(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: -)
جزء في بيع أمهات الأولاد القسم: مسائل فقهية
الكتاب: جزء في بيع أمهات الأولاد
المؤلف: عماد الدين إسماعيل بن عمر ابن كثير الدمشقي (ت 774 هـ)
المحقق: عمر بن سليمان الحفيان
الناشر: مؤسسة الرسالة، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1427 هـ - 2006 م
عدد الصفحات: 176
تنبيه: عثر المحقق على إبرازتين لهذا الجزء (مطولة وموجزة) فحققهما جميعًا: مبتدئا بالإبرازة المطولة ص 43 - 126، ثم أتبعها بالإبرازة الموجزة ص 127 - 142
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الآخرة 1444
উম্মাহাতুল আওলাদ বিক্রয় বিষয়ক জুজ বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
বই: উম্মাহাতুল আওলাদ বিক্রয় বিষয়ক জুজ
লেখক: ইমাদুদ্দিন ইসমাঈল বিন উমর ইবনে কাসীর আদ-দিমাশকী (মৃ. ৭৭৪ হিজরী)
তাহকীককারী: উমর বিন সুলায়মান আল-হাফিয়ান
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৭ হিজরী - ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬
সতর্কতা: তাহকীককারী এই জুজটির দুটি সংস্করণ (বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্ত) পেয়েছেন এবং উভয়টিরই তাহকীক করেছেন: শুরু করেছেন ৪৩ - ১২৬ পৃষ্ঠার বিস্তারিত সংস্করণ দিয়ে, এরপর ১২৭ - ১৪২ পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত সংস্করণটি যুক্ত করেছেন
[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৪
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرَّحمن الرَّحيم
إنَّ الحمدَ لله نَحمدُه ونستعينُهُ ونستغفِرُهُ، ونعوذُ بالله مِنْ شرور أنفسنا، ومِن سيئات أعمالنا، مَنْ يهدِه الله فلا مُضلَّ له، ومن يُضْلِلْ فلا هادي له، وأشهدُ أنْ لا إله إلا الله، وأشهدُ أنَّ محمدًا عبدُهُ ورسولُهُ.
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون} [آل عمران: 102].
{يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالًا كثيرًا ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبًا} [النساء: 1].
{يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولًا سديدًا يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزًا عظيمًا} [الأحزاب: 70، 71].
أما بعد:
فهذا عِلْقٌ نفيس، ودُرٌّ نضيد، سَلَكَهُ ابنُ كَثير، بكَثيرٍ من التحرير، ونَظَمه نظمَ الحاذقِ الخبير، تناول فيه مسألةَ بَيْعِ أُمَّهات الأولاد، فحرَّرها تحريرًا علميًّا بليغًا، وكان رحمه الله قد ألَّف هذه الرسالة أولًا مختصرةً مقتضبة، ثم لم يرفع عنها نظرَه، ولم يضع قلمَه، وما زال يُعْمِل فيها فِكْره، ويجمع لها جَراميزه، ويرصِّعُها بِدُرَرِ الفوائِد، وغُرَرِ الشَّوارد، وجواهر القلائد، ويزيدُ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম (আত্মসমর্পণকারী) হওয়া ব্যতীত মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} [আন-নিসা: ১]।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে} [আল-আহজাব: ৭০, ৭১]।
অতঃপর:
এটি এক অতিমূল্যবান সম্পদ এবং সুবিন্যস্ত মুক্তামালা, যা ইবনে কাসির অত্যন্ত নিপুণ পরিশোধনের সাথে রচনা করেছেন এবং একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞের ন্যায় সুনিপুণভাবে বিন্যস্ত করেছেন। এতে তিনি উম্মাহাতুল আওলাদ (সন্তানবতী দাসী) বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও প্রাঞ্জলভাবে এর চূড়ান্ত রূপ দান করেছেন। রহিমাহুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) প্রথমে এই রিসালাহটি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষিপ্তাকারে রচনা করেছিলেন, অতঃপর তিনি একে পর্যালোচনার বাইরে রাখেননি এবং তাঁর কলম গুটিয়ে নেননি। বরং তিনি নিরন্তর এতে চিন্তা-গবেষণা নিবিষ্ট করেছেন, তাঁর সমস্ত মনোযোগ ও সামর্থ্য এখানে নিয়োজিত করেছেন এবং একে বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ উপকারিতা, বিরল ও দুর্লভ তথ্যাদি এবং চমৎকার গবেষণালব্ধ বিষয়সমূহ দ্বারা সুসজ্জিত ও পরিবর্ধিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فيها ويَنْقُص، وينقِّحُ ويهذِّب، ويصحِّحُ ويُضَعِّف، ويَرُدُّ وينتقد، حتى استقام له عُودها، وأينعتْ على يديه ثمرتها، فرَحِمَهُ اللهُ رحمةً واسعةً.
وكنتُ قد وقفتُ على رسالته هذه منذ عشر سنوات، في أثناء قيامي بفَهْرسة كتاب «الكواكب الدَّراري» لابن عُرْوة الحنبلي، فوجدتُّ أنَّ ابن عُروة قد نقل (إبرازتين)
(1) للكتاب، تُمثِّلُ كلُّ إبرازة منهما تأليفًا مستقلًا للكتاب، فأرجأتُ تحقيقها ونشرها؛ أملًا في الحصول على نُسَخٍ خطيَّة أُخرى؛ لأنَّ تحقيق أي كتاب على نُسْخة واحدة دَحْضٌ مَزِلَّة، وعُرْضة للخَطَلِ، فلا ينبغي نَشْره على نُسخة فريدة؛ ما أمكن الحصول على نُسِخٍ أخرى.
ولكن؛ لم أُوَفَّق في الحصول على نُسْخة خطية أخرى؛ طِيلة هذه المدة، مع طول البحث والتنقيب في فهارس المكتبات، فلا غَرْوَ إذنْ أن عدَّها جمهرةٌ ممن تخصَّص في ابن كثير ودَرَسَ تراثه مِنْ كتبه المفقودة أو المجهولة
(2).
--------------------------------------------
তিনি এতে সংযোজন-বিয়োজন করেছেন, একে পরিমার্জিত ও সুবিন্যস্ত করেছেন, সহিহ (يصحح) ও দুর্বল (يضعف) সাব্যস্ত করেছেন এবং বর্জন ও সমালোচনা করেছেন; পরিশেষে এর গঠন সুদৃঢ় হয়েছে এবং তাঁর হাতে এর সুফল পরিপক্বতা লাভ করেছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রশস্ত রহমত বর্ষণ করুন।
আমি দশ বছর আগে ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলীর 'আল-কাওয়াকিবুদ দরারি' গ্রন্থের নির্ঘণ্ট তৈরির সময় তাঁর এই পুস্তিকাটি লাভ করেছিলাম। আমি লক্ষ্য করি যে, ইবনে উরওয়াহ এই গ্রন্থের দুইটি সংস্করণ (إبرازتين) উদ্ধৃত করেছেন, যার প্রতিটি সংস্করণই গ্রন্থটির স্বতন্ত্র রচনা হিসেবে গণ্য। তাই আমি এর সম্পাদনা ও প্রকাশনা বিলম্বিত করি এই আশায় যে, হয়তো এর আরও কিছু পাণ্ডুলিপি পাওয়া যাবে। কেননা, মাত্র একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে কোনো কিতাব সম্পাদনা করা মানেই হচ্ছে পদস্খলন ও ভুলের সম্মুখীন হওয়া; তাই অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা পর্যন্ত একক পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে তা প্রকাশ করা অনুচিত।
কিন্তু সুদীর্ঘ সময় ধরে গ্রন্থাগারগুলোর ক্যাটালগে ব্যাপক অনুসন্ধান ও তল্লাশি সত্ত্বেও আমি এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি লাভে সফল হইনি। সুতরাং এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, যারা ইবনে কাসির এবং তাঁর ইলমি উত্তরাধিকার নিয়ে গবেষণা করেছেন, তাদের এক বিরাট অংশ একে তাঁর নিখোঁজ অথবা অজ্ঞাত বইসমূহের অন্তর্ভুক্ত মনে করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لذا؛ رأيتُ -والحالةُ هذه- تحقيقَ ونَشْرَ هاتين الإبرازتين اعتمادًا على ما نقله ابن عُرْوة. وهما نُسختان متقنتان على كلِّ حال، يروي ابنُ عُرْوة الإبرازةَ الأخيرةَ منهما عن شيخه ابنِ كثير مباشرة.
موضوعها:
موضوع الرسالة يُنْبِيءُ عنه اسمُها، وهو مسألة بيع أُمَّهات الأولاد
(1)، وهي مسألةٌ فقهية شائكة، وقع فيها الخلاف مِنْ لدن عصر الصحابة، وتشعَّبت فيها الآراءُ والمذاهبُ حتى بلغَتْ ثمانيةَ أقوال، كما ستجده مبسوطًا في هذه الرسالة، وادُّعِيَ فيها الإجماعُ من الطرفين، ومع أصحاب كلِّ قولٍ أدلَّة أثرية ونظرية، لها حظٌّ وافرٌ من النظر والاعتبار، فلم يكن استخلاص القول الرَّاجح من بين كل هذه الأقوال بالأمر اليسير، ويحتاج الترجيح فيها إلى عالمٍ نِحرير متمكِّنٍ في علوم الاجتهاد وآلاته، وهذا ما تكشَّف عنه ابن كثير رحمه الله رحمة واسعة.
ولم يقتصر على هذه المسألة فقط؛ بل أردفها ببعض الأحكام المتعلِّقة بأُمَّهات الأولاد خلاف البيع، مثلُ:
--------------------------------------------
তাই, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি ইবনে উরওয়াহ যা বর্ণনা করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে এই দুটি সংস্করণ সম্পাদনা ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এগুলো যেকোনো বিচারেই দুটি নির্ভুল (متقن) পাণ্ডুলিপি; ইবনে উরওয়াহ এগুলোর শেষ সংস্করণটি সরাসরি তাঁর শায়খ ইবনে কাসিরের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন।
এর বিষয়বস্তু:
পুস্তিকার বিষয়বস্তু এর শিরোনাম থেকেই প্রতীয়মান হয়, আর তা হলো 'উম্মাহাতুল আওলাদ' (সন্তানের জননী ক্রীতদাসী) বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলা। এটি একটি জটিল ফিকহী মাসআলা, যা সাহাবীগণের যুগ থেকেই মতপার্থক্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এক্ষেত্রে মতামত ও মাযহাবসমূহ এতই বিস্তৃত হয়েছে যে তা আটটি বক্তব্য পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা আপনি এই পুস্তিকায় বিস্তারিতভাবে পাবেন। এক্ষেত্রে উভয় পক্ষ থেকেই ঐকমত্যের (إجماع) দাবি করা হয়েছে। প্রতিটি মতের অনুসারীদের নিকট বর্ণনাভিত্তিক (أثرية) ও তাত্ত্বিক প্রমাণাদি রয়েছে, যা যথেষ্ট পর্যালোচনার দাবি রাখে। ফলে এই সকল মতের মধ্য থেকে অগ্রগণ্য (راجح) মতটি নিরূপণ করা সহজসাধ্য ছিল না। এক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানের (ترجيح) জন্য এমন একজন গভীর জ্ঞানের অধিকারী বিজ্ঞ আলেম প্রয়োজন ছিল, যিনি ইজতিহাদের জ্ঞান ও এর উপকরণসমূহে পারদর্শী; আর ইমাম ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর লেখনীতে এই গুণটিই প্রস্ফুটিত হয়েছে।
তিনি কেবল এই মাসআলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং বিক্রয় ছাড়াও উম্মাহাতুল আওলাদ সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিধান এর সাথে যুক্ত করেছেন, যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
ما إذا أولد السيدُ الجاريةَ في مِلْك غيره، ثم ملكها، فهل تصير أُمَّ ولد؟
وحكمِ أولادِ أُم الولد الذين حَدَثوا بعد ولادتها لسيدها؟
وحكم إجارة أُم الولد؟
وحكم أُمِّ ولد الكافر إذا أسلمتْ؟
وبماذا تتربَّص أُم الوَلَد إذا مات عنها سيدها؟
وحكم قَرْض الإماء؟
… إلخ.
وهذه المسألة قد عمَّت بها البلوى من عصر الصحابة رضي الله عنهم إلى عهدٍ قريب؛ حيث أُلْغِيَ نظام الرِّق.
وقد يقول قائل: أَمَا وقد أُلْغِيَ هذا النِّظام، ولم يَعُدْ لهذه المسألة تطبيقٌ عملي ظاهر في عصرنا، فما فائدةُ إخراجِ هذه الرسالة، بل ما فائدة بحثها أصلًا؟
فنقول:
أولًا: هذه المسألة مِنْ شَرْع الله عز وجل، وقد أفرد لها الفقهاءُ كافَّةً أبوابًا في كُتُب الفقه التي ألَّفوها، وليس من طُرُقِ نَسْخِ الأحكام الشرعيَّة عدمُ وجود تطبيق ظاهر لها في بعض العصور. بل إن الفقهاء بحثوا في كتبهم مسائل لم يكن لها تطبيق في عصرهم، وقد أضحى لها تطبيق عملي في عصرنا هذا.
ثانيًا: إنَّ نظام الرِّقِّ لم يُلْغَ إلا منذ نصف قرن تقريبًا
(1)، وليست هذه
--------------------------------------------
যদি কোনো মনিব অন্যের মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় কোনো দাসীকে গর্ভবতী করেন, অতঃপর তিনি তার মালিক হন, তবে কি সে সন্তানবতী দাসী (أُمَّ ولد) হিসেবে গণ্য হবে?
