(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: -)
رحلة بنيامين التطيلى القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: رحلة بنيامين التطيلي
المؤلف: الرابي بنيامين بن الرابي يونة التطيلي النباري الإسباني اليهودي (ت 569هـ)
الناشر: المجمع الثقافي، أبو ظبي
الطبعة: الأولى، 2002 م
عدد الصفحات: 405
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বেনিয়ামিন তুতায়লির ভ্রমণবৃত্তান্ত বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
বই: বেনিয়ামিন তুতায়লির ভ্রমণবৃত্তান্ত
লেখক: রাব্বি বেনিয়ামিন বিন রাব্বি ইউনা তুতায়লি নাবারি স্পেনীয় ইহুদি (মৃত্যু ৫৬৯ হিজরি)
প্রকাশক: সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (আল-মাজমাউস সাকাফি), আবুধাবি
সংস্করণ: প্রথম, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪০৫
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: -)
الرابي بنيامين بن الرابي يونة التطيلي النباري
عالم ورحّالة يهودي أسباني توفي في سنة 1173 م / 569 هـ.
على كثرة ما عالج المؤرخون رحلة بنيامين بحثاً وتمحيصاً، ودققوا النظر في محتوياتها، وراجعوا حوادثها وقايسوا بين نصوصها المخطوطة والمطبوعة، لم يتوصلوا إلى ما يلقي الضوء على سيرة هذا الرحالة الكبير ومولده ونشأته ومركزه العلمي والاجتماعي. وكل ما يعرف عنه مأخوذ عن المقدمة الوجيزة التي صدر بها الرحلة كاتب مجهول الهوية، ربما كان معاصراً لبنيامين، لأنها وردت في أقدم النسخ المعروفة للرحلة. وقد جاء في هذه المقدمة أنه: «الرابي بنيامين بن الرابي يونة التطيلي النباري» وأنه «جاب المدن البعيدة وسجّل ما شاهده عياناً في الأمصار التي مر بها أو ما نقله عن الثقات ذوي الأمانة المعروفين لدى يهود أسبانية» وبالأخير «إنه دوّن هذا الكتاب عند أوبته إلى قشطالة سنة 4933 للخليقة» (569 هـ- 1173 م) وفي رواية أنه توفي في السنة نفسها. ويستمر صاحب المقدمة في تعريفنا بهذا الرحالة ويقول: «إنه كان من الثقات العارفين بالتوراة والشرع، وأن التدقيق والتمحيص قد أيدا ما رواه في رحلته» . أما المؤرخون من القرن الثالث عشر وما والاه فيكتفون بتسميته بنيامين صاحب الرحلة.
فهل كان بنيامين من علماء اليهود الذين ازدهر بهم القرن الثاني عشر في أسبانية الإسلامية والنصرانية؟ إننا نشك في ذلك. لأن كتب الأنساب اليهودية الخاصة بذلك الجيل، التي سجلت بإسهاب تراجم جميع العلماء المعروفين وفصلت ذكر مؤلفاتهم وآثارهم العلمية والأدبية، لا تذكر اسم بنيامين إلا مقروناً بهذه الرحلة. وأغلب الظن أن هذا الرجل كان وجيهاً من وجهاء اليهود في قشطالة، بل تاجراً تعنيه الشؤون الاقتصادية، بدلالة هذا الاهتمام الفريد الذي يبديه في الأحوال التجارية للبلدان التي زارها، أكثر من اهتمامه بالعلماء الكبار الذين عرفهم في أثناء تجواله.
وصفوة القول عن بنيامين: إنه كان تاجراً وإنه يجمع إلى إلمامه بالاقتصاد وفنون التجارة إلماما كافيا بالتوراة والتلمود، كما هو شأن الكثيرين من أمثاله في ذلك العصر الذي كانت العلوم الدينية وحدها تميز المتعلّم عن الأمي، وإنه خرج في رحلته هذه بدافع الاطلاع الشخصي، ووجهته بالدرجة الأولى الشرق الإسلامي، هذا الشرق الذي استهوت خيراته وعمرانه وتجارته عدداً غير يسير من الأوروبيين خلال العصور المتوسطة والأخيرة.
রাবাই বিনিয়ামিন বিন রাবাই ইউনাহ আল-তুদাইলি আল-নাভারি
তিনি একজন স্পেনীয় ইহুদি পণ্ডিত ও পর্যটক ছিলেন, যিনি ১১৭৩ খ্রিস্টাব্দ / ৫৬৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
ঐতিহাসিকরা বিনিয়ামিনের ভ্রমণকাহিনী নিয়ে ব্যাপকভাবে গবেষণা ও যাচাই-বাছাই করেছেন, এর বিষয়বস্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন, এর ঘটনাবলি পর্যালোচনা করেছেন এবং এর পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত পাঠ্যগুলোর মধ্যে তুলনা করেছেন; তবুও তারা এই মহান পর্যটকের জীবনী, জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং তার বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করতে সক্ষম হননি। তাঁর সম্পর্কে যা কিছু জানা যায়, তা সবই এই ভ্রমণকাহিনীর শুরুতে একজন অজ্ঞাতপরিচয় লেখকের দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভূমিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। সম্ভবত তিনি বিনিয়ামিনের সমসাময়িক ছিলেন, কারণ এটি ভ্রমণকাহিনীটির প্রাচীনতম পরিচিত সংস্করণগুলোতে পাওয়া যায়। এই ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে: "তিনি রাবাই বিনিয়ামিন বিন রাবাই ইউনাহ আল-তুদাইলি আল-নাভারি" এবং তিনি "দূরদূরান্তের শহরগুলো ভ্রমণ করেছেন এবং যেসব জনপদ দিয়ে তিনি অতিবাহিত হয়েছেন সেখানে যা সচক্ষে দেখেছেন অথবা স্পেনের ইহুদিদের কাছে পরিচিত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে যা বর্ণনা শুনেছেন, তা লিপিবদ্ধ করেছেন।" পরিশেষে বলা হয়েছে, "সৃষ্টির ৪৯৩৩ অব্দে (৫৬৯ হিজরি - ১১৭৩ খ্রিস্টাব্দ) কাস্টিলে ফেরার পর তিনি এই বইটি লিপিবদ্ধ করেন।" অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি সেই বছরেই মৃত্যুবরণ করেন। ভূমিকার লেখক এই পর্যটকের পরিচয় দিতে গিয়ে আরও বলেন: "তিনি ছিলেন তাওরাত ও ধর্মীয় বিধিবিধান সম্পর্কে অভিজ্ঞ একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে বর্ণিত তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।" অন্যদিকে, ত্রয়োদশ শতাব্দী ও তার পরবর্তী ঐতিহাসিকরা তাঁকে কেবল "ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা বিনিয়ামিন" হিসেবে অভিহিত করেই ক্ষান্ত হয়েছেন।
তবে বিনিয়ামিন কি সেই ইহুদি পণ্ডিতদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাদের মাধ্যমে মুসলিম ও খ্রিষ্টান শাসিত স্পেনে দ্বাদশ শতাব্দী সমৃদ্ধ হয়েছিল? আমরা এ বিষয়ে সন্দিহান। কারণ সেই প্রজন্মের ইহুদি বংশপরম্পরা সংক্রান্ত বইগুলো, যেগুলোতে তৎকালীন সকল পরিচিত পণ্ডিতের জীবনী বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং তাঁদের গ্রন্থ ও বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক অবদানের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে এই ভ্রমণকাহিনী ব্যতীত বিনিয়ামিনের নাম আর কোথাও পাওয়া যায় না। প্রবল ধারণা এই যে, এই ব্যক্তি কাস্টিলের ইহুদিদের মধ্যে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন, বরং সম্ভবত তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন যার মূল আগ্রহ ছিল অর্থনৈতিক বিষয়ে। এর প্রমাণ মেলে তাঁর ভ্রমণ করা দেশগুলোর বাণিজ্যিক পরিস্থিতির প্রতি তাঁর অনন্য আগ্রহের মাধ্যমে, যা তাঁর সফরের সময় পরিচয় হওয়া মহান পণ্ডিতদের প্রতি আগ্রহের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
বিনিয়ামিন সম্পর্কে সারকথা হলো: তিনি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী এবং অর্থনীতি ও বাণিজ্যের কলাকৌশলের পাশাপাশি তাওরাত ও তালমুদ সম্পর্কেও তাঁর পর্যাপ্ত জ্ঞান ছিল, যেমনটি ছিল সেই যুগের তাঁর মতো অনেকেরই; যখন ধর্মীয় জ্ঞানই ছিল শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের মধ্যে পার্থক্যের একমাত্র মানদণ্ড। তিনি ব্যক্তিগত অনুসন্ধিৎসু মনোভাব নিয়ে এই ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন এবং তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিম প্রাচ্য—এমন এক প্রাচ্য যার প্রাচুর্য, স্থাপত্য ও বাণিজ্য মধ্যযুগ ও পরবর্তী সময়ে অসংখ্য ইউরোপীয়কে প্রলুব্ধ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৫)
أولا رحلة بنيامين التطيلى، دراسة وتعليقات
প্রথমত: বিনিয়ামিন আত-তুতাইলির সফরনামা, গবেষণা ও টীকা।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৭)
رحلة بنيامين التطيلى دراسة وتعليقات د. عبد الرحمن الشيخ بدأ بنيامين التطيلى رحلته التي نحن بصددها في حدود سنة 1165 م الموافقة لسنة 561 هـ أو قرابة سنة 4926 من بدء الخليقة حسب التقويم العبري. وهذا يعني أنه حين بدأ رحلته خارجا من سرقسطه (سراكوزه) لم تكن سرقسطه تحت الحكم الإسلامي، فقد كان قد مضى- وقت خروجه منها- خمسون عاما على سقوطها في أيدي القوى المسيحية. وإذا كان بنيامين يهدف في الأساس إلى زيارة العالم الإسلامي زيارة تعرّف ومعرفة- كما ذكر المترجم الأستاذ عزرا حدّاد في مقدمته- باعتبار العالم الإسلامي- وهذا صحيح- كان هو الملجأ والملاذ ليهود شبه جزيرة أيبيريا* الذين كانوا يشهدون أيّاما سودا في كل منطقة ينتهي فيها الحكم الإسلامي، وباعتبار العالم الإسلامي هو الملجأ والملاذ ليهود سائر أوربا في العصور الوسطى الذين كان الأوربيون يعاملونهم معاملة دونها بكثير معاملة الأنعام، وينظرون إليهم نظرة ملؤها الكراهية والاحتقار. لكن إذا كان التعرّف على العالم الإسلامي هو هدفه، فلماذا لم يتجه جنوبا ليجول في شبه الجزيرة الأيبيرية؟ ولماذا لم يعبر بحر الزقاق (مضيق جبل طارق) ليصل إلى طنجة أو سبتة ثم يتخذ طريقه عبر المغرب العربي إلى مصر فسائر أنحاء العالم الإسلامي؟ ألم يكن هذا الطريق يبدو منطقيا أكثر من اتجاهه
তুতিলার বিনইয়ামিনের সফরনামা: ড. আব্দুর রহমান আশ-শাইখ কর্তৃক অধ্যয়ন ও টীকা। তুতিলার বিনইয়ামিন তার এই সফরটি, যা আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু, আনুমানিক ১১৬৫ খ্রিস্টাব্দে শুরু করেছিলেন, যা হিজরি ৫৬১ সাল অথবা হিব্রু বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী সৃষ্টির শুরু থেকে প্রায় ৪৯২৬ সালের সমসাময়িক। এর অর্থ হলো, যখন তিনি সারাকোস্তা (সারাগোসা) থেকে বের হয়ে তার সফর শুরু করেন, তখন সারাকোস্তা ইসলামি শাসনের অধীনে ছিল না; বরং তার প্রস্থানের সময় নাগাদ খ্রিস্টান শক্তির হাতে এর পতনের পর পঞ্চাশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছিল। বিনইয়ামিনের মূল লক্ষ্য যদি মূলত পরিচিতি ও জ্ঞান অন্বেষণের উদ্দেশ্যে মুসলিম বিশ্ব সফর করা হয়ে থাকে—যেমনটি অনুবাদক উস্তাদ এজরা হাদ্দাদ তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন—তবে তা সঠিক। কারণ প্রকৃতপক্ষে মুসলিম বিশ্বই ছিল আইবেরীয় উপদ্বীপের ইহুদিদের জন্য আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ নিকেতন, যারা ইসলামি শাসন শেষ হওয়া প্রতিটি অঞ্চলে অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন প্রত্যক্ষ করছিল। তদুপরি, মধ্যযুগে মুসলিম বিশ্বই ছিল সমগ্র ইউরোপের ইহুদিদের জন্য আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ নিকেতন, যাদের সাথে ইউরোপীয়রা গবাদি পশুর চেয়েও অধম আচরণ করত এবং তাদের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাত। কিন্তু যদি মুসলিম বিশ্বের সাথে পরিচিত হওয়াই তার লক্ষ্য হতো, তবে কেন তিনি আইবেরীয় উপদ্বীপ পরিভ্রমণের জন্য দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হলেন না? কেন তিনি সমুদ্র প্রণালী (জিব্রাল্টার প্রণালী) অতিক্রম করে তাঞ্জিয়ার বা সেউতায় পৌঁছালেন না এবং সেখান থেকে মাগরেব আল-আরাবি হয়ে মিশর ও মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অংশে যাওয়ার পথ বেছে নিলেন না? এই পথটি কি তার গন্তব্যের চেয়ে অধিকতর যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হচ্ছিল না...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৮)
شمالا فشمالا بشرق ثم اتجاهه إلى إيطاليا فالدولة البيزنطية، ليهبط بعد ذلك جنوبا إلى سائر بلاد العالم الإسلامي التي زارها أو قال إنه زارها، ثم يتجه إلى الصين ليعود إلى شواطئ الهند فسواحل شبه الجزيرة العربية ثم يعبر البحر الأحمر ليصل إلى أسوان ويستمر هابطا مع نهر النيل ليصل إلى القاهرة والفسطاط ويزور صحراء شبه جزيرة سيناء ثم يعود إلى قوص في صعيد مصر ثم يرجع الفسطاط ثم يصل بطريق ما إلى الإسكندرية ومنها إلى صقلية. لماذا هذا الطريق الذي لا يبدو أنه الأسهل؟ ثم لماذا تردده أكثر من مرة على مواضع بعينها في مصر التي قطعها من الشمال إلى الجنوب ومن الجنوب إلى الشمال أكثر من مرّة؟
إن لدينا إجابة واضحة لتخلّى بنيامين عن الاتجاه جنوبا داخل شبه جزيرة أيبيريا. فقد أجمع كلّ المؤرخين الأوربيين واليهود أنّ حضن الحكومات الإسلامية كان هو الحضن الوحيد الذي لا يأمن اليهود لحضن سواه طوال العصور الوسطى، وطوال قرنين في التاريخ الحديث (بعد سقوط غرناطة) ، وكان الحكم الإسلامي يتراجع في شبه الجزيرة الأيبيرية تراجعا واضحا منذ القرن الحادى عشر للميلاد، وحتى لا تطول هذه الدراسة أكثز مما هو مقدّر لها نكتفي بتتبع الحال في الأندلس منذ قيام دولة الموحدين إلى قيام مملكة غرناطة (552- 630 هـ/ 1157- 1232 م) لأنّ بدايات هذه الفترة تسبق بقليل رحلة بنيامين كما أن نهايتها تتأخر بقليل بعد نهاية رحلته. وقد اعتمدنا في كثير مما نقدمه بهذا الصدد على أطلس تاريخ الإسلام لحسين مؤنس وإن
উত্তর অভিমুখে, তারপর উত্তর-পূর্ব দিকে, অতঃপর ইতালির দিকে এবং এরপর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের দিকে তার গতিপথ ছিল; এরপর তিনি দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে অবতরণ করেন যেগুলো তিনি পরিদর্শন করেছিলেন অথবা পরিদর্শন করেছেন বলে দাবি করেছিলেন। এরপর তিনি চীনের দিকে যাত্রা করেন এবং সেখান থেকে ভারতের উপকূল হয়ে আরব উপদ্বীপের উপকূলে ফিরে আসেন। অতঃপর লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আসওয়ানে পৌঁছান এবং নীল নদ বরাবর নিম্নমুখে অগ্রসর হয়ে কায়রো ও ফুস্তাতে উপনীত হন। তিনি সিনাই উপদ্বীপের মরুভূমি পরিদর্শন করেন, তারপর উচ্চ মিশরের কূস অভিমুখে প্রত্যাবর্তন করেন, পুনরায় ফুস্তাতে ফিরে আসেন এবং কোনো এক পথে আলেকজান্দ্রিয়ায় পৌঁছান এবং সেখান থেকে সিসিলিতে গমন করেন। কেন এই পথ বেছে নেওয়া হলো যা আপাতদৃষ্টিতে সহজতম বলে মনে হয় না? তদুপরি, মিশরের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে কেন তিনি বারবার যাতায়াত করলেন, যা তিনি উত্তর থেকে দক্ষিণে এবং দক্ষিণ থেকে উত্তরে একাধিকবার অতিক্রম করেছিলেন?
