(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
الخراج وصناعة الكتابة   (قدامة بن جعفر)

القسم: الفقه العام


الكتاب: الخراج وصناعة الكتابة

المؤلف: قدامة بن جعفر بن قدامة بن زياد البغدادي، أبو الفرج (ت 337هـ)

الناشر: دار الرشيد للنشر، بغداد

الطبعة: الأولى، 1981 م

عدد الصفحات: 623

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-খারাজ ওয়া সিনায়াত আল-কিতাবাহ্   (কুদামা বিন জাফর)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


গ্রন্থ: আল-খারাজ ওয়া সিনায়াত আল-কিতাবাহ্

গ্রন্থকার: কুদামা বিন জাফর বিন কুদামা বিন জিয়াদ আল-বাগদাদি، আবু আল-ফারাজ (মৃত্যু ৩৩৭ হি.)

প্রকাশক: দার আল-রশিদ পাবলিকেশন্স، বাগদাদ

সংস্করণ: প্রথম، ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৩

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: -)
أبو الفرج قدامة بن جعفر بن قدامة بن زياد، الكاتب البغدادي.

 

لا توجد لدينا معلومات عن تاريخ ولادته وأما تاريخ وفاته فهي ما بين سنتي 327 و 337 هـ. نشأ في أسرة مسيحية قاطنة في البصرة وكان من المقربين للبلاط العباسي. يقول ابن النديم: «كان نصرانياً، وأسلم على يد المكتفي بالله وكان قدامة أحد البلغاء الفصحاء، والفلاسفة الفضلاء ممن يشار إليه في علم المنطق» . عُهدت إليه بعد إسلامه مناصب حكومية رفيعة وتولى في أواخر حياته منصب صاحب البريد. وكان إلى جانب عمله الإداري مهتم بالمسائل الأدبية. قدّم في إحدى كتبه نظرية جريئة في الشعر تشابه نظرية ابن المعتز وقد تجلت فيها نفوذ الفلسفة اليونانية التي من المحتمل أن يكون قد تعرف عليها وفق تقاليد أسرته.

 

آثاره

أشار ابن النديم إلى طائفة من مؤلفاته، منها: كتاب الخراج وصنعة الكتابة، كتاب نقد الشعر، كتاب صابون الغم، كتاب صرف الهم، كتاب جلاء الحزن، كتاب درياق الفكر، كتاب السياسة، كتاب الرد على ابن المعتز فيما عاب به أبا تمام، كتاب حشو حشا الجليس، كتاب صناعة الجدل، كتاب الرسالة في أبي علي بن مقلة (النجم الثاقب) ، كتاب زهر الربيع في الأخبار وغيرها.
আবুল ফারাজ কুদামা ইবনে জাফর ইবনে কুদামা ইবনে জিয়াদ, আল-কাতিব আল-বাগদাদি।

 

তাঁর জন্মতারিখ সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই, তবে তাঁর মৃত্যু ৩২৭ থেকে ৩৩৭ হিজরি সালের মধ্যবর্তী সময়ে হয়েছিল। তিনি বসরার এক খ্রিস্টান পরিবারে লালিত-পালিত হন এবং আব্বাসীয় রাজদরবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনুন নাদিম বলেন: «তিনি খ্রিস্টান ছিলেন এবং আল-মুকতাফি বিল্লাহর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। কুদামা ছিলেন অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও বাগ্মী ব্যক্তিদের অন্যতম এবং এমন একজন শ্রেষ্ঠ দার্শনিক, যাদের নাম যুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়»। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁকে উচ্চপদস্থ সরকারি পদে আসীন করা হয় এবং জীবনের শেষ দিকে তিনি ডাক বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি তিনি সাহিত্যিক বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন। তিনি তাঁর একটি গ্রন্থে কবিতা বিষয়ে একটি সাহসী তত্ত্ব উপস্থাপন করেন যা ইবনুল মু'তাযের তত্ত্বের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ; এতে গ্রিক দর্শনের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়, যা সম্ভবত তিনি তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্রে জেনেছিলেন।

 

রচনাবলি

ইবনুন নাদিম তাঁর একগুচ্ছ রচনার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: কিতাব আল-খারাজ ওয়া সানআতুল কিতাবাহ, কিতাব নাকদুশ শি'র, কিতাব সাবুনুল গাম, কিতাব সারফুল হাম, কিতাব জালাউল হুজন, কিতাব দিরইয়াকুল ফিকর, কিতাব আস-সিয়াসাহ, কিতাব আর-রাদ্দু আলা ইবনিল মু'তায ফিমা আবা বিহি আবা তাম্মাম, কিতাব হাশউ হাশাল জালিস, কিতাব সিনাআতুল জাদাল, কিতাব আর-রিসালাহ ফি আবি আলি ইবনে মুকলা (আন-নাজমুস সাক্বিব), কিতাব যাহরুর রাবি' ফিল আখবার এবং অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المقدمة

‌‌قدامة بن جعفر

أصله:

وهو أبو الفرج «1» قدامة بن جعفر بن قدامة بن زياد، الكاتب البغدادي «2» وأبوه أبو القاسم جعفر بن قدامة بن زياد، وقد اختلف المؤرخون في نباهته ومعرفته في الادب، فقد وصفه ابن النديم، في كتابه الفهرست: وصفا يدل على خموله وخلوه من العلم والمعرفة، فقال: «وكان أبوه جعفر ممن لا تفكر فيه، ولا علم عنده» «3» . ولكن الخطيب البغدادي يخالف رأي ابن النديم ويثنى عليه ثناء كبيرا وعلى معرفته وسعة اطلاعه في فنون الادب والعلم فيقول عنه «انه أحد مشايخ الكتاب وعلمائهم وينعته بوفرة الادب، وحسن المعرفة» ويذكر ان له مؤلفات في صناعة الكتابة، وانه تحدث عن أكابر العلماء الذين تلقى عنهم، والادباء الذين جالسهم، كأبي العيناء الضرير، وحماد بن أسحق الموصلي، ومحمد بن يزيد المبرد ومحمد بن عبد الله بن مالك الخزاعي وغيرهم. ومن رواته أبو الفرج الاصبهاني صاحب كتاب الاغاني، وقد توفي أبو القاسم يوم الثلاثاء لثمان بقين من جمادي الاخرة سنة 329 هـ.
ভূমিকা

কুদামাহ ইবনে জাফর

পরিচয়:

তিনি হলেন আবুল ফারাজ কুদামাহ ইবনে জাফর ইবনে কুদামাহ ইবনে জিয়াদ, আল-কাতিব আল-বাগদাদি। তাঁর পিতা হলেন আবুল কাসিম জাফর ইবনে কুদামাহ ইবনে জিয়াদ। ঐতিহাসিকগণ তাঁর মেধা এবং সাহিত্যজ্ঞান নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইবনে নাদিম তাঁর আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থে তাঁর এমন বর্ণনা দিয়েছেন যা তাঁর অখ্যাতি এবং জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অভাবকে নির্দেশ করে। তিনি বলেন: "তাঁর পিতা জাফর এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদের নিয়ে ভাবার কিছু নেই এবং যার কাছে কোনো জ্ঞান ছিল না।" কিন্তু খতিব বাগদাদি ইবনে নাদিমের মতের বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর ও তাঁর জ্ঞান এবং সাহিত্য ও বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় তাঁর ব্যাপক পাণ্ডিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেন যে, "তিনি লেখকদের অন্যতম শায়খ (مشايخ) ও আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত।" তিনি তাঁকে সাহিত্যের প্রাচুর্য এবং উত্তম জ্ঞানের অধিকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লিখনশৈলী শিল্পের ওপর তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি সে সকল মহান আলেমদের (علماء) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন যাঁদের নিকট থেকে তিনি পাঠ গ্রহণ করেছেন, এবং সেই সকল সাহিত্যিকদের কথা বলেছেন যাঁদের মজলিসে তিনি বসেছেন; যেমন— আবু আল-আইনা আদ-দারির, হাম্মাদ ইবনে ইসহাক আল-মাওসিলি, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুবররাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-খুজাই প্রমুখ। তাঁর বর্ণনাকারীদের (رواة) মধ্যে রয়েছেন কিতাবুল আগানি-র রচয়িতা আবু আল-ফারাজ আল-ইসফাহানি। আবুল কাসিম ৩২৯ হিজরির জামাদিউল আখিরা মাসের আট দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার দিন ইন্তেকাল করেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
أما جده، فأن المعلومات التي بين أيدينا قليلة جدا لا تكفي لا عطاء صورة واضحة عن حياة هذا الرجل، وكل الذي يعرفه المؤرخون عنه ما أورده الجاحظ عنه فقال: «وقال قدامة حكيم المشرق في وصف الذهن شعاع مركوم، ونسيم معقود، ونور بصاص، وهو النار الخامدة، والكبريت الاحمر» «4» . وكذلك أورد الجاحظ نصا آخر في كتابه، فخر السودان من مجموعة رسائله عند الحديث على قبة قصر غمدان، قال: وفيها يقول قدامة حكيم المشرق وكان صاحب كيمياء:

فأوقد فيها ناره ولو أنها … أقامت كعمر الدهر لم تتصرم

لقد كانت حياة قدامة شديدة الخفاء لان المعلومات التي قدمها لنا المؤرخون شحيحة جدا وضئيلة لا تتناسب مع غزارة علمه وسعة مداركه فهي لا تكفي لتكوين صورة حقيقية، واضحة كل الوضوح، وغير كافية للكشف عن جميع الجوانب المضيئة لحياة هذا العالم الفذ.

وأقدم من نوه عن حياة قدامة من المؤرخين والمترجمين ابن النديم صاحب كتاب الفهرست، ولكن هذا الشيء الذي ذكره ابن النديم كان ضئيلا جدا لا يكفي لان يكون الباحث عنه فكرة واضحة فقال:-

«هو قدامة بن جعفر بن قدامة، وكان نصرانيا، وأسلم على يد المكتفي بالله وكان قدامة أحد البلغاء الفصحاء، والفلاسفة الفضلاء ممن يشار اليه في علم المنطق، وكان أبوه جعفر ممن لا تفكر فيه، ولا علم عنده» «5» .

وممن ذكره أيضا أبو الفرج بن الجوزي في كلمات قليلة جدا فقال عنه:-
তাঁর পিতামহের ব্যাপারে আমাদের হাতে থাকা তথ্য অত্যন্ত নগণ্য যা এই ব্যক্তির জীবন সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ চিত্র প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত নয়। ঐতিহাসিকগণ তাঁর সম্পর্কে যা জানেন তা কেবল আল-জাহিজ তাঁর সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছেন তা-ই; তিনি বলেছেন: «প্রাচ্যের প্রজ্ঞাবান (حكيم) কুদামা মেধার বর্ণনায় বলেছেন যে, তা একটি পুঞ্জীভূত রশ্মি, ঘনীভূত সমীরণ এবং এক উজ্জ্বল জ্যোতি; এটি একটি সুপ্ত আগুন এবং লাল গন্ধক (الكبريت الاحمر)»। একইভাবে আল-জাহিজ তাঁর পত্রাবলির সংকলন 'ফাখরুস সুদান' গ্রন্থে গামদান প্রাসাদের গম্বুজ সম্পর্কে আলোচনার সময় অন্য একটি পাঠ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: এবং এতে প্রাচ্যের প্রজ্ঞাবান (حكيم) কুদামা—যিনি রসায়নবিদ (صاحب كيمياء) ছিলেন—বলেছেন:

সুতরাং তিনি সেখানে তাঁর আগুন প্রজ্বলিত করেছিলেন, আর যদি তা … মহাকালের সমান আয়ুও পেত, তবে তা নিঃশেষ হতো না।

কুদামার জীবন ছিল অত্যন্ত অপ্রকাশিত, কারণ ঐতিহাসিকগণ আমাদের কাছে যে তথ্য তুলে ধরেছেন তা অতি সামান্য ও নগণ্য, যা তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য ও চিন্তাশক্তির বিশালতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়। ফলে এই অনন্য মনীষীর জীবনের সকল উজ্জ্বল দিক উন্মোচন করতে এবং একটি প্রকৃত ও স্বচ্ছ চিত্র গঠনের জন্য তা যথেষ্ট নয়।

ঐতিহাসিক ও জীবনীকারদের (المترجمين) মধ্যে আল-ফিহরিস্ত গ্রন্থের রচয়িতা ইবনুন নাদিমই সর্বপ্রথম কুদামার জীবন সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। কিন্তু ইবনুন নাদিম যা উল্লেখ করেছেন তা ছিল অত্যন্ত নগণ্য, যা কোনো গবেষকের জন্য তাঁর সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা লাভের জন্য যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেছেন: -

«তিনি হলেন কুদামা ইবনে জাফর ইবনে কুদামা। তিনি খ্রিস্টান ছিলেন এবং আল-মুকতাফি বিল্লাহর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। কুদামা ছিলেন অন্যতম বাগ্মী (البلغاء), সাবলীলভাষী (الفصحاء) এবং প্রাজ্ঞ দার্শনিকদের (الفلاسفة الفضلاء) একজন, যুক্তিবিদ্যার (علم المنطق) ক্ষেত্রে যাঁর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। আর তাঁর পিতা জাফর এমন ব্যক্তি ছিলেন যার ব্যাপারে আলোচনার কিছু নেই এবং তাঁর কাছে কোনো জ্ঞানও ছিল না»।

যাঁরা তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন তাঁদের মধ্যে আবুল ফারাজ ইবনুল জাওজিও রয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শব্দে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: -
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
«قدامة بن جعفر، أبو الفرج الكاتب له كتاب حسن في الخراج وصناعة الكتابة، وقد سأل ثعلبا عن أشياء» «6» .

وكذلك ذكره أبو الفتح ناصر بن عبد السيد المطرزي في أثناء شرحه لمقامات الحريري بما يأتي:-

«قدامة هو أبو الفرج قدامة بن جعفر بن قدامة بن زياد، الكاتب البغدادي، المضروب به المثل في البلاغة، وقيل، هو أول من وضع الحساب، وظني انه أدرك أيام المقتدر بالله وابنه الراضي بالله، وله تصانيف كثيرة» «7» .

وكذلك أبو الفدا قال عنه قولا لا يخرج ولا يختلف عما ذكره ابن الجوزي مما يعطينا فكرة بأنه نقل عنه.

أما الملك الافضل، فلا يكاد يخرج في ترجمته عن ترجمة ابن النديم.

فيقول:-

«قدامة بن جعفر، العلامة الاخباري، الكاتب البليغ، كان فيلسوفا نصرانيا، ثم أسلم، وكان صاحب علوم كثيرة، وله تصانيف مفيدة، ومعرفة بليغة بالمنطق، أخذ عن ابن قتيبة والمبرد. توفي لبضع وثلثمائة» «8» .

