(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: -)
حقوق الإنسان في الإسلام لجمل الليل   (طاهر أحمد مولانا جمل الليل)

القسم: كتب عامة


الكتاب: حقوق الإنسان في الإسلام

المؤلف: طاهر أحمد مولانا جمل الليل

الناشر: *

الطبعة: *

عدد الصفحات: 62

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামে মানবাধিকার - জামাল আল-লাইল কর্তৃক   (তাহের আহমদ মাওলানা জামাল আল-লাইল)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: ইসলামে মানবাধিকার

লেখক: তাহের আহমদ মাওলানা জামাল আল-লাইল

প্রকাশক: *

সংস্করণ: *

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمات

‌‌الاستفتاح

…

بسم الله الرحمن الرحيم

استفتاح:

خلق الله الإنسان وكرمه بالعقل واللسان، وجعله خليفة في الأرض، وأسجد له ملائكته الكرام، ولعن الله إبليس الذي عصى أمر ربه ورفض السجود لهذا المخلوق الجديد "الإنسان".

{وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ} [البقرة: 30] .

مما يدل على تكريم المولى سبحانه لهذا الآدمي وعنايته به. ولما كان هذا هو حال الإنسان بالنسبة لربنا، فقد أوجب عليه واجبات وتكاليف: {إِنَّا عَرَضْنَا الْأَمَانَةَ عَلَى السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَالْجِبَالِ فَأَبَيْنَ أَنْ يَحْمِلْنَهَا وَأَشْفَقْنَ مِنْهَا وَحَمَلَهَا الْإِنْسَانُ إِنَّهُ كَانَ ظَلُومًا جَهُولًا} [الأحزاب: 72] .

وفي نفس الوقت أوجب له الخالق الرحيم حقوقا محفوظة تضمن للتكاليف أن تنفذ، وتضمن للخير أن يستقر في المجتمعات والنفوس، ولا يتحول البشر إلى وحوش متصارعة في غابة الدنيا.

وحقوق الإنسان نزلت بها الشرائع السماوية، وآخرها ومنتهاها كان مع الإسلام "الدين الخاتم"، ومنها ما كان من نتاج قرائح البشر الذين اجتهدوا بفضل من الله في هذا المجال، وأكثرها ذيوعا ميثاق حقوق الإنسان الصادر عن هيئة الأمم المتحدة، والذي تبنته الجمعية العامة لها في قرارها المرقم "217" في العاشر من ديسمبر سنة 1948م، وتلاه العديد من المواثيق والبيانات من منظمات وهيئات أخرى.
‌উপক্রমণিকা (مقدمات)

‌প্রারম্ভিকা (الاستفتاح)

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা:

আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে বুদ্ধি ও ভাষা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। তাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি (خليفة) হিসেবে নিযুক্ত করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত ফেরেশতাদের দিয়ে তাকে সিজদা করিয়েছেন। আর আল্লাহ ইবলিসকে অভিশপ্ত করেছেন, যে তার রবের আদেশ অমান্য করেছিল এবং এই নতুন সৃষ্টি "মানুষ"-কে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিল।

"আর স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বলেছিলেন, 'আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি (خليفة) সৃষ্টি করছি।' তারা বলেছিল, 'আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে ফাসাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার মহিমা কীর্তন করছি।' তিনি বললেন, 'নিশ্চয় আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না।'" [আল-বাকারা: ৩০] ।

এটি এই আদমসন্তানের প্রতি মহান রবের সম্মান প্রদর্শন এবং তাঁর বিশেষ মনোযোগের প্রমাণ দেয়। আর রবের নিকট মানুষের মর্যাদা যখন এমন, তখন তিনি তার ওপর কিছু আবশ্যিক দায়িত্ব ও শরয়ি বিধান (تكاليف) অর্পণ করেছেন: "নিশ্চয় আমি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী ও পর্বতমালাকে আমানত পেশ করেছিলাম, কিন্তু তারা তা বহন করতে অস্বীকার করল এবং এতে তারা ভীত হলো, আর মানুষ তা বহন করল। নিশ্চয় সে ছিল অত্যন্ত অন্যায়কারী ও মূর্খ।" [আল-আহজাব: ৭২] ।

একই সাথে দয়াময় স্রষ্টা মানুষের জন্য কিছু সংরক্ষিত অধিকারও নির্ধারণ করেছেন যা অর্পিত দায়িত্বসমূহ যথাযথভাবে পালনের নিশ্চয়তা দেয় এবং সমাজ ও ব্যক্তিসত্তায় কল্যাণ সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার গ্যারান্টি প্রদান করে, যাতে মানুষ এই দুনিয়ার অরণ্যে একে অপরের সঙ্গে লড়াইরত হিংস্র পশুতে পরিণত না হয়।

আসমানি শরিয়ত (الشرائع السماوية) সমূহে মানবাধিকারের বিধান নাজিল হয়েছে, যার সর্বশেষ ও চূড়ান্ত রূপ হলো ইসলাম— "সর্বশেষ ধর্ম (الدين الخاتم)"। এর মধ্যে কিছু মানবাধিকার এমন রয়েছে যা আল্লাহর অনুগ্রহে এই ক্ষেত্রে নিয়োজিত মানুষের মেধা ও গবেষণা (اجتهاد) প্রসূত। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত হলো জাতিসংঘ কর্তৃক ঘোষিত মানবাধিকার সনদ, যা ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর সাধারণ পরিষদে তার "২১৭" নম্বর সিদ্ধান্তে গৃহীত হয়েছিল। এরপর অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান থেকে আরও অনেক সনদ ও ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تمهيد ومقدمة:

1- الحق ضد الباطل، والحق أيضا واحد الحقوق -هكذا ورد في مختار الصحاح للشيخ الإمام محمد بن أبي بكر بن عبد القادر الرازي- وجاء أيضا "حاقَّه" خاصمه، وادعى كل واحد منهما الحق، فإذا غلبه قيل: "حقَّه" والتحاقّ: الاختصام1، مما يدل على ما للكلمة من دلالات أو معانٍ لغوية.

2- أما في مجال الاختصاص، فاستعمالاتها شتى:

استعملها رجال الفلسفة دالة على إحدى القيم العليا الثلاث:

الحق، والخير، والجمال.

واستعملها علماء الأخلاق فيما للإنسان على غيره، وهو ما يقابل الواجب؛ ولهذا قالوا: كل حق يقابله واجب.

واستعملها علماء القانون في معنى آخر، يشمل الحق العيني، والحق الشخصي، حتى إن دراسة القانون بكل فروعه لتسمى دراسة "الحقوق"2.

واستعمل القرآن الكريم كلمة الحق فيما يقابل الباطل والضلال، قال تعالى:

{فَمَاذَا بَعْدَ الْحَقِّ إِلَّا الضَّلَالُ} [يونس: 32] .

وكأننا مع كل معنى من معاني الكلمة المعجمية أمام دلالة للفظة يصعب تجاهلها؛ فمثلا فيها الثبوت والصدق؛ لأنها واجبة ومنطقية.

--------------------------------------------

1 ص147.

2 فمثلا يقول الدكتور سامي مدكور: الحق بمعناه العام هو الرخصة أو المكنة التي يقررها القانون لشخص معين بالنسبة لفعل معين، ويقابله الواجب "كتابه: نظرية الحق"، ص3. ويقسم الحقوق إلى حقوق دولية وحقوق سياسية أو دستورية وحقوق عامة "وقد سميت في القرن الثامن عشر بالحقوق الطبيعية أو حقوق الإنسان" وحقوق مدنية.
উপক্রমণিকা ও ভূমিকা:

১- সত্য (الحق) হলো মিথ্যা বা অসারের (الباطل) বিপরীত এবং 'হক' (الحق) শব্দটি অধিকার (الحقوق) শব্দের একবচন—শেখ ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে আবদুল কাদির আল-রাজি রচিত মুখতার আস-সিহাহ গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। সেখানে আরও এসেছে যে, "হাক্কাহু" (حاقَّه) অর্থ হলো সে তার সাথে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে এবং তাদের প্রত্যেকেই নিজের সত্যতা বা অধিকার (الحق) দাবি করেছে। যখন কেউ অপরজনের ওপর জয়লাভ করে, তখন বলা হয়: "হাক্কাহু" (حقَّه)। আর "আত-তাহাক্ক" (التحاقّ) অর্থ হলো বিবাদ বা বিতর্ক করা; যা শব্দটির আভিধানিক তাৎপর্য বা অর্থসমূহের প্রতি নির্দেশ করে।

২- তবে পারিভাষিক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার নানাবিধ:

দর্শনশাস্ত্রবিদগণ একে তিনটি সর্বোচ্চ মূল্যের একটি হিসেবে ব্যবহার করেছেন:

সত্য (الحق), কল্যাণ ও সৌন্দর্য।

নীতিবিজ্ঞানীরা একে অন্যের ওপর মানুষের প্রাপ্য অধিকার অর্থে ব্যবহার করেছেন, যা কর্তব্যের বিপরীত; এজন্যই তারা বলেন: প্রত্যেক অধিকারের (حق) বিপরীতে একটি কর্তব্য রয়েছে।

আইনবিদগণ একে অন্য অর্থে ব্যবহার করেছেন, যার মধ্যে বস্তুগত অধিকার ও ব্যক্তিগত অধিকার অন্তর্ভুক্ত; এমনকি আইনের সকল শাখা নিয়ে অধ্যায়নকে "অধিকার (الحقوق) সংক্রান্ত বিদ্যা" বলা হয়।

পবিত্র কুরআন 'হক' (الحق) শব্দটি মিথ্যা/অসার (الباطل) এবং ভ্রষ্টতার (الضلال) বিপরীতে ব্যবহার করেছে। মহান আল্লাহ বলেন:

{সত্যের (الحق) পর ভ্রষ্টতা (الضلال) ছাড়া আর কী থাকে?} [ইউনুস: ৩২]।

শব্দটির প্রতিটি অভিধানিক অর্থের পাশাপাশি আমরা এমন এক তাৎপর্যের সম্মুখীন হই যা উপেক্ষা করা কঠিন; উদাহরণস্বরূপ, এর মধ্যে স্থায়িত্ব (الثبوت) এবং সত্যতা (الصدق) বিদ্যমান; কারণ এটি অনিবার্য ও যৌক্তিক।

--------------------------------------------

১ পৃষ্ঠা ১৪৭।

২ উদাহরণস্বরূপ, ড. সামি মাদখুর বলেন: সাধারণ অর্থে অধিকার (الحق) হলো সেই অনুমতি বা সামর্থ্য যা আইন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট কাজের প্রেক্ষিতে প্রদান করে এবং এর বিপরীতে রয়েছে কর্তব্য (তার গ্রন্থ: অধিকার তত্ত্ব, পৃষ্ঠা ৩)। তিনি অধিকারসমূহকে আন্তর্জাতিক অধিকার, রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার, সাধারণ অধিকার (যা আঠারো শতকে প্রাকৃতিক অধিকার বা মানবাধিকার নামে অভিহিত হতো) এবং দেওয়ানি অধিকারে বিভক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৫)
وفي التنزيل الكريم: {لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ} [يس: 70] .

وفي المعجم العربي الأساس الذي أصدرته المنظمة العربية للثقافة والتربية والعلوم عن دار "لاروس": حق الأمر: صح، وحق عليه الأمر: وجبه "يحق على المظلوم أن يجاهد في وجه الظلم"1.

وأحق الله الحق: أظهره وأثبته: {لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ} [الأنفال: 8] .

فهل يوجد حقيقة بعد ذلك الحق؟

4- أما عند الفقهاء، فالحق هو الحكم الثابت شرعا عند بعض المتأخرين. والأستاذ الشيخ علي الخفيف يعرفه بأنه المصلحة المستحقة شرعا. ويعرفه الأستاذ مصطفى الزرقاء بأنه اختصاص يقرر به الشرع سلطة أو تكليفا2.

5- ما مصدر الحق في الشرع الإسلامي؟

منشأ الحق في الشريعة الإسلامية: هو إرادة الشرع، فالحقوق في الإسلام منحة من الخالق الذي يعرف بقدرته وحكمته مصلحة العباد، ومن ثَمَّ كانت قواعد الحقوق الإنسانية ومبادئها في الإسلام تقوم على مراعاة مصلحة الغير وعدم الإضرار بمصلحة الجماعة، للإضافة إلى كونها في حيز الفرد نفسه، فليس الحق مطلقا وإنما هو مقيد بما يفيد المجتمع ويمنع الضرر عن الآخرين3.

6- وتنقسم الحقوق إلى ثلاثة أقسام: فالقسم الأول هو حقوق الله، وهي الحقوق التي تتعلق بواجبات العبادة أو الصالح العام للأمة، ولا سيما الحدود التي شرعها الله، أما القسم الثاني وهو ما يسمونه: حقوق العباد، والثالث وهو

--------------------------------------------

1 المعجم العربي الأساسي.

2 من كتاب "الفقه الإسلامي وأدلته"، للدكتور وهبة الزحيلي.

3 وفي مثل هذا المعنى، يكون كلام الدكتور محمد ضياء الدين الريس في "النظريات السياسية في الإسلام"، ص306، مكتبة دار التراث، سنة 1979م.
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে: {যাতে তিনি সতর্ক করতে পারেন তাকে, যে জীবিত এবং যাতে কাফিরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য (حق) হিসেবে সাব্যস্ত হয়} [ইয়াসিন: ৭০]।

আরব শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান সংস্থা কর্তৃক "দার লারুস" থেকে প্রকাশিত "আল-মুজাম আল-আরাবি আল-আসাসি"-তে উল্লেখ আছে: কোনো বিষয় সত্য হওয়া (حق الأمر) মানে তা শুদ্ধ হওয়া; আর কারো ওপর কোনো বিষয় সত্য হওয়া (حق عليه الأمر) মানে তা তার জন্য আবশ্যক হওয়া। যেমন: "অত্যাচারিত ব্যক্তির জন্য জুলুমের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আবশ্যক (يحق) হয়ে পড়ে" ১।

আর আল্লাহ সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (أحق الله الحق): অর্থাৎ তিনি একে প্রকাশ ও সুদৃঢ় করেছেন। যেমন: {যাতে তিনি সত্যকে সত্য (يحق الحق) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং মিথ্যাকে বাতিল করে দেন, যদিও অপরাধীরা তা অপছন্দ করে} [আল-আনফাল: ৮]।

তবে কি সেই হকের পরে আর কোনো বাস্তবতা থাকতে পারে?

৪- পক্ষান্তরে ফকিহগণের (فقهاء) মতে, পরবর্তী যুগের কতিপয় আলিমের নিকট হক বা অধিকার হলো শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সুসাব্যস্ত বিধান (الحكم الثابت)। উস্তাদ শেখ আলী আল-খাফিফ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে—এটি হলো শরিয়তসম্মত প্রাপ্য জনকল্যাণ (المصلحة)। আর উস্তাদ মুস্তফা আজ-জারকা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে—এটি হলো এমন একটি বিশেষ অধিকার (اختصاص), যার মাধ্যমে শরিয়ত কোনো কর্তৃত্ব বা দায়িত্ব (تكليف) প্রদান করে ২।

৫- ইসলামি শরিয়তে হকের উৎস কী?

ইসলামি শরিয়তে হকের উৎপত্তি হলো: শরিয়তের অভিপ্রায়। ইসলামে অধিকারসমূহ হলো স্রষ্টার পক্ষ থেকে একটি অনুগ্রহ, যিনি তাঁর কুদরত ও হিকমত দিয়ে বান্দার কল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত। ফলশ্রুতিতে, ইসলামে মানবাধিকারের নিয়ম ও নীতিমালাগুলো অপরের কল্যাণের প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং সামষ্টিক স্বার্থের ক্ষতি না করার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া এটি ব্যক্তির নিজস্ব পরিধির সাথেও সংশ্লিষ্ট। সুতরাং হক বা অধিকার নিরঙ্কুশ নয়, বরং তা সমাজের উপকার সাধন এবং অন্যের ক্ষতি রোধ করার শর্তে সীমাবদ্ধ ৩।

৬- অধিকারসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগ হলো আল্লাহর অধিকার (حقوق الله), যা ইবাদতের বাধ্যবাধকতা বা উম্মাহর জনকল্যাণের সাথে সম্পৃক্ত; বিশেষ করে আল্লাহ কর্তৃক প্রবর্তিত দণ্ডবিধিগুলো (الحدود)। দ্বিতীয় ভাগ হলো যা তারা 'বান্দার অধিকার' (حقوق العباد) হিসেবে অভিহিত করেন এবং তৃতীয় ভাগটি হলো—

--------------------------------------------

১ আল-মুজাম আল-আরাবি আল-আসাসি।

২ ড. ওয়াহবা আজ-জুহাইলি রচিত "আল-ফিকহ আল-ইসলামি ওয়া আদিল্লাতুহু" গ্রন্থ থেকে।

৩ অনুরূপ অর্থে, ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন আর-রাইস এর "আন-নাজারিয়্যাত আস-সিয়াসিয়্যাহ ফিল ইসলাম", পৃষ্ঠা ৩০৬, মাকতাবাতু দারিত তুরাস, ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৬)
الحقوق المشتركة بين الله والعباد1.

7- أما صاحب "كفاية الأخيار" فيقسم الحقوق إلى ضربين: "حق الله، وحق الآدمي"2.

--------------------------------------------

1 المرجع السابق، ص306.

