(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: -)
حث الأتباع على تجريد الاتباع القسم: العقيدة
الكتاب: حث الأتباع على تجريد الاتباع
(وهو مبحث من كتاب «حقوق النبي - صلى الله عليه وسلم - على أمته في ضوء الكتاب والسنة»)
المؤلف: محمد بن خليفة التميمي
انتقاه واعتنى به: عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد
الناشر: دار الأماجد للطباعة والنشر، الرياض - السعودية
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
عدد الصفحات: 266
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 ذو القعدة 1444
অনুসারীদের একনিষ্ঠ অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ বিভাগ: আকিদা
বই: অনুসারীদের একনিষ্ঠ অনুসরণের প্রতি উদ্বুদ্ধকরণ
(এটি «কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে উম্মতের ওপর নবী - সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর অধিকারসমূহ» নামক গ্রন্থের একটি গবেষণাপত্র)
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি
নির্বাচন ও তত্ত্বাবধানে: আবদুল জব্বার বিন আবদুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল মাজেদ
প্রকাশক: দার আল-আমাাজিদ মুদ্রণ ও প্রকাশনা, রিয়াদ - সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة المعتني بالكتابإنَّ الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)} [آل عمران].
{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)} [النساء].
{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)} [الأحزاب].
أما بعد: فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.
وبعد: فقد كان الناس قبل مبعث محمد صلى الله عليه وسلم في جاهلية جهلاء يعيشون في ظلمات من الشرك والجهل، وتسيطر عليهم الخرافات، ويتطاحنون في نزاعات وصراعات قبلية، يسبي بعضهم بعضًا، ويقتل بعضهم بعضًا، يعيشون في تخلف وهمجية وفرقة، شعارهم:
গ্রন্থ সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না (১০২)} [আলে ইমরান]।
{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন (১)} [আন-নিসা]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)} [আল-আহযাব]।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রেরিত হওয়ার পূর্বে মানুষ ঘোর জাহিলিয়াতের মধ্যে নিমজ্জিত ছিল। তারা শিরক ও অজ্ঞতার অন্ধকারে বসবাস করত এবং কুসংস্কার তাদের ওপর কর্তৃত্ব করত। তারা গোত্রীয় কোন্দল ও সংঘাতে লিপ্ত থেকে একে অপরকে বন্দী করত এবং একে অপরকে হত্যা করত। তারা অনগ্রসরতা, বর্বরতা ও অনৈক্যের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করত, যাদের স্লোগান ছিল:
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৬)
ومَن لَمْ يَذُدْ عَنْ حَوْضِهِ بسلاحِهِ
… يُهدَّمْ ومَنْ لا يَظلمِ النَّاسَ يُظْلَمِ
حتى إذا أذن الله لشمس الإسلام أن تشرق، بعث محمدًا صلى الله عليه وسلم ليعلن للبشرية أنّه: "لا إله إلا الله، ولا معبود بحق سواه".
لقد جاء بالتوحيد الذي هو حق الله على العبيد، والغاية العظمى من الخلق: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات].
به بُعث الرسل صلوات الله وسلامه عليهم وأنزلت الكتب، ورفع من أجله علم الجهاد.
ثلاث عشرة سنة في مكة والنبي صلى الله عليه وسلم يدعو إليه، ويغرس جذوره في أعماق النفوس، ويبني أسسه ودعائمه في سويداء القلوب، ويثبت أركانه في الوجدان؛ حتى اتضحت سبيله للسالكين، وبانت معالمه للراغبين، فأظهر الله الحق وأزهق الباطل، وأضاءت القلوب أنوار التوحيد الخالص، فجلته من أوضار الشرك، وصقلته من أدران التنديد.
لقد جاء النبي صلى الله عليه وسلم والقلوب أرضٌ جرداء فسقاها من نمير التوحيد، وأرواها من سلسبيل الإخلاص، وساقها إلى الله بدليل المتابعة، فاهتزت وربت وأنبتت من كل زوج بهيج، فعزت الأمة بعد ذلتها، واجتمعت بعد فرقتها، وصارت غالبة بعد أن كانت مغلوبة.
بقيت العقيدة على صفائها ونقائها وطُهرها؛ حتى إذا قضى الله أمرًا كان مفعولًا، ودخل في دين الله من لم يتشرب قلبه التوحيد الخالص، حدث في الناس الخلل، وتفرقت بهم السبل، وراجت المذاهب المنحرفة، والأفكار الهدامة، وأطلت الفتن برأسها، وفشت البدع ببؤسها، حتى إذا زاغت الأبصار، وبلغت القلوب الحناجر، وابتلي المؤمنون وزلزلوا زلزالًا شديدًا؛ قيض الله من أئمة الهدى، ومصابيح الدجى من يعيد الناس إلى مشكاة النبوة وقلعة الإيمان، ويكشف لهم زيوف الباطل، ويدحض شبه المبطلين، ويردَّهم إلى منهج السلف الصالح.
আর যে ব্যক্তি তার অস্ত্র দিয়ে নিজের হাউজ রক্ষা করে না, তা ধ্বংস হয়ে যায়; আর যে মানুষের ওপর জুলুম করে না, সে নিজেই জুলুমের শিকার হয়।
অবশেষে যখন আল্লাহ ইসলামের সূর্য উদিত হওয়ার অনুমতি দিলেন, তখন তিনি মুহাম্মদ (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-কে প্রেরণ করলেন মানবজাতির সামনে এটি ঘোষণা করতে যে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং তিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য মাবুদ নেই"।
তিনি সেই তাওহীদ নিয়ে এসেছেন যা বান্দাদের ওপর আল্লাহর পাওনা অধিকার এবং সৃষ্টির মহান উদ্দেশ্য: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি (৫৬)} [আয-যারিয়াত]।
এরই মাধ্যমে রাসুলগণ (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) প্রেরিত হয়েছেন, কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর জন্যই জিহাদের ঝাণ্ডা উত্তোলন করা হয়েছে।
মক্কায় তেরোটি বছর নবী (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, অন্তরের গভীরে এর শিকড় রোপণ করেছেন, হৃদয়ের মণিকোঠায় এর ভিত্তি ও স্তম্ভসমূহ নির্মাণ করেছেন এবং অনুভূতির মাঝে এর রুকনসমূহকে সুদৃঢ় করেছেন; এমনকি পথচারীদের জন্য এর পথ স্পষ্ট হয়ে উঠল এবং আগ্রহীদের জন্য এর নিদর্শনগুলো প্রতীয়মান হলো। ফলে আল্লাহ সত্যকে বিজয়ী করলেন ও মিথ্যাকে পরাভূত করলেন এবং বিশুদ্ধ তাওহীদের আলোতে অন্তরসমূহ আলোকিত হয়ে উঠল। যা অন্তরকে শিরকের কলুষতা থেকে পবিত্র করল এবং অংশীদারিত্বের ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করল।
নবী (আল্লাহর দয়া ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এমন সময় আসলেন যখন অন্তরসমূহ ছিল ঊষর মরুভূমি, অতঃপর তিনি একে তাওহীদের সুপেয় পানি দ্বারা সিক্ত করলেন, ইখলাসের ঝরনাধারা দিয়ে পরিতৃপ্ত করলেন এবং অনুসরণের প্রমাণের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ধাবিত করলেন। ফলে তা আন্দোলিত ও স্ফীত হলো এবং হরেক রকমের নয়নজুড়ানো উদ্ভিদ উৎপন্ন করল। ফলে উম্মাহ অপমানের পর মর্যাদা লাভ করল, বিচ্ছিন্নতার পর ঐক্যবদ্ধ হলো এবং পরাজিত থাকার পর বিজয়ী শক্তিতে পরিণত হলো।
আকিদা বা বিশ্বাস তার স্বচ্ছতা, বিশুদ্ধতা ও পবিত্রতার ওপর অটল ছিল; অবশেষে যখন আল্লাহ এমন একটি বিষয় ফয়সালা করলেন যা ঘটারই ছিল, এবং আল্লাহর দ্বীনে এমন সব লোক প্রবেশ করল যাদের অন্তর বিশুদ্ধ তাওহীদকে ধারণ করেনি, তখন মানুষের মধ্যে বিচ্যুতি দেখা দিল, তাদের পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, ভ্রান্ত মতবাদ ও ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারার প্রচলন ঘটল, ফিতনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং বিদাআত তার অশুভ রূপ নিয়ে ছড়িয়ে পড়ল। এমনকি যখন চোখগুলো স্থির হয়ে গেল, প্রাণ ওষ্ঠাগত হলো এবং মুমিনরা পরীক্ষিত ও ভীষণভাবে প্রকম্পিত হলো; তখন আল্লাহ হেদায়েতের ইমাম ও অন্ধকারের প্রদীপস্বরূপ এমন ব্যক্তিদের নিযুক্ত করলেন যারা মানুষকে নবুয়তের নূর ও ঈমানের দুর্গের দিকে ফিরিয়ে আনেন, তাদের সামনে মিথ্যার অসারতা উন্মোচন করেন, বাতিলপন্থীদের সংশয় নিরসন করেন এবং তাদেরকে সালাফে সালেহীনের আদর্শের দিকে ফিরিয়ে নেন।
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৭)
إن المتبصِّر في تاريخ الأمة الإسلامية؛ ليرى أن عزَّتها وعلوَّها وغلبتها ودينونة الأمم لها مرتبطة بصفاء عقيدتها، وصدق توجهها إلى الله، واتباعها لأثر النبي صلى الله عليه وسلم وسيرها على منهج السلف الصالح، واجتماعها على أئمتها، وعدم منازعتهم في ذلك، وأن ذلها وضعفها وانخذالها، وتسلط الأمم عليها مرتبط بانتشار البدع والمحدثات في الدين، واتخاذ الأنداد والشركاء مع الله، وظهور الفرق الضالة، ونزع يد الطاعة، والخروج على الأئمة.
إنّ الانحرافات العقدية، والحيدة عن منهج السلف الصالح، والانخداع بزخرف قول أرباب المذاهب المنحرفة هو الذي فرق الأمة، وأضعف قوتها، وكسر شوكتها، والواقع شاهد على ذلك، ولا مخرج لها من ذلك إلا بالرجوع إلى ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه وأئمة الهدى، فلن يصلح آخر هذه الأمة إلا بما صلح به أولها.
وإن النكوص عن جادة التوحيد، والرغبة عن منهج السلف الصالح، منافاة للعدل، ومجافاة للعقل.
قال تعالى: {لَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَأَنْزَلْنَا مَعَهُمُ الْكِتَابَ وَالْمِيزَانَ لِيَقُومَ النَّاسُ بِالْقِسْطِ} [الحديد: 25].
وإن أعظم القسط التوحيد، وهو رأس العدل وبه قوامه، وإن أظلم الظلم الشرك، قال تعالى حكاية عن لقمان في وصيته لابنه: {يَابُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ} [لقمان: 13] وإن أعظم الفرية أن تشرك بالله وقد خلقك.
وإذا كان الله سبحانه وتعالى قد أمر بالإصلاح، ونهى عن الفساد والإفساد، كما قال جل ثناؤه: {وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِنَ الْمُحْسِنِينَ (56)} [الأعراف].
ইসলামি উম্মাহর ইতিহাসের প্রতি গভীর দৃষ্টিদানকারী অবশ্যই দেখতে পাবেন যে, তাদের সম্মান, উচ্চতা, বিজয় এবং অন্যান্য জাতির ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে তাদের আকিদার বিশুদ্ধতা, আল্লাহর প্রতি তাদের একনিষ্ঠতা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদাঙ্ক অনুসরণ, সালাফে সালেহীনের মানহাজের ওপর পথচলা এবং তাদের ইমামদের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকা ও তাদের সাথে বিবাদে লিপ্ত না হওয়ার ওপর। পক্ষান্তরে, তাদের লাঞ্ছনা, দুর্বলতা, পরাজয় এবং অন্যান্য জাতির আধিপত্য বিস্তার সরাসরি যুক্ত দ্বীনের মধ্যে বিদআত ও নব-উদ্ভাবিত বিষয়াদির প্রসার, আল্লাহর সাথে সমকক্ষ ও শরীক গ্রহণ করা, বিভ্রান্ত দলগুলোর আত্মপ্রকাশ, আনুগত্যের হাত গুটিয়ে নেওয়া এবং ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সাথে।
নিশ্চয়ই আকিদাগত বিচ্যুতি, সালাফে সালেহীনের মানহাজ থেকে বিমুখ হওয়া এবং বিভ্রান্ত মাযহাবের প্রবক্তাদের চাকচিক্যময় কথায় প্রলুব্ধ হওয়া এই উম্মাহকে বিভক্ত করেছে, এর শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং এর প্রভাব-প্রতিপত্তি ধূলিসাৎ করেছে; বর্তমান বাস্তবতা এর সাক্ষী। আর এ থেকে উত্তরণের কোনো পথ নেই সেই বিষয়ের দিকে ফিরে যাওয়া ব্যতীত, যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর সাহাবীগণ এবং হেদায়াতের ইমামগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। কেননা এই উম্মাহর শেষাংশকে তা ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা সংশোধন করা সম্ভব নয়, যা দ্বারা এর প্রথমাংশ সংশোধিত হয়েছিল।
নিশ্চয়ই তাওহীদের সরল পথ থেকে বিমুখ হওয়া এবং সালাফে সালেহীনের মানহাজ ত্যাগ করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী এবং সুস্থ বিবেকের বিরোধী।
মহান আল্লাহ বলেন: “অবশ্যই আমি আমার রাসূলদেরকে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ পাঠিয়েছি এবং তাঁদের সাথে কিতাব ও মানদণ্ড অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।” [হাদীদ: ২৫]
আর সর্বোত্তম ইনসাফ হলো তাওহীদ; এটিই ন্যায়বিচারের মূল এবং এর মাধ্যমেই তা প্রতিষ্ঠিত থাকে। পক্ষান্তরে সবচেয়ে বড় জুলুম হলো শিরক। মহান আল্লাহ লুকমানের তাঁর পুত্রের প্রতি করা অসিয়তের বর্ণনায় বলেন: “হে প্রিয় বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক করো না, নিশ্চয়ই শিরক হলো মহা জুলুম।” [লুকমান: ১৩] আর সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার হলো আল্লাহর সাথে শরীক করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।
যেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করেছেন, যেমনটি তাঁর সুমহান প্রশংসা বর্ণনায় তিনি বলেছেন: “তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না তার সংশোধনের পর। আর তোমরা তাঁকে ভয় ও আশা নিয়ে ডাকো; নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।” [আরাফ: ৫৬]
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৮)
فإن أعظم الإفساد أن تفسد عقائد الناس، وتصوراتهم، وأفكارهم، ويقطع عليهم الطريق في مسيرهم إلى الله ويحاد بهم عن الفطرة التي فطرهم الله عليها، ففي الحديث: "كل مولود يولد على الفطرة، فأبواه يهودانه أو ينصرانه أو يمجسانه"
(1).