وقد ترجم له العيني بشيء يسير لا يختلف كثيرا عمن ترجم له ممن سبق. فقال: «له كتاب حسن في الخراج وصناعة الكتابة، وقد سأل ثعلبا عن أشياء، وبه يقتدي علماء هذا الشأن» «9» .
«কুদামা বিন জাফর, আবুল ফারাজ আল-কাতিব; ‘আল-খারাজ’ এবং ‘সিনাআতুল কিতাবাহ’ (লেখাশৈলী) বিষয়ে তাঁর একটি উত্তম গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ছা’লাব-কে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন» «৬»।

অনুরূপভাবে আবুল ফাতহ নাসির বিন আব্দুস সাইয়্যিদ আল-মুতাররিজি ‘মাকামাত আল-হারিরি’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে নিম্নোক্ত বর্ণনা প্রদান করেছেন:-

«কুদামা হলেন আবুল ফারাজ কুদামা বিন জাফর বিন কুদামা বিন যিয়াদ, বাগদাদী লেখক, যাঁর অলঙ্কারশাস্ত্রের পাণ্ডিত্য প্রবাদতুল্য। বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই সর্বপ্রথম হিসাববিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। আমার ধারণা, তিনি আল-মুকতাদির বিল্লাহ এবং তাঁর পুত্র আর-রাজি বিল্লাহর সময়কাল পেয়েছিলেন এবং তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে» «৭»।

অনুরূপভাবে আবুল ফিদাও তাঁর সম্পর্কে এমন কথা বলেছেন যা ইবনুল জাওযীর বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভিন্ন কিছু নয়, যা আমাদের এই ধারণা দেয় যে তিনি তাঁর কাছ থেকেই এটি উদ্ধৃত করেছেন।

আর আল-মালিক আল-আফদাল তাঁর জীবনী বর্ণনায় ইবনু নাদীমের বর্ণিত জীবনীর প্রায় অনুরূপ বর্ণনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন:-

«কুদামা বিন জাফর, প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা (إخباري), প্রাঞ্জল লেখক; তিনি একজন খ্রিস্টান দার্শনিক ছিলেন, পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, তাঁর অনেক উপকারী রচনা রয়েছে এবং যুক্তিবিদ্যায় তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি ইবনু কুতাইবা ও আল-মুবররাদ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি তিনশত হিজরীর কয়েক বছর পর মৃত্যুবরণ করেন» «৮»।

আল-আইনী তাঁর জীবনী অত্যন্ত সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন যা পূর্ববর্তীদের বর্ণনার চেয়ে খুব একটা ভিন্ন নয়। তিনি বলেছেন: «‘আল-খারাজ’ এবং ‘সিনাআতুল কিতাবাহ’ (লেখাশৈলী) বিষয়ে তাঁর একটি উত্তম গ্রন্থ রয়েছে এবং তিনি ছা’লাব-কে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন। এই শাস্ত্রের আলেমগণ তাঁকে অনুসরণ করে থাকেন» «৯»।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وكل الذي استطعنا ان نستلخصه مما كتبه المؤرخون، ان قدامة كان نصرانيا. وأسلم على يد الخليفة المكتفي بالله العباسي. وكان قدامة أحد البلغاء الفصحاء والفلاسفة الفضلاء ممن يشار اليه في علم المنطق، جالس ابن قتيبة والمبرد وثعلبا. اشتهر بالكتابة والحساب والمنطق والبلاغة ونقد الشعر، وله كتب كثيرة.

وقد ذكر ياقوت الحموي «10» : انه تولى الكتابة لابن الفرات، في ديوان الزمام ويقال انه كتب لبني بويه لمعز الدولة البويهي.

توفي سنة 328 هـ وقيل سنة 337 هـ في أيام الخليفة المطيع العباسي.

وقد وضع كتبا كثيرة هي «11» :-

1- كتاب الخراج وصنعة الكتابة.

2- كتاب نقد الشعر (مخطوط) .

3- كتاب صابون الغم (مخطوط) .

4- كتاب صرف الهم (مخطوط) .

5- كتاب جلاء الحزن (مخطوط) .

6- كتاب درياق الفكر (مخطوط) .

7- كتاب السياسة (مخطوط) .

8- كتاب الرد على ابن المعتز فيما عاب به أبا تمام (مخطوط) .

9- كتاب حشو حشا الجليس (مخطوط) .

10- كتاب صناعة الجدل.

11- كتاب الرسالة في أبي علي بن مقلة وتعرف بالنجم الثاقب (مخطوط) .
ঐতিহাসিকদের বর্ণনা থেকে আমরা যা সারসংক্ষেপ করতে পেরেছি তা হলো, কুদামা খ্রিস্টান ছিলেন। এরপর তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-মুকতাফি বিল্লাহর হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন। কুদামা ছিলেন অন্যতম প্রাঞ্জলভাষী বাগ্মী এবং বিদগ্ধ দার্শনিক, যুক্তিবিদ্যায় যাঁকে আদর্শ গণ্য করা হতো; তিনি ইবনে কুতায়বাহ, আল-মুবররাদ এবং সা'লাবের সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তিনি লিখনশৈলী, গণিত, যুক্তিবিদ্যা, অলঙ্কারশাস্ত্র এবং কাব্য সমালোচনার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং তাঁর অসংখ্য কিতাব রয়েছে।

ইয়াকুত আল-হামাউই উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ইবনে আল-ফুরাতের অধীনে 'দিওয়ান আল-জিমাম'-এ সচিবের দায়িত্ব পালন করেন এবং বলা হয় যে, তিনি বনু বুয়াইহিদের আমলে মুইয উদ-দৌলা বুয়াইহির অধীনেও সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি ৩২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতি'-র শাসনামলে ৩৩৭ হিজরিতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তিনি অনেকগুলো কিতাব রচনা করেছেন, সেগুলো হলো: «১১» :-

1- কিতাবুল খারাজ ওয়া সিনাআতুল কিতাবাহ।

2- কিতাবু নাকদিশ শি’র (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

3- কিতাবু সাবুনিল গাম (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

4- কিতাবু সারফিল হাম (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

5- কিতাবু জালাইল হুযন (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

6- কিতাবু দিরইয়াকিল ফিকর (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

7- কিতাবুস সিয়াসাহ (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

8- কিতাবুর রাদ্দু আলা ইবনিল মু'তায ফিমা আবা বিহি আবা তাম্মাম (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

9- কিতাবু হাশউ হাশাল জালিস (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

10- কিতাবু সিনাআতিল জাদাল।

11- কিতাবুর রিসালাহ ফি আবি আলী ইবনু মুকলাহ, যা 'আন-নাজমুস সাকিব' নামেও পরিচিত (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
12- كتاب نزهة القلوب وزاد المسافر (مخطوط) .

13- كتاب زهر الربيع في الاخبار (مخطوط) .

14- كتاب «نقد النثر» المعروف بكتاب «البيان» من نسخة خطية في مكتبة الاسكوريال في أسبانيا. الرقم 242. وقد حققه، طه حسين وعبد الحميد العبادي- القاهرة 1933 م.

15- كتاب «جواهر الالفاظ» منه نسخة في مدرسة النبي شيت بالموصل.

وصفها الدكتور داود الجلبي في مخطوطات الموصل. ص 206، الرقم 4. وقد طبع في القاهرة سنة 1932 م، وطبع طبعة ثانية 1979 م.

16- تفسير بعض المقالة الاولى من كتاب «سمع الكيان» لارسطو، ذكره الحاج خليفة في كتابه كشف الظنون (استانبول 1943) ص 1003.
12- কিতাব নুযহাতুল কুলুব ওয়া যাদুশ মুসাফির (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

13- কিতাব যাহরুর রাবি' ফিল আখবার (পাণ্ডুলিপি (مخطوط))।

14- "নাকদুন নাছর" নামক গ্রন্থ, যা "আল-বায়ান" গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত; এটি স্পেনের এসকোরিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি (نسخة خطية) থেকে প্রাপ্ত। নম্বর ২৪২। এটি সম্পাদনা (تحقيق) করেছেন তাহা হুসাইন এবং আব্দুল হামিদ আল-আব্বাদী- কায়রো ১৯৩৩ খ্রি.।

15- "জাওয়াহিরুল আলফাজ" গ্রন্থ, এর একটি অনুলিপি (نسخة) মসুলের মাদ্রাসা আন-নবী শিত-এ রয়েছে।

ডক্টর দাউদ আল-চালাবি 'মাখতুতাতুল মাওসিল' গ্রন্থে এর বর্ণনা দিয়েছেন। পৃষ্ঠা ২০৬, নম্বর ৪। এটি ১৯৩২ সালে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে এবং ১৯৭৯ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ (طبعة) প্রকাশিত হয়েছে।

16- এরিস্টটলের "সামউল কিয়ান" গ্রন্থের প্রথম প্রবন্ধের একাংশের ব্যাখ্যা (تفسير); হাজি খলিফা তার "কাশফুয যুনুন" (ইস্তাম্বুল ১৯৪৩) গ্রন্থের ১০০৩ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌كتاب الخراج

وهو من الكتب الجيدة التي ألفها قدامة بن جعفر، ومن الكتب الحسان «1» وبه يقتدي علماء هذا الشأن «2» ، فمن طالعه عرف غزارة فضله وتبحره في العلم «3» . وأتى فيه بكل ما يحتاج الكتاب اليه، هكذا وصف الاقدمون (كتاب الخراج وصناعة الكتابة) . وقد رتبه قدامة على ثماني منازل- وقيل تسع منازل- خصص كل منزلة منها لبحث موضوع مستقل عن غيره، وقد أيد ذلك جمهرة من الاقدمين.

يقول ياقوت وهو يتحدث عن قدامة:- «قال محمد بن اسحاق:

وله من الكتب كتاب الخراج تسع منازل، وكانت ثمانية فأضاف اليه تاسعا» ، وهو يقول «وله كتاب في الخراج رتبه مراتب وأتى فيه بكل ما يحتاج الكاتب اليه» «4» .

وقال المطرزي، عن قدامة:- «وله تصانيف كثيرة منها كتاب صنعة الكتابة ظفرت به وعثرت فيه على ضوال منشودة، وهو كتاب يشتمل على
কিতাবুল খারাজ

এটি কুদামা ইবনে জাফর কর্তৃক রচিত একটি উৎকৃষ্ট মানের গ্রন্থ এবং একটি চমৎকার (حسان) গ্রন্থ। এই শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ একেই অনুসরণ করেন। যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তাঁর জ্ঞানের প্রাচুর্য ও পাণ্ডিত্যের গভীরতা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে। তিনি এতে এমন সব বিষয় সন্নিবেশিত করেছেন যা একজন লেখকের জন্য আবশ্যক; এভাবেই পূর্বসূরিগণ 'কিতাবুল খারাজ ওয়া সিনআতুল কিতাবা' গ্রন্থটির বর্ণনা দিয়েছেন। কুদামা গ্রন্থটিকে আটটি পর্বে—কারও মতে নয়টি পর্বে—বিন্যস্ত করেছেন এবং প্রতিটি পর্বকে ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র বিষয়ের আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; পূর্ববর্তীদের এক বিরাট অংশ এই মতকে সমর্থন করেছেন।

ইয়াকুত কুদামা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক বলেছেন:

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে 'কিতাবুল খারাজ' নয়টি পর্ব বিশিষ্ট, যা পূর্বে আটটি ছিল এবং পরবর্তীতে তিনি নবম পর্বটি যুক্ত করেছেন।" তিনি আরও বলেন, "তাঁর খারাজ বিষয়ক একটি গ্রন্থ আছে যা তিনি বিভিন্ন স্তরে সাজিয়েছেন এবং একজন লেখকের যা কিছু প্রয়োজন তার সবটুকুই সেখানে নিয়ে এসেছেন।"

আল-মুতরিজি কুদামা সম্পর্কে বলেন: "তাঁর অনেকগুলো রচনা রয়েছে, যার মধ্যে 'কিতাবুন সানআতুল কিতাবা' অন্যতম। আমি এটি সংগ্রহ করতে পেরেছি এবং এতে এমন সব অমূল্য তথ্যের সন্ধান পেয়েছি যা দীর্ঘকাল অন্বেষিত ছিল। এটি এমন একটি গ্রন্থ যাতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে..."
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
سبع منازل «كذا» وكل منزلة منها تحتوي على أبواب مختلفة ضمنه، خصائص الكتاب والبلغاء فمن طالعه عرف غزارة فضله وتبحره في العلم» «5» .

والذي بين أيدينا من هذا الكتاب المنازل الاربعة الاخيرة، أما المنازل الاربعة الاولى فلم تصل الينا حتى الان، ولعل يد الحدثان قد امتدت اليها.

وقد شملت هذه المنازل المفقودة- مما أشار اليه قدامة نفسه في المخطوط- أمورا في غاية الاهمية.

قال قدامة، في المنزلة الخامسة، عند التكلم عن ديوان الرسائل قد ذكرنا في المنزلة الثالثة من أمر البلاغة، ووجه تعلمها، ثم تكلم في المنزلة الرابعة عن مجلس الانشاء (أو ديوان الانشاء) فقال:- بينا في المنزلة الرابعة عن ذكر مجلس الانشاء وجوها عن المكاتبات في الامور الخراجية، ينتفع بها ويكون فيها تبصير لمن يروم المكاتبة ومعناها.

أما المنزلتان الاولى والثانية فليس لدينا أي دليل على ما عالج قدامة فيهما.

أما المنزلة الخامسة، فيتكلم قدامة عن دواوين الدولة، ودواوين البريد والسكك والطرق. ونواحي المشرق والمغرب ودراسة جغرافية الارض في المنزلة السادسة. (وقد طبع قسم منه مع كتاب المسالك والممالك لابن خرداذبة) وتكلم عن وجوه الاموال في المنزلة السابعة وشؤون المجتمع الانساني وأسباب قوته وعوامل ضعفه وتدهوره وانحطاطه، ونظم الحكم في البلاد وما ينبغي للحكم وما يجب عليهم في المنزلة الثامنة.

وقد ألف هذا الكتاب في القرن الرابع الهجري. وقد رجح (دي غوية) ان قدامة ألفه بعد سنة 316 هـ بقليل، ذلك ان قدامة تحدث في ثنايا كتابه
সাতটি মঞ্জিল (স্তর) «অনুরূপ» এবং এর প্রতিটি মঞ্জিল তার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত, যা লেখক এবং অলঙ্কারবিদদের বৈশিষ্ট্যসমূহ ধারণ করে। সুতরাং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে, সে তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রাচুর্য এবং ইলমের ক্ষেত্রে তার গভীরতা সম্পর্কে অবগত হতে পারবে।

এই কিতাবটির যা বর্তমানে আমাদের হাতে বিদ্যমান তা হলো শেষ চারটি মঞ্জিল। আর প্রথম চারটি মঞ্জিল এখন পর্যন্ত আমাদের নিকট পৌঁছেনি; সম্ভবত কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে।

এই হারানো মঞ্জিলগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছিল—যা খোদ কুদামা পাণ্ডুলিপির মধ্যে ইঙ্গিত করেছেন।

কুদামা পঞ্চম মঞ্জিলে ‘দিওয়ানুর রাসায়িল’ সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেন: আমরা অলঙ্কারশাস্ত্রের বিষয়াদি এবং তা শেখার পদ্ধতি সম্পর্কে তৃতীয় মঞ্জিলে উল্লেখ করেছি। অতঃপর তিনি চতুর্থ মঞ্জিলে ‘মজলিসুল ইনশা’ (বা দিওয়ানুল ইনশা) সম্পর্কে বলেন: আমরা চতুর্থ মঞ্জিলে মজলিসুল ইনশা উল্লেখ প্রসঙ্গে ভূমি-রাজস্ব সংক্রান্ত পত্রালাপের এমন সব দিক ব্যাখ্যা করেছি যা উপকারী হবে এবং যারা পত্রালাপের পদ্ধতি ও তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করতে চায় তাদের জন্য তা হবে দিকনির্দেশনাস্বরূপ।

প্রথম এবং দ্বিতীয় মঞ্জিলে কুদামা কী আলোচনা করেছেন, সে বিষয়ে আমাদের নিকট কোনো প্রমাণ নেই।

পঞ্চম মঞ্জিলে কুদামা রাষ্ট্রের দাপ্তরিক বিভাগসমূহ, ডাক বিভাগ, রাজপথ এবং রাস্তাঘাট সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। ষষ্ঠ মঞ্জিলে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বিভিন্ন অঞ্চল এবং পৃথিবীর ভৌগোলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। (এর একটি অংশ ইবনে খুরদাদবিহ-এর কিতাব আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক-এর সাথে মুদ্রিত হয়েছে)। সপ্তম মঞ্জিলে তিনি অর্থের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে এবং অষ্টম মঞ্জিলে মানব সমাজের বিষয়াদি, তার শক্তির কারণসমূহ এবং তার দুর্বলতা, অধঃপতন ও বিনাশের প্রভাবকসমূহ এবং দেশের শাসনব্যবস্থা ও শাসকদের জন্য যা শোভনীয় এবং যা তাদের ওপর আবশ্যক, সেসব বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

এই কিতাবটি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে রচিত হয়েছে। (ডি গুয়ে) প্রবল মত প্রকাশ করেছেন যে, কুদামা এটি ৩১৬ হিজরির কিছুকাল পরে রচনা করেছেন। এর কারণ হলো কুদামা তার কিতাবের বিভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
عن (مليح الارمني) على انه معاصر له ويشير أيضا الى اغارة (أسفار الديلمي) على قزوين في سنة 316 هـ والى الشنائع التي جرت على يد (مرداويج) واتباعه في السنين التالية كحوادث قريبة الوقوع «6» .

وقد أشار أبو حيان التوحيدي «7» الى ان قدامة عرض كتابه هذا في سنة 320 هـ على علي بن عيسى حيث يقول: وما رأيت أحدا تناهى في وصف النثر بجميع ما فيه وعليه، غير قدامة بن جعفر في المنزلة الثالثة من كتابه.

ثم قال أبو حيان، قال لنا علي بن عيسى الوزير، عرض عليّ قدامة كتابه سنة 320 هـ واختبرته فوجدته قد بالغ وأحسن وتفرد في وصف فنون البلاغة في المنزلة الثالثة بما لم يشاركه فيه أحد من طريق اللفظ والمعنى.

وقد نقل قدامة عن كتاب فتوح البلدان للبلاذري. وكتاب المسالك والممالك لابن خرداذبة. وكتاب الاموال لابي عبيد القاسم بن سلام.

وكتاب الخراج ليحيى بن آدم القرشي وذكر آراء كثيرة لبعض الفقهاء كأبي حنيفة، ومالك بن انس، وأبي يوسف، وزفر وسفيان الثوري، وغيرهم.

‌‌وصف المخطوط:

ذكر بروكلمان ان هناك نسخة مخطوطة من كتاب الخراج بمكتبة كوبرلي بالاستانة. وقد كتبت هذه النسخة بخط نسخي من القرن التاسع عشر يحتوي على 253 ورقة مقاس 25* 17 سم ويبلغ عدد الاسطر في كل صفحة 17 سطرا. وقد تميزت بخطها الجميل الواضح الخالي من النقاط.
(মালিহ আল-আরমানি) সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি তাঁর সমসাময়িক ছিলেন। এটি ৩১৬ হিজরিতে কাজউইনের ওপর (আসফার আদ-দাইলামি)-এর আক্রমণ এবং পরবর্তী বছরগুলোতে (মারদাভিজ) ও তাঁর অনুসারীদের দ্বারা সংঘটিত লোমহর্ষক ঘটনাবলির প্রতি ইঙ্গিত করে, যা সমসাময়িক ঘটনা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে «৬»।

আবু হাইয়ান আত-তাওহিদি «৭» উল্লেখ করেছেন যে, কুদামা ৩২০ হিজরিতে তাঁর এই বইটি আলি ইবনে ঈসার নিকট উপস্থাপন করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন: "আমি গদ্যের বর্ণনা এবং এর সকল ভালো-মন্দ দিক বর্ণনায় কুদামা ইবনে জাফরের চেয়ে অধিক পারদর্শী কাউকে দেখিনি, যা তাঁর গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে প্রতিফলিত হয়েছে।"

অতঃপর আবু হাইয়ান বলেন, উজির আলি ইবনে ঈসা আমাদের বলেছেন: "কুদামা ৩২০ হিজরিতে তাঁর বইটি আমার নিকট পেশ করেন। আমি এটি পরীক্ষা করে দেখলাম যে, তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের বিভিন্ন শিল্প বর্ণনায়—বিশেষ করে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে তাঁর গ্রন্থের তৃতীয় পরিচ্ছেদে—অত্যন্ত নিপুণতা ও উৎকর্ষ প্রদর্শন করেছেন এবং এমন অনন্যতা দেখিয়েছেন যা অন্য কেউ করতে পারেনি।"

কুদামা বালাযুরির ফুতুহ আল-বুলদান, ইবনে খুরদাদবিহর আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক এবং আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লামের কিতাবুল আমওয়াল থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া ইয়াহইয়া ইবনে আদম আল-কুরাশির কিতাবুল খারাজ থেকেও তিনি উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং আবু হানিফা, মালিক ইবনে আনাস, আবু ইউসুফ, যুফার, সুফিয়ান সাওরি ও অন্যদের মতো বেশ কয়েকজন ফকিহর মতামত উল্লেখ করেছেন।

‌‌পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

ব্রোকলম্যান উল্লেখ করেছেন যে, ইস্তাম্বুলের কোপরুলু লাইব্রেরিতে কিতাবুল খারাজ-এর একটি পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত আছে। এই পাণ্ডুলিপিটি উনবিংশ শতাব্দীতে নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে, যা ২৫৩টি পৃষ্ঠা সংবলিত এবং এর আকার ২৫* ১৭ সেমি। প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি করে লাইন রয়েছে। এটি অত্যন্ত সুন্দর ও স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লিখিত এবং নুকতাহীন (বিন্দুহীন) হওয়ার কারণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد استنسخ شارل شيفر المجلد الباقي من كتاب قدامة، وهذه النسخة من المخطوط موجودة بدار الكتب الوطنية بباريس تحت رقم 5907. في فهرس مكتبة باريس صفحة 387 الذي هو من اعداد جورج فاجدا Vajda.G

أما في المخطوط نفسه فالعنوان هو «كتاب صنعة الكتابة لابي الفرج قدامة بن جعفر الكاتب البغدادي المتوفى سنة 337 هـ» .

ويوجد من هذا المخطوط (مخطوط باريس) نسخة مصورة في المكتبة المركزية في جامعة بغداد في 254 ورقة.

وقد اختار (دي غويه) نبذا منها وطبعها في نهاية كتاب «المسالك والممالك» لابن خرداذبة في ابريل عام 1889 م وهو ما يتعلق بديوان البريد والسكك والطرق والنواحي الى المشرق والمغرب.

وكذلك صورت المنزلة السابعة التي تتعلق بالضرائب منه في لندن 1965. دون تحقيق- على نسخة كوبرلي مع مقدمة باللغة الانكليزية وأخرجت في كتاب سمي «الضرائب في الاسلام» .

ويوجد في مصر من هذا المخطوط ثلاث نسخ مصورة النسخة الاولى صورت عن الاصل المحفوظ بمكتبة باريس وهذه النسخة:

مهداة الى دار الكتب المصرية من الامير عمر طوسون بتاريخ 3- 7- 1930 وهي محفوظة برقم 1971 فقه حنفي وقد وقع ناسخ هذا الكتاب عن الاصل في خطأ فاحش حيث كتب في صدر المنزلة الخامسة: هذا كتاب الخراج لابن الجوزي.

أما النسخة الثانية فمصورة عن الاصل المحفوظ بمكتبة كوبرلي بالاستانة.
চার্লস শেফার কুদামার গ্রন্থের অবশিষ্ট খণ্ডটি অনুলিপি করেছিলেন এবং পাণ্ডুলিপির (مخطوط) এই সংস্করণটি প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ৫৯০৭ নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত রয়েছে। প্যারিস লাইব্রেরির তালিকার ৩৮৭ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ রয়েছে, যা জর্জ ভাজদা প্রস্তুত করেছেন।

স্বয়ং পাণ্ডুলিপিটিতে (مخطوط) এর শিরোনাম হলো: ‘কিতাব সানআতুল কিতাবা’, লেখক আবুল ফারাজ কুদামা ইবনে জাফর আল-কাতিব আল-বাগদাদি, যিনি ৩৩৭ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

এই পাণ্ডুলিপির (مخطوط) (প্যারিস পাণ্ডুলিপি) একটি ফটোকপি সংস্করণ বাগদাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ২৫৪ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে।

ডি গোয়ে এই গ্রন্থ থেকে কিছু অংশ নির্বাচন করেন এবং ১৮৮৯ সালের এপ্রিলে ইবন খুরদাদবিহ রচিত ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ গ্রন্থের শেষে তা মুদ্রণ করেন। এটি মূলত ডাক বিভাগ, যাতায়াত ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট এবং পূর্ব ও পশ্চিমের অঞ্চলসমূহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে।

একইভাবে, কর সংক্রান্ত এর সপ্তম পরিচ্ছেদটি ১৯৬৫ সালে লন্ডনে চিত্রিত করা হয়েছিল। এটি কোনো পাণ্ডিত্যপূর্ণ সম্পাদনা (تحقيق) ছাড়াই কুপ্রুলু পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে ইংরেজি ভাষায় একটি ভূমিকা সহ ‘ইসলামে কর ব্যবস্থা’ নামক গ্রন্থে প্রকাশিত হয়।

মিশরে এই পাণ্ডুলিপির (مخطوط) তিনটি ফটোকপি সংস্করণ রয়েছে। প্রথম সংস্করণটি প্যারিস লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল কপি থেকে চিত্রিত করা হয়েছে এবং এই সংস্করণটি:

৩-৭-১৯৩০ তারিখে প্রিন্স উমর তুসুন কর্তৃক মিসরের দারুল কুতুবকে উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছে এবং এটি ১৯৭১ নম্বর হানাফি ফিকহ (فقه حنفي) শাখায় সংরক্ষিত আছে। এই গ্রন্থের মূল কপির প্রতিলিপিকারক (ناسخ) একটি মারাত্মক ভুল করেছেন, যেখানে তিনি পঞ্চম পরিচ্ছেদের শুরুতে লিখেছেন: ‘এটি ইবনুল জাওযীর কিতাবুল খারাজ’।

আর দ্বিতীয় সংস্করণটি ইস্তাম্বুলের কুপ্রুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত মূল পাণ্ডুলিপি (مخطوط) থেকে চিত্রিত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أما النسخة الثالثة: فمصورة عن النسخة الثانية (نسخة كوبرلي) لدار الكتب المصرية، وموجودة هذه النسخة مصورة في معهد مخطوطات جامعة الدول العربية تحت رقم (1076) تاريخ وتحتوي على 215 ورقة في كل ورقة (17) سطرا كتبت بخط نسخ جميل.

وتوجد نسختان من هذا المخطوط مصورتان عن نسخة باريس في مكتبة دار الكتب المصرية أيضا وقد أهداها تيمور باشا وسميت بالنسخة التيمورية. الاولى منها تحت رقم 845 فقه تيمور والثانية تحت رقم 2500 تاريخ تيمور.

وقد صور معهد المخطوطات في جامعة الدول العربية عنها نسخة واحدة.

ويبدأ كتاب الخراج في السطر الاول فيقول (قال أبو الفرج:- من كان حافظا لما قدمنا ذكره من ترتيب المنازل … ) .

وينتهي بقوله:- (قد تم كتاب الخراج في غرة شهر ربيع الاول في دار العليّة الاسلامبولية في يد أقل الخليقة بل لا شىء في الحقيقة عبد لله بن مرزا محمد الخوئي، حسبنا الله ونعم الوكيل) .

‌‌ميزات المخطوط:

1- وقد تميز المخطوط عن غيره بخطه الجميل الواضح، وكان في غالبيته العظمى غير منقوط.

2- ان عددا كبيرا من أسماء المدن التي وردت في المخطوط قد أندرست ولم يبق لها أثر يذكر لذلك يصعب الاهتداء الى اسمها الصحيح ولا سيما ان معظمها قد أغفلها الجغرافيون العرب كذلك.

3- حذف الهمزة في المخطوط وعلى سبيل المثال: خضرا، شا، عايشة.
তৃতীয় পাণ্ডুলিপিটির (نسخة) ক্ষেত্রে বলা যায়: এটি মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া'তে সংরক্ষিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটির (কোপুরলু পাণ্ডুলিপি) একটি ছায়ালিপি। এই পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে '১০৭৬ ইতিহাস' নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত আছে। এতে ২১৫টি পাতা রয়েছে এবং প্রতি পাতায় ১৭টি লাইন আছে, যা চমৎকার 'নাসখ' লিপিতে লিখিত।

এই পাণ্ডুলিপিটির (مخطوط) আরও দুটি অনুলিপি (نسخة) প্যারিস পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি হিসেবে মিশরের 'দারুল কুতুব আল-মিসরিয়া' লাইব্রেরিতেও বিদ্যমান। এগুলো তৈমুর পাশা উপহার দিয়েছিলেন এবং এগুলো 'তৈমুরিয়া পাণ্ডুলিপি' নামে পরিচিত। এর প্রথমটি '৮৪৫ ফিকহ তৈমুর' এবং দ্বিতীয়টি '২৫০০ ইতিহাস তৈমুর' নম্বরের অধীনে সংরক্ষিত।

আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট এখান থেকে একটি অনুলিপি (نسخة) তৈরি করেছে।

কিতাবুল খারাজ-এর প্রথম লাইনে বলা হয়েছে: (আবু আল-ফারাজ বলেন:- যারা আমাদের পূর্বে বর্ণিত মনজিলসমূহের বিন্যাস মুখস্থ (حافظا) রেখেছে … )।

গ্রন্থটি নিম্নোক্ত বাক্যের মাধ্যমে শেষ হয়েছে:- (পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে ইস্তাম্বুলের 'দারুল আলিয়া'তে সৃষ্টির অধম, বরং বাস্তবে গুরুত্বহীন ব্যক্তি আবদুল্লাহ বিন মির্জা মুহাম্মদ আল-খুইয়ী-র হাতে কিতাবুল খারাজ সমাপ্ত হলো। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক)।

‌‌পাণ্ডুলিপির (مخطوط) বৈশিষ্ট্যসমূহ:

১- পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) তার চমৎকার ও স্পষ্ট হস্তাক্ষরের কারণে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র, তবে এর অধিকাংশ বর্ণই নুকতাহীন (غير منقوط) বা বিন্দুহীন ছিল।

২- পাণ্ডুলিপিতে (مخطوط) বর্ণিত অনেক শহরের নাম বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং সেগুলোর কোনো উল্লেখযোগ্য চিহ্ন অবশিষ্ট নেই। এ কারণে সেগুলোর সঠিক নাম নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে যেহেতু অধিকাংশ আরব ভূগোলবিদও সেগুলো উপেক্ষা করেছেন।

৩- পাণ্ডুলিপিতে (مخطوط) হামজা (الهمزة) বিলোপ করা হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ: খাদরা, শা, আয়েশা।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
4- وضعت كثير من النقاط على الحروف في غير أماكنها الصحيحة وهي كثيرة جدا ومثال ذلك:-

ميلا كتبت مثلا وشيك كتبت وسك الجمر كتبت الحمر غذ السير كتبت عد السير الانوف كتبت الانوث تزوج كتبت تروج القران كتبت العراق بباب كتبت ثياب.

5- يوجد في مخطوط (كوبرلي) نقص واكمل من كتاب فتوح البلدان.

فيه عدد من الاوراق غير متسلسلة أرقامها.

6- وقد تميزت نسخة باريس ببعض الميزات التي خلت منها النسخ الاخرى. فمثلا:-

أ- يبدأ عنوانها ب (كتاب صنعة الكتابة لابي فرج قدامة بن جعفر البغدادي المتوفى سنة 337) .

ب- خالية من فهرست للمنزلة الخامسة في حين انه موجود في نسخة كوبرلي.

ج- تبدأ الصفحة الاولى من الورقة الاولى ب (هذا كتاب الخراج لابن الجوزي وهو خطأ واضح بلا شك) .

وبعد:

فان هذا الكتاب على الرغم مما فيه من نقص واضح في منازلة الاربع الاولى فانه يسد فراغا كبيرا في المكتبة العربية.
৪- অনেক ক্ষেত্রে বর্ণগুলোতে বিন্দু বা নুকতাগুলো তাদের সঠিক স্থানের পরিবর্তে ভুল স্থানে বসানো হয়েছে এবং এর সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। উদাহরণস্বরূপ:-

'মীলা' শব্দটিকে 'মাসলান' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'ওয়াশিক' শব্দটিকে 'ওয়াসাক' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'আল-জামর' শব্দটিকে 'আল-হামর' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'গাযযাস সাইর' শব্দটিকে 'আদ্দাস সাইর' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'আল-আনূফ' শব্দটিকে 'আল-আনূস' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'তাযাওয়াযা' শব্দটিকে 'তারাওয়াজা' হিসেবে লেখা হয়েছে, 'আল-কুরআন' শব্দটিকে 'আল-ইরাক' হিসেবে লেখা হয়েছে এবং 'বি-বাব' শব্দটিকে 'সিয়াব' হিসেবে লেখা হয়েছে।

৫- 'কোপরিলি' পাণ্ডুলিপিতে অসম্পূর্ণতা রয়েছে যা 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থ থেকে পূর্ণ করা হয়েছে।

এতে বেশ কিছু পৃষ্ঠা রয়েছে যেগুলোর নম্বরক্রম অনুযায়ী সাজানো নেই।

৬- প্যারিস পাণ্ডুলিপিটি এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য যা অন্যান্য পাণ্ডুলিপিতে নেই। যেমন:-

ক- এর শিরোনাম শুরু হয়েছে (৩৩৭ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু ফারাজ কুদামা ইবনে জাফর আল-বাগদাদি রচিত 'কিতাবু সানআতিল কিতাবাহ') দিয়ে।

খ- এতে পঞ্চম পরিচ্ছেদের কোনো সূচিপত্র নেই, অথচ কোপরিলি পাণ্ডুলিপিতে তা বিদ্যমান।

গ- প্রথম পৃষ্ঠার প্রথম পাতাটি শুরু হয়েছে (এটি ইবনুল জাওযি-র 'কিতাবুল খারাজ', যা নিঃসন্দেহে একটি স্পষ্ট ভুল) কথাটি দিয়ে।

পরিশেষে:

এই গ্রন্থটি, এর প্রথম চারটি পরিচ্ছেদে বিদ্যমান স্পষ্ট অসম্পূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও আরবি জ্ঞানভাণ্ডারের একটি বিশাল শূন্যতা পূরণ করে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وليس من المعقول أن يظل هذا السفر الثمين دون أن يرى النور مطمورا في بطون المخطوطات العربية القديمة، الامر الذي يجعل الاستفادة منه محدودة جدا. وقد خرجت الى النور كتب أقل منه أهمية وشأنا.

وعلى هذا فقد تصديت للكشف عنه وأماطة اللثام عن مكنونه، مع علمي بالصعوبات التي ستلاقيني من جراء فقدان قسم كبير منه، وقد استطعت- بفضل الله وتوفيقه- ان أتغلب على قسم غير يسير من هذا النقص بالرجوع الى الكتب التي استقى قدامة منها مواد كتابه.

وعلى الرغم من الجهد الكبير الذي بذل في سبيل اتمام الكتاب الا ان قسما غير يسير ظل مجهولا. لم اهتد اليه، ولعل ظهور هذا الكتاب الى الوجود يشحذ همم بعض المحققين العرب في البحث عن البقية الباقية منه، والعثور على ما لم أعثر عليه، من منازله الاربع الاولى المفقودة.

ان اخراج هذا الكتاب على ما فيه من نقص في مقدمته الا ان منازله الاربعة الاخيرة تشكل في حد ذاتها وحدة كاملة لمواد الكتاب دون أن يترك ذلك خللا في المعنى أو نقص في الفائدة.

ان هذا الكتاب على ما فيه من نقص خير من أن يظل بعيدا عن جمهرة الباحثين والدراسين عملا بالمثل العربي القائل «ما لم يدرك كله لا يترك جله» .

والله ولي التوفيق.

الدكتور محمد حسين الزبيدي بغداد: 11/11/1979
এই মূল্যবান গ্রন্থটি প্রাচীন আরবি পাণ্ডুলিপির গহ্বরে সমাহিত থেকে আলোর মুখ না দেখা কোনোভাবেই সমীচীন নয়; কারণ এর ফলে এটি থেকে উপকৃত হওয়ার পরিধি অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়ে। অথচ এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ অনেক কিতাব ইতোমধ্যে আলোর মুখ দেখেছে।

এই প্রেক্ষাপটে আমি কিতাবটিকে জনসমক্ষে আনা এবং এর অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচনের প্রয়াস পেয়েছি। যদিও আমি অবগত ছিলাম যে, এর একটি বিশাল অংশ হারিয়ে যাওয়ার ফলে আমাকে নানাবিধ প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে। তবে আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও তাওফীকে, কুদামা যে সকল উৎস থেকে তাঁর কিতাবের উপকরণসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন, সেই কিতাবগুলোর সাহায্য নিয়ে আমি এই অপূর্ণতার একটি বড় অংশ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি।

কিতাবটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট প্রচেষ্টা ব্যয় করা সত্ত্বেও এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ অজ্ঞাত (مجهول) রয়ে গেছে। আমি তা খুঁজে পাইনি। সম্ভবত এই কিতাবটির আত্মপ্রকাশ আরব গবেষকদের মাঝে অবশিষ্ট অংশটুকু খুঁজে বের করার এবং আমার খুঁজে না পাওয়া প্রথম চারটি নিখোঁজ মঞ্জিল অন্বেষণে নতুন উদ্দীপনা সঞ্চার করবে।

এই কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে এর ভূমিকায় কিছুটা অপূর্ণতা থাকলেও, এর শেষ চারটি মঞ্জিল কিতাবের বিষয়বস্তুর বিচারে স্বতন্ত্রভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ একক হিসেবে বিবেচিত, যা মূল অর্থের কোনো বিচ্যুতি ঘটায় না কিংবা এর উপযোগিতায় কোনো ঘাটতি রাখে না।

কিতাবটিতে কিছু অপূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও গবেষক ও শিক্ষার্থী মহলের নিকট এটি অপ্রকাশিত থাকার চেয়ে প্রকাশিত হওয়া অধিকতর শ্রেয়; কারণ সেই প্রসিদ্ধ আরবি প্রবাদ অনুযায়ী: 'যা সম্পূর্ণ পাওয়া সম্ভব নয়, তার অধিকাংশও বর্জন করা উচিত নয়'।

আর আল্লাহই তাওফীক দানকারী।

ডক্টর মুহাম্মদ হুসাইন আল-জুবাইদি, বাগদাদ: ১১/১১/১৯৭৯
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الخراج وصناعة الكتابة تأليف العلامة ابي الفرج الحافظ قدامة بن جعفر بن قدامة بن زياد البغدادي شرح وتحقيق الدكتور محمد حسين الزبيدي

يشمل على عجائب الارض والبحار، وفتح البلاد ومعرفة خراجها وترتيب الكاتب وما يحتاج اليه من الرياسة وهو مرتب على المنازل وبالله التوفيق.
আল-খারাজ ওয়া সিনায়াত আল-কিতাব (ভূমি রাজস্ব ও লিখন শিল্প), গ্রন্থনা: আল্লামা আবুল ফারাজ আল-হাফিজ (الحافظ) কুদামা ইবনে জাফর ইবনে কুদামা ইবনে জিয়াদ আল-বাগদাদি, ব্যাখ্যা ও সম্পাদনা: ডক্টর মুহাম্মদ হুসাইন আল-জুবাইদি।

এটি পৃথিবী ও সমুদ্রের বিস্ময়কর বিষয়সমূহ, দেশ বিজয় ও সেগুলোর ভূমি রাজস্ব (খরাজ) বিষয়ক জ্ঞান, একজন সচিবের বিন্যাস ও নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি অন্তর্ভুক্ত করে। এটি বিভিন্ন পর্যায় (মনজিল) অনুযায়ী বিন্যস্ত। আল্লাহর তাওফিকই একমাত্র ভরসা।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
المنزلة الخامسة

بسم الله الرحمن الرحيم الباب الاول: في ذكر ديوان الجيش.

الباب الثاني: في ذكر ديوان النفقات.

الباب الثالث: في ذكر ديوان بيت المال.

الباب الرابع: في ذكر ديوان الرسائل.

الباب الخامس: في ذكر ديوان التوقيع والدار.

الباب السادس: في ذكر ديوان الخاتم.

الباب السابع: في ذكر ديوان الفض.

الباب الثامن: في ذكر النقود، والعيار والاوزان وديوان دار الضرب.

الباب التاسع: في ذكر ديوان المظالم.

الباب العاشر: في كتابة الشرطة والاحداث.

الباب الحادي عشر: في ذكر ديوان البريد والسكك والطرق الى نواحي المشرق والمغرب.
পঞ্চম স্তর

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। প্রথম অধ্যায়: সামরিক দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: ব্যয় সংক্রান্ত দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: বায়তুল মাল দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: চিঠিপত্র সংক্রান্ত দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: রাজকীয় স্বাক্ষর ও রাজপ্রাসাদ দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: সিলমোহর দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: লিপি উন্মোচন দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: মুদ্রা, মানদণ্ড, ওজন এবং টাঁকশাল দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

নবম অধ্যায়: অভিযোগ প্রতিকার দপ্তরের বিবরণ প্রসঙ্গে।

দশম অধ্যায়: পুলিশ প্রশাসন ও জননিরাপত্তা সংক্রান্ত সচিবালয় প্রসঙ্গে।

একাদশ অধ্যায়: ডাক বিভাগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের বিভিন্ন অঞ্চলের সড়কপথের বিবরণ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
بسم الله الرحمن الرحيم قال أبو الفرج: من كان حافظا لما قدمنا ذكره، [في المنزلة] «1» الاولى «2» ، من ترتيب المنازل، علم انا وعدنا بأن نذكر، من سائر الدواوين، بعد كلامنا في أمر ديواني «3» الخراج والضياع، وانا اذ فرغنا من الكلام، في أمر هذين الديوانين، وجميع الاعمال فيهما، وذلك كله يأتي في الديوانين «4» وسائر أعمالهما، الا خواص تخص كل ديوان، يحتاج الى علمها، والوقوف عليها لئلا يكون الداخل غريبا مما يمر به، من هذه الخواص، وان كان [تدربه في] «5» أعمال الديوانين، اللذين ذكرناهما قد تذلل له العمل في غيرهما، ويثبت عليه ما يرومه من ذلك، في سواهما، اذا تأمل الامر حسنا فيه [فيكون] «6» حين، نفي بما قدمنا الوعد به، ولنبتدئ بديوان الجيش، وذكر ما يحتاج [اليه] «7» وأحواله:-

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আবু আল-ফারাজ বলেন: আমরা বিভিন্ন স্তরের বিন্যাসে [প্রথম স্তরে] (المنزلة الأولى) যা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তা যার স্মরণে রয়েছে তিনি অবগত আছেন যে, খারাজ (الخراج) ও দিয়া’ (الضياع) বিভাগদ্বয়ের বিষয়ে আলোচনার পর আমরা অন্যান্য সকল বিভাগ (الدواوين) সম্পর্কে আলোচনা করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা এখন পূর্ণ করার সময় এসেছে। যেহেতু আমরা উক্ত দুই বিভাগ এবং তাদের যাবতীয় কার্যাবলি সম্পর্কে আলোচনা সমাপ্ত করেছি—যা মূলত ওই দুই বিভাগ ও তাদের সংশ্লিষ্ট কাজেরই অন্তর্ভুক্ত—তবে প্রতিটি বিভাগেরই কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য (الخواص) থাকে যা জানা এবং গভীরভাবে অনুধাবন করা প্রয়োজন; যাতে করে সেখানে নতুন প্রবেশকারী ব্যক্তি এসব বৈশিষ্ট্যের সম্মুখীন হয়ে নিজেকে অপরিচিত মনে না করেন। যদিও উল্লিখিত দুই বিভাগের কার্যাবলিতে তার [প্রশিক্ষণ] (تدربه) তাকে অন্যান্য বিভাগে কাজ করার ক্ষেত্রে পারদর্শী করে তুলেছে এবং সেগুলোতে তার উদ্দিষ্ট বিষয়গুলো সুদৃঢ় করবে, যদি সে বিষয়টি উত্তমরূপে অনুধাবন করে। [তবেই] আমরা আমাদের পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করতে সক্ষম হবো। এখন আমরা সেনাবাহিনী বিভাগ (ديوان الجيش) এবং এর প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক বিষয় ও কার্যাবলি আলোচনার মাধ্যমে শুরু করছি।

(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الباب الاول في ذكر ديوان الجيش

قال قدامة: أول ما ينبغي أن نبتدئ به، من أمر هذا الديوان [في] «8» [ذكر] «9» مجالسه، وتبين أسمائها ومعانيها، ثم نتلو ذلك بالاعمال، التي يدعو فيه اليها فنقول: ان قسمة هذا الديوان، يكون على مجالس منها، الديونان اللذان ذكرناهما فيها ومنها ما يختص باسم … «10» بهما دونهما.

فأما ما يشارك فيه ما تقدم من المجالس والانشاء والتحرير والاسكدار «11» ، وقد شرحنا من أحوال هذه المجالس، بديوان الخراج ما فيه كفاية.

وأما ما يختص به مما لا يشاكل شيئا مما تقدم ذكره، الا بالمقاربة لما وصفناه من حال بعض أعمال الجيش، في ديوان الخراج، فهما مجلسان، يسمى أحدهما مجلس التقرير والاخر مجلس المقابلة. والذي يجري في أمر التقرير، فهو أمر استحقاقات الرجال، والاستقبالات [و] «12» أوقات اعطياتهم، وسياقة أيامهم، وشهورهم على رسومها، وعمل التقدير، لما يحتاج الى اطلاقه لهم من الارزاق. في وقت وجوبها، وتجريد النفقات التي تنفد لوجوهها، والنظر في موافقات المنفقين، واخراج جراياتهم وما شاكل «13»
প্রথম অধ্যায়: সেনাবাহিনী বিভাগের বিবরণ প্রসঙ্গে

কুদামা বলেছেন: এই বিভাগের বিষয়াদি সম্পর্কে আমাদের সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করা সমীচীন, তা হলো এর মজলিসসমূহের [প্রসঙ্গে] «8» [উল্লেখ] «9», সেগুলোর নাম ও অর্থের স্পষ্টীকরণ; অতঃপর আমরা সেগুলোর কার্যাবলি বর্ণনা করব যা সেখানে পালিত হয়। আমরা বলছি: এই বিভাগটির বিভাজন কয়েকটি মজলিসের সমন্বয়ে হয়; যার মধ্যে দুটি দিওয়ান আমরা আগে উল্লেখ করেছি এবং কিছু এমন রয়েছে যা অন্যগুলোকে বাদ দিয়ে বিশেষত … «10» এর জন্য নির্দিষ্ট।

আর পূর্বোল্লিখিত মজলিসসমূহ যেমন রচনা, সম্পাদনা এবং ডাক ব্যবস্থা (ইসকুদার) «11»-এর সাথে যা সংশ্লিষ্ট, আমরা দিওয়ানুল খরাজ-এ সেই মজলিসগুলোর অবস্থা পর্যাপ্তভাবে ব্যাখ্যা করেছি।

আর এই বিভাগের জন্য নির্দিষ্ট কার্যাবলি যা পূর্বোক্ত কোনো বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—তবে দিওয়ানুল খরাজ-এ বর্ণিত সেনাবাহিনীর কিছু কর্মকাণ্ডের কাছাকাছি—তা হলো দুটি মজলিস। যার একটিকে বলা হয় মজলিসুত তাকরির এবং অন্যটি মজলিসুল মুক্বাবালাহ। তাকরির-এর ক্ষেত্রে যা সম্পাদিত হয় তা হলো জনবলের প্রাপ্য অধিকারসমূহ, অগ্রিম গ্রহণ [ও] «12» তাদের অনুদান প্রদানের সময়কাল, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তাদের দিন ও মাসের হিসাব রক্ষা এবং পাওনা হওয়ার সময় তাদের জন্য যে বরাদ্দকৃত রসদ ছাড় করা প্রয়োজন তার প্রাক্কলন তৈরি করা। এছাড়া সুনির্দিষ্ট খাতে প্রেরিত ব্যয়ের বিবরণ পৃথক করা, ব্যয়কারীদের হিসাবের সঙ্গতি পর্যবেক্ষণ করা এবং তাদের নিয়মিত ভাতা ও অনুরূপ «13» বিষয়সমূহ নির্গমন করা।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
هذه الأشياء وجانسها. ومجلس التقرير، بديوان الجيش [يكون] «14» [اليه الرجوع، في أكثر أعماله، ومجراه في ديوان الجيش] «15» . مجلس الحساب من ديوان الخراج.

وقد ذكرنا مجلس الجيش، بديوان الخراج من رسوم «16» الرجال، في الاطماع «17» والشهور ما فيه كفاية، يغني عن [مثله] «18» في هذا الوضع.
এই সকল বিষয় এবং এর সমজাতীয় বিষয়াদি। আর সেনা দপ্তরের প্রতিবেদন পরিষদ [হলো এমন], «১৪» [যেখানে এর অধিকাংশ কার্যাবলীর ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং এর কর্মধারা সেনা দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত] «১৫»। রাজস্ব দপ্তরের হিসাব পরিষদ।

আর আমরা রাজস্ব দপ্তরের অন্তর্ভুক্ত সেনা পরিষদ প্রসঙ্গে ব্যক্তিদের নির্ধারিত ভাতা «১৬», প্রাপ্য বরাদ্দসমূহ «১৭» এবং মাসসমূহের বর্ণনায় যা উল্লেখ করেছি তা-ই যথেষ্ট, যা এই স্থানে [অনুরূপ আলোচনার] «১৮» প্রয়োজনীয়তা নিরসন করে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
اذ كنا انما جعلنا هذا الكتاب منازل تكون كل منزلة، منها كالمقدمة للتي بعدها. فأما ما يجري في مجلس [المقابلة] «19» فهو النظر في الجرائد «20» ، وتصفح الاسماء، ومنازل الارزاق، والاطماع، والخراج [بالخلائق] «21» فيما يرد من دفوع المنفقين، ويصدر ويرد من الكتب ومنهم «22» ..

من يجري هذا المجلس، في ديوان الجيش مجرى مجلس التفصيل، من ديوان الخراج الذي ذكرنا أحوال [ما يجرى] «23» فيه، من الاعمال.

وينقسم كل مجلس منها من مجالس ديوان الجيش الى العساكر، مثل، العسكر المنسوب الى الخاصة، والعسكر المنسوب الى الخدمة، وما [في] «24» النواحي من البعوث. ومن كان حافظا لما ذكرناه في مجلس الجيش، بديوان الخراج، أطرد له العمل في الجيش، على تلك السياقة فقد رسمنا «25» هناك ما اذا جرى الامر بحسبه، كان فيه بلاغ وكفاية، بل يبقى مما لم نذكر في ذلك الموضع، لعملنا على ذكره في موضعه من ديوان الجيش، حلى الرجال، وشيات الخيل، والبغال، فيمكن الان حيث نأخذ في تعريف ما يستعمله «26» الكتاب، من وصف الحلى، وشيات «27» الدواب على ما جرت
যেহেতু আমরা এই গ্রন্থটিকে এমনভাবে বিভিন্ন ধাপে (منازل) বিন্যস্ত করেছি যেন প্রতিটি ধাপ তার পরবর্তী ধাপের জন্য ভূমিকা (مقدمة) স্বরূপ হয়। আর [মোকাবেলা] বা যাচাইকরণ অধিবেশনে (المقابلة) «১৯» যা সম্পাদিত হয়, তা হলো নিবন্ধসমূহ পর্যবেক্ষণ করা «২০», নামসমূহ পর্যালোচনা করা, জীবিকার স্তরসমূহ, সুযোগ-সুবিধা এবং সৃষ্টির ওপর [ধার্যকৃত] খরাজ «২১» সংক্রান্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা করা; যা ব্যয়কারীদের পক্ষ থেকে আসা অর্থ এবং ইস্যুকৃত ও প্রাপ্ত পত্রাদি ও তাদের পক্ষ থেকে যা আসে তা থেকে সংগৃহীত হয়...

যারা এই অধিবেশনটি পরিচালনা করেন, তারা সামরিক দপ্তরে একে বিস্তারিত বিবরণী অধিবেশনের (التفصيل) ন্যায় গণ্য করেন, যা ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অনুরূপ এবং যার কার্যাবলীর «২৩» অবস্থা আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

সামরিক দপ্তরের এই প্রতিটি অধিবেশন বিভিন্ন সেনাদলে বিভক্ত; যেমন—বিশেষ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত সেনাদল, সাধারণ সেবায় নিয়োজিত সেনাদল এবং বিভিন্ন অঞ্চলে «২৪» প্রেরিত বিশেষ অভিযানসমূহ। আর যে ব্যক্তি ভূমি রাজস্ব দপ্তরের অন্তর্গত সামরিক অধিবেশনে আমাদের বর্ণিত বিষয়গুলো স্মরণে রাখবে, তার জন্য সামরিক বাহিনীর কাজ সেই ধারা অনুযায়ী সুচারুভাবে পরিচালিত হবে। আমরা সেখানে «২৫» এমন নিয়মাবলি নির্ধারণ করেছি যা যথাযথভাবে অনুসৃত হলে পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট হবে। বরং কিছু বিষয় যা আমরা সেই স্থানে উল্লেখ করিনি—এই কারণে যে আমরা তা সামরিক দপ্তরের যথাযথ স্থানে আলোচনা করব—তাহলো ব্যক্তিদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য (حلى) এবং ঘোড়া ও খচ্চরের গায়ের রঙ ও চিহ্ন (شيات)। সুতরাং, লেখকরা «২৬» ব্যক্তিদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য (حلى) এবং পশুর গায়ের রঙ ও চিহ্নের (شيات) «২৭» বর্ণনায় যা ব্যবহার করেন, তার সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে এখন আমরা আলোচনা শুরু করতে পারি...
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
به عادتهم والفوه، وان كان بعض ذلك لا يوافق ما عليه مجرى اللغة، فانا لو ذهبنا الى تغيير ما لا يجوز في لغة العرب مما قد ألف الكتاب استعماله لتعدينا ما يعرفونه، ويعملون عليه، وجئنا «28» بما يشكره أكثرهم ويخالف ما جرت به عادتهم، وليس كل ما يستعمله الكتاب خارجا عن مذهب اللغة، لكن القليل منه وسيذكر في موضعه ان شاء الله.

أما حلي الرجال، فأنهم تعودوا «29» ان يبتدئوا في حلية كل رجل بأن يذكروا سنه، فيقولون: أما صبي، وأما حين يقل وجهه، وحين [يظهر شاربه، أو شاب] «30» أو مجتمع للكهل، وليس يكادون يستعملون [دون] «31» الشيخ في الحلى، وليس من هذه الصفات، ما يجرى على غير عادت العرب ولغتها. ثم يتبعون ذكر السن باللون، فيقولون: في كل أبيض أسمر تعلوه حمرة «32» الا الاسود فأنهم يقولون، أسود ويحذفون تعلوه حمرة «33» ، وهذا أيضا جار على مذهب كلام العرب. فان من عادة العرب أن يقولوا: لم يبق منهم أحمر ولا أسود ولا يقولون أبيض ولا أسود. كما يقولون: لم يبق منهم بيت مدر ولا وبر، ولا يقولون:

شعر ثم يتبعون ذكر اللون نعوت الوجه، فيقولون: واسع الجبهة، أو ضيق الجبهة. فان كان بها غضون. قيل: وبها غضون. وان كان بها نزع أو جلح «34» ذكر، فقيل: أنزع وأجلح. وينعت الحاجبان، فيقول: مقرون «35»
এটি তাদের অভ্যাস এবং এর সাথে তারা পরিচিত। যদিও এর কিছু অংশ ভাষাগত রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তবুও লেখকরা যা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত তা যদি আমরা পরিবর্তন করতে যাই যা আরবি ভাষায় জায়েজ নয়, তবে আমরা তাদের পরিচিত ও প্রচলিত নিয়মের সীমা লঙ্ঘন করব। আমরা এমন কিছু উপস্থাপন করব যা তাদের অধিকাংশের নিকট প্রশংসনীয় হলেও তাদের প্রচলিত অভ্যাসের পরিপন্থী হবে। লেখকরা যা ব্যবহার করেন তার সবই যে ভাষাতাত্ত্বিক রীতির বাইরে তা নয়, বরং এর সামান্য অংশই এমন, যা ইনশাআল্লাহ যথাস্থানে উল্লেখ করা হবে।

পুরুষদের শারীরিক বর্ণনা (حلية)-এর ক্ষেত্রে তারা প্রতিটি ব্যক্তির বর্ণনা শুরুর সময় তার বয়সের কথা উল্লেখ করতে অভ্যস্ত। তারা বলেন: হয় কিশোর (صبي), অথবা যখন তার মুখাবয়বের পশম পাতলা হয় এবং যখন তার গোঁফ প্রকাশ পায়, অথবা যুবক (شاب), অথবা প্রৌঢ়ত্বের পূর্ণতা প্রাপ্ত (مجتمع للكهل)। তারা শারীরিক বর্ণনার ক্ষেত্রে বৃদ্ধ (الشيخ) ছাড়া অন্য শব্দ খুব একটা ব্যবহার করেন না। এই গুণাবলির কোনোটিই আরবদের রীতি ও ভাষার পরিপন্থী নয়। অতঃপর তারা বয়সের বর্ণনার সাথে গায়ের রঙের উল্লেখ করেন। তারা প্রতিটি ফর্সা ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলেন: তামাটে (أسمر) যার ওপর লালিমা (حمرة) আভা বিদ্যমান; তবে কৃষ্ণাঙ্গ (أسود) ব্যক্তির ক্ষেত্রে তারা কেবল কৃষ্ণাঙ্গ (أسود) বলেন এবং 'লালিমা আভা বিদ্যমান' কথাটি বাদ দেন। এটিও আরবদের বাচনভঙ্গি অনুযায়ী প্রচলিত। কারণ আরবদের রীতি হলো তারা বলে: 'তাদের মধ্যে লাল বা কালো কেউ অবশিষ্ট নেই', তারা 'সাদা বা কালো' বলে না। যেমন তারা বলে: 'তাদের কোনো মাটির ঘর (بيت مدر) বা পশমের তাঁবু (وبر) অবশিষ্ট নেই', তারা বলে না:

চুল; অতঃপর তারা রঙের বর্ণনার পর চেহারার গুণাবলি উল্লেখ করেন। তারা বলেন: প্রশস্ত ললাট বা সংকীর্ণ ললাট। যদি কপালে ভাঁজ থাকে, তবে বলা হয়: কপালে বলি রেখা (غضون) রয়েছে। আর যদি ললাটের দুই পাশ কেশহীন (نزع) বা সম্মুখভাগ কেশহীন (جلح) হওয়া বর্ণিত হয়, তবে বলা হয়: ললাটের দুই পাশ কেশহীন (أنزع) এবং সম্মুখভাগ কেশহীন (أجلح)। ভ্রুযুগলের বর্ণনায় বলা হয়: জোড়া ভ্রু (مقرون)
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وان كان بني القرن، وان كان ذلك خفيا، قيل: مقرون خفي، وان كان أبلج «36» الحاجبين قيل، أبلج «37» الحاجبين. وان كان بينهما من الغضون كالخط، قيل: خط. ثم يقال: في العين اذا كانت واسعة، قيل: واسع العينين، أو صغيرهما، صغير العينين. وان كان بهما شهل، أو زرق، قيل:

أشهل أو أزرق، واذا كان بهما جحوظ أو غور، قيل: جاحظهما، أو غائرهما، ثم يقال: في الانف، طويل أو قصير، أو أخفس، أو أفطس، وينعت بأحواله، فيقال: منتشر المنخرين ان كانا كذلك، أو يقال: وارد الارنبة وورود الارنبة، هو أن يكون المنحازة على جملة الانف لغلظ فيها. ثم ينعت الوجنتان نتوء ان كان فيهما «38» ، فيقال: ناتئ الوجنتين، أو يقال: سهل الخدين، أو مضموم الخدين، ثم يقال: في الشفتين ان كانتا غليظتين، قيل:

غليظ الشفتين. وان كان في العليا شق بالطول، قيل: أعلم. ثم يقال:

في الاسنان ان كانت فلجا، قيل: أفلج. وان كانت طوالا جدا، قيل:

أشغى «39» . وان كانت صغارا متحاتة، قيل: أكس «40» ، وان كانت متراكبة، قيل: متراكب الاسنان. وان كان منها شىء مقلوع، قيل: مقلوع كذا.

