(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
الأصلان في علوم القرآن   (محمد عبد المنعم القيعي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الأصلان في علوم القرآن

المؤلف: أ. د. محمد عبد المنعم القيعي رحمه الله

الناشر: حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة: الرابعة مزيدة ومنقحة 1417 هـ- 1996 م

عدد الصفحات: 396

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন বিজ্ঞানে দুই মূলনীতি   (মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম আল-ক্বিয়ি)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান এবং তাফসিরের মূলনীতি


বই: কুরআন বিজ্ঞানে দুই মূলনীতি

লেখক: প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মুনইম আল-ক্বিয়ি (রহিমাহুল্লাহ)

প্রকাশক: সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

সংস্করণ: চতুর্থ বর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৯৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة:

الحمد لله الذي جعل القرآن مأدبة ينهل منها العلماء، ومأدبة يتزود منها الأتقياء، وأصلى وأسلم على سيدنا محمد إمام الأنبياء وخاتمهم، وأول العابدين وأخلصهم، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه والمهتدين بهديه.. وبعد:

فإن علوم القرآن طائفة من المعارف تتصل بالقرآن من جوانب عديدة، فليست علمًا واحدًا قائمًا بنفسه محدد الموضوع؛ وإنما هي نماذج متعددة من فروع علوم مختلفة تتصل في النهاية باللغة والدين. وأقرب ما ترسم1 به علوم القرآن تعريفًا أن نقول: علوم القرآن معارف من اللغة والدين، موضوعها القرآن الكريم، ولا بد من الوقوف على تلك العلوم؛ فهى مقدمات لتفسير القرآن وفقه معناه، والإلمام بما يعرف الإنسان بسمو ما احتواه القرآن تعبيرًا وتشريعًا، أسلوبًا يوصل إلى الهداية للتي هي أقوم.

ويعتمد هذا الكتاب على أصلين: أصل يتصل باللغة وفروعها، وأصل يتصل بالدين وفروعه2. ومن المعلوم أن علوم القرآن لم تدون في عصر النبوة وعصر الصحابة؛ اعتمادًا على فطرهم السليمة وأذهانهم الصافية.

--------------------------------------------

1 تعريف بالرسم. وقد أحصى المناطقة المعرفات في قسمين: الحدود والرسوم، والحدود تشتمل على الذاتيات، والرسوم هي التي لم تشتمل على الذاتيات أو اشتملت على شيء منها.

2 هذا وجه تسميته "الأصلان".
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা:

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কুরআনকে এমন এক ভোজসভায় পরিণত করেছেন যেখান থেকে আলেমরা জ্ঞান আহরণ করেন এবং মুত্তাকিরা পাথেয় সংগ্রহ করেন। আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি, যিনি নবীদের ইমাম ও তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ, ইবাদতকারীদের মধ্যে অগ্রগণ্য ও তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে মুখলিস। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করে চলেন, তাদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক... অতঃপর:

নিশ্চয়ই উলূমুল কুরআন বা কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ হলো এমন কিছু জ্ঞানের সমষ্টি যা কুরআনের সাথে বিভিন্ন দিক থেকে সম্পর্কিত। এটি এমন কোনো একক শাস্ত্র নয় যা স্বতন্ত্রভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো বিষয়বস্তুর ওপর প্রতিষ্ঠিত; বরং এটি বিভিন্ন শাস্ত্রীয় শাখার বিবিধ নমুনা যা পরিশেষে ভাষা ও ধর্মের সাথে যুক্ত হয়। উলূমুল কুরআনের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী বর্ণনা হলো: উলূমুল কুরআন হলো ভাষা ও ধর্মীয় এমন কিছু জ্ঞান, যার মূল বিষয়বস্তু হলো পবিত্র কুরআন। আর এই জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া অপরিহার্য; কেননা এগুলো কুরআনের তাফসীর এবং এর অর্থের সঠিক অনুধাবনের ভূমিকা স্বরূপ। এ জ্ঞান মানুষকে কুরআনের প্রকাশভঙ্গি ও বিধিবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে সচেতন করে—এমন এক শৈলী যা সবচেয়ে সঠিক হেদায়েতের পথে পৌঁছে দেয়।

এই গ্রন্থটি দুটি মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে রচিত: একটি নীতি ভাষা ও তার শাখা-প্রশাখার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং অন্যটি দ্বীন ও তার শাখা-প্রশাখার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটি সুপরিচিত যে, উলূমুল কুরআন নবুয়তের যুগে এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে গ্রন্থবদ্ধ করা হয়নি; তাদের নির্মল প্রকৃতি এবং স্বচ্ছ মেধার ওপর নির্ভর করার কারণে।

--------------------------------------------

১. এটি একটি বর্ণনামূলক সংজ্ঞা। যুক্তিবিদগণ সংজ্ঞায়নকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন: হুদুদ (যথাযথ সংজ্ঞা) এবং রুসুম (বর্ণনামূলক সংজ্ঞা)। হুদুদ হলো যা সত্তাগত গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর রুসুম হলো যা সত্তাগত গুণাবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে না অথবা তার কিছু অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।

২. একে "আল-আসলান" (দুই মূলনীতি) নামকরণের কারণ এটিই।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
ولا يعني عدم التدوين عدم معرفتهم1 بما نعرفه نحن عن علوم القرآن، فما تشحن به أذهاننا من المعارف ربما عد من البديهيات عندهم، وقد أُمر المسلمون في صدر الإسلام أن يكتبوا القرآن فقط؛ لئلا يختلط به غيره، إلى أن يستقر في قلوبهم، وتألفه أسماعهم، وتتعود النطق به ألسنتهم، وبعد ذلك لا يمنعهم الشارع من تدوين ما هو نافع مفيد.

والتأليف في علوم القرآن له مرحلتان: المرحلة الأولى كان التأليف فيها عن نوع واحد؛ مثل: مؤلَّف علي بن المديني شيخ البخاري في أسباب النزول، و"الناسخ والمنسوخ" لأبي عبيد الله القاسم بن سلام، و"غريب القرآن" لأبي بكر السجستاني..

المرحلة الثانية كان التأليف فيها لأنواع عديدة، بدأت قليلة ثم كثرت بضم أنواع أخرى، كطبيعة أي شيء يبدو صغيرًا إلى أن يصل إلى التمام أو يكاد، ومن أمثال هذه المؤلفات: "فنون الأفنان في علوم القرآن" لابن الجوزي المتوفَّى سنة 597هـ، و"جمال القراء" للسخاوي المتوفَّى سنة 641هـ، و"البرهان في علوم القرآن" للزركشي المتوفَّى سنة 794هـ، ثم "الإتقان" للسيوطي المتوفَّى سنة 911هـ.

--------------------------------------------

1 الواقع أن قواعد علوم القرآن كانت مستقرة في نفوس العلماء من الصحابة، وكانوا يسيرون في ضوئها ولم يصرحوا بها، فعبد الله بن مسعود الصحابي الفقيه عندما كان يقول: إن الحامل المتوفَّى عنها زوجها تنقضي عدتها بوضع الحمل؛ لقوله تعالى: {وَأُولاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ} [الطلاق: 4] ويستدل بأن سورة الطلاق التي فيها هذه الآية نزلت بعد سورة البقرة التي فيها قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا} [البقرة: 234] إنما كان يشير بهذا الاستدلال إلى قاعدة من قواعد علوم القرآن؛ وهي أن النص اللاحق ينسخ النص السابق وإن لم يصرَّح بذلك، فالعادة أن الشيء يوجد ثم يدون، فالتدوين كاشف عن وجود الشيء لا منشئ له.
আর সংকলিত না থাকার অর্থ এই নয় যে, উলূমুল কুরআন বা কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ সম্পর্কে আমরা যা জানি, সে সম্পর্কে তাদের কোনো জ্ঞান ছিল না১। আমাদের মস্তিষ্ক যেসব জ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ, সেগুলো সম্ভবত তাদের কাছে স্বতঃসিদ্ধ বিষয় হিসেবে গণ্য ছিল। ইসলামের শুরুর যুগে মুসলমানদের শুধু কুরআনই লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে এর সাথে অন্য কিছু মিশে না যায়—যতক্ষণ না তা তাদের হৃদয়ে বদ্ধমূল হয়, তাদের কান তা গ্রহণে অভ্যস্ত হয় এবং তাদের জিহ্বা তা উচ্চারণে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরপর শরীয়ত প্রণেতা তাদের জন্য যা উপকারী ও ফলপ্রসূ তা লিপিবদ্ধ করতে বাধা দেননি।

উলূমুল কুরআনের ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার দুটি পর্যায় রয়েছে: প্রথম পর্যায় হলো কোনো একটি বিশেষ বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করা; যেমন: ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনীর আসবাবুন নুযূল বিষয়ক গ্রন্থ, আবু উবাইদ কাসিম ইবনে সাল্লামের "আল-নাসিখ ওয়াল মানসূখ" এবং আবু বকর আস-সিজিস্তানির "গারীবুল কুরআন"..।

দ্বিতীয় পর্যায় হলো বহুবিধ বিষয়ের ওপর গ্রন্থ রচনা করা। এটি প্রথমে অল্প পরিসরে শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে অন্যান্য বিষয় যুক্ত হয়ে এর পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। এটি যেকোনো বিষয়ের স্বাভাবিক নিয়ম যে, শুরুতে তা ক্ষুদ্রাকারে থাকে এবং পরবর্তীতে পূর্ণতা লাভ করে বা পূর্ণতার কাছাকাছি পৌঁছায়। এই ধরণের গ্রন্থসমূহের উদাহরণ হলো: ইবনুল জাওযী (মৃত্যু: ৫৯৭ হিজরী) রচিত "ফুনুনুল আফনান ফী উলূমিল কুরআন", সাখাভী (মৃত্যু: ৬৪১ হিজরী) রচিত "জামালুল কুররা", যারকাশী (মৃত্যু: ৭৯৪ হিজরী) রচিত "আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন" এবং এরপর সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরী) রচিত "আল-ইতকান"।

--------------------------------------------

১ বাস্তবতা হলো যে, সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যারা আলেম ছিলেন, তাদের অন্তরে উলূমুল কুরআনের মূলনীতিসমূহ সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল এবং তারা সেই আলোকেই পথ চলতেন, যদিও সেগুলো তারা স্পষ্টভাবে বিবৃত করেননি। যেমন ফকীহ সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ যখন বলতেন যে, গর্ভবতী মহিলার স্বামী মারা গেলে সন্তান প্রসবের মাধ্যমেই তার ইদ্দত শেষ হবে; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: "আর গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল হলো তাদের সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত" [আত-তালাক: ৪]। তিনি এর স্বপক্ষে দলিল পেশ করতেন যে, সূরা আত-তালাক যাতে এই আয়াতটি রয়েছে, তা সূরা আল-বাকারার পরে অবতীর্ণ হয়েছে, যেখানে মহান আল্লাহর বাণী রয়েছে: "আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদের ব্যাপারে চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে" [আল-বাকারা: ২৩৪]। তিনি এই দলিলের মাধ্যমে উলূমুল কুরআনের একটি মূলনীতির দিকেই ইঙ্গিত করছিলেন; আর তা হলো—পরবর্তী পাঠ পূর্ববর্তী পাঠকে রহিত করে, যদিও তা স্পষ্টভাবে বলা না হয়। সাধারণত কোনো জিনিসের অস্তিত্ব আগে তৈরি হয় এবং পরে তা লিপিবদ্ধ করা হয়। সুতরাং লিপিবদ্ধকরণ কোনো বিষয়ের অস্তিত্ব প্রকাশ করে মাত্র, তাকে নতুন করে সৃষ্টি করে না।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
وتوقفت حركة التأليف في علوم القرآن إلى أن دبت حركة النشاط، وظهرت مؤلفات في القرن العشرين؛ منها: "التبيان في علوم القرآن" للشيخ طاهر الجزائري1، و"منهج الفرقان في علوم القرآن" للشيخ محمد علي سلامة2، و"مناهل العرفان" للشيخ محمد عبد العظيم الزرقاني3، وتوجد غير هذه المؤلفات مذكرات في علوم القرآن لأساتذتنا4 وزملائنا، جزى الله الجميع خير الجزاء.

وقد رأيت أن أكتب في هذا الكتاب زبد ما كتب في هذا الفن الجليل، بعبارة مركزة: ما استطعت إلى ذلك سبيلًا؛ تحاشيًا من الإطناب الممل، والإيجاز المخل، مضيفًا بعض الأبحاث التي تعين على تفهم القرآن الكريم. واللهَ نسألُ أن يهدينا سواء السبيل.

المؤلف

--------------------------------------------

1 "التبيان في علوم القرآن" للشيخ طاهر الجزائري، هو اختصار رائع لكتاب "الإتقان في علوم القرآن" للحافظ السيوطي.

2 "منهج الفرقان في علوم القرآن" للأستاذ محمد علي سلامة، الأستاذ بكلية أصول الدين سابقًا، هذب فيه بعض مباحث علوم القرآن من "الإتقان" و"البرهان"، وأوضح العبارة للطلاب بأسلوب السهل الممتنع.

3 "مناهل العرفان" للشيخ الزرقاني، جمع فيه المؤلف بين الأسلوب البليغ والتحقيق العلمي.

4 مثَّل منه "المنان في علوم القرآن" للأستاذ الدكتور إبراهيم عبد الرحمن خليفة، وقد ظهر منه إلى الآن جزآن، والباقي تحت الطبع.
উলূমুল কুরআনের (কুরআনবিষয়ক জ্ঞান) ক্ষেত্রে গ্রন্থ রচনার ধারা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল, যতক্ষণ না একটি প্রাণবন্ত তৎপরতা শুরু হয় এবং বিশ শতকে বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়; যার মধ্যে রয়েছে: শেখ তাহের আল-জাযাইরির১ 'আত-তিবইয়ান ফি উলূমিল কুরআন', শেখ মুহাম্মদ আলি সালামার২ 'মানহাজুল ফুরকান ফি উলূমিল কুরআন', এবং শেখ মুহাম্মদ আব্দুল আজিম আজ-যারকানীর৩ 'মানাহিলুল ইরফান'। এসব রচনার বাইরেও আমাদের শিক্ষক৪ ও সহকর্মীদের উলূমুল কুরআনের ওপর বিভিন্ন নোট রয়েছে; আল্লাহ সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এই মহান বিষয়ের ওপর যা কিছু লেখা হয়েছে তার সারসংক্ষেপ এই বইটিতে সংবদ্ধ করব; যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ ভাষায়। এটি করা হয়েছে ক্লান্তিকর দীর্ঘসূত্রতা এবং অস্পষ্টতা সৃষ্টিকারী অতি-সংক্ষিপ্ততা পরিহার করার লক্ষ্যে। এর পাশাপাশি এমন কিছু গবেষণামূলক আলোচনা যুক্ত করেছি যা পবিত্র কুরআন বুঝতে সহায়ক হবে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

লেখক

--------------------------------------------

১ শেখ তাহের আল-জাযাইরির 'আত-তিবইয়ান ফি উলূমিল কুরআন' হলো হাফেজ সুয়ূতির 'আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন' গ্রন্থের একটি চমৎকার সংক্ষিপ্তসার।

২ উসুলুদ্দিন কলেজের সাবেক অধ্যাপক মুহাম্মদ আলি সালামার 'মানহাজুল ফুরকান ফি উলূমিল কুরআন'। এতে তিনি 'আল-ইতকান' এবং 'আল-বুরহান' থেকে উলূমুল কুরআনের কিছু বিষয়কে পরিমার্জিত করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ ও সাবলীল ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন।

৩ শেখ যারকানীর 'মানাহিলুল ইরফান'; এখানে লেখক অলঙ্কারপূর্ণ ভাষা ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

৪ এর একটি উদাহরণ হলো প্রফেসর ডক্টর ইবরাহিম আব্দুল রহমান খলিফার 'আল-মাননান ফি উলূমিল কুরআন', যার এ পর্যন্ত দুটি খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে এবং বাকি অংশ বর্তমানে মুদ্রণাধীন।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌الموضوع الأول: أماكن النزول وأزمنته وأحواله

أ- المكى والمدني:

معرفة ذلك من المهمات للوقوف على التاريخ الذي به يتميز الناسخ1 من المنسوخ عند التعارض، والذي يمكن به معرفة تقييد المطلق وتخصيص العام2 عند مَن يرى جواز تأخير المخصص. وللناس للتمييز بين المكي والمدني أقوال؛ فمنهم من يجعل الفاصل الهجرة3، ونظرة هذا زمنية، فما نزل قبلها فهو مكي، وما نزل بعدها فهو مدني وإن نزل في مكة.

ومنهم مَن نظرته مكانية، فما نزل بعيدًا عن مكة والمدينة وضواحيهما لا يعد مكيًّا ولا مدنيًّا؛ كالنازل في تبوك.

ومنهم مَن نظرته حالية، فخطاب أهل مكة له سماته، ولأهل المدينة خطاب يغاير خطاب أهل مكة.

والمتفق على نزوله بالمدينة عشرون سورة، والمختلَف في نزوله بمكة أو المدينة بعض السور، وما عدا ما اتفق على نزوله بالمدينة وما اختلف فيه قد نزل بمكة. وقد نظم بعض الناس ما اتفق على نزوله بالمدينة وما اختلف فيه فقال:

تعارض النقل في أم الكتاب وقد … تؤولت حجر تنبيهًا لمعتبر

أم القرآن وفي أم القرى نزلت … ما كان للخمس قبل الحمد من أثر

--------------------------------------------

1 سيعرف المؤلف النسخ في الموضوع الخامس "النسخ وموهم الاختلاف" ص78.

2 سيتعرض المؤلف لبيان المطلق والعام والتخصيص والتقييد في مبحث اللفظ القرآني.

