(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: -)
البديع في البديع لابن المعتز القسم: البلاغة
الكتاب: البديع في البديع
المؤلف: أبو العباس، عبد الله بن محمد المعتز بالله ابن المتوكل ابن المعتصم ابن الرشيد العباسي (ت 296هـ)
الناشر: دار الجيل
الطبعة: الطبعة الأولى 1410هـ - 1990م
عدد الصفحات: 180
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে আল-মুতাজ রচিত আল-বাদী' ফিল বাদী' বিভাগ: অলংকারশাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-বাদী' ফিল বাদী'
লেখক: আবু আল-আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুতাজ বিল্লাহ ইবনে আল-মুতাওয়াক্কিল ইবনে আল-মুতাসিম ইবনে আর-রাশিদ আল-আব্বাসি (মৃত্যু ২৯৬ হি.)
প্রকাশক: দার আল-জিল
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১০ হি. - ১৯৯০ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮০
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول: البيان قبل ابن المعتز:بسم الله الرحمن الرحيم
"1"
لابن المعتز منزلة كبيرة في البيان العربي؛ فقد ألف فيه كتابه "البديع" الذي عدَّد فيه شتى أساليب ومحاسن الشعر كما عرفها ابن المعتز وعصره. وهذا الكتاب ليس قاصرًا على البديع بالمعنى الضيق المحدود؛ لأن ابن المعتز يذكر فيه التشبيه والاستعارة وهما من صميم البيان العربي، ويذكر فيه الكناية؛ ولكنه يريد بها معناها اللغوي، وهو أهم من المعنى الاصطلاحي المعروف. فإذا قلنا: إن ابن المعتز ألَّف في البيان، فقد سرنا في الحق والتفكير السليم، وإذا قلنا: إنه ألف في البديع، فقد ضيقنا دائرة البحث بغير مبرِّر، وإن كان البديع في الاصطلاح المتأخر جزءًا من البيان، وإن كان البديع بالمعنى القديم المعروف عن بعض علماء البلاغة يرادف كلمة البيان أو البلاغة.
فابن المعتز -إذن- ذو أثر كبير في البديع، وعلى وجه الدقة له أثره في البيان العربي ودراساته، وذلك ما سنتناوله الآن بالبحث والتحليل.
"2"
1- كان للعرب في حياتهم الأولى ذوق، وفيه طبع، كانوا بهما في غنًى عن الشرح والتحليل والتوجيه والتعليل لأحكام النقد ولأصول البيان العربي ومذاهبه، وكذلك كانت أصول البيان بعيده عن البحث والدراسة والتقرير.
وفي ظلال الحياة الإسلامية اختلطت العناصر، وتمازجت الثقافات، فلقحت العقول، وأصابت الألسنة آثار من اللكنة واللحن، وأخذ أئمة العربية يعملون في صبر وعزيمة في وضع أصول النحو العربي، وجمع مواد اللغة الغزيرة، وصحب ذلك وتلاه دراسات أخرى تتناول العربي وأصوله ومذاهبه بالبحث
প্রথম অধ্যায়: ইবনে আল-মু’তাজ্জের পূর্বে আল-বায়ান:পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
"১"
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে (বায়ান) ইবনে আল-মু’তাজ্জের একটি বিশাল মর্যাদা রয়েছে; তিনি এই বিষয়ে তাঁর "আল-বাদি" গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যাতে তিনি ইবনে আল-মু’তাজ্জ ও তাঁর যুগের পরিচিত কবিতার বিভিন্ন শৈলী ও সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থটি কেবল সংকীর্ণ ও সীমিত অর্থে 'বাদি' (শব্দালঙ্কার) শাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কারণ ইবনে আল-মু’তাজ্জ এতে উপমা (তাশবিহ) ও রূপক (ইসতিয়ারা) উল্লেখ করেছেন, যা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল নির্যাস। তিনি এতে কেনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি) সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন; তবে তিনি এর দ্বারা এর ভাষাগত অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন, যা সুপরিচিত পারিভাষিক অর্থের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং আমরা যদি বলি যে, ইবনে আল-মু’তাজ্জ আল-বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তবে আমরা সত্য ও সঠিক চিন্তার পথেই পরিচালিত হব। আর যদি আমরা বলি যে, তিনি কেবল 'বাদি' বিষয়ে লিখেছেন, তবে আমরা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই গবেষণার পরিধিকে সংকীর্ণ করে ফেলব, যদিও পরবর্তীকালের পরিভাষায় 'বাদি' আল-বায়ানের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং যদিও প্রাচীনকালের কিছু অলঙ্কারবিদের নিকট 'বাদি' শব্দটি আল-বায়ান বা বালাগাহ শব্দের সমার্থক ছিল।
অতএব, ইবনে আল-মু’তাজ্জ 'বাদি' শাস্ত্রে বিশাল প্রভাবের অধিকারী, এবং সূক্ষ্মভাবে বলতে গেলে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর গবেষণায় তাঁর বিশেষ প্রভাব রয়েছে; আর এটিই এখন আমরা গবেষণা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আলোচনা করব।
"২"
১- আদিম জীবনে আরবদের মধ্যে এমন এক রুচিবোধ ও স্বভাবজাত প্রবৃত্তি বিদ্যমান ছিল, যার ফলে তারা কাব্য-সমালোচনার বিধান এবং আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতি ও পদ্ধতিসমূহের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, নির্দেশনা এবং কারণ দর্শানোর প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্ত ছিল। তেমনিভাবে, অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ গবেষণা, পর্যালোচনা ও বিধিবদ্ধকরণ থেকেও দূরে ছিল।
ইসলামী জীবনের ছায়াতলে বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণ ঘটে এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মেলবন্ধন তৈরি হয়, ফলে বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ঘটে এবং মানুষের রসনায় জড়তা ও ভাষাগত অসংগতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। তখন আরবি ভাষার ইমামগণ অত্যন্ত ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আরবি ব্যাকরণের (নাহু) মূলনীতি প্রণয়ন এবং ভাষার বিপুল উপাদান সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত হন। এর সাথে সাথে এবং এর পরপরই আরবি ভাষা এবং এর মূলনীতি ও পদ্ধতিসমূহ নিয়ে অন্যান্য গবেষণামূলক কাজ শুরু হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৮)
والتحليل، وأخذت تتكون من تلك الدراسات النواة الأولى للبيان العربي، وظل التقدم الفكري والنضوج الأدبي والعلمي يسير بهذه البحوث والدراسات نحو الكمال المنشود بخطوات كبيرة، وكانت الثقافة البيانية تنمو حين ذاك بجهود ثلاث طبقات:
أ- الأولى طبقة رواة وعلماء الأدب من البصريين والكوفيين والبغداديين؛ من أمثال: خلف والأصمعي وأبي زيد وأبي عبيدة ويحيى بن نجيم وعمرو بن كركرة، وأستاذهم أبو عمرو بن العلاء أعلم الناس بالعرب والعربية1، ومن عامة الرواة الذين لا يقفون إلا على البليغ الساحر من الأساليب -كما يقول الجاحظ- دون النحويين واللغويين والإخباريين الذين لم يتجهوا هذا الاتجاه2، وبجوار هؤلاء أئمة الشعراء3 وغيرهم من الخطباء ورجال الأدب الذين تثقفوا بالثقافة العربية.
ب- والثانية طبقة الكُتَّاب الذين لم يرَ الجاحظ قومًا قط أمثل طريقة في البلاغة منهم، والذين التمسوا من الألفاظ ما لم يكن وحشيًّا ولا سوقيًّا4، ورأى الجاحظ البصر بهذا الجوهر من الكلام فيهم أعم5، وحكم مذهبهم في النقد6، ومثلهم المعتزلة وفرق المتكلمين الذين رآهم الجاحظ فوق أكثر الخطباء وأبلغ من كثير من البلغاء7، وكان بعضهم من عناصر عربية وتثقفوا بثقافة أجنبية، والآخرون من عناصر أجنبية تثقفت بالثقافة العربية، مما كان له أثره في أصول البيان، وفي توجيه دراسته وبحوثه، وفي الدعوة إلى آراء في الأداب توائم ثقافتهم وعلقيتهم، وكان بعضهم يلقن مذاهبه الأدبية العامة للتلاميذ وشداة الأدب، كما نرى في محاضرة بشر بن المعتمر المعتزلي م210هـ في أصول البلاغة8، والتي يقول الجاحظ عنها: إن بشرًا مر بإبراهيم من جبلة بن مخرمة9،
--------------------------------------------
বিশ্লেষণ এবং সেই অধ্যয়নগুলি থেকে আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) প্রথম ভ্রূণ গঠিত হতে শুরু করে। বুদ্ধিবৃত্তিক প্রগতি এবং সাহিত্যিক ও বৈজ্ঞানিক পরিপক্বতা এই গবেষণা ও অধ্যয়নগুলোকে কাঙ্ক্ষিত পূর্ণতার দিকে বড় পদক্ষেপে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। সে সময় অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সংস্কৃতি তিনটি শ্রেণির প্রচেষ্টায় বিকশিত হচ্ছিল:
ক- প্রথমটি হলো বসরা, কুফা ও বাগদাদের সাহিত্যের বর্ণনাকারী ও আলেমদের শ্রেণি; যেমন: খালাফ, আসমায়ি, আবু যায়িদ, আবু উবায়দাহ, ইয়াহইয়া ইবনে নুজাইম ও আমর ইবনে কারকারাহ এবং তাদের শিক্ষক আবু আমর ইবনুল আলা—যিনি আরব ও আরবি ভাষা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন ১, আর সাধারণ বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে তারা, যারা কেবল মনোমুগ্ধকর প্রাঞ্জল রীতির উপরই গুরুত্ব দিতেন—যেমন জাহিজ বলেন—সেই ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ ও ইতিহাসবিদদের বিপরীতে যারা এই ধারায় চলেননি ২, এদের পাশাপাশি ছিলেন অগ্রগণ্য কবিগণ ৩ এবং অন্যান্য বাগ্মী ও সাহিত্যিক ব্যক্তিবর্গ যারা আরবি সংস্কৃতিতে শিক্ষিত ছিলেন।
খ- দ্বিতীয়টি হলো লেখকদের (কাতিব) শ্রেণি, যাদের চেয়ে বাগ্মিতার উত্তম পদ্ধতি জাহিজ আর কারো মাঝে দেখেননি। তারা এমন শব্দ নির্বাচন করতেন যা দুর্বোধ্যও ছিল না আবার ইতরজনোচিতও ছিল না ৪। জাহিজের মতে কথার এই সারবস্তু চেনার অন্তর্দৃষ্টি তাদের মধ্যেই অধিক ছিল ৫ এবং তিনি সমালোচনার ক্ষেত্রে তাদের মতাদর্শকে মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করেছেন ৬। তাদের মতোই মুতাজিলা ও কালাম শাস্ত্রবিদদের দলসমূহ, যাদের জাহিজ অধিকাংশ বাগ্মীর চেয়ে উচ্চতর এবং অনেক অলঙ্কারবিদের চেয়েও প্রাঞ্জলভাষী মনে করতেন ৭। তাদের কেউ কেউ ছিলেন আরব বংশোদ্ভূত এবং তারা বিদেশি সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হয়েছিলেন, আবার অন্যরা ছিলেন অনারব বংশোদ্ভূত যারা আরবি সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হয়েছিলেন। যার প্রভাব অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) মূলনীতিতে, এর পঠন-পাঠন ও গবেষণার দিকনির্দেশনায় এবং তাদের সংস্কৃতি ও মননশীলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাহিত্যিক মতামতের আহ্বানে পরিলক্ষিত হয়। তাদের কেউ কেউ সাধারণ সাহিত্যিক মতাদর্শগুলো শিক্ষার্থীদের ও সাহিত্যের অনুরাগীদের শিক্ষা দিতেন, যেমনটি আমরা মুতাজিলি বিশর ইবনুল মুতামির (মৃত্যু ২১০ হিজরি)-এর অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতির ওপর দেওয়া ভাষণে দেখতে পাই ৮। যে সম্পর্কে জাহিজ বলেন: বিশর জাবালাহ ইবনে মাখরামাহ-র বংশোদ্ভূত ইব্রাহিমের কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন ৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وهو يعلم الفتيان الخطابة فوقف بشر فظن إبراهيم أنه إنما وقف ليستفيد، فقال بشر: اضربوا عمَّا قال صفحًا، ثم دفع إليهم صحيفة من تحبيره وتنميقه في أصول البلاغة وعناصر البيان1، ومن رجال هذه الطبقة: أبو العلاء سالم مولى هشام، وعبد لحميد الكاتب أو الأكبر -كما يقول الجاحظ2- وابن المقفع، وسهل بن هارون3، والحسن والفضل4 ابنا سهل، ويحيى البرمكي، وأخوه جعفر5، وأيوب بن جعفر، وأحمد بن يوسف، وعمرو بن مسعدة6، وابن الزيات، وسواهم.
وكان لهذه الطبقة أثرها في بحث عناصر البيان وبلاغة الكلام، ونستطيع أن نعرف آثار هاتين الطبقتين في دراسات البيان بالرجوع إلى آرائهم المثبتة في شتى أصول الأدب، والتي يمكننا أن نذكر هنا طرفًا منها، وإن شئت فاقرأ جواب صحار لمعاوية حين سأله عن البلاغة7، ويروى قبل هذا بكثير أن عامر بن الظرب سأل حممة بن رافع: مَن أبلغ الناس؟ فقال: من حلَّى المعنى المزيز باللفظ الوجيز، وطبق المفصل قبل التحزيز8.
