(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: -)
إرهاب المستأمنين وموقف الإسلام منه القسم: كتب عامة
الكتاب: إرهاب المستأمنين وموقف الإسلام منه
المؤلف: بدر بن ناصر البدر
الناشر: الكتاب منشور على موقع وزارة الأوقاف السعودية بدون بيانات
عدد صفحات (الكتاب الورقي) : 36
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 56
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আশ্রিতদের ওপর সন্ত্রাস এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ
বই: আশ্রিতদের ওপর সন্ত্রাস এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান
লেখক: বদর বিন নাসের আল-বদর
প্রকাশক: বইটি সৌদি আরবের ওয়াকফ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে কোনো তথ্য ছাড়াই প্রকাশিত হয়েছে
পৃষ্ঠা সংখ্যা (মুদ্রিত বই) : ৩৬
[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত, যা মুদ্রিত কপির সাথে মিল নেই]
মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৬
শামেলা-তে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১)
إرهاب المستأمنين وموقف الإسلام منه إعداد
د. بدر بن ناصر البدر
الأستاذ المشارك بقسم القرآن وعلومه
كلية أصول الدين - جامعة الإمام
بسم الله الرحمن الرحيم
المقدمة إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد ألا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1) . {يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2) . {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} {يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3) .
أما بعد:
--------------------------------------------
নিরাপত্তাপ্রাপ্তদের (المستأمنين) ভীতি প্রদর্শন এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান; উপস্থাপনায়:
ড. বদর বিন নাসের আল-বদর
সহযোগী অধ্যাপক, কুরআন ও উলুমুল কুরআন বিভাগ
উসুল আদ-দীন অনুষদ - ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমল থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} (১)। {হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক সত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (২)। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে} (৩)।
অতঃপর:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২)
فقد جاء دين الإسلام محققاً مقاصد عظيمة يجب أن يتعلمها كلّ مسلمٍ ومسلمة، هي حفظ الضرورات الخمس، والتي يُسميها العلماء مقاصد الشريعة حفظ الدين، وحفظ النفس، وحفظ العقل، وحفظ العرض، وحفظ المال. وما فتئ العلماء العارفون يبنون الأحكام والمسائل المرتبطة بهذه المقاصد العظيمة، فلّما غاب العلم وتفشى الهوى والجهل وكثرت الشبهات، ظهرت الفتن والهرج والقتل، دون مراعاة لهذه المقاصد، ومن أجل ذلك فإنّ كلَّ عملٍ تخريبي يستهدف الآمنين مخالف لأحكام شريعة ربّ العالمين، والتي جاءت بعصمة دماء المسلمين والمعاهدين، فكيف إذا كان ذلك في بلدٍ مسلمٍ آمن، هو مهبط الوحي والرسالة والنور الذي يشع في جنبات الأرض كلها!! لا شك أن ذلك أشدّ حرمة بإجماع علماء المسلمين العارفين، فضلاً عمّا في ذلك من هتك لحرمة الأنفس والأموال المعصومة، وهتك لحرمة الآمنين المطمئنين في مساكنهم، وإشاعة الفوضى وعدم الاستقرار.
ইসলাম ধর্ম এমন কিছু মহান উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে এসেছে যা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর শিক্ষা করা আবশ্যক; আর তা হলো পঞ্চ মৌলিক প্রয়োজনীয়তা (الضرورات الخمس) রক্ষা করা, যাকে আলেমগণ শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة) বলে অভিহিত করেন। সেগুলো হলো— দ্বীন রক্ষা, জীবন রক্ষা, বিবেক-বুদ্ধি রক্ষা, সম্ভ্রম রক্ষা এবং সম্পদ রক্ষা। প্রাজ্ঞ আলেম সমাজ সর্বদা এই মহান উদ্দেশ্যসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও মাসআলাসমূহ প্রণয়ন করে আসছেন। কিন্তু যখন ইলম বিলুপ্ত হলো, প্রবৃত্তির অনুসরণ ও অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়ল এবং সংশয় (الشبهات) বৃদ্ধি পেল, তখন এই উদ্দেশ্যসমূহের প্রতি কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করেই ফিতনা (الفتن), বিশৃঙ্খলা ও হত্যাযজ্ঞ (الهرج) এবং হত্যাকাণ্ড প্রকাশ পেল। আর একারণেই নিরাপদ মানুষদের লক্ষ্য করে পরিচালিত প্রতিটি ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রাব্বুল আলামীনের শরীয়তের বিধানের পরিপন্থী, যা মুসলিম ও চুক্তিবদ্ধ (المعاهدين) অমুসলিমদের জানমালের নিরাপত্তা (عصمة) নিশ্চিত করতে অবতীর্ণ হয়েছে। তাহলে এই কর্মকাণ্ড যদি এমন এক নিরাপদ মুসলিম রাষ্ট্রে সংঘটিত হয়, যা ওহী, রিসালাত এবং সারা বিশ্বে বিচ্ছুরিত আলোর অবতরণস্থল, তবে তার পরিণাম কতই না ভয়াবহ!! নিঃসন্দেহে বিজ্ঞ মুসলিম আলেমদের ঐকমত্য (إجماع) অনুযায়ী এটি অত্যন্ত কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা হারাম। তদুপরি, এতে রয়েছে সংরক্ষিত জীবন ও সম্পদের পবিত্রতা হরণ, নিজ আবাসে শান্তিতে বসবাসরত নিরাপদ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা ছড়িয়ে দেওয়া।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৩)
إنه يخطئ من يعتقد أو يظن بأن المسلمين لا يقبلون دخول الكفار إلى بلادهم إلا إذا كانوا يرغبون في الإسلام ، كما يخطئ أيضاً من يرمي المسلمين بأنهم يحملون سيوفهم في أيديهم ليسلوها في وجه كل من لا يدين بدينهم مما يجعل غير المسلمين لا يأمنون على أنفسهم ولا يثقون بأن تطأ أرجلهم بلادهم ، لكن الحقيقة تخالف هذا الاعتقاد ، فالجوار بين العرب قبل الإسلام كان له شأن كبير، وكانت الدماء تسيل دون حماية المستجير وحفظه ، وكانوا يفتخرون بهذا ويعتزون بحمايته ، ثم لما جاء الإسلام أقره ورعاه بذمته وذمة المسلمين ، فأمن الرسل والمعاهدين عهدا مؤبدا أو مؤقتا ، وأمن أيضاً من يدخل بلاد المسلمين لمصلحة ، سواء للتجارة أو لطلب الصلح والموادعة ، أو يحمل رسائل أو مبالغ الجزية أو لسماع القرآن والتعرف على مبادئ الإسلام وتعلم أحكامه والوقوف على غاياته وأهدافه ، فيدخل آمنا مطمئنا ويعود كذلك إلى بلاده.
যারা বিশ্বাস করেন বা মনে করেন যে মুসলিমরা কেবল ইসলামের প্রতি আগ্রহী হলেই অমুসলিমদের তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়, তারা ভুলের মধ্যে রয়েছেন। তেমনিভাবে যারা মুসলিমদের প্রতি এই অভিযোগ আনেন যে, তারা তাদের হাতে তলোয়ার নিয়ে প্রস্তুত থাকে যাতে যারা তাদের ধর্মাবলম্বী নয় তাদের ওপর তা প্রয়োগ করতে পারে—যা অমুসলিমদের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে এবং মুসলিমদের ভূমিতে পদার্পণে আস্থার অভাব ঘটায়—তারাও ভ্রান্তিতে আছেন। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা এই বিশ্বাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবদের মধ্যে প্রতিবেশীসুলভ সুরক্ষা ও আশ্রয় প্রদানের বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল এবং আশ্রয়প্রার্থীর সুরক্ষা ও হেফাজতের জন্য তারা অকাতরে রক্ত বিসর্জন দিত; তারা একে গর্ব ও মর্যাদার বিষয় বলে গণ্য করত। অতঃপর ইসলামের আবির্ভাবের পর এটি সেই প্রথাকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং আল্লাহর জিম্মাহ ও মুসলিমদের জিম্মাহর মাধ্যমে একে সুসংহত করে। এর ফলে বার্তাবাহক বা দূতগণ এবং স্থায়ী বা সাময়িক চুক্তিবদ্ধ (معاهدين) ব্যক্তিবর্গ নিরাপত্তা লাভ করেন। পাশাপাশি যারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে, সন্ধি ও যুদ্ধবিরতি (موادعة) কামনায়, পত্র বহন বা জিজিয়া প্রদানের নিমিত্তে কিংবা কুরআন শ্রবণ, ইসলামের মূলনীতি সম্পর্কে অবগত হওয়া, এর বিধিবিধান শিক্ষা করা এবং এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুধাবনের মতো কোনো বিশেষ প্রয়োজনে মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন, তারাও পূর্ণ নিরাপত্তা লাভ করেন। ফলে তারা অত্যন্ত নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত মনে প্রবেশ করেন এবং একইভাবে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৪)
وهذا ما رغبت الكتابة فيه إن شاء الله تعالى ، وذلك من خلال هذا المؤتمر العالمي عن موقف الإسلام من الإرهاب والعنف والتطرف الذي تشرف عليه جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، السباقة إلى كل خير ، ذات الجهود المشكورة والأعمال المباركة.
أما عنوان البحث فهو (إرهاب المستأمنين وموقف الإسلام منه) ، وذلك حسب الخطة الآتية:
- المقدمة.
- المبحث الأول: تعريف الإرهاب وتحريمه في الإسلام.