3 هذا هو أشهر الاصطلاحات في المكي والمدني، كما ذكر السيوطي في "الإتقان" 1/ 9، ويمتاز بشمول تقسيمه جميع القرآن لا يخرج عنه شيء.
প্রথম বিষয়: অবতরণের স্থান, সময় ও অবস্থাসমূহ

ক- মাক্কী ও মাদানী:

বিরোধের ক্ষেত্রে নাসিখ (রহিতকারী) ও মানসূখ (রহিত)-কে আলাদা করার জন্য সময়কাল সম্পর্কে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর যারা মুখাসসিস (বিশেষত্ব দানকারী)-কে বিলম্বিত করা বৈধ মনে করেন, তাদের নিকট এর মাধ্যমেই মুতলাক (অনির্ধারিত)-কে তাকয়ীদ (শর্তযুক্ত) করা এবং আম (সাধারণ)-কে তাখসীস (বিশেষিত) করা সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়। মাক্কী ও মাদানীর মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে আলেমদের বিভিন্ন অভিমত রয়েছে; তাদের মধ্যে কেউ কেউ হিজরতকে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছেন, এটি একটি সময়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি। সুতরাং হিজরতের পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা মাক্কী, আর হিজরতের পরে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা মাদানী—যদিও তা মক্কাতেই অবতীর্ণ হয়ে থাকে।

আবার কারও দৃষ্টিভঙ্গি হলো স্থানভিত্তিক; অর্থাৎ মক্কা, মদিনা এবং এগুলোর পার্শ্ববর্তী এলাকার বাইরে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে মাক্কী বা মাদানী কোনোটিই গণ্য করা হয় না; যেমন তাবুকে যা অবতীর্ণ হয়েছে।

আবার কারও দৃষ্টিভঙ্গি হলো অবস্থাকেন্দ্রিক; মক্কাবাসীদের প্রতি সম্বোধনের নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে, আবার মদিনাবাসীদের জন্য রয়েছে ভিন্নতর সম্বোধন পদ্ধতি।

মদিনায় অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে এমন সূরার সংখ্যা বিশটি। আর কিছু সূরার মক্কা বা মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে। যা মদিনায় অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হয়েছে এবং যেগুলোতে মতভেদ রয়েছে তা বাদে বাকি সব সূরাই মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। কেউ কেউ মদিনায় অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়া সূরাগুলো এবং মতভেদপূর্ণ সূরাগুলোকে ছন্দবদ্ধ করে বলেছেন:<

উম্মুল কিতাব (ফাতিহা) সম্পর্কে বর্ণনায় বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয় এবং … সূরা হিজরকে সচেতনদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে

উম্মুল কুরআন উম্মুল কুরা (মক্কা) তেই অবতীর্ণ হয়েছে … আল-হামদ (ফাতিহা) অবতীর্ণ হওয়ার আগে ওই পাঁচটির কোনো হদিস ছিল না

--------------------------------------------

১. লেখক পঞ্চম বিষয় "নাসখ ও আপাত বিরোধ" শীর্ষক আলোচনায় ৭৮ পৃষ্ঠায় নাসখের সংজ্ঞা প্রদান করবেন।

২. লেখক কুরআনের শব্দ সম্পর্কিত আলোচনায় মুতলাক, আম, তাখসীস ও তাকয়ীদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

৩. মাক্কী ও মাদানীর ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ পরিভাষা, যেমনটি সুয়ূতী "আল-ইতকান" (১/৯) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এর বিশেষত্ব হলো এর বিভাজন পদ্ধতি পুরো কুরআনকে অন্তর্ভুক্ত করে, কোনো কিছুই এর বাইরে থাকে না।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
وبعد هجرة خير الناس قد نزلت … عشرون من سور القرآن في عشر

فأربع من طوال السبع أولها … وخامس الخمس في الأنفال ذي العبر

وتوبة الله إن عدت فسادسة … وسورة النور والأحزاب ذي الذكر

وسورة لنبي الله محكمة … والفتح والحجرات الغر في غرر

ثم الحديد ويتلوها مجادلة … والحشر ثم امتحان الله للبشر

وسورة فضح الله النفاق بها … وسورة الجمع تذكارًا لمدكر

وللطلاق وللتحريم حكمهما … والنصر والفتح تنبيهًا على العمر

يريد بذلك أن المتفق على نزوله بالمدينة هي:

البقرة، وآل عمران، والنساء، والمائدة، والأنفال، والتوبة.... وهل التوبة سورة مستقلة، أو هي مع الأنفال سورة واحدة؟

ولعل هذا هو مختار غير الناظم.

والسادسة على هذا سورة النور، فالأحزاب، فسورة محمد، فالفتح، فالحجرات، فالحديد، فالمجادلة، فالحشر، فالممتحنة، فالمنافقون، فالتغاين، فالطلاق، فالتحريم، فسورة {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ} .

وعليه، فعند الناظم عشرون سورة، وعند غيره تسع عشرة سورة.

وأما المختلَف فيها فعنه قال الناظم:

فالرعد مختلف فيها متى نزلت … وأكثر الناس قالوا الرعد كالقمر

ومثلها سورة الرحمن شاهدها … مما تضمن قول الجن في الخبر
মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর হিজরতের পর দশ বছরে … কুরআনের বিশটি সূরা অবতীর্ণ হয়েছে।

সাতটি দীর্ঘ সূরার প্রথম চারটি তার অন্তর্ভুক্ত … আর শিক্ষা সম্বলিত আল-আনফাল হলো পঞ্চম।

আর যদি তাওবাকে গণনা করা হয় তবে তা ষষ্ঠ … এরপর সূরা আন-নূর এবং উপদেশপূর্ণ আল-আহযাব।

আল্লাহর নবীর নামে একটি সুদৃঢ় সূরা (মুহাম্মদ) … এরপর আল-ফাতহ এবং উজ্জ্বল সূরাগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ আল-হুজুরাত।

এরপর আল-হাদীদ এবং তার পরে আল-মুজাদালাহ … এরপর আল-হাশর এবং মানুষের জন্য আল্লাহর পরীক্ষা স্বরূপ সূরা (আল-মুমতাহিনা)।

এবং এমন এক সূরা যার মাধ্যমে আল্লাহ নিফাককে উন্মোচিত করেছেন … এবং উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য স্মারক হিসেবে সূরা আল-জুমুআ।

আত-তালাক এবং আত-তাহরীমের বিধানাবলি … আর বিজয় ও সাহায্য (সূরা আন-নাসর) যা আয়ু শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্ককারী।

এর দ্বারা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, মদিনায় অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্যপূর্ণ সূরাগুলো হলো:

আল-বাকারা, আল ইমরান, আন-নিসা, আল-মায়িদা, আল-আনফাল, আত-তাওবা.... আর তাওবা কি একটি স্বতন্ত্র সূরা, নাকি এটি আল-আনফালের সাথে মিলে একটি সূরা?

সম্ভবত এটি কাব্যকার ব্যতীত অন্যদের পছন্দনীয় মত।

এই হিসেবে ষষ্ঠটি হলো সূরা আন-নূর, এরপর আল-আহযাব, তারপর সূরা মুহাম্মদ, তারপর আল-ফাতহ, তারপর আল-হুজুরাত, তারপর আল-হাদীদ, তারপর আল-মুজাদালাহ, তারপর আল-হাশর, তারপর আল-মুমতাহিনা, তারপর আল-মুনাফিকুন, তারপর আত-তাগাবুন, তারপর আত-তালাক, তারপর আত-তাহরীম এবং সূরা 'যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে' (আন-নাসর)।

সুতরাং, কাব্যকারের মতে এগুলো বিশটি সূরা এবং অন্যদের মতে উনিশটি সূরা।

আর যে সূরাগুলো সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে, সে সম্পর্কে কাব্যকার বলেন:

আর-রা'দ সূরাটি কখন অবতীর্ণ হয়েছে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে … তবে অধিকাংশ লোক বলেছেন যে আর-রা'দ সূরাটি আল-কামার সূরার মতো (মক্কী)।

এরই অনুরূপ সূরা আর-রাহমান, যার প্রমাণ হলো … খবরে বর্ণিত জিনের উক্তি যা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
وسورة للحواريين قد علمت … ثم التغابن والتطفيف ذو النذر

وليلة القدر قد خصت بملتنا … ولم يكن بعدها الزلزال فاعتبر

وقل هو الله من أوصاف خالقنا … وعوذتان ترد البأس بالقدر

وذا الذي اختلفت فيه الرواة له … وربما استثنيت آي من السور

وما سوى ذاك مكي في تنزله … فلا تكن في خلاف الناس في حصر

يريد بذلك أن السور المختلَف في نزولها بمكة أو المدينة هي:

الرعد، والرحمن، والصف -لأن فيها ذكر الحواريين- والتغابن -مع أنه أشار إلى أنها من المتفق على نزوله بالمدينة- وسورة ويل للمطففين، وسورة القدر التي بعدها لم يكن، وليست الزلزلة، ثم سورة الزلزلة، ثم قل هو الله أحد، والمعوذتان.

وأحسن ما قاله هذا الناظم:

.......................... … وربما استثنيت آي من السور

ولعل هذا هو سبب الخلاف، فليست أكثر السور نزلت دَفْعَةً واحدة.. فبعض الآيات نزل في مكان وبعضها نزل في آخر، وكل يُرْوَى ما علمه، فتظن الخلاف ولا خلاف في الحقيقة.

ومن المرجح أن سورة الجمعة من المتفق على نزوله بالمدينة، وكذا لم يكن، وسورة المطففين.

وأما سورة التغابن، فمنها ما نزل بمكة، ومنها ما نزل بالمدينة، والحق أنه لا يوجد دليل قاطع على نزول سورة بكاملها في مكة أو المدينة، وقد وضعت ضوابط تقريبية تميز ما كان بمكة أو المدينة.. منها ما يحمل طابع
এবং হাওয়ারীগণের সূরা [আস-সাফ] নিশ্চিতভাবেই জানা রয়েছে … এরপর আত-তাগাবুন এবং সতর্কবার্তা সম্বলিত আত-তাতফিফ [আল-মুতাফফিফিন]

আর লাইলাতুল কদর আমাদের মিল্লাতের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে … আর এরপর 'লাম ইয়াকুন' ও 'যালযালাহ' রয়েছে, সুতরাং শিক্ষা গ্রহণ কর

আর 'কুল হুওয়াল্লাহু' আমাদের স্রষ্টার গুণাবলির বর্ণনায় … এবং দুই 'আউযু' [সূরা ফালাক ও নাস] যা তাকদিরের মাধ্যমে বিপদ প্রতিহত করে

আর এটিই সে বিষয় যাতে বর্ণনাকারীরা মতভেদ করেছেন … এবং সম্ভবত সূরাসমূহ থেকে কিছু আয়াতকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে

আর এ ছাড়া যা আছে তা অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে মক্কী … সুতরাং মানুষের মতভেদের সংকীর্ণতায় পড়ে থেকো না

এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে, মক্কায় নাকি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে তা নিয়ে মতভেদপূর্ণ সূরাগুলো হলো:

আর-রা'দ, আর-রাহমান, আস-সাফ —যেহেতু এতে হাওয়ারীগণের উল্লেখ রয়েছে— এবং আত-তাগাবুন —যদিও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এটি মদীনায় অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে এমন সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত— এবং সূরা 'ওয়াইলুল লিল-মুতাফফিফিন', এবং সূরা আল-কদর যার পরে রয়েছে 'লাম ইয়াকুন', এবং যালযালাহ নয়, এরপর সূরা আয-যালযালাহ, এরপর 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' এবং মুআউবিযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস)।

আর এই কাব্য রচয়িতা যা বলেছেন তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো:

.......................... … এবং সম্ভবত সূরাসমূহ থেকে কিছু আয়াতকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে

আর সম্ভবত এটিই মতভেদের কারণ, কেননা অধিকাংশ সূরা একবারে অবতীর্ণ হয়নি... বরং কিছু আয়াত এক স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং কিছু আয়াত অন্য স্থানে, আর প্রত্যেকে যা জানেন তা-ই বর্ণনা করেন, ফলে আপনি মতভেদ মনে করেন কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো মতভেদ নেই।

আর এটিই অধিকতর শক্তিশালী মত যে, সূরা আল-জুমুআ মদীনায় অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে ঐক্যমত রয়েছে, অনুরূপভাবে 'লাম ইয়াকুন' এবং সূরা আল-মুতাফফিফিন-এর ক্ষেত্রেও তাই।

আর সূরা আত-তাগাবুন-এর ব্যাপারে কথা হলো, এর কিছু অংশ মক্কায় এবং কিছু অংশ মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে। সত্য কথা এই যে, কোনো সূরা পূর্ণাঙ্গভাবে মক্কায় নাকি মদীনায় অবতীর্ণ হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ নেই। তবে মক্কী ও মাদানী সূরার পার্থক্যের জন্য কিছু আনুমানিক মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে... যার মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা বিশেষ বৈশিষ্ট্য বহন করে...
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
التشريع فهو مدني، وما يحمل طابع الاعتقاد فهو مكي.. ومنها أن السور القصار نزل أكثرها بمكة.. وما عدا هذين لا يعول عليهما..

فقد تنزل الآية في مكة وتوضع في سورة مدنية؛ نحو: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ} نزلت في عرفات، وهي من المائدة، آخر السور نزولًا.

وقد تنزل الآية بالمدينة وهي تخاطب أهل مكة؛ نحو: {وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي اللَّهِ مِنْ بَعْدِ مَا ظُلِمُوا لَنُبَوِّئَنَّهُمْ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَلَأَجْرُ الْآخِرَةِ أَكْبَرُ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ} نزلت في المدينة ووضعت في سورة مكية هي سورة النحل.

ب- الحضري والسفري:

أكثر القرآن نزل على النبى صلى الله عليه وسلم وهو مقيم، وبعض الآيات نزلت عليه وهو مسافر؛ منها1: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى} 2 نزلت وبلال يؤذن على ظهر الكعبة، واحتج المشركون قائلين: ما لهذا العبد يصعد فوق الكعبة، فأنزلها الله.

ج- النهاري والليلي:

أكثر القرآن نزل نهارًا، وبعضه نزل بالليل كالآيات من آخر سورة آل عمران: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآياتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ} 3. عن بلال أنه وجد النبي يبكي قبل الفجر، فسأله عما أبكاه، فتلا عليه هذه الآيات وقال: "ويل لمن قرأهن ولم يتفكر" 4.

--------------------------------------------

1 وذلك لأن حياة الرسول كانت عامرة بالجهاد في سبيل الله حين ينزل عليه الوحي وهو في مسيره، وقد ذكر الحافظ السيوطي أن كثيرًا من الأمثلة نزلت عليه وهو مسافر. "الإتقان" 1/ 18.

2 سورة الحجرات: 13.

3 سورة آل عمران: 190.

4 أخرجه ابن حبان في صحيحه وابن المنذر وابن مردويه وابن أبي الدنيا عن عائشة.
বিধান সংক্রান্ত বিষয়গুলো মাদানি, আর যেগুলো বিশ্বাসের বৈশিষ্ট্য বহন করে সেগুলো মক্কি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, ছোট সূরাগুলোর অধিকাংশ মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ দুটি ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ের ওপর নির্ভর করা হয় না।

কেননা কখনো কোনো আয়াত মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু তা কোনো মাদানি সূরায় রাখা হয়েছে; যেমন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম" এটি আরাফাতের ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে, অথচ এটি সূরা আল-মায়িদার অংশ, যা অবতীর্ণ হওয়ার দিক থেকে সর্বশেষ সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

আবার কোনো আয়াত মদিনায় অবতীর্ণ হয়ে মক্কাবাসীদের সম্বোধন করেছে; যেমন: "আর যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর পথে হিজরত করেছে, আমি অবশ্যই তাদেরকে দুনিয়াতে উত্তম আবাসন দেব এবং আখেরাতের পুরস্কার তো অনেক বড়, যদি তারা জানত।" এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে কিন্তু তা একটি মক্কি সূরায় রাখা হয়েছে, যা হলো সূরা আন-নাহল।

খ- আবস্থানকালীন ও ভ্রমণকালীন:

কুরআনের অধিকাংশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে যখন তিনি নিজ স্থানে অবস্থানরত ছিলেন, আর কিছু আয়াত তাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে যখন তিনি সফরে ছিলেন; যার মধ্যে একটি হলো ১: "হে মানুষ, আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী থেকে" ২। এটি অবতীর্ণ হয়েছিল যখন বিলাল কাবার ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে আযান দিচ্ছিলেন, এবং মুশরিকরা এই বলে প্রতিবাদ করেছিল যে: এই দাসের কী হলো যে সে কাবার উপরে উঠছে, তখন আল্লাহ তা অবতীর্ণ করেন।

গ- দিবাভাগ ও রাত্রিকালীন:

কুরআনের অধিকাংশ দিনে অবতীর্ণ হয়েছে, আর কিছু অংশ রাতে অবতীর্ণ হয়েছে যেমন সূরা আল-ইমরানের শেষ দিকের আয়াতসমূহ: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে" ৩। বিলাল থেকে বর্ণিত যে, তিনি নবীকে ফজরের আগে কাঁদতে দেখেন, তিনি তাঁকে তাঁর কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি তাঁর কাছে এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করেন এবং বলেন: "ধ্বংস তার জন্য যে এগুলো পাঠ করল অথচ চিন্তা-গবেষণা করল না" ৪।

--------------------------------------------

১ আর তা এজন্য যে, রাসূলের জীবন আল্লাহর পথে জিহাদে পরিপূর্ণ ছিল যখন তাঁর ওপর ওহী অবতীর্ণ হতো এমতাবস্থায় যে তিনি পথিমধ্যে থাকতেন, এবং হাফেজ সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, অনেক উদাহরণ রয়েছে যা তাঁর ওপর সফরকালীন অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছে। "আল-ইতকান" ১/১৮।

২ সূরা আল-হুজুরাত: ১৩।

৩ সূরা আল-ইমরান: ১৯০।

৪ ইবনে হিব্বান তাঁর সহিহ গ্রন্থে, ইবনুল মুনযির, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং ইবনে আবিদ দুনইয়া এটি আয়েশা থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
وفي الصحيح أنه كان يحرس بالليل فصرف الحارس لما نزلت: {وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ} وقد نزلت ليلًا. ومن القرآن ما نزل بين الفجر وطلوع الشمس، ومن ذلك قوله تعالى: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} نزلت في الركعة الأخيرة من الصبح وهو يدعو على قوم.

د- الصيفى والشتائي:

كان القرآن ينزل في أكثر الأوقات. بيد أن بعض الآيات والأحاديث تشير إلى حالة الطقس من حر وبرد؛ كالآيات من سورة التوبة، ومنها عن المنافقين: {لا تَنْفِرُوا فِي الْحَرِّ} 1.. ومن سورة الأحزاب آيات تشير إلى شدة البرد؛ كقوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَاءَتْكُمْ جُنُودٌ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيحًا وَجُنُودًا لَمْ تَرَوْهَا} 2.

هـ- الفراشي والنومي:

المراد بالفراشي: نزول الوحى وهو على فراش النوم قبل أن ينام، أو بعد أن يستيقظ، ومثاله: {وَعَلَى الثَّلاثَةِ الَّذِينَ خُلِّفُوا حَتَّى إِذَا ضَاقَتْ عَلَيْهِمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ وَضَاقَتْ عَلَيْهِمْ أَنْفُسُهُمْ وَظَنُّوا أَنْ لا مَلْجَأَ مِنَ اللَّهِ إِلَّا إِلَيْهِ} 3 نزلت والنبي على فراشه عند أم سلمة.

والمراد بالنومي: تجسد ما نزل أو ينزل عليه في يقظة، ورؤيته لذلك وهو نائم، ورؤيا الأنبياء حق. وقد نزلت عليه سورة الكوثر وهو بين أصحابه فأغفى إغفاءة ثم سري عنه فرأوه مبتسمًا، فتلا عليهم: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَر} . والوحي كله

--------------------------------------------

1 سورة التوبة: آية 81، وقد أمر الله رسوله أن يجيبهم {قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا لَوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ} .

2 سورة الأحزاب: آية 9.

