(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الدعوة الإسلامية في عهدها المكي مناهجها وغاياتها (رؤوف شلبي)
القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الدعوة الإسلامية في عهدها المكي: مناهجها وغاياتها
المؤلف: دكتور رؤوف شلبي
الناشر: دار القلم
الطبعة: الثالثة
عدد الصفحات: 668
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মক্কী যুগে ইসলামী দাওয়াত: এর পদ্ধতি ও লক্ষ্যসমূহ (রউফ শালবি)
বিভাগ: সীরাতুন্নবী
গ্রন্থ: মক্কী যুগে ইসলামী দাওয়াত: এর পদ্ধতি ও লক্ষ্যসমূহ
লেখক: ডক্টর রউফ শালবি
প্রকাশক: দারুল কলাম
সংস্করণ: তৃতীয়
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬৮
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة…الإهداء:إلى أرواح شهداء الدعوة الإسلامية الذين يسبشرون بنعمة من الله وفضل، ويسعى نورهم بين أيديهم وبأيمانهم..
ভূমিকা…উৎসর্গ:ইসলামি দাওয়াতের সেই সকল শহীদদের রুহের প্রতি, যারা আল্লাহর পক্ষ হতে প্রাপ্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহে আনন্দিত হচ্ছে এবং যাদের নূর তাদের সামনে ও তাদের ডান পার্শ্বে ধাবিত হচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ২)
تقديم الكتاب: لفضيلة الإمام الأكبر الدكتور عبد الحليم محمودبسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل مخلوق وخير مبعوث، سيدنا محمد وعلى آله وصحبه، ومن اتبع هديه، ودعا بدعوته إلى يوم الدين.أما بعد..فإن من رحمة الله سبحانه وتعالى بخلقه أن رسم لهم سبيل السعادة في دنياهم وفي أخراهم، وهو طريق لا استحالة فيه ولا مشقة، لقد جربه الكثيرون ففازوا، ولقد ضمن الله لهم حياة هنيئة في الدنيا والآخرة.{مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} .هذه السعادة تتحقق للفرد باتباعه، إذا حقق ما اشترطه الله عليه.وتتحقق للأسرة إذا وفرت لحياتها ما اشترطه الله عليها.وتتحقق للدولة إذا سهرت على تطبيق ما اشترطه الله على الأمة.
গ্রন্থের উপস্থাপনা: ফযীলাতুশ শাইখ আল-ইমামুল আকবার ডক্টর আব্দুল হালীম মাহমুদের পক্ষ থেকে।পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির সেরা এবং প্রেরিতদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে ও তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করবে, তাদের সকলের ওপর।অত:পর..নিশ্চয়ই সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর করুণার একটি দিক হলো এই যে, তিনি তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এটি এমন এক পথ যাতে কোনো অসম্ভবতা বা কষ্টসাধ্য কিছু নেই। অনেকেই এটি পরীক্ষা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। আর আল্লাহ তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে সুখময় জীবনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।"যে ব্যক্তি ঈমানদার অবস্থায় নেক কাজ করবে—সে পুরুষ হোক বা নারী—আমি তাকে অবশ্যই পবিত্র জীবন দান করব এবং আমি তাদের অবশ্যই তাদের কাজের শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব যা তারা করত।"এই সৌভাগ্য ব্যক্তির জন্য তখনই অর্জিত হয় যখন সে আল্লাহর অনুসরণের মাধ্যমে সেই শর্তসমূহ পূরণ করে যা আল্লাহ তার ওপর অর্পণ করেছেন।এবং এটি পরিবারের জন্য অর্জিত হয় যখন পরিবার তার জীবনে সেই বিষয়গুলো নিশ্চিত করে যা আল্লাহ তার ওপর শর্ত হিসেবে আরোপ করেছেন।আর এটি রাষ্ট্রের জন্য অর্জিত হয় যখন রাষ্ট্র উম্মতের ওপর আল্লাহর অর্পিত বিধানাবলি বাস্তবায়নে সজাগ দৃষ্টি রাখে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
ولقد رسم القرآن الكريم شروط هذه السعادة فيما بينه من قوانين تتعلق بالحياة السلوكية للفرد والأسرة والجماعة، لقد بينها الوحي بالتعبير الإلهي، في دقته وروعته، وجلاله، وبينها الرسول الكريم في تطبيق واضح وسلوك نقي وسنة مطهرة، وإذن فالدعوة الإسلامية هي مناط السعادة للناس جميعا: أفراد وأسر وجماعات ودول.لقد ظهرت الدعوة الإسلامية في مجتمع تعج فيه الآراء الدينية، والتقاليد البشرية، فكانت الدعوة هي البلسم الشافي.إنه في الآونة التي كانت الآراء الدينية تتصارع في جزيرة العرب قام رسول الله صلى الله عليه وسلم بدعوته، وهي دعوة ربانية لم تنشأ عن تفكير إنساني شخصي، ولكنها وحي الله المعصوم، وهي معصومة لأنها وحي، إنها معصومة عن التخبط والهوى في الرأي، ومعصومة عن ضلالات الأوهام ومتاهات الخيال وانزلاق التفكير.وأساس هذه الدعوة هو القرآن الكريم؛ إنه حبل الله المتين، والنور المبين، والشفاء النافع، وهو عصمة لمن تمسك به، ونجاة لمن اتبعه، لا يزيع من استمسك به ولا تنقضي عجائبه، ولا يشبع منه العلماء ولا يخلق عن كثرة الرد.والدعوة الإسلامية بهذا القرآن الكريم تحمل في طياتها قيمتها الذاتية، وذلك سر انتشارها وسيادتها.إنها تمتاز عن النصرانية المنتشرة -إذ ذاك- بنظام اقتصادي خلت منه الأنانية وبمنطق عقلي لا يوجد فيما كان من مأثور حنيذاك
আল-কুরআনুল কারীম এই সুখের শর্তসমূহকে সেই সকল আইনের মাধ্যমে চিত্রায়িত করেছে যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের আচরণিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট। ওহী তার ঐশী বাচনের মাধ্যমে অত্যন্ত সূক্ষ্মতা, চমৎকারিত্ব ও গাম্ভীর্যের সাথে তা বর্ণনা করেছে। আর রাসূল করীম তা স্পষ্ট প্রয়োগ, পবিত্র আচরণ ও সুন্নতে মুতাহহারার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন। সুতরাং, ইসলামি দাওয়াতই হলো সকল মানুষের জন্য সুখের মূল উৎস: ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে।ইসলামি দাওয়াত এমন এক সমাজে আবির্ভূত হয়েছিল যেখানে নানাবিধ ধর্মীয় মতবাদ ও মানবীয় প্রথা-পদ্ধতির কোলাহল বিদ্যমান ছিল, ফলে এই দাওয়াতই ছিল নিরাময়কারী মলম।যখন আরব উপদ্বীপে ধর্মীয় মতাদর্শগুলো পরস্পর দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল, সেই সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দাওয়াত নিয়ে দাঁড়ালেন। এটি ছিল একটি রব্বানী দাওয়াত, যা কোনো ব্যক্তিগত মানবীয় চিন্তা থেকে উদ্ভূত হয়নি, বরং তা ছিল আল্লাহর নিষ্পাপ ওহী। এটি ওহী হওয়ার কারণে তা ত্রুটিমুক্ত। এটি বিভ্রান্তি ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে মুক্ত, আর তা অলীক কল্পনা, চিন্তার গোলকধাঁধা এবং চিন্তাগত বিচ্যুতি থেকে সংরক্ষিত।আর এই দাওয়াতের মূল ভিত্তি হলো আল-কুরআনুল কারীম; এটি আল্লাহর মজবুত রশি, সুস্পষ্ট নূর এবং উপকারী শিফা। যে ব্যক্তি একে আঁকড়ে ধরে তার জন্য এটি সুরক্ষা, আর যে একে অনুসরণ করে তার জন্য মুক্তি। যে একে ধারণ করে সে পথভ্রষ্ট হয় না এবং এর বিস্ময়কর দিকগুলো কখনো শেষ হয় না। আলেমগণ একে পাঠ করে তৃপ্ত হন না এবং বারবার পাঠেও এটি পুরাতন হয় না।আল-কুরআনুল কারীমের মাধ্যমে ইসলামি দাওয়াত তার নিজের ভেতরেই নিজস্ব মূল্যবোধ বহন করে, আর এটাই এর প্রসার ও শ্রেষ্ঠত্বের রহস্য।তৎকালীন সময়ে প্রচলিত খ্রিস্টধর্মের তুলনায় এটি এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে যা স্বার্থপরতা থেকে মুক্ত ছিল, এবং এমন এক বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির মাধ্যমে যা তখনকার প্রচলিত কোনো মতাদর্শে খুঁজে পাওয়া যেত না।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
من الكلام الذي نسب للسيد المسيح عليه السلام. ثم هي تصحيح للفكرة الدينية جملة.وهي كذلك تمتاز عن اليهودية بما فيها من البساطة والنضرة وتنزيه الله ورسله وأنبيائه جميعا.إنها معصومة لأنها وحي الله وليست رأيا يجوز مناقشته أو تعديله.وهي دعوة موحدة لا مفرقة. إنها دعوة نوح وإبراهيم وموسى وعيسى عليهم السلام:{شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلا تَتَفَرَّقُوا فِيهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنِيبُ} .إنها إذن دعوة الرسل من قبل فهي موحدة تقرر أصولا في ناحية العقيدة، وشعائر العبادة، ومبادئ القانون والأخلاق.ومع أن الدعوة الإسلامية لخير الناس جميعا، وليست دعوة لأنانية أو عصبية، فإن العرب قابلوها بصراع متعدد الألوان غير أن الدعوة اتخذت من أجل هدايتهم أحكم الوسائل وأعظم المناهج.ولقد كان إثبات الرسالة لسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم من الأهداف الأساسية في بدء الرسالة.
এটি ঈসা মসিহ আলাইহিস সালামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত বাণীর অন্তর্ভুক্ত। অতঃপর এটি সামগ্রিকভাবে ধর্মীয় ধারণার এক সংশোধন।এটি তার সারল্য, সজীবতা এবং আল্লাহ, তাঁর সকল রসূল ও নবীগণের পবিত্রতা বর্ণনা করার মাধ্যমে ইহুদি ধর্ম থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।এটি অভ্রান্ত, কারণ এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী; এটি এমন কোনো ব্যক্তিগত অভিমত নয় যা নিয়ে আলোচনা বা সংশোধন করা সম্ভব।এটি একটি ঐক্যবদ্ধকারী আহ্বান, বিচ্ছিন্নকারী নয়। এটি নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা আলাইহিমুস সালামের আহ্বান:{তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধান নির্ধারিত করেছেন যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন এবং যা আমি তোমার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করেছি, আর যার নির্দেশ আমি ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে দিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে অনৈক্য সৃষ্টি করো না। তুমি মুশরিকদের যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছ তা তাদের কাছে দুঃসহ মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি নিজের দিকে পথ দেখান।}সুতরাং এটি পূর্ববর্তী রসূলগণেরই আহ্বান; এটি একটি সুসংহত আহ্বান যা আকীদা, ইবাদতের রীতিনীতি এবং আইন ও নৈতিকতার মূলনীতিসমূহ স্থির করে।যদ্যপি ইসলামি দাওয়াত সকল মানুষের কল্যাণের জন্য এবং এটি কোনো আত্মকেন্দ্রিকতা বা গোত্রপ্রীতির আহ্বান নয়, তবুও আরবরা একে নানাবিধ সংঘাতের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছিল। তা সত্ত্বেও এই দাওয়াত তাদের হিদায়াতের জন্য অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ মাধ্যম এবং মহান পদ্ধতিসমূহ অবলম্বন করেছিল।আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাত প্রমাণ করা ছিল নবুওয়াতের সূচনালগ্নের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وإن أشق مرحلة يصادفها كل رسول من الرسل إنما هي إقناع الناس برسالته وقد اختلفت وسائل هذا الإقناع واختلفت أساليبه.ولقد بدأ الرسول الأمين صلى الله عليه وسلم كأسلافه بإثبات أنه رسول، وأنه متصل بالسماء، وأن الذي يأتيه إنما هو وحي يوحى، ولكن العرب سخروا من دعوته فتحداهم بعنف، وتحداهم متدرجا بهم، ومع أنهم أساطين البلاغة وأهل الفراسة غير أنهم أفحموا وانتهى الأمر إلى أن الذي يأتيه إنما هو وحي من عند الله.قال تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْأِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} .لقد لبث فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم من قبل أربعين عاما ولم يحدثهم بنبوة، ولم يحدثهم برسالة، ولم يكن من مشاهير رجال الشعر، فلم الشك في أمره؟ مع أنه صلى الله عليه وسلم لو أخبرهم أن خيلا وراء هذ الوادي تريد أن تغير عليهم لصدقوه، لقد قالوا له: ما عهدنا عليك كذبا. فلم الشك في أمره؟ {قُلْ لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْرَاكُمْ بِهِ فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُرًا مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ} .{قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} .إنه صلوات الله عليه وسلامه بشر، وما يجول في خلد مسلم قط أن يخرجه عن البشرية، ولكنه صلى الله عليه وسلم بشر خاص. إنه بشر يوحى إليه، وما يتأتى قط أن يوحى إليه إلا وقد اصطفاه الله.