এবং সন্তানবতী দাসী (أُم الولد) তার মনিবের জন্য সন্তান জন্ম দেওয়ার পর যে সকল সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে, তাদের বিধান কী?
এবং সন্তানবতী দাসীকে (أُم الولد) ভাড়া দেওয়ার (إجارة) বিধান কী?
এবং কোনো অমুসলিমের সন্তানবতী দাসী (أُمِّ ولد) যদি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার বিধান কী?
এবং সন্তানবতী দাসীর (أُم الوَلَد) মনিব মারা গেলে সে কতদিন প্রতীক্ষা (تتربَّص) করবে?
এবং দাসীদের ঋণ (قَرْض) হিসেবে দেওয়ার বিধান কী? … ইত্যাদি।
এই মাসআলাটি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগ থেকে নিকটাতীত কাল পর্যন্ত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল; যখন দাসপ্রথা (الرِّق) বিলুপ্ত করা হয়েছে।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: যেহেতু এই প্রথা বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বর্তমান যুগে এই বিষয়ের কোনো দৃশ্যমান ব্যবহারিক প্রয়োগ নেই, তাহলে এই পুস্তিকাটি প্রকাশের সার্থকতা কী, বরং এটি নিয়ে মূলগতভাবে আলোচনারই বা প্রয়োজনীয়তা কী?
আমরা এর উত্তরে বলব:
প্রথমত: এই মাসআলাটি মহান আল্লাহর শরয়ি বিধানের অন্তর্ভুক্ত এবং ফকিহগণ তাদের রচিত সকল ফিকহ গ্রন্থে এর জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় রেখেছেন। কোনো কোনো যুগে কোনো বিধানের দৃশ্যমান প্রয়োগ না থাকা শরয়ি বিধানসমূহ (الأحكام الشرعية) রহিতকরণের (نَسْخ) কোনো পদ্ধতি হতে পারে না। বরং ফকিহগণ তাদের কিতাবসমূহে এমন অনেক মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন যেগুলোর তাদের যুগে কোনো প্রয়োগ ছিল না, অথচ বর্তমান সময়ে সেগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দ্বিতীয়ত: দাসপ্রথা (الرِّق) মাত্র প্রায় অর্ধ শতাব্দী পূর্বে বিলুপ্ত হয়েছে
(1), এবং এটিই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
بالمدة الطويلة في عمر الأمم، ويبقى احتمال عودة العمل بهذا النظام قائمًا في أيِّ وقتٍ مِنْ الأوقات، وخصوصًا مع التقلُّبات الفِكْرية والاقتصادية والاجتماعيَّة السريعة لأُمَمِ الأرض هذه الآونة.
ثالثًا: إنَّ في نَشْر هذه الرسالة إحياءً لأثرٍ نفيسٍ من آثار عَلَمٍ فَذٍّ من أعلام
জাতির দীর্ঘ জীবনকালের পরিক্রমায় এই ব্যবস্থাটি পুনরায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা যেকোনো সময়ে বিদ্যমান থাকে, বিশেষ করে বর্তমান যুগে বিশ্বজুড়ে জাতিসমূহের দ্রুত বুদ্ধিবৃত্তিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে।
তৃতীয়ত: এই গবেষণাপত্রটি প্রকাশের মাধ্যমে বরেণ্য মণীষীদের (أعلام) অন্তর্ভুক্ত একজন অনন্য মণীষীর (عَلَم) অমূল্য নিদর্শনের (أثر) পুনর্জাগরণ ঘটবে...
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
هذه الأُمَّة، وَضَعَ اللهُ له القَبُولَ عند الموافق والمُخالف، ونَفَعَ بكتبه، ونحن نرى الهيئاتِ والمنظَّماتِ العِلْمية العَالمية تسعى حثيثًا لنشر كُتُبِ ومؤلَّفاتِ العلماء القدماء في العلوم التطبيقيَّة كالفيزياء والكيمياء والرياضيات والفلك ونحوها، على الرغم من أنَّ كثيرًا من نظرياتهم وتطبيقاتهم أثبت العِلْمُ الحديث خطأها، ومع ذلك يُهتَمُّ بتحقيقها ونشرها
(1).
رابعًا: إن نَشْر هذه الرسالة (بإبرازتيها) يُسلِّطُ الضوءَ على جانب مُهمٍّ من فِقْهِ ابن كثير رحمه الله، ويَرْصُدُ تطوره، الأمر الذي يَهُمُّ الدَّارسين والمتخصِّصين في ابن كثير كثيرًا.
خامسًا: إن ابن كثير رحمه الله لم يقتصر في هذه الرسالة على مسألة بيع أُمَّهات الأولاد فقط؛ بل تطرَّق إلى مسائل عِدَّة في عِلْمَي الأصول والمصطلح، وذكر الأقوال فيها، وحرَّرها ورجَّح ما قَوِيَ دليلُهُ الأثري أو النظري لديه.
--------------------------------------------
এই উম্মাহর মাঝে আল্লাহ তাঁর জন্য এমন গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে দিয়েছেন যা অনুসারী ও বিরোধী নির্বিশেষে সকলের নিকট স্বীকৃত। তিনি তাঁর কিতাবসমূহের মাধ্যমে উম্মাহর উপকার সাধন করেছেন। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংস্থা ও সংগঠনগুলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং অনুরূপ ফলিত বিজ্ঞানের প্রাচীন বিজ্ঞানীদের বই ও রচনাবলি প্রকাশের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও আধুনিক বিজ্ঞান তাঁদের অনেক তত্ত্ব ও প্রয়োগের ভুল প্রমাণ করেছে, তবুও সেগুলোর যথাযথ সম্পাদনা ও প্রকাশের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়
(১).
চতুর্থত: এই রিসালাটি (এর উভয় সংস্করণসহ) প্রকাশের মাধ্যমে ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফিকহী দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে এবং এর বিবর্তনকে চিহ্নিত করা হয়েছে; যা ইবনে কাসীর সম্পর্কে গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পঞ্চমত: ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) এই রিসালাতে কেবল 'উম্মাহাতুল আওলাদ' (দাসী মাতা) বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং তিনি উসূল (أصول) এবং হাদিস পরিভাষা (مصطلح) শাস্ত্রের বহুবিধ মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি সেগুলোকে বিশ্লেষণ করেছেন এবং যেগুলোর স্বপক্ষে তাঁর নিকট শক্তিশালী বর্ণনাগত (أثري) বা তাত্ত্বিক দলিল বিদ্যমান ছিল, সেগুলোকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
سادسًا: تُعدُّ هذه الرسالة نُمُوذجًا عمليًّا يُحتذى به للمنهج الفقهي السَّلفي في البحث والترجيح.
سابعًا: إنَّ نشر هذه الرسالة إثراء ورِفْد للمكتبة الإسلامية عامة، ولِتُراث ابن كثير رحمه الله خاصة.
إثبات نسبة الكتاب لمؤلِّفه:
هذه الرسالة ثابتة النسبة لابن كثير رحمه الله، والدلائل متوافرة ومتضافرة على ذلك، فمنها:
1 - جاء في المخطوط التصريح بنسبة هذه الرسالة لابن كثير في موضعين (ق/ 193/ أ) و (ق/ 202/ ب).
2 - أن ابن عروة الحنبلي رحمه الله قد نقل كِلتا الإبرازتين في كتابه العظيم «الكواكب الدراري»، جاءتِ الأولى منهما روايةً عن ابن كثير مباشرة، والثانية نقلًا مجردًا، وقد يكون وِجادة.
وفي نقل ابن عروة لهذه الرسالة عددٌ من الفوائد والميزات أشرتُ إلى بعضها في غير هذا الموضع
(1).
هذا؛ والنسخةُ التي انتهت إلينا من «الكواكب الدراري» هي نُسخة ابن عُروة نفسه، وجُلُّها بخطِّ الحافظ النَّاجي رحمه الله -وناهيك به- وقد قرأها
--------------------------------------------
ষষ্ঠত: এই রিসালাটি গবেষণা ও প্রাধান্য নিরূপণের (ترجيح) ক্ষেত্রে সালাফি ফিকহী মানহাজের এক অনুকরণীয় ব্যবহারিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
সপ্তমত: এই রিসালাটির প্রকাশনা সামগ্রিকভাবে ইসলামি গ্রন্থাগারগুলোর জন্য এবং বিশেষভাবে ইবনে কাসীর (রহ.)-এর জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের জন্য এক সমৃদ্ধি ও বিশেষ সংযোজন।
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধ (نسبة) নিশ্চিতকরণ:
ইবনে কাসীর (রহ.)-এর প্রতি এই রিসালাটির সম্বন্ধ (نسبة) প্রমাণিত, এবং এর স্বপক্ষে পর্যাপ্ত ও শক্তিশালী প্রমাণাদি বিদ্যমান রয়েছে; তন্মধ্যে কিছু হলো:
1 - পাণ্ডুলিপির (مخطوط) দুটি স্থানে (পৃষ্ঠা/ ১৯৩/ ক) এবং (পৃষ্ঠা/ ২০২/ খ) ইবনে কাসীরের প্রতি এই রিসালাটির সম্বন্ধের (نسبة) সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে।
2 - ইবনে উরওয়াহ আল-হানবালি (রহ.) তাঁর মহান গ্রন্থ ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি’-তে উভয় সংস্করণই উদ্ধৃত করেছেন; যার প্রথমটি সরাসরি ইবনে কাসীর থেকে বর্ণনা (رواية) হিসেবে এবং দ্বিতীয়টি কেবল উদ্ধৃতি হিসেবে এসেছে, যা সম্ভবত উইজাদাহ (وجادة) হতে পারে।
ইবনে উরওয়াহ কর্তৃক এই রিসালাটি উদ্ধৃত করার মধ্যে বেশ কিছু উপকারিতা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার কিছু আমি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছি
(1)।
উল্লেখ্য যে, ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি’-এর যে কপিটি (نسخة) আমাদের নিকট পৌঁছেছে, সেটি ইবনে উরওয়াহ-এর নিজস্ব কপি, যার অধিকাংশ হাফেজ আন-নাজি (রহ.)-এর হস্তলিখিত—আর তাঁর পাণ্ডিত্য সম্পর্কে তো বলাই বাহুল্য—এবং তিনি এটি পাঠ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
على ابن عُرْوة مباشرة، ثم أوقفها ابن عُرْوة على المكتبة العُمَريَّة
(1) بالصَّالحية في مدينة دمشق.
3 - أحال عليها ابن كثير في كتابين من مؤلَّفاته:
فقال في «البداية والنهاية»
(2): «وقد أفردنا لهذه المسألة -وهي بيع أمهات الأولاد- مُصنَّفًا مفردًا على حِدَته، وحكينا فيه أقوالَ العلماء؛ بما حاصله يرجع إلى ثمانية أقوال، وذكرنا مُستَنَدَ كلِّ قول، ولله الحمدُ والمِنَّة».
وقال في «مسند الفاروق»
(3) معلِّقًا على أثر عمر بن الخطَّاب رضي الله عنه: «أيما وَليدة وَلَدَتْ من سيدها، فإنه لا يبيعها
… »؛ قال: «وقد تقصَّيتُ ذلك كله في جُزءٍ مُفرَد، وبيَّنتُ اختلاف الأئمة في هذه المسألة، وتحصَّل من أقوالهم قريب من ثمانية مذاهب، ولله الحمدُ والمِنَّة».
--------------------------------------------
সরাসরি আলী ইবনে উরওয়াহর কাছে পৌঁছেছিল, এরপর ইবনে উরওয়াহ তা দামেস্ক শহরের সালিহিয়্যাহর মাকতাবাতুল উমারিয়্যাহর
(১) জন্য ওয়াকফ করে দেন।
৩ - ইবনে কাসীর তাঁর দুটি রচনায় এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন:
তিনি 'আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ'
(২)-তে বলেছেন: "আমরা এই মাসআলায়—অর্থাৎ উম্মাহাতুল আওলাদ (أمهات الأولاد) (সন্তানের জননী দাসী) বিক্রয় প্রসঙ্গে—একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ (مصنف) রচনা করেছি এবং তাতে আলেমগণের অভিমতসমূহ বর্ণনা করেছি; যার সারসংক্ষেপ আটটি অভিমত পর্যন্ত পৌঁছে। আমরা প্রতিটি অভিমতের দলিল (مستند) উল্লেখ করেছি; সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য।"
তিনি 'মুসনাদুল ফারুক'
(৩)-এ উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর আসার (أثر)-এর ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন: "কোনো দাসী যদি তার মনিবের ঔরসে সন্তান জন্ম দেয়, তবে সে তাকে বিক্রি করবে না..."; তিনি বলেন: "আমি একটি স্বতন্ত্র জুয (جزء)-এ এর সবকিছু সবিস্তারে অনুসন্ধান করেছি এবং এই মাসআলায় ইমামগণের মতপার্থক্য বর্ণনা করেছি। তাঁদের অভিমত থেকে প্রায় আটটি মাজহাব বা মত পাওয়া যায়; সমস্ত প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা আল্লাহর জন্য।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
5 - نَقَل فيها ابن كثير عن شيخه الحافظ المِزِّيِّ في غير موضع، في المتن والحواشي.
6 - ذَكَرها ونقل منها الصنعانيُّ في «سبل السلام»
(1)، فقال: «وأفاد الحافظ ابنُ كثير الكلامَ على هذه المسألة في جزء مُفْرَد، قال: وتلخَّص لي عن الشافعي فيها أربعة أقوال، وفي المسألة من حيث هي ثمانية أقوال».