2 كفاية الأخيار في حل غاية الاختصار، للإمام تقي الدين أبي بكر بن محمد الحسيني الدمشقي الشافعي، الجزء الثاني، فصل: الحقوق ضربان. ويقول الشارح: المقصود من هذه الجملة بيان عدد الشهود وصفتهم في الذكورة والأنوثة، ص258 طبعة "دار إحياء التراث الإسلامي بدولة قطر".
আল্লাহ এবং বান্দাদের মধ্যকার যৌথ অধিকারসমূহ১।

৭- পক্ষান্তরে "কিফায়াতুল আখইয়ার" গ্রন্থের রচয়িতা অধিকারসমূহকে দুই প্রকারে ভাগ করেছেন: "আল্লাহর অধিকার এবং মানুষের অধিকার"২।

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৩০৬।

২ ইমাম তাকিউদ্দীন আবু বকর ইবন মুহাম্মদ আল-হুসাইনি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিঈ রচিত "কিফায়াতুল আখইয়ার ফি হাল্লি গায়াতিল ইখতিসার", দ্বিতীয় খণ্ড, পরিচ্ছেদ: অধিকার দুই প্রকার। এবং ব্যাখ্যাকার বলেন: এই বাক্যের উদ্দেশ্য হলো সাক্ষীদের সংখ্যা এবং পুরুষ ও নারী হিসেবে তাদের বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা প্রদান করা, পৃষ্ঠা ২৫৮, "দারু ইহয়ায়িত তুরাছিল ইসলামি, কাতার" সংস্করণ।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تطور فكرة حقوق الإنسان:

1- الحق الإنساني في حياة أفضل هدف بشري، وظل هذا المسعى الإنساني نحو إحقاق الحقوق أملا يراود بني البشر، خصوصا كلما عصفت بهم المحن، وازدادت الرغبة في ذلك أيضا مع توسع المجتمع وارتقاء الاجتماع البشري، وصيرورته أكثر تعقيدا، فكانت الحقوق الشخصية تطمسها مطالب الجماعة، وتحدّ منها مصلحة القبيلة.

ثم جاءت المدن بنظامها البديع، وتشابك المعيشة بها، فحطمت بأسلوب الحياة فيها كثيرا من فردية الإنسان وتفرده.

وكلما اتسعت المدينة وامتدت ذراعها صرخ الإنسان ينادي بحضوره باحثا عن نفسه، خصوصا بعد أن ترافق هذا وتعقد الاقتصاد، وشاع استغلال الإنسان للإنسان.

2- في الفكر الاجتماعي القديم لا يتعدى مفهوم الإنسان عند الفلاسفة اليونانيين دائرة معينة من البشر هم الأحرار والمقاتلون. ويخرج عن هذا المفهوم قطاعات واسعة من البشر تشمل العبيد والنساء والصناع.

نرى هذا عند أرسطو- مثلا- والذي كان يرى أن المرأة بالنسبة للرجل كالعبد لسيده، أو كنسبة العامل باليد للمفكر، أو البربري للإغريقي1.

أما أفلاطون فهو عندما يتحدث عن أفعال الإنسان يؤكد أن مراجعها ثلاثة: الشهوة والعاطفة والعقل، وهذه القوى الثلاث موجودة عند كل إنسان؛ فمن الناس من يكون شهوة متجسدة، ومنها تتكون العمال.

--------------------------------------------

1 قصة الفلسفة اليونانية، تصنيف أحمد أمين وزكي نجيب محمود، ص271.
মানবাধিকার ধারণার বিবর্তন:

১- উন্নততর জীবনের মানবাধিকার একটি মানবিক লক্ষ্য। অধিকার প্রতিষ্ঠার এই মানবিক প্রচেষ্টা মানুষের মাঝে একটি আশা হয়ে বিদ্যমান ছিল, বিশেষ করে যখনই তারা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছে। সমাজের বিস্তৃতি এবং মানবিক সংহতির উন্নতির সাথে সাথে এবং তা আরও জটিল হওয়ার ফলে এই আকাঙ্ক্ষাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন ব্যক্তিগত অধিকারসমূহ সামষ্টিক দাবির আড়ালে ঢাকা পড়ে যেত এবং গোত্রীয় স্বার্থের কারণে তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ত।

অতঃপর শহরগুলো তাদের চমৎকার ব্যবস্থা এবং জীবনযাত্রার নিবিড় বুনন নিয়ে আবির্ভূত হলো, যা তার জীবনশৈলীর মাধ্যমে মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও অনন্যতাকে অনেকাংশেই বিলুপ্ত করে দিল।

শহর যত বিস্তৃত হয়েছে এবং তার প্রভাব যত ছড়িয়েছে, মানুষ ততই নিজের অস্তিত্বের জানান দিয়ে নিজেকে অনুসন্ধান করতে সচেষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে যখন এর সাথে অর্থনৈতিক জটিলতা যুক্ত হয়েছে এবং মানুষের দ্বারা মানুষের শোষণ ব্যাপকতা লাভ করেছে।

২- প্রাচীন সামাজিক চিন্তাধারায় গ্রিক দার্শনিকদের নিকট 'মানুষ' ধারণাটি একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যারা ছিল স্বাধীন এবং যোদ্ধা। এই ধারণার বাইরে ছিল জনসমষ্টির এক বিশাল অংশ, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল দাস, নারী এবং কারিগর শ্রেণি।

উদাহরণস্বরূপ, আমরা অ্যারিস্টটলের ক্ষেত্রে এটি দেখতে পাই; তিনি মনে করতেন যে পুরুষের নিকট নারীর অবস্থান হচ্ছে মালিকের নিকট দাসের মতো, অথবা চিন্তাশীল ব্যক্তির নিকট কায়িক শ্রমিকের মতো, অথবা গ্রিকদের নিকট বর্বরদের মতো।১

অন্যদিকে প্লেটো যখন মানুষের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আলোচনা করেন, তখন তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে এর উৎস তিনটি: কামনা, আবেগ এবং বিবেক। এই তিনটি শক্তি প্রত্যেক মানুষের মাঝেই বিদ্যমান; তবে কিছু মানুষ কেবল কামনারই মূর্ত প্রতীক এবং তাদের দ্বারাই শ্রমিক শ্রেণি গঠিত হয়।

--------------------------------------------

১ গ্রিক দর্শনের ইতিহাস, আহমদ আমিন এবং জাকি নাজিব মাহমুদ কর্তৃক সংকলিত, পৃ. ২৭১।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৮)
ومن الناس من يضفي عليه جانب الشعور كالمحارب، ومنهم فريق ثالث قليل العدد يستمتع بالتفكير فقط وهم رجال الحكمة1.

3- ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم توَّج حياته -بعد بضعة قرون من حضارة اليونان- بخطبة ضمنها مبادئ راقية، ما زالت تعد هدفا للبشرية ترنو للوصول إليه.

يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أيها الناس، إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم إلى أن تلقوا ربكم كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا 2 ، في بلدكم 3 هذا، ألا هل بلغت، اللهم فاشهد".

"أيها الناس، إن ربكم واحد، وإن أباكم واحد، كلكم لآدم، وآدم من تراب، إن أكرمكم عند الله أتقاكم، ليس لعربي فضل على عجمي إلا بالتقوى" 4.

4- ويتواصل التفكير الإسلامي في حقوق الإنسان بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فالمرجعية القرآنية، وسنته الشريفة ظلتا ملهمتين للأجيال المسلمة التالية في هذا المجال. فوجدت صياغة الحقوق مع مطلع القرن الهجري الجديد "الجاري" من المجلس الإسلامي الدولي بيانا عالميا بإقرار حقوق للإنسان مستمد من القرآن والسنة5.

ولقد تضمن البيان ثلاثة وعشرين حقا من الحقوق التي كفلها الإسلام، وهي: حق الحياة، والحرية والمساواة، والعدالة، والمحاكمة العادلة، والحماية من تعسف السلطة، والحماية من التعذيب، وحماية العِرْض والسمعة، واللجوء والأقليات، والمشاركة في الحياة العامة، وحرية التفكير والاعتقاد والتعبير، والحرية الدينية والدعوة والبلاغ، والحقوق الاقتصادية، وحماية الملكية، وحق

--------------------------------------------

1 المرجع السابق.

2 كان صلى الله عليه وسلم في موسم الحج.

3 يقصد مكة.

4 صحيح البخاري، ج5، ويلاحظ اختفاء لغة التمييز بين البشر، والتي كانت ترتب الحقوق على أساسها.

5 صدر البيان عن منظمة اليونسكو بباريس، بمساهمة نخبة من مفكري المسلمين.
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ যোদ্ধার মতো আবেগপ্রবণ দিকটিকে প্রাধান্য দেয়, আবার তাদের মধ্যে অল্প সংখ্যক তৃতীয় একটি দল রয়েছে যারা কেবল চিন্তাভাবনা উপভোগ করেন এবং তাঁরাই হলেন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিবর্গ।১

৩- কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—গ্রীক সভ্যতার কয়েক শতাব্দী পর—এমন একটি ভাষণের মাধ্যমে তাঁর জীবনকে মহিমান্বিত করেছিলেন যাতে কিছু উন্নত নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা আজও মানবজাতির জন্য একটি লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যা অর্জনে মানুষ উন্মুখ হয়ে থাকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন: "হে লোকসকল, নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয়, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে; ঠিক যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর। শোনো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন।"

"হে লোকসকল, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। তোমরা সবাই আদমের সন্তান, আর আদম মাটি থেকে সৃষ্ট। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী। তাকওয়া ব্যতীত কোনো অনারবের ওপর কোনো আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই।" ৪

৪- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পরও মানবাধিকার বিষয়ে ইসলামী চিন্তাধারা অব্যাহত থাকে; কারণ কুরআনের প্রামাণিকতা এবং তাঁর সুন্নাহ এই ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের মুসলিমদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বহাল ছিল। ফলশ্রুতিতে, "বর্তমান" হিজরি শতাব্দীর সূচনালগ্নে আন্তর্জাতিক ইসলামী কাউন্সিল থেকে কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে মানবাধিকারের একটি বৈশ্বিক ঘোষণা প্রণীত হয়।৫

এই ঘোষণাপত্রটিতে ইসলাম কর্তৃক নিশ্চিতকৃত তেইশটি অধিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলো হলো: জীবনের অধিকার, স্বাধীনতা ও সাম্য, ন্যায়বিচার, সুষ্ঠু বিচার লাভের অধিকার, ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে সুরক্ষা, নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, সম্মান ও মর্যাদার সুরক্ষা, আশ্রয় গ্রহণ ও সংখ্যালঘুদের অধিকার, জনজীবনে অংশগ্রহণ, চিন্তা, বিশ্বাস ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দাওয়াত ও প্রচারের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার, মালিকানার সুরক্ষা এবং অধিকার...

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস।

২. তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজের মৌসুমে ছিলেন।

৩. এর দ্বারা মক্কা উদ্দেশ্য।

৪. সহীহ বুখারী, ৫ম খণ্ড; লক্ষ্যণীয় যে, এখানে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদের সেই ভাষা বিলুপ্ত হয়েছে যার ভিত্তিতে ইতিপূর্বে অধিকারসমূহ নির্ধারিত হতো।

৫. এই ঘোষণাটি মুসলিম চিন্তাবিদদের একটি বিশিষ্ট দলের অংশগ্রহণে প্যারিসে ইউনেস্কো থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৯)
ومن الناس من يضفي عليه جانب الشعور كالمحارب، ومنهم فريق ثالث قليل العدد يستمتع بالتفكير فقط وهم رجال الحكمة1.

3- ولكن رسول الله صلى الله عليه وسلم: توج حياته- بعد بضعة قرون من حضارة اليونان بخطبة ضمنها مباديء راقية، ما زالت تعد هدفا للبشرية ترنو للوصول إليه.

يقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أيها الناس إن دماءكم وأموالكم حرام عليكم إلى أن تلقوا ربكم كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا2 في بلدكم هذا، ألا هل بلغت اللهم فاشهد".

"أيها الناس، إن ربكم واحد وإن أباكم واحد، كلكم لآدم وآدم من تراب، إن أكرمكم عند الله أتقاكم، ليس لعربي فضل على عجمي إلا بالتقوى"4.

4- ويتواصل التفكير الإسلامي في حقوق الإنسان، بعد وفاة رسول الله صلى الله عليه وسلم فالمرجعية القرآنية، وسنته الشريفة ظلتا ملهمتين للأجيال المسلمة التالية في هذا المجال. فوجدت صياغة للحقوق مع مطلع القرن الهجرية الجديد "الجاري" من المجلس الإسلامي الدولي بيانا عالميا بإقرار حقوق للإنسان مستمد من القرآن والسنة5.

ولقد تضمن البيان ثلاثة وعشرين حقا من الحقوق التي كفل الإسلام وهي: حق الحياة، والحرية، والمساواة، والعدالة، والمحاكمة العادلة والحماية من تعسف السلطة، والحماية من التعذيب، وحماية العرض والسمعة، واللجوء والأقليات، والمشاركة في الحياة العامة، وحرية التفكير والتفكير والتعبير، والحرية الدينية والدعوة والبلاغ، والحقوق الاقتصادية وحماية الملكية، وحق

--------------------------------------------

1 المرجع السابق.

2 كان صلى الله عليه وسلم في موسم الحج.

3 يقصد مكة.

4 صحيح البخاري، ج5 ويلاحظ اختفاء لغة التمييز بين البشر، والتي كانت ترتب الحقوق على أساسها.

5- صدر البيان عن منظمة اليونسكو بباريس بمساهمة نخبة من مفكري المسلمين.
মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আছেন যারা যোদ্ধাদের মতো অনুভূতির দিকটিকে প্রাধান্য দেন, আবার তাদের মধ্যে তৃতীয় একটি ক্ষুদ্র দল আছেন যারা কেবল চিন্তাশীলতা উপভোগ করেন; তাঁরাই হলেন প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি১।

৩- কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সা.) গ্রিক সভ্যতার কয়েক শতাব্দী পরে তাঁর জীবনকে এমন এক খুতবা বা ভাষণের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেন, যাতে অত্যন্ত উন্নত কিছু নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত ছিল যা আজও মানবতার জন্য এক পরম লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত এবং যা অর্জনে তারা মুখিয়ে থাকে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "হে লোকসকল! তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় (حرام), যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে; ঠিক যেমন পবিত্র ও অলঙ্ঘনীয় (حرام) তোমাদের আজকের এই দিন, তোমাদের এই মাস২ এবং তোমাদের এই শহর৩। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন।"

"হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদের রব একজন এবং তোমাদের পিতাও একজন। তোমরা সবাই আদমের সন্তান আর আদম মাটি থেকে সৃষ্টি। আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু। কোনো আরবের ওপর কোনো অনারবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই তাকওয়া ব্যতীত"৪।

৪- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পরও মানবাধিকার বিষয়ে ইসলামি চিন্তাধারা অব্যাহত থাকে; কেননা এ ক্ষেত্রে কুরআনের নির্দেশিকা এবং তাঁর সুন্নাহ পরবর্তী মুসলিম প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিদ্যমান ছিল। ফলে চলমান নতুন হিজরি শতাব্দীর প্রারম্ভে আন্তর্জাতিক ইসলামি কাউন্সিল থেকে মানবাধিকারের একটি বৈশ্বিক ঘোষণাপত্র পাওয়া যায়, যা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে উদ্ভূত৫।

এই ঘোষণাপত্রে ইসলাম কর্তৃক নিশ্চিতকৃত তেইশটি অধিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেগুলো হলো: জীবনের অধিকার, স্বাধীনতা, সাম্য, ন্যায়বিচার, সুষ্ঠু বিচার লাভের অধিকার এবং কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারিতা থেকে সুরক্ষা, নির্যাতন থেকে সুরক্ষা, সম্মান ও সুখ্যাতি রক্ষা, আশ্রয় এবং সংখ্যালঘু অধিকার, জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দাওয়াত ও প্রচারের অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার এবং মালিকানা রক্ষা এবং... অধিকার

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস।

২. রাসূলুল্লাহ (সা.) তখন হজের মৌসুমে ছিলেন।

৩. মক্কা উদ্দেশ্য।

৪. সহিহ বুখারি, ৫ম খণ্ড। এখানে লক্ষণীয় যে, মানুষের মধ্যে বৈষম্যমূলক ভাষার বিলুপ্তি ঘটেছে, যার ওপর ভিত্তি করে পূর্বে অধিকারগুলো নির্ধারিত হতো।

৫- এই ঘোষণাটি প্যারিসের ইউনেস্কো থেকে একদল বিশিষ্ট মুসলিম চিন্তাবিদদের অংশগ্রহণে প্রকাশিত হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১০)
العامل وواجبه، وكفاية الفرد من مقومات الحياة، وبناء الأسرة، وحقوق الزوجة والتربية، وخصوصيات الفرد وحمايتها، وحرية الارتحال والإقامة1.

5- وهكذا نجد الخطوط العريضة للبيان عن الحقوق الإنسانية كما يلي:

- دار الإسلام واحدة، وهي وطن كل مسلم.

- الناس جميعا سواسية أمام الشريعة.

- ليس لأحد أن يلزم مسلما بأن ينفذ أمرا مخالفا للشريعة.

- الأوضاع الدينية للأقليات يحكمها المبدأ القرآني: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} .

- لا يجوز انتزاع ملكية نشأت عن كسب حلال إلا للمصلحة العامة.

- لا يجبر الفتى، أو الفتاة على الزواج ممن لا يرغب فيها.

- للزوجة أن تطلب الطلاق في حدود الشرع.

- سرائر البشر إلى خالقهم وحده، وخصوصياتهم حمى.

6- وفي قرن متأخر -أي منذ القرن السادس عشر- انتبهت أوروبا إلى البحث في القانون الدولي، الذي أصبح فيما بعد هو الإطار الذي ظهرت وتمت بداخله فكرة حقوق الإنسان، إلى أن أصبحت اتفاقية أوروبية تعرف باسم اتفاقية روما "صدرت سنة 1950م، ثم انتهت إلى إصدار ما يعرف باسم مواثيق حقوق الإنسان سنة 1968م".

7- فـ"الماجنا كارتا" الذي رفعه الملك جان في بريطانيا عام 1215م لم يكن إلا نتيجة ما قام به الإقطاعيون من تذمر.

