(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: -)
تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل أو مرذولة
المؤلف: أبو الريحان محمد بن أحمد البيروني الخوارزمي (ت 440هـ)
الناشر: عالم الكتب، بيروت
الطبعة: الثانية، 1403 هـ
عدد الصفحات: 536
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ভারতের সেই সব মতবাদ যা যুক্তিগ্রাহ্য অথবা বর্জনীয় তার অনুসন্ধান বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণবৃত্তান্ত
বই: ভারতের সেই সব মতবাদ যা যুক্তিগ্রাহ্য অথবা বর্জনীয় তার অনুসন্ধান
লেখক: আবু রায়হান মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-বিরুনী আল-খাওয়ারিজমী (মৃত্যু ৪৪০ হিজরি)
প্রকাশক: আলমুল কুতুব، বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪০৩ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৬
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: -)
أبو ريحان محمد بن أحمد البيروني
أبو ريحان محمد بن أحمد البيروني من كبار العلماء في القرن الرابع والخامس الهجري، ولد في الثاني من ذي الحجة عام 362 هـ في منطقة يقال لها بيرون من توابع خوارزم ولذا لُقّب بالبيروني. لا يعرف نسبته ولا أباه ولا جده.
أخذ يتلقى العلوم والمعارف المتدوالة في عصره بصورة جيدة ومما ساعده على اتساع دائرة معلوماته رحلاته الكثيرة واشتياقه المتدفق لاكتساب العلوم الذي بدأ معه منذ حداثة سنه. فكان منذ البداية يهتم بمسائل لم تكن معهودة ومعروفة بين المتعلمين في القرون الوسطى الإسلامية.
في العشرين من عمره ترك موطنه قاصداً سواحل بحر الخزر، فاعتنى به في جرجان قابوس بن وشمغيز الزياري حتى أهدا إليه أول تأليف كبير له وهو الآثار الباقية. كما كانت له مكاتبات مع ابن سينا الذي كان معاصراً له. وفي عام 400 هـ عاد إلى وطنه ولكن سرعان ما عصفت به الفتن والمحن وعندما جاء محمود الغزنوي ليحتل خوارزم في سنة 408 هـ، ساق بعض من كان فيها أسرى بمن فيهم البيروني وهكذا ينتهي هذا العالم إلى غزنة عاصمة محمود في أفغانستان. لكن البيروني ليس بالرجل الذي يهدأ أو تعيقه المصائب عن مهماته فيبدأ بالكتابة وهو في طريقه إلى الأسر، وكتب مما كتب في هذا الوقت كتابه المعروف بتحقيق ما للهند.
اشتهر اسم البيروني في المدونات العربية في مجال الجغرافيا والسياحة ولكن الذي يظهر من مؤلفاته أنه لم يكن عالماً بالجغرافيا وبتعبير أصح كان مؤلفاً ذا معرفة واسعة للغاية أكثر من أن يكون عالماً جغرافياً. وإن دائرة معلوماته واسعة للغاية بحيث أن تحديد عدد العلوم التي لم يكن يعرفها أسهل من العلوم التي عنى بها. وإن جلّ اهتماماته ونشاطاته العلمية كانت تتمحور في الرياضيات والنجوم والعلوم المتعلقة بها ولذا فقد اهتم في مجال الجغرافيا إلى الجانب الرياضي والنجومي فيه.
آثاره
له تأليفات عدة منها: تحديد الأماكن لتصحيح مسافات المساكن، القانون المسعودي، الآثار الباقية، الصيدنة في الطب، تحقيق ما للهند وغيرها.
আবু রায়হান মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-বিরুনি
আবু রায়হান মুহাম্মদ ইবন আহমদ আল-বিরুনি হিজরি চতুর্থ ও পঞ্চম শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তিনি ৩৬২ হিজরি সালের ২রা জিলহজ খোয়ারিজমের অন্তর্ভুক্ত 'বিরুন' নামক একটি অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন, এ কারণেই তাকে আল-বিরুনি উপাধি দেওয়া হয়। তাঁর বংশপরিচয়, পিতা বা পিতামহ সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানা যায় না।
তিনি তাঁর যুগের প্রচলিত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিদ্যাসমূহ খুব ভালোভাবে আয়ত্ত করতে শুরু করেন। তাঁর জ্ঞানের পরিধি বিস্তারে যা সাহায্য করেছিল তা হলো তাঁর বহুবিধ সফর এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি তাঁর প্রবল আকাঙ্ক্ষা, যা তাঁর শৈশব থেকেই শুরু হয়েছিল। তিনি প্রথম থেকেই এমন সব বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন যা মধ্যযুগের মুসলিম শিক্ষিত সমাজের মধ্যে সচরাচর পরিচিত বা প্রচলিত ছিল না।
বিশ বছর বয়সে তিনি কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলের উদ্দেশ্যে নিজ জন্মভূমি ত্যাগ করেন। জুরজানে কাবুস ইবন উশমাগির জিয়ারি তাঁর বিশেষ যত্ন নেন এবং বিরুনি তাঁর প্রথম বড় গ্রন্থ 'আল-আসারুল বাকিয়া' তাঁকে উপহার দেন। সমসাময়িক ইবনে সিনার সাথেও তাঁর চিঠিপত্র আদান-প্রদান চলত। ৪০০ হিজরি সালে তিনি নিজ জন্মভূমিতে ফিরে আসেন, কিন্তু শীঘ্রই ফিতনা ও বিপদের সম্মুখীন হন। ৪০৮ হিজরি সালে যখন মাহমুদ গজনভি খোয়ারিজম দখল করেন, তখন তিনি সেখানকার অনেককে বন্দী হিসেবে নিয়ে যান, যাদের মধ্যে আল-বিরুনিও ছিলেন। এভাবেই এই আলেম আফগানিস্তানে মাহমুদের রাজধানী গজনীতে এসে পৌঁছান। কিন্তু আল-বিরুনি এমন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি দমে যান বা বিপদ-আপদ যাকে তাঁর লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারে। তাই তিনি বন্দী অবস্থায় যাত্রাপথেই লেখালেখি শুরু করেন এবং এ সময়েই তাঁর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'তাহকীকু মা লিল-হিন্দ' রচনা করেন।
আরবি নথিপত্রে আল-বিরুনির নাম ভূগোল ও পর্যটন ক্ষেত্রে বিশেষভাবে পরিচিত। তবে তাঁর রচনাবলী থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, তিনি কেবল ভূগোলের আলেম ছিলেন না, বরং আরও সঠিক করে বলতে গেলে, তিনি কেবল একজন ভূগোলবিদের চেয়েও অত্যন্ত ব্যাপক জ্ঞানের অধিকারী একজন রচয়িতা ছিলেন। তাঁর তথ্যের পরিধি এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, তিনি যেসব শাস্ত্র জানতেন না তার সংখ্যা নির্ধারণ করা, তিনি যেসব শাস্ত্র নিয়ে কাজ করেছেন তা নির্ধারণ করার চেয়ে সহজ। তাঁর বৈজ্ঞানিক আগ্রহ ও কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা এবং এ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি। ফলে ভূগোলের ক্ষেত্রেও তিনি এর গাণিতিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানগত দিকের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তাঁর রচনাবলী
তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: তাহদীদুল আমাকিন লি-তাসহীহি মাসাফাতিল মাসাকিন, আল-কানুনুল মাসউদী, আল-আসারুল বাকিয়া, আস-সাইদানাহ ফিত-তিব্ব, তাহকীকু মা লিল-হিন্দ ইত্যাদি।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৫)
تمهيدبسم الله الرحمن الرحيم حين شرعت في كتابة مقدمة هذا الكتاب ظننت الأمر سهلا. فلما دخلت عالم البيروني وجدته عبقريا وبحرا هائجا مائجا تقف على شاطئه فلا تدرك مداه.
وتغوص فيه فلا تسبر اغواره ويسحرك فلا تستطيع رجعة وتستنجد بما كتب عنه من التناقض في تواريخ اخباره وهكذا تصبح اسيره. ولن تعرف اخباره وصفاته وشخصيته ما لم تقرأه فتنقي من مصنفاته ما تشاء.
فهذا كتاب «تاريخ الهند» فهو «تحقيق ما للهند من مقولة مقبولة في العقل او مرذولة» يعتبر مرجعا اساسيا كاملا للحضارة الهندية. لم يترك شيئا إلا وكتبه.
ويقول المستشرق بيلر عن هذا الكتاب «كتبه
… وهو ينظر بعقل الفيلسوف والرياضي العارف بمناهج البحث عند ارسطو وافلاطون وبطليموس وجالينوس
… » ويعترف البيروني «ولقد اعيتني المداخل فيه مع حرصي الذي تفردت به في ايامي» ولقد اراد البيروني كتاب «تاريخ الهند» ان يكون لكل مسلم راعب في مناقشة الهنود. فيكون حوار الند للند؟.
اسمه ولقبه ومولده:ولد البيروني في 4 أيلول عام 973 م قريبا من كيفا «كات» ويقال إنه لا يعرف نسبته ولا اباه ولا جده اما كلمة بيرون الفارسية فتعني «القريب او الخارج» . مما
ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। যখন আমি এই বইয়ের ভূমিকা লিখতে শুরু করলাম, তখন ভেবেছিলাম বিষয়টি সহজ হবে। কিন্তু যখন আমি আল-বিরুনির জগতে প্রবেশ করলাম, আমি তাকে একজন প্রতিভাবান এবং এক উত্তাল ও তরঙ্গবিক্ষুব্ধ সমুদ্র হিসেবে পেলাম, যার তীরে দাঁড়ালে আপনি তার দিগন্ত খুঁজে পাবেন না।
আপনি এতে ডুব দিলেও এর গভীরতা পরিমাপ করতে পারবেন না। তিনি আপনাকে এমনভাবে মুগ্ধ করবেন যে আপনি আর ফিরে আসতে পারবেন না। তার জীবনবৃত্তান্তের তারিখগুলোতে যে বৈপরীত্য পরিলক্ষিত হয়, তা থেকে উদ্ধারের পথ খুঁজতে গিয়ে আপনি তার বন্দীতে পরিণত হবেন। যতক্ষণ না আপনি তাকে পাঠ করছেন এবং তার রচনাবলি থেকে আপনার পছন্দমতো বিষয় চয়ন করছেন, ততক্ষণ আপনি তার সংবাদ, গুণাবলি এবং ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন না।
এটি হলো 'তারিখুল হিন্দ' (ভারতের ইতিহাস) গ্রন্থ, যা মূলত 'তাহকীকু মা লিল-হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল-আকলি আও মারযুলা' (ভারতীয়দের বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে গ্রহণযোগ্য বা বর্জনীয় মতামতের অনুসন্ধান)। এটি ভারতীয় সভ্যতার একটি মৌলিক ও পূর্ণাঙ্গ আকর গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তিনি এমন কোনো বিষয় নেই যা লিপিবদ্ধ করেননি।
প্রাচ্যবিদ বিলার এই বই সম্পর্কে বলেন: "তিনি এটি লিখেছেন
… এমন একজন দার্শনিক ও গণিতবিদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে, যিনি অ্যারিস্টটল, প্লেটো, টলেমি এবং গ্যালেনের গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন
… " আল-বিরুনি স্বীকার করেছেন: "আমার সমসাময়িককালে একাগ্রতার ক্ষেত্রে আমি অনন্য হওয়া সত্ত্বেও এর প্রবেশদ্বারগুলো আমাকে ক্লান্ত করে দিয়েছে।" আল-বিরুনি চেয়েছিলেন 'তারিখুল হিন্দ' বইটি এমন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সহায়ক হোক যারা ভারতীয়দের সাথে তর্কে বা আলোচনায় আগ্রহী, যাতে সেই সংলাপ সমানে সমান হতে পারে।
তার নাম, উপাধি ও জন্মস্থান:আল-বিরুনি ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর খিভার (কাথ) নিকটবর্তী স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। বলা হয়ে থাকে যে, তার বংশপরিচয়, পিতা কিংবা পিতামহ সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। আর ফারসি শব্দ 'বিরুন' এর অর্থ হলো 'নিকটবর্তী বা বাইরের'। যা থেকে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৬)
يدل على انه لم يكن من افراد مجتمع مستقر لربما كان ذلك من كثرة تجوال اهله كتجار، او لإقامتهم خارج اسوار المدينة تجنبا لدفع الضرائب.
استاذه:ومن حسن حظ البيروني ان يكون استاذه الفلكي المشهور ابو نصر المنصور بن علي بن العراق (تلميذ ابي الوفاء) الذي تنبه الى نبوغه ودربه ثم نشأت بينهما مودة وثقة عظيمتان.
حياته وعصره:ترعرع البيروني في خوارزم وسنذكر قليلا من تاريخ هذه المنطقة وصفات اهلها.
حين استقر الحكم للأمويين او عز الحجاج ابن يوسف سنة 704 الى والي خراسان المقيم في مرو القائد قتيبة بن حلم ان يعبر نهر «اموداريا» (جيحون آنذاك) ويفتح بلاد ما وراء هذا النهر الذي توقفت عنده جيوش عثمان بن عفان، كان هذا النهر يفصل بين قوميات تتكلم الفارسية واقوام تتكلم التركية (التركمان) .
بعد عمليات رائعة دامت 8 سنوات اخضع قتيبة الاقاليم الشمالية الشرقية (بخارى، طشقند وسمرقند) كما اخضع الاقليم الشمالي الغربي (خوارزم) .
ولقد دمر قتيبة كثيرا من الاصنام والمعابد.
جاء هذا الفتح بعواقب محمودة إذ مهد لنمو مراكز علمية وثقافية عظيمة ساهمت في تقدم الحضارة العالمية الممثلة آنذاك بالعرب. لعل القارئ يذكر ان عباقرة ما قبل الزمخشري والخوارزمي ولدوا في خوارزم وكذلك البيروني وما بين بحر خوارزم (ارال) وبحر قزوين الى الغرب عاش البيروني النصف الأول من حياته.
واشتهرت في خوارزم انذاك مدينتان: كات والجرجانية الى الشمال كلاهما
এটি নির্দেশ করে যে তিনি কোনো স্থিতিশীল সমাজের সদস্য ছিলেন না; সম্ভবত এটি তাঁর পরিজনদের বণিক হিসেবে অধিক পরিভ্রমণের কারণে ছিল, অথবা কর প্রদান এড়ানোর লক্ষ্যে শহরের প্রাচীরের বাইরে বসবাসের কারণে এমনটি হয়েছিল।
তাঁর শিক্ষক:আল-বিরুনীর সৌভাগ্য ছিল যে তাঁর শিক্ষক ছিলেন প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী আবু নাসর আল-মানসুর বিন আলী বিন ইরাক (আবু আল-ওয়াফার ছাত্র), যিনি তাঁর মেধার স্ফুরণ লক্ষ্য করেছিলেন এবং তাঁকে যোগ্য করে গড়ে তুলেছিলেন। অতঃপর তাঁদের মধ্যে এক সুগভীর হৃদ্যতা ও আস্থা তৈরি হয়েছিল।
তাঁর জীবন ও যুগ:আল-বিরুনী খাওয়ারেজমে লালিত-পালিত হন। আমরা এই অঞ্চলের ইতিহাস এবং এর অধিবাসীদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করব।
যখন উমাইয়া শাসন সুসংহত হলো, তখন ৭০৪ খ্রিস্টাব্দে হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ মার্ভে অবস্থানরত খুরাসানের গভর্নর সেনাপতি কুতাইবা বিন মুসলিমকে নির্দেশ দেন যেন তিনি ‘আমুদারিয়া’ নদী (তৎকালীন জাইহুন) অতিক্রম করেন এবং এই নদীর ওপারের ভূখণ্ডসমূহ জয় করেন, যেখানে একদা উসমান ইবনে আফফানের বাহিনী থমকে গিয়েছিল। এই নদীটি ফারসিভাষী এবং তুর্কিভাষী (তুর্কমেন) জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন রেখা হিসেবে বিদ্যমান ছিল।
আট বছর ব্যাপী গৌরবোজ্জ্বল অভিযানের পর কুতাইবা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশসমূহ (বুখারা, তাশখন্দ ও সমরকন্দ) এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ (খাওয়ারেজম) পদানত করেন।
কুতাইবা বহু প্রতিমা ও উপাসনালয় ধ্বংস করেছিলেন।
এই বিজয়ের ফলাফল ছিল অত্যন্ত শুভ; কারণ এটি এমন সব মহান বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে ওঠার পথ সুগম করেছিল যা তৎকালীন আরবের প্রতিনিধিত্বশীল বিশ্ব সভ্যতার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পাঠক হয়তো অবগত আছেন যে, আল-জামাখশারী এবং আল-খাওয়ারেজমীর পূর্ববর্তী মণীষীগণ খাওয়ারেজমেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং আল-বিরুনীও সেখানে জন্মেছিলেন। খাওয়ারেজম সাগর (আরাল) এবং পশ্চিমে কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আল-বিরুনী তাঁর জীবনের প্রথমার্ধ অতিবাহিত করেন।
তৎকালীন খাওয়ারেজমে দুটি শহর বিশেষভাবে পরিচিত ছিল: কাথ এবং উত্তরের জুরজানিয়া; উভয়টিই
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৭)
على نهر اموداريا وتعرفان اليوم باسمي كيفا (خيفا) واورغنج وهما في روسيا حاليا.
ويقول ياقوت عن خوارزم: أهلها علماء فقهاء اذكياء اغنياء فهي لعمري بلاد طيبة فيهم جلد وقوة غالب عليهم الطول والضخامة وفي رؤوسهم عرض ولهم جبهات واسعة مرنوا على القناعة بالشيء اليسير (والمترفون مثل الفقراء) ونستنتج ايضا انهم ذو تعلق شديد بوطنهم.
ويقول لنا المقريزي «1» أيضا: الجرجانية مدينة عجيبة إذ كل اهلها اجناد حتى البقال والقصاب والخباز والحائك وأهلها أهل الصناعات الدقيقة يغلب عليهم ممارسة علم الكلام في الاسواق والدروب يناظرون بلا تعصب وينكرون من احد ذلك قائلين: (ليس لك إلا الغلبة بالحجة) .
وعاش البيروني ايضا في جرجان (ايران) على بحر قزوين وهي (مدينة حسنة على واد عظيم، سهلية، جبلية، بحرية، أودية هائلة، وجبال عالية، إذا غدا القناص راح بما اشتهى) .
وقضى البيروني مدة كبيرة من حياته في غزنة (افغانستان) وكان عصر البيروني عصر مظلم لما اشتعلت فيه من فتن إنما يذهل بما جمع من علماء. هذا ابن يونس (متوفي 1009) عبقري الفلك وحساب مثلثات ابتكر الرقاص الكروي. ويستعمله مقياسا للزمن وذاك ابن الهيثم نابغة الرياضيات والفيزياء يطور علم البصريات، والعدسات. وهناك علي بن عيسى اشهر جراح ومصنف في حقل البصر والعيون. ولا ننسى الفيلسوف الطبيب ابن سينا. هؤلاء قلة من علماء المشرق.
ويقول المؤرخ سارطون الذي قوّم حضارات الأمم وعدد منجزاتها في كتابه الضخم «المقدمة الى تاريخ العلوم» ان النصف الاول للقرن الحادي عشر ينبغي
আমুদারিয়া নদীর তীরে অবস্থিত এবং বর্তমানে সেগুলো খীবা (খাইফা) ও উরগঞ্জ নামে পরিচিত, যা বর্তমানে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
খাওয়ারিজম সম্পর্কে ইয়াকুত বলেন: এর অধিবাসীরা আলিম, ফকিহ, বুদ্ধিমান ও সম্পদশালী। আমার জীবনের কসম, এটি এক উত্তম ভূখণ্ড; তাদের মাঝে ধৈর্য ও শক্তি রয়েছে, তাদের দীর্ঘকায় ও স্থূলকায় হওয়াটাই প্রবল এবং তাদের মাথা চওড়া ও ললাট প্রশস্ত। তারা সামান্য জিনিসেই সন্তুষ্ট থাকার অভ্যাস গড়ে নিয়েছে (আর তাদের বিলাসীরাও দরিদ্রদের মতোই)। আমরা আরও সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, স্বদেশের প্রতি তাদের গভীর অনুরাগ ছিল।
মাকরিজি আরও বলেন: আল-জুরজানিয়া এক অদ্ভুত শহর, কারণ এর সকল অধিবাসীই সৈনিক, এমনকি মুদি, কসাই, রুটি বিক্রেতা ও তাঁতিরাও। এখানকার মানুষ সূক্ষ্ম শিল্পের কারিগর এবং বাজার ও অলিতে-গলিতে ইলমুল কালামের চর্চা তাদের মাঝে প্রবল। তারা কোনো গোঁড়ামি ছাড়াই বিতর্ক করে এবং কেউ তা অস্বীকার করলে তারা বলে: (প্রমাণের মাধ্যমেই কেবল তোমার জয়ী হওয়া সম্ভব)।
আল-বিরুনি কাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত জুরজানেও (ইরান) বসবাস করেছেন। এটি ছিল (এক বিশাল উপত্যকার ওপর অবস্থিত সুন্দর শহর, যা সমতল, পাহাড়ি ও সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত; সেখানে রয়েছে বিশাল উপত্যকা ও সুউচ্চ পর্বতমালা, যেখানে শিকারি সকালে বের হলে নিজের মনের মতো শিকার নিয়ে ফিরে আসত)।
আল-বিরুনি তার জীবনের দীর্ঘ সময় গজনীতে (আফগানিস্তান) অতিবাহিত করেছেন। আল-বিরুনির যুগ ফিতনা-ফ্যাসাদের কারণে অন্ধকারাচ্ছন্ন হলেও সে যুগে সমবেত হওয়া আলেমদের দেখে বিস্মিত হতে হয়। এই হলেন ইবনে ইউনুস (মৃত্যু ১০০৯), জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ত্রিকোণমিতির এক প্রতিভাধর ব্যক্তিত্ব, যিনি বৃত্তাকার দোলক উদ্ভাবন করেন। তিনি এটি সময় পরিমাপের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন। আর ওই যে ইবনে আল-হাইসাম, গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানের এক অনন্য প্রতিভা, যিনি আলোকবিজ্ঞান ও লেন্সের উন্নয়ন সাধন করেন। আরও আছেন আলী বিন ঈসা, চক্ষু চিকিৎসা ও চক্ষু বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সবচাইতে প্রসিদ্ধ শল্যবিদ ও গ্রন্থকার। আর আমরা দার্শনিক ও চিকিৎসক ইবনে সিনার কথা তো ভুলতে পারি না। প্রাচ্যের আলেমদের মধ্যে এরা তো নগণ্য কজন মাত্র।
ঐতিহাসিক সর্টন, যিনি জাতিসমূহের সভ্যতা মূল্যায়ন করেছেন এবং তার বিশাল গ্রন্থ «ইন্ট্রোডাকশন টু দ্য হিস্ট্রি অফ সায়েন্স»-এ তাদের অর্জনসমূহ গণনা করেছেন, তিনি বলেন যে, একাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ হওয়া উচিত—
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৮)
ان يسمى (عصر البيروني) لانه ملأ عصره وفاق معاصريه إذ حلق قلما يلحق به احد.
