল ইবনে আহমদ আদ-দাহির আন-নিসাবুরী আল-হাইরী তার উজুহুল কুরআন কিতাবের ভূমিকায় যা উল্লেখ করেছেন তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; সেখানে তিনি বলেন: "আমি এই কিতাবে কুরআনের বহুমুখী অর্থসমূহ (وجوه القرآن) উল্লেখ করেছি। আর এই শাস্ত্রীয় বিন্যাসে (التصنيف) অগ্রগণ্য হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), এরপর মুকাতিল, এরপর কালবী।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لكن بقية المصادر تنطلق في ذكر كتب الوجوه والنظائر من كتاب مقاتل بن سليمان (ت150/767) الذي توجد منه نسخة بمكتبة جامعة الدول العربية تحت رقم: [عمومية بايزيد 561. 286ق. صغير الحجم] وقد تم نشره على يد د. عبد الله محمود شحاتة. وقد وضع المحقق مقدمة بين يدي الكتاب ضمنها دراسة حول مقاتل بن سليمان، في حياته وتهمته بالتشبيه والكذب، ونشاطه العلمي في الحديث، والتفسير، وعلوم القرآن. لكنه لم يتناول علم الوجوه والنظائر إلا بما ورد عند الزركشي.
ووضع المحقق هوامش، تعين القارئ على مزيد الإفادة من الكتاب، وذلك بالإشارة إلى أرقام الآيات الواردة في النص، وبتصويب ما جاء فيه من أخطاء.
وأغفل إلقاء بعض الأضواء على تأليف مقاتل بالرجوع إلى محتواه وقيمته وعلاقته بغيره من كتب هذا الفن.
واشتمل كتاب مقاتل على تفسير خمس وثمانين ومائة كلمة، لم يُراع فيها ترتيب معين. وأبقيت على ترتيبها الذي ذكرت عليه في الأصل. وقد اتفق كتاب مقاتل في ترتيب عدد كبير من كلماته مع كتاب التصاريف، واختلف في عدد آخر. أما كيفية تقديم الوجوه والنظائر فهي واحدة بين الكتابين. وإن اشترك كتاب التصاريف مع كتاب مقاتل في حوالي سبع وسبعين كلمة فقد تفرد بقرابة أربعين كلمة لم ترد عند مقاتل. كما اختلف الكتابان في عدد وجوه بعض الكلمات، فتفوقت الوجوه في كتاب التصاريف في أحد عشر موضعا، وتفوقت في كتاب مقاتل في ثلاثة مواضع.
ونود لفت الانتباه إلى الشبه الكبير الموجود بين الكتابين، بالنسبة للكلمات المشتركة بينهما. وقد يصبح هذا التشابه في مواضع عديدة تطابقا بين الكتابين. فكأن المسألة عملية نسخ من كتاب إلى آخر. ويبدو التطابق في عدد الوجوه المذكورة للكلمة، وفي طريقة تتاليها وفي الآيات النظائر المذكورة في كل وجه، بل وحتى في تسلسل عدد كبير من الكلمات المفسرة.
ولم أوفق إلى معرفة سر هذا التطابق معرفة قطعية. ذلك أن مقاتل بن سليمان لم يرد ذكره في كتاب التصاريف، مثلما ورد عند الدامغاني.
তবে অন্যান্য উৎসসমূহে 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক গ্রন্থাবলির আলোচনা মুকাতিল ইবনে সুলায়মান (মৃত্যু: ১৫০/৭৬৭)-এর গ্রন্থ থেকে শুরু হয়েছে, যার একটি পাণ্ডুলিপি আরব লিগ লাইব্রেরিতে [বায়েজিদ পাবলিক লাইব্রেরি ৫৬১, ২৮৬ পাতা, ছোট আকার] সংরক্ষিত আছে এবং এটি ড. আব্দুল্লাহ মাহমুদ শেহাতা কর্তৃক সম্পাদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদক গ্রন্থের শুরুতে একটি ভূমিকা যুক্ত করেছেন, যেখানে তিনি মুকাতিল ইবনে সুলায়মানের জীবন, তার ওপর সাদৃশ্যারোপ (تشبيه) ও মিথ্যাচারের (كذب) অভিযোগ এবং হাদিস, তাফসির ও উলুমুল কুরআনে তার জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তবে তিনি ইমাম যারকাশি যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতিরেকে 'ইলমুল উজুহ ওয়ান নাযাইর' সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেননি।
সম্পাদক কিছু টীকাও যুক্ত করেছেন যা পাঠককে গ্রন্থটি থেকে আরও উপকৃত হতে সাহায্য করবে; বিশেষত মূল পাঠে উল্লেখিত আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান এবং ভুলত্রুটি সংশোধনের মাধ্যমে।
তিনি মুকাতিলের রচনার বিষয়বস্তু, এর গুরুত্ব এবং এ শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থের সাথে এর সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করতে অবহেলা করেছেন।
মুকাতিলের গ্রন্থটিতে ১৮৫টি শব্দের ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তবে এতে কোনো সুনির্দিষ্ট বিন্যাস অনুসরণ করা হয়নি। আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেই বিন্যাসটিই বহাল রেখেছি। মুকাতিলের গ্রন্থের একটি বড় অংশের শব্দের বিন্যাস কিতাবুত তাসারিফ-এর সাথে মিল রয়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে অমিলও রয়েছে। তবে 'উজুহ ওয়ান নাযাইর' উপস্থাপনের পদ্ধতি উভয় গ্রন্থেই অভিন্ন। যদিও কিতাবুত তাসারিফ এবং মুকাতিলের গ্রন্থের মধ্যে প্রায় ৭৭টি শব্দের মিল রয়েছে, তবে প্রথমোক্ত গ্রন্থটিতে প্রায় ৪০টি এমন শব্দ স্বতন্ত্রভাবে এসেছে যা মুকাতিলের গ্রন্থে নেই। এছাড়াও শব্দসমূহের বিভিন্ন দিকের (الوجوه) সংখ্যার ক্ষেত্রেও গ্রন্থ দুটির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; এগারোটি স্থানে কিতাবুত তাসারিফ-এ এই দিকসমূহ (الوجوه) বেশি বর্ণিত হয়েছে এবং তিনটি স্থানে মুকাতিলের গ্রন্থে বেশি বর্ণিত হয়েছে।
আমরা উভয় গ্রন্থের সাধারণ শব্দাবলির মধ্যে বিদ্যমান প্রভূত সাদৃশ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অনেক ক্ষেত্রে এই সাদৃশ্য উভয় গ্রন্থের মধ্যে হুবহু মিল বা অভিন্নতায় পর্যবসিত হয়েছে। বিষয়টি এমন মনে হয় যেন একটি গ্রন্থ থেকে অন্যটিতে অনুলিপি করা হয়েছে। একটি শব্দের জন্য উল্লেখিত বিভিন্ন দিকের (الوجوه) সংখ্যা, সেগুলোর ধারাবাহিকতা, প্রতিটি দিকের বিপরীতে উল্লেখিত সমজাতীয় আয়াতসমূহ এবং এমনকি ব্যাখ্যাত শব্দসমূহের এক বিশাল অংশের ক্রমবিন্যাসের ক্ষেত্রেও এই অভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
আমি এই অভিন্নতার রহস্য নিশ্চিতভাবে উদঘাটন করতে সক্ষম হইনি। কারণ, মুকাতিল ইবনে সুলায়মানের নাম কিতাবুত তাসারিফ-এ সেভাবে উল্লিখিত হয়নি যেভাবে দামাঘানির গ্রন্থে হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وإن قلنا بإمكانية نقل ابن سلام عنه دون الإشارة إليه، يعترضنا الاختلاف الذي لاحظناه بين الكتابين، فيجعل التصاريف غير كتاب الأشباه والنظائر لمقاتل.
وهنا نشير إلى ما سنذكره بعد حين حول الشبه الموجود بين التصاريف وبين تفسير يحيى الجد.
ولعل ما سنذهب إليه من ترجيح نسبه "التصاريف" إلى الجد يتأكد بهذا الشبه الموجود بين "التصاريف" وبين كتاب مقاتل.
ذلك أن مقاتل بي سليمان قد دخل البصرة وتوفي بها سنة (150/767) وقد نشأ ابن سلام (124 - 200/741 - 815) بالبصرة وأخذ عن عدد كبير من شيوخها. فلعله جلس إلى من جلس إليهم مقاتل فاشترك معه في السماع، ولعله جلس إلى مقاتل نفسه وأخذ عنه.
