(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
الإبهاج في شرح المنهاج - ط العلمية   (تاج الدين ابن السبكي - تقي الدين السبكي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: الإبهاج في شرح المنهاج (على منهاج الوصول إلي علم الأصول للقاضي البيضاوي المتوفي سنه 685 هـ)

المؤلف: شيخ الإسلام علي بن عبد الكافي السبكي (المتوفي: 756 هـ) وولده تاج عبد الوهاب بن علي السبكي (ت 771 هـ)

تنبيه: شرح التقي السبكي قطعة يسيرة من أول المنهاج، ثم أعرض عنه فأكمله ابنه التاج، بداية من قول البيضاوي: «الرابعة: وجوب الشيء مطلقًا يوجب وجوب ما لا يتم إلا به وكان مقدورًا».

كتب هوامشه وصححه: جماعة من العلماء بإشراف الناشر

الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت

الطبعة: الأولى، 1404 هـ - 1984 م

عدد الأجزاء: 3

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ - আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (তাজুদ্দীন ইবনুল সুবকী - তাক্বীউদ্দীন আস-সুবকী)

বিভাগ: উসূলুল ফিকহ

গ্রন্থ: আল-ইবহাঝ ফি শারহিল মিনহাজ (কাযী আল-বায়যাভী (মৃত্যু ৬৮৫ হিজরি) রচিত 'মিনহাজুল উসূল ইলা ইলমিল উসূল'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)

লেখক: শায়খুল ইসলাম আলী বিন আব্দুল কাফী আস-সুবকী (মৃত্যু: ৭৫৬ হিজরি) এবং তাঁর পুত্র তাজ আব্দুল ওয়াহহাব বিন আলী আস-সুবকী (মৃত্যু ৭৭১ হিজরি)

সতর্কবার্তা: তাক্বী আস-সুবকী মিনহাজ-এর শুরু থেকে একটি সামান্য অংশ ব্যাখ্যা করেছেন, এরপর তিনি এটি ছেড়ে দেন এবং তাঁর পুত্র তাজ তা সম্পন্ন করেন। যা বায়যাভীর এই উক্তি থেকে শুরু হয়েছে: «চতুর্থত: কোনো বিষয়ের নিঃশর্ত আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়া) ঐ বিষয়ের আবশ্যকতাকেও অবধারিত করে যা ছাড়া তা সম্পন্ন হয় না এবং যা সাধ্যের মধ্যে রয়েছে।»।

পাদটীকা লিখন ও সংশোধন: প্রকাশকের তত্ত্বাবধানে একদল আলেম

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৪ হিজরি - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم قال الشيخ الإمام العالم العلامة القدوة المحقق الحافظ شيخ الإسلام بقية العلماء الأعلام قدوة الأئمة آخر المجتهدين حجة الله على العالمين سيدنا ومولانا قاضي القضاة تقي الدين أبو الحسن علي بن عبد الكافي بن علي بن علي بن تمام بن سوار بن سوار بن مسوار الأنصاري الخزرجي الشافعي نضر الله وجهه قاضي القضاة بالشام المحروس.

قال رحمه الله تعالى الحمد لله الذي أسس بنيان دينه على أثبت قواعد وأعلى أعلام ملته فخضعت لها أعناق كل جاحد وأحكم أصول شريعته فأعيا تفريعها كل معاند ورفع قدر علمائها فعد كل واحد منهم بألف كما عد ألف من غيرهم بواحد أحمده على نعمه التي عمت كل صادر ووارد واعترف بالعجز عن شكره ولا يبلغ معشار عشره حمد كل حامد وأستغفره استغفار عبد في بحر الذنوب راكد لا يجد ملجأ من الله إلا إليه قد أحاطت به الشدائد وقعد له عدوه بالمراصد وسولت له نفسه بالمكايد وغلب عليه هواه الفاسد ونادى في الظلمات أن لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين وأنك أنت الإله الواحد وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له توحيدا أنا له في صميم القلب واجد وعليه في الدنيا والآخرة شاهد وأصفه بما وصف به نفسه من صفات الكمال والمحامد وأنزهه عن كل ما لا يليق بحاله وأقدس له عن وضر التشبيه والتعطيل ما تكنه القلوب من العقائد وأستودعه ذلك ليوم لا يجزى فيه ولد ولا والد وأشهد أن محمدا عبده ورسوله الذي قدره على جميع الخلائق صاعد وشرفه بين البرية ناهد المصطفى من خير القبائل الأماجد والمجتبى من خير البطون الأقارب والأباعد المبرأ في نسبه
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। শাইখ, ইমাম, পণ্ডিত, মহাজ্ঞানী, আদর্শ ব্যক্তিত্ব, গবেষক, হাফেজ (হাদিস বিশারদ), শাইখুল ইসলাম, বরেণ্য উলামায়ে কেরামের উত্তরসূরি, ইমামগণের আদর্শ, শেষ যুগের মুজতাহিদ, জগতবাসীর ওপর আল্লাহর দলিল, আমাদের নেতা ও অভিভাবক, প্রধান বিচারপতি তাকিউদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে আব্দুল কাফি ইবনে আলী ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে সাওয়ার ইবনে সাওয়ার ইবনে মিসওয়ার আল-আনসারি আল-খাজরাজি আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাঁর চেহারা উজ্জ্বল করুন), যিনি সুরক্ষিত শামের প্রধান বিচারপতি ছিলেন, তিনি বলেছেন।

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর দ্বীনের অট্টালিকাকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর মিল্লাতের পতাকাকে সমুন্নত করেছেন, যার ফলে প্রত্যেক অস্বীকারকারীর মস্তক তার সামনে অবনত হয়েছে। তিনি তাঁর শরীয়তের মূলনীতিগুলোকে সুসংহত করেছেন, যার শাখা-প্রশাখা বিন্যাস করা প্রত্যেক হঠকারীর জন্য দুঃসাধ্য করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর আলেমদের মর্যাদা এমনভাবে বৃদ্ধি করেছেন যে, তাঁদের একেকজনকে এক হাজারের সমান গণ্য করা হয়, যেমনটি অন্যদের এক হাজারকে একজনের সমান বিবেচনা করা হয়। আমি তাঁর ঐসব নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করছি যা আগত ও প্রগত সকলের জন্য পরিব্যাপ্ত। আমি তাঁর শোকর আদায়ে নিজের অক্ষমতা স্বীকার করছি, কোনো প্রশংসাকারীর প্রশংসাই তাঁর প্রাপ্য কৃতজ্ঞতার দশমাংশের এক অংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। আমি তাঁর কাছে সেই দাসের ন্যায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে গুনাহের সমুদ্রে নিমজ্জিত, আল্লাহ ছাড়া যার আর কোনো আশ্রয় নেই। যাকে বিপদ-আপদ চারপাশ থেকে ঘিরে ধরেছে, যার জন্য শত্রু ওঁৎ পেতে আছে, যার কুপ্রবৃত্তি তাকে কূটকৌশল দেখায় এবং যার ওপর তার মন্দ আকাঙ্ক্ষা জয়ী হয়েছে। সে অন্ধকার থেকে ডাক দিয়ে বলছে, 'তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তুমি পবিত্র মহান, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম' এবং 'নিশ্চয়ই তুমিই একমাত্র ইলাহ'। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এমন এক তাওহিদের সাক্ষ্য যা আমি অন্তরের অন্তঃস্থলে লালন করি এবং দুনিয়া ও আখেরাতে যার সাক্ষী হয়ে আছি। আমি তাঁকে সেই সমস্ত পরিপূর্ণতা ও প্রশংসার গুণাবলীতে গুণান্বিত করি যেগুলোর মাধ্যমে তিনি নিজেকে গুণান্বিত করেছেন। আমি তাঁর শানের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সকল বিষয় থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করি। অন্তরসমূহ যে সকল আকিদা পোষণ করে থাকে, সেগুলোকে আমি সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) ও আল্লাহর গুণাবলীকে অর্থহীন করার (তা’তিল) কলুষতা থেকে তাঁর জন্য পবিত্র রাখি। আমি এই বিশ্বাসকে সেই দিনের জন্য আমানত রাখছি, যেদিন কোনো সন্তান পিতার কোনো উপকারে আসবে না এবং পিতাও সন্তানের কোনো উপকারে আসবে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মর্যাদা সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আরোহণকারী এবং যাঁর সম্মান সমগ্র মাখলুকের মাঝে সমুজ্জ্বল। তিনি শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ গোত্রসমূহ থেকে মনোনীত এবং নিকটবর্তী ও দূরবর্তী শ্রেষ্ঠ বংশসমূহ থেকে নির্বাচিত। তিনি তাঁর বংশমর্যাদায় সকল কলুষতামুক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
وذاته عن كل شين يتعلق به حاسد المقدم على الأنبياء والمرسلين والملائكة المقربين في جميع المشاهد والمبعوث إلى كل إنسي وجني والمنقذ لهم من ربقة الشيطان المارد الهادي إلى سبيل الرشاد ولولاه لم يكن أحد منا براشد.

صلى الله عليه وسلم ما سجد لله ساجد ودام في الجنان خالد ورضي الله على أصحابه الذين كل منهم في الله جاهد مجاهد وحامي حوزة الدين من كل مارق في الدين مجالد الذين قاموا بجلالة نبيه في جميع المعاهد وشيدوا أركان دينه وحفظوا شرائعه في جميع المصادر والموارد وقاموا بأعباء الملة الحنيفية وذبوا عنها كل زائد وحموا حماها عن الشبهات ووقفوا عند حدودها تحصيلا للمصالح ودرأ للمفاسد رضي الله عنهم أجمعين وعن جميع علماء المسلمين الذين خلفوا الصحابة والتابعين في تمهيد القواعد واستخراج الفوائد وضبط الأصول الشوارد وتبيين الأدلة والمقاصد والتوسع في علوم القرآن التي يتيه في بحارها كل عالم ناقد ومعرفة السنة ولا يخطئ بعضها إلا من هو أسهد الليل مكايد.

وقد تجرد لذلك في المائة الثانية جماعة من العلماء ما منهم إلا من جاهد وجاهد وكد ودأب ونصب واجتهد والله لسعيه شاهد وكان من أعظمهم منة على من بعده من طلاب الفوائد الإمام الشافعي رضي الله عنه فإن له أجمل العوائد لجمعه بين الحديث والفقه وكان غيره يقتصر منهما على واحد ولبناية كلامه على أصول هو أول من صنفها لما سأله ابن مهدي فصنف له الرسالة وكم فيها من الفوائد فهو أول من صنف في أصول الفقه لا يمتري في ذلك إلا معاند 1.

--------------------------------------------

1 من المسلم به أن أصول الفقه باعتباره قواعد ونظريات وكيفية استنباط الأحكام من الأدلة بوجه عام، نشأ في عصر الصحابة رضي الله عنهم حيث كان مصاحباً للفقه، فإن من الصحابة من كان يتصدر للفتيا والقضاء بين الناس، كعمر بن الخطاب، وابن مسعود، وعلي بن أبي طالب وغيرهم، وكانوا على دراية تامة بقواعد اللغة العربية، التي نزل بها القرآن الكريم، وبأسباب النزول، وبالناسخ والمنسوخ، والمطلق والمقيد، والعام والخاص، وسائر المباحث التي تكفل ببيانها علم "أصول الفقه" فيما بعد. وهكذا كان لكل إمام من الأئمة المجتهدين قواعده وأصوله التي يسير عليها في اجتهاده، إلا أنه كان هناك خلاف حاد بين اتجاه أهل الحديث بالحجاز، وأهل الرأي=
এবং তাঁর সত্তা এমন প্রতিটি ত্রুটি থেকে পবিত্র যা কোনো হিংসুক তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করতে চায়। তিনি সকল নবী, রাসূল এবং নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের ওপর অগ্রগণ্য; সকল অবস্থানে এবং তিনি সকল মানুষ ও জিনের প্রতি প্রেরিত। তিনি তাদেরকে অবাধ্য শয়তানের দাসত্ব থেকে মুক্তিদাতা এবং হেদায়েতের পথের দিশারী; তিনি না থাকলে আমাদের কেউ সঠিক পথপ্রাপ্ত হতো না।

আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক যতক্ষণ কোনো সিজদাকারী আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীগণ স্থায়ী থাকবে। আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন তাঁর সাহাবীদের ওপর, যাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথে কঠোর সংগ্রাম করেছেন এবং দ্বীনের সীমানাকে প্রত্যেক ধর্মত্যাগী ও আক্রমণকারীর হাত থেকে রক্ষা করেছেন। তাঁরা সকল সমাবেশে তাঁদের নবীর মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন, তাঁর দ্বীনের স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় করেছেন এবং সকল ক্ষেত্রে এর বিধানসমূহকে সংরক্ষণ করেছেন। তাঁরা একনিষ্ঠ দ্বীনের গুরুদায়িত্ব বহন করেছেন এবং এর থেকে প্রতিটি অসংলগ্ন বিষয়কে দূর করে দিয়েছেন। তাঁরা দ্বীনকে যাবতীয় সংশয় থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং জনকল্যাণ অর্জন ও অনিষ্ট দূর করার নিমিত্তে এর নির্ধারিত সীমানায় অবিচল থেকেছেন। আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং মুসলিম উম্মাহর সেই সকল আলেমদের ওপরও যারা সাহাবী ও তাবেয়ীদের উত্তরসূরি হিসেবে মূলনীতিসমূহ প্রণয়নে, মাসআলা উদ্ভাবনে, অসংগঠিত মূলনীতিসমূহ সুশৃঙ্খল করতে এবং দলিল ও উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করতে আত্মনিয়োগ করেছেন। তাঁরা কুরআনের জ্ঞানসমূহে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন, যে জ্ঞানের সাগরে প্রতিটি সমালোচক আলেমও দিশেহারা হয়ে যায় এবং সুন্নাহর এমন জ্ঞান অর্জন করেছেন যার সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারে যারা ষড়যন্ত্রকারীদের মুকাবিলায় বিনিদ্র রজনী অতিবাহিত করেছে।

দ্বিতীয় শতাব্দীতে একদল আলেম এই কাজের জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন, যাদের প্রত্যেকেই জিহাদ ও সংগ্রাম করেছেন, অক্লান্ত পরিশ্রম ও ইজতিহাদ করেছেন; আর আল্লাহ তাদের এই প্রচেষ্টার সাক্ষী। পরবর্তী জ্ঞানপিপাসুদের ওপর যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)। হাদিস ও ফিকহের সমন্বয় সাধনে তাঁর অবদান অত্যন্ত চমৎকার, যেখানে অন্যরা কেবল এর যেকোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন। তাঁর বক্তব্যসমূহ এমন কিছু মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা তিনি সর্বপ্রথম সংকলন করেছেন, যখন ইবনে মাহদী তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। তখন তিনি তাঁর জন্য 'আর-রিসালা' গ্রন্থটি রচনা করেন, যাতে অপরিসীম কল্যাণ নিহিত রয়েছে। সুতরাং তিনিই উসূলে ফিকহ শাস্ত্রে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনাকারী; কোনো হঠকারী ছাড়া এতে কেউ দ্বিমত পোষণ করে না ১।

--------------------------------------------

১ এটি স্বীকৃত যে, উসূলে ফিকহ মূলত সাধারণ নিয়মাবলি, তত্ত্ব এবং দলিল থেকে বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতি হিসেবে সাহাবায়ে কেরামের (রা.) যুগেই সূচিত হয়েছিল, যখন এটি ফিকহের সাথেই অবিচ্ছেদ্য ছিল। কেননা সাহাবীদের মধ্যে অনেকেই ফতোয়া প্রদান ও মানুষের মধ্যে বিচারকার্যে নেতৃত্ব দিতেন, যেমন উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনে মাসউদ, আলী ইবনে আবি তালিব এবং আরও অনেকে। তাঁরা আরবি ভাষার নিয়মাবলি সম্পর্কে পূর্ণ অবগত ছিলেন যে ভাষায় পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে। এছাড়াও তাঁরা শানে নুযূল, নাসিখ-মানসুখ, মুতলাক-মুকাইয়্যাদ, আম-খাস এবং অন্যান্য সকল বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতেন যা পরবর্তীতে 'উসূলে ফিকহ' শাস্ত্র বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছে। একইভাবে প্রত্যেক মুজতাহিদ ইমামেরই নিজস্ব কিছু নিয়ম ও মূলনীতি ছিল যার আলোকে তিনি ইজতিহাদ করতেন। তবে হিজাজের আহলে হাদিস এবং আহলে রায়ের ধারার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য বিদ্যমান ছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
.................................................................................

--------------------------------------------

=بالعراق، حتى أخذ كل فريق في الطعن على طريقة الفريق الآخر، فأهل الرأي يعيبون على أهل الحديث الإكثار من الرواية التي تدل على عدم الفهم والتدبر، كما أن أهل الحديث يعيبون على أهل الرأي بأنهم يأخذون في دينهم بالظن ويحكمون العقل في الدين.

وظهر المتعصبون لكلا الفريقين، فاتسع الخلاف واحتدم النزاع، حتى قيض الله لهذا الأمة من أخذ بيدها إلى الطريق السوي، ويبين القواعد القوانين التي يحتكم إليها الجميع، وهو الإمام الشافعي رضي الله عنه –بعد أن كتب له الإمام الحافظ عبد الرحمن بن مهدي المتوفى سنة 198هـ. وهو أحد أئمة الحديث في الحجاز، أرسل إلى الإمام الشافعي أن يضع له كتاباً يبين فيه معاني القرآن، ويجمع قبول الأخبار فيه، وحجة الإجماع، وبيان الناسخ والمنسوخ من القرآن والسنة، فوضع له كتاب "الرسالة".

= قال علي بن المديني: قلت لمحمد بن إدريس: أجب عبد الرحمن بن مهدي عن كتابه، فقد كتب إليك وهو متشوق إلى جوابك، قال: فأجابه الشافعي. وأرسل الكتاب إلى الإمام ابن مهدي مع الحارث بن سريج النقال الخوارزمي، ثم البغدادي وبسبب ذلك سمي النقال.

وعلى ذلك يتبين عدم صحة ما ينقله بعض العلماء من أن هناك من سبق الإمام الشافعي في التأليف في علم الأصول، كالإمام محمد الباقر بن علي زين العابدين، المتوفى سنة 114هـ. وكالإمامين أبي يوسف، ومحمد بن الحسن صاحبي أبي حنيفة رضي الله تعالى عنهم. فإن هذا من قبيل القواعد والمناهج التي كان يسير عليها الأئمة، والتي سبق أن أشرنا إليها، وأنها كانت موجودة حتى في عصر الصحابة رضي الله عنهم.

فالتحقيق أن أول من ألف في ذلك كتاباً مستقلا متكاملاً هو الإمام الشافعي رضي الله عنه، كما قال الإمام السبكي وكما هو المتفق عليه بين الأئمة.

راجع: الخطيب البغدادي 2/64-65، معجم الأدباء 6/788، ورسالة الإمام الشافعي بتحقيق الشيخ أحمد شاكر من 907،625،573،418،96، مناقب الإمام الشافعي للرازي ص21. الفهرست لابن النديم ص286، الشيعة وفنون الإسلام ص565، عقيدة أهل السنة في الإمام الصادق ص292، الشافعي للشيخ أبي زهرة ص179، أصول الفقه –نشأته وتطوره- للدكتور شعبان محمد إسماعيل ص23-35.

--------------------------------------------

=ইরাকে, এমনকি প্রতিটি দল অন্য দলের পদ্ধতির সমালোচনা ও আক্রমণ করতে শুরু করে। রায়পন্থীগণ (আহলুর রায়) হাদিসপন্থীদের (আহলুল হাদিস) অধিক হাদিস বর্ণনার সমালোচনা করতেন যা গভীর উপলব্ধি ও চিন্তার অভাব নির্দেশ করে। একইভাবে হাদিসপন্থীগণ রায়পন্থীদের সমালোচনা করতেন এই বলে যে, তারা দ্বীনের বিষয়ে ধারণার ওপর নির্ভর করেন এবং দ্বীনি বিষয়ে যুক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তিকে প্রাধান্য দেন।

উভয় দলের পক্ষেই চরমপন্থীদের উদ্ভব ঘটে, ফলে মতপার্থক্য ব্যাপকতর হয় এবং বিবাদ চরম রূপ ধারণ করে। অবশেষে আল্লাহ এই উম্মতের হাত ধরে সঠিক পথে পরিচালনার জন্য একজনকে নিয়োজিত করেন, যিনি এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতি স্পষ্ট করেন যা সবার কাছে বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য হয়। তিনি হলেন ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। হাফিজ আবদুর রহমান বিন মাহদী (মৃ. ১৯৮ হি.), যিনি হিজাজের অন্যতম হাদিস বিশারদ ছিলেন, তিনি ইমাম শাফিয়ীর নিকট পত্র লেখেন যেন তিনি তার জন্য এমন একটি কিতাব রচনা করেন যাতে কুরআনের অর্থের ব্যাখ্যা থাকবে, হাদিসের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়সমূহ সংগৃহীত হবে, ইজমার প্রামাণ্যতা এবং কুরআন ও সুন্নাহর নাসিখ-মানসুখ (রহিতকারী ও রহিতকৃত) বিষয়ের বর্ণনা থাকবে। অতঃপর তিনি তার জন্য 'আল-রিসালাহ' কিতাবটি রচনা করেন।

= আলী বিন আল-মাদিনী বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইদরীসকে বললাম: আবদুর রহমান বিন মাহদীর চিঠির উত্তর দিন, কারণ তিনি আপনার উত্তরের জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন ইমাম শাফিয়ী তাকে উত্তর দিলেন। তিনি হারিস বিন সুরাইজ আল-নাক্কাল আল-খাওয়ারিজমি (যিনি পরবর্তীতে বাগদাদি হিসেবে পরিচিত এবং এই কারণেই তাকে 'আল-নাক্কাল' বা বাহক বলা হয়)-এর মাধ্যমে ইমাম ইবনে মাহদীর নিকট কিতাবটি পাঠিয়ে দেন।

এর মাধ্যমে এটিও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কোনো কোনো আলেম যা বর্ণনা করেছেন যে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম শাফিয়ীর পূর্বেও কেউ গ্রন্থ রচনা করেছেন, তা সঠিক নয়। যেমন ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির বিন আলী জাইনুল আবিদীন (মৃ. ১১৪ হি.), অথবা ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দুই ছাত্র ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ বিন হাসান। এগুলো মূলত ছিল ঐসব নিয়ম ও কর্মপদ্ধতি যার ওপর ইমামগণ পরিচালিত হতেন এবং যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে তা সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর যুগেও বিদ্যমান ছিল।

প্রকৃত অনুসন্ধান অনুযায়ী, এই বিষয়ে সর্বপ্রথম স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচয়িতা হলেন ইমাম শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), যেমনটি ইমাম সুবকী বলেছেন এবং যেমনটি আইম্মাহদের (ইমামদের) মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।

দেখুন: আল-খতিব আল-বাগদাদি ২/৬৪-৬৫, মুজামুল উদাবা ৬/৭৮৮, ইমাম শাফিয়ীর 'আল-রিসালাহ' (শেখ আহমদ শাকিরের তাহকিকসহ) পৃষ্ঠা ৯৬, ৪১৮, ৫৭৩, ৬২৫, ৯০৭; রাযী রচিত মানাকিবে ইমাম শাফিয়ী পৃষ্ঠা ২১; ইবনুন নাদিমের আল-ফিহরিস্ত পৃষ্ঠা ২৮৬, আশ-শিয়া ওয়া ফুনুনুল ইসলাম পৃষ্ঠা ৫৬৫, আকিদাতু আহলিস সুন্নাহ ফিল ইমামিস সাদিক পৃষ্ঠা ২৯২, শেখ আবু জাহরা রচিত আশ-শাফিয়ী পৃষ্ঠা ১৭৯, ড. শাবান মুহাম্মদ ইসমাইল রচিত উসুলুল ফিকহ -নাশআতুহু ওয়া তাতাওউরুহু- পৃষ্ঠা ২৩-৩৫।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌فائدة علم الأصول

وإن علم أصول الفقه وهو من أعظم العلوم ثلاثة أصناف عقلية محضة كالحساب والهندسة والنجوم والطب ولغوية كعلم اللغة والنحو والتصريف والعروض والقوافي والبيان وهي علوم القرآن والسنة وتوابعهما.

