(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: -)
المسالك والممالك للاصطخري أو مسالك الممالك - مصر   (الإصطخري)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: المسالك والممالك

المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن محمد الفارسي الاصطخري، المعروف بالكرخي (ت 346هـ)

الناشر: الهيئة العامة لقصور الثقافة، القاهرة

الطبعة:

عدد الصفحات: 214

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইস্তাখরি রচিত আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক অথবা মাসালিকুল মামালিক - মিসর   (আল-ইস্তাখরি)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক

লেখক: আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-ইস্তাখরি, যিনি আল-কারখি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৪৬ হিজরি)

প্রকাশক: আল-হায়আতুল আম্মাহ লি-কুসুরিস সাকাফাহ, কায়রো

সংস্করণ:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تعريف

بسم الله الرّحمن الرّحيم عزيزى القارئ.. تحرص سلسلة (الذخائر) دائما على التنويع فى الوجبة الثقافية الهنيئة المريئة التى تقدمها لك مرتين كلّ شهر، فهى تخرج بك من كتاب فى الأدب إلى آخر فى اللغة، إلى ثالث فى التاريخ إلى رابع فى الفلسفة، إلى خامس فى الاجتماع.. وهكذا.

وفى هذه الحلقة تقدّم لك (الذخائر) كتابا فى جغرافيّة الأقاليم، أو علم البلدان، هو كتاب (المسالك والممالك) لأبى إسحاق إبراهيم بن محمد الفارسى الإصطخرى المتوفّى حوالى منتصف القرن الرابع الهجرى.

ويبدو أن الرجل كان سيّئ الحظ فى حياته، وبعد مماته، أما عن حياته فلم يعرف عنها الكثير، بل إن نسبة (الإصطخرى) قد غلبه عليها فقيه شافعىّ معاصر له، هو: أبو سعيد الحسن بن أحمد بن يزيد ت 328 هـ[سير أعلام النبلاء للذهبى 11/634] أما بعد موته فقد حالف سوء الحظّ كنيته (أبو إسحاق) فكتبت على صفحة عنوان الكتاب فى طبعة وزارة الثقافة- مصر 1961 (ابن إسحاق) ، بينما كناه محقّق الكتاب (أبو القاسم) [انظر ص 9 من الطبعة المشار إليها] .

عنوان (المسالك والممالك) حمله أكثر من كتاب لأكثر من مؤلّف جغرافىّ. فهناك (المسالك والممالك) لأبى جعفر أحمد بن الحارث بن المبارك الخزّاز ت 258 هـ، و (المسالك والممالك) لأبى العبّاس جعفر ابن أحمد المروزىّ ت 274 هـ. ويقول صاحب (الفهرست) إنه أوّل من ألّف كتابا فى المسالك والممالك.

وممن ألّفوا كتبا بهذا العنوان: أبو العبّاس أحمد بن محمد بن مروان ابن الطيّب السّرخسى ت 286 هـ، ومنهم: أبو عبد الله أحمد بن محمد ابن نصر الجيهانى (ق 3 هـ) ، ومنهم: عبيد الله بن أحمد بن خرداذ به

€
পরিচয়

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। প্রিয় পাঠক.. (আয-যাখায়ের) সিরিজটি সর্বদা আপনাকে প্রতি মাসে দুইবার যে আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ সাংস্কৃতিক উপাদেয় পরিবেশন করে থাকে তাতে বৈচিত্র্য আনতে সচেষ্ট থাকে। এটি আপনাকে সাহিত্যের বই থেকে ভাষাতত্ত্বের বইয়ে, সেখান থেকে ইতিহাসের বইয়ে, চতুর্থত দর্শনের বইয়ে এবং পঞ্চমত সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে নিয়ে যায়.. এভাবেই চলতে থাকে।

আর এই পর্বে (আয-যাখায়ের) আপনার সামনে উপস্থাপিত করছে অঞ্চলের ভূগোল বা দেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞানের ওপর একটি গ্রন্থ। এটি হলো আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-ইসতাখরি রচিত 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' (পথ ও রাজত্বসমূহ), যিনি হিজরি চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মনে হয় যে লোকটি তার জীবনে এবং মৃত্যুর পরেও দুর্ভাগ্যবান ছিলেন। তার জীবনের কথা বলতে গেলে সে সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায় না। বরং 'আল-ইসতাখরি' নিসবতটি (সম্পর্কিত নাম) তার সমসাময়িক একজন শাফেয়ি ফকিহ-এর নামের ওপর প্রবল হয়ে যায়, যিনি হলেন: আবু সাঈদ আল-হাসান ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াজিদ (মৃত্যু ৩২৮ হি.) [জাহাবির সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ১১/৬৩৪]। আর তার মৃত্যুর পর, তার কুনিয়াত (উপনাম) 'আবু ইসহাক'-এর ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্য দেখা দেয়। মিশরের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ১৯৬১ সালের সংস্করণে বইয়ের শিরোনাম পাতায় এটি 'ইবনে ইসহাক' হিসেবে লেখা হয়েছিল, অথচ বইটির সম্পাদক তাকে 'আবু আল-কাসিম' বলে অভিহিত করেছেন [উল্লেখিত সংস্করণের ৯ নম্বর পৃষ্ঠা দেখুন]।

'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' শিরোনামটি একাধিক ভূগোলবিদের একাধিক গ্রন্থের নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আবু জাফর আহমদ ইবনে আল-হারিস ইবনে আল-মুবারক আল-খাযযায (মৃত্যু ২৫৮ হি.)-এর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক', এবং আবু আব্বাস জাফর ইবনে আহমদ আল-মারওয়াযি (মৃত্যু ২৭৪ হি.)-এর 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক'। 'আল-ফিহরিসত' গ্রন্থের লেখক বলেন যে, তিনিই প্রথম 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।

এই শিরোনামে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মারওয়ান ইবনুত তায়্যিব আস-সারখাসি (মৃত্যু ২৮৬ হি.), এবং তাদের মধ্যে আছেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-জায়হানি (তৃতীয় শতাব্দী হি.), এবং তাদের মধ্যে আছেন: উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে খুরদাদবিহ।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৬)
ت 300 هـ، ومنهم: أبو زيد أحمد بن سهل البلخى ت 322 هـ.

ويجيء الإصطخرى مؤلّفنا فى الطبقة التى تلى من تقدّم، ومركزها فى القرن الرابع الهجرى، ومن أبرز أعلامها- إلى جانب الإصطخرى- أبو الفرج قدامة بن جعفر ت 337 هـ[وشهرته كنا قد لا تمنع من أنّ له جهودا مدوّنه فى جغرافية البلدان والأقاليم] ، والمسعودى- صاحب (مروج الذهب) ت 346 هـ، وابن حوقل ت 367 هـ، والمقدسى (شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد ت 375 هـ) صاحب (أحسن التقاسيم فى معرفة الأقاليم) .

اتّساع التأليف فى جغرافية البلدان والأقاليم يلفتنا إلى وجه من الشّبه، قد يبدو- لأول وهلة- بعيدا، بين موضوع هذه الكتب وموضوع الكتاب الذي قدمته (الذخائر) فى حلقتها السابقة، وهو كتاب (مفاتيح العلوم) للخوارزمى ت 387 هـ، والذي قرن إليه عند تقديمه كتابا (إحصاء العلوم) للفارابى (أبو نصر محمد بن محمد بن طرخان ت 339 هـ) و (الفهرست) لأبى الفرج محمد بن إسحاق النديم ت 380.

كلا الضربين من موضوعات التأليف يحمل دلالة تاريخيّة وحضاريّة، كلاهما دالّ على اتّساع رقعة العالم الإسلامى من جهة، وعلى بلوغ العلوم العربيّة الإسلامية مرحلة من النضج والازدهار والتشعّب من جهة أخرى، اتّساع رقعة العالم الإسلامى اقتضى التعريف به بل وببقيّة مناطق العالم المعروفة وقتها، سكّانا وبلادا وطرقا ومعالم طبيعيّة؛ تسهيلا للتنقل بينها، تجارة وعملا، أو دراسة وبحثا، أو متعة وتأمّلا. بينما اقتضى ازدهار العلوم الإسلامية العربيّة وتشعبها العمل على إحصائها ثم تصنيفها وفهرستها.

هكذا مضى ركب الثقافة العربيّة الإسلامية، فى ظلّ ظروفه المواتية، حثيثا فى اتجاه التطوّر وسعة الأفق، عازفا عن كلّ ما يجرّ إلى التأخّر ويبعث على الانغلاق.

عبد الحكيم راضى

€
৩০০ হিজরি, এবং তাদের মধ্যে রয়েছেন: আবু যায়েদ আহমদ ইবন সাহল আল-বালখি মৃত্যু ৩২২ হিজরি।

এবং আমাদের লেখক আল-ইসতাখরি পরবর্তী স্তরে আসেন যা পূর্ববর্তীদের অনুগামী এবং এর কেন্দ্রবিন্দু চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে। আল-ইসতাখরি ছাড়াও এই স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-ফারাজ কুদামা ইবন জাফর মৃত্যু ৩৩৭ হিজরি [তার কাতিব হিসেবে খ্যাতি থাকা সত্ত্বেও দেশ ও অঞ্চলের ভূগোলে তার লিখিত অবদান অনস্বীকার্য], এবং আল-মাসউদি— (মুরুজ আজ-যাহাব) গ্রন্থের রচয়িতা মৃত্যু ৩৪৬ হিজরি, এবং ইবন হাওকাল মৃত্যু ৩৬৭ হিজরি, এবং আল-মাকদিসি (শামস আদ-দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন আহমদ মৃত্যু ৩৭৫ হিজরি) যিনি (আহসান আত-তাকাসিম ফি মারিফাত আল-আকালিম) গ্রন্থের রচয়িতা।

দেশ ও অঞ্চলের ভূগোলের ওপর রচনার এই ব্যাপকতা আমাদের এক সাদৃশ্যের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা প্রথম দৃষ্টিতে দূরবর্তী মনে হতে পারে। এই বইগুলোর বিষয়বস্তু এবং (আয-যাখাইর) ধারাবাহিকের আগের পর্বে উপস্থাপিত আল-খাওয়ারিজমি (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি) রচিত (মাফাতিহ আল-উলুম) বইটির বিষয়বস্তুর মধ্যে এক প্রকার মিল রয়েছে। যার সাথে উপস্থাপনের সময় আল-ফারাবির (আবু নাসর মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ ইবন তারখান মৃত্যু ৩৩৯ হিজরি) (ইহসা আল-উলুম) এবং আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আন-নাদিম (মৃত্যু ৩৮০ হিজরি) রচিত (আল-ফিহরিসত) গ্রন্থ দুটিকে যুক্ত করা হয়েছিল।

এই উভয় প্রকারের রচনাই ঐতিহাসিক এবং তামাদ্দুনিক তাৎপর্য বহন করে। উভয়ই একদিকে যেমন ইসলামি বিশ্বের ভৌগোলিক পরিধির বিস্তৃতি নির্দেশ করে, অন্যদিকে তেমনি আরবি-ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিপক্কতা, সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যের স্তরে পৌঁছানোর প্রমাণ দেয়। ইসলামি বিশ্বের সীমানা বিস্তৃতির ফলে তৎকালীন পরিচিত বিশ্বের বাসিন্দা, দেশ, পথ এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে পরিচিত করানোর প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল; যাতে বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান, অথবা শিক্ষা ও গবেষণা, কিংবা ভ্রমণ ও চিন্তার উদ্দেশ্যে যাতায়াত সহজতর হয়। অপরদিকে, আরবি-ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞানের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যের ফলে সেগুলোকে গণনা করা এবং এরপর সেগুলোর শ্রেণিবিন্যাস ও তালিকা তৈরির কাজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।

এভাবেই অনুকূল পরিস্থিতিতে আরবি-ইসলামি সংস্কৃতির কাফেলা দ্রুতগতিতে বিবর্তন এবং বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গির দিকে অগ্রসর হয়েছে, যা পশ্চাৎপদতা এবং সংকীর্ণতার দিকে পরিচালিত করে এমন সবকিছু থেকে বিমুখ ছিল।

আব্দুল হাকিম রাযি

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌محقق هذه الطبعة الأستاذ الدكتور محمد جابر عبد العال الحينى

عزيزى القارئ … معذرة.. إذ لم نستطع الحصول على معلومات كافية عن الأستاذ المحقق، وقد لجأنا إلى سؤال العديد من الأصدقاء والزملاء الذين توقعنا أن تكون لهم به معرفة من قريب أو بعيد. لكن ما حصلنا عليه لم يكن ليسد رمقا أو يروى غلة..

لقد ذكر لى أحد أساتذتى «1» أن الدكتور الحينى بدأ حياته بالعمل فى المكتبة العامة لجامعة القاهرة. ونبهنى أحد الأصدقاء «2» إلى أنه حقق بعض أجزاء كتاب (نهاية الأرب) للنويرى الذي طبعته دار الكتب المصريّة، وقد وجدت اسمه بالفعل على الجزءين الثانى والعشرين والخامس والعشرين، كما استخرجت من فهارس المكتبة العامة لجامعة القاهرة أسماء ثلاثة كتب اقترنت باسمه، أحدها بتحقيقه، وهو كتاب (المسالك والممالك) للإصطخرى الذي نقدمه فى هذه الحلقة، والآخران من تأليفه، أحدهما (الخنساء، شاعرة بنى سليم) وقد صدر فى سلسلة أعلام العرب، عن المؤسسة المصرية العامة للتأليف سنة 1962، والآخر (فى العقائد والأديان المعاصرة، الديانات الكبرى) عن الهيئة المصرية العامة للتأليف والنشر سنة 1971. أما أنا فقد التقيت به فى العالم الجامعى 79/1980 فى كلية التربية بجامعة عين شمس، حيث كان كلانا منتدبا لإلقاء بعض المحاضرات بالكلية..

ذلك كلّ ما لدينا عن الأستاذ الدكتور محقق الكتاب، وإن هيئة تحرير سلسلة الذخائر ليسعدها أن تتلقى أى معلومات عنه تفيد فى كتابة ترجمة مناسبة له يمكن الإفادة منها فى المستقبل.

رئيس التحرير

€
এই সংস্করণের গবেষক প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ জাবের আব্দুল আল আল-হিনী

প্রিয় পাঠক … ক্ষমা করবেন... যেহেতু আমরা গবেষক উস্তাদ সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হইনি। আমরা এমন অনেক বন্ধু ও সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করেছি যাদের সাথে তাঁর নিকট বা দূর সম্পর্কের জানাশোনা থাকার সম্ভাবনা ছিল বলে আমাদের ধারণা ছিল। কিন্তু আমরা যা পেয়েছি তা সামান্যতম তৃষ্ণা মেটানোর জন্যও যথেষ্ট ছিল না...

আমার একজন উস্তাদ আমাকে জানিয়েছেন যে, ডক্টর আল-হিনী তাঁর কর্মজীবন কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরিতে কাজের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন। জনৈক বন্ধু আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি নুওয়াইরী রচিত (নিহায়াতুল আরাব) গ্রন্থের কিছু খণ্ড তাহকীক করেছেন যা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ থেকে মুদ্রিত হয়েছে। আমি বাস্তবিকই বাইশ ও পঁচিশতম খণ্ডে তাঁর নাম পেয়েছি। এছাড়াও আমি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরির সূচিপত্র থেকে তাঁর নামের সাথে সংশ্লিষ্ট তিনটি গ্রন্থের নাম সংগ্রহ করেছি; যার একটি তাঁর সম্পাদিত, সেটি হলো ইস্তখরী রচিত (আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক), যা আমরা এই কিস্তিতে উপস্থাপন করছি। অন্য দুটি তাঁর নিজস্ব রচনা; একটি হলো (আল-খানসা, বনী সুলাইম গোত্রের নারী কবি) যা ১৯৬২ সালে আল-মুআসসাসাতুল মিসরিয়্যাহ আল-আম্মাহ লিত-তালিফ থেকে 'আ'লামুল আরব' ধারাবাহিকে প্রকাশিত হয়েছে। অন্যটি হলো (সমকালীন আকিদা ও ধর্মতত্ত্ব: প্রধান ধর্মসমূহ) যা ১৯৭১ সালে আল-হাইআতুল মিসরিয়য়াহ আল-আম্মাহ লিত-তালিফ ওয়ান নাশর থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আর আমি নিজে তাঁর সাথে ১৯৭৯/১৯৮০ শিক্ষাবর্ষে আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদে সাক্ষাৎ করেছি, যেখানে আমরা দুজনেই উক্ত অনুষদে কিছু বক্তৃতা প্রদানের জন্য নিযুক্ত ছিলাম...

গ্রন্থের গবেষক প্রফেসর ডক্টর সম্পর্কে আমাদের কাছে এটুকুই তথ্য আছে। 'আয-যাখাইর' সিরিজের সম্পাদকীয় পর্ষদ তাঁর সম্পর্কে এমন যেকোনো তথ্য পেতে আনন্দিত হবে যা ভবিষ্যতে তাঁর একটি উপযুক্ত জীবনী রচনার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

প্রধান সম্পাদক

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌مراجع هذه الطبعة المرحوم الأستاذ الدكتور: محمد شفيق غربال 1311- 1381 هـ 1984- 1961 م

- مؤرخ من رجال التعليم، ومن أعضاء المجمع اللغوى بالقاهرة.

تخرج بمدرسة دار المعلمين العليا (1915) وحصل على الماچستير فى انجلترا (1924) .

- درّس بالمعلمين العليا، ثم كان أستاذا مساعدا للتاريخ فى الجامعة المصرية القديمة، وتدرّج فى مناصبها إلى أن اختير عميدا لكلية الآداب فيها.

- عمل مستشارا فنيا لوزارة التربية والتعليم (المعارف) ثم وكيلا لوزارة الشئون الاجتماعية.

- تولى فى أعوامه الأخيرة إدارة معهد الدراسات العربية بجامعة الدول العربية حتى وفاته.

‌‌من مؤلفاته المطبوعة:

(1) بداية المسألة المصرية وظهور محمد على.

(2) المفاوضات البريطانية من الاحتلال إلى معاهدة 1936.

(3) منهاج مفصل لدراسة العوامل التاريخية فى بناء الأمة العربية.

(4) «محمد على الكبير» فى سلسلة أعلام الإسلام.

‌‌من مترجماته:

المدينة الفاضلة «ترجمة عن بيكر» .

[الأعلام للزركلى 6/159]

€
এই সংস্করণের পর্যালোচক মরহুম অধ্যাপক ডক্টর: মুহাম্মদ শফিক গুরবাল ১৩১১-১৩৮১ হিজরি, ১৯৮৪-১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ

- শিক্ষা জগতের একজন ইতিহাসবিদ এবং কায়রোর ভাষা একাডেমির একজন সদস্য।

তিনি উচ্চতর শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় (দারুল মুয়াল্লিমীন আল-উলইয়া) থেকে স্নাতক (১৯১৫) সম্পন্ন করেন এবং ইংল্যান্ড থেকে স্নাতকোত্তর (১৯২৪) ডিগ্রি লাভ করেন।

- তিনি উচ্চতর শিক্ষক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন, এরপর প্রাচীন মিশরীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন এবং বিভিন্ন পদোন্নতির মাধ্যমে সেখানকার কলা অনুষদের ডিন হিসেবে নির্বাচিত হন।

- তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (মাআরিফ) কারিগরি উপদেষ্টা এবং পরবর্তীতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আন্ডার সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- জীবনের শেষ বছরগুলোতে তিনি মৃত্যু পর্যন্ত আরব লীগের অন্তর্গত ইনস্টিটিউট অফ অ্যারাবিক স্টাডিজ-এর পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে:

(১) মিশরীয় সংকটের সূচনা এবং মুহাম্মদ আলীর উত্থান।

(২) ব্রিটিশ আলোচনা: দখলদারিত্ব থেকে ১৯৩৬ সালের চুক্তি পর্যন্ত।

(৩) আরব জাতি গঠনে ঐতিহাসিক উপাদানসমূহ অধ্যয়নের বিস্তারিত পাঠ্যক্রম।

(৪) ‘আলামুল ইসলাম’ (ইসলামের বরণীয় ব্যক্তিত্ব) সিরিজে ‘মুহাম্মদ আলী আল-কাবীর’।

তাঁর অনূদিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে:

আল-মাদীনাতুল ফাদিলা (বেকার-এর অনুবাদ)।

[আল-আ'লাম, যিরিকলী ৬/১৫৯]

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدم هذه الطبعة الأستاذ الدكتور عبد العال عبد المنعم الشامى

- تخرج فى قسم الجغرافيا بكلية الآداب جامعة القاهرة.

- حصل على الماچستير (1973) ، والدكتوراه (1977) فى الجغرافيا.

- تدرج فى وظائف هيئة التدريس حتى أصبح استاذا متفرغا بقسم الجغرافيا بآداب القاهرة.

