(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: -)
من قضايا التربية الدينية في المجتمع الإسلامي   (كمال الدين عبد الغني المرسي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: من قضايا التربية الدينية في المجتمع الإسلامي

المؤلف: كمال الدين عبد الغني المرسي

الناشر: دار المعرفة الجامعية

الطبعة: الأولى 1419هـ/ 1998م

عدد الصفحات: 241

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইসলামী সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার কতিপয় প্রসঙ্গ   (কামালুদ্দীন আব্দুল গনী আল-মুরসি)

বিভাগ: ফিকহি বিষয়াবলী


গ্রন্থ: ইসলামী সমাজে ধর্মীয় শিক্ষার কতিপয় প্রসঙ্গ

লেখক: কামালুদ্দীন আব্দুল গনী আল-মুরসি

প্রকাশক: দারুল মাআরিফ আল-জামিইয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি/ ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত সংস্করণের সাথে মিল রাখা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌مقدمة

…

تطبيق المنهج الإسلامي في التربية؟ والسؤال الخامس: ما الجهات المسئولة عن تطبيق هذا المنهج؟

ومع جملة عرض القضايا والمناقشات في سائر الفصول، لم يغفل البحث إلقاء الضوء على واقع التربية الإسلامي في حياتنا الحاضرة، والإشارة إلى المعوقات التي تعترض سبيلها، والشبهات التي يجب دحضها، وكشف اللثام عنها.

وفي نهاية البحث تأتي الخاتمة التي تضم النتائج التي توصَّلَ إليها الباحث من خلال عرضه لقضايا التربية الدينية الإسلامية، وأهمها أن التربية الدينية طريق السيادة في الدنيا، وسبيل السعادة في الآخرة.
উপক্রমণিকা

...

শিক্ষা ক্ষেত্রে ইসলামি মানহাজ (منهج) এর প্রয়োগ? এবং পঞ্চম প্রশ্ন: এই মানহাজ (منهج) বাস্তবায়নে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ কারা?

অন্যান্য সকল অধ্যায়ে বিভিন্ন বিষয়ের উপস্থাপনা ও আলোচনার পাশাপাশি, বর্তমান জীবনে ইসলামি শিক্ষার বাস্তব পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করতে এবং এর পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকসমূহ নির্দেশ করতে এই গবেষণাটি বিস্মৃত হয়নি। একইসাথে যেসব সংশয় (شبهات) খণ্ডন করা এবং সেগুলোর স্বরূপ উন্মোচন করা আবশ্যক, সেদিকেও এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

গবেষণার শেষে রয়েছে উপসংহার, যা ইসলামি ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় আলোচনার প্রেক্ষিতে গবেষক কর্তৃক উদ্ভাবিত ফলাফলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে সর্বপ্রধান হলো—ধর্মীয় শিক্ষা ইহকালে শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের পথ এবং পরকালে পরম সৌভাগ্য লাভের মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌الفصل الأول: مفهوم التربية الدينية في الإسلام

‌‌معنى التربية:

التربية لفظ مشتق من الفعل رَببَ.

وربَّ الولدَ: ربَّاه وليهُ وتعهده بما يغذيه وينميه، فهو رابٍّ، والولدُ مربوب، وربيب.

وتَربيه ورباه تربيةً بمعنى أحسن القيام عليه وَوَليهُ حتى يفارق الطفولية، كان ابنه أو لم يكن1، والربُّ: الإله المعبود، والمالك والسيد، والقيِّمُ والمدبِّر2.

والربَّاني: الكامل في العلم والعبادة، وقيل: هو من الربِّ بمعنى التربية، وكانوا يربون المتعلمين بصغار العلوم قبل كبارها3.

قال الإمام فخر الدين الرازي4:

"والمربي على قسمين؛ إحداهما: أن يربي شيئًَا ليربح على المربي، والثاني: أن يربيه ليربح المربَّى.

وتربية كل الخلق على القِسم الأول؛ لأنهم يربون غيرهم ليربحوا

--------------------------------------------

1 انظر لسان العرب لابن منظور، ص1547، مادة: ربب.

2 انظر، معجم الوجيز ص250، مادة: ربب، طبعه دار المعارف، مادة: ربب.

3 انظر ابن منظور، لسان العرب، مادة: ربب، ص1548، طبعة دار المعارف.

4 انظر، فخر الدين الرازي، مفاتيح الغيب، المجلد الأول، العدد3، ص282، الناشر، دار الغد العربي، سنة 1991القاهرة.
প্রথম অধ্যায়: ইসলামে ধর্মীয় শিক্ষার (التربية الدينية) ধারণা

‌শিক্ষার (التربية) অর্থ:

‘তারবিয়াহ’ (التربية) শব্দটি ‘রাব্বাবা’ (ربب) ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত।

শিশুকে প্রতিপালন করা (ربَّ الولدَ): তার অভিভাবক তাকে লালন-পালন করেছেন এবং তার পুষ্টি ও বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি করেছেন; এমতাবস্থায় তিনি হলেন প্রতিপালনকারী (رابٍّ), আর শিশুটি হলো প্রতিপালিত (مربوب) ও পালিত সন্তান (ربيب)।

কাউকে ‘তারবিয়াহ’ (تربية) প্রদান করা বা লালন-পালন করার অর্থ হলো, শৈশব অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি উত্তম তদারকি ও অভিভাবকত্ব বজায় রাখা; সে নিজের সন্তান হোক বা না হোক। আর ‘রব’ (الربُّ) অর্থ হলো: উপাস্য ইলাহ, মালিক, নেতা, তত্ত্বাবধায়ক এবং পরিচালক।

‘রব্বানি’ (الربَّاني) হলেন তিনি, যিনি জ্ঞান ও ইবাদতে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। বলা হয়ে থাকে: এই শব্দটি ‘রব’ (الربّ) থেকে নির্গত যা প্রতিপালন বা শিক্ষা (التربية) অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাঁরা (শিক্ষকগণ) শিক্ষার্থীদের উচ্চতর বা জটিল জ্ঞান প্রদানের পূর্বে প্রাথমিক বা সহজ জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে তাদের গড়ে তুলতেন।

ইমাম ফখরুদ্দীন আল-রাজি বলেন:

“প্রতিপালনকারী (المربي) দুই প্রকার; প্রথমত: এমন কেউ যিনি কোনো কিছু প্রতিপালন করেন প্রতিপালনকারীর নিজের লাভের জন্য। দ্বিতীয়ত: যিনি প্রতিপালন করেন প্রতিপালিত ব্যক্তির (المربَّى) উপকারের জন্য।

সৃষ্টিজগতের যাবতীয় লালন-পালন প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত; কেননা তারা অন্যকে প্রতিপালন করে যাতে তারা নিজেরা লাভবান হতে পারে...

--------------------------------------------

১. ইবন মঞ্জুর প্রণীত লিসানুল আরব দেখুন, পৃষ্ঠা: ১৫৪৭, মূলশব্দ: র-ব-ব (ربب)।

২. মুজামুল ওয়াজিজ দেখুন, পৃষ্ঠা: ২৫০, মূলশব্দ: র-ব-ব (ربب), দারুল মাআরিফ সংস্করণ।

৩. ইবন মঞ্জুর, লিসানুল আরব দেখুন, মূলশব্দ: র-ব-ব (ربب), পৃষ্ঠা: ১৫৪৮, দারুল মাআরিফ সংস্করণ।

৪. ফখরুদ্দীন আল-রাজি, মাফাতিহুল গায়েব দেখুন, ১ম খণ্ড, ৩য় সংখ্যা, পৃষ্ঠা: ২৮২, প্রকাশক: দারুল গাদ আল-আরাবি, ১৯৯১ ঈসায়ী, কায়রো।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৪)
عليه إما ثوابًا أوثناءً، والقسم الثاني: هو الحق سبحانه وتعالى، كما قال: "خلقتكم لتربحوا عليّ لا أربح عليكم" فهو تعالى يربي ويحسن، وهو خلاف سائر المربين، وبخلاف سائر المحسنين.

فالتربية هي عملية التنشئة والرعاية والتوجيه من جانب الكبير تجاه الصغير، والعالم حيال المتعلم.

ولقد تناول الإسلامي كل شئون الفرد بالتوجيه والإرشاد والتهذيب والتعليم، فلم يدع في حياته شيئًا إلّا وقد أفاده فيه بما يصلحه، كذلك بالنسبة لحياة المجتمع لم يدع فيها أمرًا إلّا وجعل له نظامًا وهديًا؛ بحيث يضمن للناس السعادة دائمًا، والأمان في حاضر أيامهم ومستقبلها.

ولما كان الدين من عند الله من لدن آدم حتى رسولنا الكريم -صلى الله عليه سلم، فقد وضع للناس الموازين القسط التي تلائم عصورهم وطبائعهم، ولما كان الدين الإسلاميّ هو الدين الخاتم؛ لأنه لا نبي بعد محمد -صلى الله عليه سلم، فقد جعله الله مهيمنًا على كل الأديان قبله، وجعل القرآن مهيمنًا على كل الكتب قبله، ووصفه بأنه دائمًا يهدي إلى الحق وإلى سبيل الرشاد؛ فقالك -عزَّ وعَلَا: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} 1.

وإن كتابًا هذا شأنه، يجب أن يُقْبِل كل إنسان على تدبر ما فيه وفهم مراميه؛ لأنه دائمًا يهدي للتي هي أقوم، فهو يضم كل أصول التربية، وكانت حياة النبي صلى الله عليه وسلم بعد البعثة شرحًا لهذا القرآن، وتفصيلًا له، وتبيينًا لأحكامه، ولذلك كان على اكلبشرية أن توجِّه الشكر كل الشكر إلى العناية الإلهية التي لم تخلقهم عبثًا، ولهذا نجد أن المولى -عزَّ وعلَا في سورة الفاتحة، بدأ بالحمد لذاته، ثم بلفظ الربوبية بعده، فقال: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} ، وكما نعلم أن من معاني الربّ: السيد، المالك، الصاحب، المربي".

--------------------------------------------

1 سورة الإسراء الآية 9.
এর ওপর হয়তো সওয়াব অথবা প্রশংসা বর্তায়। আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: মহান সত্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি যেন তোমরা আমার মাধ্যমে লাভবান হতে পারো, আমি তোমাদের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার জন্য নয়।" সুতরাং আল্লাহ তাআলা প্রতিপালন করেন এবং কল্যাণ করেন; তিনি অন্যান্য সকল প্রতিপালক ও কল্যাণকামীর চেয়ে ভিন্ন।

তরবিয়ত বা লালন-পালন হলো বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের প্রতি এবং জ্ঞানীর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর প্রতি গড়ে তোলা, যত্ন নেওয়া এবং দিকনির্দেশনা প্রদানের একটি প্রক্রিয়া।

আর ইসলাম ব্যক্তির প্রতিটি বিষয়কে দিকনির্দেশনা, উপদেশ, সংস্কার ও শিক্ষার মাধ্যমে পরিবেষ্টন করেছে। ব্যক্তির জীবনে এমন কোনো বিষয় বাকি রাখেনি যাতে তার সংশোধনের জন্য কোনো উপকার নেই। একইভাবে সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রেও এমন কোনো বিষয় বাদ রাখেনি যার জন্য কোনো নিয়ম ও সঠিক পথ নির্ধারণ করা হয়নি; যেন তা মানুষের জন্য সর্বদা সুখ এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

যেহেতু আদম (আ.) থেকে আমাদের প্রিয় রাসূল (সা.) পর্যন্ত এই দ্বীন আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, তাই তিনি মানুষের জন্য এমন ইনসাফপূর্ণ মানদণ্ড নির্ধারণ করেছেন যা তাদের যুগ ও স্বভাবের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর যেহেতু ইসলাম ধর্ম হলো সর্বশেষ ধর্ম; কারণ মুহাম্মাদ (সা.)-এর পর আর কোনো নবী নেই, তাই আল্লাহ একে পূর্ববর্তী সকল ধর্মের ওপর আধিপত্যশীল করেছেন এবং কুরআনকে পূর্ববর্তী সকল আসমানি কিতাবের ওপর আধিপত্যশীল করেছেন। তিনি একে এমনভাবে গুণান্বিত করেছেন যে তা সর্বদা সত্য ও সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে। মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: "নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথ দেখায় যা সবচেয়ে সুদৃঢ়।" ১।

আর যে কিতাবের মর্যাদা এমন, প্রত্যেক মানুষের উচিত তার বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং এর উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা; কারণ তা সর্বদা সবচেয়ে সুদৃঢ় পথ দেখায়। এতে লালন-পালনের সকল মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নবুওয়াত লাভের পর নবী (সা.)-এর জীবন ছিল এই কুরআনেরই ব্যাখ্যা, এর বিস্তারিত রূপ এবং এর বিধানসমূহের স্পষ্টীকরণ। তাই সমগ্র মানবজাতির উচিত সেই খোদায়ী অনুগ্রহের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা যা তাদের অনর্থক সৃষ্টি করেনি। এই কারণেই আমরা দেখি যে মহান প্রতিপালক সূরা আল-ফাতিহায় নিজের প্রশংসা দ্বারা শুরু করেছেন এবং এরপর রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের শব্দ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।" আর আমরা জানি যে, 'রব' শব্দের অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: মনিব, মালিক, সাথী ও প্রতিপালক।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৯।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تربية الله لعباده 1:

وتربية الله تعالى مخالفة لتربية غيره، وبيان ذلك من وجوه:

الأول: أنه يربي عبيده لا لغرض نفسه بل لغرضهم، وغيره يربون لغرض غيرهم.

الثاني: أن غيره إذا ربَّى فبقدر تلك التربية يظهرالنقصان في خزائنه وفي ماله، وهو تعالى متعالٍ عن النقصان والضرر، كما قال تعالى: {وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إِلَّا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ} 2.

الثالث: أن غيره من المحسنين إذا ألح الفقير عليهم أبغضه وحرمه ومنعه، والحق تعالى بخلاف ذلك، كما قال عليه الصلاة والسلام: "إن الله تعالى يحب الملحين في الدعاء".

الرابع: أن غيره من المحسنين مالم يطلب منه الإحسان لم يعط، أما الحق تعالى فإنه يعطي قبل السؤال، ترى أنه رباك حال ما كنت جنينًا في رحم الأم، ورحال ما كنت جاهلًا غير عاقل، لا تحس أن تسأل، ووقاك وأحسن إليك مع أنك ما سألته، وما كان لك عقل ولا هداية.

--------------------------------------------

1 انظر فخر الدين الرازي، مفاتيح الغيب، العدد3، ص282.

2 سورة الحجر الآية:21.
বান্দাদের প্রতি আল্লাহর প্রতিপালন 1:

মহান আল্লাহর প্রতিপালন অন্যদের প্রতিপালন থেকে ভিন্ন, এবং তার বর্ণনা নিম্নোক্ত দিকগুলো থেকে স্পষ্ট হয়:

প্রথমত: তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতিপালন করেন তাদের নিজেদের উপকারের জন্য, নিজের কোনো উদ্দেশ্যে নয়। অথচ অন্যরা প্রতিপালন করে তাদের নিজেদের কোনো স্বার্থে।

দ্বিতীয়ত: অন্য কেউ যখন লালন-পালন করে, তখন সেই লালন-পালনের সমপরিমাণ তার ভাণ্ডার ও সম্পদে ঘাটতি দেখা দেয়। অথচ মহান আল্লাহ সকল প্রকার ঘাটতি ও ক্ষতি থেকে ঊর্ধ্বে। যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর এমন কোনো বস্তু নেই যার ভাণ্ডার আমাদের নিকট নেই; এবং আমরা তা কেবল একটি নির্দিষ্ট পরিমাণেই অবতীর্ণ করি।} 2.

তৃতীয়ত: অন্যান্য দানশীল ব্যক্তিরা, যদি কোনো অভাবী তাদের কাছে খুব বেশি অনুনয়-বিনয় করে, তবে তারা তাকে অপছন্দ করে এবং তাকে বঞ্চিত ও প্রতিহত করে। কিন্তু মহান আল্লাহ এর সম্পূর্ণ বিপরীত। যেমনটি তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ দোয়ার মধ্যে অনুনয়-বিনয়কারীদের ভালোবাসেন।"

চতুর্থত: অন্যান্য দানশীল ব্যক্তিদের কাছে যতক্ষণ না অনুগ্রহ প্রার্থনা করা হয়, ততক্ষণ তারা দান করে না। পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ প্রার্থনার পূর্বেই দান করেন। আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, তিনি আপনাকে প্রতিপালন করেছেন যখন আপনি মায়ের গর্ভে ভ্রূণ হিসেবে ছিলেন এবং যখন আপনি অজ্ঞ ও অবোধ ছিলেন, তখনও আপনার চাওয়ার মতো বোধশক্তি ছিল না। আপনি তাঁর কাছে প্রার্থনা না করা সত্ত্বেও তিনি আপনাকে হেফজ করেছেন এবং আপনার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, অথচ তখন আপনার না ছিল কোনো বুদ্ধি, না ছিল কোনো সঠিক পথের জ্ঞান।

--------------------------------------------

1 দেখুন: ফখর উদ্দিন আল-রাজি, মাফাতিহ আল-গায়েব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৮২।

2 সূরা আল-হিজর, আয়াত: ২১।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৬)
الخامس: أن غيره من المحسنين ينقطع إحسانه إما بسبب الفقر أو الغيبة أو الموت، والحق تعالى لا ينقطع إحسانه البتة.

السادس: أن غيره من المحسنين يختص إحسانه بقوم دون قوم، ولا يمكنه التعميم، أما الحق تعالى فقد وصل تربيته وإحسانه إلى الكلِّ، كما قال: {وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ} 1 فثبت أنه تعالى رب العالمين، ومحسن إلى الخلائق أجمعين، فلهذا قال تعالى في حق نفسه: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 2.

