(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: -)
طريق الهداية مبادئ ومقدمات علم التوحيد عند أهل السنة والجماعة   (محمد يسري إبراهيم)

القسم: العقيدة


الكتاب: طريق الهداية - مبادئ ومقدمات علم التوحيد عند أهل السنة والجماعة

المؤلف: محمد يسري

الناشر: حقوق الطبع محفوظة للمؤلف

الطبعة: الثانية 1427هـ- 2006م

عدد الصفحات: 557

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হিদায়াতের পথ: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট তাওহীদ শাস্ত্রের নীতিমালা ও ভূমিকা   (মুহাম্মদ ইউসরি ইব্রাহিম)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: হিদায়াতের পথ - আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট তাওহীদ শাস্ত্রের নীতিমালা ও ভূমিকা

লেখক: মুহাম্মদ ইউসরি

প্রকাশক: সর্বস্বত্ব লেখকের নিকট সংরক্ষিত

সংস্করণ: দ্বিতীয় ১৪২৭ হিজরি- ২০০৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৭

[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

…

بين يدي الكتاب.

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} [النساء: 1] .

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} [الأحزاب: 70-71] .

أما بعد، فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، وبعد …

فإن توحيد الله تعالى وإفراده بالعبادة هو غاية خلق العالمين، وهو أصل دعوة المرسلين، وهو ما يخاطب به الناس من أصول الدين، وهو سبب العصمة والأمن في الدنيا والنجاة والفوز في الآخرة، وهو الشرط لصحة وقبول سائر الطاعات.

أما أنه غاية خلق العالمين، فلقوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} [الذاريات: 56] .

وأما إنه دعوة الرسل أجمعين فلقوله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدُونِ} [الأنبياء: 25] ، وقوله
ভূমিকা

…

বইটির উপস্থাপনা।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] ।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী বিস্তার করেছেন; আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১] ।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল।} [আল-আহযাব: ৭০-৭১] ।

অতপর, নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতপর …

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহর তাওহীদ এবং ইবাদতে তাঁকে একক করা হলো বিশ্বজগত সৃষ্টির মূল লক্ষ্য, এটিই হলো রাসূলগণের দাওয়াতের মূল ভিত্তি এবং এটিই হলো দ্বীনের সেই সব মৌলিক বিষয় যার দ্বারা মানুষকে সম্বোধন করা হয়। এটিই দুনিয়াতে নিরাপত্তা ও হেফাযত এবং আখিরাতে মুক্তি ও সফলতার কারণ। আর এটিই হলো অন্যান্য সকল আনুগত্য কবুল ও বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত।

এটি যে বিশ্বজগত সৃষ্টির লক্ষ্য, তার প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।} [আয-যারিয়াত: ৫৬] ।

আর এটি যে সকল রাসূলের দাওয়াত ছিল, তার প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: {আপনার পূর্বে আমি এমন কোনো রাসূল প্রেরণ করিনি যার নিকট আমি এই ওহী পাঠাইনি যে, আমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সুতরাং তোমরা আমারই ইবাদত করো।} [আল-আম্বিয়া: ২৫], এবং তাঁর বাণী...
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৬)
سبحانه: {وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} [النحل: 36] ، فالتوحيد حق الله على العبيد.

وأما إنه أول ما يخاطب به الناس من أمور الدين فلقوله تعالى: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَلَّا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ} ، ولقوله صلى الله عليه وسلم لمعاذ رضي الله عنه حين أرسله إلى اليمن: "يا معاذ: إنك تقدم على قوم أهل كتاب، فليكن أول ما تدعوهم إليه عبادة الله عز وجل، فإذا عرفوا الله فأخبرهم أن الله فرض عليهم خمس صلوات في يومهم وليلتهم … " 1.

وأما إنه سبب العصمة والأمن في الدنيا؛ فلأن الإقرار بالتوحيد يعصم الدم والمال، ويثبت عقد الإسلام، كما قال صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا: لا إله إلا الله، فمن قال: لا إله إلا الله عصم مني ماله ونفسه، إلا بحقه، وحسابه على الله" 2. والتوحيد يثمر الأمن التام في الدنيا والآخرة، قال تعالى: {الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ أُولَئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُمْ مُهْتَدُونَ} [الأنعام: 82] .

وأما إنه سبب النجاة والفوز في الآخرة فلقوله تعالى: {إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ} [المائدة: 72] .

ولقوله صلى الله عليه وسلم حين سئل: وما الموجبتان؟ فقال: "من مات لا يشرك بالله شيئا دخل الجنة، ومن مات يشرك بالله شيئا دخل النار" 3، وقال صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه تعالى: "يا ابن آدم إنك لو أتيتني بقراب الأرض خطايا ثم لقيتني لا تشرك بي شيئا، لأتيتك بقرابها مغفرة" 4.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري "1425"، ومسلم "19".

2 أخرجه البخاري "1400، 6924، 7285"، ومسلم "20، 21"، واللفظ لمسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه.

3 أخرجه مسلم "93"، من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما.

4 أخرجه الترمذي "3540" بسند صحيح.
মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি প্রতিটি জাতির মধ্যেই একজন রাসূল পাঠিয়েছি (এই নির্দেশ দিয়ে) যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো} [আন-নাহল: ৩৬]। সুতরাং তাওহীদ হলো বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রাপ্য হক।

আর দ্বীনের বিষয়াবলির মধ্যে এটিই যে সর্বপ্রথম মানুষকে সম্বোধন করার বিষয়, তার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {বলো, হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা এমন এক কথার দিকে আসো যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে সমান; তা এই যে, আমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করব না এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ছাড়া রব হিসেবে গ্রহণ করবে না}। আর মুয়ায রাযিয়াল্লাহু আনহুকে যখন তিনি ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তাঁর প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "হে মুয়ায, তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছ। তাই তুমি তাদের সর্বপ্রথম আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করবে। যখন তারা আল্লাহকে চিনতে পারবে, তখন তাদের জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাদের ওপর দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন … " ১।

আর এটি যে দুনিয়াতে নিরাপত্তা ও রক্ষার কারণ, তার কারণ হলো তাওহীদের স্বীকৃতি রক্ত ও সম্পদকে নিরাপদ করে এবং ইসলামের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি মানুষের সাথে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি বলবে: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, সে আমার থেকে তার সম্পদ ও জীবন নিরাপদ করে নিল, তবে ইসলামের হকের বিষয় ভিন্ন; আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।" ২। আর তাওহীদ দুনিয়া ও আখিরাতে পূর্ণ নিরাপত্তার ফল দান করে। মহান আল্লাহ বলেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের (শিরকের) সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং তারাই হেদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-আন'আম: ৮২]।

আর এটি যে পরকালে মুক্তি ও সাফল্যের কারণ, তার প্রমাণ মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরিক করবে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম; আর জালেমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই} [আল-মায়িদাহ: ৭২]।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখন জিজ্ঞেস করা হলো: (জান্নাত ও জাহান্নাম) ওয়াজিবকারী দুটি বিষয় কী? তখন তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মারা যাবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে" ৩। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেন: "হে আদম সন্তান, তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আসো এবং আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমার কাছে সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে আসব" ৪।

--------------------------------------------

১ বুখারি "১৪২৫", মুসলিম "১৯"।

২ বুখারি "১৪০০, ৬৯২৪, ৭২৮৫", মুসলিম "২০, ২১", আর শব্দগুলো আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত মুসলিমের রেওয়ায়েত অনুযায়ী।

৩ মুসলিম "৯৩", জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত।

৪ তিরমিজি "৩৫৪০" বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৭)
وأما إنه الشرط لصحة وقبول سائر العبادات، فلقوله تعالى في حق المؤمنين العاملين: {وَمَنْ يَعْمَلْ مِنَ الصَّالِحَاتِ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلا يُظْلَمُونَ نَقِيرًا} [النساء: 124] ، ولقوله جل وعلا عن أعمال الكافرين: {وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا} [الفرقان: 23] ، فالشرط محبط لجميع الطاعات، قال تعالى: {وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ} [الزمر: 65] ، فكما لا تقبل صلاة بغير وضوء، لا تقبل عبادة بغير توحيد.

فالتوحيد أول ما يتعلمه المسلم، قال تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ} [محمد: 19] ، وأوجب ما يدعو الناس إليه، قال تعالى على لسان أنبيائه: {يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} [الأعراف: 59] ، فهو عمدة الأصول التي ينطلق منها الداعية في دعوته إلى الله، وخلافته لرسول الله صلى الله عليه وسلم، ولرسل الله عامة.

والتوحيد أصل كل صلاح في هذه الحياة، كما أن الشرك أصل كل فساد، يقول ابن تيمية رحمه الله: فأصل الصلاح: التوحيد والإيمان، وأصل الفساد: الشرك والكفر1.

ولأجل ذلك كله كان السلف الصالح رضوان الله عليهم يعتنون بالتوحيد علما وتعليمًا، كما يعتنون به عملا وتطبيقا ودعوة، وكان عمدتهم في التعليم والتلقين آيات الكتاب الكريم، وأحاديث النبي الأمين عليه أفضل الصلاة وأتم التسليم، فلم تقم لديهم حاجة إلى التدوين لتعويلهم على الوحيين، فلما نبتت البدع وظهرت الفرق، اضطر السلف إلى كتابة الردود على أهل الأهواء، بجمع الآثار والأحاديث المروية في الأبواب التي وقعت فيها المخالفة، ثم كتبت كتب تجمع الآثار مرتبة على مسائل الاعتقاد نصرة للحق، وبيانا لصحيح المعتقد.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى لابن تيمية "18/ 163".
আর এটি যে অন্যান্য সকল ইবাদত সঠিক হওয়া ও কবুল হওয়ার শর্ত, তার প্রমাণ হলো নেক আমলকারী মুমিনদের ব্যাপারে মহান আল্লাহর বাণী: {পুরুষ হোক কিংবা নারী, যে কেউ মুমিন অবস্থায় সৎকাজ করবে, তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্রও জুলুম করা হবে না} [আন-নিসা: ১২৪], এবং কাফিরদের আমল সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা যে আমল করেছে আমি তার প্রতি লক্ষ্য করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করব} [আল-ফুরকান: ২৩]। সুতরাং শিরক সকল আনুগত্যকে নষ্ট করে দেয়, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি আপনি শিরক করেন তবে আপনার আমল অবশ্যই বিফলে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন} [আয-যুমার: ৬৫]। অতএব, যেভাবে অজু ছাড়া সালাত কবুল হয় না, ঠিক তেমনি তাওহীদ ছাড়া কোনো ইবাদত কবুল হয় না।

সুতরাং তাওহীদ হলো সেই প্রথম বিষয় যা একজন মুসলিম শিক্ষা করে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব জেনে নিন যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই} [মুহাম্মাদ: ১৯], এবং এটিই সবচেয়ে আবশ্যিক বিষয় যার দিকে মানুষকে আহ্বান করা হয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীদের মুখে বলেছেন: {হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই} [আল-আরাফ: ৫৯]। সুতরাং এটিই হলো সেই মূল ভিত্তি যেখান থেকে একজন দাঈ আল্লাহর পথে দাওয়াতের কাজ শুরু করেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাধারণভাবে সকল রাসূলদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আর তাওহীদ হলো এই জীবনের সকল সংশোধনের মূল, যেমন শিরক হলো সকল ফাসাদের মূল। ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: সংশোধনের মূল হলো তাওহীদ ও ঈমান, আর ফাসাদের মূল হলো শিরক ও কুফর।১

এসব কারণেই সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাওহীদের জ্ঞান অর্জন ও শিক্ষার ব্যাপারে যত্নশীল ছিলেন, যেমনটি তারা এর আমল, প্রয়োগ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে যত্নশীল ছিলেন। আর শিক্ষা ও দীক্ষাদানের ক্ষেত্রে তাদের প্রধান অবলম্বন ছিল মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আয়াতসমূহ এবং বিশ্বস্ত নবী (তাঁর ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক)-এর হাদিসসমূহ। যেহেতু তারা ওহীদ্বয়ের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন, তাই শুরুতে তাদের কাছে কোনো কিছু কিতাব আকারে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন দেখা দেয়নি। কিন্তু যখন বিদআত মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং বিভিন্ন ফিরকার উদ্ভব হলো, তখন সালাফগণ প্রবৃত্তি পূজারীদের খণ্ডন করার জন্য কিতাব লিখতে বাধ্য হলেন। তারা সেসব বিষয়ে বর্ণিত আছার এবং হাদিসসমূহ একত্রিত করলেন যেগুলোতে বিরোধিতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। অতঃপর হকের সমর্থনে এবং সঠিক আকিদা বর্ণনার জন্য আকিদাগত মাসআলা অনুযায়ী বিন্যস্ত আছার সংকলিত গ্রন্থসমূহ রচিত হলো।

--------------------------------------------

১. ইবনে তাইমিয়্যার মাজমুউল ফাতাওয়া "১৮/ ১৬৩"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم دونت مسائل العقيدة عند أهل السنة مستدلا عليها مع مناقشة مذاهب أهل البدع والرد عليها، وكان هذا في مقابل ما ألفه أهل الأهواء في تقرير انحرافاتهم.

ثم إن المتأخرين عنوا بتدوين مقدمات ومفاتيح للعلوم، تتضمن عشرة مبادئ للتعريف بالعلم، لتنشط الطالب في تحصيله، وتعينه في طريقه.

فقال قائلهم:

إن مبادئ كل فن عشرة … الحد والموضوع ثم الثمرة

فضله ونسبة والواضع … الاسم الاستمداد حكم الشارع

مسائل والبعض بالبعض اكتفى … ومن درى الجميع حاز الشرفا

وكان علم التوحيد من العلوم التي كتبت فيها تلك المقدمات، والمبادئ الممهدات، فكان العجب لا ينقضي حين قدم المتكلمون لعلم التوحيد فسموه بغير اسمه! وعرفه بما يزيده إبهاما! وقربوه للطالب فصعبوا مناله، وأقاموا أدلته بما يملؤه التباسًا، وموهوا بأن واضعه بعدما جاءت به المرسلون، بعض المتأخرين عن عصر التابعين وتابعي التابعين، وألبسوا حلل فضله -زورا وبهتانا- لما أسموه بعلم الكلام، المقتبس من منطق وفلسفة اليونان.

فأردت أن أصل مؤلفات أهل السنة العظيمة في علم التوحيد، بمقدمة في التعريف به، تعيد الحق إلى نصابه، وتدفع عن مبادئ علم التوحيد شبهاته، فاستعنت بالله تعالى وهو خير مستعان، فكتبت معرفا بأهل السنة والجماعة، وبينت حقيقة منهجهم، وبم تتم النسبة إليهم، ونسجت على تلك المبادئ العشرة لعلم التوحيد على طريقتهم، فليس بين ما كتبه المتكلمون، وبين ما في هذا الكتاب من مبادئ علم التوحيد إلا الأسماء.
এরপর আহলুস সুন্নাহর আকিদার মাসয়ালাসমূহ দলিলসহ সংকলিত করা হয়েছে, পাশাপাশি বিদআতিদের মতবাদ নিয়ে আলোচনা ও তাদের খণ্ডন করা হয়েছে। এটি ছিল প্রবৃত্তিপূজারীদের রচিত সেইসব গ্রন্থের বিপরীতে, যা তারা তাদের বিভ্রান্তি প্রমাণের জন্য লিখেছিল।

অতঃপর পরবর্তী যুগের উলামাগণ ইলমের পরিচিতি প্রদানের জন্য এমন কিছু ভূমিকা ও মূল চাবিকাঠি সংকলনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, যার মধ্যে দশটি মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকে; যাতে শিক্ষার্থী তা অর্জনে উৎসাহিত হয় এবং তার পথে তা সহায়ক হয়।

তাদের জনৈক কবি বলেছেন:

নিশ্চয়ই প্রতিটি বিদ্যার মূল ভিত্তি দশটি … সংজ্ঞা, বিষয়বস্তু এবং তার ফলাফল

এর শ্রেষ্ঠত্ব, সম্পর্ক এবং প্রবর্তক … নাম, উৎসের ভিত্তি এবং শরয়ি বিধান

এর মাসয়ালাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক জেনেই সন্তুষ্ট থাকে … আর যে সব কটি জানে সে পূর্ণ মর্যাদা লাভ করে

ইলমুত তাওহীদও এমন সব ইলমের অন্তর্ভুক্ত ছিল যে বিষয়ে এই সকল ভূমিকা ও প্রারম্ভিক নীতিমালা লেখা হয়েছিল। তবে বিস্ময়ের সীমা থাকে না যখন দেখা যায় যে, ইলমুল কালামপন্থীরা ইলমুত তাওহীদের পরিচিতি দিতে গিয়ে একে ভিন্ন নামে অভিহিত করেছে! এমনভাবে এর সংজ্ঞা দিয়েছে যা এর অস্পষ্টতাই বৃদ্ধি করে! তারা একে শিক্ষার্থীর কাছে সহজ করতে গিয়ে আরও দুর্লভ করে তুলেছে এবং এমন সব দলিলাদি উপস্থাপন করেছে যা সংশয়ে ভরপুর। তারা এই মিথ্যা ও অপবাদের মাধ্যমে প্রবঞ্চনা করেছে যে, রাসুলগণের আনীত দ্বীনের পর এই ইলমের প্রবর্তক হলো তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীদের যুগের পরের কিছু পরবর্তী লোক। তারা গ্রিক যুক্তিবিদ্যা ও দর্শন থেকে ধার করা তথাকথিত 'ইলমুল কালাম'-এর ওপর শ্রেষ্ঠত্বের পোশাক পরিয়েছে।

তাই আমি চেয়েছি ইলমুত তাওহীদ বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর মহান গ্রন্থসমূহের সাথে এমন একটি পরিচিতিমূলক ভূমিকার সংযোগ ঘটাতে, যা সত্যকে তার সঠিক স্থানে ফিরিয়ে আনবে এবং ইলমুত তাওহীদের মূলনীতিসমূহ থেকে সংশয়গুলো দূর করবে। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলাম, আর তিনিই শ্রেষ্ঠ সাহায্যকারী। আমি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পরিচয় তুলে ধরেছি, তাদের মানহাজের প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনা করেছি এবং কিসের ভিত্তিতে তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়া সঠিক হবে তা স্পষ্ট করেছি। আমি তাদের পদ্ধতিতে ইলমুত তাওহীদের সেই দশটি মূল ভিত্তির ওপর ভিত্তি করে এটি সাজিয়েছি। ইলমুল কালামপন্থীরা যা লিখেছে এবং এই কিতাবে ইলমুত তাওহীদের যে মূলনীতিসমূহ রয়েছে, তার মধ্যে নাম ছাড়া আর কোনো মিল নেই।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم أردفت ببيان خصائص عقيدة أهل السنة والجماعة، ثم أردفت ببيان قواعد وضوابط الاستدلال على مسائل الاعتقاد.

