(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: -)
الاستبصار فى عجائب الامصار   (مؤلف الاستبصار في عجائب الأمصار)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الاستبصار في عجائب الأمصار

المؤلف: كاتب مراكشي (توفي: ق 6هـ)

الناشر: دار الشؤون الثقافية، بغداد

عام النشر: 1986 م

عدد الصفحات: 246

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইসতিবসার ফি আজায়িবিল আমসার   (আল-ইসতিবসার ফি আজায়িবিল আমসার-এর লেখক)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-ইসতিবসার ফি আজায়িবিল আমসার

লেখক: মারাক্কাশের একজন লেখক (মৃত্যু: ৬ষ্ঠ হিজরি শতাব্দী)

প্রকাশক: দারুশ শুউন আস-সাকাফিয়্যাহ, বাগদাদ

প্রকাশকাল: ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: -)
مما يدعو إلى الأسف أننا نجهل مؤلف كتاب الاستبصار.

فباستثناء ابن أبي زرع، صاحب كتاب روض القرطاس، الذي يذكر عنوان الكتاب لم يشر أي كاتب آخر إلى الكتاب أو إلى مؤلفه.

هذا كما أن المؤلف لا يمدّنا خلال كتابته بأية معلومات تكشف لنا عن شخصيته. وهنا نجد ثلاث كلمات تعبر عنه وهي: «المؤلف» أي صاحب الكتاب، «والناظر» ثم «الواضع» ولها معنى كلمة المؤلف. وعلى ذلك فسنكتفي بالعناية بكلمتي «المؤلف» و «الناظر» . هل تعني الكلمتان شخصية واحدة أو شخصيتين مختلفتين؟ يمكن أن تكون كلمة الناظر لقباً كان يحمله المؤلف وبهذا تدل «المؤلف» و «الناظر» على شخص واحد. ولكن هذا الافتراض غير محتمل إذ لا نعرف «الناظر» لقباً في تلك الفترة.

وقد يكون معنى كلمة «الناظر» قريباً من معنى كلمة «المراجع» أي الذي أعاد النظر في الكتاب ونظّمه وأعطاه شكله الأخير. وهنا تعني كلمة الناظر شخصاً آخر غير المؤلف.

وأياً ما كان فإنا نعتبر «الناظر» هو المؤلف الحقيقي للكتاب بصورته التي وصلتنا، فهو قد لجأ إلى كتاب قديم نجهل صاحبه، فوضع له المقدمة، ورتّب فيها منهجه، وهو قد نقّح الأصل وحقّقه وأضاف إليه، ثم ختمه.

وفي الكتاب فقرات تبيّن أن الناظر عاش على عهد يعقوب المنصور الموحدي، وأنه كان ينظر بعين الولاء لأحد كبار رجال الدولة حينئذ وهو الشيخ أبو عمران بن أبى يحيى بن وقتين الذي يهدي إليه الكتاب ويطلب منه حسن الرعاية (ص 1، 2) . ويظهر أنه كان يصنف الكتاب في سنة 587 هـ / 1191 م.

هذا وتدل التفصيلات التي يمدّنا بها عن مكناسة وفاس ومراكش على معلوماته الغزيرة عن هذه المدن. فلا شك أنه عاش فيها إن لم يكن أصله منها.

ومع ملاحظة محتوى الكتاب يمكننا أن نفترض أن المؤلف «الناظر» كان يشغل وظيفة لدى يعقوب المنصور كانت تمكّنه من الاطلاع على مجرى الأمور في ديوان الخليفة أو في بلاطه.
এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমরা 'কিতাবুল ইস্তিবসার'-এর লেখকের পরিচয় জানি না।

'রওজুল কিরতাস' গ্রন্থের লেখক ইবনে আবি জার' ব্যতীত অন্য কোনো লেখক এই গ্রন্থ বা এর লেখকের প্রতি ইঙ্গিত করেননি, তিনি কেবল গ্রন্থটির শিরোনাম উল্লেখ করেছেন।

তদুপরি, লেখক তাঁর রচনার কোথাও এমন কোনো তথ্য প্রদান করেননি যা আমাদের কাছে তাঁর ব্যক্তিত্ব উন্মোচন করে। এখানে আমরা তাঁকে প্রকাশ করার মতো তিনটি শব্দ পাই, সেগুলো হলো: «আল-মুআল্লিফ» অর্থাৎ গ্রন্থকার, «আন-নাজির» এবং «আল-ওয়াদি»—যার অর্থও গ্রন্থকার। সুতরাং আমরা কেবল «আল-মুআল্লিফ» ও «আন-নাজির» শব্দ দুটির প্রতি মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট মনে করছি। এই শব্দ দুটি কি একজন ব্যক্তিকে বোঝায়, নাকি দুজন ভিন্ন ব্যক্তিকে? এটা হতে পারে যে 'নাজির' শব্দটি লেখকের একটি উপাধি ছিল, আর এভাবে «আল-মুআল্লিফ» ও «আন-নাজির» একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করে। কিন্তু এই ধারণাটি তেমন গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ সেই যুগে 'নাজির' কোনো উপাধি হিসেবে আমাদের জানা নেই।

আবার হতে পারে «আন-নাজির» শব্দটির অর্থ «আল-মুরাজি» বা পর্যালোচকের অর্থের কাছাকাছি; অর্থাৎ যিনি গ্রন্থটি পুনরায় নিরীক্ষণ করেছেন, বিন্যস্ত করেছেন এবং একে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন। এমতাবস্থায় 'নাজির' শব্দটি গ্রন্থকার ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে বোঝায়।

যাই হোক না কেন, গ্রন্থটি যে রূপে আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেই হিসেবে আমরা «আন-নাজির»-কেই এর প্রকৃত রচয়িতা বলে গণ্য করি। কেননা তিনি এমন একটি প্রাচীন গ্রন্থের আশ্রয় নিয়েছেন যার লেখক আমাদের অজ্ঞাত, অতঃপর তিনি এর জন্য একটি ভূমিকা লিখেছেন, তাতে নিজের কর্মপদ্ধতি বিন্যস্ত করেছেন, মূল পাঠ্যটি পরিমার্জন ও যাচাই করেছেন, এতে সংযোজন করেছেন এবং এরপর তা সমাপ্ত করেছেন।

গ্রন্থের কিছু অনুচ্ছেদ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এই 'নাজির' ইয়াকুব আল-মানসুর আল-মুওয়াহহিদির শাসনামলে জীবিত ছিলেন এবং তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রের অন্যতম উচ্চপদস্থ ব্যক্তি শেখ আবু ইমরান বিন আবি ইয়াহইয়া বিন ওয়াকতিনের প্রতি অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিই গ্রন্থটি উৎসর্গ করেছেন এবং তাঁর শুভদৃষ্টি কামনা করেছেন (পৃষ্ঠা ১, ২)। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ৫৮৭ হিজরি / ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সংকলন করছিলেন।

মাকনাসাহ, ফাস এবং মাররাকেশ সম্পর্কে তিনি যে বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছেন, তা এই শহরগুলো সম্পর্কে তাঁর অগাধ জ্ঞানের পরিচয় দেয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সেখানে বসবাস করেছেন, যদি না তাঁর আদি নিবাস সেখানে হয়ে থাকে।

গ্রন্থের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করলে আমরা অনুমান করতে পারি যে, লেখক তথা «আন-নাজির» ইয়াকুব আল-মানসুরের অধীনে এমন কোনো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন যা তাঁকে খলিফার দেওয়ান বা তাঁর দরবারের ঘটনাবলি ও কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১)
مقدمة

لسنا أول من يعنى بكتاب الاستبصار. فمنذ حوالى قرن نشر ألفرد فون كرمر الجزء الخاص منه بالمغرب نقلا عن مخطوط كان فى حوزته «1» . ولكن هذه النشرة غير كاملة: إذ تنقصها الفصول الخاصة ببلاد غمارة، واستقرار الأدارسة بالمغرب، وزندقة برغواطة، ومدينة ببلاد غمارة. واستقرار الأدراسة بالمغرب، وزندقة برغواطة، ومدينة سجلماسة، وبداية العبيديين الفواطم، ومدن درعة وأغمات ونفيس وتنملل ومرّاكش، وكذلك الفصول الخاصة ببلاد السوس المتاخمة للسودان (دون ذكر بلاد السودان نفسها) . وإلى جانب ذلك فإن نشرة فون كرمر تحتوى هنا وهناك على بعض النقص مما كبر حجمه أو صغر.

وبعد ذلك بحوالى خمسين عاما نشرا. فانيان ترجمة فرنسية كاملة لهذا الجزء نفسه مصحوبة بهوامش وتعليقات، واستخدم طبعة فون كرمر، ومخطوطى الجزائر، ومخطوط باريز «2» . ومع أن فانيان عمل فى ترجمته على تكملة نشرة فون كرمر وسد الثغرات التى كانت بها إلا أن ما قام به لا يغنى عن النص العربى، ولا يرضي حاجة المشتغلين بالدراسات العربية.

هذا إلى جانب أن الجزء الذي بقي من الكتاب دون نشر كبير ومهم، يبلغ حوالى نصف النص العربى الكامل. وهو ينقسم على قسمين: الأول ويبلغ الثلث خاص بالأماكن المقدسة فى مكة والمدينة؛ والثانى خاص بمصر وعجائبها.

وهكذا تحدد عملنا- الذي يهدف إلى إكمال ما قام به كرمر وفانيان- فى نشر النص الكامل لكتاب الاستبصار، ثم ترجمة الجزء الخاص بالأماكن المقدسة ومصر إلى الفرنسية.
ভূমিকা

আমরাই প্রথম ব্যক্তি নই যারা ‘কিতাবুল ইস্তিবসার’ নিয়ে গুরুত্বারোপ করেছি। প্রায় এক শতাব্দী আগে আলফ্রেড ফন ক্রেমার তার নিজস্ব সংগ্রহে থাকা একটি পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে এর ‘মাগরিব’ (উত্তর আফ্রিকা) সংক্রান্ত অংশটি প্রকাশ করেছিলেন। তবে এই সংস্করণটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না; কারণ এতে গুমারা অঞ্চল, মাগরিবে ইদরিসিয়াদের বসতি স্থাপন, বারগাওয়াতা সম্প্রদায়ের ধর্মদ্রোহিতা এবং সিজিলমাসা শহর সংক্রান্ত অধ্যায়গুলোর অভাব ছিল। এছাড়া ইদরিসিয়াদের মাগরিবে স্থায়ী হওয়া, বারগাওয়াতার ধর্মদ্রোহিতা, সিজিলমাসা শহর, উবায়দী ফাতেমিদের সূচনা, দারা, আগমাত, নাফিস, তিনমাল্লাল ও মারাকোশ শহর এবং সুদানের সীমান্তবর্তী সুস অঞ্চলের অধ্যায়সমূহও এতে ছিল না (সুদান অঞ্চলের উল্লেখ ছাড়াই)। এর পাশাপাশি ফন ক্রেমারের সংস্করণে স্থানে স্থানে ছোট-বড় নানা ধরনের অসম্পূর্ণতা বিদ্যমান ছিল।

এর প্রায় পঞ্চাশ বছর পর ফানিয়ান আলজিয়ার্সের দুটি পাণ্ডুলিপি ও প্যারিসের একটি পাণ্ডুলিপি এবং ক্রেমারের সংস্করণ ব্যবহার করে এই একই অংশের একটি পূর্ণাঙ্গ ফরাসি অনুবাদ টীকা ও ব্যাখ্যাসহ প্রকাশ করেন। যদিও ফানিয়ান তার অনুবাদের মাধ্যমে ক্রেমারের সংস্করণের অসম্পূর্ণতাগুলো দূর করার এবং শূন্যস্থানগুলো পূরণ করার প্রয়াস চালিয়েছেন, তথাপি তার এই কাজ মূল আরবি পাঠের বিকল্প হতে পারে না এবং আরবি শাস্ত্রীয় গবেষণায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রয়োজনও তা মেটাতে সক্ষম নয়।

তদুপরি, কিতাবটির যে অংশটি অপ্রকাশিত রয়ে গেছে তা অত্যন্ত বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ, যা পূর্ণাঙ্গ আরবি মূলপাঠের প্রায় অর্ধেক। এটি দুটি ভাগে বিভক্ত: প্রথম ভাগটি কিতাবটির এক-তৃতীয়াংশ যা মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানসমূহের বর্ণনায় নিবেদিত; আর দ্বিতীয় ভাগটি মিশর ও তার বিস্ময়কর নিদর্শনসমূহ সংক্রান্ত।

এভাবেই আমাদের কাজের রূপরেখা নির্ধারিত হয়েছে—যার লক্ষ্য হচ্ছে ক্রেমার ও ফানিয়ানের কর্মতৎপরতাকে পূর্ণতা প্রদান করা—অর্থাৎ ‘কিতাবুল ইস্তিবসার’-এর পূর্ণাঙ্গ মূলপাঠ প্রকাশ করা এবং অতঃপর পবিত্র স্থানসমূহ ও মিশর সংশ্লিষ্ট অংশটির ফরাসি অনুবাদ সম্পন্ন করা।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ২)
المؤلف:

ومما يدعو إلى الأسف أننا نجهل مؤلف كتاب الاستبصار.

فباستثناء ابن أبى زرع، صاحب كتاب روض القرطاس، الذي يذكر عنوان الكتاب «1» لم يشر أى كاتب آخر إلى الكتاب أو إلى مؤلفه.

هذا كما أن المؤلف لا يمدنا خلال كتابته بأية معلومات تكشف لنا عن شخصيته. وهنا نجد ثلاث كلمات تعبر عنه وهى: «المؤلف» أى صاحب الكتاب، «والناظر» ثم «الواضع» ولها معنى كلمة المؤلف. وعلى ذلك فسنكتفى بالعناية بكلمتى «المؤلف» و «الناظر» . هل تعنى الكلمتان شخصية واحدة أو شخصيتين مختلفتين؟ يمكن أن تكون كلمة الناظر لقبا كان يحمله المؤلف وبهذا تدل «المؤلف» و «الناظر» على شخص واحد. ولكن هذا الافتراض غير محتمل إذ لا نعرف «الناظر» لقبا فى تلك الفترة.

وقد يكون معنى كلمة «الناظر» قريبا من معنى كلمة «المراجع» أى الذي أعاد النظر فى الكتاب ونظمه وأعطاه شكله الأخير. وهنا تعنى كلمة الناظر شخصا آخر غير المؤلف. وهذا ما تؤيده الفقرة التالية التى تختم الكتاب (ص 226) : «قال الناظر: هنا انتهى ما وجدته من هذا الموضوع، ولقد أحسن واضعه ورتب ما حقق، وهذا لعمرى أقرب وأخصر من غيره، ففيه ما فى غيره وليس فى غيره ما فيه.

وحققت وطرزت كتاب الواضع بما قيدت فى هذه المواضع، وأنا مؤمل أن أتفرغ لوضع كتاب كامل يحتوى على ذكر بلاد المغرب وممالكها إلى هذه الايام السعيدة الإمامية، وأضيف إليها ما رفعته للحضرة العلية من مفاخر هذا الأمر العالى- أيد الله دوامه- سنة 80 [5] [1184- 1185] ، وهو ما يزيد عندى من فتوحاته المستأصلة لشأفة الأعداء … » .

