(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: -)
ثقافة العولمة بوصفها خطابا متطرفا   (عبد الله العشي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: ثقافة العولمة بوصفها خطابا متطرفا

المؤلف: عبد الله العشي

الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات

عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 22

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 37

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

চরমপন্থী বয়ান হিসেবে বিশ্বায়নের সংস্কৃতি   (আব্দুল্লাহ আল-আশি)

বিভাগ: সাধারণ বই


গ্রন্থ: চরমপন্থী বয়ান হিসেবে বিশ্বায়নের সংস্কৃতি

লেখক: আব্দুল্লাহ আল-আশি

প্রকাশক: গ্রন্থটি সৌদি আরবের আওকাফ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে

পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত গ্রন্থ) : ২২

[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১)
ثقافة العولمة بوصفها خطابا متطرفا إعداد

أد. عبد الله العشي

كلية الآداب والعلوم الإنسانية

جامعة باتنة - الجزائر

بسم الله الرحمن الرحيم‌‌ العولمة وخطاب ما بعد الحداثة أحب أن أمهد لموضوع العولمة بوضع العولمة ضمن منظومة المصطلحات التي تؤطر خطاب ما بعد الحداثة، فالمعروف عن هذا الخطاب أنه يسعى إلى هدم كل نظام وإعادة صياغة جهاز المفاهيم بحيث يصبح التفكيك هو السمة البارزة، تفكيك العقل لكي لا يصبح وحده المسؤول عن التفكير، وتفكيك القيم لكي لا تكون بمثابة حاجز يعيق تحقيق المصالح الشخصية والغرائز البشرية، وتفكيك النظام حتى يمكن تمرير الأفكار الهجينة والشاذة، وتفكيك الأمم والمجتمعات والدول حتى تعيد تشكيلها وبناءها وصياغة قيمها من جديد. ما بعد الحداثة خطاب فقد ثقته في الحداثة بوصفها خطابا مهادنا في نظرها، وهي تحاول التجاوز والتمرد والثورة.
চরমপন্থী বয়ান হিসেবে বিশ্বায়নের সংস্কৃতি; উপস্থাপনায়

প্রফেসর ড. আব্দুল্লাহ আল-আশি

কলা ও মানবিক অনুষদ

বাতনা বিশ্ববিদ্যালয় - আলজেরিয়া

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।‌‌ বিশ্বায়ন ও উত্তর-আধুনিক বয়ান আমি বিশ্বায়নের বিষয়টি উত্তর-আধুনিক বয়ানকে কাঠামোবদ্ধকারী পরিভাষাগুলোর সিস্টেমের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এর সূচনা করতে চাই। কারণ এই বয়ান সম্পর্কে এটি সর্বজনবিদিত যে, এটি প্রতিটি ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার এবং ধারণার বিন্যাসকে এমনভাবে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করে যেখানে বিনির্মাণই প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়ে ওঠে; বুদ্ধিবৃত্তিকে বিনির্মাণ করা যাতে এটি এককভাবে চিন্তার দায়িত্বশীল না থাকে, মূল্যবোধকে বিনির্মাণ করা যাতে এগুলো ব্যক্তিগত স্বার্থ ও মানবিক প্রবৃত্তি অর্জনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এবং ব্যবস্থাকে বিনির্মাণ করা যাতে সঙ্কর ও ব্যতিক্রমী (الشاذة) ধারণাগুলো অনুপ্রবেশ করানো সম্ভব হয়, আর জাতি, সমাজ ও রাষ্ট্রগুলোকে বিনির্মাণ করা যাতে সেগুলোকে পুনরায় গঠন করা এবং তাদের মূল্যবোধগুলো নতুনভাবে বিন্যস্ত করা যায়। উত্তর-আধুনিকতা এমন একটি বয়ান যা আধুনিকতার ওপর তার আস্থা হারিয়েছে, কারণ তার দৃষ্টিতে আধুনিকতা একটি আপসকামী বয়ান; এটি আধুনিকতাকে অতিক্রম, এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও বিপ্লবের চেষ্টা করে।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২)
فالعولمة قياسا على ما بعد الحداثة هي ما بعد الرأسمالية أو الرأسمالية القصوى، هي ما بعد السياسة، هي ما بعد الثقافة، هي ما بعد الدولة والأمة، هي ما بعد الدين واللغة والهوية، هي إذن مشروع لإعادة صياغة العالم بعيدا عن المكونات السابقة، هي مشروع مفتوح محفوف بالمخاطر، هي أخيرا مغامرة.

সুতরাং উত্তর-আধুনিকতার ওপর অনুমান (قياس) করলে বিশ্বায়ন হলো উত্তর-পুঁজিবাদ বা চরম পুঁজিবাদ; এটি রাজনীতি-উত্তর, সংস্কৃতি-উত্তর এবং রাষ্ট্র ও জাতি (أمة)-উত্তর এক ব্যবস্থা। এটি ধর্ম, ভাষা ও আত্মপরিচয়-উত্তর একটি ধারণা। অতএব, এটি পূর্ববর্তী উপাদানগুলো বাদ দিয়ে বিশ্বকে নতুনভাবে বিন্যাস করার একটি প্রকল্প; এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ উন্মুক্ত প্রকল্প এবং পরিশেষে এটি একটি দুঃসাহসিক অভিযান।

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌التحولات العالمية وعنف العولمة:

لقد تغير العالم في ربع القرن الأخير تغيرا يكاد يعيد تشكيل الخريطة الجغرافية والتاريخية والثقافية والروحية، إن لم يكن قد أعاد تشكيلها بالفعل، وهذا ما جعلنا نحس أحيانا أننا لأول مرة في التاريخ نعيش عالما جديدا بمثل هذه الجدة التي لا تعطي الإنسان فرصة للتفكير واتخاذ الموقف الملائم، بل يغرقه بفيض من الأفكار تدفعه مضطرا للانسياق وراء ما يحدث، وكأنه فقد قدرته على التحكم في توازنه.

وقد عبر عن هذا التحول الكاتب البريطاني أنطوني جيدنز حين قال: " كلما تفاقمت التغيرات التي تحدثت عنها في هذا الفصل أدت إلى تشكيل مجتمع عالمي لم يكن موجودا من قبل، ونحن أول جيل يعيش في هذا المجتمع الذي نكاد لا نرى ملامحه الآن. إنه يزعزع أنماط حياتنا أينما كنا. والآن في الأقل لا يعد هذا نظاما عالميا تمليه إرادة بشرية جماعية، وإنما هو فوضى ناجمة عن مزيج من التأثيرات ". (1)

وقد ساعد على هذا التحول الرهيب أمران أساسيان في اعتقادي:

--------------------------------------------

(1) أنطون جيدنز، عالم جامح، ترجمة عباس كاظم وحسن ناظم، المركز الثقافي العربي، بيروت، الدار البيضاء، ط1، ص. 39.
বৈশ্বিক পরিবর্তনসমূহ এবং বিশ্বায়নের সহিংসতা:

বিগত শতাব্দীর শেষ এক-চতুর্থাংশে পৃথিবী এমনভাবে পরিবর্তিত হয়েছে যা ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক মানচিত্রকে প্রায় পুনর্গঠন করে ফেলেছে, যদি না তা ইতিমধ্যে পুনর্গঠিত হয়ে থাকে। এটি আমাদের মাঝে মাঝে এমন অনুভূতি জাগায় যে, ইতিহাসে আমরাই প্রথম এমন এক নতুন পৃথিবীতে বাস করছি যার অভিনবত্ব মানুষকে চিন্তা করার এবং সঠিক অবস্থান গ্রহণের সুযোগ দেয় না। বরং এটি তাকে অসংখ্য ধারণার স্রোতে নিমজ্জিত করে যা তাকে বিদ্যমান পরিস্থিতির পেছনে অন্ধভাবে চলতে বাধ্য করে, যেন সে তার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।

ব্রিটিশ লেখক অ্যান্থনি গিডেন্স এই পরিবর্তন সম্পর্কে ব্যক্ত করেছেন: "আমি এই অধ্যায়ে যে পরিবর্তনগুলোর কথা বলেছি, সেগুলো যত প্রকট হয়েছে, তা এমন এক বিশ্ব সমাজ গঠনের দিকে ধাবিত করেছে যা আগে কখনো বিদ্যমান ছিল না। আমরাই প্রথম প্রজন্ম যারা এই সমাজে বাস করছি যার রূপরেখা আমরা এখন প্রায় দেখতেই পাই না। এটি আমরা যেখানেই থাকি না কেন আমাদের জীবনযাত্রার ধরনকে অস্থিতিশীল করে তোলে। অন্তত বর্তমানে এটি এমন কোনো বিশ্ব ব্যবস্থা নয় যা কোনো সামষ্টিক মানব ইচ্ছার দ্বারা পরিচালিত, বরং এটি বিভিন্ন প্রভাবের সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত এক বিশৃঙ্খলা।" (১)

আমার বিশ্বাসমতে, এই ভয়াবহ পরিবর্তনের পেছনে দুটি মৌলিক বিষয় কাজ করেছে:

--------------------------------------------

(১) অ্যান্থনি গিডেন্স, আলম জামিহ, অনুবাদ: আব্বাস কাজিম ও হাসান নাজিম, আল-মারকাজ আস-সাকাফি আল-আরাবি, বৈরুত, কাসাব্লাঙ্কা, ১ম সংস্করণ, পৃষ্ঠা: ৩৯।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৪)
الأول هو ثورة المعلومات التي تعد ثورة حقيقية لا مجازا، لقد أصبح ما كان في حكم الخرافي واقعا مدهشا، وأصبح " التوالد" العلمي بلا حدود. والأمر الثاني هو أن هذه الثورة العلمية أصبحت تهيمن عليها وتوجهها مؤسسات سياسية وعسكرية واقتصادية، هي نفسها التي توجه الحضارة المعاصرة لتهيمن على الكوكب الأرضي كله.