প্রতিটি রাসূল যে কঠিনতম পর্যায়ের সম্মুখীন হন, তা হলো মানুষকে তাঁর রিসালাতের ব্যাপারে আশ্বস্ত করা। এই আশ্বস্ত করার মাধ্যম ও পদ্ধতিসমূহ ভিন্ন ভিন্ন ছিল।বিশ্বস্ত রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাঁর পূর্বসূরিদের ন্যায় এই প্রমাণের মাধ্যমেই শুরু করেছিলেন যে, তিনি একজন রাসূল, তিনি আসমানের সাথে সংযুক্ত এবং যা তাঁর নিকট আসে তা ওহী যা অবতীর্ণ করা হয়। কিন্তু আরবরা তাঁর দাওয়াত নিয়ে উপহাস করল, তখন তিনি কঠোরভাবে তাদের চ্যালেঞ্জ জানালেন এবং ধারাবাহিকভাবে তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। যদিও তারা ছিল অলঙ্কারশাস্ত্রের দিকপাল এবং বিচক্ষণতায় পারদর্শী, তবুও তারা নিরুত্তর হয়ে পড়ল এবং বিষয়টি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, তাঁর নিকট যা আসে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী।মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, যদি মানব ও জিন এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনয়ন করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ কিছু আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।"আল্লাহর রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) তাদের মাঝে এর পূর্বে চল্লিশ বছর অবস্থান করেছিলেন, অথচ তিনি তাদের নিকট নবুওয়াত বা রিসালাত নিয়ে কোনো কথা বলেননি এবং তিনি কোনো খ্যাতিমান কবিও ছিলেন না। তবে কেন তাঁর বিষয়ে এই সন্দেহ? অথচ তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) যদি তাদের সংবাদ দিতেন যে, এই উপত্যকার পেছনে একটি অশ্বারোহী বাহিনী রয়েছে যারা তাদের ওপর আক্রমণ করতে চায়, তবে তারা অবশ্যই তাঁকে বিশ্বাস করত। তারা তাঁকে বলেছিল: আমরা আপনার ওপর কোনোদিন মিথ্যার অভিজ্ঞতা পাইনি। তবে কেন তাঁর বিষয়ে এই সন্দেহ? "বলুন, আল্লাহ চাইলে আমি এটি তোমাদের নিকট পাঠ করতাম না এবং তিনি তোমাদেরকে এটি জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি। তবে কি তোমরা বুঝতে পারছ না?""বলুন, আমি কেবল তোমাদের মতোই একজন মানুষ, আমার নিকট ওহী পাঠানো হয়।"নিশ্চয়ই তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) একজন মানুষ, আর কোনো মুসলিমের হৃদয়ে কখনও এই চিন্তা উদয় হয় না যে তাঁকে মানবীয় বৈশিষ্ট্যের বাইরে নিয়ে যাবে। তবে তিনি (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) একজন বিশেষ মানুষ। তিনি এমন একজন মানুষ যাঁর নিকট ওহী আসে। আর তাঁর নিকট ওহী আসা কখনোই সম্ভব হতো না যদি না আল্লাহ তাঁকে মনোনীত করতেন।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
{اللَّهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا وَمِنَ النَّاسِ} .{اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ} .غير أن بعض الناس حينما يقرأ قول الله تعالى: {إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ} يقف عند كلمة {بَشَرٌ} ، ويحاول التركيز عليها، واستقطاب الانتباه حولها، فيتحدث في إسهاب عن خصائص البشرية العادية، ويندفع في هذا الاتجاه المنحرف اندفاعا لا يتناسب مع عجز الآية: {يُوحَى إِلَيَّ} وينسى قول الله تعالى:{وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} .{وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} .والله سبحانه ببيانه ذلك في هذه المواضع التي كان من الممكن أن يقف فيها الرسول صلوات الله عليه، مع العدالة الحاسمة، فعدل عن ذلك إلى الرأفة والرحمة. إن الله سبحانه وتعالى ببيانه ذلك إنما يمدح الرسول صلوات الله عليه وسلامه يبين أن منزع الرحمة إنما هو الغالب عليه صلوات الله عليه وسلامه.ولم يلغ الله جل شأنه اتجاها عاما سار فيه الرسول صلى الله عليه وسلم ولم ينقص كلمة أقرها صلوات الله عليه وسلامه، ولم ينف مبدأ أثبته رسوله الأمين فيما كان يسير عليه، ولقد شهد له الله بذلك فقال:{وإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ، صِرَاطِ اللَّهِ} .
{আল্লাহ ফেরেশতাদের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল মনোনীত করেন।}{আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন।}তবে কিছু লোক যখন মহান আল্লাহর এই বাণী পাঠ করে: {আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ মাত্র, আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়}, তখন তারা {মানুষ} শব্দটির ওপর থমকে দাঁড়ায় এবং এর ওপর গুরুত্বারোপ করার ও এর প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। ফলে তারা সাধারণ মানবীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ে বিশদ আলোচনা করে এবং এই বিপথগামী ধারায় এমনভাবে ধাবিত হয় যা আয়াতের শেষাংশ {আমার প্রতি ওহী অবতীর্ণ হয়}-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়; এবং তারা মহান আল্লাহর এই বাণী ভুলে যায়:{আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না।}{আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।}মহান আল্লাহ এমন সব স্থানে বিষয়টি বর্ণনার মাধ্যমে—যেখানে রাসূলুল্লাহ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর পক্ষে চূড়ান্ত ন্যায়বিচারের ওপর অটল থাকা সম্ভব ছিল—সেখান থেকে বিচ্যুত হয়ে মমতা ও করুণার পথ অবলম্বন করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বিষয়টি বর্ণনার মাধ্যমে মূলত রাসূল (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-এর প্রশংসাই করছেন এবং স্পষ্ট করছেন যে, দয়া ও করুণার প্রবণতাই তাঁর (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) ওপর প্রবল।আল্লাহ জাল্লা শানুহু এমন কোনো সাধারণ নীতি বাতিল করেননি যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অনুসরণ করেছিলেন, এবং তাঁর স্বীকৃত কোনো বাক্যকে হ্রাস করেননি, এমনকি তাঁর আমানতদার রাসূল যে আদর্শের ওপর পরিচালিত ছিলেন তার কোনো মূলনীতিকেও অস্বীকার করেননি। আল্লাহ স্বয়ং তাঁর পক্ষে এ সাক্ষ্য প্রদান করে বলেছেন:{আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পরিচালিত করেন, আল্লাহর পথের দিকে।}
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
ولقد جعل الله طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم طاعة لجلاله: {وَمَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} .ومن هنا فإن من يركز على "بشر" فقط من المستشرقين ومن لف لفهم إنما يتبع في ذلك زعم الجاهلين عندما قال: إنما أرى يتيم أبي طالب.إن النظرة إلى الدعوة الإسلامية من الوسائل التي تثبت صدق الرسول صلى الله عليه وسلم ولقد تابع هذا الاتجاه العالم الكبير ابن خلدون فقال:ومن علامتهم أيضا: دعاؤهم إلى الدين والعبادة: من الصلاة والصدق والعفاف.وقد استدلت خديجة على صدقه صلى الله عليه وسلم بذلك وكذلك أبو بكر ولم يحتاجا في أمره إلى دليل خارج عن حاله وخلته.وهرقل حين جاءه كتاب النبي صلى الله عليه وسلم يدعوه إلى الإسلام أحضر من وجده في بلدة من قريش وفيهم أبو سفيان يسألهم عن حاله، ثم انتهى من مناقشته لأبي سفيان إلى قوله: "إن يكن ما تقول حقا فهو نبي وسيملك ما تحت قدمي هاتين".وكان في الجو العربي نزعات تتجه نحو توحيد الله، لقد كان هناك الحنفاء الموحدون، والحمس الذين يفتخرون بالنسب إلى سيدنا إبراهيم عليه السلام، وكان هناك غيرهم من الذين أشركوا مع الله غيره في العبادة لا في الخالقية فتصدت الدعوة الإسلامية إلى
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্যকে তাঁর নিজ মহিমারই আনুগত্য হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন: "যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।"এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, প্রাচ্যবিদ এবং তাদের অনুসারীদের মধ্যে যারা কেবল নবীজির "মানুষ" সত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে, তারা মূলত সেই জাহিলদের দাবিই অনুসরণ করছে, যারা বলেছিল: "আমি তো কেবল আবু তালিবের এতিমকেই দেখছি।"ইসলামী দাওয়াতের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করা হলো এমন এক মাধ্যম যা রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যতাকে প্রমাণ করে। মহান আলেম ইবনে খালদুনও এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে বলেছেন:তাঁদের অন্যতম নিদর্শন হলো: দ্বীন এবং ইবাদতের প্রতি তাঁদের আহ্বান—যেমন সালাত, সত্যবাদিতা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা।খাদিজাহ (রা.) এর মাধ্যমেই তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্যতার প্রমাণ পেয়েছিলেন, অনুরূপভাবে আবু বকরও; এবং তাঁর নবুওয়াতের ব্যাপারে তাঁদের জন্য তাঁর অবস্থা ও স্বভাব-চরিত্রের অতিরিক্ত কোনো বাহ্যিক প্রমাণের প্রয়োজন পড়েনি।আর হিরাক্লিয়াস যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে ইসলামের দাওয়াত সম্বলিত পত্র লাভ করেন, তখন তিনি কুরাইশদের মধ্য থেকে যারা সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিল তাদের ডেকে আনেন, যাদের মধ্যে আবু সুফিয়ানও ছিলেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। অতঃপর আবু সুফিয়ানের সাথে আলোচনার শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে: "তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে তিনি একজন নবী এবং অচিরেই তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচের জায়গাটুকুর মালিক হবেন।"তৎকালীন আরবের পরিবেশে আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ধাবিত হওয়ার কিছু প্রবণতা বিদ্যমান ছিল। সেখানে একত্ববাদী 'হুনাফা' সম্প্রদায় ছিল, এবং 'হুমাস' দলভুক্তরা ছিল যারা আমাদের নেতা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধর হওয়ার গৌরব করত। এছাড়া সেখানে এমন আরও অনেকে ছিল যারা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করত—যদিও তারা স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহকে অস্বীকার করত না। এমতাবস্থায় ইসলামী দাওয়াত এদের মোকাবিলা করতে এগিয়ে আসে...