€
লেখক:

এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে, আমরা ‘কিতাবুল ইস্তিবসার’-এর লেখকের পরিচয় জানি না।

‘রওদুল কিরতাস’ গ্রন্থের লেখক ইবনে আবি যারা—যিনি কিতাবটির শিরোনাম উল্লেখ করেছেন «১»—ব্যতীত অন্য কোনো লেখক এই গ্রন্থ বা এর লেখকের প্রতি কোনো ইঙ্গিত করেননি।

তাছাড়া লেখক তার রচনার কোথাও আমাদের এমন কোনো তথ্য প্রদান করেন না যা তার ব্যক্তিত্বকে উন্মোচিত করে। এখানে আমরা তাকে নির্দেশকারী তিনটি শব্দ পাই, সেগুলো হলো: «আল-মুয়াল্লিফ» অর্থাৎ গ্রন্থকার, «আন-নাজির» এবং «আল-ওয়াদি», যা গ্রন্থকার শব্দের অর্থই বহন করে। তাই আমরা «আল-মুয়াল্লিফ» ও «আন-নাজির» শব্দ দুটির প্রতি মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট মনে করছি। এই শব্দ দুটি কি একজন ব্যক্তিকে বোঝায় নাকি ভিন্ন দুই ব্যক্তিকে? হতে পারে «নাজির» শব্দটি লেখকের একটি উপাধি ছিল, সে হিসেবে «আল-মুয়াল্লিফ» ও «আন-নাজির» একই ব্যক্তিকে নির্দেশ করে। কিন্তু এই ধারণাটি সম্ভবপর নয়, কারণ সেই যুগে «নাজির» কোনো উপাধি ছিল বলে আমাদের জানা নেই।

আবার «নাজির» শব্দের অর্থ «মুরাজি» বা পর্যালোচকের কাছাকাছি হতে পারে, অর্থাৎ যিনি গ্রন্থটি পুনঃনিরীক্ষণ ও বিন্যস্ত করেছেন এবং একে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছেন। এক্ষেত্রে «নাজির» বলতে লেখক ব্যতীত অন্য ব্যক্তিকে বোঝাবে। গ্রন্থের শেষে (পৃষ্ঠা ২২৬) বর্ণিত নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদটি এই মতকেই সমর্থন করে: «নাজির বলেন: এই বিষয়ে আমি যা পেয়েছি তা এখানেই সমাপ্ত হলো। এর প্রণেতা চমৎকার কাজ করেছেন এবং তিনি যা যাচাই করেছেন তা সুবিন্যস্ত করেছেন। আমার জীবনের কসম, এটি অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক নিকটতর ও সংক্ষিপ্ত; এতে তা-ই আছে যা অন্যদের কাছে আছে, কিন্তু অন্যদের কাছে তা নেই যা এতে আছে।

আমি এই স্থানগুলোতে যা লিপিবদ্ধ করেছি তা দ্বারা প্রণেতার গ্রন্থটিকে যাচাই ও অলঙ্কৃত করেছি। আমি আশা রাখি যে, মাগরিব অঞ্চল এবং এর রাজ্যসমূহের বর্ণনা নিয়ে এই সৌভাগ্যময় ইমামি শাসনকাল পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনার জন্য অবসর পাব। আর তাতে আমি সেই সকল গৌরবগাথা যুক্ত করব যা আমি মহামান্য দরবারে এই মহান বিষয়ের—আল্লাহ এর স্থায়িত্বকে শক্তিশালী করুন—৫৮০ [৫] [১১৮৪-১১৮৫] সালে পেশ করেছিলাম, যা শত্রুদের মূলোৎপাটনকারী তাঁর বিজয়াভিযান সম্পর্কে আমার কাছে থাকা তথ্যের অতিরিক্ত অংশ … »।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৩)
وأيا ما كان فإنا نعتبر «الناظر» هو المؤلف الحقيقى للكتاب بصورته التى وصلتنا؛ فهو قد لجأ إلى كتاب قديم نجهل صاحبه، فوضع له المقدمة، ورتب فيها منهجه (من وصف الأماكن المقدسة ومصر وبلاد المغرب) ، وهو قد نقح الأصل وحققه وأضاف إليه، ثم ختمه. وهو يعد بإخراج كتاب خاص بتاريخ المغرب إلى أيامه. وفى الكتاب فقرات تبين أن الناظر عاش على عهد يعقوب المنصور الموحدى، وأنه كان ينظر بعين الولاء لأحد كبار رجال الدولة حينئذ وهو الشيخ أبو عمران بن أبى يحيى بن وقتين الذي يهدي إليه الكتاب ويطلب منه حسن الرعاية (ص 1، 2) . ويظهر أنه كان يصنف الكتاب فى سنة 587 (1191) كما يفهم من بعض إشاراته (ص 138) ، وخاصة بمناسبة سفارة ابن منقذ رسول صلاح الدين إلى الخليفة المغربى (ص 107) ؛ وبمناسبة العمليات الحربية ضد بنى غانية بإفريقية (ص 111) . ولكنه يتضح أيضا أن الكتاب كان موضع تنقيحات تالية بالنسبة لهذا التاريخ؛ والمثل لذلك زيارة ابن منقذ. فبهذه المناسبة يعود صاحب الكتاب، بعد أن يذكر أنه كتب ذلك فى رمضان سنة 587 (سبتمبر- اكتوبر 1191) ، فيقول إن رسول صلاح الدين ترك العاصمة المغربية فى 11 من المحرم سنة 588 (28 من يناير 1192) .

هذا وتدل التفصيلات التى يمدنا بها عن مكناسة وفاس ومراكش على معلوماته الغزيرة عن هذه المدن. فلا شك أنه عاش فيها إن لم يكن أصله منها؛ فهو لا يكتفى بالوصف الدقيق للعواصم المغربية بأمبراطورية الموحدين على عهده، ولا بالأعمال الإنشائية التى تمت على عهد يعقوب وسلفيه، بل يقترح خططا عمرانية أخرى تهدف إلى نشر الرخاء فى هذه المناطق.

وزيادة على ذلك فإن المعلومات التى يعطيها عن الحملة العسكرية ضد بنى غانية فى إفريقية تتفق بشكل غريب مع إحدى الرسائل الرسمية الصادرة من ديوان يعقوب المنصور، والتى يقتطف منها بعض الفقرات (ص 159 وهامش 1) . وهو عندما يتكلم عن بلاد السودان يقول إنه اطلع على الرسائل

€
যাই হোক না কেন, আমরা ‘আন-নাজির’কেই বইটির বর্তমান রূপের প্রকৃত লেখক বলে মনে করি; তিনি এমন একটি প্রাচীন গ্রন্থের আশ্রয় নিয়েছিলেন যার মূল লেখক আমাদের কাছে অজ্ঞাত। তিনি এতে একটি ভূমিকা সংযোজন করেন এবং সেখানে তার কর্মপদ্ধতি (পবিত্র স্থানসমূহ, মিসর এবং মাগরিব তথা মরক্কো অঞ্চলের বিবরণ) বিন্যস্ত করেন। তিনি মূল পাণ্ডুলিপিটি পরিমার্জন ও তাহকিক (সম্পাদনা) করেছেন এবং এতে নতুন কিছু যোগ করেছেন, অতঃপর এটি সমাপ্ত করেছেন। তিনি নিজ সময় পর্যন্ত মাগরিবের ইতিহাসের ওপর একটি বিশেষ গ্রন্থ প্রকাশের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। বইটিতে এমন কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ‘আন-নাজির’ মুওয়াহহিদ শাসক ইয়াকুব আল-মানসুরের যুগে জীবিত ছিলেন। তিনি তৎকালীন রাষ্ট্রের অন্যতম উচ্চপদস্থ ব্যক্তিত্ব শায়খ আবু ইমরান বিন আবি ইয়াহইয়া বিন ওয়াকতিনের প্রতি অনুগত ছিলেন, যার নামে তিনি বইটি উৎসর্গ করেন এবং তার সুদৃষ্টি ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেন (পৃষ্ঠা ১, ২)। প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ৫৮৭ হিজরি (১১৯১ খ্রিস্টাব্দ) সালে বইটি সংকলন করছিলেন, যেমনটি তার কিছু ইঙ্গিত থেকে বোঝা যায় (পৃষ্ঠা ১৩৮)। বিশেষ করে মরক্কোর খলিফার নিকট সালাহউদ্দীনের দূত ইবনে মুনকিজ-এর আগমনের প্রেক্ষাপটে (পৃষ্ঠা ১০৭) এবং আফ্রিকায় বনু গানিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের বিবরণে (পৃষ্ঠা ১১১)। তবে এটিও স্পষ্ট যে, উক্ত তারিখের পরেও বইটিতে কিছু পরিমার্জন করা হয়েছিল; যার একটি উদাহরণ হলো ইবনে মুনকিজের সফর। এই প্রসঙ্গে গ্রন্থকার ৫৮৭ হিজরির রমজান মাসে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ১১৯১) এটি লিখেছেন বলে উল্লেখ করার পর পুনরায় বলেন যে, সালাহউদ্দীনের দূত ৫৮৮ হিজরির ১১ই মহররম (২৮শে জানুয়ারি ১১৯২) মরক্কোর রাজধানী ত্যাগ করেন।

এছাড়া মিকনাস, ফাস এবং মাররাকেশ সম্পর্কে তিনি যে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, তা এই শহরগুলো সম্পর্কে তার অগাধ পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি সেখানে বসবাস করেছেন, যদি না তিনি সেখানকারই আদি বাসিন্দা হয়ে থাকেন। তিনি কেবল তার সময়কার মুওয়াহহিদ সাম্রাজ্যের মরক্কোর রাজধানীগুলোর সূক্ষ্ম বর্ণনাই দেননি, কিংবা ইয়াকুব এবং তার পূর্বসূরিদের আমলে সম্পন্ন হওয়া নির্মাণ কাজের বর্ণনাতেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এই অঞ্চলগুলোতে সমৃদ্ধি বিস্তারের লক্ষ্যে আরও কিছু নগর উন্নয়নমূলক পরিকল্পনার প্রস্তাব করেছেন।

এর বাইরে আফ্রিকায় বনু গানিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান সম্পর্কে তিনি যে তথ্য প্রদান করেছেন, তা ইয়াকুব আল-মানসুরের দেওয়ান (প্রশাসনিক কার্যালয়) থেকে জারিকৃত একটি সরকারি পত্রের সাথে বিস্ময়করভাবে মিলে যায়, যেখান থেকে তিনি কিছু অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন (পৃষ্ঠা ১৫৯ এবং টীকা ১)। তিনি যখন সুদান অঞ্চল সম্পর্কে কথা বলেন, তখন তিনি বলেন যে তিনি পত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করেছেন...

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৪)
الرسمية الصادرة باسم غانة ملك أحد هذه البلاد إلى يوسف بن ناشفين (ص 219) ؛ ومعنى هذا أن سجلات المرابطين القديمة كانت فى متناول يده؛ أو وصلت إليه صور منها هى الأقل.

من كل ذلك يمكننا أن نفترض أن المؤلف «الناظر» كان يشغل وظيفة لدى يعقوب المنصور كانت تمكنه من الاطلاع على مجرى الأمور فى ديوان الخليفة أو فى بلاطه. وهنا يمكننا أن نذهب إلى أبعد من ذلك فنظن أنه ربما كان صاحب الرسالة الرسمية نفسه أى ابن محشرة «1» . يؤيد ذلك ما يظهره المؤلف من آيات الولاء والخضوع للخليفة وسلفيه، ذلك الولاء الذي لا يصدر إلا من خادم مخلص للموحدين.

الكتاب:

إن النظرة السريعة إلى كتاب الاستبصار تبين أن موضعه بين كتب المكتبة الجغرافية العربية. ورغم ذلك فإنه من الصعب وضعه فى موضعه الصحيح بين أصناف الكتب الجغرافية المعروفة: من كتب الأطوال والعروض، وكتب تقويم البلدان، وكتب المسالك والممالك، أو كتب العجائب «2» .

والحقيقة أنّنا لو أخذنا بعنوان الكتاب، وهو «كتاب الاستبصار فى عجائب الأمصار» لوجب وضعه بين كتب المجموعة الأخيرة. ولكن الأمر ليس كذلك؛ إذ هو ليس كتاب جغرافية خالصة. فرغم تاريخ تأليفه المتأخر نسبيا نلاحظ أنه يحتوى على خليط من التاريخ والجغرافية من كل لون، مما يجعله أشبه ما يكون بكتب الجغرافية من النوع البدائى الأول.

فمن وجهة النظر الجغرافية- ولهذا السبب وحده- يمكن أن يقال بشكل عام إن الكتاب ليس من كتب الجغرافية العلمية المبتكرة، فهو غير مخصص

€
এই দেশগুলোর একটির শাসক ঘানার পক্ষ থেকে ইউসুফ বিন তাশফিনের নিকট প্রেরিত সরকারি পত্র (পৃ. ২১৯); এর অর্থ হলো মুরাবিতুনদের প্রাচীন নথিপত্র তার নাগালে ছিল; অথবা অন্ততপক্ষে সেগুলোর অনুলিপি তার কাছে পৌঁছেছিল।

এইসব কিছু থেকে আমরা ধারণা করতে পারি যে, লেখক «আন-নাজির» ইয়াকুব আল-মানসুরের অধীনে এমন একটি পদে নিয়োজিত ছিলেন, যা তাকে খলিফার দিওয়ান বা রাজদরবারের ঘটনাবলি অবগত হতে সক্ষম করেছিল। এখানে আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে চিন্তা করতে পারি যে, সম্ভবত তিনি নিজেই সেই সরকারি পত্রের লেখক ছিলেন অর্থাৎ ইবনে মাহশারা «১»। লেখকের খলিফা এবং তার পূর্বসূরিদের প্রতি আনুগত্য ও বশ্যতার বহিঃপ্রকাশ এই ধারণাকে সমর্থন করে; এমন আনুগত্য যা কেবল মুওয়াহহিদুনদের একজন একনিষ্ঠ সেবকের পক্ষ থেকেই সম্ভব।

গ্রন্থটি:

«কিতাবুল ইস্তিবসার»-এর ওপর এক পলক দৃষ্টি দিলেই স্পষ্ট হয় যে, আরবি ভৌগোলিক সাহিত্যভাণ্ডারে এর একটি সুনির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। তা সত্ত্বেও, পরিচিত ভৌগোলিক গ্রন্থগুলোর বিভিন্ন শ্রেণি—যেমন দ্রাঘিমাংশ ও অক্ষাংশের বই, দেশসমূহের বিবরণমূলক বই (তাকউয়িমুল বুলদান), পথ ও রাজ্যের বর্ণনা (আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক) অথবা বিস্ময়কর বস্তুর বর্ণনা সংবলিত বই (কিতাবুল আজায়েব) «২»—এর মধ্যে একে সঠিক স্থানে বিন্যস্ত করা কঠিন।

প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি গ্রন্থটির শিরোনাম লক্ষ্য করি, যা হলো «কিতাবুল ইস্তিবসার ফি আজায়েিবল আমসার», তবে একে শেষোক্ত শ্রেণির (বিস্ময়কর বস্তুর বর্ণনা) অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। কিন্তু বিষয়টি আসলে তেমন নয়; কারণ এটি বিশুদ্ধ ভূগোলের বই নয়। এর রচনাকাল তুলনামূলকভাবে পরের দিকের হওয়া সত্ত্বেও আমরা লক্ষ্য করি যে, এটি ইতিহাস ও ভূগোলের এক বিচিত্র সংমিশ্রণ ধারণ করে, যা একে প্রাথমিক স্তরের আদিম ধাঁচের ভৌগোলিক গ্রন্থগুলোর সদৃশ করে তুলেছে।

ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকে—এবং কেবল এই কারণেই—সাধারণভাবে বলা যেতে পারে যে, গ্রন্থটি উদ্ভাবনীমূলক বৈজ্ঞানিক ভূগোলের কোনো বই নয়, কারণ এটি নির্দিষ্ট নয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৫)
لعجائب البلدان، كما يمكن أن نتوقع، وإنما هو مصنف يحوى معلومات دقيقة وأخبار أعامة وأساطير طريفة، جمعت بعضها إلى جانب بعض بغرض تقديم وصف سهل لطيف مستساغ للقارئ لا تثقله الدقة العلمية المتعبة والتى لاتهم سوى الإخصائيين.

المصادر:

إن مما يعين على معرفة المصادر المختلفة التى أخذ عنها المؤلف معلوماته أن نأخذ بعين الاعتبار أن الكتاب ينقسم إلى ثلاثة أقسام مختلفة هى: الأماكن المقدسة ومصر وبلاد المغرب.

والجزء الأول عبارة عن وصف مكة والمدينة، والهدف منه هو تصوير شعائر الحج. والمؤلف يعنى فيه بوصف مكة عناية بالغة، فهو يعدد ضواحيها وتلالها، والجبال المحيطة بها. ثم هو يصف بكل دقة الكعبة ومقاييسها وبابها والحجر الأسود بها. ثم هو يستطرد فى وصف المسجد الحرام، ويصف بئر زمزم؛ وهو خلال ذلك يشرح مناسك الحج. وإلى جانب هذا يصف المساجد الأخرى مثل مسجد الخيف ومسجد وفيما يتعلق بالمدينة يستطرد المؤلف بنفس الشكل عند الكلام عن مسجد النبي وقبره المبجل، ومسجد قبا؛ وينهى وصفه بالكلام عن قبور الشهداء فى سفح جبل أحد.