ويعضده قول النبي صلى الله عليه وسلم: "ألا إن ربي أمرني أن أعلمكم ما جهلتم، مما علمني يومي هذا: كل مالٍ نحلته عبدًا حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنّهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطانًا
… "
(2).
ولا شك أن هذا أعظم الظلم وأشنعه، كيف لا، وقد صار عاقبة ذلك خسران الدنيا والآخرة.
وفي هذه الأزمنة المتأخرة التي حدثت فيها الغير، وتزينت الدنيا لخطابها، كشف أهل الأهواء عن أقنعتهم، وانتشرت بدعهم، وأحييت مذاهب أسلافهم بعد أن كانت بائدة، ونبشت كتب لهم كانت منسية، وظهرت أفكار جديدة، وبرزت جماعات معاصرة متباينة في مقاصدها، مختلفة في توجهاتها، متناقضة في غاياتها ووسائلها، كلما خرجت جماعة أو فرقة لعنت أختها، وتطاول أناس على قامة التوحيد والسنة، ولوثوا أفكار النّاس، وأفسدوا عليهم عقائدهم، وهونوا عليهم أمر الشرك، ورفعوا أعلام الفتن، ونازعوا ذوي السلطان في سلطانهم، وشاقوا الرسول من بعد ما تبين لهم الهدى، واتبعوا غير سبيل المؤمنين.
مما يوجب على الغيورين من علماء الأمة ودعاة السنة المقتفين للأثر؛ القيام بواجب الإبانة عن أصول الديانة، وتبيين معالم منهج السّلف، وإيضاح سبيله، وتقريب كتب أئمة الهدى، وإبرازها بالتحقيق
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হলো মানুষের আকিদা (বিশ্বাস), ধারণা এবং চিন্তাধারাকে কলুষিত করা, আল্লাহর দিকে তাদের যাত্রার পথ রুদ্ধ করা এবং যে স্বভাবজাত দ্বীনের (ফিতরাত) উপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন তা থেকে তাদের বিচ্যুত করা। হাদিসে এসেছে: "প্রত্যেক নবজাতকই স্বভাবজাত দ্বীনের (ফিতরাত) উপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে"
(১).
একে সমর্থন করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জেনে রেখো, আমার রব আমাকে আদেশ করেছেন যেন আমি তোমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজকের দিনে শিখিয়েছেন: আমি আমার বান্দাকে যা কিছু সম্পদ দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তানরা তাদের নিকট এসে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিয়েছে। আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছি তা তারা তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছে এবং তাদের আদেশ করেছে যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো দলিল অবতীর্ণ করিনি..."
(২).
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটিই সবচেয়ে বড় এবং জঘন্যতম জুলুম। কেনই বা হবে না, অথচ এর পরিণাম হলো দুনিয়া ও আখিরাতের ক্ষতি।
আর এই বর্তমান শেষ জামানায় যখন নানা পরিবর্তন সাধিত হয়েছে এবং দুনিয়া তার চাটুকারদের জন্য সুসজ্জিত হয়েছে, তখন প্রবৃত্তি পূজারীরা তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। তাদের বিদআতসমূহ ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাদের পূর্বসূরিদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া মতবাদসমূহকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। তাদের বিস্মৃত হয়ে যাওয়া বইপত্রগুলো খুঁড়ে বের করা হয়েছে এবং নতুন নতুন চিন্তাধারার উদ্ভব ঘটেছে। আবির্ভূত হয়েছে এমন সব সমসাময়িক দল যাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন, দৃষ্টিভঙ্গি পৃথক এবং লক্ষ্য ও কর্মপদ্ধতি পরস্পরবিরোধী। যখনই কোনো দল বা গোষ্ঠী বের হয়েছে, তারা তার সমজাতীয় অন্য দলকে অভিশাপ দিয়েছে। একদল লোক তাওহিদ ও সুন্নাহর সুউচ্চ মর্যাদার ওপর আঘাত হেনেছে, মানুষের চিন্তাধারাকে কলুষিত করেছে, তাদের আকিদা নষ্ট করেছে, শিরকের বিষয়টিকে তাদের কাছে তুচ্ছ করে দেখিয়েছে, ফিতনার ঝাণ্ডা উত্তোলন করেছে, শাসনকর্তাদের কর্তৃত্ব নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে এবং হিদায়াত স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করেছে ও মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করেছে।
যা উম্মাহর দ্বীনের প্রতি যত্নশীল আলেম এবং আসর (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) অনুসরণকারী সুন্নাহর দায়ীদের ওপর এই কর্তব্য আবশ্যক করে দেয় যে, তারা দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার দায়িত্ব পালন করবেন, সালাফদের মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ ফুটিয়ে তুলবেন, তাদের পথ স্পষ্ট করবেন এবং হিদায়াতের ইমামদের কিতাবসমূহকে তাহকিকসহ সহজবোধ্য ও উপস্থাপিত করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৯)
وشرح عبارات الأئمة، وبيان مقاصدهم والعناية بأمر التوحيد والمنهج في دروسهم وخطبهم ومحاضراتهم ومؤلفاتهم، وإرشاد العباد إلى اتباع خطى النبي صلى الله عليه وسلم ولزوم سنته، والسير على أثر أصحابه امتثالًا لقوله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (31)} [آل عمران].
وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "أوصيكم بتقوى الله والسّمع والطاعة، وإن كان عبدًا حبشيًا، فإنه من يعش منكم بعدي فسيرى اختلافًا كثيرًا؛ فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين؛ تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور؛ فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة"
(1). فهذا هو الصراط المستقيم، الموصل إلى رضا رب العالمين، كما قال تعالى في سورة الأنعام: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلَا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ (153)}. وهو السبيل الذي دعا إليه رسوله محمد صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ (108)} [يوسف: 108].
وهو عقيدة الفرقة الناجية التي أخبر عنها النبي صلى الله عليه وسلم بقوله:
"لا تزال من أمتي أمة قائمة بأمر الله، لا يضرهم من خذلهم؛ حتى يأتيهم أمر الله وهم على ذلك"
(2).
وهي التي بقيت على ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه؛ ففي الحديث أنه صلى الله عليه وسلم قال: "وإن بني إسرائيل تفرقت على ثنتين وسبعين
--------------------------------------------
ইমামদের বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান, তাঁদের উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা এবং তাঁদের দরস, খুতবা, বক্তৃতা ও গ্রন্থাবলিতে তাওহীদ ও মানহাজের (পদ্ধতি) বিশেষ গুরুত্ব প্রদান; এবং আল্লাহর বান্দাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদাঙ্ক অনুসরণে, তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরায় এবং তাঁর সাহাবীদের প্রদর্শিত পথে চলায় পথনির্দেশনা প্রদান, মহান আল্লাহর এই বাণীর আনুগত্য স্বরূপ: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমাকে অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু (৩১)} [আল-ইমরান]।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি তোমাদেরকে আল্লাহর তাকওয়া এবং শ্রবণ ও আনুগত্যের অসিয়ত করছি, যদিও সে কোনো হাবশী গোলাম হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পর জীবিত থাকবে, তারা অনেক মতবিরোধ দেখতে পাবে। এমতাবস্থায় তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে রাখবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে; কারণ প্রতিটি নব-উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা"
(১)। সুতরাং এটিই হলো সেই সরল পথ, যা রব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছে দেয়, যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা আল-আনআমে বলেছেন: {আর এটিই আমার সরল পথ, সুতরাং এরই অনুসরণ করো এবং অন্য কোনো পথের অনুসরণ করো না, যা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। তিনি তোমাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো (১৫৩)}। এটাই সেই পথ যার দিকে তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহ্বান করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীগণ জেনে-বুঝে আল্লাহর দিকে আহ্বান করি। আল্লাহ অতি পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই (১০৮)} [ইউসুফ: ১০৮]।
এটিই হলো সেই নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদা, যাদের সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বাণীতে সংবাদ দিয়ে বলেছেন:
"আমার উম্মতের মধ্যে একটি দল সর্বদা আল্লাহর আদেশের ওপর অটল থাকবে, যারা তাদেরকে অপদস্থ করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না; যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসবে এমতাবস্থায় যে তারা ঐ পথেই অটল থাকবে"
(২)।
আর এটি সেই আদর্শ যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ অটল ছিলেন; হাদীসে এসেছে যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ملة، وتفترق أمتي على ثلاثٍ وسبعين ملة؛ كلهم في النار إلا ملة واحدة" قال - أي: عبد الله بن عمرو راوي الحديث -: من هي يا رسول الله؟ قال: "ما أنا عليه وأصحابي"
(1).
ومن هنا تأتي أهمية العناية بهذا الأمر، وتربية الناشئة عليه، وتصحيح مسيرة الصحوة إليه؛ حتى لا تتشعب بها السبل، فتضل في متاهات الأهواء والفتن.
وقد وفَّق الله سبحانه وتعالى عددًا من مشايخنا وعلمائنا ونفرًا من طلبة العلم المخلصين إلى الاهتمام بهذا الموضوع العظيم تدريسًا وتحقيقًا وتأليفًا وكان منهم:
صاحب الفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد بن خليفة التميمي كتابه الكبير الماتع: "حقوق النبي صلى الله عليه وسلم على أمته في ضوء الكتاب والسنة".
وقد انتقيت من هذا الكتاب النفيس البحث الذي يتعلق "بوجوب الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وطاعته واتباع سنته" رغبت إفراده بالنشر لما حواه من فوائد عظيمة وتحقيق بديع وسميته: "حث الأتباع على تجريد الاتباع" رجاء أن ينفع الله به عموم المسلمين؛ لأن من حقه صلى الله عليه وسلم على أمته الإيمان به، والإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم هو: تصديقه وطاعته واتباع شريعته، وهذا يعني الانقياد له صلى الله عليه وسلم، وذلك بفعل ما أمر به واجتناب ما نهى عنه والالتزام بسنته المطهرة والاعتقاد الجازم أن طاعته طاعة الله جل ثناؤه وأن معصيته صلى الله عليه وسلم معصيته الله سبحانه لأنه صلى الله عليه وسلم هو الواسطة بين الله وبين الثقلين في تبليغ رسالته جل جلاله.
وسيأتي بيان ذلك في هذا البحث بإذن الله تعالى.
--------------------------------------------
দল, আর আমার উম্মত তেহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে; তাদের সকলেই জাহান্নামে যাবে একটি দল ব্যতীত।" হাদীসের বর্ণনাকারী অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীরা যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি।"
(১).