واقرأ: تحديد المفضل الضبي للإيجاز9، وتفسير ابن المقفع للبلاغة10، وحوار الشمري لعمرو بن عبيد في البلاغة11، وتعريف الأصمعي للبليغ12، ورأي إبراهيم بن محمد في
--------------------------------------------
তিনি যুবকদের বাগ্মিতা শেখাচ্ছিলেন, তখন বিশর সেখানে থামলেন। ইবরাহীম ধারণা করলেন যে তিনি হয়তো কিছু শেখার জন্যই থেমেছেন। তখন বিশর বললেন: তিনি যা বলেছেন তা উপেক্ষা করো। তারপর তিনি তাদের হাতে অলঙ্কারশাস্ত্রের মূলনীতি ও বর্ণনার উপাদান বিষয়ে নিজের রচিত ও সুসজ্জিত একটি লিপি তুলে দিলেন
১। এই স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন: হিশামের মুক্তদাস আবু আল-আলা সালিম, আবদুল হামিদ আল-কাতিব বা আল-আকবার—যেমনটি জাহিজ বলেছেন
২—এবং ইবনুল মুকাফফা, সাহল বিন হারুন
৩, সাহলের দুই পুত্র হাসান ও ফাদল
৪, ইয়াহইয়া আল-বারমাকি ও তাঁর ভাই জাফর
৫, আইয়ুব বিন জাফর, আহমদ বিন ইউসুফ, আমর বিন মাসআদাহ
৬, ইবনুল জাইয়্যাত এবং অন্যান্যরা।
অলঙ্কারশাস্ত্রের উপাদান ও বাক্যের সাবলীলতা অনুসন্ধানে এই স্তরের ব্যক্তিদের বিশেষ প্রভাব ছিল। আমরা অলঙ্কারশাস্ত্রের অধ্যয়নে এই দুই স্তরের প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারি সাহিত্যের বিভিন্ন মূলনীতিতে সংরক্ষিত তাঁদের মতামতের দিকে দৃষ্টিপাত করার মাধ্যমে, যার কিছু অংশ আমরা এখানে উল্লেখ করতে পারি। আপনি চাইলে মুয়াবিয়া যখন সুহারকে বাগ্মিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তখন তাঁর দেওয়া উত্তরটি পড়তে পারেন
৭। এর অনেক আগে বর্ণিত হয়েছে যে, আমির বিন জাযরিব হুমামাহ বিন রাফিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাগ্মী কে? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: যে ব্যক্তি বিশিষ্ট অর্থকে সংক্ষিপ্ত শব্দের আবরণে সাজায় এবং কাটার আগেই হাড়ের জোড়াটি চিহ্নিত করতে পারে
৮।
আরও পড়ুন: আল-মুফাদ্দাল আদ-দব্বি কর্তৃক সংক্ষেপণের সংজ্ঞা
৯, ইবনুল মুকাফফার বাগ্মিতার ব্যাখ্যা
১০, বাগ্মিতা বিষয়ে আমর বিন উবাইদের সাথে শম্মারীর সংলাপ
১১, আল-আসমাঈর মতে বাগ্মীর সংজ্ঞা
১২ এবং ইবরাহীম বিন মুহাম্মদের মতামত...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১০)
البلاغة1، وتعريض جعفر البرمكي للبيان2، وتعريف العتابي للبلاغة3، وتفضيل الجاحظ لرايه4، ووصف الرشيد للبلاغة5، ورأي شبيب بن شيبة في تفضيل بلاغة جودة القطع أو القافية على جودة الابتداء6، ووصف ابن المقفع كلام الإعراب7؛ الذين أعجب الجاحظ ببلاغتهم8، ووصف الحسن بن وهب بلاغة أبي تمام9، وتعريف المأمون للبليغ بأنه من كان كلامه في مقدار حاجته ولا يجيل الفكرة في اختلاس ما صعب عليه من الألفاظ، ولا يتعمَّد الغريب الوحشي ولا الساقط السوقي10، وقول خالد بن صفوان: أبلغ الكلام ما لا يحتاج إلى الكلام11، وتعريفه للبلاغة بأنها التقرب من المعنى البعيد، والتباعد عن خسيس الكلام، والدلالة بالكبير على الكثير، وتعريف ابن عتبة لها بأنها: دنو المأخذ وقرع الحجة والاستغناء بالقليل عن الكثير، وعرفها الخليل بأنها: ما قرب طرفاه وبعد منتهاه، وعرفها إبراهيم الإمام بأنها: الجزالة والإصابة، وعرفها ابن المقفع بأنها: قلة الحصر والجراءة على البشر، إلى غير ذلك من شتى هذه التحديدات12، ويقول
--------------------------------------------
অলঙ্কারশাস্ত্র১, এবং বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে জাফর আল-বারমাকির ইঙ্গিত২, অলঙ্কারশাস্ত্র সম্পর্কে আল-উত্তাবির সংজ্ঞা৩, স্বীয় মতের প্রতি আল-জাহিজের অগ্রাধিকার প্রদান৪, হারুন আল-রশিদের অলঙ্কারশাস্ত্রের বর্ণনা৫, প্রারম্ভের উৎকর্ষের চেয়ে বাক্যের যতি বা অন্ত্যমিলের অলঙ্কারশৈলীকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে শাবিব বিন শায়বার অভিমত৬, এবং যাযাবর আরবদের বাকশৈলী সম্পর্কে ইবনে আল-মুকাফফার বর্ণনা৭; যাদের অলঙ্কারশৈলী আল-জাহিজকে মুগ্ধ করেছিল৮, এবং আল-হাসান বিন ওয়াহব কর্তৃক আবু তাম্মামের অলঙ্কারশৈলীর বর্ণনা৯, এবং আল-মামুন কর্তৃক বাগ্মীর এই সংজ্ঞা দান যে—সেই ব্যক্তিই বাগ্মী যার কথা তার প্রয়োজন অনুপাতে হয় এবং সে তার জন্য কঠিন হয়ে পড়া শব্দগুলো কৌশলে সংগ্রহের চিন্তায় মগ্ন হয় না, আর সে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অদ্ভুত ও দুর্বোধ্য শব্দ কিংবা লোকজ ও নিম্নস্তরের শব্দ ব্যবহার করে না১০, এবং খালিদ বিন সাফওয়ানের এই উক্তি: "সবচেয়ে অলঙ্কারপূর্ণ কথা তা-ই, যা (অতিরিক্ত) কথার মুখাপেক্ষী হয় না"১১, এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের ক্ষেত্রে তার এই সংজ্ঞা যে—এটি হলো সুদূরপ্রসারী অর্থকে নিকটবর্তী করা, নিকৃষ্ট কথা পরিহার করা এবং সারগর্ভ শব্দের মাধ্যমে প্রচুর অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করা; এবং ইবনে উতবা কর্তৃক এর সংজ্ঞা এই যে: এটি হলো উৎসের নৈকট্য লাভ, অকাট্য যুক্তি উপস্থাপন এবং অল্পের মাধ্যমে বহুর প্রয়োজন পূরণ করা; এবং আল-খলীল এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: যার দুই প্রান্ত নিকটবর্তী কিন্তু গভীরতা সুদূরপ্রসারী; এবং ইব্রাহীম আল-ইমাম এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: এটি হলো শব্দের দৃঢ়তা ও সঠিক লক্ষ্যভেদী হওয়া; এবং ইবনে আল-মুকাফফা এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: এটি হলো জড়তাহীনতা এবং মানুষের সামনে কথা বলার সাহস রাখা—এই জাতীয় বিভিন্ন সংজ্ঞায়ন ছাড়াও আরও অনেক কিছু১২। তিনি বলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أبو دؤاد الإيادي: رأس الخطابة الطبع، وعمودها الدربة، وجناحاها رواية الكلام، وحليها الإعراب1.... إلخ، ويقول الخليل: كل ما أدى إلى قضاء الحاجة فهو بلاغة، فإن استطعت أن يكون لفظك لمعناك طبقًا ولتلك الحال وفقًا آخر كلامك لأوله مشابهًا وموراده لمصادره موازنة فافعل، واحرص أن تكون لكلامك متهمًا وإن ظرف2، ووصية أبي تمام للبحتري تدخل في هذا الباب3، ويقول عبد الملك بن صالح م199هـ: البلاغة معرفة رتق الكلام وفتقه4، وقال ابن الرومي: البلاغة حسن الاقتضاب عند البداهة والغزارة عند الإطالة5، ويقول البحتري: خير الكلام ما قلَّ وجلَّ ودلَّ ولم يمل6، ويقول الثعالبي بعد: خير الكلام ما قل ودل وجل ولم يمل7، ويقول ابن الأعرابي: البلاغة التقرب من البغية ودلالة قليل على كثير8.
جـ- وأما الطبقة الثالثة فهي طبقة المفكرين والمثقفين الذين تثقفوا بثقافة أجنبية واسعة، وتأثروا كل التأثر بآداب الأمم الأخرى، وترجموا آراءهم في البيان ومناهجه إلى اللغة العربية، أو ألفوا كتبًا تبحث في هذه الاتجاهات، وهؤلاء قد عاشوا في البيئة الإسلامية، وأثروا في النقد والأدب والبيان ودراساته وتطوره تأثيرًا واضحًا كبيرًا، ويمكننا أن نذكر شيئًا عن مجهود هذه الطبقة في خدمة البيان:
--------------------------------------------
আবু দুয়াদ আল-ইয়াদি বলেন: বাগ্মিতার শীর্ষ হলো সহজাত প্রবৃত্তি, তার স্তম্ভ হলো অনুশীলন, তার দুই ডানা হলো বাণীর বর্ণনা এবং তার অলংকার হলো ব্যাকরণিক শুদ্ধতা ১... ইত্যাদি। খলীল বলেন: যা কিছু প্রয়োজন পূরণের দিকে নিয়ে যায় (উদ্দেশ্য হাসিল করে), তাই অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত)। সুতরাং তুমি যদি তোমার শব্দকে তোমার অর্থের অনুরূপ করতে পার এবং তা যদি পরিস্থিতির সাথে মানানসই হয়, তোমার বক্তব্যের শেষভাগ যদি তার প্রথম ভাগের সদৃশ হয় এবং বক্তব্যের নির্গমন ও প্রত্যাগমনের মধ্যে ভারসাম্য থাকে, তবে তাই করো। আর তোমার বক্তব্য যতই চমৎকার হোক না কেন, সে ব্যাপারে সর্বদা সংশয়ী (সমালোচনামূলক দৃষ্টিসম্পন্ন) থাকার চেষ্টা করো ২। আল-বুহতুরীর প্রতি আবু তাম্মামের উপদেশ এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত ৩। আব্দুল মালিক বিন সালিহ (মৃত্যু ১৯৯ হিজরী) বলেন: অলংকারশাস্ত্র হলো বক্তব্যের জোড়া দেওয়া এবং তা উন্মোচন করার জ্ঞান ৪। ইবনুর রুমি বলেন: অলংকারশাস্ত্র হলো তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধির ক্ষেত্রে সুন্দর সংক্ষিপ্ততা এবং দীর্ঘ আলোচনার ক্ষেত্রে শব্দের প্রাচুর্য ৫। আল-বুহতুরি বলেন: সর্বোত্তম কথা হলো তা-ই যা সংক্ষিপ্ত, মহিমান্বিত ও নির্দেশক এবং যা বিরক্তির উদ্রেক করে না ৬। আস-সা'লাবী পরবর্তীতে বলেন: সর্বোত্তম কথা হলো তা-ই যা সংক্ষিপ্ত, নির্দেশক ও মহিমান্বিত এবং যা বিরক্তির উদ্রেক করে না ৭। ইবনুল আরাবি বলেন: অলংকারশাস্ত্র হলো অভীষ্ট লক্ষ্যের নিকটবর্তী হওয়া এবং অল্পের মাধ্যমে বহুর নির্দেশনা প্রদান ৮।
গ- আর তৃতীয় শ্রেণীটি হলো সেই সকল চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের যারা ব্যাপক বৈদেশিক সংস্কৃতিতে শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং অন্যান্য জাতির সাহিত্যের দ্বারা পুরোপুরি প্রভাবিত ছিলেন। তারা অলংকারশাস্ত্র (বয়ান) ও এর পদ্ধতিসমূহ সম্পর্কে তাদের মতামতসমূহ আরবি ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন অথবা এই সকল ধারা নিয়ে গবেষণা করে গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তারা ইসলামী পরিবেশে বসবাস করেছিলেন এবং সমালোচনা, সাহিত্য ও অলংকারশাস্ত্র, এর অধ্যয়ন ও বিবর্তনের ওপর অত্যন্ত স্পষ্ট ও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলেন। অলংকারশাস্ত্রের সেবায় এই শ্রেণীর প্রচেষ্টা সম্পর্কে আমরা কিছু উল্লেখ করতে পারি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১২)
أهم عمل علمي قامت به هذه الطبقة: هو ترجمة كتابي الخطابة والشعر لأرسطو إلى العربية. فأما الخطابة فهو أصل كبير من أصول البلاغة ودراساتها، وقد "أصيب بنقل قديم، ونقله إسحاق بن حنين م 298هـ، وكذلك نقله إبراهيم بن عبد الله، وفسَّره الفارابي م339هـ"1.
