(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
رساله ابن فضلان = رحلة ابن فضلان الى بلاد الترك والروس والصقالبة   (ابن فضلان)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: رحلة ابن فضلان إلى بلاد الترك والروس والصقالبة

المؤلف: أحمد بن فضلان بن العباس بن راشد ابن حماد (ت بعد 310هـ)

الناشر: دار السويدي، أبو ظبي

الطبعة: الأولى، 2003 م

عدد الصفحات: 151

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইবনে ফাযলানের রিসালাহ = তুর্কি, রুশ ও সাকালিবা অঞ্চলে ইবনে ফাযলানের ভ্রমণ   (ইবনে ফাযলান)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: তুর্কি, রুশ ও সাকালিবা অঞ্চলে ইবনে ফাযলানের ভ্রমণ

লেখক: আহমাদ বিন ফাযলান বিন আল-আব্বাস বিন রাশিদ ইবনে হাম্মাদ (মৃত্যু ৩১০ হিজরীর পরে)

প্রকাশক: দারুস সুওয়াইদি، আবুধাবি

সংস্করণ: প্রথম، ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
أحمد بن فضلان

 

أحمد بن فضلان بن العباس بن راشد بن حمّاد، كان يعيش في النصف الثاني من القرن الثالث والنصف الأول من القرن الرابع الهجري التاسع والعاشر الميلادي. وهناك في اسمه بعض الاضطرابات: فعبّر عنه ياقوت الحموي بأحمد وورد اسمه في النسخة الخطية للكتاب بصورتين أحمد ومحمد. ولكن يبدو أن اسم أحمد ناشئ من خطأ الكاتب. وهو كان من موالي فاتح مصر محمد بن سليمان المنفق الكاتب الذي قتل سنة 304 هـ / 916 م عند قعلة الري وحين قتاله مع أحمد بن علي أخ محمد بن علي الصعلوك.

وأما عن محلّ ولادته ونسبته فلا توجد معلومات في هذا المجال. والنقطة الوحيدة الملفتة للنظر هي قول ملك الصقالبة مخاطباً ابن فضلان: «أنا لا أعرف هؤلاء إنّما أعرفك أنت، وذلك أنّ هؤلاء قوم عجم» ، فهل كان يعلم الملك بأنه عربي أو لغته عربية، أم خاطبه بذلك لجهله وعدم علمه؟.

لم يكن ابن فضلان رحّالة وإنما هاجر برفقة جمع من الكبار إلى أرض السلافيين أطراف نهر الفولغا بتكليف من الخليفة المقتدر العباسيّ. وذلك حينما كتب ملك الصقالبة في سنة 309 هـ / 921 م بيد عبد الله بن باشتو الخرزي إلى الخليفة يسأله فيه البعثة إليه ممن يفقّهه في الدين، ويعرّفه شرائع الإسلام، ويبني له مسجداً وينصب له منبراً ليقيم عليه الدعوة له في بلده وجميع مملكته، ويسأله بناء حصن يتحصن فيه من الملوك المخالفين له. فأرسل الخليفة المقتدر إلى ملك الصقالبة وفداً يتكوّن من أربعة رجال أساسيين وبضعة مرافقين من الفقهاء والمعلمين والغلمان ومنهم ابن فضلان.

ومن المفروض أن سفيراً مبعوثاً إلى أقاصي الأرض يجب أن يمتلك الكثير من الحكمة والحنكة، وأنّ بعثة مثل بعثته كانت تستلزم رجلاً ذا ثقافة معقولة، وهو ما نظنّ حاله.
আহমদ বিন ফাদলান

 

আহমদ বিন ফাদলান বিন আল-আব্বাস বিন রাশিদ বিন হাম্মাদ হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ এবং চতুর্থ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (খ্রিস্টীয় নবম ও দশম শতাব্দী) জীবিত ছিলেন। তাঁর নামের ক্ষেত্রে কিছু অসংগতি রয়েছে: ইয়াকুত আল-হামাউই তাঁকে আহমদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিতে তাঁর নাম আহমদ ও মুহাম্মদ—এই দুই রূপে এসেছে। তবে মনে হয় যে, আহমদ নামটি লিপিকারের ভুলের কারণে উদ্ভূত হয়েছে। তিনি মিসর বিজয়ী মুহাম্মদ বিন সুলাইমান আল-মুনফিক আল-কাতিবের আযাদকৃত দাসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যিনি ৩০৪ হিজরি / ৯১৬ খ্রিস্টাব্দে রায় দুর্গের কাছে মুহাম্মদ বিন আলী আস-সালুকের ভাই আহমদ বিন আলীর সাথে যুদ্ধাবস্থায় নিহত হন।

তাঁর জন্মস্থান ও বংশপরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। একমাত্র লক্ষণীয় বিষয়টি হলো স্লাভদের রাজার উক্তি, যা তিনি ইবনে ফাদলানকে সম্বোধন করে বলেছিলেন: «আমি এদের চিনি না, আমি কেবল তোমাকেই চিনি, কারণ এরা অনারব জাতি»; রাজা কি জানতেন যে তিনি একজন আরব অথবা তাঁর ভাষা আরবি, নাকি তিনি অজ্ঞতাবশত তাকে এভাবে সম্বোধন করেছিলেন?

ইবনে ফাদলান মূলত কোনো পর্যটক ছিলেন না, বরং তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাদিরের নির্দেশে একদল উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সাথে ভলগা নদীর তীরবর্তী স্লাভদের ভূমিতে গিয়েছিলেন। এটি ঘটেছিল যখন ৩০৯ হিজরি / ৯২১ খ্রিস্টাব্দে স্লাভদের রাজা আবদুল্লাহ বিন বাশতু আল-খাজারির মাধ্যমে খলিফার কাছে পত্র লিখেছিলেন এবং তাঁর কাছে এমন কাউকে পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন যিনি তাঁকে দ্বীনের সম্যক জ্ঞান দান করবেন, ইসলামের বিধিবিধান শিক্ষা দেবেন, তাঁর জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করবেন এবং একটি মিম্বর স্থাপন করবেন যাতে তিনি তাঁর দেশে ও সমগ্র রাজ্যে তাঁর জন্য দাওয়াত কায়েম করতে পারেন; সেই সাথে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণেরও আবেদন করেন যাতে তিনি তাঁর বিরোধী রাজাদের থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন। অতঃপর খলিফা আল-মুকতাদির স্লাভদের রাজার কাছে চারজন মূল ব্যক্তি এবং ফকিহ, শিক্ষক ও ভৃত্যদের সমন্বয়ে গঠিত কয়েকজন সহযাত্রীর একটি প্রতিনিধি দল পাঠান, যাদের মধ্যে ইবনে ফাদলান ছিলেন অন্যতম।

ধারণা করা হয় যে, পৃথিবীর দূরতম প্রান্তে প্রেরিত একজন দূতের প্রচুর প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা থাকা আবশ্যক এবং তাঁর মতো একটি মিশনের জন্য একজন মার্জিত সংস্কৃতিমনা মানুষের প্রয়োজন ছিল, আর আমরা মনে করি তাঁর অবস্থা এমনই ছিল।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
[مشخصات كتاب]

رحلة ابن فضلان إلى بلاد الترك والروس والصقالبة 921 حرّرها وقدّم لها: شاكر لعيبي
[গ্রন্থ বিবরণ]

তুর্কি, রুশ ও স্লাভ দেশসমূহে ইবনে ফাযলানের সফরনামা ৯২১, সম্পাদনা ও ভূমিকা: শাকির লায়বি
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
يشرف على هذه السلسلة:

نوري الجرّاح
এই সিরিজটি তত্ত্বাবধান করছেন:

নুরী আল-জাররাহ
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
[من نص الرحلة ص 108]

… «فلما كان وقت العصر من يوم الجمعة جاءوا بالجارية إلى شيء قد عملوه مثل ملبن الباب فوضعت رجليها على أكف الرجال وأشرفت على ذلك الملبن، وتكلمت بكلام لها فأنزلوها، ثم أصعدوها ثانية، ففعلت كفعلها في المرة الأولى، ثم أنزلوها وأصعدوها ثالثة، ففعلت فعلها في المرتين، ثم دفعوا إليها دجاجة فقطعت رأسها ورمت به وأخذوا الدجاجة فألقوها في السفينة. فسألت الترجمان عن فعلها فقال: قالت في أول مرة أصعدوها: هو ذا أرى أبي وأمي وقالت في الثانية: هو ذا أرى جميع قرابتي الموتى قعودا. وقالت في المرة الثالثة: هو ذا أرى مولاي قاعدا في الجنة والجنة حسنة خضراء ومعه الرجال والغلمان وهو يدعوني فاذهبوا بي إليه.

فمروا بها نحو السفينة فنزعت سوارين كانا عليها ودفعتهما إلى المرأة التي تسمى ملك الموت وهي التي تقتلها ونزعت خلخالين كانا عليها ودفعتهما إلى الجاريتين اللتين كانتا تخدمانها وهما ابنتا المرأة المعروفة بملك الموت. ثم أصعدوها إلى السفينة ولم يدخلوها إلى القبة وجاء الرجال ومعهم التراس والخشب ودفعوا إليها قدحا نبيذا فغنت عليه وشربته، فقال لي الترجمان: إنها تودع صواحباتها بذلك ثم دفع إليها قدح آخر فأخذته وطولت الغناء والعجوز تستحثها على شربه والدخول إلى القبة التي فيها مولاها فرأيتها وقد تبلدت وأرادت دخول القبة فأدخلت رأسها بينها وبين السفينة فأخذت العجوز رأسها وأدخلتها القبة ودخلت معها. وأخذ الرجال يضربون بالخشب على التراس لئلا يسمع صوت صياحها فيجزع غيرها من الجواري ولا يطلبن الموت مع مواليهن ثم دخل إلى القبة ستة رجال فجامعوا بأسرهم الجارية ثم أضجعوها إلى جانب مولاها وأمسك اثنان رجليها واثنان يديها وجعلت العجوز التي تسمى ملك الموت في عنقها حبلا مخالفا ودفعته إلى اثنين ليجذباه وأقبلت ومعها خنجر عريض النصل فأقبلت تدخله بين أضلاعها موضعا موضعا وتخرجه والرجلان يخنقانها بالحبل حتى ماتت.»

من نص الرحلة ص 108
[ভ্রমণকাহিনির পাঠ থেকে, পৃষ্ঠা ১০৮]

… «অতঃপর যখন শুক্রবার আসরের সময় হলো, তারা সেই দাসীটিকে এমন একটি জিনিসের কাছে নিয়ে এল যা তারা দরজার চৌকাঠের মতো তৈরি করেছিল। সে পুরুষদের হাতের তালুর ওপর তার দুই পা রাখল এবং সেই চৌকাঠটির ওপর দিয়ে উঁকি দিল। এরপর সে তার ভাষায় কিছু কথা বলল এবং তারা তাকে নিচে নামাল। তারপর তারা তাকে দ্বিতীয়বার ওপরে তুলল, সে প্রথম বারের মতোই কাজ করল। তারপর তারা তাকে নিচে নামাল এবং তৃতীয়বার ওপরে তুলল, সে পূর্বের দুই বারের মতোই করল। তারপর তারা তার হাতে একটি মুরগি দিল, সে সেটির মাথা কেটে ফেলে দিল এবং তারা মুরগিটি নিয়ে নৌকায় নিক্ষেপ করল। অতঃপর আমি দোভাষীকে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল: প্রথমবার যখন তারা তাকে ওপরে তুলল, সে বলল: 'এই তো আমি আমার পিতা ও মাতাকে দেখতে পাচ্ছি।' দ্বিতীয়বার সে বলল: 'এই তো আমি আমার মৃত সকল আত্মীয়-স্বজনকে বসে থাকতে দেখছি।' তৃতীয়বার সে বলল: 'এই তো আমি আমার মনিবকে জান্নাতে বসে থাকতে দেখছি, আর জান্নাত হলো অত্যন্ত সুন্দর ও সবুজ; তার সাথে পুরুষ ও কিশোররা রয়েছে। সে আমাকে ডাকছে, তাই তোমরা আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো।' অতঃপর তারা তাকে নৌকার দিকে নিয়ে গেল। সে তার পরিহিত দুটি হাতের কঙ্কণ খুলে সেই নারীকে দিল যাকে 'মৃত্যুদূত' বলা হয় এবং যে তাকে হত্যা করবে। সে তার পরিহিত দুটি নূপুরও খুলে ফেলল এবং সে দুটি সেই দুই দাসীকে দিল যারা তার সেবা করছিল, আর তারা ছিল সেই 'মৃত্যুদূত' নামে পরিচিত নারীর দুই কন্যা। তারপর তারা তাকে নৌকায় তুলল কিন্তু তাকে তাঁবুর ভেতর প্রবেশ করাল না। পুরুষরা ঢাল ও কাঠ নিয়ে এল এবং তাকে এক পেয়ালা মদ দিল। সে তার ওপর গান গেয়ে তা পান করল। দোভাষী আমাকে বলল: এর মাধ্যমে সে তার বান্ধবীদের বিদায় জানাচ্ছে। এরপর তাকে অন্য একটি পেয়ালা দেওয়া হলো, সে সেটি নিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে গান গাইল। বৃদ্ধা নারীটি তাকে সেটি পান করতে এবং তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করতে তাগাদা দিচ্ছিল যেখানে তার মনিব ছিল। আমি তাকে দেখলাম যে সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে এবং তাঁবুর ভেতর প্রবেশ করতে চাচ্ছে। সে তার মাথা তাঁবু ও নৌকার মাঝখানে রাখল, তখন বৃদ্ধাটি তার মাথা ধরে তাঁবুর ভেতরে ঢুকিয়ে দিল এবং নিজেও তার সাথে প্রবেশ করল। আর পুরুষরা ঢালের ওপর কাঠ দিয়ে আঘাত করতে লাগল যাতে তার চিৎকারের শব্দ শোনা না যায় এবং এতে অন্য দাসীরা আতঙ্কিত হয়ে তাদের মনিবদের সাথে মৃত্যুবরণ করার সংকল্প ত্যাগ না করে। এরপর ছয়জন পুরুষ তাঁবুর ভেতরে প্রবেশ করল এবং তারা সকলেই দাসীটির সাথে মিলিত হলো। তারপর তারা তাকে তার মনিবের পাশে শুইয়ে দিল। দুইজন তার পা এবং দুইজন তার হাত ধরে রাখল। আর সেই বৃদ্ধা, যাকে 'মৃত্যুদূত' বলা হয়, তার গলায় একটি রশি পেঁচিয়ে দিল এবং দুই ব্যক্তিকে তা টানার জন্য দিল। এরপর সে একটি প্রশস্ত ফলকওয়ালা খঞ্জর নিয়ে এগিয়ে এল এবং তার পাঁজরের এক এক স্থানে তা প্রবেশ করাতে ও বের করতে লাগল, আর ঐ দুই ব্যক্তি রশি দিয়ে তার শ্বাসরোধ করছিল যতক্ষণ না সে মারা গেল।»

ভ্রমণকাহিনির পাঠ থেকে, পৃষ্ঠা ১০৮
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
استهلال

تهدف هذه السّلسلة بعث واحد من أعرق ألوان الكتابة في ثقافتنا العربية، من خلال تقديم كلاسيكيّات أدب الرّحلة، إلى جانب الكشف عن نصوص مجهولة لكتاب ورحّالة عرب ومسلمين جابوا العالم ودوّنوا يوميّاتهم وانطباعاتهم، ونقلوا صورا لما شاهدوه وخبروه في أقاليمه، قريبة وبعيدة، لا سيما في القرنين الماضيين اللذين شهدا ولادة الاهتمام بالتجربة الغربية لدى النّخب العربية المثقفة، ومحاولة التعرّف على المجتمعات والنّاس في الغرب، والواقع أنه لا يمكن عزل هذا الاهتمام العربي بالآخر عن ظاهرة الاستشراق والمستشرقين الذين ملؤوا دروب الشّرق، ورسموا له صورا ستملأ مجلدات لا تحصى عددا، خصوصا في اللغات الإنكليزية والفرنسية والألمانية والإيطالية، وذلك من موقعهم القوي على خارطة العالم والعلم، ومن منطلق المستأثر بالأشياء، والمتهيّئ لترويج صور عن «شرق ألف ليلة وليلة» تغذّي أذهان الغربيين ومخيّلاتهم، وتمهّد الرأي العام، تاليا، للغزو الفكري والعسكري لهذا الشرق. ولعل حملة نابليون على مصر، بكل تداعياتها العسكرية والفكرية في ثقافتنا العربية، هي النموذج الأتمّ لذلك.

فقد دخلت المطبعة العربية إلى مصر مقطورة وراء عربة المدفع الفرنسي
সূচনা

এই গ্রন্থমালা আমাদের আরবি সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন লিখনশৈলীকে পুনর্জীবিত করার লক্ষ্য রাখে। এটি করা হচ্ছে ভ্রমণ সাহিত্যের ধ্রুপদী কর্মগুলো উপস্থাপনের পাশাপাশি এমন সব আরব ও মুসলিম লেখক ও ভ্রমণকারীদের অজ্ঞাত পাণ্ডুলিপিগুলো উন্মোচনের মধ্য দিয়ে, যারা বিশ্ব ভ্রমণ করেছিলেন এবং তাদের রোজনামচা ও অনুভূতিগুলো লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তারা যা দেখেছিলেন এবং নিকট ও দূরের জনপদগুলোতে যা অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, তার প্রতিচ্ছবি তুলে ধরেছেন; বিশেষত বিগত দুই শতাব্দীতে, যখন শিক্ষিত আরব বুদ্ধিজীবী শ্রেণির মধ্যে পাশ্চাত্য অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আগ্রহের জন্ম হয়েছিল এবং তারা পশ্চিমা সমাজ ও মানুষ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলেন। বাস্তবতা হলো, 'অপর' সম্পর্কে আরবদের এই আগ্রহকে প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখা সম্ভব নয়, যারা প্রাচ্যের অলিগলি চষে বেড়িয়েছেন এবং এর এমন সব প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন যা অগণিত খণ্ড পূর্ণ করবে, বিশেষ করে ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষায়। তারা এটি করেছিলেন বিশ্ব ও বিজ্ঞানের মানচিত্রে তাদের শক্তিশালী অবস্থান থেকে এবং সবকিছুর একচেটিয়া অধিকার রক্ষার মানসিকতা থেকে। তারা ‘সহস্র এক রজনীর প্রাচ্য’ সম্পর্কে এমন সব ধারণা ছড়িয়ে দিতে প্রস্তুত ছিল যা পশ্চিমাদের মন ও কল্পনাকে খোরাক জোগাত এবং এর ফলস্বরূপ, এই প্রাচ্যের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক ও সামরিক আগ্রাসনের জন্য জনমতকে প্রস্তুত করত। সম্ভবত মিশরে নেপোলিয়নের অভিযান এবং আমাদের আরবি সংস্কৃতিতে এর সমস্ত সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাব এর পূর্ণাঙ্গতম উদাহরণ।

কারণ আরবি ছাপাখানা মিশরে প্রবেশ করেছিল ফরাসি কামানের গাড়ির পেছনে বাঁধা হয়ে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
لتؤسس للظاهرة الاستعمارية بوجهيها العسكري والفكري.