‌‌من مؤلفاته:

- أثر العامل الجغرافى فى ازدهار أم القرى قبل الإسلام.

مجلة الدراسات الإسلامية، السنة الثانية، العدد الأول.

- جهود الجغرافيين المسلمين فى رسم الخرائط، الكويت 1981.

- مدن مصر وقراها عند ياقوت الحموى، الكويت 1981.

- جغرافية المدن عند العرب، عالم الفكر، مج 9/14، الكويت 1978.

- من مباهج الفكر ومناهج العبر للوطواط- دراسة وتحقيق، الكويت، 1981.

- نظم الرى والزراعة فى مصر فى الكتابات العربية، الندوة العالمية الثالثة لتاريخ العلوم عند العرب، المجلس الوطنى، الكويت 1983.

- جغرافية العمران عند ابن خلدون، الكويت 1988.

- العمران فى الواحات المصرية خلال العصر الوسيط، مج 4/ع 4، 1990 كلية الآداب بالمنيا.

- مدن مصر وقراها فى القرن الثامن الهجرى- القسم الأول- مجلة الآداب والعلوم الإنسانية، سلسلة الإصدارات الخاصة، مج 9 ع 1، 1991 المجلة العلمية بكلية الآداب جامعة المنيا.

€
এই সংস্করণের উপস্থাপক প্রফেসর ডক্টর আব্দুল আল আব্দুল মুনইম আল-শামী

- তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভূগোল বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

- তিনি ভূগোলে স্নাতকোত্তর (১৯৭৩) এবং পিএইচডি (১৯৭৭) ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

- তিনি শিক্ষকতার বিভিন্ন পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং শেষ পর্যন্ত কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভূগোল বিভাগের পূর্ণকালীন অধ্যাপক হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে:

- ইসলামপূর্ব যুগে উম্মুল কুরার (মক্কা) সমৃদ্ধিতে ভৌগোলিক উপাদানের প্রভাব।

ইসলামিক স্টাডিজ সাময়িকী, দ্বিতীয় বর্ষ, প্রথম সংখ্যা।

- মানচিত্র অঙ্কনে মুসলিম ভূগোলবিদদের অবদান, কুয়েত ১৯৮১।

- ইয়াকুত আল-হামাভীর বর্ণনায় মিসরের শহর ও গ্রামসমূহ, কুয়েত ১৯৮১।

- আরবদের নিকট নগর ভূগোল, আলম আল-ফিকর, খণ্ড ৯/১৪, কুয়েত ১৯৭৮।

- আল-ওয়াতওয়াত রচিত 'মাবাহিজ আল-ফিকর ওয়া মানাহিজ আল-ইবার' - গবেষণা ও সম্পাদনা, কুয়েত ১৯৮১।

- আরবি সাহিত্যে মিসরের সেচ ও কৃষি ব্যবস্থা, আরবদের বিজ্ঞান ইতিহাস বিষয়ক তৃতীয় আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম, ন্যাশনাল কাউন্সিল, কুয়েত ১৯৮৩।

- ইবনে খালদুনের দৃষ্টিতে নগর ভূগোল, কুয়েত ১৯৮৮।

- মধ্যযুগে মিসরীয় মরূদ্যানসমূহের নগরায়ন, ভলিউম ৪/সংখ্যা ৪, ১৯৯০, মিনিয়া কলা অনুষদ।

- হিজরি অষ্টম শতাব্দীতে মিসরের শহর ও গ্রামসমূহ - প্রথম খণ্ড - কলা ও মানববিদ্যা সাময়িকী, বিশেষ প্রকাশনা সিরিজ, ভলিউম ৯, সংখ্যা ১, ১৯৯১, মিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের বৈজ্ঞানিক সাময়িকী।

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌تقديم بقلم د. عبد العال الشامى

يعتبر الإصطخرى من أعلام المدرسة الجغرافية العربية فى مجال الدراسات الإقليمية ورسم الخرائط التى ظهرت وازدهرت فى القرن الرابع الهجرى، وتتمثل هذه المدرسة فى نتاج مجموعة من الجغرافيين بدأت برائدهم البلخى (أبو زيد أحمد بن سهل البلخى) ثم تبعه الإصطخرى، الذي عاصره ابن حوقل وجاء من بعده المقدسى.

وقد اعتمد هؤلاء فى مؤلفاتهم على إكساب لفظ الإقليم دلالة مغايرة لما كانت عليه الجغرافية عند الإغريق من حيث ما يسمى بالأقاليم السبعة، وجاء هذا الاتجاه الجديد ليقصد بالإقليم كيانا مساحيّا يسهل تحديد حدوده الطبيعية، كما أنه وحدة إدارية سياسية خاضعة لنظام مركزى سياسى موحد، وكثيرا ما كانت هذه الكيانات الإقليمية ذات أصول عرقية ولغوية موحدة فضلا عن الجوانب الاجتماعية.

ومثل هذا الاتجاه الجديد المغاير للتقسيمات السابقة أقرب ما يكون لمدلول لفظ الإقليم؛ لأنه كما يقول ياقوت الحموى: إنما سمى إقليما لأنه مقلوم من الأرض التى تتاخمه، أى مقطوع، والقلم فى أصل اللغة القطع وفى القرآن الكريم: إِذْ يُلْقُونَ أَقْلامَهُمْ

[سورة آل عمران. الآية 44] .

يقول الإصطخرى فى مقدمة كتابه: «ذكرت فى كتابى هذا أقاليم الأرض على الممالك، وقصدت منها بلاد الإسلام بتفصيل مدنها …

€
ড. আবদ আল-আল আশ-শামির লেখা ভূমিকা

আল-ইস্তাখরিকে চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে আবির্ভূত ও বিকশিত আঞ্চলিক অধ্যয়ন ও মানচিত্রাঙ্কন ক্ষেত্রে আরব ভৌগোলিক ধারার অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধারাটি একদল ভৌগোলিকের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়, যা শুরু হয়েছিল তাঁদের অগ্রদূত আল-বালখি (আবু জায়েদ আহমাদ বিন সাহল আল-বালখি) এর মাধ্যমে, এরপর তাঁকে অনুসরণ করেন আল-ইস্তাখরি, যাঁর সমসাময়িক ছিলেন ইবনে হাওকাল এবং তাঁর পরে আসেন আল-মাকদিসি।

তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহে 'ইকলিম' (অঞ্চল) শব্দটিকে গ্রিক ভূগোলের তথাকথিত 'সাত অঞ্চল' এর ধারণা থেকে একটি ভিন্ন অর্থ প্রদান করেছেন। এই নতুন ধারাটির উদ্দেশ্য ছিল ইকলিম বা অঞ্চল বলতে এমন একটি ভৌগোলিক সত্তাকে বোঝানো যার প্রাকৃতিক সীমানা নির্ধারণ করা সহজ, এবং যা একটি ঐক্যবদ্ধ কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার অধীনস্থ একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একক। প্রায়শই এই আঞ্চলিক সত্তাগুলো সামাজিক দিক ছাড়াও অভিন্ন জাতিগত ও ভাষাগত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী ছিল।

পূর্ববর্তী বিভাজনগুলোর বিপরীতে এই নতুন ধারাটি 'ইকলিম' শব্দের মূল অর্থের সবচেয়ে কাছাকাছি; কারণ ইয়াকুত আল-হামাউয়ি যেমন বলেছেন: একে 'ইকলিম' (অঞ্চল) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি তার পার্শ্ববর্তী ভূমি থেকে 'মাকলুম' অর্থাৎ বিচ্ছিন্ন বা কর্তিত। মূল ভাষায় 'কালম' অর্থ হলো কর্তন করা বা কেটে আলাদা করা, আর পবিত্র কুরআনে এসেছে: "যখন তারা তাদের কলমগুলো নিক্ষেপ করছিল"

[সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৪৪]।

আল-ইস্তাখরি তাঁর বইয়ের ভূমিকায় বলেন: "আমি আমার এই বইতে বিভিন্ন রাজ্যের ভিত্তিতে পৃথিবীর অঞ্চলসমূহ উল্লেখ করেছি এবং বিশেষভাবে আমি ইসলামের দেশসমূহকে সেগুলোর শহরের বিবরণসহ বর্ণনা করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি …

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৪)
ولم أقصد الأقاليم السبعة التى عليها قسمة الأرض» . وحين رسم صورة معمور الأرض فى عصره قال: «فهذه صورة الأرض عامرها والخراب منها وهى مقسومة على الممالك. وعماد ممالك الأرض أربعة: مملكة فارس، ومملكة الروم، ومملكة الصين، ومملكة الهند. فلما جاء الإسلام أخذ من كل مملكة بنصيب. وبهذا ظهرت مملكة الإسلام» .

ومثل هذا التقسيم الإقليمى الكبير هو أشبه بما ندرسه اليوم فى الدراسات الإقليمية لمناطق كبرى مثل: غرب أوروبا، الاتحاد السوفيتي، جنوب غرب آسيا، الشرق الأوسط، أفريقية جنوب الصحراء، إمريكا اللاتينية..

ثم أعقب هذا التقسيم العام على الممالك بدراسة تفصيلية شاملة لمملكة الإسلام، وهنا يتضح مدلول لفظ الإقليم بصورة أوضح، حيث أصبحت ولايات أو ممالك الإسلام أقاليم جغرافية واضحة المعالم، ولكل إقليم صورة (خريطة) فيها ما يمكن توقيعه من ظاهرات ثم تأتى الكتابة كشرح مفصل لجغرافية الإقليم.

وهكذا نجد هناك مزاوجة بين الدراسة الإقليمية ورسم الخريطة على نحو ما يقول: «الغرض من كتابى هذا تصوير الأقاليم التى لم يذكرها أحد علمته، أما ذكر مدنها وجبالها وأنهارها وبحارها والمسافات وسائر ما أنا ذاكره فقد يوجد فى الأخبار، ولا يتعذر على من أراد تقصى شىء من ذلك من أهل كل بلد، فلذلك تجوّزنا فى ذكر المسافات والمدن وسائر ما نذكره» .

وإذا كان الإصطخرى قد قدّم لجميع الأرض صورة فى مستهل كتابه، فإنه قد أفرد بعد ذلك لكل إقليم من بلاد الإسلام صورة على حدة، وقد بلغت عشرين إقليما هى:

€
এবং আমি সেই সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের (ইকলিম) কথা উদ্দেশ্য করিনি যার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবী বিভক্ত।" যখন তিনি তাঁর সমসাময়িক আবাদকৃত পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেন, তখন তিনি বলেন: "এটি পৃথিবীর মানচিত্র, এর জনবসতিপূর্ণ এবং জনশূন্য অঞ্চলসমূহ; আর এটি বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত। পৃথিবীর রাজ্যসমূহের মূল ভিত্তি চারটি: পারস্য সাম্রাজ্য, রোম সাম্রাজ্য, চীন সাম্রাজ্য এবং ভারত সাম্রাজ্য। অতঃপর যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন এটি প্রতিটি সাম্রাজ্য থেকে অংশ গ্রহণ করল। আর এভাবেই ইসলামী সাম্রাজ্যের আবির্ভাব ঘটল।"

এই ধরনের বৃহৎ আঞ্চলিক বিভাজন বর্তমান সময়ে আমরা বৃহৎ অঞ্চলগুলোর আঞ্চলিক অধ্যয়নে যা পাঠ করি তার অনেকটা সদৃশ, যেমন: পশ্চিম ইউরোপ, সোভিয়েত ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, সাহারা-নিম্ন আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা...

এরপর তিনি রাজ্যসমূহের এই সাধারণ বিভাজনের পর ইসলামী সাম্রাজ্যের একটি বিস্তারিত ও ব্যাপক অধ্যয়ন উপস্থাপন করেন। এখানে 'অঞ্চল' (ইকলিম) শব্দের অর্থ আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যেখানে ইসলামের প্রদেশ বা রাজ্যগুলো সুস্পষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অঞ্চলের জন্য একটি করে চিত্র (মানচিত্র) রয়েছে যাতে ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ চিহ্নিত করা সম্ভব, আর এরপর লিখিত বর্ণনাটি সেই অঞ্চলের ভূগোলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা হিসেবে আসে।

এভাবে আমরা আঞ্চলিক অধ্যয়ন এবং মানচিত্র অঙ্কনের মধ্যে একটি সমন্বয় দেখতে পাই, যেমনটি তিনি বলেন: "আমার এই বইটির উদ্দেশ্য হলো এমন সব অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরা যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ বর্ণনা করেনি। আর সেসব অঞ্চলের শহর, পাহাড়, নদী, সাগর, দূরত্ব এবং অন্যান্য যা কিছু আমি উল্লেখ করব, তা ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যেতে পারে। কোনো দেশের অধিবাসীদের মধ্যে কেউ যদি এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চায়, তবে তার জন্য তা দুঃসাধ্য নয়। তাই আমরা দূরত্ব, শহর এবং অন্যান্য যা কিছু উল্লেখ করছি, তার বর্ণনায় সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছি।"

ইস্তাখরি যদিও তাঁর বইয়ের শুরুতে সমগ্র পৃথিবীর একটি মানচিত্র পেশ করেছেন, তবুও তিনি পরবর্তীতে ইসলামি ভূখণ্ডের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য পৃথকভাবে মানচিত্র প্রদান করেছেন। এই অঞ্চলগুলোর সংখ্যা বিশটি, সেগুলো হলো:

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
1- ديار العرب، 2- بحر فارس، 3- المغرب، 4- مصر، 5- الشام، 6- بحر الروم، 7- الجزيرة الفراتية بين دجلة والفرات (أى النصف الشمالى من العراق) ، 8- العراق، 9- خوزستان (عربستان) ، 10- فارس، 11- كرمان، 12- بلاد السند والهند، 13- أرمينية وأذربيجان، 14- الجبال، 15- الديلم، 16- بحر الخزر، 17- المفازة التى بين فارس وخراسان، 18- سجستان، 19- خراسان، 20- ما وراء النهر (نهر جيحون) .

ويلاحظ من حيث ترتيب الأقاليم الأخذ فى الاعتبار تقديم ديار العرب على غيرها وذلك لمكانتها الدينية، ولما كان بحر فارس بمدلول العصر (أى جملة المسطحات المائية الممثلة فى المحيط الهندى بذراعيه البحر الأحمر والخليج العربى) يحيط بمعظم ديار العرب؛ فقد ذكر تاليا لديار العرب حتى تستكمل الصورة، ثم جاء ذكر الأقاليم الإسلامية بعد ذلك من أقصى الغرب، أى كل الشمال الإفريقى والأندلسى، ثم مصر الممتده حتى برقة فالشام. وعند هذا الحد من الدراسة تكون معظم سواحل بحر الروم (البحر المتوسط) قد ذكرت فى ممالك الإسلام السابقة، ولهذا انتقل إلى دراسة هذا البحر ككل. ثم انتقل إلى الجزيرة وأعقب ذلك بالعراق- وعند هذا الحد يكون قد استوفى الجناح الغربى من بلاد الإسلام لينتقل بعد ذلك إلى الجناح الشرقى.

ودراسة الجناح الشرقى جاءت على أساس تقسيمه إلى نطاقين عرضيين: جنوبى وشمالى، وقد بدأ بالنطاق الجنوبى بذكر الأقاليم المجاورة للعراق ثم ما يليها شرقا فذكر خوزستان- فارس- كرمان- بلاد السند والهند.

€
১- আরব ভূখণ্ড, ২- পারস্য সাগর, ৩- মাগরিব, ৪- মিশর, ৫- শাম, ৬- রোম সাগর, ৭- দজলা ও ফরাতের মধ্যবর্তী জাজিরা অঞ্চল (অর্থাৎ ইরাকের উত্তর অর্ধাংশ), ৮- ইরাক, ৯- খুজিস্তান (আরাবিস্তান), ১০- ফারস, ১১- কিরমান, ১২- সিন্ধু ও হিন্দুস্তান, ১৩- আরমেনিয়া ও আজারবাইজান, ১৪- পার্বত্য অঞ্চল (জিবাল), ১৫- দাইলাম, ১৬- খাজার সাগর, ১৭- ফারস ও খুরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি, ১৮- সিজিস্তান, ১৯- খুরাসান, ২০- মা-ওয়ারাউন নহর (জাইহুন নদী)।

অঞ্চলসমূহের বিন্যাসের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, আরব ভূখণ্ডের ধর্মীয় মর্যাদার কারণে একে অন্য সবকিছুর আগে স্থান দেয়া হয়েছে। যেহেতু সমসাময়িক পরিভাষায় পারস্য সাগর (অর্থাৎ ভারত মহাসাগর, লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরীয় জলভাগের সমষ্টি) আরব ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকাকে বেষ্টন করে আছে, তাই চিত্রটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আরব ভূখণ্ডের পরেই এর উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর সুদূর পশ্চিম থেকে ইসলামি অঞ্চলসমূহের ধারাবাহিক বর্ণনা এসেছে, অর্থাৎ সমগ্র উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুস। এরপর মিশর, যা বারকাহ পর্যন্ত বিস্তৃত এবং তারপর শাম। আলোচনার এই পর্যায়ে রোম সাগরের (ভূমধ্যসাগর) অধিকাংশ উপকূল যেহেতু পূর্ববর্তী ইসলামি রাজ্যসমূহের বিবরণে আলোচিত হয়েছে, তাই এখানে সাগরটিকে সামগ্রিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর আল-জাজিরা এবং তার পরপরই ইরাকের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। আর এই পর্যায়ে পৌঁছে ইসলামি বিশ্বের পশ্চিমাংশের বর্ণনা সম্পন্ন হয়েছে এবং এরপর পূর্বাংশের আলোচনার দিকে অগ্রসর হওয়া হয়েছে।

পূর্বাংশের আলোচনা একে দুটি বলয়ে—দক্ষিণ ও উত্তর—বিভক্ত করার ভিত্তিতে করা হয়েছে। দক্ষিণ বলয় থেকে আলোচনা শুরু করে প্রথমে ইরাকের সীমান্তবর্তী অঞ্চলসমূহ এবং তারপর তার পূর্বদিকের অঞ্চলসমূহের উল্লেখ করা হয়েছে; যথা: খুজিস্তান, ফারস, কিরমান এবং সিন্ধু ও হিন্দুস্তান।

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما فى النطاق الشمالى فبدأ فى الغرب بأرمينية وأذربيجان ثم الجبال (يقصد نطاق جبال زاجورس بين العراق وفارس) ثم الدّيلم. وهنا يكون قد وصل إلى سواحل بحر الخزر (قزوين) ومن ثم درسه كإقليم متكامل متحد.

ثم قبل أن ينتقل إلى ما تبقى من ممالك الإسلام فى الشرق، جاءت دراسة المفازة التى بين فارس وخراسان كإقليم له مميزاته، وإن لم يكن وحدة سياسية مستقلة، وأخيرا يدرس أقاليم سجستان وخراسان وما وراء النهر.

وواضح أن من بين هذه الأقاليم العشرين ثلاثة أقاليم بحرية: بحر الروم، وبحر فارس، وبحر الخزر، أى أن الدراسة شملت أحواض هذه البحار التى تمثل أقاليم جغرافية واضحة، وهو نهج إقليمى صحيح.

أما المفازة بين فارس وخراسان فهى الأخرى اعتبرت إقليما جغرافيا متميزا ومختلفا عما حوله، بل كما قال الإصطخرى: من أقل مفاوز الإسلام سكانا وقرى ومدنا، كما أنها غير خاضعة لسلطان بعينه؛ لأنها ليست فى حيز إقليم بعينه. وهكذا نجد أعلام هذه المدرسة الإقليمية المجددة أصحاب منهج إقليمى سليم فى تحديد وجوه اختلاف هذه المفازة عن غيرها من بوادى العرب والبربر وما فى مفاوز كرمان ومكران والسند، فهذه عامتها مسكونة بالأخبية والأخصاص.