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
هؤلاء في استفاضة وفي تنوع من الأدلة لا لإثبات وجود الله فإن هذه القضية لم تكن في يوم هدفا من أهداف القرآن، ولم تكن في يوم من الأيام هدفا من أهداف الرسول صلى الله عليه وسلم أو أحد أصحابه رضوان الله عليهم، وذلك لأن الإيمان بوجود الله مسلة بدهية، ولذلك فإن الهدف الأكبر كان هو إثبات التوحيد لله جل شأنه، فيستدل القرآن بالمشاهد الصادقة {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا} .ويستدل بالمنطق الوجداني:{قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ} .{أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنْزَلَ لَكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَنْبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تُنْبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ} .لقد كانت هذه الرسالة التي نقدم لها اليوم واحدة من الاتجاهات السلفية التي اتخذت منهاج بحثها الاعتزاز بالذاتية الإسلامية، كأساس للدراسة فإن من أصبح وأمسى وقد رضي بالله تعالى ربا وبالإسلام دينا، فقد غفر الله له ما تقدم من ذنبه.وهذا الكتاب الذي أعده واحد من أبنائنا الذين نعتز بهم جدير بالاهتمام، لأنه يوضح جانبا من الثقافة الإسلامية على منوال سلفي واضح.نسأل الله له التوفيق والسداد.هذا وبالله التوفيق.17 من رجب 1393هـ16 من أغسطس 1973معبد الحليم محمودشيخ الأزهر
তাঁরা দলিলের এই প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্যে আনেননি; কেননা এই বিষয়টি কখনো কুরআনের লক্ষ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত ছিল না এবং এটি কোনোদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা তাঁর সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমের কোনো লক্ষ্য ছিল না। এর কারণ হলো আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাস করা একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। তাই সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল মহান আল্লাহর তাওহীদ বা একত্ববাদ প্রমাণ করা। ফলে কুরআন সত্যনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করে: "যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।"এবং এটি অনুভূতিশীল যুক্তির মাধ্যমে প্রমাণ পেশ করে:"বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর এবং সালাম তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন। আল্লাহ কি শ্রেষ্ঠ, নাকি তারা যাদেরকে শরীক সাব্যস্ত করে?""নাকি তিনি, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দিয়ে আমি মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করেছি; যার বৃক্ষাদি উৎপন্ন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে কি অন্য কোনো ইলাহ আছে? বরং তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়।"আজ আমরা যে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করছি তা সেই সব সালাফী ধারার একটি যা গবেষণার পদ্ধতি হিসেবে ইসলামী স্বকীয়তার গৌরবকে অধ্যয়নের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কেননা যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় আল্লাহ তাআলাকে রব হিসেবে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।আমাদের সন্তানদের মধ্যে একজন—যাকে নিয়ে আমরা গর্বিত—তার প্রস্তুতকৃত এই গ্রন্থটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার যোগ্য। কারণ এটি একটি সুস্পষ্ট সালাফী আদর্শে ইসলামী সংস্কৃতির একটি দিক ব্যাখ্যা করে।আমরা আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য তাওফীক ও সঠিক পথের প্রার্থনা করি।পরিশেষে, আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি।১৭ রজব ১৩৯৩ হিজরী১৬ আগস্ট ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দআব্দুল হালীম মাহমুদশাইখুল আযহার
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدماتمقدمة الطبعة الثالثة…بسم الله الرحمن الرحيممقدمة الطبعة الثالثة:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين بإحسان إلى يوم الدين وبعد:فإن حاجة العالم أجمع للدعوة الإسلامية كان أمرا حتميا تمليه الظروف الحضارية والسياسية والعسكرية والدينية والاقتصادية التي كان يعيشها الإنسان الجاهلي: في أمة العرب، أو في أمة فارس، أو في أمة الرومان.ذلك لأن العقيدة وهي غاية الغايات لبني آدم إذ لم يخلقوا إلا ليعرفوا ربهم الواحد الأحد الفرد الصمد. هذه العقيدة كان قد تراكم عليها حطام الزنادقة في جميع بلدان العالم:- فقد كان العرب في اعتقادهم قد انحرفوا عن ملة إبراهيم وتوجهوا نحو أصنام لا تضر ولا تنفع.- وكان الفارسيون قد تخبطوا في اثنينية ماني بن فاتك ذلك الحكيم الفارسي الذي ظهر في زمان "سابور بن أردمشير" وقتله "بهرام بن هرمز بن سابو".فقد ذهب ذلك الحكيم المخرف إلى أن العالم مصنوع من النور والظلمة ثم اختلفوا بعد ذلك في العلاقة بين النور والظلمة.هل امتزجا بالخيط والإتقان أو بالقصد والاختيار.
উপক্রমণিকাতৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা...পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামেতৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবৃন্দ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর। অতঃপর:সমগ্র বিশ্বের জন্য ইসলামি দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা ছিল এক অনিবার্য বাস্তবতা, যা সেই সময়ের তামাদ্দুনিক, রাজনৈতিক, সামরিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দ্বারা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল, যার মধ্যে জাহেলি মানুষ বসবাস করত: চাই তা আরব জাতি হোক, পারস্য জাতি হোক কিংবা রোমান জাতি হোক।এর কারণ হলো আকিদা, যা আদম সন্তানের সকল লক্ষ্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য; কেননা তারা তাদের একক, অদ্বিতীয়, স্বয়ংসম্পূর্ণ রবকে চেনার জন্যই কেবল সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বের সকল জনপদে যিনদিক বা ধর্মদ্রোহীদের জঞ্জাল এই আকিদার ওপর স্তূপীভূত হয়ে গিয়েছিল:- আরবরা তাদের বিশ্বাসে ইবরাহিমের মিল্লাত থেকে বিচ্যুত হয়েছিল এবং এমন সব মূর্তির দিকে ঝুঁকে পড়েছিল যারা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না।- পারস্যবাসীরা মানি ইবনে ফাতিকের দ্বৈতবাদের গোলকধাঁধায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, সেই পারস্যিক হেকিম যে 'শাপুর ইবনে আরদাশির'-এর সময়কালে আবির্ভূত হয়েছিল এবং 'বাহরাম ইবনে হরমজ ইবনে শাপুর' তাকে হত্যা করেছিল।সেই ভ্রান্ত হেকিম মনে করত যে, জগত নূর এবং জুলমত দিয়ে তৈরি; পরবর্তীতে তারা নূর ও জুলমতের মধ্যকার সম্পর্কের বিষয়ে মতভেদ করে।তারা কি সুনিপুণ বুনন ও নিপুণতার মাধ্যমে মিশ্রিত হয়েছে, নাকি সংকল্প ও ইচ্ছার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ২)
كما اختلفوا في سبب هذا المزاج هل هو التشاغل، أو شيء آخر، ثم قالوا: إن المزاج القديم هو:امتزاج الحرارة والبرودة، والرطوبة واليبوسة.وأن المزاج الحديث هو:الخير والشر.ولم يكن في حلبة المحكمة سوى ماني بل كان هناك مزدك الذي ظهر أيام قباذ والد أنوشروان، ونهاية مذهبه شيوع في النساء والأموال والخلاص بالانتحار.- كما تخبط الرومانيون في عقائدهم فالألوهية عندهم أسرة تتناسل: تعيش وتموت، وتحب وتكره، وتغار وتكيد.فالإله "جوبيتر" يغضب على إله العلم والصناعة "برومثيوس" لأنه يعلم الإنسان كيف يستخدم النار في الصناعة فيعطيه قوة تصارع قوة الأرباب.كما كان "جوبيتر" يخدع زوجته "هيرة" فيرسل إليها الغمام ليحجب عنها الشمس حتى لا تراه مع عشيقاته.كذلك كان الإله "جوبيتر" شرها يحب الطعام لذلك كان يغضب على الإله "استولاب" إله الطب، لأنه يداوي المرضى وبذلك يحجبه عن جباية الضرائب على أرواح الموتى.- وفي الهند عجب عجاب آلهة تتوالد وتتناسل وبعضها لما يوجد فبينما الآلهة: براهما، وفشتو، وسيفا تتصاهر نجد لهما زميلا لما يولد بعد هو الإله كلاكي kalaki فهو إله بلا وظيفة، بل إن وظيفته لما تحدد بعد.
তেমনিভাবে তারা এই সংমিশ্রণের কারণ সম্পর্কে দ্বিমত পোষণ করেছেন—এটি কি পারস্পরিক সম্পৃক্ততা নাকি অন্য কিছু? অতঃপর তারা বলেছেন: প্রাচীন সংমিশ্রণটি হলো:তাপ ও শৈত্য এবং আর্দ্রতা ও শুষ্কতার সংমিশ্রণ।এবং আধুনিক সংমিশ্রণটি হলো:কল্যাণ ও অকল্যাণ।বিচারের ময়দানে কেবল মানি-ই ছিল না, বরং সেখানে মাজদাকও ছিল, যার আবির্ভাব ঘটেছিল আনুশিরওয়ানের পিতা কুবাদ-এর শাসনামলে। তার মতবাদের লক্ষ্য ছিল নারী ও সম্পদে অংশীদারিত্ব এবং আত্মহত্যার মাধ্যমে মুক্তি।- তেমনিভাবে রোমানরাও তাদের আকিদা-বিশ্বাসে বিভ্রান্তিতে নিপতিত ছিল। তাদের নিকট উপাস্য বা ইলাহ হলো এমন এক পরিবার যারা বংশবৃদ্ধি করে: জীবিত থাকে ও মৃত্যুবরণ করে, ভালোবাসে ও ঘৃণা করে এবং ঈর্ষা ও ষড়যন্ত্র করে।ফলে উপাস্য 'জুপিটার' জ্ঞান ও শিল্পের দেবতা 'প্রমিথিউস'-এর ওপর রাগান্বিত হন, কারণ তিনি মানুষকে শিখিয়েছেন কীভাবে শিল্পে আগুন ব্যবহার করতে হয়, যা তাকে দেবতাদের শক্তির সাথে লড়াই করার মতো শক্তি প্রদান করে।তদ্রূপ 'জুপিটার' তার স্ত্রী 'হেরা'-কে প্রতারিত করতেন; ফলে তিনি তার নিকট মেঘমালা প্রেরণ করতেন যাতে সূর্যের আলো আড়াল হয়ে যায় এবং তিনি তাকে তার উপপত্নীদের সাথে দেখতে না পান।একইভাবে উপাস্য 'জুপিটার' ছিলেন অতিভোজী এবং আহার্য পছন্দ করতেন। এই কারণে তিনি চিকিৎসার দেবতা 'আস্তুলাব'-এর ওপর রাগান্বিত হতেন, কারণ তিনি অসুস্থদের চিকিৎসা করতেন এবং এর ফলে তাকে মৃতদের আত্মার ওপর কর আদায় করা থেকে বঞ্চিত করতেন।- আর ভারতে রয়েছে আজব সব কাণ্ডকারখানা। সেখানে এমন সব উপাস্য রয়েছে যারা সন্তান জন্ম দেয় এবং বংশবৃদ্ধি করে, এমনকি তাদের কেউ কেউ এখনো অস্তিত্ব লাভ করেনি। যখন উপাস্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব বৈবাহিক সূত্রে আবদ্ধ হন, তখন আমরা তাদের এমন এক সঙ্গীকে পাই যে এখনো জন্মগ্রহণ করেনি; সে হলো উপাস্য 'কল্কি' (kalaki)। সে এমন এক উপাস্য যার কোনো দায়িত্ব নেই, বরং তার দায়িত্ব এখনো নির্ধারিতই হয়নি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
وفي زيارة لي لجزيرة بينانج pinang بماليزيا الغربية زرت معبدا لابن الإله سيفا وسألت الحارس: معبد من هذا؟ فقال لي: معبد ابن الإله سيفا. فقلت له: وأين أبوه؟ قال لي: إنه تحت هناك أسفل الجبل. فقلت له: ولم تركه أبوه؟ ألم يخشى عليه صعود الجبل؟ ألا يخشى أن تأكله الثعابين؟ أو أن يضربه الأطفال؟ فنظر إلي الرجل ونام، فقلت له: هل تعلم لماذا مات ابن الإله سيفا؟ قال: لا. قلت له: لأن الأطفال ضربوه على رأسه بعرف شجرة الرمبوتان.هل تترك العقائد هكذا يعبث بها البشر. آلهة تصنع من الحجارة، وخرافات تنظم عقائد، وفلسفة تقدس البشر، ومصالح شخصية تجعل الأسطورة دينا.لقد كانت الرسالة الإسلامية ذات أهمية خاصة لتصحح مسار الاتجاه الديني في البشرية بعد أن ضلت طريقها إلى العقيدة الصحيحة والإيمان المستقيم.وكذلك كان لا بد من مجيء الدعوة الإسلامية لتضع ميزانا كريما للأخلاق.فهل ستظل الأخلاق موجة بالمبدأ الشخصي عند السفوسطائية؟ ذلك المبدأ الأناني الذي يثير الفوضى في كل اتجاه.أو بمبدأ المعرفة دون احترام لبقية مكونات الإنسان وظروف حياته؟أو ميزانها الوسط وما هو المعيار في معرفة هذا الوسط وهل الميزان في الفضيلة المجردة واحتقار الحياة وأساليبها؟أو هل المعيار هو اللذة والمنفعة سواء كانت قريبة أو بعيدة خاصة أو عامة؟
পশ্চিম মালয়েশিয়ার পেনাং দ্বীপে আমার এক সফরের সময়, আমি দেবতা শিবের পুত্রের একটি মন্দির দর্শন করি এবং প্রহরীর কাছে জানতে চাই: "এটি কার মন্দির?" তিনি আমাকে বললেন: "দেবতা শিবের পুত্রের মন্দির।" আমি তাকে বললাম: "আর তার পিতা কোথায়?" তিনি আমাকে বললেন: "তিনি সেখানে নিচে পাহাড়ের পাদদেশে আছেন।" আমি তাকে বললাম: "কেন তার পিতা তাকে একা ছেড়ে দিলেন? পাহাড়ে চড়ার সময় তিনি কি তার ব্যাপারে কোনো আশঙ্কা করেননি? তিনি কি ভয় পাননি যে সাপ তাকে গ্রাস করবে? অথবা শিশুরা তাকে প্রহার করবে?" লোকটি আমার দিকে তাকাল এবং নীরব হয়ে গেল (ঝিমিয়ে পড়ল), তখন আমি তাকে বললাম: "আপনি কি জানেন দেবতা শিবের পুত্র কেন মারা গিয়েছিল?" তিনি বললেন: "না।" আমি তাকে বললাম: "কারণ শিশুরা রাম্বুটান গাছের ডাল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেছিল।"আকিদাহ বা বিশ্বাসসমূহকে কি এভাবেই মানুষের খেয়ালখুশির ওপর ছেড়ে দেওয়া যায়? পাথর দিয়ে তৈরি উপাস্য, রূপকথা দিয়ে সাজানো আকিদাহ, মানুষকে পবিত্রজ্ঞানকারী দর্শন, এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ যা রূপকথাকে ধর্মে রূপান্তর করে।মানবতার ধর্মীয় গতিপথকে সঠিক করার জন্য ইসলামি বার্তার বিশেষ গুরুত্ব ছিল, বিশেষ করে যখন মানবজাতি সঠিক আকিদাহ এবং ঋজু ঈমানের পথ হারিয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছিল।একইভাবে, নৈতিকতার জন্য একটি সম্মানজনক মানদণ্ড নির্ধারণ করতে ইসলামি দাওয়াতের আগমন অপরিহার্য ছিল।তবে কি নৈতিকতা সফিস্টদের সেই ব্যক্তিগত নীতির তরঙ্গে পরিচালিত হতে থাকবে? সেই স্বার্থপর নীতি যা প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।অথবা মানুষের অন্যান্য মানবিক সত্তা এবং তার জীবনের বাস্তব অবস্থাকে তোয়াক্কা না করে কেবল জ্ঞানের নীতির ওপর ভিত্তি করে চলবে?নাকি এর মানদণ্ড হবে মধ্যপন্থা? আর এই মধ্যপন্থা পরিমাপের মাপকাঠিই বা কী? আর সেই মানদণ্ড কি কেবল বিমূর্ত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং জীবন ও জীবন যাপনের পদ্ধতিকে তুচ্ছজ্ঞান করার মধ্যে নিহিত?নাকি মাপকাঠি হবে নিছক স্বাদ এবং উপকারিতা, তা সে তাৎক্ষণিক হোক বা সুদূরপ্রসারী, ব্যক্তিগত হোক বা সামষ্টিক?