اما الناحية السياسية لعصر البيروني فكان مرحلة الهوان والانحلال للخلافة العباسية..
ولا ريب في ان تشرده وهربه من فتنة ضربت (كات) حين غزاها وحاصرها والي الجرجانية المدينة الثانية والكبيرة في خوارزم، وضم كات وما حولها الى سلطانه. كان البيروني يناصر والي بلده فهرب.
يقول البيروني في كتابه (الآثار الباقية عن القرون الحالية) انه لجأ الى الري «1» وكان في بؤس وفقر مدقع مما اثار عليه سخرية احد المنجمين، لكنهما تصاحبا بعد ذلك ثم دعاه الأمير البويهي فخر الدولة فبنى له مزولة كبيرة على جبل مشرف على الري وسماها باسم الأمير. وفي هذه المدة عمل في مناطق كثيرة حول بحر قزوين.
حين مات محمد بن مأمون الذي منه هرب البيروني وخلفه ابنه علي كانت الأحوال السياسية والحزازات الشخصية قد هدأت، فدعاه علي ليرجع الى خوارزم فرجع لما نعرفه عن البيروني من تعلق بمنطقته وقبوله دعوة علي الذي ألحقه بحاشية أخيه الأمير ابن العباس مأمون. وبعد رحيل البيروني عن قابوس عصفت الفتن بجرجان وأودت بحياة قابوس خلال سنوات قليلة.
وبعد وفاة علي حوالي سنة 1009 خلفه أبو العباس الذي زاد من اعباء البيروني، إذ عينه مستشارا سياسيا مقيما في القصر وسفيرا معتبرا لرجاحة عقله وطلاقة لسانه وقوة حججه في الاقناع، ويقول بتذمر البيروني لأن ارصاده تأثرت وأعماله في مجلس العلوم خفت، فيقول في كتاب (تحديد
… ) ووفاء كرهت من احوال الدنيا
তাকে ‘আল-বিরুনির যুগ’ বলা হয়, কারণ তিনি নিজ কালকে পূর্ণতা দান করেছিলেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন; কেননা তিনি এমন উচ্চতায় আরোহণ করেছিলেন যেখানে পৌঁছানো অন্যদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ছিল।
আল-বিরুনির যুগের রাজনৈতিক দিকটি ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের দুর্বলতা ও পতনের একটি পর্যায়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যখন খাওয়ারিজমের দ্বিতীয় ও বৃহৎ শহর জুরজানিয়ার ওয়ালি ‘কাথ’ আক্রমণ ও অবরোধ করেন এবং কাথ ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন, তখন সেখানে উদ্ভূত গোলযোগ থেকে বাঁচতে তাঁকে নিজ ভূমি ত্যাগ করতে ও পালিয়ে যেতে হয়েছিল। আল-বিরুনি তাঁর নিজ শহরের ওয়ালির সমর্থক ছিলেন, তাই তিনি পালিয়ে যান।
আল-বিরুনি তাঁর ‘আল-আসার আল-বাকিয়া আনিল কুরুনিল খালিয়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ‘রে’ শহরে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তখন তিনি চরম দুর্দশা ও চরম দারিদ্র্যের মধ্যে ছিলেন, যা এক জ্যোতিষীর নিকট তাঁকে উপহাসের পাত্র করেছিল। তবে পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব হয়। এরপর বুওয়াইহি আমির ফখরউদ্দৌলা তাঁকে আমন্ত্রণ জানান এবং তিনি রে শহরের পাদদেশের এক পাহাড়ে আমিরের জন্য একটি বিশাল সৌরঘড়ি নির্মাণ করেন ও আমিরের নামেই সেটির নামকরণ করেন। এই সময়ে তিনি কাস্পিয়ান সাগরের পার্শ্ববর্তী অনেক অঞ্চলে কাজ করেছিলেন।
যখন মুহাম্মদ ইবনে মামুন—যাঁর ভয়ে আল-বিরুনি পালিয়েছিলেন—মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পুত্র আলী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, তখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত রেষারেষি প্রশমিত হয়েছিল। ফলে আলী তাঁকে খাওয়ারিজমে ফিরে আসার আমন্ত্রণ জানান। নিজ অঞ্চলের প্রতি আল-বিরুনির যে টান ছিল, তার কারণে তিনি ফিরে আসেন এবং আলীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন। আলী তাঁকে তাঁর ভাই আমির আবুল আব্বাস মামুনের ঘনিষ্ঠ পারিষদভুক্ত করেন। আল-বিরুনি কাবুসকে ত্যাগ করার পর জুরজানে ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই কাবুস প্রাণ হারান।
১০০৯ সালের দিকে আলীর মৃত্যুর পর আবুল আব্বাস তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি আল-বিরুনির কর্মভার আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, সাবলীল ভাষা এবং অকাট্য যুক্তির কারণে তাঁকে রাজপ্রাসাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও একজন নির্ভরযোগ্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করেন। আল-বিরুনি কিছুটা আক্ষেপের সাথেই বলেন যে, এর ফলে তাঁর পর্যবেক্ষণমূলক কাজসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বিজ্ঞান সভায় তাঁর কাজের পরিধি কমে গিয়েছিল। তিনি ‘তাহদিদ
… ’ গ্রন্থে বলেন, “আনুগত্যের খাতিরে আমি পার্থিব অবস্থাসমূহকে অপছন্দ করতাম।”
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৯)
على ما حسدني عليه الجاهل
… ثم تفرغت قليل التفرغ في ايام الشهيد ابي العباس» لكن اشغاله لا تثنيه عن انهاء ما بدأه سنة 995 من قياسات لارتفاع الشمس، ولا سيما ان وليّ نعمته وهبه مالا لينشئ جهازا يرصد به أوج الشمس.
ويقوم بذلك ما بين 7 حزيران و 7 كانون الاول سنة 1016. وفي هذه الفترة المزدهرة يصمم «نصف كرة» قطرها 5 امتار لتكون جهازا يبيّن الحلول بالخطوط البيانية لمسائل تتعلق بعلم هيئة الأرض وقياس خواصها كالمساحة مثلا..
وتأبى الفتن إلا تخريب عمله فتهب فتنة يذهب مأمون ضحيتها وكما يقول البيروني «اسفر عقباها من امن لا يتسع للعود الى الحال الأول والاشتغال بما هو يمثل اولى
… » . عندئذ يثأر محمود الغزنوي لعهده فيحتل خوارزم في 3 تموز 1017.
ويسوق من في البلاط اسرى بمن فيهم البيروني في ربيع 1018 وهكذا ينتهي هذا العالم الى غزنة عاصمة محمود في افغانستان. لكن البيروني ليس بالرجل الذي يهدأ أو تعيقه المصائب عن مهماته فيبدأ بالكتابة وهو في طريقه الى الاسر.
وبعد وفاة محمود في 1030 خلفه ابنه مسعود الذي تغلب على اخيه وتحسنت احوال البيروني المادية وزادت حريته، فتمكن من زيارة بلده سنة 1032، و 1034 وامتازت هذه الفترة بغزارة التصنيف في حقول مختلفة..
مصنفاته:في سنة 1036 ينهي فهرسا باعماله حتى هذا التاريخ، فلا يشكل على أحد ويقول بلغة الواثق المتيقن من اهمية اعماله: «ينبغي عليك ان تعلم فيما عددته من كتبي بما عملته في حداثتي وازدادت المعرفة بفنه بعد ذلك فلم اطرحه او استرذله فإنها جميعا ابنائي والاكثر بابنه وشعره المفتون» .
ثم يذكر اسماء الكتب التي اتفق لي عملها سنة 427 للهجرة وقد تم عمري 65 سنة قمرية و 63 سنة شمسية وتعرف انه كتب 180 مصنفا او أكثر نوجز الحديث عن بعض منها.
«كتاب تحديد الاماكن لتصحيح مسافات المساكن» فرغ في تصنيفه في 28
মূর্খরা যে বিষয়ে আমাকে ঈর্ষা করেছে
… এরপর শহীদ আবুল আব্বাসের দিনগুলোতে আমি কিছুটা অবসর পেলাম। তবে তার ব্যস্ততা তাকে ৯৯৫ সালে শুরু করা সূর্যের উচ্চতা পরিমাপের কাজ সমাপ্ত করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি, বিশেষ করে যেহেতু তার অভিভাবক তাকে সূর্যের সর্বোচ্চ অবস্থান পর্যবেক্ষণের জন্য একটি যন্ত্র তৈরির অর্থ প্রদান করেছিলেন।
আর তিনি ১০১৬ সালের ৭ জুন থেকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সম্পন্ন করেন। এই সমৃদ্ধ সময়ে তিনি ৫ মিটার ব্যাসের একটি ‘অর্ধগোলক’ নকশা করেন, যা পৃথিবীর গঠন সম্পর্কিত সমস্যা এবং এর ক্ষেত্রফলের মতো বৈশিষ্ট্যসমূহ পরিমাপের সমস্যাগুলোর সমাধান গ্রাফিকাল রেখার মাধ্যমে প্রদর্শনের যন্ত্র হিসেবে কাজ করবে।
কিন্তু ফিতনা তার কাজকে ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর ছিল; ফলে একটি বিদ্রোহ শুরু হয় যাতে মামুন প্রাণ হারান। যেমনটি আল-বিরুনি বলেন, “তার পরিণাম এমন এক নিরাপত্তার দিকে নিয়ে যায় যা পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাওয়ার এবং যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ তাতে মনোনিবেশ করার সুযোগ দেয় না
… ”। তখন মাহমুদ গজনভি তার অঙ্গীকারের প্রতিশোধ নিতে ১০১৭ সালের ৩ জুলাই খাওয়ারিজম দখল করেন।
১০১৮ সালের বসন্তে তিনি আল-বিরুনিসহ রাজদরবারের সকলকে বন্দী হিসেবে নিয়ে যান। এভাবে এই বিজ্ঞানী আফগানিস্তানে মাহমুদের রাজধানী গজনীতে উপনীত হন। তবে আল-বিরুনি এমন ব্যক্তি ছিলেন না যিনি শান্ত হয়ে বসে থাকবেন বা বিপদ যাকে তার লক্ষ্য থেকে বিরত রাখবে; তাই তিনি বন্দী অবস্থায় যাওয়ার পথেই লেখালেখি শুরু করেন।
১০৩০ সালে মাহমুদের মৃত্যুর পর তার পুত্র মাসউদ তার স্থলাভিষিক্ত হন, যিনি তার ভাইয়ের ওপর জয়ী হয়েছিলেন। এতে আল-বিরুনির আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং তার স্বাধীনতা বৃদ্ধি পায়। ফলে তিনি ১০৩২ এবং ১০৩৪ সালে তার নিজ দেশ সফর করতে সক্ষম হন। এই সময়টি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর গ্রন্থ রচনার দ্বারা বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল।
তাঁর রচনাবলী:১০৩৬ সালে তিনি সেই তারিখ পর্যন্ত তাঁর কাজের একটি সূচী সমাপ্ত করেন, যাতে কারো কোনো সংশয় না থাকে। তিনি তাঁর কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত ও আত্মবিশ্বাসী ভাষায় বলেন: “আমার বইপত্রের তালিকায় আমি যা গণনা করেছি, তার মধ্যে আমার যৌবনকালে যা করেছি তাও তোমার জানা উচিত। পরবর্তীতে সেই বিদ্যার জ্ঞান বৃদ্ধি পেলেও আমি সেগুলোকে বর্জন করিনি বা তুচ্ছজ্ঞান করিনি; কারণ সেগুলো সবই আমার সন্তানতুল্য, আর মানুষ তার সন্তান ও তার কবিতার প্রতি অধিক মোহগ্রস্ত থাকে।”
এরপর তিনি সেই বইগুলোর নাম উল্লেখ করেন যা ৪২৭ হিজরি সালে সম্পন্ন করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে, যখন আমার বয়স চান্দ্রবর্ষ হিসেবে ৬৫ এবং সৌরবর্ষ হিসেবে ৬৩ বছর পূর্ণ হয়েছিল। জানা যায় যে তিনি ১৮০টি বা তারও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্য থেকে আমরা কয়েকটির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব।
“কিতাবুত তাহদিদিল আমাকিন লি তাসহিহি মাসাফাতিল মাসাকিন”, যার সংকলন সমাপ্ত হয় ২৮ তারিখে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১০)
آب 1025 والكتاب سفر قيم لقياس خطوط الطول والعرض وموقع البلدان على الكرة الارضية.
(كتاب القانون المسعودي) فهو موسوعة ضخمة تلخص قواعد البيروني وابتكاراته وفي الموسوعة خزانة كبيرة لتاريخ الأمم وتقاويمها من (يوم آدم) الى يوم البيروني فليراجعه من يشاء..
وفاته:في سنة 1040 يثور قواد مسعود ويذبحون الأمير ويخلفه ابنه (مودود) الذي يقدم اليه آخر مصنفاته (الصيدنة في الطب) وفي هذا الكتاب يذكر انه نيف الثمانين وخف سمعه وبصره وتقل اخباره بعد سنة 1048 لكن الثابت من اقواله في كتاب (الصيدنة في الطب) انه كان حيا ذلك العام ولربما توفي حوالي 1050.
بعض مآثره:كان له من العزم ما جعله يقوم بحسابات وحل معادلات لا تعالج اليوم إلا بالأدمغة الالكترونية. اختار اصعب المسائل وحلها وتسمى هذه المسائل الهندسية والرياضية «مسائل البيروني» وقدم طريقة بسيطة للرسم على الأوراق اشكالا هندسية من أدوات البعد الثالث، كالاجسام الكروية. ومن أهم اعماله الفلكية ابتكاره نظرية خاصة لتقدير «النسبة التقريبية» الضرورية لحساب مساحات ومحيطات الدوائر. وتمكن من تقدير محيط الكرة الارضية وقطرها.
يجد البيروني قيمة النسبة التقريبية 14174، 3 والصحيحة هي 14159، 3.
هو إذن مبتكر القاعدة المعروفة بقاعدة البيروني وهي معادلة رياضية تستخدم في حساب نصف قطر الأرض استنادا الى معرفة محيطها. المعادلة بسيطة شأنها شأن القواعد الجليلة
… ويقول نللينو «
… معادلة البيروني لقياس محيط الأرض هي من الاعمال العلمية المجيدة المأثورة» صمم جهازا بسيطا لقياس
১০২৫ খ্রিস্টাব্দ এবং বইটি দ্রাঘিমাংশ, অক্ষাংশ এবং ভূপৃষ্ঠে বিভিন্ন দেশের অবস্থান পরিমাপের জন্য একটি মূল্যবান গ্রন্থ।
(কিতাব আল-কানুন আল-মাসউদি) এটি একটি বিশাল বিশ্বকোষ যা আল-বিরুনির সূত্রসমূহ এবং তাঁর উদ্ভাবনগুলোকে সারসংক্ষেপ করে। এই বিশ্বকোষটিতে জাতিসমূহের ইতিহাস এবং (আদম আ.-এর সময়) থেকে আল-বিরুনির সময় পর্যন্ত তাদের বর্ষপঞ্জির এক বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে। যে কেউ চাইলে তা পর্যালোচনা করতে পারেন।
তাঁর মৃত্যু:১০৪০ সালে মাসউদের সেনাপতিরা বিদ্রোহ করে এবং আমিরকে হত্যা করে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন তাঁর পুত্র (মাওদুদ), যাঁর কাছে তিনি তাঁর সর্বশেষ রচনা (আস-সাইদানাহ ফিত-তিব্ব) পেশ করেন। এই বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর বয়স আশি পেরিয়ে গেছে এবং তাঁর শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পেয়েছে। ১০৪৮ সালের পর তাঁর সম্পর্কে তেমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায় না, তবে (আস-সাইদানাহ ফিত-তিব্ব) গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য থেকে এটি প্রমাণিত হয় যে তিনি সেই বছর জীবিত ছিলেন এবং সম্ভবত ১০৫০ সালের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর কিছু অবদান:তাঁর এমন দৃঢ় সংকল্প ছিল যার ফলে তিনি এমন সব হিসাব ও সমীকরণের সমাধান করেছিলেন যা বর্তমানে ইলেকট্রনিক মস্তিষ্ক (কম্পিউটার) ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি কঠিনতম সমস্যাগুলো বেছে নিয়ে সেগুলোর সমাধান করেছিলেন এবং এই জ্যামিতিক ও গাণিতিক সমস্যাগুলোকে "আল-বিরুনির সমস্যা" বলা হয়। তিনি কাগজের ওপর ত্রিমাত্রিক বস্তুর জ্যামিতিক আকার, যেমন গোলাকার বস্তুসমূহ অঙ্কনের একটি সহজ পদ্ধতি প্রদান করেন। তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত কাজগুলোর মধ্যে একটি হলো বৃত্তের ক্ষেত্রফল ও পরিধি নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় "আসন্ন অনুপাত" (Pi) প্রাক্কলনের জন্য একটি বিশেষ তত্ত্ব উদ্ভাবন। তিনি পৃথিবীর পরিধি ও ব্যাস নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
আল-বিরুনি আসন্ন অনুপাতের মান ৩.১৪১৭৪ নির্ণয় করেছিলেন, যেখানে সঠিক মান হলো ৩.১৪১৫৯।
সুতরাং, তিনি "আল-বিরুনির নিয়ম" নামে পরিচিত সূত্রের উদ্ভাবক, যা পৃথিবীর পরিধি জানার ভিত্তিতে এর ব্যাসার্ধ নির্ণয়ে ব্যবহৃত একটি গাণিতিক সমীকরণ। এই সমীকরণটি অন্যান্য মহান সূত্রের মতোই সহজ
… এবং ন্যালিনো বলেন, "
… পৃথিবীর পরিধি পরিমাপের ক্ষেত্রে আল-বিরুনির সমীকরণটি ঐতিহাসিকভাবে মহিমান্বিত বৈজ্ঞানিক কর্মগুলোর অন্তর্ভুক্ত।" তিনি পরিমাপের জন্য একটি সহজ যন্ত্র নকশা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১১)
الوزن النوعي (الكثافة) لبعض المعادن والجواهر، ونتائجه تشهد عليه:
الذهب 26، 19، وهذه هي اليوم ويقول ان الذهب سمي كذلك «لأنه سريع الذهاب بطيء الاياب على الاصحاب!» . وهو أول من استعمل الوحدة (نسبة واحد) للنسب المعروفة في حساب المثلثات، وهذا الاستعمال قائم حتى الآن
…مصنفاته باستثناء القليل ذات اسلوب واضح لا لبس فيه ولا ابهام، وان كان غير سلس.
يحب الايجاز فيقول انه يكتب «
… لمن له دراية واجتهاد، ومحب العلم
… ومن كان على غير هذه الصفة فلست أبالي أفهم أم لم يفهم.
الغرب يبعثه:كان المستشرق نيكولاس دي فانيكوف اول من نبه اوروبا الى البيروني عام 1866.
وسرعان ما تتدفق الكتب «حساب المثلثات عند البيروني، جغرافية البيروني» . ومن اعظم المحققين كان الالماني ساخاو الذي ترجم الى الالمانية والانجليزية كتابين ضخمين (الآثار الباقية عن القرون الخالية عام 1879 وتاريخ الهندسة عام 1888) ويقول ساخاو «
… البيروني اعظم عقلية ظهرت في التاريخ
… » وبعد أن اطلع الخبراء على كتبه عن الهند قال أحدهم «
… محاولة فريدة من رجل مؤمن يدرس بنزاهة وتجرد حضارة وثنية
…ومن جهة تاريخية جاءت هذه الدراسة اكبر ظاهرة علمية في تاريخ الاسلام
…وجميع ما كتب من قبل هو أشبه بألعاب الاطفال
… » لذلك اهتم الهنود بالبيروني وفي عام 1913 قامت بعثة لتجميع آثاره وكذلك الفرس.