على أن الظّاهرة الغربية في قراءة الآخر وتأويله، كانت دافعا ومحرضا بالنسبة إلى النخب العربية المثقفة التي وجدت نفسها في مواجهة صور غربيّة لمجتمعاتها جديدة عليها، وهو ما استفز فيها العصب الحضاري، لتجد نفسها تملك، بدورها، الدوافع والأسباب لتشدّ الرحال نحو الآخر، بحثا واستكشافا، وتعود ومعها ما تنقله وتعرضه وتقوله في حضارته ونمط عيشه وأوضاعه، ضاربة بذلك الأمثال للناس، ولينبعث في المجتمعات العربية، وللمرة الأولى، صراع فكري حاد تستقطب إليه القوى الحيّة في المجتمع بين مؤيد للغرب موال له ومتحمّس لأفكاره وصياغاته، وبين معاد للغرب، رافض له، ومستعدّ لمقاتلته.

وإذا كان أدب الرحلة الغربي قد تمكن من تنميط الشرق والشرقيين، عبر رسم صور دنيا لهم، بواسطة مخيّلة جائعة إلى السّحري والأيروسيّ والعجائبيّ، فإن أدب الرحلة العربي إلى الغرب والعالم، كما سيتّضح من خلال نصوص هذه السلسة، ركّز، أساسا، على تتبع ملامح النهضة العلميّة والصناعيّة، وتطوّر العمران، ومظاهر العصرنة ممثلة في التطور الحادث في نمط العيش والبناء والاجتماع والحقوق. لقد انصرف الرّحالة العرب إلى تكحيل عيونهم بصور النهضة الحديثة في تلك المجتمعات، مدفوعين، غالبا، بشغف البحث عن الجديد، وبالرغبة العميقة الجارفة لا في الاستكشاف فقط، من باب الفضول المعرفي، وإنما، أساسا، من باب طلب العلم، واستلهام التجارب، ومحاولة الأخذ بمعطيات التطور الحديث، واقتفاء أثر الآخر للخروج من حالة الشّلل الحضاريّ التي وجد العرب أنفسهم فريسة لها.

هنا، على هذا المنقلب، نجد أحد المصادر الأساسية المؤسّسة للنظرة الشرقية المندهشة بالغرب وحضارته، وهي نظرة المتطلّع إلى المدنيّة وحداثتها من
সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক—উভয় রূপ নিয়ে ঔপনিবেশিক প্রপঞ্চের ভিত্তি স্থাপনের জন্য।

অন্যকে পাঠ এবং ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে পশ্চিমের এই প্রপঞ্চটি শিক্ষিত আরব উচ্চবিত্তদের জন্য এক অনুপ্রেরণা ও উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছিল। তারা নিজেদের সমাজের এমন সব পশ্চিমা চিত্রের সম্মুখীন হয়েছিল যা তাদের কাছে ছিল একেবারেই নতুন। এটি তাদের সভ্যতাগত চেতনাকে জাগ্রত করে, যার ফলে তারা নিজেরাও অন্যের অভিমুখে যাত্রা করার এবং অনুসন্ধান ও আবিষ্কারের অনুপ্রেরণা ও কারণ খুঁজে পায়। তারা ফিরে আসে অন্যের সভ্যতা, জীবনধারা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা, উপস্থাপনা ও ভাষ্য নিয়ে, যা মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে আরব সমাজে প্রথমবারের মতো এক তীব্র বুদ্ধিবৃত্তিক দ্বন্দ্বের জন্ম হয়, যেখানে সমাজের প্রাণশক্তিগুলো দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়ে: একদল পশ্চিমের সমর্থক, অনুগত এবং তাদের চিন্তা ও কাঠামোর ব্যাপারে উৎসাহী; অন্যদল পশ্চিমের শত্রু, প্রত্যাখ্যানকারী এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

উপাখ্যানমূলক, কামুক ও অদ্ভুত বিষয়ের প্রতি বুভুক্ষু কল্পনার মাধ্যমে পশ্চিমা ভ্রমণ সাহিত্য যদি প্রাচ্য ও প্রাচ্যবাসীদের তুচ্ছ চিত্র এঁকে তাদের একটি ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করে থাকে, তবে পশ্চিম ও বিশ্বভ্রমণ নিয়ে রচিত আরব ভ্রমণ সাহিত্য—যা এই সিরিজের পাঠ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হবে—মূলত বৈজ্ঞানিক ও শিল্প বিপ্লবের বৈশিষ্ট্য, নগর উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রা, স্থাপত্য, সমাজ ও অধিকারের ক্ষেত্রে আধুনিকতার বহিঃপ্রকাশগুলো অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। আরব ভ্রমণকারীরা সেই সমাজগুলোর আধুনিক রেনেসাঁর চিত্র দিয়ে নিজেদের চোখকে জুড়িয়েছেন। তারা চালিত হয়েছিলেন নতুনের সন্ধানে এবং এক গভীর তীব্র আকাঙ্ক্ষায়; যা কেবল জ্ঞানতাত্ত্বিক কৌতূহল থেকে উদ্ভূত কোনো অনুসন্ধান ছিল না, বরং ছিল মূলত জ্ঞান অর্জন, অভিজ্ঞতা থেকে প্রেরণা লাভ, আধুনিক উন্নয়নের উপাদানগুলো গ্রহণ এবং সেই সভ্যতাগত পঙ্গুত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অন্যের পদাঙ্ক অনুসরণের চেষ্টা, যার শিকার আরবরা নিজেরাই হয়েছিল।

এখানে, এই প্রেক্ষাপটে, আমরা পশ্চিম ও তার সভ্যতার প্রতি প্রাচ্যের সেই বিস্ময়াভিভূত দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম মৌলিক উৎস খুঁজে পাই; যা ছিল মূলত নাগরিক সভ্যতা ও তার আধুনিকতার প্রতি সেই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি যে...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
موقعه الأدنى على هامش الحضارة الحديثة، المتحسّر على ماضيه التليد، والتّائق إلى العودة إلى قلب الفاعلية الحضارية.

إن أحد أهداف هذه السّلسة من كتب الرحلات العربية إلى العالم، هو الكشف عن طبيعة الوعي بالآخر الذي تشكّل عن طريق الرحلة، والأفكار التي تسرّبت عبر سطور الرّحالة، والانتباهات التي ميّزت نظرتهم إلى الدول والناس والأفكار. فأدب الرحلة، على هذا الصعيد، يشكّل ثروة معرفيّة كبيرة، ومخزنا للقصص والظواهر والأفكار، فضلا عن كونه مادة سرديّة مشوّقة تحتوي على الطريف والغريب والمدهش مما التقطته عيون تتجوّل وأنفس تنفعل بما ترى، ووعي يلمّ بالأشياء ويحلّلها ويراقب الظواهر ويتفكّر بها.

أخيرا، لا بد من الإشارة إلى أن هذه السّلسلة التي قد تبلغ المائة كتاب من شأنها أن تؤسس، وللمرة الأولى، لمكتبة عربية مستقلّة مؤلّفة من نصوص ثريّة تكشف عن همّة العربيّ في ارتياد الآفاق، واستعداده للمغامرة من باب نيل المعرفة مقرونة بالمتعة، وهي إلى هذا وذاك تغطي المعمور في أربع جهات الأرض وفي قارّاته الخمس، وتجمع إلى نشدان معرفة الآخر وعالمه، البحث عن مكونات الذات الحضارية للعرب والمسلمين من خلال تلك الرحلات التي قام بها الأدباء والمفكرون والمتصوفة والحجاج والعلماء، وغيرهم من الرّحالة العرب في أرجاء ديارهم العربية والإسلامية.

محمد أحمد السويدي
আধুনিক সভ্যতার প্রান্তিক সীমায় তার নিম্নতর অবস্থান, যে তার গৌরবোজ্জ্বল অতীতের জন্য শোকাতুর এবং সভ্যতার সক্রিয়তার কেন্দ্রে ফিরে আসার জন্য ব্যাকুল।

বিশ্বে আরব ভ্রমণকাহিনি সম্বলিত এই গ্রন্থ সিরিজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, ভ্রমণের মাধ্যমে অন্যের সম্পর্কে যে সচেতনতা তৈরি হয়েছে তার স্বরূপ উন্মোচন করা, ভ্রমণকারীদের বর্ণনার পরতে পরতে যে সকল ধারণা সঞ্চারিত হয়েছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র, মানুষ ও চিন্তা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির স্বাতন্ত্র্যসমূহ তুলে ধরা। এই প্রেক্ষাপটে, ভ্রমণ সাহিত্য একটি বিশাল জ্ঞানভাণ্ডার এবং গল্প, ঘটনা ও চিন্তাধারার আধার স্বরূপ; সেইসাথে এটি একটি আকর্ষণীয় বর্ণনামূলক উপাত্ত, যা পর্যটকদের চোখে ধরা পড়া কৌতূহল উদ্দীপক, অদ্ভুত ও বিস্ময়কর বিষয়াবলি ধারণ করে। এটি এমন এক সচেতনতা যা দৃশ্যমান বস্তুর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং বিষয়সমূহ অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও তা নিয়ে চিন্তা করে।

পরিশেষে, এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, প্রায় শত খণ্ড সম্বলিত এই সিরিজটি প্রথমবারের মতো একটি স্বতন্ত্র আরবি গ্রন্থাগারের ভিত্তি স্থাপন করবে। এটি এমন সব সমৃদ্ধ পাণ্ডুলিপি দ্বারা গঠিত যা দিগন্ত উন্মোচনে আরবদের হিম্মত এবং আনন্দের সাথে জ্ঞান অর্জনের লক্ষে দুঃসাহসিক অভিযানের প্রস্তুতিকে ফুটিয়ে তোলে। তদুপরি, এটি পৃথিবীর চার প্রান্ত এবং পাঁচটি মহাদেশের জনপদগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিরিজটি অন্যের জগত ও জ্ঞান অন্বেষণের পাশাপাশি আরব ও মুসলমানদের সভ্যতার আত্মিক উপাদানগুলোরও সন্ধান করে, যা সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, সুফি, হাজি, আলেম এবং অন্যান্য আরব পর্যটকদের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ আরব ও ইসলামি ভূখণ্ডের আনাচে-কানাচে সফরের মাধ্যমে উঠে এসেছে।

মুহাম্মদ আহমদ আল-সুওয়াইদি
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
المقدّمة

إذا ما استحقّت رحلة ابن فضلان التي قام بها سنة 921 م عناية استثنائية من طرف الباحثين والمحققين، فلأنّها من أوائل الرحلات العربية التي وصلت إلينا. ومقارنة برحلة أبي دلف سنة 942، ورحلة المقدسي سنة 985- 990 م، فإن رحلة ابن فضلان تظلّ مشغولة بهمّ توثيقيّ صرف أكثر من اهتمامها بالشأن الجغرافيّ. إنّها وصف أنثروبولوجيّ يتمحور حول موضوع واحد محدّد لا يحيد عنه رغم قصر النّسخة الواصلة إلينا.

لقد انطلق ابن فضلان يوم الخميس 11 صفر سنة 309 هـ، الموافق 21 حزيران سنة 921 م، برحلة شائقة بتكليف من الخليفة المقتدر العباسيّ الذي طلب الصقالبة العون منه. واستغرقت الرحلة أحد عشر شهرا في الذّهاب، وكانت مليئة بالمغامرات والمشاقّ والمصاعب السياسيّة والانفتاحات على الآخر المختلف ثقافيا.

والصقالبة هم سكّان شمال القارّة الأوربيّة، وكانوا يسكنون على أطراف نهر الفولغا، وتقع عاصمتهم بالقرب من (قازان) اليوم في خطّ يوازي مدينة موسكو.

وكان وفد الخليفة المقتدر إلى ملك الصقالبة يتكوّن من أربعة رجال أساسيين وبضعة مرافقين من الفقهاء والمعلمين والغلمان.
ভূমিকা

৯২১ খ্রিস্টাব্দে ইবনে ফাদলান যে সফরটি করেছিলেন, গবেষক ও পর্যালোচনাকারীদের পক্ষ থেকে যদি তা বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার হয়ে থাকে, তবে তা এই কারণে যে এটি আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রথম দিকের আরবি সফরনামাগুলোর মধ্যে একটি। ৯৪২ খ্রিস্টাব্দের আবু দুলাফ এবং ৯৮৫-৯৯০ খ্রিস্টাব্দের আল-মাকদিসির সফরের তুলনায় ইবনে ফাদলানের সফরনামাটি ভৌগোলিক বিষয়ের চেয়ে বিশুদ্ধ তথ্যচিত্রায়ণের (ডকুমেন্টেশন) প্রতি অধিক নিবিষ্ট ছিল। এটি একটি নৃবিজ্ঞানমূলক বর্ণনা যা একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে এবং আমাদের কাছে পৌঁছানো পাণ্ডুলিপিটির সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও তা থেকে বিচ্যুত হয়নি।

ইবনে ফাদলান ৩০৯ হিজরির ১১ সফর, বৃহস্পতিবার, যা ৯২১ খ্রিস্টাব্দের ২১ জুনের সমকক্ষ, আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাদিরের আদেশে এক আকর্ষণীয় সফরে যাত্রা করেন, যাঁর কাছে সকালাবাগণ সাহায্য প্রার্থনা করেছিল। গন্তব্যে পৌঁছাতে সফরটিতে এগারো মাস সময় লেগেছিল এবং এটি ছিল রোমাঞ্চ, কষ্ট-ক্লেশ, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা এবং সাংস্কৃতিক ভিন্নতার প্রতি উন্মুক্ততায় পূর্ণ।

সকালাবা হলো ইউরোপ মহাদেশের উত্তরাঞ্চলের অধিবাসী, তারা ভলগা নদীর তীরে বসবাস করত এবং তাদের রাজধানী বর্তমানের (কাজান)-এর নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল যা মস্কো শহরের সমান্তরাল রেখায় পড়ে।

সকালাবা রাজের কাছে প্রেরিত খলিফা আল-মুকতাদিরের প্রতিনিধি দলে চারজন প্রধান ব্যক্তি এবং ফকিহ, শিক্ষক ও ভৃত্যদের মধ্য থেকে কয়েকজন সফরসঙ্গী অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌النسخة الوحيدة لمخطوطة رسالة ابن فضلان:

صدرت الطبعة الأولى من «رسالة ابن فضلان» بدمشق سنة 1959 عن مجمع اللّغة العربية في دمشق بتحقيق الدكتور سامي الدهان، مع تقديم واسع وشروحات ضافية. ثمّ صدرت طبعتها الثانية عن مديرية إحياء التراث العربيّ في وزارة الثقافة والإرشاد القوميّ السورية عام 1977. ثم صدرت لها طبعة ثالثة (كتب عليها أنّها الطبعة الثانية!) سنة 1987 عن مكتبة الثقافة العالمية في بيروت، وعليها نعتمد نحن في طبعتنا هذه.

يتخذ الدكتور الدهان من (صورة شمسية) لرسالة ابن فضلان أصلا للتحقيق الذي قام به. وإليكم تفصيل الأمر: في سنة 1924 نشر ماركوارت Markwart دراسة عن الرّحالة في ليبتسك، وفي نفس السّنة تسلّم المعهد الآسيويّ للاستشراق في بطرسبورغ ورقتين مصورتين من النّسخة الخطيّة التي اكتشفت في مدينة مشهد (طوس) الإيرانية، ووصلت بقيّة الأوراق مصورة بعد عشر سنوات إلى العهد. ومنذ ذلك العام نفسه نشر مقال بالروسيّة في التّعريف بالنّسخة الخطيّة المكتشفة في خزانة المخطوطات بمشهد. في سنة 1926 صدر فهرس هذه الخزانة، وفيه وصف هذه النّسخة، تحت رقم 2 «أخبار البلدان» عربي. وقد كتبت المخطوطة بخطّ النّسخ، وفي كلّ صفحة منها 19 سطرا، وأوراقها 212 ورقة آخرها مبتور مخروم.

وأوّل من حقّق مخطوطة مشهد وعلّق عليها وترجمها هو الباحث التركيّ وليد زكي طوغان الذي قابلها على ما جاء عند ياقوت الحموي ونشرها بالحروف العربية والترجمة الألمانية وطبعها سنة 1939. وفي السّنة نفسها ترجمها المستشرق الكبير كراتشوفسكي وكتب لها مقدمة ضافية، وفي آخر دراسته نشر صورة فوتغرافية للرّسالة كاملة عن مخطوطة مشهد وبحجم كبير «1» .

وإلى أساس هذه الصور الشّمسيّة التي نشرها كرتشوفسكي يستند التحقيق كلّه
ইবনে ফাদলানের রিসালার পাণ্ডুলিপির একমাত্র অনুলিপি:

'রিসালা ইবনে ফাদলান'-এর প্রথম সংস্করণ ১৯৫৯ সালে দামেস্কে ডক্টর সামি আদ-দাহহানের সম্পাদনায় দামেস্কের আরবি ভাষা একাডেমি থেকে একটি দীর্ঘ ভূমিকা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাসহ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৭৭ সালে সিরিয়ার সংস্কৃতি ও জাতীয় দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের আরবি ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ অধিদপ্তর থেকে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। অতঃপর ১৯৮৭ সালে বৈরুতের মাকতাবাতুস সাকাফাহ আল-আলামিয়্যাহ থেকে এর একটি তৃতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় (যার ওপর এটি দ্বিতীয় সংস্করণ বলে লেখা ছিল!), আর আমাদের এই সংস্করণে আমরা এরই ওপর নির্ভর করেছি।

ডক্টর আদ-দাহহান তার সম্পাদিত কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে ইবনে ফাদলানের রিসালার একটি আলোকচিত্র গ্রহণ করেছেন। বিষয়টির বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ: ১৯২৪ সালে মার্কওয়ার্ট (Markwart) লিপজিগে এই পরিব্রাজক সম্পর্কে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। একই বছর সেন্ট পিটার্সবার্গের এশীয় প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউট ইরানের মাশহাদ (তুস) শহরে আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিটির দুটি ছায়াছবি সংবলিত পাতা লাভ করে। দশ বছর পর বাকি পাতাগুলোর ছবিও উক্ত ইনস্টিটিউটে পৌঁছায়। সেই একই বছর মাশহাদের পাণ্ডুলিপি ভাণ্ডারে আবিষ্কৃত এই পাণ্ডুলিপিটির পরিচিতি তুলে ধরে রুশ ভাষায় একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ১৯২৬ সালে এই গ্রন্থাগারের ক্যাটালগ প্রকাশিত হয়, যাতে ২ নম্বর ক্রমিকের অধীনে আরবি 'আখবারুল বুলদান' নামে এই কপির বর্ণনা দেওয়া হয়। পাণ্ডুলিপিটি নাসখ লিপিতে লিখিত, এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে এবং এতে মোট ২১২টি পাতা আছে, যার শেষ অংশটি খণ্ডিত ও অসম্পূর্ণ।

মাশহাদ পাণ্ডুলিপিটি সর্বপ্রথম যিনি সম্পাদনা করেন, টীকা প্রদান করেন এবং অনুবাদ করেন, তিনি হলেন তুর্কি গবেষক ওয়ালিদ জাকি তোগান। তিনি ইয়াকুত আল-হামাভির বর্ণনার সাথে এটি মিলিয়ে দেখেন এবং ১৯৩৯ সালে আরবি হরফ ও জার্মান অনুবাদসহ এটি প্রকাশ করেন। একই বছর প্রখ্যাত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ক্রাচকভস্কি এটি অনুবাদ করেন এবং এর জন্য একটি বিস্তৃত ভূমিকা লেখেন। তার গবেষণার শেষে তিনি মাশহাদ পাণ্ডুলিপি থেকে সম্পূর্ণ রিসালাটির একটি বড় আকারের আলোকচিত্র প্রকাশ করেন «১»।

ক্রাচকভস্কি কর্তৃক প্রকাশিত এই আলোকচিত্রগুলোর ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানের সম্পূর্ণ সম্পাদনাটি করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
الذي قام به د. الدّهان، وبالاستعانة، كما أحسب، بطبعة وليد زكي طوغان العربية- الألمانية.

