(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: -)
إغاثة اللهفان في مصايد الشيطان - ط عطاءات العلم   (ابن القيم)

القسم: الرقائق والآداب والأذكار


الكتاب: إغاثة اللهفان في مصايد الشيطان

[آثار الإمام ابن قيم الجوزية وما لحقها من أعمال (25)]

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن أيوب ابن قيم الجوزية (691 - 751)

حققه: محمد عزير شمس

خرج أحاديثه: مصطفى بن سعيد إيتيم

راجعه: سليمان بن عبد الله العمير - محمد أجمل الإصلاحي

الناشر: دار عطاءات العلم (الرياض) - دار ابن حزم (بيروت)

الطبعة: الثالثة، 1440 هـ - 2019 م (الأولى لدار ابن حزم)

عدد الأجزاء: 2 (متسلسلة الترقيم)

قدمه للشاملة: مؤسسة «عطاءات العلم»، جزاهم الله خيرا

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 11 شوّال 1442

ইগাসাতুল লাহফান ফি মাসায়িদিশ শয়তান - আতাআতুল ইলম সংস্করণ   (ইবনুল কায়্যিম)

বিভাগ: আধ্যাত্মিকতা, শিষ্টাচার ও যিকরসমূহ


গ্রন্থ: ইগাসাতুল লাহফান ফি মাসায়িদিশ শয়তান

[ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহর রচনাবলি ও সংশ্লিষ্ট গবেষণাকর্ম (২৫)]

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আইয়ুব ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (৬৯১ - ৭৫১ হিজরি)

তাহকীক: মুহাম্মদ উযাইর শামস

হাদিস তাখরীজ: মুস্তফা বিন সাঈদ ইতাম

পুনরীক্ষণ: সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ আল-উমাইর - মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহি

প্রকাশক: দারু আতাআতিল ইলম (রিয়াদ) - দারু ইবনে হাযম (বৈরুত)

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৪০ হিজরি - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ (দারু ইবনে হাযমের প্রথম সংস্করণ)

খণ্ড সংখ্যা: ২ (ধারাবাহিক পৃষ্ঠা নম্বরযুক্ত)

শামিলার জন্য উপস্থাপন: ‘আতাআতুল ইলম’ ফাউন্ডেশন, আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ অনুযায়ী প্রদান করা হয়েছে]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ১১ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١)
إغاثة اللهفان

لابن القيم

 

تحقيق

محمد عزير شمس
ইগাসাতুল লাহফান

ইবনুল কাইয়্যিম

 

সম্পাদনা ও গবেষণায়

মুহাম্মদ উযায়ের শামস
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على خير خلقه محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد، فهذا الكتاب الذي نقدِّمه إلى القراء من أعظم مؤلفات الإمام ابن القيم وأجلِّها، وهو كتاب نادر في بابه، استقصى فيه المؤلف مصايد الشيطان ومكايده، ومهَّد لها بأبواب في أمراض القلوب وعلاجها. وقد كان المؤلف من أطباء القلوب البارعين، تناول هذا الموضوع في عددٍ من كتبه بأسلوبه الخاص، يعتمد فيها على نصوص الكتاب والسنة وآثار السلف، ويمزجها بشيء من الشعر في المواعظ والآداب، ويُرشد الناس إلى إصلاح عقيدتهم وسلوكهم وتزكية نفوسهم، ويهديهم إلى الصراط المستقيم.

وقد قمت بتحقيق الكتاب بالاعتماد على مخطوطاته القديمة التي تيسَّر الحصول عليها، وأقْدَمها تلك النسخة التي كُتبت في حياة المؤلف سنة 738، وحاولت أن أستخلص نصًّا سليمًا في ضوئها كما تركه المؤلف، وصححت كثيرًا من الأخطاء والتحريفات الموجودة في الطبعات المتداولة التي صدرت بالاعتماد على طبعة الشيخ محمد حامد الفقي رحمه الله، وإن ادَّعى أصحابها أنهم اعتمدوا على بعض النسخ الخطية.

وفيما يلي دراسة عن الكتاب تحتوي على تحقيق عنوانه ونسبته إلى المؤلف، وتاريخ تأليفه، وموضوعاته ومباحثه، ومنهج المؤلف فيه، وبيان أهميته، وموارده، وأثره في الكتب اللاحقة، ووصف مخطوطاته، وطبعاته، ومنهجي في هذه الطبعة، وبالله التوفيق.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর।

অতঃপর, পাঠকদের সামনে আমরা যে গ্রন্থটি উপস্থাপন করছি, তা ইমাম ইবনুল কাইয়্যিমের মহান ও শ্রেষ্ঠ রচনাবলির অন্যতম। এটি নিজ বিষয়ে একটি অনন্য গ্রন্থ, যাতে লেখক শয়তানের ফাঁদ ও কূটচালসমূহ সবিস্তারে অনুসন্ধান করেছেন এবং এর প্রারম্ভিকা হিসেবে অন্তরের ব্যাধি ও তার প্রতিকার সংক্রান্ত কতগুলো পরিচ্ছেদ বিন্যস্ত করেছেন। গ্রন্থকার ছিলেন অন্তরের ব্যাধি নিরাময়ে এক দক্ষ চিকিৎসক। তিনি তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থে স্বীয় অনন্য শৈলীতে এই বিষয়টি আলোচনা করেছেন, যেখানে তিনি কুরআন-সুন্নাহর বাণী ও সালাফদের আসারের ওপর নির্ভর করেছেন। উপদেশ ও শিষ্টাচার বর্ণনায় তিনি সেগুলোকে কবিতার পঙ্ক্তির সাথে মিশ্রিত করেছেন। তিনি মানুষকে তাদের আকিদাহ ও আচরণের সংস্কার এবং আত্মশুদ্ধির পথ প্রদর্শন করেন এবং তাদের সিরাতুল মুস্তাকীমের দিশা প্রদান করেন।

সহজলভ্য প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর ভিত্তি করে আমি গ্রন্থটির সম্পাদনা সম্পন্ন করেছি। এগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম হলো সেই অনুলিপিটি, যা লেখকের জীবদ্দশায় ৭৩৮ হিজরি সনে অনুলিখিত হয়েছিল। আমি এর আলোকে লেখকের রেখে যাওয়া মূল বক্তব্য অনুযায়ী একটি নির্ভুল পাঠ উদ্ধার করার চেষ্টা করেছি এবং বর্তমানে প্রচলিত সংস্করণগুলোতে বিদ্যমান অনেক ভুল ও বিকৃতি সংশোধন করেছি; যে সংস্করণগুলো মূলত শায়খ মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী (রহ.)-এর সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে, যদিও সেগুলোর প্রকাশকরা দাবি করেন যে তাঁরা কিছু পাণ্ডুলিপির সহায়তা নিয়েছেন।

নিম্নে গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি পর্যালোচনা পেশ করা হলো, যা গ্রন্থটির শিরোনামের বিশুদ্ধতা ও লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের নিশ্চয়তা, রচনার ইতিহাস, বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়সমূহ, লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি, গ্রন্থের গুরুত্ব ও এর উৎসসমূহ, পরবর্তী গ্রন্থসমূহের ওপর এর প্রভাব, পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণগুলোর বিবরণ এবং বর্তমান সংস্করণে আমার গৃহীত কর্মপন্থা ধারণ করে। আল্লাহর কাছেই সকল সফলতা কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٦)
*‌‌ عنوان الكتاب:

سماه المؤلف في مقدمته "إغاثة اللهفان في مصايد الشيطان" كما هو مثبت بداخل جميع النسخ وعلى صفحة غلافها، وهي كذلك في بعض المصادر(1). وتصحفت "في" بـ "من" في معظم طبعات الكتاب، ولم أجد مستندها في المخطوطات والمصادر. وكأن الناشرين ظنُّوا أن صلة الإغاثة بـ"من" أولى، ويكون معنى العنوان: إغاثته وإخراجه من مصايد الشيطان. ولكن جميع الكتب التي ألِّفت بعنوان الإغاثة(2) إما أنها وُصِلت بالباء إذا كان المقصود بالكلمة التي تأتي بعدها ذكر الوسيلة، مثل: "إغاثة الأمة بكشف الغمة" للمقريزي، و"إغاثة اللهَّاج بفرائض المنهاج"، أو وُصِلت بـ "في" إذا كان الغرض إمداد القارئ وعونه في باب أو موضوع أو مشكلة، مثل: "إغاثة اللهفان في شرح قصيدة البردة"، و"إغاثة اللهف في تفسير سورة الكهف" لعمر بن يونس الحنفي، و"إغاثة اللهفان في تسخير الملائكة والجان" ليوسف معتوق تاج الدين البعلبكي، و"إغاثة الملهوف في عمل الخسوف والكسوف" لموسى بن شاهين الأبشادي، و"إغاثة المجدّين في تصحيح الدين بشرح أم البراهين" للقيرواني (هذا الأخير يمكن جعْلُ صلة الإغاثة فيه "في" أو الباء على اختلاف المعنى). وعلى هذه الجادة "إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان" و"إغاثة اللهفان في مصايد الشيطان". فينبغي تصحيح الخطأ الشائع في عنوان هذا الكتاب.

--------------------------------------------

(1) كشف الظنون (1/ 129) وهدية العارفين (2/ 158) وغاية الأماني (2/ 5).

(2) انظر: كشف الظنون (1/ 128، 129) وذيل كشف الظنون (1/ 105، 106).

‌ গ্রন্থের শিরোনাম:

লেখক তাঁর ভূমিকার মধ্যে গ্রন্থটির নামকরণ করেছেন "ইগাছাতুল লাহফান ফি মাসায়িদিশ শয়তান" (শয়তানের ফাঁদসমূহে ব্যাকুল ব্যক্তির উদ্ধার), যা সকল পাণ্ডুলিপির অভ্যন্তরে এবং এর প্রচ্ছদ পৃষ্ঠায় প্রমাণিত রয়েছে। কিছু উৎসেও এভাবেই পাওয়া যায়(১)। বইটির অধিকাংশ মুদ্রণে 'ফি' (في) অব্যয়টি 'মিন' (من) দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, তবে পাণ্ডুলিপি বা উৎসগুলোতে আমি এর কোনো ভিত্তি পাইনি। মনে হয় প্রকাশকরা ধারণা করেছিলেন যে, 'ইগাছা' (উদ্ধার) শব্দের সাথে 'মিন' (থেকে) অব্যয়টির সংযোগ অধিকতর সমীচীন, যাতে শিরোনামের অর্থ দাঁড়ায়: তাকে শয়তানের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা ও বের করে আনা। কিন্তু 'ইগাছা' শিরোনামে রচিত সমস্ত গ্রন্থই হয় 'বা' (بـ) অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে যদি পরবর্তী শব্দ দ্বারা মাধ্যম বোঝানো উদ্দেশ্য হয়, যেমন: মাকরিজির "ইগাছাতুল উম্মাহ বি-কাশফিল গুম্মাহ" এবং "ইগাছাতুল লাহহাজ বি-ফারায়িদিল মিনহাজ"। অথবা 'ফি' (في) অব্যয় দ্বারা যুক্ত হয়েছে যদি উদ্দেশ্য হয় কোনো অধ্যায়, বিষয় বা সমস্যায় পাঠককে রসদ বা সাহায্য প্রদান করা, যেমন: "ইগাছাতুল লাহফান ফি শারহি কাসিদাতিল বুরদাহ", উমর ইবনে ইউনুস আল-হানাফির "ইগাছাতুল লাহফ ফি তাফসিরি সুরাতিল কাহফ", ইউসুফ মা'তুক তাজউদ্দীন আল-বা'লাবাক্কির "ইগাছাতুল লাহফান ফি তাসখিরিল মালাইকাতি ওয়াল জান", মুসা ইবনে শাহিন আল-আবশাদির "ইগাছাতুল মালহুফ ফি আমালিল খুসুফি ওয়াল কুসুফ", এবং আল-কায়রাওয়ানির "ইগাছাতুল মুজাদ্দিন ফি তাসহিহিদ দিন বি শারহি উম্মিল বারাহিন" (শেষোক্ত গ্রন্থটিতে অর্থের ভিন্নতা অনুযায়ী 'ফি' অথবা 'বা' উভয়ই ব্যবহার করা যেতে পারে)। এই পদ্ধতি অনুসারেই "ইগাছাতুল লাহফান ফি হুকমি তালাকিল গাদবান" এবং "ইগাছাতুল লাহফান ফি মাসায়িদিশ শয়তান" শিরোনামগুলো গঠিত। অতএব, এই গ্রন্থের শিরোনামে প্রচলিত ভুলটি সংশোধন করা আবশ্যক।

--------------------------------------------

(১) কাশফুয যুনুন (১/ ১২৯), হাদিয়াতুল আরিফিন (২/ ১৫৮) এবং গায়াতুল আমানি (২/ ৫)।

(২) দ্রষ্টব্য: কাশফুয যুনুন (১/ ১২৮, ১২৯) এবং যাইলু কাশফিয যুনুন (১/ ১০৫, ১০৬)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٧)
وورد ذكره في بعض المصادر(1) بعنوان: "إغاثة اللهفان من مكايد الشيطان"، ويمكن توجيهه بأن المؤلف أكثر من ذكر كلمة "مكايد" بمقابل "المصايد"، وكلاهما متقارب. وربما كانت بعض نسخها بهذا العنوان.

وذكرته أغلب المصادر بعنوان "مصايد الشيطان"(2) بالاقتصار على الجزء الثاني منه، وتحرف ذلك إلى "مصائد السلطان" في كشف الظنون (2/ 1704) مع أن هناك التصريح بعنوانه الكامل بلفظ "الشيطان" على الصواب. واقتصرت بعض المصادر(3) على الجزء الأول من العنوان "إغاثة اللهفان". ومثل هذا الاختصار شائع ومعروف في الكتب، ولا يُعتبر مخالفًا للعنوان الكامل. وهذا العنوان المختصر ذُكر في أغلب المصادر التي اقتبست من الكتاب، كما سيأتي.

وهو مشهور بين أهل العلم باسم "الإغاثة الكبرى" تمييزًا له عن "الإغاثة الصغرى" في حكم طلاق الغضبان.

وأغرب صاحب شذرات الذهب (6/ 170) فكرّر ذكره في ترجمة ابن القيم بعنوان "مصايد الشيطان" و"إغاثة اللهفان من مكايد الشيطان"، وهو وهمٌ منه.

--------------------------------------------

(1) شذرات الذهب (5/ 339، 6/ 170) وغذاء الألباب (1/ 246). وهو مكتوب كذلك على صفحة الغلاف من نسخة الظاهرية، على خلاف ما بداخلها.

(2) المنتقى من معجم شيوخ ابن رجب (ص 101)، ذيل طبقات الحنابلة (2/ 450)، الدرر الكامنة (3/ 402)، المنهج الأحمد (5/ 95)، الدرّ المنضد (2/ 522)، شذرات الذهب (6/ 170)، البدر الطالع (2/ 144).

(3) لسان الميزان (7/ 518).

কোনো কোনো উৎসে(১) এটি "ইগাসাতুল লাহফান মিন মাকাইদিশ শয়তান" শিরোনামে উল্লেখিত হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে যে, লেখক "মাসায়িদ" (ফাঁদ)-এর বিপরীতে "মাকাইদ" (চক্রান্ত) শব্দটি অধিক ব্যবহার করেছেন এবং শব্দ দুটি অর্থগতভাবে কাছাকাছি। সম্ভবত এই কিতাবের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপি এই শিরোনামেই ছিল।

অধিকাংশ উৎস কিতাবটির শিরোনাম কেবল দ্বিতীয় অংশের ওপর সীমাবদ্ধ রেখে "মাসায়িদুশ শয়তান"(২) হিসেবে উল্লেখ করেছে। "কাশফুয যুনুন" (২/ ১৭০৪)-এ এটি বিকৃত হয়ে "মাসায়িদুস সুলতান" হয়ে গেছে, যদিও সেখানে কিতাবটির পূর্ণ শিরোনামে সঠিকভাবে "শয়তান" শব্দটির সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। আবার কিছু উৎস(৩) শিরোনামের কেবল প্রথম অংশ "ইগাসাতুল লাহফান" উল্লেখ করেছে। বইপত্রের ক্ষেত্রে এ ধরনের সংক্ষিপ্তকরণ বহুল প্রচলিত ও পরিচিত এবং এটি পূর্ণ শিরোনামের পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হয় না। এই সংক্ষিপ্ত শিরোনামটিই সেই সব অধিকাংশ উৎসে বর্ণিত হয়েছে যেগুলোতে কিতাবটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে, যা সামনে বিস্তারিত আসবে।

এটি আলেমদের নিকট "আল-ইগাসাতুল কুবরা" নামে প্রসিদ্ধ, যাতে একে রাগান্বিত ব্যক্তির তালাকের বিধান সংক্রান্ত গ্রন্থ "আল-ইগাসাতুস সুগরা" থেকে পৃথক করা যায়।

"শাযারাতুয যাহাব"-এর লেখক (৬/ ১৭০) এক অদ্ভুত কাজ করেছেন; তিনি ইবনুল কাইয়্যিমের জীবনীতে কিতাবটিকে "মাসায়িদুশ শয়তান" এবং "ইগাসাতুল লাহফান মিন মাকাইদিশ শয়তান" নামে দুবার উল্লেখ করেছেন, যা মূলত তাঁর একটি ভ্রম।

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব (৫/ ৩৩৯, ৬/ ১৭০) এবং গিযাউল আলবাব (১/ ২৪৬)। যাহিরিয়্যাহ পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদেও এমনটিই লেখা আছে, যদিও পাণ্ডুলিপির ভেতরের তথ্য এর বিপরীত।

(২) আল-মুনতাকা মিন মু'জামি শুয়ুখি ইবনি রাজাব (পৃ. ১০১), যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ৪৫০), আদ-দুরাকুল কামিনাহ (৩/ ৪০২), আল-মানহাজুল আহমাদ (৫/ ৯৫), আদ-দুররুল মুনাদ্দাদ (২/ ৫২২), শাযারাতুয যাহাব (৬/ ১৭০), আল-বাদরুত তালি' (২/ ১৪৪)।

(৩) লিসানুল মিজান (৭/ ৫১৮)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٨)
*‌‌ تحقيق نسبته إلى المؤلف:

هذا الكتاب من أشهر مؤلفات ابن القيم وأعظمها وأجلّها، وقد ذكره المترجمون له كما سبق. والدراسة المتأنية له تؤكِّد صحة نسبته إليه، ففي الكتاب شواهد متعددة تدلُّ على أنه لابن القيم، وفيما يلي بيانها:

أولًا: إشارة المؤلف في مواضع منه إلى مؤلفاتٍ أخرى له وهي ثابتة النسبة إلى ابن القيم، مثل قوله: "وقد ذكرنا الكلام على أسرار هذين المثلين وبعض ما تضمناه من الحكم في كتاب المعالم وغيره" (ص 32)، وكتاب "المعالم" هو المعروف بعنوان "إعلام الموقعين"، والموضوع المشار إليه موجود فيه (1/ 150 ــ 152).