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
هل الخليط الفلسفي المختلف في معيار الأخلاق وميزانها هو الرصيد الذي تحتاجه البشرية لمعرفة كمال الأخلاق التي تتفق مع كرامة الإنسان؟وهل الإنسان قادر على أن يشرع لأخلاق زملائه من البشر؟ ومن هو ذلك الإنسان الذي يستوعب أفق عقله كل إمكانات البشر النفسية والعصبية والعقلية حتى يضع لهم ميزانا للأخلاق ومعيارا للسلوك؟لذلك كانت الدعوة الإسلامية حتمية لإراحة الإنسان في مجال الأخلاق من مهاترات نظريات الفلاسفة المختلفين. وكذلك في السلم والحرب، وفي العلم والتعلم، وفي الاجتماع والأسرة، وفي الحرية والرق. كان لا بد لليل الكئيب أن ينتهي وتأتي شمس الحقيقة لتنير للناس الطريق الصواب في العقيدة والأخلاق والسلوك، والسلم والحرب، والعلم والتعلم، والعمل والإنتاج، والحرية والرق، والأسرة والمجتمع، والدولة والأفراد.بل، إن الدعوة الإسلامية كان لا بد وأن تأتي حتى لو كان المجتمع الإنساني فاضلا لتنقل سلوك المجتمع من العادة إلى العبادة لأن الغاية من وجود العباد في حياتهم الدنيا هي عبادة الله وحده، وهم قد عبدوا بالفعل لكنهم عبدوا أهواء، واخترعوا أديانا ما أنزل الله بها من سلطان. فكان لا بد للدعوة الإسلامية أن تأتي لهذه المهمة ويظهر ذلك جليا في قول الله تعالى:{وَمَا تَفَرَّقُوا إِلَّا مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَلَوْلا كَلِمَةٌ سَبَقَتْ مِنْ رَبِّكَ إِلَى أَجَلٍ مُسَمّىً لَقُضِيَ بَيْنَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ أُورِثُوا الْكِتَابَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مُرِيبٍ، فَلِذَلِكَ فَادْعُ وَاسْتَقِمْ كَمَا أُمِرْتَ وَلا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَقُلْ آمَنْتُ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنْ كِتَابٍ وَأُمِرْتُ لِأَعْدِلَ بَيْنَكُمُ اللَّهُ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ لَنَا أَعْمَالُنَا
নৈতিকতার মানদণ্ড ও তুলাদণ্ডের ক্ষেত্রে যে বিচিত্র দার্শনিক মিশ্রণ রয়েছে, তা-ই কি সেই পুঁজি যা মানবজাতির জন্য মানুষের মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নৈতিকতার পূর্ণতা জানার জন্য প্রয়োজন?আর মানুষ কি তার সহজাত অন্য মানুষদের জন্য নৈতিক বিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম? সেই মানুষটিই বা কে, যার বিবেকের দিগন্ত মানুষের সমস্ত মনস্তাত্ত্বিক, স্নায়বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্ভাবনাকে পরিবেষ্টন করে নেয়, যাতে সে তাদের জন্য নৈতিকতার একটি তুলাদণ্ড এবং আচরণের একটি মানদণ্ড নির্ধারণ করতে পারে?তাই নৈতিকতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দার্শনিকদের তত্ত্বের অসার বাগ্বিতণ্ডা থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য ইসলামী দাওয়াত ছিল অনিবার্য। একইভাবে শান্তি ও যুদ্ধ, জ্ঞান ও শিক্ষা, সমাজ ও পরিবার এবং স্বাধীনতা ও দাসত্বের ক্ষেত্রেও এটি অপরিহার্য ছিল। সেই বিষণ্ণ রজনীর অবসান হওয়া এবং সত্যের সূর্যের উদয় হওয়া জরুরি ছিল, যাতে তা মানুষের জন্য আকিদাহ, নৈতিকতা, আচরণ, শান্তি ও যুদ্ধ, জ্ঞান ও শিক্ষা, কর্ম ও উৎপাদন, স্বাধীনতা ও দাসত্ব, পরিবার ও সমাজ এবং রাষ্ট্র ও ব্যক্তির সঠিক পথকে আলোকিত করতে পারে।বরং, মানব সমাজ যদি পুণ্যবানও হতো, তবুও ইসলামী দাওয়াতের আগমন আবশ্যক ছিল, যাতে সমাজের আচরণকে নিছক অভ্যাস থেকে ইবাদতে রূপান্তরিত করা যায়। কারণ পার্থিব জীবনে বান্দাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা। তারা প্রকৃতপক্ষে ইবাদত করত ঠিকই, কিন্তু তারা প্রবৃত্তির পূজা করত এবং এমন সব ধর্ম উদ্ভাবন করেছিল যার পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। সুতরাং এই মহান লক্ষ্যের জন্যই ইসলামী দাওয়াতের আগমন অনিবার্য ছিল এবং আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে:“তাদের নিকট জ্ঞান আসার পর তারা কেবল পারস্পরিক বিদ্বেষবশত মতভেদ সৃষ্টি করেছে। আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়ার পূর্ব সিদ্ধান্ত না থাকলে তাদের বিষয়ে ফয়সালা হয়ে যেত। তাদের পর যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে, তারা সে বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সন্দেহে লিপ্ত। সুতরাং আপনি সেই দিকেই দাওয়াত দিন এবং যেভাবে আদিষ্ট হয়েছেন সেভাবে অবিচল থাকুন। আপনি তাদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করবেন না এবং বলুন: আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন আমি তাতে ঈমান এনেছি এবং আমাকে তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহই আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। আমাদের আমল আমাদের জন্য...”
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ لا حُجَّةَ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمُ اللَّهُ يَجْمَعُ بَيْنَنَا وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ} [الشورى: 14، 15] .ولقد صادفت هذه الدعوة من القوى المعادية لها مثلما تصادفه اليوم.لقد صادفت من العلمانيين أصحاب الشهوة والملذات والمنفعة الشخصية صدا بالحرب، والإشاعة، والصد، والقطيعة، وجلب الفكر المعادي، كما صادفت الصليبية بقسميها: المتعصبة والعسكرية الغازية.كذلك لم يمهل اليهود عمر الدعوة منذ سمعوا عن بعثة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فألبوا عليه الخصوم من بعيد، ثم شرعوا أسنة الرماح وحاكوا جلابيب الغدر والخيانة وزينوا للنفاق والمنافقين مقاعد في حصونهم.وبنفس الأسلحة المعاصرة:التقدمية في لغة الشيوعيين.القومية في لغة العلمانيين.الدهاء والمراوغة والإشاعة في لغة المنافقين.اللقاء الروحي والسلام الاجتماعي في لغة الماجنين.والاعتقالات، والسجون، والحصار الاقتصادي، والزحف العسكري، والتضليل السياسي. كل ذلك واجهته الدعوة منذ عهدها المكي. لكنها استطاعت أن تتخطى الحواجز، وأن تتغلب على الصعاب لأنها لم ترتجل العمل ارتجالا، ولا ركنت إلى المعجزات كوسيلة، بل اتخذت لها -كما أراد لها ربها- المناهج، والمراحل، والوسائل، وساوقت بين المرحلة، والوسيلة، والمنهج حتى صنعت جماعة لا تعرف العرقية، ولا العصبية ولا الثأر للذات، ولا التفاني
এবং তোমাদের জন্য তোমাদের আমল। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই; আল্লাহ আমাদের একত্রিত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনস্থল। [আশ-শুরা: ১৪, ১৫]।নিশ্চয়ই এই দাওয়াত তার শত্রুপক্ষীয় শক্তির পক্ষ থেকে ঠিক তেমনই বাধার সম্মুখীন হয়েছিল, যেমনটি আজ হচ্ছে।এটি প্রবৃত্তি, ভোগবিলাস ও ব্যক্তিস্বার্থের অনুসারী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ, গুজব, বাধা দান, সম্পর্কচ্ছেদ এবং বৈরী চিন্তাধারা আমদানির মাধ্যমে বাধার সম্মুখীন হয়েছে। ঠিক যেমনটি ক্রুসেডারদের উভয় অংশ—ধর্মান্ধ এবং আক্রমণকারী সামরিক বাহিনীর—পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল।একইভাবে, ইহুদিরা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুয়তের কথা শোনার পর থেকে এই দাওয়াতকে বিন্দুমাত্র সময় দেয়নি। তারা দূর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে শত্রুদের উসকে দিয়েছিল, তারপর বর্শার ফলা শানিত করেছিল, বিশ্বাসঘাতকতা ও খিয়ানতের জাল বুনেছিল এবং তাদের দুর্গে নিফাক ও মুনাফিকদের জন্য আসনের ব্যবস্থা করেছিল।এবং সমসাময়িক সেই একই অস্ত্রগুলোর মাধ্যমে:কমিউনিস্টদের ভাষায় 'প্রগতিশীলতা'।ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ভাষায় 'জাতীয়তাবাদ'।মুনাফিকদের ভাষায় 'চতুরতা, ধূর্ততা ও গুজব'।পাপাচারীদের ভাষায় 'আধ্যাত্মিক মিলন ও সামাজিক শান্তি'।এবং গ্রেপ্তার, কারাবাস, অর্থনৈতিক অবরোধ, সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি—মক্কি জীবন থেকেই দাওয়াত এই সবকিছুর মোকাবিলা করেছে। কিন্তু এটি সমস্ত বাধা অতিক্রম করতে এবং প্রতিকূলতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছে; কারণ এটি অপরিকল্পিতভাবে কোনো কাজ করেনি এবং অলৌকিক বিষয়ের ওপর উপায় হিসেবে নির্ভর করেনি। বরং এটি—যেমনটি এর প্রতিপালক চেয়েছিলেন—পদ্ধতি, পর্যায় ও মাধ্যমসমূহ গ্রহণ করেছিল এবং পর্যায়, মাধ্যম ও পদ্ধতির মধ্যে এমন সমন্বয় সাধন করেছিল যে, শেষ পর্যন্ত এমন এক জামাত তৈরি হয়েছিল যারা বংশবাদ, গোত্রবাদ, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ বা আত্মপূজা চিনত না।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৬)
في مجد الأسرة ولا حب الديار من أجل ليلى بل تعرف العقيدة آصرة، ومحل قرابة، ووطنا لجميع المسلمين.ثم تخطت بهذه الجماعة إلى بناء المجتمع الذي أقام أول دولة ذات أيديولوجية لا تقوم على أساس من الميراث الملكي، ولا الغلبة العسكرية، ولا على الجنس الواحد بل قامت بناء على رغبة من جميع بانيها، وعلى أساس من العقيدة التي هي آصرة الولاء والإخاء واللقاء في الله العلي العظيم.وكان بناءو هذه الدولة هم الأمة التي خاطبها الله جل جلاله: {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا} [البقرة: 143] .{كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَهُمْ مِنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ} [آل عمران: 110] .ولئن كان الله جل جلاله قد فتح علي من فيوضات رحمته وعلمه فكتبت عن تصوري فيما يتعلق بالدعوة الإسلامية في عهدها المكي لأبرز المراحل، والوسائل، والمناهج التي أسسها سيدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم في تبليغ الدعوة لتكون لنا أسوة ونبراسا، فسوف أحاول إن شاء الله أن أضع تصوري عن الدعوة في عهدها المدني من حيث المناهج والغايات كذلك، وكان ذلك عزمي منذ عشرة أعوام لولا أنني تركتها لعل بعض أبنائي في قسم الدعوة أو في كلياتها يكون لهم الحظ في التشرف بالاضطلاع بخدمة الدعوة في هذا الجانب. إلا أنني حتى هذا الحين لم أجد من كتب فيه. فعزمت بحول الله تعالى وقدرته على الإقدام لهذه المحاولة عسى الله جل شأنه أن يهبنا الفتوح والمدد كي أكمل خدمتي للدعوة الإسلامية في طوريها: الطور المكي الذي أقدم له بهذه المقدمة للطبعة الثالثة،