وأخيرًا ختمت الكتاب بملحقين، تضمن أولهما فهرسة تفصيلية لموضوعات ومسائل الاعتقاد، وتضمن الثاني تعريفا بمائة كتاب من كتب الاعتقاد الصحيح من لدن الفقه الأكبر لأبي حنيفة النعمان، وإلى وقت الناس هذا.

ولسان الحال والمقال ينطق بأن السلف أهل السنة والجماعة، هم أهل الإسلام السالم عن كل شوب، الصافي عن كل كدر، وهم من لدن النبي صلى الله عليه وسلم وإلى يوم الناس هذا على نمط واحد في الاعتقاد، لا يخرجون على الحق، ولا يخرج الحق عنهم.

وهذا الكتاب وإن خلا عن سرد عقائدهم، وبيان تفاصيل أصولهم ومناهجهم إلا أنه يمثل مدخلا مهما لطالب هذا العلم، ويمهد لمدخل ثان -يلحقه قريبا بعون الله تعالى- يميز به السالك على طريق التوحيد أهل البدع، ويتعرف على أنواعهم، وأحكامهم، ومناهج النظر والتلقي لديهم، ومنهج أهل السنة في معاملتهم.

ثم يأتي الكتاب الثالث يحمل عقائد أهل السنة مسندة ومسددة، تبيانا وبرهانا على معتقدات الأئمة، وفرقانا بين السنة والبدعة.

وهو واسطة عقد هذه المداخل، وحجر الزاوية منها، وبخروج هذا المدخل الأول يكون الثاني في إثره، ويتلوهما الثالث بإذن الله تعالى ومشيئته.

ولا يفوتني في هذا المقام أن أزجي الشكر عاطرا، والدعاء خالصا إلى كل من أعان على إكمال هذه المداخل بقلم أو رأي أو نصح، أو جمع أو مراجعة.
এরপর আমি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদার বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করেছি, তারপর আকিদাগত মাসআলাসমূহে দলিল গ্রহণের নীতিমালা ও মানদণ্ড বর্ণনা করেছি।

পরিশেষে, আমি দুটি পরিশিষ্টের মাধ্যমে বইটি শেষ করেছি। প্রথমটিতে আকিদাগত বিষয় ও মাসআলাসমূহের বিস্তারিত সূচিপত্র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে আবু হানিফা আন-নুমানের আল-ফিকহুল আকবার থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিশুদ্ধ আকিদার একশতটি কিতাবের পরিচিতি প্রদান করা হয়েছে।

বাস্তব অবস্থা ও ভাষা একথাই বলে যে, সালাফে সালেহীন তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলেন সেই ইসলামের অনুসারী যা সব ধরনের মিশ্রণ থেকে মুক্ত এবং সকল কলুষতা থেকে পবিত্র। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে শুরু করে বর্তমান কাল পর্যন্ত আকিদার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন রীতির ওপর অটল রয়েছেন। তাঁরা সত্য থেকে বিচ্যুত হন না এবং সত্যও তাঁদের বাইরে নয়।

এই বইটি যদিও তাঁদের আকিদার বিস্তারিত বর্ণনা এবং তাঁদের উসুল ও মানহাজের বিস্তারিত বিবরণ থেকে মুক্ত, তবুও এটি এই ইলমের শিক্ষার্থীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। এটি দ্বিতীয় একটি প্রবেশদ্বারের পথ প্রশস্ত করে — যা আল্লাহর সাহায্যে শীঘ্রই প্রকাশিত হবে — যার মাধ্যমে তাওহিদের পথের পথিক বিদআতিদের পৃথক করতে পারবে এবং তাদের প্রকারভেদ, তাদের বিষয়ে বিধান, তাদের চিন্তা ও গ্রহণের পদ্ধতি এবং তাদের সাথে আহলুস সুন্নাহর আচরণের মানহাজ সম্পর্কে জানতে পারবে।

এরপর তৃতীয় বইটি আসবে যা আহলুস সুন্নাহর আকিদাকে সনদসহ ও সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, যা ইমামদের বিশ্বাসের স্পষ্ট বর্ণনা ও প্রমাণ এবং সুন্নাহ ও বিদআতের মধ্যে পার্থক্যকারী হিসেবে কাজ করবে।

এটি এই প্রবেশদ্বারগুলোর মধ্যমণি এবং এগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর। এই প্রথম প্রবেশদ্বারটি প্রকাশের মাধ্যমে দ্বিতীয়টি এর অনুগামী হবে এবং আল্লাহর অনুমতি ও ইচ্ছায় এই দুটির পর তৃতীয়টি আসবে।

এই স্থানে আমি সেই সকল ব্যক্তিদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও বিশুদ্ধ দোয়া জানাতে ভুলছি না, যারা কলম, মতামত, উপদেশ, সংকলন কিংবা পর্যালোচনার মাধ্যমে এই প্রবেশদ্বারগুলো সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১০)
والله أسأل أن يتقبل منا جميعا بقبول حسن، وأن يحسن نياتنا في جميع أقوالنا وأعمالنا، إن ربي قريب مجيب، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين، وصلى الله وسلم وبارك على خير خلقه أجمعين، وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه أبو عبد الله محمد يسري القاهرة.

غرة ربيع الأول 1425هـ.
আর আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাদের সকলের পক্ষ থেকে তা উত্তমভাবে কবুল করেন এবং আমাদের সকল কথা ও কাজে আমাদের নিয়তসমূহকে বিশুদ্ধ করেন। নিশ্চয়ই আমার রব নিকটবর্তী ও দুআ কবুলকারী। আর আমাদের শেষ আহ্বান হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ সালাত, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন তাঁর সৃষ্টির সেরা সত্তার ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সহচরদের ওপর।

এটি লিখেছেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইউসরি, কায়রো।

পহেলা রবিউল আউয়াল, ১৪২৫ হিজরি।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الباب الأول: أهل السنة والجماعة.

‌‌الفصل الأول: مصطلح أهل السنة والجماعة.

‌‌أولًا: تعريف المصطلح باعتبار مفرداته:

1-‌‌ تعريف السنة لغة واصطلاحًا:

السنة لغة 1:

السيرة والطريقة: حسنة كانت أو قبيحة، وهي مأخوذة من السنن وهي الطريق.

قال ابن فارس: "سن -السين والنون أصل واحد مطرد، وهو جريان الشيء واطراده في سهولة، والأصل قولهم: سننت الماء على وجهي أسنه سنا، إذا أرسلته إرسالا".

"ومما اشتق منه السنة، وهي السيرة، وسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم سيرته. قال الهذيلي:

فلا تجزعن من سيرة أنت سرتها … فأول راضٍ سنة من يسيرها2

وقد ورد هذا المعنى في القرآن الكريم، قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ} [النساء: 26] ، أي: يهديكم سنن الذين من قبلكم، يعني طرائقهم الحميدة3.

--------------------------------------------

1 لسان العرب لابن منظور "6/ 395-402"، والقاموس المحيط للفيروزابادي ص1557-1559، ومختار الصحاح للرازي ص133.

2 معجم مقاييس اللغة لابن فارس "3/ 60-61".

3 تفسير ابن كثير "1/ 480".
প্রথম অধ্যায়: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত.

প্রথম পরিচ্ছেদ: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত পরিভাষাটি.

প্রথমত: শব্দসমূহের বিচারে পরিভাষাটির সংজ্ঞা:

১- আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ ১:

জীবনচরিত ও পথ: তা ভালো হোক কিংবা মন্দ; আর এটি 'আসনান' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো পথ।

ইবনু ফারিস বলেন: "সান্না—সীন এবং নূন একটি সাধারণ মূল উৎস, যার অর্থ কোনো কিছুর সাবলীল প্রবাহ ও ধারাবাহিকতা। এর মূল হলো আরবদের উক্তি: 'আমি আমার চেহারার ওপর পানি প্রবাহিত করেছি', যখন আমি তা একাধারে ঢেলে দেই।"

"আর এ থেকেই 'সুন্নাহ' শব্দটি নির্গত হয়েছে, যার অর্থ হলো জীবনচরিত। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো তাঁর জীবনচরিত। হুযালী কবি বলেন:

তুমি সেই জীবনচরিত বা কর্মপন্থা নিয়ে বিচলিত হয়ো না যা তুমি নিজেই শুরু করেছ … কেননা যে ব্যক্তি কোনো নিয়ম প্রবর্তন করে, সে-ই প্রথম তাতে সন্তুষ্ট থাকে২

কুরআন মাজীদেও এই অর্থটি বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ চান তোমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথসমূহের (সুন্নাত) দিকে তোমাদের পরিচালিত করতে} [আন-নিসা: ২৬], অর্থাৎ: তিনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের সুন্নাতের দিকে পরিচালিত করেন, যার অর্থ হলো তাদের প্রশংসনীয় পথসমূহ৩।

--------------------------------------------

১ ইবনু মানযুর রচিত লিসানুল আরব (৬/৩৯৫-৪০২), ফিরোযাবাদীর আল-কামুস আল-মুহিত পৃ. ১৫৫৭-১৫৫৯ এবং আর-রাযীর মুখতারুস সিহাহ পৃ. ১৩৩।

২ ইবনু ফারিস রচিত মু'জামু মাকাইয়িসিল লুগাহ (৩/৬০-৬১)।

৩ তাফসীর ইবনু কাসীর (১/৪৮০)।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وعن مجاهد في قوله تعالى: {قَدَّمَتْ وَأَخَّرَت} [الانفطار: 5] ، قال: "أخرت من سنة يعمل بها من بعده"1.

ومن ذلك الحديث: "من سن في الإسلام سنة حسنة … ومن سن في الإسلام سنة سيئة" 2.

قال ابن الأثير: "وقد تكرر في الحديث ذكر السنة، وما تصرف منها، والأصل فيه: الطريقة والسيرة"3.

وهذا المعنى هو المراد هنا من معاني "السنة" اللغوية، وقد تطلق السنة ويراد بها:

- البيان:

كما قال تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ} [الأحزاب: 38، 62] .

نصب "سنة" على إرادة الفعل، أي: سنن الله ذلك بمعنى بينه4.

العادة الثابتة المستقرة:

كما في قوله تعالى: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلًا} [الإسراء: 77] .

فالسنة هنا تعني: العادة الثابتة التي تحكم الله بها وقضاها5.

وهذا المعنى قريب من سابقه، وكلاهما يتفق مع التفسير السابق للسنة بالسيرة والطريقة.

وقيل: هي الصقل والتزيين6، وقيل: التقوية7، والذي يعنينا هنا هو المعنى

--------------------------------------------

1 التاريخ الكبير لابن أبي خيثمة "523".

2 رواه مسلم "1017" من حديث جرير بن عبد الله رضي الله عنه.

3 النهاية في غريب الحديث لابن الأثير "2/ 409"، ولسان العرب لابن منظور "6/ 399".

4 لسان العرب لابن منظور "3/ 399".

5 تفسير ابن كثير "3/ 54".

6 انظر: لسان العرب لابن منظور "6/ 400"، والمعجم الوسيط إصدار مجمع اللغة العربية "1/ 473".

7 لسان العرب لابن منظور "3/ 396".
এবং মুজাহিদ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {সে আগে পাঠিয়েছে এবং যা সে পিছনে রেখে গেছে} [আল-ইনফিতার: ৫] এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: "পিছনে রেখে গেছে বলতে এমন কোনো রীতি বা সুন্নাহ যা তার মৃত্যুর পর পালন করা হয়।"১

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো এই হাদিস: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম রীতির প্রবর্তন করবে … এবং যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ রীতির প্রবর্তন করবে।" ২

ইবনুল আসির বলেছেন: "হাদিসে সুন্নাহ শব্দ এবং এর বিভিন্ন রূপ বারবার এসেছে। এর মূল অর্থ হলো: পথ ও জীবনপদ্ধতি।"৩

আর 'সুন্নাহ' শব্দের আভিধানিক অর্থগুলোর মধ্যে এখানে এই অর্থটিই উদ্দেশ্য। কখনো কখনো সুন্নাহ শব্দটি ব্যবহার করে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোও উদ্দেশ্য নেওয়া হয়:

- বর্ণনা:

যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে আল্লাহর এটাই পদ্ধতি বা সুন্নাহ} [আল-আহজাব: ৩৮, ৬২]।

এখানে 'সুন্নাহ' শব্দটি ক্রিয়ার অর্থে মানসুব (জবরযুক্ত) হয়েছে, অর্থাৎ: আল্লাহ এটি নির্ধারণ করেছেন অর্থাৎ বর্ণনা করেছেন।৪

সুপ্রতিষ্ঠিত ও স্থির অভ্যাস:

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমার পূর্বে আমি যেসব রাসুল পাঠিয়েছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও এমন নিয়ম ছিল এবং তুমি আমার নিয়মের কোনো পরিবর্তন পাবে না} [আল-ইসরা: ৭৭]।

এখানে সুন্নাহ বলতে বুঝানো হয়েছে: সেই সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম যা আল্লাহ কার্যকর করেছেন এবং ফয়সালা করেছেন।৫

আর এই অর্থটি এর পূর্ববর্তী অর্থের কাছাকাছি। এই উভয় অর্থই সুন্নাহর আগের ব্যাখ্যা অর্থাৎ জীবনপদ্ধতি ও পথের সাথে সংগতিপূর্ণ।

বলা হয়েছে: এটি পরিমার্জন ও সুশোভিত করা।৬ আবার বলা হয়েছে: শক্তিশালী করা।৭ তবে আমাদের এখানে যা প্রয়োজন তা হলো এই অর্থ...

--------------------------------------------

১ ইবনে আবি খাইসামার আত-তারিখুল কাবির "৫২৩"।

২ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন "১০১৭", জারির বিন আবদুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিস থেকে।

৩ ইবনুল আসিরের আন-নিহায়াহ ফি গরিবিল হাদিস "২/৪০৯", এবং ইবনে মঞ্জুরের লিসানুল আরব "৬/৩৯৯"।

৪ ইবনে মঞ্জুরের লিসানুল আরব "৩/৩৯৯"।

৫ তাফসিরে ইবনে কাসির "৩/৫৪"।

৬ দেখুন: ইবনে মঞ্জুরের লিসানুল আরব "৬/৪০০", এবং মাজমাউল লুগাহ আল-আরাবিয়্যাহ প্রকাশিত আল-মুজামুল ওয়াসিত "১/৪৭৩"।

৭ ইবনে মঞ্জুরের লিসানুল আরব "৩/৩৯৬"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الأول، وهو موافق لبعض المعاني الاصطلاحية للسنة.

السنة اصطلاحًا:

ثم إن السنة -بعد ذلك- لها معان اصطلاحية متعددة بحسب الفن الذي ترد فيه، فالسنة عند الفقهاء غيرها عند المحدثين، غيرها عند الأصوليين.

لكن يعنينا هنا معناها عند علماء الاعتقاد، وهي عندهم على معنيين: الثاني منهما متفرع عن الأول، ومتأخر عنه.

فالأول هو الأصل في إطلاق السنة في اصطلاح السلف، وهو:

"ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم من العلم والعمل والهدي وكل ما جاء به مطلقا".

وهذا اصطلاح عام، فيشمل التوحيد وغيره، فالسنة بهذا الاعتبار تطلق على طريقة النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه علما وعملا، اعتقادا وسلوكا، خلقا وأدبا، وهي السنة التي يجب اتباعها، ويحمد أهلها، ويذم من خالفها.

فهي على هذا المعنى مرادفة للدين والشريعة.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: "السنة هي الشريعة، وهي ما شرعه الله ورسوله من الدين"1.

وقال أيضا: "إن السنة التي يجب اتباعها ويحمد أهلها ويذم من خالفها هي سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم في أمور الاعتقاد، وأمور العبادات، وسائر أمور الديانات، وذلك إنما يعرف بمعرفة أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم الثابتة عنه، في أقواله وأفعاله، وما تركه من قول وعمل، ثم ما كان السابقون والتابعون لهم بإحسان"2.

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى "4/ 436".