ليس ثمة من خطأ في الثورة العلمية المشار إليها، ولا أظن أن فينا من سيقف موقفا سلبيا أمام الفتوحات العلمية، ولكن الخطر يأتي من المؤسسات المحتكرة للعلم والموجهة له، لقد ثبت واقعيا أن هذه المؤسسات هي مؤسسات مؤدلجة، بمعنى أنها لا تتمتع بحياد العلم وموضوعيته، بل هي مؤسسات تحمل أفكارا رهيبة، مشروعات فكرية وسياسية أقل ما يمكن أن توصف به أنها مشروعات استعلائية متكبرة، تعتقد أن العالم على ضلال إلا من اتبعها، وأنه لا يقوى على فعل شيء ما يعتمد عليها، وترى أن هذا العالم لم يعد يتسع للجميع، فهو فقط لمحتكري الثورة العلمية، وعلى الآخرين الالتزام والتبعية والتقليد.
প্রথমটি হলো তথ্য বিপ্লব যা কোনো রূপক নয় বরং একটি প্রকৃত বিপ্লব। যা একসময় অলীক কল্পনার স্তরে ছিল তা আজ এক বিস্ময়কর বাস্তবে পরিণত হয়েছে এবং বিজ্ঞানের 'বংশবৃদ্ধি' বা জ্ঞানসৃজন আজ সীমাহীন। আর দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, এই বৈজ্ঞানিক বিপ্লব বর্তমানে এমন সব রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও নির্দেশনায় পরিচালিত হচ্ছে, যারা মূলত সমকালীন সভ্যতাকে সমগ্র ভূখণ্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পরিচালিত করছে।

উল্লিখিত বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের মাঝে কোনো ত্রুটি নেই, আর আমি মনে করি না যে আমাদের মধ্যে কেউ বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রার সম্মুখে নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করবে। তবে বিপদ মূলত সেইসব প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্ভূত যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানকে একচেটিয়াভাবে কুক্ষিগত করে রেখেছে এবং একে সুনির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করছে। বাস্তবিকভাবে এটি প্রমাণিত যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো সুনির্দিষ্ট আদর্শিক মতাদর্শ দ্বারা চালিত; অর্থাৎ এরা বিজ্ঞানের নিরপেক্ষতা ও বস্তুনিষ্ঠতা ধারণ করে না। বরং এগুলো এমন সব প্রতিষ্ঠান যা ভয়াবহ ধ্যান-ধারণা এবং এমন বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক প্রকল্প বহন করে, যাদেরকে ন্যূনতমপক্ষে আধিপত্যকামী ও উদ্ধত প্রকল্প হিসেবে বিশেষায়িত করা যায়। তারা মনে করে যে, যারা তাদের অনুসারী নয় তারা ব্যতীত অবশিষ্ট বিশ্ব ভ্রান্তির (ضلال) ওপর রয়েছে এবং তাদের ওপর নির্ভর না করে বিশ্বের অন্য কারও কোনো কিছু করার সক্ষমতা নেই। তাদের দৃষ্টিতে এই পৃথিবী আর সবার বসবাসের যোগ্য নয়, বরং এটি কেবল তাদেরই জন্য যারা এই বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের একচেটিয়া মালিক; আর অন্যদের দায়িত্ব হলো কেবল তাদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা, বশ্যতা স্বীকার করা এবং অন্ধ অনুকরণ (تقليد) করা।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৫)
هكذا يفكر القوي في عالمنا المعاصر، لقد انتفى البعد الأخلاقي والإنساني، ونؤكد ثانية أن ذلك لم يتم بسبب العلم بل بسبب المؤسسات الموجهة لهذا العلم.

في مثل هذا المناخ ظهرت العولمة، ليس بوصفها مقولة علمية مجردة حيادية، بل بوصفها مقولة إيديولوجية استغلت نتائج العلم المعاصر من أجل الهيمنة على العالم وتوحيده خارج حدود الثقافات والهويات الخاصة، ومن أجل أن يتم ذلك كان لا بد أن تتبنى إيديولوجية.

لم تكشف عنها بشكل مباشر ولكن يمكن تبين معالمها من خلال الواقع.
আমাদের সমসাময়িক বিশ্বে শক্তিশালীরা এভাবেই চিন্তা করে। নৈতিক ও মানবিক মাত্রা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমরা পুনরায় নিশ্চিত করছি যে, এটি বিজ্ঞানের কারণে ঘটেনি, বরং এই বিজ্ঞানকে পরিচালিতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কারণে ঘটেছে।

এই ধরনের পরিবেশেই বিশ্বায়নের আবির্ভাব ঘটেছে; এটি কেবল একটি বিমূর্ত ও নিরপেক্ষ বৈজ্ঞানিক ধারণা হিসেবে নয়, বরং একটি আদর্শিক ধারণা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে যা সমসাময়িক বিজ্ঞানের ফলাফলগুলোকে বিশ্বব্যাপী আধিপত্য বিস্তার এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও পরিচয়ের সীমানার বাইরে বিশ্বকে একীভূত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে। আর এটি সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্দিষ্ট আদর্শ গ্রহণ করা অনিবার্য ছিল।

এটি সরাসরি নিজেকে প্রকাশ করেনি, তবে বাস্তবের নিরিখে এর বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৬)
إن العولمة تسير ضد منطق التاريخ، إذ ليس من المعقول أن يتم تهميش الهويات أو إلغاؤها وقد تشكلت عبر عشرا ت الآلاف من السنين وتحولت إلى مكون للأمم، ليس مجرد مكون ثقافي أو ديني أو أخلاقي، بل يمكن على سبيل الاستعارة أن نقول: إنها مكون بيولوجي مثل الكروموزوم المسؤول عن نوع الجنس البشري، فالبشر مختلفون ومتفقون، متميزون ويمكنهم العيش بهذا التمايز والإسهام في سعادة الإنسان، أما تحويل البشرية إلى هوية ثقافية واحدة فأمر مناقض للتاريخ، ف " ليست هناك ثقافة عالمية واحدة، وليس من المحتمل أن توجد في يوم من الأيام، وإنما وجدت، وتوجد وستوجد ثقافات متعددة متنوعة تعمل كل منها بصورة تلقائية، أو بتدخل إرادي من أهلها، على الحفاظ على كيانها ومقوماتها الخاصة. من هذه الثقافات ما يميل إلى الانغلاق والانكماش، ومنها ما يسعى إلى الانتشار والتوسع ". (1)

--------------------------------------------

(1) محمد عابد الجابري. العولمة والهوية الثقافية: عشر أطروحات. مجلة فكر ونقد، الرباط، العدد 10.

বিশ্বায়ন ইতিহাসের যুক্তির পরিপন্থী পথে চলছে, কারণ হাজার হাজার বছর ধরে গঠিত হওয়া এবং জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য উপাদানে পরিণত হওয়া পরিচয়গুলোকে প্রান্তিকীকরণ বা বিলুপ্ত করা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। এটি কেবল সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় বা নৈতিক উপাদানই নয়, বরং রূপক অর্থে আমরা বলতে পারি: এটি মানবজাতির লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোমের মতো একটি জৈবিক উপাদান। মানুষ যেমন বৈচিত্র্যময় তেমনি একমত হতে সক্ষম; তারা স্বতন্ত্র এবং এই স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও তারা একসাথে বসবাস করতে পারে এবং মানবতার সুখে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু সমগ্র মানবজাতিকে একক সাংস্কৃতিক পরিচয়ে রূপান্তরিত করার বিষয়টি ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিরোধী। কারণ "কোনো একক বিশ্বজনীন সংস্কৃতি নেই এবং ভবিষ্যতে কোনো একদিন এমনটি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। বরং অতীতে ছিল, বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও বহুবিধ বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি থাকবে, যার প্রতিটিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অথবা তাদের অনুসারীদের সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব ও মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সংরক্ষণে কাজ করে যাবে। এইসব সংস্কৃতির মধ্যে কোনোটি রুদ্ধ বা সংকুচিত হওয়ার দিকে ঝোঁকে, আবার কোনোটি প্রসার ও বিস্তারের চেষ্টা চালায়।" (১)

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবেরি। বিশ্বায়ন এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়: দশটি তত্ত্ব। ফিকর ওয়া নাকদ সাময়িকী, রাবাত, সংখ্যা ১০।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৭)
وهي ضد منطق التاريخ أيضا، لأنها ليست تطورا طبيعيا في الحركة الثقافية أو السياسية أو الاقتصادية، كما قد يتوهم بعضهم، وإن كانت تطورا لشيء فإنما هي تطور للفكر الاستعماري الأوروبي، ومن هذا المنطلق يمكن عد العولمة هي المرحلة الاستعمارية الثالثة بعد الاستعمار العسكري والاستعمار الاقتصادي، وها هي ذي تمثل الاستعمار الشامل. وعلى الرغم من التداول الشاسع لهذا المفهوم فإنه غامض في نواح عدة، وكأن هذا الغموض متعمد حتى لا ينكشف السر، ويحل اللغز.
এটি ইতিহাসের যৌক্তিকতারও পরিপন্থী, কারণ এটি সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক আন্দোলনের কোনো স্বাভাবিক বিবর্তন নয়, যেমনটি কেউ কেউ ধারণা করতে পারেন। বরং এটি যদি কোনো কিছুর বিবর্তন হয়ে থাকে, তবে তা ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক চিন্তাধারারই বিবর্তন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বায়নকে সামরিক ও অর্থনৈতিক উপনিবেশবাদের পর উপনিবেশবাদের তৃতীয় পর্যায় হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে; আর এটিই এখন সর্বব্যাপী উপনিবেশবাদের প্রতিনিধিত্ব করছে। এই ধারণার ব্যাপক প্রচলন থাকা সত্ত্বেও এটি বিভিন্ন দিক থেকে অস্পষ্ট, যেন এই অস্পষ্টতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যাতে এর পেছনের রহস্য উন্মোচিত না হয় এবং ধাঁধার সমাধান না ঘটে।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌هوية العولمة:
বিশ্বায়নের পরিচয়:
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ৯)
حين يسعى الباحث إلى تقديم تعريف علمي للعولمة سوف لن يعثر على تعريف يطمئن إليه، ويتخذه مبدأ بحثه، على الرغم من الاستعمال الواسع لهذا المصطلح إلى درجة أصبح فيها مهيمنا على الكتابات السياسية والاقتصادية والإعلامية، فقد أصبح المصطلح نفسه مهيمنا، كما تسعى العولمة إلى الهيمنة، فالمؤسسات الغربية لم تستقر على تعريف موحد، أو أنها لا تريد ذلك، مع أنها تقدم تحديدات لأهداف النظام العالم الجديد الذي تعد العولمة وسيلة تطبيقه، وقد أحس بهذا الغموض والتضليل بعض الكتاب الغربيين، فقد كتب جيدنز: "نظرا لشعبية مصطلح العولمة، يجب ألا يفاجئنا عدم وضوحه في جميع الأحوال أو ما هو رد الفعل الذي تشكل ضده " (1) . وما يقدم تعريفا للعولمة إنما هو تجميع لأفكار متناثرة من هنا وهناك، ترد أحيانا على ألسنة الرؤساء وأصحاب النفوذ السياسي والعسكري والاقتصادي في العالم، ذلك أن العولمة أيضا هي مشروع لم يتم تشكيله بعد، فهو في طور التشكل المتواصل وقد يخضع للتغير في أية لحظة حسب التغيرات التاريخية، وحسب ردود أفعال المجتمعات الأخرى، ولكن هذا لا يعني أن الفكرة الجوهرية للعولمة غير معروفة. إنها معروفة، ولكن أصحابها