فكانت "الماجنا كارتا" كعهد أو ميثاق بين الملك والأمراء ينظم العلاقات

--------------------------------------------

1 ويقول الأستاذ سالم عزام، أمين عام المجلس في مقدمة الوثيقة: "حقوق الإنسان في الإسلام ليست منحة من ملك أو حاكم، وليست قرارا صادرا من سلطة محلية أو منظمة دولية، وإنما هي حقوق ملزمة بحكم مصدرها الإلهي، لا تقبل الحذف ولا النسخ ولا التعطيل".
শ্রমিক এবং তার কর্তব্য, জীবনের মৌলিক উপকরণসমূহে ব্যক্তির স্বয়ংসম্পূর্ণতা, পরিবার গঠন, স্ত্রীর অধিকার ও লালন-পালন, ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তার সুরক্ষা এবং দেশান্তর ও বসবাসের স্বাধীনতা।১

৫- এভাবে আমরা মানবাধিকারের রূপরেখাগুলো নিম্নোক্তভাবে পাই:

- দারুল ইসলাম (دار الإسلام) এক ও অভিন্ন, যা প্রত্যেক মুসলিমের স্বদেশ।

- শরীয়তের (الشريعة) সামনে সকল মানুষ সমান।

- শরীয়তের (الشريعة) পরিপন্থী কোনো আদেশ পালন করতে কোনো মুসলিমকে বাধ্য করার অধিকার কারো নেই।

- সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় বিষয়াদি কুরআনের এই মূলনীতি দ্বারা পরিচালিত হয়: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই}।

- জনস্বার্থ ব্যতিরেকে হালাল (حلال) উপার্জনের মাধ্যমে অর্জিত কোনো মালিকানা কেড়ে নেওয়া বৈধ (يجوز) নয়।

- কোনো যুবক বা যুবতীকে তার অপছন্দের কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে বাধ্য করা যাবে না।

- শরীয়তের (الشرع) সীমানার মধ্যে থেকে স্ত্রীর তালাক (الطلاق) চাওয়ার অধিকার রয়েছে।

- মানুষের অন্তরের বিষয়সমূহ কেবল তাদের স্রষ্টার নিকট সমর্পিত এবং তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংরক্ষিত।

৬- পরবর্তী শতাব্দীতে—অর্থাৎ ষোড়শ শতাব্দী থেকে—ইউরোপ আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে গবেষণার দিকে মনোনিবেশ করে, যা পরবর্তীতে এমন এক কাঠামোতে রূপান্তরিত হয় যেখানে মানবাধিকারের ধারণাটি বিকশিত ও পূর্ণতা লাভ করে। শেষ পর্যন্ত এটি ১৯৫০ সালে একটি ইউরোপীয় চুক্তি হিসেবে 'রোম কনভেনশন' নামে পরিচিত হয় এবং ১৯৬৮ সালে যা 'মানবাধিকার সনদ' হিসেবে পরিচিত তা জারির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

৭- ১২১৫ সালে ব্রিটেনের রাজা জন কর্তৃক উপস্থাপিত "ম্যাগনা কার্টা" সামন্তপ্রভুদের অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

ফলে "ম্যাগনা কার্টা" রাজা ও আমীরদের মধ্যে একটি চুক্তি বা সনদ হিসেবে কাজ করেছিল যা পারস্পরিক সম্পর্কসমূহ নিয়ন্ত্রণ করত।

--------------------------------------------

১ পরিষদের মহাসচিব প্রফেসর সালেম আজম দলিলের ভূমিকায় বলেন: "ইসলামে মানবাধিকার কোনো রাজা বা শাসকের পক্ষ থেকে দেওয়া কোনো অনুদান নয়, কিংবা এটি কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে জারিকৃত কোনো সিদ্ধান্তও নয়; বরং এগুলো এর খোদায়ী উৎসের কারণে বাধ্যতামূলক অধিকার, যা কোনো প্রকার বিয়োজন (حذف), রহিতকরণ (النسخ) কিংবা স্থগিতকরণ (التعطيل) গ্রহণ করে না।"
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১১)
بينهم، ولكن جاءت موادّه متقدمة في صالح الأمراء بقدر أكبر، بينما لم تشتمل على ما يشير إلى حقوق عامة الشعب، رغم ما لُوحظ في وقت لاحق فيها من حقوق في التحقيق في القضاء، كحق التظلم من الحبس، والتحكم في فرض الضرائب.

8- ثم يأتي بعد ذلك ميثاق "توم بين" "1737-1809م" الخاص بحقوق الإنسان، فيثير في عقول الناس الإحساس بهذه الفكرة العظيمة خصوصا حول عام 1891م.

ثم جاء إعلان حقوق الإنسان الذي ظهر إبان الثورة الفرنسية 1789م ليكون من أهم منجزاتها، إذ كان ثمرة من ثمار الفلسفات الاجتماعية التي سادت القرن الثامن عشر، خصوصا من أفكار جان جاك روسو صاحب "العقد الاجتماعي" ومونتسكيو وديدرو. وقد تضمن هذا العهد الجديد النابع من باريس الحقوق الفطرية فيما يختص بحكم الشعب والحرية والإخاء والمساواة والملكية، كما شمل حقوق التصويت والانتخاب والتشريع، وتحكم الرأي العام ورقابته على فرض الضرائب، والتحقيق القضائي في الجرائم، وإعمال آلية العدالة.

وقد سعى لتضمين هذه الحقوق في الدستور؛ لتصبح أكثر إلزاما وعملية.

9- ثم ينتقل التفكير في حقوق الإنسان إلى العالم الجديد، فتظهر الإصلاحات العشرة في الولايات المتحدة الأمريكية، وقد احتوت على معظم المبادئ التي تضمنتها الفلسفة الديمقراطية البريطانية.

وتوسع التفكير الإنساني في الحقوق تلك لتتبناه المنظمة الدولية، فتوافق سنة 1948م في ديسمبر على قرار بمنع قتل الإنسان أو فعل ما من شأنه التأثير على حياته ووجوده البشري.

ويبقى من هذا الميثاق التاريخي "الإعلان العالمي" أهدافه التي تؤكد تساوي البشر رجالا ونساء في العزة والكرامة والأهمية والحقوق الإنسانية الأساسية.

وتؤكد المادة "55" من هذا الإعلان على أن الأمم المتحدة سوف تزيد من حمايتها، واحترامها العالمي لحقوق الإنسان وحرياته.
তাদের মধ্যে, তবে এর ধারাগুলো শাসকদের স্বার্থে অনেক বেশি অগ্রগামী ছিল; অন্যদিকে সাধারণ জনগণের অধিকারের প্রতি নির্দেশ করে এমন কিছু এতে ছিল না। যদিও পরবর্তী সময়ে এতে বিচারিক তদন্তের ক্ষেত্রে কিছু অধিকার পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমন—কারাবাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার অধিকার এবং কর আরোপের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা।

8- এরপর মানবাধিকার বিষয়ক "টমাস পেইন" (১৭৩৭-১৮০৯ খ্রি.) এর সনদটি আসে, যা মানুষের মনে এই মহান চিন্তাধারার প্রতি বোধ জাগ্রত করে, বিশেষ করে ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের (সম্ভবত ১৭৯১ খ্রি.) দিকে।

অতঃপর ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯ খ্রি.) প্রাক্কালে ঘোষিত 'মানবাধিকার ঘোষণা' এই বিপ্লবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে আবির্ভূত হয়। এটি ছিল আঠারো শতকের প্রচলিত সামাজিক দর্শনসমূহের ফসল, বিশেষ করে 'সামাজিক চুক্তি' (দি সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট) গ্রন্থের প্রণেতা জঁ-জাক রুসো, মন্টেস্কু ও দিদরো-র চিন্তাধারার বহিঃপ্রকাশ। প্যারিস থেকে উৎসারিত এই নতুন অঙ্গীকারনামায় জনগণের শাসন, স্বাধীনতা, ভ্রাতৃত্ব, সাম্য ও মালিকানা সংক্রান্ত সহজাত অধিকারসমূহ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া এতে ভোটাধিকার, নির্বাচন, আইন প্রণয়ন, কর আরোপের ক্ষেত্রে জনমতের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি, অপরাধের বিচারিক তদন্ত এবং ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর করার বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এই অধিকারগুলোকে সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়াস চালানো হয়েছিল যাতে সেগুলো আরও বেশি বাধ্যতামূলক ও প্রায়োগিক রূপ লাভ করে।

9- এরপর মানবাধিকার বিষয়ক চিন্তাধারা নতুন বিশ্বে প্রসারিত হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দশটি সংস্কার বা সংশোধনী প্রকাশিত হয়, যাতে ব্রিটিশ গণতান্ত্রিক দর্শনের অধিকাংশ মূলনীতি স্থান পেয়েছিল।

অধিকার সংক্রান্ত এই মানবিক চিন্তাধারা আরও বিস্তৃতি লাভ করে আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে গৃহীত হয়। ফলে ১৯৪৮ সালের ডিসেম্বর মাসে মানুষের হত্যা প্রতিরোধ এবং মানুষের জীবন ও অস্তিত্বের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এই ঐতিহাসিক সনদ তথা 'সর্বজনীন ঘোষণা'র মূল লক্ষ্যগুলো আজও অম্লান, যা নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের মর্যাদা, সম্মান, গুরুত্ব এবং মৌলিক মানবাধিকারের সমতাকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।

এই ঘোষণার '৫৫' নম্বর অনুচ্ছেদে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যে, জাতিসংঘ মানবাধিকার ও স্বাধীনতার সুরক্ষা এবং এর প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধিতে নিরন্তর কাজ করে যাবে।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১২)
ويتضح من هذا العرض السريع أن حقوق الإنسان في الغرب لا تاريخ لها، ولا وجود لها قبل قرنين أو ثلاثة، كما أنها بالرغم من كثرة ترديدها ليس لها قوة تنفيذية1.

وعلى سبيل المثال؛ ظلت الحقوق الاقتصادية للإنسان مجهولة لدى العالم الأوروبي، ولم يعرفها إلا حديثا، إذ إن المطالبة بها والاعتراف لم يبدأ إلا مع الحركات الاشتراكية الحديثة في أوروبا، منذ القرن التاسع عشر، حيث ارتبطت دائما حقوق الإنسان في أوروبا وغيرها بالحقوق السياسية والحريات العامة، ولم تظهر هذه منذ أربعة عقود عند صدور الإعلان العالمي الذي تضمن بعض المواد الخاصة بها.

أما الاعتراف بهذه الحقوق فلم يتم إلا سنة 1966م عند صدور الميثاق الدولي للحقوق الاقتصادية والاجتماعية، وأما قبل هذا فلم تكن هذه الحقوق معترفا بها إطلاقا، حتى في البيان الذي أصدرته الثورة الفرنسية سنة 1789م، إذ لم يتضمن مع تقدمه مادة واحدة تتعلق بالحقوق الاقتصادية2.

--------------------------------------------

1 الحكومة الإسلامية، أبو الأعلى المودودي، الدار السعودية.

2 الثورة الفرنسية، حسن جلال، لجنة التأليف والترجمة والنشر، القاهرة، سنة 1927م.
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, পাশ্চাত্যে মানবাধিকারের কোনো ইতিহাস নেই এবং দুই বা তিন শতাব্দী পূর্ব পর্যন্ত এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না। অধিকন্তু, এগুলো বারবার উচ্চারিত হওয়া সত্ত্বেও এর কোনো নির্বাহী শক্তি নেই।১

উদাহরণস্বরূপ; মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার ইউরোপীয় বিশ্বের নিকট অজ্ঞাত ছিল এবং তারা অতি সম্প্রতি এ সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কেননা, উনিশ শতক থেকে ইউরোপে আধুনিক সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটার পরেই মূলত এই অধিকারের দাবি এবং স্বীকৃতি শুরু হয়। ইউরোপ ও অন্যান্য স্থানে মানবাধিকার সর্বদা রাজনৈতিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার সাথে যুক্ত ছিল। চার দশক পূর্বে 'মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র' প্রকাশের সময় তাতে সংশ্লিষ্ট কিছু ধারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই এগুলো প্রকাশ্যে আসে।

আর এই অধিকারগুলোর স্বীকৃতি ১৯৬৬ সালে 'অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি' প্রকাশের মাধ্যমেই কেবল সম্পন্ন হয়েছে। এর পূর্বে এই অধিকারগুলো মোটেও স্বীকৃত ছিল না, এমনকি ১৭৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের সময় যে ঘোষণাপত্র জারি করা হয়েছিল, তাতেও অগ্রসরতা থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত একটি ধারাও বিদ্যমান ছিল না।২

--------------------------------------------

১ আল-হুকুমাতুল ইসলামিয়্যাহ, আবুল আলা মওদুদী, আদ-দারুস সাউদিয়্যাহ।

২ আস-সাওরাতুল ফরাসিয়্যাহ, হাসান জালাল, লাজনাতুত তালিফ ওয়াত তারজামা ওয়ান নাশর, কায়রো, ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المبادئ التي انبنت عليها حقوق الإنسان:

أرسل الله رسله، وحملهم -سبحانه- رسالته من أجل مصلحة الإنسان؛ ذلك لأن رحمة الخالق -جل وعلا- شاءت ألا تترك هذا المخلوق سادرا في غيه، فأبت عليه رأفة المولى إلا أن يكون إنسانا حقيقيا راقيا ليس كسائر المخلوقات الدنيا، بل ليرتقي في الخلق والقيم.

1- الكرامة الإنسانية: وهذه هي أولى المبادئ التي ينبني عليها حق الإنسان في الإسلام، حقه في الحياة الراقية البعيدة عن الحيوانية والتدني في الطبع والسلوك. فتغليظ العقوبة في الزنا -خاصة للمحصن- ليس قسوة من الرحمن الرحيم، بل زجرا للمرء من اقتراف تلك الأفعال المشينة التي تهبط بآدميته. ومن هنا كان السعي إلى تقنين هذه الممارسة "الجنس" بالصور المشروعة المنظمة فقط، فيقول تعالى: {وَلا يَقْتُلُونَ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَاّ بِالْحَقِّ وَلا يَزْنُونَ} [الفرقان: 68] .

ويقول عن المؤمنات: {يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَنْ لَا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ} [الممتحنة: 12] .

ويحذر: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا} [الإسراء: 32] .

2- حق الإنسان في التوبة، والتطهر من الدنس: هذا الحق الذي يُسْلَبُه الإنسان في الأنظمة التشريعية الأخرى. إذ جاء مجرم إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم يطلب إنزال عقوبة الرجم فيه، فصرف وجهه صلى الله عليه وسلم عنه لا يريد السماع منه؛ لأنه عمل جرى في السر ولم يخرق به النظام العام، ولا اعتدى فيه على الآداب العامة، وإن مثل ذلك متروك إلى المجرم نفسه ليستغفر الله فيما بينه وبين ربه. ولكن المجرم عاد مرة ثانية يجدد الاعتراف بالجريمة ويطلب إنزال العقوبة به؛ لتكون التوبة أدل
মানবাধিকার যে মূলনীতিসমূহের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি -সুবহানাহু ওয়া তাআলা- তাঁদের ওপর তাঁর রিসালাত বা বার্তা অর্পণ করেছেন। কেননা স্রষ্টার -জাল্লা ওয়া আলা- রহমত এটিই চেয়েছে যে, এই সৃষ্টিকে তার পথভ্রষ্টতার মাঝে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ফলে মাওলার অনুগ্রহ তাকে অপরাপর নিম্নস্তরের সৃষ্টির ন্যায় না রেখে একজন প্রকৃত ও উন্নত মানুষ হিসেবেই দেখতে চেয়েছে, বরং সে যেন চারিত্রিক গুণাবলি ও মূল্যবোধের দিক থেকে উন্নত হতে পারে।

1- মানবীয় মর্যাদা: এটি হলো ইসলামের মানবাধিকারের প্রথম মূলনীতি; তার সেই উন্নত জীবনের অধিকার যা পশুত্ব এবং স্বভাব ও আচরণের হীনতা থেকে মুক্ত। ব্যভিচারের (زنا) ক্ষেত্রে দণ্ডবিধি কঠোর করা -বিশেষ করে বিবাহিত (محصن) ব্যক্তির জন্য- তা পরম দয়ালু আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো নিষ্ঠুরতা নয়, বরং এটি মানুষকে সেই সব জঘন্য কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত রাখার একটি মাধ্যম যা তার মানবতাকে নিম্নগামী করে। এ কারণেই এই যৌন আচরণকে কেবল বৈধ ও সুশৃঙ্খল পন্থায় সীমাবদ্ধ করার আইনি প্রয়াস চালানো হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তারা আল্লাহ যে প্রাণ হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন তা সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।} [আল-ফুরকান: ৬৮]।

তিনি মুমিন নারীদের সম্পর্কে বলেন: {তারা যেন আপনার নিকট এই মর্মে বায়আত গ্রহণ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করবে না, চুরি করবে না এবং ব্যভিচার (زنا) করবে না।} [আল-মুমতাহিনা: ১২]।

এবং তিনি সতর্ক করে বলেন: {আর তোমরা ব্যভিচারের (زنا) কাছেও যেও না, নিশ্চয়ই এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ পথ।} [আল-ইসরা: ৩২] ।

2- মানুষের অনুশোচনা (توبة) এবং পঙ্কিলতা থেকে পবিত্র হওয়ার অধিকার: অন্যান্য আইনি ব্যবস্থায় মানুষের এই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। একদা জনৈক অপরাধী আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে নিজের ওপর পাথর নিক্ষেপের (رجم) শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানায়, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুখ ঘুরিয়ে নিলেন এবং তার কথা শুনতে চাইলেন না; কারণ এটি ছিল এমন এক কাজ যা গোপনে সংঘটিত হয়েছিল এবং এর দ্বারা জনশৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়নি কিংবা এটি সামাজিক শিষ্টাচারের ওপর আঘাত করেনি। এ ধরনের বিষয় অপরাধীর নিজের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে যেন সে নিভৃতে তার রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। কিন্তু অপরাধী পুনরায় ফিরে এসে পুনরায় অপরাধের স্বীকৃতি দেয় এবং নিজের ওপর শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানায়; যাতে তার অনুশোচনা (توبة) আরও বেশি বলিষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৪)
على الإخلاص فيها إلى الله وعلى عدم التمكن من العودة إلى ارتكاب مثل هذه الجريمة، فصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وجهه عنه مرة ثانية، ثم عاد مرة ثالثة فصرف وجهه مرة ثالثة، ثم عاد مرة رابعة فسأله: "أبك جنون؟ أو لعلك قبلت أو غمزت أو لمست؟ " قال: لا. وهكذا كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يلقنه التراجع عن الاعتراف بالانصراف عن سماعه أولا، وبالتشكيك في الفعل ثانيا، ولكنه أصرَّ على طلب العقوبة فلم يجد عندئذ بدا من الأمر بإيقاعها فيه بناء على إصراره على الاعتراف. ولقد ندم بعد بدء تلقي العقوبة فهرب، فتبعه المأمورون بإنفاذ العقوبة حتى قتلوه، وقال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم قولته المشهورة: "هلا تركتموه فيتوب أو يتوب الله عليه" 1.

