(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: -)
شرح الأشمونى لألفية ابن مالك القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح الأشموني على ألفية ابن مالك
المؤلف: علي بن محمد بن عيسى، أبو الحسن، نور الدين الأُشْمُوني الشافعي (ت 900هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية بيروت- لبنان
الطبعة: الأولى 1419هـ- 1998مـ
عدد الأجزاء: 4
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর আল-আশমুনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ বিভাগ: নাহু ও সারফ
গ্রন্থ: ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর উপর আল-আশমুনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ
লেখক: আলী বিন মুহাম্মাদ বিন ঈসা, আবুল হাসান, নূরুদ্দীন আল-আশমুনী আশ-শাফিয়ী (মৃত্যু ৯০০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত- লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৫)
المجلد الأول
القسم الأول: ترجمة ابن مالك وترجمة الأشموني…القسم الأول: ترجمة ابن مالك وترجمة الأشموني
بسم الله الرحمن الرحيم
1 - ترجمة ابن مالك:
هو جمال الدين، أبو عبد الله، محمد بن عبد الله بن عبد الله بن مالك، الطائي نسبا، الشافعي مذهبا، الجياني منشأ.
ولد في جيان في الأندلس في سنة 600هـ، وقيل: سنة601هـ، وقيل: سنة 597هـ، وقيل: سنة 598هـ. تلقى علومه الأولى في بلدته، ثم انتقل، وهو شاب، إلى دمشق، ثم ما لبث أن ترك المذهب المالكي الذي كان غالبا على الأندلسيين ليدخل المذهب الشافعي.
أخذ ابن مالك القراءات والنحو عن أبي رزين بن ثابت بن محمد بن يوسف الكلاعي، من أهل لبلة بالأندلس، وسمع من السخاوي، علي بن محمد النحوي المقرئ، وقرأ على أبي الفضل مكرم بن محمد بن أبي الصقر، ولازم في حلب حلقة ابن يعيش النحوي، كما جالس تلميذه ابن عمرون.
"وكان إماما في القراءات وعللها، وأما اللغة فكان إليه المنتهى في الإكثار من نقل غريبها، والاطلاع على وحشيها. وأما النحو والتصريف فكان فيهما بحرا لا يجارى، وحبرا لا يبارى. وأما أشعار العرب التي يستشهد بها على اللغة والنحو، فكانت الأئمة الأعلام يتحيرون فيه، ويتعجبون من أين يأتي بها. وكان نظم الشعر سهلا عليه: رجزه وطويله وبسيطه وغير ذلك، هذا مع ما هو عليه من الدين المتين، وصدق اللهجة، وكثرة النوافل، وحسن السمت، ورقة القلب، وكمال العقل، والوقار والتؤدة"1.
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ডপ্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিক ও আল-আশমুনীর জীবনী...প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনে মালিক ও আল-আশমুনীর জীবনী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
১ - ইবনে মালিকের জীবনী:
তিনি হলেন জামালুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক; বংশগতভাবে তায়ি, মাযহাবগতভাবে শাফেয়ি এবং জন্মগতভাবে জাইয়ানি।
তিনি আন্দালুসের জাইয়ানে ৬০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন; মতান্তরে ৬০১ হিজরিতে, মতান্তরে ৫৯৭ হিজরিতে এবং মতান্তরে ৫৯৮ হিজরিতে। তিনি নিজ শহরে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন, অতঃপর যুবক অবস্থায় দামেস্কে স্থানান্তরিত হন। এরপর তিনি বেশি বিলম্ব না করে আন্দালুসীয়দের মাঝে প্রচলিত মালেকি মাযহাব ত্যাগ করে শাফেয়ি মাযহাবে দাখিল হন।
ইবনে মালিক কিরাত ও নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন আন্দালুসের লাবলা নিবাসী আবু রাজিন ইবনে সাবিত ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কালাঈ-এর নিকট। তিনি নাহুবিদ ও ক্বারি সাখাবি অর্থাৎ আলি ইবনে মুহাম্মদ-এর নিকট থেকে জ্ঞান আহরণ করেন এবং আবুল ফজল মুকরাম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু সাকার-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন। আলেপ্পোতে তিনি নাহুবিদ ইবনে ইয়াঈশের ইলমি মজলিসে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন এবং তাঁর ছাত্র ইবনে আমরুনের সংশ্রবেও ছিলেন।
"তিনি কিরাত ও তার সূক্ষ্ম কারণসমূহের (ইলাল) বর্ণনায় ইমাম ছিলেন। আর ভাষার ক্ষেত্রে দুষ্প্রাপ্য শব্দাবলি (গারিব) উদ্ধৃতিতে এবং অপ্রচলিত শব্দের (ওয়াহশি) জ্ঞানার্জনে তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। নাহু (ব্যাকরণ) ও সারফ (রূপান্তর) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন এমন এক অতল সমুদ্র যার সাথে পাল্লা দেওয়া যায় না এবং এমন এক বিজ্ঞ পণ্ডিত যার সমকক্ষ কেউ নেই। আর ভাষা ও ব্যাকরণের দলিল হিসেবে তিনি যে সমস্ত আরবি কবিতা পেশ করতেন, তা দেখে বড় বড় ইমামগণ হতবাক হয়ে যেতেন এবং বিস্মিত হতেন যে তিনি এগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করে আনছেন। কবিতা রচনা করা তাঁর জন্য ছিল অত্যন্ত সহজসাধ্য: তা রাজায, তবিল, বাসিত বা অন্য যেকোনো ছন্দই হোক না কেন। এর সাথে সাথে তিনি ছিলেন সুদৃঢ় দ্বীনদার, সত্যবাদী, নফল ইবাদতে মগ্ন, উত্তম চরিত্রের অধিকারী, দয়ার্দ্র হৃদয়ের মানুষ, পূর্ণ প্রজ্ঞাবান, গম্ভীর এবং অত্যন্ত ধৈর্যশীল।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أخذ عنه علماء كثيرون، منهم ابنه بدر الدين محمد شارح ألفيته، والإمام النووي، وشمس الدين بن جعوان، والعلاء بن العطار، والشيخ أبو الحسين اليونيني، وبها الدين بن النحاس شيخ الديار المصرية في علم اللسان، وقاضي القضاة بدر الدين بن جماعة، وابن خلكان، وشهاب الدين بن نافع، وغيرهم.
أما مؤلفاته فقد قاربت الخمسين.
وقد أحصاها الدكتور رمزي بعلبكي مشيرا إلى المطبوع منها بالحرف "ط"، وإلى المخطوط بالحرف "خ"، مغفلا الإشارة إلى العناوين التي ذكرتها المصادر ولم تطبع أو يعثر لها على مخطوط، فجاءت على النحو التالي مرتبة ترتيبا ألفبائيا1:
1- الاعتداد في الفرق بين الزاي والضاد.
2- أجوبة على أسئلة جمال الدين اليمني في النحو "خ".
3- أرجوزة في الخط "خ".
4- أرجوزة في المثلثات، طبعت ضمن كتابه "تحفة المودود".
5- الاعتضاد في الفرق بين الظاء والضاد.
6- الاعتماد في نظائر الظاء والضاد، ولعله المؤلف السابق نفسه.
7- إعراب مشكل القرآن.
8- الإعلام بمثلث الكلام "ط".
9- أفعال الأمر التي تبقى على حرف واحد "خ".
10- إكمال الإعلام في تثليث الكلام "خ".
11- إكمال العمدة وشرحه.
12- الألفاظ المختلفة في المعاني المؤتلفة "خ".
13- الألفية أو الخلاصة.
14- إيجاز التعريف في علم التصريف "أو: بضروري التصريف"، وقد يسمى "تصريف ابن مالك" "خ".
15- بيان ما فيه لغات ثلاث أو أكثر "خ".
16- تحفة الإحظا في الفرق بين الضاد والظا "خ"، ولعله كتاب الاعتضاد السابق نفسه.
17- تحفة المودود في المقصور والممدود "ط".
18- تسهيل الفوائد وتكميل المقاصد "ط".
19- تنبيهات ابن مالك "خ".
20- ثلاثيات الأفعال "خ".
--------------------------------------------
অনেক আলেম তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর পুত্র বদরুদ্দীন মুহাম্মদ—যিনি তাঁর আলফিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার—এবং ইমাম নববী, শামসুদ্দীন বিন জাওয়ান, আলাউদ্দীন বিন আত্তার, শেখ আবু আল-হুসাইন আল-ইউনিনী, মিশরের ভাষাবিজ্ঞানের প্রধান বাহাউদ্দীন বিন আন-নাহহাস, প্রধান বিচারপতি বদরুদ্দীন ইবনে জামাআহ, ইবনে খাল্লিকান, শিহাবুদ্দীন বিন নাফে এবং আরও অনেকে।
তাঁর রচনাবলি সংখ্যায় প্রায় পঞ্চাশের কাছাকাছি।
ডক্টর রামজি বালবাক্কি এগুলো গণনা করেছেন। তিনি মুদ্রিত কপিগুলোর পাশে "মু" বর্ণ এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর পাশে "পা" বর্ণ দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। যে সমস্ত শিরোনামের কথা বিভিন্ন উৎসে পাওয়া যায় কিন্তু মুদ্রিত হয়নি বা যার কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়নি, সেগুলো তিনি উল্লেখ করেননি। তালিকাটি বর্ণানুক্রমিকভাবে নিচে দেওয়া হলো ১:
১- আল-ইতিদাদ ফি আল-ফারকি বাইনা আস-যাই ওয়া আদ-দাদ।
২- নাহু শাস্ত্রের বিষয়ে জামালুদ্দীন আল-ইয়ামানির প্রশ্নের উত্তরসমূহ "পা"।
৩- হস্তলিপি বিষয়ক কাব্যগাথা "পা"।
৪- মুসাল্লাছাত (ত্রয়ীবচন) বিষয়ক কাব্যগাথা, যা তাঁর "তুহফাতুল মওদুদ" গ্রন্থের সাথে মুদ্রিত হয়েছে।
৫- আল-ইতিদাদ ফি আল-ফারকি বাইনা আজ-জা ওয়া আদ-দাদ।
৬- আল-ইতিমাদ ফি নাযাইর আজ-জা ওয়া আদ-দাদ, সম্ভবত এটি পূর্বোক্ত গ্রন্থটিই।
৭- ই'রাব মুশকিলিল কুরআন।
৮- আল-ই'লাম বি-মুসাল্লাছিল কালাম "মু"।
৯- এক অক্ষরবিশিষ্ট আদেশসূচক ক্রিয়া পদসমূহ "পা"।
১০- ইকমালুল ই'লাম ফি তাছলীছিল কালাম "পা"।
১১- ইকমালুল উমদাহ ওয়া শারহুহু।
১২- আল-আলফাজুল মুখতালিফাহ ফিল মা'আনিল মুতালিফাহ "পা"।
১৩- আল-আলফিয়্যাহ অথবা আল-খুলাসাতু।
১৪- রূপান্তর শাস্ত্র বিষয়ে ইজাযুত তারিফ (বা বি-দুরুারিত তাসরিফ), একে ইবনে মালিকের তাসরিফ-ও বলা হয় "পা"।
১৫- যার তিনটি বা ততোধিক রূপ রয়েছে তার বর্ণনা "পা"।
১৬- তুহফাতুল ইহজা ফি আল-ফারকি বাইনা আদ-দাদ ওয়া আজ-জা "পা", সম্ভবত এটিও পূর্বোক্ত আল-ইতিদাদ গ্রন্থটি।
১৭- তুহফাতুল মওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ "মু"।
১৮- তাসহিলুল ফাওয়াইদ ওয়া তাকমিলুল মাকাসিদ "মু"।
১৯- তানবিহাতু ইবনে মালিক "পা"।
২০- ছুলাছিয়াতুল আফ'আল "পা"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৭)
21- حوز المعاني في اختصار حرز الأماني.
22- ذكر معاني أبنية الأسماء الموجودة في المفصل للزمخشري "خ".
23- سبك المنظوم وفك المختوم "خ".
24- شرح ابن مالك على تصريفه المأخوذ من كافيته "خ".
25- شرح الاعتضاد في الفرق بين الظاء والضاد "خ".
26- شرح إيجاز التعريف.
27- شرح تحفة المودود في المقصور والممدود "ط".
28- شرح التسهيل "خ".
29- شرح الجزولية.
30- شرح عمدة الحافظ وعدة اللافظ "ط".
31- شرح الكافية الشافية "ط".
32- شرح لامية الأفعال "ط".
33- شواهد التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصحيح "ط".
34- الضرب في معرفة لسان العرب.
35- العروض "خ".
36- عمدة الحافظ وعدة اللافظ "ط".
37- فتاوى ابن مالك "جمعها بعض طلبته".
38- الفوائد النحوية والمقاصد المحوية.
39- القصيدة الدالية المالكية في القراءات السبع "خ".
40- قصيدة في الأسماء المؤنثة "خ".
41- الكافية الشافية "ط".
42- لامية الأفعال "ط".
43- المقدمة الأسدية، وضعها باسم ابنه الثاني محمد المعروف بالأسد.
44- منظومة فيما ورد من الأفعال بالواو والياء "خ".
45- المؤصل في نظم المفصل.
46- النظم الأوجز فيما يهمز.
47- نظم الفوائد.
48- نظم الكافية في اللغة "خ".
49- وفاق الاستعمال في الإعجام والإهمال "خ".
২১- হাউযুল মাআনি ফি ইখতিসারি হিরযিল আমানি।
২২- যামাখশারির 'আল-মুফাসসাল'-এ বর্ণিত বিশেষ্যসমূহের গঠনগত অর্থের বর্ণনা [পাণ্ডুলিপি]।
২৩- সাবকুল মানযুম ওয়া ফাককুল মাখতুম [পাণ্ডুলিপি]।
২৪- ইবনে মালিকের নিজস্ব 'কাফিয়া' থেকে গৃহীত 'তাসরিফ'-এর ওপর তাঁর কৃত ব্যাখ্যাগ্রন্থ [পাণ্ডুলিপি]।
২৫- শারহুল ইতিযাদ ফি আল-ফারকি বাইনাল যা ওয়া আল-দাদ [পাণ্ডুলিপি]।
২৬- শারহু ইজাযিত তারিফ।
২৭- শারহু তুহফাতিল মাওদুদ ফিল মাকসুর ওয়াল মামদুদ [মুদ্রিত]।
২৮- শারহুত তাসহিল [পাণ্ডুলিপি]।
২৯- শারহুল জাযুলিয়া।
৩০- শারহু উমদাতিল হাফিয ওয়া উদদাতিল লাফিয [মুদ্রিত]।
৩১- শারহুল কাফিয়া আল-শাফিয়া [মুদ্রিত]।
৩২- শারহু লামিয়াতিল আফআল [মুদ্রিত]।
৩৩- শাওয়াহিদুল তাওযিহ ওয়াত তাসহিহ লি-মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ [মুদ্রিত]।
৩৪- আদ-দারবু ফি মা'রিফাতি লিসানিল আরব।
৩৫- আল-আরুয [পাণ্ডুলিপি]।
৩৬- উমদাতুল হাফিয ওয়া উদদাতিল লাফিয [মুদ্রিত]।
৩৭- ইবনে মালিকের ফাতাওয়াসমূহ "তাঁর জনৈক ছাত্র এগুলো সংগ্রহ করেছেন"।
৩৮- আল-ফাওয়ায়িদুল নাহউইয়া ওয়াল মাকাসিদুল মাহউইয়া।
৩৯- কিরাআতে সাবআ (সাত কিরাআত) সম্পর্কে আল-কাসিদা আদ-দালিয়া আল-মালিকিয়া [পাণ্ডুলিপি]।
৪০- স্ত্রীবাচক বিশেষ্যসমূহ সম্পর্কে কবিতা [পাণ্ডুলিপি]।
৪১- আল-কাফিয়া আল-শাফিয়া [মুদ্রিত]।
৪২- লামিয়াতুল আফআল [মুদ্রিত]।
৪৩- আল-মুকাদ্দিমা আল-আসাদিয়া; তিনি এটি তাঁর দ্বিতীয় পুত্র মুহাম্মাদ (যিনি আসাদ নামে পরিচিত ছিলেন) এর নামে রচনা করেছেন।
৪৪- ওয়াও এবং ইয়া যুক্ত ক্রিয়াসমূহ সম্পর্কিত কাব্যগ্রন্থ [পাণ্ডুলিপি]।
৪৫- আল-মুয়াসসিল ফি নাযমিল মুফাসসাল।
৪৬- আন-নাযমুল আওজাযু ফিমা ইউমযায।
৪৭- নাযমুল ফাওয়ায়িদ।
৪৮- ভাষা সম্পর্কিত নাযমুল কাফিয়া [পাণ্ডুলিপি]।
৪৯- উফাকুল ইস্তি'মাল ফিল ই'জাম ওয়াল ইহমাল [পাণ্ডুলিপি]।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৮)
توفي ابن مالك في 12 شعبان سنة 672هـ، وصلي عليه بالجامع الأموي بدمشق، ودفن بسفح جبل قاسيون.
2- مصادر ترجمة ابن مالك ومراجعها:
كثيرة هي المصادر والمراجع التي ترجمت لابن مالك، ومنها1:
- الأعلام لخير الدين الزركلي 6/ 233.
- البداية والنهاية لابن كثير 13/ 267.
- بغية الوعاة للسيوطي 1/ 130-137.
- البلغة في تاريخ أئمة اللغة للفيروزابادي 2/ 180.
- تاريخ الأدب العربي لكارل بروكلمان 5/ 275-296.
- حاشية الخضري على ابن عقيل 1/ 7.
- دائرة المعارف 4/ 16-18.
- دائرة المعارف الإسلامية 1/ 272-274.
- روضات الجنات للخوانساري 8/ 76.
- شذرات الذهب في أخبار من ذهب لابن العماد الحنبلي 5/ 339.
- طبقات الشافعية للإسنوي 2/ 454.
- طبقات الشافعية الكبرى للسبكي 5/ 28.
- طبقات النحاة واللغويين لابن قاضي شهبة ص133.
- العبر في خبر من غبر للذهبي 5/ 300.
- غاية النهاية في طبقات القراء لابن الجزري 2/ 180.
- فوات الوفيات لابن شاكر الكتبي 3/ 407.
- المختصر في أخبار البشر لأبي الفداء 4/ 8.
- مرآة الجنان لليافعي 4/ 172.
- معجم المؤلفين لعمر رضا كحالة 10/ 234.
- معجم المطبوعات العربية والمعربة ليوسف اليان سركيس، العمود 232: العمود 234.
- النجوم الزاهرة في ملوك مصر والقاهرة لابن تغري بردي 7/ 243.
- الوافي بالوفيات للصفدي 3/ 359-364.