وهذا الجزء عظيم الأهمية نظرا لمعلوماته الدقيقة وطريقته العلمية؛ ولكننا لا نعرف من أى المصادر استقيت مادته. فالمعلومات التى يمدنا بها عن مكة مختلفة عن معلومات الأزرقى (القرن الثالث الهجرى 9 م) التى ينقلها ابن رسته (نهاية القرن الثالث 9 م) ، وهى تختلف كذلك عن معلومات ابن جبير المعاصر لمؤلف الاستبصار؛ والمعروف أن ما كتبه الأزرقى وابن جبير يعتبر أهم ما كتب عن مكة والكعبة وأكثره أصالة. وهنا نجد أن المؤلف لا يدين بشيء لهذين الكاتبين. ويمكن بعد هذا أن نفترض أنه نقل عن البكرى الذي كتب فى سنة 460/1067 كتابه المعروف بالمسالك والممالك. والحقيقة أن كتاب البكرى هو المصدر الرئيسى لصاحب الاستبصار

€
দেশসমূহের বিস্ময়কর বিষয়ের বর্ণনার ক্ষেত্রে যেমনটি প্রত্যাশা করা যায় এটি কেবল তেমন নয়, বরং এটি এমন একটি সংকলন যা নির্ভুল তথ্য, সাধারণ সংবাদ এবং চমৎকার সব কিংবদন্তি ধারণ করে। এগুলোকে একে অপরের পাশাপাশি বিন্যস্ত করা হয়েছে যাতে পাঠকের সামনে একটি সহজ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বর্ণনা উপস্থাপন করা যায়, যা ক্লান্তিকর বৈজ্ঞানিক সূক্ষ্মতার দ্বারা ভারাক্রান্ত নয় এবং যা কেবল বিশেষজ্ঞগণ ছাড়া অন্যদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।

উৎসসমূহ:

লেখক যেসব বিভিন্ন উৎস থেকে তার তথ্যসমূহ গ্রহণ করেছেন তা জানার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হবে যে, আমরা যদি বিবেচনায় রাখি যে বইটি তিনটি ভিন্ন অংশে বিভক্ত, সেগুলো হলো: পবিত্র স্থানসমূহ, মিসর এবং মাগরিব ভূখণ্ড।

প্রথম অংশটি হলো মক্কা ও মদিনার বর্ণনা, আর এর লক্ষ্য হলো হজের নিদর্শনসমূহ চিত্রিত করা। লেখক এতে মক্কার বর্ণনার প্রতি অত্যন্ত গভীর মনোযোগ দিয়েছেন, তিনি এর উপশহর, টিলা এবং একে পরিবেষ্টনকারী পাহাড়গুলোর বিবরণ দিয়েছেন। এরপর তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্মতার সাথে কাবা শরীফ, এর পরিমাপ, এর দরজা এবং এতে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদের বর্ণনা দিয়েছেন। এরপর তিনি মসজিদুল হারামের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং যমযম কূপের বর্ণনা দিয়েছেন; আর এর মাধ্যমে তিনি হজের নিয়মাবলী ব্যাখ্যা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি অন্যান্য মসজিদ যেমন মাসজিদুল খায়েফ এবং আরও কিছু মসজিদের বর্ণনা দিয়েছেন। আর মদিনার প্রসঙ্গে লেখক একইভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদ, তাঁর মর্যাদাপূর্ণ সমাধি এবং কুবা মসজিদের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন; এবং উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে শহীদদের সমাধির বর্ণনার মাধ্যমে তিনি তার আলোচনা শেষ করেছেন।

এই অংশটি এর নির্ভুল তথ্য এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এর উপাদানগুলো কোন উৎস থেকে আহরণ করা হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। মক্কা সম্পর্কে তিনি আমাদের যে তথ্য প্রদান করেছেন তা আল-আজরাকির (তৃতীয় হিজরি শতাব্দী/৯ম খ্রিস্টাব্দ) তথ্যের চেয়ে ভিন্ন, যা ইবনে রুস্তাহ (তৃতীয় শতাব্দীর শেষভাগ/৯ম খ্রিস্টাব্দ) বর্ণনা করেছেন। আবার তা 'আল-ইসতিবসার' গ্রন্থের লেখকের সমসাময়িক ইবনে জুবায়েরের দেওয়া তথ্যের চেয়েও ভিন্ন; অথচ এটি সর্বজনবিদিত যে আল-আজরাকি এবং ইবনে জুবায়ের যা লিখেছেন তা মক্কা ও কাবা সম্পর্কে লেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সর্বাধিক মৌলিক কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এখানে আমরা দেখতে পাই যে লেখক এই দুই লেখকের কাছে কোনোভাবেই ঋণী নন। এর প্রেক্ষিতে আমরা ধারণা করতে পারি যে, তিনি আল-বাকরির লেখা থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন, যিনি ৪৬০ হিজরি/১০৬৭ খ্রিস্টাব্দে তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'আল-মাসালিক ওয়াল-মামালিক' রচনা করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে আল-বাকরির গ্রন্থটিই হলো 'আল-ইসতিবসার' এর লেখকের প্রধান উৎস।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৬)
بالنسبة للجزء الخاص بمصر والمغرب، ولكن ضاعت من كتاب البكرى الفصول الخاصة بالأماكن المقدسة؛ وهكذا فلا سبيل إلى القول بأن صاحب الاستبصار نقل هذا الجزء أو شيئا منه عن البكرى أو لم يفعل. وفيما يتعلق بوصف المدينة ومسجد النبي لا نعرف أيضا المصدر الذي أخذ عنه الاستبصار، ومعلوماته تختلف عما كتبه ابن رسته وابن جبير. وهنا نجد أن المؤلف يقول إنه فى سنة 528/1133- 1134 كان يوجد فى رواق المسجد وطاء طبرى (ص 41) . وهذا يحملنا على الظن أن الجزء الأول من الاستبصار نقله مؤلفه سنة 587/1191 عن مصدر لم يصل إلينا كتب سنة 528 أو بعد ذلك.

أما الجزء الثانى من كتاب الاستبصار فيوضع بصفة عامة ضمن ما كتب عن عجائب العالم: فكل ما يحويه عبارة عن غرائب وأشياء مدهشه فريدة فى نوعها. وزيادة على ذلك نلاحظ أن خطة الفصول الخاصة بمصر تنقسم على فترتين: فترة مصر القديمة، التى تنقسم بدورها على فترتين يفصل بينهما الطوفان؛ ثم فترة مصر الحديثة أى العربية. وتبدأ الفترة الأولى بوصف عام للبلاد، وتنتهى بظهور الإسلام وفتح مصر على أيدى العرب. والفترة الثانية خاصة بوصف المدن المصرية، وتبدأ بقصة الفتح منقولة عن ابن عبد الحكم.

والحقيقة أن هذه التقسيمات ليست مقبولة إلا بصفة عامة، وذلك أن المعلومات الجغرافية والتاريخية، القديمة منها والحديثة، تختلط وتتداخل خلال التقسيمات الصغيرة بعد ذلك بشكل لا يدع مجالا للتفرقة بينها.

والمؤلف يستخدم فى تصنيفه لهذه الفصول خمسة مصادر مختلفة يذكرها فى بعض الأحيان، وهى: المسعودى (توفى 345/956) ؛ وابن وصيف- شاه الذي يظن أنه فارسى الأصل وأنه كان يسكن بلدة اخميم، الذي يكتب حوالى سنة 1000 للميلاد (أواخر القرن الرابع الهجرى) (ص 60 هامش 2) ، وكان عالما بتاريخ مصر القديمة- حسب مفهوم ذلك التاريخ فى العصور الوسطى بطبيعة الحال؛ وابن عبد الحكم؛ ثم البكرى. وأخيرا هناك معلومات الناظر الشخصية وهى تتعلق فى معظم الأحيان بالأحداث التى عاصرها، وهو فى كل مرّة يسبقها بكلمتى: «قال الناظر» . والسؤال الذي يتبادر إلى الذهن هو:

€
মিসর ও মাগরিবের অংশ সম্পর্কে বলতে গেলে, আল-বকরির কিতাব থেকে পবিত্র স্থানসমূহ সম্পর্কিত অধ্যায়গুলো হারিয়ে গেছে; ফলে এটি বলার কোনো উপায় নেই যে, 'আল-ইস্তিবসার' গ্রন্থের লেখক এই অংশটি বা এর কোনো কিছু আল-বকরির কাছ থেকে উদ্ধৃত করেছেন কি করেননি। মদিনা এবং নবীর মসজিদের বর্ণনার ক্ষেত্রেও আমাদের জানা নেই যে, 'আল-ইস্তিবসার' কোন উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করেছে, কারণ এর তথ্যাদি ইবনে রুস্তাহ এবং ইবনে জুবায়ের যা লিখেছেন তার থেকে ভিন্ন। এখানে আমরা দেখতে পাই যে, লেখক বলছেন যে ৫২৮ হিজরি/১১৩৩-১১৩৪ সালে মসজিদের বারান্দায় একটি তাবারী গালিচা বিদ্যমান ছিল (পৃষ্ঠা ৪১)। এটি আমাদের এই ধারণার দিকে ধাবিত করে যে, 'আল-ইস্তিবসার'-এর প্রথম অংশটি এর লেখক ৫৮৭ হিজরি/১১৯১ সালে এমন একটি উৎস থেকে অনুলিপি করেছেন যা আমাদের নিকট পৌঁছায়নি এবং যা ৫২৮ হিজরি বা তার পরে রচিত হয়েছিল।

আর 'আল-ইস্তিবসার' গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশটি সাধারণত পৃথিবীর বিস্ময়াবলী বিষয়ক রচনার অন্তর্ভুক্ত করা হয়: কারণ এতে যা কিছু রয়েছে তার সবই বিরল, আশ্চর্যজনক ও অনন্য সব বিষয়বস্তুর সমাহার। তদুপরি, আমরা লক্ষ্য করি যে মিসর বিষয়ক অধ্যায়গুলোর পরিকল্পনা দুইটি যুগে বিভক্ত: প্রাচীন মিসরীয় যুগ, যা পুনরায় দুইটি ভাগে বিভক্ত এবং যার মাঝে মহাপ্লাবন ব্যবধান তৈরি করেছে; এরপর আধুনিক তথা আরবীয় মিসরীয় যুগ। প্রথম যুগটি দেশটির সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয় এবং ইসলামের আবির্ভাব ও আরবদের হাতে মিসর বিজয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। দ্বিতীয় যুগটি মিসরীয় শহরগুলোর বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট এবং এটি ইবনে আব্দ আল-হাকাম থেকে বর্ণিত বিজয়ের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়।

প্রকৃতপক্ষে, এই বিভাগগুলো কেবল সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য, কারণ ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক তথ্যাদি—চাই তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক—ক্ষুদ্রতর বিভাগগুলোর মাঝে পরবর্তীতে এমনভাবে মিশে ও একাকার হয়ে গেছে যে, সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করার কোনো সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না।

লেখক এই অধ্যায়গুলো বিন্যাসের ক্ষেত্রে পাঁচটি ভিন্ন উৎস ব্যবহার করেছেন যা তিনি মাঝে মাঝে উল্লেখ করেন, সেগুলো হলো: আল-মাসউদী (মৃত্যু ৩৪৫/৯৫৬); ইবনে ওয়াসিফ-শাহ—যাকে পারস্য বংশোদ্ভূত মনে করা হয় এবং যিনি আখমিম শহরে বাস করতেন, তিনি ১০০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে (চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে) লিখেছেন (পৃষ্ঠা ৬০, টীকা ২), এবং তিনি প্রাচীন মিসরের ইতিহাসে পণ্ডিত ছিলেন—অবশ্যই মধ্যযুগের সেই ইতিহাসের ধারণা অনুযায়ী; ইবনে আব্দ আল-হাকাম; এবং সবশেষে আল-বকুরি। পরিশেষে সেখানে লেখকের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণমূলক তথ্য রয়েছে যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁর সমসাময়িক ঘটনাবলির সাথে সম্পর্কিত, এবং তিনি প্রতিবার সেগুলোর শুরুতে "পর্যবেক্ষক বলেছেন" শব্দদ্বয় যুক্ত করেন। আর যে প্রশ্নটি দ্রুত মনে জাগে তা হলো:

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৭)
هل أخذ المؤلف معلوماته مباشرة عن المصادر التى يذكرها؟ هنا نلاحظ أن القطع الباقية من كتاب البكرى والخاصة بمصر (مخطوط المكتبة الوطنية بباريز، القسم العربى، رقم 2218) تشبه بشكل واضح، من حيث الخطة ومن حيث التفصيلات، الفصول المماثلة من الاستبصار. وهذا يجعلنا نعتقد أن صاحب الاستبصار نقل عن كتاب البكرى معلوماته التى أخذها عن المسعودى وابن وصيف- شاه وابن عبد الحكم. وهذه الملاحظة لا تمنع من أن يكون المؤلف قد قرأ هذه الكتب التى كانت شائعة فى عصره، وأن يكون قد أخذ منها معلومات أضافها إلى ما كتبه البكرى. ورغم أنه لا يذكر كتاب الإدريسى فالظاهر أنه تأثر به فى أكثر من موضع. والمؤلف عندما يعالج قصة الفتح العربى لمصر ينقل عن ابن عبد الحكم كما سبق أن نقل البكرى؛ وفيما يختص بمصر القديمة يذكر ابن وصيف- شاه وينقل عنه. وفى مجال التاريخ القديم هذا لا ننتظر من المؤلف شيئا جديدا، وذلك على عكس ما كنا ننتظره منه من المعلومات الجديدة عندما يعالج موضوع المدن المصرية، كما فعل بالنسبة لمدن المغرب، وهذا ما لم يفعله. فالصليبية فى الشام كانت على أشدها والمدن المصرية كانت مسرحا لعدد من المآسى التى كان لها صداها فى المغرب.

ولكن المؤلف الذي خصص صفحات- فى آخر هذه الفصول- للصليبية وانتصار صلاح الدين اكتفى بنقل الوصف التقليدى للمدن المصرية كما فعل المسعودى وابن عبد الحكم والبكرى. وأكثر من هذا فإنه يؤخذ عليه أنه كاد يوقع القارئ فى الخطأ عندما أهمل ذكر المصدر الذي نقل عنه، وغيّر شكله إلى حد ما ذاكرا تاريخ الوقت الذي كان يكتب فيه هو نفسه. والمثال لذلك هو معلومات المسعودى عن مدينتى تنّيس ودمياط التى يذكرها صاحب الاستبصار ويختمها بالشكل التالى:

«ويسكن بجزيرة تنيس ودمياط نصارى هم الآن تحت الذمة بحمد الله، ونحن فى سنة 86 [5] [1190] » (ص 88) ؛ كما لو أن هذه الحقيقة كانت واقعة على أيامه أو كما لو أنه حققها بنفسه. وهو فى الحقيقة لم يعرف

€
লেখক কি তাঁর উল্লিখিত উৎসসমূহ থেকে সরাসরি তথ্য গ্রহণ করেছেন? এখানে আমরা লক্ষ্য করি যে, আল-বকরির গ্রন্থের মিশর সংক্রান্ত অবশিষ্ট অংশগুলো (প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, আরবি বিভাগ, নম্বর ২২১৮) পরিকল্পনা এবং বিস্তারিত বর্ণনার দিক থেকে 'আল-ইস্তিবসার' গ্রন্থের অনুরূপ অধ্যায়গুলোর সাথে স্পষ্টভাবে মিলে যায়। এটি আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে, 'আল-ইস্তিবসার'-এর লেখক আল-বকরির গ্রন্থ থেকে সেই তথ্যগুলো গ্রহণ করেছেন যা আল-বকরি নিজে আল-মাসউদি, ইবনে ওয়াসিফ-শাহ এবং ইবনে আবদ আল-হাকাম থেকে নিয়েছিলেন। এই পর্যবেক্ষণটি লেখক কর্তৃক তাঁর সমসাময়িক যুগে প্রচলিত এই গ্রন্থগুলো পড়ার এবং সেখান থেকে তথ্য নিয়ে আল-বকরির বর্ণনার সাথে যুক্ত করার সম্ভাবনাকে নাকচ করে না। যদিও তিনি আল-ইদরিসির গ্রন্থের কথা উল্লেখ করেননি, তবে প্রতীয়মান হয় যে তিনি একাধিক স্থানে তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। লেখক যখন মিশরে আরব বিজয়ের কাহিনী বর্ণনা করেন, তখন তিনি ইবনে আবদ আল-হাকাম থেকে উদ্ধৃতি দেন, যেমনটি আগে আল-বকরি করেছিলেন; আর প্রাচীন মিশরের ক্ষেত্রে তিনি ইবনে ওয়াসিফ-শাহর নাম উল্লেখ করেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেন। প্রাচীন ইতিহাসের ক্ষেত্রে আমরা লেখকের কাছ থেকে নতুন কিছু আশা করি না, বরং মিশরীয় শহরগুলো নিয়ে আলোচনার সময় আমরা তাঁর কাছ থেকে নতুন তথ্যের প্রত্যাশা করেছিলাম, যেমনটি তিনি মাগরিবের শহরগুলোর ক্ষেত্রে করেছিলেন; কিন্তু তিনি তা করেননি। সিরিয়ায় (শাম) তখন ক্রুসেড চরম পর্যায়ে ছিল এবং মিশরের শহরগুলো এমন কিছু বিয়োগান্তক ঘটনার সাক্ষী ছিল যার প্রতিধ্বনি মাগরিবেও শোনা গিয়েছিল।

কিন্তু লেখক, যিনি এই অধ্যায়গুলোর শেষে ক্রুসেড এবং সালাহউদ্দিনের বিজয় নিয়ে বেশ কিছু পৃষ্ঠা বরাদ্দ করেছেন, তিনি মিশরীয় শহরগুলোর প্রথাগত বর্ণনা প্রদানের মাধ্যমেই সন্তুষ্ট থেকেছেন, যেমনটি আল-মাসউদি, ইবনে আবদ আল-হাকাম এবং আল-বকরি করেছিলেন। এর চেয়েও বড় কথা, তাঁর বিরুদ্ধে এই সমালোচনা করা হয় যে, তিনি যে উৎস থেকে তথ্য নিয়েছেন তা উল্লেখ না করে এবং তাঁর নিজের লেখার সময়কাল উল্লেখ করে তথ্যের কাঠামো কিছুটা পরিবর্তন করার মাধ্যমে পাঠককে বিভ্রান্তির কাছাকাছি নিয়ে গেছেন। এর একটি উদাহরণ হলো তান্নিস ও দমিয়াত্তাহ শহর সম্পর্কে আল-মাসউদির তথ্য, যা 'আল-ইস্তিবসার'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন এবং নিম্নোক্তভাবে শেষ করেছেন:

«তান্নিস ও দমিয়াত্তাহ দ্বীপে খ্রিস্টানরা বসবাস করে, যারা আল্লাহর শুকরিয়া যে এখন জিম্মি হিসেবে (নিরাপত্তাপ্রাপ্ত) আছে, আর আমরা এখন ৫৮৬ [১১৯০] হিজরি সনে আছি» (পৃষ্ঠা ৮৮); যেন এই বিষয়টি তাঁর সমসাময়িক বাস্তব ঘটনা ছিল অথবা তিনি নিজেই এটি যাচাই করেছিলেন। অথচ বাস্তবে তিনি জানতেন না

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৮)
أن تنيس كانت هدفا لعدد من غارات الصقليين والصليبيين، وأن أهلها جلوا عنها فى سنة 588 [1192] عندما كان يعيد النظر فى تأليفه (هامش 1 ص 88) .