3- فالإنسان في نظر القرآن: {لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ} [التين: 4] و {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ} [الإسراء: 70] . من أجل ذلك حرم الإسلام الانتحار واعتبره جريمة عظمى في حق الإنسان، بدليل خطورة العقاب الأخروي، وباعتبار أن روحه ليست ملكا له؛ لأنها ليست من صنعه، وإنما هي ملك لبارئها وخالقها، وفي ذلك يقول الإمام الشاطبي: "ونفس المكلف داخلة تحت هذا الحق -أي: حق الله تعالى- إذ لا يجوز له أن يعتدي على نفسه بالإتلاف"2.

4- وهذا يفضي إلى مبدأ آخر من المبادئ التي يرتكز عليها حق الإنسان في الإسلام، وهو مبدأ اتحاد عنصري الحق والواجب وتلازمهما، فالاعتقاد بثبوت هذه الحقوق الأساسية يكون أولا بالشرع والتكليف.

5- فالحق في الحياة: وهو حفظ النفس، من الحقوق الأساسية المقررة في الشرع الإسلامي، وتعني عصمة الشخصية الإنسانية في عناصرها المادية، وهي سلامة الجسم بجميع أعضائه من الإتلاف، والمعنوية أي: الكرامة والأفكار الذهنية والمعتقدات وغيرها. وقد اعتبر الإسلام حياة الإنسان المقصد الأول الذي ترجع إليه سائر المقاصد الأساسية بعد المحافظة على الدين؛ لتوقفها جميعا

--------------------------------------------

1 رواه البخاري "باب الحدود"، ص28، والإمام أحمد.

2 كتاب الموافقات.
আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা এবং পুনরায় এ ধরনের অপরাধ না করার সংকল্পের ভিত্তিতে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দিক থেকে দ্বিতীয়বার মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর তিনি তৃতীয়বার ফিরে আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ তৃতীয়বারের মতো মুখ ফিরিয়ে নিলেন। চতুর্থবার যখন তিনি আসলেন, তখন রাসূলুল্লাহ তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন: "তোমার কি মস্তিষ্কবিকৃতি ঘটেছে? অথবা সম্ভবত তুমি কেবল চুম্বন করেছ, অথবা চোখ টিপেছ, অথবা স্পর্শ করেছ?" তিনি বললেন: না। এভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমত তাঁর কথা শোনা থেকে বিমুখ থেকে এবং দ্বিতীয়ত কাজের প্রকৃতি নিয়ে সংশয় তৈরি করে তাকে স্বীকারোক্তি থেকে ফিরে আসার শিক্ষা দিচ্ছিলেন। কিন্তু তিনি শাস্তির ব্যাপারে অটল ছিলেন, ফলে তাঁর স্বীকারোক্তির ওপর অনড় থাকার কারণে রাসূলুল্লাহ তখন শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিতে বাধ্য হলেন। শাস্তি পেতে শুরু করার পর তিনি অনুতপ্ত হয়ে পালিয়ে গেলেন, তখন শাস্তির দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তাঁর পিছু নিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে হত্যা করলেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তিটি বললেন: "কেন তোমরা তাঁকে ছেড়ে দিলে না? যাতে তিনি তওবা করতে পারতেন অথবা আল্লাহ তাঁর তওবা কবুল করতেন" ১।

৩- কুরআনের দৃষ্টিতে মানুষ হলো: "নিশ্চয়ই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে" [আত-ত্বীন: ৪] এবং "আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি" [আল-ইসরা: ৭০]। এ কারণেই ইসলাম আত্মহত্যাকে হারাম করেছে এবং একে মানুষের হকের বিরুদ্ধে এক মহাপাপ হিসেবে গণ্য করেছে। যার প্রমাণ হলো পরকালীন শাস্তির ভয়াবহতা এবং এই বিবেচনায় যে, মানুষের রূহ তার নিজস্ব মালিকানা নয়; কেননা এটি তার সৃষ্টি নয়, বরং এটি তার স্রষ্টা ও জীবনদাতার মালিকানা। এ বিষয়ে ইমাম শাতিবি বলেন: "মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلف) জান এই হকের অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ আল্লাহর হকের অন্তর্ভুক্ত—কেননা নিজের জীবন বিনাশের মাধ্যমে নিজের ওপর সীমালঙ্ঘন করা তার জন্য বৈধ নয়" ২।

৪- এটি আরেকটি মূলনীতির দিকে ধাবিত করে যার ওপর ইসলামে মানবাধিকারের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো অধিকার ও কর্তব্যের সমন্বয় ও অবিচ্ছেদ্যতার নীতি। সুতরাং এই মৌলিক অধিকারগুলোর অস্তিত্বের স্বীকৃতিটি মূলত শরয়ি বিধান (الشرع) এবং দায়বদ্ধতার (التكليف) মাধ্যমেই নিরূপিত হয়।

৫- জীবনের অধিকার: অর্থাৎ জীবন সংরক্ষণ (حفظ النفس), যা ইসলামী শরয়ি বিধানে (الشرع) স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলোর অন্যতম। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মানবসত্তার বস্তুগত উপাদানের অলঙ্ঘনীয়তা (عصمة), অর্থাৎ শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিনাশ থেকে নিরাপদ রাখা; এবং এর পাশাপাশি ভাবগত দিক তথা মর্যাদা, বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও বিশ্বাস ইত্যাদির নিরাপত্তা। ইসলাম মানুষের জীবনকে এমন এক প্রধান উদ্দেশ্য (المقصد الأول) হিসেবে গণ্য করেছে যার দিকে দ্বীন সংরক্ষণের পর অন্যান্য সকল মৌলিক উদ্দেশ্যসমূহ প্রত্যাবর্তন করে; কেননা সবগুলোর স্থায়িত্বই এর ওপর নির্ভরশীল।

--------------------------------------------

১ বুখারি ‘হুদুদ অধ্যায়’, পৃ. ২৮ এবং ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন (رواه)।

২ কিতাবুল মুয়াফাকাত।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৫)
على الإنسان وحفظ نفسه في أعلى مراتب التكليف. واعتبر بالتالي إزهاق النفس عمدا وعدوانا أعظم جريمة في الكون، لا بالنسبة للمعتدى عليه أو ذويه فحسب، بل بالنسبة للإنسانية كلها، وقرر القرآن أن جريمة القتل دون حق هي بمثابة قتل الناس جميعا، وإحياءها في حكم إحياء الناس جميعا.

يقول تعالى: {مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ كَتَبْنَا عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَنْ قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا} [المائدة: 32] .

ومن هنا كان حق الحياة حقا وواجبا في آن واحد؛ لارتباطه بالتكليف والأمانة التي حملها الإنسان لعمارة الدنيا واستخلاف الله في الأرض، وتطبيقا لسننه في الكون.

حرم الإسلام على الإنسان الاعتداء على نفسه أو إزهاقها أو السماح لغيره بشيء من ذلك، اللهم إلا إذا كان ذلك لتحقيق قصد شرعي؛ كجهاد العدو، أو المحافظة على حياة، كبتر عضو مريض يتوقع منه السريان لبقية البدن، والتعرض لخطر محقق.

7- يقول تعالى في ذلك: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا} [النساء: 29] .

{وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللَّهُ إِلَّا بِالْحَقِّ} [الإسراء: 33] .

{وَلَا تُلْقُوا بِأَيْدِيكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ} [البقرة: 195] .

وروى أبو هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من قتل نفسه بحديدة، فحديدته في يده يتوجأ -أي: يطعن بها نفسه- بها في بطنه في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا، ومن تردى من جبل فقتل نفسه فهو مترد في نار جهنم خالدا مخلدا فيها أبدا".

8- ومن المبادئ التي يرتكز عليها التشريع الإسلامي عموما: صلاح
মানুষের ওপর তার জীবনের সুরক্ষা শরীয়তের অর্পিত দায়িত্বের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থিত। ফলস্বরূপ, অন্যায়ভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রাণ নাশ করাকে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে; এটি কেবল আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার পরিবার-পরিজনের প্রতিই নয়, বরং সমগ্র মানবতার জন্য এক ভয়াবহ অপরাধ। কুরআন মজীদ ঘোষণা করেছে যে, কোনো যথার্থ কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করা মানে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার সমতুল্য, আর কারো প্রাণ রক্ষা করা মানে সমগ্র মানবজাতিকে প্রাণদান করার সমতুল্য।

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: {এই কারণেই আমি বনী ইসরাঈলের প্রতি এই বিধান দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি কোনো প্রাণের বিনিময়ে কিংবা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টির কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করল, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল।} [আল-মায়িদাহ: ৩২] ।

আর এখান থেকেই জীবনের অধিকার একই সাথে একটি অধিকার এবং একটি কর্তব্য হিসেবে গণ্য; কারণ এটি সেই শরয়ি দায়িত্ব ও আমানতের সাথে সংশ্লিষ্ট যা মানুষ দুনিয়ার আবাদ এবং জমিনে আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের জন্য বহন করেছে এবং মহাবিশ্বে তাঁর বিধানসমূহ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে।

ইসলাম মানুষের ওপর নিজের জীবনের ওপর আক্রমণ করা, আত্মহত্যা করা বা অন্য কাউকে তার কোনো ক্ষতি করার অনুমতি প্রদানকে হারাম করেছে; তবে তা যদি কোনো শরয়ি উদ্দেশ্য সাধনের জন্য হয়, যেমন শত্রুর বিরুদ্ধে জিহাদ করা, অথবা জীবন রক্ষা করা—যেমন শরীরের কোনো অসুস্থ অঙ্গ কেটে ফেলা যা থেকে সংক্রমণ শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে এবং জীবনের জন্য নিশ্চিত ঝুঁকি তৈরি হয়।

7- এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন: {হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, তবে তোমাদের পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা। আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।} [আন-নিসা: ২৯] ।

{আর আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তাকে যথার্থ কারণ ব্যতীত হত্যা করো না।} [আল-ইসরা: ৩৩] ।

{আর তোমরা নিজেদের হাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না।} [আল-বাকারা: ১৯৫] ।

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি লোহার কোনো অস্ত্র দিয়ে নিজেকে হত্যা করবে, জাহান্নামের আগুনে সেই লোহার অস্ত্রটি তার হাতে থাকবে এবং সে তা দিয়ে নিজের পেটে আঘাত করতে থাকবে—অর্থাৎ তা বিদ্ধ করবে—সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামের আগুনে অবিরতভাবে ওপর থেকে নিচে পড়তে থাকবে এবং সেখানে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।"

8- ইসলামি শরীয়তের সাধারণ মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি হলো: কল্যাণ...
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৬)
المجتمع؛ فمعظم التهم التي يشدد الإسلام في العقوبة عليها هي التهم التي تؤثر في المجتمع تأثيرا سلبيا بل هَدَّاما، كالزنا الذي يؤدي إلى انهيار الأسرة واختلاط الأنساب، وكالسرقة والاعتداء على الغير مما أشار إليه الشارع الإسلامي.

فحقوق الإنسان كما وصلت إليه وثيقة حقوق الإنسان الصادرة عن الجمعية العامة للأمم تحفظ الحقوق الفردية وتنص عليها، بينما الإسلام يوازن بين الحقوق الفردية وحق المجتمع الذي -هو أيضا مجموع الأفراد- وجب التنويه إلى حقوقه أيضا صيانة للصالح العام.

9- وقد ثبت بالاستقراء والنصوص أن الشريعة الإسلامية قد اشتملت أحكامها على مصالح الناس، فقد قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107] ، {وَإِنَّهُ لَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ} [النمل: 77] .

والمصالح المعتبرة هي المصالح الحقيقية، وهي ترجع إلى أمور خمسة: حفظ الدين، وحفظ النفس، وحفظ العقل، وحفظ النسل، وحفظ المال؛ لأن هذه الأمور الخمسة بها قوام الدنيا التي يعيش فيها الإنسان1.

10- والحرية عنصر مهم من عناصر الحياة الإنسانية المحترمة في الإسلام. وهل التوحيد إلا تحرير للإنسان؟

ولذلك كانت حرية الاعتقاد حقا من حقوق الإنسان في الإسلام بادر المسلمون بتطبيقه؛ إعمالا لتعاليم دينهم كمبدأ حيوي.

يقول الله تعالى: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَيّ} [البقرة: 256] .

ويقول تعالى: {أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} [يونس: 99] .

ويقول: {وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ} [العنكبوت: 46] .

والعدل اسم من أسماء الله الحسنى، وكما يقولون: "العدل أساس الملك"؛

--------------------------------------------

1 أصول الفقه، محمد أبو زهرة، دار الفكر العربي، ص265.
সমাজ; ইসলামে যেসব অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে সেগুলোর অধিকাংশই এমন অপরাধ যা সমাজের ওপর নেতিবাচক, এমনকি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। যেমন: ব্যভিচার, যা পারিবারিক ব্যবস্থার পতন এবং বংশপরিচয়ের বিশৃঙ্খলার দিকে পরিচালিত করে; তেমনি চুরি এবং অন্যের ওপর সীমালঙ্ঘন, যার প্রতি ইসলামি শরিয়ত নির্দেশ করেছে।

মানবাধিকার বলতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত মানবাধিকার সনদে যা বোঝানো হয়েছে তা মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক অধিকারগুলো সংরক্ষণ করে এবং সেগুলোর বর্ণনা দেয়। অন্যদিকে ইসলাম ব্যক্তিগত অধিকার এবং সমাজের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে—যেহেতু সমাজও ব্যক্তিদেরই সমষ্টি—তাই জনস্বার্থ রক্ষার খাতিরে সমাজের অধিকারের বিষয়েও আলোকপাত করা আবশ্যক হয়েছে।

৯- আর আরোহ পদ্ধতি এবং দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে এটি প্রমাণিত যে, ইসলামি শরিয়তের বিধানসমূহ মানুষের কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। মহান আল্লাহ বলেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি" [আল-আম্বিয়া: ১০৭], "এবং এটি মুমিনদের জন্য অবশ্যই হেদায়েত ও রহমত" [আন-নামল: ৭৭]।

আর গ্রহণযোগ্য জনকল্যাণ বলতে প্রকৃত কল্যাণকেই বোঝায়, যা পাঁচটি বিষয়ের ওপর আবর্তিত হয়: ধর্ম সংরক্ষণ, জীবন সংরক্ষণ, বুদ্ধি-বিবেচনা সংরক্ষণ, বংশধারা সংরক্ষণ এবং সম্পদ সংরক্ষণ; কারণ এই পাঁচটি বিষয়ের ওপরই পার্থিব জীবনের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে যাতে মানুষ বসবাস করে।

১০- আর স্বাধীনতা হলো ইসলামে মর্যাদাপ্রাপ্ত মানবজীবনের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আর তাওহিদ কি মানুষের জন্য মুক্তির নামান্তর নয়?

সেকারণে বিশ্বাসের স্বাধীনতা ইসলামে একটি মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত, যা মুসলিমরা তাদের দ্বীনের শিক্ষার আলোকে একটি প্রাণবন্ত মূলনীতি হিসেবে বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

মহান আল্লাহ বলেন: "দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; নিশ্চয়ই ভ্রান্ত পথ থেকে সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়েছে" [আল-বাকারা: ২৫৬]।

তিনি আরও বলেন: "তবে কি আপনি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?" [ইউনুস: ৯৯]।

তিনি বলেন: "তোমরা উত্তম পন্থা ব্যতিরেকে আহলে কিতাবদের সাথে বিতর্ক করো না" [আল-আনকাবুত: ৪৬]।

আর ন্যায়বিচার আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি, এবং যেমনটি বলা হয়: "ন্যায়বিচারই শাসনের ভিত্তি";

--------------------------------------------

১. উসুলুল ফিকহ, মুহাম্মদ আবু জাহরা, দারুল ফিকর আল-আরাবি, পৃ. ২৬৫।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৭)
لذا كان مبدأ أساسيا ترتكز عليه الشريعة السمحة في إقرار حقوق الإنسان الأساسية.

يقول تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا وَإِذَا حَكَمْتُمْ بَيْنَ النَّاسِ أَنْ تَحْكُمُوا بِالْعَدْلِ} [النساء: 58] .

ويقول: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ} [النحل: 90] .
তাই এটি ছিল একটি মূলনীতি যার ওপর ভিত্তি করে উদার শরীয়াহ মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করো তখন যেন ন্যায়বিচারের সাথে বিচার করো।} [আন-নিসা: ৫৮] ।

তিনি আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান এবং নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং তিনি অশ্লীলতা, অসৎ কাজ (منكر) ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করছেন।} [আন-নাহল: ৯০] ।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌حقوق الإنسان الثقافية:

1- لا بد لنا إذا أردنا فهم أبعاد الحقوق الثقافية للإنسان في الإسلام من أن نلفت النظر إلى أن نظرة الإسلام إلى "الحقوق الثقافية للإنسان" إنما هي نظرة جزئية من أصل "نظرة كلية" هي نظرة الإسلام إلى "الله والكون والإنسان".

2- ونحن لسنا في مقام شرح النظرة الكلية للإسلام، ولكن ارتباط "النظرة الجزئية" بتلك "النظرة الكلية" حول الله والكون والإنسان يوجب علينا الإشارة إليها بالقدر الذي لا بد منه، وذلك من أجل تحديد "خصائص الحقوق الثقافية في الإسلام"، والكشف عن أبعادها في حياة الإنسان.

3- فالإنسان في إطار هذه النظرة الكلية واجب عليه باسم الدين النظر في السموات والأرض وفي نفسه، وذلك من أجل هدف سامٍ مفروض عليه، ألا وهو الإيمان بالله إيمانا علميا مؤسسا على اليقين المنطقي.

ويلي الإيمان بهذه الحقيقة الأولية الإيمان بعظمة هذا الخلق وبديع صنعه، فالاعتراف بهذا إقرار بحكمة إيجاد هذا الكون ونظامه، ودلالته على خالق قادر عليم حكيم، مستحق للعبادة وحده.