- المبحث الثاني: تعريف الأمان وأركانه وصيغه.
- المبحث الثالث: الأدلة على مشروعية الأمان من الكتاب والسنة.
- المبحث الرابع: الفرق بين الأمان والذمة والهدنة.
- المبحث الخامس: الواجب على المسلمين تجاه المستأمنين.
- المبحث السادس: الواجب على المستأمنين في بلاد المسلمين.
- الخاتمة.
- ثبت المصادر والمراجع.
وقد التزمت في كتابته ما يأتي:
- عزوت الآيات إلى سورها، ذاكراً اسم السورة ورقم الآية.
- خرَّجت الأحاديث، مكتفياً بالصحيحين أو بأحدهما إن كان الحديث فيهما، فإن لم يكن خرَّجته باختصار من غيرهما.
আল্লাহ তাআলা চাহেন তো এটিই সেই বিষয় যা নিয়ে আমি এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে লেখার ইচ্ছা পোষণ করেছি। এই সম্মেলনটি সন্ত্রাসবাদ, সহিংসতা ও উগ্রবাদের প্রতি ইসলামের অবস্থানের ওপর আয়োজিত, যা ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিটি কল্যাণকর কাজে অগ্রগামী এবং তাদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় ও কর্মসমূহ বরকতময়।
গবেষণার শিরোনাম হলো (মুস্তামিনদের ওপর সন্ত্রাসবাদ এবং এ বিষয়ে ইসলামের অবস্থান), যা নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে:
- ভূমিকা।
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা এবং ইসলামে এর নিষিদ্ধতা।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিরাপত্তা (الأمان)-এর সংজ্ঞা, এর রুকন ও স্বরূপ।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিরাপত্তার (الأمان) বৈধতার দলিলসমূহ।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নিরাপত্তা (الأمان), জিম্মাহ (الذمة) ও হুদনা (الهدنة)-এর মধ্যে পার্থক্য।
- পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মুস্তামিনদের (المستأمنين) প্রতি মুসলিমদের কর্তব্য।
- ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: মুসলিম দেশগুলোতে মুস্তামিনদের (المستأمنين) কর্তব্য।
- উপসংহার।
- উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।
এটি রচনায় আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অনুসরণ করেছি:
- আমি আয়াতসমূহকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।
- আমি হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি। হাদিসটি যদি সহিহাইন বা তার কোনো একটিতে থাকে তবে সেটির উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হয়েছি; আর যদি সেখানে না থাকে তবে সংক্ষেপে অন্যান্য গ্রন্থ থেকে তাখরিজ (تخريج) করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৫)
- لم أترجم للأعلام الوارد ذكرهم في البحث، خشية الإطالة، ولئلا أتجاوز ما حُددت به كتابة البحوث في هذا المؤتمر.
- عزوت الأقوال إلى أصحابها ووثقتها من كتب أصحابها، فإن لم أستطع وثقتها من المصادر والمراجع الأخرى.
- ذكرت تفاصيل المصادر والمراجع في ثبت مستقل في آخر البحث.
وبكل حال فإنني لا أدعي الإحاطة بكتابتي في هذا الموضوع ولا شمول البحث فيه، لما يعتريني من النقص والقصور والخلل، ثم لتشعب الموضوع وسعته.
أسأله تبارك وتعالى أن يمنحنا الفقه في الدين، وأن يرزقنا اتباع سنة سيد الأولين والآخرين ، وأن يجنبنا الفتن ما ظهر منها وما بطن.
كما أساله - تعالى - أن يجزي القائمين على جامعتنا وأخص بالذكر منهم معالي مديرها ووكلاءها خير الجزاء ، وأن يرزقنا كلنا الإخلاص والتوفيق في القول والعمل.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم. .
- আমি গবেষণায় উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের জীবনচরিত আলোচনা করিনি, পাছে তা দীর্ঘ হয়ে যায় এবং এই সম্মেলনে গবেষণাপত্র রচনার জন্য নির্ধারিত সীমা আমি অতিক্রম না করি।
- আমি উক্তিগুলোকে তাদের প্রবক্তাদের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সংশ্লিষ্ট লেখকদের মূল গ্রন্থ থেকে সেগুলো প্রামাণ্যকরণ (توثيق) করেছি; আর যদি তা সম্ভব না হয়ে থাকে, তবে অন্যান্য উৎস ও তথ্যসূত্র থেকে সেগুলো যাচাই করেছি।
- আমি গবেষণার শেষে একটি স্বতন্ত্র তালিকা (ثبت) হিসেবে উৎস ও তথ্যসূত্রের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছি।
যাই হোক, এই বিষয়ে আমার এই রচনার মাধ্যমে আমি পূর্ণাঙ্গ পরিব্যাপ্তি কিংবা গবেষণার ব্যাপকতার দাবি করছি না; কারণ আমার মাঝে ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা ও বিচ্যুতি থাকা স্বাভাবিক, তদুপরি বিষয়টি অত্যন্ত শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ও বিস্তৃত।
আমি মহান আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের দ্বীনের প্রজ্ঞা (فقه) দান করেন, সৃষ্টির আদি ও অন্তের শ্রেষ্ঠতম সত্তার সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের তাওফীক দান করেন এবং প্রকাশ্য ও গোপন সকল ফিতনা (فتن) থেকে আমাদের রক্ষা করেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট আরও প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীলদের—বিশেষ করে এর মাননীয় পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের—উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং আমাদের সকলকে কথা ও কাজে একনিষ্ঠতা (إخلاص) ও তাওফীক (توفيق) দান করেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الأول تعريف الإرهاب وتحريمه في الإسلام قال ابن منظور: (رهب بالكسر يرهب رهبة ورهباً بالضم ورهباً بالتحريك، أي: خاف، ورهب الشيء رهباً ورهباً ورهبة خافه. . . وترهب غيره إذا توعده. . . وأرهبه ورهبه واسترهبه أخافه وفزعه) (1) .
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামে সন্ত্রাসের সংজ্ঞা ও এর নিষিদ্ধতাইবনে মানযুর বলেছেন: (রাহিবা—মাঝের বর্ণে কাসরা বা জের যোগে—যার বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন রূপ হলো ইয়ারহাবু, এর অর্থ রাহবাতান এবং পেশ যোগে রুহবান ও হারাকাত যোগে রাহাবান অর্থাৎ: সে ভীত হলো। আর সে কোনো বস্তুকে ভয় পেল... এবং সে অন্যকে আতঙ্কিত করল যখন তাকে হুমকি প্রদান করল... আর তাকে আতঙ্কিত করা, ভীত করা ও সন্ত্রস্ত করা) (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৭)
وفي هذه الأزمنة على وجه الخصوص اختلفت آراء الناس جماعات وأفراداً في بيان المراد بالإرهاب ، من المنظور الصحيح المعتدل ، كما بذلت في هذا الشأن جهود مشكورة من أهل العلم والإنصاف في بيان المراد من هذا المصطلح، ولعل أدقها وأوفاها وأشملها ما جاء في قرار مجمع الفقه الإسلامي في دورته 16 التي عقدت في الفترة: 21-27 شوال 1422 هـ، حيث عرف المجتمعون الإرهاب - من الناحية الشرعية - بأنه: " العدوان الذي يمارسه أفراد أو جماعات أو دول، بغياً على الإنسان في دينه ودمه وعقله وماله وعرضه، ويشمل صنوف التخويف والأذى والتهديد والقتل بغير حق، وما يتصل بصور الحرابة وإخافة السبيل وقطع الطريق ، وكل فعل من أفعال العنف أو التهديد، يقع تنفيذاً لمشروع إجرامي فردي أو جماعي، ويهدف إلى إلقاء الرعب بين الناس، أو ترويعهم بإيذائهم أو تعريض حياتهم أو حريتهم أو أمنهم أو أحوالهم للخطر، ومن صنوفه إلحاق الضرر بالبيئة أو بأحد المرافق والأملاك العامة أو الخاصة، أو تعريض أحد الموارد الوطنية أو الطبيعية للخطر. فكل هذا من صور الفساد في الأرض التي نهى الله سبحانه وتعالى المسلمين عنها بقوله: {وَلَا تَبْغِ الْفَسَادَ فِي
বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলতে কী বোঝায় সে সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর মতামতে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ বিষয়ে বিজ্ঞ ও ন্যায়নিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে এই পরিভাষাটির অর্থ স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয়েছে। সম্ভবত এ সংক্রান্ত সবচেয়ে সূক্ষ্ম, পরিপুষ্ট ও ব্যাপক সংজ্ঞাটি পাওয়া যায় ইসলামি ফিকহ একাডেমি-র ১৬তম অধিবেশনে, যা ২১-২৭ শাওয়াল ১৪২২ হিজরি মোতাবেক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে অংশগ্রহণকারীগণ শরিয়াহর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সন্ত্রাসবাদকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "এটি এমন এক আগ্রাসন যা কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাষ্ট্র কর্তৃক মানুষের ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ ও সম্ভ্রমের বিরুদ্ধে সীমা লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের ভীতি প্রদর্শন, কষ্ট দেওয়া, হুমকি প্রদান এবং অন্যায়ভাবে হত্যা করা। এছাড়াও হিরাবাহ, পথে আতঙ্ক সৃষ্টি ও পথরোধ করার মতো বিষয়সমূহ এবং এমন প্রতিটি সহিংস কাজ বা হুমকি যা কোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অপরাধমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংঘটিত হয় এবং যার উদ্দেশ্য থাকে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া বা তাদের ক্ষতি করার মাধ্যমে ভীতসন্ত্রস্ত করা অথবা তাদের জীবন, স্বাধীনতা, নিরাপত্তা বা অবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা। পরিবেশের ক্ষতি করা অথবা কোনো সরকারি বা বেসরকারি স্থাপনা ও সম্পদের ক্ষতিসাধন করা কিংবা কোনো জাতীয় বা প্রাকৃতিক সম্পদকে বিপন্ন করাও এর বিভিন্ন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। আর এ সব কিছুই পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলমানদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর তুমি বিপর্যয় কামনা করো না...