وما أن يترك المؤلف مصر ليعالج بلاد المغرب والسودان حتى يتخلص من آثار الماضى التى تسلطت على نفسه وقلمه، فهو يسجل ما يشاهده ويعطى وصفا أكثر دقة. وإذا ما راعينا أنه كان مغربيا وبالتالى عارفا بالبلاد التى هى موطنه، فهمنا بسهولة أن هذا القسم من الكتاب يفوق فى أهميته ما سبقه من الأقسام.

هنا نجد أن المصادر التى يأخذ عنها الكاتب معلوماته والتى يذكرها هى، المسعودى والبكرى- وهذا الأخير يعتبر المصدر الأول للقسم الثالث من الكتاب خاصة. هذا إلا أن مجهود المؤلف لا ينكر، فهو ينتهج منهجا خاصا به، ويعطى معلومات شخصية فى غاية الأهمية، لاسيما عن إفريقية والمغرب الأقصى.

أهمية الكتاب:

يعتبر الكتاب مصدرا لمعلومات متنوعة الألوان من جغرافية وتاريخية وأثرية. وهو يسهب فى وصف رخاء مصر الزراعى، الذي يرجع إلى النيل، ويؤكد بصفة خاصة خصوبة منطقة الفيوم. والفيوم تجذب انتباهه بفضل عمليات المياه فيها، وهذه تزيد من مزروعاتها وفواكهها. وفيما يتعلق بمنطقة الفرما يذكر أن تمرها يعد من عجائب الدنيا. أما عن معادن الزمرد الواقعة بين مدينة قوص ومدينة أسوان فهى موضوع خصب لاسترسال قلمه وإسهابه. وهو بعد ذلك يعتنى بصناعة النسيج فى دمياط وتنيس، حيث كانت تصنع أردية لا تدخل فى نسجها خيوط الذهب، ويساوى الرداء منها مع ذلك مائة دينار. وكانت حرفة صيد السمان مربحة لأهالى المدينتين.

وفى هذا العصر كانت مدينة عيذاب ميناء مهما منه تتجه المراكب نحو الحجاز واليمن والهند وغيرها من البلاد.

€
তিন্নীস সিকিলীয় এবং ক্রুসেডারদের বেশ কিছু আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং ৫৯৯ [১১৯২] সনে এর অধিবাসীরা শহরটি ছেড়ে চলে যায়, যখন লেখক তার রচনার ওপর পুনঃপর্যবেক্ষণ করছিলেন (পাদটীকা ১, পৃষ্ঠা ৮৮)।

লেখক যখনই মিসর ছেড়ে মাগরিব ও সুদান অঞ্চলের বর্ণনায় মনোনিবেশ করেন, তখনই তিনি অতীতের সেই প্রভাব থেকে মুক্ত হন যা তার মন ও কলমের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছিল। ফলে তিনি যা দেখেন তা-ই লিপিবদ্ধ করেন এবং আরও নির্ভুল বর্ণনা প্রদান করেন। আমরা যদি বিবেচনা করি যে তিনি একজন মাগরিবী ছিলেন এবং ফলস্বরূপ নিজ স্বদেশীয় অঞ্চলগুলো সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন, তবে আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে গ্রন্থের এই অংশটি গুরুত্বের দিক থেকে পূর্ববর্তী অংশগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে।

এখানে আমরা দেখতে পাই যে, লেখক যেসব উৎস থেকে তথ্য গ্রহণ করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন তা হলো— আল-মাসউদী এবং আল-বাকরী। আল-বাকরী বিশেষ করে বইটির তৃতীয় অংশের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত হন। তা সত্ত্বেও, লেখকের নিজস্ব প্রচেষ্টাকে অস্বীকার করার উপায় নেই; তিনি নিজস্ব একটি পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করেছেন, বিশেষ করে ইফ্রিকিয়া এবং মাগরিব আল-আকসা (দূরবর্তী মাগরিব) সম্পর্কে।

গ্রন্থের গুরুত্ব:

এই গ্রন্থটি ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিবিধ তথ্যের উৎস হিসেবে বিবেচিত। তিনি মিসরের কৃষিগত সমৃদ্ধির বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, যা নীল নদের অবদানের ফসল। তিনি বিশেষভাবে ফাইয়ুম অঞ্চলের উর্বরতার ওপর জোর দিয়েছেন। ফাইয়ুমের পানি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার কারণে এটি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা সেখানকার ফসল ও ফলের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফারামা অঞ্চলের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেখানকার খেজুর পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়। আর কুস এবং আসওয়ান শহরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত যমরুদ বা পান্নার খনিগুলো তার কলমের স্বচ্ছন্দ বর্ণনার এক উর্বর ক্ষেত্র। এরপর তিনি দামিইয়াত ও তিন্নীসের বস্ত্রশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দেন, যেখানে এমন সব পোশাক তৈরি হতো যাতে কোনো স্বর্ণসূত্র ব্যবহার করা হতো না, তবুও প্রতিটি পোশাকের মূল্য একশ দীনারের সমান হতো। এই দুই শহরের অধিবাসীদের জন্য বটের পাখি (সাম্মান) শিকার ছিল একটি লাভজনক পেশা।

এই যুগে আইযাব শহরটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, যেখান থেকে জাহাজগুলো হিজাজ, ইয়েমেন, ভারত এবং অন্যান্য দেশের অভিমুখে যাত্রা করত।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৯)
وفيما يختص ببلاد المغرب يبين الكتاب الثروة الزراعية والمعدنية لكل مدينة مثل: حرير قابس، وزيت سفاقص الذي يصدر إلى صقلية وإيطاليا وفرنسا (الأرض الكبيرة) ، ومنسوجات سوسة، وأسماك بنزرت، ومرجان طبرقة، وتمر الواحات وبلاد الجريد، وذهب البلاد الواقعة بين الواحات ومصر، وفستق قفصة، وقمح باجة، وصوف وجّة، ونحاس فاس، وزيت مكناسة وضواحيها، وجلد اللمط والملح ثم السكر، بصفة خاصة، التى اشتهرت بها بلاد السوس، والتى كانت تصدرها إلى كل بلاد المغرب والأندلس وإفريقية، وكذلك النحاس المصنوع والعسل والنبيذ والدقيق والعنبر الممتاز. وعندما يتكلم عن بلاد السودان يستطرد فى ذكر الشب الأبيض وحجر المغناطيس.

ومن الناحية التاريخية يحتوى الكتاب على معلومات مختلفة فى طبيعتها، وفى قيمتها: كالقصص التاريخية القديمة المنقولة عن كتب معروفة أو مفقودة وهى من طبقة الأساطير ذات القيمة الأدبية فقط؛ ومثل الوثائق التاريخية المعاصرة ذات الأهمية البالغة.

والقسم الأول الذي يصف الأماكن المقدسة بشكل مطول مهم بالنسبة لتاريخ الفن، ولا سيما إذا نظرنا بعين الاعتبار إلى ندرة المصادر الخاصة بالآثار، مما يجعل مهمة مؤرخ الفن من الصعوبة بمكان.

والقسم الخاص بمصر يعطينا فكرة عن الروح التى كانت تسيطر على مفهوم تاريخ مصر القديمة: فكل ما هو قديم ينبغى أن يكون عجيبا دون اعتبار للوثائق الأكيدة الموجودة فى متناول الأيدى. وهكذا قيل إن الرصاص استعمل بدل الملاط فى بناء الأهرام؛ وكان يكفى النظر فى هذه الآثار للتأكد من أن الأمر ليس كذلك. وترتب على هذه الفكرة أن أصبح الجزء الثانى من الكتاب- على عكس الجزء الأول الجاف- ذا صبغة أديبة بصفة خاصة.

والفصل الخاص بمدينة الإسكندرية مهم جدا؛ ففيه يصف المؤلف المنار المشهور بإسهاب، ويبين موقع المدينة من الناحية العسكرية، وكيف أنها كانت هدفا لتهديدات الأعداء التقليديين النصارى، وخاصة الصقليين

€
মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা) অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই গ্রন্থটি প্রতিটি শহরের কৃষি ও খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য তুলে ধরেছে, যেমন: কাবেসের রেশম, স্ফাক্সের তেল—যা সিসিলি, ইতালি এবং ফ্রান্সে (বিশাল ভূখণ্ডে) রপ্তানি করা হতো—সুসার বস্ত্রসামগ্রী, বিজার্টের মাছ, তাবারকার প্রবাল, মরুদ্যান ও জারিদ অঞ্চলের খেজুর, মরুদ্যান ও মিসরের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত দেশগুলোর সোনা, গাফসার পেস্তা, বাজার গম, ওয়াজ্জার পশম, ফাসের তামা, মেকনেস ও এর আশপাশের অঞ্চলের তেল, লামত অঞ্চলের চামড়া, লবণ এবং বিশেষ করে চিনি—যার জন্য সুস অঞ্চল বিখ্যাত ছিল এবং যা সমগ্র মাগরেব, আন্দালুস ও আফ্রিকায় রপ্তানি করা হতো। সেই সাথে শিল্পজাত তামা, মধু, পানীয়, আটা এবং উন্নত মানের আম্বর। যখন তিনি সুদান অঞ্চলের কথা বলেন, তখন তিনি শ্বেত ফিটকিরি এবং চুম্বক পাথরের কথা সবিস্তারে আলোচনা করেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এই গ্রন্থটি প্রকৃতি ও মূল্যের দিক থেকে বৈচিত্র্যময় তথ্য ধারণ করে: যেমন সুপরিচিত বা বিলুপ্ত গ্রন্থসমূহ থেকে সংগৃহীত প্রাচীন ঐতিহাসিক কাহিনী, যা মূলত কেবল সাহিত্যিক গুরুত্বসম্পন্ন উপকথা মাত্র; আবার সমসাময়িক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথিপত্রও এতে বিদ্যমান।

প্রথম অংশটি, যেখানে পবিত্র স্থানসমূহের দীর্ঘ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা শিল্পকলার ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; বিশেষ করে প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ক উৎসের দুষ্প্রাপ্যতার কথা বিবেচনা করলে এটি শিল্পকলার ইতিহাসবিদের কাজকে বেশ দুরূহ করে তোলে।

মিসর সংক্রান্ত অংশটি আমাদের সেই মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা দেয় যা প্রাচীন মিসরের ইতিহাসের ধারণার ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল: আর তা হলো, হাতের নাগালে থাকা নিশ্চিত নথিপত্রকে গুরুত্ব না দিয়ে প্রাচীন যা কিছু আছে তাকেই অলৌকিক হতে হবে। এভাবেই বলা হয়েছে যে, পিরামিড নির্মাণে চুন-সুরকির পরিবর্তে সীসা ব্যবহার করা হয়েছিল; অথচ এই নিদর্শনগুলো পর্যবেক্ষণ করলেই নিশ্চিত হওয়া যেত যে বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। এই ধারণার ফলে গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশটি—প্রথম অংশের নিরস প্রকৃতির বিপরীতে—বিশেষভাবে একটি সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

আলেকজান্দ্রিয়া শহর বিষয়ক অধ্যায়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; এতে লেখক বিখ্যাত বাতিঘর সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন এবং সামরিক দিক থেকে শহরের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সেই সাথে এটি কীভাবে চিরশত্রু খ্রিস্টানদের, বিশেষ করে সিসিলিবাসীদের হুমকির লক্ষ্যবস্তু ছিল তাও বর্ণনা করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১০)
منهم. أما عن جهاد صلاح الدين وانتصاره على الصليبيين، وسفار ابن منقذ إلى المنصور الموحدى، فقد شغلت عدة صفحات مهمة ك نأمل لو أنها زادت إلى أكثر من ذلك.

والقسم الأخير الخاص بالمغرب مهم جدا بالنسبة لتاريخ الموحدين.

فصاحب الكتاب يندد بمرارة بثورة على بن غانية فى إفريقية، ويدافع عن موقف سيده الأمير. أما المعلومات المتعلقة بالمغرب الأقصى فهى أصيلة ومهمة للغاية: مثل المجهودات المعمارية التى قام بها أمراء الموحدين الثلاثة الأول، وخاصة يعقوب منهم: كعمليات المياه، وبناء المساجد والقصور، ثم إنشاء الحصون فى مدن مراكش وفاس ومكناسة.

من كل ما تقدم يتبين أن كتاب الاستبصار يعتبر حقيقة موسوعة تاريخية جغرافية مختصرة.

تحقيق النص:

وقد رجعنا فى تحقيق النص إلى مخطوطات ثلاث: واحدة بالمكتبة الوطنية بباريز (القسم العربى رقم 2225) ، وهى بخط مغربى مقروء، ولكن تنقصها الورقات الأولى والأخيرة، هذا بالإضافة إلى بعض النقص الذي يوجد فيها من حين لآخر، واثنتان بالمكتبة الوطنية بمدينة الجزائر: أولاهما (رقم 1560) فى حالة جيدة وهى كاملة؛ والثانية (رقم 3216) رغم أنها كاملة، إلا أنها فى حالة رديئة وذات خط غير مقروء فى بعض الأحوال.

وإلى جانب ذلك رجعنا أخيرا إلى طبعة فون كرمر (von kremer) الخاصة بالمغرب والتى نشرها عن مخطوط لا نعرف مصيره، وهى تحتوى على كثير من النقص.

ولقد رمزنا لمخطوط باريز بالحرف «ب» ولمخطوطى الجزائر- حسب ترتيبهما المذكور- بالحرفين «ج» ، «م» ، ولطبعة كرمر بالحرف «ك» .

€
তাদের মধ্য থেকে। সালাহউদ্দীনের জিহাদ ও ক্রুসেডারদের ওপর তার বিজয় এবং আল-মানসুর আল-মুওয়াহহিদীর নিকট ইবনে মুনকিযের দূতিয়ালী সংক্রান্ত বিষয়গুলো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা জুড়ে স্থান পেয়েছে; আমরা আশা করেছিলাম যদি এ বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত হতো।

মাগরিব (মরক্কো) সংশ্লিষ্ট শেষ অংশটি মুওয়াহহিদী রাজবংশের ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রন্থকার অত্যন্ত তিক্ততার সাথে ইফরীকিয়ায় আলী বিন গানিয়ার বিদ্রোহের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন এবং তার মনিব আমিরের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। সুদূর মাগরিব (মাগরিব আল-আকসা) সংক্রান্ত তথ্যাদি অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ: যেমন প্রথম তিন মুওয়াহহিদী আমিরের স্থাপত্যবিষয়ক প্রচেষ্টা, বিশেষ করে ইয়াকুবের অবদান: যেমন পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, মসজিদ ও প্রাসাদ নির্মাণ এবং মাররাকেশ, ফাস ও মিকনাসা শহরে দুর্গ নির্মাণ।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ‘কিতাবুল ইসতিবসার’ প্রকৃতপক্ষে একটি সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিশ্বকোষ হিসেবে গণ্য।

মূল পাঠ্য সম্পাদনা:

পাঠ্যটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা তিনটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি: একটি প্যারিসের জাতীয় গ্রন্থাগারে (আরবি বিভাগ নং ২২২৫), যা পাঠযোগ্য মাগরিবী লিপিতে লিখিত, তবে এর আদি ও অন্ত অংশ থেকে বেশ কিছু পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে; এছাড়া মাঝে মাঝেও কিছু অসম্পূর্ণতা রয়েছে। অন্য দুটি আলজিয়ার্স শহরের জাতীয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত: প্রথমটি (নং ১৫৬০) বেশ উন্নত মানের এবং পূর্ণাঙ্গ; দ্বিতীয়টি (নং ৩২১৬) যদিও পূর্ণাঙ্গ, তবে জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং কোনো কোনো স্থানে এর লিপি পড়ার অযোগ্য।

এর পাশাপাশি পরিশেষে আমরা ফন ক্রেমারের (von kremer) মাগরিব বিষয়ক সংস্করণের সাহায্য নিয়েছি, যা তিনি এমন এক পাণ্ডুলিপি থেকে প্রকাশ করেছিলেন যার হদিস আমাদের জানা নেই এবং এতে অনেক ঘাটতি রয়েছে।

আমরা প্যারিসের পাণ্ডুলিপিকে ‘বা’ অক্ষর দ্বারা, আলজিয়ার্সের পাণ্ডুলিপিদ্বয়কে—উল্লিখিত ক্রম অনুযায়ী—‘জিম’ ও ‘মিম’ অক্ষর দ্বারা এবং ক্রেমার সংস্করণকে ‘কাফ’ অক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১১)
وأول ما نلاحظه هو أن الأخطاء الإملائية الكثيرة والنحوية فى بعض الأحيان، وكذلك اختلاف أسماء الأعلام، تبين أن هذه المخطوطات نقلت فى عصر متأخر بالنسبة للمخطوط الأصلى بمعرفة نساخ لم ينالوا حظا كبيرا من الثقافة. وترتب على ذلك أن اضطررنا إلى الرجوع- فى كثير من الأحيان- إلى المؤلفات القديمة، ومن ذلك أن جامع «الخيف» كتب فى جميع ما بين أيدينا من نسخ جامع «الحنيفية» (ص 33 وهامش أ) . ورغم اتساع دائرة عملنا نتيجة لذلك فإننا لا ندعى أن النص الذي حققناه قد استقام بشكل كامل لا غبار عليه. فما زالت بعض الكلمات بل وبعض الجمل غير دقيقة أو قليلة الوضوح. وقد صادفتنا عبارات يبدو أنها من مصطلحات العمارة الإسلامية وهى غير محددة المعنى عندنا، وذلك مثل «بحر مرخّم» (ص 14- 15) أو «حجارة مطرورة» (ص 33، 34) . وقد فهمنا هذه العبارات حسب المعنى العام للجملة. وهكذا أخذنا «بحر مرخم» بمعنى فراغ مكسو بالرخام (الترجمة ص 9) ، «وحجارة مطرورة» بمعنى حجارة مصقولة محددة أو حجارة مطينة مزينة (الترجمة ص 20) . ونذكر كذلك كلمات «ثوران من نحاس» (ص 20) ولقد فهمناها على أنها مسرجتان (شمعدانان) من نحاس (الترجمة ص 12) ، وجملة «فنازعنى فى القرب والشولى فغلبته (ص 185) " التى فهمناها على أنها: فتناقشنا فى أمر سمك التن والزجر ولكننى فزت عليه. ونذكر أخيرا كلمة «ثليث» (ص 200) وهى اسم علم لمدينة فى جنوب مراكش قرب سجلماسة ولا نعرف عنها شيئا.