أخيرا نجد بعد ما ذكر عن الأقاليم الأربعة السابقة أن ما تبقى هى وحدات سياسية- إدارية، أى ولايات إسلامية قد ذكرها البلخى الرائد الأول الذي لم يصلنا كتابه، ثم الإصطخرى وابن حوقل. أما المقدسى

€
উত্তর অঞ্চলের ক্ষেত্রে, তিনি পশ্চিমে আরমেনিয়া এবং আজারবাইজান থেকে শুরু করেছেন, তারপর আল-জিবাল (ইরাক ও পারস্যের মধ্যবর্তী জাগ্রোস পর্বতমালা অঞ্চল বোঝানো হয়েছে), অতঃপর আদ-দাইলাম। এখানে এসে তিনি খাজার সাগরের (কাস্পিয়ান সাগর) উপকূলে পৌঁছেছেন এবং ফলে এটিকে একটি সংহত ও ঐক্যবদ্ধ অঞ্চল হিসেবে অধ্যয়ন করেছেন।

তারপর পূর্বের অবশিষ্ট ইসলামী রাজ্যগুলোতে যাওয়ার আগে, পারস্য ও খুরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি বা মফাজা অঞ্চলটি নিয়ে অধ্যয়ন এসেছে, যার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যদিও এটি কোনো স্বাধীন রাজনৈতিক একক ছিল না। সবশেষে, তিনি সিজিস্তান, খুরাসান এবং মা ওয়ারা আন-নাহর অঞ্চলগুলো অধ্যয়ন করেছেন।

এটা স্পষ্ট যে এই বিশটি অঞ্চলের মধ্যে তিনটি সামুদ্রিক অঞ্চল রয়েছে: বাহরুর রুম (ভূমধ্যসাগর), বাহরু ফারস (পারস্য উপসাগর) এবং বাহরুল খাজার (কাস্পিয়ান সাগর)। অর্থাৎ, এই অধ্যয়নটি এই সমুদ্রগুলোর অববাহিকাকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা স্পষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি একটি সঠিক আঞ্চলিক পদ্ধতি।

আর পারস্য ও খুরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি বা মফাজা অঞ্চলটির কথা বলতে গেলে, এটিও একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে যা তার চারপাশের পরিবেশ থেকে ভিন্ন। বরং আল-ইস্তাখরি যেমন বলেছেন: এটি ইসলামি বিশ্বের মরুভূমিগুলোর মধ্যে জনবসতি, গ্রাম ও শহরের দিক থেকে সবচেয়ে বিরল এলাকা। তদুপরি এটি নির্দিষ্ট কোনো শাসকের অধীন নয়; কারণ এটি নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের সীমানার মধ্যে পড়ে না। এভাবেই আমরা এই নবায়নকৃত আঞ্চলিক ধারার পণ্ডিতদের মাঝে একটি সঠিক আঞ্চলিক পদ্ধতি খুঁজে পাই, যা আরব ও বার্বারদের মরুভূমি এবং কিরমান, মাকরান ও সিন্ধুর মরুভূমি থেকে এই মফাজা বা মরুভূমির পার্থক্যের দিকগুলো নির্ধারণ করে। কারণ শেষের এই অঞ্চলগুলো সাধারণত তাবু ও কুঁড়েঘরে বসবাসকারী জনপদ দ্বারা জনবহুল।

পরিশেষে, পূর্বোক্ত চারটি অঞ্চল সম্পর্কে বর্ণনার পর আমরা দেখতে পাই যে, বাকি অংশগুলো হলো রাজনৈতিক-প্রশাসনিক একক, অর্থাৎ ইসলামী প্রদেশসমূহ, যা প্রথম অগ্রদূত আল-বালখি বর্ণনা করেছিলেন (যাঁর মূল কিতাবটি আমাদের কাছে পৌঁছেনি), এরপর বর্ণনা করেছেন আল-ইস্তাখরি এবং ইবনে হাওকাল। আর আল-মাকদিসির ক্ষেত্রে

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
فقد كان له تصوره الخاص فى هذه التقسيمات لديار الإسلام، وله اجتهاده المحمود ومبرراته فى أن يختلف مع سابقيه مما يمثل إثراء للفكر الجغرافى العربى.

هذا وقد أحصى «ميللر» لأعلام هذه المدرسة 275 خريطة استطاع أن يجمعها لهم من المخطوطات المختلفة التى عثر عليها لكل منهم، وأطلق على هؤلاء الذين اعتمدوا أساسا فى كتاباتهم الجغرافية على تصوير الأقاليم أو رسم الأشكال اسم «أصحاب أطلس الإسلام» ، وهذه المجموعة من الخرائط نوع فريد ونسيج وحيد جاء إنتاجا إسلاميا خالصا من ابتكار هؤلاء، ودليلا على أصالة الفكر الجغرافى الإسلامى وقدرته على التجديد فى مجال رسم الخرائط.

أما عن الخصائص أو السمات العامة لخرائط الإصطخرى ومن جاء بعده فى هذا الاتجاه فهى خرائط توضيحية فقط، ليست وظيفتها الأساسية تحديد المواقع على وجه الدقة، بل مجرد بيان الهيئة العامة للأرض وبحارها وتوقيع البلاد بالنسبة لبعضها البعض وما تتضمنه من ظاهرات طبيعيّة وبشرية تفيد فى إرشاد الراغبين فى التعريف على جغرافية الإقليم، كما تنفع المسافرين على الطرق بمعرفة أطوال مراحلها وخصائصها، وكل ذلك فى حدود العصر وإمكانياته، وسوف نجد عند ابن حوقل والمقدسى إضافات قيمة تشير إلى مدى الارتقاء فى هذه المدرسة الجغرافية الإقليمية الخرائطية.

وهناك شبهة أن يكون الإصطخرى قد نقل الخرائط الواردة فى كتابه عن البلخى الذي سبقه فى تصوير الأقاليم، ولكن هذه المشكلة قد أثيرت فى القرن الرابع الهجرى؛ فقد ذكرها المقدسى الذي عاش بعد نصف قرن من وفاة البلخى، وكذلك ياقوت الحموى وقد جاءت تهمة

€
ইসলামি ভূখণ্ডের এই বিভাজনগুলোর ক্ষেত্রে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, এবং তাঁর পূর্বসূরিদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করার পেছনে তাঁর প্রশংসনীয় ইজতিহাদ ও যুক্তি ছিল, যা আরব ভৌগোলিক চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করেছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, 'মিলার' এই ধারার পণ্ডিতদের জন্য ২৭৫টি মানচিত্র গণনা করেছেন, যা তিনি তাঁদের প্রত্যেকের খুঁজে পাওয়া বিভিন্ন পাণ্ডুলিপি থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাঁদেরকে 'আসহাবে আতলাসে ইসলাম' (ইসলামি মানচিত্রাবলীর সংকলক) নামে অভিহিত করেছেন, যারা তাঁদের ভৌগোলিক লেখায় মূলত অঞ্চলগুলোর চিত্রায়ন বা নকশা অঙ্কনের ওপর নির্ভর করতেন। মানচিত্রের এই সংগ্রহটি একটি অনন্য এবং অতুলনীয় নিদর্শন যা তাঁদের উদ্ভাবিত একটি বিশুদ্ধ ইসলামি সৃষ্টি, এবং এটি ইসলামি ভৌগোলিক চিন্তাধারার মৌলিকত্ব এবং মানচিত্র অঙ্কনের ক্ষেত্রে এর সংস্কার বা নতুনত্ব আনয়নের সক্ষমতার প্রমাণ।

আল-ইসতাখরি এবং এই ধারায় তাঁর উত্তরসূরিদের মানচিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য বা সাধারণ রূপের কথা বলতে গেলে, এগুলো ছিল কেবল ব্যাখ্যামূলক মানচিত্র। এগুলোর প্রধান কাজ নিখুঁতভাবে অবস্থান নির্ধারণ করা ছিল না, বরং কেবল পৃথিবীর সাধারণ অবয়ব ও তার সাগরসমূহ এবং একে অপরের সাপেক্ষে দেশগুলোর অবস্থান প্রদর্শন করা এবং প্রাকৃতিক ও মানবীয় বৈশিষ্ট্যাবলি তুলে ধরা, যা কোনো অঞ্চলের ভূগোলের সাথে পরিচিত হতে আগ্রহীদের দিকনির্দেশনা প্রদানে সহায়ক ছিল। একইভাবে এগুলো সড়কপথে ভ্রমণকারীদের জন্য যাত্রাপথের দূরত্ব ও বৈশিষ্ট্য জানতে সাহায্য করত, যা তখনকার যুগের সীমাবদ্ধতা ও সামর্থ্যের মধ্যেই ছিল। আমরা ইবনে হাওকাল এবং আল-মাকদিসির কাছে মূল্যবান সংযোজন খুঁজে পাব যা এই আঞ্চলিক ভৌগোলিক ও মানচিত্রতাত্ত্বিক ধারার উন্নতির মাত্রা নির্দেশ করে।

এমন একটি সন্দেহ বিদ্যমান যে, আল-ইসতাখরি তাঁর বইয়ে বর্ণিত মানচিত্রগুলো আল-বালখির কাছ থেকে নকল করেছেন, যিনি অঞ্চল চিত্রায়নে তাঁর পূর্বসূরি ছিলেন। কিন্তু এই সমস্যাটি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতেই উত্থাপিত হয়েছিল; আল-মাকদিসি, যিনি আল-বালখির মৃত্যুর অর্ধ শতাব্দী পরে জীবিত ছিলেন, তিনি এটি উল্লেখ করেছেন, এবং ইয়াকুত আল-হামাভিও এটি উল্লেখ করেছেন। আর এই অভিযোগটি এসেছে

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৮)
نقل الإصطخرى لكتاب البلخى وصوره عند «دى غويه» دون أى دليل، وقد تولى أهل الاختصاص الرد على هذه الشبه «1» ، ولكن يكفى ما جاء عند ابن حوقل حين قابل الإصطخرى الذي عرض عليه بعض خرائطه وكتابه، وكيف أن ابن حوقل كان منصفا فى تحديد الصواب والخطأ أو الجودة والرداءة فى خرائط الإصطخرى فقال: «ولقيت أبا إسحاق الفارسى وقد صور أرض السند فخلطها، وصورة فارس فجودها، وكنت قد صورت أذربيجان التى فى هذه الصفحة فاستحسنها، والجزيرة فاستجادها وأخرج التى لمصر فاسدة، وللمغرب أكثر خطأ» . وهكذا نجد أن قيمة المرء ما يحسنه، وأن الميزة لا تقتضى الأفضلية حتى أن ابن حوقل يقول: «لقد ظللت لا يفارقنى كتب ابن خردازبه والجيهانى وقدامة بن جعفر، حتى إذا لقيت الإصطخرى أخذت كتابه واستغنيت به عن غيره من الكتب» .

هذا وقد تولى محقق كتاب الإصطخرى الرد على ما جاء فى دائرة المعارف الإسلامية من نسبة كتاب الإصطخرى إلى البلخى فى مقدمة التحقيق «2» ، وكذلك يشير كراتشكوفسكى- (المستشرق الروسى) الذي ألف تاريخ الأدب الجغرافى العربى «3» - إلى أنه ثبت بعد الفحص

€
আল-ইস্তাখরি কর্তৃক আল-বালখির কিতাব ও তার মানচিত্রগুলোর অনুলিপি করার বিষয়টি কোনো প্রমাণ ছাড়াই 'ডি গোয়ে'-র নিকট স্থান পেয়েছে, এবং বিশেষজ্ঞগণ এই সংশয়গুলোর নিরসন করেছেন «১»। তবে ইবনে হাওকাল যখন আল-ইস্তাখরির সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, তখন যা উল্লেখ করেছিলেন তা-ই যথেষ্ট; আল-ইস্তাখরি তাঁর কাছে নিজের কিছু মানচিত্র ও কিতাব পেশ করেছিলেন। ইবনে হাওকাল আল-ইস্তাখরির মানচিত্রগুলোর সঠিক ও ভুল অথবা উৎকর্ষ ও নিম্নমান নির্ধারণে অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ছিলেন, তিনি বলেছিলেন: "আমি আবু ইসহাক আল-ফারিসির সাথে সাক্ষাৎ করেছি, তিনি সিন্ধু অঞ্চলের মানচিত্র এঁকেছিলেন কিন্তু তাতে ওলটপালট করে ফেলেছেন, এবং পারস্যের মানচিত্রটি অত্যন্ত নিপুণভাবে এঁকেছেন। আমি আজারবাইজানের যে মানচিত্রটি এঁকেছিলাম যা এই পৃষ্ঠায় রয়েছে, তিনি সেটি পছন্দ করেছেন এবং আল-জাজিরার মানচিত্রটিকে উৎকৃষ্ট মনে করেছেন। তবে তিনি মিসরের মানচিত্রটি ত্রুটিপূর্ণ এবং মাগরিবের মানচিত্রটি অধিক ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন।" এভাবেই আমরা দেখতে পাই যে, মানুষের মূল্য তার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে, এবং কোনো বিশেষ গুণ শ্রেষ্ঠত্বকে অনিবার্য করে না, এমনকি ইবনে হাওকাল বলেন: "ইবনে খুরদাজবিহ, আল-জাইহানি এবং কুদামা ইবনে জাফরের কিতাবগুলো সর্বদা আমার সঙ্গী থাকত, কিন্তু যখন আমি আল-ইস্তাখরির সাথে সাক্ষাৎ করলাম, তখন তাঁর কিতাবটি গ্রহণ করলাম এবং অন্য কিতাবগুলোর প্রয়োজন থেকে মুক্ত হলাম।"

আল-ইস্তাখরির কিতাবের মুহাক্কিক (গবেষক) তাঁর তাহকিকের ভূমিকায় «২» 'ইসলামিক এনসাইক্লোপিডিয়া'-তে আল-ইস্তাখরির কিতাবটিকে আল-বালখির দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করার যে দাবি করা হয়েছে, তার উত্তর দিয়েছেন। একইভাবে ক্রাচকভস্কি— (রাশিয়ান প্রাচ্যবিদ) যিনি 'আরবি ভৌগোলিক সাহিত্যের ইতিহাস' «৩» রচনা করেছেন— ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পরীক্ষার পর এটি প্রমাণিত হয়েছে...

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৯)
الدقيق أن بعض المخطوطات التى نسبت فى فهارس المخطوطات، أو حتى فى الأصل إلى البلخى، إنما تمثل فى الحقيقة مسودات لمصنف الإصطخرى أو ابن حوقل.

ويحسن أن نشير هنا إلى بعض الملاحظات على خرائط الإصطخرى، فنجد أنه استخدم الألوان على نحو ما نجد عند يوسف كمال فى المجموعة الكمالية، كما أن فى خرائط الإصطخرى تمثيلا للظاهرات الطبيعية حيث يوضح فى شبه جزيرة سيناء وأقسامها الثلاثة:

السهل الساحلى الرملى الشمالى (رمل الجفار) ، ثم الهضبة الوسطى (تيه بنى اسرائيل) ، ثم الكتلة الجبلية الجنوبية (طور سيناء) . وحين يكون المظهر التضاريسى الجبلى هو الصفة الغالبة على الإقليم- على نحو ما هو فى خريطة فارس (هضبة إيران) - فإنه لا يوقع الجبال؛ لأنه ليس بفارس بلد إلّا وبه جبل أو يكون الجبل بحيث تراه إلّا اليسير.

كذلك يوقع الجزر كظاهرات طبيعية فى المسطحات المائية، مثل جزر الخليج العربى، وإذا كانت هناك مبالغة فى تصوير الجزر فربما يكون مرجع ذلك إلى الناسخ بدليل وجود اختلافات واضحة بين نسخ الإقليم الواحد فى الخرائط التى وصلت عن الإصطخرى، كما أن الإصطخرى قد يصور فى خريطته بعض النباتات لما لها من دلالة، ففى خريطة مصر يوقع عند بداية الحد الشمالى الشرقى المصرى شجرتان وهما تمثلان البداية لحدود مصر عند رباط الشجرتين.

كذلك يهتم الإصطخرى بتوقيع ظاهرات بشرية فى خرائطه، مثل توقيع المدن الحربية كحصون (مدينة دمياط) ، وتصوير منار الإسكندرية، والأهرامين، وكذلك ما تشتهر به بعض النواحى من المبانى العجيبة مثل حائط القلاص كجدار أو سور.

€
সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে, পাণ্ডুলিপির ক্যাটালগগুলোতে অথবা এমনকি মূল উৎসগুলোতে আল-বালখীর দিকে যে সমস্ত পাণ্ডুলিপি নিসবত বা সম্পৃক্ত করা হয়েছে, তা প্রকৃতপক্ষে আল-ইসতাখরি বা ইবনে হাওকালের রচনার খসড়া মাত্র।

এখানে আল-ইসতাখরির মানচিত্রের উপর কিছু পর্যবেক্ষণের দিকে ইঙ্গিত করা সমীচীন হবে। আমরা দেখতে পাই যে, তিনি রঙ ব্যবহার করেছেন ঠিক যেভাবে ইউসুফ কামাল তার 'মাজমুআতুল কামালিয়া' (আল-মাজমুআ আল-কামালিয়া)-তে ব্যবহার করেছেন। তদুপরি আল-ইসতাখরির মানচিত্রগুলোতে প্রাকৃতিক নিদর্শনাদির উপস্থাপন রয়েছে, যেখানে তিনি সিনাই উপদ্বীপ এবং এর তিনটি বিভাগকে ব্যাখ্যা করেছেন:

উত্তর উপকূলীয় বালুকাময় সমভূমি (রামল আল-জিফার), তারপর মধ্য মালভূমি (তিহ বনী ইসরাঈল), তারপর দক্ষিণ পর্বতমালা (তূর সিনাই)। আর যখন পার্বত্য ভূপ্রকৃতি কোনো অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হয়—যেমনটি পারস্যের মানচিত্রে (ইরান মালভূমি) দেখা যায়—তখন তিনি পাহাড়গুলোকে পৃথকভাবে চিহ্নিত করেন না; কারণ পারস্যে এমন কোনো শহর নেই যেখানে পাহাড় নেই অথবা পাহাড় দেখা যায় না, গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া।

একইভাবে তিনি জলাশয়গুলোতে প্রাকৃতিক নিদর্শন হিসেবে দ্বীপগুলোকে চিহ্নিত করেছেন, যেমন আরব উপসাগরের দ্বীপপুঞ্জ। আর যদি দ্বীপগুলোর চিত্রায়নে কোনো অতিরঞ্জন থেকে থাকে, তবে সম্ভবত এর কারণ পাণ্ডুলিপি লিপিকার বা নকলনবিশের ভুল, যার প্রমাণ হলো আল-ইসতাখরি থেকে প্রাপ্ত মানচিত্রগুলোতে একই অঞ্চলের বিভিন্ন অনুলিপির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। এছাড়া আল-ইসতাখরি তার মানচিত্রে কিছু উদ্ভিদকেও চিত্রায়িত করেছেন তাদের বিশেষ তাৎপর্যের কারণে; যেমন মিশরের মানচিত্রে তিনি মিশরের উত্তর-পূর্ব সীমান্তের শুরুতে দুটি গাছ চিহ্নিত করেছেন, যা 'রিবাত আশ-শাজারাতাইন' (দুই বৃক্ষের রিবাত)-এ মিশরের সীমান্তের সূচনা নির্দেশ করে।

তেমনিভাবে আল-ইসতাখরি তার মানচিত্রগুলোতে মানবীয় নিদর্শনাদি চিহ্নিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন, যেমন সামরিক শহরগুলোকে দুর্গ হিসেবে চিহ্নিত করা (দামিএত শহর), আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর এবং দুই পিরামিডের চিত্রায়ন, তদুপরি কিছু অঞ্চলের বিখ্যাত ও বিস্ময়কর দালানকোঠা, যেমন প্রাচীর বা দেয়াল হিসেবে 'হাইত আল-কালাস'।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ২০)
وإذا كان من الممكن أن نصف خرائط الإصطخرى وفقا للموضوعات الجغرافية التى تخدمها هذه الخرائط، فإننا نجد أنه قد بدأ بخريطة عامة للمعمور فى مستهل كتابه، وهى صورة للأرض مستديرة.. أما خرائط العالم الإسلامى الإقليمية فقد جاءت فى مستهل تناوله لكل إقليم، وقد أجاد الإصطخرى فى بعضها- على نحو ما أشاد بذلك ابن حوقل- خاصة تلك التى تتعلق بموطنه الأصلى، أو تلك التى اختصت بأقاليم زارها على نحو ما نجد فى صورة ما وراء النهر، التى توجد فى نسخة كتاب الإصطخرى المحفوظة فى خزانة مدينة هامبورج.

كذلك هناك من خرائط كتاب الإصطخرى ما يتناول بالتفصيل الظاهرات الطبيعية والبشرية على نحو ما هو متحقق فى خرائط بحر فارس وبحر الروم وبحر الخزر، وكذلك المفازة بين فارس وخراسان.

والخلاصة: أن الإصطخرى قد أدخل مفاهيم جديدة لعلم الخرائط عند الجغرافيين المسلمين، بجعله الخريطة أساسا للبحث الجغرافى، وهو اتجاه قد زاد من بعده عمقا وأصالة بما قدمه ابن حوقل والمقدسى، بحيث أصبح هذا الاتجاه مميزا للمدرسة الجغرافية الإسلامية المجددة فى رسم الخرائط.

ولما كانت صورة الإقليم لا يمكن أن تستوعب كل ما يريد المؤلف أن يذكره عن هذا الإقليم، فقد جاءت المادة الجغرافية التالية للصورة شارحة لها وكذلك لذكر التفاصيل، ومن هنا تاتى قيمة ما قدمه الإصطخرى ومن جاء بعده فى مجال جغرافية البلدان أو المسالك والممالك أو الجغرافية الإقليمية فى وقتنا الحاضر.