وأما كتاب الشعر فقد اختصره الكندي م253هـ، ونقله يحيى بن عدي ومتى في القرن الرابع من السريانية إلى العربية2
… وقد ألفوا في صناعة الشعر، وللكندي رسالة في صناعة الشعر3، ولأبي زيد البلخي كتاب بعنوان "صناعة الشعر" أيضًا4، وكذلك لأبي هفان5، وهناك آراء كثيرة مأثورة عن هذه الطبقة في البلاغة وعناصرها، وهي متفرقة في شتى كتب الأدب ومصادره، وتجد في البيان والعمدة وسواهما أن صاحب اليونانيين عرَّف البلاغة بأنها: تصحيح الأقسام واختيار الكلام، وعرفها الرومي بأنها: وضوح الدلالة وانتهاز الفرصة وحسن الإشارة، وعرفها الفارسي بأنها: معرفة الوصل من الفصل، وعرفها الهندي بأنها: البصر بالحجة والمعرفة بمواضع الفرصة
… إلخ، وعرفها أرسطو بأنها: حُسْنُ الاستعارة، ويعرفها جالينوس بأنها:
--------------------------------------------
এই স্তরের পণ্ডিতদের সম্পন্ন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক কর্ম হলো: অ্যারিস্টটলের অলঙ্কারশাস্ত্র (আর-রিতোরিকা) এবং কাব্যতত্ত্ব (পোয়েটিকস) গ্রন্থদ্বয় আরবিতে অনুবাদ করা। অলঙ্কারশাস্ত্রের কথা বলতে গেলে, এটি অলঙ্কারতত্ত্ব এবং এর গবেষণার অন্যতম প্রধান উৎস। এটি "একটি প্রাচীন ভাষান্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং ইসহাক ইবনে হুনাইন (মৃত্যু ২৯৮ হিজরি) এটি অনুবাদ করেছিলেন। একইভাবে ইব্রাহিম ইবনে আবদুল্লাহও এটি অনুবাদ করেন এবং আল-ফারাবি (মৃত্যু ৩৩৯ হিজরি) এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন।"১
আর কাব্যতত্ত্ব গ্রন্থটিকে আল-কিন্দি (মৃত্যু ২৫৩ হিজরি) সংক্ষেপ করেছিলেন এবং চতুর্থ শতাব্দীতে ইয়াহইয়া ইবনে আদি ও মাত্তা এটি সিরিয়াক থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছিলেন২
… তাঁরা কাব্যকলা বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল-কিন্দি-র কাব্যকলার ওপর একটি রিসালা রয়েছে৩, আবু জায়েদ আল-বালখি-র "কাব্যকলা" শিরোনামে একটি গ্রন্থ রয়েছে৪, অনুরূপভাবে আবু হাফফানেরও৫ একটি গ্রন্থ রয়েছে। এই স্তরের পণ্ডিতদের কাছ থেকে অলঙ্কারশাস্ত্র এবং এর উপাদানসমূহ সম্পর্কে অনেক মতামত বর্ণিত হয়েছে, যা সাহিত্যের বিভিন্ন গ্রন্থ ও উৎসে ছড়িয়ে আছে। আপনি আল-বায়ান, আল-উমদাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে পাবেন যে, গ্রীকদের পক্ষ থেকে অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে: "বিভাগসমূহ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা এবং উপযুক্ত বাক্য নির্বাচন করা।" রোমানরা এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছে: "বর্ণনার স্পষ্টতা, সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং সুন্দর ইঙ্গিত।" পারসীকরা এটিকে বলেছে: "বিচ্ছেদ ও সংযোগের (ফাসল ও ওয়াসল) জ্ঞান।" ভারতীয়রা বলেছে: "প্রমাণের মাধ্যমে দূরদর্শিতা এবং সুযোগের স্থানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান"... ইত্যাদি। অ্যারিস্টটল এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন: "সুন্দর রূপকালঙ্কার (ইস্তিআরা)" হিসেবে, আর গ্যালেন এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إيضاح المفصل وفك المشكل، واقرأ البلاغة كما يراها حكيم الهند1، يقول حكيم: البلاغة معرفة السليم من المعتل وفرق ما بين المضمن والمطلق وفصل ما بين المشترك والمفرد2، ويعرفها سقراط بأنها: استكشاف الحقائق3، ويقسمها الكندي ثلاثة أنواع: فنوع لا تعرفه العامة ولا تتكلَّم به، ونوع بالعكس، ونوع تعرفه ولا تتكلم به وهو أحمدها4، ويقول: يجب للبليغ أن يكون قليل اللفظ كثير المعاني5، وذكر بزرجمهر فضائل الكلام ورذائله، فقال: فضائله أن يكون صدقًا وأن يقع موقع الانتفاع وأن يُتكلم به في حينه وأن يحسن تأليفه وأن يستعمل منه مقدار الحاجة، ورذائله بالضد
… إلخ6، وقال أبرويز لكاتبه: الكلام أربعة: سؤالك الشيء وسؤالك عن الشيء وأمرك بالشيء وخبرك عنه، فإذا طلبت فأسجح وإذا سألت فأوضح وإذا أمرت فاحكم وإذا أخبرت فحقَّق. وقال أيضًا: واجمع الكثير مما تريد في القليل7، ولعل ثعلبًا حين ذكر في صدر كتابه "قواعد الشعر" أقسام الشعر وأنها أمر ونهي وخبر واستخبار8، قد تأثر بذلك الرأي.
وبعد، فقد تعاونت هذه الطبقات في خدمة البيان، ولها جميعًا أثرها في نشأته وتطوره.
--------------------------------------------
বিস্তারিতের ব্যাখ্যা এবং জটিলের উন্মোচন; আর অলঙ্কারশাস্ত্রকে (বালাগাত) সেভাবেই পড়ুন যেভাবে ভারতের প্রাজ্ঞ ব্যক্তি দেখেন১। সেই প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বলেন: অলঙ্কারশাস্ত্র হলো ত্রুটিযুক্ত থেকে ত্রুটিমুক্তকে চেনা, শর্তযুক্ত ও নিরঙ্কুশের মধ্যে পার্থক্য করা এবং সাধারণ ও এককের মধ্যে বিভাজন করা২। সক্রেটিস অলঙ্কারশাস্ত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: এটি হলো সত্যের অনুসন্ধান৩। আল-কিন্দি একে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন: এক প্রকার যা সাধারণ মানুষ জানে না এবং তা দিয়ে কথা বলে না; দ্বিতীয় প্রকারটি এর বিপরীত; আর তৃতীয় প্রকারটি তারা জানে কিন্তু তা দিয়ে কথা বলে না, আর এটিই সর্বাধিক প্রশংসনীয়৪। তিনি আরও বলেন: অলঙ্কারবিদের জন্য আবশ্যক হলো অল্প কথায় অধিক অর্থ প্রকাশ করা৫। বুযুরজমهر কথার গুণাবলী ও দোষসমূহ উল্লেখ করে বলেছেন: এর গুণাবলী হলো কথাটি সত্য হওয়া, উপকারে আসা, যথাযোগ্য সময়ে বলা, এর বিন্যাস সুন্দর হওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহৃত হওয়া; আর এর দোষগুলো হলো এর বিপরীত
... ইত্যাদি৬। পারভেজ তাঁর লেখককে বলেছিলেন: কথা চার প্রকার: কোনো বস্তু প্রার্থনা করা, কোনো বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা, কোনো কাজের আদেশ দেওয়া এবং কোনো বিষয় সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা। সুতরাং যখন তুমি প্রার্থনা করবে তখন নম্রভাবে করবে, যখন জিজ্ঞাসা করবে তখন স্পষ্টভাবে করবে, যখন আদেশ দেবে তখন দৃঢ়ভাবে দেবে এবং যখন সংবাদ দেবে তখন সত্যতা যাচাই করে দেবে। তিনি আরও বলেছেন: তুমি যা বলতে চাও তা সংক্ষেপে ব্যক্ত করো৭। সম্ভবত ছা'লাব যখন তাঁর "কাওয়াইদুশ শি'র" (কবিতার মূলনীতি) গ্রন্থের শুরুতে কবিতার প্রকারভেদ হিসেবে আদেশ, নিষেধ, সংবাদ এবং জিজ্ঞাসার কথা উল্লেখ করেছেন৮, তখন তিনি এই মত দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।
পরিশেষে, এই বিভিন্ন স্তরগুলো অলঙ্কারশাস্ত্রের সেবায় পরস্পরকে সহযোগিতা করেছে এবং এর উদ্ভব ও বিকাশে এদের সবারই প্রভাব রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الفصل الثاني: ابن المعتز وجهوده في دراسات البيان
مدخل…الفصل الثاني: ابن المعتز وجهوده في دراسات البيان
"1"
لابن المعتز منزلة كبيرة في البيان العربي؛ فقد ألَّف فيه كتابه "البديع"، الذي عدَّد فيه شتى أساليب البديع ومحاسن الشعر كما عرفها ابن المعتز وعصره، وهذا الكتاب ليس قاصرًا على البديع بالمعنى الضيق المحدود؛ لأن ابن المعتز يذكر فيه الكناية والاستعارة والتشبيه، وهي من صميم البيان العربي، يذكر فيه الكناية ولكنه يريد بها معناها اللغوي وهو أعم من المعنى الاصطلاحي المعروف، فإذا قلنا: إن ابن المعتز ألَّف في البيان؛ فقد سرنا مع الحق والتفكير السليم، وإذا قلنا: إنه ألف في البديع؛ فقد ضيقنا دائرة البحث بغير مبرِّر، وإن كان البديع في الاصطلاح المتأخر جزءًا من البيان، وإن كان البديع بالمعنى القديم المعروف عند بعض علماء البلاغة يرادف كلمة البيان أو البلاغة.
فابن المعتز -إذن- ذو أثر كبير في البديع، وعلى وجه الدقة له أثره في البيان العربي ودراساته، وذلك مما سنتناوله الآن بالبحث والتحليل.
"2"
كان ابن المعتز من أئمة البيان في النصف الثاني من القرن الثالث الهجري، وله في ذلك آراء عظيمة الأهمية ناضجة التفكير1، وقد اهتم بنوع خاص من ألوان البيان؛ هو أساليب البديع وألوان الترف في الأداء.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনুল মুতাযয এবং অলঙ্কারশাস্ত্র (বয়ান) গবেষণায় তাঁর অবদানসমূহ
ভূমিকা...দ্বিতীয় অধ্যায়: ইবনুল মুতাযয এবং অলঙ্কারশাস্ত্র (বয়ান) গবেষণায় তাঁর অবদানসমূহ
"১"
আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রে (বয়ান) ইবনুল মুতাযযের এক সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে তাঁর ‘আল-বাদি’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেখানে তিনি ‘বাদি’র নানাবিধ শৈলী এবং কবিতার সৌন্দর্যসমূহকে সেভাবে সংকলিত করেছেন যেভাবে ইবনুল মুতাযয ও তাঁর সমকাল তা অবগত ছিল। এই গ্রন্থটি কেবল সংকীর্ণ বা সীমাবদ্ধ অর্থে ‘বাদি’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কারণ ইবনুল মুতাযয এতে কিনায়াহ (ইশারা), ইস্তি'আরাহ (রূপক) এবং তাশবিহ (উপমা) উল্লেখ করেছেন, যা আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের মূল ভিত্তি। তিনি এতে কিনায়াহ উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি এর দ্বারা এর আভিধানিক অর্থই বুঝিয়েছেন, যা প্রচলিত পারিভাষিক অর্থের চেয়েও ব্যাপক। অতএব, আমরা যদি বলি যে ইবনুল মুতাযয অলঙ্কারশাস্ত্রে (বয়ান) গ্রন্থ রচনা করেছেন, তবে আমরা সত্য ও সঠিক চিন্তার অনুসারী হব। আর যদি বলি যে তিনি কেবল ‘বাদি’র ওপর রচনা করেছেন, তবে আমরা কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই গবেষণার ক্ষেত্রকে সংকীর্ণ করে ফেলব, যদিও পরবর্তীকালের পরিভাষায় ‘বাদি’ অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি অংশ হিসেবে গণ্য এবং প্রাচীনকালে কিছু অলঙ্কারবিদের নিকট ‘বাদি’ শব্দটি বয়ান বা বালাগাতের (অলঙ্কারতত্ত্ব) সমার্থক ছিল।
সুতরাং, ইবনুল মুতাযয ‘বাদি’র ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাবের অধিকারী ছিলেন এবং আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে, আরবি অলঙ্কারশাস্ত্র ও এর গবেষণায় তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে, যা আমরা এখন অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আলোচনা করব।
"২"
ইবনুল মুতাযয হিজরি তৃতীয় শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে অলঙ্কারশাস্ত্রের (বয়ান) অন্যতম ইমাম ছিলেন। এ বিষয়ে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরিপক্ক চিন্তাধারা সমৃদ্ধ মতামত রয়েছে (১), এবং তিনি বিশেষ করে অলঙ্কারশাস্ত্রের একটি বিশেষ বিষয়ের প্রতি গভীর মনোনিবেশ করেছিলেন; তা হলো ‘বাদি’র শৈলীসমূহ এবং প্রকাশভঙ্গির লালিত্যপূর্ণ দিকগুলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
كان ابن المعتز يحتذي حذو أبي تمام في صنعة البديع، ويوشي شعره بشتى ألوانه يقصدها قصدًا ويتعمدها تعمدًا، ويصوغ شعره فنًّا تغلب روح الصناعة فيه ملكات الطبع والفطرة، وكان مع ذلك "يتحقق بعلم البديع تحققًا ينصر دعواه فيه لسان مذكراته"1، وألف فيه عام 274هـ كتابه "البديع"2 وسنه إذ ذاك سبعة وعشرون عامًا، مما يدلنا على أن ابن المعتز لم يتمش في العقد الثالث من عمره حتى كان قد قتل الشعر العربي حفظًا ورواية ودرسًا وفَهْمًا.
وكان لكتابه البديع دوي في المجامع الأدبية، ثم شاع وذاع وتلقفته الأيدي وعكف العلماء والأدباء عليه، وصار مصدرًا ممتازًا من مصادر الدراسات البيانية بعد عصر ابن المعتز، ثم فقدت نسخ الكتاب الخطية وقلَّ تداوله ولم يبقَ له أثر إلا ما نقرأ عنه في شتى كتب البيان والبديع؛ ولكن العناية شاءت أن يحفظ من الكتاب نسخة خطية واحدة هي الوحيدة في العالم وهي في الاسكوريال برقم 38 أدب، وقد نشرها المستشرق الروسي المعاصر أغناطيوس كراتشقوفسكي عضو أكاديمية العلوم بليننغراد وعضو المجمع العلمي العربي بدمشق وذلك عام 1935، وقد تسنَّى بعمل هذا المستشرق الاطلاع على هذا الكتاب الفذ النادر والإفادة بما فيه من بحوث تعتبر المصدر الأول للمؤلفين في البلاغة وفن البديع.
وقد قمت بشرح هذا الكتاب والتعليق عليه وتصحيحه ونشرته عام 1945، فكان ذلك إحياء لكتاب ابن المعتز، ومساهمة كبيرة في خدمة الثقافة البلاغية، وسعيًا لتداول أهم وأول مصدر أُلِّفَ في البديع.
والكتاب أول مؤلَّف في البديع وصنعة الشعر كما أجمع على ذلك جميع الباحثين3، وهو أهم كتب ابن المعتز بالنظر إلى اختصاصه في هذا الفن4،
--------------------------------------------
ইবনুল মু'তায বাদি' (অলঙ্কারশাস্ত্র) শিল্পে আবু তাম্মামের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেন এবং তিনি সচেতনভাবে ও ইচ্ছাকৃতভাবে বিবিধ রঞ্জনে তাঁর কবিতাকে সুশোভিত করতেন। তিনি তাঁর কবিতাকে এমন একটি শিল্প হিসেবে গঠন করতেন যেখানে কৃত্রিম নির্মাণশৈলী তাঁর সহজাত প্রতিভা ও প্রকৃতির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তা সত্ত্বেও তিনি ‘বাদি' বিজ্ঞানে এমন এক সুগভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন যা তাঁর স্মৃতিকথার ভাষায় তাঁর দাবির সপক্ষে প্রমাণ বহন করে’১। এবং তিনি ২৭৪ হিজরিতে ‘আল-বাদি'’২ নামক গ্রন্থটি রচনা করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র সাতাশ বছর। যা আমাদের নির্দেশ করে যে, ইবনুল মু'তায তাঁর জীবনের তৃতীয় দশকে পদার্পণ করার পূর্বেই মুখস্থকরণ, বর্ণনা, পাঠদান ও অনুধাবনের ক্ষেত্রে আরবি কাব্যসাহিত্যকে পুরোপুরি আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
তাঁর ‘আল-বাদি'’ গ্রন্থটি সাহিত্য মজলিসগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল; অতঃপর এটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল, মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে গেল এবং আলিম ও সাহিত্যিকগণ এর ওপর নিবিষ্ট হলেন। ইবনুল মু'তাযের পরবর্তী যুগে এটি অলঙ্কারশাস্ত্রীয় গবেষণার এক অনন্য উৎসে পরিণত হলো। পরবর্তীতে গ্রন্থটির পাণ্ডুলিপিগুলো হারিয়ে গেল এবং এর প্রচার সংকুচিত হয়ে পড়ল। বায়ান ও বাদি' বিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থে যা পড়া যায়, তা ছাড়া এর আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট ছিল না। কিন্তু দৈব অনুগ্রহে গ্রন্থটির একটিমাত্র পাণ্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল, যা বিশ্বে একমাত্র এবং এটি এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে ৩৮ আদব নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে। সমসাময়িক রুশ প্রাচ্যবিদ, লেনিনগ্রাদ একাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর সদস্য এবং দামেস্কের আরব সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য ইগনাতিয়াস ক্রাচ্চকভস্কি ১৯৩৫ সালে এটি প্রকাশ করেন। এই প্রাচ্যবিদের কর্মতৎপরতার মাধ্যমে এই অনন্য ও দুর্লভ গ্রন্থটি পাঠ করা এবং এতে বিদ্যমান গবেষণাসমূহ থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব হয়েছে, যা অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাদি' শিল্পের লেখকদের কাছে প্রথম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।
আমি ১৯৪৫ সালে এই গ্রন্থটির ব্যাখ্যা, টীকা সংযোজন ও সংশোধন সম্পন্ন করে এটি প্রকাশ করেছি। এর মাধ্যমে ইবনুল মু'তাযের গ্রন্থটির পুনর্জাগরণ ঘটেছে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সংস্কৃতির খিদমতে এটি একটি বড় অবদান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। এছাড়া বাদি' শাস্ত্রের ওপর রচিত সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসটির প্রচারের জন্য এটি একটি প্রচেষ্টা ছিল।
সমস্ত গবেষক যেমনটি একমত হয়েছেন যে, এই গ্রন্থটি হচ্ছে বাদি' এবং কাব্যশিল্পের ওপর রচিত প্রথম গ্রন্থ৩; এবং এই শিল্পে তাঁর বিশেষত্বের নিরিখে এটি ইবনুল মু'তাযের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বই৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ويعد فتحًا جديدًا1، ويقول ابن المعتز نفسه: وما جمع فنون البديع ولا سبقني إليه أحد2.