وما ان دخل النصف الثاني من القرن العشرين حتى كثرت المهرجانات
কিছু ধাতু ও মণিরত্নের আপেক্ষিক গুরুত্ব (ঘনত্ব), এবং তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল এর সাক্ষ্য দেয়:
স্বর্ণ ১৯.২৬, এবং এটিই আজ স্বীকৃত। তিনি বলেন যে স্বর্ণকে (জাহাব) এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ "এটি বন্ধুদের নিকট থেকে দ্রুত চলে যায় কিন্তু ফিরে আসায় ধীরগতির!" তিনি ত্রিকোণমিতির পরিচিত অনুপাতগুলোর জন্য একক (এককের অনুপাত) ব্যবহারকারী প্রথম ব্যক্তি, এবং এই ব্যবহার আজ অবধি বিদ্যমান
…সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে তাঁর রচনাবলি স্পষ্ট শৈলীবিশিষ্ট, যাতে কোনো অস্পষ্টতা বা সংশয় নেই, যদিও তা সর্বদা সাবলীল নয়।
তিনি সংক্ষেপণ পছন্দ করতেন, তাই তিনি বলেন যে তিনি লিখছেন «
… তাদের জন্য যাদের প্রজ্ঞা, সাধনা ও জ্ঞানানুরাগ রয়েছে
… আর যারা এই গুণের অধিকারী নয়, তারা বুঝল কি বুঝল না তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
পাশ্চাত্যে তাঁর পুনর্জাগরণ:প্রাচ্যতত্ত্ববিদ নিকোলাস ডি খানিকফ ১৮৬৬ সালে প্রথম ইউরোপকে আল-বিরুনি সম্পর্কে সচেতন করেন।
শীঘ্রই বইয়ের প্রবাহ শুরু হয় যেমন: «আল-বিরুনির ত্রিকোণমিতি, আল-বিরুনির ভূগোল»। শ্রেষ্ঠ গবেষকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জার্মান পণ্ডিত সাখাউ, যিনি দুটি বিশাল গ্রন্থ (১৮৭৯ সালে 'আল-আসারুল বকিয়াহ আনিল কুরুনিল খালিয়াহ' এবং ১৮৮৮ সালে 'জ্যামিতির ইতিহাস') জার্মান ও ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন। সাখাউ বলেন «
… ইতিহাসে আবির্ভূত সর্বশ্রেষ্ঠ মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি হলেন আল-বিরুনি
… » ভারতের ওপর তাঁর গ্রন্থাবলি পর্যালোচনার পর এক বিশেষজ্ঞ বলেন «
… একজন বিশ্বাসী মানুষের পক্ষ থেকে এক অনন্য প্রচেষ্টা, যিনি সততা ও নিরপেক্ষতার সাথে একটি পৌত্তলিক সভ্যতা নিয়ে গবেষণা করেছেন
…ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই গবেষণাটি ইসলামের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে গণ্য
…এবং এর আগে যা কিছু লেখা হয়েছিল তা অনেকটা শিশুদের খেলনার মতো
… » এজন্য ভারতীয়রা আল-বিরুনির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় এবং ১৯১৩ সালে তাঁর রচনাবলি সংগ্রহের জন্য একটি মিশন গঠিত হয়, তেমনি পারস্যবাসীরাও উদ্যোগী হয়।
বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে পদার্পণ করতেই অসংখ্য উৎসব-অনুষ্ঠান শুরু হয়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১২)
والكتب وأخذت الدول تتنازع شرف الانتماء إليه، فتحسبه من ابنائها.
روسيا تسمى جامعة ومدينة على اسمه وتقيم له تمثالا في جامعة موسكو.
وتكرمه الهند وايران وأفغانستان. وجامعات في اميركا والمانيا واليونسكو تصدر فهرسا بالمآثر العربية، ومن بينها أعماله. حتى تركيا تريده، لأنها تظن ان البيروني سليل الاتراك الذين انتشروا بين بحري آرال وقزوين.
علي صفا
এবং দেশসমূহ তাঁকে নিজেদের বলে দাবি করার সম্মানের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে, ফলে তারা তাঁকে তাদেরই সন্তান বলে গণ্য করে।
রাশিয়া তাঁর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও শহরের নামকরণ করেছে এবং মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর একটি ভাস্কর্য স্থাপন করেছে।
এবং ভারত, ইরান ও আফগানিস্তান তাঁকে সম্মান জানায়। আমেরিকা ও জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ এবং ইউনেস্কো আরব কীর্তিসমূহের একটি তালিকা প্রকাশ করে, যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাঁর কর্মসমূহ। এমনকি তুরস্কও তাঁকে পেতে চায়, কারণ তারা মনে করে যে আল-বিরুনী সেই তুর্কিদের বংশধর যারা আরাল ও কাস্পিয়ান সাগরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।
আলী সাফা
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدّمة المؤلّف «1»
بسم الله الرحمن الرحيم إنّما صدق قول القائل «ليس الخبر كالعيان» لأنّ العيان هو إدراك عين الناظر عين المنظور إليه في زمان وجوده وفي مكان حصوله، ولولا لواحق آفات بالخبر لكانت فضيلته تبين على العيان والنظر لقصورهما على الوجود الذي لا يتعدّى آنات الزّمان وتناول الخبر إيّاها وما قبلها من ماضي الأزمنة وبعدها من مقتبلها حتّى يعمّ الخبر لذلك الموجود والمعدوم معا. والكتابة نوع من أنواعه يكاد أن يكون أشرف من غيره، فمن أين لنا العلم بأخبار الأمم لولا خوالد آثار القلم؟
ثمّ إنّ الخبر عن الشيء الممكن الوجود. في العادة الجارية يقابل الصدق والكذب على صورة واحدة وكلاهما لاحقان به من جهة المخبرين لتفاوت الهمم وغلبة الهراش والنّزاع على الأمم. فمن مخبر عن أمر كذب يقصد فيه نفسه فيعظّم به جنسه لأنّها تحته أو يقصدها فيزري بخلاف جنسه لفوزه فيه بإرادته، ومعلوم أنّ كلا هذين من دواعي الشهوة والغضب المذمومين. ومن مخبر عن كذب في طبقة يحبّهم لشكر أو يبغضهم لنكر، وهو مقارب للأوّل فإنّ الباعث على فعله من دواعي المحبّة والغلبة. ومن مخبر عنه متقرّبا إلى خير بدناءة الطبع أو
লেখকের ভূমিকা «১»
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। প্রবাদবাক্যটি যথার্থই সত্য যে, "সংবাদ চাক্ষুষ দেখার মতো নয়"; কারণ চাক্ষুষ দর্শন হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ও স্থানে উপস্থিত বস্তু বা বিষয়কে পর্যবেক্ষকের চোখ দ্বারা সরাসরি প্রত্যক্ষ করা। যদি সংবাদের সাথে নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি যুক্ত না হতো, তবে চাক্ষুষ দর্শন ও পর্যবেক্ষণের চেয়ে সংবাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ পেত। কেননা চাক্ষুষ দর্শন ও পর্যবেক্ষণ কেবল বর্তমান সময়ের ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যা সময়ের গণ্ডি অতিক্রম করতে পারে না। কিন্তু সংবাদ বর্তমানের পাশাপাশি তার পূর্ববর্তী অতীত ও পরবর্তী ভবিষ্যৎকালকেও পরিবেষ্টন করে থাকে, এমনকি তা বিদ্যমান ও অবিদ্যমান উভয় বিষয়কেই শামিল করে। আর লিখনী হলো সংবাদেরই এমন একটি প্রকার, যা অন্য সবকিছুর চেয়ে অধিক মর্যাদাবান হওয়ার দাবি রাখে। কলমের কালজয়ী স্বাক্ষর না থাকলে পূর্ববর্তী জাতিসমূহের সংবাদ জানার আর কী উপায় আমাদের কাছে থাকত?
অতঃপর, প্রচলিত রীতি অনুযায়ী কোনো সম্ভবপর অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রাপ্ত সংবাদের ক্ষেত্রে সত্য ও মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা সমানভাবে থাকে। বর্ণনাকারীদের সংকল্পের ভিন্নতা এবং জাতিসমূহের মাঝে বিবাদ-বিসংবাদের প্রবলতার কারণে বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে সংবাদের সাথে এই সত্য ও মিথ্যার সংমিশ্রণ ঘটে। সুতরাং কোনো বর্ণনাকারী এমন মিথ্যা সংবাদ দেয় যার মাধ্যমে সে নিজের স্বার্থ হাসিল করতে চায় এবং নিজের বংশ বা গোষ্ঠীকে বড় করে দেখাতে চায়, যেহেতু সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। অথবা সে অন্যদের অবমাননা করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলে যাতে তার নিজ আকাঙ্ক্ষা জয়ী হতে পারে। আর এটা স্পষ্ট যে, এ উভয় বিষয়ই কুপ্রবৃত্তি ও নিন্দনীয় ক্রোধের বশবর্তী হয়ে করা হয়। আবার কেউ কোনো বিশেষ স্তরের লোকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা বশত ভালোবেসে অথবা কারো প্রতি বিদ্বেষ বশত ঘৃণা থেকে মিথ্যা সংবাদ দেয়। এটি প্রথম প্রকারেরই সমগোত্রীয়; কেননা এর পেছনে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে ভালোবাসা বা আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা। আবার কেউ স্বীয় হীন স্বভাবের কারণে কোনো কল্যাণের আশায় মিথ্যার আশ্রয় নেয় অথবাোর্থাথী হয়ে...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৪)
متّقيا لشرّ من فشل وفزع. ومن مخبر عنه طباعا كأنّه محمول عليه غير متمكّن من غيره وذلك من دواعي الشرارة وخبث مخابىء الطبيعة. ومن مخبر عنه جهلا، وهو المقلّد للمخبرين وإن كثروا جملة أو تواتروا فرقة بعد فرقة فهو وهم وسائط فيما بين السامع وبين المتعمّد الأوّل، فإذا أسقطوا عن البين بقي ذاك الأوّل أحد من عددناه «1» من التخرّصين والمجانب للكذب المتمسّك بالصدق هو المحمود الممدوح عند الكاذب فضلا عن غيره، فقد قيل «قولوا الحقّ «2» ولو على أنفسكم «2» » وقال المسيح عليه السلام في الإنجيل ما هذا معناه: «3» لا تبالوا بصولة الملوك في الإفصاح بالحقّ بين أيديهم فليسوا يملكون منكم غير البدن، وأمّا النفس فليس لهم عليها يد «3» وهذا منه أمر بالتشجّع الحقيقيّ، فالخلق الذي تظنّه العامّة شجاعة إذا رأوا إقداما على المعارك وتهوّرا في خوض المهالك هو نوع منها، فأمّا جنسها العالي على أنواعها فهو الاستهانة بالموت، ثم سواء كانت في قول أو كانت في فعل، وكما أنّ العدل في الطباع مرضيّ محبوب لذاته مرغوب في حسنه كذلك الصدق إلّا عند من لم يذق حلاوته أو عرفه وتحاماه كالمسؤول من المعروفين بالكذب: هلّ صدقت قطّ؟ وجوابه: لولا أنّي أخاف أن أصدق لقلت لا، فإنّه العادل عن العدل والمؤثّر للجور وشهادة الزور وخيانة الأمانة واغتصاب «4» الأملاك بالاحتيال والسرقة وسائر ما به فساد العالم والخليقة. وكنت ألفيت الأستاذ أبا سهل «5» عبد المنعم بن عليّ ابن نوح التفليسيّ أيّده الله مستقبحا قصد الحاكي في كتابه عن المعتزلة الإزراء عليهم في قولهم: «إنّ الله تعالى عالم بذاته» ، وعبارته عنه في الحكاية أنّهم يقولون إنّ الله لا علم له تخييلا إلى عوامّ قومه أنّهم ينسبونه إلى الجهل، جلّ وتقدّس عن ذلك وعمّا لا يليق به من
ব্যর্থতা ও ভীতির অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করে। কেউ কেউ স্বভাবগতভাবে সংবাদ প্রদানকারী হয়, যেন সে এর ওপর পরিচালিত এবং এ ছাড়া অন্য কিছুতে সে সক্ষম নয়; আর এটি মন্দ প্রবণতা এবং প্রকৃতির গোপন কদর্যতার কারণসমূহ হতে একটি। আবার কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত সংবাদ প্রদানকারী হয়, সে হলো সংবাদদাতাদের একজন অনুসারী, যদিও তারা সমষ্টিগতভাবে অনেক হয় অথবা দলের পর দল পর্যায়ক্রমে আসে; শ্রোতা এবং মূল রটনাকারীর মাঝে তারা কেবল মাধ্যম মাত্র। সুতরাং যদি মাঝখান থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়, তবে কেবল সেই প্রথম ব্যক্তিটিই অবশিষ্ট থাকে যাকে আমরা মিথ্যা রটনাকারীদের «১» অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর মিথ্যা বর্জনকারী ও সত্য আঁকড়ে ধরা ব্যক্তি মিথ্যুকের নিকটও প্রশংসিত ও স্তুত, অন্য কারো কথা তো বলাই বাহুল্য। কেননা বলা হয়েছে: «তোমরা সত্য বলো «২» যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে যায় «২»»। আর ঈসা মাসীহ আলাইহিস সালাম ইনজিলে এমন কথা বলেছেন যার মর্মার্থ হলো: «৩» রাজাদের সামনে সত্য প্রকাশে তাদের দাপটকে ভয় করো না, কারণ তোমাদের শরীরের ওপর ছাড়া তাদের আর কোনো মালিকানা নেই; আর আত্মার ওপর তাদের কোনো হাত নেই «৩»। এটি তাঁর পক্ষ থেকে প্রকৃত সাহসিকতার একটি নির্দেশ। সাধারণ মানুষ যখন কাউকে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে এবং ধ্বংসের মুখে হঠকারিতা করতে দেখে তখন তাকে যে সাহসিকতা মনে করে, তা এর একটি প্রকার মাত্র। তবে এর সকল প্রকারের ঊর্ধ্বে যে সর্বোচ্চ স্তরটি রয়েছে, তা হলো মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করা; এরপর তা চাই কথায় হোক কিংবা কাজে। আর ন্যায়পরায়ণতা যেমন মানুষের স্বভাবে স্বকীয়ভাবেই সন্তোষজনক, প্রিয় এবং তার সৌন্দর্যের কারণে কাম্য, সত্যবাদিতাও ঠিক তেমনি; তবে তাদের কথা ভিন্ন যারা এর মিষ্টতা আস্বাদন করেনি অথবা একে চিনেও তা এড়িয়ে চলেছে, যেমন মিথ্যুক হিসেবে পরিচিত কোনো ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করা হলো: তুমি কি কখনো সত্য বলেছো? তার উত্তর ছিল: আমি যদি সত্য বলার ভয় না পেতাম, তবে বলতাম না। কেননা সে হলো ন্যায়বিচ্যুত ব্যক্তি এবং সে জুলুম, মিথ্যা সাক্ষ্য, আমানতের খিয়ানত, প্রতারণা ও চুরির মাধ্যমে সম্পদ দখল «৪» এবং যার দ্বারা জগৎ ও সৃষ্টির বিপর্যয় ঘটে এমন সব বিষয়ের অনুসারী। আমি উস্তাদ আবু সাহল «৫» আব্দুল মুনইম বিন আলী ইবনে নূহ আত-তিফলিসীকে (আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন) দেখেছি যে, তিনি মুতাজিলাদের সম্পর্কে জনৈক বর্ণনাকারীর সেই উদ্দেশ্যকে জঘন্য মনে করেছেন যেখানে সে তাদের এই উক্তির নিন্দা করেছে যে: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা নিজ সত্তাগতভাবেই জ্ঞানী», আর বর্ণনায় তার ভাষা ছিল এমন যে তারা বলে আল্লাহর কোনো জ্ঞান নেই; যাতে সে তার সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা দেয় যে তারা আল্লাহর দিকে অজ্ঞতাকে সম্পৃক্ত করছে। আল্লাহ তাআলা তা থেকে এবং যা তাঁর সাথে অশোভন এমন বিষয় হতে পরম পবিত্র ও মহান।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الصفات، فأعلمته أنّ هذه طريقة قلّ ما يخلوا منها من يقصد الحكاية عن المخالفين والخصوم، ثم إنّها تكون أظهر فيما كان عن المذاهب التي يجمعها دين واحد ونحلة لاقترابها واختلاطها، وأخفى فيما كان عن الملل المفترقة وخاصّة ما لا يتشارك منها في أصل وفرع وذلك لبعدها وخفاء السّبيل إلى تعرّفها، والموجود عندنا من كتب المقالات وما عمل في الآراء والدّيانات لا يشتمل إلّا على مثله، فمن لم يعرف حقيقة الحال فيها اغترف منها ما لا يفيده عند أهلها والعالم بأحوالها غير الخجل إن هزّت بعطفه الفضيلة أو الإصرار واللجاج إن رخّت فيه الرذيلة، ومن عرف حقيقة الحال كان قصارى أمره أن يجعلها «1» من الأسمار والأساطير يستمع لها تعلّلا بها والتذاذا لا تصديقا لها واعتقادا؛ وكان وقع المثال في فحوى الكلام على أديان الهند ومذاهبهم فأشرت إلى أنّ أكثرها هو مسطور في الكتب هو منحول وبعضها عن بعض منقول وملقوط مخلوط غير مهذّب على رأيهم ولا مشذّب، فما وجدت من أصحاب كتب المقالات أحدا قصد الحكاية المجرّدة من غير ميل ولا مداهنة سوى أبي العبّاس الإيرانشهريّ، إن لم يكن من جميع الأديان في شيء بل منفردا بمخترع له يدعو إليه ولقد أحسن في حكاية ما عليه اليهود والنصارى وما يتضمّنه التوراة والإنجيل وبالغ في ذكر المانويّة وما في كتبهم من خبر الملل المنقرضة، وحين بلغ فرقة الهند والشمنيّة صاف سهمه عن الهدف وطاش في آخره إلى كتاب زرقان ونقل ما فيه إلى كتابه، وما لم ينقل منه فكأنّه مسموع من عوامّ هاتين الطائفتين ولمّا أعاد الأستاذ أيّده الله مطالعة الكتب ووجد الأمر فيها على الصّورة المتقدّمة حرّص على تحرير ما عرفته من جهتهم ليكون نصرة لمن أراد مناقضتهم وذخيرة لمن رام مخالطتهم، وسأل ذلك ففعلته غير باهت على الخصم ولا متحرّج عن حكاية كلامه وإن باين الحقّ واستفظع سماعه عند أهله فهو اعتقاده وهو أبصر به. وليس الكتاب كتاب حجاج وجدل حتّى استعمل فيه
গুণাবলি; সুতরাং আমি তাকে অবগত করলাম যে, এটি এমন একটি পদ্ধতি যা থেকে তারা খুব কমই মুক্ত থাকতে পারেন যারা বিরোধী ও প্রতিপক্ষদের বর্ণনা প্রদান করতে চান। অতঃপর এটি সেই মাযহাব বা মতবাদগুলোর ক্ষেত্রে অধিকতর স্পষ্ট হয়ে থাকে যা একই দীন ও আদর্শের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তাদের মধ্যে নৈকট্য ও সংমিশ্রণ বিদ্যমান। আর বিচ্ছিন্ন ধর্মগুলোর ক্ষেত্রে এটি অধিকতর প্রচ্ছন্ন, বিশেষ করে যাদের সাথে মৌলিক বা শাখা কোনো বিষয়েই কোনো অংশীদারিত্ব নেই; এর কারণ হলো তাদের দূরত্ব এবং তাদের সম্পর্কে জানার পথ অস্পষ্ট হওয়া। আমাদের নিকট 'মাকালাত' (বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মতবাদ) সংক্রান্ত এবং মতামত ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক যেসব গ্রন্থ বিদ্যমান, সেগুলো এই ধরনের বিষয়ের বাইরে কিছু নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি এর প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়, সে সেখান থেকে এমন কিছু গ্রহণ করে যা উক্ত বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত ব্যক্তিদের নিকট লজ্জিত হওয়া ছাড়া আর কোনো উপকার দেয় না—যদি তার মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের গুণ থাকে; অন্যথায় তা কেবল একগুঁয়েমি ও হঠকারিতাই বৃদ্ধি করে—যদি তার মাঝে নিকৃষ্ট স্বভাবটি প্রশ্রয় পায়।
আর যে ব্যক্তি বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে জানে, তার কাছে এগুলোর দৌড় বড়জোর কিসসা-কাহিনী ও রূপকথা পর্যন্তই হয়ে থাকে, যা সে কেবল বিনোদন ও আনন্দের জন্য শোনে; বিশ্বাস বা আকিদা পোষণের জন্য নয়। আলোচনার প্রেক্ষিতে ভারতের ধর্ম ও তাদের মাযহাবসমূহের উদাহরণটি সামনে এল; ফলে আমি ইশারা করলাম যে, গ্রন্থসমূহে এ বিষয়ে যা কিছু লিপিবদ্ধ আছে তার অধিকাংশ বানোয়াট, এবং কিছু অংশ একে অপরের থেকে উদ্ধৃত ও সংগৃহীত তথ্যের সংমিশ্রণ মাত্র; যা তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা অনুযায়ী না পরিমার্জিত, না সুশৃঙ্খল। আমি 'মাকালাত' বিষয়ক গ্রন্থকারদের মধ্যে আবু আব্বাস আল-ইরানশাহরী ব্যতীত এমন কাউকে পাইনি যিনি কোনো প্রকার ঝোঁক বা তোষামোদ ছাড়া কেবল নিরপেক্ষ বর্ণনার সংকল্প করেছেন। যদিও তিনি কোনো ধর্মেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না, বরং নিজের উদ্ভাবিত এক স্বতন্ত্র মতাদর্শের দিকে আহ্বান জানাতেন। তিনি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের আকিদা এবং তাওরাত ও ইঞ্জিলে যা রয়েছে তা বর্ণনায় মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন; তদ্রূপ মানি ধর্ম এবং বিলুপ্ত জাতিসমূহের ইতিহাস সংক্রান্ত তাদের কিতাবগুলোর বর্ণনায় বেশ গভীরতা প্রদর্শন করেছেন।
কিন্তু যখন তিনি ভারতের বিভিন্ন দল এবং শমানিয়াহ পন্থীদের প্রসঙ্গে পৌঁছালেন, তখন তার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো এবং পরিশেষে তিনি জুরকানের কিতাবের দিকে ঝুঁকে পড়লেন এবং তাতে যা ছিল তা-ই নিজের কিতাবে উদ্ধৃত করলেন। আর যা তিনি সেখান থেকে নকল করেননি, তা যেন এই দুই সম্প্রদায়ের সাধারণ মানুষের নিকট থেকে শোনা কথা। অতঃপর যখন উস্তাদ—আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন—গ্রন্থসমূহ পুনরায় পাঠ করলেন এবং বিষয়টিকে পূর্বোক্ত রূপেই পেলেন, তখন তিনি তাদের সম্পর্কে আমার জানা বিষয়গুলো সুবিন্যস্ত করার জন্য তাকিদ দিলেন; যাতে এটি তাদের খণ্ডনকারীদের জন্য একটি সাহায্য এবং যারা তাদের সাথে মেলামেশা করতে চান তাদের জন্য পাথেয় হিসেবে কাজ করে। তিনি এ বিষয়ে অনুরোধ করলেন, ফলে আমি প্রতিপক্ষের প্রতি কোনো অপবাদ আরোপ না করে এবং তাদের কথা বর্ণনায় কোনো সংকোচ না রেখেই তা সম্পাদন করলাম; যদিও সেই কথা সত্যের বিপরীত এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তা শ্রুতিকটু মনে হয়, তবুও তা তাদেরই বিশ্বাস এবং এ বিষয়ে তারাই সম্যক অবগত। আর এই গ্রন্থটি কোনো বিতর্ক বা বাদানুবাদের কিতাব নয় যে এতে ব্যবহার করা হবে
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৬)
بإيراد حجج الخصوم ومناقضة الزائغ منهم عن الحقّ، وإنّما هو كتاب حكاية فأورد كلام الهند على وجهه وأضيف إليه ما لليونانيّين من مثله لتعريف المقاربة بينهم، فإنّ فلاسفتهم وإن تحرّوا التّحقيق فإنّهم لم يخرجوا فيما اتّصل بعوامّهم عن رموز نحلتهم وموضعات ناموسهم، ولا أذكر مع كلامهم كلام غيرهم إلّا أن يكون للصوفية أو لأحد أصناف النصارى لتقارب الأمر بين جميعهم في الحلول والاتّحاد، وكنت نقلت إلى العربيّ كتابين أحدهما في المبادىء وصفة الموجودات، واسمه «سانك» والآخر في تخليص النفس من رباط البدن ويعرف «بياتنجل» وفيهما أكثر الأصول التي عليها مدار اعتقادهم دون فروع شرائعهم، وأرجوا أنّ هذا ينوب عنهما وعن غيرهما في التقرير ويؤدّي إلى الإحاطة بالمطلوب بمشيئة الله.
