(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: -)
صورة الأرض   (ابن حوقل)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: صورة الأرض

المؤلف: محمد بن حوقل البغدادي الموصلي، أبو القاسم (ت بعد 367هـ)

الناشر: دار صادر، أفست ليدن، بيروت

عام النشر: 1938 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুরাতুল আরদ (পৃথিবীর মানচিত্র)   (ইবন হাওকাল)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


গ্রন্থ: সুরাতুল আরদ (পৃথিবীর মানচিত্র)

লেখক: মুহাম্মদ বিন হাওকাল আল-বাগদাদি আল-মাওসিলি, আবু আল-কাসিম (মৃত্যু ৩৬৭ হিজরির পর)

প্রকাশক: দার সাদির, অফসেট লাইডেন, বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যায়ন মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: -)
محمد بن حوقل

 

أبو القاسم محمد بن حوقل أو محمد بن علي النصيبي أو النصيبيني. تاجر، رحالة وجغرافي معروف في القرن الرابع الهجري. بدأت رحلاته في البلدان الإسلامية منذ عام 331 هـ واستمرت حتى سنة 359 هـ (943 ج 970 م) وعلى هذا الأساس ألف كتابه صورة الأرض أو المسالك والممالك.

لا توجد معلومات وافية عن حياته. ولد في نصيبين الواقعة بين النهرين العليا ولكن لا يُعلم تاريخ ولادته سوى أنه يحتمل أنها كانت قبل سنة 320 هـ بكثير. كما أن تاريخ وفاته أيضاً غير معلوم والظاهر أنها كانت بعد سنة 367 هـ.

بدأت رحلته التاريخية من بغداد للبحث في البلدان الإسلامية والأمم المختلفة وللتجارة أيضاً. ولكن الظاهر أنه كان في الواقع مبلغاً دينياً وداعياً سياسياً للدولة الفاطمية لأن برنامجه هو الرحلة إلى أفريقيا الشمالية (منطقة نفوذ الحكم الفاطمي) والأندلس (منطقة نفوذ الحكم الأموي) ، كما سافر إلى نابلي وبالرمو أيضاً، ولذا يظهر أنه كانت لابن حوقل ميول سياسية وعلى حد قول كراتشكوفسكي، اعتبره دوزي جاسوساً للفاطميين.

آثاره

لابن حوقل كتابان معروفان: أحدهما كتاب حول الصقلية وهو مفقود والآخر المسالك والممالك أو صورة الأرض.

ابن حوقل بين علماء الجغرافيا

يعتبر ابن حوقل بين علماء الجغرافيا من نوادر عصره. فقد استمرت رحلته ثلث قرن زار خلالها البلدان الإسلامية- من الهند إلى أسبانيا- وبلدان أخرى حتى وصل إلى نهر ولغا. فكثرت مطالعاته ومشاهداته وجمع كل ما حصل عليه من تجارب في كتابه صورة الأرض.
মুহাম্মদ ইবনে হাওকাল

 

আবুল কাসেম মুহাম্মদ ইবনে হাওকাল অথবা মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাসিবি বা আন-নাসিবিনি। তিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং ভূগোলবিদ। ৩৩১ হিজরি সাল থেকে মুসলিম দেশগুলোতে তার সফর শুরু হয় এবং তা ৩৫৯ হিজরি (৯৪৩ - ৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই ভ্রমণের ভিত্তিতেই তিনি তার গ্রন্থ ‘সুরাত আল-আরদ’ বা ‘আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক’ রচনা করেন।

তার জীবন সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায় না। তিনি উচ্চ মেসোপটেমিয়ায় অবস্থিত নাসিবিনে জন্মগ্রহণ করেন, তবে তার জন্মতারিখ জানা যায়নি; তবে সম্ভবত তা ৩২০ হিজরি সালের অনেক আগে ছিল। একইভাবে তার মৃত্যুর তারিখও অজ্ঞাত, তবে প্রতীয়মান হয় যে তা ৩৬৭ হিজরি সালের পরে ছিল।

মুসলিম দেশসমূহ ও বিভিন্ন জাতি সম্পর্কে অনুসন্ধান এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাগদাদ থেকে তার ঐতিহাসিক সফর শুরু হয়। তবে দৃশ্যত তিনি বাস্তবে ফাতিমি রাষ্ট্রের একজন ধর্মীয় প্রচারক ও রাজনৈতিক আহ্বানকারী ছিলেন; কারণ তার কর্মসূচি ছিল উত্তর আফ্রিকা (ফাতিমি শাসনের প্রভাবাধীন অঞ্চল) এবং আল-আন্দালুস (উমাইয়া শাসনের প্রভাবাধীন অঞ্চল) সফর করা। এছাড়াও তিনি নেপলস এবং পালেরমো সফর করেছিলেন। একারণে প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে হাওকালের রাজনৈতিক ঝোঁক ছিল এবং ক্রাচকভস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, ডোজি তাকে ফাতিমিদের গুপ্তচর হিসেবে গণ্য করেছেন।

তার রচনাবলি

ইবনে হাওকালের দুটি পরিচিত গ্রন্থ রয়েছে: একটি সিসিলি বিষয়ক যা বর্তমানে বিলুপ্ত এবং অন্যটি হলো ‘আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক’ বা ‘সুরাত আল-আরদ’।

ভূগোলবিদদের মধ্যে ইবনে হাওকাল

ভূগোলবিদদের মধ্যে ইবনে হাওকালকে তার যুগের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। তার সফর দীর্ঘ এক-তৃতীয়াংশ শতাব্দী স্থায়ী হয়েছিল, যার মধ্যে তিনি ভারত থেকে স্পেন পর্যন্ত মুসলিম দেশসমূহ এবং ভলগা নদী পর্যন্ত অন্যান্য দেশ ভ্রমণ করেন। তার অধ্যয়ন ও পর্যবেক্ষণ ছিল ব্যাপক এবং তিনি তার অর্জিত সকল অভিজ্ঞতা তার ‘সুরাত আল-আরদ’ গ্রন্থে সংকলন করেন।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১)
[الجزء الاول]

مقدّمة القسم الأوّل

قد رأينا أن نضع مقدّمة كاملة فى القسم الثالث من طبعة كتاب ابن حوقل الحاضرة تحتوى أيضا على فهرس الأسماء وعلى بعض الإشارات اللغويّة فنكتفى هنا بما لا بدّ منه من التنبيهات، اعتمدنا فى هذه الطبعة على نسخة واحدة وهى النسخة المرقومة 3346 بخزانة السراى العتيق فى استنبول وقد نسخت فى سنة 479 الهجريّة المقابلة لسنة 1086 الميلاديّة، وما يوجد فيها من نصّ كتاب ابن حوقل هو يخالف نسختى خزانتى (ليدن) و (اوكسفورد) اللتين اعتمد الأستاذ (ده غويه (de goeje عليهما فى الطبعة الأولى فى الجزء الثانى من (نشريّات جغرافيّى العرب (bibliotheca geographorum arabicorum المطبوعة فى (ليدن) سنة 1873، كما استعمل (ده غويه) أيضا فى طبعته النسخة العربيّة المرقومة 2214 فى المكتبة الأهليّة (باريس) وأطلق عليها فى طبعته اسم الموجز الباريسىّ (epitome parisiensis) وهو مختصر نصّ النسخة الاستنبوليّة المذكورة إلّا أنّه توجد فيها عدّة إضافات عن الفترة الواقعة بين سنة 534 هـ. وسنة 580 هـ. (1139 م. - 1184 م.) ،

فيكون إذا تحت تصرّفنا ثلاث نصوص متباينة هى (1) النصّ الموجود فى النسخة الاستنبوليّة التى اعتبرناها مصدرا لهذه الطبعة الثانية و (2) النصّ الموجود فى الطبعة الأولى التى نشرها (ده غويه) و (3) النصّ المختصر المذكور آنفا، وسنذكر فى المقدّمة الكاملة بعض النسخ الأخرى المحتوية على النصّين الأوّل والثالث مع مقارنة جميع تلك النسخ وسرد ما بينها من الاتّفاق والاختلاف، وأمّا النصّ الثانى فمعرفتنا به كافية من طبعة ابن حوقل الأولى حيث يتيسّر للباحث مقارنة الاختلافات الصغرى بها دون إعادة نقلها هنا،

€
[প্রথম খণ্ড]

প্রথম অংশের ভূমিকা

আমরা ইবনে হাওকালের বর্তমান সংস্করণের তৃতীয় অংশে একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে নামসমূহের নির্ঘণ্ট এবং কিছু ভাষাতাত্ত্বিক ইঙ্গিতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে; তাই আমরা এখানে শুধুমাত্র অপরিহার্য সতর্কীকরণগুলো উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হব। এই সংস্করণে আমরা একটিমাত্র পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা হলো ইস্তাম্বুলের সারাই আতিক গ্রন্থাগারের ৩৩৪۶ নম্বর পাণ্ডুলিপি। এটি হিজরি ৪৭৯ সালে অনুলিপি করা হয়েছে, যা খ্রিস্টীয় ১০৮৬ সালের সমসাময়িক। এতে ইবনে হাওকালের বইয়ের যে পাঠ রয়েছে, তা লাইডেন ও অক্সফোর্ড গ্রন্থাগারের পাণ্ডুলিপিদ্বয় থেকে ভিন্ন, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে অধ্যাপক ডি গোয়ে ১৮৭৩ সালে লাইডেনে মুদ্রিত 'আরব ভূগোলবিদদের প্রকাশনা' (বিবলিওথেকা জিওগ্রাফোরাম অ্যারাবিকোরাম)-এর দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম সংস্করণে নির্ভর করেছিলেন। ডি গোয়ে তাঁর সংস্করণে প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরির ২২১৪ নম্বর আরবি পাণ্ডুলিপিটিও ব্যবহার করেছেন এবং তাঁর সংস্করণে সেটির নাম দিয়েছেন 'প্যারিসীয় সংক্ষিপ্তসার' (এপিটম প্যারিসিয়েনসিস), যা মূলত উল্লিখিত ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপির পাঠের একটি সংক্ষেপিত রূপ; তবে এতে ৫৩৪ হিজরি থেকে ৫৮০ হিজরি (১১৩৯ খ্রি. - ১১৮৪ খ্রি.) মধ্যবর্তী সময়ের বেশ কিছু সংযোজন রয়েছে।

সুতরাং আমাদের হাতে বর্তমানে তিনটি ভিন্ন পাঠ বিদ্যমান: (১) ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত পাঠ, যেটিকে আমরা এই দ্বিতীয় সংস্করণের উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছি, (২) ডি গোয়ে কর্তৃক প্রকাশিত প্রথম সংস্করণের পাঠ এবং (৩) উপরে উল্লিখিত সংক্ষিপ্ত পাঠ। আমরা পূর্ণাঙ্গ ভূমিকায় প্রথম ও তৃতীয় পাঠ সম্বলিত আরও কিছু পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করব এবং সেই সমস্ত পাণ্ডুলিপির মধ্যে তুলনা করার পাশাপাশি তাদের মধ্যকার মিল ও অমিলগুলো তুলে ধরব। আর দ্বিতীয় পাঠ সম্পর্কে ইবনে হাওকালের প্রথম সংস্করণ থেকেই আমাদের পর্যাপ্ত ধারণা রয়েছে, ফলে গবেষকদের জন্য এখানে পুনরায় উদ্ধৃত না করেই সেটির সাথে ছোটখাটো পার্থক্যগুলো তুলনা করা সম্ভব হবে।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ২)
وممّا يدلّ على عظم شأن النصّ الأوّل أنّه يوجد فيه بعض قطع غير معلومة الى الآن من قلم ابن حوقل وهى تتعلّق خاصّة بوصف القسم الغربىّ من مملكة الإسلام كما ورد فى بلاد البجة وتأريخهم وفى تعداد أكثر من مائتى قبيلة من قبائل البربر وفى الوصف المطوّل فى أحوال صقلّية وفى صفة الواحات إذا استثنينا عدّة إضافات قصيرة وأمّا القسم الشرقىّ فقد جاءت به فقرة غير معلومة الى الآن فى وصف مدينة اصبهان، ويوجد بالعكس فى النصّ الثانى بعض الفقرات التى لا أثر لها فى النصّ الأوّل من أهمّها الخبر عن ابتداء أسفار المؤلّف فى مقدّمة الكتاب والفقرات المختصّة ببعض الخلفاء الفاطميّين والخبر الوارد فى آخر صفة السند عن ملاقاة المؤلّف لأبى إسحاق الفارسىّ ومحاورتهما فيما كانا قد رسماها من الصور، وقد أدخلنا الفقرات الزائدة المختصّة بالنصّ الثانى فى متن النصّ الأوّل بين قوسين مربّعين [] ، فإذا تحتوى هذه الطبعة الثانية على كلّ ما هو معلوم الآن من مادّة كتاب ابن حوقل فتصبح الطبعة الحاضرة متكافئة مع الطبعة الأولى التى نقدت منذ زمن طويل، وقد وضعنا بالهامش أرقام صفحات الطبعة الأولى وأضفنا أيضا بعض الفقرات المنسوبة الى ابن حوقل فى مؤلّفات أخرى أورد فيها نصّ هو على ما يظهر أكمل من النصّ الموجود فى النسخ المعروفة، وقد قابلنا عند الحاجة أحيانا نصّ الإصطخرىّ كما فعله أيضا ناشر الطبعة الأولى، وأدرجنا كذلك فى هذه الطبعة ما يوجد من الإضافات فى النصّ الثالث المختصّ بالقرن السادس الهجرىّ، وهى التى كان الأستاذ (ده غويه) قد أدرجها فى الحواشى التى بأسفل الصفحات من طبعته وما يختصّ منها بالمائة صفحة الأولى فى الحواشى الباقية التى جاءت بص. 432- 435

من الجزء الرابع لنشريّات جغرافيّى العرب (ليدن 1879) ، إلّا أنّه يظهر الآن أنّ كثيرا من هذه الإضافات تتعلّق أصلا بالنصّ الأوّل الموجود فى النسخة الاستنبوليّة،

€
প্রথম পাঠের গুরুত্বের একটি নিদর্শন হলো যে, এতে ইবনে হাওকালের কলম থেকে নিঃসৃত এমন কিছু অংশ রয়েছে যা এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত ছিল; এগুলো বিশেষ করে ইসলামী সাম্রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের বর্ণনার সাথে সম্পর্কিত, যেমনটি বেজা অঞ্চল ও তাদের ইতিহাস সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে এবং বারবার গোত্রসমূহের মধ্য থেকে দুই শতাধিক গোত্রের গণনা, সিসিলির অবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা এবং মরূদ্যানসমূহের বর্ণনায় এসেছে, যদি আমরা কিছু সংক্ষিপ্ত সংযোজনকে বাদ দেই। আর পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে ইসফাহান শহরের বর্ণনায় এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত একটি অনুচ্ছেদ এতে এসেছে। বিপরীতে দ্বিতীয় পাঠে এমন কিছু অনুচ্ছেদ পাওয়া যায় যেগুলোর কোনো চিহ্ন প্রথম পাঠে নেই; তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বইটির ভূমিকায় লেখকের সফরের সূচনা সম্পর্কিত সংবাদ, কিছু ফাতেমী খলিফাদের জন্য নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদসমূহ এবং সিন্দ অঞ্চলের বর্ণনার শেষে লেখকের সাথে আবু ইসহাক আল-ফারিসীর সাক্ষাৎ ও তাদের অঙ্কিত মানচিত্রসমূহ নিয়ে উভয়ের আলোচনার সংবাদ। আমরা দ্বিতীয় পাঠের অন্তর্ভুক্ত অতিরিক্ত অনুচ্ছেদগুলো প্রথম পাঠের মূল পাঠের মধ্যে বর্গাকার বন্ধনী [] এর ভেতরে স্থাপন করেছি। ফলে এই দ্বিতীয় সংস্করণটি যেহেতু ইবনে হাওকালের বইয়ের বিষয়বস্তুর যা কিছু এখন পর্যন্ত জানা গেছে তার সবটুকুই ধারণ করে, তাই বর্তমান সংস্করণটি সেই প্রথম সংস্করণের সমতুল্য হয়ে উঠেছে যা দীর্ঘকাল আগে পর্যালোচিত হয়েছে। আমরা টীকায় প্রথম সংস্করণের পৃষ্ঠা নম্বরগুলো যুক্ত করেছি এবং ইবনে হাওকালের দিকে নেসবত করা অন্যান্য রচনার এমন কিছু অনুচ্ছেদও যোগ করেছি যাতে এমন পাঠ রয়েছে যা প্রচলিত পাণ্ডুলিপিগুলোতে বিদ্যমান পাঠের চেয়ে অধিকতর পূর্ণাঙ্গ বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা প্রয়োজনে কখনো কখনো আল-ইস্তাখরির পাঠের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, যেমনটি প্রথম সংস্করণের প্রকাশকও করেছিলেন। একইভাবে আমরা এই সংস্করণে ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর সাথে সংশ্লিষ্ট তৃতীয় পাঠে বিদ্যমান সংযোজনগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করেছি, যেগুলো অধ্যাপক (ডি গোয়ে) তাঁর সম্পাদিত সংস্করণের পৃষ্ঠার নিচের টীকাসমূহে এবং প্রথম একশ পৃষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ৪৩২-৪৩৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত অবশিষ্ট টীকাগুলোতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন

যা আরব ভূগোলবিদদের প্রকাশনার (লাইডেন ১৮৭৯) চতুর্থ খণ্ড থেকে নেওয়া; তবে বর্তমানে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই সংযোজনগুলোর অনেকগুলোই মূলত ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান প্রথম পাঠের সাথে সম্পর্কিত।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৩)
وأمّا باقى هذه الإضافات فينسب أكثرها الى زمان المختصر على ما قرّره ناقله فى أكثر الأحوال تقريرا صريحا مع ضبط التواريخ، ولا يبقى إلّا فقرات قليلة يرتاب فيما إذا كان من الممكن نسبتها الى النصّ الأوّل أو الثالث، وقد أدرجنا إضافات النصّ الثالث فى متننا بحروف صغرى بين قوسين مربّعين [] أيضا، وفصّلنا الأبواب المحتوى كلّ واحد منها على صفة إقليم واحد فى عدد من القطع وهذا التفصيل غير راجع الى متن الأصل الذي من أضعف خاصّيّاته ضبط علامات الوقف (،) ، وقد رتّبت هذه القطع على أساس محتويات النصّ المادّيّة وأيضا بمقابلة نصّ الاصطخرىّ حتّى يمكننا بذلك الترتيب فهم العلاقات الموجودة بين نصوص تأليف ابن حوقل المختلفة وكذلك بين هذه النصوص وبين نصّ الاصطخرىّ، ومع ذلك نرجو أن يسهّل ذلك التفصيل استعمال الطبعة الحاضرة، إنّه يوجد فى معظم نسخ الاصطخرىّ وابن حوقل من الصور التى لا بدّ منها فى إدراك معنى المتن كما لا بدّ من المتن فى إدراك الصور، وبناء على ذلك أدخلنا فى هذه الطبعة كلّ الصور الموجودة فى النسخة الاستنبوليّة فى شكل رسوم تخطيطيّة وأدخلنا كذلك فى المتن بعد كلّ واحد من التنبيهات المشيرة الى صورة إقليم فصلا يوضح فيه ما يوجد فى تلك الصورة من الأسماء والنصوص وكثير من تلك الأسماء لا يوجد فى المتن نفسه، فأمكننا بهذه الطريقة إدراج تلك الأسماء فى فهرس الأسماء فى آخر الكتاب بالإشارة الى الصفحات التى فيها إيضاح الصورة، ولا توجد صور خصوصيّة للأندلس ولصقلّية إذ كانت هذه الأقاليم داخلة أوّلا فى صفة بلاد المغرب، وقد ضبطنا الأسماء الموجودة فى الصور وكذلك الأسماء الواردة فى المتن على قواعد متشابهة وهى أنّا اعتنينا فى كلّ موضع بضبط الهجاء وتصحيح الأخطاء الظاهرة، وقد أشرنا فى كلّ موضع فى الحواشى الى ضبط الأصل كما أظهرنا فيها أيضا الضبط الموجود فى الطبعة الأولى