ثم إن الذي يحمد ويمدح ويعظم في الدنيا إنما يكون كذلك لأحد وجوه أربعة: إما لكونه كاملًا "في ذاته وفي صفاته، منزهًا عن جميع النقائص والآفات، وإن لم يكن منه إحسان إليك، وإما لكونه محسنًا إليك ومنعمًا عليك، وإما لأنك ترجو وصول إحسانه إليك في المستقبل من الزمان، وإما لأجل أنك تكون خائفًا من قهره وقدرته وكمال سطوته، فهذه الحالات هي الجهات الموجبة للتعظيم، فكأنه سبحانه وتعالى يقول: إن كنتم ممن يعظِّمون الكمال الذاتي فاحمدني فإني إله العالمين، وهو المراد من قوله: {الْحَمْدُ لِلَّهِ} ، وإن كنتم ممن تعظِّمون الإحسان فأنا رب العالمين، وإن كنتم تعظِّمون للطمع في المستقبل فأنا الرحمن الرحيم، وإن كنتم تعظمون الخوف فأنا مالك يوم الدين"3.

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف: الآية 156.

2 مفاتيح الغيب، ج3، ص283.

3 المصدر السابق نفسه.
পঞ্চম: আল্লাহ ব্যতীত অন্য যে কোনো অনুগ্রহকারীর অনুগ্রহ হয়তো দারিদ্র্য, অনুপস্থিতি অথবা মৃত্যুর কারণে বন্ধ হয়ে যায়; কিন্তু মহান সত্যের (আল্লাহর) অনুগ্রহ বিন্দুমাত্রও বিচ্ছিন্ন হয় না।

ষষ্ঠ: আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য অনুগ্রহকারীদের দয়া ও দান বিশেষ কোনো এক সম্প্রদায়ের জন্য নির্দিষ্ট থাকে, সবার জন্য তা ব্যাপক করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মহান সত্যের (আল্লাহর) লালন-পালন ও অনুগ্রহ সকল সৃষ্টির নিকট পৌঁছেছে, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আর আমার দয়া সব কিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে} ১। সুতরাং এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক এবং সকল সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহকারী; এজন্যই মহান আল্লাহ নিজের শানে বলেছেন: {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক} ২।

অতঃপর, ইহজগতে যার প্রশংসা, গুণকীর্তন ও মহিমা বর্ণনা করা হয়, তা মূলত চারটি বিষয়ের কোনো একটির কারণে হয়ে থাকে: হয় তিনি তাঁর সত্তা ও গুণাবলিতে পূর্ণ, এবং সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও বিপদ-আপদ থেকে পবিত্র—যদিও তাঁর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি কোনো অনুগ্রহ নাও থাকে; অথবা তিনি আপনার প্রতি অনুগ্রহকারী ও নেয়ামত দানকারী; অথবা আপনি ভবিষ্যতে তাঁর অনুগ্রহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা করেন; অথবা আপনি তাঁর কঠোরতা, ক্ষমতা ও পূর্ণ প্রতাপের ভয়ে ভীত থাকেন। এই অবস্থাগুলোই হলো সম্মান প্রদর্শনের মূল কারণসমূহ। যেন মহান আল্লাহ বলছেন: "তোমরা যদি সত্তাগত পূর্ণতাকে সম্মান করো, তবে আমার প্রশংসা করো কারণ আমি বিশ্বজগতের ইলাহ, যা তাঁর এই বাণী {সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য} দ্বারা উদ্দেশ্য। আর যদি তোমরা অনুগ্রহকে সম্মান করো, তবে আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। আর যদি ভবিষ্যতে পাওয়ার আশায় সম্মান করো, তবে আমি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। আর যদি ভয়ের কারণে সম্মান করো, তবে আমি বিচার দিবসের মালিক।" ৩।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আরাফ: আয়াত ১৫৬।

২ মাফাতিহুল গায়িব, ৩য় খণ্ড, পৃ. ২৮৩।

৩ প্রাগুক্ত।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৭)
ووجوه تربية الله للعبد كثيرة غير متناهية، ونحن نذكر منها أمثلة:

المثال الأول: لما وقعت قطرة النطفة من صلب الأب إلى رحم الأم، فانظر كيف أنها صارت علقة أولًا، ثم مضغة ثانيًا، ثم تولَّدت منها أعضاء مختلفة؛ مثل: العظام والغضاريف والرباطات الأوتار والأوردة والشرايين، ثم اتصل البعض بالبعض، ثم حصل في كل واحد منها نوعٌ خاصٌّ من أنواع القوى، فحصلت القوة الباصرة في العين، والسامعة في الأذن، والناطقة في اللسان، فسبحان من أسمع بعظم، وبصَّرَ بشحم، وأنطق بلحم، وكل ذلك يدل على تربية الله تعالى للعبد"1.

المثال الثاني: أن الحبة الواحدة إذا وقعت في الأرض فإذا وصلت نداوة الأرض إليها انتفخت لا تشق من شيء من الجوانب إلّا من أعلاها وأسفلها، مع أن الانتفاخ حاصل من جميع الجوانب؛ أما الشق الأعلى فيخرج منه الجزء الصاعد من الشجرة؛ وأما الشق الأسفل فيخرج منه الجزء الغائض في الأرض، وهو عروق الشجرة، فأما الجزء الصاعد فبعد صعوده يحصل له ساق، ثم ينفصل من ذلك الساق أغصان كثيرة، ثم يظهر على تلك الأغصان الأنوار أولًا، ثم الثمار ثانيًا، ويحصل لتلك الثمار أجزاء مختلفة بالكثافة واللطافة وهي القشور اللبوب ثم الأدهان، وأما الجزء الغائص من الشجرة فإن تلك العروق تنتهي إلى أطرافها؛ وتلك الأطراف تكون في اللطافة كأنها مياه منعقدة، مع غاية لطافتها فإنها تغوص في الأرض الصلبة الخشنة2.

--------------------------------------------

1 المصدر السابق، ص284.

2 المصدر السابق نفسه.
বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর লালন-পালনের (تربية) পদ্ধতিসমূহ অসংখ্য ও অগণিত। আমরা তার মধ্য থেকে কিছু উদাহরণ উল্লেখ করছি:

প্রথম উদাহরণ: যখন পিতার পৃষ্ঠদেশ থেকে বীর্যের ফোঁটা মায়ের জরায়ুতে পতিত হয়, তখন লক্ষ্য করুন কীভাবে তা প্রথমে রক্তপিণ্ডে (علقة) পরিণত হলো, এরপর মাংসপিণ্ডে (مضغة) রূপ নিল। অতঃপর তা থেকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হলো; যেমন: হাড়, তরুণাস্থি, লিগামেন্ট, টেন্ডন, শিরা ও ধমনী। এরপর একটি অঙ্গের সাথে অপরটি সংযুক্ত হলো। অতঃপর এগুলোর প্রত্যেকটির মাঝে বিশেষ বিশেষ শক্তি নিহিত করা হলো। ফলে চোখে দর্শন শক্তি, কানে শ্রবণ শক্তি এবং জিহ্বায় বাকশক্তি তৈরি হলো। অতএব পরম পবিত্র সেই সত্তা, যিনি হাড় দিয়ে শ্রবণ করান, চর্বি দিয়ে দর্শন করান এবং গোশত দিয়ে কথা বলান। আর এ সব কিছুই বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর লালন-পালনেরই প্রমাণ বহন করে।১

দ্বিতীয় উদাহরণ: একটি দানা যখন মাটিতে পতিত হয় এবং মাটির আর্দ্রতা তাতে পৌঁছে, তখন তা ফুলে ওঠে। চারিদিক থেকে ফুলে ওঠা সত্ত্বেও তা উপর এবং নিচ ছাড়া অন্য কোনো দিক দিয়ে বিদীর্ণ হয় না। অথচ এই স্ফীতি সব দিক থেকেই ঘটেছিল। উপরিভাগের ফাটল থেকে গাছের ঊর্ধ্বগামী অংশ বের হয়, আর নিচের ফাটল থেকে বের হয় মাটির গভীরে প্রবেশকারী অংশ—যা হলো গাছের শিকড়। আর ঊর্ধ্বগামী অংশটি উপরে ওঠার পর কাণ্ডে পরিণত হয়, এরপর সেই কাণ্ড থেকে অনেক ডালপালা পৃথক হয়। অতঃপর সেই ডালপালায় প্রথমে মুকুল এবং পরে ফল দেখা দেয়। আর সেই ফলের মধ্যে ঘনত্ব ও কোমলতার বিচারে বিভিন্ন অংশ যেমন খোসা, শাঁস এবং তৈলবীজ তৈরি হয়। অন্যদিকে গাছের নিম্নগামী অংশ তথা শিকড়গুলো তার প্রান্তসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়; এই প্রান্তগুলো কোমলতায় যেন জমাটবদ্ধ পানি, অথচ তাদের চরম কোমলতা সত্ত্বেও সেগুলো শক্ত ও রুক্ষ মাটির ভেতরে গভীরে প্রবেশ করে।২

--------------------------------------------

১ পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৮৪।

২ একই উৎস।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৮)
"وأودع الله فيها قوى جاذبة تجذب الأجزاء اللطيفة من الطين إلى نفسها1، والحكمة في كل هذه التدبيرات تحصيل ما يحتاج العبيد إليه من الغذاء والإدام والفواكه والأشربة والأدوية، كما قال تعالى: {أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا، ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا} [عبس: 25، 26] 2.

المثال الثالث: أنه وضع الأفلاك والكواكب بحيث صارت أسبابًا لحصول مصالح العباد، فخلق الليل ليكون سببًا للراحة والسكون، وخلق النهار ليكون سببًا للمعاش والحركة {هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءً وَالْقَمَرَ نُورًا وَقَدَّرَهُ مَنَازِلَ لِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ مَا خَلَقَ اللَّهُ ذَلِكَ إِلَّا بِالْحَقِّ} [يونس: 5] {وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ} [الأنعام: 97] واقرأ قوله: {أَلَمْ نَجْعَلِ الْأَرْضَ مِهَادًا، وَالْجِبَالَ أَوْتَادًا} إلى آخر آيات [النبأ: 6، 7] ، واعلم أنك إذا تأملت في عجائب أحوال المعادن والنبات والحيوان، وآثار حكمة الرحمن في خلق الإنسان، قضى صريح عقلك بأن أسباب تربية الله كثيرة، ودلائل رحمته لائحة ظاهرة، وعند ذلك يظهر لك قطرة من بحار أسرار قوله: {الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} 3.

ولقد أضاف الله سبحانه الحمد إلى نفسه، فقال تعالى: {الحمد لله} ، ثم أضاف نفسه إلى العالمين، والتقدير: "إني أحب الحمد فنسبته إلى

--------------------------------------------

1 وهو ما يسمى بالخاصة الشعرية.

2 فخر الدين الرازي، مفاتيح الغيب، العدد3 ص284.

3 فخر الدين الرازي، مفاتيح الغيب، التفسير الكبير، ج1/ 3/ 284.
আল্লাহ এতে (উদ্ভিদের মধ্যে) এমন এক আকর্ষণীয় শক্তি নিহিত রেখেছেন যা মাটি থেকে সূক্ষ্ম উপাদানগুলোকে নিজের দিকে টেনে নেয়১, আর এই সকল ব্যবস্থাপনার অন্তর্নিহিত রহস্য হলো বান্দাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য, তরকারি, ফলমূল, পানীয় ও ঔষধসামগ্রী সরবরাহ করা; যেমনটি মহান আল্লাহ এরশাদ করেছেন: "আমিই পর্যাপ্ত বারি বর্ষণ করি, অতঃপর আমি ভূমিকে প্রকৃষ্টরূপে বিদীর্ণ করি" [আবাসা: ২৫, ২৬] ২.

তৃতীয় উদাহরণ: তিনি আকাশমন্ডল ও নক্ষত্ররাজিকে এমনভাবে স্থাপন করেছেন যা বান্দাদের কল্যাণ লাভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি রাতকে আরাম ও প্রশান্তির জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং দিনকে জীবিকা নির্বাহ ও কর্মতৎপরতার মাধ্যম বানিয়েছেন। "তিনিই সেই সত্তা যিনি সূর্যকে তেজস্কর এবং চন্দ্রকে জ্যোতির্ময় করেছেন এবং তার জন্য বিভিন্ন মঞ্জিল নির্ধারিত করেছেন যাতে তোমরা বছরের সংখ্যা ও সময়ের হিসাব জানতে পারো; আল্লাহ এসব নিরর্থক সৃষ্টি করেননি" [ইউনূস: ৫]। "আর তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্ররাজি সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা স্থলের ও সমুদ্রের অন্ধকারে পথ চলতে পারো" [আল-আন'আম: ৯৭]। আর পাঠ করুন মহান আল্লাহর এই বাণী: "আমি কি ভূমিকে শয্যা এবং পাহাড়গুলোকে কীলক করিনি?" সূরার শেষ আয়াত পর্যন্ত [আন-নাবা: ৬, ৭]। জেনে রাখুন যে, আপনি যখন খনিজ সম্পদ, উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিচিত্র অবস্থা এবং মানুষের সৃষ্টিতে দয়াময় আল্লাহর প্রজ্ঞার নিদর্শনসমূহ নিয়ে চিন্তা করবেন, তখন আপনার স্বচ্ছ বিবেক এই সিদ্ধান্ত দেবে যে, আল্লাহর লালন-পালনের উপায়সমূহ অগণিত এবং তাঁর করুণার প্রমাণাদি সুস্পষ্ট। আর তখনই আপনার সামনে 'সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সকল জগতের প্রতিপালক'—এই বাণীর রহস্যের সমুদ্র হতে এক বিন্দু উন্মোচিত হবে ৩।

মহান আল্লাহ প্রশংসাকে নিজের সত্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন, তিনি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য"। অতঃপর তিনি নিজের সত্তাকে জগতসমূহের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এর নিহিত তাৎপর্য হলো: "নিশ্চয়ই আমি প্রশংসাকে ভালোবাসি, তাই আমি একে সম্বন্ধযুক্ত করেছি..."

--------------------------------------------

১ এটি কৈশিক প্রক্রিয়া নামে পরিচিত।

২ ফখরুদ্দিন আল-রাজি, মাফাতিহুল গাইব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৮৪।

৩ ফখরুদ্দিন আল-রাজি, মাফাতিহুল গাইব, আত-তাফসির আল-কাবির, খণ্ড ১/ ৩/ ২৮৪।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৯)
نفسي بكونه ملكًا، ثم لما ذكرت نفسي عرفت نفسي بكوني ربًّا للعالمين، ومن عرف ذاتًا بصفة فإنه يحاول ذكر أحسن الصفات وأكملها، وذلك يدل على أنه كونه ربًّا للعالمين أكمل الصفات، والأمر كذلك؛ لأن أكمل المراتب أن يكون تامًّا، وفوق التمام، فقولنا الله، يدل على كونه واجب الوجود لذاته في ذاته وبذاته، وهو التمام، وقوله: رب العالمين، معناه أن وجود كل ما سواه فائض عن تربيته وإحسانه وجوده، وهو المراد من قولنا: إنه فوق التمام.

والله سبحانه يملك عبادًا غيرك، كما قال: {وَمَا يَعْلَمُ جُنُودَ رَبِّكَ إِلَّا هُوَ} [المدثر: 31] ، وأنت ليس لك ربٌّ سواه، ثم إنه يربيك كأنه ليس له عبد سواك، وأنت تخدمه كأن لك ربًّا غيره، فما أحسن هذه التربية، أليس أنه يحفظ في النهار عن الآفات من غير عوض، وبالليل عن المخافات من غير عوض؟ واعلم أن الحراس يحرسون الملك كل ليلة، فهل يحرسونه عن لدغ الحشرات؟ وهل يحرسونه عن أن تنزل به البليات؟ أما الحق تعالى فإنه يحرسه من الآفات، ويصونه من المخافات؛ بعد أن كان قد زج أول الليل في أنواع المحظورات وأقسام المحرمات والمنكرات، فما أكبر هذه التربية وما أحسنها، أليس من التربية أنه صلى الله عليه وسلم قال: "الآدمي بنيان الرب، ملعون من هدم بنيان الرب"، فلهذا المعنى قال تعالى: {قُلْ مَنْ يَكْلَؤُكُمْ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ مِنَ الرَّحْمَنِ} [الأنبياء: 42] ، ما ذاك إلّا الملك الجبار، والواحد القهار، ومقلب القلوب والأبصار، والمطلع على الضمائر والأسرار"1.