"3"
ولقب البديع ليس لقبًا مستحدثًا في عهد ابن المعتز؛ ولكنه اسم لهذه الألوان الساحرة في الأسلوب، ولهذا الترف البياني في الأداة، من تشبيه واستعارة وتجنيس وتطبيق وسوى ذلك، سماه به مسلم بن الوليد الشاعر م208هـ، وكان يُعرف قبل ذلك باللطيف3، ودرج على هذا اللقب من بعده من العلماء والأدباء، وفي الأغاني أن الأصمعي م216هـ كان يفضل بشارًا؛ لأنه أكثر تصرفًا وفنون شعر وأغزر وأوسع بديعًا4، وذكر الجاحظ البديع وبعض المشهورين به من الشعراء وأنه مقصور على العرب ومن أجله فاقت لغتهم على كل لغة5، وذكر كثيرًا من الشعراء الذين أكثروا منه في شعورهم، ورأى أنه لم يكن في المولَّدين أصوب بديعًا من بشار وابن هرمة6، ويقول ابن المعتز: البديع اسم موضوع لفنون من الشعراء يذكرها الشعراء ونقاد المتأدبين منهم، فأما العلماء بالشعر القديم
--------------------------------------------
এটি একটি নতুন বিজয় হিসেবে গণ্য করা হয়১, এবং ইবনুল মুতায নিজেই বলেন: "অলংকারশাস্ত্রের প্রকারভেদগুলো কেউ একত্র করেনি এবং এ ক্ষেত্রে আমার পূর্বে কেউ অগ্রগামী হয়নি২।"
"৩"
আর 'বাদি' (অলংকারশাস্ত্র) উপাধিটি ইবনুল মুতাযের যুগে কোনো নবউদ্ভাবিত উপাধি নয়; বরং এটি হলো রচনারীতির এই জাদুকরী বৈচিত্র্য এবং উপমা, রূপক, অনুপ্রাস, বৈপরীত্য ও এর বাইরে ভাষাগত অলংকরণের নাম। কবি মুসলিম ইবনুল ওয়ালিদ (মৃত্যু ২০৮ হিজরি) এই নামকরণ করেছিলেন এবং এর আগে এটি 'আল-লাতিফ'৩ নামে পরিচিত ছিল। তাঁর পরবর্তী আলেম ও সাহিত্যিকগণ এই উপাধিটিই ব্যবহার করে আসছেন। 'আল-আগানি' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আসমাঈ (মৃত্যু ২১৬ হিজরি) বাশশারকে প্রাধান্য দিতেন; কারণ তিনি কাব্যশৈলী ও শিল্পের দিক থেকে অধিক বৈচিত্র্যময় এবং অলংকারশাস্ত্রে অধিক সমৃদ্ধ ও প্রশস্ত ছিলেন৪। আল-জাহিজ 'বাদি' এবং এই বিদ্যায় প্রসিদ্ধ কিছু কবির কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি কেবল আরবদের জন্যই নির্দিষ্ট, আর এরই কারণে তাদের ভাষা অন্য সকল ভাষার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে৫। তিনি অনেক কবির কথা উল্লেখ করেছেন যারা তাদের কবিতায় এর প্রচুর ব্যবহার করেছেন এবং তিনি মনে করতেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের কবিদের (মুওয়াল্লাদিন) মধ্যে বাশশার ও ইবনুল হারমার চেয়ে অধিক নির্ভুল অলংকার বিশারদ আর কেউ ছিল না৬। ইবনুল মুতায বলেন: বাদি হলো কবিতার এমন কিছু শৈল্পিক প্রকারভেদের জন্য নির্ধারিত নাম যা কবিগণ এবং সাহিত্যিক সমালোচকগণ উল্লেখ করে থাকেন। আর প্রাচীন কাব্য বিশারদগণের নিকট...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২০)
فلا يعرفون هذا الاسم ولا يدرون ما هو1.
والبديع ونشأته في اللغة العربية موضوع عناية الباحيثن المحدثين، فرأى المسيو مرسيه أن الزخرف الفني وألوان البديع قد وصلت إلى العرب من اليونان2، ورأى باحث أنه عنصر أصيل في اللغة العربية وإن شاركتها في ذلك بعض اللغات3، وشاهد ذلك القرآن الكريم؛ فهو أثر عربي صرف وهو مع ذلك يشتمل على ألوان من البديع، والخواص الفنية الموجودة في القرآن توجد كذلك في الشعر الجاهلي كما أثبته صاحب جمهرة أشعار العرب في مقدمتها، وهي موجودة كذلك في الآثار الأدبية التي عاصرت القرآن كالحديث وخطب الخلفاء والولاة الذين شهدوا عصر النبوة4.
والحق أن البديع أصباغ عربية خالصة كثرت ألوانه وتطورت زمنًا بعد زمن، وزادت قوة هذا التطور بتأثير الفرس واليونان، فالاستعارة والتشبيه وكثير من هذه الأساليب تشترك فيها سائر اللغات5، ولقد عُرف البديع فنًّا منذ نشأ الأدب العربي، أما معرفته علميًّا فابتدأ في عصر بشار وأبي نواس ومسلم، ثم عُرف بصورة أوضح في عهد أبي تمام والبحتري وابن المعتز، وبما كتبه عنه الجاحظ مُؤلِّف البيان.
"4"
وموضوع كتاب البديع ذكر لألوان البديع وشواهدها في الأدب العربي شعرًا ونثرًا، يذكر مؤلفه ما أثر للون البديعي من شاهد في كتاب الله ثم في حديث رسوله ثم في كلام الصحابة والأعراب وبلغاء الكتاب ثم في الشعر العربي الجاهلي فالإسلامي فشعر المحدثين، ويختم كل لون بذكر ما عيب من شواهده المتكلَّفة
--------------------------------------------
তারা এই নামটি চিনত না এবং এটি কী তাও জানত না।১
আরবি ভাষায় অলঙ্কারশাস্ত্র (বাদি') এবং এর উদ্ভব আধুনিক গবেষকদের বিশেষ মনোযোগের বিষয়। মসিঁয়ে মার্সিয়ার মতে, শৈল্পিক কারুকার্য ও অলঙ্কারের প্রকারভেদসমূহ গ্রীকদের কাছ থেকে আরবদের নিকট পৌঁছেছে।২ আবার অন্য এক গবেষকের মতে, এটি আরবি ভাষার একটি মৌলিক উপাদান, যদিও অন্যান্য কিছু ভাষাও এতে অংশীদার।৩ এর প্রমাণ হলো পবিত্র কুরআন; এটি একটি বিশুদ্ধ আরবি নিদর্শন হওয়া সত্ত্বেও এতে বিভিন্ন প্রকারের অলঙ্কার বিদ্যমান। কুরআনে বিদ্যমান শৈল্পিক বৈশিষ্ট্যসমূহ জাহেলি যুগের কবিতাতেও পাওয়া যায়, যা 'জামহারা আশআরুল আরব'-এর লেখক তাঁর মুখবন্ধে প্রমাণ করেছেন। একইভাবে এগুলো কুরআনের সমসাময়িক সাহিত্যিক নিদর্শনেও বিদ্যমান, যেমন হাদিস এবং নবুওয়াতের যুগ প্রত্যক্ষকারী খলিফা ও গভর্নরদের ভাষণসমূহে।৪
প্রকৃত সত্য হলো, অলঙ্কারশাস্ত্র (বাদি') সম্পূর্ণভাবে আরবি রঙে রঞ্জিত, যার রূপ বৈচিত্র্যময় এবং যা সময়ের সাথে সাথে বিবর্তিত হয়েছে। পারস্য ও গ্রীক প্রভাবে এই বিবর্তনের গতি আরও বৃদ্ধি পায়। রূপক, উপমা এবং এই ধরণের অনেক শৈলী অন্যান্য সকল ভাষাতেও বিদ্যমান।৫ আরবি সাহিত্যের সূচনালগ্ন থেকেই অলঙ্কার একটি শিল্প হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে শাস্ত্রীয় জ্ঞান হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয় বাশশার, আবু নুওয়াস এবং মুসলিমের যুগে। এরপর আবু তাম্মাম, বুহতুরি ও ইবনুল মুতাযযের যুগে এবং 'আল-বায়ান' গ্রন্থের লেখক জাহিজ এ সম্পর্কে যা লিখেছেন তার মাধ্যমে এটি আরও স্পষ্টভাবে পরিচিতি লাভ করে।
"৪"
আর 'কিতাবুল বাদি'-এর বিষয়বস্তু হলো অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রকারভেদ এবং আরবি সাহিত্যে কবিতা ও গদ্যে তার নিদর্শনাদি উল্লেখ করা। এর লেখক অলঙ্কারের প্রতিটি প্রকারের জন্য প্রথমে আল্লাহর কিতাব থেকে, এরপর আল্লাহর রাসূলের হাদিস থেকে, এরপর সাহাবী ও মরুবাসী আরবদের বক্তব্য এবং বাগ্মী লেখকদের কথা থেকে, এরপর জাহেলি ও ইসলামি যুগের আরবি কবিতা এবং সবশেষে আধুনিক কবিদের কবিতা থেকে প্রমাণাদি পেশ করেন। তিনি কৃত্রিমভাবে প্রযুক্ত অলঙ্কারের দোষত্রুটি বর্ণনার মাধ্যমে প্রতিটি প্রকারের আলোচনা সমাপ্ত করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২১)
السقيمة، والكتاب حافل بشتى النصوص التي جمعها ابن المعتز وساقها في عرض جميل ونظام محكم.
وكان الباعث لابن المعتز على تأليف هذا الكتاب أن يعلم كما يقول: "بشاراً ومسلماً وأبا نواس ومن تقيّلهم وسلك سبيلهم لم يسبقوا إلى هذا الفن -البديع- ولكنه كثر في أشعارهم فعرف في زمانهم حتى سمى بهذا الاسم فأعرب عنه ودلّ عليه، ثم إن حبيب بن أوس الطائي شغف به حتى غلب عليه وأكثر منه فأحسن في بعض وأساء في البعض الآخر، وإنما كان يقول الشاعر من ذلك الفنّ البيت والبيتين في القصيدة وربما قُرئت من شعر أحدهم قصائد من غير أن يوجد فيها بيت بديع"1، فالغرض الأول منه "تعريف الناس أنّ المحدثين لم يسبقوا المتقدمين إلى شيء من أبواب البديع"2.
لقد نشأ ابن المعتز في عصر لم يخلُ من آثار التعصب للتراث الأدبي القديم، ومن المنكرين لمذاهب المحدثين في البيان والناعين عليهم ما افتنوا فيه من ألوان البديع التي أكثر منها بشار ومدرسته ثم مسلم وأبو تمام ومن جاء بعدهما، فكان لا بُدَّ لابن المعتز أن يدافع ويناضل هؤلاء المتعصبين.