€
আর এই অতিরিক্ত অংশগুলোর অবশিষ্ট বেশিরভাগই সংক্ষিপ্তকরণের সময়ের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়, যেমনটি এর বর্ণনাকারী অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারিখের যথাযথ বিন্যাসসহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এবং কেবল সামান্য কিছু অনুচ্ছেদ বাকি থাকে যেগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে যে তা প্রথম নাকি তৃতীয় পাঠের অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্ভব কি না। আমরা তৃতীয় পাঠের অতিরিক্ত অংশগুলোও আমাদের মূল পাঠে তৃতীয় বন্ধনীতে [] ছোট হরফে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এবং আমরা এমন প্রতিটি অধ্যায়কে—যার প্রতিটিতে একটি প্রদেশের বিবরণ রয়েছে—কয়েকটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি; আর এই বিভাজন মূল পাঠের অনুগামী নয়, যার অন্যতম দুর্বল বৈশিষ্ট্য হলো যতিচিহ্নের নিয়ন্ত্রণের অভাব। এই পরিচ্ছেদগুলো পাঠের বস্তুগত বিষয়ের ভিত্তিতে এবং ইস্তাখরির পাঠের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে বিন্যস্ত করা হয়েছে, যাতে এই বিন্যাসের ফলে ইবনে হাওকালের রচনার বিভিন্ন পাঠের মধ্যকার এবং ইস্তাখরির পাঠের সাথে সেগুলোর বিদ্যমান সম্পর্ক অনুধাবন করা যায়। তবুও আমরা আশা করি যে, এই বিভাজন বর্তমান সংস্করণের ব্যবহারকে সহজতর করবে। ইস্তাখরি ও ইবনে হাওকালের অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এমন কিছু চিত্র রয়েছে যা পাঠের অর্থ বোঝার জন্য অপরিহার্য, যেমনটি চিত্রগুলো বোঝার জন্য পাঠের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। এর ভিত্তিতে আমরা ইস্তাম্বুল পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান সকল চিত্র এই সংস্করণে নকশা আকারে অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং একইভাবে মূল পাঠের মধ্যে কোনো প্রদেশের চিত্রের প্রতি ইঙ্গিতকারী প্রতিটি নির্দেশনার পর একটি অনুচ্ছেদ যুক্ত করেছি যেখানে সেই চিত্রে বিদ্যমান নাম ও পাঠসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর ঐ নামগুলোর অনেকগুলোই মূল পাঠে পাওয়া যায় না, ফলে এই পদ্ধতিতে আমরা সেই নামগুলোকে গ্রন্থের শেষে নামের নির্ঘণ্টে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি, যেখানে চিত্রের ব্যাখ্যা সম্বলিত পৃষ্ঠাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। আন্দালুস ও সিসিলির জন্য বিশেষ কোনো চিত্র নেই, কারণ এই প্রদেশগুলো প্রাথমিকভাবে মাগরিব অঞ্চলের বিবরণের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আমরা চিত্রের মধ্যে থাকা নাম এবং পাঠে উল্লিখিত নামগুলো অভিন্ন নিয়মে সুবিন্যস্ত করেছি, আর তা হলো—আমরা প্রতিটি স্থানে বানান বিন্যাস এবং দৃশ্যমান ভুলগুলো সংশোধনের প্রতি যত্নবান হয়েছি। আমরা পাদটীকায় প্রতিটি স্থানে মূল পাণ্ডুলিপির পাঠরীতি উল্লেখ করেছি, যেমনটি আমরা তাতে প্রথম সংস্করণে বিদ্যমান পাঠরীতিও প্রদর্শন করেছি।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৪)
إذا خالفناها، فأمّا ما يوجد فى النسخ السائرة من الروايات العديدة التى قد طوّلت حواشى بعض الصفحات فى طبعتى الاصطخرىّ وابن حوقل المتقدّمتين تطويلا مفرطا فلم نورد منها إلّا ما استدعى إيراده سبب خاصّ، فلا تزال الاستفادة من اختلافات النسخ المشار اليها فى كلّ موضع من الطبعتين المتقدّمتين لازمة إلّا أنّنا رأينا تأخير بيان سبب ضبطنا الى حين ترجمة المتن وشرحها، والمؤلّفات الأخرى التى استشهدنا بها فى بعض الأحيان هى منقولة عن الطبعات المشهورة وسنورد جدولها فى المقدّمة الكاملة، ونقلنا آيات القرآن عن طبعة (فلوغل (flugel الثانية (ليبسيك 1906) ، والاصطلاحات والاختصارات المستعملة فى الحواشى كما هو آت:

الأصل النسخة المرقومة 3346 فى خزانة السراى العتيق باستنبول، حط طبعة ابن حوقل الأولى فى الجزء الثانى من نشريّات جغرافيّى العرب، حل نسخة ابن حوقل التى فى خزانة الجامعة (لميدن) ، حو نسخة ابن حوقل التى فى خزانة (البدليانة) (bodleiana اوكسفورد) ، حب النسخة الباريسيّة المحتوية على النصّ الثالث المختصر من ابن حوقل، صط طبعة الاصطخرىّ فى الجزء الأوّل من خزانة جغرافيّى العرب، قطعة قسم من الأقسام التى انقسم اليها كلّ باب، فقرة قسم من المتن هو أقصر من قطعة،

€
যদি আমরা তার বিরোধিতা করি, তবে আল-ইস্তাখরি ও ইবনে হাওকালের পূর্ববর্তী দুই মুদ্রণের প্রচলিত পাণ্ডুলিপিগুলোতে যে অসংখ্য বর্ণনা পাওয়া যায় যা কোনো কোনো পৃষ্ঠার টীকাকে অত্যধিক দীর্ঘ করে ফেলেছে, আমরা সেখান থেকে কেবল বিশেষ কোনো কারণে আবশ্যক বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কিছু উল্লেখ করিনি। পূর্বোক্ত দুই মুদ্রণের প্রতিটি স্থানে নির্দেশিত পাণ্ডুলিপির পাঠান্তরসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া অব্যাহতভাবে জরুরি, তবে আমরা আমাদের গৃহীত পাঠ নির্ধারণের কারণ বর্ণনা করাকে মূল পাঠের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা পর্যন্ত বিলম্বিত করাই শ্রেয় মনে করেছি। মাঝে মাঝে আমরা যে সকল অন্যান্য গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছি, তা সুপরিচিত সংস্করণসমূহ থেকে সংগৃহীত এবং আমরা পূর্ণাঙ্গ ভূমিকায় সেগুলোর একটি তালিকা প্রদান করব। আর আমরা কুরআনের আয়াতসমূহ ফ্লুগেল (flugel) এর দ্বিতীয় সংস্করণ (লাইপজিগ ১৯০৬) থেকে উদ্ধৃত করেছি। টীকাসমূহে ব্যবহৃত পরিভাষা ও সংক্ষেপনসমূহ নিম্নরূপ:

মূল কপি: ইস্তাম্বুলের সারায় আতিক কুতুবখানায় ৩৩৪৬ নম্বরযুক্ত পাণ্ডুলিপি; হা-তা: ‘নাশরিয়্যাত জুগরাফিয়্যিল আরব’-এর দ্বিতীয় খণ্ডে প্রকাশিত ইবনে হাওকালের প্রথম সংস্করণ; হা-লা: লিডেন বিশ্ববিদ্যালয় কুতুবখানায় সংরক্ষিত ইবনে হাওকালের পাণ্ডুলিপি; হা-ওয়া: অক্সফোর্ডের (বডলিয়ান - bodleiana) কুতুবখানায় সংরক্ষিত ইবনে হাওকালের পাণ্ডুলিপি; হা-বা: ইবনে হাওকালের তৃতীয় সংক্ষিপ্ত পাঠ সম্বলিত প্যারিস পাণ্ডুলিপি; স-তা: ‘খাজানাত জুগরাফিয়্যিল আরব’-এর প্রথম খণ্ডে আল-ইস্তাখরির সংস্করণ; কিতআহ: প্রতিটি অধ্যায় যে সকল অংশে বিভক্ত হয়েছে তার একটি অংশ; ফাকরাহ: মূল পাঠের এমন একটি অংশ যা কিতআহ-এর চেয়ে ছোট।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৫)
فهرس القسم الأوّل

المقدّمة ص. 2

صورة الأرض 5 ديار العرب 18 بحر فارس 42 المغرب 60 الاندلس 108 صقلّيه 118 مصر 132 الشأم 165 بحر الروم 190 الجزيرة 207 العراق 231
প্রথম খণ্ডের সূচিপত্র

ভূমিকা পৃ. ২

পৃথিবীর মানচিত্র ৫ আরব ভূখণ্ড ১৮ পারস্য সাগর ৪২ মাগরিব ৬০ আন্দালুস ১০৮ সিসিলি ১১৮ মিশর ১৩২ শাম ১৬৫ রোম সাগর ১৯০ আল-জাজিরা ২০৭ ইরাক ২৩১
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: -)
صورة الأرض   (ابن حوقل)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: صورة الأرض

المؤلف: محمد بن حوقل البغدادي الموصلي، أبو القاسم (ت بعد 367هـ)

الناشر: دار صادر، أفست ليدن، بيروت

عام النشر: 1938 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুরাতুল আরদ   (ইবনে হাওকাল)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণ কাহিনী


গ্রন্থ: সুরাতুল আরদ

লেখক: মুহাম্মদ বিন হাওকাল আল-বাগদাদী আল-মাওসিলি, আবু আল-কাসেম (মৃত্যু ৩৬৭ হিজরীর পরে)

প্রকাশক: দার সাদির, অফসেট লাইডেন, বৈরুত

প্রকাশকাল: ১৯৩৮ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌لابن حوقل النصيبىّ كتاب صورة الأرض «1»

وصفة أشكالها ومقدارها فى الطول والعرض وأقاليم البلدان ومحلّ الغامر منها والعمران من جميع بلاد الإسلام بتفصيل مدنها وتقسيم ما تفرّد بالأعمال المجموعة اليها،
ইবন হাওকাল আন-নাসিবী রচিত কিতাব সুরাত আল-আরদ (পৃথিবীর প্রতিকৃতি)«১»

এবং এর আকৃতিসমূহের বর্ণনা, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে এর পরিমাণ, দেশসমূহের জলবায়ু অঞ্চল এবং সমগ্র ইসলামি ভূখণ্ডের জনশূন্য ও জনবসতিপূর্ণ স্থানের বিবরণ, শহরসমূহের বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রশাসনিকভাবে সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের বিভাজনসহ,
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌[المقدمة]

بسم الله الرّحمن الرّحيم (1) الحمد لله المحمود بنعمه المشكور على آلائه وقسمه وصلّى الله على خير خلقه محمّد وأبرار عترته وسلّم، (2) «4» أمّا بعد فإنّ أحقّ من رقى الى المكارم فحلّ منها فى الذروة وسما الى الرغائب فلذّ منها بالصفوة من قدّمته خلائقه وفضّلته سوابقه وأصبح ومناويه مخصوم وثانيه معدوم والمستسلم اليه آمن والمتمسّك بحبله ساكن واللاجئ اليه موفّق والمثنى عليه مصدّق فهو للعلم وأهله حليف وبالأدب والمعتزى اليه خصيص شريف قد رسخت فيهما أعراقه ووشجت وانتسجت بهما همّه وأخلاقه ذاك أبو السرىّ الحسن بن الفضل بن أبى السرىّ الاصبهانىّ «10» سليل السراة وشهاب الكفاة وغيث العفاة زمام الفضائل وقطب الخصائل والأحقّ «11» بقول القائل

كم عارف بى لست أعرفه … ومخبّر «12» عنّى ولم يرنى

يأتيهم خبرى وإن نزحت … دارى وبوعد عنهم وطنى

والى الله أرغب فى إطالة مدّته ورفع درجته وسموّ منزلته إنّه مجيب قريب، (3) وقد عملت له كتابى هذا بصفة أشكال الأرض ومقدارها فى الطول والعرض وأقاليم البلدان ومحلّ الغامر منها والعمران من جميع بلاد الإسلام بتفصيل مدنها وتقسيم ما تفرّد بالأعمال المجموعة اليها، ولم أقصد الأقاليم السبعة التى عليها قسمة الأرض لأنّ الصورة الهنديّة التى بالقواذيان «18» وإن كانت صحيحة فكثيرة التخليط وقد جعلت لكلّ قطعة أفردتها تصويرا
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (১) সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর নেয়ামতরাজির কারণে প্রশংসিত এবং তাঁর দান ও বণ্টনের জন্য কৃতজ্ঞতাভাজন। এবং আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মুহাম্মদ এবং তাঁর পুণ্যবান বংশধরদের ওপর। (২) «৪» অতঃপর, নিশ্চয়ই মহান গুণাবলির শিখরে আরোহণকারী এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার শীর্ষে পৌঁছে বিশুদ্ধতা আস্বাদনকারীদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বাধিক অগ্রগণ্য, যাঁর চারিত্রিক মাধুর্য তাঁকে সবার অগ্রে স্থান দিয়েছে এবং যাঁর অতীত শ্রেষ্ঠত্ব তাঁকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। বর্তমানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী পরাজিত এবং তাঁর বিকল্প অনুপস্থিত। তাঁর নিকট আত্মসমর্পণকারী নিরাপদ এবং তাঁর রশি ধারণকারী স্থিরচিত্ত। তাঁর নিকট আশ্রয়প্রার্থী সফলকাম এবং তাঁর প্রশংসাকারী সত্যবাদী। তিনি জ্ঞান ও জ্ঞানীদের মিত্র, আর আদব বা শিষ্টাচার এবং এর অনুসারীদের জন্য তিনি এক বিশেষ ও অভিজাত ব্যক্তিত্ব। এই দুই গুণের গভীরে তাঁর মূল প্রোথিত এবং তাঁর সংকল্প ও স্বভাব এই দুইয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। তিনি হলেন আবুস সাররি আল-হাসান ইবনুল ফাদল ইবনু আবিল সাররি আল-ইসফাহানি; «১০» আভিজাত্যের বংশধর, যোগ্য ব্যক্তিদের উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাহায্যপ্রার্থীদের জন্য রহমতের বৃষ্টি, গুণাবলির পরিচালক এবং শ্রেষ্ঠত্বের কেন্দ্রবিন্দু। আর নিমোক্ত কবি যা বলেছেন, তার জন্য তিনিই সর্বাধিক উপযুক্ত: «১১»

কতজন আমাকে চেনে যাদের আমি চিনি না … এবং আমার সম্পর্কে সংবাদ দেয় অথচ আমাকে দেখেনি; «১২»

তাদের কাছে আমার সংবাদ পৌঁছে যায় যদিও আমার গৃহ সুদূর … এবং আমার স্বদেশ তাদের থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।

