(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: -)
معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات القسم: العقيدة
الكتاب: معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى 1419هـ/1999م
عدد الصفحات: 125
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নাম ও গুণাবলির তাওহীদে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা বিভাগ: আকিদা
বই: নাম ও গুণাবলির তাওহীদে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা
লেখক: মুহাম্মদ বিন খলিফা বিন আলি আত-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: প্রথম ১৪১৯ হিজরি/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৫
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات
تأليف: د. محمد بن خليفة التميمي
ال
مقدمةإن الحمد الله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونتوب إليه ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الأسماء الحسنى والصفات العلى.
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وأمينة على وحيه، أرسله بالهدى ودين الحق، فبلغ الرسالة وأدى الأمانة، ونصح الأمة وجاهد في الله حق جهاده، وعبد ربه حتى أتاه اليقين من ربه، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليمًا.
أما بعد: فهذه الدراسة الأولى من سلسلة " دراسات في مباحث توحيد الأسماء والصفات " وهي بعنوان: " معتقد أهل السنة والجماعة في توحيد الأسماء والصفات ".
وسيتبعها -بإذن الله- الدراسات التالية:
الدراسة الثانية: "معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله الحسنى".
الدراسة الثالثة: "معتقد أهل السنة والجماعة في صفات الله العلى".
الدراسة الرابعة: "قواعد أهل السنة والجماعة في نصوص الأسماء والصفات".
الدراسة الخامسة: "مقالة التعطيل وموقف أهل السنة والجماعة منها".
আসমা ওয়া সিফাতের তাওহিদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ
রচনায়: ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমি
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা তাঁর কাছে তাওবা করি এবং আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁরই জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলি।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল এবং তাঁর ওহীর আমানতদার। আল্লাহ তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। আর তিনি তাঁর রবের ইবাদত করেছেন যতক্ষণ না তাঁর রবের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে সুনিশ্চিত মৃত্যু এসেছে। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
অতঃপর: এটি "আসমা ওয়া সিফাতের তাওহিদ সংক্রান্ত গবেষণা" সিরিজের প্রথম গবেষণা, যার শিরোনাম: "আসমা ওয়া সিফাতের তাওহিদে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ"।
এবং আল্লাহর ইচ্ছায় এর পরে নিম্নোক্ত গবেষণাসমূহ আসবে:
দ্বিতীয় গবেষণা: "আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ"।
তৃতীয় গবেষণা: "আল্লাহর সুউচ্চ গুণাবলির ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদাহ"।
চতুর্থ গবেষণা: "আসমা ওয়া সিফাতের নসসমূহের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহ"।
পঞ্চম গবেষণা: "তাতিল (গুণাবলি অস্বীকার) মতবাদ এবং এর বিপরীতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অবস্থান"।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
الدراسة السادسة: "مقالة التشبيه وموقف أهل السنة والجماعة منها ".
ومقصودي من إصدار هذه السلسلة خدمة الجوانب التالية:
ا- بيان معتقد أهل السنة والجماعة في باب أسماء الله وصفاته بشكل يجمع بين الشمولية والتعمق، وذلك من خلال توضيح المسائل الكلية العامة أولاً، ثم بحث القضايا التفصيلية والمباحث الجزئية للمسائل الكبرى المتعلقة بهذا الباب، فقد خصصت الدراسة الأولى لعرض المسائل العامة التي تبرز وتوضح معتقد أهل السنة والجماعة بشكل عام، ثم خصصت لكل مسألة بعد ذلك دراسة مستقلة تستوفي المواضيع والقضايا التي تتصل بها.
2- جمع شتات المسائل المتعلقة بهذا الباب، وهي مسائل متناثرة ومتفرقة في ثنايا كتب أهل السنة، وقد بذلت جهدي وطاقتي في جمعها وترتيبها وتبويبها وإخراجها في نسق تنتظم معه تلك المسائل، ليسهل بعد ذلك معرفتها والاطلاع. عليها.
3- بيان فساد مقالات أهل الزيغ والضلال الذين خرجوا عن الحق في هذا الباب، وذلك ليعلم وجه بطلان معتقداتهم ومدى انحرافهم وضلالهم، حتى يحذر المسلم من الوقوع في ذلك.
هذا وقد ضمنت الدراسة الأولى الفصول التالية:
الفصل الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات وعلاقته بباقي أنواع التوحيد.
وفيه مبحثان:
المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات.
المبحث الثاني: العلاقة بين أنواع التوحيد.
ষষ্ঠ পাঠ: "সাদৃশ্যপ্রদানের (তাশবিহ) মতবাদ এবং এর প্রতি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অবস্থান"।
এই ধারাবাহিকটি প্রকাশের মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য হলো নিম্নলিখিত দিকগুলোতে খিদমত করা:
১- আল্লাহর নাম ও গুণাবলির (আসমা ওয়া সিফাত) অধ্যায়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা এমনভাবে বর্ণনা করা যা ব্যাপকতা ও গভীরতার সমন্বয় ঘটায়। এটি করা হয়েছে প্রথমে সাধারণ মূল বিষয়গুলো স্পষ্ট করার মাধ্যমে, অতঃপর এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট প্রধান মাসআলাগুলোর বিস্তারিত বিষয় ও আংশিক গবেষণার আলোচনার মাধ্যমে। প্রথম পাঠটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদাকে সাধারণভাবে তুলে ধরার জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে, এরপর প্রতিটি বিষয়ের জন্য স্বতন্ত্র পাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে যা সংশ্লিষ্ট বিষয় ও ঘটনাবলিকে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরে।
২- এই অধ্যায় সংশ্লিষ্ট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাসআলাগুলোকে একত্রিত করা। এই বিষয়গুলো আহলুস সুন্নাহর কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে রয়েছে। আমি এগুলোকে সংগ্রহ, বিন্যাস, অধ্যায়ভুক্ত করা এবং একটি সুশৃঙ্খল ধারায় উপস্থাপন করতে আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, যাতে পরবর্তীতে তা জানা ও অনুধাবন করা সহজ হয়।
৩- এই অধ্যায়ে সত্য থেকে বিচ্যুত পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তদের মতবাদের অসারতা বর্ণনা করা, যাতে তাদের আকিদার অসারতা এবং তাদের বিচ্যুতি ও গোমরাহির মাত্রা জানা যায়, ফলে মুসলিমরা যেন তাতে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকতে পারে।
প্রথম পাঠটিতে নিম্নোক্ত অধ্যায়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের সংজ্ঞা এবং তাওহিদের অন্যান্য প্রকারের সাথে এর সম্পর্ক।
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহিদের প্রকারগুলোর মধ্যে সম্পর্ক।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الثاني: معتقد أهل السنة والجماعة في أسماء الله وصفاته.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالسلف الصالح وبأهل السنة والجماعة.
المبحث الثاني: معتقد أهل السنة في أسماء الله وصفاته.
المبحث الثالث: الأسس التي قام عليها معتقد أهل السنة في أسماء الله وصفاته.
وختمت ذلك بخاتمة وذيلتها بفهارس.
وإني لا أدعي أني وصلت بهذه الدراسة إلى درجة الكمال، ولكن حسبي أني اجتهدت، فإن وفقت فذلك بفضل من الله وحده، وإن حصل تقصير أو خطأ فهذا من طبيعة جهد البشر، فأرجو ممن وقف على شيء في هذه الدراسة أن يبادرني النصيحة، وأسأل الله عز وجل أن يتقبل مني هذا الجهد وأن يجعله عملاً صالحًا ولوجهه خالصًا، وأن لا يجعل لأحد فيه شيئا.
وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
محمد بن خليفة التميمي
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: সালাফে সালেহীন এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পরিচয়।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের আকিদা।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের আকিদা যে সকল মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
আমি এর সমাপ্তি টেনেছি একটি উপসংহারের মাধ্যমে এবং শেষে নির্ঘণ্টসমূহ সংযোজন করেছি।
আমি এই দাবি করি না যে, এই গবেষণার মাধ্যমে আমি পূর্ণতার স্তরে উপনীত হয়েছি, তবে আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। যদি আমি সফল হই, তবে তা কেবল একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহে; আর যদি কোনো ত্রুটি বা ভুল হয়ে থাকে, তবে তা মানুষের প্রচেষ্টার স্বভাবজাত বিষয়। সুতরাং যারা এই গবেষণায় কোনো ভুল বা বিচ্যুতি লক্ষ্য করবেন, তারা যেন আমাকে সদুপদেশ প্রদান করেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমার এই শ্রম কবুল করেন এবং একে একটি নেক আমল হিসেবে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আর এতে অন্য কারো কোনো অংশ না রাখেন।
আমাদের সর্বশেষ আহ্বান এই যে, সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুহাম্মদ বিন খলিফা আত-তামিমি
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
ال
تمهيد: أهمية توحيد الأسماء والصفات
الحمد لله رب العالمين، الرحمن الرحيم، مالك يوم الدين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، الموصوف بصفات الجلال، المنعوت بنعوت الكمال.
وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وأمينه على وحيه وخيرته من خلقه وحجته على عباده، صلى الله عليه وعلى آله وسلم تسليما كثيرًا.
وبعد:
فإن من المفيد والمهم لطالب الحق قبل أن يشرع في دراسة تفاصيل جوانب توحيد الأسماء والصفات أن يكون لديه معرفة بأهمية هذا التوحيد وما له من قيمة ومنزلة ودور في جانب الاعتقاد على وجه الخصوص، وفي سائر جوانب الدين على وجه العموم، فإيجاد هذا التصور المفيد في فكر المسلم عما لهذا التوحيد من مكانة عالية ودرجة رفيعة سيعود-بإذن الله تعالى- عليه بالنفع في إيمانه بالله عز وجل، فيولي هذا الجانب القدر الواجب له من الأهمية، كما يزيده ذلك رغبة في التفقه في مسائله ومباحثه وتفريعاته، والتي لا يستغني عنها طالب العلم الراغب في التزود من العلم النافع المفيد.
وإن مما يؤسف له أن البعض ينظر إلى هذا التوحيد نظرة المقل من أهميته وشأنه، فيظن أن مباحث هذا الباب لا تتجاوز ذكر الأقوال المختلفة والمتباينة في القدر الذي يثبت أو لا يثبت من أسماء الله وصفاته، وأن الأمر لا يعدو ذلك
উপক্রমণিকা: আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাওহীদের গুরুত্ব
সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু এবং বিচার দিবসের মালিক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি মহিমাময় গুণাবলিতে বিশেষিত এবং পূর্ণাঙ্গ বিশেষণে বিভূষিত।
আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। তিনি আল্লাহর ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার, তাঁর সৃষ্টির মাঝে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর বান্দাদের ওপর তাঁর অকাট্য প্রমাণ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের ওপর আল্লাহর অগনিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
অতঃপর:
সত্য অন্বেষণকারী শিক্ষার্থীর জন্য আসমা ওয়া সিফাতের (আল্লাহর নাম ও গুণাবলির) তাওহীদের বিস্তারিত বিষয়াদি অধ্যয়ন শুরু করার আগে এই তাওহীদের গুরুত্ব এবং বিশেষ করে আকিদার ক্ষেত্রে ও সাধারণভাবে দ্বীনের অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে এর যে মূল্য, মর্যাদা ও ভূমিকা রয়েছে সে সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলিমের চিন্তায় এই তাওহীদের উচ্চ মর্যাদা ও সুউচ্চ স্থান সম্পর্কে এই ফলপ্রসূ ধারণাটি বিদ্যমান থাকলে—আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায়—তা মহান আল্লাহর প্রতি তার ঈমানের ক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে। ফলে সে এই বিষয়টিকে এর প্রাপ্য যথাযথ গুরুত্ব প্রদান করবে। পাশাপাশি এটি তাকে এর মাসয়ালা, গবেষণা ও শাখা-প্রশাখাসমূহ সম্পর্কে গভীর ব্যুৎপত্তি অর্জনে আরও আগ্রহী করে তুলবে, যা থেকে বিমুখ থাকা সেই জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব নয় যে উপকারী ইলম লাভে আগ্রহী।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, কেউ কেউ এই তাওহীদের গুরুত্ব ও মর্যাদাকে খাটো করে দেখেন। তারা মনে করেন যে, এই অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির কতটুকু সাব্যস্ত করা হবে আর কতটুকু করা হবে না—এ সংক্রান্ত বিভিন্ন ও বৈচিত্র্যময় মতামতগুলো উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং বিষয়টি এর অতিরিক্ত কিছু নয়।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
ولا يخرج عنه، ومثل هذه النظرة وهذا القول لا يصدر إلا عن أحد شخصين، إما جاهل لا يدري ما في هذا الباب من مسائل مفيدة، وعلى درجة من الأهمية لا غنى للمسلم عنها وعن معرفتها.
وإما عن شخص منحرف في عقيدته يظن أن حال هذا الباب لا يخرج عن الحال الذي عليه عند أهل الباطل الذين لم يستضيئوا في هذا الباب ولا في غيره بنور الكتاب والسنة، وبالتالي لم يتجاوز حديثهم في هذا الباب حدود الطعن في أسماء الله وصفاته والتشكيك فيها أو في أكثرها، فصدوا بذلك عن معرفتها فضلاً عن بيان مالها من دور ومكانة في عقيدة المسلم وإيمانه بربه تبارك وتعالى.
فإرشاداً لطالب الحق، وتعليمًا للجاهل الغافل، ودعوة للمخالف المنحرف، ومذاكرة للعالم أسطر هذه الكلمات التي تشير إلى بعض ما في هذا التوحيد من فوائد ومزايا، عسى الله أن ينفع بها من يطلع عليها ويستذكرها.
