(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
الزواج في ظل الإسلام   (عبد الرحمن بن عبد الخالق)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الزواج في ظل الإسلام

المؤلف: عبد الرحمن بن عبد الخالق اليوسف

الناشر: الدار السلفية، الكويت

الطبعة: الثالثة، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 176

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামের ছায়াতলে বিবাহ   (আবদুর রহমান বিন আব্দুল খালিক)

বিভাগ: ফিকহি মাসয়ালাসমূহ


গ্রন্থ: ইসলামের ছায়াতলে বিবাহ

লেখক: আবদুর রহমান বিন আব্দুল খালিক আল-ইউসুফ

প্রকাশক: আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ، কুয়েত

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪০৮ হিজরি - ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

الزواج في ظل الإسلام

 

‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله. {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} ، {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة، وخلق منها زوجها، وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء، واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا} ، {يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزا عظيما} .

وبعد فقد اطلعت على كثير من مشاكل البيوت والأسر، وأحمد الله سبحانه إذ حقق على يدي حلولاً لكثير
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

ইসলামের ছায়াতলে বিবাহ

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} , {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অন্যের নিকট সওয়াল করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন (বিচ্ছিন্ন করা) থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক} , {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল}।

অতঃপর, আমি ঘর-বাড়ি ও পরিবারের অনেক সমস্যা পর্যবেক্ষণ করেছি। আমি মহান আল্লাহর প্রশংসা করছি যে, তিনি আমার মাধ্যমে অনেক সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
من المشاكل التي اعترضت بعض إخواني وأصدقائي وزملائي.

وقد رأيت أن كثيراً من هذه المشاكل هي بسبب الجهل بالقواعد والأحكام الشرعية لعقد الزواج وأنه بمجرد العلم بهذه القواعد والأحكام وتطبيقها يستقيم نظام الأسرة ويتماسك بناؤها. وكذلك وجدت أن من أسباب الخلاف والتفكك الأسري تنقسم إلى ثلاث القسمان الأول والثاني هما الجهل بالتكوين النفسي وبالخصائص الذاتية لكل من الذكر والأنثى وأن الرجل عندما يتزوج المرأة دون العلم بهذه الخصائص الذاتية وبهذه المكونات النفسية فإنما يتعامل مع المجهول، وكذلك الحال بالنسبة لإقدام المرأة على الزواج بالرجل وهي لا تعرف خصائصه الذاتية ومكوناته النفسية، ويعود القسم الثالث من أنواع المشاكل بين الزوجين إلى الجهل بالأخلاق الواجبة التي يجب أن تسود علاقات الزوجية، ومن أعجب ما رأيت في هذا الصدد أن يكون الرجل لطيفاً كريماً مع الناس جميعهم إلا مع زوجته. وأن تكون الزوجة متزنة عاقلة في تصرفاتها مع جميع من تعاشر إلا مع الزوج.

 

هذه هي أصول المشاكل في الأسر وقد رأيت من
এটি সেই সকল সমস্যার অন্তর্ভুক্ত যা আমার কিছু ভাই, বন্ধু এবং সহকর্মীরা মোকাবিলা করেছেন।

আমি উপলব্ধি করেছি যে, এই সমস্যাগুলোর অধিকাংশই বিবাহ বন্ধনের শরয়ী নীতিমালা (القواعد) এবং বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে উদ্ভূত হয়েছে; আর এই নীতিমালা ও বিধানসমূহ সম্পর্কে কেবল জ্ঞান লাভ এবং সেগুলো যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই পারিবারিক ব্যবস্থা সঠিক পথে পরিচালিত হয় এবং এর কাঠামো সুদৃঢ় হয়। একইভাবে আমি দেখেছি যে, পারিবারিক মতপার্থক্য এবং ভাঙনের কারণসমূহ তিনটি ভাগে বিভক্ত। প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগটি হলো নারী ও পুরুষের প্রত্যেকের মনস্তাত্ত্বিক গঠন এবং সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ সম্পর্কে অজ্ঞতা। একজন পুরুষ যখন নারীর এই সহজাত বৈশিষ্ট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলো না জেনে তাকে বিবাহ করে, তখন সে মূলত এক অজানা সত্তার সাথে কারবার করে। একইভাবে, একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিষয়টি সত্য যখন সে পুরুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য এবং মনস্তাত্ত্বিক গঠন সম্পর্কে না জেনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সমস্যাগুলোর তৃতীয় প্রকারটি হলো সেই আবশ্যিক (الواجبة) নৈতিকতা সম্পর্কে অজ্ঞতা যা দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদ্যমান থাকা বাঞ্ছনীয়। এই বিষয়ে আমি যা সবচেয়ে বিস্ময়কর লক্ষ্য করেছি তা হলো, একজন পুরুষ সকল মানুষের সাথে অত্যন্ত ভদ্র ও দয়ালু আচরণ করে, কেবল তার স্ত্রীর সাথে ব্যতীত। আবার একজন স্ত্রী তার পরিচিত সকলের সাথে আচার-আচরণে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও বুদ্ধিমতী হয়, কিন্তু তার স্বামীর সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নয়।

 

এগুলোই হলো পারিবারিক সমস্যাসমূহের মূল ভিত্তি (أصول) এবং আমি দেখেছি...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
واجبي أن أقدم لإخواني هذه الرسالة أرجو أن يجد المتزوجون فيها ضالتهم المنشودة التي تفتح لهم آفاقاً جديدة من السعادة والسلام والاستقرار، وأن يجد الذين لم يتزوجوا بعد دراسة كاملة في هذا الصدد يستطيعون بها أن يؤسسوا بيوتاً ملؤها السعادة والحب.

وكنت قد نشرت هذا الكتاب في جريدة الوطن الكويتية وقد وفق الله نشره الآن في كتاب لتتم به الفا ئدة ولله الحمد أولاً وأخيراً.

ولقد حاولت -بحمد الله- ما أمكنني أن أيسر موضوع عقد الزواج لكل قارئ حتى تفهم شروط هذا العقد ومواقعه وآثاره، وذلك أني أكتب هذا الكتاب للعامة وليس للعلماء والمتخصصين. إني أكتب هذه الرسالة لإخواني وأخواتي رغبة في تمكينهم من أن يؤسسوا بيوتاً صالحة وأن يحافظوا على هذا العهد المقدس والميثاق الغليظ كما وصفه الله في كتابه: {وأخذنا منكم ميثاقاً غليظاً} !!. وكذلك ليحافظ المسلمون على بقاء هذا العقد لأنه آخر ما بقي بأيدينا اليوم من قوانين الإسلام وتشريعاته، وضياع هذا العقد من مجتمع المسلمين يعني ضياع آخر أحكام الشريعة الإسلامية من مجتمعنا المعاصر.
আমার কর্তব্য হলো আমার ভাইদের নিকট এই রিসালাহটি পেশ করা। আমি আশা করি বিবাহিত দম্পতিরা এতে তাদের কাঙ্ক্ষিত সেই দিশা খুঁজে পাবেন যা তাদের জন্য সুখ, শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। আর যারা এখনও বিবাহ করেননি, তারা এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা খুঁজে পাবেন যার মাধ্যমে তারা সুখ ও ভালোবাসা পূর্ণ পরিবার গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

আমি ইতিপূর্বে এই বইটি কুয়েতের ‘আল-ওয়াতান’ পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলাম এবং এখন আল্লাহ এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশের তাওফিক দান করেছেন যাতে এর মাধ্যমে উপকারিতা সম্পন্ন হয়; আর আদিতে ও অন্তে সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহরই প্রাপ্য।

আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি প্রত্যেক পাঠকের জন্য বিবাহ চুক্তির বিষয়টি সহজতর করতে, যাতে এই চুক্তির শর্তাবলি, এর প্রেক্ষাপট ও প্রভাবগুলো অনুধাবন করা যায়। এর কারণ হলো, আমি এই বইটি সাধারণ জনসাধারণের জন্য লিখছি, আলেম বা বিশেষজ্ঞদের জন্য নয়। আমি আমার ভাই ও বোনদের জন্য এই রিসালাহটি লিখছি এই কামনায়, যেন তারা পুণ্যময় পরিবার গঠন করতে পারেন এবং এই পবিত্র অঙ্গীকার ও ‘সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি’ রক্ষা করতে পারেন, যেমনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন: {এবং তারা তোমাদের নিকট থেকে সুদৃঢ় অঙ্গীকার গ্রহণ করেছে}!! একইভাবে, মুসলিমরা যেন এই চুক্তির অস্তিত্ব রক্ষা করে, কারণ এটিই ইসলামের বিধিবিধান ও আইনগুলোর মধ্যে বর্তমানে আমাদের হাতে অবশিষ্ট সর্বশেষ নিদর্শন। মুসলিম সমাজ থেকে এই চুক্তির বিলুপ্তি ঘটার অর্থ হলো আমাদের সমকালীন সমাজ থেকে ইসলামী শরীয়াহর সর্বশেষ বিধানগুলোর বিলুপ্তি ঘটা।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ولا شك أن معرفة العامة بهذا العقد، وصيانة أحكامه والعمل بهدي الله الذي جاء فيه صيانة عظيمة لمجتمعنا من الفساد والانحلال الذي اجتاح دول العالم شرقاً وغرباً بعد أن فرطوا في عقد الزواج فانهدم النظام الأسري وانهدمت تبعاً لذلك كافة الأخلاق والقيم.

والله أسأل أن ينفع بهذا الكتاب المبارك كل ناظر فيه ودارس له وأن يجعل ثوابنا عنده الجنة. {ربنا هب لنا من أزواجنا وذرياتنا قرة أعين واجعلنا للمتقين إماماً} ، والحمد لله أولاً وأخيراً.

عبد الرحمن عبد الخالق

الكويت في 17 محرم 1399هـ.
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই চুক্তি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সম্যক জ্ঞান লাভ করা, এর বিধানাবলি (أحكام) সংরক্ষণ করা এবং এতে বর্ণিত আল্লাহর হিদায়াত অনুযায়ী আমল করা আমাদের সমাজকে সেই ফাসাদ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করার এক মহান সুরক্ষা কবচ, যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের দেশগুলোকে গ্রাস করেছে; কারণ তারা বিবাহের চুক্তির ব্যাপারে চরম অবহেলা প্রদর্শন করেছে, যার ফলে তাদের পারিবারিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সকল নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবলুপ্তি ঘটেছে।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এই বরকতময় কিতাবের মাধ্যমে এর প্রত্যেক পাঠক ও শিক্ষার্থীকে উপকৃত করেন এবং তাঁর নিকট আমাদের সওয়াব হিসেবে জান্নাত দান করেন। "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ থেকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর দান করুন এবং আমাদের মুত্তাকীদের জন্য ইমাম (إمام) হিসেবে কবুল করুন।" আর সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য আদিতে ও অন্তে।

আব্দুর রহমান আব্দুল খালিক

কুয়েত, ১৭ই মুহাররাম, ১৩৯৯ হিজরি।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الزواج نعمة

امتن الله سبحانه وتعالى علينا في كتابه أن خلقنا معشر الرجال والنساء من نفس واحدة. وهذه النفس الواحدة هي آدم. والمنة في هذا أن نوع الرجال ليسوا خلقاً مستقلاً وكذلك نوع النساء ليس أصل خلقهم مستقلاً فلو كان النساء خلقن في الأصل بمعزل عن الرجال كأن يكون الله قد خلقهم من عنصر آخر غير الطين مثلاً أو من الطين استقلالاً لكان هناك من التنافر والتباعد ما الله أعلم به ولكن كون حواء قد خلقت كما جاء في الحديث الصحيح من ضلع من أضلاع آدم عليه السلام كان هذا يعني أن المرأة في الأصل قطعة من الرجل، ولذلك حن الرجل إلى المرأة وحنت المرأة إلى الرجل وتجانسا: حنين الشيء إلى مادته وتجانس المادة بجنسها.