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৮)
الْأَرْضِ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ} (القصص: 77) ".
জমিনে। নিশ্চয়ই আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না। (আল-কাসাস: ৭৭) "
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ৯)
الإرهاب جريمة من أكبر الجرائم في نظر الشرع الإسلامي، وتعد الحرابة والبغي بغير حق من الجرائم المسماة في الشرع ، والتي يتكيف بها الإرهاب في بعض صوره التطبيقية، ومع ذلك فقد أغلظ الله العقوبة على من يحترف هذه الجريمة ويسلك سبيلها. وإذن فلا أقل من أن يعاقب الإرهابي في قياس النظر الشرعي بعقوبة المحاربين، لأن فعله مهما كان فإنه لن يخرج عن كونه فساداً في الأرض، فيكون مشمولاً بمعنى قوله تعالى: {وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا} في الآية الكريمة: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَنْ يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُمْ مِنْ خِلَافٍ أَوْ يُنْفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ذَلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ} {إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ قَبْلِ أَنْ تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (المائدة:33-34) . فهذه الآية تحدد بكل وضوح وجلاء الجزاء الشرعي للمحاربين الساعين في الأرض بالفساد، في الدنيا والآخرة. قال مالك والشافعي وأبو
সন্ত্রাসবাদ ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৃহত্তম অপরাধগুলোর একটি। ডাকাতি এবং অন্যায়ভাবে বিদ্রোহ হলো শরিয়তে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট অপরাধসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার বিভিন্ন ব্যবহারিক রূপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ পরিলক্ষিত হয়। তা সত্ত্বেও, যারা এই অপরাধকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে এবং এর পথে চলে, আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান দিয়েছেন। অতএব, শরিয়তের আইনি মানদণ্ডে একজন সন্ত্রাসীকে শরিয়তবিরোধী যোদ্ধাদের ন্যায় শাস্তি প্রদান করা কমপক্ষে আবশ্যক; কারণ তার কর্মকাণ্ড যাই হোক না কেন, তা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির ঊর্ধ্বে নয়। ফলে এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: {এবং তারা জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়}। পবিত্র আয়াতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি কেবল এই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে। এটি তাদের জন্য পার্থিব লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।} {তবে যারা তোমাদের আয়ত্তে আসার আগে তওবা করে, জেনে রেখো যে আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} (সুরা আল-মায়িদা: ৩৩-৩৪)। এই আয়াতটি জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধকারীদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে নির্ধারিত শরিয়তসম্মত শাস্তিকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। ইমাম মালেক, শাফেয়ি এবং আবু...
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثور وأصحاب الرأي: نزلت هذه الآية فيمن خرج من المسلمين يقطع السبيل ويسعى في الأرض بالفساد، يعنون بذلك أن هذه الآية ليست خاصة بالمرتدين ولا باليهود، كما يرى بعض العلماء من المفسرين وغيرهم، ولكنها تتناول بعمومها كل من أجرم جرائم الحرابة سواء كان من المسلمين أم من غيرهم، فيحكم عليه بموجب حكمها.
সাওরি এবং রায়পন্থীগণ (أصحاب الرأي) বলেন: এই আয়াতটি ওইসব মুসলিমদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে যারা পথিমধ্যে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে বের হয় এবং জমিনে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই আয়াতটি কেবল ধর্মত্যাগীদের (مرتدين) কিংবা ইহুদিদের জন্য নির্দিষ্ট নয়—যেমনটি কিছু মুফাসসির (مفسرين) এবং অন্যান্য আলেমগণ মনে করেন। বরং এটি তার ব্যাপকতার (عموم) কারণে এমন প্রত্যেক ব্যক্তিকে শামিল করে যে হিরাবাহ (حرابة) তথা সশস্ত্র দস্যুতার অপরাধে লিপ্ত হয়, সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম; ফলে তার ওপর এই আয়াতের বিধান (حكم) অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولا بد من لفت النظر إلى أمرين مهمين، أولهما: إن الحرابة جريمة لها تأثير في الأمن العام، بما تشتمل عليه من إدخال الرعب والخوف على النفوس بصورة غير محددة. ورعاية الأمن العام من المصالح العامة التي يناط حفظها ورعايتها بولاة أمور المسلمين. والمصالح العامة يعبر عنها الفقهاء بحقوق الله، أخذاً من مثل قوله تعالى: {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ} . . .] الآية. فجعل الجناية على الأمن العام حرباً لله ورسوله ، فمواجهة الإرهاب والحرابة وما يشبه ذلك يكون من الواجبات التي تلزم ولاة الأمور، وعلى عامة المسلمين أن يكونوا من ورائهم في تحقيق ذلك الواجب. قال القرطبي رحمه الله: " وإذا أخاف المحاربون السبيل وقطعوا الطريق، وجب على الإمام قتالهم. . . ووجب على المسلمين التعاون على قتالهم وكفهم عن أذى المسلمين. ثم ذكر بعد ذلك: وإجماع أهل العلم على أنه إن قتل محارب أخا امرئ أو أباه في حال المحاربة، فليس إلى طالب الدم من أمر المحارب شيء، ولا يجوز عفو ولي الدم، والقائم بذلك الإمام، جعلوا ذلك بمنزلة حد من حدود الله تعالى " (1) . وثانيهما: أن التطبيق العملي لهذا الحد يسهم
--------------------------------------------
এবং দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি, যার প্রথমটি হলো: দস্যুবৃত্তি (حرابة) এমন একটি অপরাধ যার প্রভাব জননিরাপত্তার ওপর পড়ে, কারণ এটি মানুষের মনে অনির্দিষ্টভাবে আতঙ্ক ও ভীতি সঞ্চার করে। আর জননিরাপত্তার বিধান করা সেই সকল জনস্বার্থের (المصالح العامة) অন্তর্ভুক্ত, যার রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্ব মুসলিম শাসকদের ওপর ন্যস্ত। ফকিহগণ জনস্বার্থকে 'আল্লাহর হক' হিসেবে ব্যক্ত করেন, যা মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে...} —আয়াত। সুতরাং জননিরাপত্তার ওপর আঘাত হানাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অতএব, সন্ত্রাসবাদ, দস্যুবৃত্তি (حرابة) এবং এই জাতীয় পরিস্থিতির মোকাবিলা করা শাসকদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত এবং সাধারণ মুসলিমদের কর্তব্য হলো এই দায়িত্ব পালনে তাদের পশ্চাতে থেকে সহযোগিতা করা। ইমাম কুরতুবী (রহ.) বলেন: "যখন দস্যুরা পথ অনিরাপদ করে এবং পথরোধ করে, তখন ইমামের জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। ...এবং মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব হলো তাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পরস্পরকে সহযোগিতা করা এবং মুসলিমদের ক্ষতি সাধন থেকে তাদের বিরত রাখা।" অতঃপর তিনি এরপর উল্লেখ করেন: "বিদ্বানগণের ঐক্যমত (إجماع) রয়েছে যে, যদি কোনো দস্যু দস্যুবৃত্তিকালীন অবস্থায় কোনো ব্যক্তির ভাই বা পিতাকে হত্যা করে, তবে দস্যুর বিষয়ে রক্তের দাবিদারের কিছুই করার থাকবে না এবং রক্তের ওলীর (অভিভাবক) জন্য তাকে ক্ষমা করাও বৈধ হবে না; বরং এর বাস্তবায়নকারী হবেন ইমাম। তাঁরা একে মহান আল্লাহর নির্ধারিত দণ্ডসমূহের (حدود) পর্যায়ভুক্ত করেছেন" (১)। দ্বিতীয়ত: এই নির্ধারিত দণ্ডের (حد) ব্যবহারিক প্রয়োগ অবদান রাখে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১২)
بدون شك إسهاماً كبيراً في تحقيق الأمن للناس، وبالمقابل ينعكس إهماله وتضييعه كسائر حدود الشرع سلباً على الأمن والاستقرار، ويفتح الطريق لتفاقم الجريمة في المجتمع.
وقد يدعي بعض أعداء الإسلام زوراً أن هذا الدين يتبطن في تعاليمه أشياء تحث على اعتماد منهج العنف في التغيير، وأنه يحرض أتباعه على ممارسة أساليب إرهابية في قمع أعدائهم وإخضاعهم لسلطانه، وينشر دعوته بهذه الطريقة ، ويستدلون على هذه الدعوى عادة ببعض الآيات والأحاديث التي تأمر المسلمين بالجهاد في سبيل الله. ويصرون على تصوير حقيقة الإسلام بهذا الواقع عبر أجهزة الإعلام الغربية خاصة، ومن خلال الخبر والرأي والتحليل. وهذا مخالف لحقيقة دين الإسلام ، كيف لا وقد حصر الله سبحانه وتعالى رسالة نبيه الخاتم محمد عليه الصلاة والسلام في الرحمة للعالمين، فقال في كتابه العزيز: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} (الأنبياء - 107) .