আর আমি আল্লাহর নিকট তাঁর দীর্ঘায়ু, মর্যাদার উচ্চতা এবং সুউচ্চ অবস্থানের প্রার্থনা করি। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা কবুলকারী ও অতি নিকটবর্তী। (৩) আমি তাঁর জন্য আমার এই গ্রন্থটি রচনা করেছি পৃথিবীর আকার-আকৃতি, এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের পরিমাণ, বিভিন্ন দেশের জলবায়ু এবং মুসলিম বিশ্বের সমস্ত অঞ্চলের মধ্য থেকে অনাবাদী ও আবাদী এলাকাগুলোর অবস্থান বর্ণনা করে; যেখানে শহরগুলোর বিস্তারিত বিবরণ এবং প্রশাসনিক এলাকাগুলোর বিভাজন উল্লেখ করা হয়েছে। আমি সেই প্রচলিত সাতটি জলবায়ু বা অঞ্চলের অনুসরণ করার সংকল্প করিনি যার ভিত্তিতে পৃথিবীকে ভাগ করা হয়; কারণ 'কাওয়াযিয়ান' «১৮» অঞ্চলে প্রাপ্ত ভারতীয় মানচিত্রটি যদিও সঠিক, তবে তাতে প্রচুর বিভ্রান্তি রয়েছে। আর আমি (এই গ্রন্থে) প্রতিটি বিচ্ছিন্ন অংশের জন্য পৃথক চিত্র বা মানচিত্র তৈরি করেছি।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৩)
وشكلا يحكى موضع ذلك الإقليم ثمّ ذكرت ما يحيط به من الأماكن والبقاع وما فى أضعافها من المدن والأصقاع وما لها من القوانين والارتفاع وما فيها من الأنهار والبحار وما يحتاج الى معرفته من جوامع ما يشتمل عليه ذلك الإقليم من وجوه الأموال والجبايات والأعشار والخراجات والمسافات فى الطرقات وما فيه من المجالب والتجارات إذ ذلك علم يتفرّد به الملوك الساسة وأهل المروات والسادة من جميع الطبقات، (4) «7» [وكان ممّا حضّنى على تأليفه وحثّنى على تصنيفه وجذبنى الى رسمه أنّى لم أزل فى حال الصبوة شغفا بقراءة كتب المسالك متطلّعا الى كيفيّة البين بين «9» الممالك فى السير والحقائق وتباينهم فى المذاهب والطرائق وكمّيّة «10» وقوع ذلك فى الهمم والرسوم والمعارف والعلوم والخصوص والعموم وترعرعت فقرأت الكتب الجليلة المعروفة والتواليف الشريفة الموصوفة فلم أقرأ فى المسالك كتابا مقنعا وما رأيت فيها رسما متبعا «12» فدعانى ذلك الى تأليف هذا الكتاب واستنطاقى «13» فيه وجوها من القول والخطاب وأعاننى عليه تواصل السفر وانزعاجى عن وطنى مع ما سبق به القدر لاستيفاء الرزق والأثر والشهوة لبلوغ الوطر بجور السلطان وكلب الزمان وتواصل الشدائد على أهل المشرق والعدوان واستئناس سلاطينه بالجور بعد العدل والطغيان وكثرة الجوائح والنوائب وتعاقب الكلف والمصائب واختلال النعم وقحط الديم،] (5) «19» [فبدأت سفرى هذا من مدينة السلام يوم الخميس لسبع خلون من شهر رمضان سنة إحدى وثلثين وثلثمائة وفيه خرج أبو محمّد الحسن بن عبد الله بن حمدان منهزما عنها الى ديار ربيعة من أيدى الأتراك وقد
এবং একটি চিত্র যা সেই অঞ্চলের অবস্থান বর্ণনা করে। অতঃপর আমি তার চারপাশের স্থান ও ভূখণ্ড এবং তার অভ্যন্তরে অবস্থিত শহর ও জনপদসমূহ উল্লেখ করেছি। আরও উল্লেখ করেছি সেখানকার আইন-কানুন ও রাজস্বের পরিমাণ, এবং সেখানকার নদ-নদী ও সমুদ্রসমূহ। সেই সাথে সেই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন প্রকার সম্পদ, কর আদায়, ওশর, খারাজ এবং সড়কসমূহের দূরত্ব সম্পর্কে যা জানা প্রয়োজন তাও বর্ণনা করেছি। আরও বর্ণিত হয়েছে সেখানকার বাণিজ্যকেন্দ্র ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে, কারণ এটি এমন এক বিদ্যা যা কেবল কুশলী শাসকবর্গ, সজ্জন ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের জন্যই বিশেষায়িত। (৪) «৭» [এই গ্রন্থ রচনায় এবং এর বিন্যাসে আমাকে যা উদ্বুদ্ধ ও আকৃষ্ট করেছে তা হলো, আমি শৈশব থেকেই দেশ-বিদেশের পথঘাট বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পাঠে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম। বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যবর্তী অবস্থা, তাদের যাতায়াত ব্যবস্থা ও বাস্তবতা এবং তাদের মাযহাব ও কর্মপন্থাগত বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানতে আমি সদা সচেষ্ট ছিলাম। মানুষের সংকল্প, রীতি-নীতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং সাধারণ ও বিশেষ বিষয়াদির মধ্যে এগুলোর প্রভাব কতটুকু তাও আমার অনুসন্ধিৎসার বিষয় ছিল। অতঃপর আমি যখন বড় হলাম, তখন সুপরিচিত ও মহৎ গ্রন্থসমূহ এবং সুখ্যাত শ্রেষ্ঠ সংকলনগুলো পাঠ করলাম। কিন্তু পথঘাট বিষয়ক গ্রন্থগুলোর মধ্যে এমন কোনো বই পেলাম না যা পর্যাপ্ত হতে পারে, কিংবা এমন কোনো পদ্ধতি দেখলাম না যা অনুসরণযোগ্য। ফলশ্রুতিতে এই বিষয়টিই আমাকে এই গ্রন্থ রচনায় এবং এতে বিভিন্ন প্রকার বক্তব্য ও বর্ণনার অবতারণা করতে প্ররোচিত করেছে। আর আমাকে এতে সহায়তা করেছে আমার নিরবচ্ছিন্ন ভ্রমণ এবং তাকদিরের লিখন অনুযায়ী রিযিক অন্বেষণ ও পদাঙ্ক অনুসরণের প্রয়োজনে নিজ দেশ ত্যাগ করার ঘটনা। সেই সাথে আকাঙ্ক্ষা ছিল কোনোভাবে স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করার। সেই সময় সুলতানের অত্যাচার ও কালের প্রতিকূলতা বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীদের ওপর ক্রমাগত বিপদাপদ ও শত্রুতা বিরাজ করছিল। সেখানকার সুলতানরা ন্যায়বিচারের পরিবর্তে জুলুম ও অবাধ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল। ফলে একের পর এক বিপর্যয়, বড় বড় বিপদ ও মুসিবত আসছিল এবং জনজীবনে নিয়ামতের বিশৃঙ্খলা ও দীর্ঘ অনাবৃষ্টি দেখা দিয়েছিল।] (৫) «১৯» [আমি আমার এই সফর শুরু করি মদিনাতুস সালাম থেকে, ৩৩১ হিজরি সনের রমজান মাসের সাত দিন অতিবাহিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দিনে। সেই সময়েই আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হামদান তুর্কিদের হাত থেকে পরাজিত হয়ে সেখান থেকে দিয়ারে রাবিআর দিকে পলায়ন করেছিলেন এবং...]
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৪)
عملوا على القبض عليه بعد أن استتبّت له الأمور بها واتّسعت به الأحوال فيها وشرفت به الأعمال وتناهى فى الصولة ولقّب بناصر الدولة وأنا من حداثة السنّ وغرّته وفى عنفوان الشباب وسكرته قوىّ البضاعة ظاهر الاستطاعة،] (6) وقد ذكرت فى آخر كتابى هذا كيف «5» تعاورتنى الأسفار واقتطعتنى فى البرّ دون ركوب البحار الى أن سلكت وجه الأرض بأجمعه فى طولها وقطعت وتر الشمس على ظهرها، ووصفت رجالات أهل البلدان وأعيان ملوكها من ذوى السلطان وأهل الإمكان والمقدّمين فى كلّ ناحية وبلد بالإحسان الى ذكر النادرة بعد النادرة من محاسنهم والفضيلة بعد الفضيلة من مكارسهم، (7) ولم أستقص ذلك كراهية الإطالة المؤدّية الى ملال قارئه ولأنّ الغرض فى كتابى هذا تصوير هذه الأقاليم التى لم يذكرها أحد علمته ممّن شاهدها، فأمّا ذكر مدنها وجبالها «13» وأنهارها وبحارها والمسافات فيها وبعض ما أنا ذاكره فقد يوجد فى الأخبار متفرّقا ولا يتعذّر على من أراد تقصّى شىء من ذلك من سافرة أهل كلّ بلد وإن كانت المتعصّبة للبلدان والقبائل جارية على خلاف ما توخّيته [2 ظ] وشرعت فيه ورسمته من قصدها لحقائقها وإيرادها على ما هى عليه من طرائقها،
তারা তাকে বন্দি করার জন্য সচেষ্ট হয়েছিল যখন সেখানে তার সকল বিষয় সুসংহত হয়েছিল, তার অবস্থা বিস্তৃত হয়েছিল, তার মাধ্যমে কর্মকাণ্ডগুলো মর্যাদা লাভ করেছিল এবং তার প্রতাপ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং তাকে 'নাসিরুদ্দৌলা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। আমি তখন অল্পবয়স্ক ও নবীন ছিলাম এবং যৌবনের প্রারম্ভে ও এর মত্ততায় ছিলাম, পর্যাপ্ত জ্ঞান ও স্পষ্ট সক্ষমতার অধিকারী ছিলাম।] (৬) আর আমি আমার এই গ্রন্থের শেষে উল্লেখ করেছি যে, কীভাবে «৫» সফরগুলো একের পর এক আমাকে আচ্ছন্ন করেছিল এবং সমুদ্রযাত্রা ব্যতিরেকেই স্থলের অভ্যন্তরে আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল, শেষ পর্যন্ত আমি পৃথিবীর দৈর্ঘ্য বরাবর এর সমগ্র অংশ পরিভ্রমণ করেছি এবং এর পৃষ্ঠদেশে সূর্যের বৃত্তচাপ অতিক্রম করেছি। আমি বিভিন্ন দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের রাজন্যবর্গের গণ্যমান্য ব্যক্তি যারা ক্ষমতার অধিকারী ও বিত্তশালী ছিলেন, এবং প্রতিটি অঞ্চল ও জনপদে সদাচরণের (ইহসান) মাধ্যমে যারা অগ্রগণ্য ছিলেন তাদের বর্ণনা দিয়েছি। সেই সাথে তাদের গুণাবলির একের পর এক দুর্লভ দৃষ্টান্ত এবং তাদের মহৎ কার্যাবলির একের পর এক শ্রেষ্ঠত্বের কথা উল্লেখ করেছি। (৭) আমি সেই বিষয়গুলো সবিস্তারে বর্ণনা করিনি দীর্ঘসূত্রতার আশঙ্কায় যা পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে, আর কারণ এই যে, আমার এই গ্রন্থের উদ্দেশ্য হলো এমন সব অঞ্চলের চিত্রায়ন করা যা আমার জানামতে প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ইতিপূর্বে কেউ উল্লেখ করেননি। আর শহর, পাহাড় «১৩» নদ-নদী, সমুদ্র, দূরত্বের বিবরণ এবং আমি যা উল্লেখ করছি তার কিছু বিষয় তথ্যের মাঝে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া যেতে পারে; এবং যে ব্যক্তি প্রতিটি দেশের পর্যটকদের থেকে এর কোনো কিছু বিস্তারিত জানতে চায় তার জন্য তা অসম্ভব নয়। যদিও দেশ ও গোত্রপ্রীতির কারণে পক্ষপাতদুষ্টরা আমার সংকল্পিত [২ খ] এবং আমার সূচিত ও অঙ্কিত লক্ষ্যের বিপরীত পথে চলে থাকে, অথচ আমি সেগুলোর প্রকৃত সত্য এবং বাস্তব স্বরূপ অনুযায়ী উপস্থাপনের সংকল্প করেছিলাম।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌[صورة الأرض]

(1) وقد حرّرت ذكر المسافات واستوفيت صور المدن وسائر ما وجب ذكره واتّخذت لجميع الأرض التى يشتمل عليها البحر المحيط الذي لا يسلك صورة تضاهى صورة القواذيان «4» من جهة وتخالفها فى مواضع، وأعربت «5» عن مكان كلّ إقليم ممّا ذكرته واتّصال بعضه ببعض ومقداره كلّ ناحية فى سعتها وصورتها من مقدار الطول والعرض والاستدارة والتربيع والتثليث وسائر ما يكون عليه أشكال تلك الصورة والعمل وموقع كلّ مدينة من مدينة تجاورها وموضعها من شمالها وجنوبها وكونها بالمرتبة من شرقها وغربها ليكتفى الناظر ببيان موقع كلّ إقليم وموضعه ومكانه وما توخّيته من ترتيبه وأشكاله وقصصته من أحواله وأخباره، وقد يقع له فيما كان يعتقده شكّ فى طول الأرض وكبرها وحالها فى تقارب عرضها وطولها وصغرها ولا يقارب هذا التأليف عنده كتاب الجيهانىّ ولا يوافق رسم ابن خرّداذبه وسبيل قارئه أرشده الله أن ينعم النظر فيما شكّ منه ويتأمّله تأمّل من حمل عنه بتحرّى الصدق فيه كثير من غثاثة الناقلين وكذب المسافرين الذين لا يعلمون ولا قصدهم الحقّ فيما يبغون، وليعلم أنّ الأسباب المحرّضة على تأليفه المقتضية لعمله اللذّة بالإصابة فى المقصد والمحبّة للظفر بإبانة كلّ بلد والذكر الجميل من أهل التحصيل فى كلّ مشهد، (2) وقد فصّلت بلاد الإسلام إقليما إقليما وصقعا صقعا وكورة كورة
‌[পৃথিবীর আকৃতি]

(১) আমি দূরত্বের বিবরণ সুবিন্যস্ত করেছি এবং শহরসমূহের চিত্র ও যা কিছু উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল তা পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছি। আমি সমগ্র পৃথিবীর—যাকে অগম্য মহাসাগর বেষ্টন করে আছে—এমন একটি মানচিত্র তৈরি করেছি যা একদিক থেকে কাওয়াজিয়ান মানচিত্রের সদৃশ এবং কিছু স্থানে তার থেকে ভিন্ন। আমি আমার উল্লিখিত প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান, তাদের পারস্পরিক সংযোগ এবং প্রতিটি দিকের বিস্তৃতি ও আকৃতি অনুযায়ী দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বৃত্তাকার, চতুর্ভুজাকার, ত্রিভুজাকার বা অন্য যে কোনো রূপরেখা ও কার্যপ্রণালী বর্ণনা করেছি। এছাড়া প্রতিটি শহর তার পার্শ্ববর্তী শহর থেকে কত দূরে এবং উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের মানদণ্ড অনুযায়ী তার অবস্থান কোথায়, তাও স্পষ্ট করেছি; যাতে পাঠক প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান, স্থান এবং এর বিন্যাস ও আকৃতি সম্পর্কে আমার লক্ষ্য এবং এর অবস্থা ও সংবাদ সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছি, তা থেকেই সম্যক ধারণা লাভ করতে পারে। হয়তো পৃথিবীর দৈর্ঘ্য, বিশালতা এবং এর প্রস্থ ও দৈর্ঘ্যের অনুপাত বা ক্ষুদ্রতা নিয়ে তার মনে আগে থেকে থাকা বিশ্বাসে সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে। তার নিকট এই রচনাটি আল-জাইহানির গ্রন্থের সমতুল্য মনে হবে না এবং ইবনে খুরদাদবেহ-র নকশার সাথেও মিলবে না। এমতাবস্থায় পাঠকের কর্তব্য—আল্লাহ তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করুন—যে বিষয়ে তার সন্দেহ হয়, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা এবং এমন এক সত্যসন্ধানীর মতো তা অনুধাবন করা, যে বর্ণনাকারীদের অসারতা এবং অজ্ঞ ও সত্যবিমুখ পর্যটকদের মিথ্যাচার থেকে সত্যকে পৃথক করে নিয়েছে। তিনি যেন আরও জেনে রাখেন যে, এই গ্রন্থ সংকলনের পেছনে মূল প্রেরণা ও উদ্দেশ্য ছিল উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর আনন্দ, প্রতিটি জনপদের বিবরণ স্পষ্ট করার আকাঙ্ক্ষা এবং জ্ঞানী মহলে সুখ্যাতি অর্জন। (২) আমি ইসলামী ভূখণ্ডসমূহকে প্রতিটি অঞ্চল, এলাকা ও জনপদ অনুযায়ী বিস্তারিতভাবে বিন্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৬)
لكلّ عمل وبدأت بذكر ديار العرب فجعلتها إقليما واحدا لأنّ الكعبة فيها ومكّة أمّ «2» القرى وهى واسطة هذه الأقاليم عندى، وأتبعت ديار العرب بعد أن رسمت فيها جميع ما تشتمل عليه من الجبال والرمال والطرق وما يجاورها من الأنهار المنصبّة الى بحر فارس ببحر فارس لأنّه يحتفّ بأكثر ديارها وشكّلت عطفه عليها ولأنّ بحر فارس يعطف من جزيرة مسقط مغرّبا الى مكّة والى القلزم عن خمسين فرسخا من عمان ويدعى ذلك الموضع رأس الجمجمة، ثمّ ذكرت المغرب ورسمته فى وجهين وبدأت بشكل ما حاز منه أرض مصر الى المهديّة والقيروان وما فى براريّها من المدن وإن قلّت وأعقبتها بباقى صورته من القيروان والمهديّة الى أرض طنجة وازيلى ورسمت على بحره مدنه الساحليّة وشكّلت طرقه الى جميع أنحائها وكيفيّتها مغرّبة ومشرّقة فى سائر جهاتها، ثمّ ذكرت مصر فى شكلين حسب ما جرى رسم المغرب به ولطول العمل أعربت فيهما عن حال مدنها ومواقعها على المياه الجارية فى أرضها وما كان برسمها فى البعد عن المياه وخططتّ «14» جبالها ومياهها بخلجانها وشعبها واتّصال بعضها ببعض وانفصالها الى البحر على حيالها وما يصبّ من ماء الفيّوم الى بحيرة أقنى وتنهمت، ثمّ صوّرت الشأم وأجناده وجباله ومياهه من أنهاره وبحره وما على ساحله من المدن وبحيرة طبريّة وبحيرة زغر «17» وتيه بنى إسرائيل وموقعه من ظاهر الشأم، ثمّ بحر الروم وكيفيّته فى ذاته وشكله فى نفسه وما عليه من الجانب الشرقىّ [2 ب] للروم من المدن والأعمال المحاذية لبلد المغرب وذكرت ما بقلوريه للروم من المدن والانكبرذه والزنقة المعروفة ببلبونس والخليج الخارج من بحر الروم الى المجاز المحيط على القسطنطينيّة «22» ومياه بلد الروم وأكابر أنهاره ومدنه وكنت استوفيت صورة الاندلس «23» فى أشكال المغرب فلم أعد شيئا منها وقد رسمت فى هذا البحر

প্রতিটি কর্মের সূচনার ন্যায় আমি আরব ভূখণ্ডের আলোচনার মাধ্যমে শুরু করেছি এবং একে একটি একক অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছি। কারণ কাবার অবস্থান এখানেই এবং মক্কা হলো উম্মুল কুরা «২» (জনপদসমূহের জননী), যা আমার নিকট এই অঞ্চলসমূহের কেন্দ্রস্থল। আরব ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত পাহাড়, বালুকাময় মরুভূমি, পথঘাট এবং এর পার্শ্ববর্তী পারস্য উপসাগরে পতিত নদীসমূহের মানচিত্র অঙ্কনের পর আমি পারস্য উপসাগরকে এর অনুগামী করেছি। কারণ এটি এই ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকাকে পরিবেষ্টন করে আছে। আমি এর বক্রতাকে সেই অনুযায়ী রূপ দিয়েছি। কেননা পারস্য উপসাগর মাসকাট দ্বীপ থেকে পশ্চিম দিকে মক্কা ও কুলযুমের দিকে ওমান থেকে প্রায় পঞ্চাশ ফরসাখ দূরত্বে বাঁক নিয়েছে, আর সেই স্থানটিকে 'রাস আল-জুমজুমাহ' বলা হয়। এরপর আমি মাগরিব (পাশ্চাত্য) অঞ্চলের উল্লেখ করেছি এবং একে দুটি ভাগে অঙ্কন করেছি। প্রথমে আমি মিশর থেকে মাহদিয়া ও কাইরাওয়ান পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড এবং এর মরুপ্রান্তরের শহরগুলো—সংখ্যায় অল্প হলেও—তার চিত্র দিয়ে শুরু করেছি। এরপর কাইরাওয়ান ও মাহদিয়া থেকে তানজাহ ও আযিলা পর্যন্ত এর বাকি অংশের চিত্র তুলে ধরেছি। এর সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত শহরগুলো আমি অঙ্কন করেছি এবং এর সকল দিকের রাস্তাঘাট ও সেগুলোর পশ্চিম ও পূর্বমুখী বিন্যাস চিত্রিত করেছি। অতঃপর আমি মিশরের বর্ণনা দুটি চিত্রে প্রদান করেছি, যেভাবে মাগরিবের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছিল। বিষয়ের ব্যাপ্তি দীর্ঘ হওয়ার কারণে আমি এতে মিশরের শহরগুলোর অবস্থা, এর প্রবাহমান জলাধারের তীরে অবস্থিত শহরগুলোর অবস্থান এবং পানি থেকে দূরবর্তী শহরগুলোর নকশা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি। আমি এর «১৪» পাহাড়সমূহ এবং এর খাড়ি ও শাখাসমূহসহ জলাশয়গুলো অঙ্কন করেছি, এবং কীভাবে সেগুলো একে অপরের সাথে যুক্ত এবং পৃথকভাবে সমুদ্রে পতিত হয়েছে তাও প্রদর্শন করেছি। এছাড়া ফাইয়ুমের পানি থেকে আকনা ও তানহামাত হ্রদে যা পতিত হয় তাও উল্লেখ করেছি। এরপর আমি শাম (সিরিয়া) দেশ, এর প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী ও সমুদ্রের পানি এবং এর উপকূলীয় শহরসমূহের চিত্র তুলে ধরেছি। সেই সাথে তাবারিয়া হ্রদ, যুগর হ্রদ «১৭» এবং বনী ইসরাঈলের 'তিহ' প্রান্তর ও শামের বহির্ভাগে এর অবস্থানের চিত্র অঙ্কন করেছি। এরপর রোম সাগর (ভূমধ্যসাগর), এর প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ও আকৃতি এবং এর পূর্ব দিকে অবস্থিত [২ খ] রোমানদের শহর ও প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহের বর্ণনা দিয়েছি যা মাগরিব ভূখণ্ডের সমান্তরালে অবস্থিত। আমি রোমানদের অধিকৃত কালুরিয়া (ক্যালাব্রিয়া), আনকাবারদাহ (লম্বার্ডি) ও বালবুনুস (পেলোপোনিস) নামে পরিচিত সংকীর্ণ এলাকা এবং রোম সাগর থেকে কনস্টান্টিনোপল «২২» পরিবেষ্টিত প্রণালী পর্যন্ত বিস্তৃত খাড়ির কথা উল্লেখ করেছি। এছাড়া রোমান ভূখণ্ডের জলাশয়সমূহ, এর প্রধান নদ-নদী ও শহরগুলোর বিবরণ দিয়েছি। মাগরিবের মানচিত্রের বর্ণনায় আমি আন্দালুসের «২৩» চিত্র পূর্ণাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলাম, তাই এখানে আর তার পুনরাবৃত্তি করিনি। আমি এই সাগরের চিত্রে অঙ্কন করেছি...