বংশমর্যাদার মহিমা বা লায়লার জন্য গৃহ-ভূমির ভালোবাসার টানে নয়, বরং এটি আকিদাহকে একটি বন্ধন, আত্মীয়তার স্থল এবং সকল মুসলিমের জন্য স্বদেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।অতঃপর এই জামাতকে নিয়ে এটি এমন একটি সমাজ বিনির্মাণের দিকে অগ্রসর হয়, যা প্রথম আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিল; যা রাজতান্ত্রিক উত্তরাধিকার, সামরিক বিজয় কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বংশ বা জাতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি তার সকল নির্মাতাদের আকাঙ্ক্ষা এবং আকিদাহর ভিত্তিতে গড়ে উঠেছিল। সেই আকিদাহ যা সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে আনুগত্য, ভ্রাতৃত্ব এবং মিলনের একমাত্র বন্ধন।আর এই রাষ্ট্রের নির্মাতারা ছিলেন সেই উম্মত, যাদের সম্বোধন করে মহান আল্লাহ প্রতাপ ও মহিমার সাথে বলেছেন: "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত হিসেবে বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হতে পারো এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হতে পারেন।" [আল-বাকারাহ: ১৪৩] ।"তোমরাই হলে শ্রেষ্ঠ উম্মত যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো। আর যদি আহলে কিতাব ঈমান আনত তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হতো। তাদের মধ্যে কিছু মুমিন রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই পাপাচারী।" [আল-ইমরান: ১১০] ।আর মহান আল্লাহ যদি তাঁর রহমত ও জ্ঞানের প্রসাদ থেকে আমার ওপর দ্বার উন্মোচন করে দেন, তবে আমি মক্কী যুগের ইসলামী দাওয়াহ সংক্রান্ত আমার ভাবনাগুলো লিখেছি, যাতে আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দাওয়াহ প্রচারের ক্ষেত্রে যেসব স্তর, মাধ্যম ও পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তা ফুটিয়ে তোলা যায়, যা আমাদের জন্য আদর্শ ও আলোকবর্তিকা হয়ে থাকে। ইনশাআল্লাহ, আমি মাদানী যুগের দাওয়াহর পদ্ধতি ও লক্ষ্যসমূহ নিয়েও আমার চিন্তাধারা তুলে ধরার চেষ্টা করব। দশ বছর আগেই আমার এই সংকল্প ছিল, কিন্তু আমি তা এই আশায় স্থগিত রেখেছিলাম যে দাওয়াহ বিভাগের আমার কোনো সন্তান বা তার অনুষদসমূহের কেউ হয়তো দাওয়াহর এই দিকের খিদমত আঞ্জাম দেওয়ার গৌরব অর্জনের সুযোগ পাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি এমন কাউকে পাইনি যে এই বিষয়ে লিখেছে। তাই আমি মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের ওপর ভরসা করে এই প্রচেষ্টায় অগ্রসর হওয়ার সংকল্প করেছি; আশা করি মহান আল্লাহ আমাদের বিজয় ও সাহায্য দান করবেন যাতে আমি ইসলামী দাওয়াহর দুই পর্যায়ের খিদমতই সম্পন্ন করতে পারি: মক্কী পর্যায় যার তৃতীয় সংস্করণের জন্য আমি এই ভূমিকাটি পেশ করছি,
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
والطور المدني الذي أتعشم وآمل في فضل الله أن يرزقني نعمة التوفيق في حسن آدائه وكتابته والله من وراء القصد وهو وحده مالك الملك بيده الخير وهو على كل شيء قدير.والحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والدعاة المخلصين والتابعين بإحسان إلى يوم الدين1.انتهى في الدوحة، قطرعصر يوم الأربعاء19 من رجب مضر 1402هـ12 من مايو 1982مدكتوررءوف شلبيالأستاذ المعار إلى جامعة قطر
--------------------------------------------
1 راجع المعلومات حول ما جاء في هذه المقدمة في الكتب التالية:* الوحي في الإسلام وأهميته في الحضارة الإنسانية.* آلهة في الأسواق. د/ رءوف شلبي.* يا أهل الكتاب تعالوا إلى كلمة سواء.* فيصل التفرقة بين الإسلام والزندقة. تحقيق دكتور سليمان دنيا.
এবং মাদানী পর্যায়, যার বিষয়ে আমি আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর ভরসা করে আশা রাখি যে, তিনি আমাকে এটি উত্তমরূপে সম্পাদন ও রচনার তাওফীক দান করবেন। আর আল্লাহই সকল সংকল্পের মূল লক্ষ্য এবং তিনিই রাজত্বের একমাত্র মালিক, তাঁর হাতেই সকল কল্যাণ নিহিত এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ, একনিষ্ঠ দাঈগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন তাঁদের প্রতি১।সমাপ্ত হয়েছে দোহা, কাতারেবুধবার আসর বেলা১৯ রজব মুদার ১৪০২ হিজরী১২ মে ১৯৮২ ঈসায়ীডক্টররউফ শালবীকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেষণে নিয়োজিত অধ্যাপক
--------------------------------------------
১ এই মুখবন্ধে যা বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কিত তথ্যের জন্য নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ দেখুন:* ইসলামে ওয়াহি এবং মানব সভ্যতায় এর গুরুত্ব।* আ-লিহাতুন ফিস সাওয়াক (বাজারের উপাস্যসমূহ)। ড. রউফ শালবী।* হে আহলে কিতাবগণ, এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন।* ফয়সালুত তাফরিকা বাইনাল ইসলামি ওয়ায যান্দাকা (ইসলাম ও যিনদিকার মধ্যে পার্থক্যের মানদণ্ড)। ডক্টর সুলায়মান দুনিয়া কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
مقدمة المؤلفمدخل…مقدمة المؤلف:الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء وسيد المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والداعين بدعوته إلى يوم الدين.وبعد..فإن أحلى كلمة تقال وتصعد إلى الله مع الكلم الطيب هي كلمة الدعوة: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} . وإن أشرف وظيفة على الأرض يتشرف بها الإنسان المسلم هي وظيفة الدعوة: {ثُمَّ أَوْرَثْنَا الْكِتَابَ الَّذِينَ اصْطَفَيْنَا مِنْ عِبَادِنَا} .إن كل الوظائف على وجه الأرض تصدر عن تنظيم بشري أو قرار من سلطة الأرض إلا وظيفة الدعوة فإنها تصدر عن تفويض رباني وتوكيل عن النبوة العاقبة الخاتمة: "العلماء ورثة الأنبياء".لهذا استحقت الدعوة الإسلامية هذا الشرف المجيد واستحق المشتغلون بها تكريما خاصا وكان عليهم تجاهها واجب يثابون عليه أداء ويعاقبون عليه إهمالا.ولما كانت مادة الدعوة الإسلامية لم تحظ من قبل بتقعيد علمي لموضوعاتها بحيث يدرك السامع حدود وأبواب وفصول وميادين العمل لهذه المادة كما حظي الفقه والأصول وعلم الاجتماع والجعرافيا والتاريخ … إلخ.
লেখকের ভূমিকাপ্রবেশিকা...লেখকের ভূমিকা:সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং রাসূলগণের সরদার আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর দাওয়াতের দিকে আহ্বান করবেন তাদের ওপর।অতঃপর..নিশ্চয়ই সবচেয়ে মিষ্ট কথা যা বলা হয় এবং যা উত্তম বাক্যের সাথে আল্লাহর নিকট আরোহণ করে তা হলো দাওয়াতের কথা: {আর তার চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে, ‘নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?}। আর পৃথিবীতে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ কাজ যার দ্বারা একজন মুসলিম মানুষ সম্মানিত হন তা হলো দাওয়াতের কাজ: {অতঃপর আমি কিতাবটির উত্তরাধিকারী করেছি আমার বান্দাদের মধ্যে তাদের, যাদেরকে আমি মনোনীত করেছি।}।পৃথিবীর সকল পেশাই কোনো না কোনো মানবিক সংগঠন বা পার্থিব কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থেকে উদ্ভূত হয়, কেবল দাওয়াতের কাজ ছাড়া; কেননা এটি এক রব্বানী মহিমা ও চূড়ান্ত ও সর্বশেষ নবুওয়াতের পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধিত্ব থেকে উৎসারিত: "উলামাগণ নবীগণের উত্তরসূরী।"এ কারণেই ইসলামী দাওয়াত এই মহান সম্মানের যোগ্য হয়েছে এবং এতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন। এর প্রতি তাদের এমন এক দায়িত্ব রয়েছে যা পালন করলে তারা পুরস্কৃত হবেন এবং অবহেলা করলে শাস্তিযোগ্য হবেন।যেহেতু ইসলামী দাওয়াতের বিষয়টি ইতিপূর্বে এর বিষয়বস্তুসমূহের এমন কোনো বৈজ্ঞানিক নিয়মতান্ত্রিক ভিত্তি লাভ করেনি, যার মাধ্যমে শ্রোতা এই বিষয়ের সীমারেখা, পরিচ্ছেদ, অধ্যায় এবং কর্মক্ষেত্রগুলো অনুধাবন করতে পারে—যেমনটি ফিকহ, উসুল, সমাজবিজ্ঞান, ভূগোল এবং ইতিহাস ইত্যাদি লাভ করেছে ... ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
لقد كان من الواجب الذي يثاب عليه بالأداء ويعاقب عليه بالترك والإهمال أن تبذل جهود جمة لإبراز موضوعات الدعوة الإسلامية في إطار أكاديمي علمي حتى تكون نبراسا يستضاء به في الأحوال والظروف والملابسات المتشابهة.ولقد تفضل الل جل شأنه فمنحني من واسع فضله العون لأفتح للمشتغلين بالدعوة الإسلامية هذا الباب ولأقدم طرفا من الواجب تجاه أحلى كلمة تقال وتصعد إلى الله مع الكلم الطيب، وأعظم وظيفة يصدر قرارها من عند الله ورسوله الخاتم عليه أفضل الصلاة والسلام.فكانت هذه الرسالة منحة ونعمة وتوفيقا من عند الله. أعرض نواحيها الثلاث في هذه المقدمة عرضا موجزا.
ইসলামি দাওয়াতের বিষয়বস্তুসমূহকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক কাঠামোর মধ্যে ফুটিয়ে তোলার জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় করা এমন এক আবশ্যিক কর্তব্য ছিল, যা পালনে পুরস্কার রয়েছে এবং বর্জন ও অবহেলায় রয়েছে শাস্তির ভয়; যাতে করে এটি অনুরূপ অবস্থা, পরিস্থিতি ও ঘটনার ক্ষেত্রে একটি আলোকবর্তিকা হয় যার মাধ্যমে আলো গ্রহণ করা যায়।আর আল্লাহ—যাঁর শান অতি মহান—তিনি অনুগ্রহ করেছেন এবং তাঁর প্রশস্ত কৃপা থেকে আমাকে সাহায্য দান করেছেন যেন আমি ইসলামি দাওয়াতের কাজে নিয়োজিতদের জন্য এই দ্বার উন্মোচন করতে পারি এবং সেই মধুরতম বাণীর প্রতি কর্তব্যের কিয়দংশ পালন করতে পারি যা উচ্চারিত হয় এবং পবিত্র বাক্যের সাথে আল্লাহর নিকট উঠে যায়; আর সেই মহানতম দায়িত্বের প্রতিও, যার সিদ্ধান্ত আল্লাহ এবং তাঁর সর্বশেষ রাসুলের পক্ষ থেকে এসেছে (তাঁর ওপর সর্বোত্তম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)।সুতরাং এই গবেষণাপত্রটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ দান, নিয়ামত এবং তাওফিক। আমি এই ভূমিকার মধ্যে এর তিনটি দিক সংক্ষেপে উপস্থাপন করছি।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
أولا: الدافعالدافع إلى هذا البحث أمشاج من الظروف:أ- منها البعيدة والقريبة.ب- ومنها العالمية والخاصة.1- إن أخص خصائص وظيفة الإنسان على وجه الأرض هي العبودية لله.والعبودية هي: أن تسجد جوارح الإنسان وقلبه وعقله لله وحده، ولا يتأتى مطلقا أن تتحقق هذه العبودية إلا إذا كانت القوامة عليه من الأفق الأعلى الكريم عن طريق الوحي الأمين.