فأقول وبالته التوفيق ومنه أستمد العون والتسديد ملخصا ما أود بيانه في النقاط التالية:
أولاً: هذا التوحيد شطر باب الإيمان، بالله تعالى:
لا يخفى على المسلم أهمية الإيمان بالله، فهو أول أركان الإيمان، بل هو أعظمها، فما بقية الأركان إلا تبع له وفرع عنه، وهو أهم ما خلق لها الخلق وأرسلت به الرسل، وأنزلت به الكتب، وأسست عليه الملة، فالإيمان بالله هو أساس كل خير، ومصدر كل هداية، وسبب كل فلاح، ذلك لأن الإنسان لما كان مخلوقًا مربوبًا عاد في علمه وعمله إلى خالقه وباريه فبه يهتدي، وله يعمل، وإليه يصير، فلا غنى له عنه، وانصرافه إلى غيره هو عين هلاكه
...এবং তা থেকে বের হয় না। আর এ জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি এবং এ ধরণের কথা কেবল দুই ধরণের ব্যক্তির পক্ষ থেকেই প্রকাশ পেতে পারে: হয় এমন কোনো অজ্ঞ ব্যক্তি, যে জানে না এই অধ্যায়ে কত উপকারী মাসআলা রয়েছে এবং যা এমন পর্যায়ের গুরুত্ববহ যেখান থেকে বিমুখ হওয়া বা যা সম্পর্কে না জানা কোনো মুসলিমের পক্ষে সম্ভব নয়।
অথবা এমন কোনো ব্যক্তি যে তার আকিদাহ বা বিশ্বাসে বিচ্যুত, যে মনে করে এই অধ্যায়ের অবস্থা সেই বাতিলপন্থীদের অবস্থার চেয়ে ভিন্ন কিছু নয় যারা এই অধ্যায়ে কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে কিতাব ও সুন্নাহর নূর দ্বারা আলোকিত হয়নি। ফলশ্রুতিতে, এই অধ্যায়ে তাদের আলোচনা আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলির ক্ষেত্রে কেবল অপবাদ এবং এগুলোর প্রতি অথবা এগুলোর অধিকাংশের প্রতি সংশয় সৃষ্টির সীমানা অতিক্রম করেনি। এভাবে তারা এই বিষয়গুলো জানা থেকে মানুষকে বিমুখ করেছে, অথচ একজন মুসলিমের আকিদাহ এবং তার রব বরকতময় ও সুউচ্চ সত্তার প্রতি ঈমানের ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা ও মর্যাদার বর্ণনা প্রদান করা ছিল অত্যন্ত জরুরি।
সুতরাং সত্যের অনুসন্ধানকারীর জন্য দিশারী হিসেবে, গাফেল ও অজ্ঞদের জন্য শিক্ষা হিসেবে, বিচ্যুত বিরোধীদের জন্য দাওয়াত হিসেবে এবং আলেমদের জন্য আলোচনার খোরাক হিসেবে আমি এই কথাগুলো লিখছি যা এই তাওহীদের কিছু ফায়দা ও বৈশিষ্ট্যের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে। আশা করি আল্লাহ এর দ্বারা তাকে উপকৃত করবেন যে এটি পাঠ করবে এবং এটি স্মরণ রাখবে।
অতএব আমি বলছি—আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক বা সফলতা আসে এবং তাঁর কাছেই আমি সাহায্য ও সঠিক পথের যাচনা করছি—আমি যা বর্ণনা করতে চাই তা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরছি:
প্রথমত: এই তাওহীদ হলো মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের অধ্যায়ের অর্ধাংশ:
আল্লাহর প্রতি ঈমানের গুরুত্ব কোনো মুসলিমের কাছে অস্পষ্ট নয়, কেননা এটি ঈমানের রুকনসমূহের মধ্যে প্রথম রুকন, বরং এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ। অন্যান্য রুকনগুলো তো কেবল এরই অনুসারী এবং এরই শাখা-প্রশাখা। আর এটিই সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার জন্য সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করা হয়েছে, রাসূলদের প্রেরণ করা হয়েছে, কিতাবসমূহ নাযিল করা হয়েছে এবং যার ওপর দ্বীনের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহর প্রতি ঈমানই হলো সকল কল্যাণের মূল ভিত্তি, সকল হিদায়াতের উৎস এবং সকল সফলতার কারণ। কারণ মানুষ যেহেতু একজন সৃষ্ট এবং তাঁরই কর্তৃত্বাধীন সত্তা, তাই সে তার জ্ঞান ও কর্মের ক্ষেত্রে তার স্রষ্টা ও উদ্ভাবকের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; তাঁর মাধ্যমেই সে পথ পায়, তাঁর জন্যই সে কাজ করে এবং তাঁর দিকেই সে ফিরে যাবে। সুতরাং তাঁকে ছাড়া তার কোনো উপায় নেই এবং তাঁকে ছেড়ে অন্যের দিকে ধাবিত হওয়া তার অনিবার্য ধ্বংসের নামান্তর।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وفساده، والإنسان له بالله عن كل شيء عوض، وليس لكل شيء عن الله عوض، فليس للعبد صلاح ولا فلاح إلا بمعرفة ربه وعبادته، فإذا حصل له ذلك فهو الغاية المرادة له والتي خلق من أجلها، فما سوى ذلك إما فضل نافع، أو فضول غير نافعة، أو فضول ضارة، ولهذا صارت دعوة الرسل لأممهم إلى الإيمان بالله وعبادته، فكل رسول يبدأ دعوته بذلك كما يعلم من تتبع دعوات الرسل في القرآن.
وملاك السعادة والنجاة والفوز يكون بتحقيق التوحيدين اللذين عليهما يقوم الإيمان بالله تعالى، وبتحقيقهما بعث الله سبحانه وتعالى رسوله صلى الله عليه وسلم، وإليه دعت الرسل صلوات الله وسلامه عليهم ممن أولهم إلى آخرهم.
وأحدهما: التوحيد العلمي الخبري الاعتقادي المتضمن إثبات صفات الكمال لله تعالى، وتنزيهه فيها عن التشبيه والتمثيل، وتنزيهه عن صفات النقص.
والتوحيد الثاني: عبادته وحده لا شريك له، وتجريد محبته والإخلاص له وخوفه ورجاؤه والتوكل عليه، والرضا به ربا وإلها ووليا، وأن لا يجعل له عدلاً في شيء من الأشياء.
وقد جمع سبحانه وتعالى هذين النوعين في سورتي الإخلاص وهما سورة: {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} 1 المتضمنة للتوحيد العملي الإرادي.
وسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} 2 المتضمنة للتوحيد العلمي الخبري.
فسورة {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} فيها بيان ما يجب لله تعالى من صفات
--------------------------------------------
এবং তার বিপর্যয়; আর মানুষের জন্য সবকিছুর বিনিময়ে আল্লাহ আছেন, কিন্তু আল্লাহর বিনিময়ে কোনো কিছুই নেই। তাই আপন রবকে জানা ও তাঁর ইবাদত করা ব্যতীত বান্দার কোনো কল্যাণ বা সফলতা নেই। যখন সে এটি অর্জন করে, তখন সেটিই হয় তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া যা কিছু আছে তা হয় উপকারী অতিরিক্ত বিষয়, অথবা অনুপকারী অতিরিক্ত বিষয়, কিংবা ক্ষতিকারক অতিরিক্ত বিষয়। এই কারণেই স্বীয় জাতির প্রতি রাসূলগণের দাওয়াত ছিল আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা ও তাঁর ইবাদত করার দিকে। প্রত্যেক রাসূল এই দাওয়াত দিয়েই শুরু করতেন, যা কুরআনে রাসূলগণের দাওয়াতের বিবরণ অনুসন্ধান করলে জানা যায়।
আর সৌভাগ্য, মুক্তি ও সফলতার মূল ভিত্তি হলো সেই দুই প্রকার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা, যার ওপর মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান নির্ভরশীল। এই দুই প্রকার তাওহীদ প্রতিষ্ঠার জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রেরণ করেছেন এবং প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল রাসূল (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) এরই দাওয়াত দিয়েছেন।
এর মধ্যে একটি হলো: ইলমী খবরী ইতিকাদী তাওহীদ (জ্ঞান ও সংবাদ নির্ভর বিশ্বাসগত তাওহীদ), যা মহান আল্লাহর জন্য পূর্ণতার গুণাবলি সাব্যস্ত করা এবং সেই গুণাবলির ক্ষেত্রে সাদৃশ্য ও উপমা প্রদান থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা এবং সব ধরণের ত্রুটিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য থেকে তাঁকে মুক্ত রাখার অন্তর্ভুক্ত।
এবং দ্বিতীয় তাওহীদ হলো: অংশীদারহীনভাবে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা এবং তাঁর জন্য ভালোবাসা ও ইখলাসকে একনিষ্ঠ করা, তাঁর ভয় ও আশা রাখা, তাঁর ওপর ভরসা করা এবং রব, ইলাহ ও অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং কোনো বিষয়েই তাঁর কোনো সমকক্ষ নির্ধারণ না করা।
মহান আল্লাহ এই দুই প্রকার তাওহীদকে ইখলাসের দুই সূরায় একত্রিত করেছেন, আর তা হলো: সূরা {বলুন, হে কাফিরগণ} ১ যা আমলী ইরাদী তাওহীদকে (কর্ম ও ইচ্ছা নির্ভর তাওহীদ) অন্তর্ভুক্ত করে।
এবং সূরা {বলুন, তিনি আল্লাহ এক} ২ যা ইলমী খবরী তাওহীদকে (জ্ঞান ও সংবাদ নির্ভর তাওহীদ) অন্তর্ভুক্ত করে।
সুতরাং সূরা {বলুন, তিনি আল্লাহ এক}-এর মধ্যে মহান আল্লাহর জন্য অপরিহার্য গুণাবলির বর্ণনা রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الكمال وبيان ما يجب تنزيهه عنه من النقائص والأمثال.
وسورة {قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ} فيها إيجاب عبادته وحده لا شريك له، والتبري من عبادة كل ما سواه.
ولا يتم أحد التوحيدين إلا بالآخر، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ بهاتين السورتين في سنة الفجر والمغرب والوتر اللتين هما فاتحة العمل وخاتمته، ليكون مبدأ النهار توحيدًا وخاتمته توحيدًا1.
فالتوحيد المطلوب من العبد شطره هو توحيد الأسماء والصفات.
ثانيا: توحيد الأسماء والصفات أشرف العلوم وأهمها على الإطلاق:
إن شرف العلم تابع لشرف معلومه، لوثوق النفس بأدلة وجوده وبراهينه ولشدة الحاجة إلى معرفته وعظم النفع بها.
ولا ريب أن أجل معلوم وأعظمه وأكبره هو الله الذي لا إله إلا هو رب العالمين، وقيوم السموات والأرضين، الملك الحق المبين، الموصوف بالكمال كله، المنزه عن كل عيب ونقص وعن كل تشبيه وتمثيل في كماله.
فلا ريب أن العلم به وبأسمائه وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأفضلها، ونسبته إلى سائر العلوم كنسبة معلومه إلى سائر المعلومات2.
فإن قيل: فالعلم إنما هو وسيلة إلى العمل ومراد له، والعمل هو الغاية، ومعلوم أن الغاية أشرف من الوسيلة، فكيف تفضل الوسائل على غاياتها؟
قيل: كل من العلم والعمل ينقسم إلى قسمين، منه ما يكون وسيلة، ومنه ما يكون غاية، فليس العلم كله وسيلة مرادة لغيرها، فإن العلم بالله وأسمائه
--------------------------------------------
পূর্ণতা এবং যা থেকে তাঁকে পবিত্র রাখা আবশ্যক—সেই সব ত্রুটি ও সদৃশ বস্তুর বর্ণনা।
আর সূরা {কুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরুন}-এ রয়েছে তাঁর একক ইবাদত ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা, যার কোনো অংশীদার নেই, এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছুর ইবাদত থেকে সম্পর্কছিন্ন করার ঘোষণা।
আর এই দুই প্রকার তাওহীদের একটি অন্যটি ব্যতীত পূর্ণ হয় না। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত, মাগরিবের সুন্নত এবং বিতরে এই দুই সূরা পাঠ করতেন; যা আমলের শুরু ও শেষ। যাতে দিনের শুরুও তাওহীদ দিয়ে হয় এবং শেষও তাওহীদ দিয়ে হয়।১
সুতরাং বান্দার কাছে কাম্য তাওহীদের অর্ধেক হলো আসমা ওয়াস-সিফাত (নাম ও গুণাবলী)-এর তাওহীদ।
দ্বিতীয়ত: আসমা ওয়াস-সিফাতের তাওহীদ হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান:
জ্ঞানের মর্যাদা নির্ভর করে যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হচ্ছে তার মর্যাদার ওপর; কারণ সেটির অস্তিত্বের দলিল ও প্রমাণের ওপর অন্তরের গভীর আস্থা থাকে এবং তা জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা ও তাতে মহান উপকারিতা নিহিত থাকে।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ এবং বড় জ্ঞাত সত্তা হলেন আল্লাহ; যিনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি জগতসমূহের রব, আসমান ও যমীনসমূহের ধারক, প্রকাশ্য সত্য মালিক, যিনি সমস্ত পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত এবং যিনি সকল দোষ-ত্রুটি থেকে এবং তাঁর পূর্ণতায় কোনো সাদৃশ্য ও উপমা থেকে পবিত্র।
সুতরাং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা সবচেয়ে মহান ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। অন্যান্য জ্ঞানের সাথে এর সম্পর্ক ঠিক তেমনই যেমনটি অন্যান্য জ্ঞাত বিষয়ের সাথে আল্লাহর মহিমা।২
যদি বলা হয়: জ্ঞান তো কেবল আমলের মাধ্যম এবং আমলের উদ্দেশ্যেই তা অর্জিত হয়, আর আমলই হলো লক্ষ্য। আর এটা তো জানা কথা যে, লক্ষ্য মাধ্যমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। তাহলে মাধ্যম কীভাবে লক্ষ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে?
বলা হবে: জ্ঞান এবং আমল—উভয়ই দুই ভাগে বিভক্ত; যার মধ্যে কিছু মাধ্যম এবং কিছু লক্ষ্য। সুতরাং সমস্ত জ্ঞান এমন মাধ্যম নয় যা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অন্বেষণ করা হয়। কেননা আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وصفاته هو أشرف العلوم على الإطلاق وهو مطلوب لنفسه مراد لذاته، قال الله تعالى: {اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ يَتَنَزَّلُ الْأَمْرُ بَيْنَهُنَّ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاَطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْماً} 1 فقد أخبر سبحانه أنه خلق السموات والأرض ونزل الأمر بينهن ليعلم عباده أنه بكل شي عليم، وعلى كل شي قدير فهذا العلم هو غاية الخلق المطلوبة، وقال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} 2 فالعلم بوحدانيته تعالى وأنه لا إله إلا هو مطلوب لذاته وإن كان لا يكتفى به وحده، بل لابد معه من عبادته وحده لا شريك له، فهما أمران مطلوبان لأنفسهما.
الأمر الأول: أن يعرف الرب تعالى بأسمائه، وصفاته وأفعاله وأحكامه.
والأمر الثاني: أن يعبد بموجبها ومقتضاها.
فكما أن عبادته مطلوبة مرادة لذاتها، فكذلك العلم به ومعرفته أيضا، فإن العلم من أفضل العبادات3.