3- ترجمة الأشموني:
هو علي بن محمد بن عيسى، أبو الحسن نور الدين الأشموني "838هـ/ 1435م-
--------------------------------------------
ইবনে মালিক ৬৭২ হিজরির ১২ই শাবান মৃত্যুবরণ করেন। দামেস্কের উমাইয়া জামে মসজিদে তাঁর জানাজা পড়ানো হয় এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁকে দাফন করা হয়।
২- ইবনে মালিকের জীবনীর উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ:
ইবনে মালিকের জীবনী বর্ণনাকারী উৎস ও তথ্যসূত্র অনেক, যার মধ্যে রয়েছে১:
- খাইরুদ্দিন আল-জিরিকলি রচিত আল-আ’লাম ৬/২৩৩।
- ইবনে কাসির রচিত আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া ১৩/২৬৭।
- সুয়ূতী রচিত বুগইয়াতুল উ'আহ ১/১৩০-১৩৭।
- ফিরোজাবাদি রচিত আল-বুলগাহ ফি তারিখি আইম্মাতিল লুগাহ ২/১৮০।
- কার্ল ব্রোকলম্যান রচিত তারিখুল আদাবিল আরবি ৫/২৭৫-২৯৬।
- ইবনে আকিলের ওপর খুদরি রচিত হাশিয়া ১/৭।
- দাইরাতুল মা'আরিফ ৪/১৬-১৮।
- দাইরাতুল মা'আরিফ আল-ইসলামিয়া ১/২৭২-২৭৪।
- খাওয়াসারি রচিত রওদাতুল জান্নাত ৮/৭৬।
- ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি রচিত শাজারাতুজ জাহাব ফি আখবারি মান জাহাব ৫/৩৩৯।
- ইসনাউয়ি রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ২/৪৫৪।
- সুবকি রচিত তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা ৫/২৮।
- ইবনে কাজি শুহবাহ রচিত তাবাকাতুন নুহাত ওয়াল লুগাউয়্যিন পৃষ্ঠা ১৩৩।
- জাহাবি রচিত আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার ৫/৩০০।
- ইবনুল জাজারি রচিত গায়াতুন নিহায়াহ ফি তাবাকাতিল কুররা ২/১৮০।
- ইবনে শাকির আল-কুতুবি রচিত ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ৩/৪০৭।
- আবুল ফিদা রচিত আল-মুখতাসার ফি আখবারিল বাশার ৪/৮।
- ইয়াফেয়ি রচিত মিরআতুল জিনান ৪/১৭২।
- উমর রিদা কাহহালা রচিত মু'জামুল মুয়াল্লিফিন ১০/২৩৪।
- ইউসুফ ইলিয়ান সারকিস রচিত মু'জামুল মাতবুয়াত আল-আরাবিয়্যাহ ওয়াল মু'আররাবাহ, কলাম ২৩২: কলাম ২৩৪।
- ইবনে তাগরি বারদি রচিত আন-নুজুমুজ জাহিরাহ ফি মুলুকি মিসরা ওয়াল কাহিরাহ ৭/২৪৩।
- সাফাদি রচিত আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/৩৫৯-৩৬৪।
৩- আল-আশমুনির জীবনী:
তিনি হলেন আলি বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা, আবুল হাসান নূরুদ্দিন আল-আশমুনি (৮৩৮ হিজরি/ ১৪৩৫ খ্রিস্টাব্দ-
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৯)
نحو 900هـ/ نحو 1495م". نحوي، فقيه، متكلم، ناظم. أصله من أشمون بمصر. ولد في القاهرة، وولي القضاء في دمياط. كان شيخا بارعا مفننا أخذ من أجل مشايخ عصره.
من مؤلفاته:
- حاشية على "الأنوار لعمل الأبرار" للشيخ الإمام جمال الدين يوسف بن إبراهيم الشافعي "799هـ"، وهو في فقه الشافعية.
- منهج المسالك إلى ألفيه ابن مالك، وهو المعروف باسم "شرح الأشموني".
- نظم "إيساغوجي" في المنطق.
- نظم "جمع الجوامع" في النحو لجلال الدين عبد الرحمن أبي بكر السيوطي "911هـ".
- نظم "منهاج الدين" للشيخ الإمام أبي عبد الله حسين بن الحسن الحليمي الجرجاني الشافعي "403هـ" في شعب الإيمان.
- الينبوع في شرح المجموع، وهو شرح لكتاب "المجموع في فروع الشافعية" لأبي علي حسين بن شعيب المعروف بابن السنجي "430هـ".
4- مصادر ترجمة الأشموني ومراجعها1:
- الأعلام 5/ 10.
- خطط مبارك 8/ 74.
- الضوء اللامع 6/ 5.
- كشف الظنون 1/ 153.
- معجم المؤلفين 7/ 184.
- معجم المطبوعات العربية والمعربة ص451.
- المعجم المفصل في اللغويين العرب 1/ 488.
- هدية العارفين 1/ 739.
5- ألفية ابن مالك:
وضع ابن مالك أرجوزة طويلة تقارب أبياتها الثلاثة آلاف بيت من مزدوج الرجز، تضم النحو والصرف معا، ثم شرحها نثرا بكتاب سماه "الوفية"، ثم لخصها بكتاب سماه "الخلاصة"، الذي عرف بـ"الألفية" نسبة إلى عدد أبياته التي بلغت الألف بيت. وقد نهج ابن مالك فيها نهج نحوي قبله كان له فضل السبق في هذا المضمار هو ابن معط "توفي سنة
--------------------------------------------
প্রায় ৯০০ হিজরি/ প্রায় ১৪৯৫ খ্রিস্টাব্দ।" একজন ব্যাকরণবিদ, ফকিহ, কালামশাস্ত্রবিদ ও পদ্যকার। তাঁর পৈতৃক নিবাস মিসরের আশমুনে। তিনি কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দমইয়াতে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একজন অত্যন্ত দক্ষ ও বহুমুখী পণ্ডিত ছিলেন, যিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ শায়খদের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
তাঁর রচনাবলি:
- শায়খ ইমাম জামালুদ্দিন ইউসুফ ইবনে ইবরাহিম শাফিঈ (৭৯৯ হিজরি) রচিত "আল-আনওয়ার লি-আমালিল আবরার"-এর উপর টীকা (হাশিয়া)। এটি শাফিঈ ফিকহ সংক্রান্ত গ্রন্থ।
- মানহাজুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক, যা "শারহে আশমুনি" নামে পরিচিত।
- যুক্তিবিদ্যায় "ঈসাগুজি"-এর কাব্যরূপ।
- জালালুদ্দিন আবদুর রহমান আবু বকর আস-সুয়ূতী (৯১১ হিজরি) রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ "জামউল জাওয়ামি"-এর কাব্যরূপ।
- শুআবুল ঈমান (ঈমানের শাখাসমূহ) বিষয়ে শায়খ ইমাম আবু আবদুল্লাহ হুসাইন ইবনুল হাসান আল-হালিমি আল-জুরজানি শাফিঈ (৪০৩ হিজরি) রচিত "মিনহাজুদ্দিন"-এর কাব্যরূপ।
- আল-ইয়ানবু ফি শারহিল মাজমু; এটি ইবনুল সিনজি নামে পরিচিত আবু আলি হুসাইন ইবনে শুআইব (৪৩০ হিজরি) রচিত "আল-মাজমু ফি ফুরুইশ শাফিঈয়্যাহ" গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
৪- আশমুনির জীবনী ও এর তথ্যসূত্র১:
- আল-আলাম ৫/১০।
- খিতাতু মুবারক ৮/৭৪।
- আদ-দাওউল লামি ৬/৫।
- কাশফুয যুনুন ১/১৫৩।
- মুজামুল মুআল্লিফিন ৭/১৮৪।
- মুজামুল মাতবুআতিল আরাবিয়্যাহ ওয়াল মুআররাবাহ, পৃষ্ঠা ৪৫১।
- আল-মুজামুল মুফাসসাল ফিল লুগাউয়্যিনাল আরব ১/৪৮৮।
- হাদিয়াতুল আরিফিন ১/৭৩৯।
৫- আলফিয়্যা ইবনে মালিক:
ইবনে মালিক "রাজাজ" ছন্দে প্রায় তিন হাজার চরণের একটি দীর্ঘ কাব্য রচনা করেন, যাতে ব্যাকরণ (নাহু) ও রূপতত্ত্ব (সরফ) একত্রে সন্নিবেশিত ছিল। অতঃপর তিনি "আল-ওয়াফিয়া" নামক গ্রন্থে গদ্যে এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি এটিকে "আল-খুলাসা" নামক গ্রন্থে সংক্ষেপ করেন, যা চরণের সংখ্যা হাজার হওয়ার কারণে "আলফিয়্যা" নামে পরিচিতি লাভ করে। ইবনে মালিক এক্ষেত্রে তাঁর পূর্ববর্তী একজন ব্যাকরণবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন, যিনি এই ময়দানে অগ্রগামী হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন; তিনি হলেন ইবনে মু’তি (মৃত্যু সন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১০)
564"، وقد اعترف ابن مالك بهذا السبق ذاهبا إلى أن ألفيته أحسن من ألفية ابن معط، فقال:
وتقتضي رضا بغير سخط
… فائقة ألفية ابن معط
وهو بسبق حائز تفضيلا
… مستوجب ثنائي الجميلا
والله يقضي بهبات وافره
… لي وله في درجات الآخره
ونشير هنا إلى أن السيوطي بعده وضع ألفية وقال في أولها: "فائقة ألفية ابن مالك"، كذلك جاء بعد السيوطي الأجهوري المالكي فوضع ألفية أخرى زاد فيها على السيوطي، وقال في مقدمتها: "فائقة ألفية السيوطي".
وأبيات الألفية كلها من كامل الرجز، وتمتاز عباراتها بالرقة والدقة والإيجاز في صياغة الأحكام، ولذلك يسهل حفظها. ويظهر أن ابن مالك قد حرص على هذا الأمر لأن غايته من ألفيته غاية تعليمية، وقد جعل أبواب النحو في القسم الأول منها، وأبواب الصرف في قسمها الأخير.
وقد نالت ألفية ابن مالك من الشهرة ما لم تنله أي ألفية أخرى، أو أي كتاب نحوي آخر، فقد بلغت شروحها وشروح شروحها والذيول والحواشي عليها العشرات، كما ترجمت إلى الفرنسية والإيطالية وطبعت طبعات يصعب إحصاؤها.
6- منهج المسالك إلى ألفية ابن مالك:
هذا الكتاب واحد من الكتب الكثيرة التي وضعت شرحا لألفية ابن مالك، وهو، كما يقول مؤلفه في مقدمته "شرح لطيف بديع على ألفية ابن مالك، مهذب المقاصد واضح المسالك يمتزج بها امتزاج الروح بالجسد، ويحل منها محل الشجاعة من الأسد، تجد نشر التحقيق من أدراج عباراته يعبق، وبدر التدقيق من أبراج إشاراته يشرق، خلا من الإفراط الممل، وعلا عن التفريط المخل، وكان بين ذلك قواما، وقد لقبته بـ "منهج المسالك إلى ألفية ابن مالك" ولم آل جهدا في تنقيحه وتهذيبه، وتوضيحه وتقريبه".
وقد تلقى العلماء هذا الكتاب بكثير من العناية، فوضعوا الحواشي عليه، ومن هؤلاء أبو عبد الله محمد بن علي بن سعيد التونسي المتوفى سنة 1199هـ، وقد سمى حاشيته "زهر الكواكب لبواهر المواكب"، وأبو العرفان الشيخ محمد بن علي الصبان الشافعي الحنفي "توفي سنة 1206هـ"، وقد عرفت حاشيته باسم "حاشية الصبان على شرح الأشموني على ألفية ابن مالك".
7- طبعات الكتاب:
طبع كتاب الأشموني لأول مرة في بولاق سنة 1280هـ مع حاشية الصبان عليه، ثم
৫৬৪, এবং ইবনে মালিক এই অগ্রগণ্যতা স্বীকার করেছেন এবং মনে করেছেন যে তাঁর আলফিয়্যাহ ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহর চেয়ে উত্তম, তাই তিনি বলেছেন:
এবং এটি অসন্তুষ্টিহীন সন্তুষ্টি দাবি করে
… যা ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ
তিনি তাঁর অগ্রগণ্যতার কারণে শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী
… এবং আমার সুন্দর প্রশংসার যোগ্য
আল্লাহ যেন আমার ও তাঁর জন্য আখেরাতের উচ্চ স্তরে
… প্রচুর দান-অনুগ্রহের ফয়সালা করেন
আমরা এখানে উল্লেখ করছি যে, সুয়ূতী তাঁর পরে একটি আলফিয়্যাহ রচনা করেন এবং এর শুরুতে বলেন: "এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ", একইভাবে সুয়ূতীর পরে আল-আজহুরী আল-মালিকী আসেন এবং তিনি অন্য একটি আলফিয়্যাহ রচনা করেন যাতে তিনি সুয়ূতীর চেয়েও পরিধি বৃদ্ধি করেন এবং এর ভূমিকায় বলেন: "এটি সুয়ূতীর আলফিয়্যাহর চেয়ে শ্রেষ্ঠ"।
আলফিয়্যাহর সমস্ত পঙক্তি পূর্ণ রাজায ছন্দের অন্তর্ভুক্ত, এবং এর বর্ণনাভঙ্গি নিয়মাবলি প্রণয়নের ক্ষেত্রে তার লালিত্য, সূক্ষ্মতা ও সংক্ষিপ্ততার জন্য স্বতন্ত্র, যার ফলে এটি মুখস্থ করা সহজ হয়। প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে মালিক এই বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন কারণ তাঁর আলফিয়্যাহ রচনার উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষামূলক। তিনি এর প্রথম অংশে নাহু (ব্যাকরণ) অধ্যায়গুলো এবং শেষ অংশে সরফ (রূপতত্ত্ব) অধ্যায়গুলো বিন্যস্ত করেছেন।
ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহ এমন খ্যাতি অর্জন করেছে যা অন্য কোনো আলফিয়্যাহ বা ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ অর্জন করতে পারেনি। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ), ব্যাখ্যার ব্যাখ্যা (শারহুশ শারহ), পরিশিষ্ট ও টীকাগ্রন্থের সংখ্যা কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়াও এটি ফরাসি ও ইতালীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং এর অসংখ্য সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছে যা গণনা করা কঠিন।
৬- মানহাজুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক:
এই গ্রন্থটি সেই সব বহু গ্রন্থের মধ্যে একটি যা ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা হিসেবে রচিত হয়েছে। এটি সম্পর্কে এর লেখক তাঁর ভূমিকায় বলেন: "এটি ইবনে মালিকের আলফিয়্যাহর ওপর একটি সূক্ষ্ম ও চমৎকার ব্যাখ্যা, যার উদ্দেশ্যগুলো পরিমার্জিত এবং পথগুলো স্পষ্ট। এটি আলফিয়্যাহর সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যেমন দেহের সাথে প্রাণের মিলন ঘটে, আর এটি সেখানে সিংহের সাহসিকতার স্থান দখল করে নিয়েছে। আপনি এর বর্ণনার ভাঁজে ভাঁজে গবেষণার সুবাস পাবেন এবং এর ইঙ্গিতগুলোর বুরুজ থেকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পূর্ণচন্দ্র উদিত হতে দেখবেন। এটি ক্লান্তিকর বাড়াবাড়ি থেকে মুক্ত এবং ত্রুটিপূর্ণ ঘাটতি থেকে ঊর্ধ্বে, এবং এটি এ দুয়ের মাঝামাঝি ভারসাম্যপূর্ণ। আমি এর নামকরণ করেছি 'মানহাজুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' এবং এর সংশোধন, পরিমার্জন, স্পষ্টীকরণ ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি।"
আলেমগণ এই গ্রন্থটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর টীকা (হাশিয়া) লিখেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী বিন সাঈদ আল-তিউনিসি (মৃত্যু ১১৯৯ হিজরি), তিনি তাঁর টীকার নাম দিয়েছেন 'যাহরুল কাওয়াকিব লি-বাওয়াহিরিল মাওয়াকিব'। অপরজন হলেন আবুল ইরফান শেখ মুহাম্মদ বিন আলী আস-সাব্বান আশ-শাফিঈ আল-হানাফী (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি), তাঁর টীকাটি 'হাশিয়াতুস সাব্বান আলা শারহিল আশমুনি আলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক' নামে পরিচিত।
৭- গ্রন্থের মুদ্রণসমূহ:
আশমুনি-র গ্রন্থটি সর্বপ্রথম ১২৮০ হিজরিতে বুলাকে সাব্বানের টীকা সহ মুদ্রিত হয়, এরপর...
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১১)
طبع سنة 1293هـ وسنة 1298 في تونس مع حاشية ابن سعيد التونسي عليه التي سماها "زهر الكواكب لبواهر المواكب" كما سبق القول. وفي السنة 1205هـ أعيد طبعه مع حاشية الصبان عليه في المطبعة الأزهرية بمصر وفي المطبعة الخيرية فيها أيضا.
وأول طبعة للكتاب دون الحواشي عليه هي طبعة محمد محيي الدين عبد الحميد في مطبعة السعادة بمصر سنة 1375هـ/ 1955م، وقد جاءت هذه الطبعة خالية من أي حاشية أو استدراك، إذ اكتفى المحقق بتحقيق المتن، لكنه عاد فأصدر أربعة أجزاء منه مثقلة بالحواشي والتعليقات والاستدراكات على عادته في تحقيق الكتب النحوية، ووصل في نهاية الجزء الرابع إلى نهاية باب العطف.
ولندرة الكتاب في سوق الكتب، بل لفقدانه، ولأن عمل السيد محمد محيي الدين عبد الحميد، على جودته، لم يكتمل جئت بعملي هذا علني أسد ثغرة في سلسلة تحقيقاتنا للكتب النحوية.
وقد حرصت في هذه الطبعة على:
- تخريج الآيات القرآنية، والشواهد الشعرية، والأمثال العربية مع اعتناء خاص بالشواهد الشعرية من حيث تعيين بحورها، وشعرائها، ومصادرها، ومعانيها، وإعراباتها، ومواطن الاستشهاد فيها.
- إثبات بعض التعليقات مع الحرص على عدم إثقال المتن بالحواشي.
- وضع الفهارس المختلفة في نهاية الكتاب.
وفي الختام، لا بد أن أشكر الدكتور إميل بديع يعقوب على إشرافه على هذا العمل، إذ سدد خطاي، وأعانني كثيرا كي أتمه وفق المنهج الذي ارتضاه في السلسلة النحوية الصادرة عن دار الكتب العلمية في بيروت، والتي صدر منها حتى الآن الكتب التالية.
- شرح شذور الذهب.
- شرح قطر الندى وبل الصدى.
- أوضح المسالك إلى ألفية ابن مالك.
- شرح ابن عقيل على ألفية ابن مالك.
- الإنصاف في مسائل الخلاف.
وبعد، آمل أن أكون قد وفقت في عملي، وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت، وإليه أنيب.