المؤلفات في المسألة:سبق ابنَ كثير إلى إفراد هذه المسألة بالتصنيف الإمامُ الحافظُ، أبو بكر، محمد بن أحمد بن عبد الله بن محمد بن يحيى بن سيِّد النَّاس، الظَّاهري اليَعمَري، الأندلسي الإشبيلي، خطيب تونس وعالم المغرب، المعروف بابن سيِّد الناس، المُتَوفَّى في سنة (659 هـ). وهو جدُّ الحافظ أبي الفتح اليَعمَري
(2) الشافعي، رحمهما الله تعالى.
--------------------------------------------
5 - ইবনে কাসীর এতে তাঁর উস্তাদ হাফেজ (الحافظ) আল-মিযযীর উদ্ধৃতি মূল পাঠ এবং টীকাভাষ্যের একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছেন।
6 - আস-সানআনী ‘সুবুলুস সালাম’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং তা থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন
(1)। তিনি বলেন: "হাফেজ (الحافظ) ইবনে কাসীর একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকায় এই মাসআলার ওপর আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন: ইমাম শাফিঈর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আমার নিকট চারটি মত সংক্ষেপিত হয়েছে, আর সামগ্রিকভাবে এই মাসআলায় আটটি মত রয়েছে।"
এই বিষয়ের সংকলনসমূহ:ইবনে কাসীরের পূর্বে এই মাসআলায় স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন ইমাম হাফেজ (الحافظ), আবু বকর, মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন সাইয়্যিদুন নাস, আয-যাহেরি আল-ইয়া'মারি, আল-আন্দালুসি আল-ইশবিলি, তিউনিসের খতিব এবং মাগরিবের আলেম, যিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস নামে পরিচিত, মৃত্যু (৬৫৯ হিজরি)। তিনি হাফেজ (الحافظ) আবুল ফাতহ আল-ইয়া'মারি
(2) আশ-শাফিঈর পিতামহ, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قال الذهبي
(1): ألَّف مجلَّدًا في بيع أمَّهات الأولاد.
قال السُّبْكي
(2): ولجده [أي: جد أبي الفتح، وهو الحافظ أبي بكر] مُصنَّف في منع بيع أمهات الأولاد في مجلَّدٍ ضخم يدلُّ على عِلْم عظيم.
قال الصَّفدي
(3): رأيتُ له كتابَ جوازِ بيع أمَّهات الأولاد دَلَّني على سَعَة عِلْمه، وسَيَلان ذِهنه.
ونقل منه بدرُ الدين الزركشيُّ الشافعي في كتابه: «النُّكت على مقدمة ابن الصلاح»
(4).
ولم يُشر ابنُ كثير إلى كتابه هذا في متن الإبرازاة الأولى لرسالته في بيع أُمَّهات الأولاد، وكأنه لم يكن قد اطَّلعَ عليه وقتئذ، ثم لم يلبثْ أن وقف عليه فأفاد منه فوائدَ علَّقها على حاشية نسخته (الإبرازة الأولى).
ثم لما استأنف تصنيفها وصياغتها من جديد، أفاد منه بشَكْلٍ مباشر في المتن والحواشي، وذَكَرَهُ وأثنى عليه في المتن والحاشية، تصريحًا وتلويحًا،
--------------------------------------------
যাহাবি
(1) বলেছেন: তিনি ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ (সন্তানের জননী ক্রীতদাসী) বিক্রয় প্রসঙ্গে একটি খণ্ড রচনা করেছেন।
আস-সুবকি
(2) বলেছেন: তাঁর দাদার [অর্থাৎ আবুল ফাতহের দাদা, তিনি হলেন হাফিজ (الحافظ) আবু বকর] ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে একটি বিশাল খণ্ডবিশিষ্ট রচনা রয়েছে, যা মহান পাণ্ডিত্যের পরিচয় দেয়।
আস-সাফাদি
(3) বলেছেন: আমি তাঁর ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ বিক্রয় বৈধ হওয়া সংক্রান্ত একটি কিতাব দেখেছি, যা আমাকে তাঁর ইলমের প্রশস্ততা এবং মেধার প্রখরতা সম্পর্কে অবগত করেছে।
বদরুদ্দীন আজ-জারকাশি আশ-শাফিয়ি তাঁর কিতাব ‘আন-নুকাতু আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ’
(4)-এ তা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
ইবনে কাসির তাঁর ‘উম্মাহাতুল আওলাদ’ বিক্রয় সংক্রান্ত রিসালার প্রথম সংস্করণের মূল পাঠে (متن) এই কিতাবটির কথা উল্লেখ করেননি; মনে হয় সেই সময়ে তিনি এটি দেখার সুযোগ পাননি। অতঃপর অনতিবিলম্বে তিনি কিতাবটি খুঁজে পান এবং তা থেকে অনেক ফায়দা গ্রহণ করেন, যা তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপির (প্রথম সংস্করণের) হাশিয়াতে (حاشية) টীকা হিসেবে যুক্ত করেছেন।
পরবর্তীতে যখন তিনি এটি পুনরায় সংকলন ও বিন্যাস শুরু করেন, তখন তিনি এর মূল পাঠ (متن) ও হাশিয়াতে (حاشية) সরাসরি তা থেকে উপকৃত হন। তিনি মূল পাঠ (متن) ও হাশিয়াতে (حاشية) স্পষ্টভাবে এবং ইঙ্গিত প্রদানের মাধ্যমে কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর প্রশংসাও করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
فقال في الإبرازة الأخيرة
(1): «واختاره [أي: القولَ بجواز بيع أمهات الأولاد] من المتأخِّرين العلامةُ أبو بكر، محمد بن أحمد بن سيِّد الناس، اليَعمَري الأندلسي، خطيب تونس، وصنَّف في ذلك مجموعًا مفيدًا، أجاد فيه وأتقن، وحرَّر فأحسن، وقد احتجَّ لهذا القول: بالكتاب، والسُّنَّة، والإجماع، والقياس».
وتعقَّبه في تجهيله لبعض الرواة، كما في حاشية (ق/ 194/ أ) (ص 60).
منهج ابن كثير فيها:انتهج ابنُ كثير رحمه الله في هذه الرسالة منهجَ الفِقه المقارن، المتعمِدَ على عَرْض الأقوال في المسألة، وشرحها، وبيانِ أدلتها ووجهِ الاستدلال من كل دليل، ومناقشةِ أدلَّة كل فريق، ثم الترجيح وَفْقَ ما تقتضيه قواعد الترجيح وأصوله، حتى ولو خالف القولُ الذي رجَّحه المؤلِّفُ مذهبَه الفِقهي؛ فإنَّ ابن كثير رجَّح قولًا هو خلافُ مذهبه الشافعي، بل خلافُ المذاهب الأربعة، وهذا دليل ظاهر على انْعِتاق ابن كثير من رِبْقة التقليد، وتحرُّره العِلمي القائم على اتِّباع الدليل، ونَبْذِ التعصُّب المذهبي، ولا يخفى أن البحث والترجيح بهذه الطريقة يحتاج إلى تمكُّن الباحث من علم الحديث، والفقه، والأصول، واللُّغة، وغيرها من علوم الاجتهاد.
ويذكِّرُنا ابنُ كثير في موقفه هذا بشيخه ابن تيمية وموقفِهِ من مسألة
--------------------------------------------
তিনি সর্বশেষ সংস্করণে
(১) বলেছেন: «এবং পরবর্তী যুগের আলিমদের মধ্য থেকে আল্লামা আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে সায়্যিদুন্নাস আল-ইয়া’মারি আল-আন্দালুসি, তিউনিসিয়ার খতিব, এই মতটি [অর্থাৎ: উম্মাহাতুল আওলাদ বা সন্তানের জননী ক্রীতদাসীদের বিক্রয় বৈধ হওয়ার মত] গ্রহণ করেছেন। তিনি এই বিষয়ে একটি উপকারী সংকলন রচনা করেছেন, যাতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এবং সূক্ষ্ম ও চমৎকার বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি এই মতের সপক্ষে কুরআন (الكتاب), সুন্নাহ, ঐক্যমত (إجماع) এবং কিয়াস (قياس) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।»
এবং তিনি কিছু বর্ণনাকারীকে অজ্ঞাত (مجهول) সাব্যস্ত করার বিষয়ে তাঁর সমালোচনা করেছেন, যেমনটি হাশিয়া (পাণ্ডুলিপি ১৯৪/ক) (পৃষ্ঠা ৬০)-তে বর্ণিত হয়েছে।
এতে ইবনে কাসীরের কর্মপদ্ধতি (منهج):ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) এই রিসালায় তুলনামূলক ফিকহ-এর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা মাসআলার বিভিন্ন মতামত উপস্থাপন, সেগুলোর ব্যাখ্যা, দলিলসমূহ এবং প্রতিটি দলিলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি বর্ণনা এবং প্রতিটি পক্ষের দলিলের পর্যালোচনার ওপর নির্ভরশীল। অতঃপর তিনি প্রাধান্য নির্ধারণের (ترجيح) নিয়ম ও এর উসুল (أصول) অনুযায়ী প্রাধান্য দিয়েছেন, এমনকি লেখক যে মতটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন তা যদি তাঁর নিজস্ব ফিকহী মাযহাবের বিরোধীও হয়। কেননা ইবনে কাসীর এমন মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন যা তাঁর শাফিঈ মাযহাবের পরিপন্থী, বরং চার মাযহাবেরই পরিপন্থী। এটি ইবনে কাসীরের অন্ধ অনুকরণ (تقليد) থেকে মুক্তি এবং দলিলের অনুসরণ ও মাযহাবী গোঁড়ামি বর্জনের ওপর প্রতিষ্ঠিত তাঁর ইলমি স্বাধীনতার এক সুস্পষ্ট প্রমাণ। এটি সুবিদিত যে, এই পদ্ধতিতে গবেষণা ও প্রাধান্য (ترجيح) প্রদানের জন্য গবেষকের হাদিস বিজ্ঞান, ফিকহ, উসুল (أصول), ভাষা এবং ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর অন্যান্য শাস্ত্রে গভীর পাণ্ডিত্য থাকা আবশ্যক।
ইবনে কাসীর তাঁর এই অবস্থানের মাধ্যমে আমাদের তাঁর উস্তাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং কোনো মাসআলায় তাঁর অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الطلاق التي خالف فيها جماهيرَ العلماء؛ إذ بَيْنَ القضيتين تطابقٌ كبير، فمِن
أوجه التطابق:أنَّ أُمَّهات الأولاد كُنَّ يُبعن على عهد رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، وخلافة أبي بكر رضي الله عنه، وشطر من خلافة عمرَ بن الخطاب رضي الله عنه، ثم مَنَع عُمرُ رضي الله عنه الناسَ من بيعهنَّ، وتبعه الجمهورُ على ذلك.
وكذلك مسألة الطلاق: كان على عهد رسولِ الله صلى الله عليه وسلم، وخلافة أبي بكر رضي الله عنه، وشطر من خلافة عمرَ بن الخطاب رضي الله عنه، التطليقات الثلاثة في المجلس الواحد تُحسَبُ واحدةً، ثم أمضى عُمرُ رضي الله عنه الثلاثَ على الناس، وحُسبت عليهم ثلاثًا، وتبعه الجمهورُ على ذلك.
أن مسألة بيع أُمَّهات الأولاد مما تعمُّ بها البلوى ويترتَّب عليها صلاح البيوت والأسر، وكذلك مسألة الطلاق الثلاث سواء بسواء.
إلا أنه لم يُشنَّعْ على ابن كثير رحمه الله في هذه المسألة كما شُنِّع على شيخه ابن تيمية رحمه الله في مسألة الطلاق من قبلُ، ولم تأخذ مسألةُ بيع أُمَّهات الأولاد البُعْدَ السياسي والفكري -والتاريخي أيضًا- الذي أخذته مسألة الطلاق، على الرغم من أن العصر واحد، والبيئة العلمية والفِكرية واحدة!!
بدأ ابن كثير رسالتَه بحصر الأقوال في المسألة، فسَرَدها سردًا محرَّدًا عن نسبة هذه الأقوال لأصحابها، محاولًا الاستيعاب.
ثم عاد فذكر أصحاب القول الأول من لدن عصر الصحابة إلى عصره هو، وباستيعاب عجيب أيضًا.
তালাক সংক্রান্ত মাসআলা যাতে তিনি আলেমদের সংখ্যাগরিষ্ঠের (جماهير) বিরোধিতা করেছেন; যেহেতু এই দুই বিষয়ের মধ্যে একটি বড় ধরনের সাদৃশ্য রয়েছে। সাদৃশ্যের দিকসমূহ হলো:
সাদৃশ্যের দিকসমূহ:উম্মাহাতুল আওলাদদের (যে দাসীরা সন্তানের মা হয়েছে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতের প্রথমাংশে বিক্রি করা হতো। পরবর্তীতে উমর (রা.) লোকদের তা বিক্রি করতে নিষেধ করেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলেম এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেন।
অনুরূপভাবে তালাকের মাসআলা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে, আবু বকর (রা.)-এর খিলাফতকালে এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর খিলাফতের প্রথমাংশে এক মজলিসের তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে গণ্য করা হতো। অতঃপর উমর (রা.) লোকদের ওপর তিন তালাককে কার্যকর করে দেন এবং তা তাদের ওপর তিন তালাক হিসেবেই গণ্য করা হয়; আর সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলেমগণ এ বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেন।
উম্মাহাতুল আওলাদ বিক্রির বিষয়টি এমন একটি মাসআলা যার প্রয়োজনীয়তা বা প্রভাব জনপরিসরে ব্যাপক (تعم بها البلوى) এবং এর ওপর ঘর ও পরিবারের সংশোধন বা কল্যাণ নির্ভরশীল। ঠিক একইভাবে তিন তালাকের মাসআলাটিও সমপর্যায়ের।
তবে ইবনে কাসীর (রহ.)-কে এই মাসআলায় এমনভাবে কটু সমালোচনার শিকার হতে হয়নি যেমনটি ইতিপূর্বে তালাকের মাসআলায় তাঁর উস্তাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-কে হতে হয়েছিল। উম্মাহাতুল আওলাদ বিক্রির বিষয়টি সেই রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক এবং এমনকি ঐতিহাসিক রূপ পরিগ্রহ করেনি যা তালাকের মাসআলাটি করেছিল, যদিও যুগ এবং ইলমী ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ একই ছিল!!