বিপক্ষদের যুক্তি উপস্থাপন এবং তাদের মধ্যে যারা সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে তাদের খণ্ডন করা এর উদ্দেশ্য নয়; বরং এটি একটি বর্ণনামূলক গ্রন্থ। তাই আমি হিন্দুদের বক্তব্যগুলো তার স্বরূপে উপস্থাপন করেছি এবং তাদের মধ্যকার সাদৃশ্য প্রদর্শনের জন্য গ্রিকদের অনুরূপ চিন্তাধারা এর সাথে যুক্ত করেছি। কেননা তাদের দার্শনিকরা যদিও সত্য অনুসন্ধানে সচেষ্ট ছিলেন, তথাপি সাধারণ মানুষের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে তারা তাদের ধর্মীয় প্রতীকের গণ্ডি এবং তাদের বিধিবদ্ধ নিয়মের বাইরে যাননি। আমি তাদের বক্তব্যের সাথে অন্য কারো বক্তব্য উল্লেখ করিনি, যদি না তা সুফিদের হয় অথবা খ্রিস্টানদের কোনো সম্প্রদায়ের হয়; কারণ 'হুলুল' (অনুপ্রবেশ) এবং 'ইত্তিহাদ' (একীভূত হওয়া) সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের সবার মধ্যেই নিকটবর্তী সাদৃশ্য বিদ্যমান। আমি ইতিপূর্বে আরবিতে দুটি বই অনুবাদ করেছিলাম, যার একটি হলো মৌলনীতি ও অস্তিত্বশীল বস্তুর বৈশিষ্ট্য বিষয়ক, যার নাম ‘সাংক’ এবং অন্যটি হলো শরীরের বন্ধন থেকে আত্মার মুক্তি বিষয়ক, যা ‘পাতঞ্জলি’ নামে পরিচিত। এই গ্রন্থদ্বয়ে তাদের বিশ্বাসের আবর্তিত প্রায় সকল মূলনীতি বিদ্যমান, যদিও তাতে তাদের বিধানের শাখা-প্রশাখাগুলো নেই। আমি আশা করি, এই গ্রন্থটি উপস্থাপনার ক্ষেত্রে ওই দুটি ও অন্যগুলোর স্থলাভিষিক্ত হবে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় কাঙ্ক্ষিত বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান লাভে সাহায্য করবে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أ- في ذكر أحوال الهند وتقريرها أمام ما نقصده من الحكاية عنهميجب أن نتصوّر أمام مقصودنا الأحوال التي لها يتعذّر استشفاف أمور الهند، فإما أن يسهل بمعرفتها الأمر وإمّا أن يتمهّد له العذر، وهو أنّ القطيعة تخفي ما تبديه الوصلة، ولها فيما بيننا أسباب: منها أنّ القوم يباينوننا بجميع ما يشترك فيه الأمم، وأوّلها اللغة وإن تباينت الأمم بمثلها ومتى رامها احد لازالة المباينة لم يسهل ذلك لأنّها في ذاتها طويلة عريضة تشابه العربيّة يتسمّى الشيء الواحد فيها بعدّة أسام مقتضبة ومشتقّة، وبوقوع الاسم الواحد على عدّة مسمّيات محوجة في المقاصد إلى زيادة صفات إذ لا يفرّق بينها إلّا ذو فطنة لموضع الكلام وقياس المعنى إلى الوراء والأمام، ويفتخرون بذلك افتخار غيرهم به من حيث هو بالحقيقة عيب في اللغة؛ ثمّ هي منقسمة إلى مبتذل لا ينتفع به إلّا السوقة، وإلى مصون فصيح يتعلّق بالتّصاريف والاشتقاق ودقائق النّحو والبلاغة لا يرجع إليه غير الفضلاء المهرة، ثم هي مركّبة من حروف لا يطابق بعضها حروف العربيّة والفارسيّة ولا تشابهها بل لا تكاد ألسنتنا ولهواتنا تنقاد لاخراجها على حقيقة مخارجها ولا آذاننا تسمع بتمييزها من نظائرها وأشباهها ولا أيدينا في الكتبة لحكايتها، فيتعذّر بذلك إثبات شيء من لغتهم بخطّنا لما نضطرّ إليه من الاحتيال لضبطها بتغيير النقط والعلامات وتقييدها باعراب إمّا مشهور وإمّا معمول؛ هذا مع عدم اهتمام الناسخين لها وقلّة اكتراثهم بالتصحيح والمعارضة حتى يضيع الاجتهاد
ক- হিন্দুস্তানের অবস্থা বর্ণনা এবং তাদের সম্পর্কে আমাদের কাঙ্ক্ষিত বর্ণনার পটভূমি উপস্থাপন প্রসঙ্গেআমাদের মূল উদ্দেশ্যের আগে সেই সকল পরিস্থিতি কল্পনা করে নেওয়া উচিত যার কারণে হিন্দুস্তানের বিষয়াবলি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। হয় এই পরিস্থিতিগুলো জানার মাধ্যমে বিষয়টি সহজ হবে, নতুবা তার জন্য অপারগতা প্রকাশের পথ প্রশস্ত হবে। আর তা হলো বিচ্ছেদ সেই সকল বিষয়কে গোপন করে রাখে যা সংযোগ প্রকাশ করে থাকে। আমাদের উভয়ের মধ্যে এই বিচ্ছেদের বেশ কিছু কারণ রয়েছে: তন্মধ্যে একটি হলো, এই জাতি আমাদের থেকে ঐ সকল বিষয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন যাতে সাধারণত জাতিসমূহ একে অপরের অংশীদার হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো ভাষা; যদিও সকল জাতিই ভাষাগত পার্থক্যের মাধ্যমে পৃথক হয়ে থাকে। কিন্তু কেউ যখন এই ভিন্নতা দূর করার জন্য তাদের ভাষা আয়ত্ত করতে চায়, তখন তা সহজ হয় না। কেননা এটি মৌলিকভাবে অত্যন্ত দীর্ঘ ও বিস্তৃত, যা অনেকটা আরবি ভাষার মতো। এতে একই বস্তুকে একাধিক সংক্ষিপ্ত ও ব্যুৎপন্ন নামে অভিহিত করা হয়। আবার একটি শব্দ একাধিক অর্থের ওপর ব্যবহৃত হয়, যা উদ্দিষ্ট অর্থ বোঝার জন্য অতিরিক্ত বিশেষণ যুক্ত করার মুখাপেক্ষী করে তোলে। ফলে বাক্যের প্রয়োগস্থল এবং পূর্বাপর অর্থগত সামঞ্জস্য বোঝার মতো প্রখর বুদ্ধিমান ব্যক্তি ছাড়া এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা কারো পক্ষে সম্ভব হয় না। তারা এ নিয়ে সেভাবেই গর্ববোধ করে যেভাবে অন্যরা করে থাকে, অথচ এটি প্রকৃতপক্ষে ভাষার একটি ত্রুটি; অতঃপর এই ভাষা দুই ভাগে বিভক্ত: একটি হলো সাধারণ প্রচলিত ভাষা যা কেবল সাধারণ বাজারী লোকজন ব্যবহার করে; আর অন্যটি হলো পরিশীলিত ও অলঙ্কৃত ভাষা, যা শব্দরুপান্তর, ব্যুৎপত্তি এবং ব্যাকরণ ও অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেখানে দক্ষ পণ্ডিতগণ ব্যতীত অন্য কারও প্রবেশাধিকার নেই। অধিকন্তু, এটি এমন কিছু বর্ণ দ্বারা গঠিত যার কতক আরবি ও ফারসি বর্ণমালার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং সেগুলোর সাথে সদৃশও নয়। বরং আমাদের জিহ্বা ও কণ্ঠনালী সেগুলোকে তাদের প্রকৃত উচ্চারণস্থল থেকে উচ্চারণ করতে সক্ষম হয় না এবং আমাদের কান সেগুলোকে তাদের সদৃশ ও সমজাতীয় বর্ণগুলো থেকে আলাদা করে শুনতে পায় না। এমনকি সেগুলো লিখে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আমাদের হাতও অপারগ। এর ফলে আমাদের লিপিতে তাদের ভাষার কোনো কিছু লিপিবদ্ধ করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। কেননা সেগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখার জন্য আমাদের নুকতা ও চিহ্ন পরিবর্তন করার এবং কোনো প্রসিদ্ধ কিংবা উদ্ভাবিত স্বরচিহ্নের মাধ্যমে সেগুলোকে সীমাবদ্ধ করার কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। এর সাথে অনুলিপিকারকদের অমনোযোগিতা এবং পাণ্ডুলিপি সংশোধন ও মূলের সাথে মিলিয়ে দেখার ব্যাপারে তাদের উদাসীনতা যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত সকল প্রচেষ্টা বৃথা হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ويفسد الكتاب في نقل له او نقلين ويصير ما فيه لغة جديدة لا يهتدي لها داخل أو خارج من كلتي الأمّتين، ويكفيك معرّفا أنّا ربّما تلقفنا من أفواههم. اسما واجتهدنا في التوثقة منه فاذا أعدناه عليهم لم يكادوا يعرفونه إلا بجهد؛ ويجتمع في لغتهم كما يجتمع في سائر لغات العجم حرفان ساكنان وثلاثة وهي التي يسمّيها أصحابنا متحرّكات بحركة خفيّة، ويصعب علينا التفوّه بأكثر كلماتها وأسمائها لافتتاحها بالسواكن؛ وكتبهم في العلوم مع ذلك منظومة بأنواع من الوزن في ذوقهم قد قصدوا بذلك انحفاظها على حالها وتقديرها وسرعة ظهور الفساد فيها عند وقوع الزيادة والنقصان ليسهل حفظها فإنّ تعويلهم عليه دون المكتوب، ومعلوم أنّ النظم لا يخلو من شوب التكلّف لتسوية الوزان وتصحيح الانكسار وجبر النقصان، ويحوج إلى تكثير العبارات، وهو أحد أسباب تقلقل الأسامي في مسمّياتها؛ فهذا من الأسباب التي تعسّر الوقوف على ما عندهم. ومنها أنهم يباينوننا بالديانة مباينة كلّيّة لا يقع منّا شيء من الإقرار بما عندهم ولا منهم بشيء مما عندنا، وعلى قلّة تنازعهم في أكر المذاهب بينهم بما سوى الجدال والكلام دون الإضرار «1» بالنفس أو البدن أو الحال ليسوا مع من عداهم بهذه الوتيرة وإنما يسمّونه «مليج» وهو القذر لا يستجيزون مخالطته في مناكحة ومقاربة او مجالسة ومؤاكلة ومشاربة من جهة النجاسة، ويستقذرون ما تصرّف على مائه وناره وعليهما مدار المعاش، ثمّ لا مطمع في صلاح ذلك بحيلة كما يطهر النجس بالانحياز إلى حال الطهارة، فليس بمطلق لهم قبول من ليس منهم إذا رغب فيهم أو صبا إلى دينهم، وهذا ممّا يفسخ كلّ وصلة ويوجب أشدّ قطيعة. ومنها أنّهم يباينوننا في الرسوم والعادات حتى كادوا أن يخوّفوا ولدانهم بنا وبزيّنا وهيآتنا وينسبوننا إلى الشيطنة وإيّاها إلى عكس الواجب وإن كانت هذه النسبة لنا مطلقة وفيما بيننا بل وبين الأمم بأسرهم مشتركة؛ وعهدي ببعضهم وهو ينقم منّا بأنّ أحد ملوكهم هلك على يد عدو
একটি বা দুটি অনুলিপি বা হস্তান্তরের ফলেই বইটি বিকৃত হয়ে যায় এবং এর বিষয়বস্তু এমন একটি নতুন ভাষায় রূপান্তরিত হয় যা উভয় জাতির ভেতরের বা বাইরের কোনো ব্যক্তিই বুঝতে পারে না। আপনার পরিচয়ের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমরা হয়তো তাদের মুখ থেকে কোনো নাম শুনে তা নিশ্চিত করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করি, কিন্তু যখন আমরা সেটি তাদের কাছে পুনরায় উচ্চারণ করি, তখন তারা অনেক কসরত ছাড়া তা চিনতেই পারে না। তাদের ভাষায়, অন্যান্য অনারব ভাষার মতোই, দুই বা তিনটি স্বরহীন বর্ণ (সাকিন) একত্রে আসে; যেগুলোকে আমাদের বিশেষজ্ঞগণ 'লুকানো স্বরচিহ্নের মাধ্যমে গতিশীল' বলে অভিহিত করেন। আমাদের জন্য তাদের অধিকাংশ শব্দ ও নাম উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ সেগুলো স্বরহীন বর্ণ বা সুকুন দিয়ে শুরু হয়। তদুপরি, বিজ্ঞানের ওপর রচিত তাদের গ্রন্থগুলো তাদের নিজস্ব রুচি অনুযায়ী বিভিন্ন ছন্দে নিবদ্ধ। এর মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য হলো গ্রন্থগুলোকে অবিকৃত রাখা এবং সেগুলোর মান বজায় রাখা, যাতে কোনো পরিমাপগত হ্রাস বা বৃদ্ধির ফলে তাতে যে বিকৃতি দেখা দেবে তা দ্রুত ধরা পড়ে এবং মুখস্থ রাখা সহজ হয়; কারণ তারা লিখিত পাণ্ডুলিপির চেয়ে মুখস্থ রাখার ওপরই বেশি নির্ভর করে। এটি সর্বজনবিদিত যে, ছন্দবদ্ধ বা পদ্য রচনায় ছন্দের মাত্রা ঠিক রাখা, ছন্দের বিচ্যুতি সংশোধন করা এবং খামতি পূরণের জন্য কৃত্রিমতার ছোঁয়া অনিবার্যভাবে চলে আসে। এটি বর্ণনার শব্দ বৃদ্ধিতে বাধ্য করে, যা নামগুলোর মূল অর্থ ও নামকরণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাদের জ্ঞানভাণ্ডার সম্পর্কে অবগত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি অন্যতম বাধা।
আরেকটি কারণ হলো, ধর্মের দিক দিয়ে আমাদের সাথে তাদের পার্থক্য পূর্ণাঙ্গ। তাদের কাছে যা আছে আমরা তার কিছুই স্বীকার করি না, আর আমাদের কাছে যা আছে তারা তার কিছুই স্বীকার করে না। যদিও তাদের মধ্যকার বিভিন্ন মতবাদের অনুসারীদের মধ্যে কেবল তর্ক-বিতর্ক ও বাগবিতণ্ডা ছাড়া জান-মাল বা শরীরের কোনো ক্ষতিসাধন ছাড়াই বিরোধ খুব কমই দেখা যায়, তবে অন্যদের সাথে তারা এমন নমনীয় আচরণ করে না। তারা অন্যদের 'ম্লেচ্ছ' বলে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো অপবিত্র। তারা অপবিত্রতার কারণে তাদের সাথে বিবাহ বন্ধন, সামাজিক নৈকট্য, একত্রে বসা, আহার করা বা পান করার অনুমতি দেয় না। এমনকি তারা জীবনধারণের প্রধান দুই মাধ্যম পানি ও আগুনের সংস্পর্শে যা কিছু আসে তাও অপবিত্র মনে করে। এছাড়া কোনো কৌশল অবলম্বন করে এর সংশোধনের কোনো আশা নেই, যেমনটি অপবিত্র বস্তু পবিত্র হওয়ার মাধ্যমে ঠিক করা যায়। তাদের বাইরের কেউ যদি তাদের প্রতি আগ্রহী হয় বা তাদের ধর্মে দীক্ষিত হতে চায়, তবে তাদের গ্রহণ করা তাদের জন্য মোটেই অনুমোদিত নয়। আর এটিই সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং চরম বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির কারণ।
আরেকটি কারণ হলো, রীতিনীতি ও অভ্যাসের ক্ষেত্রে আমাদের সাথে তাদের ব্যাপক পার্থক্য। এমনকি তারা আমাদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও অবয়ব দেখিয়ে তাদের শিশুদের ভয় দেখায় এবং আমাদেরকে শয়তানি ও অস্বাভাবিকতার প্রতীক বলে অভিহিত করে। যদিও এই ধরণের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এবং সকল জাতির মধ্যেই সাধারণভাবে বিদ্যমান। আমার জানা মতে, তাদের কেউ কেউ আমাদের প্রতি এজন্য বিদ্বেষ পোষণ করে যে, তাদের কোনো এক রাজা শত্রুর হাতে নিহত হয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ১৯)
له قصده من أرضنا وخلّف جنينا، ملّك بعده وسمّي «سبكر» «1» وحين الإيفاع سأل أمّه عن حال أبيه فقصّت عليه القصّة وامتعض لها فبرز من أرضه إلى أرض العدوّ واستوفى نزّته من الأمم حتى ملّ الإثخان والنكاية فألزم البقايا هذا التزبّي بزيّنا تذليلا لهم وتنكيلا فشكرت فعله لمّا سمعته إذ لم يسمنا التهنّد والانتقال إلى رسومهم.