ولا ريب في أن الشريعة أشرف الأصناف الثلاثة في الوسائل والمقاصد وأشرف العلوم الشرعية بعد الاعتقاد الصحيح وأنفعها معرفة الأحكام التي
উসুল শাস্ত্রের উপকারিতা

নিশ্চয়ই উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র হলো মহান শাস্ত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত। শাস্ত্রসমূহ মূলত তিন প্রকার: নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক—যেমন গণিত, জ্যামিতি, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসা শাস্ত্র; ভাষাতাত্ত্বিক—যেমন অভিধান শাস্ত্র, নাহু, সরফ, আরূয, কাওয়াফি ও বায়ান; এবং শরয়ী শাস্ত্রসমূহ—যা কুরআন, সুন্নাহ ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মাধ্যম ও উদ্দেশ্যের বিচারে এই তিন শ্রেণির মধ্যে শরীয়ত সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ। আর সঠিক আকিদা বা বিশ্বাসের পর শরয়ী শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ও উপকারী হলো সেই আহকাম বা বিধানাবলীর জ্ঞান যা
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
تجب للمعبود على العابد ومعرفة ذلك بالتقليد ونقل الفروع المجردة تستفرغ جمام الذهن ولا ينشرح الصدر له لعدم أخذه بالدليل وأين سامع الخبر من المشاهد وأين أجر من يأتي بالعبادة لفتوى إمامه أنها واجبة أو سنة من الذي يأتي بها وقد ثلج صدره عن الله ورسوله بأن ذلك دينه تالله إن أجر هذا لزائد وهذا لا يحصل إلا بالاجتهاد ولا يكمل فيه إلا الواحد بعد الواحد وكل العلماء في حضيض عنه إلا من نغلغل بأصل الفقه وكرع من مناهله الصافية بكل الموارد وسبح في بحره ودرى من الإله وبات يعل به وطرفه ساهد وإني لم أزل منذ نشأت محبا في هذا العلم مولعا بالبحث فيه مع كل زائد.

وقد أكثر الناس من التصنيف فيه فكم من تصنيف فيه مبسوط ومختصر وناقص وزائد ومن أحسن مختصراته كتاب المنهاج في الوصول إلى العلم الأصول الذي صنفه القاضي الفاضل ناصر الدين عبد الله بن عمر بن محمد البيضاوي رحمه الله فلقد أحسن فيه المعاقد وقد قرئ على مرات كثيرة من جماعات حتى سمحت أقرأه من كثرة الموارد وانتشرت طلبته فلم أقتنع من واحد وفي هذا الوقت شرع في الاشتغال به ولدي أبو حامد1 أعطاه الله من خير الدنيا والآخرة ما هو قاصد وزاده مما ليس في حسابه كل خير إنه الكريم الماجد فأحببت أن أضع له شرحا لينتفع هو وغيره به إن شاء الله.

وعسى دعوة من أخ في الله تنفعني وأنا في القبر راقد وسميته الإبهاج في شرح المنهاج وأخذت هذا الاسم

من قول ذي الرمة:

تزداد للعين إبهاجا إذا سفرت … ومخرج العبن فيها يلتفت

وذلك من قصيدته التي قرأتها على أبي محمد الحسن عبد الكريم سبط زيادة في سنة سبع وسبعمائة عن عيسى بن عبد العزيز بن عيسى قال أخبرنا السلفي قال أخبرنا جعفر السراج قال أخبرنا الحسن بن علي الجوهري قال

--------------------------------------------

1 هو: بهاء أبو حامد: أحمد بن علي السبكي، كان صاحب يد طولى في علوما للسان العربي، والمعاني. والبيان، وأسند إليه إفتاء دار العدل، وقضاء العسكر، وقضاء الشام، وخطابه جامع ابن طولونز توفي سنة 773هـ.
ইবাদতকারীর ওপর উপাস্যের যে হক ওয়াজিব এবং কেবল তাকলিদ (অন্ধ অনুসরণ) ও নিছক শাখা-প্রশাখার বর্ণনার মাধ্যমে তা জানা মেধার সবটুকু শক্তি নিংড়ে নেয় ঠিকই, কিন্তু এর ফলে অন্তর প্রশস্ত হয় না; কারণ এতে দলিলের আশ্রয় নেওয়া হয় না। সংবাদ শ্রবণকারী কি চাক্ষুষ প্রত্যক্ষকারীর সমান হতে পারে? আর সেই ব্যক্তির সওয়াব কি তার সমান হতে পারে যে কেবল তার ইমামের ফতোয়া অনুযায়ী তা ওয়াজিব বা সুন্নত মনে করে ইবাদত করে, আর সেই ব্যক্তি যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বিষয়ের ওপর বক্ষ প্রশস্ত করে (দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে) ইবাদত করে যে এটিই তার দ্বীন? আল্লাহর কসম! দ্বিতীয় ব্যক্তির সওয়াব অবশ্যই অনেক বেশি। আর এটি ইজতিহাদ ব্যতীত অর্জন করা সম্ভব নয়, এবং একের পর এক ক্ষণজন্মা ব্যক্তি ছাড়া এতে কেউ পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। উসুলুল ফিকহ বা মূলনীতির শেকড়ে প্রবেশকারী এবং এর স্বচ্ছ প্রস্রবণ থেকে পানকারী ও এর সমুদ্রে অবগাহনকারী এবং ইলমে ইলাহি সম্পর্কে প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি—যে বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে এ জ্ঞান আহরণ করেছে—ব্যতীত সকল আলিমই এই স্তরের তুলনায় নিম্নভূমিতে অবস্থান করছেন। আমি শৈশব থেকেই এই ইলমের প্রতি অনুরক্ত এবং এতে অধিকতর গবেষণায় নিমগ্ন ছিলাম।

লোকেরা এই বিষয়ে প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। কতই না বিস্তারিত, সংক্ষিপ্ত, অপূর্ণাঙ্গ এবং দীর্ঘ রচনা এতে বিদ্যমান! এর শ্রেষ্ঠ সংক্ষিপ্তসারগুলোর একটি হলো 'আল-মিনহাজ ফী উসুলিল ইলম' (মিনহাজুল উসুল), যা সংকলন করেছেন ফাযিল কাযী নাসিরুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-বায়যাভী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)। তিনি এতে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিষয়বস্তু বিন্যস্ত করেছেন। আমার কাছে এটি বহুবার অনেক জামাত পাঠ করেছে, এমনকি অধিক পঠন-পাঠনের কারণে আমি তা অনর্গল পাঠ করতে পারি। এর অনুসন্ধিৎসু ছাত্ররা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাই আমি কোনো একজনের ওপর তুষ্ট হইনি। বর্তমানে আমার সন্তান আবু হামিদ১ এতে ব্যস্ত হওয়া শুরু করেছে; আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের সেই কল্যাণ দান করুন যা সে কামনা করে এবং তার ধারণাতীত প্রতিটি কল্যাণ তাকে বৃদ্ধি করে দিন; নিশ্চয়ই তিনি দাতা ও মর্যাদাবান। তাই আমি তার জন্য একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করতে পছন্দ করলাম, যাতে ইনশাআল্লাহ সে এবং অন্যরা উপকৃত হতে পারে।

আশা করি আল্লাহর পথে কোনো ভাইয়ের দুআ আমার উপকারে আসবে যখন আমি কবরে শায়িত থাকব। আমি এর নাম রেখেছি 'আল-ইবহাঝ ফী শারহিল মিনহাজ'। আমি এই নামটি নিয়েছি

যুর-রুম্মাহ-এর এই উক্তি থেকে:

সে যখন অবগুষ্ঠন উন্মোচন করে তখন চোখের সৌন্দর্য ও আনন্দ বৃদ্ধি পায় … এবং চোখের কোণ বারবার সেখানে ফিরে যায়।

এটি তার সেই কাসিদা থেকে যা আমি আবু মুহাম্মদ আল-হাসান আব্দুল কারীম সিবত যিয়াদাহ-এর কাছে ৭০৭ হিজরি সনে ঈসা বিন আব্দুল আযীয বিন ঈসা থেকে পাঠ করেছি। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালাফী, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর আস-সাররাজ, তিনি বলেন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আলী আল-জাওহারী, তিনি বলেন:

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন: বাহাউদ্দীন আবু হামিদ: আহমাদ বিন আলী আস-সুবকী। তিনি আরবি ভাষা, অলংকারশাস্ত্র (আল-মাআনি ও আল-বায়ান) শাস্ত্রে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তার ওপর 'দারুল আদল'-এর ইফতা, 'কাযাউল আসকার' (সেনাবাহিনীর বিচারক), শামের বিচারকার্য এবং জামে ইবনে তুলুন-এর খতিব হওয়ার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তিনি ৭৭৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
قرأت على أبي الحسن علي بن عيسى الرماني قال سمعت ديوان ذي الرمة على أبي بكر دريد عن أبي حاتم عن الأصمعي عن أبي عمرو بن العلاء عن ذي الرمة واسمه غيلان ابن عقبة العدوي.

فإن قلت: قد عظمت أصول الفقه وهل هو إلا نبذ جمعت من علوم متفرقة نبذة من النحو وهي الكلام في معاني الحروف التي يحتاج إليها الفقيه والكلام في الاستفتاء وما أشبه ذلك ونبذة من علم الكلام وهي الكلام في الحسن والقبيح والكلام في الحكم الشرعي وأقسامه وبعض الكلام في النسخ وأفعاله ونحو ذلك ونبذة من اللغة وهي الكلام في معنى الأمر والنهي وصيغ العموم والمجمل والمبين والمطلق والمقيد وما أشبه ذلك ونبذة من علم الحديث وهي الكلا في الأخبار والعارف بهذه العلوم لا يحتاج إلى أصول الفقه في الإحاطة بها فلم يبق من أصول الفقه إلا الكلام في الإجماع وهو من أصول الدين أيضا وبعض الكلام في القياس والتعارض مما يستقل به الفقيه فصارت فائدة الأصول بالذات قليلة جدا بحيث لو جرد الذي ينفرد به ما كان إلا شيئا يسيرا.

قلت: ليس كذلك فإن الإصوليين دققوا في فهم أشياء من كلام العرب لم يصل إليها النحاة ولا اللغويون فإن كلام العرب متسع جدا والنظر فيه متشعب فكتب اللغة تضبط الألفاظ ومعانيها الظاهرة دون المعاني الدقيقة التي تحتاج إلى نظر الأصول واستقراء زائد على استقراء اللغوي مثاله ودلالة صيغة "أفعل" على الوجوب "ولا تفعل" على التحريم وكون "كل وإخوتها للعموم" يوما أشبه ذلك مما ذكر السائل أنه من اللغة لو فتشت كتب اللغة لم تجد فيها شفاء في ذلك ولا تعرضا لما ذكره الأصوليون وكذلك كتب النحو لو طلبت معنى الاستثناء وأن الإخراج هل هو قبل الحكم أبو بعد الحكم ونحو ذلك من الدقائق التي تعرض لها الأصوليون وأخذوها باستقراء خاص من كلام العرب وأدلة خاصة لا تقتضيها صناعة النحو فهذا ونحوه مما تكفل به أصول الفقه ولا ينكر أن له استمداد من تلك العلوم ولكن تلك الأشياء التي استمدها
আমি আবুল হাসান আলী বিন ঈসা আল-রুম্মানি-র নিকট পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমি আবু বকর ইবনে দুরাইদ-এর নিকট যু-রুম্মাহ-র দেওয়ান শুনেছি, তিনি আবু হাতিম থেকে, তিনি আসমায়ি থেকে, তিনি আবু আমর বিন আল-আলা থেকে, তিনি যু-রুম্মাহ থেকে—যার নাম গাইলান ইবনে উকবাহ আল-আদাওয়ি।

যদি আপনি বলেন: আপনি উসুলুল ফিকহকে অনেক বড় করে ফেলেছেন, অথচ এটি বিভিন্ন জ্ঞানশাখা থেকে সংগৃহীত কিছু সংকলন ছাড়া আর কিছুই নয়। এতে নাহু (ব্যাকরণ) থেকে কিছু অংশ নেওয়া হয়েছে, যেমন—হরফের অর্থ নিয়ে আলোচনা যা একজন ফকিহ-র প্রয়োজন হয়, ফতোয়া প্রার্থনার নিয়ম এবং অনুরূপ বিষয়াবলি। ইলমুল কালাম থেকে কিছু অংশ নেওয়া হয়েছে, যেমন—ভালো-মন্দের (হুসন ও কুবহ) আলোচনা, শারঈ হুকুম ও এর প্রকারভেদ সংক্রান্ত আলোচনা, এবং নাসখ (রহিতকরণ) ও এর কার্যকারিতা সম্পর্কিত কিছু আলোচনা। লুগাত (ভাষাতত্ত্ব) থেকে কিছু অংশ নেওয়া হয়েছে, যেমন—আদেশ (আমর) ও নিষেধের (নাহি) অর্থ, ব্যাপকতাবোধক শব্দ (আম), মুজমাল (অস্পষ্ট), মুবাইয়্যান (সুস্পষ্ট), মুতলাক (নিঃশর্ত) ও মুকাইয়াদ (শর্তযুক্ত) শব্দের রূপসমূহ এবং এ জাতীয় বিষয়াবলি। আর ইলমুল হাদিস থেকে কিছু অংশ নেওয়া হয়েছে, যেমন—সংবাদ (খবর) সংক্রান্ত আলোচনা। সুতরাং যিনি এই জ্ঞানশাখাগুলোতে অভিজ্ঞ, তার পক্ষে এ বিষয়গুলো আয়ত্ত করতে উসুলুল ফিকহের প্রয়োজন নেই। ফলে উসুলুল ফিকহ থেকে কেবল ইজমা সংক্রান্ত আলোচনাই অবশিষ্ট থাকে, যা আবার উসুলুদ দ্বীনেরও (আকিদা) অন্তর্ভুক্ত। আর কিয়াস ও তাআ'রুদ (পরস্পর বিরোধিতা) সংক্রান্ত কিছু আলোচনা থাকে যা কেবল ফকিহরাই করে থাকেন। সুতরাং মৌলিকভাবে উসুলুল ফিকহের উপকারিতা অত্যন্ত সীমিত হয়ে দাঁড়ায়, এমনকি এর নিজস্ব বিষয়গুলোকে আলাদা করলে তা খুবই সামান্য বিষয়ে পরিণত হয়।

আমি বলব: বিষয়টি এমন নয়। কেননা উসুলবিদগণ (উসুলিয়্যুন) আরবদের বাচনভঙ্গির এমন সব সূক্ষ্ম বিষয় অনুধাবন করেছেন যেখানে নাহুবিদ বা ভাষাবিদগণ পৌঁছাতে পারেননি। আরবদের ভাষা অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এর পর্যালোচনার ক্ষেত্র অনেক শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত। লুগাতের (অভিধান) গ্রন্থগুলো শব্দের বাহ্যিক অর্থ ও শব্দাবলিকে সংরক্ষণ করে, কিন্তু সেসব সূক্ষ্ম অর্থ নিয়ে আলোচনা করে না যার জন্য উসুলবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভাষাবিদদের চেয়েও গভীরতর অনুসন্ধানের প্রয়োজন হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘আফ’আল’ (করো) ক্রিয়ার রূপটি ওয়াজিব হওয়ার ওপর এবং ‘লা তাফ’আল’ (করো না) রূপটি হারাম হওয়ার ওপর নির্দেশ করা, এবং ‘কুল্লু’ ও এর সমজাতীয় শব্দগুলো ব্যাপকতা (আম) হওয়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রাখে—এমন সব বিষয় যা প্রশ্নকারী মনে করেছেন যে এগুলো লুগাতের অন্তর্ভুক্ত। আপনি যদি লুগাতের কিতাবসমূহ অনুসন্ধান করেন তবে সেখানে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত সমাধান পাবেন না এবং উসুলবিদরা যা উল্লেখ করেছেন তার কোনো বর্ণনাও পাবেন না। একইভাবে নাহুর কিতাবসমূহে যদি আপনি ইস্তিসনা (ব্যতিক্রম)-এর অর্থ এবং এই ব্যতিক্রম করাটা কি হুকুমের আগে না কি পরে—এ জাতীয় সূক্ষ্ম বিষয়গুলো তালাশ করেন, যা উসুলবিদরা আলোচনা করেছেন এবং আরবদের বক্তব্য থেকে বিশেষ অনুসন্ধান ও স্বতন্ত্র দলিলের মাধ্যমে বের করেছেন, তবে দেখবেন নাহুর নিয়মাবলি এগুলো দাবি করে না। সুতরাং এই বিষয়গুলো এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় উসুলুল ফিকহ নিজেই নিজের জিম্মায় নিয়েছে। আর এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এটি সেসব বিজ্ঞান থেকে সহায়তা গ্রহণ করেছে, তবে যেসব বিষয় এটি গ্রহণ করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
منها لم تذكر فيه بالذات بل بالعرض والمذكور فيه بالذات ما أشرنا إليه مما لا يوجد إلا فيه ولا يصل إلى فهمها إلى من يلتف به.

فإن قلت: قد كانت العلماء في الصحابة والتابعين وأتباع التابعين من أكابر المجتهدين ولم يكن هذا العلم حتى جاء الشافعي وصنف فيه فكيف تجعله شرطا في الاجتهاد؟

قلت: الصحابة ومن بعدهم كانوا عارفين به بطباعهم كما كانوا عارفين النحو بطباعهم قبل مجئ الخليل وسيبويه فكانت ألسنتهم قويمة وأذهانهم مستقيمة وفهمهم لظاهر كلام العرب ودقيقه عتيد لأنهم أهله الذي يؤخذ عنهم وأما بعدهم فقد فسرت الألسن وتغيرت الفهوم فيحتاج إليه كما يحتاج إلى النحو.
এর মধ্যে কিছু বিষয় এমন রয়েছে যা এতে মূলত উল্লেখ করা হয়নি, বরং প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে। আর এতে যা মূলত বর্ণিত হয়েছে তা আমরা ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি, যা কেবল এর মধ্যেই পাওয়া যায় এবং এর নিগূঢ় রহস্য কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারে যারা এর সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত।

যদি আপনি বলেন: সাহাবী, তাবিঈ এবং তাবি-তাবিঈদের মাঝে বড় বড় মুজতাহিদ আলেমগণ বিদ্যমান ছিলেন, অথচ ইমাম শাফিঈ এসে এ বিষয়ে কিতাব রচনা করার পূর্ব পর্যন্ত এই ইলম বিদ্যমান ছিল না। এমতাবস্থায় আপনি কীভাবে একে ইজতিহাদের জন্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করছেন?

আমি বলব: সাহাবায়ে কেরাম এবং তাঁদের পরবর্তীগণ স্বীয় স্বভাবজাত প্রজ্ঞার মাধ্যমেই এ বিষয়ে অবগত ছিলেন, যেমনটি খলীল ও সীবওয়াইহ-এর আগমনের পূর্বে তাঁরা স্বভাবজাতভাবেই নাহু বা ব্যাকরণ জানতেন। ফলে তাঁদের ভাষা ছিল সুসংহত, মেধা ছিল সঠিক এবং আরবী ভাষার প্রকাশ্য ও সূক্ষ্ম অর্থ অনুধাবনে তাঁরা ছিলেন সদা প্রস্তুত। কেননা তাঁরাই ছিলেন সেই ভাষার অধিকারী যাদের থেকে তা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তাঁদের পরবর্তী যুগে ভাষার মাঝে বিকৃতি প্রবেশ করে এবং বোধশক্তিতে পরিবর্তন আসে, ফলে এই ইলমের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়—ঠিক যেমন ব্যাকরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌شروط المجتهد

واعلم أن كمال رتبة الاجتهاد تتوقف على ثلاثة أشياء:

أحدها: التأليف في العلوم التي يتهذب بها الذهن كالعربية وأصول الفقه وما يحتاج إليه من العلوم العقلية في صيانة الذهن عن الخطأ بحيث تصير هذه العلوم ملكة الشخص فإذ ذاك يثق بفهمه لدلالات الألفاظ من حيث هي هي وتحريره تصحيح الأدلة من فاسدها والذي نشير إليه من العربية وأصول الفقه كانت الصحابة أعلم به منا من غير تعلم وغاية المتعلم منا أن يصل إلى بعض فهمهم وقد يخطئ وقد يصيب.

الثاني: الإحاطة بمعظم قواعد الشريعة حتى يعرف أن الدليل الذي ينظر فيه مخالف لها أو موافق.

الثالث: أن يكون له منة الممارسة والتبع لمقاصد الشريعة ما يكسبه قوة يفهم منها مراد الشرع من ذلك وما يناسب أن يكون حكما له في ذلك المحل وإن لم يصرح به كما أن من عاشر ملكا ومارس أحواله وخبر أموره إذا سئل عن رأيه في القضية الفلانية يغلب على ظنه ما يقوله فيها وإن لم يصرح له به،
মুজতাহিদের শর্তাবলি

জেনে রাখুন যে, ইজতিহাদের পূর্ণাঙ্গ স্তরে পৌঁছানো তিনটি বিষয়ের উপর নির্ভরশীল:

প্রথমটি: সেই সকল বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করা যার মাধ্যমে মেধা মার্জিত হয়, যেমন আরবি ভাষা, উসুলুল ফিকহ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিদ্যাসমূহের মধ্যে যা মেধাকে ভুল থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয়, যাতে করে এই জ্ঞানসমূহ ব্যক্তির মজ্জাগত যোগ্যতায় পরিণত হয়। তখন সে শব্দের শাব্দিক তাৎপর্য উপলব্ধি এবং সঠিক দলিলকে ত্রুটিযুক্ত দলিল থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে নিজের বুঝের ওপর আস্থা রাখতে পারে। আরবি ভাষা ও উসুলুল ফিকহের যে বিষয়ের দিকে আমরা ইঙ্গিত করছি, সে সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যতিরেকেই আমাদের চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিলেন। আর আমাদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সামর্থ্য হলো তাদের বুঝের কিয়দংশ পর্যন্ত পৌঁছানো, যেখানে সে কখনো ভুল করে আবার কখনো সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়।

দ্বিতীয়টি: শরীয়তের অধিকাংশ মূলনীতির ওপর পূর্ণ ব্যুৎপত্তি রাখা, যাতে সে অনুধাবন করতে পারে যে, সে যে দলিলটি নিয়ে গবেষণা করছে তা শরীয়তের মূলনীতির পরিপন্থী নাকি অনুকূল।

তৃতীয়টি: শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদ) নিয়ে দীর্ঘদিনের চর্চা ও অনুসরণের ফলে এমন এক সক্ষমতা অর্জন করা, যার মাধ্যমে সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য এবং সেই ক্ষেত্রে কী বিধান হওয়া সঙ্গত তা বুঝতে পারে, যদিও তা স্পষ্টভাবে বর্ণিত না থাকে। বিষয়টি ঠিক তেমন, যেমন কোনো ব্যক্তি যদি কোনো রাজার দীর্ঘকাল সাহচর্যে থাকে এবং তার অবস্থা ও কার্যাবলি সম্পর্কে সম্যক অবগত হয়, তবে তাকে যখন কোনো বিশেষ বিষয়ে রাজার মতামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তার প্রবল ধারণা অনুযায়ী সে যা বলে তা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে, যদিও রাজা তার কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
لكن بمعرفته بأخلاقه وما يناسبها من تلك القضية فإذا وصل الشخص إلى هذه الرتبة وحصل على الأشياء الثلاثة فقد حاز رتبة الكاملين في الاجتهاد ولا يشترط العلم بأحوال الرواة من حيث هو فإن الصحابة كانوا مجتهدين ولم يحتاجوا إلى ذلك وإنما الذين بعدهم يحتاجون إلى ذلك في إيقاع الاجتهاد لا في حصول الصفة لهم وذاك العلم بمواقع الإجماع والاختلاف وكان محل الكلام على هذا في أواخر الكتاب ولكنا تعجلناه هنا1.

ومن المعلوم أن الصحابة كانوا أكمل الناس في هذه الأشياء الثلاثة أما الأول فبطباعهم وأما الثاني والثالث فلمشاهدتهم الوحي ومعرفتهم بأحوال النبي صلى الله عليه وسلم.

ولما كان الفقه مستندا إلى الكتاب والسنة ويحتاج الفقيه في أخذه منهما إلى قواعد جمعت تلك القواعد في علم وسميته "أصول الفقه" وهي تسمية صحيحة مطابقة لتوقف الفقه عليها وتلك القواعد منها ما لا يعرف إلا من الشرع ومنها ما يعرف من اللغة بزيادة على ما تصدى له النحاة واللغويون فالذي لا يعرف إلا من الشرع إثبات كون الخبر الواحد حجة وكون الإجماع حجة والقياس حجة وكثير من المسائل التي تذكر فيه والذي يعرف من اللغة ما يذكر فيه من دلالات الألفاظ اللغوية وما فيه من علم الكلام ونحوه فاقتضاه انجرار الكلام إليه وتوقف فهم بعض مسائل هذا العلم عليه.

وهأنا أبتدئ في شرح هذا الكتاب مستعينا بالله تعالى وذلك في يوم الاثنين ثامن شهر ربيع الأول سنة خمس وثلاثين وسبعمائة وإلى الله أتضرع وأنا أسأل أن ينفع به بمنه وكرمه إنه قريب مجيب.

--------------------------------------------

1 ما ذكره الشارح هنا هو نبذة سريعة ومجملة عن شروط المجتهد، ولكن البيضاوي عقد للاجتهاد باباً خاصاً في الكتاب السابع من كتاب "المنهاج" ذكر فيه اجتهاد الرسول صلى الله عليه وسلم –وموقف العلماء منه، وكذا الصحابة رضي الله عنهم في حضرته – صلى الله عليه وسلم أو في غيبته، وشروط الاجتهاد، وحكمه، والأمور التي يجري فيها الاجتهاد وغير ذلك. فليراجع تفصيل ما أجمله الشارح في أواخر الكتاب. وبالله التوفيق.