ইবনে কাসীর (রহ.) তাঁর রিসালাহ বা পুস্তিকাটি শুরু করেছেন এই মাসআলার বিভিন্ন মতসমূহকে একত্রিত করার মাধ্যমে। তিনি মতগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের নাম উল্লেখ করা ছাড়াই অত্যন্ত সংক্ষেপে ও ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন এবং সব মতকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন।
অতঃপর তিনি পুনরায় প্রথম মতের প্রবক্তাদের কথা সাহাবীগণের যুগ থেকে তাঁর নিজ যুগ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন এবং তা অত্যন্ত বিস্ময়করভাবে ব্যাপকতার সাথে সম্পন্ন করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم ذَكَرَ من حَكَى الإجماع عليه.
ثم ذكر أدلَّة هذا القول على سبيل الإجمال، فقال: «وقد احتُجَّ عليه: بالكتاب، والسُّنة، والإجماع، والمعنى».
ثم شرع في التفصيل، فبدأ بالأدلَّة من القرآن، فإذا ذَكَرَ الدَّليل، عقَّبه بذكر وجه الاستدلال منه.
ثم ثنَّى بذِكْرِ الأدلَّة من السُّنة، فقسمها إلى قسمين، فقال: «ففي المسألة أحاديث منها صريحة في أسانيدها نظر، وصحيحة تدلُّ باللازم، ولنتكلم على كلِّ من القسمين».
فيظهر من هذا: اهتمامه البالغ بالتفريغ والتقسيم، والإجمالِ ثم التفصيل، وهذا من حُسْن التصنيف، ودِقَّة الفهم، وله دورٌ مهم في توضيح المسألة وتقريبها للأفهام، ورسوخها في الأذهان.
ثم يذكُرُ الأحاديثَ، فينقلها من مصادرها الأصلية بإسنادها، ثم يخرِّجها من بقية المصادر، مفصِّلًا الأسانيد بذكر الموافقة والمخالفة، وبيان العِلَل، وإنْ وَجَدَ إعلالًا لبعض الأئمة المتقدِّمين ذَكَره، وقد يتتبع بعضهم إذا وجد مجالًا للتتبُّع والانتقاد، انظر مثلًا: (ص 54) تتبعه للبيهقي، و (ص 120) تتبعه للدارقطني، أي: أنه لا يقلِّد في الحديث أيضًا.
وإن عَرَضَ له أثناء البحث مسألة أو قاعدة في علم المصطلح أو الأصول، عَكَف عليها وذَكَر الأقوال فيها وحقَّقها، وبيَّن الراجح منها، كي يبني ترجيحه على أصول صحيحة، كما فعل بمسألة المرسل (ص 62)،
এরপর তিনি তাদের কথা উল্লেখ করেছেন যারা এ বিষয়ে সর্বসম্মতি (إجماع) বর্ণনা করেছেন।
এরপর তিনি এই মতের স্বপক্ষে দলিলসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "এর সপক্ষে কুরআন, সুন্নাহ, সর্বসম্মতি (إجماع) ও যৌক্তিক অর্থের মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে।"
অতঃপর তিনি বিস্তারিত আলোচনা শুরু করেন এবং কুরআনের দলিলসমূহ দিয়ে আরম্ভ করেন; যখনই কোনো দলিল উল্লেখ করেন, তার পরপরই সেখান থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি বর্ণনা করেন।
এরপর দ্বিতীয়ত তিনি সুন্নাহ থেকে দলিলসমূহ উল্লেখ করেন এবং সেগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করেন। তিনি বলেন: "এই মাসআলায় এমন কিছু হাদিস রয়েছে যার মধ্যে কতগুলো সরাসরি নির্দেশক হলেও তাদের সনদ (إسناد)-সমূহে আপত্তি রয়েছে, আবার কতগুলো সহিহ (صحيحة) যা পরোক্ষভাবে নির্দেশ করে; এখন আমরা উভয় প্রকার নিয়ে আলোচনা করব।"
এর মাধ্যমে বিষয়টি পরিস্ফুট হয় যে: বিষয়বস্তু বিন্যাস ও বিভাজন এবং সংক্ষেপণের পর বিস্তারিত আলোচনার প্রতি তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল। এটি উন্নত মানের রচনাশৈলী ও সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার পরিচায়ক এবং মাসআলাটি স্পষ্ট করতে, বোধগম্য করতে ও হৃদয়ে গেঁথে দিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
এরপর তিনি হাদিসসমূহ উল্লেখ করেন এবং সেগুলোর মূল উৎস থেকে সনদ (إسناد) সহ উদ্ধৃত করেন। অতঃপর অন্যান্য উৎস থেকে সেগুলোর তাখরিজ করেন এবং সনদ (أسانيد)-সমূহের ঐকমত্য ও বৈসাদৃশ্য উল্লেখ করার মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং ত্রুটিসমূহ (علل) স্পষ্ট করেন। যদি পূর্ববর্তী কোনো ইমামের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি (إعلال) নির্দেশ করা থাকে, তবে তিনি তা উল্লেখ করেন। আর যখনই পর্যালোচনা ও সমালোচনার সুযোগ পান, তখন তিনি তাদের কারো কারো অনুসরণ না করে বরং সূক্ষ্মভাবে বিচার-বিশ্লেষণ ও সমালোচনা করেন। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: (পৃষ্ঠা ৫৪) বায়হাকির সমালোচনা এবং (পৃষ্ঠা ১২০) দারাকুতনির সমালোচনা; অর্থাৎ তিনি হাদিসের ক্ষেত্রেও অন্ধ অনুসরণ করেন না।
গবেষণার সময় যদি তাঁর সামনে হাদিস পরিভাষা (مصطلح) বা মূলনীতি (أصول) শাস্ত্রের কোনো মাসআলা বা নিয়ম উপস্থিত হয়, তবে তিনি তাতে নিবিষ্ট হন এবং সে বিষয়ে বিভিন্ন মতামত উল্লেখপূর্বক যাচাই-বাছাই করেন। অতঃপর তার মধ্য থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) বিষয়টি বর্ণনা করেন, যাতে তাঁর অগ্রাধিকার প্রদান সঠিক মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়; যেমনটি তিনি মুরসাল (مرسل) সংক্রান্ত মাসআলার ক্ষেত্রে (পৃষ্ঠা ৬২) করেছেন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومسألة الإجماع السكوتي (ص 79)، ومسألة قول الصحابي: «كنا نفعل كذا على عهد النبي صلى الله عليه وسلم (ص 100)، ومسألة تخصيص الحديث بمذهب الصحابي (ص 105).
وهو مع هذا لا يذهب بعيدًا باستطراده في بَحْثِ هذه القواعد والضوابط وتحقيقِها، بل سَرْعان ما يعود إلى ما كان بصدده، ولعلَّ هذا كي لا ينسى القاراء أصلَ المسألة المُرادِ تحقيقُهَا.
وإذا لم يكن وَجْهُ الدلالة ظاهرًا من الحديث، بَيَّنَهُ وناقش استدلالهم به، وذكر ما يَرِدُ عليه.
وإذا نقل قولًا ولم يجدْ لأصحابه دليلًا، تكلَّف هو توجيه القول، فيقول مثلًا (ص 116): «وكأن وجه هذا القول»
…واتَّسم منهجه بالرجوع إلى عددٍ كبير من المصادر والمراجع في مختلف العلوم كالحديث والفقه والأصول والتاريخ، وبعضُ هذه المراجع نادرة، ولا تُعرَف إلا عند خواصِّ أهل العِلم، مثل «فوائد المنتجِالي»، و «جزء الأمالي والقراءة»، وكتاب «وفاة النبي صلى الله عليه وسلم»، وكتاب «مناصيص الشافعي»، ونحوها، مما يعكس ثقافة ابن كثير الموسوعية.
مراحل تأليف الكتاب:ثمة أمر مهمٌّ ينبغي التنبيه عليه، وهو أن كثيرًا من المؤلِّفين يعودون إلى كتبهم مرة أخرى بعد إخراجها للناس، بالتَّنْقيح والتَّهذيب، وتوسيع مضمونها، وإضافة الفوائد إليها، وما إلى ذلك، وهذا أمرٌ طبيعيٌّ يفرضه
এবং মৌন সম্মতিসূচক ঐকমত্যের (الإجماع السكوتي) মাসআলা (পৃষ্ঠা ৭৯), সাহাবীর উক্তির মাসআলা: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এমন করতাম" (পৃষ্ঠা ১০০), এবং সাহাবীর মাযহাবের মাধ্যমে হাদিসকে বিশেষায়িত করার (تخصيص) মাসআলা (পৃষ্ঠা ১০৫)।
তিনি এর পাশাপাশি এই সকল নীতিমালা (القواعد) ও মানদণ্ড (الضوابط) এবং সেগুলোর পর্যালোচনার (تحقيق) ক্ষেত্রে দীর্ঘ অবতারণা করে মূল বিষয় থেকে দূরে সরে যান না; বরং দ্রুতই তাঁর আলোচনার মূল বিষয়ে ফিরে আসেন। সম্ভবত এটি এই কারণে যাতে পাঠক মূল আলোচিত বিষয়টি ভুলে না যান।
আর যদি হাদিস থেকে নির্দেশনার ধরণটি (وجه الدلالة) স্পষ্ট না হয়, তবে তিনি সেটি ব্যাখ্যা করেন এবং তাঁদের দলিল পেশ করার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন, সেইসাথে এর ওপর আনীত আপত্তিগুলোও উল্লেখ করেন।
আর যখন তিনি কোনো মত উদ্ধৃত করেন এবং এর প্রবক্তাদের কোনো দলিল খুঁজে না পান, তখন তিনি নিজেই সেই মতের যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদানের (توجيه) প্রয়াস পান। যেমন তিনি বলেন (পৃষ্ঠা ১১৬): «মনে হয় এই উক্তিটির ধরণ হলো...» …
তাঁর পদ্ধতি হাদিস, ফিকহ, উসুল এবং ইতিহাসের মতো বিভিন্ন শাস্ত্রের বিপুল সংখ্যক মূল উৎস ও তথ্যসূত্রের শরণাপন্ন হওয়ার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এই তথ্যসূত্রগুলোর কিছু বিরল, যা কেবল বিদগ্ধ আলেমগণের কাছেই পরিচিত; যেমন—'ফাওয়াইদুল মুনতাজালি', 'জুযউল আমালি ওয়াল কিরাআহ', 'ওয়াফাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম', 'মানাসিসুশ শাফিয়ি' এবং এই জাতীয় গ্রন্থসমূহ, যা ইবনে কাসীরের বিশ্বকোষীয় পাণ্ডিত্যের প্রতিফলন ঘটায়।
গ্রন্থটি রচনার পর্যায়সমূহ:
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করা প্রয়োজন, তা হলো—অনেক লেখকই তাঁদের গ্রন্থ জনসম্মুখে প্রকাশের পর পুনরায় সেগুলোর ওপর নজর দেন; পরিমার্জন (التنقيح), সংশোধন (التهذيب), বিষয়বস্তুর বিস্তৃতি এবং তাতে বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ তথ্য সংযোজনের মাধ্যমে। এটি একটি স্বাভাবিক বিষয় যা বাস্তবতার খাতিরেই...
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التطور الفِكْري والمَعرفي للمؤلِّف، ثم يخرجونه للناس مرةً ثانية، وقد يتكرَّر هذا الأمر مرة ثالثة ورابعة. وقد اصطُلِح على تسمية كلِّ إخراجة منها «إبْرَازة»، وهي تُقابل في عصرنا هذا الطبعة أو النشرة
(1).
فينبغي لمن يتصدَّى للتحقيق والنشر أن يُراعي هذا الأمر ويتنبَّه له، ولا يمزج الإبرازاتِ المختلفةَ بعضَها ببعض، ويلفِّق بينها؛ لأنه -لو فعل- لأحدث شيئًا لم يكن موجودًا، وتصرَّف بالنصِّ بما ليس هو مخوَّلًا فيه، وهذا لا يتفق مع الأمانة العلمية.
وقد نقل لنا ابنُ عُرْوة إبرازتين للكتاب، تُمثِّل كل إبرازة منهما تأليفًا مستقلًّا للكتاب، الأُولى يرويها عن شيخه ابن كثير مباشرة، والثانية وِجَادة فيما يظهر، أما الأُولى فهي مُسْهَبَةٌ مطوَّلة، والثانيةُ مختصَرة موجَزة، وبعد دراسة الإبرازتين، ترجَّح لي أن الإبرازة المُسْهَبة المطوَّلة هي الأخيرة التي تُوفي عنها ابنُ كثير؛ للأمور التالية:
أولًا: أن الإبرازة المُسْهَبة يرويها ابنُ عُرْوة عن ابن كثير مباشرة، قال في مقدِّمتها: «أنبأني العلَّامة الحافظ المُكْثِر أبو الفداء عماد الدِّين إسماعيل بن عُمر بن كثير القرشي البصراوي الشافعي: الحمدلله
… »، وصيغة «أنبأني»
--------------------------------------------
লেখকের বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বিবর্তন ঘটে, এরপর তারা তা জনগণের সামনে দ্বিতীয়বার প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি তৃতীয় বা চতুর্থবারও পুনরাবৃত্তি হতে পারে। এই প্রতিটি প্রকাশনার নাম দেওয়ার ক্ষেত্রে 'সংস্করণ' (إبرازة) পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে এডিশন বা প্রকাশনার সমার্থক
(1).