أما عن منهج الإصطخرى فى تناول جغرافية أقاليم مملكة الإسلام فقد حدده بأمور بعينها، أهمها:

€
আমরা যদি আল-ইস্তাখরীর মানচিত্রসমূহকে সেসব ভৌগোলিক বিষয়ের আলোকে বর্ণনা করি যা এই মানচিত্রগুলো প্রদান করে, তবে আমরা দেখতে পাই যে, তিনি তাঁর গ্রন্থের শুরুতে বাসযোগ্য বিশ্বের একটি সাধারণ মানচিত্র দিয়ে শুরু করেছেন, যা পৃথিবীর একটি গোলাকার চিত্র। আর ইসলামি বিশ্বের আঞ্চলিক মানচিত্রগুলো প্রতিটি অঞ্চলের আলোচনার প্রারম্ভে স্থান পেয়েছে। আল-ইস্তাখরী এগুলোর কয়েকটিতে অত্যন্ত পারদর্শিতা দেখিয়েছেন—যেমনটি ইবনে হাওকাল প্রশংসা করেছেন—বিশেষ করে সেই মানচিত্রগুলোতে যা তাঁর আদি বাসভূমির সাথে সংশ্লিষ্ট অথবা সেই অঞ্চলগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট যেগুলো তিনি ভ্রমণ করেছিলেন। যেমনটি আমরা মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা)-এর চিত্রে দেখতে পাই, যা হামবুর্গ শহরের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আল-ইস্তাখরীর গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান।

একইভাবে আল-ইস্তাখরীর গ্রন্থের এমন কিছু মানচিত্র রয়েছে যা প্রাকৃতিক ও মানবীয় বৈশিষ্ট্যাবলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে, যেমনটি পারস্য সাগর, রোম সাগর (ভূমধ্যসাগর) এবং খাজার সাগর (কাস্পিয়ান সাগর)-এর মানচিত্রে এবং পারস্য ও খুরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমির বর্ণনায় প্রতিফলিত হয়েছে।

সারকথা হলো: আল-ইস্তাখরী মুসলিম ভূগোলবিদদের নিকট মানচিত্রবিদ্যার নতুন নতুন ধারণা প্রবর্তন করেছেন, যেখানে তিনি মানচিত্রকে ভৌগোলিক গবেষণার ভিত্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এটি এমন একটি ধারা যা তাঁর পরবর্তী সময়ে ইবনে হাওকাল ও আল-মাকদিসীর অবদানের মাধ্যমে আরও গভীরতা ও মৌলিকতা লাভ করেছে, যার ফলে এই ধারাটি মানচিত্র অঙ্কনে আধুনিক ইসলামি ভৌগোলিক ঘরানার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যেহেতু একটি অঞ্চলের চিত্র লেখক সেই অঞ্চল সম্পর্কে যা বলতে চান তার সবকিছু ধারণ করতে সক্ষম নয়, তাই চিত্রের পরবর্তী ভৌগোলিক বিষয়বস্তুগুলো সেটির ব্যাখ্যা হিসেবে এবং বিস্তারিত বর্ণনার জন্য এসেছে। এখান থেকেই আল-ইস্তাখরী এবং তাঁর উত্তরসূরিদের সেই অবদানের গুরুত্ব ফুটে ওঠে যা দেশসমূহের ভূগোল বা 'আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক' (পথ ও রাজ্যসমূহ) অথবা বর্তমান সময়ের আঞ্চলিক ভূগোলের ক্ষেত্রে প্রদান করা হয়েছে।

ইসলামি খিলাফতের অঞ্চলসমূহের ভূগোল আলোচনার ক্ষেত্রে আল-ইস্তাখরীর পদ্ধতির কথা বলতে গেলে, তিনি তা কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে প্রধান হলো:

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ২১)
(أ) الخريطة، أو الصورة كما يسميها.

(ب) العلاقات المكانية للإقليم.

(ج) الأقسام الفرعية ذات الأهمية التى ينقسم إليها الإقليم.

(د) المظاهر الطبيعية المختلفة.

(هـ) الأحوال الاقتصادية للإقليم وما ينتجه من غلات.

(و) المدن الكبرى وأهميتها.

(ز) الطرق وأطوالها.

وربما عنى بين الحين والحين بأمور أخرى أقل أهمية فى نظره كالنقود والمكاييل والموازين المستعملة فى إقليم ما، أو القبائل التى تعيش فى الإقليم ومنازلها، وربما استطرد أحيانا فذكر بعض النواحى التاريخية وسير الرجال.

وإذا كنا قد فصلنا القول عن الخريطة أو صورة الإقليم فيما سبق ذكره، فإن المقصود بالعلاقات المكانية هو ذكر حدود الإقليم الخارجية أو الإطار المكانى للإقليم، وقد يأتى هذا التحديد مفصلا ودقيقا للغاية على نحو ما حدد ديار العرب تحديدا يكاد يشبه إلى حد كبير ما يجمع عليه الجغرافيون المحدثون.

وأما الأقاليم الفرعية فكثيرا ما يرى الإصطخرى أن الإقليم الواحد تتنوع أجزاؤه داخل الإطار العام، فيقسمه إلى أقاليم ثانوية يتحدث عن خصائص كل منها، على نحو ما قسم ديار المغرب إلى نصفين شرقى ويشمل كل الشمال الإفريقى، وغربى وهو الأندلس. كما قسم أقاليم ديار العرب الخمسة.

وفى مجال الظاهرات الطبيعية ذكرنا تخصيص معالجة للمسطحات المائية الكبرى كبحر فارس وبحر الروم وبحر قزوين، كذلك يهتم بالأنهار ومنابعها

€
(অ) মানচিত্র, অথবা তিনি যেটিকে 'চিত্র' নামে অভিহিত করেছেন।

(আ) অঞ্চলের স্থানিক সম্পর্কসমূহ।

(ই) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগসমূহ।

(ঈ) বিভিন্ন প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ।

(উ) অঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং উৎপাদিত ফসলসমূহ।

(ঊ) প্রধান শহরসমূহ এবং সেগুলোর গুরুত্ব।

(ঋ) রাস্তাঘাট এবং সেগুলোর দৈর্ঘ্য।

মাঝে মাঝে তিনি সম্ভবত তাঁর দৃষ্টিতে কম গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য বিষয়ের প্রতিও মনোযোগ দিয়েছেন, যেমন কোনো অঞ্চলে ব্যবহৃত মুদ্রা, পরিমাপ এবং ওজন পদ্ধতি, অথবা সেই অঞ্চলে বসবাসকারী গোত্রসমূহ এবং তাদের আবাসস্থল। কখনো কখনো তিনি হয়তো প্রসঙ্গান্তরে গিয়ে কিছু ঐতিহাসিক দিক এবং ব্যক্তিবর্গের জীবনীও উল্লেখ করেছেন।

যদি আমরা ইতিপূর্বে মানচিত্র বা অঞ্চলের চিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে থাকি, তবে স্থানিক সম্পর্ক বলতে মূলত অঞ্চলের বহিঃসীমানা বা অঞ্চলের স্থানিক কাঠামোর উল্লেখ করাকে বোঝানো হয়েছে। এই সীমানা নির্ধারণ অত্যন্ত বিস্তারিত ও নিখুঁত হতে পারে, যেমনটি তিনি আরব ভূখণ্ডের সীমানা নির্ধারণ করেছেন; যা আধুনিক ভূগোলবিদগণের মতামতের সাথে অনেকাংশেই সাদৃশ্যপূর্ণ।

উপ-অঞ্চলগুলোর ক্ষেত্রে আল-ইসতাখরি প্রায়শই মনে করেন যে, সাধারণ কাঠামোর অভ্যন্তরে একটি একক অঞ্চলের বিভিন্ন অংশ বৈচিত্র্যময় হতে পারে। ফলে তিনি সেটিকে বিভিন্ন মাধ্যমিক উপ-অঞ্চলে বিভক্ত করেন এবং প্রতিটির বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করেন। যেমন তিনি মাগরিব (পাশ্চাত্য) ভূখণ্ডকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন: পূর্ব অংশ, যা সমগ্র উত্তর আফ্রিকাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং পশ্চিম অংশ, যা হলো আন্দালুস। একইভাবে তিনি আরব ভূখণ্ডের পাঁচটি অঞ্চলকেও বিভক্ত করেছেন।

প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে আমরা পারস্য সাগর, রুম সাগর (ভূমধ্যসাগর) এবং কাস্পিয়ান সাগরের মতো বৃহৎ জলরাশির বিশেষ বর্ণনার কথা উল্লেখ করেছি; একইভাবে তিনি নদী এবং সেগুলোর উৎসের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছেন।

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ২২)
ومجاريها ومصباتها، كما يذكر الجبال والنطاقات الرملية، ولا يغفل ذكر أحوال المناخ وكذلك يعالج التربة على نحو ما ذكر عن أرض العراق.

وفى مجال الأحوال الاقتصادية: نجد أن الإصطخرى حديثه مقتضب يذكر غلات الإقليم، وقد يعرض لبعض الصناعات أو يذكر العملة والموازين والمكاييل، والحديث هنا أقرب للمشاهدات التى سجلها فى البلاد التى زارها.

وفى مجال العمران: نجد أن ذكر المدن هو الذي يستغرق جزءا كبيرا من كتابه، ويتناول المدينة وموقعها ومبانيها ومابها من المرافق المهمة والآثار إن وجدت.

أخيرا فى نهاية كل إقليم يفرد للطرق حيزا يكاد يقارب اهتمامه بالمدن وهذا ما يحقق مدلول كلمة «المسالك» فى عنوان كتابه، ومع هذا فليس ما يرد بالتفصيل فى بعض الطرق بالأقاليم- كما سنذكر بعد قليل- هو ما اتبعه، وإنما يختصر تناوله للطرق بسرد المسافات التى يقيسها أحيانا بالأيام وتارة بالفراسخ أو المراحل. ويعتبر ما ذكره الإصطخرى عن الطرق فى مفازة خراسان خير مثال لدراسته للطرق باعتبارها شرايين الحياة فى هذه المفازة التى تتوسط معظم أقاليم الشرق الإسلامى، وبعد أن صور تلك الطرق على خريطة قال: «هذه المفازة من أقل مفاوز الإسلام سكانا ومدنا وقرى … وليس يستدرك من هذه المفازة إلّا علم الطريق … » وقد أظهر المنطقة كمنطقة تخوم بين الأقاليم المحيطة بها، وأنها ليست فى حيز إقليم بعينه فيرعاها أهل ذلك الإقليم بالحفظ، ومن ثم كثرت فيها اللصوص، ويصعب سلوكها بالخيل، وإنما تقطع بالجمال، وبعد أن شرع فى ذكر طرق المفازة سرد مقومات هذه الطرق من الناحيتين الطبيعية والبشرية فذكر:

€
এবং সেগুলোর গতিপথ ও মোহনা; যেমন তিনি পাহাড় ও বালুকাময় অঞ্চলসমূহের উল্লেখ করেন। তিনি জলবায়ুর অবস্থা বর্ণনা করতেও ভুলেন না এবং ইরাকের ভূমির বর্ণনার ন্যায় মাটির প্রকৃতি নিয়েও আলোচনা করেন।

অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ইস্তাখরির আলোচনা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত; তিনি অঞ্চলের উৎপাদিত ফসল উল্লেখ করেন, এবং কখনো কখনো কিছু শিল্পকারখানা অথবা মুদ্রা, ওজন ও পরিমাপের কথা বলেন। এখানকার আলোচনা মূলত তাঁর ভ্রমণকৃত দেশগুলোতে নথিভুক্ত করা চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার কাছাকাছি।

নগরায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, শহরগুলোর বর্ণনা তাঁর বইয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। তিনি শহর, এর অবস্থান, দালানকোঠা এবং সেখানে বিদ্যমান গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ-সুবিধা ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন (যদি থাকে) নিয়ে আলোচনা করেন।

পরিশেষে, প্রতিটি অঞ্চলের বর্ণনার শেষে তিনি রাস্তার জন্য এমন এক জায়গা বরাদ্দ করেন যা শহরগুলোর প্রতি তাঁর গুরুত্ব প্রদানের প্রায় সমান। এটিই তাঁর বইয়ের শিরোনামে থাকা 'আল-মাসালিক' (পথসমূহ) শব্দের তাৎপর্য ফুটিয়ে তোলে। তা সত্ত্বেও, কিছু অঞ্চলের রাস্তার ক্ষেত্রে যে বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়—যেমনটি আমরা কিছুক্ষণ পরেই উল্লেখ করব—তা তিনি সর্বদা অনুসরণ করেননি। বরং তিনি দূরত্বের বর্ণনার মাধ্যমে রাস্তার আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা তিনি কখনো দিনের হিসেবে এবং কখনো ফারসাখ বা মনজিলের হিসেবে পরিমাপ করেছেন। খোরাসানের মরুপ্রান্তরের রাস্তা সম্পর্কে ইস্তাখরির বর্ণনাকে পথ বিষয়ক গবেষণার সর্বোত্তম উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হয়; কারণ এই মরুপ্রান্তরটি ইসলামি প্রাচ্যের অধিকাংশ অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত হওয়ায় এই রাস্তাগুলো সেখানে জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে। মানচিত্রে এই রাস্তাগুলো চিত্রায়িত করার পর তিনি বলেন: «এই মরুপ্রান্তরটি মুসলিম বিশ্বের জনবসতি, শহর ও গ্রামশূন্য মরুভূমিগুলোর মধ্যে অন্যতম … এবং এই মরুপ্রান্তর থেকে পথের জ্ঞান ছাড়া আর কিছুই আহরণ করা যায় না … » তিনি এই অঞ্চলটিকে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোর মধ্যবর্তী একটি সীমান্ত এলাকা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয় যে সেই অঞ্চলের অধিবাসীরা এর সুরক্ষার দায়িত্ব নেবে। ফলে সেখানে দস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে পড়েছে, বরং উটের মাধ্যমেই তা পাড়ি দেওয়া হয়। মরুপ্রান্তরের রাস্তাগুলোর বর্ণনা শুরু করার পর তিনি প্রাকৃতিক ও মানবীয়—উভয় দিক থেকে এই পথগুলোর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন:

€
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ২৩)
أ- موارد المياه فى مختلف صورها من الآبار والعيون والبرك، وما يتجمع من ماء الأمطار والسيول فى الأحواض، وما أقامه الإنسان من قباب على هذه الموارد.

ب- كما ذكر ما أقيم على الطرق فى محطاتها من خدمات للمسافرين كالخانات والرباطات والحصون، وينزل بعضها من يقومون بالخفارة (البذرقة) من قبل السلطان.

ح- كذلك يشير إلى معلومات عن السكان وعن نمط السكن حتى ولو قل عدد السكان حتى لا يتجاوز بضعة أشخاص، كما يحصى المساكن، ولا ينسى ذكر ما بالقرى من زرع وضرع، وهو يفعل كل ذلك بدقة واضحة.

والملاحظ أن نصيب ديار الإسلام من حيث صفحات الكتاب فيه تفاوت كبير بين ما يخص كل إقليم، فإذا كان ما يخص ما وراء النهر يتجاوز ثلاثين صفحة ومثله ما يخص بلاد فارس، فإنّ ما يخص خراسان هو نحو 16 صفحة، وما عدا هذه الأقاليم الثلاثة من جملة الأقاليم لا يتجاوز عشر صفحات لكل إقليم، وأحيانا أقل من ثلاث صفحات، مع الأخذ فى الاعتبار ما فى هذه الطبعة من هوامش وتعليقات تشغل حيزا كبيرا لا يقل عن ثلث حجم الكتاب ككل. ومثل هذا التفاوت يرجع إلى أن الإصطخرى قد زار ما وراء النهر وبلاد فارس موطنه الأصلى، كما زار ديار العرب ومصر والشام والعراق والجزيرة العربية، أما ما عدا هذه المناطق فهو مقل فى سرد التفاصيل مكتفيا أساسا بصور الأقاليم.

د. عبد العال الشامى
ক- কূয়ো, ঝর্ণা ও পুকুরের মতো বিভিন্ন রূপের পানির উৎস, এবং বৃষ্টির পানি ও প্লাবন থেকে জলাশয়ে যা জমা হয়, এবং মানুষ এই উৎসগুলোর উপরে যে গম্বুজগুলো নির্মাণ করেছে।

খ- একইভাবে তিনি পথের মনজিলগুলোতে পর্যটকদের সেবার জন্য নির্মিত সরাইখানা, রিবাত (আশ্রয়স্থল) এবং দুর্গের কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে সুলতানের পক্ষ থেকে পাহারাদারি (এসকর্ট) করার জন্য নিয়োজিত ব্যক্তিরা অবস্থান করেন।

গ- তদ্রূপ তিনি জনসংখ্যা এবং বসবাসের ধরন সম্পর্কে তথ্য প্রদান করেন, এমনকি জনসংখ্যা যদি অল্প কয়েকজন ব্যক্তির বেশি না-ও হয়, তদুপরি তিনি ঘরবাড়ি গণনা করেন এবং গ্রামগুলোতে থাকা চাষাবাদ ও গবাদি পশুর কথা উল্লেখ করতে ভুলেন না; তিনি এই সব কিছুই করেন সুস্পষ্ট সূক্ষ্মতার সাথে।

লক্ষণীয় যে, বইয়ের পৃষ্ঠার দিক থেকে ইসলামি ভূখণ্ডের অংশগুলোর ক্ষেত্রে প্রতিটি অঞ্চলের বর্ণনায় ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। যেখানে মা ওয়ারাউন নাহর সংক্রান্ত অংশটি ত্রিশ পৃষ্ঠা ছাড়িয়ে গেছে এবং পারস্য সংক্রান্ত অংশটিও অনুরূপ, সেখানে খোরাসান সংক্রান্ত অংশটি প্রায় ১৬ পৃষ্ঠা। আর এই তিনটি অঞ্চল বাদে অন্যান্য অঞ্চলের বিবরণ প্রতিটি অঞ্চলের জন্য দশ পৃষ্ঠার বেশি নয়, কখনও কখনও তিন পৃষ্ঠারও কম। এক্ষেত্রে বর্তমান সংস্করণের টীকা এবং ভাষ্যগুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন, যা পুরো বইয়ের আয়তনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ দখল করে আছে। এই ধরনের পার্থক্যের কারণ হলো, ইস্তাখরি মা ওয়ারাউন নাহর এবং তাঁর আদি স্বদেশ পারস্য ভ্রমণ করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি আরব ভূখণ্ড, মিশর, শাম, ইরাক এবং আরব উপদ্বীপ সফর করেছিলেন। তবে এই অঞ্চলগুলো ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলের বিস্তারিত বর্ণনায় তিনি সংক্ষিপ্ততা অবলম্বন করেছেন এবং মূলত অঞ্চলগুলোর চিত্রায়ণের (মানচিত্র) ওপরই সন্তুষ্ট থেকেছেন।

ড. আবদুল আল-শামি
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: -)
المسالك والممالك للاصطخري أو مسالك الممالك - مصر   (الإصطخري)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: المسالك والممالك

المؤلف: أبو اسحاق إبراهيم بن محمد الفارسي الاصطخري، المعروف بالكرخي (ت 346هـ)

الناشر: الهيئة العامة لقصور الثقافة، القاهرة

الطبعة:

عدد الصفحات: 214

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-ইসতাখরি রচিত আল-মাসালিক ওয়া আল-মামালিক অথবা মাসালিক আল-মামালিক - মিসর   (আল-ইসতাখরি)

বিভাগ: দেশসমূহ এবং ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-মাসালিক ওয়া আল-মামালিক

লেখক: আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি আল-ইসতাখরি, আল-কারখি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৪৬ হিজরি)

প্রকাশক: আল-হাইআতুল আম্মাহ লি-কুসুর আস-সাকাফাহ (জেনারেল অথরিটি ফর কালচারাল প্যালেসেস), কায়রো

সংস্করণ:

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৪

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১)
المسالك والممالك
পথ ও রাজ্যসমূহ
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৩)
تأليف أبى اسحاق إبراهيم بن محمد الفارسى الإصطخرى (المعروق بالكرخى) المتوفى فى النصف الأول من القرن الرابع الهجرى تحقيق مراجعة الدكتور محمد جابر عبد العال الحسينى محمد شفيق غربال (1381 هـ- 1961 م)
আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ আল-ফারসি আল-ইস্তাখরি (যিনি আল-কারখি নামে পরিচিত) এর রচনা, যিনি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর প্রথমার্ধে মৃত্যুবরণ করেছেন; সম্পাদনা ও পর্যালোচনা: ডক্টর মুহাম্মদ জাবের আব্দুল আল আল-হুসাইনি এবং মুহাম্মদ শফিক গুরবাল (১৩৮১ হিজরি - ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌فهرس اجمالى

كلمة المحقق من ص 7 إلى ص 11

مقدمة المؤلف « «15 « «19

فصول الكتاب ديار العرب « «20 « «28

بحر فارس « «29 « «32

ديار المغرب « «33 « «38

ديار مصر « «39 « «42

أرض الشام « «43 « «49

بحر الروم « «50 « «51

أرض الجزيرة « «52 « «55

العراق « «56 « «61

خوزستان « «62 « «66

بلاد فارس « «67 « «96

بلاد كرمان « «97 « «101

بلاد السند « «102 « «107

أرمينية والران وأذربيجان من ص 108 إلى ص 114

الجبال « «115 « «120

الديلم « «121 « «127

بحر الخزر « «128 « «132

مفازة خراسان « «133 « «138

سجستان « «139 « «144

خراسان « «145 « «160

ما وراء النهر « «161 « «192

أقاليم ما وراء النهر:

خوارزم « «168 « «173

بخارى « «173 « «176

السغد « «177 « «182

أشروسنة « «182 « «184

الشاش وإيلاق « «184 187

دراسة لمصورات الكتاب « «196 « «205

فهرس الموضوعات « «207 « «212
সংক্ষিপ্ত সূচিপত্র

সম্পাদকের কথা পৃষ্ঠা ৭ থেকে পৃষ্ঠা ১১ পর্যন্ত

লেখকের ভূমিকা « « ১৫ « « ১৯

গ্রন্থের অধ্যায়সমূহ: আরব ভূখণ্ড « « ২০ « « ২৮

পারস্য সাগর « « ২৯ « « ৩২

মাগরেব ভূখণ্ড « « ৩৩ « « ৩৮

মিসর ভূখণ্ড « « ৩৯ « « ৪২

শাম ভূখণ্ড « « ৪৩ « « ৪৯

রোম সাগর « « ৫০ « « ৫১

জাযিরা ভূখণ্ড « « ৫২ « « ৫৫

ইরাক « « ৫৬ « « ৬১

খুজিস্তান « « ৬২ « « ৬৬

পারস্য অঞ্চল « « ৬৭ « « ৯৬

কিরমান অঞ্চল « « ৯৭ « « ১০১

সিন্ধু অঞ্চল « « ১০২ « « ১০৭

আরমেনিয়া, আর-রান ও আজারবাইজান পৃষ্ঠা ১০৮ থেকে পৃষ্ঠা ১১৪ পর্যন্ত

জিবাল (পার্বত্য অঞ্চল) « « ১১৫ « « ১২০

দাইলাম « « ১২১ « « ১২৭

খাযার সাগর « « ১২৮ « « ১৩২

খোরাসানের মরুভূমি « « ১৩৩ « « ১৩৮

সিজিস্তান « « ১৩৯ « « ১৪৪

খোরাসান « « ১৪৫ « « ১৬০

মা ওয়ারাউন নাহার « « ১৬১ « « ১৯২

মা ওয়ারাউন নাহারের প্রদেশসমূহ:

খোয়ারিজম « « ১৬৮ « « ১৭৩

বুখারা « « ১৭৩ « « ১৭৬

সুগদ « « ১৭৭ « « ১৮২

উশরু সানা « « ১৮২ « « ১৮৪

শাশ ও ইলাক « « ১৮৪ ১৮৭

গ্রন্থের চিত্রাবলির অধ্যয়ন « « ১৯৬ « « ২০৫

বিষয়সূচি « « ২০৭ « « ২১২
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

حفز النجاح السياسى العظيم، الذي ظفرت به الدولة الإسلامية فى القرن الثانى للهجرة، رجالها إلى اقتحام ميادين جديدة، ميادين تعزز هذا النصر السياسى والحربى الذي كان يبعث الهيبة فى القلوب، ميادين تغزو العقول وتعمل بقوة تفوق قوة السيف؛ اتجهت الدولة الإسلامية إلى تراث الأمم السابقة لها تأخذ منها ما يتلاءم وذوقها فى الحياة وما يتفق ومنطقها فى الدراسة، لتبنى أسس هذا المجد العقلى الذي تطمح إليه؛ ترجم المترجمون عن الفارسية واليونانية والسوريانية ترجمات أشرقت بعدها نهضة علمية تبشر بسلطان عظيم، أخذت هذه النهضة العلمية تشع فى كثير من نواحى النشاط العقلى، إذ ساهم العقل الإسلامى مساهمة دفّاعة فى هذه النهضة، كان من أثرها هذا الفضل الذي اعترفت به البشرية، والذي أتاح لتيار الحضارة أن يأخذ سبيله فى مجراه. فى مطلع هذه النهضة نشأ علم البلدان وهو المعروف فى اصطلاحنا الحديث بالجغرافية الوصفية.

قام علم البلدان وكانت الحياة العملية تتطلع إليه فى شوق وفى إلحاح، ذلك لأن التجارة كانت تريد منه أن يكون لها هاديا ومرشدا فى دولة مترامية الأطراف واسعة الأرجاء مختلفة الشعوب والأجناس والألسنة، كانت تريد أن تعرف سبلها ومسالكها ومن تعطى وما تأخذ، ولقد وجدت فى هذا العلم مبتغاها، فأقبل عليه التجار والناس يطلبونه من أصحابه، فظفر بتأييد أتاح له أن يتطور تطورا سريعا، تطورا جعل علم البلدان فى أوائل القرن الرابع الهجرى علما كامل المعالم والأسس.

ولقد أتاح الله لهذا العلم أفذاذا، جابوا البلاد وتحملوا المشاق، وعرفوا مسالكها وطرقها وناسها، ووقفوا على طبيعة البلاد التى زاروها وحياة أهلها الاجتماعية، ودوّنوا ما رأوا وما خبروا وما سمعوا، حريصين أن يبيّنوا ما رأوا وما سمعوا، فخرجت كتبهم نورا يهدى، ومرشدا لا يضل ولا يضلل، وحظى بالذكر من بين هؤلاء ابن خرداذبه والجيهانى وأبو الفرج قدامة بن جعفر وأبو زيد البلخى وغيرهم، ولقد بلغ من أهمية كتاب ابن خرداذبه وكتاب الجيهانى أنّ ابن حوقل كان يحرص كل الحرص على أن يرافقاه فى حلّه وترحاله، قال: [وكان لا يفارقنى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

হিজরি দ্বিতীয় শতকে ইসলামি রাষ্ট্র যে মহান রাজনৈতিক সাফল্য অর্জন করেছিল, তা এর ব্যক্তিবর্গকে নতুন ময়দানে প্রবেশের উদ্দীপনা জুগিয়েছিল; এমন সব ময়দান যা এই রাজনৈতিক ও সামরিক বিজয়কে সুসংহত করে যা হৃদয়ে সম্ভ্রম জাগ্রত করত। এমন ময়দান যা বুদ্ধিবৃত্তিকে জয় করে এবং তরবারির শক্তির চেয়েও প্রবল শক্তি নিয়ে কাজ করে। ইসলামি রাষ্ট্র তার পূর্ববর্তী জাতিগুলোর ঐতিহ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ে সেখান থেকে এমন কিছু গ্রহণ করতে যা তার জীবনবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে তার যুক্তির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, যাতে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক গৌরবের ভিত্তি নির্মাণ করা যায় যার আকাঙ্ক্ষা সে করেছিল। অনুবাদকগণ ফারসি, গ্রিক এবং সিরিয়াক ভাষা থেকে এমন সব অনুবাদ করেন যার ফলে একটি বৈজ্ঞানিক জাগরণ উদ্ভাসিত হয় যা এক মহান কর্তৃত্বের সুসংবাদ দিচ্ছিল। এই বৈজ্ঞানিক জাগরণ বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের অনেক দিকেই আলো ছড়াতে শুরু করে, কারণ ইসলামি বুদ্ধিবৃত্তি এই জাগরণে এক বেগবান অবদান রেখেছিল। এর প্রভাবেই মানবজাতি সেই শ্রেষ্ঠত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সভ্যতার ধারাকে তার নিজস্ব গতিপথে প্রবাহিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। এই জাগরণের সূচনালগ্নে 'ইলমুল বুলদান' বা জনপদ-বিদ্যা উদ্ভূত হয়, যা আমাদের আধুনিক পরিভাষায় বর্ণনামূলক ভূগোল নামে পরিচিত।

জনপদ-বিদ্যার প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল যখন বাস্তব জীবন এর দিকে গভীর আগ্রহ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাকিয়ে ছিল। এর কারণ ছিল বাণিজ্য; বাণিজ্য চেয়েছিল যে এটি এক বিশাল ও বিস্তৃত সাম্রাজ্যে তার পথপ্রদর্শক ও নির্দেশক হোক, যেখানে নানা জাতি, বর্ণ ও ভাষার মানুষ রয়েছে। বাণিজ্য তার পথ ও পদ্ধতিগুলো জানতে চেয়েছিল এবং জানতে চেয়েছিল কাকে কী দিতে হবে আর কার থেকে কী নিতে হবে। এই বিজ্ঞানের মধ্যেই সে তার লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছিল, ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এর প্রণেতাদের কাছে এই জ্ঞানের জন্য আসতে শুরু করল। এভাবে এটি এমন সমর্থন লাভ করল যা তাকে দ্রুত বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিল; এমন এক বিকাশ যা চতুর্থ হিজরি শতকের শুরুর দিকে জনপদ-বিদ্যাকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানে পরিণত করেছিল।

আল্লাহ এই বিজ্ঞানের জন্য এমন কিছু অসামান্য ব্যক্তিকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন, যারা বিভিন্ন দেশ পরিভ্রমণ করেছেন এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। তারা সেই সব দেশের পথ ও পদ্ধতি এবং মানুষ সম্পর্কে জেনেছেন এবং তারা যেসব দেশ সফর করেছেন তার প্রকৃতি ও সেখানকার মানুষের সামাজিক জীবন সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তারা যা দেখেছেন, যা পরীক্ষা করেছেন এবং যা শুনেছেন তা লিপিবদ্ধ করেছেন; তারা যা দেখেছেন ও শুনেছেন তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে সচেষ্ট ছিলেন। ফলে তাদের গ্রন্থগুলো পথপ্রদর্শক আলো এবং এমন নির্দেশক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে যা পথ হারায় না এবং কাউকে পথভ্রষ্টও করে না। এদের মধ্যে ইবনে খুরদাদবিহ, আল-জাইহানি, আবুল ফারাজ কুদামা ইবনে জাফর, আবু যায়েদ আল-বালখি এবং অন্যান্যরা বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন। ইবনে খুরদাদবিহ এবং আল-জাইহানির গ্রন্থের গুরুত্ব এতটাই ছিল যে, ইবনে হাওকাল তার অবস্থান ও ভ্রমণের সময় এই বই দুটিকে সাথে রাখতে অত্যন্ত সচেষ্ট থাকতেন। তিনি বলেন: [এবং তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হতো না
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৮)
كتاب ابن خرداذبه وكتاب الجيهانى وتذكرة أبى الفرج قدامة بن جعفر] «1» . ظلت هذه الكتب تستحوذ عليه حتى لقى الإصطخرى فى بغداد، فأخذ كتابه واستغنى به عن غيره من الكتب.

يرى الدارس لهذه الفترة من تاريخ علم البلدان أنّ هذا العلم قد تطور على يدى رجلين يعدّان من النوابغ هما أبو زيد البلخى والجيهانى، حتى ليمكن أن يقال إن مخالفتهما أمر كان ينبغى أن يبرّر، خالفهما المقدسى فى كتابه أحسن التقاسيم، خالف الجيهانى- الذي كان يسمى ما بين دجلة والفرات بابل- فى هذه التسمية وسمّى الإقليم العراق، وبيّن ذلك فى قوله: [.. ألا ترى الجيهانى ابتدأ بذكر هذه النواحى وسماها إقليم بابل …

وقد شققنا الإسلام طولا وعرضا فما سمعنا الناس يقولون إلا هذا إقليم العراق وأكثر الناس لا يعلمون أين بابل] «2» ، وخالف أبا زيد البلخى فى تقسيم المشرق وبيّن هذا فى قوله: [وقد جعله أبو زيد ثلاثة أقاليم خراسان وسجستان وما وراء النهر وأما نحن فجعلناه واحدا ذا جانبين يفصل بينهما جيحون] «2» ، يتضح مما سقناه حقيقة هى ما لهذين الرائدين أبى زيد البلخى والجيهانى من مكانة سامية عند رواد علم البلدان، هذه المكانة الممتازة هى التى جعلت النساخ يضعون على كتاب الاصطخرى فى هذا العصر المبكر، الاصطلاح الذي جاء به أبو زيد البلخى وهو صور الأقاليم إلى جانب عنوان الكتاب الأصلى، الأمر الذي أشكل على دائرة المعارف الإسلامية فنسبت كتاب الاصطخرى لأبى زيد البلخى أو جعلته معوّلا عليه، وهذه شبهة ليس لها سند أو دليل، وقد أطلقها كاتب مادة الاصطخرى دون أن يؤيد دعواه بأية حجة تسوّغ قوله، ولئن كانت هذه الدعوى غير مؤيدة بالبرهان، ومن ثم فهى تستحق الإهمال، لكن لا يفوتنا أن نشير إلى أن صحة نسبة الكتاب إلى الاصطخرى يقوم عليها الدليل من الكتاب نفسه ومن المعاصرين، ففى حديث الاصطخرى عن فارس يشير إلى رسالة ألّفها، قال: [وقد ذكرت فى الرسالة ما يعلم من قرأها موضع كل كورة برساتيقها ومواضع المدن بها إن شاء الله تعالى] ، ويشهد ابن حوقل أنه لقى الاصطخرى أبا اسحاق الفارسى فى بغداد وأخذ منه كتابه لتصحيحه كما زعم، قال:

[ولقيت أبا اسحاق الفارسى وقد صوّر هذه الصورة لأرض الهند فحلطها وصوّر فارس فجوّدها وقد كنت صورت أذربيجان التى فى هذه الصفحة فاستحسنها والجزيرة فاستجادها وأخرج التى لمصر فاسدة وللمغرب أكثرها خطأ وقال قد نظرت فى مولدك وأثرك وأنا أسألك إصلاح كتابى هذا حيث ضللت فأصلحت منه غير مشكل وعزوته إليه] «3» ، والواضح من قول ابن حوقل وضوحا لا يقبل الشك ولا الجدل أنّ للاصطخرى كتابا وأنه أصلحه كما زعم، وأن هذا الكتاب منسوب للأصطخرى، زد على ذلك أن ياقوت الحموى فى معجم البلدان ينقل
[ইবনে খুরদাদবিহ-এর গ্রন্থ, আল-জায়হানির গ্রন্থ এবং আবু আল-ফারাজ কুদামা ইবনে জাফরের তাদকিরাহ] «১»। এই গ্রন্থগুলো তাঁর ওপর এমনভাবে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল যতক্ষণ না তিনি বাগদাদে আল-ইসতাখরির সাক্ষাৎ পান; অতঃপর তিনি তাঁর গ্রন্থটি গ্রহণ করেন এবং অন্যান্য গ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে যান।

ভূগোল শাস্ত্রের (ইলমুল বুলদান) ইতিহাসের এই পর্বের কোনো গবেষক দেখতে পাবেন যে, এই শাস্ত্রটি আবু যায়েদ আল-বালখি এবং আল-জায়হানি নামক এমন দুই মেধাবী প্রতিভার হাতে বিকশিত হয়েছে যে, এ কথা বলাও সম্ভব যে তাঁদের মতের বিরোধিতা করা ছিল এমন একটি বিষয় যার সপক্ষে যুক্তি পেশ করা আবশ্যক ছিল। আল-মুক্বাদ্দাসি তাঁর ‘আহসানুত তাক্বাসিম’ গ্রন্থে তাঁদের উভয়ের বিরোধিতা করেছেন। তিনি আল-জায়হানির বিরোধিতা করেছেন—যিনি দজলা ও ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বাবেল নামে অভিহিত করতেন—এই নামকরণের ক্ষেত্রে, এবং তিনি এই অঞ্চলটির নাম দেন ‘ইরাক’ প্রদেশ। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: [.. আপনি কি দেখছেন না যে, আল-জায়হানি এই অঞ্চলগুলোর বর্ণনা দিয়ে শুরু করেছেন এবং একে বাবেল প্রদেশ হিসেবে নামকরণ করেছেন …

অথচ আমরা ইসলামি ভূখণ্ডের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ বরাবর পরিভ্রমণ করেছি, কিন্তু আমরা লোকজনকে এ কথা ছাড়া অন্য কিছু বলতে শুনিনি যে, ‘এটি ইরাক প্রদেশ’। আর অধিকাংশ মানুষই জানে না বাবেল কোথায় অবস্থিত।] «২»। এবং তিনি প্রাচ্য বিভাজনের ক্ষেত্রে আবু যায়েদ আল-বালখির বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেছেন: [আবু যায়েদ একে তিনটি প্রদেশে বিভক্ত করেছেন: খোরাসান, সিজিস্তান এবং মা ওয়ারা আন-নাহর; পক্ষান্তরে আমরা একে একটি একক প্রদেশ হিসেবে নির্ধারণ করেছি যার দুটি পার্শ্ব রয়েছে এবং জায়হুন নদী এ দুইয়ের মাঝে বিভেদক হিসেবে কাজ করে।] «২»। আমরা যা উদ্ধৃত করেছি তা থেকে একটি সত্য স্পষ্ট হয় যে, ভূগোল শাস্ত্রের পথিকৃৎদের কাছে এই দুই অগ্রপথিক আবু যায়েদ আল-বালখি ও আল-জায়হানির অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ছিল। এই বিশিষ্ট মর্যাদাই সেই প্রাথমিক যুগে পাণ্ডুলিপি লেখকদের উদ্বুদ্ধ করেছিল আল-ইসতাখরির গ্রন্থের মূল শিরোনামের পাশাপাশি আবু যায়েদ আল-বালখি প্রবর্তিত পরিভাষা ‘সুওয়ারুল আক্বালিম’ (প্রদেশসমূহের মানচিত্র) জুড়ে দিতে। এই বিষয়টিই ‘ইসলামি বিশ্বকোষ’ (দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়া)-এর জন্য বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তারা আল-ইসতাখরির গ্রন্থটিকে আবু যায়েদ আল-বালখির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করেছে অথবা এটিকে তাঁর ওপর নির্ভরশীল বলে গণ্য করেছে। এটি এমন একটি সংশয় যার কোনো ভিত্তি বা প্রমাণ নেই। ‘আল-ইসতাখরি’ বিষয়ক নিবন্ধের লেখক তাঁর এই দাবিকে কোনো জোরালো যুক্তি ছাড়াই উত্থাপন করেছেন। যদিও এই দাবি প্রমাণের দ্বারা সমর্থিত নয় এবং ফলশ্রুতিতে এটি উপেক্ষার যোগ্য, তবুও আমাদের এটি উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গ্রন্থটি আল-ইসতাখরির প্রতি সাব্যস্ত হওয়ার বিশুদ্ধতার সপক্ষে খোদ গ্রন্থটি থেকে এবং সমসাময়িকদের পক্ষ থেকে প্রমাণ বিদ্যমান। পারস্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে আল-ইসতাখরি তাঁর রচিত একটি রিসালার (পুস্তিকা) কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: [আমি উক্ত রিসালায় এমন সব বিষয় উল্লেখ করেছি যা পাঠ করলে পাঠক প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান, তার অধীনস্থ জেলাসমূহ এবং সেখানে অবস্থিত শহরগুলোর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে, ইনশাআল্লাহ তায়ালা]। এবং ইবনে হাওক্বাল সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বাগদাদে আল-ইসতাখরি আবু ইসহাক আল-ফারিসির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁর দাবি অনুযায়ী তিনি তাঁর গ্রন্থটি সংশোধনের জন্য গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেছেন:

[আমি আবু ইসহাক আল-ফারিসির সাথে সাক্ষাৎ করি; তিনি হিন্দুস্তানের এই মানচিত্রটি অঙ্কন করেছিলেন কিন্তু তাতে বিশৃঙ্খলা করে ফেলেছিলেন, আর পারস্যের মানচিত্রটি চমৎকারভাবে এঁকেছিলেন। আমি আজারবাইজানের মানচিত্র এঁকেছিলাম যা এই পৃষ্ঠায় রয়েছে, তিনি সেটি পছন্দ করেন এবং জাজিরার মানচিত্রটিকেও উৎকৃষ্ট মনে করেন। তিনি মিশরের জন্য যা প্রস্তুত করেছিলেন তা ছিল ত্রুটিপূর্ণ এবং মাগরিবের অধিকাংশ ছিল ভুল। তিনি বললেন: আমি তোমার বংশপরিচয় এবং কর্মধারা লক্ষ্য করেছি, আমি তোমাকে অনুরোধ করছি আমার এই কিতাবটি সংশোধন করে দেওয়ার জন্য যেখানে আমি ভ্রান্তিতে পড়েছি। অতঃপর আমি কোনো জটিলতা ছাড়াই তা সংশোধন করি এবং তাঁর নামেই তা বহাল রাখি।] «৩»। এবং ইবনে হাওক্বালের বক্তব্য থেকে কোনো সন্দেহ বা বিতর্ক ছাড়াই এটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, আল-ইসতাখরির একটি গ্রন্থ ছিল এবং তিনি সেটি সংশোধন করেছিলেন যেমনটি তিনি দাবি করেছেন, এবং এই গ্রন্থটি আল-ইসতাখরির প্রতিই সম্বন্ধযুক্ত। এর পাশাপাশি ইয়াকুত আল-হামাভি তাঁর ‘মুজামুল বুলদান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ৯)
عن الاصطخرى ويسند النقل لصاحبه؛ فليس بعد هذه الأدلة شبهة فى نسبة الكتاب لصاحبه. أما قول ابن حوقل انه أصلحه فمع أنه لا يطعن فى نسبة الكتاب إلا أنه يشير إلى توهين ما فيه من بيانات، والحق أن ابن حوقل ينقل عن الاصطخرى بالنص واللفظ، وهو يلجأ إلى هذه الدعوى لتبرير هذا النقل، وأبسط عرض لكتاب ابن حوقل على كتاب الاصطخرى يدل دلالة واضحة على هذه الحقيقة، أما تعويل الاصطخرى على أبى زيد البلخى فليس هذا بعيب فى الكتاب، لأن هذا العلم كان فى بدئه ويعتمد الخلف دائما على السلف كما اعتمد ابن حوقل على الاصطخرى. أما إضافة النساخ (صور الأقاليم) إلى عنوان الكتاب فهى مسألة تجارية يبتغون من وراء شهرة أبى زيد رواج منسوخاتهم لكتاب الاصطخرى، هذا فضلا عن أن هذا اصطلاح عام لا يميز كتابا عن كتاب مثله مثل اصطلاح (المسالك والممالك) لا يدل وضعه على كتاب أنه مأخوذ منه.