আইবেরীয় উপদ্বীপের অভ্যন্তরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়া বেনিিয়ামিন কেন পরিহার করেছিলেন, সে সম্পর্কে আমাদের কাছে একটি স্পষ্ট উত্তর রয়েছে। সমস্ত ইউরোপীয় এবং ইহুদি ইতিহাসবিদরা একমত হয়েছেন যে, সমগ্র মধ্যযুগ এবং আধুনিক ইতিহাসের দুই শতাব্দীকাল (গ্রানাডার পতনের পর) ধরে ইসলামী সরকারগুলোর আশ্রয়ই ছিল একমাত্র আশ্রয়, যা ছাড়া ইহুদিরা অন্য কোথাও নিরাপদ বোধ করত না। একাদশ শতাব্দী থেকে আইবেরীয় উপদ্বীপে ইসলামী শাসনের স্পষ্ট পশ্চাদপসরণ ঘটছিল। এই গবেষণাটি নির্ধারিত সীমার চেয়ে দীর্ঘ না করার নিমিত্তে, আমরা আল-আন্দালুসে মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের উত্থান থেকে গ্রানাডা সালতানাতের প্রতিষ্ঠা (৫৫২-৬৩০ হিজরি / ১১৫৭-১২৩২ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত পরিস্থিতির অনুসরণে সীমাবদ্ধ থাকব। কারণ এই সময়ের সূচনা বেঞ্জামিনের সফরের সামান্য আগে এবং এর সমাপ্তি তার সফরের সমাপ্তির সামান্য পরে। এই প্রসঙ্গে আমরা যা উপস্থাপন করছি তার অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই আমরা হুসাইন মুনিস-এর 'আটলাস তারিখ আল-ইসলাম'-এর ওপর নির্ভর করেছি এবং যদিও...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৯)
كانت الكتابات في هذا الموضوع كثيرة.
بعد وفاة خليفة الموحدين الرابع محمد الناصر تصدّعت قوى الدولة الموحّديّة أو دولة الموحّدين- وهى الدولة التى خلفت دولة المرابطين في حكم المغرب والأندلس- وكان سبب هذا التصدّع هو الصّراع الذي نشب حول الخلافة، وذلك لأن الخليفة الموحّدي الخامس وهو المستنصر عيّن أخاه أبا العلا إدريس المأمون على الأندلس، وكان أبو العلا المأمون قصير النظر إذ إنّه عندما وجد أخاه أبا عبد الله محمد والي مرسّيّه يعبر إلى المغرب ويطالب بالخلافة ويتلقّب بالعادل، سارع هو بدوره وجمع قواته وأعلن نفسه خليفة وتلقّب بالمأمون قرابة سنة 633 هـ/ 1236 م وعبر إلى المغرب تاركا الأندلس دون غطاء عسكري مما فتح الباب واسعا أمام تقدّم ممالك أسبانيا النصرانية.
والواقع أنّ اهتزاز الحكم الإسلامي وبداية انحساره في الأندلس كان قد بدأ حتى منذ أيام المرابطين أو قبل ذلك، فقد كانت مملكة قشتالة وليون النصرانية قد تطوّرت من مجرّد وحدة سياسية متنافسة مع غيرها من الوحدات إلى أكبر دولة في شبه جزيرة أيبيريا، نتيجة استيلائها على إمارة طليطلة، فتضاعف ثراؤها وقوتها، وكذلك كان الأمر بالنسبة إلى أرجون التي لم تكن في بدايتها سوى دويلة صغيرة من الدويلات المسيحية في الركن الشمالي الغربي من شبه الجزيرة، فأصبحت مملكة كبيرة غنية بعد استيلائها على سرقسطة وضمّها بلاد الثغر الأعلى الأندلسي إلى أراضيها، وتم ذلك في سنة 512 هـ/ 1118 م أى أيام المرابطين، وكان القائم بهذا الجهد العسكري الكبير هو
এই বিষয়ে লেখালেখি ছিল প্রচুর।
চতুর্থ মুওয়াহহিদুন খলিফা মুহাম্মদ আন-নাসিরের মৃত্যুর পর মুওয়াহহিদুন সাম্রাজ্য বা মুওয়াহহিদুন রাষ্ট্রের শক্তি ভেঙে পড়ে—এটি ছিল সেই রাষ্ট্র যা মাগরিব ও আন্দালুস শাসনে মুরাবিতুন রাষ্ট্রের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল—এবং এই ভাঙনের কারণ ছিল খিলাফতকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব। এর কারণ ছিল পঞ্চম মুওয়াহহিদুন খলিফা আল-মুস্তানসির তার ভাই আবু আল-উলা ইদ্রিস আল-মামুনকে আন্দালুসের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। আর আবু আল-উলা আল-মামুন ছিলেন অদূরদর্শী, কারণ তিনি যখন দেখলেন তার ভাই মুরসিয়ার গভর্নর আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ মাগরিবের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন এবং খিলাফত দাবি করে 'আল-আদিল' উপাধি গ্রহণ করছেন, তখন তিনিও দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে সৈন্য সংগ্রহ করলেন এবং নিজেকে খলিফা ঘোষণা করে 'আল-মামুন' উপাধি গ্রহণ করলেন। আনুমানিক ৬৩৩ হিজরি/ ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি আন্দালুসকে সামরিক প্রতিরক্ষা ছাড়াই রেখে মাগরিবের দিকে পাড়ি জমান, যা স্পেনের খ্রিস্টান রাজ্যগুলোর অগ্রযাত্রার পথ উন্মুক্ত করে দেয়।
প্রকৃতপক্ষে আন্দালুসে ইসলামি শাসনের টালমাটাল অবস্থা এবং এর পিছু হটা এমনকি মুরাবিতুনদের সময় থেকেই বা তারও আগে থেকে শুরু হয়েছিল। কেননা খ্রিস্টান কাস্তিল ও লিওন রাজ্য অন্যান্য রাজনৈতিক ইউনিটের সাথে কেবল একটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক সত্তা থেকে আইবেরীয় উপদ্বীপের বৃহত্তম রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। তলাইতলা (তোলেদো) আমিরাত দখলের ফলে এর সম্পদ ও শক্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল। একইভাবে আরগুনের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল, যা শুরুতে উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিম কোণের খ্রিস্টান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কেবল একটি ছোট ক্ষুদ্র রাষ্ট্র ছিল। এরপর সরাকুস্তা (সারগোসা) দখল এবং আন্দালুসের উচ্চ সীমান্ত অঞ্চলকে নিজেদের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করার পর তা একটি বিশাল ও সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হয়। আর এটি সংঘটিত হয়েছিল ৫১২ হিজরি/ ১১১৮ খ্রিস্টাব্দে অর্থাৎ মুরাবিতুনদের আমলে, এবং এই বিশাল সামরিক প্রচেষ্টার মূল কারিগর ছিলেন—
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১০)
ألفونسو المحارب Alfonso I Battalador وقد سقطت سرقسطة دون حرب بسبب صراع أسرة بنى هود الحاكمة.
وقد دخل الموحّدون الأندلس في أواخر سنة 555 هـ/ 1160 م كما أسلفنا، ولاقوا معارضة من بعض قبائل الأندلس من بقايا المرابطين (بنى غانية) ورغم أنّ التاريخ شهد لهم بانتصارات عظيمة (كمعركة الأرك المشهورة،Alorocos) إلّا أن الخطّ العام للوجود الموحّدى في الأندلس كان مائلا للانحدار.
ما كان بنيامين التطيلى اليهودي ليسلك هذا الطريق الجنوبي المضطرب. لكن أكان بنيامين يتوقع أن يسود الوجود الإسلامي في شرق أوربا أو في الممتلكات البيزنطية في أوربا عامة، فاتخذ- لهذا- الطريق الشمالي؟ ربما، خاصة وأن هذا الوجود أو هذا الامتداد الإسلامي في الأناضول وشرق أوربا كان متزامنا مع التراجع الإسلامي في شبه جزيرة أيبيريا بطريقة تدعو للدهشة والتأمّل، فمنذ أواخر القرن الحادي عشر للميلاد كان الوجود الإسلامي في تقهقر واضح في شبه جزيرة أيبيريا، ففي سنة 1085 سقطت طليطلة، وفي الفترة نفسها تقريبا كان ألب أرسلان السلجوقي (1063- 1072) يطرد البيزنطيين من معظم آسيا الصغرى، وطوال هذه الفترة وما بعدها كان الأتراك يهاجرون غربا إلى آسيا الصغرى بالذات متتبعين خطى السلاجقة، أبناء عمومتهم، ومن الطرف الآخر للعالم الإسلامي سقطت قرطبة في سنة 1236 ثم استمر الزحف المسيحي فسقطت إشبيلية في سنة 1248.