غير أنه لم يرد ذكر مقاتل فيما وقفنا عليه من تفسير ابن سلام (وهو أغلب التفسير) ، كما لم تذكر له كتب التراجم تلمذة عليه، رغم اشتهار مقاتل الواسع في ميدان التفسير. ولا ينبغي أن نذهب إلى أن ابن سلام قد أمسك عن الرواية عن مقاتل، لما اشتهر به من الكذب والآراء الكلامية المرفوضة فسوف نرى ابن سلام الجد يروي عن أمثاله كالسدي والكلبي وغيرهما.
إذن كل ما نستطيع تقديمه حول التشابه الموجود بين الكتابين هو إمكانية اشتراك ابن السلام ومقاتل في الأخذ عن شيخ واحد في موضوع كتاب "التصاريف". وربما ذكرنا كذلك بان موضوع الكتاب ذاته يدعو إلى هذا التشابه فهو يتناول علما من علوم التفسير، والتفسير في تلك الفترة يرتكز أساسا على الرواية والنقل فلا يسمح فيه بإعمال الرأي. ومن هنا اتحدت وجوه الكلمات في الكتابين الا في القليل.
وبتتبع المصادر التي تحدثت عن علوم القرآن، وكذلك بمراجعة فهارس المكتبات، عثرنا على عدد من المؤلفين في الوجوه والنظائر. وتوزعت هذه التآليف بين القرنين 2/8 و 10/15. فلا يكاد يخلو قرن بين هذين القرنين من كتب في هذا الفن. وقد لاحظنا أن أكثر القرون حظا بالنسبة لكتب الوجوه والنظائر هو القرن الثاني، فقد أحصينا فيه ستة مؤلفين هم:
যদি আমরা বলি যে ইবনে সালাম তার কথা উল্লেখ না করেই তার থেকে উদ্ধৃত করেছেন, তবে দুই গ্রন্থের মধ্যে যে পার্থক্য আমরা লক্ষ্য করেছি তা আমাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, যা 'আত-তাসারিফ' গ্রন্থটিকে মুকাতিলের 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর' থেকে ভিন্নতর হিসেবে গণ্য করে।
এখানে আমরা সেই বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করছি যা আমরা কিছুক্ষণ পর 'আত-তাসারিফ' এবং ইয়াহইয়া ইবনে সালামের পিতামহের (الجد) তাফসিরের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যের বিষয়ে উল্লেখ করব।
সম্ভবত 'আত-তাসারিফ' গ্রন্থটি পিতামহের (الجد) প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধযুক্ত করার যে মতটি আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি, তা 'আত-তাসারিফ' এবং মুকাতিলের গ্রন্থের মধ্যে বিদ্যমান এই সাদৃশ্যের মাধ্যমেই সুদৃঢ় হয়।
এর কারণ হলো মুকাতিল ইবনে সুলাইমান বসরায় প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানেই ১৫০ হিজরি (৭৬৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে ইবনে সালাম (১২৪ - ২০০ হি. / ৭৪১ - ৮১৫ খ্রি.) বসরায় বেড়ে ওঠেন এবং সেখানকার বিপুল সংখ্যক শায়খের কাছ থেকে ইলম অর্জন করেন। সম্ভবত তিনি সেই সমস্ত শায়খদের মজলিসে বসেছিলেন যাদের কাছে মুকাতিলও বসেছিলেন, ফলে শ্রবণের (السماع) ক্ষেত্রে তিনি তার সাথে শরিক হয়েছিলেন; অথবা হয়তো তিনি স্বয়ং মুকাতিলের মজলিসে বসেছিলেন এবং তার কাছ থেকে বর্ণনা গ্রহণ করেছিলেন।
তবে ইবনে সালামের তাফসিরের যতটুকু অংশ আমাদের হস্তগত হয়েছে (যা তাফসিরের অধিকাংশ অংশ), তাতে মুকাতিলের কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। একইভাবে জীবনীগ্রন্থগুলোতেও তার নিকট ইবনে সালামের ছাত্রত্বের কথা উল্লেখ নেই, যদিও তাফসিরের ময়দানে মুকাতিল অত্যন্ত সুপরিচিত ছিলেন। আমাদের এমনটি ভাবা উচিত হবে না যে, ইবনে সালাম মুকাতিলের মিথ্যা (الكذب) হিসেবে পরিচিতি এবং তার বর্জনীয় (المرفوضة) কালামশাস্ত্রীয় মতাদর্শের কারণে তার থেকে বর্ণনা (الرواية) করা থেকে বিরত থেকেছেন; কারণ আমরা দেখব যে ইবনে সালামের পিতামহ আস-সুদ্দী এবং আল-কালবী ও তাদের মতো অন্যদের থেকেও বর্ণনা (الرواية) করেছেন।
সুতরাং, দুই গ্রন্থের মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যের বিষয়ে আমরা যা পেশ করতে পারি তা হলো—'আত-তাসারিফ' গ্রন্থের আলোচ্য বিষয়ে ইবনে সালাম এবং মুকাতিল একই শায়খের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে শরিক হওয়ার সম্ভাবনা। সম্ভবত আমরা ইহাও উল্লেখ করেছি যে, গ্রন্থের মূল বিষয়টিই এই সাদৃশ্যের দাবি রাখে; কারণ এটি তাফসিরের শাস্ত্রসমূহের একটি শাখা নিয়ে আলোচনা করে। আর তৎকালীন সময়ে তাফসির মূলত বর্ণনা (الرواية) এবং উদ্ধৃতির (النقل) ওপর ভিত্তি করে ছিল, যেখানে নিজস্ব রায়ের (الرأي) প্রয়োগের সুযোগ ছিল না। এ কারণেই সামান্য কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া উভয় গ্রন্থে শব্দাবলির প্রয়োগে অভিন্নতা দেখা যায়।
কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান (উলুমুল কুরআন) নিয়ে রচিত উৎস গ্রন্থগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং লাইব্রেরিগুলোর ক্যাটালগ অনুসন্ধানের ফলে আমরা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ে বেশ কিছু লেখকের সন্ধান পেয়েছি। এই রচনাগুলো হিজরি দ্বিতীয়/অষ্টম থেকে দশম/পঞ্চদশ শতাব্দীর মধ্যে বিস্তৃত। এই দুই শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোনো শতাব্দীই এই শাস্ত্রের (الفن) ওপর রচিত গ্রন্থ থেকে শূন্য ছিল না। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক গ্রন্থের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ; আমরা এই শতাব্দীতে ছয়জন লেখকের সন্ধান পেয়েছি, তাঁরা হলেন:
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
1- عكرمة مولى بن عباس (ت105/723) .
2- علي بن أبي طلحة (ت143/760) .
3- مقاتل بن سليمان (ت150/767) .
4- العباس بن الفضل الأنصاري الموصلي المقرئ (ت186/802) .
5- عبد الله بن هارون الحجازي.
6- علي بن وافد الذي كان يعيش في عهد الخليفة الرشيد (ت193/808) . ثم تتابعت التآليف على هذا النحو.
7- أبو العباس المبرد (ت285/898) واسم كتابه: ما اتفق لفظه واختلف معناه من القرآن المجيد. وهو كتاب من الحجم الصغير، قليل الصفحات. وقد ذكر ابن النديم كتابا للمبرد بعنوان: "ما اتفقت ألفاظه ومعانيه في القرآن". ولسنا ندري إن كان هذا الكتاب يلتحق بالكتاب الأول لشبه ملحوظ بينهما، إذ أن في كل وجه من وجوه اللفظ المذكورة في كتب الوجوه والنظائر يذكر نفس اللفظ بنفس المعنى.
8- الحكيم الترمذي وقد اختلف في تاريخ وفاته بين (285/898) وبين (315/927) . واسم كتابه تحصيل نظائر القرآن. منه نسخة بجامعة الدول العربية تحت رقم: [البلدية 3585/2ح. 35ق] .