وقال: "كلام أمثاله [أي الرازي] في مثل ذلك كثير جدًّا قد ذكرناه في كتاب الصواعق وغيره" (ص 72). وفي موضع آخر: "وقد بسطنا هذا المعنى [أي مبحث المجاز] واستوفينا الكلام عليه في كتاب "الصواعق المرسلة على الجهمية والمعطلة" (ص 826). وهذا من أشهر كتب ابن القيم، وفيه الكلام المفصل على المجاز، والرد على الرازي وغيره من المتكلمين.

وأشار في موضعين منه إلى كتاب "مفتاح دار السعادة"، فقال (ص 842): "وقد أشبعنا الرد على هؤلاء [أي أصحاب النجوم] في كتابنا الكبير المسمى بالمفتاح". وقال (ص 861): "ومن قال: إن ذلك [أي استحسان صفات الكمال واستقباح أضدادها] لا يُعلَم بالعقل ولا بالفطرة، وإنما عُرِف بمجرد السمع فقوله باطل، قد بيَّنا بطلانه في كتاب المفتاح من ستين وجهًا، وبيَّنا هناك دلالة القرآن والسنة والعقول والفِطَر على فساد هذا القول". والمبحثان المشار إليهما في مفتاح دار السعادة (2/ 125 وما بعدها، 2/ 2 ــ 118).
লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের প্রামাণিকতা:

এই গ্রন্থটি ইবনুল কাইয়্যিমের অন্যতম প্রসিদ্ধ, মহান এবং শ্রেষ্ঠ সংকলন। তাঁর জীবনীকারগণ ইতিপূর্বে উল্লিখিত বর্ণানুসারে এই গ্রন্থটি তাঁর বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রন্থটি নিবিড়ভাবে অধ্যয়ন করলে লেখকের প্রতি এর সম্বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত হয়; কেননা এতে এমন অনেক প্রমাণ বিদ্যমান যা নির্দেশ করে যে এটি ইবনুল কাইয়্যিমেরই রচনা। নিম্নে তার বিবরণ দেওয়া হলো:

প্রথমত: লেখক এই গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে তাঁর অন্যান্য রচনার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যা ইবনুল কাইয়্যিমের রচনা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। যেমন তাঁর উক্তি: "আমরা এই দুটি দৃষ্টান্তের নিগূঢ় রহস্য এবং এর অন্তর্ভুক্ত কিছু হিকমত সম্পর্কে 'আল-মাআলিম' ও অন্যান্য কিতাবে আলোচনা করেছি" (পৃ. ৩২)। এই 'আল-মাআলিম' কিতাবটি মূলত 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' শিরোনামে সুপরিচিত এবং আলোচ্য বিষয়টি সেখানে বিদ্যমান (১/১৫০-১৫২)।

তিনি আরও বলেছেন: "তাঁর [অর্থাৎ আর-রাজি] মতো ব্যক্তিদের এই জাতীয় বক্তব্য প্রচুর রয়েছে, যা আমরা 'আস-সাওয়ায়িক' ও অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করেছি" (পৃ. ৭২)। অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: "আমরা এই বিষয়টি [অর্থাৎ রূপক বা মাজায সংক্রান্ত আলোচনা] বিস্তারিত বর্ণনা করেছি এবং 'আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ আলাল জাহমিয়্যাহ ওয়াল মুয়াত্তিলাহ' গ্রন্থে এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করেছি" (পৃ. ৮২৬)। এটি ইবনুল কাইয়্যিমের অন্যতম প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, যাতে রূপক (মাজায) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং আর-রাজি ও অন্যান্য কালামশাস্ত্রবিদদের খণ্ডন রয়েছে।

তিনি গ্রন্থটির দুটি স্থানে 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' কিতাবের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি বলেন (পৃ. ৮৪২): "আমরা আমাদের 'আল-মিফতাহ' নামক বৃহৎ গ্রন্থে এদের [অর্থাৎ জ্যোতিষীদের] প্রতিবাদে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।" তিনি আরও বলেন (পৃ. ৮৬১): "যে ব্যক্তি বলে: এটি [অর্থাৎ পূর্ণতার গুণাবলিকে উত্তম এবং এর বিপরীতকে মন্দ সাব্যস্ত করা] কেবল বিবেক বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি (ফিতরাত) দ্বারা জানা যায় না, বরং কেবল শ্রুতির (নকলি দলিল) মাধ্যমেই জানা যায়—তার এই কথা বাতিল। আমরা 'আল-মিফতাহ' গ্রন্থে ষাটটি দিক থেকে এর অসারতা প্রমাণ করেছি এবং সেখানে এই মতবাদের ভ্রান্তি সম্পর্কে কুরআন, সুন্নাহ, বিবেক ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তির প্রমাণাদি বর্ণনা করেছি।" 'মিফতাহু দারিস সাআদাহ' গ্রন্থে এই দুটি আলোচ্য বিষয় যথাক্রমে (২/১২৫ ও পরবর্তী পৃষ্ঠা এবং ২/২–১১৮) পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٩)
وتحدث في موضع عن الإرادة الكونية والشرعية ثم قال: "وقد أشبعنا الكلام في ذلك في كتابنا الكبير في القدر" (ص 94). والمقصود به كتاب "شفاء العليل في القضاء والقدر والحكمة والتعليل"، والموضوع المذكور في الباب التاسع والعشرين منه.

وتكلم في موضوع السماع وقال في آخره: "وقد ذكرنا شُبه المغنيين والمفتونين بالسماع الشيطاني، ونقضناها نقضًا وإبطالًا في كتابنا الكبير في السماع، وذكرنا الفرق بين ما يحركه سماع الأبيات وما يحركه سماع الآيات، وذكرنا الشُّبه التي دخلت على كثير من العُبّاد في حضوره حتى عدُّوه من القُرَب. فمن أحبَّ الوقوف على ذلك فهو مستوفًى في ذلك الكتاب، وإنما أشرنا ههنا إلى نبذة يسيرة في كونه من مكايد الشيطان" (ص 472). والمقصود بالكتاب الكبير كتابه "الكلام على مسألة السماع"، فقد أشبع فيه الكلام على السماع من جميع النواحي.

ولما ذكر الأخذ باللَّوث الظاهر في الحدود قال: "وقد أشبعنا الكلام في ذلك في كتاب الإعلام باتساع طرق الأحكام" (ص 833) وقد توسَّع ابن القيم في البحث عن هذا الموضوع في أول كتابه المعروف "الطرق الحكمية في السياسة الشرعية"، فإما أن يكون المقصود به هذا الكتاب، أو كتاب آخر مستقل بالعنوان المذكور لم يذكره المترجمون له، وانفرد بذكره المؤلف.

 

ثانيًا: ذِكْره لشيخه شيخ الإسلام ابن تيمية بقوله: "شيخنا"، وسماعه منه وسؤاله له ونقلُه عنه في مواضع كثيرة من الكتاب، ويمكن معرفة جميع هذه المواضع بفهرس الأعلام. وكثير من هذه الفوائد والتحقيقات لا توجد في
তিনি এক স্থানে মহাজাগতিক (কাওনি) ও শরয়ী ইচ্ছা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং তারপর বলেছেন: "আমরা আমাদের তাকদীর বিষয়ক বৃহৎ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি" (পৃ. ৯৪)। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো "শিফাউল আলীল ফি আল-কাদা ওয়াল কাদার ওয়াল হিকমাহ ওয়াত তা'লীল" নামক গ্রন্থটি, আর আলোচিত বিষয়টি উক্ত গ্রন্থের ২৯তম অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

তিনি সামা (বাদ্য বা গান শ্রবণ) প্রসঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং এর শেষে বলেছেন: "আমরা শয়তানি সামার মাধ্যমে বিভ্রান্ত গায়ক ও ফিতনাগ্রস্তদের সংশয়গুলো উল্লেখ করেছি এবং আমাদের সামা বিষয়ক বৃহৎ গ্রন্থে সেগুলো সম্পূর্ণরূপে খণ্ডন ও বাতিল করেছি। কবিতার শ্রবণ এবং আয়াতের শ্রবণের ফলে মনে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তার পার্থক্য আমরা সেখানে ব্যাখ্যা করেছি। আরও উল্লেখ করেছি সেইসব সংশয় যা অনেক ইবাদতকারীর মনে এর উপস্থিতির কারণে প্রবেশ করেছে, এমনকি তারা একে আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবেও গণ্য করেছে। সুতরাং যারা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, তারা সেই কিতাবটি অধ্যয়ন করতে পারেন; আমরা এখানে শয়তানের চক্রান্তের অংশ হিসেবে এর একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত দিয়েছি মাত্র" (পৃ. ৪৭২)। এখানে বৃহৎ গ্রন্থ বলতে তাঁর "আল-কালামু আলা মাসআলাতিস সামা" গ্রন্থটিকে বোঝানো হয়েছে, যাতে তিনি সামা সংক্রান্ত সকল দিক অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

যখন তিনি দণ্ডবিধির (হুদুদ) ক্ষেত্রে বাহ্যিক আলামত বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য (লাউস) গ্রহণের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন: "আমরা 'আল-ইলাম বি-ইত্তিসা তুরুকিল আহকাম' গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি" (পৃ. ৮৩৩)। ইবনুল কায়্যিম তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ "আত-তুরুকুল হুকমিয়্যাহ ফিস সিয়াসাতিল শারইয়্যাহ"-এর শুরুতে এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেছেন। সুতরাং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয়তো এই গ্রন্থটি হতে পারে, অথবা উল্লিখিত শিরোনামে অন্য কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ হতে পারে যা তাঁর জীবনীকারগণ উল্লেখ করেননি এবং কেবল লেখকই এটি উল্লেখ করেছেন।

 

দ্বিতীয়ত: তিনি তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ-কে "আমাদের শাইখ" বলে সম্বোধন করেছেন। বইটির অনেক স্থানে তিনি তাঁর কাছ থেকে সরাসরি শোনা কথা, তাঁকে করা প্রশ্ন এবং তাঁর থেকে বিভিন্ন উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। নির্ঘণ্ট বা নামসূচির (ফাহরাসুল আলাম) মাধ্যমে এই সকল স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব। এই সব জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও সূক্ষ্ম গবেষণালব্ধ তথ্যের অনেক কিছুই অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٠)
كتب شيخ الإسلام المطبوعة، وانفرد بذكرها المؤلف في هذا الكتاب. كما ذكر بعض الأحداث التي عاصرها والأمور التي شاهدها، مثل قوله: "وقد كان بدمشق كثير من هذه الأنصاب، فيسَّر الله سبحانه كسرها على يد شيخ الإسلام وحزب الله الموحدين، كالعمود المخلَّق، والنُّصب الذي كان بمسجد النارنج عند المصلى يعبده الجهال، والنُّصب الذي كان تحت الطاحون الذي عند مقابر النصارى، ينتابه الناس للتبرك به، وكان صورة صنم في نهر القلّوط ينذرون له ويتبركون به، وقطع الله سبحانه النُّصب الذي كان عند الرحبة، يُسرج عنده ويتبرك به المشركون، وكان عمودًا طويلًا على رأسه حجر كالكُرة، وعند مسجد درب الحجر نُصب قد بُني عليه مسجد صغير، يعبده المشركون، يسَّر الله كسره" (ص 382، 383).

وذكر ما كان يقوم به أهل السماع في زمنه في المسجد الأقصى ومسجد الخيف بمنى والمسجد الحرام، فقال: "ومن أعظم المنكرات تمكينهم من إقامة هذا الشعار الملعون هو [أي السماع] وأهلُه في المسجد الأقصى عشيَّةَ عرفة، ويقيمونه أيضًا في مسجد الخيف أيام منًى، وقد أخرجناهم منه بالضرب والنفي مرارًا. ورأيتهم يقيمونه بالمسجد الحرام نفسه والناسُ في الطواف، فاستدعيتُ حزبَ الله وفرَّقنا شَمْلَهم. ورأيتهم يقيمونه بعرفات، والناس في الدعاء والتضرع والابتهال والضجيج إلى الله، وهم في هذا السماع الملعون باليراع والدفّ والغناء" (ص 411، 412).

وذكر تصنيف شيخ الإسلام ابن تيمية في ردّ المنطق كتابين فقال: "وآخر من صنَّف في ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية، ألَّف في ردّه وإبطاله كتابين: كبيرًا وصغيرًا، بيَّن فيه تناقضه وتهافته وفساد كثير من أوضاعه" (ص 1022).
শাইখুল ইসলামের মুদ্রিত গ্রন্থসমূহ, যা লেখক এই কিতাবে এককভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক কিছু ঘটনা এবং যা তিনি সচক্ষে দেখেছেন তাও উল্লেখ করেছেন। যেমন তাঁর উক্তি: "দামেস্কে এই ধরণের অনেক প্রতিমা ও বেদী ছিল। মহান আল্লাহ শাইখুল ইসলাম এবং একত্ববাদী আল্লাহর দলের মাধ্যমে সেগুলো ভেঙে ফেলা সহজ করে দিয়েছিলেন। যেমন 'আল-আমদ আল-মুখাল্লাক' (সুগন্ধি মাখানো স্তম্ভ), এবং মুসাল্লার নিকটবর্তী নারঞ্জ মসজিদের সেই বেদীটি যা মূর্খরা পূজা করত। আরও ছিল খ্রিস্টানদের কবরস্থানের কাছের যাঁতাকলের নিচের সেই বেদীটি, যেখানে মানুষ বরকত লাভের জন্য যাতায়াত করত। কাল্লুত নদীতে একটি মূর্তির অবয়ব ছিল যার উদ্দেশ্যে তারা মানত করত ও বরকত প্রার্থনা করত। এছাড়া মহান আল্লাহ রাহবার নিকটবর্তী বেদীটি নির্মূল করেছেন, যেখানে মুশরিকরা প্রদীপ জ্বালাত ও বরকত প্রার্থনা করত; সেটি ছিল একটি দীর্ঘ স্তম্ভ যার মাথায় গোলকের মতো একটি পাথর ছিল। দারবুল হাজার মসজিদের কাছে একটি বেদী ছিল যার ওপর ছোট একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল এবং মুশরিকরা তার পূজা করত; আল্লাহ সেটি ভাঙা সহজ করে দিয়েছেন" (পৃষ্ঠা ৩৮২, ৩৮৩)।

তিনি তাঁর যুগে মসজিদুল আকসা, মিনায় মসজিদে খাইফ এবং মসজিদুল হারামে 'সামা' (বাদ্যযন্ত্রসহ গান) পন্থীদের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন: "সবচেয়ে বড় গর্হিত কাজের অন্তর্ভুক্ত হলো আরাফার সন্ধ্যায় মসজিদুল আকসায় এই অভিশপ্ত প্রথা [অর্থাৎ সামা] এবং এর অনুসারীদের তা পালনের সুযোগ দেওয়া। তারা এটি মিনার দিনগুলোতে মসজিদে খাইফেও পালন করত; আমরা তাদের বারবার প্রহার ও বহিষ্কারের মাধ্যমে সেখান থেকে বের করে দিয়েছি। আমি তাদের খোদ মসজিদুল হারামেও এটি করতে দেখেছি যখন মানুষ তাওয়াফে লিপ্ত ছিল, তখন আমি আল্লাহর দলভুক্ত লোকদের ডাকি এবং আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিই। আমি তাদের আরাফাতেও এটি করতে দেখেছি, যখন মানুষ আল্লাহর দরবারে দোয়া, রোনাজারি, মিনতি ও ক্রন্দনে মগ্ন ছিল, আর তারা বাঁশি, দফ ও গানের মাধ্যমে এই অভিশপ্ত সামায় লিপ্ত ছিল" (পৃষ্ঠা ৪১১, ৪১২)।

তিনি যুক্তিবিদ্যার খণ্ডনে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহর দুটি গ্রন্থ রচনার কথা উল্লেখ করে বলেন: "এ বিষয়ে সর্বশেষ যিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন তিনি হলেন শাইخুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ। তিনি এর খণ্ডন ও অসারতা প্রমাণে বড় ও ছোট দুটি কিতাব লিখেছেন, যাতে তিনি এর স্ববিরোধিতা, অসারতা এবং এর অনেক ভিত্তির ত্রুটি বর্ণনা করেছেন" (পৃষ্ঠা ১০২২)।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١١)
وذكر أيضًا من مؤلفات شيخه: "إبطال التحليل" (ص 479، 775) و"الجواب الصحيح لمن بدَّل دين المسيح" (ص 1139). واستفاد من كتبه الأخرى دون تسميتها، كما نبّهنا على ذلك في هوامش الكتاب.

إضافةً إلى هذه الشواهد الداخلية هناك من نقل عنه واقتبس منه نصوصًا توجد في الكتاب الذي بين أيدينا. وسيأتي ذكر بعضٍ منها في بيان أثر الكتاب في المؤلفات اللاحقة.

 

*‌‌ تاريخ تأليفه:

إن أقدم النسخ التي وصلت إلينا من الكتاب كُتبت سنة 738 في حياة المؤلف، وبما أن أغلب كتبه ألَّفها بعد وفاة شيخه سنة 728، فيكون تأليفه لهذا الكتاب بين هاتين السنتين. وقد ألَّف في هذه الفترة بعض كتبه التي أشار إليها هنا، مثل: "مفتاح دار السعادة" و"شفاء العليل" و"الصواعق المرسلة" و"إعلام الموقعين" و"الإعلام باتساع طرق الأحكام". ويُشكل عليه أنه ذكر فيه كتابه الكبير في السماع الذي ألَّفه سنة 740 ردًّا على سؤال وُجِّه إليه وإلى غيره من العلماء(1). فإما أنه يقصد هنا كتابًا آخر ألَّفه قبل سنة 738 أو أنه يشير إلى كتابه المعروف في السماع الذي جمع مادته ولم يكمله قبل هذه السنة، ولكنه أخرجه بمناسبة استفتائه في هذا الموضوع سنة 740. وهذا الاحتمال هو الراجح، فالوصف المذكور في "الإغاثة" لكتابه الكبير في السماع ينطبق على الكتاب الموجود. وكثيرًا ما يشير ابن القيم وغيره من المؤلفين في كتبهم إلى مؤلفاتهم التي تكون في طور الإعداد والتأليف، ولم يتمكنوا من نشرها وإخراجها للناس إلّا بعد مدة.