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৭)
الجزائر المشهورة المسكونة وما دعت الحاجة الى ذكره إذ كان مسكونا مشهورا، ثمّ ذكرت الجزيرة المشهورة المعروفة بديار ربيعة ومضر وبكر وكيفية دجلة والفرات عليها واشتمالهما على حدودها الى ذكر جبالها وسائر طرقها وأحوالها، وأعقبتها بصورة العراق ومياهها وبطائحها وانصباب مياهها الى البحر وما يفرّع ويفرغ اليها من أنهارها، وذكرت خوزستان على حدودها وأنهارها وما اقتضته صورتها وحالها، وقفّيتها بصورة فارس على تصوير جميع أنهارها وبحيراتها ومواقع مدنها وصورة بحرها الى ما عليه من المدن الساحليّة، وأتبعتها بصورة كرمان برّها وبحرها وسهلها وجبلها وسائر طرقها وسبلها، ثمّ صوّرت بلاد السند ومدنها وطرقها وسبلها وبحرها وما عليه من مدنها وأثبتّ فيها نهر مهران وكيفيّة مصنّه عن الملّتان وما يصاقبه من بلاد الهند والإسلام، ثمّ تلوتها بصورة اذربيجان وشكّلت ما فيها من الجبال والطرق والأنهار العذبة كالرسّ والكر الى أن رسمت بحيرة خلاط وبحيرة كبوذان وكلتاهما غير متّصلتين بشيء من البحار وأثبتّ فيها جبل القبق، ثمّ صوّرت الجبال وأعمالها ومواقع بلدانها على ما هى به وما انحذق منها بدخول بعض مفازة خراسان وفارس على حدودها، وذكرت اليها صورة الجيل والديلم وطبرستان وما يليها من بحر الخزر وبعض سبله إذ لم أحط علما بكلّيّته، وأتبعتها بصورة بحيرة طبرستان وجزيرتيها ومصبّ ما اليها من المياه وما يصاقبها من الجبال وكمّيّة ما للإسلام منها وحدود ما لغيره من أقطارها، وشكّلت المفازة التى بين فارس وخراسان وجميع ما فيها من الطرق الى النواحى المجاورة لها والمضافة الى حدودها وما يليها من أعمال سجستان على ما يجاورها من بلاد الغور وجبالها ومصبّ مياهها الى بحيرة زره «22» ، وصورّت خراسان وما فى ضمنها من طخيرستان وجبال الباميان وطوس وقوهستان بجميع مياهها الجارية وجبالها المشهورة ورمالها وطرقها المعروفة، ثمّ صوّرت نهر جيحون وما وراءه من

বিখ্যাত জনবসতিপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জসমূহ এবং যা উল্লেখ করার প্রয়োজন হয়েছে যেহেতু তা জনবসতিপূর্ণ ও সুপরিচিত। অতঃপর আমি দিয়ারে রাবিয়া, মুদার ও বকর নামে পরিচিত প্রসিদ্ধ অঞ্চলটির কথা উল্লেখ করেছি এবং এর উপর দিয়ে দজলা ও ফোরাত নদীর প্রবাহ পদ্ধতি, এর সীমানায় এই নদীদ্বয়ের ব্যাপ্তি, এর পাহাড়সমূহ এবং এর যাবতীয় পথ ও অবস্থা বর্ণনা করেছি। এরপর আমি ইরাকের মানচিত্র, এর জলাশয়সমূহ, জলাভূমিগুলো, সমুদ্রে এর পানি নিষ্কাশন এবং এর নদীসমূহ থেকে যা কিছু শাখা হিসেবে বের হয়েছে বা এতে এসে মিশেছে তা যুক্ত করেছি। আমি খুজিস্তানকে এর সীমানা, নদীসমূহ এবং এর মানচিত্র ও অবস্থার দাবি অনুযায়ী বর্ণনা করেছি। এরপর আমি পারস্যের চিত্র অঙ্কন করেছি, যার মধ্যে এর সকল নদী, হ্রদ, শহরগুলোর অবস্থান এবং এর সমুদ্র ও তার উপকূলবর্তী শহরগুলোর বিবরণ রয়েছে। এর অনুগামী করেছি কিরমানের চিত্রকে; এর স্থলভাগ, জলভাগ, সমভূমি, পাহাড় এবং এর সকল পথ ও পন্থাসহ। অতঃপর আমি সিন্ধু দেশ, এর শহরসমূহ, পথঘাট, সমুদ্র ও তার তীরের শহরগুলোর চিত্র তুলে ধরেছি এবং এতে মেহরান নদী, মুলতান থেকে এর প্রবাহের ধরণ এবং এর পার্শ্ববর্তী হিন্দুস্তান ও ইসলামি দেশগুলোর বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছি। এরপর আমি আজারবাইজানের মানচিত্র বর্ণনা করেছি এবং এর পাহাড়, পথ ও আররাস ও আল-কুর এর মতো সুমিষ্ট নদীগুলোর চিত্র এঁকেছি; সেই সাথে খালাত হ্রদ ও কাবুদান হ্রদ অঙ্কন করেছি—যাদের কোনটিই কোন সমুদ্রের সাথে যুক্ত নয়—এবং এতে কাবক পর্বতমালা অন্তর্ভুক্ত করেছি। এরপর আমি আল-জাবাল প্রদেশ, এর প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ এবং এর শহরগুলোর অবস্থান যেভাবে আছে সেভাবে চিত্রিত করেছি; এছাড়া খুরাসান ও পারস্যের কিছু মরুভূমি এর সীমানায় প্রবেশের ফলে যা আলাদা হয়েছে তাও উল্লেখ করেছি। এর সাথে আমি জিল, দাইলাম ও তাবারিস্তানের মানচিত্র এবং এর সংলগ্ন খাযার সাগর ও এর কিছু পথের কথা উল্লেখ করেছি, যেহেতু আমি এর সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণ অবগত নই। আমি এর সাথে তাবারিস্তান হ্রদ, এর দুটি দ্বীপ, এতে পতিত জলাশয়সমূহ, এর পার্শ্ববর্তী পাহাড়সমূহ, এর কতটুকু অংশ মুসলমানদের অধীনে এবং অন্যান্য প্রান্তের সীমানা চিত্রিত করেছি। আমি পারস্য ও খুরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর সাথে সংযোগকারী সকল পথ চিত্রিত করেছি যা এর সীমানার সাথে যুক্ত, এবং সিজিস্তানের প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ যা গুর অঞ্চল ও এর পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী এবং যুরাহ হ্রদে এর পানির প্রবাহ পদ্ধতি বর্ণনা করেছি। আমি খুরাসান এবং এর অন্তর্ভুক্ত তুখারিস্তান, বামিয়ান পর্বতমালা, তুস ও কুহিস্তানের চিত্র এঁকেছি; এর সকল প্রবাহমান নদী, বিখ্যাত পাহাড়, বালুকা রাশি ও পরিচিত পথসমূহসহ। অতঃপর আমি জাইহুন নদী এবং এর ওপারে অবস্থিত যা কিছু আছে তার চিত্র অঙ্কন করেছি...

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৮)
أعمال بخارا وسمرقند واشروسنه واسبيجاب والشاش وخوارزم الى جميع ما يشتمل عليه من المياه ويحيط به من الطرق والمسالك، (3) [3 ظ] ما فى بطن هذه الورقة صورة جميع الأرض، [3 ب و 4 ظ] إيضاح ما يوجد فى صورة الأرض من الأسماء والنصوص، قد كتب عند طرف الصورة الفوقانىّ الجنوب وتحت ذلك يمنة ويسرة صورة جميع الأرض ومع الطرف الأسفل الشمال، ثمّ مع الطرف الأيمن المغرب ومع الطرف الأيسر المشرق، قد قسمت الأرض قسمين وهما برّ جنوبىّ وبرّ شمالىّ، ورسم فى البرّ الجنوبىّ نهر النيل وكتب على قسمه الجنوبىّ بلد التوبه دنقله وعلوه ثمّ على قسمه الشمالىّ الصعيد الأعلى ثمّ نواحى مصر، وعلى ساحل هذا البرّ عن يمين فوهة النيل بلد المغرب وفوق ذلك فى داخل البرّ أوّلا نواحى برقه واعمالها، ثمّ متصاعدا الى اليمين نواحى سرت واجدابيه، نواحى طرابلس واعمالها، نواحى افريقيه واعمالها، ثمّ فى زاوية البرّ على ساحل البحر المحيط بالأرض بلد طنجه واعمالها، وبعد ذلك تابعا للساحل اودغست للمسلمين، غانه للكفار، كوغه للكفار، سامه للكفار، غريوا للكفار، كزم للكفار، ووراء هذه الأسماء الممالك التى على البحر المحيط، ثمّ على الساحل برارى الجنوب ثمّ فى زاوية البرّ حيث يبتدئ بحر فارس اصل بحر فارس وعلى ساحل هذا البحر بلد الزنج، مفازه بين الزنج والحبشه، بلد الحبشه، وبين ذلك والنيل مفازة البجه وبراريها، وفى الجانب المقابل من النيل الواحات وأعمالها، ويقرأ وراء ذلك فى البرّ بلد ولد جالوت، ثمّ نواحى سجلماسه والسوس الأقصى واغمات، وانفصلت عن البرّ الشمالىّ قطعة فى يمين الصورة بخليج يقرأ عنده خليج قسطنطينيه، ويقرأ فى هذه القطعة بلد الروم مع أنّ أوّل كلمة بلد فى القطعة الأخرى من البرّ، وعلى ساحل القطعة الصغرى فى وسط الخليج القسطنطينيه ويليها على الساحل نواحى مجذونيه، ثمّ كسميلى، بلبونس، بذرنت، جون البنادقين، اذرنت، قلوريه، نواحى الانكبرذه، نواحى افرنجه وجليقيه وفى الزاوية بلد الاندلس، وفى الطرف التحتانىّ من البحر المحيط برارىّ الشمال،
বুখারা, সমরকন্দ, উশরুসানাহ, ইসবিজাব, আশ-শাশ এবং খোয়ারিজম অঞ্চলের প্রশাসনিক এলাকা এবং এতে অন্তর্ভুক্ত সকল জলাশয় এবং একে বেষ্টনকারী সকল পথ ও রাস্তা। (৩) [৩ প] এই পৃষ্ঠার অভ্যন্তরে সমগ্র পৃথিবীর একটি মানচিত্র রয়েছে। [৩ খ ও ৪ প] পৃথিবীর মানচিত্রে বিদ্যমান নাম ও পাঠ্যসমূহের ব্যাখ্যা। মানচিত্রের উপরের প্রান্তে দক্ষিণ দিক লেখা হয়েছে এবং এর নিচে ডানে ও বামে 'সমগ্র পৃথিবীর মানচিত্র' লেখা আছে, আর নিচের প্রান্তে উত্তর দিক লেখা হয়েছে। এরপর ডান প্রান্তে পশ্চিম দিক এবং বাম প্রান্তে পূর্ব দিক। পৃথিবীকে দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে: দক্ষিণ ভূখণ্ড এবং উত্তর ভূখণ্ড। দক্ষিণ ভূখণ্ডে নীল নদ অঙ্কিত হয়েছে এবং এর দক্ষিণ অংশে তাওবা দেশ, দনকলা ও আলওয়া লেখা হয়েছে; এরপর এর উত্তর অংশে উচ্চ মিশর এবং তারপর মিশরের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ। নীল নদের মোহনার ডানে এই ভূখণ্ডের উপকূলে মাগরিব দেশ এবং এর উপরে ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে প্রথমে বারকা অঞ্চল ও এর এলাকাগুলো, তারপর ডানের দিকে ক্রমান্বয়ে সিরত ও আজদাবিয়া অঞ্চল, ত্রিপোলি অঞ্চল ও এর এলাকাগুলো, আফ্রিকা অঞ্চল ও এর এলাকাগুলো। এরপর ভূখণ্ডের কোণে পৃথিবীকে বেষ্টনকারী মহাসাগরের উপকূলে তাঞ্জিয়ার শহর ও এর এলাকাগুলো। এরপর উপকূল অনুসরণ করে মুসলিমদের আওদাগাস্ত, কাফিরদের ঘানা, কাফিরদের কুঘা, কাফিরদের সামাহ, কাফিরদের গারিওয়া, কাফিরদের কাযম; আর এই নামগুলোর পেছনে মহাসাগরের ওপর অবস্থিত রাজ্যসমূহ। এরপর উপকূলে দক্ষিণের মরুভূমিগুলো, তারপর ভূখণ্ডের কোণে যেখানে পারস্য উপসাগর শুরু হয়েছে সেখানে পারস্য উপসাগরের মূল অংশ, আর এই সাগরের উপকূলে যিঞ্জ দেশ, যিঞ্জ ও আবিসিনিয়ার মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তর এবং আবিসিনিয়া দেশ। এর এবং নীল নদের মাঝখানে বেজা মরুপ্রান্তর ও এর মরুভূমিগুলো; নীল নদের বিপরীত দিকে মরূদ্যানসমূহ ও এর এলাকাগুলো; এবং এর পেছনে ভূখণ্ডে 'জালুতের সন্তানদের দেশ' পাঠ করা যায়। এরপর সিজিলমাসা অঞ্চল, সুস আল-আকসা এবং আগমাত। উত্তর ভূখণ্ড থেকে মানচিত্রের ডানে একটি অংশ একটি উপসাগর দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়েছে যার কাছে 'কনস্টান্টিনোপল উপসাগর' পাঠ করা যায়; এই অংশে 'রোম দেশ' পাঠ করা যায় যদিও 'দেশ' শব্দের প্রথম অংশটি ভূখণ্ডের অন্য অংশে রয়েছে। উপসাগরের মাঝখানে এই ছোট খণ্ডের উপকূলে কনস্টান্টিনোপল এবং এর পাশে উপকূল ঘেঁষে মেসিডোনিয়া অঞ্চল, তারপর কাসমিলি, পেলোপোনেসাস, বাদ্রান্ত, ভেনিস উপসাগর, আদ্রান্ত, কালাব্রিয়া, লম্বার্ডি অঞ্চল, ফ্রান্স ও গ্যালিসিয়া অঞ্চল এবং কোণে আন্দালুস দেশ। এবং মহাসাগরের নিচের প্রান্তে উত্তরের মরুভূমিগুলো।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ৯)
وكلمة الشمال هذه كتبت عن يسرة الخليج فى القطعة الأخرى من البرّ الشمالىّ، ويقرأ فى هذه القطعة وراء كلمة الشمال نواحى ياجوج وماجوج ثمّ متصاعدا الى الفوق الصقالبه وهو قسما فى القطعة الصغرى من البرّ ثمّ وراء ذلك فى جهة الشرق البلغار والروس، ثمّ على الخليج نواحى اطرابزنده، ومن فوق النهر المجانب للبلغار والروس بشجرت، البرطاس، الخزر، البجناكيه، البلغار مرّة ثانية ثمّ بلد السرير «5» ، ومن فوق ذلك بلد ارمينيه «6» الداخله والخارجه ويسرة اذربيجان والران، وعن يمين ارمينيه نهر دجله ثمّ الفرات وبينهما الجزيرة وبين الفرات والبحر يقرأ الشام، ثمّ عند مصبّ النهرين العراق ومن فوق ذلك ديار العرب، ثمّ يقرأ عن يسار العراق على البحر خوزستان ثمّ فارس، كرمان، السند ووراء ذلك الجبال، مفازه فارس، سجستان ووراء ذلك الديلم، طبرستان، خوارزم، الغزيه، خراسان، ومحانبا لخراسان نهر جيحون ووراءه ما وراء النهر ويقرأ بعد ذلك من بلد الصين، ثمّ من فوق ذلك الهند وفيه نهر مهران، ثمّ وراء ذلك الخرلخيّه، التبت ووراء ذلك على البحر المحيط خرخيز، التغزغز، بلد الصين، (4) [4 ب] فهذه جميع الارض عامرها وغامرها وهى مقسومة على الممالك وعماد ممالك الأرض أربع فأعمرها وأكثرها خيرا وأحسنها استقامة فى السياسة وتقويم العمارات ووفور الجبايات مملكة ايران شهر وقطبها إقليم بابل وهي مملكة فارس، وكان حدّ هذه المملكة فى أيّام العجم معلوما فلمّا جاء الإسلام أخذت من كلّ مملكة بنصيب فأخذت من مملكة الروم الشأم ومصر والمغرب والاندلس وأخذت من مملكة الصين ما وراء النهر وانضمّت اليها هذه الممالك العظيمة، ومملكة الروم يدخل فيها حدود الصقالبة ومن جاورهم من الروس والسرير واللان والأرمن ومن دان بالنصرانيّة، ومملكة الصين يدخل فيها سائر بلدان الأتراك وبعض التبّت ومن دان بدين أهل الأوثان منهم، ومملكة الهند يدخل فيها السند وقشمير وطرف من التبّت ومن دان بدينهم، ولم أذكر بلدان السودان فى المغرب

এই ‘উত্তর’ শব্দটি উত্তর ভূখণ্ডের অন্য অংশে উপসাগরের বাম দিকে লেখা হয়েছে। এই অংশে ‘উত্তর’ শব্দের পেছনে ইয়াজুজ ও মাজুজের অঞ্চলসমূহ এবং এরপর ঊর্ধ্বাভিমুখে সাকালিবা (স্লাভ) পাঠ করা যায়, যা ভূখণ্ডের ক্ষুদ্র অংশে অবস্থিত। এরপর পূর্ব দিকে বুলগার ও রুসদের অবস্থান। অতঃপর উপসাগরের তীরে আত্রাবজান্দাহর অঞ্চলসমূহ অবস্থিত। বুলগার ও রুসদের পার্শ্ববর্তী নদীর উপর দিকে বাশজারত, বুরতাস, খাজার, বাজানাকিয়্যাহ এবং পুনরায় বুলগার ও তারপর সারির রাজ্য «৫» অবস্থিত। এর উপর দিকে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক আরমিনিয়া «৬» এবং আজারবাইজান ও আর-রানের বাম দিক। আরমিনিয়ার ডান দিকে দজলা নদী, এরপর ফুরাত এবং এই দুইয়ের মাঝে আল-জাজিরা অবস্থিত। ফুরাত ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী স্থানে শাম (সিরিয়া) পাঠ করা যায়। অতঃপর দুই নদীর মোহনায় ইরাক এবং এর উপরে দিয়ারুল আরব (আরব অঞ্চলসমূহ) অবস্থিত। এরপর ইরাকের বাম দিকে সমুদ্রতীরে খুজিস্তান, এরপর ফারস, কিরমান, সিন্দ এবং এর পেছনে পাহাড়, ফারসের মরুভূমি ও সিজিস্তান অবস্থিত। তার পেছনে দাইলাম, তাবারিন্তান, খাওয়ারিজম, আল-গুজিয়্যাহ, খুরাসান এবং খুরাসানের পার্শ্ববর্তী জায়হুন নদী। এর পেছনে মা ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) এবং এরপর চীনের শহরসমূহ পাঠ করা যায়। অতঃপর এর উপর দিকে হিন্দুস্তান, যেখানে মেহরান নদী প্রবাহিত। এর পেছনে খারলাখিয়্যাহ, তিব্বত এবং পরিবেষ্টিত সমুদ্রের তীরে খিরখিজ, তাগুজগুজ ও চীন দেশ অবস্থিত। (৪) [৪ খ] এটিই সমগ্র পৃথিবীর আবাদি ও অনাবাদী অঞ্চলের বিবরণ, যা বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত। পৃথিবীর মূল রাজ্য চারটি। এদের মধ্যে সর্বাধিক জনবহুল, সম্পদে সমৃদ্ধ, উত্তম রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্থাপত্যশৈলী ও রাজস্বের প্রাচুর্যে শ্রেষ্ঠ হলো ‘ইরান শাহর’ সাম্রাজ্য, যার কেন্দ্র হলো বাবেল প্রদেশ এবং এটিই ফারস (পারস্য) সাম্রাজ্য। অনারবদের (আজম) যুগে এই সাম্রাজ্যের সীমানা সুপরিচিত ছিল। অতঃপর যখন ইসলামের আবির্ভাব হলো, তখন এটি প্রতিটি সাম্রাজ্য থেকে অংশ গ্রহণ করল। রোমক সাম্রাজ্য থেকে শাম, মিসর, মাগরিব ও আন্দালুস জয় করল এবং চীন সাম্রাজ্য থেকে মা ওয়ারাউন নহর দখল করল। এভাবে এই বিশাল রাজ্যগুলো এর সাথে যুক্ত হলো। রোমক সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল সাকালিবা সীমান্ত এবং তাদের প্রতিবেশী রুস, সারির, আল-লান, আরমানি ও খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের অঞ্চলসমূহ। চীন সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল তুর্কিদের সকল দেশ, তিব্বতের কিছু অংশ এবং যারা মূর্তিপূজক ছিল তারা। আর হিন্দুস্তান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো সিন্দ, কাশ্মীর, তিব্বতের একাংশ এবং যারা তাদের ধর্ম অনুসরণ করত তারা। আমি মাগরিবের সুদান (কৃষ্ণাঙ্গদের দেশ) সমূহের কথা এখানে উল্লেখ করিনি।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১০)
والبجة والزنج ومن فى أعراضهم من الأمم لأنّ انتظام الممالك بالديانات والآداب والحكم وتقويم العمارات بالسياسة المستقيمة وهؤلاء مهملون فى هذه الخصال ولا حظّ لهم فى شىء من ذلك فيستحقّوا «3» به إفراد ممالكهم بما ذكرت به سائر الممالك، غير أنّ بعض السودان المقاربين هذه الممالك المعروفة يرجعون الى ديانة ورياضة وحكم ويقاربون أهل هذه الممالك كالنوبة والحبشة فإنّهم نصارى يرتسمون مذاهب الروم وقد كانوا قبل الإسلام يتّصلون بمملكة الروم على المجاورة لأنّ أرض النوبة مصاقبة أرض مصر والحبشة على بحر القلزم وبينهما وبين أرض مصر مفاوز معمورة فيها معادن الذهب ويتّصلون بمصر والشأم من طريق بحر القلزم، فهذه الممالك المعروفة ولمّا زادت مملكة الإسلام بما اجتمع اليها من طرائف هذه الممالك المذكورة شرفت وعظمت، (5) وقسمة الأرض على الجنوب والشمال فإذا أخذت من المشرق من الخليج الذي يأخذ من البحر المحيط بأرض الصين الى الخليج الذي يأخذ من هذا البحر المحيط من أرض المغرب بين أرض الاندلس وطنجة فقد قسمت «15» الأرض قسمين وخطّ هذه القسمة يأخذ من بحر الصين حتّى يقطع بلد الهند ووسط مملكة الإسلام حتّى يمتدّ على أرض مصر الى المغرب، فما كان فى حدّ الشمال من هذين القسمين فأهله بيض وكلّما تباعدوا فى الشمال ازدادوا بياضا وهى أقاليم باردة، وما كان ممّا يلى الجنوب من هذين القسمين فأهله سود وكلّما ازدادوا تباعدا «19» فى الجنوب ازدادوا سوادا وأعدل هذه الممالك فى الخطّ المستقيم وما قاربه، (6) وسأذكر كلّ إقليم من ذلك بما يعرف قربه ومكانه من الإقليم الذي يضامّه ويصاقبه إن شاء الله، فأمّا مملكة الإسلام فإنّ شرقيّها أرض الهند وبحر فارس وغربيّها مملكة السودان السكّان على البحر المحيط المتّصلين ببرارىّ اودغست وصحاريها تجاه اوليل «24» وشماليّها بلاد الروم وما يتّصل