2 مجموع الفتاوى "3/ 378".
প্রথমটি, যা সুন্নাহর কিছু পারিভাষিক অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ।

পারিভাষিক অর্থে সুন্নাহ:

অতঃপর সুন্নাহর—এরপরে—বহুবিধ পারিভাষিক অর্থ রয়েছে, যা যে শাস্ত্রে এটি ব্যবহৃত হয়েছে সেই শাস্ত্র অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। ফকিহদের নিকট সুন্নাহর অর্থ যা, মুহাদ্দিসদের নিকট তা ভিন্ন এবং উসুলবিদদের নিকটও তা ভিন্ন।

তবে আমাদের এখানে উদ্দেশ্য হলো আকিদা শাস্ত্রের আলিমগণের নিকট এর অর্থ কী। তাঁদের নিকট এর দুটি অর্থ রয়েছে: যার দ্বিতীয়টি প্রথমটি থেকে উদ্ভূত এবং কালানুক্রমিকভাবে পরে আসা।

প্রথমটি হলো সালাফদের পরিভাষায় সুন্নাহ ব্যবহারের মূল ভিত্তি, আর তা হলো:

"ইলম (জ্ঞান), আমল (কর্ম), আদর্শ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার সামগ্রিক রূপ।"

এটি একটি ব্যাপক পরিভাষা, যা তাওহিদ এবং অন্যান্য বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বিবেচনায় সুন্নাহ শব্দটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের ইলম ও আমল, আকিদা ও আচরণ এবং আখলাক ও আদব সংক্রান্ত পদ্ধতির ওপর প্রয়োগ করা হয়। আর এটিই সেই সুন্নাহ যার অনুসরণ করা ওয়াজিব, এর অনুসারীদের প্রশংসা করা হয় এবং এর বিরোধিতাকারীদের নিন্দা করা হয়।

সুতরাং এই অর্থে এটি দ্বীন এবং শরিয়তের সমার্থক।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "সুন্নাহ হলো শরিয়ত, আর তা হলো দ্বীনের সেই সব বিষয় যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিধিবদ্ধ করেছেন।"১

তিনি আরও বলেন: "নিশ্চয়ই সেই সুন্নাহ যার অনুসরণ ওয়াজিব, যার অনুসারীরা প্রশংসিত এবং বিরোধিতাকারীরা নিন্দিত, তা হলো আকিদা, ইবাদত এবং দ্বীনের অন্যান্য সকল বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ। আর তা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ এবং কথা ও কাজের যে সব বিষয় তিনি বর্জন করেছেন—সেগুলো সম্পর্কিত তাঁর থেকে প্রমাণিত হাদিসসমূহ জানার মাধ্যমেই জানা সম্ভব। অতঃপর যা প্রথম যুগের অগ্রবর্তীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ অনুসরণ করেছেন।"২

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া "৪/ ৪৩৬"।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া "৩/ ৩৭৮"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
فالسنة هي: ما تلقاه الصحابة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، من الشرع والدين، والهدي الظاهر والباطن، وتلقاه عنهم التابعون ثم تابعوهم، ثم أئمة الهدى العلماء العدول، المقتدون بهم، ومن سلك سبيلهم إلى يوم القيامة1.

ومن ذلك: قول الإمام مالك رحمه الله تعالى في وصف المدينة: "وهي دار الهجرة والسنة"2.

وقال ابن رجب: "وعن سفيان الثوري، قال: استوصوا بأهل السنة خيرًا فإنهم غرباء3، ومراد هؤلاء الأئمة بالسنة: طريقة النبي صلى الله عليه وسلم التي كان عليها هو وأصحابه، السالمة من الشبهات والشهوات"4.

ويشهد لهذا المعنى حديث أنس بن مالك رضي الله عنه، وفيه: "فمن رغب عن سنتي فليس مني" 5.

فالإطلاق الأول للسنة هو ما كان عليه النبي صلى الله عليه وسلم من العلم والعمل والهدي في أصول الدين وفروعه.

أما الإطلاق الثاني، فيقصد به "العقيدة الصحيحة الثابتة بالكتاب والسنة".

حيث أطلق السلف مصطلح "السنة" على أصول الدين، وفرائض الإسلام، وأمور الاعتقاد، والأحكام القطعية في الدين، وعلى هذا جرى الإمام أحمد وغيره من الأئمة في تصنيفهم كتب الاعتقاد باسم السنة.

--------------------------------------------

1 انظر: مجموع الفتاوى لابن تيمية "3/ 358".

2 التاريخ الكبير، لابن أبي خيثمة "1352".

3 رواه اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة "1/ 64".

4 كشف الكربة في وصف حال أهل الغربة لابن رجب ص17، 18.

5 رواه البخاري "5063"، ومسلم "1401" من حديث أنس رضي الله عنه.
সুন্নাহ হলো: যা সাহাবীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শরীয়ত ও দ্বীন এবং প্রকাশ্য ও গোপন হিদায়াত হিসেবে গ্রহণ করেছেন, এবং তাঁদের থেকে তাবিঈগণ তা গ্রহণ করেছেন, অতঃপর তাঁদের অনুসারীগণ, এরপর হিদায়াতের ইমাম তথা ন্যায়পরায়ণ আলিম সমাজ যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন।১।

আর এর উদাহরণ হলো: মদীনার বর্ণনায় ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহর উক্তি: "আর তা হলো হিজরত ও সুন্নাহর আবাস"।২।

ইবনে রজব বলেন: "সুফিয়ান সাওরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তোমরা আহলে সুন্নাহর ব্যাপারে একে অপরকে কল্যাণের উপদেশ দাও, কারণ তারা সংখ্যায় অল্প বা অপরিচিত৩। আর এই ইমামদের নিকট সুন্নাহর উদ্দেশ্য হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই তরীকা বা পথ যার ওপর তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, যা সংশয় ও প্রবৃত্তিপূজা থেকে মুক্ত"৪।

এই অর্থের পক্ষে আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস সাক্ষ্য প্রদান করে, যাতে রয়েছে: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়" ৫।

সুন্নাহর প্রথম প্রয়োগ বা অর্থ হলো: দ্বীনের মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় ইলম, আমল ও হিদায়াতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

আর দ্বিতীয় প্রয়োগ বা অর্থ হলো, এর দ্বারা উদ্দেশ্য "কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত সঠিক আকিদা"।

যেখানে সালাফগণ "সুন্নাহ" পরিভাষাটি দ্বীনের মূলনীতি, ইসলামের ফরযসমূহ, আকিদাগত বিষয়াদি এবং দ্বীনের সুনিশ্চিত বিধানসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন। আর এই ধারার ওপর ভিত্তি করেই ইমাম আহমাদ এবং অন্যান্য ইমামগণ তাঁদের আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থগুলোকে "সুন্নাহ" নামে সংকলন করেছেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন: ইবনে তাইমিয়ার মাজমুউল ফাতাওয়া "৩/ ৩৫৮"।

২ আত-তারীখুল কাবীর, ইবনে আবি খাইসামা "১৩৫২"।

৩ লালাকাঈ এটি শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ-তে বর্ণনা করেছেন "১/ ৬৪"।

৪ কাশফুল কুরবাহ ফি ওয়াসফি হালি আহলিল গুরবাহ, ইবনে রজব পৃ. ১৭, ১৮।

৫ বুখারী "৫০৬৩" ও মুসলিম "১৪০১" আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعليه فالسنة تطلق عندهم على: "ما سلم من الشبهات في الاعتقادات، خاصة في مسائل الإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر، وكذلك في مسائل القدر، وفضائل الصحابة"1.

وقال ابن رجب: "وكثير من العلماء المتأخرين يخص السنة بما يتعلق بالاعتقاد؛ لأنها أصل الدين، والمخالف فيها على خطر عظيم"2.

ويلاحظ في سبب هذا الإطلاق والاصطلاح الاعتقادي للفظ السنة، أن السنة من مصادر التلقي للعقيدة الصحيحة، وبها تثبت أحكام الاعتقاد.

فإذا قيل مذهب أهل السنة، فالمراد: معتقداتهم وأقوالهم في أصول الدين.

ومما يشهد لهذا المعنى قول سفيان بن عيينة: "السنة عشرة، فمن كن فيه فقد استكمل السنة، ومن ترك منها شيئا فقد ترك السنة: إثبات القدر، وتقديم أبي بكر وعمر، والحوض، والشفاعة، والميزان، والصراط، والإيمان قول وعمل، والقرآن كلام الله، وعذاب القبر، والبعث يوم القيامة، ولا تقطعوا بالشهادة على مسلم"3.

وقول الشافعي: "القول في السنة التي أنا عليها، ورأيت عليها الذين رأيتهم مثل سفيان الثوري ومالك وغيرهما: الإقرار بشهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدًا رسول الله، وأن الله على عرشه في سمائه، يقرب من خلقه كيف شاء، وينزل إلى السماء الدنيا كيف شاء … "4.

وعلى هذا فالسنة تقابلها البدعة، وعليه يحمل قول ابن مسعود رضي الله عنه: "القصد في السنة خير من الاجتهاد في البدعة"5.

--------------------------------------------

1 كشف الكربة في وصف أهل الغربة لابن رجب ص26-28.

2 جامع العلوم والحكم لابن رجب "2/ 120".

3 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 155، 156".

4 العلو للعلي الغفار للذهبي ص120.

5 رواه الدارمي "1/ 83"، واللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السنة "1/ 55"، والبيهقي في السنن الكبرى "3/ 19"، وصححه الألباني في صلاة التراويح ص6.
সেই অনুযায়ী তাদের নিকট সুন্নাহর প্রয়োগ ঘটে: "বিশ্বাসের ক্ষেত্রে যা সংশয় থেকে মুক্ত, বিশেষ করে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং পরকালের প্রতি ঈমানের মাসআলাসমূহে, এবং একইভাবে তাকদীরের মাসআলা ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদার ক্ষেত্রে"১।

ইবনে রজব বলেন: "পরবর্তীকালের অনেক আলেম সুন্নাহ শব্দটিকে আকিদা বা বিশ্বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেন; কারণ এটি দ্বীনের মূল, আর এতে বিরোধিতাকারী মহা বিপদের সম্মুখীন"২।

সুন্নাহ শব্দের এই প্রয়োগ এবং আকিদাগত পরিভাষা হিসেবে ব্যবহারের কারণ হিসেবে লক্ষ্য করা যায় যে, সুন্নাহ হলো সঠিক আকিদা গ্রহণের অন্যতম উৎস, এবং এর মাধ্যমেই আকিদার বিধানসমূহ সাব্যস্ত হয়।

তাই যখন 'আহলে সুন্নাহর মাযহাব' বলা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: দ্বীনের মূলনীতিসমূহে তাদের বিশ্বাস ও বক্তব্যসমূহ।

এই অর্থের স্বপক্ষে সুফিয়ান ইবনে উইয়াইনাহ এর বক্তব্যটি সাক্ষ্য দেয়: "সুন্নাহ দশটি, যার মধ্যে এই দশটি বিষয় বিদ্যমান থাকবে সে সুন্নাহ পূর্ণ করল, আর যে এর মধ্য থেকে কোনোটি ছেড়ে দিল সে সুন্নাহর কিছু অংশ ছেড়ে দিল: তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, আবু বকর ও ওমরকে অগ্রাধিকার প্রদান করা, হাউজ, শাফায়াত, মিজান, সিরাত, ঈমান হলো কথা ও কাজের নাম, কুরআন আল্লাহর কালাম, কবরের আজাব, কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান এবং কোনো মুসলিমের ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জান্নাতি বা জাহান্নামী হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান না করা"৩।

ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্য: "সুন্নাহর ব্যাপারে সেই বক্তব্য যার ওপর আমি রয়েছি এবং আমি যাদের দেখেছি—যেমন সুফিয়ান সাওরী, মালেক ও অন্যান্যদের—তাঁদেরও যার ওপর দেখেছি: তা হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, আর আল্লাহ তাঁর আসমানে তাঁর আরশের ওপর উঠেছেন, তিনি তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন যেভাবে ইচ্ছা, এবং তিনি দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন যেভাবে ইচ্ছা..."৪।

আর এর ওপর ভিত্তি করে সুন্নাহর বিপরীতে বিদআত অবস্থান করে। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বক্তব্যটি এর ওপরই প্রয়োগ করা হয়: "সুন্নাহর ওপর মধ্যপন্থা অবলম্বন করা বিদআতের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম"৫।

--------------------------------------------

১ ইবনে রজব কৃত কাশফুল কুরবাহ ফি ওয়াসফি আহলিল গুরবাহ, পৃষ্ঠা ২৬-২৮।

২ ইবনে রজব কৃত জামেউল উলুম ওয়াল হিকাম (২/১২০)।

৩ লালকাঈ কৃত শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত (১/১৫৫, ১৫৬)।

৪ যাহাবী কৃত আল-উলুউ লিল আলিয়্যিল গাফফার, পৃষ্ঠা ১২০।

৫ দারেমী (১/৮৩), লালকাঈ কৃত শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ (১/৫৫), বায়হাকী কৃত আস-সুনানুল কুবরা (৩/১৯), এবং আলবানী সালাতুত তারাবীহ (পৃষ্ঠা ৬) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وقول ابن عباس: "النظر إلى الرج من أهل السنة يدعو إلى السنة، وينهى عن البدعة عبادة"1.

وقال أبو المليح: "وكان كتب عمر بن عبد العزيز راجيا السنة وإماتة البدعة"2.

وقال ابن يونس: "امتحن أهل الموصل بالمعافى بن عمران فإن أحبوه فهم أهل سنة، وإن أبغضوه فهم أهل بدعة، كما يمتحن أهل الكوفة بيحيى"3.

وقال الأوزاعي: "كان يقال: خمس كان عليها أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم والتابعون بإحسان: لزوم الجماعة، واتباع السنة، وعمارة المساجد، وتلاوة

القرآن، والجهاد في سبيل الله"4.

وقال الإمام مالك رحمه الله تعالى: "إياكم وأصحاب الرأي، فإنهم أعداء أهل السنة"5.

ومن هذا الباب ما يأتي بعد قليل عن ابن سيرين وغيره أثناء الكلام عن مصطلح أهل السنة باعتبار تركيبه الإضافي.

والسنة في هذا كله بمعنى الاعتقاد الصحيح المقابل لاعتقاد أهل البدع الباطل.

وكان السلف يفرقون في هذا المقام بين السنة والحديث، قال ابن مهدي: "الناس على وجوه، فمنهم من هو إمام في السنة، إمام في الحديث، ومنهم من هو إمام في الحديث، فأما من هو إمام في السنة وإمام في الحديث فسفيان الثوري"6.

--------------------------------------------

1 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 54".

2 التاريخ الكبير، لابن أبي خيثمة "4628".

3 رواه ابن مأبي خيثمة في التاريخ "4657"، ومن طريقه اللالكائي "1/ 66".

4 رواه ابن ماجه أبي خيثمة في التاريخ "4702"، ومن طريقه اللالكائي "1/ 64".

5 حلية الأولياء لأبي نعيم "6/ 327".

6 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 63".
ইবনে আব্বাসের উক্তি: "আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত কোনো ব্যক্তির দিকে তাকানো যা সুন্নাহর দিকে আহ্বান করে এবং বিদআত থেকে নিষেধ করে, তা একটি ইবাদত।"1.

আবু আল-মালিহ বলেন: "উমর ইবন আব্দুল আযীয সুন্নাহর পুনর্জাগরণ এবং বিদআতের বিলুপ্তি কামনায় পত্র লিখতেন।"2.

ইবনে ইউনুস বলেন: "মসুলবাসীদের মুআফা ইবন ইমরান দ্বারা পরীক্ষা করো; যদি তারা তাকে ভালোবাসে তবে তারা সুন্নাহর অনুসারী, আর যদি তারা তাকে ঘৃণা করে তবে তারা বিদআতী; যেমনটি কুফাবাসীদের ইয়াহইয়া দ্বারা পরীক্ষা করা হয়।"3.

আওযাঈ বলেন: "বলা হতো: পাঁচটি বিষয় এমন ছিল যার উপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ এবং নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবিঈগণ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন: জামাআতবদ্ধ থাকা, সুন্নাহর অনুসরণ করা, মসজিদ আবাদ করা, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।"4.

ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন: "তোমরা রায়-পন্থীদের (যুক্তি-নির্ভরদের) থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তারা সুন্নাহর অনুসারীদের শত্রু।"5.

এই প্রসঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বিষয়গুলো যা কিছুক্ষণ পরেই ইবনে সিরীন এবং অন্যদের থেকে 'আহলে সুন্নাহ' পরিভাষাটির সম্বন্ধযুক্ত গঠন হিসেবে আলোচনার সময় আসবে।

আর এই সবকিছুর মধ্যে 'সুন্নাহ' বলতে সঠিক বিশ্বাস বা আকীদাকে বোঝানো হয়েছে, যা বিদআতীদের ভ্রান্ত বিশ্বাসের বিপরীত।

সালাফগণ এই স্থানে সুন্নাহ এবং হাদীসের মধ্যে পার্থক্য করতেন। ইবনে মাহদী বলেন: "মানুষ বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে; তাদের মধ্যে কেউ সুন্নাহর ইমাম এবং হাদীসের ইমাম, আবার কেউ কেবল হাদীসের ইমাম। আর যিনি সুন্নাহর ইমাম এবং হাদীসের ইমাম উভয়ই ছিলেন, তিনি হলেন সুফিয়ান আস-সাওরী।"6.

--------------------------------------------

১ শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, লালকাঈ (১/ ৫৪)।

২ আত-তারীখুল কাবীর, ইবনু আবী খাইসামা (৪৬২৮)।

৩ ইবনু আবী খাইসামা তার ‘তারীখ’ (৪৬৫৭) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র ধরে লালকাঈ (১/ ৬৬)।

৪ ইবনু আবী খাইসামা তার ‘তারীখ’ (৪৭০২) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র ধরে লালকাঈ (১/ ৬৪)।

৫ হিলইয়াতুল আওলিয়া, আবু নুআইম (৬/ ৩২৭)।

৬ শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ, লালকাঈ (১/ ৬৩)।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
ولما سئل ابن الصلاح عن الفرق بين قولهم عن مالك إنه جمع بين السنة والحديث، فما الفرق بين السنة والحديث؟ أجاب رحمه الله: "السنة ههنا ضد البدعة، وقد يكون الإنسان من أهل الحديث وهو مبتدع، ومالك رحمه الله جمع بين السنتين، فكان عالما بالسنة أي: الحديث، ومعتقدًا للسنة، أي كان مذهبه مذهب أهل الحق من غير بدعة، والله أعلم"1.