নিঃসন্দেহে মানুষের নিরাপত্তা অর্জনে এটি বড় অবদান রাখে। পক্ষান্তরে, শরীয়তের অন্যান্য দণ্ডবিধির মতো এর প্রতি অবহেলা ও উদাসীনতা নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সমাজে অপরাধ বৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
ইসলামের কিছু শত্রু মিথ্যা দাবি করতে পারে যে, এই দ্বীনের শিক্ষার অন্তরালে এমন কিছু রয়েছে যা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সহিংসতার পথ বেছে নিতে উৎসাহিত করে। তারা আরও দাবি করে যে, এটি তার অনুসারীদের শত্রুদের দমন করতে এবং তাদের বশীভূত করার জন্য সন্ত্রাসবাদী পদ্ধতি প্রয়োগে প্ররোচিত করে এবং এভাবে তার দাওয়াত প্রচার করে। তারা সাধারণত আল্লাহর পথে জিহাদের নির্দেশ সম্বলিত কিছু আয়াত ও হাদিস দ্বারা তাদের এই দাবির স্বপক্ষে দলিল পেশ করে। তারা বিশেষ করে পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমের সংবাদ, মতামত এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইসলামের বাস্তবতাকে এই বিকৃত রূপে চিত্রায়িত করার ব্যাপারে জেদ ধরে থাকে। অথচ এটি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত রূপের পরিপন্থী। তা হবেই বা না কেন, যেখানে মহান আল্লাহ তাঁর শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবে ইরশাদ করেছেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য কেবল রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।" (আল-আম্বিয়া: ১০৭)।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ومن تأمل موقف النبي صلى الله عليه وسلم مع قومه إثر عودته من الطائف، أو موقفه في صلح الحديبية، تبين له ما في ذلك من الدلائل على حرص النبي صلى الله عليه وسلم على إيصال الهداية إلى الناس، وتفضيل الأجواء السلمية الآمنة لنشر الدعوة بينهم.
আর যে ব্যক্তি তায়েফ থেকে প্রত্যাবর্তনের পর নিজ সম্প্রদায়ের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থান, অথবা হুদায়বিয়ার সন্ধিতে তাঁর ভূমিকার কথা গভীরভাবে অনুধাবন করবেন, তাঁর নিকট মানুষের কাছে হেদায়েত পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঐকান্তিক আগ্রহ এবং তাদের মাঝে দাওয়াত প্রসারের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশকে অগ্রাধিকার প্রদানের প্রমাণসমূহ সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الثاني تعريف الأمان وأركانه وصيغه قال ابن منظور: " استأمن إليه: دخل في أمانه ، وقد أمنه وآمنه ، والمأمن: موضع الأمن ، والأمن: المستجير ليأمن على نفسه " (1) ، وقال الجوهري: " الأمان والأمانة بمعنى ، وآمنت غيري من الأمن والأمان " (2) .
فالأمان يعتمد على ركنين أساسيين ، هما المؤمن والمستأمن ، فالمستأمن: هو من طلب الأمان لنفسه ليدخل بلاد المسلمين مدة معلومة.
والمؤمن: هو الذي يعطي الأمان ، والأصل في هذا أنه الإمام أو نائبه ، لأنه ينظر إلى ما فيه مصلحة المسلمين ، ويجوز أن يكون المؤمن من أفراد الرعية من المسلمين المكلفين ذكوراً كانوا أو إناثاً ، والحر والعبد في ذلك سواء ، هذا ما عليه جمهور أهل العلم ، وخالف أبو حنيفة في أمان العبد ، فإنه لا ينعقد عنده إلا أن يكون مأذوناً له في القتال.
أما صيغ الأمان فغير مقيدة بصيغة معينة، وليس له لفظ خاص به ، بل يكفي في ذلك أي لفظ يؤدي المقصود ، سواء كان صريحاً كآجرتك وأمنتك أو لا بأس عليك أو لا فزع أو لا خوف ونحوه ، أو كناية بنية كقوله: كن كيف شئت ، أو أنت على ما تحب ، ويصح أيضاً بالمكاتبة والمراسلة ونحو ذلك (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নিরাপত্তার সংজ্ঞা, এর রুকনসমূহ এবং শব্দাবলিইবনে মানজুর বলেন: "তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার অর্থ হলো: সে তার নিরাপত্তায় প্রবেশ করল। তিনি তাকে নিরাপদ করেছেন এবং অভয় দিয়েছেন। আর 'আল-মামান' হলো নিরাপত্তার স্থান, এবং 'আল-আমান' হলো সেই ব্যক্তি যে নিজের জীবনের ওপর নিরাপত্তা পাওয়ার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করে।" (১)। আল-জাওহারী বলেন: "নিরাপত্তা এবং আমানত একই অর্থবোধক, আর আমি অন্যকে নিরাপত্তা দান করেছি শব্দটি নিরাপত্তা ও অভয় প্রদান থেকে উৎপন্ন।" (২)।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুটি মূল রুকনের ওপর নির্ভরশীল; তা হলো নিরাপত্তা প্রদানকারী এবং নিরাপত্তা গ্রহণকারী। নিরাপত্তা গ্রহণকারী হলো সেই ব্যক্তি, যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুসলিম ভূখণ্ডে প্রবেশের উদ্দেশ্যে নিজের জন্য নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
আর নিরাপত্তা প্রদানকারী হলো সেই ব্যক্তি, যে নিরাপত্তা দান করে। এ ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো যে, তিনি হবেন ইমাম অথবা তাঁর প্রতিনিধি; কারণ তিনি মুসলিমদের জনস্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়গুলো বিবেচনা করেন। তবে মুসলিম জনগণের মধ্যে শরয়ি বিধান পালনে সক্ষম (মুকাল্লাফ) যে কোনো ব্যক্তি—পুরুষ হোক বা নারী—নিরাপত্তা প্রদান করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যক্তি এবং ক্রীতদাস উভয়ই সমান। এটিই অধিকাংশ আলেমগণের অভিমত। তবে ইমাম আবু হানিফা ক্রীতদাসের নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তাঁর মতে, ক্রীতদাস যদি যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতিপ্রাপ্ত না হয়, তবে তার নিরাপত্তা দান কার্যকর হবে না।
আর নিরাপত্তা প্রদানের শব্দাবলি কোনো নির্দিষ্ট রূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় এবং এর জন্য কোনো বিশেষ শব্দও নেই। বরং এমন যেকোনো শব্দই এর জন্য যথেষ্ট যা মূল উদ্দেশ্য প্রকাশ করে। চাই তা স্পষ্ট শব্দ হোক, যেমন—'আমি তোমাকে আশ্রয় দিলাম', 'আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিলাম', অথবা 'তোমার কোনো ভীতি নেই', 'আতঙ্কিত হয়ো না', 'ভয় নেই' ইত্যাদি; অথবা নিয়তসহ ইঙ্গিতমূলক শব্দ হোক, যেমন—'তুমি যেভাবে ইচ্ছা থাকো' বা 'তুমি তোমার পছন্দ অনুযায়ী আছ'। এছাড়া পত্রালাপ এবং বার্তার মাধ্যমেও নিরাপত্তা প্রদান করা শুদ্ধ হবে (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قال ابن قدامة: "إذا دخل حربي دار الإسلام بغير أمان ، وادعى أنه رسول قبل منه ، ولم يجز التعرض له؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم لرسولي مسيلمة: «لولا أن الرسل لا تقتل لقتلتكما» . ولأن العادة جارية بذلك ، وإن ادعى أنه تاجر، وقد جرت العادة بدخول تجارهم إلينا ، لم يعرض له إن كان معه ما يبيعه؛ لأنهم دخلوا يعتقدون الأمان ، أشبه ما لو دخلوا بإشارة مسلم ، قال أحمد: " إذا ركب القوم في البحر ، فاستقبلهم فيه تجار مشركون من أرض العدو ويريدون بلاد الإسلام لم يعرضوا لهم ، ولم يقاتلوهم ، وكل من دخل بلاد المسلمين من أرض الحرب بتجارة بويع ، ولم يسأل عن شيء" (1) .