প্রথমত: প্রেরণাএই গবেষণার পেছনের প্রেরণা হলো বিভিন্ন পরিস্থিতির সংমিশ্রণ:ক- তার মধ্যে রয়েছে দূরবর্তী ও নিকটবর্তী পরিস্থিতি।খ- এবং তার মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক ও বিশেষ পরিস্থিতি।১- এই ভূপৃষ্ঠে মানুষের কর্তব্যের প্রধানতম বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর দাসত্ব করা।আর এই দাসত্ব হলো: মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, তার অন্তর এবং তার বিবেক কেবল আল্লাহর একক সত্তার সামনে সিজদাবনত হওয়া; এবং এই দাসত্বের বাস্তবায়ন কখনোই সম্ভব নয়, যতক্ষণ না বিশ্বস্ত ওহির মাধ্যমে সুউচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ দিগন্ত হতে তার ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولقد استطاعت التربية الإسلامية عن طريق هذا الوحي في العهد النبوي المضيء ببركة النبي صلى الله عليه وسلم أن تروض نفوس العرب على الانقياد لهذا الدين والاعتياد على السلوك، والأخلاق، والعادات، والتقاليد، التي أنشأتها معالم المنهج القرآني فكانت النقلة البعيدة من: "انصر أخاك ظالما أو مظلوما" في جوها الجاهلي.إلى:{وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَنْ صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَنْ تَعْتَدُوا وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى} .وبهذه العبودية التي حققها الرعيل الأول أنشأ القرآن "دولة الإسلام" أعز دولة في الوجود لم يكن لها من مآرب سوى أن تكون العبودية فوق الأرض لله وحده، فلا تسجد الجباه، ولا تخفق القلوب، ولا تقشعر الأبدان، إلا لجلال الله وعظمته وكبريائه، وبذلك فقط تتحقق للإنسانية كلها معاني الكرامة والسعادة في الحياة.ثم كانت نكسة المسلمين وانزواؤهم عن المنهج القرآني حتى وقفت البشرية اليوم على شفا جرف هار، وذاقت مرارة ضياع الدولة الإسلامية التي كانت تصون -بالعبودية لله- كرامة الإنسان وتضمن له الأمن على ماله وعرضه وحياته كلها.لقد كانت مأساة إنسانية عامة يوم خسر العالم دولة الإسلام. وإنه ليتذوق اليوم أنواعا شتى من مضاعفات هذه الخسارة.إن نار الحرب التي تتأجج في كل جانب من جوانب الأرض.
নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরকতে উদ্ভাসিত নবুয়তী যুগে এই ওহীর মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা আরবদের নফসকে এই দ্বীনের আনুগত্য করতে এবং কুরআনী মানহাজের বৈশিষ্ট্যসমূহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আচরণ, চরিত্র, অভ্যাস ও ঐতিহ্যে অভ্যস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। ফলে জাহেলী পরিবেশের সেই "তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালেম হোক বা মজলুম" নীতি থেকে এক সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল।এই নির্দেশের দিকে:{আর কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা—যেহেতু তারা তোমাদেরকে মসজিদে হারাম থেকে বাধা দিয়েছিল—তা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। আর তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো।}।এবং প্রথম প্রজন্মের অর্জিত এই দাসত্বের মাধ্যমে কুরআন বিশ্বের বুকে সবচেয়ে সম্মানিত রাষ্ট্র "ইসলামী রাষ্ট্র" প্রতিষ্ঠা করেছিল। যার একমাত্র লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর বুকে দাসত্ব হবে শুধুমাত্র এক আল্লাহর জন্য। ফলে ললাট অবনত হবে না, অন্তর বিচলিত হবে না এবং শরীর শিহরিত হবে না কেবল আল্লাহর মহিমা, শ্রেষ্ঠত্ব ও গরিমা ব্যতীত। আর এভাবেই সমগ্র মানবতার জন্য জীবনে মর্যাদা ও সুখের প্রকৃত অর্থ বাস্তবায়িত হয়।অতঃপর মুসলমানদের বিপর্যয় ঘটল এবং তারা কুরআনী মানহাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল, এমনকি আজ মানবজাতি এক ধ্বংসোন্মুখ খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা সেই ইসলামী রাষ্ট্র হারানোর তিক্ততা আস্বাদন করছে, যা আল্লাহর দাসত্বের মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা রক্ষা করত এবং তার সম্পদ, সম্মান ও সমগ্র জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করত।নিশ্চয়ই যেদিন বিশ্ব ইসলামী রাষ্ট্রকে হারাল, তা ছিল এক সামগ্রিক মানবিক বিপর্যয়। আজ পৃথিবী সেই ক্ষতির বহুমুখী বিষময় পরিণাম ভোগ করছে।নিশ্চয়ই যুদ্ধের সেই আগুন যা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে প্রজ্বলিত হচ্ছে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
وإن الشقوة الاقتصادية التي أعمت عيون الأخصائيين مع الحيارى التائهين في أزقة الجوع والحرمان.وإن تزعزع الأمن للفرد والأسرة والدولة.وإن انحراف الأخلاق التي مزجت في الشكل والموضوع تقاسيم الرجال بالنساء.وإن الرعب العسكري الذي يحيط بالكرة الأرضية كلها.وإن الضياع الفكري الذي امتلأت به بطون كتب إبليسية تهوي بقيمة العقل في مستواه الإنساني، إلى مستوى الأنعام بل أضل.إن كل ذلك من المضاعفات التي جناها العالم كله نتيجة لضياع دولة الإسلام الحنيف وصدق الله العظيم: {وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى} .ولن يعود للإنسان معناه وقيمته وكرامته إلا إذا عاد إلى العبودية لله وحده، ولن يتأتى مطلقا أن يحقق الإنسان العبودية لله وحده إلا إذا عادت القيادة إلى القرآن الكريم وحده: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ وَيُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا} .فالقرآن وحده هو الذي يملك توجيه الحياة إلى الصراط المستقيم والإسلام وحده هو الذي يملك إعادة بناء الإنسانية ليعد للإنسان معناه وقيمته وكرامته؛ للمسلم ولغيره على السواء.
আর সেই অর্থনৈতিক দুর্গতি যা ক্ষুধা ও বঞ্চনার গলিপথগুলোতে বিভ্রান্ত ও পথহারাদের সাথে বিশেষজ্ঞদের চোখকেও অন্ধ করে দিয়েছে।আর ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তার সেই অস্থিতিশীলতা।আর চারিত্রিক সেই বিচ্যুতি যা আকার-আকৃতি ও প্রকৃতিতে পুরুষ ও নারীর বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যকে একাকার করে দিয়েছে।আর সেই সামরিক আতঙ্ক যা সমগ্র ভূ-মণ্ডলকে ঘিরে রেখেছে।আর সেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিভ্রান্তি যা শয়তানি বইয়ের পাতায় পাতায় ভরে গেছে, যা মানুষের বিবেকের মূল্যকে মানবিক স্তর থেকে নামিয়ে গবাদি পশুর স্তরে, এমনকি তার চেয়েও নিচে নিয়ে গেছে।নিশ্চয়ই এই সবকিছুই হলো সেই জটিলতা যা সমগ্র বিশ্ব দ্বীনে হানিফ ইসলামের রাষ্ট্রব্যবস্থা হারানোর ফলে ভোগ করছে। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: "আর যে আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জীবন হবে সংকীর্ণ এবং কিয়ামতের দিন আমি তাকে অন্ধ অবস্থায় পুনরুত্থিত করব।"মানুষের সার্থকতা, মূল্য এবং মর্যাদা কখনোই ফিরে আসবে না যতক্ষণ না সে একমাত্র আল্লাহর দাসত্বের দিকে ফিরে আসে। আর মানুষের পক্ষে কখনোই একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব অর্জন করা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ না নেতৃত্ব একমাত্র মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের দিকে ফিরে আসে: "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে যা সবচেয়ে সরল এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যারা সৎকর্ম করে যে, তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।"কেননা একমাত্র আল-কুরআনই জীবনকে সরল পথের দিকে পরিচালিত করার ক্ষমতা রাখে এবং একমাত্র ইসলামই মানবতাকে পুনর্গঠন করার সক্ষমতা রাখে যাতে মানুষের সার্থকতা, মূল্য ও মর্যাদা ফিরে আসে; মুসলিম এবং অমুসলিম উভয়ের জন্যই সমানভাবে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
والسؤال الآن: هل في حياة الدعوة الإسلامية منهج يمكن من إعادة هذا البناء؟2- لقد قامت في هذه القاعة الكبرى بالجامع الأزهر الشريف عدة دورات دراسية عن أسلوب العمل مع الجماعة لمجموعات من شباب الأزهر الذين شِيءَ لهم حسبما زعم يومها أن يكونوا رواد العمل الاجتماعي في الوحدات المجمعة التي تتبع وزارة الشئون الاجتماعية لخدمة الريف المصري.وكان أساس هذه الفكرة ادعاء أن الثقافة الأزهرية أو الإسلامية خالية من أسس ومناهج العمل مع الجماعة، وأكد المدرسون الذين اختيروا من خريجي جامعات أوربا وأمريكا ذلك الزعم. فهل كان ذلك حقا؟3- ثم مضت أيام وتبدلت أحوال وكرمني الله جل شأنه فأنابني الأزهر الشريف عنه في تبليغ الرسالة بالقطر الحبيب أندونيسيا وكلفت بتدريس مادة الدعوة الإسلامية في العصر الحديث بكلية أصول الدين بسومطرة الجنوبية palembang فوقع في نفسي أنه لا يمكن تدريس مادة الدعوة الإسلامية في العصر الحديث إلا إذا عدنا إلى مرحلتها الأولى في العهد النبوي، والناس يومها في رحاب النبي الكريم يتشرفون بالاتصال بالملأ الأعلى، وبالوحي الذي يترى ويأخذ بأيديهم رويدا رويدا إلى العبودية لله وحده. لا سيما أن ناسا في أندونيسيا تعدادهم يزيد أو ينقص على أربعة ملايين من البوذيين
এখন প্রশ্ন হলো: ইসলামী দাওয়াতের জীবনে কি এমন কোনো পদ্ধতি রয়েছে যা এই কাঠামোটি পুনর্গঠন করতে সক্ষম?2- জামে আজহার শরীফের এই বিশাল মিলনায়তনে আল-আজহারের একদল যুবকের জন্য সমষ্টির সাথে কাজের পদ্ধতির ওপর বেশ কিছু পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল; যাদের সম্পর্কে সেদিন দাবি করা হয়েছিল যে, তারা মিশরীয় পল্লী অঞ্চলের সেবায় নিয়োজিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সমন্বিত ইউনিটগুলোতে সামাজিক কাজের অগ্রদূত হবে।এই ধারণার ভিত্তি ছিল এই দাবি যে, আজহারী বা ইসলামী সংস্কৃতি সমষ্টির সাথে কাজের মূলনীতি ও পদ্ধতি থেকে শূন্য। ইউরোপ ও আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা যেসব শিক্ষকদের নির্বাচন করা হয়েছিল, তারা এই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। তবে কি এটি সত্য ছিল?3- এরপর দিন অতিবাহিত হলো এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটল। মহান আল্লাহ আমাকে সম্মানিত করলেন; ফলে আল-আজহার শরীফ আমাকে প্রিয় দেশ ইন্দোনেশিয়ায় রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করল। আমাকে দক্ষিণ সুমাত্রার পালেমবাং-এর উসুলুদ্দিন অনুষদে ‘আধুনিক যুগে ইসলামী দাওয়াত’ বিষয়টি পাঠদানের দায়িত্ব দেওয়া হলো। তখন আমার মনে হলো যে, আধুনিক যুগে ইসলামী দাওয়াত বিষয়টি পাঠদান করা সম্ভব নয় যদি না আমরা নবুওয়াতের যুগের সেই প্রাথমিক পর্যায়ে ফিরে যাই; যখন মানুষ নবী করীমের সান্নিধ্যে থেকে উর্ধ্বজগতের সাথে যোগাযোগের সৌভাগ্য লাভ করত এবং সেই ওহীর মাধ্যমে ধন্য হতো যা নিরন্তর অবতীর্ণ হয়ে তাদেরকে ধীরে ধীরে কেবল আল্লাহর দাসত্বের দিকে নিয়ে যেত। বিশেষ করে যখন ইন্দোনেশিয়ার প্রায় চল্লিশ লক্ষ বা তার চেয়ে কমবেশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষ ছিল।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ما زالوا يعكفون على عبادة الأصنام ومنطقهم كمنطق الذين مضوا: {قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءَنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ} . {مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى} .4- وكان هناك دافع آخر هو ما تعانيه الدعوة الإسلامية من الفشل حتى تعرضت للتصفية ولم يبق لها كما يقولون من أثر بعد عين إلا الجامع الأزهر الشريف الذي تتكأكأ عليه محن وإحن.فهل هذا الفشل العام الذي أصاب حقل الدعوة الإسلامية سببه خروج العاملين عن المنهج الذي حدده الله للدعوة؟تلك هي الدوافع أو هي كلها الدافع الذي وجهني لتحمل مسئولية شرف هذه الدراسة منذ عام 1964م.{وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ} .