لقد بدا الإسلام في أيبيريا أو الطرف الغربي للعالم الإسلامي مضعضعا
আলফনসো দ্য ব্যাটলডোর (Alfonso I Battalador); শাসক বনু হূদ পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদের কারণে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই সারাগোসার পতন ঘটেছিল।
আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুওয়াহহিদুনগণ ৫৫৫ হিজরি/ ১১৬০ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে আন্দালুসে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মুরাবিতুনদের অবশিষ্টাংশ কিছু আন্দালুসি গোত্রের (বনু গানিয়া) পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হন। যদিও ইতিহাস তাদের মহান বিজয়ের সাক্ষ্য দেয় (যেমন বিখ্যাত আরকাসের যুদ্ধ, Alarcos), তবুও আন্দালুসে মুওয়াহহিদুনদের উপস্থিতির সাধারণ ধারাটি ছিল পতনের দিকে ধাবমান।
ইহুদি বেঞ্জামিন তুদেলি এই অস্থির দক্ষিণাঞ্চলীয় পথটি গ্রহণ করেননি। তবে বেঞ্জামিন কি আশা করেছিলেন যে পূর্ব ইউরোপে বা সাধারণভাবে ইউরোপের বাইজেন্টাইন অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে ইসলামি প্রভাব প্রাধান্য পাবে, আর সেই কারণেই তিনি এই উত্তরের পথটি বেছে নিয়েছিলেন? হতে পারে, বিশেষ করে যখন আনাতোলিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে এই ইসলামি উপস্থিতি বা বিস্তার আইবেরিয়ান উপদ্বীপে মুসলমানদের পিছু হটার সাথে এমনভাবে সমসাময়িক ছিল যা বিস্ময় ও চিন্তার উদ্রেক করে। কারণ একাদশ খ্রিস্টীয় শতাব্দীর শেষভাগ থেকে আইবেরিয়ান উপদ্বীপে মুসলমানদের পিছু হটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল; ১০৮৫ সালে টলেডোর পতন ঘটে এবং প্রায় একই সময়ে সেলজুক সুলতান আল্প আরসালান (১০৬৩-১০৭২) এশিয়া মাইনরের অধিকাংশ অঞ্চল থেকে বাইজেন্টাইনদের বিতাড়িত করছিলেন। এই পুরো সময়কাল এবং এর পরবর্তী সময়ে তুর্কিরা তাদের জ্ঞাতি ভাই সেলজুকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে পশ্চিম দিকে বিশেষ করে এশিয়া মাইনরের দিকে হিজরত করছিল। অন্যদিকে মুসলিম বিশ্বের অপর প্রান্তে ১২৩৬ সালে কর্ডোভার পতন ঘটে, এরপর খ্রিস্টানদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং ১২৪৮ সালে সেভিলের পতন ঘটে।
আইবেরিয়া বা মুসলিম বিশ্বের পশ্চিম প্রান্তে ইসলামকে তখন অত্যন্ত দুর্বল ও নড়বড়ে মনে হচ্ছিল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১১)
على وشك الانهيار. وفي سنة 1453 سقطت القسطنطينية في يد المسلمين الأتراك، ففزعت أوربا كلها واستدارت تاركة الانتصارات المسيحية في أيبيريا. إن الإسلام من هذا الباب القسطنطيني أصبح أقرب لأوربا من حبل الوريد. ففي الفترة التي قام فيها بنيامين برحلته كانت بشائر المد الإسلامي في الأناضول وشرق أوربا قد هلّت ولم يكن سقوط القسطنطينية هو بداية هذا المد.
ليس مستبعدا إذن أن يكون هذا الوجود الإسلامي الفعلي أو المرتقب هو دافع بنيامين لاتخاذ هذا الطريق الشمالي.. إنه البحث عن الحضن الإسلامي، وحتى لا تبدو هذه الأقوال من قبيل المبالغة نفضّل هنا الرجوع إلى مراجع كتبها يهود فالأستاذ عزرا حداد يذكر لنا بعد الرجوع للموسوعة اليهودية jewish Encyclopaedia في طبعتها الصادرة سنة 1902 وغيرها من المصادر أن اليهود في سرقسطة زاد عددهم في ظل الحكم الإسلامي وازدهرت أحوالهم وكثرت معابدهم، وبعد خروج المسلمين منها (أى سرقسطة) شهدوا أياما سودا وبلغت مأساتهم فيها الذروة في سنة 1391، وكانت سرقسطة- كما هو معروف- قد خرجت من أيدي المسلمين في سنة 1118 م (512 هـ) لم تكن بلدة بنيامين (تطيلة (Tudela ولا سرقسطة التي بدأ منها رحلته ضمن نطاق الأندلس أو أسبانيا المسلمة يوم خرج منها بادئا رحلته التي نظن أن هدفها هو تقديم تقرير للمسئولين الدينيين اليهود في شبه جزيرة أيبيريا لتوضيح الأماكن التي يمكن أن يلجأ اليهود إليها هروبا من الاضطهاد المسيحي. وهذا ما سيتضح في أكثر من سياق في
পতনের দ্বারপ্রান্তে। এবং ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল তুর্কি মুসলমানদের হস্তগত হয়, ফলে সমগ্র ইউরোপ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে এবং আইবেরিয়ায় খ্রিস্টীয় বিজয়সমূহকে পেছনে ফেলে মোড় নেয়। নিশ্চয়ই ইসলাম এই কনস্টান্টিনোপল তোরণ দিয়ে ইউরোপের ঘাড়ের শিরার চেয়েও নিকটে চলে আসে। যে সময়ে বেঞ্জামিন তার সফর করেছিলেন, সে সময়ে আনাতোলিয়া এবং পূর্ব ইউরোপে ইসলামি জোয়ারের শুভলক্ষণসমূহ দেখা দিয়েছিল এবং কনস্টান্টিনোপলের পতনই এই জোয়ারের সূচনা ছিল না।
সুতরাং এটি অসম্ভব নয় যে, এই বাস্তব বা প্রত্যাশিত ইসলামি উপস্থিতিই বেঞ্জামিনকে এই উত্তরের পথ বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল। এটি ছিল মূলত ইসলামি আশ্রয়স্থলের অনুসন্ধান। এই কথাগুলো যেন অতিরঞ্জিত মনে না হয়, সেজন্য আমরা এখানে ইহুদিদের রচিত সূত্রের দিকে ফিরে তাকানোকেই শ্রেয় মনে করি। অধ্যাপক এজরা হাদ্দাদ ১৯০২ সালে প্রকাশিত জিউয়িশ এনসাইক্লোপিডিয়া এবং অন্যান্য সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের জানান যে, ইসলামি শাসনামলে সারাগোসায় ইহুদিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছিল এবং তাদের উপাসনালয়ের সংখ্যা বেড়েছিল। সেখান থেকে (অর্থাৎ সারাগোসা থেকে) মুসলমানদের বিদায়ের পর তারা অন্ধকার দিন প্রত্যক্ষ করে এবং ১৩৯১ সালে তাদের ট্র্যাজেডি চরম সীমায় পৌঁছায়। সারাগোসা—যেমনটি জানা যায়—১১১৮ খ্রিস্টাব্দে (৫১২ হিজরি) মুসলমানদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। যেদিন বেঞ্জামিন তার সফর শুরু করেছিলেন, সেদিন তার শহর তুদেলা (Tudela) কিংবা সারাগোসা—যেখান থেকে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন—তা আন্দালুস বা মুসলিম স্পেনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আমাদের ধারণা মতে, তার এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল আইবেরিয়ান উপদ্বীপের ইহুদি ধর্মীয় নেতাদের কাছে একটি প্রতিবেদন পেশ করা, যাতে সেই স্থানগুলো স্পষ্ট করা যায় যেখানে ইহুদিরা খ্রিস্টীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিতে পারে। আর এটি একাধিক প্রসঙ্গে স্পষ্ট হবে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১২)
هذه الدراسة
لقد كان اليهود من بين العناصر التي رحّبت بالفتح الإسلامي للأندلس بل ومدّوا له يد العون، لذا فقد ظلّ مسيحيو الأندلس يعادونهم عداء مريرا، بل إن هناك من الدراسات ما يؤكد أنّ السلطات المسيحية بعد سقوط غرناطة- وطوال قرن ونيف- كانت لا تتهاون في إخراج اليهود بالذات ولم تكن تقبل منهم حتى التحوّل إلى النصرانية، أما على المستوى الشعبي فقد كان شعب إسبانيا غير راض عن طرد المسلمين لأنهم كانوا يمثلون طاقة عاملة لها شأنها بل كانت الأسر النصرانية تخبئ المسلمين مما جعل السلطات المسيحية مضطرة لجلب جنود من أوربا من خارج إسبانيا للمعاونة في التفتيش على المسلمين وطردهم. نعلم أن هذه الفترة خارج نطاق الفترة الزمنية التي قام فيها بنيامين برحلته، لكن منهجنا في كتابة التاريخ أو بالأحرى فهمه لا يكتفى بالرجوع للوثائق والمصادر الروائية، وإنما بالإضافة إلى ذلك يستعين بالأحداث التاريخية التى وقعت بعد الفترة التي نؤرّخ لها، ويستعين باللغة المتداولة الآن، والوقائع الجارية الآن، والمعاني المبثوثة الآن لتفسير وقائع مضت، فحوادث التاريخ سيل مستمر، وتقسيمها إلى قديم ووسيط وحديث من فعل البشر لا من فعل طبيعة الأحداث.. وكان هذا التقسيم لأسباب عمليّة لا لأسباب علمية خالصة أو لأسباب فلسفية محضة. لكن لا بد على أي حال من وضع بعض المحاذير على هذا المنهج حتى لا تختلط الأمور.
لذا فإننا نجتزئ بعض الصفحات من مبحث يتناول موقف أهل شبه
এই অধ্যয়নটি
আন্দালুসে মুসলিম বিজয়কে স্বাগত জানানো গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ইহুদিরা অন্যতম ছিল, এমনকি তারা সহযোগিতার হাতও বাড়িয়ে দিয়েছিল; ফলে আন্দালুসের খ্রিস্টানরা তাদের প্রতি চরম শত্রুতা পোষণ করতে থাকে। এমনকি এমন কিছু গবেষণা রয়েছে যা নিশ্চিত করে যে, গ্রানাডার পতনের পর এবং পরবর্তী এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে খ্রিস্টান কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে ইহুদিদের বহিষ্কারের ব্যাপারে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করেনি, এমনকি তাদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণকেও তারা মেনে নেয়নি। জনপর্যায়ে স্পেনের সাধারণ মানুষ মুসলমানদের বহিষ্কারের বিষয়ে অসন্তুষ্ট ছিল, কারণ তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশক্তি হিসেবে বিবেচিত হতো। এমনকি অনেক খ্রিস্টান পরিবার মুসলমানদের লুকিয়ে রাখত, যার ফলে খ্রিস্টান কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের তল্লাশি ও বহিষ্কারের কাজে সহায়তার জন্য স্পেনের বাইরে ইউরোপের অন্যান্য অঞ্চল থেকে সৈন্য আনতে বাধ্য হয়েছিল। আমরা জানি যে, এই সময়কালটি বেঞ্জামিনের সফরের সময়সীমার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে ইতিহাস রচনা বা বরং তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে আমাদের পদ্ধতি কেবল নথিপত্র ও বর্ণনামূলক সূত্রের ওপর নির্ভর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর পাশাপাশি এটি এমন সব ঐতিহাসিক ঘটনারও সাহায্য নেয় যা আমাদের আলোচিত সময়কালের পরে সংঘটিত হয়েছে। এটি বর্তমানের প্রচলিত ভাষা, সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং বর্তমানে বিদ্যমান ভাবধারাকেও অতীত ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য কাজে লাগায়। কেননা ইতিহাসের ঘটনাবলি একটি নিরবচ্ছিন্ন স্রোতধারা; একে প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগে বিভক্ত করা মানুষের কাজ, ঘটনার প্রকৃতির কারণে নয়। এই বিভাজন ছিল ব্যবহারিক প্রয়োজনে, নিছক বৈজ্ঞানিক বা তাত্ত্বিক কারণে নয়। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতির ওপর কিছু সতর্কতা আরোপ করা আবশ্যক, যাতে বিষয়গুলো গুলিয়ে না যায়।
তাই আমরা একটি গবেষণা থেকে কিছু পৃষ্ঠা উদ্ধৃত করছি যেখানে উপদ্বীপের অধিবাসীদের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
جزيرة أيبيريا من كلّ من المسلمين واليهود، بعد سقوط غرناطة، ولا ننفي أنّ تكون المشاعر ذاتها كانت موجودة في أوقات سبقت:
«لا يتناول هذا البحث أفكارا
… عن موقف الإسبان من المسلمين عقب سقوط غرناطه وطوال القرن السادس عشر وحتى أخرجوا من ديارهم نهائيا في مطلع القرن 17. وتثبت هذه الدراسة من خلال وثائق منشورة. أن عامة الناس وأصحاب الأراضي والمصانع خاصة لم يؤيدوا إخراج المسلمين لما في ذلك من أضرار اقتصادية ستحيق بالبلاد، وهذا ما أثبته التاريخ بعد ذلك. لم يكن إخراج المسلمين عقب سقوط غرناطة- إذا- مطلبا شعبيا وإنما مطلب كنسي عارضه العامة، وعارضه حكام الولايات
… فقد كان عداء الإسبان لغير المسيحيين منصبا في الأساس على اليهود لأسباب دينية وعرقية واقتصادية والذين أجبروا على الخروج ولم يقبل منهم حتى التحول للمسيحية هم اليهود وليس المسلمين الذين ترك لهم في البداية حرية الاختيار بين الإقامة والرحيل ثم ما لبث الكنسيون أن فرضوا رأيهم فأصبح الخيار محصورا بين الرحيل أو قبول التعميد، وفي مطلع القرن 17 أجبروا جميعا على الرحيل» .