اهـ. محققه.
কিন্তু তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং সেই বিষয়ের সাথে সেগুলোর যা সামঞ্জস্যপূর্ণ তা জানার মাধ্যমে। সুতরাং যখন কোনো ব্যক্তি এই স্তরে পৌঁছান এবং এই তিনটি বিষয় অর্জন করেন, তখন তিনি ইজতিহাদের ক্ষেত্রে পূর্ণতা লাভকারীদের স্তরে উন্নীত হন। বর্ণনাকারীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা এর শর্ত নয়, কারণ সাহাবায়ে কিরাম মুজতাহিদ ছিলেন অথচ তাঁদের এর প্রয়োজন ছিল না। বরং তাঁদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকদের ইজতিহাদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এর প্রয়োজন হয়, তাঁদের মাঝে ইজতিহাদের যোগ্যতা অর্জনের জন্য নয়। আর তা হলো ইজমা ও ইখতিলাফ (ঐক্যমত ও মতভেদ) এর ক্ষেত্রসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান। এই বিষয়ের আলোচনার মূল স্থান ছিল কিতাবটির শেষে, কিন্তু আমরা এখানে তা অগ্রিম আলোচনা করেছি ১।

এটি সুবিদিত যে, সাহাবায়ে কিরাম এই তিনটি বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূর্ণতা সম্পন্ন ছিলেন। প্রথমটি ছিল তাঁদের সহজাত স্বভাবের কারণে, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি ছিল তাঁদের ওহী প্রত্যক্ষ করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানের কারণে।

যেহেতু ফিকহ কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল এবং ফকীহকে এ দুটি উৎস থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করতে কিছু মূলনীতির প্রয়োজন হয়, তাই সেই মূলনীতিগুলোকে একটি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং আমি একে "উসূলে ফিকহ" নামে অভিহিত করেছি। এটি একটি সঠিক নামকরণ এবং এর বাস্তবতার সাথে সংগতিপূর্ণ, কারণ ফিকহ এই মূলনীতিগুলোর ওপরই নির্ভরশীল। সেই মূলনীতিগুলোর মধ্যে কিছু এমন রয়েছে যা কেবল শরীয়তের মাধ্যমেই জানা যায়, আর কিছু ভাষা থেকে জানা যায়—ব্যাকরণবিদ ও ভাষাবিদগণ যা বর্ণনা করেছেন তার অতিরিক্ত জ্ঞানের মাধ্যমে। সুতরাং যা কেবল শরীয়তের মাধ্যমেই জানা যায় তা হলো: খবর-ই ওয়াহিদ দলিল হওয়া, ইজমা দলিল হওয়া, কিয়াস দলিল হওয়া এবং এমন আরও অনেক বিষয় যা এতে বর্ণিত হয়েছে। আর যা ভাষা থেকে জানা যায় তা হলো: শব্দসমূহের ভাষাগত অর্থ নির্দেশ করা এবং এতে ইলমে কালাম ও অনুরূপ যা কিছু রয়েছে; আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা এবং এই শাস্ত্রের কিছু মাসআলা বোঝার প্রয়োজনীয়তা এই বিষয়গুলোকে এতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি রাখে।

আর এখন আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এই কিতাবটির ব্যাখ্যা শুরু করছি। এটি সাতশত পঁয়ত্রিশ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ, সোমবার। আমি আল্লাহর কাছে বিনীত প্রার্থনা করছি এবং তাঁর নিকট আবেদন করছি যেন তিনি তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় একে উপকারী করে দেন; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী ও দোয়ায় সাড়া প্রদানকারী।

--------------------------------------------

১. এখানে ব্যাখ্যাকার যা উল্লেখ করেছেন তা হলো একজন মুজতাহিদের শর্তাবলি সম্পর্কে একটি দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত ধারণা। কিন্তু বাইযাভী তাঁর 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে ইজতিহাদের জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছেন, যেখানে তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইজতিহাদ ও সে সম্পর্কে ওলামায়ে কিরামের অবস্থান এবং অনুরূপভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে সাহাবায়ে কিরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ইজতিহাদ, ইজতিহাদের শর্তাবলি, এর বিধান এবং যেসব বিষয়ে ইজতিহাদ করা যায় ইত্যাদি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং ব্যাখ্যাকার যা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন তার বিস্তারিত বিবরণের জন্য কিতাবটির শেষাংশ দেখা যেতে পারে। আর আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক আসে। সমাপ্ত। - মুহাক্কিক।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌شرح ديباجة الكتاب

"تقدس من تمجد بالعظمة والجلال" تقدس: أي تطهر ومن أسمائه تعالى التي نطق بها القرآن القدوس وفيه لغتان: ضم القاف وهي أشهر وكان "س"1 يقول بفتحها وأصل الكلمة من القدس بضم الدال وبسكونها وهو الطهارة سمي جبريل روح القدس لطهارته في تبليغ الوحي إلى الرسل عليهم السلام والأرض المقدسة المطهرة وبيت المقدس بيت الطهارة من الذنوب لتطهيره من الكفار بالمسلمين وقال تعالى: {وَنُقَدِّسُ لَكَ} 2 أي نقدسك إن جعلت اللام زائدة أو نقدس أنفسنا لك إن لم ترض زيادتها ومعنى تقديس الله تنزيهه من كل ما لا يليق بكماله سبحانه وتعالى فنزهه عن كل وصف يدركه حس أو يصوره خيال وهم أو يختلج به ضميره وننزهه عن كل ما نسبه إليه المبطلون من الشركاء والأنداد والصحابة والأولاد وعن كل محال نسبه إليه أهل الضلال مما يشير إلى نقص أو يومئ إلى عيب.

ولولا ما وقع فيه أهل الكفر والضلال من ذلك لكان الأدب بنا تنزيه عن أن ننطق بنفي ذلك عنه لأن نفي الوجود يكاد يوهم بإمكان الوجود وتطرق العيب والنقص إليه محال لا يخطر بالبال تصوره فضلا عن كونه ينفيه

--------------------------------------------

1 هكذا في جميع النسخ؛ ويقصد بذلك "سيبويه" وهو: عمرو بن عثمان بن قنبر الحارثي، الملقب "سيبويه" إمام النحاة، وأول من بسط علم النحو- ولد في إحدى قرى "شيراز" وقدم البصرة فلزم الخليل بن أحمد ففاقه، وصنف كتابه المسمى "كتاب سيبويه" في النحو. لم يصنع قبله ولا بعده مثله. توفي بالأهواز سنة 180هـ راجع: القاموس المحيط- فصل القاف باب السين، وفيات الأعيان 1/385، تاريخ بغداد 12/195، الأعلام للزركلي 5/252.

2 آية 30 من سورة البقرة وتمامها: {وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَنْ يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لا تَعْلَمُونَ} .
গ্রন্থের ভূমিকার ব্যাখ্যা

"পবিত্র সেই সত্তা যিনি মহিমা ও গাম্ভীর্যের মাধ্যমে মহিমান্বিত।" পবিত্র হওয়া: অর্থাৎ পূত-পবিত্র হওয়া। মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত একটি নাম হলো ‘আল-কুদ্দুস’ (পরম পবিত্র)। শব্দটিতে দুটি উচ্চারণ পদ্ধতি রয়েছে: ‘ক্বাফ’ অক্ষরে পেশ দিয়ে পড়া, যা অধিক প্রসিদ্ধ; আর ‘সিবওয়াইহি’ এটি জবর দিয়ে পড়তেন। শব্দটির মূল উৎস হলো ‘কুদ্স’ (দাল অক্ষরে পেশ বা সাকিন উভয়ই হতে পারে), যার অর্থ হলো পবিত্রতা। জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে ‘রুহুল কুদ্স’ (পবিত্র আত্মা) বলা হয় রাসূলগণের কাছে ওহী পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পবিত্রতার কারণে। ‘পবিত্র ভূমি’ হলো যা পরিচ্ছন্ন বা পবিত্র। আর ‘বাইতুল মাকদিস’ হলো গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়ার ঘর, কেননা মুসলিমদের মাধ্যমে একে কাফেরদের থেকে পবিত্র করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {এবং আমরা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি} অর্থাৎ, যদি ‘লাম’ অক্ষরটিকে অতিরিক্ত ধরা হয় তবে এর অর্থ হবে ‘আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি’, আর যদি এর অতিরিক্ত হওয়াকে গ্রহণ করা না হয় তবে অর্থ হবে ‘আমরা আপনার জন্য নিজেদের পবিত্র করি’। আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণার অর্থ হলো তাঁকে এমন প্রতিটি বিষয় থেকে মুক্ত রাখা যা তাঁর পরিপূর্ণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তিনি পবিত্র ও মহান। সুতরাং তাঁকে এমন প্রতিটি গুণ থেকে মুক্ত রাখতে হবে যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হয়, অথবা কল্পনা বা সংশয় দ্বারা চিত্রিত হয়, কিংবা যা অন্তরে উদিত হয়। আমরা তাঁকে ঐ সকল বিষয় থেকেও মুক্ত রাখি যা বাতিলপন্থীরা তাঁর প্রতি আরোপ করেছে—যেমন অংশীদার, সমকক্ষ, স্ত্রী ও সন্তান। এছাড়া পথভ্রষ্টরা তাঁর প্রতি যেসব অসম্ভব বিষয় আরোপ করেছে, যা কোনো প্রকার অপূর্ণতার দিকে ইঙ্গিত করে বা দোষের প্রতি ইশারা করে, তা থেকেও তাঁকে আমরা মুক্ত ঘোষণা করি।

কুফর ও পথভ্রষ্ট লোকেরা যদি এসকল বিষয়ে লিপ্ত না হতো, তবে আমাদের জন্য শিষ্টাচার হতো তাঁর থেকে এসব বিষয় মৌখিকভাবেও অস্বীকার না করা। কারণ কোনো কিছুর অস্তিত্ব অস্বীকার করা সেই বিষয়টির অস্তিত্বের সম্ভাবনার ধারণা জাগিয়ে দেয়। অথচ তাঁর ক্ষেত্রে কোনো দোষ বা ত্রুটির অনুপ্রবেশ ঘটা সম্পূর্ণ অসম্ভব, যা কল্পনা করাও মনে আসা উচিত নয়, তা অস্বীকার করা তো দূরের কথা।

--------------------------------------------

১. সকল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে; এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ‘সিবওয়াইহি’। তিনি হলেন: আমর ইবন উসমান ইবন কানবার আল-হারিসী, উপাধি ‘সিবওয়াইহি’, তিনি ব্যাকরণবিদদের ইমাম এবং সর্বপ্রথম ব্যাকরণ শাস্ত্রকে বিস্তারিত রূপ দানকারী। তিনি শিরাজের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বসরায় এসে খলীল ইবন আহমদের সান্নিধ্য গ্রহণ করেন ও তাঁর চেয়েও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। তিনি ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘কিতাব সিবওয়াইহি’ রচনা করেন। তাঁর আগে বা পরে কেউ এমন গ্রন্থ রচনা করতে পারেনি। তিনি ১৮০ হিজরীতে আহওয়াজে মৃত্যুবরণ করেন। দ্রষ্টব্য: আল-কামুসুল মুহীত—ফসলুল ক্বাফ বাবুল সীন, ওফায়াতুল আইয়ান ১/৩৮৫, তারিখু বাগদাদ ১২/১৯৫, আল-আলাম লিয-যিরিকলী ৫/২৫২।

২. সূরা আল-বাকারার ৩০ নম্বর আয়াত এবং এর পূর্ণ অংশ হলো: {আর যখন আপনার রব ফেরেশতাদের বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে যাচ্ছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সেখানে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে ও রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরাই আপনার প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করি।’ তিনি বললেন, ‘নিশ্চয়ই আমি যা জানি, তোমরা তা জানো না’}।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ويقدره. وقولنا تنزيهه عن كل ما لا يليق بكماله عبارة محررة من قول من يقول: بأوصاف الكمال فإن أكثر ما يتصور الناس من أوصاف الكمال ما هو كمال لأنفسهم كعلمهم وسمعهم وبصرهم والله تعالى منزه عنها فإن صفاته تعالى لا تشبه صفات البشر وعلمه وسمعه وبصره مباين لسمعهم وبصرهم وعلمهم فتنزيه كثير من الجهال يحتاج إلى تنزيه ومجامع التقديس أن تقدسه عن الشركاء والأضداد والنظير والولد وإحاطة الأبصار والحاجة إلى غيره وغير ذلك مما يستحيل عليه وأكثر الناس يعتقدون أن معنى القدوس الطاهر ولا شك أنه يدل على ذلك ولكنه ليس كل معناه فإن بناء طاهر لازم وقدوس مأخوذ من فعل متعد فمعناه مطهر بكسر الهاء أي أنه تعالى مقدس لنفسه بإخباره عنها التوحيد والإجلال والإكرام واستحالة النقائض عليه وعجز الأوهام عنه وخالق الأدلة على ذلك ومقدس لخلقه عن اعتقادهم فيه ما لا يليق بذاته والأول صفة ذات والثاني والثالث صفتا فعل وعن ابن عباس وقتادة القدس الذي منه البركات.

إذا عرفت ذلك فقوله تقدس لا يجوز أن يكون مطاوعا لقدس فإن المطاوع شرطه التأثر مثل كسرته فتكسر وذلك مفقود هنا والتقديس هنا مثل التصديق في أن المراد منه الإخبار عن الصدق فلا يأتي منه مضارع لكن يصح استعمال تقدس لموافقة المجرد وقال الراجز: "الحمد لله العلي القادس" ومن جملة معاني تفعل أن يوافق المجرد وإن لم ينطق بالمجرد ههنا في الفعل وقد قال القرافي في قوله تبارك وتعالى أن معناه تقدس وللمصنف في القرآن أسوة في استعماله تقدس وكذلك السهيلي وهو من المتقنين في العلم وقع في كلامه تقدس سبحانه عن مضاهاة الأجسام وقدوس مثل سبوح كان "س"1 يفتح أولهما والمشهور الضم فيها والتسبيح التنزيه ولم يرد السبوح في القرآن ولا في حديث أبي هريرة ولكن جاء التسبيح واختلف العلماء هل كونه سبوحا قدوسا يرجع إلى معنى خاص يسمى قدسا وسبحة أو وضعه بذلك يرجع إلى نفي محض وتنزيه عن النقائض ومعنى ذلك أنه هل هو صفة ثبوتية أو سلبية.

--------------------------------------------

1 هكذا بالأصل والمقصود به "سيبويه" كما تقدم. وانظر القاموس فصل السين باب الحاء.
এবং তিনি তা নির্ধারণ করেন। আমাদের বক্তব্য—তাঁর পূর্ণতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিটি বিষয় থেকে তাঁকে পবিত্র ঘোষণা করা—হলো সেই ব্যক্তিদের বক্তব্যের একটি পরিমার্জিত রূপ যারা আল্লাহর পূর্ণতার গুণাবলির কথা বলেন। কারণ অধিকাংশ মানুষ পূর্ণতার গুণাবলি বলতে যা কল্পনা করে, তা মূলত তাদের নিজেদের জন্য যা পূর্ণতা সেটুকুই, যেমন তাদের জ্ঞান, শ্রবণ ও দর্শন। অথচ মহান আল্লাহ এগুলো থেকে পবিত্র। কারণ মহান আল্লাহর গুণাবলি মানুষের গুণাবলির সদৃশ নয়; তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ ও দর্শন মানুষের শ্রবণ, দর্শন ও জ্ঞান থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। ফলে অনেক মূর্খ ব্যক্তির পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতিটিই পুনরায় পবিত্রকরণের মুখাপেক্ষী। পবিত্রতার মূল সারাংশ হলো—তাঁকে অংশীদার, প্রতিদ্বন্দ্বী, সমকক্ষ, সন্তান, দৃষ্টির পরিবেষ্টন, অন্যের মুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর ক্ষেত্রে যা অসম্ভব এমন সব কিছু থেকে পবিত্র জ্ঞান করা। অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে যে, 'কুদ্দুস' শব্দের অর্থ হলো পবিত্র। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এটি সেই অর্থ নির্দেশ করে, কিন্তু এটিই এর সম্পূর্ণ অর্থ নয়। কারণ 'তাহের' (পবিত্র) শব্দটি অকর্মক, কিন্তু 'কুদ্দুস' শব্দটি একটি সকর্মক ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত। ফলে এর অর্থ হলো 'পবিত্রকারী', অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাওহিদ, মহিমা ও সম্মানের সংবাদ প্রদানের মাধ্যমে, তাঁর ক্ষেত্রে ত্রুটির অসম্ভবতা এবং তাঁর সত্তা অনুধাবনে কল্পনার অক্ষমতা প্রকাশের মাধ্যমে নিজের পবিত্রতা নিজেই বর্ণনা করেছেন। তিনি এর সপক্ষের প্রমাণাদিরও স্রষ্টা এবং তিনি তাঁর সৃষ্টিকে তাঁর সত্তার অযোগ্য বিশ্বাস পোষণ করা থেকে পবিত্র রাখেন। প্রথমটি হলো সত্তাগত গুণ, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি হলো কর্মগত গুণ। ইবনে আব্বাস ও কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, 'কুদস' হলো তা-ই যা থেকে বরকত উৎসারিত হয়।

আপনি যখন এটি জানলেন, তখন তাঁর সম্পর্কে 'তাকাদ্দাসা' (তিনি পবিত্র হয়েছেন) শব্দটিকে 'কাদ্দাসা' (পবিত্র করা)-এর অনুগামী ক্রিয়া ধরা বৈধ নয়। কারণ অনুগামী ক্রিয়ার শর্ত হলো প্রভাব গ্রহণ করা, যেমন 'আমি এটি ভেঙেছি ফলে তা ভেঙে গেছে'। এখানে সেই বিষয়টি অনুপস্থিত। এখানকার 'তাকদিস' শব্দটি 'তাসদিক' (সত্যায়ন)-এর মতো, যার উদ্দেশ্য হলো সত্যের সংবাদ প্রদান করা। তাই এর কোনো বর্তমানকালবাচক রূপ আসে না, তবে মূল ধাতুর অর্থের সাথে সামঞ্জস্য রেখে 'তাকাদ্দাসা' ব্যবহার করা সঠিক। জনৈক কবি বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ পবিত্রকারী আল্লাহর জন্য।" 'তাফা'আলা' ছাঁচের একটি অর্থ হলো মূল ধাতুর অর্থের সাথে মিল রাখা, যদিও এখানে ক্রিয়া হিসেবে মূল ধাতুটি ব্যবহৃত হয়নি। আল-কারাফি মহান আল্লাহর বাণী 'তাবারাকা' সম্পর্কে বলেছেন যে, এর অর্থ হলো 'তাকাদ্দাসা'। কুরআনের শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে গ্রন্থকারের জন্য 'তাকাদ্দাসা' ব্যবহারের দৃষ্টান্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সুহাইলি—যিনি ইলম বা জ্ঞানে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন—তাঁর বক্তব্যেও এসেছে: "সুবহানাহু, তিনি দেহের সাথে সাদৃশ্য হওয়া থেকে পবিত্র (তাকাদ্দাসা)।" 'কুদ্দুস' শব্দটি 'সুব্বুহ'-এর মতো; সিবওয়াইহি১ এ দুটির প্রথম অক্ষরে জবর দিয়ে পড়তেন, তবে পেশ দিয়ে পড়াই প্রসিদ্ধ। 'তাসবিহ' মানে হলো পবিত্রতা ঘোষণা করা। কুরআনে বা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে 'সুব্বুহ' শব্দটি আসেনি, তবে 'তাসবিহ' শব্দটির উল্লেখ এসেছে। আলেমগণ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন যে, তাঁর 'সুব্বুহ' ও 'কুদ্দুস' হওয়া কি এমন কোনো বিশেষ অর্থের দিকে ফিরে যায় যাকে 'কুদ্স' ও 'সুবহাহ' বলা হয়, নাকি এ শব্দ দুটির প্রয়োগ কেবল ত্রুটিসমূহ অস্বীকার ও পবিত্রতা বর্ণনার জন্যই? এর অর্থ হলো, এটি কি কোনো ইতিবাচক গুণ নাকি নেতিবাচক (অস্তিত্বহীনতা জ্ঞাপক) গুণ।

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "সিবওয়াইহি", যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। দেখুন: আল-কামুস, সীন অনুচ্ছেদ, হা পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وقوله: "تمجد" الكلام فيه كالكلام في تقدس وهو مأخوذ من اسم المجيد وقد نطق به القرآن والسنة وأجمعت الأمة عليه والمجد معناه الشرف والعظمة والكثرة والارتفاع سمي تعالى بذلك لكثرة جلاله وشرفه وعلوه بما يخرج عن طوق البشر واختلف العلماء هل هو صفة خاصة كالعلم والقدرة أو هو عبارة عن استجماع صفات المعالي ووجوه نفي النقائص فلا كمال إلا له ولا نقص إلا وهو منزه عنه.

وقوله: "بالعظمة والجلال" متعلق بتمجيد واسم العظيم نطق به القرآن والسنة وهو تعالى عظيم في ذاته وصفاته وقهره وسلطانه فكل عظيم بالنسبة إلى عظمته عدم محض واسم الجميل لم يرد في القرآن ولا في حديث أبي هريرة لكن في الحديث: "إن الله جميل يحب الجمال" 1 وورد أيضا في بعض طرق أبي هريرة.

ولما كان تعالى كاملا في ذاته وصفاته وأفعاله وصف بالجمال وهو تعالى مقدس عن الصورة وعن الصفات البشرية.

ومشاهدة صفة الجمال يثير المحبة ومشاهدة صفة الجلال يثير الهيبة والعظمة تثير الهيبة أيضا فلهذا قرن المصنف العظمة بالجلال لتفيده معنى زائدا على الجلال فالباء يحتمل أن تكون بمعنى في أي تمجد في عظمته وجلاله فارتفع بهما على كل عظيم وجليل ويحتمل أن تكون للسببية على معنى أنه ارتفع بعظمته وجلاله على كل شيء فلا شيء إلا وهو مجد تعالى وهو تعالى مجيد بذاته عظيم بذاته فليس المعنى أن بعض الصفات أثر في بعض وإنما لما كانت هذه الصفات تشير إلى مجموع معان وملاحظة كل منها يوجب العلم بالكمال بها حسن ذلك كله.