বেজা, জাঞ্জ এবং তাদের পার্শ্ববর্তী জাতিসমূহ। কারণ রাজ্যসমূহের শৃঙ্খলা ধর্ম, শিষ্টাচার ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে এবং জনপদসমূহের সংস্কার সঠিক রাজনীতির মাধ্যমে সুসংহত হয়। অথচ তারা এই গুণাবলী থেকে বিচ্যুত এবং এসবে তাদের কোনো অংশ নেই, ফলে তারা তাদের রাজ্যগুলোকে অন্যান্য উল্লিখিত রাজ্যগুলোর মতো স্বতন্ত্রভাবে বর্ণনার যোগ্য মনে করে না। তবে কৃষ্ণকায়দের (সুদান) মধ্যে যারা এই সুপরিচিত রাজ্যগুলোর নিকটবর্তী, তারা ধর্ম, শৃঙ্খলা ও শাসনের অনুসারী এবং তারা এই রাজ্যগুলোর অধিবাসীদের সদৃশ, যেমন নুবিয়া ও হাবশা (আবিসিনিয়া); কেননা তারা খ্রিষ্টান এবং রোমানদের ধর্মমত অনুসরণ করে। ইসলামের পূর্বে তারা প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে রোম সাম্রাজ্যের সাথে সংযুক্ত ছিল, কারণ নুবিয়া ভূমি মিশরের সংলগ্ন এবং হাবশা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত। তাদের এবং মিশর ভূমির মাঝে জনবসতিপূর্ণ মরুপ্রান্তর রয়েছে যাতে স্বর্ণের খনি বিদ্যমান এবং তারা লোহিত সাগরের মাধ্যমে মিশর ও সিরিয়ার সাথে সংযুক্ত। এই হলো সুপরিচিত রাজ্যসমূহ। যখন ইসলামি সাম্রাজ্য এই উল্লিখিত রাজ্যগুলোর বিবিধ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে বিস্তৃত হলো, তখন তা মহিমান্বিত ও মহান হয়ে উঠল।

(৫) উত্তর ও দক্ষিণে পৃথিবীর বিভাজন: আপনি যদি পূর্ব দিকের চীন দেশ বেষ্টনকারী মহাসাগর হতে নির্গত উপসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিম প্রান্তের আন্দালুস ও তাঞ্জিয়ারের মধ্যবর্তী মহাসাগর থেকে নির্গত উপসাগর পর্যন্ত রেখা টানেন, তবে পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত হবে। এই বিভাজন রেখাটি চীন সাগর থেকে শুরু হয়ে হিন্দুস্তান এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে মিশর ভূমি হয়ে পশ্চিম (মাগরিব) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুই অংশের মধ্যে যা উত্তর সীমান্তে অবস্থিত, সেখানকার অধিবাসীরা শ্বেতবর্ণের। তারা উত্তরের দিকে যত অগ্রসর হয়, তাদের শুভ্রতা তত বৃদ্ধি পায় এবং এগুলো শীতল অঞ্চল। আর এই দুই অংশের মধ্যে যা দক্ষিণের দিকে অবস্থিত, সেখানকার অধিবাসীরা কৃষ্ণবর্ণের। তারা দক্ষিণের দিকে যত অগ্রসর হয়, তাদের কৃষ্ণাভতা তত বৃদ্ধি পায়। আর এই রাজ্যগুলোর মধ্যে সমরেখা ও তার নিকটবর্তী অঞ্চলগুলো সবচেয়ে নাতিশীতোষ্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ।

(৬) ইনশাআল্লাহ, আমি এর প্রতিটি অঞ্চলের নৈকট্য এবং তার পার্শ্ববর্তী ও সংলগ্ন অঞ্চলের নিরিখে তার অবস্থান বর্ণনা করব। ইসলামি সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর পূর্বে রয়েছে হিন্দুস্তান ও পারস্য সাগর, পশ্চিমে মহাসাগরের তীরে বসবাসকারী কৃষ্ণকায়দের রাজ্যসমূহ যা আওদাগাস্তের প্রান্তর ও মরুভূমির সাথে সংযুক্ত এবং উলিল এর সম্মুখবর্তী, আর এর উত্তরে রয়েছে রোম সাম্রাজ্য ও তৎসংলগ্ন এলাকা...

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১১)
بها من الأرمن واللّان والران والسرير والخزر والروس والبلغار والصقالبة وطائفة من الترك ومن شمالها بعض مملكة الصين وما اتّصل بها من بلاد الأتراك وجنوبيّها بحر فارس، وأمّا مملكة الروم فإنّ شرقيّها بلاد الإسلام وغربيّها وجنوبيّها البحر المحيط وشماليّها حدود عمل الصين لأنّى ضممت ما بين الأتراك وبلد الروم من الصقالبة وسائر الأمم التى تلى الروم [5 ظ] الى بلد الروم، وأمّا مملكة الصين فإنّ شماليّها وشرقيّها البحر المحيط وجنوبيّها مملكة الإسلام والهند وغربيّها أيضا البحر المحيط لأنّ ياجوج وماجوج ومن اليهم الى البحر المحيط من هذه المملكة، وأمّا أرض الهند فإنّ شرقيّها بحر فارس وغربيّها وجنوبيّها بلاد خراسان وشماليّها مملكة الصين، فهذه حدود هذه الممالك التى ذكرتها، (7) وأمّا البحار فأشهرها اثنان وأعظمها بحر فارس ثمّ بحر الروم وهما خليجان متقابلان يأخذان من البحر المحيط وأفسحهما طولا وعرضا بحر فارس، والذي يقترى بحر فارس من الأرض فمن حدّ الصين الى القلزم فإذا قطعت من القلزم الى الصين على خطّ مستقيم كان مقداره نحو مائتى مرحلة، وكذلك إذا شئت أن تقطع من القلزم الى أقصى حجر «15» بالمغرب على خطّ مستقيم ألفيته مائة وثمانين مرحلة، وإذا قطعت من القلزم الى أرض العراق فى البرّيّة على خطّ مستقيم وشققت أرض السماوة ألفيته نحو شهر ومن العراق الى نهر بلخ نحو شهرين ومن نهر بلخ الى آخر بلاد الإسلام فى حدّ فرغانة نيّف وعشرون مرحلة ومن هناك الى أن تقطع أرض الخرلخيّة كلّها وتدخل فى عمل التغزغز نيّف وثلثون مرحلة ومن هذا المكان الى البحر المحيط من آخر عمل الصين نحو شهرين، وأمّا من أراد قطع هذه المسافة من القلزم الى الصين فى البحر طالت «22» المسافة عليه لكثرة المعاطف والتواء الطرق فى هذه البحور، وأمّا بحر الروم فإنّه يأخذ من البحر المحيط فى الخليج الذي بين المغرب والاندلس حتّى ينتهى الى الثغور التى كانت تعرف بالشأميّة ومقداره فى المسافة نحو أربعة أشهر وهو أحسن استقامة
এতে রয়েছে আরমানি (আর্মেনীয়), আল-লান, আর-রান, আস-সারির, আল-খাজার (খাজার), আর-রুস (রুশ), আল-বুলগার (বুলগার), আস-সাকালেবা (স্লাভ) এবং তুর্কিদের একটি দল। এর উত্তরে চীন সাম্রাজ্যের কিছু অংশ ও এর সাথে সংযুক্ত তুর্কিদের ভূখণ্ড এবং এর দক্ষিণে পারস্য সাগর অবস্থিত। আর রোম সাম্রাজ্যের কথা বলতে গেলে, এর পূর্বে ইসলামি ভূখণ্ড, পশ্চিমে ও দক্ষিণে মহাসাগর এবং উত্তরে চীন সাম্রাজ্যের সীমানা। কারণ আমি তুর্কি ও রোম সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী সাকালেবা (স্লাভ) এবং রোমের পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জাতিসমূহকে [৫ খ] রোম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর চীন সাম্রাজ্যের উত্তরে ও পূর্বে মহাসাগর, দক্ষিণে ইসলামি সাম্রাজ্য ও ভারত এবং পশ্চিমেও মহাসাগর অবস্থিত; কারণ ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং তাদের নিকটবর্তী মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলসমূহ এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। আর হিন্দুস্তান (ভারত) ভূখণ্ডের পূর্বে পারস্য সাগর, পশ্চিমে ও দক্ষিণে খোরাসান অঞ্চল এবং উত্তরে চীন সাম্রাজ্য। এগুলোই হলো সেই সব সাম্রাজ্যের সীমানা যা আমি উল্লেখ করেছি। (৭) আর সমুদ্রসমূহের মধ্যে দুটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও বিশাল: প্রথমত পারস্য সাগর, তারপর রোম (ভূমধ্য) সাগর। এ দুটি হলো মহাসাগর থেকে উৎপন্ন দুটি পরস্পরমুখী উপসাগর, যার মধ্যে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে পারস্য সাগর অধিক প্রশস্ত। পারস্য সাগর স্থলের যে অংশগুলো স্পর্শ করে তা চীনের সীমানা থেকে কুলজুম পর্যন্ত বিস্তৃত। যদি কেউ কুলজুম থেকে চীন পর্যন্ত সরলরেখায় পথ অতিক্রম করে, তবে এর দূরত্ব হবে প্রায় দুইশ মনজিল। একইভাবে তুমি যদি কুলজুম থেকে পশ্চিমের দূরবর্তী পাথর «১৫» পর্যন্ত সরলরেখায় পথ পাড়ি দিতে চাও, তবে তা একশ আশি মনজিল পাবে। আর যদি তুমি কুলজুম থেকে ইরাক ভূখণ্ড পর্যন্ত স্থলপথে সরলরেখায় অগ্রসর হও এবং সামাওয়াহ মরুভূমি অতিক্রম করো, তবে তা প্রায় এক মাসের পথ পাবে। ইরাক থেকে বলখ নদ পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পথ এবং বলখ নদ থেকে ফারগানার সীমান্তে অবস্থিত ইসলামি ভূখণ্ডের শেষ সীমা পর্যন্ত বিশের অধিক মনজিলের পথ। সেখান থেকে সমগ্র খারলুখিয়া অঞ্চল অতিক্রম করে তাগজুজ অঞ্চলে প্রবেশ করা পর্যন্ত ত্রিশের অধিক মনজিলের পথ এবং এই স্থান থেকে চীনের শেষ সীমানায় অবস্থিত মহাসাগর পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের পথ। আর যে ব্যক্তি কুলজুম থেকে চীন পর্যন্ত এই দূরত্ব সমুদ্রপথে অতিক্রম করতে চায়, সমুদ্রের অনেক বাঁক ও আঁকাবাঁকা পথের কারণে তার জন্য এই দূরত্ব অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়। আর রোম সাগর মহাসাগরের সেই উপসাগর থেকে শুরু হয়েছে যা মাগরিব ও আন্দালুসিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং এটি সিরীয় সীমান্ত হিসেবে পরিচিত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর দূরত্বের পরিমাণ প্রায় চার মাসের পথ এবং এটি অধিকতর সোজা।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১২)
واستواء من بحر فارس وذلك أنّك إذا أخذت من فم هذا الخليج أدّتك ريح واحدة الى أكثر هذا البحر، وبين القلزم الذي هو لسان بحر فارس وبين بحر الروم على سمت الفرما ثلث مراحل ويزعم بعض المفسّرين فى قول الله تعالى بينهما برزخ لا يبغيان «4» أنّه هذا الموضع ويزعم أهل التأويل غير ذلك غير أنّ بحر الروم يجاوز الفرما بنيّف وعشرين مرحلة وهو مفصّل فى مسافات المغرب بما يغنى عن إعادته، ومن مصر الى أقصى المغرب نحو مائة وثمنين مرحلة فكأنّ ما بين أقصى الأرض من المغرب الى أقصاها من المشرق نحو أربع مائة مرحلة، (8) وأمّا عرضها من أقصاها فى حدّ الشمال الى أقصاها فى حدّ الجنوب فإنّك تأخذ من ساحل البحر المحيط حتّى تنتهى الى أرض ياجوج وماجوج ثمّ تمرّ على ظهر أرض الصقالبة فتقطع أرض البلغار الداخلة والصقالبة وتمضى فى بلد الروم الى الشأم وأرض مصر والنوبة ثمّ تمتدّ فى برّيّة بين بلاد السودان وبلاد الزنج حتّى تنتهى الى البحر المحيط فهذا خطّ ما بين جنوبىّ الأرض وشماليّها، وأمّا الذي أعلمه من مسافة هذا الخطّ فإنّ من ياجوج الى بلغار وأرض الصقالبة فنحو أربعين مرحلة ومن أرض الصقالبة فى بلد الروم الى الشأم نحو ستّين مرحلة ومن أرض الشأم الى أرض مصر نحو ثلثين مرحلة ومنها الى أقصى النوبة نحو ثمنين مرحلة حتّى تنتهى الى البرّيّة التى لا تسلك فذلك مائتا مرحلة وعشر مراحل كلّها عامرة مسكونة، وأمّا ما بين ياجوج وماجوج والبحر المحيط فى الشمال وما بين برارىّ السودان والبحر المحيط [فى الجنوب] «20» فقفر خراب ما بلغنى أنّ فيه عمارة ولا حيوانا ولا نباتا ولا يعلم مسافة هاتين البرّيّتين الى شطّ البحر كم هى وذلك أنّ سلوكهما غير ممكن لفرط البرد الذي يمنع من العمارة [5 ب] والحياة فى الشمال وفرط الحرّ المانع من العمارة والحياة فى الجنوب، وجميع ما بين المغرب والصين فمعمور كلّه والبحر المحيط محتفّ بالأرض كالطوق ومأخذ بحر فارس وبحر الروم من البحر المحيط،

ফারস সাগরের সমান্তরাল বা সোজা বিস্তার; আর তা হলো, আপনি যখন এই উপসাগরের মোহনা থেকে যাত্রা শুরু করবেন, তখন একটি বাতাসই আপনাকে এই সাগরের অধিকাংশ স্থানে পৌঁছে দেবে। কুলজুম, যা ফারস সাগরের একটি শাখা এবং আল-ফারামা অভিমুখে রুম সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব হলো তিন মনজিল। মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের উভয়ের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করে না" «৪» — এই আয়াতের ব্যাখ্যায় কোনো কোনো মুফাসসির মনে করেন যে, এটি সেই স্থান। তবে তাফসীরবিদগণ এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেন। তবে রুম সাগর আল-ফারামা থেকে বিশের অধিক মনজিল পর্যন্ত বিস্তৃত এবং মাগরিবের দূরত্বের বর্ণনায় এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে যা পুনরায় উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। মিসর থেকে সুদূর মাগরিব পর্যন্ত প্রায় একশ আশি মনজিলের পথ। সুতরাং পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্ব প্রায় চারশ মনজিলের মতো।

(৮) আর উত্তর সীমানার শেষ প্রান্ত থেকে দক্ষিণ সীমানার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এর প্রস্থের বর্ণনা হলো এই যে, আপনি পরিবেষ্টনকারী মহাসাগরের উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে ইয়াজুজ ও মাজুজের ভূমি পর্যন্ত পৌঁছাবেন। তারপর সাকালিবা ভূমির ওপর দিয়ে অতিক্রম করে অভ্যন্তরীণ বুলগার ও সাকালিবা অঞ্চল পাড়ি দেবেন এবং রুম দেশের মধ্য দিয়ে শাম, মিসর ও নুবাহ অভিমুখে অগ্রসর হবেন। অতঃপর সুদান ও জাঞ্জ অঞ্চলের মধ্যবর্তী মরুভূমি দিয়ে প্রসারিত হয়ে পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছাবেন। এটিই হলো পৃথিবীর দক্ষিণ ও উত্তর প্রান্তের মধ্যবর্তী রেখা। এই রেখার দূরত্ব সম্পর্কে আমি যা জানি তা হলো: ইয়াজুজ থেকে বুলগার ও সাকালিবা ভূমি পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ মনজিল। রুম দেশের অন্তর্ভুক্ত সাকালিবা ভূমি থেকে শাম পর্যন্ত প্রায় ষাট মনজিল। শাম থেকে মিসর পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মনজিল এবং মিসর থেকে নুবাহর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় আশি মনজিল, যতক্ষণ না আপনি সেই দুর্গম মরুভূমিতে পৌঁছান যা অতিক্রম করা যায় না। এই মোট দুইশ দশ মনজিল এলাকা আবাদ ও জনবসতিপূর্ণ।

আর উত্তরে ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং [দক্ষিণে] «২০» সুদানের মরুভূমি ও মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল জনমানবহীন ও বিরান; সেখানে কোনো বসতি, প্রাণী বা উদ্ভিদ আছে বলে আমার কাছে সংবাদ পৌঁছায়নি। সমুদ্রতীর পর্যন্ত এই দুই মরুভূমির দূরত্ব কতটুকু তাও জানা যায় না, কারণ উত্তরের প্রচণ্ড শীত যা [৫ ব] বসতি স্থাপনে বাধা দেয় এবং দক্ষিণের চরম উষ্ণতা যা জীবন ও বসতি স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সেই কারণে এই পথ অতিক্রম করা অসম্ভব। মাগরিব থেকে চীন পর্যন্ত মধ্যবর্তী সকল অঞ্চল আবাদ বা জনবসতিপূর্ণ। পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর পৃথিবীকে কঙ্কণের মতো বেষ্টন করে আছে এবং ফারস সাগর ও রুম সাগর এই পরিবেষ্টনকারী মহাসাগর থেকেই উৎপন্ন হয়েছে।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
(9) فأمّا بحر الخزر فليست له مادّة من شىء من ذين البحرين بوجه «1» ولا سبب وقد حكيت عن هذا البحر حكايات كثيرة عن كبار المؤلّفين ولقد قرأت فى غير نسخة لجغرافيّا أنّه يستمدّ من بحر الروم عن بطلميوس وأعوذ بالله أن يكون مثل بطلميوس يذكر المحال أو يصف شيئا بخلاف ما هو به، وهذا البحر فى قرار من الأرض مادّته الماء العذب والذي يفرع اليه ويفرّغ فيه فنهر آتل وهو أكبر موادّه وهو نهر الروس ونهر الكر والرس ومياه الجيل والديلم وطبرستان ونواحى الغزّيّة «7» وجميعها مياه عذبة وإنّما تربتها فاسدة حمّائيّة فالماء يأجن ويأسن فيها لذلك، وهو بحر لو أخذ السائر على ساحله من الخزر على أرض اذربيجان الى الديلم وطبرستان وجرجان والمفازة على جبل سياه كويه لرجع الى مكانه الذي سار منه بغير أن يمنعه مانع من ماء مالح سوى الأنهار العذبة التى ذكرتها، فأمّا بحيرة خوارزم فكذلك أيضا لا تتّصل ببحر غيرها، وفى أراضى الزبح وبلدانهم خلجان وكذلك فى أعراض بلد الروم خلجان وبحار لا تذكر لقصورها عن هذه البحار وكثرتها، وقد أخذ من البحر المحيط خليج يمرّ على ظهر بلد الصقالبة ويقطع أرض الروم على القسطنطينيّة «15» حتّى يفرع فى بحر الروم «16» ، (10) وأرض الروم حدّها من هذا البحر المحيط على بلد الجلالقة «17» وافرنجه وروميه «18» واثيناس الى القسطنطينيّة ثمّ الى أرض الصقالبة ويشبه أن يكون نحو مائة وسبعين مرحلة وذلك أنّ من حدّ الثغور فى الشمال الى أرض الصقالبة نحو شهرين وقد ثبت أنّ من أقصى الجنوب الى أقصى الشمال مائتى مرحلة وعشر مراحل، والروم المحض من حدّ رومية «21» الى حدّ الصقالبة