--------------------------------------------
ইবনে কুদামা বলেন: "যদি কোনো হারবি (حربي) নিরাপত্তা (أمان) ব্যতীত ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং দাবি করে যে সে একজন দূত (رسول), তবে তার সেই দাবি গ্রহণ করা হবে এবং তাকে কোনো প্রকার আক্রমণ করা বৈধ হবে না। এর কারণ হলো মুসাইলামার দুই দূতের প্রতি নবী (সা.)-এর বাণী: «যদি দূতদের (الرسل) হত্যা না করার নিয়ম না থাকতো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের দুজনকে হত্যা করতাম»। তদুপরি, এটি একটি প্রচলিত রীতি। আর সে যদি ব্যবসায়ী (تاجر) হওয়ার দাবি করে এবং আমাদের নিকট তাদের ব্যবসায়ীদের আগমনের প্রথা থাকে, তবে তার নিকট বিক্রয়যোগ্য সামগ্রী থাকলে তাকে বাধা দেওয়া হবে না; কেননা তারা নিরাপত্তা (الأمان) মনে করেই প্রবেশ করেছে। এটি অনেকটা কোনো মুসলিমের ইশারায় তাদের প্রবেশ করার সদৃশ। ইমাম আহমদ বলেন: "যখন কোনো দল সমুদ্রে ভ্রমণ করে এবং শত্রুর ভূখণ্ড থেকে আসা এমন মুশরিক ব্যবসায়ীদের সম্মুখীন হয় যারা ইসলামি ভূখণ্ডে আসার ইচ্ছা রাখে, তবে তারা যেন তাদের কোনো ক্ষতি না করে এবং তাদের সাথে যুদ্ধ না করে। দারুল হারব (أرض الحرب) থেকে যে কেউ ব্যবসা নিয়ে মুসলিমদের দেশে প্রবেশ করবে, তার সাথে লেনদেন করা হবে এবং তাকে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করা হবে না" (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث الأدلة على مشروعية الأمان من الكتاب والسنة الأصل في الأمان قوله تعالى: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ} (1) . قال ابن جرير الطبري: " يقول تعالى ذكره لنبيه وإن استأمنك - يا محمد - من المشركين الذين أمرتك بقتالهم وقتلهم بعد انسلاخ الأشهر الحرم أحد ليسمع كلام الله منك ، وهو القرآن الذي أنزل الله عليه ، [فَأَجِرْهُ] يقول: فأمنه {حَتَّى يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ} وتتلوه عليه: {ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ} يقول ثم رده بعد سماعه كلام الله إن هو أبى أن يسلم ، ولم يتعظ بما تلوته عليه من كلام الله فيؤمن إلى: [مَأْمَنَهُ] يقول: إلى حيث يأمن منك وممن في طاعتك ، حتى يلحق بداره وقومه من المشركين " (2) ، وقال ابن كثير: " يقول - تعالى - لنبيه صلى الله عليه وسلم عليه: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ} الذين أمرتك بقتالهم وأحللت لك استباحة نفوسهم وأموالهم [اسْتَجَارَكَ] أي: استأمنك فأجبه إلى طلبته حتى يسمع كلام الله ، أي: القرآن تقرؤه عليه وتذكر له
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহ থেকে নিরাপত্তার (أمان) বৈধতার (مشروعية) প্রমাণসমূহ নিরাপত্তার (أمان) মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দাও, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও। এটি এ জন্য যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না} (১)। ইবনে জারীর আত-তাবারী বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর নবীর উদ্দেশ্যে বলছেন— হে মুহাম্মদ, নিষিদ্ধ মাসসমূহ (الأشهر الحرم) অতিবাহিত হওয়ার পর যে মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করার ও তাদের হত্যা করার নির্দেশ আমি তোমাকে দিয়েছি, তাদের কেউ যদি তোমার নিকট হতে আল্লাহর কালাম শোনার জন্য নিরাপত্তা (أمان) প্রার্থনা করে—আর তা হলো সেই কুরআন যা আল্লাহ তাঁর ওপর অবতীর্ণ করেছেন—[তবে তাকে আশ্রয় দাও] অর্থাৎ তাকে নিরাপত্তা (أمان) প্রদান করো {যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পারে} এবং তুমি তা তার কাছে তিলাওয়াত করো: {অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও} অর্থাৎ আল্লাহর কালাম শোনার পর যদি সে ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এবং তুমি তার কাছে আল্লাহর যে কালাম তিলাওয়াত করেছ তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে ঈমান না আনে, তবে তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও: [তার নিরাপদ স্থানে] অর্থাৎ এমন স্থানে যেখানে সে তোমার থেকে এবং তোমার অনুসারীদের থেকে নিরাপদ (أمن) থাকবে, যতক্ষণ না সে তার নিজ আবাসে এবং তার মুশরিক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে যায়" (২)। ইবনে কাসীর বলেন: "মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলছেন: {আর মুশরিকদের মধ্যে কেউ যদি} যাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশ আমি তোমাকে দিয়েছি এবং যাদের জান ও মাল তোমার জন্য হরণ করা বৈধ (استباحة) করেছি [তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে] অর্থাৎ: তোমার কাছে নিরাপত্তা (أمان) চায়, তবে তার আবেদন মঞ্জুর করো যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অর্থাৎ: তুমি তার কাছে কুরআন তিলাওয়াত করবে এবং তার কাছে তা বর্ণনা করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৭)
شيئا من أمر الدين تقيم به عليه حجة الله: {ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ} أي: وهو آمن مستمر الأمان حتى يرجع إلى بلاده وداره ومأمنه {ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَا يَعْلَمُونَ} أي: إنما شرعنا أمان مثل هؤلاء ليعلموا دين الله وتنتشر دعوة الله في عباده " (1) .
--------------------------------------------
দ্বীনের এমন কিছু বিষয় যার মাধ্যমে আপনি তার ওপর আল্লাহর প্রমাণ (حجة) প্রতিষ্ঠিত করবেন: {অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দাও} অর্থাৎ: সে নিরাপদ থাকবে এবং তার এই নিরাপত্তা নিরবচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকবে যতক্ষণ না সে তার নিজ দেশ, গৃহ ও নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়। {এটি এই কারণে যে, তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা জানে না} অর্থাৎ: আমরা এই ধরনের ব্যক্তিদের জন্য নিরাপত্তার বিধান এই উদ্দেশ্যেই দিয়েছি যেন তারা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং তাঁর বান্দাদের মাঝে আল্লাহর দাওয়াত ছড়িয়ে পড়ে। (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والدليل عليه من السنة ما رواه علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ذمة المسلمين واحدة ، يسعى بها أدناهم ، فمن أخفر مسلماً فعليه لعنة الله والملائكة والناس أجمعين ، لا يقبل منهم صرف ولا عدل» . رواه البخاري ومسلم (1) . ورويا أيضاً عن أم هانئ رضي الله عنها أنها قالت: «يا رسول الله، قد أجرت أحمائي وأغلقت عليهم ، وإن ابن أمي أراد قتلهم ، فقال لها رسول الله صلى الله عليه وسلم: قد أجرنا من أجرت يا أم هانئ ، إنما يجير على المسلمين أدناهم» (2) . ، وأجارت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم ورضي الله عنها أبا العاص بن الربيع ، فأمضاه عليه الصلاة والسلام لها (3) . ، وعن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «يد المسلمين على من سواهم ، تتكافأ دماؤهم ، ويجير عليهم أدناهم ، ويرد عليهم أقصاهم ، وهم يد على من سواهم» (4) .
--------------------------------------------