ثالثا: توحيد الأسماء والصفات هو أصل، العلوم الدينية:
كما أن العلم بأسماء الله وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأشرفها وأعظمها فهو أصلها كلها، فكل علم هو تابع للعلم به، مفتقر في تحقق ذاته إليه، فالعلم به أصل كل علم ومنشؤه، فمن عرف الله عرف ما سواه، ومن جهل ربه فهو لما سواه أجهل، قال تعالى: {وَلا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنْسَاهُمْ أَنْفُسَهُمْ} 4 فتأمل هذه الآية تجد تحتها معنى شريفًا عظيمًا، وهو: أن من نسي ربه أنساه ذاته
--------------------------------------------
এবং তাঁর গুণাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান হলো সর্বতোভাবে শ্রেষ্ঠতম ইলম এবং এটি স্বয়ং কাম্য ও এর সত্তাগত কারণেই তা অন্বেষণীয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন সাতটি আকাশ এবং পৃথিবীও তদ্রূপ; তাদের মধ্যে নেমে আসে নির্দেশ, যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ জ্ঞানে সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছেন।} ১ সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলোর মধ্যে নির্দেশ অবতীর্ণ করেছেন যাতে তাঁর বান্দারা জানতে পারে যে তিনি সব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন এবং সব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। অতএব এই জ্ঞানই হলো সৃষ্টির কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।} ২ সুতরাং তাঁর একত্ববাদের জ্ঞান এবং তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই—এই জ্ঞান সত্তাগতভাবে কাম্য, যদিও কেবল এতটুকুতেই যথেষ্ট নয়; বরং এর সাথে তাঁর একক ইবাদত করাও অপরিহার্য যার কোনো শরিক নেই। সুতরাং এই বিষয় দুটি স্বয়ং কাম্য।
প্রথম বিষয়: রব্ব তাআলাকে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি, কার্যাবলি এবং বিধানাবলির মাধ্যমে চেনা।
দ্বিতীয় বিষয়: সেই জ্ঞানের দাবি ও আবশ্যকতা অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করা।
যেভাবে তাঁর ইবাদত সত্তাগতভাবে কাম্য ও উদ্দিষ্ট, ঠিক তেমনি তাঁর সম্পর্কে ইলম বা জ্ঞান লাভ করাও; কেননা জ্ঞান হলো শ্রেষ্ঠতম ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত৩।
তৃতীয়ত: আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি)-এর তাওহিদ হলো দ্বীনি ইলমসমূহের মূলভিত্তি:
যেভাবে আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান হলো মহানতম, শ্রেষ্ঠতম এবং সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, তেমনি তা হলো সকল জ্ঞানের মূলভিত্তি। প্রতিটি জ্ঞানই তাঁর সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞানের অনুসারী এবং স্বীয় সত্তার অস্তিত্বে এর প্রতি মুখাপেক্ষী। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল ও উৎস। অতএব যে আল্লাহকে চিনেছে, সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সবকিছুকে চিনতে পেরেছে। আর যে ব্যক্তি তার রব্ব সম্পর্কে অজ্ঞ রইল, সে অন্য সবকিছুর ব্যাপারে আরও বেশি অজ্ঞ। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, ফলে আল্লাহ তাদের নিজেদেরকে ভুলিয়ে দিয়েছেন।} ৪ এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা করলে আপনি এর ভেতরে একটি মহান ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন অর্থ খুঁজে পাবেন, আর তা হলো: যে ব্যক্তি তার রব্বকে ভুলে যায়, সে নিজের সত্তাকেই ভুলে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ونفسه فلم يعرف حقيقته ولا مصالحه، بل نسي ما به صلاحه وفلاحه في معاشه ومعاده، لأنه خرج عن فطرته التي خلق عليها فنسي ربه فأنساه نفسه وصفاتها وما تكمل به وتزكو به وتسعد به في معاشها ومعادها، قال تعالى: {وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطاً} 1 فغفل عن ذكر ربه فانفرط عليه أمره وقلبه، فلا التفات له إلى مصالحه، وكماله وما تزكو به نفسه وقلبه، بل هو مشتت القلب مضيعه، مفرط الأمر حيران لا يهتدي سبيلاً.
فالعلم بالله أصل كل علم، وهو أصل علم العبد بسعادته وكماله ومصالح دنياه وآخرته، والجهل به مستلزم للجهل بنفسه ومصالحها وكمالها وما تزكو به وتفلح به، فالعلم به سعادة العبد والجهل به أصل شقاوته2.
رابعًا: معرفة أسماء الله وصفاته أصل عظيم في منهج السلف:
معرفة أسماء الله وصفاته هي الأساس الذي ينبني عليه عمل العبد، ومن خلالها تتحدد العلاقة التي تربط العبد بربه، وعلى ضوئها يعبد المسلم ربه ويتقرب إليه.
ولذلك كان أصل علم السلف وعملهم هو:
ا- العلم بالله.
2- والعمل لله.
فجمعوا بذلك بين التصديق العلمي والعمل الحبي.
ثم إن تصديقهم عن علم، وعملهم وحبهم عن علم، فسلموا بذلك من آفات منحرفة المتكلمة والمتصوفة.
--------------------------------------------
আর নিজের নফসকেও, ফলে সে এর হাকীকত ও কল্যাণ সম্পর্কে জানতে পারেনি; বরং সে তার ইহকাল ও পরকালের সংশোধন ও সফলতার মাধ্যমগুলো ভুলে গেছে। কারণ সে তার সেই সৃষ্টিগত স্বভাব (ফিতরাত) থেকে বিচ্যুত হয়েছে যার ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে সে তার প্রতিপালককে ভুলে গেল, আর তিনি তাকে তার নিজের নফস, এর গুণাবলি এবং যা দ্বারা নফস পূর্ণতা পায়, পরিশুদ্ধ হয় এবং ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্য লাভ করে—সেসব ভুলিয়ে দিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি ঐ ব্যক্তির আনুগত্য করবেন না যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ সীমা ছাড়িয়ে গেছে।} সুতরাং সে তার রবের স্মরণ থেকে গাফেল হয়ে পড়ল, ফলে তার কর্মকাণ্ড ও অন্তর এলোমেলো হয়ে গেল। নিজের কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যার মাধ্যমে তার নফস ও অন্তর পরিশুদ্ধ হয়, সেদিকে তার কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। বরং তার অন্তর বিক্ষিপ্ত ও বিভ্রান্ত, তার কাজগুলো লক্ষ্যহীন ও সে দিশেহারা, কোনো পথ খুঁজে পায় না।
সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কিত জ্ঞানই হলো সকল জ্ঞানের মূল। এটিই বান্দার নিজের সৌভাগ্য, পূর্ণতা এবং দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ সম্পর্কিত জ্ঞানের ভিত্তি। আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা নিজের নফস, এর কল্যাণ, পূর্ণতা এবং যা দ্বারা নফস পরিশুদ্ধ ও সফল হয় সে সম্পর্কে অজ্ঞতাকে অনিবার্য করে তোলে। সুতরাং আল্লাহকে জানাই হলো বান্দার পরম সৌভাগ্য এবং আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতাই হলো তার দুর্ভাগ্যের মূল কারণ।
চতুর্থত: আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সালাফদের মানহাজের একটি মহান মূলনীতি:
আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই হলো সেই ভিত্তি যার ওপর বান্দার আমল গড়ে ওঠে। এর মাধ্যমেই বান্দার সাথে তার রবের সম্পর্কের ধরণ নির্ধারিত হয় এবং এরই আলোকে একজন মুসলিম তার রবের ইবাদত করে ও তাঁর নৈকট্য লাভ করে।
এই কারণেই সালাফদের জ্ঞান ও আমলের মূল ভিত্তি ছিল:
ক- আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান।
২- এবং আল্লাহর জন্য আমল।
এর মাধ্যমে তারা ইলমী বিশ্বাস এবং মহব্বতপূর্ণ আমলের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন।
অধিকন্তু, তাঁদের বিশ্বাস ছিল জ্ঞানপ্রসূত এবং তাঁদের আমল ও ভালোবাসা ছিল জ্ঞানভিত্তিক। এর ফলে তাঁরা মুতাকাল্লিম (তত্ত্বজ্ঞানী) এবং সূফীদের বিভ্রান্তিকর বিচ্যুতিসমূহ থেকে নিরাপদ ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فالكلاميون: غالب نظرهم وقولهم في الثبوت والانتفاء، والوجود والعدم، والقضايا التصديقية، فغايتهم مجرد التصديق والعلم والخبر.
والصوفيون: غالب طلبهم وعملهم في المحبة والبغضة، والإرادة والكراهة، والحركات العملية، فغايتهم المحبة والانقياد والعمل والإرادة.
فإن كلاً من المنحرفين له مفسدتان:
إحداهما: القول بلا علم إن كان متكلمًا.
والعمل بلا علم إن كان متصوفًا.
وهو ما وقع من البدع الكلامية والعملية المخالفة للكتاب والسنة.
والمفسدة الثانية: فوَّت المتكلم العمل.
وفوَّت المتصوف القول والكلام.
أما السلف وأتباعهم فقد حققوا كلا الأمرين.
من القول التصديقي المعتمد على معرفة أسماء الله وصفاته وأفعاله الواردة في الكتاب والسنة.
والعمل الإرادي وذلك باتباع الأوامر واجتناب النواهي وفق ما شرعه الله في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
ولذلك كان كلامهم وعملهم باطنًا وظاهرا بعلم، وكان كل واحد من قولهم وعملهم مقرونًا بالآخر وهؤلاء هم المسلمون حقًّا1.
فالسلف وأتباعهم جعلوا من توحيد الأسماء والصفات إحدى الرَّكيزتين التي قام عليها منهجهم المعتمد على نصوص الكتاب والسنة، وذلك لما لهذا التوحيد من أهمية ومنزلة، وهذا ما تشهد له كثرة النصوص الشرعية الواردة في
--------------------------------------------
ইলমুল কালামপন্থীগণ: তাদের অধিকাংশ দৃষ্টি ও বক্তব্য হলো সাব্যস্তকরণ ও অস্বীকার, অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব এবং সত্যয়নমূলক বিষয়াদির ক্ষেত্রে; তাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল সত্যায়ন, জ্ঞান এবং সংবাদ লাভ করা।
আর সূফীগণ: তাদের অধিকাংশ অন্বেষণ ও আমল হলো ভালোবাসা ও ঘৃণা, ইচ্ছা ও অপছন্দ এবং আমলগত তৎপরতার ক্ষেত্রে; তাই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ভালোবাসা, আনুগত্য, আমল এবং ইচ্ছা।
বস্তুত এই বিচ্যুতদের প্রত্যেকের মাঝেই দুটি করে ক্ষতিকর দিক রয়েছে:
একটি হলো: ইলম বা জ্ঞান ছাড়া কথা বলা, যদি সে কালামপন্থী হয়।
এবং জ্ঞান ছাড়া আমল করা, যদি সে সূফী হয়।
আর এ থেকেই কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধী কালামী ও আমলি বিদআতসমূহের উৎপত্তি হয়েছে।
দ্বিতীয় ক্ষতিকর দিকটি হলো: কালামপন্থী আমলকে হাতছাড়া করেছে।
এবং সূফী কথা ও বাচনকে হাতছাড়া করেছে।
পক্ষান্তরে সালাফ ও তাদের অনুসারীগণ উভয় বিষয়কেই বাস্তবায়িত করেছেন।
তা হলো কিতাব ও সুন্নাহে বর্ণিত আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি এবং তাঁর কার্যাবলির পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে সত্যায়নমূলক বক্তব্য প্রদান।
এবং ইচ্ছামূলক আমল করা, আর তা হলো আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুখে যা শরীয়ত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন সে অনুযায়ী আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জন করার মাধ্যমে।
এই কারণেই তাদের কথা ও আমল অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় দিক থেকেই ইলমের ভিত্তিতে ছিল এবং তাদের প্রতিটি কথা ও আমল একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল; আর এরাই হলো প্রকৃত মুসলিম।১
সুতরাং সালাফ এবং তাদের অনুসারীগণ আসমা ও সিফাতের তাওহীদকে সেই দুটি স্তম্ভের একটি হিসেবে গণ্য করেছেন যার ওপর কিতাব ও সুন্নাহর দলীলসমূহের ওপর নির্ভরশীল তাদের মানহাজ প্রতিষ্ঠিত। আর তা এই তাওহীদের গুরুত্ব ও সুউচ্চ মর্যাদার কারণে; যা এর স্বপক্ষে বর্ণিত প্রচুর পরিমাণ শরয়ী দলীল দ্বারা প্রমাণিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا الشأن.
خامسًا: العلم بأسماء الله وصفاته يفتح للعبد باب معرفة الله:
إن محبة الشيء فرع عن الشعور به، وأعرف الخلق بالله أشدهم حبا له، وكل من عرف الله أحبه، ولا سبيل للحصول على هذه المعرفة إلا من باب العلم بأسماء الله وصفاته، فلا تستقر للعبد قدم في معرفة الله إلا بالتعرف على أسمائه وصفاته الواردة في القرآن والسنة، فالعلم بأسماء الله وصفاته يفتح للعبد هذا الباب العظيم، فالله عز وجل لم يجعل السبيل إلى معرفته من طريق الاطلاع على ذاته، فهذا الباب موصود إلى قيام الساعة، كما أخبرنا بذلك نبينا محمد صلى الله عليه وسلم حيث قال: "تعلموا أنه لن يرى أحد منكم ربة عز وجل حتى يموت" 1.
وكذلك فإن من المحال أن تستقل العقول البشرية بمعرفة ذلك وإدراكه على وجه التفصيل، فهي عاجزة عن ذلك لكونه من المغيبات التي لا سبيل إلى معرفتها إلا من طريق الوحي، والله عز وجل يقول: {وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلاً} 2 فهذه الآية تبين محدودية علم الإنسان.
وقد اقتضت رحمة العزيز الحكيم أن بعث الرسل به معرفين وإليه داعين، وجعل معرفته سبحانه بأسمائه وصفاته، أفعاله هي مفتاح دعوتهم وزبدة رسالتهم، فأساس دعوة الرسل صلوات الله وسلامه عليهم، والأصل الأول فيها: معرفة الله سبحانه بأسمائه وصفاته وأفعاله. ثم يتبع هذا الأصل أصلان عظيمان هما:
--------------------------------------------
এই বিষয়টি।
পঞ্চমতঃ আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য আল্লাহকে চেনার দরজা উন্মুক্ত করে দেয়:
নিশ্চয়ই কোনো বস্তুর প্রতি ভালোবাসা হলো তা অনুভব করার একটি শাখা। সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত ব্যক্তিই তাঁকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসেন। যে ব্যক্তিই আল্লাহকে চিনবে, সে তাঁকে ভালোবাসবে। আর আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির জ্ঞানের পথ ব্যতীত এই পরিচয় লাভের কোনো উপায় নেই। কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত তাঁর নাম ও গুণাবলির পরিচয়ের মাধ্যম ছাড়া আল্লাহকে চেনার ক্ষেত্রে বান্দার পা স্থির হতে পারে না। মূলত আল্লাহর নাম ও গুণাবলির জ্ঞান বান্দার জন্য এই মহান দ্বার খুলে দেয়। কারণ আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর সত্তাকে দেখার মাধ্যমে তাঁকে চেনার কোনো পথ রাখেননি। কিয়ামত পর্যন্ত এই পথটি বন্ধ রাখা হয়েছে, যেমনটি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জানিয়েছেন; তিনি বলেছেন: "জেনে রেখো, তোমাদের কেউ মারা যাওয়ার আগে তার রব আযযা ওয়া জাল্লাকে দেখতে পাবে না" ১।
একইভাবে, মানবীয় বিবেকের পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে তা জানা এবং বিস্তারিতভাবে অনুধাবন করা অসম্ভব। বিবেক এ বিষয়ে অক্ষম, কারণ এটি অদৃশ্যের অন্তর্ভুক্ত বিষয় যা ওহীর পথ ছাড়া জানার কোনো উপায় নেই। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {আর তোমাদেরকে সামান্য জ্ঞানই দান করা হয়েছে} ২। এই আয়াতটি মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে সুস্পষ্ট করে দেয়।
মহা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর রহমত এটিই দাবি করে যে, তিনি রসূলদের পাঠিয়েছেন তাঁর পরিচয় প্রদানকারী এবং তাঁর দিকে আহ্বানকারী হিসেবে। তিনি তাঁর নাম, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে তাঁর পবিত্র সত্তার পরিচয় লাভ করাকেই তাঁদের দাওয়াতের চাবিকাঠি ও রিসালাতের সারবস্তু বানিয়েছেন। সুতরাং রসূলগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) দাওয়াতের ভিত্তি এবং এর প্রথম মূলনীতি হলো: আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলির মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহুকে চেনা। এরপর এই মূলনীতির অনুগামী হিসেবে আরও দুটি মহান মূলনীতি রয়েছে, সেগুলো হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ا- تعريف الناس الطريق الموصلة إلى الله، وهي: "شريعته المتضمنة لأمره ونهيه".
2- تعريفهم مآلهم في الآخرة.
وهذان الأصلان تابعان للأصل الأول مبنيان عليه، فأعرف الناس بالله أتبعهم للطريق الموصلة إليه، وأعرفهم بحال الناس عند القدوم عليه.