‌‌ياقوت الحموي يقود إلى ابن فضلان

قبل التوصّل إلى اكتشاف مخطوطة مشهد التي نشرها د. الدّهان فإنّ النقولات التي قام بها ياقوت الحمويّ في (معجم البلدان) عن رحلة ابن فضلان هي التي قادت المستشرقين والباحثين للاهتمام بابن فضلان محاولين العثور على نسخة من عمله، وهو ما توصلوا إليه أخيرا.

يثبت د. الدّهان أنّ الإصطخريّ «2» وابن رسته والمسعوديّ قد قرأوا رسالة ابن فضلان ونقلوا عنه دون أن يثبتوا أنّهم قد نقلوا عنه. لكنّ الرّجوع إلى هؤلاء يبرهن أنّ ما يذكرونه، عن الروس والخزر والبلغار، لا يبدو كثير التطابق مع رسالة ابن فضلان إلا عرضا وبنقاط معلوماتية مشاعة، يمكن أن تتهيأ لأيّ جغرافيّ جاد دون أن ينقل بالضرورة عن غيره.

يذكر الدّهان أنّ ياقوت، في القرن السابع، كان (أول) من أشار إلى ابن فضلان، مختارا فصولا من رسالته ومدرجا إيّاها في معجمه، مصرّحا أي ياقوت، بأوضح
যা ড. আল-দাহহান সম্পাদন করেছেন এবং আমার ধারণা মতে, ওয়ালিদ জাকি তোগানের আরবি-জার্মান সংস্করণের সহায়তায়।

‌‌ইয়াকুত আল-হামাউই ইবনে ফাদলানের দিকে পথপ্রদর্শন করছেন

ড. আল-দাহহান কর্তৃক প্রকাশিত মাশহাদ পাণ্ডুলিপিটি আবিষ্কৃত হওয়ার আগে, ইয়াকুত আল-হামাউই তাঁর ‘মু’জামুল বুলদান’-এ ইবনে ফাদলানের ভ্রমণকাহিনী থেকে যে উদ্ধৃতিগুলো দিয়েছিলেন, সেগুলোই মূলত প্রাচ্যবিদ ও গবেষকদের ইবনে ফাদলানের প্রতি আগ্রহী করে তুলেছিল। তাঁরা তাঁর কর্মের একটি অনুলিপি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং অবশেষে তা লাভে সক্ষম হন।

ড. আল-দাহহান প্রমাণ করেছেন যে, আল-ইসতাখরি, ইবনে রুস্তাহ এবং আল-মাসউদি ইবনে ফাদলানের রিসালা (পত্র) পড়েছিলেন এবং তাঁর থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছিলেন, যদিও তাঁরা বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। কিন্তু তাঁদের রচনার দিকে ফিরে তাকালে এটি প্রমাণিত হয় যে, রুশ, খাজার এবং বুলগারদের সম্পর্কে তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন, তা ইবনে ফাদলানের রিসালার সাথে খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হয় না; কেবল আকস্মিক ও সাধারণ কিছু তথ্যগত বিষয় ছাড়া, যা অন্য কারো কাছ থেকে উদ্ধৃত না করেই যে কোনো একনিষ্ঠ ভূগোলবিদের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব ছিল।

আল-দাহহান উল্লেখ করেছেন যে, সপ্তম শতাব্দীতে ইয়াকুত আল-হামাউই ছিলেন (প্রথম) ব্যক্তি যিনি ইবনে ফাদলানের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন। তিনি তাঁর রিসালা থেকে কিছু অধ্যায় নির্বাচন করে তাঁর অভিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। ইয়াকুত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
عبارة، بأنّه ينقل عنه، خاصة تحت المواد: خوارزم، باشغرد، بلغار، إتل، روس، خزر. وقد أثبت ياقوت قرابة عشرين صفحة من الرّسالة، وترك خمس عشرة صفحة منها، فكأنّه، كما يقول د. الدّهان، نقل ثلثيها وبقي ثلث واحد- على الأقلّ- مجهولا.

هل كان ياقوت الأوّل والوحيد الذي يصرّح جهارا بنقله عن ابن فضلان كما يقول د. الدهان ويتابعه الجميع بعد ذلك؟ كلا. وهنا واحدة من نتائج بحثنا في رسالة ابن فضلان ومن فضائل طبعتنا الحاليّة هذه كما سنرى.

لنعد إلى المستشرقين المهتمّين بتاريخ الروس والبلغار، ولنر إلى أنّ اهتمامهم سنة 1800 قد قادهم إلى نشر ما قاله العرب عن الروس وفيهم الإدريسيّ والمسعوديّ وابن فضلان (عبر ما ينقله ياقوت فحسب لأنّ نسخة مشهد كانت مجهولة) . سنة 1841 جمع المستشرق راسموسن Rasmussen مقاطع من فصول ياقوت المنقولة عن ابن فضلان وترجمها إلى الروسيّة، ونقلها عنه إلى الإنكليزية نيكلسون بعد أربع سنوات. سنة 1819 جمع المستشرق الألمانيّ فرين Fraehn مخطوطات ياقوت ليستخرج منها ما نقله الأخير عن ابن فضلان ونشرها تباعا منذ سنة 1822. سنة 1863 نشر وستنفلد دراسة بالألمانية عن الرحلات عند ياقوت وفيها رحة ابن فضلان، وكان يجمع مخطوطات ياقوت من أجل نشر معجم البلدان. وفي سنة 1899 نشر فستبرغ Festberg دراسة كذلك عن ابن فضلان. وفي سنة 1902 نشر المستشرق فون روزن Rosen مقالا بالروسيّة عن ابن فضلان كذلك. سنة 1911 كتب المستشرق التشيكيّ دفورجاك Dvorak دراسة عن رحلة ابن فضلان نشرها في براغ، وبعد عامين نشر برتولد Barthold بالروسيّة دراسة عن موضوع الرحلات إلى روسية عند العرب.

كان ابن فضلان (المنقول عبر ياقوت الحمويّ) في صلب اهتمامات هؤلاء المستشرقين. وكان ياقوت إذن حلقة وصل وتعريف بالرجل قبل اكتشاف مخطوطة مشهد انفة الذّكر.

وياقوت الحمويّ (ولد عام 1178 م- توفي عام 1228 م) هو أديب ومؤلف موسوعات، ولد في مدينة حماة السوريّة. اشتهر بكتابه «إرشاد الأريب إلى معرفة
একটি উদ্ধৃতি, যাতে প্রতীয়মান হয় যে তিনি তার থেকে বর্ণনা করছেন, বিশেষ করে এই ভুক্তিগুলোর অধীনে: খোয়ারিজম, বাশগুরদ, বুলগার, ইতিল, রুস, খাযার। ইয়াকুত এই রিসালাহ (পুস্তিকা) থেকে প্রায় বিশ পৃষ্ঠা গ্রহণ করেছেন এবং পনের পৃষ্ঠা বর্জন করেছেন। ড. আদ-দাহহান যেমনটি বলেছেন, তিনি এর দুই-তৃতীয়াংশ উদ্ধৃত করেছেন এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ—সর্বনিম্ন—অজ্ঞাত রয়ে গেছে।

ইয়াকুত কি প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি ইবনে ফাদলান থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন, যেমনটি ড. আদ-দাহহান বলেছেন এবং পরবর্তীতে সকলে তাকে অনুসরণ করেছেন? না। ইবনে ফাদলানের রিসালাহ সম্পর্কে আমাদের গবেষণার অন্যতম ফলাফল এবং আমাদের বর্তমান এই সংস্করণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এখানেই নিহিত, যা আমরা দেখতে পাব।

আসুন আমরা রুশ ও বুলগারদের ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী প্রাচ্যবিদদের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আমরা দেখতে পাই যে, ১৮০০ সালে তাদের এই আগ্রহ তাদের আরবদের রুশ জাতি সম্পর্কে বলা কথাগুলো প্রকাশ করতে পরিচালিত করেছিল, যার মধ্যে আল-ইদরিসী, আল-মাসউদী এবং ইবনে ফাদলান (কেবল ইয়াকুতের উদ্ধৃতির মাধ্যমে, কারণ মাশহাদ পাণ্ডুলিপিটি তখন অজ্ঞাত ছিল) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ১৮৪১ সালে প্রাচ্যবিদ রাসমুসেন ইবনে ফাদলান থেকে উদ্ধৃত ইয়াকুতের অধ্যায়গুলোর অংশবিশেষ সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো রুশ ভাষায় অনুবাদ করেন। চার বছর পর নিকলসন সেগুলো তার থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ১৮১৯ সালে জার্মান প্রাচ্যবিদ ফ্রেন ইয়াকুতের পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করেন যাতে তিনি সেখান থেকে ইবনে ফাদলান কর্তৃক উদ্ধৃত অংশগুলো বের করতে পারেন এবং ১৮২২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো প্রকাশ করেন। ১৮৬৩ সালে ভুস্টেনফেল্ড ইয়াকুতের ভ্রমণ কাহিনীগুলো নিয়ে জার্মান ভাষায় একটি গবেষণা প্রকাশ করেন, যার মধ্যে ইবনে ফাদলানের সফরও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি মু'জামুল বুলদান প্রকাশের উদ্দেশ্যে ইয়াকুতের পাণ্ডুলিপিগুলো সংগ্রহ করছিলেন। ১৮৯৯ সালে ফস্টবার্গ একইভাবে ইবনে ফাদলানের উপর একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। ১৯০২ সালে প্রাচ্যবিদ ফন রোজেন রুশ ভাষায় ইবনে ফাদলানের উপর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। ১৯১১ সালে চেক প্রাচ্যবিদ দভোরজাক ইবনে ফাদলানের ভ্রমণ সম্পর্কে একটি গবেষণা লেখেন যা প্রাগ থেকে প্রকাশিত হয়। দুই বছর পর বার্থোল্ড রুশ ভাষায় আরবদের রাশিয়া ভ্রমণের বিষয়ের ওপর একটি গবেষণা প্রকাশ করেন।

ইবনে ফাদলান (যিনি ইয়াকুত আল-হামাভীর মাধ্যমে উদ্ধৃত) ছিলেন এই প্রাচ্যবিদদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। সুতরাং ইয়াকুত ছিলেন সেই সংযোগসূত্র এবং পূর্বোল্লিখিত মাশহাদ পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হওয়ার পূর্বে এই ব্যক্তির সাথে পরিচিতি লাভের মাধ্যম।

ইয়াকুত আল-হামাভী (জন্ম ১১৭৮ খ্রিষ্টাব্দ - মৃত্যু ১২২৮ খ্রিষ্টাব্দ) একজন সাহিত্যিক এবং বিশ্বকোষ প্রণেতা ছিলেন, তিনি সিরিয়ার হামাহ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ «ইরশাদুল আরীব ইলা মারিফাতিল আদিব» এর জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأديب» ، الذي جمع فيه أخبار الأدباء إلى أيامه، ورتّبهم فيه حسب حروف المعجم، وأشار إلى من اشتغل منهم بالكتابة أو الوراقة أو النّسخ أو الشّعر. ويعتبر الكتاب موسوعة ضخمة للأدباء. ذكر ياقوت في مقدمته كتب التّراجم الكثيرة التي استفاد منها، وتدلّ القائمة الكبيرة التي ذكرها على أنّه علم من أعلام مؤلفي الموسوعات في التاريخ. كما يدلّ على ذلك أيضا تأليفه كتاب «معجم البلدان» ، وهو موسوعة جغرافية ضخمة تستغرق عدّة مجلّدات، رتّبت هي الأخرى على حروف المعجم، وتتضمّن معلومات أدبية وتاريخية ولغويّة في غاية التنوّع والثراء.

‌‌ياقوت الحموي ليس الوحيد الذي يشير إلى ابن فضلان

من حينها حتى يومنا، جرى اعتبار ياقوت الحموي المصنّف الوحيد الذي ينقل عن ابن فضلان ويشير بصراحة إلى ذلك بتعبيرات من قبيل: «وقرأت رسالة عملها أحمد بن فضلان بن العباس بن راشد بن حماد مولى محمد بن سليمان رسول المقتدر بالله إلى ملك الصقالبة ذكر فيها ما شاهده منذ انفصل من بغداد إلى أن عاد إليها» أو «قرأت في كتاب أحمد بن فضلان بن العباس بن راشد بن حماد رسول المقتدر إلى بلاد الصقالبة» أو بتعبيرات نقدية بصدد ما وجده في الرسالة من الأفكار المنافية للمنطق والعقل.

على أننا اكتشفنا أن ياقوت ليس الوحيد الذي يعترف بنقله واستشهاده بابن فضلان. القزويني كان يفعل في كتابة (آثار البلاد وأخبار العباد) ، وبثلاثة مواضع من كتابه:

1- «قال ابن فضلان في رسالته: رأيت جيحون وقد جمد سبعة عشر شبرا. والله أعلم بصحته» .

2- «حكى أحمد بن فضلان رسول المقتدر بالله إلى ملك الصقالبة لّما أسلم فقال:

عند ذكر باشغرت وقعنا في … » إلخ.

3- «حكى أحمد بن فضلان لما أرسله المقتدر بالله إلى ملك الصقالبة وقد أسلم حمل إليه الخلع. وذكر من الصقالبة عادات عجيبة منها ما قال: دخلنا
«আল-আদিব» (সাহিত্যিক), যাতে তিনি তাঁর সময় পর্যন্ত সাহিত্যিকদের সংবাদ সংকলন করেছেন এবং অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী তাদের বিন্যস্ত করেছেন। তিনি তাদের মধ্যে যারা লেখালেখি, পাণ্ডুলিপি বাণিজ্য, অনুলিপি করা বা কবিতার সাথে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এই বইটি সাহিত্যিকদের জন্য একটি বিশাল বিশ্বকোষ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইয়াকুত তাঁর ভূমিকায় অনেকগুলো জীবনীগ্রন্থের কথা উল্লেখ করেছেন যা থেকে তিনি উপকৃত হয়েছেন। তাঁর উল্লিখিত এই বিশাল তালিকাটি প্রমাণ করে যে, তিনি ইতিহাসের বিশ্বকোষ রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম একজন দিকপাল। তাঁর রচিত «মু'জামুল বুলদান» (দেশসমূহের অভিধান) গ্রন্থটিও এর প্রমাণ দেয়, যা একটি বিশাল ভৌগোলিক বিশ্বকোষ এবং যা বেশ কয়েকটি খণ্ড জুড়ে বিস্তৃত। এটিও অভিধানের বর্ণানুক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এবং এতে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও ভাষাগত তথ্য রয়েছে।

‌‌ইবনে ফাদলানের উদ্ধৃতি কেবল ইয়াকুত আল-হামাভীই দেননি

তখন থেকে আজ পর্যন্ত ইয়াকুত আল-হামাভীকেই একমাত্র গ্রন্থকার হিসেবে বিবেচনা করা হতো যিনি ইবনে ফাদলান থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেন এবং স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেন। তিনি সাধারণত এমন অভিব্যক্তি ব্যবহার করতেন যেমন: «আমি আহমাদ ইবনে ফাদলান ইবনে আল-আব্বাস ইবনে রাশিদ ইবনে হাম্মাদ—যিনি মুহাম্মাদ ইবনে সুলাইমানের মুক্তদাস এবং সাকালিবা (স্লাভ) রাজার কাছে আল-মুকতাদির বিল্লাহর দূত ছিলেন—তাঁর রচিত একটি রিসালাহ (পত্র) পড়েছি, যাতে তিনি বাগদাদ থেকে বের হওয়া থেকে শুরু করে সেখানে ফিরে আসা পর্যন্ত যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছেন তা উল্লেখ করেছেন» অথবা «আমি সাকালিবা দেশে আল-মুকতাদিরের দূত আহমাদ ইবনে ফাদলান ইবনে আল-আব্বাস ইবনে রাশিদ ইবনে হাম্মাদের কিতাবে পড়েছি» অথবা সেই রিসালাহতে প্রাপ্ত যুক্তি ও বুদ্ধিবিরোধী কিছু ধারণার ব্যাপারে সমালোচনামূলক অভিব্যক্তির মাধ্যমে।

তবে আমরা আবিষ্কার করেছি যে, ইয়াকুতই একমাত্র ব্যক্তি নন যিনি ইবনে ফাদলানের উদ্ধৃতি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। আল-কাযভিনীও তাঁর রচিত (আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ) কিতাবে তা করেছেন, এবং তাঁর কিতাবের তিনটি স্থানে এটি পাওয়া যায়:

১- «ইবনে ফাদলান তাঁর রিসালাহতে বলেছেন: আমি জাইহুন নদীকে সতেরো বিঘত (গভীরতা) পর্যন্ত বরফ হয়ে জমে থাকতে দেখেছি। এর সত্যতার ব্যাপারে আল্লাহ-ই ভালো জানেন।» .

২- «সাকালিবা রাজার কাছে আল-মুকতাদির বিল্লাহর দূত আহমাদ ইবনে ফাদলান তাঁর ইসলাম গ্রহণের সময়ের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন:

বাশঘুর্তের বর্ণনার সময় আমরা উপনীত হলাম … » ইত্যাদি।

৩- «আহমাদ ইবনে ফাদলান বর্ণনা করেছেন যখন আল-মুকতাদির বিল্লাহ তাঁকে সাকালিবা রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি (রাজা) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তখন তিনি তাঁর জন্য সম্মানসূচক পোশাক বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি সাকালিবাদের অদ্ভুত কিছু রীতিনীতি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে তিনি বলেছেন: আমরা প্রবেশ করলাম...»
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
عليه … » .

والاستشهادات هذه مضمومة كاملة في هوامش طبعتنا الحالية.

والقزويني هو أبو عبد الله بن زكريا بن محمد القزويني، ينتهي نسبه إلى أنس بن مالك عالم المدينة. ولد بقزوين في حدود سنة 605 للهجرة (1184 م) ، وتوفي سنة 628 هـ، (سنة 1261 م) . اشتغل بالقضاء مدة، ولكن عمله لم يلهه عن التأليف في الحقول العلمية. شغف بالفلك والطبيعة وعلوم الحياة، وكانت أعظم أعماله شأنا هي نظرياته في علم الرصد الجوي. مؤلفه الرئيسي هو كتابه المعروف (عجائب المخلوقات وغرائب الموجودات) وفيه وصف للسماء وما تحوي من كواكب وأجرام وبروج، والأرض وجبالها وأوديتها وأنهارها.. إلخ. وقد رتب ذلك ترتيبا أبجديا دقيقا. كما كتب مصنّفه (آثار البلاد وأخبار العباد) وفيه ثلاث مقدمات عن الحاجة إلى إنشاء المدن والقرى، وخواص البلاد، وتأثير البيئة على السكان والنبات والحيوان، كما عرض لأقاليم الأرض المعروفة آنذاك وبلدانها ومدنها وشعوبها، وخصائص كل منها.