وفيما يختص بالترجمة فقد اجتهدنا فى نقل النص العربى إلى الفرنسية دون تصرف. ولم نخرج عن هذه القاعدة إلا فى الحالات التى يصعب فيها الترجمة الحرفية، ففى هذه الحالات حاولنا نقل المعنى مع الحرص على عدم الابتعاد عن النص على قدر الإمكان. ولقد لاقينا فى هذا صعوبات كثيرة: كالتباين الخفيف بين مفهوم الكلمات ذات المعنى الواحد، والصور التى يصعب نقلها كما هى، والأساليب الخاصة بكل لغة. وعلى الجملة فقد كانت روح كلا اللغتين هى المهددة فى كل هذه الحالات. ويمكن إعطاء أمثلة كثيرة

€
আমরা প্রথম যা লক্ষ্য করি তা হলো, অসংখ্য বানানগত ভুল এবং মাঝে মাঝে ব্যাকরণগত ত্রুটি, সেইসাথে নামসমূহের ভিন্নতা এটিই স্পষ্ট করে যে, এই পাণ্ডুলিপিগুলো মূল পাণ্ডুলিপির তুলনায় অনেক পরবর্তী সময়ে এমন সব লিপিকরদের দ্বারা অনুলিপি করা হয়েছে যারা উচ্চতর সংস্কৃতি বা শিক্ষার সৌভাগ্য লাভ করেননি। এর ফলশ্রুতিতে আমরা অনেক ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রন্থরাজির দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছি। যেমন, আমাদের কাছে থাকা সকল কপিতে 'জামে আল-খাইফ' শব্দটিকে 'জামে আল-হানিফিয়্যাহ' হিসেবে লেখা হয়েছে (পৃ. ৩৩ এবং টীকা 'আ')। এর ফলে আমাদের কাজের পরিধি বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও আমরা দাবি করছি না যে, আমাদের সম্পাদিত পাঠটি সম্পূর্ণ নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত হয়ে উঠেছে। এখনও কিছু শব্দ এমনকি কিছু বাক্যও যথাযথ নয় বা অস্পষ্ট রয়ে গেছে। আমরা এমন কিছু বাক্যাংশের সম্মুখীন হয়েছি যা সম্ভবত ইসলামি স্থাপত্যবিদ্যার পরিভাষা, যার সুনির্দিষ্ট অর্থ আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়, যেমন— 'বাহর মুরখখাম' (পৃ. ১৪-১৫) অথবা 'হিজারাহ মাতরুরাহ' (পৃ. ৩৩, ৩৪)। আমরা এই বাক্যাংশগুলোকে বাক্যের সাধারণ অর্থ অনুযায়ী বোঝার চেষ্টা করেছি। এভাবে আমরা 'বাহর মুরখখাম' বলতে মার্বেল পাথর দ্বারা আবৃত একটি শূন্যস্থান (অনুবাদ পৃ. ৯) এবং 'হিজারাহ মাতরুরাহ' বলতে মসৃণ ও সুনির্দিষ্ট পাথর অথবা মাটি দ্বারা প্রলেপ দেওয়া সুশোভিত পাথর (অনুবাদ পৃ. ২০) অর্থ গ্রহণ করেছি। একইভাবে আমরা 'সাওরান মিন নুহাস' (পৃ. ২০) শব্দগুলো উল্লেখ করতে পারি, যা আমরা তামার তৈরি দুটি প্রদীপ (শামাদান) হিসেবে বুঝতে পেরেছি (অনুবাদ পৃ. ১২)। এবং 'ফা-নাযা'আনী ফিল কুরবি ওয়াশ শাওলা ফা-গালাবতুহু' (পৃ. ১৮৫) বাক্যটি, যা আমরা এভাবে বুঝেছি যে: আমরা 'তুন্ন' এবং 'যাজর' মাছের বিষয়ে বিতর্ক করেছিলাম কিন্তু আমি তার ওপর বিজয়ী হয়েছিলাম। সবশেষে আমরা 'সালিস' (পৃ. ২০০) শব্দটি উল্লেখ করছি, যা সিজিলমাসা’র নিকটবর্তী দক্ষিণ মরক্কোর একটি শহরের নাম এবং এ সম্পর্কে আমাদের কিছু জানা নেই।

অনুবাদের ক্ষেত্রে আমরা আরবি পাঠটিকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ফরাসি ভাষায় স্থানান্তরের আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। আক্ষরিক অনুবাদ যেখানে কঠিন ছিল, সেই ক্ষেত্রগুলো ছাড়া আমরা এই নিয়মের বাইরে যাইনি; সেসকল ক্ষেত্রে আমরা মূল পাঠ থেকে যথাসম্ভব দূরে না সরে ভাবার্থ প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। এক্ষেত্রে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি: যেমন সমার্থক শব্দগুলোর মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য, যে চিত্রকল্পগুলো হুবহু অনুবাদ করা কঠিন, এবং প্রতিটি ভাষার নিজস্ব শৈলী। মোটের ওপর, এই সব ক্ষেত্রে উভয় ভাষার মূল আবেদনই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ছিল। এ বিষয়ে অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১২)
لتوضيح هذه العقبات؛ ودون البحث بعيدا فى أعماق النص يكفى النظر فى الصفحات الأولى من الكتاب، حيث تكثر أمثلة هذه الصعوبات.

ولقد حرصنا على أن نزود النص بالهوامش المناسبة. والغرض من هذه الهوامش إما تحديد المؤلفات السابقة التى تعتبر من المصادر الرئيسة للنص، وإما مقارنته بها. ولهذا السبب أيضا ذكرنا فى الهوامش بعض المصنفات المهمة من عصور متأخرة.

تقديم الطبعة المغربية

لما كانت طبعة جامعة الاسكندرية (1958) لكتاب الاستبصار في عجائب الأمصار، وهو الكتاب الذي كان أصلا رسالة ثانوية للدكتوراة التي تقدمنا بها إلى جامعة باريس في يونيه 1951، قد نفدت منذ مدة طويلة. ولما كان الدارسون لتاريخ مكة والمدينة ومصر وبلاد السودان الغربي في العصور الاسلامية حتى القرن السادس الهجري/ 12 م في حاجة الى النظر في هذا الكتاب، فضلا عن حاجة دارسي تاريخ أقطار الشمال الافريقي الاسلامية وجغرافيتها، وهو الأمر الذي تنبه اليه منذ مدة طويلة بعض الزملاء الأفاضل والناشرين في تونس وفي مصر، فإنه يسرني أن تقوم الآن دار النشر المغربية بمدينة الدار البيضاء، مشكورة، بمعرفة مديرها السيد البوري محمد سعيد بإعادة نشر الكتاب في طبعة مغربية جديدة، أرجو أن تكون مفيدة للمشتغلين بالتاريخ الاسلامي وتاريخ الشمال الافريقي- إن شاء الله.

هذا، ولقد قمنا بتصحيح الأخطاء القليلة بطبعة الاسكندرية الأولى، وعلى الله التوفيق.

سعد زغلول عبد الحميد الكويت في 6/1/1985
এই বাধাগুলো স্পষ্ট করার জন্য; পাঠ্যের গভীরে অনুসন্ধান না করেই বইটির প্রথম পৃষ্ঠাগুলোর দিকে তাকালে যথেষ্ট হবে, যেখানে এই জটিলতার অনেক উদাহরণ রয়েছে।

আমরা পাঠ্যটিকে যথাযথ টীকা দিয়ে সমৃদ্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলাম। এই টীকাগুলোর উদ্দেশ্য হলো হয় আগের সেই রচনাগুলোকে চিহ্নিত করা যেগুলোকে পাঠ্যের প্রধান উৎস বিবেচনা করা হয়, অথবা সেগুলোর সাথে এর তুলনা করা। এই একই কারণে আমরা টীকায় পরবর্তী যুগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনার কথাও উল্লেখ করেছি।

মরক্কো সংস্করণের ভূমিকা

যেহেতু ১৯৫৮ সালে আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত 'কিতাব আল-ইসতিবসার ফি আজায়িব আল-আমসার' বইটির সংস্করণটি দীর্ঘকাল ধরে নিঃশেষ হয়ে গেছে—যেটি মূলত ১৯৫১ সালের জুন মাসে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া আমাদের ডক্টরেট গবেষণাপত্রের একটি অংশ ছিল। আর যেহেতু হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দী তথা ১২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইসলামী যুগে মক্কা, মদীনা, মিশর এবং পশ্চিম সুদান অঞ্চলের ইতিহাসের গবেষকদের জন্য এই বইটি দেখার প্রয়োজন রয়েছে, পাশাপাশি উত্তর আফ্রিকার ইসলামী দেশগুলোর ইতিহাস ও ভূগোলের গবেষকদের চাহিদাও রয়েছে; আর এই বিষয়টি তিউনিসিয়া ও মিশরের কিছু সম্মানিত সহকর্মী ও প্রকাশক অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তাই আমি আনন্দিত যে কাসাব্লাঙ্কা শহরের 'দারুন নাশর আল-মাগরিবিয়্যাহ' তার পরিচালক জনাব আল-বুরী মুহাম্মাদ সাঈদের তত্ত্বাবধানে ধন্যবাদযোগ্যভাবে বইটির একটি নতুন মরক্কো সংস্করণ পুনরায় প্রকাশ করছে। আমি আশা করি এটি ইসলামী ইতিহাস এবং উত্তর আফ্রিকার ইতিহাস নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য উপকারী হবে—ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য যে, আমরা আলেকজান্দ্রিয়ার প্রথম সংস্করণের সামান্য কিছু ভুল সংশোধন করেছি, আর আল্লাহর নিকটই তাওফীক বা সামর্থ্য প্রার্থনা করছি।

সাদ যাগলুল আব্দুল হামিদ, কুয়েত, ৬/১/১৯৮৫
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: -)
الاستبصار فى عجائب الامصار   (مؤلف الاستبصار في عجائب الأمصار)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الاستبصار في عجائب الأمصار

المؤلف: كاتب مراكشي (توفي: ق 6هـ)

الناشر: دار الشؤون الثقافية، بغداد

عام النشر: 1986 م

عدد الصفحات: 246

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইস্তিবসার ফি আজাইব আল-আমসার (শহরসমূহের বিস্ময়কর বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ)   (আল-ইস্তিবসার ফি আজাইব আল-আমসার-এর লেখক)

বিভাগ: দেশসমূহ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-ইস্তিবসার ফি আজাইব আল-আমসার

লেখক: একজন মারাকেশি লেখক (মৃত্যু: ৬ষ্ঠ হিজরি শতাব্দী)

প্রকাশক: দারুশ শুউনিল সাকাফিয়্যাহ، বাগদাদ

প্রকাশকাল: ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৪৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم وصلى الله على سيدنا ومولانا محمد كتاب الاستبصار فى عجائب الأمصار

[خطبة الكتاب]

الحمد لله عالم الأسرار، غافر الإضرار، الواحد القهار، العزيز الجبار، المنزه الذي لا يقبض يديه سهاد الليل والنهار؛ نحمده حمد معترف بوحدانيته، ونشكره شكر مغترف من بحر نعمته، متقلب فى ظل رحمته.

ونصلى على نبيه سيدنا محمد المبعوث بالآيات الباهرة، والبينات القاهرة، الآخذ عن النار بالحجزات، الداعى إلى سبيل ربه بالآيات البينات، وعلى آله الأخيار، وأصحابه الأبرار، صلاة باقية إلى يوم الدين.

ونرضى عن نجله الأطهر «ا» ، وسليله الأبر، الإمام المهدى «1» ، الذي جدد رسم الدين بعد البلى، وجاهد فى سبيل الله حق جهاده وأبلى، وإلى طريق الحق [دعا] النفرى والجفلى؛ وعن الخلفاء الراشدين، أئمة الهدى، ومصابيح من رشد واهتدى. ونوالى الدعاء لخليفتهم المبارك الأسعد، سيدنا أمير المؤمنين يعقوب «2» بنصر تتصل أسبابه بسعادته، وفتح يسوقه القدر وفق إرادته.

وبعد، لما كان العلم أنفس ما يقتنى، وأشرف ما به يعتنى، لم يزل ينقله خلف عن سلف ويحمله ذو شرف عن ذى شرف، وجب أن يكون أفضل ما يهديه مهد أو يستهديه مهدى، رغبة فى الاتسام برسمه، والارتسام والدخول
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। শহরসমূহের বিস্ময়কর বিষয়াবলি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টির কিতাব (কিতাবুল ইস্তিবসার ফি আজাইবিল আমসার)।

[গ্রন্থের ভূমিকা]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি গোপন রহস্যের পরিজ্ঞাতা, অনিষ্টের ক্ষমাকারী, একক, মহাপরাক্রমশালী, মহা সম্মানিত ও প্রবল প্রতাপশালী; তিনি সেই পবিত্র সত্তা, রাত ও দিনের নির্ঘুমতা যাঁর হাত দুটিকে সংকুচিত করে না। আমরা তাঁর প্রশংসা করি তাঁর একত্বের স্বীকৃতিদানকারীর ন্যায়, এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি তাঁর নেয়ামতের সমুদ্র থেকে আহরণকারীর ন্যায়, যে তাঁর রহমতের ছায়াতলে বিচরণশীল।

এবং আমরা দরুদ পাঠ করি তাঁর নবী আমাদের নেতা মুহাম্মাদের প্রতি, যিনি প্রেরিত হয়েছেন উজ্জ্বল নিদর্শনাবলি ও অকাট্য প্রমাণাদিসহ, যিনি মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করেন, যিনি তাঁর রবের পথে স্পষ্ট নিদর্শনাবলির মাধ্যমে আহ্বানকারী; এবং তাঁর শ্রেষ্ঠ পরিবারবর্গ ও পুণ্যবান সাহাবীদের ওপর—এমন রহমত যা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

এবং আমরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি তাঁর অত্যন্ত পবিত্র বংশধর ও পুণ্যবান উত্তরসূরি ইমাম মাহদীর প্রতি, যিনি জরাজীর্ণ হওয়ার পর দ্বীনের রূপরেখাকে নতুন করে সংস্কার করেছেন, আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন ও উত্তমরূপে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন, এবং সত্যের পথে সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলকে আহ্বান করেছেন; আরও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি খুলাফায়ে রাশেদীনের প্রতি, যারা হিদায়াতের ইমাম এবং সুপথপ্রাপ্ত ও হিদায়াতপ্রাপ্তদের প্রদীপস্বরূপ। আর আমরা তাঁদের বরকতময় ও সৌভাগ্যবান খলিফা আমাদের নেতা আমীরুল মুমিনীন ইয়াকুবের জন্য নিরন্তর দোয়া করি—এমন সাহায্যের মাধ্যমে যার উপকরণসমূহ তাঁর সৌভাগ্যের সাথে যুক্ত এবং এমন বিজয়ের মাধ্যমে যা তাকদীর তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনা করে।

অতঃপর, যেহেতু জ্ঞান হলো অর্জিত বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মূল্যবান এবং যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ, যা উত্তরসূরিরা পূর্বসূরিদের থেকে নিরন্তর বর্ণনা করে আসছেন এবং এক মর্যাদাবান ব্যক্তি অন্য মর্যাদাবান ব্যক্তির নিকট থেকে তা বহন করে আসছেন; তাই এটিই হওয়া উচিত কোনো উপহারদাতার শ্রেষ্ঠ উপহার কিংবা কোনো উপহার প্রার্থীর শ্রেষ্ঠ অন্বেষিত বিষয়, যাতে এর চিহ্নে চিহ্নিত হওয়া এবং এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ পায়।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ২)
فى رعيته، والاستثئار بحيازة مآثر من تواريخ الأمم، وسير العرب والعجم، إذ كان المرء يقف منها على أخبار من غبر، وآثار من ذهب ودثر، ويشاهد ممالك ذهبت وبادت «ا» ، كأنها عادت إلى الحياة أو كادت:

لم يبق شىء من الدنيا أسرّ به … إلا الدفاتر فيها الشعر والخبر

مات الذين لهم فضل ومكرمة … وفى الدفاتر من أخبارهم آثر

وقديما وضع «ب» الناس التواريخ ورتبوها، ودونوا الأخبار وكونوها، حرصا منهم على نظم فرائدها وتقييد شواردها، وما زال واضعوها يتقلبون بين إكثار وإقلال، وإسهاب واختصار، وكلهم يجرى على طريقة إلى غاية يضيفها ويسطرها. وكثيرا ما خلد خدم العقلاء ملوك أزمنتهم بالتواريخ المؤلفة والتواليف المزخرفة، تفننا لمسراتهم وترضيا لمبراتهم، ولولا ذلك لم يحصل الأخر على علم الأول، ولا عرفت أخبار الملل والدول.