গ্রানাডার পতনের পর আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে মুসলিম ও ইহুদিদের বহিষ্কারের বিষয়টি; তবে আমরা অস্বীকার করি না যে একই অনুভূতি পূর্ববর্তী সময়েও বিদ্যমান ছিল:
«এই গবেষণাটি এমন কোনো চিন্তা নিয়ে আলোচনা করে না
… গ্রানাডার পতনের পর থেকে এবং সমগ্র ষোড়শ শতাব্দী জুড়ে, এমনকি সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে তাদের নিজ ভূমি থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কৃত হওয়া পর্যন্ত মুসলমানদের প্রতি স্প্যানিশদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে। এই অধ্যয়নটি প্রকাশিত দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করে যে, সাধারণ জনগণ এবং বিশেষ করে ভূস্বামী ও কারখানার মালিকরা মুসলমানদের বহিষ্কারকে সমর্থন করেননি, কারণ এতে দেশের যে অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হবে তা তারা বুঝতে পেরেছিলেন; এবং ইতিহাস পরবর্তীতে এটিই প্রমাণ করেছে। সুতরাং, গ্রানাডার পতনের পর মুসলমানদের বহিষ্কার করা কোনো গণদাবি ছিল না, বরং এটি ছিল গির্জার একটি দাবি যা সাধারণ মানুষ এবং প্রদেশের শাসকরাও বিরোধিতা করেছিলেন
… অ-খ্রিস্টানদের প্রতি স্প্যানিশদের শত্রুতা মূলত ধর্মীয়, জাতিগত এবং অর্থনৈতিক কারণে ইহুদিদের উপর নিবদ্ধ ছিল। যাদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল এবং যাদের ক্ষেত্রে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণও গ্রহণ করা হয়নি তারা ছিল ইহুদি, মুসলমান নয়; যাদের শুরুতে থাকা বা চলে যাওয়ার স্বাধীনতার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শীঘ্রই গির্জার কর্তাব্যক্তিরা তাদের মতামত চাপিয়ে দেন, ফলে বিকল্পটি দেশত্যাগ অথবা খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অতঃপর সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে তাদের সবাইকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়।»
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
كما لم يطل بنيامين المكوث في الأرض الأيبيرية التي فيها درج وشبّ، نجده لم يطل أيضا في الأرض الفرنسية التي كانت تشهد حقبة الملكية الإقطاعية إذ استطاع ملوك كابيه في فرنسا في الفترة من 1100 إلى 1223 أن يجعلوا من أنفسهم ملوكا إقطاعيين، وكان ملوك أسرة كابيه يعتبرون أنفسهم- وهم بالفعل كذلك- خلفاء لشارلمان (الأسرة الكارولنجية التي خلفت الأسرة الميروفنجية) على مملكة الفرنجة الغربيين (الفرنجة الشرقيون كونوا فيما بعد الإمبراطورية الرومانية المقدسة) لكنّهم في البداية كانوا ملوكا ضعافا، ولم يكن الكونتات (المفرد: كونت) موظفين عندهم بل كانوا سادة أقوياء وخرج من أيدى الملوك ما كان للكارولنجيين من أراض خاصّة، ولم يبق للملك سوى الهيبة التي بسطتها عليه الكنيسة الكاثوليكية في روما، وساعدت الكنيسة أسرة كابيه في تسلسل وراثة العرش بأن جعلت من حق الملك أن يتوّج أكبر أبنائه ملكا في أثناء حياته. وعلى أية حال لم يكن ملوك أسرة كابيه من القوة بحيث يثيرون مخاوف السّادة الإقطاعيّين. لكن منذ فيليب الأول (1060- 1108) أدرك الملوك الفرنسيون أنّه ليس بمباركة الكنيسة ووراثة العرش وحدهما يكونون ملوكا أقوياء وإنما بالرجال والمال (الضّياع) ومن هنا بدأ نمو الملكية الإقطاعية.
تلك هى الظروف التاريخية التي كانت عليها فرنسا عندما زار بنيامين أربونة وبيزيه Bezier ومونبلييه Monrpellier ولونل Lunel وبوسكيار Posquieres ونوغرس sr.Giles وآرل Arles ومرسيليا
যেমন বিনিয়ামিন আইবেরীয় ভূমিতে দীর্ঘকাল অবস্থান করেননি যেখানে তিনি লালিত-পালিত ও বড় হয়েছিলেন, তেমনি আমরা তাকে ফরাসি ভূমিতেও দীর্ঘকাল অবস্থান করতে দেখি না যা তখন সামন্ততান্ত্রিক রাজতন্ত্রের যুগ প্রত্যক্ষ করছিল; কেননা ১১০০ থেকে ১২২৩ কালপর্বে ফ্রান্সের কাপেটীয় রাজারা নিজেদের সামন্ততান্ত্রিক রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কাপেটীয় রাজবংশের রাজারা নিজেদেরকে—এবং প্রকৃতপক্ষে তারা তা-ই ছিলেন—পশ্চিম ফ্রাঙ্কদের রাজ্যের ওপর শার্লমেনের (ক্যারোলিনজিয়ান রাজবংশ যারা মেরোভিনজিয়ান রাজবংশের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল) উত্তরসূরি হিসেবে গণ্য করতেন (পূর্ব ফ্রাঙ্করা পরবর্তীতে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য গঠন করেছিল)। তবে শুরুতে তারা ছিলেন দুর্বল রাজা; কাউন্টগণ (একবচনে: কাউন্ট) তাদের কর্মচারী ছিলেন না, বরং তারা ছিলেন শক্তিশালী অধিপতি। ক্যারোলিনজিয়ানদের মালিকানাধীন বিশেষ ভূখণ্ডগুলো রাজাদের হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল এবং রাজার জন্য কেবল রোমের ক্যাথলিক গির্জার মাধ্যমে অর্পিত সেই প্রভাব-প্রতিপত্তিই অবশিষ্ট ছিল যা গির্জা তার ওপর বিস্তার করেছিল। গির্জা সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ধারায় কাপেটীয় বংশকে এই অধিকার প্রদানের মাধ্যমে সাহায্য করেছিল যে, রাজা তার জীবদ্দশাতেই তার জ্যেষ্ঠ পুত্রকে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত করতে পারবেন। যাই হোক না কেন, কাপেটীয় বংশের রাজারা সামন্ততান্ত্রিক প্রভুদের মনে ভীতি সঞ্চার করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন না। কিন্তু প্রথম ফিলিপের (১০৬০-১১০৮) সময় থেকে ফরাসি রাজারা উপলব্ধি করেন যে, কেবল গির্জার আশীর্বাদ এবং সিংহাসনের উত্তরাধিকারের মাধ্যমে শক্তিশালী রাজা হওয়া সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন জনবল এবং অর্থ (সম্পদ); আর এখান থেকেই সামন্ততান্ত্রিক রাজতন্ত্রের বিকাশ শুরু হয়।
এই ছিল ফ্রান্সের সেই ঐতিহাসিক পরিস্থিতি যখন বিনিয়ামিন নারবোন, বেজিয়ার্স (Bezier), মন্টপেলিয়ার (Monrpellier), লুনেল (Lunel), পোস্কিয়ার্স (Posquieres), সেন্ট জাইলস (sr.Giles), আরলেস (Arles) এবং মার্সেই সফর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
Marseilles
وكلها جنوب شرق فرنسا أو في أطرافها مما يشير إلى أنها كانت مجرّد منطقة عبور ولا تزيد تعليقات بنيامين على هذه المدن عن ذكر عدد اليهود بها- كما هو الحال في غالب تعليقاته.
ومن مرسيليا اتّجه بنيامين بحرا إلى شبه الجزيرة الإيطالية، وأبدى*
মার্সেই
এবং এগুলোর সবগুলোই দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সে অথবা এর প্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত, যা ইঙ্গিত করে যে এগুলো ছিল কেবল অতিক্রমের অঞ্চল। এই শহরগুলো সম্পর্কে বেনিয়ামিনের মন্তব্য সেখানে বসবাসরত ইহুদিদের সংখ্যা উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ—যেমনটা তার অধিকাংশ মন্তব্যের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
আর মার্সেই থেকে বেনিয়ামিন সমুদ্রপথে ইতালীয় উপদ্বীপের দিকে যাত্রা করেন এবং ব্যক্ত করেন...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كثيرا من الملاحظات المفيدة والتي لا يمكن فهمها وتذوقها إلا بتتبع أصولها التاريخية في الأحداث السابقة عليها، وتتبع دلالاتها الأنثروبولوجية في الأحداث التي تلتها، وعادات الشعوب وتوجهاتها حتى في هذا التاريخ المعاصر. ونبدأ الآن بوضع شبه الجزيرة الإيطالية «1» .
لم يكن فريدريك بارباروسا واقعيا في نظرته لحدود حكمه المركزي، فقد أرسل في أواخر أيامه إلى صلاح الدين الأيوبي يقول: «أتزعم أنّك لا تعرف أنّ أثيوبيا وموريتانيا وفارس وسوريا وبارتيا ويهوذا والسامرة وبلاد العرب وكلديا ومصر ذاتها، أتدعي أنّك لا تعرف أنّ أرمينية ذاتها وأن عددا لا حصر له من البلاد، خضعت لسلطاننا
… »
وهذه الفقرات تفسر دعاويه في إيطاليا إذ طالب بأن تكون له من الحقوق ما كان للإمبراطور الروماني الحقيقي
… لقد أراد أن يعود إلى الزّمن الغابر ليبعث أمجاد الإمبراطورية القديمة، لكنّ الظروف كانت قد تغيّرت والإمكانات لم تكن تساعد، فأثار بذلك عداوة القوى الثلاث الكبرى في إيطاليا في القرن الثاني عشر وهي النورمان والبابويه والكيانات اللومباردية، (وفي ظل إيطاليا التي تحكمها هذه القوى كانت رحلة بنيامين لإيطاليا)
অনেক দরকারী পর্যবেক্ষণ রয়েছে যা বোঝা এবং উপলব্ধি করা কেবল পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক ঘটনাবলির আদি উৎস অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব। এছাড়া পরবর্তী ঘটনাবলিতে সেগুলোর নৃ-তাত্ত্বিক তাৎপর্য এবং বর্তমান কাল পর্যন্ত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর আচার-আচরণ ও ঝোঁক অনুসরণের মাধ্যমেও তা উপলব্ধি করা যায়। আমরা এখন ইতালীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি দিয়ে শুরু করছি «১»।
ফ্রেডরিক বারবারোসা তার কেন্দ্রীয় শাসনের সীমানা নির্ধারণে বাস্তববাদী ছিলেন না। তিনি তার জীবনের শেষ দিকে সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে এই বলে বার্তা পাঠিয়েছিলেন: "তুমি কি দাবি করছ যে তুমি জানো না ইথিওপিয়া, মৌরিতানিয়া, পারস্য, সিরিয়া, পার্থিয়া, জুডিয়া, সামারিয়া, আরব ভূমি, ক্যালডিয়া এবং খোদ মিসর—তুমি কি দাবি করছ যে তুমি জানো না খোদ আর্মেনিয়া এবং অগণিত দেশ আমাদের শাসনের অধীন ছিল
… "
এই অনুচ্ছেদগুলো ইতালিতে তার দাবিগুলো ব্যাখ্যা করে, যেখানে তিনি প্রকৃত রোমান সম্রাটের যে অধিকার ছিল সেই একই অধিকারের দাবি করেছিলেন
… তিনি প্রাচীন সাম্রাজ্যের গৌরব পুনরুদ্ধারের জন্য অতীত যুগে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছিল এবং সামর্থ্য অনুকূলে ছিল না। এর ফলে তিনি দ্বাদশ শতাব্দীতে ইতালির তিনটি প্রধান শক্তির শত্রুতা উসকে দিয়েছিলেন, আর সেগুলো হলো: নরম্যান, পোপতন্ত্র এবং লোম্বার্ডীয় সত্তাসমূহ (আর এই শক্তিগুলোর শাসিত ইতালির প্রেক্ষাপটেই ছিল বেঞ্জামিনের ইতালি সফর)।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২০)
شبه الجزيرة الإيطالية في أيام رحلة بنيامين لم يكن يربطها بالإمبراطورية الرومانية المقدسة سوى رباط شكلى، فكان كل كيان من كياناتها يعمل لحسابه.
বেনিয়ামিনের সফরের দিনগুলোতে ইতালীয় উপদ্বীপের সাথে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল; ফলে এর প্রতিটি রাজনৈতিক সত্তা নিজস্ব স্বার্থে ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতো।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২১)
«
… وفشل فريدريك في تحقيق خططه، ومع أنّه استولى على روما في سنة 1167 فإنّ معظم أوربا لم تقبل البابا الذي نصّبه.. ولم يعد بوسعه الاستيلاء على صقلية النور مندية كما أنّ البابا اسكندر الثالث نجح في حمل القومونات اللومبارديّة على أن تنبذ العداوات الإقطاعية وأن تتحد من أجل حريتها، وفي سنة 1167 تألف حلف من ست عشرة مدينة منها فيرونا وبدوا والبندقية فضلا عن المدن اللّومباردية- وعرف هذا الحلف بالعصبة اللّومباردية Societas Lombardia وكان يهدف إلى الاحتفاظ بحرية القومونات. غير أنّه لم يشأ أنّ يدمّر نهائيا سلطة الإمبراطور. وفي سنة 1167 حلّت الهزيمة العسكرية بالإمبراطور في مواجهة اللّمبارديين، فصالح البابا اسكندر الثالث والنورمان واللمبارديين وتخلّى عن كلّ دعاويه في إيطاليا.
كان البابا الذي حدّثنا عنه بنيامين في رحلته هذه هو البابا اسكندر الثالث المستقل عن الإمبراطور والمختلف معه، بل والذي خاض الحرب ضدّه.
إلى هنا نكتفي بالعرض التاريخي البسيط لتوضيح دلالات الرحلة ولنستطرد بعد ذلك في معان أعمق.
أوّل ما يستوقفنا قلّة عدد اليهود في المدن الإيطالية من ناحية، والتزامه بذكر عددهم في كل مدينة وهو مالم يفعله عند حديثه عن شبه جزيرة أيبيريا وجنوب شرق فرنسا، فلم يكن في جنوة إلّا يهوديان، ولعلّهما كانا متخفّيين أي لم يعلنا هويتهما اليهودية.