1- ইকরামা ইবনে আব্বাস-এর মুক্তদাস (মউলা) (ওফাত ১০৫/৭২৩) ।
2- আলী বিন আবি তালহা (ওফাত ১৪৩/৭৬০) ।
3- মুকাতিল বিন সুলায়মান (ওফাত ১৫০/৭৬৭) ।
4- আব্বাস বিন ফজল আল-আনসারি আল-মাওসিলি আল-মুকরি (ওফাত ১৮৬/৮০২) ।
5- আবদুল্লাহ বিন হারুন আল-হিজাজি।
6- আলী বিন ওয়াফিদ, যিনি খলিফা রশিদের যুগে জীবিত ছিলেন (ওফাত ১৯৩/৮০৮)। এরপর এই ধারায় গ্রন্থনা চলতে থাকে।
7- আবু আব্বাস আল-মুবররাদ (ওফাত ২৮৫/৮৯৮) এবং তাঁর গ্রন্থের নাম: মা ইত্তাফাকা লাফজুহু ওয়া ইখতালাফা মানাহু মিনাল কুরআনিল মাজিদ। এটি একটি ছোট আকারের বই, যার পৃষ্ঠাসংখ্যা কম। ইবনে নাদিম আল-মুবররাদের একটি গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন যার শিরোনাম: "মা ইত্তাফাকাত আলফাজুহু ওয়া মাআনিহু ফিল কুরআন"। আমরা জানি না এই কিতাবটি প্রথম কিতাবের সাথে সম্পর্কযুক্ত কি না, কারণ উভয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট সাদৃশ্য বিদ্যমান; কেননা শব্দের বিবিধ অর্থ ও সমার্থ (الوجوه والنظائر) বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে উল্লিখিত শব্দের প্রতিটি অর্থগত প্রয়োগের (وجه) ক্ষেত্রে একই শব্দ একই অর্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
8- আল-হাকিম আত-তিরমিজি, যাঁর মৃত্যুসন নিয়ে ২৮৫/৮৯৮ এবং ৩১৫/৯২৭-এর মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাঁর গ্রন্থের নাম: তাহসিল নাজাইর আল-কুরআন। এর একটি পাণ্ডুলিপি আরব লিগ ইউনিভার্সিটিতে [বালদিয়্যাহ ৩৫৮৫/২হা. ৩৫কাফ্] নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقد نحا فيه منحى التصوف. وحلل P. Nwyia هذا التأليف في كتابه:
Exegese: xoranique et langage mystique.
9- محمد النّقاش (ت351/962) وهو محمد بن الحسين بن محمد بن زياد بن هارون الموصلي الأصل البغدادي. ذكر ابن الجوزي أنه قد ألف في الوجوه والنظائر وأشار كحالة إلى أن له تأليف في غريب القرآن.
10- أبو الحسين أحمد بن فارس القزويني اللغوي (ت395/1004) واسم كتابه الأفراد. ذكر السيوطي نبذة منه في الإتقان. ولا يخفى أن ابن فارس ممن ألف في اللغة ومن كتبه: المجمل، ومقاييس اللغة، وكتاب فقه اللغة.
11- الثعالبي. ولعله أبو منصور عبد الملك (ت429-1037) صاحب الاقتباس من القرآن الكريم. وقد أشار إلى كتابه: الأشباه والنظائر فهرس جامعة الدول العربية، تحت رقم: [ولي الدين 52. 51ق] .
12- إسماعيل الحيري النيسابوري الضرير (ت430/1039) له وجوه القرآن. منه نسخة بجامعة الدول العربية، تحت رقم: [جامعة كمبريدج 1282 OR. 156ق] والكتاب لا زال مخطوطا.
ونعتبر هذا التأليف هاما لأنه بالرجوع إلى ما وقفنا عليه من كتب الوجوه والنظائر، أول ما طلع علينا في هذا الفن بميزتين جديدتين هما: تضخم عدد الكلمات المشروحة فيه من ناحية، ومراعاة الترتيب الأبجدي في إيرادها من ناحية أخرى. وقد حدد المؤلف في المقدمة عدد الأبواب التي أوردها. فهو يقول: "والسابق بهذا التصنيف عبد الله بن عباس رضي الله عنه، ثم مقاتل ثم الكلبي. ومصنفاتهم لا تزيد على مائتين وأربعة عشر بابا. وما جمعنا في هذا الكتاب خمسمائة وأربعين (هكذا) بابا".
وقد قسم التأليف إلى كتب وأبواب، تمثل الكتب فيه الأحرف التي تفتتح بها الكلمات المدروسة، مثال ذلك: كتاب الألف، كتاب الباء الخ
… .
এতে তিনি তাসাউফের ধারা অনুসরণ করেছেন। এবং পি. নইয়া (P. Nwyia) তাঁর 'Exegese: xoranique et langage mystique' গ্রন্থে এই রচনাটি বিশ্লেষণ করেছেন।
Exegese: xoranique et langage mystique.
৯- মুহাম্মদ আল-নাক্কাশ (মৃত্যু ৩৫১ হিজরি/৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ)। তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ ইবনে হারুন আল-মাওসিলি আল-আসল আল-বাগদাদি। ইবনুল জাওজি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং কাহহালা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কুরআনের বিরল শব্দাবলী (غريب القرآن) বিষয়েও তাঁর একটি রচনা রয়েছে।
১০- আবু হুসাইন আহমদ ইবনে ফারিস আল-কাযউইনি আল-লুগাভি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি/১০০৪ খ্রিষ্টাব্দ) এবং তাঁর গ্রন্থের নাম 'আল-আফরাদ'। সুয়ুতি 'আল-ইতকান' গ্রন্থে এর কিছু অংশ উদ্ধৃত করেছেন। এটি সুবিদিত যে, ইবনে ফারিস ভাষাতত্ত্ব নিয়ে গ্রন্থ রচনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: 'আল-মুজমাল', 'মাকায়িসুল লুগাহ' এবং 'ফিকহুল লুগাহ'।
১১- আল-সা’লাবি। সম্ভবত তিনি হলেন আবু মনসুর আব্দুল মালিক (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি/১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দ), যিনি 'আল-ইকতিবাস মিনাল কুরআনিল কারিম' গ্রন্থের লেখক। আরব লীগ রাষ্ট্রসমূহের সূচিপত্রে [ওয়ালিউদ্দিন ৫২. ৫১কফ] নম্বরের অধীনে তাঁর 'আল-অশবাত ওয়ান নাযাইর' গ্রন্থটির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১২- ইসমাইল আল-হিরি আল-নাইসাবুরি আদ-দরির (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি/১০৩৯ খ্রিষ্টাব্দ), তাঁর 'উজুহুল কুরআন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। আরব লীগ রাষ্ট্রসমূহে এর একটি অনুলিপি রয়েছে, যার নম্বর: [ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ১২৮২ ওআর. ১৫৬কফ] এবং গ্রন্থটি এখনও পাণ্ডুলিপি অবস্থায় রয়েছে।
আমরা এই রচনাটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি কারণ আমরা 'উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক যে গ্রন্থগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি, সেগুলোর মধ্যে এই শিল্পে এটিই প্রথম আমাদের সামনে দুটি নতুন বৈশিষ্ট্য নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে: একদিকে এতে ব্যাখ্যা করা শব্দাবলীর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, আর অন্যদিকে শব্দগুলো উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস বজায় রাখা হয়েছে। লেখক গ্রন্থটির ভূমিকায় এতে অন্তর্ভুক্ত পরিচ্ছেদগুলোর সংখ্যা নির্দিষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: "এই শ্রেণিবিভাগে অগ্রণী হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), এরপর মুকাতিল, এরপর কালবি। তাঁদের সংকলনসমূহ দুইশ চৌদ্দটি পরিচ্ছেদের বেশি নয়। আর আমরা এই গ্রন্থে পাঁচশ চল্লিশটি (এভাবেই মূল পাঠে রয়েছে) পরিচ্ছেদ সংকলন করেছি।"
গ্রন্থটিকে বিভিন্ন খণ্ড এবং পরিচ্ছেদে বিভক্ত করা হয়েছে; এতে খণ্ডগুলো সেই বর্ণসমূহকে নির্দেশ করে যা দিয়ে আলোচিত শব্দগুলো শুরু হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ: কিতাবুল আলিফ, কিতাবুল বা ইত্যাদি...।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أما الأبواب فإنها عبارة عن الكلمات المشروحة في الكتاب مثال ذلك: باب الاتقاء باب الإيمان، باب الآخرة، وجميعها ورد في كتاب الألف. وذكر المؤلف عمله هذا في المقدمة حيث قال: "ورتبته على حروف التهجي ليسهل على الباحث طلبها (يعني الأبواب) ".
وينبغي أن نشير إلى أن المؤلف لم يراع الاشتقاق في توزيع الكلمات على الكتب. إنما اعتبر الحرف الأول الذي افتتحت به سواء كان ذلك الحرف أصليا أم زائدا. فقد ذكر في كتاب الألف الاتقاء، والإقامة، والإنفاق إلى جانب الإيمان والآخرة. وذكر في كتاب التاء التسبيح، والتزكية، والتصريف إلى جانب التلاوة والتابوت. كما أنه لم يمراع الترتيب الأبجدي في ترتيب داخل الباب الواحد. فقد أورد في كتاب الجيم باب جعل، يليه باب الجنة، يليه باب الزاء، وبعده باب الجدال الخ
… .