--------------------------------------------

(1) انظر مقدمة "الكلام على مسألة السماع" (ص 22).

তিনি তাঁর শাইখের রচনাবলির মধ্য থেকে আরও উল্লেখ করেছেন: "ইবতালুত তাহলিল" (পৃষ্ঠা ৪৭৯, ৭৭৫) এবং "আল-জাওয়াবুস সহিহ লিমান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ" (পৃষ্ঠা ১১৩৯)। তিনি তাঁর নাম উল্লেখ না করেই শাইখের অন্যান্য কিতাব থেকেও উপকৃত হয়েছেন, যেমনটি আমরা কিতাবের টীকাসমূহে নির্দেশ করেছি।

এই অভ্যন্তরীণ প্রমাণাদি ছাড়াও, এমন অনেকে রয়েছেন যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটিতে বিদ্যমান পাঠ্যাংশগুলো উদ্ধৃত করেছেন। পরবর্তী রচনাবলির ওপর এই কিতাবের প্রভাব বর্ণনার ক্ষেত্রে এগুলোর কিছু বিষয় সামনে আসবে।

 

*‌‌ রচনার ইতিহাস:

আমাদের কাছে পৌঁছানো এই কিতাবটির প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপিটি লেখকের জীবদ্দশায় ৭৩৮ হিজরিতে অনুলিপি করা হয়েছিল। যেহেতু লেখক তাঁর অধিকাংশ কিতাব ৭২৮ হিজরিতে তাঁর শাইখের ইন্তেকালের পর রচনা করেছেন, সেহেতু এই কিতাবটির রচনার সময়কাল এই দুই বছরের মধ্যবর্তী সময়ে হবে। তিনি এই সময়ের মধ্যেই তাঁর এমন কিছু কিতাব রচনা করেছেন যেগুলোর ইঙ্গিত এখানে দিয়েছেন, যেমন: "মিফতাহু দারিস সা'আদাহ", "শিফাউল আলিল", "আস-সাওয়াইকুল মুরসালাহ", "ই'লামুল মুয়াক্কি'ইন" এবং "আল-ই'লাম বি-ইত্তিসা'ই তুরুকিল আহকাম"। তবে এখানে একটি জটিলতা দেখা দেয় যে, তিনি এতে সামা (গান-বাদ্য) বিষয়ক তাঁর সেই সুবিশাল কিতাবটির কথা উল্লেখ করেছেন যা তিনি ৭৪০ হিজরিতে তাঁর এবং অন্যান্য আলেমদের নিকট প্রেরিত একটি প্রশ্নের জবাবে লিখেছিলেন(১)। এমতাবস্থায়, হয় তিনি এখানে অন্য কোনো কিতাব বুঝিয়েছেন যা তিনি ৭৩৮ হিজরির আগে লিখেছিলেন, অথবা তিনি সামা বিষয়ক তাঁর সেই প্রসিদ্ধ কিতাবটির দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যার বিষয়বস্তু তিনি সংগ্রহ করেছিলেন কিন্তু এই বছরের আগে তা সম্পন্ন করতে পারেননি। তবে ৭৪০ হিজরিতে এই বিষয়ে তাঁর নিকট ফতোয়া চাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি তা প্রকাশ করেন। আর এই সম্ভাবনাটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত; কারণ "আল-ইগাছাহ" গ্রন্থে তাঁর সামা বিষয়ক বড় কিতাবটির যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান কিতাবটির সাথে হুবহু মিলে যায়। ইবনুল কাইয়্যিম এবং অন্যান্য লেখকগণ প্রায়শই তাঁদের কিতাবসমূহে এমন সব রচনার কথা উল্লেখ করেন যা তখন প্রস্তুতি বা লিখন পর্যায়ে থাকে এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে তা সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করতে সক্ষম হন না।

--------------------------------------------

(১) "আল-কালামু আলা মাসআলাতিস সামা" (পৃষ্ঠা ২২) এর ভূমিকা দেখুন।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٢)
*‌‌ موضوعاته ومباحثه:

رتَّب المؤلف كتابَه على ثلاثة عشر بابًا:

1 - في انقسام القلوب إلى صحيح وسقيم وميت.

2 - في ذكر حقيقة مرض القلب.

3 - في انقسام أدوية أمراض القلب إلى طبيعية وشرعية.

4 - في أن حياة القلب وإشراقه مادة كل خير فيه، وموته وظلمته مادة كل شر وفتنة فيه.

5 - في أن حياة القلب وصحته لا تحصل إلّا بأن يكون مدركًا للحق مريدًا له مُؤثِرًا له على غيره.

6 - في أنه لا سعادة للقلب ولا لذة ولا نعيم ولا صلاح إلّا بأن يكون إلـ?هه هو معبوده وأحبَّ إليه من كل ما سواه.

7 - في أن القرآن الكريم متضمن لأدوية القلب وعلاجه من جميع أمراضه.

8 - في زكاة القلب.

9 - في طهارة القلب من أدرانه وأنجاسه.

10 - في علامات مرض القلب وصحته.

11 - في علاج مرض القلب من استيلاء النفس عليه.

12 - في علاج مرض القلب بالشيطان.

13 - في مكايد الشيطان التي يكيد بها ابنَ آدم.
এর বিষয়বস্তু ও আলোচ্য বিষয়সমূহ:

লেখক তাঁর গ্রন্থটিকে তেরোটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন:

1 - অন্তরসমূহের সুস্থ, রুগ্ণ ও মৃত—এই তিন ভাগে বিভক্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

2 - অন্তরের ব্যাধির প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনায়।

3 - অন্তরের ব্যাধিসমূহের প্রতিকার প্রাকৃতিক ও শরয়ি—এই দুই ভাগে বিভক্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

4 - অন্তরের জীবন ও জ্যোতিই তার যাবতীয় মঙ্গলের উৎস এবং এর মৃত্যু ও অন্ধকারই তার যাবতীয় অকল্যাণ ও ফিতনার মূল হওয়া প্রসঙ্গে।

5 - সত্যকে উপলব্ধি করা, সত্যের সংকল্প করা এবং সত্যকে অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যতীত অন্তরের জীবন ও সুস্বাস্থ্য অর্জিত না হওয়া প্রসঙ্গে।

6 - অন্তরের সুখ, স্বাদ, নিয়ামত ও সংশোধন কেবল তখনই সম্ভব, যখন তার ইলাহ হবেন তার একমাত্র উপাস্য এবং তিনি তার নিকট অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হবেন।

7 - পবিত্র কুরআন অন্তরের সকল ব্যাধির মহৌষধ ও প্রতিকার সংবলিত হওয়া প্রসঙ্গে।

8 - অন্তরের পরিশুদ্ধি (যাকাত) প্রসঙ্গে।

9 - অন্তরের যাবতীয় কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন প্রসঙ্গে।

10 - অন্তরের অসুস্থতা ও সুস্থতার আলামতসমূহ প্রসঙ্গে।

11 - নফসের আধিপত্যজনিত অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা প্রসঙ্গে।

12 - শয়তান কর্তৃক সৃষ্ট অন্তরের ব্যাধির চিকিৎসা প্রসঙ্গে।

13 - আদম সন্তানের বিরুদ্ধে শয়তানের নানাবিধ ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٣)
وقد ذكر المؤلف أن هذا الباب الأخير هو الذي وضع الكتاب لأجله، ولذلك توسَّع فيه كثيرًا، واستقصى جميع المكايد التي يكيد بها الشيطان الإنسانَ، والمصايد التي يصيده بها. والأبواب السابقة تعتبر مدخلًا وتمهيدًا لهذا الباب، وكلّها لا تزيد على ثُمن الكتاب، والبقية في تفصيل الباب الثالث عشر المعقود لذكر مصايد الشيطان. وإذا استعرضنا الموضوعات التي تناولها فيه نجد أنها تشتمل أولًا على فصول مختصرة ذكر فيها أنواعًا من مكايده، وهي:

- كيده للإنسان أنه يورده الموارد ويُخيِّل إليه أن فيها منفعته، ثم يُصدِره المصادر التي فيها عطبه، ويتخلى عنه ويُسلِمه، ويقف يشمت به ويضحك منه.

- من كيده: أنه يُخوِّف المؤمنين من جنوده وأوليائه، فلا يجاهدونهم ولا يأمرونهم بالمعروف ولا ينهونهم عن المنكر.

- من مكايده: أنه يسحر العقل دائمًا، ولا يسلم من سحره إلّا من شاء الله، فيزيِّن له الفعل الذي يضرُّه حتى يخيّل إليه أنه من أنفع الأشياء، وينفّر من الفعل الذي ينفعه حتى يخيّل إليه أنه يضره.

- أول مكايده لآدم وحواء حتى أخرجهما من الجنة.

- من كيده: أنه إذا رأى الغالب على نفس الإنسان قوة الإقدام وعلوّ الهمة أخذ يقلِّل عنده المأمور به ويوهمه أنه لا يكفي، وإذا رأى الغالب عليه الإحجام والانكفاف أخذ في تثبيطه وإضعاف همته، وثقَّله عليه فهوَّن عليه تركَه.
লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এই শেষ অধ্যায়টিই মূলত গ্রন্থটি রচনার মূল উদ্দেশ্য, আর একারণেই তিনি এতে ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন এবং শয়তান মানুষকে যে সমস্ত কূটকৌশল ও ফাঁদে ফেলে বিভ্রান্ত করে, সেগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান করেছেন। পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলো এই অধ্যায়ের ভূমিকা ও উপক্রমণিকা হিসেবে বিবেচিত, যা পুরো গ্রন্থের আট ভাগের এক ভাগের বেশি নয়। অবশিষ্ট অংশ শয়তানের শিকারের ফাঁদসমূহ বর্ণনায় নিবেদিত ত্রয়োদশ অধ্যায়ের বিস্তারিত আলোচনায় পূর্ণ। আমরা যদি এতে আলোচিত বিষয়বস্তুগুলো পর্যালোচনা করি, তবে দেখতে পাই যে, এতে প্রাথমিকভাবে কিছু সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ রয়েছে যেখানে তিনি শয়তানের বিভিন্ন প্রকার কূটকৌশল উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

- মানুষের প্রতি তার একটি কূটকৌশল হলো, সে তাকে এমন সব পথে পরিচালিত করে এবং তার সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করে যেন তাতে তার কল্যাণ রয়েছে। অতঃপর সে তাকে এমন পরিণতির দিকে নিয়ে যায় যেখানে তার ধ্বংস অনিবার্য। এরপর সে তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করে এবং দূরে দাঁড়িয়ে তার দুর্দশা দেখে উপহাস ও বিদ্রূপ করে।

- তার অন্যতম কূটকৌশল হলো: সে মুমিনদেরকে তার সৈন্যসামন্ত ও বন্ধুদের ভয় দেখায়, ফলে তারা তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে না এবং তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা থেকে বিরত থাকে।

- তার আরও একটি কূটকৌশল হলো: সে সর্বদা মানুষের বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে রাখে। আল্লাহর অনুগ্রহ প্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তার এই প্রভাব থেকে রক্ষা পায় না। সে মানুষের কাছে ক্ষতিকর কাজকে এমনভাবে সুশোভিত করে তোলে যে, ব্যক্তি মনে করে এটিই তার জন্য সবচেয়ে উপকারী। আবার উপকারী কাজ থেকে তাকে এমনভাবে বিমুখ করে যে, তার কাছে মনে হয় সেটি তার জন্য ক্ষতিকর।

- আদম ও হাওয়ার প্রতি তার সর্বপ্রথম কূটকৌশল ছিল তাদের জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া পর্যন্ত।

- তার অন্যতম কৌশল হলো: সে যখন কোনো মানুষের মধ্যে সাহসিকতা ও উচ্চ মনোবল দেখতে পায়, তখন সে তার কাছে নির্দেশিত কাজগুলোকে নগণ্য করে তোলে এবং তাকে বুঝায় যে এটিই যথেষ্ট নয়। আর যখন সে কারো মধ্যে অনাগ্রহ ও স্থবিরতা লক্ষ্য করে, তখন তাকে নিরুৎসাহিত করে এবং তার মনোবল দুর্বল করে দেয়। কাজটিকে তার কাছে বোঝা মনে করায় এবং শেষ পর্যন্ত তা বর্জন করাকে তার জন্য সহজ করে দেয়।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٤)
- من حيله ومكايده: الكلام الباطل والآراء المتهافتة والخيالات المتناقضة.

- من كيده: أنه ألقى على ألسنة المتكلمين أن كلام الله ورسوله ظواهر لفظية لا تفيد اليقين.

- من كيده: ما ألقاه إلى جهّال المتصوفة من الشطح والطامّات، وأبرزه لهم في قالب الكشف، وأوحى إليهم أن وراء العلم طريقًا إن سلكوه أفضى بهم إلى كشف العيان، وأغناهم عن التقيد بالسنة والقرآن.

- من مكايده: أن يدعو العبد بحسن خلقه وطلاقته إلى أنواع من الآثام والفجور.

- من مكايده: أنه يأمر بإعزاز النفس وصونها حيث يكون رضا الله في إذلالها وابتذالها.

- من كيده: أن يأمر الرجل بانقطاعه في مسجد أو رباط أو زاوية أو تربة، ويقول له: متى خرجتَ تبذَّلتَ للناس، وسقطت من أعينهم وذهبت هيبتك من قلوبهم.

- من كيده: أنه يُغرِي الناس بتقبيل يده والتمسح به والثناء عليه حتى يرى نفسه ويُعجبه شأنها.

- من كيده: أنه يُحسِّن إلى أرباب التخلي والزهد والرياضة العملَ بهاجسِهم دون تحكيم أمر الشارع.

- من كيده: أمرهم بلزوم زيّ واحد، ولِبْسة واحدة، وهيئة ومِشية معينة، وشيخ معين، وطريقة مخترعة.
- তার চক্রান্ত ও প্রতারণাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলো: বাতিল কথাবার্তা, ভিত্তিহীন মতবাদ এবং পরস্পরবিরোধী অলীক কল্পনা।

- তার একটি চক্রান্ত এই যে, সে ইলমুল কালাম শাস্ত্রবিদদের মুখে এ কথাটি তুলে দিয়েছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বাণীসমূহ কেবল বাহ্যিক শাব্দিক প্রকাশ মাত্র, যা নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকিন) প্রদান করে না।

- তার অন্যতম চক্রান্ত হলো—অজ্ঞ সুফিদের অন্তরে সে সব মত্ততাপূর্ণ প্রলাপ ও বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা ঢুকিয়ে দেয়, যা সে তাদের কাছে ‘কাশফ’ বা আধ্যাত্মিক উন্মোচন হিসেবে পেশ করে। সে তাদের অন্তরে এ কুমন্ত্রণা দেয় যে, পুঁথিগত বিদ্যার ঊর্ধ্বে এমন এক পথ রয়েছে, যা অনুসরণ করলে চাক্ষুষ জ্ঞান লাভ করা যায় এবং তা তাদেরকে কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করে দেয়।

- তার প্রতারণাগুলোর মধ্যে একটি হলো: সে মানুষের উত্তম চরিত্র ও সদালাপকে পুঁজি করে তাকে বিভিন্ন প্রকার পাপ ও পাপাচারের দিকে প্রলুব্ধ করে।

- তার চক্রান্তের আরেকটি দিক হলো: সে নফসকে সম্মানিত ও সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেয় এমন ক্ষেত্রে, যেখানে নফসের অবদমন ও বিনয়ের মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত থাকে।

- তার একটি চক্রান্ত এই যে, সে কোনো ব্যক্তিকে মসজিদ, খানকাহ, ইবাদতখানা বা মকবরায় নির্জনে আবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেয় এবং তাকে বলে: "তুমি যখনই বাইরে বের হবে, তখনই সাধারণ মানুষের কাতারে মিশে যাবে, তাদের দৃষ্টিতে তোমার গুরুত্ব কমে যাবে এবং তাদের অন্তর থেকে তোমার প্রতি ভীতি ও শ্রদ্ধা বিলুপ্ত হবে।"

- তার অন্যতম প্রবঞ্চনা হলো: সে সাধারণ মানুষকে কোনো ব্যক্তির হস্তচুম্বন, বরকতের জন্য তাকে স্পর্শ করা এবং তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে প্রলুব্ধ করে, যাতে ওই ব্যক্তি আত্মতুষ্টিতে ভোগে এবং নিজের অবস্থাকে শ্রেষ্ঠ মনে করতে শুরু করে।

- তার একটি চক্রান্ত হলো: নির্জনবাসী, দুনিয়াত্যাগী ও সাধকদের নিকট শরীয়তদাতার বিধানকে মানদণ্ড না বানিয়ে কেবল নিজেদের মনের খেয়ালখুশি বা অভ্যন্তরীণ ধারণার ভিত্তিতে আমল করাকে সুশোভিত করে তোলে।

- তার চক্রান্তের অন্তর্ভুক্ত হলো: তাদেরকে নির্দিষ্ট এক ধরণের লেবাস ও পোশাক পরিধান করা, বিশেষ কোনো বাহ্যিক বেশভুষা ও চলনভঙ্গি গ্রহণ করা, কোনো নির্দিষ্ট পীরের অনুসারী হওয়া এবং নবউদ্ভাবিত কোনো তরীকা আঁকড়ে ধরার নির্দেশ দেওয়া।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٥)
وبعد ما انتهى المؤلف من هذه الفصول المختصرة انتقل إلى تفصيل الكلام حول بعض المكايد التي كاد بها الشيطان بعض الفرق والطوائف من الناس، والتي كان ضررها عظيمًا، ومظاهرها موجودة في كل مكان. وقد ردَّ على جميع الشبه التي تعلَّق بها تلك الفرق والجماعات وبيَّن لهم الصراط المستقيم بمقابل الانحرافات والضلالات التي وقعوا فيها.

وفيما يلي ذكر هذه المكايد التي أطال الكلام حولها من جوانب مختلفة.

- كيده للجهَّال بالوسواس في أمر الطهارة والصلاة، حتى ألقاهم في الآصار والأغلال، وأخرجهم عن اتباع السنة. وردَّ المؤلف على جميع ما احتجّ به الموسوسون.