--------------------------------------------

1 المرجع السابق، ج1 العدد 3/ 285.
আমি যখন নিজেকে মালিক (অধিপতি) হিসেবে প্রকাশ করি, অতঃপর যখন আমি নিজের কথা উল্লেখ করি, তখন নিজেকে জগতসমূহের রব হিসেবে পরিচিত করি। আর যে ব্যক্তি কোনো সত্তাকে কোনো গুণের মাধ্যমে চেনে, সে তার সর্বোত্তম ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গুণগুলো উল্লেখ করার চেষ্টা করে। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, জগতসমূহের প্রতিপালক হওয়া হলো তাঁর সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ গুণ। আর বিষয়টি এমনই; কেননা মর্যাদার স্তরসমূহের মাঝে পূর্ণতম স্তর হলো সেই সত্তা যিনি পূর্ণ এবং পূর্ণতারও ঊর্ধ্বে। সুতরাং আমাদের 'আল্লাহ' বলা তাঁর নিজ সত্তায়, নিজ সত্তার জন্য এবং নিজ সত্তা দ্বারাই অস্তিত্বের অনিবার্যতা (ওয়াজিবুল উজুদ) হওয়ার প্রমাণ বহন করে, যা হলো পূর্ণতা। আর তাঁর বাণী 'জগতসমূহের প্রতিপালক'-এর অর্থ হলো, তিনি ব্যতীত অন্য সকল কিছুর অস্তিত্ব তাঁর লালন-পালন, অনুগ্রহ ও দান থেকেই উৎসারিত, আর এটিই আমাদের এই কথার উদ্দেশ্য যে: 'তিনি পূর্ণতারও ঊর্ধ্বে'।

আর মহান আল্লাহ আপনি ছাড়াও অন্য অনেক দাসের মালিক, যেমনটি তিনি বলেছেন: "আপনার প্রতিপালকের বাহিনী সম্পর্কে একমাত্র তিনিই অবগত আছেন" [আল-মুদ্দাসসির: ৩১]। আর আপনি ব্যতীত তাঁর অন্য কোনো প্রতিপালক নেই। অতঃপর তিনি আপনাকে এমনভাবে লালন-পালন করেন যেন আপনি ছাড়া তাঁর আর কোনো দাস নেই, অথচ আপনি তাঁর সেবা এমনভাবে করেন যেন তিনি ছাড়া আপনার অন্য কোনো প্রতিপালক আছে। এই লালন-পালন কতই না চমৎকার! তিনি কি কোনো প্রতিদান ছাড়াই দিনে বিভিন্ন বিপদ-আপদ থেকে এবং রাতে বিভিন্ন ভয়-ভীতি থেকে রক্ষা করেন না? জেনে রাখুন, প্রহরীরা প্রতি রাতে রাজাকে পাহারা দেয়, কিন্তু তারা কি তাকে পোকামাকড়ের কামড় থেকে রক্ষা করতে পারে? তারা কি তাকে কোনো বালা-মুসিবত আপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে? পক্ষান্তরে সত্য ইলাহ মহান আল্লাহ তাকে বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন এবং ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রাখেন; অথচ সে রাতের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন নিষিদ্ধ বিষয় এবং নানা প্রকার হারাম ও মন্দ কাজ (منكرات) এর মাঝে ডুবে ছিল। এই প্রতিপালন কতই না মহান এবং কতই না সুন্দর! এটি কি তাঁর প্রতিপালনের অন্তর্ভুক্ত নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আদম সন্তান রবেরই নির্মিত এক কাঠামো, যে ব্যক্তি রবের এই কাঠামো ধ্বংস করে সে অভিশপ্ত।" এই অর্থেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, দয়াময় আল্লাহ ব্যতীত কে তোমাদের রাত ও দিনে রক্ষা করবে?" [আল-আম্বিয়া: ৪২]। তিনি আর কেউ নন, বরং তিনি হলেন মহাপরাক্রমশালী অধিপতি, অদ্বিতীয় ও সর্বজয়ী, অন্তর ও দৃষ্টিসমূহের পরিবর্তনকারী এবং গোপন সংকল্প ও রহস্যসমূহ সম্পর্কে সম্যক অবগত।১

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, ১ম খণ্ড, সংখ্যা ৩/ ২৮৫।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১০)
ولقد شرَّف الله سبحانه وتعالى الإنسان وأكرمه بأن خلق له العقل كي يميز به بين الأشياء، ويدرك به النافع من الضار؛ فهو الوسيلة التي يستعان به على قبول التربية والانتفاع بها، وهو وسيلة السعادة في الدنيا والآخرة.

من تربية الله للناس أنه خلقهم على الفطرة:

وروي عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أول ما خلق الله العقل، فقال له أقبل فأقبل، ثم قال له أدبر فأدبر، ثم قال الله عز وجل: "وعزتي وجلالي، ما خلقت خلقًا أكرم عليّ منك، بك آخذ، وبك أعطي وبك أثبت، وبك أعاقب"1.

والدين يحتاج إلى عقل وبصيرة؛ إذ لا يمكن تقبل المسائل أو رفضها إلّا عن طريقه، ولذلك قال صلى الله عليه وسلم:

"يا أيها الناس إن لكلِّ شيء مطية، ومطية المرء العقل، وأحسنكم دلالة ومعرفة بالحجة أفضلكم عقلًا"2.

كما جعل القلب مستودع العلوم كلها؛ إذ هو مصدر الإلهام ومنبع الكشف، وفي الحديث أنه -صلى عليه وسلم- قال: "استفت قلبك وإن أفتوك وأفتوك وأفتوك"3. والدين الذي هو التربية يحتاج إلى كلا العقل والقلب، وقد فطرهما الله كليهما على الحق.

قال سبحانه وتعالى:

--------------------------------------------

1 الغزالي، إحياء علوم الدين، ج1/ 89، طبعة مصطفى البابي الحلبي، سنة 1368هـ- 1939م.

2 المصدر السابق والصفحة.

3 المصدر السابق: ج1/ 77.
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষকে সম্মানিত ও মর্যদাবান করেছেন তাকে বুদ্ধি (العقل) প্রদানের মাধ্যমে, যাতে সে এর দ্বারা বিষয়বস্তুর মাঝে পার্থক্য করতে পারে এবং ক্ষতিকর থেকে কল্যাণকরকে চিনতে পারে। এটিই সেই মাধ্যম যার সাহায্যে শিক্ষা গ্রহণ এবং তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়; আর এটিই ইহকাল ও পরকালে সৌভাগ্যের মাধ্যম।

মানুষের প্রতি আল্লাহর লালন-পালনের একটি দিক হলো তিনি তাদেরকে স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর সৃষ্টি করেছেন:

তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হলো বুদ্ধি (العقل)। অতঃপর তিনি একে বললেন, 'সামনে এসো', সে সামনে এলো। এরপর বললেন, 'পেছনে যাও', সে পেছনে গেল। তখন আল্লাহ عز وجل বললেন: 'আমার মর্যাদা ও প্রতাপের কসম! তোমার চেয়ে অধিক সম্মানিত কোনো সৃষ্টি আমি সৃষ্টি করিনি। তোমার মাধ্যমেই আমি গ্রহণ করি, তোমার মাধ্যমেই দান করি, তোমার মাধ্যমেই সওয়াব প্রদান করি এবং তোমার মাধ্যমেই শাস্তি দিই'।"১

দ্বীন পালনে বুদ্ধি (العقل) ও অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) প্রয়োজন; কেননা বুদ্ধির মাধ্যম ব্যতিরেকে কোনো বিষয় গ্রহণ বা বর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্যই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

"হে লোকসকল, নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিসের একটি বাহন থাকে, আর মানুষের বাহন হলো বুদ্ধি (العقل)। প্রমাণের মাধ্যমে দিকনির্দেশনা ও পরিচয়ে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যার বুদ্ধি (العقل) সর্বোত্তম।"২

তেমনিভাবে তিনি অন্তরকে (القلب) সকল জ্ঞানের আধার বানিয়েছেন; যেহেতু এটিই হলো অনুপ্রেরণার (الإلهام) উৎস এবং আধ্যাত্মিক উন্মোচনের (الكشف) উৎপত্তিস্থল। হাদিসে এসেছে যে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমার অন্তরের (القلب) কাছে ফতোয়া চাও, যদিও মানুষ তোমাকে ফতোয়া দেয়, ফতোয়া দেয় এবং ফতোয়া দেয়।"৩ আর দ্বীন, যা মূলত লালন-পালন বা শিক্ষা, তা বুদ্ধি (العقل) ও অন্তর (القلب) উভয়েরই মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা এই উভয়কেই সত্যের (الحق) ওপর সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন:

--------------------------------------------

১ গাজালি, ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন, খণ্ড ১/ ৮৯, মুস্তফা আল-বাবি আল-হালাবি সংস্করণ, ১৩৬৮ হিজরি- ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দ।

২ পূর্বোক্ত উৎস ও পৃষ্ঠা।

৩ পূর্বোক্ত উৎস: খণ্ড ১/ ৭৭।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১১)
{فَأَقِمْ وَجْهَكَ لِلدِّينِ حَنِيفًا فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ، مُنِيبِينَ إِلَيْهِ وَاتَّقُوهُ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} سورة الروم 30-32. قال ابن كثير في التفسير: "فسدد وجهك واستمرّ على الدين الذي شرعه الله لك من الحنيفية ملة إبراهيم، الذي هداك الله لها، وكملها لك غاية الكمال، وأنت مع ذلك لازم فطرتك السليمة التي فطر الله الخلق عليها، فإنه تعالى فطر خلقه على معرفته وتوحيده، وأنه لا إله غيره كما تَقَدَّم عند قوله تعالى: {وَأَشْهَدَهُمْ عَلَى أَنْفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ قَالُوا بَلَى} 1.

وفي الحديث القدسي: "َإِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمْ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ "، حيث طرأ على بعضهم الأديان الفاسدة كاليهودية والنصرانية والمجوسية، وكقوله تعالى: {لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} 2، قال بعضهم: معناه لا تبدلوا خلق الله فتغيروا الناس عن فطرتهم التي فطرهم الله عليها فيكون خبرًا بمعنى الطلب، وقال آخرون: هو خبر، ومعناه أنه تعالى ساوى بين خلقه كلهم في الفطرة على الجبلة المستقيمة، لا يولد أحد إلّا على ذلك، ولا تفاوت بين الناس في ذلك، ولهذا قال ابن عباس وإبراهيم النخعي وسعيد بن جبير ومجاهد وعكرمة وقتادة والضحاك وابن زيد في قوله: {لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} أي: لدين الله، وقال البخاري في قوله: {لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ} لدين الله، خلق الأولين، دين الأولين، الدين والفطرة الإسلام"3.

--------------------------------------------

1 الأعراف: 172.

2- الروم: 30.

3 ابن كثير، تفسير القرآن العظيم، ج3/ 432، من تفسير سورة الروم بتصرف. نشر مكتبة الدعوة الإسلامية. شباب الأزهر 1400هـ / 1980م.
{সুতরাং আপনি একনিষ্ঠ হয়ে নিজের লক্ষ্য দ্বীনের প্রতি নিবদ্ধ রাখুন। এটিই আল্লাহর সেই প্রকৃতি, যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না। আপনারা তাঁর অভিমুখী হোন এবং তাঁকে ভয় করুন; নামাজ কায়েম করুন এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না। তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যারা নিজেদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই তাদের কাছে যা আছে তা নিয়েই আনন্দিত।} সূরা আর-রুম ৩০-৩২। ইবনে কাসির তাঁর তাফসিরে বলেছেন: "অতএব আপনি আপনার লক্ষ্য স্থির রাখুন এবং আল্লাহ আপনার জন্য ইব্রাহিমি মিল্লাতের যে একনিষ্ঠ দ্বীন প্রবর্তন করেছেন তার ওপর অবিচল থাকুন, যার দিকে আল্লাহ আপনাকে হেদায়েত করেছেন এবং আপনার জন্য একে পূর্ণতা দান করেছেন। এর পাশাপাশি আপনি আপনার সেই সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর অবিচল থাকুন যার ওপর আল্লাহ সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন। কেননা মহান আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতকে তাঁর পরিচয় এবং একত্ববাদের ওপর সৃষ্টি করেছেন এবং এই সত্যের ওপর যে, তিনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই; যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীর আলোচনায় পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে: {আর তিনি তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রাখলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'আমি কি তোমাদের রব নই?' তারা বলল, 'হ্যাঁ'} ১।

এবং হাদিসে কুদসিতে এসেছে: "আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু শয়তানরা তাদের কাছে এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে।" ফলে তাদের কারো কারো মাঝে ইয়াহুদিবাদ, খ্রিষ্টবাদ ও অগ্নিপূজকবাদের মতো ভ্রষ্ট ধর্মসমূহ প্রবেশ করেছে। আর মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই} ২ সম্পর্কে কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো তোমরা আল্লাহর সৃষ্টিকে পরিবর্তন করো না এবং মানুষকে তাদের সেই স্বভাবজাত প্রকৃতি থেকে বিচ্যুত করো না যার ওপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন; ফলে বাক্যটি সংবাদ (خبر) হিসেবে এলেও তা আদেশের অর্থ প্রদান করছে। অন্যরা বলেছেন: এটি সংবাদ (خبر), এবং এর অর্থ হলো মহান আল্লাহ তাঁর সকল সৃষ্টিকে প্রকৃতির ক্ষেত্রে সঠিক স্বভাবের ওপর সমান করেছেন, প্রত্যেকেই সেই অবস্থার ওপর জন্মগ্রহণ করে এবং এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এই কারণেই ইবনে আব্বাস, ইব্রাহিম নাখয়ি, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, মুজাহিদ, ইকরিমাহ, কাতাদাহ, দাহহাক এবং ইবনে জায়েদ আল্লাহর এই বাণী {আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনের জন্য। ইমাম বুখারি {আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: আল্লাহর দ্বীন, পূর্ববর্তীদের সৃষ্টি, পূর্ববর্তীদের দ্বীন; দ্বীন এবং প্রকৃতি হলো ইসলাম" ৩।

--------------------------------------------

১. আল-আরাফ: ১৭২।

২- আর-রুম: ৩০।

৩. ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম, ৩/৪৩২, সূরা আর-রুমের তাফসির থেকে সংক্ষেপিত। প্রকাশনায়: মাকতাবাতুদ দাওয়াতিল ইসলামিয়্যাহ। শাবাবুল আজহার ১৪০০ হিজরি / ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১২)
وعن أبي سلمة بن عبد الرحمن أن أبا هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما من مولود يولد إلا على الفطرة فأبواه يهوّدانه أو ينصِّرانه أو يمجِّسانه" ، ثم يقول: {فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} " رواه مسلم1. قال الإمام أحمد: حدثنا إسماعيل، حدثنا يونس، عن الحسن، عن الأسود بن سريع قال: أتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، وغزوت معه، فأصبت ظفرًا، فقاتل الناس يومئذ حتى قتلوا الولدان، فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال رجل: يا رسول الله، أما هم أبناء المشركين؟ فقال: "لا، إنما خياركم أبناء المشركين -ثم قال: لا تقتلوا ذرية، لا تقتلوا ذرية، وقال: "كل نسمة تولد على الفطرة، حتى يعرب عنها لسانها، فأبواها يهودانه أو ينصرانها" ، رواه النسائي في كتاب السير. وعن جابر، عن عبد الله قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم "كل مولود يولد على الفطرة حتى يعرب عنه لسانه فإذا عبر عنه لسانه إما شاكرًا وإما كفورًا". وعن ابن عباس رضي الله عنهما، أن رسول الله -صلى الله عليه سلم- سئل عن أولاد المشركين فقال: "الله أعلم بما كانوا عاملين إذ خلقهم"، أخرجاه في الصحيحين عن ابن عباس مرفوعًا بذلك، وقد قال الإمام أحمد أيضًا: حدثنا عفّان، حدثنا حماد -يعني: ابن سلمة، أنبأنا عمار بن أبي عمار، عن ابن عباس قال: أتى عليَّ زمان وأنا أقول: أولاد المسلمين مع المسلمين، وأولاد المشركين مع المشركين، حتى حدثنى فلان عن فلان أن رسول الله

--------------------------------------------

1 مسلم بن الحجاج القشيري، صحيح مسلم، كتاب القدر، ج2، ص458، طبعة عيسى الحلبي، دار إحياء الكتب العربية.
وعন আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "প্রত্যেক নবজাতকই স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে, অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি, খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে।" অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করেন: {আল্লাহর সেই প্রকৃতি (الفطرة), যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই প্রতিষ্ঠিত দ্বীন।} এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।১ ইমাম আহমাদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস, তিনি হাসান থেকে, তিনি আসওয়াদ ইবনে সারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলাম। সেখানে আমি বিজয় লাভ করলাম। সেদিন লোকেরা যুদ্ধ করতে করতে শিশুদেরও হত্যা করে ফেলল। এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছালে জনৈক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি মুশরিকদের সন্তান নয়? তিনি বললেন: "না, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিরা তো মুশরিকদেরই সন্তান।" অতঃপর তিনি বললেন: "তোমরা সন্তানদের হত্যা করো না, তোমরা সন্তানদের হত্যা করো না।" তিনি আরও বললেন: "প্রত্যেক প্রাণই স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে, যতক্ষণ না তার জিহ্বা তার পক্ষ থেকে ব্যক্ত করে; অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইহুদি বা খ্রিস্টান বানায়।" এটি নাসায়ি তাঁর কিতাবুস সিয়ার-এ বর্ণনা করেছেন। জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "প্রত্যেক নবজাতক স্বভাবজাত প্রকৃতির (الفطرة) ওপর জন্মগ্রহণ করে যতক্ষণ না তার জিহ্বা তার পক্ষ থেকে ব্যক্ত করে; যখন তার জিহ্বা তার পক্ষ থেকে ব্যক্ত করে, তখন সে হয় কৃতজ্ঞ অথবা অকৃতজ্ঞ।" ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তারা কী আমল করত সে সম্পর্কে আল্লাহ অধিক অবগত, যখন তিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন।" তাঁরা উভয়ই দুই সহীহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে এটি উন্নত (مرفوعًا) সনদে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ আরও বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আফফান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ—অর্থাৎ ইবনে সালামা—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আম্মার ইবনে আবি আম্মার, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমার ওপর এমন এক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে যখন আমি বলতাম: মুসলিমদের সন্তানরা মুসলিমদের সাথে থাকবে এবং মুশরিকদের সন্তানরা মুশরিকদের সাথে থাকবে। যতক্ষণ না আমার কাছে অমুক ব্যক্তি অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)...