এখান থেকেই এই বিষয়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার, এর ওপর নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার এবং এই অভিমুখে জাগরণের পথকে সংশোধন করার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে; যাতে বিভিন্ন মত ও পথ তৈরি না হয়, যার ফলে তারা প্রবৃত্তি ও ফিতনার গোলকধাঁধায় পথভ্রষ্ট না হয়।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের অনেক শাইখ, আলেম এবং একদল নিষ্ঠাবান ইলম অন্বেষণকারীকে পাঠদান, গবেষণা এবং গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এই মহান বিষয়ের প্রতি মনোনিবেশ করার তৌফিক দান করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
সম্মানিত শাইখ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মাদ বিন খলিফা আল-তামিমী এবং তাঁর রচিত চমৎকার বৃহৎ গ্রন্থ: "কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে তাঁর উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারসমূহ"।
আমি এই মূল্যবান গ্রন্থটি থেকে "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়ন, তাঁর আনুগত্য এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের আবশ্যকতা" সম্পর্কিত গবেষণাটি নির্বাচন করেছি। এতে বিদ্যমান মহান উপকারিতা এবং চমৎকার তাত্ত্বিক বিশ্লেষণের কারণে আমি এটি পৃথকভাবে প্রকাশ করার ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং এর নামকরণ করেছি: "একনিষ্ঠ অনুসরণের প্রতি অনুসারীদের উদ্বুদ্ধকরণ"। আমি আশা করি এর মাধ্যমে আল্লাহ সাধারণ মুসলিমদের উপকৃত করবেন; কারণ তাঁর উম্মতের ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম অধিকার হলো তাঁর প্রতি ঈমান আনা। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনার অর্থ হলো: তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর শরীয়ত অনুসরণ করা। আর এর তাৎপর্য হলো তাঁর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা; যা অর্জিত হয় তাঁর আদেশসমূহ পালনের মাধ্যমে, তাঁর নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে, তাঁর পবিত্র সুন্নাহর ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমে এবং এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করার মাধ্যমে যে, তাঁর আনুগত্য করা মানেই আল্লাহ জাল্লা শানুহুর আনুগত্য করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্য হওয়া মানেই আল্লাহ সুবহানাহুর অবাধ্য হওয়া। কারণ মহান আল্লাহ জাল্লা জালালুহু-এর বাণী জিন ও মানবজাতির কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মাধ্যম।
আল্লাহ চাহেন তো এই গবেষণায় সামনে তার বিস্তারিত বিবরণ আসবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وأسأل الله أن يجزي صاحب الفضيلة الشيخ الأستاذ الدكتور محمد بن خليفة التميمي على هذا الجهد المبارك، وأن يمتعه بالصحة والعافية، ويبارك له في عمره وعلمه وعمله.
كما أسأله سبحانه وتعالى أن يجعل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، مقربًا إليه نافعًا لعباده، إنه سميع مجيب.
وصلى الله على سيدنا محمد، وآله وصحبه أجمعين.
كتبه
الفقير إلى عفو ربه ورحمته
عبد الجبار بن عبد العظيم بن محمد آل ماجد
غفر الله له ولوالديه ولجميع المسلمين
a.j.majid@hotmail.com
এবং আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন মহামান্য শায়খ প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমিকে এই বরকতময় প্রচেষ্টার জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন, তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা দান করেন এবং তাঁর হায়াত, ইলম ও আমলে বরকত দান করেন।
তেমনি আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই আমলটিকে একমাত্র তাঁর মহান চেহারার জন্য নিবেদিত করেন, যা তাঁর নৈকট্যদানকারী এবং তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী হয়; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা ও দুআ কবুলকারী।
এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সকল সাহাবীর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
এটি লিখেছেন
তাঁর রবের ক্ষমা ও দয়ার মুখাপেক্ষী
আব্দুল জাব্বার বিন আব্দুল আজিম বিন মুহাম্মদ আল মাজেদ
আল্লাহ তাকে, তাঁর পিতা-মাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন।
a.j.majid@hotmail.com
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة المؤلفالحمد لله الذي أكمل لنا ديننا، وأتمَّ علينا نعمته، ورضي لنا الإسلام دينًا، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله بالدين القيم، والملة الحنيفية، وجعله على شريعة من الأمر، أمر باتباعها، وأمره بأن يقول: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي} [يوسف: 108]، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليمًا.
وبعد: فإن الله عز وجل لم يخلق الخلق عبثًا، قال تعالى: {أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ (115)} [المؤمنون].
بل خلقهم لغاية ذكرها في كتابه الكريم في أكثر من موضع، فقال تعالى: {الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [الملك: 2].
وقال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} [هود: 7].
وقال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ (56)} [الذاريات].
فالحكمة من خلقه للخلق اختبارهم وابتلاؤهم ليجزي المحسن بإحسانه والمسيء بإساءته.
فهذه هي الحكمة من خلقهم أولًا وبعثهم ثانيًا. ولذلك لم يتركهم هملًا، بل أرسل إليهم رسله، فكان من سنة الله تبارك وتعالى مواترة الرسل وتعميم الخلق بهم، بحيث يبعث في كل أمة رسولًا ليقيم هداه وحجته كما قال تعالى: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ
লেখকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের জন্য আমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, আমাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং ইসলামকে আমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও একনিষ্ঠ আদর্শসহ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে দ্বীনের এক সুস্পষ্ট বিধানের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন ও তা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছেন। আর তাঁকে নির্দেশ দিয়েছেন এই কথা বলতে: {বলুন, এটিই আমার পথ। আমি এবং আমার অনুসারীগণ আল্লাহর দিকে ডাকছি জাগ্রত জ্ঞান ও সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে।} [ইউসুফ: ১০৮]। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর শান্তি ও অজস্র সালাম বর্ষণ করুন।
পরকথা: মহান আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে বৃথা সৃষ্টি করেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে কেবল বৃথাই সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না?} [আল-মুমিনুন: ১১৫]।
বরং তিনি তাদের এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন যা তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ।} [আল-মুলক: ২]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর আরশ ছিল পানির ওপর, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে কর্মে কে শ্রেষ্ঠ।} [হুদ: ৭]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬]।
সুতরাং সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পেছনে প্রজ্ঞা হলো তাদের পরীক্ষা করা ও যাচাই করা, যাতে তিনি সৎকর্মশীলকে তার সৎকাজের জন্য এবং মন্দকর্মীকে তার মন্দ কাজের জন্য প্রতিফল দিতে পারেন।
এটিই হলো প্রথমত তাদের সৃষ্টি করা এবং দ্বিতীয়ত তাদের পুনরুত্থান করার মূল প্রজ্ঞা। এজন্যই তিনি তাদের লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেননি, বরং তাদের নিকট তাঁর রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সুন্নাতই ছিল রাসূলদের ধারা অব্যাহত রাখা এবং সকল সৃষ্টির নিকট তাদের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া, যাতে তিনি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন রাসূল পাঠান তাঁর হেদায়েত ও প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি প্রত্যেক জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো...}
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36]، وقال تعالى: {إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَإِنْ مِنْ أُمَّةٍ إِلَّا خَلَا فِيهَا نَذِيرٌ (24)} [فاطر]، وقال تعالى: {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَى} [المؤمنون: 44]، وقال تعالى: {رُسُلًا مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَى اللَّهِ حُجَّةٌ بَعْدَ الرُّسُلِ وَكَانَ اللَّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا (165)} [النساء]. فالرسل هم الواسطة بين الله عز وجل وبين خلقه في تبليغ أمره ونهيه، وإرشاد العباد إلى ما فيه صلاح معاشهم ومعادهم.
وإن الله تبارك وتعالى جعل محمدًا صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين، وأرسله للناس أجمعين، وأكمل له ولأمته الدين، وبعثه على حين فترة من الرسل وظهور الكفر وانطماس السبل، فأحيا به ما درس من معالم الإيمان، وقمع به أهل الشرك والكفر من عبدة الأوثان والنيران والصلبان، وأذل به كفار أهل الكتاب، وأهل الشرك والارتياب، وأقام به منار دينه الذي ارتضاه، وشاد به ذكر من اجتباه من عباده واصطفاه.
فالله سبحانه وتعالى أرسل محمدًا صلى الله عليه وسلم للناس رحمة، وأنعم به نعمة يا لها من نعمة، قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ (107)} [الأنبياء].
وقال تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْرًا} [إبراهيم: 28] وهم الذين لم يؤمنوا بمحمد صلى الله عليه وسلم، فإرساله أعظم نعمة أنعم الله به على عباده.
فقد جمع الله لهذه الأمة بخاتم النبيين وإمام المتقين وسيد ولد آدم أجمعين ما فرقه في غيرهم من الفضائل، وزادهم من فضله أنواع الفواضل، بل أتاهم كفلين من رحمته، كما قال تعالى في سورة الحديد: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ (28) لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَأَنَّ الْفَضْلَ بِيَدِ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (29)}.
وقال صلى الله عليه وسلم: "إنما أجَلَكم - في أجل من خلا من الأمم - ما بين
"...এবং তোমরা তাগুতকে বর্জন করো।" [নাহল: ৩৬], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আমি আপনাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি। আর এমন কোনো জাতি নেই যাদের নিকট কোনো সতর্ককারী অতিক্রান্ত হয়নি।" [ফাতির: ২৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর আমি একে একে আমার রসূলগণকে পাঠিয়েছি।" [মুমিনুন: ৪৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আমি রসূলগণকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে প্রেরণ করেছি, যাতে রসূলগণের আগমনের পর আল্লাহর বিরুদ্ধে মানুষের কোনো অজুহাত না থাকে। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [নিসা: ১৬৫]। সুতরাং রসূলগণই হলেন মহান আল্লাহ এবং তাঁর সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পৌঁছে দেওয়ার এবং বান্দাদেরকে তাদের ইহকাল ও পরকালের সংশোধন ও কল্যাণের দিকে পথনির্দেশ করার মাধ্যম।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশেষ নবী করেছেন এবং তাঁকে সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন। তিনি তাঁর জন্য ও তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। তিনি তাঁকে রসূলগণের আগমনের বিরতিকালে এবং কুফরির প্রকাশ ও সঠিক পথসমূহের বিলুপ্তির সময়ে পাঠিয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে ঈমানের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া নিদর্শনসমূহকে পুনর্জীবিত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে মূর্তিপূজক, অগ্নিপূজক ও ক্রুশপূজক শিরক ও কুফরপন্থীদের দমন করেছেন। তিনি তাঁর মাধ্যমে আহলে কিতাবের কাফিরদের এবং শিরক ও সংশয়বাদীদের লাঞ্ছিত করেছেন। আর তিনি তাঁর মাধ্যমে তাঁর পছন্দনীয় দ্বীনের মিনারসমূহ কায়েম করেছেন এবং তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত বান্দাদের মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন।
অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের জন্য রহমত হিসেবে পাঠিয়েছেন এবং তাঁর মাধ্যমে এমন এক নিয়ামত দান করেছেন, যা কতই না মহান নিয়ামত! মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।" [আম্বিয়া: ১০৭]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা আল্লাহর নিয়ামতকে কুফরি দ্বারা পরিবর্তন করেছে?" [ইব্রাহিম: ২৮] - তারা হলো ঐ সকল লোক যারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনেনি। সুতরাং তাঁকে প্রেরণ করা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের ওপর শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত।
নিশ্চয়ই আল্লাহ এই উম্মতের জন্য সর্বশেষ নবী, মুত্তাকীদের ইমাম এবং আদম সন্তানদের সরদারের মাধ্যমে ঐ সকল ফযীলতকে একত্রিত করেছেন যা অন্যদের মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে ছিল। আর তিনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদের জন্য নানাবিধ শ্রেষ্ঠত্ব আরও বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। বরং তিনি তাদেরকে তাঁর রহমতের দুটি অংশ দান করেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ সূরা আল-হাদীদে বলেছেন: "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তাঁর রসূলের প্রতি ঈমান আনো। তিনি তোমাদেরকে তাঁর রহমতের দুটি অংশ দান করবেন, তোমাদেরকে নূর দান করবেন যার সাহায্যে তোমরা পথ চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (২৮) যাতে আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহের সামান্যতম বিষয়ের ওপরও সক্ষম নয় এবং নিশ্চয়ই অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।" [হাদীদ: ২৮-২৯]।
এবং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতীতের উম্মতদের সময়ের তুলনায় তোমাদের সময় হলো কেবল..."
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
صلاة العصر إلى مغرب الشمس، وإنما مثلكم ومثل اليهود والنصارى كرجل استعمل عمالًا فقال: من يعمل لي إلى نصف النهار على قيراط قيراط؟، فعملت اليهود إلى نصف النهار على قيراط قيراط، ثم قال: من يعمل لي من نصف النهار إلى صلاة العصر على قيراط قيراط؟، فعملت النصارى من نصف النهار إلى صلاة العصر على قيراط قيراط، ثم قال: من يعمل لي من صلاة العصر إلى مغرب الشمس على قيراطين قيراطين؟، ألا فأنتم الذين يعملون من صلاة العصر إلى مغرب الشمس على قيراطين قيراطين، ألا لكم الأجر مرتين، فغضبت اليهود والنصارى، فقالوا: نحن أكثر عملًا وأقل عطاء، قال الله: هل ظلمتكم من حقكم شيئًا؟ قالوا: لا، قال: فإنه فضلي أعطيه من شئت"
(1).
"وقد خصَّ الله تعالى محمدًا صلى الله عليه وسلم بخصائص ميزه الله بها على جميع الأنبياء والمرسلين، وجعل له شرعة ومنهاجًا - أفضل شرعة وأكمل منهاج مبين - كما جعل أمته خير أمة أخرجت للناس، فهم يوفون سبعين أمة خيرها وأكرمها على الله
(2) من جميع الأجناس، هداهم الله بكتابه ورسوله لما اختلفوا فيه من الحق قبلهم وجعلهم وسطًا عدلًا خيارًا، فهم وسط في توحيد الله وأسمائه وصفاته، وفي الإيمان برسله وكتبه وشرائع دينه من الأمر والنهي والحلال والحرام، فأمرهم بالمعروف ونهاهم عن المنكر، وأحل لهم الطيبات وحرم عليهم الخبائث، فأخرجهم بذلك من الظلمات إلى النور، فحصل لهم ببركة رسالته ويمن سفارته خير الدنيا والآخرة.