سادسًا: أساس العلم الصحيح هو الإيمان بالله وبأسمائه وصفاته:
على أساس العلم الصحيح بالله وبأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح والتوحيد الخالص، وتنبني مطالب الرسالة جميعها، فهذا التوحيد هو أساس الهداية والإيمان وهو أصل الدين الذي يقوم عليه، ولذلك فإنه لا يتصور إيمان صحيح ممن لا يعرف ربه، فهذه المعرفة لازمة لانعقاد أصل الإيمان، وهي مهمة جدا للمؤمن لشدة حاجته إليها لسلامة قلبه وصلاح معتقده واستقامة عمله، فهذه المعرفة لأسماء الله وصفاته وأفعاله توجب للعبد التمييز بين الإيمان والكفر، والتوحيد والشرك والإقرار والتعطيل، وتنزيه الرب عما لا يليق به ووصفه بما هو أهله من الجلال والإكرام.
وذلك يتم بتدبر كلام الله تعالى وما تعرف به سبحانه إلى عباده على ألسنة رسله من أسمائه وصفاته وأفعاله وما نزه نفسه عنه مما لا ينبغي له ولا يليق به سبحانه.
والجدير ذكره أن معرفة الله نوعان:
النوع الأول: المعرفة الإجمالية.
وهي التي تلزم العبد المؤمن لينعقد بها أصل الإيمان، وهي تتحقق بالقدر الذي يميز العبد به بين ربه وبين سائر الآلهة الباطلة، ويتحقق بها الإيمان
১- মানুষকে আল্লাহর নিকট পৌঁছানোর পথ সম্পর্কে জানানো, আর তা হলো: "তাঁর শরীয়ত যা তাঁর আদেশ ও নিষেধকে অন্তর্ভুক্ত করে"।
২- পরকালে তাদের গন্তব্য সম্পর্কে তাদের জানানো।
আর এই দুটি মূলনীতি প্রথম মূলনীতির অনুগামী এবং তার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং মানুষের মধ্যে আল্লাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত সেই ব্যক্তি, যে তাঁর কাছে পৌঁছানোর পথের সবচেয়ে বেশি অনুসরণকারী এবং তাঁর কাছে উপস্থিত হওয়ার সময় মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত।
ষষ্ঠত: সঠিক ইলমের ভিত্তি হলো আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির ওপর ঈমান আনা:
আল্লাহ এবং তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক ইলমের ভিত্তিতেই সঠিক ঈমান এবং বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ওপরই রিসালাতের যাবতীয় দাবি নির্মিত হয়। এই তাওহীদই হলো হিদায়াত ও ঈমানের ভিত্তি এবং দ্বীনের সেই মূল যার ওপর তা দাঁড়িয়ে আছে। এ কারণেই, যে তার রব্বকে চেনে না তার পক্ষ থেকে কোনো সঠিক ঈমান কল্পনা করা যায় না। ঈমানের মূল সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এই পরিচয় অপরিহার্য। অন্তরের সুস্থতা, আকিদার পরিশুদ্ধি এবং আমলের দৃঢ়তার প্রয়োজনে মুমিনের জন্য এর আবশ্যকতা অত্যন্ত তীব্র। আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সম্পর্কে এই জ্ঞান বান্দার জন্য ঈমান ও কুফর, তাওহীদ ও শিরক এবং স্বীকৃতি ও অস্বীকার করার (তাতীল) মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করা অপরিহার্য করে দেয়। তদ্রূপ রব্বকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করা যা তাঁর শানের খেলাফ এবং তাঁকে এমন সব মহিমা ও মর্যাদাপূর্ণ গুণে গুণান্বিত করা যা তাঁর যোগ্য।
আর এটি অর্জিত হয় আল্লাহ তাআলার কালাম নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার মাধ্যমে এবং তিনি তাঁর রাসূলগণের মাধ্যমে তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলি সম্পর্কে তাঁর বান্দাদের যা জানিয়েছেন তার মাধ্যমে এবং যেসব বিষয় তাঁর জন্য সমীচীন ও শোভনীয় নয় বলে তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন তার মাধ্যমে।
উল্লেখযোগ্য যে, আল্লাহর পরিচয় দুই প্রকার:
প্রথম প্রকার: সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
আর এটি সেই পরিচয় যা মুমিন বান্দার জন্য ঈমানের মূল অর্জনে অপরিহার্য। এটি সেই পরিমাণ জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত হয় যার দ্বারা বান্দা তার রব্ব এবং অন্যান্য সকল বাতিল উপাস্যের মাঝে পার্থক্য করতে পারে এবং যার মাধ্যমে ঈমান বাস্তবায়িত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
المجمل، وتجعله في سلامة من الكفر والشرك المخرجين من الإيمان، وتخرجه من حد الجهل بربه وما يجب له.
وهذه المعرفة يتحصل عليها من قراءة سورة الإخلاص، وآية الكرسي وغيرها من الآيات ومعرفة معانيها.
ولكن هذه المعرفة لا توجب قوة الإيمان والرسوخ فيه.
النوع الثاني: المعرفة التفصيلية.
وهذه تكون بمعرفة الأدلة التفصيلية الواردة في هذا الباب وتعلمها واعتقاد اتصاف الله بها ومعرفة معانيها والعمل بمقتضياتها وأحكامها.
وهذه المعرفة هي التي يحصل بها زيادة الإيمان ورسوخه، فكلما ازداد العبد علمًا بالله زاد إيمانه وخشيته ومحبته لربه وتعلقه به، قال تعالى: {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} 1كما تجلب للعبد النور والبصيرة التي تحصنه من الشبهات المضللة والشهوات المحرمة.
"والعلم بالله يراد به في الأصل نوعان:
أحدهما: العلم به نفسه، أي بما هو متصف به من نعوت الجلال والإكرام وما دلت عليه أسماؤه الحسنى.
وهذا العلم إذا رسخ في القلب أوجب خشية الله لا محالة، فإنه لابد أن يعلم أن الله يثيب على طاعته، ويعاقب على معصيته.
والنوع الثاني: يراد بالعلم بالله العلم بالأحكام الشرعية من الأوامر والنواهي، والحلال والحرام.
ولهذا قال بعض السلف: العلماء ثلاثة:
--------------------------------------------
সংক্ষিপ্ত (পরিচয়), যা তাকে ঈমান থেকে বের করে দেয় এমন কুফর ও শিরক থেকে নিরাপদ রাখে এবং তাকে তার প্রতিপালক সম্পর্কে এবং তাঁর জন্য যা আবশ্যক তা নিয়ে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে আনে।
আর এই পরিচয় অর্জিত হয় সূরা আল-ইখলাস, আয়াতুল কুরসি এবং অন্যান্য আয়াত পাঠ ও সেগুলোর অর্থ অনুধাবন করার মাধ্যমে।
তবে এই জ্ঞান ঈমানের শক্তি ও তাতে দৃঢ়তা সুনিশ্চিত করে না।
দ্বিতীয় প্রকার: বিস্তারিত পরিচয়।
আর এটি অর্জিত হয় এই বিষয়ে বর্ণিত বিস্তারিত দলীলসমূহ জানার মাধ্যমে, সেগুলো শিক্ষা করা, আল্লাহ সেসব গুণে গুণান্বিত বলে বিশ্বাস করা, সেগুলোর অর্থ জানা এবং তাদের দাবি ও বিধান অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে।
আর এই পরিচয়ের মাধ্যমেই ঈমানের বৃদ্ধি ও দৃঢ়তা অর্জিত হয়। বান্দা আল্লাহ সম্পর্কে যতই জ্ঞান লাভ করে, তাঁর প্রতি তার ঈমান, ভীতি, ভালোবাসা এবং তাঁর সাথে সম্পৃক্ততা ততই বৃদ্ধি পায়। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই তাঁকে ভয় করে" (১)। তদ্রূপ এটি বান্দার জন্য এমন আলো ও অন্তর্দৃষ্টি বয়ে আনে যা তাকে বিভ্রান্তিকর সংশয় ও নিষিদ্ধ প্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা দেয়।
"আর আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান বলতে মূলত দুই প্রকার উদ্দেশ্য হয়:
প্রথমটি: তাঁর সত্তা সম্পর্কে জ্ঞান, অর্থাৎ তিনি মহিমা ও সম্মানের যেসব বিশেষণে গুণান্বিত এবং তাঁর সুন্দর নামসমূহ যা নির্দেশ করে।
আর এই জ্ঞান যখন অন্তরে দৃঢ় হয়, তখন তা অবধারিতভাবে আল্লাহ-ভীতিকে আবশ্যক করে। কারণ তখন সে অবশ্যই জানতে পারে যে, আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের জন্য পুরস্কার দান করেন এবং তাঁর অবাধ্যতার জন্য শাস্তি প্রদান করেন।
এবং দ্বিতীয় প্রকার: আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান বলতে উদ্দেশ্য হলো শরীয়তের বিধানসমূহ তথা আদেশ-নিষেধ এবং হালাল-হারাম সম্পর্কে জ্ঞান।
এই কারণেই পূর্বসূরিদের কেউ কেউ বলেছেন: আলেমগণ তিন প্রকার:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
ا- عالم بالله ليس عالمًا بأمر الله.
2- عالم بأمر الله ليس عالمًا بالله.
3- عالم بالله وبأمر الله.
فالعالم بالله: الذي يخشى الله، والعالم بأمر الله: الذي يعرف الحلال والحرام"1.
سابعًا: العلم بأسماء الله وصفاته هو حياة القلوب:
فلا حياة للقلوب ولا نعيم ولا سرور ولا أمان ولا طمأنينة إلا بأن تعرف ربها ومعبودها وفاطرها ويكون أحب إليها مما سواه، والإنسان بدون الإيمان بالله لا يمكنه أن ينال معرفة ولا هداية، وبدون اهتدائه إلى ربه لا يكون إلا شقيا معذبا كما هو حال الكافرين.
فالله تبارك خلق هذا الإنسان وركبه من الجسد والروح وشاء أن يكون خلق الجسد من التراب، قال تعالى: {فَإِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ تُرَاب} 2 وجعل قوام الجسد وحياته من التراب، فهو يأكل ويشرب ويكتسي من الأرض وما فيها، وجعل في هذا الجسد الروح، قال تعالى: {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} 3 وشاء أن يكون قوام هذه الروح وحياتها في معرفة الله وعبادته، فلا شيء أطيب للعبد ولا ألذ ولا أهنأ ولا أنعم لقلبه وعيشه من محبة فاطره وباريه ودوام ذكره والسعي في مرضاته، لذلك فإن من في قلبه أدنى حياة أو محبة لربه وإرادة لوجهه وشوق إلى لقائه، فطلبه لهذا الباب وحرصه على معرفته وازدياده من التبصر فيه، وسؤاله واستكشافه عنه هو أكبر مقاصده وأعظم مطالبه وأجل غاياته، فهذا هو
--------------------------------------------
১- এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী কিন্তু আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী নন।
২- এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী কিন্তু আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী নন।
৩- এমন ব্যক্তি যিনি আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর বিধান সম্পর্কেও জ্ঞানী।
সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানী হলেন তিনি: যিনি আল্লাহকে ভয় করেন; আর আল্লাহর বিধান সম্পর্কে জ্ঞানী হলেন তিনি: যিনি হালাল ও হারাম সম্পর্কে অবগত।"১
সপ্তম: আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই হলো হৃদয়ের জীবন:
হৃদয়ের জন্য কোনো জীবন নেই, কোনো নেয়ামত নেই, কোনো আনন্দ নেই, কোনো নিরাপত্তা নেই এবং কোনো প্রশান্তি নেই—তার রব, তার উপাস্য এবং তার স্রষ্টাকে চেনা ব্যতীত; এবং তিনি যেন তার নিকট অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হন। আর আল্লাহর প্রতি ঈমান ব্যতীত কোনো মানুষের পক্ষে সঠিক পরিচয় বা হিদায়াত লাভ করা সম্ভব নয়। নিজ রবের প্রতি পথপ্রদর্শন লাভ করা ছাড়া সে কেবল হতভাগা ও যন্ত্রণাক্লিষ্টই হবে, যেমনটি কাফিরদের অবস্থা।
বরকতময় আল্লাহ এই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে দেহ ও রূহ দিয়ে গঠন করেছেন। তিনি চাইলেন যে, দেহের সৃষ্টি হবে মাটি থেকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছি} ২ এবং তিনি দেহের স্থায়িত্ব ও জীবন মাটির ওপর নির্ভরশীল করেছেন; ফলে মানুষ যমীন ও তাতে যা আছে তা থেকে পানাহার করে ও পোশাক পরিধান করে। আর তিনি এই দেহের মাঝে রূহ দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যখন আমি তাকে সুঠাম করব এবং তাতে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দেব} ৩ এবং তিনি চাইলেন যে, এই রূহের স্থায়িত্ব ও জীবন হবে আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর ইবাদতের মধ্যে। সুতরাং বান্দার জন্য তার স্রষ্টা ও উৎপাদকের ভালোবাসা, তাঁর সার্বক্ষণিক যিকর এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনে সচেষ্ট হওয়ার চেয়ে অধিক উত্তম, অধিক স্বাদযুক্ত, অধিক সুখকর এবং তার হৃদয় ও জীবনের জন্য অধিক নেয়ামতপূর্ণ আর কিছু নেই। এই কারণে যার হৃদয়ে সামান্যতম জীবন বা তার রবের প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সন্তুষ্টির ইচ্ছা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, এই বিষয়ের অনুসন্ধান, তা জানার প্রতি আগ্রহ, এতে দূরদর্শিতা বৃদ্ধি করা এবং এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ও অন্বেষণই হলো তার বড় লক্ষ্য, শ্রেষ্ঠ দাবি এবং মহত্তম উদ্দেশ্য। আর এটিই হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
الكمال الذي لا كمال للعبد بدونه، وله خلق الخلق، ولأجله نزل الوحي، وأرسلت الرسل وقامت السموات والأرض، ووجدت الجنة والنار، ولأجله شرعت الشرائع، وأسست الملة، ونصبت القبلة، وهو قطب رحى الخلق والأمر الذي مدارهما عليه.
وهو بحق أفضل ما اكتسبته القلوب وحصلته النفوس وأدركته العقول، وليست القلوب الصحيحة والنفوس المطمئنة إلى شيء من الأشياء أشوق منها إلى معرفة هذا الأمر ولا فرحها بشيء أعظم من فرحها بالظفر بمعرفة الحق فيه1.
ثامنًا: ثمرة معرفة أسماء الله وصفاته:
مما يدلل ويؤكد أهمية هذا التوحيد هو ما تثمره معرفة أسماء الله وصفاته في قلب المؤمن من زيادة في الإيمان ورسوخ في اليقين، وما تجلبه له من النور والبصيرة التي تحصنه من الشبهات المضللة، والشهوات المحرمة.
فهذا العلم إذا رسخ في القلب أوجب خشية الله لا محالة، فلكل اسم من أسماء الله تأثير معين في القلب والسلوك، فإذا أدرك القلب معنى الاسم وما يتضمنه واستشعر ذلك، تجاوب مع هذه المعاني وانعكست هذه المعرفة على تفكيره وسلوكه.