ومما زاد في النفار والمباينة أنّ الفرقة المعروفة بالشمنيّة على شدّة البغضاء منهم للبراهمة هم أقرب إلى الهند من غيرهم، وقد كانت خراسان وفارس والعراق والموصل إلى حدود الشام في القديم على دينهم إلى أن نجم «زردشت» من اذربيجان ودعا ببلخ إلى المجوسيّة وراجت «2» دعوته عند «كشتاسب» وقام بنشرها ابنه «إسفنديار» في بلاد المشرق والمغرب قهرا وصلحا ونصب بيوت النيران من الصين إلى الروم، ثمّ استصفى الملوك بعده فارس والعراق لملّتهم فانجلت «الشمنّية» عنها إلى مشارق بلخ وبقي المجوس إلى الآن بأرض الهند ويسمّون بها «مك» ؛ وكان ذلك بدو النفار عن جنبة خراسان فيهم إلى أن جاء الإسلام وذهبت دولة الفرس، فزادهم غزو أرضهم استيحاشا لمّا دخل محمّد بن القاسم بن المنبّه أرض السّند من نواحي سجستان وافتتح بلد «بمهنوا» وسمّاه «منصورة» وبلد «مولستان» وسمّاه «معمورة وأوغل في بلاد الهند إلى مدينة «كنوج» ووطئ أرض القندهار وحدود كشمير راجعا يعارك مرّة ويصالح اخرى ويقرّ القوم على النحلة إلا من رضي منها بالنّقلة «3» ؛ وغرس ذلك في قلوبهم السخائم، وإن لم يتجاوز بعده من الغزاة حدود كابل وماء السند أحد إلى أيّام الترك حين تملكوا بغزنه في أيّام السامانيّة ونابت الدولة ناصر الدين سبكتكين فآثر الغزو وتلقّب به وطرّق لمن بعده في توهين جانب الهند طرقا سلكها يمين الدولة محمود رحمهما الله نيّفا وثلاثين سنة فأباد بها خضرآءهم وفعل من الأعاجيب في
আমাদের ভূখণ্ড থেকে তিনি তাঁর লক্ষ্য অভিমুখে যাত্রা করেন এবং একটি ভ্রূণ রেখে যান। তাঁর পরে তাকে রাজত্ব প্রদান করা হয় এবং তার নামকরণ করা হয় 'সবকর' (১)। সে যখন বয়োপ্রাপ্ত হলো, তখন তার মায়ের কাছে তার পিতার অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইল। মা তাকে সমস্ত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা করলেন এবং সে এতে অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হলো। অতঃপর সে নিজের ভূখণ্ড থেকে শত্রুর ভূখণ্ডের দিকে বেরিয়ে পড়ল এবং বিভিন্ন জাতির ওপর তার ক্ষোভের পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ ঘটাল, এমনকি সে তাদের বিনাশ ও পর্যুদস্ত করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ল। সে অবশিষ্ট জনগণকে আমাদের পোশাক পরিধান করতে বাধ্য করল তাদের হীন ও লাঞ্ছিত করার উদ্দেশ্যে। আমি যখন তার এই কাজের কথা শুনলাম, তখন তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম, কারণ সে আমাদের হিন্দুয়ানি রঙে রঞ্জিত হতে এবং তাদের রীতিনীতিতে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করেনি।
বিমুখতা ও বিভেদ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো এই যে, 'শমানিয়া' (বৌদ্ধ) নামে পরিচিত দলটি—ব্রাহ্মণদের প্রতি তাদের তীব্র ঘৃণা থাকা সত্ত্বেও—অন্যদের তুলনায় হিন্দুদের অনেক বেশি নিকটবর্তী। প্রাচীনকালে খুরাসান, পারস্য, ইরাক এবং মোসেল থেকে শুরু করে শামের সীমানা পর্যন্ত অঞ্চলগুলো তাদের ধর্মাদর্শের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অবশেষে আজারবাইজান থেকে 'জরথুস্ত্র'-এর আবির্ভাব ঘটে এবং সে বালখ শহরে অগ্নিপূজার (মাজুসি) দাওয়াত প্রদান করে। 'গুশতাস্প'-এর কাছে তার এই আহ্বান সমাদৃত হয় এবং তার পুত্র 'ইসফান্দিয়ার' প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের দেশগুলোতে বলপ্রয়োগ ও সন্ধির মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেয়। সে চীন থেকে রোম পর্যন্ত অগ্নিকুণ্ড (অগ্নিমন্দির) স্থাপন করে। এরপর পরবর্তী সম্রাটগণ পারস্য ও ইরাককে তাদের ধর্মের জন্য একচ্ছত্র করে ফেলেন, ফলে 'শমানিয়া'রা সেখান থেকে বালখের পূর্বাঞ্চলের দিকে অপসারিত হয়। অগ্নিপূজকরা (মাজুস) আজ অবধি ভারতের মাটিতে বিদ্যমান এবং সেখানে তারা 'মক' নামে পরিচিত। আর খুরাসান অঞ্চলের দিক থেকে তাদের প্রতি এই বিমুখতার সূচনা এভাবেই হয়েছিল, যতক্ষণ না ইসলামের আগমন ঘটে এবং পারস্য সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি হয়। তাদের ভূখণ্ডে অভিযানের ফলে তাদের ভীতি ও দূরত্ব আরও বেড়ে যায় যখন মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম ইবনুল মুনাব্বিহ সিজিস্তানের দিক থেকে সিন্ধু ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। তিনি 'বামাহানুয়া' শহর জয় করে তার নাম দেন 'মানসুরা' এবং 'মুলাস্তান' শহর জয় করে তার নাম দেন 'মামুরা'। তিনি ভারতের অভ্যন্তরে 'কনৌজ' শহর পর্যন্ত অগ্রসর হন এবং কান্দাহারের মাটি ও কাশ্মীরের সীমানা মাড়িয়ে ফিরে আসেন; কখনো যুদ্ধ করে, আবার কখনো সন্ধি করে। তিনি লোকজনকে তাদের পূর্ববর্তী ধর্মেই বহাল রাখেন, কেবল তারা ব্যতীত যারা স্বেচ্ছায় ধর্ম পরিবর্তন করেছিল (৩)। এই ঘটনা তাদের অন্তরে বিদ্বেষের বীজ বপন করে দেয়। এরপর তুর্কিদের শাসনকাল পর্যন্ত কোনো আক্রমণকারীই কাবুল এবং সিন্ধু নদের সীমা অতিক্রম করেনি। সামানি রাজবংশের আমলে তুর্কিরা যখন গজনীর অধিপতি হলো এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নাসিরুদ্দীন সবুক্তগিনের হাতে এল, তখন তিনি যুদ্ধকেই (জিহাদ) অগ্রাধিকার দিলেন এবং এই উপাধিতেই ভূষিত হলেন। তিনি তাঁর পরবর্তী উত্তরসূরিদের জন্য ভারতের শক্তি খর্ব করার পথ প্রশস্ত করে দিলেন, যে পথে ইয়ামিনুদ্দৌলা মাহমুদ (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে অগ্রসর হয়েছিলেন। তিনি সেখানে তাদের দাপট নির্মূল করে দেন এবং বিস্ময়কর সব কীর্তি স্থাপন করেন...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২০)
بلادهم ما صاروا به هباء منثورا وسمرا مشهورا، فبقيت بقاياهم المتشرّدة «1» على غاية التنافر والتباعد عن المسلمين بل كان ذلك سبب انمحاق علومهم عن الحدود المفتتحة وانجلائها إلى حيث لا يصل إليه اليد بعد من كشمير وبانارسي وأمثالهما مع استحكام القطيعة فيها مع جميع الأجانب بموجب السياسة والديانة. وبعد ذلك أسباب ذكرها كالطعن فيهم ولكنّها حافية «2» في أخلاقهم غير خفيّة، والحمق دآء لا دوآء له؛ وذلك أنّهم يعتقدون في الأرض أنّها أرضهم وفي الناس أنّهم جنسهم وفي الملوك أنّهم رؤساؤهم وفي الدين أنّه نحلتهم وفي العلم أنّه ما معهم فيترفّعون ويتبظرمون «3» ويعجبون بأنفسهم فيجهلون، وفي طباعهم الضنّ بما يعرفونه والإفراط في الصيانة له عن غير أهله منهم فكيف عن غيرهم، على أنّهم لا يظنّون أنّ في الأرض غير بلدانهم وفي الناس غير سكّانها وأنّ للخلق غيرهم علما حتى أنّهم إن حدّثوا بعلم أو عالم في خراسان وفارس استجهلوا المخبر ولم يصدّقوه للآفة المذكورة، ولو أنّهم سافروا وخالطوا غيرهم لرجعوا عن رأيهم؛ على أنّ أوائلهم لم يكونوا بهذه المثابة من الغفلة، فهذا «براهمهر» أحد فضلائهم حين يأمر بتعظيم البراهمة يقول: «إنّ اليونانيين وهم أنجاس لمّا تخرّجوا في العلوم وأنافوا «4» فيها على غيرهم وجب تعظيمهم فما عسى نقوله في البرهمن إذا حاز إلى طهارته شرف العلم؟» وكانوا يعترفون لليونّانيين بأنّ ما أعطوه من العلم أرجح من نصيبهم منه، ويكفيك دليلا عليه من مادح نفسه وهو يقرئك السلام؛ إنّي كنت أقف من منجّميهم مقام التلميذ من الأستاذ لعجمتي فيما بينهم وقصوري عمّا هم فيه من مواضعاتهم، فلمّا اهتديت قليلا لها أخذت أوقّفهم على العلل وأشير إلى شيء من البراهين والوّح لهم الطرق الحقيقيّة في الحسابات فانثالوا عليّ
তাদের দেশসমূহ এমন অবস্থায় পরিণত হলো যার কারণে তারা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা এবং লোকগাঁথায় পরিণত হলো। তাদের ছন্নছাড়া অবশিষ্টাংশ মুসলমানদের থেকে চরম অনীহা ও দূরত্ব বজায় রেখে টিকে রইল। বরং এটিই ছিল বিজিত অঞ্চলগুলো থেকে তাদের জ্ঞান-বিজ্ঞান বিলুপ্ত হওয়ার এবং কাশ্মীর, বারাণসী ও এ জাতীয় দুর্গম স্থানে স্থানান্তরিত হওয়ার কারণ, যেখানে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কারণে সকল বিদেশিদের সাথে সম্পর্কের চরম বিচ্ছেদ ঘটার ফলে এখনো কারো হাত পৌঁছাতে পারেনি। এর পরে আরও কিছু কারণ রয়েছে যা তিনি উল্লেখ করেছেন, যেমন তাদের সমালোচনা করা; তবে সেগুলো তাদের চরিত্রে সুস্পষ্ট এবং গোপন কিছু নয়। আর মূর্খতা এমন এক ব্যাধি যার কোনো চিকিৎসা নেই। তা হলো এই যে, তারা পৃথিবী সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে এটি কেবল তাদেরই দেশ, মানুষ সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে তারা কেবল তাদেরই জাতি, রাজা সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে তারা কেবল তাদেরই শাসক, ধর্ম সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে এটি কেবল তাদেরই মতবাদ এবং জ্ঞান সম্পর্কে বিশ্বাস করে যে তা কেবল তাদের কাছে যা আছে তা-ই। ফলে তারা শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে, দম্ভ প্রদর্শন করে এবং আত্মমুগ্ধতায় নিমজ্জিত হয়ে অজ্ঞতায় পড়ে থাকে। তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য হলো তারা যা জানে সে বিষয়ে কার্পণ্য করা এবং তাদের নিজেদের মধ্য থেকে যারা অযোগ্য তাদের কাছ থেকেও তা চরমভাবে আড়াল করে রাখা, তাহলে অন্যদের ক্ষেত্রে তো প্রশ্নই আসে না। অধিকন্তু, তারা মনে করে না যে পৃথিবীতে তাদের দেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ আছে, তাদের বাসিন্দা ছাড়া অন্য কোনো মানুষ আছে বা সৃষ্টি জগতের অন্যদেরও কোনো জ্ঞান থাকতে পারে। এমনকি যদি তাদের কাছে খোরাসান বা পারস্যের কোনো জ্ঞান বা জ্ঞানী ব্যক্তির কথা বলা হয়, তবে উল্লিখিত ব্যাধির কারণে তারা সংবাদদাতাকে অজ্ঞ মনে করে এবং তাকে বিশ্বাস করে না। যদি তারা ভ্রমণ করত এবং অন্যদের সাথে মেলামেশা করত, তবে তারা তাদের এই ধারণা থেকে ফিরে আসত। যদিও তাদের পূর্বসূরিরা এই পর্যায়ের অসচেতন ছিলেন না। যেমন তাদের অন্যতম পন্ডিত ‘বরাহমিহির’ যখন ব্রাহ্মণদের সম্মান করার আদেশ দেন, তখন তিনি বলেন: “গ্রীকরা অপবিত্র হওয়া সত্ত্বেও যখন তারা বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেছে এবং অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে, তখন তাদের সম্মান করা ওয়াজিব হয়ে গেছে। তাহলে একজন ব্রাহ্মণের ক্ষেত্রে আমরা কী বলতে পারি, যখন সে তার পবিত্রতার সাথে জ্ঞানের আভিজাত্য লাভ করে?” তারা গ্রীকদের ব্যাপারে স্বীকার করত যে, তাদের যে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে তা ভারতীয়দের জ্ঞানের তুলনায় অধিকতর শ্রেষ্ঠ। আপনার জন্য এর যথেষ্ট প্রমাণ হলো সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে যে নিজের প্রশংসা করছে এবং আপনাকে অভিবাদন জানাচ্ছে; আমি তাদের জ্যোতির্বিদদের সামনে শিক্ষকের কাছে ছাত্রের মতো দাঁড়িয়ে থাকতাম, কারণ তাদের মধ্যে আমার ভিন্নতা এবং তাদের পারিভাষিক বিষয়ে আমার অপূর্ণতা ছিল। কিন্তু যখন আমি সে বিষয়ে কিছুটা পথ খুঁজে পেলাম, তখন আমি তাদের নিকট বিভিন্ন কারণ ব্যাখ্যা করতে শুরু করলাম, কিছু প্রমাণের দিকে ইঙ্গিত করলাম এবং হিসাব-নিকাশের প্রকৃত পদ্ধতিগুলো তাদের সামনে স্পষ্ট করলাম; তখন তারা আমার চারদিকে ভিড় জমাল।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২১)
متعجّبين وعلى الاستفادة متهافتين يسألون: عمّن شاهدته من الهند حتى أخذت عنه؟ وأنا أريهم مقدارهم وأترفّع عن جنبتهم مستنكفا، فكادوا ينسبونني الى السخر ولم يصفوني عند أكابرهم بلغتهم إلا بالبحر والماء يحمض حتى يعوزا «1» الخلّ، فهذه صورة الحال، ولقد أعيتني المداخل فيه مع حرصي الذي تفرّدت به في أيّامي وبذلي الممكن غير شحيح عليه في جمع كتبهم من المظانّ واستحضار من يهتدي لها من المكامن ومن لغيري «2» مثل ذلك إلا أن يرزق من توفيق الله ما حرمته في القدرة على الحركات عجزت فيها عن «3» القبض والبسط في الأمر والنهي طوي عنّي جانبها، والشكر لله على ما كفي منها؛ وأقول: إنّ اليونانيين أيّام الجاهلية قبل ظهور النصرانية كانوا على مثل ما عليه الهند من العقيدة، خاصّهم في النظر قريب من خاصّهم وعامّهم في عبادة الأصنام كعامّهم، ولهذا أستشهد من كلام بعضهم على بعض بسبب الاتّفاق وتقارب الأمرين لا التصحيح فإنّ ما عدا الحقّ زائغ والكفر ملّة واحدة من أجل الانحراف عنه، ولكنّ اليونانيّين فازوا بالفلاسفة الذين كانوا في ناحيتهم حتى نقّحوا لهم الأصول الخاصة دون العامّة لأنّ قصارى الخواصّ اتّباع البحث والنظر وقصارى العوامّ التهوّر واللجاج إذا خلوا عن الخوف والرهبة يدلّ على ذلك سقراط لمّا خالف في عبادة الأوثان عامّة قومه وانحرف عن تسمية الكواكب «آلهة» في لفظه كيف أطبق قضاة أهل اثينية الأحد عشر على الفتيا بقتله دون الثاني عشر حتى قضى نحبه غير راجع عن الحقّ؛ ولم يك للهند أمثالهم ممّن يهذّب العلوم فلا تكاد تجد لذلك لهم خاصّ كلام إلا في غاية الاضطراب وسوء النظام ومشوبا في آخره خرافات العوامّ من تكثير العدد وتمديد المدد ومن موضوعات النحلة التي يستفظع أهلها فيها المخالفة، ولأجله يستولي التقليد عليهم وبسببه أقول فيما هو بابتي منهم أنّي لا «4» أشبّه ما في كتبهم من
তারা বিস্ময়ে এবং জ্ঞান অর্জনে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞাসা করে: আপনি হিন্দুস্তানের কার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন যার কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন? আর আমি তাদের কাছে নিজের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরি এবং অনীহাভরে তাদের থেকে নিজেকে উচ্চাসনে রাখি, যার ফলে তারা আমাকে প্রায় জাদুকর মনে করে বসে। তাদের ভাষা অনুযায়ী তারা তাদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে আমাকে 'সমুদ্র' ব্যতিত অন্য কোনো বিশেষণে ভূষিত করেনি; আর পানি টক হয়ে যায় যতক্ষণ না সিরকার অভাব ঘটে—এটাই হলো প্রকৃত অবস্থা। যদিও আমার সমসাময়িককালে আমি আমার অদ্বিতীয় আগ্রহ এবং সম্ভাব্য উৎসসমূহ থেকে তাদের কিতাবগুলো সংগ্রহে এবং নিভৃত স্থান থেকে সেই সকল কিতাব সম্পর্কে যারা অবগত তাদের উপস্থিত করার বিষয়ে অকাতরে সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করেছি, তবুও এ বিষয়ে প্রবেশপথগুলো আমাকে পরিশ্রান্ত করে দিয়েছে। আমার মতো অন্য কার এমন সুযোগ হতে পারে? তবে আল্লাহ যদি কাউকে এমন তাওফিক দান করেন যা আমাকে চলাফেরা বা কর্মতৎপরতার সামর্থ্যের ক্ষেত্রে দেওয়া হয়নি; আমি আদেশ ও নিষেধের অধিকার প্রয়োগে অক্ষম ছিলাম এবং সেই পথ আমার জন্য রুদ্ধ ছিল। যা কিছু আল্লাহ সমাধান করেছেন তার জন্য আল্লাহর শোকর আদায় করছি।
আর আমি বলছি: খ্রিস্টধর্মের আবির্ভাবের পূর্বে জাহেলিয়াতের যুগে গ্রিকদের আকিদাহ বা বিশ্বাস হিন্দুস্তানিদের বিশ্বাসের অনুরূপ ছিল। গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের বিদগ্ধ সমাজ এবং মূর্তি পূজার ক্ষেত্রে তাদের সাধারণ জনগণ ছিল একে অপরের ঘনিষ্ঠ। এ কারণেই আমি এক পক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে অন্য পক্ষের বক্তব্যের সাক্ষ্য প্রদান করি; তাদের মধ্যকার ঐকমত্য এবং ঘনিষ্ঠতার কারণে, সত্য প্রমাণের জন্য নয়। কারণ সত্য ছাড়া যা কিছু আছে তা বিচ্যুত এবং সত্য থেকে বিমুখ হওয়ার কারণে কুফর মূলত এক ও অভিন্ন ধর্ম। তবে গ্রিকরা তাদের অঞ্চলের দার্শনিকদের মাধ্যমে সফল হয়েছিল, যারা তাদের জন্য উচ্চতর মূলনীতিগুলো পরিমার্জন করেছিলেন, তবে সাধারণ মানুষের জন্য নয়। কারণ বিদগ্ধজনদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো গবেষণা ও চিন্তাশীলতার অনুসরণ করা, আর সাধারণ মানুষের স্বভাব হলো ভয় ও শঙ্কা মুক্ত হলে হঠকারিতা ও একগুঁয়েমি প্রদর্শন করা। এর প্রমাণ মেলে সক্রেটিসের ক্ষেত্রে; যখন তিনি মূর্তিপূজার বিষয়ে তার গোত্রের সাধারণ মানুষের বিরোধিতা করেছিলেন এবং তার বক্তব্যে নক্ষত্রসমূহকে 'উপাস্য' বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তখন অ্যাথেন্সের বারোজন বিচারকের মধ্যে এগারোজনই কীভাবে তাকে হত্যার ফতোয়া প্রদানে একমত হয়েছিলেন, যতক্ষণ না তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত না হয়েই মৃত্যুবরণ করেন।
হিন্দুস্তানিদের মাঝে এমন কেউ ছিল না যারা বিজ্ঞানকে পরিমার্জন করবে। তাই আপনি তাদের মাঝে উচ্চমার্গের এমন কোনো বক্তব্য পাবেন না যা চরম বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা মুক্ত এবং যার শেষে সাধারণ মানুষের গালগল্প মিশ্রিত হয়নি; যেমন সংখ্যার আধিক্য এবং সময়ের দীর্ঘসূত্রতা, যা সেই ধর্মের উদ্ভাবিত বিষয়—যাদের অনুসারীরা এ বিষয়ে বিরোধিতাকে অত্যন্ত জঘন্য মনে করে। এই কারণেই অন্ধ অনুকরণ তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আছে। আর এ কারণেই তাদের বিষয়ে আমার বিশেষজ্ঞতার জায়গা থেকে আমি বলছি যে, তাদের কিতাবসমূহে যা আছে তাকে আমি অন্য কিছুর সাথে তুলনা করি না...
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২২)
الحساب ونوع التعاليم إلا بصدف مخلوط بخزف «1» أو بدرّ ممزوج ببعر أو بمهى مقطوب بحصى، والجنسان عندهم سيّان إذ لا مثال لهم لمعارج البرهان؛ وأنا في أكثر ما ساورده من جهتهم حاك غير منتقد إلا عن ضرورة ظاهرة، وذاكر من الأسماء والمواضعات في لغتهم ما لا بدّ من ذكره مرّة واحدة يوجبها التعريف، ثمّ إن كان مشتقا يمكن تحويله في العربيّة إلى معناه لم أمل عنه إلى غيره إلا أن يكون بالهندية أخفّ في الاستعمال فنستعمله بعد غاية التوثقة منه في الكتبة، أو كان مقتضبا شديد الاشتهار فبعد الإشارة إلى معناه، وإن كان له اسم عندنا مشهور فقد سهل الأمر فيه؛ ويتعذّر فيما قصدناه سلوك الطريق الهندسي في الإحالة على الماضي دون المستأنف، ولكنه ربّما يجيء في بعض الأبواب ذكر مجهول وتفسيره آت في الذي يتلوه، والله الموفّق.