فلقد هدى الله الناس ببركة نبوة محمد صلى الله عليه وسلم، وبما جاء به من
--------------------------------------------
"আসরের নামায থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তোমাদের এবং ইহুদি ও নাসারাদের উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো, যে কিছু শ্রমিক নিয়োগ করল এবং বলল: 'কে আমার জন্য মধ্যাহ্ন পর্যন্ত এক কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?' তখন ইহুদিরা মধ্যাহ্ন পর্যন্ত এক কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করল। অতঃপর সে বলল: 'কে আমার জন্য মধ্যাহ্ন থেকে আসরের নামায পর্যন্ত এক কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?' তখন নাসারারা মধ্যাহ্ন থেকে আসরের নামায পর্যন্ত এক কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করল। অতঃপর সে বলল: 'কে আমার জন্য আসরের নামায থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত করে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করবে?' জেনে রেখো, তোমরাই হলে তারা যারা আসরের নামায থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজ করছ। জেনে রেখো, তোমাদের জন্য রয়েছে দ্বিগুণ পুরস্কার। এতে ইহুদি ও নাসারারা রাগান্বিত হলো এবং বলল: 'আমরা কাজ করলাম বেশি কিন্তু পারিশ্রমিক পেলাম কম।' আল্লাহ বললেন: 'আমি কি তোমাদের হকের ব্যাপারে কোনো জুলুম করেছি?' তারা বলল: 'না।' তিনি বললেন: 'এটি আমার অনুগ্রহ, আমি যাকে ইচ্ছা তাকে এটি দান করি।'"
(১).
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট করেছেন, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। তিনি তাঁর জন্য একটি শরীয়ত ও পথ নির্ধারণ করেছেন—যা সর্বশ্রেষ্ঠ শরীয়ত এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট জীবনবিধান। যেমন তিনি তাঁর উম্মতকে মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠ উম্মত হিসেবে মনোনীত করেছেন; তারা সত্তরটি জাতির মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সকল বর্ণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত। আল্লাহ তাঁর কিতাব ও রাসূলের মাধ্যমে তাদেরকে সেই সত্যের দিকে হেদায়াত দান করেছেন, যে বিষয়ে তাদের পূর্ববর্তীরা মতবিরোধ করেছিল। তিনি তাদেরকে একটি মধ্যপন্থী, ন্যায়পরায়ণ ও শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। সুতরাং তারা আল্লাহর তাওহীদ এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে মধ্যপন্থী। তেমনিভাবে তাঁর রাসূলগণ, কিতাবসমূহ এবং দ্বীনের আদেশ-নিষেধ ও হালাল-হারামের বিধানসমূহের প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রেও তারা মধ্যপন্থী। তিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন এবং তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহকে হালাল ও অপবিত্র বস্তুসমূহকে হারাম করেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। ফলে তাঁর রিসালাতের বরকতে এবং তাঁর দূতিয়ালির কল্যাণে তাদের জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ সাধিত হয়েছে।
বস্তুত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াতের বরকতে এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তার মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পথ দেখিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
البينات والهدى هداية جلَّت عن وصف الواصفين وفاقت معرفة العارفين، حتى حصل لأمته المؤمنين به عمومًا، ولأولي العلم منهم خصوصًا من العلم النافع، والعمل الصالح، والأخلاق العظيمة، والسنن المستقيمة، ما لو جمعت حكمة سائر الأمم علمًا وعملًا - الخالصة من كل شوب - إلى الحكمة التي بعث بها لتفاوتا تفاوتًا يمنع معرفة قدر النسبة بينهما، فلله الحمد والمنة كما يحب ربنا ويرضى"
(1).
فهو المبعوث بالهدى ودين الحق بين يدي الساعة بشيرًا ونذيرًا وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، فكمل الله به الرسالة، وهدى به من الضلالة، وعلم به من الجهالة، وفتح برسالته أعينًا عميًا، وآذانًا صمًا، وقلوبًا غلفًا، فأشرقت برسالته الأرض بعد ظلماتها، وتألفت به القلوب بعد شتاتها، فأقام بها الملة العوجاء، وأوضح بها المحجة البيضاء، فبين عن طريقه صلى الله عليه وسلم الكفر من الإيمان، والربح من الخسران، والهدى من الضلال، وأهل الجنة من أهل النار، والمتقين من الفجار، فهو المبعوث رحمة للعالمين، ومحجة للسالكين وحجة على الخلائق أجمعين.
ولقد نوَّه الله عز وجل في كتابه الكريم بهذه النعمة العظمى التي امتن بها على هذه الأمة في آيات كثيرة منها:
قوله تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (164)} [آل عمران: 164] [آل عمران].
وقال تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2) وَآخَرِينَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ (3) ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (4)} [الجمعة].
--------------------------------------------
সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও হিদায়াত এমন এক হিদায়াত যা বর্ণনাকারীদের বর্ণনার ঊর্ধ্বে এবং তা আরিফদের (জ্ঞানী) জ্ঞানের পরিধিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমনকি তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী সাধারণ উম্মত এবং বিশেষ করে তাদের মধ্যকার ইলমের অধিকারীরা এমন নাফে (উপকারী) ইলম, নেক আমল, মহান চরিত্র এবং সুপ্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ লাভ করেছে যে, যদি অন্য সকল জাতির অর্জিত ইলম ও আমলগত হিকমতকে—যা সব ধরনের কলুষতা থেকে মুক্ত—সেই হিকমতের সাথে তুলনা করা হয় যা দিয়ে তাঁকে পাঠানো হয়েছে, তবে উভয়ের মধ্যে এমন বিশাল ব্যবধান প্রকাশ পাবে যা তাদের মধ্যকার অনুপাত নির্ধারণ করাকেও অসম্ভব করে দেবে। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ, যেমনটি আমাদের রব ভালোবাসেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
(১)।
তিনি কিয়ামতের প্রাক্কালে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী এবং উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে রিসালাতকে পূর্ণতা দান করেছেন, তাঁর মাধ্যমে পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত দিয়েছেন এবং মূর্খতা থেকে শিক্ষা দান করেছেন। তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে তিনি অন্ধ চোখ, বধির কান এবং মোহরযুক্ত অন্তরসমূহ খুলে দিয়েছেন। তাঁর রিসালাতের ফলে অন্ধকারাচ্ছন্ন হওয়ার পর যমীন আলোকিত হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর অন্তরসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি বক্র মিল্লাতকে (ধর্মাদর্শ) সোজা করেছেন এবং উজ্জ্বল সুষ্পষ্ট পথকে উন্মুক্ত করেছেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রদর্শিত পথের মাধ্যমে কুফর থেকে ঈমান, ক্ষতি থেকে লাভ, পথভ্রষ্টতা থেকে হিদায়াত, জাহান্নামীদের থেকে জান্নাতী এবং পাপাচারীদের থেকে মুত্তাকীদের পৃথক করে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি জগতসমূহের জন্য রহমত, পথচারীদের জন্য উজ্জ্বল রাজপথ এবং সকল সৃষ্টির উপর আল্লাহর হুজ্জাত (প্রমাণ) হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন।
মহান আল্লাহ তাঁর কিতাবে এই মহান নিআমতের কথা গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি এই উম্মতের ওপর অনুগ্রহ হিসেবে দান করেছেন। এ সম্পর্কিত বহু আয়াতের মধ্যে রয়েছে:
আল্লাহ তাআলার বাণী: {অবশ্যই আল্লাহ মুমিনদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল। (১৬৪)} [আলে ইমরান: ১৬৪]।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {তিনিই নিরক্ষরদের মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত ছিল। (২) এবং তাদের মধ্য থেকে অন্যান্যদের জন্যও (পাঠিয়েছেন) যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (৩) এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। (৪)} [আল-জুমুআহ]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال تعالى: {كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُعَلِّمُكُمْ مَا لَمْ تَكُونُوا تَعْلَمُونَ (151) فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ (152)} [البقرة].
وقال تعالى: {لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَاعَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ (128)} [التوبة].
وإنما كان إرساله صلى الله عليه وسلم إلى الناس أعظم منة امتن بها على عباده لأن في ذلك تخليص من وفقه الله وهداه منهم من العذاب السرمدي، وذلك بسبب الإيمان بالله ورسوله، والابتعاد عن كل ما يوجب دخول النار والخلود فيها.
ولذلك فإن الناس أحوج ما يكونون إلى الإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم والأخذ بما جاء به من الدين، فهم أحوج إلى ذلك من الطعام والشراب بل ومن نفس الهواء الذي يتنفسونه، فإنهم متى فقدوا ذلك فالنار جزاء من كذب بالرسول وتولى عن طاعته كما قال تعالى: {فَأَنْذَرْتُكُمْ نَارًا تَلَظَّى (14) لَا يَصْلَاهَا إِلَّا الْأَشْقَى (15) الَّذِي كَذَّبَ وَتَوَلَّى (16)} [الليل]؛ أي: كذب به وتولى عن طاعته، فهم محتاجون إلى الإيمان بالرسول وطاعته والأخذ بما جاء به والالتزام بذلك في كل مكان وزمان ليلًا ونهارًا، سفرًا وحضرًا، سرًا وعلانية.
ولما كانت منزلة النبي صلى الله عليه وسلم عند ربه بهذه المرتبة وكانت حاجة الناس إليه بهذه الدرجة، فقد أوجب الله لنبيه صلى الله عليه وسلم على هذه الأمة جملة من الحقوق والواجبات تنظم العلاقة التي تربطهم به تنظيفًا دقيقًا لا لبس في ولا اشتباه.
وهذه الحقوق منها ما يتصل بجانب الرسالة التي بعث بها، ومنها ما يتعلق بخاصة شخص الرسول صلى الله عليه وسلم تفضيلًا وتكريمًا من الله له.
মহান আল্লাহ বলেন: {যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রাসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন, আর তোমাদেরকে এমন কিছু শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না (১৫১)। অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং আমার শুকরিয়া আদায় করো, আর আমার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ো না (১৫২)} [আল-বাকারাহ]।
মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল এসেছেন। তোমাদের যে কষ্ট হয়, তা তাঁর জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক; তিনি তোমাদের মঙ্গলের জন্য অতি আকাঙ্ক্ষী, মুমিনদের প্রতি তিনি অতীব স্নেহশীল ও পরম দয়ালু (১২৮)} [আত-তাওবাহ]।
আর মানুষের কাছে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরণ করা ছিল তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠতম অনুগ্রহ। কারণ এর মাধ্যমেই আল্লাহ যাকে তাওফিক ও হিদায়াত দিয়েছেন, তাকে চিরস্থায়ী আজাব থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আর তা অর্জিত হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন এবং জাহান্নামে প্রবেশ ও সেখানে চিরকাল থাকা অবধারিত করে এমন সকল কাজ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে।
তাই মানুষের জন্য রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ঈমান আনা এবং তিনি যে দ্বীন নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করা সবচেয়ে জরুরি। এমনকি তারা এর জন্য খাদ্য, পানীয়, এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের বাতাসের চেয়েও বেশি মুখাপেক্ষী। কারণ যখনই তারা এটি হারিয়ে ফেলবে, তখনই জাহান্নাম হবে সেই ব্যক্তির প্রতিদান যে রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব আমি তোমাদেরকে লেলিহান আগুন সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছি (১৪)। চরম হতভাগ্য ব্যক্তি ছাড়া সেখানে কেউ প্রবেশ করবে না (১৫), যে ব্যক্তি অস্বীকার করেছে ও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে (১৬)} [আল-লাইল]; অর্থাৎ: তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং তাঁর আনুগত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সুতরাং মানুষের জন্য রাসূলের প্রতি ঈমান আনা, তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ করা এবং সর্বদা ও সর্বাবস্থায়—দিবা-রাত্রি, সফরে কিংবা আবাসস্থলে, প্রকাশ্যে ও গোপনে—তা মেনে চলা অপরিহার্য।
যেহেতু তাঁর রবের নিকট নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মর্যাদা এই উচ্চস্তরের এবং তাঁর প্রতি মানুষের প্রয়োজনীয়তা এই পর্যায়ের, তাই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের ওপর তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য এমন কিছু অধিকার ও কর্তব্য আবশ্যক করেছেন যা তাঁদের সাথে নবীর সম্পর্ককে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, যেখানে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই।
এই অধিকারসমূহের মধ্যে কিছু তাঁর আনীত রিসালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিশেষ সম্মান ও মর্যাদাহিসেবে রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যক্তিগত সত্তার সাথে নির্দিষ্ট।
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقد وردت في شأن تلك الحقوق نصوص كثيرة في كتاب الله عز وجل وسنة نبيه، وضحت وفصلت وبينت جوانب تلك الحقوق.