সুন্নাহ থেকে এর প্রমাণ হলো আলী (রা.) বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “মুসলিমদের জিম্মা (নিরাপত্তার অঙ্গীকার) অভিন্ন, তাদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও তা প্রদানের চেষ্টা করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের অঙ্গীকার ভঙ্গ করবে, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ; তার কোনো ফরজ কিংবা নফল ইবাদত কবুল করা হবে না।” এটি বুখারি ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১)। তাঁরা উম্মে হানী (রা.) থেকেও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: “হে আল্লাহর রাসুল! আমি আমার কিছু শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়কে আশ্রয় দিয়েছি এবং তাদের জন্য (ঘর) বন্ধ করে দিয়েছি, কিন্তু আমার মায়ের ছেলে (আলী) তাদের হত্যা করার ইচ্ছা পোষণ করছেন।” তখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন: “হে উম্মে হানী! তুমি যাকে আশ্রয় দিয়েছ, আমরাও তাকে আশ্রয় দিলাম। নিশ্চয়ই মুসলিমদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও নিরাপত্তা দিতে পারে” (২)। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কন্যা যয়নাব (রা.) আবুল আস ইবনুর রাবিকে আশ্রয় প্রদান করেছিলেন এবং নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁর সেই আশ্রয়দানকে কার্যকর রেখেছিলেন (৩)। আমর ইবনে শুয়াইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: “অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মুসলিমরা এক হস্তস্বরূপ; তাদের রক্ত সমমানের, তাদের সাধারণ স্তরের ব্যক্তিও নিরাপত্তা দিতে পারে এবং তাদের দূরবর্তী ব্যক্তিও সেই নিরাপত্তা রক্ষা করবে; তারা অন্যদের মোকাবিলায় এক শক্তিশালী ঐক্য” (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الرابع الفرق بين الأمان والذمة والهدنة لابن القيم - رحمه الله تعالى - كلام نفيس في الفرق بين هذه المصطلحات الثلاثة وما يترتب عليها من أحكام ، حيث يقول:" الكفار إما أهل حرب وإما أهل عهد؛ وأهل العهد ثلاثة أصناف: أهل ذمة، وأهل هدنة، وأهل أمان، وقد عقد الفقهاء لكل صنف باباً فقالوا: باب الهدنة، باب الأمان، باب عقد الذمة، ولفظ الذمة والعهد يتناول هؤلاء كلهم في الأصل ، وكذلك لفظ الصلح، فإن الذمة من جنس لفظ العهد والعقد، وقولهم: هذا في ذمة فلان أصله من هذا، أي: في عهده وعقده، أي: فألزمه بالعقد والميثاق، ثم صار يستعمل في كل ما يمكن أخذ الحق من جهته، سواء وجب بعقده أو بغير عقده، وهكذا لفظ الصلح عام في كل صلح ، وهو يتناول صلح المسلمين، بعضهم مع بعض وصلحهم مع الكفار، ولكن صار في اصطلاح كثير من الفقهاء أهل الذمة عبارة عمن يؤدي الجزية، وهؤلاء لهم ذمة مؤبدة، وهؤلاء قد عاهدوا المسلمين على أن يجري عليهم حكم الله ورسوله، إذ هم مقيمون في الدار التي يجري فيها حكم الله ورسوله، بخلاف أهل الهدنة فإنهم صالحوا المسلمين على أن يكونوا في دارهم، سواء كان الصلح على مال أو غير مال،
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: নিরাপত্তা (أمان), জিম্মাহ (ذمة) এবং যুদ্ধবিরতি (هدنة)-র মধ্যে পার্থক্য ইবনুল কাইয়্যিম -রহিমাহুল্লাহ- এই তিনটি পরিভাষা এবং এগুলোর মাধ্যমে উদ্ভূত বিধানাবলির পার্থক্যের বিষয়ে অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন: "কাফেররা হয় যুদ্ধরত (أهل حرب), নতুবা চুক্তিবদ্ধ (أهل عهد)। আর চুক্তিবদ্ধরা তিন প্রকার: জিম্মি (أهل ذمة), যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত (أهل هدنة) এবং নিরাপত্তা প্রাপ্ত (أهل أمان)। ফকিহগণ (الفقهاء) প্রত্যেক প্রকারের জন্য স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন; তাঁরা বলেছেন: যুদ্ধবিরতি অধ্যায়, নিরাপত্তা অধ্যায়, জিম্মাহ চুক্তি অধ্যায়। মূলত 'জিম্মাহ' (ذمة) ও 'চুক্তি' (عهد) শব্দ দুটি এই সকলকেই অন্তর্ভুক্ত করে। অনুরূপভাবে 'সন্ধি' (صلح) শব্দটিও। কেননা 'জিম্মাহ' (ذمة) শব্দটি 'চুক্তি' (عهد) ও 'অঙ্গীকার' (عقد) জাতীয় শব্দের পর্যায়ভুক্ত। তাদের কথা— 'এটি অমুকের জিম্মায় আছে'—এর উৎস এখান থেকেই; অর্থাৎ: তার প্রতিশ্রুতি ও চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, সে একে চুক্তি ও অঙ্গীকারের (عقد) মাধ্যমে নিজের ওপর আবশ্যক করে নিয়েছে। পরবর্তীতে এটি এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেখান থেকে অধিকার আদায় করা সম্ভব, চাই তা চুক্তির মাধ্যমে ওয়াজিব হোক বা অন্য কোনোভাবে। অনুরূপভাবে 'সন্ধি' (صلح) শব্দটি সকল সন্ধির ক্ষেত্রে ব্যাপক। এটি মুসলমানদের পারস্পরিক সন্ধি এবং কাফেরদের সাথে তাদের সন্ধি—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। তবে অনেক ফকিহদের (الفقهاء) পরিভাষায় 'আহলুজ জিম্মাহ' (أهل ذمة) বলতে তাদের বোঝানো হয় যারা জিজিয়া (الجزية) প্রদান করে। এদের জন্য রয়েছে স্থায়ী জিম্মাহ (ذمة)। তারা মুসলমানদের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে যে, তাদের ওপর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান কার্যকর হবে; যেহেতু তারা এমন ভূখণ্ডে বসবাস করছে যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিধান কার্যকর হয়। পক্ষান্তরে যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত (أهل هدنة) দলটির বিষয়টি ভিন্ন, কেননা তারা মুসলমানদের সাথে এই মর্মে সন্ধি (صلح) করেছে যে তারা নিজ ভূখণ্ডেই অবস্থান করবে, চাই সেই সন্ধি (صلح) সম্পদের বিনিময়ে হোক বা সম্পদ ছাড়াই হোক।"
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২০)
لا تجري عليهم أحكام الإسلام كما تجري على أهل الذمة، ولكن عليهم الكف عن محاربة المسلمين، وهؤلاء يسمون أهل العهد وأهل الصلح وأهل الهدنة ، وأما المستأمن فهو الذي يقدم بلاد المسلمين من غير استيطان لها، وهؤلاء أربعة أقسام: رسل وتجار ومستجيرون، حتى يعرض عليهم الإسلام والقرآن، فإن شاؤوا دخلوا فيه، وإن شاؤوا رجعوا إلى بلادهم، وطالبوا حاجة من زيارة أو غيرها، وحكم هؤلاء ألا يهاجروا ولا يقتلوا ولا تؤخذ منهم الجزية، وأن يعرض على المستجير منهم الإسلام والقرآن، فإن دخل فيه فذاك وإن أحب اللحاق بمأمنه ألحق به، ولم يعرض له قبل وصوله إليه فإذا وصل مأمنه عاد حربياً كما كان" (1) .
--------------------------------------------
তাদের ওপর ইসলামের বিধানসমূহ সেভাবে প্রযোজ্য হবে না যেভাবে যিম্মিদের (أهل الذمة) ওপর প্রযোজ্য হয়, বরং তাদের ওপর মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। এদেরকে চুক্তিবদ্ধ (أهل العهد), সন্ধিবদ্ধ (أهل الصلح) এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতি পক্ষভুক্ত (أهل الهدنة) বলা হয়। আর নিরাপত্তা বিধানপ্রাপ্ত (المستأمن) হলেন তিনি, যিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্য ছাড়া মুসলিম ভূখণ্ডে আগমন করেন। এরা চার প্রকার: দূত (رسل), ব্যবসায়ী (تجار), আশ্রয়প্রার্থী (مستجيرون)—যাতে তাদের কাছে ইসলাম ও কুরআন পেশ করা যায়; এরপর তারা চাইলে ইসলাম গ্রহণ করবে, অথবা চাইলে নিজ দেশে ফিরে যাবে—এবং যারা সফর বা অন্য কোনো প্রয়োজনে আসে। এদের বিধান হলো, তারা হিজরত করবে না, তাদের হত্যা করা যাবে না এবং তাদের থেকে জিযয়া (جزية) গ্রহণ করা হবে না। তাদের মধ্যে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর কাছে ইসলাম ও কুরআন পেশ করতে হবে; যদি সে ইসলাম গ্রহণ করে তবে তো উত্তম, আর যদি সে তার নিরাপদ স্থানে ফিরে যেতে চায় তবে তাকে সেখানে পৌঁছে দিতে হবে। সেখানে পৌঁছানোর আগে তার কোনো ক্ষতি করা যাবে না। তবে সে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছে গেলে পুনরায় হারবি বা যুদ্ধরত (حربي) হিসেবে গণ্য হবে যেমনটি সে আগে ছিল।" (১) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২১)
ففي تقريره رحمه الله عدة فوائد منها: ذكر حقوق أهل الذمة، وأهل الهدنة، والمستأمنين. فجميعهم في طور العهد. ومنها: وجوب الوفاء لهم ما أوفوا. ومنها: جواز دخول التجار والرسل والعمال وأهل الحرف والصناعات ونحوهم. ومنها: أن أحكام الشرع تطبق على المعاهدين إذا كانوا يقيمون في الدار التي يجري فيها حكم الله ورسوله. ومنها: أنه لا تطبق أحكام الإسلام على أهل الهدنة إذا كانوا يقيمون في ديارهم. ومنها: جواز إعطاء أهل العهد الرخصة لزيارة أو حاجة تفيد المسلمين. فالمسلمون قد يحتاجون إلى غيرهم في الصناعة والتجارة ونحو ذلك، كالعلوم اللازمة لتقوية الشوكة والدفاع. أو في شؤون الزراعة أو الاقتصاد، فليس هناك حرج في دخول غير المسلمين في دار الإسلام من أجل هذه المقاصد بعقد وعهد.