فالكتاب إذن في حاجة إلى إعادة التنظيم.
وسلك المؤلف في شرح الكلمات وذكر وجوهها مسلك غيره من المؤلفين في هذا الفن، ولم يتميز عليهم سوى بوفرة الكلمات المشروحة، وكذلك أحيانا بتفوق عدد الوجوه للكلمات المشروحة. فكلمة: "الطعام" وردت عنه مقاتل وابن سلام على أربعة وجوه، وعند النيسابوري على اثني عشر وجها. وكلمة: "الكفر" أورد لها مقاتل وابن سلام أربعة وجوه بينما جعل لها النيسابوري تسعة وجوه.
ولا يمنع هذا من أن نجد عدد وجوه بعض الكلمات عند النيسابوري دون ما أورده لها غيره من المؤلفين. فقد جعل الدامغاني لكلمة: "يقين" أربعة وجوه ولم يجعل لها النيسابوري سوى وجهين. وذكر الدامغاني لكلمة: "اليمين" تسعة وجوه، وجعل لها النيسابوري خمسة وجوه.
অধ্যায়গুলোর (أبواب) ক্ষেত্রে বলা যায় যে, এগুলো হলো গ্রন্থে ব্যাখ্যাত শব্দসমূহের সমষ্টি। উদাহরণস্বরূপ: আল-ইত্তিকা অধ্যায়, আল-ঈমান অধ্যায়, আল-আখিরাত অধ্যায়; যার সবগুলোই আলিফ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। লেখক ভূমিকার মধ্যে তাঁর এই কর্মপদ্ধতি উল্লেখ করে বলেছেন: "গবেষকের জন্য সেগুলো (অর্থাৎ অধ্যায়গুলো) খুঁজে পাওয়া সহজতর করার লক্ষ্যে আমি একে বর্ণানুক্রমে বিন্যস্ত করেছি।"
আমাদের উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, লেখক শব্দগুলোকে বিভিন্ন কিতাবে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে শব্দমূল বা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) বিবেচনা করেননি। বরং তিনি শব্দের প্রথম অক্ষরটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন, চাই সেই অক্ষরটি মৌলিক (أصلي) হোক কিংবা অতিরিক্ত (زائد)। তিনি আলিফ কিতাবে ঈমান ও আখিরাতের পাশাপাশি আল-ইত্তিকা, আল-ইকামাহ ও আল-ইনফাক উল্লেখ করেছেন। আবার 'তা' কিতাবে তিলাওয়াত ও তাবুত-এর পাশাপাশি তাসবিহ, তাজকিয়াহ ও তাসরিফ উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তিনি একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের অভ্যন্তরীণ বিন্যাসেও বর্ণানুক্রম রক্ষা করেননি। যেমন তিনি 'জিম' কিতাবে 'জাআলা' অধ্যায়টি এনেছেন, তার পরে জান্নাত অধ্যায়, তার পরে 'জা' অধ্যায় এবং তারপরে জিদাল অধ্যায় ইত্যাদি
… ।
সুতরাং, গ্রন্থটি নতুন করে বিন্যস্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
শব্দসমূহের ব্যাখ্যা এবং সেগুলোর বিবিধ অর্থ (وجوه) বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক এই শাস্ত্রের অন্যান্য লেখকদের পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন। ব্যাখ্যাত শব্দের প্রাচুর্য এবং কখনো কখনো ব্যাখ্যাত শব্দের বিবিধ অর্থের (وجوه) সংখ্যার আধিক্য ছাড়া তিনি অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র নন। যেমন: "আত-তাআম" শব্দটি মুকাতিল ও ইবনে সালামের নিকট চারটি অর্থে (وجوه) এসেছে, আর নিসাবুরীর নিকট তা বারোটি অর্থে বর্ণিত হয়েছে। আবার "আল-কুফর" শব্দটির জন্য মুকাতিল ও ইবনে সালাম চারটি বিবিধ অর্থ (وجوه) উল্লেখ করেছেন, যেখানে নিসাবুরী এর জন্য নয়টি বিবিধ অর্থ (وجوه) নির্ধারণ করেছেন।
এর অর্থ এই নয় যে, নিসাবুরীর বর্ণিত বিবিধ অর্থের (وجوه) সংখ্যা সর্বদা অন্যদের চেয়ে বেশি। কারণ আমরা এমন কিছু শব্দ পাই যেখানে নিসাবুরীর বর্ণিত অর্থের সংখ্যা অন্যদের তুলনায় কম। আদ-দামেগানী "ইয়াকীন" শব্দটির জন্য চারটি বিবিধ অর্থ (وجوه) নির্ধারণ করেছেন, যেখানে নিসাবুরী মাত্র দুটি বিবিধ অর্থ (وجوه) উল্লেখ করেছেন। আবার আদ-দামেগানী "আল-ইয়ামীম" শব্দের জন্য নয়টি বিবিধ অর্থ (وجوه) উল্লেখ করেছেন, যেখানে নিসাবুরী এর জন্য পাঁচটি বিবিধ অর্থ (وجوه) নির্ধারণ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وقد عمد النيسابوري من حين لآخر إلى نسبة الأقوال إلى اصحابها فقد ذكر مثلا ابن عباس وعليّ بن أبي طالب رضي الله عنهما ومجاهدا. ولم يقف عند هؤلاء بل إنه توسع في نطاق الرواية إلى ذكر أقوال الفقهاء مثل الشافعي واللغويين كذلك مثل الزجاج. غير أن هذا لم يتكرر كثيرا في الكتاب.
13- الحسن بن أحمد بن البناء البغدادي الحنبلي (أبو علي) (ت471/1079) . وقد نسب إليه ابن الجوزي تأليفا في الوجوه والنظائر.
14- الحسين الدامغاني (أبو عبد الله) (ت 478/1085) وكتابه في الوجوه والنظائر مطبوع. وقد ذكر بأنه وقف على كتاب مقاتل بن سليمان وغيره، فوجدهم قد أغفلوا أحرفا من القرآن لها وجوه كثيرة فكتب كتابه وضمنه ما وصفه السابقون وأضاف إلى ذلك ما أغفلوه.
لكن الكتاب لم يصل إلينا في طبعته الحالية على صورته الأصلية. فقد عمد المحقق إلى إكماله وإصلاحه. لذلك أتى عنوانه على النحو التالي: "قاموس القرآن، أو إصلاح الوجوه والنظائر في القرآن الكريم".
وقد تمثل عمل المُحقق خاصة في ذكر السور التي منها الآيات المذكورة، لأن المؤلف قلما أتى بها، وكذلك في إعادة تبويب الكلمات على أحرف الهجاء، إذ يظهر أن الدامغاني رغم كونه قد تعهد بتبويب كتابه على حروف المعجم لم يوفق تمام التوفيق. فلم يعتبر الأحرف الأصلية للكلمة في التبويب، إنما اعتبر الحرف الأول منها سواء كان أصليا أو زائدا مثلما فعل النيسابوري فأرجع المحقق الكلمات إلى أصلها فأعاد بذلك ترتيب الكلمات. كما أنه عمد إلى حذف ما وقع في الكتاب من تكرار. وقد حلى المحقق الكتاب بحواشي علق بها على بعض التعاريف، أخذها من كتب الغريب أو التفسير.
