(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: -)
سنن أبي داود - ت الأرنؤوط القسم: كتب السنة
الكتاب: سنن أبي داود
المؤلف: أبو داود سليمان بن الأشعث الأزدي السجستاني (202 - 275 هـ)
المحقق: شعيب الأرنؤوط [ت 1438 هـ]- محمد كامل قره بللي
الناشر: دار الرسالة العالمية
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 11 محرم 1435
সুনানে আবু দাউদ - আরনাউত তাহকিক বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সুনানে আবু দাউদ
লেখক: আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আল-আযদি আস-সিজিস্তানি (২০২ - ২৭৫ হিজরি)
গবেষক ও সম্পাদক: শুআইব আরনাউত [মৃত্যু ১৪৩৮ হিজরি]- মুহাম্মাদ কামিল কুরাহ বাললি
প্রকাশক: দারুর রিসালাহ আল-আলামিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি - ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ডের সংখ্যা: ৭
[কিতাবের নম্বর মুদ্রণ সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ মুহররম ১৪৩৫
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১)
سُنَن أَبِي دَاوُد
تصنيف
الإِمَام الحَافِظ أبِي دَاود سُليمان بْنِ الأشعثِ الأَزْدِي السِّجِسْتَانِيِّ
202 هـ - 275 هـ
حقّقهُ وَضَبطَ نَصَّهُ وَخرَّجَ أَحَاديثهُ وَعَلَّقَ عَلَيه
شعَيب الأرنؤوط ومحَمَّد كامِل قره بللي
الجزء الأول
دار الرسالة العالمية
সুনান আবি দাউদ
সংকলন
আল-ইমাম আল-হাফিয আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আল-আযদী আস-সিজিস্তানী
২০২ হিজরি - ২৭৫ হিজরি
পাঠ্য যাচাই, বিন্যাস, হাদীস সূত্রায়ন ও টীকা প্রদান করেছেন
শুআইব আল-আরনাউত ও মুহাম্মাদ কামিল কারাহ বাল্লী
প্রথম খণ্ড
দারুর রিসালাতিল আলমিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৩)
مقدمة الناشرالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيد الأولين والآخرين، سيدنا محمدٍ النبي الأمين، وعلى آله وأصحابه أجمعين، وبعد،،
فإنه من تمام فضل الله تعالى ومنّه علينا في هذه المؤسسة العامرة الزاهرة أن يسَّر لنا إخراج هذا السِّفر العظيم، ذلك هو كتاب "السنن للإمام أبي داود سليمان بن الأشعث السِّجستاني رحمه الله تعالى، الذى كان أحد الأئمة الأعلام الذين يُشار إليهم بالبَنان، ويُشاد بفضلهم في كل آن.
وكتابه هذا بحقٍّ أحد الكتب الأمَّات الأصول التِي لا تَزال عمدة أهل العلم لمعرفة السنن النبوية، والآثار المحمدية، تلك الأصول التي لا يستغني عنها كل طالب علم متخصص، أو باحث في مجال الدراسات الشرعية من فقه أو حديت أو غيرهما.
وكما هو دأبنا -بتوفيقٍ من الله تعالي وعونٍ منه- باعتماد الأصول الخطية المتقنة المقروءة في إصدار دواوين السنة المشرفة، فقد قام مكتب التحقيق التابع لمؤسستنا، وعلى رأسه فضيلة الشيخ المحدث شعيب الأرنؤوط حفظه الله، بمقابلة الأصول الخطية لهذا السفر المبارك وضبط نصوصه وتفصيلها، وشرح الأحاديث النبوية وبيان فقهها، وتخريجها من كتب السنة وبيان درجتها، فجزاهم الله خيراً وأجزل لهم المثوبة.
প্রকাশকের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক পূর্বাপর সকলের সরদার, আমাদের নেতা বিশ্বস্ত নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
আল্লাহ তাআলার পূর্ণ অনুগ্রহ ও আমাদের ওপর তাঁর বিশেষ কৃপা যে, তিনি এই সমৃদ্ধ ও প্রস্ফুটিত প্রতিষ্ঠানে আমাদের জন্য এই মহান গ্রন্থটি প্রকাশ করা সহজ করে দিয়েছেন; আর তা হলো ইমাম আবু দাউদ সুলায়মান বিন আশআছ আস-সিজিস্তানি (রাহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আস-সুনান’ গ্রন্থ। তিনি ছিলেন সেই সকল বরেণ্য ইমামদের একজন, যাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের কথা সর্বত্র উচ্চকিত এবং যাঁদের প্রসিদ্ধির কারণে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করা হয়।
নিশ্চয়ই তাঁর এই কিতাবটি সেই মৌলিক উৎস গ্রন্থগুলোর অন্যতম, যা নববী সুন্নাত ও মুহাম্মাদী আদর্শ জানার জন্য আলেমদের নিকট আজও প্রধান অবলম্বন হয়ে আছে। এই মূল উৎসগুলো এমন, যা থেকে কোনো বিশেষজ্ঞ ইলম অন্বেষণকারী কিংবা ফিকহ, হাদিস বা অন্য কোনো শারঈ বিষয়ের গবেষক অমুখাপেক্ষী থাকতে পারেন না।
আল্লাহ তাআলার তাওফিক ও তাঁর সাহায্যে সুন্নাহর কিতাবসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও প্রাচীন পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করা আমাদের নিয়মিত বৈশিষ্ট্য। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের তাহকিক বিভাগ—যার প্রধান হলেন বিশিষ্ট মুহাদ্দিস শায়খ শুয়াইব আল-আরনাউত (হাফিযাহুল্লাহ)—এই বরকতময় গ্রন্থের মূল পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে পাঠ্যসমূহ মিলিয়ে দেখেছেন (মুকাবিলা করেছেন), এর পাঠোদ্ধার ও বিন্যাস করেছেন। এছাড়াও তাঁরা হাদিসসমূহের ব্যাখ্যা, ফিকহী মাসয়ালা বর্ণনা এবং সুন্নাহর অন্যান্য কিতাব হতে সেগুলোর উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) ও মান নির্ধারণ করেছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁদের পুরস্কারকে বহুগুণ বৃদ্ধি করে দিন।
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৪)
ونحن إذ اضطلعنا بأعباء نشر هذه الموسوعة الحديثية، وفِى مقدمَتها ذلك السِّفر السامي "مسند الإمام أحمد" وكتب السنن الأربعة، لنسأله سبحانه وتعالى أن يجعل عملنا هذا مقبولاً مسطوراً في صحائفنا يوم الدِّين، وأن يأخذ بأيدينا لإخراج المزيد من المفيد المانع من كتب أصول أهل السنة والجماعة، إنه تعالي ولي التوفيق والسداد.
ولا يفوتني فِى الختام أن أتقدم بالشكر الجزيل للوالد الكريم الأستاذ رضوان دعبول على ما يتفضل به علينا على الدوام من دعم وتأييد ونصح وإرشاد مما يعيننا على النجاع في تحقيق الآمال. سائلاً الله أن يديمه ذخراً لنا.
كما أسطر الشكر الجزيل للأستاذ الفاضل الشيخ المحب محمد بن ناصر العجمي الذي أتحفنا بأقدم نسخة من النسخ الخطية التي تحصَّلت لدينا، وهي نسخة جامعة برنستن وعدة نسخ أخرى، فحزاه الله خير الجزاء.
والحمد لله في الأولى والآخرة، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
معاذ رضوان دعبول
المديِر العام
আমরা যখন এই হাদীস বিশ্বকোষ প্রকাশের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছি—যার শীর্ষে রয়েছে সেই মহান গ্রন্থ "মুসনাদ ইমাম আহমাদ" এবং সুনানের চারটি কিতাব—তখন আমরা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কবুল করেন এবং কিয়ামতের দিন আমাদের আমলনামায় লিপিবদ্ধ করেন। আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মূলনীতি বিষয়ক আরও বহু কল্যাণকর ও অকাট্য গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি যেন আমাদের হাত ধরে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফিক ও সঠিক পথের দাতা।
পরিশেষে আমি আমার সম্মানিত পিতা উস্তাদ রিদওয়ান দা’বুল-এর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আমাদের ওপর সর্বদা যে সমর্থন, সহায়তা, উপদেশ ও দিকনির্দেশনার অনুগ্রহ করে যাচ্ছেন, তা আমাদের স্বপ্ন পূরণে সফল হতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাকে আমাদের জন্য পরম সম্পদ হিসেবে দীর্ঘজীবী করেন।
সেই সঙ্গে আমি ফযীলতসম্পন্ন উস্তাদ ও স্নেহাস্পদ শাইখ মুহাম্মদ বিন নাসির আল-আজমীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যিনি আমাদের কাছে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন। সেটি হলো প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির পাণ্ডুলিপি এবং আরও কিছু পাণ্ডুলিপি। আল্লাহ তাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
আর শুরুতে ও শেষে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য; তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
মুয়ায রিদওয়ান দা’বুল
মহাপরিচালক
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
ترجمة الإمام أبي داود السجستاني*
اسمه ونسبه ومولده وبلده:هو الإمامُ، شيخ السنة، مقدَّمُ الحفاظ، أبو داود سليمانُ بنُ الأشعث بن إسحاق بن بَشير بنِ شداد، هكذا نسبه تلميذاه ابنُ داسة وأبو عُبيد الآجري -وزاد في نسبته ابن حبان والخطيب البغدادي وابن ماكولا، والسمعاني وأبو طاهر السِّلَفي والحازمي، وابن خلكان والقاسم التُّجيبي، والتاج السبكي وابنُ تغري بردي- ابن عَمرو بن عِمران، الأزدي السجستاني
(1).
وقال ابنُ أبي حاتم: سليمان بن الأشعث بن شداد بن عمرو بن عامر
(2).
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইমাম আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির জীবনী*
তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম ও জন্মভূমি:তিনি হলেন ইমাম, শাইখুস সুন্নাহ, হাফেজদের অগ্রগণ্য, আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির ইবনে শাদ্দাদ। তাঁর দুই ছাত্র ইবনে দাসা এবং আবু উবাইদ আল-আজুরি তাঁর বংশলতিকা এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে হিব্বান, খতিব বাগদাদি, ইবনে মাকুলা, সামআনি, আবু তাহির আস-সিলাফি, হাযিমি, ইবনে খাল্লিকান, কাসিম তুজিবি, তাজ সুবকি এবং ইবনে তাগরি বারদি তাঁর বংশলতিকায় বর্ধিত করে উল্লেখ করেছেন—ইবনে আমর ইবনে ইমরান, আল-আযদি আস-সিজিস্তানি
(১)।
ইবনে আবি হাতিম বলেছেন: সুলাইমান ইবনুল আশআস ইবনে শাদ্দাদ ইবনে আমর ইবনে আমির
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৬)
وقال محمدُ بن عبد العزيز الهاشمي: سليمان بن الأشعث بن بِشر بن شداد
(1).
والأزدي: نسبة إلى الأزد بنِ الغَوْثِ بنِ نَبْتِ بنِ مالك بنِ زيد بن كَهْلانَ بن سَبَأ بنِ يَشجُب بن يَعرُب بن قَحطان، وهو أبو قبيلة باليمن
(2).
والسِّجِسْتانيُّ: نسبةٌ إلى سِجِسْتان، بكسر السين المهملةِ والجيم، وسكونِ السين الأخرى، بعدها تاء منقوطة بنقطتين من فوق: وهو إقليمٌ يقع الآن تقريباً في الجنوب والجنوبِ الغربي لأفغانستان، ويَمتد إلى بعض مناطِق إيران الشرقيةِ إلى الجنوبِ منها، يدخل فيه دلتا نهر هلمند وغيره من الأنهار الكثيرة المنحدرة من جبال أفغانستان الشاهقة فوق كابل وغَزْنة إلى الجنوب الغربي، وفي هذا الموضع مدينة قندهار
(3).
ويُسمى هذا الإقليمُ أيضاً سِيستان، ويعودُ ذلك إلى تسميته الفارسية: سكستان، ويُعرف الآنَ باسمِ سِيستان، ويقال لها بالفارسيةِ: نِيْمَروز أيضاً، ومعناه نصف يومٍ، أو الأرض الجنوبية، ويقال: إن هذا الإقليم إنما سُمي بذلك لوقوعه في جنوبِ خراسان
(4).
--------------------------------------------
মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-হাশিমি বলেন: সুলাইমান বিন আল-আশআদ বিন বিশর বিন শাদ্দাদ
(১)।
আর আল-আযদি: এটি আযদি বিন আল-গাউস বিন নাবত বিন মালিক বিন যায়িদ বিন কাহলান বিন সাবা বিন ইয়াশজুব বিন ইয়ারুব বিন কাহতানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, আর তিনি ইয়ামেনের একটি গোত্রের আদি পিতা
(২)।
আর আস-সিজিস্তানি: এটি সিজিস্তানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা সিন এবং জিম বর্ণে কাসরা (জের) এবং পরবর্তী সিনে সুকুনসহ গঠিত, এরপর উপরে দুই নুক্তাবিশিষ্ট তা রয়েছে: এটি এমন একটি অঞ্চল যা বর্তমানে প্রায় আফগানিস্তানের দক্ষিণে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এবং এটি ইরানের কিছু পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে শুরু করে তার দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মধ্যে হেলমান্দ নদীর বদ্বীপ এবং কাবুল ও গজনির উপরে আফগানিস্তানের সুউচ্চ পাহাড় থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রবাহিত অন্যান্য অনেক নদী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই স্থানেই কান্দাহার শহর অবস্থিত
(৩)।
এই অঞ্চলটিকে সিস্তানও বলা হয়, যা এর ফারসি নাম ‘সাকস্তান’ থেকে উদ্ভূত এবং বর্তমানে এটি সিস্তান নামেই পরিচিত। ফারসি ভাষায় একে ‘নিমরুজ’-ও বলা হয়, যার অর্থ হলো অর্ধেক দিন অথবা দক্ষিণের ভূমি। বলা হয়ে থাকে যে, এই অঞ্চলটি খোরাসানের দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণেই একে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৭)
والنسبة إليه أيضاً: سِجْزي، قال الحافظ الذهبي: وهكذا يَنْسِبُ أبو عوانة الإسفراييني أبا داود - يعني المُصنِّف-، فيقول: السِّجزي، وإليها يُنسَبُ مُسنِدُ الوقت أبو الوقت السِّجزي
(1).