ثم كان من رحمة الله سبحانه وتعالى أن جعل التكاثر من التقاء الرجال والنساء لقاء يكون فيه الإفضاء
বিবাহ একটি নিয়ামত

মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাবে আমাদের ওপর এই অনুগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, তিনি আমাদের অর্থাৎ পুরুষ ও নারী জাতিকে একই সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর এই একক সত্তাটি হলেন আদম (আ.)। এর মধ্যে নিহিত অনুগ্রহটি হলো এই যে, পুরুষজাতি কোনো স্বতন্ত্র সৃষ্টি নয় এবং একইভাবে নারীজাতির সৃষ্টির উৎসও স্বতন্ত্র নয়। যদি নারীরা আদিতে পুরুষদের থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নভাবে সৃষ্টি হতো—যেমন আল্লাহ যদি তাদের মাটি ছাড়া অন্য কোনো উপাদান থেকে অথবা মাটি থেকেই স্বতন্ত্রভাবে সৃষ্টি করতেন—তবে তাদের মধ্যে এমন বিকর্ষণ ও দূরত্ব বিদ্যমান থাকত যা কেবল আল্লাহই ভালো জানেন। কিন্তু হাওয়া (আ.)-কে আদমের পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেমনটি বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে; এর অর্থ হলো নারী আদতে পুরুষেরই একটি অংশ। আর এ কারণেই পুরুষের মনে নারীর প্রতি এবং নারীর মনে পুরুষের প্রতি টান সৃষ্টি হয় এবং তারা একে অপরের পরিপূরক হয়: এটি মূলত কোনো বস্তুর তার মূল উপাদানের প্রতি আকর্ষণ এবং স্বজাতীয় উপাদানের সাথে একীভূত হওয়া।

অতঃপর এটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার বিশেষ রহমত যে, তিনি বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে নারী ও পুরুষের মিলনের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন—এমন এক মিলন যাতে একে অপরের প্রতি নিবিড় সান্নিধ্য লাভ করে।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
الكامل، والالتصاق الكامل واللذة الكاملة وذلك ليحقق قول النبي صلى الله عليه وسلم: [النساء شقائق الرجال] ، فالرجل والمرأة وجهان لعملة واحدة. أو شقان لشيء واحد.

وهذا الخلق على هذا النحو من أعظم آيات الله سبحانه وتعالى، كما قال جل وعلا: {وهو الذي خلقكم من نفس واحدة فمستقر ومستودع قد فصلنا الآيات لقوم يفقهون} .

ولذلك أمرنا الله سبحانه وتعالى بمراعاة هذه الوحدة في الأصل عند تعامل الرجال والنساء فقال: {يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساء واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيباً} .

بل أمرنا بما هو أكبر من ذلك أن نتذكر نعمته في خلقنا على هذا النحو، وبأن خلق فينا هذا الميل من بعضنا لبعض وغرس في القلوب الحب والرحمة بين الزوجين كما قال سبحانه وتعالى: {ومن آياته أن خلق لكم من أنفسكم أزواجاً لتسكنوا إليها، وجعل بينكم مودة ورحمة إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون} .
পূর্ণতা, পূর্ণ সংলগ্নতা এবং পূর্ণ তৃপ্তি—আর তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীকে সার্থক করার জন্য: [নারীরা পুরুষদের সহোদরা], কেননা নারী ও পুরুষ একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অথবা একই সত্তার দুই অর্ধাংশ।

আর এই পন্থায় সৃষ্টি হওয়া মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সুমহান নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি তিনি মহিমান্বিত সত্তা বলেছেন: {তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর (তোমাদের জন্য) একটি নির্দিষ্ট অবস্থানস্থল ও একটি আমানত রাখার স্থান রয়েছে। নিশ্চয়ই আমি অনুধাবনকারী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।}

এ কারণেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা নারী ও পুরুষের পারস্পরিক আচরণের ক্ষেত্রে মূলগত এই ঐক্যের প্রতি লক্ষ্য রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী বিস্তার করেছেন। তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার যাচনা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর সদা পর্যবেক্ষণকারী।}

বরং তিনি আমাদের এর চেয়েও বড় বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন—তা হলো আমাদের এভাবে সৃষ্টি করার পেছনে তাঁর নিয়ামতের কথা স্মরণ করা; আর তা হলো তিনি আমাদের মাঝে একে অপরের প্রতি এই আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন এবং স্বামী-স্ত্রীর হৃদয়ে ভালোবাসা ও মমতা সঞ্চার করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মাঝে ভালোবাসা ও মমতা সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।}
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وهكذا يصبح أمام المسلم أمور يجب أن يضعها نصب عينيه وهو يبحث في العلاقة بين الرجل والمرأة:

‌‌أولاً: أن الرجال والنساء جنس واحد وليسوا جنسين، فأصلهم واحد وهو آدم وزوجته قطعة منه، والرجال والنساء في الأرض بعضهم من بعض لا توجد نسمة إلا وفيها جزء من الرجل وجزء من المرأة وقد تحملت المرأة في الخلق والتكاثر ما لم يتحمل الرجل حيث كان رحمها مستقراً ومستودعاً للنطفة، ومكاناً لاكتمال الخلق من البويضة النطفة إلى الطفل. وقد تحمل الرجل في مقابل ما تحملت المرأة الكدح في سبيل العيش والرعاية وبهذا توزعت الاختصاصات وتحمل كل شق من هذا الجنس الواحد جانباً من جوانب استمرار الحياة وبقاء الحضارة: تحملت المرأة وهيأها الله أن تكون مستقراً ومستودعاً للنسل حتى يخرج إلى الحياة، وأن يكون الرجل مكافحاً وعاملاً وكادحاً في سبيل الحصول على الرزق وبهذا تكتمل الصورة الواحدة.

 

‌‌ثانياً: أن خلق الرجال والنساء على هذا النحو من أكبر آيات الله سبحانه وتعالى، ومن أعظم الأدلة على قدرته. وقد أرشدنا الله سبحانه وتعالى في آيات كثيرة إلى التفكير في هذا الخلق كما قال تعالى: {فلينظر الإنسان
এভাবে একজন মুসলিমের সামনে এমন কিছু বিষয় আসে যা নারী ও পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়ে অনুসন্ধান করার সময় তাকে অবশ্যই দৃষ্টিগোচর রাখতে হবে:

‌‌প্রথমত: পুরুষ ও নারী একই প্রজাতিভুক্ত এবং তারা ভিন্ন দুটি প্রজাতি নয়; কারণ তাদের মূল এক, আর তা হলো আদম এবং তাঁর স্ত্রী তাঁরই একটি অংশ। পৃথিবীতে নারী ও পুরুষ একে অপরের থেকে উদ্ভূত; এমন কোনো সত্তা নেই যার মধ্যে পুরুষের অংশ এবং নারীর অংশ বিদ্যমান নেই। সৃষ্টি ও বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে নারী এমন প্রতিকূলতা সহ্য করেছে যা পুরুষ করেনি, কেননা তার জরায়ু ছিল শুক্রাণুর অবস্থানস্থল ও আধার এবং ডিম্বাণু ও শুক্রাণু থেকে শিশু হিসেবে সৃষ্টির পূর্ণতা পাওয়ার স্থান। অন্যদিকে নারী যা সহ্য করেছে তার বিপরীতে পুরুষ জীবনধারণ ও অভিভাবকত্বের জন্য কঠোর পরিশ্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে কর্মবণ্টন সাধিত হয়েছে এবং একই প্রজাতির এই দুই অর্ধাংশ জীবন ও সভ্যতার স্থায়িত্বের একেকটি দিক গ্রহণ করেছে: আল্লাহ নারীকে বংশধারা পৃথিবীতে আসার আগ পর্যন্ত তাদের আশ্রয়স্থল ও আধার হিসেবে তৈরি ও প্রস্তুত করেছেন এবং পুরুষকে রিজিক অন্বেষণের পথে সংগ্রামী, শ্রমজীবী ও কঠোর পরিশ্রমী করেছেন, যার ফলে একটি সামগ্রিক চিত্র পূর্ণতা পায়।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: নারী ও পুরুষের এই বিশেষ সৃষ্টিপ্রক্রিয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অন্যতম বৃহৎ নিদর্শন এবং তাঁর কুদরতের মহান প্রমাণসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের অনেক আয়াতে এই সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতএব মানুষের দেখা উচিত
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
مم خلق، خلق من ماء دافق يخرج من بين الصلب والترائب} ، والصلب في لغة العرب هو فقار الظهر (عند الرجل) ، والترائب هي عظام الصدر، قال الفراء في هذه الآية (يعني صلب الرجل وترائب المرأة) والمعنى عند ذلك أنه من مجموع جسدي الرجل والمرأة بل ومن مخ عظامهما أوجدك الله أيها الإنسان. وذلك لتتم اللحمة والتعاطف والحب بين الأزواج والزوجات والآباء والأمهات والأبناء بعضهم مع بعض فمن فرق بين الذكر والأنثى لصفات الذكورة والأنوثة التي جعلها الله سبحانه وتعالى لازماً لاستمرار النوع والنسل فقد فرق بين الشيء نفسه وجنسه، ومن افتعل معركة بين ذكور الجنس البشري وإناثه فإنما هو مبطل يريد هدم الكيان البشري والوصول إلى الإباحية والشيوعية الجنسية، ومن قال بما قال به الرب سبحانه من توزيع الحقوق والوجبات على الجنسين اعتباراً بالذكورة والأنوثة فقد وافق الفطرة التي فطر الله الناس عليها وأراد أن يعم السلام والخير بين الرجال والنساء.

انظر إلى قوله تعالى: {والله جعل لكم من أنفسكم أزواجاً، وجعل لكم من أزواجكم بنين وحفدة، ورزقكم من الطيبات، أفبالباطل يؤمنون وبنعمة الله هم يكفرون} .
{কী থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে? তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে, যা নির্গত হয় মেরুদণ্ড ও বক্ষপিঞ্জরের মধ্য থেকে।} আর আরবি ভাষায় ‘সুলব’ বলতে (পুরুষের) পিঠের মেরুদণ্ডকে বোঝানো হয় এবং ‘তরাইব’ হলো বক্ষদেশের হাড়। ইমাম আল-ফাররা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, (অর্থাৎ পুরুষের মেরুদণ্ড এবং নারীর বক্ষপিঞ্জর)। এর তাৎপর্য হলো— হে মানুষ! নারী ও পুরুষের দেহের সমন্বয়, বরং তাদের হাড়ের মজ্জা থেকে আল্লাহ তোমাদের অস্তিত্ব দান করেছেন। আর এটি করা হয়েছে যাতে স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা এবং সন্তানদের পরস্পরের মাঝে হৃদ্যতা, সহানুভূতি ও ভালোবাসা পূর্ণতা পায়। সুতরাং, মানবজাতি ও বংশধারা টিকিয়ে রাখার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা নারী ও পুরুষের মাঝে যে লিঙ্গগত বৈশিষ্ট্যসমূহকে অপরিহার্য করেছেন, তার ভিত্তিতে যারা নারী ও পুরুষের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে, তারা মূলত কোনো বস্তু ও তার মূল প্রকৃতির মাঝেই বিভেদ সৃষ্টি করে। আর যারা মানবজাতির নারী ও পুরুষের মাঝে কৃত্রিম দ্বন্দ্বের অবতারণা করে, তারা মূলত ভ্রান্ত; তারা মানবসত্তার কাঠামো ধ্বংস করতে এবং অবাধ যৌনাচার ও যৌন সাম্যবাদের দিকে পৌঁছাতে চায়। আর যারা মহান রবের নির্দেশ অনুযায়ী নারী ও পুরুষের লিঙ্গভেদে অধিকার ও কর্তব্যের বণ্টনের কথা বলে, তারা মূলত সেই স্বভাবজাত প্রকৃতির অনুসারী যার ওপর আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তারা নারী ও পুরুষের মাঝে শান্তি ও কল্যাণ ছড়িয়ে দিতে চায়।

মহান আল্লাহর বাণীর দিকে লক্ষ্য করুন: {আর আল্লাহ তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের জন্য জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জোড়া থেকে তোমাদের জন্য পুত্র ও পৌত্রাদি দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছেন। তবে কি তারা মিথ্যায় বিশ্বাস করবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অস্বীকার করবে?}
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
فالزوجة من النفس لأنها بضعة من الرجل، والأولاد وأولاد الأولاد من اجتماع الذكور والإناث، والراحة النفسية ومتاع الدنيا هو في الحب الحقيقي بين الزوج وزوجته وبين الأب والأم وأولادهما، وبين الأبناء وآبائهم وجدودهم، فكم يسعد الجد بأحفاده سعادة لا تعدلها سعادة الطعام الجيد والشراب اللذيذ، وصلة القرابة هذه وصلات النسب والتمتع بذلك لا يكون إلا في ظل النكاح الشرعي، وأما في أنكحة السفاح فإن أول حرمان لأصحابها هو حرمانهم من هذا الحب الشريف النقي بين الأرحام إذ مع السفاح واختلاط الأنساب لا أرحام وإنما يبغي لذة واحدة هي لذة الحيوان فهل يراد للبشر الذين كرمهم الله أن يكونوا كذلك؟..