3 سورة التوبة: 117، 118، وهم الثلاثة الذين قَبِلَ الله عذرَهم في التخلف بغزوة تبوك.
এবং সহীহ বর্ণনায় রয়েছে যে, রাতে তাঁকে পাহারা দেওয়া হতো, অতঃপর যখন অবতীর্ণ হলো: "আর আল্লাহ আপনাকে মানুষের (অনিষ্ট) থেকে রক্ষা করবেন", তখন তিনি পাহারাদার সরিয়ে দেন। আর এটি রাতে অবতীর্ণ হয়েছিল। কুরআনের কিছু অংশ ফজর এবং সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময়েও অবতীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "এ বিষয়ে আপনার কোনো করণীয় নেই", এটি ফজরের শেষ রাকাতে অবতীর্ণ হয় যখন তিনি একটি কওমের বিরুদ্ধে বদদোয়া করছিলেন।

ঘ- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন:

কুরআন অধিকাংশ সময়েই অবতীর্ণ হতো। তবে কিছু আয়াত ও হাদিস আবহাওয়ার অবস্থা যেমন গরম ও শীতের দিকে ইঙ্গিত করে; যেমন সূরা আত-তাওবার আয়াতসমূহ, যার মধ্যে মুনাফিকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তোমরা উত্তপ্ত গরমে অভিযানে বের হইও না।" ১। এবং সূরা আল-আহযাবের এমন কিছু আয়াত রয়েছে যা তীব্র শীতের দিকে ইঙ্গিত করে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমাদের নিকট শত্রু বাহিনী এসেছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝাবায়ু এবং এমন এক বাহিনী প্রেরণ করেছিলাম যা তোমরা দেখতে পাওনি।" ২।

ঙ- শয্যাকালীন ও নিদ্রাকালীন:

শয্যাকালীন বলতে উদ্দেশ্য হলো: ঘুমানোর পূর্বে বা ঘুম থেকে জাগার পর শয্যায় থাকা অবস্থায় ওহী অবতীর্ণ হওয়া। এর উদাহরণ হলো: "এবং তিনি ক্ষমা করলেন সেই তিনজনকে যাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল, যে পর্যন্ত না পৃথিবী প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও তাদের জন্য সংকুচিত হয়ে এসেছিল এবং তাদের জীবন তাদের জন্য দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিল যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয়স্থল নেই।" ৩ এটি অবতীর্ণ হয়েছিল যখন নবী উম্মে সালামার নিকট তাঁর শয্যায় ছিলেন।

নিদ্রাকালীন বলতে উদ্দেশ্য হলো: জাগ্রত অবস্থায় যা অবতীর্ণ হয়েছে বা হচ্ছে তার রূপান্তর ঘটা এবং ঘুমন্ত অবস্থায় তা দর্শন করা, আর নবীদের স্বপ্ন সত্য। তাঁর নিকট সূরা আল-কাওসার অবতীর্ণ হয়েছিল যখন তিনি তাঁর সাহাবীদের মাঝে ছিলেন, তিনি সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হন অতঃপর তাঁর থেকে সেই অবস্থা কেটে যায় এবং তাঁরা তাঁকে হাস্যোজ্জ্বল দেখতে পান, তখন তিনি তাঁদের নিকট তিলাওয়াত করেন: "নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি।" আর ওহীর সবটুকুই...

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবা: আয়াত ৮১, এবং আল্লাহ তাঁর রাসূলকে তাদের উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন: "বলুন, জাহান্নামের আগুন উত্তাপে আরও প্রচণ্ড, যদি তারা বুঝত।"

২. সূরা আল-আহযাব: আয়াত ৯।

৩. সূরা আত-তাওবা: ১১৭, ১১৮, তাঁরা হলেন সেই তিনজন যাদের ওজর আল্লাহ কবুল করেছিলেন তাবুক যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকার কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
نزل في اليقظة، وما يعبر عنه الرواة من أنه أغفى إغفاءة، فتصوير منهم للحالة التى كان يأتيه الوحي بها.

و الأرضي والسمائي:

أكثر القرآن نزل وهو على الأرض. وبعضه نزل فوق السماوات ليلة الإسراء والمعراج. فقد رُوي أن أوآخر سورة البقرة من قوله: {آمَنَ الرَّسُولُ} نزلت وهو عليه السلام فوق السماوات.

ز- ما نزل مفرقًا وما نزل جمعًا:

أكثر القرآن نزل مفرقًا؛ فمن سورة العلق نزلت الآيات الأولى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} إلى قوله: {عَلَّمَ الْأِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} ونزل: {وَالضُّحَى، وَاللَّيْلِ} إلى قوله: {وَلَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرْضَى} . وتمام السورتين نزل بعد ذلك.

ومن سور القرآن ما نزل جملة واحدة؛ كسورة المرسلات وسورة الصف.

ح- ما نزل مشيعًا وما نزل مفردًا:

القرآن كله نزل به أمين الوحي جبريل، وهو قادر على حماية ما بيده، وتوصيله إلى النبي، وما من خبر فيه نزول ملائكة مع جبريل بسورة من السور إلا فيه علة قادحة في سنده أو في متنه.

وبهذا ينتهي هذا الموضوع.
এটি জাগ্রত অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছে। বর্ণনাকারীরা যে সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত ওহী আসার সময় তাঁর অবস্থার একটি চিত্রায়ণ মাত্র।

পার্থিব ও আসমানী:

কুরআনের অধিকাংশ অংশ তিনি পৃথিবীতে থাকাকালীন অবতীর্ণ হয়েছে। আর কিছু অংশ ইসরা ও মিরাজের রাতে আসমানসমূহের উপরে অবতীর্ণ হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, সূরা আল-বাকারার শেষাংশ 'রাসূল ঈমান এনেছেন' আয়াত থেকে তাঁর (আলাইহিস সালাম) উপর আসমানসমূহের উপরে থাকা অবস্থায় অবতীর্ণ হয়েছিল।

জ- যা খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা একত্রে অবতীর্ণ হয়েছে:

কুরআনের অধিকাংশ অংশ খণ্ড খণ্ড ভাবে অবতীর্ণ হয়েছে। যেমন সূরা আল-আলাক থেকে প্রথম আয়াতসমূহ: 'পাঠ করুন আপনার রবের নামে' থেকে 'মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না' পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়েছে। এবং 'শপথ পূর্বাহ্নের রোদ ও রাতের' থেকে 'আপনার রব আপনাকে দান করবেন ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন' পর্যন্ত অবতীর্ণ হয়েছে। আর সূরা দুটির বাকি অংশ এর পরে নাযিল হয়েছে।

কুরআনের সূরাগুলোর মধ্যে কিছু সূরা রয়েছে যা একত্রে অবতীর্ণ হয়েছে; যেমন সূরা আল-মুরসালাত এবং সূরা আস-সাফ।

হ- যা ফেরেশতাদের বহরসহ অবতীর্ণ হয়েছে এবং যা একা অবতীর্ণ হয়েছে:

সমগ্র কুরআন ওহীর আমানতদার জিবরাঈল বহন করে নিয়ে এসেছেন এবং তিনি তাঁর কাছে যা আছে তা রক্ষা করতে এবং নবীর নিকট পৌঁছে দিতে সক্ষম। জিবরাঈলের সাথে অন্য ফেরেশতাদের কোনো সূরা নিয়ে অবতীর্ণ হওয়ার ব্যাপারে এমন কোনো বর্ণনা নেই যার সনদ বা মতনে কোনো গুরুতর ত্রুটি নেই।

এরই সাথে এই বিষয়ের সমাপ্তি ঘটল।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الموضوع الثاني: النزول وما يتعلق به

‌‌أول ما نزل وآخر ما نزل

…

الموضوع الثاني: النزول وما يتعلق به

وفيه نقاط:

1- أول ما نزل وآخر ما نزل:

اختلفوا في أول ما نزل؛ فعن عائشة وأبي موسى الأشعرى أنها {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} . وشاهد ذلك في الصحيحين1. وعن جابر بن عبد الله أنها "المدثر"، وروي أيضًا في البخاري2: وجمع بين هذين القولين بأن مراد جابر في أولية المدثر إما سورة كاملة، ولا دليل لهذا التأويل؛ لأنها لم تنزل كلها دَفْعَةً واحدة3، ومنهم من جعل ذلك من اجتهاده4.

قلت: وليكن القول الأول أيضًا من اجتهاد الرواة5.

ومنهم مَن أوَّله بأنه بعد انقطاع الوحي.

ويرد بأنهم عارضوا جابر بـ"اقرأ"، فقال للمعترضين: أحدثكم عن رسول الله وتحدثونني؟!!

ومنهم مَن جعل الأولية نسبية، كل يحدث بما يعلم، وهذا مسلم.

ومنهم مَن جعل أولية ما قاله جابر في الرسالة، و"اقرأ" في النبوة، وهذا مسلم أيضًا6.

ومنهم مَن جعل أولية ما قاله جابر فيما نزل بسبب؛ وهو ارتعاده صلى الله عليه وسلم، وما قالت عائشة فيما نزل بغير سبب7.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري، ك بدء الوحي.

2 البخاري في بدء الوحي 1/ 3، 4، وتفسير سورة المدثر 4/ 161-163، وتفسير سورة اقرأ 4/ 174، ومسلم في صحيحه 1/ 98، 99.

3 قلت: ما ادعاه بعض علماء القرآن من أن سورة المدثر نزلت بتمامها جملة واحدة لا يتلاءم مع ما ذكرناه في سبب نزولها؛ فإنها نزلت على أسباب متعددة ومتباعدة في الزمن، وقد نزل لكل سبب منها جملة من الآيات، فوق أن هذا القول يحتاج إلى دليل مثبت له.

4 التحقيق أن هذا القول من جابر بن عبد الله اجتهاد منه، وقد أخطأ في الاجتهاد.

5 قلت: القول الأول ليس بالاجتهاد؛ بل هو من مقولة النبي صلى الله عليه وسلم على ما عليه المحققون من علماء القرآن.

6 هذان الرأيان مسلمان عند المؤلف رحمه الله تعالى.

7 كل هذه تأويلات ذكرها الحافظ السيوطي وغيره، وهي تحتاج إلى دليل.
দ্বিতীয় বিষয়: অবতরণ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

‌‌সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে

...

দ্বিতীয় বিষয়: অবতরণ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি

এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে:

১- সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে:

সর্বপ্রথম অবতীর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে আলেমগণ মতভেদ করেছেন; আয়েশা (রা.) এবং আবু মুসা আল-আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তা হলো "ইকরা বি-ইসমি রব্বিকা" (পাঠ করুন আপনার রবের নামে)। এর সপক্ষে প্রমাণ বুখারি ও মুসলিম (সহিহাইন)-এ বিদ্যমান। আর জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তা হলো "আল-মুদ্দাসসির", এটিও বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে। এই দুই মতের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা হয়েছে যে, জাবিরের নিকট মুদ্দাসসির প্রথম হওয়ার উদ্দেশ্য হলো পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে অবতীর্ণ হওয়া। তবে এই ব্যাখ্যার সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট দলিল নেই; কারণ এটি পুরোটি একসাথে অবতীর্ণ হয়নি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে জাবিরের ব্যক্তিগত ইজতিহাদ হিসেবে গণ্য করেছেন।

আমি বলি: প্রথম মতটিও বর্ণনাকারীদের ইজতিহাদ হতে পারে।

আবার তাদের কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, এটি ওহি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার সময়ের পরবর্তী প্রথম ঘটনা।

এর উত্তরে বলা হয় যে, তারা জাবিরের নিকট "ইকরা" সূরাটি পেশ করে এর বিরোধিতা করেছিলেন, তখন তিনি আপত্তিকারীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন: আমি কি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস বর্ণনা করব আর তোমরা আমার সাথে নিজেদের কথা দিয়ে বিতর্ক করবে?!!

কেউ কেউ এই সর্বপ্রথম হওয়াকে আপেক্ষিক বলে গণ্য করেছেন; অর্থাৎ প্রত্যেকে যা জানতেন তা-ই বর্ণনা করেছেন এবং এটি গ্রহণযোগ্য।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ জাবির (রা.)-এর বক্তব্যকে রিসালাতের ক্ষেত্রে প্রথম এবং "ইকরা"-কে নবুওয়াতের ক্ষেত্রে প্রথম হিসেবে গণ্য করেছেন; এটিও গ্রহণযোগ্য।

আবার কেউ কেউ জাবিরের বলা প্রথম হওয়াকে কারণসহ অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম গণ্য করেছেন; আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রকম্পিত হওয়ার ঘটনা। আর আয়েশা (রা.) যা বলেছেন তা কোনো কারণ ব্যতিরেকে (স্বতঃস্ফূর্তভাবে) অবতীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম।

--------------------------------------------

১ এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন, ওহির সূচনা অধ্যায়।

২ বুখারি: ওহির সূচনা ১/৩, ৪; সূরা আল-মুদ্দাসসিরের তাফসির ৪/১৬১-১৬৩; সূরা ইকরার তাফসির ৪/১৭৪; এবং মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে ১/৯৮, ৯৯।

৩ আমি বলি: কুরআন বিষয়ক কোনো কোনো আলেম যে দাবি করেছেন সূরা আল-মুদ্দাসসির পূর্ণাঙ্গভাবে একসাথে অবতীর্ণ হয়েছে, তা এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (শানে নুযূল) সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কেননা এটি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে এবং সময়ের ব্যবধানে অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রতিটি কারণের প্রেক্ষিতে আয়াতের একটি করে অংশ অবতীর্ণ হয়েছে। তদুপরি, এই বক্তব্যের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রমাণের প্রয়োজন।

৪ সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ হলো, জাবির ইবনে আব্দুল্লাহর এই বক্তব্যটি তাঁর ইজতিহাদ, এবং তিনি এই ইজতিহাদে ভুল করেছেন।

৫ আমি বলি: প্রথম বক্তব্যটি ইজতিহাদ নয়; বরং কুরআন বিষয়ক গবেষক আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এটি স্বয়ং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর উক্তি।

৬ এই দুটি মত লেখক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট গ্রহণযোগ্য।

৭ হাফেজ সুয়ূতি এবং অন্যান্যরা এই সমস্ত ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন, তবে এগুলোর জন্য দলিলের প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
والقول الثالث: أن أول ما نزل سورة "الفاتحة".

وإذا وَازَنَّا بين هذه الأقوال الثلاثة لم نجد فيها حديثًا صحيحًا سالمًا من المعارضة، مقطوعًا برفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم وبعد عدم وجود النقل المطمئن -فيما نعلم- يكون الترجيح بالاستنباط، فالسنن الإلهية في آيات الكتاب كالسنن الكونية في الأرض والسماء، والثمرة تنبت من نواة بها خصائص الثمرة.

وسورة الفاتحة مشتملة على ما اشتمل عليه القرآن، فلا بُعْدَ أن تكون هي الأولى في النزول بمكة.. وآخر ما نزل بها "المؤمنون" أو "العنكبوت".

وأول ما نزل بالمدينة "ويل للمطففين".. وآخر ما نزل بها من السور الكاملة سورة التوبة.

وأول ما أعلن به سورة "النجم".

وأعلم أنه ما من قول قيل في أول النزول وآخره إلا عورض بقول آخر، مما يؤكد أن هذه الأقوال بُنيت على الاجتهاد وليس فيها توقيف صحيح.

وأقرب الأقوال في آخر القرآن نزولًا {وَاتَّقُوا يَوْمًا تُرْجَعُونَ فِيهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَا كَسَبَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ} .
তৃতীয় মতটি হলো: সর্বপ্রথম যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সূরা "আল-ফাতিহা"।

আর আমরা যখন এই তিনটি মতের মধ্যে তুলনা করি, তখন আমরা এর মধ্যে এমন কোনো সহীহ হাদীস পাই না যা বিরোধ থেকে মুক্ত এবং যা নিশ্চিতভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর্যন্ত পৌঁছানো (মারফূ)। আমাদের জানামতে নির্ভরযোগ্য কোনো বর্ণনা না থাকার ফলে, বিষয়টিকে গবেষণালব্ধ সিদ্ধান্তের (ইস্তিনবাত) মাধ্যমেই প্রাধান্য দিতে হবে। কেননা কিতাবের আয়াতের ক্ষেত্রে ঐশী নিয়মসমূহ ঠিক তেমনি যেমন পৃথিবী ও আকাশের জাগতিক নিয়মসমূহ; আর ফল উৎপন্ন হয় এমন বীজ থেকে যার মধ্যে ফলের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিদ্যমান থাকে।

আর সূরা আল-ফাতিহা কুরআনের যাবতীয় বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্তকারী, তাই মক্কায় এটিই সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হওয়া অসম্ভব নয়। আর মক্কায় সর্বশেষ যা অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো সূরা "আল-মুমিনুন" অথবা "আল-আনকাবূত"।

আর মদীনায় সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছে "ওয়াইলুল লিল-মুতাফফিফীন" (সূরা আল-মুতাফফিফীন)... আর সেখানে পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে সর্বশেষ অবতীর্ণ হয়েছে সূরা আত-তাওবাহ।

আর সর্বপ্রথম যে সূরাটি প্রকাশ্যে পাঠ করা হয়েছিল তা হলো সূরা "আন-নাজম"।

আর জেনে রাখুন যে, প্রথম ও শেষ অবতীর্ণ হওয়ার বিষয়ে এমন কোনো বক্তব্য নেই যার বিপরীতে অন্য কোনো বক্তব্য প্রদান করা হয়নি, যা একথাই নিশ্চিত করে যে এই মতগুলো ইজতিহাদ বা গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত এবং এর মধ্যে কোনো সহীহ অকাট্য বর্ণনা (তাওকীফ) নেই।

আর কুরআনের সর্বশেষ অবতরণের বিষয়ে সবচেয়ে নিকটবর্তী মত হলো: "আর তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমাদের আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তারপর প্রত্যেককে তার অর্জিত আমলের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোনো জুলুম করা হবে না।"
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
ب-‌‌ سبب النزول وفوائده:

اعلم أن من القرآن ما نزل ابتداء من غير سبب.. ومنه ما نزل ليفصل في وقائع وقعت..والاشتغال بمعرفة ذلك من المهمات التي لها فوائد عديدة:

1- منها: معرفة وجه الحكمة1 الباعثة على تشريع الحكم.

2- ومنها: تخصيص الحكم به عند مَن يرى أن العبرة بخصوص السبب..

3- ومنها: أن اللفظ قد يكون عامًّا ويقوم الدليل على تخصيصه، فلا يتناول التخصيص صورة السبب.

4- ومنها: الوقوف على المعنى وإزالة الإشكال.. فمثلًا قوله تعالى: {لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوْا وَآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ} قد يُفهم منه إباحة بعض المطعومات المحرمة ما دام المتناوِل تقيًّا مؤمنًا عاملًا للصالحات، فإذا عرف سبب النزول فُهم أنها نزلت لما سأل الصحابة عن مصير إخوانهم الذين ماتوا وكانوا يشربون الخمر، وهي رجس ولم تكن قد حرمت؛ فأنزل الله الآية إشارة إلى أن من مات قبل التحريم فلا جناح عليه.