--------------------------------------------

১ মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরী, সহীহ মুসলিম, কিতাবুল কদর, ২য় খণ্ড, ৪৫৮ পৃষ্ঠা, ঈসা আল-হালাবী সংস্করণ, দার ইহয়ায়িল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৩)
الله صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عن أولاد المشركين فقال: "ألله أعلم بما كانوا عاملين"، قال: فلقيت الرجل فأخبرني، فأمسكت عن قولي.

وعن قتادة، عن مطرف، عن عياض بن حمار، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم خطب ذات يوم فقال في خطبته: "إن ربي عز وجل أمرني أن أعلمكم ما جهلتم مما علمني في يومي هذا: كل ما نحلته عبادي حلال، وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فأضلتهم عن دينهم، وحرّمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي مالم أنزل به سلطانا" 1.

ويقول ابن كثير في أثناء تفسير سورة الروم، وقوله تعالى: {ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ} ، أي: التمسك بالشريعة والفطرة السليمة هو الدين القيم المستقيم، {وَمَا أَكْثَرُ النَّاسِ وَلَوْ حَرَصْتَ بِمُؤْمِنِينَ} 2، وقوله تعالى: {مُنِيبِينَ إِلَيْه} ، قال ابن زيد وابن جريح، أي: راجعين إليه {وَاتَّقُوهُ} ، أي: خافوه وراقبوه، {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ} ، وهي الطاعة العظيمة، {وَلَا تَكُونُوا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 3 أي: بل كونوا من الموحدين المخلصين له العبادة لا يريدن بها سواه، وعن يزيد بن أبي مريم قال: مرَّ عمر رضي الله عنه بمعاذ بن جبل فقالك عمر: ما قوام هذه الأمة؟ قال معاذ: ثلاث؛ وهن المنجيات: الإخلاص؛ وهي الفطرة، فطرة الله التي فطر الناس عليها، والصلاة؛ وهي الملة والطاعة، وهي العصمة، فقال عمر:

--------------------------------------------

1 راجع، ابن كثير، تفسير القرآن العظيم، في تفسير سورة الروم، ج3، ص432.

2 سورة الروم:30.

3 سورة الروم الآية:31.
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুশরিকদের সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "তারা যা করত সে সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।" তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: এরপর আমি সেই ব্যক্তির সাথে দেখা করলাম এবং তিনি আমাকে সংবাদ দিলেন, ফলে আমি আমার পূর্বের কথা থেকে বিরত থাকলাম।

এবং কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি মুতাররিফ থেকে, তিনি ইয়াজ বিন হিমার থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন খুতবা প্রদানকালে তাঁর খুতবায় বললেন: "নিশ্চয়ই আমার রব্ব আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি তোমাদেরকে সে সব বিষয়ে শিক্ষা দিই যা তোমরা জানো না এবং যা তিনি আমাকে আজকের এই দিনে শিখিয়েছেন: আমি আমার বান্দাদের যা কিছু দান করেছি তা হালাল। আর আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তাদের নিকট শয়তানরা এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দিল। আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম শয়তানরা তা তাদের ওপর হারাম করে দিল এবং তাদেরকে নির্দেশ দিল যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে যার স্বপক্ষে আমি কোনো প্রমাণ নাযিল করিনি।" ১

ইবনে কাসীর সূরা আর-রূমের তাফসীরের বর্ণনায় বলেন, আর মহান আল্লাহর বাণী: {এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন}, অর্থাৎ: শরিয়ত ও সুস্থ স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর অবিচল থাকাই হলো সঠিক ও সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। {আর অধিকাংশ মানুষ মুমিন হবে না, যদিও আপনি তা প্রবলভাবে আকাঙ্ক্ষা করেন} ২। আর মহান আল্লাহর বাণী: {তাঁর অভিমুখী হয়ে}, ইবনে যায়েদ এবং ইবনে জুরাইজ বলেন, অর্থাৎ: তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী হয়ে। {এবং তাঁকে ভয় করো}, অর্থাৎ: তাঁকে ভয় করো এবং তাঁর পর্যবেক্ষণে থাকো। {এবং সালাত কায়েম করো}, যা হলো একটি মহান আনুগত্য। {এবং তোমরা মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না} ৩ অর্থাৎ: বরং তোমরা তাঁর ইবাদতে একনিষ্ঠ একত্ববাদী হও, যারা তিনি ছাড়া অন্য কারো সন্তুষ্টি কামনা করে না। ইয়াজিদ বিন আবি মারিয়াম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুয়াজ বিন জাবালের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন: এই উম্মতের ভিত্তি কী? মুয়াজ বললেন: তিনটি বিষয়; আর সেগুলোই হলো মুক্তিদাতা: একনিষ্ঠতা (ইখলাস)—যা হলো স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত), আল্লাহর সেই প্রকৃতি যার ওপর তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন; এবং সালাত—যা হলো মিল্লাত ও আনুগত্য এবং তা-ই হলো সুরক্ষা। তখন উমর বললেন:

--------------------------------------------

১. দ্রষ্টব্য, ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, সূরা আর-রূমের তাফসীর প্রসঙ্গে, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৩২।

২. সূরা আর-রূম: ৩০।

৩. সূরা আর-রূম আয়াত: ৩১।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৪)
صدقت، وقوله تعالى: {مِنَ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا كُلُّ حِزْبٍ بِمَا لَدَيْهِمْ فَرِحُونَ} 1 أي: لا تكونوا من المشركين الذين قد فرقوا دينهم، أي: بدَّلُوه وغيَّروه، وآمنوا ببعضٍ وكفروا ببعض، وقرأ بعضهم: فارقوا دينهم، أي: تركوه وراء ظهورهم، وهؤلاء كاليهود والنصارى والمجوس وعبدة الأوثان وسائر أهل الأديان الباطلة مما عدا أهل الإسلام، كما قال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ إِنَّمَا أَمْرُهُمْ إِلَى اللَّهِ} 2 الآية. فأهل الأديان هنا اختلفوا فيما بينهم على آراء ومثل باطلة.

وكلة فرقة منهم تزعم أنهم على شيء، وهذه الأمة أيضًا اختلفوا فيما بينهم على نِحَلٍ كلها ضلالة إلّا واحدةً؛ هم أهل السنة والجماعة المتمسكون بكتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبما كان عليه الصدر الأول من الصحابة والتابعين وأئمة المسلمين من قديم الدهر وحديثه، كما رواه الحاكم في مستدركه أنه سُئِلَ صلى الله عليه وسلم عن الفرقة الناجية منهم فقال: "من كان على ما أنا عليه اليوم وأصحابي" 3.

--------------------------------------------

1 سورة الروم الآية 32.

2 الأنعام 159.

3 ابن كثير، تفسير القرآن العظيم ج3/ 433.
আপনি সত্য বলেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে; প্রত্যেক দলই তাদের নিকট যা আছে তা নিয়ে আনন্দিত।} ১ অর্থাৎ: তোমরা সেই মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে; অর্থাৎ তারা একে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করেছে এবং কিছু অংশের ওপর ঈমান এনেছে আর কিছু অংশকে অস্বীকার করেছে। কেউ কেউ পাঠ করেছেন: ‘তারা তাদের দ্বীন বিসর্জন দিয়েছে’, অর্থাৎ তারা একে তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করেছে। এরা হলো ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, অগ্নিউপাসক, মূর্তিপূজক এবং ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য সকল বাতিল ধর্মাবলম্বীদের মতো। যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয় যারা তাদের দ্বীনকে খণ্ডবিখণ্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের বিষয়টি তো আল্লাহর নিকট।} ২ সুতরাং এখানে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন মতবাদ ও ভ্রান্ত আদর্শের ভিত্তিতে মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে।

এবং তাদের প্রত্যেকটি দলই দাবি করে যে তারা সত্যের ওপর রয়েছে। এই উম্মতও নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন উপদলে (نحل) বিভক্ত হয়েছে যেগুলোর একটি ব্যতীত বাকি সবই ভ্রষ্টতা (ضلالة); তারা হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আত যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর সুন্নাহ এবং সাহাবী (الصحابة), তাবেঈন (التابعين) ও প্রাচীন ও আধুনিক যুগের মুসলিম আইম্মাহগণের সমন্বয়ে গঠিত ইসলামের প্রথম যুগের মনীষীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তার ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত। যেমনটি হাকিম তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল (সা.)-কে তাদের মধ্যে মুক্তিপ্রাপ্ত দল (الفرقة الناجية) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ আজ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যে তার ওপর থাকবে।" ৩

--------------------------------------------

১. সূরা আর-রূম, আয়াত ৩২।

২. আল-আন‘আম ১৫৯।

৩. ইবনে কাসীর, তাফসীরুল কুরআনিল আযীম, খণ্ড ৩/৪৩৩।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌علم التربية والتعليم علم بدأه رسول الله صلى الله عليه وسلم

…

علم التربية والتعليم علمٌ بدأه رسول الله -صلى الله عليه سلم:

التربية لفظ يقترن بالتعليم؛ لأنه مشتمل عليه؛ فالتربية والتعليم معنيان متلازمان لا يكادان ينفصلان، كما أنهما ينطبقان على عالم الإنسان وعالم الحيوان، فالطيور تربي صغارها، وتكلأ أولادها منذ ولادتهم حتى إذا قويت أعضاؤهم علَّمَتها الطيران، وكيف تقتات لنفسها، فاستغنت بعد ذلك عن الأبوين، وكذلك الوحوش تكلأ أولادها منذ ولادتها، وتعتني بها، وتجلب لها الطعام، حتى إذا قويت أعضاؤها خرجت بها إلى رحابة الحياة تعلمها كيف تقتات وتحصل على فرائسها، فتستغني بذلك عن رعاية الأبوين.

أما التربية والتعليم في عالم الإنسان فشيء عظيم، له قواعد معينة، وأصول مرعية، تنبثق من طبيعة المجتمع وعقيدته ووثقافته.

والمجتمع الإسلامي يُعَدُّ أرقى المجتمعات الإنسانية في مجال التربية والتعليم، وللمسلمين -كما نعلم- فضل كبير في نشر العلوم إلى مختلف بقاع العالم أيام الفتوحات الإسلامية، وكان لهم قصب السبق في طرق التربية والتعليم، وفي المنهج العلمي في التفكير، وذلك في الاقتصاد والاجتماع والفلك والطبيعة والكيماء والرياضة والطب والتشريح، حتى في التفكير والطيران، ومؤلفاتهم تشهد بذلك.

والتربية والتعليم كعلمٍ نشأ مع بزوغ فجر الإسلام، وصارت له مدرسة في مدينة الرسول الكريم صلى الله عليه وسلم، هذه المدرسة التي أنشأها الرسول الكريم للتربية والتعليم، كان كتابها القرآن، وهو الوحي المتلو، وبيانها ما جاء به عن النبي من قولٍ أو فعلٍ أو تقرير، فكل حركاته صلى الله عليه وسلم وسكناته، إنما هي بيانٌ عمليٌّ لهذا الكتاب المقرر على المسلمين، وقد شرحه لهم عمليًّا رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ونستطيع أن نقول: إن التربية والتعليم علمٌ بدأه رسول الله صلى الله عليه وسلم في المدينة، مصداقًا لقوله -عزَّ وعَلَا: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ
শিক্ষা ও প্রতিপালন এমন এক বিজ্ঞান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরু করেছিলেন

…

শিক্ষা ও প্রতিপালন এমন এক বিজ্ঞান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরু করেছিলেন:

প্রতিপালন শব্দটি শিক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত; কারণ এটি শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষা ও প্রতিপালন এমন দুটি অর্থ বহন করে যা একে অপরের পরিপূরক এবং প্রায় অবিচ্ছেদ্য। একইভাবে এগুলো মানবজগত এবং প্রাণীজগত উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পাখিরা তাদের শাবকদের প্রতিপালন করে এবং জন্মের পর থেকে তাদের দেখাশোনা করে; যখন তাদের ডানা শক্তিশালী হয়, তখন তারা তাদের উড়তে শেখায় এবং কীভাবে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করতে হয় তা শেখায়, যার ফলে পরবর্তীতে তারা পিতামাতার ওপর নির্ভরশীল থাকে না। একইভাবে বন্যপ্রাণীরাও জন্মের পর থেকে তাদের সন্তানদের দেখাশোনা করে, যত্ন নেয় এবং তাদের জন্য আহার সংগ্রহ করে নিয়ে আসে; যখন তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্তিশালী হয়, তখন তারা তাদের জীবনের বিশালতায় নিয়ে যায় এবং কীভাবে শিকার করতে হয় ও নিজের আহার সংগ্রহ করতে হয় তা শেখায়, যার ফলে তারা পিতামাতার তত্ত্বাবধান ছাড়াই চলতে সক্ষম হয়।

পক্ষান্তরে, মানবজগতে শিক্ষা ও প্রতিপালন এক সুমহান বিষয়, যার নির্দিষ্ট নীতিমালা ও যথাযথ মূলনীতি রয়েছে, যা সমাজের প্রকৃতি, আকিদা ও সংস্কৃতি থেকে উৎসারিত হয়।

আর ইসলামি সমাজ শিক্ষা ও প্রতিপালনের ক্ষেত্রে মানব সমাজের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত। আমরা যেমন জানি, ইসলামি বিজয়ের যুগে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রসারে মুসলিমদের বিশাল অবদান ছিল। শিক্ষা ও প্রতিপালন পদ্ধতি এবং চিন্তার বৈজ্ঞানিক ধারায় তারা ছিল অগ্রগামী। অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিদ্যা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, চিকিৎসা ও ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা, এমনকি উড্ডয়ন সংক্রান্ত চিন্তার ক্ষেত্রেও তাদের এই শ্রেষ্ঠত্ব ছিল, যার সাক্ষী দেয় তাদের রচিত গ্রন্থসমূহ।

শিক্ষা ও প্রতিপালন একটি বিজ্ঞান হিসেবে ইসলামের ঊষালগ্নেই শুরু হয়েছিল এবং মদিনাতুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এ এর একটি বিদ্যাপীঠ গড়ে উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা ও প্রতিপালনের জন্য যে বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার পাঠ্যবই ছিল কুরআন—যা তিলাওয়াতকৃত ওহি। আর এর ব্যাখ্যা ছিল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর বাণী (قول), কর্ম (فعل) অথবা মৌনসম্মতি (تقرير)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিটি নড়াচড়া ও স্থিরতা ছিল মুসলিমদের জন্য নির্ধারিত এই কিতাবের এক ব্যবহারিক রূপরেখা, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কাছে বাস্তবসম্মতভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

আমরা বলতে পারি যে, শিক্ষা ও প্রতিপালন হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় শুরু করেছিলেন। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর সত্যতা প্রমাণ করে: "তিনিই সেই সত্তা যিনি উম্মিদের (নিরক্ষরদের) মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদের পবিত্র করেন এবং তাদের কিতাব ও হিকমত (প্রজ্ঞা) শিক্ষা দেন..."
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} سورة الجمعة آية 2.

فكان صلى الله عليه وسلم يربيهم على القرآن، يشرح لهم معنى الآية، ويجيبهم عن كل ما يصعب عليهم فهمه.

سأله بعض صحابته قال: يا رسول الله، أين كان ربنا قبل أن يخلق خلقه؟

قال: "كان في عماءٍ ما تحته هواء، وما فوقه هواء، وخلق عرشه على الماء" 1.

قال يزيد بن هارون: العماء، أي: ليس معه شيء.

وكان اليهود يسألونه عن أشياء في كتبهم وهم يعلمونها، ولكنهم كانوا بها يختبرون النبي صلى الله عليه وسلم.

قال ابن عباس: أقبلت يهود إلى النبي صلى الله عليه وسلم: فقالوا: يا أبا القاسم، أخبرنا عن الرعد ما هو؟

قال: "ملك من الملائكة، موكَّلٌ بالسحاب، معه مخاريق -آلة تضرب بها الملائكة السحاب- من نار، يسوق بها السحاب حيث شاء الله"

فقالوا: فما هذا الصوت الذي نسمع؟!

قال: "زجره السحاب إذا زجره حتى ينتهي إلى حيث أمر".

قالو: صدقت، فأخبرنا عما حرَّم إسرائيل على نفسه؟

قال: "اشتكى عرق النسا، فلم يجد شيئًا يلائمه إلّا لحوم الإبل وألبانها، فلذلك حرّمها".

--------------------------------------------

1 الترمذي، الجامع الصحيح، ج5/ 288، طبعة الحلبي، الطبعة الثانية 1395هـ/ 1975م، بتحقيق إبراهيم عطوة عوض.
{এবং তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিল} সূরা আল-জুমুআ, আয়াত ২।

অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁদেরকে কুরআনের আলোকে গড়ে তুলেছিলেন; তিনি তাঁদের নিকট আয়াতের অর্থ ব্যাখ্যা করতেন এবং যা কিছু তাঁদের নিকট বোধগম্য হওয়া কঠিন মনে হতো, সে সম্পর্কে তাঁদেরকে উত্তর প্রদান করতেন।

তাঁর জনৈক সাহাবী তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রতিপালক তাঁর সৃষ্টিজগত সৃষ্টির পূর্বে কোথায় ছিলেন?

তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন 'আমা'-তে (মেঘমালায়), যার নিচেও কোনো বায়ু ছিল না এবং যার উপরেও কোনো বায়ু ছিল না; আর তিনি পানির ওপর তাঁর আরশ সৃষ্টি করেন" ১।

ইয়াযিদ ইবনে হারুন বলেন: 'আল-আমা' অর্থ হলো, তাঁর সাথে কোনো কিছুই ছিল না।

আর ইহুদিরা তাঁদের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করত, যা তারা নিজেরাও জানত; কিন্তু তারা এগুলোর মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পরীক্ষা করত।

ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: একদল ইহুদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলো। তারা বলল: হে আবুল কাসিম! আমাদের বজ্র সম্পর্কে অবহিত করুন, তা আসলে কী?