والآن من هو الاصطخرى؟ هو أبو القاسم إبراهيم بن محمد الفارسى، المشهور بالفارسى فى أيامه، وبالاصطخرى فيما بعد نسبة إلى بلده، وهو رجل- فيما يبدو- لم يكن ذا نباهة فى عصره، لذلك أغفلت ذكره الكتب التى تؤرخ الرجال، ومن هنا لا ندرى سنة ولادته، وإن كانت من المؤكد فى النصف الثانى من القرن الثالث، ولا ندرى سنة وفاته وإن كنا نعلم أنها فى القرن الرابع، ذلك لأن ابن حوقل التقى به فى بغداد فى أواخر حياته أى فى سنة 325 هـ، كما يتبين ذلك من قوله أنه كان فى بغداد سنة 325 هـ (ص 245- ليدن) ؛ ودراسة كتاب الاصطخرى والأشخاص الذين يشير إليهم يدلان على أن سنة وفاته كانت حوالى منتصف القرن الرابع، ذلك لأنه يشير إلى أبى المظفر محمد بن لقمان بن نصر بن أحمد بن أسد السامانى، الذي كان- فيما يبدو- حاكم سمرقند أيام نوح بن نصر السامانى أو أيام ابنه عبد الملك (توفى سنة 350 هـ) على أحوط احتمال.

والاصطخرى مؤلف ذو منهج يميزه عن غيره، أما مذهبه فى التأليف فيتبين من قوله على سبيل المثال فى إقليم الجبال: (فأما الرىّ فإنا ضممناها إلى الدليم وإن كانت قائمة بنفسها، لأن اتصالها بها اتصال واحد وليس بينهما حاجز يستحق به الانفراد عنها فمرة من الجبال ومرة من عمل خراسان) ، ومن قوله أيضا فى ما وراء النهر:

(وقد كان فى التقدير أن نصور نصف خوارزم فى صورة خراسان ونصفها فى صورة ما وراء النهر غير أن الغرض فى هذا الكتاب معرفة هذه الأقاليم ومدنها، فاخترت أن تكون خوارزم مجموعة فى الصورة وجعلتها فى صورة ما وراء النهر فأبلغ بذلك غرضى من غير تكرار فى الصورتين) فأنت ترى أنه مؤلف له خطة مرسومة يسير على نهجها، يخضع لها ولا يقبل التقسيم الإدارى الذي دعت إليه ظروف غير جغرافية، تراه يجعل المنطقة وحدة ولا يجزئها إلا إذا جزّأتها الطبيعة، وهو مؤلف دقيق بالنسبة إلى عصره، وتتبين ذلك واضحا من قوله على سبيل المثال: (وأما النيل فإن ابتداء مائه لا يعلم وذلك أنه يخرج من مفازة من وراء أرض الزنج لا تسلك حتى ينتهى
আল-ইস্তাখরি থেকে এবং তিনি এই উদ্ধৃতিটি তার লেখকের দিকেই সম্বন্ধ করেন; অতএব এই দলিলাদির পর কিতাবটি তার লেখকের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আর ইবনে হাওকালের বক্তব্য যে তিনি এটি সংশোধন করেছেন, তা কিতাবটির সম্বন্ধের ওপর আঘাত করে না ঠিকই, তবে এটি এতে বিদ্যমান তথ্যাবলির দুর্বলতার প্রতি নির্দেশ করে। প্রকৃত সত্য হলো, ইবনে হাওকাল আল-ইস্তাখরি থেকে হুবহু পাঠ ও শব্দে নকল করেছেন, এবং তিনি এই নকলকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের জন্য এই দাবির আশ্রয় নিয়েছেন। আল-ইস্তাখরির কিতাবের সাথে ইবনে হাওকালের কিতাবের সাধারণ তুলনাই এই সত্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ দেয়। আবু যায়েদ আল-বালখির ওপর আল-ইস্তাখরির নির্ভরশীলতা এই কিতাবের কোনো ত্রুটি নয়, কারণ এই জ্ঞান তখন প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিল এবং পরবর্তীগণ সর্বদা পূর্ববর্তীগণের ওপর নির্ভর করেন, যেমনটি ইবনে হাওকাল আল-ইস্তাখরির ওপর নির্ভর করেছেন। আর লিপিকারদের পক্ষ থেকে কিতাবের শিরোনামে (অঞ্চলসমূহের চিত্র) যোগ করাটি একটি বাণিজ্যিক বিষয়, তারা আবু যায়েদের খ্যাতির মাধ্যমে আল-ইস্তাখরির কিতাবের তাদের অনুলিপিগুলোর প্রসার চেয়েছিল। এছাড়া এটি একটি সাধারণ পরিভাষা যা এক কিতাবকে অন্য কিতাব থেকে পৃথক করে না, যেমন (আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক) পরিভাষাটি; কোনো কিতাবে এর ব্যবহার প্রমাণ করে না যে এটি অন্য কোনো কিতাব থেকে নেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, আল-ইস্তাখরি কে? তিনি হলেন আবু কাসিম ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-ফারিসি, যিনি তার সময়ে 'আল-ফারিসি' নামে খ্যাত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তার শহরের সাথে সম্বন্ধ করে 'আল-ইস্তাখরি' নামে পরিচিত হন। তিনি ছিলেন একজন ব্যক্তি—যেমনটি মনে হয়—যিনি তার যুগে খুব একটা প্রসিদ্ধ ছিলেন না, এ কারণে জীবনীগ্রন্থগুলো তার উল্লেখ এড়িয়ে গেছে। আর এ কারণেই আমরা তার জন্মসাল জানি না, যদিও এটি নিশ্চিত যে তা ছিল তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে। আমরা তার মৃত্যুসালও জানি না, যদিও আমরা জানি যে তা ছিল চতুর্থ শতাব্দীতে; কারণ ইবনে হাওকাল তার জীবনের শেষ দিকে অর্থাৎ ৩২৫ হিজরি সালে বাগদাদে তার সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যা তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে তিনি ৩২৫ হিজরি সালে বাগদাদে ছিলেন (পৃষ্ঠা ২৪৫- লাইডেন সংস্করণ); আল-ইস্তাখরির কিতাব এবং তিনি যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, তার মৃত্যুসাল ছিল চতুর্থ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। এর কারণ হলো তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে লুকমান ইবনে নাসর ইবনে আহমদ ইবনে আসাদ আস-সামানির কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি খুব সম্ভবত নুহ ইবনে নাসর আস-সামানি অথবা তার পুত্র আব্দুল মালিকের (মৃত্যু ৩৫০ হিজরি) সময়ে সমরকন্দের শাসক ছিলেন—এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্ভাবনা।

আল-ইস্তাখরি ছিলেন এমন একজন লেখক যাঁর একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি ছিল যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। তাঁর রচনারীতি বোঝা যায় উদাহরণস্বরূপ জিবাল অঞ্চল সম্পর্কে তাঁর এই বক্তব্য থেকে: (আর 'রায়' শহরকে আমরা 'দাইলাম'-এর সাথে যুক্ত করেছি যদিও তা স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, কারণ এদের মাঝে সংযোগ অবিচ্ছিন্ন এবং এদের মাঝে এমন কোনো বাধা নেই যার ফলে একে পৃথক করা প্রয়োজন; তাই কখনও একে জিবালের অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়, আবার কখনও খুরাসানের প্রশাসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়)। এবং 'মা ওয়ারাউন নহর' (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি থেকেও:

(পরিকল্পনা ছিল খাওয়ারিজমের অর্ধেক খুরাসানের মানচিত্রে এবং বাকি অর্ধেক মা ওয়ারাউন নহরের মানচিত্রে চিত্রিত করব, কিন্তু এই কিতাবের উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলসমূহ ও তাদের শহরগুলো সম্পর্কে জানা। তাই আমি খাওয়ারিজমকে একসাথেই চিত্রিত করা পছন্দ করেছি এবং একে মা ওয়ারাউন নহরের চিত্রে স্থান দিয়েছি, যাতে দুটি চিত্রে পুনরাবৃত্তি ছাড়াই আমার উদ্দেশ্য সফল হয়)। সুতরাং আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে তিনি একজন সুপরিকল্পিত লেখক, যিনি একটি নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেন, তিনি সেই নিয়মের অনুগত এবং অ-ভৌগোলিক কারণে সৃষ্ট প্রশাসনিক বিভাজন গ্রহণ করেন না। আপনি দেখবেন যে তিনি কোনো অঞ্চলকে একটি একক হিসেবে গণ্য করেন এবং প্রকৃতি একে বিভক্ত না করলে তিনি একে খণ্ড করেন না। তিনি তাঁর সময়ের প্রেক্ষাপটে একজন অত্যন্ত সূক্ষ্ম লেখক ছিলেন এবং উদাহরণস্বরূপ তাঁর এই উক্তি থেকে তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়: (আর নীল নদ সম্পর্কে কথা হলো, এর পানির উৎস জানা যায় না, কারণ এটি জাঞ্জ ভূমির ওপারের এমন এক মরুভূমি থেকে নির্গত হয় যা অতিক্রম করা সম্ভব নয় যতক্ষণ না তা শেষ হয়...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১০)
إلى حد الزنج) ، فهو يرفض الخرافات التى تجعل النيل ينبع من الجنة، ويتضح ذلك أيضا فى حديثه عن الديلم (وفى حماقات الأولين أن الضحاك مقيد بها) ، وفى ختام حديثه عن اليمن فى قوله: (ويحكى عن الغيلان بها من الأعجوبة ما لا أستجيز حكايته) ، فمن هذه الأمثلة تراه رجلا يبحث عن الحقيقة وفق ما يهديه إليه عقله، ويرفض الجرى وراء الخرافات قدر المناهج المتاحة لعصره، وهو بعد ذلك أمين فى التأليف يذكر المحاسن والمساوئ وإن كانت فى قومه الفرس، قال فى فصله عن فارس: (وقد انتحل قوم من الفرس ديانات خرجوا بها من المذاهب فدعوا إليها وانتصبوا لها، لولا إهمال أمرهم ضرب من العصبية وباب من التحامل فنذكر المحاسن ولا نذكر غيرها) .

والقارئ لكتاب الاصطخرى يلاحظ فى وضوح أن منهجه فى التأليف يقوم على أسس ثلاثة، أولاد المشاهدة والوصف وفق الرؤية، وتجد ذلك واضحا فى حديثه عن إقليم ما وراء النهر وديار ثمود وغيرهما، وثانيا تحرى الدقة جهد الطاقة مخالفا غيره تارة ومتفقا تارة أخرى، وثالثا سماع الأخبار والاقتصاد فى روايتها، ولقد بيّن ذلك فى مقدمة كتابه قائلا: (فقد يوجد فى الأخبار ولا يتعذر على من أراد تقصّى شىء من ذلك من أهل كل بلد، ولذلك تجوّزنا فى ذكر المسافات والمدن وسائر ما نذكره) ، وليس معنى هذا أنه استغنى عن النقل، وإنما معناه أنه تحرى الاقتصاد فى الرواية، وأثبت ما هو ضرورى ومكمل لكتابه، مما رآه متفقا ومنهجه فى الصحة والمنطق والتصوير.

ولا يخفى على الباحث أن الرجل أنفق السنين الأخيرة من حياته مؤلفا لهذا الكتاب، وأنت ترى ذلك واضحا بين ثنايا كتابه، تراه فى بلاد العرب فى أوائل القرن الرابع، كما يتبين ذلك من قوله: (وليس بمكة ماء جار إلا شيء بلغنى بعد خروجى عنها أنه أجرى إليها من عين كان عمل فيها بعض الولاة فاستتم فى أيام المقتدر أمير المؤمنين) ، وهذا يشير- وفقا لمهجه- أنه بدأ فى تأليف كتابه فى أوائل القرن الرابع الهجرى، وأنه ظل يضيف إليه نتيجة مرحلته فى الأقطار الإسلامية حتى حوالى منتصف القرن الرابع، كما يدل على ذلك قوله: (فوقعت فتنة بسمرقند فى أيام مقامى بها وأحرق الباب وذهبت الكتابة وأعاد ذلك الباب أبو المظفر محمد بن لقمان بن نصر ابن أحمد بن أسد كما كان من حديد من غير تلك الكتابة.) ، ومن هذا ندرك أن الرجل لم يأخذ فى تأليف الكتاب إلا بعد نضجه واختزان كثير من التجارب وغربلة ما سمع من أخبار، وأنه ثمرة جهد وعلم كلفاه نصف قرن تقريبا.

ومع ذلك فلا عجب أن يكون لكتاب الاصطخرى أهمية تدعو إلى الاحتفال به، أهمية تدفع النساخ أن يقوموا بنسخه وتوزيعه، ولكن عدم شهرة الرجل فى زمانه كانت عاملا يعوق رواجه، ومن ثمّ ظل محدود
(জঞ্জ সীমান্ত পর্যন্ত), তিনি সেই সব রূপকথা প্রত্যাখ্যান করেন যা নীল নদকে জান্নাত থেকে উৎসারিত বলে গণ্য করে। দাইলাম সম্পর্কে তার আলোচনাতেও এটি স্পষ্ট হয় (যে প্রাচীনদের মূর্খতাসূচক ধারণার অন্তর্ভুক্ত হলো যে দাহহাক সেখানে বন্দি রয়েছে), এবং ইয়েমেন সম্পর্কে আলোচনার শেষে তার উক্তি: (সেখানের গুল বা প্রেতাত্মাদের সম্পর্কে এমন সব বিস্ময়কর কাহিনী বর্ণিত হয় যা বর্ণনা করা আমি বৈধ মনে করি না)। এই উদাহরণগুলো থেকে আপনি তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে দেখতে পাবেন যিনি তার বুদ্ধির নির্দেশিত পথ অনুযায়ী সত্য অনুসন্ধান করেন এবং তার যুগের লভ্য পদ্ধতি অনুসারে রূপকথার অনুসরণ প্রত্যাখ্যান করেন। তদুপরি তিনি রচনায় অত্যন্ত সত্যনিষ্ঠ; তিনি দোষ ও গুণ উভয়ই উল্লেখ করেন, যদিও তা তার নিজ জাতি পারস্যবাসীদের ক্ষেত্রেও হয়। পারস্য বিষয়ক পরিচ্ছেদে তিনি বলেছেন: (পারস্যের একদল লোক এমন সব ধর্ম গ্রহণ করেছে যার মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তারা সেদিকে আহ্বান জানিয়েছে ও তার পক্ষে দাঁড়িয়েছে। যদি তাদের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হতো, তবে তা এক প্রকার পক্ষপাতিত্ব ও অন্যায্যতা হতো; তাই আমরা ভালো দিকগুলো উল্লেখ করি এবং অন্যগুলো বর্জন করি)।

ইসতাখরী-র বইয়ের পাঠক স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করবেন যে, তার রচনা পদ্ধতি তিনটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: প্রথমত, চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ এবং দর্শনের ভিত্তিতে বর্ণনা; যা আপনি মা-ওয়ারাউন নহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা), সামুদ জাতির আবাসস্থল এবং অন্যান্য অঞ্চলের বর্ণনায় স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। দ্বিতীয়ত, সাধ্যমতো নির্ভুলতা বজায় রাখা; যেখানে তিনি কখনও অন্যদের বিরোধী হয়েছেন আবার কখনও একমত হয়েছেন। তৃতীয়ত, সংবাদ শ্রবণ এবং বর্ণনায় পরিমিতিবোধ। তিনি তার গ্রন্থের ভূমিকায় এটি স্পষ্ট করেছেন: (সংবাদসমূহে এটি পাওয়া যেতে পারে এবং প্রতিটি দেশের অধিবাসীদের মধ্যে যারা এর বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে চায় তাদের জন্য তা অসম্ভব নয়। এই কারণে আমরা দূরত্ব, শহর এবং অন্যান্য যা কিছু উল্লেখ করেছি সেগুলোর বর্ণনায় কিছুটা নমনীয়তা অবলম্বন করেছি)। এর অর্থ এই নয় যে তিনি তথ্য নকল করা থেকে বিমুখ হয়েছেন, বরং এর অর্থ হলো তিনি বর্ণনায় মিতব্যয়িতা অবলম্বন করেছেন এবং যা তার বইয়ের জন্য আবশ্যক ও পরিপূরক তা-ই সন্নিবেশিত করেছেন, যা তার কাছে সঠিকতা, যুক্তি ও চিত্রের মানদণ্ডে সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে হয়েছে।

গবেষকদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই ব্যক্তি তার জীবনের শেষ বছরগুলো এই গ্রন্থ রচনায় ব্যয় করেছেন। আপনি তার গ্রন্থের পরতে পরতে এর প্রমাণ দেখতে পাবেন; আপনি তাকে চতুর্থ হিজরি শতকের শুরুর দিকে আরব ভূখণ্ডে দেখতে পান, যেমনটি তার এই উক্তি থেকে প্রতীয়মান হয়: (মক্কায় কোনো প্রবাহিত পানি নেই, তবে আমার সেখান থেকে প্রস্থানের পর সংবাদ পেয়েছি যে জনৈক শাসক একটি ঝর্ণা থেকে সেখানে পানি প্রবাহিত করেছেন যা আমিরুল মুমিনীন আল-মুক্তাদিরের আমলে সমাপ্ত হয়েছে)। এটি—তার কর্মপদ্ধতি অনুযায়ী—ইঙ্গিত দেয় যে তিনি চতুর্থ হিজরি শতকের শুরুর দিকে তার গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিলেন এবং প্রায় মধ্য চতুর্থ হিজরি শতক পর্যন্ত ইসলামী দেশসমূহে তার অবস্থানের ফসল হিসেবে এতে নতুন তথ্য সংযোজন অব্যাহত রাখেন। যেমনটি তার এই উক্তি দ্বারা প্রমাণিত হয়: (আমার সমরকন্দে অবস্থানকালে সেখানে একটি বিদ্রোহ দেখা দেয়, ফলে ফটকটি পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং লিপিটি মুছে যায়। পরবর্তীতে আবু মুজাফফর মুহাম্মদ বিন লুকমান বিন নাসর ইবনে আহমাদ বিন আসাদ সেই ফটকটি লিপি ছাড়াই পুনরায় লোহা দিয়ে নির্মাণ করে দেন)। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, এই ব্যক্তি পূর্ণ পরিপক্কতা অর্জন, প্রচুর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় এবং শ্রুত সংবাদসমূহ যাচাই-বাছাই করার পরেই গ্রন্থটি রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন; এবং এটি প্রায় অর্ধশতাব্দীর জ্ঞান ও সাধনার ফসল।

তা সত্ত্বেও, ইসতাখরীর গ্রন্থের এমন গুরুত্ব থাকা আশ্চর্যের বিষয় নয় যা একে সমাদৃত করার দাবি রাখে; এমন গুরুত্ব যা অনুলিপিকারীদের এটি নকল করতে এবং ছড়িয়ে দিতে উৎসাহিত করে। কিন্তু নিজ যুগে লোকটির অখ্যাত হওয়া ছিল এর প্রসারে একটি প্রতিবন্ধক, ফলে এটি সীমিত থেকে যায়...
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১১)
الشهرة، لا يحتفل به إلا العارفون لفضله مثل ياقوت الحموى، الذي ينقل عنه فى كتابه معجم البلدان.