وعرض المعلومات هنا بصورة جدولية يجعلها أكثر وضوحا ويساعدنا على مزيد من الاستنتاجات:
«
... এবং ফ্রেডরিক তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন। যদিও তিনি ১১৬৭ সালে রোম দখল করেছিলেন, তবুও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ তার নিযুক্ত পোপকে মেনে নেয়নি। নরম্যান-অধিকৃত সিসিলি দখল করা তার পক্ষে আর সম্ভব হয়নি। পোপ তৃতীয় আলেকজান্ডার লম্বার্ডিয়ান কমিউনগুলোকে তাদের সামন্ততান্ত্রিক শত্রুতা ত্যাগ করতে এবং স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করতে সফল হন। ১১৬৭ সালে ভেরোনা, পাডুয়া এবং ভেনিসের মতো শহরগুলোর পাশাপাশি লম্বার্ডিয়ান শহরগুলোকে নিয়ে মোট ১৬টি শহরের একটি জোট গঠিত হয়। এই জোটটি 'লম্বার্ড লীগ' (সোসাইটাস লম্বার্ডিয়া) নামে পরিচিত ছিল এবং এর লক্ষ্য ছিল কমিউনগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা। তবে তিনি সম্রাটের ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে চাননি। ১১৬৭ সালে লম্বার্ডিয়ানদের মোকাবিলায় সম্রাট সামরিক পরাজয়ের সম্মুখীন হন। ফলে তিনি পোপ তৃতীয় আলেকজান্ডার, নরম্যান এবং লম্বার্ডিয়ানদের সাথে সন্ধি করেন এবং ইতালিতে তার সমস্ত দাবি ত্যাগ করেন।
বেনিয়ামিন তার এই ভ্রমণবৃত্তান্তে যে পোপের কথা আমাদের বলেছেন, তিনি ছিলেন পোপ তৃতীয় আলেকজান্ডার; যিনি সম্রাটের থেকে স্বাধীন ছিলেন এবং তার সাথে মতভেদ পোষণ করতেন, এমনকি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধেও লিপ্ত হয়েছিলেন।
এ পর্যন্ত আমরা ভ্রমণবৃত্তান্তের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করার জন্য একটি সহজ ঐতিহাসিক উপস্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ থাকছি এবং এরপর আমরা আরও গভীর অর্থের দিকে অগ্রসর হব।
প্রথম যে বিষয়টি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তা হলো, একদিকে ইতালীয় শহরগুলোতে ইহুদিদের স্বল্প সংখ্যা এবং অন্যদিকে প্রতিটি শহরে তাদের সংখ্যা উল্লেখ করার ব্যাপারে লেখকের প্রতিশ্রুতি—যা তিনি আইবেরীয় উপদ্বীপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্স সম্পর্কে আলোচনার সময় করেননি। যেমন, জেনোয়াতে মাত্র দুজন ইহুদি ছিল; সম্ভবত তারা ছদ্মবেশে ছিল অর্থাৎ তারা তাদের ইহুদি পরিচয় প্রকাশ করেনি।
এখানে তথ্যগুলো ছক আকারে উপস্থাপন করা হলে তা আরও স্পষ্ট হবে এবং আমাদের আরও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে:
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مسلسل- المدينة- عدد اليهود 1- جنوة 2 2- بيزة 20 3- لوكه -4 40 Lucca روما 200 5- كابوه 7 6- فوزولى -7 (؟) Pouzzuoli نابل -8 500 Neapolis سلرن 600 9- أمالفى 20 10- بنفنتو 200 11- مالفى 200 12- أشقولى -13 400 Ascoli ترانى -14 200 Trani نيقولاس دى بارى- 15- طارنت -16 500 Taranto برنديزى 10 17- أوطرنت -18 500 Otranto جزيرة قرفو) corfu رغم وقوعها قبالة الساحل اليوناني إلا أنها من ممتلكات البندقية 1 الإجمالي 3399
ক্রমিক নং- শহর- ইহুদিদের সংখ্যা ১- জেনোয়া ২ ২- পিসা ২০ ৩- লুকা -৪ ৪০ লুকা রোম ২০০ ৫- কপুয়া ৭ ৬- পোজুয়োলি -৭ (?) পোজুয়োলি নেপলস -৮ ৫০০ নেপোলিস সালের্নো ৬০০ ৯- আমালফি ২০ ১০- বেনেভেন্তো ২০০ ১১- মেলফি ২০০ ১২- আসকোলি -১৩ ৪০০ আসকোলি ত্রানি -১৪ ২০০ ত্রানি সেন্ট নিকোলাস অব বারি- ১৫- ট্যারেন্টো -১৬ ৫০০ ট্যারেন্টো ব্রিনডিসি ১০ ১৭- ওটরান্টো -১৮ ৫০০ ওটরান্টো করফু দ্বীপ) করফু যদিও এটি গ্রিক উপকূলের সন্নিকটে অবস্থিত, তবুও এটি ভেনিসের অন্তর্ভুক্ত ১ সর্বমোট ৩৩৯৯
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
خط سير بنيامين في شبه الجزيرة الإيطالية
ইতালীয় উপদ্বীপে বিনইয়ামিনের ভ্রমণপথ
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وبطبيعة الحال ليس هذا كل ما في شبه الجزيرة الإيطالية من يهود، وإنما في المدن التي زارها فقط. ويلاحظ على هذه الأرقام أنّ عدد اليهود يزداد كلما اتجهنا جنوبا أي أنه ينقص كلما اتجهنا شمالا، وتفسير ذلك أنّ كثيرا من مناطق الشمال الإيطالي كانت قد حرّمت على اليهود الإقامة فيها في فترات سابقة، ولم تكن ترحب بإقامتهم في كلّ الأحوال، ولعلّ جنوة خير مثال على ذلك فقد حظرت فيها إقامة اليهود- على ما يظهر- في بداية القرن الحادي عشر للميلاد فيما يذكر الأستاذ عزرا حداد مترجم الكتاب. كما أنّ الخروج من شبه الجزيرة الإيطالية هربا إلى أي مكان آخر كان أسهل من ناحية الجنوب الإيطالي، والأهم أن جنوب إيطاليا أقرب إلى العالم الإسلامي الذي هو الملجأ والملاذ ليهود أوربا عند الضرورة، في العصور الوسطى، وفي العصر الحديث بدءا من سقوط غرناطة وبعد قيام الدولة العثمانية على نحو خاص «1»
ملحوظة ثانية وهي أنّ مترجم الكتاب (عزرا حدّاد) أوضح في تعليقاته أنّ العرف جرى أن يحصي الباحثون والمؤرخون اليهود عددهم بالبيت أو الأسرة لا بعدد الأفراد، فلا يحصى في هذه الحال إلّا رب الأسرة فقط، ومعنى هذا أن عدد اليهود- حتّى لو لمّ يكونوا موجودين إلا في المدن الواردة آنفا- أكثر بكثير من رقم 3200 خاصة
স্বাভাবিকভাবেই ইতালীয় উপদ্বীপে বসবাসরত সমস্ত ইহুদিদের সংখ্যা এটি নয়, বরং এটি কেবল সেই শহরগুলোর সংখ্যা যা তিনি পরিদর্শন করেছিলেন। এই সংখ্যাগুলো থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, আমরা যত দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হই ইহুদিদের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পায়, অর্থাৎ উত্তর দিকে যাওয়ার সাথে সাথে তা হ্রাস পায়। এর ব্যাখ্যা এই যে, উত্তর ইতালির অনেক অঞ্চলে পূর্ববর্তী সময়ে ইহুদিদের বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের সেখানে স্বাগত জানানো হতো না। সম্ভবত জেনোয়া এর সর্বোত্তম উদাহরণ; কারণ বইটির অনুবাদক অধ্যাপক এজরা হাদ্দাদ যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, একাদশ খ্রিস্টাব্দের শুরুতে সেখানে ইহুদিদের বসবাস নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তাছাড়া, ইতালীয় উপদ্বীপ থেকে পালিয়ে অন্য কোথাও চলে যাওয়া দক্ষিণ ইতালির দিক থেকে সহজতর ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দক্ষিণ ইতালি মুসলিম বিশ্বের অনেক কাছাকাছি ছিল, যা মধ্যযুগে এবং আধুনিক যুগে—বিশেষ করে গ্রানাডার পতন এবং উসমানীয় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে—প্রয়োজনের সময় ইউরোপীয় ইহুদিদের জন্য আশ্রয়স্থল ও নিরাপদ স্থান হিসেবে বিবেচিত হতো। «১»
দ্বিতীয় একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো যে, বইটির অনুবাদক (এজরা হাদ্দাদ) তার মন্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, ইহুদি গবেষক ও ঐতিহাসিকদের মধ্যে এটি একটি রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে যে তারা তাদের সংখ্যা গণনা করেন বাড়ি বা পরিবারের ভিত্তিতে, ব্যক্তির ভিত্তিতে নয়। এই ক্ষেত্রে কেবল পরিবারের প্রধানকেই গণনা করা হয়। এর অর্থ এই যে, ইহুদিদের সংখ্যা—এমনকি তারা যদি কেবল উপরোক্ত শহরগুলোতেও থেকে থাকে—তা বিশেষ করে ৩২০০ সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إذا علمنا أنّ زيادة الإنجاب هى توجّه يهودي كما كان في وقت من الأوقات توجها إسلاميا، مع فارق غير كبير في العوامل الكامنة خلف هذا التوجّه، ففي حالة المسلمين تروى أحاديث كثيرة عن الرسول صلى الله عليه وسلم في الحث على التناكح لأنّه يؤدي إلى التناسل، مما يجعل النبي صلى الله عليه وسلم يباهي بالمسلمين الأمم يوم القيامة، وبصرف النظر عن إساءة التفسير فقد ظل هذا بالإضافة لطبيعة الاقتصاد الزراعي قبل الميكنة عاملا موجها، أما في حالة اليهود فقد كان إحساسهم بقلة عددهم وأنهم شعب مختار دافعا لهم للتناكح والتناسل، لكنه لم يؤت النتيجة المرجوّة ربما بسبب التزاوج الداخلي أي داخل الجماعة العرقية الواحدة، لكثرة الخلافات العقائدية بين اليهود مما يجعل كل جماعة لا تعترف بالزواج الشرعي أو التلمودي من كثير من الجماعات أو الأعراق اليهودية الأخرى، مما جعل أحد الباحثين اليهود يتوقّع انشقاقا عرقيا أو قيام مجتمعين منفصلين داخل كيان إسرائيل بسبب نظم الزواج «1» والملحوظة الثالثة هي أنه ربما كانت هذه الأرقام التي ذكرها بنيامين غير حقيقية أو أنها مكوّدة؟ أو مشفرة بحيث لا يفهمها إلا اليهود، ذلك أن كتابه هذا لا يمكن أن يدخل في أدب الرحلات بمعناه المتعارف عليه، فالرجل كما سبق القوّل لا يرى في المناطق التى زارها إلا اليهود، ولم يسجّل تقريبا إلا أعدادهم وما
আমরা যদি জানি যে সন্তান উৎপাদন বৃদ্ধি করা একটি ইহুদি প্রবণতা, যেমনটি এক সময় একটি ইসলামি প্রবণতাও ছিল, তবে এই প্রবণতার নেপথ্যের কারণগুলোতে তেমন কোনো বড় পার্থক্য নেই। মুসলমানদের ক্ষেত্রে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিবাহে উৎসাহিত করার বিষয়ে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে, কারণ এটি বংশবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যায়, যার ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামতের দিন অন্যান্য উম্মতের সামনে মুসলমানদের নিয়ে গর্ব করবেন। অপব্যাখ্যার বিষয়টি বাদ দিলে, যান্ত্রিকীকরণের পূর্বের কৃষি অর্থনীতির প্রকৃতির পাশাপাশি এটিও একটি নির্দেশক কারণ হিসেবে বিদ্যমান ছিল। অন্যদিকে ইহুদিদের ক্ষেত্রে, তাদের স্বল্প সংখ্যার অনুভূতি এবং তারা একটি ‘মনোনীত জাতি’—এই ধারণা তাদের বিবাহ ও বংশবৃদ্ধির জন্য উদ্বুদ্ধ করেছিল। কিন্তু এটি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বয়ে আনেনি, সম্ভবত অন্তর্বিবাহের কারণে, অর্থাৎ একটি একক নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কারণে। ইহুদিদের মধ্যে অধিক মাত্রায় আদর্শিক বিরোধের ফলে প্রতিটি গোষ্ঠী অন্যান্য অনেক ইহুদি গোষ্ঠী বা জাতিসত্তার বৈধ বা তালমুদীয় বিবাহকে স্বীকৃতি দেয় না। এর ফলে একজন ইহুদি গবেষক বিবাহ ব্যবস্থার কারণে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একটি নৃতাত্ত্বিক বিভাজন বা দুটি পৃথক সমাজ গঠনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন «১»। তৃতীয় লক্ষণীয় বিষয়টি হলো, বেনিয়ামিন উল্লিখিত এই সংখ্যাগুলো সম্ভবত বাস্তব ছিল না অথবা সেগুলো সাংকেতিক বা সংকেতবদ্ধ ছিল, যা কেবল ইহুদিরাই বুঝতে পারত? কারণ তার এই গ্রন্থটি প্রচলিত অর্থে ভ্রমণ সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। যেমনটি আগেই বলা হয়েছে, এই ব্যক্তি তার পরিদর্শিত অঞ্চলগুলোতে ইহুদি ব্যতীত আর কিছুই দেখেননি এবং তিনি প্রায় কেবল তাদের সংখ্যা এবং যা...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ذكره من أشخاصهم لم يترجم لهم وإنما ذكر أسماءهم ومهنهم ومناصبهم في سلك الكهنوت اليهودي على الأكثر، وكأنّ لسان حاله يقول: من أراد مزيدا من المعلومات فعليه الاتصال بفلان في بلدة كذا.. إنّ كتابه هذا بمثابة دليل تعارف بين يهود العالم، إذا حان وقت الهجرة أو الرّحيل.