তিনি বললেন: "এটি ফিরিশতাদের মধ্যে জনৈক ফিরিশতা, যিনি মেঘমালার দায়িত্বে নিয়োজিত। তাঁর নিকট আগুনের তৈরি চাবুক—যা দ্বারা ফিরিশতারা মেঘমালাকে তাড়না করেন—রয়েছে, যা দ্বারা তিনি আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী মেঘমালাকে পরিচালিত করেন।"

তারা বলল: তাহলে এই ধ্বনিটি কী যা আমরা শুনতে পাই?!

তিনি বললেন: "এটি হলো মেঘের প্রতি তাঁর হাঁকডাক, যখন তিনি একে ধমক দেন তখন এটি নির্দেশিত স্থানে গিয়ে পৌঁছায়।"

তারা বলল: আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর আমাদের অবহিত করুন, ইসরাঈল (আলাইহিস সালাম) নিজের ওপর কী হারাম করেছিলেন?

তিনি বললেন: "তিনি সায়াটিকা ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তখন তিনি নিজের জন্য উটের গোশত ও দুধ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুকেই উপযুক্ত পাননি; তাই তিনি এগুলোকে নিজের ওপর হারাম করে নিয়েছিলেন।"

--------------------------------------------

১ তিরমিযী, আল-জামি আস-সহীহ, খণ্ড ৫/ ২৮৮, হালাবী প্রকাশনী, দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৯৫ হিজরী/ ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ, ইব্রাহীম আতওয়াহ আওয়াদ কর্তৃক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৭)
قالوا: صدقت1 …

وكان القرآن ينزل على النبي صلى الله عليه وسلم يعالج أمور المسلمين ويوجههم ويحملهم إلى الهداية والرشاد.

ورى ابن عباس أنه كانت امرأ تصلي خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم حسناء من أحسن الناس، فكان بعض القوم يتقدَّم حتى يكون في الصف الأول لئلَّا يراها، ويستأخر بعضهم حتى يكون في الصف المؤخر، فإذا ركع نظر من تحت إبطيه، فأنزل الله {وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ} 2 وروي عن زيد بن أرقم رضي الله عنه أنه قال:

"كنت مع عمي فسمعت عبد الله بن أُبَيِّ سلول يقول لأصحابه: "لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا" و"لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل" فذكرت ذلك لعمي، فذكر ذلك عمي للنبي صلى الله عليه وسلم، فدعاني النبي صلى الله عليه وسلم فحدثته، فأرسل رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى عبد الله بن أبي وأصحابه، فحلفوا ما قالوا، فكذبني صلى الله عليه وسلم وصدقه، فأصابني شيء لم يصبني قط مثله، فجلست في البيت، فقال عمي: ما أردت إلّا أن كذبك رسول الله صلى الله عليه وسلم ومقتك، فأنزل الله تعالى: {إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُون} فبعث إليَّ رسول الله ثم قال: "إنا الله صدقك"3.

--------------------------------------------

1 الترمذي، الجامع الصحيح، ج5/ 296، والآية من سورة الحجر برقم 24.

2 الترمذي، الجامع الصحيح ج5/ 294 طبعة الحلبي، والآية من سورة الحجر برقم 24.

3 رواه الترمذي في الجامع الصحيح ج5 ص415، كتاب تفسير القرآن.
তারা বললেন: আপনি সত্য বলেছেন১ …

কুরআন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ হতো মুসলিমদের বিষয়াবলি সমাধান করার জন্য, তাঁদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য এবং হিদায়াত ও সঠিক পথের ওপর পরিচালিত করার জন্য।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) যে, একজন অত্যন্ত সুন্দরী নারী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পেছনে সালাত আদায় করতেন, যিনি ছিলেন অন্যতম রূপবতী। তখন কিছু লোক সামনের কাতারে এগিয়ে যেতেন যাতে তাঁকে দেখতে না হয়, আবার কেউ কেউ পেছনের কাতারে পিছিয়ে যেতেন। অতঃপর যখন রুকু করতেন, তখন বগলের নিচ দিয়ে তাকাতেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেন: {আর আমি অবশ্যই জানি তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী এবং আমি অবশ্যই জানি যারা পশ্চাৎগামী}২ এবং যায়েদ ইবনে আরকাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (روي) যে, তিনি বলেন:

"আমি আমার চাচার সাথে ছিলাম, তখন আমি আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুলকে তার সঙ্গীদের উদ্দেশে বলতে শুনলাম: 'রাসূলুল্লাহর কাছে যারা আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না যতক্ষণ না তারা তাঁর চারপাশ থেকে সরে যায়' এবং 'যদি আমরা মদিনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে শক্তিশালীরা হীনদের বের করে দেবে'। আমি বিষয়টি আমার চাচাকে জানালাম, আর আমার চাচা তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানালেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ডাকলেন এবং আমি তাঁকে ঘটনাটি বিস্তারিত বললাম। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও তার সঙ্গীদের কাছে লোক পাঠালেন, কিন্তু তারা শপথ করে বলল যে তারা এমন কিছু বলেনি। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে মিথ্যাবাদী প্রতিপন্ন করলেন এবং তাকে সত্যবাদী বলে বিশ্বাস করলেন। এতে আমার মনে এমন এক দুঃখবোধ সৃষ্টি হলো যা আগে কখনো অনুভব করিনি। আমি ঘরে বসে থাকলাম। আমার চাচা বললেন: 'আমি কেবল এটাই চেয়েছিলাম যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করুন এবং তোমার ওপর অসন্তুষ্ট হোন'। অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে}। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার নিকট লোক পাঠালেন এবং বললেন: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে সত্যবাদী সাব্যস্ত করেছেন'।"৩

--------------------------------------------

১ তিরমিজি, আল-জামি আস-সহিহ, খণ্ড ৫/২৯৬, এবং আয়াতটি সূরা আল-হিজরের ২৪ নম্বর আয়াত।

২ তিরমিজি, আল-জামি আস-সহিহ, খণ্ড ৫/২৯৪, হালাবি সংস্করণ, এবং আয়াতটি সূরা আল-হিজরের ২৪ নম্বর আয়াত।

৩ তিরমিজি এটি আল-জামি আস-সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (رواه), খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪১৫, কুরআন তাফসির অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌علم التربية والتعليم في المدرسة المحمدية 1:

هكذا كانت التربية والتعليم علمًا نما مع تربية الرسول صلى الله عليه وسلم لأصحابه، ونضج معه وبه، واهتمَّ به القرآن الكريم اهتمامًا بالغًا في قصصه، ثم ترعرع وأخذ قالب تنظيم وترتيب أكثر في عهد التابعين ومن بعدهم، ثم ألّّف فيه العلماء بشكلٍ مستفيضٍ في نهاية القرن الثاني الهجري، فقد أشار القرآن الكريم إلى طريق الامتحان والاختبار في قصة آدم عليه السلام؛ حيث أجرى امتحانًا بينه وبين الملائكة، فقال تعالى: {وَعَلَّمَ آَدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ، قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} 2.

وقد أشار هذه الآيات أيضًا إلى أن من سُئِلَ ولم يعلم جوابه بقوله: لا أدري، والله أعلم، قال القرطبي: من سُئِلَ عن شيء لم يعمله، فالواجب عليه أن يقول: الله أعلم، لا أدري، اقتداءً بالملائكة والأنبياء، والفضلاء من العلماء، قال مالك بن أنس: سمعت ابن هرمز يقول: ينبغي للعالم أن يورث جلساءه من بعده "لا أدري"، حتى يكون أصلًا في أيديهم، فإذا سُئِلَ أحدهم عَمَّا لا يدري قال: لا أدري، وذكر الهيثم بن جميل قال: شهدت مالك بن أنس سُئِلَ عن ثمانِ وأربعين

--------------------------------------------

1 من هنا إلى آخر ص28 من هذا البحث، منقول من كلام الأستاذ علي محيي الدين على القره داغي، من مقالةٍ له في التعريف برسالة "أيها الولد" لحجة الإسلام أبي حامد الغزالي، من ص27-31، نشر دار الاعتصام سنة 1983.

2 سورة البقرة الآية 31، 32، وراجع تفسير القرطبي "1/ 279"، طبعة دار الكتاب المصرية، عام 1986م.
মুহাম্মদী মাদরাসায় শিক্ষা ও প্রতিপালন বিজ্ঞান ১:

এভাবেই শিক্ষা ও প্রতিপালন ছিল এমন একটি বিজ্ঞান যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাঁর সাহাবীগণের (الصحابة) প্রতিপালনের মাধ্যমে বিকাশ লাভ করেছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই তা পূর্ণতা পেয়েছিল। পবিত্র কুরআন এর কাহিনীসমূহে বিষয়টির ওপর অত্যন্ত গভীর গুরুত্বারোপ করেছে। এরপর তাবেয়ীগণের (التابعين) এবং তাঁদের পরবর্তীগণের যুগে এটি আরও সুসংগঠিত ও সুবিন্যস্ত রূপ লাভ করে। অতঃপর হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগে আলেমগণ এ বিষয়ে বিস্তারিতভাবে গ্রন্থনা শুরু করেন। পবিত্র কুরআনে আদম আলাইহিস সালাম-এর ঘটনার মাধ্যমে পরীক্ষা ও যাচাইয়ের পদ্ধতির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে; যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর এবং ফেরেশতাদের মধ্যে একটি পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি ইরশাদ করেন: {আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, অতঃপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও। তারা বলল, আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।} ২।

এই আয়াতগুলো আরও ইঙ্গিত দেয় যে, যাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি যদি তার উত্তর না জানেন, তবে তাঁর বলা উচিত: ‘আমি জানি না’ এবং ‘আল্লাহই ভালো জানেন’। ইমাম কুরতুবি বলেন: যাকে এমন কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যা তিনি জানেন না, তবে ফেরেশতা, নবীগণ এবং বিজ্ঞ আলেমগণের অনুসরণ করে তাঁর ওপর ওয়াজিব হলো এ কথা বলা যে: ‘আল্লাহই ভালো জানেন’, ‘আমি জানি না’। মালিক ইবনে আনাস বলেন: আমি ইবনে হুরমুজকে বলতে শুনেছি: একজন আলেমের উচিত তাঁর মজলিসে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তাঁর পরে ‘আমি জানি না’ কথাটিকে উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়া, যাতে এটি তাদের কাছে একটি মূলনীতিতে পরিণত হয়। ফলে তাদের কাউকে যখন এমন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে যা সে জানে না, তখন সে বলবে: ‘আমি জানি না’। হাইসাম বিন জামিল উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: আমি মালিক ইবনে আনাসকে দেখেছি, তাঁকে আটচল্লিশটি প্রশ্ন করা হয়েছিল...

--------------------------------------------

১ এখান থেকে এই গবেষণার ২৮ পৃষ্ঠার শেষ পর্যন্ত অংশটুকু উস্তাদ আলী মুহিউদ্দীন আল-কারা দাগীর বক্তব্য থেকে অনূদিত। এটি হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজালীর ‘আইয়্যুহাল ওয়ালাদ’ রিসালার পরিচিতি নিয়ে তাঁর একটি প্রবন্ধ (পৃষ্ঠা ২৭-৩১) থেকে নেওয়া হয়েছে, যা ১৯৮৩ সালে দারুল ইতিসাম থেকে প্রকাশিত।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৩১, ৩২; এবং দেখুন তাফসিরে কুরতুবি (১/২৭৯), দারুল কিতাব আল-মিসরিয়্যাহ সংস্করণ, ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ১৯)
مسألة، فقال في اثنتين وثلاثين منها: لا أدري1.

كذلك أشار القرآن الكريم إلى أدب المتعلِّم مع المعلِّم؛ من التسليم والصمت والصبر، في قصة موسى وخضر عليهما السلام، فقد رحل موسى -وهو نبي من أنبياء الله عليهم السلام في طلب العلم إلى شاطئ البحر تاركًا قومه، في سبيل التعلُّم من عبدٍ من عباد الله تعالى، ثم لما رآه استأذنه في أن يصاحبه للعلم، غير أن خضر عليه السلام اشترط عليه شروطًا وقبلها موسى عليه السلام؛ حيث يقول القرآن الكريم حاكيًا كلام خضر لموسى … {إِنَّكَ لَنْ تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا} ، ثم كان مشفقًا عليه فبيَّنَ أن عدم استطاعته يعود إلى عدم إحاطته بعلم هذه الأشياء فقال: {كَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا} ، فقال موسى: {قَالَ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا} ، فقد استجاب موسى لكلامه وزاد أدبًا آخر، وهو أنه لا يعصيه في أمره، بل يستجيب إليه بكل ما أوتي من وسائل، ثم عاد خضر ليبين له الطريق الأسلم والأنجح في التعليم وهو الاقتناع الكامل بمنهج المعلِّم وسلامته، والتسليم الكامل إليه، والصمت الحقيقي حتى ينتهي الأستاذ من أعماله، ثم يقوم بشرحها له، فقال خضر: {قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلا تَسْأَلْنِي عَنْ شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا} ، ثم مضيا على ساحل البحر بعد أن اتفقا على هذه الآداب، حتى إذا ركبا سفينةً فقام خضر بخرق السفينة وتعييبها، وهنا عارضه موسى عليه السلام فقال: {أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا} ، أي: منكرًا، فقد كان مع سيدنا

--------------------------------------------

1 تفسير القرطبي ط: دار الكتب المصرية سنة 1986م "1/ 285-286".
মাসআলা, যার মধ্যে বত্রিশটি সম্পর্কে তিনি বললেন: আমি জানি না।১

একইভাবে পবিত্র কুরআন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদব বা শিষ্টাচারের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে; যা মুসা ও খিজির (আলাইহিমাস সালাম)-এর কাহিনীতে সমর্পণ, নীরবতা এবং ধৈর্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। মুসা (আলাইহিস সালাম)—যিনি আল্লাহর নবীগণের মধ্য হতে একজন নবী—নিজ কওমকে রেখে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সমুদ্রতীরের দিকে যাত্রা করেছিলেন, যেন আল্লাহর বান্দাদের মধ্য হতে এক বিশেষ বান্দার নিকট শিক্ষা লাভ করতে পারেন। অতঃপর যখন তিনি তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁর সাথে থেকে শিক্ষা অর্জনের অনুমতি চাইলেন। তবে খিজির (আলাইহিস সালাম) তাঁর ওপর কিছু শর্তারোপ করেন এবং মুসা (আলাইහিস সালাম) তা গ্রহণ করেন; যেখানে পবিত্র কুরআন মুসার প্রতি খিজিরের উক্তি উদ্ধৃত করে বলছে … {নিশ্চয়ই আপনি আমার সাথে ধৈর্য ধরতে পারবেন না}। অতঃপর তিনি তাঁর প্রতি দয়া পরবশ হয়ে ব্যাখ্যা করলেন যে, তাঁর এই ধৈর্য ধারণে অক্ষমতার কারণ হলো এই বিষয়গুলোর ইলম বা জ্ঞান তাঁর আয়ত্তে না থাকা। তাই তিনি বললেন: {যে বিষয় আপনার জ্ঞানের পরিধিতে নেই, সে বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরবেন কীভাবে?}। তখন মুসা (আলাইহিস সালাম) বললেন: {ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোনো আদেশ অমান্য করব না}। মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর কথায় সাড়া দিলেন এবং আরেকটি শিষ্টাচার যোগ করলেন—আর তা হলো তিনি তাঁর আদেশের অবাধ্য হবেন না, বরং তাঁর সাধ্যের সবটুকু দিয়ে তাঁর ডাকে সাড়া দেবেন। এরপর খিজির (আলাইহিস সালাম) শিক্ষার সবচেয়ে নিরাপদ ও সফল পথটি বর্ণনা করতে ফিরে এলেন, যা হলো শিক্ষকের কর্মপদ্ধতি ও তার সঠিকতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা, তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্পণ এবং শিক্ষক তাঁর কাজ শেষ না করা পর্যন্ত প্রকৃত নীরবতা পালন করা, যাতে পরবর্তীতে শিক্ষক স্বয়ং তা ব্যাখ্যা করেন। তাই খিজির (আলাইহিস সালাম) বললেন: {যদি আপনি আমার অনুসরণ করেন, তবে আমাকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করবেন না, যতক্ষণ না আমি নিজেই আপনার কাছে সে বিষয়ে আলোচনা করি}। এরপর এই শিষ্টাচারগুলোর ওপর একমত হওয়ার পর তাঁরা সমুদ্রতীর ধরে এগিয়ে চললেন। অবশেষে যখন তাঁরা নৌকায় আরোহণ করলেন, তখন খিজির (আলাইহিস সালাম) নৌকাটি ছিদ্র করে সেটিকে ত্রুটিযুক্ত করে দিলেন। এ পর্যায়ে মুসা (আলাইহিস সালাম) তাঁর বিরোধিতা করে বললেন: {আপনি কি নৌকাটি এর আরোহীদের ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য ছিদ্র করলেন? আপনি তো এক গুরুতর কাজ করেছেন}। অর্থাৎ: গর্হিত বা বর্জনীয় (منكر), নিশ্চয়ই আমাদের সাইয়্যেদ-এর সাথে ছিলেন...