حسن حمد
এটি ১২৯৩ হিজরি এবং ১২৯৮ হিজরিতে তিউনিসিয়ায় ইবনে সাঈদ আত-তিউনিসির টীকা সহ মুদ্রিত হয়েছিল, যেটিকে তিনি আগে যেমন বলা হয়েছে "যাহরুল কাওয়াকিিব লি-বাওয়াহিরিল মাওয়াকিব" নামে অভিহিত করেছেন। ১২০৫ হিজরিতে মিশরের আল-আযহারিয়া প্রেমে এবং আল-খায়রিয়া প্রেমে আস-সাব্বানের টীকা সহ এটি পুনরায় মুদ্রিত হয়।
টীকা ব্যতীত বইটির প্রথম সংস্করণটি হলো ১৩৭৫ হিজরি/১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দে মিশরের আস-সা’আদাহ প্রেসে প্রকাশিত মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের সংস্করণ। এই সংস্করণটি কোনো টীকা বা সংশোধন ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছিল, কারণ গবেষক কেবল মূল পাঠের সম্পাদনাতেই ক্ষান্ত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি ব্যাকরণ বিষয়ক বই সম্পাদনার ক্ষেত্রে তার প্রথা অনুযায়ী প্রচুর টীকা, ব্যাখ্যা ও সংশোধনসহ এর চারটি খণ্ড প্রকাশ করেন এবং চতুর্থ খণ্ডের শেষে 'আতিফ' (সংযোজন) অধ্যায়ের সমাপ্তি পর্যন্ত পৌঁছান।
বইয়ের বাজারে কিতাবটির দুষ্প্রাপ্যতা, এমনকি এর অভাবের কারণে এবং জনাব মুহাম্মদ মুহিউদ্দিন আব্দুল হামিদের কাজ উচ্চমানের হওয়া সত্ত্বেও তা অসম্পূর্ণ থাকায়, আমি এই কাজের মাধ্যমে আমাদের ব্যাকরণ বিষয়ক গবেষণা সিরিজের একটি শূন্যস্থান পূরণের চেষ্টা করেছি।
এই সংস্করণে আমি যা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি:
- কুরআনের আয়াত, কাব্যিক প্রমাণ (শাওয়াহিদ) এবং আরবি প্রবাদগুলোর উৎস নির্দেশ করা, বিশেষ করে কাব্যিক শ্লোকগুলোর ছন্দ, কবি, উৎস, অর্থ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ এবং প্রাসঙ্গিক অংশগুলোর বর্ণনার প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে।
- মূল পাঠকে টীকায় ভারাক্রান্ত না করার সর্তকতা অবলম্বন করে কিছু প্রয়োজনীয় মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা।
- বইয়ের শেষে বিভিন্ন নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র যুক্ত করা।
পরিশেষে, ডক্টর এমিল বাদি' ইয়াকুবকে এই কাজের তত্ত্বাবধানের জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়, কারণ তিনি আমার যাত্রাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং বৈরুতের দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত ব্যাকরণ সিরিজের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুযায়ী এটি সম্পন্ন করতে আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন। এই সিরিজ থেকে এ পর্যন্ত নিচের বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে:
- শারহু শুযুরিল যাহাব।
- শারহু কাত্রিন নাদা ওয়া বাল্লিস সয়াদা।
- আওদাহুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাতি ইবনি মালিক।
- আলফিয়্যাতি ইবনি মালিকের ওপর শারহু ইবনি আকিল।
- আল-ইনসাফ ফি মাসائلিল খিলাফ।
সবশেষে, আমি আশা করি আমি আমার কাজে সফল হতে পেরেছি। আমার তৌফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই কাছে আমি ফিরে যাই।
হাসান হামাদ
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القسم الثاني: شرح الأشموني على ألفية بن مالك المسمى" منهج المسالك إلى ألفية بن مالك"
مدخل…بسم الله الرحمن الرحيم
أما بعد حمد الله على ما منح من أسباب البيان، وفتح من أبواب التبيان، والصلاة والسلام على من رفع بماضي العزم قواعد الإيمان، وخفض بعامل الجزم كلمة البهتان، مُحَمَّدٍ المنتخب من خلاصة معد ولباب عدنان، وعلى آله وأصحابه الذين أحرزوا قصبات السبق في مضمار الإحسان، وأبرزوا ضمير القصة والشان، بسنان اللسان ولسان السنان، فهذا شرح لطيف بديع على ألفية ابن مالك، مهذب المقاصد واضح المسالك، يمتزج بها امتزاج الروح بالجسد، ويحل منها محل الشجاعة من الأسد، تجد نشر التحقيق من أدراج عباراته يعبق، وبدر التدقيق من أبراج إشاراته يشرق، خلا من الإفراط الممل، وعلا عن التفريط المخل، وكان بين ذلك قوامًا، وقد لقبته بـ"منهج المسالك، إلى ألفية ابن مالك"، ولم آل جهدا في تنقيحه وتهذيبه، وتوضيحه وتقريبه. والله أسأل أن يجعله خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفع به من تلقاه بقلب سليم، إنه قريب مجيب، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت وإليه أنيب.
দ্বিতীয় বিভাগ: আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ওপর আশমুনীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার নাম "মানহাজুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক"
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহর প্রশংসা করার পর—যিনি বর্ণনাশৈলীর উপকরণসমূহ দান করেছেন এবং সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার দ্বারসমূহ উন্মোচন করেছেন; এবং দরুদ ও সালাম তাঁর প্রতি—যিনি দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে ঈমানের ভিত্তিগুলোকে সমুন্নত করেছেন এবং অটল সংকল্পের দ্বারা মিথ্যার বাণীকে অবনত করেছেন; মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), যিনি মা’আদ-এর সারাংশ এবং আদনানের মূল নির্যাস থেকে মনোনীত; এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের প্রতি—যারা ইহসানের ময়দানে শ্রেষ্ঠত্বের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করেছেন এবং জিহ্বার ধার ও বর্শার ক্ষিপ্রতার মাধ্যমে বিষয়ের গূঢ় রহস্য ও মর্যাদা ফুটিয়ে তুলেছেন। অতঃপর, এটি আলফিয়্যাহ ইবনে মালিকের ওপর একটি চমৎকার ও সূক্ষ্ম ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যার উদ্দেশ্যসমূহ পরিমার্জিত এবং পথসমূহ সুস্পষ্ট। এটি মূল গ্রন্থের সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যেমন দেহের সাথে প্রাণের সংমিশ্রণ ঘটে এবং সিংহের মাঝে বীরত্ব যে অবস্থানে থাকে, এটিও সেখানে সেই অবস্থান গ্রহণ করেছে। আপনি এর শব্দমালার ভাঁজ থেকে গবেষণার সুবাস ছড়িয়ে পড়তে দেখবেন এবং এর ইঙ্গিতগুলোর বুরুজ থেকে সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পূর্ণিমা উদ্ভাসিত হতে দেখবেন। এটি বিরক্তিকর বাহুল্য থেকে মুক্ত এবং ক্ষতিকর সংক্ষিপ্ততা থেকে ঊর্ধ্বে; বরং এটি এ দুয়ের মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। আমি এর নাম দিয়েছি "মানহাজুল মাসালিক ইলা আলফিয়্যাহ ইবনে মালিক"। আমি এটি সংশোধন, পরিমার্জন, স্পষ্টীকরণ ও সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটিকে তাঁর মহান চেহারার (সত্তার) জন্য একনিষ্ঠ করেন এবং এর মাধ্যমে তাকে উপকৃত করেন যে সুস্থ অন্তরে এটি গ্রহণ করবে। নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দোয়া কবুলকারী। আমার তাওফীক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করেছি এবং তাঁরই দিকে আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৭)
"شرح مقدمة الألفية":
"بسم الله الرحمن الرحيم"
1- قالَ مُحَمَّدٌ هُوَ ابن مالك
… أحمد ربي الله خير مالك
هو الإمام، العلامة أبو عبد الله، جمال الدين بن عبد الله "ابْنُ مالِك" الطائي نسبا، الشافعي مذهبا، الجياني منشأ، الأندلسي إقليما، الدمشقي دارا ووفاة لاثنتي عشرة ليلة خلت من شعبان عام اثنين وسبعين وستمائة، وهو ابن خمس وسبعين سنة "أَحْمَدُ رَبي اللَّهَ خَيْرَ مَالِك" أي: أثني عليه الثناء الجميل، اللائق بجلال عظمته، وجزيل نعمته التي هذا النظم من آثارها، واختار صيغة المضارع المثبت لما فيها من الإشعار بالاستمرار التجددي وقصد بذلك الموافقة بين الحمد والمحمود عليه، أي: كما أن آلاءه تعالى لا تزال تتجدد في حقنا دائما كذلك نحمده بمحامد لا تزال تتجدد، وأيضا فهو رجوع إلى الأصل؛ إذ أصل "الحمد لله": أحمد أو حمدت حمد الله؛ فحذف الفعل اكتفاء بدلالة مصدره عليه، ثم عدل إلى الرفع لقصد الدلالة على الدوام والثبوت، ثم أدخلت عليه "أل" لقصد الاستغراق.
و"الرب" المالك. و"الله" علم على الذات الواجب الوجود -أي: لذاته- المستحق لجميع المحامد، ولم يسم به سواه، قال تعالى: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا} 1 أي: هل تعلم أحدا تسمى الله غير الله، وهو عربي عند الأكثر، وعند المحققين أنه اسم الله الأعظم، وقد ذكر في القرآن، في ألفين وثلثمائة وستين موضعا، واختار الإمام النووي تبعا لجماعة أنه الحي القيوم، قال: ولهذا لم يذكر في القرآن إلا في ثلاثة مواضع: في البقرة، وآل عمران، وطه. والله أعلم.
تنبيه: أوقع الماضي موقع المستقبل تنزيلا لمقوله منزلة ما حصل: إما اكتفاء
--------------------------------------------
"আলফিয়্যাহর ভূমিকার ব্যাখ্যা":
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
১- মুহাম্মাদ বলেন, যিনি ইবনে মালিক
… আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক।
তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা আবু আবদুল্লাহ, জামালুদ্দিন বিন আবদুল্লাহ "ইবনে মালিক", বংশানুক্রমে ত্বায়ি, মাযহাবগতভাবে শাফেয়ি, জন্মগতভাবে জিয়ানি, অঞ্চলগতভাবে আন্দালুসি, আর আবাস ও মৃত্যুগতভাবে দামেস্কি। তিনি ৬৭২ হিজরি সনের শাবান মাসের ১২ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর (১৩ তারিখ) রাতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচাত্তর বছর। "আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসা করছি, যিনি সর্বোত্তম মালিক" অর্থাৎ: আমি তাঁর এমন সুন্দর স্তুতি করি যা তাঁর সুমহান মর্যাদার উপযুক্ত এবং তাঁর সেই সুপ্রচুর নিআমতের অনুকূল, যার অন্যতম নিদর্শন হলো এই ছন্দোবদ্ধ কাব্যগ্রন্থটি। তিনি এখানে বর্তমানকালবাচক রূপ বেছে নিয়েছেন কারণ এতে কাজের ধারাবাহিকতা ও নবায়নের ইঙ্গিত রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি প্রশংসা ও যাঁর প্রশংসা করা হচ্ছে (নিআমত) উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করতে চেয়েছেন। অর্থাৎ, যেমনভাবে মহান আল্লাহর নিআমতসমূহ আমাদের প্রতি সর্বদা নতুনভাবে অবতীর্ণ হতে থাকে, তেমনিভাবে আমরাও নতুন নতুন স্তুতিবাক্যের মাধ্যমে তাঁর প্রশংসা করতে থাকি। এছাড়া এটি মূলের দিকেই প্রত্যাবর্তন; কারণ "আলহামদুলিল্লাহ" এর মূল ভিত্তি হলো "আহমাদু" (আমি প্রশংসা করছি) বা "হামিদতু হামদাল্লাহ" (আমি আল্লাহর প্রশংসা করেছি)। এখানে ক্রিয়াটি উহ্য রেখে কেবল তার মাসদারের (মূল বিশেষ্য) মাধ্যমে অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে। অতঃপর স্থায়িত্ব ও স্থিরতা বোঝানোর জন্য শব্দটিকে পেশযুক্ত করা হয়েছে এবং সামগ্রিকতা বা ব্যাপকতা বোঝানোর জন্য এতে "আল" যুক্ত করা হয়েছে।
এবং "আর-রাব্ব" মানে হলো মালিক। আর "আল্লাহ" হলো সেই সত্তার নাম যাঁর অস্তিত্ব অনিবার্য—অর্থাৎ স্বীয় সত্তার গুণেই যাঁর অস্তিত্ব আবশ্যক—এবং যিনি সকল প্রশংসার যোগ্য। তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি তাঁর সমনামের কাউকে জানো?} ১ অর্থাৎ: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে "আল্লাহ" নামে ডাকা হয় বলে কি তোমার জানা আছে? অধিকাংশের মতে এটি একটি আরবি শব্দ এবং গবেষক আলিমদের মতে এটিই আল্লাহর মহানতম নাম (ইসমে আযম)। পবিত্র কুরআনে এটি দুই হাজার তিনশত ষাটটি স্থানে উল্লিখিত হয়েছে। ইমাম নববী একদল আলিমের অনুসরণ করে মত দিয়েছেন যে, "আল-হাইয়ুল কাইয়ুম" হলো আল্লাহর মহানতম নাম। তিনি বলেন: এই কারণেই এটি কুরআনের মাত্র তিনটি স্থানে উল্লিখিত হয়েছে: সূরা আল-বাকারা, আলে-ইমরান এবং ত্ব-হা-তে। আল্লাহই ভালো জানেন।
সতর্কীকরণ: এখানে ভবিষ্যৎকালের স্থলে অতীতকাল ব্যবহার করা হয়েছে, যেন বক্তব্যটিকে ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া বিষয়ের মতো গণ্য করা হয়: হয় পর্যাপ্ততার কারণে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৮)
بالحصول الذهني، أو نظرًا إلى ما قوي عنده من تحقق الحصول وقربه، نحو: {أَتَى أَمْرُ اللَّهِ فَلا تَسْتَعْجِلُوهُ} 1.
وجملة "هو ابن مالك" معترضة بين "قال" ومقوله، لا محل لها من الإعراب، ولفظ "رب" نصب تقديرًا على المفعولية، والياء في موضع الجر بالإضافة، والله نصب بدل من "رب" أو بيان، و"خير" نصب أيضًا بدل أو حال على حد: "دعوت الله سميعًا" وموضع الجملة نصب مفعول لقال، ولفظها خبر، ومعناها الإنشاء، أي: أُنشئ الحمد.
2- مصليا على النبي المصطفى
… وآله المستكملين الشرفا
"مُصَلِّيًا" أي: طالبًا من الله صلاته، أي: رحمته "عَلَى النَّبيِّ" -بتشديد الياء- من النبوة-أي: لأنه مخبر عن الله تعالى، فعلى الأول هو فعيل بمعنى مفعول، وعلى الثاني بمعنى فاعل. و"مصليًا" حال من فاعل "أحمد" منوية لاشتغال مورد الصلاة بالحمد، أي: ناويًا الصلاة على النبي "الْمُصْطَفَى" مفتعل من الصفوة، وهو: الخلوص من الكدر، قلبت تاؤه طاء لمجاورة الصاد، ولامه ألفًا لانفتاح ما قبلها؛ ومعناه المختار "وَآلِهِ" أي: أقاربه من بني هاشم والمطلب "الْمُسْتَكْمِلِينَ" باتباعه "الشَّرَفَا" أي: العلو.
"لفظة آل":
تنبيه: أصل "آل": أهل: قلبت الهاء همزة، كما قلبت الهمزة هاء في "هراق" الأصل "أراق" ثم قلبت الهمزة ألفًا لسكونها وانفتاح ما قبلها، كما في "آدم"، و"آمن" هذا مذهب سيبويه. وقال الكسائي: أصله "أول" كجمل، من آل يؤول: تحركت الواو وانفتح ما قبلها قلبت ألفًا. وقد صغروه على "أهيل" وهو يشهد للأول، وعلى "أويل" وهو يشهد للثاني: ولا يضاف إلا إلى ذي شرف، بخلاف "أهل"، فلا يقال "آل الإسكاف" ولا ينتقض بـ"آل فرعون" فإن له شرفًا باعتبار الدنيا، واختلف في جواز إضافته إلى المضمر: فمنعه الكسائي والنحاس، وزعم أبو بكر الزبيدي، أنه من لحن العوام، والصحيح جوازه. قال عبد المطلب "من مجزوء الكامل":
1- وانصر على آل الصليـ
… ـب وعابديه اليوم آلك
--------------------------------------------
মানসিকভাবে অর্জিত হওয়ার কারণে অথবা তার কাছে অর্জিত হওয়া সুনিশ্চিত ও নিকটবর্তী হওয়ার প্রবল ধারণার কারণে, যেমন: {আল্লাহর আদেশ এসে পড়েছে, অতএব তোমরা তা ত্বরান্বিত করতে চেও না} ১।
এবং "তিনি হলেন ইবনে মালিক" বাক্যটি "বলেছেন" এবং তাঁর বক্তব্যের মাঝে বাক্যান্তর্গত হিসেবে এসেছে, যার ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই। "রব" শব্দটি কর্ম হিসেবে উহ্যভাবে নসবযুক্ত হয়েছে এবং 'ইয়া' জমিরের মুদাফ ইলাইহি হওয়ার কারণে জার-এর স্থানে রয়েছে। "আল্লাহ" শব্দটি "রব"-এর বদল বা বয়ান হিসেবে নসবযুক্ত হয়েছে। "খাইর" শব্দটিও বদল অথবা হাল হিসেবে নসবযুক্ত হয়েছে, যেমনটি বলা হয়: "আমি আল্লাহকে শ্রবণকারী অবস্থায় ডেকেছি"। পুরো বাক্যটির স্থান "বলেছেন" ক্রিয়ার কর্ম হিসেবে নসবযুক্ত হয়েছে। বাক্যটি কাঠামোগতভাবে সংবাদমূলক, তবে এর অর্থ হলো প্রার্থনা বা সূচনা করা, অর্থাৎ: আমি প্রশংসা করছি।
২- নবী মুস্তফার ওপর দরুদ পাঠরত অবস্থায়... এবং তাঁর পরিবারের ওপর যারা পূর্ণতা দান করেছেন সম্মানের শ্রেষ্ঠত্বের।
"মুসাল্লিয়ান" অর্থাৎ: আল্লাহর কাছে তাঁর সালাত বা রহমত প্রার্থনা করা "নবী"-এর ওপর। 'ইয়া' বর্ণে তাশদিদসহ শব্দটি 'নবুওয়াত' থেকে আগত; অর্থাৎ তিনি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ প্রদানকারী। প্রথম অর্থ অনুযায়ী এটি কর্মবাচক বিশেষ্য, আর দ্বিতীয় অর্থ অনুযায়ী এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য। "মুসাল্লিয়ান" শব্দটি "আহমাদু" (আমি প্রশংসা করি) ক্রিয়ার উহ্য কর্তার অবস্থা (হাল), কারণ প্রশংসার স্থানটি দরুদ দ্বারা ব্যাপৃত; অর্থাৎ নবীর ওপর দরুদ পাঠের নিয়তকারী। "আল-মুস্তফা" শব্দটি 'সাফওয়াত' থেকে 'মুফতাআল' ওজনে এসেছে, যার অর্থ পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হওয়া। 'সদ' বর্ণের সান্নিধ্যের কারণে এর 'তা' বর্ণটি 'ত্বা' বর্ণে রূপান্তরিত হয়েছে এবং এর পূর্বের বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় 'লাম' পরবর্তী ইয়া বর্ণটি আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এর অর্থ হলো মনোনীত। "ওয়া আলিহি" অর্থাৎ বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব বংশের তাঁর আত্মীয়-স্বজন। "আল-মুসতাকমিলিন" তাঁর অনুসরণের মাধ্যমে যারা পূর্ণতা দান করেছেন "আশ-শারাফা" অর্থাৎ উচ্চ মর্যাদার বা উচ্চতার।
"আল" শব্দটির বিশ্লেষণ:
সতর্কবার্তা: "আল" শব্দের মূল হলো "আহল"। এখানে 'হা' বর্ণটি হামজায় রূপান্তরিত হয়েছে, যেমনটি 'হারাকা' শব্দে হামজাটি 'হা'-তে রূপান্তরিত হয়েছে (মূলত ছিল 'আরাকা')। এরপর হামজাটি সাকিন হওয়ার কারণে এবং তার পূর্বের বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে, যেমনটি "আদাম" এবং "আমানা" শব্দে হয়েছে। এটি ইমাম সিবাহওয়াইহ-এর অভিমত। ইমাম কিসায়ি বলেছেন: এর মূল হলো "আওয়ালু", যেমন "জামালু"; যা "আ-লা ইয়াউলু" থেকে এসেছে: এখানে 'ওয়াও' বর্ণটি হরকতযুক্ত এবং তার পূর্বের বর্ণ জবরযুক্ত হওয়ায় তা আলিফে রূপান্তরিত হয়েছে। এর ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ (তাসগির) "উহাইলুন" করা হয়েছে যা প্রথম মতের সাক্ষ্য দেয় এবং "উওয়াইলুন" করা হয়েছে যা দ্বিতীয় মতের সাক্ষ্য দেয়। এই শব্দটি কেবল সম্মানীদের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়, যা "আহল" শব্দের বিপরীত। তাই "মুচির আল" বলা হয় না। তবে "ফেরাউনের আল" দ্বারা এই নিয়মে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না, কারণ পার্থিব বিচারে তার প্রতিপত্তি ছিল। সর্বনামের দিকে এর সম্বন্ধ করার বৈধতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে: কিসায়ি ও নাহহাস তা নিষেধ করেছেন। আবু বকর আয-যুবাইদি দাবি করেছেন যে এটি সাধারণ মানুষের ভুল প্রয়োগ। তবে সঠিক মত হলো এটি বৈধ। আবদুল মুত্তালিব বলেছেন (মাজজুউল কামিল ছন্দ থেকে):
১- আর আজ ক্রুশের অনুসারী ও এর উপাসনাকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পরিজনদের সাহায্য করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي الحديث: "اللهم صل على محمد وآله".