وكذا قوله في الذين صلوا إلى بيت المقدس وماتوا قبل تحويل القبلة إلى الكعبة، قال في قبول أعمالهم: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَؤُوفٌ رَحِيمٌ} .

5- ومن فوائد معرفة أسباب النزول: دفع توهم الحصر.. فمثلًا قوله تعالى: {قُلْ لا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَنْ يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنْزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ} ظاهر هذا حصر المحرمات في هذه الأمور، فإذا علم السبب؛ وهو أن المشركين لما حرموا ما أحل الله وأحلوا ما حرم الله، وكانوا على المضادة والمحادة، جاءت الآية مناقضة لغرضهم، فكأنه قال: لا حلال

--------------------------------------------

1 الحكمة المراد بها هنا: العلة الباعثة التي تبعث المكلَّف على امتثال أوامر الشارع. انظر في ذلك كتاب "التعليل في القرآن الكريم" للمحقق.
খ-‌‌ নাযিল হওয়ার কারণ (সাবাবুন নুযূল) এবং এর উপকারিতা:

জেনে রাখুন যে, কুরআনের কিছু অংশ কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই প্রাথমিকভাবে নাযিল হয়েছে। আর কিছু অংশ নাযিল হয়েছে সংঘটিত কোনো ঘটনার বিষয়ে ফয়সালা করার জন্য। আর এটি জানার পেছনে আত্মনিয়োগ করা এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত যার বহুবিধ উপকারিতা রয়েছে:

১- তার মধ্যে একটি হলো: বিধান প্রবর্তনের পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে যে হিকমত বা নিগূঢ় রহস্য রয়েছে তা জানা।

২- তার মধ্যে আরও একটি হলো: যারা মনে করেন যে বিধানটি কেবল বিশেষ কারণের জন্যই নির্দিষ্ট, তাদের নিকট ওই বিধানটিকে সেই কারণের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা।

৩- আরও একটি উপকারিতা হলো: শব্দ বা বাক্যটি কখনো ব্যাপক হতে পারে এবং সেটি বিশেষ করার (তাখসিস) দলীলও বিদ্যমান থাকতে পারে, এমতাবস্থায় সেই বিশেষীকরণ নাযিল হওয়ার বিশেষ কারণটির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

৪- এর অন্যতম উপকারিতা হলো: প্রকৃত অর্থ অনুধাবন করা এবং অস্পষ্টতা দূর করা। উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: "যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা যা কিছু আহার করেছে তার জন্য তাদের কোনো গুনাহ নেই, যখন তারা তাকওয়া অবলম্বন করে, ঈমান আনে এবং নেক আমল করে" এখান থেকে হয়তো এমনটি বোঝা যেতে পারে যে, ভক্ষণকারী যতক্ষণ মুত্তাকী, মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণ হবে, ততক্ষণ তার জন্য কিছু হারাম খাদ্যও বৈধ। কিন্তু যখন নাযিল হওয়ার কারণ জানা যায়, তখন বোঝা যায় যে এটি সেই সময় অবতীর্ণ হয়েছিল যখন সাহাবীগণ তাঁদের ওইসব ভাইদের পরিণাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যারা ইন্তেকাল করেছিলেন এবং মদ্যপান করতেন; অথচ মদ ছিল অপবিত্র এবং তখনো তা হারাম করা হয়নি। ফলে আল্লাহ তাআলা এই আয়াতটি নাযিল করেন এটা বোঝাতে যে, মদ হারাম হওয়ার আগে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের কোনো গুনাহ হবে না।

অনুরূপভাবে ওইসব লোকেদের ব্যাপারেও একই কথা যারা বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিলেন এবং কিবলা কাবার দিকে পরিবর্তন হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তাদের আমল কবুল হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "আর আল্লাহ এমন নন যে তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষের প্রতি পরম দয়ালু ও অতি দয়ালু।"

৫- নাযিল হওয়ার কারণ জানার আরেকটি উপকারিতা হলো: সীমাবদ্ধতার ভ্রম দূর করা। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ তাআলার বাণী: "বলুন: আমার প্রতি যা ওহী নাযিল করা হয়েছে তার মধ্যে আমি ভক্ষণকারীর জন্য কোনো কিছুই হারাম পাই না যা সে ভক্ষণ করে, তবে সেটি যদি মৃত জন্তু হয় অথবা প্রবহমান রক্ত অথবা শুকরের মাংস হয়; কেননা তা অপবিত্র।" আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে যে হারাম বিষয়গুলো কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু যখন এর কারণ জানা যায়; আর তা হলো মুশরিকরা যখন আল্লাহর হালাল করা বিষয়গুলোকে হারাম করেছিল এবং হারাম করা বিষয়গুলোকে হালাল করেছিল এবং তারা বিরোধিতা ও হঠকারিতায় লিপ্ত ছিল, তখন এই আয়াতটি তাদের উদ্দেশ্যের বিপরীতে অবতীর্ণ হয়েছিল। ফলে বিষয়টি এমন ছিল যে, যেন তিনি বলছেন: কোনো হালাল নেই...

--------------------------------------------

১ এখানে হিকমত বা প্রজ্ঞা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এমন চালিকাশক্তি বা কারণ যা একজন মুকাল্লাফকে (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) শারীআতের নির্দেশ পালনে উদ্বুদ্ধ করে। এ বিষয়ে মুহাক্কিক রচিত "আত-তা'লীল ফিল কুরআন আল-কারীম" বইটি দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلا ما حرمتموه، ولا حرام إلا ما أحللتموه، نازلًا منزلة من يقول: لا تأكل اليوم حلاوة، فتقول: لا آكل اليوم إلا حلاوة.. والغرض المضادة لا النفي والإثبات على الحقيقة؛ فكأنه قال: لا حرام إلا ما أحللتموه من هذه الأصناف. ولم يقصد حل ما وراءها أو تحريمه؛ بل هو سكوت عنه حتى جاءت آيات تضيف أصنافًا أخرى إلى هذه المحرمات1.

6- ومن فوائد معرفة أسباب النزول: التعرف على الاسم الذي نزلت فيه وتعيين المبهم فيها2.

واختلف الأصوليون3: هل العبرة بعموم اللفظ؟ بمعنى: أن اللفظ العام إذا نزل لسبب خاص تعدى فيه الحكم من السبب إلى ما ماثله، وهو المختار؛ كآية الظهار4 نزلت في سلمة بن صخر، وتعدى الحكم إلى كل من ظاهر مثله، وآية اللعان5 نزلت في هلال بن أمية، وتعدى الحكم إلى كل ملاعن.

وقال بعضهم: العبرة بخصوص السبب ولا يتعدى الحكم إلا لدليل خارجي، فهؤلاء يرون أنه لولا الدليل الخارجي لوقف حكم الظهار على سلمة، وحكم اللعان على هلال.

وقال ابن تيمية6: مَن يرى أن العبرة بخصوص السبب، يريد بذلك أن مَن نزلت فيه الآية دخل دخولًا أوليًّا ودخل ما يشبهه تبعًا، ولا يُتصور من مسلم إبطال عموم

--------------------------------------------

1 انظر: "مناهل العرفان" 1/ 104، 105، و"الإتقان" 1/ 31.

2 "مناهل العرفان" 1/ 106.

3 محل الخلاف في المسألة إذا لم توجد قرينة على التخصيص ولا على التعميم غير اللفظ نفسه، والقولان: العموم والقصر على السبب منقولان عن: مالك، والشافعي، وكثير من أصحابهما؛ لكن القول بالعموم قول الجمهور، وهو الأرجح نظرًا لأحكام الباجى ص270، وممن ذهب إلى قصره على سببه: أبو ثور، والمزني، والقفال، وآخرون. انظر: "نهاية السول" للإسنوي 2/ 477، و"إرشاد الفحول" للشوكاني ص134، وانظر الأقوال وتفصيلها في: "المعتمد" 302 و"التبصرة" ص144، و"الأحكام" للباجي ص270، و"شرح الكوكب" 3/ 177، وبحث أسباب النزول للمحقق.

4 يعني قوله تعالى: {قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ … } الآيات، سورة المجادلة الآيات الأولى منها.

5 يعني قوله تعالى: {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُمْ شُهَدَاءُ إِلَّا أَنْفُسُهُمْ} حتى بلغ {إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ} سورة النور: 6-9.

6 "الإتقان" 1/ 30، و"البرهان" 1/ 32. قلت: القول بالعموم فيما نزل على سبب خاص هو قول المحققين من الأصوليين وغيرهم، فهذه القاعدة -أعني "العبرة بعموم اللفظ"- من المسلمات، فلا يمكن للعالم أن يخصص ألفاظ القرآن العامة بأولئك الأعيان دون غيرهم، فإن هذا لا يقوله مسلم ولا عاقل على الإطلاق، كما قال ابن تيمية؛ وعلى ذلك درجت القوانين في الدنيا كلها، فإن القانون يصدر لأسباب خاصة في الغالب الكثير، ثم يكون حكمه عامًّا على جميع الأفراد.
ব্যতীত যা তোমরা হারাম করেছ, আর তোমাদের হালাল করা বিষয় ব্যতীত কোনো কিছু হারাম নেই; এটি এমন ব্যক্তির অবস্থানে নেমে বলা যে বলে: আজ মিষ্টি খেয়ো না, তখন তুমি বলো: আজ আমি মিষ্টি ছাড়া অন্য কিছু খাব না। আর এর উদ্দেশ্য হলো বিরোধিতা করা, প্রকৃতপক্ষে নেতিবাচকতা বা ইতিবাচকতা সাব্যস্ত করা নয়; যেন সে বলেছে: এই প্রকারগুলোর মধ্যে তোমাদের হালাল করা বিষয় ছাড়া আর কোনো হারাম নেই। এর বাইরের বিষয়গুলোর হালাল বা হারাম হওয়ার ইচ্ছা এখানে করা হয়নি; বরং এগুলো সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করা হয়েছে যতক্ষণ না এমন আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যা এই হারাম বিষয়গুলোর সাথে অন্যান্য প্রকারগুলোকেও যুক্ত করেছে১।

৬- শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) জানার অন্যতম উপকারিতা হলো: কার সম্পর্কে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে তার নাম জানা এবং আয়াতে থাকা অস্পষ্ট বিষয়কে সুনির্দিষ্ট করা২।

উসূলবিদগণ মতভেদ করেছেন৩: বিবেচ্য বিষয় কি শব্দের ব্যাপকতা? এর অর্থ হলো: যখন কোনো ব্যাপক শব্দ কোনো বিশেষ কারণে অবতীর্ণ হয়, তখন এর বিধান কি সেই বিশেষ কারণ থেকে তার সদৃশ অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে? এটিই পছন্দনীয় মত; যেমন যিহারের আয়াত৪ যা সালামা ইবনে সাখর-এর ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এর বিধান তার মতো যিহারকারী প্রত্যেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। আর লি'আনের আয়াত৫ যা হিলাল ইবনে উমাইয়্যার ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিল এবং এর বিধান প্রত্যেক লি'আনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: বিবেচ্য বিষয় হলো বিশেষ কারণ এবং বাহ্যিক দলিল ছাড়া এই বিধান অন্যত্র প্রযোজ্য হবে না। তারা মনে করেন যে, যদি বাহ্যিক দলিল না থাকত, তবে যিহারের বিধান কেবল সালামার ক্ষেত্রে এবং লি'আনের বিধান কেবল হিলালের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকত।

ইবনে তাইমিয়্যাহ৬ বলেছেন: যারা মনে করেন বিবেচ্য বিষয় হলো বিশেষ কারণ, তারা এর দ্বারা এটিই বোঝাতে চান যে, যার সম্পর্কে আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে সে প্রাথমিকভাবে এর অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তার সদৃশ বিষয়গুলো অনুগামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কোনো মুসলিমের পক্ষে শব্দের ব্যাপকতাকে বাতিল করা কল্পনা করা যায় না।

--------------------------------------------

১ দেখুন: "মানাহিলুল ইরফান" ১/ ১০৪, ১০৫, এবং "আল-ইতকান" ১/ ৩১।

২ "মানাহিলুল ইরফান" ১/ ১০৬।

৩ এই মাসআলায় মতভেদের ক্ষেত্র হলো যখন শব্দের বাইরে ব্যাপকতা বা বিশেষত্বের ওপর অন্য কোনো আলামত না থাকে। ব্যাপকতা এবং কারণের ওপর সীমাবদ্ধ রাখার উভয় মত মালিক, শাফিঈ এবং তাদের অনেক অনুসারী থেকে বর্ণিত হয়েছে; তবে ব্যাপকতার মতটিই জমহুর (অধিকাংশ) আলিমের মত এবং এটিই বিচার্য দিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী, দেখুন: আল-বাজীর "আহকাম" পৃষ্ঠা ২৭০। যারা বিশেষ কারণের ওপর সীমাবদ্ধ রাখার পক্ষে গিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু সাওর, আল-মুযানী, আল-কাফফাল এবং আরও অনেকে। দেখুন: আল-ইসনাবীর "নিহায়াতুস সূল" ২/ ৪৭৭, শাওকানীর "ইরশাদুল ফুহুল" পৃষ্ঠা ১৩৪। মতভেদ ও এর বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: "আল-মুতামাদ" ৩০২, "আত-তাবসিরাহ" পৃষ্ঠা ১৪৪, আল-বাজীর "আল-আহকাম" পৃষ্ঠা ২৭০, "শারহুল কাওকাব" ৩/ ১৭৭ এবং মুহাক্কিকের শানে নুযূল বিষয়ক গবেষণা।

৪ অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ অবশ্যই সেই নারীর কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল...} আয়াতসমূহ, সূরা আল-মুজাদিলাহর প্রথম দিকের আয়াতগুলো।

৫ অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ দেয় এবং তারা নিজেরা ছাড়া তাদের কোনো সাক্ষী নেই} থেকে {যদি সে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হয়} পর্যন্ত, সূরা আন-নূর: ৬-৯।

৬ "আল-ইতকান" ১/ ৩০ এবং "আল-বুরহান" ১/ ৩২। আমি (লেখক) বলি: বিশেষ কারণে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে শব্দের ব্যাপকতাকে গ্রহণ করাই হলো উসূলবিদ এবং অন্যদের নিকট মুহাক্কিক (গবেষক) আলিমদের মত। সুতরাং এই নীতিটি—অর্থাৎ "বিবেচ্য বিষয় হলো শব্দের ব্যাপকতা"—একটি স্বীকৃত বিষয়। কোনো আলিমের পক্ষেই কুরআনের ব্যাপক শব্দগুলোকে কেবল সেই বিশেষ ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট করা এবং অন্যদের বাদ দেওয়া সম্ভব নয়; কারণ ইবনে তাইমিয়্যাহ যেমনটি বলেছেন, কোনো মুসলিম বা কোনো বিবেকবান ব্যক্তিই এটি বলতে পারেন না। আর এই নিয়মেই দুনিয়ার সমস্ত আইন পরিচালিত হয়; আইন সাধারণত বিশেষ কিছু কারণে জারি করা হয়, কিন্তু এর বিধান সমস্ত ব্যক্তির ওপর সাধারণভাবে প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
الكتاب، وهذا توجيه حسن، ويكون الفرق بين مَن يقول: العبرة بعموم اللفظ، وبين مَن يقول: العبرة بخصوص السبب -أن الأولين يرون الدخول بعموم اللفظ أصلًا، والآخرين يرون الدخول تبعًا، بعد دخول صورة السبب.

وقد يقوم الدليل على تخصيص الحكم بصورة السبب؛ كتفسير النبي صلى الله عليه وسلم للظلم بالشرك في قوله تعالى: {وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ} فلم يرد تناول كل ظلم مع صلاحية اللفظ له.

هذا كله إن كان اللفظ عامًّا نزل لسبب خاص..

أما إن كان اللفظ خاصًّا نزل لسبب خاص، فإنه لا يتعدى السبب اتفاقًا؛ نحو: {وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى، الَّذِي يُؤْتِي مَالَهُ يَتَزَكَّى} .. فإن الأتقى لمفرد، والمراد به: الصديق1 رضي الله عنه.

ولا يصح أن يراد به العموم؛ لأن الذي يدل على العموم "أل" الموصولة أو الداخلة على الجمع.. أو على مفرد غير معهود، والعهد هنا ظاهر.. ولا يصح أن تكون موصولة؛ لأنها لا تلي أفعل التفضيل2.

ومن المعلوم أن صورة السبب داخلة في العام دخولًا قطعيًّا. فإذا نزلت الآية على سبب خاص، ثم نزلت آيه عامة في الموضوع -دخل مدلول الآية السابقة في العام دخولًا قطعيًّا.

مثاله: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا هَؤُلاءِ أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُوا سَبِيلًا} 3 نزلت في كعب بن الأشرف الذي كان يعلم صفة النبي في التوراة، ومع علمه أقر دين قريش ورجحه على دين المسلمين، فخان بذلك الأمانة، فدخل دخولًا قطعيًّا في قوله بعد: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} .

ولا يحل القول في سبب النزول إلا استنادًا إلى رواية صحيحة صريحة تصرح بذكر السبب.

--------------------------------------------

1 المراد بقول "الصديق": سيدنا أبو بكر الصديق -رضى الله عنه- فقد نزلت فيه هذه الآية؛ أعني: قوله تعالى: {وَسَيُجَنَّبُهَا الْأَتْقَى … } بالإجماع، وبهذه الآية مع قوله تعالى: {إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ} استدل الإمام فخر الدين الرازي على أن أبا بكر أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم.

2 "الإتقان في علوم القرآن" 1/ 30.