--------------------------------------------

(1) أنطوني جيدنز. عالم جامح. ترجمة عباس كاظم وحسن ناظم. المركز الثقافي العربي، الدار البيضاء بيروت. ط1. 2003. ص. 26.

যখন একজন গবেষক বিশ্বায়নের (العولمة) একটি বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা প্রদানের চেষ্টা করেন, তখন তিনি এমন কোনো সংজ্ঞার সন্ধান পাবেন না যা তাকে আশ্বস্ত করতে পারে এবং যেটিকে তিনি তার গবেষণার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন; যদিও এই পরিভাষাটির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে এটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও গণমাধ্যম সংক্রান্ত লেখায় একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করেছে। এই পরিভাষাটি নিজেই যেভাবে আধিপত্য বিস্তারকারী হয়ে উঠেছে, বিশ্বায়নও (العولمة) ঠিক সেভাবেই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে। পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো ঐক্যবদ্ধ সংজ্ঞার বিষয়ে একমত হতে পারেনি, অথবা তারা সম্ভবত তা চায় না; যদিও তারা সেই 'নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা'র (النظام العالمي الجديد) লক্ষ্যগুলোর সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করে, যার বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বিশ্বায়নকে বিবেচনা করা হয়। কোনো কোনো পশ্চিমা লেখক এই অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর দিকটি অনুভব করেছেন। যেমন গিডেন্স লিখেছেন: "বিশ্বায়ন পরিভাষাটির জনপ্রিয়তার কারণে সব ক্ষেত্রে এর অস্পষ্টতা কিংবা এর বিরুদ্ধে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে আমাদের বিস্মিত হওয়া উচিত নয়।" (১) বিশ্বায়নের সংজ্ঞা হিসেবে যা উপস্থাপন করা হয়, তা মূলত ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছু চিন্তাভাবনার সমষ্টি, যা কখনো কখনো বিশ্বের রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মুখে উচ্চারিত হয়। এর কারণ হলো, বিশ্বায়ন এমন একটি প্রকল্প যা এখনো চূড়ান্ত রূপ লাভ করেনি; বরং এটি একটি নিরন্তর গঠন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তন ও অন্যান্য সমাজের প্রতিক্রিয়ার প্রেক্ষিতে যেকোনো মুহূর্তে পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বিশ্বায়নের মূল ধারণাটি অজানা। এটি সুপরিচিত, কিন্তু এর প্রবক্তারা...

--------------------------------------------

(১) অ্যান্থনি গিডেন্স। আলমুন জামিহ। অনুবাদ: আব্বাস কাজিম ও হাসান নাজিম। আল-মারকাজুস সাকাফী আল-আরাবি, কাসাব্লাঙ্কা-বৈরুত। ১ম সংস্করণ। ২০০৩। পৃষ্ঠা ২৬।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১০)
يرفضون البوح بها، حتى تظل عيوبها وأهدافها البعيدة مجهولة. ويعود أمر غياب التعريف المحدد للعولمة في اعتقادي إلى كونها مقولة يود أصحابها إبقاءها بعيدا عن الفهم الكامل والصحيح وتقديمها في بعض مظاهرها الاقتصادية والإعلامية الإيجابية، حتى تظل سرا من جهة، ومن جهة ثانية حتى يتركوا فرصة للمجتمعات الأخرى لتعطيها المفهوم الذي تتصوره لتظهر وكأنها انبثقت من داخل هذه المجتمعات ولم ترد إليها من خارجها، وهذا أسوأ أشكال الاستعمار الفكري كما يشرحه مالك بن نبي في كتابه الصراع الفكري. فتصبح العولمة في هذه الحالة عولمة ذاتية وهذه أخطر أنواع العولمة. لأن المجتمعات تتصور أنها تطور طبيعي في حركتها بينما هي قد سيقت مجبرة إليها.
তারা এটি প্রকাশ করতে অস্বীকার করে, যাতে এর ত্রুটিসমূহ এবং সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যগুলো অজানা (مجهولة) থাকে। আমার বিশ্বাস মতে, বিশ্বায়নের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার অনুপস্থিতির কারণ হলো এটি এমন একটি মতবাদ যা এর প্রবক্তারা পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক (صحيح) উপলব্ধির বাইরে রাখতে চান এবং একে এর কিছু ইতিবাচক অর্থনৈতিক ও প্রচারমাধ্যম সংক্রান্ত বহিঃপ্রকাশের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চান। এর উদ্দেশ্য হলো একদিকে এটি যেন রহস্য হিসেবে থেকে যায়, আর অন্যদিকে যেন অন্যান্য সমাজগুলোকে তাদের নিজস্ব কল্পনাপ্রসূত ধারণা অনুযায়ী এর সংজ্ঞা প্রদানের সুযোগ করে দেওয়া যায়; যাতে মনে হয় এটি ওই সমাজগুলোর ভেতর থেকেই উদ্ভূত হয়েছে এবং বাইরে থেকে তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। এটি বুদ্ধিবৃত্তিক উপনিবেশবাদের নিকৃষ্টতম রূপ, যেমনটি মালিক বিন নবী তাঁর আস-সিরা আল-ফিকরি গ্রন্থে ব্যাখ্যা করেছেন। এমতাবস্থায় বিশ্বায়ন একটি ‘স্বকীয় বিশ্বায়নে’ পরিণত হয় এবং এটিই বিশ্বায়নের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রকার। কারণ সমাজগুলো ধারণা করে যে এটি তাদের গতির একটি স্বাভাবিক বিবর্তন, অথচ বাস্তবে তাদের বাধ্য করে এর দিকে পরিচালিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১১)
وقد حاول بعض المعرفين اختصار هوية العولمة فحددها في كونها تقوم في أساسها على: " على تصيير المحلي عالميا، فهي وصف لعمل مستمر تدل عليه كلمة Globalisation، لكنها في الوقت نفسه وصف لبعض نتائج هذا التعولم. النتيجة النهائية للعولمة أن تكون للعالم كله لغة أو لغات مشتركة وأن تكون التجارة فيه مفتوحة ومتيسرة بين كل بلدان العالم، وأن يسود فيه نظام اقتصادي واحد ونظام سياسي واحد وأن تسود فيه عقيدة واحدة، وأن تكون للناس فيه قيم مشتركة في مسائل كحقوق الإنسان والعلاقة بين الجنسين، وأن يكون هناك أدب عالمي يتذوقه الناس كلهم، وأن يسود فيه تبعا لذلك نظام تعليمي واحد، وأن تكون كل هذه الأمور التي تعولمت مناسبة للناس من حيث كونهم بشرا، ومساعدة لهم على تحقيق طموحاتهم المادية. هذا هو الهدف النهائي المثالي. لكن العولمة قد تكون ناقصة، وقد تكون تامة من غير أن تكون مناسبة للبشر بل مفروضة عليهم لظروف طارئة ". (1)

--------------------------------------------

(1) جعفر شيخ إدريس. العولمة وصراع الحضارات. مقال. - مجلة البيان. اقتباس من موقعها في شبكة الإنترنت.