3- وأستعين الله في ألفيه
… مقاصد النحو بها محويه
"وَأَسْتَعِينُ اللَّهَ فِي" نظم قصيدة "أَلْفِيَّه" أي: عدة أبياتها ألف أو ألفان، بناء على أنها من كامل الرجز أو مشطوره، ومحل هذه الجملة أيضًا نصب عطفًا على جملة "أحمد". والظاهر أن "في" بمعنى على، لأن الاستعانة وما تصرف منها إنما جاءت متعدية بـ"على"، قال تعالى: {وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آَخَرُونَ} 1، {وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَى مَا تَصِفُونَ} 2 أو أنه ضمن "أستعين" معنى "أستخير" ونحوه مما يتعدى بـ"في"، أي: وأستخير الله في ألفية "مَقَاصِدُ النَّحْوِ" أي: أغراضه وجل مهماته "بهَا" أي: فيها "مَحْويَّهْ" أي: محوزة.
"تعريف علم النحو":
تنبيه: النحو في الاصطلاح هو: العلم لمستخرج بالمقاييس المستنبطة من استقراء كلام العرب الموصلة إلى معرفة أحكام أجزائه التي ائتلف منها، قاله صاحب المقرب. فعلم أن المراد هنا بالنحو ما يرادف قولنا: "علم العربية" لا قسيم الصرف. وهو مصدر أريد به اسم المفعول أي: المنحو، كالخلق بمعنى المخلوق. وخصته غلبة الاستعمال بهذا العلم، وإن كان كل علم منحوًا، أي: مقصودًا، كما خصت الفقه بعلم الأحكام الشرعية الفرعية وإن كان كل علم فقهًا، أي: مفقوهًا، أي: مفهومًا. وجاء في اللغة لمعان خمسة: القصد، يقال: نحوت نحوك، أي: قصدت قصدك، والمثل، نحو: مررت برجل نحوك، أي:
--------------------------------------------
হাদিসে এসেছে: "হে আল্লাহ, মুহাম্মদ ও তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।"
৩- আর আমি এক আলফিয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি
… যার মধ্যে নাহুর উদ্দেশ্যসমূহ সংকলিত রয়েছে।
"আর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করছি" একটি "আলফিয়া" কাসিদা রচনার ক্ষেত্রে। অর্থাৎ: যার পংক্তি সংখ্যা এক হাজার বা দুই হাজার, এর ভিত্তিতে যে এটি কামিল রাজায নাকি মাশতুর রাজায ছন্দে রচিত। এই বাক্যটির স্থানও (নাহু শাস্ত্রীয় বিচারে) "আহমাদু" বাক্যের ওপর আতফ (সংযোজন) হওয়ার কারণে মানসুব। এবং স্পষ্টত এখানে "ফী" (في) বর্ণটি "আলা" (على) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ সাহায্য প্রার্থনা এবং এর থেকে উৎপন্ন শব্দগুলো "আলা" যোগেই সিলাহ (Transitive) হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অন্য একটি দল তাকে এর ওপর সাহায্য করেছে} ১, {এবং আপনারা যা বর্ণনা করছেন সে বিষয়ে আল্লাহই একমাত্র সাহায্যস্থল} ২। অথবা "আস্তাঈনু" (আমি সাহায্য চাইছি) শব্দটির মধ্যে "আস্তাখীরু" (আমি কল্যাণ প্রার্থনা করছি) বা এই জাতীয় শব্দের অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা "ফী" যোগে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ: আমি একটি আলফিয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি। "নাহুর উদ্দেশ্যসমূহ" অর্থাৎ: এর লক্ষ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ "তার মধ্যে" অর্থাৎ: সেই আলফিয়ার ভেতর "সংকলিত" বা সংরক্ষিত।
"নাহু শাস্ত্রের সংজ্ঞা":
সতর্কীকরণ: পারিভাষিক অর্থে নাহু হলো: আরবদের কালাম বা কথাবার্তা পর্যালোচনার মাধ্যমে সংগৃহীত নিয়মনীতির ভিত্তিতে উদ্ভাবিত এমন একটি জ্ঞান, যা সেই শব্দগুলোর বিধান জানতে সাহায্য করে যেগুলোর সমন্বয়ে বাক্য গঠিত হয়। 'আল-মুক্বাররিব' গ্রন্থের লেখক একথাই বলেছেন। সুতরাং জানা গেল যে, এখানে নাহু বলতে আমাদের কথা "ইলমে আরাবিয়্যাহ" (আরবি ভাষা তত্ত্ব)-এর সমার্থক উদ্দেশ্য, এটি সরফ (শব্দতত্ত্ব)-এর বিপরীত কোনো বিভাগ নয়। এটি একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল যা ইসমুল মাফউল বা কর্মবাচক বিশেষ্যের (অর্থাৎ: যা অনুসরণ করা হয়) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন সৃষ্টি (Khalq) অর্থ সৃষ্ট বস্তু (Makhluq)। অধিক ব্যবহারের কারণে এই জ্ঞানটির জন্য এই নাম নির্দিষ্ট হয়ে গেছে, যদিও প্রতিটি জ্ঞানই 'মানহু' (উদ্দেশ্যকৃত)। ঠিক যেমন ফিকহ শব্দটিকে কেবল শরঈ শাখা-প্রশাখার বিধানের জ্ঞানের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যদিও প্রতিটি জ্ঞানই 'ফিকহ' (অনুধাবনকৃত)। আভিধানিক অর্থে এটি পাঁচটি অর্থে আসে: উদ্দেশ্য, বলা হয়: 'নাহাউতু নাহওয়াকা' অর্থাৎ আমি তোমার উদ্দেশ্যকে উদ্দেশ্য করেছি। আর সদৃশ, যেমন: 'মারারতু বি-রাজুলিন নাহওয়িকা' অর্থাৎ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২০)
مثلك، والجهة، نحو: توجهت نحو البيت، أي: جهة البيت، والمقدار، نحو: له عندي نحو ألف، أي: مقدار ألف، والقسم، نحو: هذا على أربعة أنحاء أي: أقسام، وسبب تسمية هذا العلم بذلك ما روي أن عليًا رضي الله تعالى عنه لما أشار على أبي الأسود الدؤلي أن يضعه وعلمه الاسم والفعل والحرف وشيئًا من الإعراب قال: "انح هذا النحو يا أبا الأسود".
4- تقرب الأقصى بلفظ موجز
… وتبسط البذل بوعد منجز
"تُقَرِّبُ" هذه الألفية للأفهام "الأَقْصَى" أي: الأبعد من المعاني "بِلَفْظٍ مُوجَزِ" الباء بمعنى مع، أي: تفعل ذلك مع وجازة اللفظ، أي: اختصاره "وَتَبْسُطُ" أي: توسع "الْبَذْلَ" -بالمعجمة- أي: العطاء، وهو إشارة إلى ما تمنحه لقارئها من كثرة الفوائد "بِوَعْدٍ مُنْجِزِ" أي: موفى سريعًا.
"الفرق بين "وعد" و"أوعد"":
تنبيه: قال الجوهري: أوعد -عند الإطلاق- يكون للشر، ووعد للخير، وأنشد "من الطويل":
2- وإني وإن أوعدته أو وعدته
… لمخلف إيعادي ومنجز موعدي
--------------------------------------------
আপনার মতো, দিক, যেমন: আমি ঘরের দিকে মুখ করলাম, অর্থাৎ: ঘরের দিক, এবং পরিমাণ, যেমন: আমার কাছে তার প্রায় এক হাজার রয়েছে, অর্থাৎ: এক হাজার পরিমাণ, এবং প্রকার, যেমন: এটি চার প্রকারে বিভক্ত অর্থাৎ: চার অংশে, আর এই শাস্ত্রের এই নামকরণের কারণ হলো যা বর্ণিত হয়েছে যে, আলী (রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) যখন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুয়ালিকে এটি সংকলন করার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এবং তাকে বিশেষ্য, ক্রিয়া ও অব্যয় এবং ইরাবের (কারক-বিভক্তি) কিছু অংশ শিখিয়েছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: "হে আবু আল-আসওয়াদ! এই পথ অনুসরণ করো"৷
৪- এটি সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে দূরবর্তী বিষয়কে নিকটে নিয়ে আসে ... এবং দ্রুত বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে দানকে প্রশস্ত করে।
এই আলফিয়্যাহ অনুধাবনের জন্য "নিকটে নিয়ে আসে" "আল-আকসা" অর্থাৎ: দূরবর্তী অর্থসমূহকে "সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে"। এখানে "বা" অব্যয়টি "সাথে" অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ: শব্দের সংক্ষিপ্ততার সাথে এটি করে থাকে। "এবং এটি প্রশস্ত করে" অর্থাৎ: বিস্তার ঘটায় "দান" -যা বা' এর সাথে যাল বর্ণ দিয়ে- অর্থাৎ: প্রদান করা, আর এটি এর পাঠকের প্রতি যে প্রচুর উপকারিতা প্রদান করা হয় সেদিকে ইঙ্গিত। "দ্রুত বাস্তবায়িত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে" অর্থাৎ: যা দ্রুত পূর্ণ করা হয়।
"ওয়াদ" এবং "আওআদ" এর মধ্যে পার্থক্য:
সতর্কবার্তা: আল-জাওহারী বলেছেন: সাধারণত "আওআদ" শব্দটি মন্দের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং "ওয়াদ" শব্দটি কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তিনি "তাওয়ীল" ছন্দ থেকে আবৃত্তি করেছেন:
২- আর আমি যদি তাকে কোনো হুমকি দেই অথবা কোনো প্রতিশ্রুতি দেই, তবে আমি অবশ্যই আমার হুমকি ভঙ্গ করি এবং আমার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২১)
5- وتقتضي رضا بغير سخط
… فائقة ألفية ابن معط
"وَتَقْتَضِي" أي: تطلب، لما اشتملت عليه من المحاسن "رِضا" محضًا "بِغَيْرِ سُخْط" يشوبه "فَائِقَةً أَلْفِيَّةَ" الإمام العلامة أبي الحسن يحيى "ابْنِ مُعْط" بن عبد النور الزواوي الحنفي، الملقب زين الدين، سكن دمشق طويلًا، واشتغل عليه خلق كثير، ثم سافر إلى مصر وتصدر بالجامع العتيق لإقراء الأدب، إلى أن توفي بالقاهرة في سلخ ذي القعدة سنة ثمان وعشرين وستمائة، ودفن من الغد على شفير الخندق، وبقرب تربة الإمام الشافعي رضي الله تعالى عنه، ومولده سنة أربع وستين وخمسمائة.
تنبيه: يجوز في "فائقة" النصب على الحال من فاعل "تقتضي"، والرفع خبرًا لمبتدأ محذوف، والجر نعتًا لألفية، على حد {وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ} 1 في النعت بالمفرد بعد النعت بالجملة، والغالب العكس، وأوجبه بعضهم.
6- وهو بسبق حائز تفضيلا
… مستوجب ثنائي الجميلا
7- والله يقضي بهبات وافره
… لي وله في درجات الآخره
"وَهْوَ" أي: ابن معط "بِسَبْق" الباء للسببية، أي: بسبب سبقه إياي "حَائِزٌ تَفْضِيلا" علي "مُسْتَوْجِبٌ" علي "ثَنَائِيَ الجَمِيلا" عليه؛ لما يستحقه السلف من ثناء الخلف. و"ثنائي" مصدر مضاف إلى فاعله، وهو الياء، والجميل: إما صفة للمصدر، أو معمول له "وَاللَّهُ يَقْضِي" أي: يحكم "بهبَاتٍ" جمع هبة، وهي: العطية، أي: عطيات "وَافِرَهْ" أي: تامة "لِي
--------------------------------------------
৫- আর এটি এমন সন্তুষ্টির দাবি রাখে যা অসন্তুষ্টিমুক্ত
… যা ইবনে মু'তির আলফিয়্যাহর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।
"আর এটি দাবি রাখে" অর্থাৎ: প্রার্থনা করে, কারণ এতে যে সকল সৌন্দর্য বিদ্যমান রয়েছে সেগুলোর জন্য। বিশুদ্ধ "সন্তুষ্টি", যা কোনো "অসন্তুষ্টি" দ্বারা কলুষিত নয়। "যা শ্রেষ্ঠত্ব রাখে আলফিয়্যাহর ওপর" তিনি হলেন ইমাম, মহা পণ্ডিত আবু হাসান ইয়াহইয়া "ইবনে মু'তি" বিন আবদুন নূর আজ-জাওয়াবি আল-হানাফি, যাঁর উপাধি জয়নুদ্দিন। তিনি দীর্ঘকাল দামেস্কে বসবাস করেছেন এবং তাঁর নিকট বহু লোক শিক্ষালাভ করেছেন। অতঃপর তিনি মিশরে সফর করেন এবং প্রাচীন জামে মসজিদে (জামে আতিক) সাহিত্য পাঠদানের প্রধান হিসেবে আসীন হন, কায়রোতে ৬২৮ হিজরি সনের জিলকদ মাসের শেষ দিনে মৃত্যু বরণ করা পর্যন্ত। পরদিন তাঁকে খন্দকের পাড়ে এবং ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মাকবারার নিকট সমাহিত করা হয়। তাঁর জন্ম ৫৬৪ হিজরিতে।
সতর্কতা: "ফায়িক্বাহ" শব্দটিকে "তাকতাদি"-এর ফায়িল থেকে হাল হিসেবে নসব (জবর) দেয়া জায়েজ, আবার উহ্য মুক্তাদার খবর হিসেবে রফ' (পেশ) দেয়াও জায়েজ, এবং আলফিয়্যাহর সিফাত (গুণ) হিসেবে জর (জের) দেয়াও জায়েজ। যেমনটি {আর এটি এক বরকতময় কিতাব যা আমি অবতীর্ণ করেছি} ১ আয়াতে জুমলা হিসেবে সিফাত আসার পর মুফরাদ (একক শব্দ) সিফাত হিসেবে এসেছে। তবে সাধারণত এর বিপরীতটাই বেশি ঘটে এবং কেউ কেউ একে আবশ্যক বলেছেন।
৬- আর তিনি অগ্রগামী হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন
… তিনি আমার সুন্দর প্রশংসার দাবিদার।
৭- আর আল্লাহ যেন পরিপূর্ণ দানসমূহ ফয়সালা করেন
… আমার ও তাঁর জন্য আখেরাতের মাকামসমূহে।
"আর তিনি" অর্থাৎ: ইবনে মু'তি। "অগ্রগামী হওয়ার কারণে" এখানে 'বা' অক্ষরটি কারণবাচক, অর্থাৎ: আমার পূর্বে আসার কারণে। তিনি আমার ওপর "শ্রেষ্ঠত্ব লাভকারী"। তিনি আমার পক্ষ থেকে "সুন্দর প্রশংসার" "দাবিদার"; কেননা উত্তরসূরিদের পক্ষ থেকে পূর্বসূরিরা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আর "আমার প্রশংসা" হলো মাজদার যা তার ফায়িল তথা 'ইয়া' জমির-এর দিকে ইজাফত করা হয়েছে। আর "সুন্দর" শব্দটি হয় মাজদারের সিফাত অথবা তার মামুল। "আর আল্লাহ ফয়সালা করেন" অর্থাৎ: নির্ধারণ করেন "প্রচুর দানসমূহ" 'হিবাত' হলো 'হিবাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ: উপহার বা অনুদান। অর্থাৎ: পূর্ণাঙ্গ দানসমূহ "আমার জন্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَلَهُ فِي دَرَجَاتِ الآخِرَهْ" الدرجات: قال في الصحاح: هي الطبقات من المراتب، وقال أبو عبيدة: الدرج إلى أعلى، والدرك إلى أسفل، والمراد مراتب السعادة في الدار الآخرة، ولفظ الجملة خبر ومعناها الطلب.
تنبيه: وصف "هبات" وهو جمع بـ"وافرة" وهو مفرد لتأوله بجماعة، وإن كان الأفصح وافرات؛ لأن هبات جمع قلة، والأفصح في جمع القلة مما لا يعقل وفي جمع العاقل مطلقا المطابقة، نحو: "الأجذاع انكسرن، ومنكسرات، والهندات والهنود انطلقن، ومنطلقات" والأفصح في جمع الكثرة مما لا يعقل الإفراد نحو: "الجذوع انكسرت، ومنكسرة".
خاتمة: بدأ بنفسه لحديث "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دعا بدأ بنفسه"، رواه أبو داود، وقال تعالى حكاية عن نوح عليه السلام: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ} 1 وعن موسى عليه السلام: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي} 2، وكان الأحسن أن يقول رحمه الله تعالى:
والله يقضي بالرضا والرحمه
… لي وله ولجميع الأمه
لما عرفت، ولأن التعميم مطلوب.