সুতরাং যিনি পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (تحقيق) ও প্রকাশের দায়িত্ব নেবেন, তার উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা ও সতর্ক থাকা। ভিন্ন ভিন্ন সংস্করণগুলোকে একে অপরের সাথে মিশ্রিত করা বা জোড়াতালি দেওয়া উচিত নয়; কারণ এমনটি করলে তিনি এমন একটি জিনিসের উদ্ভব ঘটাবেন যার কোনো অস্তিত্ব ছিল না এবং মূল পাঠে এমনভাবে হস্তক্ষেপ করবেন যার অধিকার তার নেই। এটি বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
ইবনে উরওয়া আমাদের কাছে গ্রন্থটির দুটি সংস্করণ (إبرازة) বর্ণনা করেছেন, যার প্রতিটি সংস্করণ গ্রন্থটির স্বতন্ত্র রচনার প্রতিনিধিত্ব করে। প্রথমটি তিনি সরাসরি তার শাইখ ইবনে কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন এবং দ্বিতীয়টি দৃশ্যত প্রাপ্তি (وجادة) এর মাধ্যমে। প্রথমটি ছিল বিস্তারিত ও দীর্ঘ, আর দ্বিতীয়টি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ। উভয় সংস্করণ পর্যালোচনার পর আমার কাছে এটিই অগ্রগণ্য মনে হয়েছে যে, বিস্তারিত ও দীর্ঘ সংস্করণটিই ছিল ইবনে কাসিরের জীবনের শেষ সংস্করণ; যা নিম্নলিখিত কারণগুলোর ভিত্তিতে:
প্রথমত: বিস্তারিত সংস্করণটি ইবনে উরওয়া সরাসরি ইবনে কাসির থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি এর ভূমিকায় বলেছেন: "আল্লামা হাফেজ (حافظ) অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر) আবুল ফিদা ইমাদুদ্দিন ইসমাইল বিন উমর বিন কাসির আল-কুরাশি আল-বাসরাভি আশ-শাফিয়ি আমাকে সংবাদ দিয়েছেন (أنبأني): আলহামদুলিল্লাহ …", এবং 'আমাকে সংবাদ দিয়েছেন' (أنبأني) শব্দমালাটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
هذه الأصلُ فيها أنها نصٌّ في السماع
(1)، وقد تُستعمل في الإجازة، وخصوصًا عند المتأخِّرين، وليس ذلك مِنْ منهج ابن عُرْوة الحنبلي في كتابه هذا؛ لأنه يهتم كثيرًا بتفصيل صيغ التَّحمُّل، ويميِّز السماع عن الإجازة، وحيث يروي بالإجازة يَنُصُّ عليها، ففي المجلد الثالث والثمانين من الكواكب -وهو المجلد نفسه الذي نقل فيه هذه الرسالة- نقل ابن عُرْوة (ق 95/ أ) طرفًا من رسالةٍ أخرى لابن كثير وهي رسالته في حديث كفَّارة المجلس، فقال: «أخبرني الشيخ الإمام العلامة الحافظ أبو الفداء إسماعيل بن عُمر بن كثير إجازة، قال
… ».
وفي آخر هذه الرسالة «بيع أمهات الأولاد» نقل ابنُ كثير أثرًا عن سعيد بن المسيب من «جزء الأمالي والقراءة» للحسن بن علي بن عفَّان العامري، فقام ابن عُرْوة برواية هذا الأثر من طريق الجزء المذكور، وذلك عن شيخه ابن كثير بالإجازة، ونصَّ عليها، فقال: «أخبرني بذلك شيخنا الشيخ الإمام العلامة الحافظ أبو الفداء عماد الدِّين إسماعيل بن عمر بن كثير إجازةً».
ويبدو لي أن رواية ابن عُرْوة لهذا الأثر بالإسناد المتصل منه إلى سعيد بن المسيب إقحامٌ منه في هذه الرسالة؛ لأن ابنَ كثير نَقَل هذا الأثر بإسناده ومتنه من الجزء المُشار إليه كعادته في نقل الأحاديث والآثار، وليس من
--------------------------------------------
মূলত এটি সরাসরি শ্রবণের (السماع) ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট পাঠ (نص)
(1), তবে কখনো কখনো অনুমতির (الإجازة) ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার দেখা যায়, বিশেষত পরবর্তী যুগের আলিমদের (المتأخرين) নিকট। ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলীর এই গ্রন্থে এমনটি করা তার পদ্ধতি নয়; কারণ তিনি হাদিস গ্রহণের শব্দসমূহ (صيغ التحمل) বিস্তারিতভাবে বর্ণনার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন এবং সরাসরি শ্রবণ (السماع) ও অনুমতি (الإجازة) প্রদানের মধ্যে পার্থক্য করেন। যেখানেই তিনি অনুমতি (الإجازة) মারফত বর্ণনা করেন, সেখানে তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। আল-কাওয়াকিবের ৮৩তম খণ্ডে—যেটি সেই একই খণ্ড যেখানে তিনি এই রিসালাটি (পুস্তিকা) উদ্ধৃত করেছেন—ইবনে উরওয়াহ (পৃষ্ঠা ৯৫/ক) ইবনে কাসীরের অন্য একটি রিসালা থেকে কিঞ্চিৎ অংশ উদ্ধৃত করেছেন, আর সেটি হলো ‘কাফফারাতুল মজলিস’ এর হাদিস বিষয়ক রিসালা। সেখানে তিনি বলেছেন: «শাইখ (الشيخ), ইমাম, আল্লামা, আল-হাফিজ (الحافظ) আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আমাকে অনুমতি (إجازة) সূত্রে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন
… ».
এই রিসালা অর্থাৎ «বায়উ উম্মাহাতিল আওলাদ» এর শেষে ইবনে কাসীর হাসান বিন আলী বিন আফফান আল-আমিরীর «জুযউল আমালি ওয়াল কিরাআহ» থেকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের একটি বর্ণনা (أثر) উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর ইবনে উরওয়াহ উক্ত 'জুয' (পুস্তিকা) এর সনদে এই বর্ণনাটি (أثر) বর্ণনা করেছেন, যা তিনি তার শাইখ ইবনে কাসীরের নিকট থেকে অনুমতি (إجازة) সূত্রে প্রাপ্ত হয়েছেন এবং তিনি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে বলেছেন: «আমাদের শাইখ (الشيخ), শাইখ, ইমাম, আল্লামা, আল-হাফিজ (الحافظ) আবুল ফিদা ইমাদুদ্দীন ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আমাকে অনুমতি (إجازة) সূত্রে এটি জানিয়েছেন।»
আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে উরওয়াহ কর্তৃক সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সনদের (الإسناد المتصل) মাধ্যমে এই বর্ণনাটি (أثر) উপস্থাপন করা মূলত এই রিসালায় তার পক্ষ থেকে একটি প্রক্ষিপ্ত অন্তর্ভুক্তি; কারণ ইবনে কাসীর হাদিস ও বর্ণনাসমূহ (الآثار) উদ্ধৃত করার ক্ষেত্রে তার চিরাচরিত অভ্যাস অনুযায়ী উল্লিখিত 'জুয' থেকে এর সনদ (إسناد) ও মতন (متن) সহই এই বর্ণনাটি (أثر) নকল করেছিলেন, এটি এমন নয় যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
منهجه في مصنفاته إسناد الأحاديث والآثار من طريقه
(1)، بعكس شيخه المِزِّيِّ، أو الحافظ الذَّهبي، أو ابن حَجَر.
فابن عُروة إذنْ يروي هذه الرسالةَ عن شيخه ابن كثير سماعًا أو قراءة، ثم أقحم في نهايتها أثرًا يرويه بالإجازة عن ابن كثير؛ هذا من جهة.
ومن جهة أخرى: إنَّ
ابن عُرْوة أخذ عن ابن كثير بِأَخَرَةٍ؛ لأن ابن كثير تُوفِّيَ سنة (774 هـ)، ونصَّ الحافظُ ابن حَجَر على أن ابن عُروة وُلِد قبل الستين
(2)، وهذا التحديد يفيد التقريب، أي: أنه قريب من الستين، فيكون إدراكه لابنِ كثير في آخر عمره. وعليه؛ تكون الإبرازة التي رواها للكتاب هي في آخر عُمُرِ ابن كثير، سواءٌ قلنا: إن روايته لها بالقِراءة أو بالإجازة.
ثانيًا: نصَّ ابنُ كثير في مقدمة الإبرازة المُسْهَبة التي رواها ابنُ عُروة على أن في مسألة بيع أمهات الأولاد ثمانية أقوال، في حين نصَّ في الإبرازة المختصرة على أن الأقوال في مسألة بيع أمهات الأولاد خمسة، ثم استدرك قولين في آخر الرسالة أحدهما من عنده، وعندما ذكر رسالته هذه في «مسند الفاروق» -وهو من كتبه المتأخرة- نصَّ على أنه تحصَّل لديه ثمانية أقوال.
ثالثًا: لم يتطرَّق ابنُ كثير لذِكْرِ مؤلَّف الحافظ ابن سيِّد الناس في الإبرازة المختصَرة، بل نَقَل منه بعض الفوائد على حاشية النسخة، وفي المقابل ذكر في متن الإبرازة المُسْهَبة أنَّ لابن سيِّد الناس «مجموعًا مفيدًا [في مسألة بيع
--------------------------------------------
তাঁর রচনাবলীতে তাঁর পদ্ধতি হলো নিজের সনদ (إسناد) ব্যবহারের মাধ্যমে হাদিস ও আছারসমূহ (آثار) বর্ণনা করা
(১), যা তাঁর উস্তাদ মিযযি, হাফিজ যাহাবি কিংবা ইবনে হাজারের পদ্ধতির বিপরীত।
সুতরাং ইবনে উরওয়াহ এই রিসালাহটি তাঁর উস্তাদ ইবনে কাসিরের নিকট থেকে শ্রবণ (سماع) বা পাঠের (قراءة) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এর শেষে এমন একটি আছার (أثر) যুক্ত করেছেন যা তিনি ইবনে কাসিরের নিকট থেকে ইজাজত (إجازة)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; এটি একটি দিক।
অন্যদিক থেকে:
ইবনে উরওয়াহ ইবনে কাসিরের শেষ জীবনে তাঁর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন; কারণ ইবনে কাসির ৭৭৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। হাফিজ ইবনে হাজার উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে উরওয়াহ ষাটের (৭৬০ হিজরি) পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন
(২)। এই সময় নির্ধারণটি নিকটবর্তী সময়কে নির্দেশ করে, অর্থাৎ: তিনি ষাটের কাছাকাছি সময়ে জন্মেছেন। ফলে ইবনে কাসিরের সাথে তাঁর সাক্ষাত ইবনে কাসিরের শেষ জীবনে হয়েছে। এর ভিত্তিতে, কিতাবটির যে সংস্করণ (إبرازة) তিনি বর্ণনা করেছেন তা ইবনে কাসিরের শেষ জীবনের; আমরা তাঁর বর্ণনাটি পাঠ (قراءة)-এর মাধ্যমে বলি কিংবা ইজাজত (إجازة)-এর মাধ্যমে।
দ্বিতীয়ত: ইবনে উরওয়াহ বর্ণিত বিস্তৃত সংস্করণের (إبرازة) ভূমিকায় ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন যে, উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রির মাসআলায় আটটি অভিমত রয়েছে। অথচ সংক্ষিপ্ত সংস্করণে (إبرازة) তিনি উল্লেখ করেছেন যে, উম্মুল ওয়ালাদ বিক্রির মাসআলায় অভিমত পাঁচটি। এরপর তিনি রিসালাহর শেষে দুটি অভিমত সংযোজন করেন যার একটি তাঁর নিজস্ব। যখন তিনি তাঁর এই রিসালাহটি 'মুসনাদুল ফারুক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—যা তাঁর পরবর্তী সময়ের কিতাবগুলোর একটি—সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর নিকট আটটি অভিমত সাব্যস্ত হয়েছে।
তৃতীয়ত: ইবনে কাসির সংক্ষিপ্ত সংস্করণে (إبرازة) হাফিজ ইবনে সাইয়্যিদুন নাসের সংকলনটির কথা উল্লেখ করেননি, বরং তিনি পাণ্ডুলিপির টীকা (حاشية) থেকে কিছু উপকারিতা (فوائد) নকল করেছেন। এর বিপরীতে তিনি বিস্তৃত সংস্করণের (إبرازة) মূল পাঠে (متن) উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে সাইয়্যিদুন নাসের একটি 'উপকারী সংকলন' [বিক্রির মাসআলায়...]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أمهات الأولاد]، أجاد فيه وأتقن، وحرَّر فأحسن
… »؛ فالظاهر أن ابن كثير لما ألَّف الإبرازة الأولى، وهي المختصرة، لم يكن قد وقف بَعْدُ على مصنَّف ابن سيد الناس المذكور، ثم وَقَفَ عليه بَعْد ذلك، فاستفاد منه، ونَقَل منه فوائدَ علَّقها على حاشية نُسخته، ثم أعاد النظر في مؤلَّفه كلِّه، وقام بصياغته من جديد، وأضاف إليه ما تجمَّع لديه من فوائد ومناقشات وتحقيقات تتعلَّق بالمسألة حَصَلتْ عنده في أثناء بحثه ومطالعته، ولا يبعد أن يكون ابن عُروة وَقَفَ على هذه النُّسخة الخاصة بابن كثير، بدليل أنه نقلها بحواشيها، وهذه الحواشي لابن كثير قطعًا؛ لأنه يُصرِّح بالنقل عن شيخه المزي، بلفظ «شيخنا».