গাণিতিক হিসাব এবং শিক্ষার ধরনগুলো মাটির পাত্রের চূর্ণের সাথে মিশ্রিত ঝিনুক, কিংবা বিষ্ঠার সাথে মিশ্রিত মুক্তা, অথবা কাঁকরের সাথে মিশ্রিত স্ফটিক সদৃশ। তাদের নিকট উভয় প্রকারই সমান, কারণ প্রমাণের সোপানসমূহ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। আমি তাদের পক্ষ থেকে যা কিছু বর্ণনা করব, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি কেবল একজন বর্ণনাকারী মাত্র, কোনো সমালোচক নই—তবে কোনো সুস্পষ্ট ও অনিবার্য প্রয়োজন দেখা দিলে ভিন্ন কথা। আমি তাদের ভাষার এমন সব নাম ও পরিভাষা উল্লেখ করব যা সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজনে অন্তত একবার উল্লেখ করা আবশ্যক। এরপর শব্দটি যদি এমন কোনো ব্যুৎপন্ন শব্দ হয় যার অর্থ আরবিতে রূপান্তর করা সম্ভব, তবে আমি সেই অর্থের বাইরে অন্য কিছুর দিকে ধাবিত হব না। তবে যদি ভারতীয় ভাষায় শব্দটি ব্যবহার করা অধিকতর সহজ হয়, তবে লিখনশৈলীতে পূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে আমি সেটিই ব্যবহার করব; অথবা যদি শব্দটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত সুপরিচিত হয়, তবে তার অর্থের প্রতি ইঙ্গিত করার পর সেটি ব্যবহার করব। আর যদি আমাদের নিকট এর কোনো প্রসিদ্ধ নাম থাকে, তবে বিষয়টি সহজ হয়ে গেল। আমাদের এই কর্মপদ্ধতিতে জ্যামিতিক ধারা অনুসরণ করে পরবর্তী বিষয়ের পরিবর্তে কেবল পূর্ববর্তী বিষয়ের ওপর নির্ভর করা কঠিন। তবে কোনো কোনো অধ্যায়ে হয়তো এমন কোনো অজানা প্রসঙ্গের অবতারণা হতে পারে যার ব্যাখ্যা পরবর্তী অংশে আসবে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ب- ذكر اعتقادهم في الله سبحانهإنّما اختلف اعتقاد الخاصّ والعامّ في كلّ أمّة بسبب أنّ طباع الخاصّة ينازع المعقول ويقصد التحقيق في الأصول، وطباع العامّة يقف عند المحسوس ويقتنع بالفروع ولا يروم التدقيق وخاصّة فيما افتنّت فيه الآراء ولم يتّفق عليه الأهواء؛ واعتقاد الهند في الله سبحانه أنه الواحد الأزلي، من غير ابتداء ولا انتهاء المختار في فعله القادر الحكيم الحيّ المحيي المدبّر المبقي الفرد في ملكوته عن الأضداد والأنداد لا يشبه شيئا ولا يشبهه شيء؛ ولنورد في ذلك شيئا من كتبهم لئلا تكون حكايتنا كالشيء المسموع فقط، قال السائل في كتاب «باتنجل» : من هذا المعبود الذي ينال التوفيق بعبادته؟ قال المجيب: هو المستغني بأوّليّته «1» ووحدانيّته عن فعل لمكافاة عليه براحة تؤمّل وترتجي أو شدّة تخاف وتتّقي، والبريء عن الأفكار لتعاليه عن الأضداد المكروهة والأنداد المحبوبة، والعالم بذاته سرمدا إذ العلم الطارئ يكون لما لم يكن بمعلوم وليس الجهل بمتّجه عليه في وقت ما أو حال؛ ثمّ يقول السائل بعد ذلك: فهل له من الصفات غير ما ذكرت؟ ويقول المجيب: له العلوّ التامّ في القدر لا المكان فإنّه يجلّ عن التمكّن، وهو الخير المحض التامّ الذي يشتاقه كلّ موجود، وهو العلم الخالص
খ- মহান আল্লাহ সম্পর্কে তাঁদের বিশ্বাসের বর্ণনাপ্রতিটি জাতির মধ্যে বিশিষ্ট ও সাধারণ শ্রেণির বিশ্বাসের যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় তার কারণ হলো, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রকৃতি যুক্তিনির্ভর বিষয়ের সাথে লড়াই করে এবং মূলনীতিগুলোর গূঢ় রহস্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্য রাখে। পক্ষান্তরে সাধারণ মানুষের প্রকৃতি কেবল ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকে এবং তারা শাখা-প্রশাখামূলক বিষয়েই সন্তুষ্ট থাকে; তারা সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণ করতে চায় না, বিশেষ করে এমন সব বিষয়ে যেখানে নানা মতের বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রবৃত্তিগুলো যেখানে একমত হতে পারেনি। মহান আল্লাহ সম্পর্কে হিন্দুদের বিশ্বাস হলো এই যে, তিনি অনাদি ও অনন্ত এক ও অদ্বিতীয় সত্তা, যাঁর কোনো শুরু নেই এবং কোনো শেষ নেই; তিনি তাঁর কর্মে স্বাধীন ইচ্ছার অধিকারী, সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময়, চিরঞ্জীব, জীবনদানকারী, ব্যবস্থাপক, স্থায়িত্বদানকারী এবং তাঁর রাজত্বে প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষহীন অদ্বিতীয়। তিনি কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। এ বিষয়ে আমরা তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে কিছু উদ্ধৃতি পেশ করব যাতে আমাদের বর্ণনাটি কেবল লোকমুখে শোনা বিষয়ের মতো না হয়। ‘পাতঞ্জল’ কিতাবে প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করেছেন: এই উপাস্য কে, যাঁর উপাসনার মাধ্যমে তৌফিক বা সাফল্য অর্জিত হয়? উত্তরদাতা বলেছেন: তিনি তাঁর অনাদ্যকাল থেকে বিদ্যমান থাকা ও একত্ববাদের কারণে এমন কোনো কাজ করা থেকে অমুখাপেক্ষী যার প্রতিদান হিসেবে কোনো কাঙ্ক্ষিত ও আশাপ্রদ স্বস্তি অর্জিত হয় অথবা কোনো ভীতিকর ও পরিহারযোগ্য কষ্টের সম্মুখীন হতে হয়। তিনি মানুষের চিন্তাধারার ঊর্ধ্বে, কারণ তিনি অপছন্দনীয় প্রতিপক্ষ এবং পছন্দনীয় সমকক্ষদের থেকে সুউচ্চ। তিনি চিরকাল ধরে নিজের সত্তা সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, কেননা অর্জিত জ্ঞান কেবল তখনই হয় যখন কোনো কিছু পূর্বে অজ্ঞাত থাকে, আর অজ্ঞতা কোনো সময়ই বা কোনো অবস্থাতেই তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এরপর প্রশ্নকারী বললেন: আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া কি তাঁর আর কোনো গুণাবলি আছে? উত্তরদাতা বললেন: তাঁর জন্য রয়েছে মর্যাদাগত পূর্ণ উচ্চতা, স্থানগত উচ্চতা নয়; কেননা তিনি কোনো স্থানে নির্দিষ্ট হওয়া থেকে পবিত্র। তিনি হলেন সেই পূর্ণ ও খাঁটি কল্যাণ যাকে প্রতিটি অস্তিত্বশীল সত্তা কামনা করে এবং তিনি হলেন বিশুদ্ধ জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৪)
عن دنس السهو والجهل؛ قال السائل: أفتصفه بالكلام أم لا؟ قال المجيب:
إذا كان عالما فهو لا محالة متكلم؛ قال السائل: فإن كان متكلّما لأجل علمه فما الفرق بينه وبين العلماء الحكماء الذين تكلّموا من أجل علومهم؟ قال المجيب:
الفرق بينهم هو الزمان فإنّهم تعلّموا فيه وتكلّموا بعد أن لم يكونوا عالمين ولا متكلّمين ونقلوا بالكلام علومهم إلى غيرهم فكلامهم وإفادتهم في زمان، وإذ ليس للأمور الإلهية بالزمان اتّصال فالله سبحانه عالم متكلّم في الأزل، وهو الذي كلّم «براهم» وغيره من الأوائل على أنحاء شتّى، فمنهم من ألقى إليه كتابا ومنهم من فتح لواسطة اليه بابا ومنهم من أوحى إليه فنال بالفكر ما أفاض عليه؛ قال السائل: فمن أين له هذا العلم؟ قال المجيب: علمه على حاله في الأزل، وإذ لم يجهل قطّ فذاته عالمة لم تكتسب علما لم يكن له، كما قال في «بيذ» الذي أنزله على براهم: احمدوا وامدحوا من تكلّم ببيذ وكان قبل بيذ: قال السائل: كيف تعبد من لم يلحقه الإحساس؟ قال المجيب: تسميته تثبت إنّيّته فالخبر لا يكون إلا عن شيء والاسم لا يكون إلّا لمسمّى، وهو وإن غاب عن الحوسّ فلم تدركه فقد عقلته النفس وأحاطت بصفاته الفكرة وهذه هي عبادته الخالصة وبالمواظبة عليها ينال السعادة؛ فهذا كلامهم في هذا الكتاب المشهور. وفي كتاب «كيتا» وهو جزوء من كتاب «بهارت» فيما جرى بين «باسديو» «1» وبين «آرجن» : إنّي أنا الكلّ من غير مبدأ بولادة أو «2» منتهى بوفاة، لا أقصد بفعلي مكافاة ولا اختصّ بطبقة دون أخرى لصداقة او عداوة، قد اعطيت كلّا من خلقي حاجته في فعله، فمن عرفني بهذه الصفة وتشبّه بي في إبعاد الطمع عن العمل انحلّ وثاقه وسهل خلاصه، وعتاقه، وهذا كما قيل في حدّ الفلسفة:
إنّها التقيّل بالله ما أمكن، وقال في هذا الكتاب: أكثر الناس يلجئهم الطمع في الحاجات إلى الله، وإذا حقّقت الأمر لديهم وجدتهم من معرفته في مكان سحيق
ভুলভ্রান্তি এবং অজ্ঞতার কলুষতা হতে (তিনি পবিত্র); প্রশ্নকারী বললেন: আপনি কি তাঁকে বাকশক্তির মাধ্যমে বিশেষিত করবেন কি না? উত্তরদাতা বললেন:
যদি তিনি জ্ঞানী হন তবে তিনি অনিবার্যভাবেই কথা বলেন; প্রশ্নকারী বললেন: যদি তিনি তাঁর জ্ঞানের কারণে কথা বলেন, তবে তাঁর এবং ঐ সকল প্রাজ্ঞ পণ্ডিতদের মধ্যে পার্থক্য কী যারা তাদের অর্জিত জ্ঞানের কারণে কথা বলেছেন? উত্তরদাতা বললেন:
তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো সময়; কেননা তারা সময়ের আবর্তে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং কথা বলেছেন এমন এক অবস্থার পর যখন তারা জ্ঞানী ছিলেন না এবং কথা বলতেও সক্ষম ছিলেন না। তারা বাক্যের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান অন্যের নিকট স্থানান্তরিত করেছেন, ফলে তাদের কথা এবং জ্ঞানদান সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর যেহেতু ঐশ্বরিক বিষয়াবলির সাথে সময়ের কোনো সংযোগ নেই, সেহেতু আল্লাহ সুবহানাহু অনাদিকাল থেকেই জ্ঞানী ও কথা বলেন। তিনিই ‘ব্রহ্মা’ এবং অন্যান্য আদি পুরুষদের সাথে বিভিন্ন পন্থায় কথা বলেছেন; তাদের মধ্যে কারো নিকট তিনি কিতাব পাঠিয়েছেন, কারো জন্য কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে জ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করেছেন এবং কারো নিকট ওহী পাঠিয়েছেন, ফলে তিনি চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তা লাভ করেছেন যা তাঁর প্রতি বর্ষণ করা হয়েছিল। প্রশ্নকারী বললেন: তাঁর এই জ্ঞান কোথা থেকে এলো? উত্তরদাতা বললেন: তাঁর জ্ঞান অনাদিকাল থেকেই তাঁর চিরন্তন অবস্থায় বিদ্যমান, এবং যেহেতু তিনি কখনোই অজ্ঞ ছিলেন না, তাই তাঁর সত্তাই হলো জ্ঞানী। তিনি এমন কোনো জ্ঞান অর্জন করেননি যা ইতিপূর্বে তাঁর ছিল না; যেমনটি তিনি ‘বেদ’-এ বলেছেন যা তিনি ব্রহ্মার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন: তোমরা তাঁর প্রশংসা ও মহিমা কীর্তন করো যিনি বেদের মাধ্যমে কথা বলেছেন এবং যিনি বেদের পূর্বেও বিদ্যমান ছিলেন। প্রশ্নকারী বললেন: যাকে ইন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধি করা যায় না, আপনি তাঁর ইবাদত কীভাবে করেন? উত্তরদাতা বললেন: তাঁর নামকরণই তাঁর অস্তিত্বকে সাব্যস্ত করে; কেননা কোনো সংবাদ কেবল বিদ্যমান সত্তা সম্পর্কেই হয় এবং নাম কেবল নামধারীর জন্যই হয়। তিনি যদিও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের ঊর্ধ্বে এবং ইন্দ্রিয় তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না, তবুও আত্মা তাঁকে অনুধাবন করেছে এবং চিন্তা তাঁর গুণাবলিকে বেষ্টন করেছে। আর এটিই হলো তাঁর বিশুদ্ধ ইবাদত এবং এর ওপর অবিচল থাকার মাধ্যমেই সৌভাগ্য লাভ হয়। এই প্রসিদ্ধ কিতাবে তাদের বক্তব্য এমনই। এবং ‘গীতা’ কিতাবে—যা ‘ভারত’ কিতাবের একটি অংশ—যা ‘বাসুদেব’ ও ‘অর্জুন’-এর মধ্যেকার কথোপকথন: নিশ্চয়ই আমিই সবকিছু, জন্মের মাধ্যমে যার কোনো শুরু নেই এবং মৃত্যুর মাধ্যমে যার কোনো সমাপ্তি নেই। আমি আমার কর্মের দ্বারা কোনো প্রতিদান কামনা করি না এবং বন্ধুত্ব বা শত্রুতার কারণে এক শ্রেণিকে অন্য শ্রেণির ওপর পক্ষপাত করি না। আমি আমার সৃষ্টির প্রত্যেককে তার কর্মের প্রয়োজনীয়তা দান করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমাকে এই গুণের মাধ্যমে চিনবে এবং কর্ম হতে লালসা দূর করার মাধ্যমে আমার গুণাবলির অনুসারী হওয়ার চেষ্টা করবে, তার বন্ধন ছিন্ন হবে এবং তার মুক্তি ও নিষ্কৃতি সহজ হবে। আর দর্শনশাস্ত্রের সংজ্ঞায় যেমনটি বলা হয়েছে:
সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর গুণাবলি অনুসরণের চেষ্টা করা। এই কিতাবে আরও বলা হয়েছে: অধিকাংশ মানুষকে তাদের অভাবের তাড়নায় লোভ আল্লাহর দিকে ধাবিত করে; কিন্তু যখন তুমি তাদের অবস্থা নিয়ে গবেষণা করবে, তখন দেখবে তারা তাঁর পরিচয় থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لأن الله ليس بظاهر لكلّ أحد يدركه بحواسّه فلذلك جهلوه؛ فمنهم من لم يتجاوز فيه المحسوسات، ومنهم من إذا تجاوزها وقف عند المطبوعات، ولم يعرفوا أنّ فوقها من لم يلد ولم يولد ولم يحط بغير «1» إنّيّته علم احد وهو المحيط بكلّ شيء علما. ويختلف كلام الهند في معنى الفعل فمن اضافه إليه كان من جهة السبب الأعمّ لأنّ قوام الفاعلين إذا كان «2» به كان هو سبب فعلهم فهو فعله بوساطتهم، ومن أضافه إلى غيره فمن جهة الوجود الأدنى. وفي كتاب «سانك» قال الناسك:
هل اختلف في الفعل والفاعل أم لا؟ قال الحكيم: قد قال قوم إنّ النفس غير فاعلة والمادّة غير حيّة فالله المستغني هو الذي يجمع بينهما ويفرق فهو الفاعل والفعل واقع من جهته بتحريكهما كما يحرّك الحيّ القادر الموات العاجز؛ وقال آخرون: إنّ اجتماعهما بالطباع فهكذا جرت العادة في كل ناش بال، وقال آخرون: الفاعل هو النفس لأنّ في «بيذ» أنّ كلّ موجود فهو من «پورش» وقال آخرون: الفاعل هو الزمان فإنّ العالم مربوط به رباط الشاة بحبل مشدود بها حتى تكون حركتها بحسب انجذابه واسترخائه، وقال آخرون: ليس الفعل سوى المكافاة على العمل المتقدّم؛ وكلّ هذه الآراء منحرفة عن الصواب وإنّما الحقّ فيه أنّ الفعل كلّه للمادّة لأنّها هي التي تربط وتردّد في الصور وتخلّي فهي الفاعلة وسائر ما تحتها أعوان لها على إكمال الفعل، ولخلّو النفس عن القوى المختلفة هي غير فاعلة. فهذا قول خواصّهم في الله تعالى ويسمّونه «ايشفر» أي المستغنى الجواد الذي يعطي ولا يأخذ لأنهم رأوا وحدته هي المحضة ووحدة ما سواه بوجه من الوجوه متكثرة ورأوا وجوده حقيقيّا لأنّ قوام الموجودات به ولا يمتنع توهم ليس فيها مع «أيس» «3» فيه كما يمتنع توهّم ليس فيه مع «أيس» فيها، ثمّ إن تجاوزنا طبقة الخواصّ من الهند إلى عوامّهم اختلف الأقاويل عندهم وربّما سمجت كما
যেহেতু আল্লাহ প্রত্যেকের নিকট এমনভাবে দৃশ্যমান নন যে তাকে তার ইন্দ্রিয় দিয়ে উপলব্ধি করা যায়, তাই তারা তাঁর প্রতি অজ্ঞ থেকেছে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের বাইরে যেতে পারেনি, আবার কেউ কেউ তা অতিক্রম করলেও প্রাকৃতিক বিষয়াবলির স্তরে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। তারা জানতে পারেনি যে, এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে এমন এক সত্তা রয়েছেন যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে জন্ম নেননি, এবং তাঁর অস্তিত্ব ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কারো জ্ঞান তাঁকে বেষ্টন করতে পারে না, অথচ তিনি তাঁর জ্ঞানে সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন। আর 'কর্ম' বা ক্রিয়ার অর্থের ক্ষেত্রে হিন্দুদের বক্তব্যের ভিন্নতা রয়েছে। যারা কর্মকে তাঁর (ঈশ্বরের) প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করে, তারা তা 'সার্বিক কারণ' হওয়ার দিক থেকে করে; কারণ যখন সকল কর্তার অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব তাঁর মাধ্যমেই হয়, তখন তিনিই তাদের কর্মের কারণ হন; সুতরাং তাঁদের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত কর্ম তাঁরই কর্ম হিসেবে গণ্য হয়। আর যারা একে অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে, তারা তা নিম্নতর অস্তিত্বের দিক থেকে বিবেচনা করে। আর 'সাংখ্য' গ্রন্থে একজন সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করলেন:
কর্ম ও কর্তা সম্পর্কে কি মতভেদ আছে না নেই? প্রাজ্ঞ ব্যক্তি বললেন: একদল লোক বলেছে যে আত্মা নিষ্ক্রিয় এবং জড়প্রকৃতি নির্জীব; সুতরাং অমুখাপেক্ষী আল্লাহই তাদের মধ্যে সংযোগ ঘটান এবং বিচ্ছেদ করেন। অতএব তিনিই প্রকৃত কর্তা এবং তাঁর পরিচালনাতেই উভয়কে সক্রিয় করার মাধ্যমে কর্ম সংঘটিত হয়, যেভাবে একজন সক্ষম জীবন্ত সত্তা অক্ষম জড়বস্তুকে চালিত করে। অন্যরা বলেছেন: এদের মিলন ঘটে স্বভাবজাত প্রকৃতির মাধ্যমে, আর এভাবেই নশ্বর ও ক্ষয়িষ্ণু জগতের রীতি চলে আসছে। আবার অন্য একদল বলেছে: আত্মাই হলো কর্তা, কারণ 'বেদ'-এ বর্ণিত হয়েছে যে সকল অস্তিত্বশীল বস্তুই 'পুরুষ' হতে উদ্ভূত। অন্যেরা বলেছে: কাল বা সময় হলো কর্তা, কারণ বিশ্বজগত সময়ের সাথে সেভাবেই আবদ্ধ যেমন একটি ভেড়া দড়ির সাথে বাঁধা থাকে, যাতে তার নড়াচড়া দড়ির টান ও শিথিলতার ওপর নির্ভর করে। আর অন্যদল বলেছে: কর্ম হলো পূর্ববর্তী কর্মের ফল বা বিনিময় মাত্র। এই সকল মতই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত। প্রকৃতপক্ষে সত্য হলো এই যে, সকল কর্মই 'প্রকৃতি'র (ম্যাটার), কারণ সে-ই বন্ধন তৈরি করে, বিভিন্ন রূপ ধারণ করে এবং মুক্তি দান করে। সুতরাং প্রকৃতিই হলো প্রকৃত কর্তা এবং তার নিম্নস্থ বাকি সবকিছু কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে তার সহায়ক মাত্র। অন্যদিকে আত্মা বিভিন্ন শক্তি বর্জিত হওয়ায় তা কোনো কর্মের কর্তা নয়। আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে ভারতের বিশিষ্টজনদের অভিমত হলো এটিই; তারা তাঁকে 'ঈশ্বর' নামে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো অমুখাপেক্ষী ও পরম দাতা, যিনি কেবল দান করেন কিন্তু নিজে কিছু গ্রহণ করেন না। কারণ তারা মনে করে যে তাঁর একত্বই কেবল পরম ও বিশুদ্ধ, আর তিনি ব্যতীত অন্য সবকিছুর একত্ব কোনো না কোনোভাবে বহুত্ব মিশ্রিত। তারা তাঁর অস্তিত্বকে পরম বাস্তব বলে মনে করে, কারণ সকল অস্তিত্বশীলের স্থায়িত্ব তাঁর মাধ্যমেই। তাঁর অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্য কিছুর অনস্তিত্ব কল্পনা করা অসম্ভব নয়, যেমনটা অসম্ভব অন্য কিছুর অস্তিত্ব থাকা অবস্থায় তাঁর অনস্তিত্ব কল্পনা করা। অতঃপর আমরা যদি ভারতের পণ্ডিত ও বিশিষ্টজনদের স্তর পেরিয়ে সাধারণ জনগণের দিকে দৃষ্টি দেই, তবে সেখানে নানা মতভেদ পরিলক্ষিত হয় এবং অনেক সময় তাদের বক্তব্য কদর্য রূপ ধারণ করে যেমন-
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৬)
يوجد مثله في سائر الملل بل وفي الاسلام من التشبيه والإجبار وتحريم النظر في شيء وأمثال ذلك ويوجب «1» التهذّب «1» ، مثاله أنّ بعض خواصّهم يسمى الله تعالى «نقطة» ليبرئه بها عن صفات الأجسام، ثمّ يطالع ذلك عامّيّهم فيظنّ أنه عظمه بالتصغير ولا يبلغ به فهمه إلى تحقيق النقطة فيتجاوز سماجة التشبيه والتحديد بالتعظيم إلى قوله: إنّه يطول اثنى عشر إصبعا في عرض عشر أصابع تعالى عن التحديد والتعديد، ومثل ما حكيناه من إحاطته بالكل حتى لا يخفى عليه خافية فيظن عامّيّهم أنّ الإحاطة تكون بالبصر والبصر بالعين والعينان أفضل من العور فيصفه بألف عين عبارة عن كمال العلم؛ وأمثال هذه الخرافات الشنعة عندهم موجودة وخاصّة في الطبقات التي لم يسوّغ لهم تعاطي العلم على ما يجيء ذكرهم في موضعه.