توفي ياقوت سنة 1228 م بينما توفي القزويني سنة 1261 م أي أن بينهما 33 سنة فقط. يسبق إذن ياقوت الحموي القزويني ببضع سنوات، هل يجوز أن يكون القزويني قد نقل عن ياقوت المقاطع المتعلقة بابن فضلان؟. أشك بذلك بعمق، لأن من غير المستبعد البتة (بل من المؤكد) أن تكون نسخة من كتاب ابن فضلان قد وقعت بين يديه هو نفسه وذلك لطبيعة إشاراته الصريحة المشار إليها لرسالة ابن فضلان، إضافة إلى أن معاصرته لمؤلف آخر يشتغل مثله على المادة والمعلومات المتوفرة نفسها في عصريهما، لا تنفي وقوع نسخة من الرسالة بين يديه.

وعلى أية حال فنحن أمام واقعة جديدة، ربما فاتت على من عالج ابن فضلان ودرسه، وهي أن القزويني، وليس ياقوت، لوحده، من يستخدمه، بصراحة، مرجعا من مراجعه ويسمّيه باسمه ويعترف بنقله عنه.

‌‌هل زار ابن فضلان البلدان الإسكندنافيّة؟

بعد عمل الدكتور سامي الدهان الرائد، توقفنا، بانتباه أقل، أمام كتاب آخر
এর উপর … » ।

এই উদ্ধৃতিগুলো আমাদের বর্তমান সংস্করণের টীকায় পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আর কাজভিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ বিন জাকারিয়া বিন মুহাম্মদ আল-কাজভিনি, যাঁর বংশধারা মদিনার আলেম আনাস বিন মালিকের সাথে গিয়ে মিলেছে। তিনি হিজরি ৬০৫ সালের দিকে (১১৮৪ খ্রিস্টাব্দ) কাজভিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬২৮ হিজরিতে (১২৬১ খ্রিস্টাব্দে) মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কিছুকাল বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন, তবে তাঁর পেশাগত কাজ তাঁকে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার কাজ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি জ্যোতির্বিদ্যা, প্রকৃতি এবং জীবনবিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল আবহাওয়াবিজ্ঞান সংক্রান্ত তাঁর তত্ত্বসমূহ। তাঁর প্রধান গ্রন্থ হলো সুপরিচিত 'আজায়িবুল মাখলুকাত ওয়া গারায়িবুল মাউজুদাত' (সৃষ্টিজগতের বিস্ময় ও বিদ্যমান বস্তুর অলৌকিকত্ব), যাতে আকাশ এবং এর নক্ষত্র, মহাজাগতিক বস্তু ও রাশিচক্রের বর্ণনা রয়েছে, সেই সঙ্গে পৃথিবী এবং এর পাহাড়, উপত্যকা ও নদ-নদীর বর্ণনাও রয়েছে। তিনি এটিকে একটি সূক্ষ্ম বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে সাজিয়েছেন। এছাড়াও তিনি তাঁর 'আসারুল বিলাদ ওয়া আখবারুল ইবাদ' (দেশের নিদর্শন ও বান্দাদের সংবাদ) গ্রন্থটি লিখেছেন, যাতে শহর ও গ্রাম প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, দেশের বৈশিষ্ট্য এবং বাসিন্দা, উদ্ভিদ ও প্রাণীর ওপর পরিবেশের প্রভাব সম্পর্কে তিনটি ভূমিকা রয়েছে। সেখানে তিনি তৎকালীন পরিচিত পৃথিবীর অঞ্চলসমূহ, তাদের দেশ, শহর ও জাতিগোষ্ঠী এবং প্রত্যেকের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন।

ইয়াকুত ১২২৮ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন, পক্ষান্তরে কাজভিনি মৃত্যুবরণ করেন ১২৬১ খ্রিস্টাব্দে, অর্থাৎ তাঁদের মধ্যে সময়ের ব্যবধান মাত্র ৩৩ বছর। সুতরাং ইয়াকুত আল-হামাউয়ি কাজভিনি অপেক্ষা কয়েক বছর আগেকার মানুষ। তবে কি এটা সম্ভব যে, কাজভিনি ইবনে ফাদলান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো ইয়াকুতের কাছ থেকে উদ্ধৃত করেছেন? আমি এ বিষয়ে গভীর সন্দেহ পোষণ করি, কারণ এটি মোটেই অসম্ভব নয় (বরং এটি নিশ্চিত) যে, ইবনে ফাদলানের পাণ্ডুলিপির একটি কপি তাঁর নিজের হাতেই পৌঁছেছিল। এর কারণ হলো ইবনে ফাদলানের রিসালার (ভ্রমণকাহিনী) প্রতি তাঁর সরাসরি ইশারা বা উল্লেখের প্রকৃতি। এছাড়া, তাঁর সমসাময়িক অন্য একজন লেখক যিনি তাঁর মতোই তৎকালীন লভ্য একই উপাদান ও তথ্যের ওপর কাজ করতেন—এটি তাঁর হাতে উক্ত রিসালার কপি পৌঁছানোর সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয় না।

যাই হোক, আমরা এখন একটি নতুন বাস্তবতার সম্মুখীন হচ্ছি, যা সম্ভবত ইবনে ফাদলানকে নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। আর তা হলো, কেবল ইয়াকুত একাই নন, বরং কাজভিনিও স্পষ্টভাবে তাঁকে নিজের অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কাছ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।

ইবনে ফাদলান কি স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো ভ্রমণ করেছিলেন?

ডক্টর সামি আদ-দাহানের অগ্রগামী কাজের পর, আমরা তুলনামূলক কম মনোযোগের সাথে আরেকটি বইয়ের সামনে দাঁড়ালাম।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
يضم، إضافة للرحلة التي حققها الدهان، ما يحسبه مؤلفه القسم المفقود منها، الضائع أصله، بل إنه يسعى إلى تقديم كشف جديد بشأن مسارها، زاعما أن الرجل قد وصل حتى البلدان الإسكندنافية. والكتاب موضوع الإشارة قد صدر تحت عنوان:

رسالة ابن فضلان: مبعوث الخليفة العباسي المقتدر إلى بلاد الصقالبة، عن رحلته إلى بلاد الترك والخزر والصقالبة والروس واسكندنافيا في القرن العاشر الميلادي، جمع وترجمة وتقديم الدكتور حيدر محمد غيبة، الشركة العالمية للكتاب ش م ل مع آخرين، سوريا 1991.

في المتن الطويل لعمل كريكتون، الذي يسمّيه د. حيدر محمد غيبة (النص الإنكليزي) للرحلة يبدو ابن فضلان وقد دفع دفعا لأن يكون فارسا ومغامرا قروسطيا على الطريقة الإسكندنافية. من أين حصل الدكتور غيبة على هذا المتن؟

سأتوقف قليلا وبالتطويل اللازم إذا استدعى الأمر لمناقشة هذا العمل بسبب الارتباك والخفة المتناهية ذات المزاعم العلمية، التي أنجز بها الدكتور حيدر محمد غيبة عمله.

يذكر الدكتور حيدر محمد غيبة في مقدمته أن السيدة زوجته دفعت إليه عام 1984 كتابا باللغة الإنكليزية للسيد ميكائيل كريكتون بعنوان:

(أكلة الأموات: مخطوط ابن فضلان عن خبرته بأهل الشمال في عام 922 ميلادية)

Michael Crichton: Eaters of The Dead، The Manuscript of Ibn Fadlan Re- Lating His Experiences With The North Men In A. D. 229

وهو كتاب منشور عن «مؤسسة بنتام» بالاتفاق مع شركة الفريد نوف المساهمة عام 1976 «3» .

Published in 6791 by Alfred A. Knopf، Inc. 391 Pages.
এতে আদ-দাহহান কর্তৃক সম্পাদিত ভ্রমণবৃত্তান্তের পাশাপাশি এমন কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যাকে এর লেখক সেই সফরের হারানো অংশ বলে গণ্য করেন যার মূল পাঠ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বরং এটি এর গতিপথ সম্পর্কে একটি নতুন উন্মোচন পেশ করার চেষ্টা করে এবং দাবি করে যে সেই ব্যক্তি স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। আলোচ্য বইটি নিম্নোক্ত শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে:

ইবনে ফাদলানের রিসালা: সাকালাবা অঞ্চলে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুক্তাদিরের দূত, দশম শতাব্দীতে তুর্কি, খাজার, সাকালাবা, রুশ এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলে তাঁর ভ্রমণ প্রসঙ্গে। ডক্টর হায়দার মুহাম্মদ গাইবাহ কর্তৃক সংকলিত, অনূদিত এবং উপস্থাপিত, আশ-শারিকাতুল আলামিয়্যাহ লিল কিতাব এস.এ.এল. ও অন্যান্য, সিরিয়া ১৯৯১।

ক্রিকটনের রচনার দীর্ঘ মূলপাঠে, যাকে ডক্টর হায়দার মুহাম্মদ গাইবাহ এই ভ্রমণের (ইংরেজি পাঠ) হিসেবে অভিহিত করেছেন, সেখানে ইবনে ফাদলানকে স্ক্যান্ডিনেভীয় ধাঁচের একজন মধ্যযুগীয় যোদ্ধা ও অভিযাত্রী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। ডক্টর গাইবাহ এই মূলপাঠটি কোথা থেকে পেলেন?

আমি এই কাজটির বিষয়ে আলোচনার জন্য কিছুটা সময় নেব এবং প্রয়োজনে দীর্ঘ আলোচনা করব; কারণ ডক্টর হায়দার মুহাম্মদ গাইবাহ তাঁর এই কাজটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকরভাবে, চরম অগভীরতার সাথে এবং তথাকথিত বৈজ্ঞানিক দাবির মাধ্যমে সম্পন্ন করেছেন।

ডক্টর হায়দার মুহাম্মদ গাইবাহ তাঁর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৮৪ সালে তাঁর স্ত্রী তাঁকে মাইকেল ক্রিকটনের লেখা ইংরেজি ভাষার একটি বই দেন যার শিরোনাম ছিল:

(মৃতদেহ ভক্ষণকারী: ৯২২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরের অধিবাসীদের সাথে ইবনে ফাদলানের অভিজ্ঞতার পাণ্ডুলিপি)

মাইকেল ক্রিকটন: মৃতদেহ ভক্ষণকারী, ৯২২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরের অধিবাসীদের সাথে ইবনে ফাদলানের অভিজ্ঞতার পাণ্ডুলিপি।

এটি ১৯৭৬ সালে আলফ্রেড এ. নফ লিমিটেড কোম্পানির সাথে চুক্তিতে "ব্যানতাম ফাউন্ডেশন" থেকে প্রকাশিত একটি বই (৩)।

১৯৭৬ সালে আলফ্রেড এ. নফ ইনকর্পোরেটেড কর্তৃক প্রকাশিত। ৩৯১ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
من المثير أننا نقرأ على الغلاف الخارجي الثاني من الكتاب، كما ينقل د. غيبة، التعريف التالي بالعمل:

(أكلة الأموات: الرواية الجديدة الرهيبة لمؤلف رواية «السطو العظيم على القطار» ) وهذه أولى الإشارات التي لا تدفع البتة للاطمئنان إلى طبيعة عمل السيد كريكتون، لأنها تصفه (بالرواية) . على أن الدكتور غيبة، كما المؤلف كريكتون نفسه، يودّان إقناع القراء بأن العمل من طبيعة تاريخية موثوقة، لا يرقى إليها الشكّ، وهو ما سنناقشه.

خلاصة الأمر أن الدكتور غيبة مقتنع من خلال قراءته وترجمته لكتاب كريكتون بالأمرين التاليين:

أولا: أن مهمة الكاتب، كريكتون، اقتصرت على جمع أجزاء رسالة ابن فضلان وترجمة بعضها، والتقديم لها والتعقيب عليها، معتمدا في الفصول الثلاثة الأولى على مخطوط ابن فضلان كما هو مترجم من روبيرت ب. بليك Robert P.Blake

وريشاردن. فراي Richard N.Frye ومن ألبرت ستانبورو كوك Albert Burrough Cook.

ثانيا: أن المؤلف كريكتون يعتمد فيما تبقى من عمله على الترجمة النرويجية لرسالة ابن فضلان التي قام بها الأستاذ النرويجي بير فراوس- دولوس الذي جمع ما تناثر من أجزاء الرسالة «4» بلغات مختلفة ونقلها للنرويجية بين السنوات 1951 وحتى وفاته 1959.

من هنا تبدأ الالتباسات كلها في عمل الدكتور غيبة. فهل الفصول الثلاثة الأولى في عمل كريكتون هي تلك المترجمة عن مخطوط مشهد؟ لا نحر جوابا، رغم أن ظاهر الكلام يوحي بذلك. وإذا كان الحال كذلك فلا بأس عليه وعلينا، فنحن ثانية في صلب عمل ابن فضلان الذي نعرف. أما إذا كان العمل التجميعي- وهو عصب الفصول الأخرى- الذي قام به الباحث النرويجي بير فراوس دولوس هو تلكم
এটি বেশ বিস্ময়কর যে, ড. গায়বা যেমনটি বর্ণনা করেছেন, আমরা বইটির দ্বিতীয় প্রচ্ছদে কাজটির নিম্নোক্ত পরিচিতি দেখতে পাই:

(মৃতদেহ ভক্ষণকারী: «দ্য গ্রেট ট্রেন রবারি» উপন্যাসের লেখকের নতুন রোমহর্ষক উপন্যাস)। আর এটিই হলো প্রথম ইঙ্গিত যা জনাব ক্রিকটনের কাজের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে মোটেও স্বস্তি দেয় না, কারণ এটি একে (উপন্যাস) হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও ডক্টর গায়বা এবং লেখক ক্রিকটন স্বয়ং পাঠকদের এই বিশ্বাস করাতে চান যে, এই কাজটি একটি নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক প্রকৃতির, যাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই; আর এটিই আমরা আলোচনা করব।

সারকথা হলো, ডক্টর গায়বা ক্রিকটনের বই পাঠ এবং অনুবাদের মাধ্যমে নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন:

প্রথমত: লেখক ক্রিকটনের কাজ কেবল ইবনে ফাদলানের রিসালার অংশসমূহ সংগ্রহ করা, তার কিছু অংশ অনুবাদ করা এবং তার ভূমিকা ও পর্যালোচনা প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তিনি প্রথম তিন অধ্যায়ে রবার্ট পি. ব্ল্যাক (Robert P. Blake), রিচার্ড এন. ফ্রাই (Richard N. Frye) এবং আলবার্ট স্ট্যানবরো কুক (Albert Burrough Cook) কর্তৃক অনূদিত ইবনে ফাদলানের পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন।

দ্বিতীয়ত: লেখক ক্রিকটন তার অবশিষ্ট কাজের জন্য ইবনে ফাদলানের রিসালার নরওয়েজীয় অনুবাদের ওপর নির্ভর করেছেন, যা নরওয়েজীয় অধ্যাপক পার ফ্রাউস-ডুলাস সম্পন্ন করেছেন। তিনি বিভিন্ন ভাষায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই রিসালার অংশগুলো সংগ্রহ করেছিলেন এবং ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৫৯ সালে তার মৃত্যু পর্যন্ত এগুলো নরওয়েজীয় ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন।

এখান থেকেই ডক্টর গায়বার কাজে সকল বিভ্রান্তির শুরু। ক্রিকটনের কাজের প্রথম তিন অধ্যায় কি মাশহাদ পাণ্ডুলিপি থেকে অনূদিত? আমরা কোনো উত্তর নিশ্চিত করছি না, যদিও কথার বাহ্যিক রূপ তাই ইঙ্গিত দেয়। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে তার জন্য বা আমাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই, কারণ আমরা পুনরায় ইবনে ফাদলানের সেই মূল কাজের ভেতরেই রয়েছি যা আমরা জানি। তবে নরওয়েজীয় গবেষক পার ফ্রাউস-ডুলাস কর্তৃক সম্পাদিত সংকলিত কাজগুলো—যা অন্য অধ্যায়গুলোর মূল ভিত্তি—যদি তেমন হয়...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
المغامرات العجيبة الغريبة التي لا تمتّ إلى روح مخطوطة مشهد بصلة فإن شكا كبيرا يحوم حول مصادره. ما هي مصادره؟.

يذكر د. غيبة أن كلا من كريكتون مؤلف (أكلة الأموات) والباحث النرويجي قد اعتمدا على تراجم المقتطفات الواردة في معجم ياقوت وتراجم لرسالة ابن فضلان حتى عام 1951 باللغات العربية واللاتينية والفرنسية والدانماركية والسويدية والإنكليزية، دون أن تكون نسخة مشهد بينها «5» . ويضيف الدكتور غيبة، في واحدة من تناقضاته الكثيرة، أن من الغريب أن يحدث إهمال لنسخة مشهد المنشورة في برلين بنصّها العربي وترجمتها الألمانية سنة 1939. ها هنا التباس ثان. من الواضح أن تراجم المقتطفات تلك ما هي إلا الفصول التي نقلها ياقوت عن ابن فضلان ولا شيء سوى ذلك. لأننا لا نعرف شيئا سوى ذلك في الحقيقية قبل مخطوطة مشهد إلا نتفا متأخرة لا قيمة لها باللغة الفارسية.

يتلقّف د. غيبة ملاحظة كتبها الدكتور سامي الدهان ويذكر فيها أن هناك ورقة أو ورقتين ضائعتين من مخطوطة (مشهد) لكي يجعلنا نعتقد أن صفحات المغامرات الطوال من (رواية) كليكتون (أكلة الأموات مخطوط ابن فضلان عن خبرته بأهل الشمال في عام 922 ميلادية) هي التي تسد مسدّ تلكم الورقتين. وفي هذا إجحاف بعيد وضرب من عدم الدقة العلمية، فتلك الصفحات تغطّي، في الحقيقة، العشرات بل المئات من الأوراق المخطوطة.