وقد اختُلِفَ في السنة التي فُتحت فيها سجستانُ، فذكر سيفُ بنُ عمر في "الفتوح" أن فتحها كان سنَة ثمانَ عشرة في عهدِ أميرِ المؤمنين عُمَرَ بنِ الخطاب رضي الله عنه، وتولى فتحَها عاصمُ بن عمرو التميمي وعبدُ الله بنُ عمير الأشجعي
(2).
أما خليفةُ بنُ خياط والبلاذُريُّ، وتبعهم ابنُ حبان وابنُ حزمٍ، فذهبا إلى أنَّ فتحها كان في عهدِ أمير المؤمنينَ عثمانَ بنِ عفان رضي الله عنه، وتولَّى فتحها الربيعُ بنُ زياد الحارثي. وعليه اقتصر الحافظ الذهبي في "دول الإسلام"
(3).
ويُجمع بينَ القولين أن ابتداء فتح سجستانَ كان زمن عمر بن الخطاب، واستمرت الحروب حتى استُكْمِلَ فَتْحُها سنةَ ثلاثين في عهد عثمان بن عفان، ذلك أنَّ إقليمَ سجستان كان أعظم من خراسان وأكبر مساحة وأصعَب الإقليمين وُعورة. فقد أورد الذهبي في حوادث سنة ثلاث وعشرين افتتاح سجستان ثم ذكر في سنةِ ثلاثين أن ابنَ عامرٍ
--------------------------------------------
এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে 'সিজজি'-ও বলা হয়; হাফেজ আজ-জাহাবি বলেছেন: এভাবেই আবু আওয়ানা আল-ইসফারায়িনি আবু দাউদকে—অর্থাৎ গ্রন্থকারকে—নিসবত বা সম্বন্ধ করেছেন, তিনি বলেন: আস-সিজজি। এবং তাঁর (সিজিস্তানের) দিকেই সমকালীন সময়ের মুসনিদ আবু আল-ওয়াক্ত আস-সিজজিকে সম্বন্ধ করা হয়
(১).
সিজিস্তান কোন সালে বিজিত হয়েছিল সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। সাইফ ইবনে উমর 'আল-ফুতুহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এর বিজয় হিজরি আঠারো সনে আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে হয়েছিল। এবং এর বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আসিম বিন আমর আত-তামিমি এবং আব্দুল্লাহ বিন উমায়ের আল-আশজায়ি
(২).
পক্ষান্তরে খলিফা ইবনে খাইয়াত ও আল-বালাজুরি, এবং তাঁদের অনুসরণে ইবনে হিব্বান ও ইবনে হাজম মনে করেন যে, এর বিজয় আমিরুল মুমিনিন উসমান ইবনে আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে হয়েছিল এবং এর বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আল-রাবি ইবনে জিয়াদ আল-হারিসি। হাফেজ আজ-জাহাবি 'দুওয়ালুল ইসলাম' গ্রন্থে কেবল এরই ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন
(৩).
উভয় মতের মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা যায় যে, সিজিস্তান বিজয়ের সূচনা হয়েছিল উমর ইবনুল খাত্তাবের সময়ে এবং যুদ্ধ অব্যাহত থাকে যতক্ষণ না হিজরি ত্রিশ সনে উসমান ইবনে আফফানের যুগে এর বিজয় পূর্ণতা লাভ করে। কারণ সিজিস্তান প্রদেশটি ছিল খোরাসানের চেয়ে অধিক মহৎ, আয়তনে বড় এবং উভয় অঞ্চলের মধ্যে অধিক দুর্গম। আল-জাহাবি হিজরি তেইশ সনের ঘটনাবলিতে সিজিস্তান বিজয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, পুনরায় ত্রিশ সনে উল্লেখ করেছেন যে ইবনে আমির...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৮)
وجَّة زيادَ بنَ الربيع إلى سِجستان، فافتتح زالِق وشرواذ وناشروذ، ثم صالح أهلَ مدينة زرنج
(1).
ويرى ابنُ الأثير أن فتح سجستان قد تم أيام عمر بن الخطاب، إلا أن أهلها نقضوا العهد بعده، فأعاد فتحها الربيع بن زياد الحارثي في زمن عثمان بن عفان سنة إحدى وثلاثين
(2). فبيّنَ أن تكرار فتحها كان نتيجةَ نقض أهلها العهد، والله تعالى أعلم.
وُلِدَ الإمامُ أبو داود فيما قاله هو عن نفسه سنَة اثنتين ومئتين
(3). وكانت ولادتُه بسجستان
(4).
وهو كما سلف عربي مِن قبيلة الأزد اليمنية، وإنما انتهى أحدُ أجدادِه إلى تلك البلاد أيامَ الفتح الإسلامي فاستقر هناك، وكان المسلمون في القرون الثلاثة المشهود لها بالخيرية على لسان خير البرية يرون أن الجهاد في سبيل الله فرض حتمي لنشر الإسلام وتعميمه في كافة الأقطار، فكانوا يستقرون في البلاد التي يفتحونها، ويتخذونها وطناً دائماً، ويصاهرون أهلها، ويقضون حياتهم في الدعوة إلى الله وتعليم من دخل في الإسلام منهم العربية والقرآن والسنة، وكانوا إلى
--------------------------------------------
যিয়াদ বিন রাবিকে সিজিস্তানে পাঠানো হলো, ফলে তিনি যালিক, শারওয়ায এবং নাশরওয়ায জয় করলেন, এরপর তিনি যারাঞ্জ শহরের অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করলেন
(১)。
ইবনুল আসীর মনে করেন যে, সিজিস্তান বিজয় উমর ইবনুল খাত্তাবের যুগে সম্পন্ন হয়েছিল, তবে সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর পরে চুক্তি ভঙ্গ করে। ফলে রাবি বিন যিয়াদ আল-হারিসি উসমান বিন আফফানের যুগে একত্রিশ হিজরি সনে তা পুনরায় বিজয় করেন
(২)। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি পুনরায় বিজয়ের কারণ ছিল সেখানকার অধিবাসীদের চুক্তি ভঙ্গ করা। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
ইমাম আবু দাউদ নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন সেই অনুযায়ী তিনি দুই শত দুই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন
(৩)। তাঁর জন্ম হয়েছিল সিজিস্তানে
(৪)।
পূর্বেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি ইয়ামানি আযদ গোত্রের একজন আরব ছিলেন। মূলত ইসলামী বিজয়ের যুগে তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষ সেই অঞ্চলে গিয়েছিলেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সৃষ্টির সেরা মানবের (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্যপ্রাপ্ত প্রথম তিন প্রজন্মের মুসলমানরা মনে করতেন যে, আল্লাহর পথে জিহাদ করা হলো সমস্ত ভূখণ্ডে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের জন্য একটি অপরিহার্য আবশ্যকতা। ফলে তাঁরা যেসব দেশ জয় করতেন সেখানেই অবস্থান করতেন, সেগুলোকে স্থায়ী আবাসভূমি হিসেবে গ্রহণ করতেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। তাঁরা তাঁদের জীবন আল্লাহর পথে দাওয়াত দেওয়া এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করত তাদেরকে আরবি ভাষা, কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষাদানের মাধ্যমে অতিবাহিত করতেন। তাঁরা ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ৯)
جانب ذلك يتولون حماية الثغور لصدِّ أي هجوم مِن قبل العدو في البلاد المتاخمة، حماية لحدود دولةِ الإسلام من أن تُخْتَرَقَ مِن جهتهم، وكانت سجستان إحدى تلك الثغور.
عصره، وسيرته العلمية، ورحلته وشيوخه:نشأ الإمامُ أبو داود وعاش في عصرٍ زاخرٍ بأهلِ العلم في مختلِف التخصصات، لا سيما في علم الحديث والرواية الذي بلغ أوجَه في القرن الثالث الهجري. فكان فيه عددٌ كبير من الحفاظِ الكبارِ الذين سجَّل لنا التاريخُ مآثِرهم، وحَفِظَتْ لنا الدواوينُ التي صنَّفوها مروياتِهم، وامتلأت الخزانة الإسلامية في ذلك القرن بالمصنفاتِ الجليلةِ التي لا يستغني عنها طالب علم البتة.
وقد شاعت آنذاك الرِّحْلَةُ في طلبِ العلم، فقلما تَجِدُ طالبَ علم إلا ويتركُ وطنَه ومسقِط رأسه، ليرحل إلى مختلِفِ الأقطارِ الإسلامية التي كانت حَوَاضر للعلم والعلماء رغبةً في الالتقاء بأهل العلم الكبار الذين عُرفوا بحفظ الحديث وروايته، يختلف إلى مجالسهم، للأخذ عنهم والإفادة منهم، واستنزاف ما صح عندهم من الرواية.
فكان أمثالُ الأئمة أحمد بن حنبل (ت: 241 هـ) ويحيى بن معين (ت: 233 هـ) وابن أبي شيبة (ت: 235 هـ) وابن راهويه (ت: 238 هـ) وأبي حاتم (ت: 250 هـ) وأبي زرعة (ت: 264 هـ) الرّازيين، والبخاري (ت: 256 هـ)، والذهلي (ت: 258 هـ) ومسلم (ت: 261 هـ) إلى غير هؤلاء الذين كانوا مهوى أفئدةِ طلبةِ العلم ومقصدَهم.
পাশাপাশি তারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শত্রুদের পক্ষ থেকে আসা যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করতেন, যাতে তাদের দিক থেকে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা লঙ্ঘিত না হয়; আর সিজিস্তান ছিল সেই সীমান্তগুলোর অন্যতম।
তাঁর যুগ, ইলমি জীবন, তাঁর সফর এবং শিক্ষকবৃন্দ:ইমাম আবু দাউদ এমন এক সমৃদ্ধ যুগে লালিত-পালিত হন এবং বসবাস করেন যা বিভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আলেমদের দ্বারা পরিপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে ইলমে হাদিস ও রেওয়ায়াতের ক্ষেত্রে, যা হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে পূর্ণতা ও শিখরে পৌঁছেছিল। সেই সময়ে অসংখ্য মহান হাফেজ ও হাদিস বিশারদ বিদ্যমান ছিলেন যাদের কীর্তিগাথা ইতিহাস আমাদের জন্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছে এবং তাদের সংকলিত গ্রন্থসমূহ তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোকে আমাদের জন্য সংরক্ষণ করেছে। আর সেই শতাব্দীতে ইসলামি জ্ঞানভাণ্ডার এমন সব মহান ও মূল্যবান গ্রন্থাবলীতে সমৃদ্ধ হয়েছিল, যা ব্যতিরেকে কোনো তালিবে ইলম বা জ্ঞান অন্বেষীর পক্ষে চলা একেবারেই অসম্ভব।
তৎকালীন সময়ে জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে দেশ-বিদেশে সফর করা ছিল একটি প্রচলিত রীতি, তাই আপনি খুব কমই এমন কোনো তালিবে ইলম খুঁজে পাবেন যে তার স্বদেশ ও জন্মভূমি ত্যাগ করে বিভিন্ন ইসলামি জনপদে সফর করেনি। এসব জনপদ ছিল জ্ঞান ও ওলামায়ে কেরামের প্রাণকেন্দ্র। মূলত হাদিস মুখস্থ রাখা এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ বড় বড় আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করা, তাদের মজলিসে উপস্থিত হয়ে তাদের থেকে ইলম শিক্ষা ও ফায়দা হাসিল করা এবং তাদের কাছে বিদ্যমান বিশুদ্ধ রেওয়ায়াতসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গ্রহণ করার আকাঙ্ক্ষাই তাদের এই সফরে উদ্বুদ্ধ করত।
ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (মৃত: ২৪১ হি.), ইয়াহইয়া বিন মাঈন (মৃত: ২৩৩ হি.), ইবনে আবি শায়বাহ (মৃত: ২৩৫ হি.), ইবনে রাহওয়াইহ (মৃত: ২৩৮ হি.), আবু হাতেম (মৃত: ২৫০ হি.) ও আবু যুরআহ (মৃত: ২৬৪ হি.) আর-রাজিদ্বয়, বুখারি (মৃত: ২৫৬ হি.), যুহলি (মৃত: ২৫৮ হি.) এবং মুসলিম (মৃত: ২৬১ হি.) সহ আরও অনেকে ছিলেন সেই যুগের তালিবে ইলমদের হৃদয়ের আকর্ষণ ও গন্তব্যস্থল।
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১০)
وقد كان الإمامُ أبو داود مِن أولئك الذي آثَرُوا الرِّحْلَةَ في طلب العلم على البقاء في الأوطان، فبعد أن تلقَّى مبادئ العلوم في سِنٍّ مبكرة، وكتبَ الحديثَ في بلده سجستان والمناطق المجاورة، امتدت أنظارُه إلى عاصمة الدولةِ الإسلامية آنذاك بغداد، حيث كانت مِن حواضر العلم، وبالرغم من بُعد الشُّقة والمسافاتِ الشاسعةِ رَحَلَ إليها وهو في مقتبل عُمره لم يجاوز الثامنة عشرة، فقد أخبر عن نفسه أنه وصل بغداد سنة عشرين ومئتين
(1).