"وتنزه من تفرد بالقدم والكمال" التنزيه بمعنى التسبيح وقد ورد مصرحا

--------------------------------------------

1 ولفظه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "لا يدخل الجنة من كان في قبله مثقال ذرة من كبر". فقال رجل: إنا لرجل يجب أن يكون ثوبه حسناً، ونعله حسنة، فقال: "إن الله تعالى جميل يحب الجمال" رواه مسلم.
এবং তাঁর বাণী: "তিনি মহিমান্বিত হয়েছেন" সংক্রান্ত আলোচনা "তিনি পবিত্র হয়েছেন" সংক্রান্ত আলোচনার মতোই। এটি "মহামহিমান্বিত" (আল-মাজীদ) নাম থেকে গৃহীত। কুরআন ও সুন্নাহ এর সপক্ষে বলেছে এবং উম্মত এর ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছে। মহিমা (মাজদ) অর্থ হলো মর্যাদা, মহত্ত্ব, প্রাচুর্য এবং উচ্চতা। তাঁর মহানুভবতা, মর্যাদা এবং উচ্চতা মানুষের সাধ্যাতীত হওয়ার কারণে মহান আল্লাহকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে। বিদ্বানগণ মতভেদ করেছেন যে, এটি কি জ্ঞান ও ক্ষমতার মতো কোনো বিশেষ গুণ, নাকি এটি শ্রেষ্ঠ গুণাবলির সমাবেশ এবং সকল প্রকার ত্রুটি-বিচ্যুতির অনুপস্থিতির বহিঃপ্রকাশ? প্রকৃতপক্ষে সকল পূর্ণতা কেবল তাঁরই এবং এমন কোনো ত্রুটি নেই যা থেকে তিনি পবিত্র নন।

এবং তাঁর বাণী: "মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যের দ্বারা" কথাটি মহিমান্বিত হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। "মহান" (আল-আজীম) নামটি কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা, গুণাবলি, পরাক্রম ও কর্তৃত্বে মহান। তাঁর মহত্ত্বের তুলনায় অন্য সকল মহান সত্তাই তুচ্ছ বা অস্তিত্বহীন। "সুন্দর" (আল-জামীল) নামটি কুরআনে বা আবু হুরায়রার হাদিসে (বর্ণিত নামের তালিকায়) উল্লেখ করা হয়নি, তবে হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।" এটি আবু হুরায়রার কিছু বর্ণনাসূত্রেও পাওয়া গেছে।

যেহেতু মহান আল্লাহ তাঁর সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে পূর্ণাঙ্গ, তাই তাঁকে সৌন্দর্যের গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। মহান আল্লাহ কোনো রূপ বা আকৃতি এবং মানবীয় গুণাবলি থেকে পবিত্র।

সৌন্দর্য গুণের পর্যবেক্ষণ ভালোবাসার সঞ্চার করে এবং গাম্ভীর্য গুণের পর্যবেক্ষণ ভীতি ও শ্রদ্ধার সঞ্চার করে। মহত্ত্বও ভীতি ও শ্রদ্ধার উদ্রেক করে। এই কারণেই গ্রন্থকার "মহত্ত্ব"-কে "গাম্ভীর্য"-এর সাথে যুক্ত করেছেন যাতে তা গাম্ভীর্যের অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রদান করে। এখানে "দ্বারা" অব্যয়টি "মধ্যে" অর্থে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অর্থাৎ তিনি তাঁর মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যের মধ্যে মহিমান্বিত হয়েছেন; ফলে এই দুই গুণের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি মহান ও মর্যাদাবান সত্তার ঊর্ধ্বে উন্নীত হয়েছেন। অথবা এটি কারণবাচক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার অর্থ হলো—তিনি তাঁর মহত্ত্ব ও গাম্ভীর্যের কারণে প্রতিটি বস্তুর ঊর্ধ্বে উন্নীত হয়েছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর মহিমা ব্যতীত অন্য কিছুর কোনো অস্তিত্ব নেই। মহান আল্লাহ তাঁর নিজস্ব সত্তায় মহিমান্বিত এবং তাঁর নিজস্ব সত্তায় মহান। এর অর্থ এই নয় যে, এক গুণ অন্য গুণের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে; বরং যেহেতু এই গুণগুলো একগুচ্ছ অর্থের দিকে নির্দেশ করে এবং এগুলোর প্রতিটির পর্যবেক্ষণ তাঁর পূর্ণতা সম্পর্কে জ্ঞান দান করে, তাই এই সবকিছুই প্রশংসনীয়।

"এবং তিনি পবিত্র ও মুক্ত হয়েছেন যিনি অনাদিত্ব ও পূর্ণতায় অনন্য।" পবিত্রতা বর্ণনা করা তাসবিহ পাঠের সমার্থক এবং এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ আর এর শব্দগুলো হলো—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: কোনো ব্যক্তি চায় যে তার পোশাক সুন্দর হোক এবং তার জুতো সুন্দর হোক। তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
به في الحديث أنه كان يصلي من الليل فلا يمر بآية فيها تنزيه لله إلا نزهه وأصل النزهة البعد وتنزيه الله تبعيده عن ما لا يليق به ولا يجوز عليه فمعنى تنزه بعد والتفرد الانفراد يقال تفرد به واستفرد به بمعنى واحد والقدم وجود لا أول له وكل شيء سوى الله وصفاته فهو حادث لوجوده أول وصفاته لا يقال فيها إنه غيره والكمال المطلق ليس إلا لله تعالى فهو الكامل في ذاته وصفاته وأفعاله وكل ما سواه مفتقر إليه والافتقار ينافي الكمال فله حدوثه عن العدم وغير ذلك مما للمخلوق من صفات النقص.

"عن مشابهة الأشباه والأمثال ومصادمة الحدوث والزوال" هذا متعلق بقوله: "تنزه" وأما تقدس فإما أن يجعل كلاما تاما وإما أن يجعل من باب التنازع ويضمر في تقدس كما ذكره هنا والمشابهة المشاكلة والشبه الشبه والشبيه بمعنى واحد وهو ما يشبه الشيء وبينهما شبه بالتحريك وكل منها يجمع على أشباه والمثل والمثل كالشبه والشبه وهو ما يساوي الشيء ويقوم كل منهما مقام الآخر في حقيقته وما هيته كالأجسام متساوية في الجسمية وإن اختلفت بالألوان والأشكال وغيرها من الأعراض واختلافها بذلك لا يخرجها عن التماثل في الحقيقة هذا حقيقة المثلين وبه تزول شبهات يوردها المجسمة وكثير ممن وقع في التشبيه ظانا أنه سالم منه والمصادمة المماسة والمراد بها ههنا الإلصاق واللحاق والحدوث وجود مسبوق بعدم فهو ضد الأزلية والزوال طريان العدم وهو ضد الأبدية والأولية والأبدية واجبان لله تعالى لأنه يقال واجب لذاته يستحيل عليه العدم لا أولا ولا آخرا.

"مقدر الأرزاق والآجال ومدبر الكائنات في أزل الآزال" هذا مما لا يجحده مسلم ولا كافر تفرد الرب سبحانه وتعالى به وما فيه من عظيم العلم والقدرة والمنة والأزل المقدم والأزل القديم وأصل هذه الكلمة قولهم للقديم لم يزل ثم نسب إلى هذا فلم يستقم إلا باختصار قالوا يزلي ثم أبدلت الياء ألفا لأنها أخف فقالوا أزلي كما قالوا في الرمح المنسوب إلى ذي يزن أذني وقوله الآزال على سبيل المبالغة في اللفظ.

"عالم الغيب والشهادة الكبير المتعال" الغيب والشهادة قيل السر
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাতে সালাত আদায় করতেন। যখনই আল্লাহর পবিত্রতা সম্বলিত কোনো আয়াত অতিক্রম করতেন, তখনই তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করতেন। ‘নুযহা’ শব্দের মূল অর্থ হলো দূরত্ব। আর আল্লাহর ‘তান্যীহ’ বা পবিত্রতা বর্ণনা করার অর্থ হলো তাঁকে এমন সব বিষয় থেকে দূরে রাখা যা তাঁর জন্য উপযুক্ত নয় এবং তাঁর ক্ষেত্রে অসম্ভব। সুতরাং ‘তান্যাহ’ অর্থ হলো তিনি দূরে রয়েছেন। ‘তাফাররুদ’ ও ‘ইস্তিফরাদ’ একই অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ হলো একক হওয়া বা অদ্বিতীয় হওয়া। ‘ক্বিদাম’ (অনাদিত্ব) হলো এমন অস্তিত্ব যার কোনো শুরু নেই। আল্লাহ এবং তাঁর গুণাবলি ব্যতীত যা কিছু আছে সবই নশ্বর (হাদিস), কারণ সেগুলোর অস্তিত্বের শুরু আছে। আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কে বলা যাবে না যে তা তাঁর সত্তা থেকে ভিন্ন। নিরঙ্কুশ পূর্ণতা কেবল আল্লাহ তাআলার জন্যই। তিনি তাঁর সত্তা, গুণাবলি এবং কার্যাবলিতে পূর্ণ। তিনি ছাড়া অন্য যা কিছু আছে সবই তাঁর মুখাপেক্ষী। আর মুখাপেক্ষিতা পূর্ণতার পরিপন্থী। সুতরাং সৃষ্টির অস্তিত্ব শূন্য থেকে শুরু হওয়া এবং অন্যান্য ত্রুটিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সেগুলোর জন্য প্রযোজ্য।

"সদৃশ ও উপমাসমূহের সাদৃশ্য এবং নশ্বরতা ও বিলীন হওয়ার ছোঁয়া থেকে মুক্ত" - এই অংশটুকু তাঁর "পবিত্রতা" (তান্যীহ) বক্তব্যের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর "পবিত্রতা" (তাক্বদুস) শব্দটিকে হয় একটি পূর্ণ বাক্য ধরা হবে, অথবা ব্যাকরণগত ‘তানাযু’র (দ্বন্দ্ব) পর্যায়ভুক্ত করে এখানে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সেভাবে উহ্য মানা হবে। ‘মুশাবাহাত’ মানে হলো সাদৃশ্য। ‘শাবহ’, ‘শিবহ’ ও ‘শাবীহ’ একই অর্থ প্রকাশ করে, যার অর্থ হলো কোনো জিনিসের সদৃশ হওয়া। এগুলোর বহুবচন হলো ‘আশবাহ’। ‘মিছল’ ও ‘মাছাল’ শব্দ দুটি ‘শাবহ’ ও ‘শিবহ’ এর মতোই, যার অর্থ হলো কোনো জিনিসের সমান হওয়া। কোনো জিনিসের হাকীকত ও সত্তার ক্ষেত্রে যখন একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয় তখন তাকে ‘মিছল’ বলা হয়। যেমন দেহসমূহ তাদের দেহগত বৈশিষ্ট্যে সমান, যদিও রঙ, আকৃতি বা অন্যান্য বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যে (আরাজ) ভিন্ন হতে পারে। এই ভিন্নতা তাদের হাকীকত বা মূল সত্তার সমরূপতা থেকে বের করে দেয় না। এটিই হলো ‘মিছলাইন’ বা সমরূপ দুটির প্রকৃত সংজ্ঞা। এর মাধ্যমেই মুজাসসিমা (দেহবাদী) এবং যারা নিজেরা তাশবীহ (সাদৃশ্য প্রদান)-এ লিপ্ত হয়েও তা থেকে মুক্ত মনে করে, তাদের উত্থাপিত সংশয়সমূহ নিরসন হয়। ‘মুসাদামাহ’ অর্থ হলো স্পর্শ করা, আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো কিছু লেগে থাকা বা সম্পৃক্ত হওয়া। ‘হুদুছ’ (নশ্বরতা) হলো এমন অস্তিত্ব যার পূর্বে অনস্তিত্ব ছিল, যা ‘আযালিয়্যাত’ বা অনাদিত্বের বিপরীত। ‘যাওয়াল’ (বিলীন হওয়া) হলো অস্তিত্বের পর অনস্তিত্বের আগমন, যা ‘আবাদিয়্যাত’ বা অমরত্বের বিপরীত। আল্লাহর ক্ষেত্রে অনাদিত্ব (আউওয়ালিয়্যাত) ও অমরত্ব (আবাদিয়্যাত) উভয়ই অপরিহার্য। কারণ তাঁকে ‘ওয়াজিব লি-যাতিহি’ (সত্তাগতভাবে অপরিহার্য) বলা হয়, যাঁর শুরু বা শেষে অনস্তিত্ব থাকা অসম্ভব।

"তিনি রিযিক ও হায়াতের নির্ধারণকারী এবং অনাদিকাল থেকে সমস্ত সৃষ্টিজগতের পরিচালক" - এটি এমন এক বিষয় যা মুসলিম বা কাফির কেউ অস্বীকার করে না। মহান আল্লাহ একাই এই গুণের অধিকারী। এর মধ্যে রয়েছে মহান জ্ঞান, ক্ষমতা ও অনুগ্রহ। ‘আযালুল মুকাদ্দাম’ এবং ‘আযালুল ক্বাদীম’ শব্দগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে—এই শব্দের মূল হলো ‘লাম ইয়াযাল’ (তিনি সবসময় আছেন) কথাটি। অতঃপর এই অর্থের দিকে সম্বন্ধ করতে গিয়ে শব্দটিকে সংক্ষেপ করা হয়েছে। তারা বলেছে ‘ইয়াযালী’, পরে ‘ইয়া’ বর্ণটিকে ‘আলিফ’ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে কারণ তা উচ্চারণে সহজ, ফলে তা হয়েছে ‘আযালী’। যেমন তারা ‘যী-ইয়াযান’ নামক স্থানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত বর্শাকে ‘আযনী’ বলে থাকে। আর ‘আযাল’ এর বহুবচন হিসেবে ‘আযাল’ শব্দটি শব্দগত আধিক্য বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

"তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, সুমহান ও সর্বোচ্চ।" অদৃশ্য ও দৃশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, এর দ্বারা গোপন...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
والعلانية وقيل الدنيا والآخرة وقيل ما غاب عن العباد وما شهدوا وقيل الغيب المعدوم والشهادة الموجود والمدرك كأنه مشاهد والكبير الكامل في ذاته وصفاته المتقدم في المنزلة والسبق في المرتبة من كبر بضم الباء والمتعال المستعلي على كل شيء بقدرته كبر عن صفات المخلوقين وتعالى عنها.

"نحمده على فضله المترادف المتوال على ما عمنا من الأنعام والأفضال" الحمد: الثناء بجميل الصفات والأفعال ولا يكون إلا بالقول سواء كان ذلك الجميل في المحمود خاصة به أو كان واصلا منه إلى غيره والثاني شكر والشكر يكون بالقول والفعل والاعتقاد فبينه وبين الحمد عموم وخصوص من وجه وبين الحمد والمدح فرق آخر أدعاه السهيلي وهو أن الحمد يشترط فيه أن يكون صادرا عن علم وأن تكون الصفات محمودة صفات كمال ولهذين الشرطين لا يوجد الحمد لغير الله والله هو المستحق الحمد على الإطلاق والمدح قد يكون عن ظن وبصفة مستحسنة وإن كان فيها نقص ما والإتيان بالنون في هذا الفعل ينبغي أن يقصد به أن جميع الخلائق حامدون وليست للتعظيم والمترادف المتتابع والمتوالي كذلك فينبغي أن يكون مقصوده بالمترادف الذي يأتي بعده في أثر بعض ليسلم من التأكيد ويفيد كثرة الفضل في الزمان الواحد واستمرار ذلك في كل زمان وفضل الله هكذا هو وفي عمنا ضمير مرفوع عائد على الموصول أي عمنا هو ومن الأنعمام والأفضال بيان لذلك في محل رفع وقد قدمنا أن بين الحمد والشكر عموما من وجه وأنهما يتفقان فيما كان منه فيسمى حمدا وشكرا وقد استعمل المصنف هذا الحمد على ما هو منة واستعمل الشكر بالقول فتوافقا في هذا المحل وإن تغايرا في وصفهما والفضل من قوله: {وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِنْ فَضْلِهِ} 1 ومن قوله: {وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} 2 وكان فضل الله عليك عظيما والأفضال الإحسان والتفضل وقد استعمل الفضل على خلاف النقص فيكون الثناء عليه حمدا مباينا للشكر لكنه ليس المراد هنا لقوله المترادف المتوال فإنهما يقتضيان الوصول إلى الغير.

--------------------------------------------

1 سورة النساء 32.

2 سورة النساء 113.
এবং প্রকাশ্য। বলা হয়েছে: দুনিয়া ও আখিরাত। আবার বলা হয়েছে: যা বান্দাদের থেকে অনুপস্থিত এবং যা তারা প্রত্যক্ষ করে। আরও বলা হয়েছে: গায়েব হলো অবিদ্যমান এবং শাহাদাত হলো বিদ্যমান ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়, যা যেন প্রত্যক্ষ করা হচ্ছে। আর আল-কাবীর (মহা মহিমান্বিত) হলেন তিনি, যিনি স্বীয় সত্তা ও গুণাবলীতে পরিপূর্ণ, মর্যাদায় অগ্রগামী এবং পদের দিক থেকে অগ্রবর্তী; এটি বা-বর্ণে পেশযুক্ত 'কাবুরা' শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন। আর আল-মুতা'আল (সর্বোচ্চ) হলেন তিনি, যিনি স্বীয় ক্ষমতার মাধ্যমে সবকিছুর ওপর সমুন্নত; তিনি মাখলুক বা সৃষ্টির গুণাবলী থেকে অনেক বড় এবং তা থেকে অনেক উর্ধ্বে।

"আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর ধারাবাহিক ও ক্রমাগত অনুগ্রহের জন্য, সেই সব নিয়ামত ও ইহসানের ওপর যা আমাদের পরিব্যাপ্ত করেছে।" হামদ (প্রশংসা) হলো: সুন্দর গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে স্তুতি করা, এবং এটি কেবল কথার মাধ্যমেই হয়ে থাকে; চাই সেই সৌন্দর্য প্রশংসিত সত্তার সাথে খাস হোক অথবা তা অন্য কারো কাছে পৌঁছাক। আর দ্বিতীয়টি হলো শোকর (কৃতজ্ঞতা)। শোকর কথা, কাজ ও বিশ্বাসের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাই হামদ ও শোকরের মধ্যে একদিক থেকে সাধারণ ও অন্যদিক থেকে বিশেষ হওয়ার সম্পর্ক বিদ্যমান। হামদ ও মাদহ-এর (স্তুতি) মধ্যে আরেকটি পার্থক্য রয়েছে যা সুহাইলি দাবি করেছেন; তা হলো: হামদ হওয়ার জন্য শর্ত হলো তা জ্ঞান থেকে উৎসারিত হতে হবে এবং গুণগুলো প্রশংসনীয় ও পূর্ণতার গুণ হতে হবে। এই দুই শর্তের কারণে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য প্রকৃত হামদ নেই। আর আল্লাহই নিরঙ্কুশভাবে প্রশংসার হকদার। অন্যদিকে মাদহ কখনো ধারণা থেকে হতে পারে এবং এমন প্রশংসনীয় গুণের ক্ষেত্রেও হতে পারে যাতে কিছুটা ত্রুটি রয়েছে। এই ক্রিয়ায় 'নুন' (আমরা অর্থে) ব্যবহার করার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত যে, সমস্ত সৃষ্টিই প্রশংসা করছে; এটি আত্ম-গৌরবের জন্য নয়। 'মুতারািফ' অর্থ ক্রমাগত এবং 'মুতাবালি' অর্থও তাই। সুতরাং এখানে মুতারাদিফ দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন কিছু যা একের পর এক ধারাবাহিকভাবে আসে, যাতে পুনরুক্তি থেকে বাঁচা যায় এবং একই সময়ে অনুগ্রহের আধিক্য ও সর্বসময়ে তার ধারাবাহিকতা বুঝায়। আল্লাহর অনুগ্রহ এমনই। 'আম্মানা' (আমাদের পরিব্যাপ্ত করেছে) শব্দের মধ্যে একটি সর্বনাম রয়েছে যা ইসম মাওসুলের দিকে ফিরছে; অর্থাৎ তা হলো 'যা আমাদের পরিব্যাপ্ত করেছে'। আর 'নিয়ামত ও ইহসানের ওপর' অংশটি তার ব্যাখ্যা হিসেবে এসেছে। আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, হামদ ও শোকরের মধ্যে একদিক থেকে ব্যাপকতার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা এক বিন্দুতে মিলিত হয়, তখন তাকে হামদ ও শোকর উভয়ই বলা যায়। লেখক এই হামদকে এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যা একটি অনুগ্রহ, এবং তিনি কথার মাধ্যমে শোকর ব্যবহার করেছেন; ফলে এই স্থানে তারা একীভূত হয়েছে, যদিও তাদের বর্ণনায় ভিন্নতা রয়েছে। 'ফজল' (অনুগ্রহ) শব্দটি আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: {আর তোমরা আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো} ১ এবং তাঁর এই বাণী থেকে: {তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান} ২। আর 'আফদাল' অর্থ হলো ইহসান ও অনুগ্রহ করা। 'ফজল' শব্দটি ত্রুটির বিপরীত অর্থেও ব্যবহৃত হয়; এমতাবস্থায় তার ওপর স্তুতি করা হবে এমন হামদ যা শোকর থেকে ভিন্ন। কিন্তু এখানে তা উদ্দেশ্য নয়, কারণ তিনি 'ধারাবাহিক' ও 'ক্রমাগত' শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন, যা অন্যের কাছে অনুগ্রহ পৌঁছানোর দাবি রাখে।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা ৩২।

২ সূরা আন-নিসা ১১৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
"ونصلي على محمد الهادي إلى نور الإيمان في ظلمات الكفر والضلال" معنى نصلي هنا نطلب الصلاة من الله تعالى لأن النبي صلى الله عليه وسلم سئل كيف نصلي عليك قال: "قولوا اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنك حميد مجيد وبارك على محمد وعلى آل م محمد كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم في العالمين إنك حميد مجيد" 1 ومعنى نطلب إنشاء الطلب وكذلك نحمد معناه إنشاء الحمد وليس معناه الخبر فعطف إنشاء على إنشاء ووصفه صلى الله عليه وسلم بالهداية لقوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 2 وبين الهداية والضلال والنور والظلمات والإيمان والكفر ما لا يخفى من الطباق.

"وعلى آله وصحبه خير صحب وآل" آله صلى الله عليه وسلم: بنو هاشم وبنو المطلب هذا اختيار الشافعي وأصحابه وقيل عترته وأهل بيته وقيل جميع أمته وهو قول مالك والصحيح إضافة الآل إلى مضمر كما استعمله المصنف وقال جماعة من أهل العربية لا يصح إضافته إلا إلى مظهر والصحب جمع صاحب وهو كل من رأى النبي صلى الله عليه وسلم مسلما وقيل من طالت مجالسته والصحيح الأول بخلاف التابعي لا يكفي فيه رؤية الصحابي والفرق شرف الصحبة وعظم رؤية النبي صلى الله عليه وسلم وذلك أن رؤية الصالحين لها أثر عظيم فكيف روية سيد الصالحين فإذا رآه مسلم ولو لحظة انطبع قلبه على الاستقامة لأنه بإسلامه متهيء للقبول فإذا قابل ذلك النور العظيم أشرق عليه وظهر أثره في قلبه وعلى جوارحه.

وقوله: خير صحب وآل صحيح لأنه ليس في أصحاب الأنبياء مثل أصحاب نبينا صلى الله عليه وسلم ولأجل السجع قدم الصحب على الآل في الثاني وجاء على أحد طريقي العرب وهو رد الأول على الثاني والثاني على الأول ولولا هذا لقال خير آل وصحب فرد الأول للأول والثاني للثاني وهما طريقان للعرب جائزان.

--------------------------------------------

1 رواه مسلم وأحمد من حديث أبي سعيد البدري.

2 سورة الشورى 52.
"এবং আমরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর দরুদ পাঠ করছি, যিনি কুফরি ও গোমরাহির অন্ধকারে ঈমানের নূরের দিকে পথপ্রদর্শক।" এখানে 'আমরা দরুদ পাঠ করছি' এর অর্থ হলো আমরা আল্লাহ তায়ালার নিকট দরুদ প্রার্থনা করছি; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমরা আপনার ওপর কীভাবে দরুদ পাঠ করব? তিনি বলেছিলেন: "তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম ও ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছিলেন সারা বিশ্বের মধ্যে। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।" ১ এখানে প্রার্থনা করার অর্থ হলো প্রার্থনার সূচনা করা, আর একইভাবে প্রশংসা করার অর্থ হলো প্রশংসার সূচনা করা; এটি কেবল কোনো সংবাদ প্রদান নয়। তাই এখানে একটি সূচনামূলক বাক্যের (ইনশা) ওপর অন্য একটি সূচনামূলক বাক্যকে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে পথপ্রদর্শনের বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে আল্লাহ তায়ালার এই বাণীর কারণে: "এবং নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে পথপ্রদর্শন করেন।" ২ আর হেদায়েত ও গোমরাহি, নূর ও অন্ধকার এবং ঈমান ও কুফরির মধ্যে যে বৈপরীত্য (তিবাক) বিদ্যমান তা স্পষ্ট।

"এবং তাঁর বংশধর ও তাঁর সাহাবিদের ওপর, যারা সর্বোত্তম সঙ্গী ও বংশধর।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আল' বা বংশধর বলতে বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিবকে বোঝায়—এটি ইমাম শাফেয়ী ও তাঁর অনুসারীদের মনোনীত মত। কেউ কেউ বলেছেন, তারা হলো তাঁর নিকটাত্মীয় ও পরিবারবর্গ (আহলে বাইত)। আবার কেউ কেউ বলেছেন, তারা হলো তাঁর সমগ্র উম্মত—এটি ইমাম মালেকের উক্তি। আর সঠিক মত হলো 'আল' শব্দটিকে সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা, যেমনটি লেখক ব্যবহার করেছেন। তবে ভাষাবিদদের একটি দল বলেছেন যে, স্পষ্ট বিশেষ্য পদ ছাড়া এর সম্বন্ধ (ইজাফাত) সঠিক নয়। আর 'সাহব' হলো 'সাহিব'-এর বহুবচন; তিনি হলেন এমন প্রত্যেক ব্যক্তি যিনি ইসলাম গ্রহণকারী অবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, যার সাহচর্য দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে তাকেই কেবল সাহাবি বলা হবে। তবে প্রথম মতটিই সঠিক, যা তাবেয়ির সংজ্ঞার বিপরীত; কারণ তাবেয়ির ক্ষেত্রে কেবল সাহাবিকে দেখাই যথেষ্ট নয়। এর পার্থক্য হলো সাহচর্যের মর্যাদা এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখার মাহাত্ম্য। আর তা এজন্য যে, নেককারদের দেখারই যখন বিশাল প্রভাব রয়েছে, সেখানে নেককারদের সর্দারের দর্শনের প্রভাব কেমন হবে! সুতরাং যখন কোনো মুসলিম তাঁকে এক মুহূর্তের জন্যও দেখেন, তখন তাঁর অন্তরে সঠিক পথের ছাপ অংকিত হয়ে যায়। কারণ তিনি তাঁর ইসলামের কারণে সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন, ফলে যখন তিনি সেই মহান নূরের মুখোমুখি হন, তখন তা তাঁর ওপর প্রদীপ্ত হয় এবং এর প্রভাব তাঁর অন্তরে ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রকাশ পায়।

আর তাঁর উক্তি: "সর্বোত্তম সঙ্গী ও বংশধর" সঠিক। কারণ অন্যান্য নবীদের সাহাবিদের মধ্যে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবিদের মতো কেউ নেই। আর শ্রুতিমধুর অন্ত্যমিল (সজ) রক্ষার খাতিরে তিনি দ্বিতীয় বাক্যাংশে 'বংশধর'-এর আগে 'সঙ্গী'-দের উল্লেখ করেছেন। এটি আরবদের প্রচলিত দুটি পদ্ধতির একটি অনুযায়ী এসেছে, যা হলো প্রথমটিকে দ্বিতীয়টির ওপর এবং দ্বিতীয়টিকে প্রথমটির ওপর বিন্যস্ত করা। এটি না হলে তিনি বলতেন: "সর্বোত্তম বংশধর ও সঙ্গী", ফলে প্রথমটি প্রথমটির প্রতি এবং দ্বিতীয়টি দ্বিতীয়টির প্রতি সামঞ্জস্যপূর্ণ হতো। এই উভয় পদ্ধতিই আরবদের নিকট বৈধ।

--------------------------------------------

১. মুসলিম ও আহমদ এটি আবু সাঈদ আল-বদরি-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন।

২. সূরা আশ-শুরা: ৫২।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
"وبعد فأولى ما تهم به الهمم العوالي وتصرف فيه الأيام والليالي تعلم المعالم الدينية والكشف عن حقائق الملة الحنيفية والغوص في تيار بحار مشكلاته والفحص عن أستار أسرار معضلاته"، بعد ضم الدال على الصحيح مقطوع عن الإضافة أي بعد ما سبق من التقديس والتنزيه والحمد والصلاة والعامل فيه فعل مقدر تقديره أقول وهو معطوف بالواو على نحمد ونصلي وبعده فعل آخر مقدر تقديره تنبه هو معمول القول لأجله دخلت الفاء على أولى وفي الفاء فائدة أخرى وهي رفع توهم اضافة بعد إلى أولى.