কিছু সংজ্ঞাদানকারী বিশ্বায়নের স্বরূপকে সংক্ষেপ করার চেষ্টা করেছেন। তারা একে নিম্নোক্তভাবে চিহ্নিত করেছেন যে, এটি মূলত এর ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: "স্থানীয় বিষয়কে বৈশ্বিক পর্যায়ে রূপান্তর করা। এটি মূলত একটি চলমান প্রক্রিয়ার বিবরণ যা 'Globalisation' শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হয়। তবে একই সাথে এটি এই বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কিছু ফলাফলেরও বিবরণ। বিশ্বায়নের চূড়ান্ত ফলাফল হলো সমগ্র বিশ্বের জন্য একটি বা কয়েকটি সাধারণ ভাষা থাকা, বিশ্বের সকল দেশের মধ্যে বাণিজ্য উন্মুক্ত ও সহজ হওয়া, একটি একক অর্থনৈতিক ও একটি একক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়া, একটি একক বিশ্বাস (عقيدة) বা আদর্শ বিদ্যমান থাকা, মানবাধিকার ও নারী-পুরুষ সম্পর্কের মতো বিষয়গুলোতে মানুষের মাঝে অভিন্ন মূল্যবোধ থাকা, এমন এক বৈশ্বিক সাহিত্য থাকা যা সকল মানুষ আস্বাদন করবে এবং ফলশ্রুতিতে সেখানে একটি একক শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত হওয়া। বিশ্বায়িত এই সকল বিষয় মানুষের জন্য মানুষ হিসেবে উপযুক্ত হওয়া এবং তাদের পার্থিব আকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক হওয়া—এটিই হলো এর চূড়ান্ত আদর্শ লক্ষ্য। তবে বিশ্বায়ন কখনো অপূর্ণাঙ্গ হতে পারে, আবার কখনো তা মানুষের জন্য উপযোগী না হয়েও পূর্ণাঙ্গ হতে পারে; বরং বিশেষ পরিস্থিতির কারণে তাদের ওপর তা চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।" (১)

--------------------------------------------

(১) জাফর শেখ ইদ্রিস। আল-আওলামা ওয়া সিরাউল হাদ্বারাত (বিশ্বায়ন ও সভ্যতার দ্বন্দ্ব)। নিবন্ধ। - আল-বায়ান সাময়িকী। এর ইন্টারনেট ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১২)
ولو كانت مثل هذه الأفكار والطموحات والأحلام من تأملات الفلاسفة والمفكرين والعلماء مطروحة بوصفها علم الإنسانية التي تسعى إلى الرقي بنفسها إلى مستوى آخر أفضل من الوجود والعيش والحضارة، من غير أن تكون ملزمة لأحد بل متروكة للمجتمعات تسعى إلى تحقيقها كلما كانت الحالة الحضارية مناسبة من غير إكراه أو عنف ولا تضحيات بالثقافة واللغة والدين والتاريخ، لكان الأمر مقبولا كما قبلت من قبل مشروعات المدن الفاضلة. أما أن يتحول المشروع إلى نظام يفرض بكل أشكال العنف والإرهاب فلن يزرع إلا فوضى عارمة في العالم، والحروب قمة أشكال هذه الفوضى.

যদি দার্শনিক, চিন্তাবিদ এবং গবেষকদের এই ধরণের চিন্তা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নগুলো মানবীয় বিজ্ঞানের রূপরেখা হিসেবে এমনভাবে পেশ করা হতো, যা অস্তিত্ব, জীবন ও সভ্যতার এক উন্নততর স্তরে পৌঁছাতে সচেষ্ট; আর তা কারো ওপর বাধ্যতামূলক (ملزمة) না করে বরং সমাজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো—যেন তারা তাদের সভ্যতার অনুকূল পরিবেশে কোনো জোরজবরদস্তি, সহিংসতা অথবা সংস্কৃতি, ভাষা, ধর্ম ও ইতিহাসের কোনো বিসর্জন ছাড়াই তা অর্জনে সচেষ্ট হতে পারে—তবে বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হতো, যেমনটি ইতিপূর্বে ‘আদর্শ নগরী’ (المدن الفاضلة) সংক্রান্ত প্রকল্পগুলো গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু যখন এই পরিকল্পনা এমন একটি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয় যা সব ধরণের সহিংসতা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা বিশ্বে কেবল এক ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই বপন করবে না; আর যুদ্ধ হলো এই বিশৃঙ্খলার চরম রূপ।

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد دخل المصطلح إلى مجال المعجمات، فأصبح يعني:" مذهب القائلين بأن الرأسمالية هي ديانة الإنسانية، وأن النسبية الفكرية ستكون لها الغلبة على المطلقات الإيديولوجية، وأن النسبية الثقافية هو المعول عليه، وليس مبدأ مركزية الثقافات، وأن العالم ينتقل حاليا ونهائيا وشموليا والتسلط إلى الديموقراطية والتعددية وتشمله ثورة معلوماتية تنتشر في كل مكان من شأنها إلغاء الحدود بين الدول بحيث يصبح من السهل انتقال الناس والمعلومات على نطاق العالم كله، ويتم ذلك من خلال المنافسة والحوار والمحاكاة. . . . وفي العولمة تحويل العالم إلى الرأسمالية، وتتم السيطرة عليه في هيمنة دول المركز وسيادة النظام العالمي الواحد، وبذلك تتهافت الدولة القومية وتضعف فكرة السيادة الوطنية. ويؤول الأمر مع الثقافة إلى صياغة ثقافة عالمية واحدة تضمحل إلى جوارها الخصوصيات الثقافية ". (1)

--------------------------------------------

(1) عبد المنعم الحنفي. المعجم الشامل لمصطلحات الفلسفة. مكتبة مدبولي. القاهرة. ط. 3. 2000م. ص. 569.

এবং পরিভাষাটি অভিধানের ক্ষেত্রেও প্রবেশ করেছে, ফলে এর অর্থ দাঁড়িয়েছে: "এটি সেই সকল ব্যক্তির মতবাদ যারা মনে করেন যে, পুঁজিবাদই হলো মানবতার ধর্ম, এবং বুদ্ধিবৃত্তিক আপেক্ষিকতাবাদ আদর্শিক ধ্রুবকসমূহের ওপর জয়লাভ করবে; আর সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাই হবে মূল ভিত্তি, সংস্কৃতি-কেন্দ্রিকতার নীতি নয়। বিশ্ব বর্তমানে চূড়ান্ত ও সামগ্রিকভাবে স্বৈরতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং একে একটি তথ্যবিপ্লব বেষ্টন করে আছে যা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ছে। এই বিপ্লবের কাজ হলো রাষ্ট্রসমূহের মধ্যবর্তী সীমানা বিলোপ করা, যাতে সমগ্র বিশ্বজুড়ে মানুষ ও তথ্যের আদান-প্রদান সহজতর হয় এবং এটি প্রতিযোগিতা, সংলাপ ও অনুকরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। . . . আর বিশ্বায়ন হলো বিশ্বকে পুঁজিবাদে রূপান্তর করা, যা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্য এবং একক বিশ্বব্যবস্থার সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। এর ফলে জাতিরাষ্ট্রের ভিত্তি ধসে পড়ে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের ধারণা দুর্বল হয়ে যায়। সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এর পরিণতি দাঁড়ায় একটি বিশ্বজনীন সংস্কৃতি বিনির্মাণের দিকে, যার প্রভাবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলীন হয়ে যায়।" (১)

--------------------------------------------

(১) আব্দুল মোনয়েম আল-হাফানি। আল-মু'জাম আল-শামিল লি-মুসতালাহাত আল-ফালসাফা। মাকতাবাত মাদবুলি। কায়রো। ৩য় সংস্করণ। ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ। পৃষ্ঠা ৫৬৯।

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومع ذلك فثمة مفهومان للعولمة، مفهوم نظري لعولمة لم تتشكل بعد على أرض الواقع وهو ما ورد في التعريف المعجمي السابق، ومفهوم عملي وهو يتعلق بالجانب الذي تم تحققه من العولمة بالفعل ويتمثل في المكاسب التي حققها النظام العالمي الجديد الذي تقوده الولايات المتحدة الأمريكية. وهذا المفهوم الثاني هو مرحلة أولى من مراحل العولمة التي تتطور بسرعة لا يستطيع المتابع أن يضبط حركتها.

وقد ذهب بعضهم إلى أن العولمة ظاهرة تاريخية، عرفتها البشرية في تطورها الحضاري، ففي كل مرحلة كانت حضارة ما تهيمن على بقية الحضارات، وفي زمن ما كانت الحضارة الإسلامية حضارة عالمية. هذا الطرح من الناحية الوصفية صحيح لكنه من حيث الأهداف الكبرى أمر متحفظ عليه، فثمة فرق كبير بين عالمية الحضارة الإسلامية والعولمة المعاصرة.
তদুপরি বিশ্বায়নের দুটি ধারণা বিদ্যমান: একটি হলো তাত্ত্বিক ধারণা—যা বাস্তবে এখনও রূপ লাভ করেনি—যেমনটি পূর্বোক্ত আভিধানিক সংজ্ঞায় বর্ণিত হয়েছে; আর অন্যটি হলো ব্যবহারিক ধারণা, যা বিশ্বায়নের সেই দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট যা ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বিশ্বব্যবস্থা কর্তৃক অর্জিত সাফল্যের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। এই দ্বিতীয় ধারণাটি বিশ্বায়নের পর্যায়সমূহের মধ্যে প্রথম পর্যায়, যা এত দ্রুতগতিতে বিবর্তিত হচ্ছে যে কোনো পর্যবেক্ষকের পক্ষে এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

কেউ কেউ মনে করেন যে বিশ্বায়ন একটি ঐতিহাসিক বিষয়, যা মানবজাতি তার সভ্যতাগত বিবর্তনের ধারায় প্রত্যক্ষ করেছে। প্রতিটি পর্যায়ে কোনো না কোনো সভ্যতা অন্যান্য সভ্যতার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং এক সময় ইসলামি সভ্যতা একটি বৈশ্বিক সভ্যতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিল। বর্ণনামূলক দিক থেকে এই উপস্থাপনটি সঠিক হলেও বৃহত্তর উদ্দেশ্যের বিচারে এটি প্রশ্নসাপেক্ষ; কেননা ইসলামি সভ্যতার বৈশ্বিকতা এবং সমকালীন বিশ্বায়নের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌إيديولوجيا العولمة:
বিশ্বায়নের মতাদর্শ:
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৬)
تعتمد العولمة على نوع من الوثنية المعاصرة، فهي تدعو إلى نوع من التعامل على أساس المصلحة (الاقتصادية والسياسية والعلمية) ، وعدم إيلاء القيم الخلقية والدينية أي اهتمام، لأن هذه القيم في اعتقادها تعيق التواصل الكوني كما تراه، كما تعيق تسويق مشروعها " الحضاري " ذلك أنها تسعى إلى هيمنة حضارية، أو إلى بناء حضارة واحدة يتبعها الجميع، وقد استقام لها ذلك عقب سقوط القطب الآخر الذي كان بمثابة الكابح لهذا الحمق. لذا فهي تعتمد إستراتيجية الإقصاء والإلغاء والتهميش، تلك الإستراتيجية التي انتقلت إليها من المركزية الغربية التي تنهج سياسة المركز في مواجهة الأطراف، والأغرب (ولعله لا غرابة في الأمر) . أن يصرح الرئيس الأمريكي السابق بيل كلينتون قائلا:" إن أمريكا تؤمن بأن قيمها صالحة لكل الجنس البشري، وإننا نستشعر أن علينا التزاما مقدسا لتحويل العالم إلى صورتنا ". (1) ولعل أهم سلاح تستعمله للتغلب على قيم الأطراف هو إستراتيجية الاتهام بالإرهاب أولا، والمروق الدولي ثانيا، فكل منظومة سياسية أو ثقافية أو دينية تعد في مشروع العولمة إرهابا إلا إذا تمت إزالتها والتخلي عنها في المؤسسات السياسية

--------------------------------------------

(1) عن مجلة البيان.