অন্যান্য সকল ধর্ম এমনকি ইসলামের মধ্যেও তাশবিহ (সাদৃশ্যপ্রদান), ইজবার (জবরদস্তি) এবং বিচার-বিশ্লেষণ নিষিদ্ধকরণ—এমন বিষয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, যা সংশোধন বা সংস্কারকে আবশ্যক করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, তাদের বিশেষ ব্যক্তিদের কেউ কেউ মহান আল্লাহকে ‘বিন্দু’ নামে অভিহিত করেন, যাতে এর মাধ্যমে তাঁকে শারীরিক গুণাবলি থেকে পবিত্র রাখা যায়। অতঃপর তাদের সাধারণ মানুষ যখন এটি পাঠ করে, তারা ধারণা করে যে ক্ষুদ্র করার মাধ্যমেই তাঁর মহিমা প্রকাশ করা হয়েছে; কিন্তু ‘বিন্দু’র প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করার মতো বোধশক্তি তাদের নেই। ফলে তারা সাদৃশ্যপ্রদান ও সীমাবদ্ধকরণের কদর্যতা অতিক্রম করে মহিমান্বিত করার ছলে এমন কথা বলতে শুরু করে যে: তিনি লম্বায় বারো আঙুল এবং প্রস্থে দশ আঙুল; অথচ তিনি কোনো সীমা বা সংখ্যাবদ্ধ হওয়ার ঊর্ধ্বে। আর যেমনটি আমরা বর্ণনা করেছি যে তিনি সবকিছু পরিবেষ্টন করে আছেন যাতে কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন না থাকে, তখন তাদের সাধারণ মানুষ মনে করে যে এই পরিবেষ্টন করা কেবল দৃষ্টির মাধ্যমেই সম্ভব, আর দৃষ্টি হয় চোখের মাধ্যমে, এবং অন্ধত্বের চেয়ে দু’টি চোখ থাকা উত্তম; তাই তারা জ্ঞানের পূর্ণতা বুঝাতে গিয়ে তাঁকে ‘এক হাজার চোখ’ বিশিষ্ট বলে বর্ণনা করে। তাদের নিকট এ জাতীয় জঘন্য কুসংস্কার বিদ্যমান রয়েছে, বিশেষ করে সেই শ্রেণির স্তরে যাদের জন্য জ্ঞানচর্চার অনুমতি ছিল না, যেমনটি যথাস্থানে বর্ণিত হবে।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ج- في ذكر اعتقادهم في الموجودات العقليّة والحسيّةإنّ قدماء اليونانيّين قبل نجوم الحكمة فيهم بالسبعة المسمّين «أساطين الحكمة» وهم آ «سولن» الأثيني ب و «بيوس» الفاريني ج و «فارياندروس» القورنتي د و «ثالس» المليسوسي هـ و «كيلون» اللقاذوموني «1» و «فيطيقوس «2» لسبيّوس» ز و «قيليبولوس لنديوس» وتهذّب الفلسفة عندهم بمن نشأ بعدهم كانوا على مثل مقالة الهند، وكان فيهم من يرى أنّ الأشياء كلّها شيء واحد، ثمّ من قائل في ذلك بالكمون ومن قائل بالقوّة وأنّ الإنسان مثلا لم يتفضّل عن الحجر والجماد إلا بالقرب من العلّة الأولى بالرتبة وإلا فهو هو، ومنهم من كان يرى الوجود الحقيقيّ لعلّة الأولى فقط لاستغنائها بذاتها فيه وحاجة غيرها إليها وأنّ ما هو مفتقر في الوجود إلى غيره فوجوده كالخيال غير حقّ والحقّ هو الواحد الأوّل فقط، وهذا رأي السوفيّة وهم الحكماء فإنّ «سوف» باليونانيّة الحكمة وبها سمّى الفيلسوف «بيلاسوبا» أي محبّ الحكمة ولما ذهب في الإسلام قوم إلى قريب من رأيهم سمّوا باسمهم ولم يعرف اللقب بعضهم فنسبهم للتوكّل إلى «الصفّة» وأنّهم أصحابها في عصر النبيّ صلى الله عليه وسلم، ثمّ صحّف بعد ذلك فصيّر من صوف التيوس؛ وعدل أبو الفتح البستيّ عن ذلك أحسن عدول في قوله:
গ- বৌদ্ধিক এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অস্তিত্বসমূহ সম্পর্কে তাঁদের বিশ্বাসের বর্ণনায়সাতজন ‘প্রজ্ঞার স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে প্রজ্ঞার নক্ষত্র উদিত হওয়ার আগে প্রাচীন গ্রিকরা—তাঁরা হলেন: ক. অ্যাথেন্সের ‘সোলোন’, খ. প্রাইনীয় ‘বায়াস’, গ. করিন্থীয় ‘পেরিঅ্যান্ডার’, ঘ. মিলিসীয় ‘থেলিস’, ঙ. ল্যাসেডেমোনীয় ‘কিলোন’, চ. লেসবীয় ‘পিটাকাস’ এবং ছ. লিন্ডীয় ‘ক্লিওবুলাস’—এবং তাঁদের পরবর্তী উত্তরসূরিদের দ্বারা দর্শন মার্জিত হওয়ার আগে তাঁদের মতবাদ ছিল ভারতীয়দের মতবাদের অনুরূপ। তাঁদের মধ্যে এমন লোক ছিলেন যারা মনে করতেন যে সকল বস্তু মূলত এক ও অভিন্ন। অতঃপর তাঁদের মধ্যে কেউ প্রচ্ছন্নতা বা সুপ্তাবস্থার প্রবক্তা ছিলেন এবং কেউ সম্ভাবনার প্রবক্তা ছিলেন। তাঁদের মতে, মানুষ উদাহরণস্বরূপ পাথর ও জড় পদার্থ থেকে ভিন্ন বা শ্রেষ্ঠ কিছু নয়, কেবল মর্যাদার স্তরে ‘আদি কারণ’-এর নিকটবর্তী হওয়া ব্যতীত; নতুবা সে মূলত তা-ই। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করতেন যে প্রকৃত অস্তিত্ব কেবল ‘আদি কারণ’-এর জন্যই সাব্যস্ত, কারণ সেটি স্বীয় সত্তায় অমুখাপেক্ষী এবং অন্য সবকিছু সেটির মুখাপেক্ষী। আর যা নিজের অস্তিত্বের জন্য অন্য কারও মুখাপেক্ষী, তার অস্তিত্ব হলো অলীক কল্পনার ন্যায়—তা সত্য নয়। বরং একমাত্র সত্য হলো আদি একক সত্তা। এটিই মূলত ‘সোফিয়া’ পন্থীদের মত, যারা ছিলেন প্রজ্ঞাবান। কেননা গ্রিক ভাষায় ‘সোফ’ অর্থ প্রজ্ঞা এবং এই শব্দ থেকেই দার্শনিককে ‘পিলাসোবা’ বা প্রজ্ঞাপ্রেমী বলা হয়। যখন ইসলামে একদল লোক তাঁদের মতের কাছাকাছি মতাদর্শ গ্রহণ করল, তখন তাঁদের সেই নামেই অভিহিত করা হলো। কিন্তু তাঁদের কেউ কেউ এই উপাধির মূল উৎস না জানার কারণে তাঁদের তাওয়াক্কুলের প্রেক্ষিতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগের ‘সুফফাহ’ অধিবাসীদের সাথে সম্পৃক্ত করেন। অতঃপর পরবর্তীতে শব্দগত বিকৃতির মাধ্যমে একে ভেড়ার লোম থেকে উদ্ভূত বলে গণ্য করা হয়। আর আবু আল-ফাতহ আল-বুসতি তাঁর পঙক্তিতে এ থেকে অত্যন্ত চমৎকারভাবে বিমুখ হয়েছেন এই বলে:
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تنازع الناس في الصوفيّ واختلفوا
… قدما وظنّوه مشتقّا من الصوف
ولست أنحل هذا الاسم غير فتي
… صافي فصوفي حتى لقّب الصوفيّ
وكذلك ذهبوا إلى أنّ الموجود شيء واحد وأنّ العلّة الأولى تترايا فيه بصور مختلفة وتحلّ قوّتها في أبعاضه بأحوال متباينة توجب التغاير مع الاتّحاد، وكان فيهم من يقول: إنّ المنصرف بكلّيّته إلى العلّة الأولى متشبّها بها على غاية إمكانه يتّحد بها عند ترك الوسائط وخلع العلائق والعوائق؛ وهذه آراء يذهب إليها الصوفيّة لتشابه الموضوع، وكانوا يرون في الأنفس والأرواح أنّها قائمة بذواتها قبل التجسّد بالأبدان معدودة مجنّدة تتعارف وتتناكر وأنّها تكتسب في الأجساد بالخيرورة ما يحصل لها به بعد مفارقة الأبدان الاقتدار على تصاريف العالم ولذلك سمّوها «آلهة» وبنوا الهياكل بأسمائها وقرّبوا القرابين لها؛ كما يقول جالينوس في كتاب «الحثّ على تعلّم الصناعات» : ذوو الفضل من الناس إنّما استأهلوا ما نالوه من الكرامة حتى لحقوا بالمتألّهين بسبب جودة معالجتهم للصناعات لا بالإحصار والمصارعة ورمى الكرة، من ذلك أنّ «أسقليبيوس» و «ديونوسيوس» إن كانا فيما مضى إنسانين ثمّ إنّهما تألّها أو كانا منذ أوّل أمرهما متألّهين فانّهما إنّما استحقّا أعظم الكرامة بسبب أنّ أحدهما علّم الناس الطبّ والآخر علمهم صناعة الكروم؛ وقال جالينوس في تفسيره لعهود ابقراط: أمّا الذبائح باسم «اسقليبيوس» فما سمعنا قطّ بأنّ أحدا قرّب له ما عزا من أجل أنّ غزل شعره لا يسهل وأنّ الإكثار من لحمه يصرع لرداءة كيموسه، وإنّما يقرّبون ديكة كما قرّبها أبقراط «1» فإنّ هذا الرجل الإلهيّ اقتنى للناس صناعة الطبّ وهي أفضل ممّا استخرجه «ديونوسيوس» أعني الخمر و «ذيميطر» أعني الحبوب التي يتّخذ منها الخبز ولذلك تسمّى الحبوب باسم هذه «2» ، وشجرة الكرم باسم هذا؛ وقال
মানুষ প্রাচীনকাল থেকে সুফিদের ব্যাপারে বিবাদ ও মতপার্থক্য করে আসছে
… এবং তারা ধারণা করত যে এটি পশম থেকে উদ্ভূত।
আর আমি এই নাম সেই যুবক ছাড়া অন্য কাউকে প্রদান করি না
… যে পরিচ্ছন্ন হয়েছে এবং সুফিত্ব লাভ করেছে, এমনকি তাকে সুফি উপাধি দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে তারা এই মত পোষণ করেছে যে, অস্তিত্বশীল সত্তা মূলত এক এবং 'আদি কারণ' এতে বিভিন্ন রূপে প্রতিভাত হয়। এর শক্তি বিভিন্ন বিচিত্র অবস্থায় এর অংশসমূহের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়, যা ঐক্যের পাশাপাশি ভিন্নতাকে আবশ্যক করে তোলে। তাদের মধ্যে এমন লোকও ছিল যারা বলত: যে ব্যক্তি নিজের সর্বস্ব দিয়ে 'আদি কারণ'-এর দিকে মনোনিবেশ করে এবং সাধ্যমতো তার সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে মাধ্যমসমূহ বর্জন এবং সম্পর্ক ও প্রতিবন্ধকতাগুলো ছিন্ন করার সময় তার সাথে একীভূত হয়ে যায়। আর বিষয়বস্তুর সাদৃশ্যের কারণে সুফিগণ এই মতাদর্শগুলোর দিকে ঝুঁকে থাকেন। তারা নফস ও রুহ সম্পর্কে বিশ্বাস করত যে, দেহে প্রবিষ্ট হওয়ার পূর্বে তারা স্বীয় সত্তায় প্রতিষ্ঠিত ছিল; তারা ছিল এক সুশৃঙ্খল বাহিনী যারা পরস্পর পরিচিত হতো অথবা একে অপরকে অস্বীকার করত। এবং দেহগুলোর মধ্যে অবস্থানকালে তারা সৎপ্রবৃত্তির মাধ্যমে এমন কিছু অর্জন করে, যার মাধ্যমে দেহ ত্যাগের পর মহাবিশ্বের কার্যাবলি পরিচালনার সামর্থ্য লাভ করে। এ কারণেই তারা এদেরকে 'দেবতা' বলে অভিহিত করেছে, তাদের নামে মন্দির নির্মাণ করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ নিবেদন করেছে। যেমনটি গ্যালেন তার 'কারুশিল্প শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহ প্রদান' নামক গ্রন্থে বলেছেন: মানুষের মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরা যে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছেন—এমনকি তারা দেবতাতুল্য স্তরে পৌঁছেছেন—তা কেবল তাদের পেশাগত দক্ষতার কারণেই সম্ভব হয়েছে; অবরুদ্ধ থাকা, কুস্তি লড়া কিংবা বল নিক্ষেপের মাধ্যমে নয়। এর উদাহরণ হলো 'অ্যাসক্লেপিয়াস' এবং 'ডায়োনিসাস'; তারা অতীতে মানুষ ছিলেন এবং পরবর্তীতে দেবত্ব লাভ করেছেন, অথবা সূচনালগ্ন থেকেই তারা দেবতা ছিলেন। যাই হোক না কেন, তারা সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন কারণ তাদের একজন মানুষকে চিকিৎসাশাস্ত্র শিখিয়েছেন এবং অন্যজন তাদের আঙুর চাষের বিদ্যা শিখিয়েছেন। গ্যালেন হিপোক্রেটিসের শপথনামার ব্যাখ্যায় বলেছেন: 'অ্যাসক্লেপিয়াস'-এর নামে উৎসর্গকৃত বলির ক্ষেত্রে আমরা কখনো শুনিনি যে কেউ তার জন্য ছাগল উৎসর্গ করেছে। কারণ হলো, এর লোম ছাড়ানো সহজ নয় এবং এর মাংস অতিরিক্ত ভক্ষণ করলে শরীরের দূষিত রসের কারণে মৃগী রোগ সৃষ্টি হয়। বরং তারা মোরগ উৎসর্গ করত, যেমনটি হিপোক্রেটিস করেছিলেন; কেননা এই ঐশ্বরিক গুণসম্পন্ন ব্যক্তি মানুষের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্রের উদ্ভাবন করেছেন, যা 'ডায়োনিসাস' আবিষ্কৃত মদ এবং 'ডিমিটার' আবিষ্কৃত শস্য (যা থেকে রুটি তৈরি হয়) অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। একারণেই শস্যকে তার নামে এবং আঙুর গাছকে এর নামে অভিহিত করা হয়; এবং তিনি বললেন
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أفلاطن في «طيماوس» : «الطي» الذين يسمّيهم الحنفاء «آلهة» بسبب أنّهم لا يموتون ويسمّون الله «الإله الأوّل» هم الملائكة، ثمّ قال هو: إنّ الله قال للآلهة إنّكم لستم في أنفسكم غير قابلين للفساد أصلا وإنّما لن تفسدوا بموت أنّكم نلتم من مشيئتي وقت إحداثي لكم أوثق عقد؛ وقال فيه في موضع آخر: الله بالعدد الفرد لا آلهة بالعدد المكثّر؛ فعندهم على ما يظهر من أقاويلهم يقع اسم الآلهة من جهة العموم على كلّ شيء جليل شريف يوجد ذلك كذلك عند أمم كثيرة حتى يتجاوزون «1» به إلى الجبال والبحار وأمثالها، ويقع من جهة الخصوص على العلّة الأولى وعلى الملائكة وأنفسهم «2» وعلى نوع آخر يسمّيها أفلاطن «السكينات» ، ولم تبلغ عبارة المترجمين فيها إلى التعريف التامّ فلذلك وصلنا منها إلى الاسم دون المعنى؛ وقال يحيى النحويّ في ردّه على «ابروقلس» : كان اليونيّون يوقعون اسم «الآلهة» على الأجسام المحسوسة في السماء، كما عليه كثير من العجم، ثمّ لمّا تفكّروا في الجواهر المعقولة أوقعوا هذا الاسم عليها؛ فباضطرار يعلم أنّ معنى التألّه راجع إلى ما يذهب إليه في الملائكة، وذلك في صريح كلام جالينوس في ذلك الكتاب: إن كان الأمر حقّا في أنّ «اسقليبيوس» كان فيما مضى إنسانا ثمّ إنّ الله أهّله لأن جعله ملكا من الملائكة فما عداه هذيان، وفي موضع آخر منه يقول: إنّ الله قال «للوفرغوس «3» » إنّي في بابك بين أمرين بين أن أسمّيك إنسانا وبين أن أسمّيك ملكا وإلى هذا أميل فيك؛ ولكنّ من الألفاظ ما يسمج في دين دون دين ويسمح «4» به لغة وتأباه «5» أخرى ومنها لفظة التألّه في دين الإسلام فإنّا إذا اعتبرناها في لغة العرب وجدنا جميع الأسامي التي سمّى بها الحقّ المحض متّجهة
প্লেটো তার 'টিমিয়াস' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন: সেই সকল সত্তা যাদের হানিফগণ তাদের অমরত্বের কারণে 'উপাস্য' বলে অভিহিত করেন এবং আল্লাহকে 'প্রথম উপাস্য' হিসেবে নামকরণ করেন, তারা মূলত ফেরেশতাকুল। অতঃপর তিনি বলেন: আল্লাহ দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, "তোমরা স্বীয় সত্তাগতভাবে মোটেও ধ্বংসের অতীত নও; তবে মৃত্যুর মাধ্যমে তোমরা এই কারণে ধ্বংস হবে না যে, আমি যখন তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তখন তোমরা আমার ইচ্ছা হতে এক সুদৃঢ় অঙ্গীকার লাভ করেছ।" তিনি সেই গ্রন্থের অন্য এক স্থানে বলেছেন: আল্লাহ একক সংখ্যায় সাব্যস্ত, বহুত্ববোধক সংখ্যায় 'উপাস্যগণ' হিসেবে নন। তাদের উক্তি থেকে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, 'উপাস্য' বা 'দেবতা' শব্দটি সাধারণভাবে প্রতিটি মহান ও মহিমান্বিত বস্তুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়; এমনকি অনেক জাতির মধ্যে এটি এতটাই বিস্তৃত যে তারা পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র এবং এই জাতীয় বস্তুগুলোকেও এর অন্তর্ভুক্ত করে। আর বিশেষভাবে এটি প্রয়োগ করা হয় 'প্রথম কারণ', ফেরেশতা এবং তাদের রুহ বা আত্মার ওপর; এছাড়া অন্য এক প্রকার সত্তার ওপর যাদের প্লেটো 'সাকিনাত' বলে অভিহিত করেছেন। অনুবাদকদের বর্ণনা এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞায় পৌঁছাতে পারেনি, ফলে আমাদের কাছে কেবল এর নামটুকুই পৌঁছেছে, এর প্রকৃত অর্থ পৌঁছায়নি। ইয়াহইয়া আন-নাহউই প্রোক্লাসের খণ্ডনে বলেছেন: গ্রিকরা আকাশের দৃশ্যমান বস্তুসমূহের ওপর 'উপাস্য' শব্দটি প্রয়োগ করত, যেমনটি অনেক অনারব জাতি করে থাকে; অতঃপর যখন তারা বুদ্ধিগ্রাহ্য সারাৎসার নিয়ে চিন্তা করল, তখন তারা এই নামটিকে সেগুলোর ওপরও প্রয়োগ করতে শুরু করল। সুতরাং অপরিহার্যভাবে এটি জানা যায় যে, 'ইলাহ' বা 'উপাস্য' হওয়ার অর্থটি ফেরেশতাদের ক্ষেত্রে যা বিশ্বাস করা হয় তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। আর সেই কিতাবে জালিনুসের সুস্পষ্ট বক্তব্য হলো: যদি বিষয়টি সত্য হয় যে, 'আসক্লিপিয়াস' অতীতে একজন মানুষ ছিলেন এবং অতঃপর আল্লাহ তাকে ফেরেশতাদের মধ্য হতে একজন ফেরেশতা বানিয়ে মর্যাদা দান করেছেন, তবে এর বাইরে যা কিছু আছে তা অর্থহীন প্রলাপ মাত্র। এর অন্য এক স্থানে তিনি বলেন: আল্লাহ 'লুফরগুস'-কে বলেছেন, "আমি তোমার ব্যাপারে দুটি বিষয়ের মাঝামাঝি অবস্থায় আছি: তোমাকে মানুষ বলে অভিহিত করা অথবা তোমাকে ফেরেশতা বলে অভিহিত করা; আর তোমার ক্ষেত্রে আমি এর দিকেই বেশি ঝুঁকে আছি।" তবে কিছু শব্দ এমন আছে যা এক ধর্মে অশোভন হলেও অন্য ধর্মে নয়; আবার এক ভাষায় তা অনুমোদিত হলেও অন্য ভাষা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। ইসলাম ধর্মে 'তাক্বল্লুহ' বা 'উপাস্য হওয়ার' বিষয়টি এমনই একটি শব্দ; কেননা আমরা যদি আরব্য ভাষার আলোকে এটি বিবেচনা করি, তবে দেখতে পাই যে 'পরম সত্য'-কে যেসব নামে অভিহিত করা হয়েছে তার সবগুলোই যথাযথভাবে অভিমুখী।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৩০)