نعم، لقد وقف ابن المعتز بين مذهبين في البيان متناقضين: مذهب المحدثين الذي يؤثره ويسير عليه في الشعر وفهمه ونظمه، ومذهب القدماء المتعصبين للقديم الذين كانوا يزدرون نهج المحدثين وقصدهم وتكلفهم للبديع؛ ولكنه انتصر بفطرته وذوقه للمذهب الأول الذي أحبه وشغف به، فأخذ يدافع عنه، وألف في ذلك كتابه البديع الذي أثبت فيه أن ألوان البديع كانت معروفة عند الشعراء القدامى والإسلاميين وألموا بها في شعرهم كما ألم بها المحدثون، فهي ليست غريبة على الشعر الجاهلي والإسلامي، وليست جديدة على أساليب البيان في شعر المحدثين، وليست بدعًا جديدًا في
--------------------------------------------
দুর্বল, এবং বইটি ইবনে আল-মু'তাজ কর্তৃক সংগৃহীত বিভিন্ন পাঠ্যে পরিপূর্ণ যা তিনি সুন্দর উপস্থাপনা ও সুদৃঢ় বিন্যাসে পেশ করেছেন।
এই বইটি রচনায় ইবনে আল-মু'তাজের প্রেরণা ছিল এটি জানানো যে, যেমনটি তিনি বলেন: "বাশার, মুসলিম, আবু নুওয়াস এবং যারা তাদের অনুসরণ করেছে ও তাদের পথে চলেছে, তারা এই শিল্পে—অর্থাৎ আল-বাদী‘-তে—অগ্রগামী ছিলেন না। তবে তাদের কবিতায় এর আধিক্য ছিল, ফলে তাদের সময়ে এটি এই নামে পরিচিত হয় এবং তিনি এটি প্রকাশ ও নির্দেশ করেন। এরপর হাবিব ইবনে আওস আল-তাঈ এর প্রতি এতটাই অনুরাগী হয়ে পড়েন যে এটি তার ওপর প্রবল হয়ে ওঠে এবং তিনি এর অত্যধিক প্রয়োগ করেন; ফলে কোনোটিতে তিনি সফল হয়েছেন আবার কোনোটিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ কোনো কবি হয়তো একটি কবিতায় এই শিল্পের কেবল একটি বা দুটি পঙ্ক্তি বলতেন, আবার কখনও তাদের কারও কবিতা সমগ্র পাঠ করা হতো অথচ তাতে কোনো 'বাদী‘' পঙ্ক্তি খুঁজে পাওয়া যেত না।"১ সুতরাং এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো "মানুষকে জানানো যে, আধুনিকগণ (মুহদাসিন) আল-বাদী‘-এর কোনো অধ্যায়েই প্রাচীনদের (মুতাকাদ্দিমিন) চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন না।"২
ইবনে আল-মু'তাজ এমন এক যুগে বেড়ে উঠেছেন যা প্রাচীন সাহিত্য ঐতিহ্যের প্রতি অন্ধ পক্ষপাতের প্রভাবমুক্ত ছিল না। সেখানে এমন লোক ছিল যারা অলঙ্কারশাস্ত্রে আধুনিকদের মতাদর্শকে অস্বীকার করত এবং তারা যে 'বাদী‘'-এর বিভিন্ন অলঙ্কার উদ্ভাবন করেছিল—যা বাশার ও তার অনুসারীগণ, অতঃপর মুসলিম ও আবু তাম্মাম এবং তাদের পরবর্তীগণ অধিক মাত্রায় ব্যবহার করেছিলেন—সেজন্য তাদের সমালোচনা করত। তাই ইবনে আল-মু'তাজের জন্য এই অন্ধ পক্ষপাতিদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ও সংগ্রাম করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল।
হ্যাঁ, ইবনে আল-মু'তাজ অলঙ্কারশাস্ত্রের দুটি পরস্পরবিরোধী মতাদর্শের মাঝে দাঁড়িয়েছিলেন: আধুনিকদের মতাদর্শ—যাকে তিনি প্রাধান্য দিতেন এবং কবিতা বুঝা ও রচনার ক্ষেত্রে অনুসরণ করতেন; আর প্রাচীনদের মতাদর্শ—যারা পুরাতনের প্রতি অন্ধ অনুরাগী ছিল এবং আধুনিকদের পথ, উদ্দেশ্য ও অলঙ্কারের কৃত্রিম ব্যবহারের প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করত। তবে তিনি তার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও রুচিবোধ দিয়ে সেই প্রথম মতাদর্শকে বিজয়ী করেন যাকে তিনি ভালোবাসতেন ও যার প্রতি অনুরাগী ছিলেন। অতঃপর তিনি তার প্রতিরক্ষা শুরু করেন এবং এ বিষয়ে তার 'আল-বাদী‘' গ্রন্থটি রচনা করেন, যেখানে তিনি প্রমাণ করেন যে 'বাদী‘'-এর প্রকারভেদগুলো প্রাচীন ও ইসলামি যুগের কবিদের নিকট পরিচিত ছিল এবং আধুনিকদের মতো তারাও তাদের কবিতায় এগুলোর প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। সুতরাং এটি জাহেলি ও ইসলামি কবিতার জন্য কোনো অপরিচিত বিষয় নয়, এবং আধুনিকদের কবিতার অলঙ্কারিক শৈলীতেও এটি কোনো নতুন কিছু নয়, আর এটি কোনো অভিনব উদ্ভাবনও নয় যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأدب والشعر، كما ذهب إليه من تعصبوا للأدب القديم واعتزوا بفحولة الشعر الجاهلي وجزالته، وأنكروا مذاهب المحدثين في صناعة الشعر وسهولته وتكلف البديع فيه، وكان دفاع ابن المعتز رائعًا قويًّا موفقًا استحق عليه كل تقدير من المنصفين والمثقفين من النقاد.
ولون الثقافة الشائعة في الكتاب هي الثقافة العربية العميقة الخالصة من شوائب الثقافات الأخرى، فقد ألفه ابن المعتز وهو في سن الشباب قبل أن يتعمق في دراسة آثار الثقافات الأخرى، وإذا ما وازنا بين البديع لابن المعتز وفصول التماثيل أحد مؤلفاته في أواخر حياته وجدنا الأول عربيًّا خالصًا في ثقافته من حيث كان الثاني مظهرًا لثقافة منوعة مختلفة الأصباغ والألوان.
সাহিত্য এবং কবিতা—যেমনটি মনে করতেন প্রাচীন সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী এবং জাহেলি কবিতার পৌরুষদীপ্ত শৈলী ও প্রাঞ্জলতার ওপর গর্বকারী ব্যক্তিবর্গ, যারা কবিতা নির্মাণে আধুনিকদের মতবাদ, তাদের সহজবোধ্যতা এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের কৃত্রিমতাকে অস্বীকার করতেন। ইবনে আল-মু'তাযের এই প্রতিরক্ষা ছিল চমৎকার, শক্তিশালী ও সফল, যার জন্য তিনি ইনসাফপরায়ণ ও বিদগ্ধ সমালোচকদের নিকট থেকে পূর্ণ প্রশংসার দাবিদার হয়েছেন।
গ্রন্থটিতে বিদ্যমান সংস্কৃতির ধরন হলো গভীর ও বিশুদ্ধ আরবি সংস্কৃতি, যা অন্য সংস্কৃতির কলুষতা থেকে মুক্ত। ইবনে আল-মু'তায এটি তার যৌবনকালে রচনা করেছিলেন, অন্যান্য সংস্কৃতির নিদর্শনাদি গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পূর্বে। আমরা যদি ইবনে আল-মু'তাযের 'আল-বাদি' এবং তার জীবনের শেষদিকের অন্যতম রচনা 'ফুসুল আত-তামাসিল'-এর মধ্যে তুলনা করি, তবে দেখতে পাই যে প্রথমটি তার সংস্কৃতিতে ছিল বিশুদ্ধ আরবি, যেখানে দ্বিতীয়টি ছিল বৈচিত্র্যময় ও বহুবর্ণিল সংস্কৃতির এক বহিঃপ্রকাশ।
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২২)
ألوان البديع عند ابن المعتز:"5"
وألوان البديع عند ابن المعتز خمسة: الاستعارة - التجنيس - المطابقة - رد للعجز على الصدر - المذهب الكلامي.
ويجعل ما عدا ذلك من محاسن الكلام والشعر ويقول أنها كثيرة، ولا يرى حرجًا في إضافة هذه المحاسن أو غيرها إلى البديع1، وذكر من هذه المحاسن: الالتفات، الاعتراض، الرجوع، حسن الخروج، تأكيد المدح بما يشبه الذم، تجاهل العارف، الهزل الذي يراد به الجد، حسن التضمين، التعريض والكناية، الإفراط في الصفة، حسن التشبيه، لزوم ما لا يلزم، حسن الابتداء.
ونحن الآن نتكلم على كل لون من هذه الألوان وتطور البحث البياني فيه بدقة وتفصيل.
--------------------------------------------
ইবনে আল-মু'তাযের নিকট বাদি অলঙ্কারের প্রকারসমূহ:"৫"
ইবনে আল-মু'তাযের নিকট বাদি অলঙ্কারের প্রকারসমূহ পাঁচটি: আল-ইস্তি'আরাহ (রূপক), আত-তাজনিস (শব্দালঙ্কার/অনুপ্রাস), আল-মুতাবাক্বাহ (বৈপরীত্য), রাদ্দু আল-আজিজ আলা আস-সাদর (শেষাংশকে প্রথমাংশের দিকে ফিরিয়ে আনা) এবং আল-মাযহাব আল-কালামি (যৌক্তিক প্রমাণ পদ্ধতি)।
তিনি এগুলো ছাড়া বাকি বিষয়গুলোকে বক্তব্য ও কবিতার সৌন্দর্য (অলঙ্কার) হিসেবে গণ্য করেন এবং বলেন যে সেগুলো অনেক। তিনি এই সৌন্দর্যগুলো বা অন্য কিছুকে বাদি-এর অন্তর্ভুক্ত করতে কোনো সংকোচ বোধ করেন না। তিনি এই সৌন্দর্যগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন: আল-ইলতিফাত, আল-ইতিরাদ (প্রাসঙ্গিক বাক্য), আর-রুজু', হুসনুল খুরুজ (সুন্দর উত্তরণ), তাকিদ আল-মাদহি বিমা ইউশবিহু আয-যাম্ম (নিন্দার আদলে প্রশংসাকে সুদৃঢ় করা), তাজহুলুল আরিফ (বিস্ময় প্রকাশার্থে জানা বিষয়কে না জানার ভান করা), আল-হাযলুল্লাজি ইউরাদু বিহি আল-জিদ (রসিকতা যার দ্বারা গাম্ভীর্য উদ্দেশ্য থাকে), হুসনু আত-তাদমিন (সুন্দর অন্তর্ভুক্তকরণ), আত-তা'রিজ ও আল-কিনায়াহ (পরোক্ষ উক্তি ও ইঙ্গিত), আল-ইফরাত ফিস-সিফাহ (গুণাবলির অতিশয়োক্তি), হুসনু আত-তাশবিহ (সুন্দর উপমা), লুযুমু মা লা ইয়ালযাম এবং হুসনু আল-ইবতিদা (সুন্দর প্রারম্ভ)।
আমরা এখন এই প্রতিটি প্রকার এবং এতে আল-বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) বিষয়ক গবেষণার বিবর্তন নিয়ে সূক্ষ্ম ও বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
1- الاستعارة:
عرَّفها الجاحظ بأنها: تسمية الشيء باسم غيره إذا قام مقام مقامه1، ورجع بعض المثل إليها2.
وذكرها أرسطو في خطابته فرأى أن "الاستعارة تجعل الشيء غيره والتشبيه3 يحكم عليه بأنه كغيره"، وقسمها إلى استعارة من الضد واستعارة من التشبيه3، واستعارة من الاسم وحده، وتكلَّم على بلاغة الاستعارة والمقام الذي تستعمل فيه، ورأى يجب أن تكون غير كثيرة التداخل بألا تدخل الاستعارة في استعارة4، وأن تؤخذ من جنس مناسب لذلك الجنس محاك له غير بعيد منه ولا خارج عنه5، وأن تكون المعاني التي يستعار من أجلها لطيفة معروفة
… وهذه الدراسة لا نظير لها عند الجاحظ، وهي دراسة فيلسوف عميق البحث.
وأشار المبرد إلى الاستعارة في كامله من غير أن يعرج عليها بالدراسة أو التحديد6، وأشار ابن المدبر إليها إشارة عابرة7، وذكر ثعلب الاستعارة وقال:
--------------------------------------------
১- ইস্তিয়ারা (রূপক):
জাহ্যি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে: এটি হলো কোনো বস্তুকে অন্য বস্তুর নামে নামকরণ করা যখন সেটি তার স্থলাভিষিক্ত হয়১, এবং প্রবাদের কিছু অংশকে এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন২।
এরিস্টটল তাঁর বাগ্মীতাবিষয়ক গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন এবং অভিমত দিয়েছেন যে, "ইস্তিয়ারা (রূপক) বস্তুকে অন্য কিছুতে পরিণত করে, আর তাশবিহ (উপমা)৩ বিচার করে যে বস্তুটি অন্য কোনো কিছুর মতো", এবং তিনি একে বিপরীত থেকে ইস্তিয়ারা, উপমা থেকে ইস্তিয়ারা৩ এবং কেবল নাম থেকে ইস্তিয়ারা - এই কয়েক ভাগে ভাগ করেছেন। তিনি ইস্তিয়ারার অলঙ্কারশৈলী এবং এটি ব্যবহারের স্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি অভিমত দিয়েছেন যে, এটি যেন খুব বেশি পরষ্পরবিরোধী বা জটিল না হয়, অর্থাৎ একটি ইস্তিয়ারার ভেতর যেন অন্য ইস্তিয়ারা প্রবেশ না করে৪। এছাড়া এটি যেন এমন কোনো সদৃশ শ্রেণি থেকে নেওয়া হয় যা সেই শ্রেণির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা থেকে খুব বেশি দূরে বা বাইরে নয়৫। আর যে অর্থের জন্য রূপক ব্যবহার করা হয় তা যেন সূক্ষ্ম ও সুপরিচিত হয়
… এবং এই ধরনের গবেষণা জাহ্যি-র কাছে অতুলনীয়, যা একজন গভীর গবেষক দার্শনিকের কাজ।
মুবাররাদ তাঁর 'আল-কামিল' গ্রন্থে ইস্তিয়ারার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন তবে কোনো বিস্তারিত গবেষণা বা সংজ্ঞা প্রদান করেননি৬। ইবনে আল-মদাব্বির এর প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত করেছেন৭, এবং সা’লাব ইস্তিয়ারার উল্লেখ করে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
"وهي أن يستعار للشيء اسم غيره أو معنى سواه"1، ويذكر مثلًا كثيرة لها2.
والاستعارة هي الباب الأول في كتاب البديع، وعرَّفها ابن المعتز بأنها: استعارة الكلمة لشيء لم يعرف بها من شيء قد عرف بها3، وذكر كثيرًا من شواهدها4 ومثلًا لقبيحها5، وبذلك تنتهي دراسته لهذا الباب الذي نهج فيه منهج أستاذه ثعلب في قواعد الشعر.
وقد عقد لها أبو هلال بابًا تأثر فيه خطا ابن المعتز في دراسة الاستعارة6، وعلى ضوئه سار ابن رشيق7، وقد ألم بها قدامة في نقد الشعر8 وفي نقد النثر9 مع بعد عن اتجاه ابن المعتز في دراستها، وقد قسمها إلى حسن الاستعارة وفاحشها، وفاحش الاستعارة هي الاستعارة غير المفيدة عند عبد القاهر10.