ومن ثم تأتي معرفة ثالثة، هي أن الإنسان جزء من هذا الكون الواسع، ولكنه يشغل مكانا متقدما بفضل ما أنعم الله به عليه من عقل، وتكريم، وتسخير ما في السموات والأرض له، ولم يعد مسخرا لها. ومن هنا يأتي الأمر الإلهي للإنسان بالتعمير، والنهي عن الإفساد، والذي يترافق مع السماح بالتمتع بالطيبات، ولكن بنظام يحافظ على هيبة الإنسان وتعلقه بالله، ويحفظ الكرامة والعدل والمساواة والسلام.
মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ:

১- আমরা যদি ইসলামে মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকারের মাত্রাগুলো বুঝতে চাই, তবে আমাদের অবশ্যই এ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে যে, "মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকারের" প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত একটি "সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির" অংশবিশেষ; যা হলো "আল্লাহ, মহাবিশ্ব এবং মানুষ" সম্পর্কে ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি।

২- আমরা এখানে ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করার পর্যায়ে নেই, তবে আল্লাহ, মহাবিশ্ব এবং মানুষ বিষয়ক সেই "সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির" সাথে এই "আংশিক দৃষ্টিভঙ্গির" যে সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা অপরিহার্য মাত্রায় উল্লেখ করা আমাদের জন্য আবশ্যক। এটি করার উদ্দেশ্য হলো "ইসলামে সাংস্কৃতিক অধিকারের বৈশিষ্ট্যসমূহ" নির্ধারণ করা এবং মানুষের জীবনে এর দিগন্তগুলো উন্মোচন করা।

৩- সুতরাং এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বলয়ে মানুষের ওপর ধর্মের নামে আসমানসমূহ, যমীন এবং নিজ সত্তার বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে তার ওপর অর্পিত একটি সুমহান লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে; আর তা হলো যৌক্তিক নিশ্চিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা।

এই প্রাথমিক সত্যের প্রতি বিশ্বাসের পর এই সৃষ্টির মহানুভবতা এবং এর নিপুণ কারুকার্যের প্রতি বিশ্বাসের বিষয়টি আসে। এটি স্বীকার করে নেওয়া মূলত এই মহাবিশ্ব ও এর ব্যবস্থার সৃষ্টির পেছনে নিহিত প্রজ্ঞাকেই স্বীকৃতি দেওয়া, যা একজন সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ পেশ করে, যিনি এককভাবে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য।

অতঃপর তৃতীয় আরেকটি জ্ঞান উদ্ভাসিত হয়, তা হলো—মানুষ এই বিশাল মহাবিশ্বেরই একটি অংশ, তবে আল্লাহ তাকে বিবেক-বুদ্ধি ও বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন এবং আসমান ও যমীনের সব কিছুকে তার কল্যাণে নিয়োজিত করার মাধ্যমে তাকে এক উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন; ফলে সে আর এগুলোর মুখাপেক্ষী বা অধীন নয়। এখান থেকেই মানুষের প্রতি পৃথিবী আবাদ করার ঐশ্বরিক নির্দেশ এবং বিপর্যয় সৃষ্টির প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। এর সাথে পবিত্র বস্তুসমূহ ভোগ করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে, তবে তা এমন এক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার অধীনে যা মানুষের গাম্ভীর্য ও আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক অটুট রাখে এবং মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, সাম্য ও শান্তি রক্ষা করে।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ১৯)
4- وبذلك نرى أن النظرة الكلية للإسلام بصدد الكون1 تفرض على الإنسان العلم، وتجعله حتما موجبا مثابا عليه المرء؛ لأنه إذن مرتبط بحقيقة عليا وحكمة سماوية.

5- هذا المفهوم الإسلامي للعلم اعتبره فريضة، وعده أساسا لكرامة الإنسان، وذلك أن القرآن الكريم رفع شأن العلم بقوله تعالى: {هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ} [الزمر: 9] ، وقوله أيضا: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} [فاطر: 28] .

6- وعلى أساس من هذه النظرة الكلية لله والكون والإنسان تكون الحقوق الثقافية؛ فالإسلام يوسع من آفاق العيش ويجعله متصلا بحكمة علوية، ويجرده من المادية البحتة تنزيها للإنسان. ولذلك نجد رسولنا -صلوات الله وسلامه عليه- يقول: "العالم والمتعلم شريكان في الخير، ولا خير في سائر الناس" أي: لا خير فيمن عداهما.

7- ولما كان العرب في معظمهم عند ظهور الإسلام أميين لا يقرءون ولا يكتبون، بدأ الإسلام بمعالجة مشكلة الأمية وفرض العلم على كل مسلم ومسلمة، وقال النبي صلى الله عليه وسلم: "طلب العلم فريضة على كل مسلم" 2، {قُلِ انْظُرُوا مَاذَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ} [يونس: 101] ، من أجل تفتح إنساني واعٍ على الكون وحقائقه، والوجود وأبعاده.

8- ولذلك لما وقع في أيدي المسلمين بعض الأسرى القرشيين الوثنيين إبان موقعة بدر، جعل رسول الله صلى الله عليه وسلم فدية الكثير منهم تعليم الأميين من المسلمين، وجعل شرط إطلاق أحدهم من الأسر تعليم عشرة من أبناء المسلمين القراءة والكتابة، مع ملاحظة حاجة المسلمين للمال في هذا الوقت.

--------------------------------------------

1 خصائص التصور الإسلامي ومقوماته "فكرة الإسلام عن الله والإنسان والكون والحياة"، سيد قطب، 1387هـ-1967م.

2 الوارد في الحديث: "طلب العلم فريضة على كل مسلم" وقد أضيفت كلمة "مسلمة" في بعض المراجع عملا بالمعنى.
4- এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে ইসলামের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি মানুষের ওপর জ্ঞানার্জনকে অপরিহার্য করে দেয় এবং একে এক অনিবার্য ও আবশ্যকীয় (موجبا) বিষয় হিসেবে সাব্যস্ত করে যার জন্য ব্যক্তি সওয়াবপ্রাপ্ত হয়; কারণ তা তখন এক উচ্চতর সত্য ও আসমানি প্রজ্ঞার সাথে সম্পৃক্ত হয়।

5- জ্ঞান বা ইলমের এই ইসলামী ধারণা একে একটি আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة) হিসেবে গণ্য করেছে এবং একে মানুষের মর্যাদার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে। আর তা এজন্য যে, পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে ইলমের মর্যাদা সুউচ্চ করেছে: {যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে?} [যুমার: ৯], এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমেও: {নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই (العلماء) তাঁকে ভয় করে।} [ফাতির: ২৮]।

6- আল্লাহ, মহাবিশ্ব এবং মানুষ সম্পর্কে এই সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর ভিত্তি করেই সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে; ইসলাম জীবনযাত্রার দিগন্তকে প্রসারিত করে এবং একে এক উচ্চতর প্রজ্ঞার সাথে সংযুক্ত করে, আর মানুষের মর্যাদা রক্ষার নিমিত্তে একে নিছক বস্তুবাদিতা থেকে মুক্ত রাখে। এজন্যই আমরা আমাদের রাসূলকে —তাঁর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক— বলতে দেখি: "আলেম (العالم) এবং শিক্ষার্থী (المتعلم) কল্যাণের কাজে পরস্পরের অংশীদার, আর বাকি মানুষের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।" অর্থাৎ: তারা দুজন ব্যতীত অন্য কারও মাঝে কোনো কল্যাণ নেই।

7- ইসলামের আবির্ভাবের সময় যেহেতু আরবদের অধিকাংশ নিরক্ষর (أميين) ছিল, যারা পড়তে ও লিখতে জানত না, তাই ইসলাম নিরক্ষরতার সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে এবং প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর ইলম অর্জনকে আবশ্যক করে দেয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)" ২, {বলুন, তোমরা আসমানসমূহ ও জমিনে কী আছে তা পর্যবেক্ষণ করো।} [ইউনূস: ১০১]। এটি করা হয়েছে মহাবিশ্ব ও এর বাস্তবতা এবং অস্তিত্ব ও এর ব্যাপ্তি সম্পর্কে সচেতন মানবিক বিকাশের লক্ষ্যে।

8- এ কারণেই বদরের যুদ্ধের সময় যখন কিছু কুরাইশ মুশরিক যুদ্ধবন্দী মুসলিমদের হস্তগত হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের অনেকের মুক্তিপণ হিসেবে মুসলিম নিরক্ষরদের (الأميين) শিক্ষা দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করেন। তিনি বন্দীদের মধ্যে কারও মুক্তির শর্ত হিসেবে দশজন মুসলিম সন্তানকে লিখন ও পঠন শিক্ষা দানকে সাব্যস্ত করেন, যদিও সেই মুহূর্তে মুসলিমদের অর্থের প্রয়োজনীয়তা ছিল অনস্বীকার্য।

--------------------------------------------

১ খাসায়িস আত-তাসাউর আল-ইসলামি ওয়া মুকাউওয়িমাতুহু (ইসলামি জীবনদর্শনের বৈশিষ্ট্য ও উপাদান), "আল্লাহ, মানুষ, মহাবিশ্ব এবং জীবন সম্পর্কে ইসলামের ধারণা", সাইয়্যেদ কুতুব, ১৩৮৭ হিজরি-১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দ।

২ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "ইলম অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি আবশ্যিক কর্তব্য (فريضة)" এবং অর্থগত দিক বিবেচনায় কোনো কোনো উৎসে "মুসলিম নারী (مسلمة)" শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২০)
9- ويمضي رسول الله صلى الله عليه وسلم يتوعد تارة، ويعد تارة أخرى، ويقول: "العالم والمتعلم شريكان في الخير، ولا خير في سائر الناس" 1. ويقول مفضلا الزيادة في العلم على الزيادة في العبادة، ويؤكد أن: "ما اكتسب مكتسب مثل فضل علم يهدي صاحبه إلى هدى أو يرده عن ردى، وما استقام دينه حتى يستقيم عقله".

أو في رواية أخرى: "حتى يستقيم عمله". وتشجيعا للاجتهاد والبحث العلمي يقول: "إذا حكم الحاكم فاجتهد ثم أصاب فله أجران، وإذا حكم فاجتهد ثم أخطأ فله أجر" 2.

وفي هذا إقرار بالحرية العلمية في أوسع نطاق. ثم أحاط هذه الحرية بسياج يصونها بالقول النبوي الشريف: "من كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليقل خيرا أو ليصمت" 3.

10- هذا من جانب الإسلام. أما من ناحية المواثيق الدولية الصادرة لحماية الحقوق الإنسانية، فنجد:

أ- "الميثاق الدولي لحقوق الإنسان" الصادر عن الهيئة العامة للأمم المتحدة في 10 ديسمبر 1948م.

ب- "الاتفاقية الدولية في شأن الحقوق الاقتصادية والاجتماعية والثقافية" الصادرة عن حكومات المجموعة الأوروبية بروما بتاريخ 4 نوفمبر 1990م، ثم البروتوكول رقم "1" المضاف إلى هذه الاتفاقية والموقع في باريس بتاريخ 3 مارس 1953م.

جـ- "تصريح عن حقوق الطفل" الصادر في هيئة الأمم المتحدة، الجمعية العامة في 10 نوفمبر 1959.

--------------------------------------------

1 البخاري "30".

2 رواه البخاري، فتح الباري: 13/ 318، دار المعرفة، لبنان.

3 رواه البخاري، فتح الباري.
৯- রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কখনো সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন, আবার কখনো সুসংবাদ প্রদান করেন এবং বলেন: "আলেম (শিক্ষক) এবং মুতাআল্লিম (শিক্ষার্থী) কল্যাণের কাজে অংশীদার, আর অবশিষ্ট মানুষের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।" ১. তিনি ইবাদতের আধিক্যের চেয়ে ইলম বা জ্ঞানের আধিক্যকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করে বলেন এবং তাকিদ দিয়ে বলেন যে: "কোনো ব্যক্তিই ইলমের শ্রেষ্ঠত্বের মতো অন্য কিছু অর্জন করতে পারেনি, যা তার অধিকারীকে হেদায়েতের পথে পরিচালিত করে অথবা তাকে ধ্বংস থেকে ফিরিয়ে রাখে; আর কারোরই দীন ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হয় না, যতক্ষণ না তার বিবেক সঠিক হয়।"

অথবা অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ এসেছে: "যতক্ষণ না তার আমল সঠিক হয়।" ইজতিহাদ (اجتهاد) এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উৎসাহিত করতে তিনি বলেন: "যখন কোনো বিচারক বিচার করেন এবং ইজতিহাদ (اجتهাদ) করেন, অতঃপর তিনি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হন, তবে তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ সওয়াব। আর যদি তিনি বিচার করার সময় ইজতিহাদ (اجتهاد) করেন এবং ভুল করেন, তবে তার জন্য রয়েছে একটি সওয়াব।" ২.

এর মাধ্যমে ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক স্বাধীনতার এক ব্যাপক পরিসরের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। অতঃপর তিনি এই স্বাধীনতাকে একটি সুরক্ষাবেষ্টনী দিয়ে পরিবেষ্টিত করেছেন এই মহান নববী বাণীর মাধ্যমে: "যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।" ৩.

১০- এটি ইসলামের একটি দিক। পক্ষান্তরে, মানবাধিকার রক্ষার উদ্দেশ্যে ঘোষিত আন্তর্জাতিক সনদসমূহের প্রেক্ষিতে আমরা দেখতে পাই:

ক- ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত "মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক ঘোষণাপত্র"।

খ- ৪ নভেম্বর ১৯৯০ সালে রোমে ইউরোপীয় গোষ্ঠীর সরকারসমূহ কর্তৃক ঘোষিত "অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি"; অতঃপর এই চুক্তির সাথে যুক্ত ১ নম্বর প্রোটোকল যা ৩ মার্চ ১৯৫৩ সালে প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

গ- ১০ নভেম্বর ১৯৫৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ঘোষিত "শিশু অধিকার ঘোষণাপত্র"।

--------------------------------------------

১ বুখারি "৩০"।

২ বুখারি কর্তৃক বর্ণিত (رواه), ফাতহুল বারি: ১৩/ ৩১৮, দারুল মা'রিফাহ, লেবানন।

৩ বুখারি কর্তৃক বর্ণিত (رواه), ফাতহুল বারি।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২১)
د- "اتفاقية حماية حقوق الإنسان وحرياته الأساسية" الصادرة في 16 ديسمبر 1966م.

11- وتنص هذه الاتفاقيات الدولية الخاصة بالحقوق الثقافية للإنسان على ما يلي:

أولا: ما جاء في الفقرة الأولى من المادة "26" من الميثاق الدولي لحقوق الإنسان، ونصها: "كل شخص له حق في التربية".

ثانيا: ما جاء في الفقرة الثالثة من هذه المادة، ونصها: "إن الآباء لهم الحق في المقام الأول في اختيار نوع التربية لأولادهم".

ثالثا: ما جاء في الفقرة الثانية من هذه المادة أيضا، ونصها: "إن التربية يجب أن تهدف إلى التفتح الكامل لشخصية الإنسان، وإلى دعم الاحترام لحقوق الإنسان وحرياته الأساسية".

رابعا: ما جاء في الفقرة الأولى من المادة "13" من الاتفاقية الدولية في شأن الحقوق الاقتصادية والاجتماعية والثقافية، ونصها: "إن الدول المشتركة في هذه الاتفاقية تعترف بحق كل إنسان في التربية، وتتفق على أن التربية يجب أن تهدف إلى التفتح الكامل لشخصية الإنسان والشعور بكرامته، وإلى دعم احترام حقوق الإنسان وحرياته الأساسية، كما تتفق أيضا على أن التربية يجب أن تجعل كل إنسان أهلا للقيام بدور نافع في مجتمع حر".

خامسا: ما جاء في الفقرة "3" من المادة السابقة، ونصها: "إن الحكومات المشتركة في هذه الاتفاقية تتعهد بأن تحترم حرية الآباء والأوصياء الشرعيين في الاختيار لأولادهم المدارس الحكومية، وفي ضمان التربية الدينية والأدبية لأولادهم، وفقا لعقائدهم الخاصة".

سادسا: ما جاء في الفقرة "2" من البروتوكول رقم "1" المضاف إلى اتفاقية حماية حقوق الإنسان وحرياته الأساسية الصادرة عن الجماعة الأوروبية، ونصها: "لا يجوز أن يرفض حق أحد في التعليم، وإن الدولة ستحترم في ميدان
ঘ- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৬৬ সালে জারিকৃত "মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা বিষয়ক কনভেনশন"।

১১- মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক এই আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিধৃত হয়েছে:

প্রথমত: আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের "২৬" নম্বর অনুচ্ছেদের প্রথম প্যারায় যা বর্ণিত হয়েছে, তার পাঠ হলো: "প্রত্যেক ব্যক্তির শিক্ষালাভের অধিকার রয়েছে।"

দ্বিতীয়ত: উক্ত অনুচ্ছেদের তৃতীয় প্যারায় যা বর্ণিত হয়েছে: "পিতামাতার তাদের সন্তানদের শিক্ষার ধরণ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক অধিকার রয়েছে।"

তৃতীয়ত: উক্ত অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় প্যারায় আরও বলা হয়েছে: "শিক্ষার লক্ষ্য হতে হবে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধকে সুসংহত করা।"

চতুর্থত: অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির "১৩" নম্বর অনুচ্ছেদের প্রথম প্যারায় যা বর্ণিত হয়েছে: "এই চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রসমূহ প্রত্যেক মানুষের শিক্ষালাভের অধিকারকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং তারা একমত পোষণ করছে যে, শিক্ষার লক্ষ্য হতে হবে মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ও তার মর্যাদাবোধ জাগ্রত করা এবং মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ সুসংহত করা। তারা আরও একমত পোষণ করছে যে, শিক্ষা প্রতিটি মানুষকে একটি মুক্ত সমাজে কার্যকর ভূমিকা পালনের যোগ্য করে তুলবে।"

পঞ্চমত: পূর্বোক্ত অনুচ্ছেদের "৩" নম্বর প্যারায় যা বর্ণিত হয়েছে: "এই চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী সরকারসমূহ অঙ্গীকার করছে যে, তারা পিতামাতা এবং বৈধ অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের স্বাধীনতা এবং তাদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে সম্মান জানাবে।"

ষষ্ঠত: ইউরোপীয় সম্প্রদায় কর্তৃক জারিকৃত মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা সুরক্ষা বিষয়ক কনভেনশনের সাথে যুক্ত "১" নম্বর প্রোটোকলের "২" নম্বর প্যারায় যা বর্ণিত হয়েছে: "কারও শিক্ষালাভের অধিকার অস্বীকার করা যাবে না, এবং রাষ্ট্র শিক্ষা ক্ষেত্রে..."
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২২)
التربية والتعليم حق الآباء في ضمان التربية والتعليم، وفقا لعقائدهم الدينية والثقافية".