স্ত্রী হলো আত্মারই অংশ, কেননা সে পুরুষেরই শরীরের একটি টুকরো; আর সন্তান ও পৌত্র-পৌত্রীরা হলো নর-নারীর মিলনের ফসল। মানসিক প্রশান্তি ও পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য নিহিত থাকে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার অকৃত্রিম ভালোবাসায় এবং পিতা, মাতা ও তাদের সন্তানদের মধ্যকার, আর সন্তান ও তাদের পিতা-মাতা ও পিতামহদের মধ্যকার স্নেহ-মমতার বন্ধনে। একজন পিতামহ তার নাতি-নাতনিদের নিয়ে কতটা যে আনন্দিত হন, তা উত্তম খাদ্য বা সুস্বাদু পানীয়ের তৃপ্তির চেয়েও বহুগুণ শ্রেষ্ঠ। আত্মীয়তার এই বন্ধন, বংশীয় যোগসূত্র এবং তা উপভোগ করার সুযোগ কেবল বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের ছায়াতলেই সম্ভব। পক্ষান্তরে অবৈধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রথম বঞ্চনা হলো নিকটাত্মীয়দের মধ্যকার এই পবিত্র ও নির্মল ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হওয়া; কেননা ব্যভিচার ও বংশীয় বিশৃঙ্খলার ফলে কোনো আত্মীয়তার বন্ধন অবশিষ্ট থাকে না, বরং সেখানে কেবল পশুতুল্য জৈবিক লালসা চরিতার্থ করাই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ তাআলা যাদের সম্মানিত করেছেন, সেই মানুষেরা কি এমন হোক—তা কি আদৌ কাম্য হতে পারে?

(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌حكم الزواج في الإسلام

الزواج شرعه الله سبحانه وتعالى لبقاء النسل، ولاستمرار الخلافة في الأرض كما قال الله تعالى: {وإذ قال ربك للملائكة إني جاعل في الأرض خليفة} ، والخليفة هنا هم الإنس الذين يخلف بعضهم بعضا في عمارة هذه الأرض وسكناها بدليل قوله تعالى بعد ذلك: {أتجعل فيها من يفسد فيها ويسفك الدماء ونحن نسبح بحمدك ونقدس لك} ، وقال تعالى أيضا: {وهو الذي جعلكم خلائف في الأرض} ، ولا يمكن أن نكون خلائف في الأرض إلا بنسل مستمر، وليس كل نسل مرادا لله سبحانه وتعالى ولكن الرب يريد نسلا طاهرا نظيفا، ولا يتحقق ذلك إلا بالزواج المشروع وفق حدود الله وهداه.

ولما كان الإسلام دين الفطرة، ودين الله الذي أراد عمارة الأرض على هذا النحو فإن الإسلام قد جاء بتحريم التبتل والحث على الزواج لكل قادر عليه ويدل على هذا أحاديث منها:
‌‌ইসলামে বিবাহের বিধান

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানববংশের ধারা বজায় রাখা এবং পৃথিবীতে খেলাফতের ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে বিবাহকে বিধিবদ্ধ করেছেন; যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের বললেন, নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করছি}। এখানে প্রতিনিধি বলতে সেই মানবজাতিকে বোঝানো হয়েছে যারা এই জমিন আবাদ ও বসবাসের ক্ষেত্রে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর প্রমাণ হিসেবে আল্লাহ তাআলার পরবর্তী বাণীটি উল্লেখযোগ্য: {আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করছি}। আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেছেন: {তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি করেছেন}। আর নিরবচ্ছিন্ন বংশধারা ব্যতীত পৃথিবীতে আমাদের পক্ষে প্রতিনিধি হওয়া সম্ভব নয়। তবে কেবল যেকোনো বংশধারাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাম্য নয়, বরং মহান রব্ব এক পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন বংশধারা চান; আর এটি আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা ও হিদায়াত অনুযায়ী শরয়ি বিবাহের মাধ্যমেই কেবল বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

যেহেতু ইসলাম ফিতরাতের ধর্ম এবং আল্লাহর মনোনীত এমন এক জীবনব্যবস্থা যা এই পদ্ধতিতেই জমিন আবাদের পরিকল্পনা করেছে, তাই ইসলাম বৈরাগ্য অবলম্বনকে নিষিদ্ধ করেছে এবং সামর্থ্যবান প্রত্যেক ব্যক্তিকে বিবাহের জন্য উৎসাহিত করেছে। এর প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
1- حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: [رد رسول الله صلى الله عليه وسلم على عثمان بن مظعون التبتل ولو آذن له لاختصينا] ، والتبتل هو الانقطاع عن الزواج عبادة وتدينا وتقربا إلى الله سبحانه وتعالى بالصبر على ذلك والبعد عما في الزواج من متعة وأشغال ابتغاء رضوان الله سبحانه وتعالى، ومعنى هذا أن هذه العبادة غير مشروعة في الإسلام. بل قد جاء حديث آخر يبين أنها مخالفة لسنة الإسلام وهديه وهو الحديث الآتي:

2- حديث أنس بن مالك رضي الله عنه: أن ثلاثة نفر من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال بعضهم: لا أتزوج النساء، وقال بعضهم: أصلي ولا أنام، وقال بعضهم: أصوم ولا أفطر، فبلغ ذلك النبي صلى الله عليه وسلم فقال: [ما بال أقوام قالوا كذا وكذا، ولكني أصوم وأفطر، وأصلي وأنام، وأتزوج النساء. فمن رغب عن سنتي فليس مني] (متفق عليه) . وهذا صريح في أن هذه الشريعة أعني التبتل والرهبانية ليست من دين محمد صلى الله عليه وسلم في شيء.

وقد جاءت الأحاديث التي تحث على الزواج وتبين أن الزواج عون على طاعة الله ومرضاته من ذلك:

1- حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال
1- সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: [রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উসমান ইবনে মাজউনকে 'তাবাত্তুল' (সংসারবিরাগ) অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন; যদি তিনি তাকে অনুমতি দিতেন, তবে আমরা খাসি হয়ে যেতাম]। আর 'তাবাত্তুল' হলো ইবাদত, ধার্মিকতা এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে বিয়ে থেকে বিরত থাকা, এর ওপর ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় বিয়ের আনন্দ ও ব্যস্ততা থেকে দূরে থাকা। এর অর্থ হলো, এই ইবাদত ইসলামে অনুমোদিত নয়। বরং অন্য একটি হাদিস এসেছে যা স্পষ্ট করে যে, এটি ইসলামের সুন্নাত ও আদর্শের পরিপন্থী। হাদিসটি নিম্নরূপ:

2- আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে তিন ব্যক্তি (পরস্পর আলোচনা করছিলেন), তাদের একজন বললেন: আমি নারী বিয়ে করব না; অন্যজন বললেন: আমি নামাজ পড়ব এবং কখনো ঘুমাব না; আর অপরজন বললেন: আমি রোজা রাখব এবং কখনো তা ভঙ্গ করব না। এ কথা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কানে পৌঁছালে তিনি বললেন: [লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমন এমন কথা বলে! অথচ আমি রোজা রাখি এবং রোজা ভাঙি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাই, আর নারীদের বিয়ে করি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার আদর্শভুক্ত নয়]। (সর্বসম্মত (متفق عليه))। আর এটি এই বিষয়ে সুস্পষ্ট যে, এই বিধান অর্থাৎ 'তাবাত্তুল' ও বৈরাগ্যবাদ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দ্বীনের কোনো অংশ নয়।

বিয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদানকারী এবং বিয়ে যে আল্লাহর আনুগত্য ও সন্তুষ্টির পথে সহায়ক তা বর্ণনাকারী অনেক হাদিস এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:

1- ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: [يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج فإنه أغض للبصر، وأحصن للفرج، ومن لم يستطع فعليه بالصوم فإنه له وجاء] (رواه الجماعة) .

وفي هذا الحديث ما يدل على أن الزواج معين على العفة وصون الجوارح عن زنا الفرج كما في الحديث:

 

[إن العين تزني وزناها النظر، وإن اليد تزني وزناها البطش، وإن الأذن تزني وزناها السمع، وإن الفرج يصدق هذا أو يكذبه] ، وإعفاف النفس وصونها عن كل ذلك من أفضل ما تقرب به المتقربون إلى ربهم سبحانه وتعالى كما لا يخفى ما في ترك الزواج من الآثار السيئة النفسية المدمرة على كل من الرجل والمرأة وهو ما عبر عنه القرآن بالعنت حيث قال تعالى في شأن إباحة الزواج من الإماء: {ذلك لمن خشي العنت منكم} ، وهو الإرهاق النفسي الذي يصاحب الكبت الجنسي.

2- ومن هذه الأحاديث أيضاً قوله صلى الله عليه وسلم في معرض بيان ما يثاب به العبد وتكتب له به الحسنات: [وفي بضع أحدكم صدقة] ، والبضع هو من المباضعة -والمباضعة: هي الجماع- قالوا يا رسول الله أيأتي أحدنا شهوته ويكون له فيها أجر؟ قال: [أرأيتم إن وضعها في حرام أكان عليه
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: [হে যুবক সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে, কারণ তা দৃষ্টিকে অবনত রাখার এবং লজ্জাস্থানকে অধিকতর হেফাযত করার ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। আর যে সামর্থ্য রাখে না, সে যেন রোজা রাখে, কেননা তা তার জন্য কামভাব দমনের (وجاء) মাধ্যম।] (এটি জামায়াত বর্ণনাকারীগণ (الجماعة) বর্ণনা করেছেন)।

আর এই হাদিসে এ কথার প্রমাণ রয়েছে যে, বিবাহ পবিত্রতা রক্ষা এবং শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে লজ্জাস্থানের ব্যভিচার থেকে রক্ষায় সহায়ক, যেমনটি হাদিসে এসেছে:

 

[নিশ্চয়ই চোখ ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার হলো কুনজরে তাকানো; হাত ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার হলো অন্যায়ভাবে স্পর্শ করা; কান ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার হলো শোনা; আর লজ্জাস্থান একে সত্য অথবা মিথ্যা প্রতিপন্ন করে]। নিজেকে পবিত্র রাখা এবং এসব থেকে নিজেকে রক্ষা করা হচ্ছে মহান রবের নৈকট্য লাভকারীদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম। তেমনিভাবে বিবাহ বর্জন করার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়ের ওপর যে বিধ্বংসী ও নেতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে তা গোপন নয়; আর কুরআন একে 'কষ্ট বা পাপে পতিত হওয়া' (عنت) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছে। মহান আল্লাহ দাসীদের বিবাহের বৈধতা প্রসঙ্গে বলেছেন: {এটি তার জন্য, যে তোমাদের মধ্যে পাপে লিপ্ত হওয়ার (العنت) আশঙ্কা করে}। আর এটি হলো সেই মনস্তাত্ত্বিক ক্লান্তি যা যৌন অবদমনের সাথে সংশ্লিষ্ট।

2- এই হাদিসগুলোর মধ্যে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সেই বাণীটিও রয়েছে যা বান্দার সওয়াব প্রাপ্তি এবং নেকি লিপিবদ্ধ হওয়ার বর্ণনায় এসেছে: [তোমাদের প্রত্যেকের যৌন মিলনেও (بضع) সদকা রয়েছে।] এখানে 'বুদ'উ' (بضع) শব্দটি 'মুবাদা'আহ' (مباضعة) থেকে উদ্ভূত—আর 'মুবাদা'আহ' হলো সহবাস (جماع)। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ কি তার কামপ্রবৃত্তি পূরণ করবে এবং তাতেও কি তার জন্য সওয়াব হবে? তিনি বললেন: [তোমরা কি মনে করো, যদি সে তা হারামে লিপ্ত করত তবে কি তার ওপর গুনাহ হতো না?...]
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
وزر؟ فكذلك إذا وضعها في حلال كان له بها أجر] ، وهذا الحديث غاية في بيان المراد في هذا الصدد وأن الزواج ليس من المباح الملهي وإنما هو من المباح الذي يتقرب به إلى الله سبحانه وتعالى.