- من أعظم مكايده التي كاد بها أكثر الناس: الفتنة بالقبور وتعظيمها والغلوّ فيها وفي أهلها، وبناء المساجد والقباب وإيقاد السرج عليها، وذكر الأمور التي أوقعتهم في ذلك.

- من مكايده: السماع والغناء بالآلات المحرمة وبيان أسمائه وأنواعه، وذكر الأحاديث الواردة في تحريمه.

- من مكايده: مكيدة التحليل الذي لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلَه، وشبَّهه بالتيس المستعار. وبيان ما أوقع الناس في مصيبة التحليل الملعون، ومبحث الطلاق الثلاث هل تقع ثلاثًا أم واحدةً؟

- من مكايده: الحيل التي تتضمن تحليلَ ما حرَّم الله، وإسقاطَ ما فرضَه، ومضادَّته في أمرِه ونهيه. وأمثلة من الحيل التي يتخلَّص بها من مكر الغير والغدر به. وبيان أن الله أغنانا بما شرعه ويسَّره من الدين عن ارتكاب طرق المكر والخداع والاحتيال. وذكر أنواع الحيل وحكمها في الشرع.
এই সংক্ষিপ্ত অধ্যায়গুলো সমাপ্ত করার পর লেখক শয়তানের সেই সব চক্রান্তের বিস্তারিত বর্ণনায় অবতীর্ণ হয়েছেন, যার মাধ্যমে সে মানুষের বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীকে বিভ্রান্ত করে। এই চক্রান্তগুলোর ক্ষতি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান। লেখক সেই সকল সংশয়ের নিরসন করেছেন যা ওই সব দল ও গোষ্ঠী আঁকড়ে ধরেছিল এবং তারা যে বিচ্যুতি ও গোমরাহিতে নিপতিত হয়েছিল, তার বিপরীতে তিনি তাদের সামনে সঠিক পথ সুস্পষ্ট করেছেন।

নিম্নে সেই সকল চক্রান্তের উল্লেখ করা হলো, যা নিয়ে তিনি বিভিন্ন দিক থেকে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন:

- পবিত্রতা ও সালাতের বিষয়ে কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) প্রদানের মাধ্যমে মূর্খদের প্রতি তার চক্রান্ত; যার ফলে সে তাদেরকে কঠোরতা ও শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে এবং সুন্নাহর অনুসরণ থেকে বিচ্যুত করে। লেখক ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেশ করা সকল যুক্তির খণ্ডন করেছেন।

- অধিকাংশ মানুষের বিরুদ্ধে তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চক্রান্ত হলো: কবর নিয়ে ফেতনা, কবরের অতি-সম্মান এবং কবর ও কবরবাসীদের নিয়ে বাড়াবাড়ি, কবরের ওপর মসজিদ ও গম্বুজ নির্মাণ এবং সেখানে বাতি প্রজ্বলন করা। লেখক সেই সব কারণ উল্লেখ করেছেন যা তাদেরকে এসব কাজে লিপ্ত করেছে।

- তার চক্রান্তসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: বাদ্যযন্ত্রসহ গান-বাজনা শোনা, এর বিভিন্ন নাম ও প্রকারের বর্ণনা এবং এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসসমূহের উল্লেখ।

- তার চক্রান্তসমূহের মধ্যে একটি হলো: ‘তাহলিল’ বা হিলা বিয়ের চক্রান্ত, যার সম্পাদনকারীকে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অভিসম্পাত করেছেন এবং তাকে ‘ভাড়ায় আনা পাঠা’র সাথে তুলনা করেছেন। মানুষ যে কারণে এই অভিশপ্ত ‘তাহলিল’-এর বিপদে নিপতিত হয় তার বর্ণনা এবং এক সাথে তিন তালাক দিলে তা তিনটিই গণ্য হবে নাকি একটি—সেই বিষয়ক আলোচনা।

- তার চক্রান্তসমূহের আরেকটি হলো: সেই সব কৌশল (হিলা) যার মাধ্যমে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল করা হয়, ফরজ বিধানসমূহকে বিলোপ করা হয় এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধের বিরোধিতা করা হয়। এছাড়া অন্যের ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতা থেকে বাঁচার জন্য কিছু কৌশলের উদাহরণ। তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা দ্বীনের যে বিধান ও সহজ পথ প্রবর্তন করেছেন, তা আমাদের প্রতারণা ও চাতুর্য অবলম্বন থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। লেখক এসব কৌশলের প্রকারভেদ এবং শরয়ি বিধান আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٦)
- من مكايده: ما فتن به عشَّاق الصور، وما يلقَون بسببه من عذاب وشَقاء في الدنيا والآخرة.

- كيد الشيطان لنفسه ثم كيده للأبوين ثم كيده لبني آدم.

- كيده لعبَّاد الأصنام ومنكري البعث. ونشأة عبادة الأصنام والشمس والقمر، وسبب عبادتها.

- كيده لعبَّاد النار والماء والحيوان والملائكة.

- كيده للثنوية القائلين بأن الصانع اثنان: إله الخير (وهو النور)، وإله الشر (وهو الظلمة).

- كيده للصابئة، وبيان أصل دينهم وفِرقهم.

- تلاعب الشيطان بالدهرية الذين عطَّلوا المصنوعات عن صانعها.

- ضلال الفلاسفة بسبب التعطيل والشرك وجحد النبوات.

- إفساد النصارى لدين عيسى عليه السلام بإدخال الفلسفة وعبادة الصور والقول باتحاد الأب والابن وروح القدس. وذكر شيء من تاريخهم وضلالاتهم، وتلاعب الشيطان بهم.

- تلاعب الشيطان بالأمة الغضبية (اليهود)، وذكر شيء من ضلالاتهم.

وبهذا ختم المؤلف الكتابَ، وقال في آخره: "فهذه فصول مختصرة في كيد الشيطان وتلاعبه بهذه الأمة (أي اليهود)، يعرف بها المسلم الحنيف قَدْر نعمة الله عليه، وما منَّ به عليه من نعمة العلم والإيمان، ويهتدي بها من أراد الله هدايته، ومِن الله التوفيق والإرشاد إلى سواء الطريق".
- তার চক্রান্তসমূহের মধ্যে অন্যতম: রূপের মোহগ্রস্তদের সে যা দ্বারা প্রলুব্ধ করে এবং এর ফলে তারা দুনিয়া ও আখেরাতে যে আজাব ও দুর্দশার সম্মুখীন হয়।

- শয়তানের নিজের প্রতি চক্রান্ত, অতঃপর আদি পিতা-মাতার প্রতি এবং এরপর আদম সন্তানদের প্রতি তার চক্রান্ত।

- মূর্তিপূজক এবং পুনরুত্থান অস্বীকারকারীদের প্রতি তার চক্রান্ত; মূর্তিপূজা, সূর্য ও চন্দ্র উপাসনার উদ্ভব এবং এগুলোর উপাসনার কারণ।

- অগ্নি, জল, পশু এবং ফেরেশতাদের উপাসকদের প্রতি তার চক্রান্ত।

- দ্বৈতবাদীদের প্রতি তার চক্রান্ত, যারা মনে করে যে স্রষ্টা দুইজন: কল্যাণের উপাস্য (যা হলো আলো) এবং অকল্যাণের উপাস্য (যা হলো অন্ধকার)।

- সাবিঈ সম্প্রদায়ের প্রতি তার চক্রান্ত এবং তাদের ধর্মের উৎস ও উপদলসমূহের বর্ণনা।

- বস্তুবাদী বা দাহরিয়াদের নিয়ে শয়তানের খেল-তামাশা, যারা সৃষ্টিজগতকে তার স্রষ্টা থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করে।

- স্রষ্টার গুণাবলী অস্বীকার, শিরক এবং নবুয়তকে অস্বীকার করার কারণে দার্শনিকদের পথভ্রষ্টতা।

- দর্শনশাস্ত্রের অনুপ্রবেশ, মূর্তিপূজা এবং পিতা, পুত্র ও পবিত্র আত্মার একত্বের আকিদা প্রবর্তনের মাধ্যমে ঈসা আলাইহিস সালামের ধর্মকে খ্রিস্টানদের দ্বারা বিকৃত করা। তাদের ইতিহাসের কিছু অংশ, তাদের বিভ্রান্তি এবং তাদের নিয়ে শয়তানের খেল-তামাশার উল্লেখ।

- অভিশপ্ত জাতি (ইহুদিদের) নিয়ে শয়তানের খেল-তামাশা এবং তাদের বিভ্রান্তির কিছু বিবরণ।

এভাবেই লেখক গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন এবং এর শেষে বলেছেন: "এগুলো শয়তানের চক্রান্ত এবং এই জাতির (অর্থাৎ ইহুদিদের) সাথে তার খেল-তামাশা সম্পর্কিত কিছু সংক্ষিপ্ত পরিচ্ছেদ। এর মাধ্যমে একজন একনিষ্ঠ মুসলিম নিজের ওপর আল্লাহর নেয়ামতের গুরুত্ব এবং জ্ঞান ও ঈমানের যে নেয়ামত তিনি তাকে দান করেছেন তা অনুধাবন করতে পারবে। আর আল্লাহ যার হিদায়াত চান, সে এর দ্বারা পথনির্দেশনা পাবে। আল্লাহর পক্ষ থেকেই তাওফিক এবং সঠিক পথের দিশা লাভ হয়।"
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٧)
*‌‌ منهج المؤلف فيه:

يتفق منهجه في هذا الكتاب مع سائر كتبه من حيث الاحتجاج بنصوص الكتاب والسنة وآثار السلف من الصحابة والتابعين والأئمة، وحسن الترتيب والتنظيم للمادة العلمية، وقوة البيان وعذوبة اللفظ، والتفصيل والإيضاح للموضوع الذي يتناوله، وذكر الأمثلة الكثيرة والوجوه المتعددة لتأييد الفكرة أو رفضها، والتنويه ببعض الأبحاث الجليلة التي ينفرد بها الكتاب(1)، وتكرار بعض الموضوعات في عدد من مؤلفاته، والاهتمام بعلاج أمراض المجتمع في أخلاقه وسلوكه وعقيدته.

هذه السمات العامة التي تميزت بها كتب ابن القيم يلاحظها القارئ في الكتاب الذي بين يديه. وفيه بعض المباحث التي كرَّرها وأعاد ذكرها في أكثر من كتاب، ومن أمثلتها: مبحث السماع، فقد ألَّف فيه كتابًا مستقلًّا كما أشار إليه هنا، وتكلم عليه في "مدارج السالكين" (1/ 481 - 505، 2/ 407 ــ 416) وفي الكتاب الذي بين أيدينا (ص 400 - 473). وكان قصده يختلف في كل كتاب، ويأتي في كل موضع بفوائد جديدة(2).

--------------------------------------------

(1) ذكر المؤلف فصلًا في أسباب ومشخصات مرض البدن والقلب، ثم قال: "وذاكرتُ مرةً بعضَ رؤساء الطب بمصر بهذا، فقال: والله لو سافرتُ إلى المغرب في معرفة هذه الفائدة لكان سفرًا قليلًا، أو كما قال" (ص 23).

وقال في تمهيد الباب الثاني عشر في علاج مرض القلب بالشيطان: "هذا الباب من أهم أبواب الكتاب وأعظمها نفعًا، والمتأخرون من أرباب السلوك لم يعتنوا به اعتناءهم بذكر النفس وعيوبها وآفاتها، فإنهم توسَّعوا في ذلك وقصَّروا في هذا الباب … " (ص 155).

(2) انظر مقدمة "الكلام على مسألة السماع" (ص 24 ــ 32).

এতে লেখকের পদ্ধতি:

এই গ্রন্থে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য এবং সাহাবী, তাবিঈ ও ইমামগণের ন্যায় সালাফদের আসার (বর্ণনা) দ্বারা দলীল পেশ করার ক্ষেত্রে তাঁর অন্যান্য সকল গ্রন্থের সাথেই সংগতিপূর্ণ। এর পাশাপাশি এতে রয়েছে জ্ঞানগর্ভ তথ্যের চমৎকার বিন্যাস ও সুশৃঙ্খল উপস্থাপনা, বলিষ্ঠ বর্ণনাভঙ্গি ও প্রাঞ্জল শব্দচয়ন, আলোচিত বিষয়ের বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও বিশদ বিশ্লেষণ, কোনো মতের সমর্থন বা খণ্ডনে প্রচুর উদাহরণ ও বহুমুখী দিক উপস্থাপন এবং এই গ্রন্থের একক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার প্রতি আলোকপাত(১)। এছাড়া তাঁর বেশ কিছু রচনায় নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের পুনরাবৃত্তি এবং সমাজের নৈতিকতা, আচরণ ও আকীদা বিষয়ক ব্যাধিগুলোর চিকিৎসার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপও এতে লক্ষ্য করা যায়।

ইবনুল কায়্যিমের গ্রন্থসমূহের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত এই সাধারণ গুণাবলি পাঠক তাঁর সম্মুখস্থ এই গ্রন্থটিতেও লক্ষ্য করবেন। এতে এমন কিছু তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে যা তিনি একাধিক গ্রন্থে পুনরাবৃত্তি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: 'সামা' (বাদ্য বা শ্রবণ) সংক্রান্ত আলোচনা; তিনি এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমনটি এখানে ইঙ্গিত করেছেন, এবং এ বিষয়ে তিনি 'মাদারিজুস সালিকিন' (১/৪৮১-৫০৫, ২/৪০৭-৪১৬) গ্রন্থে এবং আমাদের হস্তগত এই গ্রন্থেও (পৃ. ৪০০-৪৭৩) আলোচনা করেছেন। তবে প্রতিটি গ্রন্থে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন এবং প্রতিটি স্থানেই তিনি নতুন নতুন জ্ঞানগর্ভ তথ্য উপস্থাপন করেছেন(২)।

--------------------------------------------

(১) লেখক শরীরের রোগ ও হৃদরোগের কারণ ও লক্ষণসমূহ সম্পর্কে একটি পরিচ্ছেদ উল্লেখ করেছেন, অতঃপর বলেছেন: "আমি একবার মিশরের জনৈক প্রধান চিকিৎসকের নিকট এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, যদি এই তত্ত্বটি জানার জন্য আমাকে মরক্কো পর্যন্ত সফর করতে হতো, তবে সেটি হতো অত্যন্ত সামান্য সফর, অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন" (পৃ. ২৩)।

শয়তানের মাধ্যমে হৃদরোগের চিকিৎসার বিষয়ে দ্বাদশ পরিচ্ছেদের ভূমিকায় তিনি বলেছেন: "এই পরিচ্ছেদটি গ্রন্থের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বাধিক উপকারী পরিচ্ছেদ। পরবর্তী যুগের আধ্যাত্মিক সাধকগণ নফসের দোষত্রুটি ও আপদসমূহ বর্ণনায় যতটা গুরুত্ব দিয়েছেন, এই পরিচ্ছেদের প্রতি ততটা গুরুত্ব দেননি। তাঁরা নফসের আলোচনায় অতি বিস্তার ঘটালেও এই পরিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সংক্ষেপ করেছেন..." (পৃ. ১৫৫)।

(২) দেখুন: "আল-কালামু আলা মাসআলাতিস সামা" গ্রন্থের ভূমিকা (পৃ. ২৪-৩২)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٨)
وكذلك موضوع الحِيل وأحكامها، فقد تكلم عليه هنا (ص 581 - 836)، وتوسَّع فيه كثيرًا في "إعلام الموقعين" (3/ 171 - 415، 4/ 1 - 117). وهو معذور في هذا البسط والتكرار، لأنه وجد لدى المتأخرين من أهل المذاهب فتح أبواب الحيل على دين الله وشرعه، واستحلال محارمه، وانتهاك حرماته، وارتكاب نواهيه، فكان من واجب البلاغ والتبصير بالدين أن يعالج المؤلف هذا المرض الفتَّاك، وتلك المخادعات التي أخرجها أناسٌ باسم دين الله وشرعه، والشرع منها براء(1).

وقد ذكر المؤلف في نهاية هذا المبحث هنا (ص 835 - 836) عذره في ذلك، فقال: "لعلك تقول: قد أطلتَ الكلام في هذا الفصل جدًّا وقد كان يكفي الإشارة إليه. فيقال: بل الأمر أعظم مما ذكرنا، وهو بالإطالة أجدر، فإن بلاء الإسلام ومحنته عظمت من هاتين الفرقتين: أهل المكر والمخادعة والاحتيال في العمليات، وأهل التحريف والسفسطة والقرمطة في العلميات، وكل فساد في الدين ــ بل والدنيا ــ فمنشؤه من هاتين الطائفتين. فبالتأويل الباطل قُتِل عثمان رضي الله عنه، وعاثت الأمة في دمائها، وكفَّر بعضُها بعضًا، وتفرقت على بضع وسبعين فرقة، فجرى على الإسلام من تأويل هؤلاء وخداع هؤلاء ومكرِهم ما جرى .... ".

وبحث المؤلف أيضًا مسألة الطلاق الثلاث هنا (ص 499 - 581)، وفي "زاد المعاد" (5/ 241 - 271) و"إعلام الموقعين" (3/ 41 - 62) و"الصواعق المرسلة" (2/ 619 - 628) و"تهذيب السنن" (3/ 124 - 129).

--------------------------------------------

(1) "ابن قيم الجوزية" للشيخ بكر أبو زيد (ص 126).