ملحوظة أخرى تفسر تفاوت أعداد اليهود في مدن شبه الجزيرة الإيطالية وهى أنّها لم تكن كيانا سياسيا واحدا كما سبق أن أشرنا، وربما كان اختلاف مواقف الحكومات في شبه الجزيرة وراء هذا التباين، ولم يكن أهل جنوة وكل المدن التجارية يرتاحون لليهود لأسباب أخرى غير دينية، كما كان أهل أسبانيا في أثناء فترة تقدمهم لا ينظرون لأهل المدن الإيطالية، والجنوبيين منهم خاصة نظرة ارتياح، وإذا كنّا قد تعرضنا في فقرة سابقة إلى أنّ إخراج المسلمين من الأندلس، لم يكن عملا مرغوبا على المستوى الشعبي؛ وإنما كان توجها سياسيا حكوميا أيدته كنيسة روما الكاثوليكية- بعكس الحال بالنسبة إلى اليهود الذين لم يقبل الإسبان- حكومة وشعبا- منهم إلا الرّحيل، فإن أهل جنوة كانوا ينافسون اليهود في الكراهية التي حظوا بها عند أهل شبه جزيرة أيبيريا لاشتغالهم بأعمال السمسرة والصرافة وهي أمور لم يكن الإسبان- وغالبهم فلاحون- يفهمون فيها، ولسبب آخر يضيفه بنيامين التطيلى نعرفه لأول مرة منه، وهو أنّ أهل جنوة كانوا يعملون في هذا الوقت الباكر (الثاني عشر للميلاد، وقبل ذلك) بالقرصنة ولم يكونوا ليميزوا بين سفن المسيحيين والمسلمين،
তিনি তাদের যেসব ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন, তাদের জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনা করেননি; বরং বড়জোর ইহুদি যাজকতন্ত্রে তাদের নাম, পেশা এবং পদমর্যাদা উল্লেখ করেছেন। যেন তার অবস্থার ভাষা বলছে: যে ব্যক্তি আরও তথ্য চায়, সে যেন অমুক শহরের অমুক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে... তার এই বইটি যেন বিশ্বের ইহুদিদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়ের একটি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করে, যখনই হিজরত বা প্রস্থানের সময় উপস্থিত হয়।
ইতালীয় উপদ্বীপের শহরগুলোতে ইহুদিদের সংখ্যার ভিন্নতার ব্যাখ্যায় আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, এটি কোনো একক রাজনৈতিক সত্তা ছিল না—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। সম্ভবত উপদ্বীপের সরকারগুলোর অবস্থানের ভিন্নতাই ছিল এই বৈসাদৃশ্যের কারণ। জেনোয়ার অধিবাসী এবং সমস্ত বাণিজ্যিক শহরগুলোর মানুষ ধর্মীয় কারণ ছাড়াও অন্যান্য কারণে ইহুদিদের প্রতি স্বস্তিবোধ করত না। ঠিক যেমন স্পেনের অধিবাসীগণ তাদের অগ্রগতির সময়কালে ইতালীয় শহরের বাসিন্দাদের প্রতি, বিশেষ করে দক্ষিণীদের প্রতি স্বস্তির দৃষ্টিতে তাকাত না। যদিও আমরা আগের একটি অনুচ্ছেদে উল্লেখ করেছি যে, আন্দালুসিয়া থেকে মুসলমানদের বহিষ্কার করা জনস্তরে কোনো কাঙ্ক্ষিত কাজ ছিল না; বরং এটি ছিল একটি সরকারি রাজনৈতিক পদক্ষেপ যা রোমান ক্যাথলিক চার্চ সমর্থন করেছিল—ইহুদিদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল এর বিপরীত, যাদের ক্ষেত্রে স্পেনীয় সরকার ও জনগণ দেশত্যাগ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেনি। জেনোয়ার অধিবাসীরা ইবেরীয় উপদ্বীপের মানুষের কাছে ইহুদিদের মতোই ঘৃণার পাত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত; কারণ তারা দালালি এবং মুদ্রাবিনিময়ের কাজে লিপ্ত ছিল—এমন কিছু বিষয় যা স্পেনীয়রা (যাদের অধিকাংশই ছিল কৃষক) বুঝত না। এবং অন্য একটি কারণ যা বেনিয়ামিন তুদেলি যোগ করেছেন এবং যা আমরা তার মাধ্যমেই প্রথমবার জানতে পারি, তা হলো জেনোয়ার অধিবাসীরা এই প্রাথমিক সময়ে (খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দী এবং তার আগে) জলদস্যুতার সাথে জড়িত ছিল এবং তারা খ্রিস্টান ও মুসলমানদের জাহাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য করত না।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وإنما كان رجالهم يهاجمون كلّ ما كان يتاح أمامهم. يقول بنيامين:
«والجنويون مسيطرون على البحار، يجوبونها بسفنهم الخاصّة المسمّاة غاليش Galleys ويقومون بأعمال القرصنة على الروم والمسلمين، فيعودون إلى جنوة بالأسلاب والغنائم الوفيرة» وليس أدلّ على أن التاريخ لا يموت من أنّ هذه الفكرة عن أهل جنوة لا زالت كامنة في الضمير الأسباني حتى الآن- فكرة التاجر الجشع الذي هو على استعداد لأن يبيع العالم لا تمنعه قيمة دينية ولا وازع رحمة، وهي فكرة لا تختلف كثيرا عن الفكرة التي شاعت في وقت من الأوقات في تراث الشعوب وآدابها عن اليهوديّ الصراف المرابي- وإن كانت هذه الفكرة بدأت تتلاشى مع زيادة احتكاك الشعوب والثقافات.
ولم تكن هذه الفكرة قاصرة على جنوة دون غيرها من المدن التجارية الإيطالية، وإنما كانت شائعة بالنسبة للبندقية أيضا، لكننا نركّز على جنوة لأنها كانت هى الأقرب لشبه جزيرة أيبيريا (بلد بنيامين التطيلى) لذا فقد كان توجّههم التجاري والمالي نحو شبه جزيرة أيبيريا، بينما كان للبنادقة ميادين أخرى ربّما كانت أوسع.
ولأنّ توجهات الشعوب- بصرف النظر عن السياسات الرسمية- تعد من المسائل الأساسية للتفسير الأنثروبولوجي للتاريخ، نفضّل هنا إيراد فقرات من البحث الآنف ذكره، خاصّة أنّ بنيامين لم يجد في جزيرة كورفو Corfo التابعة للبندقية إلا يهوديا واحدا.
«
… كانت حركة جهاد البحر والحروب العثمانية في البحر المتوسط أحد العوامل الرئيسية التي وجهت أهل جنوة للعمل على استثمار
আর তাদের পুরুষরা তাদের সামনে যা কিছু পেত তার সবকিছুকেই আক্রমণ করত। বেনিয়ামিন বলেন:
«জেনোয়াবাসীরা সমুদ্রের উপর আধিপত্য বিস্তারকারী, তারা ‘গ্যালিস’ (Galleys) নামক তাদের বিশেষ জাহাজে করে সমুদ্রে বিচরণ করে এবং রোমান ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে জলদস্যুতা চালায়, অতঃপর তারা প্রচুর লুণ্ঠিত সম্পদ ও গণিমত নিয়ে জেনোয়ায় ফিরে আসে»। ইতিহাস যে মরে যায় না তার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর নেই যে, জেনোয়ার অধিবাসীদের সম্পর্কে এই ধারণাটি এখন পর্যন্ত স্প্যানিশদের বিবেক-চেতনায় সুপ্ত রয়েছে—সেই লোভী বণিকের ধারণা যে গোটা দুনিয়াকে বিক্রি করে দিতে প্রস্তুত, যাকে কোনো ধর্মীয় মূল্যবোধ বা করুণার উদ্রেক বাধা দেয় না। এটি এমন এক ধারণা যা কোনো এক সময়ে জাতিসমূহের ঐতিহ্য ও সাহিত্যে প্রচলিত সুদখোর ইহুদি মহাজনের ধারণা থেকে খুব একটা আলাদা নয়—যদিও জাতি ও সংস্কৃতির মধ্যে মেলামেশা বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ধারণাটি ম্লান হতে শুরু করেছে।
আর এই ধারণাটি ইতালির অন্যান্য বাণিজ্যিক শহর বাদ দিয়ে শুধু জেনোয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তা ভেনিসের ক্ষেত্রেও প্রচলিত ছিল। তবে আমরা জেনোয়ার ওপর আলোকপাত করছি কারণ এটি আইবেরীয় উপদ্বীপের (বেনিয়ামিন আত-তুতিয়িলির দেশ) সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল; ফলে তাদের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ঝোঁক ছিল আইবেরীয় উপদ্বীপের দিকে, যেখানে ভেনিসীয়দের জন্য অন্যান্য ক্ষেত্র ছিল যা সম্ভবত আরও বিস্তৃত ছিল।
যেহেতু জাতিসমূহের ঝোঁক প্রবণতা—দাপ্তরিক রাজনীতি নির্বিশেষে—ইতিহাসের নৃ-তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার অন্যতম মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই আমরা এখানে পূর্বোক্ত গবেষণার কিছু অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করাকে পছন্দ করছি, বিশেষ করে যেহেতু বেনিয়ামিন ভেনিসের অধীনস্থ করফু (Corfo) দ্বীপে মাত্র একজন ইহুদিকে পেয়েছিলেন।
«
… ভূমধ্যসাগরে নৌ-জিহাদ এবং উসমানীয় যুদ্ধসমূহ ছিল জেনোয়াবাসীদের বিনিয়োগের লক্ষ্যে কাজ করতে ধাবিত করার অন্যতম প্রধান কারণ...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أموالهم في إسبانيا والبرتغال، وكان لهذا نتائج خطيرة في كل من جنوة والبرتغال وإسبانيا
… ولم تكن جنوة- وكذلك البندقية- تقيم وزنا للمسائل العقائدية، فالمال والمال وحده هو المحرّك لهم في توجهاتهم السياسية بل والعسكرية. لقد تعاونوا مع المسلمين والمسيحيين على سواء، وقدموا العون للعثمانيين والأوربيين على سواء، مما دفع البابا بيوس الثاني في القرن الخامس عشر لأن يصف كل بندقي، وكل جنوي بأنه عبد للاستعمار التجاري «الوسخ sordid «وذلك على حد تعبير البابا.
وقد عانى أهل إسبانيا بالذات من تجار وصيارفة جنوة، فقد كانوا- أي أهل إسبانيا- فلا حين لا يتقنون ألاعيب الصيارفة. ألا يفسر هذا ما علّق به بنيامين على حال أهل جنوة رغم قلة تعليقاته في كتابه هذا الذي يعدّ بمثابة تقرير عن يهود العالم في عصره (القرن الثاني عشر للميلاد) ، ورغم أنّ تعليقه صحيح من الناحية التاريخية إلا أنه (أي بنيامين) لم يكن هكذا في كل المواقف حريصا على التعليق، ربما كان هذا ليؤكد المثل القائل (عدوّك ابن كارك) . أما عن اليهود في روما- عقر دار المسيحية- فلم يكن اليهود ليتخلوا عن موقعهم فيها، فمنهم دائما نفر في موقع كل سلطة كبرى لا يتخلون عنه إلا إذا أجبروا على ذلك، فحول بعض الخلفاء العباسيين وجدناهم، وحول معظم الخلفاء الفاطميين وجدناهم، وفي بلاط الباباوية لابد أن نجدهم، وما كان هذا ليروق للمجامع الكنسيّة غالبا، لكنّ المصالح غالبا ما تغلب فقد كان يحيئيل سليمان اليهودي مستشارا للبابا اسكندر الثالث (نص
স্পেন এবং পর্তুগালে তাদের সম্পদ ছিল, এবং এর ফলে জেনোয়া, পর্তুগাল ও স্পেন—এই সব স্থানেই মারাত্মক পরিণতি দেখা দিয়েছিল
… জেনোয়া—এবং একইভাবে ভেনিসও—আকিদাগত বা বিশ্বাসগত বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিত না। বরং তাদের রাজনৈতিক এমনকি সামরিক গতিবিধির পেছনে মূল চালিকাশক্তি ছিল অর্থ এবং কেবল অর্থই। তারা মুসলিম ও খ্রিস্টান উভয় পক্ষের সাথেই সমানভাবে সহযোগিতা করেছিল এবং উসমানীয় ও ইউরোপীয় উভয় পক্ষকেই সমানভাবে সাহায্য প্রদান করেছিল। এর ফলে পঞ্চদশ শতাব্দীতে পোপ দ্বিতীয় পিউস প্রত্যেক ভেনিসীয় এবং প্রত্যেক জেনোয়াবাসীকে 'নোংরা' (sordid) বাণিজ্যিক উপনিবেশবাদের দাস হিসেবে অভিহিত করেছিলেন; এটি ছিল পোপের নিজস্ব অভিব্যক্তি।
বিশেষ করে স্পেনের অধিবাসীরা জেনোয়ার ব্যবসায়ী ও অর্থবিনিময়কারীদের কারণে অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করেছিল। কারণ স্পেনের অধিবাসীরা ছিল কৃষক শ্রেণীর, যারা অর্থবিনিময়কারীদের কারসাজি সম্পর্কে মোটেও পারদর্শী ছিল না। এটি কি জেনোয়ার অধিবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে বেঞ্জামিনের করা সেই মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেয় না? যদিও তার এই বইটিতে—যা তার সমসাময়িক (খ্রিস্টীয় দ্বাদশ শতাব্দী) বিশ্বের ইহুদিদের সম্পর্কে একটি প্রতিবেদনের মতো বিবেচিত—মন্তব্যের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত নগণ্য। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তার মন্তব্য সঠিক হওয়া সত্ত্বেও, তিনি (অর্থাৎ বেঞ্জামিন) সব ক্ষেত্রে মন্তব্য করার ব্যাপারে এমন উৎসাহী ছিলেন না। সম্ভবত এটি সেই প্রবাদটিরই সত্যতা নিশ্চিত করে যে, "তোমার সমপেশার মানুষই তোমার শত্রু"। আর রোমে—যা ছিল খ্রিস্টধর্মের কেন্দ্রস্থল—সেখানকার ইহুদিদের কথা বলতে গেলে, তারা সেখানকার নিজেদের অবস্থান ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল না। প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রে সবসময়ই এমন কিছু ইহুদি ব্যক্তি থাকত যারা বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত সেই অবস্থান ছাড়ত না। আমরা তাদেরকে কিছু আব্বাসীয় খলিফার আশেপাশে পেয়েছি, অধিকাংশ ফাতিমীয় খলিফাদের সান্নিধ্যেও তাদের পেয়েছি এবং পোপের দরবারেও অবশ্যই তাদের দেখা মেলে। চার্চের যাজকীয় সভাগুলোর কাছে এটি প্রায়শই পছন্দনীয় ছিল না, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বার্থই জয়ী হতো। যেমন, ইহুদি ইয়াহয়িয়েল সুলাইমান পোপ তৃতীয় আলেকজান্ডারের উপদেষ্টা ছিলেন (পাঠ্য
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
كلمات عزرا حداد: وزيره) وكان منهم «شاب حسن المنظر على جانب من الذكاء وحصافة الرأى كثير التردد على قصر البابا بصفة كونه ناظر الأملاك الخاصة» وكان لليهود دور سياسى في روما إذ أيدوا البابا اسكندر الثالث رغم خلافه مع الإمبراطور، وعندما انتصر البابا وعاد من منفاه استقبله يهود روما حاملين أسفار التوراه! ويركز بنيامين على أنّ معظم يهود روما كانوا رابيين* وعلماء في التوراة والتلمود.