إن ما قام به المحقق عمل جليل، غير أنه يمكن مؤاخذته بعدم ذكر أشياء ذات بال
নিশাপুরী মাঝেমধ্যে উক্তিগুলো তাদের বক্তাদের প্রতি সম্বন্ধ করার প্রয়াস পেয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, তিনি ইবনে আব্বাস, আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এবং মুজাহিদের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি কেবল তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বর্ণনার (الرواية) পরিধি বিস্তৃত করে ফকিহদের (الفقهاء) বক্তব্য যেমন শাফিঈ এবং ভাষাবিদদের (اللغويين) বক্তব্য যেমন জুজ্জাজকেও উল্লেখ করেছেন। তবে বইটিতে এর পুনরাবৃত্তি খুব বেশি ঘটেনি।
১৩- আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে আল-বান্না আল-বাগদাদী আল-হানবালি (আবু আলী) (মৃত্যু ৪৭১/১০৭৯)। ইবনুল জাওজি 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ে একটি রচনা তাঁর প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ (نسبة) করেছেন।
১৪- আল-হুসাইন আদ-দামাগানি (আবু আবদুল্লাহ) (মৃত্যু ৪৭৮/১০৮৫); 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ে তাঁর গ্রন্থটি মুদ্রিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মুকাতিল ইবনে সুলাইমান এবং অন্যদের কিতাব পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং দেখেছেন যে, তারা কুরআনের এমন কিছু শব্দ (أحرف) এড়িয়ে গেছেন যার অনেকগুলো অর্থ বা দিক (وجوه) রয়েছে। ফলে তিনি তাঁর কিতাবটি রচনা করেন এবং এতে পূর্ববর্তীদের বর্ণিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তারা যা বাদ দিয়েছেন তা যোগ করেন।
তবে বর্তমান মুদ্রণে কিতাবটি আমাদের কাছে এর মূলরূপে পৌঁছায়নি। বরং সম্পাদক বা মুহাক্কিক (المحقق) এটি পূর্ণাঙ্গ ও সংশোধন করার চেষ্টা করেছেন। একারণেই এর শিরোনামটি এভাবে এসেছে: "কামুসুল কুরআন, আও ইসলাহুল উজুহ ওয়ান নাযাইর ফিল কুরআনিল কারিম"।
মুহাক্কিকের (المحقق) কাজ বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় সেই সূরাগুলোর বর্ণনার ক্ষেত্রে যেখান থেকে আয়াতগুলো (الآيات) নেওয়া হয়েছে, কারণ লেখক খুব কমই তা উল্লেখ করেছেন। একইভাবে বর্ণমালার ক্রমানুসারে (أحرف الهجاء) শব্দগুলোর পুনরায় পরিচ্ছেদ বিন্যাস (تبويب) করার ক্ষেত্রেও তাঁর কাজ স্পষ্ট। কেননা এটি প্রতীয়মান হয় যে, দামাগানি তাঁর কিতাবটিকে অভিধানের বর্ণানুক্রমে (حروف المعجم) সাজানোর অঙ্গীকার করা সত্ত্বেও তিনি পুরোপুরি সফল হতে পারেননি। তিনি পরিচ্ছেদ বিন্যাসে (التبويب) শব্দের মূল অক্ষরগুলোকে (الأحرف الأصلية) বিবেচনায় নেননি, বরং তিনি শব্দের প্রথম অক্ষরটিকেই বিবেচনা করেছেন, তা মূল (أصليا) হোক বা অতিরিক্ত (زائدا) হোক, যেমনটি নিশাপুরী করেছিলেন। অতঃপর মুহাক্কিক শব্দগুলোকে তাদের মূলে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন এবং এর মাধ্যমে শব্দগুলোর বিন্যাস পুনরায় সাজিয়েছেন। এছাড়াও তিনি কিতাবে বিদ্যমান পুনরাবৃত্তিগুলো অপসারণ করেছেন। মুহাক্কিক কিতাবটিকে টীকা (حواشي) দিয়ে সুসজ্জিত করেছেন যাতে তিনি কিছু সংজ্ঞার ওপর মন্তব্য করেছেন, যা তিনি গারিব বা অপরিচিত শব্দ (الغريب) অথবা তাফসির (التفسير) গ্রন্থসমূহ থেকে গ্রহণ করেছেন।
মুহাক্কিক যা সম্পাদন করেছেন তা একটি মহৎ কাজ, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করার কারণে তাঁকে সমালোচনা বা জবাবদিহিতার (مؤاخذته) আওতায় আনা যেতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
بالنسبة لهذا الكتاب، من ذلك عدم الإشارة في الحواشي إلى أرقام الآيات، وهو عمل ضروري في هذا الكتاب، كما يؤاخذ ببعض أخطاء وقع فيها، منها في تسمية السورة أو في الآية.
ولم يجعل المحقق بي يدي الكتاب مقدمة ضافية حول المؤلف ولا حول كتاب، كما أنه لم يتعرض إلى علم الوجوه والنظائر بشيء من التفصيل.
وتعوز التحقيق فهارس من شأنها أن تعين المطالع للكتاب على العثور على طلبته فيه.
وكتاب الدامغاني ضخم في حجمه. فقد اشتمل على اثنتين وخمسمائة كلمة. فهو بذلك قريب من كتاب النيسابوري. وكما أن هذا لم يجدد في منهجه فكذلك الدامغاني الذي اكتفى بأن قفى على أثر سابقيه.
15- علي بن عبيد الله الزاغوني الحنبلي (أبو الحسن) (ت527/1132) .
16- عبد الرحمن بن الجوزي (ت597/1201) واسم كتابه: نزهة الأعين النواظر في علم الوجوه والنظائر. منه نسخة بجامعة الدول العربية تحت رقمي:
[البلدية بالإسكندرية 3572 ج. 95ق] .
[عمومية بايزيد 9499. 10ق] .
وله كتاب ثان بعنوان: الوجوه والنظائر. ولعله نفس الكتاب الذي أشار إليه كشف الظنون تحت عنوان: الوجوه النواظر في الوجوه والنظائر، وقال المؤلف ذكر فيه وجوه الآيات المفسرة في مجلس الوعظ ونظائرها.
এই বইটির ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা হলো পাদটীকাগুলোতে আয়াতের নম্বর উল্লেখ না করা, যা এই গ্রন্থের ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য কাজ ছিল। পাশাপাশি এতে কিছু ত্রুটির জন্য সমালোচনা করা হয়, যার মধ্যে সূরার নামকরণ কিংবা আয়াতের ক্ষেত্রে সংঘটিত ভুলসমূহ অন্যতম।
গবেষক (محقق) বইটির শুরুতে লেখক কিংবা গ্রন্থ সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত ভূমিকা (مقدمة) প্রদান করেননি, এমনকি তিনি 'ইলমুল উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' (শব্দের বহুার্থকতা ও সাদৃশ্য বিষয়ক বিজ্ঞান) সম্পর্কেও বিস্তারিত কোনো আলোচনা করেননি।
এই গবেষণাটি (تحقيق) এমন কিছু নির্ঘণ্টের মুখাপেক্ষী যা বইটির পাঠককে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয় খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।
দামঘানির গ্রন্থটি কলেবরে বেশ বিশাল। এটি পাঁচশত দুই (৫০২) টি শব্দকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফলে এটি নিসাবুরির গ্রন্থের কাছাকাছি। তিনি যেমন তার পদ্ধতিতে কোনো নতুনত্ব আনেননি, তেমনি দামঘানিও তার পূর্ববর্তীদের পদাঙ্ক অনুসরণের মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
15- আলী বিন উবাইদুল্লাহ আল-যাগুনি আল-হাম্বলি (আবু আল-হাসান) (মৃত্যু ৫২৭/১১৩২)।
16- আবদুর রহমান বিন আল-জাওযি (মৃত্যু ৫৯৭/১২০১) এবং তার গ্রন্থের নাম: নুযহাতুল আ'ইউন আন-নাওয়াযির ফি ইলমিল উজুহ ওয়া আন-নাযাইর। আরব লিগ ইউনিভার্সিটিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি নিম্নোক্ত নম্বরে সংরক্ষিত আছে:
[আল-বালাদিয়াহ বিল ইসকান্দারিয়া ৩৫৭২ খণ্ড, ৯৫ পাতা]।
[উমুমিয়াহ বায়েজিদ ৯৪৯৯, ১০ পাতা]।
তার 'আল-উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' শিরোনামে দ্বিতীয় একটি গ্রন্থ রয়েছে। সম্ভবত এটি সেই একই গ্রন্থ যেটির দিকে কাশফ আল-যুনুন-এ 'আল-উজুহ আন-নাওয়াযির ফিল উজুহ ওয়া আন-নাযাইর' শিরোনামে ইঙ্গিত করা হয়েছে। লেখক বলেছেন যে, তিনি এতে ওয়াযের মজলিসে ব্যাখ্যাত (مفسرة) আয়াতসমূহের বিভিন্ন দিক এবং সেগুলোর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وقد جلب ابن الجوزي في كتابه المدهش في علوم القرآن والحديث واللغة أبوابا منتخبة من الوجوه والنظائر وهي ثلاثة وعشرون بابا.
17- مجد الدين محمد بن يعقوب الفيروز ابادي (ت817/1415) . وكتابه: بصائر ذوي التمييز في لطائف الكتاب العزيز. وذكر المؤلف في الجزء الأول من هذا الكتاب جملة من العلوم المتعلقة بالقرآن، ثم إنه خصص الأجزاء الثلاثة الباقية لذكر وجوه الكلمات الواردة في القرآن مرتبة على حروف الهجاء.