فلما ظهرت البدع، وانتشرت الفتن، ميز أهل السنة أنفسهم، ببقائهم على أصل الإسلام والشريعة، وخرجت عنهم الخوارج، واعتزلتهم المعتزلة، ورفضت الروافض، فتشتت أهل البدع وتفرقوا، ومكث أهل السنة على أصلهم الباقي على مر الزمان، وهو ما شرعه النبي صلى الله عليه وسلم، وسنه لهم من السنة والجماعة.

ولما كان أكثر الاختلاف بينهم وبين غيرهم في أمور الاعتقاد صار مفهوم السنة يعني السير على طريقة الصحابة والتابعين بإحسان في أمور الاعتقاد خاصة، وأمور الدين عامة، ومن هنا نشأ المعنى الثاني للسنة.

--------------------------------------------

1 فتاوى ابن الصلاح "1/ 213"، بتحقيق د. عبد المعطي أمين قلعجي.
যখন ইবনুস সালাহকে এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, ইমাম মালিক সম্পর্কে বলা হয় তিনি সুন্নাহ ও হাদিস উভয়কে একত্রিত করেছেন, তাহলে সুন্নাহ ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য কী? তিনি (রহ.) উত্তর দিলেন: "এখানে সুন্নাহ হলো বিদআতের বিপরীত। কখনও কোনো ব্যক্তি হাদিসওয়ালাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন অথচ তিনি বিদআতি। আর মালিক (রহ.) দুই সুন্নাহকে একত্রিত করেছেন; তিনি সুন্নাহ অর্থাৎ হাদিস সম্পর্কে জ্ঞানী ছিলেন এবং সুন্নাহর আকিদা পোষণকারী ছিলেন, অর্থাৎ তাঁর পথ ছিল কোনো বিদআত ছাড়াই সত্যপন্থীদের পথ। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।"১।

যখন বিদআতের আবির্ভাব ঘটল এবং ফিতনা ছড়িয়ে পড়ল, তখন আহলে সুন্নাত ইসলাম ও শরীয়তের মূল ভিত্তির ওপর অটল থাকার মাধ্যমে নিজেদের স্বতন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করলেন। তাদের থেকে খারেজিরা বের হয়ে গেল, মুতাজিলাগণ বিচ্ছিন্ন হলো এবং রাফেজিরা দলত্যাগ করল। ফলে বিদআতিরা লক্ষ্যভ্রষ্ট ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল, আর আহলে সুন্নাত কালক্রমে তাদের সেই আদি মূলনীতির ওপর অটল থাকলেন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রবর্তন করেছেন এবং তাদের জন্য সুন্নাহ ও জামাত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

যেহেতু তাদের এবং অন্যদের মধ্যে অধিকাংশ মতপার্থক্য ছিল আকিদাগত বিষয়ে, তাই সুন্নাহর ধারণাটি বিশেষত আকিদাগত বিষয়ে এবং সাধারণভাবে দ্বীনি বিষয়ে সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের পথ অনুসরণের অর্থে পর্যবসিত হলো। এখান থেকেই সুন্নাহর দ্বিতীয় অর্থটি উদ্ভূত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. ফাতাওয়া ইবনুস সালাহ "১/ ২১৩", ড. আব্দুল মুতি আমীন কালআজি-এর সম্পাদনায়।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২০)
2- تعريف الجماعة لغة واصطلاحا:

الجماعة لغة:

الجماعة: اسم مصدر اجتمع يجتمع اجتماعا وجماعة، وصارت لفظة الجماعة تطلق على القوم المجتمعين بالنقل، حتى صارت حقيقة عرفية في القوم المجتمعين1.

وقال ابن تيمية: "الجماعة هي الاجتماع، وضدها الفرقة، وإن كان لفظ الجماعة قد صار اسما لنفس القوم المجتمعين"2.

والجمع: اسم لجماعة الناس، والإجماع: الاتفاق والإحكام، يقال: أجمع الأمر أي أحكمه، ومنه إجماع أهل العلم، أي: اتفاقهم على حكم مسألة.

الجماعة اصطلاحًا:

ذكر الإمام الطبري الأقوال في معنى الجماعة، ونقلها عنه ابن حجر3، ورد الأقوال إلى أربعة أقوال هي:

- السواد الأعظم من أهل الإسلام.

- أئمة العلماء المجتهدين المتبعين لمنهج الفرقة الناجية.

- الصحابة على وجه الخصوص.

- المجتمعون على أمير شرعي.

وكذا قال الشاطبي، وزاد قولا خامسا وهو جماعة أهل الإسلام4.

وبمحاولة الجمع والتوفيق بين هذه الأقوال المتعددة، يلاحظ أن جملة هذه المعاني تؤول إلى معنيين اثنين:

1- ما عليه أهل الحق من الاتباع وترك الابتداع، وهو المذهب الحق الواجب اتباعه والسير على منهاجه، وهذا معنى تفسير الجماعة بالصحابة، أو أهل العلم والحديث، أو الإجماع، أو السواد الأعظم، فهي كلها ترجع إلى معنى واحد هو: ما كان عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، فيجب الاجتماع على الاتباع حينئذ، ولو كان المتمسك بهذا قليلا، وهذا معنى علمي، ويشهد له قول ابن مسعود رضي الله عنه: "إنما الجماعة ما وافق طاعة الله، وإن كنت وحدك"5.

--------------------------------------------

1 لسان العرب لابن منظور "2/ 355-361"، والمعجم الوسيط إصدار مجمع اللغة العربية "1/ 140، 141".

2 مجموع الفتاوى "3/ 157".

3 فتح الباري لابن حجر "13/ 37".

4 الاعتصام للشاطبي "2/ 263".

5 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 109".
২- শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে আল-জামায়াতের সংজ্ঞা:

শাব্দিক অর্থে আল-জামায়াত:

আল-জামায়াত: এটি ‘ইজতামায়া-ইয়াজতামিউ-ইজতিমাআন ওয়া জামায়াতান’ (একত্রিত হওয়া) ক্রিয়ামূল থেকে উদ্ভূত একটি বিশেষ্য। শব্দার্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে ‘জামায়াত’ শব্দটি একত্রিত একদল লোকের ওপর প্রযুক্ত হতে থাকে, এমনকি এটি একত্রিত একদল লোকের ক্ষেত্রে একটি সামাজিক পরিভাষায় (হাকিকাত উরফিয়্যাহ) পরিণত হয়েছে।১

ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "জামায়াত হলো একত্র হওয়া, যার বিপরীত হলো অনৈক্য বা বিচ্ছিন্নতা। যদিও জামায়াত শব্দটি বর্তমানে একত্রিত একদল লোকের নাম হিসেবেই নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে।"২

আর ‘আল-জাম’ (একত্রিত করা) শব্দটি মানুষের সমষ্টির একটি নাম। আর ‘আল-ইজমা’ অর্থ হলো ঐকমত্য ও সুদৃঢ়করণ। বলা হয়ে থাকে: ‘সে বিষয়টি সুদৃঢ় করেছে’ (আজমায়াল আমর), আর এখান থেকেই আলেমদের ‘ইজমা’ কথাটির উৎপত্তি, যার অর্থ হলো: কোনো মাসআলার বিধানের ব্যাপারে তাঁদের ঐকমত্য পোষণ করা।

পারিভাষিক অর্থে আল-জামায়াত:

ইমাম তাবারী আল-জামায়াতের অর্থ সম্পর্কে বিভিন্ন অভিমত উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে হাজার তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন।৩ তিনি অভিমতগুলোকে চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছেন, সেগুলো হলো:

- মুসলিম উম্মাহর বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (সাওয়াদে আজম)।

- পরিত্রাণপ্রাপ্ত দলের মানহাজ অনুসরণকারী মুজতাহিদ আলেমগণ।

- বিশেষভাবে সাহাবায়ে কেরাম।

- শরীয়তসম্মত আমিরের অধীনে ঐক্যবদ্ধ ব্যক্তিবর্গ।

অনুরূপভাবে ইমাম শাতবিও বলেছেন এবং তিনি পঞ্চম একটি অভিমত যোগ করেছেন, যা হলো মুসলিম উম্মাহর সামগ্রিক জামায়াত।৪

এই বহুবিধ অভিমতগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার প্রচেষ্টায় এটি লক্ষ্য করা যায় যে, এই সমস্ত অর্থের সারমর্ম মূলত দুটি বিষয়ের দিকে ফিরে যায়:

১- সত্যপন্থীরা যে অনুসরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং বিদআত বর্জন করার ওপর অটল; এটিই সেই সত্য পথ যা অনুসরণ করা এবং যার মানহাজে চলা ওয়াজিব। সাহাবায়ে কেরাম, আহলে ইলম, আহলে হাদীস, ইজমা বা সাওয়াদে আজম দ্বারা জামায়াতের যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তার অর্থ এটিই। এ সবই মূলত একটি অর্থের দিকেই ফিরে যায়, আর তা হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ যা কিছুর ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। সুতরাং তখন অনুসরণের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া ওয়াজিব, যদিও সেই আদর্শ আঁকড়ে ধরা ব্যক্তির সংখ্যা কম হয়। এটি একটি তাত্ত্বিক অর্থ, যার স্বপক্ষে ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তিটি প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যায়: "জামায়াত হলো তাই যা আল্লাহর আনুগত্যের অনুকূল হয়, যদিও তুমি একাকী হও।"৫

--------------------------------------------

১ ইবনে মানযুর রচিত লিসানুল আরব "২/ ৩৫৫-৩৬১", এবং আরবি ভাষা একাডেমি প্রকাশিত আল-মু'জাম আল-ওয়াসীত "১/ ১৪০, ১৪১"।

২ মাজমুউ ফাতাওয়া "৩/ ১৫৭"।

৩ ইবনে হাজারের ফাতহুল বারী "১৩/ ৩৭"।

৪ শাতবির আল-ইতিসাম "২/ ২৬৩"।

৫ লালাকাঈর শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত "১/ ১০৯"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২১)
2- المجتمعون على أمير على مقتضى الشرع، فيجب لزوم هذه الجماعة، ويحرم الخروج عليها وعلى أميرها، وهذا معنى سياسي تشهد له كثير من النصوص الشرعية.

وهذا ما رجحه جمع من أهل العلم كالقاضي ابن العربي وغيره1.

وهو ما انتهى إليه د. عبد الرحمن المحمود في رسالته عن "موقف ابن تيمية من الأشاعرة"2، والشيخ رضا بن نعسان معطي في تحقيقه، ودراسته لكتاب "الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية"3 لابن بطة، ود. محمد باكريم في رسالته "وسطية أهل السنة بين الفرق"4، ود. جمال بادي في رسالته عن "وجوب لزوم الجماعة وترك التفرق"5، ود. ناصر العقل في رسالته "مفهوم أهل السنة والجماعة"6.

--------------------------------------------

1 انظر: عارضة الأحوذي لابن العربي 9/ 10"، والاعتصام للشاطبي "2/ 260-265"، وفتح الباري لابن حجر "13/ 37".

2 موقف ابن تيمية من الأشاعرة للدكتور عبد الرحمن المحمود "1/ 16-17".

3 الإبانة عن شريعة الفرقة الناجية لابن بطة، تحقيق رضا بن نعسان معطي. مقدمة المحقق ص 71، 72.

4 وسطية أهل السنة بين الفرق للدكتور محمد باكريم ص91-96.

5 وجوب لزوم الجماعة وترك التفرق د. جمال بشيرابادي ص87-115.

6 مفهوم أهل السنة والجماعة د. ناصر العقل ص69، 70.
২- যারা শরীয়তের বিধান অনুযায়ী একজন আমীরের (নেতৃত্বের) অধীনে ঐক্যবদ্ধ হয়; সুতরাং এই জামাআতকে আঁকড়ে ধরা ওয়াজিব এবং এই জামাআত ও এর আমীরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা হারাম। এটি একটি রাজনৈতিক অর্থ, যার সপক্ষে বহু শরয়ী দলীল বিদ্যমান।

আর এটিকেই একদল আলেম প্রাধান্য দিয়েছেন, যেমন কাযী ইবনুল আরাবী এবং অন্যান্যগণ।১

আর এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন ড. আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ তাঁর "মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ"২ নামক গবেষণাপত্রে, শায়খ রিদা বিন নাসান মু'তী ইবনে বাত্তাহর "আল-ইবানাহ আন শরীয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ"৩ গ্রন্থের তাহকীক ও গবেষণায়, ড. মুহাম্মদ বাকরীম তাঁর "ওয়াসাতিয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক"৪ নামক গবেষণাপত্রে, ড. জামাল বাদী তাঁর "উজুবু লুজুমিল জামাআতি ওয়া তারকুত তাফাররুক"৫ নামক গবেষণাপত্রে এবং ড. নাসির আল-আকল তাঁর "মাফহুমু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ"৬ নামক গবেষণাপত্রে।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: ইবনুল আরাবী রচিত "আরিদাতুল আহওয়াযী" ৯/১০, শাতিবী রচিত "আল-ইতিসাম" ২/২৬০-২৬৫ এবং ইবনে হাজার রচিত "ফাতহুল বারী" ১৩/৩৭।

২ ড. আব্দুর রহমান আল-মাহমুদ রচিত "মাওকিফু ইবনি তাইমিয়্যাহ মিনাল আশাইরাহ" ১/১৬-১৭।

৩ ইবনে বাত্তাহ রচিত "আল-ইবানাহ আন শরীয়াতিল ফিরকাতিন নাজিয়াহ", রিদা বিন নাসান মু'তীর তাহকীক। মুহাক্কিকের ভূমিকা পৃষ্ঠা ৭১, ৭২।

৪ ড. মুহাম্মদ বাকরীম রচিত "ওয়াসাতিয়াতু আহলিস সুন্নাহ বাইনাল ফিরাক", পৃষ্ঠা ৯১-৯৬।

৫ ড. জামাল বশীর বাদী রচিত "উজুবু লুজুমিল জামাআতি ওয়া তারকুত তাফাররুক", পৃষ্ঠা ৮৭-১১৫।

৬ ড. নাসির আল-আকল রচিত "মাফহুমু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ", পৃষ্ঠা ৬৯, ৭০।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ثانيا: تعريف المصطلح باعتبار تركيبه الإضافي:

وعلى هذا، فإن مصطلح أهل السنة والجماعة يعنى به:

المستمسكون بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، الذين اجتمعوا على ذلك، وهم الصحابة والتابعون وأئمة الهدى المتبعون لهم، ومن سلك سبيلهم في الاعتقاد والقول والعمل إلى يوم الدين1.

"وهم أهل السنة والجماعة: المتمسكون بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبما كان عليه الصدر الأول من الصحابة والتابعين، وأئمة المسلمين في قديم الدهر وحديثه"2.

"فهم الذين اجتمعوا على السنة وأجمعوا عليها، واجتمعوا على الحق وعلى أئمتهم فجاء اسمهم ووصفهم مركبا من أهل السنة والجماعة"3.

"وهم المتبعون للعقيدة الإسلامية الصحيحة، الملتزمون منهج الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه والتابعين، وتابعيهم بإحسان إلى يوم الدين"4.

وهم المجتمعون على أئمتهم أبي بكر، وعمر ومن بعدهما، الصابرون على ولاتهم برهم وفاجرهم.

كما سئل الإمام سفيان بن عيينة رحمه الله عن قول الناس: السنة والجماعة. وقولهم: فلان سني جماعي، وما تفسير السنة والجماعة؟

فقال: "الجماعة: ما اجتمع عليه أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم من بيعة أبي بكر وعمر، والسنة: الصبر على الولاة وإن جاروا وإن ظلموا"5.

فهم بالجملة كل من اجتمع على التمسك بالسنة ونبذ الفرقة، وجمع الدين قولا وعلما وعملا، مع الاجتماع على أئمة الحق والحرص على وحدة الصف، جمعا بين واجبي الاتباع والاجتماع، واجتماعا على الاتباع للمنهج الحق.

ومما سبق.. فإن من الوجوه التي يمكن التعرف منها على أهل السنة ما يلي:

أولا: أنهم هم صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين تعلموا سنته وعلموها، وعملوا بها

--------------------------------------------

1 يراجع: شرح العقيدة الطحاوية لابن أبي العز "2/ 544-546"، ورسائل في العقيدة لابن عثيمين ص53، ومباحث في عقيدة أهل السنة د. ناصر العقل ص13، 14.

2 تفسير ابن كثير "3/ 434".

3 مفهوم أهل السنة والجماعة عند أهل السنة والجماعة. د. ناصر العقل ص75-77.

4 المدخل لعقيدة أهل السنة د. البريكان ص13.