أما الخرافات التي ردّدها بنيامين من حيث نسبة تأسيس مواضع بعينها ليهود أوائل، فقد فندها عزرا حداد بأسلوب علمي ما كنا لنقدر على مجاراته فيه لتنوع مصادره، ولأنّه ابن الدار وهو أدرى بمساربها وما فيها.
أما السبب الأخير- ولعله الأهم- الذي جعل يهود شبه الجزيرة الإيطالية يتركزون وقت رحلة بنيامين في جنوب إيطاليا أكثر من تركزهم في شمالها. فهو في الواقع أن هذه المنطقة كانت قد كادت منذ وقت غير بعيد (القرنين العاشر والحادي عشر للميلاد) أن تصبح تحت حكم المسلمين، واليهود- كما سبق القول- كانوا يتتبعون المناطق التي يسودها الحكم الإسلامي للعيش في رحابه. كان ذلك طوال العصور الوسطى وشطر من التاريخ الحديث. وإذا كان اليهود قد ساعدوا المسلمين في فتح الأندلس، فإنهم لم يقفوا من مسلمي
এজরা হাদ্দাদের কথা: তাঁর উজির) এবং তাঁদের মধ্যে ছিলেন «এক সুদর্শন যুবক, যিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ ছিলেন; পোপের ব্যক্তিগত সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি প্রায়ই পোপের প্রাসাদে যাতায়াত করতেন।» রোমে ইহুদিদের একটি রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল, কারণ তারা সম্রাটের সাথে বিরোধ থাকা সত্ত্বেও পোপ তৃতীয় আলেকজান্ডারকে সমর্থন করেছিল। পোপ যখন বিজয়ী হয়ে নির্বাসন থেকে ফিরে এলেন, তখন রোমের ইহুদিরা তাওরাত গ্রন্থসমূহ হাতে নিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়! বেঞ্জামিন এই বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন যে, রোমের অধিকাংশ ইহুদিই রব্বি* এবং তাওরাত ও তালমুদ শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।
বেঞ্জামিন নির্দিষ্ট কিছু স্থানের গোড়াপত্তন আদি ইহুদিদের সাথে সম্পর্কিত করে যেসব কাল্পনিক কাহিনী বর্ণনা করেছেন, এজরা হাদ্দাদ তা এমন এক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খণ্ডন করেছেন যা অনুসরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না; কারণ তাঁর তথ্যসূত্রের বৈচিত্র্য ছিল ব্যাপক এবং তিনি ছিলেন সেই বিষয়েরই বিশেষজ্ঞ, তাই এর সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো তাঁর নখদর্পণে ছিল।
সর্বশেষ কারণ—এবং সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—যা বেঞ্জামিনের সফরের সময় ইতালীয় উপদ্বীপের ইহুদিদের উত্তরের চেয়ে দক্ষিণ ইতালিতে বেশি সংখ্যায় সমবেত করেছিল, তা হলো মূলত এই অঞ্চলটি খুব বেশি দিন আগে নয় (খ্রিস্টীয় দশম ও একাদশ শতাব্দীতে) মুসলিম শাসনের অধীনে আসার উপক্রম হয়েছিল। আর ইহুদিরা—যেমনটি আগেই বলা হয়েছে—ইসলামী শাসন বিরাজমান এলাকাগুলোতে তাদের আশ্রয়ে বসবাসের সুযোগ খুঁজত। মধ্যযুগ এবং আধুনিক ইতিহাসের একটি বড় সময় জুড়ে এমনটিই ছিল। যদি ইহুদিরা আন্দালুস (স্পেন) বিজয়ে মুসলিমদের সাহায্য করে থাকে, তবে তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে...
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
صقلية موقف عداء، كما لم يكونوا مستائين من محاولات المسلمين فتح جنوب إيطاليا. ولم يتحالفوا مع الغزاة الصليبيين ضد العالم الإسلامي.. على كل حال لم يكد ينقضى القرن الحادي عشر حتى كان المسلمون قد خرجوا من صقليه، وبالتالي ضاع أملهم في الاستيلاء على جنوب إيطاليا، ذلك الأمل المفقود لهم ولليهود على سواء فكل الشواهد التاريخية تؤكد أن اليهود كانوا في هذه الفترة سيتخذون جانب المسلمين بشكل أو بآخر في أثناء صراعهم مع أوربا العصور الوسطى.
সিকিলির প্রতি তাদের কোনো শত্রুভাবাপন্ন অবস্থান ছিল না, তেমনি দক্ষিণ ইতালি বিজয়ে মুসলমানদের প্রচেষ্টায় তারা অসন্তুষ্টও ছিল না। মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে তারা ক্রুসেডার আক্রমণকারীদের সাথে কোনো মৈত্রীও স্থাপন করেনি। যা-ই হোক, একাদশ শতাব্দী শেষ হওয়ার পূর্বেই মুসলমানরা সিকিলি থেকে বিদায় নিয়েছিল, ফলে দক্ষিণ ইতালি অধিকার করার যে আশা তাদের ও ইহুদিদের মাঝে সমানভাবে বিদ্যমান ছিল, তা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। প্রকৃতপক্ষে সমস্ত ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণ একথাই নিশ্চিত করে যে, মধ্যযুগের ইউরোপের সাথে মুসলমানদের লড়াই চলাকালে ইহুদিরা কোনো না কোনোভাবে মুসলমানদের পক্ষই গ্রহণ করত।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بنيامين في الدولة البيزنطية:بعد أن غادر بنيامين كورفو -Corfu التابعة للبندقية رغم وقوعها على الساحل اليوناني- يكون قد دخل كيانا سياسيا كبيرا آخر. إنه الدولة البيزنطية ونبدأ الآن بإيراد أعداد اليهود في المدن والقرى البيزنطية من خلال جدول، لنتمكّن من الوصول إلى بعض النتائج:
مسلسل المدينة والقرية عدد اليهود 1- أرته (قرية) 100 2- أخيلوس 10 3- أناطوليكه- 4- بتراس 50 5- ليبنتو 100 6- كريسه 200 7- قورنث 300 8- طيبة 2000 9- نفروبنت 200 10- يابشتريسة 100 11- رابنكه 100 12- شينون بوتامس 50 13- غرديكى 10 (؟) 14- أرميروس 400
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে বিনিয়ামিন:গ্রীক উপকূলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ভেনিসের অন্তর্ভুক্ত কর্ফু (Corfu) ত্যাগ করার পর, বিনিয়ামিন অন্য একটি বৃহৎ রাজনৈতিক সত্তায় প্রবেশ করেন। এটি হলো বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য; এখন আমরা একটি তালিকার মাধ্যমে বাইজেন্টাইন শহর ও গ্রামগুলোতে ইহুদিদের সংখ্যা উপস্থাপন করা শুরু করছি, যাতে আমরা কিছু সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি:
ক্রম শহর ও গ্রাম ইহুদির সংখ্যা ১- আরতাহ (গ্রাম) ১০০ ২- আখিলোস ১০ ৩- আনাতোলিকা - ৪- পাতরাস ৫০ ৫- লেপান্তো ১০০ ৬- ক্রিসা ২০০ ৭- করিন্থ ৩০০ ৮- থিবস ২০০০ ৯- নেগ্রোপন্টা ২০০ ১০- ইয়াবস্তারিস্তা ১০০ ১১- রাবেনিকা ১০০ ১২- শিনোন পোতামোস ৫০ ১৩- গারদিকি ১০ (?) ১৪- আরমিরোস ৪০০
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
15- بسينه 100 16- سلانيك 500 17- متريزي 20 18- درامه 140 19- كرستوبولس 20 20- أبيدوس- 21- القسطنطينية 1500 22- رودستو 400 23- غليوبولى 200 24- كالس 50 25- جزيرة مدلى 100 (؟) 26- جزيرة خيوس 400 27- جزيرة صاموس 300 28- جزيرة رودس 400 29- جزيرة فبرس 100 (؟) 30- فوريقوس- 31- ملمستراس---- الإجمالي 7850
১৫- বিসিনাহ ১০০ ১৬- সালানিক ৫০০ ১৭- মাত্রিজি ২০ ১৮- ড্রামা ১৪০ ১৯- ক্রিস্টোপোলিস ২০ ২০- অ্যাবিডোস- ২১- কনস্টান্টিনোপল ১৫০০ ২২- রোডস্টো ৪০০ ২৩- গ্যালিপোলি ২০০ ২৪- ক্যালিস ৫০ ২৫- মেদেলি দ্বীপ ১০০ (?) ২৬- খিওস দ্বীপ ৪০০ ২৭- সামোস দ্বীপ ৩০০ ২৮- রোডস দ্বীপ ৪০০ ২৯- সাইপ্রাস দ্বীপ ১০০ (?) ৩০- ফোরিকোস- ৩১- মালামিস্ট্রাস---- সর্বমোট ৭৮৫০
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
وبطبيعة الحال فهذه الأرقام لا تمثل كل اليهود في الدولة البيزنطية وإنما في المدن التي زارها بنيامين فقط، ومع هذا فإنها لا تخلو من مؤشّرات نحاول استخلاصها فيما يلي:
- في 31 مدينة وقرية بيزنطية وجد 7850 بينما وجدنا أن في 18 قرية ومدينة رومانية (في الإمبراطورية الرومانية المقدسة- إيطاليا بالتحديد) 3200 يهودي، ومعنى هذا أننا يمكن أن نستنتج مطمئنين أنّ يهود الدولة البيزنطية أكثر عددا من يهود الدولة الرومانية المقدّسة، فلو كانت النسبة واحدة لكان ينبغي أن يكون عدد يهود المدن البيزنطية 5511 أو أن يكون عدد يهود المدن الايطالية (التي زارها بنيامين) : 4558 فهل زيادة عدد اليهود في الدولة البيزنطية متمشية تمشيا طبيعيا مع زيادة عدد السكان فيها بشكل عام (فالدولة البيزنطية بشكل عام كانت أكثر سكانا من الممالك الإيطالية أو الجزء الجنوبي من الإمبراطورية الرومانية المقدسة) أم أن وراء هذه الزيادة أسبابا عقائدية كأن يكون اليهود أقل تعرضا للإهانة في رحاب الدولة البيزنطية؟ وإن كان الأمر كذلك، فهل هناك أسباب عقائدية تكمن خلف ذلك؟
ولا يمكن بطبيعة الحال اعتبار المدن والقرى التي أوردها بنيامين سواء في شبه الجزيرة الإيطالية أم في الدولة البيزنطية عينة عشوائية، تتيح لنا رقما دقيقا أو قريبا من الدقة عن العدد الفعلي لليهود، ذلك أنه من الواضح أنّ بنيامين كان يتحرّى المناطق التى بها تجمعات يهودية، ولم يكن طريقة في رحلته هذه للعلم خالصا أو للسياحة خالصة.. فقد كان الرجل يتشمّم رائحة اليهود، وأينما اشتم ريحهم توجّه.
স্বাভাবিকভাবেই এই সংখ্যাগুলো বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সকল ইহুদিকে প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং শুধুমাত্র সেই শহরগুলোর প্রতিনিধিত্ব করে যেগুলো বিনয়ামিন পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এর মাঝে এমন কিছু নির্দেশক রয়েছে যা আমরা নিম্নোক্তভাবে বের করার চেষ্টা করছি:
- ৩১টি বাইজান্টাইন শহর ও গ্রামে ৭৮৫০ জন ইহুদি পাওয়া গেছে, যেখানে আমরা দেখতে পাই যে ১৮টি রোমান গ্রাম ও শহরে (পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে - বিশেষভাবে ইতালিতে) ৩২০০ জন ইহুদি ছিল। এর অর্থ হলো আমরা নিশ্চিন্তে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের ইহুদিদের সংখ্যা পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের ইহুদিদের তুলনায় বেশি ছিল। যদি অনুপাত একই হতো, তবে বাইজান্টাইন শহরগুলোর ইহুদি জনসংখ্যা ৫৫১১ হওয়া উচিত ছিল অথবা ইতালীয় শহরগুলোর (যেগুলো বিনয়ামিন পরিদর্শন করেছিলেন) ইহুদি জনসংখ্যা হওয়া উচিত ছিল ৪৫৫৮। তাহলে কি বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যে ইহুদিদের এই সংখ্যা বৃদ্ধি সাধারণভাবে সেখানকার সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে স্বাভাবিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ (কারণ সাধারণভাবে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের জনসংখ্যা ইতালীয় রাজ্যসমূহ বা পবিত্র রোমান সাম্রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলের তুলনায় বেশি ছিল), নাকি এই বৃদ্ধির পেছনে কোনো আদর্শিক কারণ ছিল, যেমন ইহুদিরা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমানায় কম লাঞ্ছনার শিকার হতো? আর যদি তাই হয়, তবে এর পেছনে কি কোনো আদর্শিক কারণ নিহিত ছিল?