وهذه الحقوق في جملتها هي الأصل الثاني من أصلي الدين كما يدل عليه قولنا: "أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا رسول الله".
ولذا فقد كان لزامًا على كل من ينطق بهذه الشهادة، ويدين الله بهذا الدين، أن يحيط بتلك الحقوق معرفة، ويلتزم بها اعتقادًا وقولًا وعملًا، فذلك عقد من عقود الإيمان الذي لا يحصل إيمان العبد إلا به.
ومما يؤسف له أن كثيرًا من المسلمين اليوم هم على درجة كبيرة من الجهل بهذه الحقوق، فتراهم لذلك على طرفي نقيض هذا المقام:
- فإما مقصِّر عن القيام بهذه الحقوق التي أوجبها الله على الأمة، فتراه لا يقيم لها وزنًا ولا يلقي لها بالًا.
- وإما غال مبتدع منكب على ما ابتدعه، يظن أنه بما يفعله من أمور مبتدعة في هذا المقام قد أحسن صنعًا، وأنه مؤد لما أوجبه الله من حق لنبينا محمد صلى الله عليه وسلم، وكلا الطرفين صاحب حال مذموم غير محمود.
فلما كان عامة أصحاب هذين الطرفين إنما أوقعهم فيما هم فيه، جهلهم بمعرفة تلك الحقوق على الوجه المطلوب شرعًا.
ولما كانت هذه الحقوق هي من جملة هذا الدين الذي تعبدنا الله به، فكان لا بد فيها من توفر شرطي القبول:
1 - الإخلاص.
2 - الصواب (الاتباع).
كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا} [الكهف].
فقد أحببت أن أوضح تلك الحقوق النبوية وفق ما جاءت بذلك النصوص الشرعية، وما كان عليه سلف هذه الأمة وأئمتها، عسى أن
মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহতে এই অধিকারসমূহের ব্যাপারে অনেক দলীল বর্ণিত হয়েছে, যা এই অধিকারগুলোর বিভিন্ন দিককে স্পষ্ট, বিস্তারিত এবং ব্যাখ্যা করেছে।
আর এই অধিকারগুলো সামগ্রিকভাবে দ্বীনের দুটি মূলনীতির দ্বিতীয় মূলনীতি, যেমনটি আমাদের এই সাক্ষ্য প্রদান প্রমাণ করে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।"
অতএব, যে ব্যক্তি এই সাক্ষ্য প্রদান করে এবং এই দ্বীনের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করে, তার জন্য অপরিহার্য হলো এই অধিকারগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করা এবং বিশ্বাস, কথা ও কাজের মাধ্যমে তা মেনে চলা। কেননা এটি ঈমানের সেই চুক্তিসমূহের একটি, যা ব্যতীত কোনো বান্দার ঈমান পূর্ণাঙ্গ হয় না।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমানে অনেক মুসলিমই এই অধিকারগুলো সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার মাঝে রয়েছে। ফলে আপনি তাদেরকে এই বিষয়ের ক্ষেত্রে দুটি বিপরীত প্রান্তসীমায় দেখতে পাবেন:
- হয় সে আল্লাহ উম্মতের ওপর যে অধিকারগুলো ওয়াজিব করেছেন তা পালনে অবহেলাকারী; ফলে তাকে দেখা যায় যে, সে এগুলোর কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং এ বিষয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপও করছে না।
- অথবা সে চরমপন্থী বিদআতি, যে তার আবিষ্কৃত বিদআতের ওপর ঝুঁকে আছে। সে মনে করে যে, এই ক্ষেত্রে সে যেসব নব আবিষ্কৃত কাজ করছে তার মাধ্যমে সে অনেক ভালো কাজ করছে এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি আল্লাহ যে অধিকারগুলো ওয়াজিব করেছেন সে তা আদায় করছে। অথচ এই উভয় পক্ষই নিন্দনীয় অবস্থার ওপর রয়েছে, যা মোটেও প্রশংসনীয় নয়।
যেহেতু এই উভয় পক্ষের অধিকাংশ লোককেই যে বিষয়টি এই অবস্থায় নিপতিত করেছে তা হলো শারঈ পদ্ধতিতে এই অধিকারগুলো সম্পর্কে তাদের সঠিক জ্ঞানের অভাব।
আর যেহেতু এই অধিকারগুলো সেই দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই এতে কবুল হওয়ার দুটি শর্ত থাকা আবশ্যক:
১ - ইখলাস (নিষ্ঠা)।
২ - সঠিক পদ্ধতি (অনুসরণ)।
যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরীক না করে।" [সূরা আল-কাহফ]।
তাই আমি শারঈ দলীলসমূহ এবং এই উম্মতের সালাফ ও ইমামগণের আদর্শ অনুযায়ী সেই নববী অধিকারগুলো স্পষ্ট করতে চেয়েছি, যাতে সম্ভবত...
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
يكون في هذا البيان والتوضيح تعليم للجاهل، وتذكير للغافل، وتحذير وردع للمبتدع، ومدارسة للعارف.
فأسأل الله عز وجل التوفيق والرشاد، وأن يرزقنا التمسك بسُنَّة نبيه صلى الله عليه وسلم والسير على هديه والتأسي به، وأن يشرح لذلك صدورنا وينير قلوبنا، إنه جواد كريم وعلى كل شيء قدير.
* * *
এই বর্ণনা ও স্পষ্টীকরণের মধ্যে রয়েছে অজ্ঞদের জন্য শিক্ষা, গাফেলদের জন্য উপদেশ, বিদআতিদের জন্য সতর্কতা ও প্রতিরোধ এবং জ্ঞানীদের জন্য পর্যালোচনা।
অতএব, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট তাওফিক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করছি। তিনি যেন আমাদের তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার, তাঁর হেদায়েতের ওপর চলার এবং তাঁর অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন; আর এ জন্য আমাদের বক্ষসমূহ উন্মুক্ত করে দেন ও আমাদের অন্তরসমূহকে আলোকিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মহান দাতা, দয়ালু এবং সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
* * *
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২১)
الفصل الأول: وجوب الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلموفيه ستة مباحث:
المبحث الأول: تعريف الإيمان وبيان معنى شهادة أن محمدًا رسول الله.
المبحث الثاني: وجوب الإيمان بنبوته ورسالته صلى الله عليه وسلم.
المبحث الثالث: وجوب الإيمان بعموم رسالته صلى الله عليه وسلم.
المبحث الرابع: وجوب الإيمان بأنه صلى الله عليه وسلم خاتم النبيين.
المبحث الخمس: وجوب الإيمان بأن النبي صلى الله عليه وسلم قد بلَّغ الرسالة وأكملها.
المبحث السادس: وجوب الإيمان بعصمته صلى الله عليه وسلم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতাএতে ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈমানের সংজ্ঞা এবং ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ সাক্ষ্যের অর্থ বর্ণনা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াত ও রিসালাতের ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের সার্বজনীনতার ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতা।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে সর্বশেষ নবী, তার ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতা।
পঞ্চম অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা পূর্ণ করেছেন, তার ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতা।
ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়ার ওপর ঈমান আনয়ন করার আবশ্যকতা।
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الأول: تعريف الإيمان وبيان معنى شهادة أن محمدا رسول اللهوفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: تعريف الإيمان عمومًا.
المطلب الثاني: تعريف الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم.
المطلب الثالث: معنى شهادة أن محمدًا رسول الله صلى الله عليه وسلم.
المطلب الرابع: نواقض الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ঈমানের সংজ্ঞা এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্যের অর্থ বর্ণনাআর এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সাধারণভাবে ঈমানের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের সংজ্ঞা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্যের অর্থ।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المطلب الأول: تعريف الإيمان عمومًا
أ - المعنى اللغوي لكلمة "آمن ":الإيمان مصدر آمن يؤمن إيمانًا، فهو مؤمن.
أ - ويرى جمعٌ من أهل اللغة: أن الإيمان في اللغة معناه: التصديق وقد حكوا الإجماع على ذلك قال الأزهري
(1): "واتفق أهل العلم من اللغويين وغيرهم أن الإيمان معناه التصديق"
(2).
واستدلوا لذلك بقوله تعالى حكاية عن إخوة يوسف لأبيهم: {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} فقالوا معناه ما أنت بمصدق لنا.
2 - أما علماء السلف
(3) فيقولون: إن الإيمان يأتي في اللغة لمعنيين هما:
أ - بمعنى صدَّق به، وذلك إذا عدي بالباء كما في قوله تعالى {آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ
… } [البقرة: 285]؛ أي صدق الرسول
(4).
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে ঈমানের সংজ্ঞা
ক - "আমানা" শব্দের আভিধানিক অর্থ:ঈমান শব্দটি 'আমানা-ইউ'মিনু-ঈমানান' (ক্রিয়াপদ) থেকে আগত মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর এর কর্তাবাচক বিশেষ্য হলো 'মুমিন'।
ক - ভাষাবিদদের একটি দল মনে করেন যে, অভিধানে ঈমান শব্দের অর্থ হলো: সত্যায়ন করা। তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন। আল-আজহারি
(১) বলেন: "ভাষাবিদ ও অন্যান্য আলেমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ঈমানের অর্থ হলো সত্যায়ন করা"
(২)।
তারা এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন, যেখানে ইউসুফ (আ.)-এর ভাইদের কথা তাঁদের পিতার উদ্দেশ্যে বর্ণিত হয়েছে: {আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই}। তারা বলেন, এর অর্থ হলো আপনি আমাদের সত্যায়নকারী নন।
২ - পক্ষান্তরে সালাফ ওলামাগণ
(৩) বলেন: অভিধানে ঈমান শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যথা:
ক - 'সত্যায়ন করা' অর্থে, আর এটি তখন হয় যখন শব্দটি 'বা' (ب) অব্যয় সহযোগে ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তার প্রতি তার রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন...} [আল-বাকারা: ২৮৫]; অর্থাৎ রাসূল সত্যায়ন করেছেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ب - وبمعنى أقر له وذلك إذا عدي باللام كما في قوله تعالى {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} [يوسف]، وقوله تعالى {فَآمَنَ لَهُ لُوط} [العنكبوت: 26].
وقد اعترض السلف على حصر أهل اللغة لمعنى الإيمان بالتصديق فقط وقالوا: "إن الإيمان وإن كان يتضمن التصديق فليس هو مجرد التصديق، وإنما هو الإقرار
(1) والطمأنينة أيضا"
(2) واستدل السلف لقولهم بالأمور التالية:
أولا: إن الترادف التام ممتنع بين التصديق والإيمان من عدة وجوه، يوضحها الجدول التالي
| الإيمان | التصديق |
| - إن كلمة آمن تتعدى بالباء وباللام وقد تقدم التمثيل لذلك | أما كلمة "صدق" فلا تتعدى باللام فلا يقال "صدق له" إنما يقال "صدق به" فهي تتعدى بالباء وبنفسها فيقال صدقه |
| - إن كلمة "آمن" تتضمن ثلاثة معان هي: الأمن، والتصديق، والأمانة | أما كلمة صدق فلا تتضمن معنى الأمن والأمانة. |
| - إن لفظ الإيمان لا يستعمل إلا في الخبر عن الغائب لأن فيه أصل معنى الأمن والائتمان وهذا إنما يكون في الخبر عن الغائب، فلا يقال لمن قال طلعت الشمس آمنا له وإنما يقال صدقناه ولهذا لم يأت في القرآن وغيره لفظ آمن له إلا في الخبر عن الغائب | أما لفظ "التصديق" فيستعمل في كل مخبر عن مشاهد أو غيب، فمن قال السماء فوقنا، قيل له: صدقت |
--------------------------------------------
খ - এবং এটি স্বীকার করার অর্থে আসে, যখন এটি 'লাম' বর্ণ দ্বারা ব্যবহৃত হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই} [ইউসুফ], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর লূত তার প্রতি ঈমান আনলেন (তাকে স্বীকার করলেন)} [আল-আনকাবূত: ২৬]।
সালাফগণ ভাষাবিদদের পক্ষ থেকে ঈমানের অর্থকে কেবল সত্যয়নের (তাসদীক) মধ্যে সীমাবদ্ধ করার বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: "ঈমান যদিও সত্যয়নকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এটি কেবল নিছক সত্যয়নই নয়; বরং এটি হলো স্বীকৃতি এবং প্রশান্তিও।" সালাফগণ তাঁদের এই বক্তব্যের সপক্ষে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন:
প্রথমত: সত্যয়ন এবং ঈমানের মধ্যে পূর্ণ সমার্থকতা হওয়া কয়েকটি দিক থেকে অসম্ভব, যা নিম্নোক্ত ছকে স্পষ্ট করা হলো:
| ঈমান | সত্যয়ন (তাসদীক) |
| - নিশ্চয়ই 'আমানা' শব্দটি 'বা' এবং 'লাম' উভয় বর্ণ দ্বারা ব্যবহৃত হয় এবং এর উদাহরণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। | পক্ষান্তরে 'সাদ্দাকা' শব্দটি 'লাম' দ্বারা ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং 'সাদ্দাকা লাহূ' বলা হয় না; বরং বলা হয় 'সাদ্দাকা বিহি'। এটি 'বা' দ্বারা এবং সরাসরি কর্মপদ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়, তাই বলা হয় 'সাদ্দাকাহু' (সে তাকে সত্যয়ন করল)। |
| - নিশ্চয়ই 'আমানা' শব্দটি তিনটি অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, যথা: নিরাপত্তা (আমন), সত্যয়ন এবং আমানত। | পক্ষান্তরে 'সাদ্দাকা' শব্দটি নিরাপত্তা ও আমানতের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে না। |
| - নিশ্চয়ই 'ঈমান' শব্দটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। কারণ এর মূলে রয়েছে নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের অর্থ, যা কেবল অদৃশ্যের সংবাদের ক্ষেত্রেই হতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি বলে 'সূর্য উদিত হয়েছে', তাকে 'আমান্না লাহূ' বলা হয় না, বরং বলা হয় 'সাদ্দাকনাহু'। এই কারণেই কুরআন এবং অন্যান্য স্থানে 'আমানা লাহূ' শব্দটি কেবল অদৃশ্যের সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রেই এসেছে। | পক্ষান্তরে 'সত্যয়ন' শব্দটি দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য—উভয় প্রকার সংবাদ প্রদানকারীর ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং কেউ যদি বলে 'আকাশ আমাদের উপরে', তবে তাকে বলা হয়: 'তুমি সত্য বলেছ'। |
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
| الإيمان | التصديق |
| - إن لفظ الإيمان ضده الكفر، والكفر لا يختص بالتكذيب فقط بل هو أعم منه، إذ يمكن أن يكون مخالفة ومعاداة بلا تكذيب ومع ذلك يسمى كفرا كما لو قال شخص: أنا أعلم أنك صادق، ولكن لا أتبعك بل أعاديك وأبغضك وأخالفك، فهذا كفر أعظم | أما لفظ التصديق ضده التكذيب فقط. |
وبهذا يتبين عدم الترداف التام بين اللفظين، وأن الإيمان ليس التصديق فقط
(1) كما أن الكفر ليس التكذيب فقط.