(৯) আর খাজার সাগরের (কাস্পিয়ান সাগর) কথা বলতে গেলে, এই দুই সাগরের কোনোটি হতেই কোনোভাবে বা কোনো কারণে এর সাথে কোনো সংযোগ নেই। বড় বড় লেখকদের থেকে এই সাগর সম্পর্কে অনেক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। আমি ভূগোলের একাধিক পাণ্ডুলিপিতে টলেমি সূত্রে পড়েছি যে, এই সাগরটি রোম সাগর (ভূমধ্যসাগর) থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। কিন্তু টলেমি অসম্ভব কিছু উল্লেখ করবেন অথবা কোনো বিষয়কে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীতে বর্ণনা করবেন—এ থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। এই সাগরটি ভূমির একটি গভীর অববাহিকায় অবস্থিত। এর মূল জোগান হচ্ছে মিঠা পানি, যা এখানে এসে মিলিত ও পতিত হয়। আতেল (ভোলগা) নদী এর বৃহত্তম পানির উৎস, যা মূলত রুশদের নদী। এছাড়া কুর নদী, রাস নদী এবং জিলান, দাইলাম, তাবারিস্তান ও গুজ্জিয়া অঞ্চলের পানিরাশিও এতে পতিত হয়। এর সবই হলো মিঠা পানি। তবে এর তলদেশের মাটি দূষিত ও পচা কাদাটে হওয়ার কারণে পানি এখানে বিস্বাদ ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যায়। এটি এমন এক সাগর যে, কোনো পথিক যদি খাজার থেকে আজারবাইজান ভূখণ্ড হয়ে দাইলাম, তাবারিস্তান, জুরজান এবং সিয়াহ কুয়াহ পাহাড় সংলগ্ন মরুভূমি দিয়ে এর উপকূল ধরে হাঁটতে থাকে, তবে সে তার যাত্রারম্ভের স্থানেই ফিরে আসতে পারবে। উল্লিখিত মিঠা পানির নদীগুলো ছাড়া অন্য কোনো লোনা পানি তার পথ রোধ করবে না। আর খাওয়ারিজম হ্রদের (আরল সাগর) বিষয়টিও অনুরূপ; এটিও অন্য কোনো সাগরের সাথে যুক্ত নয়। জাবাজ ভূখণ্ড ও তাদের দেশসমূহে অনেক উপসাগর রয়েছে। একইভাবে রোম সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেও এমন অনেক উপসাগর ও সাগর রয়েছে যা এই সাগরগুলোর তুলনায় ছোট হওয়ায় এবং সংখ্যায় অনেক হওয়ার কারণে উল্লেখ করা হয়নি। সমুদ্র-ই-মুহিত (মহাসাগর) থেকে একটি উপসাগর বের হয়েছে যা সাকালেবা (স্লাভ) ভূখণ্ডের পেছন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কন্সটান্টিনোপলের ওপর দিয়ে রোম সাম্রাজ্যকে অতিক্রম করেছে এবং শেষ পর্যন্ত রোম সাগরে গিয়ে পতিত হয়েছে।

(১০) এই মহাসাগর থেকে রোম সাম্রাজ্যের সীমানা শুরু হয়েছে জালালেকা (গ্যালিসিয়া), ইফরাঞ্জা (ফ্রান্স), রুমিয়াহ (রোম) এবং আথিনাস (এথেন্স) হয়ে কন্সটান্টিনোপল পর্যন্ত; এরপর সাকালেবা ভূখণ্ড পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। এর দূরত্ব সম্ভবত প্রায় একশ সত্তর মারহালা (মঞ্জিল)। কারণ উত্তরের সীমান্ত এলাকা থেকে সাকালেবা ভূখণ্ড পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে প্রায় দুই মাস সময় লাগে। এটি প্রমাণিত যে, সুদূর দক্ষিণ থেকে সুদূর উত্তর পর্যন্ত মোট দূরত্ব দুইশ দশ মারহালা। আর খাঁটি রোম সাম্রাজ্য হচ্ছে রুমিয়াহর সীমান্ত থেকে সাকালেবা ভূখণ্ডের সীমান্ত পর্যন্ত।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وما ضممته الى بلد الروم من الافرنجه والجلالقة وغيرهم فإنّ لسانهم مختلف غير أنّ الدين والمملكة واحد كما أنّ لمملكة الإسلام ألسنة والبلد واحد، (11) ومملكة الصين على ما يزعم [أبو إسحاق الفارسىّ «3» و] أبو إسحاق إبراهيم بن البتكين حاجب صاحب خراسان أربعة أشهر فى ثلثة أشهر، فإذا أخذت من فم الخليج حتّى تنتهى الى دار الإسلام بما وراء النهر فهو نحو ثلثة أشهر وإذا أخذت من حدّ المشرق حتّى تقطع الى حدّ المغرب فى أرض التبّت وتمتدّ فى أرض التغزغز وخرخيز وعلى ظهر كيماك الى البحر فهو نحو أربعة أشهر، ولمملكة الصين ألسنة مختلفة وجميع الأتراك من التغزغز وخرخيز وكيماك والغزّيّة والخرلخيّة فألسنتهم واحدة وبعضهم يفهم عن بعض، ولأرض الصين والتبّت لسان مخالف لهذه الألسنة كألسنة صنهاجة اودغست «11» وأهل سرت وأهل قسطيليه وغيرهم من البربر فإنّ لهم ألسنة خاصّيّة ولسان البربر يجمعهم ويفهم بعضهم عن بعض به، ومملكة الصين كلّها منسوبة الى صاحب الصين المقيم بخمدان «13» كما مملكة الروم منسوبة الى الملك المقيم بالقسطنطينيّة ومملكة الهند منسوبة الى الملك المقيم بقنّوج كنسبة مملكة الإسلام الى الملك المقيم ببغداد، (12) وفى ديار الأتراك ملوك متميّزون بممالكهم فأمّا الغزّيّة فإنّ حدود ديارهم ما بين الخزر وكيماك وأرض الخرلخيّة وبلغار وحدود دار الإسلام «17» ما بين [6 ظ] جرجان الى باراب واسبيجاب، وديار الكيماكيّة وهم من وراء الخرلخيّة فى ناحية الشمال فيما بين الغزّيّة وخرخيز «19» وظهر الصقالبة، فأمّا ياجوج فهم «20» فى ناحية الشمال إذا قطعت ما بين الصقالبة والكيماكيّة والله أعلم بمقاديرهم وبلادهم جبال شاهقة لا يتوقّلها الدوابّ ولا يرتقيها

আমি রোম সাম্রাজ্যের সাথে ইফ্রাঞ্জা (ফ্রাঙ্ক), জালালিকাহ (গ্যালিসীয়) এবং অন্যদের যা কিছু যুক্ত করেছি, তাদের ভাষা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও তাদের ধর্ম এবং রাজত্ব এক, ঠিক যেমন ইসলামি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ভাষা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র এক। (১১) চীন সাম্রাজ্য সম্পর্কে আবু ইসহাক আল-ফারসি এবং খুরাসানের অধিপতির হাজিব (দ্বাররক্ষী) আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আল-বাতকিন যা দাবি করেন, তা হলো এটি চার মাস ও তিন মাসের পথ। যদি উপসাগরের মুখ থেকে শুরু করে মা-ওয়ারাউন নহর তথা ইসলামি ভূখণ্ডের সীমা পর্যন্ত যাওয়া হয়, তবে তা প্রায় তিন মাসের পথ। আর যদি পূর্ব সীমান্ত থেকে শুরু করে তিব্বত ভূখণ্ড হয়ে পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত অতিক্রম করা হয় এবং যা তুজগুজ ও খিরখিজ ভূখণ্ড হয়ে কিমাক অঞ্চলের পেছন দিয়ে সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত, তবে তা প্রায় চার মাসের পথ। চীন সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ভাষা রয়েছে। অন্যদিকে তুজগুজ, খিরখিজ, কিমাক, গুজ্জিয়া এবং কারলুখিয়া—এসব তুর্কি গোত্রের ভাষা এক এবং তারা একে অপরের কথা বুঝতে পারে। চীন ও তিব্বত অঞ্চলের ভাষা এই ভাষাগুলো থেকে ভিন্ন, ঠিক যেমন সানহাজা আওদাগাস্ত, সিরত ও কাসতিলিয়ার অধিবাসী এবং অন্যান্য বারবারদের ভাষা। তাদের নিজস্ব বিশেষ ভাষা রয়েছে, তবে বারবার ভাষা তাদের সবাইকে একত্রিত করে এবং এর মাধ্যমে তারা একে অপরের কথা বুঝতে পারে। সমগ্র চীন সাম্রাজ্য খামদানে অবস্থানকারী চীনের অধিপতির দিকে সম্বন্ধযুক্ত, ঠিক যেভাবে রোম সাম্রাজ্য কনস্টান্টিনোপলে অবস্থানকারী সম্রাটের দিকে, হিন্দুস্তান সাম্রাজ্য কনৌজে অবস্থানকারী রাজার দিকে এবং ইসলামি সাম্রাজ্য বাগদাদে অবস্থানকারী শাসকের দিকে সম্বন্ধযুক্ত। (১২) তুর্কি ভূখণ্ডে এমন অনেক রাজা রয়েছেন যারা নিজ নিজ রাজ্যের মাধ্যমে স্বতন্ত্র। গুজ্জিয়াদের কথা বলতে গেলে, তাদের ভূখণ্ডের সীমানা হলো খাজার, কিমাক, কারলুখিয়া ও বুলগার ভূখণ্ড এবং ইসলামি ভূখণ্ডের সীমানা যা জুরজান থেকে ফারাব ও আসবিজাব পর্যন্ত বিস্তৃত। আর কিমাকদের ভূখণ্ড কারলুখিয়াদের পেছনে উত্তর দিকে অবস্থিত, যা গুজ্জিয়া ও খিরখিজ এবং সাকালিবা (স্লাভ) অঞ্চলের পেছনে অবস্থিত। আর ইয়াজুজদের কথা বলতে গেলে, সাকালিবা ও কিমাকদের মধ্যবর্তী অঞ্চল অতিক্রম করলে তারা উত্তর দিকে অবস্থান করে। আল্লাহই তাদের সংখ্যা ও তাদের দেশ সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত; তাদের দেশটি সুউচ্চ পাহাড়ে ঘেরা যেখানে গবাদি পশু চলতে পারে না এবং কেউ সেখানে আরোহণ করতে পারে না।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلّا الرّجالة ولم ألق بهم أخبر من إبراهيم بن البتكين حاجب صاحب خراسان فأخبرنى أنّ تجاراتهم إنّما تصل اليهم على ظهور الرجال وأصلاب المعز وأنّ تجّارهم من نواحى خوارزم ربّما أقاموا فى صعود جبل ونزوله الأسبوع والعشرة الأيّام، وأمّا خرخيز فإنّهم ما بين التغزغز وكيماك والبحر المحيط وأرض الخرلخيّة والغزّيّة، وأمّا التغزغز فقبيل عظيم لهم دار واسعة ما بين التبّت وأرض الخرلخيّة وخرخيز ومملكة الصين، والصين ما بين البحر المحيط والتغزغز والتبّت والخليج الفارسىّ، وأرض الصقالبة عريضة طويلة نحو شهرين فى مثلها، وبلغار مدينة صغيرة ليس لها أعمال كثيرة وكانت مشهورة لأنّها كانت فرضة لهذه الممالك فاكتسحها الروس وأتوا على خزران وسمندر واتل فى سنة ثمان وخمسين وثلثمائة وساروا من فورهم الى بلد الروم والاندلس وافترقوا فرقتين، والروس قوم همج سكّان بناحية بلغار فيما بينهم وبين الصقالبة على نهر اتل، وقد انقطعت طائفة من الترك عن بلادهم فصاروا بين الخزر والروم يقال لهم البجناكيّة وليس موضعهم بدار لهم على قديم الأيّام وإنّما انتابوها فغلبوا عليها وهم شوكة الروسيّة وأحلافهم وهم الخارجون قديما الى الاندلس ثمّ الى برذعه، والخزر اسم لجنس من الناس وكان بلدهم صغيرا ذا جانبين يسمّى اتل «16» أحد جانبيها باسم النهر والجانب الآخر خزران وهذا النهر يجرى من بلد الروس وليس لهذا المصر كثير رساتيق ولا سعة مملكة وهو بلد بين بحر الخزر والسرير «18» والروس والغزّيّة، والتبّت بين أرض الصين والهند وأرض الخرلخيّة والتغزغز وبحر فارس وبعضهم فى مملكة الهند وبعضهم فى مملكة الصين ولهم ملك قائم بنفسه يقال أنّ أصله من التبابعة والله أعلم، (13) وأمّا جنوبىّ الأرض من بلاد السودان فإنّ بلدهم الذي فى أقصى المغرب على البحر المحيط بلد ملتفّ ليس بينه وبين شئ من الممالك اتّصال غير أنّ حدّا له ينتهى الى البحر المحيط وحدّا له ينتهى الى برّيّة بينه وبين أرض المغرب وحدّا له ينتهى الى برّيّة بينه وبين أرض مصر
কেবল পদাতিক বাহিনী ব্যতীত। আমি তাদের সম্পর্কে খুরাসানের অধিপতির হাজিব ইব্রাহিম ইবন আল-বাতকিনের চেয়ে অধিক অভিজ্ঞ কাউকে পাইনি। তিনি আমাকে অবহিত করেছেন যে, তাদের পণ্যসামগ্রী কেবল পুরুষদের পিঠ এবং ছাগলের পিঠের ওপর ভর করে তাদের নিকট পৌঁছায়। তাদের ব্যবসায়ীরা খাওয়ারিজমের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে এসে কোনো পাহাড়ে আরোহণ ও অবতরণ করতেই সম্ভবত এক সপ্তাহ বা দশ দিন সময় ব্যয় করে। আর খিরখিজদের অবস্থান হলো তুগুজগুজ, কিমাক, মহাসাগর এবং কারলুক ও ঘুযদের ভূমির মধ্যবর্তী এলাকায়। তুগুজগুজ একটি বিশাল গোত্র, তাদের এক প্রশস্ত আবাসভূমি রয়েছে যা তিব্বত, কারলুক ভূমি, খিরখিজ এবং চীন সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। চীন মহাসাগর, তুগুজগুজ, তিব্বত এবং পারস্য উপসাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। স্লাভদের ভূমি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে প্রায় দুই মাসের পথ। বুলগার একটি ছোট শহর, এর খুব বেশি প্রশাসনিক এলাকা নেই; তবে এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল কারণ এটি এই রাজ্যগুলোর জন্য একটি বন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। অতঃপর রুশরা এটি লণ্ডভণ্ড করে দেয় এবং তারা ৩৫৮ হিজরি সনে খাযরান, সামান্দার ও আতিল দখল করে। তারা সেখান থেকে দ্রুত রোম এবং আন্দালুসের দিকে যাত্রা করে এবং দুই দলে বিভক্ত হয়ে যায়। রুশরা এক অসভ্য জাতি যারা বুলগারের পার্শ্ববর্তী এলাকায়, তাদের এবং স্লাভদের মধ্যবর্তী আতিল নদীর তীরে বসবাস করে। তুর্কিদের একটি দল তাদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে খাযার ও রোমের মধ্যবর্তী স্থানে চলে আসে, যাদের বাজনাকিয়া বলা হয়। প্রাচীনকালে এই স্থানটি তাদের মূল আবাসভূমি ছিল না, বরং তারা সেখানে হানা দিয়ে তা দখল করে নেয়। তারা রুশদের প্রধান শক্তি ও তাদের মিত্র এবং তারাই অতীতে আন্দালুস ও পরবর্তীতে বারদায়ার দিকে অগ্রসর হয়েছিল। খাযার হলো একটি মানব জাতির নাম এবং তাদের দেশ ছিল ছোট ও দুই অংশে বিভক্ত, যাকে আতিল «১৬» বলা হতো। এর এক অংশের নাম ছিল নদীর নামে এবং অন্য অংশের নাম ছিল খাযরান। এই নদীটি রুশদের দেশ থেকে প্রবাহিত হয়। এই শহরের খুব বেশি গ্রাম বা বিশাল কোনো সাম্রাজ্য নেই। এটি খাযার সাগর, সারির «১৮», রুশ ও ঘুযদের মধ্যবর্তী একটি দেশ। তিব্বত হলো চীন, ভারত, কারলুক ভূমি, তুগুজগুজ এবং পারস্য সাগরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। তাদের কিছু অংশ ভারত সাম্রাজ্যে এবং কিছু অংশ চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। তাদের একজন স্বাধীন রাজা রয়েছেন যার মূল বা বংশধারা তুব্বা রাজবংশ থেকে আগত বলে বলা হয়। আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ। (১৩) আর পৃথিবীর দক্ষিণাঞ্চলীয় সুদানিদের দেশ সম্পর্কে বলা যায় যে, তাদের যে দেশ সুদূর পশ্চিমে মহাসাগরের তীরে অবস্থিত, তা একটি অরণ্যসংকুল এলাকা যার সাথে অন্য কোনো রাজ্যের সরাসরি সংযোগ নেই। তবে এর এক সীমানা মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, এক সীমানা মাগরিব ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী মরুভূমি পর্যন্ত এবং অন্য এক সীমানা মিশর ভূখণ্ডের মধ্যবর্তী মরুভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
على ظهر الواحات وحدّا له ينتهى الى البرّيّة التى ذكرت أنّها لا تنبت ولا عمارة فيها لشدّة الحرّ، وطول أرضهم ألف فرسخ فى نحوها عرضا غير أنّها الى البحر لا الى ظهر الواحات أطول من عرضها، وأرض النوبة فلها حدّ الى أرض مصر من نواحى الصعيد وحدّ الى هذه البرّيّة التى [بين أرض السودان ومصر وحدّ لها الى أرض البجة وبرارىّ بينها وبين القلزم وحدّ لها الى هذه البرّيّة التى] «6» لا تسلك، وأرض البجة فديار صغيرة العرض طويلة تمرّ فى الجنوب بين نهر النيل وبحر القلزم وهم فيما بين الحبشة والنوبة من حدود قوص الى البرّيّة التى لا تسلك وعدد رجالهم وذكر حالهم وملوكهم واعتقاداتهم وما تقلّبت بهم الحال عليه فى الإسلام كثير طريف ولا أعرف لهم فى سيرة من السير ذكرا وسآتى من أخبارهم بجمل يستحسنها من اعترضها عند الحاجة اليه، [وأمّا الحبشة فإنّها على بحر القلزم وهو بحر فارس فينتهى حدّ لها الى بلاد الزنج وحدّ لها الى البرّيّة التى بين النوبة وبحر القلزم وحدّ لها الى البجة والبرّيّة التى لا تسلك،] «13» وأرض الزنج أطول أراضى السودان ولا تتّصل بمملكة [6 ب] [غير الحبشة]- «14» والحبشة ناحية ومملكة عريضة لهم فى وقتنا هذا ملكة لهم عليهم نحو ثلثين سنة وأخبارها من ظرائف الأخبار- «16» وهى تجاه اليمن وفارس وكرمان الى أن تحاذى بعض أرض الهند، وأرض الهند تجاه بلاد الزنج من جانب بحر فارس الشرقىّ وطولها من عمل مكران فى أرض المنصورة والسند هند وهم البدهه وسائر بلدان السند الى أن تنتهى الى قنوج ويجوزها «19» الى أرض التبّب نحو أربعة أشهر وعرضها من بحر فارس على أرض قنوج نحو ثلثة أشهر، (14) ومملكة الإسلام فى حيننا هذا ووقتنا فإنّ طولها من حدّ فرغانه
মরূদ্যানসমূহের উপরিভাগে এবং এর একটি সীমানা সেই মরুপ্রান্তর পর্যন্ত শেষ হয়েছে যার সম্পর্কে আমি উল্লেখ করেছি যে, তীব্র উত্তাপের কারণে সেখানে কোনো উদ্ভিদ জন্মে না এবং কোনো জনবসতিও নেই। তাদের ভূমির দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার ফারসাখ এবং প্রস্থও তদ্রূপ, তবে সমুদ্রের দিকে অর্থাৎ মরূদ্যানসমূহের উপরিভাগের দিকের চেয়ে এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের তুলনায় অধিক। নূবা (নুবিয়া) ভূমির একটি সীমানা সায়ীদ অঞ্চলের দিক থেকে মিসরীয় ভূমির সাথে যুক্ত, একটি সীমানা সেই মরুপ্রান্তরের সাথে যা [সুদান ও মিসরের মধ্যবর্তী, আরেকটি সীমানা বাজা (বেজা) ভূমি এবং বাজা ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী মরুভূমির সাথে এবং একটি সীমানা সেই মরুপ্রান্তরের সাথে যা] অতিক্রম করা সম্ভব নয়। বাজা ভূখণ্ড হলো প্রস্থে সংকীর্ণ কিন্তু দৈর্ঘ্যে দীর্ঘ এক আবাসস্থল যা দক্ষিণে নীল নদ ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। তারা হাবাশা (আবিসিনিয়া) ও নূবার মধ্যবর্তী স্থানে কূস-এর সীমানা থেকে শুরু করে সেই অগম্য মরুপ্রান্তর পর্যন্ত অবস্থান করে। তাদের জনবল, তাদের অবস্থা, তাদের রাজন্যবর্গ ও বিশ্বাস এবং ইসলাম আসার পর তাদের অবস্থার যে পরিবর্তন ঘটেছে তা অত্যন্ত বিস্ময়কর ও প্রচুর। আমি ইতিহাসের কোনো জীবনচরিতে তাদের তেমন কোনো উল্লেখ পাইনি, তবে প্রয়োজনবোধে আমি তাদের সংবাদ থেকে এমন কিছু সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করব যা পাঠকদের নিকট পছন্দনীয় হবে। [আর হাবাশা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত যা পারস্য সাগরেরই একটি অংশ; এর একটি সীমানা জাঞ্জ (জাঞ্জিবার) দেশ পর্যন্ত, একটি সীমানা নূবা ও লোহিত সাগরের মধ্যবর্তী মরুপ্রান্তর পর্যন্ত এবং একটি সীমানা বাজা ও সেই অগম্য মরুপ্রান্তর পর্যন্ত পৌঁছেছে।] জাঞ্জ ভূমি সুদানীদের ভূমির মধ্যে দীর্ঘতম এবং এটি [হাবাশা ব্যতীত] অন্য কোনো রাজ্যের সাথে সংযুক্ত নয়। হাবাশা একটি বিশাল অঞ্চল ও বিস্তৃত রাজ্য; আমাদের বর্তমান সময়ে তাদের একজন নারী শাসক রয়েছেন যিনি প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তাদের ওপর রাজত্ব করছেন এবং তার সংবাদসমূহ অত্যন্ত চমৎকার। এটি ইয়ামেন, পারস্য ও কিরমানের বিপরীতে অবস্থিত এবং ভারতের কিছু ভূমি পর্যন্ত সমান্তরালভাবে বিস্তৃত। ভারত ভূখণ্ড পারস্য সাগরের পূর্ব দিক থেকে জাঞ্জ দেশের বিপরীতে অবস্থিত। এর দৈর্ঘ্য মানসূরা ও সিন্ধু-হিন্দ (যা বুদহা নামে পরিচিত) অঞ্চলের মাকরান থেকে শুরু করে সিন্ধুর অন্যান্য শহর হয়ে কনৌজ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং যা অতিক্রম করে তিব্বত ভূমি পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রায় চার মাস সময় লাগে। আর পারস্য সাগর থেকে কনৌজ ভূমি পর্যন্ত এর প্রস্থ প্রায় তিন মাসের পথ। (১৪) আর আমাদের বর্তমান সময়ে ইসলামি সাম্রাজ্যের দৈর্ঘ্য ফারগানা সীমান্ত থেকে...
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
حتّى يقطع خراسان والجبال والعراق وديار العرب الى سواحل اليمن فهو نحو خمسة أشهر وعرضها من بلد الروم حتّى يقطع الشأم والجزيرة والعراق وفارس وكرمان الى أرض المنصورة على شطّ بحر فارس نحو أربعة أشهر، وإنّما تركت فى ذكر طول الإسلام حدّ المغرب الى الاندلس «4» لأنّه كالكمّ فى الثوب وليس فى شرقىّ المغرب ولا فى غربيّه إسلام لأنّك إذا جاوزت مصر فى أرض المغرب كان جنوبىّ المغرب بلاد السودان وشماله بحر الروم ثمّ أرض الروم، ولو صلح أن يجعل طول الإسلام من فرغانه الى أرض المغرب والاندلس لكان مسيرة ثلثمائة مرحلة لأنّ من فرغانه الى وادى بلخ نيّفا وعشرين مرحلة ومن وادى بلخ الى العراق نحو ستّين مرحلة ومن العراق الى مصر نحو ثلثين مرحلة وقد ثبت فى مسافات المغرب أنّ من مصر الى أقاصى المغرب مائة وثمانين مرحلة ومن مصر الى أن تحاذى آخر أرض الاندلس بأعمال طنجة نصف هذه المسافة، ولمّا قصدت تفصيل بلاد الإسلام إقليما إقليما ليعرف موضع كلّ إقليم من مكانه وما يجاوره من سائر الأقاليم ولم تتّسع هذه الصورة التى جمعت سائر الأقاليم لما يستحقّه كلّ إقليم فى صورته من مقدار الطول والعرض والاستدارة والتربيع والتثليث وما يكون عليه أشكاله جعلت لكلّ إقليم مكانا يعرب عن حاله [وما يجاوره من سائر الأقاليم ثمّ أفردت لكلّ إقليم منها صورة على حدة بيّنت فيها شكل ذلك الإقليم وما يقع فى أضعافه من المدن وسائر ما يحتاج الى علمه] «19» ممّا آتى على ذكره فى موضعه إن شاء الله،