তাঁর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) এই বিবরণে বেশ কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে; তন্মধ্যে: যিম্মি (أهل الذمة), সন্ধিবদ্ধ (أهل الهدنة) এবং নিরাপত্তাপ্রাপ্তদের (المستأمنين) অধিকারের বর্ণনা। তারা সকলেই চুক্তির (العهد) অন্তর্ভুক্ত। আরও রয়েছে: তারা যতক্ষণ চুক্তি পালন করবে, ততক্ষণ তাদের সাথে কৃত অঙ্গীকার রক্ষা করা আবশ্যিক (وجوب)। আরও রয়েছে: ব্যবসায়ী, দূত, শ্রমিক, কারিগর ও পেশাজীবী এবং তাদের ন্যায় অন্যদের প্রবেশের বৈধতা (جواز)। আরও রয়েছে: চুক্তিবদ্ধদের (المعاهدين) ওপর শরয়ি বিধানসমূহ (أحكام) প্রয়োগ করা হবে যখন তারা এমন ভূখণ্ডে অবস্থান করবে যেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শাসন পরিচালিত হয়। আরও রয়েছে: সন্ধিবদ্ধদের (أهل الهدنة) ওপর ইসলামের বিধানসমূহ (أحكام) প্রয়োগ করা হবে না যখন তারা তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে বসবাস করবে। আরও রয়েছে: মুসলিমদের উপকারে আসে এমন কোনো সফর বা প্রয়োজনে চুক্তিবদ্ধদের (أهل العهد) অনুমতি (الرخصة) প্রদানের বৈধতা (جواز)। কেননা মুসলিমরা শিল্প, বাণিজ্য এবং অনুরূপ বিষয়ে অন্যদের মুখাপেক্ষী হতে পারে, যেমন শক্তি সঞ্চয় ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, কিংবা কৃষি বা অর্থনৈতিক বিষয়াদি। সুতরাং এই সকল মহৎ উদ্দেশ্যে চুক্তি ও অঙ্গীকারের (عقد وعهد) মাধ্যমে অমুসলিমদের ইসলামি ভূখণ্ডে প্রবেশে কোনো বাধা নেই।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال شيخ الإسلام: " ولهذا ذهب طائفة من العلماء كمحمد بن جرير الطبري إلى أن الكفار لا يقرون في بلاد المسلمين بالجزية، إلا إذا كان المسلمون محتاجين إليهم، فإذا استغنوا عنهم أجلوهم كأهل خيبر، وفي هذه المسألة نزاع ليس هذا موضعه، والمقصود هنا أن الناس إذا احتاجوا إلى الطحانين والخبازين، فهذا على وجهين: أحدهما: أن يحتاجوا إلى صناعتهم، كالذين يطحنون ويخبزون لأهل البيوت، فهؤلاء يستحقون الأجرة، وليس لهم عند الحاجة إليهم أن يطالبوا إلا بأجرة المثل كغيرهم من الصنّاع، والثاني: أن يحتاجوا إلى الصنعة والبيع فيحتاجون إلى من يشتري الحنطة ويطحنها وإلى من يخبزها ويبيعها خبزاً لحاجة الناس. . . " (1) . وقال الشيخ محمد بن عثيمين: " أنا أوافق على أنه ليس عندنا أهل ذمة، لأن أهل الذمة هم الذين يخضعون لأحكام الإسلام ويؤدون الجزية وهذا مفقود من زمان طويل ، ولكن لدينا معاهدون ومستأمنون ومعاهدون معاهدة عامة ومعاهدة خاصة فمن قدم إلى بلادنا من الكفار لعمل أو تجارة وسمح له بذلك فهو إما معاهد أو مستأمن لا يجوز الاعتداء عليه ، وقد ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «من قتل معاهداً لم يرح رائحة الجنة
--------------------------------------------
শায়খুল ইসলাম বলেন: "এই কারণে মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তবারির মতো একদল আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে, অমুসলিমদের জিজয়া করের বিনিময়ে মুসলিম ভূখণ্ডে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না, তবে মুসলিমদের যদি তাদের প্রয়োজন হয় তবে ভিন্ন কথা। যখন তাদের আর প্রয়োজন থাকবে না, তখন তাদের বহিষ্কার করা হবে যেমনটা খায়বারবাসীদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। এই বিষয়ে মতভেদ রয়েছে যা আলোচনার উপযুক্ত স্থান এটি নয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো, মানুষের যখন আটা পিষানো এবং রুটি প্রস্তুতকারকদের প্রয়োজন হয়, তখন এটি দুই প্রকারের হয়: প্রথমত, তাদের কারিগরি শিল্পের প্রয়োজন হওয়া, যেমন যারা গৃহস্থালি কাজের জন্য আটা পিষে দেয় বা রুটি তৈরি করে। এরা পারিশ্রমিক পাওয়ার হকদার। যখন তাদের প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন অন্যান্য কারিগরদের মতো তাদের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিকের (أجرة المثل) অধিক দাবি করার সুযোগ নেই। দ্বিতীয়ত, কারিগরি শিল্প এবং বিক্রয় উভয়ের প্রয়োজন হওয়া, যেমন গমের ক্রেতা, পেষণকারী এবং রুটি প্রস্তুত করে মানুষের প্রয়োজনে তা বিক্রয়কারীর দরকার হওয়া..." (১)। শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে উসাইমিন বলেন: "আমি এই বিষয়ে একমত যে, আমাদের মাঝে কোনো জিম্মি (أهل ذمة) নেই। কারণ জিম্মি হলো তারা যারা ইসলামের বিধানের অনুগত থাকে এবং জিজয়া কর প্রদান করে, যা দীর্ঘকাল ধরে অনুপস্থিত। তবে আমাদের নিকট চুক্তিবদ্ধ (معاهدون) এবং নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمنون) ব্যক্তিরা রয়েছে; যাদের সাথে সাধারণ চুক্তি বা বিশেষ চুক্তি বিদ্যমান। সুতরাং অমুসলিমদের মধ্য থেকে যারা কাজ বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে আমাদের দেশে আসে এবং তাদের অনুমতি দেওয়া হয়, তারা হয় চুক্তিবদ্ধ (معاهد) অথবা নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمن)। তাদের ওপর আক্রমণ করা বৈধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এটি প্রমাণিত (ثبت) যে, তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ (معاهد) ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৩)
» . . فنحن مسلمون مستسلمون لأمر الله عز وجل محترمون لما اقتضى الإسلام احترامه من أهل العهد والأمان ، فمن أخل بذلك فقد أساء للإسلام وأظهره للناس بمظهر الإرهاب والغدر والخيانة ، ومن التزم أحكام الإسلام واحترم العهود والمواثيق فهذا هو الذي يرجى خيره وفلاحه".
فهؤلاء ومن على شاكلتهم مستأمنون لا يجوز قتالهم ولا التعرض لهم أو أذيتهم كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى.
» . . আমরা মহান আল্লাহর নির্দেশের প্রতি অনুগত মুসলিম এবং ইসলাম যাদের সম্মান করার নির্দেশ দিয়েছে সেই সকল চুক্তিবদ্ধ ও নিরাপত্তা লাভকারী (أهل العهد والأمان) ব্যক্তিবর্গের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সুতরাং যে ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করল, সে ইসলামেরই অমঙ্গল করল এবং মানুষের নিকট ইসলামকে সন্ত্রাসবাদ, বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রবঞ্চনারূপে উপস্থাপন করল। আর যে ইসলামের বিধানসমূহকে আঁকড়ে ধরল এবং অঙ্গীকার ও চুক্তিসমূহকে সম্মান করল, সেই ব্যক্তিরই কল্যাণ ও সাফল্যের আশা করা যায়।
এরা এবং এদের মতো যারা রয়েছে তারা নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمنون); তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা, তাদের ওপর চড়াও হওয়া কিংবা তাদের কষ্ট দেওয়া বৈধ নয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الخامس الواجب على المسلمين تجاه المستأمنين جعل الإسلام في شريعته الغراء حقوقاً واجبة للمستأمنين يجب الوفاء بها وأداؤها تجاههم ، وأرشد المسلمين إلى كيفية التعامل معهم ، كما أوجب عليهم حقوقاً تجاه المسلمين الذين أمنوهم في ديارهم. فمن تلك الحقوق الواجبة على المسلمين تجاههم:
1 - العدل معهم وعدم التعدي عليهم في أنفسهم وأموالهم وأعراضهم، بل ولا يجوز ترويعهم وإخافتهم، ويعاملون بالعدل والقسط.
قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (1) .
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: নিরাপত্তা অন্বেষণকারীদের (المستأمنين) প্রতি মুসলিমদের আবশ্যিক কর্তব্যইসলাম তার সুমহান শরিয়াহর বিধানে নিরাপত্তা অন্বেষণকারীদের (المستأمنين) জন্য কিছু অপরিহার্য অধিকার নির্ধারণ করেছে, যা পূরণ করা এবং তাদের প্রতি প্রদান করা আবশ্যক। ইসলাম মুসলিমদেরকে তাদের সাথে আচরণের পদ্ধতি বাতলে দিয়েছে, ঠিক যেভাবে তাদের উপরও ওই মুসলিমদের প্রতি অধিকার অর্পণ করেছে যারা তাদেরকে নিজেদের ভূখণ্ডে নিরাপত্তা প্রদান করেছে। তাদের প্রতি মুসলিমদের ওপর ওয়াজিব বা আবশ্যিক অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - তাদের সাথে ন্যায়বিচার (العدل) করা এবং তাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের ওপর কোনো প্রকার সীমালঙ্ঘন না করা; বরং তাদেরকে আতঙ্কিত করা ও ভয় দেখানোও বৈধ নয়। তাদের সাথে ন্যায়নিষ্ঠা ও ইনসাফের (القسط) সাথে আচরণ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায় সাক্ষ্যদানে দৃঢ়পদ থাক এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ না করার ব্যাপারে প্ররোচিত না করে। তোমরা ইনসাফ করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী এবং আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক অবহিত।} (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال البيضاويُّ: " لا يحملنكم شدة بغضكم للمشركين على ترك العدل فيهم، فتعتدوا عليهم بارتكاب ما لا يحل، كقذف وقتل نساء وصبية ونقض عهد تشفيًا مما في قلوبكم: {اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} أي: العدل أقرب للتقوى، صرَّح لهم بالأمر بالعدل، وبيَّن أنَّه بمكانٍ من التقوى بعدما نَهاهم عن الجور، وبيَّن أنَّه مقتضى الهوى، وإذا كان هذا العدل مع الكفار فما ظنك بالعدل مع المؤمنين " (1) .
وقال ابن كثير: " ومن هذا قول عبد الله بن رواحة رضي الله عنه «لما بعثه النبيّ صلى الله عليه وسلم يخرص على أهل خيبر ثمارهم وزرعهم، فأرادوا أن يرشوه ليرفق بِهم، فقال: والله لقد جئتكم من عند أحبِّ الخلق إليَّ، ولأنتم أبغض إليَّ من أعدادكم من القردة والخنازير، وما يحملني حبِّي إيّاه وبغضي لكم على أن لا أعدل فيكم، فقالوا: بِهذا قامت السموات والأرض» (2) .