বিশ্বায়ন সমসাময়িক এক প্রকার পৌত্তলিকতার ওপর নির্ভরশীল। এটি স্বার্থের (অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক) ভিত্তিতে এক ধরনের পারস্পরিক লেনদেনের আহ্বান জানায় এবং নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করে না; কারণ বিশ্বায়নের প্রবক্তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মূল্যবোধগুলো তাদের কল্পিত বিশ্বজনীন যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এটি তাদের "সভ্যতাগত" প্রকল্পের প্রসারেও বাধা দেয়; কেননা তারা একটি সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তার করতে চায় অথবা এমন এক একক সভ্যতা গড়ে তুলতে চায় যার অনুসারী হবে সবাই। অন্য মেরুর (প্রতিপক্ষ শক্তি) পতনের পর তাদের এই লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয়েছে, যা ইতিপূর্বে এই হঠকারিতার পথে প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করছিল। একারণে তারা বর্জন, বাতিল এবং প্রান্তিকীকরণের কৌশল অবলম্বন করে। এই কৌশলটি তারা মূলত পশ্চিমা কেন্দ্রিকতা থেকে গ্রহণ করেছে, যা প্রান্তিক শক্তিগুলোর মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় নীতি অনুসরণ করে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো (যদিও এতে আশ্চর্যের কিছু নেই), সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন স্পষ্টভাবে বলেছেন: "আমেরিকা বিশ্বাস করে যে তার মূল্যবোধ সমগ্র মানবজাতির জন্য উপযোগী এবং আমরা অনুভব করি যে বিশ্বকে আমাদের নিজস্ব আদলে রূপান্তরিত করা আমাদের জন্য এক পবিত্র দায়িত্ব।" (১) সম্ভবত অন্যদের মূল্যবোধকে পরাভূত করার জন্য বিশ্বায়ন যে প্রধান অস্ত্রটি ব্যবহার করে তা হলো—প্রথমত সন্ত্রাসবাদের তকমা দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা। বস্তুত যেকোনো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় ব্যবস্থা বিশ্বায়ন প্রকল্পের কাছে ততক্ষণ পর্যন্ত সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়, যতক্ষণ না সেগুলোকে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে নির্মূল বা বর্জন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়ান সাময়িকী হতে সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৭)
والتعليمية بل والدينية أيضا، لأنها تريد دينا بلا دين، وتستعمل من أجل إنجاح هذه الإستراتيجية كل الوسائل الضاغطة من البيانات السياسية المتهمة إلى الحصار الاقتصادي إلى الصواريخ العابرة للقارات، ولسنا ببعيدين عما حدث في عالمنا العربي والإسلامي.

وأكثر من هذا فإن ثقافة العولمة تسعى إلى تهميش المؤسسات الدولية أو تحويلها إلى مؤسسات تابعة تخدم مشروعها، وليست مؤسسات لكل الدول ومن أجل مصالح الدول كلها، لقد تحول الكل الآن وأصبح الجزء هو الكل وأصبحت الدولة الواحدة هي كل العالم، وما العالم إلا محافظات خاضعة لها، وهكذا تم التضييق على منظمة الأمم المتحدة ومؤسساتها وخصوصا مجلس الأمن الذي حولته أو على الأقل تسعى إلى تحويله إلى مؤسسة تابعة لها. في منطق العولمة والأجهزة التي تسيرها ينبغي أن يكون الكل تابعا، ولن يسمح بالخروج على الصف وإلا كان ذلك مروقا أو إرهابا أو نحو ذلك. " ليست العولمة مجرد آلية من آليات التطور الرأسمالي بل هي أيضا - وبالدرجة الأولى - إيديولوجيا تعكس إرادة الهيمنة على العالم" (1) من خلال ترسانة من الوسائل المختلفة.

--------------------------------------------

(1) محمد عابد الجابري، مجلة فكر ونقد، موقع الجابري الإليكتروني.
এবং শিক্ষামূলক এমনকি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও; কারণ এটি ধর্মহীন একটি ধর্ম চায় এবং এই কৌশলকে সফল করার নিমিত্তে রাজনৈতিক অভিযুক্ত বিবৃতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অবরোধ এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত যাবতীয় চাপপ্রয়োগকারী মাধ্যম ব্যবহার করে। আমাদের আরব ও মুসলিম বিশ্বে যা ঘটেছে, তা আমাদের অজানা নয়।

এর চেয়ে বড় কথা হলো, বিশ্বায়নের সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রান্তিককরণ করতে অথবা সেগুলোকে তাদের প্রকল্পের অনুগত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে সচেষ্ট, যা সকল রাষ্ট্রের জন্য কিংবা সকল রাষ্ট্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান নয়। বর্তমানে সামগ্রিকতা পরিবর্তিত হয়ে আংশিকই এখন পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করেছে এবং একটি রাষ্ট্রই যেন সমগ্র বিশ্বে পরিণত হয়েছে; আর বিশ্ব যেন তার অধীনস্থ কিছু প্রদেশ মাত্র। এভাবেই জাতিসংঘ এবং এর অঙ্গসংস্থাগুলো, বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর সংকীর্ণতা বা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, যাকে তারা ইতিমধ্যে নিজেদের অনুগত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করেছে অথবা অন্তত সেই প্রচেষ্টাই চালাচ্ছে। বিশ্বায়নের যুক্তি এবং একে পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর নীতি অনুযায়ী সকলকেই অনুগত হতে হবে। এর বহির্ভূত হওয়া বা অবাধ্যতা কোনোভাবেই অনুমোদিত নয়, অন্যথায় তাকে বিচ্যুতি বা সন্ত্রাসবাদ কিংবা এই জাতীয় কিছু হিসেবে অভিহিত করা হবে। "বিশ্বায়ন কেবল পুঁজিবাদী বিবর্তনের কোনো যান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি—প্রথমত ও প্রধানত—একটি আদর্শ (ইডিওলজি), যা বিভিন্ন উপায়ের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বিস্তারের ইচ্ছাকেই প্রতিফলিত করে" (১)।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবিরি, ফিকর ওয়া নাকদ পত্রিকা, আল-জাবিরি ইলেকট্রনিক সাইট।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌وسائل تمرير العولمة:
বিশ্বায়ন প্রসারের মাধ্যমসমূহ:
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ১৯)
أشرنا إلى أن العولمة تسعى إلى فرض مشروعها باستعمال كل الوسائل دون استثناء أو تحفظ، من الإغراء والاستمالة إلى التهديد والضغط السياسي إلى الحصار الاقتصادي إلى شن الحروب المدمرة التي تورط فيها العالم كله. يتحدث بعض الباحثين الغربيين عن العولمة الإعلامية وكيف تقوم المؤسسات الإعلامية بتسويقها إلى البلدان النامية، فيقول: " ينطلق فيض ثقافي من بلدان المركز ليجتاح الكرة الأرضية، يتدفق على شكل صورة. . . كلمات. . . قيم أخلاقية، قواعد قانونية. . . مصطلحات سياسية. . معايير. . كفاءة. . ينطلق كل هذا ليجتاح بلدان العالم الثالث من خلال الإعلام المتمثل في إذاعات وتليفزيونات وأفلام وكتب وأسطوانات فيديو وأطباق استقبال فضائية ينطلق عبر سوق المعلومات التي تحتكرها الوكالات العالمية الأربع: أسوشيتد بريس ويونايتد بريس (الولايات المتحدة) ورويتر (بريطانيا) وفرانس بريس (فرنسا) ، وتسيطر الولايات المتحدة على 65 في المائة من تدفق هذه المعلومات. هذا الفيض من المعلومات يشكل رغبات وحاجات المستهلكين، او بتعبير آخر الأسرى السلبيين، يشكل أنواع سلوكهم، عقلياتهم، مناهج تعليمهم، أنماط حياتهم، وبذلك

আমরা ইঙ্গিত করেছি যে, বিশ্বায়ন তার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কোনো প্রকার ব্যতিক্রম বা দ্বিধা ছাড়াই প্রলোভন ও আকর্ষণ থেকে শুরু করে হুমকি, রাজনৈতিক চাপ, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের সূচনা করার মতো সকল উপায় ব্যবহারের চেষ্টা করে, যাতে আজ সমগ্র বিশ্ব জড়িয়ে পড়েছে। কতিপয় পশ্চিমা গবেষক গণমাধ্যমকেন্দ্রিক বিশ্বায়ন এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানসমূহ কীভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর বিপণন করে সে সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রসমূহ থেকে একটি সাংস্কৃতিক প্রবাহের সূচনা হয় যা সমগ্র পৃথিবীকে গ্রাস করে নেয়; এটি চিত্র, শব্দ, নৈতিক মূল্যবোধ, আইনি নীতিমালা, রাজনৈতিক পরিভাষা, মানদণ্ড এবং দক্ষতার আকারে প্রবাহিত হয়। এ সবকিছুই রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বই, ভিডিও ডিস্ক এবং স্যাটেলাইট রিসিভারের ন্যায় গণমাধ্যমের সাহায্যে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মূলত সেই তথ্য বাজারের মাধ্যমে পরিচালিত হয় যা বিশ্বের চারটি প্রধান সংস্থা একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করে: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইউনাইটেড প্রেস (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), রয়টার্স (যুক্তরাজ্য) এবং এএফপি (ফ্রান্স)। এই তথ্য প্রবাহের ৬৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তথ্যের এই প্রবাহ ভোক্তাদের—অথবা অন্য কথায় 'নিষ্ক্রিয় বন্দীদের'—আকাঙ্ক্ষা ও প্রয়োজনীয়তাকে নতুন রূপ দান করে এবং তাদের আচরণ, মানসিকতা, শিক্ষাক্রম ও জীবনধারা গঠন করে থাকে; আর এর মাধ্যমেই..."