وبعبارة أخرى: إنه أعاد تأليفه مرةً أخرى. وأخرجَهُ للناس من جديد؛ فالفرق بين النسختين كبير، ولا يمكن إيضاحُهُ في الحواشي بإيجاز، لذا؛ أرى أنَّ من المفيد نَشْرَ الإبرازتين جميعًا؛ كي يقف الباحث على التطور العِلْمي والفِقْهي والفِكْري للحافظ ابن كثير، على أنَّ الإبرازة الأولى (المختصَرة) لا تخلو من فائدة، ليست في الإبرازة المُسْهَبة.
وليس هذا هو الكتابَ الوحيد الذي أبرزه ابنُ كثير غير مرَّة، بل هذا الأمر ينسحب على كثير من كتبه، ومنها تفسيره المشهور الذي وضع الله له القَبُول عند الموافق والمخالف، وطبَّقت شهرته الآفاق، أبرزه ابن كثير أكثر من مرة
(1). وكذلك «مسند الفاروق»، وفيه بحث ليس هذا موضعَهُ.
--------------------------------------------
উম্মাহাতুল আওলাদ], তিনি এতে নৈপুণ্য ও পারদর্শিতা প্রদর্শন করেছেন এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে তা সম্পাদনা করেছেন
… »; প্রতীয়মান হয় যে, হাফিজ ইবনে কাসীর যখন প্রথম সংস্করণ (الإبرازة) রচনা করেন—যা ছিল সংক্ষিপ্ত (المختصرة)—তখনও তিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাসের উল্লিখিত গ্রন্থটির সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে তিনি এটি প্রাপ্ত হন এবং তা থেকে উপকৃত হন। তিনি সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যসমূহ তাঁর পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় (حاشية) লিখে রাখেন। এরপর তিনি তাঁর সমগ্র রচনাটি পুনর্বিবেচনা করেন এবং নতুন আঙ্গিকে বিন্যস্ত করেন। এতে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর গবেষণা ও অধ্যয়নের মাধ্যমে অর্জিত বিভিন্ন তথ্য, আলোচনা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (تحقيقات) যুক্ত করেন। এটি অসম্ভব নয় যে, ইবনে উরওয়াহ হাফিজ ইবনে কাসীরের এই বিশেষ পাণ্ডুলিপিটি পেয়েছিলেন; এর প্রমাণ হলো, তিনি এটি তাঁর পার্শ্বটীকাসহ (حواشي) বর্ণনা করেছেন। আর এই পার্শ্বটীকাগুলো নিশ্চিতভাবেই ইবনে কাসীরের; কারণ তিনি সেখানে তাঁর শায়খ (شيخ) আল-মিজ্জীর নিকট থেকে বর্ণনা করার সময় সরাসরি 'আমাদের শায়খ' (شيخنا) শব্দ ব্যবহার করেছেন।
অন্য কথায়: তিনি এটি পুনরায় রচনা করেছেন এবং নতুনভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন। ফলে উভয় কপির মধ্যে পার্থক্য অনেক বেশি, যা পার্শ্বটীকায় (حواشي) সংক্ষেপে স্পষ্ট করা সম্ভব নয়। তাই আমি মনে করি, উভয় সংস্করণই (الإبرازتين) প্রকাশ করা ফলপ্রসূ হবে; যাতে গবেষক হাফিজ ইবনে কাসীরের বৈজ্ঞানিক, ফিকহি (الفقهي) ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিবর্তন সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। উল্লেখ্য যে, প্রথম সংস্করণটি (المختصرة)—যা সংক্ষিপ্ত—এমন কিছু উপকারিতা বিবর্জিত নয়, যা বিস্তারিত (المسهبة) সংস্করণে নেই।
ইবনে কাসীর কেবল এই একটি কিতাবই একাধিকবার সংস্করণ (أبرزه) করেননি, বরং তাঁর অনেক কিতাবের ক্ষেত্রেই এটি ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর বিখ্যাত তাফসির, যা আল্লাহ তাআলা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছেন এবং যার খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে; ইবনে কাসীর এটি একাধিকবার সংস্করণ করেছেন
(1)। তদ্রূপ 'মুসনাদুল ফারুক' কিতাবটিও; তবে এ বিষয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
دراسة المخطوط المعتمد في التحقيق:اعتمدتُّ في تحقيق هاتين الإبرازتين على نُسْختين خطيتين، نقلهما ابن عروة الحنبلي تِباعًا في كتابه العظيم «الكواكب الدراري»، في المجلد الثالث والثمانين منه (83)، وأصله محفوظ في المكتبة الظاهرية بدمشق، تحت رقم (578) عام.
فنَقَلَ ابنُ عروة الإبرازةَ الأخيرة، وهي التي وقعت له بالرواية، وتقع من ورقة (193/ أ) إلى منتصف الورقة (201/ أ)، ثم أردفها بالإبرازة الأولى من ورقة (201/ أ) واستغرقت إلى نهاية الورقة (204/ ب).
ناسخ المجلد: هو إبراهيم بن محمد بن محمود بن بدر الحنبلي، وهو الحافظ الناجي نفسه
(1). وهنا عندنا وقفة:
الحافظ الناجي رحمه الله نسخ جُلَّ مجلدات الكواكب، وخطه من نمط نستعليق، وهذا النمط (نستعليق) كان شائعًا عندهم في ذلك العهد؛ لجماله وسُهُولته، وهو وإن كان ناسخ المجلد إلا أنه لم ينسخ هذه الرسالة بعينها، لأن خطَّها مختلف، وبعيد كل البعد عن خط الحافظ الناجي الجميل، وبعيد أيضًا عن أسلوبه المتقن في النسخ، فهو -أي: الحافظ الناجي- يكتب بانسجام تام، وبنمط واحد، وعلى وتيرة واحدة، وبأسطر متساوية ومتوازية
--------------------------------------------
সম্পাদনায় (تحقيق) নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপি বিষয়ক গবেষণা:এই দুই সংস্করণের (إبرازة) সম্পাদনায় (تحقيق) আমি দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলি ধারাবাহিকভাবে তাঁর বিশাল গ্রন্থ «আল-কাওয়াকিব আদ-দোরারি»-এর ৮৩তম খণ্ডে উদ্ধৃত করেছেন। এর মূল কপি দামেস্কের জাহিরিয়া লাইব্রেরিতে সাধারণ নম্বর (৫৭৮) এর অধীনে সংরক্ষিত আছে।
ইবনে উরওয়াহ সর্বশেষ সংস্করণটি (إبرازة) উদ্ধৃত করেছেন, যা তাঁর নিকট বর্ণনাসূত্রে (رواية) পৌঁছেছে; এটি ১৯৩/ক পৃষ্ঠা থেকে ২০১/ক পৃষ্ঠার মধ্যভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর তিনি ২০১/ক পৃষ্ঠা থেকে প্রথম সংস্করণটি (إبرازة) সংযুক্ত করেছেন এবং এটি ২০৪/খ পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে।
খণ্ডটির লিপিকার (ناسخ): তিনি হলেন ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাহমুদ ইবনে বদর আল-হাম্বলি, যিনি স্বয়ং হাফিজ নাজি
(১)। এখানে আমাদের কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে:
হাফিজ নাজি (রহিমাহুল্লাহ) আল-কাওয়াকিব গ্রন্থের অধিকাংশ খণ্ড অনুলিপি (نسخ) করেছেন। তাঁর হস্তলিপি ছিল নাস্তালিক পদ্ধতির, আর এই পদ্ধতিটি (নাস্তালিক) তার সৌন্দর্য ও সহজবোধ্যতার কারণে তৎকালীন সময়ে তাঁদের নিকট প্রচলিত ছিল। তিনি যদিও খণ্ডটির লিপিকার (ناسخ), তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে এই রিসালাটি নিজে অনুলিপি (نسخ) করেননি। কারণ এর হস্তলিপি ভিন্ন এবং হাফিজ নাজির সুন্দর হস্তলিপি থেকে অনেক ব্যবধান রয়েছে। এছাড়া এটি তাঁর নিপুণ অনুলিপি (نسخ) শৈলী থেকেও ভিন্ন। কেননা হাফিজ নাজি পূর্ণ সামঞ্জস্যের সাথে একটি নির্দিষ্ট ঢঙে, একই গতিতে এবং সমান ও সমান্তরাল লাইনে লিখতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومستقيمة، ويُراعي تساويَ بدايات ونهايات الأسطر.
وصف المخطوط:أما خط ناسخ هذه الرسالة فهو رديء، ولم يتبع الناسخ فيه أي نمط من أنماط الخطوط الشائعة في تلك الأيام فيما نعلم.
بدايات الأسطر منضبطة نوعًا ما، أما نهاياتها فغير منضبطة، ولا متساوية، ولا متوازية، والمسافات بين السطور متباينة مما أدَّى إلى اختلاف كبير في عدد الأسطر بين صفحة وأخرى، والكلمات متراصَّة بحيث يعسر إضافة أي لَحَق بينها، وليس له قاعدة مضطردة في رسم الحروف والكلمات، وهذه الأمور من شأنها أن تُفْقِدَ النصَّ النواحي الجمالية فيه.
ويضع علامة اللَّحَقَ (العطفة) متعطفة دائمًا إلى جهة اليمين، ثم يكتب اللَّحَق -في الغالب- على جهة الشمال.
الناسخ يكتب بقلم ثخين، وبمِدادٍ داكن وثقيل، وبعد مضي مِئات السنين ما زالت الكتابة في غاية الوضوح، ومحافظة على بريقها.
ولا يهتم كثيرًا بإعجام الحروف، بل كثيرًا ما يترك بعض الحروف المعجمة مهملة. ويستخدم أحيانًا علامة الإهمال على بعض الحروف المهملة كالسين.
ويضع الناسخ الدوائر المنقوطة بغرض المراجعة، لا للدلالة على نهاية الكلام.
ويستخدم نظام (التعقيبة) للمحافظة على ترتيب الصفحات، وهذا
এবং সোজা, আর তিনি লাইনের শুরু ও শেষের সামঞ্জস্য রক্ষা করেন।
পাণ্ডুলিপির বিবরণ:এই পুস্তিকাটির লিপিকরের (ناسخ) হাতের লেখা নিম্নমানের (رديء), এবং আমাদের জানামতে লিপিকর এতে সে সময়ে প্রচলিত লিপিশৈলীসমূহের কোনোটিই অনুসরণ করেননি।
লাইনের শুরুগুলো কিছুটা সুশৃঙ্খল হলেও শেষগুলো সুশৃঙ্খল নয়, সমানও নয় এবং সমান্তরালও নয়। লাইনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ভিন্ন ভিন্ন, যার ফলে এক পৃষ্ঠা থেকে অন্য পৃষ্ঠার লাইনের সংখ্যায় বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। শব্দগুলো একে অপরের সাথে এতোটা ঠাসাঠাসি করে লেখা যে, সেগুলোর মাঝে কোনো পার্শ্বটিকা বা সংযোজনী (لحق) যুক্ত করা কঠিন। বর্ণ ও শব্দ লেখার ক্ষেত্রে তাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই; আর এই বিষয়গুলো মূল পাঠের নান্দনিক দিককে ক্ষুণ্ণ করেছে।
তিনি সংযোজনী চিহ্নটি (العطفة) সর্বদা ডান দিকে বাঁকিয়ে দেন, এরপর সাধারণত বাম পাশে পার্শ্বটিকাটি (لحق) লেখেন।
লিপিকর (ناسخ) মোটা কলম এবং গাঢ় ও ভারী কালি দিয়ে লিখেছেন। শত শত বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও লেখাটি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং তার উজ্জ্বলতা বজায় রেখেছে।
তিনি বর্ণসমূহে নুকতা প্রদানের (إعجام) ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেননি, বরং অনেক সময় নুকতাযুক্ত বর্ণসমূহকে নুকতাহীন (مهملة) অবস্থায় ছেড়ে দিয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনি ‘সীন’-এর মতো নুকতাহীন বর্ণগুলোতে নুকতাহীনতার চিহ্ন (علامة الإهمাল) ব্যবহার করেছেন।
লিপিকর (ناسخ) পর্যালোচনার (مراجعة) উদ্দেশ্যে বিন্দুযুক্ত বৃত্ত ব্যবহার করেছেন, কথার সমাপ্তি বোঝানোর জন্য নয়।
এবং তিনি পৃষ্ঠার ক্রম ঠিক রাখার জন্য 'তাক্বীবা' (التعقيبة) পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, আর এটি
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
النظام كان يستخدم آنذاك عوضًا عن ترقيم الصفحات في عصرنا هذا.
وله أكثر من طريقة للضرب على الخطأ، منها أنه يخط خطًّا أفقيًّا على الكلام الخطأ، بحيث يُقرأ الكلام من تحته، وهذه طريقة معروفة. وله طريقة أخرى خاصة. وهي أنه يحكّ أو يكشِط الكلمة الخطأ مِنْ الورق، وهذه الطريقة مذمومةٌ عندهم؛ لأنه لا يمكن للقاراء قراءة الكلمة المُزَالة، مما يُفقد الثقة بالمخطوط
(1)، ولكنه تلافيًا لهذا المحظور كان يُراعي في أثناء كَشْطِ الكلمة ألَّا يُزيلها بشكل كامل، بل يترك أثرًا لها، بحيث يتمكَّن القاراء من قراءتها بعد الكَشْط
(2). وهذا منهج خاص به.