وقوله: تهم بضم الهاء يقال هم بالأمر يهم هما أي أراده فأما بكسر الهاء فهو من الهميم وهو الدبيب والهمم جمع همة وهي الواحدة تقول همة مثل جلسة بالفتح للمرة وبالكسر للهيأة والجمع لها وإسناد الفعل للهمم وهو في الحقيقة لفاعلها من باب قولهم: "شعر شاعر" والمعالم جمع معلم وهو ما جعل علامة للطرق والحدود مثل أعلام الحرم ومعالمه المضروبة عليه ويقال المعلم الأثر وهو راجع إلى معنى العلامة ولا خلاف في المعنى والمعالم الدينية الأدلة الشرعية وكل ما يهدي إليها وتعلمها تعرفها والملة الحنيفية هذه الملة قال صلى الله عليه وسلم: "بعث بالحنيفية السهلة السمحة" 1 وسميت حنيفية لأنها على ملة إبراهيم والحنيف عند العرب من كان على دين إبراهيم عليه السلام وسمي إبراهيم عليه السلام حنيفا لميله عن دين الصابئة وهم عباد الكواكب وسمى أتباعه حنفاء لذلك ولميلهم عن اليهودية والنصرانية قال تعالى: {مَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيّاً وَلا نَصْرَانِيّاً وَلَكِنْ كَانَ حَنِيفاً مُسْلِماً} 2.

والملة الدين والدليل على أن هذه الملة ملة إبراهيم قوله تعالى: {ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ} 3 وادعى بعض العلماء أنها موافقة لها في الأصول والفروع والمشهور أنها موافقة لها في الأصول فقط وعلى هذا لا اختصاص لملة إبراهيم بذلك لأن دين الأنبياء كلهم واحد في الأصول وإنما اختلفت

--------------------------------------------

1 أخرجه الإمام أحمد عن أبي أمامة وعائشة- رضي الله عنهم.

2 سورة آل عمران 67.

3 سورة النحل 123.
অতঃপর উচ্চাভিলাষী সংকল্পসমূহ যার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করে এবং দিবস ও রজনী যাতে অতিবাহিত হয়, তা হলো ধর্মীয় নিদর্শনাবলি শিক্ষা করা, একনিষ্ঠ হানিফী আদর্শের হাকীকত উন্মোচন করা, এর সমস্যাসঙ্কুল সমুদ্রের স্রোতে ডুব দেওয়া এবং এর জটিল রহস্যের অন্তরালের বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা। সহীহ মত অনুযায়ী ‘বা’দু’ শব্দটি ‘দাল’ বর্ণে পেশসহ সম্বন্ধ (ইজাফাত) থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ পূর্বে অতিক্রান্ত পবিত্রতা ঘোষণা, আল্লাহর মহিমা বর্ণনা, প্রশংসা ও দরূদের পর। এতে আমলকারী ক্রিয়াটি উহ্য রয়েছে, যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘আমি বলছি’। এটি ‘ওয়াও’ হরফের মাধ্যমে ‘আমরা প্রশংসা করি’ এবং ‘আমরা দরূদ পাঠ করি’ ক্রিয়াজোড়ের ওপর সংযুক্ত। এর পরে আরেকটি ক্রিয়া উহ্য আছে যার সম্ভাব্য রূপ হলো ‘সতর্ক হও’; এটি ‘কওল’ বা বক্তব্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যার কারণে ‘আওলা’ শব্দের ওপর ‘ফা’ বর্ণটি যুক্ত হয়েছে। এই ‘ফা’ ব্যবহারের আরেকটি উপকারিতা হলো ‘বা’দু’ শব্দটি ‘আওলা’ শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার সংশয় দূর করা।

লেখকের উক্তি: ‘তাহিম্মু’ শব্দটি ‘হা’ বর্ণে পেশসহ উচ্চারিত হয়। বলা হয়ে থাকে, ‘হাম্মাহ বিল আমরি ইয়াহুম্মু হাম্মান’ অর্থাৎ সে বিষয়টি ইচ্ছা করেছে। আর ‘হা’ বর্ণে যের (কাসরা) দিয়ে পড়লে তা ‘হামিম’ শব্দ থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ ধীর পদচারণা। ‘হিমাম’ হলো ‘হিম্মাহ’ শব্দের বহুবচন, যা একবচন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি একবার করা অর্থে ‘ফাতহা’ দিয়ে ‘হামমাহ’ বলতে পারেন যেমন ‘জালসাহ’, আর অবস্থা বোঝাতে ‘কাসরা’ দিয়ে ‘হিম্মাহ’ বলতে পারেন যেমন ‘জিলসাহ’। এখানে ক্রিয়াটিকে সংকল্পের (হিমাম) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে তা সংকল্পকারীর কাজ; এটি অনেকটা তাদের ‘কবিপ্রতিভাময় কবিতা’ বলার মতো একটি অলঙ্কারিক প্রয়োগ। ‘মা’আলিম’ হলো ‘মা’লাম’ এর বহুবচন, যা পথ ও সীমানার চিহ্ন হিসেবে নির্ধারিত হয়; যেমন হারামের সীমানা ও সেখানে স্থাপিত নিদর্শনাবলি। বলা হয় ‘মা’লাম’ মানে চিহ্ন বা নিদর্শন, যা মূলত একই অর্থ বহন করে এবং এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই। ধর্মীয় নিদর্শনাবলি (মা’আলিমুদ দ্বীনিইয়্যাহ) বলতে শরয়ী দলিলসমূহ এবং যা কিছু সেদিকে পথ দেখায় সেগুলোকে বোঝায়। আর তা শিক্ষা করা মানে হলো সেগুলোকে চেনা বা জানা। একনিষ্ঠ মিল্লাত (মিল্লাতে হানিফিয়্যাহ) বলতে বর্তমান এই দ্বীনকেই বোঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি সহজ ও একনিষ্ঠ আদর্শ নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।" ১ একে হানিফিয়্যাহ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি ইব্রাহীমের আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আরবদের নিকট ‘হানিফ’ হলেন তিনি, যিনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকেন। ইব্রাহীম আলাইহিস সালামকে ‘হানিফ’ বলা হয়েছে কারণ তিনি সাবেয়ীদের (নক্ষত্রপূজারী) ধর্ম থেকে বিমুখ ছিলেন। এই কারণেই তার অনুসারীদের ‘হুনাফা’ (একনিষ্ঠ) বলা হয় এবং ইহুদি ও খ্রিস্টধর্ম থেকে বিমুখ থাকার কারণেও আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {ইব্রাহীম ইহুদি ছিলেন না এবং খ্রিস্টানও ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম} ২।

মিল্লাত অর্থ হলো দ্বীন। এই মিল্লাত যে ইব্রাহীমের আদর্শ, তার দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর আমি আপনার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, আপনি ইব্রাহীমের আদর্শ অনুসরণ করুন} ৩। কোনো কোনো আলেম দাবি করেছেন যে, এই মিল্লাত মূলনীতি ও উপশাখা উভয় ক্ষেত্রেই ইব্রাহীমের আদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো, এটি কেবল মূলনীতির ক্ষেত্রেই সংগতিপূর্ণ। এই মতানুসারে, এটি কেবল ইব্রাহীমের আদর্শের একক বৈশিষ্ট্য নয়, কারণ সকল নবীর দ্বীনই মূলনীতির ক্ষেত্রে অভিন্ন ছিল, কেবল পার্থক্য ছিল...

--------------------------------------------

১ ইমাম আহমাদ এটি আবু উমামা ও আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণনা করেছেন।

২ সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৬৭।

৩ সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৩।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الشرائع في الفروع ويكون تسميته هذه الملة حنيفية لمخالفتها ما كان عليه أهل الشرك واليهود والنصارى كمخالفة إبراهيم من كان في زمانه من الكفار وهم الصابئة وإتباعه دين الأنبياء قبله وبعده وهو الإسلام وحقائقها على هذا أصول الدين ولا تشمل أصول الفقه الذي تصدى له والمعالم الدينية شاملة له وإن جعلنا اسم الملة شاملا للأصول والفروع وكلا الأمرين أعني المعالم الدينية وحقائق الملة شاملا للأصول والفروع فيندرج فيه أصول الفقه الذي تصدى له وهو أحسن ليكون مناسبته للتصنيف الذي تصدى له أكثر ويشهد له قوله: "بعثت بالحنيفية السمحة" فإنه يشير إلى الأصول والفروع جميعا ولا يلزم من ذلك موافقتها لشريعة إبراهيم في جميع الأشياء بل لموافقتها الأصول سميت بذلك وحقائقها على هذا جميع أحكامها ومعانيها وأسرارها والضمير في مشكلاته ومعضلاته عائد على الكشف لأن الأشكال والأعضال فيه لا فيها فإنها بينة جلية بيضاء نقية إذا ارتفع الحجاب عن الناظر رآها ولا خفاء بحسن استعاراته وترشيحها في الغوص في تيار البحار والفحص عن أستار الأسرار وكم من بحر لا يدرك له قرار وسر تتغيب في أستاره الأفكار.

"وإن كتابنا هذا منهاج الوصول إلى علم الأصول الجامع بين المعقول والمشروع والمتوسط بين الأصول والفروع" المنهاج: الطريق جعل علما على هذا الكتاب والوصول إلى الشيء إنما يكون عند انتهاء طريقه فقوله منهاج الوصول معناه الطريق التي يتوصل فيها إلى الوصول إلى علم الأصول كما تقول طريق مكة أي المتوصل فيها إلى مكة فليس الوصول فيه ولكنه غايته.

وقوله منهاج خبر إن ويجوز إطلاق ذلك على هذا الكتاب بمعناه الأصلي غير علم لأن الاشتغال به يوصل إلى ذلك وقوله الجامع مخفوض صفة لعلم الأصول ولا خفاء في جمعه بين المعقول والمشروع فإنه نتج من نكاح نور الشرع لصافي بنات الفكر فجاء عريق الاصالة شديد البسالة وتوسطه بين الأصول أي أصول الدين والفروع وهذا يستمد من الأول ويمد الثاني.

"وهو إن صغر حجمه وكبر علمه وكثرت فوائده وجلت عوائده" قوله:
শাখা-প্রশাখার বিধানাবলি। এই আদর্শের নাম 'হানিফিয়া' রাখা হয়েছে কারণ এটি শিরককারী, ইহুদি ও নাসারাদের পন্থার বিপরীত, যেমন ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর সময়ের কাফিরদের—যারা ছিল সাবেয়ীন—বিরোধিতা করেছিলেন এবং তাঁর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী নবীদের দ্বীন তথা ইসলামের অনুসরণ করেছিলেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে এর স্বরূপ হলো দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (উসুলুদ দ্বীন), যা উসুলুল ফিকহকে অন্তর্ভুক্ত করে না—যে বিষয়ে গ্রন্থকার আলোকপাত করেছেন। তবে 'ধর্মীয় নিদর্শনাবলি' (মাআলিমুদ দ্বীনিইয়াহ) একে অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি আমরা 'মিল্লাত' শব্দটিকে মূল ও শাখা (উসুল ও ফুরু) উভয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপক হিসেবে গ্রহণ করি—যেহেতু ধর্মীয় নিদর্শনাবলি এবং মিল্লাতের স্বরূপ উভয়টিই মূল ও শাখাকে অন্তর্ভুক্ত করে—তবে এতে উসুলুল ফিকহও অন্তর্ভুক্ত হবে যা তিনি রচনা করেছেন। এটিই অধিক উত্তম যাতে তাঁর রচিত কিতাবের সাথে এর সামঞ্জস্য বেশি থাকে। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়: "আমি সহজ ও একনিষ্ঠ দ্বীন (হানিফিয়্যাহ) নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।" কেননা এটি মূল ও শাখা উভয় দিকেই ইঙ্গিত করে। তবে এর মানে এই নয় যে, এটি সকল ক্ষেত্রে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর শরিয়তের সাথে হুবহু মিলতে হবে; বরং মূলনীতিসমূহে মিল থাকার কারণেই একে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ভিত্তিতে এর স্বরূপ বলতে এর সকল বিধান, অর্থ এবং রহস্যকে বোঝায়। আর 'এর সমস্যা ও জটিলতাসমূহ' বাক্যে সর্বনামটি 'উন্মোচন' (কাশফ) এর দিকে ফিরেছে, কারণ জটিলতা ও কাঠিন্য তো উন্মোচন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে, খোদ বিষয়ের মধ্যে নয়। কেননা দ্বীনের বিষয়গুলো তো সুস্পষ্ট, উজ্জ্বল ও স্বচ্ছ; যখনই কোনো পর্যবেক্ষকের সামনে থেকে পর্দা সরে যায়, সে তা দেখতে পায়। সমুদ্রের স্রোতধারায় অবগাহন এবং রহস্যের পর্দার অন্তরালে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে লেখকের রূপক ও আলঙ্কারিক প্রয়োগের সৌন্দর্য অত্যন্ত স্পষ্ট। কতই না এমন অতল সমুদ্র রয়েছে এবং কতই না এমন রহস্য রয়েছে যার পর্দার আড়ালে মানুষের চিন্তাধারা হারিয়ে যায়।

"আর আমাদের এই কিতাবটি হলো 'মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল' (মূলনীতিশাস্ত্রে পৌঁছানোর পথ), যা যৌক্তিক ও শরয়ি জ্ঞানের সমন্বয়কারী এবং মূলনীতি ও শাখার মধ্যবর্তী।" 'আল-মিনহাজ' অর্থ হলো পথ; একে এই কিতাবের নাম হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আর কোনো কিছুর কাছে পৌঁছানো তো কেবল তার পথ শেষ হলেই সম্ভব হয়। সুতরাং 'মিনহাজুল উসুল' অর্থ হলো এমন পথ যাতে চলার মাধ্যমে উসুলুল ফিকহ বা মূলনীতিশাস্ত্রে পৌঁছানো যায়; যেমন বলা হয় 'মক্কার পথ', অর্থাৎ যে পথে চললে মক্কায় পৌঁছানো যায়। সুতরাং পৌঁছানোর বিষয়টি খোদ পথের ভেতরে নেই, বরং এটি এর লক্ষ্য বা গন্তব্য।

তাঁর উক্তি 'মিনহাজ' শব্দটি 'ইন্না'-এর খবর। নামবাচক অর্থ ছাড়াও এই কিতাবটির ক্ষেত্রে এর মূল আভিধানিক অর্থ প্রয়োগ করা বৈধ, কারণ এই কিতাবটি চর্চা করা মানুষকে সেই ইলম বা জ্ঞানের দিকে পৌঁছে দেয়। 'আল-জামি' শব্দটি 'ইলমুল উসুল'-এর বিশেষণ হিসেবে মাজরুর (জেরযুক্ত) হয়েছে। এটি যে যৌক্তিক ও শরয়ি উভয় বিষয়ের সংমিশ্রণ, সে ব্যাপারে কোনো অস্পষ্টতা নেই; কারণ এটি শরিয়তের আলো এবং চিন্তাশক্তির বিশুদ্ধ নির্যাস—এই দুইয়ের মিলনে জন্ম নিয়েছে। ফলে এটি হয়েছে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও শক্তিশালী। আর 'উসুল' (অর্থাৎ উসুলুদ দ্বীন বা দ্বীনের মূলনীতি) এবং 'ফুরু' (শাখা-প্রশাখা)-এর মধ্যবর্তী হওয়ার অর্থ হলো এটি প্রথমটি থেকে শক্তি ও নির্যাস গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয়টিকে ভিত্তি প্রদান করে।

"এটি আকারে ছোট হলেও এর জ্ঞান বিশাল, এর উপকারিতা অনেক এবং এর প্রাপ্তি মহান।" তাঁর উক্তি:
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وهو يعني هذا الكتاب وصغر بضم الغين وكذلك كبر الباء لأنه بمعنى عظم وأصل كبر بضم الباء لكبر الجثة ثم استعمل في كبر المعنى وأما كبر السن فلا يقال فيه إلا كبر بكسر الباء وراعى المطابقة بين صغر وكبر لتضادهما واجتمعا لرجوع الصغر إلى الجثة والكبر إلى المعنى والعوائد جمع عائدة وهي العطف والمنفعة يقال هذا أعود عليك من كذا أي أنفع وفلان ذو عائدة أي تعطف ونفع وإن هذا الكتاب لكما وصف.

"جمعته رجاء أن يكون سببا لرشاد المستفيدين ونجاتي يوم الدين والله تعالى حقيق بتحقيق رجاءه وقوله حقيق بتحقيق أي خليق له وخليق وجدير وحري وحر كل ذلك بمعنى واحد وقصد المصنف التجانس بين حقيق وتحقيق وإطلاق ذلك على الله ينبئ على أن الأسماء توقيفية أولا".
আর এটি দ্বারা তিনি এই কিতাবটি বুঝিয়েছেন। ‘সিগুরা’ শব্দটি গইন বর্ণে পেশ সহযোগে এবং একইভাবে ‘কাবুরা’ শব্দটি বা বর্ণে পেশ সহযোগে গঠিত হয়েছে, কারণ এটি মহান হওয়ার অর্থ প্রদান করে। মূলত বা বর্ণে পেশ সহযোগে ‘কাবুরা’ শারীরিক বিশালতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, অতঃপর এটি অর্থ বা মর্যাদাগত বিশালতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। তবে বয়সের আধিক্যের ক্ষেত্রে কেবল বা বর্ণে যের সহযোগে ‘কাবিরা’ বলা হয়। তিনি ‘সুঘর’ ও ‘কুবর’ এর মধ্যে শব্দগত সামঞ্জস্য বজায় রেখেছেন যেহেতু তারা পরস্পর বিপরীত। শব্দ দুটি এখানে একত্রিত হয়েছে কারণ ক্ষুদ্রতা দেহের দিকে এবং বিশালতা অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে। ‘আওয়াইদ’ শব্দটি ‘আইদাহ’ এর বহুবচন, যার অর্থ হলো মমতা ও উপকার। বলা হয়ে থাকে, ‘এটি আপনার জন্য অমুক বস্তু অপেক্ষা অধিক ফলপ্রসূ’ অর্থাৎ অধিক উপকারী। আর ‘অমুক ব্যক্তি মমতা ও উপকারের অধিকারী’। নিশ্চয়ই এই কিতাবটি ঠিক তেমনই যেমনটি বর্ণনা করা হয়েছে।

আমি এটি সংকলন করেছি এই আশায় যেন এটি উপকারপ্রার্থীদের সঠিক পথের দিশারি এবং বিচার দিবসে আমার নাজাতের উসিলা হয়। আর মহান আল্লাহ তাঁর আশা পূর্ণ করার জন্য একান্ত যোগ্য। তাঁর উক্তি ‘হাকীক বি-তাহকীক’ এর অর্থ হলো—তিনি এর জন্য উপযুক্ত; আর ‘খালীক’, ‘জাদীর’, ‘হারী’ এবং ‘হার’—এই সবকটি শব্দই একই অর্থ প্রকাশ করে। গ্রন্থকার ‘হাকীক’ ও ‘তাহকীক’ শব্দদ্বয়ের মধ্যে অনুপ্রাস বা শব্দসামঞ্জস্য সৃষ্টির সংকল্প করেছেন। আল্লাহর ক্ষেত্রে এই শব্দের প্রয়োগ এ বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেয় যে, আল্লাহর নামসমূহ কি শরীয়ত দ্বারা নির্ধারিত (তাওকীফিয়্যাহ) কি না।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تعريف أصول الفقه

"أصول الفقه معرفة دلائل الفقه إجمالا وكيفية الاستفادة منها وحال المستفيد".

هذه العبارة بعينها عبارة تارج الدين الأرموي في الحاصل ولنقدم مقدمة وهي أنه ينبغي أن يذكر في ابتداء كل علم حقيقة ذلك العلم ليتصورها الذي يريد الاشتغال به قبل الخوض فيه فمن عرف ما يطلب هان عليه ما يبذل فلا جرم احتاج إلى تعريف أصول الفقه في أوله وههنا خمسة أشياء:

أحدها: لفظ أصول الفقه قبل أن يسمى به هذا العلم مركب من مضاف ومضاف إليه.

والثاني: هذا اللفظ بعد أن سمي به فإنه صار اسما للعلم وكل من المضاف والمضاف إليه بهذا الاعتبار صار كالزاي والدال من زيد لا معنى له وكل مركب سمي به معنى فقد يتطابق معناه حال التركيب وحال التسمية كعبد الله مسمى به رجل فهو صادق عليه بالاعتبارين وقد لا يتطابقان كأنف الناقة مسمى به رجل ولفظ أصول الفقه مما تطابق فيه معناه حال التركيب ومعناه حال التسمية من بعض الوجوه كما سنبينه.

الثالث: معنى أصول الفقه قبل التسمية.

الرابع: معنى أصول الفقه بعد التسمية مع قطع النظر عن أجزاء اللفظ المطلق عليه.