--------------------------------------------

১ তাফসিরে কুরতুবি, মুদ্রণ: দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ, ১৯৮৬ খ্রি., "১/ ২৮৫-২৮৬"।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২০)
موسى كلَّ الحق في معارضته، مع أنه التزم بأن لا يعترض عليه؛ لأن وظيفته -وهو نبي- الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وأنه لا طاعة لمخلوق في معصية خالق، وأن كل شرط أحلَّ حرامًا، أو حَرَّمَ حلالًا فهو باطل، وسيدنا موسى لم يعلم بعد بالسر الذي وراء عملية الخرق، ولَمَّا عَلِمَ بحقيقة الأمر اقتنع، وهكذا إلى آخر القصة في سورة الكهف "الآيات 60-82".

وكذلك لو فتشنا عن آداب المتعلم والعالم في القرآن الكريم، لوجدناه مليئًا بها من خلال قصص الأنبياء عليهم السلام مع أقوامهم.

وأما مدرسة سيدنا ورسولنا محمد -صلى الله عليه سلم- فهي أعجوبة الزمن ومعجزة العالم في التربية والتزكية والتعليم والسمو، حتى شهد الله تعالى بنجاح مدرسته فقال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 1.

وقد بيَّنَ القرآن الكريم أسباب نجاحه وهي الرحمة والرأفة والعزم والتشاور واللين وبشاشة الوجه، فقال: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ} 2.

فقد وضع الرسول صلى الله عليه وسلم الأسس العامة للتعليم، وهو استعمال

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية 110.

2 سورة آل عمران، الآية 159.
মুসার (আ.) তাঁকে বিরোধিতা করার পূর্ণ অধিকার ছিল, যদিও তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তাঁর ওপর কোনো আপত্তি করবেন না; কারণ একজন নবী হিসেবে তাঁর দায়িত্ব হলো সৎ কাজের আদেশ (المعروف) ও অসৎ কাজের নিষেধ (المنكر) করা। অধিকন্তু স্রষ্টার অবাধ্যতা করে কোনো সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না, এবং এমন প্রত্যেক শর্ত যা হারামকে হালাল করে বা হালালকে হারাম করে তা বাতিল (باطل)। সাইয়িদিনা মুসা (আ.) নৌকা ছিদ্র করার ঘটনার নেপথ্যের রহস্য তখন পর্যন্ত অবগত ছিলেন না; যখন তিনি প্রকৃত বিষয় জানতে পারলেন তখন তিনি আশ্বস্ত হলেন। এভাবেই সুরা আল-কাহাফের (আয়াত ৬০-৮২) কাহিনীর শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করা হয়েছে।

একইভাবে, আমরা যদি পবিত্র কুরআনে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শিষ্টাচার বা আদব সম্পর্কে অনুসন্ধান করি, তবে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং তাঁদের জাতিগুলোর কাহিনীর মধ্যে তা পূর্ণরূপে বিদ্যমান পাব।

আর আমাদের নেতা ও রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিদ্যাপীঠ হলো মহাকালের এক বিস্ময় এবং লালন-পালন, আত্মশুদ্ধি, শিক্ষা ও শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বের এক মোজেজা। এমনকি আল্লাহ তাআলা তাঁর এই শিক্ষালয়ের সাফল্যের সাক্ষ্য দিয়ে বলেছেন: {তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্য যাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ (المعروف) করবে এবং অসৎ কাজের নিষেধ (المنكر) করবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখবে} ১।

পবিত্র কুরআন তাঁর সাফল্যের কারণসমূহ বর্ণনা করেছে, আর সেগুলো হলো দয়া, মমতা, দৃঢ় সংকল্প, পরামর্শ, কোমলতা এবং প্রফুল্ল বদন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন। যদি আপনি কর্কশ ও কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার চারপাশ থেকে সরে যেত। সুতরাং আপনি তাদের ক্ষমা করুন, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ করুন। অতঃপর যখন আপনি সংকল্পবদ্ধ হবেন, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করুন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদের ভালোবাসেন} ২।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষার সাধারণ মূলনীতিগুলো নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো ব্যবহার

--------------------------------------------

১ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১১০।

২ সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৫৯।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২১)
الرحمة والرفق والتيسير والتبشير، فقد قال لأبي موسى ومعاذٍ لما بعثهما إلى اليمن: "يسَّرَا ولا تعسِّرَا، وعلِّمَا ولا تنفِّرَا" 1، وقال صلى الله عليه وسلم: "علموا ولا تعنفوا، فإن المعلِّمَ خيرٌ من المعنِّفِ"2.

ويكفي أن نلفت نظر القارئ الكريم إلى كتب الصحاح والسنن، حيث تجدها مليئة بطرق التربية والتزكية، فقد خصص جميعهم كتبًا أو أبوابًا خاصّةً للعلم وفضائله، وفضل تعلمه وتعليمه، وأدب ذلك3.

وبالإضافة إلى ذلك، فإن بعض الأحاديث والآثار تشير إلى أنه كان في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم وخلفائه الراشدين، كتاتيب منظمة يتعلم فيها أبناء المسلمين الفقراء والأغنياء على السواء، وأن هناك من اتخذ التعليم مهنةً وصناعةً لها أصولها ومناهجها وآدابها، فكان يقوم بها رجال أكفاء متخصصون في طرائق التعليم، وفي تهذيب الأخلاق، والعناية بتنشئة أطفال المسلمين4.

وأكثر من ذلك، فقد أثبت لنا الإمام محمد بن سحنون روايات عن

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في صحيحه، كتاب الأدب - مع فتح الباري "10/ 524".

2 رواه الطيالسي في مسنده.

انظر: المقاصد الحسنة، ص"289".

3- راجع: صحيح البخاري، كتاب العلم مع فتح الباري "1/ 140-232"، وصحيح مسلم، كتاب العلم "4/ 2053-2060"، وسنن أبي داود -مع العون- كتاب العلم "10/ 72-103"، والترمذي -مع التحفة- كتاب العلم "7/ 404- 459"، وغيرها.

4 الدكتور محمود عبد المولى، في القسم الدراسي لكتاب آداب المعلمين، لمحمد بن سحنون ص "62".
দয়া, কোমলতা, সহজীকরণ এবং সুসংবাদ প্রদান; তিনি যখন আবু মুসা এবং মুয়াজকে ইয়ামেনে পাঠিয়েছিলেন তখন বলেছিলেন: "তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না; শিক্ষা দাও এবং বীতশ্রদ্ধ করো না" ১, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা শিক্ষা দাও এবং কঠোরতা করো না, কারণ কঠোরতা প্রদর্শনকারীর চেয়ে শিক্ষকই শ্রেষ্ঠ" ২।

সম্মানিত পাঠকের দৃষ্টি সিহাহ এবং সুনান গ্রন্থগুলোর দিকে আকর্ষণ করাই যথেষ্ট হবে, যেখানে আপনি দেখবেন সেগুলো তরবিয়ত ও আত্মশুদ্ধির পদ্ধতিতে পরিপূর্ণ; কারণ তাঁদের সবাই ইলম ও এর ফযিলত, ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়ার ফযিলত এবং এর শিষ্টাচার সম্পর্কে বিশেষ কিতাব বা অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন ৩।

এর পাশাপাশি, কিছু হাদিস এবং বর্ণনা (آثار) ইঙ্গিত প্রদান করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে সুসংগঠিত মক্তব বিদ্যমান ছিল, যেখানে মুসলিমদের দরিদ্র ও ধনী সন্তানরা সমানভাবে শিক্ষা গ্রহণ করত। সেখানে এমন কিছু ব্যক্তিও ছিলেন যারা শিক্ষাদানকে একটি পেশা ও শিল্প হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, যার নিজস্ব মূলনীতি (أصول), পাঠ্যক্রম এবং শিষ্টাচার ছিল; ফলে শিক্ষাদান পদ্ধতি, চরিত্র গঠন এবং মুসলিম শিশুদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগণ এই দায়িত্ব পালন করতেন ৪।

এর চেয়েও বেশি হলো, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাহনুন আমাদের জন্য এমন কিছু বর্ণনা (روايات) প্রমাণ করেছেন যা...

--------------------------------------------

১ বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, কিতাবুল আদব - ফাতহুল বারী সহ "১০/ ৫২৪"।

২ তায়ালিসি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

দেখুন: মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা "২৮৯"।

৩- দ্রষ্টব্য: সহিহ বুখারি, কিতাবুল ইলম - ফাতহুল বারী সহ "১/ ১৪০-২৩২", সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ইলম "৪/ ২০৫৩-২০৬০", সুনানে আবু দাউদ -আউনুল মাবুদ সহ- কিতাবুল ইলম "১০/ ৭২-১০৩", তিরমিজি -তুহফাতুল আহওয়াযী সহ- কিতাবুল ইলম "৭/ ৪০৪- ৪৫৯", এবং অন্যান্য।

৪ ডক্টর মাহমুদ আব্দুল মাওলা, মুহাম্মদ বিন সাহনুনের আদাবুল মুয়াল্লিমিন কিতাবের অধ্যয়নমূলক অংশে, পৃষ্ঠা "৬২"।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২২)
أنس تثبت أزهار مدارس التعليم "الكتاتيب" في عهد الخلفاء الراشدين منها، أنه قيل لأنس بن مالك: كيف كان المؤدبون على عهد الأئمة: أبي بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، قال أنس: كان المؤدِّبُ له إجالة -إي إناء- وكل صبيٍّ يأتي كلَّ يومٍ بنوبته ماء طاهرًا فيصبونه فيها، فيمحون به ألواحهم، قال أنس: "ثم يحفرون حفرة في الأرض، فيصبون ذلك الماء فينشف"1.

فهذه النصوص وغيرها تدل دلالةً واضحةً على أنه بدأت الكتاتيب المنظمة "المدارس" لتحفيظ القرآن وتعليم العلوم في وقتٍ مبكرٍ جدًّا، فقد كان في المدينة دار تُسَمَّى "دار القرآن"، وإن بعض القراء كانوا يسكنونها ليحفظوا آي كتاب الله تعالى ويجوّدوا قراءته، ويقصدهم الناس إليها فيفيدون مما عندهم من علم الكتاب، وما حفظوا من حروفه وتلاوته2.

وقال المستشرق "ديبس" في دائرة المعارف الإسلامية: "ويظهر أنه قد وُجِدَتْ منذ فجر الإسلام أمكنة كانوا يجتمعون فيها لاستظهار القرآن وتدراسه، ولا شكَّ في أن هذه المواضع كانت كالمدارس الأولية، يتعلمون فيها مبادئ القراءة وأصول الكتابة العربية، كما يحدثنا الواحدي، ويذكر أن عبد الله بن أم مكتوم كان يسكن دار القراءة بالمدينة"3.

--------------------------------------------

1 آدب المعلمين لمحمد بن سحنون، ص74.

2 المصدر السابق، والتربية والتعليم في الإسلام، للدكتور محمد أسعد طلس، ط: دار العلم للملايين- بيروت سنة 1957م.

3 دائرة المعارف الإسلامية بالفرنسية "2/ 401"، نقلًا عن القسم الدارسي للدكتور محمود عبد المولى، ص:62"، في مقدمة كتاب آداب المعلمين.
আনাস (রা.)-এর বর্ণনাসমূহ খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা "মক্তব (الكتاتيب)" সমূহের বিকাশের বিষয়টি প্রমাণ করে। যেমনটি বর্ণিত আছে যে, আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: ইমাম আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রা.)-এর যুগে শিক্ষকদের (المؤدبون) অবস্থা কেমন ছিল? আনাস (রা.) বলেন: শিক্ষকের কাছে একটি বড় পাত্র (إجالة) থাকত। প্রত্যেক বালক প্রতিদিন নিজ নিজ পালায় পবিত্র (طاهرًا) পানি নিয়ে আসত এবং তারা তা ওই পাত্রে ঢালত। সেই পানি দিয়ে তারা তাদের ফলকগুলো মুছে ফেলত। আনাস (রা.) আরও বলেন: "অতঃপর তারা মাটিতে একটি গর্ত খুঁড়ত এবং সেই পানি সেখানে ঢেলে দিত, ফলে তা শুকিয়ে যেত"১।

এই উদ্ধৃতিসমূহ এবং অন্যান্য বর্ণনা স্পষ্টত নির্দেশ করে যে, অত্যন্ত প্রাথমিক যুগেই কুরআন হিফজ এবং ইলম অর্জনের জন্য সুশৃঙ্খল মক্তব (الكتاتيب) বা "বিদ্যালয়" শুরু হয়েছিল। মদিনায় 'দারুল কুরআন' নামক একটি ঘর ছিল এবং সেখানে কয়েকজন কারী (قراء) বসবাস করতেন যাতে তারা আল্লাহর কিতাবের আয়াতসমূহ হিফজ করতে পারেন এবং এর তিলাওয়াতকে শুদ্ধ করতে পারেন। মানুষ তাদের নিকট আসতেন এবং তাদের কিতাবুল্লাহর ইলম এবং তারা যা হিফজ ও তিলাওয়াত করেছেন তা থেকে ফায়দা হাসিল করতেন২।

ইসলামি বিশ্বকোষে প্রাচ্যবিদ "ডিপস" বলেন: "প্রতীয়মান হয় যে, ইসলামের ঊষালগ্ন থেকেই এমন কিছু স্থানের অস্তিত্ব ছিল যেখানে তারা কুরআন মুখস্থ এবং তা অধ্যয়নের জন্য সমবেত হতেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই স্থানগুলো ছিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো, যেখানে তারা পাঠের মূলনীতি এবং আরবি লিখন পদ্ধতির বুনিয়াদি বিষয় শিখতেন। যেমনটি আল-ওয়াহিদি আমাদের বর্ণনা করেন এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম মদিনার 'দারুল কিরাআত'-এ বসবাস করতেন"৩।

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন রচিত আদাবুল মুয়াল্লিমীন, পৃষ্ঠা: ৭৪।

২ পূর্বোক্ত উৎস, এবং ড. মুহাম্মদ আসআদ তালাসের আল-তারবিয়াহ ওয়াল তালীম ফিল ইসলাম, প্রকাশনী: দারুল ইলম লিল মালাইয়িন- বৈরুত, ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দ।

৩ ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত ইসলামি বিশ্বকোষ (২/৪০১), ড. মাহমুদ আব্দুল মাওলার গবেষণালব্ধ অংশ থেকে উদ্ধৃত, পৃষ্ঠা: ৬২, যা আদাবুল মুয়াল্লিমীন গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লিখিত।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولما بدأت الفتوحات الإسلامية وانتشرت رقعة الإسلام، جَدَّ الصحابة والتابعون في ترسيخ الإسلام عقيدةً وشريعةً في نفوس الناس، فبرزت الكتاتيب بصورةٍ واضحة، وتعددت مدارس التعليم في البصرة، والكوفة، والفسطاط، والقيروان، حتى انتهت إلى القمة في القرنين الثالث والرابع الهجريين، فقد رُوِيَ عن غياث بن أبي غياث أنه لما كان طفلًا كان في الكُتَّابِ، فكان الصحابي سفيان بن رحب يزور كتّابهم، ويلاطف الأطفال، ويدعو لهم بالفتوح والبركة1.

وقد ظهرت كتب خاصة بآداب المعلِّمِ والمتعلِّم، وأول ما وصلنا من هذه الكتب: كتاب آداب المعلمين لمحمد بن سحنون "ت256"2، الذي يعتبر رائدًا في هذا الميدان؛ حيث تناول فيه أبوابًا كثيرة، وأهمها هو ما يتعلق بتعليم القرآن العزيز، وما جاء في العدل بين الصبيان، وكيفية محو الصبيان خطوط القرآن من ألواحهم، وما جاء بالأدب بالكلام أو بالضرب، وما يجب على المعلِّم من لزوم الصبيان، وما جاء في إجازة

--------------------------------------------

1 مقدمة كتاب آداب المعلمين ص "63".

2 هو محمد بن سحنون: عبد السلام بن سعيد بن حبيب التنوخي، ولقب أبوه بالسنحون لحدة ذكائه، فقد كان إمامًا ثقة عالمًا بالمذهب المالكيّ وبالآثار، جمع فنون العلم، وألَّفَ في جميع العلوم وفي المغازي والسير، وُلِدَ بالقيروان سنة "202هـ" وتأدَّب بأبيه"، وتفقَّه عليه، ثم رحل لأجل العلم حتى جمع فأوعى، ثم ألَّفَ مؤلفات كثيرة في كثير من العلوم، وتوفي سنة "256هـ" ودفن بالقيروان.