والملاحظات التي أبديناها عند حديثنا عن كتابي النيسابوري والدامغاني تصدق على ما ورد في كتاب الفيروز ابادي. فهو قد رتب الكلمات على أحرف الهجاء، دون أن يراعي الاشتقاق. كما أنه توسع في إيراد الكلمات وربما فاق في ذلك النيسابوري ما دام أنه تعهد بإيراد "جميع كلمات القرآن".
ولعل الجديد الذي اختص به الفيروز ابادي دون غيره أنه قدم بين يدي ذكر وجوه اللفظة القرآنية بحثا لغويا وصرفيا للكلمة المدروسة. وهذا مما يؤكد على العلاقة الموجودة بين كتب هذا الفن وكتب اللغة. غير أن المؤلف لم يلتزم هذه القاعدة في كل الكلمات.
18- محمد بن محمد بن علي البلبيسي ثم القاهري (شمس الدين، المعروف بابن العماد (ت887/1482) . واسم كتابه كشف السرائر في معنى الوجوه والأشباه والنظائر. منه نسخة بدار الكتب الوطنية بتونس تحت رقم: 18324.
ذكر ابن العماد في مقدمته، وهي مختصرة، أنه استخار الله في "تأليف كتاب أجْمَعُ فيه ما جاء من معانيه (يعني القرآن) العظيمة وما فيه من الوجوه والأشباه والنظائر
… . أجمعه من كتب التفاسير وغير ذلك.
والكتاب قد احتوى على خمس ومائة كلمة وهو كامل ليس به نقص، والنسخة بخط مؤلفها، نسخت سنة 869هـ.
ইবনুল জাওজি তাঁর 'আল-মুদহিশ ফি উলুমিল কুরআন ওয়াল হাদিস ওয়াল লুগাহ' গ্রন্থে 'শব্দের বিবিধ অর্থ ও সাদৃশ্য' (الوجوه والنظائر) সংক্রান্ত নির্বাচিত কিছু অধ্যায় সংযোজন করেছেন, যা মোট তেইশটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।
১৭- মাজদুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ইয়াকুব আল-ফিরোজাবাদি (মৃত্যু ৮১৭/১৪১৫)। তাঁর গ্রন্থ: বাসাইরু যাউয়িত তামিয ফি লাতাইফ আল-কিতাব আল-আযিয। লেখক এই গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে কুরআন সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহের (علوم) একটি সাধারণ আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি বাকি তিনটি খণ্ড কুরআনে বর্ণিত শব্দাবলির বিবিধ অর্থ (وجوه) আলোচনার জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন, যা বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজানো।
নিশাপুরি এবং দামগানির কিতাবদ্বয় সম্পর্কে আলোচনার সময় আমরা যে পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরেছিলাম, সেগুলো ফিরোজাবাদির গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার ক্ষেত্রেও সত্য। তিনি শব্দমূল বা ব্যুৎপত্তি (اشتقاق) বিবেচনা না করেই বর্ণানুক্রম অনুযায়ী শব্দগুলোকে বিন্যস্ত করেছেন। এ ছাড়া তিনি শব্দ আনয়নে ব্যাপকতা প্রদর্শন করেছেন এবং সম্ভবত এই ক্ষেত্রে তিনি নিশাপুরিকেও ছাড়িয়ে গেছেন, যেহেতু তিনি "কুরআনের সমস্ত শব্দ" উল্লেখ করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
সম্ভবত ফিরোজাবাদির অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি কুরআনিক শব্দের বিবিধ অর্থ (وجوه) আলোচনার প্রারম্ভে আলোচিত শব্দটির ভাষাতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক (صرفي) বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। এটি এই শিল্পের গ্রন্থাবলি এবং অভিধান শাস্ত্রের গ্রন্থাবলির মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কের সত্যতা নিশ্চিত করে। তবে লেখক সব শব্দের ক্ষেত্রে এই নিয়ম মেনে চলেননি।
১৮- মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-বিলবিসি অতঃপর আল-কাহিরি (শামসুদ্দিন, যিনি ইবনুল ইমাদ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৮৭/১৪৮২)। তাঁর গ্রন্থের নাম 'কাশফুস সারাইর ফি মানাল উজুহ ওয়াল আশবাহ ওয়ান নাযাইর'। তিউনিসিয়ার জাতীয় গ্রন্থাগারে ১৮৩২৪ নম্বর ক্রমিকের অধীনে এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে।
ইবনুল ইমাদ তাঁর সংক্ষিপ্ত ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আল্লাহর নিকট ইস্তিখারা করেছেন এমন একটি "গ্রন্থ রচনার জন্য যাতে তিনি (কুরআনের) মহান অর্থসমূহ এবং এতে বিদ্যমান শব্দের বিবিধ অর্থ (وجوه), সদৃশ শব্দ (أشباه) ও সাদৃশ্যসমূহ (نظائر) ... একত্রিত করবেন। তিনি এগুলো তাফসির গ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য উৎস থেকে সংকলন করেছেন।"
গ্রন্থটি একশত পাঁচটি শব্দ সংবলিত এবং এটি পূর্ণাঙ্গ, এতে কোনো অপূর্ণতা নেই। পাণ্ডুলিপিটি লেখকের স্বহস্তে লিখিত, যা ৮৬৯ হিজরিতে অনুলিপিকৃত।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ولم يشذ ابن العماد في كتابه من حيث المنهج في سرد الوجوه والنظائر عن بقية المؤلفات الأخرى، وإن وجدنا فيه بعض التعليقات، يأتي بها بالمناسبة ليتحدث عن عصره. كما يذكر في تعليقاته بعض الأسماء كابن عباس، والحسن البصري، والشبلي، والطبري، والفضيل بن عياض. ويشير أحيانا إلى اختلافات وقعت بين العلماء في مسألة معينة. وهذا لم نقف عليه فيما اطلعنا عليه من كتب الوجوه والنظائر. والذي لفت الانتباه من حيث ترتيب الكلمات في كتاب ابن العماد، اتفاقه مع كتاب التصاريف، خاصة في الجزء الأول منه. كما اتفقا، إلا نادرا، في عدد الوجوه التي أورداها للكلمة الواحدة.
19- عبد الرحمان السيوطي (ت911/1505) . وقد أشار بنفسه إلى كتابه في معترك الأقران مرة، ومرة في الإتقان. ولم نعثر على هذا التأليف. غير أن السيوطي قد اشاد بذكره، معتبرا إياه كافيا في هذا الفن. وقد سمى السيوطي كتابه: معترك الأقران في مشترك القرآن وهو غير كتابه معترك الأقران في إعجاز القرآن.
20- أبو الحسين محمد بن عبد الصمد المصري. نسب إليه السيوطي مؤلفا في الوجوه والنظائر، وقال بأنه من المتأخرين.
21-22- ذكر ابن الجوزي أن ممن ألف في الوجوه والنظائر، أبو الفضل العباس بن الفضل الأنصاري، وأن مطروح بن محمد بن شاكر قد روى عن عبد الله بن هارون الحجازي، عن أبيه كتابا في الوجوه والنظائر.
23- ابن أبي المعافي. ذكره السيوطي في معترك الأقران، وذكر بأنه من المتأخرين.
ذكرنا مجموع ما وقفنا عليه من كتب الوجوه والنَّظائر لغرضين:
1) لنبين كثرتها من جهة.
2) لنشير إلى خاصية فيها. إذ أنّ الذي استنتجناه مما طالعناه من كتب الوجوه والنظائر، أو من وصف بعضها، بقاؤها على حالتها الأولى التي ظهرت بها، خاصةً في مادتها ومنهجها الذي سارت عليه في تناول الكلمات وسرد الآيات المتعلقة بها.