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২০)
تذوب الهويات الذاتية في هذا الخضم من الغزو، لأن مواد الغزو تصنع في معامل الغرب وفق معاييره ومواصفاته ". (1)

هذا النوع من العولمة، وهذا النمط من أنماط إستراتيجيتها نسميها المرحلة التمهيدية للغزو، القائمة على سياسة الاختراق التي تمررها وسائل الإعلام التي لم يعد أحد في مقدرته الوقوف في وجهها.

وثمة قناة أخرى لتمرير مشروعات العولمة هي المؤتمرات العالمية ففي سبتمبر 1994م عقد في القاهرة المؤتمر العالمي للسكان والتنمية، وفي سبتمبر 1995م عقد في بكين مؤتمر المرأة، وفي يونيو 1996م عقد في إستانبول مؤتمر الإيواء البشري، وهذه المؤتمرات كانت تعقد في الظاهر تحت إشراف الأمم المتحدة، ولكنها في الجوهر تحت إشراف المؤسسات التابعة للعولمة، ولنا أن نقول: إن الأمم المتحد قد صارت إحدى هذه المؤسسات. لقد عملت هذه المؤتمرات إلى إعادة تشكيل الخارطة الفكرية والثقافية للعالم حتى تتواءم مع متطلبات العولمة وثقافتها الجديدة.

--------------------------------------------

(1) عن مجلة البيان. موقعها في الانترنيت.
আগ্রাসনের এই প্রচণ্ড স্রোতে স্বকীয় পরিচয়গুলো বিলীন হয়ে যায়, কারণ আগ্রাসনের উপকরণসমূহ পশ্চিমা গবেষণাগারে তাদের মানদণ্ড ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তৈরি করা হয়।" (১)

বিশ্বায়নের এই ধরন এবং এর কৌশলের এই রূপটিকে আমরা আগ্রাসনের প্রাথমিক পর্যায় বলে অভিহিত করি, যা অনুপ্রবেশের নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং গণমাধ্যমের সাহায্যে পরিচালিত হয়, যার সামনে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা এখন আর কারো নেই।

বিশ্বায়নের প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের আরেকটি মাধ্যম হলো আন্তর্জাতিক সম্মেলনসমূহ। ১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোতে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, ১৯৯৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে বিশ্ব নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালের জুনে ইস্তাম্বুলে মানব বসতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনগুলো বাহ্যিকভাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো বিশ্বায়ন সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল। এমনকি আমাদের পক্ষে এটি বলা সম্ভব যে, জাতিসংঘ বর্তমানে এ ধরনের অন্যতম একটি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। এই সম্মেলনগুলো বিশ্বের চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠন করার লক্ষে কাজ করেছে যাতে তা বিশ্বায়নের চাহিদা ও এর নতুন সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-বায়ান সাময়িকী থেকে সংগৃহীত। এর ওয়েবসাইট।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২১)
هذا وللعولمة أشكال وطرق وأوجه وأقنعة متعددة تظهر في كل مرة بقناع مستفيدة من ثقافة التبشير النصراني والإستراتيجية الاستعمارية معا، أي من الخطاب المسالم والخطاب العنيف معا. وقد تلقت الثقافة العربية خطاب العولمة، كما تلقاه الآخرون، وانتشر في سنوات قليلة كما لم ينتشر أي مصطلح آخر قبله، وكانت ردود الفعل في الخطاب العربي متفاوتة، وإن كانت في أغلبها تجمع على عدم براءتها.

বস্তুত বিশ্বায়নের নানাবিধ রূপ, পদ্ধতি, দিক ও আবরণ রয়েছে, যা প্রতিবারই খ্রিস্টীয় মিশনারি সংস্কৃতি এবং ঔপনিবেশিক রণকৌশল—উভয়টির সমন্বয়ে নতুন নতুন অবয়বে আত্মপ্রকাশ করে; অর্থাৎ এটি শান্তিপূর্ণ ও সহিংস উভয় প্রকার ভাষ্যকেই যুগপৎ ব্যবহার করে। অন্যান্যদের ন্যায় আরব সংস্কৃতিও বিশ্বায়নের এই তত্ত্ব বা ভাষ্যকে গ্রহণ করেছে এবং মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এটি এমনভাবে বিস্তার লাভ করেছে, যা ইতিপূর্বে অন্য কোনো পরিভাষার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়নি। আরবীয় বুদ্ধিবৃত্তিক ভাষ্যে এর প্রতিক্রিয়া ছিল বিচিত্র ও ভিন্ন ভিন্ন, যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর নেপথ্য উদ্দেশ্য যে নিছক বা নির্দোষ নয়, সে ব্যাপারে ঐকমত্য পরিলক্ষিত হয়।

(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌العولمة في الخطاب العربي:

يكاد يجمع المفكرون العرب المعاصرون المتزنون بمذاهبهم المختلفة وتياراتهم المتعددة على صياغة خطاب سلبي ضد العولمة، حتى ولو ذهب بعضهم إلى ضرورة التفاعل معها تفاعلا إيجابيا، بمعنى الاستفادة من منجزاتها العلمية الهائلة، غير أن خطابهم يتضمن تحديد العولمة على أنها نوع من الاستعمار الجديد الذي يسعى إلى الهيمنة الشاملة على العالم كله وإخضاع البشرية كلها لنظام واحد في الفكر والسياسة والاقتصاد والفن وغيرها، يقول حسن حنفي: " العولمة هي أحد الأشكال المعروفة للهيمنة الغربية، ليس عن طريق الجيش والعسكر وليس فقط عن طريق الاقتصاد بل عن طريق السوق ". ويضيف: فالعولمة ليست فقط تغريب العالم، بمعنى أن ينتشر الغرب من المركز إلى المحيط إلى الأطراف، وليست فقط أمركة، لأن أمريكا هي التي تتصدر العالم الآن لكونها القطب الوحيد الموجود، ولكنها أخطر من ذلك فهي سيطرة اتجاه واحد، رأي واحد، فكر واحد، وكل دولة تتجرأ على أن تخرج من بيت الطاعة. . . . سيكون العدوان العسكري لها بالمرصاد ". (1)

--------------------------------------------

(1) حسن حنفي من حوار له نشر في موقع قنطرة الإليكتروني.
আরব আলোচনায় বিশ্বায়ন:

সমসাময়িক ভারসাম্যপূর্ণ আরব চিন্তাবিদগণ তাদের বিভিন্ন মতাদর্শ ও বিচিত্র ধারা সত্ত্বেও বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক আলোচনা গঠনের ব্যাপারে প্রায় একমত পোষণ করেন, যদিও তাদের কেউ কেউ এর সাথে ইতিবাচক মিথস্ক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন—যার অর্থ হলো এর বিশাল বৈজ্ঞানিক অর্জনসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া। তবে তাদের আলোচনায় বিশ্বায়নকে এক ধরণের নব্য উপনিবেশবাদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সমগ্র বিশ্বের ওপর সামগ্রিক আধিপত্য বিস্তার করতে এবং চিন্তা, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্পকলা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সমগ্র মানবজাতিকে একটি একক ব্যবস্থার অধীনস্ত করতে সচেষ্ট। হাসান হানাফী বলেন: "বিশ্বায়ন হলো পশ্চিমা আধিপত্যের পরিচিত রূপগুলোর মধ্যে একটি, যা কেবল সৈন্য ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে নয় এবং কেবল অর্থনীতির মাধ্যমেও নয়, বরং বাজারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।" তিনি আরও যোগ করেন: "বিশ্বায়ন কেবল বিশ্বকে পশ্চিমাভিমুখী করা নয়—অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে পরিধি পর্যন্ত পশ্চিমের বিস্তার ঘটানো—এবং এটি কেবল আমেরিকানিকরণও নয়, যদিও আমেরিকা বর্তমানে একমাত্র মেরু হওয়ার কারণে বিশ্বের নেতৃত্ব দিচ্ছে; বরং এটি তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। এটি মূলত একটি মাত্র দৃষ্টিভঙ্গি, একটি মত ও একটি চিন্তার নিয়ন্ত্রণ; আর যে রাষ্ট্রই আনুগত্যের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার সাহস করবে... সামরিক আগ্রাসন তার জন্য ওঁত পেতে থাকবে।" (১)

--------------------------------------------

(১) হাসান হানাফী, কান্তারা (Qantara) ইলেকট্রনিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তাঁর একটি সাক্ষাৎকার থেকে।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويقول هشام غصيب من وجهة نظر يسارية: " لكل عصر وثنه، ووثن عصرنا هو العولمة، والوثن ليس واقعا بقدر ما هو وهم إيديولوجي، وقفص فكري للجم الفعل والممارسة وتقييدهما.