قال أبو عبد الله الحاكمُ: أبو داود إمامُ أهلِ الحديث في عصره بلا مُدافَعَةٍ: سماعه بمصر والحجاز والشام والعِرَاقَيْنِ وخراسان، وقد كتب بخراسانَ قبلَ خروجه إلى العراق في بلدهِ وهَراة، وكتب ببَغْلان عن قُتيبة (هو ابن سعيد)، وبالري عن إبراهيمَ بنِ موسى
… وقد كان كتب قديماً بنَيسابور
(2).
وقال الحافظ المزي: وكان أبو داود أحد من رحَلَ وطوَّف، وجمع وصنف، وكتب عن العراقيين والخراسانيين، والشاميين والمصريين، والجزريين والحجازيين وغيرهم
(3).
وقال الحافظ الذهبي تعليقاً على قولِ أبي داود: ودخلت البصرةَ وهم يقولون: أمسِ مات عثمانُ بنُ الهيثم المؤذن، فسمعتُ مِن أبي
--------------------------------------------
ইমাম আবু দাউদ ছিলেন তাঁদেরই একজন যারা স্বদেশে অবস্থানের পরিবর্তে ইলম অন্বেষণে সফর করাকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। শৈশব থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা লাভ এবং স্বীয় দেশ সিজিস্তান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ থেকে হাদীস সংগ্রহের পর তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় তৎকালীন ইসলামী রাষ্ট্রের রাজধানী বাগদাদের দিকে, যা ছিল ইলমের অন্যতম কেন্দ্র। দীর্ঘ পথ ও বিশাল দূরত্ব সত্ত্বেও তিনি তাঁর প্রাথমিক যৌবনেই সেখানে পাড়ি জমান, যখন তাঁর বয়স আঠারো বছরও পার হয়নি। তিনি নিজেই জানিয়েছেন যে, তিনি ২২০ হিজরি সালে বাগদাদে পৌঁছেছিলেন
(১)।
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম বলেন: আবু দাউদ ছিলেন কোনো বিতর্ক ছাড়াই তাঁর যুগের আহলে হাদীসদের ইমাম। তিনি মিশর, হিজাজ, সিরিয়া, দুই ইরাক এবং খুরাসানে হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি ইরাকের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে নিজ দেশ এবং হারাত শহরে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাগলাানে কুতাইবা (তিনি হলেন ইবনে সাঈদ) থেকে এবং রাই শহরে ইবরাহীম ইবনে মুসা থেকে হাদীস লিখেছিলেন... এবং তিনি ইতিপূর্বে নিশাপুরেও হাদীস লিখেছিলেন
(২)।
হাফেজ আল-মিযযী বলেন: আবু দাউদ ছিলেন তাঁদের একজন যারা সফর করেছেন ও দেশ-দেশান্তরে ঘুরেছেন, হাদীস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন এবং ইরাকি, খুরাসানি, শামি, মিশরি, জাজিরি, হিজাজি ও অন্যান্যদের থেকে হাদীস লিখেছিলেন
(৩)।
হাফেজ আয-যাহাবী, আবু দাউদের এই উক্তির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "আমি বসরায় প্রবেশ করলাম তখন লোকেরা বলছিল: গতকালই মুয়াযযিন উসমান ইবনুল হাইসাম ইন্তেকাল করেছেন, অতঃপর আমি আবু..." থেকে শুনলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১১)
عمر الضرير مجلساً واحداً، فقال الذهبي: مات في شعبان سنةَ عشرين ومات عثمان قبله بشهر
(1).
ثم قال الذهبيُّ: وسمع بمكةَ مِن القعنبي وسليمانَ بنِ حرب وجماعةِ بمكة سنةَ عشرين أيام الحج.
وسمع مِن مُسْلِمِ بن إبراهيم، وعبدِ الله بنِ رجاء، وأبي الوليد الطيالسي، وموسى بن إسماعيل، وطبقتِهم بالبصرة.
ثم سمع بالكوفة مِن الحسنِ بنِ الربيع البُوراني وأحمدَ بنِ يونس اليربوعي وطائفة، وسمع من أبي توبة الربيع بنِ نافع بحلب، ومن أبي جعفر النُّفيليِّ وأحمد بنِ أبي شعيب وعدة بحرَّان، ومن حيوة بنِ شُريح ويزيدَ بنِ عبد ربه وخلقٍ بحمص، ومِن صفوانَ بنِ صالح وهشام بنِ عمار بدمشق، ومن إسحاق بن راهويه وطبقته بخُراسان، ومن أحمد بن حنبل وطبقته ببغداد، ومن قتيبة بن سعيد ببلْخ، ومن أحمدَ بنِ صالح وخلقٍ بمصر
(2).
ومِنْ أهم شيوخه الذين لقيهم، وأخذ عنهم علم الحديث الإمام أحمد بن حنبل ويحيى بنُ معين كما يقول الحافظ المزي
(3)، وإليك ترجمتَهما مختصرة، فأما الإمام أحمد، فهو:
أ- الإمامُ الحافظُ، شيخُ الإسلام أبو عبد الله أحمدُ بنُ محمد بن حنبل بنِ هلال بنِ أسد الذُّهلي الشيبانيُّ، روى عنه البخاري ومسلم،
--------------------------------------------
উমর আদ-দারীরের একটি মজলিস পেয়েছিলেন। আয-যাহাবী বলেন: তিনি দুইশত বিশ হিজরীর শাবান মাসে মৃত্যুবরণ করেন এবং উসমান তাঁর এক মাস পূর্বে মারা যান
(১)।
অতঃপর আয-যাহাবী বলেন: তিনি দুইশত বিশ হিজরীর হজের দিনগুলোতে মক্কায় আল-কা'নাবী, সুলাইমান ইবন হারব এবং মক্কার একদল আলিমের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
আর তিনি বসরায় মুসলিম ইবন ইবরাহিম, আব্দুল্লাহ ইবন রাজা, আবু আল-ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি, মুসা ইবন ইসমাইল এবং তাদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন।
অতঃপর তিনি কুফায় হাসান ইবন আর-রাবি আল-বুরানি, আহমাদ ইবন ইউনুস আল-ইয়ারবুয়ি এবং একদল আলিমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তিনি হালাবে আবু তাওবা আর-রাবি ইবন নাফি, হাররানে আবু জাফর আন-নুফাইলি, আহমাদ ইবন আবু শুয়াইব এবং আরও অনেকের নিকট থেকে, হিমসে হাইওয়াহ ইবন শুরাইহ, ইয়াযিদ ইবন আবদে রাব্বিহি এবং বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে, দামেস্কে সাফওয়ান ইবন সালিহ এবং হিশাম ইবন আম্মার এর নিকট থেকে, খুরাসানে ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ এবং তাঁর সমপর্যায়ের আলিমদের নিকট থেকে, বাগদাদে আহমাদ ইবন হাম্বল এবং তাঁর সমপর্যায়ের আলিমদের নিকট থেকে, বালখে কুতাইবা ইবন সাঈদ এর নিকট থেকে এবং মিশরে আহমাদ ইবন সালিহ ও বহু সংখ্যক লোকের নিকট থেকে শ্রবণ করেন
(২)।
হাফেজ আল-মিযযি যেমনটি বলেছেন, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষকদের মধ্যে যাদের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন এবং যাদের নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্র গ্রহণ করেছেন তাঁরা হলেন ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া ইবন মাঈন
(৩)। এখানে তাঁদের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলো। ইমাম আহমাদ হলেন:
ক- ইমাম, হাফেজ, শাইখুল ইসলাম আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল ইবন হিলাল ইবন আসাদ আদ-ধুহলি আশ-শায়বানি, যাঁর থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১২)
وكان يحفظ ألف ألف حديث، قال عنه الشافعي: خرجتُ من بغداد، فما خلفتُ بها رجلاً أفضلَ ولا أعلم ولا أفقه مِن أحمد بن حنبل.
وقال أبو عبيد: انتهى العلمُ إلى أربعة أفقهُهُم أحمد، وقال أبو ثور: أحمد أعلمُ -أو قال: أفقه- من الثوري، توفي سنة إحدى وأربعين ومئتين، وله سبع وسبعون سنة
(1).
وقد دون أبو داود عنه مسائلَ في كتاب يشتمل على الفقه والحديث والرجال، سنأتي على وصفه إن شاء الله تعالى.
2 - الإمام الحافظ العَلَم أبو زكريا يحيى بنُ مَعين المُرِّي مولاهم البغدادي، شيخ البخاري ومسلم، كتب بيديه ألفَ ألفِ حديث، وقال ابنُ المديني: انتهى علمُ الناسِ إلى يحيى بن معين، وقال أحمد بن حنبل: يحيى بن معين أعلمنا بالرجال، توفي سنة ثلاث وثلاثين ومئتين في المدينة المنورة
(2).
ومن أشهر شيوخه في الرواية الذين أكثر عنهم الرواية ودوَّن ذلك في كتابه "السنن":
1 - عبدُ الله بن مسلمة بن قعنب القعنَبيُّ البصري الإمام الثبت القدوة، روى عنه البخاري ومسلم والذهلي. قال أبو زرعة: ما كتبتُ عن أحدٍ أجلَّ في عيني مِن القعنبي، وقال أبو حاتِم الرازي: ثقة حجة
--------------------------------------------
তিনি দশ লক্ষ হাদীস মুখস্থ রাখতেন। শাফেয়ী তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমি বাগদাদ ত্যাগ করেছি, এমতাবস্থায় সেখানে আহমদ ইবনে হাম্বল অপেক্ষা উত্তম, অধিক জ্ঞানী বা অধিক বিজ্ঞ কোনো ব্যক্তি রেখে আসিনি।
আবু উবাইদ বলেছেন: ইলম চারজনে গিয়ে শেষ হয়েছে, যাদের মধ্যে আহমদ সবচেয়ে বড় ফকীহ। আবু সাওর বলেছেন: আহমদ সাওরী অপেক্ষা অধিক জ্ঞানী—অথবা তিনি বলেছিলেন: অধিক ফকীহ। তিনি দুইশত একচল্লিশ হিজরি সালে সাতাত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন
(১)।
আবু দাউদ তাঁর নিকট থেকে মাসআলাসমূহ একটি কিতাবে সংকলন করেছেন যা ফিকহ, হাদীস এবং রিজাল (বর্ণনাকারী শাস্ত্র) অন্তর্ভুক্ত করে; ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা অচিরেই এর বর্ণনায় আসব।
২ - ইমাম, হাফিজ ও প্রখ্যাত আলেম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন আল-মুররী মাওলাহুম আল-বাগদাদী; তিনি বুখারী ও মুসলিমের শাইখ (উস্তাদ)। তিনি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। ইবনুল মাদীনী বলেন: মানুষের ইলম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনে গিয়ে শেষ হয়েছে। আহমদ ইবনে হাম্বল বলেন: ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রিজাল শাস্ত্র সম্পর্কে আমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি অবগত। তিনি দুইশত তেত্রিশ হিজরি সালে মদীনাতুল মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সেই সকল প্রসিদ্ধ উস্তাদগণের মধ্যে যাদের থেকে তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন এবং তা তাঁর "আস-সুনান" গ্রন্থে সংকলন করেছেন:
১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ ইবনে কানাব আল-কানাবী আল-বাসরী; তিনি নির্ভরযোগ্য ইমাম ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব। তাঁর থেকে বুখারী, মুসলিম এবং যুহলী বর্ণনা করেছেন। আবু যুরআহ বলেন: আমার চোখে কানাবী অপেক্ষা অধিক মহান আর কারো নিকট থেকে আমি হাদীস লিখিনি। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও দলিলস্বরূপ (সিকাহ ও হুজ্জাহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لم أر أخشع منه. وقدَّمه الخريبي على مالك. توفي سنة إحدى وعشرين ومئتين
(1). وقد روى عنه أبو داود في" السنن" ثلاثة عشر وثلاث مئة حديثٍ تقريباً.
2 - مُسدَّد بن مُسَرْهَد بن مُسَرْبَل الأسدي البصري، الإمامُ الحافظُ الحجةُ، روى عنه البخاري والذهلي وأبو حاتِم وأبو زرعة الرازيان، وقال أبو زرعة: قال لي أحمدُ بن حنبل: مسدّد صدوق، فما كتبتَه عنه فلا تَعْدُه، ووثقه أبو حاتم والنسائي وابن معين. توفي سنة ثمان وعشرين ومئتين
(2). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" واحداً وأربعين وخمس مئة حديث تقريباً.