--------------------------------------------
"আর তা হলো কোনো বস্তুর জন্য অন্য কোনো নাম বা ভিন্ন কোনো অর্থ ধার করা"১, এবং তিনি এর অনেক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন২।
আল-ইস্তি'আরাহ (রূপক) হলো 'কিতাবুল বাদি' গ্রন্থের প্রথম পরিচ্ছেদ। ইবনুল মু'তায এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: কোনো শব্দের ব্যবহার এমন কোনো বিষয়ের জন্য ধার করা যা আগে তার দ্বারা পরিচিত ছিল না, এমন কোনো বিষয় থেকে যা আগে তার দ্বারা পরিচিত ছিল৩। তিনি এর অনেক প্রমাণ৪ এবং এর কদর্যতার উদাহরণ৫ উল্লেখ করেছেন। এর মাধ্যমেই এই পরিচ্ছেদে তাঁর অধ্যয়ন শেষ হয়, যেখানে তিনি 'কাওয়ায়েদুশ শি'র' গ্রন্থে তাঁর উস্তাদ ছা'লাবের অনুসৃত পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
আবু হিলাল এর জন্য একটি পরিচ্ছেদ নিবদ্ধ করেছেন যেখানে তিনি ইস্তি'আরাহ অধ্যয়নে ইবনুল মু'তাযের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন৬, এবং সেই আলোকেই ইবনু রশীক অগ্রসর হয়েছেন৭। কুদামাহ 'নাকদুশ শি'র'৮ এবং 'নাকদুন নাছর'৯ গ্রন্থে ইস্তি'আরাহ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তবে তা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে তিনি ইবনুল মু'তাযের ধারা থেকে দূরে ছিলেন। তিনি একে উত্তম ইস্তি'আরাহ ও কদর্য ইস্তি'আরাহ-তে বিভক্ত করেছেন। আবদুল কাহিরের মতে কদর্য ইস্তি'আরাহ হলো সেই ইস্তি'আরাহ যা ফলপ্রসূ নয়১০।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2- التجنيس:
يذكره أرسطو في خطابته ويحدده بأن يكون المكرر وإن كان لفظين في المسموع فهو مختلف في المفهوم، وذلك ما ذكره قدامة في تعريفه لهذا اللون الذي سماه المطابق والمجانس1، وسبقه إلى ذلك أستاذه ثعلب؛ حيث ذكر المطابق وعرفه بأنه تكرير اللفظ بمعنيين مختلفين2، كما بين أرسطو بلاغته وآثاره في الكلام مما احتذاه فيه عبد القاهر في الأسرار3.
والجاحظ لا يعرف ذلك اللون ولا يذكر شيئًا عنه ويمر بمثال بليغ للتجنيس4، فلا يذكر عن هذا الاصطلاح شيئًا.
وكان العجاج يُسمِّي هذا الباب عطف الرجز5، وألف الأصمعي كتاب الأجناس6، وكان الأصمعي يدفع قول العامة: هذا مجانس لهذا، إذا كان من شكله، ويقول: ليس بعربي خالص. وابن المعتز هو أهم من درس التجنيس وجمعه، قال: التجنيس أن تجيء الكلمة تُجانس أُخرى في بيت شعر أو كلام، والمجانسة أن تشبه اللفظة اللفظة في تأليف حروفها على الوجه الذي ألف الأصمعي كتاب الأجناس عليه، ولم تكن القدماء تعرف هذا اللقب، وقد صنف الناس فيه كتبًا كثيرة وجعلوه أبوابًا متعددة؛ كابن المعتز والحاتمي والقاضي الجرجاني وقدامة وغيرهم7.
--------------------------------------------
২- তাজনিস (শব্দ-সাদৃশ্য):
এরিস্টটল তার অলঙ্কারশাস্ত্রে (রিটোরিক) এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো এমন একটি পুনরাবৃত্তি যা শ্রুতিতে এক হলেও ধারণাগত বা অর্থগতভাবে ভিন্ন। কুদামা (ইবনে জাফর) এই শৈলীটির সংজ্ঞায় একে 'মুতাবিক' ও 'মুজানিস' নামে অভিহিত করেছেন১, এবং এক্ষেত্রে তার শিক্ষক সা'লাব তার পূর্বগামী ছিলেন; তিনি মুতাবিকের উল্লেখ করেছেন এবং এর সংজ্ঞায় বলেছেন যে, এটি হলো দুটি ভিন্ন অর্থে একই শব্দের পুনরাবৃত্তি২। এরিস্টটল যেমন বাক্যে এর অলঙ্কারিক সৌন্দর্য ও প্রভাব বর্ণনা করেছেন, আব্দুল কাহের (জুরজানি) তার 'আসরার' গ্রন্থে তাকেই অনুসরণ করেছেন৩।
আল-জাহিজ এই শৈলীটি সম্পর্কে জানতেন না এবং এ বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি। যদিও তিনি তাজনিসের একটি প্রাঞ্জল উদাহরণের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন৪, তবুও তিনি এই পরিভাষাটি সম্পর্কে কিছুই বলেননি।
আল-আজ্জাজ এই অধ্যায়টিকে 'আতফুর রাজায' নামে ডাকতেন৫ এবং আসমায়ি 'কিতাবুল আজনাস' নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন৬। আসমায়ি সাধারণ মানুষের এই উক্তিটি প্রত্যাখ্যান করতেন যখন তারা সদৃশ কোনো কিছু দেখে বলত: "এটি সেটির মুজানিস (জাতীয়)", এবং তিনি বলতেন: "এটি বিশুদ্ধ আরবি নয়।" ইবনুল মুতায হলেন তাজনিস নিয়ে অধ্যয়নকারী এবং এর তথ্যসমূহ সংগ্রহকারী প্রধান ব্যক্তিত্ব। তিনি বলেন: তাজনিস হলো কোনো কবিতার চরণে বা বাক্যে একটি শব্দের অন্যটির সমজাতীয় হওয়া। আর মুজানাসাহ হলো বর্ণমালার বিন্যাসে একটি শব্দ অন্য শব্দের সদৃশ হওয়া, ঠিক সেই পদ্ধতিতে যেভাবে আসমায়ি তার 'কিতাবুল আজনাস' রচনা করেছেন। প্রাচীনগণ এই পরিভাষাটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরবর্তীতে লোকেরা এ বিষয়ে অনেক কিতাব রচনা করেছেন এবং একে ইবনুল মুতায, আল-হাতিমি, কাজী জুরজানি, কুদামা এবং অন্যদের মতো একাধিক পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولابن الحرون كتاب المطابق والمجانس1. وحقيقة التجنيس أن يكون اللفظ واحدًا والمعنى مختلفًا كما يقول ابن الأثير2، ويجعل ابن الأثير أيضًا رد العجز على الصدر ضربًا من التجنيس3.
وابن المعتز هو الواضع لهذا اللقب، وهو أول من أفرد هذا الباب بالبحث والتأليف4؛ فقد عرفه5 وذكر أقسامه6 وأفاض في ذكر شواهده7 وذكر مثلًا لمعيبه8. وبذلك ينتهي الباب وقد تأثر أبو هلال خطا ابن المعتز في هذا الباب9.
--------------------------------------------
ইবনুল হারুন এর ‘কিতাবুল মুতাবিক ওয়াল মুজানিস’১ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। তাজনিস (শব্দালঙ্কার)-এর প্রকৃত রূপ হলো শব্দ এক হওয়া কিন্তু অর্থ ভিন্ন হওয়া, যেমনটি ইবনুল আসির২ বলেছেন। এছাড়াও ইবনুল আসির ‘রাদ্দুল আজয আলাস সাদ্র’-কে তাজনিসের একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করেছেন৩।
ইবনুল মুতায হলেন এই পরিভাষার প্রবর্তক, এবং তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই অধ্যায়টিকে গবেষণা ও রচনার জন্য স্বতন্ত্র হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন৪; তিনি এর সংজ্ঞা দিয়েছেন৫, এর প্রকারভেদ উল্লেখ করেছেন৬, এর স্বপক্ষে প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন৭ এবং এর ত্রুটিগুলোর উদাহরণও তুলে ধরেছেন৮। এর মাধ্যমেই অধ্যায়টি সমাপ্ত হয়েছে এবং আবু হিলাল এই অধ্যায়ে ইবনুল মুতাযের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন৯।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
3- المطابقة:
ذكر الأصمعي المطابقة في الشعر فقال: أصلها وضع الرجل موضع اليد في مشي ذوات الأربع، ثم قال: وأحسن بيت قيل لزهير في ذلك:
ليث بعثر يصطاد الرجال إذا
… ما الليث كذب عن أقرانه1 صدقا
وقال الأصمعي والخليل: يقال: طابقت بين الشيئين إذا جمعتهما على حرف واحد وألصقتهما2، فذلك هو مساواة المقدار من غير زيادة ولا نقصان، كما قال الرماني: المطابقة مساواة المقدار من غير زيادة ولا نقصان. قال ابن رشيق: هذا أحسن قول سمعته في المطابقة، وهو مشتمل على قول القوم وغيرهم جميعًا3.
وفي البيان للجاحظ وردت كلمة التطبيق بمعنى إصابة الكلام الغرض المسوق له4، ويذكر تطبيق الحديث وأنه غير التطبيق الأول5، وفي كامل المبرد كلمة المطابقة بمعنى الجمع بين الشيء وما يقابله في الكلام6، وكذلك أراد ابن المعتز هذا المعنى من هذا الاصطلاح، ويسميه ثعلب مجاروة الأضداد7، ويسميه قدامة التكافؤ8.
فالمطابقة -إذن- لها معنيان: مساواة المقدارة، والجمع بين الشيء وضده. وأول مَن
--------------------------------------------
৩- মুতবাকাহ (সামঞ্জস্যবিধান):
আসমায়ী কবিতায় মুতবাকাহ সম্পর্কে উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন: এর মূল উৎস হলো চতুষ্পদ প্রাণীর হাঁটার সময় সামনের পায়ের (হাতের) স্থানে পেছনের পা স্থাপন করা। অতঃপর তিনি বলেন: এ বিষয়ে যুহাইরের বলা শ্রেষ্ঠ পঙক্তি হলো:
বা'ছারা অঞ্চলের সিংহ যখন বীর পুরুষদের শিকার করে... সেই সিংহ তার প্রতিপক্ষদের মোকাবিলায় সত্যের বিপরীতে মিথ্যাচার করেনি।
আসমায়ী ও খলীল বলেছেন: যখন আপনি দুটি বস্তুকে একই প্রান্তে একত্র করবেন এবং তাদের একটিকে অন্যটির সাথে যুক্ত করবেন, তখন বলা হয়: 'আমি বস্তু দুটির মাঝে সামঞ্জস্য (তাতবিক) করেছি'। আর তা হলো কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি ব্যতিরেকে পরিমাপের সমতা। যেমনটি রুম্মানী বলেছেন: মুতবাকাহ হলো কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাস ছাড়াই পরিমাপের সমতা। ইবনে রাশীক বলেছেন: মুতবাকাহ সম্পর্কে এটিই আমার শোনা শ্রেষ্ঠ বক্তব্য, এবং এটি পূর্বসূরি ও অন্যদের সকল মতামতের পরিপূরক।
জাহিজের 'আল-বায়ান' গ্রন্থে 'তাতবিক' শব্দটি কথাকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে সঠিকভাবে পৌঁছানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি হাদিসের প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি প্রথমোক্ত প্রয়োগের চেয়ে ভিন্ন। মুবাররাদের 'আল-কামিল' গ্রন্থে 'মুতবাকাহ' শব্দটি বাক্যে কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত বিষয়ের একত্রীকরণ অর্থে এসেছে। ইবনুল মু'তাযও এই পরিভাষাটি দ্বারা এই অর্থই বুঝিয়েছেন। ছালাব একে 'বিপরীতার্থক শব্দের সহাবস্থান' বলে অভিহিত করেছেন এবং কুদামা একে 'তাকাফু' (সমতা) নামকরণ করেছেন।
অতএব, মুতবাকাহ-এর দুটি অর্থ রয়েছে: পরিমাপের সমতা এবং কোনো বস্তু ও তার বিপরীতের একত্রীকরণ। আর সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
سماها هذا الاسم هو الأصمعي مريدًا منه المعنى الثاني، وورد في اشتقاقه كلام عن الخليل والأصمعي رآه ابن رشيق ظاهرًا في المعنى الأول.
ويقول الباقلاني: وأكثر العلماء على أن المطابقة أن يذكر الشيء وضده كالليل والنهار، وإليه ذهب الخليل والأصمعي، ومن المتأخرين ابن المعتز. وقال آخرون: المطابقة أن يشترك معنيان بلفظة واحدة، وإليه ذهب قدامة1، ويذكر الآمدي أن قدامة لقب هذا الباب المتكافئ، وأنه سمى ضربًا من المجانس "المطابق" وينقده في مخالفته للعلماء ولابن المعتز في هذه الاصطلاحات2، وردَّ الأخفش على قدامة3، ونقل ابن سينا كلمة الآمدي في نقده وأشاد بها4.
وقد ذكر ابن المعتز هذا الباب في كتابه البديع وفيه كثير من الشواهد5، وذكر مثلًا لما عيب منه6.
ومن الغريب أن يكون أرسطو قد تكلم على المطابقة والمقابلة؛ حيث ذكر التقابل وأن المتقابلات إذا توافقت أحدثت رونقًا لظهور بعضها ببعض، وأن المعتدل "الذي لا يفرط في الصفة حتى يدخل في حيز الكذب الظاهر" وخصوصًا إذا شحن بالمطابقات المأخوذة من المتقابلات لذيذ جدًّا، وأن المتقابلات بعضها أضداد وبعضها كأضداد.
--------------------------------------------
আল-আসমাঈ এটিকে এই নামকরণ করেছেন দ্বিতীয় অর্থটি বুঝাতে, এবং এর বুৎপত্তি সম্পর্কে আল-খলীল ও আল-আসমাঈ থেকে কিছু বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে যা ইবনে রাশিক প্রথম অর্থের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বলে মনে করেছেন।
আল-বাকিল্লানি বলেন: অধিকাংশ আলিমের মতে 'মুতাবাক্বাহ' হলো কোনো বস্তু এবং তার বিপরীত বস্তুর উল্লেখ করা, যেমন রাত ও দিন; আল-খলীল ও আল-আসমাঈ এই মত পোষণ করেছেন এবং পরবর্তীগণের মধ্যে ইবনুল মু'তাযযও এটি গ্রহণ করেছেন। অন্যগণ বলেন: মুতাবাক্বাহ হলো একই শব্দের মাধ্যমে দুটি অর্থের অংশীদার হওয়া, কুদামাহ১ এই মত পোষণ করেছেন; আল-আমিদি উল্লেখ করেন যে, কুদামাহ এই অধ্যায়টির নাম দিয়েছেন 'আল-মুতাকাফি' এবং তিনি এক প্রকারের মুজানাসাত-কে (শব্দগত মিল) 'আল-মুতাবিক্ব' বলে অভিহিত করেছেন; এসব পরিভাষার ব্যবহারে আলেমগণ ও ইবনুল মু'তাযযের বিরোধিতা করার কারণে তিনি (আমিদি) তাঁর সমালোচনা করেছেন২। আল-আখফাশ কুদামাহর প্রতিবাদ করেছেন৩, এবং ইবনে সিনা তাঁর সমালোচনায় আল-আমিদির বক্তব্যটি উদ্ধৃত করেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন৪।
ইবনুল মু'তাযয তাঁর 'আল-বাদি' গ্রন্থে এই অধ্যায়টি উল্লেখ করেছেন এবং তাতে অনেক উদাহরণ রয়েছে৫, আর তিনি এর মধ্য থেকে যেগুলোকে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হয়েছে তার উদাহরণও পেশ করেছেন৬।
এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, এরিস্টটলও মুতাবাক্বাহ ও মুকাবালাহ (বৈপরীত্য) সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; সেখানে তিনি বিপরীত বিন্যাস বা 'তাক্বাবুল' উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, বিপরীত ধর্মী বিষয়গুলো যখন সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তখন একটির দ্বারা অন্যটি প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে তা এক অনাবিল সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। আর মধ্যপন্থী বর্ণনা—যা গুণের ক্ষেত্রে এমন অতিরঞ্জন করে না যা স্পষ্ট মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত হয়—বিশেষ করে যখন তা বিপরীত ধর্মী উপাদান থেকে সংগৃহীত মুতাবাক্বাহ দ্বারা সমৃদ্ধ হয়, তখন তা অত্যন্ত চমৎকার হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বিপরীত ধর্মী বিষয়গুলোর কিছু হলো সরাসরি বৈপরীত্য এবং কিছু হলো বৈপরীত্যের মতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وابن المعتز فوق معرفته بالمطابقة فهو يعرف المقابلة ويذكرها باسمها1، ولم يذكرها في كتابه البديع. وقد ذكر قدامة المقابلة وعرَّفها في نقد الشعر2 تعريفًا تأثر فيه بأرسطو، وأخذ السكاكي تعريف قدامة رأيًا له في تعريفه للمقابلة. وفي الصناعتين باب للمطابقة تأثير فيه أبو هلال بابن المعتز إلى حد كبير3، وكذلك فعل ابن رشيق4.