الخامس: معناه بعد التسمية مع الالتفات إلى أجزاء اللفظ المطلق عليه لأن اللفظ يدل عليه باعتبارين كما قدمناه فإذا أخذ المعنى بأحد الاعتبارين
উসূলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা

"উসূলুল ফিকহ হলো ফিকহের দলিলসমূহ সম্পর্কে সামগ্রিক জ্ঞান অর্জন করা, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা অবগত হওয়া।"

এই হুবহু বর্ণনাটি তাজউদ্দীন আল-আরমাভীর 'আল-হাসিল' গ্রন্থের। আমরা একটি ভূমিকা পেশ করছি যে, প্রত্যেক শাস্ত্রের প্রারম্ভে সেই শাস্ত্রের স্বরূপ আলোচনা করা বাঞ্ছনীয়, যাতে সেই শাস্ত্রে মনোনিবেশকারী ব্যক্তি তাতে প্রবেশের পূর্বেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। কেননা, যে ব্যক্তি জানে সে কী অনুসন্ধান করছে, তার জন্য তার বিনিময় প্রদান করা সহজ হয়ে যায়। সুতরাং অনিবার্যভাবেই শাস্ত্রের শুরুতে উসূলুল ফিকহের সংজ্ঞার প্রয়োজন রয়েছে। আর এখানে পাঁচটি বিষয় লক্ষণীয়:

প্রথমত: এই শাস্ত্রের নাম হওয়ার পূর্বে 'উসূলুল ফিকহ' শব্দটি মুদাফ (সম্বন্ধিত পদ) ও মুদাফ ইলাইহি (সম্বন্ধ পদ)-এর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগিক শব্দ ছিল।

দ্বিতীয়ত: এই শব্দটি শাস্ত্রের নাম হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার পর এটি একটি সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যে পরিণত হয়েছে। এই বিবেচনায় মুদাফ এবং মুদাফ ইলাইহি-এর প্রতিটি অংশ 'যা' এবং 'দাল' অক্ষরের মতো হয়ে গেছে, যেমনটি 'যায়দ' নামের ক্ষেত্রে ঘটে, যার পৃথক কোনো অর্থ থাকে না। প্রতিটি যৌগিক শব্দ যখন কোনো কিছুর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন কখনও তার যৌগিক অবস্থার অর্থ এবং নাম হিসেবে ব্যবহৃত অর্থ পরস্পর সংগতিপূর্ণ হয়; যেমন 'আবদুল্লাহ' যদি কোনো ব্যক্তির নাম হয়, তবে তা উভয় অর্থেই তার ওপর প্রযোজ্য হয়। আবার কখনও তা সংগতিপূর্ণ হয় না; যেমন যদি 'আনফুন নাকাহ' (উটনির নাক) কোনো ব্যক্তির নাম রাখা হয়। আর 'উসূলুল ফিকহ' এমন একটি শব্দ যার যৌগিক অর্থ এবং নাম হিসেবে ব্যবহৃত অর্থ কতিপয় দিক থেকে পরস্পর সংগতিপূর্ণ, যা আমরা অচিরেই স্পষ্ট করব।

তৃতীয়ত: নামকরণের পূর্বে উসূলুল ফিকহের অর্থ।

চতুর্থত: নামকরণের পর উসূলুল ফিকহের অর্থ, তবে এর শব্দের খণ্ডিতাংশগুলোর প্রতি লক্ষ্য না করে।

পঞ্চমত: নামকরণের পর উসূলুল ফিকহের অর্থ, এর শব্দের খণ্ডিতাংশগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে। কারণ শব্দটি দুটি বিবেচনায় অর্থ নির্দেশ করে যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। সুতরাং যখন কোনো একটি বিবেচনায় এর অর্থ গ্রহণ করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
كان مغايرا له بالاعتبار الآخر فيصدق على المعنى المذكور أنه إضافي لقبي باعتبارين لكن صدق اللفظ عليه بالإضافة إنما هو بطريق المجاز لأنه أخص من معناه الحقيقي والحد إنما هو للمعنى دون اللفظ فالمقصود بيان المعاني الثلاثة ويعبر عن المعنى الأول بالإضافي لأن المعنى مركب من مضاف ومضاف إليه في الذهن كما أن لفظه كذلك في النطق ويعبر عن المعنى الثاني باللقبي باعتبار أنه ملقب بهذا الاسم فإن اللفظ المركب جعل اسما عليه زلقبا له وعلما كسائر أعلام الأجناس أو أسماء الأجناس فإن علم الجنس هو الذي يقصد به تمييز الجنس من غيره من غير نظر إلى أفراده واسم الجنس الذي يقصد به مسمى الجنس باعتبار وقوعه على أفراده حتى إذا دخلت عليه الألف واللام الجنسية الدالة على الحقيقة ساوى علم الجنس هذا هو الذي نختاره في الفرق بين اسم الجنس وعلم الجنس ويستنتج منه أن علم الجنس لا يثنى ولا يجمع لأنه إنما يثنى ويجمع الأفراد وجعله اسم جنس أولى من جعله علم جنس لأنه لو كان علما لما دخلت عليه الألف واللام وكذلك سائر أسماء العلوم من فقه ونحو وغير ذلك ويعبر عن المعنى الثالث بالإضافي بالاعتبارين كما سبق.

إذا عرفت هذه المقدمة فهمت ثلاثة مباحث:

أحدهما: في تعريف معنى أصول الفقه التركيبي قبل التسمية ولا بد في ذلك من تعريف المضاف والمضاف إليه والإضافة لأن العلم بالمركب يتوقف على العلم بالمفرد ونبدأ ذلك بتعريف المضاف وليس كما توهم بعض الناس من أنه يعتني بالبداءة بالمضاف إليه محتجا بأن المضاف يتعرف بتعريف المضاف إليه لأنا نقول التعريف تعريف مقابل التنكير وهو الذي يكتسبه المضاف من المضاف إليه وتعريف مقابل الجهل وهو المقصود هنا وهذا لا يكتسبه المضاف من المضاف إليه فنقول الأصول جمع وتعرفه بتعريف مفرده والأصل ما يتفرع عنه غيره وهذه العبارة أحسن من قول أبي الحسين ما يبنى عليه غيره لأنه لا يقال إن الولد يبنى على الوالد ويقال إنه فرعه وأحسن من قول صاحب الحاصل ما منه الشيء لاشتراك من بين
অন্য বিবেচনায় এটি তার থেকে ভিন্ন ছিল, তাই উল্লিখিত অর্থের ক্ষেত্রে এটি সত্য হয় যে, এটি দুই বিবেচনায় সম্বন্ধীয় (ইজাফি) ও উপাধিগত (লাকাবি)। তবে সম্বন্ধের ভিত্তিতে এর ওপর এই শব্দের প্রয়োগ মূলত রূপক (মাজায) হিসেবে, কারণ এটি তার প্রকৃত অর্থের চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট। আর সংজ্ঞা মূলত অর্থের জন্যই হয়, শব্দের জন্য নয়। তাই উদ্দেশ্য হলো তিনটি অর্থ বর্ণনা করা। প্রথম অর্থকে সম্বন্ধীয় (ইজাফি) দ্বারা প্রকাশ করা হয়, কারণ মনে এর অর্থটি সম্বন্ধিত পদ (মুদাফ) ও যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে (মুদাফ ইলাইহি)-এর সমন্বয়ে গঠিত, যেমনটি উচ্চারণের ক্ষেত্রেও শব্দদ্বয় সেভাবেই থাকে। দ্বিতীয় অর্থকে উপাধিগত (লাকাবি) দ্বারা প্রকাশ করা হয় এই বিবেচনায় যে, একে এই নামে ভূষিত করা হয়েছে। কেননা যৌগিক শব্দটিকে এর জন্য একটি নাম, উপাধি এবং শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (আলমে জিনস) হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেমনটি অন্যান্য শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (আলমে জিনস) বা শ্রেণিবাচক সাধারণ বিশেষ্য (ইসমে জিনস)-এর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। 'আলমে জিনস' হলো সেটি যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই শ্রেণিকে অন্য শ্রেণি থেকে পৃথক করা, তার ব্যক্তিসমূহ (আফরাদ)-এর দিকে লক্ষ্য না করেই। আর 'ইসমে জিনস' হলো সেটি যার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই শ্রেণির নামধারী বিষয়টি, তার ব্যক্তিসমূহের ওপর প্রয়োগ হওয়ার বিবেচনায়। এমনকি যখন এর ওপর হাকিকত বা প্রকৃত অর্থ নির্দেশক 'আলিফ-লাম জিনসিয়্যাহ' যুক্ত হয়, তখন তা 'আলমে জিনস'-এর সমান হয়ে যায়। 'ইসমে জিনস' ও 'আলমে জিনস'-এর পার্থক্যের ক্ষেত্রে আমরা এটিই চয়ন করেছি। এ থেকে এটিও প্রতীয়মান হয় যে, 'আলমে জিনস'-এর দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না, কারণ দ্বিবচন ও বহুবচন কেবল ব্যক্তিসমূহের (আফরাদ) ক্ষেত্রেই হয়। আর একে 'ইসমে জিনস' গণ্য করা 'আলমে জিনস' গণ্য করার চেয়ে উত্তম। কারণ এটি যদি 'আলম' (বিশেষ্য) হতো, তবে এর ওপর 'আলিফ-লাম' প্রবেশ করত না। অনুরূপভাবে ফিকহ, নাহু এবং অন্যান্য বিদ্যার নামের ক্ষেত্রেও একই কথা। আর তৃতীয় অর্থটি উভয় বিবেচনার ভিত্তিতে 'ইজাফি' হিসেবে প্রকাশ করা হয়, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদি আপনি এই ভূমিকাটি বুঝে থাকেন, তবে আপনি তিনটি আলোচনা বুঝতে পারবেন:

প্রথমটি: নাম হিসেবে নির্ধারিত হওয়ার পূর্বে যৌগিক রূপ হিসেবে 'উসুলুল ফিকহ'-এর অর্থের সংজ্ঞায়ন। এক্ষেত্রে সম্বন্ধিত পদ (মুদাফ), যার প্রতি সম্বন্ধ করা হয়েছে (মুদাফ ইলাইহি) এবং সম্বন্ধ (ইজাফত)-এর সংজ্ঞা জানা আবশ্যক; কারণ যৌগিক বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা একক (মুফরাদ) বিষয়সমূহের জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল। আর আমরা 'মুদাফ'-এর সংজ্ঞা দিয়ে এটি শুরু করব। কিছু মানুষের ধারণা এমন নয় যে, 'মুদাফ ইলাইহি' দিয়ে শুরু করা অধিক গুরুত্ববহ, এই দলিল পেশ করে যে, 'মুদাফ' মূলত 'মুদাফ ইলাইহি'-এর পরিচয়ের মাধ্যমেই পরিচিত হয়। এর উত্তরে আমরা বলব: 'তারিফ' (পরিচয়/সংজ্ঞা) দুই প্রকার। একটি হলো 'তানকির' (অনির্দিষ্টতা)-এর বিপরীত সংজ্ঞা, যা মুদাফ মুদাফ ইলাইহি থেকে অর্জন করে। অন্যটি হলো 'জাহালত' (অজ্ঞতা)-এর বিপরীত সংজ্ঞা, আর এটিই এখানে উদ্দেশ্য। আর এই পরিচয়টি মুদাফ মুদাফ ইলাইহি থেকে অর্জন করে না। অতএব আমরা বলব: 'উসুল' হলো বহুবচন এবং এর পরিচয় এর একবচনের সংজ্ঞার মাধ্যমে জানা যায়। আর 'আসল' (মূল) হলো সেটি যা থেকে অন্য বিষয় শাখা হিসেবে বের হয়। আর এই অভিব্যক্তিটি আবু আল-হুসাইনের বক্তব্য—"যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়"—তার চেয়ে উত্তম। কারণ এটি বলা হয় না যে, সন্তান পিতার ওপর নির্মিত হয়; বরং বলা হয় যে সন্তান তার শাখা। এবং এটি 'হাসিল' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য—"যা থেকে কোনো বস্তুর উৎপত্তি হয়"—তার চেয়েও উত্তম। কারণ 'মিন' (থেকে) শব্দটির বিভিন্ন অর্থের মধ্যে অংশীদারিত্ব থাকার কারণে...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
الابتداء والتبعيض وأحسن من قول الإمام1: "المحتاج إليه" لأنه إن أريد بالاحتياج ما يعرف في علم الكلام من احتياج الأثر إلى المؤثر والموجود إلى الموجد لزم إطلاق الأصل على الله تعالى وإن أريد ما يتوقف عليه الشيء لزم إطلاقه على الجزء والشرط وانتفاء المانع وإن أريد ما يفهمه أهل العرف من الاحتياج لزم إطلاقه على الأكل واللبس ونحوهما وكل هذه اللوازم مستنكرة وكل هذه التعريفات للأصل بحسب اللغة وإن كان أهل اللغة لم يذكروها في كتبهم وهو مما ينبهنا على أن الأصوليين يتعرضون لأشياء لم يتعرض لها أهل اللغة.

وأما في العرف فالأصل مستعمل في ذلك ولم يترك أهل العرف الاستعمال في ذلك لكن العلماء يطلقونه مع ذلك على شيئين أخص منه:

أحدهما: الدليل والثاني المحقق الذي يشك في ارتفاعه لتفرع المدلول على الدليل والاستصحاب على اليقين السابق.

والفقه تعريفه سيأتي في كلام المصنف والإضافة تفيد الاختصاص فإن كان المضاف اسما جامدا أفادت مطلق الاختصاص كحجر زيد وإضافة الأعلام إذا وقعت من هذا القبيل كقول الشاعر:

علا زيدنا يوم النقا … رأس زيدكم

وإن كان المضاف اسما مشتقا أفادت الإضافة اختصاص المضاف بالمضاف إليه في المعنى المشتق منه كغلام زيد تفيد اختصاص الغلام بزيد في معنى الغلامية وكانت للملك وتفيد هنا اختصاص الأصول بالفقه في معنى لفظة الأصول وهو كون الفقه متفرعا عنه وظهر بهذا أن أصول الفقه بالمعنى التركيبي ما يتفرع عنه الفقه والفقه كما يتفرع عن دليله يتفرع عن العلم بدليله فيسمى كل منهما أصلا للفقه ولا فرق في الأدلة في هذا المقام بين الإجمالية

--------------------------------------------

1 هو: فخر الدين، محمد بن عمر الحسيني الرازي، المتوفى سنة: 606هـ صاحب كتاب "المحصول، في أصول الفقه، وهو الذي يعتبر كتاب "منهاج الوصول" للبيضاوي ملخصاً له. فكلمة "الإمام" إذا أطلقت في أصول الفقه، فالمراد: فخر الدين الرازي. اهـ. محققة.
সূচনা এবং আংশিকীকরণ। আর ইমামের১ বক্তব্য "যার প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া হয়" -এর চেয়ে (পূর্ববর্তী সংজ্ঞাটি) অধিক উত্তম। কারণ, যদি মুখাপেক্ষিতা বলতে ইলমুল কালামে (তত্ত্ববিদ্যায়) পরিচিত বিষয় তথা প্রভাবের ক্ষেত্রে প্রভাবদাতার প্রতি এবং অস্তিত্বের ক্ষেত্রে অস্তিত্বদাতার প্রতি মুখাপেক্ষিতা বুঝানো হয়, তবে আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রেও 'আসল' (মূল) শব্দটি প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আর যদি এমন কিছু বুঝানো হয় যার ওপর কোনো বস্তু নির্ভরশীল, তবে অংশ (জুয), শর্ত এবং বাধার অনুপস্থিতির (ইনতিফা আল-মানি) ওপরও এই শব্দটি প্রয়োগ করা আবশ্যক হবে। আর যদি সাধারণ মানুষের পরিভাষায় (উরফ) মুখাপেক্ষিতা বুঝানো হয়, তবে খাবার, পোশাক এবং এ জাতীয় জিনিসের ওপরও এর প্রয়োগ আবশ্যক হবে। আর এই সব কটি প্রয়োগই আপত্তিকর। আর 'আসল'-এর এই সকল সংজ্ঞায়ন আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয়েছে, যদিও ভাষাবিদগণ তাঁদের কিতাবসমূহে এগুলো উল্লেখ করেননি। এটি আমাদের এ বিষয়ে সচেতন করে যে, উসুলবিদগণ (মূলনীতিবিদগণ) এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন যা ভাষাবিদগণ করেননি।

আর প্রচলিত প্রথা বা উরফে 'আসল' শব্দটি সেই অর্থেই ব্যবহৃত হয় এবং উরফ অনুসারীরা এর ব্যবহার ত্যাগ করেনি। তবে এর পাশাপাশি আলেমগণ এটিকে আরও বিশেষ দুটি অর্থে ব্যবহার করেন:

প্রথমটি হলো: দলিল (প্রমাণ), এবং দ্বিতীয়টি হলো: এমন সুনিশ্চিত বিষয় যার দূরীভূত হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ দেখা দেয়; কেননা নির্দেশিত বিষয়টি দলিলের ওপর এবং ইস্তিসহাব (পূর্বাবস্থা বজায় রাখা) পূর্ববর্তী নিশ্চিত বিষয়ের ওপর শাখা হিসেবে নির্ভরশীল।

আর ফিকহ-এর সংজ্ঞা গ্রন্থকারের আলোচনায় সামনে আসবে। আর 'ইদাফাত' বা সম্বন্ধ (অন্বয়) বিশেষত্ব বা নির্দিষ্টতা বুঝায়। সুতরাং 'মুদাফ' (সম্বন্ধিত পদ) যদি 'ইসম জামিদ' (অব্যুৎপন্ন বিশেষ্য) হয়, তবে তা সাধারণ বিশেষত্ব বুঝায়; যেমন 'যায়েদের পাথর'। আর নামবাচক বিশেষ্যের (আলাম) সম্বন্ধ যদি এই প্রকারের হয়, তবে তা কবির এই বাণীর মতো হবে:

নুকার যুদ্ধের দিনে আমাদের যায়েদ … তোমাদের যায়েদের মাথার ওপর চড়ে বসেছে।

আর যদি 'মুদাফ' কোনো 'ইসম মুশতাক' (ব্যুৎপন্ন বিশেষ্য) হয়, তবে তা মুদাফ-কে মুদাফ ইলাইহির সাথে সেই অর্থেই নির্দিষ্ট করে যা থেকে সেটি ব্যুৎপন্ন হয়েছে; যেমন 'যায়েদের গোলাম'। এটি গোলামের সাথে যায়েদের বিশেষ সম্পর্ক বুঝায় গোলামী বা দাসত্বের অর্থের ভিত্তিতে, এবং এটি মালিকানা প্রকাশ করে। আর এখানে এটি (ইদাফাত) 'আসল' শব্দটির অর্থের ভিত্তিতে ফিকহের সাথে উসুলের বিশেষত্ব বুঝায়, যা হলো ফিকহ এর ওপর শাখা হিসেবে নির্ভরশীল হওয়া। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হলো যে, গাঠনিক বা তারকিবি অর্থে 'উসুলুল ফিকহ' হলো এমন বিষয় যার ওপর ফিকহ শাখা হিসেবে বিন্যস্ত। ফিকহ যেমন তার দলিলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তেমনি দলিলের জ্ঞানের ওপরও শাখা হিসেবে বিন্যস্ত হয়। তাই এ দুটির প্রত্যেকটিকেই ফিকহের 'আসল' বা মূল হিসেবে অভিহিত করা হয়। আর এই পর্যায়ে দলিলের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত দলিলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন: ফখরুদ্দিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-হুসাইনি আল-রাজি, মৃত্যু: ৬০৬ হিজরি। তিনি "আল-মাহসুল ফি উসুলিল ফিকহ" গ্রন্থের রচয়িতা, যা মূলত বায়দাভী রহ.-এর "মিনহাজুল উসুল" কিতাবটির সারসংক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং উসুলুল ফিকহের পরিভাষায় যখন "আল-ইমাম" শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার করা হয়, তখন তার উদ্দেশ্য হয় ফখরুদ্দিন আল-রাজি। - (সম্পাদকের কথা)।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
والتفصيلية فإن كلا منهما يتفرع الفقه عنه وعن العلم به فصار أصول الفقه بالمعنى التركيبي يشمل أربعة أشياء الأدلة الإجمالية وعلمها والأدلة التفصيلية وعلمها وهذا ليس هو المصطلح ولا يصح تعريف هذا العلم بمدلول أصول الفقه الإضافي لأنه أعم منه إلا إذا أخذ بعد التسمية كما سيأتي.

"البحث الثاني": في تعريف معنى أصول الفقه اللقبي وهو المصطلح عليه ولا شك أن كلا من الأدلة التفصيلية والعلم بها غير داخل فيه لأن ذلك من وظيفة الفقيه والخلافي فلم يوضع أصول الفقه في الاصطلاح لكل ما يحتاج إليه الفقه بل لبعض ما يحتاج كدأب أهل العرف في تخصيص الأسماء العرفية ببعض مدلولاتها في اللغة والأدلة التفصيلية مثل: {أَقِيمُوا الصَّلاةَ} ودلالته على وجوب الصلاة ونحو ذلك ولما استفيد إخراج الأدلة التفصيلية وعلمها من الوضع تبقى الإجمالية وعلمها والمراد بالإجمالبة كليات الأدلة فإن قوله: {أَقِيمُوا الصَّلاةَ} {وَلا تَقْرَبُوا الزِّنَى} {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ} ونهيه صلى الله عليه وسلم: "عن قتل النساء والصبيان" وإطلاق الرقبة في موضع وتقييدها بالإيمان في موضع وصلاته صلى الله عليه وسلم في الكعبة وإجمال الصلاة في الآية المذكورة وبيان جبريل لها ونسخ التوجه إلى بيت المقدس والإجماع على أن بنت الابن لها السدس مع الثلث عند عدم العاصب وخبر ابن مسعود في ذلك وقياس الأرز على البر ومرسل سعيد بن المسيب في النهي عن بيع اللحم بالحيوان وقول عثمان في بيع الفراء والمصلحة المرسلة في التترس والأخذ بالأخف في دية اليهودي والاستحسان في التحليف على المصحف ونحو ذلك كلها أدلة معينة وجزئيات مشخصة والعلم بها ليس من أصول الفقه في شيء وإنما هي وظيفة الفقه ولهذه الأدلة وأمثالها كليات وهي مطلق الأمر والنهي والعموم والخصوص والإطلاق والتقييد والفعل والإجمال والتبيين والنسخ والإجماع وخبر الواحد والقياس والمرسل وقول الصحابي والمصلحة المرسلة والأخذ بالأخف والاستحسان عند من يقول به وهذه الكليات داخلة في الجزئيات فإن الكلي الطبيعي موجود في الخارج وفي الذهن في ضمن مشخصاته ففي الأدلة اعتباران:

أحدهما: من حيث كونها معينة وهذه وظيفة الفقيه وهي الموصلة القريبة
এবং বিস্তারিত প্রমাণাদি; কেননা ফিকহ এবং এর জ্ঞান—এই উভয়টি হতেই শাখা হিসেবে নির্গত হয়। ফলে তারকিবী (যৌগিক) অর্থে উসূলুল ফিকহ চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে: সামগ্রিক প্রমাণাদি ও তার জ্ঞান এবং বিস্তারিত প্রমাণাদি ও তার জ্ঞান। এটি কোনো পরিভাষাগত সংজ্ঞা নয়। আর এই শাস্ত্রের সংজ্ঞা উসূলুল ফিকহের ইদাফী (সম্বন্ধযুক্ত) অর্থ দ্বারা প্রদান করা সঠিক নয়; কারণ তা অধিক ব্যাপক, যদি না নাম হিসেবে গ্রহণের পরবর্তী অবস্থা বিবেচনা করা হয়, যা সামনে আসছে।

"দ্বিতীয় আলোচনা": উসূলুল ফিকহের লাকাবি (উপাধিগত) সংজ্ঞার বর্ণনায়, যা পরিভাষাগত অর্থ হিসেবে স্বীকৃত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিস্তারিত প্রমাণাদি এবং তার জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা তা ফকীহ এবং ইখতিলাফী (বিতর্কমূলক) মাসআলার পারদর্শীদের দায়িত্ব। সুতরাং উসূলুল ফিকহ পরিভাষাটি ফিকহের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিটি বিষয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি, বরং প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ের জন্য করা হয়েছে; যেভাবে ভাষাবিদগণ আভিধানিক অর্থের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কিছু অর্থকে প্রচলিত নাম হিসেবে নির্দিষ্ট করে থাকেন। বিস্তারিত প্রমাণাদি যেমন: "তোমরা সালাত কায়েম করো" এবং সালাত ওয়াজিব হওয়ার ওপর এর নির্দেশনা ও অনুরূপ বিষয়াবলী। যখন পরিভাষা থেকে বিস্তারিত প্রমাণাদি ও তার জ্ঞান বাদ দেওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত হলো, তখন বাকি থাকল সামগ্রিক প্রমাণাদি ও তার জ্ঞান। আর সামগ্রিক বলতে দলীলসমূহের সাধারণ মূলনীতিসমূহ উদ্দেশ্য। কেননা আল্লাহর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো", "তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেও না", "তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো"; এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষেধবাণী: "নারী ও শিশুদের হত্যা করা থেকে"; এবং এক স্থানে 'দাসমুক্তি'কে সাধারণভাবে উল্লেখ করা ও অন্য স্থানে একে 'ঈমান' দ্বারা শর্তযুক্ত করা; এবং কাবা ঘরের ভেতরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় করা; উল্লিখিত আয়াতে সালাতের সংক্ষিপ্ততা এবং জিবরাঈল কর্তৃক তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান; বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করার বিধান রহিত হওয়া; উত্তরাধিকারী না থাকলে নাতনি এক-ষষ্ঠাংশ পাবে—এই মর্মে ইজমা হওয়া; এই বিষয়ে ইবনে মাসউদের বর্ণিত হাদীস; গমের ওপর চাউলকে কিয়াস করা; পশুর বিনিময়ে গোশত বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের মুরসাল বর্ণনা; চামড়া বিক্রয় সম্পর্কে উসমানের উক্তি; শত্রুর ঢাল হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাসলাহাতে মুরসালাহ; ইহুদির রক্তপণের ক্ষেত্রে লঘুতম দণ্ড গ্রহণ করা; মুসহাফের ওপর শপথ করার ক্ষেত্রে ইসতিহসান করা এবং এই জাতীয় সবকিছুই নির্দিষ্ট ও আংশিক প্রমাণাদি। আর এগুলোর জ্ঞান উসূলুল ফিকহের কোনো অংশ নয়, বরং তা ফিকহের কাজ। এই প্রমাণাদি ও এর সদৃশ বিষয়গুলোর কিছু সামগ্রিক মূলনীতি রয়েছে, আর তা হলো—সাধারণ আদেশ, নিষেধ, ব্যাপক ও বিশেষ অর্থ, শর্তহীন ও শর্তযুক্ত বিষয়, রাসূলের কর্ম, সংক্ষিপ্ততা ও ব্যাখ্যা, রহিতকরণ, ইজমা, খবরে ওয়াহেদ, কিয়াস, মুরসাল বর্ণনা, সাহাবীর উক্তি, মাসলাহাতে মুরসালাহ, লঘুতম বিধান গ্রহণ এবং যারা ইসতিহসান স্বীকার করেন তাদের নিকট ইসতিহসান। আর এই সামগ্রিক মূলনীতিগুলো আংশিক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। কেননা প্রাকৃতিক সামগ্রিক সত্তা বাস্তবে এবং মস্তিষ্কে তার নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যসমূহের মাধ্যমেই বিদ্যমান থাকে। সুতরাং দলীলের ক্ষেত্রে দুটি দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে:

প্রথমটি: নির্দিষ্ট হওয়ার দিক থেকে, যা ফকীহর কাজ এবং এটি হলো গন্তব্যে পৌঁছানোর নিকটতম মাধ্যম।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
إلى الفقه والفقيه قد يعرفها بأدلتها إذا كان أصوليا وقد يعرفها بالتقليد ويتسلمها من الأصول ثم هو يرتب الأحكام فمعرفتها حاصلة عنده.