ثانيا: من المعلوم أن كلام الله وشرعه إنما هو خبر وأمر.
فالخبر: يستوجب تصديق الخبر.
والأمر: يستوجب الانقياد له والاستسلام، وهو عمل في القلب، جماعه: الخضوع والانقياد للأمر، وإن لم يفعل المأمور به.
فإذا قوبل الخبر بالتصديق، والأمر بالانقياد، فقد حصل أصل الإيمان في القلب وهو "الطمأنينة والإقرار" فإن اشتقاقه من الأمن الذي هو القرار والطمأنينة، وذلك إنما يحصل إذا استقر في القلب التصديق والانقياد. فلو فُسِّر الإيمان بالتصديق فقط، كما قال أهل اللغة، فإن التصديق إنما يعرض للجزء الأول من الشرع فقط الذي هو الخبر، ولا يعرض للجزء الثاني وهو الأمر، لأن الأمر ليس فيه تصديق من حيث هو أمر.
ومن المعلوم أن إبليس لم يكفر بسبب عدم تصديقه، فإنه سمع أمر الله فلم يكذب رسولا، ولكن لم ينقد للأمر ولم يخضع له، واستكبر عن الطاعة فصار كافرا، قال تعالى: {إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ
--------------------------------------------
| ঈমান | তাসদীক (সত্যায়ন) |
| - নিশ্চয়ই ঈমান শব্দের বিপরীত হলো কুফর। আর কুফর কেবল 'তাকজীব' বা মিথ্যা সাব্যস্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তার চেয়েও ব্যাপক। কেননা কোনো মিথ্যা সাব্যস্ত করা ছাড়াই কেবল বিরোধিতা ও শত্রুতা পোষণ করার মাধ্যমেও কুফর হতে পারে। যেমন যদি কোনো ব্যক্তি বলে: "আমি জানি যে আপনি সত্যবাদী, কিন্তু আমি আপনার অনুসরণ করব না বরং আপনার সাথে শত্রুতা করব, আপনাকে ঘৃণা করব এবং আপনার বিরোধিতা করব", তবে এটি হবে চরম কুফর। | পক্ষান্তরে তাসদীক শব্দের বিপরীত হলো কেবল 'তাকজীব' বা মিথ্যা সাব্যস্ত করা। |
এর মাধ্যমেই এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শব্দ দুটির মধ্যে পূর্ণ সমার্থকতা নেই। আর ঈমান কেবল তাসদীক বা সত্যয়নই নয়
(১) যেমনটি কুফর কেবল তাকজীব বা মিথ্যা সাব্যস্ত করা নয়।
দ্বিতীয়ত: এটি সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহর কালাম এবং তাঁর শরিয়ত কেবল সংবাদ (খবর) এবং নির্দেশ (আমর)।
সুতরাং সংবাদ: সংবাদের সত্যায়ন (তাসদীক) দাবি করে।
আর নির্দেশ: তার প্রতি আনুগত্য (ইনকিয়াদ) এবং আত্মসমর্পণের দাবি করে। আর এটি হলো অন্তরের একটি আমল, যার সারকথা হলো: নির্দেশের সামনে বিনত হওয়া এবং আনুগত্য করা, যদিও নির্দেশিত কাজটি পালন করা না হয়।
অতএব যখন সংবাদকে তাসদীকের মাধ্যমে এবং নির্দেশকে আনুগত্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, তখনই অন্তরে ঈমানের মূল ভিত্তি অর্জিত হয়, আর তা হলো "প্রশান্তি ও স্বীকৃতি"। কেননা ঈমান শব্দটি 'আমন' (নিরাপত্তা) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো স্থিরতা ও প্রশান্তি। আর এটি তখনই অর্জিত হয় যখন অন্তরে তাসদীক (সত্যায়ন) এবং ইনকিয়াদ (আনুগত্য) স্থিরতা লাভ করে। সুতরাং যদি ঈমানকে কেবল 'তাসদীক' দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়, যেমনটি ভাষাবিদগণ করেছেন, তবে তাসদীক কেবল শরিয়তের প্রথম অংশ অর্থাৎ সংবাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, দ্বিতীয় অংশ অর্থাৎ নির্দেশের ক্ষেত্রে নয়। কারণ নির্দেশ তার স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কোনো তাসদীক বা সত্যায়ন নয়।
এটিও সুবিদিত যে, ইবলিস তার তাসদীকের অভাবের কারণে কাফের হয়নি। সে আল্লাহর নির্দেশ শুনেছে এবং কোনো রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেনি; কিন্তু সে নির্দেশের প্রতি আনুগত্য করেনি এবং তার সামনে বিনত হয়নি। সে আনুগত্য থেকে অহংকার প্রদর্শন করেছে, ফলে সে কাফের হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {ইবলিস ব্যতীত, সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল এবং সে অন্তর্ভুক্ত ছিল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الْكَافِرِينَ} [البقرة]، فسماه الله كافرًا وسلب عنه وصف الإيمان لاستكباره وعدم انقياده لأمر الله له بالسجود لآدم.
لازم القول بأن الإيمان مجرد التصديق فقط:وهذا موضع زاغ فيه خلق من الخلف تخيل لهم أن الإيمان ليس في الأصل إلا التصديق، ثم يرون مثل إبليس وفرعون مما لم يصدر عنه تكذيب أو صدر عنه تكذيب باللسان لا بالقلب وكفره من أغلظ الكفر فيتحيرون.
ومثل هؤلاء القوم لو أنهم هُدوا لما هُدي إليه السلف الصالح لعلموا أن الإيمان قول وعمل؛ أعني: في الأصل قولًا في القلب، وعملًا في القلب، فإن الإيمان بحسب كلام الله ورسالته - وكلام الله ورسالته يتضمن أخباره وأوامره - فيصدِّق القلب أخباره تصديقًا يوجب حالًا في القلب بحسب المصدق به، والتصديق هو من نوع العلم والقول، وينقاد لأمره ويستسلم، وهذا الانقياد والاستسلام هو من نوع الإرادة والعمل، ولا يكون مؤمنًا إلا بمجموع الأمرين، فمتى ترك الانقياد كان مستكبرًا فصار من الكافرين وإن كان مصدِّقًا، لأن الكفر أعم من التكذيب، فالكفر يكون تكذيبًا وجهلًا، ويكون استكبارا وظلما، ولهذا لم يوصف إبليس إلا بالكفر والاستكبار دون التكذيب، ولهذا كان كفر من يعلم مثل اليهود ونحوهم من جنس كفر إبليس، وكان كفر من يجهل مثل النصارى ونحوهم ضلالا وهو "الجهل" ألا ترى أن نفرا من اليهود جاءوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم وسألوه عن أشياء، فأخبرهم، فقالوا: نشهد أنك نبي، ولم يتبعوه، وكذلك هرقل وغيره، فلم ينفعهم هذا العلم وهذا التصديق.
ألا ترى أن من صدَّق الرسول بأن ما جاء به هو رسالة الله، وقد تضمنت خبرًا وأمرا، فإنه يحتاج إلى مقام ثان، وهو تصديق خبر الله وانقياده لأمر الله، فإذا قال: "أشهد أن لا إله إلا الله" فهذه الشهادة
কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন} [বাকারা], ফলে আল্লাহ তাকে কাফের বলে অভিহিত করেছেন এবং তার থেকে ঈমানের বৈশিষ্ট্য ছিনিয়ে নিয়েছেন তার অহংকার এবং আদমকে সিজদাহ করার আল্লাহর নির্দেশের প্রতি তার আনুগত্যহীনতার কারণে।
ঈমান কেবলই অন্তরের বিশ্বাসের নাম—এই বক্তব্যের অনিবার্য পরিণতি:এটি এমন একটি স্থান যেখানে পরবর্তী প্রজন্মের অনেক লোক পথভ্রষ্ট হয়েছে। তারা কল্পনা করে নিয়েছে যে, ঈমান মূলত বিশ্বাস (তাসদিক) ছাড়া আর কিছুই নয়। অতঃপর তারা যখন ইবলিস ও ফেরাউনের মতো দৃষ্টান্তগুলো দেখে—যাদের থেকে (অন্তরে) কোনো মিথ্যা প্রতিপন্ন করার বিষয়টি প্রকাশ পায়নি, অথবা কেবল মুখে প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু অন্তরে নয়, অথচ তাদের কুফর ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ পর্যায়ের কুফর—তখন তারা বিভ্রান্তিতে পড়ে যায়।
এই লোকগুলো যদি সেই পথের দিশা পেত যেদিকে সালাফে সালেহীন দিশা পেয়েছিলেন, তবে তারা জানতে পারত যে ঈমান হলো কথা ও কাজ; অর্থাৎ: মূলত অন্তরের কথা এবং অন্তরের কাজ। কেননা আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রিসালত অনুযায়ী—আর আল্লাহর কালাম ও রিসালত তাঁর সংবাদ ও আদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে—অন্তর তাঁর সংবাদকে এমনভাবে বিশ্বাস করে যা বিশ্বাসকৃত বিষয় অনুযায়ী অন্তরে একটি বিশেষ অবস্থার সৃষ্টি করে। আর এই বিশ্বাস হলো জ্ঞান ও কথার অন্তর্ভুক্ত। আর সে আল্লাহর আদেশের অনুগত হয় এবং আত্মসমর্পণ করে। এই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ হলো ইচ্ছা ও আমলের অন্তর্ভুক্ত। আর এই দুইয়ের সমষ্টি ছাড়া কেউ মুমিন হতে পারে না। অতএব, যখনই কেউ আনুগত্য ত্যাগ করে, সে অহংকারী হয়ে যায় এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়, যদিও সে বিশ্বাসী হয়ে থাকে। কারণ কুফর হচ্ছে কেবল মিথ্যা প্রতিপন্ন করার চেয়েও ব্যাপকতর বিষয়। কুফর মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ও অজ্ঞতার কারণে হতে পারে, আবার অহংকার ও জুলুমের কারণেও হতে পারে। এই কারণেই ইবলিসকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার দায়ে নয়, বরং কুফর ও অহংকারের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে। আর এই কারণেই যারা সত্য জানে—যেমন ইহুদি ও তাদের ন্যায় অন্যরা—তাদের কুফর হলো ইবলিসের কুফরের ন্যায়। আর যারা অজ্ঞ—যেমন খ্রিষ্টান ও তাদের ন্যায় অন্যরা—তাদের কুফর হলো পথভ্রষ্টতা বা "অজ্ঞতা"। আপনি কি দেখেন না যে ইহুদিদের একটি দল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে কিছু বিষয় জিজ্ঞাসা করেছিল এবং তিনি তাদের উত্তর দিয়েছিলেন। তখন তারা বলেছিল: "আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি একজন নবী", কিন্তু তারা তাঁর অনুসরণ করেনি। একইভাবে হেরাক্লিয়াস এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফলে এই জ্ঞান এবং এই বিশ্বাস তাদের কোনো উপকারে আসেনি।
আপনি কি দেখেন না যে, যে ব্যক্তি রাসূলকে এই মর্মে বিশ্বাস করল যে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা আল্লাহর রিসালত, এবং তাতে সংবাদ ও আদেশ নিহিত রয়েছে, তবে তার জন্য দ্বিতীয় একটি স্তরের প্রয়োজন হয়; আর তা হলো আল্লাহর সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর আদেশের অনুগত হওয়া। সুতরাং যখন সে বলে: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই", তখন এই সাক্ষ্য—
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
تتضمن تصديق خبره والانقياد لأمره. "وأشهد أن محمدًا رسول الله" تضمنت تصديق الرسول فيما جاء به من عند الله.