5 مشيخة ابن الخطاب ص116.
দ্বিতীয়ত: পারিভাষিক রূপের বিচারে পরিভাষাটির সংজ্ঞা:

এর ভিত্তিতে 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' বলতে বোঝায়:

যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছেন এবং তার ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরা হলেন সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁদের অনুসারী হিদায়াতের ইমামগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা বিশ্বাস, কথা ও কর্মে তাঁদের পথ অনুসরণ করবেন।১

"তাঁরাই হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত: যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে এবং সাহাবী, তাবিঈ ও প্রাচীন ও আধুনিক যুগের মুসলিমদের ইমামদের সমন্বয়ে গঠিত প্রথম যুগের আদর্শকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরেছেন।"২

"তাঁরা এমন একদল যারা সুন্নাহর ওপর সমবেত হয়েছেন এবং এর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তাঁরা সত্যের ওপর এবং তাঁদের ইমামদের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, যার ফলে তাঁদের নাম ও বিশেষণ 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' হিসেবে যৌগিকভাবে গঠিত হয়েছে।"৩

"তাঁরা হলেন সঠিক ইসলামী আকীদার অনুসারী, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর সাহাবী, তাবিঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীদের মানহাজের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"৪

তাঁরা হলেন তাঁরাই, যারা তাঁদের ইমাম আবু বকর, উমর এবং তাঁদের পরবর্তী ইমামদের ওপর ঐক্যবদ্ধ এবং তাঁরা তাঁদের শাসক নেককার হোক বা পাপিষ্ঠ হোক, তাদের প্রতি ধৈর্যশীল।

যেমন ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহিমাহুল্লাহকে মানুষের এই উক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "সুন্নাহ ও জামাআত"। এবং তাদের কথা: "অমুক ব্যক্তি সুন্নী জামাআতী"। সুন্নাহ ও জামাআতের ব্যাখ্যা কী?

তিনি বললেন: "জামাআত হলো তা-ই, যার ওপর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ আবু বকর ও উমরের বায়আতের (আনুগত্যের শপথ) ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। আর সুন্নাহ হলো শাসকদের ওপর ধৈর্য ধারণ করা, যদিও তারা জুলুম ও অত্যাচার করে।"৫

মোটকথা, তাঁরা হলেন সেই সকল লোক যারা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা ও বিভেদ বর্জনের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন এবং কথা, জ্ঞান ও কর্মের মাধ্যমে দ্বীনকে একত্র করেছেন। সেই সাথে সত্যের ইমামদের ওপর ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং ঐক্যের সারি অটুট রাখার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া, যা অনুকরণ ও ঐক্যের উভয় আবশ্যকতাকে সমন্বয় করে এবং সত্য মানহাজ অনুসরণ করার ওপর সমবেত হয়।

পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে... আহলুস সুন্নাহকে চেনার অন্যতম দিকগুলো নিম্নরূপ:

প্রথমত: তাঁরা হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ, যারা তাঁর সুন্নাহ শিখেছেন, শিখিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: ইবনুল আবিল ইজ্জ রচিত 'শারহুল আকীদাহ আত-ত্বহাবীইয়াহ' (২/ ৫৪৪-৫৪৬), ইবনে উসাইমীন রচিত 'রাসায়িল ফিল আকীদাহ' পৃ. ৫৩ এবং ড. নাসির আল-আকল রচিত 'মাবাহিস ফি আকীদাতি আহলিস সুন্নাহ' পৃ. ১৩, ১৪।

২ তাফসীরে ইবনে কাসীর (৩/ ৪৩৪)।

৩ ড. নাসির আল-আকল রচিত 'মাফহুমু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' পৃ. ৭৫-৭৭।

৪ ড. আল-বুরাইকান রচিত 'আল-মাদখাল লি-আকীদাতি আহলিস সুন্নাহ' পৃ. ১৩।

৫ মাশায়িখাতু ইবনিল খাত্তাব পৃ. ১১৬।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
ونقلوها وحملوها رواية ودراية ومنهجا، فهم أجدر، من يستحق التسمي بأهل السنة، لسبقهم إلى السنة علمًا وعملًا وزمنًا.

ثانيا: يليهم أتباعهم الذين أخذوا عنهم هذا الدين ونقوله، وعلموه وعملوا به من التابعين وتابعيهم، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، فهم أهل سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم الذين تمسكوا بها، ولم يبتدعوا ولم يتبعوا غير سبيل المؤمنين.

قال الإمام أحمد رحمه الله: "هذه مذاهب أهل العلم وأصحاب الأثر، وأهل السنة المستمسكين بعروتها، المعروفين بها، المقتدى بهم فيها من لدن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، وأدركت عليها من علماء الحجاز والشام وغيرهما عليها، فمن خالف شيئا من هذه المذاهب، أو طعن فيها، أو عاب قائلها فهو مخالف مبتدع، وخارج عن الجماعة، زايل عن منهج السنة وسبيل الحق"1.

وكل من اقتدى -من العوام- بأهل العلم والاتباع فهو من أهل السنة، قال ابن حزم رحمه الله: "وأهل السنة الذين نذكرهم أهل الحق، ومن عداهم فأهل البدعة فإنهم: الصحابة رضي الله عنه، وكل من سلك نهجهم من خيار التابعين رحمة الله عليهم، ثم أصحاب الحديث ومن تبعهم من الفقهاء جيلا فجيلا إلى يومنا هذا، ومن اقتدى بهم من العوام في شرق الأرض وغربها رحمة الله عليهم"2.

--------------------------------------------

1 العقيدة للإمام أحمد رواية أبي بكر الخلال ص73.

2 الفصل في الملل والأهواء والنحل لابن حزم "2/ 90".
এবং তাঁরা এটি বর্ণনা, অনুধাবন ও পদ্ধতিগতভাবে পৌঁছে দিয়েছেন এবং বহন করেছেন। অতএব, তাঁরাই ‘আহলুস সুন্নাহ’ নামে অভিহিত হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য; কারণ জ্ঞান, আমল এবং সময়ের দিক থেকে তাঁরাই সুন্নাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন।

দ্বিতীয়ত: তাঁদের অনুসারীগণ, যাঁরা তাঁদের কাছ থেকে এই দ্বীন ও এর বর্ণনাগুলো গ্রহণ করেছেন, তা শিক্ষা করেছেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেছেন। তাঁরা হলেন তাবিঈ, তাবি-তাবিঈ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ। তাঁরাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসারী (আহলুস সুন্নাহ), যাঁরা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরেছেন, কোনো বিদআত উদ্ভাবন করেননি এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য কোনো পথের অনুসরণ করেননি।

ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "এগুলো হলো ইলম ও আছারের অনুসারী এবং সুন্নাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী আহলুস সুন্নাহর মাযহাব (মতাদর্শ), যাঁরা এর মাধ্যমেই পরিচিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের সময় থেকে আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে তাঁদেরই অনুসরণ করা হয়। আমি হিজায, শাম এবং অন্যান্য অঞ্চলের আলিমদের এই মতাদর্শের ওপরই অবিচল পেয়েছি। অতএব, যে ব্যক্তি এই মতাদর্শের কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করবে, এর সমালোচনা করবে অথবা এর প্রবক্তাদের দোষারোপ করবে, সে একজন বিরোধী বিদআতী এবং জামাআত থেকে বহির্গত; সে সুন্নাহর মানহাজ ও হকের পথ থেকে বিচ্যুত।" ১।

সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা ইলম ও ইত্তিবা’র অধিকারীদের অনুসরণ করে, তারাও আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হাযম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: "আহলুস সুন্নাহ—যাঁদের কথা আমরা উল্লেখ করি—তাঁরাই হলেন হকের অনুসারী এবং তাঁরা ছাড়া অন্য সবাই বিদআতী। তাঁরা হলেন: সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং তাঁদের পথ অনুসরণকারী শ্রেষ্ঠ তাবিঈগণ রাহিমাহুল্লাহ, অতঃপর আসহাবুল হাদীস এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাঁদের অনুসারী ফকীহগণ, আর পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ যারা তাঁদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।" ২।

--------------------------------------------

১. আল-আকীদাহ লিল ইমাম আহমাদ, রিওয়ায়াতু আবি বকর আল-খাল্লাল, পৃষ্ঠা: ৭৩।

২. আল-ফাসলু ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল, ইবনে হাযম (২/ ৯০)।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثاني: سبب التسمية وذيوعها:

نسب أهل الحق إلى المصطلح، لأجل حرصهم على السنة والجماعة.

فهم "أهل السنة"؛ لأنهم متبعون لحديث النبي صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي، وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي" 1. "فالسنة هي ما تلقاه الصحابة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتلقاه عنهم التابعون ثم تابعوهم إلى يوم القيامة"2.

وهم "أهل الجماعة"؛ لأنهم يعتبرون الكتاب والسنة والإجماع مصادر معصومة من الضلال، فبها يأخذون، وعليها يعتمدون، ثم هم بعد ذلك مع أئمتهم مجتمعون، وبواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر قائمون، وبالجهاد مع أئمتهم -فجارًا أو أبرارا- آمرون ومجاهدون، يجتمعون على السنة والاتباع، والبعد عن الفرقة والابتداع، فهم أحق بالجماعة التي من تعلق بها نجا، كما ورد في حديث افتراق الأمة، حيث أخبر النبي صلى الله عليه وسلم "عن افتراق أمته إلى ثلاث وسبعين فرقة، كلها في النار إلا واحدة وهي "الجماعة" 3، وفي رواية قال: "ما أنا عليه وأصحابي" 4.

--------------------------------------------

1 رواه أحمد "16692"، والدارمي "95"، وابن ماجه "44"، وأبو داود "4607"، والترمذي "2676"، والحاكم "329" من حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه، وقال الترمذي: هذا حديث حسن صحيح، وصححه الحاكم، وقال: على شرط الشيخين، وصححه الشيخ الألباني في صحيح الجامع "4369".

2 مجموع الفتاوى "3/ 358".

3 أخرجه أحمد "16490"، وأبو داود "4597"، والحاكم "443" من حديث معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه. وصححه الحاكم، والشيخ الألباني في صحيح الجامع "2641".

4 أخرجه الترمذي "2641"، والحاكم "444" من حديث عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما، وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب لا نعرفه إلا من هذا الوجه". وقال المناوي في فيض القدير "5/ 347": وفيه عبد الرحمن بن زياد الأفريقي، قال الذهبي: ضعفوه". وقال المباركفوري في تحفة الأحوذي "7/ 334": "في سنده عبد الرحمن=
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নামকরণের কারণ ও এর ব্যাপকতা:

সুন্নাহ ও জামাআতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের কারণে সত্যপন্থীদের এই পরিভাষার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে।

তারা হলেন "আহলে সুন্নাত"; কারণ তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এই হাদিসের অনুসারী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরে হেদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে" ১। "সুন্নাহ হলো তা-ই যা সাহাবীগণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছেন, এবং তাঁদের থেকে তাবেয়ীগণ গ্রহণ করেছেন, অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁদের অনুসরণ করবেন তারা তা গ্রহণ করেছেন" ২।

আর তারা হলেন "আহলে জামাআত"; কারণ তাঁরা কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমাকে বিভ্রান্তি থেকে সুরক্ষিত উৎস হিসেবে গণ্য করেন, তাই তাঁরা এগুলো গ্রহণ করেন এবং এগুলোর ওপর নির্ভর করেন। অতঃপর তাঁরা তাঁদের ইমামদের সাথে ঐক্যবদ্ধ থাকেন, এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁরা তাঁদের ইমামদের সাথে—চাই তাঁরা পাপাচারী হোক বা নেককার—জিহাদের নির্দেশ দেন এবং জিহাদ করেন। তাঁরা সুন্নাহ ও অনুকরণের ওপর ঐক্যবদ্ধ হন এবং অনৈক্য ও বিদআত থেকে দূরে থাকেন। সুতরাং তাঁরাই সেই 'জামাআত' হওয়ার অধিক যোগ্য, যার সাথে যুক্ত থাকলে মুক্তি পাওয়া যায়, যেমনটি উম্মাহর বিভক্তি সংক্রান্ত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন "তাঁর উম্মত তিয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত হওয়া সম্পর্কে, যার সবকটিই জাহান্নামে যাবে কেবল একটি ব্যতীত, আর সেটি হলো 'জামাআত'" ৩। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত" ৪।

--------------------------------------------

১ আহমদ "১৬৬৯২", দারেমী "৯৫", ইবনে মাজাহ "৪৪", আবু দাউদ "৪৬০৭", তিরমিযী "২৬৭৬" এবং হাকেম "৩২৯" ইরবায বিন সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এটি হাসান সহীহ হাদিস, হাকেম একে সহীহ বলেছেন এবং বলেছেন: এটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী, আর শেখ আলবানী সহীহুল জামে-এ "৪৩৬৯" একে সহীহ বলেছেন।

২ মাজমুউল ফাতাওয়া "৩/ ৩৫৮"।

৩ আহমদ "১৬৪৯০", আবু দাউদ "৪৫৯৭" এবং হাকেম "৪৪৩" মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। হাকেম এবং শেখ আলবানী সহীহুল জামে-এ "২৬৪১" একে সহীহ বলেছেন।

৪ তিরমিযী "২৬৪১" এবং হাকেম "৪৪৪" আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস, যা আমরা কেবল এই সূত্রেই জানি। মুনাভী ফয়জুল কদীর-এ "৫/ ৩৪৭" বলেছেন: এর মধ্যে আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ আল-আফ্রিকী রয়েছে, যাহাবী বলেছেন: তারা তাকে দুর্বল বলেছেন। মুবারকপুরী তুহফাতুল আহওয়াযী-তে "৭/ ৩৩৪" বলেছেন: "এর সনদে আব্দুর রহমান...
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وسبب ذيوع هذه التسمية يرجع إلى أول بدعة وقعت في الإسلام، بعد موته صلى الله عليه وسلم، وهي بدعة الخروج على الأئمة، وتشقيق الصف، وثلم الجماعة، ونكث الصفقة والبيعة، حين اتخذ الخوارج منهج فكريا عقائديا خالفوا به جماهير المسلمين، فكفروا بالذنوب واستحلوا الدماء والأموال، فقاتلهم علي رضي الله عنه، وأجمع الصحابة على ذلك، ووقعت في أثناء ذلك الفتنة بين علي رضي الله عنهما، وأريقت فيها الدماء، وتفرقت فيها الكلمة، ثم اجتمعت الأمة بعد ذلك على معاوية رضي الله عنه، بعد أن حقن الله دماء المسلمين بتنازل الحسن بن علي رضي الله عنهما عن الخلافة، وسمي ذلك العام -عام إحدى وأربعين- بعام الجماعة.

وفي إثر بدعة الخوارج ظهرت بدعة الروافض، الذين اشتهروا بالكذب، بخلاف الخوارج الذين اشتهر معظمهم بالصدق، فكان من شأن أهل السنة مع الروافض أن سألوا عن الإسناد وعنوا به، روى الإمام مسلم في صحيحه عن ابن سيرين قال: "لم يكونوا يسألون عن الإسناد فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى البدعة فلا يؤخذ حديثهم"1.

ثم ظهر قول القدرية2 بإنكار العلم السابق، وانتشر قول الجهمية والجبرية بأن العبد مجبور، فعقبت طائفة من أهل العلم بالرد على أهل البدع بتصنيف كتب في العقيدة أسموها "كتب السنة"، ومن اشتهرت هذه الطائفة من أهل العلم بالحرص على

--------------------------------------------

= ابن زياد الأفريقي وهو ضعيف، فتحسين الترمذي له لاعتضاده بأحاديث الباب". وحسنه الشيخ الألباني في صحيح الجامع "5345".

1 رواه مسلم في مقدمة صحيحه "1/ 15"، وأحمد في العلل ومعرفة الرجال "3640"، وابن أبي حاتم في الجرح والتعديل "2/ 28"، والرامهرمزي في المحدث الفاصل ص209، والسمعاني في أدب الإملاء ص5، والخطيب في الكفاية ص122.

2 وهم الذين تبرأ منهم عبد الله بن عمر رضي الله تعالى عنهما، حين سئل عنهم. كما في صحيح مسلم "8". وانظر: شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 16".
এই নামকরণের প্রসারের কারণ ইসলামের প্রথম বিদআতের দিকে ফিরে যায়, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর সংঘটিত হয়েছিল। আর তা হলো ইমামদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার বিদআত, সংহতি বিনষ্ট করা, জামাআতকে খণ্ডিত করা এবং প্রতিশ্রুতি ও আনুগত্যের শপথ ভঙ্গ করা; যখন খাওয়ারিজরা এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক ও আকিদাগত মানহাজ গ্রহণ করেছিল যার মাধ্যমে তারা মুসলিম জনসাধারণের বিরোধিতা করেছিল। ফলে তারা পাপের কারণে কাফির সাব্যস্ত করত এবং রক্ত ও সম্পদকে হালাল মনে করত। অতঃপর আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এই সময়ের মধ্যেই আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে ফিতনা সংঘটিত হয়, যাতে রক্তপাত ঘটে এবং ঐক্য বিনষ্ট হয়। অতঃপর হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা খিলাফত ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের রক্ত রক্ষা করার পর উম্মাহ মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর ওপর ঐক্যবদ্ধ হয়। আর সেই বছরটিকে—একচল্লিশ হিজরি সালকে—'আমুল জামাআত' (ঐক্যের বছর) বলা হয়।

খাওয়ারিজদের বিদআতের পরেই রাফেজিদের বিদআত প্রকাশ পায়, যারা মিথ্যার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল—খাওয়ারিজদের বিপরীতে যাদের অধিকাংশ সত্যবাদিতার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। তাই রাফেজিদের ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর অবস্থান ছিল এই যে, তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমায় ইবনে সিরিন থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "লোকেরা পূর্বে সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না, কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা বলতে লাগল: আমাদের কাছে তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম বলো। অতঃপর আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না।" ১।

এরপর পূর্বনির্ধারিত জ্ঞান অস্বীকার করার মাধ্যমে কাদারিয়াদের মতবাদ প্রকাশ পায় এবং বান্দা তার কাজে বাধ্য—এ মর্মে জাহমিয়া ও জাবারিয়াদের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ফলে একদল আলিম আকিদাহ বিষয়ক কিতাবাদি রচনার মাধ্যমে বিদআতিদের খণ্ডন করার পদক্ষেপ নেন, যেগুলোর নাম তারা দিয়েছিলেন "কিতাবুস সুন্নাহ"। আর আলিমদের এই দলটি সুন্নাহর প্রতি বিশেষ যত্নের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন...