انظر ترجمته في: الديباج المذهب في معرفة أعيان لمذهب ط: القاهرة سنة "1351 هـ" ص "161-166" والمدارك للقاضي عياض، ط: الجامعة التونسية سنة 1968م، ص"171".
যখন ইসলামী বিজয়সমূহ শুরু হলো এবং ইসলামের পরিধি বিস্তৃত হলো, তখন সাহাবী ও তাবেয়ীগণ মানুষের অন্তরে আকিদা ও শরীয়ত হিসেবে ইসলামকে সুদৃঢ় করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। ফলে মক্তবগুলোর অবস্থান সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং বসরা, কুফা, ফুসতাত ও কায়রাওয়ানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, এমনকি তৃতীয় ও চতুর্থ হিজরী শতাব্দীতে তা উন্নতির শিখরে পৌঁছায়। গিয়াস ইবনে আবি গিয়াস থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন শিশু ছিলেন তখন মক্তবে পড়তেন; তখন সাহাবী সুফিয়ান ইবনে রাহব তাদের মক্তবে আসতেন, শিশুদের সাথে কোমল আচরণ করতেন এবং তাদের জন্য বিজয় ও বরকতের দোয়া করতেন।1

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর আদব সংক্রান্ত বিশেষ গ্রন্থসমূহ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের কাছে পৌঁছানো এ ধরণের গ্রন্থগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন (মৃত্যু ২৫৬ হি.) রচিত আদাবুল মুয়াল্লিমীন2, যা এই ময়দানে একটি পথিকৃৎ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তিনি এতে অনেকগুলো অধ্যায় আলোচনা করেছেন; যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পবিত্র কুরআন শিক্ষা দান সম্পর্কিত বিষয়সমূহ, শিশুদের মাঝে ইনসাফ করার বিধান, শিশুরা কীভাবে তাদের স্লেট থেকে কুরআনের আয়াতসমূহ মুছবে তার নিয়ম, কথা বা প্রহারের মাধ্যমে আদব শিক্ষা দেওয়ার পদ্ধতি, শিশুদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষকের আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ এবং পারিশ্রমিক সংক্রান্ত বিষয়াবলী।

--------------------------------------------

1 আদাবুল মুয়াল্লিমীন গ্রন্থের ভূমিকা, পৃষ্ঠা ৬৩।

2 তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন: আবদুস সালাম ইবনে সাঈদ ইবনে হাবিব আত-তানুখি। তার পিতার প্রখর মেধার কারণে তাকে 'সাহনুন' উপাধি দেওয়া হয়েছিল। তিনি ছিলেন একাধারে ইমাম, নির্ভরযোগ্য (ثقة), মালেকী মাযহাব এবং আসার (آثار) শাস্ত্রে অভিজ্ঞ আলেম। তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের জ্ঞান সমাহার করেছিলেন এবং প্রায় সকল জ্ঞানশাখাসহ মাগাজি ও সিরাত বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ২০২ হিজরীতে কায়রাওয়ানে জন্মগ্রহণ করেন এবং পিতার নিকট আদব ও ফিকহ শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর ইলম অন্বেষণে দেশভ্রমণ করে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ২৫৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন এবং কায়রাওয়ানে তাকে সমাহিত করা হয়।

দ্রষ্টব্য তার জীবনী: আদ-দিবাজুল মুজাহহাব ফি মা'রিফাতি আইয়ানিল মাজহাব, কায়রো সংস্করণ: ১৩৫১ হিজরী, পৃষ্ঠা ১৬১-১৬৬; এবং আল-মাদারিক, কাজী আয়াজ রচিত, তিউনিসিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংস্করণ: ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ১৭১।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৪)
المعلم ومتى تجب؟ ما جاء في إجازة المصحف وكتب الفقه وما شابهها، ص "93"، فقد قال الدكتور طلس: "وقد أزاح -أي: محمد بن سحنون- لنا الستار عن معلوماتٍ كنَّا نعتقد أنه لا بُدَّ كانت موجودة لدى المسلمين، ولكننا نجهل تفصيلها، فإذا بابن سحنون يرويها لنا عن أبيه عن شيخنا الإمام مالك إمام المدينة، وعن غيره من الأئمة الأعلام، والشيوخ الأكابر الذين عاصروا الصحابة، فعرفوا عن كثبٍ طريقة التربية العربية الإسلامية"، ثم توالت التآليف بعده في هذا الحقل، فألف الآجري المتوفى سنة "360هـ"، والخوارزمي المتوفى سنة 377هـ"، ثم جاء ابن جزار القيراوني، المتوفي سنة "395هـ"، فألف كتابه باسم "سياسية الصبيان وتدبيرهم"، وجاء أبو الحسن عليّ بن خلف القابيني، المتوفى سنة "403هـ"، فألف كتابًا جمع فيه وأوعى في أحوال المعلمين، وأحكام المعلمين والمتعلمين"، ثم ألف في الحقل أيضًا أبو عمر أحمد بن محمد بن عفيفي، المتوفي سنة "420هـ"، وسماه: "آداب المعلمين" في خمسة أجزاء1. ثم جاء الغزالي، فجمع ما بين طرق التعليم والتربية، وطرق التزكية والتصفية، فأبدع فيه وابتكر، ذلك من خلال رسالة الغزالي إلى تلميذه بعنوان: "أيها الولد"، وكتابه "إحياء علوم الدين"، ثم تبعهم المؤلفون فأكثروا ولخصوا فاختصروا2.

--------------------------------------------

1الفكر التربوي عند الغزالي، للدكتور عبد الغني عبود، ص"35".

2 المصدر السابق والصفحة.
শিক্ষক এবং কখন তা ওয়াজিব (تجب) হবে? পবিত্র কুরআন (মাসহফ) এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ ও অনুরূপ বিষয়াবলির পাঠদানের অনুমতি (إجازة) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, পৃষ্ঠা "৯৩"। ডক্টর তলাস বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে সাহনুন আমাদের সামনে এমন সব তথ্যের পর্দা উন্মোচন করেছেন যা মুসলমানদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল বলে আমরা বিশ্বাস করতাম, কিন্তু আমরা সেগুলোর বিস্তারিত জানতাম না। অতঃপর ইবনে সাহনুন তা বর্ণনা (يرويها) করেছেন তার পিতা থেকে, তিনি আমাদের শাইখ মদিনার ইমাম, ইমাম মালিক থেকে এবং অন্যান্য প্রখ্যাত ইমাম ও প্রবীণ শাইখদের থেকে যারা সাহাবিদের সমসাময়িক ছিলেন; ফলে তারা অত্যন্ত কাছ থেকে আরব-ইসলামী শিক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন।" অতঃপর তার পরে এই ক্ষেত্রে একের পর এক গ্রন্থ রচিত হতে থাকে। ৩৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-আজুরি এবং ৩৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আল-খাওয়ারিজমি গ্রন্থ রচনা করেন। এরপর ৩৯৫ হিজরিতে ইন্তেকালকারী ইবনে জাযযার আল-কাইরাওয়ানি আসেন এবং 'সিয়াসাতুস সিবইয়ান ওয়া তাদবিরুহুম' নামক কিতাবটি রচনা করেন। এরপর ৪০৩ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবুল হাসান আলী বিন খালাফ আল-কাবিনি আসেন এবং শিক্ষকদের অবস্থা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিধিবিধান (أحكام) সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব রচনা করেন। এরপর ৪২০ হিজরিতে ইন্তেকালকারী আবু ওমর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আফিফিও এই ক্ষেত্রে পাঁচ খণ্ডে 'আদাবুল মুয়াল্লিমীন' নামক কিতাবটি রচনা করেন। অতঃপর ইমাম গাজালি আসেন এবং তিনি শিক্ষাদান ও লালন-পালন পদ্ধতির সাথে আত্মশুদ্ধি (تزكية) ও পরিশোধন (تصفية) পদ্ধতির সমন্বয় ঘটান। এতে তিনি অত্যন্ত নিপুণতা ও নতুনত্বের পরিচয় দেন, যা মূলত তার ছাত্রের প্রতি লেখা 'আইয়্যুহাল ওয়ালাদ' নামক পত্র এবং তার 'ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন' কিতাবের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে। পরবর্তী লেখকগণ তাদের অনুসরণ করেছেন এবং তারা প্রচুর লিখেছেন, সারসংক্ষেপ করেছেন ও সংক্ষিপ্ত (فاختصروا) করেছেন।

--------------------------------------------

১. আল-ফিকরুত তারবাউয়ি ইনদাল গাজালি, ডক্টর আবদুল গনি আব্বুদ, পৃষ্ঠা "৩৫"।

২. পূর্বোক্ত উৎস ও পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৫)
وبذلك عرفنا أن المسلمين بسبب محركِهم الأساسي: القرآن والسنة، لم يهملوا هذا الجانب الهام في حياة الأمة، وهو الاهتمام بطرائق تربية الأطفال، والبحث عن أنجح الطرق والمناهج انطلاقًا من أنه لا حضارة بغير علم، ولا علم بغير تعليم، ولا تعليم بغير نظام معيِّنٍ ينظِّمُ الصلة بين المتعلِّم والمعلِّم، ولذلك انتشر الإسلام لا بالسيف وإنما بالعلم واستعمال الحكمة في كيفية إيصاله إلى الناس؛ فقد تفجَّر هذا الينبوع في وادٍ غير ذي زرع عند بيت الله الحرام، الذي كانت قلوب الناس تهوي إليه، فلم يلبث أن أصبح فيضًا غَمَرَ الجزيرة العربية، وغيثًا جاوزها في سرعة عجيبة خارقة ليعمَّ أقطارًا كثيرة في آسيا وإفريقية وأوروبا، "والمؤرخون يعلمون بأن انتشار الإسلام بهذه السرعة ظاهرةٌ فريدةٌ في التأريخ البشري كله، وبعضهم لا يكاد يجد لها تعليلًا يقبله الفكر في سهولة ويسر"1. فقد كان شغل الفاتحين المسلمين الشاغل هو الإسلام، فظهرت على أيدي الصحابة الكرام وتابيعهم مدارس العلم في العالم الإسلامي أجمع.

فما أحوجنا اليوم إلى العودة إلى هذا التراث الضخم، وما أحوجنا اليوم إلى الأخذ بطرق السلف في التربية والتعليم، والتزكية والتصفية، وإنه ليوم قريب -إن شاء الله تعالى"2.

--------------------------------------------

1 أطلس التأريخ الإسلام ط، مكتبة النهضة المصرية سنة 1954م، مقدمة الجزء الثاني عشر، وراجع: مقدمة الدكتور محمود عبد المولى لكتاب آداب المعلمين، ص "22".

2 إلى هنا ينتهي كلام الأستاذ علي محيي الدين على القره داغي، من مقاله في التعريف برسالة "أيها الولد" لحجة الإسلام أبي حامد الغزالي، ص32، نشر دار الاعتصام سنة 1983م، بتصر طفيف.
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, মুসলমানরা তাদের মূল চালিকাশক্তি—কুরআন ও সুন্নাহর কারণে—জাতির জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উপেক্ষা করেনি। আর তা হলো শিশু লালন-পালনের পদ্ধতির প্রতি গুরুত্বারোপ করা এবং সবচেয়ে সফল পথ ও পদ্ধতির সন্ধান করা। এটি এই ধারণা থেকে উদ্ভূত যে, জ্ঞান ব্যতীত কোনো সভ্যতা নেই, শিক্ষা ব্যতীত কোনো জ্ঞান নেই এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ককে সুশৃঙ্খল করে এমন নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যতীত কোনো শিক্ষা নেই। এ কারণেই ইসলাম তলোয়ারের মাধ্যমে নয়, বরং জ্ঞান এবং মানুষের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা ব্যবহারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহর পবিত্র ঘরের নিকটবর্তী এক অনুর্বর উপত্যকায় এই ঝরনাধারা প্রস্ফুটিত হয়েছিল, যার দিকে মানুষের অন্তর ধাবিত হতো। অনতিবিলম্বে এটি একটি প্লাবনে পরিণত হয় যা আরব উপদ্বীপকে সিক্ত করে এবং এক বিস্ময়কর ও অলৌকিক গতিতে তা অতিক্রম করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়ে। "ঐতিহাসিকগণ জানেন যে, এত দ্রুত গতিতে ইসলামের প্রসার সমগ্র মানব ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পান না যা বুদ্ধি ও বিবেক সহজে গ্রহণ করতে পারে"১। মুসলিম বিজয়ীদের প্রধান চিন্তা ও কাজই ছিল ইসলাম। ফলে সম্মানিত সাহাবী এবং তাদের অনুসারীদের (تابعين) মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ইলমি মাদরাসাগুলো আত্মপ্রকাশ করেছিল।

এই বিশাল ঐতিহ্যের (تراث) দিকে ফিরে যাওয়া আজ আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন! আজ আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন লালন-পালন ও শিক্ষা এবং আত্মশুদ্ধি (تزكية) ও পরিশুদ্ধির (تصفية) ক্ষেত্রে সালাফদের (السلف) পথ অনুসরণ করা। আর ইনশাআল্লাহ তাআলা সেই দিনটি খুবই নিকটে—২।

--------------------------------------------

১. আতলাসুত তারিখিল ইসলামি, মাকতাবাতুন নাহদাতিল মিসরিয়্যাহ, ১৯৫৪ খ্রি., দ্বাদশ খণ্ডের ভূমিকা। এবং দেখুন: ডক্টর মাহমুদ আব্দুল মাওলার লেখা আদাবুল মুয়াল্লিমীন গ্রন্থের ভূমিকা, পৃ. ২২।

২. উস্তাদ আলী মুহিউদ্দীন আল-কাররা দাগীর বক্তব্য এখানেই শেষ। এটি হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ আল-গাজালির আইয়ুহাল ওয়ালাদ রিসালার পরিচিতি বিষয়ক তাঁর নিবন্ধ থেকে সংগৃহীত, পৃ. ৩২, দারুল ইতিসাম কর্তৃক ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত, সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الفصل الثاني: مصادر التربية الإسلامية

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني: مصادر التربية الإسلامية

تستمد التربية الإسلامية أصولها من أطهر وأعظم المصادر التي تملأ النفس البشرية دائمًا بالأخلاق السامية؛ حيث جعل الإسلام مصادر التربية في:

أ- القرآن الكريم: وهو كلام الله سبحانه وتعالى، وهو الوحي المتلو بواسطة جبريل عليه السلام إلى محمد صلى الله عليه وسلم، والذي يضمُّه المصحف الشريف بين دفتيه.

ب- السنة النبوية: وهي أقوال وأفعال وتقريرات وصفات النبي صلى الله عليه وسلم، عملًا بقول الله تبارك وتعالى: {وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} .

ج- هدي الصحابة: الذين تعلموا من النبي صلى الله عليه وسلم، وعاصروه وآزروه رجالًا ونساءً؛ إذ كل ما أُثِرَ عنهم من كلامٍ وأفعالٍ نحن مطالبون به.

د- هدي التابعين: والتابعون هم الذين أخذوا العلم من صحابة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهم هداة مهديون، وعلماء أجلّاء مخلصون لله، حملوا العلم عن صحابة الرسول صلى الله عليه وسلم، وأبلغوه مَنْ بعدهم كما وصلهم، وما بدَّلُوا تبديلًَا.
‌‌দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি শিক্ষার উৎসসমূহ

‌‌ভূমিকা

…

দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি শিক্ষার উৎসসমূহ

ইসলামি শিক্ষা তার মূলনীতিসমূহ এমন পবিত্রতম ও সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসসমূহ থেকে আহরণ করে যা সর্বদা মানবাত্মাকে মহৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ করে তোলে; যেহেতু ইসলাম শিক্ষার উৎসসমূহ নির্ধারণ করেছে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে:

ক- পবিত্র কুরআন: এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার বাণী, এবং এটি জিবরাইল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রেরিত পঠিত প্রত্যাদেশ (الوحي المتلو), যা পবিত্র মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে সংকলিত রয়েছে।

খ- সুন্নাহ (السنة النبوية): এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা, কাজ, মৌন সম্মতি (تقريرات) ও গুণাবলি; আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই বাণীর নির্দেশ অনুযায়ী: {রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো}।

গ- সাহাবিদের (الصحابة) হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা: তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন এবং পুরুষ ও নারী নির্বিশেষে তাঁকে সাহায্য করেছেন; কেননা তাঁদের থেকে বর্ণিত (أثر) সকল কথা ও কাজ অনুসরণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

ঘ- তাবেঈদের (التابعين) হিদায়াত বা দিকনির্দেশনা: তাবেঈ (التابعين) হলেন তাঁরা, যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের (الصحابة) নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁরা হলেন সঠিক পথপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক এবং আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ মহান আলিম। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবিদের (الصحابة) নিকট থেকে ইলম বহন করেছেন এবং তা তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট অবিকল পৌঁছে দিয়েছেন যেভাবে তাঁদের নিকট পৌঁছেছিল; তাঁরা এর কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন করেননি।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌أولًا: التربية في القرآن الكريم

قال الله عز وجل: {إِنَّ هَذَا الْقُرْآَنَ يَهْدِي لِلَّتِي هِيَ أَقْوَمُ} [الإسراء: 9] .

فلم يدع القرآن شيئًا من أمور الناس في دنياهم إلّا وله فيه ذكر، كما بيَّنَ الله في هذا القرآن ما يقيم أمر الإنسان ويضمن له سعادته في الدنيا، ويضمن له أيضًا فوزه في الآخرة.

ولقد وضع القرآن للإنسان دستور حياته، وهو دستورٌ كاملٌ للإنسانية يشتمل على العقائد والعبادات والمعاملات والآداب الفردية والاجتماعي بأسلوب واضح وحجة قوية؛ بحيث يصلح لكلِّ الأجناس ولكل زمان ومكان؛ فمنهجه من صنع الخبير العليم، الذي أحكم كل شيء صنعه، وهو منهج تتضاءل بجانبه قوى العقول البشرية، وتتقاصر دونه كل الجهود البشرية.

السور التي تختص بأمور التربية في القرآن:

ولقد أرسى القرآن العظيم في عمومه قواعد الأخلاق الكريمة، لكن هناك سورًا منه اختصت بالتربية وعنيت بالأمر بمكارم الأخلاق، واشتملت على النهي عن القبائح والمنكرات مع الأمر بالمعروف، وتضمنت الآداب العامة التي ينبغي لكل مسلم أن يتحلَّى بها، نجد ذلك في سورة النساء، وسورة النور، وسورة لقمان، وسورة الأحزاب، وسورة الحجرات، وسورة الطلاق، وفيما يلي بيان موجز لما اشتملت عليه كل سورة من هذه السور في مجال التربية الإسلامية.