ولذلك رأيت الشيخ الأجل المعظم، الأغر الأسنى، الأمجد المكرم، أبا «ج» عمران بن الشيخ الأرفع، المرحوم أبى يحيى بن وقتين «1» أدام الله علاهم، ووصل مجدهم وسراهم، قد أبرز على الفضلاء فضلا، وأربى على النبلاء نبلا، وزاد على أهل زمانه فى العلم والحلم، وغبطة بالعلم ووصل العلماء ومراضاة الفقهاء. وكانت همته السامية إلى طراف الأخبار، وإيثار أهل الآثار، إلى أن شادت بذلك الرفاق، وامتلأت بحديثه الآفاق، ونازعتنى الرغبة والتصدى لشكر النعمة، إلى أن أطرز باسمه كتابا يجمع بين الأخبار والصحائف، ويأخذ بطرفى شرائد الطرائف، متضمنا بذلك إحسانه، راجيا بذلك فضله وامتنانه بمنه حسبما أردته. و [لما] اتسق وصفه على ما اخترت، سميته بكتاب الاستبصار فى عجائب الأمصار، بعد أن قصدت فى أكثره التحقيق واطرحت فى مستودعه التلفيق.
তাঁর প্রজাদের মধ্যে এবং জাতিসমূহের ইতিহাস ও আরব-অনারবদের জীবনী থেকে অর্জিত কীর্তিসমূহ আয়ত্ত করার মাধ্যমে বিশেষত্ব লাভ করা; যেহেতু এর মাধ্যমে মানুষ অতীত হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সংবাদ এবং বিলীন ও ধ্বংস হয়ে যাওয়া নিদর্শনাদি সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং এমন সব সাম্রাজ্য প্রত্যক্ষ করতে পারে যা গত ও নিঃশেষ হয়ে গেছে, যেন সেগুলো পুনরায় জীবন লাভ করেছে বা করার উপক্রম হয়েছে:

দুনিয়ার কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই যা দিয়ে আনন্দ লাভ করা যায় … কেবল সেই খাতাগুলো ছাড়া যাতে রয়েছে কবিতা ও সংবাদ

শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের অধিকারীরা মৃত্যুবরণ করেছেন … কিন্তু খাতাগুলোতে তাদের সংবাদের নিদর্শনাবলী রয়ে গেছে

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ইতিহাস রচনা ও বিন্যস্ত করেছে, সংবাদসমূহ লিপিবদ্ধ ও সংকলন করেছে; এর অনন্য মুক্তাসমূহ সুশৃঙ্খল করা এবং বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে আবদ্ধ করার প্রবল আগ্রহ থেকে। এর রচয়িতারা সর্বদা আধিক্য ও স্বল্পতা এবং দীর্ঘায়ন ও সংক্ষিপ্তকরণের মধ্যে আবর্তিত হয়েছেন। তাদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো লক্ষ্যপানে একটি পথ অনুসরণ করেছেন যা তিনি যোগ করেছেন ও লিপিবদ্ধ করেছেন। বুদ্ধিমানদের সেবকরা প্রায়শই তাদের সময়ের রাজাদের অমর করে রেখেছেন সংকলিত ইতিহাস ও সুশোভিত রচনার মাধ্যমে, যা ছিল তাদের আনন্দের বৈচিত্র্যস্বরূপ এবং তাদের অনুগ্রহভাজনের সন্তুষ্টি লাভের উপায়। যদি তা না হতো, তবে পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের জ্ঞান লাভ করতে পারত না এবং বিভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের সংবাদও জানা যেত না।

সেই কারণেই আমি লক্ষ্য করেছি পরম শ্রদ্ধেয়, মহান, সুদীপ্ত, শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত শাইখ আবু ইমরান বিন উচ্চমর্যাদাশীল শাইখ মরহুম আবু ইয়াহইয়া বিন ওয়াক্তিনকে—আল্লাহ তাঁদের উচ্চমর্যাদা দীর্ঘস্থায়ী করুন এবং তাঁদের গৌরব ও আভিজাত্য অব্যাহত রাখুন—যিনি গুণীজনদের ওপর গুণাবলির শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করেছেন, মহানুভবদের ওপর মহানুভবতায় ছাড়িয়ে গেছেন এবং জ্ঞান, সহিষ্ণুতা, ইলমের প্রতি অনুরাগ, উলামায়ে কেরামের সাথে সুসম্পর্ক ও ফুকাহায়ে কেরামের সন্তুষ্টি অর্জনে নিজ জামানার লোকদের চেয়ে অগ্রগামী হয়েছেন। তাঁর সুউচ্চ হিম্মত ছিল দুর্লভ সংবাদ এবং ইতিহাসবেত্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতি, এমনকি এর মাধ্যমে কাফেলাসমূহ ধন্য হয়েছে এবং তাঁর আলোচনায় দিগন্ত মুখরিত হয়েছে। নেয়ামতের শোকর আদায়ের ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা আমাকে প্ররোচিত করেছে যেন তাঁর নামে একটি কিতাব অলঙ্কৃত করি, যা সংবাদ ও পাণ্ডুলিপির সমন্বয় ঘটাবে এবং দুর্লভ ও অদ্ভুত বিষয়াদির প্রান্তসমূহ স্পর্শ করবে; এতে তাঁর দয়া ও অনুগ্রহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং এর মাধ্যমে আমি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও কৃতজ্ঞতার প্রত্যাশা করি তাঁরই করুণায় যেভাবে আমি চেয়েছি। যখন কিতাবটির বর্ণনা আমার পছন্দ অনুযায়ী সুসংগত হলো, আমি এর নামকরণ করলাম 'কিতাবুল ইসতিবসার ফি আজায়িবিল আমসার', এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যতা নিশ্চিত করার সংকল্প করার পর এবং এর সংকলনে অলীক বিষয়সমূহ বর্জন করার পর।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৩)
وابتدأت بمكة شرفها الله تعالى، وما يجب ذكره من وصف حرمها، وأسماء الجبال المحيطة بها، وذكر أرباضها، ووصف المسجد الحرام بحسب الوسع، وذرع الكعبة من خارج، ووصفها من داخل. ووصفت الصفا والمروة، وعرفة ومزدلفة، ومنى وجبل الرحمة، مع شريعة إبراهيم عليه السلام وصفة بطن محسّر إلى غير ذلك من المناسك، وصفة مسجد رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة. ووصفت منبره عليه السلام، ووصفت عدد أبواب المسجد، وجميع ما فيه من العمد «ا» وعدد ما فيه من القناديل، ووصف روضته عليه السلام. ثم وصفت بقية المدينة، وروضة عثمان رضى الله عنه ووصفت مسجد قبا، وقبور الشهداء «ب» بأحد رحمة الله عليهم تبركا بذلك وتيمنا بالاستفتاح به.

ثم عدت إلى بلاد مصر وما فيها من العجائب، ووصفت نيل مصر وعدد أمياله، من وسطه إلى موقعه، وذكرت بناء الأهرامات والبرابى «ج» ومن بناها، وصورتها وطولها وعرضها وما صنع فيها من العجائب؛ وذكرت من عمرها من الملوك قبل الطوفان وما نزل بها بهذا الطوفان؛ وذكرت فتحها فى أيام سيدنا عمر «د» بن الخطاب رضى الله عنه. ثم عدت إلى مدينة الإسكندرية، ووصفت بناءها وصفة منارها وصفة المرآة التى كانت بها وبناءها وتداول الملوك عليها.

ثم ذكرت بلاد إفريقية وما فيها من العجائب، ووصفت مدينة قرطاجنة وآثارها وعجائبها، ووصفت البلاد الى آخر بلاد المغرب. وقسمت أقطارها قسمين، ورتبتها صنفين: فمنها الصحراوية أو ما قاربها، والساحلية وما يليها.

ولم أذكر شيئا مما سقته إلا ما كاد ينعقد على أكثره الإجماع، ويتفق عليه العيان والسماع، وللمولى أدام الله تأييده ووصل سعوده، أن يقدر عبده فيما أورده، ويحقق فيما رجاه أمله ومعتمده، فإنه وإن كان قد أنفذ وسعه فى الاختيار، وتوسط بين الإقلال والإكثار، حرى بالاحسان
আমি মক্কা থেকে শুরু করেছি, আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মানিত করুন, এবং তার হারামের বর্ণনা, একে ঘিরে থাকা পাহাড়গুলোর নাম, এর উপশহরগুলোর উল্লেখ, সামর্থ্য অনুযায়ী মাসজিদুল হারামের বর্ণনা, কাবা ঘরের বাইরের পরিমাপ এবং এর অভ্যন্তরীণ বর্ণনা যা যা উল্লেখ করা আবশ্যক তা করেছি। আমি সাফা ও মারওয়া, আরাফা ও মুজদালিফা, মিনা ও জাবালে রহমত, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শরিয়তের বিধিবিধানসহ মুহাসসার উপত্যকার বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য হজের বিধানসমূহ বর্ণনা করেছি। মদিনায় অবস্থিত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদের বৈশিষ্ট্যও বর্ণনা করেছি। আমি তাঁর আলাইহিস সালাম মিম্বর, মসজিদের দরজার সংখ্যা, সেখানে থাকা সকল স্তম্ভ এবং ঝাড়লণ্ঠনের সংখ্যা এবং তাঁর আলাইহিস সালাম রওজার বর্ণনা দিয়েছি। এরপর আমি মদিনার অবশিষ্টাংশ, উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর রওজা এবং কুবা মসজিদ ও ওহুদ প্রান্তরে শহীদদের (আল্লাহর রহমত তাঁদের ওপর বর্ষিত হোক) কবরের বর্ণনা দিয়েছি—এসবের মাধ্যমে বরকত হাসিল ও শুভ সূচনা করার উদ্দেশ্যে।

এরপর আমি মিসর ভূখণ্ড ও সেখানে থাকা বিস্ময়কর বস্তুসমূহের বর্ণনায় ফিরে এসেছি। আমি মিসরের নীল নদ এবং এর মধ্যভাগ থেকে মোহনা পর্যন্ত এর মাইলের সংখ্যা বর্ণনা করেছি। আমি পিরামিড ও প্রাচীন মন্দিরসমূহের নির্মাণ, সেগুলোর নির্মাতা, তাদের আকৃতি, দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ এবং সেগুলোর মধ্যে নির্মিত বিস্ময়কর বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি। প্লাবনের পূর্বে যেসব রাজা এগুলো নির্মাণ করেছিলেন এবং সেই প্লাবনের ফলে এগুলোর কী দশা হয়েছিল তা উল্লেখ করেছি। আমাদের নেতা উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে এর বিজয়ের কথা উল্লেখ করেছি। এরপর আমি আলেকজান্দ্রিয়া শহরের বর্ণনায় ফিরেছি এবং এর নির্মাণশৈলী, এর বাতিঘরের বৈশিষ্ট্য, সেখানে থাকা আয়না, এর নির্মাণ এবং রাজাদের পালাবদলের বর্ণনা দিয়েছি।

এরপর আমি আফ্রিকা মহাদেশের দেশসমূহ ও সেখানে থাকা বিস্ময়কর বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছি। আমি কার্থেজ শহর, এর ধ্বংসাবশেষ ও বিস্ময়গুলোর বর্ণনা দিয়েছি এবং মাগরিবের শেষ সীমানা পর্যন্ত দেশগুলোর বর্ণনা করেছি। আমি এর অঞ্চলগুলোকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি এবং সেগুলোকে দুই শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছি: একটি মরু অঞ্চল বা এর নিকটবর্তী এলাকা, এবং অন্যটি উপকূলীয় অঞ্চল ও এর সংলগ্ন এলাকা।

আমি যা কিছু উপস্থাপন করেছি তার মধ্যে এমন কিছুই উল্লেখ করিনি যা প্রায় সর্বসম্মত নয় এবং প্রত্যক্ষ দর্শন ও শ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আমাদের মহান রবের কাছে প্রার্থনা—আল্লাহ তাঁর সাহায্য অব্যাহত রাখুন এবং তাঁর কল্যাণকে প্রসারিত করুন—যাতে তিনি তাঁর বান্দাকে তার উপস্থাপিত বিষয়ে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন এবং তিনি যা আশা ও ভরসা করেছেন তা পূর্ণ করেন। কেননা লেখক যদিও তথ্য নির্বাচনে নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং অতিসংক্ষিপ্ত ও অতিদীর্ঘের মাঝামাঝি পথ অবলম্বন করেছেন, তথাপি তিনি সদয় বিবেচনার যোগ্য।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৪)
ظنا، ويرى التغميض عن هناته سنا، إذ هو فيما ذكر كمن حمل التمر إلى هجر «1» .

ومنك استعدنا كل غريبة، فأنت غريبة فى عيون الغرائب. وهذا حين أبتدىء بذكر ما أردته فيما أوردته، مستعينا بالله سبحانه، راجيا صفحه وغفرانه، والله سبحانه يمتع الأدب ببقاء المولى، ويشكره ما منح الخلق من يده وأولى:

الناس يهدون على قدرهم … وإننى أهدى على قدركا

يهدون ما يفنى وأهدى الذي … يبقى على الأزمان من فخركا

ذكر حدود حرم مكة شرفها الله «2»

حدّ الحرم من ناحية المدينة من ذى طوى «3» على ثلاثة أميال من مكة، وحده من طريق جدّة على عشرة أميال، وحده من طريق اليمن على سبعة أميال، وحده من طريق العراق على ستة أميال، وحده من طريق الطائف على أحد عشر ميلا فعدد أميال الحرم 37 ميلا «4» ، ودور الحرم حول مكة 733 ميلا «5» ؛ وكان النبي صلى الله عليه وسلم بنى بالحرمين 15 مسجدا «6» .
ধারণাবশত, এবং তিনি এর ত্রুটিগুলো উপেক্ষা করাকে সৌন্দর্য মনে করেন; কেননা উল্লিখিত বিষয়ে তিনি সেই ব্যক্তির ন্যায় যে হাজারে খেজুর বয়ে নিয়ে যায় «১»।

আর আপনার নিকট থেকেই আমরা প্রতিটি চমৎকার বিষয় আহরণ করেছি, কেননা চমৎকার বিষয়সমূহের দৃষ্টিতেও আপনি এক বিস্ময়। আর এখন আমি যা উপস্থাপন করতে চেয়েছি তা উল্লেখ করা শুরু করছি, আল্লাহ সুবহানাহুর সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর মার্জনা ও ক্ষমা আশা করছি; আল্লাহ সুবহানাহু যেন এই অভিভাবকের স্থায়িত্বের মাধ্যমে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন এবং সৃষ্টির প্রতি তিনি তাঁর হাতের মাধ্যমে যা দান ও অনুগ্রহ করেছেন তার জন্য আল্লাহ তাঁকে পুরস্কৃত করেন:

মানুষ উপহার দেয় নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী … আর আমি উপহার দিই আপনার মর্যাদা অনুযায়ী

তারা উপহার দেয় যা নিঃশেষ হয়ে যায়, আর আমি উপহার দিই এমন কিছু যা … আপনার গৌরবের কারণে মহাকালের বুকে অমর হয়ে রয়

মক্কার হারামের সীমানার বিবরণ, আল্লাহ একে সম্মানিত করুন «২»

মদিনার দিক থেকে যী-তুওয়া হতে হারামের সীমানা মক্কা থেকে তিন মাইল দূরত্বে, জেদ্দার পথ ধরে এর সীমানা দশ মাইল দূরত্বে, ইয়েমেনের পথ ধরে এর সীমানা সাত মাইল দূরত্বে, ইরাকের পথ ধরে এর সীমানা ছয় মাইল দূরত্বে এবং তায়েফের পথ ধরে এর সীমানা এগারো মাইল দূরত্বে। সুতরাং হারামের মাইলের মোট সংখ্যা ৩৭ মাইল «৪», এবং মক্কার চারদিকে হারামের পরিধি ৭৩৩ মাইল «৫»; এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুই হারামে ১৫টি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন «৬»।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌وصف مكة شرفها الله وأرباضها وأسماء الجبال المحيطة بها

3

جبل أبى قبيس «1» وهو جبل أدكن (أميل إلى البياض) ، فى رأسه منار يذكر أنه منار إبراهيم عليه السلام. وفى أصله الصفا «2» ومن عليه يرقى إليه، ليس «ا» له مرقى إلا على أربعة مواضع: على الصفا، وعلى شعب عمر، وعلى شعب على «3» رضى الله عنهما، وعلى شعب أجياد الصغير «4» ، ليس لأبى قبيس طريق يرقى إليه إلا من هذه الأربعة مواضع. وهو أحد الأخشبين «5» فيما يقال، ويقال إنه أول جبل خلقه الله تعالى ووضعه فى الأرض. وإنما سمى بأبى قبيس لأن رجلا كان يسكنه على قديم الدهر يكنى بأبى قبيس فنسب إليه ذلك الجبل. وهو أقرب الجبال إلى المسجد الحرام، يقابل من مكة ويقابل من الكعبة الركن الأسود.
মক্কার বর্ণনা—আল্লাহ একে সম্মানিত করুন—এর আশপাশ এবং একে ঘিরে থাকা পাহাড়সমূহের নামসমূহ

৩

আবু কুবাইস পাহাড় «১»। এটি একটি ধূসর বর্ণের পাহাড় (সাদার দিকে কিছুটা ঝুঁকে থাকা)। এর চূড়ায় একটি মিনার রয়েছে, যার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে এটি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের মিনার। এর পাদদেশে সাফা «২» অবস্থিত এবং সেখান থেকেই এর উপরে আরোহণ করা হয়। চারটি স্থান ব্যতীত এটিতে আরোহণের আর কোনো পথ নেই: সাফা থেকে, শুআবে উমর থেকে, শুআবে আলী «৩» —আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হন— থেকে এবং শুআবে আজিয়াদে সগির «৪» থেকে। এই চারটি স্থান ব্যতীত আবু কুবাইসে আরোহণের কোনো পথ নেই। লোকমুখে প্রচলিত যে এটি 'আখশাবাইন' (দুই সুদৃঢ় পাহাড়) «৫» এর অন্যতম একটি। আরও বলা হয় যে এটিই প্রথম পাহাড় যা আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং যমীনে স্থাপন করেছেন। এর নাম আবু কুবাইস হওয়ার কারণ হলো, প্রাচীনকালে সেখানে আবু কুবাইস উপনামের এক ব্যক্তি বসবাস করতেন, ফলে পাহাড়টি তাঁর নামে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। এটি মসজিদুল হারামের সবচেয়ে নিকটবর্তী পাহাড়। এটি মক্কার সম্মুখভাগে এবং কাবার হাজরে আসওয়াদ কোণের বিপরীতে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৬)
ثم جبل الخندمة «1» وهو الجبل العالى المستعلى على أبى قبيس من ناحية الشرق، وهو «ا» جبل أحمر محجر فيه صخرة كبيرة بيضاء كأنها معلقة تشبه الإنسان إذا نظرت إليها من البعد، تراها من المسجد الحرام من باب السهميين «ب» الصغير. وفى ذلك الجبل تحصن أهل مكة يوم القرمطى «ج» «2» .