--------------------------------------------
বায়যাভী বলেন: "মুশরিকদের প্রতি তোমাদের প্রচণ্ড বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে তাদের প্রতি ন্যায়বিচার (عدل) ত্যাগে প্ররোচিত না করে, যার ফলে তোমরা তাদের ওপর এমন কোনো সীমালঙ্ঘন করে বসো যা বৈধ নয়; যেমন- অপবাদ দেওয়া, নারী ও শিশুদের হত্যা করা এবং হৃদয়ের জ্বালা মেটানোর জন্য চুক্তি ভঙ্গ করা। {তোমরা ন্যায়বিচার (عدل) করো, তা তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী} অর্থাৎ: ন্যায়বিচার (عدل) তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী। তিনি তাদের জন্য ন্যায়বিচারের (عدل) আদেশ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং অন্যায্য আচরণ (جور) থেকে নিষেধ করার পর স্পষ্ট করেছেন যে, তা তাকওয়ার একটি উচ্চতর স্তরে অধিষ্ঠিত; আর তিনি বর্ণনা করেছেন যে, জুলুম প্রবৃত্তির (هوى) দাবি। সুতরাং এই ন্যায়বিচার (عدل) যদি কাফিরদের ক্ষেত্রে হয়, তবে মুমিনদের সাথে ন্যায়বিচারের (عدل) বিষয়ে তোমার ধারণা কী?" (১) .
ইবনে কাসির বলেন: "এর একটি উদাহরণ হলো আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি «যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে খায়বারবাসীদের ফল ও ফসলের পরিমাণ নির্ধারণ (خرص) করার জন্য পাঠালেন, তখন তারা তাঁকে ঘুষ দিতে চাইল যাতে তিনি তাদের প্রতি নমনীয় হন। তখন তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের কাছে এমন একজনের পক্ষ থেকে এসেছি যিনি আমার কাছে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়। আর তোমরা আমার কাছে তোমাদের সমসংখ্যক বানর ও শুকরের চেয়েও বেশি ঘৃণ্য। তবে তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা এবং তোমাদের প্রতি আমার ঘৃণা আমাকে তোমাদের প্রতি ন্যায়বিচার (عدل) না করতে প্ররোচিত করবে না। তখন তারা বলল: এর মাধ্যমেই আসমান ও জমিন প্রতিষ্ঠিত» (২) .
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعن صفوان بن سليم عن عدة من أبناء أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم عن آبائهم عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «ألا من ظلم معاهدًا أو انتقصه أو كلَّفه فوق طاقته، أو أخذ منه شيئًا بغير طيب نفس؛ فأنا حجيجه يوم القيامة» (1) . وعن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «من قتل معاهداً لم يرح رائحة الجنة ، وإن ريحها توجد من مسيرة أربعين عاماً» رواه البخاري. (2) .
--------------------------------------------
সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের বেশ কয়েকজন সন্তান থেকে, তাঁরা তাঁদের পিতাদের সূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: «সাবধান! যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের ওপর জুলুম করবে অথবা তার অধিকার খর্ব করবে কিংবা তাকে তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার দেবে অথবা তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ব্যতীত তার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করবে; তবে কিয়ামতের দিন আমি তার বিপক্ষে বাদী হব» (১)। এবং আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না; অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ চল্লিশ বছরের দূরত্বের পথ থেকেও পাওয়া যায়» এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। (২) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وصور تطبيق هذه التعاليم والأحكام في تاريخ المسلمين كثيرة ومتنوعة ، فقد كان عمر رضي الله عنه يسأل الوافدين عليه من الأقاليم عن حال أهل الذمة والمعاهدين ، خشية أن يكون أحد من المسلمين قد أفضى إليهم بأذى، فيقولون له:" ما نعلم إلا وفاء " أي: وفاء بمقتضى العقد والعهد الذي بينهم وبين المسلمين (1) . ودخل ذمِّيٌّ من أهل حمص أبيض الرأس واللحية على عمر بن عبد العزيز، فقال: يا أمير المؤمنين، أسألك كتاب الله. قال عمر: ما ذاك؟ قال: العبّاس بن الوليد بن عبد الملك اغتصبني أرضي. وكان عددٌ من رؤوس النّاس، وفيهم العباس بمجلس عمر، فسأله: يا عبّاس ما تقول؟ قال: نعم، أقطعنيها أبِي أمير المؤمنين، وكتب لي بِها سجلاً. فقال عمر: ما تقول يا ذمّيّ؟ قال: يا أمير المؤمنين، أسألك كتاب الله تعالى. فقال عمر: نعم، كتاب الله أحقّ أن يتبع من كتاب الوليد ، قم فاردد عليه ضيعته يا عبّاس (2) .
--------------------------------------------
মুসলিম ইতিহাসে এই শিক্ষা ও বিধানাবলি প্রয়োগের দৃষ্টান্ত বহু ও বৈচিত্র্যময়। উমর (রা.) বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত প্রতিনিধিদের কাছে জিম্মি ও চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, এই ভয়ে যে কোনো মুসলিম হয়তো তাদের কোনো ক্ষতি করেছে। তারা বলত: "আমরা কেবল চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নই জানি"; অর্থাৎ তাদের ও মুসলিমদের মাঝে বিদ্যমান চুক্তি ও অঙ্গীকারের যথাযথ পরিপালন (১)। হিমস অঞ্চলের এক শ্বেতশুভ্র কেশ ও দাড়ি বিশিষ্ট জিম্মি ব্যক্তি উমর ইবনে আব্দুল আজিজের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আপনার কাছে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার প্রার্থনা করছি। উমর জিজ্ঞাসা করলেন: বিষয়টি কী? তিনি বললেন: আব্বাস ইবনুল ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক আমার জমি আত্মসাৎ করেছেন। তখন উমরের মজলিসে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একটি দল উপস্থিত ছিল, যাদের মধ্যে আব্বাসও ছিলেন। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: হে আব্বাস, তুমি কী বলছ? তিনি বললেন: হ্যাঁ, আমার পিতা আমিরুল মুমিনীন এটি আমাকে জায়গির হিসেবে দান করেছিলেন এবং আমার সপক্ষে একটি লিখিত ফরমান প্রদান করেছিলেন। তখন উমর বললেন: হে জিম্মি, তুমি কী বলছ? তিনি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার চাই। উমর বললেন: হ্যাঁ, ওয়ালিদের ফরমানের চেয়ে আল্লাহর কিতাব অনুসরণ করাই অধিক সংগত। হে আব্বাস, ওঠো এবং তার ভূ-সম্পত্তি তাকে ফিরিয়ে দাও (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قال ابن القيم رحمه الله: " أحكام المستأمن والحربي مختلفة، لأن المستأمن يحرم قتله وتضمن نفسه ويقطع بسرقة ماله، والحربي بخلافه " (1) . وقال الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله: " لا يجوز قتل الكافر المستأمن الذي أدخلته الدولة آمناً ، ولا قتل العصاة ولا التعدي عليهم، بل يحالون للحكم الشرعي، هذه مسائل يحكمها الحكم الشرعي " (2) .
--------------------------------------------
ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمن) এবং রণাঙ্গনের যোদ্ধা (حربي)-এর বিধান ভিন্ন ভিন্ন; কেননা নিরাপত্তা প্রাপ্ত (مستأمن) ব্যক্তিকে হত্যা করা নিষিদ্ধ এবং তার জানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয় ও তার সম্পদ চুরির দায়ে হস্তচ্ছেদ করা হয়; কিন্তু রণাঙ্গনের যোদ্ধা (حربي)-এর বিষয়টি এর বিপরীত।" (১)। এবং শাইখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "রাষ্ট্র কর্তৃক নিরাপত্তা দিয়ে প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত অবিশ্বাসী নিরাপত্তা প্রাপ্ত (كافر مستأمن) ব্যক্তিকে হত্যা করা বৈধ নয়, আর না পাপাচারীদের হত্যা করা বা তাদের প্রতি সীমালঙ্ঘন করা জায়েজ; বরং তাদেরকে শরয়ি বিধানের (الحكم الشرعي) কাছে সোপর্দ করা হবে। এগুলো এমন সব বিষয় যা শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي) দ্বারা মীমাংসিত হয়।" (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইরহাবুল মুস্তামিনিন ওয়া মাওকিফুল ইসলামি মিনহু
(পৃষ্ঠা: ২৯)
2 - دعوتهم إلى الإسلام وبيان أحكامه بعلم وحكمة وأسلوب حسن
فمن خصائص هذا الدين أنه عالمي الرسالة ، ليس مقصوراً على قوم أو بلد أو زمان ، قال الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا كَافَّةً لِلنَّاسِ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ} (1) . ، وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنّه قال: «والذي نفس محمد بيده، لا يسمع بِي أحد من هذه الأمّة؛ يهوديّ ولا نصرانِي ّ، ثم يموت ولم يؤمن بالذي أرسلت به؛ إلَاّ كان من أصحاب النار» (2) . قال النوويُّ: " فيه نسخ الملل كلها برسالة نبينا صلى الله عليه وسلم " (3) .
--------------------------------------------
২ - তাদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদান এবং জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও উত্তম পন্থায় এর বিধানসমূহ বর্ণনা করা।
এই দ্বীনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো যে এটি একটি বিশ্বজনীন রিসালাত, যা কোনো নির্দিষ্ট জাতি, দেশ বা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আমি তো আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্যই সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে পাঠিয়েছি; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না} (১)। এবং আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, এই উম্মতের কোনো ব্যক্তি—সে ইহুদি হোক বা খ্রিষ্টান—যদি আমার কথা শোনে এবং আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার ওপর ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে» (২)। ইমাম নববী বলেছেন: "এতে আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রিসালাতের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সকল ধর্ম রহিতকরণের (نسخ) বিষয়টি প্রমাণিত হয়" (৩)।
--------------------------------------------