ولكل صفة عبودية خاصة هي من موجباتها ومقتضياتها، فالأسماء الحسنى والصفات العلى مقتضية لآثارها من العبودية وهذا مطرد في جميع أنواع العبودية التي على القلب والجوارح، فمثلاً: علم العبد بتفرد الرب تعالى بالضر والنفع والعطاء والمنع والخلق والرزق والإحياء والإماتة يثمر له
--------------------------------------------
এটি এমন এক পূর্ণতা যা ব্যতীত বান্দার আর কোনো পূর্ণতা নেই। এরই উদ্দেশ্যে সৃষ্টিজগত সৃজিত হয়েছে, এরই তরে ওহি অবতীর্ণ হয়েছে, রাসূলগণ প্রেরিত হয়েছেন এবং আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরই জন্য জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্ব লাভ হয়েছে, এরই উদ্দেশ্যে শরিয়তসমূহ প্রবর্তিত হয়েছে, মিল্লাত বা দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কিবলা নির্ধারিত হয়েছে। এটি সৃষ্টি ও আদেশের আবর্তনকেন্দ্র, যাকে কেন্দ্র করেই সবকিছু আবর্তিত হয়।
বস্তুত এটিই সর্বোত্তম বিষয় যা অন্তরসমূহ অর্জন করেছে, নফসসমূহ লাভ করেছে এবং বুদ্ধি অনুধাবন করেছে। সুস্থ অন্তর ও প্রশান্ত নফসসমূহ অন্য কোনো বিষয়ের প্রতি ততটা ব্যাকুল নয় যতটা তারা এই বিষয়টি জানার প্রতি ব্যাকুল। আর এই বিষয়ে সত্য জ্ঞান লাভে তারা যতটা আনন্দিত হয়, অন্য কোনো কিছু অর্জনে তারা ততটা আনন্দিত হয় না।১
অষ্টম: আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি জানার ফল:
এই তাওহীদের গুরুত্ব যা দ্বারা প্রমাণিত ও সুনিশ্চিত হয় তা হলো, আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলি জানার ফলে মুমিনের অন্তরে ইমানের যে প্রবৃদ্ধি এবং ইয়াকীনের যে দৃঢ়তা সৃষ্টি হয়। এছাড়া এটি মুমিনের জন্য এমন জ্যোতি ও অন্তর্দৃষ্টি বয়ে আনে যা তাকে বিভ্রান্তিকর সংশয় ও নিষিদ্ধ প্রবৃত্তি থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।
এই জ্ঞান যখন অন্তরে বদ্ধমূল হয়, তখন তা অনিবার্যভাবে আল্লাহর ভয় ও নিষ্ঠা আবশ্যিক করে তোলে। কেননা আল্লাহর প্রতিটি নামেরই অন্তর ও আচরণের ওপর একটি সুনির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। সুতরাং অন্তর যখন কোনো নামের অর্থ ও তার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করে এবং তা গভীরভাবে উপলব্ধি করে, তখন সে এই অর্থগুলোর প্রতি সাড়া দেয় এবং এই জ্ঞান তার চিন্তা ও আচরণের ওপর প্রতিফলিত হয়।
আর প্রতিটি গুণের জন্যই রয়েছে বিশেষ এক দাসত্ব, যা সেই গুণেরই দাবি ও আবশ্যকতা। সুতরাং আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণাবলি দাসত্বের ক্ষেত্রে নিজ নিজ প্রভাবের দাবি রাখে। এটি অন্তর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যাবতীয় ইবাদতের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য। উদাহরণস্বরূপ: বান্দা যখন জানতে পারে যে অপকার ও উপকার করা, প্রদান ও বঞ্চিত করা, সৃষ্টি ও রিজিক দান করা এবং জীবন ও মৃত্যু দান করার ক্ষেত্রে মহান রব একক, তখন এটি তার জন্য ফলস্বরূপ বয়ে আনে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عبودية التوكل عليه باطنًا، ولوازم التوكل وثمراته ظاهرًا.
وعلمه بسمعه تعالى وبصره وعلمه وأنه لا يخفى عليه مثقال ذرة في السموات ولا في الأرض، وأنه يعلم السر وأخفى، ويعلم خائنة الأعين وما تخفي الصدور، يثمر له حفظ لسانه وجوارحه وخطرات قلبه عن كل ما لا يرضي الله، وأن يجعل تعلق هذه الأعضاء بما يحبه الله ويرضاه فيثمر له ذلك الحياء باطنًا، ويثمر له الحياء اجتناب المحرمات والقبائح.
ومعرفته بغناه وجوده وكرمه وبره وإحسانه ورحمته توجب له سعة الرجاء، ويثمر له ذلك من أنواع العبودية الظاهرة والباطنة بحسب معرفته وعلمه. وكذلك معرفته بجلال الله وعظمته وعزه، تثمر له الخضوع والاستكانة والمحبة، وتثمر له تلك الأحوال الباطنة أنواعًا من العبودية الظاهرة هي موجباتها.
وكذلك علمه بكماله وجماله وصفاته العلى يوجب له محبة خاصة بمنزلة أنواع العبودية.
فرجعت العبودية كلها إلى مقتضى الأسماء والصفات وارتبطت بها1.
وبهذا يتبين أن معرفة العبد لأسماء الله وصفاته على الوجه الذي أخبر الله عز وجل به في كتابه وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم توجب على العبد القيام بعبودية الله على الوجه الأكمل، فكلما كان الإيمان بالصفات أكمل كان الحب والإخلاص والتعبد أقوى، وأكمل الناس عبودية المتعبد بجميع الأسماء والصفات التي يطلع عليها البشر، إذ كل اسم من أسمائه عز وجل له تعبد مختص به، علما ومعرفة وحالاً.
--------------------------------------------
অন্তরে তাঁর ওপর তাওয়াক্কুলের দাসত্ব এবং প্রকাশ্যভাবে তাওয়াক্কুলের অপরিহার্যতা ও ফলাফলসমূহ।
আর মহান আল্লাহর শ্রবণ, দর্শন এবং জ্ঞান সম্পর্কে বান্দার অবগতি, এবং এটি জানা যে আসমান ও জমিনের অণু পরিমাণ কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না, তিনি গোপন ও অতি গোপন সবকিছু জানেন এবং চোখের খিয়ানত ও অন্তরের লুকায়িত বিষয় সম্পর্কেও তিনি সম্যক অবগত—এসবই বান্দার জন্য তার জিহ্বা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং হৃদয়ের কল্পনাগুলোকে আল্লাহর অসন্তুষ্টি জাগায় এমন সব কিছু থেকে হেফাযত করার সুফল দান করে। আর এটি তার এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে আল্লাহ যা ভালোবাসেন ও পছন্দ করেন তার সাথে সম্পৃক্ত করে দেয়, যা তার অন্তরে লজ্জাবোধের জন্ম দেয় এবং এই লজ্জাবোধ তাকে হারাম ও অশ্লীল কাজসমূহ পরিহার করার ফল দান করে।
আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা, দানশীলতা, মহানুভবতা, সদাচার, অনুগ্রহ ও করুণা সম্পর্কে তার জ্ঞান তার মধ্যে সুপ্রশস্ত আশার সঞ্চার করে। আর এটি তার মারিফাত ও ইলম অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদতের ফল দান করে। একইভাবে আল্লাহর মহিমা, মহত্ত্ব ও পরাক্রম সম্পর্কে তার জ্ঞান তার মধ্যে বিনয়, মস্তক অবনত করা এবং ভালোবাসার জন্ম দেয়। আর এই অভ্যন্তরীণ অবস্থাসমূহ বিভিন্ন প্রকার বাহ্যিক ইবাদতের ফল প্রদান করে যা এর আবশ্যিক দাবি।
অনুরূপভাবে, তাঁর পূর্ণতা, সৌন্দর্য এবং সুউচ্চ গুণাবলি সম্পর্কে তার ইলম তার জন্য এক বিশেষ ভালোবাসা অনিবার্য করে তোলে, যা বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের সমপর্যায়ের।
সুতরাং সমস্ত ইবাদত আল্লাহর নাম ও গুণাবলির দাবির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং সেগুলোর সাথেই সংশ্লিষ্ট।১
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে যেভাবে সংবাদ দিয়েছেন, সেই অনুযায়ী আল্লাহর নাম ও গুণাবলি সম্পর্কে বান্দার জ্ঞান থাকা তার জন্য সর্বোত্তম উপায়ে আল্লাহর ইবাদত করাকে অপরিহার্য করে দেয়। গুণাবলির প্রতি ঈমান যত বেশি পূর্ণাঙ্গ হবে, ভালোবাসা, ইখলাস ও দাসত্ব তত বেশি শক্তিশালী হবে। মানুষের মধ্যে ইবাদতের দিক থেকে সেই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ, যে মানুষের মাঝে প্রকাশিত আল্লাহর সমস্ত নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে ইবাদত করে। কেননা মহান আল্লাহর প্রতিটি নামের বিপরীতে ইলম, মারিফাত ও হাল (অবস্থা) অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ইবাদত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
علمًا ومعرفة: أي إن من علم أن الله مسمى بهذا الاسم، وعرف ما يتضمنه من الصفة ثم اعتقد ذلك فهذه عبادة.
و"حالاً" أي إن لكل اسم من أسماء الله مدلولاً خاصًّا وتأثيرًا معينًا في القلب والسلوك، فإذا أدرك القلب معنى الاسم وما يتضمنه واستشعر ذلك، تجاوب مع هذه المعاني وانعكست هذه المعرفة على، تفكيره وسلوكه.
وهذه الطريقة مشتقة من قلب القرآن، قال الله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} 1.
والدعاء بها يتناول: دعاء المسألة، ودعاء الثناء، ودعاء التعبد. وهو سبحانه يدعو عباده إلى أن يعرفوه بأسمائه وصفاته، ويثنوا عليه بها، ويأخذوا بحظهم من عبوديتها2.
تاسعًا: ضرورة تجنب الباطل وعدم مخالفة طر يق الحق في هذا الباب:
يعتبر باب الأسماء والصفات من أكثر الأبواب خطورة ومزلة من جهة كونه محل خلافات شديدة ومعقدة دارت رحاها بين علماء السلف من جهة والفلاسفة وأهل الكلام والمشبهة من جهة أخرى.
فمن واجب طالب العلم أن يتعمق في فهم الحق المبني على الكتاب والسنة، قال تعالى: {َإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} 3، فالرد إلى الله يكون بالرد إلى كتابه، والرد إلى الرسول بعد وفاته يكون بالرد إلى سنته صلى الله عليه وسلم، وقد قال تعالى: {أَأَنْتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّه} 4، فالله أعلم بنفسه، وهو الذي أخبر
--------------------------------------------
জ্ঞান ও পরিচয়গতভাবে: অর্থাৎ যে ব্যক্তি জানে যে আল্লাহ এই নামে নামাঙ্কিত, এবং এই নাম যে গুণাবলি (সিফাত) অন্তর্ভুক্ত করে তা জানে, অতঃপর তা বিশ্বাস করে, তবে এটি একটি ইবাদত।
এবং "অবস্থাগতভাবে" অর্থাৎ আল্লাহর প্রত্যেকটি নামের একটি বিশেষ অর্থ এবং অন্তর ও আচরণের ওপর নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। সুতরাং যখন অন্তর নামের অর্থ ও এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করে এবং তা অনুভব করে, তখন সে এই অর্থগুলোর সাথে সাড়া দেয় এবং এই জ্ঞান তার চিন্তা ও আচরণের ওপর প্রতিফলিত হয়।
আর এই পদ্ধতিটি কুরআনের মূল নির্যাস থেকে গৃহীত। মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।" ১
আর এর মাধ্যমে দোয়া করার বিষয়বস্তু হলো: প্রার্থনামূলক দোয়া, প্রশংসামূলক দোয়া এবং ইবাদতমূলক দোয়া। তিনি (সুবহানাহু) তাঁর বান্দাদের আহ্বান জানান যেন তারা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁকে চেনে, সেগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে এবং সেসবের দাসত্বের (উবুদিয়াতের) অংশ গ্রহণ করে। ২
নবম: এই অধ্যায়ে বাতিলকে পরিহার করা এবং হকের পথের বিরোধিতা না করার প্রয়োজনীয়তা:
আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়টিকে অন্যতম বিপজ্জনক এবং পদস্খলনের স্থান হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এটি একপক্ষে সালাফী আলেমগণ এবং অন্যপক্ষে দার্শনিক, কালামশাস্ত্রবিদ ও মুশাব্বিহাদের (সাদৃশ্যদানকারী) মধ্যে তীব্র ও জটিল মতবিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
সুতরাং ইলম অন্বেষণকারীর জন্য ওয়াজিব হলো কিতাব ও সুন্নাহর ওপর ভিত্তি করে হকের গভীর বুঝ অর্জন করা। মহান আল্লাহ বলেন: "অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসুলের দিকে ফিরিয়ে দাও।" ৩ সুতরাং আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া, আর রাসুলের মৃত্যুর পর তাঁর দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর সুন্নাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তোমরা কি বেশি জানো নাকি আল্লাহ?" ৪ সুতরাং আল্লাহ নিজের সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত, এবং তিনিই সংবাদ দিয়েছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
بأسمائه وصفاته في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، وكذلك فإن النبي صلى الله عليه وسلم أعلم الناس بربه وأصدقهم خبرًا، وقد قال الله في حقه: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} 1.
فمن الواجب على المسلم أن يدرس هذا الباب ويتعمق في فهمه وفق ما ورد في الكتاب والسنة، وأن يحذر من التيارات الفلسفية التي أضرت أصحابها وأدخلتهم في دوامة الانحراف والضياع، فحالت بين قلوبهم وبين معرفة ربهم، فأصبحت قلوبهم مظلمة جاهلة بحقائق الإيمان، فترتب على ذلك إعراضهم عن الله وعن ذكره ومحبته والثناء عليه بأوصاف كماله، ونعوت جلاله، فانصرفت قوى حبهم وشوقهم وأنسهم إلى سواه.
ومعلوم أنه لا يستقر للعبد قدم في المعرفة، بل ولا في الإيمان، حتى يؤمن بأسماء وصفات الرب جل جلاله، ويعرفها معرفة تخرجه عن حد الجهل بربه، فالإيمان بالأسماء والصفات وتعرفها هو أساس الإسلام وقاعدة الإيمان وثمرة شجرة الإحسان، فمن جحدها فقد هدم أساس الإسلام والإيمان، وثمرة شجرة الإحسان، فضلاً عن أن يكون من أهل العرفان.
فينبغي للمؤمن أن يبذل مقدوره ومستطاعه، في معرفة الأسماء والصفات، وأن تكون معرفته سالمة من داء التعطيل وداء التمثيل اللذين ابتلي بهما كثير من أهل البدع المخالفة لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، فالمعرفة الصحيحة هي المتلقاة من الكتاب والسنة، وما روي عن الصحابة والتابعين لهم بإحسان، فهذه هي المعرفة النافعة التي لا يزال صاحبها في زيادة إيمانه وقوة يقينه، وطمأنينة أحواله.