--------------------------------------------
"এবং তাঁর জন্য আখেরাতের সুউচ্চ মাকামসমূহে" স্তরসমূহ: 'সিহাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি হলো মর্যাদার স্তরবিন্যাস। আবু উবায়দা বলেছেন: 'দারাজ' হলো ঊর্ধ্বমুখী এবং 'দারাক' হলো নিম্নমুখী। আর এখানে আখেরাতে সৌভাগ্যের স্তরসমূহ উদ্দেশ্য। এই বাক্যটির শব্দরূপ সংবাদমূলক হলেও এর অর্থ হলো প্রার্থনা।
সতর্কবার্তা: 'হিবাত' (দানসমূহ) শব্দটি বহুবচন হওয়া সত্ত্বেও এর বিশেষণ হিসেবে 'ওয়াফিরাহ' (প্রচুর) শব্দটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে, কারণ একে একটি সমষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। যদিও অধিকতর বিশুদ্ধ রূপ হলো 'ওয়াফিরাত'; কেননা 'হিবাত' হলো স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচন (জামউ কিল্লাত)। আর বিবেকহীন বস্তুর স্বল্পতা জ্ঞাপক বহুবচনের ক্ষেত্রে এবং বিবেকসম্পন্নদের বহুবচনের ক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় বিশেষণের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করা অধিকতর বিশুদ্ধ, যেমন: "শাখাগুলো ভেঙে গেছে বা ভগ্ন হয়েছে", এবং "হিন্দগণ ও পুরুষরা চলে গেছে বা প্রস্থানকারী হয়েছে"। আর বিবেকহীন বস্তুর আধিক্য জ্ঞাপক বহুবচনের (জামউ কাসরাত) ক্ষেত্রে একবচন ব্যবহার করা অধিকতর বিশুদ্ধ, যেমন: "কাণ্ডগুলো ভেঙে গেছে বা ভগ্ন হয়েছে"।
উপসংহার: তিনি নিজের মাধ্যমে শুরু করেছেন এই হাদীসের ভিত্তিতে যে, "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দুআ করতেন, তখন নিজের মাধ্যমেই শুরু করতেন", এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণনা করে বলেন: "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এবং আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।" এবং মূসা আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে বলেন: "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এবং আমার ভাইকে ক্ষমা করুন।" রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর জন্য এভাবে বলা অধিকতর উত্তম ছিল:
আর আল্লাহ যেন সন্তুষ্টি ও রহমতের ফয়সালা করেন
… আমার জন্য, তাঁর জন্য এবং সমস্ত উম্মতের জন্য।
যেহেতু আপনি বিষয়টি জানলেন এবং যেহেতু ব্যাপকতা (সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা) কাম্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الْكَلَامُ وَمَا يَتَأَلَّفُ مِنْهُ:الأصل "هذا باب شرح الكلام وشرح ما يتألف الكلام منه" اختصر للوضوح.
8- كلامنا لفظ مفيد كـ"استقم"
… واسم وفعل ثم حرف الكلم
9- واحده كَلِمَة والقول عم
… وكَلْمَة بها كلام قد يؤم2
"كَلَامُنَا" أيها النحاة "لَفْظٌ" أي: صوت مشتمل على بعض الحروف: تحقيقا كزيد، أو تقديرا كالضمير المستتر "مُفِيدٌ" فائدة يحسن السكوت عليها "كَاسْتَقِمْ" فإنه لفظ مفيد بالوضع. فخرج باللفظ غيره من الدوال مما ينطلق عليه في اللغة كلام: كالخط، والرمز، والإشارة، وبالمفيد المفرد، نحو: زيد، والمركب الإضافي، نحو: غلام زيد، والمركب الإسنادي المعلوم مدلوله ضرورة: كالنار حارة، وغير المستقل كجملة الشرط، نحو: "إن قام زيد"، وغير المقصود، كالصادر من الساهي والنائم.
تنبيهات: الأول: اللفظ مصدر أريد به اسم المفعول، أي: الملفوظ به، كالخلق بمعنى المخلوق.
الثاني: يجوز في قوله "كاستقم" أن يكون تمثيلا وهو الظاهر، فإنه اقتصر في شرح الكافية على ذلك في حد الكلام، ولم يذكر التركيب والقصد نظرا إلى أن الإفادة تستلزمهما، لكنه في التسهيل صرح بهما وزاد فقال: الكلام ما تضمن من الكلم إسنادا مفيدا مقصودا لذاته، فزاد "لذاته" قال: لإخراج نحو: "قام أبوه" من قولك: "جاءني الذي قام أبوه" وهذا الصنيع أولى، لأن الحدود لا تتم بدلالة الالتزام، ومن ثم جعل الشارح قوله "كاستقم" تتميما للحد.
الثالث: إنما بدأ بتعريف الكلام لأنه المقصود بالذات، إذ به يقع التفاهم.
বাক্য এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয়:মূল বক্তব্য ছিল "এটি বাক্যের ব্যাখ্যা এবং বাক্য যা দ্বারা গঠিত হয় তার ব্যাখ্যার পরিচ্ছেদ", যা স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
৮- আমাদের নিকট বাক্য হলো এমন অর্থপূর্ণ শব্দ যেমন 'অটল থাকো'... আর বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয় হলো পদের প্রকার।
৯- এর একবচন হলো শব্দ, আর 'কথা' শব্দটি সাধারণ... এবং কখনো কখনো 'শব্দ' দ্বারা পূর্ণ বক্তব্যও বোঝানো হয়।
"আমাদের বাক্য" হে ব্যাকরণবিদগণ, তা হলো "শব্দ" অর্থাৎ: এমন আওয়াজ যা কিছু বর্ণের সমষ্টি; চাই তা বাস্তব হোক যেমন 'যায়েদ', অথবা ঊহ্য হোক যেমন লুক্কায়িত সর্বনাম। "অর্থপূর্ণ" এমন ফায়দা বা অর্থ প্রদান করে যার পর শ্রোতার চুপ থাকা সমীচীন হয়। "যেমন অটল থাকো" কারণ এটি প্রয়োগের দিক থেকে একটি অর্থপূর্ণ শব্দ। সুতরাং "শব্দ" বলার মাধ্যমে অন্যান্য অর্থজ্ঞাপক মাধ্যমগুলো বাদ পড়ে গেছে যেগুলোকে আভিধানিক অর্থে বাক্য বলা হয়: যেমন লেখা, সংকেত এবং ইঙ্গিত। আর "অর্থপূর্ণ" বলার মাধ্যমে একক শব্দ (যেমন: যায়েদ), সম্বন্ধযুক্ত যৌগিক শব্দ (যেমন: যায়েদের গোলাম), এবং এমন সম্বন্ধযুক্ত বাক্য যার অর্থ স্বতঃসিদ্ধভাবে জানা (যেমন: আগুন গরম), এবং অসম্পূর্ণ বাক্য যেমন শর্তযুক্ত বাক্য (যেমন: যদি যায়েদ দাঁড়ায়), এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে নির্গত কথা যেমন ভুলবশত বা ঘুমের ঘোরে বলা কথা—সবই সংজ্ঞার বাইরে চলে গেছে।
সতর্কীকরণসমূহ: প্রথম: 'শব্দ' (লাফজ) শব্দটি এখানে ক্রিয়ামূল হলেও তা কর্মবাচক বিশেষ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ 'উচ্চারিত শব্দ'; যেমন 'সৃষ্টি' শব্দটি 'সৃষ্ট বস্তু' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়: তার বক্তব্য "যেমন অটল থাকো" উদাহরণ হিসেবে হওয়া সম্ভব এবং এটিই প্রকাশ্য মত। কারণ তিনি 'কাফিয়া'-র ব্যাখ্যায় বাক্যের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং সেখানে গঠন ও উদ্দেশ্যের কথা উল্লেখ করেননি এই বিবেচনায় যে, 'অর্থপূর্ণ হওয়া' এই দুটিকে অপরিহার্য করে। তবে তিনি 'তাসহিল' গ্রন্থে এগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং বৃদ্ধি করে বলেছেন: বাক্য হলো শব্দের এমন সমষ্টি যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অর্থপূর্ণ সম্বন্ধ বজায় রাখে। তিনি সেখানে "উদ্দেশ্যমূলকভাবে" কথাটি যোগ করেছেন যাতে "যার পিতা দাঁড়িয়েছে সে আমার নিকট এসেছে" বাক্যের "তার পিতা দাঁড়িয়েছে" অংশটুকুর মতো বাক্যকে বাদ দেওয়া যায়। এই পদ্ধতিটিই অধিক উত্তম, কারণ কোনো বিষয়ের আবশ্যকীয় বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে সংজ্ঞা পূর্ণ হয় না। এ কারণেই ব্যাখ্যাকার তার বক্তব্য "যেমন অটল থাকো"-কে সংজ্ঞার পরিপূরক হিসেবে গণ্য করেছেন।
তৃতীয়: তিনি বাক্যের সংজ্ঞা দিয়েই শুরু করেছেন কারণ এটিই মূল উদ্দেশ্য, যেহেতু এর মাধ্যমেই পারস্পরিক ভাব বিনিময় সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الرابع: إنما قال: "وما يتألف منه" ولم يقل "وما يتركب" لأن التأليف كما قيل أخص؛ إذ هو تركيب وزيادة، وهي وقوع الألفة بين الجزأين.
"وَاسْمٌ وَفِعْلٌ ثُمَّ حَرْفٌ الْكَلِمْ" الكلم: مبتدأ خبره ما قبله، أي: الكلم الذي يتألف منه الكلام ينقسم باعتبار واحده إلى ثلاثة أنواع: نوع الاسم، ونوع الفعل، ونوع الحرف، فهو من تقسيم الكلي إلى جزئياته، لأن المقسم -وهو الكلمة- صادق على كل واحد من الأقسام الثلاثة، أعني الاسم والفعل والحرف، وليس الكلم منقسما إليها باعتبار ذاته، لأنه لا جائز حينئذٍ أن يكون من تقسيم الكل إلى أجزائه، لأن الكلم ليس مخصوصا بهذه الثلاثة، بل هو مقول على كل ثلاث كلمات فصاعدا، ولا من تقسيم الكلي إلى جزئياته، وهو ظاهر.
ودليل انحصار الكلمة في الثلاثة: أن الكلمة إما أن تصلح ركنا للإسناد أو لا، الثاني الحرف، والأول إما أن يقبل الإسناد بطرفيه أو بطرف، الأول الاسم، والثاني الفعل، والنحويون مجمعون على هذا، إلا من لا يعتد بخلافه. وقد أرشد بتعريفه إلى كيفية تألف الكلام من الكلم بأنه ضم كلمة إلى كلمة فأكثر على وجه تحصل معه الفائدة المذكورة، لا مطلق الضم، وأقل ما يكون منه ذلك اسمان، نحو: "ذا زيد"، و"هيهات نجد" أو فعل واسم، نحو: "استقم"، و"قام زيد" بشهادة الاستقراء، ولا نقض بالنداء؛ فإنه من الثاني.
تنبيه: ثم في قوله "ثم حرف" بمعنى الواو، إذ لا معنى للتراخي بين الأقسام، ويكفي في الإشعار بانحطاط درجة الحرف عن قسيميه ترتيب الناظم لها في الذكر على حسب ترتيبها في الشرف ووقوعه طرفا.
واعلم أن الكلم اسم جنس على المختار، وقيل: جمع، وقيل: اسم جمع، وعلى الأول فالمختار أنه اسم جنس جمعي؛ لأنه لا يقال إلا على ثلاث كلمات فأكثر، سواء اتحد نوعها أو لم يتحد، أفادت أم لم تفد، وقيل: لا يقال إلا على ما فوق العشرة، وقيل: إفرادي، أي: يقال على الكثير والقليل كماء وتراب، وعلى الثاني فقيل: جمع كثرة، وقيل: جمع قلة، ويجري هذا الخلاف في كل ما يفرق بينه وبين واحده بالتاء، وعلى المختار يجوز في ضميره التأنيث ملاحظة للجمعية، والتذكير على الأصل، وهو الأكثر، نحو: {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} 1، {يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَنْ مَوَاضِعِهِ} 2 وقد أنثه ابن معط في ألفيته فقال: واحدها كلمة، وذكره الناظم فقال: "وَاحِدُهُ كَلِمَةٌ" ونظير كلم وكلمة من المصنوعات: لبن ولبنة، ومن المخلوقات: نبق ونبقة، فاسم الجنس الجمعي هو الذي يفرق بينه وبين واحده بالتاء غالبا، بأن يكون واحده بالتاء غالبا، والاحتراز بـ"غالبا" عما جاء منه على العكس من
--------------------------------------------
চতুর্থত: তিনি কেবল বলেছেন: "এবং যা দ্বারা এটি গঠিত হয় (আল-তালিফ)" এবং তিনি "যা দ্বারা এটি সঙ্ঘবদ্ধ হয় (আল-তারকিব)" বলেননি; কারণ আল-তালিফ যেমনটি বলা হয়েছে তা আরও বিশেষায়িত; কারণ এটি হলো সঙ্ঘবদ্ধকরণ (তারকিব) এবং অতিরিক্ত কিছু, আর তা হলো দুই অংশের মধ্যে সামঞ্জস্য বা সম্প্রীতি ঘটা।
"বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফেল), অতঃপর অব্যয় (হরফ) হলো কালিম।" 'কালিম' শব্দটি এখানে মুবতাদা (উদ্দেশ্য), যার খবর (বিধেয়) হলো তার পূর্ববর্তী অংশ। অর্থাৎ: কালিম—যা দ্বারা কালাম (বাক্য) গঠিত হয়—তার একক শব্দের বিবেচনায় তিন প্রকারে বিভক্ত: বিশেষ্যের প্রকার, ক্রিয়ার প্রকার এবং অব্যয়ের প্রকার। সুতরাং এটি হলো 'কুল্লি' (সামগ্রিক)-কে তার 'জুজিয়্যাত' (অংশবিশেষ)-এ বিভক্ত করা। কারণ যা বিভক্ত হচ্ছে—অর্থাৎ কালিমা (শব্দ)—তা এই তিন প্রকারের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অর্থাৎ বিশেষ্য, ক্রিয়া এবং অব্যয়। আর 'কালিম' তার সত্তার বিবেচনায় এদের মধ্যে বিভক্ত নয়; কারণ সেক্ষেত্রে একে 'কুল' (সমষ্টি)-কে তার 'আজজা' (অংশসমূহ)-এ বিভক্ত করা বলা বৈধ হবে না। কেননা 'কালিম' শব্দটি কেবল এই তিনটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি তিন বা ততোধিক শব্দের প্রতিটি সমষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর এটি যে 'কুল্লি'-কে তার 'জুজিয়্যাত'-এ বিভক্ত করা, তা স্পষ্ট।
কালিমা যে তিন প্রকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ তার প্রমাণ হলো: কালিমা হয় ইসনাদ (অন্বয়)-এর রুকন বা ভিত্তি হওয়ার যোগ্য হবে অথবা হবে না। দ্বিতীয়টি হলো 'অব্যয়'। আর প্রথমটি (যা রুকন হওয়ার যোগ্য) হয় তার উভয় দিক দিয়ে ইসনাদ গ্রহণ করবে অথবা এক দিক দিয়ে। প্রথমটি হলো 'বিশেষ্য' এবং দ্বিতীয়টি হলো 'ক্রিয়া'। ভাষাবিদগণ এ বিষয়ে একমত, কেবল তাদের কথা ভিন্ন যাদের মতবিরোধ গণ্য করা হয় না। তিনি তার সংজ্ঞার মাধ্যমে নির্দেশ করেছেন যে কীভাবে কালিমা থেকে কালাম গঠিত হয়; আর তা হলো একটি কালিমাকে অন্য এক বা একাধিক কালিমার সাথে এমনভাবে যুক্ত করা যার মাধ্যমে উল্লিখিত অর্থবহ সুফল অর্জিত হয়, কেবল সাধারণভাবে যুক্ত করা নয়। আর এর সর্বনিম্ন রূপ হলো দুটি বিশেষ্য, যেমন: "ইনি জায়েদ", এবং "নাজদ অনেক দূরে"; অথবা একটি ক্রিয়া ও একটি বিশেষ্য, نحو: "অবিচল থাকো", এবং "জায়েদ দাঁড়িয়েছে", যা নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণিত। আর সম্বোধন (নিদা) দ্বারা এটি খণ্ডন করা যাবে না; কারণ এটি দ্বিতীয় প্রকারের অন্তর্ভুক্ত।
সতর্কীকরণ: অতঃপর "অতঃপর অব্যয়"-এ 'অতঃপর' (সুম্মা) শব্দটি 'এবং' (ওয়াও) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ এই প্রকারগুলোর মধ্যে ক্রমিক কোনো বিলম্বের অর্থ নেই। আর অব্যয় যে অপর দুই প্রকারের তুলনায় মর্যাদায় কিছুটা নিম্নতর, তা বোঝানোর জন্য গ্রন্থকারের এই ক্রমধারা অবলম্বনই যথেষ্ট, যেখানে তিনি তার বর্ণনায় শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমানুসারে এবং শেষে আসার ভিত্তিতে এগুলো উল্লেখ করেছেন।
জেনে রাখুন যে, পছন্দনীয় মতানুসারে 'কালিম' হলো জাতিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জিনস)। কেউ বলেছেন এটি বহুবচন (জমা), আবার কেউ বলেছেন এটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জমা)। প্রথম মতানুসারে পছন্দনীয় হলো যে এটি সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্য (ইসমুল জিনস জাময়ি); কারণ এটি তিন বা ততোধিক শব্দের ক্ষেত্রেই বলা হয়, চাই তারা এক জাতীয় হোক বা না হোক, অর্থবোধক হোক বা না হোক। কেউ বলেছেন এটি দশের অধিকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আবার কেউ বলেছেন এটি একক (ইফরাদি), অর্থাৎ এটি পানি ও মাটির মতো অল্প বা অধিক উভয়ের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় মতানুসারে, কেউ বলেছেন এটি আধিক্যের বহুবচন (জমা কাসরাত), আবার কেউ বলেছেন এটি অল্পতার বহুবচন (জমা কিল্লাত)। এই মতপার্থক্য এমন প্রতিটি শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যেখানে একক এবং সমষ্টির মধ্যে 'তা' যোগ করে পার্থক্য করা হয়। পছন্দনীয় মতানুসারে, এর সর্বনামের ক্ষেত্রে সমষ্টির বিবেচনায় স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া বৈধ এবং মূল ভিত্তি বিবেচনায় পুংলিঙ্গ হওয়াও বৈধ, আর এটিই অধিক প্রচলিত। যেমন: {তারই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে (উঠে)} ১, {তারা বাক্যসমূহকে (কালিম) তার স্বস্থান থেকে পরিবর্তন করে} ২। ইবনে মু’তি তার আলফিয়্যাহতে একে স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করেছেন এবং বলেছেন: "এর একক হলো কালিমা"। আর গ্রন্থকার একে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করে বলেছেন: "এর একক হলো কালিমা"। শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে 'কালিম' ও 'কালিমা'-এর সমরূপ উদাহরণ হলো: ইট (লাবিন) ও একটি ইট (লাবিনাহ), এবং প্রাকৃতিক বস্তুর মধ্যে: কুল (নাবাক) ও একটি কুল (নাবাকাহ)। সুতরাং সমষ্টিবাচক জাতিবাচক বিশেষ্য হলো সেটি যার এবং যার এককের মধ্যে সাধারণত 'তা' দ্বারা পার্থক্য করা হয়, অর্থাৎ যার এককটি সাধারণত 'তা' যুক্ত হয়ে থাকে। আর "সাধারণত" শব্দটির মাধ্যমে ঐসব শব্দকে বাদ দেওয়া হয়েছে যা এর বিপরীতে গঠিত হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ذلك، أي: يكون بالتاء دالًا على الجمعية وإذا تجرد منها يكون للواحد، نحو: كمء وكمأة، وقد يفرق بينه وبين واحده بالياء، نحو: روم ورومي، وزنج وزنجي.
وحد الكلمة: قول مفرد، وتطلق في الاصطلاح مجازًا على أحد جزأي العلم المركب، نحو: "امرئ القيس" فمجموعهما كلمة حقيقة، وكل منهما كلمة مجازًا، وفيها ثلاث لغات: كَلِمة على وزن نَبِقة1، وتجمع على كَلِم كنَبِق، وكِلْمة على وزن سِدْرة2، وتجمع على كِلْم كسِدْر، وكَلْمَة على وزن تَمْرَة، وتجمع على كَلْم كتَمْر، وهذه اللغات في كل ما كان على وزن فعل ككَبِد وكَتِف، فإن كان وسطه حرف حلق جاز فيه لغة رابعة، وهي إتباع فائه لعينه في الكسر، اسمًا كان، نحو: فِخِذ، أو فعلًا، نحو: شِهِد.
"وَالْقَوْلُ" وهو -على الصحيح- لفظ دال على معنى "عَم" الكلام والكلم والكلمة، عمومًا مطلقًا؛ فكل كلام أو كلم أو كلمة قول، ولا عكس: أما كونه أعم من الكلام فلانطلاقه على المفيد وغيره، والكلام مختص بالمفيد، وأما كونه أعم من الكلم فلانطلاقه على المفرد، وعلى المركب من كلمتين، وعلى المركب من أكثر، والكلام مختص بهذا الثالث، وأما كونه أعم من الكلمة فلانطلاقه على المركب والمفرد، وهي مختصة بالمفرد؛ وقيل: القول عبارة عن اللفظ المركب المفيد، فيكون مرادفًا للكلام، وقيل: هو عبارة عن المركب خاصة: مفيدًا كان أو غير مفيد، فيكون أعم مطلقًا من الكلام والكلم، ومباينًا للكلمة. وقد بان لك أن الكلام والكلم بينهما عموم وخصوص من وجه: فالكلام أعم من جهة التركيب وأخص من جهة الإفادة، والكلم بالعكس، فيجتمعان في الصدق في نحو: "زيد أبوه قائم" وينفرد الكلام في نحو: "قام زيد"، وينفرد الكلم في نحو: "إن قام زيد".
تنبيه: قد عرفت أن القول على الصحيح أخص من اللفظ مطلقًا، فكان من حقه أن يأخذه جنسًا في تعريف الكلام كما فعل في الكافية، لأنه أقرب من اللفظ، ولعله إنما عدل عنه لما شاع من استعماله في الرأي والاعتقاد حتى صار كأنه حقيقة عرفية، واللفظ ليس كذلك.
"وَكِلْمَة بهَا كَلَامٌ قَدْ يُؤَمْ" أي: يقصد. كلمة: مبتدأ خبره الجملة بعده، قال المكودي: "وجاز الابتداء بكلمة للتنويع لأنه نوَّعها إلى كونها إحدى الكلم، وإلى كونها يقصد بها الكلام" انتهى. ولا حاجة إلى ذلك؛ فإن المقصود اللفظ وهو معرفة، أي: هذا
--------------------------------------------
এটি, অর্থাৎ: 'তা' (ة) যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সমষ্টিগত রূপ বোঝায় এবং যখন তা থেকে মুক্ত থাকে তখন তা একবচন বোঝায়, যেমন: 'কাম' এবং 'কামআহ'। আবার কখনও এর এবং এর একবচনের মধ্যে 'ইয়া' (ي) দ্বারা পার্থক্য করা হয়, যেমন: 'রুম' এবং 'রুমি', এবং 'জাঞ্জ' ও 'জাঞ্জি'।
কালিমার সংজ্ঞা হলো: একক কথা (কাওল মুফরাদ)। পারিভাষিক অর্থে এটি রূপকভাবে যৌগিক বিশিষ্ট্যবাচক বিশেষ্যের (আলাম মুরাক্কাব) একটি অংশের ওপর ব্যবহৃত হয়, যেমন: 'ইমরুল কায়েস'; এক্ষেত্রে সমষ্টিগতভাবে এটি প্রকৃতপক্ষে একটি কালিমা এবং তাদের প্রত্যেকটি রূপকভাবে একটি কালিমা। আর এতে তিনটি উচ্চারণরীতি রয়েছে: 'কালিমাহ' যা 'নাবিকাহ'১ এর ওজনে, এর বহুবচন হলো 'কালিম' যেমন 'নাবিক'; এবং 'কিলমাহ' যা 'সিদরাহ'২ এর ওজনে, এর বহুবচন হলো 'কিলম' যেমন 'সিদর'; এবং 'কালমাহ' যা 'তামরাহ' এর ওজনে, এর বহুবচন হলো 'কালম' যেমন 'তামর'। এই উচ্চারণরীতিগুলো এমন প্রতিটি শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা 'ফায়িল' ওজনে আসে, যেমন: 'কাবিদ' (কলিজা) ও 'কাতিফ' (কাঁধ)। যদি এর মধ্যাক্ষরটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ (হরফে হালকি) হয়, তবে এতে চতুর্থ আরেকটি উচ্চারণরীতি বৈধ, আর তা হলো এর প্রথম বর্ণকে দ্বিতীয় বর্ণের কাসরা বা জেরের অনুগামী করা; তা বিশেষ্য (ইসম) হোক যেমন: 'ফিখিয' (ঊরু), অথবা ক্রিয়া (ফেল) হোক যেমন: 'শিহিদ' (সাক্ষ্য দেওয়া)।
'আল-কাওল' (কথা): আর এটি — বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী — এমন শব্দ যা কোনো অর্থ প্রকাশ করে, যা 'কালাম', 'কালিম' এবং 'কালিমা'-র ওপর সাধারণভাবে ও শর্তহীনভাবে ব্যাপকতা রাখে। সুতরাং প্রত্যেক কালাম, কালিম বা কালিমা-ই হলো কাওল, কিন্তু এর বিপরীতটি সঠিক নয়। কালামের চেয়ে এটি ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো এটি অর্থবহ এবং অর্থহীন উভয় শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, আর কালাম শুধুমাত্র অর্থবহ শব্দের সাথে নির্দিষ্ট। কালিমের চেয়ে এটি ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো এটি একক শব্দ, দুই শব্দের যৌগিক রূপ এবং দুইয়ের অধিক শব্দের যৌগিক রূপের ওপর প্রযোজ্য হয়, অথচ কালাম কেবল এই তৃতীয়টির (দুইয়ের অধিক শব্দের যৌগিক রূপ) সাথে নির্দিষ্ট। আর কালিমার চেয়ে এটি ব্যাপক হওয়ার কারণ হলো এটি যৌগিক ও একক উভয় শব্দের ওপর প্রযোজ্য হয়, অথচ কালিমা শুধুমাত্র একক শব্দের সাথে নির্দিষ্ট। বলা হয়ে থাকে: কাওল হলো অর্থবহ যৌগিক শব্দের অভিব্যক্তি, ফলে এটি কালামের সমার্থক হবে। আবার বলা হয়: এটি বিশেষ করে যৌগিক শব্দের অভিব্যক্তি, তা অর্থবহ হোক বা না হোক; এমতাবস্থায় এটি কালাম ও কালিমের চেয়ে সাধারণভাবে ব্যাপক এবং কালিমার থেকে ভিন্ন হবে। আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কালাম ও কালিমের মধ্যে এক দিক থেকে সাধারণ ও অন্য দিক থেকে বিশেষ (উমুম ওয়া খুসুস মিন ওয়াজহিন) সম্পর্ক বিদ্যমান। কালাম গঠনের দিক থেকে অধিক ব্যাপক এবং অর্থ প্রদানের দিক থেকে অধিক বিশেষ। আর কালিম এর উল্টো। উভয়ই সত্য হিসেবে একত্রিত হয় যেমন: 'যায়দুন আবুহু কায়িমুন' (জায়েদ, তার পিতা দণ্ডায়মান)। আর কালাম এককভাবে পাওয়া যায় যেমন: 'কামা যায়দুন' (জায়েদ দণ্ডায়মান হলো)। আর কালিম এককভাবে পাওয়া যায় যেমন: 'ইন কামা যায়দুন' (যদি জায়েদ দণ্ডায়মান হয়)।
সতর্কবার্তা: আপনি জেনেছেন যে কাওল বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী শর্তহীনভাবে 'লফয' (উচ্চারিত শব্দ) অপেক্ষা বিশেষ। তাই কালামের সংজ্ঞায় একে 'জিনস' বা মূল উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা অধিক সঙ্গত ছিল যেমনটি 'কাফিয়া' গ্রন্থে করা হয়েছে; কারণ এটি লফযের তুলনায় কালামের অধিক নিকটবর্তী। সম্ভবত তিনি (গ্রন্থকার) এটি পরিহার করেছেন কারণ মতামত ও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করেছে, এমনকি এটি যেন একটি প্রচলিত বাস্তবতায় (হাকিকতে উরফি) পরিণত হয়েছে, কিন্তু লফয এমন নয়।
'এবং কালিমা দ্বারা কখনো কালামকে উদ্দেশ্য করা হয়'; অর্থাৎ লক্ষ্য করা হয়। 'কালিমা' শব্দটি এখানে মুবতাদা, যার খবর হলো পরবর্তী বাক্যটি। মাকুদি বলেন: "কালিমা শব্দটিকে মুবতাদা হিসেবে গ্রহণ করা জায়েজ হয়েছে শ্রেণিবিভাগের কারণে; কারণ তিনি একে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন এই হিসেবে যে এটি কালিমগুলোর একটি এবং একে কালামের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়।" সমাপ্ত। এর কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ এখানে কালাম দ্বারা শব্দই উদ্দেশ্য এবং সেটি নির্দিষ্ট বা মারেফা, অর্থাৎ: এটি নির্দিষ্ট শব্দ যা পরবর্তী গুণের অধিকারী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৬)
اللفظ -وهو لفظ كلمة- يطلق لغة على الجمل المفيدة. قال تعالى: {كَلَّا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا} 1 إشارة إلى: {رَبِّ ارْجِعُونِ، لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ} 2، وقال عليه الصلاة والسلام: $"أصدق كلمة قالها الشاعر كلمة لبيد "من الطويل":
3- أَلَا كُلُّ شَيْء مَا خَلَا الله بَاطِلُ
… "وكل نعيم لا محالة زائل"
وهو من باب تسمية الشيء باسم بعضه، كتسميتهم ربيئة القوم عينا، والبيت من الشعر قافية، وقد يسمون القصيدة قافية لاشتمالها عليها، وهو مجاز مهمل في عرف النحاة.
--------------------------------------------
'কালিমাহ' শব্দটি অভিধানে অর্থবোধক বাক্যসমূহের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {কখনোই নয়, এটি একটি কথা যা সে বলবে} ১ এটি নির্দেশ করছে: {হে আমার রব! আমাকে ফেরত পাঠান, যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকাজ করতে পারি} ২। এবং নবী (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বলেছেন: "কোনো কবির বলা সবচাইতে সত্য কথা হলো লাবীদের এই কথাটি (তউয়ীল ছন্দে):
৩- জেনে রেখো, আল্লাহ ছাড়া প্রতিটি বিষয়ই বাতিল … এবং প্রতিটি নেয়ামত অবশ্যই নশ্বর।
এটি কোনো বস্তুকে তার একাংশের নামে নামকরণ করার অন্তর্ভুক্ত, যেমন তারা দলের পাহারাদারকে 'চোখ' বলে অভিহিত করে এবং কবিতার একটি পঙক্তিকে 'কাফিয়া' (অন্ত্যমিল) বলে। আবার কখনও কখনও তারা সম্পূর্ণ কবিতাকে 'কাফিয়া' বলে থাকে কারণ তাতে এটি বিদ্যমান থাকে। আর এটি নাহুবিদদের পরিভাষায় একটি অপ্রচলিত রূপক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تنبيه: "قد" في قوله "قد يؤم" للتقليل، ومراده التقليل النسبي، أي: استعمال الكلمة في الجمل قليل بالنسبة إلى استعمالها في المفرد، لا قليل في نفسه؛ فإنه كثير.
"علامات الاسم":
وهذا شروع في العلامات التي يمتاز بها كل من الاسم والفعل والحرف عن أخويه، وبدأ بالاسم لشرفه فقال:
10- بالجر والتنوين والندا وأل
… ومسند للاسم تمييز حصل
"بِالْجَرِّ" ويرادفه الخفض، قال في شرح الكافية: وهو أولى من التعبير بحرف الجر، لتناوله الجر بالحرف والإضافة "وَالتَّنْوينِ" وهو في الأصل: مصدر نونت، أي: أدخلت نونا، ثم غلب حتى صار اسما لنون تلحق الآخر لفظا لا خطا لغير توكيد، فقيد "لا خطا" فصل مخرج للنون في نحو "ضيفن" اسم للطفيلي، وهو الذي يجيء مع الضيف متطفلا، وللنون اللاحقة للقوافي المطلقة -أي: التي آخرها حرف مد- عوضا عن مدة الإطلاق في لغة تميم وقيس، كقوله "من الوافر":
4- أَقِلِّي اللَّوْمَ عَاذِلَ وَالْعِتَابَنْ
… وَقُولِي إِنْ أَصَبْتُ لَقَدْ أَصَابَنْ
--------------------------------------------
সতর্কতা: তাঁর উক্তি "কদ ইউআম্মু"-তে "কদ" শব্দটি স্বল্পতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। তাঁর উদ্দেশ্য হলো আপেক্ষিক স্বল্পতা। অর্থাৎ, একক শব্দের তুলনায় বাক্যে এই শব্দের ব্যবহার কম; এটি স্বয়ং কম নয়, বরং এর ব্যবহার অনেক।
"ইসিমের আলামতসমূহ":
এটি এমন সব আলামত বা চিহ্নের আলোচনা যা ইসিম (বিশেষ্য), ফে’ল (ক্রিয়া) এবং হরফ (অব্যয়)-কে একে অপরের থেকে পৃথক করে। তিনি ইসিমের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তা দিয়েই শুরু করেছেন এবং বলেছেন:
১০- জার (জের), তানউইন, নিদা (আহ্বান) এবং আল (আলিফ-লাম) যোগ হওয়া... এবং ইসনাদ (কারও দিকে কোনো কিছু সম্বন্ধ করা)-এর মাধ্যমে ইসিমের বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়।
"জার"-এর সমার্থক শব্দ হলো ‘খফদ’। শারহুল কাফিয়া-তে বলা হয়েছে: এটি ‘হরফে জার’ শব্দ ব্যবহারের চেয়ে উত্তম; কারণ এতে হরফের মাধ্যমে আসা জার এবং ইদাফাত (সম্বন্ধ)-এর মাধ্যমে আসা জার—উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হয়। "তানউইন": এটি মূলত ‘নাউওয়ান্তু’ (আমি নুন যুক্ত করেছি) ক্রিয়ামূলের মাসদার। পরবর্তীতে এটি এমন একটি ‘নুন’-এর নাম হিসেবে পরিচিতি পায় যা শব্দের শেষে উচ্চারণে যুক্ত হয় কিন্তু লেখায় নয়, এবং তা তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য নয়। সুতরাং "লেখায় নয়" শর্তটি ‘দায়ফান’-এর মতো শব্দের নুনকে বাদ দেওয়ার জন্য যুক্ত করা হয়েছে। ‘দায়ফান’ হলো সেই ব্যক্তির নাম যে মেহমানের সাথে অযাচিতভাবে আসে। এছাড়া এই শর্তটি সেই নুনকেও বাদ দেয় যা ‘কাওয়াফি মুতলাকাহ’ (মুক্ত অন্ত্যমিলযুক্ত কবিতা—যার শেষে হরফে মাদ্দ থাকে)-এর শেষে আসে, তামীম ও কাইস গোত্রের ভাষায় ইতলাক-এর মদ্দের পরিবর্তে। যেমন কবির উক্তি (ওয়াফির ছন্দে):
৪- হে তিরস্কারকারিণী! তোমার নিন্দা ও ভর্ৎসনা কমিয়ে দাও... আর আমি যদি সঠিক কাজ করি, তবে বলো যে, সে সঠিক কাজটিই করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الأصل العتابا، وأصابا. وقوله "من الكامل":
5- أَفِدَ التّرَحُّلُ غَيْرَ أَنَّ رِكابَنَا
… لَمَّا تَزُلْ بِرِحَالِنَا وَكَأَنْ قَدِنْ
--------------------------------------------
মূল শব্দগুলো ছিল আল-আতাবা এবং আসাবা। তাঁর উক্তিটি কামিল ছন্দে রচিত:
৫- প্রস্থানের সময় ঘনিয়ে এসেছে, যদিও আমাদের বাহনগুলো এখনও আসবাবপত্র নিয়ে প্রস্থান করেনি; কিন্তু মনে হচ্ছে যেন তারা প্রস্থান করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الأصل: قدي، ويسمى "تنوين الترنم" على حذف مضاف، أي: قطع الترنم؛ لأن الترنم مد الصوت بمدة تجانس الروي، ومخرج أيضا للنون اللاحقة للقوافي المقيدة -وهي التي رويها ساكن غير مد- كقوله "من المتقارب":
6- أَحَارِبْنَ عَمْرٍو كأَنِّي خَمِرْنْ
… وَيَعْدُو عَلى الْمَرْءِ مَا يَأْتَمِرْنْ
الأصل: خمر، ويأتمر. وقوله "من الرجز":
7- وَقَاتِمِ الأَعْمَاقِ خَاوِي الْمُخْتَرَقْنْ
… "مشتبه الأعلام لماع الخفَقْنْ"
--------------------------------------------
মূল রূপ: কাদি, এবং একে একটি মুদাফ (সমবন্ধ পদ) উহ্য থাকার ভিত্তিতে "তানউইনুত তারাননুম" (সুর সৃষ্টির তানউইন) বলা হয়, যার অর্থ: সুরের সমাপ্তি; কারণ তারাননুম হলো রাউই (কবিতার অন্ত্যমিল)-এর সমজাতীয় ধ্বনি দ্বারা স্বরকে দীর্ঘ করা, এবং এটি মুকাইয়াদ কাফিয়া (আবদ্ধ অন্ত্যমিল)-এর শেষে যুক্ত হওয়া নূনকেও নির্দেশ করে—যা এমন কাফিয়া যার রাউই দীর্ঘস্বরবিহীন সাকিন—যেমন মুতাকারিব ছন্দে কবির উক্তি:
৬- হে হারিস বিন আমর, মনে হচ্ছে যেন আমি অসুস্থ … এবং মানুষের উপর তা-ই আপতিত হয় যা সে মনে মনে সংকল্প করে।
মূল রূপ: খামির, এবং ইয়াতামিরু। এবং কবির উক্তি "রাজায ছন্দ থেকে":
৭- অন্ধকার দিগন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড যার পথগুলো জনশূন্য … "যার চিহ্নগুলো অস্পষ্ট এবং বাতাসের ঝাপটা উজ্জ্বল"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأصل المخترق. وقوله "من الرجز":
8- قَالَتْ بَنَاتْ الْعَمِّ يَا سَلْمَى وَإِنّ
… كانَ فَقِيرًا مُعْدِمًا قَالَتْ وَإِنّ
--------------------------------------------
মূল পাঠ ‘আল-মুখতারাক’। এবং তাঁর কথা ‘রাজায ছন্দ থেকে’:
৮- চাচাতো বোনেরা বলল, হে সালমা! যদিও সে... নিঃস্ব দরিদ্র ছিল, সে (সালমা) বলল, তবুও (আমি রাজি)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فإن هاتين النونين زيدتا في الوقف، كما زيدت نون "ضيفن" في الوصل والوقف، وليستا من أنواع التنوين حقيقة؛ لثبوتهما مع "أل"، وفي الفعل والحرف، وفي الخط والوقف، وحذفهما في الوصل، ويسمى "التنوين الغالي"، زاده الأخفش وسماه بذلك؛ لأن الغلو الزيادة، وهو زيادة على الوزن، وزعم ابن الحاجب أنه إنما سمي غاليا لقلته، وقد عرفت أن إطلاق اسم التنوين على هذين مجاز، فلا يردان على الناظم. وقيد "لغير توكيد" فصل آخر مخرج لنون التوكيد الثابتة في اللفظ دون الخط، نحو: {لَنَسْفَعًا} 1.