على غيره بوجه ما سوى اسم «الله» فإنّه يختصّ به اختصاصا قيل له إنّه اسمه الأعظم، وإذا تأمّلناه في العبريّة والسريانيّة اللتين بهما الكتب المنزلة قبل القرآن وجدنا «الربّ» في التوراة وما بعدها من كتب الأنبياء المعدودة في جملتها موازيا لله في العربيّ غير منطلق على أحد بإضافة كربّ البيت وربّ المال ووجدنا الإله فيها موازيا للربّ في العربيّ، فقد ذكر فيها: إنّ بني أولوهيم نزلوا إلى بنات الناس قبل الطوفان وخالطوهنّ، وذكر في كتاب «أيوب الصدّيق» : إنّ الشيطان دخل مع بني أولوهيم إلى مجمعهم، وفي توراة موسى قول الربّ له: إنّي جعلتك إلها لفرعون، وفي المزمور الثاني والثمانين من زبور داود: إنّ الله قام في جماعة الآلهة يعني الملائكة، وسمّي في التوراة الأصنام «آلهة غرباء» ولولا أنّ التوراة حظرت عبادة كلّ ما دون الله والسجود للأصنام بل ذكرها أصلا وخطرها على البال لقد كان يتصوّر من هذه اللفظة أنّ المأمور به هو رفض الآلهة الغرباء دون التي ليست بعبريّة «1» والأمم الّذين كانوا حول أرض فلسطين هم الّذين كانوا على دين اليونانيّين في عبادة الأصنام، ولم تزل بنو إسرائيل كانوا يعصون الله بعبادة صنم «بعلا» وصنم «استروث» الّذي للزهرة؛ فالتألّه على وجه التملّك عند أولئك كان يتّجه على الملائكة وعلى الأنفس التي اقتدرت وبالاستعارة على الصور المعمولة بأسماء أبدانها وبالمجاز على الملوك والكبار، وهكذا اسم «الأبوّة» والنبوّة فإنّ الإسلام لا يسمح بهما إذ الولد والابن في العربيّة متقاربا المعنى وما وراء الولد من الوالدين والولادة منفى عن معاني الربوبيّة وما عدا لغة العرب يتّسع لذلك جدّا حتى تكون المخاطبة فيها بالأب قريبة من المخاطبة بالسّيد، وقد علم ما عليه النصارى من ذلك حتى أنّ من لا يقول بالأب والابن فهو خارج عن جملة ملّتهم والابن يرجع إلى عيسى بمعنى الاختصاص والأثرة وليس يقصر عليه بل يعدوه إلى غيره فهو الذي يأمر تلاميذه
আল্লাহ নাম ব্যতীত অন্য কোনো দিক থেকেই অন্য কারো জন্য এটি নির্দিষ্ট নয়। বরং এটি তাঁর জন্য এতটাই বিশেষায়িত যে, বলা হয়ে থাকে এটিই আল্লাহর ‘ইসমে আজম’ বা মহানতম নাম। যখন আমরা হিব্রু ও সুরিয়ানি (সিরিয়াক) ভাষা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি—যে ভাষায় কুরআনের আগের আসমানি কিতাবসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে—তখন আমরা দেখতে পাই যে, তাওরাত এবং এর পরবর্তী নবীদের কিতাবসমূহে ‘রব’ (প্রভু) শব্দটি আরবিতে ‘আল্লাহ’ শব্দের সমান্তরাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ‘বাড়ির মালিক’ বা ‘সম্পদের মালিক’-এর মতো সম্বন্ধযুক্ত হওয়া ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রভাবে প্রয়োগ করা হয় না। আমরা সেখানে ‘ইলাহ’ শব্দটিকে আরবির ‘রব’ শব্দের সমান্তরাল হিসেবে পেয়েছি। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে: নিশ্চয় ‘বনু উলুহিম’ (আল্লাহর পুত্রগণ) মহাপ্লাবনের আগে মানুষের কন্যাদের নিকট অবতরণ করেছিল এবং তাদের সাথে মেলামেশা করেছিল। ‘আইয়ুব সিদ্দিক’-এর কিতাবে (জব) বর্ণিত হয়েছে: শয়তান ‘বনু উলুহিম’-দের সাথে তাদের সভাস্থলে প্রবেশ করেছিল। মুসার তাওরাতে তাঁর প্রতি প্রভুর বাণী রয়েছে: “নিশ্চয় আমি তোমাকে ফেরাউনের জন্য ইলাহ বানিয়েছি।” দাউদের জবুরের বিরাশিতম স্তোত্রে (মাজমুর) বলা হয়েছে: নিশ্চয় আল্লাহ উপাস্যদের (অর্থাৎ ফেরেশতাদের) সমাবেশে দণ্ডায়মান হলেন। তাওরাতে প্রতিমাসমূহকে ‘অপরিচিত উপাস্য’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। যদি তাওরাত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উপাসনা এবং প্রতিমার সামনে সেজদা করা নিষিদ্ধ না করত—বরং এর আলোচনা এবং মনে এর কল্পনা আনাকেও বর্জনীয় ঘোষণা না করত—তবে এই শব্দ থেকে এমনটা ধারণা করা সম্ভব হতো যে, কেবল ‘অপরিচিত উপাস্য’দের বর্জন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, হিব্রু ছাড়া অন্য ভাষার উপাস্যদের নয়। ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের চারপাশের জাতিসমূহ মূর্তিপূজার ক্ষেত্রে গ্রিকদের ধর্মের অনুসারী ছিল। বনী ইসরাঈলও ধারাবাহিকভাবে ‘বাল’ (Baal) এবং শুক্র গ্রহের প্রতীক দেবী ‘আসতারোথ’-এর মূর্তিপূজা করার মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতা করতে থাকে। অতএব, তাদের নিকট মালিকানা বা আধিপত্যের ভিত্তিতে উপাস্য হওয়ার বিষয়টি ফেরেশতাদের ওপর, প্রভাবশালী আত্মাসমূহের ওপর এবং রূপক অর্থে তাদের শারীরিক অবয়বে নির্মিত মূর্তিসমূহের ওপর প্রয়োগ করা হতো। এমনকি আলঙ্কারিক অর্থে রাজা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতো। একইভাবে ‘পিতৃত্ব’ ও ‘পুত্রত্ব’ শব্দ দুটির ব্যবহারের অনুমতি ইসলাম দেয় না; কারণ আরবি ভাষায় ‘সন্তান’ ও ‘পুত্র’ শব্দ দুটির অর্থ প্রায় একই। আর সন্তান হওয়ার ক্ষেত্রে জন্মদাতা ও জন্মদানের যে ধারণা থাকে, তা প্রভুত্বের (রুবুবিয়্যাত) মহিমা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও পবিত্র। কিন্তু আরবি ভাষা ছাড়া অন্যান্য ভাষায় এই শব্দের পরিধি অত্যন্ত প্রশস্ত, এমনকি সেসব ভাষায় ‘পিতা’ সম্বোধন করা ‘প্রভু’ বা ‘জনাব’ সম্বোধন করার প্রায় কাছাকাছি। খ্রিস্টানরা এ বিষয়ে যে মতবাদে বিশ্বাসী তা সবারই জানা, এমনকি যে ব্যক্তি ‘পিতা ও পুত্র’বাদে বিশ্বাস করে না, সে তাদের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বহির্ভূত বলে গণ্য হয়। আর ‘পুত্র’ শব্দটি বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের অর্থে ঈসা (আ.)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবে এটি কেবল তাঁর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অন্যদের ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার রয়েছে; যেমন তিনি তাঁর শিষ্যদের নির্দেশ দেন
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৩১)
في الدعاء بأن يقولوا: يا أبانا الذي في السماء ويخبرهم في نعي نفسه إليهم بأنّه ذاهب إلى أبيه وأبيهم ويفسّر ذلك بقوله في أكثر كلامه عن نفسه: إنّه ابن البشر، وليست النصارى على هذا وحدها ولكنّ اليهود تشركها فإنّ في سفر الملوك: إنّ الله تعالى عزّى داود على ابنه المولود له من امرأة «أوريا» ووعده منها ابنا يتبنّاه، فإذا جاز بالتبنّي بالعبريّ أن يكون سليمان ابنا جاز أن يكون المتبنّي أبا، و «المنّانيّة» تشابه النصارى من أهل الكتاب وصاحبهم «ماني» يقول في هذا المعنى في كتاب «كنز الأحياء» : إنّ الجنود النيّرين يسمّون أبكارا وعذارى وآباء وأمّهات وأبناء وإخوة وأخوات لما جرى به الرسم في كتاب الرسل، وليس في بلدة السرور ذكر ولا أنثى ولا أعضاء سفاد وكلّهم حاملون للأجساد الحيّة والأبدان الالهوت لا يختلفون بضعف وقوّة ولا طول وقصر ولا صورة ومنظر كالسرج المتشابهة المسرجة من سراج واحد، موادّ أغذيتهم واحدة، وإنّما سبب تلك التسمية تعاني «1» المملكتين، فالسفليّة المظلمة لمّا نهضت من غورها ورأتها الملكوت العالية النيّرة أزواجا ذكرانا وإناثا صوّرت أبناءها الظاعنين إلى الحرب من ظاهر بصور كذلك فأقامت «2» كل جنس بإزاء جنسه؛ والخواصّ من الهند يأبون هذه الأوصاف وعوامّهم وكلّ من كان في فروع النحلة يفرطون في إطلاقها ويتجاوزون المقدار المذكور إلى الزوجة والابن والابنة والإحبال والإيلاد وسائر الأحوال الطبيعية ولا يتحاشون عن التجازف في ذكرها، ولا معتبر عليهم ومذاهبهم وإن كثرت فإنّ قطبها ما عليه البراهمة وقد رشّحوا لحفظه وإقامته وهو الّذي نحكيه ونقول: إنّهم يذهبون في الموجود إلى أنّه شيء واحد على مثل ما تقدّم فإنّ «باسديو» يقول في الكتاب المعروف «بكيتا» :
أمّا عند التحقيق فجميع الأشياء إلهية لأنّ «بشن» جعل نفسه أرضا ليستقرّ الحيوان
প্রার্থনায় তারা বলে: "হে আমাদের আকাশস্থ পিতা" এবং তিনি যখন নিজের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়ে তাদের থেকে বিদায় নিচ্ছেন, তখন তিনি তাদের জানান যে তিনি তাঁর এবং তাদের পিতার নিকট যাচ্ছেন। তিনি তাঁর অধিকাংশ বক্তব্যে নিজের সম্পর্কে এই বলে এর ব্যাখ্যা দেন যে, তিনি "মনুষ্য পুত্র"। শুধু খ্রিস্টানরাই এই বিশ্বাসে একাকী নয়, বরং ইহুদিরাও এতে শরিক। কেননা রাজাবলি গ্রন্থে উল্লেখ আছে: আল্লাহ তাআলা দাউদকে উরিয়ার স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া তাঁর পুত্রের মৃত্যুতে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং সেই স্ত্রীর মাধ্যমেই তাঁকে একটি পুত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যাকে তিনি দত্তক হিসেবে গ্রহণ করবেন। হিব্রু ভাষায় দত্তক নেওয়ার মাধ্যমে যদি সুলাইমানকে পুত্র হওয়া বৈধ হয়, তবে দত্তক গ্রহণকারীকে পিতা হওয়াও বৈধ হয়। আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে 'মানি' পন্থীরাও খ্রিস্টানদের সদৃশ। তাদের নেতা 'মানি' তাঁর 'কানযুল আহ্ইয়া' গ্রন্থে এই বিষয়ে বলেন: জ্যোতির্ময় বাহিনীরা কুমার-কুমারী, পিতা-মাতা, পুত্র এবং ভাই-বোন নামে অভিহিত হয়, কারণ রাসূলদের কিতাবে এই পরিভাষাগুলো ব্যবহারের প্রথা প্রচলিত ছিল। আনন্দপুরীতে কোনো পুরুষ বা নারী নেই, নেই কোনো প্রজনন অঙ্গ। তারা সকলেই জীবন্ত দেহ এবং ঐশ্বরিক অবয়ব ধারণকারী। তারা দুর্বলতা বা সবলতা, দীর্ঘতা বা খর্বতা এবং আকার বা অবয়বে একে অপরের থেকে আলাদা নয়; বরং তারা একটি প্রদীপ থেকে প্রজ্বলিত সাদৃশ্যপূর্ণ অনেকগুলো প্রদীপের মতো। তাদের খাদ্যের উপাদান এক। মূলত এই নামকরণের কারণ হলো দুই রাজ্যের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। যখন অন্ধকারাচ্ছন্ন নিম্ন জগৎ তার গভীর তলদেশ থেকে জেগে উঠল এবং উচ্চতর জ্যোতির্ময় জগতকে নারী-পুরুষের জোড়ায় জোড়ায় দেখতে পেল, তখন সেটি যুদ্ধে গমনকারী তার সন্তানদের বাহ্যিকভাবে সেই রূপেই চিত্রিত করল এবং প্রতিটি শ্রেণিকে তার সমগোত্রীয়ের বিপরীতে স্থাপন করল। ভারতের বিশিষ্ট পণ্ডিতগণ এই গুণাবলি অস্বীকার করেন, কিন্তু তাদের সাধারণ মানুষ এবং এই ধর্মের শাখাগুলোর অনুসারীরা এসব শব্দ প্রয়োগে চরম বাড়াবাড়ি করে। তারা বর্ণিত সীমানা ছাড়িয়ে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক বিষয়ের অবতারণা করে এবং এসব বর্ণনায় অতিরঞ্জিত করতে তারা কুন্ঠাবোধ করে না। তাদের এসব কথার কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। তাদের মতবাদ অনেক হলেও তার কেন্দ্রবিন্দু হলো ব্রাহ্মণদের বিশ্বাস, যা রক্ষার জন্য তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমরা সেটাই বর্ণনা করছি এবং বলছি: অস্তিত্বশীল সবকিছুর ক্ষেত্রে তারা মনে করে যে তা একটিই সত্তা, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। 'বাসুদেব' তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'গীতা'-তে বলেন:
প্রকৃত অনুসন্ধানে দেখা যায়, সকল বস্তুই ঐশ্বরিক, কারণ 'বিষ্ণু' প্রাণীদের আশ্রয়ের জন্য নিজেকে পৃথিবী বানিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
তাহকীকু মা লিল হিন্দি মিন মাকুলাতিন মাকবুলাতিন ফিল আকলি আও মারযুলাতিন
(পৃষ্ঠা: ৩২)
عليها وجعله ماء ليغذّيهم وجعله نارا وريحا لينميهم وينشئهم وجعله قلبا لكلّ واحد منهم ومنح الذكر والعلم وضدّيهما على ما هو مذكور في «بيذ» ، وما أشبه قول صاحب كتاب «بليناس» في علل الأشياء بهذا وكأنّه مأخوذ منه: إنّ في الناس كلّهم قوّة إلهيّة بها تعقل الأشياء بالذات وبغير الذات كما سمّى بالفارسيّة «خذا» بغير ذات واشتق للانسان من ذلك اسم؛ فأمّا الّذين يعدلون عن الرموز إلى التحقيق فإنّهم يسمّون النفس «بورش» ومعناه الرجل بسبب أنّها الحيّ في الموجود ولا يرون منها غير الحياة ويصفونها بتعاقب العلم والجهل عليها وأنّها جاهلة بالفعل وعاقلة بالقوّة تقبل العلم بالاكتساب وأنّ جهلها سبب وقوع الفعل وعلمها سبب ارتفاعه، وتتلوها المادّة المطلقة أعني الهيولى المجرّدة ويسمّونها «أبيكت» أي شيء بلا صورة وهي موات ذات قوى ثلاث بالقوّة دون الفعل أسماؤها «ست» و «رج» و «تم» وسمعت أنّ عبارة «بدّهودن» عنها لقومه الشمنيّة «بدّ دهرم «1» سنك» وكأنّها العقل والدين والجهل، فالأولى «2» منها راحة وطيبة منها الكون والنماء والثانية تعب ومشقّة منها الثبات والبقاء والثالثة فتور وعمه منها الفساد والفناء، ولهذا تنسب «3» الأولى إلى الملائكة والثانية إلى الناس والثالثة إلى البهائم، وهذه أشياء تقع فيها قبل وبعد وثمّ من جهة الرتبة وتضايق العبارة لا من جهة الزمان: وأمّا المادّة خارجة إلى الفعل بالصور والقوى الثلاث الأول فإنّهم يسمّونها «بيكت» أي المتصوّرة ويسمّون مجموع الهيولى المجرّدة والمادّة المتصوّرة «پركرت» ولا فائدة في هذا الاسم لاستغنائنا عن ذكر المطلقة ويكفينا المادّة في العبارة فليس إحداهما في الوجود بغير الأخرى؛ وتتلوها الطبيعة ويسمّونها «أهنكار «4» » واشتقاقه من الغلبة والازدياد والصلف من أجل أنّ المادّة
এর ওপর, এবং তিনি সেটিকে পানিতে পরিণত করলেন যাতে তাদের পুষ্টি জোগান, এবং সেটিকে আগুন ও বায়ুতে পরিণত করলেন যাতে তাদের বৃদ্ধি ও বিকাশ ঘটান, আর তিনি একেকজনের জন্য একেকটি অন্তর নির্ধারণ করলেন। তিনি স্মরণশক্তি ও জ্ঞান এবং এগুলোর বিপরীতসমূহ দান করেছেন, যেমনটি ‘বেদ’-এ বর্ণিত হয়েছে। বস্তুর কারণসমূহ সম্পর্কে ‘বালিনাস’ গ্রন্থের লেখকের উক্তি এর সাথে কতটা সাদৃশ্যপূর্ণ, যেন এটি তা থেকেই নেওয়া হয়েছে: “নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষের মধ্যে একটি ঐশ্বরিক শক্তি রয়েছে যার মাধ্যমে বিষয়সমূহকে সত্তাগতভাবে এবং সত্তা ব্যতিরেকে অনুধাবন করা যায়, যেমন ফারসি ভাষায় ‘খোদা’ শব্দটিকে সত্তা ব্যতিরেকে নাম দেওয়া হয়েছে এবং তা থেকে মানুষের জন্য একটি নাম ব্যুৎপন্ন করা হয়েছে।” আর যারা রূপক ছেড়ে বাস্তবতানুসন্ধানের দিকে ঝুঁকেছেন, তারা আত্মাকে ‘পুরুষ’ নামে অভিহিত করেন, যার অর্থ হলো ‘ব্যক্তি’ বা ‘মানুষ’। এর কারণ হলো, এটিই বিদ্যমান জগতের মধ্যে জীবন্ত সত্তা। তারা এতে জীবন ছাড়া অন্য কিছু দেখেন না এবং একে জ্ঞান ও মূর্খতার পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে বর্ণনা করেন। তাদের মতে, এটি বর্তমানে মূর্খ হলেও সুপ্তভাবে জ্ঞানবান এবং অর্জনের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করে। আরও বলা হয় যে, এর অজ্ঞানতা হলো কর্ম সংঘটিত হওয়ার কারণ এবং এর জ্ঞান হলো কর্ম নিবৃত্ত হওয়ার কারণ। এর পরপরই আসে পরম বস্তু, অর্থাৎ বিমূর্ত আদি উপাদান (হাইয়ুলা)। তারা একে ‘অব্যক্ত’ নামে অভিহিত করে, যার অর্থ হলো রূপহীন বস্তু। এটি একটি জড় সত্তা যার মধ্যে তিনটি শক্তি সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু সক্রিয় নয়। এগুলোর নাম হলো ‘সত্ত্ব’, ‘রজ’ এবং ‘তম’। আমি শুনেছি যে, ‘বুদ্ধোধন’ তাঁর অনুসারী শমণদের কাছে এর ব্যাখ্যায় ‘বুদ্ধ-ধর্ম-সংঘ’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন, যা যেন বুদ্ধি, ধর্ম এবং অজ্ঞানতার প্রতীক। এগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো প্রশান্তি ও পবিত্রতা, যা থেকে অস্তিত্ব ও প্রবৃদ্ধি লাভ হয়; দ্বিতীয়টি হলো পরিশ্রম ও কষ্ট, যা থেকে স্থিতি ও টিকে থাকা নিশ্চিত হয়; আর তৃতীয়টি হলো অবসাদ ও বিভ্রান্তি, যা থেকে বিপর্যয় ও বিনাশ ঘটে। এই কারণে প্রথমটিকে ফেরেশতাদের সাথে, দ্বিতীয়টিকে মানুষের সাথে এবং তৃতীয়টিকে চতুষ্পদ জন্তুদের সাথে সম্পর্কিত করা হয়। এ বিষয়গুলোতে ‘আগে’, ‘পরে’ এবং ‘অতঃপর’ শব্দগুলোর প্রয়োগ কেবল মর্যাদা বা ক্রমের দিক থেকে এবং বর্ণনার সীমাবদ্ধতার কারণে ঘটে থাকে, সময়ের নিরিখে নয়। আর যখন বস্তু রূপ ও প্রাথমিক তিনটি শক্তির মাধ্যমে সক্রিয় রূপ পরিগ্রহ করে, তখন তারা একে ‘ব্যক্ত’ বলে ডাকে, যার অর্থ হলো ‘রূপ ধারণকারী’। তারা বিমূর্ত আদি উপাদান এবং রূপপ্রাপ্ত উপাদানের সমষ্টিকে ‘প্রকৃতি’ বলে অভিহিত করে। তবে এই নামের বিশেষ কোনো উপকারিতা নেই, কারণ আমরা পরম উপাদানের উল্লেখ ছাড়াই কাজ চালিয়ে নিতে পারি এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবল ‘বস্তু’ শব্দটুকুই যথেষ্ট; কেননা অস্তিত্বের জগতে একটি অন্যটি ছাড়া থাকতে পারে না। এরপর আসে প্রকৃতি, যাকে তারা ‘অহংকার’ বলে থাকে। এর ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো আধিপত্য, প্রবৃদ্ধি এবং দম্ভ; কারণ বস্তুটি...