স্বাভাবিকভাবেই বিনয়ামিন ইতালি উপদ্বীপ কিংবা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের যে সকল শহর ও গ্রামের কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলোকে কোনো দৈব নমুনা হিসেবে গণ্য করা যায় না, যা আমাদের ইহুদিদের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে একদম সঠিক বা এর কাছাকাছি কোনো ধারণা দিতে পারে। কারণ এটি স্পষ্ট যে, বিনয়ামিন সেই অঞ্চলগুলোই অনুসন্ধান করছিলেন যেখানে ইহুদিদের সমাবেশ ছিল। তার এই সফরের উদ্দেশ্য নিছক জ্ঞানার্জন কিংবা নিছক পর্যটন ছিল না; বরং এই ব্যক্তি ইহুদিদের উপস্থিতির ঘ্রাণ নিচ্ছিলেন এবং যেখানেই তাদের অস্তিত্বের আভাস পেতেন সেখানেই তিনি গমন করতেন।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وهناك مؤشر آخر يؤكد أنّ تركز اليهود في الدولة البيزنطيّة كان أكثر من تركّزهم في الإمبراطورية الرومانية المقدسة ومقر الباباويه، ذلك أنّ عدد اليهود في القسطنطينية (العاصمة) كما أورد بنيامين هو 1500 بينما هو في روما 200 فقط، وإذا أضفنا لهذا أن يهود روما كانوا في غالبهم في خدمة البلاط الباباوى اتضح لنا أنّ الوجود الحر- إن صحّ التعبير- في القسطنطينية كان أكثر بكثير، فيهود القسطنطينية يعيشون في جيتو، ويمتهنون مختلف المهن.
أما بالنسبة إلى حركة بنيامين في الدولة البيزنطية فيلاحظ أنه لم يتوغل في البر البيزنطي أو داخل البلاد وإنما كان دائما إما في الموانيء أو في جزر بحر إيجه وغيرها حتى وصل إلى القسطنطينية، ومنها عاد أيضا سالكا طريق بحر إيجة مارّا بجزره حتى قبرص ومنها عاد إلى طرسوس أو طرشيش (أو ترشيش) على شاطيء المتوسط ومنها اتجه إلى أنطاكيه على الشاطئ الغربي للمتوسط وبذلك يكون قد دخل في حدود دولة المسلمين- الدولة العباسية لكن المنطقة التي جابها كانت- للأسف- تحت حكم الاستعمار الأوربي الصليبي، ومنها انطلق إلى دمشق وغيرها من بلاد الشام التي كانت تحت حكم الأيوبيين ذوى الولاء الاسمي للدولة العباسيّة، وهو ما سنتناوله في الصفحات التالية.
****
সেখানে আরও একটি নির্দেশক রয়েছে যা নিশ্চিত করে যে, পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য এবং পোপের সদরদপ্তরের তুলনায় বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে ইহুদিদের ঘনত্ব বেশি ছিল। এর কারণ হলো, বেঞ্জামিন যেমনটি উল্লেখ করেছেন, কনস্টান্টিনোপলে (রাজধানী) ইহুদিদের সংখ্যা ছিল ১,৫০০, যেখানে রোমে ছিল মাত্র ২০০। এর সাথে যদি আমরা এটি যোগ করি যে, রোমের ইহুদিদের অধিকাংশই পোপের রাজদরবারের সেবায় নিয়োজিত ছিল, তবে এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কনস্টান্টিনোপলে 'মুক্ত উপস্থিতি'—যদি বলা যায়—অনেক বেশি ছিল। কারণ কনস্টান্টিনোপলের ইহুদিরা ঘেটোতে (পৃথক পল্লীতে) বাস করত এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ছিল।
আর বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে বেঞ্জামিনের ভ্রমণের বিষয়ে লক্ষ্য করা যায় যে, তিনি বাইজেন্টাইন মূল ভূখণ্ডে বা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেননি; বরং তিনি সর্বদা হয় বন্দরে অথবা এজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও অন্যান্য স্থানে অবস্থান করতেন, যতক্ষণ না তিনি কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছান। সেখান থেকে তিনি পুনরায় এজিয়ান সাগরের পথ ধরে এর দ্বীপপুঞ্জগুলোর মধ্য দিয়ে সাইপ্রাস পর্যন্ত ফিরে আসেন এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর উপকূলের তারসুস বা তারশিশে ফিরে যান। সেখান থেকে তিনি ভূমধ্যসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত আন্তাকিয়ার দিকে অগ্রসর হন এবং এর মাধ্যমে তিনি মুসলিম রাষ্ট্রের—আব্বাসীয় খিলাফতের—সীমানায় প্রবেশ করেন। কিন্তু তিনি যে অঞ্চলটি ভ্রমণ করেছিলেন তা দুঃখজনকভাবে ইউরোপীয় ক্রুসেডার ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল। সেখান থেকে তিনি দামেস্ক এবং শামের অন্যান্য শহরের উদ্দেশ্যে রওনা হন, যা আইয়ুবীয়দের শাসনাধীন ছিল এবং যারা আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতি নামমাত্র আনুগত্য পোষণ করত। এই বিষয়টি আমরা পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে আলোচনা করব।
****
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
تحليل بنيامين للأوضاع في الدولة البيزنطية:لم ينعم اليهود في ظل الدولة البيزنطية- بشكل عام- بمعاملة حسنة، وكانوا يصلون إليها من موانئ البحر المتوسط- خاصة الإسكندريّة- للتجارة، وفي أواخر القرن التاسع للميلاد أجبر الإمبراطور باسيلوس (باسيل الأول 867- 886 من الأسرة المقدونية) يهود القسطنطينية على التحوّل إلى المسيحية، وقتل عددا كبيرا منهم ممن رفض التحول، ولم يكن هذا قصرا على اليهود وإنما جرى في إطار خطة عامة اتبعها باسيل لنشر المسيحية في أرجاء إمبراطوريته.
«وفي زمن باسيل جرت محاولات لنشر المسيحية بين الشعوب الوثنية كما جرت محاولات لتحويل المخالفين للمذهب الكاثوليكي إلى الكاثوليكية، والراجح أنه حدث في عهده أن حاولت الإمبراطورية البيزنطية أن تحوّل الروس إلى المسيحية، إذ يشير مصدر تاريخي إلى أنّ باسيل حثّ الروس على أن يقبلوا التنصير، وأن يقروا رئيس الأساقفة الذي سامه لهم (عيّنه لهم) أجناتيوس على أنه من العسير أن نقرر أية طائفة من الروس يشير إليها المصدر التاريخي، على أنه حدث أيضا في زمن باسيل الأول أن اعتنق المسيحية الجانب الأكبر من القبائل الصقلبية التي تنزل البيلوبونيز، وكذا الصقالبة الوثنيون الذين يقيمون بجبال تايجيتوس Taygetus واعتنق المسيحية أيضا في زمن باسيل الصقالبة الذين أقاموا في غرب شبه جزيرة البلقان،
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে বেনিয়ামিনের বিশ্লেষণ:বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের অধীনে ইহুদিরা সাধারণত ভালো আচরণ লাভ করেনি। তারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরগুলো—বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়া—থেকে সেখানে পৌঁছাত। নবম শতাব্দীর শেষভাগে, সম্রাট বাসিলিওস (মেসিডোনীয় রাজবংশের প্রথম বাসিল ৮৬৭-৮৮৬) কনস্টান্টিনোপলের ইহুদিদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করেন এবং যারা ধর্মান্তরিত হতে অস্বীকার করেছিল তাদের একটি বিশাল অংশকে হত্যা করেন। এটি কেবল ইহুদিদের ওপর সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল বাসিল কর্তৃক তার সাম্রাজ্যজুড়ে খ্রিস্টধর্ম বিস্তারের লক্ষ্যে গৃহীত একটি সাধারণ পরিকল্পনার অংশ।
«বাসিলের শাসনামলে পৌত্তলিক জাতিগুলোর মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যেমনটি ক্যাথলিক মতবাদের বিরোধীদের ক্যাথলিক ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। অধিকতর সঠিক মতানুসারে, তাঁর রাজত্বকালেই বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য রুশদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল। একটি ঐতিহাসিক সূত্র ইঙ্গিত দেয় যে, বাসিল রুশদের খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন এবং ইগনাটিয়াস কর্তৃক তাদের জন্য নিযুক্ত (নির্ধারিত) আর্চবিশপকে স্বীকৃতি দিতে বলেছিলেন। তবে ঐতিহাসিক সূত্রটি রুশদের কোন গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করছে তা সুনিশ্চিত করা কঠিন। প্রথম বাসিলের সময়ে পেলোপোনিস অঞ্চলে বসবাসকারী স্লাভিক উপজাতিদের একটি বড় অংশও খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল। একইভাবে টাইজেটাস (Taygetus) পর্বতে বসবাসকারী পৌত্তলিক স্লাভরা এবং বলকান উপদ্বীপের পশ্চিমে বসবাসকারী স্লাভরাও বাসিলের সময়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিল।
(খণ্ড: ১)
রিহলাতু বিনিয়ামিন আত-তুতাইলি
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
فخضعوا بذلك لنفوذ بيزنطه وسلطانها، وألزم باسيل اليهود على اعتناق المسيحية» «1»
من هذا النص الذي أورده المؤلف الباز العريني اعتمادا على Avasiliev في كتابه -The Byzantine Empire يتّضح أنّ الدعوة إلى المسيحية وفقا لسياسة باسيل الأول اتخذت شكل المفاوضات السياسية والتبشير الديني باستثناء اليهود، فهم الذين كما قال عزرا حداد في تعليقاته: كانوا أمام خيارين لا ثالث لهما إمّا اعتناق المسيحية وإما القتل.
على أن الجدير بالملاحظة أن شدّة وطأة مسيحيي أوربا على اليهود كانت متزامنة مع توتر علاقاتهم أي علاقات مسيحيي أوربا مع المسلمين، وكانت الحملات الصليبية المتوجّهة إلى العالم الإسلامي على سبيل المثال، تذبح من تقابلهم من اليهود في طريقها، باعتبارهم مخالفين لهم في الدين. هذا جائز. وباعتبارهم حلفاء للمسلمين. هذا جائز ويكاد يكون مؤكّدا. باعتبارهم (أي اليهود) أقرب- عقائديا- إلى المسلمين. هذا أيضا جائز. ولأن التاريخ سيل مستمر بحاضره وماضيه ومستقبله، فليس خروجا عن المنهج التاريخي السليم أن ندلل على ذلك بأحداث لاحقة، فقد وجدنا أن أحد الرحالة الأوربيين في القرن السابع عشر للميلاد، يصف نبينا محمدا صلى الله عليه وسلم بأنّه من أهل السبت sabarhero يقصد أنه يهودي، كما كان
এর মাধ্যমে তারা বাইজেন্টাইন প্রভাব ও কর্তৃত্বের কাছে নতিস্বীকার করে এবং বাসিল ইহুদিদের খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণে বাধ্য করেন। (১)
লেখক আল-বাজ আল-আরিনি এ. ভাসিলিয়েভ (A. Vasiliev) এর 'দ্য বাইজেন্টাইন এম্পায়ার' (The Byzantine Empire) গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে যে পাঠ্যটি উপস্থাপন করেছেন, তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, প্রথম বাসিলের নীতি অনুযায়ী খ্রিষ্টধর্মের প্রচার রাজনৈতিক আলোচনা ও ধর্মীয় মিশনারি রূপ গ্রহণ করেছিল। তবে ইহুদিরা এর ব্যতিক্রম ছিল; এজরা হাদ্দাদ তার মন্তব্যে যেমনটি বলেছেন: তারা এমন দুটি বিকল্পের সামনে ছিল যার কোনো তৃতীয় পথ ছিল না—হয় খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করা, না হয় মৃত্যু বরণ করা।
তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো যে, ইহুদিদের ওপর ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের নির্যাতনের তীব্রতা মুসলিমদের সাথে তাদের (অর্থাৎ ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের) সম্পর্কের উত্তেজনার সমসাময়িক ছিল। উদাহরণস্বরূপ, মুসলিম বিশ্বের অভিমুখে পরিচালিত ক্রুসেড অভিযানগুলো তাদের পথে সামনে পড়া ইহুদিদের জবাই করত; তাদেরকে ধর্মের বিরোধী হিসেবে গণ্য করার কারণে। এটি হতে পারে। আবার মুসলিমদের মিত্র হিসেবে গণ্য করার কারণেও। এটিও হতে পারে এবং প্রায় নিশ্চিত। অথবা তারা (অর্থাৎ ইহুদিরা) আকিদাগতভাবে মুসলিমদের অধিকতর নিকটবর্তী হওয়ার কারণে। এটিও হতে পারে। যেহেতু ইতিহাস বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন স্রোত, তাই পরবর্তী ঘটনাবলি দিয়ে এর প্রমাণ দেওয়া সঠিক ঐতিহাসিক পদ্ধতির পরিপন্থী নয়। আমরা দেখতে পাই যে, সপ্তদশ শতাব্দীর একজন ইউরোপীয় পরিব্রাজক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে 'আহলুস সাবত' (sabarhero) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে তিনি একজন ইহুদি ছিলেন, যেমনটি ছিল...