ইবনুল ইমাদ তার গ্রন্থে 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বর্ণনার পদ্ধতির ক্ষেত্রে অন্যান্য রচনার থেকে বিচ্যুত হননি, যদিও এতে আমরা কিছু টীকা পাই, যা তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে তার সমকাল সম্পর্কে আলোচনার জন্য নিয়ে এসেছেন। তিনি তার টীকাগুলোতে ইবনে আব্বাস, হাসান বসরী, শিবলী, তাবারী এবং ফুদাইল ইবনে আইয়াজের মতো কিছু ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি মাঝে মাঝে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ঘটা মতপার্থক্যগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন। আর আমরা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' এর যেসব কিতাব পর্যবেক্ষণ করেছি, সেগুলোতে এমনটি লক্ষ্য করিনি। ইবনুল ইমাদের গ্রন্থে শব্দ বিন্যাসের ক্ষেত্রে যা দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তা হলো 'কিতাবুত তাসারিফ' এর সাথে এর মিল, বিশেষ করে এর প্রথম অংশে। তদুপরি, খুব কম ব্যতিক্রম ছাড়া, তারা একটি শব্দের জন্য উপস্থাপিত বিবিধ অর্থের (الوجوه) সংখ্যার ক্ষেত্রেও ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
19- আবদুর রহমান আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হি./১৫০৫ খ্রি.)। তিনি নিজেই তার 'মু’তারাকুল আকরান' এবং 'আল-ইতকান' গ্রন্থে একবার করে এই রচনার কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা এই সংকলনটি (التأليف) খুঁজে পাইনি। তবে আস-সুয়ূতী এর উচ্চ প্রশংসা করেছেন এবং এই শাস্ত্রে (الفن) এটিকে পর্যাপ্ত বলে গণ্য করেছেন। আস-সুয়ূতী তার গ্রন্থের নামকরণ করেছেন: 'মু’তারাকুল আকরান ফি মুশতারাকিল কুরআন', যা তার 'মু’তারাকুল আকরান ফি ই’জাজিল কুরআন' থেকে ভিন্ন একটি গ্রন্থ।
20- আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ বিন আবদুস সামাদ আল-মিসরী। আস-সুয়ূতী তার প্রতি 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক একটি রচনার সম্বন্ধ করেছেন এবং বলেছেন যে তিনি পরবর্তী যুগের (المتأخرين) আলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
21-22- ইবনুল জাওযী উল্লেখ করেছেন যে, যারা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে আবুল ফজল আল-আব্বাস বিন আল-ফজল আল-আনসারী রয়েছেন। এছাড়া মাতরুহ বিন মুহাম্মদ বিন শাকির, আবদুল্লাহ বিন হারুন আল-হিজাজী থেকে, তিনি তার পিতার সূত্রে 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' বিষয়ক একটি কিতাব বর্ণনা করেছেন (روى)।
23- ইবনে আবি আল-মা'আফী। আস-সুয়ূতী তাকে 'মু’তারাকুল আকরান' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে তিনি পরবর্তী যুগের (المتأخرين) আলিমদের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' এর কিতাবসমূহ থেকে যা কিছু অবগত হয়েছি তা দুটি উদ্দেশ্যে উল্লেখ করেছি:
১) একদিকে এগুলোর প্রাচুর্য স্পষ্ট করা।
২) এগুলোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করা। কেননা 'আল-উজুহ ওয়ান নাযাইর' এর কিতাবগুলো পাঠ করে বা সেগুলোর বিবরণ থেকে আমরা যা অনুধাবন করেছি তা হলো, এগুলো সেগুলোর প্রাথমিক অবস্থার উপরেই রয়ে গেছে যে অবস্থায় তা আত্মপ্রকাশ করেছিল, বিশেষ করে সেগুলোর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতির ক্ষেত্রে যা শব্দ বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট আয়াতগুলোর ধারাবাহিক বর্ণনায় অনুসরণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
فمطالعة كلمة "هدى" مثلا في كتاب مقاتل بن سليمان، وهو من المتقدمين، لا تختلف عمَّا جاء في أحدث ما وصلنا من كتب الوجوه والنظائر. فكأنما كتب الوجوه والنظائر، على مرّ القرون، كتاب واحد، تداولته أيدي النساخ، مع تغييرات قليلة، لا تغيّر من جوهر تلك الكتب. ونشير هنا إلى مقالة النيسابروي في مقدمته، فهي تعبر عن هذه الفكرة. يقول النيسابروي: "والسابق بهذا التصنيف عبد الله بن عباس رضي الله عنه، ثم مقاتل ثم الكلبي. ومصنفاتهم لا تزيد على مائتين وأربعة عشر بابا. وجمعنا في هذا الكتاب خمسمائة وأربعين بابا. وليس بشيء منها يعزب عن أقاويلهم إمَّا ذكر في الوجوه وإمَّا ذكر في التَّفسير. ولست أبدع قولا".
ولعل ما يمكن أن يذكر من تطوّر في هذه الكتب، تكاثر عدد كلماتها. فكتاب النيسابوري، ضخم إذا ما قورن بغيره. وكذلك ثم شيء من التصرف في كيفية تبويبها فبعد أن ذكرت الكلمات على الاتفاق في كتاب مقاتل وكتاب ابن سلام، حرص بعض المؤلفين على ترتيبها ترتيبا أبجديا. كما فعل النيسابوري والدامغاني.
ولا يمكن أن نعتبر هذا تطوّرا في كتابة الوجوه والنَّظائر، بأتم معنى الكلمة، فإن الترتيب الأبجدي لم يظهر في آخر ما ألَّف منها. كما أنّ تكاثر الكلمات الوارد في بعضها، لم يكن في التآليف المتأخرة أيضا، ما دمنا قد وقفنا على تآليف متأخرة، لا تختلف في عدد كلماتها ولا في كيفية ترتيبها عن كتب الأوّلين. ونتساءل: هل توقّف التآليف في الوجوه والنظائر عند حدود القرن العاشر؟ إن المتأمل في بعض المعاجم القرآنية المعاصرة يتبين له، أنَّه من الضروريِّ اعتبارها مندرجة في فنّ الوجوه والنظائر. وأخصّ بالذكر من هذه المعاجم: معجم ألفاظ القرآن الكريم لمجمع اللغة العربية، وكذلك: معجم الألفاظ والأعلام القرآنية لمحمد اسماعيل إبراهيم.
ما الذي يقدّمه معجم المجمع؟
لقد تعهد هذا المعجم باستعراض المعاني المختلفة الَّتي ترد عليها اللَّفظة الواحدة في القرآن، وذلك ما يطابق فيما رأيناه "الوجوه".
كما تعهَّد باستعراض الآيات الواردة في كلّ معنى من معاني اللَّفظة. وتلك هي النظائر.
مثلاً, মুকাতিল ইবনে সুলায়মানের কিতাবে ‘হুদা’ শব্দটির পর্যালোচনা করা হলে দেখা যায় যে—যিনি একজন পূর্বসূরি (متقدمين) ছিলেন—তাঁর বর্ণনা আমাদের নিকট পৌঁছে যাওয়া ‘উজূহ ওয়া নাযাইর’ বিষয়ক আধুনিকতম গ্রন্থসমূহে বর্ণিত বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন কিছু নয়। মনে হয় যেন ‘উজূহ ওয়া নাযাইর’ বিষয়ক গ্রন্থগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একটি একক কিতাব হিসেবেই বিদ্যমান ছিল, যা সামান্য কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে লিপিকারদের হাতে আবর্তিত হয়েছে, যা সেসব গ্রন্থের মূল নির্যাসকে পরিবর্তন করেনি। আমরা এখানে নিশাপুরির তাঁর ভূমিকার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করছি, যা এই ধারণারই প্রতিফলন ঘটায়। নিশাপুরি বলেন: "এই শ্রেণি বিন্যাসে অগ্রগামী হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু), অতঃপর মুকাতিল, অতঃপর কালবী। তাঁদের রচিত সংকলনগুলো দুইশ চৌদ্দটি পরিচ্ছেদের বেশি নয়। আর আমরা এই কিতাবে পাঁচশ চল্লিশটি পরিচ্ছেদ একত্রিত করেছি। এর কোনো কিছুই তাঁদের উক্তির বাইরে নয়, হয় তা অর্থান্তর (وجوه) এর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে অথবা ব্যাখ্যা (تفسير)-এর মধ্যে উল্লিখিত হয়েছে। আর আমি নতুন কোনো কথা উদ্ভাবন করছি না।"
সম্ভবত এই কিতাবগুলোতে বিবর্তনের যে দিকটি উল্লেখ করা যেতে পারে, তা হলো এর শব্দভাণ্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি। অন্যদের তুলনায় নিশাপুরির কিতাবটি বেশ বিশাল। একইভাবে সেগুলোর অধ্যায় বিন্যাসের পদ্ধতিতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে; মুকাতিল ও ইবনে সালামের কিতাবে শব্দগুলো যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, পরবর্তী কিছু লেখক সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন, যেমনটি নিশাপুরি ও দামাগানি করেছেন।
আমরা বিষয়টিকে ‘উজূহ ওয়া নাযাইর’ রচনার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ অর্থে বিবর্তন হিসেবে গণ্য করতে পারি না। কারণ, এর সর্বশেষ রচিত গ্রন্থগুলোতেও বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস পরিলক্ষিত হয় না। তেমনিভাবে কোনো কোনো গ্রন্থে শব্দের যে আধিক্য দেখা যায়, তা পরবর্তী কালের সকল রচনায় বিদ্যমান ছিল না; যেহেতু আমরা এমন কিছু পরবর্তী রচনা খুঁজে পেয়েছি যা শব্দের সংখ্যা বা বিন্যাস পদ্ধতির দিক থেকে আদি গবেষকদের (أولين) কিতাব থেকে ভিন্ন কিছু নয়। আমরা প্রশ্ন করতে পারি: ‘উজূহ ওয়া নাযাইর’ বিষয়ক রচনা কি দশম শতাব্দীর সীমানায় এসে থেমে গেছে? সমসাময়িক কিছু কুরআনিক অভিধান নিয়ে চিন্তা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, সেগুলোকে ‘উজূহ ওয়া নাযাইর’ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা আবশ্যক। আমি এই অভিধানগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: মজমাউল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ কর্তৃক প্রকাশিত মু’জামু আলফাজিল কুরআনিল কারিম এবং মুহাম্মদ ইসমাইল ইব্রাহিম রচিত মু’জামুল আলফাজি ওয়াল আ’লামিল কুরআনিয়্যাহ।
মজমা (একাডেমি)-র অভিধানটি কী উপস্থাপন করে?