والمخطوطُ مقابَلٌ، ومراجَعٌ، ومصحَّحٌ على ابن عُرْوة نفسِهِ.
ومن دقَّة الناسخ أنه ميَّز بين الكتاب والحواشي التي عليه، فلم يُقْحِمها في المتن، بل مازَ بينها وبين اللَّحَق، فكتب في الحاشية الرمز التالي (حشـ) قبالة الكلام المراد التعليق عليه، ثم يكتب التعليق، وتقدَّم بيان أن هذه التعليقات والحواشي لابن كثير نفسه.
ثم وجدت الحافظ الناجيَ قد نَصَّ في قَيْد فراغ بعض مجلدات الكواكب أنه استنتج بعض إخوانه بعض الكراريس منه، كما في المجلد (41/ ق 243/ أ)، والمجلد (120/ ق 244/ أ)، بل إن هذا المجلد (83)
--------------------------------------------
সেই যুগে বর্তমান সময়ের পৃষ্ঠা নাম্বারিংয়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি ব্যবহৃত হতো।
ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে তাঁর একাধিক পদ্ধতি ছিল; এর মধ্যে একটি হলো ভুল শব্দের ওপর একটি আনুভূমিক রেখা টেনে দেওয়া, যাতে সেই রেখার নিচ থেকে শব্দটি পড়া যায়। এটি একটি সুপরিচিত পদ্ধতি। তাঁর আরও একটি বিশেষ পদ্ধতি ছিল। সেটি হলো কাগজ থেকে ভুল শব্দটি ঘষে তুলে ফেলা বা খুঁটে ফেলা (كشط)। এই পদ্ধতিটি তাদের নিকট নিন্দনীয় (مذموم); কারণ এর ফলে পাঠক অপসারিত শব্দটি আর পড়তে পারে না, যা পাণ্ডুলিপির প্রতি নির্ভরযোগ্যতা (ثقة) কমিয়ে দেয়
(১)। তবে এই নিষিদ্ধ বিষয়টি এড়ানোর জন্য তিনি শব্দ খুঁটে ফেলার সময় খেয়াল রাখতেন যেন তা পুরোপুরি মুছে না যায়; বরং শব্দের কিছু চিহ্ন অবশিষ্ট রাখতেন যাতে খুঁটে ফেলার (كشط) পরও পাঠক সেটি পড়তে পারেন
(২)। এটি ছিল তাঁর নিজস্ব একটি কর্মপন্থা।
আর এই পাণ্ডুলিপিটি স্বয়ং ইবনে উরওয়াহ-এর সাথে মূলানুগ (مقابل), পর্যালোচিত (مراجَع) এবং সংশোধিত (مصحح) করা হয়েছে।
অনুলিপিকারীর (ناسخ) সূক্ষ্মতার একটি দিক হলো, তিনি মূল কিতাব এবং এর ওপর দেওয়া টীকাগুলোর (حواشي) মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছেন। তিনি সেগুলোকে মূল পাঠের (متن) ভেতরে ঢুকিয়ে দেননি; বরং সেগুলোর এবং মূল পাঠের পরবর্তী সংযোজনের (لحق) মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছেন। তিনি পার্শ্বটীকায় সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের বিপরীতে নিচের প্রতীকটি (حشـ) ব্যবহার করতেন এবং এরপর টীকাটি লিখতেন। পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে যে, এই টীকা ও মন্তব্যগুলো (حواشي) স্বয়ং ইবনে কাসীরের।
এরপর আমি হাফেজ নাজি-কে আল-কাওয়াকিব গ্রন্থের কিছু খণ্ডের সমাপনী নোটে (قيد فراغ) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে দেখেছি যে, তাঁর কোনো এক ভাই এটি থেকে কিছু পুস্তিকা (كراريس) নকল করেছেন, যেমনটি দেখা যায় (৪১/ পৃষ্ঠা ২৪৩/ ক) এবং (১২০/ পৃষ্ঠা ২৪৪/ ক) খণ্ডে। এমনকি এই ৮৩তম খণ্ডেও...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
تناوبت على نسخه عدة خطوط متباينة، وإن كان للحافظ النَّاجي القَدْر الأكبر من النسخ، وهذه الرسالة تندرج ضمن الكراريس التي عَهِد بها لبعض إخوانه بلا شكٍّ، ولعل مَرَدَّ هذا إلى ضخامة حجم الكتاب غير المألوفة، فكان لا بُدَّ من أن يَستعين ببعض إخوانه في هذه المهمَّة الشاقة. ولم أجده نصَّ على اسم أحد ممن ساعده في النسخ.
وهو وإن لم ينسخ الرسالة بنفسه إلا أنه ساهم في مراجعتها وتصحيحها، لأنه ختم الأسطر الأخيرة من هذه الرسالة بخطِّه، حيث لم تتسع هذه الورقة الأخيرة لما تبقَّى من الرسالة وهو قليل، ومع حرص الحافظ الناجي أن يختم الرسالة بهذه الورقة، وهي نهاية الكراس، أكمل ما تبقى منها على الحاشية بعد أن ضرب على التعقيبة، فاستدارت (الكتابة) حول النص الأصلي فيما يُشبه الإطار. وكذلك فعل في أكثر الكراريس التي عهد بنسخها إلى أصحابه؛ إذ نجد بعض اللَّحَق والتصحيح في الحاشية بخطه المميز.
تاريخ النسخ: فَرَغَ الناسخُ مِنْ نَسْخِ المجلد يوم الأحد، رابع شهر رجب، سنة تسع وعشرين وثمانمِئة من الهجرة النبوية (829 هـ)؛ كما جاء في قيد الفراغ (ق 235/ ب).
تاريخ القراءة: بعد أن فرغ الحافظ النَّاجي من نسخ المخطوط أو استنساخه، قرأه على مؤلِّفه ابن عُرْوة في عدة مجالس في الجامع الأموي، على عادة ابنِ عُرْوة، حيث كان يصلِّي الجمعة في الجامع الأموي، ثم يُقرأ عليه
পাণ্ডুলিপিটি প্রতিলিপি (نسخ) করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ভিন্ন ভিন্ন হস্তাক্ষরের পর্যায়ক্রমিক ব্যবহার দেখা যায়, যদিও হাফিজ নাজির প্রতিলিপিকৃত অংশের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। এই পুস্তিকাটি নিঃসন্দেহে সেই সকল সংকলন বা খাতার (كراريس) অন্তর্ভুক্ত যা তিনি তাঁর কিছু সহকর্মীর কাছে প্রতিলিপির জন্য অর্পণ করেছিলেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল গ্রন্থটির অস্বাভাবিক বিশালাকার আয়তন, যার ফলে এই শ্রমসাধ্য কাজে তাঁর কিছু সহকর্মীর সাহায্য নেওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। তবে প্রতিলিপি করার কাজে তাঁকে যারা সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কারোর নাম তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন বলে আমি পাইনি।
তিনি নিজে পুরো পুস্তিকাটি প্রতিলিপি (نسخ) না করলেও এর পর্যালোচনা এবং সংশোধনের (تصحيح) ক্ষেত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। কারণ তিনি এই পুস্তিকার শেষ লাইনগুলো নিজ হাতে লিখে সমাপ্ত করেছেন। যেহেতু এই শেষ পাতায় অবশিষ্ট সামান্য পাঠটুকু সংকুলান হচ্ছিল না, এবং হাফিজ নাজি চেয়েছিলেন পুস্তিকাটি এই পাতার মাধ্যমেই শেষ করতে—যা মূলত এই সংকলনেরও সমাপ্তি—তাই তিনি পরবর্তী পৃষ্ঠার নির্দেশক চিহ্ন বা কুলাফ (تعقيبة) কেটে দিয়ে মার্জিন বা পার্শ্বটীকায় (حاشية) অবশিষ্ট অংশটুকু সম্পন্ন করেন। ফলে মূল পাঠের চারপাশে লেখাটি অনেকটা ফ্রেমের মতো পরিবেষ্টিত হয়ে যায়। যে সকল সংকলন তিনি তাঁর সঙ্গীদের প্রতিলিপি করার জন্য দিয়েছিলেন, সেগুলোর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই তিনি এরূপ করেছেন; কারণ আমরা তাঁর স্বতন্ত্র হস্তাক্ষরে মার্জিনে কিছু সংযোজন (لحق) এবং সংশোধন (تصحيح) দেখতে পাই।
প্রতিলিপির তারিখ: প্রতিলিপিকার (ناسخ) এই খণ্ডটি প্রতিলিপি করার কাজ শেষ করেন ৮২৯ হিজরি সনের ৪ঠা রজব, রবিবার; যেমনটি সমাপ্তি নোটে (قيد الفراغ) (পৃষ্ঠা ২৩৫/খ) উল্লেখ করা হয়েছে।
পাঠের তারিখ: হাফিজ নাজি পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) প্রতিলিপি সম্পন্ন করার পর, এটি তাঁর লেখক ইবনে উরওয়ার নিকট উমাইয়া মসজিদে বেশ কয়েকটি মজলিসে পাঠ করেন। এটি ছিল ইবনে উরওয়ার প্রথাগত অভ্যাস যে, তিনি উমাইয়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতেন এবং এরপর তাঁর সামনে পাঠ সম্পন্ন করা হতো।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كتابه هذا بعد صلاة الجمعة
(1)، ولم يكن الحافظ النَّاجي مهتمًا بتأريخ شيء من مجالس القِراءة هذه، إلا ما وَرَدَ في قَيْد السماع في الورقة (ق 107/ أ) من هذا المجلد (83) إذ نصَّ على تاريخ القراءة على خلاف عادته، وذلك بمناسبة مجيء عَرَفة يوم الجمعة، فقال: «بلغ
… قراءة على مرتِّبه أمتع الله تعالى به، في الجامع الأموي يوم الجمعة، وكان يومَ عَرَفة، سنة اثنين وثلاثين وثمانمِئة، وسمِع ولدي محمد وابن عمِّه وجماعة غيرهما»، ورسالتنا هذه قُرِئت بعد هذا المجلس بمجلسين، كما تفيده قيود السماع والقراءة على حواشي المجلد، فيكون تاريخ قراءتها هو (يوم الجمعة، الموافق للثالث والعشرين من ذي الحجة، من عام اثنين وثلاثين وثمانمِئة (832 هـ) أي: قبل وفاة ابن عروة رحمه الله بخمس سنوات، والله سبحانه وتعالى أعلم.
--------------------------------------------
এই লেখাটি জুমার সালাতের পর
(১)। হাফিজ আন-নাজি এই পাঠের মজলিসগুলোর (مجالس القراءة) কোনোটির তারিখ প্রদানের ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন না, কেবল এই খণ্ডের (৮৩) ১০৭/ক পৃষ্ঠার শ্রবণলিপিতে (قيد السماع) যা বর্ণিত হয়েছে তা ব্যতীত। সেখানে তিনি তার অভ্যাসের বিপরীতে পাঠের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কারণ সেদিন জুমার দিনে আরাফাহর দিন পড়েছিল। তিনি বলেন: «এর বিন্যাসকারীর নিকট পাঠ সমাপ্ত হয়েছে
… (بلغ قراءة), আল্লাহ তাআলা তাকে এর মাধ্যমে দীর্ঘজীবী ও উপকৃত করুন; এটি ৮৩২ হিজরি সনের জুমার দিনে জামে উমায়্যিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ছিল আরাফাহর দিন। আমার পুত্র মুহাম্মদ, তার চাচাতো ভাই এবং অন্য একটি দল এটি শ্রবণ (سماع) করেছে।» আর আমাদের এই পুস্তিকাটি উক্ত মজলিসের দুই মজলিস পরে পাঠ করা হয়েছিল, যেমনটি এই খণ্ডের পার্শ্বটীকাগুলোতে বিদ্যমান শ্রবণ ও পাঠের লিপি (قيود السماع والقراءة) থেকে প্রতীয়মান হয়। ফলে এটি পাঠের তারিখ হলো (৮৩২ হিজরি সনের ২৩ জিলহজ, শুক্রবার)। অর্থাৎ ইবনে উরওয়াহ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের পাঁচ বছর পূর্বে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক পরিজ্ঞাত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ترجمة المؤلِّف الحافظ ابن كثير (1)هو الإمام الحافظ، أبو الفِداء، عمِاد الدِّين، إسماعيل بن عُمر بن كَثير بن ضَوء بن كَثير، القرشي، البُصروي، الدمشقي، الشافعي.
وُلِدَ سنة إحدى وسبعمِئة (701 هـ) كما أخبر عن نفسه
(2)، في قرية مَجْدَل
--------------------------------------------
লেখক হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীরের জীবনী(১)তিনি হলেন ইমাম হাফিজ (الحافظ), আবুল ফিদা, ইমাদুদ্দীন, ইসমাঈল ইবনে উমর ইবনে কাসীর ইবনে দাউ ইবনে কাসীর, আল-কুরাশী, আল-বুসরভী, আদ-দিমাশকী, আশ-শাফিঈ।
তিনি ৭০১ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন, যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে অবহিত করেছেন
(২), মাজদাল নামক গ্রামে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
القرية شرقيَّ مدينة بُصْرَى من بلاد حوران، ثم انتقلت به أسرته إلى دمشق سنة (707 هـ) بعد وفاة والده فيها، وعمره إذ ذاك ست سنوات.
نشأ في دمشق، وسمِع من: الحجَّار ابن الشِّحنة، والمِزِّي، والذَّهبي، وابن الفِركاح، وابن جماعة، وعلم الدِّين البِرْزَالي، وابن الزَّرَّاد، وإسحاق بن إبراهيم الآمدي الحنفي، والقاسم ابن عساكر، وابن الرضي، وطائفة.