একইভাবে হিলা বা অপকৌশল এবং এর বিধানের বিষয়টিও; লেখক এখানে (পৃষ্ঠা ৫৮১-৮৩৬) এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন' (৩/ ১৭১-৪১৫, ৪/ ১-১১৭) গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছেন। এই দীর্ঘ আলোচনা ও পুনরাবৃত্তির জন্য তিনি ক্ষমার যোগ্য; কেননা তিনি পরবর্তী প্রজন্মের মাযহাবপন্থীদের মাঝে আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের বিরুদ্ধে হিলার দ্বার উন্মুক্ত করা, নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে হালাল করা, এর পবিত্রতা লঙ্ঘন করা এবং এর নিষেধসমূহ সম্পাদন করার প্রবণতা দেখতে পেয়েছিলেন। সুতরাং আল্লাহর বাণী পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বীন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি প্রদানের অংশ হিসেবে লেখকের জন্য এটি অপরিহার্য দায়িত্ব ছিল যে, তিনি এই মরণঘাতী ব্যাধি এবং সেই সব প্রতারণার প্রতিকার করবেন, যা কিছু লোক আল্লাহর দ্বীন ও শরীয়তের নামে উদ্ভাবন করেছে, অথচ শরীয়ত তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত(১)।

লেখক এই প্রসঙ্গের শেষে এখানে (পৃষ্ঠা ৮৩৫-৮৩৬) এ ক্ষেত্রে তাঁর ওজর (ভিত্তি) উল্লেখ করে বলেছেন: "সম্ভবত আপনি বলবেন: আপনি এই পরিচ্ছেদে আলোচনা অনেক দীর্ঘ করে ফেলেছেন, অথচ এ বিষয়ে সামান্য ইঙ্গিত করাই যথেষ্ট ছিল। এর উত্তরে বলা হবে: বরং বিষয়টি আমাদের উল্লেখ করা আলোচনার চেয়েও গুরুতর এবং এটি দীর্ঘ আলোচনারই দাবি রাখে। কেননা ইসলামের বিপদ ও মুসিবত এই দুটি দলের কারণেই চরম আকার ধারণ করেছে: ব্যবহারিক ক্ষেত্রে ধোঁকা, প্রতারণা ও অপকৌশল অবলম্বনকারী দল; আর তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে বিকৃতি, কূটতর্ক ও গূঢ়তত্ত্ববাদী (কারামাতিয়াহ) মতাদর্শের অনুসারী দল। দ্বীনের—বরং দুনিয়ারও—যাবতীয় ফাসাদের উৎস হচ্ছে এই দুটি গোষ্ঠী। এই বাতিল ব্যাখ্যার (তাবিল) মাধ্যমেই উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) শহীদ হয়েছিলেন এবং উম্মাহ নিজেদের রক্তপাতে মেতে উঠেছিল। তারা একে অপরকে কাফির সাব্যস্ত করেছে এবং সত্তরটিরও বেশি দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সুতরাং এসব লোকদের অপব্যাখ্যা, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের কারণে ইসলামের ওপর যা অতিক্রান্ত হয়েছে তা বর্ণনাতীত ...."।

লেখক এখানে (পৃষ্ঠা ৪৯৯-৫৮১) তিন তালাকের মাসআলা নিয়েও আলোচনা করেছেন, এছাড়া 'যাদুল মাআদ' (৫/ ২৪১-২৭১), 'ইলামুল মুওয়াক্কিয়িন' (৩/ ৪১-৬২), 'আস-সাওয়ায়িকুল মুরসালাহ' (২/ ৬১৯-৬২৮) এবং 'তাহযীবুস সুনান' (৩/ ১২৪-১২৯) গ্রন্থসমূহেও এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) শায়খ বকর আবু যাইদ রচিত "ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ" (পৃষ্ঠা ১২৬)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ١٩)
وعذره في ذلك(1) أنه حُبِس لأجلها وامتُحن وأوذي في ذلك، فإن الفتوى بجعل الطلاق الثلاث بلفظ واحدٍ يقع طلقة واحدةً أمر مستنكر لدى جمهور العلماء، فضلًا عن طلاب العلم وعامة الناس، إذ هم يكادون يُطبقون على أنها تقع ثلاثًا لا واحدةً، فلا عجب إذا رأينا المؤلف يكرر الحديث عن هذا الموضوع، ويزيده في البسط والبيان ليظهر ما يعتقده دينًا وشرعًا، مؤيدًا له بشتى وجوه الأدلة من الكتاب والسنة والمعنى واللغة، مستفيدًا من كلام شيخه في مواضع مختلفة.

وهناك موضوعات أخرى مثل عشق الصور وأمراض القلوب وشفائها، تكلم عليها هنا وفي غيره من مؤلفاته، وفي كلٍّ منها ما ليس في الآخر، وهذه طريقته في جميع كتبه، فلا نتوسع بالحديث عنها.

 

*‌‌ أهميته:

خصّص المؤلف هذا الكتاب للتحذير من مصايد الشيطان ومكايده، وتناول كثيرًا من الأمراض القلبية والاعتقادات الفاسدة وضلالات الفرق والطوائف بالبحث والدراسة، وتوسَّع في معالجتها وردّ الشُّبه التي يتعلق بها رؤوس البدع والضلال. ويعتبر هذا الكتاب من أفضل الكتب التي أُلِّفت في بابه، ومن أهمّ مؤلفات ابن القيم رحمه الله، وقد أثنى عليه العلماء وتداولوه فيما بينهم، ونظموا في مدحه شعرًا وفضَّلُوه على غيره من الكتب في هذا الباب، وحثُّوا طالب العلم على قراءته واقتنائه، كما سيأتي ذكره في وصف النسخ. وقد قال العلامة محمود شكري الآلوسي في التعريف به: "هو كتاب

--------------------------------------------

(1) الكلام الآتي من المصدر السابق (ص 128).

এক্ষেত্রে তাঁর ওজর বা যুক্তি হলো(1) এই যে, এই মাসআলার কারণেই তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে, তিনি পরীক্ষিত হয়েছেন এবং এ পথে কষ্ট ভোগ করেছেন। কেননা এক শব্দে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে গণ্য করার ফতোয়া প্রদান করা জমহুর উলামায়ে কেরাম, এমনকি ইলমে দীনের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিকটও একটি আপত্তিকর বিষয় ছিল। কেননা তারা প্রায় এ বিষয়ে একমত ছিলেন যে, এটি তিন তালাক হিসেবেই কার্যকর হবে, এক তালাক নয়। তাই যদি আমরা দেখি যে লেখক বারবার এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণে আরও প্রসারতা বৃদ্ধি করছেন, যাতে তিনি যা দীন ও শরয়ি বিধান হিসেবে বিশ্বাস করেন তা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, তবে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। তিনি এর সমর্থনে কুরআন, সুন্নাহ, যৌক্তিকতা ও ভাষাতত্ত্বের বিভিন্ন দিক থেকে প্রমাণাদি পেশ করেছেন এবং বিভিন্ন স্থানে তাঁর শায়খের বক্তব্য থেকে উপকৃত হয়েছেন।

এখানে এবং তাঁর অন্যান্য কিতাবে রূপের মোহ, অন্তরের ব্যাধি ও তার প্রতিকারের মতো আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যে সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেছেন। এগুলোর প্রত্যেকটিতে এমন কিছু রয়েছে যা অন্যটিতে নেই। তাঁর সমস্ত কিতাব রচনার পদ্ধতিই এমন, তাই আমরা এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনায় যাচ্ছি না।

 

*‌‌ এর গুরুত্ব:

লেখক এই কিতাবটি শয়তানের ফাঁদ ও তার ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক করার জন্য নিবেদিত করেছেন। তিনি হৃদয়ের বহুবিধ ব্যাধি, ভ্রান্ত বিশ্বাস এবং পথভ্রষ্ট দল ও উপদলের গোমরাহি নিয়ে গভীর গবেষণা ও পর্যালোচনা করেছেন। তিনি এগুলোর প্রতিকারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং বিদআত ও গোমরাহির প্রবক্তারা যেসব সংশয়ের অবতারণা করে, সেগুলোর খণ্ডন করেছেন। এই কিতাবটি এ বিষয়ক গ্রন্থরাজির মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে গণ্য হয়। উলামায়ে কেরাম এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং এটি তাঁদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে। তাঁরা এর প্রশংসায় কাব্য রচনা করেছেন এবং এই বিষয়ের অন্যান্য কিতাবের তুলনায় একে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তাঁরা তালিবে ইলমদের এটি পাঠ করতে ও সংগ্রহে রাখতে উৎসাহিত করেছেন, যেমনটি পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনায় সামনে আসবে। আল্লামা মাহমুদ শুকরি আল-আলুসি এর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি এমন এক কিতাব...

--------------------------------------------

(1) পরবর্তী কথাগুলো পূর্বোক্ত উৎস থেকে সংগৃহীত (পৃষ্ঠা ১২৮)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٠)
مشهور من كتب السنة، أودعه مؤلفه رحمه الله مهمات المطالب، وأبطل به حبائل الشيطان ومصايده، ودسائسه ومكايده، فلا بِدْعَ أن نفرتْ منه جنوده، واضطربت منه أعوانه وأولياؤه، والله لا يصلح عمل المفسدين"(1).

وقد سبق المؤلفَ إلى التأليف في هذا الباب العلامةُ ابن الجوزي بكتابه المشهور "تلبيس إبليس"، ولكن منهجه يختلف عن منهج "الإغاثة"، وإن اشتركا في بعض الموضوعات والمباحث. فقد قسَّم ابن الجوزي كتابه إلى ثلاثة عشر بابًا: الأربعة الأولى منها في الأمر بلزوم الجماعة، وذم البدع والمبتدعين، والتحذير من فتن إبليس ومكايده، وبيان معنى التلبيس والغرور. وبقية الأبواب في ذكر تلبيس إبليس في العقائد والديانات، وعلى العلماء في فنون العلم، وعلى الولاة والسلاطين، وعلى العبَّاد والزهّاد والصوفية، وعلى المتدينين، وعلى العوامّ. وختمه بذكر تلبيسه على الكلّ بتطويل الأمل.

وقد خصَّ الباب العاشر لذكر تلبيسه على الصوفية وأطال فيه بحيث أصبح أكثر من نصف الكتاب في الرد عليهم (ص 161 - 378 من الطبعة المنيرية).

أما "إغاثة اللهفان" فقد بدأه المؤلف بذكر أمراض القلوب وأدوائها وعلاجها، وتكلَّم عليها في اثني عشر بابًا من أصل ثلاثة عشر، وخصَّ الباب الأخير لذكر مكايد الشيطان التي يكيد بها بني آدم. وهذا الباب ــ الذي لأجله وضع الكتاب كما ذكر المؤلف ــ قسَّمه إلى فصول كثيرة، تناول فيها

--------------------------------------------

(1) غاية الأماني في الرد على النبهاني (2/ 5).

সুন্নাহর কিতাবসমূহের মধ্যে এটি একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, এর লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি সন্নিবেশিত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি শয়তানের জাল ও ফাঁদ এবং তার কুচক্র ও চক্রান্তসমূহকে অকেজো করে দিয়েছেন। সুতরাং এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, শয়তানের বাহিনী এটি থেকে বিমুখ হবে এবং তার সহযোগী ও অনুসারীরা এর কারণে অস্থির হয়ে পড়বে। আর আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের কাজ সংশোধন করেন না।"(১).

এই বিষয়ে রচনার ক্ষেত্রে আল্লামা ইবনুল জাওযী তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ "তালবিসু ইবলিস"-এর মাধ্যমে লেখকের অগ্রবর্তী হয়েছেন, তবে তাঁর পদ্ধতি "ইগাছাতুল লাহফান"-এর পদ্ধতি থেকে ভিন্ন, যদিও কিছু বিষয় ও গবেষণার ক্ষেত্রে উভয় গ্রন্থের মধ্যে মিল রয়েছে। ইবনুল জাওযী তাঁর গ্রন্থটিকে তেরটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন: এর মধ্যে প্রথম চারটি অধ্যায় জামাআতবদ্ধ থাকার নির্দেশ, বিদআত ও বিদআতিদের নিন্দা, ইবলিসের ফিতনা ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্কতা এবং প্রতারণা ও বিভ্রান্তির অর্থ বর্ণনার বিষয়ে। অবশিষ্ট অধ্যায়গুলো আকীদা ও বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে, জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় নিয়োজিত আলেমদের ওপর, শাসক ও সুলতানদের ওপর, ইবাদতকারী, দুনিয়াত্যাগী ও সুফিদের ওপর, ধার্মিকদের ওপর এবং সাধারণ মানুষের ওপর ইবলিসের প্রতারণা বর্ণনায় সাজানো হয়েছে। তিনি দীর্ঘ আশার মাধ্যমে সবার ওপর ইবলিসের ধোঁকা বর্ণনার মধ্য দিয়ে গ্রন্থটি সমাপ্ত করেছেন।

তিনি দশম অধ্যায়টি সুফিদের ওপর শয়তানের প্রতারণা বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং এতে এত দীর্ঘ আলোচনা করেছেন যে, পুরো গ্রন্থের অর্ধেকেরও বেশি অংশ তাদের খণ্ডনে ব্যয় হয়েছে (মুনিরিয়া সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১৬১ - ৩৭৮)।

পক্ষান্তরে "ইগাছাতুল লাহফান" গ্রন্থটি লেখক অন্তরের ব্যাধি, তার কারণ ও প্রতিকার বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করেছেন এবং তেরটি অধ্যায়ের মধ্যে বারটি অধ্যায়েই তিনি এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি সর্বশেষ অধ্যায়টি আদম সন্তানের বিরুদ্ধে শয়তানের চক্রান্ত বর্ণনার জন্য নির্ধারিত করেছেন। এই অধ্যায়টি—যার উদ্দেশ্যে মূলত গ্রন্থটি রচিত হয়েছে বলে লেখক উল্লেখ করেছেন—তিনি অনেকগুলো পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন, যাতে তিনি আলোচনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) গায়াতুল আমানি ফির রাদ্দি আলান নাবহানি (২/ ৫)।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢١)
أنواعًا من المكايد العامة بالبحث والدراسة أولًا، ثم انتقل إلى تفصيل الكلام حول بعض المكايد التي تختص ببعض الطوائف والفرق، فتكلم على الوسوسة والموسوسين، والفتنة بالقبور وتعظيمها، والسماع والغناء بالآلات المحرمة، ومكيدة التحليل، ومبحث الطلاق الثلاث، والحيل وأنواعها، وعشق الصور، وعبادة الأصنام والكواكب والنار والملائكة، وضلال الثنوية والصابئة والدهرية والفلاسفة، وختم الكتاب بذكر تلاعب الشيطان بالنصارى واليهود.

ولم ينقل ابن القيم من كتاب ابن الجوزي إلَّا في مواضع معدودة (انظر ص 233، 297)، وكل منهما له منهج خاص وأسلوب يتميز به، وقد اهتم ابن الجوزي بذكر كثير من الأحاديث والآثار بالأسانيد، وردّ على الصوفية ردًّا مشبعًا، ومنها مذهبهم في السماع والغناء، ولم يتوسع في ذكر الفتنة بالقبور والرد على النصارى واليهود كما توسع فيها ابن القيم. وهكذا يكون كل منهما قد تناول ما ليس عند الآخر بأسلوبه المعروف.

ويتميز كتاب "الإغاثة" بأنه تناول أمراض القلوب وشفاءها، وهو موضوع محبب لدى ابن القيم، تطرق إليه في عدد من مؤلفاته. وتوسَّع كذلك في موضوع الوسوسة والموسوسين والتحليل والمحلِّلين، والحيل وأصحابها، وعشق الصور وغير ذلك بحيث أصبح كتابه مرجعًا مهمًّا لدراسة هذه الموضوعات، واعتمد عليه المؤلفون فيما بعد، ونقلوا عنه فقرات كثيرة، وقاموا باختصاره وتهذيبه وتقريبه، كما سيأتي ذكره إن شاء الله.
তিনি প্রথমে গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সাধারণ প্রবঞ্চনাসমূহের প্রকারভেদ আলোচনা করেন; এরপর তিনি বিভিন্ন দল ও উপদলের জন্য নির্দিষ্ট কিছু চক্রান্তের বিস্তারিত বিবরণে প্রবৃত্ত হন। অতঃপর তিনি ওয়াসওয়াসা ও ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তিগণ, কবরের ফিতনা ও তার অতি-সম্মান প্রদর্শন, নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্রসহ গান ও বাদ্য শ্রবণ, তাহলীল বা হিল্লার চক্রান্ত, তিন তালাক সংক্রান্ত আলোচনা, নানাবিধ কৌশল (হিলা) ও তার প্রকারভেদ, প্রতিকৃতি বা রূপের প্রতি মোহগ্রস্ততা, প্রতিমা, নক্ষত্র, অগ্নি ও ফেরেশতাদের পূজা এবং দ্বৈতবাদী (ছানুয়িয়া), সাবেয়ী, বস্তুবাদী (দাহরিয়া) ও দার্শনিকদের পথভ্রষ্টতা সম্পর্কে আলোচনা করেন। পরিশেষে গ্রন্থটি তিনি খ্রিস্টান ও ইহুদিদের নিয়ে শয়তানের ক্রীড়ার বর্ণনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেন।

ইবনুল কাইয়্যিম ইবনুল জাওযীর গ্রন্থ থেকে হাতেগোনা কয়েকটি স্থান ব্যতীত (দেখুন পৃষ্ঠা নং ২৩৩, ২৯৭) অন্য কোথাও থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেননি। তাঁদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব কর্মপদ্ধতি এবং স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত রচনাশৈলী রয়েছে। ইবনুল জাওযী সনদসহ বহু হাদিস ও আসার (বর্ণনা) উল্লেখ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সূফীদের মতবাদের কঠোর ও তৃপ্তিদায়ক খণ্ডন করেছেন—যার অন্তর্ভুক্ত ছিল গান ও শ্রবণ সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি। তবে তিনি কবরের ফিতনা এবং খ্রিস্টান ও ইহুদিদের খণ্ডন প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিমের মতো অতটা বিস্তারিত আলোচনা করেননি। এভাবে প্রত্যেকেই স্ব-স্ব পরিচিত শৈলীতে এমন সব বিষয় আলোচনা করেছেন যা অন্যের গ্রন্থে নেই।

"ইগাছাহ" গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য এই যে, এটি অন্তরের ব্যাধি ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করেছে—যা ইবনুল কাইয়্যিমের অত্যন্ত প্রিয় একটি বিষয় এবং তিনি তাঁর বেশ কয়েকটি গ্রন্থে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন। একইভাবে তিনি ওয়াসওয়াসা ও ওয়াসওয়াসায় আক্রান্তদের প্রসঙ্গ, তাহলীল (হিল্লা) ও এর হোতাগণ, নানাবিধ কৌশল (হিলা) ও এর প্রবর্তকগণ এবং রূপ-লাবণ্যের মোহগ্রস্ততা ইত্যাদি বিষয়ে এমন বিস্তৃত আলোচনা করেছেন যে, তাঁর এই গ্রন্থটি এসব বিষয় অধ্যয়নের জন্য একটি মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ আকর গ্রন্থে পরিণত হয়েছে। পরবর্তীকালের লেখকগণ এর ওপর নির্ভর করেছেন, এ থেকে অনেক দীর্ঘ উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন এবং গ্রন্থটিকে সংক্ষেপণ, পরিমার্জন ও সহজবোধ্য করার কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন, যার বিবরণ ইনশাআল্লাহ সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٢)
*‌‌ موارده:

نقل المؤلف في الكتاب من مصادر متنوعة في الحديث والفقه والتفسير(1) واللغة والأدب والتاريخ والتصوف وغيرها، ولم أقصد هنا سردها وبيان مواضع النقل منها، فإن فهرس الكتب الواردة في النص وفهرس المؤلفين من الأعلام يكشفان عن جميع المواضع. وأريد هنا بيان مراجع بعض الفصول والأبواب حسب ترتيب الكتاب، ليكون القارئ على بيِّنة من الأمر عندما يقرأ في موضوع، ويعرف مصدر المؤلف فيه، فإنه لا يُصرِّح أحيانًا باسم الكتاب أو المؤلف، وينقل عنه صفحات متتالية.