3- وفي قوله صلى الله عليه وسلم: [دينار تنفقه على أهلك، ودينار تنفقه على مسكين، ودينار تنفقه في سبيل الله، أعظمها أجراً الذي تنفقه على أهلك] (رواه مسلم) .

وفي هذا بيان أن النفقة على الأهل أحب النفقات وأعظمها أجراً عند الله سبحانه وتعالى وبالطبع هذا كله إذا ابتغى المسلم وجه الله سبحانه وتعالى لما جاء في حديث سعد بن أبي وقاص أن النبي صلى الله عليه وسلم قال له: [واعلم أنك لن تنفق نفقة صغيرة ولا كبيرة تبتغي بذلك وجه الله إلا أجرت عليها حتى اللقمة تضعها في فم امرأتك] (متفق عليه) .

وقد استدل ببعض الأحاديث المتقدمة من يرى وجوب الزواج وأن من تركه مع القدرة عليه فهو آثم وهذا رأي ابن حزم وقول من أقوال الإمام ابن حنبل وعموم الفقهاء والأئمة على استحباب ذلك ولكن لا يخفى مع هذا أن من تركه زهادة فيه وهو آمن على نفسه من الفتنة
পাপ হবে কি? তদ্রূপ সে যদি তা হালাল পন্থায় সম্পাদন করে, তবে তার জন্য তাতে সওয়াব রয়েছে]। আর এই হাদিসটি এ বিষয়ের লক্ষ্য বর্ণনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, বিবাহ কোনো খেল-তামাশাপূর্ণ বৈধ (مباح) বিষয় নয়, বরং এটি এমন একটি বৈধ (مباح) কাজ যার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নৈকট্য লাভ করা হয়।

৩- এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে রয়েছে: [একটি দিনার যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো, একটি দিনার যা তুমি কোনো মিসকিনের জন্য ব্যয় করো এবং একটি দিনার যা তুমি আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করো; এগুলোর মধ্যে সওয়াবের দিক থেকে সেই দিনারটিই শ্রেষ্ঠ যা তুমি তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করেছ] (মুসলিম বর্ণনা করেছেন)।

এর মধ্যে এই বর্ণনা রয়েছে যে, পরিবারের জন্য ব্যয় করা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যয় এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট সওয়াবের দিক থেকে তা সর্বশ্রেষ্ঠ। আর অবশ্যই এটি তখনই হবে যখন একজন মুসলিম এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি কামনা করবে। যেমনটি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: [জেনে রেখো, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছোট বা বড় যা-ই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার জন্য অবশ্যই প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি সেই লোকমাটির জন্যও যা তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে তুলে দাও] (ঐক্যমত্যপূর্ণ (متفق عليه))।

উপরে উল্লিখিত কিছু হাদিস দ্বারা তারা দলিল পেশ করেছেন যারা বিবাহ ওয়াজিব (وجوب) হওয়ার পক্ষে মত দেন এবং মনে করেন যে, যে ব্যক্তি সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা বর্জন করবে সে গুনাহগার হবে। এটি ইবনে হাজমের অভিমত এবং ইমাম ইবনে হাম্বলের অন্যতম একটি বক্তব্য। তবে সাধারণ ফকিহ ও ইমামগণের অভিমত হলো এটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় (استحباب)। কিন্তু এর সাথে এটিও অস্পষ্ট নয় যে, যে ব্যক্তি বিবাহের প্রতি অনাগ্রহবশত তা বর্জন করে অথচ সে নিজের ব্যাপারে ফেতনার আশঙ্কা থেকে নিরাপদ...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
وانشغالاً بأعمال أخرى من البر والدعوة والجهاد فنرجو أن لا يكون مثل هذا آثماً بتركه.
আর নেক আমল, দাওয়াত এবং জিহাদের ন্যায় অন্যান্য কাজে ব্যাপৃত থাকার কারণে আমরা আশা করি যে, এহেন ব্যক্তি তা বর্জন করার কারণে গুনাহগার হবেন না।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌حكمة الزواج وأهدافه

‌‌لماذا نتزوج:

سؤال ينبغي أن يسأله كل شاب وشابة لنفسه بل كل مريد للزواج قبل أن يقدم عليه. لماذا نتزوج؟ وما الحكمة من هذا الزواج؟

وهناك أربعة حكم أو أهداف اجعلها نصب عينيك قبل أن تقدم على الزواج.

 

‌‌1- النسل:

 

جعل الخالق سبحانه استمرار النوع الإنساني على الأرض منوطاً بالتزواج، واستمرار النوع هدف وغاية للخالق سبحانه وتعالى كما قال جل وعلا عن نفسه: {الذي أحسن كل شيء خلقه وبدأ خلق الإنسان من طين، ثم جعل نسله من سلالة من ماء مهين} ، ولذلك أيضاً جعل الله سبحانه وتعالى الإضرار بالنسل من أكبر
‌‌বিবাহের হিকমত ও এর উদ্দেশ্যসমূহ

‌‌আমরা কেন বিবাহ করি:

এটি এমন একটি প্রশ্ন যা প্রত্যেক যুবক ও যুবতীর, বরং বিবাহের সংকল্পকারী প্রত্যেকেরই এই পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্বে নিজেকে করা সমীচীন। আমরা কেন বিবাহ করি? এবং এই বিবাহের হিকমত কী?

এখানে চারটি হিকমত বা লক্ষ্য রয়েছে যা বিবাহের সংকল্প করার পূর্বে আপনার দৃষ্টির সামনে রাখা উচিত।

 

‌‌১- বংশবিস্তার:

 

সৃষ্টিকর্তা সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পৃথিবীতে মানবজাতির ধারাবাহিকতা রক্ষাকে বিবাহের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছেন। আর মানব প্রজাতির এই স্থায়িত্ব বজায় রাখা মহান স্রষ্টার একটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: {যিনি তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিকে অতি উত্তম করেছেন এবং কাদা হতে মানব সৃষ্টির সূচনা করেছেন। অতঃপর তিনি তার বংশধারা এক তুচ্ছ পানির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছেন}। আর এই কারণেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বংশগতির ক্ষতিসাধন করাকে অন্যতম বৃহত্তম
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
الفساد في الأرض كما قال تعالى: {ومن الناس من يعجبك قوله في الحياة الدنيا ويشهد الله على ما في قلبه وهو ألد الخصام، وإذا تولى سعى في الأرض ليفسد فيها ويهلك الحرث والنسل والله لا يحب الفساد} .

والنسل الذي يصلح لعمارة الأرض وخلافتها وسكناها هو النسل الذي يأتي بطريق نكاح لا بطريق سفاح، فالنسل السوي هو نسل النكاح. وأما نسل السفاح فهو مسخ يشوه وجه الحياة ويشيع فيها الكراهية والمقت. ولا يغيب عن بال قارئ مثقف في عصرنا ما يعانيه العالم الآن من أولاد السفاح الذين خرجوا إلى الأرض بأجسام بشرية وبنفوس حيوانية مريضة ملتوية، قد فقدت الحنان في طفولتها ولم تعرف الأرحام والأقارب فغابت عنها معاني الرحمة.

والنكاح بأصوله وحدوده وقواعده كما شرعه الله سبحانه وتعالى هو الوسيلة السليمة لاستمرار النوع الإنساني وبقائه وقد أمرنا سبحانه بابتغاء النسل عند معاشرة النساء حيث قال سبحانه: {أحل لكم ليلة الصيام الرفث إلى نسائكم هن لباس لكم وأنتم لباس لهن - علم الله أنكم كنتم تختانون
পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: {আর মানুষের মধ্যে এমন ব্যক্তিও রয়েছে পার্থিব জীবন সম্পর্কে যার কথা তোমাকে মুগ্ধ করে এবং তার অন্তরে যা আছে সে বিষয়ে সে আল্লাহকে সাক্ষী রাখে, অথচ সে ঘোরতর বিবাদকারী। আর যখন সে ফিরে যায়, তখন সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি এবং শস্যক্ষেত্র ও বংশধারা ধ্বংস করার চেষ্টা করে; আর আল্লাহ বিপর্যয় পছন্দ করেন না।}

আর যে বংশধারা পৃথিবী আবাদ করা, এর প্রতিনিধিত্ব ও বসবাসের যোগ্য, তা হলো সেই বংশধারা যা বিবাহের মাধ্যমে অর্জিত হয়, ব্যভিচারের মাধ্যমে নয়। সুতরাং স্বাভাবিক বংশধারা হলো বিবাহের মাধ্যমে জাত বংশধারা। পক্ষান্তরে ব্যভিচারজাত বংশধারা হলো একটি বিকৃতি যা জীবনের সৌন্দর্যকে বিনষ্ট করে এবং সমাজে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। বর্তমান যুগের কোনো সচেতন পাঠকের কাছে এটি অজানা নয় যে, বিশ্ব এখন ব্যভিচারজাত সন্তানদের কারণে কী নিদারুণ সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে, যারা মানবদেহ নিয়ে পৃথিবীতে এলেও তাদের আত্মা অসুস্থ, কুটিল ও পশুতুল্য। তারা শৈশবে স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ও স্বজনদের চিনতে পারেনি, ফলে তাদের থেকে দয়া ও সহমর্মিতার বোধ হারিয়ে গেছে।

বিবাহ তার মূলনীতি (أصول), সীমারেখা ও নিয়মকানুনসহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেভাবে শরীয়তসম্মত করেছেন, তা হলো মানবজাতির ধারা রক্ষা ও টিকে থাকার একমাত্র সঠিক পথ। মহান আল্লাহ স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার সময় সন্তান অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: {সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে খিয়ানত করছিলে...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
أنفسكم فتاب عليكم وعفا عنكم، فالآن باشروهن وابتغوا ما كتب الله لكم..} الآية، وابتغاء ما كتب الله هو طلب الولد (على وجه من وجوه التفسير لهذه الآية: {وابتغوا ما كتب الله لكم} أي من قيام رمضان فلا تنشغلوا بالمباح في ليلة من معاشرة النساء عن قيام ليلة وخاصة في العشر الأواخر كما ثبت أن الرسول صلى الله عليه وسلم كان يعتزل نساءه فيهن) ولذلك جاء في حديث ابن عباس في الصحيح قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: [لو أن أحدكم إذا أراد أن يأتي أهله قال بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا فإنه إن يقدر بينهما بولد لم يضره الشيطان أبداً] .