3 "مناهل العرفان" 1/ 128.
গ্রন্থটি, এবং এটি একটি উত্তম দিকনির্দেশনা। যারা বলেন: 'বিধান শব্দের ব্যাপকতার ওপর নির্ভরশীল' এবং যারা বলেন: 'বিধান বিশেষ কারণের ওপর নির্ভরশীল'—তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো যে, প্রথম পক্ষ শব্দের ব্যাপকতার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে মূল ভিত্তি মনে করেন, আর দ্বিতীয় পক্ষ নির্দিষ্ট কারণটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর অন্যগুলোকে অনুগামী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মনে করেন।

কখনও কখনও বিধানকে কেবল কারণের রূপটির সাথে সুনির্দিষ্ট করার দলিল পাওয়া যায়; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি}—এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'জুলুম' শব্দটির ব্যাখ্যা 'শিরক' দ্বারা করেছেন। ফলে শব্দটির সকল প্রকার জুলুমকে শামিল করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তা উদ্দেশ্য নেওয়া হয়নি।

এই সব কিছুই তখন প্রযোজ্য যখন শব্দটি ব্যাপক হয় এবং একটি বিশেষ কারণে অবতীর্ণ হয়।

কিন্তু যদি শব্দটি বিশেষ হয় এবং বিশেষ কারণে অবতীর্ণ হয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমে তা সেই কারণের গণ্ডি অতিক্রম করবে না; যেমন: {অচিরেই তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধনসম্পদ দান করে}। এখানে 'পরম মুত্তাকী' শব্দটি একবচন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন: সিদ্দিক ১ রাদিয়াল্লাহু আনহু।

এখানে ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করা সঠিক নয়; কারণ ব্যাপকতা নির্দেশ করে সেই 'আলিফ-লাম' যা 'মাওসুলা' হিসেবে আসে অথবা বহুবচনের শুরুতে আসে... অথবা এমন একবচনের শুরুতে আসে যা সুপরিচিত নয়। কিন্তু এখানে পরিচিতি সুস্পষ্ট। আর এটি 'মাওসুলা' হওয়াও সঠিক নয়; কারণ তা 'আফআলুত তাফদিল' (সর্বোচ্চ বিশেষণ)-এর সাথে যুক্ত হয় না ২।

এটি সুপরিজ্ঞাত যে, শানে নুযুলের বিষয়টি ব্যাপক বিধানের মধ্যে নিশ্চিতভাবে অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যদি কোনো আয়াত বিশেষ কারণে অবতীর্ণ হয় এবং পরবর্তীতে ওই বিষয়ে কোনো ব্যাপক আয়াত অবতীর্ণ হয়, তবে পূর্ববর্তী আয়াতের মর্মবস্তু নিশ্চিতভাবে ব্যাপক বিধানের অন্তর্ভুক্ত হবে।

এর উদাহরণ হলো: {তুমি কি তাদের দেখনি যাদের কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছিল? তারা জিবত ও তাগুতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কাফেরদের সম্পর্কে বলে যে, তারা মুমিনদের তুলনায় অধিক সঠিক পথে রয়েছে} ৩। এই আয়াতটি কাব বিন আশরাফের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছিল, যে তাওরাতে নবীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানত। কিন্তু জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও সে কুরাইশদের ধর্মকে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং মুসলিমদের ধর্মের ওপর সেটিকে প্রাধান্য দিয়েছিল। এর মাধ্যমে সে আমানতের খেয়ানত করেছিল। ফলে সে পরবর্তীতে অবতীর্ণ মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যেন তোমরা আমানতসমূহ তার প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও}।

সহিহ এবং সুস্পষ্ট বর্ণনা ব্যতীত শানে নুযুল সম্পর্কে কোনো কথা বলা বৈধ নয়, যা স্পষ্টভাবে উক্ত কারণটি উল্লেখ করে।

--------------------------------------------

১ 'সিদ্দিক' বলতে আমাদের নেতা আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বোঝানো হয়েছে। সর্বসম্মতিক্রমে তাঁর ব্যাপারেই এই আয়াত—অর্থাৎ মহান আল্লাহর বাণী: {অচিরেই তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে...} অবতীর্ণ হয়েছে। এই আয়াত এবং মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী}—এর মাধ্যমে ইমাম ফখর উদ্দিন রাজি দলিল পেশ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আবু বকরই মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

২ "আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন" ১/ ৩০।

৩ "মানাহিলুল ইরফান" ১/ ১২৮।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقول الصحابي: نزلت الآية في كذا.. يحتمل أن يكون ذلك نصًّا منه على السبب، فهو من المسند، وعليه جرى البخاري.. ويحتمل أن يكون ذلك من قياسه وإلحاقه بالسبب، وهو مذهب غير البخاري.. ولا يعتبر السبب سببًا إلا إذا نزلت الآية عقيبه1.

أما إذا كانت الآية خبرًا عن قصة وقعت؛ فلا يصلح أن تكون القصة هي السبب؛ كقصة أصحاب الفيل، وقوم نوح، واتخاذ إبراهيم خليلًا.

وإذا تعارضت الأقوال في سبب النزول رجح الأقوى، أو جمع عند إمكان الجمع والتساوي. فإن لم يمكن والمرويات كلها صحيحة وفي درجة واحدة قيل بتعدد النزول.. وقد تنزل الآية لأكثر من سبب واحد.

وأمثلة كل هذا لا تخفى على مطلع في كتب التفسير والحديث.

كما قد يكون السبب واحدًا وتنزل من أجله آيات في مواضع عديدة. مثاله: أن بعض المنافقين عاتبهم النبي -صلى الله عليهم وسلم- على ما يقولونه فيه، فحلفوا له بالله؛ فأنزل الله: {يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا} ، وأنزل في سورة أخرى: {يَوْمَ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ جَمِيعًا فَيَحْلِفُونَ لَهُ كَمَا يَحْلِفُونَ لَكُمْ} .

--------------------------------------------

1 "مقدمة في أصول التفسير" لابن تيمية رحمه الله، بشرح الشيخ محمد بن صالح العثيمين ص49.
এবং সাহাবীর উক্তি: "এই আয়াতটি অমুক বিষয়ে নাযিল হয়েছে..." - এর ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে যে তা তাঁর পক্ষ থেকে শানে নুযূলের ওপর একটি সরাসরি বক্তব্য, সুতরাং তা 'মুসনাদ' হিসেবে গণ্য হবে এবং ইমাম বুখারী এই নীতিই অনুসরণ করেছেন। আবার এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে এটি তাঁর কিয়াস ও কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্টকরণ মাত্র, আর এটি ইমাম বুখারী ব্যতীত অন্যদের অনুসৃত পদ্ধতি। আর শানে নুযূলকে প্রকৃত কারণ হিসেবে গণ্য করা হবে না যতক্ষণ না আয়াতটি সেই ঘটনার ঠিক পরপরই নাযিল হয়।১

পক্ষান্তরে, আয়াতটি যদি পূর্বে ঘটে যাওয়া কোনো কাহিনীর সংবাদ হয়, তবে সেই কাহিনীটি শানে নুযূল হওয়ার যোগ্য নয়; যেমন হস্তিবাহিনীর কাহিনী, নূহ আ.-এর কওমের কাহিনী এবং ইবরাহীম আ.-কে খলীল বা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করার কাহিনী।

আর যখন শানে নুযূলের বর্ণনাসমূহ পরস্পর বিরোধী হয়, তখন অধিক শক্তিশালী বর্ণনাটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, অথবা সমন্বয়ের সুযোগ থাকলে এবং উভয় বর্ণনা সমান পর্যায়ের হলে সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হয়। যদি সমন্বয় করা সম্ভব না হয় এবং সকল বর্ণনা সহীহ ও একই স্তরের হয়, তবে বলা হয় যে আয়াতটি একাধিকবার নাযিল হয়েছে। আর একটি আয়াত একাধিক কারণেও নাযিল হতে পারে।

এই সবকিছুর উদাহরণ তাফসীর ও হাদীসের কিতাবসমূহের পাঠকদের কাছে অস্পষ্ট নয়।

তদ্রূপ কারণ বা শানে নুযূল একটি হতে পারে এবং সেই একটি কারণেই বিভিন্ন স্থানে একাধিক আয়াত নাযিল হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: কিছু মুনাফিককে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সম্পর্কে তারা যা বলত সে বিষয়ে তিরস্কার করেছিলেন, তখন তারা আল্লাহর নামে তাঁর কাছে কসম খেয়েছিল; তখন আল্লাহ নাযিল করেন: {তারা আল্লাহর নামে কসম খায় যে তারা বলেনি}, এবং অন্য একটি সূরায় নাযিল করেন: {যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনরুত্থিত করবেন, তখন তারা তাঁর নিকট সেভাবে কসম খাবে যেভাবে তারা তোমাদের নিকট কসম খায়}।

--------------------------------------------

১ ইবনে তাইমিয়্যাহ রহ.-এর "মুকাদ্দিমাহ ফী উসূলিত তাফসীর", শাইখ মুহাম্মাদ বিন সলিহ আল-উসাইমীনের ব্যাখ্যাসহ, পৃষ্ঠা: ৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
جـ-‌‌ الأسماء والمبهمات 1:

قلت: من فوائد معرفة أسباب النزول: التعرف على الأسماء والكشف عن المبهمات.

قال عكرمة: طلبت معرفة الذي خرج من بيته مهاجرًا إلى الله ورسوله أربعة عشر عامًا.

والتعرف عليه يأتي بالوقوف على سبب النزول.

وعن علي كرم الله وجهه: ما من أحد من قريش إلا نزلت فيه آية، قيل له: وما نزل فيك؟.. قال: {وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِنْه} .. كذا روي.

وعن سعد بن أبي وقاص أنه نزلت فيه: {يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ} وقوله: {وَوَصَّيْنَا الْإِنْسَانَ بِوَالِدَيْهِ حُسْنًا} .

وعن رفاعة القرظي أن قوله تعالى: {وَلَقَدْ وَصَّلْنَا لَهُمُ الْقَوْلَ} نزلت في عشرة هو أحدهم.

وعن جنيد بن سعد أنه مع ثمانية نزلت فيهم: {وَلَوْلا رِجَالٌ مُؤْمِنُونَ وَنِسَاءٌ مُؤْمِنَاتٌ} وعد النساء اثنتان.

أسباب الإبهام:

1- الاستغناء عن توضيحه ببيانه في موضع آخر؛ نحو: {صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ} 1 بُيِّنَ بقوله: {مَعَ الَّذِينَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصَّالِحِينَ} 2.

2- الاستغناء عن بيانه لشهرته؛ نحو: {اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ} 3 فالزوجة معروفة بأنها حواء.

3- قصد الستر عليه؛ نحو4: {وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُعْجِبُكَ قَوْلُهُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} 5 نزلت في الأخنس بن شريق، الذي أسلم بعد وحسن إسلامه.

4- لا فائدة من تعيينه تتعلق بالمخاطب؛ نحو: {وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ} 6.

5- قصد العموم كي لا يقف الحكم عند المعين؛ نحو: {وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ يُدْرِكْهُ الْمَوْتُ فَقَدْ وَقَعَ أَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ} 7.

6- تعظيمه؛ نحو: {وَلا يَأْتَلِ أُولُو الْفَضْلِ} 8 في أبي بكر.

7- تحقيره بالوصف الناقص؛ نحو: {إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ} 9.

ولا يعين المبهم إلا بنقل صحيح10 … وإليك بعض ما عين من المبهمات:

{وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْسًا} : اسم القتيل عاميل.

--------------------------------------------

1 صنف فيه أبو القاسم السهيلي كتابه المسمَّى "التعريف والإعلام بما أبهم في القرآن من الأسماء والأعلام"، ومنه نسخة خطية في دار الكتب المصرية والمكتبة التيمورية، وغيرها من الكتب، و"البرهان" للزركشي 1/ 155.

2 سورة الفاتحة: 7.

3 سورة النساء: 69.

4 سورة البقرة: 35.

5 ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا بلغه عن قوم شيء خطب فقال: "ما بال رجال قالوا كذا".

6 سورة البقرة: 204.

7 سورة الأعراف: 163.

8 سورة النساء: 100.

9 نزلت في سيدنا أبي بكر الصديق حين حلف ألا ينفق على مسطح بن أثاثة أبدًا، بعدما قال في عائشة ما قال في حديث الإفك. انظر: تفسير ابن كثير 3/ 268-276.

10 سورة الكوثر: 3.

11 هذه من قواعد علوم القرآن المهمة حتى لا يتزيد الناس في أمر المبهمات، ويأتون لبيان غالبًا ما يكون من الإسرائيليات، ومن الحكم المقررة: أن القرآن الكريم قد يبهم الشيء؛ إذ لا فائدة من تعيينه على ما سبق في كلام المؤلف. وانظر: أسباب الإبهام في البرهان 1551 وما بعدها.
গ-‌‌ নামসমূহ ও অস্পষ্ট বিষয়াবলী ১:

আমি বলি: শানে নুযূল বা নাযিলের প্রেক্ষাপট জানার অন্যতম উপকারিতা হলো: (আয়াতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট) নামসমূহ সম্পর্কে জানা এবং অস্পষ্ট বিষয়গুলো উন্মোচন করা।

ইকরিমাহ বলেন: যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করার উদ্দেশ্যে নিজ ঘর থেকে বের হয়েছিলেন, তাকে চেনার জন্য আমি চৌদ্দ বছর অন্বেষণ করেছি।

আর তাকে চেনার বিষয়টি আসে শানে নুযূল বা নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হওয়ার মাধ্যমে।

আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন) থেকে বর্ণিত: কুরাইশদের এমন কেউ নেই যার সম্পর্কে কোনো আয়াত নাযিল হয়নি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সম্পর্কে কী নাযিল হয়েছে? তিনি বললেন: "এবং তার অনুসরণ করে তার পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী"... এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত যে, তাঁর সম্পর্কে নাযিল হয়েছে: "তারা আপনাকে যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে" এবং আল্লাহর বাণী: "আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে উত্তম ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি।"

রিফায়া আল-কুরাজি থেকে বর্ণিত যে, মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তাদের কাছে ধারাবাহিকভাবে বাণী পৌঁছে দিয়েছি" - এটি দশজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে নাযিল হয়েছে, যাদের মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন।

জুনাইদ ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত যে, তিনিসহ মোট আটজনের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে: "যদি মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা না থাকত" এবং নারীদের সংখ্যা ছিল দুইজন।

অস্পষ্টতার কারণসমূহ:

১- অন্য কোনো স্থানে বর্ণনা করার কারণে এখানে তার বিশদ বিবরণ নিষ্প্রয়োজন হওয়া; যেমন: "তাদের পথ, যাদের ওপর আপনি নেয়ামত দান করেছেন" ১ - এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: "তাদের সঙ্গে আল্লাহ যাদের ওপর নেয়ামত দান করেছেন— নবীগণ, সত্যনিষ্ঠগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীলগণ" ২।

২- প্রসিদ্ধির কারণে বর্ণনার প্রয়োজন না থাকা; যেমন: "আপনি এবং আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন" ৩ - এখানে স্ত্রী হিসেবে হাওয়া সুপরিচিত।

৩- দোষ গোপন রাখার উদ্দেশ্য; যেমন ৪: "মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যার পার্থিব জীবনের কথা আপনাকে মুগ্ধ করে" ৫ - এটি আখনাশ ইবনে শারিকের ব্যাপারে নাযিল হয়েছে, যিনি পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর ইসলাম সুন্দর হয়েছিল।

৪- সম্বোধিত ব্যক্তির জন্য তাকে নির্দিষ্ট করার মধ্যে কোনো উপকার নেই; যেমন: "এবং আপনি তাদের সেই জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন" ৬।

৫- ব্যাপকতা বা সাধারণ উদ্দেশ্য রাখা যাতে বিধানটি কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর সীমাবদ্ধ না থাকে; যেমন: "যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করার জন্য নিজ ঘর থেকে বের হয়, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসে, তবে তার পুরস্কার আল্লাহর ওপর অবধারিত হয়ে যায়" ৭।

৬- তাকে মর্যাদা প্রদান করা; যেমন: "তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদাবান তারা যেন শপথ না করে" ৮ - এটি আবু বকর সম্পর্কে।

৭- ত্রুটিপূর্ণ বর্ণনার মাধ্যমে তাকে হেয় প্রতিপন্ন করা; যেমন: "নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই নির্বংশ" ৯।

আর সহীহ বা বিশুদ্ধ বর্ণনা ছাড়া কোনো অস্পষ্ট বিষয়কে নির্দিষ্ট করা যায় না ১০ … আপনার সামনে অস্পষ্ট বিষয়গুলো নির্দিষ্ট করার কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো:

"যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে": নিহত ব্যক্তির নাম ছিল আমীল।

--------------------------------------------

১ আবু আল-কাসিম আল-সুহাইলি এই বিষয়ে তাঁর ‘আত-তা’রীফ ওয়াল ই’লাম বিমা উবহেমা ফিল কুরআন মিনাল আসমা ওয়াল আ’লাম’ নামক কিতাবটি রচনা করেছেন। এর একটি পাণ্ডুলিপি মিশরের দারুল কুতুব এবং তায়মুরিইয়্যাহ লাইব্রেরিতে রয়েছে; এছাড়াও অন্যান্য কিতাব এবং যারকাশির ‘আল-বুরহান’ ১/১৫৫ দ্রষ্টব্য।

২ সূরা আল-ফাতিহা: ৭।

৩ সূরা আন-নিসা: ৬৯।

৪ সূরা আল-বাকারাহ: ৩৫।

৫ এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে কোনো কওম সম্পর্কে কিছু পৌঁছালে তিনি খুতবা দিতেন এবং বলতেন: "লোকদের কী হয়েছে যে তারা এমন কথা বলে"।

৬ সূরা আল-বাকারাহ: ২০৪।

৭ সূরা আল-অ’রাফ: ১৬৩।

৮ সূরা আন-নিসা: ১০০।

৯ এটি আমাদের নেতা আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ক্ষেত্রে নাযিল হয়েছে যখন তিনি কসম করেছিলেন যে মিসতাহ ইবনে উসাসাহকে আর কখনো সাহায্য করবেন না, ইফক-এর ঘটনায় আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সম্পর্কে সে যা বলেছিল তার পর। দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/২৬৮-২৭৬।

১০ সূরা আল-কাওসার: ৩।

১১ এটি উলূমুল কুরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি যাতে মানুষ অস্পষ্ট বিষয়গুলোতে নিজেদের পক্ষ থেকে কিছু যোগ না করে এবং এমন ব্যাখ্যা না দেয় যা সাধারণত ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে আসে। প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হলো: পবিত্র কুরআন কোনো বিষয়কে অস্পষ্ট রাখতে পারে; কারণ লেখকের পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী তা নির্দিষ্ট করার কোনো ফায়দা নেই। দেখুন: আল-বুরহানে অস্পষ্টতার কারণসমূহ ১৫৫১ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
"الأسباط": أولاد يعقوب اثنا عشر رجلًا: يوسف، وروبيل، وشمعون، ولاوي، ويهوذا، وداني، وتفتاني، وكاد، ويأشير، وإيشاجر، ورايلون، وبنيامين.

"بني إبراهيم": هم: إسماعيل، وإسحاق، ومان، وزمران، وسرح، ونفش، ونفشان، وأميم، وكيسان، وسورح، ولوطان، وناقش.

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْرِي نَفْسَهُ} : هو صهيب.

{إِذْ قَالُوا لِنَبِيٍّ لَهُمُ} : هو شمويل، وقيل: شمعون، وقيل: يوشع.

{أَوْ كَالَّذِي مَرَّ} : هو عزير، وقيل: أرمياء، وقيل: حزقيل.

{امْرَأَتُ عِمْرَانَ} : حنة بنت فاقوذ.

{وَامْرَأَتِي عَاقِرٌ} : هي أشياع أو أشيع بنت فاقوذ.

{وَإِنَّ مِنْكُمْ لَمَنْ لَيُبَطِّئَنَّ} : هو عبد الله بن أبي بن سلول.

{وَلا تَقُولُوا لِمَنْ أَلْقَى إِلَيْكُمُ السَّلامَ لَسْتَ مُؤْمِنًا} : هو عامر بن الأضبط الأشجعى، وقيل: مرداس.. والقائل ذلك نفر من المسلمين منهم: أبو قتادة ومسلم بن جثامة.. وقد قتل واختلفوا في قاتله أهو أسامة بن زيد أم المقداد بن الأسود أم محلم بن جثامة.