--------------------------------------------
তাঁর নামসমূহ এবং গুণাবলীর মাধ্যমে যা তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুখে বর্ণিত হয়েছে। একইভাবে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানুষের মধ্যে তাঁর প্রতিপালক সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী এবং সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে সত্যবাদী। আল্লাহ তাঁর ব্যাপারে বলেছেন: "আর তিনি মনগড়া কথা বলেন না। এটি তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট পাঠানো হয়।" ১।
সুতরাং একজন মুসলমানের জন্য আবশ্যক হলো এই অধ্যায়টি অধ্যয়ন করা এবং কুরআন ও সুন্নাহতে যা বর্ণিত হয়েছে সেই অনুযায়ী এর উপলব্ধিতে গভীরভাবে প্রবেশ করা। তাকে সেই সব দার্শনিক মতবাদ থেকে সতর্ক থাকতে হবে যা তাদের অনুসারীদের ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং তাদের বিচ্যুতি ও ধ্বংসের আবর্তে নিপতিত করেছে। ফলে তা তাদের অন্তর এবং তাদের প্রতিপালকের পরিচয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে তাদের অন্তরগুলো ঈমানের হাকীকত সম্পর্কে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অজ্ঞ হয়ে পড়েছে। এর ফলে তারা আল্লাহ থেকে, তাঁর স্মরণ থেকে, তাঁর মহব্বত থেকে এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলী ও মহান সিফাতসমূহের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করা থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের ভালোবাসা, আকাঙ্ক্ষা এবং সান্নিধ্য লাভের সমস্ত শক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের দিকে ধাবিত হয়েছে।
এটা সুপরিচিত যে, কোনো বান্দার মারেফাত বা পরিচয়ের ক্ষেত্রে এমনকি ঈমানের ক্ষেত্রেও পা ততক্ষণ পর্যন্ত স্থির হয় না, যতক্ষণ না সে মহান প্রতিপালকের নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনে এবং সেগুলোকে এমনভাবে চেনে যা তাকে তার প্রতিপালক সম্পর্কে অজ্ঞতার সীমা থেকে বের করে আনে। নামসমূহ ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান এবং সেগুলো জানা হলো ইসলামের ভিত্তি, ঈমানের মূলনীতি এবং ইহসান নামক বৃক্ষের ফল। সুতরাং যে ব্যক্তি এগুলো অস্বীকার করল, সে ইসলাম ও ঈমানের ভিত্তি এবং ইহসান বৃক্ষের ফলকে ধ্বংস করল; সে মারেফাত অর্জনকারী বা আরিফদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া তো দূরের কথা।
অতএব, মুমিনের উচিত আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী জানার ক্ষেত্রে তার সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করা। আর তার এই জ্ঞান যেন 'তাতিল' (গুণ অস্বীকার করা) এবং 'তামসিল' (সাদৃশ্য প্রদান করা) নামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকে, যেগুলোতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নিয়ে এসেছেন তার বিরুদ্ধাচরণকারী অনেক বিদআতী লোক নিপতিত হয়েছে। সঠিক জ্ঞান হলো সেটিই যা কুরআন ও সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম ও উত্তমভাবে তাদের অনুসরণকারী তাবেয়ীগণের নিকট থেকে প্রাপ্ত। এটাই হলো সেই উপকারী জ্ঞান যার অধিকারী ব্যক্তির ঈমান ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে, দৃঢ় বিশ্বাস শক্তিশালী হয় এবং তার অবস্থা প্রশান্তিময় হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات وعلاقته بباقي أنواع التوحيد
المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات…المبحث الأول: تعريف توحيد الأسماء والصفات
حدود الأشياء وتفسيرها الذي يوضحها، تتقدم أحكامها، فإن الحكم على الأشياء فرع عن تصورها، فمن حكم على أمر من الأمور- قبل أن يحيط علمه بتفسيره، وبتصوره تصورًا يميزه عن غيره- أخطأ خطأً فاحشًا1.
توحيد الأسماء والصفات: هو إفراد الله بأسمائه الحسنى وصفاته العلى الواردة في القرآن والسنة، والإيمان بمعانيها وأحكامها.
شرح مفردات التعريف:
أولاً: "إفراد الله":
هذا معنى كلمة "التوحيد"، فأصل هذه الكلمة من "وحد" فيقال: وحد يوحد توحيدًا: أي جعله واحدًا.
ومادة "وحد" في اللغة مدارها على انفراد الشيء.
فإذا قلت: توحيد الله بأسمائه: فالمعنى إفراد الله بأسمائه.
ثانيًا: بأسمائه الحسنى
بأسمائه: الاسم في اللغة: هو اللفظ الموضوع لمعنًى تعيينًا أو تمييزًا.
أو الاسم: ما دل على الذات وما قام بها من الصفات.
ومن أسماء الله تعالى: الله- الرحمن- الرحيم- الغفور- العزيز- القدير- السميع- البصير- الباري
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: আসমা ওয়া সিফাতের (নাম ও গুণাবলির) তাওহীদের সংজ্ঞা এবং তাওহীদের অন্যান্য প্রকারের সাথে এর সম্পর্কপ্রথম পরিচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের সংজ্ঞা...প্রথম পরিচ্ছেদ: আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদের সংজ্ঞা
বস্তুর সংজ্ঞা এবং তার ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা যা বিষয়টিকে স্পষ্ট করে, তা তার বিধানের অগ্রগামী হয়। কেননা কোনো বিষয়ের উপর বিধান প্রদান করা সেই বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক ধারণারই একটি শাখা। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো বিষয়ে হুকুম বা বিধান প্রদান করল—তার ব্যাখ্যা এবং অন্য বিষয় থেকে একে পৃথককারী সম্যক ধারণা লাভ করার আগেই—সে এক ভয়াবহ ভুল করল১।
আসমা ওয়া সিফাতের তাওহীদ হলো: কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত আল্লাহর সুন্দরতম নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলীতে আল্লাহকে একক গণ্য করা এবং এগুলোর অর্থ ও বিধানের প্রতি ঈমান আনা।
সংজ্ঞার শব্দসমূহের ব্যাখ্যা:
প্রথমত: "আল্লাহকে একক গণ্য করা":
এটিই "তাওহীদ" শব্দের অর্থ। এই শব্দটির মূল উৎস হলো "ওয়াহহাদা" থেকে, বলা হয়: "ওয়াহহাদা-ইউওয়াহহিডু-তাওহীদান", অর্থাৎ: কোনো কিছুকে এক বানানো।
আর ভাষা বিজ্ঞানে "ওয়াহাদা" মূল ধাতুর অর্থ কোনো বস্তুর একক হওয়াকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।
অতএব যখন আপনি বলবেন: আল্লাহর নামসমূহে তাঁর তাওহীদ, তখন এর অর্থ হবে আল্লাহর নামসমূহের ক্ষেত্রে তাঁকে একক গণ্য করা।
দ্বিতীয়ত: তাঁর সুন্দরতম নামসমূহের মাধ্যমে
তাঁর নামসমূহ: আভিধানিক অর্থে নাম হলো এমন শব্দ যা কোনো অর্থকে নির্দিষ্ট করার জন্য অথবা পৃথক করার জন্য প্রয়োগ করা হয়।
অথবা নাম হলো: যা সত্তা এবং সেই সত্তার সাথে বিদ্যমান গুণাবলিকে নির্দেশ করে।
আল্লাহ তাআলার নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহ- আর-রাহমান- আর-রাহীম- আল-গফুর- আল-আযীয- আল-কাদীর- আস-সামীয়- আল-বসরীর- আল-বারী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الحسنى": هذا وصف لأسماء الله، وقد ورد ذكره في القرآن الكريم.
ا- المواضع التي ورد فيها:
ورد هذا الوصف لأسماء الله عز وجل في أربعة مواضع من كتاب الله عز وجل، وهذه المواضع هي:
أ- قال تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} الأعراف 180.
ب- قال تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} الإسراء 110.
ج- قال تعالى: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} طه 8.
د- قال تعالى: {هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} الحشر 24.
2- تصريفها: حُسنَى على وزن "فُعلَى" تأنيث أفعل التفضيل، فحسنى تأنيث أحسن، ككبرى تأنيث أكبر، وصغرى تأنيث أصغر، ولذلك يخطيء من يقول إنها تأنيث حسن، لأن تأنيث "حسن" "حسنة"، ومن أجل ذلك لا يصح أن نقول: إن أسماء الله حسنة، والصَّواب هو أن نقول: إن أسماء الله حسنى كما وصفها الله بذلك.
3- معناها: معنى حسنى: المفضلة على الحسنة، أي البالغة في الحسن غايته.
المعنى العام للآية: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} : لله أحسن الأسماء وأجلها لإنبائها عن أحسن المعاني وأشرفها.
5- الحكم المستفاد: يجب الإيمان بهذا الوصف الذي أخبر الله به عن أسمائه وذلك بالاعتقاد الجازم أن أسماء الله هي أحسن الأسماء وأتمها وأكملها معنى، وفي هذا الوصف أحكام أخرى مستفاد سيأتي الكلام عنها
"আল-হুসনা": এটি আল্লাহর নামসমূহের একটি বিশেষণ, এবং পবিত্র কুরআনে এর উল্লেখ এসেছে।
১- যেসব স্থানে এটি বর্ণিত হয়েছে:
মহান আল্লাহর নামসমূহের এই বিশেষণটি আল্লাহর কিতাবে চারটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আর সেই স্থানগুলো হলো:
ক- মহান আল্লাহ বলেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামগুলো দিয়েই ডাকো} আল-আরাফ ১৮০।
খ- মহান আল্লাহ বলেন: {বলো, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই তো রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} আল-ইসরা ১১০।
গ- মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তাঁর জন্যই রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} ত্বহা ৮।
ঘ- মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, আকৃতিদানকারী; তাঁরই জন্য রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} আল-হাশর ২৪।
২- শব্দতাত্ত্বিক রূপান্তর: 'হুসনা' শব্দটি 'ফুলআ' এর ওজনে 'আফআলুত তাফদিল' বা আধিক্যবাচক বিশেষণের স্ত্রীলিঙ্গ রূপ। সুতরাং 'হুসনা' হলো 'আহসান' (সবচেয়ে সুন্দর) শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ, যেমন 'কুবরা' হলো 'আকবার' এর এবং 'সুগরা' হলো 'আসগার' এর স্ত্রীলিঙ্গ। এই কারণে, যারা বলেন যে এটি 'হাসান' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ, তারা ভুল করেন; কারণ 'হাসান' এর স্ত্রীলিঙ্গ হলো 'হাসানাহ্'। এই কারণেই আমাদের পক্ষে এটি বলা সঠিক নয় যে, আল্লাহর নামসমূহ হলো 'হাসানাহ্' (সুন্দর), বরং সঠিক হলো এটি বলা যে, আল্লাহর নামসমূহ হলো 'হুসনা' (অতি সুন্দর), যেমনটি আল্লাহ নিজেই তা বর্ণনা করেছেন।
৩- এর অর্থ: 'হুসনা' এর অর্থ হলো: যা সাধারণ সুন্দরের ওপর শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত, অর্থাৎ সৌন্দর্যের দিক থেকে যা চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে।
আয়াতের সাধারণ অর্থ: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে অতি সুন্দর নামসমূহ} : আল্লাহর জন্য রয়েছে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নামসমূহ, কারণ এগুলো অতি উত্তম ও অতি মর্যাদাপূর্ণ অর্থের জানান দেয়।
৫- শিক্ষণীয় বিধান: আল্লাহ তাঁর নামসমূহ সম্পর্কে যে গুণের সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর তা হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহর নামসমূহ হলো সর্বোত্তম নাম এবং অর্থের দিক থেকে তা সর্বাধিক পূর্ণ ও সমৃদ্ধ। এই বিশেষণের ক্ষেত্রে আরও কিছু শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে যা সামনে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بإذن الله في المسائل التفصيلية المتعقلة بأسماء الله الحسنى.
ثالثاً: "وصفاته العلى":
وصفاته ": الصفة هي: ما قام بالذات مما يميزها عن غيرها من أمور ذاتية أو معنوية أو فعلية.
ومن صفات الله عز وجل:
الذاتية: اليدان- الوجه- العينان- الأصابع.
المعنوية: العلم- القدرة- الحياة- الإرادة.
الفعلية: النزول- الاستواء- الخلق- الرزق.
العلى": هذا الوصف جاء ذكره في نص القرآن العظيم.
ا- المواضع: قال تعالى: {لِلَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ مَثَلُ السَّوْءِ وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} النحل 60.
وقال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} الروم 27.
وفي القرآن العظيم آيات كثيرة تدل على كمال صفات الله، سيأتي الكلام عنها بإذن الله في المسائل التفصيلية المتعلقة بصفات الله.
2- تصريفها: "الأعلى" صيغة أفعل التَّفضيل، أي أعلى من غيره1.
3- معنى الآية: قال القرطبي: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} : أي الوصف الأعلى2.
وقال ابن كثير: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} : أي الكمال المطلق من كل وجه3.
وقال ابن سعدي: {وَلِلَّهِ الْمَثَلُ الْأَعْلَى} وهو كل صفة كمال، وكل كمال
--------------------------------------------
আল্লাহর ইচ্ছায় আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়সমূহে।
তৃতীয়ত: "এবং তাঁর সুউচ্চ গুণাবলি":
"এবং তাঁর গুণাবলি": গুণ (সিফাত) হলো: যা সত্তার সাথে বিদ্যমান থেকে তাকে অন্যের থেকে পৃথক করে, চাই তা সত্তাগত, অর্থগত কিংবা কর্মগত বিষয় হোক।
আর মহান আল্লাহর গুণাবলির মধ্যে রয়েছে:
সত্তাগত: দুই হাত- মুখমণ্ডল- দুই চোখ- আঙুলসমূহ।
অর্থগত: জ্ঞান- ক্ষমতা- জীবন- ইচ্ছা।
কর্মগত: অবতরণ করা- উঠা- সৃষ্টি করা- রিজিক প্রদান করা।
"সুউচ্চ": এই বিবরণটি মহান কুরআনের পাঠে উল্লেখ করা হয়েছে।
১- স্থানসমূহ: মহান আল্লাহ বলেন: {যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তাদের জন্য রয়েছে মন্দ উদাহরণ; আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ। আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} আন-নাহল ৬০।
এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন; আর এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ। আসমানসমূহ ও জমিনে তাঁরই জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ; আর তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।} আর-রুম ২৭।
মহান কুরআনে এমন অনেক আয়াত রয়েছে যা আল্লাহর গুণাবলির পূর্ণতার প্রমাণ দেয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত বিস্তারিত বিষয়সমূহে সে সম্পর্কে আলোচনা আসবে।
২- শব্দতাত্ত্বিক রূপ: "আল-আলা" শব্দটি আধিক্যবোধক রূপ, অর্থাৎ অন্যের তুলনায় অধিকতর উচ্চ।১
৩- আয়াতের অর্থ: ইমাম কুরতুবী বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ}: অর্থাৎ সর্বোচ্চ গুণ।২
ইমাম ইবনে কাসীর বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ}: অর্থাৎ সব দিক থেকে নিরঙ্কুশ পূর্ণতা।৩
ইমাম ইবনে সাদী বলেছেন: {আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোচ্চ উদাহরণ} আর তা হলো প্রতিটি পূর্ণতার গুণ এবং প্রতিটি পূর্ণতা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
في الوجود فالله أحق به من غير أن يستلزم ذلك نقصًا بوجه1.
4- الحكم المستفاد: يجب الإيمان بما أخبر الله به عن نفسه وذلك بالاعتقاد الجازم بأن كل ما أخبر الله به في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم من الصفات هي صفات كمال لا نقص فيها بوجه من الوجوه، فهو سبحانه المستحق للكمال المطلق من جميع الوجوه.
قال الإمام ابن القيم: "المثل الأعلى يتضمن ثبوت الصفات العليا لله سبحانه، ووجودها العلمي، والخبر عنها، وذكرها، وعبادة الرب سبحانه بها
… "2.
رابعًا: " الواردة في القرآن والسنة ":
أي يجب الوقوف في أسماء الله وصفاته على ما جاءت به نصوص القرآن والسنة لا نزيد على ذلك ولا ننقص منه.
فلا نسمي أو نصف الله بما لم يسم أو يصف به نفسه في كتابه أو على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم.
وذلك لأنه لا طريق إلى معرفة أسماء الله وصفاته إلا من طريق واحد هو طريق الخبر- أي الكتاب والسنة-.
فلو قال شخص: لله سمع بلا أذنين.
وقال آخر: لله سمع بأذنين.
لحكمنا بخطأ الاثنين، لأنه لم يأت ذكر الأذنين في النصوص لا نفيًا ولا إثباتًا، والحق هو أن يقال: لله سمع يليق بجلاله كما جاءت بذلك النصوص،
--------------------------------------------
অস্তিত্বের ক্ষেত্রে আল্লাহই এর অধিক হকদার, কোনোভাবে এতে কোনো ত্রুটি আবশ্যক হওয়া ব্যতিরেকেই১।
৪- প্রাপ্ত শিক্ষা: আল্লাহ তাআলা নিজের সম্পর্কে যা সংবাদ দিয়েছেন তার ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। আর তা হলো এই দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবে অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে যেসব গুণাবলির সংবাদ দিয়েছেন, সেগুলো সবই পূর্ণতার গুণাবলি, যাতে কোনো দিক থেকেই কোনো ত্রুটি নেই। সুতরাং তিনি সুবহানাহু সকল দিক থেকে নিরঙ্কুশ পূর্ণতার অধিকারী।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেন: "সর্বোচ্চ উদাহরণ (আল-মাসালুল আলা) আল্লাহ সুবহানাহুর জন্য সুউচ্চ গুণাবলি সাব্যস্ত হওয়া, সেগুলোর জ্ঞানগত অস্তিত্ব, সেগুলোর সংবাদ প্রদান, সেগুলোর উল্লেখ এবং সেগুলোর মাধ্যমে রব্ব সুবহানাহুর ইবাদত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে … "২।
চতুর্থত: "যা কুরআন ও সুন্নাহয় বর্ণিত হয়েছে":
অর্থাৎ আল্লাহর নাম ও গুণাবলির ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর দলীলসমূহে যা এসেছে তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক; আমরা এর ওপর কোনো কিছু বৃদ্ধি করব না এবং এর থেকে কোনো কিছু হ্রাস করব না।
সুতরাং আল্লাহ নিজেকে যে নামে নামকরণ করেননি বা যে গুণে গুণান্বিত করেননি—চাই তা তাঁর কিতাবে হোক বা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে হোক—আমরা আল্লাহকে সেই নামে বা গুণে অভিহিত করব না।
আর এটি এই কারণে যে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলি জানার কোনো পথ নেই কেবল একটি পথ ছাড়া, আর তা হলো সংবাদের পথ—অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহ।
যদি কোনো ব্যক্তি বলে: আল্লাহর শ্রবণগুণ রয়েছে কান ছাড়া।
আর অন্যজন বলে: আল্লাহর শ্রবণগুণ রয়েছে কানসহ।
তবে আমরা উভয়ের ভুলের ফয়সালা দেব, কারণ দলীলসমূহে কানের কোনো উল্লেখ আসেনি—না নেতিবাচকভাবে, না ইতিবাচকভাবে। আর সত্য হলো এটিই বলা: আল্লাহর শ্রবণগুণ রয়েছে যা তাঁর মহিমার উপযুক্ত, যেমনটি দলীলসমূহে এসেছে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد نهانا الله أن نتكلم بغير علم، فقال تعالى: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً} 1 وبالتالي لا يجوز الإثبات أو النفي إلا بالنص.
قال الإمام أحمد (ت 241) رحمه الله: "لا يوصف الله إلا بما وصف به نفسه أو وصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم لا نتجاوز القرآن والسنة "2.
وقال ابن عبد البر (ت 463) رحمه الله: "ليس في الاعتقاد كله في صفات الله وأسمائه إلا ما جاء منصوصًا في كتاب الله، أو صح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو أجمعت عليه الأمة، وما جاء من أخبار الآحاد في ذلك كله أو نحوه يسلم له ولا يناظر فيه "3.
خامسًا: "والإيمان بمعانيها وأحكامها":
أي الإيمان بما تضمنته من المعاني وبما ترتب عليها من مقتضيات وأحكام. وهذا ما جاء الأمر به والحث عليه في القرآن والسنة.
فمن القرآن: قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا} 4، والشاهد
من الآية قوله: "فادعوه بها".
ووجه الاستشهاد: أن الله يدعو عباده إلى أن يعرفوه بأسمائه وصفاته، ويثنوا عليه بها، ويأخذوا بحظهم من عبوديتها، فالدعاء بها يتناول:
دعاء المسألة5: كقولك: ربي ارزقني.
--------------------------------------------
আর আল্লাহ আমাদের জ্ঞানহীন কথা বলতে নিষেধ করেছেন, তিনি তাআলা বলেন: "আর যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয়—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।" ১ অতএব, দালিলিক প্রমাণ (নস) ছাড়া (কোনো কিছু) সাব্যস্ত করা বা অস্বীকার করা জায়েজ নয়।
ইমাম আহমাদ (মৃত্যু ২৪১ হি.) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "আল্লাহর গুণগান কেবল সেই সব শব্দেই করা যাবে যার মাধ্যমে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন অথবা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন; আমরা কুরআন ও সুন্নাহকে অতিক্রম করব না।" ২।
এবং ইবন আব্দুল বার (মৃত্যু ৪৬৩ হি.) রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: "আল্লাহর গুণাবলি ও নামসমূহের ক্ষেত্রে সমগ্র আকিদার ভিত্তি কেবল তা-ই যা আল্লাহর কিতাবে স্পষ্টভাবে এসেছে, অথবা যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহভাবে বর্ণিত হয়েছে, অথবা যার ওপর উম্মত ঐক্যমতে পৌঁছেছে। এ সকল বিষয়ে বা এর সমপর্যায়ের ক্ষেত্রে খবরে আহাদ (একক বর্ণনা) হিসেবে যা এসেছে তা মেনে নিতে হবে এবং তাতে বিতর্ক করা যাবে না।" ৩।
পঞ্চম: "এবং সেগুলোর অর্থ ও বিধানের ওপর ঈমান আনা":
অর্থাৎ তার অন্তর্ভুক্ত অর্থসমূহ এবং তার ওপর ভিত্তি করে যা কিছু দাবি ও বিধান সাব্যস্ত হয় তার ওপর ঈমান আনা। কুরআন ও সুন্নাহতে এরই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এর প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
কুরআন থেকে এর প্রমাণ: মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সব সুন্দর নাম, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো।" ৪, এবং মূল প্রাসঙ্গিক অংশ—
আয়াতের সেই অংশ হলো: "তোমরা তাঁকে সেই নামেই ডাকো।"
দালিলিক প্রমাণের প্রেক্ষিত: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের আহ্বান জানাচ্ছেন যেন তারা তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁকে চেনে, এগুলোর মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করে এবং এগুলোর দাসত্বের যথাযথ অংশ গ্রহণ করে। সুতরাং এগুলোর মাধ্যমে ডাকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রার্থনামূলক দোয়া ৫: যেমন তোমার বলা: হে আমার রব, আমাকে রিযিক দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ودعاء الثناء1: كقولك: سبحان الله.
ودعاء التعبد2: كالركوع والسجود3.
ومن السنة: قوله صلى الله عليه وسلم: "إن لله تسعة وتسعين اسمًا، مائة إلا واحدًا، من أحصاها دخل الجنة" متفق عليه4.
الشاهد من الحديث: قوله صلى الله عليه وسلم: "من أحصاها".
ووجه الاستشهاد: أن معنى أحصاها: أي حفظها ألفاظًا، وفهم معانيها ومدلولاتها، وعمل بمقتضياتها وأحكامها.
فالعلم بأسماء الله وصفاته واعتقاد تسمي الله واتصافه بها هو من العبادة وإدراك القلب لمعانيها، وما تضمنته من الأحكام والمقتضيات، واستشعاره وتجاوبه لذلك بالقدر الذي يؤدي إلى سلامة تفكيره واستقامة سلوكه، هو عبادة أيضًا.
فأهل السنة يؤمنون بما دلت عليه أسماء الله وصفاته من المعاني، وبما يترتب عليها من مقتضيات وأحكام، بخلاف أهل الباطل الذين أنكروا ذلك وعطلوه.
فأهل السنة يؤمنون بأن كل اسم من أسماء الله يدل على معنى الذي نسميه "الصفة" فلذلك كان لزامًا على من يؤمن بأسماء الله تعالى أن يراعي الأمور التالية:
--------------------------------------------
এবং প্রশংসামূলক দুআ১: যেমন আপনার বলা: সুবহানাল্লাহ (আল্লাহ অতি পবিত্র)।
এবং ইবাদতমূলক দুআ২: যেমন রুকু ও সিজদা৩।
আর সুন্নাহ থেকে প্রমাণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে, এক কম একশটি; যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত (ইহসা) করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি৪।
হাদীসটির প্রধান অংশ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি এগুলোকে আয়ত্ত করবে"।
দলীলের যৌক্তিকতা হলো: আয়ত্ত করার অর্থ হলো—এর শব্দগুলো মুখস্থ করা, এগুলোর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করা এবং এগুলোর দাবি ও বিধান অনুযায়ী আমল করা।
অতএব আল্লাহর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা এবং আল্লাহ যে এসকল নামে নামান্বিত ও গুণে গুণান্বিত—এই বিশ্বাস পোষণ করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। হৃদয়ের মাধ্যমে এগুলোর অর্থ এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিধিবিধান ও দাবিগুলো উপলব্ধি করা এবং সেই অনুযায়ী অনুভূতি জাগ্রত হওয়া ও সাড়া প্রদান করা যা চিন্তার শুদ্ধতা ও আচরণের সঠিকতা বয়ে আনে, তাও ইবাদত।
আহলুস সুন্নাহ আল্লাহর নাম ও গুণাবলী যে সকল অর্থ নির্দেশ করে এবং এর ফলে যে সকল দাবি ও বিধান অবধারিত হয়, তার ওপর ঈমান রাখেন। তারা বাতিলপন্থীদের বিপরীত, যারা এগুলোকে অস্বীকার করেছে এবং এগুলোকে অর্থহীন ও অকেজো সাব্যস্ত করেছে।
আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহর প্রতিটি নাম একটি অর্থের ওপর প্রমাণ পেশ করে যাকে আমরা "গুণ" (সিফাত) বলি। অতএব, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর নামসমূহের ওপর ঈমান রাখে, তার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা আবশ্যক:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
أولاً: الإيمان بثبوت ذلك الاسم لله عز وجل.
ثانيًا: الإيمان بما دل عليه الاسم من المعنى أي "الصفة".
ثالثاً: الإيمان بما يتعلق به من الآثار والحكم والمقتضى.
مثال ذلك: "السميع".
اسم من أسماء الله الحسنى، فلابد من الإيمان به من:
ا- إثبات اسم "السميع" باعتباره اسمًا من أسماء الله الحسنى.
2- إثبات "السمع" صفة له.
3- إثبات الحكم "أي الفعل" وهو أن الله يسمع السر والنجوى.
وإثبات المقتضى والأثر: وهو وجوب خشية الله ومراقبته وخوفه والحياء
منه عز وجل.
قال ابن القيم رحمه الله: "كل اسم من أسمائه عز وجل له تعبد مختص به علمًا ومعرفةً وحالاً:
علمًا ومعرفة: أي إن من علم أن الله مسمى بهذا الاسم وعرف ما يتضمنه من الصفة ثم اعتقد ذلك فهذه عبادة.
وحالاً: أي إن لكل اسم من أسماء الله مدلولاً خاصًّا وتأثيرًا معينًا في القلب والسلوك، فإذا أدرك القلب معنى الاسم وما يتضمنه واستشعر ذلك، تجاوب مع هذه المعاني، وانعكست هذه المعرفة على تفكيره وسلوكه"1.
وكذلك الشأن في صفات الله عز وجل، فلابد من الإيمان بمعانيها وأحكامها، فهذه عقيدة أهل السنة، بخلاف عقيدة المعطلة الذين نفوا ما دلت عليه تلك الصفات من المعاني، وتلاعبوا بتلك المعاني فحرفوها وبدلوها.
--------------------------------------------
প্রথমত: আল্লাহর জন্য সেই নামটি সাব্যস্ত হওয়ার ওপর ঈমান আনা।
দ্বিতীয়ত: সেই নাম যে অর্থের ওপর নির্দেশ করে অর্থাৎ "গুণ"-এর ওপর ঈমান আনা।
তৃতীয়ত: সেই নামের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রভাব, হুকুম এবং দাবির ওপর ঈমান আনা।
এর উদাহরণ: "আস-সামিউ" (সর্বশ্রোতা)।
এটি আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি নাম, সুতরাং এর ওপর এভাবে ঈমান আনা আবশ্যক:
১- আল্লাহর সুন্দর নামসমূহের একটি নাম হিসেবে "আস-সামিউ" নামটি সাব্যস্ত করা।
২- তাঁর গুণ হিসেবে "শ্রবণ" সাব্যস্ত করা।
৩- এর হুকুম "অর্থাৎ কাজ" সাব্যস্ত করা; আর তা হলো আল্লাহ গোপন কথা ও কানাঘুষা শোনেন।
আর এর দাবি ও প্রভাব সাব্যস্ত করা: তা হলো মহান আল্লাহর প্রতি ভয়, তাঁর নজরদারির অনুভূতি রাখা, তাঁকে ভয় পাওয়া এবং তাঁর প্রতি লজ্জা পোষণ করা ওয়াজিব হওয়া।
ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মহান আল্লাহর প্রতিটি নামের জন্য জ্ঞান, পরিচয় এবং অবস্থা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ইবাদত রয়েছে:
জ্ঞান ও পরিচয়: অর্থাৎ যে ব্যক্তি জানে যে আল্লাহ এই নামে নামাঙ্কিত এবং এই নাম যে গুণের অন্তর্ভুক্ত তা জানে, অতঃপর তা বিশ্বাস করে, তবে এটি একটি ইবাদত।
এবং অবস্থা: অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিটি নামের একটি বিশেষ অর্থ এবং অন্তর ও আচরণের ওপর একটি নির্দিষ্ট প্রভাব রয়েছে। যখন অন্তর নামের অর্থ এবং তার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করে ও তা অনুভব করে, তখন সে এই অর্থগুলোর সাথে সাড়া দেয় এবং এই জ্ঞান তার চিন্তা ও আচরণের ওপর প্রতিফলিত হয়।"১।
অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর গুণাবলির (সিফাত) ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য, সুতরাং সেগুলোর অর্থ এবং হুকুমের ওপর ঈমান আনা আবশ্যক। এটিই আহলে সুন্নাতের আকিদা; যা মুআত্তিলাদের (গুণ অস্বীকারকারী) আকিদার বিপরীত, যারা সেই গুণগুলো যে অর্থের ওপর নির্দেশ করে তা অস্বীকার করেছে এবং সেই অর্থগুলো নিয়ে খেলাচ্ছলে সেগুলোকে বিকৃত ও রদবদল করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فأهل السنة يرون أنه لزامًا على من أراد إثبات الصفات والإيمان بأنها صفات كمال تثبت لله حقيقة- أن يراعي الأمور التالية:
أ- إثبات تلك الصفة فلا يعاملها بالنفي والإنكار.
2- أن لا يتعدى بها اسمها الخاص الذي سماها الله به، بل يحترم الاسم كما يحترم الصفة، فلا يعطل الصفة ولا يغير اسمها ويعيرها اسمًا آخر، كما تسمي المعطلة سمعه وبصره وكلامه "أعراضا".
ويسمون وجهه ويديه وقدمه " جوارح وأبعاضا ".
ويسمون علوه على خلقه واستواءه على عرشه "تحيزًا".
3- عدم تشبيهها بما للمخلوق، فإن الله سبحانه (ليس كمثله شيء) لا في ذاته ولا في صفاته ولا في أفعاله.
4- اليأس من إدراك كنهها وكيفياتها، فالعقل قد يئس من تعرف كنه الصفة وكيفيتها، فإنه لا يعلم كيف الله إلا الله، وهذا معنى قول أهل السنة: "بلا كيف ": أي بلا كيف يعقله البشر، فإن من لا تعلم حقيقة ذاته وماهيته كيف تعرف كيفية نعوته وصفاته؟ ولا يقدح ذلك في الإيمان بها، ومعرفة معانيها، فالكيفية وراء ذلك1.
5- تحقيق المقتضى والأثر لتلك الصفات، فلكل صفة عبودية خاصة هي من موجباتها ومقتضياتها- أعني من موجبات العلم بها والتحقق بمعرفتها- فعلم العبد بتفرد الرب بالخلق والرزق والإحياء والإماتة، يثمر له عبودية " التوكل".
وعلم العبد بجلاله الله وعظمته وعزه، يثمر له الخضوع والاستكانة والمحبة.
--------------------------------------------
আহলে সুন্নাত মনে করেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করতে চায় এবং এগুলো আল্লাহর জন্য প্রকৃত অর্থেই পূর্ণতার গুণাবলি হিসেবে বিশ্বাস করতে চায়, তার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা অপরিহার্য:
ক- সেই সিফাতকে সাব্যস্ত করা, সুতরাং তার সাথে অস্বীকার বা প্রত্যাখ্যানমূলক আচরণ না করা।
২- আল্লাহ সেই সিফাতকে যে নির্দিষ্ট নামে অভিহিত করেছেন, তা লঙ্ঘন না করা; বরং সিফাতের মতো নামেরও মর্যাদা রক্ষা করা। অতএব, সিফাতকে অর্থহীন না করা এবং এর নাম পরিবর্তন করে অন্য কোনো নাম না দেওয়া, যেমনটি সিফাত অস্বীকারকারীরা তাঁর শ্রবণ, দর্শন ও কালামকে "আকস্মিক গুণ" বলে অভিহিত করে।
এবং তারা তাঁর চেহারা, তাঁর হাত ও তাঁর পা-কে "অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও খণ্ডিতাংশ" বলে অভিহিত করে।
এবং তারা সৃষ্টির উপরে তাঁর উচ্চতা এবং আরশের উপর তাঁর ওঠাকে "দিক বা স্থান পরিবেষ্টন" বলে অভিহিত করে।
৩- সেগুলোকে সৃষ্টির সিফাতের সাথে তুলনা না করা, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা—তাঁর সত্তা, তাঁর গুণাবলি বা তাঁর কার্যাবলি কোনো কিছুতেই—তাঁর সদৃশ কিছুই নেই।
৪- সিফাতের প্রকৃত স্বরূপ ও ধরন অনুধাবনের ব্যাপারে নিরাশ হওয়া। কেননা বুদ্ধি সিফাতের স্বরূপ ও ধরন জানার ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ কেমন, তা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আর এটিই আহলে সুন্নাতের এই বাণীর অর্থ: "ধরনহীনভাবে": অর্থাৎ এমন কোনো ধরন ছাড়া যা মানুষ অনুধাবন করতে পারে। কারণ যার সত্তার প্রকৃত স্বরূপ ও অস্তিত্বের ধরন জানা নেই, তার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলির ধরন কীভাবে জানা সম্ভব? আর এটি সেসব সিফাতের প্রতি ঈমান আনা এবং সেগুলোর অর্থ জানার ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না, কারণ সিফাতের ধরন এর ঊর্ধ্বে।১
৫- সেই সিফাতগুলোর দাবি ও প্রভাব বাস্তবায়ন করা। প্রতিটি সিফাতের জন্যই নির্দিষ্ট দাসত্ব রয়েছে যা সেই সিফাতের আবশ্যকতা ও দাবির অন্তর্ভুক্ত—অর্থাৎ সেই সিফাতের জ্ঞান অর্জন ও পরিচয়ের ফলস্বরূপ। সুতরাং বান্দার এই জ্ঞান যে, রব সৃষ্টি করা, রিজিক দেওয়া, জীবন দান ও মৃত্যু দান করার ক্ষেত্রে একক, তা তার জন্য "তাওয়াক্কুল" (নির্ভরতা)-এর ইবাদত উৎপন্ন করে।
এবং আল্লাহর মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের ব্যাপারে বান্দার জ্ঞান তার মাঝে আনুগত্য, বিনয় ও ভালোবাসা উৎপন্ন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المبحث الثاني: العلاقة بين أنواع التوحيدبعد شرح تعريف توحيد الأسماء والصفات، لعل من المناسب هنا ذكر العلاقة بين هذا النوع من أنواع التوحيد وبقية أنواع التوحيد.
ونمهد لذلك بذكر تقسيمات أهل العلم للتوحيد فنقول:
أقسام التوحيد:
تنوعت عبارات علماء أهل السنة في التعبير عن أنواع التوحيد، ولكنها مع ذلك التنوع متفقة في المضمون، ولعل السبب في ذلك هو أن تلك التقسيمات مأخوذ من استقراء النصوص ولم يُنص عليها باللفظ مباشرة، ولذلك فمن العلماء1 من قدم التوحيد إلى ثلاثة أقسام، هي:
ا- توحيد الربوبية: وهو إفراد الله بأفعاله كالخلق والرزق.
2- توحيد الأسماء والصفات: وقد تقدم ذكر تعريفه.
3- توحيد الألوهية: وهو إفراد الله بأفعال العباد التعبدية؟ كالصلاة والصوم والدعاء.
ومن المتأخرين من زاد قسمًا رابعًا على الأقسام الثلاثة السابقة وسماه:
4- توحيد الاتباع أو توحيد الحاكمية (أي التحاكم إلى الكتاب والسنة) ، ولكن يلاحظ على من ذكر هذا القسم أن هذا القسم في الحقيقة داخل ضمن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাওহীদের প্রকারভেদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কতাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতের সংজ্ঞার আলোচনার পর, তাওহীদের এই প্রকার এবং তাওহীদের অবশিষ্ট প্রকারসমূহের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়টি এখানে উল্লেখ করা সম্ভবত সমীচীন হবে।
আমরা তাওহীদের বিষয়ে আহলে ইলমগণের শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করার মাধ্যমে এর ভূমিকা পেশ করছি, আমরা বলি:
তাওহীদের প্রকারভেদ:
তাওহীদের প্রকারভেদ বর্ণনার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের উলামায়ে কেরামের অভিব্যক্তি বিভিন্ন রকম হয়েছে, তবে এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সেগুলো বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে একমত। সম্ভবত এর কারণ হলো, এই শ্রেণিবিন্যাসগুলো দলিলের অনুসন্ধানের (ইস্তিকরা) মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, সরাসরি কোনো শব্দের মাধ্যমে সেগুলো বর্ণিত হয়নি। এই কারণেই উলামায়ে কেরামের মধ্যে কেউ কেউ১ তাওহীদকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন, সেগুলো হলো:
১- তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ: আর তা হলো আল্লাহকে তাঁর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা, যেমন— সৃষ্টি করা এবং রিজিক প্রদান করা।
২- তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত: এর সংজ্ঞা ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩- তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ: আর তা হলো বান্দার ইবাদতমূলক কার্যাবলীর মাধ্যমে আল্লাহকে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা; যেমন— সালাত, সিয়াম এবং দুআ।
পরবর্তীকালের আলেমদের মধ্যে কেউ কেউ পূর্বোক্ত তিনটি প্রকারের সাথে চতুর্থ একটি প্রকার বৃদ্ধি করেছেন এবং এর নামকরণ করেছেন:
৪- তাওহীদুল ইত্তিবা’ বা তাওহীদুল হাকিমিয়্যাহ (অর্থাৎ কিতাব ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করা); কিন্তু যারা এই প্রকারটি উল্লেখ করেছেন তাদের ব্যাপারে লক্ষণীয় যে, এই প্রকারটি প্রকৃতপক্ষে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
توحيد الألوهية، لأن العبادة لا تقبل شرعًا إلا بشرطين هما:
ا- الإخلاص.
2- الاتباع.
كما قال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} 1.
ومن العلماء من قسم التوحيد إلى قسمين، وهذا هو الأغلب في كلام أهل العلم المتقدمين لأنهم يجمعون بين توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وذلك بالنظر إلى أنهما يشكلان بمجموعهما جانب العلم بالله ومعرفته عز وجل، فجمعوا بينهما لذلك، بينما توحيد الألوهية يشكل جانب العمل لله.
وتقسيم التوحيد إلى ثلاثة أقسام راجع إلى اعتبار متعلق التوحيد، وتقسيمه إلى قسمين راجع إلى اعتبار ما يجب على الموحد.
فمن العلماء من يقول: التوحيد قسمان2:
القسم الأول: توحيد المعرفة والإثبات:
ويريد به توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات وسمي بتوحيد المعرفة، لأن معرفة الله عز وجل إنما تكون بمعرفة أسمائه وصفاته وأفعاله.
والإثبات: أي إثبات ما أثبته الله لنفسه من الأسماء والصفات والأفعال.
القسم الثاني: توحيد القصد والطلب:
ويراد به الألوهية، وسمي بتوحيد القصد والطلب لأن العبد يتوجه بقلبه
--------------------------------------------
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ; কারণ শারঈভাবে ইবাদত দুটি শর্ত ছাড়া কবুল হয় না, তা হলো:
১- ইখলাস (নিষ্ঠা)।
২- ইত্তিবা (অনুসরণ)।
যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে, সে যেন নেক আমল করে এবং তার প্রতিপালকের ইবাদতে কাউকে শরীক না করে} ১।
আলিমগণের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। প্রাচীন আলিমগণের বক্তব্যে এটিই অধিক দেখা যায়, কারণ তারা তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাতকে একত্রে উল্লেখ করতেন। এর কারণ হলো, এ দুটির সমষ্টি মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর পরিচয় লাভের দিকটিকে গঠন করে, তাই তারা এ কারণেই এ দুটিকে একত্রিত করেছেন। পক্ষান্তরে তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ আল্লাহর জন্য বান্দার কর্মের দিকটি গঠন করে।
তাওহীদকে তিন ভাগে বিভক্ত করা তাওহীদের বিষয়বস্তুর বিবেচনার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর একে দুই ভাগে বিভক্ত করা মুওয়াহহিদ বা তাওহীদপন্থী ব্যক্তির ওপর যা ওয়াজিব তা বিবেচনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
সুতরাং আলিমগণের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: তাওহীদ দুই প্রকার ২:
প্রথম প্রকার: তাওহীদুল মা’রিফাহ ওয়াল ইসবাত (পরিচয় ও সাব্যস্তকরণের তাওহীদ):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদুল রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস-সিফাত। একে তাওহীদুল মা’রিফাহ বলা হয়েছে কারণ মহান আল্লাহর পরিচয় মূলত তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি জানার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।
আর ইসবাত (সাব্যস্তকরণ): অর্থাৎ আল্লাহ নিজের জন্য যে সকল নাম, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সাব্যস্ত করেছেন তা সাব্যস্ত করা।
দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল কাসদ ওয়াত-তালাব (উদ্দেশ্য ও অন্বেষার তাওহীদ):
এর দ্বারা তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ উদ্দেশ্য। একে তাওহীদুল কাসদ ওয়াত-তালাব বলা হয়েছে কারণ বান্দা তার অন্তর দিয়ে মহান আল্লাহর অভিমুখী হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুতাকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ ফি তাওহিদিল আসমায়ি ওয়াস সিফাত
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
ولسانه وجوارحه بالعبادة لله وحده رغبة ورهبة، ويقصد بذلك وجه الله وابتغاء مرضاته.
ومن العلماء من يقسم التوحيد إلى قسمين هما1:
القسم الأول: التوحيد العلمي الخبري:
والمقصود به توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات.
وسمي بالتوحيد العلمي: لأنه يعتني بجانب معرفة الله، فالعلمي أي "العلم بالله".
والخبري: لأنه يتوقف على الخبر أي: "الكتاب والسنة".
القسم الثاني: التوحيد الإرادي الطلبي:
والمقصود به توحيد الألوهية، وسمي بالتوحيد الإرادي لأن العبد له في العبادات إرادة، فهو إما أن يقوم بتلك العبادة أو لا يقوم بها، وسمي بالطلبي، لأن العبد يطلب بتلك العبادات وجه الله ويقصده عز وجل بذلك.
ومن العلماء من يقسم التوحيد إلى قسمين فيقول2:
القسم الأول: التوحيد القولي:
والمراد به توحيد الربوبية وتوحيد الأسماء والصفات، وسمي بالقولي لأنه في مقابل توحيد الألوهية الذي يشكل الجانب العلمي من التوحيد، وأما هذا الجانب فهو مختص بالجانب القولي العلمي.
القسم الثاني: التوحيد العملي:
والمراد به توحيد الألوهية، وسمي بالعملي، لأنه يشمل كلاًّ من عمل
--------------------------------------------
এবং তাঁর জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা হয় আশা ও ভীতি সহকারে, আর এর মাধ্যমে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁরই অনুগ্রহ কামনা করে।
আলেমগণের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা তাওহীদকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো ১:
প্রথম প্রকার: ইলমি খবরী তাওহীদ (জ্ঞান ও সংবাদ ভিত্তিক তাওহীদ):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণাবলির একত্ব)।
একে 'ইলমি' তাওহীদ বলা হয়: কারণ এটি আল্লাহ সম্পর্কে জানার বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। সুতরাং ইলমি মানে হলো "আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান"।
আর 'খবরী': কারণ এটি সংবাদের উপর নির্ভরশীল, অর্থাৎ: "কিতাব ও সুন্নাহ"।
দ্বিতীয় প্রকার: ইরাদী তালাবী তাওহীদ (ইচ্ছা ও অন্বেষা ভিত্তিক তাওহীদ):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহ। একে 'ইরাদী' তাওহীদ বলা হয় কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দার একটি ইচ্ছা রয়েছে, ফলে সে হয় সেই ইবাদত সম্পাদন করে অথবা করে না। আর একে 'তালাবী' বলা হয় কারণ বান্দা এই ইবাদতগুলোর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে এবং এর দ্বারা তিনি মহান আল্লাহকেই উদ্দেশ্য করেন।
আলেমগণের মধ্যে কেউ কেউ তাওহীদকে দুই ভাগে বিভক্ত করে বলেন ২:
প্রথম প্রকার: কাওলী তাওহীদ (বাচনিক তাওহীদ):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস-সিফাত। একে 'কাওলী' বলা হয় কারণ এটি তাওহীদে উলুহিয়্যাহ-এর বিপরীতে অবস্থিত যা তাওহীদের আমলী (কর্মগত) দিক গঠন করে, আর এই দিকটি কাওলী-ইলমি (বাচনিক-জ্ঞানগত) দিকের সাথে সুনির্দিষ্ট।
দ্বিতীয় প্রকার: আমলী তাওহীদ (কর্মগত তাওহীদ):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাওহীদে উলুহিয়্যাহ। একে 'আমলী' বলা হয় কারণ এটি কর্মের প্রত্যেকটিকে অন্তর্ভুক্ত করে...
--------------------------------------------