وكتاب الاصطخرى نشر أول ما نشر- فى عصرنا الحديث- مختصرا فى نسخة بالزنكوغراف، عن نسخة مخطوطة سنة 690 هـ، نقلها الدكتور مولر (Dr.J.H.Moeller) فى سنة 1839 م، ووضع لها مقدمة باللاتينية، ثم نشره دى جويه المستشرق المشهور من خمس مخطوطات رمز لها.A.B.C.D.E وذلك سنة 1870 م، وظل الكتاب رغم مرور هذا الزمن الطويل ورغم ما فيه من زلات لا يفكر أحد فى إعادة طبعه، ظل الأمر كذلك حتى نشطت لهذا الأمر إدارة الثقافة العامة.

وهذه النسخة التى أقدمها هى ثمرة المراجعة على مخطوطة محفوظة بدار الكتب المصرية برقم 199 جغرافيا، وعلى مصورتين لمخطوطتين محفوظتين بدار الكتب المصرية، إحداهما برقم 256 جغرافيا والأخرى نسخت سنة 878 هـ برقم 257 جغرافيا، ولقد رمزت للأولى بحرف (ا) وللثانية بحرف (ب) وللثالثة بحرف (ج) ، كما رمزت لنسخة دى جويه المنشورة بحرف (م) للتمييز بين المخطوط وبين المطبوع.

والمخطوط اقد كانت فى حوزة المرحوم على باشا مبارك، وأهديت لدار الكتب المصرية، وهى مكتوبة على ورق ثقيل من القطع الكبير وبخط نسخ، وعلى كل صفحتين متقابلتين مكتوب (وقف الأتابك) وهى ناقصة مع الأسف الشديد، ونبهت على هذا النقص فى موضعه، كما أن بها تمزيقا وخروقا وترقيعا، وناسخها غير معروف وتاريخ نسخها غير معروف أيضا، ولكنها ليست أحدث من المخطوطة ج بأية حال من الأحوال لتشابه الخط، ويمتاز ناسخها بخصلة فريدة هى أنه كثيرا ما يجعل للباء أو التاء التى فى أول الكلمة رأسا مستغنيا بها عن النقط، كما أنه يمتاز بوضع فواصل بعد كل جزء من الحديث كامل، وهذه المخطوطة- بعد ذلك- قريبة الشبه بمخطوطة دى جويه المرموز لها بحرف، C أما المصورتان ب، ج فتشبهان A.B. من مخطوطات دى جويه، والملاحظ أن إحدى هاتين المخطوطتين منقولة عن الأخرى، أو على الأقل كلتاهما مأخوذتان عن نسخة واحدة.

والنظرة الفاحصة للمخطوطات جميعا يستدل منها على أنها ترجع إلى أصول ثلاثة، فالمخطوطة ا C ترجعان إلى أصل واحد رغم ما بينهما من اختلاف، والمخطوطات ب ج A B ترجع إلى أصل واحد، أما D فهى ترجع إلى أصل، وهذا الاختلاف هو ثمرة الرغبة فى إرضاء القارئ، ولقد حاولت جهدى أن أصل إلى نص الاصطخرى مستعينا بالمخطوطات على ضوء كتاب ابن حوقل، لأنه كما ذكرنا يكاد يكون صورة أخرى لكتاب الاصطخرى.

أما بعد فهذا كتاب الاصطخرى فى صورته الجديدة، أرجو أن أكون قد أديت واجبى نحوه، فإن جاء محققا للغرض من إعادة نشره شكرت ربى على التوفيق وإلهام الصواب، وإن كانت الأخرى فالخير ابتغيت، والله يهدى من يشاء

القاهرة فى فبراير سنة 1958 دكتور محمد جابر الحسينى
সুখ্যাতি; তার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিগণ ব্যতীত অন্য কেউ তাকে উদযাপন করে না, যেমন ইয়াকুত আল-হামাওয়ী, যিনি তার 'মু'জামুল বুলদান' গ্রন্থে তার থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন।

আল-ইস্তাখরির বইটি আমাদের আধুনিক যুগে সর্বপ্রথম যখন প্রকাশিত হয়েছিল, তখন সেটি জিঙ্কোগ্রাফিক সংস্করণে সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি হিজরি ৬৯০ সালের একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যা ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে ডক্টর জে. এইচ. মোয়েলার (Dr. J.H. Moeller) অনুলিপি করেছিলেন এবং এর জন্য একটি ল্যাটিন ভূমিকা লিখেছিলেন। পরবর্তীতে প্রখ্যাত প্রাচ্যবিদ ডি গোয়ে পাঁচটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে এটি প্রকাশ করেন, যেগুলোকে তিনি A, B, C, D, E বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছিলেন। দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও এবং এতে কিছু ভুলত্রুটি থাকা সত্ত্বেও, সাধারণ সংস্কৃতি বিভাগ (ইদারাতুস সাকাফাতুল আম্মাহ) এই বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ এটি পুনর্মুদ্রণের কথা চিন্তা করেনি।

আমি যে সংস্করণটি উপস্থাপন করছি, তা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়াহ-তে ১৯৯ ভৌগোলিক নম্বরে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি এবং একই স্থানে সংরক্ষিত অপর দুটি পাণ্ডুলিপির ফটোকপির পর্যালোচনার ফসল। এগুলোর একটি ২৫৬ ভৌগোলিক নম্বর এবং অন্যটি ৮৭৮ হিজরিতে অনুলিপি করা ২৫৭ ভৌগোলিক নম্বর। আমি প্রথমটিকে (আলিফ), দ্বিতীয়টিকে (বা) এবং তৃতীয়টিকে (জিম) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি। ডি গোয়ে প্রকাশিত সংস্করণটিকে পাণ্ডুলিপি ও মুদ্রিত কপির মধ্যে পার্থক্য করার জন্য (মীম) বর্ণ দ্বারা চিহ্নিত করেছি।

পাণ্ডুলিপিটি মরহুম আলি পাশা মুবারকের মালিকানাধীন ছিল এবং তা দারুল কুতুব আল-মিসরিয়াহ-কে উপহার দেওয়া হয়েছিল। এটি বড় আকারের পুরু কাগজে নাসখ লিপিতে লেখা। এর প্রতি দুটি মুখোমুখি পৃষ্ঠায় "ওয়াকফ আল-আতাবেক" কথাটি লেখা রয়েছে। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এটি অসম্পূর্ণ, এবং আমি যথাস্থানে এই অসম্পূর্ণতার কথা উল্লেখ করেছি। এতে ছিঁড়ে যাওয়া, গর্ত হওয়া এবং তালি দেওয়ার চিহ্নও রয়েছে। এর লিপিকার এবং অনুলিপির তারিখ অজ্ঞাত। তবে এটি কোনোভাবেই 'জিম' পাণ্ডুলিপির চেয়ে আধুনিক নয়, কারণ এর লিপিশৈলী প্রায় একই রকম। এর লিপিকারের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি অনেক সময় শব্দের শুরুতে 'বা' বা 'তা'-এর উপরিভাগ এমনভাবে লিখতেন যে বিন্দুর প্রয়োজন হতো না। এছাড়াও প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার শেষে তিনি বিরামচিহ্ন ব্যবহার করতেন। এই পাণ্ডুলিপিটি ডি গোয়ে-র C চিহ্নিত পাণ্ডুলিপির সাথে অনেকটা সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে 'বা' ও 'জিম' ফটোকপি দুটি ডি গোয়ে-র A ও B পাণ্ডুলিপির অনুরূপ। লক্ষ্য করা গেছে যে, এই দুটি পাণ্ডুলিপির একটি অন্যটি থেকে অনুলিপি করা হয়েছে, অথবা অন্ততপক্ষে দুটিই একই মূল কপি থেকে সংগৃহীত।

সকল পাণ্ডুলিপি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় যে, এগুলো তিনটি মূল উৎসের দিকে ফিরে যায়। পাণ্ডুলিপি 'আলিফ' ও C এর মধ্যে পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এগুলো একই উৎস থেকে আগত। পাণ্ডুলিপি 'বা', 'জিম', A এবং B একই মূল উৎস থেকে উৎসারিত। আর D একটি ভিন্ন মূল উৎস থেকে এসেছে। পাঠকদের সন্তুষ্টির আকাঙ্ক্ষা থেকেই এই ভিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে। আমি ইবনে হাওকালের বইয়ের আলোকে এই পাণ্ডুলিপিগুলোর সাহায্যে ইস্তাখরির মূল পাঠে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছি; কারণ আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, এটি ইস্তাখরির বইয়েরই একটি ভিন্ন রূপ।

অতঃপর, এটি আল-ইস্তাখরির বই তার নতুন আঙ্গিকে। আমি আশা করি এর প্রতি আমার দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি। যদি এটি পুনর্প্রকাশের উদ্দেশ্য পূরণে সফল হয়, তবে আমি তাওফিক এবং সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য আমার রবের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমি তো কেবল কল্যাণই চেয়েছি। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।

কায়রো, ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮, ডক্টর মুহাম্মদ জাবের আল-হুসাইনি
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৩)
[الحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد النبي وعلى آل محمد وسلّم، ونسأل الله التوفيق وخاتمة السعادة]
[সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নেতা নবী মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আমরা আল্লাহর নিকট তাওফিক এবং সৌভাগ্যময় পরিণাম প্রার্থনা করছি।]
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌أول الكتاب

الحمد لله مبدى النعم وولى الحمد، وصلى الله على محمد وعلى آل محمد، أما بعد فإنى ذكرت فى كتابى هذا أقاليم الأرض على الممالك، وقصدت منها بلاد الإسلام بتفصيل مدنها، وتقسيم ما يعود بالأعمال المجموعة إليها، ولم أقصد الأقاليم السبعة التى عليها قسمة الأرض، بل جعلت كل قطعة أفردتها مفردة مصوّرة، تحكى موضع ذلك الإقليم، ثم ذكرت ما يحيط به من الأماكن، وما فى أضعافه من المدن والبقاع المشهورة والبحار والأنهار، وما يحتاج إلى معرفته من جوامع ما يشتمل عليه ذلك الإقليم، من غير أن استقصيت ذلك كراهة الإطالة، التى تؤدى إلى ملال من قرأه، ولأن الغرض فى كتابى هذا تصوير هذه الأقاليم، التى لم يذكرها أحد علمته؛ أما ذكر مدنها وجبالها وأنهارها وبحارها والمسافات وسائر ما أنا ذاكره فقد يوجد فى الأخبار، ولا يتعذر على من أراد تقصّى شىء من ذلك من أهل كل بلد، فلذلك تجوّزنا فى ذكر المسافات والمدن وسائر ما نذكره، فاتخذت لجميع الأرض التى يشتمل عليها البحر المحيط الذي لا يسلك صورة، إذا نظر إليها ناظر علم مكان كل إقليم مما ذكرناه، واتصال بعضه ببعض، ومقدار كل إقليم من الأرض، حتى إذا رأى كل إقليم من ذلك مفصّلا علم موقعه من هذه الصورة، ولم تتسع هذه الصورة التى جمعت سائر الأقاليم لما يستحقه كل إقليم فى صورته، من مقدار الطول والعرض والاستدارة والتربيع والتثليث، وسائر ما يكون عليه أشكال تلك الصورة، فاكتفيت ببيان موقع كل إقليم ليعرف مكانه، ثم أفردت لكل إقليم من بلاد الإسلام صورة على حدة، بيّنت فيها شكل ذلك الإقليم وما يقع فيه من المدن، وسائر ما يحتاج إليه علمه، مما آتى على ذكره فى موضعه إن شاء الله تعالى.

ففصّلت بلاد الإسلام عشرين إقليما، وابتدأت بديار العرب فجعلتها إقليما، لأن فيها الكعبة ومكة أمّ القرى وهى واسطة هذه الأقاليم، ثم أتبعت ديار العرب ببحر فارس لأنه يكتنف أكثر ديار العرب، ثم ذكرت المغرب حتى انتهيت إلى مصر فذكرتها، ثم ذكرت الشام ثم بحر الروم ثم الجزيرة ثم العراق ثم خوزستان ثم فارس ثم كرمان ثم المنصورة وما يتصل بها من بلاد السند والهند والإسلام، ثم أذربيجان وما يتصل بها، ثم كور الجبال ثم الديلم ثم بحر الخزر ثم المفازة التى بين فارس وخراسان ثم سجستان وما يتصل بها ثم خراسان ثم ما وراء النهر.

فهذه صورة الأرض عامرها والخراب منها وهى مقسومة على الممالك. وعماد ممالك الأرض أربعة، فأعمرها وأكثرها خيرا وأحسنها استقامة فى السياسة وتقويم العمارات فيها مملكة إيرانشهر، وقصبتها إقليم بابل وهى مملكة فارس، وكان حدّ هذه المملكة فى أيام العجم معلوما، فلما جاء الإسلام أخذ من كل مملكة بنصيب،
গ্রন্থের সূচনা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি নিআমতসমূহের সূচনাকারী এবং সকল প্রশংসার মালিক। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারের ওপর। এরপর কথা হলো, আমি আমার এই গ্রন্থে পৃথিবীর অঞ্চলসমূহকে বিভিন্ন সাম্রাজ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছি। এর মধ্যে আমি ইসলামের দেশসমূহকে সেগুলোর শহরের বিস্তারিত বিবরণ এবং সেগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যাবলীর বিভাজনসহ বর্ণনা করার সংকল্প করেছি। আমি সেই সাতটি জলবায়ু বা অঞ্চলের কথা উদ্দেশ্য করিনি যার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবীকে ভাগ করা হয়ে থাকে। বরং আমি প্রতিটি অংশকে পৃথকভাবে মানচিত্রের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি, যা সেই অঞ্চলের অবস্থানকে ফুটিয়ে তোলে। এরপর আমি তার চারপাশের স্থানসমূহ এবং তার অভ্যন্তরে অবস্থিত বিখ্যাত শহর, জনপদ, সাগর ও নদ-নদীসমূহ উল্লেখ করেছি। এবং ঐ অঞ্চল যা যা বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর মধ্য থেকে যা জানা প্রয়োজন তাও উল্লেখ করেছি। আমি দীর্ঘায়িত হওয়ার অপছন্দ থেকে এর পূর্ণ পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেইনি, যা পাঠকারীর মনে বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। কারণ আমার এই কিতাবের মূল উদ্দেশ্য হলো এই অঞ্চলগুলোর মানচিত্র অঙ্কন করা, যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে আর কেউ উল্লেখ করেনি। আর শহর, পাহাড়, নদ-নদী, সাগর, দূরত্ব এবং অন্যান্য যা কিছু আমি উল্লেখ করতে যাচ্ছি, তা বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে পাওয়া যেতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কেউ যদি এগুলোর গভীর অনুসন্ধান করতে চায় তবে তার জন্য তা কঠিন নয়। এই কারণে আমি দূরত্ব, শহর এবং অন্যান্য বিষয়ের বর্ণনায় সংক্ষিপ্ত করার পথ অবলম্বন করেছি। আমি সমগ্র পৃথিবীর জন্য—যা একটি অগম্য পরিবেষ্টনকারী মহাসাগরের মাঝে অবস্থিত—একটি মানচিত্র তৈরি করেছি; কোনো দর্শক যখন সেটি দেখবে, তখন সে আমাদের বর্ণিত প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান, একে অপরের সাথে তার সংযোগ এবং পৃথিবীর বুকে প্রতিটি অঞ্চলের পরিমাপ সম্পর্কে জানতে পারবে। এমনকি যখন সে সেগুলোর মধ্য হতে প্রতিটি অঞ্চলের বিস্তারিত মানচিত্র দেখবে, তখন এই বৃহৎ মানচিত্রটিতে তার অবস্থান জানতে পারবে। তবে সমস্ত অঞ্চলের সমষ্টিগত এই মানচিত্রটি প্রতিটি অঞ্চলের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, বৃত্তাকার, চতুর্ভুজ বা ত্রিভুজাকৃতি এবং অন্যান্য অবয়ব যথাযথভাবে ধারণ করার মতো প্রশস্ত ছিল না। তাই আমি প্রতিটি অঞ্চলের অবস্থান স্পষ্ট করার মাধ্যমেই ক্ষান্ত হয়েছি যাতে তার জায়গা চেনা যায়। অতঃপর আমি ইসলামের দেশসমূহের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য পৃথক পৃথক মানচিত্র তৈরি করেছি, যাতে সেই অঞ্চলের আকৃতি, তাতে অবস্থিত শহরসমূহ এবং সে সম্পর্কে যা কিছু জানা প্রয়োজন তা স্পষ্ট করেছি; যা ইনশাআল্লাহ তাআলা যথাস্থানে বর্ণনা করব।

আমি ইসলামের দেশসমূহকে বিশটি অঞ্চলে বিভক্ত করেছি। আমি আরব ভূখণ্ড থেকে শুরু করেছি এবং তাকে একটি স্বতন্ত্র অঞ্চল হিসেবে গণ্য করেছি; কারণ এতে কাবা ও মক্কা অবস্থিত যা ‘উম্মুল কুরা’ (জনপদসমূহের কেন্দ্র) এবং এটি এই অঞ্চলগুলোর মধ্যস্থলে অবস্থিত। এরপর আরব ভূখণ্ডের সাথে সাথে পারস্য সাগরকে যুক্ত করেছি, কারণ এটি আরব ভূখণ্ডের অধিকাংশ এলাকাকে ঘিরে রেখেছে। এরপর মাগরিবের বর্ণনা দিয়েছি এবং মিসর পর্যন্ত পৌঁছে তার বর্ণনা দিয়েছি। এরপর সিরিয়া, তারপর রোম সাগর (ভূমধ্যসাগর), তারপর আল-জাজিরা, তারপর ইরাক, তারপর খুজিস্তান, তারপর পারস্য, তারপর কিরমান, তারপর মানসুরা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সিন্ধু ও হিন্দ-এর মুসলিম ভূখণ্ডসমূহ উল্লেখ করেছি। এরপর আজারবাইজান ও তার সাথে সংযুক্ত এলাকা, তারপর পাহাড়ি অঞ্চলসমূহ, তারপর দায়লাম, তারপর খাজার সাগর (কাস্পিয়ান সাগর), তারপর পারস্য ও খোরাসানের মধ্যবর্তী মরুভূমি, তারপর সিজিস্তান ও তার সাথে সংযুক্ত এলাকা, তারপর খোরাসান এবং সবশেষে মা-ওয়ারাউন নাহার (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) উল্লেখ করেছি।

এটিই হলো পৃথিবীর আবাদি ও বিরান অংশের মানচিত্র, যা বিভিন্ন সাম্রাজ্যের ভিত্তিতে বিভক্ত। পৃথিবীর সাম্রাজ্যসমূহের স্তম্ভ চারটি। সেগুলোর মধ্যে অধিক আবাদকৃত, সর্বাধিক কল্যাণময় এবং রাজনীতি ও নগর সভ্যতায় সবচেয়ে সুসংহত হলো ‘ইরানশাহর’ সাম্রাজ্য; যার কেন্দ্র হলো ব্যাবিলন অঞ্চল এবং তা হলো পারস্য সাম্রাজ্য। অনারবদের আমলে এই সাম্রাজ্যের সীমানা সুনির্ধারিত ছিল। অতঃপর যখন ইসলামের আগমন ঘটল, তখন ইসলাম প্রতিটি সাম্রাজ্য থেকেই তার অংশ গ্রহণ করল।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৬)
فأخذ من مملكة الروم الشام ومصر والمغرب والأندلس، وأخذ من مملكة الهند ما اتصل بأرض المنصورة والملتان إلى كابل وطرف أعلى طخارستان، وأخذ من مملكة الصين ما وراء النهر، وانضاف إليه هذه الممالك العظيمة، فمملكة الروم تدخل فيها حدود الصقالبة ومن جاورهم من الروس والسّرير واللّان والأرمن ومن دان بالنصرانية، ومملكة الصين تدخل فيها سائر بلدان الأتراك وبعض التبّت ومن دان بدين أهل الأوثان منهم، ومملكة الهند تدخل فيها السند وقشمير وطرف من التبّت ومن دان بدينهم، ولم نذكر بلد السودان فى المغرب والبجة والزنج ومن فى أعراضهم من الأمم، لأن انتظام الممالك بالديانات والآداب والحكم وتقويم العمارات بالسياسة المستقيمة، وهؤلاء مهملون لهذه الخصال، ولا حظّ لهم فى شىء من ذلك فيستحقون به إفراد ممالكهم بما ذكرنا به سائر الممالك، غير أن بعض السودان المقاربين لهذه الممالك المعروفة يرجعون إلى ديانة ورياضة وحكم، ويقاربون أهل هذه الممالك مثل النوبة والحبشة، فإنّهم نصارى يرتسمون بمذاهب الروم، وقد كانوا قبل الإسلام يتصلون بمملكة الروم على المجاورة، لأن أرض النوبة متاخمة لأرض مصر والحبشة على بحر القلزم، وبينها وبين أرض مصر مفازة فيها معدن الذهب، ويتصلون بمصر والشام من طريق بحر القلزم، فهذه الممالك المعروفة، وقد زادت مملكة الإسلام بما اجتمع إليها من أطراف هذه الممالك.