‌‌2- الإمتاع النفسي والجسدي:

يهيئ الزواج لكل من الرجال والنساء متعة من أعظم متع الدنيا وهذه المتعة تنقسم إلى قسمين: سكن وراحة نفسية، وإمتاع ولذة جسدية. قال تعالى: {ومن آياته أن خلق لكم من أنفسكم أزواجاً لتسكنوا إليها وجعل بينكم مودة ورحمة إن في ذلك لآيات لقوم يتفكرون} (الروم: 21) .
তোমাদের প্রতি তিনি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন, সুতরাং এখন তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অনুসন্ধান করো...} আয়াতাংশ। আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করা বলতে সন্তান কামনা করাকে বোঝায় (এই আয়াতের তাফসিরের অন্যতম একটি দিক হলো: {এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন তা অন্বেষণ করো} অর্থাৎ রমজানের কিয়াম; সুতরাং রাতের বেলা স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার মতো বৈধ কাজে মশগুল হয়ে রাতের কিয়াম থেকে বিচ্যুত হয়ো না, বিশেষ করে শেষ দশকে, যেমনটি প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই দিনগুলোতে তাঁর স্ত্রীদের থেকে পৃথক থাকতেন)। এজন্য সহিহ (صحيح) গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: [তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হওয়ার ইচ্ছা করে তখন যদি বলে: 'বিসমিল্লাহ, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আপনি আমাদের যে রিজক দান করবেন তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন'; তবে যদি তাদের মাঝে কোনো সন্তান হওয়া নির্ধারিত হয়, তবে শয়তান কখনোই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না]।

‌‌২- মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি:

বিবাহ নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য দুনিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামতের ব্যবস্থা করে দেয়। আর এই আনন্দ দুই ভাগে বিভক্ত: মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি, এবং শারীরিক তৃপ্তি ও স্বাদ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম হলো যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে} (রুম: ২১)।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
والسكن إلى المرأة يشمل سكن النفس وسكن الجسم والمودة والرحمة من أجمل المشاعر التي خلقها الله فإذا وجد ذلك كله مع الشعور بالحل والهداية إلى الفطرة ومرضاة الله سبحانه وتعالى كملت هذه المتعة ولم ينقصها شيء، وقد ساعد على ذلك بالطبع الأصل الأول للخلق، وغريزة الميل التي خلقها الله في كل من الذكر والأنثى للآخر وابتغاء هذا المتاع، والسكن بالزواج مطلوب شرعاً كما قال تعالى: {فلما قضى زيد منها وطراً زوجناكها} ، وهذا عن زينب رضي الله عنها والوطر هو حاجة الإنسان كالأرب، والاستمتاع بالنساء لا ينافي التعبد الكامل بل هذا النبي صلى الله عليه وسلم سيد العابدين والمتقين يقول: [حبب إلي من دنياكم الطيب والنساء، وجعلت قرة عيني في الصلاة] . فمحبة الطيب والنساء لم تمنعه صلوات الله وسلامه عليه أن يكون رسول الله صلى الله عليه وسلم للعالمين وأن يكون سيد العابدين المتقين، ولذلك فقد وسع الله عليه في ذلك، حيث قال: {يا أيها النبي إنا أحللنا لك أزواجك اللاتي آتيت أجورهن وما ملكت يمينك مما أفاء الله عليك وبنات عمك وبنات عماتك وبنات خالك وبنات خالاتك اللاتي هاجرن معك، وامرأة مؤمنة إن وهبت نفسها للنبي إن أراد النبي أن يستنكحها خالصة لك من دون
নারীর সান্নিধ্যে প্রশান্তি বলতে আত্মিক প্রশান্তি এবং শারীরিক প্রশান্তি উভয়কেই বোঝায়। আর মায়া-মমতা ও রহমত হলো আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি করা সুন্দরতম অনুভূতিগুলোর অন্যতম। সুতরাং যখন এ সবকিছুর সাথে বৈধতার অনুভূতি, স্বভাবজাত প্রকৃতির দিকনির্দেশনা এবং মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টির অনুভূতি যুক্ত হয়, তখন এই আনন্দ পূর্ণতা পায় এবং এতে কোনো কিছুর কমতি থাকে না। সৃষ্টির আদি উৎস এবং নারী ও পুরুষের একে অপরের প্রতি সহজাত আকর্ষণ—যা আল্লাহ তাদের উভয়ের মাঝে এই সামগ্রী ও উপভোগের প্রত্যাশায় সৃষ্টি করেছেন—তা স্বাভাবিকভাবেই এক্ষেত্রে সহায়ক হয়েছে। বিবাহের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করা শরিয়তসম্মতভাবে কাম্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “অতঃপর যায়েদ যখন তার সাথে প্রয়োজন পূর্ণ করল, তখন আমি তাকে আপনার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম।” এটি যয়নব (রাযিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। এখানে ‘প্রয়োজন’ বলতে মানুষের ব্যক্তিগত চাহিদা বা অভিপ্রায়ের মতো আবশ্যকতাকে বোঝানো হয়েছে। নারীদের মাধ্যমে বৈধ আনন্দ লাভ করা পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের পরিপন্থী নয়; বরং আবিদ ও মুত্তাকিদের সর্দার এই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের দুনিয়া থেকে সুগন্ধি এবং নারী আমার কাছে প্রিয় করা হয়েছে, আর আমার চোখের শীতলতা রাখা হয়েছে সালাতে।” সুগন্ধি ও নারীদের প্রতি এই ভালোবাসা তাঁকে—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক—বিশ্ববাসীর জন্য আল্লাহর রাসূল হতে এবং আবিদ ও মুত্তাকিদের সর্দার হতে বাধা দেয়নি। এই কারণেই আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য বিষয়টি প্রশস্ত করে দিয়েছেন, যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন: “হে নবী! আমি আপনার জন্য আপনার সেই স্ত্রীগণকে বৈধ করেছি যাদের মোহরানা আপনি প্রদান করেছেন এবং আপনার ডান হাত যাদের মালিক হয়েছে (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে) যা আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। আর আপনার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা ও খালার কন্যাদেরকে—যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে। আর কোনো মুমিন নারী যদি নবীর নিকট নিজেকে নিবেদন করে এবং নবী তাকে বিবাহ করতে চান, তবে এটি বিশেষভাবে কেবল আপনার জন্যই, অন্যদের জন্য নয়...”
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
المؤمنين..} الآية.

وبين سبحانه وتعالى أنه لا حرج ولا ضيق على النبي في هذا المباح والذي أوجب الله عليه بعضه أحياناً كما أوجب عليه أن يتزوج بزينب وأمره بذلك حيث قال: {فلما قضى زيد منها وطراً زوجناكها..} الآية، فالآمر بالزواج هنا هو الله سبحانه وتعالى وبين أنه لا حرج عليه في هذا حيث قال: {ما كان على النبي من حرج فيما فرض الله له سنة الله في الذين خلوا من قبل وكان أمر الله قدراً مقدوراً} .

والشاهد من هذا كله أن متع الزواج الحسية والنفسية من خير ما خلق الله من متاع لعباده في الدنيا، وابتغاء هذا المتاع وفق تشريع الله وهديه من الأسباب التي توصل إلى مرضاة الله سبحانه.

 

‌‌3- بلوغ الكمال الإنساني:

الحكمة الثالثة من حكم الزواج هي بلوغ الكمال الإنساني فالرجل لا يبلغ كماله الإنساني إلا في ظل الزواج الشرعي الذي يتوزع فيه الحقوق والواجبات توزيعاً ربانياً قائماً على العدل والإحسان والرحمة لا توزيعاً عشوائياً قائماً
...মুমিনগণ...} (আয়াত)।

আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বর্ণনা করেছেন যে, এই বৈধ (مباح) বিষয়ে নবীর জন্য কোনো প্রকার সংকীর্ণতা বা কাঠিন্য নেই, যার কোনো কোনোটি আল্লাহ মাঝেমধ্যে তাঁর ওপর আবশ্যক (فرض) করেছিলেন; যেমনটি তিনি তাঁর ওপর জয়নাবকে বিবাহ করা আবশ্যক করেছিলেন এবং তাঁকে এ বিষয়ে আদেশ প্রদান করে বলেছিলেন: {অতঃপর জায়েদ যখন তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করল, তখন আমি তাকে তোমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করলাম...} (আয়াত)। সুতরাং এখানে বিবাহের আদেশদাতা হলেন স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এবং তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এ বিষয়ে নবীর ওপর কোনো দায় বা দোষ নেই; যেমনটি তিনি ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ নবীর জন্য যা আবশ্যক (فرض) করেছেন তাতে তাঁর কোনো দোষ নেই। পূর্বে যারা অতিবাহিত হয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রেও এটি ছিল আল্লাহর বিধান। আর আল্লাহর বিধান সুনির্ধারিত ও সুনির্দিষ্ট।}

এই সবকিছুর সারকথা হলো, বিবাহের শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি হলো দুনিয়াতে বান্দাদের জন্য আল্লাহর সৃষ্টি করা সর্বোত্তম ভোগ-সামগ্রীর অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর বিধিবদ্ধ বিধান ও হিদায়াত অনুযায়ী এই সামগ্রী অন্বেষণ করা এমন এক মাধ্যম যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির দিকে নিয়ে যায়।

 

‌‌৩- মানবীয় পূর্ণতা অর্জন:

বিবাহের হিকমতসমূহের মধ্যে তৃতীয়টি হলো মানবীয় পূর্ণতা অর্জন। কারণ, একজন পুরুষ কেবল সেই শরয়ি (شرعي) বিবাহের ছায়াতলেই তার মানবীয় পূর্ণতা লাভ করতে পারে, যেখানে অধিকার ও কর্তব্যসমূহ ইনসাফ, ইহসান ও রহমতের ভিত্তিতে একটি রব্বানি বা খোদায়ী পদ্ধতিতে বণ্টিত হয়; কোনো লক্ষ্যহীন বা এলোমেলো বণ্টনের ভিত্তিতে নয় যা...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
على الأثرة وحب الذات وافتعال المعارك بين الرجال والنساء وأخذ الحقوق والتنصل من الواجبات بالشد والجذب والتصويت في (البرلمانات) .

فالمتع الجسدية والنفسية تعمل عملها في نفس الإنسان وفكره وقواه النفسية والبدنية فيشعر بالرضا والسعادة والراحة النفسية والجسدية حيث تتصرف طاقته وغريزته بأنظف الطرق وأطهرها وحيث ينشأ بين الزوجين الوفاء والحب الحقيقي القائم على الود والرحمة والمشاركة، لا ذلك الميل الحيواني القائم على تفريغ الشهوة وبلوغ اللذة دون وجود الوفاء والرحمة. فمشاعر الزناة والزواني لا يمكن أن تكون كمشاعر الأزواج والزوجات فالأولى مشاعر حيوانية شهوانية حدها محدود بوجود هذه اللذائذ الحسية ومنته بانتهائها، ولا يمكن أن يكون فيها ومعها أي شعور بالاحترام والود والوفاء بل على العكس من ذلك، هناك شعور بالاحتقار والازدراء والامتهان احتقار الزواني لمن وافقته على عمله الخبيث، واحتقار الزانية لمن استغل حاجتها أو جمالها أو ضعفها الأنثوي وميلها الطبيعي. ولذلك فمشاعر الزناة والزواني متضاربة، ساقطة، ومشاعر الأزواج منسجمة سامية، وتلك المشاعر تولد العقد النفسية والانحلال الخلقي وضعف الوازع
স্বার্থপরতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, নারী-পুরুষের মধ্যে কৃত্রিম বিবাদ সৃষ্টি, অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং চড়াই-উতরাই ও (সংসদীয়) ভোটাভুটির মাধ্যমে দায়িত্ব থেকে পলায়নপরতার ওপর ভিত্তি করে।