--------------------------------------------

= ইবনে যিয়াদ আল-আফ্রিকি, আর সে দুর্বল। তিরমিযী কর্তৃক একে হাসান বলা হয়েছে এ অধ্যায়ের অন্যান্য হাদিসের সমর্থনের কারণে।" আর শায়খ আলবানী সহীহুল জামি' "৫৩৪৫"-এ একে হাসান বলেছেন।

১. এটি মুসলিম তাঁর সহীহর মুকাদ্দিমায় "১/ ১৫", আহমাদ "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" "৩৬৪০", ইবনে আবি হাতিম "আল-জারহ ওয়াত তাদিল" "২/ ২৮", রামাহুরমুজি "আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল" পৃষ্ঠা ২০৯, সামআনি "আদাবুল ইমলা" পৃষ্ঠা ৫ এবং খাতিব "আল-কিফায়া" পৃষ্ঠা ১২২-এ বর্ণনা করেছেন।

২. এরাই তারা যাদের থেকে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন যখন তাদের সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। যেমনটি সহীহ মুসলিমে "৮"-এ রয়েছে। আরও দেখুন: লালাকায়ি রচিত "শারহু উসুল ইতিকাদ আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত" "১/ ১৬"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
السنة، وتمييز المقبول من المردود من الرواة والروايات، فتبلور منذ ذلك الحين هذا المصطلح، الذي أصبح لقبا على كل من انتمى إلى أهل الحق المتبعين للسنة والآثار، الحريصين على جمع شمل المسلمين واتفاق كلمتهم في آن واحد.

حتى كان عصر الإمام أحمد بن حنبل، رحمه الله فأظهر الله تعالى إمامته وفضله، وحرصه على صفاء وجه السنة أن تخدشه بدعة القول بخلق القرآن -والتي جاء بها المعتزلة، مع حرصه على وحدة الجماعة أن تنثلم بالخروج على المأمون، فأقام واجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على وجهه الصحيح، فنصر الله به الملة، وأعز به السنة، وثبت به قلب الأمة، ثم إنه قد اجتمعت لديه من أسباب الخروج على المأمون ما لم يجتمع لغيره، فقد أصغى الناس إلى الإمام سمعا، وألقوا إليه بأزمة القلوب انقيادًا وحبا، وقد أتى المأمون ببدعته -متأولًا- كفرًا، فلما قيل للإمام: لم لا تخرج على المأمون؟! قال: كرهت أن أفرق جماعة المسلمين، فلم تمنعه سطوة السلطان أن يقول بالحق إذ علمه، ولم يحمله بطش السلطان وتنكيله به على أن يخرج عليه فيكون سببا في إعمال السيف في رقاب المسلمين.

وبهذا استقر مذهب أهل السنة على ترك الخروج على المبتدع والظالم من الأئمة، ما لم يأت كفرا صريحا لا تأويل فيه ولا شبهة، وخرج الإمام من هذه المحنة إماما للعامة، وعندها دعي الإمام أحمد بإمام أهل السنة والجماعة، وكان أول من لقب بهذا اللقب رحمه الله.

وفي هذا قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "فصار إماما من أئمة السنة، وعلما من أعلامها، لقيامه بإعلامها وإظهارها، وإطلاعه على نصوصها وآثارها، وبيانه لخفي أسرارها، لا؛ لأنه أحدث مقالة أو ابتدع رأيا، ولهذا قال بعض شيوخ المغرب: المذهب لمالك والشافعي، والظهور لأحمد، يعني: أن مذاهب الأئمة في الأصول مذهب واحد، وهو كما قال"1.

--------------------------------------------

1 منهاج السنة النبوية لشيخ الإسلام ابن تيمية "2/ 606".
সুন্নাহ এবং রাবী ও বর্ণনাগুলোর মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও বর্জনীয়র পার্থক্য নিরূপণ। সেই সময় থেকেই এই পরিভাষাটি দানা বাঁধতে শুরু করে, যা সত্যের অনুসারী সেই সব লোকদের উপাধিতে পরিণত হয় যারা সুন্নাহ ও আসার (পূর্বসূরীদের বর্ণনা)-এর অনুসারী এবং একই সাথে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ রাখা ও তাদের ঐক্যমত্যের বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।

অবশেষে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)-এর যুগ এল। আল্লাহ তাআলা তাঁর ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্ব এবং সুন্নাহর নির্মলতাকে রক্ষা করার প্রতি তাঁর একাগ্রতাকে ফুটিয়ে তুললেন, পাছে 'কুরআন সৃষ্টির' বিদআত—যা মুতাজিলাগণ নিয়ে এসেছিল—তা সুন্নাহকে কলঙ্কিত করে। এর পাশাপাশি জামাআতের ঐক্য যেন মামুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কারণে বিনষ্ট না হয়, সে বিষয়েও তিনি সচেষ্ট ছিলেন। ফলে তিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের ওয়াজিব দায়িত্বকে তার সঠিক পদ্ধতিতে আঞ্জাম দিলেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে দ্বীনকে সাহায্য করলেন, সুন্নাহকে সম্মানিত করলেন এবং উম্মাহর অন্তরকে সুদৃঢ় করলেন। এরপর মামুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার এমন সব কারণ তাঁর কাছে উপস্থিত হয়েছিল যা অন্য কারো ক্ষেত্রে হয়নি। মানুষ অত্যন্ত মনোযোগের সাথে ইমামের কথা শুনত এবং গভীর ভালোবাসা ও আনুগত্যের সাথে তাদের হৃদয়ের লাগাম তাঁর প্রতি সঁপে দিয়েছিল। আর মামুন তার বিদআতের মাধ্যমে কুফরি নিয়ে এসেছিল—যদিও তা ছিল ব্যাখ্যার (তাউয়িল) ভিত্তিতে। ইমামকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো: "আপনি কেন মামুনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছেন না?" তিনি বললেন: "আমি মুসলমানদের জামাআত বা ঐক্যকে বিভক্ত করা অপছন্দ করি।" সুলতানের প্রতাপ তাঁকে সত্য কথা বলা থেকে বিরত রাখতে পারেনি যখন তিনি তা জেনেছিলেন, আবার সুলতানের কঠোরতা ও নির্যাতন তাঁকে বিদ্রোহ করতে প্ররোচিত করেনি, যাতে তিনি মুসলমানদের ঘাড়ে তলোয়ার চালানোর কারণ না হন।

এভাবেই বিদআতি ও জালিম শাসকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করার বিষয়ে আহলে সুন্নাহর মাযহাব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, যতক্ষণ না তারা এমন কোনো স্পষ্ট কুফরি করে যাতে কোনো প্রকার ব্যাখ্যা বা সন্দেহের অবকাশ নেই। ইমাম এই কঠিন পরীক্ষা থেকে জনসাধারণের ইমাম হিসেবে উত্তীর্ণ হন এবং সেই সময়ই ইমাম আহমাদকে "আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমাম" বলে অভিহিত করা হয়। তিনি ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যাকে এই উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল, রাহিমাহুল্লাহ।

এ বিষয়ে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এভাবে তিনি সুন্নাহর ইমামদের মধ্যে একজন ইমাম এবং এর অন্যতম এক পতাকাবাহী হিসেবে পরিগণিত হন; সুন্নাহকে প্রচার ও প্রকাশ করা, এর দলিল ও আসারসমূহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা এবং এর গূঢ় রহস্যসমূহ উন্মোচনের কারণে। এটি এজন্য নয় যে তিনি নতুন কোনো মতবাদ বা মতাদর্শের উদ্ভাবন করেছিলেন। একারণেই মাগরিবের জনৈক শায়েখ বলেছিলেন: 'মাযহাব হলো মালিক ও শাফিঈর, আর বিজয় বা আত্মপ্রকাশ হলো আহমাদের।' অর্থাৎ উসূল বা মূলনীতির ক্ষেত্রে ইমামদের মাযহাব অভিন্ন, যেমনটি তিনি বলেছেন।"১

--------------------------------------------

১. শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রচিত 'মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববীয়্যাহ' (২/ ৬০৬)।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الفصل الثالث: مشروعية هذه التسمية:

إن سند مشروعية هذه التسمية، وتلك النسبة الشريفة ثابت بدلالة الكتاب وصحيح السنة وصريح آثار الصحابة والسلف، وبيان ذلك فيما يلي:

أولًا: دلالة الكتاب:

وتتمثل في الآيات الآمرة باتباع النبي صلى الله عليه وسلم وطاعته فيما أتى به، وأن طاعته من طاعة الله عز وجل، والتحذير من مخالفته وعصيانه، فصار اتباع النبي صلى الله عليه وسلم وطاعته اتباعا للكتاب، وطاعة للآيات القرآنية المشار إليها.

وقد ورد هذا المصطلح في سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فصار اتباعه اتباعًا للقرآن على الوصف المذكور.

وقد ورد تفسير بعض آي الذكر الحكيم بالسنة والجماعة، كما سيأتي هنا.

ومن ذلك أيضا تفسير الصراط المستقيم بالسنة والجماعة1.

ثانيا: دلالة السنة:

إن هذا المصطلح والوصف مستمد في الحقيقة من سنة النبي صلى الله عليه وسلم؛ لأنه الآمر بالعناية بالسنة، فقال: "عليكم بسنتي" 2، وهو الآمر بالجماعة، فقال: "وأنا آمركم بخمس كلمات أمرني الله بهن: الجماعة،.." 3، وهو الذي نهى عن الفرقة، فقال: "من

--------------------------------------------

1 انظر: الإتقان للسيوطي "2/ 469".

2 حديث صحيح: سبق تخريجه.

3 أخرجه أحمد "16718، 17344، 22403"، والترمذي "2863"، وابن خزيمة "1895"، وابن حبان "6233"، والحاكم "404" من حديث الحارث الأشعري رضي الله عنه، قال الترمذي: "هذا حديث حسن صحيح غريب"، وصححه الحاكم، والألباني في صحيح الجامع "1724".
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এই নামকরণের বৈধতা:

এই নামকরণের বৈধতার ভিত্তি এবং এই সম্মানিত সম্বন্ধের বিষয়টি কিতাব (কুরআন), সহিহ সুন্নাহ এবং সাহাবী ও সালাফদের স্পষ্ট বর্ণনার (আসার) দলীলের মাধ্যমে প্রমাণিত। এর বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:

প্রথমত: কিতাবের (কুরআনের) দলীল:

এটি সেই সমস্ত আয়াতে প্রতিফলিত হয়েছে যেগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; এবং (বলা হয়েছে যে) তাঁর আনুগত্য করা মহান আল্লাহরই আনুগত্য। পাশাপাশি তাঁর বিরোধিতা ও অবাধ্যতা করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও তাঁর আনুগত্য করা কুরআনের অনুসরণ এবং উল্লিখিত কুরআনী আয়াতসমূহের আনুগত্যে পরিণত হয়েছে।

এই পরিভাষাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে, ফলে তাঁর অনুসরণ করা উল্লিখিত বিবরণ অনুযায়ী কুরআনের অনুসরণে পরিণত হয়েছে।

প্রজ্ঞাময় যিকিরের (কুরআনের) কোনো কোনো আয়াতের তাফসীর 'সুন্নাহ ও জামাআত' দ্বারা বর্ণিত হয়েছে, যা এখানে সামনে আসবে।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো 'সিরাতুল মুস্তাকীম' বা সরল পথের তাফসীর 'সুন্নাহ ও জামাআত' দ্বারা করা।১

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহর দলীল:

প্রকৃতপক্ষে এই পরিভাষা ও বৈশিষ্ট্যটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ থেকেই গৃহীত; কারণ তিনিই সুন্নাহর প্রতি গুরুত্ব প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: "তোমাদের ওপর আমার সুন্নাহ অনুসরণ করা আবশ্যক"২। তিনিই জামাআতের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন: "আমি তোমাদের পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিচ্ছি যেগুলোর নির্দেশ আল্লাহ আমাকে দিয়েছেন: জামাআত..."৩। তিনিই দলবিচ্ছিন্নতা থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "যে..."

--------------------------------------------

১ দেখুন: সুয়ূতী রচিত আল-ইতকান (২/ ৪৬৯)।

২ সহিহ হাদীস: এর সূত্রায়ন (তাখরীজ) পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

৩ এটি আহমদ (১৬৭১৮, ১৭৩৪৪, ২২৪০৩), তিরমিযী (২৮৬৩), ইবনে খুযাইমা (১৮৯৫), ইবনে হিব্বান (৬২৩৩) এবং হাকেম (৪০৪) হারিস আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেছেন: "এই হাদীসটি হাসান সহিহ গারীব"। হাকেম এবং আলবানী 'সহিহুল জামে' (১৭২৪) গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فارق الجماعة شبرًا فمات، إلا مات ميتة جاهلية" 1.

"فأهل السنة والجماعة إنما سماهم الرسول ووصفهم بذلك"2.

وليس لأهل السنة والجماعة رسم ولا سم يتسمون به خصوصا غير هذا الاسم، الذي يعني في الحقيقة التزام الجادة والمحجة البيضاء التي تركنا عليها النبي صلى الله عليه وسلم، "فمن قال بالكتاب والسنة والإجماع كان من أهل السنة والجماعة"3.

سئل مالك رحمه الله عن السنة، فقال: "هي ما لا اسم له غير السنة، وتلا: {وَأَنَّ هَذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيمًا فَاتَّبِعُوهُ وَلا تَتَّبِعُوا السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَنْ سَبِيلِهِ} [الأنعام: 153] "4.

ولما سئل مالك رضي الله عنه عن أهل السنة، قال: "أهل السنة الذين ليس لهم لقب يعرفون به، لا جهمي، ولا قدري، ولا رافضي"5.

ثالثا: آثار الصحابة والسلف:

ومن ذلك قول ابن عباس رضي الله عنهما في تفسير قوله تعالى: {يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوهٌ} [آل عمران: 106] فأما الذين ابيضت وجوههم فأهل السنة والجماعة، وأما الذين اسودت وجوههم فأهل البدع والضلالة"6.

وقال أيضا: "النظر إلى الرجل من أهل السنة يدعو إلى السنة، وينهى عن البدعة عبادة"7.

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري "7053، 7054"، ومسلم "1849" من حديث ابن عباس رضي الله عنهما.

2 مفهوم أهل السنة والجماعة عند أهل السنة والجماعة د. ناصر العقل ص78.

3 مجموع الفتاوى لابن تيمية "3/ 346".

4 الاعتصام للشاطبي "1/ 58".

5 الانتقاء لابن عبد البر ص35.

6 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 72"، والشرح والإبانة لابن بطة "137"، وتاريخ جرجان لأبي القاسم الجرجاني ص132، وانظر: فتح القدير للشوكاني "1/ 371".

7 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 54".
"যে ব্যক্তি জামাত থেকে এক বিঘত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হলো এবং মৃত্যুবরণ করল, সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুই বরণ করল" ১।

"মূলত রাসূল (সা.)-ই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের এই নামকরণ করেছেন এবং তাদের এই গুণেই ভূষিত করেছেন" ২।

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের জন্য এই নাম ব্যতীত বিশেষ কোনো প্রতীক বা নাম নেই যা দিয়ে তারা পরিচিত হয়; যা প্রকৃতপক্ষে সেই সরল পথ এবং শুভ্র উজ্জ্বল আদর্শের (শরিয়াহ) ওপর অবিচল থাকারই নাম যার ওপর নবী (সা.) আমাদের রেখে গেছেন। "সুতরাং যে ব্যক্তি কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমার কথা বলে, সে-ই আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত" ৩।

ইমাম মালেক (রহ.)-কে সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "সুন্নাহর সুন্নাহ ব্যতীত অন্য কোনো নাম নেই", এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "এবং নিশ্চয়ই এটিই আমার সরল পথ; সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ করো এবং অন্যান্য পথের অনুসরণ করো না, করলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে" [আল-আনআম: ১৫৩] ৪।

যখন ইমাম মালেক (রা.)-কে আহলে সুন্নাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "আহলে সুন্নাহ হলো তারা যাদের পরিচিতি পাওয়ার মতো কোনো উপাধি নেই; তারা জাহমি নয়, কাদারি নয় এবং রাফেজিও নয়" ৫।

তৃতীয়ত: সাহাবী এবং সালাফদের আসার (বর্ণনা):

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উক্তি: "যেদিন কিছু মুখ উজ্জ্বল হবে এবং কিছু মুখ কালো হবে" [আলে ইমরান: ১০৬]। "যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে তারা হলো আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাত, আর যাদের মুখ কালো হবে তারা হলো বিদআত ও ভ্রষ্টতার অনুসারী" ৬।

তিনি আরও বলেন: "আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত এমন কোনো ব্যক্তির দিকে তাকানো ইবাদত, যে সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানায় এবং বিদআত থেকে নিষেধ করে" ৭।

--------------------------------------------

১ আল-বুখারী (৭০৫৩, ৭০৫৪) এবং মুসলিম (১৮৪৯) ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

২ ড. নাসির আল-আকল কৃত 'মাফহুমু আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ইনদা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত', পৃষ্ঠা ৭৮।

৩ ইবনে তাইমিয়্যার 'মাজমুউল ফাতাওয়া' (৩/৩৪৬)।

৪ আশ-শাতিবির 'আল-ইতিসাম' (১/৫৮)।

৫ ইবনে আবদিল বার-এর 'আল-ইনতিকা', পৃষ্ঠা ৩৫।

৬ আল-লালাকাঈ-এর 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত' (১/৭২), ইবনে বাত্তাহ-এর 'আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ' (১৩৭), আবু কাসিম আল-জোরজানির 'তারিখে জোরজান', পৃষ্ঠা ১৩২ এবং দেখুন: শাওকানির 'ফাতহুল কাদির' (১/৩৭১)।

৭ আল-লালাকাঈ-এর 'শারহু উসুল ইতিকাদ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত' (১/৫৪)।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال سعيد بن جبير رحمه الله في قوله تعالى: {وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى} [طه: 28": "لزم السنة والجماعة"1.