فبمجموع هاتين الشهادتين يتم الإقرار.
فلما كان التصديق لا بد منه في كلا الشهادتين - وهو الذي يتلقى الرسالة بالقبول - ظن من ظن أنه أصل لجميع الإيمان وغفل عن أن الأصل الآخر لا بد منه وهو الانقياد، وإلا فقد يصدق الرسول، ظاهرا وباطنا ثم يمتنع من الانقياد للأمر، إذ غايته في تصديق الرسول أن يكون بمنزلة من سمع الرسالة من الله سبحانه كإبليس"
(1).
ثالثًا: ما استدل به أهل اللغة على أن معنى الإيمان في قوله تعالى {وَمَا أَنْتَ بِمُؤْمِنٍ لَنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ} [يوسف] هو التصديق غير مسلم.
إذ يرى علماء السلف أن تفسيرها بـ "أقررت" أقرب من تفسيرها بـ "صدقت" وذلك لأن لفظ "آمن" متى عُدّي باللام يكون بمعنى "أقر" وليس بمعنى "صدق"، إذ لا يكون بمعنى صدق إلا إذا عُدّي بالباء أو بنفسه.
ب - المعنى الشرعي للإيمان:تنوعت عبارات السلف في تعريف الإيمان:
أ - فتارة يقولون: الإيمان قول وعمل.
2 - وتارة يقولون: هو قول وعمل ونية.
3 - وتارة يقولون: هو قول وعمل ونية واتباع سُنَّة
(2).
--------------------------------------------
এর মধ্যে রয়েছে তাঁর সংবাদকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং তাঁর আদেশের আনুগত্য করা। "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল" - এই সাক্ষ্যটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করাকে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই দুটি সাক্ষ্যের সমষ্টির মাধ্যমেই স্বীকৃতি বা ইকরার পূর্ণ হয়।
যেহেতু উভয় সাক্ষ্যেই সত্য বলে বিশ্বাস করা (তাসদিক) অপরিহার্য - আর এটিই হচ্ছে বার্তার গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি - তাই কেউ কেউ মনে করেছেন যে এটিই ঈমানের একমাত্র মূল এবং তারা এই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন যে অন্য একটি মূল ভিত্তিও অপরিহার্য, আর তা হলো আনুগত্য (ইনকিয়াদ)। অন্যথায়, কেউ রাসূলকে প্রকাশ্য ও গোপনে সত্য বলে বিশ্বাস করতে পারে, কিন্তু তারপরও আদেশের আনুগত্য করা থেকে বিরত থাকতে পারে। কারণ রাসূলকে সত্য বলে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে তার চূড়ান্ত অবস্থা হবে কেবল সেই ব্যক্তির মতো যে সরাসরি আল্লাহর পক্ষ থেকে বার্তা শুনেছে, যেমন ইবলিস।
(১)তৃতীয়ত: ভাষাবিদগণ মহান আল্লাহর বাণী: {আর আপনি আমাদের বিশ্বাস করবেন না, যদিও আমরা সত্যবাদী হই} [সূরা ইউসুফ] - এর মাধ্যমে ঈমানের অর্থ যে 'সত্য বলে বিশ্বাস করা' (তাসদিক) বলে দলিল পেশ করেছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
কারণ সালাফী আলেমগণ মনে করেন যে, এর ব্যাখ্যা 'আমি স্বীকার করলাম' (আকরারতু) হওয়া 'আমি সত্য বলে মেনে নিলাম' (সাদ্দাকতু) হওয়ার চেয়ে অধিক নিকটতর। এর কারণ হলো, 'আমানা' শব্দটি যখন 'লাম' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয়, তখন তা 'স্বীকার করা' (ইকরার) অর্থে আসে, 'সত্য বলে বিশ্বাস করা' (তাসদিক) অর্থে নয়। কেননা এটি কেবল তখনই সত্য বলে বিশ্বাস করার অর্থ প্রদান করে যখন তা 'বা' অব্যয় যোগে অথবা সরাসরি কর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
খ - ঈমানের শরয়ি অর্থ:ঈমানের সংজ্ঞায় সালাফদের উক্তিসমূহ বৈচিত্র্যময়:
ক - কখনও তারা বলেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ।
২ - কখনও তারা বলেন: এটি হলো কথা, কাজ ও নিয়ত।
৩ - কখনও তারা বলেন: এটি হলো কথা, কাজ, নিয়ত এবং সুন্নাহর অনুসরণ।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4 - وتارة يقولون: الإيمان: قول اللسان، واعتقاد بالقلب، وعمل بالجوارح يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية
(1).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية
(2) بعد أن أورد التعريفات الثلاثة الأول: "وكل هذا صحيح"
(3) وعلل ذلك بقوله
(4):
"فمن قال: إن الإيمان قول وعمل، فمرداه قول اللسان والقلب، وعمل القلب والجوارح".
وقول اللسان وعمل الجوارح معروفان.
وأما المقصود من قول القلب: فهو إقراره ومعرفته وتصديقه.
وأما عمله: فهو انقياده لما صدق به.
ومن عبَّر عن الإيمان بهذا التعريف ليس مراده كل قول أو عمل، وإنما المراد ما كان مشروعًا من الأقوال والأعمال.
كما أن تعبير بعض السلف بهذه العبارة في تعريف الإيمان إنما جاء في معرض الرد على المرجئة
(5) الذين جعلوه قولًا فقط، فقال بعض
--------------------------------------------
৪ - আবার কখনো তারা বলেন: ঈমান হলো মুখের কথা, অন্তরের বিশ্বাস এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের মাধ্যমে হ্রাস পায়
(১)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
(২) প্রথম তিনটি সংজ্ঞা উল্লেখ করার পর বলেছেন: "আর এগুলোর সবই সঠিক"
(৩) এবং এর কারণ দর্শিয়ে তিনি বলেছেন
(৪):
"সুতরাং যে ব্যক্তি বলে: ঈমান হলো কথা ও কাজ, তার উদ্দেশ্য হলো মুখের ও অন্তরের কথা এবং অন্তরের ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ"।
আর মুখের কথা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ সুপরিচিত।
আর অন্তরের কথা বলতে যা উদ্দেশ্য, তা হলো এর স্বীকৃতি, পরিচিতি ও বিশ্বাস।
আর অন্তরের কাজ হলো: যা সে বিশ্বাস করেছে তার প্রতি অনুগত হওয়া।
আর যে ব্যক্তি ঈমানকে এই সংজ্ঞার মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, তার উদ্দেশ্য প্রতিটি কথা বা কাজ নয়, বরং এর দ্বারা কেবল শরীয়তসম্মত কথা ও কাজই উদ্দেশ্য।
তেমনিভাবে ঈমানের সংজ্ঞায় সালাফদের কারো কারো এই উক্তির ব্যবহার মূলত মুরজিয়াদের
(৫) খণ্ডন করার প্রেক্ষাপটে এসেছে, যারা ঈমানকে কেবল মৌখিক কথা হিসেবে গণ্য করেছিল। তাই কেউ কেউ বলেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
السلف ردا عليهم: بل قول وعمل
(1).
وأما من عرَّفه بقوله: هو قول وعمل ونية، فمقصوده بزيادة لفظ "ونية": أن القول يتناول الاعتقاد وقول اللسان.
وأما العمل فقد لا يفهم منه النية، فزاد ذلك
(2).
وأما من عرَّفه بأنه قول وعمل ونية واتباع سنة، فقد زاد لفظة: "واتباع سنة" لأن ذلك كله لا يكون محبوبا لله إلا باتباع السنة
(3).
قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "وقد سئل سهل بن عبد الله التستري
(4) عن الإيمان ما هو؟، فقال: قول وعمل ونية واتباع سنة".
--------------------------------------------
সালাফগণ তাদের উত্তরে বলেছেন: বরং তা (ঈমান) হলো কথা ও কাজ
(১).
আর যারা এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি হলো কথা, কাজ ও নিয়ত, তবে "নিয়ত" শব্দটি বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো—"কথা" শব্দটি বিশ্বাস এবং জিহ্বার কথা উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
পক্ষান্তরে "কাজ" শব্দ থেকে অনেক সময় "নিয়ত" বোঝা যায় না, তাই তিনি এটি যোগ করেছেন
(২)।
আর যারা এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে এটি কথা, কাজ, নিয়ত এবং সুন্নাহর অনুসরণ, তারা "সুন্নাহর অনুসরণ" কথাটি যোগ করেছেন কারণ এই সবকিছুর কোনোটিই আল্লাহর নিকট প্রিয় হবে না যতক্ষণ না তা সুন্নাহর অনুসরণ অনুযায়ী হয়
(৩)।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: "সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারিকে
(৪) ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তা কী? তিনি বললেন: কথা, কাজ, নিয়ত ও সুন্নাহর অনুসরণ"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
لأن الإيمان إذا كان قولا بلا عمل فهو كفر.
وإذا كان قولا وعملا بلا نية فهو نفاق.
وإذا كان قولا وعملا ونية بلا سنة فهو بدعة
(1).
وأجمع التعاريف الواردة وأشملها هو: أن الإيمان قول اللسان واعتقاد بالجنان وعمل الجوارح يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية.
وهذا التعريف هو الذي يميز قول السلف في مسمَّى الإيمان عن قول غيرهم من الفرق
(2) ولهذا كان هذا التعريف هو أجمع التعاريف الواردة عن السلف وأكثرها دقة في بيان قولهم.
--------------------------------------------
কারণ ঈমান যদি আমল ব্যতীত কেবল কথা হয়, তবে তা কুফর।
আর যদি তা নিয়ত ব্যতীত কথা ও আমল হয়, তবে তা নিফাক।
আর যদি তা সুন্নাহ ব্যতীত কথা, আমল ও নিয়ত হয়, তবে তা বিদআত
(১)।
আর বর্ণিত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংকলিত ও ব্যাপক হলো: ঈমান হচ্ছে মুখে বলা, অন্তরে বিশ্বাস করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে আমল করা; যা আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়।
আর এই সংজ্ঞাই ঈমান পরিভাষার ক্ষেত্রে সালাফদের অভিমতকে অন্যান্য দল-উপদলের অভিমত থেকে পৃথক করে
(২)। এ কারণেই এই সংজ্ঞাটি সালাফদের থেকে বর্ণিত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক সংকলিত এবং তাদের বক্তব্য বর্ণনায় সর্বাধিক নির্ভুল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ج - دلالة اسم الإيمان:تتحدد دلالة اسم "الإيمان" بحسب سياق الكلام الذي تستعمل فيه هذه اللفظة فلفظ "الإيمان" إما أن يستعمل:
1 - مطلقًا: أي يذكر مطلقًا عن لفظ "العمل" و"الإسلام".
2 - أو مقيدًا: فتارة يقرن بالعمل الصالح، وتارة يقرن بالإسلام.
فإذا استعمل مطلقًا: "فجميع ما يحبه الله ورسوله من أقوال العبد وأعماله الباطنة والظاهرة، يدخل في مسمى الإيمان عند عامة السلف والأئمة - من الصحابة والتابعين وتابعيهم - الذين يجعلون الإيمان قولا وعملا، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية، ويدخلون جميع الطاعات - فرضها ونفلها - في مسماه"
(1).
ويلاحظ هنا أن لفظ "الإيمان" على هذا الاستعمال يكون مرادفًا للفظ "العبادة" والعبادة كما هو معروف هي: اسم جامع لكل ما يحبه الله ويرضاه من الأعمال والأقوال الظاهرة والباطنة.
ومن استعمال الشارع للفظ الإيمان بهذا المعنى ما جاء في الصحيحين من حديث أبي هريرة
(2) رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الإيمان بضع وسبعون شعبة أو بضع وستون شعبة، فأفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان"
(3).