শারীরিক ও মানসিক তৃপ্তি মানুষের মন, চিন্তা এবং তার মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক শক্তির ওপর কার্যকর প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে সে সন্তুষ্টি, সুখ এবং মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি অনুভব করে। কেননা এর মাধ্যমে তার শক্তি ও প্রবৃত্তি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও পবিত্রতম উপায়ে পরিচালিত হয় এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হৃদ্যতা, রহমত ও অংশীদারিত্বের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বস্ততা ও প্রকৃত ভালোবাসা গড়ে ওঠে। এটি সেই পাশবিক প্রবণতার মতো নয় যা বিশ্বস্ততা ও দয়া ব্যতিরেকে কেবল কামবাসনা চরিতার্থ করা এবং স্বাদ আস্বাদনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কেননা ব্যভিচারী নারী ও পুরুষের অনুভূতি কখনোই স্বামী ও স্ত্রীর অনুভূতির মতো হতে পারে না। প্রথমটি হলো পাশবিক ও কামজ অনুভূতি, যা কেবল এই ইন্দ্রিয়জ স্বাদের উপস্থিতির মাঝেই সীমাবদ্ধ এবং তা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নিঃশেষ হয়ে যায়। এর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, হৃদ্যতা ও বিশ্বস্ততার কোনো অনুভূতি থাকা সম্ভব নয়; বরং এর বিপরীতে সেখানে ঘৃণা, অবজ্ঞা ও লাঞ্ছনার অনুভূতি কাজ করে। ব্যভিচারী পুরুষ তাকে তুচ্ছজ্ঞান করে যে তার এই জঘন্য কাজে সায় দিয়েছে, আর ব্যভিচারী নারী তাকে ঘৃণা করে যে তার অভাব, সৌন্দর্য কিংবা নারীসুলভ দুর্বলতা ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তিগত ঝোঁকের সুযোগ নিয়েছে। এই কারণে ব্যভিচারীদের অনুভূতিগুলো অসংলগ্ন ও হীন হয়ে থাকে, পক্ষান্তরে দম্পতিদের অনুভূতি হয় সুসংগত ও মহৎ। আর সেই হীন অনুভূতিগুলো মানসিক জটিলতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং বিবেকবোধের দুর্বলতা সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
وهوان النفس، وأما مشاعر الأزواج النظيفة فإنها تورث الحب والرحمة وسمو النفس وحياة الضمير والقلب، وباختصار مشاعر الأزواج بناء ومشاعر الزناة والزواني مشاعر هدم. ولذلك سمى الزواج في الإسلام بناء. حيث إنه بناء نفسين وبناء أسرة.

ولذا فأبعد الناس عن الأمراض النفسية والعصبية هم أهل الاستقامة في هذا الشأن وأقرب الناس إلى الأمراض النفسية والعقد والامتهان هم أهل الانحراف والفساد.

 

ولذلك فالمجتمع السليم في أفراده ذكوراً وإناثاً هو مجتمع الزواج الشرعي، وبغير ذلك مجتمع الخنا والانحراف.

وتوزيع المسؤوليات في الزواج ينمي قدرة الرجل على القيام بالواجب ويجعل له هدفاً سامياً في الحياة وهو إسعاد زوجته أو حمايتها والسعي في سبيل أبنائه وذريته. وبالمسئوليات يتربى الرجال وكذلك بالمسئوليات الملقاة على الزوجة نحو الزوج تكمل شخصية المرأة. وقد دلت الإحصائيات الحديثة على أن المرأة لا تكمل نفسياً وجسدياً وعقلياً أيضاً إلا بعد المولود الثالث فإذا كانت هذه الزوجة
...এবং আত্মার অবমাননা। পক্ষান্তরে দম্পতিদের নির্মল অনুভূতিসমূহ ভালোবাসা, রহমত, আত্মার সুউচ্চ মর্যাদা এবং বিবেক ও হৃদয়ের সজীবতা আনয়ন করে। সংক্ষেপে, দম্পতিদের অনুভূতি হলো গঠনমূলক, আর ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণীদের অনুভূতি হলো ধ্বংসাত্মক। এই কারণে ইসলামে বিবাহকে 'বিনা' বা নির্মাণ বলা হয়েছে; যেহেতু এটি দুটি আত্মার এবং একটি পরিবারের গঠন।

তাই যারা এই বিষয়ে নিষ্ঠার (استقامة) অধিকারী, তারাই মানসিক ও স্নায়বিক ব্যাধি থেকে সবচেয়ে দূরে থাকেন। আর যারা বিচ্যুতি ও পাপাচারের অনুসারী, তারাই মানসিক ব্যাধি, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা ও হীনম্মন্যতার সবচেয়ে নিকটে থাকেন।

 

অতএব, নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে একটি সুস্থ সমাজ হলো শরয়ি বিবাহের সমাজ। এর ব্যতিরেকে অন্য যে কোনো সমাজ কেবল অশ্লীলতা ও বিচ্যুতির সমাজ।

দাম্পত্য জীবনে দায়িত্বের বণ্টন পুরুষের কর্তব্য পালনের সক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে এবং তার জীবনে এক মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেয়—যা হলো নিজ স্ত্রীকে সুখী রাখা বা তাকে সুরক্ষা প্রদান করা এবং নিজের সন্তান ও বংশধরদের জন্য প্রচেষ্টা চালানো। দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই পুরুষ গড়ে ওঠে, একইভাবে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর ওপর অর্পিত দায়-দায়িত্বের মাধ্যমে নারীর ব্যক্তিত্ব পূর্ণতা লাভ করে। আধুনিক পরিসংখ্যানগুলো নির্দেশ করেছে যে, নারী মানসিক, শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবেও পূর্ণতা লাভ করে না যতক্ষণ না সে তৃতীয় সন্তানের জননী হয়। এমতাবস্থায় এই স্ত্রী যদি...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
التي رزقت بأولاد ثلاثة في ظل أسرة متماسكة وفي ظل تربية سليمة وأهداف نبيلة بلغت المرأة كمالها الإنساني الذي قدره الله لها. وبهذا نفسر التمزق والطيش وضعف الوازع والرغبة في الهدم التي تسيطر على العوانس ممن حرمن نعمة الزواج والأولاد ولذلك جاء الإسلام بالقضاء على هذه الظاهرة الخطيرة فأمر المسلمين أمراً لازماً بتزويج العوانس والأرامل حيث قال تعالى: {وأنكحوا الأيامى منكم والصالحين من عبادكم وإمائكم إن يكونوا فقراء يغنهم الله من فضله..} الآيات. والأيامى جمع أيم، والأيم هي التي مات زوجها، والأمر هنا للمسلمين عامة وأولي الأمر خاصة. فالعنوسة وكثرة الأيامى التي لا يتزوجن من أكبر مشكلات المجتمع - والشاهد أن المرأة التي حرمت نعمة الزواج أو حرمت نعمة الأولاد امرأة ناقصة خلقياً وفكرياً وعقلياً، وإن كان هذا أحياناً بظلم المجتمع. ولست بصدد البحث عن أسباب ذلك، ولكننا بصدد البحث في نتائج ذلك. والخلاصة أن الرجل لا يكمل عقله وتستقر نفسه إلا في ظل الزواج وكذلك الحال بالنسبة للمرأة.

‌‌4- التعاون على بناء هذه الحياة:

هذه الحياة التي نعيشها على ظهر هذه الأرض
যে নারী একটি সুসংহত পরিবারের ছায়ায়, সঠিক লালন-পালন এবং মহৎ উদ্দেশ্যের মাঝে তিনটি সন্তান লাভ করেছেন, তিনি সেই মানবিক পূর্ণতায় পৌঁছেছেন যা আল্লাহ তাঁর জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমেই আমরা সেই মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়, অস্থিরতা, নৈতিক বোধের দুর্বলতা এবং ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ব্যাখ্যা করতে পারি যা ওইসব অবিবাহিত নারীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে যারা বিবাহ ও সন্তানের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই কারণেই ইসলাম এই বিপজ্জনক প্রবণতা নির্মূল করার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং মুসলিমদের ওপর অবিবাহিত ও বিধবাদের বিবাহ দেওয়ার ব্যাপারে জোরালো নির্দেশ দিয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করো এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ আপন অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন..} (আয়াতসমূহ)। 'আইয়ামা' হলো 'আইয়্যিম' শব্দের বহুবচন, আর 'আইয়্যিম' হলো সেই নারী যার স্বামী মারা গেছে। এখানে নির্দেশটি সাধারণভাবে সকল মুসলিমের জন্য এবং বিশেষভাবে 'উলুল আমর' বা কর্তৃপক্ষের জন্য। সুতরাং দীর্ঘকাল অবিবাহিত থাকা এবং বিবাহহীন নারীর আধিক্য সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা—আর এর বাস্তব প্রমাণ হলো, যে নারী বিবাহের নিয়ামত বা সন্তানের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তিনি চারিত্রিক, চিন্তাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক থেকে অপূর্ণাঙ্গ; যদিও কখনো কখনো সমাজের অবিচারের কারণেও এমনটা ঘটে থাকে। আমি এখানে এর কারণসমূহ অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে আসিনি, বরং আমরা এর ফলাফলসমূহ পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছি। সারকথা হলো, বিবাহের ছায়া ছাড়া পুরুষের বুদ্ধিবৃত্তি পূর্ণতা পায় না এবং চিত্ত স্থির হয় না; নারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি তদ্রূপ।

‌‌৪- এই জীবন বিনির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা:

এই ভূপৃষ্ঠে আমরা যে জীবন অতিবাহিত করছি...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
تفرض علينا أن نعيش في مجتمع، والمجتمع بناء كبير يتكون من لبنات. والوحدة الأولى من وحدات هذا المجتمع هو الفرد رجلاً كان أم امرأة. والرجل والمرأة مستقلاً كلاً منهما عن الآخر لا يستطيع أي منهما العيش، بل كل منهما محتاج للآخر حاجة شق النواة للشق الثاني بل حاجة الشيء إلى نفسه، ولذلك لا يمكن أن نبني مجتمعاً سليماً إلا بتكوين لبنة سليمة، ولا نستطيع أن نقول إن الرجل بنفسه لبنة واحدة ولذلك كانت الأسرة هي اللبنة الأولى لبناء المجتمع السليم، وبتعاون الزوجين تبنى الحياة، ولذلك فعقد الزواج يشابه عقود الشركة من هذا الوجه. أعني المشاركة في بناء الحياة وتحمل أعبائها.

هذه أهداف أربعة اجعلها أمامك: النسل، والاستمتاع، وبلوغ الكمال الإنساني، والمشاركة لبناء الحياة.
জীবন আমাদের একটি সমাজে বসবাস করতে বাধ্য করে, আর সমাজ হলো একটি বিশাল কাঠামো যা কতগুলো মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এই সমাজের এককসমূহের মধ্যে প্রথম একক হলো ব্যক্তি, সে পুরুষ হোক বা নারী। পুরুষ ও নারী একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন যাপন করতে পারে না; বরং প্রত্যেকেই অপরের প্রতি এমনভাবে মুখাপেক্ষী যেমনটি বীজের এক অর্ধাংশ অন্য অর্ধাংশের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকে, এমনকি কোনো জিনিসের নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিজের প্রতি মুখাপেক্ষিতার ন্যায়। তাই একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণ করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না একটি সুস্থ ভিত্তি বা উপাদান গঠিত হয়। আমরা এ কথা বলতে পারি না যে পুরুষ একাই একটি একক ভিত্তি; বরং একটি সুস্থ সমাজ গঠনের প্রথম ভিত্তি হলো পরিবার। আর স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই জীবন গড়ে ওঠে। তাই এই দিক থেকে বিবাহের চুক্তিটি অংশীদারিত্বমূলক চুক্তির সদৃশ; অর্থাৎ জীবন গঠন ও এর দায়ভার বহনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব।

এই চারটি লক্ষ্য আপনার সম্মুখে স্থির রাখুন: বংশবিস্তার, উপভোগ, মানবিক পূর্ণতায় উপনীত হওয়া এবং জীবন গঠনের লক্ষ্যে অংশীদারিত্ব।
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌كيف تختار شريك الحياة؟!