وبدلا من مخطط الرحلة الذي نعرفه والذي يعاني، على أية حال، بعضا من الخلل بسبب فقدان أجزاء من مخطوطة مشهد، يقترح الدكتور غيبة استنادا إلى النسختين العربية- النرويجية والإنكليزية المخطط التالي:

‌‌أ: في الذهاب

1- بلاد العجم والترك

2- الروسية
সেই অদ্ভুত ও বিচিত্র দুঃসাহসিক অভিযানসমূহ যেগুলোর সাথে মাশহাদ পাণ্ডুলিপির মূল সুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, সেগুলোর উৎস সম্পর্কে এক বিশাল সংশয় তৈরি হয়। এর উৎসগুলো আসলে কী?।

ড. গায়বাহ উল্লেখ করেন যে, 'ইটারস অফ দ্য ডেড' (Eaters of the Dead) এর লেখক ক্রিকটন এবং নরওয়েজীয় গবেষক উভয়েই ১৯৫১ সাল পর্যন্ত আরবি, লাতিন, ফরাসি, ডেনিশ, সুইডিশ এবং ইংরেজি ভাষায় ইয়াকুতের অভিধানে বর্ণিত উদ্ধৃতাংশগুলোর অনুবাদ এবং ইবনে ফাদলানের রিসালার অনুবাদসমূহের ওপর নির্ভর করেছিলেন, যেখানে মাশহাদ সংস্করণটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না «৫»। ড. গায়বাহ তাঁর বহুবিধ বৈপরীত্যের একটিতে আরও যোগ করেন যে, এটি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে ১৯৩৯ সালে বার্লিনে প্রকাশিত আরবি পাঠ ও জার্মান অনুবাদ সম্বলিত মাশহাদ সংস্করণটিকে অবহেলা করা হয়েছে। এখানে দ্বিতীয় একটি বিভ্রান্তি রয়েছে। এটা স্পষ্ট যে, ওই উদ্ধৃতাংশগুলোর অনুবাদ মূলত ইবনে ফাদলান থেকে ইয়াকুত কর্তৃক সংকলিত অধ্যায়গুলোই, এছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ প্রকৃতপক্ষে মাশহাদ পাণ্ডুলিপির পূর্বে ফারসি ভাষায় কিছু গুরুত্বহীন পরবর্তী অংশ ছাড়া আমরা আর কিছুই জানি না।

ড. গায়বাহ ড. সামি আদ-দাহহানের একটি পর্যবেক্ষণ গ্রহণ করেন যেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, মাশহাদ পাণ্ডুলিপি থেকে এক বা দুই পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে; যা দিয়ে তিনি আমাদের বিশ্বাস করাতে চান যে, ক্রিকটনের (উপন্যাস) 'ইটারস অফ দ্য ডেড' (৯২২ খ্রিস্টাব্দে উত্তরের অধিবাসীদের সম্পর্কে ইবনে ফাদলানের অভিজ্ঞতার পাণ্ডুলিপি) এর দীর্ঘ দুঃসাহসিক অভিযানের পৃষ্ঠাগুলো মূলত ওই হারিয়ে যাওয়া পৃষ্ঠাগুলোরই স্থলাভিষিক্ত হয়। এটি একটি চরম অবিচার এবং বৈজ্ঞানিক নির্ভুলতার পরিপন্থী কাজ, কারণ প্রকৃতপক্ষে ওই পৃষ্ঠাগুলো কয়েক দশ এমনকি কয়েকশ পাণ্ডুলিপি পৃষ্ঠাকে ধারণ করে।

ভ্রমণের যে নকশাটি আমরা জানি এবং যা মাশহাদ পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ হারিয়ে যাওয়ার কারণে কিছুটা ত্রুটিপূর্ণ, তার পরিবর্তে ড. গায়বাহ আরবি-নরওয়েজীয় এবং ইংরেজি সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে নিম্নলিখিত নকশাটি প্রস্তাব করেন:

‌‌ক: যাওয়ার পথে

১- অনারব ও তুর্কি ভূখণ্ড

২- রাশিয়া
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
3- شمال أوربا وإسكندنافيا

‌‌ب: في الإياب (طريق العودة لبغداد)

1- بلاد الصقالبة

2- إقليم الخزر

واضعا شمال أوربا وإسكندنافيا في عصب رحلة ابن فضلان، وهو ما يظهر بالفعل في كتابه (ترجمته لكتاب كريكتون أي النص الإنكليزي) الذي تشغل الرحلة الافتراضية هذه فيه الفصول الطوال من 5 إلى 16. وهذا الترتيب يريد، كما يقول هو نفسه، التوفيق بين النصين العربي والإنكليزي.

ولكن ماذا لو كان نصّ كريكتون الإنكليزي هو مجرّد تخيلات جميلة سطرها قلم روائي بارع؟ هذا ما لا يجيب عليه د. غيبة على الرغم من أنه هو نفسه يثير الشكوك حول مصداقية النص الإنكليزي هنا وهناك متناسيا حماسه له.

لو تركنا جانبا مقدمة د. غيبة وانصرفنا إلى مقدمة كريكتون، فإن البحث العلمي والتاريخي فيها يختلط بخيال الروائي. ففي مقطع طويل عنوانه (مصدر المخطوطة) لا ندري فيما إذا كان يتحدث ثانية عن أعمال المستشرقين الذين يترجمون فصول رسالة ابن فضلان التي نقلها لنا ياقوت، أم عن مخطوط أصلي لابن فضلان. هذا الالتباس مدوّخ بالفعل. ولولا ضيق المساحة والخشية من التطويل لناقشنا كل فقرة من فقرات هذا المقطع. سأتوقف عند البعض منها فحسب:

بعد حديث كريكتون عن مقاطع رسالة ابن فضلان في معجم ياقوت المترجمة مرارا، يقول لنا فجأة «واكتشف جزء آخر من المخطوط في روسيا عام 1817، ونشر باللغة الألمانية في أكاديمية سانت بطرسبورغ في عام 1923. ويتضمن بعض المقاطع التي سبق نشرها من قبل ج. ل. راسموسن عام 1914، وقد استقى راسموسن عمله من مخطوط وجده في كوبنهاغن، ثم اختفى، ومن مصادر مشكوك بها. كما ظهرت في ذلك الوقت تراجم سويدية وفرنسية وإنكليزية، إنّما عرفت بعدم دقتها وخلوّها على ما يبدو من مادة جديدة» . إحدى الإشارات في هذا المقطع تشير إلى الورقتين المصورتين من النسخة الخطية التي اكتشفت في مدينة مشهد (طوس) الإيرانية التي تسلمهما المعهد الآسيوي للاستشراق في بطرسبورغ، في حين أن
৩- উত্তর ইউরোপ ও স্ক্যান্ডিনেভিয়া

‌‌খ: ফেরার পথে (বাগদাদে প্রত্যাবর্তনের পথ)

১- সাকালেবা (স্লাভ) দেশসমূহ

২- খাজার অঞ্চল

তিনি উত্তর ইউরোপ এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়াকে ইবনে ফাদলানের সফরের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে স্থাপন করেছেন, যা প্রকৃতপক্ষে তাঁর বইতে (ক্রাইটন-এর বইয়ের অনুবাদ অর্থাৎ ইংরেজি পাঠ্য) পরিলক্ষিত হয়, যেখানে এই কাল্পনিক সফরটি ৫ থেকে ১৬ পর্যন্ত দীর্ঘ অধ্যায়গুলো জুড়ে বিস্তৃত। এই বিন্যাসটি, যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন, আরবি এবং ইংরেজি উভয় পাঠ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে চায়।

কিন্তু যদি ক্রাইটনের ইংরেজি পাঠ্যটি কেবল একজন দক্ষ ঔপন্যাসিকের কলমে রচিত সুন্দর কল্পনাপ্রসূত কাহিনী হয় তবে কী হবে? ড. গায়বাহ এর উত্তর দেননি, যদিও তিনি নিজেই এখানে-সেখানে ইংরেজি পাঠ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ উত্থাপন করেছেন এবং এর প্রতি নিজের প্রবল উৎসাহের কথা ভুলে গেছেন।

যদি আমরা ড. গায়বাহর ভূমিকা বাদ দিয়ে ক্রাইটনের ভূমিকার দিকে মনোনিবেশ করি, তবে সেখানে বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক গবেষণা ঔপন্যাসিকের কল্পনার সাথে মিশে গেছে। "পাণ্ডুলিপির উৎস" শিরোনামের একটি দীর্ঘ অনুচ্ছেদে, আমরা বুঝতে পারি না যে তিনি কি আবার সেই প্রাচ্যবিদদের কাজ সম্পর্কে কথা বলছেন যারা ইয়াকুত কর্তৃক আমাদের কাছে হস্তান্তরিত ইবনে ফাদলানের রিসালার অধ্যায়গুলো অনুবাদ করেছেন, নাকি ইবনে ফাদলানের কোনো মূল পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে কথা বলছেন। এই অস্পষ্টতা সত্যিই বিভ্রান্তিকর। পরিসরের স্বল্পতা এবং দীর্ঘায়িত হওয়ার ভয় না থাকলে আমরা এই অনুচ্ছেদের প্রতিটি বাক্য নিয়ে আলোচনা করতাম। আমি এর মধ্যে কেবল কয়েকটির ওপর আলোকপাত করব:

ইয়াকুতের অভিধানে ইবনে ফাদলানের রিসালার যে অংশগুলো বারবার অনূদিত হয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনার পর ক্রাইটন হঠাৎ আমাদের বলেন, "১৮১৭ সালে রাশিয়ায় পাণ্ডুলিপিটির আরেকটি অংশ আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯২৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ অ্যাকাডেমি থেকে জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়। এতে জে. এল. রাসমুসেন কর্তৃক ১৯১৪ সালে ইতিপূর্বে প্রকাশিত কিছু অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাসমুসেন তাঁর কাজটি কোপেনহেগেনে পাওয়া একটি পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে নিখোঁজ হয়ে যায় এবং যার উৎসগুলো সন্দেহজনক ছিল। সেই সময়ে সুইডিশ, ফরাসি এবং ইংরেজি অনুবাদও প্রকাশিত হয়েছিল, তবে সেগুলো তাদের নির্ভুলতার অভাব এবং দৃশ্যত নতুন কোনো তথ্যের অনুপস্থিতির জন্য পরিচিত ছিল।" এই অনুচ্ছেদের একটি সংকেত ইরানের মাশহাদ (তুস) শহরে আবিষ্কৃত পাণ্ডুলিপিটির দুটি চিত্রিত পৃষ্ঠার দিকে ইঙ্গিত করে, যা পিটার্সবার্গের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজ গ্রহণ করেছিল, যেখানে
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
مخطوط كوبنهاغن، كما يقول كريكتون نفسه، مشكوك به، والترجمات التي يذكرها غير دقيقة ولا تضيف جديدا. بعد ذلك مباشرة يقول: «واكتشف مخطوطان جديدان عام 1878 في مجموعة التحف الأثرية الخاصة بسفير بريطانيا السابق في القسطنطينية، سير جون أمرسون.. وأحدهما لأحمد الطوسي ويعود تاريخه الموثوق لسنة 1047 الميلادي، وهذا يجعله أقرب لمخطوط ابن فضلان الأصلي.. مع ذلك يعتبر الباحثون مخطوط الطوسي أقل وثوقا من جميع المصادر، ويتردد كثير من المؤلفين في قبول أعماله لكثرة ما فيه من الأخطاء الظاهرة والتناقضات بالرغم من أنه ينقل مقتطفات مطولة من ابن الفقيه الذي زار بلاد الشمال» . هذا المصدر، وعلى لسان كريكتون مشكوكبه أيضا، ولا يبدو البتة وهو ينقل نصا لابن فضلان وإنما يجمع أحاديث عن بلاد الشمال من مؤلفين مختلفين (ابن الفقيه مثلا كما يقول كريكتون نفسه) .

هنا يبدو كريكتون وهو يخلّط أشد التخليط رغم نبرته الواثقة ظاهريا. ثم يمضي للقول عن مصادر مخطوطاته: «ويقع تاريخ المخطوط الثاني لأمين الرازي بين عامي 1585 و 1595 الميلاديين. وقد كتب باللغة اللاتينية وترجم مباشرة من النص العربي لمخطوط ابن فضلان كما يقول مؤلفه. ويتضمن مخطوط الرازي بعض النصوص عن أتراك الغزية وعدة مقاطع عن معارك مع «وحوش الضباب» التي لم يرد ذكرها في المصادر الأخرى» . وهنا يحتاج المرء لقليل من الذهن الصافي لكي يميز معاني الكلام في نصّ الروائي كريكتون، وهو أن الرازي ينقل (مقاطع فحسب من نص ابن فضلان) . هذا ما يقوله كذلك د. الدهان في هامش له أوردناه نحن في عملنا: «وأما في كتاب (هفت إقليم) للرازي فالتفصيل يزيد النص أهمية وقد نقل عن مخطوطة لابن فضلان ضاعت» . نص كريكتون نفسه يوحي بأن نص الرازي يتناول جملة من القضايا ولا يتعلق برسالة ابن فضلان لوحدها. ثمة إذن تخليط جديد.

ما تبقّى من تحقيقات كريكتون من طينة المنطق نفسه: جميع الأصول التي يستند إليها مشكوك بها أو أنها تتكلم عن بلاد الشمال استنادا إلى مصادر متعددة، لاتينية خاصة، وليس من مصدر وحيد واحد هو ابن فضلان. ربما ذكرت مصادر كريكتون ابن فضلان عرضا أو عبر مؤلف آخر يستشهد به ولكنّها ليس البتة مخطوطة أصلية
কোপেনহেগেন পাণ্ডুলিপিটি, যেমনটি ক্রিকটন নিজেই বলেছেন, সন্দেহজনক; আর তিনি যেসব অনুবাদের কথা উল্লেখ করেছেন সেগুলো নির্ভুল নয় এবং নতুন কোনো তথ্য প্রদান করে না। এরপরই তিনি বলেন: «১৮৭৮ সালে কনস্ট্যান্টিনোপলে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার জন এমারসনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সংগ্রহে দুটি নতুন পাণ্ডুলিপি আবিষ্কৃত হয়... যার একটি আহমদ আল-তুসির এবং এর নির্ভরযোগ্য সময়কাল ১০৪৭ খ্রিস্টাব্দ, যা একে ইবনে ফাদলানের মূল পাণ্ডুলিপির অধিক নিকটবর্তী করে তোলে... তবুও গবেষকরা তুসির পাণ্ডুলিপিকে সকল উৎসের মধ্যে কম নির্ভরযোগ্য বলে মনে করেন। অনেক লেখকই তাঁর কাজ গ্রহণ করতে দ্বিধাবোধ করেন কারণ এতে স্পষ্ট ভুল ও বৈপরীত্য অনেক বেশি, যদিও তিনি ইবনে আল-ফকিহ থেকে দীর্ঘ উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন, যিনি উত্তরদিকের দেশগুলো সফর করেছিলেন»। ক্রিকটনের বক্তব্য অনুযায়ীও এই উৎসটি সন্দেহজনক এবং একে কোনোভাবেই ইবনে ফাদলানের পাঠ্য উদ্ধৃতকারী হিসেবে মনে হয় না, বরং এটি বিভিন্ন লেখকের কাছ থেকে উত্তরদিকের দেশগুলো সম্পর্কে সংগৃহীত বর্ণনার একটি সংকলন মাত্র (যেমন ক্রিকটন নিজেই বলেছেন, ইবনে আল-ফকিহ)।

এখানে ক্রিকটনকে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে দেখা যায়, যদিও বাহ্যিকভাবে তাঁর বাচনভঙ্গি ছিল আত্মবিশ্বাসী। এরপর তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপির উৎসগুলো সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন: «আমিন আল-রাজির দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির সময়কাল ১৫৮৫ থেকে ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী। এটি লাতিন ভাষায় লেখা এবং এর লেখক যেমনটি দাবি করেছেন, এটি সরাসরি ইবনে ফাদলানের পাণ্ডুলিপির আরবি পাঠ্য থেকে অনুবাদ করা হয়েছে। রাজির পাণ্ডুলিপিতে গুজ্জিয়া তুর্কিদের সম্পর্কে কিছু বর্ণনা এবং ‘কুয়াশার দানব’দের সাথে যুদ্ধের বেশ কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা অন্য কোনো উৎসে উল্লেখ করা হয়নি»। এখানে ঔপন্যাসিক ক্রিকটনের পাঠ্যের বক্তব্যের অর্থগুলো পৃথক করার জন্য কিছুটা স্বচ্ছ চিন্তার প্রয়োজন, আর তা হলো রাজি (ইবনে ফাদলানের পাঠ্য থেকে কেবল কিছু অংশ) উদ্ধৃত করেছেন। ড. আদ-দাহহানও তাঁর একটি টীকায় এটিই বলেছেন যা আমরা আমাদের কর্মে উল্লেখ করেছি: «আর রাজির (হাফত ইকলিম) নামক গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা পাঠ্যটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং তিনি ইবনে ফাদলানের একটি হারিয়ে যাওয়া পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন»। ক্রিকটনের নিজস্ব পাঠ্যই এটি ইঙ্গিত করে যে, রাজির পাঠ্যটি একগুচ্ছ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং এটি কেবল ইবনে ফাদলানের রিসালার সাথে সম্পর্কিত নয়। সুতরাং এখানে একটি নতুন বিভ্রান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ক্রিকটনের বাকি অনুসন্ধানগুলোও একই যুক্তির ধাঁচে গড়া: তিনি যেসব মূল উৎসের ওপর নির্ভর করেছেন সেগুলো হয় সন্দেহজনক অথবা সেগুলো বিভিন্ন উৎস, বিশেষ করে লাতিন উৎসের ওপর ভিত্তি করে উত্তরের দেশগুলো সম্পর্কে আলোচনা করে, কোনো একক উৎস যেমন ইবনে ফাদলানের ওপর ভিত্তি করে নয়। হতে পারে ক্রিকটনের উৎসগুলোতে ইবনে ফাদলানের নাম প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে অথবা অন্য কোনো লেখকের মাধ্যমে এসেছে যাকে তিনি উদ্ধৃত করেছেন, কিন্তু সেগুলো কোনোভাবেই কোনো মূল পাণ্ডুলিপি নয়।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
أخرى لرسالة الرحالة العربي غير التي نعرف، رغم أن كريكتون يريد الايحاء، بأسلوب ملتو، بأن عمله قائم على مخطوطة من مخطوطاتها. في هذا الإيحاء ثمة لعبة روائية بارعة، لا تمتّ بصلة للبحث الرصين. وهو ما يفعله كريكتون بمهارة فائقة أربكت د. غيبة وآخرين من أساتذة الجامعات (كالدكتور عبد الله إبراهيم) حتى حسب كلامه دقيقا وعلميا وموثقا.

لنقل في البدء كلمة عن الروائي: إنه الإمريكي (جون) ميكائيل كريكتون، روائي وسينمائي مولود سنة 1942. أنهى دراسته في جامعة هارفارد، ثم تنقل بين دراسة الأنثروبولوجي والبيولوجي، وكرّس نفسه في نهاية المطاف للكتابة. أصدر العديد من الدراسات الأدبية وكتب العديد من الأفلام السينمائية التي أخرج أو أنتج قسما منها بنفسه. كما كتب العديد من الروايات الخيالية أو المستمدّة من مادة تاريخية وكان بعضها من الكتب الأكثر مبيعا في إمريكا:

The Andromeda Strain- 1969

) و (The Terminal Man -1972) و The Great) وهي الرواية التي تعنينا هنا (Eaters of the Dead -1976) و (Train Robbery -1975 و -Rising Sun) و (Jurassic Park -1990) و (Sphere -1987) و (Congo -1980) و (Airframe -1996) و (The Lost World -1995) و (Disclosure -1993) و 1992) و، (Timeline -1999) وغير ذلك «6» .

يكتب كريكتون رواية تاريخية لا أكثر ولا أقلّ، ويشير إلى ذلك في الغلاف الثاني من كتابه. إنها رواية خيال Fiction تاريخية على نمط روايات أمين معلوف (ليون الإفريقي، على سبيل المثال) . لكن خلافا لمعلوف الذي يهتم كثيرا بالتفاصيل التاريخية ويصوغ وفق مخطط روائي متخيل، فإن كريكتون يجمع القليل جدا من التفاصيل المستلهمة عرضا عن بطله ابن فضلان، ويصوغ الباقي كلّه وفق مخطط روائي مختلق بالتمام.