وقسمة الأرض على الجنوب والشمال: فإذا أخذت من المشرق من الخليج الذي يأخذ من البحر المحيط بأرض الصين، إلى الخليج الذي يأخذ من هذا البحر المحيط من أرض المغرب بأرض الأندلس، فقد قسمت الأرض قسمين، وخط هذه القسمة يأخذ من بحر الصين حتى يقطع بلد الهند ووسط مملكة الإسلام، حتى يمتد إلى أرض مصر إلى المغرب، فما كان فى حدّ الشمال من هذين القسمين فأهله بيض، وكلما تباعدوا فى الشمال ازدادوا بياضا، وهى أقاليم باردة، وما كان مما يلى الجنوب من هذين القسمين فإنّ أهله سود، وكلما تباعدوا فى الجنوب ازدادوا سوادا، وأعدل هذه الأماكن ما كان فى الخط المستقيم وما قاربه، وسنذكر كل أقليم من ذلك بما يعرف قربه ومكانه من الإقليم الذي يصاقبه. فأما مملكة الإسلام فإنّ شرقيها أرض الهند وبحر فارس، وغربيّها مملكة الروم وما يتصل بها من الأرمن واللّان والرّان والسرير والخزر والروس وبلغار والصقالبة وطائفة من الترك، وشماليّها مملكة الصين وما اتصل بها من بلاد الأتراك، وجنوبيّها بحر فارس؛ وأما مملكة الروم فإن شرقيّها بلاد الإسلام، وغربيّها وجنوبيّها البحر المحيط، وشماليّها حدود عمل الصين، لأنّا ضممنا ما بين الأتراك وبلد الروم من الصقالبة وسائر الأمم إلى بلد الروم، وأما مملكة الصين فإنّ شرقيّها وشماليها البحر المحيط، وأما جنوبيّها فمملكة الإسلام والهند، وأما غربيّها فهو البحر المحيط، إن جعلنا يأجوج ومأجوج وما وراءهم إلى البحر من هذه المملكة، وأما أرض الهند فإن شرقيها بحر فارس، وغربيّها وجنوبيّها بلاد الإسلام، وشماليّها مملكة الصين، فهذه حدود هذه الممالك التى ذكرناها. وأما البحار فإنّ أعظمها بحر فارس وبحر الروم، وهما خليجان
রোমীয় সাম্রাজ্য থেকে শয়াম (সিরিয়া), মিসর, মাগরিব (উত্তর আফ্রিকা) এবং আন্দালুস দখল করা হয়েছিল। আর হিন্দুস্তান সাম্রাজ্য থেকে আল-মানসুরা ও মুলতান সংলগ্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে কাবুল এবং তুখারিস্তানের উচ্চতর সীমান্ত পর্যন্ত এলাকা গ্রহণ করা হয়েছে। চীন সাম্রাজ্য থেকে মা ওয়ারা আন-নাহর (ট্রান্সঅক্সিয়ানা) অঞ্চলটি নেওয়া হয়েছে এবং এই বিশাল সাম্রাজ্যগুলো এর সাথে যুক্ত হয়েছে। রোমীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো সাকালিবা (স্লাভ) ও তাদের পার্শ্ববর্তী রুশ, সারির, আলান, আরমানি এবং যারা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছে তাদের সীমানা। চীন সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো তুর্কিদের সমস্ত দেশ, তিব্বতের কিছু অংশ এবং তাদের মধ্যে যারা মূর্তিপূজারী তাদের এলাকা। হিন্দুস্তান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো সিন্ধু, কাশ্মীর, তিব্বতের একটি অংশ এবং যারা তাদের ধর্মাবলম্বী তারা। আমরা মাগরিবের সুদানীদের দেশ, বাজা এবং জাঞ্জ ও তাদের সংলগ্ন জাতিগুলোর কথা উল্লেখ করিনি; কারণ সাম্রাজ্যসমূহের শৃঙ্খলা নির্ভর করে ধর্ম, শিষ্টাচার, শাসনব্যবস্থা এবং সুশৃঙ্খল রাজনীতির মাধ্যমে সভ্যতার উন্নয়নের ওপর। কিন্তু এরা এই বৈশিষ্ট্যগুলো বর্জন করেছে এবং এগুলোর কোনোটিতেই তাদের কোনো অংশ নেই, ফলে অন্যান্য সাম্রাজ্যের মতো তাদের সাম্রাজ্যগুলোকে পৃথকভাবে উল্লেখ করার যোগ্যতা তারা রাখে না। তবে এই পরিচিত সাম্রাজ্যগুলোর নিকটবর্তী কিছু সুদানি সম্প্রদায় ধর্ম, নিয়মানুবর্তিতা ও শাসনের অনুসারী এবং তারা এই সাম্রাজ্যের অধিবাসীদের কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যেমন নুবা (নুবিয়া) ও হাবশা (আবিসিনিয়া)। কেননা তারা খ্রিষ্টান এবং রোমীয়দের মাযহাব অনুসরণ করে। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে তারা প্রতিবেশী হিসেবে রোমীয় সাম্রাজ্যের সাথে যুক্ত ছিল, কারণ নুবিয়ার ভূখণ্ড মিসরের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত এবং হাবশা কুলজুম সাগরের (লোহিত সাগর) তীরে অবস্থিত। এদের এবং মিসরের মধ্যবর্তী মরুদ্যানে সোনার খনি রয়েছে এবং তারা কুলজুম সাগরের মাধ্যমে মিসর ও শয়ামের সাথে যুক্ত হয়। এই হলো সুপরিচিত সাম্রাজ্যসমূহ; আর এই সাম্রাজ্যগুলোর প্রান্তিক অঞ্চলগুলো একত্রিত হওয়ার ফলে ইসলামি সাম্রাজ্যের পরিধি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ বিভাজন: আপনি যদি পূর্ব দিকের চীন সাগর সংলগ্ন মহাসাগর থেকে উৎপন্ন উপসাগর থেকে শুরু করে পশ্চিমের আন্দালুসীয় ভূখণ্ডের চারপাশের মহাসাগরীয় উপসাগর পর্যন্ত একটি রেখা টানেন, তবে পৃথিবী দুই ভাগে বিভক্ত হবে। এই বিভাজন রেখাটি চীন সাগর থেকে শুরু করে হিন্দুস্তান ভূখণ্ড এবং ইসলামি সাম্রাজ্যের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে মিসর ও মাগরিব পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুই ভাগের মধ্যে যা উত্তরের সীমানায় অবস্থিত তার অধিবাসীরা শ্বেতবর্ণের; তারা যত উত্তরের দিকে যায়, তাদের শুভ্রতা তত বৃদ্ধি পায়, কারণ সেগুলো শীতল অঞ্চল। আর যা দক্ষিণাংশের অন্তর্ভুক্ত তার অধিবাসীরা কৃষ্ণাঙ্গ; তারা যত দক্ষিণের দিকে যায়, তাদের কৃষ্ণবর্ণ তত গাঢ় হয়। এই স্থানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ হলো সেই এলাকা যা সরলরেখায় বা তার কাছাকাছি অবস্থিত। আমরা প্রতিটি অঞ্চলের বর্ণনা এমনভাবে প্রদান করব যা থেকে এর অবস্থান ও নিকটবর্তী অঞ্চল সম্পর্কে জানা যাবে। ইসলামি সাম্রাজ্যের সীমানা হলো: এর পূর্বে হিন্দুস্তান এবং পারস্য সাগর, পশ্চিমে রোমীয় সাম্রাজ্য এবং তৎসংলগ্ন আরমানি, আলান, রান, সারির, খাযার, রুশ, বুলগার, সাকালিবা ও তুর্কিদের একটি দল। এর উত্তরে চীন সাম্রাজ্য ও তৎসংলগ্ন তুর্কি দেশসমূহ এবং দক্ষিণে পারস্য সাগর। রোমীয় সাম্রাজ্যের সীমানা হলো: এর পূর্বে ইসলামি দেশসমূহ, পশ্চিমে ও দক্ষিণে মহাসাগর এবং উত্তরে চীন প্রশাসনের সীমানা; কারণ আমরা তুর্কি ও রোমের মধ্যবর্তী সাকালিবা ও অন্যান্য জাতিগুলোকে রোমের অন্তর্ভুক্ত করেছি। চীন সাম্রাজ্যের সীমানা হলো: এর পূর্বে ও উত্তরে মহাসাগর, দক্ষিণে ইসলামি সাম্রাজ্য ও হিন্দুস্তান এবং পশ্চিমে মহাসাগর—যদি আমরা ইয়াজুজ ও মাজুজ এবং তাদের পরবর্তী সমুদ্র পর্যন্ত এলাকাকে এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করি। হিন্দুস্তান ভূখণ্ডের সীমানা হলো: এর পূর্বে পারস্য সাগর, পশ্চিমে ও দক্ষিণে ইসলামি দেশসমূহ এবং উত্তরে চীন সাম্রাজ্য। এই হলো সেই সাম্রাজ্যগুলোর সীমানা যা আমরা উল্লেখ করেছি। সমুদ্রসমূহের মধ্যে বৃহত্তম হলো পারস্য সাগর এবং রোমীয় সাগর (ভূমধ্যসাগর), আর এই দুটি হলো মহাসাগর থেকে উৎপন্ন দুটি উপসাগর।
(খণ্ড: ১) আল-মাসালিকু ওয়াল মামালিকু লিল ইস্তাখরি আও মাসালিকুল মামালিক - মিসর (পৃষ্ঠা: ১৭)
متقابلان يأخذان من البحر المحيط، وأعظمها طولا وعرضا بحر فارس، والذي ينتهى إليه بحر فارس من الأرض من حدّ الصين إلى القلزم، فإذا قطعت من القلزم إلى الصين على خط مستقيم كان مقداره مائتى مرحلة، وذلك أنّك إذا قطعت من القلزم إلى أرض العراق فى البرّية كان نحوا من شهر، ومن العراق إلى نهر بلخ نحوا من شهرين، ومن نهر بلخ إلى آخر الإسلام فى حدّ فرغانة نيفا وعشرين مرحلة، ومن هناك إلى أن تقطع أرض الخزلجيّة كلها فتدخل فى عمل التّغزغز نيف وثلاثون مرحلة، ومن هذا المكان إلى البحر من آخر عمل الصين نحو من شهرين؛ فأما من أراد قطع هذه المسافة من القلزم إلى الصين فى البحر طالت المسافة عليه، لكثرة المعاطف والتواء الطرق فى هذا البحر، وأما بحر الروم فإنّه يأخذ من البحر المحيط فى الخليج الذي بين المغرب وأرض الأندلس، حتى ينتهى إلى الثغور الشامية، ومقداره فى المسافة نحو من سبعة أشهر، وهو أحسن استقامة واستواء من بحر فارس، وذلك أنّك إذا أخذت من فم هذا الخليج أدّتك ريح واحدة إلى آخر هذا البحر، وبين بحر القلزم- الذي هو لسان بحر فارس- وبين بحر الروم على سمت الفرما أربع مراحل، غير أن بحر الروم يجاوز الفرما إلى الثغور بنيف وعشرين مرحلة، وقد فصّلنا فى مسافات المغرب ما يغنى عن إعادته، فمن مصر إلى أقصى المغرب نحو من مائة وثمانين مرحلة، فكان ما بين أقصى الأرض من المغرب إلى أقصاها من المشرق نحوا من أربعمائة مرحلة؛ وأما عرضها من أقصاها فى حدّ الشمال إلى أقصاها فى حدّ الجنوب فإنّك تأخذ من ساحل البحر المحيط حتى تنتهى إلى أرض يأجوج ومأجوج، ثم تمرّ على ظهر الصقالبة، وتقطع أرض بلغار الداخلة والصقالبة، وتمضى فى بلاد الروم إلى الشام حتى تخرج من الشام وأرض مصر والنوبة، ثم تمتدّ فى برّية بين بلاد السودان وبلاد الزنج حتى تنتهى إلى البحر المحيط، وهذا خط ما بين جنوبىّ الأرض وشماليّها؛ فأما الذي أعلمه من مسافة هذا الخط فإنّ من ناحية يأجوج إلى ناحية بلغار وأرض الصقالبة نحوا من أربعين مرحلة، ومن أرض الصقالبة فى بلد الروم إلى الشام نحوا من ستين مرحلة، ومن أرض الشام إلى أرض مصر نحوا من ثلاثين مرحلة، ومنها إلى أقصى النوبة نحوا من ثمانين مرحلة حتى تنتهى إلى هذه البرّية، فذلك مائتان وعشر مراحل كلها عامرة؛ وأما ما بين يأجوج ومأجوج والبحر المحيط فى الشمال، وما بين برارىّ السودان والبحر المحيط فى الجنوب فقفر خراب، ما بلغنا أنّ فيه عمارة، ولا أدرى مسافة هاتين البرّيتين إلى شط البحر المحيط كم هى، وذلك أن سلوكهما غير ممكن لفرط البرد الذي يمنع من العمارة والحياة فى الشمال، وفرط الحرّ المانع من الحياة والعمارة فى الجنوب؛ وأما ما بين الصين والمغرب فمعمور كلّه، والأرض كلها مستديرة والبحر المحيط محتفّ بها كالطوق، ويأخذ بحر الروم وبحر فارس من هذا البحر؛ فأما بحر الخزر فليس يأخذ من هذا الخليج وإنما هو بحر لو أخذ السائر على ساحله من الخزر على أرض الدّيلم وطبرستان وجرجان والمفازة على سياه كوه لرجع إلى مكانه الذي سار منه، من غير أن يمنعه مانع إلا نهر يقع فيه، وأما بحيرة خوارزم فكذلك. وفى أعراض بلاد الزنج ومن وراء أرض

(3) المسالك والممالك

একে অপরের বিপরীতমুখী দুটি সাগর বেষ্টনকারী মহাসাগর থেকে উদ্ভূত হয়েছে; এদের মধ্যে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে সর্বাপেক্ষা বিশাল হলো পারস্য সাগর। পারস্য সাগর ভূমির দিক থেকে চীনের সীমানা হতে কুলজুম পর্যন্ত বিস্তৃত। আপনি যদি কুলজুম হতে চীন পর্যন্ত সরলরেখায় পথ অতিক্রম করেন, তবে তার পরিমাণ হবে দুইশত মঞ্জিল। এর কারণ হলো, আপনি যখন স্থলপথে কুলজুম হতে ইরাক ভূমি পর্যন্ত মরুপ্রান্তরের মধ্য দিয়ে পথ অতিক্রম করবেন, তখন তা হবে প্রায় এক মাস। আর ইরাক হতে বলখ নদী পর্যন্ত প্রায় দুই মাস। বলখ নদী হতে ফরগানার সীমানায় ইসলামের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত বিশ মঞ্জিলের কিছু বেশি। সেখান থেকে সমগ্র খজলজিয়া ভূমি অতিক্রম করে তুগুজগুজ এলাকায় প্রবেশ করা পর্যন্ত ত্রিশ মঞ্জিলের কিছু বেশি। এবং এই স্থান হতে চীনের শেষ সীমানার সমুদ্র পর্যন্ত প্রায় দুই মাস। তবে যে ব্যক্তি সমুদ্রপথে কুলজুম হতে চীন পর্যন্ত এই দূরত্ব অতিক্রম করতে চায়, তার জন্য এই পথ দীর্ঘতর হবে; কারণ এই সাগরে বাঁক ও পথের জটিলতা অনেক বেশি। আর রোম সাগর (ভূমধ্যসাগর) মাগরিব (পশ্চিম) ও আন্দালুস ভূমির মধ্যবর্তী প্রণালী দিয়ে বেষ্টনকারী মহাসাগর হতে নির্গত হয়ে শামি সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছেছে। দূরত্বের হিসেবে এর পরিমাণ প্রায় সাত মাস। এটি পারস্য সাগরের তুলনায় অধিকতর সোজা ও সমতল। কারণ আপনি যদি এই প্রণালীর মুখ থেকে যাত্রা শুরু করেন, তবে একটি বায়ুই আপনাকে এই সাগরের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। কুলজুম সাগর—যা পারস্য সাগরের একটি শাখা—এবং রোম সাগরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আল-ফারামা বরাবর চার মঞ্জিল। তবে রোম সাগর আল-ফারামা অতিক্রম করে সীমান্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিশ মঞ্জিলেরও কিছু বেশি বিস্তৃত। আমরা মাগরিবের দূরত্বের বর্ণনায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি যা পুনরাবৃত্তির প্রয়োজন রাখে না। মিসর হতে সুদূর মাগরিব পর্যন্ত প্রায় একশত আশি মঞ্জিল। ফলে পৃথিবীর এক প্রান্ত মাগরিব হতে অন্য প্রান্ত মাশরিক (পূর্ব) পর্যন্ত দূরত্ব দাঁড়ায় প্রায় চারশত মঞ্জিল। আর এর প্রস্থের ক্ষেত্রে, উত্তর প্রান্তের শেষ সীমানা হতে দক্ষিণ প্রান্তের শেষ সীমানা পর্যন্ত আপনি বেষ্টনকারী মহাসাগরের উপকূল হতে ইয়াজুজ ও মাজুজ ভূমি পর্যন্ত পৌঁছাবেন। অতঃপর আপনি সাকালিবা অঞ্চলের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবেন এবং অভ্যন্তরীণ বুলগার ও সাকালিবা ভূমি পার হয়ে রোম সাম্রাজ্যের দেশগুলোর মধ্য দিয়ে শাম পর্যন্ত পৌঁছাবেন। এরপর শাম, মিসর ও নুবিয়া ভূমি ত্যাগ করে সুদান ও জাঞ্জ অঞ্চলের মধ্যবর্তী মরুভূমির মধ্য দিয়ে বেষ্টনকারী মহাসাগর পর্যন্ত পৌঁছাবেন। এটি হলো পৃথিবীর দক্ষিণ ও উত্তরের মধ্যবর্তী রেখা। এই রেখার দূরত্ব সম্পর্কে আমি যতটুকু জানি তা হলো, ইয়াজুজ অঞ্চল হতে বুলগার ও সাকালিবা ভূমি পর্যন্ত প্রায় চল্লিশ মঞ্জিল। সাকালিবা ভূমি হতে রোম সাম্রাজ্যের মধ্য দিয়ে শাম পর্যন্ত প্রায় ষাট মঞ্জিল। শাম দেশ হতে মিসর পর্যন্ত প্রায় ত্রিশ মঞ্জিল। সেখান থেকে নুবিয়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় আশি মঞ্জিল, যতক্ষণ না আপনি এই মরুভূমি পর্যন্ত পৌঁছান। এই হলো দুইশত দশ মঞ্জিল যার পুরোটাই জনবসতিপূর্ণ। আর উত্তরে ইয়াজুজ-মাজুজ ও বেষ্টনকারী মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল এবং দক্ষিণে সুদানের মরুভূমি ও বেষ্টনকারী মহাসাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চল হলো জনমানবহীন মরুপ্রান্তর। সেখানে কোনো জনবসতি আছে বলে আমাদের কাছে খবর পৌঁছেনি। বেষ্টনকারী মহাসাগরের উপকূল পর্যন্ত এই দুই মরুপ্রান্তরের দূরত্ব কতটুকু তা আমি জানি না। এর কারণ হলো, প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে উত্তর দিকে এবং প্রচণ্ড গরমের কারণে দক্ষিণ দিকে চলাফেরা করা সম্ভব নয়, যা সেখানে জীবন ও জনবসতি স্থাপনে বাধা দেয়। তবে চীন ও মাগরিবের মধ্যবর্তী পুরো অংশই জনবসতিপূর্ণ। পৃথিবী মণ্ডলাকার এবং বেষ্টনকারী মহাসাগর একে বলয়ের ন্যায় পরিবেষ্টন করে আছে। রোম সাগর ও পারস্য সাগর এই মহাসাগর থেকেই উৎপন্ন হয়েছে। তবে খাজার সাগর (কাস্পিয়ান সাগর) এই মহাসাগর হতে উৎপন্ন নয়। এটি এমন এক সাগর যে, কোনো পরিব্রাজক যদি খাজার থেকে এর উপকূল ধরে দাইলাম, তাবারিস্তান, জুরজান এবং সিয়াহ কুহ-এর মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাত্রা করেন, তবে তিনি পুনরায় সেই স্থানেই ফিরে আসবেন যেখান থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কোনো নদী ছাড়া আর কিছুই তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। খাওয়ারিজম হ্রদটিও ঠিক একই রকম। জাঞ্জ অঞ্চলের অক্ষাংশে এবং এর পশ্চাতে...

(৩) আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক (পথ ও রাজ্যসমূহ)