3 - الحسنُ بنُ علي بن محمد الهُذَلي الخَلاّل الحُلْواني (وحُلْوان: بلدة مما يلي الجبال ببغداد) نزيل مكة والمجاور بها، الامام الحافظ الصدوق، روى عنه البخاري ومسلم، وثقه النسائي يعقوب بنُ شيبة والخطيب، وقال الخليلي: كان يُشبَّه بأحمدَ في سَمْتِه وديانته، توفي سنة اثنتين وأربعين ومئتين
(3). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" تسعة وعشرين ومئة حديث تقريباً.
--------------------------------------------
আমি তাঁর চেয়ে অধিক বিনয়ী কাউকে দেখিনি। আল-খুরাইবি তাঁকে ইমাম মালিকের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। তিনি দুইশত একুশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(১)। আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় তিনশত তেরোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
২ - মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ বিন মুসারবাল আল-আসাদি আল-বাসরি, ইমাম, হাফেজ ও হুজ্জাহ (প্রমাণ)। তাঁর থেকে বুখারি, জুহলি এবং আবু হাতিম ও আবু জুরআহ আর-রাজিদ্বয় বর্ণনা করেছেন। আবু জুরআহ বলেন: আহমাদ বিন হাম্বল আমাকে বলেছেন: "মুসাদ্দাদ অত্যন্ত সত্যবাদী, সুতরাং তাঁর থেকে যা লিখেছ তা অতিক্রম করো না (অর্থাৎ তা যথেষ্ট)।" আবু হাতিম, নাসায়ি এবং ইবনে মাইন তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি দুইশত আটাশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(২)। আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় পাঁচশত একচল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৩ - আল-হাসান বিন আলি বিন মুহাম্মদ আল-হুজালি আল-খাল্লাল আল-হুলওয়ানি (হুলওয়ান: বাগদাদের পাহাড় সংলগ্ন একটি জনপদ), মক্কায় অবস্থানকারী ও সেখানকার প্রতিবেশী; ইমাম, হাফেজ ও সত্যবাদী। তাঁর থেকে বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন। নাসায়ি, ইয়াকুব বিন শাইবাহ এবং আল-খাতিব তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আল-খালিলে বলেন: তিনি তাঁর চালচলন ও ধর্মভীরুতায় আহমাদ বিন হাম্বলের সদৃশ ছিলেন। তিনি দুইশত বিয়াল্লিশ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন
(৩)। আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় একশত ঊনত্রিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
4 - قتيبة بن سعيد بن جميل الثقفي مولاهم البلخي (وبلخ من أجل مدن أفغانستان في الشمال منها)، المحدِّثُ الإمامُ الثقةُ، راويةُ الإسلامِ، روى عنه أحمد وابن معين والبخاري ومسلم، وثقه أبو حاتم والنسائي وابنُ معين، وقال أحمدُ بنُ سيار المروزي: كان صاحبَ سنةٍ وجماعةٍ، توفي سنة أربعين ومئتين
(1). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" واحداً وثمانين ومئة حديث تقريباً.
5 - سعيدُ بنُ منصور بنِ شُعبة الخراساني، ثم البلخي المجاور بمكة، الإمام الحافظُ، شيخُ الحرم، روى عنه مسلمٌ وأحمد بن حنبل حدَّث عنه وهو حيٌّ، وثقه أبو حاتم وابنُ خراش وابنُ نمير وابنُ سعد ومحمدُ بنُ عبد الرحيم صاعقة، وفخّم أحمدُ بنُ حنبل أمرَه، وقال حربُ بنُ إسماعيل: أملى علينا نحواً مِن عشرة آلاف حديث مِن حفظه. ثم صنف بعد ذلك الكتب. توفي سنة سبع وعشرين ومئتين على الصحيح
(2). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" ستة وأربعين حديثاً تقريباً.
6 - هنادُ بنُ السَّرِيِّ بنِ مُصعبٍ الدارمي الكُوفي، الإمامُ الحجةُ القدوةُ، روى عنه البخاري في "خلق أفعال العباد" ومسلم وبقية الأربعة، وثقه النسائي، وكان أحمد بنُ حنبل يأمر بالكتابة عنه، وكان
--------------------------------------------
৪ - কুতাইবা ইবনে সাঈদ ইবনে জামিল আস-সাকাফি, তাঁদের মুক্তদাস, আল-বালখি (বালখ হলো আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম প্রধান শহর), মুহাদ্দিস, ইমাম, বিশ্বস্ত (সিক্বাহ), ইসলামের বর্ণনাকারী; আহমাদ, ইবনে মাঈন, বুখারী ও মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম, নাসায়ী ও ইবনে মাঈন তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন। আহমাদ ইবনে সাইয়্যার আল-মারওয়াযি বলেছেন: তিনি সুন্নাহ ও জামাতের অনুসারী ছিলেন। তিনি ২৪০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। আবু দাউদ তাঁর থেকে 'সুনান'-এ প্রায় একশত একাশিটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৫ - সাঈদ ইবনে মনসুর ইবনে শু'বাহ আল-খুরাসানি, অতঃপর বালখি, মক্কায় অবস্থানকারী, ইমাম, হাফেজ, হারামের শাইখ; মুসলিম তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর জীবিত থাকাকালেই তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম, ইবনে খিরাশ, ইবনে নুমাইর, ইবনে সাদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহিম সা-ইক্বাহ তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন। আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং প্রশংসা করতেন। হারব ইবনে ইসমাইল বলেছেন: তিনি তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে আমাদের নিকট প্রায় দশ হাজার হাদিস বর্ণনা করেছেন (ইমলা করিয়েছেন)। এরপর তিনি কিতাবসমূহ সংকলন করেন। বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি ২২৭ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)। আবু দাউদ তাঁর থেকে 'সুনান'-এ প্রায় ছেচল্লিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
৬ - হান্নাদ ইবনে আস-সারী ইবনে মুসআব আদ-দারিমি আল-কুফি, ইমাম, হুজ্জাহ (প্রমাণ), আদর্শ ব্যক্তিত্ব; বুখারী 'খালকু আফ'আলিল ইবাদ'-এ, মুসলিম এবং বাকি চারজন সুনান গ্রন্থকার তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী তাঁকে বিশ্বস্ত বলেছেন। আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর থেকে (হাদিস) লিখতে আদেশ করতেন, আর তিনি ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وكيعٌ يُعظّمه. توفي سنة ثلاث وأربعين ومئتين
(1). وقد روى عنه في "السنن" ستة وستين حديثاً تقريباً.
7 - محمدُ بنُ العلاء بن كُرَيْبٍ، أبو كريب الهَمْدَاني الكُوفي، الحافظُ الثقةُ الإمامُ، روى عنه الجماعةُ، والذهلي وأبو زرعة وأبو حاتم، قال محمد بنُ عبدِ الله بن نُمير: ما بالعراق أكثرُ حديثاً من أبي كريب ولا أعرَفُ بحديث بلدنا منه، وقال أبو العباس ابنُ عُقدة: ظهر لأبي كريب بالكوفة ثلاث مئة ألف حديث. توفي سنة ثمان وأربعين ومئتين
(2). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" سبعةً وسبعينَ حديثاً تقريباً.
8 - محمد بن كثيرٍ العبدي البصري، الحافظُ الثقةُ، قال الحافظ الذهبي: كان صاحب حديثٍ ومعرفة سَمعَ بالبصرة وبالكوفة وطال عُمرُهُ، وحديثُه مخرج في الصحاح كلها، حدث عنه البخاري في "صحيحه"، وروى عنه أيضاً الذهلي وأبو حاتم وأبو زرعة. توفي سنة ثلاث وعشرين ومئتين
(3). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" واحداً وثلاثين ومئة حديثٍ تقريباً.
--------------------------------------------
ওয়াকি তাকে সম্মান করতেন। তিনি দুইশত তেতাল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। "আস-সুনান"-এ তাঁর থেকে প্রায় ছেষট্টিটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
৭ - মুহাম্মদ ইবনুল আলা ইবনে কুরাইব, আবু কুরাইব আল-হামদানি আল-কুফি, হাফেজ, নির্ভরযোগ্য ইমাম। তাঁর থেকে জামাত, যুহলি, আবু জুরআ এবং আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর বলেন: ইরাকে আবু কুরাইবের চেয়ে বেশি হাদীসের অধিকারী আর কেউ নেই এবং আমাদের শহরের হাদীস সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি অবগত আর কেউ নেই। আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ বলেন: কুফায় আবু কুরাইবের নিকট তিন লক্ষ হাদীস প্রকাশ পেয়েছে। তিনি দুইশত আটচল্লিশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)। আবু দাউদ "আস-সুনান"-এ তাঁর থেকে প্রায় সাতাত্তরটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
৮ - মুহাম্মদ ইবনে কাসীর আল-আবদি আল-বাসরি, হাফেজ, নির্ভরযোগ্য। হাফেজ আয-যাহাবি বলেন: তিনি হাদীস ও জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, তিনি বসরা ও কুফায় হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং দীর্ঘায়ু লাভ করেছিলেন। তাঁর বর্ণিত হাদীস সকল সহীহ গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে, বুখারী তাঁর "সহীহ" গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, এছাড়াও যুহলি, আবু হাতিম এবং আবু জুরআও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুইশত তেইশ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন
(৩)। আবু দাউদ "আস-সুনান"-এ তাঁর থেকে প্রায় একশত একত্রিশটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
9 - عبدُ الله بنُ محمد بن علي بن نُفيل النفيلي الحرَّاني (وحران تقع في شمال سوريا وهي من بلاد الجزيرة كان بها ومنها جماعة من الفضلاء والعلماء في كل فن، وهي من ديار مُضَر، ولها تاريخٌ عمله أبو عَروبة الحسين بن أبي معشر الحراني الحافظ، ذكر فيه جماعة من أهل الجزيرة سماه "تاريخ الجزريين"، افتتحها المسلمون في خلافة أمير المؤمنين عمر بن الخطاب على يد عياض بن غنْم، دخلها صلحاً سنة 18 هـ الإمام الحافظ عالم الجزيرة، روى عنه أبو حاتم وأبو زرعة والذُّهلي، قال أبو داود: ما رأيتُ أحفظَ من النفيلي، وقال: كتبَ عنه أحمد وهو شابٌّ. وثقه أبو حاتم والنسائي والدَّارقطني. توفي سنة أربع وثلاثين ومئتين
(1). وقد روى عنه أبو داود في "السنن" خمسة وثلاثين ومئة حديث تقريباً.
10 - عثمانُ بن محمد بن أبي شيبة العبسي مولاهم الكُوفي، الإمامُ الحافظ المفسِّر، صاحبُ التصانيف روى عنه البخاريُّ ومسلم وأبو حاتِم، وثقه ابنُ معين. وقال أبو حاتِم: كان أكبرَ من أبي بكر -يعني أخاه صاحب "المصنف" و"المسند"- وأثنى عليه أحمدُ بنُ حنبل خيراً. توفي سنة تسع وثلاثين ومئتين
(2). روى عنه أبو داود في "السنن" أحدَ عشرَ وثلاث مئة حديث تقريباً.
--------------------------------------------
৯ - আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন নুফাইল আন-নুফাইলি আল-হাররানি (হাররান উত্তর সিরিয়ায় অবস্থিত এবং এটি জাজিরা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সেখানে বিভিন্ন শাস্ত্রের একদল গুণী ও আলেম ছিলেন এবং সেখান থেকে অনেকে এসেছেন। এটি মুদার গোত্রের আবাসস্থল। আবু আরুবাহ আল-হুসাইন বিন আবি মাশার আল-হাররানি আল-হাফিজ হাররানের একটি ইতিহাস রচনা করেছেন, যাতে তিনি জাজিরা অঞ্চলের একদল লোকের কথা উল্লেখ করেছেন; তিনি এর নামকরণ করেছেন "তারিখ আল-জাজিরিয়্যিন"। মুসলিমরা আমিরুল মুমিনিন উমর বিন আল-খাত্তাবের খিলাফতকালে আয়াদ বিন গানমের হাতে এটি বিজয় করেন। হিজরি ১৮ সালে এটি সন্ধির মাধ্যমে বিজিত হয়)। তিনি ইমাম, হাফিজ এবং জাজিরা অঞ্চলের আলেম। তাঁর থেকে আবু হাতিম, আবু যুরআহ এবং আয-যুহলি বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: আমি নুফাইলি অপেক্ষা অধিক মুখস্থশক্তির অধিকারী (হাফিজ) আর কাউকে দেখিনি। তিনি আরও বলেন: আহমাদ যুবক থাকাবস্থায় তাঁর থেকে (হাদিস) লিখেছেন। আবু হাতিম, আন-নাসায়ি এবং আদ-দারা কুতনি তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি দুইশত চৌত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। আবু দাউদ "আস-সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় একশত পঁয়ত্রিশটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
১০ - উসমান বিন মুহাম্মদ বিন আবি শায়বাহ আল-আবসি, তাদের আযাদকৃত দাস, আল-কুফি। তিনি ইমাম, হাফিজ, মুফাসসির এবং বহু গ্রন্থের রচয়িতা। তাঁর থেকে বুখারি, মুসলিম এবং আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। আবু হাতিম বলেন: তিনি আবু বকরের—অর্থাৎ তাঁর ভাই, যিনি "আল-মুসান্নাফ" ও "আল-মুসনাদ" এর রচয়িতা—চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন। আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর প্রশংসা করেছেন। তিনি দুইশত উনচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)। আবু দাউদ "আস-সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় তিনশত এগারোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
11 - مسلم بنُ إبراهيم الأزديُّ الفراهيديُّ مولاهم البصري، الإمامُ الحافظُ الثقةُ، مُسند البصرة. روى عنه البخاريُّ، وابنُ معين، والذُّهلي وأبو زُرعة وأبو حاتِم، قال أبو داود: كتبَ عن قريب مِن ألفِ شيخ. وثقه ابنُ معين وأبو حاتم، توفي سنة اثنتين وعشرين ومئتين
(1). روى عنه أبو داود في "السنن" ثمانية ومئة حديثٍ تقريباً.