على أنه يستخدم حيلة روائية مدهشة وهي أنه يكتب مقدمة تعريفية شبه جادة
আরব পর্যটকের ভ্রমণবৃত্তান্তের (রিসালা) আমাদের জানা সংস্করণের বাইরে এটি অন্য একটি সংস্করণ, যদিও ক্রিকটন এক কুটিল পন্থায় এটি ইঙ্গিত করতে চেয়েছেন যে, তার কাজটি সেই পাণ্ডুলিপিগুলোরই একটির ওপর ভিত্তি করে রচিত। এই ইঙ্গিতের মাঝে একটি নিপুণ ঔপন্যাসিক চাতুর্য রয়েছে, যার সাথে বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার কোনো সম্পর্ক নেই। ক্রিকটন এটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করেছেন, যা ড. গাইবাহ এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের (যেমন ড. আব্দুল্লাহ ইবরাহিম) বিভ্রান্ত করেছে, এমনকি তারা তার কথাকে নির্ভুল, বৈজ্ঞানিক ও প্রামাণ্য বলে গণ্য করেছেন।

শুরুতেই ঔপন্যাসিক সম্পর্কে কিছু বলা যাক: তিনি হলেন মার্কিন (জন) মাইকেল ক্রিকটন, একজন ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার, ১৯৪২ সালে জন্ম। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পড়াশোনা শেষ করেন, এরপর নৃবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের মাঝে অধ্যয়ন পরিবর্তন করেন এবং পরিশেষে নিজেকে লেখার কাজে উৎসর্গ করেন। তিনি অনেকগুলো সাহিত্য বিষয়ক গবেষণা প্রকাশ করেছেন এবং অনেক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন, যার কিছু অংশ তিনি নিজেই পরিচালনা বা প্রযোজনা করেছেন। তিনি অনেকগুলো কাল্পনিক বা ঐতিহাসিক উপাদানের ওপর ভিত্তি করে উপন্যাস লিখেছেন এবং এর মধ্যে কয়েকটি আমেরিকায় সর্বাধিক বিক্রীত বইয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল:

দ্য অ্যান্ড্রোমিডা স্ট্রেইন (The Andromeda Strain) - ১৯৬৯

এবং দ্য টার্মিনাল ম্যান (The Terminal Man) - ১৯৭২ এবং দ্য গ্রেট ট্রেন রবারি (The Great Train Robbery) - ১৯৭৫ এবং ইটারস অব দ্য ডেড (Eaters of the Dead) - ১৯৭৬ (যা এখানে আমাদের আলোচ্য উপন্যাস) এবং কঙ্গো (Congo) - ১৯৮০ এবং স্ফিয়ার (Sphere) - ১৯৮৭ এবং জুরাসিক পার্ক (Jurassic Park) - ১৯৯০ এবং রাইজিং সান (Rising Sun) - ১৯৯২ এবং ডিসক্লোজার (Disclosure) - ১৯৯৩ এবং দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড (The Lost World) - ১৯৯৫ এবং এয়ারফ্রেম (Airframe) - ১৯৯৬ এবং টাইমলাইন (Timeline) - ১৯৯৯ এবং অন্যান্য।

ক্রিকটন স্রেফ একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখেছেন, এর বেশি কিছু নয়; তিনি তার বইয়ের দ্বিতীয় মলাটে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। এটি আমিন মালুফের উপন্যাসের (উদাহরণস্বরূপ: লিও আফ্রিকানাস) আদলে রচিত একটি ঐতিহাসিক কাল্পনিক উপন্যাস (ফিকশন)। তবে মালুফের বিপরীতে—যিনি ঐতিহাসিক খুঁটিনাটি বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন এবং একটি কল্পিত ঔপন্যাসিক পরিকল্পনার আলোকে তা সাজান—ক্রিকটন তার নায়ক ইবনে ফাদলান সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক অতি সামান্য কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং বাকি সবটুকুই সম্পূর্ণ মনগড়া এক ঔপন্যাসিক পরিকল্পনার আলোকে সাজিয়েছেন।

তবে তিনি একটি বিস্ময়কর ঔপন্যাসিক কৌশল ব্যবহার করেছেন, আর তা হলো তিনি একটি আপাত-গম্ভীর পরিচিতিমূলক ভূমিকা লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
عن ابن فضلان، ويعدّد فيها مصادره بطريقة جد غامضة توحي بأنه في صميم عمل تاريخي، كما يضع في ثنايا نصه الكثير من الهوامش التي تشرح طقسا أو تقليدا إسلاميا، مما يمنح القراءة بعدا جديدا يسعى عامدا إلى طمس الحدود بين المتخيل والواقعي.

هذه الحيلة الجميلة، لكن الخطرة، تسعى إلى اندغام لا فكاك منه بين الحقيقة والخيال، والإيحاء للقراء بأنّهم في صلب واقعة تاريخية لم يفعل هو إلا نقلها إليهم (وهو ما لم يقل كريكتون بعكسه للأسف الشديد حتى اللحظة) . حيلة روائي هوليوودي من طراز رفيع. لكن هذه الحيلة لم تفت على نقاده الإمريكيين الأكثر جدية الذين وصفوا العمل في الصحافة بأنه: «كتابة متخيلة لقصة مأخوذة من سفير عربي إلى بلاط الخليفة في بغداد» «7» .

A Fictionalized account taken from the manuscript of an Arabic ambassador to the court of the Caliph of Baghdad.

إن أعمال الروائي هي على حد تعبير الناقد الإمريكي دافيد لانغران:David Lonergan الورقة تروي تعدد المعاني التي سعى الروائي ميكائيل كريكتون عبرها منح أعماله مظهرا غير متخيل. التقنيات الخاصة والناجحة المستخدمة في (أكلة الأموات) قد لوحظت.

The paper chronicles the Variety of means With which the novelist Michael Crichton has attempted to give his works the appearance of nonfiction. The

specific and successful techniques utilized in Eaters of the Dead are noted، and the resulting erroneous classifications by the Library of Congress and Subsequent cataloguers discussed.

لكن الحيلة فاتت على البعض الآخر منهم، ممن يضربون عميقا بالجهل بتاريخنا
ইবনে ফাদলান সম্পর্কে; তিনি এখানে তার উৎসসমূহ অত্যন্ত রহস্যময় পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি একটি নিরেট ঐতিহাসিক কর্ম সম্পাদন করছেন। পাশাপাশি তিনি তার পাঠ্যের ভাজে এমন অনেক টীকা যুক্ত করেছেন যা কোনো ইসলামি আচার বা ঐতিহ্যকে ব্যাখ্যা করে, যা পাঠে এক নতুন মাত্রা দান করে এবং সচেতনভাবে কাল্পনিক ও বাস্তবের মধ্যবর্তী সীমানাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করে।

এই চমৎকার কিন্তু বিপজ্জনক কৌশলটি সত্য এবং কল্পনার মাঝে এক অবিচ্ছেদ্য সংমিশ্রণ ঘটানোর চেষ্টা করে, এবং পাঠকদের মনে এই ধারণা দেয় যে তারা একটি ঐতিহাসিক ঘটনার গভীরে রয়েছেন যা তিনি কেবল তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন (দুর্ভাগ্যবশত ক্রিকটন এখন পর্যন্ত এর বিপরীত কিছু বলেননি)। এটি উচ্চমানের এক হলিউড ঔপন্যাসিকের কৌশল। তবে এই কৌশলটি তার অধিকতর গম্ভীর আমেরিকান সমালোচকদের নজর এড়াতে পারেনি, যারা সংবাদমাধ্যমে এই কাজটিকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: "বাগদাদের খলিফার দরবারে প্রেরিত একজন আরব দূতের থেকে নেওয়া গল্পের একটি কাল্পনিক রূপায়ন" (৭)।

বাগদাদের খলিফার দরবারে প্রেরিত একজন আরব দূতের পাণ্ডুলিপি থেকে সংগৃহীত একটি কাল্পনিক বিবরণ।

আমেরিকান সমালোচক ডেভিড লনারগানের ভাষায় ঔপন্যাসিকের কাজগুলো হলো: এই প্রবন্ধটি সেই বহুবিধ অর্থ বর্ণনা করে যার মাধ্যমে ঔপন্যাসিক মাইকেল ক্রিকটন তার কাজগুলোকে একটি বাস্তবধর্মী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। ‘ইটারস অব দ্য ডেড’-এ ব্যবহৃত বিশেষ এবং সফল কৌশলগুলো লক্ষ্য করা গেছে।

এই প্রবন্ধটি সেই বৈচিত্র্যময় উপায়গুলো নথিভুক্ত করে যার মাধ্যমে ঔপন্যাসিক মাইকেল ক্রিকটন তার কাজগুলোকে বাস্তবধর্মী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সেই

‘ইটারস অব দ্য ডেড’-এ ব্যবহৃত নির্দিষ্ট এবং সফল কৌশলগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, এবং এর ফলে লাইব্রেরি অব কংগ্রেস ও পরবর্তী ক্যাটালগারদের দ্বারা সংঘটিত ভুল শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু এই কৌশলটি তাদের মধ্যে অন্যদের এড়িয়ে গেছে, যারা আমাদের ইতিহাস সম্পর্কে গভীর অজ্ঞতায় নিমজ্জিত।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
العربي الإسلامي «8» .

لقد ترجم د. غيبة رواية كريكتون الخيالية ومنحنا الفرصة للاطلاع عليها، معتقدا أنه يترجم وثيقة تاريخية. وشتان بين الاثنين.

يظهر ابن فضلان في الرواية واحدا من الشخوص الرئيسيين، لكنه بطل يحمل جميع السمات السلبية التي ما فتئ بعض الفكر الغربي يلصقها بالعرب. ابن فضلان فيها هو رمز للعربي (لا يعرف كريكتون أن الرجل كان مولى! ومن أين له أن يعرف) . فهو جبان إلى أبعد الحدود، ولا يمتلك روح النكتة، مزجور على الدوام بسبب تدخلاته الفظة بما لا يعنيه، مرتعد الفرائص» «9» ولا يريد أن يكون بطلا» ومتزمت في تدينه بادئ الأمر ثم متناقض مع معتقداته الدينية. غبي، لا يعرف السباحة، مندهش من خضرة الغابات التي لا تعرفها صحراؤه. بالمقابل يبدو رجال الشمال الفايكنغ، وعلى لسان الراوي ابن فضلان نفسه، أشداء، لا يخافون شيئا، جسورين وشجعان إلى درجة يبدو معها ابن فضلان بينهم فأرا تافها مختبئا في جحره وفي أحسن الحالات ديكورا اكزوتيكيا ممتعا. ثمة سخرية متناهية وحطّ من شأن العرب في عمل كريكتون وتفكّه فظ من نزعتهم الدينية التوحيدية «10» ، وهو أمر يدعو إلى دهشة وعلامة استفهام عظيمة على طبيعة تفكير الدكتور غيبة الذي حسب العمل توثيقا تاريخيا، والمزيد من الدهشة من عمل الناقد د. عبد الله إبراهيم الذي راح يحلل بحماس منهجي (آليات السرد) في تجديفات كريكتون الشخصية وسخريته من العرب ويحسبها نصا أصليا لابن فضلان. أليس من العجب العجاب أن تفوت سخرية مرة، فاقعة بإشاراتها المتعالية على قلمين مثل قلمي هذين الدكتورين
আরব-ইসলামি «৮» ।

ডক্টর গাইবা ক্রিকটনের কাল্পনিক উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন এবং আমাদের এটি পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, এই বিশ্বাসে যে তিনি একটি ঐতিহাসিক দলিল অনুবাদ করছেন। অথচ এই দুটির মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

উপন্যাসে ইবনে ফাদলান প্রধান চরিত্রগুলোর একজন হিসেবে আবির্ভূত হন, কিন্তু তিনি এমন এক নায়ক যিনি সেই সমস্ত নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য বহন করেন যা পশ্চিমা চিন্তাধারার একাংশ অনবরত আরবদের ওপর লেপন করে আসছে। এতে ইবনে ফাদলান হলেন আরবের প্রতীক (ক্রিকটন জানেন না যে লোকটি একজন মাওলা ছিলেন! আর তিনি জানবেনই বা কী করে?)। তিনি চরম মাত্রায় কাপুরুষ, রসবোধহীন, নিজ অনধিকার চর্চার কারণে সর্বদা তিরস্কৃত, ভয়ে কম্পমান «৯» এবং তিনি নায়ক হতে অনিচ্ছুক; শুরুতে ধর্মে কঠোর হলেও পরবর্তীতে স্বীয় ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে স্ববিরোধী। তিনি নির্বোধ, সাঁতার জানেন না, বনাঞ্চলের সবুজে বিস্ময়াভিভূত যা তাঁর মরুভূমি কখনও দেখেনি। এর বিপরীতে উত্তরীয় ভাইকিংরা বর্ণনাকারী স্বয়ং ইবনে ফাদলানের মুখেই প্রতীয়মান হয় কঠোর হিসেবে, যারা কিছুই ভয় পায় না, তারা এতটাই সাহসী ও বীর যে তাদের মাঝে ইবনে ফাদলানকে গর্তে লুকিয়ে থাকা এক নগণ্য ইঁদুরের মতো মনে হয়, অথবা খুব ভালো অবস্থায় তাকে এক মনোরম বিদেশি সজ্জা বলে মনে হয়। ক্রিকটনের কর্মে আরবদের চরম অবমাননা ও তুচ্ছজ্ঞান করা হয়েছে এবং তাদের তাওহিদী ধর্মীয় চেতনার প্রতি অমার্জিত বিদ্রূপ করা হয়েছে «১০»। বিষয়টি ডক্টর গাইবা-র চিন্তাধারার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এবং বিস্ময় জাগায়, যিনি এই কর্মটিকে একটি ঐতিহাসিক নথি হিসেবে গণ্য করেছেন। আরও অধিক বিস্ময়কর বিষয় হলো সমালোচক ডক্টর আবদুল্লাহ ইব্রাহিমের কাজ, যিনি পদ্ধতিগত উৎসাহের সাথে ক্রিকটনের ব্যক্তিগত প্রলাপ ও আরবদের নিয়ে বিদ্রূপের মাঝে 'বর্ণনা কৌশল' বিশ্লেষণ করতে বসেছেন এবং সেটিকে ইবনে ফাদলানের মূল পাঠ্য হিসেবে গণ্য করেছেন। এটা কি অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, চরম অবজ্ঞাসূচক এমন তিক্ত ও প্রকাশ্য বিদ্রূপ এই দুই ডক্টরের মতো বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল?
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
الفاضلين.

هاكم هذه المقاطع:

«قلوبكم (أيها العرب) عبارة عن كيس كبير يطفح بالأسباب» «11» في السخرية من النزعة العقلانية عند العرب.

«أنتم العرب أغبياء أكثر ممّا يمكن أن يتصوّر» «12» .

«لا أريد أن أسمع أسئلة من أحمق» «13» أي من عربي.

«إذا لم يكن مسحورا فلربّما أصبح عربيا إذ أنه يغسل ملابسه الداخلية وجسمه كل يوم» «14» بالسخرية من نزعة النظافة المستمرة والطهارة عند المسلمين.

وقال للجارية: لا يزال عربيا» «15» بسبب تأوه بطل كريكتون ابن فضلان بعد غسل جروحه بالماء المالح على يد فتاة شمالية.

في رواية كريكتون فإن ابن فضلان يتكلم باللاتينية، ويتفاهم بها، وهنا أمر كان يتوجب على د. غيبة التوقف أمامه مليا، ولم يفعل. لكنه إزاء تنامي وتصاعد حدة التناقضات والإشارات التي تؤكد أن العمل مصنوع صنعا كرواية كان مجبرا على التوقف والتساؤل مرات قليلة. ففي تعليقه على ما ورد في الرواية عن مرور ابن فضلان ومشاهدته لمدينة بلغار من على ظهر قاربه من بعيد، يقول د. غيبة: «إذا كان ابن فضلان لا يعرف شيئا عن هذه المدينة حتى الآن، فهذا يتناقض مع الاعتقاد بقيامه بزيارة بلغار ملك الصقالبة قبل زيارته سائر بلاد الروس وشمال أوربا. وإذا كانت زيارته لبلاد الصقالبة بعد عودته من بلاد الشمال، فإنه يتعارض مع التقائه بأصحابه في بلاد الصقالبة بدون أي تمهيد أو إشارة إلى التئام شملهم، إلا أن يكون حديثه عن ذلك هو من الأجزاء المبتورة التي لم يعثر عليها حتى الآن، كما ألمحنا في
সুধীদ্বয়।

এখানে এই উদ্ধৃতিগুলো তুলে ধরা হলো:

«তোমাদের (হে আরবগণ) অন্তর হলো এমন এক বিশাল আধার যা জাগতিক কার্যকারণের যুক্তিতে উপচে পড়ছে» «১১» আরবদের যুক্তিবাদী প্রবণতাকে উপহাস করার ক্ষেত্রে।

«তোমরা আরবরা কল্পনাতীত পর্যায়ের নির্বোধ» «১২» ।

«আমি কোনো আহম্মকের কাছ থেকে প্রশ্ন শুনতে চাই না» «১৩» অর্থাৎ কোনো আরবের কাছ থেকে।

«যদি সে জাদুক্রান্ত না হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত সে আরব হয়ে গেছে; কারণ সে প্রতিদিন তার অন্তর্বাস ও শরীর ধৌত করে» «১৪» মুসলমানদের নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জনের প্রবণতাকে উপহাস করে।

এবং তিনি দাসীটিকে বললেন: «সে এখনো আরবই রয়ে গেছে» «১৫» কারণ ক্রিকটনের উপন্যাসের নায়ক ইবনে ফাদলান যখন উত্তরের এক তরুণীর হাতে লবণাক্ত পানি দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করার সময় যন্ত্রণায় কোঁকাচ্ছিলেন।

ক্রিকটনের উপন্যাসে ইবনে ফাদলান ল্যাটিন ভাষায় কথা বলেন এবং এর মাধ্যমেই ভাববিনিময় করেন। এটি এমন একটি বিষয় ছিল যেখানে ড. গাইবা-র দীর্ঘক্ষণ নিবিষ্ট হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তিনি তা করেননি। তবে বৈপরীত্যের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং এমন সব নিদর্শনের সামনে—যা নিশ্চিত করে যে এই কাজটি নিছক একটি উপন্যাস হিসেবেই নির্মাণ করা হয়েছে—তিনি কয়েকবার থামতে এবং প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হয়েছিলেন। উপন্যাসে ইবনে ফাদলানের নৌকা থেকে দূর থেকে বুলগার শহর প্রত্যক্ষ করার যে বর্ণনা এসেছে, সে সম্পর্কে ড. গাইবা তার মন্তব্যে বলেন: «যদি ইবনে ফাদলান এখন পর্যন্ত এই শহর সম্পর্কে কিছুই না জানেন, তবে তা এই বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক যে তিনি রাশিয়া ও উত্তর ইউরোপের অন্যান্য দেশ সফরের পূর্বে সাকালিবা রাজার বুলগার শহরটি সফর করেছিলেন। আর যদি সাকালিবা দেশে তার সফর উত্তর ইউরোপ থেকে ফেরার পরে হয়ে থাকে, তবে তা সাকালিবা দেশে কোনো প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি বা পুনর্মিলনের ইঙ্গিত ছাড়াই তার সঙ্গীদের সাথে মিলিত হওয়ার বিবরণের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়; যদি না এই বিষয়ে তার বক্তব্যটি সেই সব বিচ্ছিন্ন বা লুপ্ত অংশের অন্তর্ভুক্ত হয় যা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি, যেমনটি আমরা ইঙ্গিত করেছি...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
المقدمة» «16» .