"أنواع التنوين":
وهذا التعريف منطبق على أنواع التنوين، وهي أربعة:
الأول: تنوين الأمكنية، ويقال تنوين التمكن، وتنوين التمكين: كرجلٍ وقاضٍ، سمي بذلك لأنه لحق الاسم ليدل على شدة تمكنه في باب الاسمية، أي: أنه لم يشبه الحرف فيبنى، ولا الفعل فيمنع من الصرف.
والثاني: تنوين التنكير، وهو اللاحق لبعض المبنيات في حالة تنكيره ليدل على التنكير، تقول: سيبويه -بغير تنوين- إذا أردت معينا، وإيه -بغير تنوين- إذا استزدت مخاطبك من حديث معين، فإذا أردت غير معين قلت: سيبويهٍ وإيهٍ، بالتنوين.
والثالث: تنوين التعويض، ويقال له "تنوين العوض" بإضافة بيانية، وبه عبر في المغني، وهو أولى، وهو إما عوض عن حرف، وذلك تنوين نحو: جوار وغواش، عوضا عن الياء المحذوفة في الرفع والجر. هذا مذهب سيبويه والجمهور، وسيأتي الكلام على ذلك في باب ما لا ينصرف مبسوطا، إن شاء الله تعالى، وإما عوض عن جملة، وهو التنوين اللاحق لـ "إذ" في نحو: "يومئذٍ" و"حينئذٍ" فإنه عوض عن الجملة التي تضاف "إذ" إليها، فإن الأصل يوم إذ كان كذا، فحذفت الجملة وعوض عنها التنوين وكسرت "إذ" لالتقاء الساكنين، كما كسرت "صه" و"مه" عند تنوينهما. وزعم الأخفش أن "إذ" مجرورة بالإضافة، وأن كسرتها كسرة إعراب، ورد بملازمتها للبناء؛ لشبهها بالحرف في الوضع وفي
--------------------------------------------
প্রকৃতপক্ষে এই ‘নূন’ দুটি বিরামের (ওয়াকফ) সময় বর্ধিত হিসেবে যুক্ত হয়, যেমনটি ‘দাইফন’ শব্দের ক্ষেত্রে সংযোগ (ওয়াসল) ও বিরাম (ওয়াকফ) উভয় অবস্থায় ‘নূন’ বর্ধিত হয়। এগুলো প্রকৃতপক্ষে তানউইনের প্রকারভুক্ত নয়; কারণ এগুলো ‘আলিফ-লাম’ (আল) যুক্ত শব্দের সাথেও থাকে, আবার ক্রিয়া (ফেল) ও অব্যয়ের (হরফ) মধ্যেও পাওয়া যায় এবং লিখন ও বিরাম উভয় অবস্থায় বহাল থাকে, কিন্তু শব্দের সংযোগের সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। একে ‘তানউইনে গালি’ (অতিরিক্ত তানউইন) বলা হয়। ইমাম আখফাশ এটি বৃদ্ধি করেছেন এবং এই নামকরণ করেছেন; কারণ ‘গুলু’ শব্দের অর্থ হলো বৃদ্ধি বা অতিরিক্ততা, আর এটি ছন্দের ওজনের ওপর একটি অতিরিক্ত বিষয়। ইবনুল হাজিব দাবি করেছেন যে, এটি অত্যন্ত বিরল হওয়ার কারণে একে ‘গালি’ (মূল্যবান/দুর্লভ) নামকরণ করা হয়েছে। আপনি জেনেছেন যে, এই দুই ক্ষেত্রে তানউইন শব্দের প্রয়োগ রূপক মাত্র, সুতরাং এগুলো মূল গ্রন্থকারের (নাজিম) সংজ্ঞার ওপর কোনো আপত্তি সৃষ্টি করে না। আর ‘তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদান ছাড়া’—এই শর্তটি যুক্ত করার মাধ্যমে তাকিদের নূনকে সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে, যা উচ্চারণে বিদ্যমান থাকে কিন্তু লিখনে থাকে না, যেমন: “অবশ্যই আমি কপালে ধরে টেনে আনব।” ১।
"তানউইনের প্রকারভেদ":
এই সংজ্ঞাটি তানউইনের প্রকারভেদের ওপর প্রযোজ্য, আর তা হলো চার প্রকার:
প্রথম: তানউইনে আমকানিয়্যাহ, একে তানউইনে তামাক্কুন বা তানউইনে তামকিনও বলা হয়: যেমন—‘রাজুলুন’ (একজন লোক) এবং ‘কাদিন’ (একজন বিচারক)। একে এই নামে অভিহিত করার কারণ হলো, এটি বিশেষ্য (ইসম)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে শব্দটির সুদৃঢ় সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। অর্থাৎ, শব্দটি অব্যয়ের সাদৃশ্য লাভ করে মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হয়ে যায়নি এবং ক্রিয়ার সাদৃশ্য লাভ করে গায়রে মুনসারিফ (পরিবর্তনবিমুখ) হয়নি।
দ্বিতীয়: তানউইনে তানকির, এটি অনির্দিষ্টতা বুঝানোর জন্য নির্দিষ্ট কিছু মাবনি (অপরিবর্তনীয়) শব্দের শেষে যুক্ত হয়। আপনি যখন নির্দিষ্ট কাউকে বোঝাতে চান তখন তানউইন ছাড়া বলবেন: ‘সিবওয়াইহি’, আর যখন আপনি আপনার সম্বোধিত ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট কোনো আলোচনার পুনরাবৃত্তি চান তখন বলবেন ‘ইহি’। কিন্তু যখন আপনি অনির্দিষ্ট কাউকে বা কোনো আলোচনাকে বোঝাতে চাইবেন, তখন তানউইনসহ বলবেন: ‘সিবওয়াইহিন’ এবং ‘ইহিন’।
তৃতীয়: তানউইনে তায়উইদ, একে ‘তানউইনে ইওয়াদ’ (বিনিময়সূচক তানউইন) বলা হয়। ‘মুগনি’ গ্রন্থে এভাবেই ব্যক্ত করা হয়েছে এবং এটিই অধিকতর সংগত। এটি হয় কোনো অক্ষরের পরিবর্তে আসে, যেমন: ‘জাওয়ারিন’ এবং ‘গাওয়াশিন’ শব্দের তানউইন, যা রাফ’ (পেশ) ও জার (জের) এর অবস্থায় বিলুপ্ত ‘ইয়া’ অক্ষরের পরিবর্তে এসেছে। এটি ইমাম সিবওয়াইহ ও জুমহুর ব্যাকরণবিদদের অভিমত। ইনশাআল্লাহ ‘গায়রে মুনসারিফ’ অধ্যায়ে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। অথবা এটি বাক্যের (জুমলা) পরিবর্তে আসে, যা ‘ইয’ শব্দের সাথে যুক্ত হয়, যেমন: ‘ইয়াওমাইযিন’ এবং ‘হিনাইযিন’। এখানে তানউইনটি সেই বাক্যের পরিবর্তে এসেছে যার দিকে ‘ইয’ শব্দটি সম্বন্ধিত (ইজাফত) হয়েছিল। মূলত বাক্যটি ছিল ‘সেদিন যখন এমনটি হয়েছিল’, এরপর বাক্যটি বিলুপ্ত করে তার পরিবর্তে তানউইন আনা হয়েছে এবং দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে ‘ইয’ শব্দে জের প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি ‘সাহ’ ও ‘মাহ’ শব্দে তানউইন যুক্ত করার সময় জের প্রদান করা হয়। ইমাম আখফাশ মনে করেন যে, ‘ইয’ শব্দটি ইজাফতের কারণে মাজরুর (জেরবিশিষ্ট) হয়েছে এবং এর জেরটি মূলত বিভক্তির (ইরাব) জের। তবে এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে; কারণ ‘ইয’ সর্বদা মাবনি (অপরিবর্তনীয়), যেহেতু এটি গঠনগতভাবে অব্যয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الافتقار دائما إلى الجملة، وبأنها كسرت حيث لا شيء يقتضي الجر في قوله "من الوافر":
9- نَهَيْتُكَ عَنْ طِلَابِكَ أُمِّ عَمْرٍو
… بِعَافِيَةٍ وَأَنْتَ إذٍ صَحِيحُ
قيل: ومن تنوين العوض ما هو عوض عن كلمة، وهو تنوين "كل" و"بعض" عوضا عما يضافان إليه، ذكره الناظم.
والرابع: تنوين المقابلة، وهو اللاحق لنحو "مسلمات" مما جمع بألف وتاء، سمي بذلك لأنه في مقابلة النون في جمع المذكر السالم في نحو "مسلمين"، وليس بتنوين الأمكنية، خلافا للربعي؛ لثبوته فيما لا ينصرف منه، وهو ما سمي به مؤنث: كأذرعات لقرية، ولا تنوين تنكير لثبوته مع المعربات، ولا تنوين عوض وهو ظاهر، وما قيل إنه عوض عن الفتحة نصبا مردود بأن الكسرة قد عوضت عنها.
"من علامات الاسم النداء":
"وَالنِّدَا" وهو الدعاء بيا أو إحدى أخواتها، فلا يرد نحو: {يَا لَيْتَ قَوْمِي
--------------------------------------------
সর্বদাই বাক্যের মুখাপেক্ষী হওয়া, এবং একে কাসরা (জের) দেওয়া হয়েছে এমন স্থানে যেখানে কোনো কিছুই কাসরা প্রদানের দাবি রাখে না। "ওয়াফির" ছন্দের এই পঙক্তিতে বলা হয়েছে:
৯- আমি তোমাকে উম্মে আমরকে খোঁজা থেকে নিষেধ করেছিলাম... যখন তুমি সুস্থ ছিলে এবং তখনও তুমি সুস্থ ছিলে।
বলা হয়েছে: তানভিনে ইওয়াদ (বিনিময়সূচক তানভিন)-এর মধ্যে এমনটিও রয়েছে যা একটি শব্দের পরিবর্তে আসে; আর তা হলো "কুল্লুন" এবং "বা'দুন"-এর তানভিন, যা তাদের মুদাফ ইলাইহির পরিবর্তে আসে। এটি কিতাব রচয়িতা (নাজিম) উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থটি হলো: তানভিনে মুকাবালা (বিনিময় বা সামঞ্জস্যসূচক তানভিন)। আর তা হলো "মুসলিমাতুন"-এর মতো শব্দের শেষে যা যুক্ত হয়, যা আলিফ ও তা যোগে জমা (বহুবচন) করা হয়েছে। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি "মুসলিমিনা"-এর মতো জমা মুজাক্কার সালেম-এর "নুন"-এর বিপরীতে বা সামঞ্জস্য রক্ষার্থে আসে। এটি তানভিনে আমকানিয়্যাহ (অবস্থানগত তানভিন) নয়, রুবঈ-এর মতের বিপরীতে; কারণ এটি এমন শব্দের ক্ষেত্রেও সাব্যস্ত হয় যা গইরে মুনসারিফ (পরিবর্তনহীন), আর তা হলো যার দ্বারা কোনো মুয়ান্নাস (স্ত্রীলিঙ্গ)-এর নামকরণ করা হয়েছে: যেমন একটি গ্রামের নাম "আদরিআত"। এটি তানভিনে তানকির (অনির্দিষ্টতাবোধক তানভিন)-ও নয়, কারণ এটি মারেফাহ (নির্দিষ্ট বিশেষ্য)-এর সাথেও সাব্যস্ত হয়। এটি তানভিনে ইওয়াদ (বিনিময়সূচক তানভিন)-ও নয়, যা স্পষ্ট। আর যা বলা হয়েছে যে, এটি নসব অবস্থায় ফাতহার পরিবর্তে এসেছে, তা প্রত্যাখ্যাত; কারণ কাসরা (জের) ইতোমধ্যেই তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
"বিশেষ্যের আলামতসমূহের মধ্যে একটি হলো নিদা (আহ্বান)":
"ওয়া আন-নিদা" অর্থাৎ "ইয়া" বা এর সমগোত্রীয় কোনো হরফ দ্বারা আহ্বান করা। সুতরাং "হায়! আমার সম্প্রদায় যদি..."-এর মতো উদাহরণ এতে আপতিত হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَعْلَمُونَ} 1، و"من الرجز":
10- يا رب سار بات ما توسدا
… "إلا ذراع العنس أو كف اليدا"
"ألا يا اسجدوا" 2 في قراءة الكسائي، لتخلف الدعاء عن "يا"؛ فإنها لمجرد التنبيه، وقيل: إنها للنداء والمنادى محذوف تقديره: يا هؤلاء، وهو مقيس في الأمر كالآية، وفي الدعاء، كقوله "من الطويل":
11- ألَا يا اسْلَمِي يا دَارَ مَيِّ عَلَى البِلى
… "ولا زال منهلا بجرعائك القطر"
--------------------------------------------
তারা জানতে পারত} ১, এবং "রাজায ছন্দ" থেকে:
১০- হে কতই না এমন রাত্রি ভ্রমণকারী যে রাত কাটিয়েছে কোনো বালিশ গ্রহণ না করেই
… "কেবল উটনীর বাহু অথবা হাতের তালু ছাড়া"
"সাবধান! তোমরা সেজদা করো" ২ কিসাঈর কিরাত অনুযায়ী, কারণ এখানে "ইয়া" (يا) এর পরে দুআ নেই; এটি শুধুমাত্র সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন: এটি আহ্বানের জন্য এবং যাকে আহ্বান করা হয়েছে সে উহ্য রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো: হে লোকসকল; আদেশের ক্ষেত্রে এটি একটি স্বীকৃত নিয়ম যেমনটি আয়াতে রয়েছে, এবং দুআর ক্ষেত্রেও, যেমনটি "তবীল" ছন্দের কাব্যে বলা হয়েছে:
১১- ওহে, তুমি নিরাপদ থাকো হে মায়ি-এর ঘর, জরাজীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও
… "আর তোমার বালুময় প্রান্তরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকুক"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
"من علامات الاسم دخول "أل" عليه":
"وَأَلْ" معرفة كانت: كالفرس، والغلام، أو زائدة: كالحارث، و"طبت النفس".
ويقال فيها "أم" في لغة طيئ، ومنه "ليس من امبر امصيام في امسفر" 1 وسيأتي الكلام على الموصولة، وتستثنى الاستفهامية فإنها تدخل على الفعل، نحو "أل فعلت" بمعنى: هل فعلت؟ حكاه قطرب، وإنما لم يستثنها لندرتها "وَمُسْنَدٍ" أي: محكوم به من اسم أو فعل أو جملة، نحو: "أنت قائم"، و"قمت" و {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ} .
تنبيه: حمل الشارح لفظ "مسند" في النظم على إسناد؛ فقال: ومسند أي إسناد إليه، فأقام اسم المفعول مقام المصدر وحذف صلته اعتمادا على التوقيف؛ ولا حاجة إلى هذا التكلف؛ فإن تركه على ظاهره كاف، أي: من علامات اسمية الكلمة أن يوجد معها مسند فتكون هي مسندا إليها، ولا يسند إلا إلى الاسم. وأما "تسمع بالمعيدي خير من أن تراه"2 فـ"تسمع" منسبك مع "أن" المحذوفة بمصدر، والأصل: "أن تسمع" أي: سماعك،
--------------------------------------------
"ইসিমের চিহ্নসমূহের মধ্যে রয়েছে তার শুরুতে 'আল' যুক্ত হওয়া":
'আল' পরিচিতি জ্ঞাপক (মারেফা) হতে পারে: যেমন ঘোড়া (আল-ফারাস), বালক (আল-গুলাম); অথবা অতিরিক্ত (যায়েদাহ) হতে পারে: যেমন হারিছ (আল-হারিছ) এবং 'মন প্রশান্ত হয়েছে' (ত্বিবতান নাফসু)।
ত্বাই গোত্রের ভাষায় একে 'আম' বলা হয়। এর থেকেই এসেছে: "সফরের অবস্থায় রোজা রাখা কোনো নেক কাজ নয়" ১। আর সম্বন্ধযুক্ত 'আল' (মাওসুলা) সম্পর্কে আলোচনা সামনে আসবে। আর প্রশ্নবোধক 'আল' (ইস্তিফহামিয়া) এর ব্যতিক্রম, কারণ তা ক্রিয়ার (ফেল) ওপর দাখিল হয়, যেমন "তুমি কি করেছ?" অর্থে "আল ফাআলতা" এর ব্যবহার। এটি কুতরুব বর্ণনা করেছেন। তিনি এর বিরলতার কারণে একে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেননি। "এবং মুসনাদ" অর্থাৎ: যার দ্বারা কোনো হুকুম বা বিধান দেওয়া হয়, তা কোনো নাম (ইসিম), ক্রিয়া (ফেল) বা বাক্য (জুমলা) হতে পারে। যেমন: "তুমি দণ্ডায়মান", এবং "আমি দাঁড়িয়েছি" এবং "নিশ্চয়ই আমিই জিকির (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি"।
সতর্কবার্তা: ব্যাখ্যাকার কাব্যগ্রন্থের "মুসনাদ" শব্দটিকে "ইসনাদ" (সম্বন্ধ করা) অর্থে গ্রহণ করেছেন; তিনি বলেছেন: মুসনাদ অর্থাৎ তার দিকে সম্বন্ধ করা। ফলে তিনি কর্মবাচক বিশেষ্যকে (ইসমুল মাফউল) ক্রিয়ামূলের (মাসদার) স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং ভাষাগত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এর পরবর্তী অংশ বিলুপ্ত করেছেন। তবে এই কষ্টকল্পনার কোনো প্রয়োজন নেই; একে তার প্রকাশ্য অর্থের ওপর রাখাই যথেষ্ট। অর্থাৎ: একটি শব্দের ইসিম হওয়ার অন্যতম চিহ্ন হলো তার সাথে একটি মুসনাদ পাওয়া যাওয়া, যাতে শব্দটি নিজে 'মুসনাদ ইলাইহি' (যার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে) হতে পারে। আর ইসিম ছাড়া অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধ (ইসনাদ) করা যায় না। আর "মুআইদির কথা শোনা তাকে দেখার চেয়ে উত্তম" ২ - এই বাক্যে "শোনা" (তাসমাউ) শব্দটি ঊহ্য থাকা "যে" (আন) এর সাথে মিলে মাসদারের অর্থ প্রদান করছে। এর মূল রূপ হলো: "তোমার শোনা"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فحذفت "أن"، وحسن حذفها وجودها في "أن تراه"، وقد روي "أن تسمع" على الأصل.