وأجاز له من مصر: أبو الفتح الدُّبُوسي، وأبو بكر الواني، وبدر الدِّين الختني، ومن بغداد ابن الدواليبي.
صَحِب شيخَ الإسلام ابن تيمية رحمه الله منذ الصِّغَر، وأحبَّه، وقرأ عليه كثيرًا، ولازمه فأكثرَ عنه، وانتفع بعلومه، وامتُحِنَ بذلك، وأُوذي.
يقول ابنُ كثير: وجلستُ يومًا إلى القاضي صدر الدِّين الحنفي بعد مجيئه من مصر، فقال لي: أتحبُّ ابنَ تيمية؟ فقلتُ: نعم. فقال لي وهو يضحك: والله لقد أحببتَ شيئًا مَليحًا. وكان عمره وقتها ثمان سنوات.
ولازم الحافظَ المِزي، وأخذ عنه كثيرًا، وانتفَعَ به، وتخرَّج عليه، وسَمِع منه أكثرَ تصانيفه. وتزوَّج من ابنته أَمَةِ الرحيم زينب.
ثناء العلماء عليه:
قال عنه شيخه الذهبي: الإمام الفقيه، المحدِّث الأوحد البارع
… فقيه متقن، ومُحدِّث محقق، ومفسِّر نقَّاد، وله تصانيف مفيدة، يَدْرِي الفقه، ويفهم العربية والأصول، ويحفظ جملةً صالحةً من المتون والتفسير، والرجال وأحوالهم، سمِع منِّي، وله حفظ ومعرفة.
গ্রামটি হাওরান অঞ্চলের বুসরা শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত, তাঁর পিতার মৃত্যুর পর ৭০৭ হিজরি সনে তাঁর পরিবার তাঁকে নিয়ে দামেস্কে স্থানান্তরিত হয়, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
তিনি দামেস্কে বেড়ে ওঠেন এবং আল-হাজ্জার ইবন আশ-শিহনা, আল-মিজ্জি, আজ-জাহাবি, ইবনুল ফিরকাহ, ইবন জামা'আহ, আলম উদ্দীন আল-বিরজালি, ইবনুয যররাদ, ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-আমিদি আল-হানাফি, আল-কাসিম ইবন আসাকির, ইবনুর রাদি এবং একদল উলামার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন।
আর মিশর থেকে তাঁকে অনুমতি (أجاز) দিয়েছেন: আবুল ফাতহ আদ-দুবুসি, আবু বকর আল-ওয়ানি, বদর উদ্দীন আল-খুতানি এবং বাগদাদ থেকে ইবনুদ্দাওয়ালিবি।
তিনি শৈশব থেকেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ)-এর সান্নিধ্যে ছিলেন, তাঁকে ভালোবাসতেন, তাঁর নিকট প্রচুর পাঠ গ্রহণ করেছেন এবং সর্বদা তাঁর সাথে থেকে তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা লাভ করেছেন। তাঁর জ্ঞান দ্বারা তিনি উপকৃত হয়েছেন এবং এ কারণে তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন ও নির্যাতিত হয়েছেন।
ইবন কাসির বলেন: একদিন আমি মিশরের কাজি সদর উদ্দীন আল-হানাফি আসার পর তাঁর নিকট বসেছিলাম, তখন তিনি আমাকে বললেন: তুমি কি ইবনে তাইমিয়্যাহকে ভালোবাসো? আমি বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি হেসে বললেন: আল্লাহর কসম, তুমি সত্যিই এক চমৎকার ব্যক্তিত্বকে ভালোবেসেছ। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র আট বছর।
তিনি হাফেজ (الحافظ) আল-মিজ্জির সাথে সর্বদা থাকতেন, তাঁর নিকট থেকে অনেক জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর অধীনেই শিক্ষা সমাপন করেছেন। তাঁর অধিকাংশ কিতাবও তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন। তিনি তাঁর কন্যা আমাতুর রহিম জয়নাবকে বিবাহ করেন।
তাঁর সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের প্রশংসা:
তাঁর সম্পর্কে তাঁর উস্তাদ আজ-জাহাবি বলেছেন: "তিনি ইমাম (الإمام), ফকিহ (فقيه), অনন্য দক্ষ মুহাদ্দিস (المحدث)
… সুনিপুণ (متقن) ফকিহ (فقيه), গবেষক (محقق) মুহাদ্দিস (المحدث) এবং সমালোচক (نقاد) মুফাসসির (مفسر)। তাঁর অনেক উপকারী রচনাবলি রয়েছে। তিনি ফিকহ শাস্ত্র জানেন, আরবি ভাষা ও উসুল (الأصول) বোঝেন এবং হাদিসের মূলপাঠ (المتون), তাফসির ও বর্ণনাকারীদের (الرجال) অবস্থা সম্পর্কে প্রভূত জ্ঞান রাখেন। তিনি আমার নিকট থেকে শ্রবণ (سمع) করেছেন এবং তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি ও গভীর জ্ঞান রয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال الحسيني: الشيخ الإمام، الحافظ المفيد البارع
… أفتى ودرَّس وناظر، وبرع في الفقه والتفسير والنحو، وأمعن النظر في الرجال والعِلل.
وقال ابن حبيب الحلبي الدمشقي: إمام ذوي التسبيح والتهليل، وزعيم أرباب التأويل، سَمِع وجَمَع وصنَّف، وأطرَبَ الأسماعَ بأقواله وشَنَّف، وحدَّث وأفاد، وطارتْ أوراقُ فتاواه إلى البلاد، واشتهر بالضبط والتحرير، وانتهت إليه رئاسة العِلم في التاريخ والحديث والتفسير.
وقال تلميذه ابن الجزري: الإمام، مؤرِّخ الإسلام، حافظ الشام.
وقال ابن ناصر الدين: ثقة
(1) المحدِّثين، عُمدة المؤرِّخين، عَلَم المفسِّرين.
وقال الحافظ إبراهيم بن محمد بن محمود النَّاجي
(2): الإمام العلامة، الحافظ المحقق
(3).
وقال الشيخ محمد بن محمد الخَيضري الشافعي: الشيخ العلَّامة، الحافظ القدوة، المتقِن المُحقِّق
(4).
أشهر مؤلفاته:تفسير القرآن العظيم.
--------------------------------------------
আল-হুসাইনি বলেছেন: শেখ, ইমাম, অত্যন্ত দক্ষ ও উপকারী হাফেজ (الحافظ) … তিনি ফতোয়া প্রদান করেছেন, পাঠদান করেছেন এবং বিতর্ক করেছেন; তিনি ফিকহ, তাফসির ও ব্যাকরণে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং বর্ণনাকারী (الرجال) ও হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلل) বিষয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন।
ইবন হাবিব আল-হালাবি আদ-দিমাশকি বলেছেন: তসবীহ ও তাহলীল পাঠকারীদের ইমাম, তাফসির বিশেষজ্ঞদের নেতা; তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন, সংগ্রহ করেছেন এবং গ্রন্থনা করেছেন। তিনি তার বক্তব্যের মাধ্যমে শ্রোতাদের কর্ণকুহরকে তৃপ্ত ও অলঙ্কৃত করেছেন, হাদিস বর্ণনা করেছেন ও জ্ঞান দান করেছেন। তার ফতোয়ার পাতাসমূহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি নিখুঁত হেফজ (الضبط) ও সূক্ষ্ম লেখনীর জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং ইতিহাস, হাদিস ও তাফসিরে ইলমের শ্রেষ্ঠত্ব তার কাছেই শেষ হয়েছে।
তার ছাত্র ইবন আল-জাজারি বলেছেন: ইমাম, ইসলামের ইতিহাসবিদ, শামের হাফেজ (الحافظ)।
ইবন নাসিরুদ্দিন বলেছেন: মুহাদ্দিসদের নির্ভরযোগ্য (ثقة)
(১), ইতিহাসবিদদের স্তম্ভ এবং মুফাসসিরদের শিরোমণি।
হাফেজ (الحافظ) ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আন-নাজি
(২) বলেছেন: ইমাম, আল্লামা, গবেষণাকারী (المحقق)
(৩) হাফেজ (الحافظ)।
শেখ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-খাইদারি আশ-শাফিঈ বলেছেন: শেখ, আল্লামা, অনুসরণীয় হাফেজ (الحافظ), অতিশয় নির্ভুল (المتقن) ও গবেষক (المحقق)
(৪)।
তার সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ:তাফসিরুল কুরআনিল আজিম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
والبداية والنهاية.
واختصار علوم الحديث لابن الصلاح.
وجامع المسانيد والسنن.
ومسند الفاروق.
وفاته:تُوفِّي في شهر شعبان من سنة أربع وسبعين وسبعمِئة (774 هـ)، ودُفن -بناءً على وصيته- في تُرْبة شيخِه، شيخ الإسلام ابن تيميَّة، بمقبرة الصوفية، خارج باب النصر بمدينة دمشق، وكانت له جِنازة حافلة مشهورة، رحمه الله رحمة واسعة.
আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া।
ইখতিসার উলূমুল হাদীস লি-ইবনিস সালাহ।
জামিউল মাসানিদ ওয়াস সুনান।
মুসনাদুল ফারুক।
ওফাত:তিনি সাতশত চুয়াত্তর (৭৭৪ হিজরি) সনের শাবান মাসে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর অসিয়ত অনুযায়ী দামেস্ক শহরের বাবুন নাসরের বাইরে সুফিয়া কবরস্থানে তাঁর শাইখ, শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর সমাধিস্থলে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর জানাজা ছিল অত্যন্ত জনবহুল ও প্রসিদ্ধ; আল্লাহ তাঁর প্রতি অসীম রহমত বর্ষণ করুন।
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
ترجمة راوي الكتاب ابن عُرْوة الحنبلي (1)هو أبو الحسن، علي بن الحسين بن عروة، المَشرقي، ثم الدمشقي الحنبلي، ويُعرف بابن زَكْنون.
وُلِد قبل سنة (760 هـ).
وكان في بداية أمره جَمَّالًا، ثم أعرض عن ذلك، وحفِظ القرآن، وتفقَّه.
سمع من: ابن المُحِبِّ، ويحيى بن عمر الرَّحَبي، وعمر بن أحمد الجرهمي، والحافظ ابن كثير.
انقطع إلى الله تعالى في مسجد القَدَم
(2)، واعتنى بتحصيل نفائس الكُتُب. ورتَّب «المسند» للإمام أحمد على أبواب البخاري، وسمَّاه: «الكواكب الدراري في ترتيب مسند الإمام أحمد على أبواب البخاري»، وفرغ منه في تسعة عشر (19) مجلدًا، ثم شَرَحه في (127) سبعة وعشرين ومئة مجلَّدٍ.
ثار بينه وبين الشافعية شرٌّ كبيرٌ، وأُوذِيَ بسبب الاعتقاد.
قال ابن حَجَر: كان زاهدًا عابدًا قانتًا خيِّرًا، لا يقبَلُ لأحدٍ شيئًا، ولا يأكل إلا مِنْ كَسْب يده.
--------------------------------------------
গ্রন্থের বর্ণনাকারী (راوي) ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলীর পরিচিতি (১)তিনি হলেন আবুল হাসান, আলী বিন আল-হুসাইন বিন উরওয়াহ, আল-মাশরিকী, অতঃপর আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, এবং তিনি ইবনে জাকনুন নামে পরিচিত।
তিনি ৭৬০ হিজরি সনের পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রারম্ভিক জীবনে তিনি একজন উষ্ট্রচালক ছিলেন, অতঃপর তিনি তা থেকে বিমুখ হন, কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করেন।
তিনি হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন: ইবনুল মুহিব্ব, ইয়াহইয়া বিন উমর আর-রাহাবী, উমর বিন আহমাদ আল-জুরহামি এবং হাফিজ (الحافظ) ইবনে কাসীর-এর নিকট থেকে।
তিনি মাসজিদুল কদমে আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মগ্ন হন এবং অমূল্য কিতাব সংগ্রহের প্রতি মনোযোগী হন। তিনি ইমাম আহমাদের মুসনাদ-কে বুখারীর অধ্যায় বিন্যাস অনুযায়ী বিন্যস্ত করেন এবং এর নামকরণ করেন: ‘আল-কাওয়াকিব আদ-দারারি ফি তারতিবি মুসনাদিল ইমাম আহমাদ আলা আবওয়াবিল বুখারী’। এটি তিনি উনিশ (১৯) খণ্ডে সম্পন্ন করেন এবং পরবর্তীতে তা একশত সাতাশ (১২৭) খণ্ডে ব্যাখ্যা করেন।
তাঁর ও শাফেয়ীগণের মধ্যে এক বড় গোলযোগ সৃষ্টি হয় এবং আকিদাগত কারণে তিনি নির্যাতিত হন।
ইবনে হাজার বলেন: তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ (زاهد), ইবাদতকারী (عابد), অনুগত (قانت) ও কল্যাণকামী। তিনি কারো নিকট থেকে কিছু গ্রহণ করতেন না এবং নিজের হাতের কামাই ছাড়া আহার করতেন না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
জুযউন ফি বাইয়ি উম্মাহাতিল আওলাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وفاته:تُوفِّي يوم الأحد ثاني عشر جمادى الآخرة، سنة (837 هـ) بمنزله في مسجده، وهو مسجد القَدَم، ودُفِن فيه (!)
(1). رحمه الله رحمة واسعة.
--------------------------------------------
তাঁর মৃত্যু:তিনি ৮৩৭ হিজরি সনের ১২ই জুমাদাল আখিরা, রবিবার দিন মাসজিদুল কদম নামক তাঁর মসজিদের সংলগ্ন নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে সেখানেই দাফন করা হয় (!)
(1)। আল্লাহ তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করুন।
--------------------------------------------