(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: -)
ذكر من له الآيات ومن تكلم بعد الموت للنجاد   (أبو بكر النجاد)

القسم: كتب السنة


الكتاب: ذكر من له الآيات ومن تكلم بعد الموت - مخطوط

المؤلف: أبو بكر النجاد، أحمد بن سلمان بن الحسن بن إسرائيل بن يونس البغدادي (ت 348هـ)

أعده للشاملة: أحمد الخضري

[الكتاب مخطوط]

عدد الصفحات: 41

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নাজ্জাদ রচিত যাদের অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে এবং যারা মৃত্যুর পর কথা বলেছেন তাদের বর্ণনা   (আবু বকর আন-নাজ্জাদ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব: যাদের অলৌকিক নিদর্শন প্রকাশ পেয়েছে এবং যারা মৃত্যুর পর কথা বলেছেন তাদের বর্ণনা - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবু বকর আন-নাজ্জাদ, আহমদ বিন সালমান বিন আল-হাসান বিন ইসরাঈল বিন ইউনুস আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৪৮ হি.)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: আহমদ আল-খুদরি

[কিতাবটি একটি পাণ্ডুলিপি]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪১

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১)
الكتاب: ذكر من له الآيات ومن تكلم بعد الموت - مخطوط

المؤلف: أبو بكر أحمد بن سلمان النجاد

المتوفى: 348 هـ
গ্রন্থ: তাদের আলোচনা যাদের জন্য নিদর্শনে ভরপুর অলৌকিক ঘটনা রয়েছে এবং যারা মৃত্যুর পর কথা বলেছেন - পাণ্ডুলিপি

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন সালমান আন-নাজ্জাদ

মৃত্যু: ৩৪৮ হিজরি
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২)
[3/ب] ذكر من له الآيات، ومن تكلم بعد الموت، وغير ذلك

تصنيف أبي بكر أحمد بن سلمان بن أبي بكر النجاد

[4/أ] بسم الله الرحمن الرحيم

 

1 - أخبرنا أبو الحسن محمد بن محمود بن أحمد بن سعد، قال: أخبرنا أبو عمرو بن أحمد بن عبد الله بن بريد المعروف بابن السماك، قراءة عليه، وأنا أسمع، في يوم الأحد لتسع بقين من شهر رمضان سنة اثنتين وأربعين وثلاث مئة، قال: أخبرنا كريز بن أبي طالب: قال: أخبرنا معروف الكرخي، حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ، عَنْ ضِرَارِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ يَزِيدَ الرَّقَاشِيِّ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى لِمَلَكِ الْمَوْتِ:وَعَنْ تَمِيمِ الدَّارِيِّ، رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: يَقُولُ الله، تبارك وتعالى لِمَلَكِ الْمَوْتِ: انْظُرْ إِلَى وَلِيِّي فَأْتِنِي بِهِ فَإِنِّي قَدْ ضَرَبْتُهُ بِالسَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ فَوَجَدْتُهُ حَيْثُ أَحَبَّ ائْتِنِي بِهِ فلأُرِيحَهُ قَالَ: فَيَنْطَلِقُ إِلَيْهِ مَلَكُ الْمَوْتِ وَمَعَهُ خَمْسُ مِئَةٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مَعَهُمْ أَكْفَانٌ وَحَنُوطٌ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَعَهُمْ صَبَائِرُ الرَّيْحَانِ أَصْلُ الرَّيْحَانَةِ وَاحِدٌ وَفِي رَأْسِهَا عِشْرُونَ لَوْنًا لِكُلِّ لَوْنٍ مِنْهَا رِيحٌ سِوَى رِيحِ صَاحِبِهِ، وَمَعَهُمُ الْحَرِيرُ الأَبْيَضُ فِيهِ الْمِسْكُ الأَذْفَرُ قَالَ: فَجَلَسَ مَلَكُ الْمَوْتِ عِنْدَ رَأْسِهِ وَتَحُفُّهُ الْمَلَائِكَةُ وَيَضَعُ كُلُّ مَلَكٍ مِنْهُمْ يَدَهُ عَلَى عُضْوٍ مِنْ أَعْضَائِهِ، وَيُبْسَطُ ذَلِكَ الْحَرِيرُ الأَبْيَضُ وَالْمِسْكُ الأَذْفَرُ مِنْ تَحْتِ ذَقْنِهِ، وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ،
[৩/খ] যাদের অলৌকিক নিদর্শন ছিল, যারা মৃত্যুর পর কথা বলেছে এবং অন্যান্যদের আলোচনা

আবু বকর আহমাদ ইবনে সালমান ইবনে আবু বকর আন-নাজ্জাদ-এর সংকলন

[৪/ক] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

১ - আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে আহমাদ ইবনে সা'দ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আমর ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে বারীদ, যিনি ইবনুল সিমাক নামে পরিচিত, তিনি আমাদের কাছে পাঠ করেছেন এবং আমি তা শুনছিলাম, ৩৪২ হিজরি সনের রমজান মাসের নয় দিন বাকি থাকতে রবিবার দিনে। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কারীয ইবনে আবু তালিব। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মারূফ আল-কারখী। বকর ইবনে খুনাইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন জিরার ইবনে আমর থেকে, তিনি ইয়াযীদ আল-রাকাশী থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি তামীম আদ-দারী থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, মহান ও বরকতময় আল্লাহ মৃত্যুর ফেরেশতাকে বলেন: এবং তামীম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মহান ও বরকতময় আল্লাহ মৃত্যুর ফেরেশতাকে বলেন: "আমার বন্ধুর (ওলির) দিকে তাকাও এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো; কেননা আমি তাকে সুখ ও দুঃখ দ্বারা পরীক্ষা করেছি এবং তাকে আমার পছন্দনীয় অবস্থায় পেয়েছি। তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো যেন আমি তাকে আরাম দিতে পারি।" তিনি বলেন: তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার দিকে রওনা হন এবং তার সাথে পাঁচশ জন ফেরেশতা থাকেন। তাদের সাথে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি থাকে। তাদের কাছে থাকে রায়হান ফুলের তোড়া, যার মূল এক হলেও এর মাথায় বিশটি রঙ থাকে এবং প্রতিটি রঙের আলাদা আলাদা সুঘ্রাণ থাকে যা অন্যটির মতো নয়। তাদের সাথে থাকে সাদা রেশম যাতে তীব্র সুগন্ধি কস্তুরী রয়েছে। তিনি বলেন: অতঃপর মৃত্যুর ফেরেশতা তার শিয়রে বসেন এবং ফেরেশতারা তাকে ঘিরে ফেলেন। তাদের প্রত্যেক ফেরেশতা তার শরীরের একটি অঙ্গের ওপর নিজের হাত রাখেন। সেই সাদা রেশম এবং তীব্র সুগন্ধি কস্তুরী তার থুতনির নিচে বিছিয়ে দেওয়া হয় এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
فَإِنَّ نَفْسَهُ لَتُعَلَّلُ عِنْدَ ذَلِكَ بِطَرَفِ الْجَنَّةِ مَرَّةً بِأَزْوَاجِهَا وَمَرَّةً بِكِسْوَتِهَا وَمَرَّةً بِثِمَارِهَا كَمَا يُعَلِّلُ الصَّبِيُّ أَهْلَهُ إِذَا بَكَى قَالَ: وَإِنَّ أَزْوَاجَهُ لَتبتهشن عِنْدَ ذَلِكَ ابتهاشًا قَالَ: وَتَبْرُزُ الرُّوحُ - قَالَ البُرْسَانِيُّ: تُرِيدُ أَنْ تَخْرُجَ مِنَ الْعَجَلَةِ إِلَى مَا تُحِبُّ - قَالَ: وَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: اخْرُجِي أَيَّتُهَا الرُّوحُ الطَّيِّبَةُ إِلَى سِدْرٍ مَخْضُودٍ، وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ، وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ، وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ، قَالَ وَلَمَلَكُ الْمَوْتِ أَشَدُّ بِهِ لُطْفًا مِنَ الْوَالِدَةِ بِوَلَدِهَا يَعْرِفُ أَنَّ ذَلِكَ الرُّوحَ حَبِيبَةٌ لِرَبِّهِ فَهُوَ يَلْتَمِسُ بِلُطْفِهِ تَحَبُّبًا لِرَبِّهِ رِضًا للرَّبِّ عَنْهُ، فَتُسَلُّ رُوحُهُ كَمَا تُسَلُّ الشَّعْرَةُ مِنَ الْعَجِينِ قَالَ: وَقَالَ الله، تبارك وتعالى: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ طَيِّبِينَ} وَقَالَ تَعَالَى: {فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ} قَالَ: رَوْحٌ: مِنْ جَهْدِ الْمَوْتِ قَالَ: وَرَيْحَانٌ: يُتَلَقَّى بِهِ قَالَ: وَجَنَّةُ نَعِيمٍ مُقَابِلَةٌ قَالَ: فَإِذَا قَبَضَ مَلَكُ الْمَوْتِ رُوحَهُ قَالَ الرُّوحُ لِلْجَسِدِ: جَزَاكَ الله عَنِّي خَيْرًا فَقَدْ [4/ب] كُنْتَ سَرِيعًا بِي إِلَى طَاعَةِ الله بَطِيئًا بِي عَنْ مَعْصِيَةِ الله فَقَدْ نُجِّيتَ وَأَنْجَيْبَ قَالَ: وَيَقُولُ الْجَسَدُ لِلرُّوحِ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ: وَتَبْكِي عَلَيْهِ بِقَاعُ الأَرْضِ الَّتِي كَانَ يُطِيعُ الله فِيهَا، وَكُلُّ بَابٍ مِنَ السَّمَاءِ يَصْعَدُ مِنْهُ عَمَلُهُ أَوْ يَنْزِلُ مِنْهُ رِزْقُهُ أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ: فَإِذَا قَبَضَ مَلَكُ الْمَوْتِ

সেই সময় জান্নাতের নেয়ামতরাজির মাধ্যমে তার আত্মাকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়; কখনো তার স্ত্রীদের মাধ্যমে, কখনো তার পোশাকের মাধ্যমে, আবার কখনো তার ফলমূলের মাধ্যমে, যেমনটি কোনো শিশু কাঁদলে তার পরিবার তাকে শান্ত করে। তিনি বলেন: সেই সময় জান্নাতে তার স্ত্রীরা অত্যন্ত আনন্দিত ও উৎফুল্ল হয়। তিনি বলেন: অতঃপর আত্মা বের হয়ে আসে—বুরসানী বলেন: আত্মা তার প্রিয় জিনিসের দিকে পৌঁছানোর জন্য দ্রুত বেরিয়ে আসতে চায়। তিনি বলেন: মৃত্যুর ফেরেশতা বলেন, ‘হে পবিত্র আত্মা! বেরিয়ে এসো কাঁটাবিহীন কুলগাছ, কাঁদিভরা কলাগাছ, সুদীর্ঘ ছায়া এবং সদা প্রবহমান পানির দিকে।’ তিনি বলেন: মৃত্যুর ফেরেশতা তার প্রতি মা তার সন্তানের প্রতি যতটা দয়ালু হয়, তার চেয়েও বেশি দয়া প্রদর্শন করেন। তিনি জানেন যে, এই আত্মাটি তার রবের অত্যন্ত প্রিয়। তাই তিনি রবের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এবং রবের নিকট প্রিয় হওয়ার লক্ষ্যে অত্যন্ত কোমলতার সাথে আত্মা কবজ করার চেষ্টা করেন। ফলে তার আত্মা এমনভাবে বের করে আনা হয়, যেমন আটা বা খামির থেকে চুল বের করে আনা হয়। তিনি বলেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেছেন, ‘যাদের মৃত্যু ফেরেশতারা পবিত্র থাকা অবস্থায় ঘটায়।’ এবং আল্লাহ তায়ালা আরও বলেছেন, ‘অতঃপর যদি সে নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তার জন্য রয়েছে আরাম, সুগন্ধি এবং নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত।’ তিনি বলেন: ‘আরাম’ হলো মৃত্যুর কষ্ট থেকে মুক্তি। তিনি বলেন: ‘সুগন্ধি’ হলো যা দ্বারা তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিনি বলেন: ‘নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত’ তার সামনেই বিদ্যমান। তিনি বলেন: যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার আত্মা কবজ করেন, তখন আত্মা শরীরকে বলে: ‘আল্লাহ তোমাকে আমার পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন। তুমি আমাকে আল্লাহর আনুগত্যের পথে দ্রুত নিয়ে যেতে এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখতে ধীরস্থির হতে; তাই তুমি নিজেও মুক্তি পেয়েছ এবং আমাকেও মুক্তি দিয়েছ।’ তিনি বলেন: শরীরও আত্মার উদ্দেশ্যে অনুরূপ কথা বলে। তিনি বলেন: জমিনের সেই সব স্থান তার জন্য ক্রন্দন করে যেখানে সে আল্লাহর ইবাদত করত, এবং আসমানের সেই প্রতিটি দরজা তার জন্য চল্লিশ বছর পর্যন্ত রোদন করে যেখান দিয়ে তার আমল উপরে উঠত অথবা তার রিযিক অবতীর্ণ হতো। তিনি বলেন: অতঃপর যখন মৃত্যুর ফেরেশতা কবজ করেন...