{وَمَنْ يَخْرُجْ مِنْ بَيْتِهِ مُهَاجِرًا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ} : هو ضمرة بن جندب، وقيل: ابن العيص ورجل من خزاعة، وقيل: أبو ضمرة بن العيص، وقيل: اسمه سبرة، وقيل: هو خالد بن حزام.

{وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا} : هم: شموع بن زكور من سبط روبيل، وشوقط بن حوري من سبط شمعون، وكالب بن يوفنا من سبط يهوذا، وبعورك بن يوسف من سبط إيشاجر، ويوشع بن نون من سبط
"আসিবাত" (বংশধরগণ): ইয়াকুবের বারোজন সন্তান: ইউসুফ, রুবিল, শামউন, লাবি, ইয়াহুদা, দানি, তাফতানি, কাসদ, ইয়াশির, ইশাজার, রাইলুন এবং বিনয়ামিন।

"ইব্রাহিমের সন্তানগণ": তারা হলেন: ইসমাইল, ইসহাক, মান, জিমরান, সারাহ, নাফাশ, নাফাশান, আমিম, কাইসান, সুরাহ, লুতান এবং নাকিস।

{আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) নিজের জীবনকে বিক্রি করে দেয়} : তিনি হলেন সুহাইব।

{যখন তারা তাদের এক নবীকে বলেছিল} : তিনি হলেন শামুইল, মতান্তরে: শামউন, মতান্তরে: ইউশা।

{অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে জনপদ অতিক্রম করছিল} : তিনি হলেন উযাইর, মতান্তরে: ইরমিয়া, মতান্তরে: হিযকিল।

{ইমরানের স্ত্রী} : হান্নাহ বিনতে ফাকুয।

{আর আমার স্ত্রী বন্ধ্যা} : তিনি হলেন আশইয়া অথবা আশয়ি’ বিনতে ফাকুয।

{আর তোমাদের মধ্যে এমন লোকও আছে যে অবশ্যই গড়িমসি করবে} : তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন উবাই বিন সুলুল।

{আর যে তোমাদের প্রতি সালাম পেশ করে তাকে বলো না যে, তুমি মুমিন নও} : তিনি হলেন আমির বিন আদবাত আল-আশজায়ি, মতান্তরে: মিরদাস। আর এ কথাটি মুসলিমদের একটি দল বলেছিল, যাদের মধ্যে ছিলেন: আবু কাতাদাহ এবং মুসলিম বিন জাসসামাহ। তাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার হত্যাকারী কে তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে—তিনি কি উসামা বিন যায়েদ, নাকি মিকদাদ বিন আসওয়াদ, নাকি মুহাল্লিম বিন জাসসামাহ।

{আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করার জন্য নিজের ঘর থেকে বের হয়} : তিনি হলেন দামরা বিন জুনদুব, মতান্তরে: ইবনুল আইস এবং খুযাআ গোত্রের এক ব্যক্তি, মতান্তরে: আবু দামরা বিন আল-আইস, মতান্তরে: তার নাম সাবরা, মতান্তরে: তিনি হলেন খালিদ বিন হিযাম।

{আর আমি তাদের মধ্য থেকে বারোজন নকিব (নেতা) প্রেরণ করেছিলাম} : তারা হলেন: রুবিল গোত্র থেকে শামু' বিন যাক্কুর, শামউন গোত্র থেকে শাউফাত বিন হুরি, ইয়াহুদা গোত্র থেকে কালিব বিন ইউফান্না, ইশাজার গোত্র থেকে বা'ওয়ারক বিন ইউসুফ এবং ... গোত্র থেকে ইউশা বিন নুন।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
إفراثيم بن يوسف، وبلطي بن روفو من سبط بنيامين، وكرابيل بن سوري من سبط زبالون، وكد بن شاس من سبط منشا بن يوسف، وعماييل بن كسل من سبط دان، وستور بن ميخائيل من سبط أشير، ويوحنا بن وقوس من سبط نفتال، وإل بن موخا من سبط كاذلو.

{قَالَ رَجُلانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ} : هما يوشع وكالب.

{الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانْسَلَخَ مِنْهَا} : هو بلعم، ويقال: بلعام بن آبر. ويقال: باعر. ويقال: باعور. وقيل: هو أمية بن أبي الصلت. وقيل: صيفي بن الراهب. وقيل: فرعون، وهو أغربها.

{فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ} : هم: أبو جهل، وأمية بن خلف، وسهيل بن عمرو، وعتبة بن ربيعة.

{وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُم} : وهم: عبد الله بن أبي بن سلول، ورفاعة بن التابوت، وأوس بن قيظي.

{وَمِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ ائْذَنْ لِي} : هو الجد بن قيس.

{وَمِنْهُمْ مَنْ يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ} : هو ذو الخويصرة.

{إِنْ نَعْفُ عَنْ طَائِفَةٍ مِنْكُمْ} : من بينهم مخشي بن حمير.

{وَمِنْهُمْ مَنْ عَاهَدَ اللَّهَ} : هو ثعلبة بن حاطب.

{وَآخَرُونَ اعْتَرَفُوا بِذُنُوبِهِمْ} : كانوا سبعة عُرف منهم: أبو لبابة.

{وَآخَرُونَ مُرْجَوْنَ لِأَمْرِ اللَّهِ} : هم: هلال بن أمية، ومرارة بن الربيع، وكعب بن مالك، وهم الثلاثة الذي خلفوا.

{وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مَسْجِدًا ضِرَارًا} : قال ابن إسحاق: اثنا عشر من الأنصار: حزام بن خالد، وثعلبة بن حاطب، وهزال بن أمية، ومعتب
ইউসুফ-তনয় ইফরাথিম, বিনিয়ামিন গোত্রীয় রুফুর পুত্র বালতি, জাবালুন গোত্রীয় সুরির পুত্র কারাবিল, ইউসুফ-তনয় মানশার গোত্রীয় শাসের পুত্র কাদ, দান গোত্রীয় কাসালের পুত্র আমায়িল, আশির গোত্রীয় মিখাইলের পুত্র সাতুর, নাফতাল গোত্রীয় ওয়াকুসের পুত্র ইউহান্না এবং কায গোত্রীয় মুখার পুত্র ইল।

{যে দুইজন লোক ভয় করছিল, তারা বলল} : তারা হলেন ইউশা ও কালিব।

{যাকে আমি আমার নিদর্শনসমূহ দিয়েছিলাম, অতঃপর সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে গেল} : সে হলো বালআম। বলা হয়ে থাকে: আবর-তনয় বালআম। বলা হয়: বাআর। বলা হয়: বাউর। বলা হয়েছে: সে উমাইয়া ইবনে আবিস সালত। বলা হয়েছে: সাইফি ইবনুর রাহিব। বলা হয়েছে: ফেরাউন, আর এটি সবচেয়ে অদ্ভুত মত।

{অতএব কুফরের নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো} : তারা হলেন: আবু জাহল, উমাইয়া ইবনে খালাফ, সুহাইল ইবনে আমর এবং উতবা ইবনে রাবিয়া।

{তোমাদের মধ্যে তাদের কথা শ্রবণকারী একদল রয়েছে} : তারা হলেন: আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল, রিফায়া ইবনুত তাবুত এবং আওস ইবনে কাইজি।

{তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে বলে, আমাকে অনুমতি দিন} : সে হলো জাদ্দ ইবনে কায়েস।

{তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে সদকা বণ্টনের ব্যাপারে আপনাকে দোষারোপ করে} : সে হলো যুল খুওয়াইসিরা।

{আমি যদি তোমাদের মধ্য হতে একদলকে ক্ষমা করি} : তাদের মধ্যে মাখশি ইবনে হিমইয়ার অন্তর্ভুক্ত।

{তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করেছিল} : সে হলো সা’লাবা ইবনে হাতিব।

{আর অন্য কিছু লোক আছে যারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে} : তারা ছিলেন সাতজন, যাদের মধ্যে আবু লুবাবা পরিচিত।

{আর অন্য কিছু লোক আছে যাদের সিদ্ধান্ত আল্লাহর নির্দেশের ওপর স্থগিত রাখা হয়েছে} : তারা হলেন: হিলাল ইবনে উমাইয়া, মুরারা ইবনুর রাবি এবং কাব ইবনে মালিক; তারা হলেন সেই তিনজন যাদের পিছনে রাখা হয়েছিল।

{আর যারা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণ করেছে} : ইবনে ইসহাক বলেন: তারা আনসারদের বারোজন ব্যক্তি: হিযাম ইবনে খালিদ, সা’লাবা ইবনে হাতিব, হায্যাল ইবনে উমাইয়া এবং মুয়াত্তিব...
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
ابن قشير، وأبو حبيبة بن الأزعر، وعباد بن حنيف، وجارية بن عامر وابناه مجمع وزيد، ونبتل بن الحارث، وبحزج، وبجاد بن عثمان، ووديعة بن ثابت. اهـ.

قلت: هؤلاء من المنافقين وليسوا من الأنصار.

{وَإِرْصَادًَا لِمَنْ حَارَبَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} : هو أبو عامر الراهب.

{وَنَادَى نُوحٌ ابْنَهُ} : اسمه كنعان، وقيل: يام.

{وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ} : اسمها سَارَّة.

"بنات لوط": ريئا ورغوثا.

{قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ لا تَقْتُلُوا يُوسُفَ} : هو روبيل، وقيل: يهوذا، وقيل: شمعون.

{فَأَرْسَلُوا وَارِدَهُمْ} : هو مالك بن دعر.

{وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ} : هو قطفير أو أطيفير.

{لِامْرَأَتِهِ} : هي راعيل. وقيل: زليخا.

{وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ} : هما مجلث وبنو وهو الساقي. وقيل: هما راشان ومرطش.

{اذْكُرْنِي عِنْدَ رَبِّكَ} : هو الملك ريان بن الوليد.

{فَتَحَسَّسُوا مِنْ يُوسُفَ وَأَخِيهِ} : هو بنيامين.

{قَالَ كَبِيرُهُمْ} : هو شمعون. وقيل: روبيل.

{آوَى إِلَيْهِ أَبَوَيْهِ} : هما أبوه وخالته ليا. وقيل: أمه واسمها راحيل.

{وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ} : هو عبد الله بن سلام. وقيل: جبريل.

قول إبراهيم: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ} : اسم الأب تارح. واسم أمه: ثاني. وقيل نوفا. وقيل: ليوثا.
ইবনে কুশাইর, আবু হাবিবাহ ইবনুল আজআর, আব্বাদ ইবনে হানিফ, জারিয়া ইবনে আমির এবং তার দুই পুত্র মুজাম্মি ও যাইদ, নাবতাল ইবনুল হারিস, বাহজাজ, বিজাদ ইবনে উসমান এবং ওয়াদিয়া ইবনে সাবিত। (সমাপ্ত)

আমি বলছি: এরা মুনাফিকদের অন্তর্ভুক্ত এবং তারা আনসারদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

{এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল তার জন্য ঘাঁটি হিসেবে}: তিনি হলেন আবু আমির আর-রাহিব।

{এবং নূহ তার পুত্রকে ডেকেছিলেন}: তার নাম কানআন, মতান্তরে: ইয়াম।

{এবং তার স্ত্রী দাঁড়িয়ে ছিল, অতঃপর সে হাসল}: তার নাম সারাহ।

"লুত (আ.)-এর কন্যারা": রায়আ এবং রাগুসা।

{তাদের মধ্য থেকে এক বক্তা বলল, তোমরা ইউসুফকে হত্যা করো না}: তিনি হলেন রুবিল, মতান্তরে: ইয়াহুদা, আবার মতান্তরে: শামউন।

{অতঃপর তারা তাদের পানি সংগ্রাহককে পাঠাল}: তিনি হলেন মালিক ইবনে দায়র।

{এবং যে তাকে ক্রয় করেছিল সে বলল}: তিনি হলেন কিতফির বা আতিফির।

{তার স্ত্রীর প্রতি}: তিনি হলেন রায়িল। মতান্তরে: জুলাইখা।

{এবং তার সাথে দুইজন যুবক কারাগারে প্রবেশ করল}: তারা দুজন হলো মাজলাস এবং বানু, যে ছিল পানপাত্র পরিবেশক। মতান্তরে: তারা দুজন হলো রাশান এবং মারতাশ।

{তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা আলোচনা করো}: তিনি হলেন বাদশাহ রাইয়ান ইবনুল ওয়ালিদ।

{অতঃপর তোমরা ইউসুফ এবং তার ভাইয়ের খোঁজ নাও}: সে হলো বিন ইয়ামিন।

{তাদের বড়জন বলল}: তিনি হলেন শামউন। মতান্তরে: রুবিল।

{সে তার পিতামাতাকে নিজের কাছে স্থান দিল}: তারা হলেন তার পিতা এবং তার খালা লিয়া। মতান্তরে: তার মা, যার নাম রাহিল।

{এবং যার কাছে কিতাবের জ্ঞান আছে}: তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম। মতান্তরে: জিবরাঈল।

ইব্রাহিম (আ.)-এর উক্তি: {হে আমার রব, আমাকে এবং আমার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন}: পিতার নাম তারাহ। এবং তার মাতার নাম: সানি। মতান্তরে: নুফা। আবার মতান্তরে: লাইউসা।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
{إِنَّا كَفَيْنَاكَ الْمُسْتَهْزِئينَ} : كانوا خمسة: الوليد بن المغيرة، والعاصي بن وائل، وأبو زمعة، والحارث بن قيس، والأسود بن عبد يغوث.

{كَالَّتِي نَقَضَتْ غَزْلَهَا} : ريطة بنت سعيد بن زيد.

{إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ} : عنوا سلمان الفارسي.

{أَصْحَابَ الْكَهْفِ} : تلميخا وهو رئيسهم والقائل: {فَأْوُوا إِلَى الْكَهْفِ} و {رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُم} ، وتكسليمنا وهو القائل {كَمْ لَبِثْتُم} ومرطوش، ويرافش، وأيونس، وأويسطانس، وشلططيوس.

{فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ} : هو تمليخا.

{وَلا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ} : هو عينية بن حصن.

{وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ} : هو يوشع بن نون.

{فَوَجَدَا عَبْدًا} : هو الخضر.. واسمه بليا.

{لَقِيَا غُلامًا فَقَتَلَهُ} : اسمه جيسون.

{وَرَاءَهُمْ مَلِكٌ} قيل يُدْعَى: هدد بن بدد.

{فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ} : اسم الأب كازيرا. والأم سهوا.

{لِغُلامَيْنِ يَتِيمَيْنِ} : هما: أصرم وصريم.

{فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا} : قيل: عيسى. وقيل: جبريل.

{وَيَقُولُ الْإِنْسَانُ أَإِذَا مَا مِتُّ لَسَوْفَ أُخْرَجُ حَيًّا} : هو أبي بن خلف. وقيل: أمية بن خلف، وقيل: الوليد بن المغيرة..

{أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآياتِنَا} : هو العاصي بن وائل.

{قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا} : اسم القتيل القبطي قانون.

"السامري": اسمه موسى بن ظفر.
{নিশ্চয়ই আমি বিদ্রূপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার জন্য যথেষ্ট}: তারা ছিল পাঁচজন: ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাহ, আস ইবনু ওয়ায়িল, আবু জামআহ, হারিস ইবনু কায়েস এবং আসওয়াদ ইবনু আবদি ইয়াগুস।

{সেই নারীর ন্যায়, যে তার সুতা মজবুত করে পাকানোর পর তা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলে}: রায়তাহ বিনতে সাঈদ ইবনু জায়েদ।

{তাকে তো কেবল একজন মানুষ শিক্ষা দেয়}: তারা সালমান আল-ফারসিকে বুঝিয়েছে।

{গুহাবাসীগণ}: তামলিখা, তিনি তাদের নেতা এবং তিনি এই কথা বলেছিলেন: {তোমরা গুহায় আশ্রয় নাও} এবং {তোমাদের প্রতিপালকই ভালো জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ}, আর মাকসালমীনা, যিনি বলেছিলেন {তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ}, এবং মারতুশ, ইয়ারাফিশ, আইউনুস, আইউসতানুস ও শালতাতিউস।

{সুতরাং তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ পাঠাও}: তিনি হলেন তামলিখা।

{এবং আপনি তার আনুগত্য করবেন না, যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ হতে গাফেল করে দিয়েছি}: তিনি হলেন উয়াইনা ইবনু হিসন।

{এবং যখন মূসা তাঁর যুবক সঙ্গীকে বলেছিলেন}: তিনি হলেন ইউশা ইবনু নুন।

{অতঃপর তারা আমার বান্দাদের মধ্যে একজনের সাক্ষাৎ পেলেন}: তিনি হলেন খিজির.. তাঁর নাম বালিয়া।

{তারা এক বালকের সাক্ষাৎ পেল, অতঃপর সে তাকে হত্যা করল}: তার নাম জয়সুন।

{তাদের পেছনে ছিল এক রাজা}: বলা হয়েছে তার নাম হাদাদ ইবনু বাদাদ।

{তার পিতা-মাতা ছিল মুমিন}: পিতার নাম কাজিরা এবং মাতার নাম সাহওয়া।

{দুই এতিম বালকের জন্য}: তারা হলো আসরাম এবং সারিম।

{অতঃপর নিচ থেকে তাকে আওয়াজ দেওয়া হলো}: বলা হয়েছে: ঈসা। আবার বলা হয়েছে: জিবরাঈল।

{মানুষ বলে: আমার যখন মৃত্যু হবে, তখন কি আমাকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা হবে?}: তিনি হলেন উবাই ইবনু খালাফ। বলা হয়েছে: উমাইয়া ইবনু খালাফ, আবার বলা হয়েছে: ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরাহ..

{আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে}: তিনি হলেন আস ইবনু ওয়ায়িল।

{আমি তাদের একজনকে হত্যা করেছি}: নিহত কিবতি ব্যক্তির নাম ছিল কানুন।

"সামেরী": তার নাম মুসা ইবনু জাফার।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يُجَادِلُ فِي اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ} : هو النضر بن الحارث.

{هَذَانِ خَصْمَانِ اخْتَصَمُوا فِي رَبِّهِمْ} : المؤمنون: حمزة بن عبد المطلب، وعبيدة بن الحارث بن عبد المطلب، وعلي بن أبي طالب.. والكافرون هم: عتبة وشيبة ابنا ربيعة، والوليد بن عتبة.

{وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ} : نزلت في عبد الله بن أنيس.

{الَّذِينَ جَاءُوا بِالْأِفْكِ} : هم: حسان بن ثابت، ومسطح بن أثاثة، وحنة بنت جحش، وعبد الله بن أبي وهو الذي تولى كبره.

{وَيَوْمَ يَعَضُّ الظَّالِمُ} : هو عقبة بن أبي معيط.

{لَمْ أَتَّخِذْ فُلانًا خَلِيلًا} : أبي بن خلف أو أمية بن خلف.

{وَكَانَ الْكَافِرُ عَلَى رَبِّهِ ظَهِيرًا} : هو أبو جهل.

{إِنِّي وَجَدْتُ امْرَأَةً تَمْلِكُهُمْ} : هى بلقيس بنت شراحيل.

{فَلَمَّا جَاءَ سُلَيْمَانَ} : اسم الجائي منذر.