তারা মূর্তিপূজায় মগ্ন ছিল এবং তাদের যুক্তি ছিল পূর্ববর্তীদের যুক্তির মতোই: {তারা বলেছিল, বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের এরূপ করতে দেখেছি}। {আমরা তাদের ইবাদত করি কেবল এ জন্য যে, তারা আমাদের আল্লাহর অধিকতর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেবে}।৪- সেখানে আরেকটি উদ্দীপক ছিল, তা হলো ইসলামী দাওয়াত যে ব্যর্থতার সম্মুখীন হচ্ছিল, এমনকি তা নির্মূল হওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং যেমনটি বলা হয়ে থাকে, আল-আজহার আল-শরীফ ব্যতীত তার আর কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল না, যাকে কেন্দ্র করে নানা বিপদ-আপদ ও শত্রুতা পুঞ্জীভূত হয়েছিল।ইসলামী দাওয়াতের ময়দানে যে ব্যাপক ব্যর্থতা দেখা দিয়েছিল, তার কারণ কি দাওয়াতী কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের আল্লাহর নির্ধারিত কর্মপন্থা থেকে বিচ্যুতি?এগুলোই ছিল সেই উদ্দীপকসমূহ অথবা সামগ্রিকভাবে সেই মূল প্রেরণা যা আমাকে ১৯৬৪ সাল থেকে এই গবেষণার মহান দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে।{আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহ প্রদর্শন করব; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথে রয়েছেন}।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانيا: المنهجوالمنهج الذي التزمته بتوفيق الله عز وجل في عرض هذه الدراسة قام على ركيزة خاصة هي: "الذاتية الإسلامية".إن الذاتية الإسلامية ليست مفهوما يصور في حد أو رسم منطقي أو فلسفي ولكنها سلوك عملي قدم له الرعيل الأول إطاره الذي يعيه العقل المسلم وتطبقه الجوارح الخاشعة.
দ্বিতীয়ত: পদ্ধতিএই গবেষণাটি উপস্থাপনে মহান আল্লাহর তাওফীকে আমি যে পদ্ধতির অনুসরণ করেছি তা একটি বিশেষ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর তা হলো: "ইসলামী স্বকীয়তা"।নিশ্চয়ই ইসলামী স্বকীয়তা এমন কোনো ধারণা নয় যা কোনো যৌক্তিক বা দার্শনিক সংজ্ঞা বা রেখাচিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা যায়, বরং এটি হলো একটি প্রায়োগিক আচরণ যার রূপরেখা প্রথম প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা পেশ করেছেন, যা মুসলিম মন অনুধাবন করে এবং বিনম্র অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহ বাস্তবায়ন করে।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لقد قال سعد بن أبي وقاص رضي الله تعالى عنه لأمه:والله لو كانت لك مائة نفس فخرجت واحدة واحدة ما تركت دين محمد صلى الله عليه وسلم.وقالت: زنيرة يوم عذبوها فكف بصرها فقالوا: ما أذهب بصرها إلا اللات والعزى، فقالت: كذبوا والله؛ ما تضر اللات والعزى ولا تنفعان.والذاتية الإسلامية في حدودها الإسلامية هي ما يصفه سيدنا عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: كان الرجل منا إذا تعلم عشر آيات لم يتجاوزهن حتى يعرف معانيهن والعمل بهن.لقد كان هناك قصد من الجماعة الإسلامية نفسها أن يكون النبع الذي تستقي منه هو القرآن الكريم وحده، وهي يوم أن تستقي من القرآن الكريم لا تستقي للثقافة والعلم أو للنهضة الفكرية أو للحركة الدائبة في الدراسة والبحوث والمناقشة، ولكنها كانت تستقي منه لتحقق العبودية المطلقة لله وحده.وكانت الأمة الإسلامية تستقي من النبع الصافي وتتخرج عليه وتتكيف به لذته لا لفقر عالمي في الثقافة أو جدب في العلوم والمعارف.فلقد كانت للعرب أسواق للأدب والحكم.ولقد كان لفارس والروم والهند والصين ثقافات ومعارف.ولكنها كلها نبع طيني لا ينهض لبناء حضارة تقوم العبودية فيها لله وحده، ويتحقق بها للإنسان معناه وقيمته وكرامته.
নিশ্চয়ই সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মাকে বলেছিলেন:আল্লাহর কসম, যদি আপনার একশতটি প্রাণ থাকত এবং তা একটি একটি করে বের হয়ে যেত, তবুও আমি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দ্বীন পরিত্যাগ করতাম না।এবং যুন্নাইরা বলেছিলেন, যেদিন তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছিল এবং তাঁর দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল, তখন তারা বলেছিল: লাত ও উজ্জাই তার দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিয়েছে। তখন তিনি বলেছিলেন: তারা মিথ্যা বলেছে, আল্লাহর কসম; লাত ও উজ্জা কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, কোনো উপকারও করতে পারে না।ইসলামী সীমানার মধ্যে ইসলামী স্বকীয়তা হলো তা-ই, যা আমাদের নেতা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেছেন: আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন দশটি আয়াত শিখতেন, তখন তিনি সেগুলো অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না সেগুলোর অর্থ এবং সে অনুযায়ী আমল সম্পর্কে জানতেন।স্বয়ং ইসলামী জামাআতের এটিই উদ্দেশ্য ছিল যে, তারা যে উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করবে তা যেন হয় একমাত্র কুরআনুল কারীম। আর তারা যখন কুরআনুল কারীম থেকে নির্যাস গ্রহণ করত, তখন তারা তা সংস্কৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ কিংবা অধ্যয়ন, গবেষণা ও আলোচনার নিরবচ্ছিন্ন কর্মতৎপরতার জন্য করত না; বরং তারা তা থেকে গ্রহণ করত একমাত্র আল্লাহর প্রতি নিরঙ্কুশ দাসত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।ইসলামী উম্মাহ এই স্বচ্ছ উৎস থেকে রসদ গ্রহণ করত, এর ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠত এবং এর মাধুর্যে নিজেকে মানিয়ে নিত; তা সংস্কৃতিতে কোনো বৈশ্বিক অভাব বা জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো বন্ধ্যাত্বের কারণে ছিল না।কেননা আরবদের সাহিত্য ও প্রজ্ঞার বাজার ছিল।এবং পারস্য, রোম, ভারত ও চীনের নিজস্ব সংস্কৃতি ও জ্ঞানভাণ্ডার ছিল।কিন্তু এগুলোর সবই ছিল পঙ্কিল উৎস, যা এমন কোনো সভ্যতা বিনির্মাণে সক্ষম ছিল না যেখানে একমাত্র আল্লাহর দাসত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যার মাধ্যমে মানুষের প্রকৃত অর্থ, মর্যাদা ও সম্মান অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومن هنا فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم غضب لورقة من التوراة كان يقرؤها سيدنا عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال له: $"والله لو كان موسى حيا بين أظهركم ما حل له إلا أن يتبعني".كان يقصد عليه الصلاة والسلام بهذا الغضبة الربانية أن يظل النبع الصافي الذي تستقي منه الأمة الإسلامية ماء حياتها هو القرآن الكريم وحده.وإذن فالركيزة التي يجب أن يقوم عليها منهج البحث الإسلامي عامة، وخاصة في مجال الدعوة ورسالتي هذه: هي الذاتية الإسلامية. تلك التي جعلت الدنيا كحلقة مغفر في يد الرعيل الأول فأقاموا دولة العبودية لله في أقل من ربع قرن وصار في خلالها الرجل يسير من صنعاء إلى حضرموت لا يخاف إلا الله والذئب على غنمه.وحدات المنهج:أولا: قسمت الدعوة إلى قسمين رئيسين:1- دور العرض.2- دور الدفاع.ثم قسمت دور العرض إلى قسمين:1- دور العهد المكي، وهو موضوع هذا البحث.2- دور العهد المدني، وهو بحث أسأل الله تعالى أن ييسره لي لتتم نية صالحة لخدمة الدعوة الإسلامية.
এখান থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেদিন তাওরাতের একটি পাতার কারণে রাগান্বিত হয়েছিলেন যা আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পড়ছিলেন, তখন তিনি তাঁকে বলেছিলেন: "আল্লাহর কসম, যদি মূসা তোমাদের মাঝে জীবিত থাকতেন, তবে আমার অনুসরণ করা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো পথ থাকত না।"এই রব্বানী ক্রোধের মাধ্যমে তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) উদ্দেশ্য ছিল এই যে, মুসলিম উম্মাহ তাদের জীবন-সুধা আহরণ করবে এমন স্বচ্ছ ঝরনাধারা যেন একমাত্র পবিত্র কুরআনই থাকে।সুতরাং সাধারণভাবে ইসলামী গবেষণা পদ্ধতি এবং বিশেষ করে দাওয়াতের ময়দান ও আমার এই গবেষণাপত্রের ভিত্তি যে স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত হওয়া আবশ্যক, তা হলো: ইসলামী স্বকীয়তা। যা দুনিয়াকে প্রথম প্রজন্মের হাতে যুদ্ধের শিরস্ত্রাণের একটি আংটার মতো তুচ্ছ করে দিয়েছিল; ফলে তাঁরা এক শতাব্দীর এক-চতুর্থাংশেরও কম সময়ে আল্লাহর দাসত্বের রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন এবং সেই সময়ে অবস্থা এমন হয়েছিল যে, একজন লোক সানা থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত ভ্রমণ করত, অথচ সে আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পেত না এবং তার মেষপাল সম্পর্কে কেবল নেকড়ের ভয় করত।গবেষণার রূপরেখা:প্রথমত: দাওয়াতকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছি:১- উপস্থাপনার পর্যায়।২- প্রতিরক্ষার পর্যায়।অতঃপর উপস্থাপনার পর্যায়কে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি:১- মক্কী যুগের পর্যায়, যা এই গবেষণার বিষয়বস্তু।২- মাদানী যুগের পর্যায়, যা এমন একটি গবেষণা যার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তা আমার জন্য সহজ করে দেন, যাতে ইসলামী দাওয়াতের খিদমতের জন্য কৃত একটি নেক নিয়ত পূর্ণতা পায়।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ودور الدفاع ينقسم إلى قسمين:1- دفاع عن المجابهة الفكرية الثقافية.2- ودفاع عن الخصومة التاريخية.فموقع هذه الدراسة ومكان هذا البحث من هذا التقسيم هو العهد المكي فقط، لأن النواة الأولى التي ستترعرع بعد إن شاء الله في العهد المدني لتتكون منها {خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} .ثانيا: قسمت دراسة العهد المكي إلى:1- مرحلة تمهيدية تصور البيئة التي نشأت فيها الدعوة، وكيف هيأ الله تعالى نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم في هذا الجو ليكون للعالمين نذيرا، واستتبع هذا العمل تحديد المراد من اصطلاح الدعوة الإسلامية فقدمت حديثا عن التعريف بالدعوة الإسلامية وناقشت بعض الآراء التي تعرضت لتحديد المراد من هذا الاصطلاح ليكون حادي الطريق في دراسة العمل الإسلامي مستقبلا إنْ في العهد المكي أو في العهد المدني أو في دور مناقشة الخصوم والمجابهين للدعوة فيما بعد إن شاء الله.2- ثم دراسة التحرك النبوي منذ بدئَ نبيا بالرؤيا الصالحة لاستنباط وحدات المناهج التي قدمتها الدعوة الإسلامية منذ القرون الوسطى لتكون أسلوبا عمليا للعمل مع الجماعة، في مستقبل حياة الأمة الإسلامية {وَلَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} .