والاعتبار الثاني: من حيث كونها كلية أعني يعرف ذلك الكلي المندرج فيها وإن لم يعرف شيئا من أعيانها وهذه وظيفة الأصولي فمعلوم الأصولي الكلي ولا معرفة له بالجزئي من حيث كونه أصوليا ومعلوم الفقيه الجزئي ولا معرفة له بالكلي من حيث كونه فقيها ولا معرفة له بالكلي إلا لكونه مندرجا في الجزئي المعلوم وأما من حيث كونه كليا فلا فالأدلة الإجمالية هي الكلية سميت بذلك لأنها تعلم من حيث الجملة لا من حيث التفصيل وهي توصله بالذات إلى حكم الإجمالي مثل كون كل ما يؤمر به واجبا وكل منهي عنه حراما ونحو ذلك وهذا لا يسمى فقها في الاصطلاح ولا توصل إلى الفقه بالتفصيلي وهو معرفة سنية الوتر أو وجوبه والنهي عن بطلان بيع الغائب أو صحته مثلا إلا بواسطة فقبدية الإجمال مأخوذة في الأدلة والمعرفة معا أيضا وليست مأخوذة في الفقه ولذلك لا يلزم من النظر في الأصول حصول الفقه والحكم الكلي متوقف على الأصول توقفا ذاتيا والحكم التفصيلي وهو الفقه موقوف عليه أيضا وعلى غيره كلية قد يكون بالتقيد للأصولي كما أشرنا إليه وبهذا يظهر أن الاجتهاد في الفقه على الإطلاق شرطه الأصول ومعرفتها بالاجتهاد وأما بدون ذلك فيكون مقلدا وإن اجتهد في تفريع المسائل.

ثم هذه الأدلة الكلية لها حقائق في أنفسها من حيث دلالتها وتعلق العلم بها فهل وضع أصول الفقه لتلك الحقائق في أنفسها أو للعلم بها كلام المصنف يقتضي الثاني وكلام الإمام وغيره يقتضي الأول ولكل منهما وجه فإن الفقه كما يتوقف على الأدلة يتوقف على العلم بها وقد يرجح ما فعله المصنف بأن العلم بالأدلة لا يوصل إلى المدلول إلا بواسطة العلم بها لأن الفقه علم لكن أهل العرف يسمون المعلوم أصولا وكذلك يسمون المعلوم فقها ونقول هذا كتاب أصول وكتاب فقه والأولى جعل الأصول للأدلة والفقه للعلم لأنه أقرب إلى الاستعمال اللغوي ثم الأدلة لها اعتباران أحدهما حقيقتها في نفسها والثاني من حيث دلالتها على الفقه والمأخوذ في حد أصول الفقه والمأخوذ في حد أصول الفقه إنما هو هذا الثاني وهو مستفاد من الإضافة
ফিকহ ও ফকিহের নিকট, যদি তিনি একজন উসুলবিদ হন তবে তিনি তা দলিলের মাধ্যমে জানতে পারেন, আর যদি তিনি মুকাল্লিদ হন তবে তিনি তা তাকলিদের মাধ্যমে জানতে পারেন এবং উসুলবিদের কাছ থেকে তা গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বিধানগুলো সাজান, ফলে সেই জ্ঞান তার কাছে অর্জিত হয়।

দ্বিতীয় দিকটি হলো: সামগ্রিক হওয়ার বিচারে। অর্থাৎ, তিনি সেই সামগ্রিক বিষয়টি জানেন যা এর অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি এর নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা বিষয় সম্পর্কে না জানেন। আর এটিই হলো উসুলবিদের কাজ। তাই উসুলবিদের জ্ঞাত বিষয় হলো সামগ্রিক, উসুলবিদ হিসেবে আংশিক বিষয়ে তার জ্ঞান থাকে না। আর ফকিহের জ্ঞাত বিষয় হলো আংশিক, ফকিহ হিসেবে সামগ্রিক বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই। সামগ্রিক বিষয়ে তার জ্ঞান কেবল তখনই হয় যখন তা তার জানা আংশিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে সামগ্রিক হিসেবে তার কোনো জ্ঞান নেই। অতএব, সংক্ষিপ্ত দলিলসমূহ হলো সেই সামগ্রিক দলিল, এগুলোকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ তা বিস্তারিতভাবে নয় বরং সামগ্রিকভাবে জানা যায়। এটি তাকে সরাসরি সামগ্রিক বিধানের দিকে নিয়ে যায়, যেমন: যা কিছুর আদেশ দেওয়া হয়েছে তা ওয়াজিব এবং যা কিছু নিষেধ করা হয়েছে তা হারাম হওয়া ইত্যাদি। পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না। এটি বিস্তারিত ফিকহের দিকে নিয়ে যায় না—যেমন বিতরের সুন্নত হওয়া বা ওয়াজিব হওয়া এবং অনুপস্থিত বস্তুর কেনাবেচা বাতিল হওয়া বা সঠিক হওয়া সম্পর্কে জানা—অন্য কোনো মাধ্যম ছাড়া। সুতরাং সংক্ষিপ্ততার বিষয়টি দলিল এবং জ্ঞান উভয়ের ক্ষেত্রেই নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ফিকহের ক্ষেত্রে তা নেওয়া হয়নি। একারণেই উসুল নিয়ে গবেষণা করলেই ফিকহ অর্জিত হওয়া আবশ্যক নয়। আর সামগ্রিক বিধানটি উসুলের ওপর সত্তাগতভাবে নির্ভরশীল। আর বিস্তারিত বিধান—যা ফিকহ—তাও উসুলের ওপর এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল। সামগ্রিক বিষয়টি উসুলবিদের ক্ষেত্রে তাকলিদের মাধ্যমেও হতে পারে যেমনটি আমরা ইঙ্গিত দিয়েছি। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, ফিকহের ক্ষেত্রে নিঃশর্ত ইজতিহাদের শর্ত হলো উসুল এবং ইজতিহাদের মাধ্যমে তা জানা। আর তা ছাড়া তিনি মুকাল্লিদ হিসেবে গণ্য হবেন, যদিও তিনি মাসআলার শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবনে ইজতিহাদ করেন।

এরপর, এই সামগ্রিক দলিলগুলোর নিজ সত্তায় কিছু বাস্তবতা রয়েছে, তাদের নির্দেশনা এবং জ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে। তাহলে উসুলে ফিকহ কি সেই বাস্তবতাগুলোর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নাকি সেগুলো জানার জন্য? গ্রন্থকারের কথা দ্বিতীয়টির দাবি রাখে এবং ইমাম ও অন্যদের কথা প্রথমটির দাবি রাখে। উভয়ের পক্ষেই যুক্তি রয়েছে। কারণ ফিকহ যেমন দলিলের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি তা দলিলের জ্ঞানের ওপরও নির্ভরশীল। গ্রন্থকার যা করেছেন তাকে এই যুক্তিতে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে যে, দলিলের জ্ঞান যতক্ষণ না অর্জিত হয় ততক্ষণ তা নির্দেশিত বিষয় পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না, কারণ ফিকহ হলো একটি জ্ঞান। কিন্তু সাধারণ ব্যবহারে মানুষ জ্ঞাত বিষয়কে ‘উসুল’ বলে এবং তেমনিভাবে জ্ঞাত বিষয়কে ‘ফিকহ’ বলে। আমরা বলি, এটি উসুলের কিতাব এবং এটি ফিকহের কিতাব। তবে দলিলসমূহের জন্য ‘উসুল’ এবং জ্ঞানের জন্য ‘ফিকহ’ শব্দ নির্ধারণ করাই অধিক উত্তম, কারণ এটি ভাষাগত ব্যবহারের অধিক নিকটবর্তী। এরপর দলিলের দুটি দিক রয়েছে: একটি হলো তার নিজ সত্তাগত বাস্তবতা, আর দ্বিতীয়টি হলো ফিকহের ওপর তার নির্দেশনার দিক থেকে। উসুলে ফিকহের সংজ্ঞায় যা গ্রহণ করা হয়েছে তা হলো এই দ্বিতীয় দিকটি, যা সম্বন্ধযুক্ত হওয়া থেকে গৃহীত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
في قولنا أدلة الفقه لما قدمناه أن الإضافة تفيد اختصاص المضاف بالمضاف إليه في معنى لفظة المضاف فالشرط في الأصولي معرفة أدلة الفقه من حيث دلالتها على الفقه خاصة وقد يكون لها عوارض أخرى لا يجب معرفته بها ثم معرفة الأدلة من حيث كونها أدلة لا بد معه من كيفية الاستدلال ومعظمها يذكر في باب التعارض والترجيح فجعلت جزءا آخر من أصول الفقه لتوقف الفقه عليها وليس كل أحد يتمكن من الاستدلال ولا يحصل له الفقه بمجرد علم تلك الأدلة وكيفية الاستدلال لأنها أدلة ظنية ليس بينها وبين مدلولاتها ربط عقلي فلا بد من اجتهاد يحصل به ظن الحكم فالفقه موقوف على الاجتهاد والاجتهاد له شروط يحتاج إلى بيانها فجعلت جزءا ثالثا من أصول الفقه لتوقف الفقه عليها.

وهذا مجموع ما يذكر في أصول الفقه الأدلة وكيفية الاستدلال وكيفية حال المستدل والإمام ومن وافقه يجعلون أصول الفقه عبارة عن الثلاثة والمصنف وطائفة يجعلونه عبارة عن معرفة الثلاثة فالمعارف الثلاثة عندهم هي أصول الفقه وقد تقدم البحث في ذلك.

فقول المصنف: "وكيفية الاستفادة" معطوف على دلائل الفقه أي ومعرفة كيفية الاستفادة وكذا قوله: وحال المستفيد أي ومعرفة حال المستفيد والمراد بالمستفيد المجتهد لأنه الذي يستفيد الأحكام من أدلتها ويقع في بعض النسخ حال المستدل وفي بعضها حال المستفيد فجمع بعض النساخ بينهما واقتضى هذا الغلط أن يحمل المستدل على المجتهد والمستفيد على المقلد لأنه يستفيد من المجتهد لكن يجوز أن يكون جزءا من أصول الفقه بخلاف الاجتهاد فإن الفقه موقوف عليه نعم إذا عرف المجتهد عرف أن من سواه مقلد وهذا جاء بالعرض لا بالقصد أعني معرفة المقلد نعم بعض الناس قد سمى علم المقلد فقها فمن هذا الوجه يحسن إدراجه في أصول الفقه لتوقف فقهه عليه وفيه فائدة لا تذكر إلا فيه وهي حكمه إذا اختلفت عليه المجتهدون ونحو ذلك.

وقول المصنف: "دلائل" لو قال أدلة كان أحسن لأن فعيلا لا يجمع على
আমাদের বক্তব্যে ফিকহের দলীলসমূহ বলার কারণ আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সম্বন্ধ (ইদাফাত) সম্বন্ধযুক্ত পদকে সম্বন্ধসূচক পদের অর্থের সাথে বিশেষিত করার অর্থ প্রদান করে। তাই উসূলবিদের জন্য শর্ত হলো ফিকহের দলীলসমূহকে বিশেষভাবে ফিকহের ওপর তাদের নির্দেশনার (দালালাত) দিক থেকে জানা। এগুলোর অন্যান্য আনুষঙ্গিক বৈশিষ্ট্যও থাকতে পারে যা জানা ওয়াজিব নয়। অতঃপর দলীলসমূহকে দলীল হিসেবে জানার জন্য এর সাথে দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি (ইস্তিদলাল) জানাও অপরিহার্য। এর অধিকাংশ বিষয় পরস্পর বিরোধিতা (তায়ারুদ) ও প্রাধান্য দান (তারজীহ) অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়। তাই একে উসূলে ফিকহের অন্য একটি অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে কারণ ফিকহ এর ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেক ব্যক্তিই দলীল উপস্থাপনে সক্ষম হয় না এবং কেবল ঐ সকল দলীল ও দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি জানার মাধ্যমেই ফিকহ অর্জিত হয় না। কারণ এগুলো হলো ধারণাপ্রসূত (যন্নি) দলীল, এগুলোর এবং এগুলোর দ্বারা প্রমাণিত বিষয়ের মধ্যে কোনো যৌক্তিক অমোঘ সম্পর্ক নেই। সুতরাং ইজতিহাদ অপরিহার্য যার মাধ্যমে বিধানের ব্যাপারে প্রবল ধারণা অর্জিত হয়। অতএব ফিকহ ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল এবং ইজতিহাদের কিছু শর্ত রয়েছে যা বর্ণনা করা প্রয়োজন। তাই একে উসূলে ফিকহের তৃতীয় অংশ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে যেহেতু ফিকহ এর ওপর নির্ভরশীল।

আর উসূলে ফিকহের মধ্যে যা কিছু আলোচনা করা হয় তার সমষ্টি হলো: দলীলসমূহ, দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি এবং দলীল অন্বেষণকারীর অবস্থা। ইমাম এবং যারা তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন তারা উসূলে ফিকহকে এই তিনটি বিষয়ের সমষ্টি মনে করেন। আর গ্রন্থকার এবং অন্য একদল একে এই তিনটি বিষয় জানা হিসেবে অভিহিত করেন। সুতরাং তাদের নিকট এই তিনটি বিষয়ের জ্ঞানই হলো উসূলে ফিকহ। এ বিষয়ে আলোচনা ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

গ্রন্থকারের কথা: "এবং উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি" এটি ফিকহের দলীলসমূহের ওপর সংযুক্ত, অর্থাৎ উপকৃত হওয়ার পদ্ধতি জানা। একইভাবে তাঁর কথা: "এবং উপকার লাভকারীর অবস্থা", অর্থাৎ উপকার লাভকারীর অবস্থা জানা। এখানে উপকার লাভকারী বলতে মুজতাহিদকে বোঝানো হয়েছে, কারণ তিনিই দলীলসমূহ থেকে বিধানসমূহ আহরণ বা লাভ করেন। কিছু পাণ্ডুলিপিতে 'দলীল অন্বেষণকারীর অবস্থা' এবং কোনোটিতে 'উপকার লাভকারীর অবস্থা' শব্দ এসেছে। কিছু অনুলিপিকারক এই দুইটিকে একত্রিত করে ফেলেছেন। এই ভুলের কারণে 'দলীল অন্বেষণকারী' শব্দটিকে মুজতাহিদের ওপর এবং 'উপকার লাভকারী' শব্দটিকে মুকাল্লিদ বা অনুসারীর ওপর প্রয়োগ করার অবকাশ তৈরি হয়েছে, কারণ মুকাল্লিদ মুজতাহিদের থেকে উপকৃত হয়। কিন্তু এটি উসূলে ফিকহের অংশ হওয়া জায়েয হতে পারে, তবে ইজতিহাদের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ ফিকহ সরাসরি ইজতিহাদের ওপর নির্ভরশীল। হ্যাঁ, যখন মুজতাহিদকে চেনা যায়, তখন এটিও জানা যায় যে তিনি ছাড়া অন্য সবাই মুকাল্লিদ। আর এটি প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে, মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নয়—অর্থাৎ মুকাল্লিদকে জানার বিষয়টি। তবে কোনো কোনো আলিম মুকাল্লিদের জ্ঞানকেও ফিকহ নামে অভিহিত করেছেন, সেই দিক থেকে একে উসূলে ফিকহের অন্তর্ভুক্ত করা উত্তম হতে পারে যেহেতু তার ফিকহ এর ওপর নির্ভরশীল। আর এতে এমন এক ফায়দা রয়েছে যা কেবল এখানেই উল্লেখ করা হয়, আর তা হলো মুজতাহিদগণের মতপার্থক্য দেখা দিলে মুকাল্লিদের বিধান কী হবে এবং এই জাতীয় বিষয়াবলী।

গ্রন্থকারের কথা: "দালাইল" (দলীলসমূহ); যদি তিনি "আদিল্লাহ" বলতেন তবে তা অধিকতর সুন্দর হতো, কারণ "ফায়ীল" ওজনের শব্দের বহুবচন...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فعائل إلا شاذا1. وقوله إجمالا مصدر في موضع الحال أو تمييز من معرفة أو دلائل وكل منهما يصح أن يراد به على ما بينا ويزداد وعلى جعله من معرفة وجه آخر وهو أن يكون نعتا لمصدر محذوف تقديره عرفانا إجمالا وإعرابه تمييز أقوى لأنه يبين جهة الإضافة كقولك هذا أخوك رضاعة أو نسبا وهذا القيد أعني قوله إجمالا لإخراج العلم بالأدلة على التفصيل فليس من أصول الفقه ولا هو الفقه كما وقع في عبارة بعض شارحي هذا الكتاب لأن الفقه غيره بل هو يذكر في الفقه ومن وظيفة الفقيه وأصول الفقه الأدلة الإجمالية وعلمها وهل أصول الفقه بحسب الاصطلاح يصدق على القليل من ذلك والكثير أو لا يصدق إلا على المجموع اختيار الإمام الثاني فلم يجعل أصول الفقه يطلق على بعضه وهذا إنما يظهر بأخذ مضافا ومضافا إليه أما إذا أخذ إسما على هذا العلم فينبغي أن يصدق على القليل والكثير كسائر العلوم ولهذا إذا رأيت مسألة واحدة منه تقول هذا أصول فقه والاعتذار عن الجمع في لفظة الأصول بأمرين:

أحدهما: أن بعد التسمية لا يجب المحافظة على معنى الجمع.

والثاني: أنه جمع مضاف إلى معرفة فيعم والعموم صادق على كل فرد وكلام المصنف محتمل لما قاله الإمام ولما قلناه بالطريق المذكور.

وعدول المصنف عن علم إلى معرفة نقدم عليه مقدمة وهي أن المعرفة تتعلق بالذوات وهي التصور والعلم يتعلق بالنسب وهو التصديق فإن أراد أن علم الأصول تصور محض فليس كذلك لأن العلم بكون الأمر للوجوب والنهي للتحريم من أصول الفقه وهو تصديق فالإتيان بلفظ العلم في هذا المقام

--------------------------------------------

1 قال ابن مالك في شرح الكافية الشافية: لم يأت فعائل جمعاً لاسم جنس على وزن فعيل فيما أعلم، لكنه بمقتضى القياس جائز في العلم المؤنث كعسائد، جمع عسيد اسم امرأة. نهاية السول 1/14-15.

والذي يترجح عندي أن "دلائل" ليس جمعاً لدليل، وإنما هو جمع "دلالة" وهي الإمارة وهي أعم منا دليل، فلو عبر بالأدلة لخرج كثير من أصول الفقه العمومات، وأخبار للآحاد، والقياس، والاستصحاب، وغير ذلك، فإنها أمارات على الدليل، ولذلك قال الإمام الرازي في المحصول. طرق الفقه يتناول الأدلة والأمارات. اهـ. محققة.
'ফা'আইল' ছাঁচটি ব্যতিক্রম ক্ষেত্র ছাড়া ব্যবহৃত হয় না। এবং তাঁর বক্তব্য 'ইজমালান' (সার্বিকভাবে) শব্দটি 'হাল' (অবস্থা) এর স্থলে অবস্থিত একটি 'মাসদার' (ক্রিয়ামূল), অথবা এটি 'মা'রিফাহ' কিংবা 'দালাইল' থেকে 'তাময়িজ' (পার্থক্যকারী)। আমরা যা বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী এগুলোর প্রত্যেকটিই উদ্দেশ্য হওয়া সঠিক এবং এতে আরও বৃদ্ধি পায়; আর একে 'মা'রিফাহ' এর অংশ হিসেবে গণ্য করার অন্য একটি দিক হলো এটি একটি উহ্য মাসদারের বিশেষণ হওয়া, যার অনুমিত রূপ হলো 'সার্বিক পরিচয় লাভ করা'। তবে এর ব্যাকরণিক অবস্থান 'তাময়িজ' হওয়াই অধিক শক্তিশালী, কারণ এটি সম্বন্ধের দিকটি স্পষ্ট করে; যেমন আপনি বলেন, "এটি আপনার দুগ্ধ-সম্পর্কীয় ভাই" অথবা "বংশীয় ভাই"। আর এই সীমাবদ্ধতা অর্থাৎ তাঁর 'ইজমালান' (সার্বিকভাবে) বলাটি বিস্তারিত দলিলসমূহের জ্ঞানকে বহির্ভূত করার জন্য। সুতরাং এটি 'উসুলুল ফিকহ' নয় এবং এটি 'ফিকহ'ও নয়, যা এই কিতাবের কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর বক্তব্যে এসেছে। কারণ ফিকহ এর চেয়ে ভিন্ন বিষয়, বরং এটি ফিকহের মধ্যে আলোচিত হয় এবং এটি ফকিহ বা আইনজ্ঞের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আর উসুলুল ফিকহ হলো সার্বিক দলিলসমূহ এবং সেগুলোর জ্ঞান। পরিভাষা অনুযায়ী উসুলুল ফিকহ কি এর সামান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে নাকি অধিক বিষয়ের ক্ষেত্রে, নাকি সমগ্র সমষ্টি ছাড়া এটি প্রযোজ্য হবে নয়? ইমাম দ্বিতীয় মতটি বেছে নিয়েছেন, তাই তিনি উসুলুল ফিকহ শব্দটিকে এর কোনো একটি অংশের ওপর প্রয়োগযোগ্য মনে করেননি। এটি তখনই স্পষ্ট হয় যখন একে 'মুদাফ' এবং 'মুদাফ ইলাইহি' (সম্বন্ধিত ও সম্বন্ধ পদ) হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু যখন একে এই শাস্ত্রের নাম হিসেবে গ্রহণ করা হবে, তখন অন্যান্য শাস্ত্রের ন্যায় এটি সামান্য বা অধিক সব বিষয়ের ওপরই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এই কারণেই যখন আপনি এর একটি মাসআলা দেখেন, তখন বলেন যে এটি উসুলুল ফিকহ। আর 'উসুল' শব্দটিতে বহুবচন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দুটি ওজর বা কারণ দর্শানো হয়েছে:

প্রথমটি: নামকরণের পর বহুবচনের অর্থ রক্ষা করা আবশ্যক নয়।

দ্বিতীয়টি: এটি একটি নির্দিষ্ট বিশেষ্যের (মা'রিফাহ) দিকে সম্বন্ধিত বহুবচন, যা ব্যাপকতা প্রকাশ করে এবং এই ব্যাপকতা প্রত্যেকটি এককের ক্ষেত্রে সত্য। গ্রন্থকারের বক্তব্য ইমামের উক্তি এবং আমাদের বর্ণিত পদ্ধতি উভয়টিকেই ধারণ করার সম্ভাবনা রাখে।

গ্রন্থকার 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দ ছেড়ে 'মা'রিফাহ' (উপলব্ধি) শব্দের দিকে কেন ফিরলেন, সে বিষয়ে আমরা একটি ভূমিকা পেশ করছি। তা হলো, 'মা'রিফাহ' সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো 'তাসাওয়ুর' (ধারণা); আর 'ইলম' নিসবত বা সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো 'তাসদিক' (প্রত্যায়ন)। সুতরাং তিনি যদি উসুল শাস্ত্রের জ্ঞানকে নিছক 'তাসাওয়ুর' বা ধারণা বুঝাতে চান, তবে তা সঠিক নয়। কারণ কোনো নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য হওয়ার বিষয়টি উসুলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি একটি 'তাসদিক' বা প্রত্যায়ন। তাই এই স্থানে 'ইলম' শব্দ নিয়ে আসা...