أما ما يتعلق بأمراض القلوب وعلاجها في الأبواب الأولى من الكتاب (ص 1 - 174) فلم يعتمد فيها على مصدر معين، بل استفاد من كتب الحديث والتفسير والفقه والزهد واللغة عمومًا، وأكثر من النقل عن كتاب "الزهد" للإمام أحمد، و"ذم الدنيا" و"محاسبة النفس" لابن أبي الدنيا. واستفاد في الباب السادس منه من كلام شيخه شيخ الإسلام (في مجموع الفتاوى 1/ 21 ــ 33) دون أن يصرِّح بذلك، على منهجه المعروف في كتبه.

وفي مبحث الوسواس وذم الموسوسين اعتمد على كتاب "ذم الوسواس" لابن قدامة، وصرح باسمه (ص 231) ونقل عنه معظم مباحثه ابتداءً من خطبته، مع تعليقات وفوائد زادها على كلامه.

واعتمد في مبحث الفتنة بالقبور وتعظيمها وعبادتها على كلام شيخ

--------------------------------------------

(1) كان جلُّ اعتماده في التفسير على "البسيط" للواحدي (ت 468)، فقد نقل منه أكثر أقوال المفسرين في تفسير الآيات. أفادني بذلك أخي المحقق الدكتور محمد أجمل الإصلاحي، وقابل نصوص الكتاب عليه، فجزاه الله خيرًا.

তাঁর উৎসসমূহ:

গ্রন্থকার এই কিতাবে হাদীস, ফিকহ, তাফসীর(১), ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, তাসাউফ ও অন্যান্য বিবিধ উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এখানে আমার উদ্দেশ্য সেগুলোর দীর্ঘ তালিকা প্রদান বা উদ্ধৃতির উৎসস্থলসমূহ বর্ণনা করা নয়; কেননা কিতাবে উল্লিখিত গ্রন্থতালিকা এবং প্রখ্যাত লেখকবৃন্দের নির্ঘণ্ট থেকেই যাবতীয় স্থান উন্মোচিত হয়। আমি এখানে কিতাবের বিন্যাস অনুযায়ী কেবল কিছু পরিচ্ছেদ ও অধ্যায়ের মূল উৎসসমূহ স্পষ্ট করতে চাই, যাতে পাঠক কোনো বিষয়ে পড়ার সময় বিষয়টি সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকেন এবং গ্রন্থকারের উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। কারণ তিনি অনেক সময় কিতাব বা লেখকের নাম স্পষ্ট না করেই তাঁর থেকে ধারাবাহিকভাবে কয়েক পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করে থাকেন।

অতঃপর কিতাবের প্রথম দিকের অধ্যায়গুলোতে (পৃ. ১-১৭৪) কলবের ব্যাধি ও তার প্রতিকার সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি কোনো নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভর করেননি, বরং সাধারণভাবেই হাদীস, তাফসীর, ফিকহ, যুহদ ও ভাষার কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ইমাম আহমদের "কিতাবুয যুহদ" এবং ইবনে আবিদ দুনইয়ার "যম্মুদ দুনইয়া" ও "মুহাসাবাতুন নাফস" থেকে অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ষষ্ঠ অধ্যায়ে তিনি তাঁর উস্তাদ শাইখুল ইসলামের বক্তব্য (মাজমুউল ফাতাওয়া ১/ ২১-৩৩) থেকে উপকৃত হয়েছেন, তবে তাঁর কিতাবসমূহে অনুসৃত সুপরিচিত রীতি অনুযায়ী তিনি এখানে তাঁর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।

ওয়াসওয়াসা এবং ওয়াসওয়াসায় আক্রান্তদের নিন্দার আলোচনায় তিনি ইবনে কুদামার "যম্মুল ওয়াসওয়াস" কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন এবং স্পষ্টভাবে এর নাম উল্লেখ করেছেন (পৃ. ২৩১)। তিনি উক্ত গ্রন্থের ভূমিকা থেকেই এর অধিকাংশ আলোচনা উদ্ধৃত করেছেন এবং সেই সাথে নিজের পক্ষ থেকে কিছু ব্যাখ্যা ও ফায়দা সংযোজন করেছেন।

কবর নিয়ে ফিতনা, কবরের অতি-সম্মান এবং তার উপাসনা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি শাইখ...

--------------------------------------------

(১) তাফসীরের ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান নির্ভরতা ছিল ওয়াহিদী (মৃত্যু ৪৬৮ হি.) রচিত "আল-বাসীত"-এর ওপর। আয়াতসমূহের তাফসীরে মুফাসসিরগণের অধিকাংশ বক্তব্য তিনি মূলত সেখান থেকেই উদ্ধৃত করেছেন। আমার ভাই মুহাক্কিক ড. মুহাম্মদ আজমল আল-ইসলাহী আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন এবং কিতাবের পাঠের সাথে তা মিলিয়ে দেখেছেন; আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٣)
الإسلام ابن تيمية في "اقتضاء الصراط المستقيم" وغيره من كتبه وفتاواه، وصرَّح باسم شيخه في بعض المواضع (ص 334، 348، 350، 391). ونقل فصلًا لأبي الوفاء ابن عقيل (ص 352)، وهو موجود بنصه في "تلبيس إبليس" (ص 402). ونقل عن أبي محمد المقدسي ــ وهو ابن قدامة ــ (ص 356)، وكلامه في "المغني".

وفي مبحث الأنصاب والأزلام نقل عن كتابي أبي بكر الطرطوشي وأبي شامة في البدع (ص 381).

ونقل في موضوع السماع والغناء عن كتاب أبي بكر الطرطوشي في تحريم السماع (ص 403، 411)، وعن "روضة الطالبين" للنووي وفتاوى ابن الصلاح (ص 407) وغيرها. وشرحَ أسماء السماع والغناء، وأورد في أثنائها أحاديث كثيرة في ذم الغناء نقلًا عن كتاب "ذم الملاهي" و"مكايد الشيطان" لابن أبي الدنيا (ص 434، 435، 437، 438، 443، 459 - 471)، كما نقل عن "أحكام الملاهي" لأبي الحسين ابن المنادي (ص 438)، وردَّ على ابن حزم في تضعيفه لحديث المعازف من وجوه (ص 456 - 459).

وكان جلُّ اعتماده في مبحث التحليل على كتاب شيخ الإسلام "بيان الدليل على إبطال التحليل"، وقد صرَّح بالاستفادة منه في مواضع (ص 479، 483، 490، 492). وكذلك في مبحث الطلاق الثلاث (ص 499 - 581) استفاد من كلام شيخه في كتبه وفتاواه المعروفة، ولخَّصها أحسن تلخيص، بحيث أصبح ما ذكره ابن القيم في "الإغاثة" عمدة لمن جاء بعده وبحث في هذه المسألة.

وفي موضوع الحيل أيضًا كان أكثر اعتماده على كتاب شيخه في إبطال
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া তাঁর "ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম" এবং তাঁর অন্যান্য বই ও ফতোয়া থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। তিনি কিছু স্থানে (পৃ. ৩৩৪, ৩৪৮, ৩৫০, ৩৯১) স্পষ্টভাবে তাঁর শাইখের নাম উল্লেখ করেছেন। তিনি আবুল ওয়াফা ইবনে আকিলের একটি পরিচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন (পৃ. ৩৫২), যা হুবহু "তালবিসু ইবলিস" (পৃ. ৪০২) গ্রন্থে বিদ্যমান। তিনি আবু মুহাম্মদ আল-মাকদিসি—যিনি ইবনে কুদামা নামে পরিচিত—তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন (পৃ. ৩৫৬), এবং তাঁর এই বক্তব্যগুলো "আল-মুগনি" গ্রন্থে রয়েছে।

এবং আনসাব (পূজার বেদী) ও আজলাম (ভাগ্যনির্ধারক তীর) সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি বিদআত বিষয়ে আবু বকর আল-তারতুশি ও আবু শামার দুটি গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (পৃ. ৩৮১)।

তিনি সামা (তথাকথিত আধ্যাত্মিক গান) এবং সংগীতের বিষয়ে আবু বকর আল-তারতুশির গান হারাম করা সংক্রান্ত কিতাব (পৃ. ৪০৩, ৪১১) থেকে এবং নববীর "রাওদাতুত তালিবিন" ও ইবনুস সালাহর ফতোয়া (পৃ. ৪০৭) এবং অন্যান্য উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি সামা ও সংগীতের নামগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন এবং গান-বাজনার নিন্দায় ইবনে আবিদ দুনিয়ার "যাম্মুল মালাহি" ও "মাকায়িদুশ শাইতান" কিতাব থেকে অসংখ্য হাদিস উল্লেখ করেছেন (পৃ. ৪৩৪, ৪৩৫, ৪৩৭, ৪৩৮, ৪৪৩, ৪৫৯-৪৭১)। তদ্রূপ তিনি আবুল হুসাইন ইবনুল মুনাদির "আহকামুল মালাহি" (পৃ. ৪৩৮) থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কিত হাদিসকে দুর্বল বলার কারণে ইবনে হাজমের খণ্ডন করেছেন বিভিন্ন আঙ্গিকে (পৃ. ৪৫৬-৪৫৯)।

তাহলিল (বা হিল্লা বিয়ে) সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁর প্রধান নির্ভরতা ছিল শাইখুল ইসলামের "বায়ানুদ দলিল আলা ইবতালিত তাহলিল" নামক গ্রন্থের ওপর, এবং তিনি বিভিন্ন স্থানে (পৃ. ৪৭৯, ৪৮৩, ৪৯০, ৪৯২) এই গ্রন্থ থেকে উপকৃত হওয়ার কথা স্পষ্ট করেছেন। একইভাবে তিন তালাক সংক্রান্ত আলোচনায় (পৃ. ৪৯৯-৫৮১) তিনি তাঁর শাইখের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহ ও ফতোয়াসমূহ থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেগুলোকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে সারসংক্ষেপ করেছেন; যার ফলে "আল-ইগাছা" গ্রন্থে ইবনুল কাইয়্যিমের এই বর্ণনা পরবর্তীকালে যারা এই মাসআলা নিয়ে গবেষণা করেছেন তাদের জন্য প্রধান মডেলে পরিণত হয়েছে।

হিলা (কৌশল) অবলম্বন করার বিষয়েও তাঁর অধিকাংশ নির্ভরতা ছিল তাঁর শাইখের বাতিলের ওপর রচিত কিতাবের...
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٤)
التحليل، وقد صرَّح بالنقل عنه كثيرًا، واستفاد أيضًا من كتاب ابن بطَّة في إبطال الحيل (ص 587، 596، 602).

وفي مبحث عشق الصور والكلام على المحبة اعتمد على كلام شيخه أحيانًا (ص 872، 874، 888)، وقد فصَّل الكلام على هذا الموضوع في كتابه "روضة المحبين" الذي ألَّفه بعد "الإغاثة"، فاستقصى البحث فيه من جميع جوانبه.

وكان كتاب "الأصنام" لابن الكلبي هو المصدر الرئيسي للمؤلف عند الحديث عن عبادة الأصنام، فقد نقل عنه كثيرًا وأحال عليه (ص 957 وما بعدها)، كما استفاد من سيرة ابن إسحاق أيضًا في هذا الموضوع، فاقتبس منها نصوصًا مهمة (ص 962، 968 - 970).

وعند الحديث عن الثنوية والصابئة والدهرية والفلاسفة اعتمد على كتب الملل والنحل، فنقل عن كتاب "الفصل" لابن حزم و"الملل والنحل" للشهرستاني (ص 1015)، وذكر أرباب المقالات كالأشعري وأبي عيسى الوراق والنوبختي (ص 1021، 1027)، وكان جلُّ اعتماده على كتاب "الملل والنحل" للشهرستاني عند ذكر أقوال الفلاسفة وآرائهم (ص 1027 - 1033)، ولكنه لم يُصرِّح بذلك، إلّا أنه ذكر كتاب "المصارعة" للشهرستاني و"مصارعة المصارعة" للنصير الطوسي، وقال إنه وقف عليهما (ص 1132).

وكان مصدره الرئيسي في بيان تاريخ النصارى ومجامعهم وفرقهم: "تاريخ" سعيد بن البطريق النصراني، وقد صرَّح بأنه نقل كل ذلك من كتابه (ص 1069). وفي ذكر تلاعب الشيطان باليهود اعتمد اعتمادًا كبيرًا على
বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে তিনি এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে বাত্তাহর 'ইবতালুল হিয়াল' গ্রন্থ থেকেও উপকৃত হয়েছেন (পৃ. ৫৮৭, ৫৯৬, ৬০২)।

প্রতিকৃতি বা রূপের প্রতি আসক্তি এবং ভালোবাসা সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি ক্ষেত্রবিশেষে তাঁর শায়খের (শিক্ষকের) বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছেন (পৃ. ৮৭২, ৮৭৪, ৮৮৮)। তিনি তাঁর 'রওজাতুল মুহিব্বিন' গ্রন্থে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা তিনি 'ইগাছাহ' রচনার পর লিখেছিলেন; সেখানে তিনি বিষয়টির সকল দিক নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছেন।

মূর্তিপূজা সংক্রান্ত আলোচনার ক্ষেত্রে ইবনুল কালবির 'আল-আসনাম' গ্রন্থটি ছিল লেখকের প্রধান উৎস। তিনি এটি থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং এর হাওয়ালা প্রদান করেছেন (পৃ. ৯৫৭ এবং পরবর্তী)। এছাড়া তিনি এই বিষয়ে ইবনে ইসহাকের 'সিরাত' থেকেও উপকৃত হয়েছেন এবং সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ পাঠসমূহ উদ্ধৃত করেছেন (পৃ. ৯৬২, ৯৬৮-৯৭০)।

দ্বিত্ববাদ, সাবী সম্প্রদায়, বস্তুবাদ এবং দার্শনিকদের বর্ণনায় তিনি 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' (ধর্ম ও মতবাদ) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি ইবনে হাজমের 'আল-ফাসল' এবং শাহরাস্তানির 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন (পৃ. ১০১৫)। তিনি আশআরি, আবু ঈসা আল-ওয়াররাক এবং নওবাখতির মতো বিভিন্ন মতবাদের প্রবক্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন (পৃ. ১০২১, ১০২৭)। দার্শনিকদের বক্তব্য ও মতামতের বর্ণনায় তাঁর অধিকাংশ নির্ভরতা ছিল শাহরাস্তানির 'আল-মিলাল ওয়ান নিহাল' গ্রন্থের ওপর (পৃ. ১০২৭-১০৩৩), যদিও তিনি বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেননি। তবে তিনি শাহরাস্তানির 'আল-মুসারাআহ' এবং নাসিরুদ্দিন তুসির 'মুসারাআতুল মুসারাআহ' গ্রন্থদ্বয়ের উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি এ দুটি গ্রন্থ পাঠ করেছেন (পৃ. ১১৩২)।

খ্রিষ্টানদের ইতিহাস, তাদের ধর্মীয় মহাসভা ও উপদলসমূহের বর্ণনায় তাঁর প্রধান উৎস ছিল খ্রিষ্টান পণ্ডিত সাঈদ ইবনুল বীতরিকের 'তারিখ' (ইতিহাস) গ্রন্থ; তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এই সমস্ত তথ্য তাঁর গ্রন্থ থেকে গ্রহণ করেছেন (পৃ. ১০৬৯)। আর ইহুদিদের সাথে শয়তানের প্রবঞ্চনার বর্ণনায় তিনি ব্যাপকভাবে নির্ভর করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٥)
كتاب "بذل المجهود في إفحام اليهود" للسموأل بن يحيى المغربي (ت 570)، وجميع النصوص المقتبسة من التوراة وغيره من كتبهم كان بواسطة هذا الكتاب، ولم يصرح المؤلف بذلك.

ونقل كلام شيخه من "الجواب الصحيح لمن بدَّل دين المسيح" في موضوع التبديل والتحريف في التوراة والإنجيل (ص 1136 - 1139) وأن الذبيح إسماعيل (ص 1139 - 1142).

هذا استعراض سريع لبعض المصادر الرئيسية التي كانت أمام المؤلف إلى جانب المصادر الأخرى في فنون مختلفة، ولكنه لم يقتصر على النقل منها، بل استدرك عليها كثيرًا، وأضاف إليها من آرائه وتحقيقاته ما لا يوجد في مصدر آخر، واستنبط استنباطات دقيقة من الآيات والأحاديث، وحقق القول في بعض الموضوعات وتوسَّع فيها بما لا نجده عند غيره.

 

*‌‌ أثره في الكتب اللاحقة:

كان لهذا الكتاب أثر ملموس في الكتب اللاحقة، حيث اختصره عدد من المؤلفين، واعتمد عليه آخرون ونقلوا عنه في المباحث التي اشتهر بها، واستدرك عليه بعضهم فصححوا بعض المعلومات الواردة فيه.

وأَقدَم مَن نقل عنه دون الإشارة إلى الكتاب: ابن مفلح (ت 803) في كتابه "مصائب الإنسان من مكايد الشيطان" (ص 19 ــ 25)(1)، كما يظهر بمقارنته مع كتاب ابن القيم (ص 161 - 168).

--------------------------------------------

(1) أفادني بهذا المصدر وببعض المصادر الأخرى: فضيلة الشيخ المحقق سليمان العمير، جزاه الله خيرًا.