وأما قولهم: "زعموا مطية الكذب"1 فعلى إرادة اللفظ، مثل "من حرف جر"، و"ضرب فعل ماض" فكل من "زعموا" و"من"، و"ضرب" اسم للفظ مبتدأ وما بعده خبر.
"لِلاسْمِ تَمْييزٌ" عن قسيميه "حَصَلْ" تمييز: مبتدأ، والجملة بعده صفة له، وللاسم: خبر، وبالجر: متعلق بحصل. وقدم معمول الصفة على الموصوف الممنوع اختيارا للضرورة، وسهلها كونه جارا ومجرورا، وإنما ميزت هذه الخمسة الاسم لأنها خواص له: أما الجر فلأن المجرور مخبر عنه في المعنى، ولا يخبر إلا عن الاسم؛ وأما التنوين فلأن معانيه الأربعة لا تتأتى في غير الاسم؛ وأما النداء فلأن المنادى مفعول به والمفعول به لا يكون إلا اسما؛ وأما "أل" فلأن أصل معناه التعريف، وهو لا يكون إلا للاسم؛ وأما المسند فلأن المسند إليه لا يكون إلا اسما.
تنبيه: لا يشترط لتمييز هذه العلامات وجودها بالفعل. بل يكفي أن يكون في الكلمة صلاحية لقبولها.
"علامات الفعل":
11- بتا فعلت وأنت ويا افعلي
… ونون أقبلن فعل ينجلي
"بِتَا" الفاعل: متكلما كان نحو: "فَعَلْت" بضم التاء، أو مخاطبا، نحو: "تباركت يا الله" بفتحها، أو مخاطبة، نحو: "قمت يا هند" بكسرها "وَ" تاء التأنيث الساكنة أصالة، نحو: "أَتَتْ" هند. والاحتراز بالأصالة عن الحركة العارضة، نحو: {قَالَتْ أُمَّةٌ} 2 بنقل ضمة الهمزة إلى التاء، و {قَالَتِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ} 3 بكسر التاء لالتقاء الساكنين، و"قالتا" بفتحها لذلك، أما تاء التأنيث المتحركة أصالة فلا تختص بالفعل، بل إن كانت حركتها إعرابا اختصت بالاسم، نحو: "فاطمة" و"قائمة"، وإن كانت غير إعراب فلا تختص بالفعل، بل تكون في الاسم نحو: "لا حول ولا قوة إلا بالله" وفي الفعل، نحو: "هند تقوم"، وفي الحرف، نحو: "ربت" و"ثمت"، وبهاتين العلامتين -وهما تاء الفاعل وتاء التأنيث الساكنة- رد على من زعم من البصريين كالفارسي حرفية "ليس" وعلى من زعم من
--------------------------------------------
ফলে "আন" বিলুপ্ত করা হয়েছে, এবং "আন তারাহু"-তে এর বিদ্যমানতা থাকায় একে বিলুপ্ত করা সুন্দর হয়েছে। আর মূল রূপ অনুযায়ী "আন তাসমাআ" বর্ণিত হয়েছে।
আর তাদের কথা: "তারা ধারণা করেছে মিথ্যার বাহন"—এটি শব্দের রূপ বা সত্তা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন: "মিন একটি হরফে জর" এবং "দ্বরাবা একটি মাজি বা অতীতকালীন ক্রিয়া"। এখানে "যাআমূ", "মিন" এবং "দ্বরাবা"—এর প্রতিটিই উক্ত শব্দের নাম হিসেবে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং এর পরবর্তী অংশ খবর (বিধেয়)।
"বিশেষ্যের (ইসিমের) জন্য একটি স্বাতন্ত্র্য (তাময়িজ) অর্জিত হয়েছে তার অন্য দুই প্রকার (ফেল ও হরফ) থেকে।" এখানে 'তাময়িজ' হলো মুবতাদা, এবং এর পরবর্তী বাক্যটি তার সিফাত (গুণ)। আর 'লিল ইসমি' হলো খবর। আর 'বিল জাররি' অংশটি 'হাস্বালা' (অর্জিত হওয়া) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এখানে সিফাতের মামুল-কে মাউসুফের আগে নিয়ে আসা হয়েছে, যা সাধারণ অবস্থায় নিষিদ্ধ হলেও কাব্যিক প্রয়োজনে করা হয়েছে। এটি জার-মাজরুর হওয়ায় বিষয়টি সহজ হয়েছে। এই পাঁচটি বৈশিষ্ট্য বিশেষ্যকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করেছে কারণ এগুলো কেবল বিশেষ্যেরই বৈশিষ্ট্য। (১) জার (জের): কারণ অর্থগতভাবে জার-যুক্ত শব্দ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়, আর সংবাদ কেবল বিশেষ্য সম্পর্কেই দেওয়া যায়। (২) তানভিন: কারণ তানভিনের চারটি অর্থ বিশেষ্য ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া সম্ভব নয়। (৩) নিদা (আহ্বান): কারণ যাকে আহ্বান করা হয় (মুনাদা) সে মূলত কর্মপদ (মাফউল বিহি), আর কর্মপদ কেবল বিশেষ্যই হতে পারে। (৪) "আল" (আলিফ-লাম): কারণ এর মূল অর্থ হলো নির্দিষ্ট করা (তারিফ), যা কেবল বিশেষ্যের জন্যই নির্ধারিত। (৫) মুসনাদ (যার সম্পর্কে কিছু বলা হয়): কারণ মুসনাদ ইলাইহি কেবল বিশেষ্যই হতে পারে।
সতর্কবার্তা: এই চিহ্নগুলোর দ্বারা বিশেষ্যকে পৃথক করার জন্য এগুলোর বাস্তবে বিদ্যমান থাকা শর্ত নয়। বরং শব্দের মধ্যে এগুলো গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট।
"ক্রিয়ার (ফেলের) চিহ্নসমূহ:"
১১- 'ফায়ালতু'-এর 'তা' দ্বারা, 'ফায়ালতা' (তুমিও)-এর তা দ্বারা এবং 'ইফয়ালী'-এর 'ইয়া' দ্বারা... এবং 'আকবিলান'-এর 'নুন' দ্বারা ক্রিয়া সুস্পষ্ট হয়।
কর্তৃবাচক "তা" (তা-উল ফায়িল) দ্বারা: চাই তা উত্তম পুরুষের জন্য হোক, যেমন: "ফায়ালতু" (তা-এ পেশ বা দ্বম্মাহর সাথে); অথবা মধ্যম পুরুষ (পুরুষবাচক) এর জন্য হোক, যেমন: "তাবারাখতা ইয়া আল্লাহ" (তা-এ জবর বা ফাতাহর সাথে); অথবা মধ্যম পুরুষ (স্ত্রীবাচক) এর জন্য হোক, যেমন: "কুমতি ইয়া হিন্দ" (তা-এ জের বা কাসরাহর সাথে)। এবং মূলত স্থির বা সাকিন "তা-এ তানিস" (স্ত্রীলিঙ্গ প্রকাশক তা), যেমন: "আতাত হিন্দ"। "মূলত" বা স্বকীয়ভাবে সাকিন বলার মাধ্যমে আগন্তুক হরকত থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য, যেমন: {একটি দল বলেছিল} এখানে হামযাহর পেশ তা-এর দিকে স্থানান্তরের কারণে তা-তে পেশ হয়েছে; এবং {আজিজের স্ত্রী বলেছিল} এখানে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে তা-তে জের হয়েছে; এবং "ক্বালাতা" শব্দে দ্বিবচনের কারণে তা-তে জবর হয়েছে। পক্ষান্তরে যে স্ত্রীলিঙ্গবাচক "তা" মূলত হরকতযুক্ত, তা কেবল ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং যদি তার হরকত ই'রাব (বিভক্তি) হিসেবে হয়, তবে তা বিশেষ্যের জন্য নির্দিষ্ট হবে, যেমন: "ফাতিমাহ" এবং "ক্বয়িমাহ"। আর যদি তা ই'রাব না হয়, তবে তা কেবল ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট হবে না, বরং বিশেষ্যেও হতে পারে, যেমন: "লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ" বাক্যে; এবং ক্রিয়াতেও হতে পারে, যেমন: "হিন্দ তাকুউমু" (হিন্দ দাঁড়াচ্ছে); এবং হরফ বা অব্যয়েও হতে পারে, যেমন: "রুব্বাত" এবং "সুম্মাত"। এই দুই চিহ্নের মাধ্যমে—অর্থাৎ ফায়িল-এর "তা" এবং সাকিন "তা-এ তানিস"—বসরাবাসীদের মধ্যে যারা "লাইসা" শব্দটিকে অব্যয় (হরফ) বলে দাবি করেছেন (যেমন আল-ফারিসি), তাদের মত খণ্ডন করা হয় এবং তাদেরও যারা দাবি করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
الكوفيين حرفية "عسى"، وبالثانية رد على من زعم من الكوفيين كالفراء اسمية "نعم" و"بئس".
تنبيه: اشترك التاءان في لحاق "ليس" و"عسى"، وانفردت الساكنة بـ"نعم" و"بئس"، وانفردت تاء الفاعل بـ"تبارك"، هكذا مشى عليه الناظم، فإنه قال في شرح الكافية: وقد انفردت -يعني تاء التأنيث- بلحاقها "نعم" و"بئس" كما انفردت تاء الفاعل بلحاقها "تبارك" وفي شرح الآجرومية للشهاب البجائي أن "تبارك" تقبل التاءين، تقول: "تباركت يا الله"، و"تباركت أسماء الله".
"وَيَا افْعَلِي" يعني ياء المخاطبة، ويشترك في لحاقها الأمر والمضارع، نحو: "قومي يا هند"، و"أنت يا هند تقومين" "ونُون" التوكيد: ثقيلة كانت أو خفيفة، نحو "أَقْبِلَنَّ" ونحو: {لَنَسْفَعًَا} 1 وقد اجتمعتا حكاية في قوله: {لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونَنْ} 2، وأما لحاقها اسم الفاعل في قوله "من الرجز":
12- أَشَاهِرُنَّ بَعْدَنَا السُّيُوفَا
وقوله "من الرجز":
13- أَقَائِلُنَّ أَحْضِرُوا الشُّهُوْدَا
--------------------------------------------
কুফাবাসীদের মতে 'আসা' (عسى) অক্ষর হওয়ার বিষয়টি, এবং দ্বিতীয়টির মাধ্যমে কুফাবাসীদের মধ্য থেকে যারা—যেমন আল-ফাররা—'নি'মা' (نعم) ও 'বি'সা' (بئس) বিশেষ্য হওয়ার দাবি করেছেন, তাদের মত খণ্ডন করা হয়েছে।
সতর্কবার্তা: 'লাইসা' (ليس) এবং 'আসা' (عسى)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে উভয় 'তা' (কর্তাবাচক তা এবং সাকিন স্ত্রীবাচক তা) শরিক রয়েছে। তবে সাকিন 'তা' 'নি'মা' (نعم) ও 'বি'সা' (بئস)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। আর কর্তাবাচক 'তা' 'তাবারাকা' (تبارك)-এর সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। মূল রচয়িতা (নাজিম) এ পথেই চলেছেন; কেননা তিনি 'শারহুল কাফিয়া'-তে বলেছেন: স্ত্রীবাচক 'তা' 'নি'মা' ও 'বি'সা'-এর সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে, যেমন কর্তাবাচক 'তা' 'তাবারাকা'-এর সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। শিহাব আল-বাজায়ি-এর 'শারহুল আজরুমিয়্যাহ'-তে বর্ণিত হয়েছে যে, 'তাবারাকা' উভয় প্রকার 'তা'-ই গ্রহণ করে; আপনি বলতে পারেন: 'হে আল্লাহ! আপনি বরকতময় হয়েছেন' (তাবারাকতা), এবং 'আল্লাহর নামসমূহ বরকতময় হয়েছে' (তাবারাকাত)।
'এবং ইয়া-এ ইফআলী' (وَيَا افْعَلِي) দ্বারা সম্বোধনসূচক 'ইয়া' (ইয়া আল-মুখাতাবাহ) উদ্দেশ্য। এটি অনুজ্ঞা (আমর) এবং বর্তমান/ভবিষ্যৎকালসূচক (মুদারে) ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অংশীদার; যেমন: 'হে হিন্দ! তুমি দাড়াও', এবং 'হে হিন্দ! তুমি দাড়াচ্ছো'। আর 'নুন-এ তাকিদ' (দৃঢ়তাসূচক নুন): সেটি সাকিলা (দ্বিত্ব) হোক বা খফিফা (একক) হোক; যেমন: 'অবশ্যই তুমি এগিয়ে এসো' এবং: {অবশ্যই আমরা কপাল ধরে টেনে হিঁচড়াবো} ১। আর এ দুটি একত্রে বর্ণিত হয়েছে এই বাণীতে: {সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে এবং অবশ্যই লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে} ২। আর ইসমে ফায়েল (কর্তাবাচক বিশেষ্য)-এর সাথে এর যুক্ত হওয়া সম্পর্কে 'রাজাজ' ছন্দের এই কবিতায় রয়েছে:
১২- তোমরা কি আমাদের পর তলোয়ার কোষমুক্ত করবে?
এবং এই কবিতায়:
১৩- তারা কি বলছে যে, তোমরা সাক্ষীদের উপস্থিত করো?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল আশমুনি লি আলফিয়াতি ইবনি মালিক
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فشاذ. "فِعْلٌ يَنْجَلِي" مبتدأ وخبر، وسوغ الابتداء بفعل قصد الجنس، مثل قولهم: "تمرة خير من جرادة"، وبتا: متعلق بينجلي، أي: يتضح الفعل ويمتاز عن قسيميه بهذه العلامات لاختصاصها به، فلا توجد مع غيره إلا في شذوذ كما تقدم.
تنبيه: قولهم في علامات الاسم والفعل: "يعرف بكذا أو بكذا" هو من باب الحكم بالجميع لا بالمجموع، أي: كل واحد علامة بمفرده، لا جزء علامة.
"الحرف وأنواعه":
12- سواهما الحرف كـ"هل" و"في" و"لم"
… فعل مضارع يلي لم كـ"يشم"
13- وماضي الأفعال بـ"التاء" مز وسم
… بالنون فعل الأمر إن أمر فهم
"سوَاهُمَا" أي: سوى قابلي العلامات التسع المذكورة "الْحَرْفُ"؛ لما علم من انحصار أنواع الكلمة في الثلاثة، أي: علامة الحرفية أن لا تقبل الكلمة شيئا من علامات الأسماء ولا شيئا من علامات الأفعال.
ثم الحرف على ثلاثة أنواع: مشترك "كَهَلْ" فإنك تقول: "هل زيد قائم"؛ و"هل يقعد"؟ ومختص بالأسماء، نحو: "فِي" ومختص بالأفعال، نحو: "لم".
--------------------------------------------
এটি বিরল। "ক্রিয়া স্পষ্ট হয়" এটি মুক্তাদা এবং খবর। ‘ক্রিয়া’ শব্দটির মাধ্যমে এই জাতীয় শব্দকে উদ্দেশ্য করার কারণে একে মুক্তাদা হিসেবে ব্যবহার করা বৈধ হয়েছে; যেমনটি তাদের প্রবাদে রয়েছে: "একটি খেজুর একটি ঘাসফড়িংয়ের চেয়ে উত্তম"। ‘বাতা’ (ব এবং তা বর্ণ) শব্দটি ‘স্পষ্ট হওয়া’ ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ: এই আলামতগুলোর মাধ্যমে ক্রিয়া স্পষ্ট হয় এবং তার অপর দুটি প্রকার (ইসম ও হরফ) থেকে স্বতন্ত্র হয়, কারণ এই আলামতগুলো ক্রিয়ার জন্যই নির্দিষ্ট। তাই বিরল ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোনো শব্দে এগুলো পাওয়া যায় না, যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে।
সতর্কীকরণ: ইসম এবং ক্রিয়ার আলামত সম্পর্কে তাঁদের উক্তি— "অমুক বা অমুক আলামত দ্বারা চেনা যায়" —এটি মূলত প্রতিটি আলামত এককভাবে কার্যকর হওয়ার বিধান, সমষ্টিগতভাবে নয়। অর্থাৎ: প্রত্যেকটি আলামত স্বতন্ত্রভাবে একটি চিহ্ন হিসেবে গণ্য হবে, চিহ্নের কোনো অংশ হিসেবে নয়।
"হরফ এবং এর প্রকারভেদ":
১২- এ দুটির (ইসম ও ক্রিয়ার) বহির্ভূত যা থাকে তাই হরফ, যেমন ‘হাল’, ‘ফী’ এবং ‘লাম’। বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া ‘লাম’-এর পরে আসে, যেমন ‘ইয়াশাম’।
১৩- আর অতীতকালীন ক্রিয়াকে ‘তা’ বর্ণ দ্বারা পৃথক করো এবং চিহ্নিত করো; আর যদি আদেশের অর্থ প্রকাশ পায়, তবে ‘নুন’ বর্ণ যোগ করে আদেশসূচক ক্রিয়াকে চিহ্নিত করো।
"এ দুটির বহির্ভূত" অর্থাৎ: উল্লিখিত নয়টি আলামত গ্রহণকারী শব্দ দুটি ছাড়া যা থাকে তাই "হরফ"; যেহেতু কালিমার প্রকারভেদ তিনটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অর্থাৎ হরফ হওয়ার আলামত হলো শব্দটি ইসমের আলামতসমূহের কোনোটি এবং ক্রিয়ার আলামতসমূহের কোনোটিই গ্রহণ করবে না।
অতঃপর হরফ তিন প্রকার: সাধারণ (ইসম ও ক্রিয়া উভয়ের জন্য), যেমন ‘হাল’। কেননা আপনি বলতে পারেন: "যায়েদ কি দণ্ডায়মান?" এবং "সে কি বসবে?"; আর ইসমের সাথে নির্দিষ্ট যেমন: ‘ফী’; এবং ক্রিয়ার সাথে নির্দিষ্ট যেমন: ‘লাম’।
--------------------------------------------