যতক্ষণ না এটি খোরাসান, জিবাল, ইরাক এবং আরব ভূখণ্ড অতিক্রম করে ইয়ামেনের উপকূল পর্যন্ত পৌঁছায়, যা প্রায় পাঁচ মাসের পথ; এবং এর প্রস্থ রোম দেশ থেকে শুরু করে সিরিয়া, আল-জাজিরা, ইরাক, ফারস এবং কিরমান অতিক্রম করে পারস্য সাগরের তীরে অবস্থিত মানসুরা ভূমি পর্যন্ত প্রায় চার মাসের পথ। আমি ইসলামের দৈর্ঘ্যের বর্ণনায় মাগরিবের সীমান্ত থেকে আন্দালুস পর্যন্ত অংশটি বাদ দিয়েছি «4», কারণ এটি পোশাকে আস্তিনের মতো। মাগরিবের পূর্ব বা পশ্চিম দিকে কোনো ইসলামি এলাকা নেই, কারণ আপনি যখন মিশর পার হয়ে মাগরিবের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবেন, তখন মাগরিবের দক্ষিণে সুদানের দেশসমূহ এবং উত্তরে রোম সাগর ও রোম দেশ অবস্থিত। যদি ফারগানা থেকে মাগরিব ও আন্দালুস পর্যন্ত ইসলামের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করা সঙ্গত হতো, তবে তা তিনশত মনজিলের পথ হতো। কারণ ফারগানা থেকে বলখ উপত্যকা পর্যন্ত বিশের কিছু বেশি মনজিল, বলখ উপত্যকা থেকে ইরাক পর্যন্ত প্রায় ষাট মনজিল এবং ইরাক থেকে মিশর পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মনজিলের পথ। মাগরিবের দূরত্বের বর্ণনায় এটি প্রমাণিত যে, মিশর থেকে সুদূর মাগরিব পর্যন্ত একশত আশি মনজিল এবং মিশর থেকে তানজাহর প্রশাসনিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত আন্দালুসের শেষ সীমানার সমান্তরাল পর্যন্ত এই দূরত্বের অর্ধেক পথ। যেহেতু আমি ইসলামি দেশসমূহকে প্রদেশ অনুযায়ী বিস্তারিত বর্ণনা করার সংকল্প করেছি যাতে প্রতিটি প্রদেশের অবস্থান এবং পার্শ্ববর্তী প্রদেশসমূহ সম্পর্কে জানা যায়, আর এই সামগ্রিক মানচিত্রে প্রতিটি প্রদেশের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বৃত্তাকার, চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজাকার আকৃতি এবং এর প্রকৃত গঠন ফুটিয়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত স্থান ছিল না; তাই আমি প্রতিটি প্রদেশের জন্য এমন একটি স্থান নির্দিষ্ট করেছি যা তার অবস্থাকে প্রকাশ করে [এবং তার পার্শ্ববর্তী প্রদেশসমূহকেও; অতঃপর আমি প্রতিটি প্রদেশের জন্য পৃথক মানচিত্র তৈরি করেছি যেখানে ওই প্রদেশের আকৃতি, তার অন্তর্গত শহরসমূহ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্যাদি স্পষ্ট করা হয়েছে] «19», যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে আলোচনা করব।

(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌[ديار العرب]

(1) فابتدأت بديار العرب لأنّ القبلة بها ومكّة فيها وهى أمّ القرى وبلد العرب وأوطانهم التى لم يشركهم فى سكناها غيرهم، (2) والذي يحيط بها بحر فارس من عبّادان وهو مصبّ ماء دجلة فى البحر فيمتدّ على البحرين حتّى ينتهى الى عمان ثمّ يعطف على سواحل مهرة وحضر موت وعدن حتّى ينتهى على سواحل اليمن الى جدّة ثمّ يمتدّ على الجار ومدين حتّى ينتهى الى ايلة ثمّ قد انتهى حينئذ حدّ ديار العرب من هذا البحر وهذا المكان من البحر لسان ويعرف ببحر القلزم والقلزم مدينة على طرفه وسيفه فإذا استمرّ على تاران وجبيلان «9» وصل الى القلزم وينقطع حينئذ وهو شرقىّ ديار العرب وجنوبيّها وشىء [من غربيّها، ثمّ يمتدّ عليها] «10» من ايلة على مدائن قوم لوط والبحيرة الميّتة التى تعرف ببحيرة زغر «11» الى الشراة والبلقاء وهى من عمل فلسطين واذرعات وحوران «12» والبثنيّة وغوطة دمشق ونواحى بعلبكّ وهى من عمل دمشق وتدمر وسلمية وهما من عمل حمص ثمّ الى الخناصرة «14» وبالس وهما من عمل قنّسرين، وقد انتهى الحدّ الى الفرات ثمّ يمتدّ الفرات على ديار [7 ظ] العرب حتّى ينتهى الى الرقّة وقرقيسيا والرحبة والدالية وعانة والحديثة وهيت والأنبار الى الكوفة ومستفرغ مياه الفرات الى البطائح، ثمّ تمتدّ ديار العرب على نواحى الكوفة والحيرة على الخورنق وعلى سواد الكوفة الى حدّ واسط فتصاقب ما جاور دجلة وقاربها عند واسط مقدار مرحلة ثمّ تستمدّ وتستمرّ على سواد البصرة وبطائحها حتّى ينتهى الى عبّادان،
[আরব ভূখণ্ড]

(১) আমি আরব ভূখণ্ড দিয়ে শুরু করেছি, কারণ কিবলা সেখানে অবস্থিত এবং সেখানে মক্কা রয়েছে; যা উম্মুল কুরা (জনপদসমূহের জননী), আরবের শহর এবং তাদের স্বদেশ, যেখানে বসবাস করার ক্ষেত্রে অন্য কেউ তাদের অংশীদার হয়নি। (২) একে আব্বাদান থেকে পারস্য সাগর পরিবেষ্টন করে রেখেছে, যা সমুদ্রে দজলা নদীর মোহনা। অতঃপর তা বাহরাইনের উপর দিয়ে ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, তারপর মাহরাহ, হাজরামাউত এবং এডেনের উপকূল হয়ে মোড় নিয়েছে এবং ইয়েমেনের উপকূল দিয়ে জেদ্দা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর তা আল-জার ও মাদইয়ানের উপর দিয়ে আয়লা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। আর তখনই এই সমুদ্র হতে আরব ভূখণ্ডের সীমানা শেষ হয়েছে। সমুদ্রের এই স্থানটি একটি জিহ্বা (খাঁড়ি) সদৃশ এবং এটি কুলজুম সাগর নামে পরিচিত; কুলজুম হচ্ছে এর তীরের একটি শহর। অতঃপর যখন তা তারান ও জুবায়লান পর্যন্ত অগ্রসর হয়, তখন তা কুলজুমে গিয়ে পৌঁছে এবং সেখানে তা বিচ্ছিন্ন হয়। এটি আরব ভূখণ্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে এবং পশ্চিমের কিছু অংশ জুড়ে অবস্থিত। এরপর আয়লা থেকে লুত (আ.)-এর সম্প্রদায়ের শহরসমূহ এবং মৃত সাগর—যা সাগার হ্রদ নামে পরিচিত—হয়ে তা আশ-শারা ও আল-বালকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা ফিলিস্তিন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। এরপর আদরিআত, হাওরান, আল-বাথানিয়া, দামেস্কের গুতাহ এবং বালবাকের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ—যা দামেস্ক প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত—এবং তাদমুর ও সালামিয়া পর্যন্ত, যা হিমস প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। এরপর আল-খানাসিরাহ ও বালিস পর্যন্ত, যা কিন্নাসরিন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। আর এর সীমানা ফুরাত নদী পর্যন্ত পৌঁছেছে। এরপর ফুরাত নদী আরব ভূখণ্ডের পার্শ্বদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাক্কা, কারকিসিয়া, আর-রাহবা, আদ-দালিয়া, আনাহ, আল-হাদিসা, হীত এবং আনবার হয়ে কুফা পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং ফুরাতের পানি আল-বাতাইহে (জলাভূমিতে) গিয়ে পতিত হয়েছে। এরপর আরব ভূখণ্ড কুফা ও আল-হীরার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল, আল-খাওয়ারনাক এবং কুফার গ্রামাঞ্চল (সাওয়াদ) হয়ে ওয়াসিতের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে এবং ওয়াসিতের নিকট দজলা নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকার সমান্তরালে প্রায় এক মারহালা পরিমাণ দূরত্বে পৌঁছেছে। অতঃপর তা আরও বর্ধিত হয়ে বসরার গ্রামাঞ্চল ও এর জলাভূমি হয়ে আব্বাদান পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
(3) وهذا الذي يحيط بديار العرب فما كان من عبّادان الى ايلة «1» فإنّه بحر فارس ويشتمل على نحو ثلثة أرباع ديار العرب وهو الحدّ الشرقىّ والجنوبىّ وبعض الغربىّ وما بقى من حدّ الغربىّ من ايلة الى بالس فمن الشأم وما كان من بالس الى عبّادان فهو الحدّ الشمالىّ ومن بالس الى أن تجاوز الانبار فمن حدّ الجزيرة ومن الانبار الى عبّادان فمن حدّ العراق، ويتّصل بأرض العرب بناحية ايلة برّيّة تعرف بتيه بنى إسرائيل وهى برّيّة وإن كانت متّصلة بديار العرب فليست من ديارهم وإنّما كانت برّيّة بين أرض العمالقة واليونانيّة وأرض القبط، وليس للعرب بها ماء ولا مرعى فلذلك لا تدخل فى ديارهم، (4) وقد سكن طوائف من العرب من ربيعة ومضر الجريرة حتّى صارت لهم بها ديار ومراع ولم أر أحدا عزا «11» الجزيرة الى ديار العرب لأنّ نزولهم بها وهى ديار لفارس والروم فى أضعاف قرى معمورة ومدن لها أعمال عريضة فنزلوا على خفارة فارس والروم حتّى أنّ بعضهم تنصّر ودان بدين النصرانيّة مع الروم مثل تغلب من ربيعة بأرض الجزيرة وغسّان وبهراء «15» وتنوخ من اليمن بأرض الشأم، (5) وديار العرب هى الحجاز التى تشتمل على مكّة والمدينة واليمامة ومخاليفها «17» ونجد الحجاز متّصل بأرض البحرين وبادية العراق وبادية الجزيرة وبادية الشأم واليمن المشتملة على تهامة ونجد اليمن وعمان ومهرة وبلاد صنعاء وعدن وسائر مخاليف اليمن، فما كان من حدّ السّرين حتّى ينتهى على ناحية يلملم ثمّ على ظهر الطائف ممتدّا على نجد اليمن «20» الى بحر فارس مشرقا فمن اليمن ويكون ذلك نحو الثلثين من ديار العرب، وما كان من حدّ السّرين على بحر فارس الى قرب مدين راجعا فى المشرق على الحجر «22» الى جبلى طىء ممتدّا على ظهر اليمامة الى بحر فارس فمن الحجاز، وما كان من اليمامة
(৩) আর এটিই আরব ভূমিকে পরিবেষ্টনকারী এলাকা; সুতরাং আব্বাদান থেকে আয়লা পর্যন্ত যা রয়েছে, তা পারস্য সাগর এবং এটি আরব ভূমির প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুড়ে বিস্তৃত। এটিই এর পূর্ব ও দক্ষিণ সীমানা এবং পশ্চিম সীমানার কিছু অংশ। আর আয়লা থেকে বালিস পর্যন্ত পশ্চিম সীমানার যা অবশিষ্ট রয়েছে, তা শামের অন্তর্ভুক্ত। বালিস থেকে আব্বাদান পর্যন্ত যা রয়েছে, তা হলো উত্তর সীমানা। বালিস থেকে আম্বার অতিক্রম করা পর্যন্ত জাযীরার সীমানা এবং আম্বার থেকে আব্বাদান পর্যন্ত ইরাকের সীমানা। আয়লা অঞ্চলের নিকটবর্তী আরব ভূমির সাথে একটি মরুপ্রান্তর যুক্ত হয়েছে যা ‘তীহ বনী ইসরাঈল’ (বনী ইসরাঈলের লক্ষ্যহীন ভ্রমণের ময়দান) নামে পরিচিত। এটি একটি মরুপ্রান্তর এবং যদিও তা আরব ভূমির সাথে সংযুক্ত, তবুও তা তাদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত নয়। মূলত এটি ছিল আমালিকা, গ্রিক ও কিবতী (মিশরীয়) ভূমির মধ্যবর্তী একটি মরুপ্রান্তর। সেখানে আরবদের জন্য কোনো পানি বা চারণভূমি নেই, তাই তা তাদের জনপদের অন্তর্ভুক্ত হয় না। (৪) রবীআ ও মুদার গোত্রের কিছু আরব দল জাযীরায় বসবাস করেছে, এমনকি সেখানে তাদের বসতি ও চারণভূমি তৈরি হয়েছে। তবে আমি কাউকে জাযীরাকে আরব ভূমির অন্তর্ভুক্ত করতে দেখিনি, কেননা সেখানে তাদের বসতি স্থাপন হয়েছে এমন অবস্থায় যখন তা পারস্য ও রোমের শাসনাধীন ছিল। জনাকীর্ণ গ্রাম এবং বিস্তৃত প্রশাসনিক অঞ্চল বিশিষ্ট শহরগুলোর অভ্যন্তরে তারা পারস্য ও রোমের আশ্রয়ে সেখানে অবস্থান করত। এমনকি তাদের কেউ কেউ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে রোমানদের সাথে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল, যেমন জাযীরা ভূমিতে রবীআ গোত্রের তাগলিব এবং শাম ভূমিতে ইয়ামানের গাসসান, বাহরা ও তানুখ গোত্র। (৫) আর আরব ভূখণ্ড হলো হিজায—যা মক্কা, মদিনা, ইয়ামামা ও এর প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। হিজাযের নজদ অঞ্চলটি বাহরাইন ভূমি, ইরাকের মরুপ্রান্তর, জাযীরার মরুপ্রান্তর ও শামের মরুপ্রান্তরের সাথে সংযুক্ত। আর ইয়ামান—যা তিহামা, ইয়ামানের নজদ, ওমান, মাহরা, সানাআ ও আদন শহরসমূহ এবং ইয়ামানের অন্যান্য সকল প্রশাসনিক অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে। আস-সিররাইনের সীমানা থেকে শুরু করে ইয়ালামলামের দিক পর্যন্ত, অতঃপর তায়েফের উপরিভাগ হয়ে ইয়ামানের নজদ বরাবর পূর্ব দিকে পারস্য সাগর পর্যন্ত যা বিস্তৃত, তা ইয়ামানের অংশ; আর এটি আরব ভূমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। আর পারস্য সাগরের তীরের আস-সিররাইন থেকে মাদইয়ানের নিকটবর্তী স্থান পর্যন্ত, যা পূর্ব দিকে আল-হিজর হয়ে তাইয়্য পর্বদ্বয় পর্যন্ত ফিরে গিয়ে ইয়ামামার উপরিভাগ বরাবর পারস্য সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা হিজাযের অন্তর্ভুক্ত। আর ইয়ামামা থেকে যা...
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ২১)
الى قرب المدينة راجعا على بادية البصرة حتّى يمتدّ على البحرين [الى البحر] «1» فمن نجد، وما كان من حدّ عبّادان الى الانبار مواجها لنجد والحجاز على ديار أسد وطىّء وتميم وسائر قبائل مضر فمن بادية العراق، وما كان من حدّ الانبار الى بالس مواجها لبادية الشأم على أرض تيماء «4» وبرّيّة خساف الى قرب وادى القرى والحجر «5» فمن بادية الجزيرة، وما كان من بالس الى أيلة مواجها للحجاز على بحر فارس الى ناحية مدين معارضا لأرض تبوك حتّى يتّصل بديار طىّء فمن «7» بادية الشأم، على أنّ من العلماء بتقسيم «8» هذه الديار من زعم أنّ المدينة من نجد لقربها منها وأنّ مكّة من تهامة اليمن لقربها منها، (6)