সামাউয়াল বিন ইয়াহইয়া আল-মাগরিবি (মৃত্যু ৫৭০ হি.)-এর রচিত "বাযলুল মাজহুদ ফি ইফহামিল ইয়াহুদ" গ্রন্থটি; তাওরাত এবং তাদের অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত সকল পাঠ এই গ্রন্থের মাধ্যমেই সংকলিত হয়েছে, যদিও লেখক স্পষ্টভাবে তা উল্লেখ করেননি।

তিনি তাওরাত ও ইঞ্জিলের পরিবর্তন ও বিকৃতি (পৃষ্ঠা ১১৩৬ - ১১৩৯) এবং জবিহ (কুরবানিকৃত ব্যক্তি) হিসেবে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-এর প্রসঙ্গটি (পৃষ্ঠা ১১৩৯ - ১১৪২) তার শায়খের "আল-জাওয়াবুস সহিহ লি-মান বাদ্দালা দিনাল মাসিহ" গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করেছেন।

এটি লেখকের সম্মুখে থাকা কিছু প্রধান উৎসের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা, যার পাশাপাশি বিভিন্ন শাস্ত্রের অন্যান্য উৎসও বিদ্যমান ছিল। তবে তিনি কেবল সেগুলো থেকে উদ্ধৃতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং অনেক ক্ষেত্রে সেগুলোর পর্যালোচনা ও সংশোধন করেছেন এবং নিজের এমন সব চিন্তাধারা ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ যুক্ত করেছেন যা অন্য কোনো উৎসে পাওয়া যায় না। তিনি আয়াত ও হাদিস থেকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তসমূহ আহরণ করেছেন এবং কিছু বিষয়ে এমন পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা ও বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন যা সমসাময়িক বা পূর্ববর্তী অন্য কারও রচনায় পাওয়া যায় না।

 

*‌‌ পরবর্তী গ্রন্থসমূহের ওপর এর প্রভাব:

পরবর্তী গ্রন্থসমূহের ওপর এই বইটির এক দৃশ্যমান প্রভাব ছিল; কেননা অনেক লেখক এটি সংক্ষিপ্তাকারে পুনর্লিখন করেছেন, আবার কেউ কেউ এর ওপর নির্ভর করেছেন এবং এর আলোচিত প্রসিদ্ধ বিষয়সমূহ থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করেছেন। আবার কেউ কেউ এর ওপর পর্যালোচনা করে এতে উল্লিখিত কিছু তথ্যের সংশোধন করেছেন।

মূল গ্রন্থের নাম উল্লেখ না করে যারা এটি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রাচীনতম হলেন ইবনে মুফলিহ (মৃত্যু ৮০৩ হি.) তার "মাসায়িবুল ইনসান মিন মাকায়িদিশ শয়তান" (পৃষ্ঠা ১৯ - ২৫) গ্রন্থে(১); যা ইবনুল কাইয়িমের গ্রন্থের (পৃষ্ঠা ১৬১ - ১৬৮) সাথে তুলনা করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।

--------------------------------------------

(১) আমাকে এই উৎস এবং অন্যান্য কিছু উৎস সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে সহযোগিতা করেছেন শ্রদ্ধেয় শায়খ মুহাক্কিক সুলায়মান আল-উমাইর, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وممن نقل عنه: ابن النحاس الدمشقي (ت 814) في كتابه "تنبيه الغافلين" (ص 305، 306، 307، 520)، كما نقل عنه في مواضع (ص 234، 308، 522)، ولم يسمّه.

وممن نقل عنه وعقَّب عليه الحافظ ابن حجر (ت 852) في "لسان الميزان" (7/ 518) في ترجمة محمد بن مقاتل الرازي، فقد بيَّن وهم المؤلف في ذلك في "الإغاثة" (ص 563)، ونقل عنه أيضًا في "فتح الباري" (6/ 490) في معنى قول عيسى عليه السلام: "آمنت بالله وكذبت عيني"، وتعقبه.

وذكره يوسف بن عبد الهادي (ت 909) في "سير الحاثّ" (ص 112)، ونقل عن جده لأمه جمال الدين الإمام (ت 798) أنه نقل في أحد كتبه عن ابن القيم في "إغاثة اللهفان" وسماه "ذم مصايد الشيطان"، وهذا النقل في مسألة ندم عمر رضي الله عنه على إمضاء الثلاث، انظر "سير الحاث" (ص 152).

ونقل عنه الحجاوي (ت 968) في "الإقناع" (1/ 367، 368) في موضوع هدم القباب التي على القبور، ونقل هذا النصّ أيضًا: مرعي بن يوسف الكرمي (ت 1033) في "غاية المنتهى" (1/ 251) ومنصور البهوتي (ت 1051) في "كشاف القناع" (2/ 139) ومصطفى الرحيباني (ت 1243) في "مطالب أولي النهى" (1/ 912).

واستفاد منه المناوي (ت 1031) في "فيض القدير" (5/ 274) حيث نقل كلام ابن القيم دون أن يسمي المصدر، وهو في "الإغاثة" (ص 342).

واقتبس منه ابن العماد الحنبلي (ت 1089) في "شذرات الذهب" (5/ 339 - 340) كلام ابن القيم في النصير الطوسي هنا (ص 1032).
যারা তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: ইবনে আন-নাহহাস আদ-দিমাশকি (মৃত্যু ৮১৪ হিজরি) তাঁর ‘তানবিহুল গাফিলিন’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ৩০৫, ৩০৬, ৩০৭, ৫২০)। এছাড়াও তিনি আরও কয়েকটি স্থানে (পৃষ্ঠা ২৩৪, ৩০৮, ৫২২) তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তবে সেখানে লেখকের নাম উল্লেখ করেননি।

হাফিজ ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) ‘লিসানুল মিজান’ গ্রন্থে (৭/ ৫১৮) মুহাম্মদ বিন মুকাতিল আর-রাজি-এর জীবনী আলোচনায় তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং তার ওপর টীকা প্রদান করেছেন। তিনি সেখানে ‘আল-ইগাসা’ (পৃষ্ঠা ৫৬৩) গ্রন্থে মূল লেখকের একটি ভ্রম বা ভুল ধারণা স্পষ্ট করেছেন। এছাড়াও তিনি ‘ফাতহুল বারি’ গ্রন্থে (৬/ ৪৯০) ঈসা আলাইহিস সালামের উক্তি—‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমার চোখকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছি’—এর তাৎপর্য ব্যাখ্যায় তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে পর্যালোচনা করেছেন।

ইউসুফ বিন আব্দুল হাদি (মৃত্যু ৯০৯ হিজরি) ‘সায়রুল হাস’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১১২) তাঁর উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর মাতামহ জামালুদ্দিন আল-ইমাম (মৃত্যু ৭৯৮ হিজরি) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর একটি কিতাবে ইবনুল কাইয়্যিমের ‘ইগাসাতুল লাহফান’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং বইটির নাম ‘যাম্মু মাসাইদিশ শয়তান’ উল্লেখ করেছেন। এই উদ্ধৃতিটি মূলত উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর তিন তালাক কার্যকর করার বিষয়ে অনুশোচনা সংক্রান্ত মাসআলায় ছিল; দেখুন: ‘সায়রুল হাস’ (পৃষ্ঠা ১৫২)।

আল-হিজ্জাবি (মৃত্যু ৯৬৮ হিজরি) ‘আল-ইকনা’ গ্রন্থে (১/ ৩৬৭, ৩৬৮) কবরের ওপর নির্মিত গম্বুজসমূহ ধ্বংস করার বিষয়ে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এই একই উদ্ধৃতি মারঈ বিন ইউসুফ আল-কারমি (মৃত্যু ১০৩৩ হিজরি) ‘গায়াতুল মুনতাহা’ গ্রন্থে (১/ ২৫১), মানসুর আল-বাহুতি (মৃত্যু ১০৫১ হিজরি) ‘কাশশাফুল কিনা’ গ্রন্থে (২/ ১৩৯) এবং মুস্তফা আর-রুহাইবানি (মৃত্যু ১২৪৩ হিজরি) ‘মাতালিবু উলিন নুহা’ গ্রন্থে (১/ ৯১২) বর্ণনা করেছেন।

আল-মুনাউয়ি (মৃত্যু ১০৩১ হিজরি) ‘ফয়জুল কাদির’ গ্রন্থে (৫/ ২৭৪) তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং সেখানে তিনি মূল উৎসের নাম উল্লেখ না করেই ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন, যা ‘আল-ইগাসা’ গ্রন্থের ৩৪২ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান।

ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৮৯ হিজরি) ‘শাযারাতুয যাহাব’ গ্রন্থে (৫/ ৩৩৯-৩৪০) নাসিরুদ্দিন আত-তুসি সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যটি এখান থেকে (পৃষ্ঠা ১০৩২) গ্রহণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٧)
واقتبس منه أيضًا في "معطية الأمان من حنث الأيمان" (ص 254) مسألة تعليق الطلاق بوقت.

ونقل عنه المنقور (ت 1125) نصوصًا عديدة في كتابه "الفواكه العديدة في المسائل المفيدة" (1/ 39، 256 - 257، 396، 2/ 74 - 75).

ونقل عنه الأمير الصنعاني (ت 1182) في "توضيح الأفكار" (1/ 145) تصحيح حديث المعازف، كما نقل عنه في خاتمة كتابه "الإنصاف في حقيقة الأولياء وما لهم من الكرامات والألطاف" (ص 113 - 116) في موضوع تعظيم القبور وأنه مأخوذ من عبَّاد الأصنام.

وسيأتي أن السفّاريني (ت 1188) كان عنده نسخة من الكتاب، وظهر أثر ذلك في مؤلفاته، فقد نقل عنه نصوصًا كثيرة في مبحث السماع في كتابه "غذاء الألباب" (1/ 148، 153، 160 - 163، 167، 168، 169 - 170)، وذكره من المصادر الرئيسية في مقدمته (1/ 11). ونقل عنه أيضًا مكيدة التحليل في "كشف اللثام بشرح عمدة الأحكام" (5/ 346 - 351)، وذكر انتصار ابن القيم لوقوع الطلاق الثلاث واحدةً في "الإغاثة" وغيره من مؤلفاته (5/ 454).

أما النواب صديق حسن خان القنوجي (ت 1307) فقد لخَّص في كتابه "الدين الخالص" (2/ 403 - 487) من مبحث عشق الصور إلى تلاعب الشيطان باليهود في نهاية الكتاب في "الإغاثة" (ص 836 - 1151). وقال في آخره: "انتهى من إغاثة اللهفان للحافظ ابن القيم رحمه الله تعالى، ملخَّصًا".

وآخر من اطلعتُ عليه نقل من الكتاب قبل سنة 1297: نعمان بن محمود الآلوسي (ت 1317) في كتابه "جلاء العينين في محاكمة
তিনি তাঁর "মু’তিয়াতুল আমান মিন হানসিল আইমান" (পৃ. ২৫৪) গ্রন্থে তালাককে সময়ের সাথে স্থগিত রাখার মাসআলাটি এখান থেকেও গ্রহণ করেছেন।

আল-মানকুর (ওফাত ১১২৫ হি.) তাঁর গ্রন্থ "আল-ফাওয়াকিহুল আদিদাহ ফিল মাসায়িলিল মুফিদাহ" (১/ ৩৯, ২৫৬-২৫৭, ৩৯৬, ২/ ৭৪-৭৫) -তে তাঁর থেকে অসংখ্য পাঠ উদ্ধৃত করেছেন।

আমির আস-সানআনি (ওফাত ১১৮২ হি.) "তাউদিহুল আফকার" (১/ ১৪৫) গ্রন্থে বাদ্যযন্ত্র বিষয়ক হাদিসের বিশুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গে তাঁর উদ্ধৃতি দিয়েছেন। একইভাবে তিনি তাঁর "আল-ইনসাফ ফি হাকিকাতিল আউলিয়া ওয়া মা লাহুম মিনাল কারামাত ওয়াল আলতাফ" গ্রন্থের পরিশিষ্টে (পৃ. ১১৩-১১৬) কবরকে অতি-মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি এবং এটি যে মূর্তিপূজারীদের থেকে গৃহীত, সে প্রসঙ্গে তাঁর উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন।

সামনে আসবে যে, আস-সাফারিনি (ওফাত ১১৮৮ হি.)-এর কাছে এই কিতাবটির একটি পাণ্ডুলিপি ছিল এবং এর প্রভাব তাঁর রচনাবলীতে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি তাঁর "গিজাউল আলবাব" (১/ ১৪৮, ১৫৩, ১৬০-১৬৩, ১৬৭, ১৬৮, ১৬৯-১৭০) গ্রন্থে গান-বাজনা বা সামা সংক্রান্ত আলোচনায় অনেক উদ্ধৃতি দিয়েছেন এবং ভূমিকার (১/ ১১) মূল উৎসগুলোর মধ্যে একে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি "কাশফুল লিসাম বি-শারহি উমদাতিল আহকাম" (৫/ ৩৪৬-৩৫১) গ্রন্থে হিলা-বিয়ের চক্রান্তের বিষয়টি উদ্ধৃত করেছেন এবং "ইগাছাহ" ও তাঁর অন্যান্য গ্রন্থে তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করার ব্যাপারে ইবনুল কাইয়্যিমের জোরালো অবস্থানের কথা উল্লেখ করেছেন (৫/ ৪৫৪)।

আর নবাব সিদ্দিক হাসান খান কান্নৌজি (ওফাত ১৩০৭ হি.) তাঁর "আদ-দীনুল খালিস" (২/ ৪০৩-৪৮৭) গ্রন্থে ইগাছাতুল লাহফান-এর (পৃ. ৮৩৬-১১৫১) রূপের মোহের আলোচনা থেকে শুরু করে বইয়ের শেষে বর্ণিত ইহুদিদের সাথে শয়তানের প্রবঞ্চনা পর্যন্ত অংশটুকুর সারসংক্ষেপ বর্ণনা করেছেন। তিনি এর শেষে বলেছেন: "হাফিজ ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা)-এর ইগাছাতুল লাহফান থেকে সংক্ষেপে সমাপ্ত।"

এবং ১২৯৭ হিজরির পূর্বে এই কিতাব থেকে উদ্ধৃতি প্রদানকারী সর্বশেষ যে ব্যক্তির সম্পর্কে আমি জানতে পেরেছি তিনি হলেন: নুমান ইবনে মাহমুদ আল-আলুসি (ওফাত ১৩১৭ হি.), তাঁর "জালাউল আইনাইন ফি মুহাকামাহ" গ্রন্থে।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٨)
الأحمدين" (ص 193) في مبحث الاجتهاد.

أما الذين قاموا باختصاره أو استلُّوا فصلًا منه بشيء من التلخيص والتهذيب فهم كثير، وفيما يلي ذكر هذه المختصرات التي وقفتُ عليها مع بيان مخطوطاتها وطبعاتها:

1 - اختصر منه محمد بن بير علي البركوي (ت 981) ما يتعلق بزيارة القبور، وتوجد منه نسخ بعناوين مختلفة في المكتبات الآتية:

- برلين [2657/ 9].

- برنستون [4113] (ق 28 ب -155 أ، من القرن الثاني عشر)؛ بلا نسبة.

- دار الكتب المصرية [13 م مجاميع] (ق 149 - 191، كتبت سنة 1121). انظر فهرس الخديوية (7/ 519)، الفهرس الثاني (1/ 300).

- التيمورية بدار الكتب [174/ 6 مجاميع]. انظر فهرس التيمورية (4/ 54).

- التيمورية بدار الكتب [53 عقائد]. انظر فهرس التيمورية (4/ 123).

- العثمانية بحلب [818].

- برنستون [3092] (ق 20 ب- 34 أ، سنة 1133) ونسب فيها إلى سنان الدين يوسف الأماسي.

- دار الكتب المصرية [25765 ب] (ق 1 - 46، دون تاريخ، وبلا نسبة إلى المؤلف). انظرا لفهرس الثالث (3/ 113).
"আল-আহমাদাইন" (পৃ. ১৯৩) ইজতিহাদ অধ্যায়ে।

আর যারা এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন অথবা এর কোনো অংশ পরিমার্জন ও সারসংক্ষেপসহ চয়ন করেছেন, তাদের সংখ্যা অনেক। নিম্নে সেই সংক্ষিপ্তসারগুলোর উল্লেখ করা হলো যা আমি খুঁজে পেয়েছি, এবং সেই সাথে সেগুলোর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত সংস্করণসমূহের বিবরণ দেওয়া হলো:

১ - মুহাম্মাদ বিন পীর আলী আল-বিরকিভি (মৃত্যু ৯৮১) এটি থেকে কবর জিয়ারত সংক্রান্ত বিষয়গুলো সংক্ষেপ করেছেন। নিচের গ্রন্থাগারগুলোতে বিভিন্ন শিরোনামে এর পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়:

- বার্লিন [২৬৫৭/ ৯]।

- প্রিন্সটন [৪১১৩] (পত্র ২৮ খ - ১৫৫ ক, দ্বাদশ শতাব্দীর); লেখকের নাম উল্লেখ নেই।

- মিশরীয় দারুল কুতুব [১৩ ম মাজামি‘] (পত্র ১৪৯ - ১৯১, ১১২১ হিজরিতে অনুলিখিত)। দেখুন: খাদিভিয়্যাহ সূচিপত্র (৭/ ৫১৯), দ্বিতীয় সূচিপত্র (১/ ৩০০)।

- দারুল কুতুবের তায়মুরিইয়াহ সংগ্রহ [১৭৪/ ৬ মাজামি‘]। দেখুন: তায়মুরিইয়াহ সূচিপত্র (৪/ ৫৪)।

- দারুল কুতুবের তায়মুরিইয়াহ সংগ্রহ [৫৩ আকাইদ]। দেখুন: তায়মুরিইয়াহ সূচিপত্র (৪/ ১২৩)।

- আলেপ্পোর উসমানিইয়াহ [৮১৮]।

- প্রিন্সটন [৩০৯২] (পত্র ২০ খ - ৩৪ ক, ১১৩৩ হিজরি); এতে এটি সিনানুদ্দিন ইউসুফ আল-আ মাসি-এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

- মিশরীয় দারুল কুতুব [২৫৭৬৫ ব] (পত্র ১ - ৪৬, তারিখ বিহীন এবং লেখকের নাম উল্লেখ নেই)। দেখুন: তৃতীয় সূচিপত্র (৩/ ১১৩)।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٢٩)
- وطبع بعنوان "زيارة القبور" طبعاتٍ عديدة، أولاها بهامش "شرح شرعة الإسلام" (ص 293 - 360) ط. إستانبول: مطبعة الإقدام، 1326.

2 - "تبعيد الشيطان بتقريب إغاثة اللهفان" لهاشم بن يحيى الشامي (ت 1158)، مخطوط في ندوة العلماء بالهند [561]، وفي الخزانة العامة بالرباط (206 ورقة). نقل عنه صاحب "صيانة الإنسان": ص 259. وعنوانه في هدية العارفين (2/ 504) وذيل كشف الظنون (2/ 598): "موارد الظمآن المختصر من إغاثة اللهفان".