وفي هامش آخر للدكتور غيبة بصدد تعليق ابن فضلان المذهول من وجود حيوانات بحرية ضخمة يسميها الروائي على لسانه وحوش البحر، يقول د. غيبة:

«من الواضح أن وحوش البحر التي تحدث عنها ابن فضلان هي الحيتان. إنما من المستغرب أن يجهل وجودها في البحر» «17» . وعندما يجعله الروائي يمارس الجنس مع امرأة متابعا شبق الشماليين اللامحدود، يعلّق د. غيبة ببعض من السذاجة: «من الصعب تفسير هذا الاعتراف لابن فضلان، وهو المسلم التقيّ، إلا إذا كانت الجارية أمة مملوكة له باعتبار التمتّع بمثلها كان مباحا، أو أنه فقد بعض تقاه ( … ) أو أن الإنسان يضعف أحيانا أمام الإغراء» «18» .

لكن الدكتور الفاضل يعلن بعد صفحات قليلة علانية شكوكه العالية بنص كريكتون فيكتب في أسفل الصفحة:

«هذه الأقوال وبعض العبارات التالية تزيد الشك في أصالة النص، ذلك الشك الذي يشتدّ بصورة خاصة مع بعض عبارات الفصل التاسع التي تنمّ عن حذلقة وثقافة حديثتين» «19» .

لماذا لم يشكّ الدكتور حيدر محمد غيبة منذ البدء بأصالة النص؟ ولماذا كتب تحليلا مطولا في مقدمته طرح عمل كريكتون فيه وكأنه تتمّة تاريخية حقيقية لرحلة ابن فضلان؟ ولماذا حسب الدكتور عبد الله ابراهيم النصّ أصلا لابن فضلان، رغم إشارة غامضة له بعدم أصالة بعض المقاطع فقط (انظر الهامش أدناه) ؟ ثمة خلل مدمر في الثقافة العربية الراهنة يعبّر عنه مثال هذين الدكتورين اللذين يتوجب عليهما
ভূমিকা» «১৬»।

এবং ড. গাইবাহর অপর একটি পাদটীকায় ইবনে ফাদলানের সেই মন্তব্য প্রসঙ্গে—যেখানে তিনি বিশাল সামুদ্রিক প্রাণীদের দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন এবং ঔপন্যাসিক যাকে তাঁর মুখ দিয়ে 'সমুদ্রের দানব' বলে অভিহিত করেছেন—ড. গাইবাহ বলেন:

«এটা স্পষ্ট যে ইবনে ফাদলান যে সমুদ্রের দানবদের কথা বলেছেন তা হলো তিমি। তবে সমুদ্রের মাঝে এগুলোর অস্তিত্ব সম্পর্কে তিনি অজ্ঞ ছিলেন, এটি বেশ আশ্চর্যজনক» «১৭»। আর যখন ঔপন্যাসিক তাকে উত্তরের অধিবাসীদের অসীম কামাসক্তির অনুগামী হয়ে একজন মহিলার সাথে যৌন মিলনে লিপ্ত হতে দেখান, তখন ড. গাইবাহ কিছুটা সরলতার সাথে মন্তব্য করেন: «ইবনে ফাদলানের মতো একজন ধর্মভীরু মুসলিমের এই স্বীকারোক্তি ব্যাখ্যা করা কঠিন, যদি না সেই তরুণীটি তাঁর মালিকানাধীন কোনো দাসী হয়ে থাকে, যার সাথে মেলামেশা বৈধ ছিল; অথবা সম্ভবত তিনি তাঁর তাকওয়ার কিছুটা হারিয়ে ফেলেছিলেন (…) অথবা মানুষ মাঝে মাঝে প্রলোভনের সামনে দুর্বল হয়ে পড়ে» «১৮»।

কিন্তু এই গুণী ডক্টর কয়েক পৃষ্ঠা পরেই ক্রিকটনের পাঠের সত্যতা সম্পর্কে প্রকাশ্যে তাঁর তীব্র সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পৃষ্ঠার নিচে লেখেন:

«এই বক্তব্যগুলো এবং পরবর্তী কিছু বাক্যাংশ মূল পাঠের প্রামাণিকতা সম্পর্কে সন্দেহ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে নবম অধ্যায়ের কিছু বাক্যের ক্ষেত্রে এই সন্দেহ আরও প্রবল হয়, যা আধুনিক বাকচাতুর্য ও সংস্কৃতির পরিচয় দেয়» «১৯»।

কেন ডক্টর হায়দার মুহাম্মদ গাইবাহ শুরু থেকেই পাঠ্যটির প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেননি? এবং কেন তিনি তাঁর ভূমিকায় দীর্ঘ বিশ্লেষণ লিখেছিলেন যেখানে ক্রিকটনের কাজটিকে ইবনে ফাদলানের সফরের একটি প্রকৃত ঐতিহাসিক পরিশিষ্ট হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে? এবং কেন ডক্টর আবদুল্লাহ ইব্রাহিম পাঠ্যটিকে মূলত ইবনে ফাদলানের বলে গণ্য করেছিলেন, যদিও তিনি কেবল কিছু অনুচ্ছেদের অপ্রামাণিকতা নিয়ে একটি অস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন (নিচের পাদটীকা দেখুন)? বর্তমান আরব সংস্কৃতিতে একটি ধ্বংসাত্মক ত্রুটি রয়েছে যা এই দুই ডক্টরের উদাহরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যাঁদের উচিত ছিল...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
تعليمنا، هم قبل غيرهم، الحذر المنهجي: أحد شروط البحث العلمي «20» .

الأنكى من ذلك أن المؤلف نفسه كريكتون، كما لاحظ مراقب فرنسي، يريد اليوم استبعاد هذا العمل من مجموعة مؤلفاته «21» (انظر كذلك ما كتبه الناقد الإمريكي داني يي Danny Yee بهذا الاتجاه نفسه) «22» . لماذا؟ لأن المقدمة التاريخية التي كتبها بثقة على أنها تستند إلى معطيات تاريخية موثوقة، لا تبدو مستندة إلى شيء موثوق، وأنه ربّما يخشى الفضيحة الثقافية، خاصة وأنه لم يقرأ، كما هو واضح، متن مخطوطة مشهد المترجم مرارا إلى لغات عدة تقف الإنكليزية على رأسها. إنه يكتب فنتازيا خالصة جرى إنتاجها فعلا فيما بعد، سنة 1999، بفيلم مغامرات سينمائي على الطريقة الإمريكية تحت عنوان Thirteenth Warrior -9991 (كان هو شريكا في إنتاجه) .
আমাদের শিক্ষা অন্যদের আগেই পদ্ধতিগত সতর্কতা প্রদান করে, যা বৈজ্ঞানিক গবেষণার অন্যতম শর্ত «২০»।

এর চেয়েও পরিতাপের বিষয় এই যে, খোদ লেখক ক্রাইটন নিজেই, যেমনটি একজন ফরাসি পর্যবেক্ষক লক্ষ্য করেছেন, আজ এই কর্মটিকে তার রচনাসমগ্র থেকে বাদ দিতে চাচ্ছেন «২১» (এই একই প্রসঙ্গে মার্কিন সমালোচক ড্যানি ইয়ে [Danny Yee] যা লিখেছেন তাও দেখুন) «২২»। কেন? কারণ তিনি যে ঐতিহাসিক ভূমিকাটি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে এটি নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত, তা আদতে কোনো নির্ভরযোগ্য বিষয়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলে মনে হয় না। সম্ভবত তিনি সাংস্কৃতিক কেলেঙ্কারির ভয় পাচ্ছেন, বিশেষ করে যেহেতু এটি স্পষ্ট যে তিনি মাশহাদ পাণ্ডুলিপির মূল পাঠ্যটি পড়েননি, যা বারবার বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ইংরেজি যার শীর্ষে রয়েছে। তিনি মূলত একটি বিশুদ্ধ কল্পনাপ্রসূত কাহিনী লিখছেন যা পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে মার্কিন ঢঙের একটি রোমাঞ্চকর চলচ্চিত্রের রূপ দেওয়া হয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল 'Thirteenth Warrior' (তিনি নিজেও এর সহ-প্রযোজক ছিলেন)।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
إذا ما كنا نناقش ما صنعه د. غيبة بهذا التوسع، فلأن صنيعه مؤذ وضار بحق رحلة ابن فضلان، ولأن هذه الصنيعة قد تجري بين أوساط القراء، ناهيك عن دكاترة مثل الدكتور الفاضل عبد الله إبراهيم، مجرى الحقائق التاريخية الدامغة. إن جزءا لا يستهان به من تحليلات الدكتور إبراهيم، الجادة والصارمة، تستند ويا للعجب إلى هذا العمل الروائي المتخيّل، لنقرأ: «الكتابة تلعب دورا مهما في تثبيت رؤاه (يقصد ابن فضلان) وتصوراته وأحكامه، ما دام يتحرك في مجاله الثقافي، داخل دار الإسلام.

وما أن ينزلق إلى عالم الكفّار إلّا وتتوقف الكتابة. يضيع من المخطوط ذلك الجزء الرئيس الخاص بالآخر. كأن ثمة قوة سحرية انتزعت كل ما يتصل بالآخر. لم يعثر إلى الآن على الأصل العربي. كل ما يتصل بالآخر، تم ترميمه وتجميعه، وترجمته إلى اللغة العربية استنادا إلى شذرات متناثرة باللغات اللاتينية والألمانية والفرنسية والدنماركية والسويدية والإنجليزية وغيرها. لغات الآخر هي التي أعادت إلينا وجهة نظر ابن فضلان بالآخر» .

وبالطبع فإنّ إشارة د. إبراهيم إلى تلك اللغات هي إشارة إلى رواية كريكتون الهوليوودية. هل ثمّة من يضحك على ذقوننا: هناك بكتابة ساخرة عن واحد من رحالتنا، وهنا بكتابة لا تقل سخرية ومرارة ولكن بقناع عارف فحسب. سينتهي الأمر بالدكتور عبد الله إبراهيم بالشكّ بياقوت نفسه الذي لم يستطع، حسب إبراهيم، تصديق نصّ ابن فضلان عن البلدان الإسكندنافية فحذفه «23» ؟. يستعيد
যদি আমরা ড. গায়বা যা করেছেন তা নিয়ে এতোটা বিস্তারিত আলোচনা করি, তবে তা একারণে যে তাঁর কাজ ইবনে ফাদলানের সফরের হকের প্রতি ক্ষতিকর ও হানিকর, এবং একারণে যে এই কাজটি সাধারণ পাঠকদের মাঝে, এমনকি শ্রদ্ধেয় ড. আবদুল্লাহ ইব্রাহিমের মতো ডক্টরদের কাছেও অখণ্ডনীয় ঐতিহাসিক সত্য হিসেবে গণ্য হতে পারে। ড. ইব্রাহিমের গুরুতর ও কঠোর বিশ্লেষণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ, আশ্চর্যজনকভাবে, এই কাল্পনিক ঔপন্যাসিক কর্মের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে; চলুন আমরা পড়ি: «লিখনশৈলী তাঁর (ইবনে ফাদলানকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে) দৃষ্টিভঙ্গি, কল্পনা এবং বিচারবুদ্ধিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যতক্ষণ তিনি তাঁর নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে অর্থাৎ দারুল ইসলামের অভ্যন্তরে বিচরণ করেন।

আর তিনি যখনই কাফেরদের জগতের দিকে পা বাড়ান, তখনই লেখা থেমে যায়। পাণ্ডুলিপি থেকে 'অপর' (অন্য ধর্মাবলম্বী) বিষয়ক সেই প্রধান অংশটি হারিয়ে যায়। যেন কোনো এক জাদুকরী শক্তি 'অপর' সংশ্লিষ্ট সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত মূল আরবি পাণ্ডুলিপিটি পাওয়া যায়নি। 'অপর' সংক্রান্ত যা কিছু আছে, তা লাতিন, জার্মান, ফরাসি, ডেনিশ, সুইডিশ, ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায় ছড়িয়ে থাকা বিক্ষিপ্ত খণ্ডাংশের ওপর ভিত্তি করে সংস্কার, সংকলন এবং আরবিতে অনুবাদ করা হয়েছে। এই 'অপরের' ভাষাসমূহ ইবনে ফাদলানের সেই 'অপর' বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে»।

আর স্বাভাবিকভাবেই ড. ইব্রাহিমের ওইসব ভাষার প্রতি ইঙ্গিত মূলত ক্রিকটনের হলিউডি উপন্যাসের দিকেই ইঙ্গিত। কেউ কি আমাদের নিয়ে তামাশা করছে? সেখানে আমাদের একজন পরিব্রাজককে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক লেখা, আর এখানেও সমান বিদ্রূপ ও তিক্ততায় ভরা লেখা—তবে তা কেবল একজন বিজ্ঞ ব্যক্তির মুখোশ পরে। শেষ পর্যন্ত ড. আবদুল্লাহ ইব্রাহিম খোদ ইয়াকুত সম্পর্কেই সন্দিহান হয়ে উঠবেন, যিনি ইব্রাহিমের মতে—স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো সম্পর্কে ইবনে ফাদলানের বর্ণনা বিশ্বাস করতে পারেননি এবং তা বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন «২৩»? তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
د. إبراهيم النص المحذوف على يد كريكتون بالطبع. ويروح في تحليل طويل عن (غياب المتن) . سوى أن المتن ليس بضائع والله، فالصفحات الطوال التي تقدمها مخطوطة مشهد هي (متن أكيد) ، يستحق التأمل والفحص رغم قصره وضياع بعض أوراقه. إننا لا نستغرب أن يقف القراء في موقف العجب من هذا النمط من الخطاب المتثاقف الباهر.

‌‌من هو ابن فضلان؟

أثبت ابن فضان لحسن الحظ اسمه: أحمد بن فضلان بن العباس بن راشد بن حمّاد، ولم يقل لنا شيئا آخر عن حياته، ما عدا أنه، كما تقول الرسالة، مولى لفاتح مصر محمد بن سليمان. ويقول ياقوت إنه كان مولى محمد بن سليمان ثم مولى أمير المؤمنين فهو من العجم الموالي. هل ولد في العراق أم بأرض العجم؟ وما هو منصبه في الإدارة العباسية، وهل كتب أعمالا أدبية غير هذه الرسالة؟ أم أن رحلته هذه لا تعدو أن تكون تقريرا من هذه التقارير التي يكتبها السفراء لدولهم؟
ড. ইব্রাহিম অবশ্যই ক্রিকটন কর্তৃক অপসারিত মূল পাঠ সম্পর্কে বলছেন। তিনি (মূল পাঠের অনুপস্থিতি) বিষয়ে একটি দীর্ঘ বিশ্লেষণে লিপ্ত হন। তবে আল্লাহর কসম, মূল পাঠ কোনো সাধারণ সামগ্রী নয়; মাশহাদ পাণ্ডুলিপি যে দীর্ঘ পৃষ্ঠাগুলো উপস্থাপন করে তা একটি (নিশ্চিত মূল পাঠ), যা এর সংক্ষিপ্ততা এবং কিছু পাতা হারিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও গভীর চিন্তা ও পরীক্ষার দাবি রাখে। পাঠকরা যে এই ধরণের চোখ ধাঁধানো পাণ্ডিত্যপূর্ণ বক্তব্যের সামনে বিস্ময় প্রকাশ করবেন, তাতে আমরা অবাক হই না।

‌‌ইবনে ফাদলান কে?

সৌভাগ্যক্রমে ইবনে ফাদলান নিজের নাম সাব্যস্ত করেছেন: আহমদ বিন ফাদলান বিন আল-আব্বাস বিন রাশিদ বিন হাম্মাদ। তিনি তার জীবন সম্পর্কে আমাদের আর কিছু বলেননি, কেবল এতটুকু ছাড়া যে—যেমনটি এই রিসালায় বর্ণিত হয়েছে—তিনি মিসর বিজয়ী মুহাম্মদ বিন সুলাইমানের মুক্ত দাস ছিলেন। ইয়াকুত বলেন যে, তিনি মুহাম্মদ বিন সুলাইমানের মুক্ত দাস ছিলেন এবং পরবর্তীতে আমিরুল মুমিনীনের মুক্ত দাসে পরিণত হন; সুতরাং তিনি অনারব মাওয়ালিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কি ইরাকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নাকি অনারব ভূখণ্ডে? আব্বাসীয় প্রশাসনে তার পদমর্যাদা কী ছিল? তিনি কি এই রিসালা ব্যতীত অন্য কোনো সাহিত্যকর্ম রচনা করেছিলেন? নাকি তার এই সফরটি সেই ধরণের একটি প্রতিবেদন মাত্র যা রাষ্ট্রদূতরা তাদের রাষ্ট্রের নিকট পেশ করে থাকেন?
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
يخيل إلينا أن سفيرا مبعوثا إلى أقاصي الأرض كان يجب أن يمتلك الكثير من الحكمة والحنكة، لذلك نظنّ أنّه كان في الأربعينات من عمره عندما كلّف بمهمّته.

ويخيّل إلينا أنّ بعثة مثل بعثته كانت تستلزم رجلا ذا ثقافة معقولة، وهو ما نظنّ حاله، وهو ما يدلّ عليه وصفه المتأنّي للبلدان والتقاليد التي شاهدها عيانا. ونعتقد أن هيئته وبزّته كانتا في غاية الرصانة، وأنّه اختير لمقابلة ملوك الصقالبة والخزر والروس لأنّ شكله كان مقبولا بالنسبة إليهم وقريبا من أشكال الشعوب التي زارها.

لم يرد توثيق لحياة ابن فضلان في أيّ من المراجع التي بين أيدينا، بالضّبط مثلما لا توجد إلا أقلّ التفصيلات عن حياة المقدسيّ صاحب (أحسن التقاسيم في معرفة الأقاليم) الباهر ولا حياة الرحالة أبي دلف. وفي ذلك إشارة واضحة الآن إلى اللامبالاة التي كانت تميّز نظرة الثقافة العربية إلى أعمال الرحالة العرب، وعدم اعتبار الكتابة في أدب الرحلة فنا رفيع المستوى يستحقّ إدراج مؤلفيه من بين مصنّفي ضروب الأدب الأخرى المبجّلين والمؤرّخ لهم بأكثر التفاصيل وأدقّها (الفقهاء، الشعراء، الأطباء، النحويين.. إلخ) .

تقع أهميّة رحلة ابن فضلان في أنّها تزوّد التاريخ العالميّ بشذرات مهمّة عن أنماط معيشة شعوب قلّما سجلت. إنّها تسدّ ثغرة تاريخية في هذا المجال وتعتبر رائدا في الإشارة لتاريخ الشعوب الصربيّة، والروس منهم على وجه الخصوص.