ثناء أهل العلم عليه:لم يكن غريباً على من تتلمذَ على أولئك الجِلَّة مِن أهل العلم أن يَبْلُغَ مرتبةً عالية جليلة، تجعله أهلاً لأن يُشار إليه بالبنان، وأن يُشادَ بفضله في كل مكان، هذا إلى ما كان لديه من ذكاء حادٍّ وحافظةِ قوية وذهنٍ وقّاد، مع إخلاصه لله تعالى، لأن إنساناً مهما بلغ في العلم مرتبةً لا يُمكن بحال أن يُبَارِكَ الله سبحانه وتعالى له فيه، ويجد قبولاً وثناءً إلا بإخلاصه لله عز وجل، وقد تحقق ذلك كُلُّه في الإمام أبي داود رحمه الله، حتى أقرَّ علماءُ عصره له بالتقدم وخصوصاً في علم الحديث، حيث صرف همته إليه، فكان الغالبَ عليه.
قال أبو بكر الخلالُ: أبو داود الإمامُ المقدَّمُ في زمانه، رجلٌ لم يسبقه إلى معرفته بتخريج العلوم، وبصره بمواضعه أحدٌ في زمانه، رجل وَرِعٌ مُقدّمٌ. سَمعَ أحمد بن حنبل منه حديثاً واحداً كان أبو داود
--------------------------------------------
১১ - মুসলিম বিন ইব্রাহিম আল-আজদি আল-ফারাহিদি, তাদের মাওলা, বসরাবাসী; ইমাম, হাফিজ ও নির্ভরযোগ্য এবং বসরার মুসনিদ। তাঁর থেকে বুখারি, ইবনে মাঈন, যুহলি, আবু যুরআ এবং আবু হাতিম বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ বলেন: তিনি প্রায় এক হাজার শায়খের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন। ইবনে মাঈন ও আবু হাতিম তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। তিনি দুইশত বাইশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(১)। আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে প্রায় একশত আটটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।
তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:যারা ইলম অন্বেষণে সে সকল মহান মনীষীদের সান্নিধ্য লাভ করেছেন, তাঁদের পক্ষে এমন উচ্চ ও মহান স্তরে উপনীত হওয়া বিস্ময়কর ছিল না যা তাঁকে অনন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে সুপরিচিত করে এবং সর্বত্র যার শ্রেষ্ঠত্বের গুণগান গাওয়া হয়। এর সাথে যুক্ত ছিল তাঁর প্রখর মেধা, শক্তিশালী স্মরণশক্তি ও তীক্ষ্ণ ধীশক্তি এবং মহান আল্লাহর প্রতি তাঁর একনিষ্ঠতা। কেননা কোনো মানুষ ইলমের যে স্তরেই উপনীত হোক না কেন, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা ব্যতীত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাতে বরকত দান করেন না এবং সে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা লাভ করতে পারে না। ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মধ্যে এই সবকিছুরই পূর্ণ বিকাশ ঘটেছিল, এমনকি তাঁর সমকালীন আলেমগণ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়েছিলেন; বিশেষত হাদিস শাস্ত্রে, যেদিকে তিনি স্বীয় মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন এবং যার প্রাধান্য তাঁর ওপর বজায় ছিল।
আবু বকর আল-খলাল বলেন: আবু দাউদ ছিলেন তাঁর সময়ের অগ্রগণ্য ইমাম। এমন এক ব্যক্তি যার সমকালে ইলমের উৎসসমূহ চেনার ক্ষেত্রে এবং ইলমের স্থানসমূহের ব্যাপারে তাঁর প্রজ্ঞায় কেউ তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। তিনি ছিলেন একজন মুত্তাকি ও অগ্রগণ্য ব্যক্তি। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল তাঁর নিকট থেকে একটি হাদিস শ্রবণ করেছিলেন যা আবু দাউদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
يذكُرُه. وكان إبراهيمُ الأصبهانيُّ وأبو بكر بنُ صدقة يرفعون مِن قدره ويذكرونه بما لا يذكرون أحداً في زمانه مثلَه
(1).
وقال أحمدُ بنُ محمد بنِ ياسين الهرويُّ: كان أحدَ حفاظِ الإسلامِ لحديث رسولِ الله صلى الله عليه وسلم وعلمه وعلله وسندِه، في أعلى درجاتِ النُّسُكِ والعفافِ والصلاحِ والورعِ، من فُرسان الحديث
(2).
وقال محمد بنُ إسحاق الصغاني وإبراهيمُ بن إسحاق الحربي، لما صنَّفَ أبو داود كتابَه "السنن": أُلِينَ لأبي داود الحديثُ كما أُلينَ لداود عليه الصلاة والسلام الحديد
(3).
وقال محمد بنُ مخلدِ: كان أبو داود يفي بمذاكرةِ مئةِ ألفِ حديث، ولما صنَّف كتاب "السنن" وقرأه على الناس، صار كتابُه لأصحابِ الحديث كالمصحف يتبعونه ولا يخالفونه، وأقر له أهلُ زمانه بالحفظِ والتقدم فيه
(4).
وقال موسى بنُ هارون الحافظ: خُلِقَ أبو داود في الدُّنيا للحديث، وفي الآخرة للجنة.
وقال: ما رأيتُ أفضلَ مِن أبي داود
(5).
--------------------------------------------
তাকে উল্লেখ করেন। ইবরাহীম আল-আসবাহানি এবং আবু বকর ইবনে সাদাকাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করতেন এবং তার সম্পর্কে এমনভাবে আলোচনা করতেন যা তাদের সমসাময়িক আর কারও ক্ষেত্রে করতেন না
(১)।
আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াসিন আল-হারাভি বলেন: তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিস, এর ইলম, ইল্লত (ত্রুটি) ও সনদের ক্ষেত্রে ইসলামের অন্যতম হাফেজ। তিনি ইবাদত, পবিত্রতা, সততা এবং পরহেজগারির সর্বোচ্চ স্তরে আসীন এবং হাদিস শাস্ত্রের অশ্বারোহীদের একজন
(২)।
মুহাম্মাদ বিন ইসহাক আস-সাগানি এবং ইবরাহীম বিন ইসহাক আল-হারবি বলেন, যখন আবু দাউদ তার 'আস-সুনান' গ্রন্থটি রচনা করেন: আবু দাউদের জন্য হাদিসকে তেমনি সহজ করে দেওয়া হয়েছে যেমন দাউদ (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর জন্য লোহাকে নরম করে দেওয়া হয়েছিল
(৩)।
মুহাম্মাদ বিন মাখলাদ বলেন: আবু দাউদ এক লক্ষ হাদিস নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করার সামর্থ্য রাখতেন। আর যখন তিনি 'আস-সুনান' গ্রন্থটি রচনা করেন এবং মানুষের সামনে তা পাঠ করেন, তখন তার গ্রন্থটি হাদিসপন্থীদের কাছে মুসহাফের মতো হয়ে গেল, যা তারা অনুসরণ করে এবং তার বিরোধিতা করে না। তার সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ হাদিস মুখস্থ রাখা এবং এই শাস্ত্রে তার শ্রেষ্ঠত্বের কথা স্বীকার করেছেন
(৪)।
হাফেজ মুসা বিন হারুন বলেন: আবু দাউদ দুনিয়াতে হাদিসের জন্য এবং আখিরাতে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন: আমি আবু দাউদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখিনি
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقال علاّنُ بنُ عبد الصمد: سمعت أبا داود وكان مِن فُرسان هذا الشأن
(1).
وقال أبو حاتم بنُ حبان والسمعاني: كان أبو داود أحدَ أئمة الدنيا فقهاً وعلماً، وحِفظاً ونُسُكاً، وورعاً وإتقاناً، جمع وصنَّف، وذبّ عن السنن، وقمع من خالفها وانتحل ضِدَّها
(2).
وقال أبو عبد الله بن منده: الذين خرَّجوا الصحيح، وميّزوا الثابت من المعلول، والخطأ من الصواب أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري، وأبو الحسين مُسلِمُ بنُ الحجاج القُشيري، وبعدهما أبو داود سليمانُ بن الأشعث بن إسحاق السجستاني، وأبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي
(3).
وقال الحاكم أبو عبد الله: أبو داود إمامُ أهلِ الحديثِ في عصره بلا مُدافعة، سماعه بمصر والحجاز والشام والعراقَين وخُراسان، وقد كتب بخراسانَ قبل خروجه إلى العراق في بلده وهراة، وكتب ببَغْلان عن قتيبة، وبالرَّيّ عن إبراهيم بن موسى، إلا أن أعلى إسناده القعنبيُّ ومسلمُ بنُ إبراهيم وموسى بنُ إسماعيل، وبالشام أبو توبة الربيعُ بنُ نافع، وحيوةُ بنُ شُريح الحمصيُّ، وقد كان كتب قديماً بنيسابور، ثم رحلَ بابنه أبي بكر بن اْبي داود إلى خراسان
(4).
--------------------------------------------
এবং আল্লান ইবনে আবদুস সামাদ বলেছেন: আমি আবু দাউদকে বলতে শুনেছি এবং তিনি এই বিষয়ের পারদর্শীদের মধ্যে একজন ছিলেন
(১)।
আবু হাতিম ইবনে হিব্বান এবং আস-সামআনী বলেছেন: আবু দাউদ ফিকহ, ইলম, হিফজ (স্মৃতিশক্তি), ইবাদত, তাকওয়া ও নিখুঁতকর্মে পৃথিবীর ইমামদের অন্যতম ছিলেন। তিনি হাদীস সংগ্রহ ও সংকলন করেছেন, সুন্নাহর প্রতিরক্ষা করেছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করেছে ও এর বিপরীত মতাদর্শ গ্রহণ করেছে তাদের দমন করেছেন
(২)।
আবু আবদুল্লাহ ইবনে মান্দাহ বলেছেন: যারা সহীহ হাদীস সংকলন করেছেন এবং ত্রুটিযুক্ত বর্ণনা থেকে বিশুদ্ধ বর্ণনাকে এবং সঠিক থেকে ভুলকে পৃথক করেছেন তারা হলেন—আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-কুশাইরী; আর তাদের পর আবু দাউদ সুলাইমান ইবনে আল-আশআস ইবনে ইসহাক আল-সিজিস্তানি এবং আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ী
(৩)।
হাকিম আবু আবদুল্লাহ বলেছেন: আবু দাউদ কোনো প্রকার বিরোধিতা ছাড়াই তার যুগের আহলে হাদীসদের ইমাম ছিলেন। তার হাদীস শ্রবণ ছিল মিসর, হিজাজ, সিরিয়া, উভয় ইরাক এবং খোরাসানে। তিনি ইরাকে যাওয়ার আগে খোরাসানে থাকাকালীন নিজ শহর ও হেরাতে হাদীস লিখেছেন। তিনি বাগলানে কুতাইবাহ থেকে এবং রাই শহরে ইবরাহিম ইবনে মুসা থেকে হাদীস লিখেছেন। তবে তার উচ্চতর সনদসমূহ আল-কানা’বি, মুসলিম ইবনে ইবরাহিম এবং মুসা ইবনে ইসমাইল থেকে আগত। সিরিয়ায় আবু তাওবাহ আল-রাবী ইবনে নাফে এবং হাইওয়াহ ইবনে শুরাইহ আল-হিমসি থেকে লিখেছেন। তিনি প্রাচীনকালে নিশাপুরে হাদীস লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তারপর তার পুত্র আবু বকর ইবনে আবু দাউদকে নিয়ে খোরাসানের দিকে সফর করেন
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২০)
وقال النووي: واتفق العلماءُ على الثناء على أبي داود، ووصفِه بالحفظِ التام، والعلم الوافر، والإتقان والورعِ والدينِ والفهمِ الثاقب في الحديث وغيره
(1).
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: البخاري وأبو داود إمامان في الفقه من أهل الاجتهاد
(2).
وقال ابن عبد الهادي: الإمام الثبت، سيد الحفاظ
(3).
وقال الحافظ الذهبي: الإمام شيخ السنة، مقدّم الحفاظ
(4).
وقال أيضاً: كان أبو داود مع إمامته في الحديث وفنونه من كبار الفقهاء، فكتابه يدل على ذلك
(5).
وقال ابن تغري بردي: كان إمامَ أهل الحديث في عصره بلا مدافعة، وكان عارفاً بعلل الحديث ورعاً
(6).