3 - "مختصر إغاثة اللهفان … "، اختصره: عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين (ت 1282)، ط 1. الرياض: دار اليمامة، 1392/ 1972 م، 444 ص، ط 2. الرياض: مطابع الدرعية، 1409/ 1989 م، 442 ص.

4 - "جذوة مباركة من الإغاثة"، ضمن "الجامع المفيد المبني على بيان تحقيق التوحيد" تأليف: علي عبد الله الفهد الصقعبي، بريدة: دار العليا،1389/ 1969 م.

5 - "موارد الأمان المنتقى من إغاثة اللهفان" بقلم: علي بن حسن بن علي بن عبد الحميد الأثري، ط 5. الدمام، الرياض: دار ابن الجوزي، 1415/ 1995 م، 502 ص.

6 - منه "أقسام الحيل ومراتبها"، مخطوط في جامعة الملك سعود بالرياض.
এটি "যিয়ারাতুল কুবুর" শিরোনামে বহুবার মুদ্রিত হয়েছে, যার প্রথমটি "শারহু শিরআতিল ইসলাম"-এর পার্শ্বটীকা হিসেবে (পৃ. ২৯৩ - ৩৬০) প্রকাশিত হয়েছে। ইস্তাম্বুল সংস্করণ: আল-ইকদাম প্রেস, ১৩২৬ হিজরী।

২ - হাশিম বিন ইয়াহইয়া আশ-শামী (মৃত্যু ১১৫৮ হিজরী) বিরচিত "তাবঈদ আশ-শাইতান বি-তাকরীব ইগাছাতিল লাহফান"; এটি ভারতের নদওয়াতুল উলামায় [৫৬১] এবং রাবাতের আল-খিজানাতুল আম্মাহ-তে পাণ্ডুলিপি আকারে (২০৬ পৃষ্ঠা) সংরক্ষিত আছে। "সিয়ানাতুল ইনসান" গ্রন্থের লেখক এটি থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন: পৃষ্ঠা ২৫৯। "হাদিয়্যাতুল আরিফীন" (২/ ৫০৪) এবং "যাইল কাশফিজ জুনুন" (২/ ৫৯৮) গ্রন্থে এর শিরোনাম উল্লেখ করা হয়েছে: "মাওয়ারিদুজ জামআন আল-মুখতাসার মিন ইগাছাতিল লাহফান"।

৩ - "মুখতাসার ইগাছাতিল লাহফান...", সংক্ষেপন করেছেন: আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন (মৃত্যু ১২৮২ হিজরী), ১ম সংস্করণ: রিয়াদ: দারুল ইয়ামামাহ, ১৩৯২ হিজরী/ ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ, ৪৪৪ পৃষ্ঠা; ২য় সংস্করণ: রিয়াদ: মাতাবিউদ দিরইয়্যাহ, ১৪০৯ হিজরী/ ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ, ৪৪২ পৃষ্ঠা।

৪ - "জাযওয়াহ মুবারাকাহ মিনাল ইগাছাহ", এটি আলী আব্দুল্লাহ আল-ফাহাদ আস-সুকায়বি রচিত "আল-জামি আল-মুফিদ আল-মাবনি আলা বায়ানি তাহকীকিত তাওহীদ" গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। বুরাইদাহ: দারুল উলয়া, ১৩৮৯ হিজরী/ ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ।

৫ - আলী বিন হাসান বিন আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-আসারি কর্তৃক সংকলিত "মাওয়ারিদুল আমান আল-মুনতাকা মিন ইগাছাতিল লাহফান", ৫ ম সংস্করণ। দাম্মাম, রিয়াদ: দার ইবনুল জাওযী, ১৪১৫ হিজরী/ ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ, ৫০২ পৃষ্ঠা।

৬ - এর অংশবিশেষ "আকসামুল হিয়াল ওয়া মারাতিবুহা", যা রিয়াদের কিং সাউদ ইউনিভার্সিটিতে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٣٠)
7 - "الوسواس الخناس" استل من كتاب إغاثة اللهفان، ط. بيروت: دار القلم، بدون تاريخ.

8 - "كيف تتخلص من الوسوسة ومكايد الشيطان"، راجعه وعُني بنشره: أحمد بن سالم بادويلان، الرياض: دار طويق، 1415/ 1994 م، 95 ص.

9 - استخرج منه صالح أحمد الشامي "طبّ القلوب"، ط. دمشق: دار القلم، 1422/ 2001 م، 247 ص.

10 - استخرج منه سعيد هليل العمر "كشف الستور عن مكايد الشيطان لأهل القبور"، 47 ص.

11 - "رسالة في أحكام الغناء"، تحقيق: محمد حامد الفقي، ط. الرياض: دار طيبة، 1403، 48 ص. وطبعت أيضًا بعنوان "حكم الإسلام في الغناء" لابن القيم.

12 - "حكمة الابتلاء لابن قيم الجوزية" قدَّم له مروان كجك. نشر دار الأرقم، الكويت سنة 1406 هـ. جاء النص على أنه من كتاب إغاثة اللهفان في آخر الكتاب (ص 54).

13 - "أصول جامعة نافعة في البلاء والابتلاء، لابن قيم الجوزية" استله أشرف بن عبد المقصود.

14 - "رسالة في أمراض القلوب، تأليف الإمام الحافظ … ابن قيم الجوزية"، نشر: دار طيبة سنة 1403 هـ.

15 - "مكايد الشيطان في الوسوسة وذم الموسوسين لابن القيم" نشر: مكتبة ابن تيمية، القاهرة سنة 1401 هـ.
৭ - "আল-ওয়াসওয়াস আল-খান্নাস", 'ইগাসাতুল লাহফান' গ্রন্থ থেকে সংকলিত, বৈরুত মুদ্রণ: দারুল কলম, প্রকাশকাল অনুল্লিখিত।

৮ - "কীভাবে কুমন্ত্রণা ও শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাবেন", পুনঃনিরীক্ষণ ও প্রকাশনায়: আহমদ বিন সালিম বাদওয়িলান, রিয়াদ: দারু তুওয়াইক, ১৪১৫ হিজরী/ ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ, ৯৫ পৃষ্ঠা।

৯ - সালিহ আহমদ আল-শামী এটি থেকে "তিব্বুল কুলুব" (হৃদরোগের চিকিৎসা) নির্যাস গ্রহণ করেছেন, দামেস্ক মুদ্রণ: দারুল কলম, ১৪২২ হিজরী/ ২০০১ খ্রিস্টাব্দ, ২৪৭ পৃষ্ঠা।

১০ - সাঈদ হুলাইল আল-উমর এটি থেকে "কবরবাসীদের বিরুদ্ধে শয়তানের চক্রান্তের পর্দা উন্মোচন" সংকলন করেছেন, ৪৭ পৃষ্ঠা।

১১ - "সংগীতের বিধান সংক্রান্ত পুস্তিকা", সম্পাদনায়: মুহাম্মদ হামিদ আল-ফিক্কি, রিয়াদ মুদ্রণ: দারু তাইয়িবাহ, ১৪০৩ হিজরী, ৪৮ পৃষ্ঠা। এটি ইবনুল কাইয়িমের "সংগীতের ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান" শিরোনামেও মুদ্রিত হয়েছে।

১২ - "ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়্যার দৃষ্টিতে পরীক্ষার হিকমত", ভূমিকা লিখেছেন: মারওয়ান কাজাক। প্রকাশনায়: দারুল আরকাম, কুয়েত, ১৪০৬ হিজরী। গ্রন্থের শেষে (পৃষ্ঠা ৫৪) উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল পাঠটি 'ইগাসাতুল লাহফান' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

১৩ - "বিপদ ও পরীক্ষা সংক্রান্ত ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়্যার ব্যাপক ও উপকারী মূলনীতিসমূহ", চয়ন করেছেন: আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ।

১৪ - "হৃদরোগ সংক্রান্ত পুস্তিকা, রচনায়: ইমাম আল-হাফিজ … ইবনুল কাইয়িম আল-জাওযিয়্যাহ", প্রকাশনায়: দারু তাইয়িবাহ, ১৪০৩ হিজরী।

১৫ - "কুমন্ত্রণা সৃষ্টিতে শয়তানের চক্রান্ত এবং ওয়াসওয়াসায় আক্রান্তদের নিন্দা - ইবনুল কাইয়িম", প্রকাশনায়: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ, কায়রো, ১৪০১ হিজরী।
(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٣١)
16 - "الوسواوس الخناس، تأليف الإمام … ابن قيم الجوزية" نشر: مكتبة التراث الإسلامي، مصر سنة 1984 م، نصوا على انتقائه من إغاثة اللهفان في آخر الكتاب (ص 156).

الأرقام 12 - 16 مستفادة من مقدمة كتاب: الفروق الفقهية عند الإمام ابن قيم الجوزية، للدكتور سيد حبيب الأفغاني، طبعة مكتبة الرشد، 1429 هـ.

17 - "مختصر إغاثة اللهفان" لابن غانم المقدسي (ت 1004 هـ) مطبوع في مكتبة القرآن، بتحقيق إبراهيم محمد الجمل. وهذا مستفاد من مقدمة علي حسن الأثري (ص 9) على كتاب "إغاثة اللهفان".

18 - "مختصر إغاثة اللهفان" لأحمد بن عبد القادر الرومي (ت 1041). ذكره في "الأعلام" (1/ 153) نقلًا عن بروكلمان(1).

* وصف النسخ الخطية:

توجد من هذا الكتاب نسخ كثيرة في مكتبات العالم، بعضها كاملة وأخرى ناقصة، ومنها ما هي قطعة أو فصل من الكتاب. وقد حصلتُ على مصورات سبع نسخ منها، وفيما يلي وصفها:

1) نسخة العلامة عبد العزيز الميمني (= الأصل)

هذه النسخة من المكتبة الخاصة للعلامة الميمني رحمه الله، والتي آلت مخطوطاتها إلى مكتبة جامعة السند (جام شورو) بحيدر آباد السند في

--------------------------------------------

(1) الأرقام (12 ــ 18) من إفادات فضيلة الشيخ سليمان العمير حفظه الله.

১৬ - "আল-ওয়াসওয়াসুল খান্নাস, রচয়িতা ইমাম ... ইবনুল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ" প্রকাশনা: মাকতাবাতুত তুরাছিল ইসলামী, মিসর, ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ। তারা বইটির শেষে (পৃষ্ঠা ১৫৬) এটি 'ইগাছাতুল লাহফান' থেকে চয়ন করার কথা উল্লেখ করেছেন।

১২ থেকে ১৬ নম্বর পর্যন্ত তথ্যগুলো ড. সাইয়্যেদ হাবীব আল-আফগানী রচিত 'আল-ফুরূকুল ফিকহিয়্যাহ ইনদাল ইমাম ইবনিল কায়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ' গ্রন্থের ভূমিকা থেকে সংগৃহীত, মাকতাবাতুর রুশদ সংস্করণ, ১৪২৯ হিজরী।

১৭ - ইবনে গানিম আল-মাকদিসী (মৃত্যু ১০০৪ হি.) রচিত 'মুখতাসারু ইগাছাতিল লাহফান', যা ইবরাহীম মুহাম্মদ আল-জামালের সম্পাদনায় মাকতাবাতুল কুরআন থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এই তথ্যটি আলী হাসান আল-আছারীর 'ইগাছাতুল লাহফান' গ্রন্থের ভূমিকা (পৃষ্ঠা ৯) থেকে সংগৃহীত।

১৮ - আহমদ বিন আব্দুল কাদির আর-রূমী (মৃত্যু ১০৪১ হি.) রচিত 'মুখতাসারু ইগাছাতিল লাহফান'। ব্রোকেলম্যানের উদ্ধৃতিতে 'আল-আলাম' গ্রন্থে (১/১৫৩) এটি উল্লিখিত হয়েছে(১)।

* পাণ্ডুলিপিসমূহের বিবরণ:

বিশ্বের বিভিন্ন গ্রন্থাগারে এই গ্রন্থের বহু পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পূর্ণাঙ্গ এবং কিছু অসম্পূর্ণ; আবার কিছু পাণ্ডুলিপি গ্রন্থের অংশবিশেষ বা অধ্যায় মাত্র। আমি এগুলোর মধ্য থেকে সাতটি পাণ্ডুলিপির ছায়ালিপি সংগ্রহ করেছি, যার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১) আল্লামা আব্দুল আজিজ আল-মায়মানীর পাণ্ডুলিপি (= মূল কপি)

এই পাণ্ডুলিপিটি মরহুম আল্লামা আল-মায়মানীর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারের অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার পাণ্ডুলিপিসমূহ সিন্ধু প্রদেশের হায়দ্রাবাদের সিন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জামশুরু) গ্রন্থাগারে স্থানান্তরিত হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) ১২ থেকে ১৮ নম্বর পর্যন্ত তথ্যগুলো শায়খ সুলাইমান আল-উমাইর (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত।

(খণ্ড: ১) ইগাসাতুল লাহফান ফী মাসায়িদিশ শয়তান - ত আল-ফিকি (পৃষ্ঠা: ٣٢)
باكستان برقم [36335]. وهي أقدم نسخ الكتاب، حيث كُتِبت سنة 738 في حياة المؤلف، وجاء في آخرها بخط الناسخ: "وقد اتفق الفراغ من نسخه في يوم الأربعاء العشر الأول من شهر الله الحرام رجب المرجب سنة ثمان وثلاثين وسبع مئة الهجرية. والحمد لله أولًا وآخرًا ظاهرًا وباطنًا، وصلاته تترى على سيد المرسلين وإمام المتقين ورسول رب العالمين محمد المصطفى الأمين، وعلى جميع إخوانه من الرسل والنبيين، وعلى آله وصحبه أجمعين، وحسبنا الله ونعم الوكيل. على يد العبد الضعيف المحتاج إلى رحمة الله تعالى إبراهيم بن حاجي سليمان بن محمد بن محيي الدين غُفِر له ولوالديه". ولم أجد ترجمة الناسخ في المصادر التي رجعت إليها.

والنسخة مصححة ومقابلة على الأصل كما تدلُّ عليه الدوائر المنقوطة والتصحيحات على هوامشها، وهي بخط نسخي جميل، والخطأ فيها نادر. وعدد أوراقها 177 ورقة، وفي كل صفحة منها 29 أو 30 سطرًا. وعلى صفحة الغلاف في الركن الأيسر فوق كُتِب بخط حديث: "إغاثة اللهفان". وكُتِبَ في وسط الصفحة بخط آخر: "ولبعضهم في مدح هذا الكتاب:

إن شئتَ أن تنجو من الشيطانِ … فالزَمْ كتابَ "إغاثة اللهفانِ"

فيه شفاء القلبِ من أمراضهِ … وهو الطريقُ إلى رضا الرحمن

للّهِ دَرُّ بَنانِ ناظمِ عِقْدِه … كَمْ ضمَّ فيه مِن فريدِ جُمان

حِكَمٌ هي الدرُّ المصفَّى لو تَرى … عينٌ ويسمع من له أذنان

ومواعظٌ تَسْبِي القلوبَ وتسلُب الْـ … ألبابَ في لفظٍ ولُطْفِ معان

فاعكُفْ عليه إذا أردتَ سعادة الدَّ … (م) ارينِ في فضلٍ وفي إحسان
পাকিস্তান সংগ্রহশালায় এর নম্বর [৩৬৩৩৫]। এটি গ্রন্থটির প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি, যা লেখকের জীবদ্দশায় ৭৩৮ হিজরি সনে অনুলিপিত হয়েছিল। এর শেষে অনুলিপিকারের হস্তাক্ষরে লিখিত রয়েছে: "সাতশ আটত্রিশ হিজরি সনের আল্লাহর পবিত্র মাস মুরাজ্জাব রজবের প্রথম দশকের বুধবার এর অনুলিপি সম্পন্ন হয়েছে। আদি-অন্তে, প্রকাশ্যে ও গোপনে যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালাম অবিরত বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার, মুত্তাকীদের ইমাম ও বিশ্বজগতের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল মুহাম্মদ মুস্তফা আমীনের প্রতি, এবং তাঁর সকল ভাই তথা নবী ও রাসূলগণের প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর প্রতি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহর রহমতের মুখাপেক্ষী দুর্বল বান্দা ইবরাহীম বিন হাজী সুলাইমান বিন মুহাম্মদ বিন মুহিউদ্দিনের হাতে এটি সম্পন্ন হয়েছে—আল্লাহ তাকে ও তার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন।" আমি যেসব উৎস অনুসন্ধান করেছি, তাতে এই অনুলিপিকারের কোনো জীবনী খুঁজে পাইনি।

এই অনুলিপিটি মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে সংশোধন ও যাচাই করা হয়েছে, যার প্রমাণ এর মার্জিনে থাকা বিন্দুযুক্ত বৃত্তসমূহ এবং সংশোধনীসমূহ। এটি চমৎকার নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এতে ভুলের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৭৭ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২৯ অথবা ৩০টি করে লাইন রয়েছে। প্রচ্ছদ পৃষ্ঠার উপরের বাম কোণে আধুনিক হস্তাক্ষরে লিখিত রয়েছে: "ইগাসাতুল লাহফান"। পৃষ্ঠার মাঝখানে অন্য এক হাতের লেখায় রয়েছে: "এই কিতাবের প্রশংসায় জনৈক কবির পঙ্ক্তিমালা:

শয়তান হতে যদি তুমি পেতে চাও পরিত্রাণ … তবে আঁকড়ে ধরো কিতাব ‘ইগাসাতুল লাহফান’

এতে রয়েছে অন্তরের সকল রোগের নিরাময় … আর এটিই হলো দয়াময় আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ

আল্লাহর পক্ষ হতে বরকত বর্ষিত হোক এই রত্নমালার গাঁথুনিকারের আঙুলের ওপর … কতই না অনন্য মুক্তো তিনি এতে সঞ্চিত করেছেন

এগুলো এমন প্রজ্ঞা যা পরিশ্রুত মুক্তোর মতো, যদি কোনো চক্ষু … তা দেখত আর কর্ণবান ব্যক্তি তা শ্রবণ করত

এমন সব উপদেশ যা হৃদয় হরণ করে এবং বুদ্ধিকে … কেড়ে নেয়—শব্দশৈলী ও অর্থের সূক্ষ্মতায়

অতএব, তুমি এতেই নিমগ্ন থাকো যদি ইহকাল ও পরকাল … উভয় জগতের কল্যাণ ও অনুগ্রহের সৌভাগ্য পেতে চাও