وأسفل «د» من ذلك الجبل، بينه وبين الجبل غار، شعب على رضى الله عنه.

ثم الجبل الأبيض «3» الذي على الأبطح إلى باب منى «4» ، ومن ذلك الجبل إلى الجبل الأحمر السور، وجعل هنالك بابين من خشب مصفحين بالحديد، وهما على المعلى «ر» «5» وهما المعروفان بباب منى.

وعند هذا الباب آبار «س» بعيدة الرشا يستقى الناس منها، وماؤها ليس بعذب

.
তারপর খান্দামা পর্বত «১», যা পূর্ব দিক থেকে আবু কুবাইস পর্বতের ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা এক সুউচ্চ পাহাড়। এটি «অ» একটি লাল পাথুরে পাহাড়, যাতে একটি বড় সাদা পাথর রয়েছে যা দেখলে মনে হয় যেন ঝুলে আছে; দূর থেকে তাকালে এটি মানুষের মতো মনে হয়। এটি মসজিদুল হারামের ছোট বাবুল সাহমিয়্যিন «আ» থেকে দেখা যায়। কারামাতিদের «ই» «২» দিনে মক্কাবাসীরা এই পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছিল।

সেই পাহাড়ের নিচে «ঈ», সেটির এবং পাহাড়ের মাঝে একটি গুহা রয়েছে; (সেটি হলো) আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর গিরিপথ।

অতঃপর শ্বেত পর্বত «৩», যা আবতাহ থেকে মিনা গেট «৪» পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই পর্বত থেকে লাল পর্বত পর্যন্ত একটি প্রাচীর রয়েছে; সেখানে লোহার পাত লাগানো কাঠের দুটি দরজা স্থাপন করা হয়েছে। এগুলো মুয়াল্লায় «উ» «৫» অবস্থিত এবং এগুলো 'বাবুল মিনা' (মিনা গেট) হিসেবে পরিচিত।

এই দরজার কাছে অনেক গভীর «ঊ» কূপ রয়েছে যেখান থেকে মানুষ পানি সংগ্রহ করে, তবে এর পানি সুপেয় নয়।

(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৭)
جدا. وهذا الجبل الأحمر متصل من مسجد الخيف «ا» «1» إلى الحجون «2» وفيه الثنية العليا، وعند أصل الثنية بقيع مكة «3» . وفى شعب منه المحصّب «4» فى حوز الشعب الذي يقابل الخيف الذي كان ينزل فيه من سلف من الصدر الأول عندهم من منى إلى آخر أيام التشريق «5» ، فيصلون الظهر والعصر والمغرب والعشاء الآخرة، وكذلك يدخلون مكة.

وقد صح عن «ب» النبي صلى الله عليه وسلم أنه فعل ذلك «6» .
অত্যন্ত। এবং এই লাল পাহাড়টি মাসজিদুল খাইফ «ক» «১» থেকে হাজুন «২» পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এর মধ্যে উচ্চ গিরিপথটি অবস্থিত, আর গিরিপথের পাদদেশে রয়েছে মক্কার বাকি’ «৩»। এর একটি উপত্যকায় আল-মুহাসসাব «৪» অবস্থিত, যা খাইফের বিপরীতে অবস্থিত সেই উপত্যকার সীমানার অন্তর্ভুক্ত যেখানে প্রথম যুগের পূর্বসূরিগণ মিনা থেকে তাশরিকের দিনগুলোর শেষ পর্যন্ত অবস্থান করতেন «৫»; সেখানে তারা যোহর, আসর, মাগরিব এবং এশার সালাত আদায় করতেন এবং এভাবেই তারা মক্কায় প্রবেশ করতেন।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম «খ» থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত যে তিনি এরূপ করেছেন «৬»।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৮)
ثم الجبل الذي بظهر دار الندوة «1» يسمى قعيقعان «2» ، وهو الذي يقابل أبا قبيس، وهو جبل أخضر. وإنما يسمى قعيقعان لأن مضاض بن جرهم نزل به، ونزل السميدع بن جرهم بجبل أجياد، فدارت بينهما حرب عظيمة فى تلك الأيام، فكانت أجياد- أعنى من سكن بها وهو السميدع وآله- أول من جاد بالدم فى الحرم ودعا إلى القتل، وقالت العرب فيها أجياد لأنها «ا» أول من جادت بالدم.

ثم جبل أجياد «3» ، وهو الجبل العالى الأخضر الذي بغربى المسجد الحرام فى رأسه منار يذكر أن أبا بكر رضه أمر ببنائه «4» ، ينادى عليه المؤذن فى رمضان، ويقابل من الكعبة اليمانى؛ ويخرج إليه من باب إبراهيم عليه السلام «5» . وهو يقابل قعيقعان من ناحية الغرب.
এরপর দারুন নদওয়ার পেছনে যে পর্বতটি অবস্থিত তাকে কুয়াইকুয়ান বলা হয়। এটি আবু কুবাইস পর্বতের বিপরীতে অবস্থিত এবং এটি একটি সবুজ পাহাড়। মূলত এর নাম কুয়াইকুয়ান রাখার কারণ হলো, মুদাদ ইবনে জুরহুম সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং সামাইদা ইবনে জুরহুম আজইয়াদ পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। ফলে সেই সময়ে তাঁদের উভয়ের মধ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আজইয়াদবাসীরা—অর্থাৎ যারা সেখানে বসবাস করত তথা সামাইদা ও তাঁর পরিজন—হারাম শরীফের সীমানায় সর্বপ্রথম রক্ত ঝরিয়েছিল এবং হত্যার সূচনা করেছিল। আরবরা একে আজইয়াদ বলে অভিহিত করে কারণ তারাই সর্বপ্রথম রক্ত প্রবাহিত (জাদ) করেছিল।

এরপর আজইয়াদ পর্বত; এটি মসজিদুল হারামের পশ্চিমে অবস্থিত একটি উঁচু সবুজ পাহাড়। এর চূড়ায় একটি মিনার রয়েছে, যার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এটি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। রমজান মাসে মুয়াজ্জিন সেখান থেকে আজান দেন। এটি কাবার রুকনে ইয়ামানির বিপরীতে অবস্থিত এবং বাবুল ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) দিয়ে সেখানে বের হওয়া যায়। এটি পশ্চিম দিক থেকে কুয়াইকুয়ান পর্বতের মুখোমুখি অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم جبل ابن عمران «1» ، وهو الجبل الأسود الذي بين أبى قبيس وأجياد، وهو خلفهما. ويظهر من البعد كأنه بينهما، يقابل من الكعبة الجدار اليمانى؛ وهو أميل إلى الركن اليمانى قليلا.

ثم جبل البكا «2» ، وهو خارج على الجبال المحيطة بمكة، وهو فى العطف الذي فى آخر ذى طوى، عن يمينك وأنت خارج تريد التنعيم «3» .

وهناك عن يسارك المتكا «4» ، وهو الحجر الذي قعد عليه النبي صلى الله عليه وسلم واستراح عند إقباله عليه فيما يذكر أهل مكة، رووه عن مشيختهم.

‌‌عدد أرباض مكة شرفها الله

ولمكة أربعة أرباض منها الحجون «5» وما حوله إلى المروة «6» ، وربض قعيقعان «7» وما حوله إلى باب ذى طوى «8» ، وربض أجياد الكبير «9»
এরপর জাবাল ইবনে ইমরান, এটি আবু কুবাইস ও আজইয়াদ-এর মধ্যবর্তী সেই কালো পাহাড় যা তাদের পেছনে অবস্থিত। দূর থেকে একে এই দুই পাহাড়ের মাঝখানে বলে মনে হয়। এটি কাবার ইয়ামানি দেয়ালের মুখোমুখি এবং ইয়ামানি রুকনের দিকে সামান্য ঝোঁকা।

এরপর জাবাল আল-বুকা, যা মক্কাকে বেষ্টনকারী পাহাড়গুলোর বাইরে অবস্থিত। এটি যি-তুয়া’র শেষ প্রান্তের মোড়ে আপনার ডান দিকে পড়বে যখন আপনি তানঈমের উদ্দেশ্যে বের হবেন।

সেখানে আপনার বাম দিকে আল-মুতকা অবস্থিত। এটি সেই পাথর যার ওপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বসেছিলেন এবং মক্কায় আসার সময় বিশ্রাম নিয়েছিলেন বলে মক্কাবাসী উল্লেখ করেন; তারা এটি তাদের প্রবীণদের থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌মক্কার (আল্লাহ তাকে সম্মানিত করুন) শহরতলির সংখ্যা

মক্কার চারটি শহরতলি বা এলাকা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হাজুন এবং মারওয়াহ পর্যন্ত এর আশপাশ, কুআইক্বিআন এলাকা এবং যি-তুয়া’র প্রবেশপথ পর্যন্ত এর আশপাশ এবং আজইয়াদ আল-কাবীর এলাকা।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১০)
مع شعب أبى بكر رضه إلى المسفلة «1» إلى باب اليمانيين، ثم إلى الأبطح «ا» وما حوله من باب منى «2» إلى شعب على مع شعب عثمان «3» .

‌‌ذرع الكعبة كرمها الله من خارج «4»

طول وجه الكعبة وهو الشق الذي فيه الباب، من الركن الأسود إلى الركن الشامى 27 ذراعا «5» . وعند الثلث الباقى من هذا الجدار من ناحية الركن الشامى، يوقف منبر الخطيب يوم الجمعة ويرفع فى سائر الأيام، وهو منبر كبير مفصل على ثلاثة قطع «6» . وطول مؤخرها وهو الشق الغربى، من الركن اليمانى إلى الركن الغربى، 27 ذراعا- طول الذراع الذي به هذا الذرع «ب» 20 أصبعا «7» . وعرضها من ناحية اليمانى إلى الركن الأسود 21 ذراعا
আবু বকর (রাযি.)-এর উপত্যকা হতে নিচুতলা (মিসফালাহ) «১» পর্যন্ত, ইয়ামানিদের তোরণ পর্যন্ত, তারপর আবতাহ «ক» এবং এর আশপাশের মিনা তোরণ «২» থেকে আলীর উপত্যকা ও উসমানের উপত্যকা «৩» পর্যন্ত।

বাইরে থেকে কাবার পরিমাপ (আল্লাহ একে সম্মানিত করুন) «৪»

কাবার সামনের দিকের দৈর্ঘ্য—আর এটি হলো সেই পাশ যাতে দরজা রয়েছে—হাজরে আসওয়াদ রুকন থেকে শামি রুকন পর্যন্ত ২৭ হাত «৫»। শামি রুকনের দিকে এই দেয়ালের অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশের কাছে জুমার দিন খতিবের মিম্বর রাখা হয় এবং অন্যান্য দিনে তা সরিয়ে ফেলা হয়; এটি একটি বড় মিম্বর যা তিনটি অংশে বিভক্ত «৬»। এর পেছনের অংশের দৈর্ঘ্য—আর এটি হলো পশ্চিম পাশ—ইয়ামানি রুকন থেকে পশ্চিম রুকন পর্যন্ত ২৭ হাত—এই পরিমাপের হাতের দৈর্ঘ্য «খ» হলো ২০ আঙুল «৭»। এবং ইয়ামানি রুকনের দিক থেকে হাজরে আসওয়াদ রুকন পর্যন্ত এর প্রস্থ ২১ হাত।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১১)
ونصف ذراع «1» ، وعرضها من ناحية الشام وهو الشق الشامى وهو الذي عليه الميزاب «2» «ا» ، من الركن الغربى إلى الركن الشامى، 24 ذراعا «3» .

هذا ذرع البيت من خارج. وذرعه من داخل: طول الجدار «ب» الذي يقابلك إذا دخلت البيت الذي فيه محاريب الفضة «4» ، وهو الذي صلى عليه النبي صلى الله عليه وسلم، من الركن الغربى إلى الركن اليمانى، 22 ذراعا «5» .

وطول الجدار الذي فيه الباب، من الركن الأسود إلى الركن الشامى، 29 ذراعا «6» ؛ بسبب «ج» الركن الذي بناه الحجاج بن يوسف فى داخل البيت فى الركن الشامى، وجعل فيه سلما من داخل الركن يرقى منه إلى ظهر الكعبة لتعليق الكسوة «7» . وعرض الجدار الشامى، الذي بين الركن الغربى والركن الشامى، 15 ذراعا ونصف ذراع «8» ، نقص ذرّع «د» الجدار
এবং আধা হাত «১», এবং শামের দিক থেকে এর প্রস্থ যা হলো শামী পার্শ্ব এবং যার উপরে মিজাব (পানির নালা) অবস্থিত «২» «ক», পশ্চিম কোণ থেকে শামী কোণ পর্যন্ত ২৪ হাত «৩»।

এটি বাইরে থেকে কাবার পরিমাপ। আর ভেতর থেকে এর পরিমাপ হলো: আপনার সম্মুখবর্তী দেয়ালের দৈর্ঘ্য «খ» যখন আপনি কাবায় প্রবেশ করবেন, যাতে রুপার মেহরাবসমূহ রয়েছে «৪», এবং যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেছিলেন, পশ্চিম কোণ থেকে ইয়ামানি কোণ পর্যন্ত ২২ হাত «৫»।

এবং যে দেয়ালে দরজা রয়েছে তার দৈর্ঘ্য আসওয়াদ কোণ (রুকনে আসওয়াদ) থেকে শামী কোণ পর্যন্ত ২৯ হাত «৬»; এর কারণ হলো «গ» সেই কোণটি যা হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কাবার অভ্যন্তরে শামী কোণে নির্মাণ করেছিলেন এবং তিনি কোণের ভেতর একটি সিঁড়ি তৈরি করেছিলেন যা দিয়ে কাবার ছাদে আরোহণ করা যায় কিসওয়া (কাবা শরিফের গিলাফ) ঝোলানোর জন্য «৭»। এবং শামী দেয়ালের প্রস্থ, যা পশ্চিম কোণ ও শামী কোণের মধ্যবর্তী, ১৫ হাত এবং আধা হাত «৮», দেয়ালের পরিমাপ হ্রাস পেয়েছে «ঘ»।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১২)
من أجل ذلك الركن المذكور. وعرض الجدار اليمانى، من الركن الأسود إلى الركن اليمانى، 17 ذراعا ونصف ذراع «1» . وذرع قاع البيت مكسرا 352 ذراعا ونصف ذراع «2» .

هذا ذرعه من داخل وتكسير قاعه. وغلظ جدار الكعبة 5 أشبار «3» . وارتفاع البيت من خارج، من الأرض إلى أعلى البيت 30 ذراعا: طول جدار البيت منها 27 ذراعا، وعليه طرابزين وارتفاعه ذراع، تعلق منه الكسوة وقد استعلت عليه ذراعا، وكمل بذلك ارتفاع البيت 30 ذراعا «4» . هذا ارتفاعه من خارجه.

وارتفاعه من داخله: جدره كلها من قاع البيت إلى السماء الأولى «ا» 30 ذراعا، ومن السماء الأولى إلى السقف الأعلى ذراعان «5» .