এই অভিধানটি কুরআনে একটি একক শব্দের যে বিভিন্ন অর্থ পরিলক্ষিত হয় তা পর্যালোচনার দায়িত্ব নিয়েছে, যা আমাদের দেখা মতে অর্থান্তর (وجوه)-এর ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
একইভাবে এটি শব্দের প্রতিটি অর্থের অধীনে বর্ণিত আয়াতসমূহ পর্যালোচনার অঙ্গীকার করেছে; আর এগুলোই হলো সদৃশ ব্যবহার (نظائر)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাসারীফু লি-তাফসীরিল কুরআন মিম্মা ইশতাবাহাত আসমাউহু ওয়া তাসাররাফাত মাআনিহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وقد رتَّب المعجم الكلمات ترتيبا أبجديا حسب الأصل، ثم فرّع عنه المشتقات.
فهل أتى هذا المعجم بجديد في الميدان؟
لعلّ الَّذي توفَّر فيه خصوصا، ولم يتمّ في الكتب الَّتي مرَّت بنا أمران:
1) القصد إلى استيفاء الألفاظ القرآنية دون أي تخير.
2) القصد إلى استيفاء الآيات المتعلِّقة بكل معنى من المعاني القرآنية للَّفظ.
فهو من هاتين النَّاحيتين يعتبر متمِّماً لكتب الوجوه والنظائر المذكورة إذ أنَّها لم تستوف الكلمات القرآنية، كما أنَّها لم تذكر كلّ الآيات المتعلِّقة بالمعنى الواحد، وتشير إلى وجود آيات أخرى في نفس المعنى بقولها: "ونحوه كثير" أو ما شابه ذلك.
لكنّ هذا المعجم، من جهة ثانية لا يعتبر دقيقا دقَّة كتب الوجوه والنظائر في استخراج المعاني من اللَّفظ.
كما يعطي المعجم لبعض الآيات معنى غير الَّذي أعطي لها في كتب الوجوه والنظائر. نذكر هذا لأن هذه الكتب أقرب إلى الصّحَّة ما دامت تتعلق بالتفسير بطريقة مباشرة، أي عن طريق الرواية التي هي الطريقة المتبعة في كتب الوجوه.
هذا كله يجعلنا نعتبر المعجم غير مجدّد في الميدان، وذلك ما رآه الدكتور إبراهيم مدكور حين قال متحدثا عنه: "وقد جاء (يعني المعجم) حلاً وسطا يوفق بين الطرفين (القدامى والمحدثين) وإن كان إلى المحافظة أميل".
أما المعجم الثاني فإنه لا يختلف كثيرا في منهجه وأهدافه عن معجم المجمع، وإنَّما يختلف عنه يسيرا في طريقة التَّقديم. فهو يعمد في أوّل حديثه عن مادة معينة إلى ذكر جميع وجوهها بالصيّغ الَّتي ذكرت بها في القرآن، ثم يستعرض إثر ذلك الآيات الَّتي ورد فيها اللَّفظ في مشتقَّاته المتنوّعة.
لكنّ المؤلِّف لا يأتي بكلّ الآيات التي ضبط عددها تحت المادة مباشرة، رغم كونه قد وعد بذلك في مقدمته.
এই অভিধানটি শব্দগুলোকে মূল বর্ণানুক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছে এবং পরবর্তীতে তা থেকে ব্যুৎপন্ন শব্দসমূহকে শাখা হিসেবে বিন্যস্ত করেছে।
তাহলে কি এই অভিধানটি এই ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়ে এসেছে?
সম্ভবত এতে বিশেষভাবে যা পাওয়া যায় এবং আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত বইগুলোতে যা সম্পন্ন হয়নি, তা হলো দুটি বিষয়:
১) কোনো প্রকার বাছবিচার ছাড়াই কুরআনের শব্দাবলি পূর্ণাঙ্গরূপে সংগ্রহের উদ্দেশ্য।
২) কোনো শব্দের প্রতিটি কুরআনিক অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট আয়াতসমূহ পূর্ণাঙ্গরূপে সংগ্রহের উদ্দেশ্য।
সুতরাং এই দুটি দিক থেকে এটি উল্লেখিত উজুহ ওয়া নাজাইর (وجوه ونظائر) বিষয়ক গ্রন্থগুলোর পরিপূরক হিসেবে গণ্য হয়; কেননা ওই গ্রন্থগুলো কুরআনের শব্দাবলি পূর্ণাঙ্গরূপে ধারণ করেনি এবং একটি অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল আয়াতও উল্লেখ করেনি। বরং তারা একই অর্থে আরও আয়াত বিদ্যমান থাকার কথা "অনুরূপ আরও অনেক আছে" বা এই জাতীয় বাক্য দ্বারা ইঙ্গিত করে।
কিন্তু অন্যদিক থেকে, শব্দ থেকে অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে এই অভিধানটি উজুহ ওয়া নাজাইর (وجوه ونظائر) গ্রন্থগুলোর মতো সূক্ষ্ম ও নির্ভুল হিসেবে বিবেচিত হয় না।
তদুপরি, এই অভিধানটি কিছু আয়াতের এমন অর্থ প্রদান করে যা উজুহ ওয়া নাজাইর (وجوه ونظائر) গ্রন্থগুলোতে দেওয়া অর্থের চেয়ে ভিন্ন। আমরা এটি উল্লেখ করছি কারণ এই গ্রন্থগুলো শুদ্ধতা (صحة) এর অধিক নিকটবর্তী, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সরাসরি তাফসিরের সাথে সম্পর্কিত থাকে, অর্থাৎ বর্ণনা (رواية) এর মাধ্যমে, যা উজুহ (وجوه) গ্রন্থসমূহে অনুসৃত পদ্ধতি।
এই সবকিছু আমাদের এই অভিধানটিকে এই ক্ষেত্রে কোনো নতুনত্ব আনয়নকারী হিসেবে না গণ্য করতে বাধ্য করে। ডক্টর ইবরাহিম মাদকার এই অভিধানটি সম্পর্কে আলোচনার সময় এই মত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন: "এটি (অর্থাৎ অভিধানটি) একটি মধ্যপন্থা হিসেবে এসেছে যা দুই পক্ষের (প্রাচীন ও আধুনিক) মধ্যে সমন্বয় সাধন করে, যদিও এটি রক্ষণশীলতার দিকেই অধিক ঝুঁকে আছে।"
দ্বিতীয় অভিধানটির ক্ষেত্রে বলা যায়, এটি এর পদ্ধতি (منهج) এবং উদ্দেশ্যসমূহে ‘মুজামুল মাজমা’ থেকে খুব একটা ভিন্ন নয়; বরং উপস্থাপনার দিক থেকে এটি সামান্য পৃথক। এটি কোনো নির্দিষ্ট মূল শব্দ (مادة) সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে কুরআনে যে সকল রূপে শব্দগুলো এসেছে তার সকল অর্থ (وجوه) উল্লেখ করার সংকল্প করে, এরপর সেই শব্দের বিভিন্ন ব্যুৎপন্ন রূপে ব্যবহৃত আয়াতসমূহ উপস্থাপন করে।
কিন্তু লেখক সেই মূল শব্দের (مادة) অধীনে সরাসরি সেই সমস্ত আয়াত নিয়ে আসেননি যার সংখ্যা তিনি নির্ধারণ করেছিলেন, যদিও তিনি তার মুখবন্ধে এর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।