وحكى القاضي أبو محمد أحمد بن محمد بن الليث قال: جاء سهل بن عبد الله التُّستَري إلى أبي داود السجستاني، فقال: يا أبا داود لي إليكَ حاجةٌ. قال: وما هي؟ قال: حتى تقولَ: قد قضيتُها مع الإمكان، قال: قد قضيتُها مع الإمكان، قال: أخرج إليَّ لسانك
--------------------------------------------
আন-নওয়াবী বলেছেন: উলামায়ে কেরাম আবু দাউদের প্রশংসা করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তাঁকে পূর্ণ স্মৃতিশক্তি, অগাধ জ্ঞান, নিপুণতা, খোদাভীতি, ধর্মপরায়ণতা এবং হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে তীক্ষ্ণ প্রজ্ঞার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন
(১).
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: বুখারী ও আবু দাউদ ফিকহ শাস্ত্রের ইজতিহাদ করার যোগ্যতাসম্পন্ন দুইজন ইমাম
(২).
ইবনে আবদিল হাদী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ইমাম, হাদীস বিশারদগণের নেতা
(৩).
হাফেজ আয-যাহাবী বলেছেন: তিনি ইমাম, সুন্নাহর শাইখ এবং হাদীস বিশারদগণের অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব
(৪).
তিনি আরও বলেছেন: আবু দাউদ হাদীস ও এর বিভিন্ন বিদ্যায় ইমাম হওয়ার পাশাপাশি বড় মাপের ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তাঁর গ্রন্থটি একথারই প্রমাণ দেয়
(৫).
ইবনে তাগরি বারদি বলেছেন: তিনি কোনো বিতর্ক ছাড়াই তাঁর যুগের আহলে হাদীসদের ইমাম ছিলেন এবং তিনি হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (ইলল) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও পরহেজগার ছিলেন
(৬).
কাযী আবু মুহাম্মদ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-লাইস বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সাহল বিন আবদুল্লাহ আত-তুসতারী আবু দাউদ আস-সিজিস্তানির নিকট আসলেন এবং বললেন: হে আবু দাউদ, আপনার কাছে আমার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি (সাহল) বললেন: যতক্ষণ না আপনি বলবেন যে সম্ভব হলে আমি তা পূরণ করব (ততক্ষণ বলব না)। তিনি (আবু দাউদ) বললেন: আমি তা সম্ভব হলে পূরণ করব। তিনি (সাহল) বললেন: আপনার জিহ্বাটি আমার সামনে বের করুন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২১)
الذي حدّثت به أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى أقبّله، فأخرج إليه لسانه فقبّله.
قال الحافظ أبو طاهر السِّلَفي معلقاً على هذه القصة: لم يُسهِّل على سَهْل هذا الفعل، مع انقباضه عن الناس وانزوائه عنهم، ميلاً منه إلى اليأسِ، وإيثاره الخمول، وتركه الفضول، إلا لإحياء أبي داود الحديث والشرع الشريف بالبصرة، عقيب ما جرى عليها من الزُّنوج القائمين مع القرمطي وخرابها، وقتل علمائها وأعيانها ما جرى، واشتهر عند الخاص والعام من الورى، وإتيان الموفق إليه (قلنا: هو الأمير أبو أحمد طلحة بن المتوكل بن المعتصم أخي الخليفة المعتمد على الله، وكان أميراً بطلاً شجاعاً كبير الشأن ذكره الذهبي في "تاريخ دول الإسلام" وفيات ثمان وسبعين ومئتين) وسؤاله إياه التوجه في الانتقال إليها ليُرحَل إليه، ويُؤخذ عنه كتابُه في السنن وغير ذلك من علومه، وتتعمّر به كما تقدم فيما أمليناه، إذ تحقق أن مقامه بها وكونه بين أهليها يقومُ مقام كُماة أنجادٍ، وحُماة أمجاد، وقليل ما فعله سهلٌ في حقه، حين رأى الحق المستحق
… وفضائل أبي داود كثيرة ورُتبته بين أهلِ الرتب كبيرة.
وقال أبو طاهر أيضاً: وكان رحمه الله في زمانه يراجَع في الجرح والتعديل، ويدوَّن كلامه ويُعوَّل عليه غايةَ التعويل. وقال أيضاً: كان على علم بالرجال، وفي معرفة الحديث وروايته جبلاً من الجبال
(1).
--------------------------------------------
(সেই জিহ্বাটি বের করুন) যার মাধ্যমে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ বর্ণনা করেছেন, যাতে আমি সেটি চুম্বন করতে পারি। অতঃপর তিনি তাঁর দিকে নিজের জিহ্বা বের করলেন এবং তিনি সেটি চুম্বন করলেন।
হাফেজ আবু তাহির আস-সিলাফী এই ঘটনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: মানুষের সংস্রব থেকে দূরে থাকা এবং নির্জনতাপ্রিয়তা, নির্লিপ্ততা ও প্রচারবিমুখতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অনর্থক কাজ বর্জন করা সত্ত্বেও সাহলের পক্ষে এই কাজটি করা সহজ হতো না, যদি না আবু দাউদ বসরা নগরীতে হাদীস ও শরীয়ত-ই-মুতাহ্হারাকে পুনর্জীবিত করতেন। এটি ছিল সেই সময়ের ঘটনা যখন বসরার ওপর দিয়ে কারমাতিদের সাথে সংশ্লিষ্ট জঞ্জ বিদ্রোহীরা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং সেখানকার আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল—যে ঘটনা সর্বসাধারণের কাছে সুপরিচিত। আর সেখানে আল-মুওয়াফ্ফাকের আগমন (আমরা বলছি: তিনি হলেন আমীর আবু আহমদ তালহা ইবনুল মুতাওয়াক্কিল ইবনুল মুতাসিম, যিনি খলিফা মুতামিদ আলাল্লাহর ভাই ছিলেন। তিনি একজন বীর, সাহসী এবং উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন আমীর ছিলেন; আয-যাহাবী তাঁর কথা 'তারীখু দুওয়ালিল ইসলাম'-এ উল্লেখ করেছেন, যিনি দুইশত আটাত্তর হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন) এবং তাঁর কাছে বসরার দিকে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা, যাতে জ্ঞানপিপাসুরা তাঁর কাছে সফর করে আসে এবং তাঁর কাছ থেকে তাঁর 'সুনান' গ্রন্থ ও অন্যান্য জ্ঞান অর্জন করতে পারে। এর ফলে শহরটি পুনরায় আবাদ হবে যেমনটি আমরা পূর্বে শ্রুতিলিপিতে বর্ণনা করেছি। কারণ এটি নিশ্চিত হয়েছিল যে, সেখানে তাঁর অবস্থান এবং সেখানকার অধিবাসীদের মাঝে তাঁর উপস্থিতি একদল বীর যোদ্ধা এবং মহান রক্ষকদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল। সাহল তাঁর জন্য যা করেছেন তা ছিল খুবই সামান্য, যখন তিনি সেই প্রাপ্য হককে প্রত্যক্ষ করলেন... এবং আবু দাউদের ফযীলত অনেক এবং মর্যাদাবান ব্যক্তিদের মাঝে তাঁর সম্মান অত্যন্ত উচ্চ।
আবু তাহির আরও বলেন: তিনি রহিমাহুল্লাহ তাঁর যুগে 'জারহ ও তাদীল' (বর্ণনাকারীদের দোষ-গুণ বিচার) এর ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সূত্র ছিলেন, তাঁর বক্তব্যসমূহ লিপিবদ্ধ করা হতো এবং তাঁর ওপর চূড়ান্তভাবে নির্ভর করা হতো। তিনি আরও বলেন: তিনি রিজাল শাস্ত্রের জ্ঞানে এবং হাদীস ও এর বর্ণনার ক্ষেত্রে পাহাড়ের ন্যায় অটল ছিলেন।
(১).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২২)
*
مذهبه في الصفات:كان الإمامُ أبو داود رحمه الله يرى مذهب السلف في إثبات الصفات ونفي الكيفية عنها، كما هو مذهب شيخه الإمام أحمد، ومعظم أهل العلم في ذلك العصر وما قبلَه من الفقهاء والمحدثين، وهو المذهبُ الذي اتفق عليه السلف الصالح، وأخذ به الأئمة الأربعة المتبوعون وعامة أهل الحديث.
فقد ذكر الحافظُ الذهبيُّ أن الإمام أبا داود كان على مذهب السلف في اتباعِ السُّنة والتسليم لها، وتركِ الخوض في مضايق الكلام
(1).
وقد أورد الإمامُ أبو داود في كتابِ السنة من "سننه" من الأحاديث التي تشهدُ لمذهبِ السلف وتؤيده، وكذلك ما نقله في "مسائله" عن الإمام أحمد وغيره من علماء السلف في الردِّ على الجهميةِ والمُعَطَّلة والقدرية والخوارج والمعتزلة فيما يعتقدونه من مسائل الكلام كالعلو والرؤية والصفات، بما يدلُّ دلالةَ واضحةَ على أنه جارٍ على مذهبِ السلفِ وأهلِ السنة والجماعة رحمه الله تعالى رحمةً واسعة.
وروى أبو طاهر السِّلَفي بسنده إلى محمد بن رجاء البصري قال: قلت لأبي داود السجستاني: لم أرك حدَّثت عن الرمادي؟ فقال: رأيته يصحبُ الواقفة، فلم أحدّث عنه.
قال السلفي معلقاً على ذلك: الرمادي هذا هو أحمد بن منصور من حفاظ الحديث الأعلام وثقات علماء الإسلام، وقد توقف أبو داود عن الرواية عنه لصحبته الواقفة.
--------------------------------------------
সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ে তাঁর মাযহাব:ইমাম আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল্লাহর গুণাবলি সাব্যস্তকরণ এবং সেগুলোর ধরন বা প্রকৃতি (কাইফিয়াত) অস্বীকার করার ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাব অনুসরণ করতেন, যেমনটি ছিল তাঁর উস্তাদ ইমাম আহমাদ এবং তৎকালীন ও পূর্ববর্তী যুগের অধিকাংশ ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের মাযহাব। এটিই সেই মাযহাব যার ওপর সালাফে সালেহীন ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং যা অনুসরণীয় চার ইমাম ও সাধারণ মুহাদ্দিসগণ গ্রহণ করেছেন।
হাফেজ আয-যাহাবী উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু দাউদ সুন্নাহর অনুসরণ, তার প্রতি আত্মসমর্পণ এবং কালামশাস্ত্রের জটিলতায় লিপ্ত না হওয়ার ক্ষেত্রে সালাফদের মাযহাবের ওপর অটল ছিলেন
(১)।
ইমাম আবু দাউদ তাঁর "সুনান" গ্রন্থের 'কিতাবুস্ সুন্নাহ'-তে এমন সব হাদিস এনেছেন যা সালাফদের মাযহাবের সাক্ষ্য দেয় এবং একে সমর্থন করে। অনুরূপভাবে তিনি তাঁর "মাসায়েল" গ্রন্থে ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য সালাফ আলেমদের থেকে আল্লাহর সুউচ্চতা (উলুউ), দর্শন (রুইয়াহ) এবং গুণাবলি (সিফাত) সংক্রান্ত আকিদাগত বিষয়ে জাহমিয়্যাহ, মুয়াত্তিলা, কাদারিয়্যাহ, খাওয়ারিজ এবং মুতাজিলাদের খণ্ডনমূলক যা কিছু বর্ণনা করেছেন, তা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে তিনি সালাফ এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর ব্যাপক রহমত বর্ষণ করুন।
আবু তাহের আস-সিলাফি তাঁর সনদসহ মুহাম্মদ ইবনে রাজা আল-বাসরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ আস-সিজিস্তানিকে বললাম: আমি আপনাকে আর-রামাদি থেকে হাদিস বর্ণনা করতে দেখি না কেন? তিনি বললেন: আমি তাকে 'ওয়াকিফাহ' সম্প্রদায়ের সাহচর্যে থাকতে দেখেছি, তাই আমি তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করিনি।
আস-সিলাফি এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: এই রামাদি হলেন আহমদ ইবনে মনসুর, যিনি হাদিসের প্রখ্যাত হাফেজ এবং ইসলামের নির্ভরযোগ্য আলেমদের অন্যতম। কিন্তু ওয়াকিফাদের সাথে মেলামেশার কারণে আবু দাউদ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
قلنا: الواقفة يعني الذين توقفوا عن الخوض والبحث في أن القرآن مخلوق أو غير مخلوق. وهو في ذلك تابع لشيخه الإمام أحمد، لأنه كان يُبدِّع الواقفة أيضاً، ويعدهم فريقاً من الجهمية كما في رسالته إلى مسدد
(1).
*
مذهبُه الفقهي:معظم الذين ترجموا للإمام أبي داود ذكروه في الطبقة الأولى من أصحابِ الإمامِ أحمد كأبي إسحاق الشيرازي والقاضي أبي الحسين ابن أبي يعلى الفراء، وعدَّه الحافظ الذهبي من نجباء أصحابه
(2).
وبذلك جزم المحدِّثُ الشيخ محمد أنور الكشميري، والشيخُ محمد زكريا الكاندهلوي
(3).
وعدّه أبو عاصم العبَّادي وابن باطيش في الشافعية، وتبعهما تاج الدين ابن السُّبكي، وشايعهم على ذلك طاشكُبري زاده وصِدّيق حسن خان القِنَّوجي
(4)، وفيه نظر، فقد قال الداوودي: ولم يذكروا لذلك دليلاً.