--------------------------------------------
ইবনে আল-মু'তায মুতাবাকাহ সংক্রান্ত তাঁর জ্ঞানের পাশাপাশি মুকাবালাহ সম্পর্কেও অবহিত ছিলেন এবং তিনি একে এর নিজ নামেই উল্লেখ করেছেন১, যদিও তিনি তাঁর ‘আল-বাদী’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেননি। কুদামাহ ‘নাকদুশ শি’র’২ গ্রন্থে মুকাবালাহ-এর উল্লেখ করেছেন এবং এর এমন একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন যাতে তিনি এরিস্টটল দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন, আর আস-সাককাকী মুকাবালাহ-এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে কুদামাহ-এর সংজ্ঞাকেই নিজের মত হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ‘আস-সিনা‘আতায়ন’ গ্রন্থে মুতাবাকাহ-এর ওপর একটি অধ্যায় রয়েছে যেখানে আবু হিলাল অনেকখানি ইবনে আল-মু‘তায দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন৩, এবং ইবনে রাশীকও অনুরূপ করেছেন৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
4- رد العجز على الصدر:
وهو اصطلاح جديد لابن المعتز لم يسبق إليه، وقد ذكر ابن المعتز أقسامه1 وشواهد كثيرة له2، ثم ذكر مثلًا قليلة لما عيب منه3، وقد سار على نهجه أبو هلال4.
وابن رشيق يسميه التصدير5، ونقل فيه كثيرًا من مثل ابن المعتز وشواهده، ويذكر ابن رشيق من مثله نقلًا عن ابن المعتز:
ولم يحفظ مضاع المجد شيء
… من الأشياء كالمال المضاع6
وهذا البيت غير موجود في نسخة البديع الموجودة بين أيدينا مما يدل على نقصها. وابن الأثير يجعل رد العجز على الصدر ضربًا من التجنيس7.
--------------------------------------------
৪- রাদ আল-আজুয আলা আস-সাদর (শেষাংশ শুরুতে ফিরিয়ে আনা):
এটি ইবনে আল-মুতায-এর প্রবর্তিত একটি নতুন পরিভাষা, যা ইতিপূর্বে কেউ ব্যবহার করেনি। ইবনে আল-মুতায এর প্রকারভেদ এবং এর সপক্ষে অনেক প্রমাণ উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি এর ত্রুটিপূর্ণ ব্যবহারের কিছু উদাহরণ দিয়েছেন। আবু হিলালও তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন।
ইবনে রাশিক একে 'তাসদীর' বলে অভিহিত করেছেন এবং এতে তিনি ইবনে আল-মুতায-এর অনেক উদাহরণ ও প্রমাণ উদ্ধৃত করেছেন। ইবনে রাশিক ইবনে আল-মুতায থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন:
হারানো গৌরবের কোনো কিছুই সংরক্ষিত থাকে না
… হারানো ধন-সম্পদের মতো কোনো বস্তুর মাধ্যমেই।
এই কাব্যপংক্তিটি আমাদের নিকট বিদ্যমান 'আল-বাদী' গ্রন্থের কপিতে নেই, যা গ্রন্থটির অসম্পূর্ণতা প্রমাণ করে। ইবনে আল-আসির 'রাদ আল-আজুয আলা আস-সাদর'-কে 'তাজনিস'-এর একটি প্রকার বলে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
5- المذهب الكلامي:
وهو إيراد حجة على المطلوب على طريقة أهل المنطق، وهي أن تكون المقدمات مستلزمة للمطلوب. والجاحظ هو الذي سماه هذا الاسم1، وابن المعتز يذكر أنه ليس في القرآن منه شيء، وأنه ينسب للتكلف2، وقد نقده أبو هلال؛ لأنه عد هذا الباب من البديع مع أنه نسبه إلى التكلف3، وابن المعتز يذكر شواهد له4 ومثلًا للمعيب منه5، واحتذاه أبو هلال6 وابن رشيق7.
--------------------------------------------
৫- কালামি পদ্ধতি:
এটি হলো যুক্তিবিদদের তরিকায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের ওপর দলিল উপস্থাপন করা, আর তা হলো এমন কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা যা কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে অনিবার্য করে তোলে। আল-জাহিজ একে এই নামকরণ করেছেন ১, এবং ইবনুল মুতায উল্লেখ করেছেন যে কুরআনে এর কোনো কিছু নেই এবং একে কৃত্রিমতার অন্তর্ভুক্ত করা হয় ২। আবু হিলাল তাঁর সমালোচনা করেছেন; কারণ তিনি এই অধ্যায়টিকে অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত করেছেন অথচ একে কৃত্রিমতা হিসেবে গণ্য করেছেন ৩। ইবনুল মুতায এর স্বপক্ষে কিছু প্রমাণ উল্লেখ করেছেন ৪ এবং এর ত্রুটিপূর্ণ বিষয়ের উদাহরণ দিয়েছেন ৫। আবু হিলাল ৬ এবং ইবনু রাশিক ৭ তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
6- الالتفات:
أشار إليه صاحب الجمهرة فذكر أن العرب تخاطب الشاهد مخاطبة الغائب1، وكذلك فعل المبرد2 فذكر أن العرب تترك مخاطبة الغائب إلى مخاطبة الشاهد وبالعكس3.
وحُكي عن إسحاق الموصلي قال: قال لي الأصمعي: أتعرف التفاتات جرير؟ قلت: وما هي؟ فأنشدني:
أتنسى إذا تودعنا سليمي
… بعود بشامة سقى البشام؟
ثم قال: ألا تراه مقبلًا على شعره إذا به التفت إلى البشام فدعا له4.
والالتفات هو الاعتراض عند قوم -منهم صاحب العمدة5- ولذلك ذكر ابن رشيق في عمدته بعض مثل للالتفات ذكرها ابن المعتز في باب الاعتراض6، كما نقل ابن رشيق مثلًا للالتفات ذكرها ابن المعتز في باب الالتفات7، وقال آخرون: هو الاستدراك، وحكاه قدامة وسبيله أن يكون الشاعر آخذًا في معنى ثم يعرض له معنى غيره فيعدل عن الأول إلى الثاني فيأتي به، ثم يعود إلى الأول من غير أن يخل في شيء مما يشد الأول8.
--------------------------------------------
৬- ইলতিফাত (বক্তব্যের মোড় পরিবর্তন):
‘জামহারাহ’ গ্রন্থের রচয়িতা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা উপস্থিত ব্যক্তিকে অনুপস্থিতের ন্যায় সম্বোধন করে থাকে। আর মুবাররাদও অনুরূপ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আরবরা অনুপস্থিতের সম্বোধন ছেড়ে উপস্থিতের সম্বোধনে চলে আসে এবং এর বিপরীতটিও করে থাকে।
ইসহাক আল-মাওসিলি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আসমায়ি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি জারিরের ‘ইলতিফাত’ (বক্তব্যের মোড় পরিবর্তন) সম্পর্কে জানো?” আমি বললাম, “সেগুলো কী?” তখন তিনি আমাকে এই কবিতাটি শোনালেন:
“তুমি কি ভুলে গেছ যখন সুলাইমা আমাদের থেকে বিদায় নিচ্ছিল... বাশাম গাছের ডাল হাতে নিয়ে? (দোয়া করি) বাশাম গাছটি যেন সর্বদা সিক্ত থাকে।”
অতঃপর তিনি বললেন: “তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না যে, সে তার কবিতার মূল বিষয়ের দিকে মনোযোগী ছিল, এমতাবস্থায় সে হঠাৎ বাশাম গাছের দিকে মোড় নিল এবং তার জন্য দোয়া করল।”
একদল আলিমের মতে—যাদের মধ্যে ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থের রচয়িতাও রয়েছেন—ইলতিফাত হলো ‘আল-ইতিরাজ’ (বক্তব্যের মাঝে ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা)। এই কারণেই ইবনে রাশিদ তার ‘উমদাহ’ গ্রন্থে ইলতিফাতের এমন কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যা ইবনে আল-মুতাজ ‘আল-ইতিরাজ’ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছিলেন। আবার ইবনে রাশিদ ইলতিফাতের এমন উদাহরণও উদ্ধৃত করেছেন যা ইবনে আল-মুতাজ ‘ইলতিফাত’ অধ্যায়েই উল্লেখ করেছিলেন। অন্যান্যেরা বলেছেন: এটি হলো ‘আল-ইস্তিদরাক’ (বক্তব্যের সংশোধন বা পরিমার্জন)। কুদামাহ এটি বর্ণনা করেছেন। এর পদ্ধতি হলো এই যে, কবি কোনো একটি মূল অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন, অতঃপর তার মাঝে অন্য একটি প্রসঙ্গের উদয় হবে, তখন তিনি প্রথমটি ছেড়ে দ্বিতীয়টির দিকে ধাবিত হবেন এবং তা উপস্থাপন করবেন। এরপর তিনি পুনরায় প্রথম বিষয়ে ফিরে আসবেন, তবে এতে প্রথম বিষয়টির মূল কাঠামোর কোনো ক্ষতি হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعرفه ابن المعتز بأنه انصراف المتكلم عن المخاطبة إلى معنى آخر1، ويستحسن ابن رشيق هذا التعريف2، وتبع أبو هلال قدامة3، وكذلك الباقلاني4 قال: ومتى خرج عن الكلام الأول ثم عاد إليه على وجه يلطف كان ذلك التفاتًا، فللالتفات معنيان: ما ذهب إليه صاحب الجمهرة والمبرد، وما ذهب إليه قدامة وأبو هلال والباقلاني، وقد عرفه ابن المعتز بتعريف يجمع المعنيين
… وصاحب نقد النثر يسمي الالتفات الصرف5.
يعرف ابن المعتز هذا اللون6 ويذكر شواهد له7، وقد تبعه ابن رشيق فأفاض في الحديث عنه8.
--------------------------------------------
ইবনে আল-মুতাজ একে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি হলো বক্তার সম্বোধন থেকে অন্য কোনো অর্থের দিকে সরে যাওয়া১, ইবনে রাশিিক এই সংজ্ঞাটিকে পছন্দ করেছেন২ এবং আবু হিলাল কুদামাকে অনুসরণ করেছেন৩। একইভাবে আল-বাকিলানি৪ বলেছেন: যখনই কেউ প্রাথমিক কথা থেকে বেরিয়ে গিয়ে পুনরায় সূক্ষ্মভাবে তাতে ফিরে আসে, তখন তা 'আলতিফাত' হিসেবে গণ্য হয়। সুতরাং আলতিফাতের দুটি অর্থ রয়েছে: যা আল-জামহারা গ্রন্থের লেখক ও আল-মুবররাদ অবলম্বন করেছেন এবং যা কুদামা, আবু হিলাল ও আল-বাকিলানি অবলম্বন করেছেন। ইবনে আল-মুতাজ একে এমন এক সংজ্ঞার মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছেন যা উভয় অর্থকে একত্রিত করে
... এবং নাক্বদুন নাছর গ্রন্থের লেখক আলতিফাতকে 'সারফ' নামে অভিহিত করেছেন৫।
ইবনে আল-মুতাজ এই শিল্পরীতিটি চিহ্নিত করেছেন৬ এবং এর স্বপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ উল্লেখ করেছেন৭। ইবনে রাশিিক তাকে অনুসরণ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
7- الاعتراض:
في خطابة أرسطو يجعل إدخال كلام في كلام -وهو الاعتراض الطويل بين الكلام المتصل بعضه ببعض- من الأشياء المفسدة لرونق النظم.
ويعرف ابن المعتز الاعتراض بأنه اعترض كلام في كلام لم يتم معناه ثم يعود إليه فيتمه في بيت واحد1، وقد تبعه أبو هلال2.
8- الرجوع:
عرفه ابن المعتز بأن تقول شيئًا وترجع عنه3، وذكر شواهد له4.
وابن المعتز أول مَن ابتكر هذا القلب له، فكانت الرواة تعيب مثل هذا الاسلوب؛ لأن الشاعر يكذب نفسه. كان أستاذه الأسدي يشتد في نقد زهير في قوله: "بلى وغيرها الأرواح والديم"5، ويرد صاحب العقد على هذا النقد6، وابن المعتز يعده من ألوان البديع.