سابعا وأخيرا: ما جاء في الفقرة الثانية من المبدأ السابع من "تصريح حقوق الطفل"، ونصها: "إن المصلحة العليا للطفل هي المرشد لأولئك الذين يحملون مسئولية تربيته وتوجيهه، وخصوصا أهله".

ومن الملاحظ أن هذه البنود تحوي "حقوقا خاصة" ليست "فروضا عامة" كما أن هذه الحقوق الخاصة معبر عنها بصيغة سلبية، كمثل قوله: "لا يجوز....".

وبالتالي يحق لأي إنسان في ظل هذه المواثيق أن يتنازل عن حقه "الخاص" -لأنه خاص- وتنازله هذا لا يشكل جرما؛ لأنه لا يمس إلا شخصه.

وفي هذا إضعاف لهذا الحق الذي هو ضرورة حياتية مهمة.

وهذه النزعة الشخصية لا تلتفت إلى ما تتميز به علوم الحياة من شمول، وما يتميز به العلم -خصوصا في الحاضر- من اجتماعية، كما أن هذه النظرة "الفردية" لا توصل العلم بمتعلقاته العلوية، وتجرده من حكمته، وتحرمه من امتداده التعبدي.

وهذا الامتداد الروحي بعد مهم في النزوع العلمي؛ إذ هو الكفيل بإنقاذه من أمراض "المجتمعات العلمية" كالأنانية والمادية والسيطرة. هذه العلل التي قد تحول العلم من أداة لخدمة الإنسان وعمارة الكون إلى وسيلة من وسائل الدمار، وسببا لشقاء الإنسان وتعاسته وضياعه.

وقد رأينا الأمثلة على ذلك كثيرة عبر التاريخ، إذ شاهدنا كيف حول حاكم مستبد التكنولوجيا العسكرية التي كدسها في ترساناته إلى وسيلة إرهاب للآخرين، فجرّ الوبال على الآخرين وعلى العالم وعلى شعبه.

وهذا كان أثرا ومثالا على النهوض العلمي المجرد من روحه الإلهية، والتي ينبغي أن تكون منطلقا لكل تحديث وتقدم، ولكل تفكير في حقوق الإنسان، فما بالك بمن افتقد الاثنين: الحكمة السماوية، والحقوق الإنسانية:
লালন-পালন ও শিক্ষা: এটি তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস অনুযায়ী লালন-পালন ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণে অভিভাবকদের অধিকার।

সপ্তম ও শেষত: ‘শিশু অধিকার ঘোষণা’-এর সপ্তম মূলনীতির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে যা বর্ণিত হয়েছে, তার পাঠ হলো: “শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থই হবে তাদের জন্য নির্দেশক যারা তার লালন-পালন ও দিকনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেন, বিশেষ করে তার পরিবার।”

লক্ষ্যণীয় যে, এই ধারাগুলো ‘বিশেষ অধিকার’ অন্তর্ভুক্ত করে, যা ‘সাধারণ আবশ্যিক কর্তব্য (فروض عامة)’ নয়। পাশাপাশি এই বিশেষ অধিকারগুলোকে নেতিবাচক ভঙ্গিতে ব্যক্ত করা হয়েছে, যেমন তাঁর উক্তি: “বৈধ নয় (لا يجوز)।”

ফলশ্রুতিতে, এই চুক্তিগুলোর আলোকে যেকোনো ব্যক্তির জন্য তার ‘ব্যক্তিগত’ অধিকার ত্যাগ করার অধিকার রয়েছে—যেহেতু এটি ব্যক্তিগত—এবং তার এই অধিকার ত্যাগ করা কোনো অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় না; কারণ এটি কেবল তার ব্যক্তিগত সত্তাকেই প্রভাবিত করে।

আর এতে সেই অধিকারকে দুর্বল করা হয়েছে যা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্যতা।

এই ব্যক্তিগত প্রবণতা জীবন-বিজ্ঞানের সামগ্রিকতা এবং বিজ্ঞানের—বিশেষত বর্তমান সময়ে—সামাজিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করে না। তদুপরি, এই ‘ব্যক্তিত্ববাদী’ দৃষ্টিভঙ্গি জ্ঞানকে তার উচ্চতর অনুষঙ্গগুলোর সাথে যুক্ত করে না, একে এর হিকমাহ (حكمة) থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং এর ইবাদতগত (تعبدي) ব্যাপ্তি থেকে বঞ্চিত করে।

এই আধ্যাত্মিক ব্যাপ্তি বৈজ্ঞানিক ঝোঁকের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা; কারণ এটিই ‘বৈজ্ঞানিক সমাজ’-এর ব্যাধি যেমন স্বার্থপরতা, বস্তুবাদ ও আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এই ত্রুটিগুলো (العلل) জ্ঞানকে মানুষের সেবা ও মহাবিশ্ব বিনির্মাণের হাতিয়ার থেকে ধ্বংসের উপায়ে এবং মানুষের দুর্ভাগ্য, দুর্দশা ও বিচ্যুতির কারণে পরিণত করতে পারে।

ইতিহাসজুড়ে আমরা এর বহু উদাহরণ দেখেছি, যেখানে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি কীভাবে একজন স্বৈরাচারী শাসক তার অস্ত্রাগারে সঞ্চিত সামরিক প্রযুক্তিকে অন্যের ওপর ত্রাস সৃষ্টির উপায়ে পরিণত করেছে, ফলে তা অন্যদের ওপর, বিশ্বের ওপর এবং তার নিজ জনগণের ওপর বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

এটি ছিল ঐশ্বরিক চেতনা বিবর্জিত বৈজ্ঞানিক উত্থানের একটি প্রভাব ও উদাহরণ, যা প্রতিটি আধুনিকায়ন ও অগ্রগতির এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিটি চিন্তার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। তাহলে তাদের অবস্থা কী হবে যারা এই উভয়টিই হারিয়েছে: আসমানী হিকমাহ (حكمة) এবং মানবিক অধিকার?
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৩)
{وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِ فَأَصْبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيْهِ عَلَى مَا أَنْفَقَ فِيهَا وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّي أَحَدًا، وَلَمْ تَكُنْ لَهُ فِئَةٌ يَنْصُرُونَهُ مِنْ دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مُنْتَصِرًا} [الكهف: 42، 43] .

والفرق واضح بين الإسلام والمواثيق الدولية، ففي حين تجعلها المواثيق حقوقا خاصة، يجعل الإسلام حقوق المرء الثقافية فروضا، وبالتالي لا يجب التنازل عنها1.

وكذلك يجعل الإسلام هذه الفريضة على عاتق الفرد والجماعة، فكلاهما مسئول عن تنفيذها.

كما تتمتع هذه الحقوق في الإسلام بضمانات جزائية، فهي ليست مجرد توصيات لا ضامن لها، ومن ثم يصبح من حق ولي الأمر المسلم إنفاذ هذه الحقوق.

ولذلك انتبهت المجموعة الأوروبية لهذا النقص في حماية الحقوق الإنسانية، فأحدثت محكمة لحماية حقوق الإنسان، كما اعتمدت الاتفاقية الأمريكية لحقوق الإنسان في وقت لاحق محكمة على نفس المنوال.

أما من ناحية "اختبار النظام المعرفي التربوي" للأبناء، فقد جعل في أيدي أولياء أمور الطفل؛ ليختاروا له المناسب من القيم والمناهج بخلاف الأنظمة الأخرى الاجتماعية، حتى الديمقراطية الغربية التي تفرض على الدارسين نظما مناسبة للسياسة القائمة، وتتفق -أو على الأقل لا تختلف- مع أمزجة القائمين على الأمر، ففي هذا مصادرة للعقول؛ لأنها تخضع الجميع لقيمها الخاصة.

--------------------------------------------

1 حقوق الإنسان الشرعية الإسلامية، وقائع ندوات، السعودية، رابطة العالم الإسلامي سنة 1977م.
{আর তার ফল-ফসল বিপর্যয়ে পরিবেষ্টিত হয়ে গেল, ফলে সে তাতে যা ব্যয় করেছিল তার জন্য হাত কচলাতে লাগল, এমতাবস্থায় যে তা মাচাসহ বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। সে বলতে লাগল, ‘হায়, আমি যদি আমার রবের সাথে কাউকে শরিক না করতাম!’ আর আল্লাহ ছাড়া তাকে সাহায্য করার মতো কোনো দল ছিল না এবং সে নিজেও আত্মরক্ষায় সক্ষম ছিল না।} [আল-কাহাফ: ৪২, ৪৩]।

ইসলাম এবং আন্তর্জাতিক সনদগুলোর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট; আন্তর্জাতিক সনদগুলো যেখানে এগুলোকে ব্যক্তিগত অধিকার হিসেবে গণ্য করে, সেখানে ইসলাম ব্যক্তির সাংস্কৃতিক অধিকারসমূহকে আবশ্যিক কর্তব্য (فرض) হিসেবে গণ্য করে। ফলে এগুলো বিসর্জন দেওয়া বৈধ নয়।১

অনুরূপভাবে ইসলাম এই আবশ্যিক বিধানকে (فريضة) ব্যক্তি ও সমষ্টি উভয়ের ওপর অর্পণ করে; ফলে তারা উভয়েই এটি বাস্তবায়নে দায়বদ্ধ।

তদুপরি ইসলামে এই অধিকারগুলো আইনি নিশ্চয়তা (ضمانات جزائية) দ্বারা সুরক্ষিত; এগুলো নিছক কোনো সুপারিশমালা নয় যার কোনো জামিনদার নেই। ফলশ্রুতিতে মুসলিম কর্তৃপক্ষের জন্য এই অধিকারগুলো কার্যকর করা আবশ্যিক হয়ে দাঁড়ায়।

এ কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই ঘাটতিটি অনুধাবন করেছে এবং মানবাধিকার রক্ষায় একটি আদালত প্রতিষ্ঠা করেছে। একইভাবে আমেরিকান মানবাধিকার কনভেনশনও পরবর্তী সময়ে একই আদলে একটি আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আর সন্তানদের "শিক্ষামূলক জ্ঞানতাত্ত্বিক ব্যবস্থা নির্বাচনের" বিষয়টি ইসলাম শিশুর অভিভাবকদের হাতে ন্যস্ত করেছে; যাতে তারা তাদের জন্য উপযুক্ত মূল্যবোধ ও পাঠ্যক্রম বেছে নিতে পারে। এটি অন্যান্য সামাজিক ব্যবস্থার বিপরীত, এমনকি পশ্চিমা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রেও, যা শিক্ষার্থীদের ওপর বিদ্যমান রাজনীতির উপযোগী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেয় এবং যা শাসকদের রুচির সাথে সংগতিপূর্ণ হয়—বা অন্ততপক্ষে ভিন্ন হয় না। মূলত এটি মেধার অবদমন; কারণ এটি সকলকে তাদের নিজস্ব বিশেষ মূল্যবোধের অনুগত করে ফেলে।

--------------------------------------------

১ ইসলামি শরিয়তে মানবাধিকার, সেমিনার কার্যবিবরণী, সৌদি আরব, রাবেতাতুল আলাম আল-ইসলামি, ১৯৭৭ সাল।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌حقوق الإنسان الاجتماعية

‌‌مدخل

…

حقوق الإنسان الاجتماعية:

1- يمكن تلخيصها بما أجملته نصوص الشريعة الإسلامية فيما يلي:

أ- كرامة الإنسان عملا بقوله تعالى: {وَلَقَدْ كَرَّمْنَا بَنِي آَدَمَ} [الإسراء: 70] .

ب- عدم التمييز في الكرامة وفي الحقوق الأساسية ما بين إنسان وآخر، بسبب العراق، أو الجنس، أو النسب، أو المال؛ عملا بما جاء في القرآن الكريم: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} [الحجرات: 13] ، وعملا بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا فضل لعربي على عجمي، ولا أبيض على أسود إلا بالتقوى"، وقوله أيضا: "النساء شقائق الرجال" 1.

ج- النداء بوحدة الأسرة الإنسانية، والإعلان بأن خير بني الإنسان عند الله هو أكثرهم نفعا لهذه الأسرة؛ عملا بقول رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الخلق كلهم عيال الله، وأحبهم إليه أنفعهم لعياله".

د- حرية الإنسان في عقيدته، وعدم جواز ممارسة الإكراه فيها؛ عملا بما جاء في القرآن الكريم: {لَا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ} [البقرة: 256] ، وعملا بقوله أيضا: {أَفَأَنْتَ تُكْرِهُ النَّاسَ حَتَّى يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ} [يونس: 99] مستنكرا استعمال الضغط على الحريات.

هـ- حرمة وحصانة البيت المسلم، وحماية حرية الإنسان في منزله؛ عملا بقوله تعالى: {لَا تَدْخُلُوا بُيُوتًا غَيْرَ بُيُوتِكُمْ حَتَّى تَسْتَأْنِسُوا} [النور: 27] .

و فرض الحجر الصحي في حالات الأمراض المعدية منذ أربعة عشر قرنا، وذلك مبالغة في حماية الصحة العامة؛ عملا بقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا سمعتم

--------------------------------------------

1 أبو داود، الطهارة، ص94.
‌‌সামাজিক মানবাধিকার

‌‌ভূমিকা

…

সামাজিক মানবাধিকার:

১- ইসলামি শরিয়তের ভাষ্যসমূহে যা সংক্ষেপে বর্ণিত হয়েছে, তার ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে সারসংক্ষেপ করা যেতে পারে:

ক- মানুষের মর্যাদা, মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {আর আমি তো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি} [আল-ইসরা: ৭০]।

খ- মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের বর্ণ, লিঙ্গ, বংশ বা সম্পদের কারণে কোনো বৈষম্য না করা; পবিত্র কুরআনের এই বাণীর আলোকে: {নিশ্চয় আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান} [আল-হুজুরাত: ১৩], এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর আলোকে: "অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই, তবে তাকওয়া ছাড়া", এবং তাঁর এই বাণীও: "নারীরা পুরুষদেরই সহোদরা" ১।

গ- মানব পরিবারের ঐক্যের আহ্বান জানানো এবং ঘোষণা করা যে, আল্লাহর নিকট মানবজাতির মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে-ই, যে এই পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর আলোকে: "সমস্ত সৃষ্টি আল্লাহর পরিজনস্বরূপ, আর আল্লাহর নিকট তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় সে-ই, যে তাঁর পরিজনের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী"।

ঘ- মানুষের আকিদা বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং এতে জবরদস্তি করা বৈধ না হওয়া; পবিত্র কুরআনের এই বাণীর আলোকে: {দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই} [আল-বাকারাহ: ২৫৬], এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {তবে কি আপনি মানুষের ওপর জবরদস্তি করবেন যাতে তারা মুমিন হয়ে যায়?} [ইউনুস: ৯৯], যেখানে স্বাধীনতার ওপর চাপ প্রয়োগের নিন্দা করা হয়েছে।

ঙ- মুসলিম গৃহের পবিত্রতা ও অলঙ্ঘনীয়তা এবং নিজ গৃহে মানুষের স্বাধীনতা রক্ষা করা; মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কোনো ঘরে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি গ্রহণ করো} [আন-নূর: ২৭]।

চ- চৌদ্দশ বছর আগে থেকেই সংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে সঙ্গনিরোধ বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর আলোকে: "যখন তোমরা শুনবে..."

--------------------------------------------

১ আবু দাউদ, আত-তাহারাহ, পৃ. ৯৪।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৫)
بالطاعون بأرض فلا تدخلوا عليها، وإذا وقع وأنتم بأرض فلا تخرجوا منها" 1.

2- ولكن عند الحديث عن الحقوق الاجتماعية سنجد أن الكلام عن المرأة يشكل حيزا مهما؛ لما تحتله مكانة المرأة من أهمية ذات دلالة في المجتمع، ولما أثاره وضعها في الإسلام من تقولات وسوء فهم.

ولذلك نقول: أعلن الإسلام أن النساء شقائق الرجال، وأن لهن من الحقوق مثل ما عليهن، إلا ما جعل للرجال من حق في رئاسة الأسرة وتحمل مسئولياتها ولما بني عليه تكون الرجال. وما هذا في الحقيقة إلا عبء ثقيل وضع على الرجل.

3- وتدعم هذه الحقوق الإنسانية للمرأة النصوص القرآنية الكثيرة بصراحتها معلنة:

أولا: وحدة خلق الإنسان بنوعيه من نفس واحدة، كما جاء في مطلع سورة النساء: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً} [النساء: 1] .

ثانيا: وحدة ما على النساء من حقوق نحو الرجال وما على الرجال من حقوق نحو النساء، إلا ما جعل مناسبا للطبيعة البيولوجية لكلا الجنسين، وما يترتب على هذا اجتماعيا؛ عملا بقوله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [البقرة: 228] ، وعملا بقوله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} [النساء: 34] . فالقوامة مشروطة بالإنفاق الذي هو سبب التفضيل.

4- ولا يمكن إدراك أبعاد هذه الإنجازات في مجال حقوق المرأة إلا بالإشارة الوجيزة إلى ما كان عليه وضع المرأة قبل الإسلام، وفي عالم حضارات الإنسان في تلك الأزمان.

5- ففي شريعة الرومان، كان العرف الشائع في تلك "الحضارة" عدم الاعتراف بأية حقوق للمرأة.

--------------------------------------------

1 مسند الإمام أحمد.
"...কোনো ভূখণ্ডে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তোমরা সেখানে প্রবেশ করো না; আর যদি তোমাদের অবস্থানরত কোনো ভূখণ্ডে এর প্রাদুর্ভাব ঘটে, তবে সেখান থেকে বেরিয়ে যেয়ো না।" ১.