--------------------------------------------
আমরা বলেছি: ওয়াকেফা অর্থাৎ যারা কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট) কি মাখলুক নয়—এ বিষয়ে আলোচনা ও বিতর্ক থেকে বিরত থেকেছেন। এক্ষেত্রে তিনি তাঁর শিক্ষক ইমাম আহমাদের অনুসারী, কেননা ইমাম আহমাদও ওয়াকেফাদের বিদআতী বলতেন এবং তাদের জাহমিয়াদের একটি দল হিসেবে গণ্য করতেন, যেমনটি মুসাদ্দাদের নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে রয়েছে
(১).
*
তাঁর ফিকহী মাযহাব:ইমাম আবু দাউদের জীবনীকারদের অধিকাংশ তাঁকে ইমাম আহমাদের অনুসারীদের প্রথম স্তরের অন্তর্ভুক্ত করেছেন, যেমন আবু ইসহাক আশ-শিরাজী এবং কাযী আবুল হুসাইন ইবনে আবী ইয়ালা আল-ফাররা; আর হাফিজ আয-যাহাবী তাঁকে তাঁর প্রতিভাবান অনুসারীদের মধ্যে গণ্য করেছেন
(২).
মুহাদ্দিস শায়খ মুহাম্মাদ আনোয়ার কাশ্মীরি এবং শায়খ মুহাম্মাদ জাকারিয়া কান্ধলবী এ বিষয়ে দৃঢ় মত পোষণ করেছেন
(৩).
আবু আসিম আল-আব্বাদী এবং ইবনে বাতীশ তাঁকে শাফেয়ী মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাজউদ্দীন ইবনে আস-সুবকী তাঁদের অনুসরণ করেছেন। তাশকুবরী জাদাহ এবং সিদ্দিক হাসান খান আল-কান্নুজী এ ব্যাপারে তাঁদের সমর্থন করেছেন
(৪), তবে এ বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে, কারণ আদ-দাউদী বলেছেন: তারা এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وكونُه تفقه بالإمام أحمد وبغيره من الأئمة، ونقل عنهم، لا يعني أنه كان مقلداً لهم، يأخذُ بأقوالهم دونما تمحيصٍ، أو نظرٍ في أدلتهم، بل كان رحمه الله وقد اكتملت له أدواتُ الاجتهادِ يختارُ ويُفتي بما يؤديه إليه اجتهاده في فهم الكتابِ والسنة وما تفرَّغ عنهما. فإنَّ علماءَ ذلك العصر الذي عاش فيه أبو داود لم يكونوا يرضون لأنفسهم التقليد، لا حفاظُ الحديث، ولا أئمةُ الفقه.
وقد سئل شيخ الإسلام ابن تيمية عن الأئمة الستة وآخرين: هل كانوا مجتهدين لم يقلدوا أحداً، أم كانوا مقلدين؟ فأجابهم بقوله: أما البخاريُّ وأبو داود فإمامانِ في الفقه مِن أهلِ الاجتهاد، وأما مسلم والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وأبو يعلى والبزار ونحوهم، فهم على مذهبِ أهلِ الحديث، ليسوا مقلدين لواحدٍ بعينه مِن العلماء، ولا هُمْ مِن الأئمة المجتهدين على الإطلاق، بل هم لا يميلُون إلى قولِ أئمةِ الحديثِ كالشافعي وأحمد وإسحاق وأبي عُبيد، وأمثالهم. ومنهم مَنْ له اختصاصٌ ببعضِ الأئمة كاختصاص أبي داود ونحوه بأحمد بن حنبل، وهم إلى مذاهب أهلِ الحجاز كمالكِ وأمثاله أميلُ منهم إلى مذاهِب أهلِ العراق، كأبي حنيفة والثوري
(1).
وقال العلامة الشيخ محمد زاهد الكوثري: وأبو داود تفقه على فقهاء العراق، وعظم مقداره في الفقه، وهما أعني البخاري وأبا داود
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ ও অন্যান্য ইমামদের নিকট থেকে তাঁর ফিকহ শিক্ষা লাভ করা এবং তাঁদের থেকে (রেওয়ায়ত) বর্ণনা করার অর্থ এই নয় যে, তিনি তাঁদের মুকাল্লিদ ছিলেন, যিনি কোনো যাচাই-বাছাই বা তাঁদের দলিল-প্রমাণের প্রতি লক্ষ্য করা ছাড়াই তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করতেন। বরং তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন—ইজতিহাদের পূর্ণ যোগ্যতাসম্পন্ন হওয়ার কারণে কিতাব ও সুন্নাহর বুঝ এবং তা থেকে উৎসারিত বিষয়ের ক্ষেত্রে নিজের ইজতিহাদ অনুযায়ী (মাসআলা) নির্বাচন করতেন ও ফতোয়া দিতেন। কেননা আবু দাউদ যে যুগে বাস করতেন, সেই যুগের আলেমগণ নিজেদের জন্য তাকলীদ করাকে পছন্দ করতেন না; না হাদিসের হাফেজগণ, আর না ফিকহের ইমামগণ।
শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহকে ছয় ইমাম ও অন্যদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তাঁরা কি এমন মুজতাহিদ ছিলেন যারা কারো তাকলীদ করেননি, নাকি তাঁরা মুকাল্লিদ ছিলেন? তিনি উত্তরে বললেন: বুখারি ও আবু দাউদ ফিকহের ক্ষেত্রে ইজতিহাদ স্তরের ইমাম ছিলেন। আর মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুজাইমা, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিগণ আহলুল হাদিসের মাযহাবের ওপর ছিলেন। তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো আলেমের মুকাল্লিদ ছিলেন না, আবার তাঁরা নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ইমামও ছিলেন না; বরং তাঁরা শাফেঈ, আহমাদ, ইসহাক, আবু উবাইদ এবং তাঁদের মতো আহলুল হাদিস ইমামগণের মতামতের দিকেই ঝোঁক রাখতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ কোনো বিশেষ ইমামের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, যেমন আবু দাউদ ও তাঁর মতো ব্যক্তিদের আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে বিশেষ সংশ্লিষ্টতা ছিল। আর তাঁরা ইরাকবাসীদের মাযহাব—যেমন আবু হানিফা ও সাওরী—এর তুলনায় হিজাজবাসীদের মাযহাব—যেমন মালিক ও তাঁর সমমনাদের—প্রতি অধিক অনুরাগী ছিলেন
(১)।
আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ জাহিদ আল-কাওসারী বলেছেন: আবু দাউদ ইরাকের ফকীহদের নিকট ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং ফিকহের ক্ষেত্রে তাঁর মর্যাদা ছিল সুবিশাল। আর তাঁরা দুজন—অর্থাৎ বুখারি ও আবু দাউদ—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أفقه الجماعة رحمهم الله وأغدق عليهم سِجال الرحمة، ولهم على الأمة أعظمُ مِنَّة بما خدموا السُّنة
(1).
وذهب الشيخُ طاهر الجزائري إلى مذهب وسط بين الفريقين فقال: وعندي أن البخاري وأبا داود أيضاً كبقية الأئمة المذكورين، ليسا مقلَّدَين لواحدِ بعينه، ولا مِن الأئمة المجتهدين على الإطلاق، بل يميلان إلى أقوال أئمتهم
(2).
*
آثاره العلمية:
أ- تلامذته:كان الإمام أبو داود كعلماء عصره يُلمُّ بأطراف المعرفة من لغةٍ وفقه وحديث وتفسير وغير ذلك، مما جعله مقصِد طلاب العلم، يَفِدون إليه من كل حَدَبِ وصَوب، راغبين في تلقي العلم عنه، ولا سيما علم الحديث الذي بَرَعَ فيه وغلبَ عليه حتى صار فيه إماماً، يُرْجَعُ إليه، ويُؤخذ عنه، ويُسلَّم له.
فمن تلامذته مَن أخذ عنه كتاب "السنن" كله رواية، ومنهم من أخذ عليه بعض مروياته، وعددٌ كبير من تلامذته أولئك كانوا مِن المُبرِّزين في هذا الشأن، ممن خلفوه بخير، وكانوا مناراتِ هدى مِن بعده.
--------------------------------------------
জামাতের ফকীহগণ, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন এবং তাঁদের ওপর রহমতের অঝোর ধারা বর্ষণ করুন; সুন্নাহর খিদমত করার মাধ্যমে উম্মতের ওপর তাঁদের মহান অনুগ্রহ রয়েছে
(১)।
শায়খ তাহির আল-জাযাইরি উভয় দলের মধ্যবর্তী একটি মত গ্রহণ করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার মতে বুখারি এবং আবু দাউদও উল্লিখিত অন্যান্য ইমামদের মতোই; তাঁরা নির্দিষ্ট কোনো একজনের মুকাল্লিদ (অনুসারী) নন, আবার তাঁরা নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ইমামদের অন্তর্ভুক্তও নন, বরং তাঁরা তাঁদের ইমামদের মতামতের দিকেই ঝোঁকেন
(২)।
*
তাঁর ইলমি অবদানসমূহ:
ক- তাঁর ছাত্রবৃন্দ:ইমাম আবু দাউদ তাঁর সমকালীন আলেমদের মতোই ভাষা, ফিকহ, হাদিস, তাফসিরসহ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় পারদর্শী ছিলেন। যা তাঁকে জ্ঞানান্বেষীদের গন্তব্যস্থলে পরিণত করেছিল; তাঁরা তাঁর কাছ থেকে জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষায় চতুর্দিক থেকে তাঁর কাছে আসতেন। বিশেষ করে হাদিস শাস্ত্রে, যাতে তিনি দক্ষতা অর্জন করেছিলেন এবং যা তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল, এমনকি তিনি এতে এমন এক ইমামে পরিণত হয়েছিলেন যাঁর শরণাপন্ন হওয়া হয়, যাঁর থেকে (হাদিস) গ্রহণ করা হয় এবং যাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হয়।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁর থেকে বর্ণনাসূত্রে সম্পূর্ণ "সুনান" গ্রন্থটি গ্রহণ করেছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর থেকে তাঁর বর্ণিত কিছু অংশ গ্রহণ করেছেন। তাঁর সেই ছাত্রদের একটি বড় অংশ এই শাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রাজ্ঞ ছিলেন, যাঁরা তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরি হয়েছিলেন এবং তাঁর পরবর্তীকালে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিগণিত হয়েছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فأما تلامذته الذين لازموه وقرؤوا عليه كتاب "السنن" فأبرزهم:
1 - أبو علي محمدُ بنُ أحمد بن عمرو البصري اللؤلؤي، وصفه الذهبىُّ بقوله: الإمامُ المحدث الصدوق، وقال مرة: ثقة. قال تلميذه القاضي أبو عمر القاسم بن جعفر الهاشمي: كان أبو علي اللؤلؤي قد قرأ كتابَ "السنن" على أبي داود عشرين سنة، وكان يُدعى ورّاق أبي داود، والورّاق في لغة أهل البصرة: القارئ للناس
(1). وهو آخر من حدث عنه بكتاب "السنن"
(2). توفي سنة ثلاث وثلاثين وثلاث مئة
(3).
قال القاسم بن يوسف التُّجِيبي: وأصح روايات الكتاب كلها، وهي آخر ما أملى أبو داود رحمه الله رواية أبي علي محمد بن أحمد ابن عمرو اللؤلؤي البصري، وعليها مات أبو داود
(4).
وقال أبو الطيب العظيم آبادي: نسخةُ "السنن" من رواية اللؤلؤي هي المروَّجة في ديارنا الهندية وبلاد الحجاز وبلاد المشرق من العرب، بل أكثرِ البلاد، وهي المفهومة من "السنن" عند الإطلاق، وهذه النسخة لخصها الحافظ المنذري، وخرّج أحاديثها، وعلى هذه النسخة شرحٌ لابن رسلان والحافظ العراقي وحاشية لابن القيم والسندي والسيوطي -وهذه الحواشي مطبوعة- وغيرهم، وهذه الرواية هي المرادة في قول صاحب "المنتقى"، وصاحب "جامع الأصول"،
--------------------------------------------
আর তাঁর যেসকল ছাত্র তাঁর সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে লেগে ছিলেন এবং তাঁর নিকট ‘আস-সুনান’ গ্রন্থটি পাঠ করেছেন, তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন:
১ - আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আমর আল-বাসরি আল-লুলুয়ি; আয-যাহাবি তাঁকে এই বলে বিশেষায়িত করেছেন যে: তিনি ইমাম, মুহাদ্দিস এবং অত্যন্ত সত্যবাদী। তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত। তাঁর ছাত্র কাজী আবু ওমর আল-কাসিম ইবন জাফর আল-হাশেমি বলেছেন: আবু আলী আল-লুলুয়ি আবু দাউদের নিকট বিশ বছর যাবত ‘আস-সুনান’ গ্রন্থটি পাঠ করেছেন। তাঁকে আবু দাউদের ‘ওয়াররাক’ বলা হতো; আর বসরাবাসীদের পরিভাষায় ‘ওয়াররাক’ বলতে বুঝায় যিনি মানুষের নিকট পাঠ করে শোনান
(১)। তিনি হলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি তাঁর নিকট থেকে ‘আস-সুনান’ গ্রন্থটি বর্ণনা করেছেন
(২)। তিনি ৩৩৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন
(৩)।
আল-কাসিম ইবন ইউসুফ আত-তুজিবি বলেন: এই গ্রন্থের সকল বর্ণনার মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধতম হলো আবু আলী মুহাম্মদ ইবন আহমদ ইবন আমর আল-লুলুয়ি আল-বাসরির বর্ণনাটি। এটিই ইমাম আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ) সর্বশেষ যা শ্রুতিলিপি করিয়েছিলেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই ইমাম আবু দাউদ ইন্তেকাল করেন
(৪)।
আবু আত-তৈয়্যব আল-আজিমাবাদি বলেন: লুলুয়ির বর্ণিত ‘আস-সুনান’-এর পাণ্ডুলিপিটিই আমাদের হিন্দুস্তান (ভারত), হিজায এবং আরব বিশ্বের প্রাচ্যের দেশসমূহসহ অধিকাংশ দেশে প্রচলিত। এমনকি সাধারণভাবে ‘আস-সুনান’ বলতে এটিই বোঝা যায়। হাফেজ আল-মুনজিরি এই পাণ্ডুলিপিটিই সংক্ষেপ করেছেন এবং এর হাদিসসমূহের তাখরিজ করেছেন। এই সংস্করণের ওপরই ইবন রুসলান ও হাফেজ আল-ইরাকির ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ইবনুল কাইয়্যিম, আস-সিন্দি ও আস-সুয়ুতির হাশিয়া (টীকা) রয়েছে—এই হাশিয়াগুলো মুদ্রিত হয়েছে—এবং আরও অনেকের। ‘আল-মুনতাকা’ এবং ‘জামেউল উসুল’-এর লেখকের বক্তব্যে এই বর্ণনাটিই উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وصاحب "نصب الراية"، وصاحب "المشكاة"، وصاحب "بلوغ المرام"، وغيرهم من المحدّثين، وأخذ هذه النسخةَ الإمامُ الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن المعروف بابنِ عساكر الدمشقي في كتابه "الإشراف على معرفة الأطراف"، حتى قال السيوطى: إن رواية اللؤلؤي مِن أصح الروايات
(1).