--------------------------------------------
৭- আল-ইতিরাদ (বা অন্তর্বর্তী বক্তব্য):
এরিস্টটলের অলঙ্কারশাস্ত্রে একটি বক্তব্যের মাঝে অন্য বক্তব্য ঢুকিয়ে দেওয়াকে—যা মূলত নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার মাঝে একটি দীর্ঘ প্রতিবন্ধক বা অন্তর্বর্তী বাক্য—কাব্যের সৌন্দর্যের ক্ষতিকারক বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইবনুল মুতায ইতিরাদ-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে যে, এটি হলো একটি অপূর্ণাঙ্গ বক্তব্যের মাঝে অন্য একটি কথার অনুপ্রবেশ ঘটানো, অতঃপর পুনরায় পূর্বের কথায় ফিরে এসে একই পঙ্ক্তিতে তা পূর্ণ করা১, আর আবু হিলাল২ তাকে অনুসরণ করেছেন।
৮- আল-রুজু (বা প্রত্যাহার):
ইবনুল মুতায একে সংজ্ঞায়িত করেছেন কোনো কথা বলে পুনরায় তা থেকে ফিরে আসা হিসেবে৩, এবং তিনি এর সপক্ষে বিভিন্ন প্রমাণ উল্লেখ করেছেন৪।
ইবনুল মুতাযই সর্বপ্রথম এই বিষয়ের জন্য এই পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন। ইতিপূর্বে বর্ণনাকারীরা এই শৈলীর সমালোচনা করতেন; কারণ কবি এখানে নিজের বক্তব্যকে নিজেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করেন। তাঁর শিক্ষক আল-আসাদি যুহাইরের এই বাণীর কঠোর সমালোচনা করতেন: "হ্যাঁ, তবে বাতাস ও বৃষ্টি তাকে বদলে দিয়েছে"৫। 'আল-ইকদ'-এর লেখক এই সমালোচনার প্রত্যুত্তর দিয়েছেন৬, এবং ইবনুল মুতায একে 'বাদি' (অলঙ্কারশাস্ত্র)-এর অন্যতম একটি অলঙ্কার হিসেবে গণ্য করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
9- حسن الخروج:
قال ابن رشيق: هو عندهم شبيه بالاستطراد وليس به؛ لأن الخروج هو أن تخرج من نسيب إلى مدح أو غيره بلفط تحيل ثم تستمر فيما خرجت إليه1، والاستطراد أن يبني الشاعر كلامًا كثيرًا على لفظة من غير ذلك النوع يقطع عليه الكلام وهو مراده دون جميع ما تقدم، ويعود إلى كلامه الأول وكأنه عثر بتلك اللفظة من غير قصد، فحسن الخروج على هذا الرأي هو حسن التخلص. ويقول ابن رشيق: ومن الناس من يسمي الخروج تخلصًا وتوسلًا2.
وعلى هذا الرأي سار ثعلب في قواعد الشعر، وهو أول من لقبه هذا اللقب، قال: حسن الخروج من بكاء الطلل ووصف الإبل وتحمل الأظعان وفراق الجيران بغير "دع ذا" "عد عن ذا" و"اذكر ذا" بل من صدر إلى عجز لا يتعداه إلى سواه3. وقد سار ابن المعتز على نهج أستاذه ثعلب في اللقب، وعرفه بأنه حسن الخروج معنى إلى معنى4.
ويرد على ذلك أن المثل التي ذكرها له منها مثل واضح فيه الاستطراد؛ كقول الشاعر:
إذا ما اتقى الله وأطاعه
… فليس به بأس وإن كان من جرم
ومثل أخرى واضح فيها حسن التخلص؛ كقول الشاعر:
وأحببت من حبها الباخلين
… حتى ومقت ابن سلم سعيدا
فالظاهر أن ابن المعتز يريد بحسن الخروج ما يشمل التخلص والاستطراد، والحاتمي يسمي الخروج استطرادًا اتساعًا -كما يقول ابن رشيق5- وعلى أي حال
--------------------------------------------
৯- সুন্দর প্রস্থান (হাসানুল খুরুজ):
ইবনে রাশিক বলেন: এটি তাদের নিকট ইস্তিতরাদের (প্রাসঙ্গিক বিচ্যুতি) সদৃশ কিন্তু তা নয়; কারণ প্রস্থান (খুরুজ) হলো আপনি একটি সূক্ষ্ম শব্দের মাধ্যমে প্রেমগীতি (নসীব) থেকে প্রশংসা (মাদহ) বা অন্য কিছুর দিকে প্রস্থান করবেন এবং তারপর যার দিকে প্রস্থান করেছেন তাতেই নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যাবেন ১, আর ইস্তিতরাদ হলো কবি ভিন্ন প্রকৃতির কোনো একটি শব্দের ওপর ভিত্তি করে অনেক কথা সাজাবেন যা মূল কথাকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, অথচ পূর্ববর্তী সবকিছুর পরিবর্তে ওই শব্দটুকুই থাকে তার আসল উদ্দেশ্য; এরপর তিনি পুনরায় তার আগের কথায় ফিরে আসেন যেন তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে সেই শব্দের ওপর হোঁচট খেয়েছেন। সুতরাং এই মতানুসারে সুন্দর প্রস্থান হলো সুন্দর উত্তরণ (হাসানুত তাখাল্লুস)। ইবনে রাশিক আরও বলেন: এমন লোকও আছে যারা এই প্রস্থানকে উত্তরণ (তাখাল্লুস) এবং মাধ্যম (তাওয়াসসুল) বলে অভিহিত করে ২।
আর এই মতের ওপর ভিত্তি করেই সা'লাব তার ‘কাওয়াইদুশ শি'র’ গ্রন্থে আলোচনা করেছেন এবং তিনিই সর্বপ্রথম একে এই উপাধি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: ধ্বংসস্তূপের ওপর বিলাপ, উটের বর্ণনা, শিবিকা বহন এবং প্রতিবেশীদের বিচ্ছেদ থেকে "এটি ছাড়ুন", "এটি থেকে বিরত হোন" এবং "এটি স্মরণ করুন" জাতীয় শব্দ ব্যবহার না করেই সুন্দরভাবে বেরিয়ে আসা হলো হাসানুল খুরুজ; বরং পংক্তির প্রথমাংশ থেকে শেষাংশ পর্যন্ত এমনভাবে আসা যা অন্য কোনো প্রসঙ্গের দিকে ধাবিত হয় না ৩। ইবনে আল-মুতাজও তার শিক্ষক সা'লাবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে একে একই উপাধি দিয়েছেন এবং একে একটি ভাব বা অর্থ থেকে অন্য একটি ভাব বা অর্থের দিকে সুন্দর প্রস্থান হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন ৪।
এর উত্তরে বলা যায় যে, তিনি এর জন্য যে উদাহরণগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি উদাহরণে ইস্তিতরাদ অত্যন্ত স্পষ্ট; যেমন কবির উক্তি:
যখন কেউ আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর আনুগত্য করে
… তখন তার কোনো ক্ষতি নেই, যদিও সে জুরাম গোত্রের হয়।
এবং অন্য একটি উদাহরণে সুন্দর উত্তরণ (হাসানুত তাখাল্লুস) অত্যন্ত স্পষ্ট; যেমন কবির উক্তি:
আর আমি তার ভালোবাসার কারণে কৃপণদেরও ভালোবেসেছি
… এমনকি আমি সাঈদ ইবনে সালামকেও পছন্দ করেছি।
সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, ইবনে আল-মুতাজ সুন্দর প্রস্থান (হাসানুল খুরুজ) দ্বারা এমন কিছু বুঝিয়েছেন যা উত্তরণ (তাখাল্লুস) এবং প্রাসঙ্গিক বিচ্যুতি (ইস্তিতরাদ) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর আল-হাতিমি এই প্রস্থানকে ব্যাপক অর্থে ইস্তিতরাদ হিসেবে নামকরণ করেছেন—যেমনটি ইবনে রাশিক বলেছেন ৫—যা-ই হোক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فالاستطراد قريب من التخلص، وكان شبيب بن شيبة يقول: الناس موكلون بتفضيل جودة القطع وبمدح صاحبه1، وجودة القطع هي حسن التخلص؛ فإذن كان القداء يعرفون هذا المعنى ولا يسمونه تخلصًا. أما الاستطراد فقط أشار إليه الجاحظ في بيانه ولم يلقبه هذا اللقب2، وهو ضرب من البديع يظهر الشاعر أنه يذهب لمعنى فيعن له آخر فيأتي به كأنه على غير قصد وعليه يبنى وإليه كان مغزاه، وقد أكثر المحدثون منه، ومنه قول أبي تمام يصف فرسًا:
أيقنت أن لم تثبت أن حافره
… من صخر تدمر أو من وجه عثمان
واحتذى البحتري هذا الحذو في حمدويه الأحول، قال في فرس:
ما إن يعاف قذى ولو أوردته
… يومًا خلائق حمدويه الأحول
وهذا المعنى "الاستطراد" أعجب به المحدثون وقد وقع لمن قبلهم، قال الفرزدق:
كأن فقاح الأسد حول ابن مسمع
… إذا جلسوا أفواه بكر بن وائل
وأتى جرير بهذا النوع فقال:
لما وضعت على الفرزدق ميسمي
… وعلى البعيث جدعت أنف الأخطل
وأول من ابتكره السموءل -وكل أحد تابع له- فقال:
وأنا أناس لا نرى القتل سبة
… إذا ما رأته عامر وسلول3
ولإسحاق الموصلي:
فما ذر قرن الشمس حتى كأننا
… من العي نحكي أحمد بن هشام
ومن الاستطراد قول ابن المعتز:
علت بماء بارد فكأنما
… علت ببرد قصيدة ابن سعيد
--------------------------------------------
আল-ইস্তিত্রাদ (প্রাসঙ্গিক বিচ্যুতি) আত-তাখাল্লুস (উত্তরণ)-এর নিকটবর্তী। শাবিব বিন শাইবাহ বলতেন: মানুষ ছেদের উৎকর্ষতাকে প্রাধান্য দিতে এবং এর রচয়িতার প্রশংসা করতে অভ্যস্ত; আর ছেদের উৎকর্ষতাই হলো উত্তম উত্তরণ (হুসনুত তাখাল্লুস)। সুতরাং দেখা যায় যে, প্রাচীনরা এই বিষয়টি জানতেন কিন্তু তারা একে ‘তাখাল্লুস’ নামে অভিহিত করতেন না। আর আল-ইস্তিত্রাদের বিষয়টি আল-জাহিজ তাঁর ‘আল-বায়ান’ গ্রন্থে ইঙ্গিত করেছেন কিন্তু একে এই নামে অভিহিত করেননি। এটি বাদি (অলংকারশাস্ত্র)-এর একটি প্রকার, যেখানে কবি প্রকাশ করেন যে তিনি একটি বিষয়ের দিকে যাচ্ছেন, অতঃপর তাঁর মনে অন্য একটি বিষয় উদিত হয় এবং তিনি সেটি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তা অনিচ্ছাকৃত, অথচ এর ওপরই মূল ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং এটাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। পরবর্তী যুগের কবিরা এর অধিক ব্যবহার করেছেন। এর অন্তর্ভুক্ত হলো একটি ঘোড়ার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবু তাম্মামের উক্তি:
আমি নিশ্চিত হলাম যে তার খুরগুলো স্থির হতে পারেনি... তাদমুরের পাথর থেকে নাকি উসমানের চেহারা থেকে।
আল-বুহতুতি হামদাওয়াই আল-আহওয়ালের প্রশংসায় এই পথই অনুসরণ করেছেন, তিনি একটি ঘোড়া সম্পর্কে বলেন:
সে কোনো আবর্জনাকেও তুচ্ছ জ্ঞান করে না, এমনকি যদি তুমি তাকে একদিন ট্যারা হামদাওয়াইয়ের স্বভাবের কাছে নিয়ে যাও।
ইস্তিত্রাদের এই বিষয়টি পরবর্তী কবিদের নিকট অত্যন্ত চমৎকার মনে হয়েছে, যদিও তাদের পূর্ববর্তীদের কাব্যেও এর দেখা মিলেছে। আল-ফারাযদাক বলেছেন:
ইবনে মিসমা’র চারপাশের সিংহের মলদ্বারগুলো যেন... যখন তারা বসে, তখন বকর বিন ওয়াইলের মুখগহ্বর।
জারির এই প্রকারটি ব্যবহার করে বলেছেন:
আমি যখন ফারাযদাকের ওপর আমার ছাপ রাখলাম... এবং আল-বায়িসের ওপর, তখন আমি আল-আখতালের নাক কেটে দিলাম।
আর এটি সর্বপ্রথম উদ্ভাবন করেছেন আস-সামাওআল—এবং প্রত্যেকেই তাঁর অনুসারী—তিনি বলেছেন:
আমরা এমন এক জাতি যারা নিহত হওয়াকে কলঙ্ক মনে করি না... যখন আমির ও সালুল গোত্র একে কলঙ্ক হিসেবে দেখে।
ইসহাক আল-মাওসিলি বলেছেন:
সূর্যের কিরণ বিচ্ছুরিত হওয়ার আগেই মনে হলো যেন আমরা... তোতলামির কারণে আহমদ বিন হিশামকে নকল করছি।
ইস্তিত্রাদের অন্তর্ভুক্ত হলো ইবনুল মু’তাযের উক্তি:
সে শীতল পানি ঢেলে দিল, যেন সে... ইবনে সাঈদের কাসিদার শীতলতা ঢেলে দিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-বাদিউ ফিল বাদিউ লিইবনিল মুতাজ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
وأول من سماه استطرادًا أبو تمام.
قال البحتري: أنشدني أبو تمام بيته: "أيقنت أن لم تثبت أن حافره
… إلخ" ثم قال لي: ما هذا الشعر؟ قلت: لا أدري، قال: هذا المستطرد والاستطراد، يرى أنه يريد وصف الفرس وهو يريد هجاء عثمان
… قال الصولي: فاقتدى البحتري في هذا بأبي تمام فقال: ما إن يعاف
… البيت1، وقال صاحب حسن التوسل: الاستطراد هذه التسمية نقلها البحتري عن ابن تمام وسماه ابن المعتز الخروج2. وقد تكلم على الاستطراد أبو هلال3 وابن فارس4.
--------------------------------------------
সর্বপ্রথম একে ইস্তিরাদ (প্রাসঙ্গিক বিচ্যুতি) নামে অভিহিত করেছেন আবু তাম্মাম।
বুহতুরি বলেন: আবু তাম্মাম আমাকে তাঁর একটি কবিতা শোনালেন: "আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, তার খুর যদি স্থির না থাকত
… ইত্যাদি।" তারপর তিনি আমাকে বললেন: "এটি কোন ধরনের কাব্য?" আমি বললাম: "আমি জানি না।" তিনি বললেন: "এটি হলো মুস্তাতরাদ এবং ইস্তিরাদ; দেখা যায় যে তিনি ঘোড়ার বর্ণনা দিতে চাচ্ছেন অথচ তিনি মূলত উসমানের নিন্দা করতে চাচ্ছেন
…" আস-সুলি বলেন: বুহতুরি এ বিষয়ে আবু তাম্মামের অনুসরণ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি তো ঘৃণা করেন না
… কবিতাংশ ১," এবং হুসনুত তাওয়াসসুল গ্রন্থের লেখক বলেন: ইস্তিরাদ নামক এই পরিভাষাটি বুহতুরি ইবনে তাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল মু’তায একে আল-খুরুজ ২ নামে অভিহিত করেছেন। আর আবু হিলাল ৩ ও ইবনু ফারিস ৪ ইস্তিরাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------