২- তবে যখন সামাজিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করা হয়, তখন আমরা দেখতে পাই যে নারী বিষয়ক আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে; কারণ সমাজে নারীর অবস্থানের একটি তাৎপর্যপূর্ণ গুরুত্ব রয়েছে এবং ইসলামে তাদের অবস্থান সম্পর্কে যে সকল অপবাদ ও ভুল বুঝাবুঝির অবতারণা করা হয়েছে তার কারণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।

আর এ কারণেই আমরা বলি: ইসলাম ঘোষণা করেছে যে নারীরা পুরুষদের সহোদর তুল্য, এবং নারীদের তেমনই অধিকার রয়েছে যেমন তাদের ওপর দায়িত্ব রয়েছে; কেবল পরিবারের নেতৃত্ব প্রদান এবং এর দায়-দায়িত্ব বহনের ক্ষেত্রে পুরুষদের যে অধিকার প্রদান করা হয়েছে তা ব্যতীত, যা পুরুষদের শারীরিক ও প্রকৃতিগত গঠনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। প্রকৃতপক্ষে এটি পুরুষের ওপর অর্পিত একটি ভারী বোঝা ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩- নারীর এই মানবিক অধিকারগুলোকে বহু কুরআনিক বাণী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সমর্থন ও ঘোষণা করেছে:

প্রথমত: এক প্রাণ থেকে উভয় লিঙ্গের মানুষের সৃষ্টির অভিন্নতা, যেমনটি সূরা আন-নিসা-এর শুরুতে এসেছে: {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন} [আন-নিসা: ১]।

দ্বিতীয়ত: পুরুষদের প্রতি নারীদের এবং নারীদের প্রতি পুরুষদের অধিকারের অভিন্নতা, কেবল উভয় লিঙ্গের জৈবিক প্রকৃতির সাথে যা সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে এবং এর ফলে সামাজিকভাবে যা আবশ্যিক হয় তা ব্যতীত; মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {আর নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদেরও অধিকার রয়েছে} [আল-বাকারা: ২২৮], এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোকে: {পুরুষরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের মধ্য থেকে এককে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে} [আন-নিসা: ৩৪]। সুতরাং এই কর্তৃত্বশীলতা সম্পদ ব্যয়ের ওপর শর্তযুক্ত, যা শ্রেষ্ঠত্বের কারণ।

৪- নারী অধিকারের ক্ষেত্রে এই অর্জনের ব্যাপ্তি অনুধাবন করা সম্ভব নয় যদি না ইসলামের পূর্বে নারীর অবস্থা এবং তৎকালীন মানব সভ্যতার ইতিহাসে তাদের অবস্থান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করা হয়।

৫- রোমান আইনে, সেই "সভ্যতায়" প্রচলিত প্রথা ছিল নারীর কোনো প্রকার অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া।

--------------------------------------------

১. মুসনাদে ইমাম আহমাদ।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৬)
كما أن وضعها "بسبب جنسها" جعلها تحت الوصاية الدائمة، لا فرق في المرأة بين صغرها أو بلوغها سن الرشد، فهي تحت وصاية الأب أولا، والزوج ثانيا، ولا تملك أية حرية في تصرفاتها، وهي في ذلك -في الجملة- موروثة لا وارثة1.

والنتيجة، فالمرأة الرومانية كانت شيئا من الأشياء التابعة للرجل؛ وهي لذلك فاقدة لكل شخصيتها، ومحرومة من كل اعتبار لحرية تصرفاتها.

6- وحتى في أدبيات الإغريق، وهم أصل الحضارة الرومانية -والأوروبية عامة- لا نجد ذكرا حسنا للنساء، سواء في جمهورية أفلاطون أو محاوراته، أو في كتابات وآثار تلاميذه الفلسفية وعلى رأسهم أرسطو.

بل هن رمز للخراب والدمار، كما صورتها الأقاصيص التي دارت حول حرب طروادة، فهيلين هي السبب في إضرام نيران تلك الحرب التي أحرقت الناس والبلاد، أو هي عنوان على القسوة والانتقام والاضطراب، فنفوسهن تمتلئ بالنزوع الغرائزي، فهن لسن كالرجال بحكمتهم وإخلاصهم للواجب.

هكذا نقرأ عن كلتمنسترا وألكترا وأنتيجون في سائر أساطيرهم الممسرحة ليوربيس وأسخيلوس وسوفكليس بشكل عام2.

وكان ديموستين خطيب اليونان الشهير يقسم النساء إلى قسمين:

قسم هن الخليلات للعناية براحة الرجال، وقسم هن الزوجات ليلدن الأولاد الشرعيين.

7- وفي العصور الوسطى ثارت الشكوك حول إنسانية المرأة وطبيعة روحها، وقد عقدت مؤتمرات في روما للبحث حول المرأة وروحها، وهل تتمتع بروح كروح الرجال، أو أن روحها كروح الحيوانات مثل الثعابين والكلاب؟ بل إن أحد هذه الاجتماعات في روما قرر أنه لا روح لها، ولن تبعث بالتالي.

8- أما في قبائل جزيرة العرب الجاهلية، فقد وصلت المرأة إلى وضعية

--------------------------------------------

1 الإسلام وقضايا المرأة المعاصرة، البهي الخولي، ص13.

2 الأدب الإغريقي، أحمد عثمان، عالم المعرفة، الكويت.
একইভাবে, কেবল তার "লিঙ্গীয় পরিচয়ের কারণে" তার অবস্থান তাকে স্থায়ী অভিভাবকত্বের অধীনে আবদ্ধ করেছিল। নারীর শৈশব কিংবা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া—উভয় অবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না; সে প্রথমে পিতার এবং পরবর্তীতে স্বামীর অভিভাবকত্বের অধীনে থাকত। নিজের কর্মকাণ্ডে তার কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সে ক্ষেত্রে সে ছিল—সামগ্রিকভাবে—উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ, নিজে কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না১।

পরিণামে, রোমান নারী ছিল পুরুষের অনুগামী বা অধীনস্থ বস্তুতুল্য; ফলে সে তার পূর্ণ ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছিল এবং তার কাজের স্বাধীনতার সকল মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল।

৬- এমনকি গ্রিক সাহিত্যেও—যা রোমান এবং সাধারণভাবে ইউরোপীয় সভ্যতার মূল উৎস—নারীদের সম্পর্কে কোনো ইতিবাচক আলোচনা পাওয়া যায় না; তা প্লেটোর 'রিপাবলিক' কিংবা তার সংলাপগুলোতেই হোক, অথবা তার শিষ্যদের—যাদের মধ্যে অ্যারিস্টটল প্রধান—দার্শনিক রচনা ও নিদর্শনে হোক।

বরং তারা ছিল ধ্বংস ও বিনাশের প্রতীক, যেমনটি ট্রয় যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রচলিত উপকথাগুলোতে চিত্রিত হয়েছে। হেলেনই ছিলেন সেই যুদ্ধের দাবানল প্রজ্বলিত করার কারণ, যা মানুষ ও জনপদকে ভস্মীভূত করেছিল। অথবা তারা ছিল নিষ্ঠুরতা, প্রতিহিংসা ও অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি; তাদের অন্তর ছিল প্রবৃত্তিগত তাড়নায় পূর্ণ, তারা পুরুষের মতো প্রজ্ঞাবান কিংবা কর্তব্যের প্রতি একনিষ্ঠ ছিল না।

এভাবেই আমরা ইউরিপিডিস, এসকাইলাস এবং সোফোক্লিসের মঞ্চস্থ পৌরাণিক নাটকগুলোতে ক্লাইটেমনেস্ট্রা, ইলেক্ট্রা এবং অ্যান্টিগোনে সম্পর্কে সাধারণভাবে জানতে পারি২।

বিখ্যাত গ্রিক বাগ্মী ডেমোস্থেনিস নারীদের দুটি ভাগে বিভক্ত করতেন:

এক ভাগ হলো উপপত্নী, যারা পুরুষদের আরাম-আয়েশের দেখভাল করবে; আর অন্য ভাগ হলো স্ত্রী, যারা বৈধ সন্তান জন্ম দেবে।

৭- মধ্যযুগে নারীর মানবিক সত্তা এবং তার আত্মার প্রকৃতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। নারীর আত্মা সম্পর্কে এবং তার কি পুরুষের ন্যায় আত্মা আছে, নাকি সাপ ও কুকুরের মতো ইতর প্রাণীর ন্যায় আত্মা—তা নিয়ে গবেষণার জন্য রোমে সম্মেলন আহ্বান করা হয়েছিল। এমনকি রোমের এমনই এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, নারীর কোনো আত্মা নেই এবং ফলস্বরূপ সে পরকালে পুনরুত্থিত হবে না।

৮- পক্ষান্তরে জাহেলি যুগের আরব উপদ্বীপের গোত্রগুলোতে নারী এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছিল—

--------------------------------------------

১ আল-ইসলাম ওয়া কাদায়া আল-মারআ আল-মুয়াসিরাহ, আল-বাহী আল-খুলি, পৃষ্ঠা ১৩।

২ আল-আদাব আল-ইগরিকি, আহমাদ উসমান, আলামুল মারিফা, কুয়েত।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৭)
مزرية؛ فقد كانت عارا يحرص أولياؤها الذكور على التخلص منها ووأدها حية ساعة ولادتها، وذلك بسبب الفقر، والخوف من السمعة الاجتماعية السيئة والمترتبة على انحرافها.

ولقد وقفت دعوة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم عند ظهورها ضد هذا الوضع الأليم، وجاهر القرآن الكريم به في آياته المتعددة وفي سياقات مختلفة؛ فقال: {وَإِذَا بُشِّرَ أَحَدُهُمْ بِالْأُنْثَى ظَلَّ وَجْهُهُ مُسْوَدًّا وَهُوَ كَظِيمٌ، يَتَوَارَى مِنَ الْقَوْمِ مِنْ سُوءِ مَا بُشِّرَ بِهِ أَيُمْسِكُهُ عَلَى هُونٍ أَمْ يَدُسُّهُ فِي التُّرَابِ أَلَا سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ} [النحل: 58، 59] . وقال أيضا جل من قائل: {وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ، بِأَيِّ ذَنْبٍ قُتِلَتْ} [التكوير: 8، 9] ، وقال مرة أخرى: {وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ خَشْيَةَ إِمْلَاقٍ نَحْنُ نَرْزُقُهُمْ وَإِيَّاكُمْ إِنَّ قَتْلَهُمْ كَانَ خِطْئًا كَبِيرًا} [الإسراء: 31] .

9- أما الإسلام فقد جاء محرما وأد البنات، ومعطيا للمرأة كرامتها وإنسانيتها وكامل أهليتها في جميع حقوقها وتصرفاتها، تملكا وبيعا وشراء وزواجا من غير وصاية عليها أو تحديد، خلافا لكثير من أوضاعها التي لا تزال قائمة في بعض قوانين العلم الحديث.

10- فلا فرق في الإسلام بين الذكر والأنثى في الأهلية -حتى في أهلية الولاية لكل منهما على الآخر- فقد جاء في القرآن الكريم قوله تعالى: {وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولَئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ} [التوبة: 71] .

بل ذهب رسول الله صلى الله عليه وسلم في رفع شأن المرأة، فقال: "الجنة تحت أقدام الأمهات" 1.

وسأل سائل رسول الله، صلى الله عليه وسلم: يا رسول الله، من أحق بحسن صحبتي؟ قال: "أمك"، قال: ثم من؟ قال: "أمك"، قال: ثم من؟ قال: "أمك" ، قال: ثم من؟ قال: "أبوك" 2.

--------------------------------------------

1 رواه ابن ماجه والنسائي والحاكم وصححه.

2 رواه البخاري ومسلم.
শোচনীয়; কারণ তারা ছিল এক কলঙ্ক, যাদের থেকে মুক্তি পেতে এবং জন্মের পরপরই জীবন্ত পুঁতে ফেলতে তাদের পুরুষ অভিভাবকরা উদগ্রীব থাকত। এর কারণ ছিল দারিদ্র্য এবং তাদের সম্ভাব্য বিচ্যুতি থেকে উদ্ভূত সামাজিক দুর্নামের ভয়।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দাওয়াত এর সূচনালগ্ন থেকেই এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং পবিত্র কুরআন বিভিন্ন আয়াতে ও বিভিন্ন প্রসঙ্গে এই বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন: {যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডল কালো হয়ে যায় এবং সে অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে। তাকে যে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, তার গ্লানি হেতু সে নিজ কওম থেকে আত্মগোপন করে; সে কি লাঞ্ছনা সহ্য করে তাকে রেখে দেবে, নাকি মাটিতে পুঁতে ফেলবে? সাবধান! তারা যা ফয়সালা করে তা কতই না মন্দ!} [আন-নাহল: ৫৮, ৫৯]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে, কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?} [আত-তাকভীর: ৮, ৯]। তিনি আবারও বলেন: {তোমরা দারিদ্র্যের ভয়ে তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না, আমিই তাদের রিযিক দেই এবং তোমাদেরও। নিশ্চয়ই তাদের হত্যা করা এক মহাপাপ।} [আল-ইসরা: ৩১]।

৯- আর ইসলাম কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলাকে হারাম ঘোষণা করেছে এবং নারীকে তার মর্যাদা, মানবতা এবং তার সকল অধিকার ও কর্মকাণ্ডে পূর্ণ যোগ্যতা দান করেছে; যেমন মালিকানা লাভ, কেনা-বেচা এবং বিবাহ—কোনোরূপ অভিভাবকত্ব বা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই। এটি আধুনিক বিশ্বের কিছু আইনে বিদ্যমান নারীদের অনেক পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

১০- সুতরাং ইসলামে যোগ্যতার ক্ষেত্রে পুরুষ ও নারীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই—এমনকি একে অপরের ওপর অভিভাবকত্বের যোগ্যতার ক্ষেত্রেও। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ এরশাদ করেন: {আর মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু (বা অভিভাবক), তারা সৎকাজের আদেশ দেয় ও অসৎকাজে নিষেধ করে, আর তারা সালাত কায়েম করে ও জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে; তাদের প্রতি আল্লাহ শীঘ্রই দয়া করবেন।} [আত-তাওবাহ: ৭১]।

বরং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীর মর্যাদা বৃদ্ধিতে আরও উচ্চে গিয়ে বলেছেন: "মায়ের পায়ের নিচে জান্নাত।" ১

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, আমার পক্ষ থেকে সুন্দর সাহচর্য পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন: "তোমার মা", সে বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: "তোমার মা", সে বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: "তোমার মা", সে বলল: তারপর কে? তিনি বললেন: "তোমার বাবা।" ২

--------------------------------------------

১ ইবনে মাজাহ, নাসায়ি এবং হাকিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।

২ বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৮)
ولكن هناك بعض الملاحظات التي يثيرها المتشككون على مساواة المرأة في الحقوق للرجال في شريعة الإسلام، وهذه الشبه تنحصر في الأمور الآتية:

أولا: عدم مساواة المرأة للرجل في نصاب الشهادة.

ثانيا: عدم مساواة المرأة للرجل في الميراث.

ثالثا: استئثار الرجل بإيقاع الطلاق.

رابعا: تعدد الزوجات.

خامسا: الحجاب.

12- أما فيما يتعلق بعدم مساواة المرأة للرجل في نصاب الشهادة عملا بما جاء في القرآن الكريم: {وَاسْتَشْهِدُوا شَهِيدَيْنِ مِنْ رِجَالِكُمْ فَإِنْ لَمْ يَكُونَا رَجُلَيْنِ فَرَجُلٌ وَامْرَأَتَانِ مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ أَنْ تَضِلَّ إِحْدَاهُمَا فَتُذَكِّرَ إِحْدَاهُمَا الْأُخْرَى} [البقرة: 282] ، فليس ذلك من موضوع حقوق الإنسان، وإنما هو من موضوع الأعباء التي يدعى لتحملها الإنسان ويتوجب عليه أداؤها، وعملا بقوله تعالى: {وَلَا تَكْتُمُوا الشَّهَادَةَ وَمَنْ يَكْتُمْهَا فَإِنَّهُ آَثِمٌ قَلْبُهُ} [البقرة: 283] .

وفي كل الأحوال، فقد قبلت أحكام الإسلام شهادة المرأة في كل الأمور، والتي قد يعظم أحدها ويصبح ذا أثر كبير.

13- أما فيما يتعلق بعدم مساواة المرأة للرجل في الميراث فهو زعم يناقض المبدأ الأصلي في المساواة الثابت في القرآن فيما بين حقوق النساء والرجال، في مثل قوله تعالى: {وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ} [البقرة: 228] أي: من الحقوق.

14- فالقول بعدم مساواة المرأة للرجل اعتمادا على ما جاء في القرآن الكريم من الجهر بأن للذكر مثل حظ الأنثيين، فهذا ليس مطلقا في كل الأحوال، وإنما يصح في بعض الحالات لأسباب تتعلق بالعدل بين الجنسين، وقد نص القرآن العزيز على:

أولا: المساواة في الإرث بين الأم من ولدها المتوفى، إذا كان للمتوفى فروع ذكور.
তবে ইসলামি শরিয়তে নারী ও পুরুষের অধিকারের সমতার বিষয়ে সংশয়বাদীরা কিছু পর্যবেক্ষণ উত্থাপন করেছেন এবং এই সংশয়গুলো নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ:

প্রথমত: সাক্ষ্যের নিসাব বা সংখ্যার ক্ষেত্রে (نصاب الشهادة) নারী ও পুরুষের অসমতা।

দ্বিতীয়ত: উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসমতা।

তৃতীয়ত: তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষের একচ্ছত্র আধিপত্য।

চতুর্থত: বহুবিবাহ।

পঞ্চমত: হিজাব বা পর্দা।

12- আর পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী সাক্ষ্যের নিসাবের (نصاب الشهادة) ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসমতার বিষয়ে যা বলা হয়েছে: {তোমরা তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুজন সাক্ষী গ্রহণ করো; যদি দুজন পুরুষ না পাওয়া যায়, তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারী, যাদের সাক্ষ্যের ব্যাপারে তোমরা সন্তুষ্ট, যাতে তাদের একজন ভুল করলে অপরজন তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে পারে} [আল-বাকারা: ২৮২]; এটি আসলে মানবাধিকারের কোনো বিষয় নয়, বরং এটি সেই দায়িত্ব বা বোঝার অন্তর্ভুক্ত যা বহন করার জন্য মানুষকে আহ্বান জানানো হয় এবং তা পালন করা তার জন্য আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। আল্লাহ তায়ালার বাণী অনুযায়ী: {আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না; যে ব্যক্তি তা গোপন করে, তার অন্তর অবশ্যই পাপী} [আল-বাকারা: ২৮৩]।

সর্বাবস্থায়, ইসলামের বিধানসমূহ সমস্ত বিষয়ে নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে, যার কোনো কোনোটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ এবং সুদূরপ্রসারী প্রভাব সম্পন্ন হতে পারে।

13- আর উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের অসমতার যে দাবি তোলা হয়, তা কুরআনে নারী ও পুরুষের অধিকারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠিত সমতার মূল নীতির পরিপন্থী। যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণী: {এবং নারীদেরও তেমনি ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন পুরুষদের তাদের ওপর রয়েছে} [আল-বাকারা: ২২৮] অর্থাৎ: অধিকারের ক্ষেত্রে।

14- সুতরাং পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত "একজন পুরুষের অংশ দুজন নারীর অংশের সমান" এই বিধানের ওপর ভিত্তি করে নারী ও পুরুষের অসমতার কথা বলাটা সর্বাবস্থায় ঢালাওভাবে সত্য নয়। বরং এটি শুধুমাত্র কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে উভয় লিঙ্গের মধ্যে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার তাগিদে প্রযোজ্য হয়। পবিত্র কুরআন নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ করে দিয়েছে:

প্রথমত: মৃত সন্তানের সম্পদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মা ও বাবার সমতা, যদি মৃত ব্যক্তির পুরুষ বংশধর থাকে।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ২৯)
ثانيا: نص التشريع الإسلامي أيضا على المساواة في الإرث بين الأخت والأخ لأم، إذا لم يكن لأخيهما المتوفى أصل مذكر ولا فرع وارث.