এবং প্রতিরক্ষার ভূমিকা দুই ভাগে বিভক্ত:১- বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক মোকাবিলা সংক্রান্ত প্রতিরক্ষা।২- এবং ঐতিহাসিক বিরোধ সংক্রান্ত প্রতিরক্ষা।এই বিভাজনের মধ্যে বর্তমান এই অধ্যায়ন ও গবেষণার স্থান কেবল মক্কী যুগে সীমাবদ্ধ। কারণ এটিই সেই প্রাথমিক বীজ যা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে মাদানী যুগে বিকশিত হয়ে "মানবজাতির কল্যাণে সমুত্থিত শ্রেষ্ঠ জাতি" হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।দ্বিতীয়ত: মক্কী যুগের অধ্যায়নকে বিভক্ত করা হয়েছে:১- একটি প্রারম্ভিক স্তর, যা সেই পরিবেশকে চিত্রিত করে যেখানে দাওয়াত বা আহ্বান শুরু হয়েছিল এবং মহান আল্লাহ কীভাবে এই পরিবেশে তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হিসেবে প্রস্তুত করেছিলেন। এই কাজের অনুগামী হিসেবে 'ইসলামী দাওয়াত' পরিভাষাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ইসলামী দাওয়াতের পরিচয় সম্পর্কে আলোচনা পেশ করা হয়েছে এবং এই পরিভাষার উদ্দেশ্য নির্ধারণে প্রস্তাবিত কিছু মতামত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে তা ভবিষ্যতে ইসলামী কর্মপদ্ধতি অধ্যায়নের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হতে পারে, চাই তা মক্কী যুগে হোক বা মাদানী যুগে হোক, অথবা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে দাওয়াতের বিরোধী ও মোকাবিলাকারীদের সাথে আলোচনার ক্ষেত্রে হোক।২- অতঃপর নবী হিসেবে সৎ স্বপ্নের মাধ্যমে শুরু হওয়া নববী তৎপরতার অধ্যায়ন, যাতে ইসলামী দাওয়াত কর্তৃক উপস্থাপিত কর্মপদ্ধতির এককসমূহ উদ্ভাবন করা যায়, যা মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ জীবনে জামাআতবদ্ধ কাজের একটি ব্যবহারিক পদ্ধতিতে পরিণত হবে; "নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ"।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثالثا: التزمت في دراسة هذه المرحلة تاريخ الدعوة من مصادر رئيسية ثلاثة:- القرآن الكريم وعلومه.- والسنة الإسلامية وشروحها.- وكتب السيرة المعتمدة وخاصة ما دونه السالفون الذين تسمح حياتهم الاجتماعية بالثقة والاطمئنان إلى ما كتبوه بوعي وإخلاص.وقد استبعدت في عرضي لهذا الدور المكي المناقشات مع الخصوم، كما رفضت الأخذ في كتبهم فلهم دور سيأتي فيما بعد إن شاء الله.رابعا: اعتمدت في إبراز نتائج الدعوة الإسلامية على القرآن الكريم المكي وحده لأنه منبعها الأصيل الذي قصد به رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يكون وحده المنبع الذي تستقي منه الأمة الإسلامية ماء حياتها، وقد أثبتت الأحداث التاريخية فيما بعد صحة وصدق ذلك في التربية والبناء.خامسا: درست النظريات الحديثة بعد انتهائي من استيعاب ما كتب عن العهد المكي في مراجعه الأصيلة، لأتعرف على مقدار ما اقترضه الغربيون ثم أصبحوا به يفتخرون.سادسا: كنت أحاول أن أختبر وحدات المنهج التي استخلصتها قبل تدوين البحث في البيئة المماثلة للحياة الجاهلية حيث منحني الله جل شأنه فرصة التشرف بالعمل الإسلامي في ماليزيا في وظيفة تتساوى مع طبيعة البحث ودراساته.
তৃতীয়ত: এই পর্যায়ের গবেষণায় আমি দাওয়াতের ইতিহাস বর্ণনায় তিনটি প্রধান উৎসের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেছি:- পবিত্র কুরআন এবং এর সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানসমূহ।- এবং ইসলামী সুন্নাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ।- এবং নির্ভরযোগ্য সীরাত গ্রন্থসমূহ, বিশেষ করে পূর্বসূরিগণের সংকলিত তথ্যাবলি, যাঁদের সামাজিক জীবন তাঁদের সচেতন ও নিষ্ঠাপূর্ণ রচনার প্রতি আস্থা ও প্রশান্তি স্থাপনে সহায়তা করে।মক্কী জীবনের এই অধ্যায়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি প্রতিপক্ষের সাথে বিতর্কসমূহ বর্জন করেছি। একইভাবে আমি তাদের গ্রন্থগুলো গ্রহণ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছি, কেননা সেগুলোর ভূমিকা পরবর্তীতে আসবে, ইনশাআল্লাহ।চতুর্থত: ইসলামী দাওয়াতের ফলাফল ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আমি একমাত্র মক্কী কুরআনের ওপর নির্ভর করেছি। কারণ, এটিই হলো দাওয়াতের মূল উৎস, যাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একমাত্র সেই ঝরনাধারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন যেখান থেকে মুসলিম উম্মাহ তাদের জীবন-রস সংগ্রহ করবে। পরবর্তী ঐতিহাসিক ঘটনাবলি শিক্ষা ও পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এর যথার্থতা ও সত্যতা প্রমাণ করেছে।পঞ্চমত: মক্কী যুগ সম্পর্কে মূল উৎসগুলোতে যা লেখা হয়েছে তা আত্মস্থ করার পর আমি আধুনিক মতবাদগুলো অধ্যয়ন করেছি, যাতে পশ্চিমারা কতটুকু ধার করেছে এবং পরবর্তীতে তা নিয়ে গর্ববোধ শুরু করেছে তা জানতে পারি।ষষ্ঠত: গবেষণাপত্রটি লিপিবদ্ধ করার আগে আমি জাহেলী জীবনের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ পরিবেশে আমার আহরিত পদ্ধতির এককগুলো পরীক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম। সেখানে মহান আল্লাহ আমাকে মালয়েশিয়ায় ইসলামী দাওয়াহর কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সম্মানজনক সুযোগ দান করেছিলেন, যা ছিল এই গবেষণার প্রকৃতি ও এর বিষয়বস্তুর সাথে সংগতিপূর্ণ।
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
سابعا: مع وضوح المعلومات في رأسي حسبما كان يرزق الله جل شأنه، فإني كنت أنتظر دائما لحظات تفضله جل وعلا أن يشرح لي صدري للكتابة، وكثيرا ما كنت أبدؤها بعد صلاة ركعتين لله تقربا وشكرا ودعاء.ثامنا: اخترت في عرض مادة الرسالة الأسلوب الذي يتفق مع الذاتية الإسلامية، فلم أجنح إلى صرامة الأسلوب الفلسفي المنطقي الذي يعتمد على إثبات المقدمات وإقامة الملازمات، ولم أجنح إلى الأسلوب الطنان البراق الأديب، ولكن حاولت أن أكون مع أسلوب الدعوة حيث تكون هي منطقية كقرآنها أو وجدانية كقرآنها، مرغبة أو مرهبة كقرآنها، لقد كان الأسلوب الذي أحاول به تدوين مادة هذه الرسالة هو أسلوب الدعوة الإسلامية حسب طبيعة مواقفها: صرامة وحنانا.فإن أكن هديت فلله وحده المنة والفضل والله يهدي من يشاء، وإن تكن الأخرى، فكل إنسان يؤخذ منه ويرد عليه إلا صاحب الروضة الشريفة صلى الله عليه وسلم.ومع هذا فقد كان الإخلاص لله رائدي والخير قصدي والله من وراء القصد، أستغفر الله لي ولكم وحسبي في ذلك: "كل ابن آدم خطاء وخير الخطائين التوابون".هذا وبالله التوفيقمتولي يوسف شلبيالشهير: رءوف شلبي
সপ্তম: আল্লাহ তাআলা আমাকে যা দান করেছেন সেই অনুযায়ী আমার মস্তিষ্কে তথ্যাবলি স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও, আমি সর্বদা মহান আল্লাহর অনুগ্রহের সেই মুহূর্তগুলোর অপেক্ষায় থাকতাম যেন তিনি আমার অন্তরকে লেখার জন্য প্রশস্ত করে দেন। আমি প্রায়শই মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দোয়ার উদ্দেশ্যে দুই রাকাত সালাত আদায়ের পর তা শুরু করতাম।অষ্টম: এই অভিসন্দর্ভের বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমি এমন এক শৈলী বেছে নিয়েছি যা ইসলামী স্বকীয়তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমি এমন কঠোর দার্শনিক-যৌক্তিক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকিনি যা মূলত ভূমিকা প্রমাণ এবং অনিবার্য ফলাফল স্থাপনের ওপর নির্ভরশীল। আবার আমি জাঁকজমকপূর্ণ বা অলঙ্কারপূর্ণ সাহিত্যিক শৈলীর দিকেও ধাবিত হইনি। বরং আমি দাওয়াতের সেই পদ্ধতির সাথে থাকার চেষ্টা করেছি যা পবিত্র কুরআনের মতো যৌক্তিক অথবা কুরআনের মতোই আবেগঘন, যা কুরআনের মতোই কখনো উৎসাহব্যঞ্জক আবার কখনো ভীতিপ্রদর্শনকারী। এই অভিসন্দর্ভের বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ করার জন্য আমি যে পদ্ধতি অবলম্বনের চেষ্টা করেছি তা হলো পরিস্থিতির প্রকৃতি অনুযায়ী ইসলামী দাওয়াতের শৈলী: কঠোরতা এবং মমতা।আমি যদি সঠিক পথের দিশা পেয়ে থাকি তবে তার সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ কেবল আল্লাহরই, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন। আর যদি অন্য কিছু হয়ে থাকে, তবে জেনে রাখা উচিত যে রওজা শরীফের অধিবাসী (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত প্রত্যেক মানুষের কথাই গ্রহণ করা যায় আবার বর্জনও করা যায়।এতদসত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই ছিল আমার চালিকাশক্তি এবং কল্যাণই ছিল আমার উদ্দেশ্য; আর আল্লাহই মূল লক্ষ্য সম্পর্কে সম্যক অবগত। আমি নিজের জন্য এবং আপনাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এ ক্ষেত্রে আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে: "আদম সন্তান মাত্রই ভুলকারী, আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই উত্তম যারা তওবা করে"।আল্লাহই তাওফীকদাতামুতওয়াল্লী ইউসুফ শালাবিসুপরিচিত: রউফ শালাবি
(খণ্ড: ১)
আদ-দাওয়াতুল ইসলামিয়্যাহ ফি আহদিহাল মাক্কি মানাহিজিহা ওয়া গায়াতিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
الباب الأول: مناهج الدعوة الإسلامية في عهدها المكيالفصل الأول: منهج إثبات وحدانية الله تعالىتمهيد حول مفهوم الدعوة الإسلامية…الفصل الأول: منهج إثبات وحدانية الله تعالى:تمهيد: حول مفهوم الدعوة الإسلاميةفي مجال الحديث عن الدعوة الإسلامية يتحتم تحديد المفهوم من هذا الاصطلاح لكثرة بريق الشعارات والاصطلاحات في العصر الحديث، إن المواجهة للإسلام وإن غيرها، حتى يتميز جانب الدعوة الإسلامية عن كل ما يغايرها، سواء كان ذلك الغير ملتقيا معها أو كان مخالفا لها.والدعوة الإسلامية في التصور العادي البسيط ليست مبادئ بيئة خاصة، وليست ظاهرة اجتماعية لظروف خاصة.ولا هي مثل عليا فقط لجماعة مثالية من البشر.ولا هي دعوة مادية لإيواء المشردين، وإشباع الجائعين، وكساء العرايا، وإنما هي شيء غير ذلك نعالجه في هذه المحاولة مع بعض المشتغلين بها بحثا ومعملا."أ" مع فضيلة الشيخ علي محفوظ:في كتاب "هداية المرشدين" تحت عنوان "مفهوم الدعوة" قال الشيخ رحمه الله تعالى:"إن الدعوة إلى الله حياة الأديان، وأنه ما قام دين من الأديان ولا انتشر مذهب من المذاهب، ولا ثبت مبدأ من المبادئ إلا بالدعوة.
প্রথম অধ্যায়: মক্কী যুগে ইসলামি দাওয়াতের কর্মপদ্ধতিসমূহপ্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ প্রমাণের কর্মপদ্ধতিইসলামি দাওয়াতের ধারণা প্রসঙ্গে উপক্রমণিকা…প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ প্রমাণের কর্মপদ্ধতি:উপক্রমণিকা: ইসলামি দাওয়াতের ধারণা প্রসঙ্গেইসলামি দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রে এই পরিভাষার প্রকৃত ধারণাটি নির্ধারণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। কারণ আধুনিক যুগে স্লোগান ও পরিভাষার চাকচিক্য অনেক বেড়ে গেছে; চাই তা ইসলামের মুখোমুখি হোক বা অন্য কিছু। যাতে ইসলামি দাওয়াতের দিকটি তার বিপরীত সব কিছু থেকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়, চাই সেই বিপরীত বিষয়টি এর সাথে সংগতিপূর্ণ হোক বা এর বিরোধী হোক।সাধারণ ও সরল ধারণায় ইসলামি দাওয়াত কোনো বিশেষ পরিবেশের মূলনীতি নয় এবং কোনো বিশেষ পরিস্থিতির সামাজিক প্রপঞ্চও নয়।আর না এটি কেবল মানবজাতির কোনো এক আদর্শ গোষ্ঠীর জন্য কিছু উচ্চতর উপমা মাত্র।এটি গৃহহীনদের আশ্রয় দেওয়া, ক্ষুধার্তদের অন্ন দান করা এবং বস্ত্রহীনদের বস্ত্র দান করার মতো কেবল কোনো পার্থিব দাওয়াতও নয়। বরং এটি এমন কিছু, যা আমরা এই প্রচেষ্টায় গবেষণারত কিছু ব্যক্তির সাথে আলোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরব।"ক" ফযীলাতুশ শায়খ আলি মাহফুয-এর সাথে:"হিদায়াতুল মুরশিদিন" গ্রন্থে "দাওয়াতের ধারণা" শিরোনামের অধীনে শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ তাআলা) বলেছেন:"নিশ্চয়ই আল্লাহর পথে দাওয়াত হলো ধর্মসমূহের প্রাণ। কোনো ধর্মই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, কোনো মতাদর্শই প্রচারিত হয়নি এবং কোনো মূলনীতিই সুদৃঢ় হয়নি দাওয়াত ব্যতীত।