{قَالَ عِفْرِيتٌ مِنَ الْجِنِّ} : اسمه كوزن، كذا قيل.

{الَّذِي عِنْدَهُ عِلْمٌ مِنَ الْكِتَابِ} : هو آصف بن برخيا. وقيل: هو جبريل. وقيل: هو الخضر.

{وَكَانَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ} : هم: رعمى، ورعيم، وهرمى، وهريم، وداءب، وصواب، ورب، ومسطع، وقدار بن سالف عاقر الناقة.

{فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ} : اسم الملتقط طايوس.

{امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ} : آسية بنت مزاحم.

{أُمِّ مُوسَى} : يوحانذ بنت يصهر.
{মানুষের মধ্যে কেউ কেউ আল্লাহ সম্পর্কে বিতর্ক করে জ্ঞান ছাড়াই} : তিনি হলেন নযর বিন হারিস।

{এই দুই পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বিতর্ক করেছে} : মুমিনগণ হলেন: হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব, উবাইদাহ বিন হারিস বিন আব্দুল মুত্তালিব এবং আলী বিন আবি তালিব.. আর কাফিরগণ হলো: রাবিয়াহর দুই ছেলে উতবাহ ও শাইবাহ এবং ওয়ালিদ বিন উতবাহ।

{যে ব্যক্তি সেখানে পাপাচারের ইচ্ছা করে} : এটি আব্দুল্লাহ বিন উনাইস সম্পর্কে নাযিল হয়েছে।

{যারা এই অপবাদ রচনা করেছে} : তারা হলো: হাসসান বিন সাবিত, মিসতাহ বিন উসাসাহ, হামনাহ বিনতে জাহশ এবং আব্দুল্লাহ বিন উবাই—যে এ ব্যাপারে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল।

{এবং যেদিন যালিম তার হাত কামড়াবে} : তিনি হলেন উকবাহ বিন আবি মুআইত।

{আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম} : উবাই বিন খালাফ অথবা উমাইয়াহ বিন খালাফ।

{আর কাফির তার প্রতিপালকের বিপক্ষে সাহায্যকারী} : তিনি হলেন আবু জাহল।

{আমি এক নারীকে তাদের উপর রাজত্ব করতে দেখলাম} : তিনি হলেন বিলকিস বিনতে শারাহিল।

{অতঃপর যখন সে সুলাইমানের কাছে আসলো} : আগমনকারীর নাম হলো মুনযির।

{এক শক্তিশালী জিন বললো} : তার নাম কুযান, এমনটিই বলা হয়েছে।

{যার কাছে কিতাবের জ্ঞান ছিল} : তিনি হলেন আসিফ বিন বারখিয়া। মতান্তরে তিনি জিবরাঈল। আবার বলা হয়েছে তিনি খিজির।

{আর সেই শহরে নয়জন ব্যক্তি ছিল} : তারা হলো: রা’মা, রুআইম, হারমা, হুরাইম, দায়েব, সাওয়াব, রাব্ব, মাসতা’ এবং উষ্ট্রী হত্যাকারী কুদার বিন সালিফ।

{অতঃপর ফিরআউনের পরিবার তাকে কুড়িয়ে পেল} : যে ব্যক্তিটি তাকে কুড়িয়ে পেয়েছিল তার নাম তায়ূস।

{ফিরআউনের স্ত্রী} : আছিয়া বিনতে মুযাহিম।

{মূসার মা} : ইউহানয বিনতে ইয়াসহার।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
{وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ} : اسمها مريم أو كلثوم.

{هَذَا مِنْ شِيعَتِهِ وَهَذَا مِنْ عَدُوِّهِ} : السامري من شيعته.. وفاتون القتيل من عدوه.

{وَجَاءَ رَجُلٌ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَى} : هو مؤمن آل فرعون، واسمه سمعان في الراجح.

{وَوَجَدَ مِنْ دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ} : هما: ليا وصفوريا، وهي التى تزوجها.

{وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ} : قيل: هو شعيب. وقيل: بئرون ابن أخي شعيب..

"ابن لقمان": اسمه باران في الراجح.

{وَيَسْتَأْذِنُ فَرِيقٌ مِنْهُمُ النَّبِيَّ} : من بينهم: أبو عوانة بن أوس، وأوس بن قيظي.

{لِلَّذِي أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتَ عَلَيْهِ} : هو زيد بن حارثة.. وقد بين.

{أَمْسِكْ عَلَيْكَ زَوْجَكَ} : هي زينب بنت جحش.

{أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ} : هما شمعون ويوحنا.

{فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ} : هو بولس … وقيل: الثلاثة: صادق وصدوق وشلوم..

{وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ} : هو حبيب النجار.

{أَرِنَا الَّذَيْنِ أَضَلَّانَا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ} : هما: إبليس وقابيل.

{لَوْلا نُزِّلَ هَذَا الْقُرْآنُ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْقَرْيَتَيْنِ عَظِيمٍ} : عنوا من مكة: الوليد بن المغيرة.. ومن الطائف: عروة بن مسعود الثقفي.
{এবং সে তাঁর বোনকে বলল, তুমি তাঁর পিছু নাও}: তাঁর নাম ছিল মারইয়াম অথবা কুলসুম।

{এ ব্যক্তি ছিল তাঁর নিজের দলের এবং সে ছিল তাঁর শত্রুপক্ষের}: সামেরী ছিল তাঁর দলের এবং নিহত ফাতুন ছিল তাঁর শত্রুপক্ষের।

{আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এল}: তিনি হলেন ফেরাউনের বংশের মুমিন ব্যক্তি, আর বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তাঁর নাম সামআন।

{সেখানে তিনি তাঁদের ছাড়া দুইজন নারীকে দেখলেন যারা তাদের পশুগুলোকে আগলে রাখছিল}: তাঁরা হলেন: লিয়া এবং সাফুরা; আর সাফুরাকেই তিনি বিবাহ করেছিলেন।

{আর আমাদের পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ মানুষ}: বলা হয়েছে: তিনি হলেন শুআইব। আবার বলা হয়েছে: তিনি শুআইবের ভ্রাতুষ্পুত্র বিরুন।

"লুকমানের পুত্র": বিশুদ্ধ অভিমত অনুযায়ী তাঁর নাম বারান।

{আর তাদের মধ্যে একদল নবীর কাছে অনুমতি চাচ্ছিল}: তাঁদের মধ্যে ছিলেন: আবু আওয়ানা বিন আউস এবং আউস বিন কাইজি।

{যাকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনিও অনুগ্রহ করেছেন}: তিনি হলেন যায়িদ বিন হারিসা, যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

{তুমি তোমার স্ত্রীকে তোমার কাছেই রাখ}: তিনি হলেন যায়নাব বিনতে জাহশ।

{আমি তাদের কাছে দু’জন পাঠিয়েছিলাম}: তাঁরা হলেন শামউন এবং ইউহান্না।

{অতঃপর আমি তৃতীয় একজনকে দিয়ে শক্তিশালী করলাম}: তিনি হলেন বুলুস … আর বলা হয়েছে: তাঁরা তিনজন হলেন— সাদিক, সাদুক এবং শালুম।

{আর শহরের দূরপ্রান্ত থেকে এক ব্যক্তি ছুটে এল}: তিনি হলেন হাবীব নাজ্জার।

{আমাদেরকে জিন ও মানুষের মধ্য থেকে সেই দুইজনকে দেখিয়ে দিন যারা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিল}: তারা হলো: ইবলিস এবং কাবিল।

{কেন এই কুরআন দুই জনপদের কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ওপর নাযিল করা হলো না?}: মক্কা থেকে তারা উদ্দেশ্য করেছিল ওয়ালিদ বিন মুগীরাহকে এবং তায়েফ থেকে উরওয়াহ বিন মাসউদ সাকাফীকে।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
{وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلًا} : الضارب له هو عبد الله بن الزبعري..

{وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائِيلَ} : هو عبد الله بن سلام.

{أَفَرَأَيْتَ الَّذِي تَوَلَّى} : هو العاصي بن وائل. وقيل: الوليد بن المغيرة..

{قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا} : هي خولة بنت ثعلبة. وزوجها هو أوس بن الصامت.

{لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ} : هى سريتة مارية.. كذا قيل.

{أَسَرَّ النَّبِيُّ إِلَى بَعْضِ أَزْوَاجِهِ} : هى حفصة.

{فَلَمَّا نَبَّأَتْ بِه} : أخبرت عائشة.

{امْرَأَتَ نُوحٍ} : والعة.

{امْرَأَتَ لُوطٍ} : والهة.

{وَلا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ} : نزلت في الأسود بن عبد يغوث.. وقيل: الأخنس بن شريق.. وقيل: الوليد بن المغيرة.

{سَأَلَ سَائِلٌ} : هو النضر بن الحارث.

قول نوح: {رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ} : اسم أبيه لمك بن متوشلخ.. واسم أمه سمحا بنت أنوش.

{ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا} : هو الوليد بن المغيرة.

{فَلا صَدَّقَ وَلا صَلَّى} : نزلت في أبي جهل.

{أَنْ جَاءَهُ الْأَعْمَى} : هو عبد الله بن أم مكتوم.

{أَمَّا مَنِ اسْتَغْنَى} : هو أمية بن خلف. وقيل: هو عتبة بن ربيعة.

{فَأَمَّا الْإِنْسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ} نزلت في أمية بن خلف.
{মরিয়মের পুত্রের উদাহরণ যখন পেশ করা হলো} : এর উদাহরণ দানকারী হলেন আবদুল্লাহ ইবনুল জিবায়রী।

{আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী যখন সাক্ষ্য দিল} : তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে সালাম।

{আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে?} : সে হলো আস ইবনে ওয়াইল। বলা হয়ে থাকে: ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা।

{সেই নারীর কথা যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল} : তিনি হলেন খাওলা বিনতে সা'লাবা। এবং তাঁর স্বামী হলেন আওস ইবনে সামিত।

{আল্লাহ আপনার জন্য যা বৈধ করেছেন, আপনি তা কেন নিষিদ্ধ করছেন?} : তিনি হলেন তাঁর দাসী মারিয়া... এমনই বলা হয়েছে।

{নবী যখন তাঁর জনৈক স্ত্রীর কাছে গোপন কথা বললেন} : তিনি হলেন হাফসা।

{অতঃপর তিনি যখন তা জানিয়ে দিলেন} : তিনি আয়েশাকে অবহিত করেছিলেন।

{নূহের স্ত্রী} : ওয়ালেআ।

{লূতের স্ত্রী} : ওয়ালেহা।

{আর আপনি আনুগত্য করবেন না এমন ব্যক্তির যে অধিক কসম করে} : এটি আসওয়াদ ইবনে আবদ ইয়াগুস সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে... বলা হয়ে থাকে: আখনাাস ইবনে শারীক... আবার বলা হয়ে থাকে: ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা।

{এক যাঞ্চাকারী প্রার্থনা করল} : তিনি হলেন নাযর ইবনুল হারিস।

নূহের উক্তি: {হে আমার পালনকর্তা! আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন} : তাঁর পিতার নাম লামাক ইবনে মাতুশালখ... এবং তাঁর মাতার নাম সামহা বিনতে আনুশ।

{ছেড়ে দিন আমাকে আর তাকে যাকে আমি একাকী সৃষ্টি করেছি} : তিনি হলেন ওয়ালিদ ইবনুল মুগীরা।

{অতঃপর সে বিশ্বাস করেনি এবং সালাতও আদায় করেনি} : এটি আবু জাহেল সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

{যেহেতু তাঁর কাছে অন্ধ ব্যক্তিটি এল} : তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম।

{পক্ষান্তরে যে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে} : সে হলো উমাইয়া ইবনে খালাফ। বলা হয়ে থাকে: সে হলো উতবা ইবনে রাবী'আ।

{অতঃপর মানুষ, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন} এটি উমাইয়া ইবনে খালাফ সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
{أَرَأَيْتَ الَّذِي يَنْهَى، عَبْدًا} : الناهي أبو جهل.. والموجَّه إليه النهي هو النبي صلى الله عليه وسلم.

{إِنَّ شَانِئَكَ} : هو العاصي بن وائل وغيره.

"امرأة أبي لهب": أم جميل بنت حرب.

ومن المبهمات جموع عرف بعض أفرادها، قال تعالى من سورة البقرة: {وَقَالَ الَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ لَوْلا يُكَلِّمُنَا اللَّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ} .. سُمي منهم رافع بن حرملة.

{سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ} : سُمي منهم: رفاعة بن قيس، وقردوم بن عمرو، وكعب بن الأشرف، ورافع بن حرملة، والحجاج بن عمرو، والربيع بن أبي الحقيق.

{وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ} : سُمي منهم رافع ومالك بن عوف..

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَهِلَّةِ} : سُمي منهم: معاذ بن جبل، وثعلبة بن غنم.

{وَيَسْأَلونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ} : سُمي منهم عمرو بن الجموح.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْخَمْرِ} : سُمي منهم: عمر بن الخطاب، ومعاذ بن جبل، وحمزة بن عبد المطلب.

{وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْيَتَامَى} : سُمي منهم عبد الله بن رواحة.

{وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ} : سُمي منهم: ثابت بن الدحداح، وعباد بن بشر، وأسيد بن الحضير.

{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ} : سُمي منهم: النعمان بن عمرو، والحارث بن زيد، وكعب بن الأشرف.

{الْحَوَارِيُّونَ} : سُمي منهم: فطرس، ويعقوبس، ونهمس، وإندرانيس،
{আপনি কি তাকে দেখেছেন যে বাধা দেয়, এক বান্দাকে} : বাধা প্রদানকারী হলো আবু জাহল.. এবং যার প্রতি এই নিষেধাজ্ঞা নির্দেশিত হয়েছে তিনি হলেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

{নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই...} : সে হলো আস বিন ওয়াইল এবং অন্যান্যরা।

"আবু লাহাবের স্ত্রী": উম্মে জামিল বিনতে হারব।

অস্পষ্ট বিষয়সমূহের মধ্যে এমন কিছু দল রয়েছে যাদের কিছু সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারায় বলেছেন: {আর যারা জানে না তারা বলে, আল্লাহ কেন আমাদের সাথে কথা বলেন না অথবা কেন আমাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে না?} .. তাদের মধ্য থেকে রাফে বিন হারমালার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{নির্বোধরা শীঘ্রই বলবে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: রিফাআ বিন কায়স, কারদুম বিন আমর, কাব বিন আশরাফ, রাফে বিন হারমালা, হাজ্জাজ বিন আমর এবং রবী বিন আবি হাকীক।

{আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুসরণ করো} : তাদের মধ্য থেকে রাফে এবং মালিক বিন আওফ এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে..

{তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: মুয়ায বিন জাবাল এবং সালাবা বিন গানাম।

{তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে তারা কী ব্যয় করবে} : তাদের মধ্য থেকে আমর বিন জামুহ এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{তারা আপনাকে মদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব, মুয়ায বিন জাবাল এবং হামজা বিন আব্দুল মুত্তালিব।

{তারা আপনাকে এতিমদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে} : তাদের মধ্য থেকে আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{তারা আপনাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: সাবিত বিন দাহদাহ, আব্বাদ বিন বিশর এবং উসাইদ বিন হুদাইর।

{আপনি কি তাদের দেখেননি যাদেরকে কিতাবের এক অংশ দেওয়া হয়েছে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: নুমান বিন আমর, হারিস বিন যায়েদ এবং কাব বিন আশরাফ।

{হাওয়ারীগণ} : তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে: ফিতরাস, ইয়াকুবাস, নাহমাস, ইনদরানিস,
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
وفيلس، ودرنابوطا، وسرجس، وهو الذي أُلْقِيَ عليه شبه المسيح فقتلوه.

{وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا} : هم اثنا عشر من اليهود، سُمي منهم: عبد الله بن الصيف، وعدي بن زيد، والحارث بن عمرو.

{كَيْفَ يَهْدِي اللَّهُ قَوْمًا كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ} : منهم: أبو عامر الراهب، والحارث بن سويد بن الصامت، ووحوح بن الأسلت، وطعيمة بن أبيرق..

{يَقُولُونَ هَلْ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ مِنْ شَيْءٍ} : سُمي من القائلين عبد الله بن أبي.

{يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا} : سُمي من القائلين: عبد الله بن أبي، ومعتب بن قشير.

{وَقِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا قَاتِلُوا} : القائل ذلك عبد الله الأنصاري والد جابر رضى الله عنهما، والمقول لهم: عبد الله بن أبي وأصحابه.

{الَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِلَّهِ} : هم سبعون منهم: المبشرون بالجنة، وعبد الله بن مسعود، وحذيفة بن اليمان.

{الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ فَقِيرٌ وَنَحْنُ أَغْنِيَاءُ} : القائل فنحاص، وحيي بن أخطب، وكعب بن الأشرف.

{وَإِنَّ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَمَنْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ} : منهم: النجاشي، وعبد الله بن سلام.

{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُوا نَصِيبًا مِنَ الْكِتَابِ يَشْتَرُونَ الضَّلالَةَ} : سُمي منهم: رفاعة بن زيد بن التابوت، وكردم بن زيد، وأسامة بن حبيب، ورافع بن أبي رافع، وبحري بن عمرو، وحيي بن أخطب.

{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا} : سُمي منهم: الجلاس بن الصامت، ومعتب بن قشير، ورافع بن زيد.
ফিলিস, দিরনাবুত ও সারজিস; আর সে-ই যার ওপর মসীহ-এর সাদৃশ্য ফেলা হয়েছিল এবং তারা তাকে হত্যা করেছিল।

{আহলে কিতাবদের এক দল বলেছিল যে, তোমরা ঈমান আনো}: তারা ছিল বারোজন ইহুদি, তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলো: আবদুল্লাহ ইবনে আস-সাইফ, আদী ইবনে যায়দ এবং আল-হারিস ইবনে আমর।

{আল্লাহ কীভাবে এমন এক সম্প্রদায়কে হেদায়েত দেবেন যারা তাদের ঈমান আনার পর কুফরি করেছে}: তাদের মধ্যে রয়েছে: আবু আমির আর-রাহিব, আল-হারিস ইবনে সুয়াইদ ইবনে আস-সামিত, উহউহ ইবনুল আসলাত এবং তুআইমাহ ইবনে উবাইরিক।

{তারা বলে, আমাদের কি বিষয়ের কোনো কিছু করার আছে?}: এই কথা যারা বলেছিল তাদের মধ্যে নাম পাওয়া যায় আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর।

{তারা বলে, যদি এই বিষয়ে আমাদের কোনো কর্তৃত্ব থাকত, তবে আমরা এখানে নিহত হতাম না}: এই কথা যারা বলেছিল তাদের মধ্যে নাম পাওয়া যায়: আবদুল্লাহ ইবনে উবাই এবং মুআত্তিব ইবনে কুশাইর।

{এবং তাদের বলা হলো যে, এসো এবং যুদ্ধ করো}: এই কথাটি বলেছিলেন জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর পিতা আবদুল্লাহ আনসারী, আর যাদের উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছিল তারা হলো: আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীরা।

{যারা আল্লাহ্‌র ডাকে সাড়া দিয়েছিল}: তারা সত্তর জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন: জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্তগণ, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এবং হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান।

{যারা বলেছিল যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ দরিদ্র এবং আমরা সম্পদশালী}: এই কথাটি বলেছিল ফিনহাস, হুয়াই ইবনে আখতাব এবং কাব ইবনুল আশরাফ।

{আর আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে}: তাদের মধ্যে রয়েছেন: নাজ্জাশী এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালাম।

{আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের কিতাবের একাংশ দেওয়া হয়েছে, তারা বিভ্রান্তি ক্রয় করে}: তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলো: রিফায়া ইবনে যায়দ ইবনে আত-তাবুত, কারদাম ইবনে যায়দ, উসামা ইবনে হাবীব, রাফে ইবনে আবি রাফে, বাহরি ইবনে আমর এবং হুয়াই ইবনে আখতাব।

{আপনি কি তাদের দেখেননি যারা দাবি করে যে তারা ঈমান এনেছে}: তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায় তারা হলো: আল-জুলাস ইবনে আস-সামিত, মুআত্তিব ইবনে কুশাইর এবং রাফে ইবনে যায়দ।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
{أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ قِيلَ لَهُمْ كُفُّوا أَيْدِيَكُمْ} : القائل عبد الرحمن بن عوف وغيره من المسلمين.