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
رُوحَهُ أَقَامَ الْخَمْسُ مِئَةٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ عِنْدَ جَسَدِهِ فَلَا يُقَلِّبُهُ بَنُو آدَمَ لِشِقٍّ إِلَاّ قَلَّبَتْهُ الْمَلَائِكَةُ قَبْلَهُمْ وَعَلَتْهُ بِأَكْفَانِ قبل أكفان بَنِي آدَمَ وَحَنَّطُوهُ قَبْلَ حَنُوطِ بَنِي آدَمَ، وَيَقُومُ مَنْ بَيْنِ بَابِ بَيْتِهِ إِلَى بَابِ قَبْرِهِ صَفَّانِ مِنَ الْمَلَائِكَةِ يَسْتَقْبِلُونَهُ بِالاِسْتِغْفَارِ قَالَ: فَيُصِيحُ عِنْدَ ذَلِكَ إِبْلِيسُ صَيْحَةً يَتَصَدَّعُ مِنْهَا بَعْضُ عِظَامِ جَسَدِهِ وَيَقُولُ لِجُنُودِهِ: الْوَيْلُ لَكُمْ كَيْفَ خَلُصَ هَذَا الْعَبْدُ مِنْكُمْ؟! قَالَ: فَيَقُولُونَ: إِنَّ هَذَا كَانَ عَبْدًا مَعْصُومًا قَالَ: فَإِذَا صَعَدَ مَلَكُ الْمَوْتِ بِرُوحِهِ إِلَى السَّمَاءِ يَسْتَقْبِلُهُ جِبْرِيلُ عليه السلام فِي سَبْعِينَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةِ كُلُّ مَلَكٍ يَأْتِيهِ بِبِشَارَةٍ مِنْ رَبِّهِ سِوَى بِشَارَةِ صَاحِبِهِ قَالَ: فَإِذَا انْتَهَى مَلَكُ الْمَوْتِ بِرُوحِهِ إِلَى الْعَرْشِ قَالَ: خَرَّ الرُّوحُ سَاجِدًا قَالَ: يَقُولُ الله، تبارك وتعالى لِمَلَكِ الْمَوْتِ: انْطَلِقْ بِرُوحِ عَبْدِي هَذَا فَضَعْهُ فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ، وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ، وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ، وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ قَالَ: فَإِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ جَاءَتْهُ الصَّلَاةُ فَكَانَتْ عَنْ يَمِينِهِ، وَجَاءَهُ الصِّيَامُ فَكَانَ عَنْ يَسَارِهِ، وَجَاءَهُ الْقُرْآنُ وَالذِّكْرُ قَالَ: فَكَانَا عِنْدَ رَأْسِهِ، وَجَاءَهُ مَشْيُهُ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَانَ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، وَجَاءَهُ الصَّبْرُ فَكَانَ فِي نَاحِيَةِ الْقَبْرِ قَالَ: فَيَبْعَثُ الله تبارك وتعالى عنقًا من العذاب قَالَ: فَيَأْتِيهِ عَنْ

(তার) রূহের জন্য পাঁচশত ফেরেশতা তার দেহের নিকট অবস্থান গ্রহণ করেন। আদম সন্তানরা তাকে এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফেরানোর আগেই ফেরেশতারা তাদের পূর্বেই তাকে পার্শ্ব পরিবর্তন করিয়ে দেন। আদম সন্তানদের কাফন পরানোর পূর্বেই তারা তাকে কাফন দিয়ে আচ্ছাদিত করেন এবং আদম সন্তানদের সুগন্ধি মাখানোর পূর্বেই তারা তাকে সুগন্ধি মাখান। তার ঘরের দরজা থেকে কবরের দরজা পর্যন্ত ফেরেশতাদের দুই কাতার দাঁড়িয়ে থাকে, তারা ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানায়। তিনি বললেন: সেই মুহূর্তে ইবলিস এমন এক উচ্চস্বরে চিৎকার দেয় যে, তাতে তার দেহের কিছু হাড় ফেটে যায় এবং সে তার বাহিনীকে বলে: ‘তোমাদের ধ্বংস হোক! কীভাবে এই বান্দা তোমাদের হাত থেকে মুক্তি পেল?!’ তিনি বললেন: তখন তারা বলে: ‘নিশ্চয় এই বান্দা (পাপ থেকে) সংরক্ষিত ছিল।’ তিনি বললেন: যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার রূহ নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করেন, তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম সত্তর হাজার ফেরেশতা নিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান। প্রত্যেক ফেরেশতা তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে সুসংবাদ নিয়ে আসে, যা তার সঙ্গীর আনা সুসংবাদ থেকে ভিন্ন হয়। তিনি বললেন: যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার রূহ নিয়ে আরশ পর্যন্ত পৌঁছান, তখন রূহ সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। তিনি বললেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মৃত্যুর ফেরেশতাকে বলেন: ‘আমার এই বান্দার রূহ নিয়ে যাও এবং তাকে কাঁটাহীন বরই গাছ, কাঁদিভরা কলা গাছ, বিস্তৃত ছায়া এবং সদা প্রবাহিত পানির মধ্যে স্থাপন করো।’ তিনি বললেন: যখন তাকে কবরে রাখা হয়, তখন নামাজ এসে তার ডান দিকে অবস্থান নেয়, রোজা এসে তার বাম দিকে অবস্থান নেয়, এবং কুরআন ও জিকির তার মাথার কাছে অবস্থান নেয়। নামাজের দিকে তার পায়ে হেঁটে যাওয়া তার দুই পায়ের কাছে অবস্থান নেয় এবং ধৈর্য কবরের এক প্রান্তে অবস্থান নেয়। তিনি বললেন: অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা আজাবের (শাস্তির) একটি অংশ প্রেরণ করেন। তিনি বললেন: অতঃপর তা তার নিকট আসে...

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
يَمِينِهِ قَالَ: فَتَقُولُ: الصَّلَاةُ وَرَاءَكَ وَالله مَا زَالَ دَائِبًا عُمْرَهُ كُلَّهُ وَإِنَّمَا اسْتَرَاحَ الآنَ حِينَ وُضِعَ فِي قَبْرِهِ قَالَ: فَيَأْتِيهِ عَنْ يَسَارِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ: ثُمَّ يَأْتِيهِ مِنْ عِنْدِ من عِنْد رَأْسِهِ قَالَ: فَيَقُولُ الْقُرْآنُ وَالذِّكْرُ مِثْلَ ذَلِكَ ، قَالَ: ثُمَّ يَأْتِيهِ مِنْ عِنْدِ رِجْلَيْهِ فَيَقُولُ مَشْيُهُ إِلَى الصَّلَاةِ مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ: فَلَا يَأْتِيهِ الْعَذَابُ مِنْ نَاحِيَةٍ يَلْتَمِسُ هَلْ يَجِدُ إِلَيْهِ مَسَاغًا إِلَاّ وَجَدَ وَلِيَّ الله قَدْ أَخَذَ حَيْطَتَهُ قَالَ: فَيَنْقَمِعُ الْعَذَابُ عِنْدَ ذَلِكَ فَيَخْرُجُ قَالَ: وَيَقُولُ الصَّبْرُ لِسَائِرِ الأَعْمَالِ أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَمْنَعْنِي أَنْ أُبَاشِرَ أَنَا بِنَفْسِي إِلَاّ أَنِّي نَظَرْتُ مَا عِنْدَكُمْ فَإِنْ عَجِزْتُمْ كُنْتُ أَنَا صَاحِبَهُ فَأَمَّا إِذَا أَجْزَأْتُمْ عَنْهُ فَأَنَا لَهُ ذُخْرٌ عِنْدَ الصِّرَاطِ وَالْمِيزَانِ قَالَ: فَيَبْعَثُ الله مَلَكَيْنِ أَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِف، وَأَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ الْقَاصِفِ، وَأَنْيَابُهُمَا كَالصَّيَاصِيِّ،

وَأَنْفَاسُهُمَا كَاللهبِ، يَطَآنَ فِي أَشْعَارِهِمَا بَيْنَ مِنْكَبَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَسِيرَةُ كَذَا وَكَذَا، قَدْ نُزِعَتْ مِنْهُمَا الرَّأْفَةُ وَالرَّحْمَةُ يُقَالُ لَهُمَا: مُنْكَرٌ وَنَكِيرٌ، فِي يَدِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِطْرَقَةٌ لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا رَبِيعَةُ وَمُضَرُ لَمْ يُقْلوهَا.
তার ডান দিক থেকে (আযাব আসতে চাইলে) সে বলবে: সালাত তোমার পেছনে রয়েছে; আল্লাহর কসম, সে তার সারা জীবন পরিশ্রম করেছে, আর এখন কবরে রাখার পরেই সে কেবল বিশ্রাম লাভ করেছে। তিনি বলেন: এরপর তা তার বাম দিক থেকে আসবে, তখন সিয়ামও অনুরূপ বলবে। তিনি বলেন: এরপর তা তার মাথার দিক থেকে আসবে, তখন কুরআন এবং যিকরও অনুরূপ বলবে। তিনি বলেন: এরপর তা তার দুই পায়ের দিক থেকে আসবে, তখন সালাতের উদ্দেশ্যে তার হেঁটে যাওয়াও অনুরূপ বলবে। তিনি বলেন: আযাব কোনো দিক দিয়েই প্রবেশের সুযোগ তালাশ করে তা পাবে না, বরং দেখবে যে আল্লাহর ওলী তার নিজের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তিনি বলেন: তখন আযাব দমিত হয়ে ফিরে যাবে। তিনি বলেন: আর ধৈর্য অন্যান্য আমলসমূহকে বলবে: আমি নিজে সরাসরি এগিয়ে আসিনি কেবল একারণে যে, আমি দেখছিলাম তোমাদের কাছে কী আছে। যদি তোমরা অক্ষম হতে, তবে আমিই হতাম তার সাথী। কিন্তু যেহেতু তোমরা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়েছ, তাই আমি সিরাত ও মীযানের নিকট তার জন্য সঞ্চিত পাথেয় হিসেবে থাকব। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ দুজন ফেরেশতা পাঠাবেন যাদের দৃষ্টি চমকানো বিদ্যুতের মতো, তাদের কণ্ঠস্বর গর্জনকারী বজ্রের মতো এবং তাদের দাঁতগুলো দীর্ঘ শিং বা দুর্গের কীলকের মতো,

তাদের নিশ্বাস আগুনের শিখার মতো, তারা তাদের চুলের ওপর দিয়ে হেঁটে আসে। তাদের প্রত্যেকের দুই কাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্ব এত এত পথ। তাদের থেকে কোমলতা ও দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয় মুনকার ও নাকীর। তাদের প্রত্যেকের হাতে এমন একটি করে হাতুড়ি থাকবে যে, যদি রাবিয়াহ ও মুদার গোত্রের সকলে মিলে তা উঠাতে চায়, তবে তারা তা উঠাতে পারবে না।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
قَالَ: فَيَقُولَانِ لَهُ: اجْلِسْ قَالَ: فَيَجْلِسُ فَيَسْتَوِي جَالِسًا قَالَ: وَتَقَعُ أَكْفَانُهُ فِي حِقْوَيْهِ قَالَ: فَيَقُولَانِ: لَهُ مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ الله، وَمَنْ يُطِيقُ الْكَلَامَ عِنْدَ ذَلِكَ وَأَنْتَ تَصِفُ مِنَ الْمَلَكَيْنِ مَا تَصِفُ؟ قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ الله: {يُثَبِّتُ الله الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الآخِرَةِ وَيُضِلُّ الله الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ الله مَا يَشَاءُ} قَالَ: فَيَقُولُ: رَبِّيَ الله [5/أ] وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَدِينِي الإِسْلَامُ الَّذِي دَانَتْ بِهِ الْمَلَائِكَةُ، وَنَبِيِّي مُحَمَّدٌ صلى الله عليه وسلم خَاتَمُ النَّبِيِّينَ قَالَ: فَيَقُولَانِ صَدَقْتَ قَالَ: فَيَدْفَعَانِ الْقَبْرَ فَيُوَسِّعَانِهِ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا، ومن خلفه أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا ، وَعَنْ يَمِينِهِ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا، وَعَنْ شِمَالِهِ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا، وَعِنْدَ رَأْسِهِ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا، وَعِنْدَ رِجْلَيْهِ أَرْبَعِينَ ذِرَاعًا، قَالَ: فَيُوَسِّعَانِ مِئَتَيْ ذِرَاعٍ - قَالَ الْبُرْسَانِيُّ: فَأَحْسَبُهُ قَالَ: وَأَرْبَعُونَ تُحَاطُ بِهِ - قَالَ: ثُمَّ يَقُولَانِ لَهُ انْظُرْ فَوْقَكَ قَالَ: فَيَنْظُرُ فَوْقَهُ فَإِذَا بَابٌ مَفْتُوحٌ إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ: فَيَقُولَانِ لَهُ: وَلِيُّ الله، هَذَا مَنْزِلُكَ إِذْ أَطَعْتَ الله قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيَصِلُ إِلَى قَلْبِهِ عِنْدَ ذَلِكَ فَرْحَةٌ لَا تَرْتَدُّ أَبَدًا ثُمَّ يُقَالُ لَهُ:

তিনি বললেন: অতঃপর তারা তাকে বলবে: বসো। তিনি বললেন: তখন সে বসবে এবং সোজা হয়ে উঠে বসবে। তিনি বললেন: তখন তার কাফনের কাপড় তার কোমর পর্যন্ত ঝুলে পড়বে। তিনি বললেন: তখন তারা তাকে বলবে: তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে? তারা (সাহাবীগণ) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি এই দুই ফেরেশতার যে বিবরণ দিচ্ছেন, সেই অবস্থায় কথা বলার সামর্থ্য কার থাকবে? তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন পাঠ করলেন: {যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে সুদৃঢ় বাণীর ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন। আর আল্লাহ যালিমদের পথভ্রষ্ট করেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছে তা-ই করেন।} তিনি বললেন: তখন সে বলবে: আমার রব আল্লাহ [৫/অ], তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; আমার দ্বীন ইসলাম, যার আনুগত্য ফেরেশতারাও করেছেন; এবং আমার নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি শেষ নবী। তিনি বললেন: তখন তারা বলবে, তুমি সত্য বলেছ। তিনি বললেন: এরপর তারা কবরটিকে ঠেলে চারদিক থেকে প্রশস্ত করে দেবেন; তার সামনে থেকে চল্লিশ হাত, তার পিছন থেকে চল্লিশ হাত, তার ডান দিক থেকে চল্লিশ হাত, তার বাম দিক থেকে চল্লিশ হাত, তার মাথার দিক থেকে চল্লিশ হাত এবং তার পায়ের দিক থেকে চল্লিশ হাত। তিনি বললেন: তারা এভাবে দুইশত হাত প্রশস্ত করে দেবেন—বুরসানি বলেন: আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন: এবং চল্লিশ হাত যা তাকে পরিবেষ্টন করে থাকবে— তিনি বললেন: এরপর তারা তাকে বলবে, তোমার ওপরের দিকে তাকাও। তিনি বললেন: তখন সে তার ওপরের দিকে তাকাবে এবং দেখতে পাবে জান্নাতের দিকে একটি দরজা খোলা রয়েছে। তিনি বললেন: তখন তারা তাকে বলবে: হে আল্লাহর ওলী, এটিই তোমার ঠিকানা, যেহেতু তুমি আল্লাহর আনুগত্য করেছিলে। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, নিশ্চয়ই তখন তার অন্তরে এমন এক আনন্দ পৌঁছাবে যা কখনো শেষ হবে না। এরপর তাকে বলা হবে:

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
انْظُرْ تَحْتَكَ، فَيَنْظُرُ تَحْتَهُ فَإِذَا بَابٌ مَفْتُوحٌ إِلَى النَّارِ قَالَ: فَيَقُولَانِ لَهُ: وَلِيُّ الله، نَجَوْتَ آخِرَ مَا عَلَيْكَ قَالَ: فَقَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدهِ إِنَّهُ لَيَصِلُ إِلَى قَلْبِهِ عِنْدَ ذَلِكَ فَرْحَةٌ لَا تَرْتَدُّ أَبَدًا قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: يُفْتَحُ لَهُ سَبْعَةٌ وَسَبْعُونَ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ يَأْتِيهِ رِيحُهَا وَبَرْدُهَا حَتَّى يَبْعَثُهُ الله عز وجل إِليْهَا.

قَالَ: يَقُولُ اللَّهُ تبارك وتعالى لِمَلَكِ الْمَوْتِ: انْطَلِقْ إِلَى عَدُوِّي فَأْتِنِي بِهِ، فَإِنِّي قَدْ بَسَطْتُ لَهُ فِي رِزْقِي وَسَرْبَلْتُهُ نِعْمَتِي فَأَبَى إِلَاّ مَعْصِيَتِي، فَأْتِنِي بِهِ لأَنْتَقِمَ مِنْهُ.
"তুমি তোমার নিচে তাকাও।" সে তার নিচে তাকাবে এবং দেখবে যে জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খোলা রয়েছে। তারা তাকে বলবে, "হে আল্লাহর বন্ধু! আপনি আপনার ওপর থাকা সর্বশেষ বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।" তিনি বললেন: অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, "সেই সত্তার শপথ যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয়ই সেই মুহূর্তে তার হৃদয়ে এমন এক আনন্দ পৌঁছাবে যা কখনো শেষ হবে না।" তিনি বললেন: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "তার জন্য জান্নাতের সাতাত্তরটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যেখান থেকে জান্নাতের সুবাতাস ও শীতলতা তার কাছে আসতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাকে সেখানে পুনরুত্থিত করেন।"

তিনি বললেন: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা মালাকুল মাউতকে বলেন, "আমার শত্রুর কাছে যাও এবং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো; কেননা আমি তার জন্য আমার রিযিক প্রশস্ত করে দিয়েছিলাম এবং তাকে আমার নিআমত দ্বারা আচ্ছাদিত করেছিলাম, কিন্তু সে আমার অবাধ্যতা ছাড়া অন্য সবকিছুই অস্বীকার করেছিল। সুতরাং তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো যাতে আমি তার থেকে প্রতিশোধ নিতে পারি।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
قَالَ: فَيَنْطَلِقُ إِلَيْهِ مَلَكُ الْمَوْتِ فِي أَكْرَهِ صُورَةٍ رَآهَا أَحَدٌ مِنَ النَّاسِ قَطُّ، لَهُ اثْنَا عَشَرَ عَيْنًا، وَمَعَهُ سَفُّودٌ مِنْ حَدِيدٍ كَثِيرُ الشَّوْكِ، وَمَعَهُ خَمْسُ مِئَةٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ مَعَهُمْ نُحَاسٌ وَجَمْرٌ مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ، وَمَعَهُمْ سِيَاطٌ مِنْ نَارٍ لِينُهَا لِينُ السِّيَاطِ وَهِيَ نَارٌ تَأَجَّجُ، قَالَ: فَيَضْرِبُهُ مَلَكُ الْمَوْتِ بِذَلِكَ السَّفُّودِ ضَرْبَةً يَغِيبُ أَصْلُ كُلِّ شَوْكَةٍ مِنْ ذَلِكَ السَّفُّودِ فِي أَصْلِ كُلِّ شَعْرَةٍ وَعِرْقٍ وَظُفْرٍ، ثُمَّ يَلْوِيهِ لَيًّا شَدِيدًا، فَيَنْزِعُ رُوحَهُ مِنْ أَظْفَارِ قَدَمَيْهِ، فَيُلْقِيهَا فِي عَقِبَيْهِ، قَالَ: فَيُسْكَرُ عَدُوُّ اللهِ عِنْدَ ذَلِكَ سَكْرَةً، فَيُرَوِّحُ مَلَكُ الْمَوْتِ عَنْهُ، فَتَضْرِبُ الْمَلَائِكَةُ وَجْهَهُ وَدُبُرَهُ [5/ب] بِتِلْكَ السِّيَاطِ، ثُمَّ يَنْثُرُهُ الْمَلَكُ نَثْرَةً، فَتُنْزَعُ رُوحُهُ مِنْ عَقِبَيْهِ، فَيُلْقِيهَا فِي رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ يُسْكَرُ عَدُوُّ اللهِ سَكْرَةً عِنْدَ ذَلِكَ، فَيُرَفِّهُ مَلَكُ الْمَوْتِ عَنْهُ.

তিনি বলেন: এরপর মালাকুল মউত তার কাছে এমন বীভৎস আকৃতিতে আগমন করেন, যা কোনো মানুষ ইতিপূর্বে কখনো দেখেনি। তার বারোটি চোখ রয়েছে এবং তার সাথে প্রচুর কাঁটাযুক্ত লোহার একটি শলাকা রয়েছে। তার সাথে আরও পাঁচশত ফেরেশতা থাকেন, যাদের নিকট তামা এবং জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার থাকে। তাদের সাথে আগুনের তৈরি চাবুক থাকে যা সাধারণ চাবুকের মতোই নমনীয়, অথচ তা দাউ দাউ করে জ্বলা আগুন। তিনি বলেন: মালাকুল মউত সেই কাঁটাযুক্ত শলাকা দিয়ে তাকে এমন এক আঘাত করেন যাতে সেই শলাকার প্রতিটি কাঁটার গোড়া তার প্রতিটি চুল, রগ এবং নখের মূলে বিদ্ধ হয়। অতঃপর তিনি তা সজোরে মোচড় দেন এবং তার পায়ের নখসমূহ থেকে রূহ টেনে বের করে গোড়ালিতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন: সেই সময় আল্লাহর শত্রু মৃত্যু যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, তখন মালাকুল মউত তাকে কিছুটা অবকাশ দেন। এরপর ফেরেশতারা সেই চাবুকগুলো দিয়ে তার চেহারা ও পিঠের পেছনে [৫/খ] আঘাত করতে থাকেন। অতঃপর ফেরেশতা তাকে পুনরায় সজোরে হেঁচকা টান দেন, ফলে তার রূহ গোড়ালি থেকে টেনে হাঁটুর নিকট নিয়ে আসা হয়। তখন আল্লাহর শত্রু পুনরায় মৃত্যু যন্ত্রণায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং মালাকুল মউত তাকে কিছুটা রেহাই দেন।

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ: فَتَضْرِبُ الْمَلَائِكَةُ وَجْهَهُ وَدُبُرَهُ بِتِلْكَ السِّيَاطِ، فَيَنْثُرُهُ مَلَكُ الْمَوْتِ نَثْرَةً، فَيَنْزِعُ رُوحَهُ مِنْ رُكْبَتَيْهِ، فَيُلْقِيهَا فِي حِقْوَيْهِ قَالَ: فَيُسْكَرُ عَدُوُّ اللهِ عِنْدَ ذَلِكَ سَكْرَةً، فَيُرَفِّهُ مَلَكُ الْمَوْتِ عَنْهُ، قَالَ: فَتَضْرِبُ الْمَلَائِكَةُ وَجْهَهُ وَدُبُرَهُ بِتِلْكَ السِّيَاطِ قَالَ: فَكَذَلِكَ إِلَى صَدْرِهِ إِلَى حَلْقِهِ، فَتَبْسُطُ الْمَلَائِكَةُ النُّحَاسَ وَجَمْرَ جَهَنَّمَ تَحْتَ ذَقْنِهِ، وَيَقُولُ مَلَكُ الْمَوْتِ: اخْرُجِي أَيَّتُهَا الرُّوحُ اللَّعِينَةُ الْمَلْعُونَةُ إِلَى سَمُومٍ وَحَمِيمٍ، وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ، لَا بَارِدٍ، وَلَا كَرِيمٍ.