‌‌وما فى بطن هذه الصفحة فهو صورة ديار العرب، [7 ب]

إيضاح ما يوجد من الأسماء والنصوص فى صورة ديار العرب، قد كتب فى زاويتى الصفحة العليايين المغرب والشمال، ورسم فى هذا القسم نهر النيل وتحت ذلك الرسم النصّ الآتى نواحى مصر واعمالها والصعيد الاعلى ومساكن البجه واعمال دنقله وعلوه وهما مدينتان وعلى النهر من المدن الفسطاط والجيزة وبينهما الجزيره ثمّ اسوان، وبين النيل وبين ساحل البحر العلاقى، ويقرأ على ساحل البحر فى أسفل أيسره بلد الزنج ونواحيه، مفازة بين الزنج والحبشة، بلد الحبشة ثمّ بربره ثمّ قرب منتهى الساحل الفوقانىّ عيذاب «18» ثمّ جزائر بنى حدان، ثمّ عند منتهى البحر القلزم، وفى البحر من الجزائر سنجله «19» ، سواكن، باضع، زيلع، وعلى ساحل البحر من الجانب المقابل يلى القلزم من المدن رايه «21» ، ايله، عينونه، طبا، الجار، جده، السرين، حلى، الحمضه، عثر، الشرجه، الحرده، غلافقه «22» ، المخا،
মদীনার নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে শুরু করে বসরার মরুভূমি হয়ে বাহরাইন [সমুদ্র পর্যন্ত] যা বিস্তৃত, তা নজদের অন্তর্ভুক্ত। এবং আবাদানের সীমানা থেকে আম্বার পর্যন্ত যা নজদ ও হিজাজের মুখোমুখি এবং আসাদ, তাই, তামিম ও মুদারের অন্যান্য গোত্রসমূহের বাসভূমির ওপর দিয়ে বিস্তৃত, তা ইরাকের মরুভূমির (বাদিয়া) অন্তর্ভুক্ত। আম্বারের সীমানা থেকে বালিস পর্যন্ত যা শামের মরুভূমির মুখোমুখি হয়ে তায়মা ভূমি এবং খাসাফ প্রান্তর দিয়ে ওয়াদিউল কুরা ও হিজরের নিকটবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জাযীরার মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। এবং বালিস থেকে আয়লা পর্যন্ত যা হিজাজের মুখোমুখি হয়ে পারস্য সাগরের দিক থেকে মাদিয়ান অভিমুখে এবং তাবুক ভূমির সমান্তরালে তাই গোত্রের বাসভূমি পর্যন্ত বিস্তৃত, তা শামের মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত। যদিও এই অঞ্চলগুলোর বিভাজনকারী আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যিনি দাবি করেন যে, মদীনা নজদের অন্তর্ভুক্ত—তার সাথে নিকটবর্তিতার কারণে, এবং মক্কা ইয়েমেনের তিহামার অন্তর্ভুক্ত—তার সাথে নিকটবর্তিতার কারণে।

‌‌এই পৃষ্ঠার অভ্যন্তরে যা রয়েছে তা হলো আরব ভূখণ্ডের মানচিত্র, [৭ খ]

আরব ভূখণ্ডের মানচিত্রে প্রাপ্ত নাম ও পাঠ্যসমূহের ব্যাখ্যা: পৃষ্ঠার ওপরের দুই কোণে পশ্চিম ও উত্তর দিক লেখা হয়েছে। এবং এই অংশে নীল নদ অঙ্কন করা হয়েছে এবং সেই অঙ্কনের নিচে নিম্নোক্ত পাঠ্য রয়েছে: মিশরের পার্শ্ববর্তী এলাকা ও তার প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ, উচ্চ মিসর (সাঈদ আল-আ'লা), বেজা সম্প্রদায়ের আবাসস্থল এবং দনকলা ও আলওয়ার প্রশাসনিক অঞ্চলসমূহ—যা দুটি শহর। এবং নদের তীরে অবস্থিত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ফুসতাত ও গিজা এবং এই দুইয়ের মাঝে জাজিরা (দ্বীপ), তারপর আসওয়ান। আর নীল নদ ও সমুদ্র উপকূলের মাঝখানে আল-আলাকি অবস্থিত। সমুদ্র উপকূলের নিচের বাম দিকে পাঠ করা যায়: জাঞ্জদের দেশ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা, জাঞ্জ ও হাবশার মধ্যবর্তী মরুভূমি, হাবশা দেশ, তারপর বারবারা, অতঃপর ওপরের উপকূলের শেষ প্রান্তের কাছে আইযাব, তারপর বনু হাদ্দান দ্বীপপুঞ্জ। তারপর সমুদ্রের শেষ প্রান্তে কুলজুম। আর সমুদ্রের দ্বীপগুলোর মধ্যে রয়েছে সানজলা, সাওয়াকিন, বাযি এবং যাইলা। এবং বিপরীত দিকের সমুদ্র উপকূলে কুলজুমের নিকটবর্তী শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে রায়া, আয়লা, আইনুনা, তাবা, আল-জার, জেদ্দা, আস-সারিন, হালি, আল-হামদা, আষার, আশ-শারজা, আল-হারদা, গালাফিকা এবং মোখা।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ২২)
عدن، ثمّ حضرموت ثمّ فى الزاوية بلاد عمان وفيها رأس الجمجمه ومدينة صحار، ثمّ تلى ذلك على الساحل مدينة القطيف، وفى هذا القسم من البحر جزيرتا خارك واوال، وفى وسط الصورة رسمت مدينة مكه تحيط بها كتلة جبال متلاصقة وفيها أيضا من أسفل مكة الطائف، ويقرأ عند هذه الجبال من الجانب الأيسر جبال تهامه، قعيقعان، ديار راحه «5» ، وبين هذا الطرف من الجبال والبحر من المدن المعقد، زبيد، المذيخره، الكدرا، المهجم، ويأخذ من عدن على البحر طريق الى الجبال وعليه من المدن صنعا، صعده، نجران، بيشه، جرش، تباله، ثمّ يقرأ عند جانب الجبل مكتوبا على شكل صليبىّ نجد الحجاز، ثمّ رسم بين الجبل وحضرموت جبل شبام وفيه مدينة شبام، ويقرأ بين جبل شبام وعدن ديار همدان وخولان، وتتشعّب الجبال الوسطيّة عن أسفلها الى طرفين كتب بينهما نجد الحجاز وعند الطرف الأيسر جبال تهامه وعند الطرف الأيمن جبل الفرع ومدينة الفرع، وبين هذه البقاع والبحر بلد اليمامه وبلد البحرين وفيهما من المدن العقبر، الاحسا «12» ، هجر، ثمّ يأخذ عن يمين القطيف على البحر الى أعلى رمل الهبير، ويقرأ عند طرف الجبل الذي بين مكّة ورمل الهبير ابو قبيس، وعن يمين مكّة بينها ورمل الهبير أيضا من المدن المدينه وفيد، والطريق المارّ على هاتين المدينتين بعد اجتيازه رمل الهبير يمرّ على القادسيه والكوفه الى بغداذ على نهر دجله، ويأخذ من المدينة طريق الى وادى القرى ثمّ تبوك ثمّ معان ثمّ سلميه «16» ثمّ الخناصره ثمّ بالس على نهر الفرات، وبين تبوك والفرات يقرأ السماوه، ديار فزاره، ديار كلب، بريه خساف، صفين وأثناء ذلك من المدن تيما وتدمر، وبين وادى القرى والفرات ديار ثمود وجبلى طى، وبينه والبحر ديار لخم وجذام وجهينه وبلى، وبين الفرات ودجلة يقرأ بلد الجزيره وديار ربيعه ثمّ على الفرات من المدن الرقه، الانبار وعند الخليج الآخذ من الانبار الى دجله الصراه ويجرى من بغداذ الى هذا الخليج نهر عيسى، وعلى دجلة بين بغداذ والبحر من المدن كلواذى، المدائن، واسط، الابله، ومن الابلّة يأخذ نهر الابله الى البصره وينصبّ تجاهها فى نهر معقل، ويقرأ بين البصرة ورمل الهبير ديار بنى اسد ثمّ فى قرب الساحل لقبائل مضر،
আদন, এরপর হাজরামাউত, অতঃপর কোণে ওমান অঞ্চল; সেখানে রাস আল-জুমজুমাহ ও সোহার শহর অবস্থিত। এরপর উপকূল ঘেঁষে আল-কাতিফ শহর অবস্থিত। সমুদ্রের এই অংশে খারক ও আউয়াল নামক দুটি দ্বীপ রয়েছে। ছবির মধ্যভাগে মক্কা শহর অঙ্কিত হয়েছে, যা পরস্পর সংলগ্ন পর্বতমালা দ্বারা পরিবেষ্টিত। মক্কার নিচের দিকে তায়েফ শহরও রয়েছে। এই পর্বতগুলোর বাম পাশে তিহামাহ পর্বতমালা, কুআইকিআন এবং দিয়ারে রাহাহর বসতি পাঠ করা যায়। পর্বত ও সমুদ্রের এই প্রান্তের মধ্যবর্তী শহরগুলো হলো আল-মুয়াক্কাদ, জাবিদ, আল-মুদাইখিরাহ, আল-কাদরা এবং আল-মাহজাম। আদন থেকে সমুদ্র হয়ে পাহাড়ের দিকে একটি পথ গিয়েছে, যার ওপর সানা, স’দাহ, নাজরান, বিশাহ, জারশ ও তাবালাহ শহর অবস্থিত। এরপর পাহাড়ের পার্শ্বদেশে ক্রুশ আকৃতিতে ‘নাজদ আল-হিজাজ’ লেখা দেখা যায়। এরপর পর্বত ও হাজরামাউতের মাঝে শিবাম পাহাড় অঙ্কিত হয়েছে এবং সেখানে শিবাম শহর অবস্থিত। শিবাম পাহাড় ও আদনের মাঝে হামদান ও খাওলানের বসতি পাঠ করা যায়। মধ্যবর্তী পর্বতমালাগুলো নিচের দিক থেকে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে, যার মাঝে ‘নাজদ আল-হিজাজ’ লেখা রয়েছে। এর বাম প্রান্তে তিহামাহ পর্বতমালা এবং ডান প্রান্তে আল-ফারা পর্বত ও আল-ফারা শহর অবস্থিত। এসব অঞ্চল ও সমুদ্রের মাঝে ইয়ামামা ও বাহরাইন অঞ্চল অবস্থিত, যাতে আল-আকবার, আল-আহসা ও হাজার নামক শহরগুলো রয়েছে। এরপর কাতিফের ডান দিক থেকে সমুদ্র হয়ে ওপরের দিকে রামল আল-হিবীর (হিবীর বালিয়াড়ি) পর্যন্ত বিস্তৃত। মক্কা ও রামল আল-হিবীরের মধ্যবর্তী পাহাড়ের প্রান্তে আবু কুবাইস পাঠ করা যায়। মক্কার ডান দিকে মক্কা ও রামল আল-হিবীরের মাঝে মদিনা ও ফায়দ শহর অবস্থিত। এই দুই শহরের ওপর দিয়ে অতিক্রান্ত পথটি রামল আল-হিবীর পার হয়ে কাদিসিয়া ও কুফা হয়ে দজলা নদীর তীরে অবস্থিত বাগদাদ পর্যন্ত গিয়েছে। মদিনা থেকে একটি পথ ওয়াদি আল-কুরা, তারপর তাবুক, তারপর মাআন, তারপর সালামিয়াহ, তারপর আল-خانাসিরাহ হয়ে ফুরাত নদীর তীরে বালিস পর্যন্ত গিয়েছে। তাবুক ও ফুরাতের মাঝে আস-সামাওয়াহ, দিয়ারে ফাজারা, দিয়ারে কালব, বাররিয়াহ খুসাফ ও সিফফিন পাঠ করা যায়; এর মধ্যবর্তী শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে তায়মা ও তাদমুর। ওয়াদি আল-কুরা ও ফুরাতের মাঝে দিয়ারে সামুদ এবং তায়্যি গোত্রের দুটি পাহাড় অবস্থিত। এর ও সমুদ্রের মাঝে লাখম, জুজাম, জুহাইনা ও বালী গোত্রের বসতি। ফুরাত ও দজলার মাঝে আল-জাজিরা অঞ্চল ও দিয়ারে রাবিআহ পাঠ করা যায়। এরপর ফুরাতের তীরে রাক্কাহ ও আনবার শহর অবস্থিত। আনবার থেকে দজলা পর্যন্ত বিস্তৃত খালের কাছে আস-সরাহ অবস্থিত এবং বাগদাদ থেকে এই খাল পর্যন্ত ঈসা নদী প্রবাহিত। বাগদাদ ও সমুদ্রের মাঝে দজলা নদীর তীরে কালওয়াযা, আল-মাদায়িন, ওয়াসিত ও আল-উবুল্লাহ শহরগুলো অবস্থিত। উবুল্লাহ থেকে উবুল্লাহ খাল বসরা পর্যন্ত গিয়েছে এবং এর বিপরীতে মা’কিল নদীতে গিয়ে মিশেছে। বসরা ও রামল আল-হিবীরের মাঝে দিয়ারে বনী আসাদ এবং উপকূলের কাছে মুদার গোত্রসমূহের বসতি পাঠ করা যায়।
(খণ্ড: ১) সুরাতিল আরদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفى أسفل الصورة على البحر من المدن مهروبان، سينيز، توج، جنابه، نجيرم، سيراف ويقرأ وراء ذلك فى البرّ كلمة ناحية التى أضيف اليها اسما خوزستان وفارس المكتوبان عليها فى شكل الصليب، وفى زاويتى الصورة السفلايين المشرق والجنوب، (7) [8 ظ] وكانت هذه الديار عظيمة خطيرة الملوك ملكها الفراعنة والتبابعة ومنهم من ملك أكثر أهل الأرض فى سالف الزمان كتبع الذي مدّن مدينتى صنعاء وسمرقند وكان يقيم بهذه حولا وبهذه آخر ومن أهلها فرعون إبراهيم وهو سنان بن علوان وفرعون موسى مصعب بن الوليد، وبعث فيها كثير من الأنبياء وكان من أكرمهم نبيّنا صلى الله عليه وسلم، ولم يك فيما سلف من الزمان ولا على مرّ الدهور والأيّام ممّن علت كلمته واتّسعت مملكته واستفحلت جبايته كتبّع وذى القرنين من ثبت الملك فيه وفى عقبه وجبيت اليه الأموال وتخرّق فى المروءة والإفضال كمن ملكها من أهلها فى الإسلام مع أكثر الأرض من حيث لم يرم أكثرهم عن مواطنهم ولا برحوا عن أماكنهم يدعى لهم فى أطرافها ويدرّ عليهم الأموال من أخلافها، (8) فأمّا أموالها فى وقتنا هذا «15» الواصلة الى سلاطينها وملوكها وأربابها وأصحاب أطرافها فمن جلّتهم خلف أبى الجيش إسحاق بن إبراهيم بن زياد بعد أهل البحرين والذي تحت يده من الشرجة «17» الى عدن طولا على ساحل البحر وأرض تهامة اليمن ويكون مقدار ذلك اثنتى عشرة مرحلة وعرضه من الجبال الى ساحل اليمن من عمل غلافقة ويكون مقداره مسيرة أربع مراحل، وأكثر أمواله المقبوضة من العشور وهى ما ينيف على خمس مائة ألف دينار عثرىّ ومن قبالات زبيد عن جميع ما يدخلها ويخرج عنها وتشتمل عليه من وجوه الأموال مائتا ألف دينار عثرىّ، وأكثر ملوك الجبال فى وقتنا هذا يخطبون له على منابرهم، ويصل اليه من جباية عدن

ছবির নিচের দিকে সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহরুবান, সিনিজ, তুজ, জান্নাবাহ, নাজিরাম এবং সিরাফ। এর পেছনে স্থলের অংশে 'নাহিয়াহ' (অঞ্চল) শব্দটি পড়া যায়, যার সাথে খুজিস্তান ও পারস্যের নাম দুটি যুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো ক্রুশ আকারে লেখা হয়েছে। ছবির নিচের দুই কোণে রয়েছে পূর্ব ও দক্ষিণ। (৭) [৮ জ] এই জনপদগুলো ছিল অত্যন্ত বিশাল এবং এখানকার রাজন্যবর্গ ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। ফেরাউন ও তুব্বা সম্প্রদায় এগুলো শাসন করেছে। তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও ছিলেন যিনি প্রাচীনকালে পৃথিবীর অধিকাংশ জনপদের অধিপতি ছিলেন, যেমন সেই তুব্বা, যিনি সানআ ও সমরকন্দ শহর দুটি গড়ে তুলেছিলেন এবং তিনি এক বছর এক শহরে ও অন্য বছর অন্য শহরে অবস্থান করতেন। এখানকার অধিবাসীদের মধ্যে ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর সমসাময়িক ফেরাউন ছিল সিনান বিন আলওয়ান এবং মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সমসাময়িক ফেরাউন ছিল মুসআব বিন ওয়ালিদ। এই ভূখণ্ডে অনেক নবী প্রেরিত হয়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ছিলেন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অতীতকাল বা যুগের আবর্তনে এমন কেউ অতিবাহিত হয়নি, যার প্রভাব ছিল অত্যন্ত উচ্চ, সাম্রাজ্য ছিল বিস্তৃত এবং রাজস্ব ছিল সুপ্রচুর; যেমন তুব্বা ও জুলকারনাইন—যাদের রাজত্ব তাদের নিজের ও তাদের বংশধরদের মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল এবং যাদের নিকট ধন-সম্পদ সংগৃহীত হতো এবং যারা বীরত্ব ও দানে ছিলেন প্রবাদপ্রতিম—তাদের সমতুল্য কেউ ইসলামের যুগে এই অঞ্চলের সেই শাসকদের মধ্যে দেখা যায়নি যারা পৃথিবীর অধিকাংশ ভূখণ্ড শাসন করেছেন। অথচ তাদের অধিকাংশকে নিজ আবাসভূমি ত্যাগ করতে হয়নি এবং তারা তাদের স্থান থেকে বিচ্যুত হননি; সাম্রাজ্যের প্রান্তসীমায় তাদের নামে দোয়া করা হতো এবং দূরবর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে তাদের কাছে ধন-সম্পদ প্রবাহিত হতো। (৮) বর্তমানে সেখানকার সুলতান, রাজা, ভূস্বামী এবং প্রান্তীয় অঞ্চলের অধিপতিদের নিকট যে সম্পদ পৌঁছায়, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাহরাইনবাসীদের পর আবু আল-জাইশ ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন জিয়াদের উত্তরসূরি। তার কর্তৃত্বে শারজাহ থেকে এডেন পর্যন্ত সমুদ্র উপকূল বরাবর দৈর্ঘ্য এবং ইয়েমেনের তিহামাহ অঞ্চল রয়েছে, যার পরিমাণ বারো মঞ্জিল। আর পাহাড় থেকে গুলাফিকার অন্তর্গত ইয়েমেন উপকূল পর্যন্ত এর প্রস্থ হলো চার দিনের পথ। তার অধিকাংশ সম্পদ সংগৃহীত হয় উশর (দশমাংশ কর) থেকে, যা পাঁচ লক্ষ 'আসারি' দিনারেরও অধিক। এছাড়াও জাবিদের ইজারা ব্যবস্থা থেকে প্রাপ্ত সম্পদ—যা সেখানে প্রবেশকৃত ও নির্গত হওয়া যাবতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাতের আয়ের অন্তর্ভুক্ত—তা দুই লক্ষ আসারি দিনার। বর্তমানে পাহাড়ি অঞ্চলের অধিকাংশ রাজা তাদের মিম্বরে তাঁর নামে খুতবা পাঠ করেন এবং এডেনের রাজস্ব থেকেও তাঁর নিকট অংশ পৌঁছায়।