--------------------------------------------
গ - ঈমান শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য:"ঈমান" শব্দের অর্থ ও তাৎপর্য নির্ধারিত হয় সেই প্রসঙ্গের আলোকে যে প্রেক্ষাপটে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সুতরাং "ঈমান" শব্দটি হয় এভাবে ব্যবহৃত হয়:
১ - নিঃশর্তভাবে (মুতলাক): অর্থাৎ যখন "আমল" এবং "ইসলাম" শব্দ দুটি থেকে মুক্ত অবস্থায় স্বতন্ত্রভাবে এটি উল্লিখিত হয়।
২ - অথবা শর্তযুক্তভাবে (মুকাইয়্যাদ): কখনো এটি সৎকর্মের সাথে যুক্ত হয়ে আসে, আবার কখনো ইসলামের সাথে যুক্ত হয়ে আসে।
সুতরাং যখন এটি নিঃশর্তভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বান্দার যে সমস্ত অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কথা ও কাজ ভালোবাসেন, তার সবই ঈমান নামকরণের অন্তর্ভুক্ত হয় অধিকাংশ সালফে সালেহীন এবং ইমামগণের নিকট—যাঁরা সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবে-তাবিঈগণের অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা ঈমানকে কথা ও কাজ হিসেবে গণ্য করেন, যা আনুগত্যের দ্বারা বৃদ্ধি পায় এবং পাপের দ্বারা হ্রাস পায়। তাঁরা সমস্ত প্রকার আনুগত্যমূলক কাজকে—তা ফরজ হোক বা নফল—ঈমানের অন্তর্ভুক্ত করেন"
(১)।
এখানে লক্ষণীয় যে, এই ব্যবহার অনুযায়ী "ঈমান" শব্দটি "ইবাদত" শব্দের সমার্থক হয়ে থাকে। আর ইবাদত যেমনটি সুপরিচিত তা হলো: এমন একটি ব্যাপক নাম যা আল্লাহ ভালোবাসেন এবং পছন্দ করেন এমন সমস্ত প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজকে অন্তর্ভুক্ত করে।
শরীয়ত প্রণেতা কর্তৃক এই অর্থে ঈমান শব্দের ব্যবহারের একটি উদাহরণ হলো যা সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আবু হুরায়রা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা অথবা ষাটেরও বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই) বলা এবং এর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা"
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فالإيمان في هذا الحديث شمل جميع أمور الدين بما في ذلك أمور الإسلام. ومن هذا الاستعمال أيضا ما جاء في حديث عبد الله بن عباس
(1) رضي الله عنهما: أن وفد عبد القيس
(2) لما أتوا النبي صلى الله عليه وسلم أمرهم بأربع ونهاهم عن أربع: "أمرهم بالإيمان بالله وحده، قال: أتدرون ما الإيمان بالله وحده؟، قالوا: الله ورسوله أعلم. قال: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصيام رمضان، وأن تعطوا من المغنم خمس
… " الحديث
(3).
فلفظ الإيمان استعمل في الحديث مطلقًا فدخل فيه الأمور الظاهرة مع أنها من أمور الإسلام كما جاء في حديث جبريل المشهور.
وأما إذا استعمل اسم الإيمان مقيدا كما في قوله تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البقرة: 277]، وقوله {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} [يونس].
وقول النبي صلى الله عليه وسلم في حديث جبريل المشهور: "الإيمان أن تؤمن بالله
--------------------------------------------
সুতরাং এই হাদীসে ঈমান দ্বীনের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার মধ্যে ইসলামের বিষয়সমূহও রয়েছে। আর এই ব্যবহারের মধ্য থেকে সেটিও যা আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস
(১) রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: যখন আব্দুল কায়েস
(২) গোত্রের প্রতিনিধিদল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন, তিনি তাঁদেরকে চারটি বিষয়ের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করলেন: "তিনি তাঁদেরকে একক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: তোমরা কি জান একক আল্লাহর প্রতি ঈমান কী? তাঁরা বললেন: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেন: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের সিয়াম পালন করা এবং গনীমতের মালের এক-পঞ্চমাংশ প্রদান করা..." হাদীস
(৩)।
অতএব ঈমান শব্দটি এই হাদীসে সাধারণভাবে (মুতলাক) ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এর মধ্যে বাহ্যিক বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে যদিও সেগুলো ইসলামের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসে এসেছে।
আর যখন ঈমান শব্দটি শর্তযুক্তভাবে (মুকাইয়াদ) ব্যবহৃত হয় যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে} [আল-বাকারাহ: ২৭৭], এবং তাঁর বাণী {যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত} [ইউনুস]।
এবং জিবরীলের প্রসিদ্ধ হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "ঈমান হলো এই যে, তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وبالقدر خيره وشره"
(1).
فهنا قد يقال: إنه متناول لذلك، وإن عطف ذلك عليه من باب عطف الخاص على العام كقوله تعالى: {وَمَلائِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ} [البقرة: 98]، وقوله: {وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَإِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَم} الآية [الأحزاب: 7].
وقد يقال: إن دلالة الاسم تنوعت بالإفراد والاقتران كلفظ الفقير والمسكين، فإن أحدهما إذا أفرد تناول الآخر، وإذا جمع بينهما كانا صنفين: كما في آية الصدقة، ولا ريب أن فروع الإيمان مع أصوله كالمعطوفين، وهي مع جميعه كالبعض مع الكل
(2).
قلت: إن القول بأن عطف ذلك عليه من باب عطف الخاص على العام ينطبق على الآية وهي قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [فصلت: 8]، وقوله تعالى {الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} [يونس].
والقول بأن دلالة الاسم تنوعت بالإفراد والاقتران ينطبق على حديث جبريل حيث ذكر الإسلام والإيمان فأصبح كل واحد منهما يختص بأمور معينة فالإسلام اختص بالأمور الظاهرية، والإيمان اختص بالأمور الاعتقادية الباطنية.
"فلفظ الإسلام والإيمان إذا أُفرد كل واحد من الاسمين دخل في مسمى الآخر إما تضمنا وإما لزوما، ودخوله فيه تضمنا أظهر، وكون أحدهما لا يدخل في الآخر عند الاقتران لا يدل على أنه لا يدخل فيه عند انفراد الآخر، وهذه قاعدة جليلة من أحاط بها زالت عنه إشكالات
--------------------------------------------
এবং তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ, পরকাল এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের ওপর (ঈমান আনা)"
(১)।
এখানে বলা যেতে পারে যে, এটি (ঈমান শব্দ) তাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর এর ওপর সেটিকে সংশ্লিষ্ট করা (আতাফ করা) হচ্ছে সাধারণের ওপর বিশেষকে সংশ্লিষ্ট করার পর্যায়ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাঁর ফেরেশতাগণ ও তাঁর রাসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈল} [আল-বাকারাহ: ৯৮], এবং তাঁর বাণী: {আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের থেকে তাদের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার থেকে, আর নূহ, ইবরাহীম, মুসা ও মারইয়াম পুত্র ঈসা থেকে} আয়াত [আল-আহযাব: ৭]।
আবার এমনটিও বলা যেতে পারে যে, নামের অর্থগত তাৎপর্য এককভাবে ব্যবহৃত হওয়া এবং একত্রে ব্যবহৃত হওয়ার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হয়, যেমন ‘ফকির’ ও ‘মিসকিন’ শব্দ দুটি। এগুলোর কোনটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অন্যটিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। আর যখন তাদের একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন তারা দুটি ভিন্ন শ্রেণি হিসেবে গণ্য হয়; যেমনটি সদকার আয়াতে দেখা যায়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ঈমানের শাখাগুলো তার মূলনীতিগুলোর সাথে দু’টি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মতো, আর এই শাখাগুলো পূর্ণাঙ্গ ঈমানের সাথে এমন সম্পর্কের মতো যেমনটি সমগ্রের সাথে তার অংশের সম্পর্ক থাকে
(২)।
আমি বলব: সাধারণের ওপর বিশেষকে সংশ্লিষ্ট করার (আতাফ করার) কথাটি সেই আয়াতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে} [ফুসসিলাত: ৮], এবং মহান আল্লাহর বাণী: {যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত} [ইউনুস]।
আর নামের অর্থগত তাৎপর্য এককভাবে ও একত্রে আসার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কথাটি জিবরাঈলের হাদীসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ইসলাম ও ঈমানকে একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের সাথে বিশিষ্ট হয়ে গেছে; ইসলাম বাহ্যিক আমলগুলোর সাথে বিশিষ্ট হয়েছে এবং ঈমান অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসগত বিষয়গুলোর সাথে বিশিষ্ট হয়েছে।
"সুতরাং ইসলাম ও ঈমান শব্দ দুটির প্রত্যেকটি যখন এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অন্যটির অর্থের মধ্যে প্রবেশ করে—হয় অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে, অথবা অপরিহার্যভাবে। আর এর অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে প্রবেশ করার বিষয়টিই অধিক স্পষ্ট। আর একত্রে উল্লেখের সময় একটি অন্যটির অন্তর্ভুক্ত না হওয়া এই প্রমাণ বহন করে না যে, অন্যটির একক ব্যবহারের সময়ও তা তার অন্তর্ভুক্ত হবে না। এটি একটি মহান মূলনীতি; যে ব্যক্তি এটি হৃদয়ঙ্গম করবে, তার থেকে অনেক জটিলতা দূর হয়ে যাবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
كثيرة أشكلت على كثير من الناس"
(1).
خلاصة القول:إن اسم الإيمان إذا أُفرد: تناول جميع أمور الدين الظاهرة والباطنة كما في حديث الشعب.
وإذا اقترن اسم الإيمان مع الإسلام دل الإيمان على الأمور الباطنة ودل الإسلام على أمور الدين الظاهرة كما في حديث جبريل.
وإذا اقترن العمل مع الإيمان: فهو من باب عطف الخاص على العام
(2) كما في قوله تعالى {إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} [البروج: 11].
--------------------------------------------
অনেক, যা বহু মানুষের কাছে জটিল মনে হয়েছে"
(১)।
কথার সারসংক্ষেপ:নিশ্চয়ই যখন ঈমান শব্দটি একাকী ব্যবহৃত হয়, তখন তা দ্বীনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল বিষয়কে শামিল করে, যেমনটি ঈমানের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত হাদীসে এসেছে।
আর যখন ঈমান শব্দটি ইসলামের সাথে একত্রে উল্লিখিত হয়, তখন ঈমান দ্বারা অভ্যন্তরীণ বিষয়াদি এবং ইসলাম দ্বারা দ্বীনের প্রকাশ্য বিষয়াদি উদ্দেশ্য হয়, যেমনটি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর হাদীসে এসেছে।
আর যখন আমলকে ঈমানের সাথে যুক্ত করা হয়, তখন তা সাধারণ বিষয়ের ওপর বিশেষ বিষয়ের সংযোজন হিসেবে গণ্য হয়
(২) যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে} [আল-বুরুজ: ১১]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
হাসসুল আতবাআ আলা তাজরিদিল ইত্তিবা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المطلب الثاني: تعريف الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم" الإيمان بالرسول: هو تصديقه وطاعته واتباع شريعته"
(1).
وهذه الأمور هي الركائز التي يقوم عليها الإيمان بالنبي صلى الله عليه وسلم وعن بيان هذه الأمور مطلوبة عند الإيمان به بالنبي صلى الله عليه وسلم.
قال العلماء:
أ - أما تصديقه صلى الله عليه وسلم فيتعلق به أمران عظيمان:أحدهما: إثبات نبوته وصدقه فيما بلغه عن الله، وهذا مختص به صلى الله عليه وسلم
(2).
ويندرج تحت هذا الإثبات والتصديق عدة أمور منها:
1 - الإيمان بعموم رسالته إلى كافة الثقلين إنسهم وجنَّهم.
2 - الإيمان بكونه خاتم النبيين، ورسالته خاتمة الرسالات.
3 - الإيمان بكون رسالته ناسخة لما قبلها من الشرائع.
4 - الإيمان بأنه صلى الله عليه وسلم قد بلَّغ الرسالة وأكملها، وأدى الأمانة ونصح لأمته حتى تركهم على البيضاء ليلها كنهارها.
5 - الإيمان بعصمته صلى الله عليه وسلم.
6 - الإيمان بما له من حقوق خلاف ما تقدم ذكره؛ كمحبته
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমানের পরিচয়"রাসূলের প্রতি ঈমান হলো: তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর শরীয়তের অনুসরণ করা"
(১)。
এই বিষয়গুলোই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান প্রতিষ্ঠিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোর বর্ণনা আবশ্যক।
উলামায়ে কিরাম বলেছেন:
ক - তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য বলে বিশ্বাস করার ক্ষেত্রে দুটি মহান বিষয় সংশ্লিষ্ট:প্রথমটি: তাঁর নবুওয়ত সাব্যস্ত করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা পৌঁছে দিয়েছেন তাতে তাঁর সত্যবাদিতা স্বীকার করা; এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথেই নির্দিষ্ট
(২)。
এই সাব্যস্তকরণ ও সত্য বলে বিশ্বাস করার অধীনে কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - মানুষ এবং জিন—উভয় জাতির সকলের নিকট তাঁর রিসালাত সার্বজনীন হওয়ার প্রতি ঈমান রাখা।
২ - তিনি শেষ নবী এবং তাঁর রিসালাত সর্বশেষ রিসালাত হওয়ার প্রতি ঈমান রাখা।
৩ - তাঁর রিসালাত পূর্ববর্তী সকল শরীয়তকে রহিতকারী হওয়ার প্রতি ঈমান রাখা।
৪ - এই ঈমান রাখা যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং তা পূর্ণ করেছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং নিজ উম্মতকে নসিহত করেছেন, এমনকি তিনি তাদেরকে এক উজ্জ্বল ও পরিষ্কার দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন যার রাতও দিনের মতো স্পষ্ট।
৫ - তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়ার প্রতি ঈমান রাখা।
৬ - উপরে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও তাঁর আরও যেসব অধিকার রয়েছে সেগুলোর প্রতি ঈমান রাখা; যেমন তাঁকে ভালোবাসা।
--------------------------------------------