"سورة النساء"

سورة النساء إحدى السور المدنية الطويلة، وهي سورة مليئة بالأحكام الشرعية، التي تنظِّمُ الشئون الداخلية والخارجية للمسلمين، وهي تُعْنَى بجانب التشريع، كما هو الحال في السور المدينة، وقد تحدثت السورة الكريمة عن أمور هامَّةٍ تتعلق بالمرأة، والبيت، والأسرة، والدول، والمجتمع، ولكن معظم الأحكام التي وردت فيها، كانت تبحث حول موضوع النساء، ولهذا سُمَّيَتْ "سورة النساء"!!
প্রথমত: কুরআনুল কারীমে শিক্ষা ও লালন-পালন

আল্লাহ তাআলা বলেন: {নিশ্চয় এই কুরআন এমন এক পথের দিশা দেয় যা সর্বাপেক্ষা সুদৃঢ়} [সূরা বনী ইসরাঈল: ৯]।

কুরআন মানুষের পার্থিব জীবনের এমন কোনো বিষয়ই বাদ দেয়নি যার উল্লেখ এতে নেই। আল্লাহ তাআলা এই কুরআনে এমন সব বিষয় বর্ণনা করেছেন যা মানুষের জীবনকে সুসংহত করে এবং দুনিয়াতে তার সুখ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আখিরাতেও তার সাফল্য নিশ্চিত করে।

কুরআন মানুষের জন্য তার জীবনবিধান নির্ধারণ করে দিয়েছে; এটি মানবতার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান, যা অত্যন্ত স্পষ্ট শৈলী ও অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে আকিদা (বিশ্বাস), ইবাদত (উপাসনা), মুয়ামালাত (লেনদেন) এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক শিষ্টাচারকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি এমনভাবে উপস্থাপিত যা সকল জাতি এবং সকল কাল ও স্থানের জন্য উপযোগী। এর কর্মপন্থা সেই সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী সত্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি প্রতিটি সৃষ্টিকে সুনিপুণ করেছেন। এটি এমন এক পদ্ধতি যার সামনে মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি তুচ্ছ হয়ে যায় এবং মানুষের সকল প্রচেষ্টা এর কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।

কুরআনের সেই সব সূরা যা শিক্ষা ও লালন-পালন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্ধারিত:

মহাগ্রন্থ কুরআন সাধারণভাবে মহৎ চরিত্রের মূলনীতিসমূহ প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এমন কিছু নির্দিষ্ট সূরা রয়েছে যা শিক্ষা ও লালন-পালন এবং সচ্চরিত্রের নির্দেশনার জন্য বিশেষভাবে নিবেদিত। এগুলোতে সৎ কাজের আদেশ দেওয়ার পাশাপাশি মন্দ ও বর্জনীয় (منكرات) বিষয়সমূহ থেকে নিষেধ করা হয়েছে এবং এমন সব সামাজিক শিষ্টাচার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা প্রতিটি মুসলমানের ধারণ করা উচিত। আমরা সূরা আন-নিসা, সূরা আন-নূর, সূরা লুকমান, সূরা আল-আহযাব, সূরা আল-হুজুরাত এবং সূরা আত-তালাক-এ এর প্রতিফলন দেখতে পাই। নিম্নে ইসলামী শিক্ষার ক্ষেত্রে এই সূরাগুলোর প্রত্যেকটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো।

"সূরা আন-নিসা"

সূরা আন-নিসা দীর্ঘ মাদানী সূরাগুলোর অন্যতম। এটি শরয়ী আহকামে পরিপূর্ণ যা মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিষয়াবলী নিয়ন্ত্রণ করে। মাদানী সূরাগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি আইন প্রণয়নের দিকটি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে। এই সম্মানিত সূরাটিতে নারী, ঘরবাড়ি, পরিবার, রাষ্ট্র এবং সমাজ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী আলোচিত হয়েছে। তবে এর অধিকাংশ বিধানই যেহেতু নারীদের বিষয়াবলী নিয়ে আবর্তিত হয়েছে, তাই এর নামকরণ করা হয়েছে "সূরা আন-নিসা"!!
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ২৯)
تحدثت السورة الكريمة عن حقوق النساء والأيتام -وبخاصة اليتيمات- في حجور الأولياء والأوصياء، فقررت حقوقهن في الميراث والكسب والزواج، واستنقذتهن من عسف الجاهلية وتقاليدها الظالمة المهينة.

- وتعرضت لموضع المرأة فصانت كرامتها، وحفظت كيانها، ودعت إلى إنصافها بإعطائها حقوقها التي فرضها الله تعالى لها؛ كالمهر، والميراث، وإحسان العشرة.

- كما تعرضت بالتفصيل إلى "أحكام المواريث" على الوجه الدقيق العادل، الذي يكفل العدالة ويحقق المساواة، وتحدثت عن المحرمات من النساء "بالنسب، والرضاع، والمصاهرة".

- وتناولت السورة الكريمة تنظيم العلاقات الزوجية، وبينت أنها ليست علاقة جسد، وإنما علاقة إنسانية، وأن المهر ليس أجرًا ولا ثمنًا، وإنما هو عطاءٌ يوثق المحبة، ويديم العشر، ويربط القلوب.

- ثم تناولت حق الزوج على زوجته، وحق الزوجة على زوجها، وأرشدت إلى الخطوات التي ينبغي أن يسلكها الرجل لإصلاح الحياة الزوجية، عندما يبدأ الشقاق والخلاف بين الزوجين، وبيَّنَتْ معنى "قوامة الرجل"، وأنها ليست قوامة استعباد وتسخير، وإنما هي قوامة نصح وتأديب؛ كالتي تكون بين الراعي ورعيته.

- ثم انتقلت من دائرة الأسرة إلى دائرة المجتمع، فأمرت بالإحسان في كل شيء، بيَّنَتْ أن أساس الإحسان التكافل والتراحم، والتناصح والتسامح، والأمانة والعدل، حتَّى يكون المجتمع راسخ1.

--------------------------------------------

1 الصابوني، صفوة التفاسير، ج1/ 257 مكتبة الإيمان المنصورة، سنة 1977.
এই সম্মানিত সূরাটিতে নারী ও এতিমদের—বিশেষ করে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে থাকা নারী এতিমদের—অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এতে তাদের উত্তরাধিকার, উপার্জন ও বিবাহের অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে এবং জাহেলিয়াতের জুলুম ও অবমাননাকর প্রথা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

এটি নারীর মর্যাদাকে তুলে ধরে তার সম্মানকে রক্ষা করেছে এবং তার অস্তিত্বকে সুরক্ষিত করেছে। আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যে সকল অধিকার নির্ধারণ করেছেন—যেমন মোহরানা, উত্তরাধিকার এবং সদ্ব্যবহার—সেগুলো প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতি ইনসাফ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এছাড়াও এতে "উত্তরাধিকারের বিধানসমূহ" অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ন্যায়সংগতভাবে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং সমতা প্রতিষ্ঠা করে। বংশীয় সম্পর্ক, দুগ্ধপান এবং বৈবাহিক সম্পর্কের কারণে যাদের বিবাহ করা নিষিদ্ধ, সেই নারীদের সম্পর্কেও এতে আলোচনা করা হয়েছে।

এই মহান সূরাটি দাম্পত্য সম্পর্ক সুসংগঠিত করার বিষয়টিও আলোচনা করেছে এবং স্পষ্ট করেছে যে, এটি কেবল দৈহিক সম্পর্ক নয়, বরং একটি মানবিক সম্পর্ক। মোহরানা কোনো পারিশ্রমিক বা বিনিময় মূল্য নয়, বরং এটি এমন এক উপহার যা ভালোবাসা মজবুত করে, দাম্পত্য জীবনকে দীর্ঘস্থায়ী করে এবং হৃদয়গুলোকে সম্পৃক্ত করে।

অতঃপর এটি স্বামীর ওপর স্ত্রীর অধিকার এবং স্ত্রীর ওপর স্বামীর অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছে। যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ ও মতপার্থক্য দেখা দেয়, তখন দাম্পত্য জীবন সংশোধনের জন্য পুরুষের যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা উচিত, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। এটি "পুরুষের অভিভাবকত্ব"-এর অর্থ ব্যাখ্যা করেছে যে, এই অভিভাবকত্ব কোনো দাসত্ব বা জবরদস্তি নয়, বরং এটি উপদেশ ও শৃঙ্খলার অভিভাবকত্ব; যেমনটি একজন রাখাল ও তার পালের মধ্যে হয়ে থাকে।

এরপর এটি পরিবারের গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের গণ্ডিতে প্রবেশ করেছে এবং সবক্ষেত্রে সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছে। এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সদাচরণের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সহযোগিতা, দয়া, সদুপদেশ, সহনশীলতা, আমানতদারি ও ন্যায়বিচার, যাতে সমাজ সুসংহত হয়।

--------------------------------------------

১. আস-সাবুনী, সাফওয়াতুত তাফাসির, খণ্ড ১/ ২৫৭, মাকতাবাতুল ঈমান মানসুরা, ১৯৭৭ সাল।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩০)
البنيان قوي الأركان.

- ومن الإصلاح الداخلي انتقلت الآيات إلى الاستعداد للأمن الخارجي، الذي يحفظ على الأمة استقرارها وهدوءها، فأمرت بأخذ العدة لمكافحة الأعداء.

- ثم وضعت بعض قواعد المعاملات الدولية بين المسلمين والدول الأخرى المحايدة أو المعادية.

- واستتبع الأمر بالجهاد حملةً ضخمة على المنافقين، فهم نابتة السوء، وجرثومة الشر التي ينبغي الحذر منها، وقد تحدثت السورة الكريمة عن مكايدهم وخطرهم.

- كما نبهت إلى خطر أهل الكتاب، وبخاصة اليهود، وموقفهم من رسل الله الكرام.

- ثم ختمت السورة الكريمة ببيان ضلالات النصارى في أمر المسيح عيسى بن مريم؛ حيث غالوا فيه حتى عبدوه، ثم صلبوه1 مع اعتقادهم بألوهيته، واخترعوا فكرة التثليث، فأصحبوا كالمشركين الوثنيين، وقد دعتهم الآيات إلى الرجوع عن تلك الضلالات إلى العقيدة السمحة الصافية "عقيدة التوحيد"، وصدق الله حيث يقول: {وَلَا تَقُولُوا ثَلَاثَةٌ انْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ} 1.

--------------------------------------------

1 المرجع السابق، ص258.
সুদৃঢ় ভিত্তি বিশিষ্ট অট্টালিকা।

- অভ্যন্তরীণ সংস্কারের পর আয়াতসমূহ বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় নিরাপত্তার প্রস্তুতির দিকে অগ্রসর হয়েছে, যা উম্মাহর স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষা করে। ফলে এটি শত্রুদের দমনের জন্য যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

- এরপর মুসলিম এবং অন্যান্য নিরপেক্ষ বা শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কিছু মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

- জিহাদের নির্দেশের পর কপটদের (المنافقين) বিরুদ্ধে এক বিশাল অভিযান শুরু হয়; তারা হলো মন্দের অঙ্কুর এবং অনিষ্টের বীজ, যাদের সম্পর্কে সতর্ক থাকা আবশ্যক। এই সম্মানিত সূরাটি তাদের ষড়যন্ত্র ও বিপদ সম্পর্কে আলোচনা করেছে।

- একইভাবে এটি কিতাবধারীদের (أهل الكتاب), বিশেষ করে ইয়াহুদিদের বিপদ এবং আল্লাহর সম্মানিত রাসুলগণের প্রতি তাদের অবস্থানের বিষয়ে সতর্ক করেছে।

- অতঃপর সম্মানিত সূরাটি মাসীহ ঈসা ইবনে মারইয়ামের বিষয়ে খ্রিষ্টানদের পথভ্রষ্টতা বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; যেখানে তারা তাঁর ব্যাপারে অতিশয়োক্তি (غلو) করেছে এমনকি তাঁর ইবাদত শুরু করেছে। এরপর তারা তাঁর উপাস্য হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা সত্ত্বেও তাঁকে ক্রুশবিদ্ধ ১ করার দাবি করেছে এবং ত্রিত্ববাদের ধারণা উদ্ভাবন করেছে। ফলে তারা পৌত্তলিক অংশীবাদীদের (المشركين) মতো হয়ে গেল। আয়াতসমূহ তাদেরকে সেই সকল পথভ্রষ্টতা থেকে ফিরে এসে সহজ-সরল ও বিশুদ্ধ আকিদা ‘একত্ববাদের (التوحيد) আকিদা’ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। আল্লাহর বাণী সত্য, যেখানে তিনি বলেন: "তোমরা বলো না যে, আল্লাহ তিনের এক; এর থেকে বিরত হও, এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। নিশ্চয়ই আল্লাহ একমাত্র উপাস্য।" ১।

--------------------------------------------

১. পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৫৮।
(খণ্ড: ১) মিন কাদায়াত তারবিয়াতিল দিনিয়্যাহ ফিল মুজতামাইল ইসলামি (পৃষ্ঠা: ৩১)
"سورة النور"

- سورة النور من السور المدنية، التي تتناول الأحكام الشرعية، وتُعْنَى بأمور التشريع، والتوجيه والأخلاق، وتهتم بالقضايا العامة والخاصة، التي ينبغي أن يُرَبَّى عليها المسلمون أفرادًا وجماعات، وقد اشتملت هذه السورة على أحكام هامة، وتوجيهات عامة تتعلق بالأسرة، التي هي النواة الأولى لبناء المجتمع الأكبر.

- وضَّحَتْ السورة الآداب الاجتماعية التي يجب أن يتمسك بها المؤمنون في حياتهم الخاصة والعامة؛ كالاستئذان عند دخول البيوت، وغَضِّ الأبصار، وحفظ الفروج، وحرمة اختلاط الرجال بالنساء الأجنبيات، وما ينبغي أن تكون عليه الأسرة المسلمة والبيت المسلم، من العفاف والستر، والنزاهة والطهر، والاستقامة على شريعة الله، صيانةً لحرمتها، وحفاظًا عليها من عوامل التفكك الداخلي، والانهيار الخلقي، الذي يهدم الأمم والشعوب.

- وقد ذُكِرَ في هذه السورة الكريمة بعضُ الحدود الشرعية التي فرضها الله؛ كحد الزنى، وحد القذف، وحد اللعان، وكل هذه الحدود إنما شُرِّعَتْ تطهيرًا للمجتمع من الفساد والفوضى، واختلاط الأنساب، والانحلال الخلقي، وحفظًا للأمة من عوامل التردي في بؤرة الإباحية والفساد، التي تسبب ضياع الأنساب، وذهاب العِرْضِ والشرف.

- وباختصار، فإن هذه السورة الكريمة عالجت ناحيةً من أخطر النواحي الاجتماعية، هي "مسألة الأسرة"، وما يحفُّها من مخاطر، وما يعترض طريقها من عقباتٍ ومشاكل، تؤدي بها إلى الانهيار، ثم الدمار، هذا عدا ما فيها من آداب سامية، وحكم عالية، وتوجيهات رشيدة1.

--------------------------------------------

1 الصابوني، صفوة التفاسير ج2/ 325.
"সূরা আন-নূর"

- সূরা আন-নূর হলো মাদানি সূরাগুলোর অন্তর্ভুক্ত, যা শরয়ী বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা করে এবং আইন প্রণয়ন, দিকনির্দেশনা ও চারিত্রিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। এটি সেই সব সাধারণ ও বিশেষ বিষয় নিয়ে কাজ করে, যার ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে গড়ে তোলা উচিত। এই সূরাটি পরিবার সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও সাধারণ নির্দেশনাসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা বৃহত্তর সমাজ গঠনের প্রাথমিক ভিত্তি।

- এই সূরাটি সেই সব সামাজিক আদব বা শিষ্টাচার স্পষ্ট করেছে যা মুমিনদের তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে আঁকড়ে ধরা উচিত; যেমন ঘরে প্রবেশের আগে অনুমতি প্রার্থনা করা, দৃষ্টি অবনত রাখা, লজ্জাস্থানের হেফাযত করা এবং গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মেলামেশার নিষিদ্ধতা। এটি আরও বর্ণনা করে যে, একটি মুসলিম পরিবার ও গৃহের বৈশিষ্ট্য কেমন হওয়া উচিত—যেমন চারিত্রিক পবিত্রতা, পর্দা, নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা এবং আল্লাহর শরীয়তের ওপর অবিচল থাকা, যাতে এর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং একে অভ্যন্তরীণ অনৈক্য ও চারিত্রিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করা যায়, যা মূলত জাতি ও গোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেয়।

- এই মহিমান্বিত সূরায় আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত কিছু শরয়ী দণ্ডবিধি বর্ণিত হয়েছে; যেমন ব্যভিচারের দণ্ডবিধি, অপবাদের দণ্ডবিধি এবং লি’আনের দণ্ডবিধি। এই সকল দণ্ডবিধি মূলত সমাজকে ফাসাদ, বিশৃঙ্খলা, বংশপরিচয়ের সংমিশ্রণ এবং চারিত্রিক স্খলন থেকে পবিত্র করার জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো উম্মাহকে অবাধ যৌনাচার ও দুর্নীতির অতল গহ্বরে নিপতিত হওয়া থেকে রক্ষা করা, যা বংশপরিচয় বিলুপ্ত করে এবং মান-মর্যাদা ও সম্মান ধূলিসাৎ করে দেয়।

- সংক্ষেপে, এই বরকতময় সূরাটি সামাজিক জীবনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দিক তথা "পারিবারিক সমস্যা" এবং একে ঘিরে থাকা নানাবিধ বিপদ, বাধা ও জটিলতা নিয়ে আলোচনা করেছে যা পরিবারকে ভেঙে ফেলা এবং ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়া এতে রয়েছে উচ্চতর আদব, মহান প্রজ্ঞা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা ১।

--------------------------------------------

১ আস-সাবুনী, সাফওয়াতুত তাফাসীর, খণ্ড ২/ ৩২৫।