وذكر المقلوع. فان كان من العليا، قيل: أما الثنية، أو الرباعية، أو الناب العليا، وان كانت من السفلى، قيل: السفلى، وان كانت كلها مقلعة، قيل:

أقضم «41» . ثم يقال: في اللحية والسبال، ان كانا صهباوين، وقيل، أصهب
আর যদি ভ্রুদ্বয় জোড়া হয় এবং তা সূক্ষ্ম হয়, তবে বলা হয়: সূক্ষ্মভাবে জোড়া ভ্রুবিশিষ্ট (مقرون خفي)। আর যদি দুই ভ্রুর মাঝখানে ফাঁকা থাকে, তবে বলা হয়: পৃথক ভ্রুবিশিষ্ট (أبلج الحاجبين)। আর যদি উভয়ের মাঝখানে রেখার মতো ভাঁজ থাকে, তবে বলা হয়: রেখাযুক্ত (خط)। এরপর চোখের বর্ণনায় যদি চোখ প্রশস্ত হয়, তবে বলা হয়: প্রশস্ত চোখবিশিষ্ট; অথবা যদি ছোট হয়, তবে বলা হয়: ক্ষুদ্র চোখবিশিষ্ট। আর যদি চোখে লালচে-কালো আভা থাকে (شهل) অথবা নীল বর্ণ থাকে, তবে বলা হয়:

লালচে-কালো চোখবিশিষ্ট (أشهل) অথবা নীল চোখবিশিষ্ট (أزرق)। আর যদি চোখ কোটরগত বা বহির্মুখী হয়, তবে বলা হয়: বহির্মুখী চোখবিশিষ্ট বা কোটরগত চোখবিশিষ্ট। এরপর নাকের বর্ণনায় বলা হয়: লম্বা বা খাটো, অথবা খাঁদা বা চ্যাপ্টা। আর তার অবস্থা অনুযায়ী গুণ বর্ণনা করা হয়; সুতরাং নাসারন্ধ্র প্রশস্ত হলে বলা হয়: প্রশস্ত নাসারন্ধ্রবিশিষ্ট; অথবা বলা হয়: স্থূল নাসিকাগ্রবিশিষ্ট (وارد الأرنبة)। আর নাসিকাগ্র স্থূল হওয়া (ورود الأرنبة) হলো নাকের অগ্রভাগ স্থূল হওয়ার কারণে তা নাকের মূল কাঠামোর ওপর ঝুঁকে থাকা। এরপর গণ্ডদ্বয়ের বর্ণনা দেওয়া হয় যদি তাতে উচ্চতা থাকে, তবে বলা হয়: উচ্চ চোয়ালবিশিষ্ট (ناتئ الوجنتين); অথবা বলা হয়: মসৃণ গালবিশিষ্ট বা চিবুক-সংলগ্ন গালবিশিষ্ট। এরপর ঠোঁটের বর্ণনায় যদি ঠোঁট দুটি পুরু হয়, তবে বলা হয়:

পুরু ঠোঁটবিশিষ্ট। আর যদি উপরের ঠোঁটে লম্বালম্বিভাবে কোনো কাটা থাকে, তবে তাকে বলা হয়: ওষ্ঠ-কাটা (أعلم)। এরপর

দাঁতের বর্ণনায় যদি দাঁতগুলো ফাঁকা ফাঁকা হয়, তবে বলা হয়: ফাঁকা দাঁতবিশিষ্ট (أفلج)। আর যদি দাঁতগুলো অনেক লম্বা হয়, তবে বলা হয়:

দীর্ঘদন্তী (أشغى)। আর যদি দাঁতগুলো ছোট ও ক্ষয়ে যাওয়া হয়, তবে বলা হয়: ক্ষয়ে যাওয়া ছোট দাঁতবিশিষ্ট (أكس); আর যদি একটির ওপর আরেকটি উঠে থাকে, তবে বলা হয়: জড়ানো দাঁতবিশিষ্ট (متراكب الأسنان)। আর যদি কোনো দাঁত উপড়ানো থাকে, তবে বলা হয়: অমুক দাঁতটি উপড়ানো (مقلوع)।

এবং উপড়ানো দাঁতটির নাম উল্লেখ করা হয়। যদি তা উপরের পাটির হয়, তবে বলা হয়: সামনের মধ্যভাগের দাঁত (الثنية), অথবা পাশের দাঁত (الرباعية), অথবা উপরের শ্বদন্ত (الناب العليا)। আর যদি নিচের পাটির হয়, তবে নিচের বলা হয়; আর যদি সব দাঁত পড়ে গিয়ে থাকে, তবে বলা হয়:

দন্তহীন (أقضم)। এরপর দাড়ি ও গোঁফের বর্ণনায় যদি তা লালচে বর্ণের হয়, তবে তাকে বলা হয়: লালচে দাড়ি-গোঁফবিশিষ্ট (أصهب)।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
اللحية: وان كان مثقوب الاذن، أو الاذنين ذكر ذلك، فقيل: مثقوب الاذنين. وان كان به جدري ظاهر، قيل: مجدور، وان كان قليلا، قيل:

في وجهه نبذ جدري. ثم يؤخذ في الاعمدة «42» ، فان كانت العين ذاهبة، قيل: أعور العين اليمنى، أو اليسرى، وان كانت الاذن مقطوعة، قيل: مصلوم الاذن، أما اليمنى أو اليسرى، وان كانت كلاهما مقطوعتين، قيل: مصلوم الاذنين. ومن الاعمدة «43» الخيلان «44» ، فيذكر. منها ما بالوجه، أو بصفحة الانف، ويحدد ذلك بوضعه وبلونه، فيقال:

أخضر، وأحمر، وان كان ذلك بالذراع، قيل: بباطن ذراعه، أو ظاهر ذراعه، وان كان ذا زيادة في أصابعه، حلي ذلك وذكرت الزيادة. وان كان به وشم، قيل: به وشم، ويذكر موضعه، فيقال: بباطن ذراعه أو بظاهره ويذكر لون الوشم، فيقال: أخضر أو أحمر. وان كانت كتابته تقرأ، ذكرت ولم يحل ما تدل عليه القراءة منها. وكلما كثرت الاعمدة وهي العلامات القوية المشهورة التي لا تكاد توجد في كل أحد كان ذلك أثبت للحيلة وأجدر أن لا يدخل على المحلى بها بديل غيره.

فأما شيات «45» الدواب فان أول ما يبتدأ به ذكر نوع الدابة، فيقال:

فرس ان كان من الخيل «46» ، أو شهري ان كان شهريا أو برذونا، أو انتى منها، فيقال: جمر وان كان بغلا ذكرا قيل بغل وان كانت بغلة ذكرت،
দাড়ি: আর যদি তার কান অথবা উভয় কান ছিদ্রযুক্ত হয়, তবে তা উল্লেখ করা হবে এবং বলা হবে: কর্ণছিদ্রযুক্ত (مثقوب الأذنين)। আর যদি তার মধ্যে বসন্তের চিহ্ন স্পষ্ট থাকে, তবে বলা হবে: বসন্ত-চিহ্নিত (مجدور); আর যদি তা অল্প হয়, তবে বলা হবে:

তার চেহারায় বসন্তের সামান্য দাগ রয়েছে। অতঃপর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর (الأعمدة) বর্ণনা আসবে; যদি চোখ নষ্ট হয়ে যায়, তবে বলা হবে: ডান চোখ অথবা বাম চোখ অন্ধ (أعور)। আর যদি কান কাটা হয়, তবে বলা হবে: কর্তিত-কর্ণ (مصلوم الأذن), তা ডান হোক বা বাম; আর যদি উভয় কানই কাটা হয়, তবে বলা হবে: উভয় কর্ণ-কর্তিত (مصلوم الأذنين)। প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর (الأعمدة) মধ্যে তিলও (الخيلان) অন্তর্ভুক্ত, যা উল্লেখ করতে হবে। এর কোনটি চেহারায় থাকে আবার কোনটি নাকের পার্শ্বদেশে থাকে; এর অবস্থান ও রঙের মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট করা হবে। বলা হবে:

সবুজ বা লাল। আর যদি তা বাহুতে থাকে, তবে বলা হবে: বাহুর ভেতরের অংশে বা বাহুর বাইরের অংশে। আর যদি তার আঙুলে অতিরিক্ত কিছু থাকে, তবে তা বিস্তারিত বর্ণনা (حلي) করতে হবে এবং সেই অতিরিক্ত অংশের কথা উল্লেখ করতে হবে। আর যদি তার শরীরে উল্কি (وشم) থাকে, তবে বলতে হবে: তার উল্কি রয়েছে; এবং এর স্থান উল্লেখ করতে হবে। বলা হবে: বাহুর ভেতরের অংশে বা বাইরের অংশে এবং উল্কির রঙ উল্লেখ করে বলা হবে: সবুজ বা লাল। আর যদি এর লেখা পাঠযোগ্য হয়, তবে তা উল্লেখ করতে হবে, কিন্তু যা পাঠোদ্ধার করা হয়েছে তার অতিরিক্ত কোনো বর্ণনা (يحل) প্রয়োজন নেই। প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো (الأعمدة)—যা মূলত শক্তিশালী ও প্রসিদ্ধ চিহ্ন (العلامات) যা সাধারণত সবার মধ্যে পাওয়া যায় না—যত বেশি হবে, তা বর্ণনার (الحيلة) জন্য তত বেশি নির্ভরযোগ্য (أثبت) হবে এবং যার বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে তার পরিবর্তে অন্য কারো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তত কম হবে।

আর চতুষ্পদ জন্তুর গায়ের বর্ণের (شيات) ক্ষেত্রে যা দিয়ে সর্বপ্রথম শুরু করতে হবে তা হলো জন্তুর প্রকারভেদ। বলা হবে:

ঘোড়া (فرس) যদি তা অশ্ব প্রজাতির হয়, অথবা শাহরি (شهري) যদি শাহরি হয় অথবা সাধারণ মালবাহী ঘোড়া (برذونا); আর যদি মাদী হয় তবে বলা হবে: ঘোটকী (جمر); আর যদি পুরুষ খচ্চর হয় তবে বলা হবে: খচ্চর (بغل) এবং মাদী খচ্চর হলে তাও উল্লেখ করতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم تذكر «47» اللون فيقال كميت «48» أو أشقر، أو أدهم «49» ، أو أشهب، أو أصفر او ورد، او رضابي، او أبرش، او أبلق. ولكثير من الالوان أنحاء ينصرف اليها. فالكميت يكون منه الاحوى، وهو ذهاب من لونه نحو السواد، وأحمر، وخلوقي، والاشقر يكون أصدى وهو ذهاب من لونه نحو الحوى «50» ، والاشهب يكون قرطاسيا ويكون مغلسا ويكون أصم بسواد، أو مكان السواد حمرة وليس يقال في اللغة لما كان بحمرة أحم، الا أن كتاب الجيش يقولون: أحم بحمرة. والابلق يكون بسواد ويكون بكمته، أو بشقرة، فاذا كان بسواد، قيل: أدهم أبلق، أو بكمتة، قيل: كميت أبلق، أو بشقرة، قيل: أشقر أبلق، وهذه هي ألوان الدواب التي تأتي في الاكثر منهما. اللهم الا في الشذوذ، فان منها الاخضر، والسمند «51» وهو الاصفر الاسود العرف والذنب، ومنها الاخضر، ومنها الاصحم وهي صفرة تذهب نحو البياض «52» تسمى خزنج، والادغم، وهولون من الخضرة والسواد. ومنها الزرزوري، وهو قريب من الاشهب الاحم

এরপর বর্ণের «৪৭» উল্লেখ করা হয়, তখন বলা হয় ‘কুমেত’ «৪৮», অথবা ‘আশকার’, অথবা ‘আদহাম’ «৪৯», অথবা ‘আশহাব’, অথবা ‘আসফার’, অথবা ‘ওয়ারদ’, অথবা ‘রিযাবি’, অথবা ‘আবরাশ’, অথবা ‘আবলাক’। অধিকাংশ বর্ণের এমন ভিন্ন ভিন্ন শাখা রয়েছে যেগুলোর দিকে এটি নির্দেশ করে। ‘কুমেত’ বর্ণের মধ্যে রয়েছে ‘আহওয়া’, যা গাত্রবর্ণ কালোর দিকে ঝুঁকে থাকাকে বোঝায়; এছাড়া রয়েছে ‘লাল’ এবং ‘খলুকি’। ‘আশকার’ বর্ণের ক্ষেত্রে রয়েছে ‘আসদা’, যা গাত্রবর্ণ কালচে হওয়ার দিকে প্রবণতাকে নির্দেশ করে «৫০»। ‘আশহাব’ কখনও হয় ‘কিরতাসি’, কখনও হয় ‘মুগাল্লাস’, আবার কখনও কালোর আধিক্যের কারণে হয় ‘আসাম’, অথবা কালোর স্থলে লালচে আভা যুক্ত হয়। ভাষাগতভাবে লালচে আভার ক্ষেত্রে ‘আহাম’ বলা হয় না, তবে সেনাবাহিনীর নথিপত্র লেখকরা একে ‘লালচে আভার কালো’ বলে থাকেন। ‘আবলাক’ বর্ণটি কালোর সাথে হতে পারে, আবার ‘কুমতাত’ অথবা ‘শুকরাত’-এর সাথেও হতে পারে। যদি কালোর সাথে হয়, তবে তাকে ‘আদহাম আবলাক’ বলা হয়; যদি ‘কুমতাত’-এর সাথে হয়, তবে তাকে ‘কুমেত আবলাক’ বলা হয়; আর যদি ‘শুকরাত’-এর সাথে হয়, তাকে ‘আশকার আবলাক’ বলা হয়। চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে এগুলোই হলো সেই বর্ণ যা সাধারণত পরিলক্ষিত হয়। তবে ব্যতিক্রম (شذوذ) ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে না; কারণ এগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আখদার’ (সবুজাভ) এবং ‘সামান্দ’ «৫১», যা মূলত কেশর ও লেজ কালোবিশিষ্ট হলুদ বর্ণ। এর মধ্যে ‘সবুজ’ বর্ণও রয়েছে। আবার ‘আসহাম’ও রয়েছে, যা মূলত সাদার দিকে ধাবিত হলুদাভ বর্ণ «৫২» এবং একে ‘খাযনাজ’ বলা হয়। এছাড়া ‘আদগাম’ রয়েছে, যা মূলত সবুজাভ ও কালোর সংমিশ্রণ। আর এর মধ্যে রয়েছে ‘যারযুরি’, যা মূলত লালচে-ধূসর বা ‘আশহাব আহাম’ বর্ণের কাছাকাছি।

(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بسواد، الا ان الحمة انما هي آثار سواد كالمبانية بحمله السواد، وشعر الزرزوري مشتبك مختلط كأنه شعرة بيضاء وشعرة سوداء «53» . وأما الاصفر فهو الاصفر الابيض العرف والذنب، فاذا أتى لون من هذه الالوان المفردات ذكر، وان كان مما يتبعه فهو ينصرف اليه ذكر ذلك، فقيل مثلا:

في الكميت، كميت أحوى، أو أحمر، أو خلوقي، والاصدى، أشقر أصدى. وكذلك في سائر الالوان، وفي الاناث، يقال: حجر دهماء أو شقراء أو غير ذلك من الالوان. الا في الكميت، فانه لا يقال الانثى منه كمتاء، لان العرب لا تقول فعلاء للانثى الا لما كان الذكر أفعل. واذا كان لا يقال أكمت للذكر، لا يقال للانثى كمتاء. وقد أنكر قول امرئ القيس: (ديمة هطلاء فيها وطف) «54» . لانه لا يقال: أهطل الا ان عادة الكتاب قد استمرت على أن يجيزوا ذلك، فيقولون: في الانثى كمتاء، وينبغي أن يستعمل ما يستعملون والا فالحق، أن يقال: حجر كميت ثم يتبع اللون، بذكر الاوضاح، فيبتدأ بذكر الغرة، فيقال: أغر، وللغرة أشكال تنعت بها، منها أن تكون «55» متصلة بالجحلفة، فيقال: أغر سائل، وان تكون منقطعة، فيقال: أغر منقطع، ومنها أن تكون مائلة الاتصال، فيقال:

أغر شمراخ، ومنها أن تكون آخذة على جانب الوجه، لابسة لاحدى العينين، فيقال: لطليم. ومنها أن تكون مغشية للعينين كلتيهما، فيقال:

أغشى. ومنها أن تكون الغرة عريضة، فيقال: أغر شادخ، ومنها أن تكون لمعة في الجبهة فقط، فيقال: أقرح. فان كان في الجحفلة بياض، قيل:

ارثم. وان كان على السفلى، قيل: المظ. ثم يؤخذ في الاوضاح في سائر الجسد، فان كان في الاربع القوائم بياض، قيل: محجل أربع، وان كان
কালো বর্ণের মিশ্রণসহ, তবে 'হুম্মাহ' হলো মূলত কালো রঙের এমন আভা যা এর গাঢ়ত্বের কারণে স্বতন্ত্র বা পৃথক দেখায়। আর 'যুরযুরি' বর্ণের লোম এমনভাবে জটপাকানো ও মিশ্রিত থাকে যেন একটি সাদা লোম ও একটি কালো লোম একত্রে মিশে আছে «৫৩»। আর 'আসফার' বা পীতবর্ণ হলো সেই ঘোড়া যার কেশর ও লেজ সাদাটে। যখন এই একক বর্ণগুলোর কোনোটি পাওয়া যায়, তখন তা স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়; আর যদি কোনোটি অন্য রঙের অনুগামী হয়, তবে সেটির প্রতিই সম্বন্ধ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়:

'কুমাইত' বর্ণের ক্ষেত্রে: কালচে লাল, অথবা লাল, অথবা সুগন্ধি সদৃশ লাল। আর 'আসদা' এর ক্ষেত্রে বলা হয়: লোহিত-পিঙ্গল। অন্যান্য সকল রঙের ক্ষেত্রে এবং স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রেও অনুরূপ বলা হয়। যেমন: কালো মাদী ঘোড়া অথবা লোহিত-পিঙ্গল মাদী ঘোড়া কিংবা অন্যান্য রঙের ঘোড়া। তবে 'কুমাইত' এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম; এর স্ত্রীলিঙ্গকে 'কুমতা' বলা হয় না। কারণ আরবরা স্ত্রীলিঙ্গের জন্য 'ফাউলা' রূপটি ব্যবহার করে না, যতক্ষণ না পুংলিঙ্গের জন্য 'আফআলু' রূপটি ব্যবহৃত হয়। যেহেতু পুংলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'আকমাত' শব্দটির ব্যবহার নেই, তাই স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'কুমতা' বলা যাবে না। আর ইমরুল কায়সের উক্তি— "দিমাতুন হাতলাউ ফিহা ওয়াতফ" «৫৪»— কে প্রত্যাখ্যান (أنكر) করা হয়েছে। কারণ 'আহাতাল' শব্দটির ব্যবহার প্রচলিত নেই। তবে লেখকদের সাধারণ রীতি এটি অনুমোদন (يجيزوا) করার ক্ষেত্রে অব্যাহত রয়েছে, ফলে তারা স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে 'কুমতা' শব্দটিকে সঠিক বলে গণ্য করেন। এমতাবস্থায় তারা যা ব্যবহার করেন তাই অনুসরণ করা সমীচীন; অন্যথায় যথাযথ হলো ‘হাজরুন কুমিত’ বলা। এরপর বর্ণের বর্ণনার পাশাপাশি শ্বেতচিহ্নসমূহের বর্ণনা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে কপালে সাদা তিলক বা ‘গুররাহ’ এর আলোচনা দিয়ে শুরু করা হয় এবং সেই ঘোড়াকে উজ্জ্বল ললাটবিশিষ্ট বলা হয়। ‘গুররাহ’ বা তিলকের বিভিন্ন রূপ রয়েছে যা দিয়ে সেটির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়। তার মধ্যে একটি হলো— সেটি যদি ওষ্ঠ পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়, তবে তাকে প্রসৃত তিলক বলা হয়। আর যদি তা বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তাকে বিচ্ছিন্ন তিলক বলা হয়। আর যদি তা বাঁকা হয়ে সংযুক্ত থাকে, তবে তাকে বলা হয়:

সরু দীর্ঘ তিলক। আর যদি তা চেহারার একপাশে হেলে থাকে এবং এক চোখকে ঢেকে ফেলে, তবে তাকে একপার্শ্বিক শুভ্রতা বলা হয়। আর যদি তা উভয় চোখকেই আবৃত করে ফেলে, তবে তাকে বলা হয়:

চক্ষু-আবৃতকারী শুভ্রতা। আর যদি সেই তিলকটি প্রশস্ত হয়, তবে তাকে প্রশস্ত তিলক বলা হয়। আর যদি তা কেবল কপালে সামান্য বিন্দুর মতো হয়, তবে তাকে স্বল্প-তিলকবিশিষ্ট বলা হয়। যদি উপরের ওষ্ঠে শুভ্রতা থাকে, তবে তাকে শুভ্র-ওষ্ঠ বলা হয়। আর যদি তা নিচের ওষ্ঠে হয়, তবে তাকে নিম্ন-ওষ্ঠ শুভ্রতা বলা হয়। এরপর শরীরের অন্যান্য অংশের শ্বেতচিহ্নের বর্ণনা দেওয়া হয়। যদি চারটি পায়েই শুভ্রতা থাকে, তবে তাকে চতুস্পদ-শুভ্র বলা হয়। আর যদি
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
البياض عاليا على الركبتين والعرقوبين، قيل: محجل مجبب. وان لحق بالبطن حتى يخالطها، قيل: أنبط، وان كان التحجيل الى أنصاف الاوظفة قيل: محجل «56» وبتوقيف، وان نقص عن ذلك حتى يكون غير جائز الاكاليل والاشاعر، قيل: منعل. وان خلت قائمة بأن يكون فيها بياض، قيل: مطلق تلك القائمة. أما احدى اليدين أو احدى الرجلين اليمنى أو اليسرى، وان كانت احدى اليدين والرجل المخالفة لها محجلين، قيل: محجل شكال. وان كان في الذنب بياض، قيل: أشعل الذنب. وهذا في الخيل والشهارى والبراذين سواء. وكذلك البغال، توصف بقريب من هذا، الا انه ربما كان في ألوان البغال ما ليس يسمى به الخيل. والشهارى من ذلك الديزج وهو الاخضر المائل الى الدهمة «57» ، ومنه الادغم. وليس يكاد كتاب الجيش يذكرون هذا اللون فيركبون له قولا يدل عليه، وهو ان يقولوا كميت يشبه الاخضر. واذا كان في وجه البغل أو البغلة «58» بياض، مغش له ملابس للون غير منفصل عنه كانفصال الغرة أو القرحة، قيل: بغل أقمر وبغلة قمراء. واذا كانت في الدابة سمة، قيل: بموضع كذا سمة، فان كانت كتابتها مقروءة، قيل: تقرأ كذا، وتذكر ما تدل عليه الكتابة.

وان كانت علامة وكتبا «59» حلى ما يوجد الامر عليه من جميع ذلك وان لم يكن بالدابة سمة أصلا، قيل: غفل. ويقال: ذلك في الذكر والانثى بلفظ واحد «60» . ولكتاب الجيش أحكام تجري على ظلم وألفاظ يقع فيها اللبس على من لم يعتدها. ولا باس بأن نذكر من ذلك، ما يعلمه المبتدئ بالعمل في الجيش، لتكون معرفته عنده.
যদি হাঁটু এবং গোড়ালিদ্বয়ের ওপরের দিকে শুভ্রতা থাকে, তবে তাকে শ্বেতপদ (محجل) ও হাঁটু পর্যন্ত সাদা (مجبب) বলা হয়। যদি তা উদর পর্যন্ত পৌঁছে তার সাথে মিশে যায়, তবে তাকে উদরস্পর্শী সাদা (أنبط) বলা হয়। আর যদি এই শুভ্রতা পায়ের নলীর মধ্যভাগ পর্যন্ত হয়, তবে তাকে শ্বেতপদ (محجل) এবং মচলি পরিহিত (بتوقيف) বলা হয়। যদি শুভ্রতা তার চেয়ে কম হয়, এমনকি খুরের উপরিভাগ ও পশম পর্যন্ত না পৌঁছায়, তবে তাকে খুর-বেষ্টিত (منعل) বলা হয়। যদি কোনো পা শুভ্রতাহীন হয়, তবে তাকে ওই পায়ের ক্ষেত্রে চিহ্নহীন (مطلق) বলা হয়। এটি হতে পারে এক হাত অথবা এক পা, অর্থাৎ ডান অথবা বাম দিকের। যদি এক হাত এবং তার বিপরীত পা শ্বেতপদ হয়, তবে তাকে বিপরীতমুখী শ্বেতপদ (شكال) বলা হয়। যদি লেজে শুভ্রতা থাকে, তবে তাকে শ্বেতপুচ্ছ (أشعل الذنب) বলা হয়। ঘোড়া, টাট্টু ঘোড়া এবং সাধারণ ঘোড়ার ক্ষেত্রে এই নিয়ম সমান। একইভাবে খচ্চরদের ক্ষেত্রেও প্রায় অনুরূপ বর্ণনা দেওয়া হয়; তবে খচ্চরের রঙের ক্ষেত্রে কখনও এমন নাম ব্যবহৃত হয় যা ঘোড়ার ক্ষেত্রে হয় না। টাট্টু ঘোড়ার ক্ষেত্রে যেমন ধূসর-কালো (ديزج), যা মূলত কালচে আভার দিকে ঝুঁকে থাকা সবুজ রঙ। আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মুখকালো (أدغم)। সামরিক বাহিনীর লিপিকারগণ সচরাচর এই রঙের উল্লেখ করেন না, বরং তারা এমন শব্দ ব্যবহার করেন যা একে নির্দেশ করে; যেমন তারা বলেন—লালচে-কালো (كميت) যা সবুজের সদৃশ। যখন খচ্চর বা খচ্চরীর মুখে এমন শুভ্রতা থাকে যা গায়ের রঙের সাথে মিশে থাকে এবং কপালে সাদা তিলক বা দাগের মতো স্বতন্ত্র নয়, তখন তাকে শুভ্রোজ্জ্বল (أقমর) খচ্চর বা শুভ্রোজ্জ্বল (قمراء) খচ্চরী বলা হয়। যদি পশুর গায়ে কোনো বিশেষ চিহ্ন বা দাগ (سمة) থাকে, তবে বলতে হবে অমুক স্থানে চিহ্ন রয়েছে। যদি সেই চিহ্নটি পাঠযোগ্য হয়, তবে বলতে হবে এটি এভাবে পড়া যায় এবং সেই লেখার অর্থ উল্লেখ করতে হবে।

যদি সেখানে কোনো প্রতীক বা লেখা থাকে, তবে প্রাপ্ত অবস্থা অনুযায়ী তার বিবরণ দিতে হবে। আর যদি পশুর গায়ে কোনো বিশেষ চিহ্ন বা দাগ (سمة) একেবারেই না থাকে, তবে তাকে চিহ্নহীন বা দাগহীন (غفل) বলা হয়। পুরুষ ও স্ত্রী উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই এই শব্দটি একইভাবে ব্যবহৃত হয়। সামরিক লিপিকারদের এমন কিছু নিয়ম রয়েছে যা কঠোরভাবে প্রচলিত এবং এমন কিছু পরিভাষা রয়েছে যা অনভ্যস্ত ব্যক্তির কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। সেনাবাহিনীতে কাজ শুরু করা একজন নবীনের জানার জন্য এ বিষয়গুলো উল্লেখ করতে কোনো বাধা নেই, যাতে এ সংক্রান্ত জ্ঞান তার আয়ত্তে থাকে।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فأما الاحكام الظلمية، فمثل التقريب الذي هو كالشىء الثابت الواجب، وذلك ان من ظلم من الرجال عندهم حتى يوخروا، عطاؤه عن وقت استحقاقه، فقد صار ما استحقه ناتيا «61» سبيله التوفير، وكلما تقادم «62» من زمان الفائت، يوجب تقديم اطلاق ما أخر منه، يؤكد عندهم بطوله ووجب سقوطه، وسنذكر النظر في أمر الجيش، وكيف ينبغي أن تدبر أمورهم، وما في تأخر اعطياتهم عنهم، من الضرر العائد على الملك، في موضعه من المنزلة الثامنة، المخصوصة بالسياسة إن شاء الله.

ومن أحكام كتاب الجيش الجارية، على غير سبيل العدل، انه لا يجوز عندهم ان يزاد واحد من الرجال، أكثر من مبلغ رزقه، [والذي يكون له في وقت زيادته، حتى كأنه ممتنع أن يكون رزقه] «63» ، في غاية النقصان عن استحقاقه، ويبلى بلاء حسنا، فيرى الامام أن يضاعف رزقه، اضعافا كثيرة، فضلا عن مرة واحدة، وهذا أيضا حكم فاسد على غير العدل، فان نوظروا في ذلك، لزمهم على المذهب فيمن لا رزق له الا يثبت اذ كان لا شىء هو، أقل من لا شىء ومما يقارب الظلم، وفيه استظهار على الرجال، مما لا يزال كتاب الجيش، يلزمونه، بأن يكون ما يدفع الى الرجل من استحقاقه أياه، في أيام شهر مثله يليه، حتى يكون للرجل أبدا استحقاق شهر واقفا «64» .