ومن وجهة نظر علمانية يقول نصر حامد أبو زيد: لقد كشفت حرب الخليج الثانية أن القوتين السياسية والعسكرية هما الوسيلة التي ستحقق من خلالها هيمنة الحياة الأمريكية على العالم، إنها ليست قوة الحضارة باتصالها الحر المنظم مع الحضارات الأخرى وإنما هي القوة السياسية والعسكرية التي تفرض نوعا بعينه من أسلوب المعيشة والقيم الحضارية على الآخرين، ولا حاجة لتوضيح أن القوة السياسية والعسكرية قائمة على القوة الاقتصادية المتزايدة في إطار عملية العولمة ". (1)

ومن منظور إسلامي يقول محمد محفوظ: إن مشروع العولمة لا يمكن فصله بأي شكل من الأشكال عن المشروع الثقافي الغربي، إذ هو إحدى إستراتيجياته. . . . إن القيم التي تبثها وسائل ومؤسسات العولمة، والسلوكيات التي تعطى لها الأولوية، هي قيم وسلوكيات لا تنسجم والمعايير والقيم العليا التي تنادي بها الثقافة العربية والإسلامية ". (2)

--------------------------------------------

(1) من مقال لنصر حامد أبو زيد منشور في موقع قنطرة الإليكتروني.

(2) محمد محفوظ. الحضور والمثاقفة. المركز الثقافي العربي. بيروت الدار البيضاء. ط. 1. 2000. ص. 115.
বামপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হিশাম ঘাসিব বলেন: "প্রতিটি যুগেরই নিজস্ব প্রতিমা থাকে, আর আমাদের যুগের প্রতিমা হলো বিশ্বায়ন। প্রতিমা বাস্তবতার চেয়ে বরং একটি আদর্শিক বিভ্রম এবং কর্ম ও অনুশীলনকে অবদমন ও সীমাবদ্ধ করার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক খাঁচা।"

এবং ধর্মনিরাপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নাসর হামিদ আবু জায়েদ বলেন: "দ্বিতীয় উপসাগরীয় যুদ্ধ উন্মোচন করেছে যে, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তিই হলো সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে বিশ্বে মার্কিন জীবনযাত্রার আধিপত্য অর্জিত হবে। এটি অন্য সভ্যতার সাথে মুক্ত ও সুশৃঙ্খল যোগাযোগের মাধ্যমে গড়ে ওঠা কোনো সভ্যতার শক্তি নয়, বরং এটি এমন এক রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি যা অন্যদের ওপর নির্দিষ্ট এক ধরনের জীবনধারা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ চাপিয়ে দেয়। এটি ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই যে, রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার কাঠামোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তির ওপর দণ্ডায়মান।" (১)

আর ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মুহাম্মদ মাহফুজ বলেন: "বিশ্বায়ন প্রকল্পকে কোনোভাবেই পশ্চিমা সাংস্কৃতিক প্রকল্প থেকে বিচ্ছিন্ন করা সম্ভব নয়, কারণ এটি তার অন্যতম কৌশল... বিশ্বায়নের মাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব মূল্যবোধ প্রচার করে এবং যেসব আচরণকে অগ্রাধিকার দেয়, তা আরব ও ইসলামী সংস্কৃতির উচ্চতর মানদণ্ড ও মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।" (২)

--------------------------------------------

(১) কানতারা ইলেকট্রনিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নাসর হামিদ আবু জায়েদের একটি নিবন্ধ থেকে।

(২) মুহাম্মদ মাহফুজ। আল-হুদুর ওয়াল-মুসাকাফাহ। আল-মারকাজ আল-সাকাফি আল-আরাবি। বৈরুত-কাসাব্লাঙ্কা। ১ম সংস্করণ। ২০০০। পৃষ্ঠা ১১৫।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولعل أبرز المتحمسين للعولمة الكاتب اللبناني على حرب الذي يعد العولمة فتحا حضاريا، وينتقد بكثير من الحدة المتحفظين على خطابها. (1)

وسيكون من الصعب أن نستعرض بالتفصيل نصوصا لمفكرين آخرين، يكفي أن نقول: إن الخطاب العربي المعاصر الإسلامي والقومي واليساري، باستثناء بعض المفكرين العلمانيين، يقف ضد مشروع العولمة ويقدمها بوصفها مشروعا استعماريا هداما ينبغي الوعي بأهدافه في الهيمنة وإلغاء الهويات والخصوصيات الذاتية.

هذا الموقف العربي يؤكد أن العولمة تمارس عنفا واضحا ضد الثقافات، عنفا لا يدخل في الحوار الحضاري الذي كان شعار الخطاب العربي المعاصر، وما يزال خطابه.

--------------------------------------------

(1) علي حرب، حديث النهايات، المركز الثقافي العربي، بيروت، الدار البيضاء، وينظر خصوصا نقده لمحمد عابد الجابري.
সম্ভবত বিশ্বায়নের সবচেয়ে উৎসাহী প্রবক্তাদের একজন হলেন লেবানিজ লেখক আলী হারব, যিনি বিশ্বায়নকে একটি সাংস্কৃতিক বিজয় হিসেবে গণ্য করেন এবং যারা এর রূপরেখার প্রতি রক্ষণশীল মনোভাব পোষণ করেন তাদের তীব্র সমালোচনা করেন। (১)

অন্যান্য চিন্তাবিদদের লেখনী বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা কঠিন হবে, তবে এটুকু বলাই যথেষ্ট যে: সমসাময়িক আরব ইসলামি, জাতীয়তাবাদী এবং বামপন্থী ধারা—কয়েকজন ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাবিদ ব্যতীত—বিশ্বায়ন প্রকল্পের বিপক্ষে অবস্থান করে এবং একে একটি ধ্বংসাত্মক ঔপনিবেশিক প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে, যার আধিপত্য বিস্তার এবং আত্মপরিচয় ও নিজস্ব বৈশিষ্ট্যসমূহ বিলুপ্ত করার লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

আরবদের এই অবস্থান এটিই নিশ্চিত করে যে, বিশ্বায়ন সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি সুস্পষ্ট সহিংসতা প্রয়োগ করছে; এমন এক সহিংসতা যা কোনো সাংস্কৃতিক সংলাপের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথচ সাংস্কৃতিক সংলাপই ছিল সমসাময়িক আরবীয় চিন্তাধারার মূল স্লোগান এবং আজও তা বিদ্যমান রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আলী হারব, হাদিসুন নিহায়াত, আল-মারকায আল-সাকাফি আল-আরাবি, বৈরুত, কাসাব্লাঙ্কা; বিশেষভাবে মুহাম্মদ আবিদ আল-জাবিরির প্রতি তার সমালোচনা দ্রষ্টব্য।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌عنف العولمة:

لكون العولمة مشروعا مناقضا لمنطق التاريخ، فإن مؤسساتها تسعى إلى تحقيقه بالوسائل الضاغطة، بحيث تجبر المجتمعات والدول للدخول في مشروعها بالعنف والقوة، ومن تلك الوسائل:

1- احتكار التاريخ: وقد بدأت عملية احتكار تفسير التاريخ والحركة التاريخية من كتابات المركزية الغربية والتي صاغ صامويل هانتنجتون مؤخرا مقولتها الأساسية في نهاية التاريخ، ومضمونها المركزي القول بأن التاريخ قد انتهى عند الرأسمالية الغربية التي تمثل النظام المثالي الأصلح لكل البشرية في كل مكان. وبالتالي فإن الثقافات الأخرى هي ثقافات شاخت أو ما تزال قاصرة ولم تعد قادرة على مسايرة التغيرات العلمية والاقتصادية والسياسية المعاصرة، لذا ينبغي إلغاؤها أو إلحاقها بثقافة العولمة.
বিশ্বায়নের সহিংসতা:

যেহেতু বিশ্বায়ন ইতিহাসের যুক্তির পরিপন্থী একটি প্রকল্প, তাই এর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের প্রয়াস চালায়, যেন সমাজ ও রাষ্ট্রসমূহকে সহিংসতা ও শক্তির দ্বারা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে বাধ্য করা যায়। সেসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে:

1- ইতিহাসের একচেটিয়া অধিকার: ইতিহাস এবং ঐতিহাসিক গতিধারার ব্যাখ্যার ওপর একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল পশ্চিমা-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে, যার মূল কথাটি সম্প্রতি স্যামুয়েল হান্টিংটন ‘ইতিহাসের সমাপ্তি’ তত্ত্বে রূপায়ণ করেছেন। এর কেন্দ্রীয় বিষয়বস্তু হলো—ইতিহাস পশ্চিমা পুঁজিবাদের কাছে এসে সমাপ্ত হয়েছে, যা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম ও আদর্শ ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে। ফলস্বরূপ, অন্যান্য সংস্কৃতিগুলো হয় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে অথবা এখনো অপরিপক্ক রয়ে গেছে এবং সমকালীন বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মেলাতে সক্ষম নয়। তাই সেগুলোকে বিলুপ্ত করা অথবা বিশ্বায়ন সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৬)
2- تفكيك الدول" وتفتيت الأمم والتكتلات القومية في الأطراف على أسس إثنية وطائفية ضيقة، فهذه التكوينات القومية يعدها الرأسمال المعولم عائقا وحاجزا أمامه وأمام السوق العالمية التي يهيمن عليها، لذلك يسعى إلى تكسيرها وتفتيتها فإنه من الأسهل عليه دمج الكيانات الإثنية والطائفية الهشة في العالمية المعولمة من دمج الأمم والتكتلات القومية الكبرى فيها. لذا رأيناه يؤدي دورا أساسيا في تفتيت الاتحاد السوفييتي ويوغوسلافيا وتشيكوسلوفاكيا، ويسعى إلى تفكيك الهند والعراق والسودان ومصر والجزائر وغيرها من الدول العربية والإفريقية والآسيوية ". (1)

3- التدخل من تلقاء نفسها لتغيير النظم السياسية التعليمية والاقتصادية في الدول التي تبدي تحفظات على النظام العالمي الجديد الذي تقوده، والعمل على إقناع الرأي العام العالمي ومؤسساتها القانونية بمشروعية ما تقوم به. فمن خولها يا ترى مثل هذا التدخل وبأي حق تدعي مشروعيته، ليس من حق سوى حق القوة. وليس من الغريب أن يولد هذا العنف أشكالا من المقاومة التي تتباين من مجموعة إلى أخرى حسب الرؤية الفكرية لكل مجموعة.