--------------------------------------------

১ ইবনে মালিক 'শারহুল কাফিয়া আশ-শাফিয়া' গ্রন্থে বলেছেন: আমার জানা মতে 'ফা'আইল' ওজনটি 'ফা'ইল' ওজনের ইসমে জিনস-এর বহুবচন হিসেবে আসেনি, তবে কিয়াসের নিয়ম অনুযায়ী এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক নির্দিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রে বৈধ, যেমন 'আসায়িদ', যা 'আসায়িদ' নামক নারীর নামের বহুবচন। নিহায়াতুস সুল ১/১৪-১৫।

আর আমার নিকট যা অগ্রগণ্য তা হলো, 'দালাইল' শব্দটি 'দালিল' এর বহুবচন নয়, বরং এটি 'দালালাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ হলো নিদর্শন; আর এটি 'দালিল' এর চেয়ে অধিক ব্যাপক। তিনি যদি 'আদিল্লাহ' শব্দ ব্যবহার করতেন তবে উসুলুল ফিকহের অনেক বিষয় যেমন সাধারণ নির্দেশাবলি, একক বর্ণনা (খবরে ওয়াহিদ), কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান), ইস্তিসহাব এবং অন্যান্য বিষয় বহির্ভূত হয়ে যেত। কারণ এগুলো দলিলের নিদর্শন বা আলামত মাত্র। এই কারণেই ইমাম রাজি 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে বলেছেন: ফিকহের পথসমূহ দলিল এবং আলামত উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। সমাপ্ত। গবেষক সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أحسن لأنه أعم من المعرفة ولهذا ينقسم العلم إلى التصور والتصديق ويقول النحاة في العلم إذا لم يكن عرفانا ثم سواء قلنا علم أو معرفة أو أدلة أو طرق كما قال الإمام يرد على جميع ذلك سؤال قوي وهو أن الطريق ما يفضي النظر الصحيح فيه إلى علم المدلول أو ظنه والدليل ما يفضي النظر الصحيح فيه إلى المدلول وعلم الدليل أو الطريق كذلك والمدلول هنا هو الفقه لقوله أدلة الفقه أو طرق الفقه وقد قدمنا أن الفقه بحسب الاصطلاح لا يصدق إلا على معرفة الأحكام التفصيلية فيلزم من هذا أن يكون أصول الفقه معرفة أدلة الأحكام التفصيلية وأن من عرفها عرف ضرورة بما قررناه من أن النظر في الدليل يوجب العلم بالمدلول فيلزم أن يكون الأصول فقها وأن يكون كل أصولي فقيها وهذا ظاهر البطلان ولا ينجى عن هذا قيد الإجمال في المعرفة أو في الدلالة لأن الإجمالي إن كان دليلا للتفصيلي لزم من تحصيله حصوله وإن لم يكن دليلا للتفصيلي فسدت إضافته إلى الفقه لأن الفقه تفصيلي ودليل الفقه مجموع أمرين:

أحدهما: الإجمالية، والثاني: التفصيلية، والأول مندرج في الثاني فكل من علم الثاني علم الأول تقليدا أو اجتهادا ولا يحصل الفقه إلا بعلمهما والأصول في الأول فقط وقد سلم من هذا السؤال ابن الحاجب حيث قال إن حده لقبا العلم بالقواعد التي يتوصل بها إلى استنباط الأحكام الشرعية الفرعية عن أدلتها التفصيلية ومع ذلك يرد عليه أن من القواعد النحوية وغيرها ما هو كذلك ولم تدخل في أصول الفقه فالحد غير مانع وغير جامع أيضا لأنه أخرج الأدلة عن الأصول جملة.

فإن قلت: هل من اعتذار عن المصنف والإمام وغيرهما في السؤال الذي قدمته قلت نعم وهو أن الأدلة التفصيلية التي يحصل عنها الفقه لها جهتان: إحداهما أعيانها والثانية كلياتها وكل دليل هكذا فليست الأدلة منقسمة إلى ما هو إجمالي غير تفصيلي وتفصيلي غير إجمالي بل كلها شيء واحد له جهتان فالأصولي يعلمه من إحدى الجهتين والفقيه يعلمه من الأخرى ويصدق على ذي الجهتين أنه معلوم من وجه فالمراد بالأدلة التفصيلية التي هي موصلة إلى الفقه والأصولي يعرفها من جهة الإجمالي فلها اعتباران والنظر في
এটি অধিক উত্তম, কারণ এটি 'মা'রিফাত' (পরিচয়) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। আর একারণেই জ্ঞানকে 'তাসাউউব' (ধারণা) এবং 'তাসদিক' (প্রত্যয়ন)-এ বিভক্ত করা হয়। আর বৈয়াকরণগণ জ্ঞানের ব্যাপারে বলেন, যদি তা মা'রিফাত না হয়—অতঃপর আমরা জ্ঞান বলি বা মা'রিফাত বলি, অথবা দলীল বলি বা তরিক (পথ) বলি—যেভাবে ইমাম বলেছেন—এ সবকিছুর ওপর একটি শক্তিশালী প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। তা হলো: 'তরিক' (পথ) এমন বিষয় যার সঠিক পর্যালোচনা সেই বিষয়ের জ্ঞান বা ধারণার দিকে নিয়ে যায় যা নির্দেশিত (মাদলুল)। আর 'দলীল' এমন বিষয় যার সঠিক পর্যালোচনা নির্দেশিত বিষয়ের (মাদলুল) দিকে নিয়ে যায়। দলীলের জ্ঞান বা তরিকের জ্ঞানও তদ্রূপ। আর এখানে মাদলুল (নির্দেশিত বিষয়) হলো ফিকহ, যেহেতু তিনি বলেছেন 'ফিকহের দলীলসমূহ' বা 'ফিকহের পথসমূহ'। আর আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, পারিভাষিক অর্থে ফিকহ কেবল বিস্তারিত বিধানসমূহের জ্ঞানের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়। সুতরাং এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, উসূলুল ফিকহ হবে বিস্তারিত বিধানসমূহের দলীলসমূহের জ্ঞান। আর যে ব্যক্তি তা জানবে, আমরা যা সাব্যস্ত করেছি সেই অনুযায়ী সে অপরিহার্যভাবে তা জেনে যাবে; আর তা হলো দলীলের পর্যালোচনা মাদলুলের জ্ঞানের আবশ্যকতা তৈরি করে। এর ফলে এটি আবশ্যক হয়ে পড়ে যে, উসূল যেন ফিকহ হয়ে যায় এবং প্রত্যেক উসূলবিদ যেন একজন ফকীহ হয়ে যান। আর এটি স্পষ্টভাবেই অসার। আর জ্ঞানের ক্ষেত্রে বা দালালাতের (নির্দেশনা) ক্ষেত্রে 'ইজমাল' (সামষ্টিকতা)-এর শর্তারোপও এই জটিলতা থেকে মুক্তি দেয় না। কারণ সামষ্টিক বিষয় যদি বিস্তারিত বিষয়ের দলীল হয়, তবে তা অর্জনের দ্বারা বিস্তারিত বিষয় অর্জিত হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর যদি তা বিস্তারিত বিষয়ের দলীল না হয়, তবে ফিকহের সাথে এর সম্বন্ধ করাই অশুদ্ধ হয়ে যাবে; কারণ ফিকহ হলো বিস্তারিত। আর ফিকহের দলীল হলো দুটি বিষয়ের সমষ্টি:

এক: সামষ্টিক (ইজমালী) বিষয়সমূহ, এবং দুই: বিস্তারিত (তাফসিলী) বিষয়সমূহ। প্রথমটি দ্বিতীয়টির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বিতীয়টি জানবে, সে তাকলিদ বা ইজতিহাদের মাধ্যমে প্রথমটিও জেনে যাবে। আর এই উভয়টির জ্ঞান ব্যতীত ফিকহ অর্জিত হয় না। অথচ উসূল কেবল প্রথম বিষয়ের (সামষ্টিক) সাথে সংশ্লিষ্ট। ইবনে হাজিব এই প্রশ্ন থেকে রক্ষা পেয়েছেন যখন তিনি বলেছেন যে, এর উপাধিগত সংজ্ঞা হলো: 'এমন কিছু মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে শরয়ি উপশাখা সংক্রান্ত বিধানসমূহ আহরণ করা সম্ভব হয়।' তবুও তার ওপর এই আপত্তি থেকে যায় যে, নাহু (ব্যাকরণ) ও অন্যান্য বিষয়ের কিছু মূলনীতিও এমন রয়েছে যার মাধ্যমে বিধান আহরণ করা যায়, অথচ সেগুলো উসূলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং এই সংজ্ঞাটি 'মানি' (প্রতিবন্ধক) নয় এবং 'জামি' (সংগ্রহকারী)-ও নয়; কারণ তিনি দলীলসমূহকে সামগ্রিকভাবে উসূল থেকে বের করে দিয়েছেন।

যদি আপনি বলেন: আমি যে প্রশ্নটি উপস্থাপন করেছি, সে ব্যাপারে গ্রন্থকার, ইমাম এবং অন্যদের পক্ষ থেকে কি কোনো ওজর বা উত্তর আছে? আমি বলব: হ্যাঁ। আর তা হলো, যে বিস্তারিত দলীলসমূহ থেকে ফিকহ অর্জিত হয়, সেগুলোর দুটি দিক রয়েছে: একটি হলো সেগুলোর ব্যক্তিসত্তা (আ'ইয়ান), আর দ্বিতীয়টি হলো সেগুলোর কুল্লিয়্যাত বা সামষ্টিক রূপ। প্রতিটি দলীলই এমন। সুতরাং দলীলসমূহ এমনভাবে বিভক্ত নয় যে কিছু কেবল ইজমালী কিন্তু বিস্তারিত নয়, আর কিছু কেবল বিস্তারিত কিন্তু ইজমালী নয়; বরং সবগুলোই এক জিনিস যার দুটি দিক রয়েছে। উসূলবিদ তা একটি দিক থেকে জানেন এবং ফকীহ তা অন্য দিক থেকে জানেন। আর যে বিষয়ের দুটি দিক রয়েছে, তার ক্ষেত্রে এটি বলা সঠিক যে তা এক দিক থেকে জ্ঞাত। সুতরাং ফিকহ পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম যে বিস্তারিত দলীলসমূহ, সেগুলোকে উসূলবিদ সামষ্টিক দিক থেকে চিনে থাকেন। সুতরাং এর দুটি প্রেক্ষাপট রয়েছে এবং এতে পর্যবেক্ষণ হলো...
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
الدليل إنما يفيد العلم بالمدلول إذا نظر فيه على سبيل التفصيل والأصولي لم ينظر فيه كذلك فلم يحصل له الفقه لانتفاء شرط نظره لا لانتفاء كون المنظور فيه دليلا في نفسه وهذا جواب حسن مصحح لمعرفة الأدلة وإن كان جعله للأدلة صحيحا أيضا باعتبار أن للأدلة نسبتين كما قدمنا فهي باعتبار إحدى النسبتين غيرها باعتبار الأخرى هذا كله في تعريف المعنى اللقبي إذا قطعنا النظر عن أجزاء اللفظ وكذلك إذا لاحظناها مع التخصيص الذي أشرنا إليه فيما سبق فإن التعريف يحصل بما ذكره أيضا وليس من شرط الحد أن يكون بأجزاء محمولة كما ظنه بعضهم بل بأجزاء داخلة في الحقيقة وأجزاء المحدود هنا وهي المعارف الثلاث كذلك والمعرفة جنس الأصول وما أضيف إليه من الأدلة والكيفيتين فصول تقديره معرفة متعلقة بالأدلة والكيفيتين فالمتعلقة فصل وإنما جعلناه فصلا لأن التعلق داخل في ذات العلم فإن جعلته خارجا كان خاصة وكان التعريف رسما تاما.

البحث الثالث

في الفرق بين المعاني الثلاثة وتعريفاتها وما بينها من النسب.

أما المعنى الأول وهو معنى أصول الفقه قبل التسمية فهو أعم مطلقا من الثاني والثالث اللذين هما بعد التسمية وتعريفه أعم من تعريفهما ولا يحصل به تعريف هذا العلم كما سبق وإطلاقه عليه إطلاق الأعم على الأخص ولم يذكر المصنف ولا غيره ممن أراد تحديد علم أصول الفقه ذلك إلا على سبيل التقدمة كما فعله الإمام فإنه ذكر المفردات ثم ذكر تعريف أصول الفقه بعد مسمى به ولذلك أخذ فيه قيد الإجمال ولو راعى مدلوله قبل التسمية لم يأخذ فيه قيد الإجمال وأما معناه اللقبي ومعناه الإضافي بعد التسمية إذا لوحظت أجزاء لفظه فهما سواء وتعريفهما سواء فسرنا الأصول بالأدلة أم بالمحتاج إليه فيصح على كل من التقديرين هذا أن نجعل أصول الفقه اسما للأدلة وهي محتاج إليها فيتحد المعنى اللقبي والإضافي أما الإضافي فظاهر وأما اللقبي فلتسمية الأدلة بذلك ويصح أن نجعله اسما للمعرفة فيتحدان أيضا أما اللقبي فظاهر وأما الإضافي فظاهر إن جعلنا الأصل المحتاج إليه وإن جعلناه الدليل فنكون قد سمينا به العلم بالدليل من باب تسمية العلم باسم المعلوم.
প্রমাণ কেবল তখনই নির্দেশিত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান করে যখন তা বিস্তারিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিন্তু উসুলবিদ সেভাবে তা পর্যবেক্ষণ করেন না, ফলে তাঁর পর্যবেক্ষণ শর্তের অনুপস্থিতির কারণে ফিকহ অর্জিত হয় না; এটি এজন্য নয় যে যা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে তা স্বয়ং প্রমাণ হওয়ার অযোগ্য। এটি একটি উত্তম উত্তর যা দলীলসমূহের পরিচয়কে সঠিক সাব্যস্ত করে, যদিও দলীলসমূহের জন্য বিষয়টিকে সাব্যস্ত করাও সঠিক, কারণ যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি দলীলসমূহের দুটি সম্বন্ধ রয়েছে। এক সম্বন্ধের বিচারে তা অন্য সম্বন্ধের থেকে ভিন্ন। শব্দের অংশসমূহ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলে ‘লাকাবি’ বা পারিভাষিক অর্থের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে এই সবই প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে যদি আমরা পূর্বে উল্লেখিত বিশেষীকরণের সাথে শব্দাংশগুলোকে বিবেচনা করি, তবে তার উল্লেখ করা বর্ণনার মাধ্যমেও সংজ্ঞা অর্জিত হয়। সংজ্ঞার (হাদ্দ) শর্ত এটি নয় যে, তা কোনো আরোপিত অংশ দ্বারা হতে হবে যেমনটি কেউ কেউ মনে করেছেন, বরং এমন অংশ দ্বারা হতে হবে যা হাকীকত বা প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত। এখানে সংজ্ঞায়িত বিষয়ের অংশসমূহ—অর্থাৎ তিনটি জ্ঞান—তদ্রূপই। ‘জ্ঞান’ হলো উসুলের ‘জিনস’ (সাধারণ বর্গ), আর এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত ‘দলীলসমূহ’ এবং ‘পদ্ধতিদ্বয়’ হলো ‘ফসল’ (প্রভেদক)। এর বিশ্লেষণ হলো: দলীলসমূহ ও পদ্ধতিদ্বয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট জ্ঞান। অতএব, ‘সংশ্লিষ্ট’ শব্দটি এখানে ‘ফসল’। আমরা একে ‘ফসল’ হিসেবে গণ্য করেছি কারণ সংশ্লিষ্টতা ইলম বা জ্ঞানের সত্তার অন্তর্ভুক্ত। যদি আপনি একে বহির্ভূত মনে করেন, তবে তা ‘খাসসা’ (বৈশিষ্ট্য) হবে এবং সংজ্ঞাটি ‘রাসম-ই তাম’ (পূর্ণ বর্ণনা) হিসেবে গণ্য হবে।

তৃতীয় আলোচনা

তিনটি অর্থ, তাদের সংজ্ঞা এবং তাদের মধ্যকার সম্বন্ধের পার্থক্য প্রসঙ্গে।

প্রথম অর্থটি হলো নামকরণের পূর্বের ‘উসুলুল ফিকহ’-এর অর্থ, যা নামকরণের পরের দ্বিতীয় ও তৃতীয় অর্থের চেয়ে নিরঙ্কুশভাবে অধিক ব্যাপক এবং এর সংজ্ঞা সেই দুইটির সংজ্ঞার চেয়েও ব্যাপক। পূর্বে যেমন বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে এই ইলমের সংজ্ঞা অর্জিত হয় না এবং এর ক্ষেত্রে প্রয়োগটি হলো ‘ব্যাপক’কে ‘বিশেষ’ অর্থে প্রয়োগ করার মতো। গ্রন্থকার বা উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা প্রদানকারী অন্য কেউ এটি উল্লেখ করেননি, কেবল গৌরচন্দ্রিকা বা ভূমিকা হিসেবে করেছেন। যেমনটি ইমাম করেছেন; তিনি প্রথমে একক শব্দগুলো আলোচনা করেছেন, তারপর পারিভাষিক নাম হিসেবে উসুলুল ফিকহের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন। এজন্যই তিনি এতে ‘ইজমাল’ (সারসংক্ষেপ)-এর শর্তারোপ করেছেন। যদি তিনি নামকরণের পূর্বের অর্থের প্রতি লক্ষ্য রাখতেন, তবে এতে ‘ইজমাল’-এর শর্তারোপ করতেন না। আর নামকরণের পর যদি শব্দের অংশগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়, তবে এর ‘লাকাবি’ (পারিভাষিক) ও ‘ইদাফি’ (যৌগিক) অর্থ উভয়ই সমান এবং তাদের সংজ্ঞাও এক। আমরা ‘উসুল’-এর ব্যাখ্যা ‘দলীলসমূহ’ দিয়ে করি বা ‘যার মুখাপেক্ষী হওয়া হয়’ তা দিয়ে করি—উভয় ক্ষেত্রেই এটি সঠিক। এটি তখনই হয় যখন আমরা উসুলুল ফিকহকে দলীলসমূহের নাম হিসেবে নির্ধারণ করি এবং সেগুলো মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয় হয়, ফলে লাকাবি ও ইদাফি অর্থ এক হয়ে যায়। ইদাফি বা যৌগিক হওয়ার বিষয়টি তো স্পষ্ট, আর লাকাবি হওয়ার কারণ হলো দলীলসমূহকে এই নামে নামকরণ করা। আবার একে ‘জ্ঞান’ (মারিফাত)-এর নাম হিসেবে নির্ধারণ করাও সঠিক, তখনও উভয় অর্থ এক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে লাকাবি হওয়া স্পষ্ট, আর ইদাফি হওয়াও স্পষ্ট যদি আমরা ‘আসল’ বলতে ‘যার মুখাপেক্ষী হওয়া হয়’ তাকে বুঝাই। আর যদি আমরা ‘আসল’ বলতে ‘দলীল’ বুঝাই, তবে আমরা বিষয়বস্তুর (জ্ঞাত বিষয়) নামে জ্ঞানের নামকরণ করার রীতি অনুযায়ী দলীল সংক্রান্ত জ্ঞানকে এই নামে অভিহিত করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
فإن قلت: إذا جعلنا الأصول للأدلة والتسمية للمعرفة تغاير المعنى اللقبي والإضافي قطعا فيجب أن يكون لكل منهما حد قلت ليس المراد بالإضافي معناه قبل التسمية وإلا لورد المعنى الأول وقد قدمنا أنه خارج قطعا فإنما المراد تعريف المعنى اللقبي باعتبار ملاحظة أجزاء اللفظ فلا بد أن يوجد فيها تعبير إما بمجاز أو بتخصيص حتى يوافق اللقب وحينئذ يتحد التعريفان ويستحيل أن يكون لعلم أصول الفقه المصطلح عليه حدان أحدهما باعتبار الإضافة قبل التسمية والثاني باعتبار اللقب.

যদি আপনি বলেন: যদি আমরা ‘উসুল’ (মূল)-কে দলিলাদির জন্য এবং নামকরণকে জ্ঞানের জন্য নির্ধারণ করি, তবে পারিভাষিক এবং সম্বন্ধযুক্ত অর্থের মধ্যে পার্থক্য হওয়া নিশ্চিত। এমতাবস্থায় তাদের প্রত্যেকের জন্য পৃথক সংজ্ঞা থাকা আবশ্যক। আমি বলব: সম্বন্ধযুক্ত অর্থ দ্বারা নামকরণের পূর্ববর্তী অর্থটি উদ্দেশ্য নয়। অন্যথায় প্রথম অর্থটিই ফিরে আসত, অথচ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে তা নিশ্চিতভাবেই বর্জিত। মূলত উদ্দেশ্য হলো, শব্দের অংশগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে পারিভাষিক অর্থের সংজ্ঞা প্রদান করা। তাই সেখানে রূপক কিংবা নির্দিষ্টকরণের মাধ্যমে এমন কোনো বর্ণনা থাকা আবশ্যক যাতে তা পারিভাষিক নামের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। এমতাবস্থায় সংজ্ঞা দুটি এক হয়ে যায়। আর পারিভাষিক ‘উসুলুল ফিকহ’ শাস্ত্রের জন্য দুটি সংজ্ঞা থাকা অসম্ভব—যার একটি নামকরণের পূর্বে সম্বন্ধের বিবেচনায় এবং দ্বিতীয়টি পারিভাষিক নামের বিবেচনায় হবে।

(খণ্ড: ১) আল-ইব্হাজ ফী শারহিল মিনহাজ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌تعريف الفقه

"والفقه العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية".

في معنى الفقه بحسب اللغة ثلاثة أقوال:

أحدها: مطلق الفهم.

والثاني: فهم الأشياء الدقيقة.

والثالث: فهم غرض المتكلم من كلامه وقولنا غرض المتكلم من كلامه إشارة إلى أنه زائد على مجرد دلالة اللفظ الوضعية فإنه يشترك في معرفتها الفقيه وغيره ممن عرف الوضع وبهذا الاعتبار يسلب عمن اقتصر على ذلك من الظاهرية اسم الفقيه وأما في الاصطلاح فقد ذكره المصنف والكلام عليه من وجوه:

أحدها: قوله: العلم جنس يشمل التصور والتصديق القطعي وإنما قلنا ذلك لأن العلم صفة توجب تمييزا لا يحتمل النقيض ويلزمها التعلق بمعلوم فإن كان المعلوم ذاتا أو معنى مفردا أو نسبة غير خبرية فهو التصور وإن كان نسبة خبرية فهو التصديق القطعي مثاله العالم حادث وههنا أربعة ذات العالم ومعنى الحدوث في نفسه والارتباط بينهما من غير حكم بثبوته أو بانتفائه والعلم بهذه الثلاثة تصور والرابع هو ثبوت ذلك الارتباط أو انتفاؤه وهو النسبة الخبرية وهو التصديق وهكذا في كل قضية موضوعها ومحمولها مفردا والارتباط بينهما نسبة تقييدية وهو من قبيل المفرد ووقوع تلك النسبة
ফিকহ-এর সংজ্ঞা

"ফিকহ হলো বিস্তারিত দলিলসমূহ হতে অর্জিত আমলযোগ্য শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান।"

আভিধানিক অর্থে ফিকহ-এর ব্যাপারে তিনটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি: সাধারণ উপলব্ধি।

দ্বিতীয়টি: সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ উপলব্ধি করা।

তৃতীয়টি: বক্তার বক্তব্য থেকে তাঁর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা। আমাদের কথা "বক্তার বক্তব্য থেকে তাঁর উদ্দেশ্য অনুধাবন করা" দ্বারা এটিই ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, এটি শব্দের কেবল ভাষাগত নির্দেশের চেয়ে অতিরিক্ত কিছু। কারণ ফিকহবিদ এবং ভাষা সম্পর্কে জ্ঞাত অন্যান্য ব্যক্তিরা উক্ত ভাষাগত নির্দেশের ক্ষেত্রে অংশীদার। এই বিচারে, যাহিরীদের মধ্যে যারা কেবল এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকে, তাদের থেকে 'ফকীহ' নাম ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আর পরিভাষাগত সংজ্ঞার ব্যাপারে গ্রন্থকার উল্লেখ করেছেন এবং এ বিষয়ে আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:<

প্রথমত: তাঁর বক্তব্য: "জ্ঞান" হলো এমন একটি সাধারণ শ্রেণী যা কল্পনা এবং অকাট্য সত্যায়নকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা এটি এই কারণে বলেছি যে, জ্ঞান এমন একটি গুণ যা এমন স্বাতন্ত্র্যবোধ সৃষ্টি করে যা বিপরীত কোনো সম্ভাবনা রাখে না এবং এটি জ্ঞাত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া অপরিহার্য। যদি জ্ঞাত বিষয়টি কোনো সত্তা, একক অর্থ অথবা অ-সংবাদমূলক সম্বন্ধ হয়, তবে তা হলো কল্পনা। আর যদি তা সংবাদমূলক সম্বন্ধ হয়, তবে তা হলো অকাট্য সত্যায়ন। এর উদাহরণ হলো: "জগত সৃষ্টিশীল"। এখানে চারটি বিষয় রয়েছে: জগতের সত্তা, সৃষ্টিশীলতার নিজস্ব অর্থ, এবং কোনো ইতিবাচক বা নেতিবাচক বিচার ছাড়া তাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ক—আর এই তিনটির জ্ঞানই হলো কল্পনা। চতুর্থটি হলো সেই সম্পর্কের সাব্যস্ত হওয়া বা না হওয়া, যা সংবাদমূলক সম্বন্ধ এবং এটিই হলো সত্যায়ন। এভাবেই প্রতিটি প্রতিজ্ঞার ক্ষেত্রে যেখানে এর উদ্দেশ্য এবং বিদেহ একক বিষয় এবং তাদের মধ্যবর্তী সম্পর্ক হলো সীমাবদ্ধ সম্বন্ধ, যা একক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং সেই সম্পর্কের সংঘটন...