عرفنا مما سبق أنه يجب علينا أن نضع أربعة أهداف أمامنا ليكون زواجنا كاملاً وهذه الأهداف الأربعة هي: النسل، والإمتاع النفسي والجسدي، وبلوغ الكمال الإنساني، والتعاون على بناء الحياة، هذه الأهداف الأربعة قد نصل إليها جميعها وقد نحرم بعضها إما بشيء خارج عن إرادة الزوجين كالنسل وذلك أن العقم يعود غالباً إلى أسباب خلقية (بفتح الخاء وتسكين اللام) كما قال تعالى: {ويجعل من يشاء عقيماً} ، وقد يعود التقصير في بلوغ الأهداف السابقة إلى أسباب من فعلنا كسوء الاختيار والانحراف الخلقي والجهل بطبيعة الحياة الزوجية.. الخ وهذا ما نحن بصدد بيان السبل التي تساعدنا على تجنبه.

 

أول ما يجب على كل من الرجل والمرأة معرفته هو مناط الاختيار. أعني ما الصفات التي يجب أن تتحلى بها المرأة حتى يرغب الرجل في الزواج بها؟ وما الصفات التي
কিভাবে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করবেন?!

আমরা পূর্ব আলোচনা হতে জেনেছি যে, আমাদের বিবাহকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে আমাদের সামনে চারটি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। এই চারটি লক্ষ্য হলো: বংশধারা, মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তি, মানবিক পূর্ণতা অর্জন এবং জীবন বিনির্মাণে পারস্পরিক সহযোগিতা। আমরা এই চারটি লক্ষ্যের সবগুলোই অর্জন করতে পারি, আবার কখনো কখনো স্বামী-স্ত্রীর ইচ্ছার বহির্ভূত কোনো কারণে এর কোনোটি থেকে বঞ্চিত হতে পারি—যেমন সন্তানাদি; কারণ বন্ধ্যাত্ব সাধারণত শারীরিক বা জন্মগত (خَلْقِيَّة) [খ-এর ওপর ফাতাহ ও লাম-এর ওপর সুকুন যোগে] কোনো কারণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং তিনি যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন}। আবার পূর্বোক্ত লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থতার কারণ আমাদের নিজেদের কর্মও হতে পারে, যেমন: মন্দ নির্বাচন, চারিত্রিক বিচ্যুতি এবং বৈবাহিক জীবনের প্রকৃতি সম্পর্কে অজ্ঞতা ইত্যাদি। আমরা এখন সেই সব উপায় বর্ণনা করব যা আমাদের এগুলো পরিহার করতে সাহায্য করবে।

 

নারী ও পুরুষ প্রত্যেকের জন্যই সর্বপ্রথম যা জানা আবশ্যক তা হলো নির্বাচনের মানদণ্ড। অর্থাৎ, একজন নারীর মধ্যে কী কী গুণাবলী থাকা উচিত যাতে একজন পুরুষ তাকে বিবাহ করতে আগ্রহী হয়? এবং কী কী গুণাবলী...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
يجب أن يتحلى بها الرجل حتى ترغب المرأة في الزواج منه؟ وفيما يلي بعض صفات هي مناط الاختيار عند الناس جميعاً سنورد بحول الله كل صفة مبينين القيمة الحقيقية لها وأثرها في الحياة الزوجية.

‌‌أولاً: الأصل أو المعدن أو الأرومة:

لو نظرت إلى مجموعة مختارة من جميع أجناس الأرض وأشكالها لوجدت أنهم يختلفون في مظهرهم وخلقتهم اختلافاً بيناً فهناك الطويل والقصير والألوان على اختلاف درجاتها من الأسود والأبيض والأصفر.. وهناك اختلاف الأشكال والملامح والقسمات.. بل ليس هناك إنسان في الأرض يشبه إنساناً آخر من كل وجه بل لا بد أن يكون هناك اختلاف ما، ولذلك لا تشبه بصمة أصبع بصمة أخرى أبداً.

وهذا الاختلاف الظاهري الشكلي يبدو تافهاً جداً وقليلاً جداً إذا قارناه بالاختلاف النفسي والخلقي فنفوس الناس وصفاتهم الداخلية الخلقية تختلف اختلافاً عظيماً جداً. وأصدق وصف لاختلاف الناس هو قول الرسول صلى الله عليه وسلم: [الناس معادن كمعادن الذهب والفضة وخيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا] ، وفي الحديث
একজন পুরুষকে কী কী গুণাবলি ধারণ করতে হবে যাতে একজন নারী তাকে বিবাহ করতে আগ্রহী হয়? নিম্নে এমন কিছু গুণের কথা উল্লেখ করা হলো যা সকল মানুষের নিকট নির্বাচনের মানদণ্ড। আল্লাহর রহমতে আমরা প্রতিটি গুণের বর্ণনা দেব এবং দাম্পত্য জীবনে সেগুলোর প্রকৃত মূল্য ও প্রভাব ব্যাখ্যা করব।

‌‌প্রথমত: বংশমর্যাদা, স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য বা আদি উৎস:

যদি আপনি পৃথিবীর সকল জাতি ও বর্ণের মধ্য থেকে একটি নির্বাচিত দলের দিকে লক্ষ্য করেন, তবে দেখতে পাবেন যে তাদের বাহ্যিক রূপ ও শারীরিক গঠনে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। সেখানে কেউ দীর্ঘকায়, কেউ খর্বকায়; আবার গায়ের রঙের বিভিন্নতা অনুযায়ী কেউ কৃষ্ণবর্ণ, শ্বেতবর্ণ অথবা পীতবর্ণ। একইভাবে তাদের শারীরিক গঠন, চেহারার অবয়ব ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গেও ভিন্নতা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর কোনো মানুষই অন্য কোনো মানুষের সাথে সব দিক থেকে হুবহু এক নয়, বরং কোনো না কোনো পার্থক্য অবশ্যই থাকবে। আর এ কারণেই একজনের আঙুলের ছাপ কখনোই অন্যজনের আঙুলের ছাপের সাথে হুবহু মিলে যায় না।

আর এই বাহ্যিক বা রূপগত পার্থক্য অত্যন্ত নগণ্য ও সামান্য মনে হবে যদি আমরা একে মানসিক ও চারিত্রিক পার্থক্যের সাথে তুলনা করি। কেননা মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং তাদের অভ্যন্তরীণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যকার পার্থক্য অত্যন্ত প্রকট। মানুষের এই ভিন্নতার সবচেয়ে সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: [মানুষ খনিজ পদার্থের ন্যায়, যেমন সোনা ও রূপার খনি। তাদের মধ্যে যারা জাহেলি যুগে শ্রেষ্ঠ ছিল, ইসলাম গ্রহণের পরও তারা শ্রেষ্ঠ হিসেবে গণ্য হবে যদি তারা দ্বীনি গভীর জ্ঞান অর্জন করে]। আর হাদিসটিতে
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
فوائد عظيمة جداً أهمها: أن كرم الأصل في الجاهلية يساعد على التحلي الكامل بأخلاق الإسلام والقيام بتعاليمه. فالإنسان (خامة) منها النوع الجيد جداً الذي يتشكل بسهول ومن الناس خامات رديئة كالفضة المغشوشة أو المعدن المخلوط الذي لا يصلح مهما حاولت صناعته لشيء. وهناك فارق عظيم بين كرم الأصل، ونقاوته وشهرة العائلة والقبيلة فقد يشتهر غير الكرام وإنما المقصود المعدن البشري. والحق إن معرفة معادن الناس شيء عسير جداً ولا يفهمه إلا صيرفي ماهر، وهذا لا يستطيعه كل الناس ولكن الضابط في هذا هو اشتهار الناس بأخلاق معينة وصفات معروفة، قد تكون هذه الشهرة مبنية على معرفة حقيقية وحوادث ووقائع تفيد العلم اليقيني، وقد تكون مبنية على دعايات وإشاعات كاذبة. فالناس يقولون هؤلاء القوم كرماء شجعان، وأولئك بخلاء جبناء، وهؤلاء القوم تغلبهم نساؤهم، وأولئك يهينون زوجاتهم، وهؤلاء القوم نساؤهم عفيفات محصنات وأولئك نساؤهم مستهترات خليعات وهكذا. المهم أن أخلاق الشعوب والقبائل والفصائل مختلفة متباينة ولذلك وجب علينا النظر في أصول الناس قبل الإقدام على الزواج.

وهذه القاعدة بالطبع قاعدة أغلبية وليست
অত্যন্ত মহান কিছু উপকারিতা রয়েছে যার মধ্যে প্রধান হলো: অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগের (جاهلية) বংশমর্যাদার আভিজাত্য ইসলামের নৈতিক চরিত্রে পূর্ণাঙ্গভাবে ভূষিত হতে এবং এর শিক্ষা পালনে সহায়তা করে। কেননা মানুষ হলো একটি আকর (خامة); যার মধ্যে এমন কিছু অতি উৎকৃষ্ট প্রকার রয়েছে যা খুব সহজেই বিকশিত করা যায়, আবার মানুষের মধ্যে কিছু নিকৃষ্ট আকরও রয়েছে যেমন ভেজাল মিশ্রিত রূপা বা সংকর ধাতু, যা দিয়ে কোনো কিছু তৈরির চেষ্টা করা হলেও তা কোনো কাজে আসে না। বংশমর্যাদার আভিজাত্য ও তার বিশুদ্ধতা এবং পরিবার ও গোত্রের খ্যাতির মধ্যে এক বিশাল পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ অনেক সময় আভিজাত্যহীন ব্যক্তিরাও খ্যাতি অর্জন করতে পারে; বরং এখানে মানুষের মানবিক গুণাবলির আকরই (معدن) উদ্দেশ্য। আর প্রকৃত সত্য হলো মানুষের এই অভ্যন্তরীণ গুণাগুণ (معدن) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ, যা একজন দক্ষ জহুরি ব্যতীত কেউ বুঝতে পারে না। এটি সকল মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, তবে এক্ষেত্রে মানদণ্ড (ضابط) হলো নির্দিষ্ট কোনো চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং সুপরিচিত গুণাবলির মাধ্যমে মানুষের প্রসিদ্ধি লাভ করা। এই প্রসিদ্ধি কখনো প্রকৃত জ্ঞান, ঘটনাপ্রবাহ এবং বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে হতে পারে যা সুনিশ্চিত (يقيني) জ্ঞান প্রদান করে, আবার কখনো তা মিথ্যা প্রচারণা ও গুজবের ওপর ভিত্তি করেও হতে পারে। মানুষ বলে থাকে— অমুক কওম অত্যন্ত দানশীল ও সাহসী, আর অমুকরা কৃপণ ও ভীরু; অমুক কওমের ওপর তাদের নারীরা কর্তৃত্ব করে, আর অমুকরা তাদের স্ত্রীদের অপমান করে; অমুক কওমের নারীরা সচ্চরিত্রা ও সতী-সাধ্বী (محصنات), আর অমুকদের নারীরা বেপরোয়া ও নির্লজ্জ। মূল কথা হলো— বিভিন্ন জাতি, গোত্র ও উপগোত্রের নৈতিক চরিত্র ভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় হয়ে থাকে, তাই বিবাহের পূর্বে মানুষের বংশীয় বুনিয়াদ (أصول) সম্পর্কে লক্ষ্য করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

আর এই নিয়মটি (قاعدة) অবশ্যই একটি সংখ্যাধিক্যভিত্তিক নিয়ম (قاعدة) এবং এটি কোনো...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
قاعدة كلية حتمية فقد يوجد الشجاع من القوم الجبناء، وقد توجد العفيفة المحصنة في القوم الذين لا يأبهون لميل نسائهم وانحراف رجالهم وعلى كل حال فالنظر في الأصول أمر دقيق جليل، ولا يجوز أن نأخذه على وجه العصبية والجاهلية وإنما يجب أن نأخذه على الأمر بحسن الاختيار، فبعض الشعوب وبعض القبائل يرفعون أنفسهم ويتعصبون لها على وجه التعصب والجهل والجاهلية ويمنعون أنفسهم ونساءهم من زواج الآخرين على زعم أنهم خير منهم وقد يكون عند الآخرين من الصفات النفسية والخلقية الطيبة ما ليس عند أولئك.