ومما يجري هذا المجرى أيضا، قولهم فيمن نقل عن اسمه وثبته، أن يكون الاستقبال به الشهر الذي فيه اعطاء نظرائه، وهذا غير مضبوط، لانه قد يجوز أن يصل الرجل، الى الموضع الذي سبيله أن يقبض فيه رزقه، بعد قبض نظرائه بيوم، فيحتاج الى ان ينتظر حتى يقبضوا مرة اخرى، ثم

অন্যায় বিধিবিধানের (الأحكام الظلمية) ক্ষেত্রে যেমন 'তাকরীব' (التقريب), যা একটি নির্ধারিত ও আবশ্যিক (الواجب) বিষয়ের মতো। আর তা হলো, তাদের নিকট যাদের প্রতি যুলুম করা হয় এবং তাদের প্রাপ্য ভাতা প্রদানের সময় উত্তীর্ণ করা হয়, তখন তাদের সেই পাওনাগুলো পুঞ্জীভূত (ناتيا) হয়ে জমা হওয়ার পথে থাকে। সময় যত অতিবাহিত হয়, বিলম্বিত পাওনা পরিশোধের বিষয়টি তাদের নিকট তত জোরালো হয় এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তা বাতিল হয়ে যাওয়া আবশ্যক (وجب) হয়ে পড়ে। আমরা সেনাবাহিনীর (الجيش) বিষয়াবলি সম্পর্কে এবং কীভাবে তাদের কার্যাদি পরিচালনা করা উচিত এবং তাদের ভাতা প্রদানে বিলম্বের ফলে রাজক্ষমতার যে ক্ষতি হয়, তা ইনশাআল্লাহ সিয়াসাহ বা রাষ্ট্রনীতি (السياسة) বিষয়ক অষ্টম অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

সামরিক দপ্তরের (كتاب الجيش) প্রচলিত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার (العدل) পরিপন্থী বিধিবিধানের মধ্যে একটি হলো: তাদের নিকট কোনো ব্যক্তির ভাতা তার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা বৈধ (يجوز) নয়। এমনকি সেই ব্যক্তি যদি তার প্রাপ্য থেকে অত্যন্ত নগণ্য ভাতা পায় এবং সে চমৎকার নৈপুণ্য প্রদর্শন করে, তবুও ইমাম বা শাসকের জন্য তার পাওনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব হয় না। এটিও ন্যায়বিচার পরিপন্থী একটি ভ্রান্ত (فاسد) বিধান। যদি এই বিষয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করা হয়, তবে তাদের নীতি (المذهب) অনুযায়ী এটি আবশ্যক (لزمهم) হয়ে দাঁড়ায় যে, যার কোনো ভাতা নির্ধারিত নেই তার নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না; কারণ যে ব্যক্তি কিছুই নয় সে তো নগণ্যের চেয়েও কম। যুলুমের (الظلم) কাছাকাছি আরেকটি বিষয় হলো পুরুষদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করা, যা সামরিক দপ্তর সবসময় করে থাকে। তা হলো কোনো ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য পাওনা প্রদান করা হয় পরবর্তী মাসের দিনগুলোতে, যাতে ওই ব্যক্তির সবসময় এক মাসের পাওনা বকেয়া (واقفا) থেকে যায়।

অনুরূপ আরেকটি বিধান হলো সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যাকে তার নাম ও তালিকা (ثبته) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম করা হয়েছে যে, তার পাওনা প্রাপ্তি শুরু হবে সেই মাস থেকে যে মাসে তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের প্রদান করা হয়। এটি কোনো সুনির্দিষ্ট (مضبوط) নিয়ম নয়; কারণ হতে পারে একজন ব্যক্তি যেখানে পাওনা গ্রহণ করবে সেখানে পৌঁছাল তার সমপর্যায়ের ব্যক্তিদের পাওনা গ্রহণের একদিন পর। ফলে তাকে পুনরায় তারা পরবর্তী কিস্তি গ্রহণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তারপর—

(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
يستقبل به حينئذ الاعطاء، أو يصل مثلا في اليوم الذي يكون فيه قبضهم بعد مدة منه، فيكون خلاف حال الاول، وهذا مخالف للعدل لان سبيل السنن والاحكام العادلة «65» ، أن يكون الامر في جميعها واحدا محصلا غير مفوض الى البحث، والانفاق، وما يجوز معه أن تحسن حال واحد وتسوء حال آخر. وأما ما يستعملونه، من الالفاظ التي يختصون بها، ويحتاج من أراد العمل في الجيش من الكتاب أن يألفها فمثلا: أن يقولوا:

في سقط من سقط من الجند، انهم سقطوا على الشهر الفلاني، وليس في الشهور علىّ، ولا يجب منعهم ما يريدونه من ذلك بنفس اللفظ، وينبغي أن تفهم من قولهم في مثل هذا الموضع قبل. وأما أحكامهم الجارية على الصواب، فمنها ما يعملون عليه، فيما يسمونه الشهور الكوامل، وذلك أن يكون في تقدير أن عملوه لاموال الجيوش، استحقاقات تتوافى «66» الى آخر سنة من السنين، كما يكون آخر الشهر من شهور الجيش، واقفا منه قبل [ان] «67» يجدونه فيما يدخلونه، تقدير مال تلك السنة، وما يتجاوزها ولو بيوم. مثلا يخرجونه منها، وان كان الشهر كله الا ذلك اليوم، واقعا فيها، لان الاستحقاقات انما يكون بعد مضي جميع أيام الشهر، واذا بقى بعضها لم يكن الشهر حينئذ مستحقا. ومنها ان الاقتران كان كذلك في أرزاق الجليين «68» الاحرار، الذي طمعهم في مائة واثنين وعشرين يوما، وقبضهم في السنة ثلاثة أطماع. أو التسعينية، الذين قبضهم في
তখন প্রদানের সময় উপস্থিত হয়, অথবা ধরুন এমন দিনে গিয়ে পৌঁছে যখন নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তাদের প্রাপ্য গ্রহণের কথা, ফলে এটি প্রথম অবস্থার বিপরীত হয়। এটি ইনসাফের পরিপন্থী; কারণ সুন্নাহ (السنن) এবং ন্যায়নিষ্ঠ বিধানসমূহের (الأحكام) «65» পথ হলো এই যে, সবকিছুর ক্ষেত্রে বিষয়টি অভিন্ন ও সুনিশ্চিত হতে হবে, যা কোনো অনুসন্ধান বা খামখেয়ালি ব্যয়ের ওপর ন্যস্ত থাকবে না এবং যার মাধ্যমে একজনের অবস্থা ভালো ও অন্যজনের অবস্থা খারাপ হওয়ার অবকাশ থাকবে না। আর তারা তাদের জন্য নির্ধারিত যে সকল পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে এবং সেনাবাহিনীর লেখকদের মধ্যে যারা কাজ করতে চায় তাদের জন্য যা আয়ত্ত করা জরুরি, উদাহরণস্বরূপ তাদের কথা:

সৈন্যবাহিনী থেকে যারা বিচ্যুত (سقط) হয়েছে তাদের ব্যাপারে তারা বলে: "তারা অমুক মাসের ওপর বিচ্যুত (سقطوا) হয়েছে।" অথচ মাসগুলোর ক্ষেত্রে 'আলা' (على) অব্যয়টি ব্যবহৃত হয় না। তারা যা বলতে চায় সেই একই শব্দ ব্যবহারে তাদের বাধা দেওয়া আবশ্যক নয়, বরং এই জাতীয় স্থানে তাদের বক্তব্য থেকে 'পূর্বে' (قبل) বিষয়টি বুঝে নেওয়া উচিত। আর তাদের সঠিক নিয়মাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো সেই পদ্ধতি, যার ওপর তারা আমল করে এবং যাকে তারা পূর্ণ মাস (الشهور الكوامل) বলে অভিহিত করে। তা হলো সেনাবাহিনীর অর্থের হিসাব প্রাক্কলনের ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা রাখা যাতে প্রাপ্যসমূহ বছরগুলোর কোনো এক বছরের শেষ পর্যন্ত সুসম্পন্ন (تتوافى) «66» হয়, যেমন সেনাবাহিনীর মাসগুলোর মধ্য থেকে শেষ মাসটি সেই বছরের অন্তর্ভুক্ত করার আগে [যে] «67» সমাপ্ত হওয়া। অর্থাৎ সেই বছরের মালের প্রাক্কলন এবং যা একদিনের জন্য হলেও তা অতিক্রম করে যায়। উদাহরণস্বরূপ, তারা তা থেকে সেটি বের করে দেয়, যদিও সেই একদিন ব্যতীত পুরো মাসটিই তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। কারণ প্রাপ্যসমূহ কেবল মাসের সমস্ত দিন অতিবাহিত হওয়ার পরই সাব্যস্ত হয়। যখন মাসের কিছু অংশ বাকি থাকে, তখন সেই মাসটি প্রাপ্য হিসেবে গণ্য হয় না। এর অন্তর্ভুক্ত আরও বিষয় হলো এই যে, মুক্ত ও স্বাধীন সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের «68» ভাতার ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম ছিল, যাদের কিস্তি ছিল একশত বাইশ দিনের এবং বছরে তিনবার তারা তা গ্রহণ করত। অথবা নব্বই দিনের কিস্তিভুক্তরা, যাদের গ্রহণ ছিল...
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
السنة أربعة أطماع. والمختارين «69» ، على اثنين وسبعين يوما الذين قبضهم في السنة خمسة أطماع. أو أصحاب المشاهرة، على ثلاثة وثلاثين يوما الذين قبضهم في السنة أحد عشر شهرا. أو أصحاب النوائب «70» ، الذين قبضهم في السنة اثنى عشرة نوبة. والصنف الرابع، الذين قبضهم في السنة اثني مال طمعين. أجروهم على ذلك من حذف الكسر والعمل في استحقاقاتهم على الشهور الكوامل، فان كان هذا في الاحرار «71» الذين طمعهم في مائة «72» وخمسة أيام، لم يجروهم على ذلك وحسبوا «73» لهم كسر الشهر ومال السنة، وهو الثلاثة والسبع شهر، اذا كان ما يستحقه أهل هذا الصنف في السنة الخراجية. اذا أجروا على غير الشهور الكوامل لثلاثة أشهر، ويتلو سبع شهر. فالحكم «74» في أمرهم يخالف الحكم في أمر غيرهم. ومثل هذا من أحكامهم كثير، الا أن يأمر في هذا الديوان كاف في الاطلاع على وجه العمل فيه، اذا اتفق العمل في ديواني الخراج والضياع.
বছরের ভাতার পর্যায় (أطماع) চারটি। মনোনীত ব্যক্তিবর্গ (المختارين) «৬৯», বাহাত্তর দিনের ভিত্তিতে তাদের জন্য নির্ধারিত, যাদের বছরে পাঁচবার ভাতা (أطماع) প্রদান করা হয়। অথবা মাসিক বেতনভোগী (أصحاب المشاهرة), তেত্রিশ দিনের ভিত্তিতে যাদের বছরে এগারো মাস ভাতা প্রদান করা হয়। অথবা পালানুক্রমিক দায়িত্ব পালনকারী (أصحاب النوائب) «৭০», যাদের বছরে বারোটি পালায় (نوبة) ভাতা প্রদান করা হয়। চতুর্থ শ্রেণি (الصنف الرابع) হলো তারা, যাদের বছরে দুইবার ভাতার সম্পদ (مال طمعين) প্রদান করা হয়। ভগ্নাংশ বর্জন (حذف الكسر) করে এবং পূর্ণ মাসসমূহের (الشهور الكوامل) প্রাপ্যতার ভিত্তিতে তাদের এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে যদি এটি স্বাধীন ব্যক্তিদের (الأحرار) «৭১» ক্ষেত্রে হয়, যাদের ভাতার সময়কাল একশত পাঁচ দিন «৭২», তবে তাদের এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। বরং তাদের জন্য মাসের ভগ্নাংশ ও বছরের সম্পদ হিসাব (حسبوا) «৭৩» করা হবে; আর তা হলো তিন মাস এবং এক মাসের সপ্তমাংশ, যখন এই শ্রেণির প্রাপ্য খরাজী বছরের (السنة الخراجية) ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। যখন পূর্ণ মাস ব্যতীত তিন মাস এবং অতিরিক্ত এক মাসের সপ্তমাংশ অনুযায়ী হিসাব কার্যকর করা হয়, তখন তাদের বিষয়ের বিধান (الحكم) «৭৪» অন্যদের বিধান থেকে ভিন্ন হয়। তাদের এই জাতীয় বিধান (أحكام) অনেক। তবে ভূমিরাজস্ব দপ্তর ও ভূসম্পত্তি দপ্তরের (ديواني الخراج والضياع) কাজের মধ্যে যখন সামঞ্জস্য থাকে, তখন এই দপ্তরের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হওয়ার জন্য এর নির্দেশনাই যথেষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-খারাজ ওয়া সিনায়াতুল কিতাবাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌الباب الثاني في ذكر ديوان النفقات

قال قدامة: هذا الديوان تقسم مجالسه، على حسب ما يجرى فيه من الاعمال. فمن ذلك الجاري، وله مجلس مفرد، يسمى مجلس الجاري، ويفرد العمل مما يعمل في ديوان الجيش.

ومجلسه في ديوان الخراج، اذ كان الذي يحتاج [اليه، من ذلك انما هو الجرائد، تصنف من المرتزقة، وسياقة وقت] «1» الاستحقاقات، وما جرى هذا المجري. الا ان شهور الاعطاء ليست تجري على الرسوم التي يجري أمر الجيش عليها، بل يكون في الاكثر [على] «2» الشهر المنسوب الى الحشم، الذي أيامه خمسة وأربعون يوما، وربما كانت خمسين يوما، وربما كانت ثلاثين يوما. الا ان المعمول من الجاري في ديوان النفقات أكثر من ذلك، انما هو خمسة وأربعون يوما. ومن ذلك الانزال، ولها مجلس ينسب اليها، فيقال: مجلس الانزال، والذي يجري فيه هو كلما يقام من الانزال. وفي هذا المجلس يحاسب التجار الذين يقيمون الوظائف، من الخبز، واللحم، والحيوان، والحلوى، والثلج، والفاكهة والحطب، والزيت وغير ذلك، من سائر صنوف الاقامات. ولا تزال تسميته بمبالغها يجري على رسوم قديمة، لا يستغني الكاتب عن عملها، وهي ما ينسب من الخبز الى الوظيفة، فان ذلك ان كان من السميذ «3»
‌ব্যয় নির্বাহের দপ্তর (দিওয়ানুন নাফাকাত) বর্ণনা সংক্রান্ত দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

কুদামা বলেন: এই দপ্তরটি তার কার্যাবলীর ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন অধিবেশনে বিভক্ত। এর মধ্যে একটি হলো চলতি হিসাব (আল-জারি), যার জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিবেশন রয়েছে যাকে চলতি হিসাবের অধিবেশন বলা হয়। এটি সামরিক দপ্তরে সম্পাদিত কার্যাবলী থেকে পৃথকভাবে পরিচালনা করা হয়।

এর অধিবেশন ভূমি রাজস্ব দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়, কারণ এতে প্রধানত বেতনভোগীদের তালিকা এবং পাওনা পরিশোধের সময়ের বিন্যাস ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্বলিত খতিয়ানের প্রয়োজন পড়ে। তবে অর্থ প্রদানের মাসগুলো সামরিক বাহিনীর নিয়মানুযায়ী চলে না, বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা রাজকীয় সেবকদের জন্য নির্ধারিত মাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যার মেয়াদকাল পঁয়তাল্লিশ দিন, কখনো পঞ্চাশ দিন, আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে। তবে ব্যয় নির্বাহের দপ্তরে চলতি হিসাবের ক্ষেত্রে পঁয়তাল্লিশ দিনের হিসাবই অধিক প্রচলিত। এছাড়া রসদ ও আবাসন সংক্রান্ত আরেকটি বিষয় রয়েছে যার জন্য নির্দিষ্ট অধিবেশন বরাদ্দ থাকে, যাকে রসদ ও আবাসন অধিবেশন বলা হয়। রসদ ও আবাসন সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকাণ্ড এই অধিবেশনে পরিচালিত হয়। এই অধিবেশনে সেই সকল ব্যবসায়ীদের হিসাব-নিকাশ করা হয় যারা রুটি, মাংস, গবাদি পশু, মিষ্টান্ন, বরফ, ফলমূল, জ্বালানি কাঠ, তেল এবং অন্যান্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন। এগুলোর পরিমাণের নামকরণ প্রাচীন নিয়ম মেনেই চলে আসছে যা একজন হিসাবরক্ষকের জন্য অপরিহার্য; যেমন দৈনিক বরাদ্দের সাথে সংশ্লিষ্ট রুটির পরিমাণ, যদি তা উন্নত ময়দা দ্বারা প্রস্তুত করা হয়...