هذا ارتفاعه من داخله. وذكر أن إبراهيم الخليل عليه السلام إنما بنى البيت الحرام يوم بناه فى ارتفاع 9 أذرع «6»

غير مسقف «ب» ، فلما بنته قريش واقتصرت عن طوله 6 أذرع تركت ذلك فى الحجر، وزادّت فى ارتفاع البيت 9 أذرع، فكان البيت يومئذ من 18 ذراعا
উল্লিখিত সেই রুকন বা কোণের কারণে। এবং কৃষ্ণবর্ণ কোণ (রুকন আসওয়াদ) থেকে ইয়ামানী কোণ (রুকন ইয়ামানী) পর্যন্ত ইয়ামানী প্রাচীরের প্রশস্ততা ১৭ হাত এবং আধ হাত (সাড়ে ১৭ হাত) «১»। আর কা'বা ঘরের মেঝের ক্ষেত্রফলের পরিমাপ ৩৫২ হাত এবং আধ হাত (সাড়ে ৩৫২ হাত) «২»।

এটি হলো এর অভ্যন্তরীণ পরিমাপ এবং এর মেঝের ক্ষেত্রফল। আর কা'বার প্রাচীরের স্থূলতা ৫ বিঘত «৩»। বাইরে থেকে ঘরের উচ্চতা, ভূমি থেকে ঘরের উপরিভাগ পর্যন্ত ৩০ হাত: এর মধ্যে ঘরের প্রাচীরের দৈর্ঘ্য ২৭ হাত, যার ওপর একটি রেলিং রয়েছে এবং তার উচ্চতা এক হাত, যেখান থেকে গিলাফ ঝুলিয়ে দেওয়া হয় এবং তা তার ওপর এক হাত পরিমাণ উপরে উঠে যায়, আর এভাবেই ঘরের মোট উচ্চতা ৩০ হাত পূর্ণ হয়েছে «৪»। এটি হলো বাইরে থেকে এর উচ্চতা।

আর ভেতর থেকে এর উচ্চতা: ঘরের মেঝে থেকে প্রথম ছাদ পর্যন্ত এর সকল প্রাচীর ৩০ হাত, এবং প্রথম ছাদ থেকে উপরের ছাদ পর্যন্ত দুই হাত «৫»।

এটি হলো ভেতর থেকে এর উচ্চতা। বর্ণিত আছে যে, ইব্রাহিম খলিল আলাইহিস সালাম যেদিন পবিত্র ঘরটি (কা'বা) নির্মাণ করেছিলেন, তখন তিনি তা ৯ হাত উচ্চতায় নির্মাণ করেছিলেন «৬»

কোনো ছাদ ছাড়াই «খ», অতঃপর যখন কুরাইশরা এটি নির্মাণ করল এবং এর দৈর্ঘ্য থেকে ৬ হাত কমিয়ে দিল, তখন তারা সেই অংশটুকু হিজর (হাতীম)-এর মধ্যে ছেড়ে দিল এবং ঘরের উচ্চতায় আরও ৯ হাত বৃদ্ধি করল, ফলে সেদিন ঘরের উচ্চতা হয়েছিল ১৮ হাত।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১৩)
فى الارتفاع «1»

. فلما احترق فى زمان عبد الله بن الزبير رضه وأمر ببنائه وزاد فيه ما كان أنقصته قريش، ظهر له عند ذلك قصير الارتفاع، فزاد فى ارتفاعه 9 أذرع. وقال إن قريشا زادت فيه 9 أذرع وأنا أزيد فيه 9، فصار البيت من يومئذ من 27 ذراعا «2»

«ا»

فى ارتفاعه، لم يزد فيه أحد من يومئذ.

‌‌صفة البيت من داخله وفضله وفضل الصلاة فيه

ينبغى لمن يحج أن يرغب فى داخل البيت وفى الصلاة فيه، فإن فى ذلك فضيلة كثيرة «3»

. فإذا دخل فيه أحد فليتركع وليلح بالدعاء والرغبة إلى الله، فإنه مشهد كريم. وليخلع نعليه ولا يبصق ولا يمتخط ولينزه ما استطاع فإنها بقعة مكرمة مقدسة مطهرة، كرمها الله عز وجل وشرفها على بقاع الأرض كلها. وهو قبال البيت المعمور الذي يحجه الملائكة فى السماء كما يحج هذا بنو آدم فى الارض «4» .

وصفة قاع البيت هو مبسوط بالرخام الأبيض، وفى رخامة منها عند دخولك من باب الكعبة مسمار فضة، وكذلك جميع جدره مرخمة بالرخام الأبيض قدر 9 أذرع «ب»

، وما فوق ذلك منقوش مذهب بفراشة الذهب ليس بصفائح «ج»

إلى سماء البيت. وفى ترخيم جدر «د»

البيت ألواح حمر وخضر، يقال إن الوليد ابن عبد الملك بعث تلك الألواح من الشام مع الرخام الذي رخم به البيت، ومع ذلك 30 الف دينار، وأمر أن يرخم البيت ويذهب، وهو أول من كساه بالرخام وذهبه.
উচ্চতা প্রসঙ্গে «১»

। অতঃপর যখন আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-এর যুগে এটি পুড়ে গেল এবং তিনি এটি নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং কুরাইশরা যা কমিয়ে দিয়েছিল তা তিনি বৃদ্ধি করলেন, তখন তার নিকট এর উচ্চতা কম মনে হলো। ফলে তিনি এর উচ্চতায় ৯ হাত বৃদ্ধি করলেন। তিনি বললেন, কুরাইশরা এতে ৯ হাত বৃদ্ধি করেছিল আর আমি আরও ৯ হাত বৃদ্ধি করছি। ফলে সেদিন থেকে ঘরটির উচ্চতা ২৭ হাত হয়ে গেল «২»

«ক»

এর উচ্চতায়, সেদিন থেকে আর কেউ এতে কিছু বৃদ্ধি করেনি।

‌‌বাইতুল্লাহর অভ্যন্তরীণ বর্ণনা, এর মর্যাদা এবং তাতে সালাত আদায়ের ফযীলত

যিনি হজ করেন, তার জন্য বাইতুল্লাহর ভেতরে প্রবেশ করতে এবং সেখানে সালাত আদায় করতে আগ্রহী হওয়া উচিত; কেননা এতে অনেক ফযীলত রয়েছে «৩»

। যখন কেউ সেখানে প্রবেশ করবে, তখন সে যেন নফল সালাত আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট বিনীতভাবে দোয়া ও আগ্রহ প্রকাশ করে; কারণ এটি একটি সম্মানিত স্থান। আর সে যেন তার পাদুকা খুলে ফেলে, সেখানে থুতু না ফেলে, নাক না ঝাড়ে এবং যথাসাধ্য একে পবিত্র রাখে; কারণ এটি একটি সম্মানিত, পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন ভূখণ্ড, যাকে আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা পৃথিবীর সমস্ত ভূখণ্ডের ওপর সম্মানিত ও উচ্চমর্যাদা দান করেছেন। এটি বায়তুল মামূরের ঠিক সোজাসুজি অবস্থিত, যেখানে আসমানে ফেরেশতারা হজ করেন, যেমনভাবে যমীনে আদম সন্তানরা এর হজ করে থাকে «৪» ।

বাইতুল্লাহর মেঝের বিবরণ হলো, এটি সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা বিছানো। কাবার দরজা দিয়ে প্রবেশের সময় মার্বেল পাথরের একটি অংশে রুপার একটি পেরেক রয়েছে। একইভাবে এর সমস্ত দেয়াল ৯ হাত পরিমাণ উচ্চতা পর্যন্ত সাদা মার্বেল পাথর দ্বারা মোড়ানো «খ»

, আর তার ওপরের অংশ থেকে বাইতুল্লাহর ছাদ পর্যন্ত স্বর্ণের কাজ করা নকশা দ্বারা সজ্জিত, যা সাধারণ স্বর্ণের পাত নয় «গ»

। বাইতুল্লাহর দেয়ালের মার্বেল কাজের মধ্যে «ঘ»

লাল ও সবুজ রঙের কিছু ফলক রয়েছে। বলা হয় যে, ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিক সিরিয়া থেকে এই ফলকগুলো পাঠিয়েছিলেন সেই মার্বেল পাথরের সাথে যা দিয়ে বাইতুল্লাহর দেয়াল বাঁধানো হয়েছিল, এবং সেই সাথে ৩০ হাজার দিনারও পাঠিয়েছিলেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন বাইতুল্লাহকে মার্বেল পাথর দিয়ে বাঁধানো হয় এবং স্বর্ণখচিত করা হয়। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি একে মার্বেল পাথর এবং স্বর্ণ দ্বারা সজ্জিত করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১৪)
فمن تلك الألواح فى الجدار الغربى مقابل من داخل البيت 5 ألواح:

3 حمر و 2 أخضران «ا»

. وبين هذه الألواح الخمسة فى ذلك الجدار 3 محاريب فضة، طول كل محراب منها 5 أشبار وعرضه 3 أشبار؛ بين كل محراب منها منقوش: «أقبل على صلاتك ولا تكن من الغافلين» . وفى جهة كل محراب منها منقوش: «لا إله إلا الله محمد رسول الله» . وفى ذلك الجدار أيضا مما يجاور الركن اليمانى، فى أعلى الترخيم على رأس اللوح الأحمر، محراب ذهب طوله شبران وعرضه شبر ونصف «1»

. وعلى رأس تلك الألواح والمحاريب بحر مرخم فيه مكتوب بالمسك المحلول: «لا إله إلا الله محمد رسول الله» مكرر فى سطرين.

وبعد ذلك: «الإمام المطيع لله أمير المؤمنين» «2»

. وفى سطر تحته «ب»

: «الإمام المقتدر بالله أمير المؤمنين» «3» .

وفى الجدار اليمانى من تلك الألواح 4: أخضران وأحمران، فوقهما بحر مرخم فيه مكتوب: «إن أول بيت وضع للناس للذى ببكة «ج»

مباركا وهدى للعالمين، فيه آيات بينات «د»

مقام ابراهيم، ومن دخله كان آمنا» «4» .

وفى الجدار الذي كان فيه الباب من تلك الألواح 3: أخضر بين أحمرين، وفوقهم بحر مرخم مكتوب من طرف عتبة الباب: «ولله على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا ومن كفر فإن الله غنى عن العالمين» «5»

؛ «بسم الله الرحمن الرحيم. إن الله وملائكته يصلون على النبي يا أيها الذين آمنوا صلوا عليه وسلموا تسليما» «6» .
ফলকগুলোর মধ্যে ঘরের ভেতর থেকে পশ্চিম দেয়ালের বিপরীতে ৫টি ফলক রয়েছে:

৩টি লাল এবং ২টি সবুজ «ক»

। এবং সেই দেয়ালের এই পাঁচটি ফলকের মাঝে ৩টি রুপার মেহরাব রয়েছে, যার প্রতিটি মেহরাবের দৈর্ঘ্য ৫ বিঘত এবং প্রস্থ ৩ বিঘত; প্রতিটি মেহরাবের মাঝে খোদাই করা আছে: "তোমার সালাতের প্রতি মনোনিবেশ করো এবং গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না"। আর প্রতিটি মেহরাবের পাশে খোদাই করা আছে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল"। সেই দেয়ালেই রুকনে ইয়ামানি সংলগ্ন অংশে, মার্বেল পাথরের কারুকাজের উপরের দিকে লাল ফলকের মাথায় একটি সোনার মেহরাব রয়েছে যার দৈর্ঘ্য দুই বিঘত এবং প্রস্থ দেড় বিঘত «১»

। আর সেই ফলক ও মেহরাবগুলোর উপরিভাগে মার্বেল পাথরের একটি স্তর রয়েছে যেখানে তরল কস্তুরী দিয়ে লেখা আছে: "আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল" যা দুই লাইনে পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

এরপরে রয়েছে: "ইমাম আল-মুতি' লিল্লাহ আমিরুল মুমিনিন" «২»

। এবং তার নিচের একটি লাইনে «খ»

: "ইমাম আল-মুকতাদির বিল্লাহ আমিরুল মুমিনিন" «৩»।

আর ইয়ামানি দেয়ালের ফলকগুলোর মধ্যে ৪টি রয়েছে: ২টি সবুজ ও ২টি লাল, তাদের উপরে মার্বেল পাথরের একটি স্তর রয়েছে যাতে লেখা আছে: "নিশ্চয়ই মানবজাতির জন্য সর্বপ্রথম যে ঘরটি নির্মিত হয়েছিল তা হলো বাক্কায় (মক্কায়) «গ»

বরকতময় এবং বিশ্ববাসীর জন্য হেদায়েতস্বরূপ। তাতে রয়েছে সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ «ঘ»

মাকামে ইবরাহিম, আর যে সেখানে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ থাকবে" «৪»।

আর যে দেয়ালে দরজা রয়েছে সেখানকার ফলকগুলোর ৩টি হলো: দুই লাল ফলকের মাঝে একটি সবুজ, আর তাদের উপরে মার্বেল পাথরের স্তরে দরজার চৌকাঠের দিক থেকে লেখা আছে: "মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেই ঘরের হজ করা তার ওপর আবশ্যক। আর যে কুফরি করবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্ববাসীর মুখাপেক্ষী নন" «৫»

; "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর ওপর সালাত পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর ওপর সালাত ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো" «৬»।
(খণ্ড: ১) আল-ইসতিবসার ফী আজায়িবিল আমসার (পৃষ্ঠা: ১৫)
وفى الجدار الشامى من تلك الألواح 3 أيضا: أخضر بين أحمرين، وفوقهما بحر مرخم فيه مكتوب: «وإذ جعلنا البيت مثابة للناس وأمنا واتخذوا من مقام إبراهيم مصلى وعهدنا إلى إبراهيم وإسماعيل أن طهرا بيتى للطائفين والعاكفين والركع السجود» «1»

. هذه صفة البيت من داخله وخارجه «ا» .

‌‌صفة سقف البيت وعمده

وسقف البيت على ثلاثة عتب أطرافها من الجدار الشرقى إلى الجدار الغربى «2»

. والعتب على ثلاثة أعمدة من خشب مخروطة على قواعد من خشب فيها مسامير فضة. وهى مصطفة من الجدار الشامى إلى الجدار اليمانى، بين العامود الأول والجدار الشامى 4 أذرع، وبين ذلك العامود والعامود الأوسط 7 أذرع، وبين الأوسط والثالث الذي يليه الجدار اليمانى 7 أذرع، وبين العامود الثالث والجدار اليمانى 6 أذرع «3» .

وسماء البيت مذهب فى خضرة ليس بمنقوش إنما هو دائر فى خضرة مذهبة.

وفى سماء البيت أربعة روازن، للضوء، جميعها مغطاة بحجر أبيض يسمى الطلق، يذكر أن عبد الله بن الزبير بعث به من اليمن فغطى منه «ب»

الروازن ليدخل منها «ج»

الضوء ولا يدخل منها الماء. واحدة من الروازن على الحجر «د»

الأسود، والثانية على وسط البيت بإزاء رأس العامود الأوسط، وثالثة «ر»
এবং উত্তর দিকের দেয়ালে সেই তখতিগুলোর মধ্যে আরও ৩টি রয়েছে: দুই লাল রঙের মাঝখানে একটি সবুজ রঙের তখতি, আর তাদের উপরে মার্বেল খচিত একটি অংশ রয়েছে যেখানে লেখা আছে: "আর যখন আমি কাবাঘরকে মানুষের জন্য মিলনস্থল ও নিরাপদ স্থান বানালাম এবং (বললাম,) তোমরা ইবরাহিমের দাঁড়ানোর স্থানকে (মাকামে ইবরাহিমকে) নামাজের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করো। আর আমি ইবরাহিম ও ইসমাইলকে নির্দেশ দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র করো।"

এটি হলো কাবাঘরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অবস্থার বিবরণ।

‌‌কাবাঘরের ছাদ ও স্তম্ভের বিবরণ

কাবাঘরের ছাদ তিনটি বড় কড়িকাঠের ওপর অবস্থিত, যার প্রান্তগুলো পূর্ব দেয়াল থেকে পশ্চিম দেয়াল পর্যন্ত বিস্তৃত।

আর কড়িকাঠগুলো কাঠের খোদাইকৃত তিনটি স্তম্ভের ওপর স্থাপিত যা কাঠের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে এবং সেগুলোতে রুপার পেরেক লাগানো রয়েছে। এগুলো উত্তর দেয়াল থেকে দক্ষিণ (ইয়ামানি) দেয়াল পর্যন্ত সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত; প্রথম স্তম্ভ এবং উত্তর দেয়ালের মাঝে ৪ হাত, সেই স্তম্ভ এবং মধ্যবর্তী স্তম্ভের মাঝে ৭ হাত, মধ্যবর্তী এবং তৃতীয় স্তম্ভ যা দক্ষিণ দেয়ালের নিকটবর্তী তার মাঝে ৭ হাত, এবং তৃতীয় স্তম্ভ ও দক্ষিণ দেয়ালের মাঝে ৬ হাত দূরত্ব রয়েছে।

কাবাঘরের সিলিং সবুজ রঙের ওপর সোনালি কারুকাজ করা, এতে কোনো খোদাই নেই, বরং এটি সোনালি-সবুজ রঙের এক প্রকার বৃত্তাকার বিন্যাস মাত্র।

কাবাঘরের সিলিংয়ে আলো প্রবেশের জন্য চারটি ছোট জানালা রয়েছে, যার সবকটি 'তালক' নামক সাদা পাথর দ্বারা আবৃত। উল্লেখ করা হয় যে, আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের ইয়ামান থেকে এটি পাঠিয়েছিলেন এবং তা দিয়ে জানালাগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছিল যাতে সেগুলো দিয়ে আলো প্রবেশ করতে পারে কিন্তু পানি ঢুকতে না পারে।

জানালাগুলোর একটি হাজরে আসওয়াদের ওপর, দ্বিতীয়টি কাবাঘরের মাঝখানে মধ্যবর্তী স্তম্ভের মাথার সোজাসুজি এবং তৃতীয়টি...