فنظرنا نحو الأصل يجب أن يكون هو النظر نحو (الخامة) والمعدن: الخامة التي تتوافر فيها الصفات الإنسانية الطيبة. باختصار يجب أن يبحث الرجل عن المرأة (الإنسان) ويجب أن تبحث المرأة عن الرجل (الإنسان) . انظر عندما خطب أبو طلحة وهو مشرك كافر امرأة من المسلمين هي أم سليم قالت له: (يا أبا طلحة والله ما مثلك يرد ولكنك امرؤ كافر وأنا امرأة مسلمة ولا تحل لي فإن تسلم فهو مهري!!) . فقول هذه المرأة الفقيهة: (والله ما مثلك يرد) معناه أن الرجل فيه الصفات الإنسانية التي تطمح المرأة في وجودها في الرجل ولكن
একটি অনিবার্য ও সার্বিক মূলনীতি হলো— ভীরু জাতির মধ্যে কখনও কখনও সাহসী বীরের দেখা মেলে এবং এমন জাতির মধ্যেও সতী-সাধ্বী ও পবিত্রা নারী পাওয়া যায় যারা তাদের নারীদের বিচ্যুতি ও পুরুষদের চারিত্রিক স্খলনের বিষয়ে ভ্রূক্ষেপ করে না। যাই হোক, বংশীয় মূলধারা বা শেকড় বিচার করা একটি সূক্ষ্ম ও মহান বিষয়। একে বংশীয় গোঁড়ামি বা অজ্ঞতার (جاهلية) বশবর্তী হয়ে গ্রহণ করা জায়েজ নয়; বরং একে উত্তম নির্বাচনের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। কারণ কিছু জাতি ও গোত্র নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং অন্ধ গোত্রপ্রীতি ও অজ্ঞতার (جاهلية) বশবর্তী হয়ে নিজেদের আভিজাত্য নিয়ে বাড়াবাড়ি করে। তারা অন্যদের সাথে নিজেদের এবং নিজেদের নারীদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধা দেয় এই ধারণার বশবর্তী হয়ে যে, তারা অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। অথচ অন্যদের মধ্যে এমন মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও উত্তম চরিত্র বিদ্যমান থাকতে পারে যা তাদের মধ্যে নেই।

সুতরাং বংশ বা শেকড়ের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি হওয়া উচিত তার উপাদান ও ধাতুর গুণাগুণ বিচার করা: অর্থাৎ এমন উপাদান যার মধ্যে উত্তম মানবিক গুণাবলি বিদ্যমান থাকে। সংক্ষেপে, একজন পুরুষের উচিত একজন প্রকৃত 'মানুষ' নারীর অনুসন্ধান করা এবং একজন নারীর উচিত একজন প্রকৃত 'মানুষ' পুরুষের খোঁজ করা। লক্ষ্য করুন, যখন আবু তালহা মুশরিক ও কাফির (كافر) থাকা অবস্থায় একজন মুসলিম নারী উম্মে সুলাইমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন, তখন উম্মে সুলাইম তাকে বলেছিলেন: "হে আবু তালহা! আল্লাহর কসম, আপনার মতো ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না; কিন্তু আপনি একজন কাফির (كافر) এবং আমি একজন মুসলিম নারী, তাই আমার জন্য আপনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়। যদি আপনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সেটিই হবে আমার মোহর!" এই বিজ্ঞ ফকিহা (فقيهة) নারীর উক্তি: "আল্লাহর কসম, আপনার মতো ব্যক্তিকে প্রত্যাখ্যান করা যায় না"—এর অর্থ হলো, এই পুরুষের মাঝে এমন সব মানবিক গুণাবলি বিদ্যমান ছিল যা একজন নারী তার জীবনসঙ্গীর মাঝে পেতে আকাঙ্ক্ষা করে, কিন্তু...
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
منعها من الموافقة كفر. باختصار ليكون بحثنا أولاً عن الإنسان.

‌‌ثانياً: الدين:

الدين هو المنهاج الرباني الذي أنزل ليجعل من الإنسان إنساناً كاملاً في صفاته وأخلاقه وليجعل معاملته وتصرفاته في هذه الدنيا على أكمل الوجوه التي تحقق العدل والسعادة، وهذا الدين إذا التقى مع المعدن الإنساني الطيب ووافق القبول صنع الأعاجيب ولكنه إذا صادف المعدن الهش المغشوش صنع في صاحبه بالقدر الذي يحتمله ويطيقه إذا توفر القبول أيضاً.

والتدين الحقيقي شيء خفي لأن حقيقة الدين تتعلق بالقلوب أعظم مما تعلق بالظواهر دلالات وعلامات على الدين ولكنها ليست دلالات ظنية فليس كل من أعفى لحيته، وقص شاربه، ووقف في صفوف الصلاة مع المسلمين كان متديناً مؤمناً بل هذه ظواهر قد تدل على هذا وقد يكون هذا نوعاً من النفاق والمجاراة والاعتياد لا يغني قليلاً أو كثيراً في حقيقة الدين.

وكذلك بالنسبة للمرأة أيضاً فمع أن الحجاب فريضة إسلامية وظاهره يدل على الصلاح والدين والفقه إلا أنه
তাকে সম্মত হতে বাধা দেওয়া কুফর (كفر)। সংক্ষেপে, আমাদের আলোচনা প্রথমে মানুষ সম্পর্কে হওয়া উচিত।

‌‌দ্বিতীয়ত: দীন:

দীন হলো একটি ঐশী জীবনব্যবস্থা যা অবতীর্ণ হয়েছে মানুষকে তার গুণাবলী ও চরিত্রে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এবং এই পৃথিবীতে তার আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে এমন এক নিখুঁত রূপ দান করতে যা ন্যায়বিচার ও সুখ নিশ্চিত করে। এই দীন যখন কোনো উত্তম মানবীয় প্রকৃতির সংস্পর্শে আসে এবং তা কবুল করার মানসিকতা থাকে, তখন তা বিস্ময়কর ফল বয়ে আনে। কিন্তু যদি তা ভঙ্গুর ও খাদযুক্ত মানবীয় প্রকৃতির সম্মুখীন হয়, তবে তা তার ধারণক্ষমতা ও সামর্থ্য অনুযায়ী তার মধ্যে প্রভাব বিস্তার করে, যদি সেখানে গ্রহণের মানসিকতা বিদ্যমান থাকে।

প্রকৃত ধার্মিকতা একটি প্রচ্ছন্ন বিষয়, কারণ দীনের হাকীকত বাহ্যিক নিদর্শনের চেয়ে অন্তরের সাথে অধিকতর সম্পৃক্ত। বাহ্যিক বিষয়গুলো দীনের নিদর্শন ও চিহ্ন হতে পারে, তবে সেগুলো ধারণাপ্রসূত (ظنية) প্রমাণ নয়। সুতরাং দাড়ি রাখা, গোঁফ ছাঁটা এবং মুসলমানদের সাথে নামাযের কাতারে দাঁড়ানো মানেই যে সে ধার্মিক ও মুমিন হয়ে গেছে এমন নয়। বরং এগুলো এমন কিছু বাহ্যিক রূপ যা কখনো নির্দেশক হতে পারে, আবার কখনো তা এক প্রকারের কপটতা (نفاق), লোকদেখানো বা নিছক অভ্যাসবশতও হতে পারে, যা দীনের প্রকৃত হাকীকতের ক্ষেত্রে সামান্যতম কোনো উপকারে আসে না।

নারীদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। যদিও হিজাব একটি ইসলামি অত্যাবশ্যকীয় (فريضة) বিধান এবং বাহ্যিকভাবে এটি নেককার হওয়া, দীনদারিতা ও ফিকহ (فقه) বা প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়, তবুও এটি
(খণ্ড: ১) আজ-জাওয়াজু ফি জিললিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ليس دليلاً قطعياً على ذلك ولكنه ظاهر فقط قد يكون نوعاً من النفاق والمجاراة والعادة أيضاً. والذي نعنيه هنا في اختيار الزوج الصالح والزوجة الصالحة البحث عن الدين الحقيقي أو كما قلنا آنفاً الدين الحقيقي لا يعمل على وجه القطع ولكن بغلبة الظن، وأداء الشعائر والحفاظ عليها قرائن ظاهرية إذ ضممنا بعضها إلى بعض قد نحصل على نتيجة حقيقية. وهذا أقوله حتى لا يتعثر بعض الشباب بالقشرة الخارجية لبعض الفتيات، ولا تتعثر أيضاً بعض الفتيات الطيبات الصالحات بالقشور الخارجية لبعض الرجال.

ولذلك كان سؤال عمر بن الخطاب عن الرجال هو التعامل بالدينار والدرهم. فقد سأل رجلاً فقال: هل تعرف فلاناً؟ قال: نعم. قال: هل عاملته بالدينار والدرهم؟ قال: لا. قال: إذن لا تعرفه. فمعرفة الدين الحقيقي لا يكون إلا بالمواقف والتعامل ومن أحرج المواقف التي تظهر الرجال المعاملة بالدينار والدرهم لأن النفوس مجبولة على حب المال فإذا تغلب الدين ومراقبة الله على النفس في هذه القضية دل هذا على وجود الدين. ولذلك يجب علينا في البحث عن الزواج أن نبحث عن حقيقة الدين وأن نأخذ من مجموع التصرفات والمعاملات هدايا
এটি তার ওপর কোনো অকাট্য (قطعي) দলিল নয়, বরং এটি কেবল প্রকাশ্য (ظاهر); যা এক প্রকারের মুনাফেকি, তোষামোদ কিংবা নিছক অভ্যাসের কারণেও হতে পারে। আর সৎ স্বামী ও সৎ স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা এখানে যা বুঝাতে চাচ্ছি তা হলো প্রকৃত দীনদারির অনুসন্ধান করা; অথবা আমরা যেমনটি আগে বলেছি, প্রকৃত দীনদারির ক্ষেত্রে অকাট্য নিশ্চয়তার (قطع) ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, বরং তা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ভিত্তিতে হয়ে থাকে। আর ধর্মীয় বিধানাবলি পালন ও তা রক্ষা করা হলো কিছু প্রকাশ্য আলামত (قرائن ظاهرية); যদি আমরা এগুলোর একটির সাথে অপরটিকে যুক্ত করি, তবে আমরা একটি প্রকৃত ফলাফল পেতে পারি। আমি এ কথাটি এ জন্য বলছি যাতে কোনো যুবক কিছু মেয়ের বাহ্যিক আবরণে বিভ্রান্ত না হয়, তেমনি কোনো পুণ্যবতী ও সৎ মেয়েও যেন কিছু পুরুষের বাহ্যিক আবরণে বিভ্রান্ত না হয়।

এ কারণেই মানুষের (সততা) সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাব-এর জিজ্ঞাসা ছিল দিনার ও দিরহামের মাধ্যমে লেনদেন সংক্রান্ত। তিনি এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "তুমি কি অমুক ব্যক্তিকে চেনো?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তুমি কি তার সাথে দিনার ও দিরহামের লেনদেন করেছ?" সে বলল: "না।" তিনি বললেন: "তাহলে তুমি তাকে চেনো না।" সুতরাং প্রকৃত দীনদারি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয় কেবল বিভিন্ন পরিস্থিতি ও লেনদেনের মাধ্যমে। আর মানুষের আসল রূপ প্রকাশের অন্যতম জটিল ক্ষেত্র হলো দিনার ও দিরহামের লেনদেন; কারণ মানুষের আত্মা ধন-সম্পদের ভালোবাসার ওপর স্বভাবজাতভাবেই আসক্ত। যদি এই বিষয়ে মানুষের নফসের ওপর দীনদারি ও আল্লাহর নজরদারির (مراقبة الله) অনুভূতি প্রবল হয়, তবে তা দীনদারির অস্তিত্বের প্রমাণ বহন করে। তাই বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের উচিত প্রকৃত দীনদারি অনুসন্ধান করা এবং সামগ্রিক আচরণ ও লেনদেন থেকে সঠিক নির্দেশনা গ্রহণ করা।