--------------------------------------------

(1) هشام غصيب. العولمة والهوية القومية، مقال مقتبس من موقع قنطرة الإليكتروني.
2- রাষ্ট্রসমূহের ব্যবচ্ছেদ এবং প্রান্তিক অঞ্চলের জাতিসমূহ ও জাতীয় সংহতিগুলোকে সংকীর্ণ জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে খণ্ডবিখণ্ড করা; বিশ্বায়িত পুঁজিবাদ এই জাতীয় গঠনগুলোকে নিজের জন্য এবং তার আধিপত্যধীন বিশ্ববাজারের পথে বাধা ও অন্তরায় হিসেবে গণ্য করে। তাই এটি সেগুলোকে ভেঙে ফেলতে ও ছিন্নভিন্ন করতে সচেষ্ট হয়। কেননা, বৃহৎ জাতি ও জাতীয় ব্লকগুলোকে বিশ্বায়িত বৈশ্বিকতায় অন্তর্ভুক্ত করার চেয়ে ভঙ্গুর জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক সত্তাগুলোকে তাতে একীভূত করা তার জন্য অনেক সহজ। একারণেই আমরা একে সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুগোস্লাভিয়া এবং চেকোস্লোভাকিয়াকে খণ্ডবিখণ্ড করার ক্ষেত্রে মৌলিক ভূমিকা পালন করতে দেখেছি এবং এটি ভারত, ইরাক, সুদান, মিসর, আলজেরিয়া এবং অন্যান্য আরব, আফ্রিকান ও এশীয় রাষ্ট্রগুলোকে ব্যবচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে।" (১)

3- যেসব দেশ তার নেতৃত্বাধীন নতুন বিশ্বব্যবস্থার প্রতি অনীহা প্রকাশ করে, সেসব দেশের রাজনৈতিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হস্তক্ষেপ করা এবং বিশ্বজনমত ও এর আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজের কর্মকাণ্ডের বৈধতা সম্পর্কে প্ররোচিত করার চেষ্টা করা। তাকে কে এই ধরনের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দিল এবং কোন অধিকারে সে এর বৈধতা দাবি করে? শক্তির অধিকার ছাড়া তার আর কোনো অধিকার নেই। আর এই সহিংসতা যে বিভিন্ন ধরনের প্রতিরোধের জন্ম দেবে তা মোটেও বিস্ময়কর নয়, যা প্রতিটি গোষ্ঠীর বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়।

--------------------------------------------

(১) হিশাম ঘাসিব। বিশ্বায়ন ও জাতীয় পরিচয়, কান্তারা ইলেকট্রনিক ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত একটি নিবন্ধ।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ردود الفعل ضد العولمة:

كان من الطبيعي أن هذا العنف الذي تمارسه العولمة ضد الثقافات والمجتمعات واللغات والديانات أن يولد حركة مواجهة قد تكون عنيفة أحيانا وسياسية أحيانا أخرى، كان لا بد:

أن تظهر حركات تعمل على إحياء الهوية لأنها جوهر الكينونة البشرية، وقد اتخذت هذه الحركات مناهج متعددة في العالم الإسلامي ويأتي في مقدمتها تطور الصحوة الإسلامية وتشكلها في أحزاب سياسية أو جمعيات ثقافية واجتماعية وخيرية أو دعوية، وما تبع ذلك من نشر الكتاب الإسلامي والشريط الإسلامي والمواقع الإليكترونية الإسلامية والفضائيات الإسلامية وغيرها من وسائل توصيل خطاب الهوية.

وقد اتخذ إحياء الهوية عند آخرين طريق المقاومة المسلحة، ومن ثم فقد تم شن الغارات المسلحة على مؤسسات العولمة في كثير من البلدان وعلى رأسها الولايات المتحدة ذاتها وفي داخلها. وليس مهما الآن أن نحكم على طبيعة هذا العمل العسكري، مع أن معظمنا يدينه، لكن المهم أن نعرف أنه من باب رد الفعل الطبيعي لهيمنة العولمة، فالعولمة نفسها على يقين من أنه سيكون لها أعداء، وهي مستعدة لقبول ما سيقوم به هؤلاء الأعداء.
বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া:

সংস্কৃতি, সমাজ, ভাষা এবং ধর্মের বিরুদ্ধে বিশ্বায়ন যে সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে, তার ফলে একটি প্রতিরোধমূলক আন্দোলন গড়ে ওঠা ছিল স্বাভাবিক, যা কখনো সহিংস আবার কখনো রাজনৈতিক রূপ নিতে পারে। এটা অবধারিত ছিল যে:

এমন সব আন্দোলনের উদ্ভব হবে যা আত্মপরিচয় পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে কাজ করবে, কারণ এটিই মানব অস্তিত্বের মূল নির্যাস। মুসলিম বিশ্বে এই আন্দোলনগুলো বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেছে। এর মধ্যে অগ্রগণ্য হলো ইসলামী জাগরণের বিকাশ এবং রাজনৈতিক দল কিংবা সাংস্কৃতিক, সামাজিক, দাতব্য ও দাওয়াতী সংগঠনে তার রূপান্তর। এর ধারাবাহিকতায় ইসলামী বইপুস্তক, অডিও ক্যাসেট, ওয়েবসাইট, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং আত্মপরিচয়ের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যান্য মাধ্যমগুলোর প্রচার ও প্রসার ঘটেছে।

অন্যদের ক্ষেত্রে আত্মপরিচয় পুনরুজ্জীবনের পথটি ছিল সশস্ত্র প্রতিরোধ। এর ফলে অনেক দেশে বিশ্বায়নের প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যার শীর্ষে ছিল স্বয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার অভ্যন্তরে। এই সামরিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃতি বিচার করা এখন মুখ্য নয়, যদিও আমাদের অধিকাংশরাই এর নিন্দা জানায়; বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি জানা যে, এটি বিশ্বায়নের আধিপত্যের বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। বিশ্বায়ন নিজেই এ বিষয়ে নিশ্চিত যে তার শত্রু তৈরি হবে এবং এই শত্রুরা যা করবে তা মোকাবিলা করতে সে প্রস্তুত।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৮)
عودة الفكر اليساري: من جانب آخر تبين لكثير ممن كانوا ضمن المنظومة اليسارية أن العولمة نوع من النظام المتوحش، الذي يسعى إلى الإتيان على الأخضر واليابس، وحين قارنوا بين الفكرين الرأسمالي المتوحش واليساري فضلوا العودة إلى اليسارية التي لم تصل أبدا إلى هذا التكبر والغرور والاستعلاء من خلال الحروب المتواصلة التي أصبحت تشنها الولايات المتحدة على دول العالم.
বামপন্থী চিন্তাধারার প্রত্যাবর্তন: অন্যদিকে, বামপন্থী আদর্শের বলয়ের অন্তর্ভুক্ত অনেকের নিকট এটি প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিশ্বায়ন হলো এক প্রকার নিষ্ঠুর ব্যবস্থা, যা সবকিছু ধ্বংস করে দিতে সচেষ্ট। যখন তারা নিষ্ঠুর পুঁজিবাদী চিন্তা ও বামপন্থী চিন্তার মধ্যে তুলনা করলেন, তখন তারা পুনরায় বামপন্থার দিকে ফিরে আসাকেই শ্রেয় মনে করলেন; যা কখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বর্তমান নিরন্তর যুদ্ধের ন্যায় এতটা অহংকার, দম্ভ ও শ্রেষ্ঠত্বের পর্যায়ে উপনীত হয়নি।
(খণ্ড: ১) সাকাফাতুল আওলামাতি বি-ওয়াশফিহা খিতাবান মুতাতারিফান (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌تأثيرات العولمة في المنطقة العربية:

ومن المؤسف أن تكون مجتمعاتنا العربية من أوائل المجتمعات التي تنعكس عليها آثار العولمة، بحكم العلاقات الاقتصادية والسياسية والثقافية بينها وبين أوروبا والولايات المتحدة، وبحكم القرب الجغرافي، وربما العلاقات التاريخية أيضا، لقد بدأت ضغوط العولمة تؤثر في اقتصاديات المنطقة وثقافتها وسياستها، وأصبحت ملفات المشكلات المحلية والإقليمية في يد الولايات المتحدة، وأصبحت الحلول تصنع في مؤسسات العولمة عن طريق أجهزتها النافذة مثل صندوق النقد الدولي والبنك الدولي ومنظمة التجارة الدولية: (الجات) وغيرها. وأصبحت المبادرات الأمريكية لإيجاد حلول لمشكلاتنا القومية أو الوطنية تتداول في الصحافة العربية أكثر مما تتداول الحلول المحلية.
আরব অঞ্চলে বিশ্বায়নের প্রভাবসমূহ:

এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের আরব সমাজগুলোই সেই প্রথম দিককার সমাজগুলোর অন্তর্ভুক্ত যাদের ওপর বিশ্বায়নের প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে; আর এটি সম্ভব হয়েছে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিদ্যমান অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং সম্ভবত ঐতিহাসিক সম্পর্কের কারণেও। বিশ্বায়নের চাপ এখন এ অঞ্চলের অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ওপর প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিক সমস্যাবলির নথিপত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে চলে গিয়েছে। বর্তমানে সমাধানসমূহ তৈরি হচ্ছে বিশ্বায়নের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রভাবশালী অঙ্গসংস্থাগুলোর মাধ্যমে, যেমন: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা (গ্যাট) ইত্যাদি। আমাদের জাতীয় বা অভ্যন্তরীণ সমস্যাবলির সমাধানের জন্য গৃহীত মার্কিন উদ্যোগগুলো এখন আরব সংবাদমাধ্যমে স্থানীয় সমাধানগুলোর চেয়েও বেশি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হচ্ছে।