وقد حصل لدينا بحمد الله ثلاث نسخ مصورة عن أصول خطية برواية اللؤلؤي.
2 - أبو بكر محمدُ بنُ بكر بن محمد بنِ عبد الرزاق بن داسَه
(2) البصري التمار، وصفه الذهبيُّ بقوله: الشيخ الثقة العالم، قال: وهو آخِرُ مَنْ حدَّث بالسنن كاملاً، عن أبي داود. وكذلك قال أبو علي الغساني: إنَّ روايته أكملُ الروايات، وكذا قال ابن عطية في "فهرسته". وقال أبو الطيب العظيم آبادي: وهي مشهورة في بلاد المغرب
(3). قلنا: وقد اعتمدها من المشارقة الإمام أبو بكر أحمد بن علي الرازي الجصّاص، المتوفى سنة (370 هـ) والإمام أبو سليمان حَمْد بن محمد الخطابي، المتوفى سنة (388 هـ)، والحافظ أبو نعيم الأصبهاني، المتوفى سنة (430 هـ)، والحافظ أحمد بن الحسين البيهقي المتوفى سنة (458 هـ).
--------------------------------------------
'নাসবুর রায়া'-র লেখক, 'মিশকাত'-এর লেখক, 'বুলুগুল মারাম'-এর লেখক এবং অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ এই সংস্করণটি গ্রহণ করেছেন। ইমাম হাফিয আবুল কাসিম আলী বিন হাসান, যিনি ইবনু আসাকির আদ-দিমাশকী নামে পরিচিত, তিনি তাঁর 'আল-ইশরাফ আলা মারিফাতিল আতরাফ' গ্রন্থে এই সংস্করণটি গ্রহণ করেছেন, এমনকি ইমাম সুয়ূতী বলেছেন: লু'লুয়ীর বর্ণনাটি বিশুদ্ধতম বর্ণনাগুলোর অন্যতম।
(১).
আল্লাহর প্রশংসায়, আমাদের কাছে লু'লুয়ীর বর্ণনার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে তিনটি ছায়া-অনুলিপি সংগৃহীত হয়েছে।
২ - আবু বকর মুহাম্মদ বিন বকর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রাজ্জাক বিন দাসা আল-বাসরি আত-তাম্মার। ইমাম যাহাবী তাঁকে 'নির্ভরযোগ্য শাইখ ও আলিম' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: আবু দাউদ থেকে পূর্ণাঙ্গ সুনান বর্ণনাকারীদের মধ্যে তিনি সর্বশেষ ব্যক্তি। একইভাবে আবু আলী আল-গাসসানি বলেছেন: তাঁর বর্ণনাটি সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা। ইবনু আতিয়্যাহ তাঁর 'ফিহরিস'-এ অনুরূপ কথা বলেছেন। আবু তায়্যিব আল-আজিমাবাদি বলেন: এটি মাগরিব বা পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রসিদ্ধ।
(৩) আমরা বলি: প্রাচ্যবাসীদের মধ্যে ইমাম আবু বকর আহমাদ বিন আলী আর-রাজি আল-জাসসাস (মৃত্যু ৩৭০ হিজরি), ইমাম আবু সুলাইমান হামদ বিন মুহাম্মদ আল-খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৮৮ হিজরি), হাফিয আবু নুআইম আল-আসফাহানি (মৃত্যু ৪৩০ হিজরি) এবং হাফিয আহমাদ বিন আল-হুসাইন আল-বাইহাকী (মৃত্যু ৪৫৮ হিজরি) এর ওপর নির্ভর করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وممن اعتمدها من المغاربة صاحب "المحلى" الإمام أبو محمد علي بن أحمد بن حزْم، المتوفى سنة (456 هـ)، والإمام أبو عمر يوسف بن عبد الله بن عبد البرِّ، المتوفى سنة (463 هـ).
وقال الحافظ ابن حجر: روايتا اللؤلؤي وابن داسه متقاربتانِ إلا في بعض التقديم والتأخير
(1). توفي سنة لست وأربعين وثلاث مئة
(2).
وقد حصل لنا بحمد الله مصوّرتان عن نسختين خطيتين بروايته، إحداهما كاملة، والأخرى ينقص منها بعض أبوابها.
3 - أبو سعيد أحمدُ بنُ محمد بن زياد بنِ بشر بنِ درهم بن الأعرابي، وصفه الذهبي بقوله: الإمام المحدث القدوة الصدوقُ الحافظ، شيخ الإسلام، وقال في موضع آخر: وكان ثقة ثبتاً. قال أبو علي الغساني: وليس في رواية ابن الأعرابي كتابُ الفتن والملاحم والحروف والخاتم، وسقط من كتاب اللباس نحو نصفه، وفاته مِن كتاب الوضوء والصلاة والنكاح أوراق كثيرة، وأحاديث خرجها من روايته عن شيوخه، وروى أكثرها عن أبي أُسامة محمد بن عبد الملك الروّاس عن أبي داود على حسب ما قيدته من كتابِ أحمد بن سعيد بن حزْم. توفي سنة أربعين وثلاث مئة، وله أربع وتسعون سنة وأشهر
(3).
--------------------------------------------
মাগরেববাসীদের মধ্যে যারা এর ওপর নির্ভর করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন "আল-মুহাল্লা" গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম আবু মুহাম্মদ আলী বিন আহমাদ বিন হাযম, মৃত্যু (৪৫৬ হিজরি), এবং ইমাম আবু উমর ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন আব্দুল বার, মৃত্যু (৪৬৩ হিজরি)।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: লুলুয়ী এবং ইবনে দাসা-এর বর্ণনা দুটি পরস্পরের খুবই কাছাকাছি, তবে কিছু ক্ষেত্রে আগে-পরে হওয়া (বিন্যাসগত পার্থক্য) ছাড়া
(১)। তিনি তিনশ ছিচল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন
(২)।
আল্লাহর প্রশংসায়, আমরা তার বর্ণনার দুটি পাণ্ডুলিপির অনুলিপি লাভ করেছি; যার একটি পূর্ণাঙ্গ এবং অন্যটির কিছু অধ্যায় অনুপস্থিত।
৩ - আবু সাঈদ আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন যিয়াদ বিন বিশর বিন দিরহাম ইবনুল আরাবি, যাহাবী তাকে এভাবে বর্ণনা করেছেন: ইমাম, মুহাদ্দিস, অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, সত্যবাদী হাফেজ, শায়খুল ইসলাম; এবং অন্য এক স্থানে তিনি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় ছিলেন। আবু আলী আল-গাসসানি বলেন: ইবনুল আরাবির বর্ণনায় ফিতান, মালাহিম, হুরুফ এবং খাতাম অধ্যায়গুলো নেই, এবং পোশাক অধ্যায় থেকে প্রায় অর্ধেক অংশ বাদ পড়েছে। এছাড়া উযু, সালাত এবং নিকাহ অধ্যায় থেকে অনেকগুলো পৃষ্ঠা এবং কিছু হাদিস তার ছুটে গেছে যা তিনি তার শিক্ষকদের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত করেছেন; আর এর অধিকাংশ তিনি আবু দাউদ থেকে আবু উসামা মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক আর-রাওয়াস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি আমি আহমাদ বিন সাঈদ বিন হাযম-এর কিতাব থেকে লিপিবদ্ধ করেছি। তিনি তিনশ চল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার বয়স হয়েছিল চুরানব্বই বছর কয়েক মাস
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুনানে আবু দাউদ - তাহকীক আরনাউত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وقال أبو الطيب العظيم آبادي: مع نقصانها فيها أيضاً بعضُ الأحاديث الذي ليس في رواية اللؤلؤي، ويذكر الحافظ المزى روايته في "الأطراف"
(1).
4 - أبو الحسن عليُّ بنُ محمد بن العبد الوراق، وقد نقل الحافظُ عبدُ الغني المقدسى بسنده إلى ابن العبد قوله: سمعتُ كتاب" السنن" من أبي داود سِتَّ مرار، بقيت من المرة السادسة بقيةٌ لم يُتمه بالبصرة. وقال: البصري يزيدُ فيه على البغدادي ستَّ مئةِ حديثٍ ونيفاً وستين حديثاً، وألف كلمة ونيف
(2).
قال أبو الطيب العظيم آبادي: رواية ابن العبد موجودة في أطراف المزي، ويذكر روايته أيضاً الحافظُ ابنُ حجر في "فتح الباري"
(3).
قلنا: وكثيراً ما كان يشير إليها الحافظ في نسخته التي عندنا من "السنن" بالرمز "عب".
وقال الكوثري: وفي رواية أبي الحسن عليِّ بن الحسن بنِ العبد بعضُ زيادات تنفعُ في نقد الأحاديث، وكذا روايةُ إسحاق بن موسى الرملي
(4).
5 - أبو عيسى إسحاق بن موسى بن سعيد بن عبد الله بن أبي سلمة الرملي، وثقة الدارقطني وقال السيوطي: نسخته تقارب نسخة ابن داسه. وفيها زيادات تنفع في نقد الأحاديث كما قال الكوثري.
--------------------------------------------
আবু তৈয়ব আজিম آبادی বলেন: এর অপূর্ণতা থাকা সত্ত্বেও এতে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা লু’লুয়ী-এর বর্ণনায় নেই, এবং হাফেজ মিযযী ‘আল-আতরাফ’-এ তাঁর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন
(১)।
৪ - আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আবদ আল-ওয়াররাক। হাফেজ আবদুল গনি আল-মাকদিসি তাঁর সনদে ইবনুল আবদ থেকে উদ্ধৃত করেন যে তিনি বলেন: আমি আবু দাউদ থেকে ‘আস-সুনান’ কিতাবটি ছয়বার শুনেছি। ষষ্ঠবার শোনার সময় কিছু অংশ বাকি রয়ে গিয়েছিল যা বসরায় তিনি সম্পন্ন করেননি। তিনি বলেন: বসরী পাণ্ডুলিপিতে বাগদাদী পাণ্ডুলিপির তুলনায় ছয় শ ষাটেরও কিছু বেশি হাদিস এবং এক হাজারেরও কিছু বেশি শব্দ অতিরিক্ত রয়েছে
(২)।
আবু তৈয়ব আজিম آبادی বলেন: ইবনুল আবদের বর্ণনাটি মিযযীর ‘আতরাফ’-এ বিদ্যমান রয়েছে, এবং হাফেজ ইবনে হাজারও ‘ফাতহুল বারী’-তে তাঁর বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন
(৩)।
আমরা বলি: আমাদের নিকট থাকা ‘সুনান’-এর কপিতে হাফেজ (ইবনে হাজার) প্রায়ই এই বর্ণনার দিকে ‘আইন-বা’ সংকেত দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন।
কাওসারী বলেন: আবুল হাসান আলী ইবনে হাসান ইবনুল আবদের বর্ণনায় কিছু অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে যা হাদিস যাচাই-বাছাইয়ে উপকারী, আর ইসহাক ইবনে মুসা আর-রামলির বর্ণনার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য
(৪)।
৫ - আবু ঈসা ইসহাক ইবনে মুসা ইবনে সাঈদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি সালামা আর-রামলি। দারাকুতনি তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) বলেছেন এবং সুয়ূতী বলেন: তাঁর পাণ্ডুলিপিটি ইবনে দাসা-এর পাণ্ডুলিপির কাছাকাছি। আর এতে এমন কিছু বর্ধিত অংশ রয়েছে যা হাদিস বিশ্লেষণে ফলপ্রসূ, যেমনটি কাওসারী উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------