{إِلَّا الَّذِينَ يَصِلُونَ إِلَى قَوْمٍ} : نزلت في: هلال بن عويمر الأسلمي، وسراقة بن مالك المدلجي.

{سَتَجِدُونَ آخَرِينَ} : نزلت في جماعة منهم: نعيم بن مسعود الأشجعي.

{إِنَّ الَّذِينَ تَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ ظَالِمِي أَنْفُسِهِمْ} : سُمي منهم: علي بن أمية بن خلف، والحارث بن زمعة، وأبو قيس بن قيس بن الوليد بن المغيرة، وأبو العاصي بن منبه بن الحجاج، وأبو قيس بن الفاكه.

{إِلَّا الْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ} : سُمي منهم: ابن عباس وأمه أم الفضل لبانة بنت الحارث، وعياش بن أبي ربيعة، وسلمة بن هشام.

{الَّذِينَ يَخْتَانُونَ أَنْفُسَهُمْ} : هم بنو أبيرق: بشر وبشير ومبشر.

{لَهَمَّتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ أَنْ يُضِلُّوكَ} : هم: أسيد بن عروة وأصحابه.

{وَيَسْتَفْتُونَكَ فِي النِّسَاءِ} : سُمي من المستفتين خولة بنت حكيم.

{يَسْأَلُكَ أَهْلُ الْكِتَابِ} : سُمي منهم: كعب بن الأشرف وفنحاص.

{لَكِنِ الرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ} : منهم عبد الله بن سلام.

{يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلالَةِ} : سُمي منهم جابر بن عبد الله.

{وَلا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ} : سُمي منهم الحطم بن هند البكري.

{يَسْأَلونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ} : سُمي منهم: عدى بن حاتم، وزيد بن المهلهل -الطائيان- وعاصم بن عدي، وسعد بن خثمة، وعويمر بن ساعدة.

{إِذْ هَمَّ قَوْمٌ أَنْ يَبْسُطُوا} : سُمي منهم: كعب بن الأشرف، وحيي بن أخطب.
{আপনি কি তাদের দেখেননি যাদের বলা হয়েছিল, তোমরা তোমাদের হাত গুটিয়ে রাখো} : প্রবক্তা হলেন আবদুর রহমান বিন আউফ এবং অন্যান্য মুসলিমগণ।

{কিন্তু যারা এমন সম্প্রদায়ের সাথে মিলিত হয়} : এটি হিলাল বিন উওয়াইমির আল-আসলামি এবং সুরাকা বিন মালিক আল-মুদলিজি সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

{তোমরা শীঘ্রই অন্যদের পাবে} : এটি একদল লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যাদের মধ্যে নুআইম বিন মাসউদ আল-আশজায়ি অন্যতম।

{নিশ্চয়ই ফেরেশতারা যাদের জান কবজ করে নিজেদের প্রতি জুলুম করা অবস্থায়} : তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায়: আলি বিন উমাইয়াহ বিন খালাফ, আল-হারিস বিন জামআহ, আবু কাইস বিন কাইস বিন আল-ওয়ালিদ বিন আল-মুগিরাহ, আবু আল-আসি বিন মুনাব্বিহ বিন আল-হাজ্জাজ এবং আবু কাইস বিন আল-ফাকিহ।

{কিন্তু পুরুষ, নারী ও শিশুদের মধ্যে যারা অসহায়} : তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায়: ইবনে আব্বাস ও তাঁর মাতা উম্মুল ফজল লুবানাহ বিনতে আল-হারিস, আইয়াশ বিন আবি রাবিআহ এবং সালামাহ বিন হিশাম।

{যারা নিজেদের সাথে খিয়ানত করে} : তারা হলো বনু উবাইরিক: বিশর, বাশির এবং মুবাশশির।

{তাদের একদল তোমাকে পথভ্রষ্ট করার সংকল্প করেছিল} : তারা হলো: উসাইদ বিন উরওয়াহ এবং তার সঙ্গীরা।

{তারা আপনার কাছে নারীদের বিষয়ে ফতোয়া চায়} : ফতোয়া যাচনাকারীদের মধ্যে খাওলা বিনতে হাকিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{আহলে কিতাব আপনার কাছে আবেদন করে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায়: কাব বিন আল-আশরাফ এবং ফিনহাস।

{কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে সুগভীর} : তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন আবদুল্লাহ বিন সালাম।

{তারা আপনার কাছে ফতোয়া চায়; আপনি বলুন, আল্লাহ তোমাদের 'কালালাহ' সম্পর্কে ফতোয়া দিচ্ছেন} : তাদের মধ্যে জাবির বিন আবদুল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{এবং পবিত্র ঘরের (হজ পালনের) সংকল্পকারীদের (উত্যক্ত করো না)} : তাদের মধ্যে হুতাম বিন হিন্দ আল-বাকরির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{তারা আপনাকে প্রশ্ন করে যে, তাদের জন্য কী হালাল করা হয়েছে} : তাদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া যায়: আদি বিন হাতিম, যায়িদ বিন আল-মুহালহাল—তাঈ গোত্রের দুজন—এবং আসিম বিন আদি, সাদ বিন খাসমাহ ও উওয়াইমির বিন সাঈদা।

{যখন এক সম্প্রদায় (তোমাদের দিকে হাত) প্রসারিত করতে উদ্যত হয়েছিল} : তাদের মধ্যে কাব বিন আল-আশরাফ এবং হুয়াই বিন আখতাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৯)
{وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَّةً لِلَّذِينَ آمَنُوا} : هم الوفد الذين قدموا من عند النجاشي، وسُمي منهم: إدريس، وإبراهيم، والأشرف، وتميم، وتمام، ودريد.

{وَقَالُوا لَوْلا أُنْزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ} : سُمي منهم: زمعة بن الأسود، والنضر بن الحارث بن كلدة، وأُبي بن خلف، والعاصي بن وائل.

{وَلا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ} : سُمي منهم: صيب، وبلال، وعمار، وخباب، وسعد بن أبي وقاص، وابن مسعود، وسلمان الفارسي رضي الله عنهم.

{إِذْ قَالُوا مَا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَى بَشَرٍ مِنْ شَيْءٍ} : سُمي منهم: فنحاص، ومالك بن الصيف.

{قَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ حَتَّى نُؤْتَى مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ} : سُمي منهم: أبو جهل، والوليد بن المغيرة.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ السَّاعَةِ} : سُمي منهم: حسل بن أبي قشير، وشمويل بن زيد.

{يَسْأَلونَكَ عَنِ الْأَنْفَالِ} : سُمي منهم سعد بن أبي وقاص.

{وَإِنَّ فَرِيقًا مِنَ الْمُؤْمِنِينَ لَكَارِهُونَ} : سُمي منهم أبو أيوب الأنصاري.

{إِنْ تَسْتَفْتِحُوا} : سُمي منهم أبو جهل.

{وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا} : هم أهل دار الندوة. سُمي منهم: عتبة وشيبة ابنا ربيعة، وأبو سفيان، وأبو جهل، وجبير بن مطعم، وطعيمة بن عدي، والحارث بن عامر، والنضر بن الحارث. وزمعة بن الأسود، وحكيم بن حزام، وأمية بن خلف.
{মুমিনদের প্রতি ভালোবাসায় আপনি তাদেরকেই নিকটতম পাবেন}: তারা সেই প্রতিনিধি দল যারা নাজাশির পক্ষ থেকে এসেছিল, তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: ইদ্রিস, ইবরাহিম, আশরাফ, তামিম, তাম্মাম এবং দুরাইদ।

{এবং তারা বলেছিল কেন তার নিকট কোনো ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হলো না}: তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: জামআ ইবনে আসওয়াদ, নাজর ইবনে হারিস ইবনে কালদাহ, উবাই ইবনে খালাফ এবং আস ইবনে ওয়াইল।

{আর যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের রবকে আহ্বান করে আপনি তাদেরকে তাড়িয়ে দেবেন না}: তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: সুহাইব, বিলাল, আম্মার, খাব্বাব, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, ইবনে মাসউদ এবং সালমান আল-ফারিসি (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।

{যখন তারা বলেছিল আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর কিছুই অবতীর্ণ করেননি}: তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: ফিনহাস এবং মালিক ইবনে সাইফ।

{তারা বলেছিল আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমান আনব না যতক্ষণ না আমাদেরকে তা-ই প্রদান করা হয় যা আল্লাহর রাসূলগণকে প্রদান করা হয়েছে}: তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: আবু জাহেল এবং ওয়ালিদ ইবনে মুগিরা।

{তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}: তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: হুসল ইবনে আবি কুশাইর এবং শামউইল ইবনে যাইদ।

{তারা আপনাকে গনিমত বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে}: তাদের মধ্যে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হলেন সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস।

{এবং মুমিনদের একটি দল অবশ্যই তা অপছন্দ করছিল}: তাদের মধ্যে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হলেন আবু আইয়ুব আনসারী।

{যদি তোমরা ফয়সালা চাও}: তাদের মধ্যে যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি হলেন আবু জাহেল।

{আর যখন কাফিররা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল}: তারা ছিল দারুন নাদওয়ার অধিবাসী। তাদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন: রবিআর দুই পুত্র উতবা ও শাইবা, আবু সুফিয়ান, আবু জাহেল, জুবাইর ইবনে মুতইম, তুয়াইমা ইবনে আদি, হারিস ইবনে আমির, নাজর ইবনে হারিস, জামআ ইবনে আসওয়াদ, হাকিম ইবনে হিজাম এবং উমাইয়া ইবনে খালাফ।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩০)
{وَإِذْ قَالُوا اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ هَذَا هُوَ الْحَقَّ مِنْ عِنْدِكَ} : سُمي منهم: أبو جهل، والنضر بن الحارث.

{إِذْ يَقُولُ الْمُنَافِقُونَ وَالَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ} : سُمي منهم: عتبة بن ربيعة، وقيس بن الوليد، وأبو قيس بن الفاكه، والحارث بن زمعة، والعاصي بن منبه.

{قُلْ لِمَنْ فِي أَيْدِيكُمْ مِنَ الْأَسْرَى} : كانوا سبعين؛ منهم: العباس، وعقيل، ونوفل بن الحارث، وسهل ابن بيضاء.

{وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ} : سُمي منهم: سلام بن مشكم، ونعمان بن أوفَى، ومحمد بن دحية، وشاس بن قيس، ومالك بن الصيف.

{الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ} : سُمي من المطوعين: عبد الرحمن بن عوف، وعاصم بن عدي.

{وَالَّذِينَ لا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ} : أبو عقيل، ورفاعة بن سعد.

{وَلا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ} : سُمي منهم: العرباض بن سارية، وعبد الله بن مغفل المزني، وعمرو المزني، وعبد الله بن الأزرق الأنصاري، وأبو ليلى الأنصاري.

{فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَنْ يَتَطَهَّرُوا} : سُمي منهم عويمر بن ساعدة.

{إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ} : نزلت في جماعة؛ منهم: عمار بن ياسر، وعياش بن أبي ربيعة.

{بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا} : هم: طالوت وأصحابه.

{وَإِنْ كَادُوا لَيَفْتِنُونَك} : نزلت في رجال من قريش؛ منهم: أبو جهل، وأمية بن خلف.
{আর যখন তারা বলেছিল: হে আল্লাহ, যদি এটি আপনার পক্ষ থেকে সত্য হয়} : তাদের মধ্য থেকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আবু জাহল এবং আন-নদর বিন আল-হারিস।

{যখন মুনাফিকরা এবং যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলছিল} : তাদের মধ্য থেকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: উতবা বিন রাবিআহ, কায়েস বিন আল-ওয়ালিদ, আবু কায়েস বিন আল-ফাকিহ, আল-হারিস বিন জামআহ এবং আল-আসী বিন মুনাব্বিহ।

{আপনারা আপনাদের হাতে থাকা বন্দীদের বলুন} : তারা সত্তর জন ছিলেন; তাদের মধ্যে রয়েছেন: আল-আব্বাস, আকীল, নাওফাল বিন আল-হারিস এবং সাহল ইবনে বায়দা।

{আর ইয়াহূদীরা বলেছিল উযাইর আল্লাহর পুত্র} : তাদের মধ্য থেকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: সালাম বিন মিশকাম, নুমান বিন আওফা, মুহাম্মদ বিন দাহইয়াহ, শাস বিন কায়েস এবং মালিক বিন আস-সাইফ।

{যারা স্বেচ্ছাসেবী দানকারীদের নিন্দা করে} : স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্য থেকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আবদুর রহমান বিন আউফ এবং আসিম বিন আদি।

{এবং যারা তাদের শ্রম ছাড়া কিছুই খুঁজে পায় না} : আবু আকীল এবং রিফায়া বিন সাআদ।

{এবং তাদের ওপরও কোনো দায় নেই যারা যখন আপনার কাছে এসেছিল} : তাদের মধ্য থেকে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আল-ইরবাদ বিন সারিয়াহ, আবদুল্লাহ বিন মুগাফফাল আল-মুযানী, আমর আল-মুযানী, আবদুল্লাহ বিন আল-আযরাক আল-আনসারী এবং আবু লায়লা আল-আনসারী।

{তাতে এমন ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন যারা পবিত্রতা অর্জন করতে ভালোবাসেন} : তাদের মধ্য থেকে উওয়াইমির বিন সায়েদাহর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{সে ব্যতীত যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানের ওপর অবিচল} : এটি একদল লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; তাদের মধ্যে রয়েছেন: আম্মার বিন ইয়াসির এবং আইয়াশ বিন আবি রাবিআহ।

{আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার বান্দাদের প্রেরণ করেছি} : তারা হলেন: তালুত ও তাঁর সঙ্গীগণ।

{এবং তারা তো আপনাকে বিভ্রান্ত করার উপক্রম করেছিল} : এটি কুরাইশের কিছু লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে; তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু জাহল এবং উমাইয়া বিন খালাফ।
(খণ্ড: ১) আল-আসলানি ফি উলুমিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩১)
{وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا} : سُمي من القائلين عبد الله بن أبي أمية.

{أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ} : سُمي من ذرية إبليس: شبر، والأعور، وزلنبور، ومسوط، وداسم.

{وَقَالُوا إِنْ نَتَّبِعِ الْهُدَى مَعَكَ} : سُمي منهم الحارث بن عامر بن نوفل.

{أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا} : منهم عمار بن ياسر.

{وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا اتَّبِعُوا سَبِيلَنَا} : سُمي من القائلين الوليد بن المغيرة.

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ} : سُمي منهم النضر بن الحارث.

{فَمِنْهُمْ مَنْ قَضَى نَحْبَهُ} : سُمي منهم أنس بن النضر.

{وَانْطَلَقَ الْمَلَأُ} : سُمي منهم: عقبة بن أبي معيط، وأبو جهل، والعاصي بن وائل، والأسود بن المطلب، والأسود بن يغوث.

{وَقَالُوا مَا لَنَا لا نَرَى رِجَالًا} : سُمي من القائلين أبو جهل.. ومن الرجال: عمار، وبلال.

{وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ} : سُمي منهم: زوبعة، وحسى، ومسى، وشاصر وماصر، ومنشئ، وناشئ، والأحقب، وعمرو بن جابر، وسرق، ووردان.

{إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِنْ وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ} : سُمي منهم: الأقرع بن حابس، والزبرقان بن بدر، وعينية بن حصن، وعمرو بن الأهتم.
{আর তারা বলল, আমরা তোমার প্রতি কখনো ঈমান আনব না যতক্ষণ না তুমি আমাদের জন্য যমিন থেকে একটি ঝরনা প্রবাহিত করো} : বক্তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ বিন আবি উমাইয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{তবে কি তোমরা তাকে ও তার সন্তানদের গ্রহণ করছ?} : ইবলিসের সন্তানদের মধ্যে শিবর, আল-আওয়ার, যালানবুর, মাসওয়াত এবং দাসিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{এবং তারা বলল, যদি আমরা তোমার সাথে এই হেদায়েত অনুসরণ করি} : তাদের মধ্যে হারিস বিন আমির বিন নাওফলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{মানুষ কি মনে করে যে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হবে?} : তাদের মধ্যে আম্মার বিন ইয়াসির রয়েছেন।

{এবং যারা কুফরি করেছে তারা মুমিনদেরকে বলল, তোমরা আমাদের পথ অনুসরণ করো} : বক্তাদের মধ্যে ওয়ালিদ বিন মুগিরার নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{আর মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যে অসার বাক্য ক্রয় করে} : তাদের মধ্যে নাদর বিন হারিসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ তার মানত পূর্ণ করেছে} : তাদের মধ্যে আনাস বিন নাদরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

{আর তাদের নেতারা প্রস্থান করল} : তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: উকবা বিন আবি মুআইত, আবু জাহল, আল-আসি বিন ওয়ায়িল, আল-আসওয়াদ বিন আল-মুত্তালিব এবং আল-আসওয়াদ বিন ইয়াগুস।

{এবং তারা বলল, আমাদের কী হলো যে আমরা সেই লোকদের দেখছি না} : বক্তাদের মধ্যে আবু জাহলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে... আর সেই লোকদের মধ্যে রয়েছেন: আম্মার ও বিলাল।

{এবং স্মরণ করো, যখন আমি তোমার দিকে জিনদের একটি দলকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম যারা কুরআন শুনছিল} : তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: যাউবাআ, হাসি, মাসি, শাসির ও মাসির, মুনশি, নাশি, আল-আহকাব, আমর বিন জাবির, সারাক এবং ওয়ারদান।

{নিশ্চয় যারা তোমাকে হুজরাসমূহের পিছন থেকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকে} : তাদের মধ্যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আল-আকরা বিন হাবিস, আয-যিবরিকান বিন বদর, উইয়াইনা বিন হিসন এবং আমর বিন আল-আহতাম।