15- ثالثا: يعدل عن هذا المبدأ "المساواة في الإرث بين الجنسين" أحيانا؛ تحقيقا للعدالة، وفي حالات نظمها الشرع وحددها كما يلي:

أ- في حال وجود أولاد للمتوفى، فتبرز قاعدة: {لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} [النساء: 11] ، وتشبهها حالات مماثلة قعّدها الفقهاء.

ب- في حالة الزوجين، فالزوج يرث عن زوجته ضعف ما ترثه هي منه1.

أما العلة في ذلك -والله أعلم- فهي مسئولية الإنفاق عند الاقتضاء، وهذه المسئولية غالبا تقع على عاتق الرجل ووفقا للقاعدة الشرعية: "الغنم بالغرم"، وهذا ينطبق على كل حالات التمييز الاقتصادي الذي قد يلاحظ في حالتي الميراث السابقتين وأمثالهما من حالات التعصيب.

ومن قبل ومن بعد أية تعليلات، نورد قوله تعالى الحكيم العليم: {آَبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا} [النساء: 11] .

16- وأما استئثار الرجل بإيقاع الطلاق وقصر هذا الحق عليه دون المرأة، فهذا يعود إلى طبيعة الزواج في الإسلام لكونه عقدا مبنيا على التراضي العلني، ويقوم على العطاء المتبادل وفقا للأحكام الشرعية2.

ولكن المرأة امتازت على الرجل باستحقاق المهر لها؛ وبالتالي فإن فسخ العقد "إيقاع الطلاق" من قبلها سيعد إضرارا بالطرف الآخر، ومن هنا كان تضييق هذا الفعل "الطلاق"3.

17- وأما تعدد الزوجات فقد كان بابا مفتوحا على مصراعيه قبل الإسلام،

--------------------------------------------

1 من كتاب "أحكام التركات والمواريث"، للإمام محمد أبي زهرة.

2 انظر أيضا: محمد محيي الدين عبد الحميد، "الأحوال الشخصية في الشريعة".

3 انظر أيضا: قواعد الطلاق وحدوده في المدونة الكبرى.
দ্বিতীয়ত: ইসলামী শরীয়াহর বিধানে বৈপিত্রেয় ভাই ও বোনের মধ্যে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি তাদের মৃত ভাইয়ের কোনো পুরুষ মূল কিংবা কোনো উত্তরাধিকারী শাখা না থাকে।

১৫- তৃতীয়ত: ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কখনও কখনও এই "উভয় লিঙ্গের মধ্যে উত্তরাধিকারের সমতা"র নীতি থেকে সরে আসা হয়; যা শরীয়াহর বিধিবদ্ধ ও নির্ধারিত ক্ষেত্রসমূহে নিম্নরূপ:

ক- মৃত ব্যক্তির সন্তানাদি বিদ্যমান থাকলে এই নীতিটি কার্যকর হয়: {এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান} [আন-নিসা: ১১], এবং ফকিহগণ অনুরূপ আরও কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন।

খ- স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে, স্বামী তার স্ত্রীর থেকে যা উত্তরাধিকার হিসেবে পায় তা স্ত্রী স্বামীর থেকে যা পায় তার দ্বিগুণ।১

আর এর কারণ (علة) —আর আল্লাহই ভালো জানেন— হলো প্রয়োজনে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব; এই দায়িত্ব সাধারণত পুরুষের ওপর বর্তায় এবং এটি শরয়ী মূলনীতি: "লাভ ক্ষতির দায়বদ্ধতার সাথে সম্পৃক্ত" অনুযায়ী পরিচালিত হয়। উত্তরাধিকারের পূর্বোক্ত দুটি ক্ষেত্র এবং আসাবা হওয়ার অনুরূপ অন্যান্য ক্ষেত্রে যে অর্থনৈতিক পার্থক্যের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়, তা এই নীতিরই অন্তর্ভুক্ত।

যেকোনো প্রকার যৌক্তিক ব্যাখ্যার পূর্বে ও পরে আমরা প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাত মহান আল্লাহর বাণী উল্লেখ করছি: {তোমাদের পিতা ও সন্তানদের মধ্যে কে তোমাদের উপকারে অধিক নিকটবর্তী তা তোমরা জানো না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত এক বিধান; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ ও প্রজ্ঞাময়।} [আন-নিসা: ১১]।

১৬- আর তালাক প্রদানের ক্ষেত্রে পুরুষের একচ্ছত্র অধিকার এবং নারীর পরিবর্তে কেবল পুরুষের ওপর এই অধিকার ন্যস্ত থাকা ইসলামের বিবাহের প্রকৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট। কেননা এটি প্রকাশ্য সম্মতির ভিত্তিতে সম্পাদিত একটি চুক্তি এবং শরয়ী বিধান অনুযায়ী পারস্পরিক আদান-প্রদানের ওপর প্রতিষ্ঠিত।২

তবে নারী মোহর পাওয়ার অধিকার লাভ করার মাধ্যমে পুরুষের চেয়ে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে; ফলে তার পক্ষ থেকে চুক্তি বাতিল করা অর্থাৎ "তালাক প্রদান" করা অপর পক্ষের জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ কারণেই এই তালাক প্রদানের বিষয়টিকে সংকুচিত করা হয়েছে।৩

১৭- আর বহুবিবাহের বিষয়টি প্রাক-ইসলামী যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল,

--------------------------------------------

১. ইমাম মুহাম্মদ আবু জাহরা রচিত "আহকামুত তারাকাত ওয়াল মাওয়ারিছ" গ্রন্থ থেকে।

২. আরও দেখুন: মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদ, "আল-আহওয়ালুশ শাখসিয়্যাহ ফিশ শরীয়াহ"।

৩. আরও দেখুন: আল-মুদাওয়ানাতুল কুবরা-তে তালাকের নিয়ম ও সীমারেখা।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومنذ الديانة اليهودية، فقد كان حقا مباحا ولا زال في العصر الحاضر، ولكن بصور غير شرعية ولاإنسانية؛ لأنها تضر بحقوق المرأة الاجتماعية هي وأولادها.

أما إصلاح الإسلام الاجتماعي لهذا الوضع، فقد جعله محددا بأربع زوجات؛ لتكون العلاقات مبنية على الوضوح والحلال لضمان مصلحة الزوجة والأبناء، وكما قيد هذا الحق للرجال أيضا بضرورة العدالة بين الزوجات في الحقوق، وجعل للزوجة في ذلك حق مراجعة القضاء عند عدم العدل:

يقول تعالى: {وَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تُقْسِطُوا فِي الْيَتَامَى فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَرُبَاعَ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا تَعْدِلُوا فَوَاحِدَةً} [النساء: 3] .

18- أما موضوع الحجاب فهو قد يبدو انتقاصا من حق المرأة عند البعض، الذي يرى أن من الحق للمرأة ارتداء ما تبغي، ونقول: إن هذا الأمر متعلق بأمرين:

أولا: "تحريم العري" على كل من الرجال والنساء.

ثانيا: "فرض الحشمة والحياء" في الظهور بين الناس على كلا الجنسين حماية للأخلاق العامة. وهذا ما ميز الإنسان على الحيوان باصطناع اللباس حماية لهيبته؛ ولذا كان ستر العورة أولى خطوات الإنسان المتحضر تمييزا لنفسه عن الحيوانية المتوحشة.

وقد أقر الإسلام هذه المفاهيم الحضارية، حيث ورد في القرآن الكريم قوله تعالى: {يَا بَنِي آَدَمَ قَدْ أَنْزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآَتِكُمْ وَرِيشًا وَلِبَاسُ التَّقْوَى ذَلِكَ خَيْرٌ} [الأعراف: 26] .

ومن ثم حدد محل العورة للرجل والمرأة، والحدود الدنيا في لباسهما في الصلاة والمعيشة اليومية1.

فليس من الإنسانية في شيء أن تعرض المرأة جسدها -ولو بإرادتها- وتختزل نفسها من إنسان خلقه الله وكرمه، إلى جسد يقضي فيه الشهوانيون

--------------------------------------------

1 وراجع أيضا: "روح الدين الإسلامي"، لعفيف عبد الفتاح طبارة.
ইহুদি ধর্মের সময় থেকেই এটি একটি বৈধ (مباح) অধিকার ছিল এবং বর্তমান যুগেও তা বিদ্যমান রয়েছে, কিন্তু বর্তমানে তা অবৈধ (غير شرعية) ও অমানবিক পন্থায় চর্চিত হচ্ছে; কেননা তা নারী ও তার সন্তানদের সামাজিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এই পরিস্থিতির সামাজিক সংস্কারে ইসলাম একে চারজন স্ত্রীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে; যাতে করে পারস্পরিক সম্পর্কগুলো স্পষ্টতা ও হালাল (حلال) পন্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং স্ত্রী ও সন্তানদের স্বার্থ রক্ষিত হয়। সেই সাথে ইসলাম পুরুষদের এই অধিকারকে স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের শর্তে সীমাবদ্ধ করেছে এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া গেলে স্ত্রীর জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রেখেছে:

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, এতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না, তবে নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দমতো দুই, তিন বা চারজনকে বিয়ে করো। আর যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে, তোমরা ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনকে (বিয়ে করো)} [আন-নিসা: ৩]।

১৮- হিজাবের বিষয়টি কারও কারও কাছে নারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করা বলে মনে হতে পারে, যারা মনে করেন যে নারীর যা ইচ্ছা তা পরিধান করার অধিকার রয়েছে। আমরা বলব: এই বিষয়টি দুটি বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত:

প্রথমত: নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য 'উলঙ্গপনা হারাম (تحريم)' করা।

দ্বিতীয়ত: জনসমক্ষে আসার ক্ষেত্রে সামাজিক নৈতিকতা রক্ষার্থে উভয় লিঙ্গের জন্য 'শালীনতা ও লজ্জা বজায় রাখা ফরজ (فرض)' করা। এটিই মানুষকে পশুর থেকে পৃথক করেছে, যেখানে মানুষ তার গাম্ভীর্য ও মর্যাদা রক্ষার জন্য পোশাক তৈরি করেছে; তাই লজ্জাস্থান বা সতর (عورة) আবৃত করা হলো বন্য পশুত্ব থেকে নিজেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে একজন সভ্য মানুষের প্রথম পদক্ষেপ।

ইসলাম এই সভ্য ধারণাগুলোকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যেমনটি পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের জন্য পোশাক অবতীর্ণ করেছি যা তোমাদের লজ্জাস্থান (عورة) আবৃত করে এবং যা সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে; আর তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম} [আল-আরাফ: ২৬]।

অতঃপর পুরুষ ও নারীর সতর (عورة)-এর সীমা এবং সালাত ও দৈনন্দিন জীবনে তাদের পোশাকের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

নারীর জন্য তার দেহ প্রদর্শন করা মোটেও মানবিক কোনো বিষয় নয়—এমনকি তা নিজের ইচ্ছায় হলেও—এর মাধ্যমে সে নিজেকে আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে প্রাপ্ত উচ্চ মর্যাদা থেকে নামিয়ে কেবল একটি দেহে পরিণত করে, যা কামুকদের লালসা মেটানোর বস্তুতে পরিণত হয়।

--------------------------------------------

১ আরও দেখুন: আফিফ আব্দুল ফাত্তাহ তাব্বারা রচিত "রুহুদ দিনিল ইসলামি"।
(খণ্ড: ১) হুকুুকুল ইনসান ফিল ইসলাম লিজামালিল লাইল (পৃষ্ঠা: ৩১)
وطرهم، وليت شعري لهذا قمة الاستعباد والاسترقاق.

19- والقرآن الكريم يجعل للمرأة حق المشاركة وإبداء الرأي في رضاع ابنها وفطامه وتربيته: {فَإِنْ أَرَادَا فِصَالا عَنْ تَرَاضٍ مِنْهُمَا وَتَشَاوُرٍ فَلا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا} [البقرة: 233] .

والسنة تجعل للأم رأيا في زواج بناتها: "آمروا النساء في بناتكم" وتجعل الرأي الأخير للبنت نفسها: "البكر تستأذن وإذنها صمتها، والثيب أحق بنفسها" 1.

هذا بالإضافة إلى مظاهر الاستقلالية الاقتصادية التي تتمتع بها المرأة في التشريع الإسلامي.

20- ولو انتقلنا إلى القانون المدني الفرنسي "قانون نابليون" في الفصل "271" وجدناه يقرر: أن المرأة المتزوجة لا يجوز لها أن تهب، ولا تنقل ملكيتها، ولا أن ترهن، ولا أن تملك بعوض أو بغيره بدون اشتراك زوجها في العقد، وموافقته عليه موافقة كتابية.

وهذا مما يدل على أن المرأة افتقدت أهليتها وشخصيتها واستقلاليتها حتى في أكثر التشريعات تقدما، بل وفقدت في العرف الجاري اسمها ونسبها العائلي الخاص، وصارت من متعلقات زوجها! فيما ظل التاريخ يذكر لنا عائشة بنت أبي بكر، وحفصة بنت عمر، وغيرهما من أمهات المؤمنين -رضوان الله عليهن- مع اقترانهن بخير الناس.

21- بل يرى البلاذري في "فتوح البلدان" أن الشفاء العدوية كانت كاتبة في الجاهلية، وكانت تعلم الفتيات، وأن حفصة بنت عمر تعلمت منها القراءة والكتابة، قبل زواجها بالرسول صلى الله عليه وسلم فلما تزوجها طلب إلى الشفاء أن تتابع تعليمها وتثقيفها، وأن تعلمها تحسين الخط وتزيينه كما علمتها الكتابة.

--------------------------------------------

1 أبو داود والنسائي.
তাদের কামনা-বাসনা পূরণ; আর আফসোস! এটিই হলো দাসত্ব ও পরাধীনতার চরম শিখর।

১৯- আর পবিত্র কুরআন নারীকে তার সন্তানের দুগ্ধপান, স্তন্যদান ত্যাগ এবং লালন-পালনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের অধিকার প্রদান করেছে: {অতঃপর যদি তারা উভয়ের সন্তুষ্টি ও পরামর্শের মাধ্যমে (দুগ্ধপান) ছাড়াতে চায়, তবে তাদের কোনো গুনাহ নেই} [আল-বাকারাহ: ২৩৩]।

আর সুন্নাহ কন্যাদের বিয়ের ব্যাপারে মায়ের মতামতের গুরুত্ব প্রদান করেছে: "তোমরা তোমাদের কন্যাদের ব্যাপারে নারীদের (মায়েদের) সাথে পরামর্শ করো।" এবং সর্বশেষ সিদ্ধান্তের অধিকার খোদ কন্যার ওপর ন্যাস্ত করেছে: "কুমারী কন্যার অনুমতি গ্রহণ করতে হবে এবং তার নীরবতাই হলো তার সম্মতি; আর অকুমারী নারী তার নিজ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অধিক হকদার।" ১

এটি ইসলামী শরয়ি বিধানে নারী যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা উপভোগ করে, তার অতিরিক্ত একটি দিক।

২০- আমরা যদি ফরাসি দেওয়ানি আইন "নেপোলিয়ন কোড"-এর ২৭১ অনুচ্ছেদটি দেখি, তবে দেখব সেখানে সাব্যস্ত করা হয়েছে যে: বিবাহিত নারীর জন্য কোনো কিছু দান করা, মালিকানা হস্তান্তর করা, বন্ধক রাখা কিংবা বিনিময়ে বা বিনিময় ছাড়া কোনো কিছুর মালিক হওয়া বৈধ নয়—যতক্ষণ না তার স্বামী উক্ত চুক্তিতে অংশগ্রহণ করে এবং তাতে লিখিতভাবে সম্মতি প্রদান করে।

এটি একথাই প্রমাণ করে যে, এমনকি সবচেয়ে প্রগতিশীল বলে দাবি করা আইনি ব্যবস্থাতেও নারী তার যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব এবং স্বাধীনতা হারিয়ে ফেলেছিল। এমনকি প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সে তার নিজস্ব নাম এবং পারিবারিক পরিচয়ও হারিয়ে ফেলে স্বামীর একটি অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছিল! অথচ ইতিহাস আমাদের সামনে আয়েশা বিনতে আবু বকর, হাফসা বিনতে উমর এবং অন্যান্য উম্মুল মুমিনিনদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—শ্রেষ্ঠতম মানুষের জীবনসঙ্গিনী হওয়া সত্ত্বেও যারা নিজস্ব পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন।

২১- বরং আল-বালাজুরি তার "ফুতুহুল বুলদান" গ্রন্থে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, শিফা আল-আদাভিয়্যাহ জাহেলি যুগেও লিখতে জানতেন এবং তিনি বালিকাদের শিক্ষা দিতেন। হাফসা বিনতে উমর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে বিয়ের পূর্বেই তাঁর কাছ থেকে পড়া ও লেখা শিখেছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বিয়ে করেন, তখন তিনি শিফাকে অনুরোধ করেন যেন তিনি হাফসার শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চা অব্যাহত রাখেন এবং তাকে লিখনশৈলী সুন্দর ও সুশোভিত করার শিক্ষা দেন, যেমনটি তিনি ইতিপূর্বে তাকে লিখতে শিখিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১ আবু দাউদ ও নাসায়ি।