"وروي نحوه عن مجاهد، والضحاك وغير واحد من السلف"2.

وقال أيوب السختياني رحمه الله: "إذا كان الرجل صاحب سنة وجماعة، فلا تسأل عن أي حال كان فيه"3.

وقال عمرو بن قيس الملائي رحمه الله: "إذا رأيت الشاب أول ما ينشأ مع أهل السنة والجماعة، فارجه"4.

وقال سفيان الثوري رحمه الله: "إذا بلغك عن رجل بالمشرق صاحب سنة، وآخر بالمغرب، فابعث إليهما بالسلام وادع لهما، ما أقل أهل السنة والجماعة"5.

وقال قتيبة بن سعيد: "إذا رأيت الرجل يحب أحمد بن حنبل، فاعلم أنه صاحب سنة وجماعة"6.

وورد نحو هذا في المعافى بن عمران7، وجماعة من الأئمة والرواة8.

--------------------------------------------

1 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 71"، وتفسير البغوي "3/ 227"، وتفسير ابن كثير "3/ 162".

2 تفسير ابن كثير "3/ 162".

3 المصدر السابق "33".

4 الشرح والإبانة لابن بطة ص133.

5 الورع للإمام أحمد ص194، وشرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 64"، وتلبيس إبليس لابن الجوزي ص17.

6 الجرح والتعديل لابن أبي حاتم "1/ 308".

7 تهذيب الكمال للمزي "28/ 153".

8 انظر على سبيل المثال: تهذيب الكمال للمزي "2/ 106"، "7/ 394"، "11/ 286"، "16/ 61"، "23/ 536"، "26/ 59".
সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী: {এবং সৎকর্ম করে, অতঃপর হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়} [ত্বহা: ২৮] সম্পর্কে বলেছেন: "সুন্নাহ ও জামাআতকে আঁকড়ে ধরেছে।"১.

"মুজাহিদ, যাহহাক এবং সালাফদের আরও অনেকের থেকে অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে।"২.

আইয়ুব আল-সাখতিয়ানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি সুন্নাহ ও জামাআতের অনুসারী হয়, তখন সে কোন অবস্থায় আছে তা নিয়ে আর প্রশ্ন করো না।"৩.

আমর ইবনে কায়স আল-মুলাইয়ি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যখন তুমি কোনো যুবককে তার বেড়ে ওঠার শুরুতেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সাথে দেখবে, তখন তার ব্যাপারে আশাবাদী হও।"৪.

সুফিয়ান আস-সাওরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যদি তোমার কাছে প্রাচ্যের কোনো সুন্নাহর অনুসারী ব্যক্তির সংবাদ পৌঁছায় এবং পশ্চিমের অন্য একজনের, তবে তাদের নিকট সালাম পাঠাও এবং তাদের জন্য দোয়া করো; কারণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের লোক কতই না কম।"৫.

কুতাইবা ইবনে সাঈদ বলেছেন: "যখন তুমি দেখবে যে কোনো ব্যক্তি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে ভালোবাসে, তবে জেনে রেখো সে সুন্নাহ ও জামাআতের অনুসারী।"৬.

অনুরুপ বর্ণনা মুয়াফা ইবনে ইমরান৭ এবং একদল ইমাম ও বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রেও বর্ণিত হয়েছে।৮.

--------------------------------------------

১ লালকায়ী প্রণীত শারহু উসুলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত "১/৭১", তাফসিরে বাগাওয়ি "৩/২২৭", এবং তাফসিরে ইবনে কাসির "৩/১৬২"।

২ তাফসিরে ইবনে কাসির "৩/১৬২"।

৩ পূর্বোক্ত উৎস "৩৩"।

৪ ইবনে বাত্তাহ প্রণীত আশ-শারহু ওয়াল ইবানাহ, পৃষ্ঠা ১৩৩।

৫ ইমাম আহমাদ প্রণীত আল-ওয়ারা, পৃষ্ঠা ১৯৪; লালকায়ী প্রণীত শারহু উসুলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত "১/৬৪"; এবং ইবনে আল-জাওজি প্রণীত তালবিসু ইবলিস, পৃষ্ঠা ১৭।

৬ ইবনে আবি হাতিম প্রণীত আল-জারহু ওয়াত তা'দিল "১/৩০৮"।

৭ মিযযি প্রণীত তাহযিবুল কামাল "২৮/১৫৩"।

৮ উদাহরণস্বরূপ দেখুন: মিযযি প্রণীত তাহযিবুল কামাল "২/১০৬", "৭/৩৯৪", "১১/২৮৬", "১৬/৬১", "২৩/৫৩৬", "২৬/৫৯"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
رابعًا: نصوص العلماء واستعمال الأئمة:

وقد نص العلماء على أن أهل السنة هم الصحابة، ومن اقتفى آثارهم.

قال شارح الطحاوية رحمه الله: "هم الصحابة والتابعون لهم بإحسان إلى يوم الدين"1.

وقال ابن تيمية رحمه الله: "ومذهب أهل السنة مذهب قديم معروف قبل أن يخلق الله تعالى أبا حنيفة ومالكا والشافعي وأحمد، فإنه مذهب الصحابة الذين تلقوه عن نبيهم صلى الله عليه وسلم، ومن خالف في ذلك كان مبتدعا عند أهل السنة والجماعة … وأحمد بن حنبل، وإن كان قد اشتهر بإمامة السنة فليس ذلك؛ لأنه انفرد بقول أو ابتدع قولا، بل إن السنة كانت موجودة معروفة قبله، علمها ودعا إليها، وصبر على من امتحنه ليفارقها، وكان الأئمة قبله قد ماتوا قبل المحنة"2.

وسبق قول ابن حزم رحمه الله: "أهل السنة هم أهل الحق، ومن عداهم فأهل البدعة، فإنهم -أي أهل السنة- الصحابة رضي الله عنهم، ومن سلك منهجهم من خيار التابعين، ثم أصحاب الحديث، ومن اتبعهم من الفقهاء، جيلا فجيلا إلى يومنا هذا، ومن اقتدى بهم من العوام في شرق الأرض وغربها، رحمة الله عليهم"3.

وقال أيضا: " … وأن من اتبع أحدًا دون رسول الله صلى الله عليه وسلم، فلم يتبع السنة ولا الجماعة، وأنه كاذب في دعواه السنة والجماعة، فنحن معشر المتبعين للحديث المعتمدين عليه أهل السنة والجماعة حقا بالبرهان الضروري، وأننا أهل الإجماع كذلك"4.

--------------------------------------------

1 شرح الطحاوية لابن أبي العز الحنفي "2/ 544".

2 منهاج السنة النبوية لابن تيمية "2/ 601-602".

3 الفصل في الملل والنحل لابن حزم "2/ 107".

4 الإحكام لابن حزم "4/ 525".
চতুর্থত: আলেমদের উদ্ধৃতি এবং ইমামদের পরিভাষা ব্যবহার:

আলেমগণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আহলে সুন্নাত হলেন সাহাবীগণ এবং যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।

তাহাবিয়্যাহ-এর ব্যাখ্যাকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "তাঁরা হলেন সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন"১।

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আহলে সুন্নাতের মাযহাব একটি প্রাচীন ও সুপরিচিত পথ, যা মহান আল্লাহ তাআলা আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদকে সৃষ্টি করার পূর্বেই বিদ্যমান ছিল। কেননা এটি হলো সাহাবীগণের পথ, যা তাঁরা তাঁদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে গ্রহণ করেছিলেন। যে ব্যক্তি এর বিরোধিতা করবে, সে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট বিদআতী হিসেবে গণ্য হবে … আর আহমাদ ইবনে হাম্বল, যদিও তিনি সুন্নাহর ইমাম হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, তার কারণ এটি নয় যে তিনি কোনো একক মত পোষণ করেছেন বা নতুন কোনো কথা উদ্ভাবন করেছেন; বরং সুন্নাহ তাঁর পূর্বেই বিদ্যমান ও পরিচিত ছিল, তিনি তা জানতেন এবং সেদিকে আহ্বান জানাতেন, আর যারা তাঁকে তা থেকে বিচ্যুত করার জন্য পরীক্ষায় ফেলেছিল তাদের ওপর তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন। তাঁর পূর্ববর্তী ইমামগণ এই পরীক্ষার পূর্বেই ইন্তেকাল করেছিলেন"২।

ইবনে হাযম (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে: "আহলে সুন্নাতই হলো সত্যের অনুসারী এবং তারা ব্যতীত অন্য সবাই বিদআতের অনুসারী। তারা—অর্থাৎ আহলে সুন্নাত—হলেন সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম), এবং শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীগণের মধ্যে যারা তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করেছেন, অতঃপর হাদীস বিশারদগণ এবং ফকীহদের মধ্যে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন—যুগের পর যুগ ধরে আমাদের এই দিন পর্যন্ত, এবং পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের সাধারণ মানুষের মধ্যে যারা তাঁদের অনুসরণ করেছেন; তাঁদের সবার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক"৩।

তিনি আরও বলেছেন: " … এবং যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো (নিঃশর্ত) অনুসরণ করল, সে সুন্নাহ এবং জামাআত কোনোটিরই অনুসরণ করল না। আর সে সুন্নাহ ও জামাআতের দাবিদার হিসেবে মিথ্যাবাদী। সুতরাং আমরা যারা হাদীসের অনুসারী এবং এর ওপর নির্ভরশীল, অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমরাই প্রকৃত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এবং আমরাই ইজমার অনুসারী"৪।

--------------------------------------------

১ শারহুত তাহাবিয়্যাহ, ইবনে আবিল ইয আল-হানাফী "২/ ৫৪৪"।

২ মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নববিয়্যাহ, ইবনে তাইমিয়্যাহ "২/ ৬০১-৬০২"।

৩ আল-ফিসাল ফিল মিলাল ওয়ান নিহাল, ইবনে হাযম "২/ ১০৭"।

৪ আল-ইহকাম, ইবনে হাযম "৪/ ৫২৫"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: "صار المتمسكون بالإسلام المحض هم أهل السنة والجماعة"1.

وهذا يشمل الصحابة ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين، ولذا بدأ علماء الاعتقاد عند ذكر أئمة أهل السنة والجماعة بالصحابة، ثم من بعدهم من التابعين.

ومن ذلك:

قول اللالكائي في صدر كتابه: "باب سياق ذكر من رسم بالإمامة في السنة والدعوة، والهداية إلى طريق الاستقامة بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم إمام الأمة: فمن الصحابة: أبو بكر الصديق، وعمر بن الخطاب، وعثمان بن عفان، وعلي، فعد جماعة من الصحابة رضي الله عنهم، ثم جماعة من التابعين من أهل المدينة ومكة، ومصر وبغداد وواسط وغيرهم2.

وذكر موقف المعتزلة من أهل السنة والجماعة، ثم قال: " … ما قذفوا به المسلمين من التقليد" إلخ، فسوى بين "أهل السنة والجماعة"، وبين "المسلمين"3، وهذا صريح في أن أهل السنة والجماعة هم أهل الإسلام الصحيح المتلقى عن النبي صلى الله عليه وسلم من لدن الصحابة، وأتباعهم حتى آخر الزمان، فمن خالف هؤلاء في أصولهم لم يكن من أهل السنة والجماعة.

هذا، وقد استعمل الأئمة هذا الاسم والمصطلح المبارك في النص على أمور الاعتقاد الصحيحة تمييزا لها عن غيرها، كما فعل ذلك قتيبة بن سعيد الثقفي رحمه الله، ونقله عنه الذهبي في سير أعلام النبلاء4، بل جعل بعض الأئمة هذا الاسم ضمن

--------------------------------------------

1 مجموع الفتاوى "3/ 159".

2 شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي "1/ 29-49".

3 المصدر السابق "1/ 13".

4 انظر على سبيل المثال: سير أعلام النبلاء للذهبي "11/ 20".
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যারা বিশুদ্ধ ইসলামকে আঁকড়ে ধরে থাকেন, তারাই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হিসেবে গণ্য হয়েছেন।"১

এটি সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই আকীদা শাস্ত্রের আলিমগণ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামদের আলোচনার শুরুতে সাহাবীগণের কথা উল্লেখ করেছেন, অতঃপর তাঁদের পরবর্তী তাবিঈগণের কথা।

এর উদাহরণ হলো:

আল-লালকাঈ তাঁর গ্রন্থের শুরুতে বলেছেন: "অধ্যায়: উম্মতের ইমাম রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পরে সুন্নাহর অনুসরণ, দাওয়াত এবং সঠিক পথের দিশা প্রদানের ক্ষেত্রে যারা ইমাম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন তাঁদের বিবরণ। সাহাবীগণের মধ্য থেকে হলেন: আবু বকর আস-সিদ্দীক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং আলী। এভাবে তিনি একদল সাহাবী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর নাম উল্লেখ করেন, অতঃপর মদিনা, মক্কা, মিসর, বাগদাদ, ওয়াসিত এবং অন্যান্য অঞ্চলের একদল তাবিঈর নাম উল্লেখ করেন।"২

তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রতি মুতাযিলাদের অবস্থান উল্লেখ করে বলেন: " … তারা মুসলিমদের ওপর তাকলীদের যে অপবাদ দিয়েছে" ইত্যাদি। এখানে তিনি 'আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত' এবং 'মুসলিমদের' মধ্যে সমতা বিধান করেছেন।৩ এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত হলো সেই সঠিক ইসলামের অনুসারী যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাহাবীগণ এবং তাঁদের অনুসারীদের মাধ্যমে শেষ জামানা পর্যন্ত প্রাপ্ত। সুতরাং যারা তাদের মূলনীতিসমূহে (উসূল) বিরোধিতা করবে, তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ইমামগণ এই বরকতময় নাম ও পরিভাষাটিকে সঠিক আকীদার বিষয়সমূহ বর্ণনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যাতে একে অন্য বিষয় থেকে পৃথক করা যায়; যেমনটি করেছেন কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ আস-সাকাফী (রহিমাহুল্লাহ) এবং আয-যাহাবী তাঁর 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন।৪ বরং কোনো কোনো ইমাম এই নামটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন...

--------------------------------------------

১ মাজমুউল ফাতাওয়া "৩/ ১৫৯"।

২ লালকাঈ রচিত শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত "১/ ২৯-৪৯"।

৩ পূর্বোক্ত উৎস "১/ ১৩"।

৪ উদাহরণস্বরূপ দেখুন: যাহাবী রচিত সিয়ারু আলামিন নুবালা "১১/ ২০"।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عناوين كتبهم في العقيدة كما فعل اللالكائي رحمه الله في كتابه "شرح أصول اعتقاد أهل السنة"، وكما فعل قوام السنة إسماعيل بن محمد الأصبهاني رحمه الله في كتابه "الحجة في بيان المحجة، وشرح عقيدة أهل السنة".

خامسا: ترادفه مع مصطلحات شرعية.

ثم إن هذا المصطلح يرادف عند الإطلاق مصطلحات شرعية أخرى مثل أهل الحديث، والفرقة الناجية والطائفة المنصورة، والسلف الصالح، كما سيتبين في المبحث التالي.

ومن جملة ما تقدم يتضح جليا أن مذهب أهل السنة قديم، وأن التسمية قديمة، تبدأ ببداية الإسلام؛ لأن أهل السنة على الحقيقة هم أهل الإسلام، المتبعون لسيد الأنام، وعلى هذا سار أئمة أهل السنة والجماعة، وكلام اللالكائي السابق قريبا صريح في ذلك، ويظهر هذا جليا بالنظر إلى صفاتهم وخصائصهم، كما أن أول من دعي "بإمام أهل السنة"، هو الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، وفي هذا رد على من زعم أن مذهب أهل السنة والجماعة، إنما عرف وظهر في زمن أبي الحسن الأشعري، وأبي منصور الماتريدي، وأن أهل السنة هم الأشاعرة والماتريدية!! كما تبناه بعض العلماء قديما وحديثًا! 1. وفي نفي هذا الاسم عن الأشاعرة -مع قربهم في أصول ومسائل عقدية من أهل السنة- ما يقطع بانتفائه عن بقية أهل البدع والأهواء كالرافضة والمعتزلة، وإن تنازعوا هذه التسمية الشريفة.