তিনি বললেন: অতঃপর ফেরেশতারা সেই চাবুকগুলো দিয়ে তার মুখমণ্ডলে এবং তার পশ্চাৎদেশে আঘাত করতে থাকেন, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে ভীষণভাবে ঝাঁকুনি দেন এবং তার হাঁটু থেকে প্রাণ টেনে বের করে তা তার কোমরে নিক্ষেপ করেন। তিনি বললেন: তখন আল্লাহর শত্রু এমন এক মত্ততায় (মৃত্যু যন্ত্রণায়) আচ্ছন্ন হয় যে, মৃত্যুর ফেরেশতা তাকে কিছুটা অবকাশ দেন। তিনি বললেন: পুনরায় ফেরেশতারা সেই চাবুকগুলো দিয়ে তার মুখমণ্ডলে এবং তার পশ্চাৎদেশে আঘাত করতে থাকেন। তিনি বললেন: এভাবে প্রাণটি তার বুক এবং এরপর কণ্ঠনালী পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তখন ফেরেশতারা তার চিবুকের নিচে তামা ও জাহান্নামের অঙ্গার বিছিয়ে দেন এবং মৃত্যুর ফেরেশতা বলেন: ওহে অভিশপ্ত ও লানতগ্রস্ত আত্মা! বের হয়ে আসো অত্যধিক উষ্ণ বাতাস ও ফুটন্ত পানির দিকে, এবং কৃষ্ণবর্ণ ধোঁয়ার ছায়ার দিকে, যা শীতল নয় এবং আরামদায়কও নয়।

(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
قَالَ: فَإِذَا قَبَضَ مَلَكُ الْمَوْتِ رُوحَهُ قَالَ الرُّوحُ لِلْجَسَدِ: جَزَاكَ اللَّهُ عَنِّي شَرًّا قَدْ كُنْتَ بَطِيئًا بِي عَنْ طَاعَةِ اللهِ سَرِيعًا بِي إِلَى مَعْصِيَةِ اللهِ، وَقَدْ هَلَكْتَ وَأُهْلَكْتَ، قَالَ: وَيَقُولُ الْجَسَدُ لِلرُّوحِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَتَلْعَنُهُ بِقَاعُ الأَرْضِ الَّتِي كَانَ يَعْصِي اللَّهَ عَلَيْهَا، قَالَ: وَتَنْطَلِقُ جُنُودُ إِبْلِيسَ يُبَشِّرُونَهُ بِأَنَّهُمْ قَدْ أَوْرَدُوا عَبْدًا مِنْ وَلَدِ آدَمَ النَّارَ، فَإِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ ضُيِّقَ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ، وَتَدْخُلُ الْيُمْنَى فِي الْيُسْرَى وَالْيُسْرَى فِي الْيُمْنَى، فَيَبْعَثُ اللَّهُ إِلَيْهِ أَفَاعِيَ كَأَعْنَاقِ الإِِبِلِ، يَأْخُذُونَهُ بِأَرْنَبَتِهِ، وَإِبْهَامَيْ قَدَمَيْهِ، فَتَقْرِضُهُ حَتَّى يَلْتَقِينَ فِي وَسَطِهِ، وَيَبْعَثُ اللَّهُ مَلَكَيْنِ أَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ، وَأَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ الْقَاصِفِ، وَأَنْيَابُهُمَا كَالصَّيَاصِي وَأَنْفَاسُهُمَا كَاللَّهَبِ، يَطَآنِ فِي شُعُورِهِمَا بَيْنَ مَنْكِبَيْ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مَسِيرَةَ كَذَا وَكَذَا، قَدْ نُزِعَتْ مِنْهُمَا الرَّأْفَةُ وَالرَّحْمَةُ، يُقَالَ لَهُمَا مُنْكَرٌ وَنَكِيرٌ فِي يَدِ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِطْرَقَةٌ، لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا رَبِيعَةُ وَمُضَرٌ لَمْ يُقِلُّوهَا قَالَ: فَيَقُولَانِ لَهُ: اجْلِسْ، قَالَ: فَيَجْلِسُ فَيَسْتَوِي جَالِسًا، وَتَقَعُ أَكْفَانُهُ إِلَى حِقْوَيْهِ قَالَ: فَيَقُولَانِ لَهُ: مَنْ رَبُّكَ؟ وَمَا دِينُكَ؟ وَمَنْ نَبِيُّكَ؟ فَيَقُولُ: لَا أَدْرِي. فَيَقُولَانِ لَهُ: لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ.
তিনি বললেন: যখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার রুহ কবজ করেন, তখন রুহ দেহকে বলে: "আল্লাহ তোমাকে আমার পক্ষ থেকে মন্দ প্রতিদান দিন; তুমি আমাকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে নিয়ে যেতে ধীরগতিসম্পন্ন ছিলে এবং আল্লাহর নাফরমানির দিকে নিয়ে যেতে দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিলে। তুমি ধ্বংস হয়েছ এবং আমাকেও ধ্বংস করেছ।" তিনি বললেন: আর দেহও রুহকে অনুরূপ কথা বলে, এবং জমিনের ঐসব অংশ তাকে অভিশাপ দেয় যার ওপর সে আল্লাহর নাফরমানি করত। তিনি বললেন: আর ইবলিসের সৈন্যরা তাকে এই সুসংবাদ দিতে রওনা হয় যে, তারা আদম-সন্তানদের মধ্য থেকে এক বান্দাকে জাহান্নামে পৌঁছাতে পেরেছে। অতঃপর যখন তাকে তার কবরে রাখা হয়, তখন তার ওপর কবরকে এমনভাবে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে তার একদিকের পাঁজর অন্যদিকের পাঁজরের মধ্যে ঢুকে যায়; ডানদিকের পাঁজর বামদিকে আর বামদিকের পাঁজর ডানদিকে প্রবেশ করে। তারপর আল্লাহ তার কাছে উটের ঘাড়ের মতো বিশাল বিশাল সাপ পাঠান; সেগুলো তার নাকের অগ্রভাগ এবং তার দুই পায়ের বুড়ো আঙুল কামড়ে ধরবে, এবং তাকে দংশন করতে করতে শরীরের মাঝখানে এসে মিলিত হবে। আর আল্লাহ এমন দুজন ফেরেশতা পাঠান যাদের চোখ বিদ্যুৎ চমকের মতো, কণ্ঠস্বর বজ্রপাতের গর্জনের মতো, দাঁতগুলো দুর্গের প্রাকারের মতো তীক্ষ্ণ এবং শ্বাস-প্রশ্বাস আগুনের শিখার মতো। তারা তাদের চুলের ওপর দিয়ে পদচারণা করেন; তাদের প্রত্যেকের দুই কাঁধের মধ্যবর্তী দূরত্ব এত এত পথ। তাদের মধ্য থেকে মমতা ও দয়া ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মুনকার ও নাকির বলা হয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে হাতুড়ি থাকে; যদি রাবিয়াহ ও মুদার গোত্রের সকলে মিলে সেটি উঠাতে চায়, তবে তারা তা উঠাতে পারবে না। তিনি বললেন: তারা তাকে বলবে: "বসো।" তিনি বললেন: অতঃপর সে বসবে এবং সোজা হয়ে বসার জন্য উঠে আসবে, আর তার কাফন তার কোমর পর্যন্ত ঝুলে পড়বে। তিনি বললেন: তারা তাকে জিজ্ঞেস করবে: "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? তোমার নবী কে?" সে বলবে: "আমি জানি না।" তখন তারা তাকে বলবে: "তুমি জানোনি এবং অনুসরণ করোনি।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
قَالَ: فَيَضْرِبَانِهِ ضَرْبَةً يَطِيرُ شَرَارُهَا فِي قَبْرِهِ ثُمَّ يَعُودَانِ، فَيَقُولَانِ لَهُ: انْظُرْ فَوْقَكَ، فَيَنْظُرُ فَإِذَا بَابٌ مَفْتُوحٌ مِنَ الْجَنَّةِ فَيَقُولَانِ: يَا عَدُوَّ اللهِ، هَذَا مَنْزِلُكَ لَوْ كُنْتَ أَطَعْتَ اللَّهَ ، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّهُ لَيَصِلُ إِلَى قَلْبِهِ عِنْدَ ذَلِكَ حَسْرَةٌ لَا تَرْتَدُّ أَبَدًا. فَيَقُولَانِ لَهُ: انْظُرْ تَحْتَكَ، فَيَنْظُرُ تَحْتَهُ، فَإِذَا بَابٌ [6/أ] مَفْتُوحٌ إِلَى النَّارِ، فَيَقُولَانِ: عَدُوَّ اللهِ، هَذَا مَنْزِلُكَ إِذْ عَصَيْتَ اللَّهَ عز وجل، قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ، إِنَّهُ لَيَصِلُ إِلَى قَلْبِهِ عِنْدَ ذَلِكَ حَسْرَةٌ لَا تَرْتَدُّ أَبَدًا.

قَالَ: قَالَتْ عَائِشَةُ: وَيُفْتَحُ لَهُ سَبْعَةٌ وَسَبْعُونَ بَابًا إِلَى النَّارِ، يَأْتِيهِ حَرُّهَا وَسَمُومُهَا، حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ عز وجل إِلَيْهَا. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه أَبُو يَعْلَى الموصلي في (مسنده) (إتحاف الخيرة المهرة للبوصيري) (1852) ، و (المطالب العالية لابن حجر) (4558) .

قال أَبُو يَعْلَى: (حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ الْبُرْسَانِيُّ قَالَ: قَالَ أَبُو عَاصِمٍ الْحَبَطِيُّ، وَكَانَ مِنْ خِيَارِ أَهْلِ الْبَصْرَةِ، وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ حَزْمٍ، وَسَلَاّمِ بْنِ أَبِي مُطِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ خُنَيْسٍ) ، به.

قال ابن حجر عقبه: هَذَا حَدِيثٌ عَجِيبُ السِّيَاقِ، وَهُوَ شَاهِدٌ لِكَثِيرٍ مِمَّا ثَبَتَ فِي حَدِيثِ الْبَرَاءِ الطَّوِيلِ الْمَشْهُورِ، وَلَكِنَّ هَذَا الإِِسْنَادَ غَرِيبٌ، وَفِيهِ ضَعْفٌ لَا نَعْرِفُ أَحَدًا رَوَى عَنْ أَنَسٍ، عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ إِلَاّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ، وَيَزِيدُ الرَّقَاشِيُّ سَيِّئُ الْحِفْظِ جِدًّا، كَثِيرُ الْمَنَاكِيرِ، كَانَ لَا يَضْبُطُ الإِِسْنَادَ فَيُلْزِقُ بِأَنَسٍ كُلَّ شَيْءٍ يَسْمَعُهُ مِنْ غَيْرِهِ، وَدُونَهُ أَيْضًا مَنْ هُوَ مِثْلَهُ أَوْ أَشَدَّ ضَعْفًا.
তিনি বললেন: অত:পর তারা (ফেরেশতারা) তাকে এমন এক আঘাত করবে যার স্ফুলিঙ্গ তার কবরের মধ্যে উড়তে থাকবে, এরপর তারা আবার ফিরে আসবে। অত:পর তারা তাকে বলবে: তোমার উপরের দিকে তাকাও। তখন সে তাকাবে এবং দেখবে জান্নাতের একটি দরজা খোলা। তারা বলবে: ওহে আল্লাহর শত্রু, তুমি যদি আল্লাহর আনুগত্য করতে তবে এটাই হতো তোমার আবাসস্থল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ, সেই মুহূর্তে তার অন্তরে এমন এক আক্ষেপ প্রবেশ করবে যা কখনোই দূর হবে না। অত:পর তারা তাকে বলবে: তোমার নিচের দিকে তাকাও। তখন সে তার নিচে তাকাবে এবং দেখবে জাহান্নামের দিকে একটি দরজা [৬/ক] খোলা। তারা বলবে: ওহে আল্লাহর শত্রু, যেহেতু তুমি মহান আল্লাহর অবাধ্য হয়েছিলে, তাই এটাই তোমার আবাসস্থল। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ, সেই মুহূর্তে তার অন্তরে এমন এক আক্ষেপ প্রবেশ করবে যা কখনোই দূর হবে না।

তিনি বললেন: আয়েশা (রা.) বলেছেন: তার জন্য জাহান্নামের সাতাত্তরটি দরজা খুলে দেওয়া হবে, যেখান থেকে আগুনের উত্তাপ এবং বিষাক্ত গরম বাতাস তার কাছে আসতে থাকবে, যতক্ষণ না মহান আল্লাহ তাকে সেদিকে পুনরুত্থিত করেন। (১)

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি তাঁর (মুসনাদ)-এ, (বুসিরির ইতিহাফুল খায়রাতিল মাহারা) (১৮৫২), এবং (ইবনে হাজারের আল-মাতালিবুল আলিয়া) (৪৫৫৮)।

আবু ইয়ালা বলেন: (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনে ইবরাহিম আদ-দাওরাকি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনে বকর আল-বুরসানি, তিনি বলেন: আবু আসিম আল-হাবাতি বলেছেন - এবং তিনি বসরার সর্বোত্তম ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি হাজম ও সালাম ইবনে আবি মুতির সঙ্গী ছিলেন - তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন বকর ইবনে খুনাইস), তাঁর মাধ্যমে।

ইবনে হাজার এর পর বলেন: এই হাদিসটির বর্ণনাভঙ্গি আশ্চর্যজনক, এবং এটি বারা (রা.)-এর দীর্ঘ প্রসিদ্ধ হাদিসে প্রমাণিত অনেক বিষয়ের স্বপক্ষে একটি সাক্ষী বর্ণনা। কিন্তু এই সনদটি বিরল এবং এতে দুর্বলতা রয়েছে। আমরা জানি না কেউ আনাস (রা.) থেকে, তামীম আদ-দারি (রা.)-এর সূত্রে এই পথ ব্যতীত অন্য কোনো পথে এটি বর্ণনা করেছেন কি না। আর ইয়াযিদ আর-রাকাশি অত্যন্ত দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন এবং অনেক প্রত্যাখ্যাত বর্ণনার বর্ণনাকারী; তিনি সনদগুলো ঠিকমতো সংরক্ষণ করতে পারতেন না, ফলে তিনি অন্যের কাছ থেকে যা শুনতেন তা আনাস (রা.)-এর নামে জুড়ে দিতেন। আর তার নিম্নে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যিনি তার মতোই অথবা তার চেয়েও বেশি দুর্বল।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
2 - أخبرنا عثمان، قال: أبو يعقوب الدقاق، قال: سمعت سباق بن النضر الساجي، يقول: مر مَعْرُوفٌ الْكَرْخِيُّ إلى الصلاة، فرأى رجلا متعلق بغلام، وأمه تبكي، فقال: ما لكِ؟ فقالت: هذا متعلق بابني، قال: خله، قال له اذهب إلى عملك. قال: خله، قال له اذهب إلى عملك. فقال له: أنت من عملي فلطمه بيده، فوقع يخور، فقال لها: خذي بيداي فرفع بيد أمه حتى أفاق، فقال له تعود؟ قال: لا.

3- أخبرنا عثمان، قال: أخبرنا أبو يعقوب، قال: حدثني يحيى بن جعفر يقول: رأيت معروفا الكرخي يؤذن، فلما قال: أشهد أن لا إله إلا الله، أشهد أن لا إله إلا الله،فإذا شَعَرُ لِحْيَتِهِ وَحَاجِبَيْهِ قَدْ قَامَ حَتَّى كَادَ أَنْ يَسْقُطَ. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم في (حلية الأولياء) 8/360 (11817) : حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ إِسْحَاقَ ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ، بنحوه.
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান, তিনি বলেন: আবু ইয়াকুব আদ-দাক্কাক বলেছেন, আমি সাব্বাক বিন আন-নাজর আস-সাজি-কে বলতে শুনেছি: মারুফ আল-কারখি সালাতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে এক কিশোরকে আটকে রেখেছে এবং তার মা কাঁদছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তোমার কী হয়েছে? মহিলাটি বলল: এ আমার ছেলেকে আটকে রেখেছে। তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও। সে তাকে বলল: আপনি নিজের কাজে যান। তিনি বললেন: তাকে ছেড়ে দাও। সে তাকে বলল: আপনি নিজের কাজে যান। তখন তিনি তাকে বললেন: তুমিই আমার কাজ। এরপর তিনি তাকে হাত দিয়ে একটি চড় মারলেন, ফলে সে আর্তনাদ করতে করতে পড়ে গেল। তিনি মহিলাকে বললেন: তার হাত ধরো। অতঃপর তিনি তার মায়ের হাত ধরে তাকে উঠালেন যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পেল। এরপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কি আবার এমন করবে? সে বলল: না।

৩- আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন জাফর আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি মারুফ আল-কারখি-কে আজান দিতে দেখেছি। যখন তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই—তখনই তার দাড়ি ও ভ্রুর পশম খাড়া হয়ে গেল, এমনকি মনে হচ্ছিল যেন তা ঝরে পড়ে যাবে। (১)

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম এটি 'হিলইয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (৮/৩৬০, ১১৮১৭): আমাদের বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক, আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাকাফি, আমাদের বর্ণনা করেছেন আবু বকর বিন আবি তালিব—অনুরূপ অর্থবোধক বর্ণনায়।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
4 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا أبو القاسم جعفر بن محمد بن العباس، قال: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا السَّرِيُّ بْنُ يُوسُفَ الأَنْصَارِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي تَوْبَةَ، قَالَ: أَقَامَ مَعْرُوفٌ الصَّلَاةَ، ثُمَّ قَالَ لِي: تَقَدَّمْ، فَقُلْتُ: إِنِّي إِنْ صَلَّيْتُ بِكُمْ هَذِهِ الصَّلَاةَ، لَمْ أُصَلِّ بِكُمْ غَيْرَهَا، فَقَالَ مَعْرُوفٌ: وَأَنْتَ تُحَدِّثُ نَفْسَكَ أَنْ تُصَلِّيَ صَلَاةً أُخْرَى؟ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ طُولِ الأَمَلِ، فَإِنَّهُ يَمْنَعُ خَيْرَ الْعَمَلِ. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن أبي الدنيا في (قصر الأمل) (100) ، وأبو نعيم الأصبهاني في (حلية الأولياء) 8/361 (11820) ، والبيهقي في (الزهد الكبير)

1/210 (526) ، من طريق مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي تَوْبَةَ، به.
৪ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসিম জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমাদ বিন ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আস-সারী বিন ইউসুফ আল-আনসারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আবি তাওবাহ থেকে, তিনি বলেন: মারূফ সালাতের ইকামাত দিলেন, অতঃপর আমাকে বললেন: সামনে অগ্রসর হোন (ইমামতি করার জন্য), আমি বললাম: আমি যদি আপনাদের নিয়ে এই সালাতটি আদায় করি, তবে এরপর আপনাদের নিয়ে আর কোনো সালাত পড়াবো না। তখন মারূফ বললেন: আপনি কি মনে মনে আরও একটি সালাত আদায়ের আশা পোষণ করছেন? আমরা দীর্ঘ আশা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কেননা তা সর্বোত্তম আমল পালনে বাধা প্রদান করে। (১)

--------------------------------------------

(১) ইবনু আবিদ দুনিয়া এটি (কাসরুল আমাল) (১০০), আবু নুয়াইম আল-আসফাহানি (হিলইয়াতুল আউলিয়া) ৮/৩৬১ (১১৮২০) এবং আল-বায়হাকী (আয-যুহদুল কাবীর) ১/২১০ (৫২৬) গ্রন্থে মুহাম্মদ বিন আবি তাওবাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
5 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا جعفر، قال: حدثنا أحمد بن إبراهيم بن كثير، قال: حدثني السري بن بن يوسف الأنصاري، قال حدثني معروف، قال: قال الله، عز وجل، إِنَّ أَحَبَّ عِبَادِي إِلَيَّ الْمَسَاكِينُ الَّذِينَ سَمِعُوا قَوْلِي وَأَطَاعُوا أَمْرِي، وَمِنْ كَرَامَتِهِمْ عَلَيَّ أَنْ لَا أُعْطِيَهُمْ مَالاً فَيُشْغَلُوا عَنْ طَاعَتِي. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو جعفر الطبري في (تهذيب الآثار) 1/301 (510 - مسند ابن عباس)

، قَالَ: وَقَالَ لِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ: سَمِعْتُ مَعْرُوفًا الْكَرْخِيَّ الْعَابِدَ أَبَا مَحْفُوظٍ، يَقُولُ: فذكره

وأبو نعيم الأصبهاني في (حلية الأولياء) 8/365 (11839) ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَعْرُوفٌ، به.
৫ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আহমদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে কাসীর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আস-সারী ইবনে ইউসুফ আল-আনসারী আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারূফ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেছেন, "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো সেই অভাবী ও দরিদ্ররা যারা আমার কথা শুনেছে এবং আমার আদেশ পালন করেছে। আর আমার কাছে তাদের মর্যাদার একটি দিক হলো এই যে, আমি তাদের ধন-সম্পদ দান করি না, পাছে তারা আমার আনুগত্য থেকে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।" (১)

--------------------------------------------

(১) আবু জাফর আত-তাবারী এটি (তাহজীবুল আসার) ১/৩০১ (৫১০ - মুসনাদে ইবনে আব্বাস)-এ সংকলন করেছেন।

তিনি বলেন: ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাকে বলেছেন: আমি ইবাদতগুজার মারূফ আল-কারখী আবু মাহফুজকে বলতে শুনেছি: [অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন]।

এবং আবু নুআইম আল-আসফাহানী এটি (হিলয়াতুল আউলিয়া) ৮/৩৬৫ (১১৮৩৯)-এ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবদুল্লাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারূফ আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
6 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا جعفر، قال: الحسن بن الفرج، قال: سمعت معروف، وهو يؤم رجلا بزورق أحسب يشتر به فقال له: أنت تبغ من هذا، بَصَري.. (1)

--------------------------------------------

(1) في النسخة كلمة لم استطع قراءتها، وكذا النص في النسخة.
৬ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর, তিনি বলেন: আল-হাসান ইবনুল ফারাজ বলেন: আমি মারূফকে বলতে শুনেছি, এমতাবস্থায় যে তিনি একটি ছোট নৌকায় এক ব্যক্তিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন—আমার ধারণা তিনি তা পরিচালনা করছিলেন—অতঃপর তিনি তাকে বললেন: "হে বসরী, তুমি কি এর থেকে কিছু প্রত্যাশা কর?"... (১)

--------------------------------------------

(১) পাণ্ডলিপিতে এমন একটি শব্দ রয়েছে যা আমি পাঠ করতে পারিনি, আর পাণ্ডলিপিতে মূল পাঠ্যটি এভাবেই বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
7 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا جعفر، قال سلمة بن الدقاق، يقول: حَضَرْتُ مَعْرُوفًا وَعِنْدَهُ رَجُلٌ يَذْكُرُ [6/ب] رَجُلاً وَجَعَلَ يَغْتَابُهُ وَجَعَلَ مَعْرُوفٌ يَقُولُ لَهُ: اذْكُرِ الْقُطْنَ إِذَا وَضَعُوهُ عَلَى عَيْنَيْكَ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم الأصبهاني في (حلية الأولياء) 8/ 364 (11838) ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، حَدَّثَنِي مُوسَى بْنُ إِبْرَاهِيمَ ، قَالَ: فذكره.
৭ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমান, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জাফর, তিনি বলেন সালামাহ ইবনুদ দাক্কাক বলেন: আমি মারূফের নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর নিকট এক ব্যক্তি জনৈক ব্যক্তির আলোচনা করছিল [৬/খ] এবং তার গীবত করতে শুরু করল। তখন মারূফ তাকে বলতে লাগলেন: সেই তুলার কথা স্মরণ করো, যখন তারা তা তোমার চোখের ওপর রাখবে।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু নুআইম আল-আসফাহানি তাঁর 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে (৮/ ৩৬৪, হাদিস নং ১১৮৩৮)। তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন আল-হুসাইন, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন ইব্রাহিম, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা বিন ইব্রাহিম, তিনি বলেন: অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
8 - حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ، حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا ، قَالَ: مَرَّ مَعْرُوفٌ عَلَى قَوْمٍ مِنْ أَصْحَابِ زُهَيْرٍ يَخْرُجُونَ إِلَى الْقِتَالِ وَمَعَهُمْ فَتًى ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ احْفَظْهُمْ. فَقِيلَ لَهُ: تَدْعُو لِهَؤُلَاءِ فَقَالَ: وَيْحَكَ إِنْ حَفِظَهُمْ رَجَعُوا وَلَمْ يَذْهَبُوا إلى القتال.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم الأصبهاني في (حلية الأولياء) 8/365 (11843) ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدِ بْنُ حَيَّانَ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحُسَيْنِ ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ ، حَدَّثَنِي بَعْضُ، أَصْحَابِنَا ، به.
৮ - আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কিছু সঙ্গী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মারুফ যুহাইরের সঙ্গীদের এমন এক দলের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছিল এবং তাদের সাথে একজন যুবক ছিল। তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে রক্ষা করুন। তাঁকে বলা হলো: আপনি কি এদের জন্য দুআ করছেন? তখন তিনি বললেন: তোমার প্রতি আফসোস! যদি আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করেন, তবে তারা ফিরে আসবে এবং যুদ্ধের ময়দানে যাবে না।

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম আল-আসবাহানি এটি (হিলয়াতুল আওলিয়া) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৮/৩৬৫ (১১৮৪৩); তিনি বলেন: আবু মুহাম্মাদ বিন হাইয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ইবনুল হুসাইন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার কিছু সঙ্গী আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
9 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا جعفر، قال: حدثنا أحمد، قال: حدثني أبو محمد، قال: سمعت معروف يقول: مَا أُبَالِي امْرَأَةً رَأَيْتُ أَوْ حَائِطًا. (1)

ثم قال: رأيت معروفا، وفطن إلى مسوده، فوضع يده على عينيه.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم الأصبهاني إلى هنا في (حلية الأولياء) 8/366 (11844) ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ ، أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ ، حَدَّثَنِي أَبُو مُحَمَّدٍ ، قَالَ: سَمِعْتُ مَعْرُوفًا ، يَقُولُ: فذكرة.
৯ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: জাফর আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু মুহাম্মদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মারুফকে বলতে শুনেছি: আমি কোনো মহিলাকে দেখলাম নাকি দেয়ালকে, তাতে আমার কোনো পরোয়া নেই। (১)

অতঃপর তিনি বললেন: আমি মারুফকে দেখেছি, তিনি এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করলেন, এরপর তিনি তাঁর দুই চোখের ওপর হাত রাখলেন।

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম আল-আসফাহানি এটি এ পর্যন্ত (হিলইয়াতুল আউলিয়া) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৮/৩৬৬ (১১৮৪৪); তিনি বলেছেন: আবু মুহাম্মদ আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মুহাম্মদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি মারুফকে বলতে শুনেছি, এরপর তিনি এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
10 - أخبرنا عثمان، قال: أخبرنا جعفر، قال: حدثنا أحمد، قال: حدثني أبو السري، قال: قال: أقام معروف الصلاة فقال لمحمد بن توبة تقدم فصل بنا قال: فتقدم محمد، وشال إزاره على عقبيه، قال: فجعل معروف يقول له: ارفع إزاري، ارفع إزاري.
১০ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: জাফর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আহমাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবুল সাররি আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: মারূফ সালাতের ইকামত দিলেন এবং মুহাম্মাদ বিন তাওবাহ-কে বললেন, “সামনে অগ্রসর হোন এবং আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করুন।” তিনি বললেন: অতঃপর মুহাম্মাদ সামনে অগ্রসর হলেন এবং তাঁর লুঙ্গি গোড়ালির ওপর টেনে ধরলেন। তিনি বললেন: তখন মারূফ তাঁকে বলতে লাগলেন, “আমার লুঙ্গি উঠাও, আমার লুঙ্গি উঠাও।”
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
11 - أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، قَالَ: أنا أَبُو عُمَرَ عُثْمَانُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي طَالِبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الرَّاسِبِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: كَتَبَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَهُوَ بِالْقَادِسِيَّةِ أَنْ وَجِّهْ نَضْلَةَ بْنَ مُعَاوِيَةَ الْأَنْصَارِيَّ إِلَى حُلْوَانَ الْعِرَاقِ فَلْيُغِيرُوا عَلَى ضَوَاحِيهَا، قَالَ: فَوَجَّهَ سَعْدٌ نَضْلَةَ فِي ثَلَاثِمِائَةِ فَارِسٍ، فَخَرَجُوا حَتَّى أَتَوْا حُلْوَانَ الْعِرَاقِ فَأَغَارُوا عَلَى ضَوَاحِيهَا فَأَصَابُوا غَنِيمَةً وَسَبْيًا، فَأَقْبَلُوا يَسُوقُونَ الْغَنِيمَةَ وَالسَّبْيَ حَتَّى رَهَقَتْهُمُ الْعَصْرُ، وَكَادَتِ الشَّمْسُ أَنْ تَغْرُبَ، قَالَ: فَأَلْجَأَ نَضْلَةُ الْغَنِيمَةَ وَالسَّبْيَ إِلَى سَفْحِ الْجَبَلِ ثُمَّ قَامَ فَأَذَّنَ فَقَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، إِذَا مُجِيبٌ مِنَ الْجَبَلِ يُجِيبُهُ: كَبَّرْتَ كَبِيرًا يَا نَضْلَةُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: كَلِمَةُ الْإِخْلَاصِ يَا نَضْلَةُ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، قَالَ: هُوَ الدِّينُ وَهُوَ الَّذِي بَشَّرَنَا بِهِ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَعَلَى رَأْسِ أُمَّتِهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، قَالَ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ، قَالَ: طُوبَى لِمَنْ مَشَى إِلَيْهَا وَوَاظَبَ عَلَيْهَا، قَالَ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ، قَالَ: أَفْلَحَ مَنْ أَجَابَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
১১ - ওবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আবু উমর উসমান বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেছেন: ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: আব্দুর রহমান বিন ইবরাহিম আর-রাসিবী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেছেন: মালিক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন নাফি' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাসের নিকট পত্র লিখলেন—যখন তিনি কাদিসিয়ায় অবস্থান করছিলেন—যে আপনি নজলা বিন মুয়াবিয়া আল-আনসারীকে ইরাকের হুলওয়ানের দিকে প্রেরণ করুন যেন তারা এর আশপাশে অভিযান চালায়। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: তখন সা'দ তিনশ অশ্বারোহীর সাথে নজলাকে পাঠালেন। তারা যাত্রা শুরু করলেন এবং ইরাকের হুলওয়ানে পৌঁছে এর আশপাশে অভিযান চালালেন এবং গনীমত ও যুদ্ধবন্দী লাভ করলেন। এরপর তারা গনীমত ও যুদ্ধবন্দীদের নিয়ে ফিরতে লাগলেন, একপর্যায়ে আসরের সময় ঘনিয়ে এল এবং সূর্য প্রায় অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হল। তিনি বলেন: তখন নজলা গনীমত ও যুদ্ধবন্দীদের পাহাড়ের পাদদেশে জড়ো করলেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে আযান দিলেন। তিনি বললেন: আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। অমনি পাহাড় থেকে এক উত্তরদাতা তাকে উত্তর দিয়ে বলল: হে নজলা! তুমি এক মহান সত্তার মহত্ত্ব বর্ণনা করেছ। এরপর তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। সে বলল: হে নজলা! এটিই একনিষ্ঠতার বাণী। এরপর তিনি বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। সে বলল: এটিই দ্বীন এবং তিনিই সেই সত্তা যার সুসংবাদ ঈসা ইবনে মারিয়াম আমাদের দিয়েছিলেন, আর তার উম্মতের শেষ সময়ে কিয়ামত সংঘটিত হবে। তিনি বললেন: নামাযের দিকে এসো। সে বলল: তার জন্য সুসংবাদ যে এর দিকে হেঁটে যায় এবং এর প্রতি যত্নশীল থাকে। তিনি বললেন: কল্যাণের দিকে এসো। সে বলল: সেই সফল হয়েছে যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ডাকে সাড়া দিয়েছে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وَهُوَ الْبَقَاءُ لِأُمَّتِهِ، قَالَ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ، قَالَ: أَخْلَصْتَ الْإِخْلَاصَ يَا نَضْلَةُ فَحَرَّمَ اللَّهُ جَسَدَكَ عَلَى النَّارِ، قَالَ: فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ أَذَانِهِ قُمْنَا فَقُلْنَا: مَنْ أَنْتَ يَرْحَمُكَ [7/أ] اللَّهُ؟ أَمَلَكٌ؟ أَمْ سَاكِنٌ مِنَ الْجِنِّ؟ أَمْ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ؟ سَمِعْنَا صَوْتَكَ فَأَرِنَا صُورَتَكَ فَإِنَّا وَفْدُ اللَّهِ وَوَفْدُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ، قَالَ: فَانْفَلَقَ الْجَبَلُ عَنْ هَامَةٍ كَالرَّحَى أَبْيَضَ الرَّأْسِ وَاللِّحْيَةِ عَلَيْهِ طِمْرَانُ مِنْ صُوفٍ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، قُلْنَا: عَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ،مَنْ أَنْتَ يَرْحَمُكَ اللَّهُ؟ قَالَ: أَنَا زُرَيْبُ بْنُ بَرْثَمْلَا وَصِيُّ الْعَبْدِ الصَّالِحِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ أَسْكَنَنِي هَذَا الْجَبَلَ وَدَعَا لِي بِطُولِ الْبَقَاءِ إِلَى نُزُولِهِ مِنَ السَّمَاءِ فَيَقْتُلُ الْخِنْزِيرَ وَيَكْسِرُ الصَّلِيبَ وَيَتَبَرَّأُ مِمَّا تَجَنَّتْهُ النَّصَارَى، فَأَمَّا إِذَا فَاتَنِي لِقَاءُ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَأَقْرِئُوا عُمَرَ مِنِّيَ السَّلَامَ وَقُولُوا: يَا عُمَرُ سَدِّدْ وَقَارِبْ فَقَدْ دَنَا الْأَمْرُ، وَأَخْبِرُوهُ بِهَذِهِ الْخِصَالِ الَّتِي أُخْبِرُكُمْ بِهَا، يَا عُمَرُ إِذَا ظَهَرَتْ هَذِهِ الْخِصَالُ فِي أُمَّةِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم فَالْهَرَبَ الْهَرَبَ، إِذَا اسْتَغْنَى الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ، وَالنِّسَاءُ بِالنِّسَاءِ، وَانْتَسَبُوا إِلَى غَيْرِ مَنَاسِبِهِمْ، وَانْتَمُوا إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِمْ، وَلَمْ
আর এটিই তাঁর উম্মতের স্থায়িত্ব। তিনি বললেন: আল্লাহ সবচেয়ে মহান, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। তিনি বললেন: হে নাদলাহ! তুমি একনিষ্ঠতার সাথে ইখলাস প্রকাশ করেছ, তাই আল্লাহ তোমার দেহকে আগুনের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: অতঃপর যখন তিনি তাঁর আযান শেষ করলেন, তখন আমরা দাঁড়ালাম এবং বললাম: আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন [৭/আ], আপনি কে? আপনি কি কোনো ফেরেশতা? নাকি জিনের কোনো অধিবাসী? নাকি আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে কেউ? আমরা আপনার কণ্ঠস্বর শুনেছি, সুতরাং আপনার আকৃতি আমাদের দেখান; কেননা আমরা আল্লাহর প্রতিনিধি এবং উমর ইবনুল খাত্তাবের প্রতিনিধি। তিনি বলেন: তখন পাহাড়টি যাঁতাকলের মতো বিশাল এক মস্তক বের করে বিদীর্ণ হলো, যাঁর মাথা ও দাড়ি ছিল সাদা এবং পরিধানে ছিল পশমের তৈরি দুটি জীর্ণ বস্ত্র। তিনি বললেন: আপনাদের ওপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আমরা বললাম: আপনার ওপরও শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক। আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন, আপনি কে? তিনি বললেন: আমি যুরাইব ইবনে বারথামলা, পুণ্যবান বান্দা ঈসা ইবনে মারিয়ামের স্থলাভিষিক্ত। তিনি আমাকে এই পাহাড়ে বসবাস করিয়েছেন এবং আকাশ থেকে তাঁর অবতরণ করা পর্যন্ত আমার দীর্ঘ জীবনের জন্য দোয়া করেছেন; যখন তিনি শুকর হত্যা করবেন, ক্রুশ ভেঙে ফেলবেন এবং নাসারারা তাঁর প্রতি যা মিথ্যা আরোপ করেছে তা থেকে দায়মুক্ত হবেন। আর যেহেতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ লাভের সুযোগ আমার হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাই তোমরা উমরকে আমার সালাম পৌঁছে দিও এবং বোলো: হে উমর, সত্যের ওপর অটল থাকুন এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন, কারণ চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে এসেছে। আর তাঁকে এই বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে অবহিত করো যা আমি তোমাদের বলছি: হে উমর, যখন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পাবে, তখন কেবল পলায়ন আর পলায়ন! যখন পুরুষরা পুরুষদের মাধ্যমে এবং নারীরা নারীদের মাধ্যমে কামবাসনা মেটাবে, এবং মানুষ নিজেদের প্রকৃত বংশ পরিচয় পরিবর্তন করবে, আর নিজেদের প্রকৃত অভিভাবক ছাড়া অন্যদের দিকে নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করবে, আর যখন তারা...
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
يَرْحَمْ كَبِيرُهُمْ صَغِيرَهُمْ، وَلَمْ يُوَقِّرْ صَغِيرُهُمْ كَبِيرَهُمْ، وَتُرِكَ الْأَمْرُ بِالْمَعْرُوفِ فَلَمْ يُؤْمَرْ بِهِ، وَتُرِكَ النَّهْيُ عَنِ الْمُنْكَرِ فَلَمْ يَنْهَ عَنْهُ، وَتَعَلَّمَ عَالِمُهُمُ الْعِلْمَ لِيَجْلِبَ بِهِ الدَّرَاهِمَ وَالدَّنَانِيرَ، وَكَانَ الْمَطَرُ قَيْظًا، وَالْوَلَدُ غَيْظًا، وَطَوَّلُوا الْمَنَائِرَ، وَفَضَّضُوا الْمَصَاحِفَ، وَزَخْرَفُوا الْمَسَاجِدَ، وَأَظْهَرُوا الرُّشَا، وَشَيَّدُوا الْبِنَاءَ، وَاتَّبَعُوا الْهَوَى، وَبَاعُوا الدِّينَ بِالدُّنْيَا، وَاسْتَخَفُّوا بِالدِّمَاءِ، وَتَقَطَّعَتِ الْأَرْحَامُ، وَبَيْعَ الْحُكْمُ، وَأُكِلَ الرِّبَا فَخْرًا، وَصَارَ الْغِنَى عِزًّا، وَخَرَجَ الرَّجُلُ مِنْ بَيْتِهِ فَقَامَ إِلَيْهِ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنْهُ، وَرَكِبَتِ النِّسَاءُ السُّرُوجَ، قَالَ: ثُمَّ غَابَ عَنَّا، قَالَ: فَكَتَبَ بِذَلِكَ نَضْلَةُ إِلَى سَعْدٍ، فَكَتَبَ سَعْدٌ إِلَى عُمَرَ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْهِ، فَكَتَبَ إِلَيْهِ: لَكَ أَبُوكَ سِرْ أَنْتَ وَمَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ حَتَّى تَنْزِلَ هَذَا الْجَبَلَ، فَإِنْ لَقِيتَهُ فَأَقْرِئْهُ مِنِّي السَّلَامَ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ [7/ب] وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ بَعْضَ أَوْصِيَاءِ عِيسَى عليه السلام نَزَلَ ذَلِكَ الْجَبَلَ نَاحِيَةَ الْعِرَاقِ، فَرَحَلَ سَعْدٌ فِي أَرْبَعَةِ آلَافٍ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ، حَتَّى نَزَلَ ذَلِكَ الْجَبَلَ أَرْبَعِينَ يَوْمًا يُنَادِي بِالْأَذَانِ فِي وَقْتِ كُلِّ صَلَاةٍ فَلَا يَرَى جَوَابًا.

--------------------------------------------

(1) أخرجه اللالكائى في (كرمات الأولياء) (80) : أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَحْمَدَ، به.

قال الذهبي في (ميزان الاعتدال) 2/ (4809) : (عبد الرحمن بن إبراهيم الراسبي، عن مالك، أتى بخبر باطل طويل، وهو المتهم به، وأتى عن فرات بن السائب، عن

ميمون بن مهران، عن ضبة بن محصن، عن أبي موسى، بقصة الغار، وهو يشبه وضع الطرقية) ، وقال أبو الفرج بن الجوزي في (الضعفاء والمتروكين) 2/88 (1846) : (قال أبو بكر الخطيب: روى عن مالك حديثا منكرا) ، وانظر (مختصر الرواة عن مالك) (461) .
তাদের বড়রা ছোটদের প্রতি দয়া করবে না, এবং তাদের ছোটরা বড়দের সম্মান করবে না। সৎকাজের আদেশ পরিত্যাগ করা হবে ফলে তা আর দেওয়া হবে না, এবং অসৎকাজ হতে বারণ করা বর্জন করা হবে ফলে তা থেকে আর নিষেধ করা হবে না। তাদের আলেমগণ দিরহাম ও দিনার উপার্জনের জন্য জ্ঞান অর্জন করবে। বৃষ্টি হবে দহন (উত্তাপ), সন্তান হবে ক্রোধের কারণ। তারা মিনারসমূহ দীর্ঘ করবে, মুসহাফসমূহকে রূপা দিয়ে খচিত করবে, মসজিদসমূহ অলঙ্কৃত করবে, ঘুষের প্রসার ঘটাবে, অট্টালিকা সুদৃঢ় করবে, প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে, দুনিয়ার বিনিময়ে দ্বীন বিক্রি করবে, রক্তপাতকে তুচ্ছ মনে করবে, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে, বিচার বিক্রি হবে, দম্ভের সাথে সুদ খাওয়া হবে, সম্পদই হবে সম্মানের মাপকাঠি। মানুষ তার ঘর থেকে বের হবে আর তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি তার সম্মানে দাঁড়িয়ে যাবে, এবং মহিলারা জিনের ওপর আরোহণ করবে। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি আমাদের দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। বর্ণনাকারী বলেন: নাযলাহ এই বিষয়ে সা'দ-এর কাছে লিখলেন, আর সা'দ তা উমর—আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—এর নিকট লিখে পাঠালেন। উমর (রা.) তাকে লিখে পাঠালেন: তোমার পিতার কল্যাণ হোক, তুমি এবং তোমার সাথে থাকা মুহাজির ও আনসারগণ যাত্রা করো যতক্ষণ না এই পাহাড়ে পৌঁছাও। যদি তার দেখা পাও, তবে তাকে আমার পক্ষ থেকে সালাম জানাবে। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ঈসা আলাইহিস সালামের স্থলাভিষিক্তদের কেউ কেউ ইরাকের পার্শ্ববর্তী ওই পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। অতঃপর সা'দ চার হাজার মুহাজির ও আনসার নিয়ে যাত্রা করলেন এবং সেই পাহাড়ে চল্লিশ দিন অবস্থান করে প্রতি সালাতের সময় আযান দিতেন, কিন্তু কোনো উত্তর পেতেন না।

--------------------------------------------

(১) লালাকায়ী এটি 'কারামাতুল আউলিয়া' (৮০) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: উবায়দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আমাদের এটি জানিয়েছেন (পূর্বোক্ত সূত্রের মাধ্যমে)।

ইমাম যাহাবী 'মিযানুল ইতিদাল' ২/ (৪৮০৯) গ্রন্থে বলেন: (আবদুর রহমান বিন ইবরাহিম আর-রাসিবি, মালিকের সূত্রে একটি দীর্ঘ বাতিল সংবাদ নিয়ে এসেছেন, আর তিনিই এ ব্যাপারে অভিযুক্ত। তিনি ফুরাত বিন সাইব হতে, তিনি মায়মুন বিন মিহরান হতে, তিনি দাব্বাহ বিন মিহসান হতে, তিনি আবু মুসা হতে গুহার কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যা কিচ্ছা-কাহিনী বর্ণনাকারীদের বানোয়াট গল্পের সদৃশ)। আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযী 'আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন' ২/৮৮ (১৮৪৬) গ্রন্থে বলেন: (আবু বকর আল-খতিব বলেছেন: তিনি মালিকের সূত্রে একটি মুনকার হাদিস বর্ণনা করেছেন)। আরও দেখুন: 'মুকতাসারুর রুওয়াত আন মালিক' (৪৬১)।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
12 - أخبرنا عثمان، قال: حَدَّثَنا يَحْيَى بن أبي طالب أخبرني معروف أبو محفوظ العابد، حَدَّثنِي الربيع بن صبيح عن الحسن عن عائشة قالت لو أدركت ليلة القدر ما سألت الله الا العفو والعافية.

--------------------------------------------

(1) أخرجه الخطيب البغدادي في (تاريخ بغداد) 7/97 (3162) ، و15/264 (7129) (طبعة بشار عواد معروف) ، من طريق يَحْيَى بن أبي طالب أخبرني معروف أبو محفوظ، به.
১২ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মা'রুফ আবু মাহফুয আল-আবিদ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, রাবী বিন সাবিহ হাসান হতে, তিনি আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি যদি লাইলাতুল কদর লাভ করতাম, তবে আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও নিরাপত্তা ব্যতীত আর কিছুই প্রার্থনা করতাম না।"

--------------------------------------------

(১) খতীব আল-বাগদাদী এটি (তারিখে বাগদাদ) গ্রন্থে ৭/৯৭ (৩১৬২) এবং ১৫/২৬৪ (৭১২৯) (বাশার আওয়াদ মা’রুফ সম্পাদিত সংস্করণ) ইয়াহইয়া বিন আবু তালিবের সূত্রে বর্ণনা করেছেন: মা’রুফ আবু মাহফুয আমাকে এটি সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
13 - أخبرنا عثمان، قال: أخبرنا أبو القاسم إسحاق بن إبراهيم الختلي، قال: حدثنا الحسن بن عيسى ابن أخي معروف، قال: سمعت عمي معروف يقول: من صل الجمعة في جماعة، حيث كان، كان من أول زمرة من السابقين، وجاز الصراط كلمع البرق، وكان وجهه كالقمر ليلة البدر، وكان له أجر شهيد، وكان له بِحُضْرِ الْفَرَسِ السَّرِيعِ مَلْءَ كَشْحِهِ فِي الْجَنَّةِ.

14 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا إسحاق، قال: حدثنا الحسن، قال: سمعت عمي معروف يقول: إذا آوى الرجل إلى فراشه، فقال: اللهم لا تنسنا وعدك، ولا يؤمنا مكرك، ولا يهتك عنا سترك، ولا تجعلنا مع الغافلين، ونبهني لأحب الساعات التي اسألك فتعطيني، واستغفرك، فتغفرلي، وأدعوك فتستجيب لي، أتاه ملك فأيقظه.
১৩ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবুল কাসেম ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-খুতালি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মারুফের ভ্রাতুষ্পুত্র হাসান বিন ঈসা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা মারুফকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি যেখানেই হোক জামাআতের সাথে জুমার সালাত আদায় করবে, সে অগ্রগামীদের প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত হবে, এবং বিদ্যুতের চমকের মতো সিরাত পার হবে, তার চেহারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদের মতো হবে, সে শহীদের সওয়াব লাভ করবে এবং জান্নাতে তার জন্য দ্রুতগামী ঘোড়ার দৌড়ের সমপরিমাণ প্রশস্ত জায়গা থাকবে।

১৪ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসহাক আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আমার চাচা মারুফকে বলতে শুনেছি: যখন কোনো ব্যক্তি তার বিছানায় যায় এবং বলে: হে আল্লাহ, আপনার প্রতিশ্রুতি আমাদের ভুলিয়ে দেবেন না, আপনার কৌশল থেকে আমাদের নির্ভয় করবেন না, আমাদের উপর থেকে আপনার গোপনীয়তার পর্দা উন্মোচন করবেন না, আমাদের উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না; আর আমাকে আপনার প্রিয়তম সময়ে জাগ্রত করুন যে সময়ে আমি আপনার নিকট চাইলে আপনি আমাকে দান করবেন, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন এবং আমি আপনাকে ডাকলে আপনি আমার ডাকে সাড়া দেবেন; তখন একজন ফেরেশতা তার নিকট আসেন এবং তাকে জাগ্রত করেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
15 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا حسان بن إسحاق، قال: حدثنا أبو الوليد خلف بن الوليد الجوهري، قال: سمعت ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْيَامِيُّ ، قَالَ مَعْرُوفٌ الْكَرْخِيُّ لِرَجُلٍ: تَوَكَّلْ عَلَى اللهِ حَتَّى يَكُونَ هُوَ مُعَلِّمُكَ وَأَنِيسُكَ وَمَوْضِعُ شَكْوَاكَ وَلْيَكُنْ ذِكْرُ الْمَوْتِ جَلِيسُكَ لَا يُفَارِقَكَ وَاعْلَمْ أَنَّ الشِّفَاءَ مِنْ كَلِّ بَلَاءٍ نَزَلَ بِكِ كِتْمَانُهُ فَإِنَّ النَّاسَ لَا يَنْفَعُونَي وَلَا يَضُرُّونَى وَلَا يَمْنَعُونَي وَلَا يُعْطُونَي. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو نعيم الأصبهاني، في (حلية الأولياء) 8/ 360 (11815) ، قال: حَدَّثَنَا حَبِيبُ بْنُ الْحَسَنِ ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ الْعَبَّاسِ ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ جَعْفَرٍ الْوَرَّاقُ (ح) وَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يَعْقُوبَ ، حَدَّثَنَا حَنْبَلُ بْنُ إِسْحَاقَ، قَالَا: حَدَّثَنَا خَلَفُ بْنُ الْوَلِيدِ ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مَسْلَمَةَ الْيَامِيُّ ، به. وفيه: (فَإِنَّ النَّاسَ لَا يَنْفَعُونَكَ وَلَا يَضُرُّونَكَ وَلَا يَمْنَعُونَكَ وَلَا يُعْطُونَكَ) .
১৫ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাসসান ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবুল ওয়ালীদ খালাফ ইবনুল ওয়ালীদ আল-জাওহারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি শুনেছি, মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ আল-ইয়ামী আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, মারূফ আল-কারখী এক ব্যক্তিকে বললেন: আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো যাতে তিনিই তোমার শিক্ষক, তোমার অন্তরঙ্গ বন্ধু এবং তোমার অভিযোগ পেশ করার আশ্রয়স্থলে পরিণত হন। আর মৃত্যুকে তোমার নিত্যসঙ্গী বানিয়ে নাও যা কখনো তোমাকে ছেড়ে যাবে না। জেনে রেখো, তোমার ওপর আপতিত প্রতিটি বিপদের প্রতিকার হলো তা গোপন রাখা; কারণ মানুষ আমার কোনো উপকার করতে পারে না, কোনো অপকার করতে পারে না, কোনো কিছু ঠেকাতেও পারে না এবং কিছু দানও করতে পারে না। (১)

--------------------------------------------

(১) আবু নুআইম আল-আসফাহানি এটি 'হিলয়াতুল আউলিয়া' গ্রন্থে (৮/৩৬০, ১১৮১৫) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: হাবীব ইবনুল হাসান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ফাদল ইবন আহমাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ঈসা ইবন জাফর আল-ওয়াররাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (হ); এবং আব্দুল্লাহ ইবন মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ ইবন ইয়াকুব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাম্বাল ইবন ইসহাক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে বলেন: খালাফ ইবনুল ওয়ালীদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবন মাসলামাহ আল-ইয়ামী আমার নিকট উক্ত সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। এবং সেখানে শব্দগুলো এভাবে রয়েছে: "কারণ মানুষ তোমার কোনো উপকার করতে পারে না, তোমার কোনো অপকার করতে পারে না, তোমাকে কোনো কিছু থেকে বঞ্চিত করতে পারে না এবং তোমাকে কোনো কিছু দান করতে পারে না।"
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
16 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا أبو شبيل، قال حدثنا أبي،حَدَّثَنَا ضَمْرَةُ، عَنْ بِلَالِ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كان الظَّبْيُ يمر بأبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلَانِيُّ، فَتَقُولُ لَهُ الصِّبْيَانُ: [8/أ] يَا أَبَا مُسْلِمٍ، ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُحْبَسْ عَلَيْنَا هَذَا الظَّبْيَ فَيَدْعُو اللَّهَ عز وجل فَيَحْبِسُهُ حَتَّى يَأْخُذُوهُ بِأَيْدِيهِمْ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو السَِّجِسْتاني في (الزهد) (505) ، وابن أبي الدنيا في (مجابو الدعوة) (84) ، والبيهقي في (الزهد الكبير) (360) ، من طريق ضَمْرَةَ، حَدَّثَنَا بِلَالُ بْنُ كَعْبٍ، به، وعند البيهقي: (الطَّيْرُ) ، بدلا من: (الظَّبْيِ) .
১৬ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু শুবাইল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন বিলাল ইবনে কাব হতে, তিনি বলেন: আবু মুসলিম আল-খাওলানীর পাশ দিয়ে হরিণ অতিক্রম করত, তখন শিশুরা তাকে বলত: [৮/অ] হে আবু মুসলিম, আমাদের জন্য আপনার রবের নিকট দুআ করুন যেন তিনি এই হরিণটিকে আমাদের জন্য আটকে দেন। তখন তিনি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট দুআ করতেন এবং আল্লাহ সেটিকে আটকে দিতেন, এমনকি তারা তা নিজেদের হাত দিয়ে ধরে ফেলত।

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আবু আস-সিজিস্তানি ‘আজ-জুহদ’ (৫০৫) গ্রন্থে, ইবন আবিদ দুনিয়া ‘মুজাবু আদ-দাওয়াহ’ (৮৪) গ্রন্থে এবং বায়হাকী ‘আজ-জুহদ আল-কাবীর’ (৩৬০) গ্রন্থে; দামরাহ-এর সূত্রে বিলাল ইবনে কাব হতে। আর বায়হাকীর বর্ণনায় ‘হরিণ’-এর পরিবর্তে ‘পাখি’ শব্দ বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
17 - أَخْبَرَنَا عثمان، قال: حدثنا يحيى بن أبي طالب، أَخْبَرَنَا حجاج بن محمد، قال: قال ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يُحَدِّثُ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ يَوْمًا، فَذَكَرَ رَجُلاً مِنْ أَصْحَابِهِ قُبِضَ، وَكُفِّنَ فِي كَفَنٍ غَيْرِ طَائِلٍ، وَقُبِرَ لَيْلاً، فَزَجَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُقْبَرَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهِ، إِلَاّ أَنْ يُضْطَرَّ إِنْسَانٌ إِلَى ذَلِكَ، وَقَالَ: إِذَا كَفَّنَ أَحَدُكُمْ أَخَاهُ فَلْيُحْسِنْ كَفَنَهُ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم 3/50 (2141) ، وابن الجارود في (المنتقى) (546) ، وابن المنذر النيسابوري في (الأوسط) 5/432 (3212) ، وابن حزم في (المحلى) 5/113، والبيهقي في (السنن الكبرى) 4/32 (6917) ، من طرق، عن حَجَّاجِ بْنِ مُحَمَّدٍ الأَعْوَرِ.

- وأخرجه عبد الرزاق في (المصنف) 3/520 (6549) ، وعنه أحمد في (المسند) 3/295 (14192) ، وأبو داود في (السنن) (3148) ، والحاكم في (المستدرك) 1/368 (1364) ، والبيهقي في (السنن الكبرى) 3/403 (6694) ، وفي (السنن الصغرى) 1/293 (1062) .

كلاهما: (حجاج بن محمد، وعبد الرزاق) ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، به.

- وأخرجه الطحاوي في (شرح معاني الآثار) 1/514 (2740) حَدَّثَنَا رَوْحٌ هُوَ ابْنُ الْفَرَجِ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، به.

- وأخرجه ابن حِبان في (صحيحه) 7/306 (3034) ، والحاكم في (المستدرك) 1/369 (1365) ، من طريق إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَقِيلِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِيهِ عَقِيلٍ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ: هَذَا مَا سَأَلْتُ عَنْهُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِيَّ فَأَخْبَرَنِي، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ يَوْمًا، فَذَكَرَه.
১৭ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন আবু তালিব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনে জুরাইজ বলেছেন: আবুয যুবাইর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা দিলেন, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মধ্য থেকে এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যিনি ইন্তেকাল করেছিলেন এবং তাঁকে একটি নিম্নমানের কাফনে কাফন দেওয়া হয়েছিল ও রাতে দাফন করা হয়েছিল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানাযার সালাত আদায় না করা পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে রাতে দাফন করতে নিষেধ করলেন, তবে যদি কেউ এমনটি করতে বাধ্য হয় (তবে ভিন্ন কথা)। আর তিনি বললেন: "যখন তোমাদের কেউ তার ভাইয়ের কাফন দিবে, সে যেন তার কাফনটি উত্তমরূপে দেয়।"

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ৩/৫০ (২১৪১), ইবনুল জারুদ 'আল-মুনতাকা' গ্রন্থে (৫৪৬), ইবনুল মুনযির আন-নাইসাবুরি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে ৫/৪৩২ (৩২১২), ইবনে হাযম 'আল-মুহাল্লা' গ্রন্থে ৫/১১৩, বায়হাকি 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে ৪/৩২ (৬৯১৭), বিভিন্ন সূত্রে হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ আল-আ'ওয়ার থেকে।

- এবং এটি বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক 'আল-মুসান্নাফ' গ্রন্থে ৩/৫২০ (৬৫৪৯), এবং তাঁর থেকে আহমাদ 'আল-মুসনাদ' গ্রন্থে ৩/২৯৫ (১৪১৯২), আবু দাউদ 'আস-সুনান' গ্রন্থে (৩১৪৮), আল-হাকিম 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে ১/৩৬৮ (১৩৬৪), বায়হাকি 'আস-সুনানুল কুবরা' গ্রন্থে ৩/৪০৩ (৬৬৯৪), এবং 'আস-সুনানুল সুগরা' গ্রন্থে ১/২৯৩ (১০৬২)।

তাঁরা উভয়ই (হাজ্জাজ বিন মুহাম্মাদ এবং আব্দুর রাজ্জাক): ইবনে জুরাইজ থেকে, এই সনদে।

- এবং এটি বর্ণনা করেছেন আত-তহাবি 'শারহু মাআনিল আসার' গ্রন্থে ১/৫১৪ (২৭৪০); রূহ—যিনি ইবনুল ফরাজ—আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমর বিন খালিদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়া আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন উবাইদুল্লাহ বিন আবু জাফর থেকে, তিনি আবুয যুবাইর থেকে, এই সনদে।

- এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে হিব্বান তাঁর 'সহিহ' গ্রন্থে ৭/৩০৬ (৩০৩৪), এবং আল-হাকিম 'আল-মুসতাদরাক' গ্রন্থে ১/৩৬৯ (১৩৬৫), ইব্রাহিম বিন আকিল বিন মাকিল বিন মুনাব্বিহ-এর সূত্র ধরে, তাঁর পিতা আকিল থেকে, ওহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি বলেন: এটি সেই বিষয় যা আমি জাবির বিন আব্দুল্লাহ আনসারিকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা দিলেন, এরপর তিনি উক্ত ঘটনা উল্লেখ করলেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
18 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا أبوعوف عبد الرحمن بن مرزوق، قَالَ: أخبرنا روح بن عبادة، قال: حدثنا حَجَّاجٌ الصَّوَّاف، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللهِ الْعَظِيمِ غُرِسَتْ لَهُ نَخْلَةٌ فِي الْجَنَّةِ.

--------------------------------------------

(1) أخرجه النسائي في (السنن الكبرى) 9/304 (10594) ،، والحاكم في (المستدرك) 1/501 (1847) ، و512 (1888) ، من طريق حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنِ الْحَجَّاجِ الصَّوَّافِ، به.

وعبد الرحمن بن مرزوق بن عوف ، أبو عوف شيخ كان يسكن طرسوس. يضع الحديث لا يحل ذكره إلا على سبيل القدح فيه، قاله ابن حبان في (المجروحين) 2/27 (600) .
১৮ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আউফ আবদুর রহমান ইবনে মারযুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাওহ ইবনে উবাদাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবায়র থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেন যে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি বলবে: ‘সুবহানাল্লাহিল আযিম’ (মহান আল্লাহ অতি পবিত্র), তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হবে।

--------------------------------------------

(১) এটি নাসাঈ ‘আস-সুনানুল কুবরা’ ৯/৩০৪ (১০৫৯৪) গ্রন্থে এবং হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ ১/৫০১ (১৮৪৭) ও ৫১২ (১৮৮৮) গ্রন্থে হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এর সূত্রে হাজ্জাজ আস-সাওয়াফ থেকে বর্ণনা করেছেন।

আর আবদুর রহমান ইবনে মারযুক ইবনে আউফ, আবু আউফ; তিনি একজন শায়খ ছিলেন যিনি তারসুসে বসবাস করতেন। তিনি হাদিস জাল করতেন, তাই তার দোষ-ত্রুটি বর্ণনার উদ্দেশ্য ছাড়া তাকে উল্লেখ করা বৈধ নয়। ইবনে হিব্বান ‘আল-মাজরুহীন’ ২/২৭ (৬০০) গ্রন্থে এটি বলেছেন।
(খণ্ড: ১) জিকরুল মান লাহু আল-আয়াত ওয়া মান তাকাল্লামা বাদাল মাউতি লিন নাজ্জাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
19 - أخبرنا عثمان، قال: حدثنا يحيى بن أبي طالب، قال: حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَرْدَانَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الصَّلاةِ فِي السَّرَاوِيلِ. (1)

--------------------------------------------

(1) أخرجه العقيلي في (الضعفاء) (301) ، والطبراني (المعجم الأوسط)

(7837) ، والخطيب البغدادي في (تاريخ بغداد) 6/342 (2834) ، وابن الجوزيّ في (العلل المتناهية) 3/66 (1132)

قال العقيلي: (حُسَيْنُ بْنُ وَرْدَانَ: عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، لَا يُتَابَعُ عَلَيْهِ عَلَى حَدِيثِهِ، لَا يُعْرَفُ إِلَاّ بِهِ) .

وقال الطبراني: (لَمْ يَرْوِ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، إلَاّ حُسَيْنُ بْنُ وَرْدَانَ) .
১৯ - উসমান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যায়দ ইবনুল হুবাব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ইবনে ওয়ারদান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পায়জামা পরিহিত অবস্থায় সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) এটি বর্ণনা করেছেন আল-উকাইলি ‘আদ-দুয়াফা’ গ্রন্থে (৩০১), এবং তাবারানি ‘আল-মুজামুল আওসাত’ গ্রন্থে

(৭৮৩৭) , এবং খতিব আল-বাগদাদি ‘তারিখে বাগদাদ’ গ্রন্থে ৬/৩৪২ (২৮৩৪), এবং ইবনুল জাওজি ‘আল-ইলালুল মুতানাহিয়াহ’ গ্রন্থে ৩/৬৬ (১১৩২)।

আল-উকাইলি বলেন: (হুসাইন ইবনে ওয়ারদান: আবু যুবাইর থেকে, তার এই হাদিসের বর্ণনায় তাকে অনুসরণ করা হয়নি, এটি কেবল তার মাধ্যমেই পরিচিত)।

এবং তাবারানি বলেন: (আবু যুবাইর থেকে হুসাইন ইবনে ওয়ারদান ব্যতীত আর কেউ এই হাদিসটি বর্ণনা করেননি)।