لقد قيل الكثير عن هذه الرحلة وترجمت أكثر من مرة لجميع اللغات الأساسيّة اليوم في العالم. ونودّ هنا أن نشير إلى أمرين اثنين:

‌‌1- علاقة العرب بالآخر:

لا تبدو علاقة العالم العربيّ، أو أقلّها ثقافة الناطقين باللغة العربية من عرب وغير عرب ممّن كانوا يستخدمون العربية في حضارة كانت هذه اللغة بها شيئا ساميا وضروريا، بمثل استلابها هذا اليوم مع الآخر، وهو ما تبرهنه رحلة ابن فضلان. لم يكن الاختلاف البديهيّ بين الأنا والآخر ليتصاعد إلى المستوى الموصوف في كتابات البعض من الباحثين العرب المعاصرين ممّن يصفون العلاقة مع الحضارات الأخرى بمنطق الحذر والرّيبة، بل إنّ ثنائية نهائية ومطلقة بين (دار الإسلام) و (دار الكفر) لم
আমাদের মনে হয় যে, পৃথিবীর দূরতম প্রান্তে প্রেরিত একজন দূতের প্রচুর প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা থাকা আবশ্যক ছিল, তাই আমরা মনে করি যে, যখন তাকে তার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল তখন তার বয়স চল্লিশের কোঠায় ছিল।

এবং আমাদের মনে হয় যে, তার মতো একটি মিশনের জন্য পর্যাপ্ত সংস্কৃতির অধিকারী একজন ব্যক্তির প্রয়োজন ছিল, যা আমরা তার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বলে মনে করি। তিনি সচক্ষে দেখা দেশসমূহ ও প্রথাগুলোর যে নিবিড় বর্ণনা দিয়েছেন তা এরই প্রমাণ বহন করে। আমরা বিশ্বাস করি যে, তার অবয়ব ও পোশাক-পরিচ্ছদ অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল এবং স্লাভ, খাজার ও রুশদের রাজাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়েছিল কারণ তার চেহারা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তিনি যে জাতিগুলোর কাছে ভ্রমণ করেছিলেন তাদের চেহারার কাছাকাছি ছিল।

আমাদের হাতে থাকা কোনো তথ্যসূত্রে ইবনে ফাদলানের জীবনের কোনো প্রামাণ্য দলিল পাওয়া যায় না, ঠিক যেমন 'আহসানুত তাকাসিম ফি মা'রিফাতিল আক্বালিম' এর রচয়িতা আল-মাক্বদিসি কিংবা পরিব্রাজক আবু দুলফ-এর জীবনের খুব সামান্যই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এতে এখন সেই উদাসীনতারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যা আরব পরিব্রাজকদের কর্মের প্রতি আরব সংস্কৃতির দৃষ্টিভঙ্গিকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছিল। ভ্রমণ সাহিত্যকে উচ্চমানের শিল্প হিসেবে বিবেচনা না করা এবং অন্যান্য শাখার সম্মানিত লেখকগণের (যেমন ফকীহ, কবি, চিকিৎসক, ব্যাকরণবিদ প্রমুখ), যাদের অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে ইতিহাস সংরক্ষণ করা হয়েছে, তাদের তালিকায় ভ্রমণ সাহিত্যের লেখকদের অন্তর্ভুক্ত করার যোগ্য মনে করা হয়নি।

ইবনে ফাদলানের সফরের গুরুত্ব এখানে যে, এটি বিশ্ব ইতিহাসে এমন কিছু জাতির জীবনধারা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাংশ সরবরাহ করে যাদের কথা খুব কমই লিপিবদ্ধ হয়েছে। এটি এই ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক শূন্যতা পূরণ করে এবং স্লাভ জাতিসমূহ, বিশেষ করে তাদের মধ্যে রুশদের ইতিহাসের নির্দেশক হিসেবে অগ্রগামী বলে বিবেচিত হয়।

এই সফরনামা সম্পর্কে অনেক কিছু বলা হয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বের সকল প্রধান ভাষায় এটি একাধিকবার অনূদিত হয়েছে। আমরা এখানে দুটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করতে চাই:

‌‌১- অন্যের সাথে আরবদের সম্পর্ক:

আরব বিশ্বের সম্পর্ক—অথবা অন্তত সেই সভ্যতায় যেখানে আরবি ভাষা একটি মহৎ ও অপরিহার্য বিষয় ছিল সেখানে আরবি ভাষাভাষী আরব ও অনারবদের সংস্কৃতি—আজকের দিনের মতো 'অন্যদের' সাথে বিচ্ছিন্ন বলে মনে হয় না, যা ইবনে ফাদলানের সফরনামা প্রমাণ করে। 'আমি' এবং 'অন্যের' মধ্যকার স্বাভাবিক পার্থক্যটি বর্তমানের কিছু আরব গবেষকদের লেখায় বর্ণিত স্তরে পৌঁছায়নি, যারা অন্যান্য সভ্যতার সাথে সম্পর্ককে সতর্কতা ও সন্দেহের যুক্তিতে ব্যাখ্যা করেন। বরং (দারুল ইসলাম) এবং (দারুল কুফর) এর মধ্যকার চূড়ান্ত ও নিরঙ্কুশ দ্বিমুখী অবস্থান...
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
تكن تشتغل في الواقع العمليّ كما تشتغل على الصعيد النظريّ البحت، مثلها مثل الكثير من المفهومات السائدة الأخرى. هذا ما تبرهنه الهجرة واسعة النطاق من طرف جغرافيين وعلماء فلك هنود، وخزّافين صينيين وغيرهم، قادمين كلّهم من دار الكفر (الهند) و (الصين) للإقامة في (دار الإسلام) ، بغداد العباسية. بإمكاننا الآن تعداد العشرات من أسمائهم. المخطط الذي يبني عليه البعض تحليلاتهم المعاصرة، بشأن هذه الثنائية، يبقى من طبيعة تلفيقيّة محض.

على العكس من ذلك يبدو ابن فضلان وصحبه، وهو في موقف الواثق، إلى درجة كان يأمر بها وينهي ملك الصقالبة نفسه: «وبدأت فقرأت صدر الكتاب فلمّا بلغت منه «سلام عليك فإنّي أحمد إليك الله الذي لا إله إلا هو» ، قلت: ردّ على أمير المؤمنين السلام، فردّ وردّوا جميعا بأسرهم» . وثوق قادم من ترسّخ وقوة الحضارة الإسلاميّة في العالم القديم. ومثلما لا يشعر الإمريكيّ اليوم بالهيبة من حضور الآخر، فلم يكن العربيّ والمسلم ليعانيان من هذا الشعور.

‌‌2- هجرة الأيدي العاملة تتابع مراكز الثروة:

تغدو العواصم الغنيّة الكبرى، في لحظات الازدهار الحضاريّ، محطات لقادمين من مختلف أصقاع العالم يبحثون عن لقمة العيش. إنّ تجمّع الثروات في بقعة ما يعني من بين ما يعني، أنّ تلك العواصم قد صارت موطنا لتجمّع كميات كبيرة من الذهب. وهو ما نراه في عواصم الأرض اليوم: فرنسا، ألمانيا، الولايات المتحدة الإمريكية، سويسرا.. إلخ التي تستقطب المزيد من المهاجرين من مختلف التخصّصات. إنّ القاعدة العامة في التاريخ الاقتصاديّ هي أن هجرة الأيدي العاملة تتابع مراكز انتقال الذهب: رمز الثروة. هذا هو حال بغداد في العصور العباسيّة المزدهرة التي كان وضعها يشابه تماما العواصم الثريّة في وقتنا الحالي. يشابهه تماما حتّى بالتفصيلات الأكثر دقّة. فإنّ وجود تجمّعات وأسواق لجاليات أجنبية مثل الهنود والصينيين والعرب في فرنسا ونيويورك اليوم كان له مثيل في (سوق خضر) لباعة وصنّاع الخزف والغضار الصينيّ في بغداد العباسيّة، وفي الأعداد المتزايدة من الهنود المشتغلين في حقول التنجيم والرياضيات، والبيزنطيين المشتغلين في حقول
এটি বাস্তব ক্ষেত্রে সেভাবে কার্যকর ছিল না যেভাবে এটি নিছক তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে কার্যকর ছিল, যেমনটি অন্যান্য অনেক প্রচলিত ধারণার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ভারত ও চীনের মতো 'দারুল কুফর' থেকে ভৌগোলিকবিদ, ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী, চীনা মৃৎশিল্পী এবং অন্যদের ব্যাপক হারে হিজরত বা অভিবাসন—যারা সবাই আব্বাসীয় বাগদাদ তথা 'দারুল ইসলামে' বসবাসের জন্য এসেছিলেন—সেটিই এর প্রমাণ দেয়। আমরা এখন তাদের কয়েক ডজন নাম গণনা করতে পারি। এই দ্বৈততার বিষয়ে কেউ কেউ তাদের সমসাময়িক বিশ্লেষণে যে রূপরেখা তৈরি করেন, তা নিছক কৃত্রিম বা বানোয়াট প্রকৃতিরই থেকে যায়।

এর বিপরীতে ইবনে ফাদলান ও তার সঙ্গীদের অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে দেখা যায়, এমনকি তিনি সাকালিবাদের রাজাকে খোদ আদেশ-নিষেধ করার পর্যায়ে ছিলেন: "আমি চিঠির প্রথমাংশ পাঠ করতে শুরু করলাম, যখন আমি এই অংশে পৌঁছালাম—'আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আমি আপনার কাছে সেই আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই', তখন আমি বললাম: আমিরুল মুমিনীনের সালামের উত্তর দিন। তখন তিনি উত্তর দিলেন এবং তারা সবাই মিলে সমস্বরে উত্তর দিল।" এই আত্মবিশ্বাস প্রাচীন বিশ্বে ইসলামী সভ্যতার সুদৃঢ় ভিত্তি ও শক্তি থেকে উৎসারিত হয়েছিল। আজকের দিনে একজন আমেরিকান যেমন অন্যের উপস্থিতিতে কোনো হীনম্মন্যতা অনুভব করে না, তেমনি সে সময় আরব ও মুসলিমরাও এই জাতীয় কোনো অনুভূতিতে ভুগত না।

২- শ্রমশক্তির হিজরত সম্পদের কেন্দ্রবিন্দুকে অনুসরণ করে:

সভ্যতার চরম উৎকর্ষের মুহূর্তে বড় বড় ধনী রাজধানীগুলো জীবিকার সন্ধানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের মিলনস্থলে পরিণত হয়। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে সম্পদের পুঞ্জীভূত হওয়ার মানে হলো—অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি—সেই রাজধানীগুলো বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ জমার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এটিই আমরা আজ বিশ্বের প্রধান রাজধানীগুলোতে দেখতে পাই: ফ্রান্স, জার্মানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি, যা বিভিন্ন পেশার অসংখ্য অভিবাসীকে আকর্ষণ করছে। অর্থনৈতিক ইতিহাসের সাধারণ নিয়ম হলো, শ্রমশক্তির হিজরত স্বর্ণ তথা সম্পদের প্রতীকের স্থানান্তর কেন্দ্রকে অনুসরণ করে। সমৃদ্ধ আব্বাসীয় যুগে বাগদাদের অবস্থাও ঠিক তেমনই ছিল, যা বর্তমান সময়ের ধনী রাজধানীগুলোর অবস্থার সাথে হুবহু মিলে যায়। এমনকি অতি সূক্ষ্ম খুঁটিনাটি বিষয়েও এই সাদৃশ্য বিদ্যমান। আজ যেমন ফ্রান্স বা নিউ ইয়র্কে ভারতীয়, চীনা ও আরবদের মতো বিদেশী সম্প্রদায়ের বসতি ও বাজার রয়েছে, আব্বাসীয় বাগদাদের 'সুক খুদুরে' (খুদুর বাজার) চীনা মৃৎশিল্প ও সিরামিক বিক্রেতা ও কারিগরদের উপস্থিতিতে তার সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এছাড়া জ্যোতিষশাস্ত্র ও গণিত শাস্ত্রে নিয়োজিত ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োজিত বাইজেন্টাইনদের উপস্থিতিও এর প্রমাণ।
(খণ্ড: ১) রিসালাতু ইবনে ফাদলান = রিহলাতু ইবনে ফাদলান ইলা বিলাদিত তুর্ক ওয়ার রুস ওয়াস সাকালিাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
الصناعات الدقيقة كالإسطرلاب (مثل بسطلوس المذكور لدى ابن النديم) ، ناهيك عن المزخرفين والخطاطين (مثل ياقوت المستعصمي الرومي، البيزنطي) . كانت هناك كذلك، كما نعلم، حاجة متزايدة للمترجمين، ليس فحسب ممن ينقلون كتب الأمم الأخرى إلى العربية، ولكن ممّن يقومون بدور السفراء الدبلوماسيين بين الإمبراطوريّة الإسلامية وما يجاورها من الدول. هكذا كانت تتقاطر على العاصمة مختلف اللغات والتقاليد والشعوب، وتقيم في بغداد بحثا عن لقمة العيش.

وهذا هو ما يفسّر لنا عنصرا أساسيا من رحلة ابن فضلان التي تعنينا هنا ألا وهو تشكّلها من وفد يتكوّن من أربعة أشخاص هم «24» :

1- سوسن الرسي الذي يبدو من نسبته الرسي أنه من بلاد الروس.

2- بارس الصقلابي ويدلّ اسمه بوضوح على أنّه سلافيّ.

3- تكين التركي: وهو تركيّ من دون شكّ يجيد لغات الأتراك التي يمرّ الوفد ببلادها في طريقه إلى الفولغا، وكان يعمل حدادا في خوارزم.

4- أحمد بن فضلان الذي كان رئيسا للوفد وكان يجهل اللغات الأجنبيّة كما يقول هو نفسه، إلا أنّه لم يكن عربيا البتّة فهو أحد الموالي، وربّما كان من أصل فارسيّ.

وكان مولى لمحمد بن سليمان بن المنفق أبو علي الكاتب الذي فتح مصر وشتّت آل طولون ودخلها سنة 292 هـ وقتل سنة 304 هـ. على أنّ كونه مولى لا يعني، كما نرى، أنّه كان يتقن العربيّة لوحدها، رغم تبحّره بها، ولعلّه كان يتقن لغة أجداده.

لا يبرز ابن فضلان كبطل رئيسيّ «25» في الرحلة إلا لأنّه كتب الرحلة ببساطة وهو لم يجر طمس رفقته الآخرين لأيّ سبب متعمّد أو محسوب. العكس تماما فلولا رحلته لما عرفنا عن أولئك أيّة شذرة. إنّ كتابته للرحلة، في الغالب، لم تتمّ لكي يبني لنفسه مجدا أدبيا، ولا لكي يعيد الاعتبار لنفسه كما يقول البعض، خاصة وأنّنا لا نعرف له مؤلّفا آخر غيرها. لقد كان سفيرا وحسب سجّل لنا ملاحظات قيّمة
সূক্ষ্ম কারুশিল্প যেমন অ্যাস্ট্রোলেব (যেমন ইবনে নাদিম কর্তৃক উল্লেখিত বাসতলুস), অলঙ্করণকারী এবং ক্যালিগ্রাফারদের (যেমন ইয়াকুত আল-মুসতাসিমি আল-রুমি, বাইজেন্টাইন) কথা না-ই বা বললাম। সেখানে তেমনিভাবে, আমরা জানি যে, অনুবাদকদের ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা ছিল; তারা কেবল অন্যান্য জাতির বইগুলো আরবিতে অনুবাদ করতেন তা-ই নয়, বরং তারা ইসলামী সাম্রাজ্য এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক দূতের ভূমিকাও পালন করতেন। এভাবেই রাজধানীতে বিভিন্ন ভাষা, ঐতিহ্য এবং জাতির আগমন ঘটত এবং তারা জীবিকার সন্ধানে বাগদাদে বসবাস করত।

আর এটিই ইবনে ফাদলানের সফরের একটি মৌলিক উপাদান আমাদের কাছে ব্যাখ্যা করে যা এখানে আমাদের আলোচনার বিষয়, আর সেটি হলো—এটি চারজন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ছিল, যারা হলেন «২৪» :

১- সুসান আল-রসি, যার নিসবত 'আল-রসি' থেকে মনে হয় যে তিনি রুশ দেশীয় ছিলেন।

২- বারস আল-সাকলাবি, এবং তার নাম স্পষ্টভাবেই নির্দেশ করে যে তিনি একজন স্লাভিক ছিলেন।

৩- তাকিন আল-তুর্কি: তিনি নিঃসন্দেহে একজন তুর্কি ছিলেন যিনি তুর্কি ভাষাসমূহে পারদর্শী ছিলেন, কারণ প্রতিনিধি দলটি ভলগা যাওয়ার পথে তুর্কিদের দেশের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছিল; তিনি খাওয়ারিজমে কর্মকার হিসেবে কাজ করতেন।

৪- আহমদ ইবনে ফাদলান, যিনি প্রতিনিধি দলের প্রধান ছিলেন এবং তিনি নিজেই যেমনটি বলেছেন যে তিনি বিদেশি ভাষা জানতেন না; তবে তিনি মোটেও আরব ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন মাওয়ালিদের একজন, সম্ভবত তিনি পারস্য বংশোদ্ভূত ছিলেন।

তিনি মুহাম্মাদ বিন সুলাইমান বিন আল-মুনফিকের মাওলা ছিলেন, যিনি আবু আলি আল-কাতিব নামে পরিচিত; তিনি মিসর জয় করেছিলেন, তুলুনীয় বংশকে ছত্রভঙ্গ করেছিলেন এবং ২৯২ হিজরিতে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন এবং ৩০৪ হিজরিতে নিহত হন। তবে যেমনটি আমরা দেখি, মাওলা হওয়া মানে এই নয় যে তিনি কেবল আরবিতেই পারদর্শী ছিলেন, যদিও সেই ভাষায় তার অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল, সম্ভবত তিনি তার পূর্বপুরুষদের ভাষাতেও পারদর্শী ছিলেন।

ইবনে ফাদলান এই সফরের প্রধান নায়ক «২৫» হিসেবে কেবল এই কারণেই আবির্ভূত হননি যে তিনি এটি লিখেছেন, বরং তিনি কোনো উদ্দেশ্যমূলক বা পরিকল্পিত কারণে তার অন্যান্য সঙ্গীদের পরিচয় মুছে ফেলেননি। বরং বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো, কারণ তার এই ভ্রমণকাহিনী না থাকলে আমরা তাদের সম্পর্কে সামান্যতম তথ্যও জানতে পারতাম না। সম্ভবত, তার এই ভ্রমণকাহিনী লেখার উদ্দেশ্য নিজের জন্য সাহিত্যিক খ্যাতি অর্জন করা ছিল না, কিংবা কেউ কেউ যেমনটি বলেন—নিজের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাও ছিল না, বিশেষ করে যেহেতু এটি ছাড়া তার অন্য কোনো রচনার কথা আমাদের জানা নেই। তিনি ছিলেন স্রেফ একজন দূত, যিনি আমাদের জন্য মূল্যবান কিছু পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ করে গেছেন।