وكل يدعي وصلا بليلى … وليلى لا تقر لهم بذاكا

وكما قيل:

والدعاوى إن لم تقم عليها … بينات أصحابها أدعياء

--------------------------------------------

1 راجع في القديم كلام الباقلاني في "الإنصاف فيما يجب اعتقاده، ولا يجوز الجهل به" ص108، و"الفرق بين الفرق" للبغدادي ص26، ومثله الإسفراييني في "التبصير في الدين" ص25، وكذا الجويني والغزالي والرازي، وراجع في الحديث كلام الدكتور محمد سعيد رمضان البوطي في "كبرى اليقينيات الكونية" ص125، وكلام وهبي سليمان غاوجي الألباني في "أركان الإيمان" ص25، وغيرهم كثير.
তাদের আকিদাহ বিষয়ক কিতাবসমূহের শিরোনাম, যেমনটি আল-লালকায়ী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ' কিতাবে করেছেন এবং যেমনটি কাওয়ামুস সুন্নাহ ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মাদ আল-আসবাহানি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর 'আল-হুজ্জাহ ফি বায়ানিল মাহাজ্জাহ ওয়া শারহু আকীদাহ আহলিস সুন্নাহ' কিতাবে করেছেন।

পঞ্চম: অন্যান্য শরয়ি পরিভাষার সাথে এর সমার্থকতা।

অধিকন্তু, এই পরিভাষাটি সাধারণভাবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য শরয়ি পরিভাষা যেমন—আহলুল হাদিস, ফিরকা নাজিয়াহ (মুক্তিপ্রাপ্ত দল), তায়িফা মানসুরাহ (সাহায্যপ্রাপ্ত দল) এবং সালাফ আস-সালিহীন-এর সমার্থক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা পরবর্তী পরিচ্ছেদে স্পষ্ট হবে।

উপরোক্ত সামগ্রিক আলোচনা থেকে এটি স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, আহলুস সুন্নাহর মাযহাব প্রাচীন এবং এই নামকরণটিও প্রাচীন, যা ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই শুরু হয়েছে; কারণ প্রকৃতপক্ষে আহলুস সুন্নাহই হলেন ইসলামের প্রকৃত অনুসারী এবং সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মানব (রাসূলুল্লাহ ﷺ)-এর একনিষ্ঠ অনুসারী। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইমামগণ এই পথেই চলেছেন। আল-লালকায়ী-র পূর্বোক্ত বক্তব্য এ বিষয়ে স্পষ্ট। তাঁদের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের দিকে তাকালে এটি আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তেমনিভাবে, যাকে সর্বপ্রথম 'আহলুস সুন্নাহর ইমাম' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, তিনি হলেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)। এতে তাদের দাবির খণ্ডন রয়েছে যারা মনে করে যে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মাযহাব কেবল আবুল হাসান আল-আশআরি ও আবু মানসুর আল-মাতুরিদির সময়ে পরিচিতি পেয়েছে এবং প্রকাশ লাভ করেছে, আর আহলুস সুন্নাহ বলতে কেবল আশআরি ও মাতুরিদিরাই উদ্দেশ্য!! যেমনটি প্রাচীন ও আধুনিক কালের কিছু আলেম দাবি করেছেন। ১. আকিদাগত মূলনীতি ও মাসআলাসমূহে আশআরিরা আহলুস সুন্নাহর নিকটবর্তী হওয়া সত্ত্বেও তাদের থেকে এই নামটিকে নাকচ করা—অন্যান্য বিদআতপন্থী ও প্রবৃত্তি পূজারী যেমন রাফেজি ও মুতাজিলাদের থেকে এই নাম নাকচ হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে, যদিও তারা এই সম্মানিত নামের দাবি নিয়ে বিবাদ করে থাকে।

প্রত্যেকেই লায়লার সাথে সম্পর্কের দাবি করে … অথচ লায়লা তাদের সেই দাবি স্বীকার করে না।

যেমনটি বলা হয়েছে:

আর দাবিগুলোর সপক্ষে যদি কোনো প্রমাণ না থাকে … তবে এর দাবিদাররা কেবল নামসর্বস্ব মিথ্যাবাদী।

--------------------------------------------

১. প্রাচীনদের মধ্যে দেখুন আল-বাকিলানির বক্তব্য: 'আল-ইনসাফ ফিমা ইয়াজিবু ই’তিকaduহু ওয়া লা ইয়াজুযু আল-জাহলু বিহি', পৃষ্ঠা ১০৮; আল-বাগদাদির 'আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক', পৃষ্ঠা ২৬; অনুরূপ আল-ইসফিরায়িনির 'আত-তাবসির ফিদ দ্বীন', পৃষ্ঠা ২৫; তেমনি আল-জুওয়াইনি, আল-গাজালি ও আর-রাজি। আধুনিকদের মধ্যে দেখুন ডক্টর মুহাম্মাদ সাঈদ রমাদান আল-বুতির বক্তব্য: 'কুবরা আল-ইয়াকিনিয়্যাত আল-কাওনিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১২৫; এবং ওয়াহবি সুলাইমান গাওজি আল-আলবানির বক্তব্য: 'আরকানুল ঈমান', পৃষ্ঠা ২৫; এছাড়াও আরও অনেকে।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌الفصل الرابع: بين مصطلح أهل السنة ومصطلحات أخرى

‌‌أولاً: الفرقة الناجية

…

الفصل الرابع: بين مصطلح أهل السنة ومصطلحات أخرى

تقرر فيما سبق أن مصطلح أهل السنة والجماعة مما نطق بمعناه الكتاب والسنة، وتداول لفظه الصحابة والتابعون، وأهل الحق من الأسلاف الصالحين، ومن المفيد أن نتناول مصطلحات أخرى تداولها علماء التوحيد والعقيدة في الدلالة على المذهب الحق في أمور الاعتقاد.

أولا: الفرقة الناجية:

أما مصطلح الفرقة الناجية، فقد دلت عليه ظاهر الأحاديث الكثيرة التي رواها بضعة عشر صحابيا، ويكفي في ثبوت وجود هذه الفرقة الناجية أن تكون هذه الروايات قد ذكرتها بعد ذكر افتراق الأمة.

ومن هذه الروايات: ما رواه أنس بن مالك رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن بني إسرائيل تفرقت على إحدى وسبعين فرقة، فهلكت سبعون فرقة وخلصت واحدة، وإن أمتي ستفترق على اثنتين وسبعين فرقة، فتهلك إحدى وسبعين وتخلص فرقة"، قالوا: يا رسول الله، من تلك الفرقة؟ ".

قال: "الجماعة، الجماعة" 1.

وفي رواية قال: "ما أنا عليه وأصحابي" 2.

ووصفها علي رضي الله عنه بأنها المستحقة لقوله تعالى: {وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد "12070"، وابن ماجه "3993"، وأبو يعلى "4127"، قال البوصيري في مصباح الزجاجة "4/ 180": "هذا إسناد صحيح رجاله ثقات".ا. هـ. وصححه الألباني في صحيح الجامع "2042".

2 سبق تخريجه.
চতুর্থ অধ্যায়: আহলে সুন্নাত পরিভাষা এবং অন্যান্য পরিভাষাসমূহের মাঝে পার্থক্য

প্রথমত: নাজাতপ্রাপ্ত দল

...

চতুর্থ অধ্যায়: আহলে সুন্নাত পরিভাষা এবং অন্যান্য পরিভাষাসমূহের মাঝে পার্থক্য

ইতিপূর্বে স্থির হয়েছে যে, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিভাষাটি এমন যার অর্থ কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং এর শব্দটির ব্যবহার সাহাবী, তাবেয়ী এবং সালাফে সালেহীন সত্যপন্থীদের মাঝে প্রচলিত হয়েছে। বিশ্বাসের বিষয়ে সঠিক মতাদর্শ নির্দেশ করতে তাওহীদ ও আকীদা শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ যেসব অন্যান্য পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা ফলপ্রসূ হবে।

প্রথমত: নাজাতপ্রাপ্ত দল:

নাজাতপ্রাপ্ত দল পরিভাষাটির স্বপক্ষে এমন অনেক হাদীস স্পষ্ট প্রমাণ বহন করে যা দশজনেরও অধিক সাহাবী বর্ণনা করেছেন। উম্মতের বিভক্তির বর্ণনার পর এই নাজাতপ্রাপ্ত দলের অস্তিত্বের বিষয়ে এই বর্ণনাগুলোই যথেষ্ট।

এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই বনী ইসরাঈল একাত্তরটি দলে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে সত্তরটি দল ধ্বংস হয়েছিল এবং একটি দল মুক্তি পেয়েছিল। আর আমার উম্মত অচিরেই বাহাত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে একাত্তরটি দল ধ্বংস হবে এবং একটি দল মুক্তি পাবে।" তারা জিজ্ঞাসা করল: "হে আল্লাহর রাসূল, সেই দলটি কারা?"

তিনি বললেন: "জামাত, জামাত" ১।

অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত" ২।

আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই দলটিকে আল্লাহ তাআলার এই বাণীর যোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {আর আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য অনুযায়ী পথ প্রদর্শন করে...}

--------------------------------------------

১ আহমাদ (১২০৭০), ইবনে মাজাহ (৩৯৯৩), আবু ইয়া'লা (৪১২৭) এটি বর্ণনা করেছেন। বুসিরী 'মিসবাহুয যুজাজাহ' (৪/১৮০) গ্রন্থে বলেছেন: "এই সনদটি সহীহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।" সমাপ্ত। আলবানী 'সহীহুল জামি' (২০৪২) গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন।

২ এর তথ্যসূত্র পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وَبِهِ يَعْدِلُونَ} [الأعراف: 181] .

وورد في وصف غيرها من الفرق المناقضة لها أن في قلوبها زيغ، وأن الأهواء تتجارى بها كما يتجارى الكلب بصاحبه1.

وهذا يقتضي بمفهوم المخالفة سلامة الفرقة الناجية من الهوى والزيغ.

وجملة هذه الأوصاف تقضي بأن هذه الفرقة الناجية هي عين أهل السنة والجماعة، إذ هي الجماعة، وهم المستمسكون بما عليه الصحابة2، وهي أولى الناس بالسنة وأبعد الناس عن البدعة، فحيث أطلقت الفرقة الناجية فالمقصود بها أهل السنة والجماعة؛ لأنهم أولى الناس بالنجاة في الدنيا من الافتراق، وفي الآخرة من النار.

قال عبد القادر الجيلاني رحمه الله: "وأما الفرقة الناجية: فهي أهل السنة والجماعة"3.

وقال شيخ الإسلام في أول عقيدته الواسطية: "أما بعد: فهذا اعتقاد الفرقة الناجية المنصورة إلى قيام الساعة أهل السنة والجماعة … "4.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد "16490"، وأبو داود "4597"، والحاكم "443"، من حديث معاوية رضي الله عنه، وصححه الحاكم والألباني في صحيح الجامع "2641".

2 وانظر: فتاوى مهمة لعموم الأمة للشيخ ابن باز ص17.

3 الغنية لطالبي طريق الحق لعبد القادر الجيلاني ص85.

4 العقيدة الواسطية لابن تيمية بشرح الشيخ هراس ص14.
...এবং তারা সে অনুযায়ী ন্যায়বিচার করে।} [আরাফ: ১৮১]।

এবং এর বিপরীত অন্যান্য দলগুলোর বর্ণনায় এসেছে যে, তাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে এবং কুপ্রবৃত্তিগুলো তাদের মধ্যে এমনভাবে বিস্তার লাভ করে যেমন জলাতঙ্ক রোগ তার আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে বিস্তার লাভ করে।১

বিপরীত অর্থ অনুযায়ী এটি একথাই নিশ্চিত করে যে, মুক্তিপ্রাপ্ত দলটি কুপ্রবৃত্তি ও বক্রতা থেকে মুক্ত ও নিরাপদ।

এসব গুণাবলির সমষ্টি এই সিদ্ধান্তে উপনীত করে যে, এই মুক্তিপ্রাপ্ত দলটিই হলো প্রকৃত আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত। কারণ এটিই মূল জামাত এবং তারাই সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত।২ তারাই সুন্নাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী মানুষ এবং বিদআত থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী। তাই যেখানেই 'মুক্তিপ্রাপ্ত দল' শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত; কারণ তারা দুনিয়াতে অনৈক্য থেকে এবং আখেরাতে জাহান্নামের আগুন থেকে নাজাত পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার।

আব্দুল কাদির জিলানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর মুক্তিপ্রাপ্ত দল হলো: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত।"৩

শায়খুল ইসলাম তাঁর আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ-এর শুরুতে বলেছেন: "অতঃপর: এটি হলো কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত মুক্তিপ্রাপ্ত দল আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকিদাহ ... "৪

--------------------------------------------

১ আহমাদ (১৬৪৯০), আবু দাউদ (৪৫৯৭) এবং হাকেম (৪৪৩) মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। হাকেম এবং আলবানি 'সহিহুল জামি' (২৬৪১)-তে একে সহিহ বলেছেন।

২ দেখুন: শায়খ ইবনে বাযের 'ফাতাওয়া মুহিম্মাহ লি আম্মিল উম্মাহ', পৃষ্ঠা ১৭।

৩ আব্দুল কাদির জিলানীর 'আল-গুনইয়াহ লি তালিবী ত্বরিকিল হাক্ব', পৃষ্ঠা ৮৫।

৪ শায়খ হাররাসের ব্যাখ্যাসহ ইবনে তাইমিয়ার 'আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ', পৃষ্ঠা ১৪।
(খণ্ড: ১) তরিকুল হিদায়াহ মাবাদি ওয়া মুকাদ্দিমাত ইলমিত তাওহিদ ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌ثانيا: الطائفة المنصورة:

وأما مصطلح الطائفة المنصورة، فقد ورد ذكره في أحاديث عدة عن تسعة عشر صحابيا، إضافة إلى بعض المراسيل، حتى لقد صرح عدد من العلماء المعتبرين بتواتر هذا الحديث، كشيخ الإسلام ابن تيمية1، والسيوطي2، والزبيدي3، والكتاني4، وغيرهم..

ومن هذه المرويات ما رواه ثوبان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك" 5.

وما رواه جابر رضي الله عنه، قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق، ظاهرين إلى يوم القيامة" 6.

ومن جملة المرويات، يتضح أن هذه الطائفة المنصورة طائفة من الأمة مجتمعة على الحق، إظهارا وبيانا بالحجة والبرهان، وظهورا وغلبة بالسيف والسنان، وهي ظاهرة، بينة طرائقها وسبلها، واضحة مناهجها، في كل زمان ومكان.

وهي طائفة قائمة بأمر الله، وواجب الدعوة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، لا يخلو الزمان عنها، ولا تتخلى عن واجب الجهاد، فهي إما في جهاد بالفعل أو في سبيلها إلى الجهاد إعدادًا وتهيؤًا، صابرة على هذا العمل الجليل وهي طائفة منصورة في جملة أحوالها وأماكنها، وعلى مر الأزمان.

--------------------------------------------

1 اقتضاء الصراط المستقيم لابن تيمية "1/ 6".

2 قطف الأزهار المتناثرة للسيوطي "رقم 81" ص216.

3 لقط اللآلئ المتناثرة في الأحاديث المتواترة للزبيدي ص68.

4 النظم المتناثرة في الحديث المتواتر للكتاني ص93.

5 رواه مسلم "1920" من حديث ثوبان رضي الله عنه.

6 رواه مسلم "1923" من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنهما.
দ্বিতীয়ত: সাহায্যপ্রাপ্ত দল:

আর সাহায্যপ্রাপ্ত দল (আত-তাইফাতুল মানসুরাহ) পরিভাষাটির ব্যাপারে বলা যায় যে, এটি উনিশজন সাহাবী থেকে বর্ণিত বেশ কিছু হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি কিছু মুরসাল বর্ণনাও রয়েছে। এমনকি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (১), সুয়ূতী (২), যুবায়দী (৩), কাত্তানী (৪) সহ একদল নির্ভরযোগ্য আলেম এই হাদীসটি 'মুতাওয়াতির' হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

এই বর্ণনাগুলোর মধ্যে একটি হলো যা সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের সহযোগিতা বর্জন করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ (কিয়ামত) আসবে আর তারা সেই অবস্থাতেই থাকবে" (৫)।

আর জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বিজয়ী থাকবে" (৬)।

বর্ণনাগুলোর সামগ্রিক দিক থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, এই সাহায্যপ্রাপ্ত দলটি উম্মতের এমন একটি অংশ যারা সত্যের ওপর ঐক্যবদ্ধ; দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তারা সত্যকে প্রকাশ ও ব্যাখ্যা করে এবং তলোয়ার ও অস্ত্রের মাধ্যমে তারা বিজয়ী ও প্রভাবশালী হয়। এই দলটি সুপ্রকাশিত, তাদের পথ ও পন্থা সুস্পষ্ট এবং তাদের মানহাজ বা কর্মপদ্ধতি সকল যুগে ও সকল স্থানে অত্যন্ত পরিষ্কার।

এই দলটি আল্লাহর নির্দেশ পালনকারী এবং দাওয়াত ও সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনকারী। কোনো যুগই এই দল থেকে শূন্য হয় না এবং তারা জিহাদের অপরিহার্য দায়িত্ব থেকেও বিমুখ হয় না। সুতরাং তারা হয় সরাসরি জিহাদে লিপ্ত, অথবা জিহাদের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম গ্রহণে রত এবং এই মহান আমলের ওপর ধৈর্যশীল। এই দলটি তাদের সামগ্রিক অবস্থা ও অবস্থানে এবং যুগের পরিক্রমায় সর্বদা সাহায্যপ্রাপ্ত।

--------------------------------------------

১. ইবনে তাইমিয়্যাহ রচিত 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' (১/৬)।

২. সুয়ূতী রচিত 'কাতফুল আযহারিল মুতানাসিরাহ' (নং ৮১), পৃষ্ঠা ২১৬।

৩. যুবায়দী রচিত 'লাকাতুল লাআলিল মুতানাসিরাহ ফিল আহাদিসিল মুতাওয়াতিরাহ', পৃষ্ঠা ৬৮।

৪. কাত্তানী রচিত 'আন-নাযমুল মুতানাসিরাহ ফিল হাদিসিল মুতাওয়াতির', পৃষ্ঠা ৯৩।

৫. এটি মুসলিম (১৯২০) বর্ণনা করেছেন সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে।

৬. এটি মুসলিম (১৯২৩) বর্ণনা করেছেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে।